বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৪ / ২৭ · ১,৩০১১,৪০০ / ২,৬৯২

১,৩০১.
তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে কোনটি প্রস্তুত করা হয়?
  1. সাবান
  2. এস্টার
  3. অ্যালকোহল
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে, R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- ১। প্রসাধনী সাবান এবং ২। লন্ড্রি সাবান। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০২.
যেকোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য নিচের কোনটির প্রয়োজন হয়?
  1. ভেলাটোমিটার
  2. অ্যামিটার
  3. গ্যালভানোমিটার
  4. ভোল্টমিটার
ব্যাখ্যা
- বিদ্যুৎ প্রবাহ হলো মূলত ইলেকট্রনের প্রবাহ।
- এ প্রবাহ আবার দু'রকম। যথা- এসি প্রবাহ এবং ডিসি প্রবাহ।
- কোনো বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহের জন্য দরকার এর দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য।
- এই বর্তনীতে তড়িৎযন্ত্র ও উপকরণসমূহকে শ্রেণি ও সমান্তরাল সংযোগ যুক্ত করা যায়।
- এছাড়া বর্তনীতে তড়িৎ প্রবাহ মাপার জন্য দরকার অ্যামিটার।
- যে কোনো দু'প্রান্তের বিভব পার্থক্য মাপার জন্য দরকার ভোল্টমিটার।
- বেগ পরিমাপক যন্ত্র হলো ভেলাটোমিটার।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩০৩.
কোন সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়? 
  1. ইস্পাত
  2. ব্রোঞ্জ
  3. পিতল
  4. ডুরালুমিন
ব্যাখ্যা
- 'ডুরালুমিন' সংকর ধাতু উড়োজাহাজের কাঠামো তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

সংকর ধাতু: 

- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৪.
কার্বনের আইসোটোপ কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা

কার্বনের আইসোটোপ তিনটি হল C12 (6টি প্রোটন এবং 6টি নিউট্রন), C13 (6টি প্রোটন এবং 7টি নিউট্রন), C14 (6টি প্রোটন এবং 8টি নিউট্রন)।
আইসোটোপ হলো একই মৌলিক পদার্থের ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু যাদের পারমাণবিক সংখ্যা একই তবে নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যা ভিন্ন। আইসোটোপগুলো পারমাণবিক সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন।
সূত্র: নবম দশম শ্রেণির পদার্থবিজ্ঞান

১,৩০৫.
যে তড়িৎদ্বার থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ধাতু চার্জমুক্ত হয় সেটি -
  1. ক) এ্যানোড
  2. খ) ক্যাথোড
  3. গ) নিরপেক্ষ তড়িৎদ্বার
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
যে ধাতব পাতে ধাতু বা কোন আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে দেয় তাকে ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বা এ্যানোড বলে।
অর্থাৎ, এ্যানোডে  ধাতু বা কোন আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে দেয়। 
অ্যানায়ন বা ঋণাত্মক আয়ন অ্যানোডে এক বা একাধিক ইলেকট্রন দান করে জারিত হয়।

অন্যদিকে, যে তড়িৎদ্বারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইলেকট্রন শোষিত হয় তাকে ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড বলে।
অর্থাৎ, ক্যাথোড থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করে ধাতু চার্জমুক্ত হয়। 
ক্যাটায়ন বা ধনাত্মক আয়ন ক্যাথোড হতে এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। 

উৎস : রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৬.
​পাকস্থলীতে খাবার হজমের জন্য কোন এসিড প্রয়োজন? 
  1. ভিনেগার 
  2. এসিটিক এসিড 
  3. হাইড্রোক্লোরিক এসিড 
  4. এসকরবিক এসিড 
ব্যাখ্যা

এসিডের ব্যবহার: 
- নিচে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার উল্লেখ করা হলো- 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• ভিনেগার বা এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩০৭.
নিচের কোনটি অভিজাত গ্যাস নয়?  
  1. রেডন
  2. ক্রিপ্টন
  3. জেনন
  4. ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস:

• যে সকল অন্য কোনো গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে না তাদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসকে অভিজাত গ্যাস ও বলা হয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস সাধারণত ৬টি, যথা: হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন ও রেডন।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
• নিষ্ক্রিয় গ্যাসমূহের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ৮টি ইলেকট্রন থাকে। ব্যতিক্রম হিলিয়াম। হিলিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে ২টি ইলেকট্রন থাকে।
• সূর্যে মৌলিক পদার্থের মধ্যে হিলিয়াম (He) এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• রেডন তেজষ্ক্রিয় মৌল। বিজ্ঞানী ডর্ন ১৯০০ সালে রেডিয়ামের তেজষ্ক্রিয় বিভাজন হতে রেডন আবিষ্কার করেন।
• ইউরেনিয়াম নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস নয়। 
 
উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
১,৩০৮.
কার্বনের কয়টি রূপভেদ আছে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৪ টি
  4. ১০০০ এর বেশি
ব্যাখ্যা

কার্বনের দু'টি রূপভেদ আছে যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)। বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।

গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন (lubrication) করার জন্য এবং কাদা সহযােগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।
ডায়মন্ড বা হীরক ভংগুর হলেও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পদার্থসমূহের মধ্যে অন্যতম কঠিনতম। ডায়মন্ড উত্তম তাপ-পরিবাহী হলেও বিদ্যুৎ-অপরিবাহী।

উৎসঃ রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৩০৯.
মৃৎক্ষার ধাতু নিচের কোনটি?
  1. বেরিয়াম 
  2. সিজিয়াম 
  3. রুবিডিয়াম 
  4. সোডিয়াম 
ব্যাখ্যা

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2নং গ্রুপের মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
যেমন- 
• বেরিলিয়াম (Be), 
• ম্যাগনেসিয়াম (Mg), 
• ক্যালসিয়াম (Ca), 
• স্ট্রনসিয়াম (Sr), 
বেরিয়াম (Ba) এবং 
• রেডিয়াম (Ra)। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। 
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1নং গ্রুপের মৌলগুলোর মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি মৌলগুলোকে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই মৌলগুলোর প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 
যেমন- 
• লিথিয়াম (Li), 
• সোডিয়াম (Na), 
• পটাসিয়াম (K), 
• রুবিডিয়াম (Rb), 
• সিজিয়াম (Cs) এবং 
• ফ্রান্সিয়াম (Fr)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১০.
কম্পোজিট কণিকা হলো -
  1. আলফা কণিকা
  2. নিউট্রিনো
  3. পজিট্রন
  4. অ্যান্টি নিউট্রিনো
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকাসমূহ: 
পরমাণুর মূল কণিকা তিন ধরনের, যথা স্থায়ী মূল কণিকা, অস্থায়ী মূল কণিকা এবং কম্পোজিট কণিকা।

(১) স্থায়ী মূল কণিকা:
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা হাইড্রোজেন পরামাণু ছাড়া সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূলকণিকা বলা হয়।
- হাইড্রোজেন-। পরমাণুতে শুধু ১টি ইলেকট্রন ও ১টি প্রোটন আছে। এতে কোন নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা:
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
- এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়।
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০।
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

(৩) কম্পোজিট কণিকা (Composite particles):
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়।
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ।

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৩১১.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি উৎপাদন করা হয়? 
  1. ইথানল
  2. বেনজিন
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. অ্যালডিহাইড
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 

- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্যে শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। 
- এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১২.
'তামা ও টিন' এর সমন্বয়ে কোন ধাতু গঠিত হয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ইনভার
  3. গ) কাঁসা
  4. ঘ) গান মেটাল
ব্যাখ্যা
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে। যেমন-
• কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
• পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।

উৎস- রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৩.
কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম কী?
  1. ক্লোরোপিক্রিন
  2. মিথেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. ইথেন
ব্যাখ্যা
- কাঁদুনে গ্যাসের অপর নাম ক্লোরোপিকরিন।
- অশ্রু উৎপাদক বলে একে কাঁদুনে গ্যাস বলা হয়।
- এর রাসায়নিক নাম হলো নাইট্রোক্লোরোফরম।
- কাঁদুনে গ্যাসের রাসায়নিক সংকেত CCl3NO2.

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩১৪.
সৌর প্যানেলে সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণে কোন এসিড ব্যবহার করা হয়? 
  1. নাইট্রিক এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. ফসফরিক এসিড
  4. সালফিউরিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসিডের ব্যবহার: 
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌর বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়। 
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H2SO4)। 
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। সার হিসেবে যেগুলো ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]। 
- আর সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে। 
- শক্তিশালী এসিডগুলো ( যেমন সালফিউরিক এসিড (H2SO4), নাইট্রিক এসিড (HNO3), হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) মানবদেহের জন্য যেমন মারাত্মক ক্ষতিকর, তেমনি আমাদের অনেক প্রয়োজনীয় এবং নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রেরও অনেক ক্ষতি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩১৫.
নিচের কোনটি টুথপেস্টের উপাদান নয়?
  1. ক) পাউডার
  2. খ) সাবান
  3. গ) মেনথল
  4. ঘ) তারপিনল
ব্যাখ্যা


- এখানে সোডিয়াম লরেল সালফেট হচ্ছে সাবান যা দাত ব্রাশ করার সময় ফেনা তৈরি করে।
১,৩১৬.
কোনটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়?
  1. পরমাণুর ব্যাসার্ধ
  2. প্রথম আয়নিকরণ শক্তি
  3. রাসায়নিক বন্ধন 
  4. ইলেকট্রন আসক্তি
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন পর্যায়বৃত্ত ধর্ম নয়। 

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- যে কোনো মৌলের রাসায়নিক ধর্ম ও অনেক ভৌত ধর্ম নির্ভর করে ঐ মৌলের সর্ববহিঃস্থ ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর।
- মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস পারমাণবিক সংখ্যার বৃদ্ধির সাথে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
- তাই পর্যায় সারণিতে মৌলে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্দিষ্ট ব্যবধানে মৌলের ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- মৌলের ধর্মের এ জাতীয় পুনরাবৃত্তিকে মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।
- পর্যায় সারণির কোনো একটি পর্যায়ের ক্ষেত্রে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসে ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে। এ কারণে মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের ধারাবাহিক পরিবর্তন ঘটে।
- প্রকৃতপক্ষে মৌলমূহের ধর্মাবলি ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে পরিবর্তিত হয় এবং ধর্মের পুনরাবৃত্তি ঘটে।
- পর্যায় সারণির কোনো পর্যায়ের বাম দিক হতে ডান দিকে এবং কোনো গ্রুপের উপর থেকে নিচের দিকে অগ্রসর হলে এ সব ধর্মাবলি একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। 

পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে,
যেমন-
- ধাতব ধর্ম,
- অধাতব ধর্ম,
- পরমাণুর আকার,
- আয়নিকরণ শক্তি,
- তড়িৎ ঋণাত্মকতা,
- ইলেকট্রন আসক্তি, ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৭.
বাংলাদেশে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসে মিথেনের পরিমাণ -
  1. ৮০%
  2. ৯৭%
  3. ৬৫.৪২%
  4. ৯৯.৯৯%
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান হলো মিথেন। প্রাকৃতিক গ্যাসে এর পরিমাণ প্রায় ৮০%।
এছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাসে ইথেন, প্রোপেন, বিউটেন, আইসোবিউটেন, পেন্টেন ইত্যাদি উপাদানও উপস্থিত থাকে।
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া গিয়েছে, তার ৯৯.৯৯% উপাদান হলো মিথেন।

