বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১২ / ২৭ · ১,১০১১,২০০ / ২,৬৯২

১,১০১.
জীবাশ্মগত বিদ্যাকে বলা হয়- 
  1. Parasitology
  2. Paleontology
  3. Ophthalmology
  4. Helminthology
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil) ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুঁড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুঁড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে পৃথিবীর ভূ-ত্বকে প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (Paleontology) বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- Ophthalmology হচ্ছে চোখের গঠন, ক্রিয়া ও রোগবিষয়ক চিকিৎসাবিজ্ঞান; চক্ষুবিজ্ঞান। 
- Helminthology হচ্ছে কৃমি সম্পর্কিত বিদ্যা। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০২.
কোনটি লোহার আকরিক?
  1. জিপসাম
  2. রকসল্ট
  3. ম্যাগনেটাইট
  4. বক্সাইট
ব্যাখ্যা

• সোডিয়ামের আকরিকঃ
- রকসল্ট,
- চিলি সল্টপিটার,
- ন্যাট্রোন,
- বোরাক্স ইত্যাদি।
• ক্যালসিয়ামের আকরিকঃ
- চুনাপাথর,
- জিপসাম,
- ডলোমাইট ইত্যাদি।
• আয়রন বা লোহার আকরিকঃ
- ম্যাগনেটাইট,
- হেমাটাইট,
- আয়রন পাইরাইটস,
- লিমোনাইট ইত্যাদি।
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিকঃ
- বক্সাইট,
- কোরান্ডাম,
- ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১০৩.
অ্যানোড তড়িৎদ্বার কোথায় সংযুক্ত থাকে? 
  1. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  2. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
  3. ব্যাটারির কেন্দ্রের সাথে
  4. ব্যাটারির বাইরের অংশে
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। 
- একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন- একটি অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং অপরটি ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৪.
নিচের কোনটি জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) সাধারণত কার্বন পরমাণু উপস্থিত থাকে।
  2. খ) সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শন করে।
  3. গ) বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক বেশি সময় লাগে।
  4. ঘ) সাধারণত আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।
ব্যাখ্যা
- সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে জৈব যৌগ গঠিত হয়।
- জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু সাধারণত উপস্থিত থাকে। এছাড়া হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার ইত্যাদি মৌলও উপস্থিত থাকে।
- জৈব যৌগে সমাণুতা ও ক্যাটিনেশন ধর্ম প্রদর্শিত হয়।
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া সম্পন্ন হতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,১০৫.
প্লাস্টিক কোন ধরনের পলিমার?
  1. প্রাকৃতিক
  2. সংশ্লেষিত
  3. জৈব
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত বা কৃত্রিম পলিমার। 

• প্লাস্টিক:
- যে সব পলিমারকে তাপদিলে নমনীয় হয় এবং চাপ দিয়ে বিভিন্ন আকৃতি প্রদান করা যায় সে সব পদার্থকে প্লাস্টিক বলে।
- প্লাস্টিক (plastic) হলো পলিমারের একটি বিশেষ রূপ। 
- কোন প্লাস্টিক পদার্থের প্রক্রিয়াজাত করার গুণাবলি যেমন নমনীয়তা ও আকৃতি প্রদান ইত্যাদি গুণাবলি কে প্লাস্টিসিটি বলে।

• সংশ্লেষিত পলিমার:
- সংশ্লেষিত পলিমার হল পরীক্ষাগারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হওয়া পলিমার।
- এগুলি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না, বরং কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়। 
- প্লাস্টিক হলো সংশ্লেষিত পলিমার (Synthetic Polymer), যা পেট্রোলিয়ামজাত পদার্থ (যেমন: ইথিলিন, প্রোপিলিন) থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়।

• প্লাস্টিকের উদাহরণ:
- পলিথিন।
- পলিস্টাইরিন।
- PVC.

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৬.
নিচের কোনটি মৌলিক পদার্থ নয়?
  1. ফুলারিন
  2. হীরা
  3. রম্বিক সালফার
  4. ফসফিন
ব্যাখ্যা
• ফসফিন (PH₃) একটি যৌগিক পদার্থ, কারণ এটি ফসফরাস ও হাইড্রোজেন  দুটি ভিন্ন মৌল দিয়ে গঠিত।
- তাই ফসফিন মৌলিক পদার্থ নয়, এটি একটি যৌগ। 

• মৌলিক পদার্থ:
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে।
- উদাহরণ:হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, কার্বন, গন্ধক, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রুপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ।

- হীরা, গ্রাফাইট, ফুলারিনস ইত্যাদি হলো কার্বনের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- শ্বেত ফসফরাস, লোহিত ফসফরাস ইত্যাদি হলো ফসফরাসের রূপভেদ। এরা মৌলিক পদার্থ।
- রম্বিক বা আলফা সালফার, মনোক্লিনিক বা বিটা সালফার, প্লাস্টিক বা নমনীয় বা গামা সালফার, দুগ্ধ বা ডেল্টা সালফার, ল্যামডা সালফার, মিউ সালফার ইত্যাদি হলো গন্ধকের বিভিন্ন রূপভেদ। এরাও সবাই মৌলিক পদার্থ।
- সিলিকা হলো সিলিকন ডাই-অক্সাইড যা বালি গঠনের প্রধান উপাদান। সিলিকন ও অক্সিজেন নামক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে সিলিকা নামক যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন হয়।

উৎস:  রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি  ও ব্রিটানিকা।
১,১০৭.
ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে কি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) লবণ ও পানি
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক হলো ঐ সকল পদার্থ যা এসিডকে প্রশমিত করে এর বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম বিলুপ্ত করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,১০৮.
শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) গ্লিসারিন
  2. খ) সাবান
  3. গ) ডিটারজেন্ট
  4. ঘ) ফরমালিন
ব্যাখ্যা
ফরমালিন:
- মিথান্যাল পানিতে দ্রবীভূত করে ফরমালিন প্রস্তুত করা হয়।
- 40% মিথান্যাল 52% পানি ও ৪% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রণ ফরমালিন।
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়।
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক
- সংক্রামক রোগীর ব্যবহৃত বিছানা, আসবাব ও ঘর জীবাণুমুক্ত করতে ফরমালিনকে ব্যবহার করা হয়।
- কিছু অসাধু অর্থলোভী ব্যবসায়ী মাছ, মাংস, দুধ, ফল, শাক-সবজি সংরক্ষণে ফরমালিনকে ব্যবহার করে থাকে। 
- ফরমালিন ব্যবহারে খাদ্যের অস্বাভাবিক খাদ্য শৃঙ্খল ভেঙ্গে যায়।
- খাদ্যের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ ও খাদ্যমান বিনষ্ট হয়।
- ফরমালিনযুক্ত খাবার খেলে মানুষের কিডনি, যকৃত, হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং ক্যান্সারের ঝুকি বেড়ে যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১০৯.
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. N2 গ্যাস
  2. H2 গ্যাস
  3. CH3 গ্যাস
  4. CH4 গ্যাস
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস: 
- প্রাকৃতিক গ্যাস শক্তির একটি পরিচিত উৎস। 
- গ্যাসের সাহায্যে তাপশক্তি উৎপাদিত হয় এবং তা থেকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদিত হয় বিদ্যুৎ। 
- ভূগর্ভ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচন্ড তাপ ও চাপ এ ধরনের গ্যাস সৃষ্টির মূল কারণ। 
- পেট্রোলিয়াম কূপ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন (CH4) গ্যাস। 
- এই সকল শক্তিকে জীবাশ্ম শক্তিও বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১০.
ক্ষার ধাতু নয় কোনটি?
  1. Na
  2. K
  3. Li
  4. Ca
ব্যাখ্যা

• গ্রুপ ১ এর ধাতুগুলোকে (Li, Na, K) ক্ষার ধাতু বলা হয়, কিন্তু Ca গ্রুপ ২ এর ধাতু হওয়ায় এটি ক্ষার ধাতু নয়।
- Ca কে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়। 


• ক্ষার ধাতু:
- ক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ১ এর ধাতব মৌল, যেমন লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম।
- খুব প্রতিক্রিয়াশীল, বিশেষত পানি ও বাতাসের সঙ্গে।
- একমাত্র ভ্যালেন্স ইলেকট্রন থাকে, যা সহজেই হারায়।
- হালকা, নরম এবং কম ঘনত্বযুক্ত।
- সাধারণত ধাতব চকচকে এবং সাদা-হলকা রঙের।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- মৃৎক্ষার ধাতু হলো গ্রুপ ২ এর সেই ধাতু যা মূল্যবান, কম প্রতিক্রিয়াশীল এবং রসায়নে স্থিতিশীল।
- অক্সিজেন বা জল দ্বারা সহজে প্রতিক্রিয়াশীল নয়।
- সাধারণ পরিবেশে দাগ বা জং ধরে না।
- ধাতু হিসেবে চিরস্থায়ী চকচকে রূপ বজায় রাখে।
- শিল্প, গহনা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১১.
জীব সংরক্ষণ ও পচন নিবারণের জন্য ব্যবহৃত হয় -
  1. গ্লিসারিন
  2. ফরমালিন
  3. ভিনেগার
  4. সাবান
ব্যাখ্যা
ফরমালিন: 
- মিথান্যালের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে। 
- ফরমালিনে ৪০ ভাগ মিথান্যাল ও ৬০ ভাগ পানি থাকে। 
- মৃত জীবদেহ সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহৃত হয়। 
- ফরমালিন শক্তিশালী জীবাণুনাশক ও জীবাণুজনিত পচন নিরোধক। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১২.
সাবান হচ্ছে উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের ____ লবণ।
  1. ক) সোডিয়াম
  2. খ) ক্যালসিয়াম
  3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
  4. ঘ) বেরিলিয়াম
ব্যাখ্যা
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি
১,১১৩.
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিনের মূল উপাদান কোথায় থেকে সংগ্রহ করা হয়? 
  1. তুলসী গাছ থেকে
  2. ধুতরা ফুল থেকে
  3. আফিম গাছ থেকে
  4. গুয়ারানা নির্যাস থেকে
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিঃশ্বাস: 
- স্কোপোলামিন মূলত একটি সিনথেটিক ড্রাগ। 
- এই স্কোপোলামিন 'ডেভিলস ব্রেথ' বা 'শয়তানের নিঃশ্বাস' নামেও বেশ পরিচিত। 
- তবে এটা প্রাকৃতিক কোনো উপাদান নয়। বরং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আরো কিছু যোগ করে কৃত্রিমভাবে স্কোপোলামিন তৈরি করা হয়। এটা তরল এবং পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায়। তবে এর গুরুত্বপূর্ণ বা মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। 
- স্কোপোলামিন প্রথম দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা জ্ঞিাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তখন এর ব্যবহার হতো লিকুইড হিসেবে, ইনজেকশনের মাধ্যমে। 
- আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ওষুধ তৈরিতে এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- বমি বমি ভাব, মোশন সিকনেস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তী রোগীর জন্য ওষুধে এর ব্যবহার আছে। 
- যখন এটি কথা বলানোর জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা 'ট্রুথ সেরাম'। আবার যখন এটি পাউডার ফর্মে নিঃশ্বাসের জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা ‘ডেভিলস ব্রেথ’। আর যখন এটা বমি অথবা মোশন সিকনেসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তখন এটা আসলে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার হয়। 
- বর্তমানে স্কোপোলামিন মূলত পাউডার হিসেবে প্রতারণার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। অপরাধের ক্ষেত্রে এই ড্রাগ কাগজ, কাপড়, হাত এমনকি মোবাইলের স্ক্রিনে লাগিয়েও এর ঘ্রাণ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য কারো মানসিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া সম্ভব। 
- এটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকলেই মাত্র ১০ মিনিট বা তারও আগে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। মেমোরি আর ব্রেন তখন সচেতনভাবে কাজ করতে পারে না। কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা লাগে। আবার কেউ তিন/চার ঘণ্টার মধ্যেও স্বাভাবিক হতে পারে না।

উৎস: বিবিসি নিউজ বাংলা (১০ মে, ২০২৪) [লিঙ্ক]।
১,১১৪.
কোনটি জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়?
  1. ফেরাস হাইড্রোক্সাইড
  2. ফেরিক হাইড্রোক্সাইড
  3. অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ফেরাস হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, ফেরিক হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড  Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৫.
একই মৌলের আইসোটোপগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন হয়? 
  1. প্রোটন সংখ্যা 
  2. পারমাণবিক সংখ্যা 
  3. ইলেকট্রন সংখ্যা
  4. নিউট্রন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

- আইসোটোপ হল একই মৌলের পরমাণু যাদের প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। নিউট্রন সংখ্যার এই ভিন্নতার কারণেই আইসোটোপগুলোর ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোপ (Isotope): 

