বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮৮ / ২১১ · ৮,৭০১৮,৮০০ / ২১,১৩২

৮,৭০১.
জসীমউদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সুচয়নী
  2. সঞ্চিতা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. ঝরা পালক
ব্যাখ্যা
- কবি জসীমউদ্‌দীন-এর নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ- সুচয়নী। গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

- কাজী নজরুলের নির্বাচিত কবিতা সংকলনের নাম - সঞ্চিতা। কাব্যটি কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- রবীন্দ্রনাথের নির্বাচিত কবিতা সংকলনের নাম সঞ্চয়িতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭০২.
'শূন্যপুরাণ' কত বঙ্গাব্দে প্রকাশ করা হয়?
  1. ১৩১৫ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩২৫ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১৭ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ- গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ নামে শূন্যপুরাণের একটি অংশ আছে।
- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসন্মুখ অবস্থায় হিন্দু ধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শূন্যপুরাণ শিল্পকর্ম হিসেবে নয়, ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই ঐতিহাসিক গুরুত্ব পেয়ে আসছে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুঁথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৭০৩.
কোরেশী মাগন ঠাকুর কোন কাব্য রচনার জন্য পৃষ্ঠপোষকতা করেন?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. ইউসুফ জুলেখা 
  3. পদ্মাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা

• কোরেশী মাগন ঠাকুর:
- কোরেশী মাগন ঠাকুর (১৭শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি। তিনি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- বাংলা, ফারসি, বর্মি ও সংস্কৃত ভাষায় মাগন ঠাকুরের অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল। সঙ্গীত ও অলঙ্কারশাস্ত্রেও তাঁর দখল ছিল।

- রোসাঙ্গের কবি আলাওল তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে পদ্মাবতী (১৬৫২) ও সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৫৯) কাব্য রচনা করেন। আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা করেছিলেন। মাগন ঠাকুর গুণীর সমাদর করতেন এবং তিনি নিজেও ছিলেন নানা গুণের অধিকারী।
- তাঁর রচিত চন্দ্রাবতী কাব্যের একটিমাত্র পুথি পাওয়া গেছে। এটি লোককাহিনী আশ্রিত রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য। বর্ণনাধর্মী এ কাব্যে সাহিত্যিক গুণের অভাব থাকলেও মধ্যযুগের কাব্য হিসেবে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটির রচয়িতা- 'দৌলত কাজী'।
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর। তাঁর রচিত একটি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান 'ইউসুফ জুলেখা'। গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭০৪.
‘আলালের ঘরের দুলাল’ -এর লেখক কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
আলালের ঘরের দুলাল:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। 

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- তিনি ২৩শে নভেম্বর, ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:  
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষিপাঠ,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- আধ্যাত্মিকা,
- গীতাঙ্কুর,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং 
- বামাতোষিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৭০৫.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন কে?
  1. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• ড. বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রপথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,৭০৬.
পাদ্রি লঙ সাহেব 'ডিফেন্স অব বেঙ্গল' নামে কাকে অভিহিত করেন?
  1. রামরাম বসু
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। পাদ্রি লঙ সাহেব তাকে ডিফেন্স অব বেঙ্গল নামে অভিহিত করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭০৭.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৮২৬ সালে
  3. ১৮১৯ সালে
  4. ১৮১৭ সালে
ব্যাখ্যা
‘দিগদর্শন’ পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এর প্রকাশনায় প্রকাশিত বেঙ্গল গেজেট হলো কোন বাঙালির উদ্যোগে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
- ঢাকা প্রকাশ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭০৮.
আধুনিক যুগে সৃষ্ট সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা কোনটি 
  1. প্রহসন 
  2. প্রবন্ধ 
  3. ভ্রমণকাহিনি 
  4. গীতিকবিতা
ব্যাখ্যা

• গীতিকবিতা:
- গীতিকবিতার মধ্যে কবিহৃদয়ের বিশেষ কোন অনুভূতি, সঙ্গীতমাধুর্য সহকারে রূপায়িত হয়ে ওঠে। কবির ব্যক্তিগত অনুভূতি এর উপজীব্য, সঙ্গীতের ব্যঞ্জনা নিয়ে তার প্রকাশ।

- যে শ্রেণির কবিতায় কবির হৃদয়ের অনুভূতি বা একান্ত ব্যক্তিগত বাসনাকামনা ও আনন্দবেদনা প্রাণের অন্তস্তল থেকে আবেগকম্পিত সুরে অখণ্ড ভাবমূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে, তাকেই গীতিকবিতা বলে অভিহিত করা হয়।

- আন্তরিকতাপূর্ণ অনুভূতি, অবয়বের স্বল্পতা, সঙ্গীতমাধুর্য ও গতিস্বাচ্ছন্দ্য-এই কয়টি বৈশিষ্ট্য গীতিকবিতার মধ্যে বিদ্যমান।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, বক্তার ভাবোচ্ছ্বাসের পরিস্ফুটন মাত্র যার উদ্দেশ্য সেই কাব্যই গীতিকাব্য। হৃদয়ের অনুভূতি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী নয় বলে তা অবলম্বনে লেখা গীতিকবিতাও দীর্ঘ আকারের হয় না।

- গীতিকবিতায় ভাববস্তু সংক্ষিপ্ত বা বিস্তৃত উভয় রূপই হতে পারে। আর একারণেই গীতিকবিতার আকার তথা দৈর্ঘ্য সম্পর্কে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ অসম্ভব।

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বৈষ্ণব পদাবলিতে গীতিকবিতার বৈশিষ্ট্য প্রথম বারের মত ফুটে উঠেছিল। তবে কবিতা প্রাচীন ও মধ্য যুগের সৃষ্টি হলেও গীতিকবিতা আধুনিক যুগের সৃষ্টি।

- আধুনিক যুগে সৃষ্ট এই গীতি কবিতাই এই যুগের সবচেয়ে সমৃদ্ধ ধারা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ।

৮,৭০৯.
“হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের প্রধান নেতৃস্থানীয় চরিত্র কে?
  1. গনি মোল্লা 
  2.  মন্তু
  3. মকবুল বুড়ো
  4. টুনি 
ব্যাখ্যা

“হাজার বছর ধরে” উপন্যাসে গ্রামীণ সমাজের প্রধান নেতৃস্থানীয় চরিত্র- মকবুল বুড়ো।
------------
“হাজার বছর ধরে” উপন্যাস নিয়ে কিছু আলোচনা: 
- জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে’ (১৯৬৪) উপন্যাসের পটভূমি বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজ। 
- গ্রাম্য জীবন, নদীমাতৃক নিভৃত পরিবেশ, দারিদ্র্য, শোষণ এবং রক্ষণশীল মানসিকতা এখানে ফুটে তোলা হয়েছে। 
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- মকবুল বুড়ো, টুনি, মন্তু, গনি মোল্লা, আম্বিয়া, ফকীরের মা, শিকদার বাড়ির লোকজন। 

- টুনি উপন্যাসের প্রধান চরিত্র, যার জীবন দুই পুরুষের সঙ্গে জড়িত—বৃদ্ধ স্বামী মকবুল বুড়ো এবং প্রেমিক মন্তু। তার জীবন সুখ-দুঃখ, প্রেম ও সামাজিক বাধার উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া আম্বিয়া, গনি মোল্লা, ফকীরের মা, শিকদার বাড়ির লোকজন প্রভৃতি চরিত্র গ্রামীণ জীবনের সম্পর্ক, শোষণ এবং সামাজিক দ্বন্দ্বের ছবি তুলে ধরে। সহজভাবে বলতে গেলে, উপন্যাসটি দেখায় কিভাবে গ্রামের মানুষ কুসংস্কার, দারিদ্র্য, শোষণ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতার মধ্য দিয়ে জীবন কাটায় এবং স্বাধীনতা ও প্রেমের জন্য সংগ্রাম করে।
--------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান (১৯৩৫–১৯৭২) ছিলেন বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- তিনি ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন।
- জহির রায়হান বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
- তাঁর লেখনী ও নির্মাণ বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সংগ্রামকে নতুন মাত্রায় তুলে ধরেছে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি নিখোঁজ হন। 
- তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর উপন্যাসসমূহ:
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে (যার জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার পান),
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- তুলাসিন্ধু সেতুবন্ধ,
- অপূর্ব, ব্যারিকেড,
- ক্ষয়িষ্ণু,
- ডায়মন্ড নেকলেস ও
- আমি কেন সিরাজী।

