বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৯৩ / ২১১ · ৯,২০১৯,৩০০ / ২১,১৩২

৯,২০১.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকার নাম কি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) সমকাল
  3. গ) সমাচার দর্পণ
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
- সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল।
- সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাউল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- নবী কাহিনী।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২০২.
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো, 
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,২০৩.
"দেবযানী" চরিত্রটি কোন নাটকের অন্তর্গত?
  1. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. পদ্মাবতী
  4. শর্মিষ্ঠা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন । এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম,বাংলাপিডিয়া।
৯,২০৪.
ইতিহাসগ্রন্থ 'মহাবিদ্রোহের কাহিনী' রচনা করেন কে?
  1. সত্যেন সেন
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সুকুমার রায়
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
ইতিহাসগ্রন্থ 'মহাবিদ্রোহের কাহিনী' রচনা করেন - সত্যেন সেন

সত্যেন সেন:

- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২০৫.
‘বাঙলা’ চলচ্চিত্রটি কোন উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত?
  1. যাত্রা
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
• ওঙ্কার:
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে,
• ‘যাত্রা’ শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।
• সেলিনা হােসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস  ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ (১৯৭৬)।
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'নেকড়ে অরণ্য'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২০৬.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক কোনটি?
  1. নয়া খান্দান
  2. আলোছায়া
  3. নেমেসিস
  4. রূপলেখা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯ - ৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম- সুরজিত নন্দী। 

------------------------
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।

• নুরুল মোমেন এর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

• তাঁর রচিত রম্যগ্রন্থগুলো হলো:
- বহুরূপা,
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৯,২০৭.
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।। - পদটি চর্যাপদের কততম পদ?
  1. ৩য় পদ
  2. ৪র্থ পদ
  3. ২য় পদ
  4. ১ম পদ
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত প্রথম পদটি লুইপার রচনা।

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'। 
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২০৮.
‘মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা’ ছোট গল্পের লেখক কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. খ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত কয়েকটি ছােটগল্পঃ
সত্যের মতাে বদমাস, চলাে যাই পরােক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়না আর তিন পরী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,২০৯.
“আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি”- লাইনটি নজরুলের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. পাপ ও পূণ্য
  2. পাপ
  3. পথহারা
  4. অভিশাপ
ব্যাখ্যা

"আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি" - কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

• 'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। 
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। 
• ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।

পাপ- কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম

সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’ কে আছে পুরুষ-নারী?
আমরা ত ছার; পাপে পঙ্কিল পাপীদের কাণ্ডারী!
তেত্রিশ কোটি দেবতার পাপে স্বর্গ সে টলমল,
দেবতার পাপ-পথ দিয়া পশে স্বর্গে অসুর দল!
আদম হইতে শুরু ক’রে এই নজরুল তক্‌ সবে
কম-বেশী ক’রে পাপের ছুরিতে পুণ্য করেছে জবেহ্‌ !
বিশ্ব পাপস্থান
অর্ধেক এর ভগবান, আর অর্ধেক শয়তান্‌!
থর্মান্ধরা শোনো,
অন্যের পাপ গনিবার আগে নিজেদের পাপ গোনো!
পাপের পঙ্কে পুণ্য-পদ্ম, ফুলে ফুলে হেথা পাপ!
সুন্দর এই ধরা-ভরা শুধু বঞ্চনা অভিশাপ।
এদের এড়াতে না পারিয়া যত অবতার আদি কেহ
পুণ্যে দিলেন আত্মা ও প্রাণ, পাপেরে দিলেন দেহ।
বন্ধু, কহিনি মিছে,
ব্রহ্মা বিষ্ণু শিব হ’তে ধ’রে ক্রমে নেমে এস নীচে-
মানুষের কথা ছেড়ে দাও, যত ধ্যানী মুনি ঋষি যোগী
আত্মা তাঁদের ত্যাগী তপস্বী, দেহ তাঁহাদের ভোগী!
এ-দুনিয়া পাপশালা,
ধর্ম-গাধার পৃষ্ঠে এখানে শূণ্য-ছালা!

হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!
জবাবদিহির কেন এত ঘটা যদি দেবতাই হও,
টুপি প’রে টিকি রেখে সদা বল যেন তুমি পাপী নও। 
পাপী নও যদি কেন এ ভড়ং, ট্রেডমার্কার ধুম?
পুলিশী পোশাক পরিয়া হ’য়েছ পাপের আসামী গুম।

তথ্যসূত্র: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,২১০.
'পাঞ্জেরি' - কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সিন্দাবাদ
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. সিরাজাম মুনীরা
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,২১১.
'পথে প্রবাসে' একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কবিতা
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনীগুলো হলোঃ পথে প্রবাসে (১৯৩১), ইউরোপের চিঠি (১৯৪২) ইত্যাদি।
- গদ্যভাষায় বীরবলী (প্রমথ চৌধুরীর মত) চমক ও গভীর মননশীলতা তার রচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- তিনি মূলত দক্ষ কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার হিসেবে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২১২.
মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. ছেলেবেলা
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. স্মৃতির শহর
  4. আমার ছেলেবেলা
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

গাজী মিয়ার বস্তানী:
- গাজী মিয়ার বস্তানীর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন। 
- এটি একটি কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- বিষয়বস্তু: সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি, মানুষের নৈতিক অধঃপতন ও মনুষ্যত্বহীন আচরণকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরা।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত’ নামে উল্লেখ করেছেন।
- গ্রন্থে বঙ্কিমচন্দ্রের 'কমলাকান্তের দপ্তর' - এর প্রভাব রয়েছে।  

মীর মশাররফ হোসেন:
- জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর, কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া।
- মীর মশাররফ হোসেন একাধারে একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ছাত্রাবস্থায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও কুমারখালির ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন থেকে সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর সাহিত্যগুরু ছিলেন ‘গ্রামবার্তা’-র সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ।
- পত্রিকা সম্পাদনা: ‘আজিজননেহার’ ও ‘হিতকরী’।
- বঙ্কিমযুগের প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়াঁ’।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রত্নবতী’ (১৮৬৯), মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

সাহিত্যকর্মসমূহ:
নাটক: বসন্তকুমারী, জমীদার দর্পণ, বেহুলা গীতাভিনয়, টালা অভিনয়।
উপন্যাস: বিষাদ-সিন্ধু।
প্রহসন: এর উপায় কি?
আত্মজীবনীমূলক রচনা: উদাসীন পথিকের মনের কথা, গাজী মিয়াঁর বস্তানী, আমার জীবনী, কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ছেলেবেলা একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা এর লেখক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- স্মৃতির শহর একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা এর লেখক হলেন শামসুর রাহমান।
- আমার ছেলেবেলা একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা এর লেখক হলেন হুমায়ূন আহমেদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২১৩.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

------------------------
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৯,২১৪.
দৌলত কাজী কোন অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন?
  1. পটিয়া, চট্টগ্রাম
  2. ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম
  3. রাউজান, চট্টগ্রাম
  4. সুধারাম, সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দৌলত কাজী:
- তিনি আনুমানিক ১৬০০ থেকে ১৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে সুলতানপুর গ্রাম, রাউজান, চট্টগ্রাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত মধ্যযুগের বিশিষ্ট কবি ছিলেন।
- তিনি বাংলা, সংস্কৃত, হিন্দি ও ব্রজবুলি ভাষায় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- দৌলত কাজী আরাকানের রাজা সুধর্মের সমর সচিব আশারাফ খানের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতায় হিন্দি কাব্য অবলম্বনে কাব্য রচনায় উৎসাহী হন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী'।
- এই গ্রন্থের মূল হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসৎ' নামক কাব্য ।
- তাঁর এ কাব্য বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষার মিশ্রণে রচিত।
- 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রাণী' কাব্যটি পয়ার ত্রিপদী ছন্দে রচিত।
- কাব্য রচনার শেষ পর্যায়ে তাঁর মৃত্যু হলে আলাওল (১৬৫৯) তা সম্পূর্ণ করেন।
- তিনি তাঁর রচনায় রামায়ণ, মহাভারত ও বৈষ্ণব পদাবলি থেকে অনুষঙ্গ ব্যবহারে কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ সুলতান পটিয়া, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান ফতেহাবাদ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।
- আবদুল হাকিম সুধারাম, সন্দ্বীপ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২১৫.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র কোনটি?
  1. মজিদ 
  2. হোসেন মিয়া
  3.  কপিলা
  4.  কুবের
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।

- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২১৬.
বিদ্যাপতি কোন ধারার কবি ছিলেন?
  1. শাক্ত
  2. বৈষ্ণব
  3. বাউল
  4. সুফি
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি বৈষ্ণব ধারার কবি ছিলেন । 

• বিদ্যাপতি:
- বৈষ্ণব পদাবলির অবাঙালি কবি বিদ্যাপতি।
- তিনি মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন ।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি। কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস:
১।বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩। বাংলাপিডিয়া।

৯,২১৭.
বেগম রোকেয়ার গ্রামের নাম-
  1. ক) আড্ডা
  2. খ) মিঠাপুর
  3. গ) পায়রাবন্দ
  4. ঘ) গোবিন্দগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়। বিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি নারীশিক্ষা বিশেষত মুসলিম নারীদের শিক্ষা প্রসারে নিরলস পরিশ্রম করেন। নিজের উদ্যোগে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। সরকারের নিকট নারী শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন দাবী-দাওয়া পেশ করেন। তিনি ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৩২ সালে কলকাতায় মারা যান।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,২১৮.
'রাজলক্ষ্মী' চরিত্রটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. ক) শেষ প্রশ্ন
  2. খ) শ্রীকান্ত
  3. গ) দেবদাস
  4. ঘ) দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন কথাশিল্পী।
১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। এর চারটি খন্ড।
উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র-
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]
৯,২১৯.
'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''- উক্তিটির স্রষ্টা-
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2.  চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

 • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়াংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- তাঁর রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম সত্যপীরের পাঁচালি (১৭৩৭-৩৮)।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ''আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।''
- ''মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।''
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?”

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,২২০.
“ঠাকুরমার ঝুলি”- গ্রন্থটির সংকলক কে?
  1. ক) দীনেশচন্দ্র সেন
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

• ঠাকুরমার ঝুলি:
- বাংলাদেশের প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্যও আছে। কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। 
- এ গ্রন্থের ভূমিকা লিখে দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। গ্রন্থটি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র রচিত গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি
- ঠাকুরদাদার ঝুলি
- দাদা মশায়ের থলে
- ঠানদিদির থলে
- খোকা বাবুর খেলা
- আমাল বই 
- কিশোরদের মন
আরো কিছু তথ্য:
            - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ‘দৃষ্টিহীন’ ছদ্মনামে লিখতেন।
            - তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের পরিভাষা রচনা করতেন।
            - তিনি রূপকথার লেখক হিসেবে রবীন্দ্রানাথ ঠাকুরের প্রশংসা লাভ করেন।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২২১.
চর্যার কোন কবির পদে নারীদের গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. কাহ্নপা
  2. ডোম্বীপা
  3. ভাদেপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- ডোম্বীপাদের ১৪নং পদে নারীদের নৌকা চালনা, নৌকার জলসিঞ্চন, লোক পারাপার ইত্যাদির মতো কর্মে যুক্ত থাকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাছাড়া নারীরা গুরুর স্থানও অধিকার করেছিল।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

অন্যদিকে,
• কাহ্নপা একটি পদে (১০নং) জানিয়েছেন, এক ডোমিনী নগরে তাঁত ও চেঙারি বিক্রি করে। কাহ্নপার অন্য একটি পদে (১৮নং) ডোমনীর 'ছিনালী' করার কথা আছে।

• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদ রচনা করেন। এই পদের মূলকথা হচ্ছে- ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।

• কুক্কুরীপা একটি পদে (২নং) লিখেছেন, গৃহবধূটি বেশ ছল জানে। সে দিনের বেলায় কাকের ডাক শুনেই ভয় পায়, কিন্তু রাতে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২২২.
বাংলা ভাষার বিখ্যাত কোন কবি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ - সবাই ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। 
-------------------- 
• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- শামসুর রাহমান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। 
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।
-----------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- জীবনানন্দ কলকাতা সিটি কলেজে ১৯২২ সালে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা শুরু করেন।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ধূসর পান্ডুলিপি' পাঠ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬ / এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২২৩.
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত 'নেকড়ে হায়েনা' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত 'নেকড়ে হায়েনা' একটি ছোট গল্প।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ:

- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:

- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- মাছ সিরিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর,
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২২৪.
'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. লাঙ্গল
  2. মোসলেম ভারত
  3. নবযুগ
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেন।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- কাজী নজরুল ইসলাম ধূমকেতু পত্রিকার (২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায়) নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২২৫.
মীর মশাররফ হোসেন কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. নদীয়া
  2. বরিশাল
  3. কুষ্টিয়া
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭–১৯১১):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে তিনি গদ্যশিল্পে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

জীবনপরিচয়:
জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর — কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
কর্মজীবন শুরু: ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-য় মফঃস্বল সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক — ‘কাঙাল হরিনাথ’।
সম্পাদনা করেছেন: আজিজননেহার ও হিতকরী নামের পত্রিকা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২২৬.
বাইবেলের কাহিনী অবলম্বন করে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনার কৃতিত্ব কার?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মধুসূদন মজুমদার
  3. সত্যেন সেন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে সত্যেন সেনই প্রথম ব্যক্তিত্ব যিনি বাইবেলের কোনো কাহিনীকে আশ্রয় করে উপন্যাস রচনা করেছেন।
- বাইবেলের 'বুক অব দ্যা প্রফেট: যেরেমিয়া খন্ড' অবলম্বনে 'অভিশপ্ত নগরী' (১৯৬৭) উপন্যাস রচনা করেন।
- অভিশপ্ত নগরীর দ্বিতীয় খণ্ড হিসাবে পরিকল্পিত 'পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনের নয়, বাংলা সাহিত্যেরও অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- পাপের সন্তান - উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার লাভ করেন। 
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,২২৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কত বঙ্গাব্দে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২২ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। 
- অযত্নে অবহেলায় থাকায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের সম্মুখ ও শেষ ভাগ খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা মনে করা হয় বড়ু চন্ডীদাসকে। 
- বড়ু চন্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২২৮.
'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- উক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- পালামৌ। এটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রমথনাথ বসু ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়। বিহারের পালামৌ এলাকার পাহাড়ী অঞ্চলের কোল উপজাতির জীবনাচার এবং তাদের সাথে লেখকের যাপিত জীবনের দিনলিপির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিয়ে লেখা এই ভ্রমণ সাহিত্যটি। এই বইয়ের বিখ্যাত উক্তি- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।'
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৯,২২৯.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কোন নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়?
  1. ক) রত্নাবতী
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) শর্মিষ্ঠা
  4. ঘ) নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে ঢাকার বাংলাপ্রেস থেকে প্রকাশিত ‘নীলদর্পণ’ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। (বিতর্ক আছে)
Nil Durpan, or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লঙ।
রেভারেন্ড জেমস লঙ সম্পর্কে বাংলাপিডিয়া থেকে কিছুটা উদ্ধৃত করা হল। সময় থাকলে পড়ে নিবেন -
"ধর্মপ্রচারক হিসেবে রেভারেন্ড লং উপলব্ধি করেন যে, ব্রিটিশ নীলকরদের কার্যকলাপ গ্রামীণ বাংলায় ধর্মান্তরণের অগ্রগতির পরিপন্থী। তিনি ইন্ডিগো কমিশনে এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, জনগণ প্রায়শ তাঁর প্রতি বিরূপ মন্তব্য করে, যেমন, ‘তুমি তোমার দেশবাসী নীলকরদের অত্যাচার হ্রাস করতে বলোনা কেন, যাও তাদের কাছেই প্রথম ধর্মপ্রচার কর’।
গ্রামীণ জনগণের সাথে জেমস লং-এর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে তাঁর এ বিশ্বাস জন্মে যে, ব্রিটিশ বণিক গোষ্ঠী এবং এমনকি সরকারও জনসাধারণ, বিশেষ করে নীলচাষিদের প্রতি অন্যায় ও নিপীড়নমূলক আচরণ করে থাকে। ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথমে বেনামে প্রকাশিত নীলদর্পন নামক নাটকে দীনবন্ধু মিত্র নীলকরদের অত্যাচারের যে চিত্র তুলে ধরেন, তার সাথে তিনি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেন। লং স্বরচিত ভূমিকাসহ নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। ঐ অনুবাদকর্মে প্রকাশিত নীলকরদের অত্যাচারের ধরন প্রশাসনকে এতই ক্ষুব্ধ করে যে, অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সংবাদপত্রে অনুবাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে ক্রোধোন্মত্ত প্রচারণা শুরু হয়। ইংলিশম্যান পত্রিকা ও কয়েকজন নীলকর লং ও প্রকাশকের (C.H. Manuel & Co) বিরুদ্ধে মানহানির মামলা রুজু করে। সংক্ষিপ্ত বিচারে শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে গঠিত জুরি বোর্ড লং ও তাঁর প্রকাশককে দোষী সাব্যস্ত করে রায় প্রদান করে। তাঁকে এক হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। কালীপ্রসন্ন সিংহ নামক জনৈক বুদ্ধিজীবী ও জমিদার তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে জরিমানার টাকা জমা দেন। কিন্তু লং-কে ১৮৬১ সালের জুলাই মাসে কারাদন্ড ভোগ করতে হয়। তাঁর বন্দিদশায় এবং মুক্তির সময় অসংখ্য গণজমায়েত, স্মারকলিপি, সমবেদনাজ্ঞাপক চিঠি এবং তাঁর দর্শন লাভের জন্য লোকের ভিড় থেকে প্রমাণিত হয় যে, লং বাংলার জনগণের তাৎক্ষণিক নায়কে পরিণত হয়েছেন।"
৯,২৩০.
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. কুন্দনন্দিনী
  2. রোহিনী
  3. অচলা
  4. কুমুদিনী
ব্যাখ্যা
• 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিনীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিনী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

