বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৮১ / ২১১ · ৮,০০১৮,১০০ / ২১,১৩২

৮,০০১.
'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
শিশুতোষগ্রন্থ 'কুঁচবরণ কন্যা' এর রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:

- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।
- ১৯৭৯ সালের ১৭ জুন রাজশাহীতে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- ডাইনী বউ,
- রূপকথা,
- মৃগপরী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০০২.
'বাসমতীর উপাখ্যান' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

• 'বাসমতীর উপাখ্যানা' উপন্যাস:
- 'বাসমতীর উপাখ্যান' জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে চলেছে- অধ্যাপক প্রভাস সেনের ছেলে ও মেয়ের বাড়ি না ফেরার এক ঘটনার মধ্যে দিয়ে। নাম দপ্তরী ও কুড়ুনি এর।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এই আখ্যানের শেষ দিকে এক মারাত্মক ঝড়জলের রাতে সন্ধের পরেও প্রভাস সেনের ছেলে দপ্তরী ও মেয়ে কুভুনি বাড়ি না ফেরাতে এক ভয়ঙ্কর সমবেত উদ্বেগের পরিস্থিতি আঁকা হয়। অথচ উপন্যাস শেষ হয়ে গেলেও কোথাও পাওয়া গেল না, দপ্তরী ও কুডুনি ফিরল কি ফিরল না। এমনই আনমনা, অপ্রত্যাশিত জীবনানন্দের এই কুহেলি-ভুবন।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- প্রভাস সেন,
- দপ্তরী,
- কুড়ুনি।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা 'বর্ষ-আবাহন' ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য ছোটগল্প, কয়েকটি উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খণ্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।

৮,০০৩.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটি প্রথমে কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
ব্যাখ্যা
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৮,০০৪.
‘যোগাযোগ’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।
৮,০০৫.
“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।” - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. শামসুর রহমান
  3. ফররুখ আহমেদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।”
 - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা আল মাহমুদ।
- এটি লেখকের নোলক কবিতার অন্তর্গত।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  ও বাংলাপিডিয়া।

৮,০০৬.
নাটকগুলোর মধ্যে কোনটি ভিন্ন?
  1. বর্ণচোরা
  2. কী চাহ শঙ্খচিল
  3. বকুলপুরের স্বাধীনতা
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা

• 'ওরা কদম আলী' নাটক:
- প্রখ্যাত নাট্যকার মামুনুর রশীদ রচিত প্রথম নাটক 'ওরা কদম আলী'। ১৯৭৮ সালে নাটকটি প্রকাশিত হয়।
- এখানে শোষিত-নিপীড়িত, বঞ্চিত মানুষের সংগ্রামের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যাক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে।
- "কদম আলী" এই নাটকের প্রধান চরিত্র।

 ------------------
মামুনুর রশীদ রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
------------------
মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়।

৮,০০৭.
বিষ্ণু দে কোন বিখ্যাত ইংরেজি কবির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন?
  1. উইলিয়াম ওয়ার্ডসওয়ার্থ
  2. টি.এস. এলিয়ট
  3. জন কিটস
  4. রবার্ট ফ্রস্ট
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০০৮.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত গবেষণা গ্রন্থ?
  1. আধুনিকযুগের বাঙলা নাট্য
  2. অন্ধকারযুগের বাঙলা নাট্য
  3. প্রাচীনযুগের বাঙলা নাট্য
  4. মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত গবেষণা গ্রন্থ - মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য
- এটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গবেষণা গ্রন্থ:
- মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০০৯.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন -
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. মনোএল দ্যা আসসুম্পসাও
  4. নাথানিয়েল ব্রাসি হ্যালহেড
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০১০.
‘খান সাহেব’ ও ‘খান বাহাদুর’ উপাধি কার_
  1. ক) কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলি
  4. ঘ) ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক একজন  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। 
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর  খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি কবিতা,  উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক  শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
-  ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
-  তিনি  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
- অত্যন্ত যোগ্যতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পালন করায় সরকার তাঁকে ১৯১৯ সালে ‘খান সাহেব’ এবং ১৯২৬ সালে ‘খান বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৮,০১১.
'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. সমর সেন
  2. শহীদ কাদরী
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা

• 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' শহীদ কাদরী রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে 'তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা' একটি নাম কবিতাসহ মোট ৩১টি কাবিতা রয়েছে।

• শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার।
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা।
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০১২.
রবীন্দ্রনাথের 'ছিন্নপত্র' গ্রন্থে কাকে লেখা পত্রসমূহ সংকলিত হয়েছে?
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) ইন্দিরা দেবী
  3. গ) কাদম্বরী দেবী
  4. ঘ) ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
ব্যাখ্যা
'ছিন্নপত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা চিঠির সংকলন। 
- ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখা চিঠিসমূহ এখানে স্থান পেয়েছে। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১২ সালে। 
- ইন্দিরা দেবীর সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাহিত্যিক প্রমথ চৌধুরীর বিবাহ হয়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।  
- বৌদী কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যায় তিনি রচনা করেন 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ। 
- আর্জেন্টাইন মহিলাকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তিনি তাঁর 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০১৩.
'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 'বিজ্ঞানরহস্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০১৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ‘পঞ্চতন্ত্র’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ 
  4. গল্প
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র’ (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন। 
- এইসব প্রবন্ধ ‘বসুমতী’ ও ‘দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে।

• 
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• 
তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,০১৫.
বাংলা টপ্পাগানের জনক কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা

রামনিধি গুপ্ত
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের স্থাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টল্লা শিক্ষাগ্রহণ করেন। 
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ হলো:
নানান দেশের নানান ভাষা
বিনে স্বদেশী ভাষা
পুরে কি আশা?
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম হচ্ছে গীতরত্ন (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০১৬.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' - কোন প্রকার গ্রন্থ?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যনাটক
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- এটি শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এই বইয়ের সব গল্প স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিকায় ১৯৭১-১৯৭২ সনে লিখিত ও প্রকাশিত।

এই গল্পগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্পগুলো হলো: 
- আলোক-অন্বেষা,
- বারুদের গন্ধ লোবানের ধোঁয়া,
- সারেঙ সুখানী,
- বার্তাবহ,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- রক্ত চিহ্ন,
- দুই ব্রিগেডিয়ার,
- ক্ষমাবতী,
- ভারতীয় গোয়েন্দা।

শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ-
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ।

৮,০১৭.
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্ররমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলি
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাত'শ দিন' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৮ সালে। 
 