• তাঁর গল্পগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- সোনার হরিণ,
- মহামৃত্যু,
- জন্মান্তর,
- ম্যাসাকার এবং
- মানুষের ঘরবাড়ি।

• তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- কাঁচের দেয়াল,
- জীবন থেকে নেয়া,
- বেহুলা,
- সঙ্গম।

 উৎস:
"হাজার বছর ধরে” উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৭১০.
'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা?
  1. অভিযান
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. হরতাল
ব্যাখ্যা
• 'দুর্মর' সুকান্ত ভট্টাচার্যের পূর্বাভাস কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা।
- 'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থের শেষ কবিতা 'দুর্মর' তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা।

দুর্মর,
- সুকান্ত ভট্টাচার্য

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলে রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙনের বেগ আসে।

হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার দান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ।

“হয় দান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।

সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন দান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলাদেশের প্রাণ।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁকে কিশোরকবি বলা হয়।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- মিঠেকড়া,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; সুকান্ত সমগ্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য; পূর্বাভাস, সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৮,৭১১.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. কল্লোল
  4. মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ‘নবশক্তি’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭১২.
শাহনামা কোথাকার মহাকাব্য?
  1. ক) গ্রিস
  2. খ) রোম
  3. গ) পারস্য
  4. ঘ) রাজস্থান
ব্যাখ্যা

‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা।

৮,৭১৩.
'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন 
  2. আনিসুজ্জামান 
  3. আবুল হাসান 
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক 
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের সংস্কৃতি':
- আনিসুজ্জামান রচিত  'আমাদের সংস্কৃতি'  বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উৎসব (২০০৮) গ্রন্থ থেকে সংকলিত। 
​ ​- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। 
​ ​- আদিকাল হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিতে যোগ হয়েছে বিশ্বের নানা জাতির সংস্কৃতি। 
​ ​- এতে আমাদের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে, বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। 
 ​- ​তা সত্ত্বেও বাংলার প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের সংস্কৃতিকে দান করেছে স্বাতন্ত্র্য। 
 ​- ​আর তা হলো আমাদের লোকসংস্কৃতি। 
​ ​- আমাদের সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা, মাটির ভাস্কর্য, কারুশিল্প, বয়ন শিল্পের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। 
​ ​- মূলত 'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে বাঙালি ও বাংলা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। 
​ ​- এ প্রবন্ধ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, মানবিকতাবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী ভাবনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

​​• আনিসুজ্জামান: 
- ​আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ​তাঁর ঢাকার প্রিয়নাথ হাইস্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 
- ​জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
-​ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
-​অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
​- ​সাহিত্য ও গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ প্রচুর সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২০ সালের ১৪ই মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন

-​ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: 
- ​মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র, 
​- স্বরূপের সন্ধানে, 
​- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
​- পুরোনো বাংলা গদ্য ইত্যাদি। 

​উৎস: সাহিত্যপাঠ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২৫ সংস্করণ।

৮,৭১৪.
'কাঁদো নদী কাঁদো' কার রচিত উপন্যাস?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭১৫.
”ধন্য তার বসুন্ধরা যার”- উক্তিটি কোন গ্রন্থের?
  1. অনল প্রবাহ
  2. রুদ্রমঙ্গল
  3. কালের পুতুল
  4. চাষার দুক্ষু
ব্যাখ্যা

”ধন্য তার বসুন্ধরা যার”- উক্তিটি বেগম রোকেয়া রচিত “চাষার দুক্ষু” প্রবন্ধ থেকে নেয়া হয়েছে |

বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

তার বিখ্যাত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- মতিচুর( তার প্রথম রচিত গ্রন্থ)
- অবরোধবাসিনী
- চাষার দুক্ষু

উপন্যাস:
- পদ্মরাগ
- সুলতানার স্বপ্ন

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৮,৭১৬.
'রত্নপরীক্ষা' গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. রামমোহন রায়
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ শিকদার
ব্যাখ্যা
• 'রত্নপরীক্ষা':
- 'রত্নপরীক্ষা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচিত রচনাগুলোর মধ্যে একটি। এটি বেনামি লেখা ঈশ্বরচন্দ্রের পঞ্চম রচনা।
- তিনি 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য' ছদ্মনামে গ্রন্তটি রচনা করে।
- এতে ভাষা নির্মাণে বিদ্যাসাগর সাধুরীতিকে কথ্যরীতিতে নিয়ে এসেছেন।

• বিদ্যাসাগর 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে নিম্নোক্ত পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্নপরীক্ষা।

--------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার ‘সংস্কৃত কলেজ’ থেকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- তাকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’ (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- প্রভাবতী সম্ভাষণ বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭১৭.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয় কোনটি?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. আনোয়ার 
  4. চন্দ্রবিন্দু 
ব্যাখ্যা

চন্দ্রবিন্দু কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতা নয়। 
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ একটি গ্রন্থ।

অগ্নিবীণা:
- ‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
- এই গ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেছেন।

অগ্নিবীণা কাব্যের কবিতার তালিকা:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

৮,৭১৮.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক ছোটগল্প ‘একুশের গল্প’-এর মুখ্য চরিত্র কোনটি?
  1. তপু
  2. আজাদ
  3. রফিক
  4. তুহিন
ব্যাখ্যা

• জহির রায়হান:
- বাংলাদেশে জহির রায়হান এক বহুমুখী বিরলতম প্রতিভা। 
- তিনি বাংলাদেশের এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব; যিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে সংগ্রামের চেতনতর সত্তা হিসেবে ছোটগল্প, উপন্যাস এবং চলচ্চিত্রে সদর্থকভাবে ব্যবহার করেছেন।
- জহির রায়হান একুশে ফেব্রুয়ারিকে কেন্দ্র করে বেশকিছু গল্প রচনা করেছেন।
- এসব গল্পে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের তথ্যকে যেমন তুলে ধরেছেন; তেমনই ফুটিয়ে তুলেছেন একুশের সম্ভাবনা এবং আবেগকে।
- জহির রায়হানের বিখ্যাত একটি গল্পের নাম ‘একুশের গল্প’।
- একটি প্রতীকাশ্রিত গল্প। 
- গল্পটির মুখ্য চরিত্র তপু।
- অন্যন্য চরিত্র: রেণু ও রাহাত।
- গল্পের বিন্যাসে পরিলক্ষিত হয়: চার বছর আগে হাইকোর্টের মোড়ে মাথায় গুলি অবস্থায় পুলিশ যে তপুকে নিয়ে গিয়েছিল চার বছর পরে একটি মাথার কঙ্কালের খুলিতে ছিদ্র দেখে তপুর বন্ধু রাহাত চিনতে পারে তপুকে।
- কঙ্কালের মধ্যে তপুকে নতুন করে পাওয়ার কামনা, অনুভব করার আনন্দবোধ এবং তারই পাশাপাশি হৃদয়ের যন্ত্রণার রক্তক্ষরণ অনন্যতা পেয়েছে।

» জহির রায়হানের অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- সোনার হরিণ
- সময়ের প্রয়োজনে
- একটি জিজ্ঞাসা
- হারানো বলয়
- বাঁধ

তথ্যসূত্র: পত্রিকা প্রতিবেদন । (লিংক)

৮,৭১৯.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. অপর অরণ্যে
  4. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
ব্যাখ্যা
• রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় - উর্বশী ও আর্টেমিস।
- এটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২০.
'কেতকাপুরাণ' মঙ্গল কাব্য ধারার সাহিত্য?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) চণ্ডীমঙ্গল
  3. গ) শিবমঙ্গল
  4. ঘ) মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
'কেতকাপুরাণ' মনসামঙ্গল কাব্য ধারার সাহিত্য। 