সূত্র: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩১৮.
কোনটি পরমাণুর গঠনের মৌলিক কণার অংশ নয়?
  1. ইলেকট্রন
  2. নিউট্রন
  3. ফোটন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

• পরমাণুর মৌলিক কণা: পরমাণু মূলত তিনটি মৌলিক কণার সমন্বয়ে গঠিত: প্রোটন, নিউট্রন, ইলেকট্রন।

- প্রোটন (Proton): ধনাত্মক চার্জযুক্ত কণা, যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে।
- নিউট্রন (Neutron): নিরপেক্ষ চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসে থাকে এবং পরমাণুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- ইলেকট্রন (Electron): ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা, নিউক্লিয়াসের চারপাশে কক্ষপথে ঘোরে।

• ফোটন (Photon):
- এটি আলোর কণা বা কণা-প্রকৃতির তরঙ্গ যা শক্তি বহন করে, কিন্তু পরমাণুর কাঠামোর অংশ নয়। 
- ফোটন কোনো ভর রাখে না।
- এটি নিউক্লিয়াস বা ইলেকট্রনের অংশ নয়।

সুতরাং, পরমাণুর মৌলিক কণার মধ্যে নেই ফোটন।

তথ্যসূত্র: NCTB মাধ্যমিক রসায়ন। 

১,৩১৯.
হৃদপিন্ডের পেশীজনিত কাজকর্ম পর্যবেক্ষন করার ক্ষেত্রে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) MRI
  2. খ) ETT
  3. গ) ECG
  4. ঘ) Endoscopy
ব্যাখ্যা
ইসিজি (ECG) হলো ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (Electrocardiogram)।
- ইসিজি করে মানুষের হৃদপিন্ডের বৈদ্যুতিক ও পেশীজনিত কাজকর্মগুলো পর্যবেক্ষন করা যায়।
- ইসিজি সংকেত হৃৎপিন্ডের মধ্যে রক্তপ্রবাহের একটি পরোক্ষ প্রমাণ দেয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বই।
১,৩২০.
এক ফ্যারাডে সমান কত তড়িৎ চার্জ?
  1. 69500 C
  2. 96500 C
  3. 89500 C
  4. 98500 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৩২১.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম?
  1. ক) প্লাটিপাস
  2. খ) লিমুলাস
  3. গ) ইকুইজিটাম
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম:
কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে।
যেমন - লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী এর উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- ইকুইজিটাম, নিটামপিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্মের উদাহরণ।

প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়।

সুত্র: নব জীবনের সুচনা, বিজ্ঞান, নবম-দশম।
১,৩২২.
সবুজ তেলের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ফেনল
  2. ক্রিসল
  3. পিরিডিন
  4. অ্যানথ্রাসিন
ব্যাখ্যা

আলকাতরার আংশিক পাতন করলে লঘু তেল, মধ্যম তেল, ভারি তেল, সবুজ তেল, পিচ ইত্যাদি পাওয়া যায়।
- লঘু তেলের প্রধান উপাদান বেনজিন, টলুইন, জাইলিন, পিরিডিন, থায়োফিন, অ্যানিলিন, ফেনল।
- মধ্যম তেলের প্রধান উপাদান হলো ফেনল, ক্রিসল, ন্যাপথালিন।
- ভারি তেলের প্রধান উপাদান হলো ক্রিসল, ন্যাপথালিন, কুইনোলিন।
- সবুজ তেলের উপাদান হলো অ্যানথ্রাসিন, ফিনানথ্রিন ইত্যাদি।
- অবশিষ্ট পিচ এর প্রধান উপাদান কোক-কার্বন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩২৩.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 15
  2. 18
  3. 16
  4. 31
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়। 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

ফসফরাস (P) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 
এখানে, 

- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর = 31 এবং
- ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা = 15 
অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে = (31 - 15) = 16 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৪.
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি ----
  1. ক) যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. খ) যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. গ) যুক্ত অবস্থার সমান
  4. ঘ) কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থায় পরমাণুর যে শক্তি থাকে তার চাইতে অধিক হয়।
১,৩২৫.
1 বায়মন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক কত?
  1. 0° C
  2. 50° C
  3. 100° C
  4. 75° C
ব্যাখ্যা
স্ফুটনাঙ্ক: 
- তাপ প্রয়োগ করে তরলকে গ্যাসে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে স্ফুটন বলে।
- 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তাপ প্রদানের ফলে যে তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ গ্যাসীয় পদার্থে পরিণত হয় সেই তাপমাত্রাকে উত্ত তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।
- প্রত্যেক বিশুদ্ধ তরলের একটি নির্দিষ্ট স্ফুটনাঙ্ক থাকে।
- যেমন 1 বায়ুমন্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাঙ্ক 100°C
- স্ফুটনের বিপরীত প্রক্রিয়াটির নাম ঘনীভবন।
- স্ফুটনের জন্যে তাপ দিতে হয়, ঘনীভবনের সময় তাপ সরিয়ে নিতে হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২৬.
পটাস অ্যালামে কত অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে?
  1. ৫ অণু
  2. ১০ অণু
  3. ১৮ অণু
  4. ২৪ অণু
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]  । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩২৭.
নিচের কোনটি হাইড্রোকার্বন?
  1. ক) C2H4
  2. খ) C6H6
  3. গ) C4H6
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
হাইড্রোকার্বন হলো শুধু কার্বন ও হাইড্রোজেন এর সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। যেমন: মিথেন (CH4), ইথিন (C2H4), সাইক্লোহেক্সেন (C6H12), বেনজিন (CH) ইত্যাদি৷  যৌগগুলোতে কার্বন আর হাইড্রোজেন ছাড়া আর কোনো মৌল নেই।
হাইড্রোকার্বন মূলত দুই প্রকার:
(i) অ্যালিফেটিক হাইড্রোকার্বন ও
(ii) অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি। 
১,৩২৮.
পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসকে বেষ্টনকারী মৌলিক কণিকার নাম কী?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থিত নিউক্লিয়াসকে বেষ্টনকারী মৌলিক কণিকার নাম হচ্ছে ইলেকট্রন।

- পরমাণু তিনটি মৌলিক কণা দ্বারা গঠিত। যথা- ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। 

- ইলেকট্রনের ধর্মসমূহ-
১. ইলেকট্রন হল ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা।
২. ইলেকট্রন হলো একটি ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট উপপারমাণবিক কণা।
৩. একটি ইলেক্ট্রনের চার্জ একটি প্রোটন দ্বারা ধারণ করা চার্জের পরিমাণের সমান (প্রোটন ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কণা এবং ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানবিশিষ্ট কণা) ।
৪. এটি হয় মুক্ত হতে পারে (কোন পরমাণুর সাথে সংযুক্ত নয়), বা একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে আবদ্ধ হতে পারে।
৫. পরমাণুর ইলেকট্রন বিভিন্ন র‍্যাডিআইয়ের গোলাকার শেলগুলিতে বিদ্যমান, যা শক্তির স্তরের প্রতিনিধিত্ব করে। গোলাকার শেল যত বড়, ইলেকট্রনের মধ্যে শক্তি তত বেশি।
৬. ইলেকট্রন হল নিউক্লিয়াসের বাইরে পাওয়া উপ-পরমাণু কণা, প্রোটন এবং নিউট্রনের বিপরীতে, যা নিউক্লিয়াসের ভিতরে থাকে।

সূত্র- ২ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩২৯.
অধাতুর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী
  2. তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী না
  3. গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বেশি
  4. আঘাত করলে টুন টুন শব্দ করে
ব্যাখ্যা
খনিজ পদার্থ: 
- ভূ-পৃষ্টের উপরিভাগের যে অংশ তুলনামূলক নরম, সহজেই গুড়ো হয়ে যায়, পানিতে ভিজলে নরম হয়ে যায় এবং গাছ পালা জন্মে তাকে মাটি বলে। 
- আবার, যে অংশ শক্ত, ভিজলে নরম হয় না, আকৃতিতে বড় বড় এবং গাছ পালা জন্মায় না তাকে শিলা বলে। 
- ভূপৃষ্টের উপরিভাগ বিভিন্ন রকম যৌগিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যেমন- সিলিকন ডাই অক্সাইড (বালি), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (চুনাপাথর) ইত্যাদি। 
- এসকল পদার্থ দুই প্রকার মৌলিক পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
যথা- ধাতু ও অধাতু। 
- ধাতু হচ্ছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, অ্যালুমিসিয়াম, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, সিলভার, গোল্ড, কপার ও জিংক ইত্যাদি। 
- আবার অধাতু হচ্ছে কয়লা (কার্বন), সালফার, ক্লোরিন, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, ও অক্সিজেন ইত্যাদি। 

ধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
ঘাতসহনীয়তা: ধাতুকে পিটিয়ে বিভিন্ন আকার দেওয়া যায়। 
নমনীয়তা: ধাতুকে বাঁকানো যায়। 
উজ্জ্বলতা: ধাতুর আলোক বিচ্ছুরণ বা প্রতিফলন করে বলে এগুলো চকচক করে। 
পরিবাহিতা: ধাতুসমূহ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। 
ধাতব শব্দ: আঘাত করলে ধাতু টুন টুন শব্দ করে। 
গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক: ধাতুসমূহের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি (তবে পারদ সাধারণ তাপমাত্রায় তরল)। 
ঘনত্ব: অধাতুর চেয়ে ধাতুসমূহের ঘনত্ব বেশি। 

অধাতুর বৈশিষ্ট্য: 
- তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। 
- আঘাত করলে শব্দ হয় না। 
- অধাতু ঘাত সহনশীল ও নমনীয় নয়। 
- ঘষলে চকচক করে না। 
- অধাতু সমূহের দ্যুতি নেই। 
- ওজনে হালকা হয়। 
- সহজে জোড়া লাগানো যায় না। 
- পিটিয়ে পাত করা যায় না। 
- কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতুগুলো জারক পদার্থ। 
- অপেক্ষাকৃত নিম্ন গলনাংক ও স্ফুটনাংক বিশিষ্ট। 
- অধাতুসমূহ এসিডের হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করে লবণ উৎপন্ন করে না। 
- চুম্বক দ্বারা বিকর্ষিত হয় অর্থাৎ ডায়াম্যাগনেটিক প্রকৃতির। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং Live MCQ লেকচার।
১,৩৩০.
নিচের কোনটি একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যার পরমাণুর জন্য ব্যবহৃত হয়? 
  1. আইসোমার 
  2. আইসোটোপ 
  3. আইসোবার 
  4. আইসোটোন 
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩১.
হাইড্রোকার্বনকে কোন শ্রেণির যৌগ বলা হয়? 
  1. জৈব যৌগ 
  2. এসিড 
  3. লবণ 
  4. অজৈব যৌগ 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার। 

অজৈব যৌগ: 
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে। 
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৩২.
কোন রশ্মিটি আধান নিরপেক্ষ?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) ক + খ
ব্যাখ্যা
- ধনাত্মক আধান গ্রন্থ রশ্মি আলফা রশ্মি,
- ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ রশ্মি বিটা রশ্মি
- আধান নিরপেক্ষ রশ্মি গামা রশ্মি