- ডালটনের পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী একটি মৌলের সব পরমাণু সমান ভর বিশিষ্ট।
- কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে, একই মৌলের বিভিন্ন পরমাণুর ভিন্ন ভিন্ন ভর হতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে প্রোটন বা ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ আছে যাদের ভর যথাক্রমে 1, 2, 3, 4, 5, 6 ও 7 । 
- এই সাতটি আইসোটোপের মধ্যে হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এই স্থায়ী তিনটি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন সেসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
- হাইড্রোজেনের স্থায়ী আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1, কিন্তু প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির ভর সংখ্যা 2 এবং তৃতীয়টির ভর সংখ্যা 3 । 
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে 1 টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২ টি নিউট্রন আছে। 
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। 
যেমন- এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15 টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৬.
রাদারফোর্ডের মডেলে পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে কোনটি থাকে? 
  1. ইলেকট্রন ক্লাউড
  2. নিরপেক্ষ কণা
  3. নিউক্লিয়াস, ধনাত্মক চার্জ বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র
  4. ঋণাত্মক চার্জ বিশিষ্ট কণা
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
- তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- তাঁর প্রস্তাবগুলো হলো- 
(১) পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট ভারী কেন্দ্র বিদ্যমান যা পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। এর নাম নিউক্লিয়াস। এর আয়তন সমগ্র পরমাণুর আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। 
(২) সকল পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। অতএব, নিউক্লিয়াসের ধনাত্মক আধানের সমান সংখ্যক ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে আবর্তন করে। 
(৩) সৌরমন্ডলে গ্রহগুলো যেমন সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান তেমনি পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসের চারিদিকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে সর্বদা ঘূর্ণায়মান। ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট নিউক্লিয়াস এবং ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনের মধ্যে পারস্পরিক কেন্দ্রমুখী স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল এবং ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল পরস্পর সমান ও বিপরীতমুখী। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।
- এর সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ: 
১. সৌরমন্ডলের গ্রহগুলো তড়িৎ নিরপেক্ষ। কিন্তু পরমাণুর কক্ষপথে আবর্তনকারী ইলেকট্রনসমূহ ঋণাত্মক চার্জযুক্ত এবং এরা পরস্পরকে বিকর্ষণ করে। 
২. ম্যাক্সওয়েলের তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বানুসারে চার্জযুক্ত ইলেকট্রন কণা বৃত্তাকার পথে ঘূর্ণায়মান থাকলে তা অবিচ্ছিন্নভাবে (Continuous) শক্তি বিকিরণ করার কথা। এভাবে শক্তি হারাতে থাকলে নিউক্লিয়াসের আকর্ষণে ইলেকট্রনের কক্ষপথ সর্পিলাকারে হ্রাস পেয়ে এক সময় ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে পতিত হবে। 
অর্থাৎ, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলেরই আর কোন অস্তিত্ব থাকে না। অথচ পরমাণু হতে ক্রমাগত শক্তি বিকিরণ বা ইলেকট্রনসমূহের নিউক্লিয়াসে পতন কখনই ঘটে না। 
৩. আবর্তনশীল ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি সম্বন্ধে কোনো ধারণা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলে পাওয়া যায় না। 
৪. একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনগুলো কিভাবে পরিভ্রমণ করে তার কোনো উল্লেখ এ মডেলে নেই। 
৫. পরমাণুর বর্ণালী সম্বন্ধে কোনো সুষ্ঠু ব্যাখ্যা এ মডেলে নেই। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৭.
কোন ধাতুর গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম?
  1. লোহা
  2. সোনা
  3. সিসা 
  4. তামা
ব্যাখ্যা

- উল্লিখিত ধাতুগুলোর মধ্যে সিসার গলনাঙ্ক সবচেয়ে কম। 

গলনাঙ্ক: 

- গলনাঙ্ক হলো সেই তাপমাত্রা যেখানে কোনো কঠিন পদার্থ তরলে রূপান্তরিত হয়।
- ধাতুগুলোর ক্ষেত্রে এটি নির্ভর করে পরমাণুগুলোর মধ্যে ধাতব বন্ধনের শক্তি এর ওপর।

লোহা (Fe):
- গলনাঙ্ক 1538°C, উচ্চ, শক্তিশালী ধাতব বন্ধন।

সোনা (Au):
- গলনাঙ্ক: 1064°C, মধ্যম মানের গলনাঙ্ক।

সিসা (Pb):
- গলনাঙ্ক: 327°C, সবচেয়ে কম ও সহজে গলে যায়

তামা (Cu):
- গলনাঙ্ক: 1085°C, লোহা এবং সোনার চেয়ে কম, কিন্তু সিসার চেয়ে বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেনি।

১,১১৮.
জলজ শামুক ও ঝিনুকের খোলস কি দিয়ে গঠিত?
  1. ক) সালফেট
  2. খ) কার্বনেট
  3. গ) ফসফেট
  4. ঘ) নাইট্রেট
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঝিনুক বা শামুকের খোলসে থাকা ৯৮% ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)।
আগুনের তাপে এই ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙ্গে ক্যালসিয়াম অক্সাইড বা চুন (CaO) এবং কার্বন-ডাই- অক্সাইড তৈরি হয়।

সূত্রঃ রসায়ন বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

১,১১৯.
নিচের কোন বিক্রিয়াটি ক্যাথোডে সম্পন্ন হয়?
  1. জারণ বিক্রিয়া
  2. বিজারণ বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. সংযোজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিজারণ:
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়।
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে।

অন্যদিকে,
- জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে।

তথ্যসূত্র - রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২০.
কার্বন- কার্বন দ্বিবন্ধন দেখা যায় কোন সমগোত্রীয় শ্রেণিতে?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যালকিন
  3. অ্যালকাইন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
• অ্যালকিন (Alkene):
- এটি এমন একটি হাইড্রোকার্বনের সমগোত্রীয় শ্রেণি, যেখানে অন্তত একটি কার্বন-কার্বন দ্বিবন্ধন (C=C) বিদ্যমান থাকে।
- সাধারণ সূত্র: CnH2n
- উদাহরণ:
- ইথিন (C₂H₄) → CH₂=CH₂
- প্রোপিন (C₃H₆) → CH₂=CH–CH₃

অন্যদিকে,
- অ্যালকেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন, যেখানে কার্বন-কার্বনের মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন (C–C) থাকে।
- অ্যালকাইন শ্রেণির যৌগগুলোতে কার্বন-কার্বনের মধ্যে ত্রিবন্ধন (C≡C) থাকে।
- অ্যালকোহল হলো এমন যৌগ, যেখানে –OH (হাইড্রক্সিল) গ্রুপ যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১২১.
রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রশ্মি বের হয়-
  1. গামা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. কসমিক রশ্মি
ব্যাখ্যা
• রঙিন টেলিভিশন থেকে ক্ষতিকর রঞ্জন রশ্মি বের হয়।

- রঙিন অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য রঙিন টেলিভিশনে যে সকল মৌলিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়, সাদাকালো অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্যও একই যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়। তবে রং সম্পর্কিত তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণের জন্য রঙিন টেলিভিশনে বাড়তি কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয়।
- রঙিন টেলিভিশনের ক্যামেরায় রঙিন ছবি উৎপাদনের জন্য লাল, নীল ও সবুজ এ তিনটি রং-এর পৃথক পৃথক ইলেকট্রন টিউব থাকে।
- রঙিন টেলিভিশনের গ্রাহক যন্ত্রেও তিনটি রং যেমন লাল, নীল ও সবুজের জন্য তিনটি ইলেকট্রনগান ব্যবহার করা হয়।
- এর পর্দাও তৈরী হয় তিন রকম ফসফর দানা দিয়ে।
- ইলেকট্রন গান থেকে যখন ফসফরাসের উপর ইলেকট্রন বীম পতিত হয় তখন একটা বিশেষ রং শুধু একটি বিশেষ রং-এর দানাকে আলোকিত করে।
- ফলে পর্দায় একই সাথে ফুটে ওঠে লাল, নীল ও সবুজ রঙের বিন্দু, যার বিভিন্ন রকম মিশ্রণে টেলিভিশন পর্দায় ফুটে ওঠে রঙিন ছবি।
- টিভির পর্দায় ফসফর থাকে, ইলেকট্রন যখন এই ফসফরকে আঘাত করে তখন এখান থেকে মৃদু রঞ্জনরশ্মি নির্গত হয়, এটার পরিমাণ এতই ক্ষুদ্রতর যা উপেক্ষা করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২২.
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে কোনটি ঘটে?
  1. দ্রবণের ঘনমাত্রা কমে
  2. দ্রবণের ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রাবকের শতকরা পরিমাণ শূন্য হয়
  4. দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না
ব্যাখ্যা
সম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

• দ্রবণ:
- দ্রবণ হলো একটি সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যেখানে দুটি বা ততোধিক পদার্থ সমানভাবে একে অপরের সাথে মিশ্রিত থাকে।

• দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ (Classification of Solution):
ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন-
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution)।
ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution)। 
iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution)। 

• সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়।

• সম্পৃক্ত দ্রবণের বৈশিষ্ট্য:  
- একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও চাপে, দ্রাবকে দ্রবীভূত দ্রবের সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যমান থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 
- অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে তা অদ্রবীভূত অবস্থায় থেকে যায় । 
- যদি তাপমাত্রা পরিবর্তন করা হয়, তবে দ্রাবকের দ্রবণ ক্ষমতা পরিবর্তন হতে পারে এবং দ্রবণটি সম্পৃক্ত নাও থাকতে পারে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৩.
এক ঘনমিটার গ্যাসের আয়তন = কত?
  1. 103 cm3
  2. 109 cm3
  3. 107 cm3
  4. 106 cm3
ব্যাখ্যা
গ্যাসের আয়তন (Volume of Gas): 
- গ্যাস অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই নগণ্য হওয়ায় যে পাত্রে গ্যাসকে রাখা হয় সে পাত্রকে গ্যাস পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাস রাখা হয় গ্যাস অণুগুলো কর্তৃক দখলকৃত আয়তনকে ঐ গ্যাসের আয়তন বলা হয়। 
- প্রকৃত পক্ষে গ্যাস রক্ষিত পাত্রের আয়তনকে গ্যাসের আয়তন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- গ্যাসের আয়তনকে SI এককে ঘনমিটার (Cubic metre) বা m3 এ প্রকাশ করা হয়। 
- এছাড়া ঘন ডেসিমিটার (Cubic decimetre) বা dm3 এবং ঘন সেন্টিমিটার (Cubic Centimetre) বা cm3 এ প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 1 m3 = 1000 L = 103 dm3 = 106 cm3

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৪.
কোন পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়?
  1. কর্পূর
  2. নিশাদল
  3. মোম
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা
- মোম পদার্থটির গলনাঙ্ক নির্ণয় করা যায়। 

গলন: 
- কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করার প্রক্রিয়াকে গলন বলা হয়। 
যেমন- কঠিন মোমকে তাপ দেয়ার ফলে তা গলে তরল মোমে পরিণত হয়। 
- কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ হলে এটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় গলতে আরম্ভ করে এবং গলন যতক্ষণ শেষ না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাপমাত্রা স্থির থাকে। 
- এরূপ যে স্থির তাপমাত্রায় কোনো বিশুদ্ধ কঠিন পদার্থ গলতে শুরু করে তাকে ঐ কঠিন পদার্থের গলনাংক বলে। 
- কঠিন পদার্থের মধ্যে অপদ্রব্য বা ভেজাল মিশ্রিত থাকলে উহা অপেক্ষাকৃত নিম্ন তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে। 

উর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৫.
বিক্রিয়াগুলোর মধ্যে কোনটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া?
  1. C(s) + O2(g) → CO2(g)
  2. H2(g) + I2(g) → 2HI(g)
  3. C(s) + 2S(s) → CS2(l)
  4. N2(g) + O2(g) → 2NO(g)
ব্যাখ্যা

C(s) + O2(g) → CO2 (g) বিক্রিয়াটি একটি তাপোৎপাদী বিক্রিয়া। 

তাপোৎপাদী ও তাপহারী বিক্রিয়া
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ঋণাত্মক এবং তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ΔH এর মান ধনাত্মক চিহ্ন দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

ক) তাপোৎপাদী বিক্রিয়া (Exothermic Reaction)
- এ জাতীয় রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপের উদ্ভব ঘটে।
- বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হওয়ার পাশাপাশি তাপ উৎপন্ন হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় তাপ উৎপন্ন হয় বিধায় বিক্রিয়ার মিশ্রণের তাপমাত্রা ও বিক্রিয়ার পাত্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- এক্ষেত্রে উৎপাদের মোট এনথালপি বিক্রিয়কের মোট এনথালপি অপেক্ষা কম হয়। এ কারণে তাপোৎপাদী বিক্রিয়ায় ΔΗ ঋণাত্মক (negative) হয়।
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তির মান কম হয়।
- অর্থাৎ, বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি > উৎপাদের অভ্যন্তরীন শক্তি।
- উদাহরণ: C(s) + O₂(g) → CO₂(g); ΔH = - 393.50 kJ

