বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

মোট প্রশ্ন২,৬৯২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রসায়ন বিজ্ঞান সম্পর্কিত

PrepBank · পাতা ১০ / ২৭ · ৯০১১,০০০ / ২,৬৯২

৯০১.
জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান কোনটি? 
  1. প্যালিয়েন্টোলজি
  2. ফসিওলজি
  3. ফাইটোজেনি
  4. মরফোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম (Fossil): 
✔ জীবাশ্ম বা ফসিল শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "Fossilis" থেকে, যার অর্থ "খুঁড়ে তোলা" (dug out)। 
✔ প্রাচীনকালে মাটি খুঁড়ে পাওয়া যেকোনো কিছুই জীবাশ্ম হিসেবে গণ্য করা হতো। 
✔ তবে আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা তাদের চিহ্নকে জীবাশ্ম বলে। 

বিভিন্ন ধরনের জীবাশ্ম: 
- ট্রেস ফসিল (Trace Fossil): জীবের চলাচলের চিহ্ন, যেমন—গমন পথ, ট্রেইল, জীবজনিত গর্ত। 
- ইকনোফসিল (Ichnofossil): ট্রেস ফসিলের আরেকটি নাম। 
- জার্মান ভাষায় "Lebenspuren" নামেও পরিচিত। 

জীবাশ্মবিদ্যা (Palaeontology): 
- জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞান "প্যালিয়েন্টোলজি" নামে পরিচিত। 
- এই শাস্ত্র প্রাগৈতিহাসিক জীব ও তাদের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০২.
Which one is a saturated hydrocarbon?
  1. Ethene
  2. Propene
  3. Ethane
  4. Butene
  5. Ethyne
ব্যাখ্যা
• ইথেন হলো সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৩.
লা-শাতেলিয়ার নীতির সাথে সম্পৃক্ত নয় কোনটি?
  1. তাপ
  2. চাপ
  3. ঘনমাত্রা
  4. ভর
ব্যাখ্যা

লা-শাতেলিয়ার নীতি:
কোনো রসায়নিক সমীকরণ সমান্তরাল অবস্থায় থাকলে, যদি বাহ্যিক প্রভাব (যেমন তাপ, চাপ, বা ঘনত্ব) প্রয়োগ করা হয়, প্রতিক্রিয়া সেই প্রভাবকে কমাতে সচেষ্ট হবে।

সম্পৃক্ত বাহ্যিক প্রভাব:
তাপ: তাপ বৃদ্ধি বা হ্রাস প্রতিক্রিয়ার সমীকরণকে সামঞ্জস্য করে।
চাপ: গ্যাসীয় প্রতিক্রিয়ায় চাপ পরিবর্তন সমীকরণের দিকে প্রভাব ফেলে।
ঘনমাত্রা : পদার্থের ঘনত্ব পরিবর্তন প্রতিক্রিয়ার দিক পরিবর্তন করে।

অসম্পৃক্ত:
ভর (Mass): রসায়নে স্থির থাকে, লা-শাতেলিয়ার প্রভাবের অংশ নয়।


তথ্যসূত্র: NCTB রসায়ন বই, Britannica: [লিংক]

৯০৪.
নিচের কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. প্রোপিন 
  2. পেন্টাইন 
  3. মরিচা 
  4. ইথেন 
ব্যাখ্যা

জৈব যৌগ:  
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ।  
যেমন- মিথেন, ইথেন, বেনজিন, ইউরিয়া, প্রোপিন, পেন্টাইন ইত্যাদি জৈব যৌগ।  
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে।  
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়।  
- জৈব যৌগের জনক ফ্রেডরিখ ভোলার।  

অজৈব যৌগ:  
- দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়।
- সাধারণত অজৈব যৌগে কার্বন অনুপস্থিত থাকে।  
যেমন- পানি, খাবার লবণ, খাবার সোডা, কাপড় কাচার সোডা, কস্টিক সোডা, চুন, মরিচা ইত্যাদি অজৈব যৌগ। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং লাইভ লেকচার।

৯০৫.
হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়-
  1. ক) ফসফরাস-32
  2. খ) প্লুটোনিয়াম -২৩৮
  3. গ) আয়োডিন-131
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য Co - 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।

২. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

৩. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।

৪. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

৫. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৬.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মোট কতটি গ্রুপ আছে? 
  1. ১৭ 
  2. ১৬ 
  3. ১৯ 
  4. ১৮
ব্যাখ্যা

আধুনিক পর্যায় সারণি: 
- ১৯১৪ সালে বিজ্ঞানী বোর মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসের ভিত্তিতে বিস্তৃত আকারে একটি পর্যায় সারণি তৈরি করেন। এটি দীর্ঘ পর্যায় সারণি বা বোরের সারণি নামেও পরিচিত।
- বোরের পর্যায় সারণিকে আধুনিক পর্যায় সারণি বলা হয়। 
- মৌলের পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাসই পর্যায় সারণির মূল ভিত্তি। 
- আধুনিক পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে পর্যায় ও গ্রুপ বরাবর ভাগ করা হয়েছে। 
- সমগ্র আধুনিক পর্যায় সারণিকে ৭টি পর্যায় ও ১৮টি গ্রুপ হিসেবে ভাগ করা রয়েছে। 
- প্রতিটি পর্যায়ের বাম দিক থেকে গ্রুপ-১ এর মৌল দিয়ে শুরু করে গ্রুপ-১৮ তে গিয়ে শেষ হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৭.
২০°-২৭°C তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ পানির pH কত?
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 

গলনাংক: 
- আমরা জানি শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে।  
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

তড়িৎ পরিবাহিতা: 
- বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ অপরিবাহী। 
- তবে পানিতে আয়নিক লবণ দ্রবীভূত থাকলে তা তড়িৎ পরিবহন করে। 
- তাই নদী পুকুর, ডোবা ইত্যাদির পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।  

দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
-  এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

পানির রাসায়নিক গঠন: 
- পানি দুই পরমাণু হাইড্রোজেন ও এক পরমাণু অক্সিজেন দিয়ে গঠিত। 
- পানির আনবিক সংকেত H2O এবং আণবিক ভর ১৮। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
কোন রংয়ের কাপে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়?
  1. ক) সাদা
  2. খ) কাল
  3. গ) লাল
  4. ঘ) ধূসর
ব্যাখ্যা
কালো রঙ্গের তাপ শোষণ ক্ষমতা বেশি চায়ের কাপ কালো রঙের হলে তা থেকে অধিক পরিমান তাপ শোষণ করবে এবং এতে চা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হবে।
৯০৯.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস- 
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস 
  3. পাহাড়ী নদী
  4. উপরের সব সঠিক
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তরটি হলো ঘ) উপরের সব সঠিক।
• বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য উল্লেখিত সবগুলো উৎসই ব্যবহার করা হয়। 
প্রাকৃতিক গ্যাস (Natural Gas):
- এটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস। মোট উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি বৃহৎ অংশ গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আসে (প্রায় ৪০% এর বেশি)।
খনিজ তেল (Oil/Liquid Fuel):
- তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিশেষ করে ফার্নেস তেল (HFO) এবং ডিজেল (HSD) ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এটিও বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস (প্রায় ২০% এর কাছাকাছি)।
পাহাড়ী নদী (Hydro/জলবিদ্যুৎ):
- বাংলাদেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলো কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র (কাপ্তাই বাঁধ) যা পাহাড়ী নদী কর্ণফুলী থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। যদিও মোট উৎপাদনে এর ভাগ খুব কম, কিন্তু এটি একটি ব্যবহৃত উৎস।

-  উপরিউক্ত তিনটি প্রধান উৎস ছাড়াও, বাংলাদেশে বর্তমানে কয়লা (Coal), আমদানিকৃত বিদ্যুৎ (Imported Electricity) এবং নবায়নযোগ্য শক্তি (Renewable Energy - সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি) ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- যদিও সবগুলোই উৎস, তবে বর্তমানে প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের বিদ্যুৎ শক্তির প্রধান উৎস।

উৎস: বিজ্ঞান , সপ্তম শ্রেণি।

৯১০.
নিউট্রন কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯৩২ সালে
  2. খ) ১৯৩৬ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
নিউট্রন:

- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা।
- ১৯৩২ সালে চ্যাডউইক (James Chadwick) নিউট্রন আবিষ্কার করেন।
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান।
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান।
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675 × 10-24 গ্রাম।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসএসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১১.
কাচ তৈরির কাচামাল কোনটি?
  1. ক) সিলিকোন
  2. খ) সিলিকন
  3. গ) সিলোক্সেন
  4. ঘ) সিলিকন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
• কাচ তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে বালু এবং বালুর প্রধান উপাদান হলো সিলিকা অর্থাৎ সিলিকন-ডাই-অক্সাইড

- কাচ স্বচ্ছ পদার্থ এবং এটি স্বচ্ছ বলেই এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি ভেদ করে চলে যেতে পারে।
- কাচ হচ্ছে মূলত সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণ। 
- রাসয়নিকভাবে কাচ একটি ক্ষারীয় দ্বি-লবণ।  
- সোডিয়াম সিলিকেট এবং ক্যালসিয়াম সিলিকেট এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে সম্পূর্ণরূপে গলিয়ে শীতল করলে যে শক্ত, অনিয়তাকার স্বচ্ছ ও ভঙ্গুর কঠিন পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কাচ বলে। 

• সিলিকন (Silicon) হচ্ছে অর্ধপরিবাহী, যা ট্রানজিস্টারে সেমি-কন্ডাক্টর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• সিলিকোন (silicone) হল পলিসিলোক্সেন যা সিলোক্সেন এর পলিমার।

সূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১২.
পাউরুটি ফোলানোর জন্য কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. টি-২ ফাজ
  2. ঈস্ট
  3. অ্যামিবা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ইস্ট:
- পাউরুটি তৈরীতে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহার করা হয়।
- ইস্ট এক প্রকার ছত্রাক যা কার্বহাইড্রেড ও অক্সিজেনের উপর ক্রিয়া করে CO₂ গ্যাস উৎপন্ন করে।
- উৎপন্ন CO₂ বা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস পাউরুটি ফোলাতে সাহায্য করে।
- পাউরুটি প্রয়োজনীয় পরিমাণ ফোলার পর ওভেনে বেকিং করা হয়।
- উত্তাপে ইস্ট মরে যায় এবং CO₂ উৎপন্ন হওয়াও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রুটি ফোলাও বন্ধ হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. হাইড্রোজেন গ্যাস
  2. অক্সিজেন গ্যাস
  3. নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড গ্যাস
  4. নাইট্রোজেন গ্যাস
ব্যাখ্যা
পরিবেশের উপর জৈব যৌগের প্রভাব: 
• বিভিন্ন জৈব যৌগ যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ ও রসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করার পর তা আশেপাশের পরিবেশে ফেলা হয়। 
- সে সব পদার্থ পচনশীল হলে তা ছত্রাক ও ব্যকটেরিয়া দ্বারা বিযোজিত হয়ে মাটির 'হিউমাস' বৃদ্ধি করে। 
- হিউমাস মাটির পানি, বাতাস ও পুষ্টি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে মাটির গঠন সংযুক্তিতে পরিবর্তন আনে। 
- এসব পদার্থ হলো আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহৃত শাকসবজি জাতীয় প্রাকৃতিক পলিমারের অংশ বিশেষ। 
- এসব প্রাকৃতিক জৈব বর্জকে নির্দিষ্ট স্থানে গর্ত করে মাটি চাপা দিতে হয়, না হলে পরিবেশ দুষণ ঘটায়। 

• পরিবহনের ইঞ্জিন হতে পেট্রোল ও প্রাকৃতিক গ্যাস দহনের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ও পানি বের হয়ে আসে যেগুলো গ্রীন হাউজ গ্যাস হিসাবে পরিচিত। 
- এই গ্রীন হাউজ গ্যাস (কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি) -এর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। 

• বিভিন্ন সাংশ্লেষিক পলিমার যেমন- পলিথিন ব্যাগ, বিভিন্ন প্যাকেজিং সামগ্রী ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক দ্বারা বিযোজিত হয় না অর্থাৎ অবিকৃত অবস্থায় মাটিতে ও পানির তলদেশে থেকে যায়।
- এগুলো মাটি ও পানির যেরূপ ক্ষতি করে তেমনি ভাবে জলজ প্রাণীও এগুলোর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 