মনে রাখুন-
১। আলফা ও বিটা রশ্মি হলো কণা প্রবাহ কিন্তু গামা রশ্মি হলো তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। গামা রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যর চেয়ে অনেক কম। একে চোখে দেখা যায় না।

সূত্র- পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
১,৩৩৩.
গ্লুবার লবণে কয় অণু পানি থাকে? 
  1. ৫ অণু
  2. ১০ অণু
  3. ১৮ অণু
  4. ২৪ অণু
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৪.
কোনটি সোডিয়ামের আকরিক?
  1. কোরান্ডাম
  2. ন্যাট্রোন
  3. জিপসাম
  4. গ্যালেনা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৫.
অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ কোনটি? 
  1. ভিনেগার
  2. আসিটিলিন
  3. বেনজোয়িক এসিড
  4. সোডিয়াম বেনজোয়েট
ব্যাখ্যা
ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে। 

অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সেগুলোকে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে সেসব ফুড প্রিজারভেটিভকে অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম বেনজোয়েট, বেনজোয়িক এসিড, ভিনেগার, লবণের দ্রবণ, চিনির প্রবণ ইত্যাদি। 

অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ: 
- যেসব ফুড প্রিজারভেটিভ আমাদের শরীরে গেলে আমাদের শরীরের ক্ষতি হয় সেগুলোকে অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ বলা হয়। 
যেমন- ইথিলিন, আসিটিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৩৬.
'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি' এই কথাটি প্রথম কে প্রমাণ করেন?
  1. থেলিস
  2. গ্যালিলিও
  3. আর্কিমিডিস
  4. টলেমি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
-গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে 'পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি'। 
- পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

অন্যদিকে, 
- টলেমি ছিলেন প্রাচীন গণিতজ্ঞ, জ্যোতির্বিজ্ঞানী, জ্যোতিষী, ভূগোল-বিশারদ। তাঁর মডেল অনুসারে পুরোহিতরা মনে করেছিলেন যে, স্বর্গ নরক রয়েছে বাইরের গোলকের ঊর্ধ্বে। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে জাহাজ পানিতে ভাসার কারণ, একখণ্ড লোহা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়। 
- থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৭.
ভূ-পৃষ্ঠে কোন ধাতু সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. লোহা
  3. তামা
  4. জিংক
ব্যাখ্যা

• ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অ্যালুমিনিয়াম ধাতু। পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৮% অংশই অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে গঠিত। এটি মূলত বক্সাইট আকরিকের মধ্যে পাওয়া যায় এবং এর রাসায়নিক বিক্রিয়াশীলতা খুব বেশি হওয়ায় এটি শুদ্ধ অবস্থায় স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যায় না। অ্যালুমিনিয়াম হালকা, জং ধরে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ ভালোভাবে পরিবাহন করতে পারে। এই কারণে এটি বিমান, গাড়ি, বৈদ্যুতিক তার, প্যাকেজিং ও নির্মাণ শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে, লোহা, তামা ও জিংক তুলনামূলকভাবে কম পরিমাণে পাওয়া যায়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো — ক) অ্যালুমিনিয়াম।

• পৃথিবীতে যে ধাতুটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় তা হলো অ্যালুমিনিয়াম।
- ভূপৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে আছে অ্যালুমিনিয়াম ধাতু (৮.১%)। লোহার পরিমাণ ৫%, ক্যালসিয়াম ৩.৬%।
- কিন্ত প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়াম পাওয়া যায় না।
- অ্যালুমিনিয়াম অন্যান্য মৌলিক পদার্থের সাথে যৌগ গঠন করে অবস্থান করে। এগুলো হলো অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক। 
- এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বক্সাইট, ক্রায়োলাইট, কোরানডাম ইত্যাদি।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৩৮.
PVC এর সংকেত -
  1. CH2=CHCl
  2. CH3-CHCl
  3. CH3CCl
  4. CH2=CCl
ব্যাখ্যা
PVC এর সংকেত CH2=CHCl
PVC এর পূর্ণ নাম - পলিভিনাইল ক্লোরাইড।
এটি শক্ত, কঠিন ও পলিথিনের তুলনায় কম নমনীয়। 
পানির পাইপ ও বিদ্যুৎ ইত্যাদির কাজে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস - নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন, বোর্ড বই
১,৩৩৯.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. ইট
  3. পারদ
  4. অ্যামোনিয়া
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
যেমন- ইট, কাঠ, পাথর, মোবাইল ফোন, শুষ্ক ব্যাটারি, বই, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি। এ কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও  নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
যেমন- দুধ, সরিষার তৈল, পানি, পারদ, কেরোসিন তৈল, সয়াবিন তৈল, তরল পানীয়, ফলের জুস, অ্যালকোহল ইত্যাদি। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরলের কণাগুলো কঠিনের পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি। 
- যেকোনো পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪০.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না?
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়।

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। আথা: 

i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪১.
পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে কী আয়ন দান করে?
  1. ক) হাইড্রোজেন আয়ন
  2. খ) হিলিয়াম আয়ন
  3. গ) হাইড্রোক্সাইড আয়ন
  4. ঘ) অক্সাইড আয়ন
ব্যাখ্যা

এসিড এক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্য যা পানিতে দ্রবীভূত করলে এসিডের অণু বিয়োজিত হয়ে (ভেঙে) হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রােটন (H+) দান করে।
যেমন- হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এরা তীব্র এসিড৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৪২.
চা ও কফিতে যে পদার্থটি শরীরকে চাঙ্গা করে তার নাম কি?
  1. ক) টলুইন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ক্যাফেইন
  4. ঘ) টেনিন
ব্যাখ্যা
আমরা প্রতিনিয়ত চা, কফি, চকলেট, হাল্কা পানীয় যেমন- কোকোকোলা, সেভেন-আপ, পেপসি এমনকি ওষুধের সাথেও ক্যাফেইন গ্রহন করছি। এটি তিক্ত স্বাদযুক্ত একটি পদার্থ। আমাদের দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় এর অনেক প্রভাব আছে। বিশেষ করে ক্যাফেইন আমাদের দেহের স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করতে পারে। এবং তা আমাদের শরীরকে চাঙ্গা করতে পারে।
উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর
১,৩৪৩.
ড্রাই ক্লিনিং এ ব্যবহৃত হয় -
  1. কস্টিক সোডা
  2. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট
  3. কঠিন কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ট্রাই ক্লোরো ইথেন
ব্যাখ্যা

DRYCLEANING SOLVENTS Historically, a number of different chemicals have been utilized as drycleaning solvents. These include: camphor oil, turpentine spirits, benzene, kerosene, white gasoline, petroleum solvents (primarily petroleum naphtha blends), chloroform, carbon tetrachloride, perchloroethylene, trichloroethylene, 1,1,2-trichlorotrifluoroethane, glycol ethers, 1,1,1-trichloroethane, decamethylcylcopentasiloxane, n-propyl bromide and liquid carbon dioxide.
Source: dnr.wi.gov

১,৩৪৪.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয় -
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৫.
নিচের কোনটি ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী?
  1. জ্যান্থোফিল
  2. ক্যাপসিসিন
  3. ক্যারোটিন
  4. লাইকোপিন
ব্যাখ্যা

• ফলের কমলা বর্ণের জন্য দায়ী- ক্যারোটিন।
• হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী- জ্যান্থোফিল।
• লাল বর্ণের জন্য দায়ী- লাইকোপিন।
উৎসঃ উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৪৬.
মাটির অম্লতা দূর করতে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. চুন
  2. ইউরিয়া
  3. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  4. ভিনেগার
ব্যাখ্যা

চুন (Lime) হলো একটি ক্ষারধর্মী পদার্থ, যা মাটির অম্লতা প্রশমিত করার জন্য সবচেয়ে কার্যকরী উপাদান।

• ক্ষারক:
- সকল ক্ষারক লাল লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তন করে নীল করে।
- পানিতে দ্রবণীয় ক্ষারক অর্থাৎ ক্ষারসমূহ পানিতে হাইড্রক্সাইড আয়ন (OH-) উৎপন্ন করে।
যেমন-
• NaOH → Na+ + OH-
• KOH → K+ + OH-
- ক্ষারকএসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ উৎপন্ন করে।
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে।

• প্রাত্যহিক জীবনে ক্ষারকের ব্যবহার:
- মৌমাছি হুল ফুটালে এবং পিঁপড়া কামড় দিলে শরীরে যেহেতু ফরমিক এসিড, মেলিটিন এবং অ্যাপামিন নামক এসিডিক পদার্থ নিঃসৃত হয়, তাই সেগুলি জ্বালাপোড়া এবং ফুলে যাওয়ার কারণ হয়ে থাকে।
- এসিডের প্রভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে ক্ষারক ধর্মীয় মলম, লোশন (যেমন চুন), ক্যালামিন (যা জিংক কার্বোনেট) এবং বেকিং সোডা ব্যবহার করা হয়, যা এই জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে।

• মাটির এসিডিটি দূর ক্ষারকের ব্যবহার:
- মাটিতে এসিডিটি বৃদ্ধি পেলে উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়, যা প্রশমিত করতে ক্ষারক যেমন- চুন (CaO), মিল্ক অব লাইম Ca(OH)2 এবং চুনাপাথর (CaCO3) ব্যবহৃত হয়।
- এই প্রক্রিয়াকে 'লাইমিং' (Liming) বলা হয়।
- বাসাবাড়িতে পরিষ্কারক হিসেবে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
- টুথপেস্ট ও টুথপাউডার ক্ষারীয় পদার্থ হয়ে মুখে এসিডীয় অবস্থা নিরসন করে দাঁতের ক্ষয় রোধ করে।
- সাবান যেমন- শক্ত সাবান, তরল সাবান এবং কাপড় কাচার সাবান ক্ষারক হিসেবে তৈরি হয়। আবার শেভিং ফোম এবং নরম সাবানও ক্ষারক দিয়ে তৈরি।
- গ্যাস্ট্রিক ব্যথা বা এসিডিটির জন্য ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Mg(OH)2) ও অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (Al(OH)3) এন্টাসিড হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়াম সালফেট এবং ভিনেগার মাটির অম্লতা দূর না করে বরং অম্লতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৭.
ফেরাস ক্লোরাইডে আয়রনের সক্রিয় যোজনী কত?
  1. ক) ০
  2. খ) ১
  3. গ) ২
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের পরমাণুসমূহ একে অপরের সাথে সর্বশেষ কক্ষপথের ইলেকট্রন বর্জন, গ্রহণ অথবা ভাগাভাগির মাধ্যমে অণু গঠন করে। অণু গঠনকালে কোনো মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের পরমাণু যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বা যোজ্যতা বলা হয়।

সাধারণত হাইড্রোজেনের যোজনী এক (1) ধরা হয়। কোনো মৌলের একটি পরমাণু যতগুলো ঐ পরমাণু বা H পরমাণু বা Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে সেই সংখ্যাই হলো ঐ মৌলের যোজনী বা যোজ্যতা।