- 'মনসামঙ্গলের' একমাত্র পশ্চিম বঙ্গীয় কবির নাম কেতকা দাস ক্ষেমানন্দ। 
- তার কাব্যের নাম 'কেতকাপুরাণ'। 
- ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল সর্বপ্রথম মুদ্রণ সৌভাগ্য লাভ করে ১৮৪৪ সালে। 
- এজন্য উনিশ শতকের বাঙালি শিক্ষিত সমাজে কবি সবচয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কোন বইটি নিষিদ্ধ হয়?
  1. বিষের বাঁশী
  2. ভাঙার গান
  3. যুগবাণী
  4. প্রলয় শিখা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম 'যুগবাণী'।

যুগবাণী:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম প্রবন্ধের বই 'যুগবাণী'।
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রবন্ধ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয় ১৯২২ সালে।
- প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক বইটি নিষিদ্ধ হয়।
- ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়।
- প্রবন্ধ গুলোতে স্বদেশি চিন্তা চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭২২.
'ছায়াময়ী' কার রচিত কাব্য?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) জসীম উদদীন
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মহাকবি। তাঁর রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, ছায়াময়ী, আশাকানন, বীরবাহু, চিত্তবিকাশ, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২৩.
নিচের কোনটি আধুনিক যুগের সৃষ্টি নয়?
  1. সাময়িকপত্র
  2. নাট্যসাহিত্য
  3. কাব্যসাহিত্য
  4. প্রবন্ধসাহিত্য
ব্যাখ্যা
- ১৮০১ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা হয়।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা, বাংলা বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং আধুনিক চিন্তার কারণে বাংলা সাহিত্যে আধুনিক ধারা তরান্বিত হয়। 
- কাব্য, ছড়া, পালা প্রাচীন ও মধ্যযুগের সৃষ্টি।
- কিন্তু নাটক, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ, গদ্য, সাময়িকপত্র আধুনিক যুগের সৃষ্টি।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২৪.
‘অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা’ বাংলা সাহিত্যে কোন যুগের বৈশিষ্ট্য?
  1. অন্ধকার যুগ
  2. মধ্য যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
- আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্য হয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে।সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা।
- স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২৫.
শওকত ওসমান কত সালে একুশে পদক লাভ করেন?
  1. ১৯৬২
  2. ১৯৬৬
  3. ১৯৭৩
  4. ১৯৮৩
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

তাঁর রচিত গল্প:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৮,৭২৬.
'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' - বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিষ্ণু দে
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।' - বিখ্যাত উক্তিটি জীবনানন্দ দাশের।
- এটি তাঁর 'কবিতার কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের নাম প্রবন্ধ 'কবিতার কথা'য় রয়েছে।
- প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়।

জীবনানন্দ দাশ:   
- তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত।
- তাঁর জন্ম ১৮৯৯ সালে, মৃত্যু ১৯৫৪ সালে। 
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি:
• ঝরাপালক (প্রথম),
• ধূসর পাণ্ডুলিপি,
• বনলতা সেন,
• মহাপৃথিবী,
• সাতটি তারার তিমির,
• রূপসী বাংলা, 
• বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭২৭.
"এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।" - পদটি কার রচনা?
  1. জ্ঞানদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• বাংলা ভাষায় একটি পঙ্‌ক্তি না লিখেও তিনি বাঙালিদের কাছে নমস্য।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
•  তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
 
তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-

এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।
 
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭২৮.
'আলমগড়ের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. ঘ) শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
'আলমগড়ের উপকথা' উপন্যাসের রচয়িতা- শামসুদ্দিন আবুল কালাম। তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস- দুই মহল, কাঞ্চনমালা, কাশবনের কন্যা, জয়মঙ্গল, সমুদ্রবাসর, নবান্ন ও কাঞ্চনগ্রাম ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৭২৯.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি রচনা সম্পন্ন করেছিলেন -
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কাজী আনোয়ারুল কাদির
  4. কাজী আনোয়ারুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি 'মোসলেম ভারত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের এই বিখ্যাত উপন্যাসটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যুর পর অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদির এই উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন। তিনি গ্রন্থটি সম্পন্ন করেন।
- বাঙালিই মুসলমানদের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা এই উপন্যাসে ফুটে উঠেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৩০.
‘সাহিত্য বিশারদ’ কার উপাধি?
  1. নজিবর রহমান
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শেখ ফজলল করিম
  4. মালাধর বসু
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শেখ ফজলল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি - সাহিত্য রত্ন। 
'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান 

উল্লেখ্য, 
আবদুল করিমেও ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. শওকত ওসমান
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৩২.
"নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. বিদ্রোহী 
  2. ধূমকেতু
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়াপারের তরণী
ব্যাখ্যা

• "নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'খেয়াপারের তরণী' কবিতার অংশ।
--------------------------

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

•'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 - কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।

খেয়াপারের তরণী- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম।

যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।

অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।
কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা,
- আগমণী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া; 'অগ্নিবীণা' কাব্য, কাজী নজরুল ইসলাম।

৮,৭৩৩.
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. রূপজান 
  2. এরফান মাতব্বর
  3. আরশেদ মোল্লা
  4. ফজল
ব্যাখ্যা

'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমির 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল 'মধুর মাটি'।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- 'ফজল' এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- এরফান মাতব্বর,
- আরশেদ মোল্লা,
- জঙ্গুরুল্লা,
- জরিনা,
- রূপজান ইত্যাদি।

আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

আবু ইসহাক রচিত রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৩৪.
চর্যার ২৩নং পদটি কার রচনা?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- ভুসুকুপা রচিত চর্যাপদের ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• শবরপা রচিত পদ- ২৮ ও ৫০।
• কুক্কুরীপা রচিত পদ- ২, ২০ ও ৪৮নং (৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি)।
• কাহ্নপা রচিত পদগুলো হলো - ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৩৫.
“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন সাহিত্যিক ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করেছেন?  
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যজিৎ রায় 
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

“সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
-------------------------------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো:
• ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, 
• ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং
• জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
-‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৩৬.
'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতু' গ্রন্থটির রচয়িতা - আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩৭.
কবি ও সমাজসেবক নবাব ফয়জুন্নেসা কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. যশোর
  3. ঢাকা
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন। মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে। 
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়। উল্লেখ্য যে, নবাব ফয়জুন্নেসা এমন এক সময়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা করেন যখন অভিজাত মুসলমানদের মধ্যে এই ভাষা সাধারণত ব্যবহৃত হতো না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৩৮.
মধ্যযুগের 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যের উপাস্য ‘চণ্ডী' কার স্ত্রী?
  1. বিষ্ণু
  2. ব্রহ্মা
  3. শিব
  4. ইন্দ্র
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী। তিনি ষোল শতকের কবি।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দুটি কাহিনী রয়েছে।
যথা -
- কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনী
- ধনপতি - লহনা - খুলনার কাহিনী।

- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
-------------------
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের 'চণ্ডী' দেবতা শিবের স্ত্রী ছিলেন।
- কাব্যে চণ্ডীর ইচ্ছে হয়েছিলো পৃথিবীতে তাঁর পুজো প্রচারের। সেজন্য তাঁর স্বামী শিবকে সে অনুরোধ করে শিবের একনিষ্ট উপাসক "নীলাম্বর"কে পৃথিবীতে পাঠাতে। কিন্তু বিনা অপরাধে তাকে পাঠাতে শিব রাজি হয় নি।
- ষড়যন্ত্র করে 'চণ্ডী' নীলাম্বরকে পৃথিবীতে পাঠায় এবং পরবর্তীতে সে কালকেতু নামে 'ধর্মকেতু' নামর এক ব্যাধের ঘরে জন্ম নেয়। স্বর্গে তাঁর স্ত্রী 'ছায়া' পৃথিবীতে জন্ম নেয় 'ফুল্লুরা' নামে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৩৯.
জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতার কবি’ হিসেবে অভিহিত করেন কে ?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

