বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১৩ / ২৭ · ১,২০১১,৩০০ / ২,৬৯২

১,২০১.
নিচের কোন উপাদানটি ফিটকিরিতে অনুপস্থিত?
  1. K
  2. H2O
  3. Na
  4. Al
ব্যাখ্যা
ফিটকিরি বা পটাশ অ্যালাম: 
- ফিটকিরি এর রাসায়নিক সংকেত হলো [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O]
- ফিটকিরি সাধারণ মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০২.
সংকর ধাতু কী?
  1. খনিজমল মিশ্রিত ধাতু
  2. শতভাগ বিশুদ্ধ ধাতু
  3. একাধিক ধাতুর মিশ্রণ
  4. একাধিক ধাতুর যৌগ
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন- বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না। স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 


উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৩.
রাদারফোর্ড আলফা কণার পরীক্ষা দ্বারা কোনটির অস্তিত্ব পেয়েছিল?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউক্লিয়াস
ব্যাখ্যা
• রাদারফোর্ড কর্তৃক আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা ও নিউক্লিয়াস আবিষ্কার:
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে রাদারফোর্ড আলফা কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষাটি করেন।
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড প্রচণ্ড শক্তিসম্পন্ন' আলফা কণাসমূহকে একটি পাতলা সোনার পাতের (0.0004 cm) উপর নিক্ষেপ করেন।
- সোনার পাতের পেছনে জিংক সালফাইড (ZnS) আবরণযুক্ত একটি গোলাকার পর্দা রাখেন।
- ZnS আবরণীর উপর পতিত ∝-কণা আলোকচ্ছটা সৃষ্টি করে।

• পরীক্ষালব্ধ সিদ্ধান্ত:
- পরমাণুর কেন্দ্রে পরমাণুর সমগ্র ভর অতি ক্ষুদ্র স্থান দখল করে আছে।
- যেহেতু আলফা কণাসমূহ ধনাত্মক চার্জযুক্ত এবং এক্ষেত্রে বিকর্ষিত হয়, সেহেতু পরমাণুর কেন্দ্রও ধনাত্মক চার্জযুক্ত হবে।
- তিনি ভারী ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত পরমাণুর এ কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস (nucleus) নামকরণ করেন।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,২০৪.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি কিসে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জাহাজে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) রকেটে
  4. ঘ) সাবমেরিনে
ব্যাখ্যা

সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো

১,২০৫.
ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয় - 
  1. ইথানল 
  2. আয়োডিন
  3. ন্যাপথলিন
  4. নিশাদল
ব্যাখ্যা

• ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১,২০৬.
পাকা কলায় কোন ধরনের এস্টার বিদ্যমান থাকে?
  1. ক) ইথাইল বিউটারেট
  2. খ) অকটাইল অ্যাসিটেড
  3. গ) মিথাইল বিউটারেট
  4. ঘ) অ্যামাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা
এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।
১,২০৭.
বেকিং সোডায় তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়? 
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
  2. অক্সিজেন 
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
  4. হাইড্রোজেন ডাই-অক্সাইড 
ব্যাখ্যা

হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্প মাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদি নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২০৮.
পর্যায় সারণীর কোন মৌলসমূহ রঙিন যৌগ গঠন করে?
  1. চ্যালকোজেনস
  2. হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল
  3. অবস্থান্তর মৌল
  4. নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহ
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণীর অবস্থান্তর মৌলসমূহ (গ্রুপ ৩ থেকে ১২) রঙিন যৌগ গঠন করে।

• অবস্থান্তর মৌল:

- পর্যায় সারণির ৩নং গ্রুপ থেকে ১২নং গ্রুপের মৌলসমূহকে অবস্থান্তর মৌল বলে।

• অবস্থান্তর মৌলসমূহের বৈশিষ্ট্য :
- পরিবর্তনশীল যোজ্যতা প্রদর্শন করে।
- রঙিন যৌগ গঠন করে।
- জটিল যৌগ গঠন করে।
- প্রভাবকরূপে ক্রিয়া করে।
- প্যারাচুম্বকীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।

• হ্যালোজেন গ্রুপের মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
- যথা: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)।।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

• চ্যালকোজেনস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

উৎস:
১. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২. রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২০৯.
সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা কত?
  1. ক) ১০
  2. খ) ১১
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ২৩
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুতে প্রোটনের সংখ্যাকে পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়।

- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ৮
- কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা ৬
- সোডিয়ামের প্রোটন সংখ্যা ১১

সূত্র- ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,২১০.
কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভিদের পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. অভিস্রবণ 
  3. নিঃসরণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১১.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে প্রধানত কোন গ্যাস উৎপন্ন হয়?
  1. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড
  2. কার্বন মনোক্সাইড
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. সালফার ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

-  কার্বনকে বাতাসের অক্সিজেনে পোড়ালে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস উৎপন্ন হয়। এটি একটি দহন বিক্রিয়া যেখানে কার্বন (C) এবং অক্সিজেন (O2) মিলে একটি নতুন যৌগ তৈরি করে। অন্যদিকে, বাতাসে পর্যাপ্ত অক্সিজেন থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়; তবে অক্সিজেনের সরবরাহ সীমিত বা অপর্যাপ্ত হলে তখন কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপন্ন হতে পারে। সাধারণ দহনে প্রধানত কার্বন ডাই-অক্সাইডই উৎপন্ন হয়।

প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

দহন বিক্রিয়া: 
- এই প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
যেমন- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

পানিযোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যক পানির অণু সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়। 
যেমন- মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১২.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান?
  1. H2O
  2. PH3
  3. CO2
  4. NH3
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাই, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,২১৩.
নিচের কোনটি থার্মোসেটিং পলিমার? 
  1. স্টার্চ
  2. পলিথিন
  3. সেলুলোজ
  4. ফাইবার গ্লাস
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃত অর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও 
খ) কৃত্রিম পলিমার। 

ক) প্রাকৃতিক পলিমার:  
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 
- গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও 
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক। 

থার্মোসেটিং প্লাস্টিক: 
- এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়। 
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়। 
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে। 
যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৪.
কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  2. খ) সোডিয়াম কার্বনেট
  3. গ) কপার সালফেট
  4. ঘ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণের ব্যবহার:
- কৃষি জমিতে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুঁতে বা কপার সালফেটকে (CuSO4, 5H2O) ব্যাপক ব্যবহার করা হয়।
- তবে শৈবালের উৎপাদন বন্ধে এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
- মাটির অ্যাসিডিটি নিষ্ক্রিয় করতে যে চুনাপাথর বা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করতে যে সকল সার যেমন, অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4],, পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।

- লবন ছাড়া তরি-তরকারি, মাছ-মাংস রান্না করে খাওয়ার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না। খাবার লবণ হল সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) যা সাধারণ লবণ নামেও পরিচিত।
- খাবার লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাদ্যকে খাবার উপযোগী করে তোলে। তরি-তরকারি, পাউরুটি, বিস্কুট, আচার ছাড়াও আরও অনেক খাবারে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়।
- খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট বা টেস্টিং সল্টের ব্যবহারও আমাদের খুবই পরিচিত। জামা-কাপড় কাঁচার জন্য আমরা যে সাবান ব্যবহার করি তা আসলে সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) নামক লবণ।
- সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) যা কাপড় কাচার সোডা হিসেবে পরিচিত তাও একটি লবণ। তুঁতে বা ফিটকিরি যা জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেটিও লবণ।
- সেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাসিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) নামক লবণ।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৫.
H-O-H কোন ধরনের সংকেতকে নির্দেশ করে? 
  1. স্থূল সংকেত
  2. গাঠনিক সংকেত
  3. আণবিক সংকেত
  4. রাসায়নিক সংকেত
ব্যাখ্যা
সংকেত (Formula):  
- দুই বা ততোধিক মৌলের নির্দিষ্ট সংখ্যক পরমাণু রাসায়নিকভাবে সংযুক্ত হয়ে যৌগিক অণু গঠন করে। 
- যৌগের অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের প্রতীক ও তাদের পরমাণু সংখ্যার সাহায্যে যৌগের সংক্ষিপ্ত প্রকাশকেই যৌগের সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানির একটি অণুর ক্ষেত্রে দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু মিলিত হয়ে একটি পানির অণু গঠন করে। সুতরাং পানির সংকেত H2O. 
- রসায়নে অনেক ধরনের সংকেতের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
(১) রাসায়নিক সংকেত (Chemical Formula): 
- যৌগিক অণুর ক্ষেত্রে দেখা যায় দুই বা ততোধিক মৌল বা মূলক ওদের যোজ্যতার বিপরীত অণুপাতে যুক্ত হয়ে অণুগঠন করে। 
যেমন- Al মৌলটির যোজ্যতা 3 এবং O মৌলটির যোজ্যতা 2, সুতরাং Al এর 2 টি পরমাণু O এর 3 তিনটি পরমাণুর সাথে যুক্ত হয়ে অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড উৎপন্ন করবে। অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইডের রাসায়নিক সংকেত Al2O3
- যৌগের অণুতে মৌল ও যৌগমূলকের যোজ্যতাভিত্তিক সংকেতকে রাসায়নিক সংকেত বলা হয়। 

(২) আণবিক সংকেত (Molecular Formula): 
- কোনো অণুর মধ্যে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর সঠিক সংখ্যা প্রকাশের মাধ্যমে যে সংকেত প্রকাশ করা হয় তাকে আণবিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- অক্সিজেনের আনিবক সংকেত O2, পানির আণবিক সংকেত H2O, গ্লুকোজের আণবিক সংকেত C6H12O6

(৩) স্থূল সংকেত (Empirical Formula): 
- কোনো যৌগের অণুতে বিভিন্ন মৌলের পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যাকে প্রকাশ না করে কেবল ওদের ক্ষুদ্রতম অণুপাতকে প্রকাশ করা হয়, তখন ওই সংকেতকে ওই যৌগের স্থূল সংকেত বলা হয়। 
যেমন- গ্লুকোজ এর আণবিক সংকেত C6H12O6
- C, H ও O পরমাণুর প্রকৃত সংখ্যার অণুপাত 6 : 12 : 6 হলেও ক্ষুদ্রতম অণুপাত 1 : 2 : 1. সুতরাং গ্লুকোজের স্থূল সংকেত CH2O. 