হাইড্রোজেনের একটি পরমাণু ক্লোরিনের একটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে HCl অণু গঠিত হয়, তাই ক্লোরিনের যোজনীও 1 (এক)। আবার অক্সিজেনের একটি পরমাণু হাইড্রোজেনের দুটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে H2O তৈরি করে, এজন্য অক্সিজেনের যোজনী 2 (দুই)। একটি Na পরমাণু একটি Cl পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে NaCl গঠিত হয়। সুতরাং Na এর যোজনী 1 (এক)।

কিছু কিছু মৌলের একাধিক যোজনী থাকে। কোনো মৌলের একাধিক যোজনী থাকলে সেই মৌলের যোজনীকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলা হয়। যেমন: Fe এর পরিবর্তনশীল যোজনী 2 এবং 3। 

কোনো মৌলের সর্বোচ্চ যোজনী এবং সক্রিয় যোজনীর পার্থক্যকে ঐ মৌলের সুপ্ত যোজনী বলা হয়।
যেমন: FeCl2 যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 2 কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3 অতএব FeCl2 যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 – 2 = 1। আবার FeCl3, যৌগে Fe এর সক্রিয় যোজনী 3  কিন্তু Fe এর সর্বোচ্চ যোজনী 3. অতএব FeCl3, যৌগে Fe এর সুপ্ত যোজনী 3 - 3=0 |

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি
১,৩৪৮.
নিচের কোনটি আইসোটোপ নয়? 
  1. হিলিয়াম
  2. ট্রিটিয়াম
  3. প্রোটিয়াম
  4. ডিউটেরিয়াম
ব্যাখ্যা
আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের মোট ৭টি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে, যার মধ্যে শুধু প্রকৃতিতে পাওয়া গেছে ৩টি (হাইড্রোজেন বা প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম) আইসোটোপ এবং অন্যগুলো ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। 
- প্রকৃতিতে পাওয়া তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, তাই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- এখন পর্যন্ত ৩০০০ সংখ্যক থেকে বেশি আইসোটোপ সম্পর্কে জানা গেছে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৪৯.
প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা কত? 
  1. শূন্য
  2. এক
  3. দুই
  4. তিন
ব্যাখ্যা
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ প্রোটিয়ামের নিউট্রন সংখ্যা শূন্য। 

আইসোেটাপ (Isotope): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান। 
- কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। 
- এর মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫০.
কোন পদ্ধতিতে সালফিউরিক এসিড তৈরি করা হয়?
  1. সলভে পদ্ধতিতে
  2. হ্যাবার পদ্ধতিতে
  3. স্পর্শ পদ্ধতিতে
  4. বিসমার্ক পদ্ধতিতে
ব্যাখ্যা
সালফিউরিক এসিড: 
- সালফিউরিক এসিড অন্যান্য রাসায়নিক দ্রব্য অপেক্ষা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বলে সালফিউরিক এসিডকে রাসায়নিক দ্রব্যের রাজা বলা হয়। 
- শিল্পকারখানায় কঠিন সালফার থেকে সালফিউরিক এসিডকে প্রস্তুত করা হয় যে পদ্ধতিতে তাকে স্পর্শ পদ্ধতি বলে। 

সালফিউরিক এসিডের ধর্ম: 
এসিড ধর্ম: 
- লঘু H2SO4 বা গাঢ় H2SO4 কোনো ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ এবং পানি তৈরি করে, একে H2SO4 এর এসিড ধর্ম বলে। 
যেমন: সালফিউরিক এসিড ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড এর সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম সালফেট লবণ এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• H2SO4 + Ca(OH)2 → CaSO4 + 2H2
সালফিউরিক এসিড + ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড → ক্যালসিয়াম সালফেট + পানি 

জারণ ধর্ম (Oxidation Property): 
- H2SO4 এর মধ্যে অনেক বেশি পানি থাকলে অর্থাৎ পানির মধ্যে H2SO4 দিলে সেই H2SO4 কে লঘু H2SO4 এসিড বলে, লঘু H2SO4 এর জারণ ধর্ম নেই। 
- কিন্তু যে H2SO4 এর মধ্যে পানি কম পরিমাণে থাকে সেই H2SO4 গাঢ় H2SO4 বলে, গাঢ় H2SO4 এর জারণ ধর্ম আছে। 
- গাঢ় H2SO4 কপারকে জারিত করে কপার সালফেটে পরিণত করে এবং নিজে বিজারিত হয়ে সালফার ডাই-অক্সাইড এবং পানি উৎপন্ন করে। 
• 2H2SO4 (গাঢ়) + Cu → CuSO4 + SO2 + 2H2

নিরুদন ধর্ম (The Dehydrating Property): 
- যে পদার্থ কোনো যৌগ থেকে পানি শোষণ করে সেই পদার্থকে নিরুদক বলে। 
- পানি শোষণ করার ধর্মকে নিরুদন ধর্ম বলে। 
- লঘু H2SO4 এর কোনো নিরুদন ধর্ম নেই, কিন্তু গাঢ় H2SO4 এর নিরুদন ধর্ম আছে।
- গাঢ় H2SO4 চিনি (C12H22O11) থেকে পানি শোষণ করে, এজন্য গাঢ় H2SO4 কে নিরুদক বলে। 
• C12H22O11 + H2SO4 → 12C + H2SO4.11H2

অন্যদিকে, 
- সলভে পদ্ধতি → সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- হ্যাবার পদ্ধতি → অ্যামোনিয়া (NH3) তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 
- বিসমার্ক পদ্ধতি → এটি সালফিউরিক এসিড তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৫১.
তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় (Exothermic Reaction) কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. তাপের নির্গমন ঘটে
  3. তাপমাত্রা স্থির থাকে
  4. বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপ হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা
• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় তাপ‌ উৎপন্ন হয়,তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলে।

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার উদাহরণ:
N2 (g)  + 3H2 (g) ⇔ 2NH3 (g) + 92 kJ

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- তাপের নির্গমন: বিক্রিয়ায় তাপের নির্গমন হয়।
- তাপমাত্রার প্রভাব:  বিক্রিয়া অঞ্চলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় (তাপ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে)।
- এনথালপি পরিবর্তন (ΔH):  তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔH ঋণাত্মক (ΔH < 0), কারণ বিক্রিয়া থেকে শক্তি নির্গত হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৩৫২.
গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র নিচের কোনটি? 
  1. V ∝ n
  2. P ∝ T
  3. PV = K
  4. V ∝ T
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T. 

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১,৩৫৩.
একটি দ্রবণের সাধারণত কয়টি অংশ থাকে? 
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
দ্রবণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুই বা ততোধিক কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যার প্রতিটি উপাদানের আপেক্ষিক পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত পরিবর্তিত করা যায়, তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের সাধারণত দুইটি অংশ থাকে। একটি হলো দ্রাবক আর অপরটি হলো দ্রব। 
অর্থাৎ, দ্রবণ= দ্রাবক + দ্রব। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয়, তাকে দ্রাবক বলা হয়। 
- দ্রব ও দ্রাবকের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের দ্রবণ হয়। 
যথা: 
দ্রাবক ⇒ দ্রব ⇒ উদাহরণ  
• গ্যাস ⇒ গ্যাস ⇒ বায়ু: সাধারণভাবে 78% N2 ও 21% O2। অধিক পরিমাণে N2 এর মধ্যে কম পরিমাণে O2 এর মিশ্রণ। 
• তরল ⇒ গ্যাস ⇒ সোডা ওয়াটার: পানিতে উচ্চ চাপে CO2 কেন্দ্রীভূত করা হয়। 
• তরল ⇒ তরল ⇒ পানি-অ্যালকোহলের দ্রবণ: পানিতে কিছু পরিমাণ অ্যালকোহল দ্রবীভূত করা হয়। 
• কঠিন ⇒ কঠিন ⇒ ধাতু সংকর: কপার ও জিংকের সমসত্ত্ব মিশ্রণ। 
• কঠিন ⇒ তরল ⇒ পারদ সংকর বা জিংক অ্যামালগাম। 
• কঠিন ⇒ গ্যাস ⇒ কঠিন প্যালাডিয়াম ধাতু দ্বারা H2 গ্যাস শোষিত হয়। 
• গ্যাস ⇒ তরল ⇒ মেঘ: বায়ুতে জলীয় বাষ্প। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৪.
খাদ্য সংরক্ষণে মূলত কোন যৌগটি ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে? 
  1. হাইড্রোজেন সালফাইড
  2. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ট্রাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
সালফার ডাই-অক্সাইড এর খাদ্য সংরক্ষণ কৌশল: 
- সালফার ডাই-অক্সাইড মূলত ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং এনজাইমের ক্রিয়া প্রতিরোধ করে। 
- হালকা বর্ণের ফল ও সবজির বর্ণ বিপর্যয় কমাতে SO2 জারণ রোধক (Anti-oxident) হিসেবে কাজ করে। 
- যার জন্য খাদ্যে এসকরবিক এসিড, ক্যারোটিন এবং অন্যান্য জারণ যোগ্য যৌগ ধারণ করতে সাহায্য করে। 
- সালফার ডাই-অক্সাইড সাধারণত তার সালফাইট, বাইসালফাইট এবং মেটাসালফাইট লবণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- মদে আকাঙ্ক্ষিত ঈস্টের জন্ম বা বৃদ্ধিতে বাধা দেয় কিন্তু ব্যাকটেরিয়াল কোষের সাথে বিক্রিয়া করে ধ্বংস করে এবং বংশ বিস্তার প্রতিহত করে। এজন্যই মদ তৈরিতে সালফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- তবে ভিটামিন B1 (থায়ামিন) সমৃদ্ধ খাদ্যে সালফাইটের ব্যবহারে তা নষ্ট হয় বলে তার ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। 
- টিনজাতকৃত খাদ্যে SO2 ব্যবহার করলে H2S উৎপন্ন হয়ে কটু গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে। 

SO2 ব্যবহারের সুবিধাসমূহ: 
(ক) ব্যাকটেরিয়াঘটিত গাঁজন রোধে এটা সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা ভালো কাজ করে। 
(খ) সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা বেভারেজ পানীয় রং দীর্ঘদিন ধারণ করে। 
(গ) এটা গ্যাস হওয়ায় ফলের রসের পৃষ্ঠতলকেও রক্ষা করে। 
(ঘ) এটা সোডিয়াম বেনজোয়েট অপেক্ষা পানিতে অধিক দ্রবণীয় হওয়ায় ফলের জুস ও স্কোয়াসের সাথে ভালোভাবে মিশে এবং তাদের সংরক্ষণ করে। 
(ঙ) 71°C তাপমাত্রায় বা বায়ু চালনা করে অথবা জুস পাত্র বায়ুশূন্য করে অতিরিক্ত SO2 গ্যাস সহজেই দূর করা যায়। 