» নির্জনতার কবি:
-  জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। 
- জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন।
- আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন।
- স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। 
- এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। 

» জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৪০.
বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৬০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা

যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৭৪১.
কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনিমূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাশিয়ার চিঠি
  2. চলে মুসাফির
  3. দেশে বিদেশে
  4. বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীনের ভ্রমণ কাহিনিমূলক গ্রন্থ : 'চলে মুসাফির'। 

কবি জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই।
- তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
- পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:  
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশী ,
- হাসু। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক - মধুমালা। 
-------------------
অন্যদিকে, 
• 'রাশিয়ার চিঠি' - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণ কাহিনি। 
• 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।
• 'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৪২.
‘একাত্তরের ঢাকা’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জাহানারা ইমাম
  3. রাজিয়া খানম
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

» একাত্তরের ঢাকা:
- সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ঘটনা শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে।
- একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। বিভিন্ন শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন।

• সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিএ অনার্স এবং ১৯৬৮ সালে এমএ পাস করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালে বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক হন।
-  ২০ বছরেরও বেশি সময় ধান শালিকের দেশ পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
 
» তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বদেশ পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে।
 
» তার রচিত গল্প:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও পত্রিকা প্রতিবেদন।

৮,৭৪৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জুরী
  2. লিপিমালা
  3. অল্প হইল
  4. বোধোদয়
  5. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

'বোধোদয়' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ।

অন্যদিকে,
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' গ্রন্থের রচয়িতা - মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু। 
• অতি অল্প হইল রচনা করেছেন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭৪৪.
'কড়চা' কী?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) জয়নুল আবেদীন-এর শিল্পকর্ম
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জীবনীগ্রন্থ
  4. ঘ) শ্রীচৈতন্য দেব-এর জীবনীগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) জীবন ও লীলাবিষয়ক এ কাব্যধারা মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিকাশে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- চৈতন্যচরিতকাব্য প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়

- বাংলা চরিতকাব্যগুলির মধ্যে বৃন্দাবন দাসের 'চৈতন্যভাগবত' (১৫৪৬-১৫৫০) প্রথম রচনা। এটি চৈতন্যমঙ্গল নামেও পরিচিত।
- গোবিন্দদাসের কড়চা এ সময়ের অপর একখানি চৈতন্যচরিত জীবনী কাব্য।

- এরপর চৈতন্যমঙ্গল নামে চৈতন্যের জীবনীকাব্য রচনা করেন জয়ানন্দ ও লোচনদাস।
- লোচনদাসের কাব্যে (১৫৬০-৬৬/৭৫) চৈতন্যের মাতৃমমতামন্ডিত বাল্যলীলা এবং অতিরঞ্জনমুক্ত মানবীয় রূপটি প্রধানভাবে চিত্রিত হয়েছে। এখানেই এর বিশেষত্ব।

- চৈতন্যজীবনীগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্যচরিতামৃত' (১৬১৫)।
- এতে চৈতন্যের শেষজীবনের কথা বর্ণিত হয়েছে। গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের এটি আকর গ্রন্থ।

- চৈতন্যজীবনী অবলম্বনে রচিত আরেকখানি চরিতকাব্য হলো চূড়ামণিদাসের গৌরাঙ্গবিজয়
- গ্রন্থটি তিনখন্ডে সম্পূর্ণ বলে জানা গেলেও কেবল প্রথম খন্ডের অংশবিশেষ পাওয়া গেছে এবং এটি খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতকে রচিত বলে মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৪৫.
নিচের কোন লেখকের জন্ম সাল একই নয়?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন, বন্দে আলী মিয়া, বিজন ভট্টাচার্য তিন জনই ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণু দে ১৯০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
৮,৭৪৬.
'কাব্য সুধাকর' কার উপাধি?
  1. কায়কোবাদ 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. নজিবর রহমান
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭৪৭.
নিচের কোনটি বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা?
  1. নয়া সড়ক
  2. শনিবারের চিঠি
  3. কল্লোল
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক সাহিত্যের বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 
- সাত বছর এ পত্রিকাটি টিকে ছিল।

‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।

‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৮,৭৪৮.
"হরতাল" সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. গদ্যগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গীতিনাটিকা
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘হরতাল’ গদ্যগ্রন্থ:
‘হরতাল’ কবি সুকান্তের একটি গদ্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। কবি সুকান্ত ব্যক্তি জীবনে যেমন সমাজতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন তেমন চিন্তার ছাপ রয়েছে তার রচনায়। তার প্রায় সব লেখাতেই সাধারণ মানুষের কথা, দুঃখ-কষ্টের চিত্র উঠে এসেছে। আলোচিত হয়েছে নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ, বিপ্লবের ভাষা ও বিপ্লবীর কণ্ঠস্বর। ‘হরতাল’ গ্রন্থটি তেমনই একটি চিন্তার ফসল। গ্রন্থটিতে তার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত- অপ্রকাশিত গদ্য সংকলিত হয়েছে।

যেখানে,
- দেবতাদের ভয়,
- রাখাল ছেলে,
- লেজের কাহিনী, 
- ষাঁড়-গাধা-ছাগলের কথা, 
- হরতাল শিরোনামের গদ্য স্থান পেয়েছে।

উৎস: ‘হরতাল’ গদ্যগ্রন্থ সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৮,৭৪৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী অবলম্বনে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত নাটক-
  1. ক) বিদ্যাসাগর
  2. খ) স্মরণে ঈশ্বরচন্দ্র
  3. গ) শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র
  4. ঘ) বিদ্যাসাগচরিত
ব্যাখ্যা
•  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনী নিয়ে রচিত বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের নাটকের নাম হচ্ছে - বিদ্যাসাগর।

 বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
• লেখক হিসেবে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় হাজারেরও বেশি কবিতা, ৫৮৬টি ছোট গল্প, ৬০টি উপন্যাস, ৫টি নাটক, জীবনী ছাড়াও অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তার রচনাবলীসমগ্র ২২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে ।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'বনফুল'।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় নাটক রচনাতে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রহসন, একাঙ্কিকা, চিত্রনাট্য, নাটিকা ছাড়াও তিনি বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনচরিত অবলম্বন করে নাটক রচনা করেন, যাতে পাওয়া যায় তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার অপর একটি ভিন্ন রূপের পরিচয়।

• উনিশ শতকের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে লেখা তাঁর নাটক, শ্রীমধুসূদন (১৯৪০) ও বিদ্যাসাগর (১৯৪১)।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এ দুটি নাটকের মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এঁদের ব্যাপকভাবে ও যথার্থরূপে পরিচিত করিয়ে দেন।
• বাংলা সাহিত্যে বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়কে বলা যেতে পারে এ ধারার নাটক রচনার পথিকৃৎ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প,
- বিন্দুবিসর্গ ,
- অদৃশ্যলোকে ,
- তন্বী,
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী,
- বহুবর্ণ ,
- বনফুলের নতুন গল্প প্রভৃতি।

উৎস: সাহিত্যপাঠ একাদশ দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫০.
'মহামহোপাধ্যায়' কার উপাধি?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়। 

----------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশপের 'ফেবলস' অবলম্বনে কোন গ্রন্থটি রচনা করেন?
  1. নীতিবোধ
  2. বোধোদয়
  3. কথামালা
  4. ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১):
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে ১৮৩৯ সালে তিনি বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
-  ২৯ ডিসেম্বর ১৮৪১ সালে মাত্র একুশ বছর বয়সে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পণ্ডিতের পদে আবৃত হন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- বর্ণপরিচয় (১ম ও ২য় ভাগ ; ১৮৫৫)
- ঋজুপাঠ (১ম, ২য় ও ৩য় ভাগ ; ১৮৫১-৫২)
- সংস্কৃত ব্যাকরণের উপক্রমণিকা (১৮৫১)
- ব্যাকরণ কৌমুদী (১৮৫৩)