----------------
তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথের যোগাযোেগ উপন্যাসের চরিত্র- মধুসূদন, কুমোদিনী।
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের চরিত্র- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
• সুরেশ, অচলা, 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৩১.
সাহিত্যের রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী আখ্যা লাভ করেন?
  1. ঋষি
  2. সাহিত্যসম্রাট
  3. বাঙালির নবজাগরেণর অগ্রদূত
  4. ঔপন্যাসিক
ব্যাখ্যা
• সাহিত্যের রসবোদ্ধাদের কাছ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাহিত্যসম্রাট আখ্যা লাভ করেন। 

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
• তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন। 

---------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৩২.
মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
- সোমেন চন্দ ছিলেন একজন রাজনৈতিক কর্মী ও সাহিত্যিক। পূর্ণ নাম সোমেন্দ্রকুমার চন্দ। ১৯২০ সালের ২৪ মে নরসিংদিতে তাঁর জন্ম।

- তিনি ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স (১৯৩৬) পাস করে ঢাকা মিটফোর্ড মেডিক্যাল স্কুলে ভর্তি হন, কিন্তু অসুস্থতার কারণে লেখাপড়া ছেড়ে দেন। তারপর তিনি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘ-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং মার্কসবাদী রাজনীতি ও সাহিত্যচর্চা শুরু করেন।

- ১৯৩৯ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত সোমেন চন্দের সাহিত্যজীবনের পরিধি। তাঁর জীবদ্দশায় গ্রন্থাকারে কোনো রচনা প্রকাশিত হয়নি; অধিকাংশ রচনাই প্রগতি লেখক সংঘের সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক বৈঠকে পঠিত হতো।

- সংঘের ক্রান্তি (১৯৪০) নামক সংকলনে তাঁর ‘বনস্পতি’ গল্পটি প্রকাশিত হয়। মৃত্যুর পর ঢাকা থেকে সংকেত ও অন্যান্য গল্প (১৯৪৩) এবং কলকাতা থেকে বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প (১৯৪৪) প্রকাশিত হয়।

- রণেশ দাশগুপ্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তাঁর সমগ্র রচনা সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ (১৯৭৩)।
- তাঁর বিখ্যাত গল্প ‘ইঁদুর’ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৩৩.
ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তন করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• ব্রজবুলি:
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা ।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৩৪.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল রচিত নাটক নয়?
  1. ক) ঝিলিমিলি
  2. খ) পদ্মাবতী
  3. গ) আলেয়া
  4. ঘ) পুতুলের বিয়ে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক -
- ঝিলিমিলি 
- আলেয়া 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।

৯,২৩৫.
শাহপরি দ্বীপের মানুষের ও মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ ঘটেছে সেলিনা হোসেন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. যাপিত জীবন
  2. হাঙর নদি গ্রেনেড
  3. পোকামাকড়ের ঘরবসতি
  4. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
ব্যাখ্যা

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস:
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে অবস্থিত শাহপরি দ্বীপের মানুষের জীবনকে, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ করে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো মালেক, সাফিয়া এবং তোরাব আলী।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
পদ্মা নদীর মাঝিদের নিয়ে একবার বাংলা ভাষায় একটি উপন্যাস লেখা হয়েছিল। সেসব মাঝিদের মৃত্যু হয়েছে, কিন্তু তাদের বংশধরেরা বেঁচে আছে। সারা বাংলাদেশেই, কেউ কেউ দক্ষিণাঞ্চলে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের নিয়েই লেখা এই উপন্যাস। নাফ নদীর তীরে ছোট্ট এক দ্বীপের বুকে এইসব মানুষের বসতি। মানুষের, না পোকামাকড়ের? দৃশ্যমান বাস্তবতা তো পোকামাকড়ের কথাই বলে। কিন্তু সেই ঘরবসতিতে আমরা তো মানুষকেই দেখতে চাই। সাহসী, লড়াকু, স্বপ্নতাড়িত প্রেমময় মানুষ। পিষ্ট হতে হতে শেষে মাথা তুলে দাঁড়াবে এমন মানুষ, জলদাস নয়, জলের অধিপতি হিসেবেই বেঁচে থাকবে মানুষ। তাদের কুশলী শ্রমে রূপোলী মাছ আটকে যাবে জালের সুতোয়, স্বপ্নের মধ্যে জালের গুটি টুং-টাং বেজে উঠবে যেন অলৌকিক সঙ্গীত। সব জলদাস দাঁড়াবে এসে এক আলোকিত মিছিলে পুরোভাগের সাহসি মানুষটির চোখে ভিড় করবে স্বপ্নঘেরা এক ভূখন্ডের মানচিত্র। হাঙরদের পরাভূত করে উঠে আসবে জলমগ্ন মানুষের দল। না, এ উপন্যাস 'পদ্মানদীর মাঝি' নয়। মানিক বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেলিনা হোসেনের যোগসূত্রের সন্ধানে বেরোলে সামনে থাকবে দীর্ঘপথ। তবু উভয়ের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম সাদৃশ্য যেন রয়েছে। সেই সাদৃশ্যটি জীবনের প্রতি অঙ্গীকারের বিশ্বস্ততায় যে মানুষ আমরা সবাই, শহরের, মধ্যবিত্ত কিংবা উচ্চবিত্ত জীবনের, তার বাইরের মানুষের জন্য লেখকের ভালোবাসা। ভালোবেসে সে মানুষকে বোঝার চেষ্টা, তার ঘরবসতিকে অন্যরকম করে সাজিয়ে দেওয়ার সাহস।

অন্যদিকে, 
• ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।

• সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা, রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু। সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত)।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কথাশিল্পী এবং তাঁর উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- সাহিত্য ও কলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্  পুরস্কার (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; পোকামাকড়ের ঘরবসতি' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২৩৬.
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ কে বলেছেন?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) ড. রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

- প্রখ্যাত ভাষা বিজ্ঞানী মুনীর চৌধুরীকে সম্ভবত কেউ জিজ্ঞাসা করেছিলেন তাঁর মাতৃভাষা কী? তিনি তখন একটি অত্যাশ্চর্য উত্তর দিয়েছিলেনঃ
‘‘আমার মাতৃভাষা কী? বাংলাভাষা। সমগ্র বাংলাভাষা। বিচিত্র রূপিনী বাংলাভাষা। অভিধানে আছে ষোড়শ রমণী মাতৃ সম্বোধনীযোগ্যা। শ্মশ্রু থেকে তনয়া, গর্ভধারিণী থেকে পিতৃরমণী। ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ। তারা সব পদ্মিনীর সহচরী। আমার মাতৃভাষা তিব্বতের গুহাচারী, মনসার দর্পচূর্ণকারী, আরাকানের রাজসভার মণিময় অলঙ্কার, বরেন্দ্রভূমির বাউলের উদাস আহ্বান, মাইকেল-রবীন্দ্রনাথ-নজরুল ইসলাম আমার মাতৃভাষা। আমার মাতৃভাষা বাংলাভাষা’’।