SO2 ব্যবহারের অসুবিধাসমূহ: 
(ক) বরই, স্ট্রবেরি, আঙ্গুর ইত্যাদি প্রাকৃতিক রঙিন ফল বা ফলের রস সংরক্ষণে SO2 গ্যাস ব্যবহার করা যায় না। কারণ SO2 কিছুটা বিবর্ণকারী (bleaching agent)। (খ) কনটেইনারের টিনের সাথে বিক্রিয়ায় ফিনোলস H2S উৎপন্ন করে যার কটু গন্ধ আছে এবং টিনের আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে আয়রন সালফাইট (কালো যৌগ) উৎপন্ন করে যা প্রত্যাশিত নয়। 
   SO2 + 2H2O → H2SO4 + 2[H] 
   রঙিন বস্তু + [H]  → বর্ণহীন বস্তু 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৫.
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. অক্সিজেন
  4. ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা
• পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস হলো মূলত কার্বন এবং হাইড্রোজেন সমৃদ্ধ জৈব পদার্থ, যা ভূগর্ভে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রার প্রভাবে তৈরি হয়েছে।
- এদের প্রধান উপাদান হলো হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon)। যার মূল গঠন কার্বন (C) ও হাইড্রোজেন (H) দিয়ে তৈরি।
- তবে, হাইড্রোকার্বনের গঠন এবং বৈশিষ্ট্যের মূল ভিত্তি হলো কার্বন পরমাণুর চেইন বা রিং কাঠামো।
- কার্বন পরমাণুগুলির মধ্যে একক, দ্বি-বন্ধন, ত্রি-বন্ধন তৈরি হয়ে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উপাদান সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, 
নাইট্রোজেন: মৌলিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারে, তবে এটি প্রধান উপাদান নয়।

অক্সিজেন: এটি দহনে প্রয়োজনীয় কিন্তু জ্বালানীর মূল উপাদান নয়। 

ক্যালসিয়াম: ক্যালসিয়াম একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌল। কিন্তু এটি পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপাদান নয় ।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
- রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ। 
- "Fundamentals of Petroleum" by Kate Van Dyke
১,৩৫৬.
নিচের কোনটি রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা?
  1. ইলেকট্রনের চার্জের প্রকৃতি নির্ধারণ করতে ব্যর্থ
  2. নিউট্রনের অস্তিত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ
  3. পরমানুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ
  4. প্রোটনের চার্জ নির্ণয় করতে ব্যর্থ
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড ১৯১১ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু মডেল দেন।

• যেখানে তিনি দেখান যে:-
-  প্রত্যেকটি পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে। এই কেন্দ্রের নাম নিউক্লিয়াস। নিউক্লিয়াসের ভেতরে প্রোটন ও নিউট্রন এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রন অবস্থান করে।
যেহেতু আপেক্ষিকভাবে ইলেকট্রনের ভর শূন্য ধরা হয় কাজেই নিউক্লিয়াসের ভেতরে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের ভরই পরমাণুর ভর। 

- নিউক্লিয়াস অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং নিউক্লিয়াসের বাইরে ও পরমাণুর ভেতরে বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা।

- ধনাত্মক চার্জবাহী নিউক্লিয়াসের প্রতি ঋণাত্মক চার্জবাহী ইলেকট্রন এক ধরনের আকর্ষণ বল অনুভব করে।
এই আকর্ষণ বল কেন্দ্রমুখী এবং এই কেন্দ্রমুখী বলের কারণে পৃথিবী যেরকম সূর্যের চারদিকে ঘুরে ইলেকট্রন সেরকম নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘুরে।

• তবে তাঁর মডেলের প্রধান সীমাবদ্ধতা ছিল:
 - ইলেকট্রন কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে শক্তি হারায় (তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণের কারণে) ফলে তা অবশেষে নিউক্লিয়াসে পতিত হতো এবং পরমাণু স্থিতিশীল থাকে না।
 কিন্তু প্রকৃতিতে পরমাণু স্থিতিশীল, তাই এই মডেল পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য নয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

১,৩৫৭.
শুষ্ককোষে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) ধাতব টুপিযুক্ত কার্বন দন্ড
  3. গ) দস্তার চোঙ
  4. ঘ) ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে। শুষ্ক কোষে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসাবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসাবে কাজ করে৷

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

১,৩৫৮.
গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O
  2. CuSO4.5H2O
  3. Na2SO4.10H2O
  4. Na2CO3.10H2O
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa, 
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৯.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে?
  1. আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি
  2. আলোক শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি
  3. বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি
  4. আলোক শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬০.
'সিন্নাবার' কোন ধাতুর আকরিক? 
  1. লেড
  2. কপার
  3. মার্কারি
  4. জিংক
ব্যাখ্যা
- সিন্নাবার 'মার্কারি' ধাতুর একটি আকরিক। 

আকরিক: 
- সকল খনিজ পদার্থ থেকে লাভজনকভাবে ধাতু বা অধাতু আহরণ বা নিস্কাশন করা যায় না। 
- খনিতে প্রাপ্ত যে সকল যৌগিক পদার্থ থেকে ধাতু বা অধাতু লাভজনকভাবে নিস্কাশন করা যায় তাকে আকরিক বলে। 
- খনিতে আকরিকের সাথে বালি, পাথর, কাদামাটি ও অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় অপদ্রব্য বা ভেজাল হিসেবে থাকে। 
- এসকল অপদ্রব্যকে খনিজমল বলে। 


উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬১.
কোথায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় আছে?
  1. চন্দ্র পৃষ্ঠের পাহাড়ে
  2. সূর্যের অভ্যন্তরে
  3. পৃথিবীর পানিতে
  4. উত্তর মেরুর বরফে
ব্যাখ্যা
প্লাজমা অবস্থা (Plasma State): 
- প্লাজমা হলো অতি উচ্চ তাপমাত্রায় আয়নিত গ্যাস। 
- এ অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা  হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়। আবার, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। 
- তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। 
অন্যভাবে বলা যায়, গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়তনযুক্ত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরূজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 
- শিল্প কারখানায় প্লাজমা টর্চ ব্যবহৃত হয়। 
- সূর্যসহ মহাবিশ্বের নক্ষত্রসমূহের অভ্যন্তরভাগ প্লাজমা অবস্থার উদাহরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬২.
উড পেন্সিলের সীস হিসাবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) সালফার
  4. ঘ) সিলভার
ব্যাখ্যা

গ্রাফাইট, হীরক, গ্রাফিন, ফুলারিন প্রভৃতি হলো কার্বনের বিভিন্ন রূপভেদ। উড পেন্সিলের সীস হিসাবে ব্যবহৃত হয় গ্রাফাইট। গ্রাফাইট অধাতু হওয়া সত্ত্বেও তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী। এছাড়া সোডিয়াম ধাতু নিষ্কাশনে গ্রাফাইট অ্যানোড তড়িদ্বার হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

১,৩৬৩.
C.N.G. (সি.এন.জি) দ্বারা কী বুঝায়?
  1. ক) রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) অপরিশোধিত পেট্রোলিয়াম
  3. গ) এক ধরনের সীসা
  4. ঘ) অতি প্রাকৃত গ্যাস
ব্যাখ্যা
C.N.G. (সি.এন.জি) হচ্ছে এক ধরণের রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস। 

- সিএনজি (CNG) বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রধানত মিথেনের গঠিত হয় যখন এলপিজি বা তরলিত পেট্রোলিয়াম গ্যাস প্রধানত প্রোপেন, বেতেন এবং অন্যান্য গ্যাস দ্বারা গঠিত।
- CNG বা সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (Compressed Natural Gas) জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি রূপ।
- বাংলাদেশে পাওয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের শতকরা ৯৯% বিশুদ্ধ মিথেন। সিএনজি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় কারণ এটি অন্যান্য জ্বালানী উৎসের তুলনায় অনেক বেশি সস্তা এবং নিরাপদ বিকল্প, এটি একটি পরিবেশ বান্ধব বিকল্প এবং সাধারণত উন্নত দেশগুলিতে ব্যবহৃত হয়।
- সিএনজির প্রাথমিক উৎস হল ভূগর্ভস্থ, এবং এখান থেকেই এই মৌলিক গ্যাসের উৎপত্তি। 

সূত্র- বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১,৩৬৪.
কাপড় কাচার জন্য সাধারণত কোন ধরণের সাবান ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
  2. পটাশিয়াম স্টিয়ারেট 
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা

- কাপড় কাচার জন্য সাধারণত সোডিয়াম স্টিয়ারেট ব্যবহার করা হয়। সোডিয়াম স্টিয়ারেট (Sodium stearate) হলো স্টিয়ারিক অ্যাসিডের সোডিয়াম লবণ এবং এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরণের সাবান। কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সোপ সাধারণত সোডিয়াম লবণ দিয়ে তৈরি শক্ত সাবান হয়। এই সোডিয়াম লবণগুলো পানিতে দ্রবণীয় এবং পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত হয়। 

সাবান: 
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK)। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। 
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৬৫.
সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - 
  1. CH2COONa
  2. (CH3COO)2Ca
  3. CH3COONa
  4. CHCOONa
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন মৌলের রাসায়নিক সংকেত: 
- সোডিয়াম এসিটেটের সংকেত - CH3COONa
- মিল্ক অফ লাইমের রাসায়নিক সংকেত- Ca(OH)2
- বেকিং সোডার রাসায়নিক সংকেত- NaHCO3
- চুনাপাথরের  রাসায়নিক সংকেত- CaCO3
- ভিনেগারের  রাসায়নিক সংকেত- CH3COOH, 
- চুনের  রাসায়নিক সংকেত- CaO, 

- তুঁতের রাসায়নিক সংকেত- CuSO4.5H2O, 
- ক্যালামিনের রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত- [K2SO4. Al2(SO4)3.24H2O], 
- গ্লুবার লবণ এর রাসায়নিক সংকেত- Na2SO4.10H2O, 
- কাপড় কাচার সোডার রাসায়নিক সংকেত- Na2CO3.10H2O, 
- ক্লোরোফর্ম এর রাসায়নিক সংকেত- CHCl3
- ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক সংকেত- Ca(OCl)Cl. 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৬.
ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত কোনটি?
  1. KCl.Al2(SO4)3.6H2O
  2. K2SO4.Fe2(SO4)3.24H2O
  3. Na2SO4.Al2(SO4)3.24H2
  4. K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি অথবা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] । 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৬৭.
নিচের কোন মানটি pH স্কেলে নিরপেক্ষতা নির্দেশ করে?
  1. ৫.৫
  2. ৪.৫
ব্যাখ্যা
• pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 

অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয় এবং 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৬৮.
খনিজ এসিডের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ক) সালফিউরিক এসিড
  2. খ) ফসফরিক এসিড
  3. গ) নাইট্রিক এসিড
  4. ঘ) এসকরবিক এসিড
ব্যাখ্যা
এসকরবিক এসিড জৈব এসিডের উদাহরণ। 

- এসকরবিক এসিড ফলমূল এবং সবজিতে পাওয়া যায়।
- যে সকল এসিড প্রকৃতিতে প্রাপ্ত নানা রকম খনিজ থেকে তৈরি করা হয়, সেগুলোকে খনিজ এসিড বলে। 
যেমন- সালফিউরিক এসিড , ফসফরিক এসিড ইত্যাদি। 

সূত্র- ১০৮ পৃষ্ঠা, বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৬৯.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সাধারণত কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. সোডিয়াম কার্বোনেট
  3. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা

সাবান: 
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট। আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট ব্যবহার করা হয়। 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। 
- তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 