 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি,  
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা, 
- ভাষা ও সাহিত্য, 
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০১৮.
সরদার জয়েন উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস-
  1. ক) নয়নঢুলি
  2. খ) খরস্রোত
  3. গ) অষ্টপ্রহর
  4. ঘ) রোদের ঢেউ
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েন উদ্‌দীন রচিত উপন্যাস- রোদের ঢেউ।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ২২শে ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ

ছোটগল্প:
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্টপ্রহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০১৯.
'রায়তের কথা' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে বীরবল ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:

- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্যগল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০২০.
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. মহাদেব সাহা
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটির লেখক- নির্মলেন্দু গুণ। 
- এটি বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে নিয়ে লেখা কবিতা।
- কবি এই ভাষণকে কবিতার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

• নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী। তাকে কবিদের কবি বলা হয়।
- তাঁর ডাকনাম হচ্ছে রতন। প্রিয়জনেরা তাকে 'রতু' বলে ডাকতেন।
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- মুঠোফোনের কাব্য,
- কামকানন ইত্যাদি।

• অনুবাদ কবিতা :
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- রাজনৈতিক কবিতা,
- কাব্যসমগ্র।

• তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- আপনদলের মানুষ,
- অন্তর্জাল।

• তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।
৮,০২১.
'হলদে পরীর দেশে' - ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ুন কবির
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশে
- যে দেশে মানুষ বড়।

জসীম উদ্‌দীন:
- ১৯০৩ সালের ১লা জানুয়ারি, ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামের মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক।
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অধিকারী।
- ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক: 
- পদ্মাপাড়।
- বেদের মেয়ে।
- পল্লীবধূ।
- মধুমালা।
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০২২.
জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বনলতা সেন
  2. মহাপৃথিবী
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রূপসী বাংলা।

• রূপসী বাংলা:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের।
- বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

উল্লেখ্য, 'বেলা অবেলা কালবেলা' (১৯৬১) কাব্যগ্রন্থটিও জীবনানন্দ দাশের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।

• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০২৩.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২১ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থ: 
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’র অন্তর্ভুক্ত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
- এই কাব্যে মোট ১৯টি কবিতা সংকলিত হয়েছে। 
- 'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। 
- 'কবর' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
----------------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।
 
• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০২৪.
'দুয়ে দুয়ে চার' কি ধরনের সাহিত্য কর্ম?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম, (১৯২১-২০০২)  শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান (১৯৭১-৭৫), বাংলা একাডেমীর অবৈতনিক মহাপরিচালক (১৯৭৪-৭৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ (১৯৭১-৭৭)-এর দায়িত্বও পালন করেন।
- দুয়ে দুয়ে চার, যে অরণ্যে আলো  নেই , রোদজাল বিকেল, সূর্যাস্তের পর  - তাঁর লেখা কয়েকটি  নাটক । 
 [উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৮,০২৫.
'কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে/ কভু আশীবিষে দংশেনি যারে'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন  খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
 - তিনি রামের ইতিবৃত্ত (১৮৬৮) নামে একটি আত্মচরিত রচনা করেন।
- কৈবল্যতত্ত্ব (১৮৮৩) তাঁর একটি দর্শনবিষয়ক গ্রন্থ।
- মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয় তাঁর নাটক রাবণবধ।

সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না
(সদ্ভাব শতক কাব্যগ্রন্থ থেকে) কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

চিরসুখী জন
ভ্রমে কি কখন,
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে ?
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে ?
যতদিন ভবে,
না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম ;
ঈষৎ হাসিবে
শুনে না শুনিবে,
বুঝে না বুঝিবে যাতনা মম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না কবিতা-কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৮,০২৬.
'কবিরঞ্জন' উপাধিটির কার?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মালধর বসু
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০২৭.
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. খ) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  3. গ) উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান
  4. ঘ) ফকির- সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাসটি 'উনসত্তরের গগণঅভ্যুত্থান' প্রেক্ষাপটে রচিত। 

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস
• ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
• এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
• ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
• উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
• কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
• এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই 
- খােয়াবনামা 

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর 
- খোয়ারি 
- দুধভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৮,০২৮.
নিম্নোক্ত শব্দগুলোর মধ্যে একটি মাইকেলি ধাতুর দৃষ্টান্ত হলো -
  1. ক) বেড়ি
  2. খ) পবিত্রি
  3. গ) ঢালি
  4. ঘ) রাঙ্গি
ব্যাখ্যা

বাংলা কবিতায় ভাষার সংস্কৃত বিশেষ্য শব্দ অনেক সময় ধাতুরুপে ব্যবহৃত হয়।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার কবিতায় ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রত্যয়যোগে ধাতু ব্যবহার করেছেন।
যেমনঃ
"মিত্রাক্ষর" কবিতায় একটি পংক্তি হচ্ছে এরকম -
'কি কাজ পবিত্রি মন্ত্রে জাহ্নবীর জলে?
কি কাজ সুগন্ধ ঢালি পারিজাত - বাসে?'
এখানে 'ঢালি' একটি মাইকেলি ধাতু।

৮,০২৯.
'খনার বচন' এর মূলভাব কী?
  1. সামাজিক মঙ্গলবোধ 
  2. শুদ্ধ জীবন-যাপন রীতি
  3. রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
  4. লৌকিক প্রণয় সঙ্গীত
ব্যাখ্যা

• খনার বচন এর মূলভাব- শুদ্ধ জীবনযাপন রীতি।

• খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- 'খনার বচন' রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি। আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০৩০.
‘রমা’ কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধসংকলন
  4. কবিতাসংকলন
ব্যাখ্যা

• 'রমা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি হৃদয়স্পর্শী বাংলা নাটক।
-----------------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রমা’ নাটকটি গ্রামীণ সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
- এতে জমিদারী প্রথার শোষণ, সাধারণ মানুষের দুর্দশা, সামাজিক কুসংস্কার এবং নারী-পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা ফুটে ওঠে।
- প্রধান চরিত্র রমা ও রমেশের প্রেম ও সংঘাতের মাধ্যমে সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, ভালোবাসার টানাপোড়েন এবং ন্যায়বিচারের প্রয়াস নাটকে তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে রমা একজন দৃঢ়চেতা নারী হিসেবে দায়িত্ববোধ এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয় থাকে, যা তৎকালীন সমাজে নারীর অবস্থানকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।
- নাটকটি একই সঙ্গে পল্লী জীবনের সরলতা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।
- এছাড়াও এতে আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের দ্বন্দ্ব এবং মানুষের ভেতরের স্বার্থপরতা ও মহত্ত্বের সংমিশ্রণও সুন্দরভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- অনিলা দেবী তাঁর সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী এবং সাহিত্য সম্রাট।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।