খ) তাপহারী বিক্রিয়া (Endothermic Reaction)
- যেসব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তাপের শোষণ ঘটে, সেগুলোকে তাপহারী বিক্রিয়া বলে।
- পানিতে কঠিন পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) যোগ করলে দ্রবণ ঠান্ডা হয়ে যায়। এ সকল ক্ষেত্রে তাপ শোষণ ঘটে।
- রাসায়নিক বিক্রিয়াতে শোষিত তাপের পরিমাণ যদি q হয়, তবে সমীকরণের ডানদিকে ধনাত্মক চিহ্ন দিয়ে লেখা হয়।
- উদাহরণসমূহ:
1. H₂(g) + I₂(g) → 2HI(g); ΔH = +53 kJ
2. C(s) + 2S(s) → CS₂(l); ΔH = +89.70 kJ
3. N₂(g) + O₂(g) → 2NO(g); ΔH = +180.50 kJ
- তাপহারী বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান অপেক্ষা উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তির মান উচ্চ হয়। অর্থাৎ, উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি > বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৬.
পানি বরফে পরিণত হলে কি ঘটবে?
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. আয়তন বেড়ে যাবে
  3. ভর কমে যাবে
  4. আয়তনের পরিবর্তন ঘটবে না
ব্যাখ্যা
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।

Source: britannica.com
১,১২৭.
সফট ড্রিংক্সে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ডিডিটি
  2. খ) সরবেট
  3. গ) কার্বাইড
  4. ঘ) ফরমালিন
ব্যাখ্যা
সফট ড্রিংক্সে বেনজোয়েট এবং সরবেট ব্যবহৃত হয়। যেমনঃ বহুল ব্যবহৃত পানীয় কোকাকোলায় পটাশিয়াম সরবেট ব্যবহার করা হয় প্রিজার্ভেটিভ হিসেবে।
১,১২৮.
জাল পাসপোর্ট শনাক্তকরণে কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. মহাজাগতিক রশ্মি
  3. অবলোহিত রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
জাল পাসপোর্ট/টাকা শনাক্তকরণে অতিবেগুনি রশ্মির (UV) ব্যবহার: 
- বিগত শতাব্দী ধরে প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে টাকা তৈরির নিরাপত্তা অপেক্ষাকৃত সুনিশ্চিত হওয়ার ফলে জাল নোট তৈরিকারকদের জন্য টাকা তৈরি করা ক্রমেই দুরূহ হয়ে পড়ছে। 
- জাল নোট তৈরিতে বাধা প্রদান করার একটা পদ্ধতি হচ্ছে UV ফ্লুরোসেন্ট বস্তু টাকা প্রস্তুতকারী কাগজে সংযোজন করা। 
- জাল নোট শনাক্তকারী UV মেশিনে সাধারণত টাকার কাগজের বিশেষ কালি নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে দৃষ্টিগোচর হয়। 
- একটি জাতির প্রচলিত মুদ্রা UV নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য কৃতকার্যতার সাথে প্রয়োগ একটি দুই স্তরবিশিষ্ট পদ্ধতি। 
- প্রথম ধাপ হচ্ছে কাগজের নোটে অতিবেগুনি (ultraviolet) কালি প্রয়োগ। 
- UV ফ্লুরোসেন্ট ফসফরাসযুক্ত নোট যখন UV রশ্মিতে স্থাপন করা হয় তখন এটি বিক্রিয়া দেখায় যা সাধারণ আলোয় দেখা যায় না। 
- যখন UV রশ্মিতে অনাবৃত করা হয় তখন UV কালির পরিবর্তন সংঘটিত করে এবং বিশেষ নিরাপত্তা চিহ্নগুলো মানুষের চোখে দৃশ্যমান হয়। 
- এর অর্থ হচ্ছে সাধারণ আলোতে UV কালি দ্বারা ছাপাকৃত নিরাপত্তা নকশা প্রতীয়মান হয় না। 
- UV আলো প্রয়োগ করলে এ পরিবর্তন পরিষ্কারভাবে দৃশ্যমান হয়, যা ফ্লুরোসেন্ট আলো সৃষ্টি করে। 
- উল্লেখ্য যে, কাগজের মুদ্রা ছাড়া এই UV রশ্মির কালি পাসপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ট্রাভেলারস চেক, সোসাল সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতে ব্যবহার করে একইভাবে জাল প্রতিরোধ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৯.
পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কোনটি?
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অ্যালকেনের রাসায়নিক ধর্ম: 
- অ্যালকেন সাধারণভাবে প্যারাফিন (Paraffin) নামে পরিচিত। 
- Param অর্থ কম বা স্বল্প এবং affinis অর্থ আসক্তি। 
- তাই Paraffin অর্থ স্বল্প আসক্তির যৌগ। 
- অ্যালকেন যৌগের অণুতে কার্বন-কার্বন ও কার্বন-হাইড্রোজেন শক্তিশালী একক বন্ধনের মাধ্যমে সংযুক্ত। 
- এ কারণে এরা অনেকটাই রাসায়নিকভাবে বিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করে না। 
- এমনকি এসিড, ক্ষার, ধাতু ও ক্ষারকের সাথেও কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া করে না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩০.
কঠিন সাবান তৈরিতে কোন ক্ষার ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড
  2. পটাসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  3. ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড
  4. অ্যামোনিয়াম হাইড্রক্সাইড
ব্যাখ্যা

◉ কঠিন সাবান তৈরিতে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি চর্বি বা তেলের সাথে বিক্রিয়া করে শক্ত, দীর্ঘস্থায়ী এবং কার্যকরী সাবান তৈরি করে।

সাবানায়ন: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK. 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাধারণত তুলনামূলক শক্ত ধরনের সাবান তৈরীর জন্যে সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এবং কোমল ধরনের সাবানের জন্যে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩১.
‘টেস্টিং সল্ট’ হিসেবে কোন লবণ ব্যবহৃত হয়?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড 
  2. সোডিয়াম গ্লুটামেট 
  3. পটাশিয়াম নাইট্রেট 
  4. অ্যামোনিয়াম ফসফেট 
ব্যাখ্যা

লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩২.
কার্বন-কার্বন একক বন্ধন কোন ধরনের জৈব যৌগে পাওয়া যায়?
  1. অ্যালকেন
  2. অ্যাালকিন
  3. অ্যাালকাইন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন:
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়।
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণু দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়।

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম:
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর।
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়।
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল।
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন।

অন্যদিকে,
- কার্বন-কার্বন দ্বি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকিন বলা হয়।
- কার্বন-কার্বন ত্রি-বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকাইন বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৩.
K2Cr2O এ Cr এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. +7
  2. +4
  3. +5
  4. +6
ব্যাখ্যা
K2Cr2Oএ Cr এর জারণ সংখ্যা - +6।
জারণ সংখ্যা: 
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। 
K2Cr2O7 এ Cr এর জারণ সংখ্যা নির্ণয়:
মনে করি, 
K2Cr2O7 যৌগে Cr এর জারণ সংখ্যা = x 
আমরা জানি, K এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা +1 এবং O এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা -2।
যেহেতু, K2Cr2O7 অণুটি আধান নিরপেক্ষ অণু, সুতরাং K2Cr2O7 অণুতে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 
তাহলে, (+1) × 2 + x × 2 + (-2) × 7 = 0 
বা, +2 +2x -14 = 0 
বা, 2x - 12 = 0 
∴ x = +6 
অতএব, K2Cr2O7 যৌগে Mn এর জারণ সংখ্যা +6 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৪.
HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)
কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. বিয়োজন বিক্রিয়া
  4. পানিযোজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়া:
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে।
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের  হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
- উদাহরণ: HCl(aq) + NaOH(aq) → NaCl(aq) + H2O(l)

• পানিযোজন বিক্রিয়া:
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে।
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে।

• বিয়োজন বিক্রিয়া:
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
- উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়।

• দহন বিক্রিয়া:
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।
- উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৫.
বেকিং সোডা তাপ দিলে কোন গ্যাস উৎপন্ন হয় যা খাবার ফোলাতে সাহায্য করে?
  1. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  2. নাইট্রোজেন
  3. সালফার ডাই-অক্সাইড
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন এসিডের ব্যবহার: 
• হাইড্রোক্লোরিক এসিড: 
- সাধারণত মাংস, পোলাও, বিরিয়ানি এ ধরনের খাবার খাওয়ার পর আমাদের পাকস্থলীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) -এর প্রয়োজন হয়। 
- কোমল পানীয়গুলো অল্পমাত্রায় এসিডিক, তাই গুরুপাক খাবার পর কোমল পানীয় আমাদের পরিপাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCl) তৈরিতে সাহায্য করে। 

• বেকিং সোডা: 
- কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ইত্যাদি বেকিং সোডা (NaHCO3) ব্যবহার করে ফোলানো হয়। 
- তাপ দিলে এই বেকিং সোডা ভেঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা কেক, বিস্কুট, পাউরুটিকে ফুলিয়ে তোলে। 

• এসকরবিক এসিড: 
- লেবু, কমলা, আপেল, পেয়ারা, আমলকী ইত্যাদি ফলের মধ্যে ভিটামিন সি বা এসকরবিক এসিড (C6H8O6) আছে। 
- এটি দেহের ক্ষত সারাতে খুবই সহায়ক এবং এর অভাবে আমাদের শরীরে স্কার্ভি রোগ হয়। 

• এসিটিক এসিড: 
- আম, জলপাই ইত্যাদির নানা রকম আচার সংরক্ষণ করতে ভিনেগার বা এসিটিক এসিড (CH3COOH) ব্যবহার করা হয়। 

• ল্যাকটিক এসিড: 
- কোমল পানীয়ের মতো বোরহানি বা দই খেলে এতে বিদ্যমান ল্যাকটিক এসিড [(CH3-CH(OH)-COOH] আমাদের হজম শক্তিতে সাহায্য করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৩৬.
এটম শব্দের প্রবক্তা কে?
  1. ক) ডেমোক্রিটাস
  2. খ) ডালটন
  3. গ) অ্যারিস্টোটল
  4. ঘ) প্লেটো
ব্যাখ্যা
গ্রীক দার্শনিক ডেমােক্রিটাস খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দে সর্বপ্রথম পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা নিয়ে মতবাদ পােষণ করেন। তার মতে সকল পদার্থই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য (যা আর ভাঙ্গা যায় না) কণা দ্বারা গঠিত। তিনি এই ক্ষুদ্রতম কণার নাম দেন পরমাণু বা এটম। এটম কথাটি তিনি নিয়েছিলেন গ্রীক শব্দ এটোমােস (AtomoS) থেকে যার অর্থ হলাে অবিভাজ্য। তার সমসাময়িক সময়ের আরও দুজন দার্শনিক প্লেটো (Plato) এবং অ্যারিস্টটল (Aristotle) তার মতবাদের সাথে দ্বিমত পােষণ করেন। অ্যারিস্টটলের মতে পদার্থসমূহনিরবচ্ছিন্ন (Continuous), একে যতই ভাঙ্গা হােক না কেন, পদার্থের কণাগুলাে ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর হতে থাকবে।
উৎস: অষ্টম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
১,১৩৭.
পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকে কী বলা হয়?
  1. ব্ল্যাক লাইম
  2. লাইম ওয়াটার
  3. নিশাদল
  4. তড়িৎ বিশ্লেষণ
ব্যাখ্যা
CaO + H2O = Ca(OH)2
ক্যালসিয়াম অক্সাইড (চুন) + পানি → ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড 

- Ca(OH)2 স্ন্যাক লাইম নামেই বেশি পরিচিত।
- এই বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি উৎপন্ন হয় যার ফলে পানি ফুটতে থাকে।
- স্ন্যাক লাইম বা Ca(OH)2 পানিতে খুব অল্প পরিমাণে দ্রবীভূত হয়। 
আর, পানিতে Ca(OH)2 এর সম্পৃক্ত দ্রবণকেই চুনের পানি বা লাইম ওয়াটার বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১,১৩৮.
নিচের কোনটি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু কোনটি?
  1. টাংস্টেন
  2. লৌহ
  3. প্লাটিনাম
  4. তামা
ব্যাখ্যা
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত ধাতু - টাংস্টেন।

• ধাতু:

- ধাতু দেখতে চকচকে। একে আঘাত করলে টুনটুন শব্দ হয়।
- ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে শক্ত বা কঠিন পদার্থ হীরক। (হীরক ধাতু নয়, এটি কার্বনের একটি রূপভেদ)।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে ভারি ধাতু - ইউরেনিয়াম (Uranium)। আনবিক ভর - ২৩৮.০৩।
- সবচেয়ে ভারী মূল্যবান ধাতু প্লাটিনাম (Platinum)। এর আনবিক ভর - ১৯৫.০৭৮
- সবচেয়ে হালকা ধাতু লিথিয়াম (Lithium)। এর আনবিক ভর - ৬.৯৪

উৎস:
১. ব্রিটানিকা।
২. রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। [২০১৯ সংস্করণ]
১,১৩৯.
পর্যায় সারণির কোন গ্রুপের মৌলগুলো নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত?
  1. গ্রুপ 2
  2. গ্রুপ 16
  3. গ্রুপ 17
  4. গ্রুপ 18
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহ নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে পরিচিত।

• পর্যায় সারণি:

- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়।
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি।
- এ সারণিতে মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে।
- সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে।
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ 18 এর মৌলসমূহকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases) বলা হয়।
যথা: হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন Kr), জেনন (Xe) ও রেডন (Rn)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রন দিয়ে পূর্ণ থাকে বলে এরা ইলেকট্রন বিনিময় বা ভাগাভাগি করে কোন যৌগ গঠন করতে চায় না।
- নিষ্ক্রিয় অন্য মৌলগুলো থেকে হিলিয়াম (He) মৌলটি ব্যতিক্রম। কারণ হিলিয়াম (He) এর বাইরের শক্তিস্তর ২টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে যা নিষ্ক্রিয় গ্যাসের অন্য মৌলগুলোর ক্ষেত্রে ৮টি ইলেকট্রন দ্বারা পূর্ণ থাকে।
- রাসায়নিক বন্ধন গঠন বা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে বলে এদেরকে নিষ্ক্রিয় মৌল বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রায় গ্যাস হিসেবে থাকে।

• মৃৎক্ষার ধাতু:
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-২ এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু বলা হয়।
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে।
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। যথা: বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra)।
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে।
- এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

• হ্যালোজেন:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে।
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)।
- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।

• চ্যালকোজেনস:
- পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৬ এর মৌলসমূহকে (যেমন O, S, Se, Te ইত্যাদিকে) আকরিক উৎপন্নকারী মৌল বা চ্যালকোজেনস (chalcogens) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
কাজের মাত্রা ML2T-2 এ - 'M' দ্বারা কী বুঝায়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. সরণ
  4. ভর
ব্যাখ্যা
• কাজের মাত্রা ML2T-2 এ - 'M' দ্বারা "ভর' বুঝায়।

• কাজ, বল ও সরণের মধ্যে সম্পর্ক: 
- কাজ পরিমাণ করতে হলে আমাদের দুটি রাশি জানা প্রয়োজন। 
- একটি হচ্ছে বল এবং অপরটি হচ্ছে সরণ। কারণ কাজ সৃষ্টির জন্য বল ও সরণের প্রয়োজন হয়। 
- কাজ হচ্ছে বল ও সরণের গুণফল। 
- কাজ একটি স্কেলার রাশি। এর কোন দিক নেই। 
- কাজের মাত্রা, [W] = [ML2T -2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪১.
অজৈব যৌগ বলা হয় কোনটিকে?
  1. মিথেন
  2. ইউরিয়া
  3. কস্টিক সোডা
  4. বেনজিন
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন: মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- খনিজ অর্থাৎ নির্জীব পদার্থ থেকে প্রাপ্ত যৌগসমূহকে অজৈব যৌগ বলা হয়। 
- যে কোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
- অধিকাংশ অজৈব যৌগ আয়নিক অথবা সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত। 
যেমন: পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,১৪২.
গোল্ড কোন রাসায়নিক প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়?
  1.  Hg
  2. Fe
  3. Au
  4. Ag
ব্যাখ্যা

- গোল্ড এর রাসায়নিক প্রতীক Au, পারমাণবিক সংখ্যা 79.
- অণু গঠনের সময় কোন মৌলের একটি পরমাণুর সাথে অপর একটি মৌলের কোন পরমাণু   যুক্ত হওয়ার সামর্থ্যকেই যোজনী বা যোজ্যতা বলে। 

অন্যদিকে, 
Hg হচ্ছে পারদের  রাসায়নিক প্রতীক। 
Fe হচ্ছে আয়রনের রাসায়নিক প্রতীক।
Ag হচ্ছে সিলভারের রাসায়নিক সংকেত।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৩.
অভিস্রবণ কোনটি?
  1. তরল পদার্থের বাষ্প শোষণ
  2. বায়বীয় পদার্থের তরলে রূপান্তর
  3. কঠিন পদার্থ গলানো
  4. দ্রাব্যতা বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• অভিস্রবণ (Absorption) হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে একটি পদার্থ (সাধারণত গ্যাস বা বাষ্প) অন্য একটি পদার্থের (সাধারণত তরল বা কঠিন) অভ্যন্তরে প্রবেশ করে এবং তার মধ্যে মিশে যায়।

- উদাহরণ: অ্যামোনিয়া গ্যাসের পানি দ্বারা শোষণ।

অভিস্রবণ:
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে।
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে।
- অভিস্রবণ দু'ধরনের।
যথা-

(১) অন্তঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে।
উদাহরণ - কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে।

(২) বহিঃঅভিস্রবণ:
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে।
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে।

উৎস:
- বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান।
- এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৪.
'Dry Ice' is produced from :
  1. ক) Oxygen
  2. খ) Sulphur di oxide
  3. গ) Carbon di oxide
  4. ঘ) Nitrogen
ব্যাখ্যা
- শুষ্ক বরফ বা ‘ড্রাই আইস’ হলো জমাট বা হিমায়িত কার্বন-ডাই-অক্সাইড।
- এ কঠিনীকৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড -78.5℃ উষ্ণতায় কঠিন অবস্থা থেকে তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হয়।
- তাই এর নাম শুষ্ক বরফ বা ড্রাই আইস।

উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৫.
নিউট্রনের চার্জ কত?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. নির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি। যথা: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

• ইলেকট্রন:
- পরমাণুর ঋণাত্মক চার্জধারী অতিপারমাণবিক কণা।
- এদের e− প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়,
- প্রকৃত ভর: 9.11×10⁻28 g বা 9.109×10⁻31 kg,
- চার্জ: −1.602×10−19 কুলম্ব, 
-  আবিষ্কারক: জে জে থমসন (১৮৯৭)। 

• প্রোটন: 
- পরমাণুর ধনাত্মক চার্জধারী কণা।
- প্রতীক: p বা H+,
- প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের প্রায় ১৮৩৬ গুণ,
- চার্জ: +1.602×10−19 কুলম্ব,
- আবিষ্কারক: রাদারফোর্ড,
- ভর: 1.672×10-24 g,

•  নিউট্রন:
- ‘নিউট্রাল’ বা ‘চার্জ নিরপেক্ষ’ শব্দ থেকে নিউট্রন শব্দের উৎপত্তি,
- আবিস্কারক: চ্যাডউইক (1932),
- এরা চার্জ নিরপেক্ষ (0),
- প্রতীক: n,
- নিউট্রনের ভর প্রোটনের চেয়ে সামান্য বেশি,
- ভর: 1.675×10⁻24 g,

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন ১ম পত্র।
১,১৪৬.
প্রোপেনের অণুতে কার্বন পরমাণু সংখ্যা কত?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো Cn H2n+2 , n=1,2,3............. ইত্যাদি। 

• প্রোপেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। প্রোপেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C3H8
অর্থাৎ এটি হলো ৩ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। যাতে ৩ টি কার্বনের সাথে ৮ টি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৭.
কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস ও মোমের মূল উপাদান কোনটি? 
  1. কার্বন মনোক্সাইড 
  2. ক্লোরিন যৌগ 
  3. নাইট্রোজেন যৌগ 
  4. হাইড্রোকার্বন 
ব্যাখ্যা

দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন বিষয় রসায়নের বিশ্লেষণ: 
- কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড যেমন: সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি থাকে, যার ফলে কাঁচা আম টক হয়। 
- কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়, তাই পাকা আম মিষ্টি হয়। 

- কেরোসিন, প্রাকৃতিক গ্যাস, মোম এগুলোর মূল উপাদান হাইড্রোকার্বন। 
- হাইড্রোকার্বন হচ্ছে কার্বন আর হাইড্রোজেনের যৌগ। 
- তাই যখন এইগুলোর দহন ঘটে তখন বাতাসের অক্সিজেনের সাথে এইগুলোর বিক্রিয়া হয় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো আর তাপশক্তির সৃষ্টি হয়। 

- পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসরিত হলে পেটে এসিডিটির সমস্যা হয়। 
- এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড, এই দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। 
- দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন জিনিস রসায়নের সাথে সম্পর্কিত। কাজেই বিজ্ঞানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শাখার একটি হলো রসায়ন। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৪৮.
TNT কী?
  1. ক) রাসায়নিক সার
  2. খ) কীটনাশক
  3. গ) বিস্ফোরক
  4. ঘ) ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- TNT এর পূর্ণ নাম হচ্ছে Trinitrotoluene,
- আরো বিস্তারিত বললে ২, ৪, ৬ ট্রাইনাইট্রো টলুইন।

ব্যবহার:
- শক্তিশালী বিস্ফোরক রুপে; 
- হাত বোমায়;
- সেনাবাহিনীর Bomb Shell এবং জাহাজ ধ্বংসকারক  Torpedo প্রস্তুতকরণে;
- বিল্ডিং ও পাহাড় Amatol নামক বিস্ফোরক প্রস্তুতকরণে।

সূত্র- রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, হাজারী ও নাগ, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১৪৯.
অ্যালকোহলের কার্যকরী মূলক-
  1. -COOH
  2. -CHO
  3. -OH
  4. -CONH
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৫০.
2Na + Cl2 =NaCl , এই বিক্রিয়ায় জারক কোনটি?
  1. Na
  2. Cl
  3. Cl-
  4. Na+
ব্যাখ্যা
• জারণ-বিজারণ:
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেক্ট্রনের বর্জন ঘটে তাকে জারণ বিক্রিয়া এবং যে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ ঘটে তাকে বিজারণ বিক্রিয়া বলা হয়। 
- আবার, যে পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করে তাদেরকে বিজারক এবং যে পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে জারক পদার্থ বলে। 
- অতএব কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ ধনাত্নক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ- ঋনাত্নক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া একই সাথে সংঘটিত হয়। 

- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে ইলেকট্রন গৃহীত হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়,
- বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়। 

- সোডিয়াম ও ক্লোরিন বিক্রিয়া করে সোডিয়াম ক্লোরাইড তৈরি হওয়া (2Na + Cl2 =2NaCl) এধরনের জারণ প্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ।
-  উপরের উদাহরণে একইসাথে সোডিয়ামের জারন ও ক্লোরিনের বিজারণ ঘটেছে।
- উক্ত বিক্রিয়ায় সোডিয়াম একটি ইলেকট্রন দান করে এবং যুগপৎভাবে ক্লোরিন সেটি গ্রহণ করে।
- ফলে বিক্রিয়ায় সোডিয়াম বিজারক ও ক্লোরিন জারক।

Na - e → Na+ (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
Cl + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম; বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫১.
অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি তৈরিতে কোন ধাতু সংকর ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ব্রোঞ্জ
  3. গ) ডুরালমিন
  4. ঘ) স্টেইনলেস স্টিল
ব্যাখ্যা
লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে। রসায়ন শিল্পের বিক্রিয়ার পাত্র, ছুরি, কাঁচি, অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তৈরিতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়।
উড়োজাহাজের কাঠামো (বডি), বাই সাইকেলের যন্ত্রাংশ ইত্যাদি তৈরিতে ডুরালমিন ব্যবহার করা হয়।
[সূত্রঃ রসায়ন নবম-দশম শ্রেণি]
১,১৫২.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বলে-
  1. বিজারিত
  2. জারণ
  3. বিজারক
  4. জারক
ব্যাখ্যা

• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে জারণ বা বিজারক বলে।
• যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।
• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে বিজারণ বা জারক বলে।
• যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৫৩.
alkaline earth metal নিচের কোনটি?
  1. Na
  2. Ca
  3. Cu
  4. Au
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু (alkali metal): 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাশিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb) এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal): 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr) প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৪.
পানির রাসায়নিক সংকেত কী?
  1. CO₂
  2. H₂O
  3. NaCl
  4. O₂
ব্যাখ্যা
• পানির রাসায়নিক গঠন:
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত।
- এর আনবিক সংকেত H₂O.
- এবং আণবিক ভর ১৮।