৯,২৩৭.
"যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।" - কথাটি কে লিখেছেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মুহাম্মদ আব্দুল হাই
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বই পড়া' প্রবন্ধটির রচয়িতা- প্রমথ চৌধুরী। 

• এই প্রবন্ধের কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়।
- যে জাতি যত নিরানন্দ সে জাতি তত নির্জীব। 
- যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়।
- যে জাতির জ্ঞানভাণ্ডারে শূন্য সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।

• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; প্রবন্ধ সংগ্রহ, প্রমথ চৌধুরী।
৯,২৩৮.
বিদ্যাপতি কোন রাজ্যের রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. রোসাঙ্গ
  2. আরাকান
  3. মিথিলা
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন। ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৩৯.
'দ্রৌপদী' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. সেলিনা হোসেন
  3. রাজিয়া খান
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা

• 'দ্রৌপদী' উপন্যাস:
- রাজিয়া খান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্রৌপদী' এপার ওপার দুই বাংলায় বেশ সমাদৃত।
- ১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। এবং শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

গ্রন্থের ভূমিকায় লেখক লিখেন-
১৯৮৮ সালে এ উপন্যাস লেখা শেষ হয়। আজ শ্রীঅন্নদাশঙ্কর রায়ের উদ্যোগে কলকাতা থেকে এর প্রকাশ আমার পক্ষে বড় গৌরবের। আমার যেসব শিক্ষক, ছাত্র, বন্ধু হানাদারদের হাতে খুন হয়েছেন তাঁদের স্মৃতির ভার কিছুটা লাঘব হয়েছে, এ উপন্যাস লিখে। যেসব চক্রান্ত দুই বাংলার মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের মহিমাকে খাটো করেছে, তার বিরুদ্ধেও এ এক ধরনের প্রতিবাদ। যদিও রাজনৈতিক প্রচারে উপন্যাসের পরিমণ্ডল দুষ্ট করতে আমি চাই নি।

অন্যদিকে,
• রাবেয়া খাতুনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো 'ফেরারী সূর্য', 'ঘাতক রাত্রি', 'মেঘের পর মেঘ', এবং 'একাত্তরের নিশান'।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। আবার 'একাত্তরের ঢাকা' একটি স্মৃতিচারণমূলক সংকলন গ্রন্থ। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণা প্রবন্ধ।

উৎস: 'দ্রৌপদী' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,২৪০.
‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র নয় কোনটি?
  1. সন্দীপ
  2. তিলোত্তমা
  3. নিখিলেশ
  4. বিমলা
ব্যাখ্যা

তিলোত্তমা ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র নয়। 
তিলোত্তমা দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র। 

ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নিখিলেশ,
- বিমলা,
- সন্দীপ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- বাংলা সাহিত্যের ছোটগল্পের জনক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,২৪১.
সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হতো কোন পত্রিকায়?
  1. ক) সওগাত
  2. খ) ব্রাহ্মণসেবধি
  3. গ) সুধাকর
  4. ঘ) পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণসেবধি ও সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা দুটির সম্পাদক রাজা রামমোহন রায়। সামাজিক কুসংস্কার অনাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশিত হতো পত্রিকাগুলোতে। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৪২.
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন' ভ্রমণ কাহিনির রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল্লাহ কায়সার
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

----------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:
- জন্ম: ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর তিনিই ছিলেন বাংলা বিভাগের প্রথম মুসলমান ছাত্র।
- মুহম্মদ আবদুল হাই ১৯৫৪ সালে বাংলা বিভাগের রিডার ও অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- A Phonetic and Phonological Study of Nasal and Nasalization in Bengali,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত।

অন্যদিকে,
• 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
• 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ভ্রমণকাহিনি - তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯,২৪৩.
মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করা হয়েছে কোন প্রবন্ধে?
  1. ক) শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব
  2. খ) সভ্যতার সংকট
  3. গ) শিক্ষার মিলন
  4. ঘ) মানুষের ধর্ম
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ।
- 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর (১৯০৩-১৯৫৬) জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের।
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ ‘মানুষের ধর্ম’।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ ‘শিক্ষার মিলন’ ও ‘সভ্যতার সংকট’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৪৪.
"হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো"- পঙক্তিদ্ব কার রচনা?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত পঙক্তিটি রফিক আজাদ রচিত ‘নত হও, কুর্নিশ করো’ কবিতার অন্তর্গত।

নত হও, কুর্নিশ করো
রফিক আজাদ--সংকলিত (রফিক আজাদ)   

হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,
তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খ
পেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ,

অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়ে
ক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,
বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,
এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন…

========
• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল- জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৪৫.
যুগসন্ধি কালের প্রধান পুরোহিত ছিলেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২৪৬.
'কমল-হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার।' প্রবাদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসে রয়েছে?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'কমল-হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার।' প্রবাদটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসে রয়েছে।

শেষের কবিতা:
- 'শেষের কবিতা' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- 'প্রবাসী' পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসামান্য ঔজ্জ্বল্য, দৃপ্তশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরুদ্ধে আধুনিক সাহিত্যিকেরা যখন বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেই মনোভাব লক্ষ করেছিলেন কৌতুকের সঙ্গে।
- নিজেকে নিয়ে এই উপন্যাসে রসিকতাও আধুনিকদের আকাঙ্ক্ষিত কিন্তু তখনও পর্যন্ত অনর্জিত এক বাক্‌রীতির সৃষ্টিতে 'শেষের কবিতা' বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় গ্রন্থ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যেমন -
→ ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
কমল-হীরের পাথরটাকেই বলে বিদ্যে, আর ওর থেকে যে আলো ঠিকরে পড়ে তাকেই বলে কালচার

- সুকুমার সেন বলেছেন: 'বৈষ্ণব সাধনার পরকীয়াতত্ত্ব রবীন্দ্রনাথের কবিমানসে যেভাবে রূপান্তর লাভ করিয়াছিল শেষের কবিতায় তাহার পরিচয় পাই।'
- 'কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও'- এই কবিতা দিয়ে উপন্যাসটি শেষ হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; শেষের কবিতা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৯,২৪৭.
'হায়াৎ মামুদ' কার ছদ্মনাম?
  1. অহিদুর রেজা
  2. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শেখ আজিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• মােহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম- হায়াৎ মামুদ।
------------------ 
• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা ।
- শেখ আজিজুর রহমান এর ছদ্মনাম - শওকত ওসমান।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- প্রিয়দর্শী, সত্যপীর।
- এস ওবায়দুল্লাহর ছদ্মনাম- আসকার ইবনে শাইখ।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম -'কালকূট'। 
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন - 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৯,২৪৮.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. নিজ বাসভূমে
  3. এলো সে অবেলায়
  4. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
ব্যাখ্যা
- ‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনী কিশোর গুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস, 
- অদ্ভুত আঁধার এক, 
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ, 
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর, 
- কালের ধুলোয় লেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২৪৯.
‘সংস্কৃতি কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) কাজী মোতাহার হোসেন
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬) বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর রচিত ‘সংস্কৃতি-কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থটি ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,২৫০.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। 

------------------------
• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যু হয় ২০০১ সালের ২৮ জুলাই।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

• আহমদ ছফার শিশুতোষ রচনা:
- দোলো আমার কনকচাঁপা,
- গো হাকিম ইত্যাদি।

• কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৫১.
সনেটের প্রথম অংশকে কী বলে?
  1. মূল
  2. ষটক
  3. অন্তরা
  4. অষ্টক
ব্যাখ্যা

• সনেটের প্রথম অংশকে বলে- অষ্টক। 

----------------
• সনেট (Sonnet): 
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 

-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া। 

৯,২৫২.
কাব্যধর্মী নাটক কোনটি?
  1. ক) স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা
  2. খ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
  3. গ) চরকাঁকড়ার ডকুমেন্টারী
  4. ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য। 

নুরুলদীনের সারাজীবন
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

 সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৫৩.
মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. রূপবতী
  2. দস্যু কেনারামের পালা
  3. কাজলরেখা
  4. ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতকা নয় হচ্ছে - ভেলুয়া।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
১. মহুয়া,
২. মলুয়া,
৩. চন্দ্রাবতী,
৪. কমলা,
৫. দেওয়ান ভাবনা,
৬. দস্যু কেনারামের পালা,
৭. রূপবতী,
৮. কঙ্ক ও লীলা,
কাজলরেখা
১০. দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,২৫৪.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন নয় কোনটি?
  1. শূণ্যপূরাণ
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. প্রাকৃতপৈঙ্গল
  4. ওলে বকাওলী
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
 বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়। 