• তাঁর প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প ‘মন্দির’।
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প—মহেশ, অভাগীর স্বর্গ, বিলাসী।
• তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস ‘বড়দিদি’। 
• তাঁর দীর্ঘগল্প মেজদিদি।

তাঁর বিখ্যাত নাটক হচ্ছে:
- রমা;
- ষোড়শী।

• তাঁর অন্যান্য প্রসিদ্ধ উপন্যাস:
- শ্রীকান্ত, 
- দেবদাস,
- পথের দাবী,
- দেনা-পাওনা,
- শেষের পরিচয়।

উৎস :
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর ;
বাংলাপিডিয়া।

৮,০৩১.
জহির রায়হানের অসমাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. স্টপ জেনোসাইড
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. কাঁচের দেয়াল
  4. লেট দেয়ার বি লাইট
ব্যাখ্যা
• জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

---------------------
• চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণে জহির রায়হান:
•  ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়। তারপর একের পর এক তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। এসব চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।
• ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর তিনি কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

• জহির রায়হানের উর্দু চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং ১৯৬৮ সালে অপর চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,০৩২.
'ইউসুফ জুলেখা' কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীর কার পৃষ্ঠপোষকতায় রচনা করেছেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নাসিরুদ্দিন নসরত শাহ
  3. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  4. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা

'ইউসুফ জুলেখা' কাব্য শাহ মুহম্মদ সগীর গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের ষ্ঠপোষকতায় রচনা করেছেন

• ইউসুফ জুলেখা কাব্য:

- ইউসুফ জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাব্য যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
-  পনেরো শতকে শাহ মুহম্মদ সগীর এটি রচনা করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলমান কবি।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্য রচনা করেন।
- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন।
- যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।

৮,০৩৩.
সাহিত্যের কোন বিশেষ শাখাটি জীবনের কোন বিশেষ মুহুর্তের রূপায়ণ? 
  1. ক) ভ্রমণ কাহিনী
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তুর দিক থেকে জীবনের একটা খণ্ডাংশ মাত্র ছোটগল্পে রূপায়িত হয়। 
- মানবের প্রবাহমান জীবনের শত শত বৈচিত্র্যময় মুহূর্তের কোনো একটি মাত্র রূপ ছোটগল্পের উপজীব্য। 
- কোন একটি চরিত্রের বিশেষ একটি দিক অবলম্বনে ছোটগল্পের বক্তব্যের প্রকাশ ঘটে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সোনার তরী' 'বর্ষাযাপন' নামক কবিতায় ছোটগল্প সম্পর্কে মনোভাব প্রকাশ করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ।
৮,০৩৪.
‘বিচিত চিন্তা’ কী জাতীয় রচনা?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ: 
- একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।
- তাঁর বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য (দুখন্ড ১৯৭৮, ১৯৮৩) মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস গ্রন্থের মর্যাদা লাভ করেছে। এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা,
- বাঙালী ও বাঙলা সাহিত্য, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া। 
৮,০৩৫.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. মানিক দত্ত
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। শুধু মঙ্গলকাব্যেরই শ্রেষ্ঠ কবি নন, মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম ষোড়শ শতকের কবি।
- তিনি বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে ১৫৪০ খ্রিষ্টাব্দের জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে মারা যান।
- তাঁর রচিত চণ্ডীমঙ্গলের নাম 'শ্রী শ্রী চণ্ডীমঙ্গল'। তিনি দুঃখ বর্ণনার কবি হিসেবে পরিচিত। তার কবিকৃতির জন্য জমিদার রঘুনাথ রায় 'কবি কঙ্কন' উপাধি প্রদান করেন।

অন্যদিকে, 
• চণ্ডীমঙ্গলের আদি কবি: মানিক দত্ত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি। তিনি চতুর্দশ শতকের কবি।
• বিজয়গুপ্ত তিনি বরিশালের কবি। বিজয়গুপ্তের কাব্যের নাম পদ্মপুরাণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৩৬.
সুফিয়া কামালের প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. বসন্তলিপি
  2. বাসন্তী
  3. ভিখারিণী
  4. সৈনিক বধূ
ব্যাখ্যা
সুফিয়া কামাল:
- তিনি ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী। 
- সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
-  সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘বাসন্তী’ প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম ‘ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন’-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে ‘মহিলা সংগ্রাম পরিষদ’ (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৩৭.
চর্যাপদের ২৩নং খণ্ডিত পদটি কার রচনা?
  1. কাহ্নপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৮,০৩৮.
'তমুদ্দিন মজলিস' এর মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন -
  1. কামরুদ্দীন আহমদ
  2. আবুল কালাম
  3. শাহেদ আলী
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৮,০৩৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্তৃক শেক্সপিয়রের 'কমেডি অব এররস' নাটকের বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. শকুন্তলা
  2. বেতালপঞ্চবিংশতি
  3. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা
• ভ্রান্তিবিলাস:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর যখন "ভ্রান্তিবিলাস" (১৮৬৯) নাম দিয়ে শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস নাটকের (Comedy of Errors) অনুবাদ করেছেন, তখন তাকে বাঙালি পরিবেশের উপযুক্ত করে রচনা করেছেন। যদি তাঁর রচিত ভ্রান্তিবিলাস গল্প ছিল, নাটক নয়। তাঁর ভাষাভঙ্গি, সূক্ষ্ম হাস্যরস এবং শব্দের মারপ্যাঁচে এই গ্রন্থকে অনুবাদ নয়, বরং মৌলিক গ্রন্থ বলে মনে হয়। তাঁর গদ্যে তিনি অনুপ্রাসসহ সঙ্গীতময় এবং বিষয়ের উপযোগী শব্দ ব্যবহার করেছেন। শ্বাসযতি ও অর্থযতির সমন্বয় ঘটানোর ফলে তাঁর গদ্যে এমন সৌন্দর্য এসেছে যা তাঁর পূর্ববতী লেখকরা আবিষ্কার করতে পারেননি।