তাঁর উল্লেখযোগ্য অনুবাদ গ্রন্থ
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অফ এররস অবলম্বনে রচিত)
- হিন্দি থেকে বাংলাবেতাল পঞ্চবিংশতি (লল্লুলাল কৃত বেতাল পচ্চীসী অবলম্বনে)
- সংস্কৃত থেকে বাংলাশকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ অবলম্বনে)
- সীতার বনবাস (ভবভূতির উত্তররামচরিতম্‌ নাটকের আখ্যানবস্তু)
- মহাভারতের উপক্রমণিকা (ব্যাসদেব মূল মহাভারত-এর উপক্রমণিকা অংশ অবলম্বনে)
- বামনাখ্যানম্ (মধুসূদন তর্কপঞ্চানন রচিত ১১৭টি শ্লোকের অনুবাদ)
- নীতিবোধ (রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের মরাল ক্লাস বুক অবলম্বনে রচিত)
- বোধোদয় (চেম্বার্সের রুডিমেন্টস অফ নলেজ অবলম্বনে রচিত)
- কথামালা (ঈশপস ফেবলস অবলম্বনে রচিত)

তাঁর উল্লেখযোগ্য মৌলিক গ্রন্থ
- সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য বিষয়ক প্রস্তাব
- বিধবা বিবাহ চলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব
- বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার
- অতি অল্প হইল এবং ”আবার অতি অল্প হইল দুখানা পুস্তক ( বিধবা বিবাহ বিরোধী পণ্ডিতদের প্রতিবাদের উত্তরে 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে।)
- রত্নপরীক্ষা 
- প্রভাবতী সম্ভাষণ
- জীবন-চরিত
- শব্দমঞ্জরী 
- নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৫২.
নিচের কোনটি জহির রায়হানের উপন্যাস নয়?
  1. ক) আর কত দিন
  2. খ) কয়েকটি মৃত্যু
  3. গ) কাঁচের দেয়াল
  4. ঘ) তৃষ্ণা
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস সমূহঃ
- শেষ বিকেলের মেয়ে (১৯৬০); প্রথম উপন্যাস। (রোমান্টিক প্রেমের উপাখ্যান)
- হাজার বছর ধরে (১৯৬৪); আবহমান বাংলার গ্রামীণ জীবনের পটভূমিতে রচিত আখ্যান। 
- আরেক ফাল্গুন (১৯৬৯); বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কথামালা।
- বরফ গলা নদী (১৯৬৯); অর্থনৈতিক কারণে বিপর্যস্ত ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্ব গাথা।
- আর কতদিন (১৯৭০); অবরুদ্ধ ও পদদলিত মানবাত্নার আন্তর্জাতিক রূপ এবং সংগ্রাম ও স্বপ্নের আত্মকথা।
- কয়েকটি মৃত্যু
- একুশে ফেব্রুয়ারি (১৯৭০)
- তৃষ্ণা (১৯৬২)

অন্যদিকে, কাচের দেয়াল, সঙ্গম, বেহুলা, বাহানা, কখনো আসেনি - এগুলা তার নির্মিত উল্লেখযোগ্য চলচিত্র।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৭৫৩.
'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধটি লিখেছেন-
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• জীবন ও বৃক্ষ:
- ‘জীবন ও বৃক্ষ’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত ‘সংস্কৃতি - কথা’ শীর্ষক গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- এ প্রবন্ধে তিনি জীবনের সার্থকতা বৃক্ষের মাঝে খুজেছেন।

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৫৪.
‘ইয়ংবেঙ্গল’ তরুণ ছাত্রগোষ্ঠীদের নিয়ে কে প্রহসন লিখেছেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
ডিরোজিও প্রভাবিত ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ছাত্রগোষ্ঠীকে নিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ‘একেই কি বলে সভ্যতা’ নামে একটি প্রহসন লিখেছেন।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,৭৫৫.
কোনটি 'নষ্টনীড়' গল্পের চরিত্র?
  1. অমল
  2. রতন
  3. চন্দরা
  4. মৃন্ময়ী
ব্যাখ্যা
'নষ্টনীড়' ছোটগল্প: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের চরিত্র 'চারুলতা'। এর অন্য দুটি চরিত্র - অমল, ভূপতি।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত। এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- এই ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'পোস্টমাস্টার গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, 'নষ্টনীড়' গল্প ও রবীন্দ্র রচনা সমগ্র।
৮,৭৫৬.
‘আগুনের মেয়ে’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আলাউদ্দিন আলা আজাদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ রচিত উপন্যাসঃ ডাহুকী, কবি ও কোলাহল, উপমহাদেশ, আগুনের মেয়ে, কাবিলের বোন, চেহারায় চতুরঙ্গ।
[সূত্রঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা]
৮,৭৫৭.
'কোন এক মাকে' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. খ) আ-ন-ম গাজীউল হক
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) মাহবুব-উল-আলম
ব্যাখ্যা
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা, 
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি? (সংক্ষিপ্ত) 

তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে (কুমড়াে ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা)।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কখনাে রং কখনাে সুর (১৯৭০),
- কমলের চোখ (১৯৭৪),
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৯৩) ইত্যাদি৷

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ছোটগল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. নষ্টনীড়
  3. রবিবার
  4. দান-প্রতিদান
ব্যাখ্যা
• "ক্ষুধিত পাষাণ” ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "ক্ষুধিত পাষাণ” গল্পটিতে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়।
- "ক্ষুধিত পাষাণ” গল্পটির শব্দ সংখ্যা প্রায় ৩৭৫০ (সাঁইত্রিশ শ পঞ্চাশ)। গল্পটি প্রকাশিত হয় "সাধনা"-র শ্রাবণ সংখ্যায় ১৩০২-এ।
- এর কাহিনি আরব্য উপন্যাসের মতো। গল্পটি 'ফ্যান্টাসি' ও রোমান্সে ভরপুর।
- বস্তু ও বিষয়ের দিক দিয়ে রবীন্দ্র গল্পমালায় এর জুড়ি মেলা ভার। 

---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮টি গল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। এগুলো হলো:
১. দুরাশা,
২. রীতিমত নভেল,
৩. দলিয়া,
৪. কাবুলিওয়ালা,
৫. সমস্যাপূরণ,
৬. ক্ষুধিত পাষাণ,
৭. মুকুট,
৮. মুসলমানীর গল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে,
গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে-
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে, শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

• অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: "ক্ষুধিত পাষাণ” ছোটগল্প; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৫৯.
'দুঃখবাদের কবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) যতীন্দ্রনাথ বাগচী
  2. খ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) মোজাম্মেল হক
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ বাগচী দুঃখবাদের কবি হিসেবে পরিচিত।
মোজাম্মেল হক শান্তিপুরের কবি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী স্বপ্নাতুর কবি এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায় পদাতিকের কবি হিসেবে পরিচিত।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৮,৭৬০.
'আবার আসিব ফিরে ধানসঁড়িটির তীরে'- চরণটি কোন কবির কবিতায় পাওয়া যায়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটির রচয়িতা: 'জীবনানন্দ দাশ'।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।

জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৬১.
‘মেঘনাদবধ কাব্য’ রচিত হয়েছে কতটি সর্গে?
  1. সাত
  2. আট
  3. নয়
  4. দশ
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য’ মোট ৯টি সর্গে রচিত হয়েছে। 

'মেঘনাদবধ' কাব্য:

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'। মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,৭৬২.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কোন উপাধি দ্বারা ভূষিত ছিলেন?
  1. পণ্ডিত
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. মহামহোপাধ্যায়
  4. সহজিয়া বৌদ্ধধর্মের জনক
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি ছিল- 'মহামহোপাধ্যায়'। 
-----------------------------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১) ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত পণ্ডিত, সংরক্ষণবিদ এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তিনি ৬ ডিসেম্বর ১৮৫৩ সালে খুলনার কুমিরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শাস্ত্রী বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কারের জন্য সর্বাধিক পরিচিত।
- সাহিত্যচর্চায় অবদানের জন্য তাঁকে মহামহোপাধ্যায় উপাধি প্রদান করা হয়।
- এছাড়াও তিনি বাংলা ও সংস্কৃত সাহিত্যের বহু লুপ্তপ্রায় পুঁথি উদ্ধার, পাঠোদ্ধার ও সম্পাদনার মাধ্যমে ভাষা ও সাহিত্যে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন।

