বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৫ / ২১১ · ৯,৪০১৯,৫০০ / ২১,১৩২

৯,৪০১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিল কোন পত্রিকা?
  1. ক) মোসলেম ভারত
  2. খ) সওগাত
  3. গ) ধূমকেতু
  4. ঘ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক ছিলো 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা। 

- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের (১৯২০) বৈশাখ মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 
- প্রথম বছর নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়। 
- সর্বমোট ১৭ টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। 
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতিটি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো। 
- মোসলেম ভারত নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। 
- প্রতিটি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়। 
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, শাত-ইল-আরব, বিদ্রোহী, বাঁধন হারা ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪০২.
জহির রায়হান পরিচালিত চলচ্চিত্র নয় কোনটি?
  1. কখনো আসে নি
  2. বাহানা
  3. কাঁচের দেয়াল
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা
• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে বুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখকের হৃদয়ে উদয় হয়েছিল। 
- শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা উপন্যাসটির মূল উপজীব্য। আর উপন্যাসটির চরিত্র ইভা ও তপু শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠে।

--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে। 

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী, 
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৩.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থঃ
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ব্যাকরণ,
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান ইত্যাদি।
• তাঁর কিছু বিখ্যাত কিছু উক্তিঃ
- 'যে দেশে গুণের সমাদর নেই, সেদেশে গুণীজন জন্মাতে পারে না।',
- 'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।',
- পৃথিবীর কোনো জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনা করে যশস্বী হতে পারেনি।'
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪০৪.
মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. নাথ সাহিত্য
  3. লোক সাহিত্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে ‘লোক সাহিত্যধারা’ ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪০৫.
’শাশ্বতবঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ভ্রমনকাহিনী
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা
• কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন 'শাশ্বতবঙ্গ'।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ' এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

• কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কলেজে অধ্যয়নকালেই কাজী আবদুল ওদুদ সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন। 
- ছাত্র অবস্থায়ই তাঁর একটি গল্পগ্রন্থ মীর পরিবার (১৯১৮) এবং উপন্যাস নদীবক্ষে (১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

• সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৬.
'ফিরোজা বেগম' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
তারাবাঈ, রায়নন্দিনী, নূরুদ্দিন, ফিরোজা বেগম, জাহানারা ইত্যাদি উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৪০৭.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) এখনও ক্রীতদাস
  2. খ) মানব তোমার সারা জীবন
  3. গ) হায় পার্বতী
  4. ঘ) খলনায়ক
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত উপন্যাস হলোঃ’ মানব তোমার সারা জীবন’, ‘হায় পার্বতী’, ‘খলনায়ক’। ‘এখনও ক্রীতদাস’ হলো নাটক। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,৪০৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪০৯.
শোভনলাল ও কেতকী কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. শেষের কবিতা
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
• শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী,
- শোভনলাল প্রমুখ।

• উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে-
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪১০.
বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. চৈতন্য-চরিতামৃত
  2. চৈতন্য-ভাগবত
  3. শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম
  4. চৈতন্য-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• 'চৈতন্য-মঙ্গল' বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪১১.
বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. আলাওল
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী 'জাহ্নবী দেবীর' শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।
- পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪১২.
'আকাশলীনা' কাব্য কার লেখা?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'আকাশলীনা' কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।
- কবিতাটি 'সাতটি তারার তিমির' (১৯৪৮) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

সুরঞ্জনা, অইখানে যেয়ো নাকে তুমি,
বোলো নাকো কথা অই যুবকের সাথে;
ফিরে এসো সুরঞ্জনা:
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;

ফিরে এসো এই মাঠে ঢেউয়ে;
ফিরে এসো হৃদয়ে আমার;
দূর থেকে দূরে–আরো দূরে
যুবকের সাথে তুমি যেয়ো নাকে আর।

কী কথা তাহার সাথে?–তার সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ:
তার প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

সুরঞ্জনা,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস:
বাতাসের ওপারে বাতাস–
আকাশের ওপারে আকাশ।
-------------
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎস: আকাশলীনা, জীবনানন্দ দাশ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪১৩.
’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - পঙ্‌ক্তিটি কার?
  1. চণ্ডীদাস
  2. জ্ঞানদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ’জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।’ - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের পঙ্‌ক্তি।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি, যা সুপ্রচলিত প্রবচন বা সুভাষিতের মর্যাদা লাভ করেছে।
যেমন -
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪১৪.
হুমায়ুন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) আগুনের পরশমণি
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) শ্রাবণ মেঘের দিন
  4. ঘ) সূর্যের দিন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় শ্রাবণ মেঘের দিন।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- সূর্যের দিন,
- শ্যামল ছায়া,
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১ ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৪১৫.
রবিঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কোন জেলায়?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. কুষ্টিয়া
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
- শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রবীন্দ্রস্মৃতি-বিজড়িত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- রবীন্দ্রনাথ জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব নিয়ে প্রথম শিলাইদহে আসেন ১৮৮৯ সালের।
- রবিঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহ কুষ্টিয়া জেলায় অবস্থিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪১৬.
চর্যাপদ কত বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩০৭
  2. ১৩১৭
  3. ১৩১৬
  4. ১৩২৩
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ ১৩২৩ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যাপদ 
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খন্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। 
- চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯,৪১৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ 'আর্তনাদে বিবর্ণ' এর রচয়িতা কে?
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. ড. মযহারুল ইসলাম
  3. শামসুর রহমান
  4. সৈয়দ হাদী আহসান
ব্যাখ্যা
প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম (১ জুলাই ১৯২৯ - ১৪ নভেম্বর ২০০৩)
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লোকাচারবেত্তা, লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, লোকতাত্ত্বিক, লোকবিজ্ঞানী, কবি-কথাশিল্পী-সংগঠক ও শিল্পপতি।
- তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বাংলা একাডেমির প্রথম মহাপরিচালক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ
- মাটীর ফসল
- বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি
- আর্তনাদে বিবর্ণ
- যেখানে বাঘের থাবা
- অপরাহ্ণে বিবস্ত্র প্রাতরাশ
- দুঃসময়ের ছড়া
- উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি

উৎস: বাংলা কবিতার ব্লগ ও দৈনিক পত্রিকা
৯,৪১৮.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লেখরাজ সামন্ত'?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. কালিকানন্দ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'প্রেমেন্দ্র মিত্র' এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত

অন্যদিকে,
- 'প্যারীচাঁদ মিত্র' এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- 'শম্ভু মিত্র' এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত।
- 'কালিকানন্দ' এর ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪১৯.
'তিথিডোর' বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. গল্প 
  3. নাটক 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস:
​- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস 'তিথিডোর'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮।
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত।
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা।
- এ কাহিনির গীতল ভাষা ও কাব্যময়তা এবং এর শেষাংশে প্রযুক্ত 'চৈতন্যপ্রবাহ' -ধর্মী বর্ননাভঙ্গির দেখা পাওয়া যায়।

বুদ্ধদেব বসু রচিত  অন্যান্য উপন্যাস:
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪২০.
সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে যে উপন্যাসে-
  1. ক) রাইফেল রোটি আওরাত
  2. খ) ক্রাচের কর্নেল
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৪২১.
‘গীতগোবিন্দম্‌' বৈষ্ণব পদাবলির আদি নিদর্শন হিসেবে পরিচিত গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়দেব
  4. গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯,৪২২.
'উদীচী' - সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. সরদার জয়েন উদ্দিন
  2. সমর সেন
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সত্যেন সেন:
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪২৩.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন শতকের কবি?
  1. আঠারো
  2. সপ্তদশ
  3. ষোড়শ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৯,৪২৪.
বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ ছিলেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ-জাপান মৈত্রী প্রতিষ্ঠার পথিকৃৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) পর্যন্ত মোট ছয়বার জাপান সফর করেন এবং সেখানে সর্বমোট ৫ মাস ১৪ দিন অবস্থান করেন।
- জাপান সফরের এই কাহিনিগুলো নিয়ে তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি ‘জাপান যাত্রী’।

