বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৭ / ২১১ · ৯,৬০১৯,৭০০ / ২১,১৩২

৯,৬০১.
আর্ত শব্দাবলী কাব্যগ্রন্তের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

- হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গ্রন্থ- আর্ত শব্দাবলী, শোকার্ত তরবারী, আধুনিক কবি ও কবিতা, আরো দুটি মৃত্যু ইত্যাদি৷

- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান। এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৬০২.
নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের পটভূমিতে 'নীলকর' কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. দিনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. হরিনাথ মজুমদার
  4. হরিশচন্দ্র মুখার্জী
ব্যাখ্যা

• 'নীলকর' কবিতা:
'সংবাদ প্রভাকর’ এ মহারাণী ভিক্টোরিয়াকে সম্বোধন করে ‘নীলকর’ নামে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। এই কবিতাটির মাধ্যমে তিনি সে সময়কার নীলকরদের শোষণ ও অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরেছেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী একটি প্রকাশ।

কবিতার কিছু অংশ হলো-

নীলকর
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
তুমি মা কল্পতরু, আমরা সব পোষা গরু
শিখিনি শিং বাকানো ,
কেবল খাব খোল বিচালী ঘাস।
যেন রাঙা আমলা, তুলে মামলা,
গামলা ভাঙ্গে না;
আমরা ভুসি পেলেই খুশি হব,
ঘুসি খেলে বাঁচব না।।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা
প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
--------------
• দিনবন্ধু মিত্র: তিনি সরাসরি কবিতা না লিখলেও, তাঁর নীলদর্পণ নাটকে নীলচাষীদের ওপর নীলকর সাহেবদের অমানবিক অত্যাচার ও শোষণের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন, যা পরবর্তীতে নীল বিদ্রোহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

• হরিনাথ মজুমদার (হালুয়াঘাটি কবি): তিনি গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা পত্রিকার মাধ্যমে নীলকরদের শোষণ ও কুসীদজীবীদের অত্যাচারের কাহিনী প্রকাশ করতেন। 

• হরিশচন্দ্র মুখার্জী: সিপাহী বিদ্রোহের পর হতে নীলকর আর নীলচাষ নিয়ে উঠে পড়ে লাগেন হরিশচন্দ্র মুখার্জী। তাঁর ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ এ নিয়মিত প্রচার হতো নীলকরদের অত্যাচারের খবর । খবর পাঠাতেন দীনবন্ধু মিত্র, কুমার খালির ‘কাঙাল হরিনাথ’ হরিনাথ মজুমদার, যশোরের শিশির কুমার ঘোষ প্রমুখ । ক্রমে কৃষকররা কোনভাবেই রাজী হচ্ছিলো না নীলচাষ করতে । ফলে ১৮৬০ এ ফের চালু হয় ‘নীল চাষ না করলে জেলে পুরার’ ১৮৩০ এর সেই পুরোনো কালাকানুন।

গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষকদের ধরে দলে দলে পুরা হয় জেলে। বিপন্ন কৃষকদের একান্ত ভরসা ছিল হরিশচন্দ্র আর আশ্রয়স্থল তাঁর গৃহ। দিনের পর দিন নীলকরদের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন তাঁর ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ মারফত। ‘হিন্দু পেট্রিয়ট’ এর ভূমিকায় নীলকর বিরোধী জনমত প্রবল হওয়াতে বিচলিত হয় ইংরাজ সরকার। এতো হৈচৈ পড়া নীলচাষের ভেতরের খবর জানতে সরকার বাধ্য হয় কমিশন গঠন করতে। ৩১শে মার্চ, ১৮৬০ এ গঠন হয় এই নীল কমিশন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'নীলকর' কবিতা।

৯,৬০৩.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি কত সালে প্রাকশিত?
  1. ১৮৭৪ সালে
  2. ১৮৭২ সালে
  3. ১৮৬২ সালে
  4. ১৮৬৬ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬০৪.
‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৮২০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণ, গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬০৫.
নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান-
  1. ক) কাঁঠালপাড়া
  2. খ) কাচড়াপাড়া
  3. গ) পায়রাবন্দ
  4. ঘ) বাউইগাছি
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকিয়া সাখাওয়াত হোসেন (১৮৮০-১৯৩২) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অন্তর্গত 'পায়রাবন্দ' গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক, নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত‌।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- 'পদ্মরাগ' তাঁর রচিত উপন্যাস।

তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম:
- সুলতানার স্বপ্ন (উপন্যাস, ইংরেজিতে রচিত)
- অবরোধবাসিনী
- মতিচুর (প্রবন্ধ)।

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬০৬.
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?'' চরণ দুটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) বঙ্গবাণী
  2. খ) বন্দনা
  3. গ) আমার দেশ
  4. ঘ) আদর্শ ছেলে
ব্যাখ্যা
• কুসুমকুমারী দাশ একজন বাঙালি মহিলা কবি। তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- কবিতা মুকুল।

- গদ্যগ্রন্থ- পৌরাণিক আখ্যায়িকা।
- তার আরেকটি পরিচয়, তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম উজ্জ্বল কবি জীবনান্দ দাশের মাতা।
- কুসুমকুমারী দাশের বিখ্যাত কবিতা আদর্শ ছেলে। তার রচিত এই কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করায় সর্বাধিক পরিচিত।

যার প্রথম দুই চরণ-
''আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?''

উৎস: বাংলাপিডিয়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬০৭.
'রক্তরাগ' কাব্যটি রচনা করেন কে?
  1. আসকার ইবনে শাইখ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা কবি ও লেখক।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা গোলাম রববানী এবং পিতামহ কাজী গোলাম সরোয়ার দুজনেই ছিলেন লোককবি।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।

• তাঁর কাব্য:  
- রক্তরাগ,  
- খোশরোজ, 
- কাব্য-কাহিনী, 
- সাহারা,  
- হাসনেহেনা, 
- বুলবুলিস্তান,  
- তারানা-ই-পাকিস্তান, 
- বনিআদম,  
- গীতিসঞ্চালন ইত্যাদি ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে  রয়েছে:
- বিশ্বনবী (১৯৪২),
- ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬),
- ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭),
- আমার চিন্তাধারা (১৯৫২),
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি।

- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।
- এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
- গোলাম মোস্তফার কাব্যের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ও শিল্পসম্মত প্রকাশভঙ্গি এবং ছন্দোলালিত্য।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬০৮.
আখতারুজ্জামান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. দোজখের ওম
  3. রেইনকোট
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
• খোয়াবনামা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের একটি বিখ্যাত উপন্যাস,
- ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, দেশভাগ এবং তেভাগা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে, গ্রামীণ জীবন, কৃষক সমাজের সংগ্রাম, এবং দেশভাগের ফলে সৃষ্ট সংকট ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
------------------------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস  : 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশী ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক, এবং অধ্যাপক। 
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• তঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই ,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর ,
- খোয়ারি ,
- দুধভাতে উৎপাত ,
- দোজখের ওম
- রেইনকোট।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬০৯.
'গোবিন্দলাল' কোন উপন্যাসের নায়ক?
  1. ক) গৃহদাহ
  2. খ) চোখের বালি
  3. গ) কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. ঘ) পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
- 'রোহিণী' চরিত্রটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায় রচিত ''কৃষ্ণকান্তের উইল'' উপন্যাসের চরিত্র।
- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্নিত হয়েছে এই উপন্যাসে। 
- রোহিণী স্বীয় ব্যর্থ যৌবনের হাহাকারে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলো। 

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- রাজসিংহ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬১০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. অকপটচন্দ্র ভাস্কর
  3. অনুপমা দেবী
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা,
- শ্রীমতি মধ্যমা।

'নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।
• অনুরূপা দেবী এর ছদ্মনাম- অনুপমা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬১১.
জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন 
  3. ভারতী
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

• 'ভারতী' পত্রিকা:
- 'ভারতী' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।

- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)। তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- প্রথম প্রকাশিত সংখ্যার ভূমিকায় দ্বিজেন্দ্রনাথ জ্ঞান আহরণ ও শিক্ষার উন্নতি বিধানের প্রতি আলোকপাত করে এদুটি বিষয়কে পত্রিকার অভীষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন। 

- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন। পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। স্বর্ণকুমারী দেবী তাঁর এগারো বছরের দীর্ঘ সম্পাদনাকালীন সময়ে এই চমৎকার ও উন্নতমানের পত্রিকাটির অনন্য বৈশিষ্ট্য রক্ষায় কঠোর পরিশ্রম করেন।

- ১৩০২-১৩০৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়ে হিরণ্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী যৌথভাবে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। সরলাদেবীর সম্পাদনাধীনকালে পত্রিকাটি জাতীয়তাবাদী ভাবধারার পক্ষে অবিচল সমর্থন বজায় রাখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এক বছর (১৩০৫ বঙ্গাব্দ) ভারতী-র সম্পাদক ছিলেন। 

অন্যদিকে, 
------------------
• 'সাধনা' পত্রিকা:
সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১) এবং পরবর্তী চার বছর পত্রিকাটির প্রকাশনা অব্যাহত ছিল। প্রথম তিন বছরের সংখ্যাগুলিতে সম্পাদক হিসেবে  দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরএর তৃতীয় পুত্র সুধীন্দ্রনাথের (১৮৬৯-১৯২৯) নাম ছাপা হলেও প্রকৃতপক্ষে পত্রিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি ছিলেন  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১)। প্রকাশের চতুর্থ বছরে রবীন্দ্রনাথ এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন। একবছর পর (কার্তিক, ১৩০২ বঙ্গাব্দ) পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়। পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই  সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
 
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৯,৬১২.
"অমল, সুধা" - কোন নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র?
  1. অচলায়তন
  2. ডাকঘর
  3. চিরকুমার সভা
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'ডাকঘর' (১৯১২) রূপক সাংকেতিক নাটক। 
- বালক অমল এই নাটকের নায়ক। 
- রবীন্দ্রনাথ নিজে লিখেছেন- "এর মধ্যে গল্প নেই, এর গদ্য লিরিক।"

• এ নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- অমল,
- সুধা,
- ঠাকুর্দা প্রমুখ।

• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- তাসের দেশ, 
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত, 
- ডাকঘর, 
- বসন্ত, 
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।

৯,৬১৩.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. নন্দিত নরকে
  2. আগুনের পরশমণি
  3. জননী
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান।
- ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন শাস্ত্রে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) এবং ১৯৭২ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ময়মনসিংহ) প্রভাষক হিসেবে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের কর্মজীবন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন, শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এই সব দিনরাত্রি,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- ফেরা,
- বহুব্রীহি,
- গৌরীপুর জংশন,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- দুই দুয়ারী,
- কোথাও কেউ নেই,
- বৃষ্টি বিলাস,
- বাদশাহ নামদার,
- মেঘের ওপর বাড়ি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- জননী যা সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্যে একজন মা যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারে তাই এ উপন্যাস উপজীব্য।
- শওকত ওসমান রচিত প্রতীকাশ্রয়ে উপন্যাস  ‘ক্রীতদাসের হাসি’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬১৪.
'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন। অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জহির রায়হান
  4. ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
⇒ একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু , রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন। অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।’ - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” 

 ==================
⇒ জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

• জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ।
৯,৬১৫.
‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা ছিলেন বিশিষ্ট বাঙালি ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
----------------------- 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৮৯৪) ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের একজন প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথমে ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা ছিলেন। 
- এবং পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টরের পদে নিযুক্ত হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচে বিএ পাস করা দুজন ছাত্রের একজন ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র।
- তিনি পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে নিম্নস্তরের নির্বাহী চাকরিতে যোগ দেন।
- এবং পরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
-----------------------------
• ‘সাম্য’ গ্রন্থটি নিয়ে কিছু তথ্য':
- ‘সাম্য’ গদ্যগ্রন্থ মূলত বঙ্কিমের ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সাম্য’ শীর্ষক প্রবন্ধগুলোর সংকলন।
- গ্রন্থের মূল ভাব হলো সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যের সমালোচনা এবং মানুষের মধ্যে সমান অধিকার ও সুযোগের প্রচার। - গ্রন্থে ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী চিন্তার প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- গ্রন্থটিতে বঙ্কিম কৃষক, শ্রমিক ও নারীদের অধিকারের পক্ষে যুক্তি প্রদান করেছেন।
- গ্রন্থে সাম্যনীতির সঙ্গে সঙ্গে ধনীবাদ ও জমিদারী প্রথার বিরোধ, শোষিত শ্রেণীর পক্ষে অবস্থান, এবং নারীদের সমঅধিকার ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলোও তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি বাংলা সাহিত্যে সাম্যবাদী চিন্তার একটি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
- তবে পরবর্তীতে বঙ্কিম নিজে এই মত থেকে সরে এসে ধর্মীয় ও ভারতীয় দর্শনের দিকে মনোনিবেশ করেন।
---------------------------
দ্রষ্টব্য:
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’ একটি কাব্যগ্রন্থ;
- অন্যদিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘সাম্য’ একটি প্রবন্ধ বা গদ্যগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৬১৬.
রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পে একটি বোবা মেয়ে চরিত্র রূপায়িত হয়েছে?
  1. সুভা
  2. সমাপ্তি
  3. নষ্টনীড়
  4. শাস্তি
ব্যাখ্যা
• সুভা:
- 'সুভা' গল্পটিতে একটি বোবা মেয়ের করুণ কাহিনির ছবি অঙ্কিত হয়েছে।
- বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা ও মমতার প্রকাশ ঘটেছে।
- সুভা কথা বলতে পারে না।
- তাই সে মনের ভাব সবার মতো করে প্রকাশ করতে পারে না।
- বাবা-মা ও আপনজনেরা তাকে নিয়ে যে দুশ্চিন্তা করেন, তা সে বুঝতে পারে।
- তাই সে নিজেকে সবার কাছ থেকে আড়াল করে রাখার চেষ্টা করে।
- মা এমন মেয়ের জন্য লজ্জা ও বিরক্তি বোধ করেন, কিন্তু বাবা তাকে খুব ভালোবাসেন।
- সমবয়সী ছেলেমেয়েরা সুভাকে ভয় পায়।
- তাই সে বন্ধুত্ব পাতায় গোয়ালের দুটি গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলির সঙ্গে।
- ছাগল, বিড়ালও তার বন্ধু।
- যারা কথা বলতে পারে না সেই পোষা প্রাণীদের কাছে সুভা মুখর।
- আর বিপুল নির্বাক প্রকৃতির কাছে সে পায় মুক্তির আনন্দ।
- সুভার সঙ্গী আরেকজন ছিল গোঁসাইদের ছোট ছেলে প্রতাপ।
- নিতান্ত অকর্মণ্য এই ছেলেটির শখ ছিল নদীতে ছিপ ফেলে মাছ ধরা।
- বাক্যহীন সঙ্গী হিসেবে সে সুভার মর্যাদা বুঝত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মূলত প্রতিবন্ধী মানুষের আশ্রয়ের জন্য একটি জগৎ তৈরি করেছেন এবং তাদের প্রতি আমাদের মনে স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা জাগাতে চেয়েছেন।

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' গল্পে অপূর্ব ও মৃন্ময়ীর পারিবারিক সুখ দুঃখ ফুটে ওঠেছে।
- 'নষ্টনীড়' গল্পে  মূল চরিত্র চারুলতা তার কর্মব্যস্ত স্বামীর সাহচর্য সহসা পায়না।
- 'শাস্তি' গল্পে চন্দরা তার স্বামী, সমাজ-সংসার ও নিজ ভাগ্যের কারণে বিনা দোষে খুনের দায় মাথা পেতে নিতে হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও গল্পগুচ্ছ গ্রন্থ।
৯,৬১৭.
কোনটি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয়?
  1. ক) বেদের মেয়ে
  2. খ) মাটির কান্না
  3. গ) পদ্মাপার
  4. ঘ) গ্রামের মায়া
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬)
- ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

'মাটির কান্না' জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:

- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬১৮.
কাকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের কবিদের কবি বলা হয়?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা রচনা আরম্ভ করেন৷
পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভানবিস্তারী হয়ে উঠে যে, তরুণেরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন৷
অনেকে তার কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙ্ক্ষা বোধ করেন৷
গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি নির্মলেন্দু গুণের প্রভাবেই কবি হয়েছেন৷
তাই তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬১৯.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন 
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ পূর্বতন ঢাকা জেলা, বর্তমান গাজীপুর জেলার দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)। এটি তাঁর প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থও।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ২৪শে আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, 
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী
- নির্বাচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬২০.
’মোদের গরব, মোদের আশা’ গানের রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. হেমন্ত বন্দোপাধ্যায়
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার, গায়ক ছিলেন।
- ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
- অতুলপ্রসাদ প্রবাসী (বর্তমানে নিখিল-ভারত) বঙ্গ-সাহিত্য সম্মিলন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন।
- তিনি সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর 'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।' গান ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
- তার গানের সঙ্কলন- কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬২১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতায় কবির উপলব্ধি হচ্ছে- 
  1.  ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়
  2. বাধা-বিপত্তি প্রতিভাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে
  3. প্রকৃতি বিপুল ঐশ্বর্য্যের অধিকারী
  4. ভাঙ্গার পরেই গড়ার কাজ শুরু হয় 
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' এর পঙ্‌ক্তিগুলো দ্বারা ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময় বুঝানাে হয়েছে।

• ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবিতার সার-সংক্ষেপ:

নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আজি এ প্রভাতে রবির কর,
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান!
না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ।

----------------------
• প্রভাতসঙ্গীত:
- ‘প্রভাতসঙ্গীত' (১৮৮৩) একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এখানে মোট একুশটি কবিতা আছে।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'প্রভাতসঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির প্রথম বহির্মুখী উচ্ছ্বাস।'
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

উৎস: ‘প্রভাতসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থ এবং ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,৬২২.
বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. পঞ্চানন কর্মকার
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
-  তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২৩.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অসীমান্তিক
  2. কথা লেখা কথা
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. শিউলি
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস - শিউলি
- এটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা

তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৯,৬২৪.
'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সানাউল হক
ব্যাখ্যা
কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৬২৫.
"সনেট সঞ্চয়ন ও সনেটমালা" - কাব্যদ্বয়ের রচয়িতা কে? 
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. সুফী মোতাহার হোসেন
  3. আব্দুল কাদির
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• সুফী মোতাহার হোসেন (১৯০৭-১৯৭৫):
- ১৯০৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর  ফরিদপুর জেলার ভবানন্দপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগসূত্রে মোতাহার হোসেন সাহিত্যচর্চায় উদ্বুদ্ধ হন এবং পাশ্চাত্য আদর্শে সনেট রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন।
- বাংলা কাব্য পরিচয় পাঠ্যপুস্তকে তাঁর ‘দিগন্ত’ নামক সনেট স্থান পায়।
- সনেট সংকলন (১৯৬৫) তাঁর প্রথম কাব্য; পরে সনেট সঞ্চয়ন (১৯৬৬) ও সনেটমালা (১৯৭০) প্রকাশিত হয়। - প্রেম ও প্রকৃতি তাঁর সনেটের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
- ১৯৭৫ সালের ৭ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২৬.
‘কবর’ এটি কোন শ্রেণির গ্রন্থ?
  1. স্মৃতিকথা
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
কবর:
-  ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্র মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়। বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

মুনীর চৌধুরী:
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- তিনি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২৭.
সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৭২ এর নির্বাচন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- এই উপন্যাসের নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। এই উপন্যাসের কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

•  তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

 •তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস।
৯,৬২৮.
বাইবেল এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত 'অভিশপ্ত নগরী' গ্রন্থটির রচয়িতা -
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সত্যেন সেন
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
বাইবেলের 'বুক অব দ্য প্রফেট: যেরেমিয়া খণ্ড' অবলম্বনে সত্যেন সেন এর 'অভিশপ্ত নগরী' (১৯৬৭) উপন্যাস রচিত। 
- বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেন-ই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনীকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাসগ্রন্থ:
- ভোরের বিহঙ্গী (১৯৫৯),
- অভিশপ্ত নগরী (১৯৬৭),
- পদচিহ্ন, (১৯৬৮),
- পাপের সন্তান (১৯৬৯),
- কুমারজীব, (১৯৬৯),
- বিদ্রোহী কৈবর্ত (১৯৬৯),
- পুরুষমেধ (১৯৬৯),
- আলবেরুনী (১৯৬৯),
- মা (১৯৬৯),
- অপরাজেয় (১৯৭০),
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ (১৯৭৩) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬২৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন না কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) গোলকনাথ শর্মা
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন-
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয়‌ বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলােচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী ইত্যাদি। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩০.
‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  5. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'কস্যচিৎ’ ছদ্মনাম ব্যবহারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।


অন্যদিকে,
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ব্যবহৃত ছদ্মনাম ছিল- ভ্রমণকারী বন্ধু।
- বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।   
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো: Timothy Penpoem, দত্তকুলোদ্ভব কবি, এ নেটিভ।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩১.
‘লেলিহান পান্ডুলিপি’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, লেলিহান পান্ডুলিপি, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, সূর্য জ্বালার স্বপন, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ইত্যাদি আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬৩২.
লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’ কোন কবির রচনা?
  1. হৃদয়রাম সাউ
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. রূপরাম চক্রবর্তী
  4. ময়ূরভট্ট
ব্যাখ্যা
• ধর্মমঙ্গল কাব্য:
• ধর্মমঙ্গল ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্যধারা।
• ধর্ম অনার্য দেবতা এবং সূর্য কিংবা বুদ্ধের প্রতিরূপ হিসেবে কল্পিত।
• প্রাচীন বঙ্গের রাঢ় অঞ্চলে এর উদ্ভব ও পূজা সীমিত ছিল।

• ধর্মমঙ্গল ধারার আদি কবি ময়ূরভট্ট। তাঁর কাল খ্রিষ্টীয় পঞ্চদশ শতক বা এর কাছাকাছি অনুমান করা হয়, কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
• ধর্মমঙ্গল ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর কাব্যের রচনাকাল ১৭১১ খ্রিষ্টাব্দ বা আঠারো শতক । তাঁর রচিত গ্রন্থ লাউসেনের কাহিনি অবলম্বনে ‘শ্রীধর্মমঙ্গল’।
• এরপর আর যাঁরা ধর্মমঙ্গল রচনা করেছেন তাঁরা হলেন সহদেব, নরসিংহ বসু, হৃদয়রাম সাউ, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৩.
অমিয় চক্রবর্তীর বাংলাদেশ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. খসড়া
  2. অনিঃশেষ
  3. মাটির দেয়াল
  4. অভিজ্ঞান বসন্ত
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: ১.বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৪.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. গোলোকনাথ শর্মা
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
রামরাম বসু:
- তিনি ১৭৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন উইলিয়াম কেরির সহযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনাকারীদের অন্যতম অগ্রণী।
- প্রথমে তিনি ফারসি-নবিস মুনশী এবং পরে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সহকারী পণ্ডিত ছিলেন। 
- রামরাম বসুর গদ্যগ্রন্থ দুটি -
→ রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১) ও
→ লিপিমালা (১৮০২)।
- ফারসি-নবিস মুনশী বলে সেকালের চলতি রীতিতে বাংলা গদ্যপদ্য রচনায় তাঁর অবিসংবাদিত দক্ষতা ছিল।
- বাঙালি রচিত এবং বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত প্রথম একটানা দীর্ঘ মৌলিক রচনা 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থে রাজা প্রতাপাদিত্য সম্পর্কে জ্ঞাত কাহিনিগুলো স্থান পেয়েছে।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ 'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।
- গ্রন্থের রচনারীতি সহজ সরল ও মৌখিক রীতির কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
- তার রচনাশৈলী সাধুভাষার অনুগত হলেও তা কথারীতির অনুসারী ছিল।
- মৌলিক লেখক হিসেবে রামরাম বসুর স্বতন্ত্র পরিচয় বিদ্যমান। 
- তিনি ১৮১৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৩৫.
বাংলা সাহিত্যে অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয় কোন যুগে?
  1. প্রাচীন যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. আধুনিক যুগে
  4. অন্ধকার যুগে
ব্যাখ্যা
• বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়: মধ্যযুগে।
-----------------------
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
ক) সংস্কৃত থেকে,
খ) হিন্দি সাহিত্য থেকে,
গ) আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।
----------------
কয়েকটি অনুবাদ সাহিত্য:
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৬.
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) সাপ্তাহিক সৈনিক
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রক্তাক্ত ঘটনার পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক 'সৈনিক' এর বিশেষ সংখ্যা। 
- এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকা প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ। 
- সকালে পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় এক হাজার কপি।
- পরে পূণর্মুদ্রন করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৩৭.
‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ
  2. সিরাজউদ্দিন হোসেন
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. আনোয়ার হোসেন
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৮.
'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা:
- এটি সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম। 
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভলেপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৩৯.
'রমেশ ও কমলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. চার অধ্যায়
  3. নৌকাডুবি
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
-  উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, নলিনাক্ষ, অন্নদাবাবু।