• তাঁর প্রধান অবদান:
• ১৯০৭ সালে নেপাল থেকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন লিখিত নিদর্শন চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। 
- ১৯১৬ সালে এটি 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় রচিত বৌদ্ধ গান ও দোঁহা' নামে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বেণের মেয়ে,
- কাঞ্চনমালা।

• তাঁর বিখ্যাত রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রামচরিতম, 
- ভারত মহিলা,
- তৈল।

• তাঁর গবেষণামূলক গ্রন্থ:
- বৌদ্ধধর্ম,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ,
- আমাদের ইতিহাস।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৬৩.
হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আগুনপাখি
  2. জীবন ঘষে আগুন
  3. সাবিত্রী উপাখ্যান
  4. শিউলি
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক রচিত 'জীবন ঘষে আগুন' একটি গল্পগ্রন্থ। গল্পগ্রন্থটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

• হাসান আজিজুল হক:
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৬৪.
‘একুশের গল্প’ — গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত আলী
  2. জহির রায়হান
  3. শওকত ওসমান
  4. হাসান হাফিজুর রহমান  
ব্যাখ্যা

• ‘একুশের গল্প’ (জহির রায়হান):
• জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম — ‘একুশের গল্প’। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

• গল্পের প্রধান চরিত্র — তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

এ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু সংলাপ:
• “এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।”
• “ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।”
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।”

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।

৮,৭৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্য ছন্দে রচিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. মানসী 
  2. শেষলেখা
  3. পুনশ্চ
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা

'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থ:
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক।
- গদ্য কবিতার অসংকোচ প্রতিষ্ঠা হলো এই কাব্যে।

- এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ছেলেটা,
- শেষ চিঠি,
- ক্যামেলিয়া,
- সাধারণ মেয়ে,
- বাঁশি,
- খ্যাতি ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭৬৬.
'মহুয়া' একটি-
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. পালা
  3. উপন্যাস
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' কাব্যগ্রন্থ:
- 'মহুয়া' (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সবকটি কবিতাই প্রেমবিষয়ক।
- মহুয়ার কবিতাগুলিকে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের নারীবন্দনা। নারীর মাধুর্য ও লাবণ্য এই কাব্যগ্রন্থে বহুভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের প্রেমের কবিতার মধ্যে একদিকে যেমন তরু অন্যদিকে তেমনি সংরাগ প্রকাশিত।
 
- 'মহুয়া' নামের কবিতায় সেই সংরাগের পরিচয় আছে এভাবে:
'তরল যৌবনচিহ্ন মজ্জায় রাখিয়াছিলি ভরে।
কানে কানে কহি তোরে।
বধূরে যেদিন পাবো ডাকিব মহুয়া নাম ধরে।' 
 
অন্যদিকে,
• 'মহুয়া’ পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
 
- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।
 
মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
"কোথায় পাব কলসী কইন্যা কোথায় পাব দড়ী।।
তুমি হও গহীন গাঙ্গ আমি ডুব্যা মরি।।"
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৬৭.
'উদাসীন পথিকের মনের কথা' কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. প্রহসন 
  2. প্রবন্ধ 
  3. আত্মজীবনীনির্ভর উপন্যাস 
  4. ভ্রমণকাহিনি 
ব্যাখ্যা

• 'উদাসীন পথিকের মনের কথা':
- 'উদাসীন পথিক' এই ছদ্মনামে মীর মশাররফ হোসেন ব্যক্তিগত জীবনের পটভূমিতে স্বীয় পারিবারিক ইতিহাস ও সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার চিত্র তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।

- “উদাসীন পথিকের মনের কথা” (১৮৯০) কে প্রকৃতপক্ষে উপন্যাস বা আত্মজীবনীমূলক রচনা এর কোনোটাই বলা যায় না। বরং বলতে হয়, গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবননির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনার মিশেল উপন্যাসসুলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা।

- এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত বর্ণনা এবং নিজের মাতা-পিতাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধার সঙ্গে চিত্রিত হতে দেখা যায়। উদাসীন পথিকের মনের কথায় হিন্দু-মুসলমানের যে মিলন-কামনা আছে, তার গভীর তাৎপর্য স্বীকার করতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৮,৭৬৮.
ফররুখ আহমদ রচিত শিশুতোষ রচনা কোনটি?
  1. হাবেদা মরুর কাহিনী
  2. ছড়ার আসর
  3. হাতেমতায়ী
  4. ছড়ার হরফ
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪):
- জন্ম মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- কিশোর বয়সে কবিতা রচনার মধ্য দিয়ে ফররুখ আহমদ সাহিত্যাঙ্গনে প্রবেশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ। পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।
- ব্যঙ্গ্যকবিতা ও সনেট রচনায় তাঁর কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি (১৯৪৪),
- সিরাজাম মুনিরা (১৯৫২),
- নৌফেল ও হাতেম (১৯৬১),
- মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩),
- হাতেমতায়ী (১৯৬৬),
- হাবেদা মরুর কাহিনী (১৯৮১) ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭৬৯.
'অকপটচন্দ্র ভাস্কর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো:
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৭০.
কাজী নজরুল ইসলামের গ্রন্থসমূহের মধ্যে নিচরে কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ছায়ানট
  2. চন্দ্রবিন্দু
  3. ঝিলিমিলি
  4. ফণি-মনসা
ব্যাখ্যা
ঝিলিমিলি:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
• ঝিলিমিলি
• সেতুবন্ধ
• শিল্পী।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

 তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- অগ্নিবীণা (কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ)।
- সঞ্চিতা,
- মরুভাস্কর,
- চিত্তনামা,
- ছায়ানট,
- বিষের বাশী,
- সন্ধ্যা,
- দোলন চাপা,
-  প্রলয়শিখা,
- ফণি-মনসা,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙ্গার গান,
- ঝিঙে ফুল,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সাম্যবাদী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৭১.
‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত কোন ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. কাব্যগ্রন্থ 
  4. গান 
ব্যাখ্যা

‘বাংলাদেশ' অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি কবিতা। 

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে ১৯২৬–১৯৩৩ সাল পর্যন্ত তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী এবং তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৭২.
'গুপী গাইন বাঘা বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. সত্যজিৎ রায়
  2. সুকুমার রায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'গুপি-গাইন, বাঘা-বাইন' চরিত্রের স্রষ্টা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

• 'গুপী গাইন বাঘা বাইন':

'গুপী গাইন বাঘা বাইন' বাংলা সাহিত্যের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ গল্প, যা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী রচনা করেন। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় তাঁর সম্পাদিত শিশু-সাহিত্য পত্রিকা 'সন্দেশ'-এ ১৯১৫ সালে। এই গল্পটি পরবর্তীতে সুকুমার রায়ের পুত্র সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র 'গুপী গাইন বাঘা বাইন' (১৯৬৯) এর মাধ্যমে আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে।

------------------------
• উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী:
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, বাংলা মুদ্রণশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তরুণ বয়সেই উপেন্দ্রকিশোরের সাহিত্যচর্চায় হাতেখড়ি ঘটে এবং তৎকালীন শিশুকিশোর পত্রিকা সখা, বালক, সাথী, সখা ও সাথী, মুকুল ইত্যাদির সঙ্গে যুক্ত ছিলে
- ১৮৮৩ সালে ছাত্রাবস্থায় সখা পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়। ন।
- উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা সন্দেশ প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।