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন- 
- প্রাকৃতপৈঙ্গল।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা'।

অন্যদিকে,
‘ওলে বকাওলী’ মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যগুলোর মধ্যে একটি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,২৫৫.
"নুরু এবং রবিউল" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. বাঁধন-হারা
  4. কোনোটিই
ব্যাখ্যা
‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি ১৯২১ সালে 'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- পরে ‘বাধন-হারা' নামেই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৫৬.
চর্যাপদের পঞ্চাশতম পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. সরহপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি:
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,২৫৭.
৪৮নং বিলুপ্ত পদটি কার রচনা?
  1. সরহপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।
- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

- চর্যাপদ তিব্বতী ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতী  অনুবাদ করেছিলেন চর্যাগীতিকোষবৃত্তি নামে।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,২৫৮.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
  1. ক) চাষী নজরুল ইসলাম
  2. খ) আলমগীর কবির
  3. গ) সুভাষ দত্ত
  4. ঘ) নাসির উদ্দীন ইউসুফ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রটির পরিচালক- 'আলমগীর কবির'  

ধীরে বহে মেঘনা (১৯৭৩)
- এটির নির্মাতা আলমগীর কবির।
- ভারতীয় মেয়ে অনিতার প্রেমিক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়।
- সে ঢাকায় এসে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আরও গভীরভাবে মর্মাহত হয়।
- অভিনয়ে বুলবুল আহমেদ, ববিতা, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গান আছে এ ছবিতে।

আরো উল্লেখযোগ্য কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। 
সংগ্রাম 
- এটি নির্মাণ করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
- এর গল্প নেওয়া হয়েছে সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের ডায়েরি থেকে।
- এতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও অন্যান্য বাহিনীর বীরত্বগাথা চিত্রিত হয়েছে।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন সুচন্দা, খসরু।

 অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী (১৯৭২)
- সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের চলচ্চিত্র ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’।
- কাহিনিতে পাকিস্তানি নৃশংসতার বিরুদ্ধে বাঙালিদের প্রতিরোধযুদ্ধের কথা আছে।
- এখানে একজন ধর্ষিতা নারীকে একজন অভিনেতা স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

একাত্তরের যীশু (১৯৯৩)
- চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
- শাহরিয়ার কবিরের উপন্যাস থেকে এর কাহিনি নেওয়া হয়েছে।
- অভিনয় করেছেন পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন ফরীদি, জহির উদ্দিন পীয়ার, আবুল খায়ের, আনোয়ার ফারুক, কামাল বায়েজীদ, শহীদুজ্জামান সেলিম।

ওরা ১১ জন (১৯৭২)
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’।
- এর পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রাজ্জাক, শাবানা, নূতন, হাসান ইমাম, এ টি এম শামসুজ্জামান, খলিল উল্লাহ প্রমুখ।
- সিনেমায় অভিনয় করা ১১ জন মুক্তিযোদ্ধার ১০ জনই সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।
- তাঁদের মধ্যে আছেন খসরু, মুরাদ, হেলাল, নান্টু। ছবির নামটি প্রতীকী।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং ১৯৬৮-৬৯ সালে ছাত্ররা ১১ দফার ভিত্তিতে আন্দোলন করে।
- এখান থেকে ছবির নামকরণ হয়েছে ‘ওরা ১১ জন’।

উৎস: প্রথম আলো- তারিক মনজুর, শিক্ষক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৯,২৫৯.
‘পাপের সন্তান’ উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. সানাউল হক
  4. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• ‘পাপের সন্তান’ উপন্যাসটির রচয়িতা - সত্যেন সেন

পাপের সন্তান:
- 'অভিশপ্ত নগরী'র দ্বিতীয় খণ্ড হিসেবে পরিকল্পিত 'পাপের সন্তান' (১৯৬৯) শুধু সত্যেন সেনেরই সেরা সৃষ্টি নয়, বাংলা ভাষায় লিখিত একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এ উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজি পুরস্কার (১৯৭০) লাভ করেন।
- 'অভিশপ্ত নগরী'তে জেরুজালেম নগরী পতনের কথা আছে।
- 'পাপের সন্তানে' সেই পতনের প্রায় পঞ্চাশ বছর পরের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত।
- এই দীর্ঘ সময়ে ইহুদিদের সঙ্গে অন্য ধর্ম- জাতির অনেকেরই বিয়ে এবং সন্তান জন্মের ঘটনা ঘটে।
- পরজাতি স্ত্রীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী ইহুদি সন্তানদের পাপের সন্তান আখ্যা দিয়ে তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান পাত্র-পাত্রী মিকা ও শদরা ধর্মীয় ও সামাজিক এই বিধি নিষেধ অতিক্রম করে নীলনদের তীরে এসে নতুন পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়। এই নতুনের প্রতি ইঙ্গিতই উপন্যাসের মূলকথা।
- বাংলাদেশে বাইবেল থেকে কাহিনি নিয়ে উপন্যাস রচনা এই প্রথম।

সত্যেন সেন:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক। 
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৫৪ সালে 'দৈনিক সংবাদ' এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং 'উদীচী ' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
- তিনি কৃষক আন্দোলনে যোগ দেন এবং আমৃত্যু বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- তিনি ৫ই ডিসেম্বর, ১৯৮১ শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ভোরের বিহঙ্গী, 
- অভিশপ্ত নগরী, 
- পদচিহ্ন, 
- পাপের সন্তান
- আলবেরুনী, 
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২৬০.
'কেলিনু শৈবালে ভুলি কমল-কানন' এখানে 'কমল-কানন শব্দের ব্যঞ্জনার্থ-
  1. ফুলের বাগান
  2. পদ্ম বাগান
  3. বাংলা ভাষা
  4. উপহার
ব্যাখ্যা

• "কেলিনু শৈবালে ভুলি কমল-কানন" পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের "বঙ্গভাষা" কবিতার একটি অংশ।

- এই কবিতায় কবি তাঁর মাতৃভাষা বাংলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। 

• পঙ্‌ক্তিটির ব্যাখ্যা:
• "কেলিনু শৈবালে" অর্থাৎ তিনি শৈবাল (জলজ উদ্ভিদ) নিয়ে খেলেছেন,বলতে কবি ইংরেজি ভাষার ক্ষণস্থায়ী আকর্ষণকে বুঝিয়েছেন।
• "ভুলি কমল-কানন" বলতে তাকে তার মাতৃভাষা/বাংলাভাষা (কমল-কানন) ভুলিয়ে দিয়েছিল।

• এই পঙ্‌ক্তির সারমর্ম হলো, কবি তাঁর মাতৃভাষার বিশুদ্ধতা ও মূল্য ভুলে অন্য ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভুল করেছেন, যা তিনি এখন উপলব্ধি করছেন। শৈবালে (অস্থায়ী ও নিম্নতর ইংরেজি ভাষা) মোহগ্রস্ত হয়ে তিনি কমল-কানন (বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মহত্ত্ব) থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

৯,২৬১.
লেখক আনিসুজ্জামান কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন?
  1. ক) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
• ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
• তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন। এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬)
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (১৯৮৩)
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে (২০০০)
- কাল নিরবধি (২০০৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৬২.
কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস?
  1. জাগরী
  2. আরণ্যক
  3. মালঞ্চ
  4. যমপুরান
ব্যাখ্যা
• 'জাগরী' উপন্যাস:
- এটি সতীনাথ ভাদুড়ী রচিত উপন্যাস। 
-  ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত জাগরী  উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- এটি রাজনৈতিক  উপন্যাস হিসেবে বাংলা সাহিত্যে এর একটি বিশেষ স্থান আছে। 

• সতীনাথ ভাদুড়ী:
- তিনি কথাশিল্পী, রাজনীতিক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ‘চিত্রগুপ্ত’।
- ১৯০৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিহারে পিতার কর্মস্থল পূর্ণিয়ায় তাঁর জন্ম।

অন্যদিকে,
⇒ ‘আরণ্যক’ উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘আরণ্যক’। 
- ভাগলপুরের নিকটবর্তী বনঞ্চলের নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন নিয়ে রচিত হয়েছে আরণ্যক উপন্যাস।
- প্রধান চরিত্র: ভানুমতী, বনোয়ারী, দোবরু, বুদ্ধু সিংহ।