(৪) গাঠনিক সংকেত (Structural Formula): 
- মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের অণুর মধ্যে বিভিন্ন পরমাণু পরস্পরের সাথে যেভাবে সংযুক্ত থাকে তা যে সংকেত এর মাধ্যমে দেখানো হয় তাকে ওই অণুর গাঠনিক সংকেত বলা হয়। 
যেমন- পানি (H2O) অণুর গাঠনিক সংকেত H-O-H, হাইড্রোজেন (H2) অণুর গাঠনিক সংকেত H-H ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৬.
কোন ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না?
  1. ক্রোমিয়াম
  2. নিকেল 
  3. সোনা 
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

- 'অ্যালুমিনিয়াম' ধাতুটি সাধারণত ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ ব্যবহার করা হয় না। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 

- ইলেকট্রোপ্লেটিং হলো তড়িৎ বিশ্লেষণের সাহায্যে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর পাতলা আবরণ তৈরির প্রক্রিয়া। 
- ইলেকট্রোপ্লেটিং প্রক্রিয়ায় সাধারনত নিকেল, ক্রোমিয়াম, টিন, সিলভার ও সোনা দিয়ে আবরণ তৈরি করা হয়। 
- এতে একদিকে যেমন ধাতুর ক্ষয় রোধ করা যায়, অন্যদিকে তেমনি বস্তুটি দেখতে আকর্ষণীয় ও চকচকে হয়। 
- খাবারের কৌটা, সাইকেল, এগুলোর ক্ষেত্রে লোহার উপর টিনের ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন কাজে জিংক বা দস্তা ব্যবহার করা হয়, তার মধ্যে অন্যতম হলো গ্যালভানাইজিং। 
- লোহার তৈরি দ্রব্যসামগ্রীর উপর দস্তার পাতলা আস্তরণ দেওয়াকে গ্যালভানাইজেশন বলে। 
- জিংক এর আবরণ লোহাকে বাতাসের অক্সিজেন ও পানি থেকে রক্ষা করে, ফলে মরিচা পড়তে পারে না এবং লোহারও ক্ষতি হয় না। 
- দস্তার পরিবর্তে টিন দিয়েও অনেক সময় আবরণ দিয়ে ধাতব পদার্থকে ক্ষয় হতে রক্ষা করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,২১৭.
ইস্পাতে কার্বনের শতকরা পরিমাণ কত?
  1. ১ - ১২.৫%
  2. ২ - ২.৫%
  3. ০.২৫ - ১.৫%
  4. ৫.৫ - ৬.২৫%
ব্যাখ্যা
ইস্পাত বা স্টিল এর গুণাগুণ: 
- কার্বনের পরিমাণ: ০.২৫-১.৫%।
- পান দেয়া: পান দেয়া যায়।
- গঠনাকৃতি : স্ফটিকাকার।
- নমনীয়তা ও ঘাতসহতা উভয় ধর্ম বিদ্যমান তবে পেটা লোহার থেকে কম।
- চুম্বক ধর্ম: চুম্বককে পরিণত করা যায়।
- গলনাংক: ১৩০০-১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস.।
- কাঠিন্য: কঠিন, ভঙ্গুরও নয় আবার নরমও নয়।

ব্যবহার: 
কোনো দেশ কতটা উন্নত তা সে দেশের ইস্পাতের ব্যবহার দেখে আন্দাজ করা যায়। এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যবহার হলো-
- গৃহস্থালী সামগ্রী তৈরি করতে।
- শিল্পক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি নির্মাণে।
- যানবাহন, যেমন- গাড়ি, প্লেন, জাহাজ, রেললাইন, ইত্যাদি নির্মাণে।
- ডাক্তারী ও ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি তৈরিতে।

উল্লেখ্য, ঢালাই লোহায় কার্বনের পরিমাণ ২.৫% ও পেটা লোহায় কার্বনের পরিমাণ ০.১২-০.২৫%। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২১৮.
ফটোগ্রাফিক ফিল্মে শক্তির কোন রূপান্তরটি ঘটে?
  1. তাপশক্তি আলোকশক্তিতে
  2. বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে
  3. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে
  4. রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে
ব্যাখ্যা
♦ শক্তির রূপান্তর
প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে।
নিচে শক্তির রূপান্তরের কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হল।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি:
ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি:
বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি:
বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি:
কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি:
বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি:
কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি:
কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• যান্ত্রিক শক্তি থেকে পারমাণবিক শক্তি:
ইউরেনিয়ামকে নিউট্রন দিয়ে আঘাত করলে ভেঙ্গে যায় এবং প্রচুর পরিমাণ পারমাণবিক শক্তি উৎপন্ন করে। এক্ষেত্রে যান্ত্রিক শক্তি পারমাণবিক শক্তিতে পরিণত হয়।

সূত্র: শক্তির উৎস ও রূপান্তর, এসএসসি, সাধারণ বিজ্ঞান।
১,২১৯.
তামার সাথে কোন ধরনের ধাতুর সংকরায়নে ব্রোঞ্জ উৎপন্ন হয়?
  1. ক) দস্তা
  2. খ) টিন
  3. গ) আয়রন
  4. ঘ) এ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা
দুই বা ততোধিক ধাতু পরস্পরের সাথে মিশে যে সমসত্ব বা অসমসত্ব মিশ্রণ উৎপন্ন করে সেই কঠিন ধাতব পদার্থকে সংকর ধাতু বলে।
যেমন- কাঁসা বা ব্রোঞ্জ হলো কপার ও টিনের সংকর ধাতু।
পিতল হলো তামা ও দস্তার (জিঙ্ক) সংকর ধাতু।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২০.
কোন তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়?
  1. NaCl
  2. H2SO4
  3. CH3COOH
  4. CuSO4
ব্যাখ্যা
- 'ইথানয়িক এসিড (CH3COOH)' তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয়, কারণ এটি একটি মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য। 

তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 

- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২১.
স্টার্চ থেকে অ্যালকোহল কোন প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করা হয়? 
  1. ফার্মেন্টেশন
  2. ডিস্টিলেশন
  3. ক্লোরিনেশন
  4. ক্রিস্টালাইজেশন
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- মিথানল বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ। 
- মিথানল মূলত অন্য রাসায়নিক পদার্থ প্রস্তুত করতে ব্যবহৃত হয়। 
- রাসায়নিক শিল্পে ইথানয়িক এসিড, বিভিন্ন জৈব এসিডের এস্টার প্রস্তুত করা হয়। 
- ইথানলকে প্রধানত পারফিউম, কসমেটিকস ও ওষুধ শিল্পে দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- ফার্মাসিউটিক্যাল গ্রেডের ইথানলকে ওষুধ শিল্পে এবং রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলের ৯৬% জলীয় দ্রবণকে রেকটিফাইড স্পিরিট (rectified spirit) বলে। 
- পারফিউম শিল্পেও ইথানলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। পারফিউমে ইথানল ব্যবহারের পূর্বে তাকে গন্ধমুক্ত করা হয়। 

- ওষুধ ও খাদ্য শিল্প ব্যতীত অন্য শিল্পে রেকটিফাইড স্পিরিট সামান্য মিথানল যোগে বিষাক্ত করে ব্যবহার করা হয়, একে মেথিলেটেড স্পিরিট (methylated spirit) বলে। 
- কাঠ এবং ধাতুর তৈরি আসবাবপত্র বার্নিশ করার জন্য মেথিলেটেড স্পিরিট ব্যবহার করা হয়। 
- বর্তমানে ব্রাজিলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানিরূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- স্টার্চ (চাল, গম, আলু ও ভুট্টা) থেকে গাঁজন (Fermentation) প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল প্রস্তুত করা হয়। 
- এছাড়া চিনি শিল্পের উপজাত উৎপাদ (by-product) চিটাগুড় থেকে একই প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহল (ইথানল) পাওয়া যায়। 
- বাংলাদেশের দর্শনায় কেরু এন্ড কেরু কোম্পানিতে ইথানল প্রস্তুত করে দেশের চাহিদা পূরণ করা হয়। 
- অ্যালকোহলকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে একদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির উপর চাপ কমে, অপরদিকে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২২.
চিপসের প্যাকেটে কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
- প্যাকেটজাত বিভিন্ন খাদ্য পণ্য যেমন চিপসের প্যাকেটে সাধারণত নাইট্রোজেন গ্যাস ভরে বিপণন করা হয়।
- চিপসের প্যাকেটকে নাইট্রোজেন গ্যাস দিয়ে ফুলানো হয়। এই ফুলানো অংশকে slack fill বলা হয় ।
- এই নাইট্রজেন গ্যাস খাবারের গুণগত মান বজায় রাখে যা বিভিন্ন ধরনের চাপ থেকে উপাদানগুলোর গুঁড়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
১,২২৩.
৬-১০% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে কী বলে? 
  1. ভিনেগার
  2. ফরমালিন
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. রেকটিফাইড স্পিরিট
ব্যাখ্যা
রেকটিফাইড স্পিরিট: 
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 

ভিনেগার: 
- 6-10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

মেথিলেটেড স্পিরিট: 
- ইথানলকে পানের অযোগ্য বা অসেবনীয় করার উদ্দেশ্যে রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল মিশ্রিত করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 

ফরমালিন: 
- মিথান্যালের জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- পরিমাণ হিসেবে 40% মিথান্যাল, 52% পানি ও 8% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে। 

পাওয়ার অ্যালকোহল: 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে 30% ইথানলকে যোগ করে বিকল্প জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এ মিশ্রণকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৪.
ZnCO3 কোন আকরিকের রাসায়নিক সংকেত?
  1. বক্সাইট
  2. জিংক ব্লেন্ড
  3. ক্যালামাইন
  4. চালকোসাইট
ব্যাখ্যা
বিভুন্ন আকরিকের রাসায়নিক সংকেত: 
• সিন্নাবার -এর রাসায়নিক সংকেত- HgS, 
• জিংক ব্লেন্ড -এর রাসায়নিক সংকেত- ZnS, 
ক্যালামাইন -এর রাসায়নিক সংকেত- ZnCO3
• গ্যালেনা -এর রাসায়নিক সংকেত- PbS, 
• ম্যাগনেটাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe3O4
• হেমাটাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe2O3
• লিমোনাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Fe2O3.3H2O, 
• কপার পাইরোইট -এর রাসায়নিক সংকেত- CuFeS2
• চালকোসাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Cu2S, 
• বক্সাইট -এর রাসায়নিক সংকেত- Al2O3.2H2O এবং
• চুনাপাথর -এর রাসায়নিক সংকেত- CaCO3 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২৫.
নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে কে?
  1. প্রভাবক
  2. ক্যাটালিস্ট
  3. নির্দেশক
  4. লবণ
ব্যাখ্যা
অম্ল, ক্ষারক ও নির্দেশক: 
- যে সমস্ত পদার্থ পানিতে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন করে তারা হলো অম্ল বা এসিড।
- অম্ল নীল লিটমাসকে লাল করে। অম্ল টক স্বাদযুক্ত হয়।
- ধাতব অক্সাইড ও হাইড্রোক্সাইডসমূহ হলো ক্ষারক। ক্ষারক লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষার হলো সেই সমস্ত ক্ষারক যারা পানিতে দ্রবীভূত হয়। ক্ষারকসমূহ কটু স্বাদের হয়।
- নির্দেশকসমূহ নিজেদের বর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো একটি বস্তু অম্ল, ক্ষারক না নিরপেক্ষ তা নির্দেশ করে।
- লবণ হলো অম্ল ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন নিরপেক্ষ পদার্থ।
- এসিডের সাথে ধাতব কার্বনেট বা বাইকার্বনেটের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও কার্বন ডাইঅক্সাইড তৈরি হয়।
- এসিডের সাথে ধাতুর বিক্রিয়ায় লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,২২৬.
সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লার নাম কী? 
  1. লিগনাইট 
  2. পিট 
  3. অ্যানথ্রাসাইট 
  4. বিটুমিনাস 
ব্যাখ্যা

কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। 
- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। 
- এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 

- কয়লা কয়েক রকমের হয়ে থাকে। 
যথা - 
১। অ্যানথ্রাসাইট: 
- অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: 
- বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: 
- লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,২২৭.
'লবণ উৎপাদনকারী' মৌল কোনটি?
  1. ফ্লোরিন
  2. নিয়ন
  3. নাইট্রোজেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• হ্যালোজেন/ লবণ উৎপাদনকারী মৌল:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৭ এর ৬ টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (CI), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (1), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়।
- যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা CI এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়।
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২২৮.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৭ 
  2. ১০ 
  3. ১৫ 
  4. ১৮ 
ব্যাখ্যা

- আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট ৭টি পর্যায় (অনুভূমিক সারি) এবং ১৮টি গ্রুপ (উল্লম্ব কলাম) রয়েছে। 

পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত। 
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- এই পর্যায় সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২২৯.
কোনটি ধনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) ইলেকট্রন
  2. খ) প্রোটন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা

প্রোটন একটি মৌলিক কণিকা। এটি স্থিতিশীল। প্রোটনের আধান ধনাত্মক।
ইলেকট্রন একটি অধঃ-পরমাণু মৌলিক কণা যা একটি ঋণাত্মক তড়িৎ আধান বহন করে।
নিউট্রন হল একটি অতিপারমাণবিক কণা, এর কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং এর ভর প্রোটন কণার ভরের চেয়ে সামান্য বেশি।
প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে পরমাণুর নিউক্লিয়াস গঠন করে।