• পানির ধর্ম:
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- গলনাংক: আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়।
- অর্থাৎ পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- স্ফুটনাংক: প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়।
- তড়িৎ পরিবাহিতা: বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
- তবে পানিতে আয়নিক লবণ দ্রবীভূত থাকলে তা তড়িৎ পরিবহন করে।
- তাই নদী পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।

এছাড়াও,
- দ্রবক: পানি একটি ভাল দ্রাবক।
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে।
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়।
- ঘনত্ব: ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়।
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে।
- অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ।
- বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না।
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে।
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭,
- তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৫.
Which acid is mainly present in tomatoes?
  1. Carbonic acid
  2. Tartaric acid 
  3. Folic acid
  4. Lactic acid
  5. Oxalic acid
ব্যাখ্যা

- টমেটোতে প্রধানত অক্সালিক এসিড (Oxalic acid) উপস্থিত থাকে, যদিও টমেটোতে ম্যালিক এবং সাইট্রিক অ্যাসিড সহ আরও অনেক অ্যাসিড থাকে, তবে অক্সালিক অ্যাসিডকে সাধারণত প্রধান অ্যাসিড হিসেবে গণ্য করা হয়। 

জৈব এসিড: 
- এসিড সাধারণত টক স্বাদযুক্ত হয়ে থাকে। 
- লেবু, আমলকি, কাঁচা আমড়া, জলপাই ও করমচায় প্রয়োজনীয় সাইট্রিক এসিড থাকে। 
- তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকে। 
- টমেটোতে অক্সালিক এসিড থাকে। 
- আপেল ও আনারসে ম্যালিক এসিড থাকে। 
- আমাদের পাকস্থলিতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড উৎপন্ন হয় যা খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 
- বাজারের সকল সফট ড্রিংকসে যা থাকে তা প্রকৃত অর্থে কার্বনিক এসিডের দ্রবণ। 

অন্যদিকে, 
- কার্বনিক এসিড হলো CO2 + H2O দ্রবণে তৈরি হওয়া অ্যাসিড যা মূলত সোডা বা carbonated drinks-এ থাকে। 
- ফলিক অ্যাসিড হলো একটি ভিটামিন B9, যা সবজি ও ফল-এ থাকে। 
- ল্যাকটিক অ্যাসিড সাধারণত দুগ্ধজাত পণ্য বা গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়, টমেটোতে প্রাকৃতিকভাবে এটি প্রধান অ্যাসিড নয়। 
- টারটারিক অ্যাসিড মূলত আঙ্গুরে পাওয়া যায়, এটি টমেটোতে প্রধান অ্যাসিড নয়। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৫৬.
'আধুনিক পারমাণবিক মতবাদ' র প্রবর্তক কে?
  1. জন ডাল্টন
  2. ডেমোক্রিটাস
  3. অ্যাভোগাড্রো
  4. হেনরি মোসলে
ব্যাখ্যা
• পারমানবিক মতবাদ:
- প্রাচীন গ্রিসে আজ থেকে ২৫০০ বছর পূর্বে লুসিপাস (Leucippus) ও তাঁর ছাত্র ডেমোক্রিটাস (Democritus) এ অভিমত প্রকাশ করেন যে, সব পদার্থ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অবিভাজ্য অংশ দ্বারা গঠিত।
- ডেমোক্রিটাস এ অবিভাজ্য ক্ষুদ্রতম অংশের নাম দেন atoma।
- এ শব্দটি দুটি গ্রিক শব্দ যেমন a (not) এবং temnein (to cut) হতে উদ্ভূত।
- অর্থাৎ atoma বলতে বোঝায় যা আর ভাগ করা যায় না।
- কিন্তু বিখ্যাত গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল (Aristotle) এর বিরোধিতার প্রভাবে এ মতবাদ চাপা পড়ে যায়।
- অ্যারিস্টটলের মতে পদার্থ নিরবচ্ছিন্ন, তাকে যত ইচ্ছা ক্ষুদ্রতর অংশে ভাগ করা যায়। ষোড়শ ও সপ্তদশ শতাব্দীতে atom মতবাদ আবার বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিকগণের সমর্থন লাভ করে।
- অবশেষে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন (John Dalton) এ মতবাদকে বৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি।
১,১৫৭.
হ্যালোজেন মৌলগুলো পর্যায় সারণির কোন গ্রুপে অবস্থান করে? 
  1. গ্রুপ-1
  2. গ্রুপ-2
  3. গ্রুপ-17
  4. গ্রুপ-18
ব্যাখ্যা

হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) বলে। 
- এই হ্যালোজেন গ্রুপের 6 টি মৌল হচ্ছে- 
• ফ্লোরিন (F), 
• ক্লোরিন (Cl), 
• ব্রোমিন (Br), 
• আয়োডিন (I), 
• অ্যাস্টাটিন (At) এবং 
• টেনেসিন (Ts) । 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবন উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে। 
যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৫৮.
তৃতীয় শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ কতটি ইলেকট্রন থাকতে পারে? 
  1. 18
  2. 8
  3. 2
  4. 32
ব্যাখ্যা

পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
অতএব এই সূত্রানুসারে- 
• K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 অতএব, K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 12) টি = 2 টি। 
• L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 অতএব, L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 22) টি = 8 টি। 
M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 অতএব, M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 32) টি = 18 টি। 
• N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 অতএব, N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 42) টি = 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৫৯.
Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা কত?
  1. −6
  2. +5
  3. −2
  4. +2
ব্যাখ্যা
- যৌগের অণুতে কোনো মৌলের জারণ সংখ্যা যৌগে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের জারণ সংখ্যার উপর নির্ভরশীল। 
- যৌগে কোনো একটি মৌলের জারণ সংখ্যা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে যৌগের অণুতে উপস্থিত অন্যান্য মৌলের প্রমাণ জারণ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

- মনে করি, Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা = x
আমরা জানি, O এর প্রমাণ জারণ সংখ্যা −2,
যেহেতু, Cl2O5 অণুটি আধান নিরপেক্ষ অণু।
সুতরাং Cl2O5 অণুতে পরমাণুসমূহের মোট জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 
তাহলে, 2x + (−2) × 5 = 0
বা, 2x − 10 = 0
বা, 2x = 10
∴ x = +5
অতএব, Cl2O5 যৌগে Cl এর জারণ সংখ্যা = +5

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬০.
1 মোল অণু হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় কত লিটার? 
  1. 11.2 লিটার 
  2. 2.24 লিটার
  3. 22.4 লিটার
  4. 44.8 লিটার
ব্যাখ্যা

মোলার আয়তন: 
- যে কোনো উপাদানের এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। 
- পদার্থের ভৌত অবস্থা ভেদে মোলার আয়তন ভিন্ন ভিন্ন। 
- কঠিন ও তরল উপাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদার্থের মোলার আয়তন বিভিন্ন হয়। তবে গ্যাসের ক্ষেত্রে একই তাপমাত্রা ও চাপে সকল গ্যাসের এক মোলার আয়তন একই হয়। 
- প্রমাণ অবস্থায় এক মোল যে কোনো গ্যাসের আয়তন 22.4 লিটার। 
- 0°C তাপমাত্রাকে প্রমাণ তাপমাত্রা এবং 1 বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে প্রমাণ চাপ বলে। 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধি ঘটালে গ্যাসের আয়তনের বৃদ্ধি এবং তাপমাত্রার হ্রাস ঘটালে গ্যাসের আয়তনের হ্রাস ঘটে। 
- আবার গ্যাসের উপর আরোপিত চাপের বৃদ্ধি ঘটালে আয়তনের হ্রাস ঘটে। আরোপিত চাপের হ্রাস ঘটালে আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে। 
- এক মোল অণু = গ্রাম আণবিক ভর = 6.023×1023 টি অণু। আর প্রতিটির সম্পর্ক হলো যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন প্রমাণ অবস্থায় 22.4 লিটার। 
অর্থাৎ, 
এক মোল অণু হাইড্রোজেন = 2 গ্রাম হাইড্রোজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অণু অক্সিজেন = 32 গ্রাম অক্সিজেন = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল অ্যামোনিয়া = 17 গ্রাম অ্যামোনিয়া = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 
• এক মোল কার্বন ডাই-অক্সাইড = 44 গ্রাম কার্বন ডাই-অক্সাইড = প্রমাণ অবস্থায় আয়তন 22.4 লিটার। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬১.
নিচের কোনটি সংকর ধাতু নয়?
  1. ক) ব্রাস
  2. খ) ব্রোঞ্জ
  3. গ) ইস্পাত
  4. ঘ) আর্সেনিক
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু


- আর্সেনিক একটি মৌলিক পদার্থ যার প্রতীক As এবং পারমাণবিক সংখ্যা 33. এর পারমাণবিক ভর 74.92160 (সাধারণ কাজে 75 ব্যবহার করা হয়)।

সূত্র: রসায়ন বিজ্ঞান, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৬২.
এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় বলে তাদের বলা হয় -
  1. ক) আইসোটোপ
  2. খ) আইসোমার
  3. গ) আইসোটোন
  4. ঘ) আইসোবার
ব্যাখ্যা
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।
উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৬৩.
বর্তমানে পরিবেশ-বান্ধব কোন গ্যাসটি রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসরে ব্যবহার করা হয়?
  1. টাইক্লোরোটাইফ্লুরো ইথেন
  2. টেট্রাফ্লুরো ইথেন
  3. ডাইক্লোরো ডাইফ্লুরো ইথেন
  4. আর্গন
ব্যাখ্যা
পরিবেশবান্ধব ফ্রিজ:
- ঐতিহ্যবাহী এয়ার কন্ডিশনার এবং রেফ্রিজারেন্টগুলিতে ফ্লোরিনযুক্ত গ্যাস থাকে যা ওজোন স্তরকে ছিদ্র করতে পারে, হ্রাস করতে পারে এবং পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
- টেকসই শীতলীকরণ এই গ্যাসগুলিকে জলবায়ু-বান্ধব বিকল্পগুলির সাথে প্রতিস্থাপন করে।
- সেগুলো যখন উন্নত শক্তি-দক্ষতা ব্যবস্থার সাথে মিলিত হয় তখন রেফ্রিজারেন্ট লিকেজ থেকে শক্তি নির্গমন হ্রাস করে।

- একটি রেফ্রিজারেন্টের পরিবেশ-বান্ধবতা তার ওজোন হ্রাস সম্ভাবনা এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্ভাব্য দ্বারা পরিমাপ করা যেতে পারে।
- সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট হল হাইড্রোফ্লোরোকার্বন (HFC) এবং হাইড্রোফ্লোরো-ওলেফিনস (HFO)।
- বর্তমানে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারে হিমায়ক হিসেবে ফ্রেয়নের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব গ্যাস R-134A (টেট্রাফ্লোরো ইথেন), R-290 (আইসোপ্রোপেন), R-600A (আইসোবিউটেন) এর ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস: Environmentally Friendly Refrigerants, American Biotech Supply.
১,১৬৪.
প্লাজমা অবস্থায় পদার্থের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. মুক্ত ইলেকট্রন ও আয়ন থাকে
  2. শুধু কঠিন পদার্থে পাওয়া যায়
  3. অণুগুলো স্থির থাকে
  4. তাপ পরিবাহিতা নেই
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা:
-  প্লাজমা হলো পদার্থের একটি অবস্থা যা গ্যাসের মতো কিন্তু এর মধ্যে মুক্ত ইলেকট্রন ও ধনাত্মক আয়ন থাকে।
-  এটি সাধারণত উচ্চ তাপমাত্রা বা শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগের মাধ্যমে তৈরি হয়।

• প্লাজমার বৈশিষ্ট্য-
 - এটি পদার্থের চতুর্থ অবস্থা নামে পরিচিত।
 - এটি তড়িৎ পরিবাহী এবং চৌম্বক ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া করে।
 - সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র, বজ্রপাত ইত্যাদিতে প্লাজমা দেখা যায়।
-  পারমানবিক চুল্লীর মধ্যে যখন নিউক্লিয়ার ফিউশান ঘটানো হয় তখন পদার্থকে প্লাজমা অবস্থায় পরিবর্তন করে নেয়া হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৫.
‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে কুখ্যাত স্কোপোলামিন কোন উৎস থেকে সংগৃহীত হয়?
  1. মারিজুয়ামা নির্যাস থেকে
  2. আফিম গাছ থেকে
  3. নিম গাছ থেকে
  4. ধুতরা ফুল থেকে
ব্যাখ্যা
• ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে কুখ্যাত স্কোপোলামিন একটি শক্তিশালী মাদকদ্রব্য যা প্রধানত ধুতরা ফুল (ঘ option) থেকে সংগৃহীত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে, বিশেষত মস্তিষ্কের মেমোরি ও সচেতনতা নিয়ন্ত্রণে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। স্কোপোলামিন গ্রহণের পর ভুক্তভোগী ব্যক্তি সহজেই মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে পড়ে এবং নিজের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারায়। অপরাধীরা এটিকে প্রায়শই অপহরণ, ডাকাতি বা মানব পাচারে ব্যবহার করে থাকে। ধুতরা উদ্ভিদ ছাড়াও এটি ব্রুগমানসিয়া ও কিছু নাইটশেড গোত্রীয় গাছেও পাওয়া যায়, তবে সবচেয়ে প্রচলিত উৎস ধুতরা ফুল। এজন্যই এটি ভয়ানক ও কুখ্যাত বলে বিবেচিত।