⇒ ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস:
- মালঞ্চ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।
- নীরজা, আদিত্য, সরলা এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৬৩.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা -
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. কানাহরি দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা - 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর'। 
---------------- 
• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৬৪.
‘মহুয়া’ পালার রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজ ঈশান
  2. মনসুর বয়াতি
  3. দ্বিজ কানাই
  4. নয়ানচাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা
ভনিতা থেকে কিছু গীত রচয়িতার নাম জানা যায়,

যেমন:
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- চন্দ্রাবতী- নয়ানচাঁদ ঘোষ,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দস্যু কেনারামের পালা- চন্দ্রাবতী,
- দেওয়ানা মদিনা- মনসুর বয়াতি।

মৈমনসিংহ গীতিকা:

- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৬৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসটি তাঁর 'আত্মজৈবনিক উপন্যাস' হিসেবে পরিচিত?
  1. গৃহদাহ
  2. চরিত্রহীন
  3. শ্রীকান্ত
  4. দেবদাস
ব্যাখ্যা

শ্রীকান্ত:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি, অভয়া।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বৈকুণ্ঠের উইল,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- নিষ্কৃতি,
- শ্রীকান্ত,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- দেনা-পাওনা,
- পথের দাব,
- শেষ প্রশ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২৬৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. দোহাকোষ
  3. গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
  4. ময়নামতির গান
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ'কে দোহাকোষ নামে প্রকাশ করেন। চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন।

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি ‘হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ হচ্ছে অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- শুকুর মহম্মদের 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ও ভবানী দাসের 'ময়নামতির গান' নাথ সাহিত্য তথা মধ্যযুগের সাহিত্য নিদর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,২৬৭.
‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) রচিত বিখ্যাত কবিতা হলো ‘কোন এক মাকে’। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত। তার রচিত কালজয়ী কবিতা ‘ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' এবং ‘মাগো, ওরা বলে'(ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে)।তিনি ‘পদাবলি’ নামে কবিদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৯,২৬৮.
"মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"- উক্তিটি সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. যাত্রা
  2. পালামৌ
  3. রামেশ্বরের অদৃষ্ট
  4. জলপ্রতাপ চাঁদ
ব্যাখ্যা
⇒ পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

'পালামৌ' রচনার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বাক্য- 
- “বন্যেরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।”
- "মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।"
- "যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।"
- "একদিন আপনার অহঙ্কারে আপনি হাসিব"
- "যে হারে, সেই রাগে। "

⇒ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৬৯.
ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. জাহানারা ইমাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা স্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -"জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।

তাঁর উলেখযোগ্য অন্যান্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
-নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৭০.
কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. গুঞ্জন
  4. অম্বা
ব্যাখ্যা
- ’ অম্বা’ কামিনী রায় রচিত নাটক।
----------------------------------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

•তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৭১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা কত ছিলো?
  1. ২৩
  2. ২৪
  3. ২৫
  4. ২৮
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে -

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।

- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
সে বিচারে এককথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।

এরা হলেন -
- লুইপা, কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, ধর্মপা, ঢেণ্ডণপা, বিরুপা, বীণাপা, ভাদেপা, ভুসুকুপা, মহীধরপা, শবরপা, শান্তিপা, সরহপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা, চাটিল্লপা, আর্যদেবপা, দারিকপা, তাড়কপা, কঙ্কণপা, জয়নন্দীপা, তন্ত্রীপা, লাড়ীডোম্বীপা।

- লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,২৭২.
শামসুর রাহমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ- 
  1. এলাটিং বেলাটিং
  2. ধান ভানলে কুঁড়ো দেব
  3. কিশোর কবিতা
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাকে নাগরিক কবি বলা হয়ে থাকে। 

শামসুর রাহমানের শিশুতোষ গ্রন্থ- 
- এলাটিং বেলাটিং,
- ধান ভানলে কুঁড়ো দেবো,
- কিশোর কবিতা, 
- রংধনু সাঁকো,
- লাল ফুলকির ছড়া,
- স্মৃতির শহর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৯,২৭৩.
'কাশিমের লড়াই' নামক মর্সিয়া কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. মুহম্মদ খান
  3. কবি শেররাজ
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' গ্রন্থটির রচয়িতা - 'কবি শেররাজ'। 

• 'জঙ্গনামা' কাব্য: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। 
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
-------------
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:  
শেখ ফয়জুল্লাহ - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জয়নবের চৌতিশা।
   
দৌলত উজির বাহরাম খান - ষোল শতক।
গ্রন্থের নাম: জঙ্গনামা।

মুহম্মদ খান - সতের শতক।
গ্রন্থের নাম: মকতুল হোসেন।

শেরবাজ - আঠার শতক। 
গ্রন্থের নাম: কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা।

হেয়াত মামুদ - আঠার শতক।
গ্রন্থের নাম: জারি-জঙ্গনামা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড.মাহবুবুল আলম।
৯,২৭৪.
চর্যাপদে কোন ধর্মের কথা বলা হয়েছে?
  1. ইসলাম ধর্ম
  2. বৌদ্ধ ধর্ম
  3. হিন্দু ধর্ম
  4. খ্রিষ্টান ধর্ম
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- আধুনিক ছন্দের বিচারে চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ রচনা হয়েছে ৬৫০ খিষ্ট্রব্দ এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৯৫০-১২০০ খিষ্ট্রাব্দের মধ্যে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের সংখ্যা ৫০ টি এবং সুনীতকুমার চট্টপাধ্যায়ের মতে ৫১ টি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৯,২৭৫.
কাজী নজরুল ইসলামের শেষ সওগাত কাব্যের ভূমিকা লিখে দেন কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বারীন্দ্রকুমার ঘোষ
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) মুজাফ্‌ফর আহমেদ
ব্যাখ্যা

শেষ সওগাত (১৯৫৮)।
এ কাব্যের ভূমিকা লেখেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
কাজী নজরুল ইসলাম, আবুল মনসুর আহমেদের ''আয়না'' হাস্যরসাত্মক গল্পগ্রন্থের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।
অপরদিকে কাজী নজরুল ইসলাম বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন।
বিষের বাঁশী কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন নারী আধিকার আন্দলনের অগ্রনিয়ায়ক মিসেস এম। রহমানকে (মোসাম্মদ মাসুদা খাতুন) উৎসর্গ করেন।
সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথকে উৎসর্গ করেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,২৭৬.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক 'কাব্যভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
  3. আবদুল হক
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ এর সাহিত্যিক জীবনী:
জন্ম: ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে। প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
ছদ্মনাম: কায়কোবাদ।

কর্মজীবন ও কাব্য:
সাহিত্যিক অবদান: বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা। প্রথম কাব্য: তেরো বছর বয়সে ‘বিরহবিলাপ' কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

বিশিষ্ট উপাধি লাভ:
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধি প্রদান।

অন্যদিকে,
• শেখ ফজলুল করিম এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
• আবদুল হকের উপাধি- 'কলমসৈনিক'।  
• গোলাম মোস্তফা'র উপাধি - কাব্য সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,২৭৭.
আবদুল করিমের উপাধি ছিল-
  1. সাহিত্যসম্রাট
  2. সাহিত্যগুরু
  3. সাহিত্যসাগর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি।
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৭৮.
"আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।" - গানটির রচয়িতা কে?
  1. লালন শাহ্
  2. শাহ আব্দুল করিম
  3. হাসন রাজা
  4. ওস্তাদ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

লালন শাহ্:
- লালন শাহ্ (১৭৭২-১৮৯০) বাউল সাধনার প্রধান গুরু, বাউল গানের শ্রেষ্ঠ রচয়িতা ও গায়ক।
১১৭৯ বঙ্গাব্দের ১ কার্তিক (১৭৭২) ঝিনাইদহ জেলার হরিশপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মতান্তরে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর ভাঁড়রা গ্রামে এক কায়স্থ পরিবারে তিনি জন্মগ্রণ করেন।
- লালন কোনো জাতিভেদ মানতেন না। তাই তিনি গেয়েছে 'সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে/ লালন কয় জাতির কি রূপ দেখলাম না এ নজরে।'

তাঁর রচিত কয়েকটি জনপ্রিয় গান:
- আমার ঘরের চাবি পরের হাতে।
- আমার ঘরখানায় কে বিরাজ করে।
- খাচার ভিতর অচিন পাখি।
- বাড়ির কাছে আরশিনগর।
- সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
- সময় গেলে সাধন হবে না।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৯,২৭৯.
মহাভারতের অনুবাদক কবি নন কে?
  1. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  2. চন্দ্রাবতী
  3.  শ্রীকর নন্দী
  4. দ্বিজ অভিরাম
ব্যাখ্যা