সূত্র: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,২৩০.
মোম গলানো কি ধরনের পরিবর্তন?
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন
  3. পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন
  4. কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
ভৌত পরিবর্তন: যে পরিবর্তনে পদার্থের আণবিক গঠন অপরিবর্তিত থাকে, শুধু ভৌত অবস্থা (যেমন: কঠিন → তরল), আকার বা আয়তন পরিবর্তন হয় তাকে পদার্থের ভৌত পরিবর্তন বলা হয়। ।
উদাহরণ: বরফ গলানো, মোম গলানো, কাগজ কাটা।

মোম গলানো একটি ভৌত পরিবর্তন। 
- এখানে মোমের গলন প্রক্রিয়ায় কেবল তাপের প্রভাবে তার ভৌত অবস্থা (solid → liquid) পরিবর্তিত হচ্ছে।  
- তবে মোমের রাসায়নিক গঠন বা তার মৌলিক উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।
- তাপ প্রয়োগ করলে মোম গলে আবার তাপ প্রয়োগ বন্ধ করলে মোম পুনরায় কঠিন হয়।  এটি একটি ভৌত পরিবর্তন। 

তথ্যসূত্র: 
- রসায়ন , নবম-দশম শ্রেণী।
১,২৩১.
পারমাণবিক সংখ্যা সমান অথচ ভর সংখ্যা ভিন্ন হলে সেই পরমাণুগুলোর নাম কী?
  1. আইসোটোন
  2. আইসোমার
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• যে পরমাণুগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, তাদের আইসোটোপ বলা হয়। পারমাণবিক সংখ্যা বলতে বোঝায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটনের সংখ্যা, যা পরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে। অন্যদিকে ভর সংখ্যা হলো প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা। তাই একই পারমাণবিক সংখ্যার পরমাণুতে নিউট্রনের সংখ্যা আলাদা হলে তাদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কার্বনের দুটি আইসোটোপ—কার্বন-১২ এবং কার্বন-১৪-উভয়েরই প্রোটনের সংখ্যা ৬, কিন্তু কার্বন-১২-এ নিউট্রন সংখ্যা ৬ এবং কার্বন-১৪-এ ৮। ফলে পারমাণবিক বৈশিষ্ট্য একই থাকলেও ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। এই বৈশিষ্ট্য আইসোটোপের মাধ্যমে বোঝা যায়।
 
আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়।

আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে।

আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।

আইসোমার:
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৩২.
বাতাসের চাপ বাড়লে টরিসেলির ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা- 
  1. কমে
  2. বাড়ে
  3. অর্ধেক হয়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
টরিসেলির পরীক্ষা: 
- বিজ্ঞানী টরিসেলি 1643 সালে পারদ ব্যবহার করে বাতাসের চাপের পরীক্ষাটি করেছিলেন। 
- তিনি অবশ্য মুখ দিয়ে পারদকে একটি নল বেয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করেননি, তিনি এক মুখ বন্ধ একটা নলের ভেতর পারদ ভরে, নলটি পারদ ভরা একটা পাত্রে উল্টো করে রেখেছিলেন। 

- পারদের উচ্চতা নামতে নামতে ঠিক 76 cm এসে থেমে গেল। 
- চুমুক দিয়ে খাওয়ার সময় মুখের ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়, কাচের নলের উপরে ঠিক সেই শূন্যতা তৈরি হয়। 
- বাতাস পারদের উপরে চাপ দেয় এবং সেই চাপ তরলের সব জায়গায় সঞ্চালিত হয়ে নলের নিচেও আসে। 
- নলের উপরে কোনো ফুটো নেই, তাই সেদিক দিয়ে বাতাস চাপ দিতে পারছে না। কাজেই সমতা আনার জন্য নলের নিচে এক মাত্র চাপ হচ্ছে 76 cm উচু পারদ স্তম্ভের ওজনের কারণে তৈরি হওয়া চাপ। 
- বাতাসের চাপ মাপার যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার এবং টরিসেলির এই পদ্ধতি দিয়ে তৈরি ব্যারোমিটারে এখনো বাতাসের চাপ মাপা হয়। বাতাসের চাপ বাড়লে পারদের উচ্চতা 76 cm থেকে বেশি হয়, চাপ কমলে উচ্চতা 76 cm থেকে কমে যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩৩.
How many carbon atoms are there in a propane molecule?
  1. 1
  2. 5
  3. 7
  4. 3
  5. 4
ব্যাখ্যা
• প্রোপেনের অণুতে ৩ টি কার্বন পরমাণু থাকে। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:

- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• প্রোপেন:
- প্রোপেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। প্রোপেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C3H8
- এটি হলো ৩ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ৩ টি কার্বনের সাথে ৮ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩৪.
একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে কী বলা হয়? 
  1. মৌলের অণু 
  2. মৌলিক কণিকা 
  3. আয়ন 
  4. যৌগের অণু 
ব্যাখ্যা

পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। 
যেমন- O2 । 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। 
যেমন- CO2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৩৫.
লিটমাস পেপার নীল থেকে লাল হয় কোনটির সংস্পর্শে?
  1.  KOH
  2.  NaCl
  3. NaOH
  4.  HCl
ব্যাখ্যা
• লিট্মাস পেপার:
- লিট্মাস পেপার হলো একধরণের নির্দেশক যা কোন দ্রবণের প্রকৃতি অ্যাসিডিক নাকি ক্ষারকীয় তা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এসিড নীল লিট্মাস পেপারকে লাল বর্ণে পরিণত করে।
- ক্ষার লাল লিট্মাস পেপার কে নীল বর্ণে পরিণত করে। 

HCl হলো এসিড যা নীল লিট্মাস পেপার কে লাল বর্ণে পরিণত করে।

অন্যদিকে, 
• NaOH ও KOH হলো ক্ষারক যা লাল লিট্মাস পেপারকে নীল বর্ণে পরিণত করে।
• NaCl হলো নিষ্ক্রিয় লবণ যা লিট্মাস পেপারে কোন বর্ণ প্রদর্শন করে না। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
১,২৩৬.
নিচের কোন তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে? 
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ৪° সেলসিয়াস
  3. ৩৯° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। 
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৩৭.
অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি?
  1. ক) পামিটিক এসিড
  2. খ) স্টিয়ারিক এসিড
  3. গ) অক্সালিক এসিড
  4. ঘ) প্রোপানোয়িক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন - 

সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড, 
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।
১,২৩৮.
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি কোন ধরনের পরিবর্তনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. জৈব পরিবর্তন 
  2. কেবল অবস্থার পরিবর্তন 
  3. ভৌত পরিবর্তন 
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

- পরিবেশে সবসময় নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটছে।  
- একটুকরা লোহাকে খোলা অবস্থায় বাতাসে কিছুদিন রেখে দিলে তার উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে, এটিকে মরিচা বলে। আবার তাপদিলে বরফ গলে পানি হয় ও পানি এক সময়ে আরো তাপে বাষ্পে পরিণত হয়। 
- পরিবেশে সব সময় পদার্থের দুই প্রকারের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন- একটি হলো রাসায়নিক পরিবর্তন ও অপরটি হলো ভৌত পরিবর্তন। 

রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change): 
- রাসায়নিক পরিবর্তনে পদার্থের পরমাণু বা আণবিক গঠন পরিবর্তিত হয় এবং নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 
যেমন- 
জ্বালানি পুড়ানোর মাধ্যমে রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- কয়লা, কাঠ, প্রাকৃতিক গ্যাস, কেরোসিন ইত্যাদি পুড়িয়ে তাপ, আলো এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয়। এই পরিবর্তনে কার্বন (C) ও অক্সিজেন (O2) একত্রিত হয়ে নতুন পদার্থ CO2 সৃষ্টি করে, এবং এতে তাপশক্তির পরিবর্তন ঘটে। 

মিথেনের দহন: 
- মিথেন (CH4) ও অক্সিজেন (O2) জ্বালালে CO2 ও পানি (H2O) সৃষ্টি হয়। এতে মূল পদার্থের গঠন পরিবর্তিত হয়ে নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়, যা রাসায়নিক পরিবর্তনের উদাহরণ। 

শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়া: 
- দেহে খাবার খাওয়ার পর পাকস্থলী ও অন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে, যা শক্তি ও পুষ্টি প্রদান করে। 

উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ: 
- উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO2 ও পানি গ্রহণ করে, এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে স্টার্চ বা সেলুলোজ উৎপন্ন করে। সালোকসংশ্লেষণ একটি রাসায়নিক পরিবর্তন, কারণ নতুন পদার্থের সৃষ্টি হয়। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change): 
- ভৌত পরিবর্তনে কোনো নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না, বরং পদার্থের অবস্থা (যেমন, ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা বা চৌম্বক অবস্থা) পরিবর্তিত হয়। 
যেমন-
ইস্পাতের চুম্বকত্ব: 
- ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করলে এটি একসময় লোহাকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা পায়, তবে এতে ইস্পাতের গঠন বা উপাদানে কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধুমাত্র তার চৌম্বক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 

লবণ দ্রবণ: 
- খাবার লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ তৈরি হলে এবং পরে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং শুধু লবণই অবশিষ্ট থাকে। এতে লবণের গঠন বা সংযোগে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না, কেবল অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে।

অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের পরিবর্তন: 
- তাপে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হয়ে শীতল স্থানে জমা হয়, তবে এতে কোনো নতুন উপাদান তৈরি হচ্ছে না, শুধুমাত্র অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৩৯.
নিচের কোনটি কৃত্রিম পলিমার নয়? 
  1. পলিস্ট্যারিন 
  2. স্টার্চ 
  3. পলিভিনাইল ক্লোরাইড 
  4. পলিইথিলিন 
ব্যাখ্যা

পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। 
যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪০.
আইসোটোপ তৈরি হয় কোনটির তারতম্যের কারণে?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪১.
নিচের কোনটি সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) কর্পুর
  2. খ) চীনামাটি
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চুনাপাথর সিমেন্ট তৈরির প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

- চুনাপাথর এক ধরনের পাললিক শিলা, যা প্রধানত ক্যালসিয়াম কার্বনেট দ্বারা গঠিত। 
- ক্যালসিয়াম কার্বনেটে প্রধানত তিনটি উপাদান—কার্বন, অক্সিজেন ও ক্যালসিয়াম থাকে। 
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটি একটি সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস, শামুক, ডিমের খোসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান। 
- প্রকৃতিতে বিশুদ্ধ চুনাপাথর খুবই কম পাওয়া যায়।
- প্রচলিত সিমেন্টের মধ্যে পোর্টল্যান্ড সিমেন্ট বহুল ব্যবহূত যা চুন ও কাদার মিশ্রণ পুড়িয়ে পাউডারের মতো চূর্ণ করে তৈরি করা হয়।

সূত্র- ৩০২ পৃষ্ঠা, রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৪২.
নিচের কোনটি ঋনাত্মক আধানযুক্ত?
  1. ক) বিটা রশ্মি
  2. খ) আলফা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) রঞ্জন রশ্মি
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
- একটি সরু ছিদ্রযুক্ত লেড বা সীসার পাত্রে রেডিয়াম রেখে দিলে তা থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় রশ্মি ছিদ্র দিয়ে সরলরেখায় বের হয়।
- এ রশ্মিকে চৌম্বক বা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র দ্বারা প্রভাবিত করলে তা তিন ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এদেরকে যথাক্রমে আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি বলা হয়।
- এদের মধ্যে আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জযুক্ত, বিটা রশ্মি ঋনাত্মক চার্জযুক্ত এবং গামা রশ্মি হচ্ছে চার্জবিহীন বা চার্জনিরপেক্ষ।