অন্যদিকে, 
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড: এটি "কস্টিক সোডা" (NaOH) নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষার এবং কাপড় কাচার সোডা হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তবে সাবান তৈরিতে এর ব্যবহার রয়েছে।
- পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড: এটি "কস্টিক পটাশ" (KOH) নামে পরিচিত। এটি সাধারণত তরল সাবান বা নরম সাবান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
- সোডিয়াম স্টিয়ারেট: এটি সাবানের একটি প্রধান উপাদান, কিন্তু এটি নিজে কাপড় কাচার সোডা নয়। সোডিয়াম স্টিয়ারেট হলো একটি ফ্যাটি অ্যাসিডের লবণ যা পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। 

উৎস: রসায়ন ও বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭০.
Cast Iron তৈরিতে ব্যবহৃত ফার্নেস হল-
  1. Bessemer Converter
  2. Cupola furanace
  3. Open hearth furnace
  4. Blast furnace
ব্যাখ্যা
লোহা:
- লোহা [(Iron), (Fe)] বা লৌহ একটি ধাতব মৌল। 
- এটি আমাদের অতীব প্রয়োজনীয় একটি মৌলিক পদার্থ। কিন্তু পৃথিবী পৃষ্ঠে লৌহ সাধারণত একাধিক যৌগ হিসাবে খনিতে পাওয়া যায়।
- লৌহের উল্লেখযোগ্য আকরিক হলো: হেমাটাইট, ম্যাগনেটাইট, লিমোনাইট, পাইরাইটস ইত্যাদি।
- শিল্প ক্ষেত্রে লোহার আকরিকের সাথে কোক (কার্বন চূর্ণ) ও চুনাপাথর মিশিয়ে অতি উচ্চ তাপে ব্লাস্ট ফার্নেস নামক বিশেষ চুল্লিতে গলান হয়। এতে লোহার বিভিন্ন অপদ্রব্য দূরীভূত হয়। গলিত লোহা চুলার তলায় জমা হয়। গলিত লোহাকে ঠান্ডা করলে শক্ত লোহা পাওয়া যায়।
- লোহাতে বিভিন্ন অনুপাতে কার্বন মিশিয়ে এর গুণাগুণ নির্ধারণ করা হয়।

• লোহার মধ্যে কার্বনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে লোহাকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়। যথা:
ঢালাই লোহা (Cast iron), পেটা লোহা (Wrought iron) ও ইস্পাত (Steel)।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭১.
44g CO2 এ অণুর সংখ্যা কতটি
  1. ক) 1টি
  2. খ) 44টি
  3. গ) 6.023×1023টি
  4. ঘ) 1.3×1022টি
ব্যাখ্যা
CO
= ১২ + (১৬ × ২)
= ১২ + ৩২
= ৪৪g
= ১ মোল 
∴ ৪৪ গ্রাম CO2 এর অণুর সংখ্যা 6.023×1023টি

- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল।
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023টি অণুকে বুঝায়।
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023টি পরমাণু বুঝায়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭২.
কাঠের দহনের প্রধান উৎপাদিত গ্যাস কোনটি? 
  1. O3
  2. O2
  3. CO2
  4. CO
ব্যাখ্যা

- কাঠের দহনের ফলে উৎপন্ন প্রধান গ্যাস হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)। যখন কাঠ পর্যাপ্ত অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়, তখন মূলত এই গ্যাসটি নির্গত হয়

সাধারণ জ্বালানি (কাঠ, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস): 
- রান্নার কাজে সাধারণত কাঠ, কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এসকল বস্তু দহন করে যে তাপ পাওয়া যায় তা দিয়ে রান্না করা হয়। 
- দহন বলতে এমন রাসায়নিক বিক্রিয়া বোঝায় যেখানে কোন পদার্থ অক্সিজেনের সাথে স্বত:স্ফূর্ত বিক্রিয়া করে তাপ ও আলো দেয়। 
- কাঠের উপাদান সেলুলোজ যার মূল উপাদান কার্বন। 
- দহনের ফলে কাঠ অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে প্রধানত CO2, তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। 
যেমন- 
• কাঠ + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
- একইভাবে, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস পোড়ালেও তাপ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও আলো পাওয়া যায়। 
• C (কয়লা) + O2 → তাপ + CO2 + আলো 
• CH4 (মিথেন বা প্রাকৃতিক গ্যাস) + O2 → তাপ + CO2 + H2O + আলো । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৭৩.
আর্গনের (Ar) জারণ সংখ্যা-
  1. শূন্য
  2. এক
  3. চার
  4. ছয়
ব্যাখ্যা
• জারণ সংখ্যা:

• যৌগ গঠনের সময় একটি মৌল অপর মৌলের সাথে যুক্ত হতে যে কয়টি ইলেকট্রন আদান প্রদান করে সেই আদান প্রদানকৃত ইলেকট্রনের সংখ্যাকে জারণ সংখ্যা বলে।
• জারণ সংখ্যা ধনাত্মক, ঋণাত্মক, ভগ্নাংশ এবং শূন্য হতে পারে। একটি মৌলের একাধিক জারণ সংখ্যা হতে পারে। একে পরিবর্তনশীল জারণ সংখ্যা বলে। 
• জানা মৌলের জারণ সংখ্যার সাহায্যে কোন মৌলের অজানা জারণ সংখ্যা সহজেই নির্ণয় করা যায়।
• যেসব মৌলের জারণ সংখ্যা মনে রাখা প্রয়োজন তা নিম্নরূপ- 
১. চার্জ নিরপেক্ষ পরমাণুর জারণ সংখ্যা শূন্য হয়।
- যেমন: Na ; K ; Mg ; Ca ; Fe ইত্যাদি।

২. দ্বি-মৌলিক গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; N₂ ; O₂ ; F₂ ; H₂ ইত্যাদি।

৩. নিষ্ক্রিয় গ্যাসের জারণ সংখ্যা শূন্য।
- যেমন: He ; Ne ; Ar ; Kr ; Xe ; Rn.

৪. গ্রুপ- 1 এর মৌল সমূহের জারণ সংখ্যা +1.
- যেমন: H ; Li ; Na ; K ; ইত্যাদি।

৫. গ্রুপ -2 এর মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা +2.
- যেমন: Be ; Mg ; Ca ইত্যাদি।

৬. গ্রুপ -17 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: Cl₂ ; Br₂ ; I₂ ; F₂.

৭. গ্রুপ -16 মৌলসমূহের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: O₂ ; S ইত্যাদি।

৮. সাধারণ অক্সাইডের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -2.
- যেমন: Na₂O, MgO ; CaO ; ইত্যাদি।
- পার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা -1.
- যেমন: H₂O₂ ; Na₂O₂ ইত্যাদি। আবার সুপার অক্সাইডে অক্সিজেনের জারণ সংখ্যা - 1/2. যেমনঃ NaO₂ ; KO₂ ইত্যাদি।

৯. হাইড্রোজেন যদি অধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকে তবে জারণ সংখ্যা +1 হয়।
- যেমন: HCl ; HBr ; HI ; H₂O ইত্যাদি। আবার হাইড্রোজেন ধাতুর সঙ্গে যুক্ত থাকলে জারণ সংখ্যা -1 হয়। যেমন: NaH ; CaH₂ ; LiH ইত্যাদি।
- একটি যৌগের মোট জারণ সংখ্যার পরিবর্তন শূন্য হয়।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, হাজারী ও নাগ। 
১,৩৭৪.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ভঙ্গুরতা দেখা যায়
  2. এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি
  3. এই শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না
  4. কয়লা এক প্রকার পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা:
- পাললিক শিলা কথাটি এসেছে 'পলি' বা 'পলল' থেকে।
- পাললিক শিলা হলো এক প্রকারের শিলা যা ছোট ছোট কণা জমে বা জমা করে এবং পরবর্তীকালে পৃথিবীর পৃষ্ঠে সমুদ্রের তলে বা জলের অন্যান্য দেহের খনিজ বা জৈব কণার সিমেন্টেশন দ্বারা গঠিত হয়।
- কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ। 

পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য:
- এই শিলায় স্তরায়ন এবং কাদার চির খাওয়া দাগ লক্ষ্য করা যায়।
- একমাত্র এই শিলাতেই জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় সচ্ছিদ্রতা ও ভঙ্গুরতা দেখা যায়।
- এই শিলার প্রবেশ্যতা খুব বেশি।
- ক্ষয় প্রতিরোধের ক্ষমতা বিভিন্ন রকম হয়।
- কয়লা, খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভান্ডার এই শিলা।
- কাঠিন্য আগ্নেয় শিলার থেকে কম।
- ফাটল বা কেলাসের গঠন থাকে না।

অন্যদিকে -
- আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।
- রূপান্তরিত শিলা: মার্বেল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৫.
কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
  1. পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
  2. গোসলখানায়
  3. পুকুরে
  4. নালায়
ব্যাখ্যা
- সলিড ফিনাইল একটি শক্ত ধরনের জীবাণুনাশক এবং দুর্গন্ধনাশক, যা বিশেষ করে পায়খানা-প্রস্রাবখানা, এবং বিভিন্ন স্যানিটারি স্থানে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি সাধারণত টয়লেট বা প্রস্রাবখানার দুর্গন্ধ দূর করতে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে সাহায্য করে। 

দৈনন্দিন জীবনে কিছু রাসায়নিক জিনিসের ব্যবহার: 
- সাবান এবং ডিটারজেন্ট শরীর এবং কাপড় পরিষ্কার করতে ব্যবহার করা হয়। 
- টুথপেস্ট দাঁত পরিষ্কার করতে এবং মুখের জীবাণু ধ্বংস করতে ব্যবহার করা হয়। 
- ব্লিচিং পাউডার কাপড়ের দাগ তুলতে, পানি জীবাণুমুক্ত করতে এবং পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- বেকিং সোডা (সোডিয়াম বাইকার্বোনেট) রান্নায়, কেক-রুটি ফোলাতে, এবং ঘরোয়া পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ক্লোরোফর্ম সার্জারি বা চিকিৎসায় অজ্ঞান করার জন্য অতীতে ব্যবহৃত হতো ইত্যাদি। 
১,৩৭৬.
নিচের কোনটি ধাতব ধর্ম?
  1. ক) নমনীয়
  2. খ) তাপ পরিবাহী
  3. গ) বিদ্যুৎ পরিবাহী
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ধাতব ধর্ম (Metalic Properties) :
পর্যায় সারণিতে বিভিন্ন সারিতে এবং বিভিন্ন শ্রেণিতে অবস্থিত মৌলসমূহকে ধাতু, অধাতু এবং অপধাতুতে ভাগ করা হয়েছে।
মৌলের সুনির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে এদের উল্লিখিত নামে বিভক্ত করা হয়েছে।

ধাতুর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে যেমন—
- এরা উচ্চ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী,
- এদের ধাতব দ্যুতি আছে এবং
- এরা নমনীয় প্রকৃতির।