• শয়তানের নিঃশ্বাস: 
- স্কোপোলামিন মূলত একটি সিনথেটিক ড্রাগ। 
- এই স্কোপোলামিন 'ডেভিলস ব্রেথ' বা 'শয়তানের নিঃশ্বাস' নামেও বেশ পরিচিত। 
- তবে এটা প্রাকৃতিক কোনো উপাদান নয়। বরং প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে আরো কিছু যোগ করে   স্কোপোলামিন তৈরি করা হয়। এটা তরল এবং পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায়। তবে এর গুরুত্বপূর্ণ বা মূল উপাদান আসে ধুতরা ফুল থেকে। 
- স্কোপোলামিন প্রথম দিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় গোয়েন্দা জ্ঞিাসাবাদের ক্ষেত্রে ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তখন এর ব্যবহার হতো লিকুইড হিসেবে, ইনজেকশনের মাধ্যমে। 
- আবার চিকিৎসা বিজ্ঞানেও ওষুধ তৈরিতে এর নানাবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- বমি বমি ভাব, মোশন সিকনেস এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন পরবর্তী রোগীর জন্য ওষুধে এর ব্যবহার আছে। 
- যখন এটি কথা বলানোর জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা 'ট্রুথ সেরাম'। আবার যখন এটি পাউডার ফর্মে নিঃশ্বাসের জন্য ব্যবহার করা হয় তখন এটা ‘ডেভিলস ব্রেথ’। আর যখন এটা বমি অথবা মোশন সিকনেসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় তখন এটা আসলে মেডিসিন হিসেবে ব্যবহার হয়। 
- বর্তমানে স্কোপোলামিন মূলত পাউডার হিসেবে প্রতারণার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। অপরাধের ক্ষেত্রে এই ড্রাগ কাগজ, কাপড়, হাত এমনকি মোবাইলের স্ক্রিনে লাগিয়েও এর ঘ্রাণ দিয়ে কিছু সময়ের জন্য কারো মানসিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়া সম্ভব। 
- এটা নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকলেই মাত্র ১০ মিনিট বা তারও আগে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। মেমোরি আর ব্রেন তখন সচেতনভাবে কাজ করতে পারে না। কারো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হতে এক ঘণ্টা লাগে। আবার কেউ তিন/চার ঘণ্টার মধ্যেও স্বাভাবিক হতে পারে না।

উৎস: thedailystar [লিংক]
১,১৬৬.
নিচের কোনটি জৈব যৌগের উদাহরণ? 
  1. চুন 
  2. খাবার লবণ 
  3. বেনজিন 
  4. কস্টিক সোডা 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন-
• মিথেন, 
• ইথেন, 
বেনজিন
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 
 
অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
• খাবার লবণ, 
• খাবার সোডা, 
• কাপড় কাচার সোডা, 
• কস্টিক সোডা, 
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 
 
উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৬৭.
দস্তার ইলেক্ট্রন সংখ্যা কত?
  1. ২৮
  2. ২৯
  3. ৩০
  4. ৩১
ব্যাখ্যা
• Zn (দস্তা):
- দস্তার এর রাসায়নিক প্রতীক  Zn.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৩০।
- এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা ৩০।
- এটি ৪র্থ পর্যায়ের গ্রুপ ১৪ তে অবস্থিত। 


figure: periodic table. (image source:ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- নিকেলের (Ni) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৮।
- নিকেলের (Ni) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৮।
- কপারের (Cu) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ২৯।
- গ্যালিয়ামের (Ga) ইলেক্ট্রন সংখ্যা ৩১।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১,১৬৮.
মৌলিক পদার্থসমূহ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত- উক্তিটি কার?
  1. ক) অ্যারিস্টটল
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) প্লেটো
  4. ঘ) ডাল্টন
ব্যাখ্যা
ডাল্টনের পারমাণবিক তত্ত্ব:

- মৌলিক পদার্থসমূহ পরমাণু নামক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত- স্বীকার্যটি জন ডাল্টনের (১৮০৩ সালে)।
- প্রত্যেক মৌলিক পদার্থ অসংখ্য অবিভাজ্য ও অতিক্ষুদ্র নিরেট কলা দিয়ে গঠিত। এই ক্ষুদ্রতম কণাকে পরমাণু বলে।
- পরমাণুগুলোকে রাসায়নিক প্রক্রিয়া দ্বারা ভাঙা যায় না, সৃষ্টি করা যায় না বা ধ্বংস করা যায় না। কোন প্রক্রিয়া দ্বারা পরমাণুগুলির আকার, ওজন বা ধর্মের পরিবর্তন করা যায় না। পরমাণু অবিভাজ্য এবং অবিনশ্বর।
- একই মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভর ও ধর্ম অভিন্ন হয়।
- বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরমাণুর ভর এবং ধর্ম আলাদা।
- বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের পরমাণু গুলি পূর্ণ সংখ্যার অনুপাতে পরস্পর যুক্ত হয়ে যৌগিক পদার্থ উৎপন্ন করে। পরমাণু অবিভাজ্য বলে কখনও ভগ্নাংশে যুক্ত হয় না।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,১৬৯.
প্রাচীনকালে কপার ও টিন মিশিয়ে যে সংকর ধাতু তৈরি করা হতো, তা কী নামে পরিচিত? 
  1. স্টিল 
  2. ব্রোঞ্জ 
  3. পিতল 
  4. ডুরালমিন 
ব্যাখ্যা

সংকর ধাতু: 
- কোনো গরম গলিত ধাতুর মধ্যে অন্য কোনো গরম গলিত ধাতু বা অধাতু মিশিয়ে সেই মিশ্রণকে ঠান্ডা করলে যে কঠিন পদার্থ পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সংকর ধাতু। 
যেমন- 
- প্রাচীনকালে মানুষ গলিত কপারের সাথে গলিত টিন মিশিয়ে মিশ্রণকে ঠান্ডা করে ব্রোঞ্জ তৈরি করেছিল, তাই ব্রোঞ্জ মূলত একটি সংকর ধাতু। 
- লোহা এবং কার্বন মিশিয়ে স্টিল নামক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। ছুরি, কাঁচি, রেলের চাকা, রেললাইন, জাহাজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি স্টিল দ্বারা তৈরি করা হয়। 
- গরম গলিত লোহার মধ্যে গলিত কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে যে সংকর ধাতু তৈরি হয় তাকে স্টেইনলেস স্টিল বলে। হাসপাতালে ডাক্তাররা যে ছুরি বা কাঁচি ব্যবহার করে তা স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি। 
- গলিত কপার এবং গলিত জিংক একত্রে মিশিয়ে পিতল নামক সংকর ধাতু তৈরি হয়। বৈদ্যুতিক সুইচ, পাতিল ইত্যাদি তৈরিতে পিতল ব্যবহৃত হয়। 
- কপার ও টিন মিশিয়ে সংকর কাঁসা বা ব্রোঞ্জ তৈরি হয়। থালাবাসন, গ্লাস ইত্যাদি তৈরিতে ব্রোঞ্জ ব্যবহৃত হয়। 
- অ্যালুমিনিয়াম, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ ও লোহার মিশ্রণে ডুরালমিন নামক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়। এটি উড়োজাহাজের বডি তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৭০.
নিম্নলিখিত কোন মৌলের যোজ্যতা শূন্য? 
  1. হিলিয়াম 
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

রাসায়নিক বন্ধন ও রাসায়নিক বন্ধন গঠনের কারণ: 
- কোনো একটি পরমাণুর বন্ধন গঠনের ক্ষমতাকে তার যোজ্যতা বলে। 
- নিষ্ক্রিয় মৌল হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar) এসব মৌলের বন্ধন গঠনের ক্ষমতা নেই, ফলে এদের যোজ্যতা শূন্য। 
- আবার H এর যোজ্যতা এক, O এর যোজ্যতা দুই, N এর যোজ্যতা তিন ও C এর যোজ্যতা সাধারণত চার হয়। 
- কোনো পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরে বর্তমান ইলেকট্রনগুলোকে যোজ্যতা ইলেকট্রন বলে, এই ইলেকট্রনগুলোই বিভিন্ন প্রকারের রাসায়নিক বন্ধনে অংশগ্রহণ করে। 
- পরমাণুর সর্ববহি:স্থ শক্তিস্তরকে যোজ্যতাস্তর বলে। 
- রাসায়নিক বন্ধনের আধুনিক মতবাদ অনুসারে রাসায়নিক বন্ধন গঠনকালে পরমাণুগুলো সর্বাধিক স্থায়ী ইলেকট্রন গঠন কাঠামো অর্জনের চেষ্টা করে। - নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলোর ইলেকট্রন গঠনের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় He ভিন্ন প্রত্যেকেরই যোজ্যতা স্তরে আটটি করে ইলেকট্রন বর্তমান। 
- He পরমাণুর যোজ্যতা স্তর প্রথম শক্তি স্তর, এখানে মাত্র দুটি ইলেকট্রন বর্তমান থেকেই যোজ্যতাস্তরকে ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ করে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭১.
একই গ্রুপের মৌলগুলোর কোনগুলো প্রায় একই রকম হয়?
  1. পরমাণু ভর ও অণুর ভর
  2. আকার ও ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা
  4. ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম
ব্যাখ্যা
পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য: 
- পর্যায় সারণি মৌল গুলোকে সাজানোর এমন একটি বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থা। 
- পর্যায় সারণির মাধ্যমে আবিষ্কৃত মৌলগুলোকে এমন সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে যাতে করে একজন নবীন বিজ্ঞানী বা শিক্ষানবিশ রসায়নবিদ আবিষ্কৃত মৌল সম্পর্কে সঠিক ও পরিপূর্ণ ধারণা লাভ করতে পারেন। 
- IUPAC (International Union of Pure and Applied Chemistry) কর্তৃক স্বীকৃত আধুনিক পর্যায় সারণির কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো- 
১. মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূলভিত্তি। 
২. সমগ্র পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে। 
৩. প্রতিটি পর্যায়ের বামদিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 
৪. পর্যায় সারণি প্রথম পর্যায়ে মাত্র দুটি মৌল থাকে। যেমন- একটি H অপরটি He । H-এর অবস্থান গ্রুপ-১ এ এবং He এর অবস্থান গ্রুপ-১৮ এ। 
৫. দ্বিতীয় পর্যায় ও তৃতীয় পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে আটটি করে মৌল বর্তমান। এ আটটি মৌল গ্রুপ-১ থেকে গ্রুপ-২ এবং গ্রুপ-১৩ থেকে গ্রুপ-১৮ এর মধ্যে অবস্থিত। 
৬. ৪র্থ পর্যায় ও ৫ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপের প্রত্যেকটিতে একটি করে ১৮টি মৌল অবস্থান করে থাকে। 
৭. ৬ষ্ঠ পর্যায়ে ও ৭ম পর্যায়ের ক্ষেত্রে একটু ব্যতিক্রম দেখা যায়। এক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ১৮টি গ্রুপে মৌলের সংখ্যা ৩২টি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পর্যায়ের প্রতিটি পর্যায়ে গ্রুপ-৩ এ ১৫টি করে মৌল অবস্থান করে। বাকী ১৭টি গ্রুপে ১৭টি মৌল অবস্থান করে পর্যায়ে মোট মৌলের সংখ্যা (১৫ + ১৭) = ৩২টি হয়। 
৮. মূল পর্যায় সারণির নিচে ২টি অনুভূমিক সারি এবং ১৪টি খাড়া স্তম্ভ বিশিষ্ট আরো একটি ছক উল্লেখ করা হয়েছে। এটিও মূল পর্যায় সারণির ৬ষ্ঠ পর্যায় ও ৭ম পর্যায়ের অংশবিশেষ মাত্র। 
৯. সাধারণভাবে মৌলের ধর্ম তার গ্রুপের উপর নির্ভরশীল। একই গ্রুপের সকল মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। 
১০. পর্যায় তালিকায় কোনো মৌলের পর্যায় নির্ধারণ করা হয় ঐ মৌলের পরমাণু তার ইলেকট্রন বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সর্বমোট কতটি কক্ষপথ ব্যবহার করেছে তার সংখ্যার ওপর। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭২.
এসিডের কার্যকরী ধর্ম প্রদর্শনের জন্য কোনটির উপস্থিতি আবশ্যক? 
  1. পানি
  2. তাপ
  3. আলো
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা
এসিডের রাসায়নিক ধর্মে পানির ভূমিকা: 
- এসিডের ধর্ম কার্যকর হয় পানির উপস্থিতিতে, পানির অনুপস্থিতিতে এসিড তার এসিডিয় ধর্ম প্রদর্শন করতে পারে না। 
- হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস ভর্তি গ্যাসজারের মধ্যে শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ ধরলে দেখা যাবে লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত আছে। 
- এ গ্যাসজারের মধ্যে কঠিন ক্যালসিয়াম কার্বনেটের টুকরা ফেললে দেখা যায় কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
- আবার গ্যাসজারের মধ্যে আয়রন ধাতুর টুকরা বা জিংক ধাতুর টুকরা রাখলেও কোনো রূপ বিক্রিয়া সংগঠিত হয় না। 
• HCl(g) + শুষ্ক নীল লিটমাস কাগজ → নীল লিটমাস কাগজের বর্ণ অপরিবর্তিত থাকে। 
• HCl(g) + CaCO3(s) → কোনো বিক্রিয়া ঘটে না এবং CO2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 
• HCl(g) + Fe → কোন বিক্রিয়া ঘটে না এবং H2 গ্যাস উৎপন্ন হয় না। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৩.
তরল পদার্থের ক্ষেত্রে সঠিক বৈশিষ্ট্য কোনটি? 
  1. পারস্পরিক আকর্ষণ বল নেই 
  2. নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন আছে 
  3. নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে 
  4. নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন কিছুই নেই 
ব্যাখ্যা

কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৪.
Bauxite কিসের আকরিক?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. অ্যালুমিনিয়াম
  4. লেড
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক:
- Bauxite হলো অ্যালুমিনিয়ামের প্রধান আকরিক।
- এটি অ্যালুমিনিয়ামের একটি মূলে পরিণত হওয়ার জন্য প্রাথমিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- বক্সাইটে সাধারণত অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড (Al₂O₃) থাকে, যা পরে ইলেকট্রোলাইসিস প্রক্রিয়ায় বিশুদ্ধ অ্যালুমিনিয়ামে রূপান্তরিত করা হয়।

অন্যদিকে,
- লোহার প্রধান আকরিক হেমাটাইট (Hematite) এবং ম্যাগনেটাইট (Magnetite)।
- তামার প্রধান আকরিক কুপ্রাইট (Cuprite) এবং চালকোজাইট (Chalcocite)।
- লেডের প্রধান আকরিক গ্যালেনা (Galena), যা PbS (লেড সালফাইড) আকারে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,১৭৫.
পদার্থের চতুর্থ অবস্থার নাম কী?
  1. গ্যাস
  2. কঠিন
  3. তরল
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা
পদার্থের চতুর্থ অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং গ্যাস এই তিনটি ভিন্ন অবস্থার বাইরেও পদার্থের চতুর্থ আরেকটি অবস্থা হচ্ছে প্লাজমা। 
- অণু কিংবা পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যে কয়টি পজিটিভ চার্জের প্রোটন থাকে তার বাইরের ঠিক সেই কয়টি নেগেটিভ চার্জের ইলেকট্রন থাকে, সে কারণে একটা অণু কিংবা পরমাণুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য। 
- বিশেষ অবস্থায় অণু কিংবা পরমাণুকে আয়নিত করে ফেলা যায়, কিছু পরমাণুর এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে মুক্ত করে ফেলা যায়, তখন আলাদা আলাদাভাবে পরমাণুগুলো আর চার্জ নিরপেক্ষ থাকে না। ইলেকট্রন এবং আয়নের এক ধরনের মিশ্রণ তৈরি হয়। এটি যদিও গ্যাসের মতো থাকে কিন্তু গ্যাসের সব ধর্ম এর জন্য সত্যি নয়। 
যেমন- গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু চৌম্বক ক্ষেত্র দিয়ে প্লাজমার নির্দিষ্ট আকার তৈরি করে ফেলা যায়। 

- প্রচণ্ড তাপ দিয়ে গ্যাসকে প্লাজমা করা যায়, শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র প্রয়োগ করেও প্লাজমা করা যায়।
- ঘরে টিউবলাইটের ভেতর প্লাজমা তৈরি হয়, নিওন লাইটের যে উজ্জ্বল বিজ্ঞাপন দেখা যায়, সেগুলোর ভেতরেও প্লাজমা থাকে।
- বজ্রপাত হলে যে বিজলির আলো দেখা যায়, সেটিও প্লাজমা আবার দূর নক্ষত্রের মাঝে যে পদার্থ সেটিও প্লাজমা অবস্থায় আছে।
- বর্তমানে ফিশান পদ্ধতিতে ভারী নিউক্লিয়াসকে ভেঙে নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যবহার করা হয়। হালকা নিউক্লিয়াসকে একত্র করে ফিউশন পদ্ধতিতে শক্তি তৈরি করার জন্য প্লাজমা ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয় এবং এটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র! 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৬.
Na মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 10
  2. 11
  3. 12
  4. 23
ব্যাখ্যা
23
    Na মৌলের নিউট্রন সংখ্যা = 23 - 11 = 12
11
১,১৭৭.
যে পদার্থগুলো রাসায়নিক বিক্রিয়া শেষে তৈরি হয়, সেগুলোকে কী বলা হয়? 
  1. বিক্রিয়ক
  2. উৎপাদ
  3. প্রতিক্রিয়া
  4. সমীকরণ
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক বিক্রিয়া: 
- যদি কোনো পরিবর্তনের ফলে কোনো পদার্থ তার নিজের ধর্ম ও বৈশিষ্ট্য হারিয়ে নতুন ধর্ম লাভ করে সেই পরিবর্তনকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
- যে প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে সেই প্রক্রিয়াকে রাসায়নিক বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য যে সমীকরণ ব্যবহার করা হয় সেই সমীকরণকে রাসায়নিক সমীকরণ বলা হয়। 
- রাসায়নিক সমীকরণকে প্রকাশ করার জন্য প্রতীক, সংকেত এবং নানা রকম চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। 
- যে সকল পদার্থ নিয়ে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু করা হয় সেই সকল পদার্থকে বলা হয় বিক্রিয়ক। 
- বিক্রিয়ার ফলে নতুন ধর্মবিশিষ্ট যে সকল পদার্থ উৎপন্ন হয় সেই সকল পদার্থকে উৎপাদ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৮.
কোন গ্যাসের অণুতে দুটি পরমাণু বিদ্যমান নেই?
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) নাইট্রোজেন
  3. গ) ক্রিপ্টন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা।
আমাদের চারপাশের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু।
যেমনঃ N2 , O2 , H2 , F2 , Clইত্যাদি।
তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে।
নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলি হচ্ছে হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন(Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn)
সূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,১৭৯.
নিচের কোনটি উদ্বায়ী পদার্থ?
  1. ক) মোম
  2. খ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  3. গ) বরফ
  4. ঘ) মার্কারি
ব্যাখ্যা

উর্ধ্বপাতন (Sublimation):
কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে উর্ধ্বপাতন বলা হয়।
- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন, কার্বন, কার্বন ডাই অক্সাইড প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,১৮০.
নিচের কোনটি মৌলিক অণু?
  1. ক) NH3
  2. খ) HCl
  3. গ) S8
  4. ঘ) CH4
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস যেমন হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr) প্রভৃতি এক পরমাণুক অণু হিসেবে প্রকৃতিতে স্থায়ীভাবে অবস্থান করে। নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যাতীত অন্যান্য মৌলের পরমাণুগুলো প্রকৃতিতে স্বাধীনভাবে অবস্থান করতে পারে না। অন্যান্য মৌলের পরমাণুগুলো অণু হিসেবে অবস্থান করে ।
• একই মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে মৌলের অণু গঠন করে। যেমন H2, O2, N2, Cl2, O2, P4, S8 ইত্যাদি।
• আবার ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু সংযুক্ত হয়ে যৌগের অণু গঠন করে। যেমন, H2O, NH3, CH4, NaCl, HCl, CO, প্রভৃতি যৌগের অণু। অণুর মধ্যে পরমাণুসমূহ এক বিশেষ আকর্ষন শক্তি দ্বারা যুক্ত থাকে। এ শক্তিই বন্ধন শক্তি।


উৎস: বিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৮১.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর কোন ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়?
  1. দস্তা
  2. তামা
  3. ক্রোমিয়াম
  4. নিকেল
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় সাধারণত লোহার উপর দস্তার  প্রলেপ দেয়া হয়

• গ্যালভানাইজিং:

- যে কোন ধাতুর উপর জিংকের (দস্তা) প্রলেপ দেয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে।
- এ ক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই।
- গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- লোহাকে গলিত দস্তায় ডুবিয়ে লোহার উপর দস্তার পাতলা প্রলেপ দেয়া হয়।

উৎস: রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,১৮২.
রোডিয়ামের রাসায়নিক প্রতীক কোনটি?
  1. Ra
  2. Rn
  3. Re
  4. Rh
ব্যাখ্যা
রোডিয়াম:
- রোডিয়াম (Rhodium) পর্যায় সারণীর ৪৫তম মৌলিক পদার্থ।
- রোডিয়াম এর  রাসায়নিক প্রতীক Rh.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৪৫।
- রোডিয়াম পর্যায় সারণির ৫ম পর্যায়ের গ্রুপ ৯ - এ অবস্থিত।


figure: periodic table (image source: ptable.com)

অপশন আলোচনা:
- রেডিয়ামের (Radium) প্রতীক Ra.
- রেডনের (Radon) প্রতীক হচ্ছে Rn.
- রেনিয়ামের (Rhenium) প্রতীক হচ্ছে Re.

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
১,১৮৩.
পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৮৪.
নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি হিসেবে গণ্য নয়?
  1. বিটুমিনাস কয়লা
  2. শেল গ্যাস
  3. এনথ্রাসাইট
  4. বায়োগ্যাস
ব্যাখ্যা

বায়োগ্যাস হলো জৈব পদার্থের পচনের মাধ্যমে উৎপন্ন একটি নবায়নযোগ্য শক্তি, যা জীবাশ্ম থেকে আসে না।

জীবাশ্ম জ্বালানি:
- মৃত গাছপালা, মৃত প্রাণীদেহ ইত্যাদি জীবনের উপাদান হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে যে জ্বালানি তৈরি হয় তাকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
- এগুলো অ-নবায়নযোগ্য এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করে।

জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
- কয়লা,
- প্রাকৃতিক গ্যাস,
- পেট্রোলিয়াম।

• বায়োগ্যাস জীবাশ্ম জ্বালানি নয়। কারণ এটি জৈব বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হয়।

বায়োগ্যাসের বৈশিষ্ট্য:
- বায়োগ্যাস হলো একটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
- এটি এটি জৈব বর্জ্য (গোবর, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ইত্যাদি) থেকে ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়।
- এতে প্রধানত মিথেন গ্যাস (CH4) থাকে।
- এটি জীবাশ্ম জ্বালানি নয়, কারণ এটি দীর্ঘকাল ধরে গঠিত নয় এবং পুনরায় উৎপাদনযোগ্য।

উল্লেখ্য-
- শেল গ্যাস: এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক গ্যাস যা শিলা বা Shale-এর মধ্যে আটকা থাকে। এটি জীবাশ্ম জ্বালানির একটি রূপ।
- বিটুমিনাস কয়লা: এটি এক ধরনের কয়লা, যা জীবাশ্ম জ্বালানির অন্যতম প্রধান উৎস।
- এনথ্রাসাইট: এটি কয়লার একটি বিশেষ প্রকার, যা সর্বোচ্চ কার্বন সমৃদ্ধ এবং উচ্চ তাপশক্তি সম্পন্ন। এটিও জীবাশ্ম জ্বালানি।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১,১৮৫.
নিউক্লিয়ন সংখ্যা A, প্রোটন সংখ্যা P, নিউট্রন সংখ্যা N হলে, পারমাণবিক ভর সংখ্যা-
  1. ক) A = P + N
  2. খ) Z = A + P
  3. গ) M = P + N
  4. ঘ) N = A + P
ব্যাখ্যা
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলা হয়। প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যাকে z দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
কোনো মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের মধ্যে অবস্থিত প্রোটন এবং নিউট্রনের মোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের বা পরমাণুর ভরসংখ্যা বলে।

অর্থাৎ, ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।
ভর সংখ্যাকে 'A' অক্ষর দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
১,১৮৬.
একটি মৌল যত বেশি ইলেকট্রন গ্রহণ করে, তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অপরিবর্তিত
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয়। বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৭.
সুষম খাদ্যের মুখ্য উপাদান কোনটি?
  1. ক) ভিটামিন
  2. খ) স্নেহ
  3. গ) খনিজ লবণ
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