তাঁর উলেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছোটদের রামায়ণ,
- ছোটদের মহাভারত,
- সেকালের কথা,
- মহাভারতের গল্প,
- ছোট্ট রামায়ণ,
- টুনটুনির বই এবং
- গুপী গাইন বাঘা বাইন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৭৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল ট্রাজেডি নাটক কোনটি?
  1. কীর্তিবিলাস
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. রিজিয়া
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্তের রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী’ বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি হিসেবে স্বীকৃত।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের একজন প্রধান কবি ও নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অবদানের কারণে তাকে “বাংলা আধুনিক কবিতার জনক” ও “মহাকবি” বলা হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
• প্রথম ট্র্যাজেডি নাটক: কৃষ্ণকুমারী।
• প্রথম সফল নাটক: শর্মিষ্ঠা।
• প্রসিদ্ধ নাটকসমূহ: রিজিয়া, শুভ্রদা, পদ্মাবতী, ও মায়াকানন।
--------------------------- 
কৃষ্ণকুমারী’ নাটক সম্পর্কিত তথ্য:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক হলো মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ‘কৃষ্ণকুমারী'।
- এটি ১৮৬০ সালে রচিত এবং ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- নাটকের কাহিনি মূলত উইলিয়াম টডের রাজস্থান গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

- নাটকে প্রধান চরিত্রগুলো হল-
- কৃষ্ণকুমারী, মদনিকা, বিলাসবতী, ভীমসিংহ, জগৎসিংহ, মানসিংহ ও ধনদাস। 

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘কৃষ্ণকুমারী’ নাটকটি নায়িকা কৃষ্ণকুমারী-এর জীবনকাহিনী ঘিরে আবর্তিত।
- কাহিনীর কেন্দ্রে আছে কৃষ্ণকুমারীর জীবন ও বিবাহসংক্রান্ত জটিলতা, যেখানে ধনদাসের হীন আচরণ, জগৎসিংহের ব্যাকুলতা এবং মদনিকার মধ্যস্থতা নাটকের উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
- রাজপুত্র জগৎসিংহ কৃষ্ণকুমারীকে বিবাহের জন্য আকৃষ্ট হন, আর ধনদাস টাকার লোভে নানা চক্রান্ত চালায়।
- কৃষ্ণকুমারীর ব্যক্তিগত সম্মান, নায়কের আকাঙ্ক্ষা ও নায়িকার চরম সিদ্ধান্ত আর  রাজ্যশক্তি ও প্রেমের দ্বন্দ্বই নাটকের মূল ট্রাজেডি।
----------------------
অন্যদিকে, 
- কীর্তিবিলাস – প্রথম ট্রাজেডি হলেও সফল নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৮,৭৭৪.
‘চাচা কাহিনী’র লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৭৫.
'অতীত দিনের স্মৃতি' কার রচিত আত্মজীবনী?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) : সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তার রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি (১৯৩৮),
- ত্রিস্রোতা (১৯৩৯),
- খরতরঙ্গ (১৯৫৩),
- দৃষ্টিকোণ (১৯৬১),
- নতুন চীন নতুন দেশ (১৯৬৫),
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর (১৯৬৫),
- ইলিয়ড (১৯৬৭),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (১৯৬৮),
- অতীত দিনের স্মৃতি (১৯৬৮)ইত্যাদি
এগুলোর মধ্যে "অতীত দিনের স্মৃতি" গ্রন্থটি তার আত্মজীবনীমূলক।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

৮,৭৭৬.
''ডাক এল- সভ্যতার ডাক নিষ্ঠুর ক্ষুদার্ত পরোয়ানা আমাকে চিহ্নিত ক'রে গেল। আমার একক পৃথিবী ভেসে গেল জনতার প্রবল জোয়ারে।'' -- কার লেখা কবিতা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  5. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
কবিতাংশটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের “ঘুম নেই” কাব্যগ্রন্থের অংশ।
কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল -  ১৯৪১ সাল।
৮,৭৭৭.
কায়কোবাদ রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. ক) মেঘনাদবধ কাব্য
  2. খ) মহাশ্মশান
  3. গ) অশ্রুমালা
  4. ঘ) শিবমন্দির
ব্যাখ্যা
'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
এ যুদ্ধ ছিল ভারতের উদীয়মান হিন্দুশক্তি মারাঠাদের সঙ্গে মুসলিমশক্তি তথা আহমদ শাহ আবদালীর নেতৃত্বে রোহিলা-অধিপতি নজীবউদ্দৌলার শক্তিপরীক্ষা;
যুদ্ধে মুসলমানদের জয় হলেও কবির দৃষ্টিতে তা ছিল উভয়েরই শক্তিক্ষয় ও ধ্বংস; এজন্যই তিনি একে ‘মহাশ্মশান’ বলেছেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮,৭৭৮.
কোনটি শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. হরিণের হাড়
  3. নিজ বাসভূমে
  4. নিয়ত মন্তাজ
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। তিনি একজন নাগরিক কবি ছিলেন।
তিনি পুরান ঢাকার মাহুতটুলী নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী গ্রামে।
পেশায় তিনি সাংবাদিক ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে লিখতেন।
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- এক ধরনের অহংকার,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস-
- অক্টোপাস,
- অদ্ভূত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
-এলো সে অবেলায় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,৭৭৯.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
  1. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  2. স্বরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অক্ষরবৃত্ত
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ'- এর ছন্দ সম্পর্কিত শব্দ:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণে ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পদাকুল ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, আর প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে হলেও মাত্রাবৃত্তের  বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৮০.
টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।- এটি চর্যার কততম পদ?
  1. ১নং
  2. ৩৩নং
  3. ২৪নং
  4. ৩৫নং
ব্যাখ্যা
• ঢেণ্ডণপা:
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।

ঢেণ্ডণপা রচিত ৩৩নং পদটি-
‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।’

- অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৮১.
’ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক’ প্রবন্ধগ্রন্থের লেখক কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. গুলবদন বেগম
  3. ড, মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম :
- তিনি খুলনায় ১১ ই জানুয়ারি ১৯২১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ।
- ২০০২ সালের ১৮ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গবেষণা: 
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,৭৮২.
কৃষ্ণকুমারী নাটকের চরিত্র কোনটি ?
  1. ক) ধনদাস
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) জগৎসিংহ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম স্বার্থক ট্রাজেডি নাটক 'কৃষ্ণকুমারী।'
- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনী উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ নামক গ্রন্থ থেকে গৃহীত।
এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- মদনিকা 
- ভীম সিংহ 
- ধনদাস
- কৃষ্ণকুমারী 
- জগৎসিংহ 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৮,৭৮৩.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা 'পূর্বাশা' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) দীনেশরঞ্জন দাস
  4. ঘ) সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

'পূর্বাশা' পত্রিকা
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

তাছাড়া, 
- বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত পত্রিকা কবিতা।
- 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৮৪.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের রচিত বই -
  1. ক) হিতোপদেশ
  2. খ) বেদান্তসার
  3. গ) প্রবোধচন্দ্রিকা
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বই লিখেছিলেন মৃত্যঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
তার বইগুলো হচ্ছে হিতোপদেশ, বত্রিশ সিংহাসন, রাজাবলি, প্রবোধচন্দ্রিকা, বেদান্তচন্দ্রিকা। বাংলা গদ্যকে সামনের দিকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে গেছিলেন বিদ্যালঙ্কার।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৮,৭৮৫.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. আহমদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,৭৮৬.
লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা কে? 
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

• লৌকিক কাহিনির প্রথম রচয়িতা - দৌলত কাজী।

• দৌলত কাজী:
- লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা দৌলত কাজী।
- দৌলত কাজী মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন কবি।
- তিনি ষোল শতকের অন্যতম কবি।
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।
- এটি তার রচিত শ্রেষ্ঠকাব্যগ্রন্থ যা তিনখণ্ডে রচিত।
- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে।
- এই কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৮৭.
রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে
  3. চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  4. কোনো খেদ নেই
ব্যাখ্যা

• রফিক আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- উর্বশী ও আর্টেমিস।
- এটি বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থ।