• ফসলের জমিতে বিভিন্ন পোকামাকড়, জীবানু ধ্বংস করতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় যেগুলো বৃষ্টির পানির মাধ্যমে খাল-বিল, নদী-নালায় ছড়িয়ে পরে যা পানি ও বায়ুর দূষণ ঘটায়। ফলে পানির DO হ্রাস পায়। 
- এতে পানির মাছ ও জলজ প্রাণি মরে যায় ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে। 

• শিল্প কারখানা হতে বিভিন্ন জৈব দ্রাবক রাসায়নিক পদার্থ বর্জ্যরূপে বেড়িয়ে আসে। 
- এগুলো সাধারণত উদ্বায়ী, ফলে এগুলো খুব সহজেই বায়ুতে মিশ্রিত হয়ে বায়ু দূষণ ঘটায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৪.
বক্সাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. Al
  2. Ca
  3. Na
  4. Fe
ব্যাখ্যা
অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: 
বক্সাইট
• কোরান্ডাম, 
• ক্রায়োলাইট ইত্যাদি। 

সোডিয়ামের আকরিক: 
• রকসল্ট, 
• চিলি সল্টপিটার, 
• ন্যাট্রোন, 
• বোরাক্স ইত্যাদি। 

ক্যালসিয়ামের আকরিক: 
• চুনাপাথর, 
• জিপসাম, 
• ডলোমাইট ইত্যাদি। 

আয়রনের আকরিক: 
• ম্যাগনেটাইট, 
• হেমাটাইট, 
• আয়রন পাইরাইটস, 
• লিমোনাইট ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯১৫.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. ক্লোরিন
  4. ব্রোমিন
ব্যাখ্যা

• জারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে অর্থাৎ জারক পদার্থ ইলেকট্রন গ্রহীতা।
- জারক ইলেকট্রন গ্রহণের পর নিজে বিজারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন গ্রহণের প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি জারকধর্মী হয়।
- যেমন: O2, Cl2, F2, HNO3, H2SO4, H2O2 প্রভৃতি জারক পদার্থ। 
- ফ্লোরিন, ক্লোরিন, অক্সিজেন, ওজোন ইত্যাদি হলো গ্যাসীয় জারক পদার্থ।
- তরল ব্রোমিন, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড, নাইট্রিক এসিড, সালফিউরিক এসিড ইত্যাদি হলো তরল জারক পদার্থ।
- আয়োডিন, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট, পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট, ফেরিক ক্লোরাইড ইত্যাদি হলো কঠিন জারক পদার্থ।

• বিজারক পদার্থ:
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে অর্থাৎ বিজারক পদার্থ ইলেকট্রন দাতা।
- বিজারক ইলেকট্রন দান করার পর নিজে জারিত হয়। 
- যে পদার্থের ইলেকট্রন দান করার প্রবণতা যত বেশি, সে পদার্থ তত বেশি বিজারকধর্মী হয়।
- হাইড্রোজেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, সালফিউরাস এসিড ইত্যাদি হলো বিজারক পদার্থের উদাহরণ।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির, (হাজারী-নাগ)।

৯১৬.
জৈব যৌগ কোনটি?
  1. CO
  2. CO2
  3. CH4
  4. Na2CO3
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে কোন ক্রিয়া সম্পন্ন হয়? 
  1. প্রশমন
  2. অধঃক্ষেপ
  3. জারণ
  4. বিজারণ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৮.
নিচের কোনটি এসিডের বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) এটি লাল লিটমাসকে নীল করে।
  2. খ) এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
  3. গ) ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন মনোক্সাইড উৎপন্ন করে।
  4. ঘ) প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহন করতে পারে।
ব্যাখ্যা
এসিড:

- নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয় এসিডের কারণে।
- এসিডে নীল বর্ণের লিটমাস লাল হয়। যেসব রাসায়নিক দ্রব্য জলীয় দ্রবণে প্রোটন বা ধনাত্মক হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, তাদের এসিড বলে।
- যেমন- এসিটিক এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, অক্সালিক এসিড। এসিড শব্দটি ল্যাটিন শব্দ এসিডাস থেকে এসেছে। বাংলায় একে অম্ল বলা হয়।
- এসিডের বৈশিষ্ট্যসমূহ-
১. এসিড স্বাদে টক।
২. এটি নীল লিটমাসকে লাল করে।
৩. এটি ক্ষারকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে পানি ও লবণ উৎপন্ন করে।
৪. এটি ধাতুর কার্বনেটের সঙ্গে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই- অক্সাইড উৎপন্ন করে।
৫. প্রতিটি এসিডই হাইড্রোজেন আয়ন দান করতে পারে।
৬. যে এসিড যত বেশি হাইড্রোজেন আয়ন দান করে, সে তত বেশি শক্তিশালী।

তথ্যসূত্র - রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৯.
বিপরীত আধানযুক্ত আয়নের মধ্যে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. সমযোজী বন্ধন
  2. ধাতব বন্ধন
  3. আয়নিক বন্ধন
  4. হাইড্রোজেন বন্ধন
ব্যাখ্যা
আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 

সমযোজী বন্ধন: 
- দুটি অধাতব মৌলের পরমাণুর যোজ্যতা স্তরের বিজোড় ইলেকট্রনকে উভয় পরমাণুই শেয়ার করে যে রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করে তাকে সমযোজী বন্ধন বলে। 

বন্ধন গঠন: 
- পরমাণুর যোজ্যতাস্তরের বিজোড় ইলেকট্রন বন্ধন গঠনে অংশগ্রহণ করে। 

একক বন্ধন: 
- দুটি পরমাণুর প্রত্যেকের ১টি করে ইলেকট্রনের শেয়ারের মাধ্যমে একক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 

ক্যাটায়ন: 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন বলে। 

অ্যানায়ন: 
- ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২০.
নিচের কোনটি জীবন্ত জীবাশ্ম নয়?
  1. লিমুলাস
  2. উটপাখি
  3. স্ফোনোডন
  4. প্লাটিপাস
ব্যাখ্যা
জীবন্ত জীবাশ্ম: 
- কতগুলাে জীব সুদূর অতীতে উৎপত্তি লাভ করেও কোনােরকম পরিবর্তন ছাড়াই এখনাে পৃথিবীতে বেঁচে আছে অথচ তাদের সমগােত্রীয় এবং সমসাময়িক অনেক জীবনের বিলুপ্তি ঘটছে। এই জীবদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। 
- লিমুলাস বা রাজকাঁকড়া নামক সন্ধিপদ প্রাণী, স্ফোনোডন নামক সরীসৃপ প্রাণী, প্লাটিপাস নামক স্তন্যপায়ী প্রাণী ইত্যাদি হলো জীবন্ত জীবাশ্ম প্রাণী। 
- অন্যদিকে, ইকুইজিটাম, নিটাম ও পিঙ্কো বাইলােবা নামের উদ্ভিদগুলো উদ্ভিদের জীবন্ত জীবাশ্ম। 
- প্রায় ৪০০ মিলিয়ন বছর আগে লিমিউলাস জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে। এর সমসাময়িক অন্যান্য আথ্রোপোডাগুলাে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু এরা আজও বেঁচে আছে। তাই এদের জীবন্ত জীবাশ্ম বলা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২১.
গ্যসীয় পদার্থের ক্ষেত্রে নিচের কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে
  2. খ) সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়
  3. গ) নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই
  4. ঘ) কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় আন্তঃকণা আর্কষণ বল বেশি
ব্যাখ্যা
গ্যসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন নেই। এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোকনা কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন। গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরল পদার্থের তুলনায় অনেক দূরে দূরে অবস্থান করে তাই এদের আন্তঃকণা আর্কষণ বল খুবই কম। তাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক বাড়ে এবং সামান্য চাপ প্রয়োগে এর আয়তন অনেক কমে যায়।
[সূত্রঃ রসায়নবিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি]
৯২২.
'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত লবণ কোনটি?
  1. সোডিয়াম গ্লুটামেট
  2. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  3. সোডিয়াম কার্বোনেট
  4. সোডিয়াম স্টিয়ারেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- লবণ হলো এসিড ও ক্ষারকের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন পদার্থ। 
- ক্ষারক ও এসিড পরস্পর বিপরীতধর্মী পদার্থ এবং বিক্রিয়া করে একে অপরকে নিষ্ক্রিয় করে নিরপেক্ষ পদার্থ লবণ ও পানি তৈরি করে। 

লবণের ব্যবহার: 
- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে যা সাধরণ লবণ বা টেবিল লবণ নামেও পরিচিত। তরকারি ছাড়াও আরও অনেক খাবার যেমন- পাউরুটি, আচার, চানাচুর ইত্যাদিতে খাবার লবণ ব্যবহার করা হয়। 
- খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য সোডিয়াম গ্লুটামেট লবণ ব্যবহার করা হয় যা 'টেস্টিং সল্ট' নামে পরিচিত। 
- কাপড় কাচার যে সাবান ব্যবহার করা হয় তা মূলত সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa) লবণ। 
- আর শেভিং ফোম বা জেলে থাকে পটাশিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COOK) লবণ। 
- কাপড় কাচার সোডা হিসেবে সোডিয়াম কার্বোনেট (Na2CO3) ব্যবহার করা হয় যা একটি লবণ। 
- আবার জীবাণুনাশক হিসেবে তুঁতে (CuSO4.5H2O) বা ফিটকিরি [K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O] ব্যবহার করা হয় যা মূলত লবণ। 

শিল্পকারখানায় লবণ: 
- শিল্পকারখানায় নানা কাজে খাবার লবণ অপরিহার্য। 
যেমন- চামড়াশিল্পে চামড়ার ট্যানিং করতে, মাখন ও পনিরের শিল্পোৎপাদনে, কাপড় কাচার সোডা ও খাবার সোডা তৈরি করতে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের তড়িৎ বিশ্লেষণ ইত্যাদি কাজে খাবার লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- বেশ কিছু লবণ যেমন- তুঁতে (CuSO4), মারকিউরিক সালফেট (HgSO4), সিলভার সালফেট (Ag2SO4) শিল্পকারখানায় প্রভাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- টেক্সটাইল ও রং তৈরির কারখানায় রং ফিক্স করার কাজে লবণ প্রয়োজন হয়। 
- ধাতুর বিশুদ্ধকরণে লবণ লাগে। 
- রাবার প্রস্তুতিতে লবণ ব্যবহার করে রাবারকে (ল্যাটেক্স) রাবার গাছের নির্যাস থেকে আলাদা করা হয়। 
- ওষুধ কারখানায় স্যালাইন এবং অন্যান্য ওষুধেও লবণ ব্যবহৃত হয়। 
- ডিটারজেন্ট তৈরিতেও ফিলার হিসেবে লবণ খুবই প্রয়োজনীয়। 

কৃষিতে লবণের ব্যবহার: 
- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য যে চুনাপাথর ব্যবহার করা হয়, সেই চুনাপাথর একটি লবণ। 
- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তাদের বেশির ভাগই হলো লবণ। 
যেমন- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 
- তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) কৃষিজমিতে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস প্রতিরোধে বহুল ব্যবহৃত একটি লবণ। এটি শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুব কার্যকরী। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯২৩.
কোনটির তারতম্যের কারণে আইসোটোপ তৈরি হয়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) অনাবিষ্কৃত
ব্যাখ্যা

- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- অন্যভাবে বলা যায়, এটমিক সংখ্যা একই হওয়া সত্ত্বেও নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে ভরসংখ্যা বেড়ে যায় তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- সেইজন্য আইসোটোপ তৈরি হয় নিউট্রনের তারতম্যের কারণে।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯২৪.
তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতার কী পরিবর্তন ঘটে?
  1. হ্রাস পায়
  2. বৃদ্ধি পায়
  3. অপরিবর্তিত থাকে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সান্দ্রতা: 
- সান্দ্রতা (Viscosity) হলো প্রবাহীর (তরল/বায়বীয় পদার্থের) বিভিন্ন স্তরে আপেক্ষিক গতির ক্ষেত্রে বাধা। একে প্রবাহীর ঘর্ষণ বলা যায়। 
- তাপমাত্রা বাড়লে গ্যাসের সান্দ্রতা বাড়ে এবং তরলের সান্দ্রতা কমে। 