অন্যদিকে, 
--------------
• তাঁর প্রথম সাহিত্যগ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতিতেই (হিন্দি বৈতালপচ্চিসি এর বঙ্গানুবাদ) বিদ্যাসাগর প্রমাণ দিয়েছেন, তিনি কেবল বেতালের গল্পগুলিকেই নতুন করে বলেছেন, অনুবাদ করেননি। গল্পগুলি বলতে গিয়ে তিনি তাদের সংস্কার এবং পরিবর্তন করেছেন এবং মূল বেতালের স্থূল রুচি ত্যাগ করে তাদের আধুনিক পাঠকদের কাছে পরিবেশনের উপযোগী করে তুলেছেন।

• একই কথা বলা যায় কালিদাসের রচনা অবলম্বনে রচিত 'শকুন্তলা' (১৮৫৪) সম্পর্কে। তাছাড়া এ গ্রন্থে তিনি শকুন্তলা এবং তার দুই সখীকে রীতিমতো বাঙালি নারীর মতো করে নির্মাণ করেছেন।

• রামায়ণ অনুসারে 'সীতার বনবাস' গ্রন্থে (১৮৬০) সীতাও নিতান্ত বাঙালি নারী হয়ে উঠেছেন। 

• বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' (১৮৯২)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৪০.
বাংলা ভাষায় লাইলী-মজনু কাব্য রচনা করেন কে?
  1. ক) আবদুর রহমান জামি
  2. খ) দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• এটি পারসি তথা ইরানি কবি আবদুর রহমান জামির ‘লায়লী-মজনু’ কাব্যের অবলম্বনে রচিত।
• ‘লায়লী মজনু’র রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। 
- আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩;
- শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।

লাইলী-মজনু কাব্য:

• এই রচনায় আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে।
• এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।
• উভয়ে উভয়কে ভালোবাসলেও লাইলীর বিয়ে দেওয়া হয় অন্যত্র।
• এই প্রেম কাহিনীতে বর্ণিত ভালোবাসা এতই তীব্র ছিল যে শেষ পর্যন্ত তা মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৪১.
"মস্কোতে কয়েকদিন" নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'মস্কোতে কয়েকদিন' নামক ভ্রমণকাহিনীর রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।


তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
তিনি ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

উৎস: মস্কোতে কয়েক দিন, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
৮,০৪২.
"ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম"- ত্রয়ী উপন্যাসের লেখক কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• "ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম" ত্রয়ী উপন্যাস:
- "ধাত্রীদেবতা", "গণদেবতা" এবং "পঞ্চগ্রাম" তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তিনটি বিখ্যাত উপন্যাস। এই তিনটি উপন্যাসকে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।
-  এই তিনটি উপন্যাস গ্রামীণ জীবন ও সমাজকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে এবং তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে বিবেচিত। 
- "ধাত্রীদেবতা" ১৯৩৯ সালে প্রকাশিত হয় এবং "গণদেবতা" ও "পঞ্চগ্রাম" যথাক্রমে ১৯৪৩ ও ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
-  এই উপন্যাসগুলোর প্রধান চরিত্র হলো-  শিবনাথ ("ধাত্রীদেবতা"), দেবু ("গণদেবতা"), এবং পঞ্চগ্রামে বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ। 

অন্যদিকে, 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- "পথের পাঁচালী", "অপরাজিত" এবং "অপুর সংসার"।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস- "সেই সময়", "পূর্ব-পশ্চিম" এবং "প্রথম আলো"।
• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস- "ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান", "পদ্মা মেঘনা যমুনা" এবং "সংকর সংকীর্তন"।

উৎস: "ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম" ত্রয়ী উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৮,০৪৩.
'মর্সিয়া’ কী?
  1. আনন্দ গীতি
  2. চমাক গীতি
  3. শোক গীতি
  4. পল্লী গীতি
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া - শোক গীতি

মর্সিয়া কাব্য:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে 'মর্সিয়া সাহিত্য' নামে এক ধরনের শোককাব্য বিস্তৃত অঙ্গন জুড়ে ছড়িইয়ে আছে।
- ‘মর্সিয়া’ কথাটি আরবি এর অর্থ শোক প্রকাশ করা
- আরবি সাহিত্যে মর্সিয়ার উদ্ভব নানা ধরনের শোকাবহ ঘটনা থেকে হলেও পরে তা কারবালা প্রান্তরে নিহত ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদকে উপজীব্য করে লেখা কবিতা মর্সিয়া নামে আখ্যাত হয়। 
- আরবি সাহিত্য থেকে মর্সিয়া কাব্য ফারসি সাহিত্যে স্থান পায়।
- ভারতে মোগল শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে এদেশে ফারসি ভাষায় মর্সিয়া প্রচলিত হয় এবং পরে উর্দু ভাষাতেও তার প্রসার ঘটে।
- মর্সিয়া কাব্য বা শোক কাব্যের পটভূমিকা বর্ণনা করতে গিয়ে ড. আহমদ শরীফ লিখেছেন, ‘যুদ্ধ কাব্যের মধ্য কারবালাযুদ্ধ কাব্যই ষোল-সতের শতক থেকে বাংলার মুসলিম সমাজে বিশেষ জনপ্রিয় হতে থাকে।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,০৪৪.
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) জসীমউদ্‌দীন
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা-  সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৪৫.
কৃত্তিবাসী রামায়ণ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয় কত সালে?
  1. ১৮০২-০৩ সালে
  2. ১৮০৪-০৬ সালে
  3. ১৮০৭-০৮ সালে
  4. ১৮১০-১৩ সালে
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।

• কৃত্তিবাসী রামায়ণ:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণটি রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-০৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৪৬.
এস ওয়াজেদ আলির পূর্ণনাম কী?
  1. সৈয়দ ওয়াজেদ আলি
  2. শেখ ওয়াজেদ আলি
  3. শামচ্ছুদ্দিন ওয়াজেদ আলি
  4. শাহ্ ওয়াজেদ আলি
ব্যাখ্যা
- এস ওয়াজেদ আলির পূর্ণনাম- শেখ ওয়াজেদ আলি।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- এস ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ 'অতীতের বোঝা' ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
-  জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৪৭.
ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মা যে জননী কান্দে
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. কাশবনের কন্যা
ব্যাখ্যা
• ‘সিরাজাম মুনীরা’ কাব্যটির রচয়িতা- 'ফররুখ আহমদ'।