ধাতুর এসব বৈশিষ্ট্যই হলো ধাতব ধর্ম। সাধারণত যেসব মৌলের তড়িৎ ধনাত্মকতা যত বেশি হয় এবং আয়নিকরণ শক্তি যত কম হয় ঐ সব মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি হয়। পর্যায় সারণিতে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে যেহেতু বাম থেকে যতই ডানে যাওয়া যায় ততই পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং তড়িৎ ধনাত্মকা হ্রাস পায় তাই মৌলের ধাতু ধর্মও হ্রাস পায়। তাই পর্যায় সারণির বামে 1 এবং 2 শ্রেণির মৌলসমূহের ধাতু ধর্ম প্রবল অথচ ডান পার্শ্বের 17 শ্রেণির মৌলের ধাতব ধর্ম নেই বললেই চলে। পর্যায় সারণির মাঝামাঝি পর্যায়ে অবস্থিত জার্মেনিয়াম, আর্সেনিক, টেলুরিয়াম প্রভৃতি উপধাতু ।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
১,৩৭৭.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে বলা হয়- 
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়। 
যেমন - লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়। 
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৭৮.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) তুঁতে
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- জামা-কাপড় কাঁচার জন্য আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তা আসলে সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) নামক লবণ । 
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) যা কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত তাও একটি লবণ। 
- তুঁতে বা ফিটকিরি যা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটিও লবণ। 
- সেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাসিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) নামক লবণ ।
- কৃষি জমিতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুঁতে বা কপার সালফেটকে (CuSO4,5H2O) ব্যাপক ব্যবহার করা হয়। 
- তবে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 
- মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে যে চুনাপাথর বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে যে সকল সার যেমন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4], পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
 
উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৭৯.
সাবানকে শক্ত করতে কোন পদার্থ ব্যবহার করা হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. সোডিয়াম সিলিকেট
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট 
  4. সোডিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা

- সাবান তৈরির প্রক্রিয়ায় সোডিয়াম সিলিকেট একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো- সাবানকে শক্ত ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা, বাইন্ডার হিসেবে কাজ করা এবং ফিলার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

সাবান: 
- সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। 
- সাবানের রাসায়নিক নাম হলাে সােডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa).
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান বহুল প্রচলিত পরিষ্কারক সামগ্রী হিসেবে দেহ এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 
- সাবান তৈরির প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে তেল বা চর্বি। তেল বা চর্বিকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড দ্রবণ দ্বারা আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে সোডিয়াম সাবান বা পটাশিয়াম সাবান উৎপন্ন হয়। 
- সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়। 
- সোডিয়াম সিলিকেট সাবানকে শক্ত করতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৮০.
ল্যাকটোজ কী দিয়ে গঠিত? 
  1. গ্লুকোজ + ফ্রুক্টোজ
  2. গ্ল্যাক্টোজ + মাল্টোজ
  3. গ্লুকোজ + সুক্রোজ
  4. গ্লুকোজ + গ্ল্যাক্টোজ
ব্যাখ্যা
দুধ: 
- দুধ হচ্ছে লিপিড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং পানিতে দ্রবীভূত অথবা বিক্ষিপ্ত বিভিন্ন অজৈব এবং জৈব লবণের মিশ্রণ। 
- দুধ একটি কলয়েড বা ইমালশন। 
- স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীর দেহে এটি তৈরি হয় যা তাদের নবজাতক শিশুর খাদ্যের প্রধান উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- দুধের প্রধান উপাদানগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
১. চর্বি (Lipids): 
- দুধের মধ্যে চর্বি অদ্রবণীয় সূক্ষ্ম কণারূপে বিদ্যমান থাকে। চর্বির পরিমাণ দ্বারা দুধের গুণগতমান নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। উচ্চ চর্বি বিশিষ্ট দুধ অধিক ক্রিম বহন করে ও মসৃণ হয় এবং বেশি মাখন ও পনির উৎপন্ন করে। এটি শক্তির একটি উৎকৃষ্ট উৎস হিসেবে কাজ করে। 

২. প্রোটিন (Protein): 
- দুধে উচ্চমান সম্পন্ন প্রোটিন বিদ্যমান। সাধারণত প্রতি লিটার দুধে 30-35g প্রোটিন উপস্থিত থাকে। দুধে উপস্থিত 76-86% প্রোটিনই কেজিন (Casein) দ্বারা গঠিত। প্রধানত চার প্রকার কেজিন দুধের মধ্যে পাওয়া যায়। যেমন: αS1, αS2, β এবং K-কেজিন। এর সাথে অল্প পরিমাণ অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউনিন বিদ্যমান যা বিভিন্ন অসুখের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। 

৩. কার্বোহাইড্রেট (Carbohydrate): 
- দুধে বিদ্যমান প্রধান শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে ল্যাকটোজ। এক অণু গ্লুকোজ এবং এক অণু গ্ল্যাক্টোজ এর সমন্বয়ে ল্যাকটোজ তৈরি হয়। এটি দুধের মিষ্টতা বাড়ায়। দুধের মধ্যে প্রায় 4.8% ল্যাকটোজ বিদ্যমান যা দুধের 40% ক্যালরি উৎপন্ন করে। 

8. খনিজ লবণ (Minerals): 
- দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস অধিক পরিমাণে বিদ্যমান। এছাড়া অল্প পরিমাণে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্লোরাইড, সাইট্রেট প্রভৃতি বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়ের বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করে। দাঁতের জন্য ক্যালসিয়াম খুবই প্রয়োজন। 

৫. ভিটামিন (Vitamins): 
- দুধ ভিটামিনের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। দুধের মধ্যে ভিটামিন A, B6, B12, C, D, K, F আছে। এছাড়াও থায়ামিন, নায়াসিন, রিবোফ্লাবিন, প্যান্টোথ্যানিক এসিড প্রভৃতি উপাদান বিদ্যমান। 

৬. পানি (Water): 
- দুধে পানির পরিমাণ গড়ে ৪7%। পানিতে দ্রবণীয় বিভিন্ন খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত থাকে। এদের মধ্যে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ও সি উল্লেখযোগ্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮১.
শুষ্ককোষে ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার হিসাবে কাজ করে কোনটি?
  1. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
  2. কার্বন দন্ড
  3. দস্তার চোঙ
  4. ম্যাংগানিজ ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তাকে ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ বলে। শুষ্ক কোষে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড হিসাবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বন দন্ডের উপরিভাগ ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড হিসাবে কাজ করে৷
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

১,৩৮২.
ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা -
  1. ৮২
  2. ৮৮
  3. ৯১
  4. ৯২
ব্যাখ্যা
• ইউরেনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা - ৯২।
- সংকেত- U
- পারমানবিক ভর -২৩৮।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ মৌলের পারমানবিক সংখ্যা:
- সিলিকনের পারমাণবিক সংখ্যা ১৪,
- সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১১,
- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২,
- ক্যালসিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ২০,
- জিংকের পারমানবিক সংখ্যা ৩০,
- অ্যালুমিনিয়ামের পারমানবিক সংখ্যা ১৩, 
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬,
- আর্সেনিকের পারমাণবিক সংখ্যা ৩৩,
- নাইট্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৭।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৮৩.
কোনটির ক্ষেত্রে ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়?
  1. পেইন্টিং
  2. গ্যালভানাইজিং
  3. ভলকানাইজিং
  4. ইলেকট্রোপ্লেটিং
ব্যাখ্যা
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে তড়িৎ বিশ্লেষ্য জমা হয় অপরদিকে অ্যানোড ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে দ্রবণে আয়ন হিসাবে দ্রবীভুত হয়। 
- বিজ্ঞানী ফ্যারাডে, ব্রিটিশ রসায়ন ও পদার্থবিদ বিভিন্ন তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্যদিয়ে তড়িৎ প্রবাহিত করে, তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোডে জমাকৃত বা অ্যানোড হতে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণের সাথে দ্রবণের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত বিদ্যুতের সম্পর্ক স্থাপন করেন। 
- তার এই সূত্র (১৮৩৪) ফ্যারাডের সূত্র নামে পরিচিত। 

ফ্যারাডের ১ম সূত্র: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ এর সময় ক্যাথোডে জমাকৃত অথবা অ্যানোডে ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থের পরিমাণ তড়িৎবিশ্লেষ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত তড়িৎ এর সমানুপাতিক। 

ফ্যরাডের প্রথম সূত্রের প্রয়োগ: 
- ফ্যারাডের প্রথম সূত্রের সহায্যে আমরা কোন নির্দিষ্ট পরিমান পদার্থ ক্যাথডে জমা হতে কত সময় লাগবে তা গণনা করা যায়। 
- একই ভাবে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতটুকু পদার্থ ক্যাথডে জমা হবে তা হিসাব করতে পারি। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং এর ক্ষেত্রে ফ্যারাডের সূত্রের প্রয়োগ দেখা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৮৪.
আমলকিতে কোন ভিটামিন থাকে?
  1. ক) এ
  2. খ) বি
  3. গ) সি
  4. ঘ) ডি
ব্যাখ্যা

- ভিটামিন-সি এর অপর নাম অ্যাসকরবিক এসিড।
- সাইট্রাস জাতীয় ফল যেমন- লেবু, কমলালেবু, মাল্টা, জাম্বুরায় প্রচুর ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- টক জাতীয় ফল যেমন- আমলকি, আনারস, আমড়া।
- সবুজ শাক-সবজি ও ফল যেমন- বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালং শাক ইত্যাদিতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায়।
- সবচেয়ে বেশি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল আমলকি।
- ডিম ও দুধে ভিটামিন-সি নেই।

১,৩৮৫.
কোনটিতে মরিচা পড়ে না?
  1. ক) ঢালাই লোহা
  2. খ) টুল স্টিল
  3. গ) স্টেইনলেস স্টিল
  4. ঘ) মাইল্ড স্টিল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্টেইনলেস স্টিলের প্রধান উপাদান ক্রোমিয়াম ও নিকেল হওয়ায় এটিতে মরিচা পড়ে না।
১,৩৮৬.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে শক্তি রূপান্তরের মূল কারণ কোনটি?
  1. তাপীয় বিক্রিয়া
  2. আলোক বিক্রিয়া
  3. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
  4. নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয় জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া বা রেডক্স (Redox) বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এই প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের স্থানান্তর ঘটে, যা বৈদ্যুতিক প্রবাহ তৈরি করে। 

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যেমন- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৮৭.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল হলো -
  1. এমোনিয়া
  2. ক্রিংকার
  3. মিথেন
  4. অপরিশোধিত তেল
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই ।
১,৩৮৮.
কয়লা একটি -
  1. খনিজ
  2. জ্বালানি
  3. উৎকৃষ্ট জ্বালানি
  4. জীবাশ্ম জ্বালানি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম জ্বালানি: 
- ভূ-আন্দোলনের ফলে ভূপ্রকৃতির ও জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে।
- এ পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ জলাভূমি ও কঠিন শিলাস্তর ও বায়ুস্তরের নিচে ছিদ্রবিহীন শিলাখন্ডের দুটি স্তরের মাঝে আটকা পড়ে যায়।
- বায়ুর অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহ হাজার হাজার বছর ধরে উচ্চচাপ ও তাপে পরিবর্তিত ও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিতে পরিণত হয়।
- উদ্ভিদের দেহ পরিবর্তিত হয়ে কয়লায় এবং জলাভূমির প্রাণিসত্ত্বা পরিবর্তিত হয়ে পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানে পরিণত হয়। 