অর্থাৎ, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্যাসের সান্দ্রতা বৃদ্ধি পায়। 
- গ্যাসের সান্দ্রতা সহগ তার কেলভিন তাপমাত্রার বর্গমূলের সমানুপাতিক। 
- সান্দ্রতা সহগ/গুনাংকের এস.আই একক হচ্ছে নিউটন-সেকেন্ড/মিটার (Nsm-2 বা Pas), CGS একক হচ্ছে Poise [10 Poise = 1 Nsm-2]। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৯২৫.
সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ক) ৯
  2. খ) ১১
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৭
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা:
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 8.
- সুতরাং অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে ৮টি প্রোটন আছে। 

সোডিয়ামের (Na) এর পারমাণবিক সংখ্যা ১১. 
- তাই K শক্তিস্তরে ২টি, L প্রধান শক্তিস্তরে ৮টি এবং বাকি ১টি ইলেকট্রন M শক্তিস্তরে প্রবেশ করবে।



উৎস: রসায়ন- ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং রসায়ন, ৯ম-১০ম শ্রেণি (বোর্ড বই)।
৯২৬.
কোন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
কয়েকটি অধাতু সম্পর্কে গুরত্বপূর্ণ তথ্য:

• হাইড্রোজেন গ্যাস নিজে জ্বলে কিন্তু অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে না।
• অপরদিকে অক্সিজেন আগুন জ্বালাতে সাহায্য করে।
• কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) গ্যাস অগ্নি নির্বাপক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
• বাতাসের নাইট্রোজেন (N2) গ্যাস মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে।

উল্লেখ্য,
• প্রকৃতিতে প্রাপ্ত সবচেয়ে কঠিন পদার্থ- হীরক (কার্বনের রূপভেদ)।
• গ্রাফাইট অধাতু হলেও মুক্ত ইলেকট্রন থাকার দরুন এটি বিদ্যুৎ পরিবহন করে।
• পারমাণবিক চুল্লিতে মডারেটর হিসেবে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়।
• ড্রাই আইস হলো কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড। শুষ্ক বরফ তৈরিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
• কার্বন ডাই-অক্সাইডকে অত্যাধিক চাপে তরল করে সোডা ওয়াটার তৈরি করা হয়।
• সমআয়তনের হাইড্রোজেন এবং কার্বন মনোক্সাইডের (CO) মিশ্রণকে ওয়াটার গ্যাস (CO+H2) বলে।
• হাসপাতালে ব্যবহৃত অক্সিজেন সিলিন্ডারে ৯৩% অক্সিজেন থাকে।
• সমুদ্রের পানির তুলনায় নদীর পানিতে অক্সিজেন বেশি থাকে।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি রসায়ন বই।
৯২৭.
বজ্রপাতের সময় মাটিতে কোন উপাদানের বৃদ্ধি ঘটে?
  1. ক) ফসফরাস
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) পটাশিয়াম
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
প্রতিবার বজ্রপাত ঘটলে, বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেন হাইড্রোজেন বা অক্সিজেনের সাথে মিলিত হয়ে অ্যামোনিয়াম এবং নাইট্রেট তৈরি করে। নাইট্রোজেন তারপর বৃষ্টিতে মাটিতে ধুয়ে যায়। গাছপালা তখন মাটি থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে এবং বৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করে।
যেহেতু ইহা ক্লোরোফিলের একটি মূল উপাদান বিধায় নাইট্রোজেন গাছের সবুজায়ন ঘটায়।

- মাটিতে নাইট্রোজেনের উৎস নাইট্রোজেন লবণ। 
- বায়ুমন্ডলে শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ নাইট্রোজেন থাকা সত্ত্বেও উদ্ভিদ সরাসরি বায়ুমন্ডল থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে আয়নিত অবস্থায় নাইট্রোজেন গ্রহণ করে থাকে। 
- বিশ্বে ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সারের মধ্যে ইউরিয়া অন্যতম প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত সার। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; cals.arizona.edu
৯২৮.
নিচের কোনটি ওজোন স্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী নয়?
  1. হাইড্রোফ্লুরোকার্বন
  2. সালফার হেক্সা ক্লোরাইড
  3. নাইট্রাস অক্সাইড
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা

ওজোন স্তর: 
- বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার নামক স্তরে ওজোন নামক গ্যাসের একটি পাতলা স্তর রয়েছে যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে সূর্যরশ্মির ক্ষতিকর অতিবেগুণি রশ্মি থেকে রক্ষা করে।
- এটি ওজোন স্তর নামে পরিচিত।
- পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য ওজোন স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওজোন স্তর ধ্বংসের কারণ: 
বিভিন্ন কারণে ওজোন স্তর ধ্বংস হচ্ছে। যথা:
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ (কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন টেট্টা ক্লোরাইড, সালফার হেক্সা ক্লোরাইড) সমূহ ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে কিন্তু সিএফসি গ্যাস প্রত্যক্ষভাবে ওজোন স্তরের ক্ষতি করে। 
- পারমানবিক পরীক্ষার জন্য পারমাণবিক বিস্ফোরণে ওজোন স্তরের ক্ষতি হয়। বিমান চলাচলের জন্য ওজোন স্তরের ক্ষতি হচ্ছে।
- নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার সৌরশক্তির প্রভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি করে। নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাসের অণু অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে অণু ভেঙে রেডিকেলে পরিণত হয় এবং ওজোন স্তরকে ক্ষতি করে। এছাড়াও জৈব প্রাণীর দহনের ফলে নাইট্রোজেন ঘটিত যৌগ নাইট্রাস অক্সাইড তৈরি হয়।
- মিথেন গ্যাস ওজোন স্তরের ক্ষতি করে।

উল্লেখ্য, হাইড্রোফ্লুরোকার্বনস, সালফার হেক্সাফ্লুরাইড এবং পারফ্লুরোকার্বনস গ্যাসসমূহ গ্রিনহাউজ গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হলেও ওজোনস্তরের ক্ষয়ের জন্যে দায়ী নয়।

উৎস:
১. পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২. ব্রিটানিকা। [লিংক] 

৯২৯.
নিচের কোন পদার্থের বিজারণ ঘটে?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. ফ্লোরিন
  4. অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ অপর পদার্থকে জারিত করে, কিন্তু নিজে বিজারিত হয়। ক্লোরিন, ফ্লোরিন ইত্যাদি প্রায় সকল অধাতু হলো জারক।
- বিজারক পদার্থ অপর পদার্থকে বিজারিত করে, কিন্তু নিজে জারিত হয়। ক্যালসিয়াম, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি প্রায় সকল ধাতু এবং কার্বন হলো বিজারক পদার্থ।
সুত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৯৩০.
কোন পটাশ এলাম নামে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. ফিটকিরি
  3. সেভিং সোপ
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
• অ্যালুমিনিয়াম সালফেটের চলতি বাংলা ফিটকিরি।
- রাসায়নিক সংকেত: [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] (পটাশিয়াম সালফেট এলুমিনিয়াম সালফেট, ২৪ অণু পানি);
•একে পটাশ এলামও বলা হয়ে থাকে।

• ফিটকিরি:
- পটাশ অ্যালাম বা ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ।
- এটি সাধারণত পানি বিশুদ্ধকরণ কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এটি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ।
-অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস।
- পটাস অ্যালামে 24 অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি ; রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩১.
আমাদের ধমনীর রক্তের pH কত?
  1. ক) ৭.২
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৪
  4. ঘ) ৭.৫
  5. ঙ) উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
আমাদের ধমনীর রক্তের pH প্রায় ৭.৪ । এর সামান্য হেরফের হলে (~ ০.৪) মারাত্বক বিপর্যয়, এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।
৯৩২.
নিচের কোন কয়লায় কার্বনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. বিটুমিনাস
  2. অ্যানথ্রাসাইট
  3. লিগনাইট
  4. কোনোটিই না
ব্যাখ্যা
কয়লা: 
- কয়লা হলো কালো বা কালচে বাদামি রঙের এক ধরনের পাললিক শিলা। 
- কয়লার মূল উপাদান হচ্ছে কার্বন (C)। 
- তবে স্থানভেদে এতে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে হাইড্রোজেন (H), সালফার (S), অক্সিজেন (O) কিংবা নাইট্রোজেন (N) থাকে। 
- কয়লা একটি দাহ্য পদার্থ, তাই জ্বালানি হিসেবে এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
- প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের মতো কয়লা একটি জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হলেও এর গঠন প্রক্রিয়া আলাদা। প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে জলাভূমিতে জন্মানো প্রচুর ফার্ন, শৈবাল, গুল্ম ও অন্যান্য গাছপালা মরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে কয়লা তৈরি হয়েছে। 
- গাছপালায় বিদ্যমান জৈব পদার্থে থাকা কার্বন প্রথমে জলাভূমির তলদেশে জমা হয়। এভাবে জমা হওয়া কার্বনের স্তর আস্তে আস্তে পলি বা কাদার নিচে পড়ে যায় এবং বাতাসের সংস্পর্শ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ রকম অবস্থায় কার্বনের স্তর আরো ক্ষয় হয়ে পানিযুক্ত, স্পঞ্জের মতো ছিদ্রযুক্ত জৈব পদার্থে পরিণত হয়, যাকে বলা হয় পিট (Peat)। 
- পিট অনেকটা হিউমাসের মতো পদার্থ। পরবর্তীতে উচ্চ চাপে ও তাপে এই পিট পরিবর্তিত হয়ে কার্বনসমৃদ্ধ কয়লায় পরিণত হয়। 

- কয়লা তিন রকমের হয়ে থাকে। 
যথা: 
১। অ্যানথ্রাসাইট: অ্যানথ্রাসাইট হলো সবচেয়ে পুরোনো ও শক্ত কয়লা, যা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে তৈরি এবং এতে শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন থাকে। 

২। বিটুমিনাস: বিটুমিনাস কয়লা প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে শতকরা ৫০-৮০ ভাগ কার্বন থাকে। 

৩। লিগনাইট: লিগনাইট কয়লা ১৫০ মিলিয়ন বছরের পুরোনো এবং এতে সর্বোচ্চ শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত কার্বন থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৩.
বিউটেনের অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা কত?  
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

• বিউটেন-এর অণুতে কার্বন পরমাণুর সংখ্যা হলো ৪ টি।

• হাইড্রোকার্বন:  
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন (অ্যালকেন):  
- যেসব হাইড্রোকার্বনে কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র একক বন্ধন থাকে এবং অবশিষ্ট যোজনী হাইড্রোজেন দিয়ে পূর্ণ থাকে, তাদের অ্যালকেন বলে।  
- সাধারণ সংকেত: CnH2n + 2 (যেখানে n = ১, ২, ৩, ৪, …)

• বিউটেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন।  
বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত: C4H10
অর্থাৎ এটি ৪টি কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এর অণুতে ৪টি কার্বন ও ১০টি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকে।

তথ্যসূত্র:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৩৪.
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ কী? 
  1. এক ধরনের বিষ
  2. এক ধরনের ড্রাগ
  3. এক ধরনের কীটনাশক
  4. এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
শয়তানের নিশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ: 
- ‘শয়তানের নিশ্বাস’ বা স্কোপোলামিন এক ধরনের ড্রাগ, যা ধুতরা ফুল থেকে তৈরি করা হয়।  
- এটি মানুষকে সম্মোহিত বা বশ করে অপরাধ সংঘটনে ব্যবহৃত হয়।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটি ‘ট্রুথ সেরাম’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- স্কোপোলামিন তরল ও পাউডার দুই রূপেই পাওয়া যায় এবং শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে দ্রুত কাজ করে।
- অপরাধীরা এটি ব্যবহার করে ব্যক্তির মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেয়।
- এটির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, এমনকি হার্ট অ্যাটাক পর্যন্ত হতে পারে।
- নিরাপত্তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং সতর্ক থাকা জরুরি।
- প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্রয়োগ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)।
৯৩৫.
Natrium কার ল্যাটিন নাম?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর ল্যাটিন নাম Natrium যা থেকে এর প্রতীক Na এসেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৯৩৬.
জারক পদার্থ -
  1. ইলেকট্রন ত্যাগ করে
  2. ইলেকট্রন গ্রহণ করে
  3. অন্যকে বিজারিত করে
  4. নিজে জারিত হয়
ব্যাখ্যা