• ‘জাপান যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনি:
• জাপান যাত্রী তাঁর জাপানে প্রথম সফরের সময় সংরচিত। রবীন্দ্রনাথ অন্যান্য বিদেশ যাত্রার মত জাপান যাত্রার প্রাক্কালে সেবারও 'সবুজ পত্র'র জন্য ভ্রমণ-বৃত্তান্ত লিখে পাঠাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। জাপান যাত্রার তিন দিন পর ২১ বৈশাখ তোসামারু জাহাজে বসেই রবীন্দ্রনাথ প্রমথ চৌধুরীকে পত্র লেখেন। এই পত্রে লিখিত কাহিনিগুলোই পরে বিভিন্ন পরিচ্ছেদে প্রকাশিত হয়।

• প্রবাসি ও মডার্ণ রিভিউ পত্রিকা সম্পাদক বিশিষ্ট ব্রাহ্মনেতা রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এর নামে জাপান যাত্রী উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ।
• জাপান-যাত্রী পরবর্তীকালে ১৩৪৩ সালে জাপানে-পারস্যে গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।

• ১৯৬৯ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ উদযাপনের সময় জাপান যাত্রী জাপান ভ্রমণ সংক্রান্ত বহু তথ্য, চিঠিপত্র, ভাষণ ও অন্যান্য রচনা একত্র করে আলাদাভাবে সচিত্র সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়।

• সবুজ পত্রে লেখাগুলির প্রকাশকাল এবং গ্রন্থাকারে জাপান-যাত্রীর প্রথম প্রকাশকাল সম্পর্কিত পূর্বোক্ত তথ্য পর্যালোচনা করে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের জাপান যাত্রার বিবরণ মূলত প্রথমবার যাত্রাপথে জাহাজে বসে লেখা এবং জাপানে বসে লেখা মাত্র চারটি পরিচ্ছেদ তাও প্রথম বার সফরের সময়।

• এটাও প্রণিধানযোগ্য যে রবীন্দ্রনাথ মোট ছয়বার জাপানে পদার্পণ করলেও ১৯১৬ সালে প্রথমবার ৩ মাস ৬ দিন, ১৯২৪ সালে চতুর্থবারে ২৩ দিন এবং ১৯২৯ সালে ষষ্ঠ বারে ২৯ দিন একটানা অবস্থান করেছিলেন। বাকি তিন বারের অবস্থান ছিল যাত্রাবিরতি প্রকৃতির, ২ থেকে ৭ দিনের মতো।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি হলো:
- জাভা যাত্রীর পত্র;
- জাপান যাত্রী;
- রাশিয়ার চিঠি;
- জাপানে-পারস্যে;
- পারসো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘জাপান যাত্রী’ ভ্রমণকাহিনি।
৯,৪২৫.
নিচের কোনটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়?
  1. ক) ঈশ্বরী পাটনী
  2. খ) কানা হরিদত্ত
  3. গ) ভবানন্দ
  4. ঘ) মানসিংহ
ব্যাখ্যা
- 'কানা হরিদত্ত' অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র নয়।
- মনসা মঙ্গলকাব্যের আদিকবি হিসেবে মনে করা হয় কানা হরিদত্তকে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র- মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪২৬.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস-
  1. ধানকন্যা
  2. কর্ণফুলী
  3. ক্ষুধা ও আশা
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসী (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

⇒ আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪২৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) অরক্ষণীয়া
  2. খ) বিন্দুর ছেলে
  3. গ) নারীর মূল্য
  4. ঘ) ল্যাংড়ী
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প হলো - মন্দির, রামের সুমতি, বিন্দুর ছেলে, মেজদিদি, কাশীনাথ, বিলাসী, মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, হরিলক্ষ্মী, অনুরাধা,সতী, পরেশ, ইত্যাদি। [সূত্র: LiveMCQ লেকচার]
৯,৪২৮.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কী ধরণের সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কবিতা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  

তাঁর রচিত কবিতা: 
- একদা এক রাজ্যে 
- বৈশাখের রচিত পংক্তিমালা 
- পরানের গহীন ভিতর 
- বেজান শহরের জন্য কোরাস 
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে 
- আমি জন্ম গ্রহণ করিনি 

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে 

তাঁর রচিত গল্প: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান 
- জলেশ্বরী গল্পগুলো

তাঁর রচিত উপন্যাস : 
- এক মহিলার ছবি 
- অনুপম দিন 
- সীমানা ছাড়িয়ে 
- খেলারাম খেলে যা 
- নীল দংশন 
- স্তব্ধতার অনুবাদ 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ  
- তুমি সেই তরবারী 
- অন্য এক আলিখান 
- এক মুঠো জন্মভূমি 
- আলোর জন্য 
- রাজার সুন্দরী 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর ]
৯,৪২৯.
কোন নাটকটি ইব্রাহিম খাঁ রচিত?
  1. সাজাহান 
  2. কাফেলা 
  3. ডাকঘর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর 
ব্যাখ্যা

- ‘কাফেলা’ নাটকটি ইব্রাহিম খাঁর আদর্শনিষ্ঠ ও সংস্কারমুখী চিন্তার প্রতিফলন, যেখানে তাঁর অন্যান্য নাটক ও সাহিত্যকর্মের মতোই সমাজ ও ধর্মের নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের উদ্দেশ্য সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

• ইব্রাহীম খাঁ:

- ইব্রাহীম খাঁ ১৮৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলার শাবাজ নগর গ্রামে এক মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
-তাঁর স্মৃতিকথা 'বাতায়ন' সমকালের মুসলিম সমাজের একটি বিশস্ত দলিল হিসেবে বিবেচিত।
-তিনি ব্রিটিশ আমলে 'খান সাহেব' ও 'খান বাহাদুর' এবং পাকিস্তান আমলে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধি লাভ করেন।
- নাটকে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৩) এবং সাহিত্যের জন্য একুশে পদক (১৯৭৬) লাভ করেন।
- ১৯৭৮ সালের ২৯ মার্চ ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক:
- কাফেলা,
- আনোয়ার পাশা,
- কামাল পাশা,
- ভিস্তি বাদশা,
- ঋণ পরিশোধ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী:
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- পাকিস্তানের পথে ঘাটে,
- নয়া চীনে এক চক্কর।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সোনার শিকল,
- আলু বোখরা,
- দাদুর আসর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস- বৌ বেগম।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৩০.
'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ আলী আহসান 
ব্যাখ্যা

• 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা:
- 'শোকার্ত তরবারি' হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- হাসান হাফিজুর রহমানের 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যের সবগুলো কবিতাতেই মূলত গদ্যছন্দ ব্যবহৃত হয়েছে। হয়তো ছন্দহীন জীবন সময় কে ফুটিয়ে তুলতে কবি গদ্যছন্দের আশ্রয় নিয়েছেন।
- রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:এই কবিতা ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনা গঠনে এক শক্তিশালী শিল্পরূপ। তরবারি এখানে নিপীড়িত বাঙালি জাতির সংগ্রামের প্রতীক — যারা কাঁদে, কিন্তু শেকল ভাঙতেও জানে।

---------------------
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি,
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শোকার্ত তরবারি' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৩১.
’উজানে মৃত্যু’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. মামুনুর রশিদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

’উজান মৃত্যু’ নাটকের রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- লালসালু।
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৩২.
'শেষের পরিচয়’ - উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শেষের পরিচয়' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচতি শেষ উপন্যাস।
- তিনি এ উপন্যাসটি মৃত্যু পূর্বে শেষ করে যেতে পারেননি।
- পঞ্চদশ পরিচ্ছেদের ’রাখাল এ প্রশ্নে নীরব বহিরে হইয়া গেল’ পর্যন্ত শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত।
- বাকি অংশটুকু রাধারানি দেবী কর্তৃক রচিত।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে ’ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
--------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৩৩.
'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৩৪.
বিশ শতকের ষাটের দশকের কবিদের জন্য প্রাসঙ্গিক -
  1. ক) অনিদের্শ্য সৌন্দর্যচেতনা
  2. খ) রূপক - প্রতীকের আড়াল
  3. গ) নির্ভীক সত্যপ্রকাশ
  4. ঘ) বিবিক্ত সমাজচেতনা
ব্যাখ্যা

ষাটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে রাজনৈতিক যুগচেতনা এতটা প্রাধান্য পায় যে, কবি-সাহিত্যিককে প্রগতিচেতনার দ্বারস্থ হতে হয়। ঊনসত্তরের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক গণজাগরণ তাঁদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। যেমন কবিতায় তেমনি গণসংগীত রচনায়।