• মহাভারতের অনুবাদক কবি নন- চন্দ্রাবতী। 

• মহাভারত:

মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য ।মূল রচয়িতা– কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন- কবীন্দ্র পরমেশ্বর। তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত ।
অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন  বিজয়পান্ডবকথা অথবা ভারত পাঁচালী।
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস । মহাভারতের আদি, সভা, বন, ও বিরাট পর্ব রচনার পর কাশীরাম দাস ইহলোক ত্যাগ করেন।
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন যা ছুটিখাঁনী মহাভারত নামেও পরিচিত।

মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবিরা হলেন-  কবীন্দ্র পরমেশ্বর, শ্রীকর নন্দী, সঞ্জয়, রামচন্দ্র খান, দ্বিজ রঘুনাথ, কাশীরাম দাস, দ্বিজ অভিরাম, নিত্যানন্দ ঘোষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
-------------------
• চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন। তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
-  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'। চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী' উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য :
- রামায়ণ,
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৯,২৮০.
‘কালকেতু’ কোন্ কাব্যের চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চন্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি কঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী রচিত চন্ডীমঙ্গলের ‘কালকেতু ও ফুল্লরা উপাখ্যান’র নায়ক হলো কালকেতু।
সে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে অবতার হিসেবে এসে দেবী চন্ডীর পূজার প্রসার ঘটায়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৯,২৮১.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. শিখা
  2. প্রগতি
  3. সাহিত্য
  4. নবশক্তি
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- তিনি ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৮২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা” - কোন কবিতা থেকে উদ্ধৃত?
  1. উর্বশী
  2. ক্ষণিকা
  3. মানসী
  4. নৈবদ্য
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মানসী' কবিতার চরণ-
"শুধু বিধাতার সৃষ্টি নহ তুমি নারী—
পুরুষ গড়েছে তোরে সৌন্দর্য সঞ্চারি
আপন অন্তর হতে। বসি কবিগণ
সোনার উপমাসূত্রে বুনিছে বসন।
সঁপিয়া তোমার ’পরে নূতন মহিমা
অমর করিছে শিল্পী তোমার প্রতিমা।
কত বর্ণ কত গন্ধ ভূষণ কত-না,
সিন্ধু হতে মুক্তা আসে খনি হতে সোনা,
বসন্তের বন হতে আসে পুষ্পভার,
চরণ রাঙাতে কীট দেয় প্রাণ তার।
লজ্জা দিয়ে, সজ্জা দিয়ে, দিয়ে আবরণ,
তোমারে দুর্লভ করি করেছে গোপন।
পড়েছে তোমার ’পরে প্রদীপ্ত বাসনা—
অর্ধেক মানবী তুমি অর্ধেক কল্পনা।"


- মানসী কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের ''চৈতালী'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,২৮৩.
‘আমার দেখা নয়াচীন’ কে লিখেছেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. আবুল ফজল
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
• আমার দেখা নয়াচীন:
• ‘আমার দেখা নয়াচীন’ শেখ মুজিবর রহমান রচিত তৃতীয় গ্রন্থ
। স্মৃতিনির্ভর এ ভ্রমণকাহিনি তিনি রচনা করেন ১৯৫৪ সালে কারাগারে রাজবন্দি থাকাকালে।

• আমার দেখা নয়াচীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৫২ সালের রাজনৈতিক জীবনের প্রথমদিকে গণচীন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা একটি ডায়েরির পুস্তকি রূপ।

• ১৯৫২ সালের ২-১২ই অক্টোবর চীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে এ সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে নয়াচীন সফর করেন। শিল্পিত মন ও সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে সদ্য বিপ্লবোত্তর গণচীনের শাসনব্যবস্থা ও জীবনচিত্র তুলে ধরেছেন প্রাঞ্জল ভাষায়। এ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুর সাম্রাজ্যবাদবিরোধী মনোভাব, অসাম্প্রদায়িক ভাবাদর্শ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার গভীর পরিচয় মেলে।

• 'আমার দেখা নয়াচীন' বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২০ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়'। একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।

• বইটির ভূমিকা লিখেছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উৎস: ‘আমার দেখা নয়াচীন’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ‘১৪ আগস্ট ২০২০,  প্রথম আলো রিপোর্ট’।
৯,২৮৪.
'যে মোরে করিল পথের বিবাগী'- পঙ্‌ক্তিটির পরবর্তী চরণ কী হবে?
  1. আমি পথে পথে ফিরি তার লাগি।
  2. পথে পথে ফিরি আমি তার লাগি ।
  3. পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।
  4. পথ হতে পথ আমি ফিরি তার লাগি।
ব্যাখ্যা
''যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা- জসীম উদ্‌দীন।
- কবিতাংশটুকু কবি জসীম উদদীন এর 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

প্রতিদান- কবিতা, 
-----------জসীম উদদীন।
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর ;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
-------------------
জসীম উদদীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীম উদদীন নামেই পরিচিত। 
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি জসীম উদদীন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য।
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) প্রতিদান কবিতা- জসীম উদ্‌দীন।
৯,২৮৫.
"যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।" — পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেছেন কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. আব্দুল হাকিম
  3. দৌলত কাজী
  4. আব্দুল করিম
ব্যাখ্যা
• 'যে সব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী। সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যের অন্তর্গত 'বঙ্গবানী' কবিতায় লিখেছেন।

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৮৬.
'রঞ্জন' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকের চরিত্র?
  1. রক্তকরবী
  2. রাজা 
  3. ডাকঘর 
  4. চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা

 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- চরিত্র - নন্দিনী, রঞ্জন। 
- নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে। 
- 'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। 
- শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে,
- রাজা:  রাজা, ঠাকুরদা, সুরঙ্গমা প্রভৃতি ।
-  ডাকঘর: অমল, সুধা, ঠাকুরদা ইত্যাদি।
-  তাসের দেশ: রাজা, রাণী, তাসের সৈনিক প্রভৃতি।
 - চিত্রাঙ্গদা: চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনে

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,২৮৭.
কোন ঔপন্যাসিকের চারটি উপন্যাস একত্রে 'শতবর্ষ' নামে সংকলিত হয়েছে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রমেশচন্দ্র দত্ত
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'শতবর্ষ' সংকলন গ্রন্থ:
• রমেশচন্দ্র দত্ত চারটি ঐতিহাসিক উপন্যাস রচনা করেন: বঙ্গ বিজেতা, মাধবী কঙ্কণ, রাজপুত জীবন সন্ধ্যা ও মহারাষ্ট্র জীবন প্রভাত।
• প্রথম দুটি উপন্যাসে তিনি সম্রাট আকবর কর্তৃক বাংলা বিজয়, তৃতীয়টিতে আকবরের বিরুদ্ধে রানা প্রতাপ সিংহের সংগ্রাম এবং চতুর্থটিতে শিবাজীর নেতৃত্বে মারাঠা শক্তির অভ্যুদয়ের কাহিনি বর্ণনা করেন। 
• সব কটি উপন্যাসই ১৮৭৯ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুঘল সাম্রাজ্যের শতবর্ষের ইতিহাসের ঘটনা নিয়ে এই উপন্যাসগুলি রচিত হয়েছিল বলে এগুলি একসাথে “শতবর্ষ” (১৮৭৯) নামে সঙ্কলিত হয়েছিল।

• রমেশচন্দ্র দত্ত:
- রমেশচন্দ্র দত্ত ছিলেন একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চিন্তাবিদ এবং সুপণ্ডিত ব্যক্তি।
- তিনি লেখার কাজকে তাঁর ’প্রথম প্রেম’ হিসেবে অভিহিত করেন।
- তাঁর প্রথম লেখা Three Years in Europe ১৮৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর দ্বিতীয় লেখা Bengal Peasantry গ্রন্থ ১৮৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- দুবছর পর প্রকাশিত হয় Bengali Literature শীর্ষক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

