ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ মূলত কয়েকটি প্রাচীন কবিতা বা গানের একটি সংকলন।
- চর্যাপদ সান্ধ্য ভাষায় রচিত।
- সান্ধ্য ভাষা বলতে সেই ভাষাকে বোঝানো হয় যার কোনো স্থির বা নির্দিষ্ট রূপ নেই এবং যার অর্থ একাধিক স্তরে ব্যাখ্যা করা যায়—ঠিক আলো ও আঁধারের সংমিশ্রণের মতো। এই দ্ব্যর্থবোধক ও রহস্যময় বৈশিষ্ট্যের কারণেই পণ্ডিতরা একে ‘সন্ধ্যা’ বা ‘সান্ধ্য’ ভাষা নামে অভিহিত করেছেন।
- চর্যাপদ বিভিন্ন নামে পরিচিত;
- যেমন- “আশ্চর্য চর্যাচয়”, “চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়”, “চর্য্যাশ্চর্য্যবিনিশ্চয়” এবং “চর্যাগীতিকোষ”
- চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা মূলত ৫০টি।
- তবে সুকুমার সেন মনে করেন চর্যাপদের মোট পদসংখ্যা ৫১টি।
- বর্তমানে উদ্ধারকৃত পদসংখ্যা সাড়ে ছেচল্লিশ (৪৬.৫)।
- এবং অনুদ্ধারকৃত বা হারানো পদ সংখ্যা সাড়ে তিন (৩.৫)।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের কবি সংখ্যা ২৩ জন।
- আর ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে পদকর্তার সংখ্যা ২৪ জন।
- চর্যাপদের মধ্যে ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদ সম্পূর্ণরূপে পাওয়া যায়নি।
- এর মধ্যে ২৪ নম্বর পদের রচয়িতা কাহ্নপা।
- ২৫ নম্বর পদের রচয়িতা তন্ত্রীপা।
- এবং ৪৮ নম্বর পদের রচয়িতা কুক্কুরীপা।
- এছাড়া ভুসুকুপা রচিত ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত অবস্থায় পাওয়া গেছে—এই পদের মোট ৬টি পঙক্তি উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অবশিষ্ট ৪টি পঙক্তি আর পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে বিভিন্ন কবি কতগুলি পদ রচনা করেছেন তা নিম্নরূপ:
- সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা, মোট ১৩টি (পাওয়া গেছে ১২টি)।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচনা করেছেন ভুসুকুপা, মোট ৮টি।
- তৃতীয় স্থানে সরহপা ৪টি পদ রচনা করেছেন।
- লুইপা, শান্তিপা, এবং শবরপা প্রতিজন ২টি করে পদ রচনা করেছেন।
- অন্য বাকি পদকর্তারা প্রত্যেকে ১টি করে পদ রচনা করেছেন।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।