সুষম খাদ্যের উপাদান ছয়টি। যেমন ০- শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি।
- এদের মধ্যে শর্করা, আমিষ ও স্নেহ হলো খাদ্যের মুখ্য উপাদান।
- আর ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি হলো সহায়ক উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,১৮৮.
কোনটি মৌলের স্থায়ী কণিকা নয়?
  1. ক) নিউট্রিনো
  2. খ) অ্যান্টিনিউট্রিনাে
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
স্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কণিকা আছে যা সব মৌলের পরমাণুতেই থাকে, তাদের কে স্থায়ী মূল কণিকা বলে।
স্থায়ী মূল কণিকা ৩ টি যথা- ১) প্রােটন, ২) নিউট্রন ৩) ইলেকট্রন।

• অস্থায়ী মূল কণিকা:
কত গুলাে মূল কনিকা আছে যা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে। এদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। এ ধরনের কণিকার সংখ্যা প্রায় একশ, এদের মধ্যে কিছু হলাে-
১) নিউট্রিনাে, ২) অ্যান্টিনিউট্রিনাে, ৩) পজিট্রন, ৪) মেসন ইত্যাদি।
১,১৮৯.
জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য কোন সার ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) টিএসপি
  2. খ) পটাশ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) সুপার ফসফেট
ব্যাখ্যা
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে রসায়ন:

- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া ব্যবহার করা হয়।
• চুনাপাথর,
- এর রাসায়নিক নাম হচ্ছে ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3)।
- এটি মৃদু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে এসিডকে প্রশমিত করে। এজন্য মাটিতে চুনাপাথর মিশিয়ে মাটির pH মান বৃদ্ধি করা যায়।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট মাটির pH মান বৃদ্ধির সাথে সাথে মাটিতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণও বৃদ্ধি করে।
• কলি চুন বা কুইক লাইম,
- মাটিতে কলিচুন বা কুইক লাইম মিশিয়ে মাটির pH বৃদ্ধি করা যায়।
- চুনাপাথরকে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে কুইক লাইম বা ক্যালসিয়াম অক্সাইড (CaO) উৎপন্ন হয়।
• ইউরিয়া,
- উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- মাটিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
-  ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে। উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
• অ্যামোনিয়াম সালফেট,
- মাটির ক্ষারকত্ব যদি বেশি হয় তবে অ্যামোনিয়াম সালফেট প্রয়োগ করে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
- অ্যামোনিয়াম সালফেটের জলীয় দ্রবণ এসিড ধর্মী। ফলে জমিতে এই সার প্রয়োগ করলে জমির অম্লত্ব বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন ১ম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯০.
Normal Saline এ কী আছে?
  1. ক) 0.9% NaCl
  2. খ) 0.5% NaCl
  3. গ) 0.75% NaCl
  4. ঘ) 0.3% NaCl
ব্যাখ্যা
• Normal Saline এ 0.9% NaCl আছে। 

খাওয়ার স্যালাইন:
- খাওয়ার স্যালাইন (Oral Rehydration Saline/Orsaline)  শরীরের পানি ও লবণের (Electrolytes) ঘাটতিপূরণ করার জন্য মুখে গ্রহনযোগ্য লবণ ও গ্লুকোজ মিশ্রিত পানি।
- ডায়রিয়া/কলেরায় ঘন ঘন পাতলা পায়খানার কারণে অতি অল্প সময়ে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে যায়। বিশেষ করে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের ঘাটতি জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়। তখন খাওয়ার স্যালাইন ব্যবহার করা হয়। 
- নরমাল স্যালাইনে পানি, সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও গ্লুকোজ বা শর্করা থাকে।
- প্রতি লিটার নরমাল স্যালাইনে ০.৯% সোডিয়াম ক্লোরাইড, গ্লুকোজের পরিমাণ ২০ গ্রামের বেশি নয় এবং এর প্রায় পুরোটাই অন্ত্রে লবণ শোষণে ব্যবহৃত হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,১৯১.
কোনো দ্রবণের pH মান 7-এর বেশি হলে দ্রবণটি কী ধরনের হবে? 
  1. ক্ষারীয়
  2. এসিডীয় 
  3. নিরপেক্ষ
  4. অম্লীয়
ব্যাখ্যা

pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর নির্ভর করে। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্মক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+

- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়, pH মিটারে pH স্কেল থাকে। 
- pH স্কেলে দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- কোনো দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশি হলে দ্রবণটি ক্ষারীয় এবং 7 এর সমান হলে দ্রবণটি হবে প্রশমন বা নিরপেক্ষ। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯২.
পরমাণুর আধান -
  1. ক) ধনাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) নিরপেক্ষ
  4. ঘ) ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর একটি কেন্দ্র আছে যার নাম নিউক্লিয়াস।
- এই নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে।
- সুতরাং পরমাণুর সকল ধনাত্মক আধান এবং প্রায় সম্পূর্ণ ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ভ্রমণ করে।‌
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি ধনাত্মক আধান বিশিষ্ট প্রোটন আছে ততটি ঋণাত্মক আধান বিশিষ্ট ইলেকট্রনও আছে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৩.
নিচের কোনটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন?
  1. ইথিন
  2. বিউটিন
  3. ইথাইন
  4. ইথেন
ব্যাখ্যা
• ইথেন হলো একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৪.
লেবুর রসে লালবর্ণের লিটমাস কাগজ ডুবালে, লিটমাস কাগজের রঙ পরিবর্তিত হবে-
  1. ক) নীল রঙে
  2. খ) গোলাপি রঙে
  3. গ) হলুদ রঙে
  4. ঘ) রঙের পরিবর্তন হবে না
ব্যাখ্যা
লিটমাস কাগজ তৈরি করা হয় সাধারণ কাগজে লাইকেন (Lichens) নামক এক ধরনের গাছ থেকে প্রাপ্ত রঙের সাহায্যে। এভাবে প্রাপ্ত লিটমাস কাগজ দেখতে লালবর্ণের হয়। লেবুর রসে থাকে সাইট্রিক এসিড। এতে যখন লাল লিটমাস ডুবানো হয়, তখন কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না, ফলে লিটমাস কাগজের রঙের কোনোই পরিবর্তন হয় না। পক্ষান্তরে নীল লিটমাস কাগজ ডুবালে, রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, ফলে লিটমাস কাগজের রং পরিবর্তিত হয়ে যায়। লালবর্ণের লিটমাস কাগজকে ক্ষারীয় দ্রবণে ডুবালে তা নীলবর্ণ ধারণ করে। অন্যদিকে নীলবর্ণের লিটমাস কাগজে কোনো এসিড যোগ করলে তা লাল বর্ণের লিটমাস কাগজে পরিণত হয়। এসিডের একটি ধর্ম হলো এরা নীল লিটমাসকে লাল করে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি]
১,১৯৫.
যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে কী বলে?
  1. তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ
  2. গ্যালভানিক কোষ
  3. ইলেক্ট্রোলাইটিক কোষ
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা
• গ্যালভানিক কোষ:
- যে কোষে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন করা হয় তাকে গ্যালভানিক কোষ বলে।

অন্যদিকে,
- যে কোষে তড়িৎ শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয় তাকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বা ইলেক্ট্রোলাইটিক কোষ  বলে।



উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৯৬.
পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত -
  1. ক) ২ঃ১
  2. খ) ১ঃ২
  3. গ) ১ঃ১৬
  4. ঘ) ১ঃ৮
ব্যাখ্যা

পানির আনবিক সংকেত H2O.
পানির একটি অণুতে রয়েছে ২টি হাইড্রোজেন ও ১টি অক্সিজেন পরমানু।
সুতরাং পানিতে হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনের ভরের অনুপাত
= (হাইড্রোজেনের পারমাণবিক ভর × 2) : (অক্সিজেনের পারমাণবিক ভর × 1)
= (1 × 2) : (16 × 1)
= 2 : 16
= 1 : 8

১,১৯৭.
যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলে পরস্পরের-
  1. আইসোটোন
  2. আইসোটোপ
  3. আইসোমার
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

আইসোবার: 
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোবার বলা হয়। 

আইসোটোন: 
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 

আইসোটোপ: 
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়। 

আইসোমার: 
- যে সব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোমার বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১৯৮.
কাঁচ কাটা এবং পাথর ছিদ্র ও পালিশের কাজে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
  1. গ্রাফাইট
  2. হীরক
  3. লেড
  4. কয়লা
ব্যাখ্যা
কার্বন: 
- কার্বনের দানাদার রূপভেদ হল গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড বা হীরক। 
- কার্বনের অদানাদার রূপভেদ হল কোক কার্বন, চারকোল, কয়লা ও কার্বন ব্ল্যাক। 
- কার্বনের ক্যাটেনেশন বা পরমাণু যুক্ত হয়ে চেইন, বলয় গঠনের ক্ষমতা সর্বাধিক। 

হীরকের ব্যবহার: 
- উজ্জ্বলতার জন্য হীরক মূল্যবান রত্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- বস্তুত এটি সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন। 
- এ কারণে বিভিন্ন হীরক খণ্ডের বিশেষ বিশেষ নাম আছে। 
যেমন কোহিনুর, দি হোবা, কুলিনান প্রভৃতি হীরক খণ্ড পৃথিবী বিখ্যাত। 
- অত্যন্ত কঠিন পদার্থ বলে হীরক কাঁচ কাটা, পাথর ছিদ্র ও খোদাইয়ের কাজে ও পালিশের কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- অতি সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি তৈরি করতে হীরক ব্যবহৃত হয়। 

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- কাঠ পেন্সিলের শীষ হিসেবে গ্রাফাইট প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। 
- বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে গ্রাফাইটের বিভিন্ন ধরনের ব্যবহার বিদ্যমান। 
- তন্মধ্যে শুষ্ক ব্যাটারির পজিটিভ দণ্ড হিসেবে এবং গ্রাফাইটের গুঁড়া ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইডের সাথে মিশ্রণ হিসেবে ব্যবহার উল্লেখযোগ্য। 
- এছাড়া বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ইলেকট্রোডরূপে ও ইলেকট্রোটাইপ তৈরিতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 
- গ্রাফাইট অতি উচ্চ তাপমাত্রায় জ্বলে ও গলে বলে ধাতু ক্রুসিবল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 
- পারমাণবিক চুল্লিতে নিউটনের গতি হ্রাসের জন্য মন্থরক হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
১,১৯৯.
নিচের কোনটি তীব্র ক্ষারধর্মী যৌগ নয়?
  1. Ca(OH)2
  2. NH4OH
  3. NaOH
  4. KOH
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সকল হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকেই ক্ষার বলা হয়। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড প্রত্যেকেই জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 


ক্ষারক: 
- ক্ষারক হলো ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলকের অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে। 
যেমন- কপার অক্সাইড, আয়রন (II) অক্সাইড, আয়রন (III) অক্সাইড এর প্রত্যেকেই ক্ষারক। 
- পানিতে দ্রবীভূত হয় না বলে এরা ক্ষার নয়, ক্ষারক। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
-  যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয় তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন- অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (II) অক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (III) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (III) হাইড্রোক্সাইড Al(OH)3 ইত্যাদি। 

উল্লেখ্য যে, 
- অ্যামোনিয়া (NH3) ক্ষার বা ক্ষারক নয় বরং এটি একটি ক্ষার ধর্মী যৌগ। 
- অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামেনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH) উৎপন্ন করে। 
- অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ক্ষার। 
   NH3 (g) + H2O (l) → NH4OH (aq) । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০০.
রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে-
  1. প্রচুর পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে
  2. অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে
  3. নাইট্রোজেন সরবরাহ করে
  4. হাইড্রোজেন সরবরাহ করে
ব্যাখ্যা
- একটি নিরাপদ অগ্নিনির্বাপণ উপাদান হচ্ছে ড্রাই কার্বন- ডাই-অক্সাইড। 
- যখন নির্বাপণ যন্ত্রের ভালব খোলা হয় তখন কার্বন-ডাই- অক্সাইড সম্প্রসারিত হয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসে পরিণত হয়। 
- যেহেতু কার্বন-ডাই-অক্সাইড অক্সিজেনের চেয়ে ভারী তাই এটি জ্বালানীর চারপাশ থেকে অক্সিজেনকে সরিয়ে দেয়। 
- অক্সিজেনের অভাবে আগুন আর জ্বলতে পারে না। 
- রাসায়নিক অগ্নিনির্বাপক কাজ করে অগ্নিতে অক্সিজেন সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। 

উৎস: National Emergency Service, 999.gov.bd