---------------------
• রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
-তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- পরিকীর্ণ পানশালা আমার স্বদেশ,
- করো অশ্রুপাত,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৮৮.
'শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৮৯.
বাঙালি নারী জাগরণের পথিকৃৎ-
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) ফজিলতুন্নেসা
  4. ঘ) নুরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর
- Sultana’s Dream
- পদ্মরাগ
- অবরোধবাসিনী ।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৯০.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) কবিতার কথা
  2. খ) নিরুপম যাত্রা
  3. গ) রূপসী বাংলা
  4. ঘ) মৃত্যুর আগে
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাসসমূহ- মাল্যবান, সুতীর্থ, নিরুপম যাত্রা, বিভা, জলপাইহাটি ইত্যাদি। কবিতার কথা তাঁর রচিত প্রবন্ধ, রূপসী বাংলা- কাব্যগ্রন্থ এবং মৃত্যুর আগে- কবিতা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৭৯১.
'সর্বজয়া' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন সাহিত্যকর্মের চরিত্র?
  1. আম আঁটির ভেঁপু
  2. কিন্নরদল
  3. মৌরীফুল
  4. মেঘমল্লার
ব্যাখ্যা
‘আম আঁটির ভেঁপু' গল্প:
- ‘আম আঁটির ভেঁপু' শীর্ষক গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পথের পাঁচালী' উপন্যাস থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- গ্রামীণ জীবনে প্রকৃতিঘনিষ্ঠ দুই ভাই-বোনের আনন্দিত জীবনের আখ্যান নিয়ে গল্পটি রচিত হয়েছে।
- গল্পের চরিত্রগুলো হলো: অপু, দুর্গা, সর্বজয়া

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৯২.
'কাঞ্চনমালা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চনমালা' ও 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা, প্রাচীন বাংলার গৌরব, মেঘদূত ব্যাখ্যা, ভারত মহিলা, বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৮,৭৯৩.
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থটির নাম কী?
  1. আশ্চর্যবৃত্তান্ত
  2. বর্ণপরিচয়
  3. মথী রচিত মঙ্গল সমাচার
  4. রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র
ব্যাখ্যা
মথী রচিত মঙ্গল সমাচার:
শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ - মথী রচিত মঙ্গল সমাচার।
- এটিই বাংলা ভাষায় মুদ্রিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ। মুদ্রিত হয় ১৮০০ সালের আগস্ট মাসে।

শ্রীরামপুর মিশন প্রেস:
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে। ১৮০০ সালের ১০ই জানুয়ারি উইলিয়াম কেরি এবং ভ্রাতৃবৃন্দ এই মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- সেই বছরই মার্চ মাসে উইলিয়াম কেরি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস নামে ছাপাখানাটি খোলেন।
- বাংলা গদ্য চর্চায় যে সকল প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে খ্রিষ্টান মিশনারীগণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘শ্রীরামপুর মিশন' সেগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- বাংলায় বাইবেল আনুবাদ করে প্রদেশে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন উইলিয়াম কেরি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৯৪.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে কোন নাটকটি প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দুর্গাদাশ
  2. খ) বীরঙ্গনা
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্র, (১৮৩০-১৮৭৩)  নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দন্ডিত হন।  বঙ্কিমচন্দ্র নীলদর্পণকে আঙ্কল টমস কেবিন-এর সঙ্গে তুলনা করেন। নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক। ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম  ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,৭৯৫.
‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত আলী
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
⇒ সেলিনা হোসেন:
• বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। 

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
- কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,৭৯৬.
“হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” কত সালে প্রকাশ পায়?
  1. ক) ১৯১৬
  2. খ) ১৯২০
  3. গ) ১৯০৮
  4. ঘ) ১৯০৭
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১):
- প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি পান।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথম গ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি এটি “হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা” নামে সম্পাদনা করেন।
- যা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯১৬ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) সালে প্রকাশিত হয়।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,৭৯৭.
কোনটি হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) সাবিত্রী উপাখ্যান
  2. খ) করতলে ছিন্নমাথা
  3. গ) নামহীন গোত্রহীন
  4. ঘ) যখন উদ্যত সঙ্গীন
ব্যাখ্যা
'নামহীন গোত্রহীন' হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ- আত্মজা ও একটি করবী গাছ, পাতালে হাসপাতালে, সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য, জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
আগুনপাখি, সাবিত্রী উপাখ্যান, শামুক, শিউলি, বৃত্তায়ন তাঁর রচিত উপন্যাস।
যখন উদ্যত সঙ্গীন হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৮,৭৯৮.
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কামিনী রায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে” কবিতার রচয়িতা কুসুমকুমারী দাশ।

• ‘আদর্শ ছেলে’:
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে?
মুখে হাসি বুকে বল, তেজে ভরা মন,
‘মানুষ হইতে হবে’ – এই যার পণ"৷

- কুসুমকুমারী দাশের ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতায় কবি এমন এক ছেলের চিত্র এঁকেছেন, যার মুখে থাকবে আনন্দময় হাসি এবং বুকে অমিত শক্তি ও জোশ। 
- এই ছেলে কেবল কথায় নয়, কাজেও বড় হবে এবং সব পরিস্থিতিতে “মানুষ” হওয়ার প্রতিজ্ঞা রাখবে।
- বিপদ বা চ্যালেঞ্জ এলে সে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসবে। 
- কবির দৃষ্টিতে আদর্শ ছেলে হলো সেই যে দেশ ও সমাজের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করবে।
- যে হবে কর্মনিষ্ঠ, সাহসী এবং প্রকৃত দেশপ্রেমিক।
------------------------------------------------------------
কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট মহিলা কবি।
- তিনি ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং ১৯৪৮ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র জীবনানন্দ দাশ বাংলা কাব্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে স্বীকৃত।
- কুসুমকুমারী দেবী মূলত শিশুতোষ ও নীতিপ্রধান কবিতার জন্য সুপরিচিত।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা “আদর্শ ছেলে”।
- কবিতাটির প্রথম পঙক্তি “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে”—বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং বহু পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• কুসুমকুমারী দাশ শিশুদের জন্য লিখেছিলেন “কবিতা মুকুল” নামে একটি পুস্তিকা, যা তাঁর উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ সাহিত্যকর্ম হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যরচনার মধ্যে রয়েছে: “পৌরাণিক আখ্যায়িকা”।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৮,৭৯৯.
’লুই ভণই গুরু পুছিঅ জান।’- এখানে ’ভণই’ শব্দের অর্থ কী?
  1. বলে
  2. ভাবে 
  3. চায়
  4. দেখে
ব্যাখ্যা

• 'লুই ভণই গুরু পূছিঅ জাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা চর্যার কবি লুইপা। 
- পঙ্‌ক্তি আধুনিক গদ্যে রূপান্তর- লুই বলেন, গুরুকে জিজ্ঞাসা করে জানো।

 পঙ্‌ক্তিটিতে ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ হলো-  
'ভণই' অর্থ- বলে। প্রকাশ করে। ভণতি  > ভণই।
• 'পূছিঅ' অর্থ- জিজ্ঞাসা করে। পুচ্ছতিঃ > পুচ্ছিঅ  > পূছিঅ।
• 'জাণ' অর্থ- জানো। জানথ > জানহ > জাণঅ > জাণ।




-------------------
•  লুইপা:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। তিনি চর্যার ১ ও ২৯নং পদের রচয়িতা।

- অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন। যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে।
তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত ১৮ চর্যাগীতি পাঠ লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

- এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা। লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

- চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- তিব্বতি অনুবাদের মাধ্যমে লুইয়ের বৌদ্ধ দর্শন বিষয়ক তিনটি গ্রন্থের নাম পাওয়া যায়। এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'।

চর্যার ১নং পদ-
কাআ তরুবার পঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পইঠো কাল।।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক।

৮,৮০০.
'ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ' -গানটির রচয়িতা -
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. আব্বাস উদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• “ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ” মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় ও আনন্দের উৎসব ঈদ-উল-ফিতর নিয়ে বাঙ্গালি কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কালজয়ী গান
• কবির শিষ্য শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদ-এর অনুরোধে ১৯৩১ সালে কবি নজরুল এই গান রচনা ও সুরারোপ করেন।

গানটির সংক্ষিপ্তরূপ:
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ,
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত, মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ,
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।

--------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।