কবিতা অনেকাংশে সরে আসে অর্থহীন শব্দচয়নের চৌখুপি থেকে, বলিষ্ঠ জীবনচর্চা তাদের ডাক পাঠায় জীবনের ধন রক্তের মূল্যে অর্জন করার জন্য। ফিরে আসে পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার চেতনা-উদ্দীপক বাহার কাব্যভুবনে।
পাকিস্তানি সহমর্মিতার প্রলেপ ঝরে পড়তে থাকে। কবিদের সংখ্যাগুরু অংশের শ্রুতিতে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ঘরে ফেরার ডাক। নব্য ভূখ-ভিত্তিক কথিত জাতীয়তার টান তাদের ধরে রাখতে পারে না। রাজপথ-মেঠোপথ একই চেতনার রঙে রঞ্জিত হতে থাকে। এ-সময় কবিতা নতুন চেতনায় ভর করে বলিষ্ঠ উচ্চারণে পথ চলতে থাকে।
সত্তরের দামামা বাজার পূর্বাহ্নে এদেশের কবিতায় এমন ঘণ্টাধ্বনিও শোনা গেছে আবার ‘সমাজমানসের মৃদুতম পরিবর্তন কবিতার শরীরে অনুভূত হয়ে’ প্রকাশ পেয়েছে। এভাবে ষাটের দশকের কবিতা বিচিত্র-ভাব প্রকাশের পথ ধরে চলেছে। তবে একথাও ঠিক যে, এই বিচিত্র-ভাবনা ও অবস্থান থেকেও ষাটের দশকের একেবারে শেষদিকে বাংলাদেশের কবিতার অংশবিশেষ রক্তচিহ্নিত পাথরটাকে ছুঁয়ে গেছে, জাতিসত্তার সম্মানে একমুঠো ঘাসফুল নিয়ে। সেখানে মানবিক চেতনার প্রকাশই বড় হয়ে থেকেছে।

অর্থাৎ, বিশ শতকের ষাটের দশক কবিদের  নির্ভীক সত্যপ্রকাশের চেতনাকে প্রাসঙ্গিকভাবে ফুটিয়ে তোলে।

উৎসঃ কালি ও কলম

৯,৪৩৫.
হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা
  2. একাত্তরের ডায়েরি
  3. একাত্তরের ঢাকা
  4. একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা:
- কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা'
- তাঁর দেখা একাত্তরের ভাষ্য শুরু করেছেন নিস্পৃহ নিরাবেগ ভঙ্গিতে।
- বইয়ের সূচনাবাক্যে তিনি লিখেছেন: 'আমার জানা ছিল না যে পানিতে ভাসিয়ে দিলে পুরুষের লাশ চিৎ হয়ে ভাসে আর নারীর লাশ ভাসে উপুড় হয়ে। এই জ্ঞান আমি পাই '৭১ সালের মার্চ মাসের একেবারে শেষে।'
- জীবনের নিষ্ঠুরতার বর্ণনায় এমনি অসাধারণ সংযমী শিল্পদৃষ্টির প্রকাশ আমাদের এক লহমায় দাঁড় করিয়ে দেয় কঠিন সত্যরূপের মুখোমুখি। শক্তিমান লেখকের সংহত জীবনদৃষ্টি এমনিভাবেই পরতে পরতে উদ্ভাসিত হয়েছে এই গ্রন্থে।
- একান্ত ব্যক্তিগত ছোট-বড় সাধারণ অভিজ্ঞতাসমূহ শিল্পের পুণ্যস্পর্শে তিনি করে তুলেছেন সর্বকালীন ও সর্বজনীন। 

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা

অন্যদিকে,
• সুফিয়া কামালের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ - একাত্তরের ডায়েরি।
• সেলিনা হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধগ্রন্থ - একাত্তরের ঢাকা।
• জাহানারা ইমামের দিনপঞ্জিরূপে লেখা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ - একাত্তরের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; একাত্তর করতলে ছিন্নমাথা, হাসান আজিজুল হক।
৯,৪৩৬.
কোন মঙ্গলকাব্যে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জীবনধারা বর্ণিত হয়েছে?

  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) মনসামঙ্গল।

------------------
মঙ্গলকাব্য সম্পর্কিত আলোচনা:

মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা, যা মধ্যযুগে (প্রায় ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী) রচিত হয়েছিল। এই কাব্যগুলো সাধারণত দেব-দেবীর গুণকীর্তন ও তাঁদের পূজার প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত হলেও এতে সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, এবং জীবনযাত্রার প্রতিফলন দেখা যায়। 

অপশন আলোচনা:
ক) ধর্মমঙ্গল:
ধর্মমঙ্গল কাব্য ধর্মঠাকুর বা ধর্মরাজের পূজা ও তাঁর গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে মূলত ধর্মঠাকুরের ভক্তি ও আধ্যাত্মিক বিষয়বস্তু প্রাধান্য পায়। এতে চাঁদ সওদাগরের কোনো উল্লেখ নেই।

খ) চণ্ডীমঙ্গল:
চণ্ডীমঙ্গল কাব্য দেবী চণ্ডীর পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যে কালকেতু ও ফুল্লরার গল্প প্রধান, যেখানে সমাজের সাধারণ মানুষের জীবন ও দেবী চণ্ডীর প্রভাব বর্ণিত হয়। তবে, চাঁদ সওদাগর এই কাব্যের চরিত্র নন।

গ) কালিকামঙ্গল:
কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দর কাহিনি' বলা হয়। দেবী কালির মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে। কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি- কবি কঙ্ক। এছাড়া সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন কালিকা মঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

ঘ) মনসামঙ্গল:
মনসামঙ্গল কাব্য দেবী মনসার পূজা ও গুণকীর্তন নিয়ে রচিত। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র চাঁদ সওদাগর, একজন বণিক, যিনি তাঁর বাণিজ্যিক অভিযানের জন্য বিখ্যাত। মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগরের সমুদ্রযাত্রা, বাণিজ্য, এবং তাঁর সঙ্গে মনসা দেবীর দ্বন্দ্বের বর্ণনা রয়েছে। এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা, যেমন বণিক, নৌকার মাঝি, সাধারণ গ্রামবাসী, এবং ধর্মীয় বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন চরিত্রের জীবনযাত্রা ফুটে উঠেছে।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

মনসামঙ্গল কাব্যের বিশেষত্ব:

চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান: মনসামঙ্গল কাব্যে চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক হিসেবে সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে বাণিজ্য করেন। তাঁর বাণিজ্যিক অভিযান, সমুদ্রযাত্রার বিপদ, এবং তাঁর সম্পদ ও প্রভাব বর্ণিত হয়েছে, যা মধ্যযুগীয় বাংলার বাণিজ্য ও অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে।

• সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ: এই কাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা উঠে এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, চাঁদ সওদাগর একজন ধনী বণিক (উচ্চবর্গ), তাঁর স্ত্রী সনকা ও পুত্র লখিন্দর পারিবারিক জীবনের প্রতিনিধিত্ব করে, এবং মাঝি, কৃষক, ও অন্যান্য চরিত্র সমাজের নিম্নস্তরের জীবনযাত্রা প্রকাশ করে। এছাড়া, মনসা দেবীর পূজার প্রচার ও ধর্মীয় দ্বন্দ্ব সমাজের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক তুলে ধরে।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
- বাংলাপিডিয়া।
- মনসামঙ্গল কাব্যের বিভিন্ন সংস্করণ (যেমন, বিজয় গুপ্তের ‘পদ্মাপুরাণ’)।

৯,৪৩৭.
‘পালামৌ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'। 
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে। 
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য। তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
------------------ 
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত। 
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা, (১২৮১-১২৮২) বঙ্গাব্দে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৩৮.
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. মৈথিলি
  2. ব্রজবুলি
  3. বাংলা 
  4. অপভ্রংশ 
ব্যাখ্যা

• 'ব্রজবুলি' ভাষা:
বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়। মূলত মৈথিলি ও বাংলা মিশ্রিত এই মধুর সাহিত্যিক ভাষায় রচিত পদাবলি থেকে জনসাধারণ ধারণা করেছে যে, বৃন্দাবনের রাধাকৃষ্ণ সম্ভবত এ ভাষাতেই কথা বলত। তাই ব্রজের বুলি অর্থে ব্রজবুলি এই কাল্পনিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

 বিদ্যাপতি মৈথিল অপভ্রংশ মিশ্রিত একটি কৃত্রিম সুললিত ভাষায় রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ রচনা করেন। প্রকৃতপক্ষে মৈথিল কবি বিদ্যাপতির পদের ভাব ও ভাষার অনুসরণে বাংলা উড়িষ্যা ও আসামে পনের শতকের শেষ ভাগে ব্রজবুলি ভাষার সৃষ্টি হয়।