-------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- হাতেমতায়ী একটি ফররুখ আহমদ এর কাহিনিকাব্য।
- নৌফেল ও হাতেম ফররুখ আহমদ এর কাব্যনাট্য।
- সাত সাগরের মাঝি ফররুখ আহমদ এর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- হাতেমতায়ী,
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'মা যে জননী কান্দে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- 'জসীমউদ্‌দীন'।
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া'(১৯৮৪) কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• 'কাশবনের কন্যা' বা 'The Girl in the Reeds' শামসুদ্দীন আবুল কালামের উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৪৮.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' - উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্গত?
  1. তেল-নুন লাকড়ী
  2. সভ্যতার সংকট
  3. বই পড়া
  4. বীরবলের হালখাতা
ব্যাখ্যা

• 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী,
- গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয় তাকে।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।

তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী, 
- বীরবলের হালখাতা, 
- নানাকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৮,০৪৯.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) রশীদ হায়দার
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) নজিবর রহমান
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তার রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা। 
- উপন্যাসের চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লাহ, গোলাপজান ইত্যাদি। 

লেখকের অন্যান্য রচনা: 
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি (১৯১৭) 
- পরিণাম (১৯১৮)
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩)
- দুনিয়া আর চাই না (১৯২৪) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৫০.
প্রাচীন বাংলায় লিখা সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) চর্যাচর্যবিনশ্চয়
  2. খ) ডাকার্ণব
  3. গ) কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
 চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়।
- সেগুলো হচ্ছে - চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৫১.
বাংলা ভাষায় রচিত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস কোনটি?
  1. কৃষ্ণকান্তের উইল
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. ইন্দিরা
  4. রাধারানী
ব্যাখ্যা

‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৫২.
আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থের 'হঠাৎ দেখা' কবিতার অন্তর্গত। 

• 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
- এগুলো গদ্য কবিতার বিশেষ উদাহরণ। 
- 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে। 
- 'আমারই চেতনার রঙ্গে পান্না হলো সবুজ', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিত পঙক্তি বা কবিতাগুলো এ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

হঠাৎ দেখা- কবিতা, 
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা,
ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন।

আগে ওকে বারবার দেখেছি
লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা;
আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,
আঁচল তুলেছে মাথায়
দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে।
মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা;
চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে।
-----------------
----------------------
আমি বললেম, “বলব।”
বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,
আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি। (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, হঠাৎ দেখা- কবিতা।
৮,০৫৩.
'উত্তীর্ণ পঞ্চাশ' কার রচনা?
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা

- সানাউল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি ছিলেন।
- 'বন্দর থেকে বন্দরে' তাঁর রচিত রম্যরচনা।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ,
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্যা,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০৫৪.
অভিনব জয়দেব বলা হয় কাকে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) শ্রীচৈতন্য
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি: 
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি বাঙালি না হয়েও অথবা বাংলায় কবিতা রচনা না করেও “বাঙালি বৈষ্ণবের গুরুস্থানীয়, রসিক বাঙালির শ্রদ্ধেয় কবি, বৈষ্ণব সহজিয়া সাধকদের নবরসিকের অন্যতম।'
⇒ ‘মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত এই বিস্ময়কর প্রতিভাশালী কবি একাধারে কবি, শিক্ষক, কাহিনিকার, ঐতিহাসিক, ভূবৃত্তান্ত- লেখক ও স্মার্ত নিবন্ধকার হিসেবে ধর্মকর্মের ব্যবস্থাদাতা ও আইনের প্রামাণ্য গ্রন্থের লেখক ছিলেন।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল: নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৮,০৫৫.
চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ'- 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে লেখা।

• চর্যাপদ'- এর ছন্দ সম্পর্কিত শব্দ:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণে ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পদাকুল ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, আর প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে হলেও মাত্রাবৃত্তের  বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৮,০৫৬.
'আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।'- উক্তিটি কোন রচনা অন্তর্ভুক্ত?
  1. চোখের বালি 
  2. হৈমন্তী
  3. কপালকুণ্ডলা 
  4. পরিচিতা 
ব্যাখ্যা

• 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
- গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।
- আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৫৭.
দাউদ হায়দারের সাহিত্যকর্ম নিচের কোনটি?
  1. ক) ঘর মন জানালা
  2. খ) বাংলার মাটি বাংলার জল
  3. গ) জন্মই আমার আজন্ম পাপ
  4. ঘ) সাজাহান
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক উত্তর- জন্মই আমার আজন্ম পাপ।
- 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' দাউদ হায়দার কর্তৃক রচিত একটি কাব্য।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- 'ঘর মন জানালা' দিলারা হাসেম এর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
- 'বাংলার মাটি বাংলার জল' বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'সাজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বাংলা সাহিত্যের একটি ঐতিহাসিক নাটক।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৮,০৫৮.
'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে এ উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) জোহরা
  2. খ) ইব্রাহিম কার্দি
  3. গ) আহমদ শাহ আবদালি
  4. ঘ) নজীবউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা

- 'অন্ধকারটা স্বপ্ন, অলীক। আলোটাই সত্য, আলোটাই স্থায়ী।'- রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকে এ উক্তিটি করেছেন 'জোহরা'

• রক্তাক্ত প্রান্তর:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- নাটকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা, আহমদ শাহ আবদালি, নজীবউদ্দৌলা ইত্যাদি।

• নাটকের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হচ্ছে -
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।'
- আমরা হচ্ছি পাহাড়াদার। টুলি-পরা কলুর বলদ।
- 'যত বড় ক্ষতি ততো বড় লাভ'।
- 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।
- 'জয় পরাজয় যাই হউক, মৃত্যু ভিন্ন আমার মুক্তির অন্য কোন পথ নেই।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,০৫৯.
‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিল’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. ইমদাদুল হক মিলন
  3. শহীদুল জহির
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