বিটা রশ্মি বা বিটা কণা
প্রকৃতি: বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে বা চৌম্বক ক্ষেত্রে এদের বেঁকে যাওয়ার দিক থেকে বুঝা যায় যে, এরা ঋনাত্মক আধানযুক্ত। প্রমাণিত হয়েছে যে, এরা প্রকৃতপক্ষে তীব্র গতিসম্পন্ন ইলেকট্রন।
বেগ: এদের গতিবেগ সেকেন্ডে এক হাজার হতে দেড় লক্ষ মাইল পর্যন্ত হতে পারে। 
বায়ুর আয়নিকরণ: বিটা কণা কোন বায়ুর মধ্য দিয়ে চলার সময় এর অণুগুলোর সাথে সংঘর্ষের মাধ্যমে অণুসমূহকে আয়নিত করে। 
ছেদন ক্ষমতা: বিটা রশ্মির ছেদন ক্ষমতা α-কণার চেয়ে 1000 গুণ বেশি। এর আয়নীকরণ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,২৪৩.
হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে কণা পাওয়া যায় তাকে কী বলে?
  1. নিউট্রন
  2. ইলেকট্রন
  3. প্রোটন
  4. পজিট্রন 
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, সেটিই প্রোটন।

• মৌলিক কণিকা (Fundamental Particles):
- যে সকল অতিক্ষুদ্র কণিকার সমন্বয়ে পরমাণু গঠিত হয়, তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।
- একটি পরমাণুর মধ্যে মোট তিনটি মৌলিক কণিকা বিদ্যমান। যথা—
- ইলেকট্রন,
- প্রোটন,
- নিউট্রন।
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস অবস্থিত।
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
 
• ইলেকট্রন (Electron):
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম মৌলিক কণিকা।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একটি একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
 
• প্রোটন (Proton):
- ইলেকট্রনের মতো প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মৌলিক কণিকা।
- প্রোটন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা পাওয়া যায়, তাকে প্রোটন বলা হয়।
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর ভরের সমান।
 
• নিউট্রন (Neutron):
- নিউট্রন একটি আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী জেমস চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
 
উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৪.
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান কোনটি?
  1. ক) Na2CO3
  2. খ) NaOH
  3. গ) NH4OH
  4. ঘ) (NH4)2CO3
ব্যাখ্যা
• টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান NaOH (সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড)।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। যেমন: পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি তীব্র ক্ষার।

টয়লেট ক্লিনার:
- টয়লেট এর কমোডকে পরিষ্কার করার জন্য, দুর্গন্ধকে দূর করার জন্য এবং ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করার জন্য কস্টিক সোডা (NaOH) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ভিত্তিক যে ক্লিনার ব্যবহার করা হয় তাকে টয়লেট ক্লিনার বলা হয়।
- টয়লেট ক্লিনারের মধ্যে প্রায় 20–25% কস্টিক সোডা, 10–12% সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl), 3–5% বোরাক্স (Na2B4O7), 5–7% সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ছাড়াও কোনো ক্ষেত্রে ভিনেগার এবং সামান্য খাদ্য লবণকে ব্যবহার করা হয়।
- টয়লেটের দুর্গন্ধ দূর করার ক্ষেত্রে ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট এবং জীবাণুনাশক হিসেবে ফেনলকে ব্যবহার করা হয় ।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র ,এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৫.
আমলকিতে কোন এসিড থাকে?
  1. স্যালিসাইলিক এসিড
  2. অ্যাসকরবিক এসিড
  3. টারটারিক এসিড
  4. ফরমিক এসিড
ব্যাখ্যা
• আমলকিতে থাকে অ্যাসকরবিক এসিড।

• বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব
এসিড:
- পিঁপড়ার কামড়ে ফরমিক এসিড থাকে।
- আঙ্গুর, কমলা, লেবুতে থাকে সাইট্রিক এসিড।
- তেঁতুলে থাকে টারটারিক এসিড।
- আপেল, আনারসে থাকে ম্যালিক এসিড।
- স্যালিসাইলিক এসিড পাওয়া যায় আঙ্গুর, স্ট্রবেরি, বরই ইত্যাদি ফলে।

উৎস:  বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,২৪৬.
O2 আণবিক ভর কত?
  1. 8
  2. 16
  3. 32
  4. 20 
ব্যাখ্যা

আণবিক ভর (Molecular mass) হলো একটি অণুর সব পরমাণুর পারমাণবিক ভরের যোগফল। এটি একটি নির্দিষ্ট একক (amu বা g/mol) এ প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেন পরমাণুর পারমাণবিক ভর: 16 amu (atomic mass unit)।
- O₂ অণুতে দুটি অক্সিজেন পরমাণু থাকে।

তাহলে O₂ এর আণবিক ভর হবে:
Molecular mass of O2 = 16 + 16 = 32 amu
- অর্থাৎ, O₂ অণুর ভর হলো 32 একক পারমাণবিক ভর।
- O₂ হলো বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

১,২৪৭.
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়, তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস কী বর্ণ ধারণ করে?
  1. ক) নীল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা।
কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। অর্থাৎ‍pH = - log[H+]
pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। pH মিটারের pH স্কেল থাকে।
দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়।
দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়।


উৎস:  রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,২৪৮.
কয়লা পোড়ালে কোন শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়?
  1. বিদ্যুৎ শক্তি
  2. যান্ত্রিক শক্তি
  3. রাসায়নিক শক্তি
  4. আলোক শক্তি
ব্যাখ্যা

শক্তির রূপান্তর:
- প্রকৃতিতে বিভিন্ন প্রকার শক্তি রয়েছে। এ সকল শক্তি একে অন্যের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত এবং এক শক্তিকে অন্য শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। একেই শক্তির রূপান্তর বলে। 

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে যান্ত্রিক শক্তি: বিদ্যুৎ শক্তি চালনা করে পাখা ঘুরানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• রাসায়নিক শক্তি থেকে তাপশক্তি: কয়লা পোড়ালে তাপ শক্তি উৎপন্ন হয়। রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে এ তাপ উৎপন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক শক্তি তাপ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• আলোক শক্তি থেকে রাসায়নিক শক্তি: ফটোগ্রাফিক ফিল্মের উপর আলো ফেললে রাসায়নিক ক্রিয়ার মাধ্যমে আলোক চিত্র তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে শব্দ শক্তি: বিদ্যুতের সাহায্যে বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজানো হয়। বৈদ্যুতিক ঘণ্টা বাজার ফলে শব্দ উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি শব্দ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে তাপ ও আলোক শক্তি: বৈদ্যুতিক বাল্বের ভিতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালনা করলে সেটি ফিলামেন্টে বাঁধাপ্রাপ্ত হয় এবং উত্তপ্ত হয় এবং আমরা আলো দেখতে পাই। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি তাপে এবং তাপশক্তি আলোকশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• বিদ্যুৎ শক্তি থেকে চুম্বক শক্তি: কাঁচা লোহার উপর অন্তরীত (Insulted) তামার তার জড়িয়ে বিদ্যুৎ চালনা করলে লোহাটি চুম্বকে পরিণত হয়। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ শক্তি চুম্বক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

• তাপ শক্তি থেকে বিদ্যুৎ শক্তি : কয়লা পুড়িয়ে তাপ উৎপন্ন করা হয়। এ তাপের সাহায্যে পানিকে বাষ্পে পরিণত করা হয়। যা দ্বারা টারবাইন চালানো হয়। আবার টারবাইন চালিয়ে ডায়নামো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। এক্ষেত্রে তাপশক্তি বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৪৯.
প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি ঘটে বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. আয়নোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

ট্রপোস্ফিয়ারে বায়ুর চাপ বেশি (760 mm Hg) এবং তাপমাত্রা উচ্চতা বাড়ার সাথে দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
- প্রতি কিলোমিটার তাপমাত্রা বাড়ার সাথে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে কমতে থাকে।
- বায়ু ও জলীয় বাষ্পের মিশ্রণে মেঘ তৈরি হয়, যা বৃষ্টি, ঝড়, বজ্রসহ অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিবর্তনের জন্ম দেয়।
- প্রাকৃতিক ঝড়বৃষ্টি, মেঘ ও বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য আবহাওয়াগত ঘটনা ট্রপোস্ফিয়ার স্তরে ঘটে।
- এটিকে ক্ষুব্ধ মন্ডলও বলা হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ কিমি উচ্চতায় বিস্তৃত।

অন্য স্তরগুলোর বৈশিষ্ট্য:
• স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার - ওজোন স্তর থাকে, আবহাওয়াগত ঘটনা কম।
• মেসোস্ফিয়ার - উল্কাপাত ঘটে, তাপমাত্রা খুব কম।
• আয়নোস্ফিয়ার - রেডিও তরঙ্গ প্রতিফলিত করে, আবহাওয়াগত ঘটনা নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB পদার্থবিজ্ঞান ও ভূগোল বই,
- Britannica: [লিংক]। 

১,২৫০.
লোহার সাথে কোন পদার্থ মিশিয়ে মরিচাবিহীন স্টিল তৈরি করা হয়?
  1. তামা ও জিংক
  2. কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম
  3. স্বর্ণ ও রূপা 
  4. লোহা ও সিলভার
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়। 
- একাধিক ধাতুকে গলিত অবস্থায় মিশ্রিত করে সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। 
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। 
যেমন-
• বিশুদ্ধ স্বর্ণ দিয়ে গয়না তৈরি করা হয় না কারণ বিশুদ্ধ স্বর্ণ নরম হওয়ায় গয়না টেকসই হয় না; স্বর্ণের সাথে সামান্য পরিমান রূপা মিশ্রিত করে গয়না তৈরি করা হয়। 
• আবার লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়; মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। 
- নিচের টেবিলে কতগুলো সংকর ধাতুর সংযুক্তি ও ব্যাবহার উল্লেখ করা হলো- 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫১.
নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে কি বলা হয়?
  1. ফিশন
  2. মেসন
  3. ফিউশন
  4. ফিউশন ও মেসন
ব্যাখ্যা
- নিউক্লিয়াসের বিভাজনকে ফিশন বলা হয়। 

পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে শক্তি উৎপন্নের প্রক্রিয়া: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। 
যথা: 
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে। 

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন: 
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫২.
তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে কী বোঝায়?
  1. তরল পদার্থের তাপমাত্রার বৃদ্ধি
  2.  তরল পদার্থের দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি
  3. তরল পদার্থের ক্ষেত্রফলের বৃদ্ধি
  4. তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে বোঝায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে তরল পদার্থের আয়তনের বৃদ্ধি; কারণ উত্তপ্ত করলে তরল পদার্থের অণুগুলো দ্রুত চলে এবং একে অপরের থেকে দূরে সরে গিয়ে বেশি জায়গা দখল করে, ফলে আয়তন বাড়ে। 

তরল পদার্থের প্রসারণ: 
- তরল পদার্থের দৈর্ঘ্য বা ক্ষেত্রফল কিছুই নেই, শুধু তরল পদার্থের আয়তন আছে। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ বলতে তার আয়তন প্রসারণকেই বোঝায়। 
- তরল পদার্থের প্রসারণ মাপার সময় একটু সতর্ক থাকতে হয় কারণ তরল পদার্থকে সব সময়ই কোনো পাত্রে রাখতে হয়। কাজেই প্রসারণ সহগ মাপতে চাইলে যখন তরলটিকে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পাত্রটিও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পাত্রটিরও একটি প্রসারণ হয়। কাজেই পাত্রে তরল যে প্রসারণ দেখা যায় সেটা সত্যিকারের প্রসারণ না, সেটা হচ্ছে আপাত প্রসারণ। 
- কাজেই প্রকৃত প্রসারণ বের করতে হলে পাত্রের প্রসারণের ব্যাপারটা সব সময়ই মনে রাখতে হবে। 
- সাধারণত তরলের প্রসারণ কঠিন পদার্থের প্রসারণ থেকে বেশি হয়। যদি তা না হতো তাহলে আপাত প্রসারণটি হয়তো দেখা যেত না, মনে হতো আপাত সংকোচন। 
- তরল পদার্থের প্রসারণের সবচেয়ে সহজ উদাহরণ হচ্ছে থার্মোমিটার। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৫৩.
বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে-
  1. অর্ধেক ভেসে থাকবে
  2. ডুবে যাবে
  3. ভেসে থাকবে
  4. সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়ে ভাসবে
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের সূত্র: 
- কোনো বস্তু তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলে, বস্তুটি কিছু পরিমাণ তরল বা বায়বীয় পদার্থ অপসারণ করে এবং বস্তুটি কিছু ওজন হারায়। 
- বস্তুর এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। 