মৈথিলি ভাষার ক্রমরূপান্তর হিসেবে এ ভাষার বিকাশ। ব্রজলীলা সম্পর্কিত পদের ভাষা অর্থে এই ভাষা ব্রজবুলি নামে পরিচিত। ব্রজবুলি কখনও মুখের ভাষা ছিল না; সাহিত্যকর্ম ব্যতীত অন্যত্র এর ব্যবহারও নেই। এই কবিভাষা পদাবলিতে ব্যবহৃত হয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। মৈথিলি ও বাংলার সংমিশ্রণে এতে ধ্বনিঝঙ্কারের সৃষ্টি হয়েছে।

সুকুমার সেনের মতে, 'অবহট্‌ঠ' থেকেই ব্রজবুলির উৎপত্তি হয়েছে। বাংলা মৈথিলি হিন্দি, রাজস্থানি গুজরাটি প্রভৃতি ভাষাগুলি অল্পবিস্তর পূর্ণ পরিণত রূপ ধরবার পরেও অবহট্‌ঠের আদর কমেনি দরবারি সাহিত্যে, বিশেষ করে রাধাকৃষ্ণ পদাবলিতে। এই পরবর্তী অবহট্‌ঠ যার ওপর মৈথিলি প্রভৃতি স্থানীয় ভাষার প্রভাব অবশ্যই পড়েছিল, পঞ্চদশ-ষোড়শ শতাব্দীতে ব্রজবুলি রূপ নিয়েছিল। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম। 

৯,৪৩৯.
সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. রবিবারের ডাক
  3. বিজলি
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• সজনীকান্ত দাস সম্পাদিত পত্রিকা- 'শনিবারের চিঠি'।

----------------------------
• শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন- যোগানন্দ দাস।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৪০.
কোন কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. শূন্যপুরাণ
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ'- কাব্যে 'শূন্যময় দেবতা' ধর্মঠাকুরের পূজা পদ্ধতির বর্ণনা আছে।

•'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪১.
'মোদের গরব, মোদের আশা,
আমরি বাংলা ভাষা' - বিখ্যাত গানটি রচনা করেন কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. অতুলপ্রসাদ সেন
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন:
- তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
- অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- অতুলপ্রসাদ ১৮৯০ সালে প্রবেশিকা পাসের পর কিছুদিন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়ন করেন।
- তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
- 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
- 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪২.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগ বিভাগ কয়টি ?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের প্রধান যুগবিভাগ — তিনটি।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রি.),
২. মধ্যযুগ (১২০১-১৮০০ খ্রি.) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১-বর্তমান)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪৩.
"জমিদার দর্পণ" মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রহসন
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
• মীর মশাররফ হোসেনের 'জমিদার দর্পণ' নাটকের কাহিনি সরল ও আড়ম্বহীন।

• নারীলোভী এক জমিদার এবং কৃষকের সুন্দরী পত্নীর নির্যাতনের প্রসঙ্গ এ নাটকের কাহিনির মূল অংশ। জমিদার শ্রেণীর চরিত্র, তোষামোদের ছলচাতুারি, চাষা আবু মোল্লা এবং তার পত্নী নুরন্নেহারের নির্যাতন প্রভৃতি নিয়ে জমিদার দর্পন অতি বাস্তব ধর্মী নাট্যকর্ম।

• এ নাটকেও নটনটী আছে, গান আছে। বিচারালয়ে ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট ,ডাক্তার, দেশি দারোগা, পেশকার ইত্যাদি সমন্বয়ে যে নৈরাজ্য চিত্র অঙ্কিত হয়েছে ,তা বাস্তবতার দিক থেকে অতুলনীয়। সাহিত্য ও শিল্পকর্মে সাধারণ ও অপরিচিত বেদনার কথা বেশি দৃষ্টিগোচার হয় না।

• আবু মোল্লা আর নুরন্নেহারের জীবন দান বিরাট সংবাদ ভাষ্যের অন্তর্ভুক্ত হবে না। কিন্তু তাদের এমন মৃত্যুর ব্যঞ্জনা কোনোভাবে তুচ্ছ বা বিস্মৃত হবার নয় । জমিদার দর্পন নাটকের প্রধান চরিত্রের পরিণাম ও অসহায় জীবনভাগ্য নাটকটিকে ট্র্যাজেডির মহিমা দান করেছে। মীর মশারফ হোসেন ছিলেন বাস্তবাদী ও জীবনমুখী নাট্যকার। জমিদার দর্পন নাটকে সে দৃষ্টান্ত উজ্জ্বল।

উৎস: 'জমিদার দর্পণ' নাটক।
৯,৪৪৪.
'জন্মিলে মরিতে হবে, 
অমর কে কথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, 
হয় রে জীবন নদে?' - কোন কবির উক্তি? 
  1. নবীন চন্দ্র
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বঙ্গভূমির প্রতি
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত---সংকলিত (মাইকেল মধুসূদন দত্ত) 

রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
সাধিতে মনের সাধ,
ঘটে যদি পরমাদ,
মধুহীন করো না গো তব মনঃকোকনদে।
প্রবাসে দৈবের বশে,
জীব-তারা যদি খসে
এ দেহ-আকাশ হতে, – খেদ নাহি তাহে।
জন্মিলে মরিতে হবে,
অমর কে কোথা কবে,
চিরস্থির কবে নীর, হায় রে, জীবন-নদে?
কিন্তু যদি রাখ মনে,
নাহি, মা, ডরি শমনে;
মক্ষিকাও গলে না গো, পড়িলে অমৃত-হ্রদে!
সেই ধন্য নরকুলে,
লোকে যারে নাহি ভুলে,
মনের মন্দিরে সদা সেবে সর্ব্বজন; –
কিন্তু কোন্ গুণ আছে,
যাচিব যে তব কাছে,
হেন অমরতা আমি, কহ, গো, শ্যামা জন্মদে!
তবে যদি দয়া কর,
ভুল দোষ, গুণ ধর,
অমর করিয়া বর দেহ দাসে, সুবরদে! –
ফুটি যেন স্মৃতি-জলে,
মানসে, মা, যথা ফলে
মধুময় তামরস কি বসন্ত, কি শরদে!
৯,৪৪৫.
কোন পত্রিকা বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে অনস্বীকার্য অবদান রাখেন?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. পরিচয়
  4. শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৪৬.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- বৈষ্ণব পদাবলী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।

অন্যদিকে,
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলীর রচনা করেন চণ্ডীদাস।
- কৃষ্ণদাস কবিরাজ এর 'চৈতন্য-চরিতামৃত' বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্য জীবনী।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
৯,৪৪৭.
বৈষ্ণব পদাবলি-এর আদি কবি বলা হয় কাকে? 
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দ দাস
  3. চণ্ডীদাস
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সমৃদ্ধ ও শ্রেষ্ঠ সাহিত্যধারা।
- এই ধারার মূল ভিত্তি হলো রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা ও ভক্তিভাবনা।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে মোট পাঁচটি রসের প্রকাশ লক্ষ্য করা যায় — 
- শান্তরস, 
- দাস্যরস, 
- সখ্যরস, 
- বাৎসল্যরস,
- মধুররস। 
- এই রসসমূহের সমন্বয়ে বৈষ্ণব পদাবলি ভক্তি ও প্রেমের এক অনন্য সাহিত্যিক রূপ লাভ করেছে।

- বাঙালি কবি জয়দেব-কে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা আদিকবি বলা হয়।
- তাঁর রচিত গীতগোবিন্দম্-এ রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও ভক্তির রূপচিত্র তুলে ধরলেও এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- যদিও এটি বাংলা নয়, তবুও আদি বৈষ্ণব পদাবলির পদকর্তা হিসেবে জয়দেবকে গণ্য করা হয়।

- পরবর্তীতে অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- তাঁকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদিকবি বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস, যার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় এই ধারার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
-----------------------
উল্লেখ্য,
- পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকা হলো যে নারী অন্তরে স্বতঃসিদ্ধভাবে কৃষ্ণরতি ও কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন।
- অর্থাৎ, তার প্রেমের মূল কেন্দ্র কেবল কৃষ্ণ, এবং সে সম্পূর্ণভাবে কৃষ্ণের প্রেমে বশীভূত।
- এই ধরনের নায়িকাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এই সমর্থা নায়িকাদের মধ্যে পড়েন, যেখানে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা।

- বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা চিত্রিত হয়েছে:
- অভিসারিকা – প্রেমিককে খুঁজতে বের হওয়া।
- বাসকসজ্জা – সুন্দর সাজগোজ করা।
- উৎকণ্ঠিতা – অপেক্ষায় আগ্রহী বা উত্তেজিত থাকা।
- বিপ্রলব্ধা – প্রেমিকের অবহেলা বা অনুপস্থিতিতে দুঃখিত হওয়া।
- খণ্ডিতা – প্রেমিকের প্রতি ক্ষোভ বা বিরক্তি প্রকাশ।
- কলহান্তরিতা – প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার পর মন খারাপ থাকা।
- প্রোষিতভর্তৃকা – প্রেমিকের আগমনে আনন্দিত ও রোমাঞ্চিত হওয়া।
- স্বাধীনভর্তৃকা – প্রেমিকের উপস্থিতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ও আনন্দিত থাকা। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — ড. মাহবুবুল আলম। 

৯,৪৪৮.
'সবুজপত্র' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪৩ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯১৮ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৪৯.
'শপথ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) সেলিম আল দীন
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) কল্যাণ মিত্র
  4. ঘ) হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত বিখ্যাত নাটক- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- আবদুল্লাহ আল মামুন - রচিত "কোকিলারা" একটি এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।

উল্লেখযোগ্য নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উপন্যাস-
- মানব তোমার সারাজীবন,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডা বাবা,
- খলনায়ক ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৪৫০.
'মতিচূর' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।
- প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-'পিপাসা', 'স্ত্রীজাতির অবনতি', 'নিরীহ বাঙালি', 'অর্ধাঙ্গী', 'সুগৃহিণী', 'বোরকা' ও 'গৃহ'।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫১.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) দেশকাল পাত্র
  2. খ) ইউরোপের চিঠি
  3. গ) তিতাস একটি নদীর নাম
  4. ঘ) এক মুঠো
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ, (১৯১৪-১৯৫১) সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক। ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে তাঁর জন্ম।
•  জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯৩৪ সালে কলকাতা যান, সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন।
• তিনি  মোহাম্মদী,  আজাদ,  নবযুগ, কৃষক,  যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন। ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর একমাত্র উপন্যাস “তিতাস একটি নদীর নাম” মাসিক মোহাম্মদীতে প্রথম ধারাবাহিকভাবে (১৯৪৫-৪৭) প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসের জন্যই তিনি সাহিত্যজগতে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।
• এতে তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে তিতাস নদীর তীরবর্তী জেলেদের সংগ্রামী জীবনের কথা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরেন।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

এছাড়াও তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. তৈল
  2. সাম্য
  3. পদ্মাবতী
  4. সাম্প্রদায়িকতা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ- তৈল।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর "তৈল" প্রবন্ধটি বাংলা সাহিত্যের একটি প্রভাবশালী রচনা, যা তৎকালীন সমাজ ও সংস্কৃতির ব্যঙ্গাত্মক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মানব চরিত্রের গভীর উপলব্ধি প্রকাশ করে।  প্রবন্ধটিতে লেখক সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন, যেখানে তৈলের প্রতীকী ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যময়। এটি কেবল একটি শৈল্পিক ব্যঙ্গ নয়; বরং সমাজের রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় মূল্যবোধের অবক্ষয়ের প্রতিফলন।
-----------------------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

অন্যদিকে, 
- আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ রচিত প্রবন্ধ- পদ্মাবতী।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধ- সাম্য।
- বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধ- সাম্প্রদায়িকতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৩.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) ১৯৫৩
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫৫
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- এর প্রকাশক ছিলেন মোহাম্মদ সুলতান।
- সংলনটির প্রথম প্রকাশ মার্চ ১৯৫৩।
- বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতীক 'ভাষা আন্দোলন' পরবর্তী সময়ে ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিল 'একুশে ফেব্রুয়ারী' নামের এই ঐতিহাসিক সংকলনটি; যা বাংলাদেশ তথা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক অসামান্য দলিল।
- এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে। বিভাগগুলো হলো - কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয়েছিলো পুথিপত্র প্রকাশনী থেকে।
- এই সংকলনেই প্রথম প্রকাশিত হয় আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯,৪৫৪.
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1.  বিরাজবৌ
  2. পরিণীতা
  3. শেষের পরিচয়
  4. সারেং বৌ
ব্যাখ্যা

'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- "সারেং বৌ" শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস। এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও প্রেম- ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে।
-  কদম আলী (সারেং) ও নবিতুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে। এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনি।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
“কদম” সারেং জাহাজে কাজ করে অনেক দিন পর ফিরে আসে নিজ বাড়িতে, তারপর ভালবেসে বিয়ে করে “নবিতন”কে। বিয়ের কিছু দিন পরে আবার চলে যায় জাহাজের কাজে, কদম চলে যাওয়ার পর মাঝে মাঝেই নবিতনের কাছে চিঠি ও টাকা পাঠায়। কিন্তু গ্রামের প্রভাবশালী “মোড়ল” ডাক পিয়নকে হাত করে সেইসব চিঠি ও টাকা নিয়ে নেয়, যাতে করে নবিতনের সংসারে অভাব চলে আসে। আর এই অভাবের সুযোগে নবিতনকে তার লালসার শিকার বানাতে চায়, কিন্তু নবিতন নিজে গায়ে খেঁটে ঢেঁকিতে ধান বেঁনে কোন মতে সংসার চালায়।

-----------------
অন্যদিকে, 
শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই, 
- পরিণীতা,
- চন্দ্ৰনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,৪৫৫.
'ভাঁড়ুদত্ত' কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. ক) চন্ডীমঙ্গল কাব্য
  2. খ) ধর্মমঙ্গল কাব্য
  3. গ) অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) মনসামঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' চন্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের লিখিত কাব্য। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 

• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো :
- কালকেতু,  
- ফুল্লরা, 
- ধনপতি, 
- ভাঁড়ুদত্ত, 
- মুরারি শীল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৯,৪৫৬.
বাংলা গদ্য সাহিত্যের উৎপত্তিকাল কখন?
  1. ষোড়শ শতাব্দী
  2. অষ্টাদশ শতাব্দী
  3. সপ্তদশ শতাব্দী
  4. উনবিংশ শতাব্দী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তবে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪৫৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কোন নামে স্বাক্ষর করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র কান্ত
  4. বিদ্যাসাগর শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পৈত্রিক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'। কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

-----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি প্রকাশক গ্রন্থগুলো হলো তাঁর অনুবাদমূলক রচনা। গ্রন্থগুলো হলো: 
• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি',
•কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা',
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ),
• ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ এবং বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত 'সীতার বনবাস',
• সেক্সপিয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

•  তাঁর সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে মৌলিক রচনা হিসেবে 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' ক্ষুদ্র নিবন্ধ এবং স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' গ্রন্থও উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৮.
‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. রজনীকান্ত সেন
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতার সুখ' কবিতাটির রচয়িতা-রজনীকান্ত সেন।

রজনীকান্ত সেন: 
- রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি: 
- বাণী,
- কল্যাণী, 
- অমৃত, 
- অভয়া, 
- আনন্দময়ী, 
- বিশ্রাম, 
- সদ্ভাবকুসুম, 
- শেষদান, 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

এগুলির মধ্যে, 
- 'বাণী ও কল্যাণী' গানের সঞ্চয়ন,
- 'পথচিন্তামণি' একটি কীর্তনগ্রন্থ,
- আর 'অভয় বিহার' একটি গীতিকাব্য।

স্বাধীনতার সুখ- কবিতা, 
------------রজনীকান্ত সেন। 
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই-
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই;
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা ‘পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে- “সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়;
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”