শহীদুল জহিরের (১৯৫৩-২০০৮) বিখ্যাত উপন্যাস - সে রাতে পূর্ণিমা ছিল। এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত।
- বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতাবাদের আমদানিকর্তা তিনি।
- তার রচিত জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একটি উপন্যাস। এটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই উপন্যাসে প্রচলিত ধারা বাহিরে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। এটি টানা গদ্যে লেখা এবং এই গ্রন্থে জাদুবাস্তবতাবাদ ও অস্তিত্ববাদের উপস্থিতি আছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,০৬০.
রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে কোন পঞ্চপাণ্ডব কবিকে ‘সব্যসাচী’ লেখক বলা হয়?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৬১.
উইলিয়াম কেরী প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. ক) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. খ) শ্রীরামপুর মিশন
  3. গ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  4. ঘ) এসিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে। 
------------------
• ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়ামের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
• বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ  একটি সাহিত্য সংস্থা। এল লিওটার্ড ও ক্ষেত্রপাল চক্রবর্তীর উদ্যোগে ১৮৯৩ সালের ২৩ জুলাই ‘বেঙ্গল একাডেমী অব লিটারেচার’ নামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ’ রাখা হয়। 
• ১৯৫২ সালে এশিয়ার মানুষ ও প্রকৃতি বিষয়ে গবেষণার লক্ষ্যে বাংলাদেশে এশিয়াটিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এ সোসাইটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৬২.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম— 
  1. কালকূট
  2. সুনন্দ
  3. জাবালি
  4. চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম — সুনন্দ।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- কালকূট ও ভ্রমর।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৬৩.
চর্যাপদের ২৩ নং পদটির রচয়িতা কে?
  1. ক) লুইপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) কুক্কুরীপা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া যায়।
- এর ৬টি পঙক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙক্তি পাওয়া যায়নি।
- ২৩ নং পদটির রচয়িতা ভুসুকুপা
- ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের লেখক।
- তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬ নং, ২১ নং, ২৩নং, ২৭ নং, ৩০ নং, ৪১ নং, ৪৩ নং, ৪৯ নং।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৬৪.
"আমার কবিতা আমি জানি গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।" পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

"আমার কবিতা আমি জানি
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।"
-  পঙ্‌ক্তিটির লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- এটি ঐকতান কবিতার অংশ।

উল্লেখ্য,
‘ঐকতান’ কবিতাটি রবি ঠাকুরের ‘জন্মদিনে’ কাব্য থেকে নেওয়া হয়েছে। ঐকতান কবিতাটি লেখকের আত্মস্বীকারোক্তি ও আত্মপক্ষসমর্থন মূলক কবিতা। লেখকের মৃত্যুর ৪ মাস আগে কবিতাটি রচনা করেন।

ঐকতান
বিপুল। এ পৃথিবীর কতটুকু জানি!
দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী—
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু,
কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু
রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন;
মন মোর জুড়ে থাকে অতিক্ষুদ্র তারি এক কোণ।
-------
তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা—
আমার সুরের অপূর্ণতা।
আমার কবিতা, জানি আমি,
গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ঐকতান কবিতা।

৮,০৬৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কবি-কাহিনী
  2. বনফুল
  3. গীতাঞ্জলি
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা

• 'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উল্লেখ্য,
- আট বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবিতা লেখা শুরু করেন।
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা - হিন্দুমেলার উপহার।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - বাল্মীকি প্রতিভা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম- ভিখারিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৬৬.
কবি জসীম উদ্‌দীন কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দে ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,০৬৭.
'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কোন কবির?
  1. সমর সেন
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

• মার্কসিস্ট কবি হিসেবে সমর সেন (১৯১৬-৮৭) স্বল্প সময়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 
• 'আমি রোমান্টিক কবি নই, মার্কসিস্ট'। - বিখ্যাত উক্তিটি কবি সমর সেন এর। 

সমর সেন:
- তিনি কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- জন্ম ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক (১৯৩৭) ও স্নাতকোত্তর (১৯৩৮) সম্পুর্ণ করেন। 
- মার্কসবাদী নেতা রাধারমণ মিত্র ও বঙ্কিম মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য লাভ করার ফলে সমর সেনের রাজনৈতিক মনন গঠিত হয়।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’-এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যের নাম:
- কয়েকটি কবিতা, 
- গ্রহণ,
- নানা কথা,
- খোলা চিঠি,
- তিনপুরুষ ইত্যাদি

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।

৮,০৬৮.
'যশোদা' চরিত্রটির স্রষ্টা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
শহরতলী:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'শহরতলী'(১৯৪১) নিম্ন মধ্যবিত্ত ও শ্রমিকশ্রেণির মানুষের জীবনের কাহিনি ও সেইসঙ্গে প্রবৃত্তির নিরাবরণ প্রকাশের উপন্যাস, মানুষের আচরণের বলিষ্ঠতা ও কপটতা, ঈর্ষা ও ইন্দ্রিয়ালুতার রূপায়ণ এখানে আছে।
- 'যশোদা' চরিত্রটির বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও আত্মসম্ভ্রম বাংলাসাহিত্যে একটি ব্যতিক্রমী নারীচরিত্র হিসেবে স্বীকৃত।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৬৯.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) এক পথ দুই বাঁক
  3. গ) রোদ জ্বলা বিকেল
  4. ঘ) কেয়াবন সঞ্চারিণী
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম: 
- নীলিমা ইব্রাহিম শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;

= বি:দ্র: "রোদ জ্বলা বিকেল" নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক , এছাড়া বাকি ৩টি নীলিমা ইব্রাহিমের উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭০.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত উপন্যাস নয়?
  1. রাজর্ষি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা

• "পথের পাঁচালী" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত উপন্যাস নয়। এটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যা ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথের উপন্যাসগুলি:
- চোখের বালি;
- যোগাযোগ;
- রাজর্ষি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম উপন্যাস - 'বউ ঠাকুরানীর হাট'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ছোটগল্প - 'ভিখারিনী'।

• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- গোরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. রবীন্দ্র রচনাবলী।

৮,০৭১.
বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এটি কার উক্তি?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সমর সেন
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে’- এটি 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীতে সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বলেছেন।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' যা ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা।

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ডেপুটি কালেক্টরেট যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তিনি 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর জনপ্রিয় গ্রন্থ ‘পালামৌ' যা 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় প্রথমে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কণ্ঠমালা।
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭২.
নাথ সাহিত্যের জনক বলা হয় কাকে?
  1. ভীমসেন রায়
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ 
  3. শ্যামাদাস সেন
  4. ভবানী দাস
ব্যাখ্যা

• নাথসাহিত্য:
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস। 
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৭৩.
'রাজবন্দীর জবানবন্দী' - গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'রাজবন্দীর জবানবন্দী' প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'ধূমকেতু পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।
- এটি চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করে।
- তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৮,০৭৪.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ দিন’ কার লেখা?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন': 
- এই ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