সূত্রঃ রসায়ন, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৯৩৭.
নিচের কোনটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া?
  1. লিগনাইট কয়লা → পিট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
  2. অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → পিট কয়লা
  3. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা
  4. পিট কয়লা → লিগনাইট কয়লা → বিটুমিনাস কয়লা → অ্যানথ্রাসাইট কয়লা
ব্যাখ্যা
কয়লা (Coal): 
- প্রাকৃতিক কারণে গাছপালা ভূগর্ভে মাটির নিচে চাপা পড়ে। 
- সুদীর্ঘকাল যাবৎ অধিক চাপ ও তাপের প্রভাবে ঐ চাপাপড়া গাছপালার মধ্যে ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। 
- তখন স্তরীভূত ও কঠিন পদার্থরূপে পরিণত ঐ দহনযোগ্য জীবাশ্মকে কয়লা বলে। 
- ভূগর্ভে চাপাপড়া উদ্ভিদের কয়লায় রূপান্তরের প্রাথমিক রূপ হলো পিট কয়লা। 
- তারপর ধারাবাহিক রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে লিগনাইট কয়লা, বিটুমিনাস কয়লা ও শেষে উন্নত অ্যানথ্রাসাইট কয়লায় পরিণত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৯৩৮.
কোনটি পরম শূন্য তাপমাত্রা? 
  1. 0°C
  2. 273°C
  3. - 273°C
  4. 373°K
ব্যাখ্যা
পরম শূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরম শূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রা হলো -273°C
- পরম শূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরম শূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৯৩৯.
নিচের কোন বৈশিষ্ট্যটি কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার থাকে
  2. কঠিন পদার্থের অণুগুলো এদের গড় অবস্থানকে ঘিরে স্পন্দিত হয়
  3. কঠিন পদার্থের অণুগুলো খুব কাছাকাছি থাকে
  4. কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়
ব্যাখ্যা

• কঠিন পদার্থের জন্য সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এদের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে, অণুগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করে এবং অণুগুলো প্রায় স্থির থাকে, তবে সামান্য স্পন্দন করে। কঠিনের অণুগুলোর মধ্যে শক্ত আকর্ষণশক্তি কাজ করে, যার ফলে তারা সহজে স্থানান্তরিত হয় না। তাই “ঘ) কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যবর্তী বল তত প্রবল নয়” এই বর্ণনা কঠিন পদার্থের জন্য প্রযোজ্য নয়, কারণ বাস্তবে কঠিনে অণুগুলোর মধ্যে বল খুবই প্রবল। অন্য তিনটি বৈশিষ্ট্য কঠিনের প্রকৃতির সঙ্গে পুরোপুরি মিলিত। সুতরাং, কঠিন পদার্থের ক্ষেত্রে সবচেয়ে অসঙ্গত বৈশিষ্ট্য হলো (ঘ)।

• পদার্থ:
- যার ভর ও আয়তন আছে, একটি নির্দিষ্ট স্থান দখল করে এবং চাপ প্রয়োগে বাধাদান করে তাকে পদার্থ বলা হয়।

• অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা:
- কঠিন পদার্থ, তরল পদার্থ ও বায়বীয় পদার্থ। 
এই ৩ টি অবস্থা ছাড়াও পদার্থের আরো ২ টি অবস্থা দেখা যায়।
যথা 
- তরল স্ফটিক অবস্থা ও প্লাজমা অবস্থা। 

• কঠিন অবস্থা (Solid state):
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে।
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য।
- গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়।
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে।

• কঠিন অবস্থার ধর্ম:
- সুনির্দিষ্ট বিন্যাস,
- দৃঢ়তা ও আলোক ধর্ম ,
- নির্দিষ্ট আকার, আকৃতি ও আয়তন থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪০.
একটি পরমাণুর দ্বিতীয় কক্ষপথে সর্বোচ্চ কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ১৮
  2. ৩২
ব্যাখ্যা
- বোর তত্ত্বানুসারে ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারিদিকে কতগুলো অনুমোদিত কক্ষপথ বা শক্তিস্তরে পরিভ্রমণ করে। এইরূপ শক্তিস্তরকে প্রধান শক্তিস্তর বলে।
- প্রত্যেক পরমাণুতে একাধিক প্রধান শক্তিস্তর বিদ্যমান।
- প্রধান শক্তিস্তরগুলোকে n দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। n এর মান 1, 2, 3 শক্তিস্তর ইত্যাদি।
n = 1 হলে প্রথম প্রধান শক্তিস্তর, n = 2 হলে দ্বিতীয় প্রধান শক্তিস্তর। 
 - পরমাণুর প্রতিটি শেলে সর্বাধিক 2n2 সংখ্যক ইলেকট্রন (n = 1, 2, 3 ...............) থাকতে পারে। 
এই সূত্রানুসারে, 

১ম শেলে অর্থাৎ n=1 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 = 2×12=2 টি, 
২য় শেলে অর্থাৎ n=2 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা  2n2 = 2×22= 8 টি, 
৩য় শেলে অর্থাৎ n=3শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2 = 2×32= 18 টি, 
৪র্থ শেলে অর্থাৎ n=4 শেলে সর্বোচ্চ ইলেক্ট্রন ধারণ ক্ষমতা  2n2 = 2×42 = 32টি ।
 
উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪১.
নিচের কোনটি আইসোবার হওয়ার প্রধান শর্ত?
  1. ভর সংখ্যা ভিন্ন
  2. ভর সংখ্যা সমান
  3. প্রোটন সংখ্যা সমান
  4. নিউট্রন সংখ্যা সমান
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪২.
নিচের কোনটি জারক?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ফ্লোরিন
  3. গ) ফসফরাস
  4. ঘ) খ ও গ উভয়
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম প্রভৃতি সকল ধাতু এবং কার্বন ও হাইড্রোজেন দু'টি অধাতু হল বিজারক। কার্বন ও হাইড্রোজেন ব্যতীত সকল অধাতু যেমন ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ফসফরাস ইত্যাদি হল জারক।
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৯৪৩.
জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়-
  1. অ্যানােডে
  2. ক্যাথােডে
  3. অ্যানােড এবং ক্যাথােড উভয়টিতে
  4. বর্ণিত কোনটিতেই নয়
ব্যাখ্যা
• জারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় অ্যানোডে।

- বিজারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় ক্যাথোডে।
- যে ধাতব পাতে ধাতু বা কোন আয়ন ইলেকট্রন ছেড়ে দেয় তাকে ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানোড বলে অন্যদিকে যে তড়িৎদ্বারে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে ইলেকট্রন শোষিত হয় তাকে ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথোড বলে।
- কোন পরমাণু, আয়ন বা পরমাণুপুঞ্জ (রেডিক্যাল) থেকে এক বা একাধিক ইলেকট্রন অপসারণের মাধ্যমে তড়িৎ-ধনাত্মক আধান বৃদ্ধি বা তড়িৎ-ঋণাত্মক আধান হ্রাসের প্রক্রিয়াকে জারণ বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
জারণ বিজারণ একটি-
  1. ক) আলাদা বিক্রিয়া
  2. খ) সম্পূরক বিক্রিয়া
  3. গ) যুগপৎ ক্রিয়া
  4. ঘ) একক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
জারণ বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ করে বিজারক, সে অন্য পদার্থকে ইলেকট্রন গ্রহণ করিয়ে সেই পদার্থের বিজারণ ঘটায় বলে তাকে বিজারক বলে। ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারক, অন্য পদার্থের ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে সে পদার্থের জারণ ঘটায় বলে একে জারক বলে।জারণ বিজারণ একই সাথে ঘটে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৯৪৫.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. পারমাণবিক সংখ্যা
  3. ঘনত্ব
  4. গলনাঙ্ক
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেওয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে। 

আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলো পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number) অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার (Number of Protons) ক্রমানুসারে সাজানো হয়েছে।
• 1913 সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
-  পর্যায় সারণিতে 7 টি পর্যায় (Period) বা অনুভূমিক সারি এবং 1৪টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বামদিকে গ্রুপ 1 থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ 18 পর্যন্ত বিস্তৃত।
-  মূল পর্যায় সারণির নিচে আলাদাভাবে ল্যান্থানাইড ও অ্যাকটিনাইড সারির মৌল হিসেবে দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে 6 এবং 7 পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৯৪৬.
দুটি পরমাণু একে অপরের আইসোটোপ হলে, তাদের কোনটি সমান থাকে? 
  1. ভর সংখ্যা 
  2. ইলেকট্রন সংখ্যা
  3. নিউট্রন সংখ্যা 
  4. প্রোটন সংখ্যা 
ব্যাখ্যা

আইসোেটাপ (Isotopes): 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলে। 
- হাইড্রোজেনের সাতটি আইসোটোপ (1H, 2H, 3H, 4H, 5H, 6H এবং 7H) আছে। এদের মধ্যে শুধু তিনটি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়, অন্যগুলোকে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুত করা হয়। 
- নিচের টেবিলে দেখানো তিনটি H পরমাণুরই প্রোটন সংখ্যা সমান, কাজেই তারা একে অপরের আইসোটোপ। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৪৭.
মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বজায় থাকে তাকে কী বলে?
  1. অণু
  2. পরমাণু
  3. প্রোটন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে।
- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়।
- আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়।

- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৪৮.
কালো রং হিসেবে ছাপার কালি ও টাইপরাইটারের রিবনে ব্যবহৃত হয় -
  1. কাঠ কয়লা
  2. প্রাণিজ কয়লা
  3. ভুসা কয়লা
  4. সক্রিয় চারকোল
ব্যাখ্যা

কার্বনের ব্যবহার: 
- কার্বনের দু'টি রূপভেদ আছে, যথা গ্রাফাইট ও ডায়মন্ড (হীরক)।
- বিভিন্ন রূপভেদে কার্বনের ব্যবহারও বিভিন্ন।

গ্রাফাইটের ব্যবহার: 
- গ্রাফাইট উত্তম বিদ্যুৎ পরিবাহী বলে ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- যন্ত্রাংশ লুব্রিকেশন (lubrication) করার জন্য এবং কাদা সহযোগে পুড়িয়ে কাঠ পেন্সিলের সীস তৈরীতে গ্রাফাইট ব্যবহৃত হয়।

হীরকের ব্যবহার:
- ডায়মন্ড বা হীরক ভংগুর হলেও প্রকৃতিতে প্রাপ্ত পদার্থসমূহের মধ্যে অন্যতম কঠিনতম।
- ডায়মন্ড উত্তম তাপ- পরিবাহী হলেও বিদ্যুৎ-অপরিবাহী।
- হীরক একটি মূল্যবান রত্ন, দামী অলংকার প্রস্তুতিতে এর উল্লেখযোগ্য ব্যবহার রয়েছে।
- কম দামী হীরক যা অলংকারে ব্যবহার করা যায়না সেগুলো কাঁচ কাটার কাজে, শক্ত বস্তু মসৃন করার জন্য, কঠিন শিলা জাতীয় পদার্থ ছিদ্র করার যন্ত্রে (drill) এবং শান দেওয়ার পাথর হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অদানাদার কার্বনের ব্যবহার: 
১। কাঠ কয়লা: জ্বালানিরূপে, ধাতু নিষ্কাশনে বিজারক পদার্থরূপে, বারুদের উপাদান হিসেবে, তেলের গন্ধ দূরীকরণে জীবাণুনাশক হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। 
২। প্রাণিজ কয়লা: এর অত্যধিক শোষণ ক্ষমতার কারণে এটি চিনি পরিশোধনে ও বিরঞ্জনে ব্যবহৃত হয়। 
৩। সক্রিয় চারকোল: গ্যাস মুখোশে এবং চিনি, তৈল প্রভৃতি বিরঞ্জনে ও পরিশোধনে এটি ব্যবহৃত হয়।
৪। ভুসা কয়লা: কালো রং হিসেবে এটি ছাপার কালি, কার্বন পেপার, টাইপরাইটারের রিবন, জুতার কালি প্রভৃতি প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১. রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী, নাগ)। 
২. রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি পোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৪৯.
অ্যানোড তড়িৎদ্বারে কোন বিক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়? 
  1. জারণ
  2. বিজারণ
  3. প্রশমন
  4. অধঃক্ষেপ
ব্যাখ্যা
তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সময় বিগলিত অথবা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে দুটি ধাতব পরিবাহী অথবা গ্রাফাইট দন্ড এমনভাবে রেখে দেয়া হয় যেন একটি দিয়ে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে এবং অন্যটি দিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে যায়। 
- এ দুটি ধাতব অথবা গ্রাফাইট পরিবাহীকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎদ্বার তড়িৎ রাসায়নিক কোষের ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে কোষ বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের ক্ষেত্রে দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যথা- 
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার এবং 
২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার। 

অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্নক তড়িৎদ্বার বলে।
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্নক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্নক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সম্পন্ন হয়। 
অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
ইস্পাতে কী কী উপাদান থাকে?
  1. লোহা ও নিকেল
  2. লোহা ও কার্বন
  3. লোহা ও ক্রোমিয়াম
  4. লোহা ও জিংক
ব্যাখ্যা
সংকর ধাতু:
- একাধিক ধাতুর মিশ্রণকে সংকর ধাতু বলা হয়।
- সাধারণত বিশুদ্ধ ধাতু অপেক্ষা সংকর ধাতু বেশি ব্যবহার উপযোগী হয়ে থাকে। লোহার সাথে কার্বন, নিকেল ও ক্রোমিয়াম মিশিয়ে মরিচারোধী বা মরিচাবিহীন স্টিল প্রস্তুত করা হয়। মরিচাবিহীন স্টিল লোহার চেয়ে বেশি শক্ত ও টেকসই হয়ে থাকে।



উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
জীবাশ্ম সমন্ধীয় বিজ্ঞান কোনটি?
  1. ফাইটোজেনি
  2. ফসিওলজি
  3. মরফোলজি
  4. প্যালেন্টোলজি
ব্যাখ্যা
জীবাশ্ম: 
- জীবাশ্ম বা ফসিল (Fossil), ল্যাটিন Fossilis শব্দ থেকে ইংরেজি Fossil শব্দের উৎপত্তি। 
- Fossilis শব্দের অর্থ হলো dug out বা খুড়ে তোলা। 
- পূর্বে মাটি খুড়ে যা কিছু তোলা হতো তাকেই জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হতো। 
- বর্তমানে, পৃথিবীর ভূত্বকে (crust) প্রাকৃতিক উপায়ে সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক জীবের দেহ, দেহাবশেষ বা দেহের কোন অংশের চিহ্ন বা সাক্ষ্যকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলা হয়। 
- গমন পথ, ট্রেইল এবং জীবজনিত গর্তকে ট্রেস ফসিল (trace fossil) বা ইকনোফসিল (ichnofossil ) বা জার্মান ভাষায় লেবেনস্পুরেন (lebenspuren) নামে আখ্যায়িত করা হয়। 
- জীবাশ্মগত বিদ্যাকে জীবাশ্মবিদ্যা বা প্যালেন্টোলজি (palaeontology) বলা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
নিচের কোনটি একটি মিশ্র পদার্থ?
  1. বায়ু
  2. তাপ
  3. বিদ্যুৎ
  4. আলো
ব্যাখ্যা
• বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ এটি বিভিন্ন গ্যাস যেমন নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, এবং অন্যান্য গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত। এই গ্যাসগুলো একসঙ্গে মিশে একটি একক পদার্থ তৈরি করে, যা সহজেই আলাদা করা যায় না, কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন উপাদান সমন্বিত। অন্যদিকে, তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো পদার্থ নয়; এগুলো শক্তির রূপ। তাই বায়ু মিশ্র পদার্থ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, কারণ এটি বিভিন্ন উপাদানের মিশ্রণ যা একত্রে থাকলেও প্রত্যেকটি উপাদানের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখে। বায়ু ছাড়া অন্য কোনো অপশন মিশ্র পদার্থ নয়।

• বায়ুকে মিশ্র পদার্থ বলার কারণ:
- এ মহাবিশ্বে যা কিছু আছে তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
- একটি ভাগে আছে পদার্থ যাদের ওজন বা ভর আছে, জায়গা দখল করে এবং বল প্রয়োগে বাধা দেয়।
- দুই বা ততোধিক পদার্থকে যে কোনো অনুপাতে একত্রে মিশ্রিত করলে যদি তারা নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে, তবে উক্ত সমাবেশকে মিশ্রণ বলা হয়।
- বায়ু একটি মিশ্র পদার্থ, কারণ বায়ুতে এর উপাদানসমূহ যেমন- নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি নিজ নিজ ধর্ম বজায় রেখে পাশাপাশি অবস্থান করে।

অন্যদিকে,
- তাপ, বিদ্যুৎ এবং আলো হলো শক্তির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৯৫৩.
পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন অনুপাত কত?
  1. ২:১
  2. ১:২
  3. ১:৫
  4. ১:১
ব্যাখ্যা
- পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 1 : 2  ।  

যৌগিক পদার্থ:
- যে সকল পদার্থকে ভাঙলে দুই বা দুইয়ের অধিক মৌল পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে।
- যৌগের মধ্যে মৌলসমূহের সংখ্যার অনুপাত সব সময় একই থাকে।
যেমন -
- যেখান থেকেই পানির নমুনা সংগ্রহ করা হোক না কেন রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলে সব সময় দুই ভাগ হাইড্রোজেন এবং এক ভাগ অক্সিজেন পাওয়া যাবে।
অর্থাৎ, পানিতে অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের পরমাণুর সংখ্যার অনুপাত 1 : 2 । 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৪.
হীরক ও গ্রাফাইটের মূল উপাদান কি?
  1. ক) কার্বন
  2. খ) ভূসা কালি
  3. গ) কোক
  4. ঘ) গ্রাফিন
ব্যাখ্যা
- একই মৌল প্রকৃতিতে বিভিন্ন ভৌত গুণাগুণ প্রদর্শন করে কিন্তু রাসায়নিক ধর্মের তেমন কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না।
- অর্থাৎ কিছু অধাতব মৌলের রাসায়নিক গুণাগুণ মোটামুটি অভিন্ন হলেও ভৌত ধর্মের মধ্যে বিভিন্নতা থাকে।
- এইসব পদার্থ বা মৌলগুলোকেই বহুরূপী মৌল বলে এবং মৌলের এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় বহুরূপতা।
- উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, গ্রাফাইট ও হিরক একই মৌল কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও এদের ভৌত ধর্ম এবং রাসায়নিক ধর্মে পার্থক্য বিদ্যমান।
- অর্থাৎ হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ। শুধু তাই নয়; প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।

উৎস : সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৫.
Liquefied Petroleum Gas এর প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক) মিথেন ও অকটেন
  2. খ) অকটেন ও বিউটেন
  3. গ) প্রোপেন ও বিউটেন
  4. ঘ) মিথেন ও ডেকেন
ব্যাখ্যা
- এলপি গ্যাসের মূল উপাদান: প্রোপেন ও বিউটেন। 
- এলপি গ্যাসের পূর্ণরূপ: Liquefied Petroleum Gas (LPG)

Liquefied Petroleum Gas (LPG), also called LP gas, any of several liquid mixtures of the volatile hydrocarbons propene, propane, butene, and butane. It was used as early as 1860 for a portable fuel source, and its production and consumption for both domestic and industrial use have expanded ever since. 
 
উৎস: প্রথম আলো, ব্রিটানিকা
৯৫৬.
একই আণবিক সংকেত থাকলেও গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগগুলি একে অপরের —
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা
• আইসোমার:
- আণবিক সংকেত এক কিন্তু গাঠনিক সংকেত ভিন্ন এমন যৌগদ্বয়কে পরস্পরের আইসোমার বলা হয়।
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই, কিন্তু শক্তি অবস্থা ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।
- প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই , 'পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও সমান হবে। 

অপশন আলোচনা:
• আইসোবার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে।
-  প্রোটন + নিউট্রন =  ভরসংখ্যা, তাই 'ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ' এই ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যাও ভিন্ন হবে। 

• আইসোটোন:
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

• আইসোটোপ:
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- এইসব ক্ষেত্রে নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৫৭.
'স্ফুটনাঙ্ক' এর সাহায্যে কোন পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা যায়?
  1. ক) তরল
  2. খ) গ্যাসীয়
  3. গ) কঠিন
  4. ঘ) প্লাজমা
ব্যাখ্যা
- স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।
- গলনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
৯৫৮.
পদার্থের বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হয় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) গলনাঙ্ক 
  2. খ) স্ফুটনাঙ্ক
  3. গ) ঘনীভবন
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না।

একইভাবে তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়।

প্রশ্নে যেহেতু তরল বা কঠিন উল্লেখ করে বলা হয় নি তাই সঠিক উত্তর হিসেবে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক দুইটিই গ্রহণ করতে হবে।

উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - রসায়ন বোর্ড বই।
৯৫৯.
ক্রায়োলাইট কোন ধাতুর আকরিক?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধাতুর আকরিক:
- অ্যালুমিনিয়ামের আকরিক: বক্সাইট, কোরান্ডাম, ক্রায়োলাইট ইত্যাদি।
- সোডিয়ামের আকরিক: রকসল্ট, চিলি সল্টপিটার, ন্যাট্রোন, বোরাক্স ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের আকরিক: চুনাপাথর, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
- আয়রনের আকরিক: ম্যাগনেটাইট, হেমাটাইট, আয়রন পাইরাইটস, লিমোনাইট ইত্যাদি।
- লেড এর আকরিক-গ্যালেনা (PbS)
- পটাসিয়ামের আকরিক হলো সল্টপিটার (KNO₃)

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬০.
মুদ্রা ধাতু নিচের কোনটি?
  1. Cu
  2. Ca
  3. Na
  4. Mg
ব্যাখ্যা
ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 
- দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। 
- বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬১.
কোন লবণটি পানিতে দ্রবীভূত হয় না? 
  1. অ্যামোনিয়াম ফসফেট
  2. সিলভার ক্লোরাইড
  3. পটাসিয়াম নাইট্রেট
  4. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
লবণ: 
- অনেক লবণ খাদ্যের স্বাদ বাড়িয়ে খাওয়ার উপযোগী করে তোলে। 
যেমন- 
• সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), 
• সোডিয়াম গ্লুটামেট (C5H8NO4Na) লবণ। 

- প্রায় সব লবণই পানিতে দ্রবণীয় তবে কিছু কিছু লবণ আছে যা পানিতে দ্রবীভূত হয় না। 
যেমন- 
• ক্যালসিয়াম কার্বোনেট (CaCO3), 
• সিলভার সালফেট (Ag2SO4), 
সিলভার ক্লোরাইড (AgCl) ইত্যাদি। 

- মাটির এসিডিটি নিষ্ক্রিয় করার জন্যও লবণ ব্যবহার করা হয়। 
যেমন - 
• চুনাপাথর (CaCO3) । 

- আবার মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য যে সার ব্যবহার করা হয় তার বেশির ভাগই লবণ।
যেমন - 
• অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ((NH4)NO3), 
• অ্যামোনিয়াম ফসফেট ((NH4)3PO4), 
• পটাসিয়াম নাইট্রেট (KNO3) ইত্যাদি। 

- কৃষিজমিতে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কিছু লবণ ব্যবহার করা হয় যা শৈবালের উৎপাদন বন্ধে খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 
যেমন- 
• তুঁতে বা কপার সালফেট (CuSO4) । 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬২.
যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের -
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোটোপ
ব্যাখ্যা

• পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic Number):
- কোনো মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

• আইসোটোপ (Isotope):
- একই মৌলের একাধিক ভর সংখ্যাবিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলিকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- যে সকল পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 
- নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন হওয়ার কারণে এদের ভর সংখ্যা ভিন্ন হয়। 