উৎস: স্বাধীনতার সুখ, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৫৯.
রূপরাম চক্রবর্তী কোন কাব্যের প্রধান কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'ধর্মমঙ্গল' কাব্য:
- ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে।
- কাব্যটি দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।
- এই ধারার প্রথম কবি - ময়ূরভট্ট। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'হাকন্দপুরাণ'।
- ধর্মমঙ্গলের দুজন প্রধান কবি রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তী। আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থ 'শ্রীধর্মমঙ্গল'।
- ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবি: রূপরাম চক্রবর্তী, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিক রাম, শ্যাম পণ্ডিত, নরসিংহ বসু প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৬০.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসে কোন অঞ্চলের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাজশাহী
  3. বরিশাল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।
- ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৬১.
'বহুরূপী' কার রচনা?
  1. সমরেশ বসু
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সুকুমার রায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
বহুরূপী:
- 'বহুরূপী' সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।
- গ্রন্থটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরগিটির খুড়তুত ভাই, ব্যা, মোট্‌কা ও শুট্‌কো, অসি-লক্ষণ পণ্ডিত, হিংসুটি, পুতুলের ভোজ, দুই বন্ধু, বুদ্ধিমান শিষ্য,  এক বছরের রাজা, ডাকাত নাকি?, গরুর বুদ্ধি, দ্রিঘাংচু, ব্যাঙের রাজা এই গ্রন্থভুক্ত রচনা।

সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়ায়।
- তিনি ছিলেন শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী  তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত  চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়  তাঁর পুত্র।
- তিনি সুগায়ক ও সুঅভিনেতা হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
- তিনি ১৯২৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাই খাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬২.
কোন নারী সাহিত্যিকের ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. জাহানারা ইমাম
  2. কামিনী রায়
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৬৩.
'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা রচনা করেছেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
----------------------- 
• বৈষ্ণব ভাবসম্পন্ন কবিতা:
-বৈষ্ণব ও বৌদ্ধ ধর্মের গুরুভাব ও প্রেম–আদর্শ থেকেই বৈষ্ণব পদাবলির সৃষ্টি।
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
- বৈষ্ণব পদাবলির বিকাশ ঘটে শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব আন্দোলনের প্রভাবে।  
-বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। 
- বৈষ্ণব পদাবলির মূল প্রেরণা এসেছিল আদি কবি বিদ্যাপতির মৈথিলি পদাবলি থেকে।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ মূলত মৈথিলি ও বাংলা ভাষার মিশ্রণে গঠিত এক কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা 'ব্রজবুলি'তে রচিত।
- এই পদাবলির শ্রেষ্ঠ কবি হচ্ছে— বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দদাস। 
- এই কবিদের মহাজন কবি বলা হয় ।
- তাদের হাতে এই ধারার শৈল্পিক বিকাশ ঘটে।

- রাধা–কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে গঠিত বৈষ্ণব পদাবলি শ্রীচৈতন্যদেবের বৈষ্ণব ভাবধারার প্রভাবে গভীরতর হয়।
- আধুনিক যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভানুসিংহ ঠাকুর’ ছদ্মনামে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব ভাবপ্রবণ কবিতা রচনা করে মধ্যযুগীয় ঐতিহ্যকে আধুনিক রূপ দেন।
----------------------
অন্যদিকে:
• বিদ্যাপতি মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় একটি পদ রচনা করেও পদকর্তাগণের মধ্যে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে উপাধি দিয়েছিলেন “রাজকণ্ঠের মণিমালা” হিসেবে।

• চণ্ডীদাস - বৈষ্ণব পদাবলির প্রাচীন কবি।

• গোবিন্দদাস - বৈষ্ণব প্রেমপদ রচয়িতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ। 

৯,৪৬৪.
পরজনমে দেখা হবে প্রিয়!
ভুলিও মোরে হেথা ভুলিও।- চরণগুলো কোন কবির রচনা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• চরণগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘চোখের চাতকে’ কবিতার। 
• কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহভাবমূলক কবিতা লিখে খ্যাতিলাভ করলেও, বিশেষত প্রেমের কবিতা রচনায় তিনি আলাদাভাবে দক্ষতা অর্জন করেছেন। তাঁর প্রেমের কবিতায় প্রেমিক হৃদয়ের বেদনার্ত হাহাকার রূপায়িত হয়েছে। বিদ্রোহ ভাবের কবিতায় বলিষ্ঠতা আছে, প্রেমের কবিতায় তা নেই। বরং এখানে অশ্রুর মাধ্যমে তাঁর প্রেমের আবেদন প্রকাশমান।
• তাঁর রচিত বিদ্রোহমূলক কাব্যের পাশাপাশি ‘দোলন চাঁপা’ ‘ছায়ানাট’ ‘সিন্ধুহিন্দোল’ ‘চক্রবাক’ প্রভৃতি প্রেমানুভূতিমূলক কাব্য গ্রন্থের নাম উল্লোখযোগ্য।

চোখের চাতকে
কাজী নজরুল ইসলাম

পরজনমে দেখা হবে প্রিয়!
ভুলিও মোরে হেথা ভুলিও।।
এ জনমে যাহা বলা হল না,
আমি বলিব না, তুমিও বলো না।
জানাইলে প্রেম করিও ছলনা,
যদি আসি ফিরে, বেদনা দিও।।
হেথায় নিমেষে স্বপন ফুরায়,
রাতের কুসুম প্রাতে ঝরে যায়,
ভালো না বাসিতে হৃদয় শুকায়,
বিষ জ্বালা-ভরা হেথা অমিয়।।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহাবুবুল আলম এবং ‘চোখের চাতক’ কবিতা।
৯,৪৬৫.
’বাঙালীর হাসির গল্প’ গ্রন্থটি কী নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে?
  1. ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান
  2. বাঙলা ফানি স্টোরি
  3. ফানি স্টোরি অব পাকিস্তান
  4. ফোক টেল্স স্টোরি
ব্যাখ্যা
• বাঙালীর হাসির গল্প  গ্রন্থটি ফোক টেল্স অব ইষ্ট পাকিস্তান নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে।
- এটি জসীম উদ্‌দীরে জনপ্রিয় হাস্যরসাত্মক গ্রন্থ।
--------------------------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- কবি জসীম উদ্‌দীনরচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬৬.
খনার বচন মূলত-
  1. ক) জ্যোতিষভিত্তিক
  2. খ) কৃষিতত্ত্বভিত্তিক
  3. গ) ক্ষেত্রতত্ত্বভিত্তিক
  4. ঘ) আবহাওয়া ভত্তিক
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন মধ্যযুগের একটি সাহিত্যধারা। বুদ্ধ সমাজের ডাকের বচন এবং হিন্দু সমাজে খনার বচনের উৎপত্তি হয়েছিল। ডাকের বচনে জ্যোতিষ, ক্ষেত্রতত্ত্ব ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে। খনার বচন মূলত কৃষিতত্ত্বভিত্তিক ছড়া। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৯,৪৬৭.
'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' - গ্রন্থটি কোন দেশ থেকে মুদ্রিত হয়?
  1. ইংল্যান্ড
  2. ফ্রান্স
  3. পর্তুগাল
  4. স্পেন
ব্যাখ্যা

কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ: 
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে 'পর্তুগালের' লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৬৮.
“দেশে বিদেশে” সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত কোন দেশের ভ্রমণ-কাহিনিভিত্তিক রচনা?
  1. জাপানের
  2. অস্ট্রেলিয়ার
  3. আফগানিস্তানের
  4. মস্কোর
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় লেখকের সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ প্রকাশ পেয়েছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

--------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৬৯.
কখনো উপন্যাস লেখেননি?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ত্রিশের দশকের পঞ্চপাণ্ডবদের একজন। তিনি কখনো উপন্যাস লেখেননি। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে সংবর্ত, ক্রন্দসী, প্রতিদিন ইত্যাদি। তিথিডোর, সানন্দা, লালমেঘ, কালের হাওয়া ইত্যাদি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস। মৃত্যুক্ষুধা, বাধনহারা ও কুহেলিকা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস। মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা ইত্যাদি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৪৭০.
‘হাজারি ঠাকুর' চরিত্রটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. অপরাজিত
  2. পথের পাঁচালী
  3. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'।
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

---------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- চাঁদের পাহাড়।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭১.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসে বড় ক্যানভাসে উপস্থাপন করা হয়েছে-
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. গণঅভ্যুত্থান
  3. ৭২এর নির্বাচন
  4. শেখ মুজিবের ৬দফা
ব্যাখ্যা
•  'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- 'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ২০০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- যুক্ত ভারত ভেঙে পাকিস্তান এই শিকড় থেকে উপন্যাসের শুরু।
- এখানে এসেছে ভাষা আন্দোলন, বাঙালি-বিহারী ভাষাগত সমস্যা, উর্দুভাষী হলেই বিহারী মনে করা, আগরতলা মামলা, শেখ মুজিবের ৬দফা, ছাত্র আন্দোলন তথা বেশ ক'জন মানব-মানবীর প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়া নিয়ে যাপিত জীবনের বড় ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত পাওয়া না পাওয়ার অসহনীয় কথামালার বিপুল আয়োজন।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রমাণ করেছেন তিনি শুধু কবি আল মাহমুদ নন-তিনি জীবন থেকে নেয়া সময়ের সাহসী দ্রষ্টা ও স্রষ্টা।