মুহম্মদ আবদুল হাই:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।
- তিনি ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রকাশিত 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,০৭৫.
ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে নিচের কোন প্রহসনে?
  1. জামাই বারিক
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. সধবার একাদশী
  4. কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
• 'সধবার একাদশী' প্রহসন:
- 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন।
- 'সধবার একাদশী' নামক প্রহসনে তৎকালীন ইয়ংবেঙ্গল দলের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অনাচারের চিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
- প্রহসনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা' অনুসরণে রচিত। এতে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি প্রহসন।'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক। বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।

• 'জামাই বারিক' (১৮৭২) প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত। জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

• 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোমান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,০৭৬.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর লেখা বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে' কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. গণঅভ্যুত্থান 
  4. স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলন নিয়ে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত বিখ্যাত কবিতা- 'মাগো ওরা বলে'।

মাগো ওরা বলে- কবিতা, 
রচয়িতা- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 

“কুমড়ো ফুলে ফুলে
নুয়ে পড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
------------------

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ২০০১ সালের ১৯ মার্চ ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো :
- সাত নরীর হার,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- প্রেমের কবিতা,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৮,০৭৭.
“ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি,
আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“- উক্তিটি কোন লেখকের?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• মোতাহের হোসেন চৌধুরী (১৯০৩-১৯৫৬):
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রাম। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি তাঁর রচনায় সংস্কৃতি, ধর্ম, মানবতাবোধ ও মানুষের জীবনাচরণের মৌলিক বিষয়গুলি সংজ্ঞায়িত ও উন্মোচিত করতে চেয়েছেন এবং বিচিত্র ও সুন্দরভাবে বাঁচার মধ্যে মহত্তম জীবনের সন্ধান করেছেন।

- সংস্কৃতি কথা (১৯৫৮) তাঁর প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- দ্বিতীয় গ্রন্থ সুখ (১৯৬৫) বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং
- তৃতীয় গ্রন্থ সভ্যতা (১৯৬৫) ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
- তাঁর বিখ্যাত উক্তি-  “ধর্ম সাধারণ লোকের সংস্কৃতি, আর সংস্কৃতি শিক্ষিত মার্জিত লোকের ধর্ম।“

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য
-  আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০৭৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. জন্ম খণ্ড
  2. ভার খণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. মিলন খণ্ড
ব্যাখ্যা
•  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়- মিলন খণ্ড। 

-------------------
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৮,০৭৯.
মোজাম্মেল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস "জোহরা" কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯১৪
  2. খ) ১৯১৭
  3. গ) ১৯২৪
  4. ঘ) ১৯৩১
ব্যাখ্যা
- মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩)  ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেছিলেন। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক তিনি এ উপাধি লাভ করেন। 
-------------
'জোহরা' (১৯১৭) উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। 
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।
---------------


তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য রচনাবলি:

কাব্য:
- কুসুমাঞ্জলি (১৮৮১),
- অপূর্বদর্শন (১৮৮৫),
- প্রেমহার (১৮৯৮),
- হজরত মহাম্মদ (১৯০৩),
- জাতীয় ফোয়ারা (১৯১২),
- ইসলাম সঙ্গীত (১৯২৩);

গদ্য রচনা:

- মহর্ষি-মনসুর (১৮৯৬),
- ফেরদৌসী-চরিত (১৮৯৮),
- শাহনামা (১৯০৯),
- তাপসকাহিনী (১৯১৪, ২য় সং),
- খাজা ময়ীনউদ্দীন চিশতী (১৯১৮),
- হাতেমতাই (১৯১৯),
- টিপু সুলতান (১৯৩১);

উপন্যাস:

- দরাফ খান গাজী (১৯১৯) ইত্যাদি। 
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৮০.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৪ সালে
  2. ১৯৪৫ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

----------------------
• ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৮১.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা-
  1. ক) সমকাল
  2. খ) প্রগতি
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ক্রান্তি
ব্যাখ্যা

• কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- কালিকলম
- কল্লোল।
• ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- শিখা,
- প্রগতি,
- ক্রান্তি,
- লোকায়ত,
- সমকাল ইত্যাদি
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,০৮২.
‘গো জীবন’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
‘গো জীবন’ প্রবন্ধ:
- ‘গো জীবন’ (১৮৮৯) মীর মশাররফ হোসেনের একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা।
- প্রবন্ধটির মূল বক্তব্য হলো, কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে যে কোন কারণেই হোক গো হত্যা অনুচিত।
- হিন্দু ও মুসলমান এই দুই ধর্মালম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করার মানসেই মীর মশাররফ হোসেন এ প্রবন্ধ রচনা করেন।
- এ গ্রন্থের জন্য লেখককে মামলাতে জড়িয়ে পরতে হয়।
- অবশেষে মৌলবাদীদের প্রবল চাপের মুখে তিনি প্রবন্ধটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৮৩.
‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা

‘গণদেবতা’ উপন্যাসটি রচনা করেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
তার অন্যান্য উপন্যাস হলো-
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- হাঁসুলীবাঁকের উপকথা,- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- কবি,
- পঞ্চগ্রাম,
- পঞ্চপুণ্ডুলী,
- আরগ্য নিকেতন,
- রাধা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৮,০৮৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাট্যকার কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. সেলিম আল দীন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাম নারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক 'শর্মিষ্ঠা'।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক ও সার্থক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- যযাতি,
- দেবযানি,
- শর্মিষ্ঠা,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৮,০৮৫.
নিচের কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস? 
  1. অদ্ভূত আঁধার এক
  2. নিজ বাসভূমে
  3. বিধ্বস্ত নীলিমা
  4. রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অদ্ভূত আঁধার এক
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৮,০৮৬.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. আয়নাবিবি
  2. কাজলরেখা
  3. কাঞ্চন মালা
  4. কমল সদাগর
ব্যাখ্যা

• কাজলরেখা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সংগৃহীত কয়েকটি পালা ও রূপকথা মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনে সংকলিত হয়।
- "কাজলরেখা" মৈমনসিংহ গীতিকা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- এদের মধ্যে কাজলরেখা কোনো পালা নয়। এটা পদ্য ও গল্পাকারে বর্ণিত রূপকথা। এর রচয়িতা কে তা জানা যায় নি।

উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- ধনেশ্বর,
- কাজলরেখা,
- রত্নেশ্বর,
- শুকপাখি।

অন্যদিকে, 
• আয়নাবিবি, কাঞ্চন মালা ও কমল সদাগর পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 

---------------------
• মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০৮৭.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাসটি কোন সালে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. ১৯৯০
  2. ১৯৮৬
  3. ১৯৮০
  4. ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ‘আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।
- উপন্যাসে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে অবরুদ্ধ ঢাকা শহরের সামগ্রিক চালচ্চিত্র অংকিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসে অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক।
- এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে।