বস্তুর ভাসা ও ডোবার শর্ত: 
ধরা যাক, 
- একটি বস্তুর ওজন (বস্তুর উপর অভিকর্ষজ ত্বরণ জনিত বল) W নিউটন, বস্তুটির পানিতে ডোবালে এর উপর পানির প্লবতা (ঊর্ধ্ব চাপ জনিত বল) W1 নিউটন।  এক্ষেত্রে - 
১. W > W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে বেশি হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে যাবে। 
২. W < W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন থেকে কম হলে বস্তুটি পানিতে ভেসে থাকবে। 
৩. W = W1 হলে, অর্থাৎ বস্তুর ওজন অপসারিত পানির ওজন সমান হলে বস্তুটি পানিতে ডুবে ডুবে ভাসবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৪.
ইউরিয়া সারের কাঁচামাল কি?
  1. ক) নাইট্রোজেন গ্যাস
  2. খ) মিথেন গ্যাস
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) এমোনিয়া
ব্যাখ্যা

ইউরিয়া সারের কাঁচামাল মিথেন গ্যাস।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন থেকে ইউরিয়া সার ধাপে উৎপন্ন করা হয়।
- প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে H2 ও CO2 গ্যাস উৎপাদন,
- N2 ও H2 থেকে NH3 উৎপাদন ও
- NH3 ও CO2 হতেই উৎপাদন করা হয়।

১,২৫৫.
2311Na মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. ক) 23
  2. খ) 11
  3. গ) 12
  4. ঘ) 24
ব্যাখ্যা
কোন পরমাণুতে ভরসংখ্যা = প্রোটন + নিউট্রন সংখ্যা, যা A দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
যেহেতু, ভরসংখ্যা হলো, প্রোটন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যার যোগফল, কাজেই ভরসংখ্যা থেকে প্রোটন সংখ্যা বাদ দিলে পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা পাওয়া যাবে।

এখানে, Na- এর ভরসংখ্যা ২৩ এবং প্রোটন সংখ্যা ১১। সুতরাং, নিউট্রন সংখ্যা= ২৩-১১=১২।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,২৫৬.
নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. জারকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া ঘটে।
  2. বিজারকের উপস্থিতিতে বিক্রিয়া ঘটে।
  3. ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না।
  4. জারণ মানের পরিবর্তন ঘটে।
ব্যাখ্যা
রেডক্স বিক্রিয়া:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- এটি রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। 
- সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ ঘটে এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে।
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে।
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়।
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া
২। বিয়োজন বিক্রিয়া
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
৪। দহন বিক্রিয়া। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারনে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা- 
১। প্রশমন বিক্রিয়া
২। অধ:ক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৫৭.
সাধারণত pH স্কেলের মান কত থেকে কত পর্যন্ত হয়ে থাকে?
  1. 0–7
  2. 1–10
  3. 0–12
  4. 0–14
ব্যাখ্যা

- সাধারণত pH স্কেলের মান 0–14 পর্যন্ত হয়ে থাকে, যেখানে 7 নিরপেক্ষ, < 7 অম্লীয় এবং > 7 ক্ষারীয় বোঝায়। 

pH স্কেল: 
- কোনো পদার্থ অম্লীয় না ক্ষারীয় নাকি নিরপেক্ষ তা নির্দেশক ব্যবহার করে জানা যায়। কিন্তু কোনো পদার্থ কতটা অম্লীয় বা ক্ষারীয় তা বোঝার জন্য ১৯১৯ সালে বিজ্ঞানী সোরেনসেন pH স্কেল ব্যবহার করেন। 
- pH স্কেল ব্যবহার করে কোনো দ্রবণ কতটা অম্লীয় না ক্ষারীয় না নিরপেক্ষ তা বোঝা যায়। 
- pH কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রা প্রকাশ করে। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদমকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+
- pH মিটার দ্বারা কোনো দ্রবণের pH মাপা হয়। 
- pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে অম্লীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে দ্রবণটি হবে ক্ষারীয়। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 এর সমান হয় তবে দ্রবণটি হবে নিরপেক্ষ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৫৮.
তড়িৎ প্রলেপন প্রক্রিয়ায় যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়? 
  1. দ্রব
  2. অ্যানোড
  3. ক্যাথোড
  4. তড়িৎ বিশ্লেষ্য
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সুবিধামতো কোনো ধাতুর উপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে। 
- সাধারণত কোনো ধাতু (যেমন: তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি) দিয়ে তৈরি জিনিসকে মরিচা থেকে রক্ষা করার এবং সুন্দর দেখানোর জন্য এদের উপর কখনো সোনা, রূপা, নিকেল ইত্যাদি মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়। 
- যে বস্তুটির ওপর প্রলেপ দিতে হবে সে বস্তুটিকে খুব ভালোভাবে ধুঁয়ে একটি ভোল্টমিটারের ক্যাথোড এবং যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়। 
- প্রলেপ দিতে হবে এমন ধাতুর কোনো লবণের দ্রবণ তড়িৎ দ্রব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এখন ভোল্টমিটারের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোড রাখা বস্তুটির ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৫৯.
জীবাণুযুক্ত পানি বিশুদ্ধ করার জন্য কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়? 
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস
  2. ক্লোরিন গ্যাস
  3. ফ্লোরিন গ্যাস
  4. নাইট্রোজেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে যে পানি পাওয়া যায় তাতে নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ, এমনকি রোগ সৃষ্টি করতে পারে এরূপ জীবন ধ্বংসকারী জীবাণুও থাকে। তাই ব্যবহারের আগে পানি বিশুদ্ধ করে নিতে হয়। 
- ভূগর্ভের পানি সাধারণত রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকে, কিন্তু এই পানিতে আর্সেনিকের (As) মতো নানা রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি থাকে। 
- সাধারণত যেসব প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করা হয়, সেগুলো হলো: পরিস্রাবণ, ক্লোরিনেশন, স্ফুটন, পাতন ইত্যাদি। 
- জীবাণুনাশক পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ক্লোরিন গ্যাস (Cl2) ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও ব্লিচিং পাউডার [(Ca(OCl)Cl] এবং আরও কিছু পদার্থ, যার মধ্যে ক্লোরিন (Cl) আছে এবং জীবাণু ধ্বংস করতে পারে। 
- আমাদের দেশে বন্যার সময় পানি বিশুদ্ধ করার জন্য যে ট্যাবলেট বা কিট ব্যবহার করা হয়, সেটি হচ্ছে মূলত সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl), এর মাঝে যে ক্লোরিন (Cl) থাকে, সেটি পানিতে থাকা রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে ফেলে। 
- ক্লোরিন (Cl)  ছাড়াও ওজন গ্যাস (O3) দিয়ে অথবা অতিবেগুনি রশ্মি দিয়ে পানিতে থাকা রোগ-জীবাণু ধ্বংস করা যায়, বোতলজাত পানির কারখানায় এ পদ্ধতি ব্যবহার করে পানিকে রোগ-জীবাণু মুক্ত করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬০.
নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. এসিড হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে
  2. এসিড ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে
  3. এসিড লাল লিটমাসকে নীল করে
  4. এসিড ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে
ব্যাখ্যা
এসিড:
- যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
যেমন—এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড।
- এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়। 

এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ- 
১. এসিড স্বাদে টক।
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।

সূত্র- রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬১.
নিঃসরণে কোন উপাদানের প্রভাব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ? 
  1. চাপ 
  2. আর্দ্রতা 
  3. আণবিক ভর 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

ব্যাপন (Diffusion): 
- কোনো মাধ্যমে কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। 
- ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল কিংবা বায়বীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ন ঘনমাত্রার স্থানের দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 
যেমন- 
• ঘরের এক কোণে কোনো একটি সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে কিছুক্ষণের মধ্যে সারা ঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়া ব্যাপন প্রক্রিয়ার উদাহরণ। 
- যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় কম লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার বেশি এবং যে পদার্থের ছড়িয়ে পড়তে সময় বেশি লাগে সেই পদার্থের ব্যাপন হার কম। 
- যে পদার্থের আণবিক ভর বেশি সে পদার্থের ব্যাপন হার কম। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- সরু ছিদ্রপথে উচ্চচাপ থেকে কোনো গ্যাসের নিম্নচাপের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। 
যেমন- 
• বেলুনের ভেতরের বাতাস উচ্চচাপে থাকে; ছিদ্রপথ দিয়ে বেলুনের বাইরে নিম্নচাপে প্রবাহিত হওয়া এক ধরনের নিঃসরণ। 
• যানবাহনের CNG সিলিন্ডার থেকে উচ্চ গতিতে গ্যাস ইঞ্জিনে প্রবেশ করানোও এক ধরনের নিঃসরণ। 
• বাসাবাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের প্রোপেন ও বিউটেন উচ্চচাপে তরল অবস্থায় থাকে; চুলা চালানোর সময় গ্যাসে পরিণত হয়ে দ্রুত বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াও এক ধরনের নিঃসরণ। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের কণার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়, ফলে নিঃসরণের হারও বৃদ্ধি পায়। 

- ব্যাপন ও নিঃসরণ মূলত একই প্রকৃতির ঘটনা। 
- এদের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো- ব্যাপনের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব নেই কিন্তু নিঃসরণের ক্ষেত্রে চাপের প্রভাব আছে। 
- ব্যাপনের ক্ষেত্রে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ উপযুক্ত মাধ্যমে সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে কিন্তু নিঃসরণের ক্ষেত্রে কেবল গ্যাসীয় পদার্থ গ্যাসীয় মাধ্যমে ধারক পাত্রের সরু ছিদ্রপথ দিয়ে দ্রুত গতিতে উচ্চ চাপ থেকে নিম্ন চাপের দিকে বের হয়ে আসে। 
যেমন- 
• রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার খুললে প্রথমে গ্যাস ছিদ্রপথ দিয়ে বের হয় (নিঃসরণ), তারপর ঘরে ছড়িয়ে যায় (ব্যাপন)। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৬২.
pH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান কত?
  1. ১৪
ব্যাখ্যা
pH মান:

- PH এর মান ০ থেকে ১৪ পর্যন্ত বিবেচনা করা হয়।
- নিরপেক্ষ কোনো দ্রবণের pH এর মান ৭।
- এসিড দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে কম হয়।
- ক্ষারের দ্রবণে pH এর মান ৭ এর চেয়ে বেশি হয়।
- PH স্কেলে সবচেয়ে শক্তিশালী এসিডের pH এর মান ০।
- সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষারের pH এর মান ১৪।

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৩.
কাঠ ও কয়লা প্রধানত কী?
  1. অক্সিজেন
  2. হাইড্রোজেন
  3. কার্বন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে কয়লায় ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে।

আবার,
কাঠের প্রধান উপাদান হচ্ছে সেলুলোজ। আবার এ সেলুলোজ কার্বণ, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত। তাই বলা যায় যে, কাঠের অন্যতম উপাদান হচ্ছে কার্বন। অন্যদিকে, কয়লা হচ্ছে কার্বনের একটি সাধারণ রূপ। সর্বোপরি বলা যায় যে, কাঠ ও কয়লা উভয়ের মধ্যেই কার্বনের পরমাণু বিদ্যমান।
১,২৬৪.
ইস্ট ব্যবহার করলে পাউরুটি ফুলে উঠে কেন? 
  1. ইস্ট কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে।
  2. ইস্ট মিথেন গ্যাস উৎপন্ন করে বলে।
  3. ইস্ট কার্বন মনো-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে।
  4. ইস্ট কার্বোনিক এসিড গ্যাস উৎপন্ন করে বলে।
ব্যাখ্যা
ইস্ট: 
- বাড়িতে বা বেকারিতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়। 
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেট ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO2 গ্যাস উৎপন্ন করে যা পাউরুটি ফুলে উঠতে সাহায্য করে। 
- এভাবে উৎপন্ন CO2 গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে। 
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়। 
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO2 উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৫.
নদীর পানির ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. COD > BOD
  2. COD < BOD
  3. COD = BOD
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Biological/Biochemical Oxygen Demand - BOD):
- পানিতে উপস্থিত অনুজীব কর্তৃক জৈব ও অজৈব পদার্থকে বিয়োজিত করতে প্রয়োজনীয় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণকে প্রাণ রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা বায়োলজিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড BOD বলে।
- পানির উৎকর্ষতা নির্ধারণে BOD নির্দেশক রূপে কাজ করে।

• রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (Chemical Oxygen Demand - COD):
- পানির মধ্যে কিছু অপচনশীল বা জৈব বিয়োজনের অযোগ্য (nonbiodegradable) বস্তু থাকে যাদের বিয়োজন ব্যাকটেরিয়া বা জীবণু দ্বারা সম্পন্ন হয় না।
- এগুলিকে বিয়োজনের জন্য শক্তিশালী জারক পদার্থ যেমন K2Cr2O7 (যা অক্সিজেন সরবরাহ করে) প্রয়োজন হয়।
- এরা দূষক পদার্থকে জারিত করে।
- পানিতে উপস্থিত বিয়োজন যোগ্য ও বিয়োজন অযোগ্য দূষক পদার্থসমূহকে জারণের জন্যে প্রয়োজনীয় মোট অক্সিজেনের চাহিদাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা (COD) বলে।

• কোন নমুনার COD এর মান BOD এর মান অপেক্ষা বেশি হয়। কেননা COD নির্ণয়ের ক্ষেত্রে জৈব ভাঙ্গনযোগ্য বা বিয়োজন যোগ্য এবং বিয়োজন অযোগ্য এই উভয় প্রকার জৈব বস্তুই জারিত হয়। পানিতে COD এর মান বৃদ্ধির অর্থ হলো দূষণের হার বৃদ্ধি।

উৎস: পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৬.
কোনটি সাবানকে শক্ত করে?
  1. সোয়িাম কার্বনেট
  2. সোডিয়াম সালফেট
  3. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  4. সোডিয়াম সিলিকেট
ব্যাখ্যা
- সাবান সাধারণত শক্ত এবং কোমল এই দুই শ্রেণীতে বিভক্ত।
- শক্ত সাবান তৈরিতে কষ্টিক সোডা এবং কোমল সাবান তৈরিতে কস্টিক পটাসের ব্যবহার হয়ে থাকে।
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও, সাবানকে শক্ত ও ভারী করার জন্য সোডিয়াম সিলিকেট (Na2SiO3) ব্যবহার করা হয়। তবে, এটা পরিমাণমত ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যাতে বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ও সাধারণ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৭.
প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা কতভাগ 238U আইসোটোপ থাকে?
  1. 50%
  2. 99.3%
  3. 0%
  4. 69.3%
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে শতকরা 99.3 ভাগ 238U আইসোটোপ থাকে।

আইসোটোপ: 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- বর্তমানে সর্বমোট আইসোটোপের সংখ্যা প্রায় ১৩০০। 

ইউরেনিয়াম: 
- ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় মৌল।
- ইউরেনিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ৯২ এবং পারমাণবিক ভর ২৩৮। 
- ইউরেনিয়ামের তিনটি প্রধান আইসোটোপ হলো- 

238U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 146, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 99.3% এবং 
• অর্ধায়ু: 4.47 বিলিয়ন বছর। 
 
235U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 143, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.7% এবং 
• অর্ধায়ু: 703.8 মিলিয়ন বছর। 
 
234U আইসোটোপ: 
• প্রোটনের সংখ্যা: 92, 
• নিউট্রনের সংখ্যা: 142, 
• শতকরা পরিমাণ প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে: 0.0057% এবং 
• অর্ধায়ু: 245,500 বছর। 
 
- 238U প্রাকৃতিকভাবে অবস্থিতিশীল এবং অতি দীর্ঘজীবী। 
- অন্যদিকে, 235U আইসোটোপটি বিভক্ত হতে পারে এবং পারমাণবিক বিস্ফোরণের জন্য দায়ী, এটিই পারমাণবিক চুল্লী ও বোমায় ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
United States Nuclear Regolatory Commission [লিঙ্ক] এবং ব্রিটানিকা।
১,২৬৮.
যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো __________।
  1. বেশি সক্রিয়
  2. কম সক্রিয়
  3. কিছুটা কম সক্রিয়
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। 
- আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে। 

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে, তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক। 
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৯.
রাবার বাতাসে দীর্ঘদিন রেখে দিলে প্রধানত কোন পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়?
  1. পানি
  2. নাইট্রোজেন
  3. অ্যামোনিয়া 
  4. ওজোন
ব্যাখ্যা

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার জন্য যে ইরেজার ব্যবহার কর, সেটি এক ধরনের রাবার। 
- সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন এসবই রাবারের তৈরি। 
- পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপল এগুলোও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 
- রাবার এবং রাবারজাত পণ্যসামগ্রী জীবনের অনেক কাজের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবকে (যেমন-এসিটোন, মিথানল) অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। 
- বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী, তবে আজকাল বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে। কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়, কারণ রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৭০.
পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. ক) Si
  2. খ) U
  3. গ) Ca
  4. ঘ) Mg
ব্যাখ্যা
পরমানু অস্ত্র তৈরিতে ইউরেনিয়াম (U) ব্যবহৃত হয়।
ইউরেনিয়াম (U) – প্রকৃতিতে  প্রাপ্ত সবচেয়ে বেশি ভারী মৌল, তেজস্ক্রিয় গবেষণা এবং নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয় এটি।
১,২৭১.
নিচের কোনটি সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম?
  1. সিলভার (Ag)
  2. তামা (Cu)
  3. সোনা (Au)
  4. জিংক (Zn)
ব্যাখ্যা

- জিংক (Zn) সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে অবস্থান করলে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকা অনুসারে, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো বেশি সে মৌল ততো বেশি সক্রিয়। আর যে মৌলের ইলেকট্রন ত্যাগের প্রবণতা যতো কম সে মৌলটি ততো কম সক্রিয়। 
- মৌলের সক্রিয়তার নিম্ন ক্রমানুসারে সাজালো যে মৌল শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে, তাকে সক্রিয়তা সিরিজ বলে।

- কোনো ধাতুর অবস্থান সক্রিয়তার সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরে হলে তার সক্রিয়তা হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক।
- এরা এসিডের লঘু দ্রবণ থেকে হাইড্রোজেনকে প্রতিস্থাপিত করবে। 
অর্থাৎ, হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু ও লঘু এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
- হাইড্রোজেন অপেক্ষা অধিক সক্রিয় ধাতু + লঘু এসিড → লবণ + হাইড্রোজেন। 
যেমন- অধিক সক্রিয় জিংক ধাতু ও লঘু হাইড্রোক্লোরিক এসিড বা লঘু সালফিউরিক এসিড বা লঘু নাইট্রিক এসিডের বিক্রিয়ায় ধাতুর লবণ ও হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন হয়। 
• Zn(s) + 2HCl(aq) → ZnCl2(aq) + H2(g) 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭২.
নন-রেডক্স বিক্রিয়া কোনটি?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ প্রক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

নন-রেডক্স বিক্রিয়া: 
- নন-রেডক্স বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়ার সময় মৌলের পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না। 
- এক বা একাধিক বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার সময় বিক্রিয়ক অণুতে বর্তমান মৌল সমূহের মধ্যে কোনো মৌলের পরমাণুতেই যদি ইলেকট্রন দান বা গ্রহণ না ঘটে তবে তাকে নন-রেডক্স বিক্রিয়া বলে। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ না ঘটার কারণে বিক্রিয়া শেষে কোনো বিক্রিয়ক বা উৎপাদ মৌলের পরমাণুর জারণ সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটে না। 
- ইলেকট্রনের দান বা গ্রহণ ঘটে না এরূপ বিক্রিয়াকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রশমন বিক্রিয়া, 
২। অধঃক্ষেপ বিক্রিয়া। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৩.
সাধারণ বিদ্যুৎকোষে কি পাত ব্যবহার করা হয়?
  1. তামা ও রূপার পাত
  2. তামা ও দস্তার পাত
  3. দস্তা ও লোহার পাত
  4. দস্তা ও রূপার পাত
ব্যাখ্যা

সাধারণ বিদ্যুৎকোষ হিসেবে পরিচিত হচ্ছে ভোল্টার সরলকোষ। ইটালির বিজ্ঞানী আলেসান্দ্রো ভোল্টার নামানুসারে একে ভোল্টার বিদ্যুৎ কোষ বলে।
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষে দস্তার পাত এবং তামার পাত ব্যবহার করা হয়।
সাধারণ বিদ্যুৎ কোষে বিদ্যুৎ প্রবাহ অধিকক্ষণ স্থায়ী হয় না।
উৎসঃ সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,২৭৪.
তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় কোনটি? 
  1. সালফিউরিক এসিড
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. ইথানয়িক এসিড
  4. কপার সালফেট 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যেসব পদার্থ কঠিন অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না কিন্তু গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে এবং বিদ্যুৎ পরিবহনের সাথে সাথে ঐ পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায় তাদেরকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বলে। 
- তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় আয়নিত হয় থাকে। 
- এই আয়নের মাধ্যমে তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 
- আয়নিক যৌগ এবং কিছু পোলার সমযোজী যৌগ গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় তড়িৎ বিশ্লেষ্য পরিবাহী হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4), ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি গলিত বা দ্রবীভূত অবস্থায় বিদ্যুৎ পরিবহণ করে। 

- তড়িৎ বিশ্লেষ্য আবার দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে বা গলিত অবস্থায় সম্পূর্ণরূপে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), কপার সালফেট (CuSO4), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ইত্যাদি। 

২। মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য: 
- যে সকল তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে খুব অল্প পরিমাণে আয়নিত হয় থাকে তাদেরকে মৃদু তড়িৎ বিশ্লেষ্য বলে। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড, ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৭৫.
গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা শ্বাসকার্যের জন্য অক্সিজেনের সাথে কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যবহার করে? 
  1. হিলিয়াম
  2. নিয়ন
  3. ক্রিপটন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
১। অত্যন্ত হালকা এবং অদাহ্য গ্যাস হওয়ায় পর্যবেক্ষণ বেলুন এবং উড়োজাহাজে হিলিয়াম গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
২। রক্তে নাইট্রোজেনের তুলনায় হিলিয়াম কম দ্রবীভূত হয়। এজন্য গভীর সমুদ্রে ডুবুরিরা বাতাসের পরিবর্তে অক্সিজেন এবং হিলিয়াম গ্যাসের মিশ্রণ শ্বাসকার্যের জন্য ব্যবহার করেন। যদি বাতাস ব্যবহার করা হয় তাহলে সমুদ্রের গভীরে উচ্চ চাপে রক্তের মধ্যে নাইট্রোজেন দ্রবীভূত হয় এবং সমুদ্র পৃষ্ঠে উঠে আসার সাথে সাথে রক্ত থেকে নাইট্রোজেন গ্যাস বুদবুদ আকারে বের হয়ে আসে যা প্রচন্ড ব্যথার সৃষ্টি করে। 
৩। যেসব ধাতু সহজে জারিত হয় সেগুলি গলানো এবং ঝালাই করার জন্য হিলিয়াম গ্যাসের নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া সৃষ্টি করা হয়। 
৪। বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে যেখানে অতি নিম্ন তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় সেখানে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের ব্যবহার: 
১। রঙ্গীন বাতি এবং বিজ্ঞাপনের আলোর জন্য নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। নিম্ন চাপে নিয়ন গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহ চালালে গ্যাসটি জ্বলে ওঠে এবং উজ্জ্বল লাল আলো দেয়। এ আলো ঘন কুয়াশার মধ্যেও দেখা যায়। এ জন্য উড়োজাহাজকে উঁচু পর্বত থেকে সতর্ক করার জন্য গিরিচূড়ায় নিয়ন আলোর সংকেত দেখানো হয়। আবার আকাশে উড়ন্ত একটি উজোজাহাজকে দূর থেকে অন্য আর একটি উড়োজাহাজ যাতে দেখতে পায় সেজন্য উড়োজাহাজেও নিয়ন আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়। 
২। নিয়ন গ্যাসের সাথে আর্গন এবং পারদ বাষ্প মিশিয়ে নিয়ন আলোর রং পরিবর্তন করা যায়। এজন্য বিভিন্ন রং এর বাতি এবং ফ্লোরোসেন্ট টিউবে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। আজকাল বিজ্ঞাপনের কাজে এরূপ আলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। 
৩। টেলিভিশন সেট এবং রেডিও ফটোগ্রাফীতে নিয়ন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। 
২। রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