• আইসোটোন (Isotone):
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।

• আইসোবার (Isober):
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান তাদেরকে বলা হয় আইসোবার।
- এদের ভর সংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৩.
কোনো মৌলের ধর্ম মৌলের কোনটির উপর নির্ভর করে? 
  1. ভর সংখ্যা
  2. প্রকৃত ভর সংখ্যা
  3. প্রকৃত আধান সংখ্যা
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন, ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি পরমাণুর স্থায়ী কণিকা। 
- পরমাণুর কণিকাগুলো বিভিন্ন সংখ্যায় একত্রিত হয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরমাণু সৃষ্টি করে। 
- মৌলিক কণিকাগুলোর আধান এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভর খুব সামান্য। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। 
- নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে, আর প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসে অবস্থান করে। 

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে উপস্থিত প্রোটনের সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Atomic number) বলে। 
- মৌলের ধর্ম মৌলের পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে, পারমাণবিক সংখ্যাই মৌলের মৌলিক ধর্ম (Fundamental property)। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে চারদিকে বিভিন্ন শক্তিস্তরে ইলেকট্রনসমূহ নিজস্ব শক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান নিয়ে ঘুরতে থাকে। 
- ইহাকে Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
যেমন- হাইড্রোজেন (H) পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 1 টি প্রোটন আছে, কাজেই উহার পারমাণবিক সংখ্যা 1 । আবার, কার্বনের পরমাণুতে 6টি প্রোটন আছে, বিধায় কার্বনের পারমাণবিক সংখ্যা 6 । কার্বন পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 6 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা 6 টি। 

ভর সংখ্যা: 
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যাকে ঐ পরমাণুর ভর সংখ্যা বলা হয়। 
- ইলেকট্রনের ভর প্রায় শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম ধাতুর পরমাণুতে প্রোটন সংখ্যা 11 টি এবং নিউট্রন সংখ্যা হল 12 টি। তাই সোডিয়ামের ভর সংখ্যা 23 । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৪.
কোনটি ভিনেগারের মূল উপাদান? 
  1. লবণ 
  2. ইথানল 
  3. ইথানয়িক এসিড 
  4. সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড 
ব্যাখ্যা

সিরকা বা ভিনেগার: 
- ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। 
- ভিনেগার তরল পদার্থ। 
- সাধারণত আচার তৈরি করার সময় ভিনেগার যোগ করা হয়। 

ভিনেগারের প্রস্তুতি: 
- 25°C-35°C তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল (CH3CH2OH) এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড (CH3COOH) প্রস্তুত হয়। 
- অ্যাসিটোব্যাকটর (Acetobacter) ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে। 
• CH3CH2OH + O2 → CH3COOH + H2

খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের ভূমিকা: 
- ভিনেগারের মূল উপাদান ইথানয়িক এসিড। 
- ভিনেগারকে যখন আচারের মধ্যে দেওয়া হয় তখন ইথানয়িক এসিড কর্তৃক ত্যাগকৃত প্রোটন, H+ ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং খাদ্য দীর্ঘকাল ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পায়, এভাবে ভিনেগার দিয়ে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৬৫.
নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে কোনটির উপস্থিতি জানা যায়?
  1. ক) বায়বীয় পদার্থের
  2. খ) তরল পদার্থের
  3. গ) প্লাজমার
  4. ঘ) কঠিন পদার্থের
ব্যাখ্যা
প্লাজমা (plasma):
- অত্যধিক উচ্চ তাপমাত্রায় যেমন 104 – 105 K (কেলভিন) তাপমাত্রায় কোন কোন পদার্থ গ্যাসীয় অবস্থার পর তাদের পরমাণু থেকে ইলেকট্রন ত্যাগ করে আয়নিত অবস্থায় থাকে।
- গ্যাসীয় অবস্থার পর ধনাত্মক আয়ন ও ইলেকট্রনের পাশাপাশি সঞ্চরণশীল ও বিদ্যুৎ নিরপেক্ষরূপে থাকার পদার্থের এরূপ অবস্থাকে প্লাজমা অবস্থা বলে।
- নিউক্লিয়ার ফিউশান (fusion) গবেষণার ক্ষেত্রে, বিভিন্ন নক্ষত্র ও সূর্যের পরিমণ্ডলে প্লাজমার উপস্থিতি জানা যায়। 
- সূর্যের তাপমাত্রা প্রায় এক কোটি কেলভিন, 107 K।
- হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ফিউশান প্রক্রিয়ায় এ তাপমাত্রা সৃষ্টি হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯৬৬.
কোনটি জারক পদার্থ নয়?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) ফ্লোরিন
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
• জারণ হলো এক প্রকারের বিক্রিয়া যাতে কোনো রাসায়নিক সত্তা (অণু, পরমাণু, মূলক বা আয়ন) ইলেকট্রন প্রদান করে।
- জারণ বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে যে সত্তা তাকে বিজারক ও যার দ্বারা জারণ সংঘটিত হয় তাকে জারক বলে।
- যে পদার্থটির জারণ ঘটে, তা জারিত হয়েছে বলা হয়।

• জারক মনে রাখার উপায়:-
সকল পারঅক্সাইড,অক্সি এসিড,ক্যাটায়ন,ইক্ লবণ,আক্সিজেন, ওযোন গ্যাস, হ্যালোজেন ও রাজঅম্ল জারক। FeSO4 বাদে অক্সিজেনেরর প্রাচুর্য আছে এমন সকল যৌগ জারক।

• বিজারক মনে রাখার উপায় :-
সকল আস্ লবণ,ধাতু,C ও CO ও হাইড্রোজেন বিজারক।

তাছাড়া H2O2, SO2, O3 তিনটি পদার্থে জারক, বিজারক দুইটা ধর্মই আছে।
৯৬৭.
নিচের কোনটি প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
  3. গ) লেড সঞ্চয়ী কোষ
  4. ঘ) এসিড স্টোরেজ কোষ
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।

সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

তথ্যসূত্র - উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৯৬৮.
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া একটি-
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. যুগপৎ বিক্রিয়া
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
- জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়া Cl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

- এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
৯৬৯.
কোন পানিতে অক্সিজেনের পরিমান বেশি? 
  1. ক) পুকুর 
  2. খ) নদী 
  3. গ) সমুদ্র 
  4. ঘ) লেকের 
ব্যাখ্যা
১৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ রসায়নবিদ জোসেফ প্রিস্টলে অক্সিজেন (অম্লজান) আবিষ্কার করেন। অক্সিজেন কথাটির অর্থ অম্ল উৎপাদক।

জলজ প্রাণির জীবন ধারণের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় অক্সিজেনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা এবং লবণাক্ততা বেড়ে গেলে পানিতে অক্সিজেনের কমে যায় । এজন্য সাগরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ স্বাদু পানি ( যেমন- নদী লেকের পানি) অপেক্ষা কম হয়।
প্রবহমান পানিতে (যেমন- ঝর্ণা, নদীতে) আবদ্ধ জলাশ পুকুর, হ্রস) অপেক্ষা অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকে।
৯৭০.
pH স্কেলে pH এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Preference of hydrogen
  2. Petroleum of hydrogen
  3. Potenz of hydrogen
  4. Permanent of hydrogen
ব্যাখ্যা
pH স্কেল: 
- কোনো এসিড দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। একইভাবে কোনো ক্ষার দ্রবণের শক্তি দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) এর গাঢ়ত্বের উপর নির্ভর করে। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যদি বেশি হয়, তবে তা সবল এসিড, আর যদি কম হয় তবে তা দুর্বল এসিড। 
- ক্ষারের ক্ষেত্রে একই বিষয় প্রযোজ্য, তবে সেটি হাইড্রোক্সিল আয়নের ঘনমাত্রার উপর। 
- কিন্তু এসিড যদি খুবই লঘু হয় অথবা ক্ষার দ্রবণটি যদি খুবই লঘু হয়, তবে সেক্ষেত্রে H+ আয়ন অথবা OH- আয়নের ঘনমাত্রা 10 এর ঋণাত্বক ঘাত দ্বারা প্রকাশ করতে হয়। 
- বিষয়টিকে আরো সহজ করার জন্য বিজ্ঞানী সোরেনসেখ দ্রবণের H+ আয়নের ঘনমাত্রা pH দ্বারা প্রকাশ করার পদ্ধতি প্রচলন করেন। 
- pH এর অর্থ হলো Potenz of hydrogen; potenz জার্মান শব্দ, এর অর্থ ক্ষমতা। 
- কোনো দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) এর ঘনমাত্রার ঋণাত্মক লগারিদম মানকে ঐ দ্রবণের pH বলে। 
অর্থাৎ, pH = - log[H+


- pH মিটার দ্বারা দ্রবণের pH মানকে মাপা হয়। 
- pH মিটারের pH স্কেল থাকে। 
- দ্রবণের pH মান 0 থেকে 14 এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। 
- দ্রবণের pH মান যদি 7 অপেক্ষা কম হয় তবে দ্রবণটি হবে এসিড, 7 অপেক্ষা বেশী হলে দ্রবণটি ক্ষার এবং ঠিকঠিক 7 এর সমান হলে দ্রবণটি প্রশমন হয়। 
- দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হলে ঐ দ্রবণে নীল লিটমাস লাল বর্ণ ধারণ করে। আর যদি দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয় তবে ঐ দ্রবণে লাল লিটমাস নীলবর্ণে পরিবর্তিত হয়। এভাবে লিটমাস কাগজ অথবা লিটমাস দ্রবণ ব্যবহার করেও ঐ দ্রবণের pH মান 7 এর উপরে না নীচে তা নির্ধারণ করা যায়। 
- তবে দ্রবণের সঠিক pH মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে pH মিটারের সাহায্য নেয়া হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭১.
কোনটি ক্ষার ধাতু?
  1. লিথিয়াম 
  2. ম্যাগনেসিয়াম
  3. বেরিলিয়াম 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল, দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে, এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। 
- মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭২.
অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  2. সিলভার কার্বনেট
  3. সোডিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম সালফেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৩.
নিচের কোনটি ইলেকট্রনের সঠিক শক্তির ক্রম? 
  1. 3s < 2p < 4s
  2. 2p < 1s < 3s
  3. 1s < 2s < 2p
  4. 4s < 2p < 3d
ব্যাখ্যা
পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের নীতি: 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন বিন্যাসের তিনটি নীতি আছে। 
যেমন- ১) পাওলির বর্জন নীতি, ২) আউফ-বাউ নীতি এবং ৩) হুন্ডস এর সূত্র। 
- পরমাণুতে ইলেকট্রন প্রথমে সর্বনিম্ন শক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে এবং পরে ক্রমান্বয়ে উচ্চশক্তির অরবিটালে প্রবেশ করে। 
অর্থাৎ, যে অরবিটালের শক্তি কম সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে এবং যে অরবিটালের শক্তি বেশি সেই অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- অরবিটালের মধ্যে কোনোটির শক্তি কম আর কোনোটির শক্তি বেশি তা অরবিটাল দুটির প্রধান শক্তিস্তরের মান (n) এবং উপশক্তিস্তরের মান (l) এর যোগফলের উপর নির্ভর করে। 
- যে অরবিটালের (n + l) এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে (n + l) এর মান যে অরবিটালের বেশি তার শক্তিও বেশি এবং সেই অরবিটালেই ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d অরবিটালের জন্য n = 3 এবং l = 2, অতএব n + l এর মান 3 + 2 = 5; আবার 4s অরবিটালের জন্য n = 4 এবং l = 0, অতএব n + l এর মান 4 + 0 = 4. কাজেই 3d অরবিটালের চেয়ে 4s অরবিটাল কম শক্তিসম্পন্ন। তাই ইলেকট্রন প্রথমে 4s অরবিটালে এবং পরে 3d অরবিটালে প্রবেশ করবে। 