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন। 

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৮,০৮৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম মৌলিক নাটকের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

৮,০৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কাকে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন।
- এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৯০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত? 
  1. বলাকা
  2. সোনার তরী
  3. মানসী
  4. চিত্রা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উর্বশী' কবিতাটি 'চিত্রা' কাব্যের অন্তর্গত।

'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত বিখ্যাত কবিতাসমূহ:
- উর্বশী, 
- বিজয়িনী, 
- জীবনদেবতা, 
- স্বর্গ হইতে বিদায়, 
- ১৪০০ সাল, 
- দুই বিঘা জমি, 
- এবার ফিরাও মোরে ইত্যাদি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৯১.
মহাকাব্যের কবি নন কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মহাকাব্যের কবি নন- বিহারীলাল চক্রবর্তী। 

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।

অন্যদিকে, 
• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য: 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
• 'মহাশ্মশান' কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ'র ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৮,০৯২.
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিলো? 
  1. লেখরাজ সামন্ত
  2. মৈনাক
  3. বীরবল
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।

অন্যদিকে,
​প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
​শামসুর রাহমান ব্যবহৃত ছদ্মনাম- মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৮,০৯৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
• 'বড়দিদি' উপন্যাস:
- 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসটি ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি ‘মাধবী'র নাম।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩) লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- শ্রীকান্ত,
- বড়দিদি,
- পল্লীসমাজ,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৮,০৯৪.
'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  2. বিষ্ণু দে
  3. রফিক আজাদ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া:
- 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কবিতাটি কবি রফিক আজাদের 'চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া' কাব্য থেকে সংকলিত হয়েছে।
- এটি একটি প্রতীকী গদ্য কবিতা।
- 'চুনিয়া' নামের একটি গ্রামের প্রতীকের মধ্য দিয়ে কবি মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচার আহ্বান জানাচ্ছেন।
- কবির কথায়, চুনিয়া একটি ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম।
- শহর থেকে অনেক দূরে এর অবস্থান। মনোরম সবুজ প্রকৃতির পটভূমিতে স্থাপিত বলে চুনিয়া কখনো হিংস্রতা দেখেনি।
- রক্তপাত দেখেনি। চুনিয়া শুধু জানে মানুষকে ভালোবাসতে। মা
- নবসমাজে আজ যে হিংসা হানাহানি রক্তপাত দেখা যায়, চুনিয়াতে এসব নেই। সবাই এখানে তাই সুখে থাকে।
- কবি মনে করেন, প্রতিটি মানুষই আসলে এরকম।
- সভ্যসমাজের অনেকেই এই ধরনের স্নিগ্ধ সুন্দর গ্রামকে অথবা গ্রামের মতো পরিবেশকে বুকের মধ্যে লালন করে থাকেন।
- চুনিয়া বিশ্বাস করে, মানুষ মারণাস্ত্র ফেলে, হিংসা-দ্বেষ ভুলে পরস্পর সৎ প্রতিবেশী হবে।
- কেননা মানবতার পক্ষে দাঁড়ানোই হচ্ছে মানবসভ্যতার মূল কথা।

• রফিক আজাদ:
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

• তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্য পাঠ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৮,০৯৫.
মীর মোশাররফ হোসেন লিখিত নিচের রচনাগুলোর মধ্যে কোনটি নাটক?
  1. রত্নাবতী
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বিষাদ সিন্ধু
ব্যাখ্যা

• 'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- লেখক মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক 'জমিদার দর্পণ'।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্ত প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষন ও হত্যার কাহিনি এর মূল ঘটনা।
- 'জমিদার দর্পণ' উনিশ শতকের কৃষক শ্রেণির জীবনধারার উপর ভিত্তি করে রচিত ঐ শতাব্দের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।

-----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেন মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ রচয়িতার মর্যাদা লাভ করেন। তাঁর রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ/উপন্যাস 'রত্নাবতী'।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

- আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৮,০৯৬.
নিচের কোনটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের কাব্য?
  1. সম্রাট
  2. কুয়াশা
  3. মিছিল
  4. গোপনচারিণী
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি একাধারে  কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গুলো:
- প্রথমা, 
- সম্রাট, 
- সাগর থেকে ফেরা,
- ফেরারী ফৌজ,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ,
- অথবা কিন্নর, 
- নদীর নিকটে ইত্যাদি। 

গল্পগ্রন্থ:

- পঞ্চশর, 
- বেনামী বন্দর, 
- পুতুল ও প্রতিমা, 
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৮,০৯৭.
'রাজলক্ষ্মী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. পল্লী সমাজ
  2. শ্রীকান্ত
  3. শেষের পরিচয়
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামের এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস শ্রীকান্ত 
- এর চরিত্রঃ
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- ইন্দ্রনাথ, 
- অভয়া

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ
• পরিণীতা,
• বিরাজবৌ,
• পণ্ডিতমশাই,
• পল্লীসমাজ,
• দেবদাস,
• দত্তা,
• বড়দিদি,
• চরিত্রহীন,
• গৃহদাহ,
• বামুনের মেয়ে,
• শেষ প্রশ্ন,
• দেনাপাওনা,
• পথের দাবী,
• বিপ্রদাস ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৮,০৯৮.
‘প্রগতি’ মাসিকপত্রটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কুষ্টিয়া থেকে
  3. গ) কলকাতা থেকে
  4. ঘ) রংপুর থেকে
ব্যাখ্যা
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- মাসিকপত্র ‘প্রগতি’ র  সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, ‘প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৮,০৯৯.
বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উর্বশী ও আর্টেমিস
  2. তন্বী
  3. অর্কেস্ট্রা
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
• উর্বশী ও আর্টেমিস:
- এটি বিষ্ণু দে রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোমান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
• গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- তন্বী  ও অর্কেস্ট্রা সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'বালুচর' জসীমউদ্দীন রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৮,১০০.
"কাব্যচর্চা না করলে মানুষে জীবনের একটা বড়ো আনন্দ থেকে স্বেচ্ছায় বঞ্চিত হয়।" - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• "কাব্যচর্চা না করলে মানুষে জীবনের একটা বড়ো আনন্দ থেকে স্বেচ্ছায় বঞ্চিত হয়।" - বিখ্যাত উক্তিটি বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর। 
- তিনি তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেন।
------------
প্রমথ চোধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।