----------------
• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কাবিলের বোন' উপন্যাস।
৯,৪৭২.
কবি আল মাহমুদের রচনা নয় কোনটি?
  1. কালের কলস
  2. মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
  3. আরব্য রজনীর রাজহাঁস
  4. কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

অন্যদিকে, 
• 'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৭৩.
আবদুল্লাহ আল-মুতী সম্পাদিত ছোটদের ম্যাগজিনের নাম-
  1. ক) মুকুল
  2. খ) আনন্দমেলা
  3. গ) ইচ্ছামতী
  4. ঘ) কানামাছি
ব্যাখ্যা
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে
- তারার দেশের হাতছানি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭৪.
কোনটি জসীম উদ্‌দীন রচিত কবিতা?
  1. ক) আমার কৈফিয়ত
  2. খ) মেথর
  3. গ) হায় চিল
  4. ঘ) নিমন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
কবি জসীম উদ্‌দীনের 'নিমন্ত্রণ' কবিতাটি 'ধানখেত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- কবিতাটি নিম্নরূপ- 

নিমন্ত্রণ
– জসীম উদ্‌দীন
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,
গাছের ছায়ায় লতায় পাতায় উদাসী বনের বায়;
মায়া মমতায় জড়াজড়ি করি
মোর গেহখানি রহিয়াছে ভরি,
মায়ের বুকেতে, বোনের আদরে, ভাইয়ের স্নেহের ছায়,
তুমি যাবে ভাই – যাবে মোর সাথে, আমাদের ছোট গাঁয়,

ছোট গাঁওখানি- ছোট নদী চলে, তারি একপাশ দিয়া,
কালো জল তার মাজিয়াছে কেবা কাকের চক্ষু নিয়া;
ঘাটের কিনারে আছে বাঁধা তরী
পারের খবর টানাটানি করি;
বিনাসুতি মালা গাথিছে নিতুই এপার ওপার দিয়া;
বাঁকা ফাঁদ পেতে টানিয়া আনিছে দুইটি তটের হিয়া। (সংক্ষিপ্ত)

উল্লেখ্য,
‘ আমার কৈফিয়ত’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা।
‘মেথর’ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতা।
‘হায় চিল’ জীবনানন্দ দাশ রচিত কবিতা।

উৎস: ধানখেত, জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭৫.
'শূন্যপুরাণ' কী ধরনের রচনা?
  1. রাধাকৃষ্ণের প্রেমের কাব্য
  2. ধর্মপূজাপদ্ধতি
  3. চৈতন্যজীবনীমূলক
  4. রোমান্টিক প্রাণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'শূন্যপুরাণ' হলো- 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।

• 'শূন্যপুরাণ': 
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। 
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম। 
৯,৪৭৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন?
  1. পূর্বাশা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সম্বাদ কৌমুদী
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন-
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন 'সঞ্জয় ভট্টাচার্য'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭৭.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. পদ্মাবতী
  2. পদ্মপুরাণ
  3. বিজয়মঙ্গল
  4. মনসাবিজয়
ব্যাখ্যা
• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
কবি  বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়। 
-----------------
⇒ মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।


উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,৪৭৮.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. রাজাবলী
  2. প্রবোধচন্দ্রিকা
  3. হিতোপদেশ
  4. বেদান্ত সার 
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্ত সার' রাজা রামমোহন রায় রচিত গ্রন্থ। 

----------------------
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯) সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক। তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পণ্ডিতে পরিণত হোন। তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

• উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন। পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পণ্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিতে হিসেবে।

• অনেকের মতে, তিনি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগেকার সবচেয়ে ভালো বাংলা গদ্য লেখক। তাঁর রচনা-রীতি খুব সংস্কৃত-ঘেঁষা হলেও, তিনি বাংলা ভাষার স্বাভাবিক পদক্রম, শব্দাবলীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অন্বয় স্থাপনের মধ্য দিয়ে সঠিক এবং সাবলীল বাক্য-কাঠামোর দিক নির্দেশ করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলি হলো:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।

• এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন 'বেদান্তচন্দ্রিকা'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৭৯.
পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
- 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে),
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির, 
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা গ্রন্থ। 

৯,৪৮০.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে? 
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
------------------- 
দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪৮১.
"The Power of a lie" গ্রন্থের 'সত্যমিথ্যা' নামে বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ 
  4. এস ওয়াজেদ আলি 
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমদের 'সত্যমিথ্যা' উপন্যাসটি Johan Bojer-এর "The Power of a lie" গ্রন্থের বাংলা রূপান্তর।

আবুল মনসুর আহমদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক ছিলেন। 
- তিনি দি মুসলমান পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত।
- আবুল মনসুর ১৯৩৮ সালের ডিসেম্বর মাসে দৈনিক কৃষক পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:

গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স।

উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৮২.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) কুসুম কানন
  2. খ) শিব মন্দির
  3. গ) বিরহ বিলাপ
  4. ঘ) অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
অতি অল্প বয়স থেকেই কায়কোবাদের সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহ বিলাপ' (১৮৭০) প্রকাশিত হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪৮৩.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল 
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'দ্বিজ বংশীদাস' - মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।

দ্বিজ বংশীদাস:
মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি — দ্বিজ বংশীদাস বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিশেষ খ্যাত। তিনি মূলত — মনসামঙ্গল কাব্যের কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচনায় সমকালীন সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি পাওয়া যায়। কাব্যে ব্যবহৃত ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ ইত্যাদি শব্দ প্রমাণ করে যে তিনি সম্ভবত সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।

 জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
• জন্মস্থান: কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রাম।
• কাব্যের পরিচয়: পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি।
• পাণ্ডিত্য: সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য।
• বিশেষত্ব: সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন।
• পারিবারিক পরিচয়: তিনি কবি চন্দ্রাবতীর পিতা।

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৪৮৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্ণিমা
  2. সাহিত্য-সংক্রান্তি
  3. অবোধবন্ধু
  4. সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য।

- বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তিনি পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৮৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান?
  1. সোনার তরী
  2. গীতাঞ্জলি
  3. পূরবী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা

'গীতাঞ্জলি' কাব্যগ্রন্থ:
- 'গীতাঞ্জলি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৭টি গানের সংকলন (কাব্যগ্রন্থ)।
- গানগুলি ১৯০৮ ও ১৯০৯ সালে রচিত এবং ১৯১০। গীতাঞ্জলির গানগুলো মূলত কবিতা।
- গীতাঞ্জলি এর ইংরেজি অনুবাদ Song Offerings (১৯১২)
- Song Offerings এর ভূমিকা লেখেন ইংরেজ কবি W.B. Yeats।
- 'গীতাঞ্জলি'/Song Offerings এর জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নোবেল পুরষ্কার পান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৮৬.
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়' - চরণটি কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) কাঞ্চীকাবেরী
  2. খ) কর্মদেবী
  3. গ) শূরসুন্দরী
  4. ঘ) পদ্মিনী উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘পদ্মিনী উপাখ্যান’ থেকে উল্লিখিত উক্তিটি নেওয়া হয়েছে।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।
-  গ্রন্থটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যের কাহিনি আহরণ করা হয় টডের রাজস্থান-কাহিনি নামক গ্রন্থ থেকে

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- শূরসুন্দরী,
- কর্মদেবী,
- কাঞ্চীকাবেরী ।

[উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও বাংলাপিডিয়া]
৯,৪৮৭.
'সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
⇒ সুকুমার রায়:
- ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়। 
- তিনি ছিলেন মূলত শিশুসাহিত্যিক।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী তাঁর পিতা এবং অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় তাঁর পুত্র।
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ’ পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবোল-তাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- খাইখাই,
- অবাক জলপান,
- শব্দকল্পদ্রুম,
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৮৮.
'পদসমুদ্র' কিসের সংকলন?
  1. মঙ্গলকাব্যের
  2. কবি গানের
  3. বৈষ্ণব পদাবলির
  4. ঠুমরী গানের
ব্যাখ্যা
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলক – বাবা আউল মনোহর দাস।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলনের নাম 'পদসমুদ্র'।
- বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম সংকলন 'পদসমুদ্র'-এ ১৫ হাজার পদ ছিল।