নিষ্ক্রিয় গ্যাস ক্রিপটনের ব্যবহার: 
১। বৈদ্যুতিক আলোর টিউবে নিয়নের সাথে ক্রিপটন গ্যাস মিশ্রিত করে নীল আলো সৃষ্টি করা হয়। 
২। সিনেমাটোগ্রাফীতে অতি উজ্জ্বল আলো সৃষ্টি করার জন্য ক্রিপটন ফ্লাস ব্যবহার করা হয়। 
৩। মহাজাগতিক রশ্মি পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত আয়নীকরণ চেম্বার যন্ত্রে ক্রিপটন গ্যাস ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৬.
অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ কোনটি?
  1. মিথেন
  2. টলুইন
  3. ইথেন
  4. সাইক্লোহেক্সেন
ব্যাখ্যা

◉ টলুইন (C6H5CH3) একটি অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন, যা বেনজিন বলয়-এর সাথে একটি মিথাইল (-CH3) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

অ্যারোমেটিক যৌগ:
- পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।
- বলয়াকার যৌগ বেনজিন, বেনজিন জাতক এবং বেনজিনের সমধর্মী যৌগসমূহকে অ্যারোমেটিক যৌগ বলে।
- অ্যারোমেটিক সকল যৌগই চাক্রিক গঠন সম্পন্ন।
- অ্যারোমেটিক চক্রে অন্ততপক্ষে তিনটি কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
- অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছয় কার্বন বিশিষ্ট বেনজিন চক্র বিদ্যমান।
- সকল অ্যারোমেটিক যৌগ অসম্পৃক্ত।
- সাইক্লোপ্রোপিন, বেনজিন, টলুইন, ফিউরান, পিরিডিন অ্যারোমেটিক যৌগের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, অ্যারোমেটিক হাইড্রোকার্বন (Aromatic Hydrocarbon) হলো এমন যৌগ, যার আণবিক কাঠামোতে এক বা একাধিক বেনজিন (Benzene) বলয় থাকে।
- এদের গঠন সাধারণত চক্রাকার (Cyclic) এবং ইলেকট্রন গুলোর ডেলোকালাইজেশন (Delocalization) থাকার কারণে এটি বিশেষ রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
মিথেন ও ইথেন অ্যালিফ্যাটিক হাইড্রোকার্বন (Alkane),
সাইক্লোহেক্সেন একটি সাইক্লিক (Cyclic) হাইড্রোকার্বন, তবে অ্যারোমেটিক নয়, কারণ এতে ডেলোকালাইজড π-ইলেকট্রন নেই।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৭.
উদ্বায়ী পদার্থ কোনটি? 
  1. আয়রন 
  2. নিকোটিন 
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন 
ব্যাখ্যা

পদার্থের অবস্থা: 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্দেশ করে পদার্থের সংযুক্তি অপরিবর্তিত রেখে উহার বিভিন্ন অবস্থার প্রকাশ।  
- পদার্থের ভৌত অবস্থার মধ্যে পড়ে পদার্থের ঘনত্ব, স্থায়ীত্ব, স্ফুটনাঙ্ক, দ্রাব্যতা, চৌম্বক ধর্ম ও আলোর সাথে প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থা সবই কিন্তু পদার্থের ভৌত অবস্থা। 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটলে পদার্থের ভৌত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। 
- কঠিন বরফকে তাপ দিলে তরল পানি, পানিকে তাপ দিলে গ্যাসীয় অবস্থা বাষ্পে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে জলীয় বাষ্পকে ঠাণ্ডা করলে তরল পানি, তরল পানিকে ঠাণ্ডা করলে কঠিন বরফে পরিণত হয়। 
- আবার কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল এসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে সরাসরি কঠিন অবস্থা থেকে গ্যাসীয় অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় অবস্থা থেকে শীতল করলে তরল অবস্থায় পরিণত হয়ে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- প্রকৃতপক্ষে কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল প্রভৃতি হলো উদ্বায়ী পদার্থ। 

অন্যদিকে, 
- আয়রন → ধাতু, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- নিকোটিন → জৈব যৌগ, উদ্বায়ী পদার্থ নয়। 
- গ্লিসারিন → তরল পদার্থ, উদ্বায়ী নয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৮.
কোন কোন স্থানে সলিড ফিনাইল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) পায়খানা, প্রস্রাবখানায়
  2. খ) গোসলখানায়
  3. গ) পুকুরে
  4. ঘ) নালায়
ব্যাখ্যা
পায়খানা ও প্রস্রাবখানায় - সলিড ফিনাইল ব্যবহৃত হয় যাতে দুর্গন্ধ উৎপন্ন না হতে পারে।
১,২৭৯.
ভারী পানির রাসায়নিক নাম কী?
  1. হাইড্রক্সিড
  2. হাইড্রোজেন অক্সাইড
  3. ডিউটেরিয়াম অক্সাইড
  4. ট্রিটিয়াম অক্সাইড
ব্যাখ্যা

পানি: 
- সাধারণ পানির সংকেত হলো H2O. 
- এই পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন। 
- ভারী পানির সংকেত হলো D2O. 
- এই ভারী পানির রাসায়নিক নাম হচ্ছে ডিউটেরিয়াম অক্সাইড। 
- ভারী পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন। 
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। 
- সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়। 

উল্লেখ্য, 
- সাধারণ পানিতে (H2O) হাইড্রোজেন আইসোটোপ প্রোটিয়াম থাকে, কিন্তু ভারী পানিতে হাইড্রোজেনের একটি ভারী আইসোটোপ, ডিউটেরিয়াম (D) থাকে, যার নিউক্লিয়াসে একটি প্রোটন এবং একটি নিউট্রন উভয়ই থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,২৮০.
কোণটির স্বাধীন স্বত্তা আছে?
  1. ক) পরমাণু
  2. খ) অণু
  3. গ) দুইটিই
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা ঐ পদার্থের ধর্মাবলী অক্ষুন্ন রেখে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে তাকে অণু বলে। দুই বা ততোধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধন-এর মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অণু গঠন করে । যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠন করে । আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠন করে।

অণুর বৈশিষ্ট:
- স্বাধীন অস্তিত্ব আছে।
- বস্তুর বৈশিষ্ট বজায় রাখে। 
- সব চেয়ে ছোট অণু হাইড্রোজেন অণু। 
- খালি চোখে দেখা যায় না। 
- কোন চার্জ নাই।
১,২৮১.
নিচের কোনটি অন্তরক পদার্থ?
  1. ক্যাডমিয়াম সালফাইড
  2. কাঁচ
  3. পানি
  4. লোহা
ব্যাখ্যা

- যে সব বস্তুর মধ্য দিয়ে তড়িৎ আধান চলাচল করতে বা পরিবাহিত হতে পারে না, তাদেরকে অন্তরক বা অপরিবাহক বলা হয়।
কার্বন ব্যতীত অন্যান্য অধাতু, প্লাস্টিক, কাঠ, কাঁচ, রাবার, চীনামাটি, রেশম ইত্যাদি হলো অন্তরক পদার্থ।
- সকল ধাতু, মাটি, পানি প্রভৃতি হলো তড়িৎ পরিবাহক।
- সিলিকন, জার্মেনিয়াম, গ্যালিয়াম আর্সেনাইড, ক্যাডমিয়াম সালফাইড প্রভৃতি হলো অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
সূত্র: মাধমিক পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,২৮২.
নিচের কোনটিকে তাপ দিলে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হবে?
  1. ক) সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. খ) নিশাদল
  3. গ) নিয়ন
  4. ঘ) নিকেল
ব্যাখ্যা
উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

সূত্র: রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৮৩.
'লোহায় মরিচা পড়া' কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. রাসায়নিক পরিবর্তন
  2. ভৌত পরিবর্তন
  3. সাময়িক পরিবর্তন
  4. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন: 
লোহায় মরিচা পড়া
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি। 

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন: 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
• বরফ গলে পানি হওয়া, 
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৮৪.
লেড এসিড ব্যাটারিতে অ্যানোড হিসেবে কোনটি থাকে?
  1. Pb2+
  2. PbO2
  3. Pb
  4. Pt
ব্যাখ্যা
- লেড এসিড ব্যাটারিতে অ্যানোড হিসেবে থাকে সীসা (Pb) এবং 
- ক্যাথোড হিসাবে থাকে লেড অক্সাইড (PbO2)।
- সালফিউরিক অ্যাসিড {H2SO4} ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে কাজ করে। 
১,২৮৫.
ইলেকট্রন বিন্যাস অনুসারে পর্যায় সারণিতে ব্যতিক্রম অবস্থান কোন মৌলের?
  1. Ca
  2. Na
  3. He
  4. Ar
ব্যাখ্যা

• হিলিয়ামের 1s2 ইলেকট্রন বিন্যাস থাকায় এটি গ্রুপ-২ এ থাকতে পারতো, কিন্তু রাসায়নিক স্থিতিশীলতা ও নিষ্ক্রিয় গ্যাস বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এটি গ্রুপ-১৮ তে স্থান পায়।
- হিলিয়ামের ইলেকট্রন বিন্যাস: 1s2.
- এটি শুধুমাত্র একটি কক্ষপথ পূর্ণ (K-শেল)।

• গ্রুপ অনুযায়ী যুক্তি:
- গ্রুপ ২: এখানে সাধারণত অ্যালকালিন আর্থ ধাতু থাকে, যাদের শেষ কক্ষপথে 1s2 থাকে।
- ইলেকট্রন বিন্যাস অনুযায়ী হিলিয়ামও 1s2 শেল আছে, তাই এটি গ্রুপ-২ তে থাকতে পারতো।
- হিলিয়াম অত্যন্ত অ-প্রতিক্রিয়াশীল।
- রাসায়নিকভাবে হিলিয়াম অন্যান্য নিষ্ক্রিয় গ্যাস/নোবেল গ্যাসের মতো আচরণ করে।
- কোনও যৌগ সহজে গঠন করে না, তাই এটিকে গ্রুপ-১৮ (নিষ্ক্রিয় গ্যাস) এ রাখা হয়।
- রাসায়নিক ধর্ম অনুযায়ী: গ্রুপ-১৮ এ রাখা হয়।
- আধুনিক পর্যায় সারণিতে রাসায়নিক ধর্মই প্রাধান্য পায়, তাই হিলিয়াম গ্রুপ-১৮ এ।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,২৮৬.
কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. বরফ গলানো 
  2. লোহা মরিচা ধরা
  3. পানি বাষ্পীভবন
  4. কাগজ ছিঁড়া
ব্যাখ্যা

- লোহা বাতাসের অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়া করে Iron Oxide (Fe2O3) তৈরি করে। যা মরিচা হিসেবে পরিচিত। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াটি: 4Fe + 3O2 ​→ 2Fe2​O3
- এই প্রক্রিয়ায় লোহা (Fe) থেকে লোহা অক্সাইড (Fe2O3) তৈরি হয়।
- লোহা এর অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে এটি একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।​