অন্যদিকে, 
-----------------
- 'যোগাযোগ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র: নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদন।
- 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।
- 'চতুরঙ্গ' উল্লেখযোগ্য উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শচীশ, দামিনী এবং শ্রীবিলাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৬৪০.
“বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা” - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা:
- ''হাতির শুড়'' - - স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রুপ করে লেখা,
- ''টেলেমেকাস'' - - ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা,
- ''বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা'' - - ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।
- ''আসাদের শার্ট'' - - গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে,
- ''স্বাধীনতা তুমি'', ''তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা'' ইত্যাদি।

উৎস: শামসুর রাহমানের কবিতা সংকলন ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪১.
হুমায়ুন কবির রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সাথী
  2. স্বপ্নসাধ
  3. ধারাবাহিক
  4. নদী ও নারী
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির:
- তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক,
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব,
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৪২.
'যখন উদ্যত সঙ্গীন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) জসীম উদদীন
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
বিমুখ প্রান্তর হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- প্রতিবিম্ব, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শহরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন ও শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৬৪৩.
কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম কী?
  1. মীর আবদুল মোমেন
  2. আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. মীর আল মাহমুদ
  4. মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৪৪.
‘কুসুম কানন’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কালিদাস রায়
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি। তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
-  মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল (১৯৭০), প্রেমের বাণী (১৯৭০), প্রেম-পারিজাত (১৯৭০), মন্দাকিনী-ধারা (১৯৭১) ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ (১৯৭৯) প্রকাশিত হয়। সম্প্রতি  বাংলা একাডেমী কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খন্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

• বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ (১৯২৫) উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৫১ সালের ২১ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪৫.
'কালের ধুলোয় লেখা’ - আত্মস্মৃতি গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সত্যেন সেন 
  2. শামসুর রাহমান
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'কালের ধুলোয় লেখা’ আত্মস্মৃতি:
• 'কালের ধুলোয় লেখা' (২০০৪) শামসুর রাহমান রচিত একটি আত্মস্মৃতি।
• 'কালের ধুলোয় লেখা' তাঁর আত্মজীবনীতে রাজনীতি, অর্থনীতি, সাহিত্য-সংস্কৃতি শুধু নয়, বৈশ্বিক পটভূমিতে কাছ থেকে দেখা বাঙালির গণ-সংস্কৃতির ইতিহাস যেমন প্রকাশিত হয়েছে তেমনি প্রতিভাত হয়েছে তার কাব্যসত্তার ভেতর- বাহির।
• এই গ্রন্থে জীবনে ঘটেছে এমন কোনো ঘটনাকে লুকোতে চান নি তিনি। মুখোমুখি হয়েছেন বারবার।
• বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী শামসুর রাহমান অনেক অজানা ইতিহাসকে খোলসা করেছেন স্পষ্টভাবে যার মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ সত্যাশ্রয়ী আত্মজীবনী লেখার একটি সংস্কৃতি চালু করেন।

================
⇒ শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’ কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।

৯,৬৪৬.
শামসুদ্‌দীন আবুল কালামের প্রকৃত নাম কী?
  1. আব্দুল কালাম শামসুদ্‌দীন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্‌দীন
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আব্দুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৪৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. আরেক ফাল্গুন
  2. যাপিত জীবন
  3. আর্তনাদ
  4. নিয়ন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস- জহির রায়হানের আরেক ফাল্গুন। 
---------------
• 'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- ‘আরেক ফাল্গুন’ জহির রায়হানের লেখা ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
গল্পটির কাহিনী ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ঘটনাগুলোকে স্মরণ করার মধ্যদিয়ে আবর্তিত হয়েছে। গল্পটির মূল কাহিনীতে  ১৯৫৫ সালের ফেব্রুয়ারির কাহিনী বলা হয়েছে। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে কিভাবে ছাত্ররা পাকিস্তানি স্বৈরশাসনের বাধা উপেক্ষা করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়। প্রধান চরিত্র মুনিম এবং তার সঙ্গী ছাত্রনেতারা সাহসিকতার সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। গল্পের সময়কাল মাত্র তিন দিন ও দুই রাত, কিন্তু তা ভাষা আন্দোলনের চেতনা, ছাত্রদের অদম্য সাহস এবং স্বাধীনতার আশা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। 
------------------- 
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব,
- ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।
-----------------------------
অন্যদিকে,
- ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস:
- যাপিত জীবন – সেলিনা হোসেন (১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রেক্ষাপট)।
- আর্তনাদ – শওকত ওসমান (ভাষা আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি)।
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি – সেলিনা হোসেন (ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপট)। 

উৎস:
'আরেক ফাল্গুন’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৬৪৮.
'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত-
  1. অনুবাদ কাব্য
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• 'নেমেসিস' নাটক:
 - নেমেসিস নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক।
- নেমেসিস নাটকের বিষয়বস্তু হলো ২য় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে লেখেন।
- ১৯৪৪ সালে নাটক টি রচিত হয়।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট।
- এই নাটকে অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছেন নৃপেন বোস, তার কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এই নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

নুরুল মোমেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার।
- জন্ম ফরিদপুর (তৎকালীন যশোর) জেলার আলফাডাঙ্গায় ২৫ নভেম্বর ১৯০৬।

 তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক সমূহ:
 - যদি এমন হতো ,
 - নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া, 
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি, 
- রূপলেখা
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৪৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প কোনটি?
  1. বালুচর
  2. বেদেনী
  3. বেদের মেয়ে
  4. বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্প - বেদেনী

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত গল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী
- ডাকহরকরা,
- জলসাঘর,
- অগ্রদানী। 

অন্যদিকে,
• জসীম উদ্‌দীন রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন - বালুচর।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক - বেদের মেয়ে।
• জসীম উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস - বোবা কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫০.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে প্রকাশিত নাটক কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নীলদর্পণ
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন। বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

----------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫১.
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল হামিদ
  2. খ) শেখ চাঁদ
  3. গ) মীর মুহম্মদ শফী
  4. ঘ) মুহম্মদ আকিল
ব্যাখ্যা
'রসুল বিজয়' কাব্যের রচয়িতা শেখ চাঁদ। এটি ইসলামি সুফি সাহিত্যধারার বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
৯,৬৫২.
‘আঙুর' কী?
  1. ক) একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
  2. খ) একটি শিশু সংগঠন।
  3. গ) একটি দৈনিক শিশু পত্রিকা।
  4. ঘ) একটি সাপ্তাহিক সাহিত্য পত্রিকা।
ব্যাখ্যা
‘আঙুর' একটি মাসিক শিশু পত্রিকা।
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৫৩.
‘সমকাল' মাসিক পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন- 
  1. সেলিম আল দীন
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. শওকত আলী
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘সমকাল' মাসিক পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।
--------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও গীতিকার।
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ষাটের দশকের বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি দেশপ্রেমমূলক কবিতা, নাটক ও গণসংগীত রচনার মাধ্যমে মানুষকে আন্দোলন ও সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন।
- পেশাগত জীবনে তিনি কবিতা, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও সাংবাদিকতা—সাহিত্যের নানা শাখায় সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সমকাল’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা ও সম্পাদনা করেন।
- বিশেষ করে ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি এবং সিরাজ-উদ-দৌলা নাটকটি তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়।

• সিকান্দার আবু জাফরের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ-
• উপন্যাস: 
- পূরবী;
- নতুন সকাল।

• ছোটগল্প: মাটি আর অশ্রু। 

• কবিতা:
- প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বাংলা ছাড়ো। 

• নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাউল;
- সঙ্গীত মালব কৌশিক। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৬৫৪.
“সুলতানার স্বপ্ন” কার রচনা?
  1. ক) জসীমউদ্‌দীন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) বেগম সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা

রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'মতিচুর'। গ্রন্থটি দুই খণ্ডে (১ম খণ্ড ১৯০৪; ২য় খণ্ড ১৯২২) প্রকাশিত হয়।
তার রচিত আরাে কয়েকটি গ্রন্থঃ অবরােধবাসিনী (প্রবন্ধগ্রন্থ), পদ্মরাগ ও সুলতানার স্বপ্ন (উপন্যাস)।
সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।

৯,৬৫৫.
রামপ্রাসাদের গান শুনে কে অভিভূত হয়েছিলেন? 
  1. নবাব মীরকাশিম
  2. নবাব আলিবর্দি খাঁ
  3. নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ
  4. নবাব সিরাজউদৌলা
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন: 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি। 
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত। 
- তাঁর রচিত শ্যামা সঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিন'শ। 
- শাক্ত সঙ্গীত/শ্যামা সঙ্গীত রচনা করে বিখ্যাত হয়েছিলেন- রামপ্রসাদ সেন। 
- বিখ্যাত গান "মনরে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমিন রইল পতিত আবাদ করলে ফলতো সোনা"। 
- রামপ্রসাদ সেনের গান শুনে বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদৌলা অভিভূত হয়েছিলেন। 
- রামপ্রসাদ সেনকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র 'কবিরঞ্জন' উপাধি দিয়েছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯,৬৫৬.
বাংলা সাহিত্যের কোন যুগকে তামস যুগ বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. প্রাচীন যুগ
  2. অবক্ষয় যুগ
  3. অন্ধকার যুগ
  4. যুগ সন্ধিক্ষণ
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

অন্যদিকে,
• মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায় আর আধুনিক যুগের প্রথম কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই দুইজনের মাঝের (১৭৬০-১৮৬০) সময়কে বলা হয় অবক্ষয় যুগ বা যুগসন্ধিক্ষণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এ সময়ের কবি বলে তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৫৭.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম কী?
  1. অগ্নি-বীণা
  2. সাম্যবাদী
  3. ছায়ানট
  4. ভাঙার গান
ব্যাখ্যা

অগ্নি-বীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য 'অগ্নি-বীণা' প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।
- 'অগ্নি-বীণা' কাব্যে ১২টি কবিতা আছে।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৬৫৮.
মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন-
  1. তুর্কি শাসকবর্গ
  2. সংস্কৃত পণ্ডিতগণ
  3. পাঠান সুলতানগণ
  4. মুঘল সম্রাটগণ
ব্যাখ্যা

• মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন- পাঠান সুলতানগণ।

• পাঠান সুলতানগণের বাংলা সাহিত্যে অবদান:
• স্বাধীন সুলতানগণের শাসনের দীর্ঘ সময়ে অনেকেই বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা দান করেছিলেন।
- প্রথমে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের কথা উল্লেখযোগ্য।
- তিনি 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের কবি শাহ মুহম্মদ সগীরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- শাহ মুহম্মদ সগীরই প্রথম কবি যিনি গৌড়েশ্বরের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কাব্য রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের জন্য গৌড় দরবারে স্বীকৃতি অর্জনের কৃতিত্ব রামায়ণের অনুবাদক কবি কৃত্তিবাসের।
- গৌড়েশ্বর তাঁকে পুষ্পমাল্য দাকে সম্মানিত করেন।
- 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্যের রচয়িতা কবি মালাধর বসু সুলতান রুকনউদ্দিন বারবক শাহের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- তাছাড়া সুলতান ইউসুফ শাহের কাছ থেকে পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে কবি জৈনুদ্দিন 'রসুলবিজয়' কাব্য রচনা করেন।
- গৌড়ের সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতার আনুকূল্যে বাংলা সাহিত্যের অগ্রগতির প্রমাণ মিলবে তখনকার কবিদের রচিত বিভিন্ন রাজপ্রশস্তিতে।
- ড. ওয়াকিল আহমদ তাঁর 'বাংলা সাহিত্যের পুরাবৃত্ত' গ্রন্থে এর একটি তালিকা দিয়েছেন:



উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৬৫৯.
'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. জীবনানন্দ দাশ 
ব্যাখ্যা

• 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়':
- 'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে নন্দিতা বসু প্রকাশিকা ৫-১ রমানাথ মজুমদার স্ট্রীট কলিকাতা-৯ থেকে প্রকাশিত হয়। 

- অনেকটা স্মৃতিভারাক্রান্ত ভঙিতেই জসীম উদ্‌দীন বইটি শুরু করেছেন এবং শেষও করেছেন। কীভাবে প্রথম রবীন্দ্রনাথের নাম শুনেছেন এবং কীভাবে তার কবিতা পড়তে শুরু করেছেন তার বিস্তৃত বর্ণনা দিয়ে বইটি শুরু করে শেষ করেছেন ঠাকুর-বাড়ির ভগ্নদশার বর্ণনা দিয়ে।

'ঠাকুর-বাড়ির আঙিনায়' কেবল রবীন্দ্রনাথের কথাই নেই। বরং আরও বেশি করে আছে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সূত্রধরেই ঠাকুর বাড়ির আঙিনায় পা ফেলার সৌভাগ্য হয় জসীম উদ্‌দীনের।

অবনীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর তার বাড়িটি নিলাম হয়ে যায়। বাংলার এত বড় শিল্পীর বাড়ি কেউ সংরক্ষণ করলো না ভেবে দুঃখ পেয়েছেন। বাড়িটি এখন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হলেও "আজ ঠাকুর-বাড়ির সেই ইন্দ্রপুরী শ্মশানে পরিণত হইয়াছে', বলে মন্তব্য করেছেন জসীম উদ্‌দীন।

-----------------------
• জসীম উদ্‌দীন: 
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- জসীম উদ্‌দীনের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ নক্সীকাঁথার মাঠ।
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- যাদের দেখেছি,
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পীরের দেশ,
- যে দেশে মানুস বড়,
- জার্মানির শহরে ও বন্দরে। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবাকাহিনী।
• আত্মজীবনী: জীবনকথা। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সীকাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়'  স্মৃতিকথা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৬০.
‘হৈমন্তী’ কবিতাটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অর্কেস্ট্রা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা হচ্ছে হৈমন্তী।

⇒ অর্কেস্ট্রা কাব্যগ্রন্থ:
- অর্কেস্ট্রা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত কবির এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে স্থান পেয়েছে মোট ২৫টি কবিতা।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কবিতা হচ্ছে: হৈমন্তী, পণ্ডশ্রম, কস্মৈ দেবায়ঃ, সঞ্চয়, মহাসত্য, দ্বন্দ্ব, ভবিতব্য, মহাশ্বেতা, অপচয়, শাশ্বতী, বিস্মরণী, অর্কেস্ট্রা ইত্যাদি।
- প্রায় সবগুলোই প্রেমের কবিতা।

এই কাব্যগ্রন্থে তিনি লিখেছেন-
‘একটি কথার দ্বিধা থর থর চূড়ে
ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী।’

================
⇒ সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
• ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
⇒ কাব্যগ্রন্থ:  
• তন্বী,
• অর্কেস্ট্রা,
• ক্রন্দসী,
• উত্তরফাল্গুনী,
• সংবর্ত,
• দশমী।