- আবার, দুটি অরবিটালের (n + l) এর মান যদি সমান হয় তাহলে যে অরবিটালটিতে n এর মান কম সেই অরবিটালের শক্তি কম হবে এবং সেই অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
যেমন- 3d ও 4p এর n + l এর মান যথাক্রমে 3 + 2 = 5 এবং 4 + 1 = 5 কিন্তু যেহেতু 3d অরবিটালে n এর মান কম, তাই এ অরবিটালের শক্তি কম এবং এ অরবিটালে ইলেকট্রন আগে প্রবেশ করবে। 
- অপরদিকে 4p অরবিটালে n এর মান বেশি হওয়ায় এর শক্তি 3d এর চেয়ে বেশি। তাই এ অরবিটালে ইলেকট্রন পরে প্রবেশ করবে। 
- এ হিসাব অনুযায়ী পরমাণুর অরবিটালের ক্রমবর্ধমান শক্তি হবে: 1s < 2s < 2p < 3s < 3p < 4s < 3d < 4p < 5s < 4d < 5p < 6s < 4f < 5d < 6p < 7s < 5f < 6d < 7p < 8s. 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৪.
কেলাসিত পদার্থ নয় কোনটি? 
  1. তামা
  2. মাইকা
  3. কোয়ার্টজ
  4. সালফার
ব্যাখ্যা
কেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ও নিয়মিত ভাবে সুসজ্জিত থাকে, তাকে কেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- কেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কোয়ার্টজ, মাইকা, চিনি, তামা, সোডিয়াম ক্লোরাইড ইত্যাদি। 

কেলাসিত পদার্থর বৈশিষ্ট্য: 
১. কেলাসিত পদার্থতে অণু বা পরমাণুগুলো নির্দিষ্ট ক্রমে সুসজ্জিত থাকে।
২. কেলাসিত পদার্থগুলো সমতল তল দ্বারা আবদ্ধ থাকে।
৩. কেলাসিত পদার্থ হলো অসমসত্ত্বক। কেলাসিত পদার্থের ভৌত ধর্ম অর্থাৎ‍ তাপীয় পরিবাহিতা, তড়িৎ পরিবাহিতা, সঙ্কোচনশীলতা ইত্যাদি বিভিন্ন দিকে বিভিন্ন।
৪. কেলাসিত পদার্থগুলো সুষম রাসায়নিক যৌগ দিয়ে গঠিত।
৫. কেলাসিত পদার্থের নির্দিষ্ট গলনাঙ্ক আছে অর্থাৎ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হঠাৎ তরলে রূপান্তরিত হয়।

অকেলাসিত পদার্থ: 
- যে সকল কঠিন বস্তুর অণু ও পরমাণুগুলো অনির্দিষ্ট ও অনিয়মিত ভাবে সজ্জিত থাকে তাকে অকেলাসিত কঠিন বস্তু বলে। 
- অকেলাসিত কঠিন বস্তুর কয়েকটি উদাহরণ হলো- কাচ, রাবার, সালফার ইত্যাদি।  

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৫.
দেহের হাড় বৃদ্ধিজনিত চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. Isotope of Plutonium
  2. Isotope of Phosphorus
  3. Isotope of Technetium
  4. Isotope of Iodine
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার : চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। যেমন,
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়

i. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
ii. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131I ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে
iii. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা(blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
iv. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 99m Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়
v. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।
 
উৎস: রসায়ন ১ম পত্র , এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৬.
এর ইলেকট্রন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১৩ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
পরমাণুর গঠন: 
- পরমানুর কেন্দ্রে থাকে নিউক্লিয়াস।
- নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে কিছু বৃত্তাকার কক্ষপথ থাকে।

পরমাণুর কণিকা:
- পরমাণুর স্থায়ী কণিকা তিনটি। 
i) ইলেকট্রন
ii) প্রোটন
iii) নিউট্রন
- প্রোটন ও নিউট্রন নিউক্লিয়াসের ভিতর অবস্থান করে।
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বৃত্তাকার কক্ষপথে ঘুরে।

পারমানবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা: 
- পরমাণুতে অবস্থিত প্রোটন সংখ্যাই পারমানবিক সংখ্যা।
- নিউক্লিয়াসে অবস্থিত প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যার সমষ্টিই ভর সংখ্যা।
- পরমাণুর প্রতীকের বাম পাশে উপরে ভর সংখ্যা এবং নিচে পারমানবিক সংখ্যা লিখে প্রকাশ করা হয়।

মৌল ও আয়ন: 
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে তাদেরকে মৌল বলে।
- আয়নে প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে না।
- যদি ইলেকট্রন সংখ্যার ঘাটতি ঘটে তাহলে ধনাত্মক আয়নে রূপান্তরিত হয়।
- ইলেকট্রন সংখ্যা বেশি হলে ঋণাত্মক হয়।

প্রদত্ত আয়নের ক্ষেত্রে,
পারমানবিক সংখ্যা = ১১
ভর সংখ্যা = ২৩
আধান = + 
অর্থাৎ আয়নে ইলেকট্রন সংখ্যা ঘাটতি। একটি ধনাত্মক চিহ্ন অর্থাৎ একটি ইলেকট্রন কম।
∴ উক্ত আয়নে ইলেকট্রনের সংখ্যা = ১১ - ১ = ১০ টি।

উৎস: মাধ্যমিকের রসায়ন বই।
৯৭৭.
উদ্বায়ী পদার্থ নয় নিম্নের কোনটি?
  1. নিশাদল
  2. অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড
  3. আয়োডিন
  4. গ্লিসারিন
ব্যাখ্যা

- গ্লিসারিন একটি অ-উদ্বায়ী (non-volatile) পদার্থ। এর স্ফুটনাঙ্ক বেশি এবং বাষ্পের চাপ কম, তাই এটি সহজেই গ্যাসের আকারে বাষ্পীভূত হয় না। গ্লিসারিন হচ্ছে সাবান তৈরির সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া যায়। 

উদ্বায়ী পদার্থ: 

- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে এগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়। 
- এই উল্লিখিত পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৭৮.
রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়। এর প্রধান কারণ -
  1. এটি হালকা ও দামে সস্তা
  2. এটি সব দেশেই পাওয়া যায়
  3. এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়
  4. এটি সহজে ভেঙ্গে যায় না এবং বেশি গরম সহ্য করতে পারে
ব্যাখ্যা
- রান্না করার হাড়ি পাতিল সাধারণত এলুমিনিয়ামের তৈরি হয়।
- এর প্রধান কারণ হলো এতে দ্রুত তাপ সঞ্চারিত হয়ে খাদ্যদ্রব্য তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়।
- এলুমিনিয়াম হালকা এবং দামে সস্তা হলেও, এর তাপ পরিবাহিতা খুব ভালো হওয়ায় এটি রান্নার পাত্র হিসেবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- এটি তাপকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয় এবং খাদ্য দ্রব্য দ্রুত সিদ্ধ করতে সহায়তা করে।
- এলুমিনিয়াম তাপ সুপরিবাহী পদার্থ।

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৯৭৯.
এসিড বৃষ্টি হয় বাতাসে -
  1. ক) কার্বন ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  2. খ) সালফার ডাই-অক্সাইড এর আধিক্যে
  3. গ) নাট্রাস অক্সাইড এর আধিক্যে
  4. ঘ) ক ও খ উভয়েই ঠিক
ব্যাখ্যা
কোন ভাবেই কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনো অক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারন নয়।
যেমন কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) দূর্বল কার্বনিক এসিড (H2CO3) তৈরি করে যা এসিড বৃষ্টি তৈরি করতে পারে না।
এসিড বৃষ্টির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্য থেকে থাকে। আর এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারন মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইড সমূহ (NO, NO2); এবং এই গ্যাস গুলো দ্বারা সৃষ্ট শক্তিশালী সালফিউরিক এসিড (H2SO4 এবং নাইট্রিক এসিড (HNO3)।
আশা করি এসিড বৃষ্টি নিয়ে আর কোন কনফিউশন নেই।
ধন্যবাদ।
তথ্য সূত্রঃ রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, হাজারী এবং নাগ।
৯৮০.
একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা-
  1. ক) শূন্য
  2. খ) কম
  3. গ) বেশি
  4. ঘ) একই
ব্যাখ্যা
- সাধারণ বিদ্যুৎ কোষ থেকে বেশ কিছু সময় ধরে তড়িৎ প্রবাহ গ্রহণ করলে এদের তড়িচ্চালক বল ক্রমশ কমতে থাকে। 
- যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে প্রমিতকরণ কাজ সম্পন্ন করা যায় তাকে প্রমাণ বা আদর্শ কোষ বলে। যেমন: ওয়েস্টান-ক্যাডমিয়াম ও ল্যাটিমার ক্লার্ক কোষ এ ধরনের কোষ।
অর্থাৎ যে তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বলের মান সর্বদা একই থাকে এবং যার সাহায্যে অন্য তড়িৎ কোষের বিদ্যুচ্চালক বলের তুলনা করা হয়, তাকে প্রমাণ বা আদর্শ তড়িৎ কোষ বলে।
- একটি আদর্শ তড়িৎ কোষের তড়িচ্চালক বল সর্বদা একই থাকে। 

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৮১.
ইলেকট্রনের ভর কত?
  1. 9.11 × 10-28
  2. 1.67 × 10-24 g
  3. -1.6 × 10-19 C
  4. -9.11 × 10-28
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) 9.11 × 10⁻²⁸ g 

ইলেকট্রন

- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা।
- এটি সব মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান।
- ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত সামান্য।
- ইলেকট্রনের সংকেত হলো e।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত ভর ৯.১১০×১০-২৮ গ্রাম এবং প্রকৃত আধান - ১.৬০×১০-১৯ কুলম্ব।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান হলো - ১।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন হলো একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮২.
বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সার এর কাঁচামাল-
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) LNG
  3. গ) বিটুমিনাস কয়লা
  4. ঘ) খনিজ তেল
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস মিথেন ব্যবহার করা হয় শতকরা ২১ ভাগ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৯৮৩.
হীরক সম্পর্কে কোন তথ্যটি ভুল?
  1. হীরক কার্বনের একটি রূপ।
  2. আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।
  3. হীরকে আলোর পূর্ণ অভ্যন্তরীন প্রতিফলন সম্ভব নয়।
  4. হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।
ব্যাখ্যা
• হীরক:
- হীরক কার্বনের একটি রূপ।  
- আসল হীরকের মধ্য দিয়ে রঞ্জনরশ্মি যেতে পারে না।  
- পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের জন্য হীরক উজ্জ্বল দেখায়।
- হীরক ও গ্রাফাইট হলো কার্বনের রূপভেদ প্রকৃতিতে কার্বন বিভিন্ন রূপে পাওয়া যায়।
- হীরক বর্ণহীন, স্বচ্ছ, উজ্জ্বল, স্ফটিকাকার পদার্থ।
- হীরক তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৯৮৪.
ইলেকট্রোপ্লেটিং-এ যে ধাতুর উপর প্রলেপ দেওয়া হয়, তা যুক্ত থাকে- 
  1. গ্রাউন্ড লাইনে
  2. কেবল ব্যাটারির মধ্যে
  3. ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তে
  4. ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রোপ্লেটিং: 
- সাধারণত তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটি ধাতুর উপর আরেকটি ধাতুর প্রলেপ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। 
- এক্ষেত্রে যে ধাতু দিয়ে প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- যে ধাতুর উপর প্রলেপ দিতে হবে তাকে ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত করা হয়। 
- এরপর তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে ইলেকট্রোপ্লেটিং করা হয়। 

গ্যালভানাইজিং: 
- যেকোনো ধাতুর উপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে গ্যালভানাইজিং বলে। 
- এক্ষেত্রে তড়িৎ বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। 
- কোনো ধাতুর উপর যেকোনোভাবে জিংকের প্রলেপ দিয়ে গ্যালভানাইজিং করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৫.
ক্ষারক এর ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড।
  2. সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয়।
  3. সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।
  4. ক্ষার হলো বিশেষ ধরনে ক্ষারক।
ব্যাখ্যা
ক্ষারক:

- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।
- সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2, এগুলো ক্ষার। এদেরকে কিন্তু ক্ষারকও বলা যায়।
- পক্ষান্তরে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড কিন্তু পানিতে দ্রবীভূত হয় না। তাই এটি একটি ক্ষারক হলেও ক্ষার নয়।
- সুতরাং সকল ক্ষার ক্ষারক হলেও সকল ক্ষারক কিন্তু ক্ষার নয়।