♣ সাধারণ তাপমাত্রায় জ্বালানির ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে তাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
ক) কঠিন জ্বালানী: কাঠ কয়লা, পিট কয়লা;
খ) তরল জ্বালানী: কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাসোলিন; 
গ) গ্যাসীয় জ্বালানি: কোল গ্যাস, প্রোডিউসার গ্যাস, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG), তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG), সংনমিত প্রাকৃতিক গ্যাস (CNG), বায়োগ্যাস ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৯.
পারমানবিক বোমা তৈরী হয় নিচের কোন ধাতু দিয়ে?
  1. ক) রেডিয়াম
  2. খ) ইউরেনিয়াম
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক বোমা:
- পারমাণবিক বোমা তৈরি হয় ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239 ধাতু দিয়ে। 
- বোমা বিস্ফোরণের সময় ইউরেনিয়াম ভেঙ্গে বেরিয়াম এবং ক্রিপ্টনে পরিণত হয়।
- ইউরেনিয়াম রুপালি-ধূসর বর্ণের তেজস্ক্রিয় একটি ধাতু।
- ইউ (U) প্রতীকের এই ধাতুটি পর্যায় সারণির সপ্তম পর্যায়ের তৃতীয় শ্রেণির B উপশ্রেণিতে অবস্থিত এবং এটি সারণির ৯২তম মৌল।
- উচ্চ ঘনত্বের ইউরেনিয়াম মৌলটি লেড থেকে ৭০ শতাংশ বেশি ঘনত্বের। 
- পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর ক্ষেত্রে এই ধাতু একটি অপরিহার্য উপাদান।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলার সময় জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান নামের যে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল, ওই দুটি বোমা তৈরিতেই ইউরেনিয়াম ব্যবহার করা হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং কালের কন্ঠ পত্রিকা (রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৮ মার্চ, ২০২১)। 
১,৩৯০.
হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল —
  1. ক) He
  2. খ) He+2
  3. গ) He2
  4. ঘ) He+
ব্যাখ্যা
• হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.

হিলিয়াম:
- হিলিয়াম মৌলের অণুর সংকেত হল He.
 -হিলিয়াম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা 2.
- হিলিয়াম হলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের প্রধান উৎস হলো বাতাস। 
- হিলিয়ামের প্রধান উৎস হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- কোন কোন প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপে প্রাকৃতিক গ্যাসের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় প্রচুর পরিমাণ (আনুমানিক 5% পর্যন্ত) হিলিয়াম পাওয়া যায়।
- কিছু তেজষ্ক্রিয় আকরিক যেমন, পিচব্লেন্ড, মোনাজাইট, থোরিয়ানাইট এবং ক্লিভাইট-এর মধ্যে হিলিয়াম এবং আর্গন আবদ্ধ থাকে।
- এ আকরিকগুলিকে উত্তপ্ত করলে হিলিয়াম এবং আর্গন বের হয়ে আসে। 

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৯১.
পর্যায় সারণিতে ধাতব মৌলের ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গলনাঙ্কের মানের কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. অল্প বৃদ্ধি পায়
  3. একই থাকে
  4. অনেক বেশী বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির সাধারণ পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম থেকে দেখা যায় যে একই গ্রুপে যত উপর থেকে যত নিচের দিকে যাওয়া যায় মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ততই বৃদ্ধি পায়।
- এর কারণ হলো একই গ্রুপে যত উপর থেকে নিচে যাওয়া যায় মৌলের একটি করে স্তর বৃদ্ধি পায় কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা একই থাকে।
- ফলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় বহিঃস্থ স্তরের সাথে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায়। 

• ক্ষার ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্কের মানের হ্রাসের কারণ হলো ধাতুগুলোর কেলাস ল্যাটিসের বন্ধন দুর্বল হওয়ায় এরা নরম প্রকৃতির হয়।
- এ ধাতুগুলোর প্রতিটি পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ কক্ষে একটি মাত্র ইলেকট্রন থাকে। 
- এর ফলে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গ্রুপের উপরের ক্ষার ধাতুর থেকে নিচের ক্ষার ধাতুর পারমাণবিক ব্যাসার্ধ যথেষ্ট বড় হয় এবং পরমাণুর আকারও বড় হয়। এর ফলে পরমাণুর মধ্যে বন্ধন শক্তি দুর্বল প্রকৃতির হয়। 
- বন্ধন শক্তি দুর্বল হওয়ার কারণে গলনাংকের মানও কম হয়। অর্থাৎ ক্ষার ধাতুর ক্ষেত্রে একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে গেলে গলনাংকের মান হ্রাস পায়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯২.
ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং পারমাণবিক ভর 31 হলে নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 13
  2. 14
  3. 15
  4. 16
ব্যাখ্যা
ভর সংখ্যা (Mass Number): 
 - কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়।
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়।
- ভর সংখ্যাকে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 

ফসফরাসের প্রোটন সংখ্যা 15 এবং নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 31। অতএব, নিউট্রন সংখ্যা হবে 31 - 15 = 16

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৩.
টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. আয়োডিন-131
  2. টেকনিশিয়াম-99 
  3. ফসফরাস-32
  4. কোবাল্ট-60
ব্যাখ্যা

চিকিৎসা ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসা ক্ষেত্রে বর্তমানে বিভিন্ন প্রয়োজনে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হচ্ছে।
যেমন- 
• রোগ নির্ণয়ে: 
- আইসোটোপ ব্যবহার করে একজন রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 (99Tc) কে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়।
- এই আইসোটোপ যখন শরীরের নির্দিষ্ট স্থানে জমা হয় তখন ঐ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ গামা রশ্মি বিকিরণ করে, তখন বাইরে থেকে গামা রশ্মি শনাক্তকরণ ক্যামেরা দিয়ে সেই স্থানের ছবি তোলা সম্ভব। এই তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ টেকনিশিয়াম-99 এর লাইফটাইম 6 ঘণ্টা। তাই সামান্য সময়েই এর তেজস্ক্রিয়তা শেষ হয়ে যায় বলে এটি অনেক নিরাপদ। 

• রোগ নিরাময়ে: 
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যান্সার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ (131I) সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়। এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছায় এবং এই আইসোটোপ থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় এবং থাইরয়েডের ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে।
- ইরিডিয়াম-১৯২ (192Ir) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্রেইন ক্যান্সার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ কোবাল্ট-৬০ (60Co) ব্যবহার করা হয়। কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যান্সারের কোষ কলাকে ধ্বংস করে। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ফসফরাস-৩২ (32p) এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৪.
নিচের কোনটি হ্যালোজেন গ্রুপ মৌল?
  1. গোল্ড
  2. রেডন
  3. ক্রিপ্টন
  4. ফ্লোরিন
ব্যাখ্যা

• হ্যালোজেন গ্রুপ: 
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলা হয়। এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- হ্যালোজেন মৌলকে 'X' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। যেমন, F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) বা খাদ্যলবণ গঠিত হয়।
- এরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু তৈরি করে, যেমন- Cl2, I2 ইত্যাদি।

• মুদ্রা ধাতু: 
- গোল্ড হচ্ছে গ্রুপ-11 মৌল। গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম ছাড়া অন্য যে তিনটি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়। মৌলগুলো হলো: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোনো যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

উৎস: রসায়ন- নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৩৯৫.
তামা ও দস্তার সংমিশ্রণে কোন সংকর ধাতু তৈরি করা হয়?
  1. ইস্পাত
  2. ডুরালুমিন
  3. পিতল
  4. কাঁসা
ব্যাখ্যা
• সংকর ধাতু:
- দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।


- যেমন- পিতল হলো তামা (কপার) ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৬.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়?
  1. ক) পেট্রোল
  2. খ) কয়লা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা
• জীবাশ্ম জ্বালানি হল এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।

• বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
- খনিজ তেল
- কয়লা
- প্রাকৃতিক গ্যাস প্রভৃতি।

• জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।
অন্যদিকে,
- পারমাণবিক শক্তি,
- বায়োগ্যাস
- জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি,
- জলবিদ্যুৎ হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক
১,৩৯৭.
কোন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও নির্দিষ্ট আয়তন দুটোই থাকে? 
  1. পানি
  2. কাঠ
  3. অক্সিজেন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন উভয়ই থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল ইত্যাদি এ সকল তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৮.
কোনো মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা কোন নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয়?
  1. পরমাণুর আকার
  2. পরমাণুর উপস্তর
  3. পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ ঋণাত্মকতার উপর বিভিন্ন নিয়ামকের প্রভাব: 
- সমযোজী বন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরমাণুদ্বয়ের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন একটি পরমাণু কর্তৃক নিজের দিকে টেনে নেওয়ার তুলনামূলক ক্ষমতাকে ঐ পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা বলে। 
- মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতা যেসব নিয়ামক দ্বারা প্রভাবিত হয় তা হলো - 
পরমাণুর আকার
উপস্তর এবং 
ইলেকট্রন বিন্যাস। 

- পরমাণুর আকার বৃদ্ধিতে পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে সর্বশেষ শক্তিস্তর দূরে সরে যায় তাই বন্ধনে অংশগ্রহণকারী শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড়ের উপর নিউক্লিয়াসের আকর্ষণ হ্রাস পায় এবং পরমাণুর তড়িৎ ঋণাত্মকতা হ্রাস পায়। 
- গ্রুপ-17 এর মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান নিম্নে দেওয়া হলো: F = 4.0, Cl = 3.0, Br = 2.8, I = 2.5, At = 2.2  । 
- পরমাণুর নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধির সাথে মৌলের ইলেকট্রোনেগেটিভিটি সম্পর্কিত। 
- নিউক্লিয়ার চার্জ যত বেশি হবে ঐ নিউক্লিয়ার কর্তৃক সর্বশেষ স্তরের ইলেকট্রনের প্রতি আকর্ষণ তত বেশি প্রবল হয়। 
- দ্বিতীয় পর্যায়ের মৌলসমূহের Li(3) হতে F(7) পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে নিউক্লিয়াসে একটি করে প্রোটন যুক্ত হয় এবং শেষ শক্তিস্তরে একটি করে ইলেকট্রন যুক্ত হয়। 
অর্থাৎ, ক্রমান্বয়ে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধিতে নিউক্লিয়ার চার্জ বৃদ্ধি পায় এবং মৌলের তড়িৎ ঋণাত্মকতার মানও বৃদ্ধি পেতে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৯৯.
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে কোনটি নিসৃত হয় না?
  1. ক) আলফা
  2. খ) বিটা
  3. গ) গামা
  4. ঘ) এক্স রে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে আলফা, বিটা, গামা রশ্মি নির্গত হয়। গলগন্ড রোগ নির্ণয়ে, টিউমার, ক্যান্সার ইত্যাদির চিকিৎসায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৪০০.
নিম্নের কোনটিকে তন্তুর রাণি বলা হয়?
  1. ক) তুলা
  2. খ) পশম
  3. গ) রেশম
  4. ঘ) রেয়ন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- বিলাসবহুল বস্ত্র তৈরিতে রেশম তন্তুর বিকল্প মেলা ভার। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি। 
- প্রাকৃতিক প্রাণিজ তন্তুর মধ্যে রেশমই সবচেয়ে হালকা, শক্ত ও দীর্ঘ। 
- সিল্কের শক্তিমাত্রা, দৃড়তা, মসৃণতা এবং কোমল অনুভবতা বৈশিষ্ট্য দীর্ঘকাল ধরে সুপরিচিত।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।