• তিনি দুটি সামাজিক উপন্যাস সমাজ ও সংসার রচনা করেন। প্রথমটিতে হিন্দুসমাজে বিধবা বিবাহ এবং দ্বিতীয়টিতে বিভিন্ন বর্ণের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
• বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপর একটি অবদান হচ্ছে বাংলায় ঋগ্বেদ-এর অনুবাদ (১৮৮৫)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।
৯,২৮৮.
’জননী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
•  জননী:
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত শওকত ওসমানের প্রথম উপন্যাস।
- সন্তানের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য একজন মা গোপনে যে কোনো পথ অবলম্বন করতে পারেন, শওকত ওসমান সে কথাই এ উপন্যাসে ব্যক্ত করেছেন।
- মহেশডাঙ্গার দরিয়াবিবি সন্তান মোনাদি'কে আর্থিক সহায়তা দেয়ার জন্য ইয়াকুবের শয্যাসঙ্গিনী হয়।
- ইয়াকুবের ঔরষে তার গর্ভে সন্তান এলেও সামাজিক সকল বিপত্তি এড়িয়ে অসীম মমতায় তাকে লালন-পালন করে।
- এ উপন্যাসে ফুটে উঠেছে মুসলিম সমাজের শরিয়তি দ্বন্দ্ব, বিত্তবানদের স্বার্থপরতা, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের পারস্পরিক বিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি।
- ওসমান জামাল এটি ইংরেজিতে 'জননী' (১৯৯৩) নামেই অনুবাদ করে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশ করেন।
- উপন্যাসের চরিত্র: দরিয়া বিবি, আজহার, মোনাদি, ইয়াকুব, চন্দ্ৰকোটাল।
------------------------------
শওকত ওসমান:
- বাংলাদেশের বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক শওকত ওসমান।
- শওকত ওসমান ২ জানুয়ারি, ১৯১৭ সালে হুগলীর সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটক:
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৮৯.
‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি-
  1. কবিতা
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।
----------------------
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২৯০.
আত্মজা ও একটি করবী গাছ - গল্পের রচয়িতা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) হুমায়ূন আহমেদ
  4. ঘ) ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

আত্মজা ও একটি করবী গাছ গল্পটি রচনা করেন হাসান আজিজুল হক
এটি দেশভাগের পর সাম্প্রদায়িকতাকে কেন্দ্র করে রচিত।
তার অন্যান্য গল্পের মধ্যে রয়েছে -
নামহীন গোত্রহীন,
রোদে যাবো,
পাতালে হাসপাতালে,
জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
(সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)

৯,২৯১.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে:
- বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিগদর্শন এর সম্পাদক জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় বিখ্যাত সাহিত্যপত্র -  বঙ্গদর্শন।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা - সাধনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,২৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প -
  1. শিউলিমালা
  2. বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী
  3. রিক্তের বেদন
  4. ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী।
-  ১৯১৯ সালের মে মাসে সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয় নজরুলের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ ‘রিক্তের বেদন’।
- এই গ্রন্থের গল্পগুলোর প্রধান বিষয় প্রেম। 

‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো: 
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৯৩.
‘রোহিণী’ কোন উপন্যাসের নায়িকা?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. চরিত্রহীন
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়। প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,২৯৪.
'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আসকার ইবনে শাইখ
  3. শাহেদ আলী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিস তথা ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক সৈনিক' ও 'মাসিক দ্যুতি'।
- সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী।
- 'মাসিক দ্যুতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন আসকার ইবনে শাইখ।
- হাসান হাফিজুর রহমান ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম সংকলনের সম্পাদক ছিলেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৯,২৯৫.
কোনটি নাটক?
  1. কর্তার ইচ্ছায় কর্ম
  2. গড্ডলিকা
  3. পল্লীসমাজ
  4. সাজাহান
ব্যাখ্যা
• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়। গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল। 

অন্যদিকে, 
• 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের রচয়িতা- 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'।
• 'কর্তার ইচ্ছায় কর্ম' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধ। 

---------------
দ্বিজেন্দ্রলাল রায়: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
-  ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে  বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য। 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্যপুষ্পভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
 - তারাবাঈ,
 - প্রতাপ-সিংহ,
 - দুর্গাদাস,
 - নূরজাহান,
 - মেবার পতন,
 - সাজাহান,
 - চন্দ্রগুপ্ত,
 - সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
 - পরপারে,
 - বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,২৯৬.
অভিধান-প্রণেতা ছিলেন নিচের কোন লেখক?
  1. আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. আবু ইসহাক
  3. আহসান হাবীব
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও অভিধান-প্রণেতা।

• অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান। তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।

-------------
অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক ও অভিনেতা।
• আহসান হাবীব ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। 
• কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা শিক্ষক। 

---------------------
আবু ইসহাক রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো:

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়। পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।

• বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী '(১৯৫৫)। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত। দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে। সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

• আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ' (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এ উপন্যাস রচিত হলেও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত রয়েছে। আবু ইসহাকের উপন্যাসেরই মূল উপজীব্য অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম। ফলে তাঁর উপন্যাসে এক ধরনের ব্যর্থ দ্রোহ-চেতনাও সক্রিয় হতে দেখা যায়।

• তাঁর তৃতীয় উপন্যাস 'জাল'। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

• তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটিতহারেম (১৯৬২) ও মহাপাত্র (১৯৬৩)। উপন্যাসের অনুরূপ গল্পগুলিতে ভূমিহীন মানুষ, যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ্য-পীড়িত মানুষের জীবন এবং বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষের জীবনের নানা সমস্যা স্থান পেয়েছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,২৯৭.
বাংলা ভাষায় গদ্য রীতির সূচনা হয় -
  1. প্রাচীন যুগে
  2. ষোল শতকে
  3. উনিশ শতকের শুরুতে
  4. বিশ শতকের শুরুতে
ব্যাখ্যা
• বংলা গদ্যের সূচনা ও সাহিত্যে এর বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

- তবে বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি: ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং বলা যায় বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,২৯৮.
কার হাত ধরে বাংলা গীতিকবিতার সূচনা হয়? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৯,২৯৯.
সুন্দরবনের জনবিরল পরিবেশে রচিত শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর উপন্যাস কোনটি?
  1. কাঞ্চনমালা
  2. সমুদ্র বাসর
  3. জায়জঙ্গল
  4. কাঞ্চনগ্রাম
ব্যাখ্যা
• জায়জঙ্গল:
- সুন্দরবনের জনবিরল বনজঙ্গলঘেরা পরিবেশে  'জায়জঙ্গল' (১৯৭৩) উপন্যাস রচিত। সে দিক থেকে এটিকে আঞ্চলিক উপন্যাস বলা চলে।
- উপন্যাসের একটি চরিত্রও সুন্দরবন অঞ্চলের নয়, উপন্যাসের পটভূমিই কেবল সুন্দরবন। তবে এ অঞ্চলের বর্ণনা দিতে ঔপন্যাসিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। 
- যে মানুষগুলোর চিত্র এ উপন্যাসে আছে তারা সেটেলার; জনসংখ্যা ও দারিদ্র্যের চাপে তারা পিতৃপুরুষের নিবাসভূমি পরিত্যাগ করে সমুদ্রতীরবর্তী শ্বাপদসংকুল সুন্দরবন অঞ্চলে বাস করতে বাধ্য হয়েছে। 
- ফেরারি খুনি, জেলপলাতক আসামি, গোপন বিপ্লবী, পলাতক প্রেমিক-প্রেমিকারা একত্র হয়ে গড়ে তোলে 'জায়জঙ্গলে'র জগৎ। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়নাল শেখ, মিন্নত আলি, যুবতী সাজু, মহাজন জলিল মিয়া। 
- উপন্যাসের ঘটনা উপস্থাপনায় বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে লেখক মৎস্যশিকার, নানা বিশ্বাস-অবিশ্বাস, জাদু-টোনা ইত্যাদির মাধ্যমে আঞ্চলিকতা প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন।

• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৩০০.
'চির সুখীজন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিতবেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।'- এই পঙ্কতির রচয়িতা কে?
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) মদনমোহন তর্কালংকার
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার (১৮৩৪-১৯০৭): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ - ‘সদ্ভাবশতক’ প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
বাল্যকালে তাঁর ছদ্মনাম ছিল - রামচন্দ্র দাস, সংক্ষেপে রাম। তাই পরিণত বয়সে তিনি ‘রামের ইতিবৃত্ত’ (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।
মহাভারতের ‘বাসব-নহুষ-সংবাদ’ অবলম্বনে রচিত তাঁর অপর গ্রন্থ হলো - ‘মোহভোগ’ (১৮৭১)। ‘কৈবল্যতত্ত্ব’ (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক ‘রাবণবধ’।
তাঁর কবিতার অনেক পঙ্ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ, যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন, ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে; কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।’ ইত্যাদি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]