⇒ গদ্যগ্রন্থ:
• স্বগত ,
• কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

• বি.দ্র. ‘হৈমন্তী’ নামে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬১.
জসীম উদ্‌দীনের "নক্সী কাঁথার মাঠ" - কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের নাম কী?
  1. The Embroidered Sheet
  2. The Tale of Nakshi Kantha
  3. The Story of a Quilt
  4. The Field of Embroidered Quilt
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- বালুচর,
- রাখালী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৬২.
কোন প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ
  2. হিন্দু কলেজ
  3. প্রেসিডেন্সি কলেজ
  4. সংস্কৃত কলেজ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৩.
মূলত নাটকের প্রাণ বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) কাহিনী
  2. খ) সংলাপ
  3. গ) চরিত্র
  4. ঘ) পরিবেশ
ব্যাখ্যা
নাটকের উৎস ও বিকাশ:
- মানব জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা যখন সংলাপের আশ্রয়ে দর্শকদের সামনে উপস্থিত করা হয়, তখন তাকে নাটক বলে। 
- নাটকের সঙ্গে অন্যান্য সাহিত্যশাখার মৌলিক পার্থক্য হলো নাটকের সঙ্গে দর্শক ও স্রোতার সম্পর্ক সরাসরি ও প্রত্যক্ষ। 
- সাহিত্যের অন্যান্য শাখা মানুষ একাকী যখন ও যেভাবে ইচ্ছা উপভোগ করতে পারে, কিন্তু নাটক উপভোগ করতে হয় নির্দিষ্ট স্থানে ও নির্দিষ্ট সময়ে এবং সম্মিলিতভাবে। 
- প্রতিটি নাটকের মধ্যে চারটি প্রধান উপাদান থাকে।
যথা- 
১। কাহিনী বা বিষয়, 
২। চরিত্র, 
৩। সংলাপ এবং 
৪। পরিবেশ। 

সংলাপ
- সংলাপ কাহিনী ও চরিত্রকে সুস্পষ্ট করে পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। 
- এক চরিত্রের সঙ্গে অন্য চরিত্রের সংলাপ বিনিময়ের মধ্য দিয়েই নাট্যকাহিনী বিকশিত হয়। 
- বস্তুত সংলাপের মাধ্যমে তিনটি বিশেষ প্রয়োজন সাধিত হয়। 
যেমন- 
ক) নাট্যকারের বক্তব্য প্রকাশ ও প্রমাণ করার জন্য সংলাপ,
খ) চরিত্রসমূহের প্রকাশ ও বিকাশের জন্য সংলাপ এবং 
গ) নাটকের দ্বন্দ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সংলাপ। 
- নাটকের সংলাপ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, সংলাপই মূলত নাটকের প্রাণ। 
- সংলাপের মাধ্যমেই নাট্য-পরিস্থিতি নির্মিত হয়। 
- সংলাপ ব্যর্থ হলে নাট্যরস ক্ষুন্ন হয়। 

উৎস: বাংলা প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,৬৬৪.
'বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা' —কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ : পঞ্চাশ দশকের অন্যতম খ্যাতমান কবি।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ :
- সাত নরী হার (১৯৫৫)
- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০)
- কমলের চোখ (১৯৭৪)
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৯,৬৬৫.
"মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা" প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. কাজী মোতাহের হোসেন
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৬৬.
‘সাধের আসন’ কাব্যগ্রন্থটিকে কোন কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. সারদামঙ্গল
  3. বন্ধুবিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ':
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৬৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি? 
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস 
  3. শ্রীকান্ত 
  4. শেষের পরিচয় 
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক, গল্পকার ও কথাশিল্পী।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি এক অনন্য কথাশিল্পী হিসেবে পরিচিত।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বিভিন্ন ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তাঁর ছদ্মনামগুলোর মধ্যে অনিলা দেবী সবচেয়ে পরিচিত।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ জনপ্রিয়তা ও সার্থক কথাশিল্পের জন্য তাঁকে ‘অপরাজেয় কথাশিল্পী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁর সাহিত্যকৃতির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস ‘বড়দিদি’ ১৯০৭ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাস প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই তিনি সাহিত্যজগতে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে আছে- 
- ‘দেবদাস’, 
- 'পরিনিতা',
- 'চরিত্রহীন',
- 'পল্লীসমাজ',
- ‘পথের দাবী’,
- ‘শেষের পরিচয়’,
- ‘দেনা-পাওনা’,
- 'গৃহদাহ', 
- ‘শ্রীকান্ত’। 

• তাঁর প্রকাশিত প্রথম ছোটগল্প হলো- ‘মন্দির’। 
- এই গল্পের জন্য তিনি কুন্তলীন পুরস্কার লাভ করেন।

• শরৎচন্দ্রের আরও কয়েকটি বিখ্যাত ছোটগল্প হলো-
- ‘মহেশ’,
- ‘অভাগীর স্বর্গ’,
- ‘বিলাশী’।

• এছাড়া তিনি নাটকও রচনা করেছেন, যার মধ্যে- ‘রমা’ ও ‘ষোড়শী’ উল্লেখযোগ্য।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
গদ্য, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৬৬৮.
কত সালে জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে আসেন?
  1. ১৭৬০ সালে
  2. ১৭৯১ সালে
  3. ১৮৩৭ সালে
  4. ১৭৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল জোশুয়া মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন ওয়েস্টবেরিলি উইলট শায়ার লন্ডনে।
- ১৭৯১ সালে তিনি ধর্ম যাজকতায় দীক্ষা নেন।
- ১৭৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর মার্শম্যান মিশনারির কাজে  ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
- ১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বরে জোশুয়া মার্শম্যান মৃত্যবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৬৯.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যার কত নং পদ?
  1. ২নং
  2. ৪৯নং
  3. ১নং
  4. ৩৩নং
ব্যাখ্যা
• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেসী /
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।"- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা ঢেণ্ঢণপা।

• আধুনিক গদ্যে রূপান্তর:
টালেতে [জনপদে] আমার ঘর, [অথচ] পড়শি নেই। হাড়িতে ভাত নেই, [অথচ] নিত্য অতিথি।

--------------
• ঢেণ্ঢণপা: 
- চর্যাগীতির তেত্রিশ সংখ্যক গানের রচয়িতা ঢেণ্টণপা। বর্ণরত্নাকরের নাথ সিদ্ধাদের নামের যে তালিকা রয়েছে তাতে ঢেণ্ঢণপার উল্লেখ রয়েছে। তবে এ ঢেণ্ঢণপা আর চর্যাপদকার একই ব্যক্তি কি না তা নিঃসন্দেহে বলা যায় না।

- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। চর্যাপদের ৩৩নং পদটি তাঁর রচনা। তাঁর রচিত পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

- ঢেণ্ঢণপা দেবপাল ও বিগ্রহ পালের রাজত্বকালে (৮১০-৮৮০ খ্রিষ্টাব্দ) বর্তমান ছিলেন বলে পণ্ডিতদের অভিমত। কিছু কিছু গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে, ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ঢেণ্ঢণপা অবন্তীনগরে বাস করেছেন।

- 'ঢেণ্ঢণ' শব্দের তিব্বতি রূপ ধেতন। তিব্বতী ঐতিহ্য অনুযায়ী, তিনি ছিলেন কাহ্নের বংশধর।

- ঢেণ্ঢণপা রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ 'চতুর্যোগভাবনা'। সংস্কৃত টীকাকাররা গ্রন্থটির পাঠোদ্ধার করতে না পেরে একে বলেছেন 'সান্ধ্যভাষা'।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৭০.
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।" পঙ্‌ক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সাম্যবাদী
  2. প্রলয় শিখা
  3. দোলন-চাঁপা
  4. অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
"আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।"
- পঙ্‌ক্তিগুলো কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতার 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর, ১৯২৩) 'দোলনচাঁপা' প্রকাশিত হয়।
- কবি তখন রাজবন্দি হিসেবে জেলে।
- প্রথম কবিতা 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'।
- কাব্যটিতে ২১টি কবিতা সংকলিত রয়েছে।
যেমন:
- 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে'
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
-অভিশাপ ইত্যাদি।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
৯,৬৭১.
বিখ্যাত চলচিত্র  'সারেং বৌ' এর পরিচালক কে ? 
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুল জব্বার 
  3. গ) হুমায়ূন  আহম্মেদ 
  4. ঘ) চাষী নজরুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা
- শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস 'সংশপ্তক' নিয়ে ধারাবাহিক নাটকের পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে তিনি পান প্রবাদপ্রতিম খ্যাতি। তার নির্মিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে 'সারেং বৌ' (১৯৭৮), 'শখী তুমি কার', 'এখনই সময়', 'জোয়ারভাটা', 'শেষ বিকেলের মেয়ে। 
- সারেং বৌ ১৯৭৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বাংলাদেশী চলচ্চিত্র
- ছবিটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার আবদুল্লাহ আল মামুন
- তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে 'সুবচন নির্বাসনে', 'এখন দুঃসময়', 'সেনাপতি', 'এখনও ক্রীতদাস', 'কোকিলারা', 'দ্যাশের মানুষ', 'মেরাজ ফকিরের মা', 'মেহেরজান আরেকবার' ইত্যাদি৷ 
- চাষী নজরুল ইসলাম এর  বিখ্যাত চলচিত্র : ওরা ১১ জন - (১৯৭২) ,পদ্মা মেঘনা যমুনা - (১৯৯১), হাঙর নদী গ্রেনেড - (১৯৯৭)
-হুমায়ূন আহমেদ এর চলচ্চিত্র  :শঙ্খনীল কারাগার,আগুনের পরশমণি,নন্দিত নরকে,শ্রাবণ মেঘের দিন। 