পরিবর্তন দুই প্রকার:
- ভৌত পরিবর্তন (Physical Change), 
- রাসায়নিক পরিবর্তন (Chemical Change)। 

• ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের কেবল আকার, অবস্থা বা রূপ পরিবর্তিত হয়।
- অণুর গঠন বা রাসায়নিক ধর্ম অপরিবর্তিত থাকে। 

• রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনে পদার্থের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হয়।
- নতুন পদার্থ তৈরি হয়, যা নতুন ধর্ম প্রদর্শণ করে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন

১,২৮৭.
গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ কী?
  1. অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি
  2. অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি
  3. অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে
  4. অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে
ব্যাখ্যা

• গ্যাসের ঘনত্ব কম হওয়ার প্রধান কারণ হলো অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেশি থাকা।

• পদার্থের গ্যাসীয় ধর্ম:
- গ্যাসের অণুগুলো খুব দ্রুত ও স্বাধীনভাবে গতিশীল।
- অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুব দুর্বল।
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে।
- ফলে গ্যাসের ঘনত্ব কঠিন ও তরল অবস্থার তুলনায় অনেক কম।
- গ্যাস নির্দিষ্ট আকৃতি বা আয়তন রাখে না।
- পাত্রে রাখলে গ্যাস পাত্রের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করে।
- গ্যাস সহজে সংকুচিত করা যায়।
- গ্যাসের আয়তন তাপমাত্রা ও চাপের উপর নির্ভরশীল।

• গ্যাসের সংকোচনীয়তা:
- অণুগুলোর মধ্যে ফাঁকা স্থান বেশি থাকায় চাপ প্রয়োগ করলে আয়তন কমে যায়।
- এই বৈশিষ্ট্যকে সংকোচনীয়তা বলা হয়।

• অন্যান্য অপশন:
- অণুগুলোর ভর অত্যন্ত বেশি → গ্যাসের ঘনত্ব ভরের জন্য নয়, দূরত্বের কারণে কম।
- অণুগুলো স্থির অবস্থায় থাকে → গ্যাসে অণুগুলো সদা গতিশীল।
- অণুগুলো ঘনভাবে সজ্জিত থাকে → এটি কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,২৮৮.
চেতনানাশক হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়? 
  1. ফেনল
  2. হ্যালোজেন
  3. বেনজিন
  4. ক্লোরোফরম
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়।
-ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়।


ক্লোরোফরম ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৯.
কোন জ্বালানি পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড বাতাসে আসে?
  1. ডিজেল
  2. পেট্রোল
  3. অকটেন
  4. সিএনজি
ব্যাখ্যা
- ডিজেল পোড়ালে বাতাসে সালফার ডাই-অক্সাইড আসে। 
- তবে মনে রাখতে হবে, ডিজেল পোড়ালে সবচেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয় কার্বন ডাই-অক্সাইড। 
- সালফারযুক্ত ডিজেল জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করলে এর দহন প্রক্রিয়ায় সালফারের জারন থেকে সালফার অক্সাইড উৎপন্ন ও নির্গত হয়। 
- সালফার ডাই অক্সাইড এর পরিমাণ বেশি হবে না কম হবে তা ডিজেলে উপস্থিত সালফারের উপর নির্ভর করে। 

• জেনে রাখা ভাল- 
- অন্যদিকে ডিজেল একটি হাইড্রোকার্বন হওয়ায় এটির দহনে সবসময়ই কার্বন ডাইঅক্সাইড ও পানি উৎপন্ন হয়। 
- সকল হাইড্রোকার্বনই এমন দহন বিক্রিয়া দেয়। 
- যুক্ত্রাষ্ট্রের Energy Information Administration (EIA) এর তথ্যমতে, 
- ২০১৮ সালে ডিজেল পোড়ানোর কারণে ৪৬১ মিলিয়ন মেট্রিক টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) নির্গত হয়েছে যা ঐ বৎসরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের শতকরা ৯ ভাগ। 

উৎস: doe.portal.gov.bd & U.S. Energy Information Administration (EIA) Websites.
১,২৯০.
The most abundant element in the earth's crust is -
  1. ক) Nitrogen
  2. খ) Silicon
  3. গ) Hydrogen
  4. ঘ) Oxygen
ব্যাখ্যা
ভূত্বক:
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম।

- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন।
- ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ - ৪২.৭%,
- সিলিকনের পরিমাণ - ২৭.৭%,
- অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ - ৮.১%,
- লোহা বা আয়রনের পরিমাণ - ৫.১%,
- ক্যালসিয়ামের পরিমাণ - ৩.৭%
- সোডিয়ামের পরিমাণ - ২.৮%,
- পটাসিয়ামের পরিমাণ - ২.৬% এবং
- ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ - ২.১%।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯১.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে ব্যবহৃত লবণ সেতু কী কাজ করে?
  1. খুব দ্রুত চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখতে
  2. ক্যাটায়নের পরিমান বাড়াতে
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে
  4. অ্যানায়নের পরিমান বাড়াতে
ব্যাখ্যা
লবণ সেতু:
- ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন এর আয়নীয় গতিবেগ সমান এমন একটি তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থের জলীয় দ্রবণে আগর আগর জেলি মিশিয়ে উত্তপ্ত করে পরে ঠান্ডা করে লবণ সেতু বা সল্ট ব্রিজ তৈরি করা হয়।
- লবণ সেতু ছাড়া যদি কোন পূর্ণাঙ্গ তড়িৎ রাসায়নিক কোষ তৈরি করা হয়, তবে একটি দ্রবণ দ্রুত ধনাত্মক চার্জ সংগ্রহ করবে এবং অন্যটি নেগেটিভ চার্জ জমা করবে এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্যুতের উৎপাদন থামিয়ে দেবে।
- লবণ সেতুর উদ্দেশ্য হলো বৈদ্যুতিক রাসায়নিক বিক্রিয়াকে খুব দ্রুত ভারসাম্য বজায় রাখা থেকে বিরত রাখা।
- বিদ্যুৎ উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে তড়িৎ কোষে লবণ সেতু ব্যবহার করা হয়।
- লবণ সেতুর লবণের আয়নগুলো তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষের উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে ব্যাপন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চলাচল করে।
- আয়নগুলো দ্রবণের সাথে কোন প্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না।
- জারণ অর্ধকোষে উৎপন্ন ধনাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ঋণাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- একইভাবে বিজারণ অর্ধকোষে ঋণাত্মক আয়ন বৃদ্ধি পেলে লবণ সেতু হতে ধনাত্মক আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় দ্রবণে প্রবেশ করে চার্জের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ফলে উভয় অর্ধকোষের দ্রবণে তড়িৎ নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,২৯২.
নাইট্রিক এসিডে কোন মৌলিক পদার্থটি নেই?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. পটাসিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
নাইট্রিক এসিড একটি শক্তিশালী এসিড।
এর রাসায়নিক সংকেত - HNO3
সোনার গহনা তৈরির সময় স্বর্ণকাররা নাইট্রিক এসিড ব্যবহার করেন।

Source: pubchem.ncbi.nlm.nih.gov/
১,২৯৩.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস নয়-
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নিয়ন
  3. গ) হিলিয়াম
  4. ঘ) আর্গন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাসঃ হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে।
আবার বায়ুতে এদের পরিমাণ খুবই কম (<1%); এ কারণে এদেরকে বিরল বা দুর্লভ গ্যাসও বলা হয়।
এই গ্যাসগুলো খুব একটা ক্ষতিকরও নয়; তাই এদেরকে ‍উত্তম গ্যাসও বলা হয়।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৯৪.
বিজারক কী?
  1. প্রোটন গ্রহণ করে
  2. অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়
  3. অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়
  4. ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
ব্যাখ্যা
• জারণ- বিজারণ:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

- সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na+Cl2=2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
- উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
- ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক
• Na → Na+ + e- (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• Cl + e- → CI (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

• সহজে মনে রাখার উপায়:
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ।
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৯৫.
পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয় কোন তাপমাত্রায়?
  1. 0° C
  2. 0° K
  3. 4° C
  4. 100° C
ব্যাখ্যা

- সাধারণত তাপমাত্রা কমলে যেকোনো তরলের ঘনত্ব বাড়ে, কিন্তু পানির ক্ষেত্রে 4° C (সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়। এই তাপমাত্রায় পানির অণুগুলো সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকে, যে কারণে আয়তন সর্বনিম্ন হয় এবং ঘনত্ব সর্বাধিক হয় 

ঘনত্ব: 

- বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে। 
- গাণিতিকভাবে বলা যায়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V . 
- বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার, সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)। ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা gcm-3) বহুল প্রচলিত। এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। 
যেমন- [ρ] = ML-3 .
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1 gm/cc. 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৯৬.
কোন মৌলিক (noble) গ্যাসটির পারমাণবিক ভর সবচেয়ে বড়? 
  1. জেনন
  2. র‍্যাডন
  3. নিয়ন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা

- আর্গনের পারমাণবিক ভর - ৩৯.৯৫। 
- র‍্যাডনের পারমাণবিক ভর - ২২২। 
- জেননের পারমাণবিক ভর - ১৩১.২৯। 
- নিয়নের পারমাণবিক ভর - ২০.১৮। 

উপরোক্ত মৌলিক গ্যাসসমূহের মধ্যে র‍্যাডনের পারমাণবিক ভর সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,২৯৭.
ভারি পানির সংকেত কোনটি?
  1. HO3
  2. H2O2
  3. H3O
  4. D2O
  5. D3O
ব্যাখ্যা

- পানির সংকেত হলো H2O এবং ভারি পানির সংকেত হলো D2O।
- পানিতে উপস্থিত থাকে প্রোটিয়াম এবং অক্সিজেন।
- ভারি পানিতে উপস্থিত থাকে ডিউটেরিয়াম এবং অক্সিজেন।
- প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম এবং ট্রিটিয়াম হলো হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ। সাধারণভাবে হাইড্রোজেন বলতে প্রোটিয়ামকেই বোঝায়।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৯৮.
নিম্নের কোন মৌলটি অপধাতু?
  1. Si
  2. Na
  3. Ag
  4. Kr
ব্যাখ্যা

সিলিকন (Si) মৌলটি একটি অর্ধধাতু। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু (Metalloids / Semi-metals)
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে, তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়।
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তাদেরকে অপধাতু বলা হয়।
- উদাহরণ: সিলিকন (Si) একটি অপধাতু।

অন্যদিকে,
খ) Na (সোডিয়াম) - এটি ধাতু (Alkali Metal)। এটি পর্যায় সারণির ১ম গ্রুপে অবস্থিত একটি ক্ষার ধাতু। ইলেকট্রন দানে সক্ষম এবং বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সক্রিয় থাকে।
গ) Ag (রুপা) - এটি ধাতু এবং গ্রুপ-১১ এর একটি ধাতব মৌল, যা উত্তম তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহক।
ঘ) Kr (ক্রিপ্টন) - এটি একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এটি পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌল। 

উৎস: রসায়ন - ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,২৯৯.
গ্যালভানাইজিং করতে কোনো ধাতুর উপর কিসের প্রলেপ দেয়া হয়? 
  1. কপার
  2. নিকেল
  3. জিংক
  4. সিলভার
ব্যাখ্যা
গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩০০.
বাষ্পকে শীতল করে তরলে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বলা হয়-
  1. ক) ঊর্ধ্বপাতন
  2. খ) বাষ্পীভবন
  3. গ) পাতন
  4. ঘ) ঘনীভবন
ব্যাখ্যা
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পাকারে উড়ে যায়।
- আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে। যেমন: জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়।
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। অর্থাৎ
                          পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। যেমন: নিশাদল (NH₄Cl), কর্পূর (C₁₀H₁₆O), ন্যাপথলিন (C₁₀H₈), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), আয়োডিন (I₂), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl₃) এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থও বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।