তথ্যসূত্র - সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৯৮৬.
তড়িৎ প্রলেপনে যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে কী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) দ্রব
  2. খ) ক্যাথোড
  3. গ) অ্যানোড
  4. ঘ) তড়িৎ বিশ্লেষ্য
ব্যাখ্যা
তড়িৎ প্রলেপন
- তড়িৎ বিশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সুবিধামতো কোনো ধাতুর উপর অন্য কোনো ধাতুর প্রলেপ দেয়াকে তড়িৎ প্রলেপন বলে।
- সাধারণত কোনো ধাতু যেমন: তামা, লোহা, ব্রোঞ্জ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি জিনিসকে মরিচা থেকে রক্ষা করার এবং সুন্দর দেখানোর জন্য এদের উপর কখনো সোনা, রূপা, নিকেল ইত্যাদি মূল্যবান ধাতুর প্রলেপ দেয়া হয়।
- যে বস্তুটির ওপর প্রলেপ দিতে হবে সে বস্তুটিকে খুব ভালোভাবে ধুঁয়ে একটি ভোল্টমিটারের ক্যাথোড এবং যে ধাতুর প্রলেপ দিতে হবে তাকে অ্যানোড করা হয়। 
- প্রলেপ দিতে হবে এমন ধাতুর কোনো লবণের দ্রবণ তড়িৎ দ্রব হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- এখন ভোল্টমিটারের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহ চালনা করলে ধাতুর তড়িৎ বিশ্লেষণের ফলে ক্যাথোড রাখা বস্তুটির ওপর ধাতুর প্রলেপ পড়ে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৭.
অক্সিজেন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. বিজারক
  2. জারণ
  3. জারক
  4. ধনাত্মক
ব্যাখ্যা

• যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে বিজারক বলে। আর ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
• যেমন- সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

• আবার যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে। আর ইলেক্ট্রন গ্রহনের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
• যেমন- অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

উৎসঃ রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৮৮.
Which of the following minerals is found at Jamalganj in Joypurhat district?
  1. Coal
  2. White Clayy
  3. Lime stone
  4. Hard rock
  5. None of these
ব্যাখ্যা
কয়লাক্ষেত্র: 
- ১৯৬২ সালে জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে দেশের সর্বপ্রথম কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।  
- এটিতে কয়লার আনুমানিক মজুদের পরিমাণ ১০৫৪ মেট্রিক টন। 
- গভীরতা: ৬৪০-১১৫৮ মিটার। 
- গভীরতা বেশি হওয়ায় জামালগঞ্জ খনি থেকে এখনো কয়লা উত্তোলন শুরু হয়নি। 
- দেশে একমাত্র দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলিত হচ্ছে। 

দেশের কয়লা খনিসমূহ: 
• বড়পুকুরিয়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৫। 
• দীঘিপাড়া: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৯৫। 
• ফুলবাড়ী: দিনাজপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৮৯। 
• খালাসপীর: রংপুর, আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: বি.এইচ.পি মিনারেলস, ১৯৯৭। 
• জামালগঞ্জ: আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জয়পুরহাট, জিএসবি, ১৯৬২। 

উৎস: খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৯৮৯.
নিচের কোনটি মৃদু ক্ষার?
  1. ক) ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. খ) পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  3. গ) অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  4. ঘ) সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড
ব্যাখ্যা
ক্ষার:
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে।
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে।
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH) দান করে।

তীব্র ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয় তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়।
- যেমন: সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH), পটাসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (KOH), ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড Ca(OH)2 ইত্যাদি।

মৃদু ক্ষার:
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়। তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়।
- যেমন: অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH), আয়রন (ii) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)2, আয়রন (iii) হাইড্রোক্সাইড Fe(OH)3, অ্যালুমিনিয়াম (iii) হাইড্রোক্সাইড Al(OH), ইত্যাদি। ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে।
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়।

তথ্যসূত্র - রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯০.
কত সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে মডেল প্রদান করেন?
  1. ক) ১৯০৮ সাল
  2. খ) ১৯১১ সাল
  3. গ) ১৯১৮ সাল
  4. ঘ) ১৯২১ সাল
ব্যাখ্যা
রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল:

- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন।
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সোলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে।
- এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়।
- রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

তথ্যসূত্র - রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৯১.
পাকা কমলায় কোন ধরনের এস্টার থাকে?
  1. মিথাইল বিউটারেট
  2. অ্যামাইল অ্যাসিটেড
  3. ইথাইল বিউটারেট
  4. অকটাইল অ্যাসিটেড
ব্যাখ্যা
- এস্টার হলো জৈব কার্বক্সিলিক এসিডের একটি জাতক।
- এস্টার বিভিন্ন ফুল ও ফলের মিষ্টি গন্ধের জন্য দায়ী।
- পাকা কমলায় অকটাইল অ্যাসিটেড,
- পাকা আনারসে ইথাইল বিউটারেট,
- পাকা কলায় অ্যামাইল অ্যাসিটেড,
- নাশপাতিতে ৩-মিথাইল বিউটাইল ইথানোয়েট এস্টার বিদ্যমান থাকে।
৯৯২.
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড কোনটি? 
  1. অলিয়িক এসিড
  2. অক্সালিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. লিনোলিক এসিড
ব্যাখ্যা
ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) প্রোপানোয়িক এসিড, 
(২) স্টিয়ারিক এসিড
(৩) পামিটিক এসিড। 

অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
(১) অক্সালিক এসিড, 
(২) অলিয়িক এসিড, 
(৩) লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৯৯৩.
নিচের কোন ধাতুটির পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা কম?
  1. অ্যালুমিনিয়াম
  2. সোডিয়াম
  3. ম্যাগনেসিয়াম
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পানি (H₂O) এর পারমাণবিক ভর ১৮ (1 পরমাণু হাইড্রোজেন = 1, 1 পরমাণু অক্সিজেন = 16)।
- অ্যালুমিনিয়াম (Al): পারমাণবিক ভর = 27।
- সোডিয়াম (Na): পারমাণবিক ভর = 23।
- ম্যাগনেসিয়াম (Mg): পারমাণবিক ভর = 24.3। 
• সুতরাং সবগুলো পদার্থের পারমানবিক ভর পানি অপেক্ষা বেশি।

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৯৯৪.
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ কী?
  1. ক) হীরক
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) কয়লা
  4. ঘ) প্রেট্রোল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস।
উৎসঃদৈনিক প্রথম আলো
৯৯৫.
মৃদু ক্ষার কী? 
  1. যে ক্ষার এসিডের মতো আচরণ করে
  2. যে ক্ষার পানিতে দ্রবণীয় নয়
  3. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণ আয়নিত হয়
  4. যে ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়
ব্যাখ্যা
ক্ষার: 
- ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল যৌগমূলকের যে সব হাইড্রোক্সাইড পানিতে দ্রবণীয় তাদেরকে ক্ষার বলে। 
- ক্ষার বা ক্ষারক এসিডকে প্রশমিত করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে। 

তীব্র ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত হয়, তাদেরকে তীব্র ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NaOH, KOH ও Ca(OH)2 ইত্যাদি। 

মৃদু ক্ষার: 
- যে সব ক্ষার জলীয় দ্রবণে আংশিক আয়নিত হয়, তাদেরকে মৃদু ক্ষার বলা হয়। 
যেমন: NH4OH, Fe(OH)2, Fe(OH)3 ও Al(OH)3 ইত্যাদি। 
- ক্ষার পানিতে দ্রবণীয়। 
- এর জলীয় দ্রবণ লাল লিটমাসকে নীল করে। 
- ক্ষারের জলীয় দ্রবণকে স্পর্শ করলে সাবানের ন্যায় পিচ্ছিল মনে হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৬.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের জন্য কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) কোবাল্ট-৬০
  2. খ) আয়োডিন-১৩১
  3. গ) ফসফরাস-৩২
  4. ঘ) কার্বন-১৪
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ:
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের মধ্যে কিছু আইসোটোপ সুস্থিত হলেও বেশির ভাগ আইসোটোপই অস্থিত। 
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক। 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়। 
- তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত রশ্মিসমূহ অধিক গতিসম্পন্ন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

কৃষি বিজ্ঞানে
- তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে উন্নত মানের বীজ উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। 
- এছাড়াও উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণের (32P) জন্য তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়

এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৭.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে কী ঘটে? 
  1. ইলেকট্রন গ্রহণ 
  2. ইলেকট্রন ত্যাগ 
  3. প্রোটন ত্যাগ 
  4. ইলেকট্রন নির্গমন 
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ রাসায়নিক কোষের তড়িৎদ্বারের ক্যাথোডে 'ইলেকট্রন গ্রহণ' ঘটে। 

তড়িৎদ্বার (Electrode): 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বিগলিত বা দ্রবীভূত তড়িৎ বিশ্লেষ্যের মধ্যে যে দুটি ইলেকট্রনীয় পরিবাহী অর্থাৎ ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ড অর্ধেক ডুবানো থাকে তাদেরকে তড়িৎদ্বার বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একটি তড়িৎদ্বারে পরমাণু বা ঋণাত্বক আয়ন ইলেকট্রন ত্যাগ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- অপর তড়িৎদ্বারে ধনাত্মক আয়ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে। 
অর্থাৎ, এ তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- সম্পূর্ণ কোষের মধ্যে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। 
- যে তড়িৎদ্বারে জারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার আর যে তড়িৎদ্বারে বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বলে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯৮.
নিউট্রনের অবস্থান -
  1. পরমাণুর নিউক্লিয়াসে
  2. পরমাণুর বাইরে
  3. পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে
  4. পরমাণুর ২য় প্রধান শক্তিস্তরে
ব্যাখ্যা
পদার্থ অতি ক্ষুদ্র কণাসমূহ দ্বারা গঠিত, এই কণাগুলোর নাম পরমাণু।
একই পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য একই রকম হয়,
ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের পরমাণুসমূহের আকার, ভর এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ভিন্নরকমের হয়।
পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং
পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেক্ট্রন থাকে।

[সূত্র -  রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। ]
৯৯৯.
তামা ও দস্তার মিশ্রণের ফলে সৃষ্ট সংকর ধাতু -
  1. ক) Babbitt Metal
  2. খ) Brass
  3. গ) Moncem Metal
  4. ঘ) Bronze
ব্যাখ্যা
গলিত জিঙ্কের (Zn) সাথে তামা (Cu) মিশিয়ে পিতল (Brass) তৈরী করা হয়৷
ব্রোঞ্জ তৈরী করার জন্য তামার সাথে টিন মেশাতে হয়৷
১,০০০.
হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল -
  1. HI > HBr > HCl > HF
  2. HCl > HF > HBr > HI
  3. HF > HCl > HBr > HI
  4. HBr > HF > HCl > HI
ব্যাখ্যা
হ্যালোজেন মৌল: 
- মৌলসমূহের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিশেষ নাম দেওয়া হয়েছিল। 
যেমন: ক্ষার ধাতু, মৃৎক্ষার ধাতু, মুদ্রা ধাতু, হ্যালোজেন, নিষ্ক্রিয় ধাতু ইত্যাদি। 

- পর্যায় সারণির গ্রুপ-17 এর 6 টি মৌলকে হ্যালোজেন (Halogen) মৌল বলে। 
যেমন: ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (At) এবং টেনেসিন (Ts)। 

- সকল হ্যালোজেন মৌলকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ। 

- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠিত হয়। 
যেমন: F এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ফ্লোরাইড লবণ কিংবা Cl এর সাথে Na যুক্ত হয়ে সোডিয়াম ক্লোরাইড লবণ (NaCl) বা খাদ্য লবণ গঠিত হয়। 
- হ্যালোজেন মৌলগুলো নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বি-মৌল অণু গঠন করে। যেমন: Cl2, I2 ইত্যাদি। 
- হ্যালোজেনের হাইড্রো-এসিডগুলোর শক্তি ক্রম হল - HI > HBr > HCl > HF.

Figure: ptable.com [লিংক]

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।