উৎস: 'পদসমুদ্র' সংকলন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৮৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল কোনটি?
  1. একাত্তরের যিশু — অজয় দাশগুপ্ত
  2. একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম
  3. একাত্তরের বর্ণমালা — শামসুল হুদা 
  4. একাত্তরের বিজয়গাথ — সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বাংলা সাহিত্যকর্মের সঠিক যুগল: একাত্তরের দিনগুলি — জাহানারা ইমাম।

• ‘একাত্তরের দিনগুলি’:
- ‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমামের লেখা একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনপঞ্জি। 
- বইটিতে তিনি ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, বেদনা এবং ছেলের (শহীদ রুমী) স্মৃতি তুলে ধরেছেন।
- এটি মূলত একটি দিনলিপি, যেখানে প্রতিদিনের ঘটনা, অনুভূতি ও পর্যবেক্ষণ লিপিবদ্ধ আছে।
- বইতে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব চিত্র, হানাদার বাহিনীর অত্যাচার, সাধারণ মানুষের জীবন, এবং গেরিলাদের কার্যক্রমের বর্ণনা রয়েছে
- জাহানারা ইমাম তার শহীদ পুত্র রুমীর আত্মত্যাগ ও মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করেছেন, যা একজন মায়ের গভীর শোক ও সংগ্রামের সাক্ষ্য দেয়।
- গ্রন্থে দেশের প্রতি ভালোবাসা, স্বাধীনতার প্রতি ন্যায়বিচার এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্রও ফুটে উঠেছে।
- এটি কেবল একটি বই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল, যা যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন মায়ের ত্যাগ এবং দেশপ্রেমের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে।
----------------------------------------
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯৩৫-২০০৩) বাংলাদেশের ইতিহাসে একজন অগ্রগামী নারী।
- যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ রুমীর মা হিসেবে নয়;
- বরং পরবর্তীতে যুদ্ধাপরাধবিরোধী আন্দোলনে তাঁর সাহসী ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর ছেলে, রুমী, স্বাধীনতার লড়াইয়ে অংশ নেয়।
- রুমীর আত্মত্যাগের কারণে তিনি ‘শহীদ জননী’ হিসেবে জনসাধারণের কাছে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উল্লেখযোগ্য বাংলা সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে :
- একাত্তরের যাত্রী — আজয় দাশগুপ্ত;
- একাত্তরের যিশু — শহরয়ার কবির;
- একাত্তরের যাত্রী — শাহরিয়ার কবির;
- একাত্তরের বিজয়গাথা — মেজর রফিকুল ইসলাম;
- একাত্তরের ডায়েরি — বেগম সুফিয়া কামাল;
- একাত্তরের বর্ণমালা — আখতার মুকুল;
- একাত্তরের রণাঙ্গন — শামসুল হুদা;

উৎস:  
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৯০.
আধুনিক যুগের কোন কবি মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
আধুনিক যুগের কবি মীর মশাররফ হোসেন ও কায়কোবাদ মর্সিয়া সাহিত্য রচনা করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৪৯১.
বাংলা ভাষায় রচিত চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) চৈতন্য-ভাগবত
  2. খ) চৈতন্য-মঙ্গল
  3. গ) চৈতন্য-চরিতামৃত
  4. ঘ) চৈতন্য-কড়চা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত
• বাংলায় ভাষায় লোচন দাস রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল'  ।
• বাংলা ভাষায় রচিত শ্রেষ্ঠ চৈতন্য জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-চরিতামৃত'। গ্রন্থটি রচনা করেন কৃষ্ণদাস কবিরাজ।
• চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪৯২.
’বিরিশিরি পর্ব’ কবিতা গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কবিতাগ্রন্থ:
- বিরিশিরি পর্ব।
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯৩.
হালিমা কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) সূর্যদীঘল বাড়ী
  2. খ) আবদুল্লাহ
  3. গ) সারেং বৌ
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত আবদুল্লাহ উপন্যাসের চরিত্র হলো আবদুল্লাহ ও হালিমা। জয়গুন, হাসু ও মায়মুনা আবু ইসহাক রচিত সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাসের চরিত্র। শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত সারেং বৌ উপন্যাসের চরিত্র হলো নবীতুন এবং কদম সারেং। মজিদ, আমেনা এবং জমিলা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত লালসালু উপন্যাসের চরিত্র। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৯,৪৯৪.
নিচের কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) সৌরভের কাছে পরাজিত
  2. খ) চেহারার চতুরঙ্গ
  3. গ) পাখির কাছে ফুলের কাছে
  4. ঘ) পানকৌড়ির রক্ত
ব্যাখ্যা
'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদের একটি কাব্যগ্রন্থ।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ - লোক লোকান্তর, কালের কলস, সোনালী কাবিন, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দয়িতা, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি।
চেহারার চতুরঙ্গ - তার রচিত উপন্যাস।
সৌরভের কাছে পরাজিত ও পানকৌড়ির রক্ত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৪৯৫.
’উদীচী’ সাংস্কৃতিক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালে উদীচী সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।

সত্যেন সেন
• ১৯৫৪ সালে দৈনিক  সংবাদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
• তিনি ছিলেন  রবীন্দ্রসঙ্গীত ও গণসঙ্গীতের সুকণ্ঠ গায়ক এবং গণসঙ্গীত রচয়িতা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ
» উপন্যাস ভোরের বিহঙ্গী
» অভিশপ্ত নগরী
» পদচিহ্ন
» পাপের সন্তান
» কুমারজীব
» বিদ্রোহী কৈবর্ত 
» পুরুষমেধ
» আলবেরুনী
» মানবসভ্যতার ঊষালগ্নে
» অভিযাত্রী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৪৯৬.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) মোহাম্মদী
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে এক দরিদ্র জেলে পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
অদ্বৈত মল্লবর্মণ 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তিনি ‘নবশক্তি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
নয়া বসত,
রামধনু,
দু রঙা প্রজাপতি,
সাদা হাওয়া,
দলবেঁধে,
সাগরতীর্থে,
রাঙামাটি ইত্যাদি ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
৯,৪৯৭.
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এই পদের রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. দারিকপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
"মারি সাসু ননন্দ ঘরে সালী।
মাঅ মারি কাহ্ন ভইঅ কবালী।।" - এটি কাহ্নপা রচিত চর্যাপদের ১১নং পদ।

→ এই পদের আক্ষরিক অর্থ - "ঘরে শাশুড়ি ননদ শালীকে মেরে ও মাকে মেরে কাহ্ন কাপালি হল।"

কাহ্নপা:

- তিনি চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচয়িতা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩ টি পদ রচনা করেন। তার রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৪৯৮.
'দুররে মজলিশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আফজাল আলী
  2. দৌলত কাজী
  3. নওয়াজিশ খান
  4. আব্দুল হাকিম
ব্যাখ্যা

• আব্দুল হাকিম মধ্যযুগের প্রণয়োপাখ্যান ধারার বিখ্যাত কবি‌।
• তাঁর আটটি কাব্যগ্রন্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। এগুলো হলোঃ
- ইউসুফ-জোলেখা,
- নূরনামা,
- লালমতি,
- সয়ফুলমূলক,
- শিহাবুদ্দীন নামা,
- নসিহৎনামা,
- দুররে মজলিশ,
- কারবালা ও শহরনামা,
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৪৯৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা কোনটি?
  1. কিশোর মেলা
  2. কচি কাঁচার মেলা
  3. আঙুর
  4. রাঙা প্রভাত
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকাটির নাম - "আঙুর"। 

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা -
- প্রথম শিশুপত্রিকা 'আঙুর' (১৯২০);
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা 'দি পীস' (১৯২৩);
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'বঙ্গভূমি' (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক 'তকবীর' (১৯৪৭)।

----------------- 
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
তিনি ছিলেন:
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)।
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১)।
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৫০০.
'সাতটি তারার তিমির' কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) ফররুখ আহমদ
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা

সাতটি তারার তিমির রূপসী বাংলার কবিখ্যাত জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্য।
এটি হুমায়ূন কবিরকে উৎসর্গ করা হয়।
তার অন্যান্য কাব্যের মধ্যে রয়েছে -
ঝরাপালক,
মহাপৃথিবী,
বনলতা সেন,
ধূসর পাণ্ডুলিপি,
রূপসী বাংলা এবং
বেলা অবেলা কালবেলা।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)