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৭২.
এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. প্রাচ্য ও প্রতীচ্য
  2. গ্রানাডার শেষ বীর
  3. মোটর যোগে রাঁচী সফর
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
• এস ওয়াজেদ আলি: 
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলি ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ: 
- জীবনের শিল্প, 
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, 
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা, 
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

উপন্যাস: 
- গ্রানাডার শেষ বীর।

ভ্রমণকাহিনী: 
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৯,৬৭৩.
আবুল হাসানের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য কোনটি?
  1. রাজা যায় রাজা আসে
  2. ওরা কয়েকজন
  3. পৃথক পালঙ্ক
  4. যে তুমি হরণ করো
ব্যাখ্যা

• আবুল হাসান:
- আবুল হাসান একজন সৃষ্টিশীল কবি। তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- ১৯৪৭ সালের ৪ঠা আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্নি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নাজিরপুর, পিরোজপুর।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- তিনি ২৬শে নভেম্বর, ১৯৭৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যনাট্য 'ওরা কয়েকজন' (১৯৮৮)।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৭৪.
‘মোদের গরব মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা’ - গানটির রচয়িতা কে?
  1. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আলতাফ মাহমুদ
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. রাধানিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মোদের গরব মোদের আশা / আ-মরি বাঙলা ভাষা' - গানটির রচয়িতা অতুলপ্রসাদ সেন। 
- গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলায় বাঙালি জাতীয়বাদী আন্দোলনকারীদের মনে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।

অতুলপ্রসাদ সেন:
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৭৫.
একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে কয়টি অংশ থাকে?
  1. ২টি
  2. ৫টি
  3. ৩টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্য:
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য
- ধারণা করা হয়, পনের থেকে আঠারাে শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।
- এর প্রধান শাখা ৩টি - মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।
- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্নপরিচয়, দেবখন্ড, মর্ত্যখন্ড এবং শ্রুতিফল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৭৬.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত কোন পরিচয়ে খ্যাত?
  1. নাট্যকার
  2. শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক
  3. কবি
  4. প্রবন্ধকার
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- ১৮৭৭ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোক সংগ্রাহক। 
- তিনি 'সুধা' নামক পত্রিকাটি প্রকাশ করেন।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সম্পাদিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদামশায়ের থলে,
- ঠানদিদির থলে,
- খোকা বাবুর খেলা, 
- আমাল বই, 
- কিশোরদের মন, 
- বাংলার সোনার ছেলে, 
- পৃথিবীর রূপকথা ও 
- সবুজ লেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৭৭.
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস 'মৃত্যুক্ষুধা' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ক) বিজলী
  2. খ) সওগাত
  3. গ) মোসলেম ভারত
  4. ঘ) শিখা
ব্যাখ্যা

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস - বাঁধনহারা
এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। ১৯২৭ (১৩৩৪ বঙ্গাব্দে) সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
তার আগে ১৯২১ (১৩২৭ বঙ্গাব্দে) সালে 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
২০০৬ সালে 'দৈনিক প্রথম আলো' পত্রিকায় এটি পুনঃপ্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুলের দ্বিতীয় উপন্যাস - মৃত্যু-ক্ষুধা ১৯৩১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
তার আগে এটি 'সওগাত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়।

তার তৃতীয় ও শেষ উপন্যাস 'কুহেলিকা' ও ১৯৩১ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
তার আগে এটি 'নওরোজ' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'বিজলী' পত্রিকায় কবির 'বিদ্রোহী' কবিতাটি প্রকাশিত হয়েছিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৬৭৮.
'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' - লাইনটি কোন সাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত?
  1. লোক সাহিত্য
  2. ব্রজবুলি
  3. বৈষ্ণব পদাবলী
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুথি আবিষ্কার করেন।
-  'ভুসুকুপা' দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- 'ভুসুকুপা' রচিত উল্লেখযোগ্য পংক্তি  'অপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।'

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৬৭৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. একেই কি বলে সভ্যতা
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক। 

• 'পদ্মাবতী' নাটক: 
- ১৮৬০ সালে তিনি গ্রিক পুরাণ থেকে কাহিনী নিয়ে রচনা করেন পদ্মাবতী নাটক।
- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন।
- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা;
- পদ্মাবতী;
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা;
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৬৮০.
'অনিলা' কোন গল্পের নায়িকা?
  1. স্ত্রীর পত্র
  2. বোষ্টমী
  3. নষ্টনীড়
  4. পয়লা নম্বর
ব্যাখ্যা
• 'অনিলা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পয়লা নম্বর’ গল্পের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ভিখারিনী।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এখন পর্যন্ত যতদূর জানা যায়, এটিই তাঁর লেখা প্রথম গল্প, যা কোনো সাময়িকপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ নিজে তাঁর কোনো গ্রন্থে অবশ্য এ গল্পটিকে স্থান দেননি।
- রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংকলনের নাম - গল্পগুচ্ছ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার
- শেষকথা
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘পয়লা নম্বর’ গল্প- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,৬৮১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন চর্যাপদে প্রাপ্ত পদের সংখ্যা-
  1. ৪৬ টি
  2. সাড়ে ৪৬ টি
  3. ৪৯ টি
  4. ৫০ টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

• চর্যাপদে মোট সাড়ে ছেচল্লিশটি (একটি পদের ছেঁড়া বা খণ্ডিত অংশসহ) পদ পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদে ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
- চর্যাপদের সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কাহ্নপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (১৩টি)।
- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - ভুসুকুপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৮টি)।
- চর্যাপদের তৃতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - সরহপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৪টি)।
- চর্যাপদের চতুর্থ সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা - কুক্কুরীপা। তাঁর রচিত পদের সংখ্যা (৩টি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৮২.
হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. হেক্টরবধ কাব্য
  4. মেঘনাদবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'হেক্টরবধ' কাব্য:
- 'হেক্টরবধ' (১৮৭১) হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়।
- হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।
- গ্রন্থটি ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করা হয়েছিল।

অন্যদিকে,
--------------------
• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত। সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

• 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্য:
মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৮৩.
নিচের কোন কবি 'পঞ্চপাণ্ডব' হিসেবে স্বীকৃত নয়?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

- ‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত নন- প্রেমেন্দ্র মিত্র।

• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৬৮৪.
নিচের কোন লেখিকা আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. প্রভা দেবী
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ’জগত্তারিণী স্বর্ণ পদকে’ ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮৫.
’বনফুল’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. নির্মলেন্দু গুন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• বনফুল কাব্যগ্রন্থ:
​- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ- বনফুল।
​- জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব নামক দুটি পত্রিকায় বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতা প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে।
​- বনফুল কাব্যগ্রন্থকে সুকুমার সেন, কাব্যোপন্যাস বলেছেন।
​----------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

​• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

​• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৮৬.
কে ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না?
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) সরলা দেবী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকা প্রকাশিত হিয় ১৮৭৭ সালে, রবীন্দ্র-ভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়৷ পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মণিলাল গোঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৮৭.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন প্রবন্ধগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. রুদ্র মঙ্গল
  2. দুর্দিনের যাত্রী
  3. যুগবাণী
  4. রাজবন্দীর জবানবন্দি
  5. আমি সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'যুগবাণী' প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত — প্রথম প্রবন্ধের বই। 
- প্রবন্ধ গ্রন্থটি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়। 
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। 
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত। 
----------------------------------------- 
কাজী নজরুল ইসলাম: 
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 

• কাজী নজরুল ইসলামের যা কিছু প্রথম প্রকাশিত:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম ‘মুক্তি’। 
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- ‘অগ্নি-বীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুলের রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা’। 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম — তুর্কিমহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

• কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নিবীণা, 
- বিষের বাঁশি, 
- ভাঙার গান, 
- সাম্যবাদী, 
- সর্বহারা, 
- ঝিঙে ফুল, 
- ফণি-মনসা, 
- জিঞ্জির, 
- সন্ধ্যা, 
- নতুন চাঁদ, 
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮৮.
সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বাবু বৃত্তান্ত
  2. নানাচর্চা
  3. খোলাচিঠি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সমর সেন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'খোলাচিঠি'।

• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।
- তাঁর কবিতায় নগর জীবনের ক্লেদ ও গ্লানি, মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট, সংশয়, নীতিহীনতা ও আত্মকেন্দ্রিকতা এবং সংগ্রামী গণচেতনা বলিষ্ঠভাবে রূপায়িত হয়েছে।
- তিনি রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত

• অপশন আলোচনা:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'নানাচর্চা'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৮৯.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক?
  1. ক) কৃষ্ণকুমারী
  2. খ) কীর্তিবিলাস
  3. গ) ভদ্রার্জুন
  4. ঘ) কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• কীর্তিবিলাস:
-  ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। 
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে কীর্তিবিলাস নাটকটি রচিত।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৯০.
‘নীল-দর্পণ’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
নীল-দর্পণ: 
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটকটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- নীল-দর্পণ নাটকের ইংরেজি অনুবাদ 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror'।
- অনুবাদটি প্রকাশিত হয় ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেছিলেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত A Native ছদ্মনামে এই অনুবাদ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৯১.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৬০ সালে
  2. ১৮৬৫ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ নীলদর্পণ নাটক:
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
• এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯২.
মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের চরিত্র 'কালকেতু ও ফুল্লরা' নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন কে?
  1. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের চরিত্র 'কালকেতু ও ফুল্লরা' নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন - সেলিনা হোসেন

কালকেতু ও ফুল্লরা:
- মানুষ ভালো থেকে মন্দে এবং মন্দ থেকে ভালোয় রূপান্তরিত হয়।
- মানুষকে মন্দ করে তার লোভ, অন্য মানুষের প্রতি তার সহানুভূতির অভাব।
- একজন মানুষের লোভ যখন চরমে পৌঁছায়, অত্যাচারিত অন্য মানুষেরা তার বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ায়, প্রতিবাদ করে।
- 'কালকেতু ও ফুল্লরা' মানুষের এমনি লোভ, এমনি অধঃপতন ও এমনি প্রতিবাদের গল্প।

- ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কখনোই মানুষের জন্য মঙ্গলকর নয়। তাই এ উপন্যাসে আছে একজন ভিন্ন কালকেতুর সম্প্রসারণ।
- যে ক্ষমতা পেয়েই দেবীর মতো সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিজের পূজো চায়।
- মনে করে এই নগর তার স্বর্গ, এই নগর তার স্বেচ্ছাচারের লীলাক্ষেত্র।
- এইসব স্বৈরাচারী কালকেতু ও ফুল্লরাদের কোনো কাল নেই, এদের সামনে থেকে মুছে যায় ভৌগোলিক সীমানা।
- এরা যে কোনো দেশের, যে কোনো কালের। এদের চরিত্র এক।

- ঐতিহ্যের পুনঃনির্মাণ সেলিনা হোসেন-এর উপন্যাসের বৈশিষ্ট্য।
- তিনি অতীতকে দেখেন বর্তমানের দৃষ্টিতে।
- খুঁজে নেন শিল্পিত উপাদান যা উপন্যাসের মতো শিল্পকে এক থেকে বহুমাত্রায় বিন্যস্ত করে।
- 'কালকেতু ও ফুল্লরা' (১৯৯৯২) উপন্যাসে আছে এই বিস্তৃতি।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; কালকেতু ও ফুল্লরা, সেলিনা হোসেন।
৯,৬৯৩.
'জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন' বিখ্যাত পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
"জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ পুরানো শকুন" - বিখ্যাত পঙক্তিটি রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর বিখ্যাত কবিতা 'বাতাসে লাশের গন্ধ' এর অন্তর্গত। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

বাতাসে লাশের গন্ধ
রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?
বাতাসে লাশের গন্ধ ভাসে,
মাটিতে লেগে আছে রক্তের দাগ।
এই রক্তমাখা মটির ললাট ছুঁয়ে একদিন যারা বুক বেঁধেছিলো।
জীর্ণ জীবনের পুঁজে তারা খুঁজে নেয় নিষিদ্ধ আঁধার।
আজ তারা আলোহীন খাঁচা ভালোবেসে জেগে থাকে রাত্রির গুহায়।
এ যেন নষ্ট জন্মের লজ্জায় আড়ষ্ট কুমারী জননী,
স্বাধীনতা, -একি তবে নষ্ট জন্ম?
একি তবে পিতাহীন জননীর লজ্জার ফসল?
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে আজ সেই পুরোনো শকুন। (সংক্ষিপ্ত) 

রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- উপদ্রুত উপকূল
- ফিরে চাই স্বর্নগ্রাম
- মানুষের মানচিত্র
- দিয়েছিলে সকল আদেশ
- মৌলিক মুখোশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৪.
"মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা" প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. বদরুদ্দীন ওমর
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৬৯৫.
'অশোক সংগীত' সনেট সংগ্রহের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• 'অশোক সংগীত' কামিনী রায় রচিত সনেট সংগ্রহ।
- এটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত।



--------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৬৯৬.
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. অভিযান
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতাটি ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৬৯৭.
সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র কোনটি?
  1. ফেলুদা
  2. ব্যোমকেশ বক্সী
  3. ফটিক
  4. দিপু
ব্যাখ্যা
•  বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র 'ফেলুদা' এর স্রষ্টা সত্যজিৎ রায়।

• ফেলুদা সিরিজ:
- ১৯৬৫ সালের ডিসেম্বর মাসের সন্দেশ পত্রিকায় ফেলুদা সিরিজের প্রথম গল্প ফেলুদার গোয়েন্দাগিরির প্রথমভাগ প্রকাশিত হয় যা পরের আরো দুইটি সংখ্যার মাধ্যমে শেষ হয়। ১৯৬৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত এই সিরিজের মোট ৩৫টি সম্পূর্ণ ও চারটি অসম্পূর্ণ গল্প ও উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে।

- ফেলুদার প্রধান সহকারী তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে ও লেখক লালমোহন গাঙ্গুলি (ছদ্মনাম জটায়ু)।
- ফেলুদার চরিত্র নির্মাণে সত্যজিৎ রায় তার ছোটবেলায় পড়া শার্লক হোমস এর গোয়েন্দা গল্পের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন।

- তাই ফেলুদার চরিত্রের সাথে অনেক জায়গায় আমরা হোমসের আর ফেলুদার ভাই ও সহকারী তোপসের সাথে হোমসের সহকারী ওয়াটসনের মিল পাওয়া যায়। নিজের লেখা অধিকাংশ গল্পের বইয়ের মতই ফেলুদার বইতেও সত্যজিৎ রায় নিজেই প্রচ্ছদ ও অলংকরণ করতেন।

অন্যদিকে,
- শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসিদ্ধতম সৃষ্টি হল সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী।
- 'ফটিক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ছুটি' গল্পের চরিত্র। 
 
উৎস: 'ফেলুদা সিরিজ' এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯,৬৯৮.
'নিরুপমা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গল্পের চরিত্র?
  1. অনধিকার প্রবেশ
  2. দেনাপাওনা
  3. ভিখারিনী
  4. মুকুট
ব্যাখ্যা
দেনাপাওনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৬৯৯.
অমিয় চক্রবর্তী কোন বিখ্যাত লেখকের সাহিত্য সচিব ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- জন্ম: ১০ এপ্রিল ১৯০১, শ্রীরামপুর, হুগলি।
- পেশা: কবি, গবেষক, শিক্ষাবিদ।
- শিক্ষাজীবন: ১৯২১ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. পাস করেন, পরবর্তীতে শান্তি নিকেতনে যোগ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব ছিলেন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে লিখেছেন কবিতা ‘বাংলাদেশ’।
- পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- ভারতের পদ্মভূষণ (১৯৭০)।
- মৃত্যু: ১২ জুন ১৯৮৬, শান্তিনিকেতন।

• প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• গদ্য রচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক 
- পুরবাসী 
- পথ অন্তহীন, ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯,৭০০.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কাল কোনটি?
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।