বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭৯ / ২১১ · ৭,৮০১৭,৯০০ / ২১,১৩২

৭,৮০১.
'ধনঞ্জয় বৈরাগী' চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন নাটকে? 
  1. ডাকঘর 
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. বিসর্জন
  4. রক্তকরবী 
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, 
অমল, সুধা। 

• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮০২.
কোন গ্রন্থটি এয়াকুব আলী চৌধুরী প্রণীত?
  1. মোস্তফা চরিত
  2. নয়াজাতির স্রষ্টা হযরত মোহাম্মদ
  3. বিশ্বনবী
  4. মানব-মুকুট
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী:
- মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী ছিলেন একজন লেখক ও সাংবাদিক।
- ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক (নভেম্বর, ১৮৮৮) ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার অন্তর্গত মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- এয়াকুব আলী চৌধুরী কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। ১৯২০-২১ সালে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে তিনি কারাবরণ করেন। এর ফলে তাঁর শিক্ষকজীবনেরও অবসান ঘটে।
- অতঃপর তিনি কলকাতা গিয়ে অনুজ আওলাদ আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাংবাদিকতার কাজে যোগ দেন এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হন। তিনি কিছুকাল এ সমিতির সম্পাদকও ছিলেন।
- তাঁর ও কবি গোলাম মোস্তফার যুগ্ম সম্পাদনায় ১৯২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সমিতির মুখপত্র মাসিক সাহিত্যিক প্রকাশিত হয়।
- জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক কোহিনূরে প্রবন্ধ লিখে তিনি সাহিত্যসাধনা শুরু করেন।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানের মাতৃভাষা বাংলা না উর্দু হবে এ বিতর্কে তিনি বাংলা ভাষাকেই সমর্থন করেন।

তাঁর প্রধান রচনাগুলো হলো:
- ধর্মের কাহিনী (১৯১৪),
- নূরনবী (১৯১৮),
- শান্তিধারা (১৯১৮) ও
- মানব মুকুট (১৯২৬)।

অন্যদিকে,
• মাওলানা আকরম খাঁ রচিত হজরত মোহাম্মদ (স.)-এর জীবনী 'মোস্তফা চরিত'।
• ‘বিশ্বনবী’ গদ্যগ্রন্থটির রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
• ‘নয়াজাতি স্রষ্টা: হযরত মুহাম্মদ’ মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৩.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. ক) শর্মিষ্ঠা
  2. খ) রাজসিংহ
  3. গ) পলাশীর যুদ্ধ
  4. ঘ) রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর (১৯৫৯) মূল চেতনায় আছে যুদ্ধবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে নরনারীর প্রেম।

শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্‌টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ(১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে(১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- দণ্ডকারণ্য(১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন(১৯৪৬)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য(১৯৬৯)

> তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)
৭,৮০৪.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' প্রবন্ধটি রচনা করেন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৫.
"পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়" নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. জিয়া হায়দার
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা

- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক |
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

সৈয়দ শামসুল হক রচিত নুরুলদীনের সারাজীবন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাব্যনাট্য |
- এছাড়াও তিনি গণনায়ক ও ঈর্ষা নামে নাটক রচনা করেন |

- তার বিখ্যাত উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে গেরিলা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছে |
- নীল দংশন একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস |

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) |

৭,৮০৬.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' কী ধরনের সংবাদপত্র ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. পাক্ষিক
  4. মাসিক
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে ১৮১৮ সালের মে মাসে।
- 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান ।
- এই সংবাদপত্রের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৮০৭.
'অসমাপিকা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. আনোয়ার পাশা
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ।

তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- জীবনশিল্পী,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা,
- জীয়ন কাটি,
- প্রত্যয় ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান কবিতা:
- রাখী,
- কালের শাসন,
- কামনা পঞ্চবিংশতি,
- নূতনা রাধা,
- লিপি,
- জার্নাল,
- ক্রীডো ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- যৌবন জ্বালা,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০৮.
চর্যাপদের ভাষাকে 'আলো আঁধারি ভাষা’ বলে উল্লেখ করেছেন কে?
  1. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. কীর্তিচন্দ্র
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'

- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

----------------------
• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন - ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৮০৯.
প্রমথ চৌধুরী বাংলা সাহিত্যের কোন শাখায় চলিতরীতির প্রবর্তন করেন?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. গদ্য
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল বীরবল।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। এটি তাঁর প্রথম চলিত রীতিতে লিখিত গ্রন্থ।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সবুজপত্র পত্রিকা (১৯১৪) চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১০.
'মনরে কৃষি কাজ জান না' শিরোনামে গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রামনিধি গুপ্ত
  2. খ) রামপ্রসাদ সেন
  3. গ) গোজলা গুই
  4. ঘ) এন্টনি ফিরিঙ্গি
ব্যাখ্যা
রামপ্রসাদ সেন (আনু. ১৭২০-১৭৮১)
- বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।। 
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত। 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো:
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’।
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’।
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি।
৭,৮১১.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালা কোন অঞ্চলের? 
  1. ক) নেত্রকোণা
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও হবিগঞ্জ জেলার বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচঙের দেওয়ান পরিবারের পালা হলো দেওয়ান মদিনা। এই পালার লেখক মনসুর বয়াতি।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৭,৮১২.
গোরক্ষবিজয় কোন ধরনের আখ্যানকাব্য?
  1. বৌদ্ধ সহজযান বিষয়ক
  2. নাথধর্ম বিষয়ক
  3. নীতিকাব্য
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
• 'গোরক্ষবিজয়' নাথধর্মবিষয়ক আখ্যানকাব্য।
- যোগিশ্রেষ্ঠ গোরক্ষনাথের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার কথা এতে বিবৃত হয়েছে।
- উজ্জ্বল চারিত্রিক আদর্শের জন্য গোরক্ষনাথ নাথসিদ্ধাদের মধ্যে প্রধান হয়ে ওঠেন এবং সর্বত্র ভক্তি ও সমাদর লাভ করেন। 
 -গোরক্ষবিজয়ের প্রথম রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
------------------
⇒ শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক)  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে: 
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয় ও
- গাজীবিজয়।

- এ ছাড়াও তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১৩.
'Bury The Dead' নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে রচিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা

• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক।

কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না।লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং  বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১৪.
বাংলার মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) দাউদ হায়দার
  3. গ) কাজেম আল কোরেশী
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ। তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরাশী। কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন। 

তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,- 
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৮১৫.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. এক মুঠো
  2. চলো যাই
  3. পুরবাসী
  4. পথ অন্তহীন
ব্যাখ্যা

• 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থ:
- অমিয় চক্রবর্তীর 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
- বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।
- কবি এখানে সময়কে বিবেচনায় এনে এই সময়হত মানব-মানবীর অন্তর্গত সুখ ও সমস্যা ধারার চেষ্টা করেছেন।

​--------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনাগুলো হলো:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১৬.
বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'নকশী কাঁথার মাঠ' এর ইংরেজিতে অনুবাদক কে?
  1. ক) ডব্লিউ. বি ইয়েটস
  2. খ) টি.এস.এলিয়ট
  3. গ) ই. এম. মিলফোর্ড
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• জসীম উদদীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য - নকশী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন ই. এম. মিলফোর্ড।
- ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নকশী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী। এই দুজনই ছিলেন বাস্তব চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮১৭.
'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- বিখ্যাত উক্তিটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের।

----------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:

- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৭,৮১৮.
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. উৎস থেকে নিরন্তর
  2. জীবন থেকে নেওয়া
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. একুশে ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো:
- মুমিন,
- আসাদ,
- রসুল,
- সালমা।
-------------------
উল্লেখ্য, 
- প্রথম নাটক: কবর।
- প্রথম সিনেমা: জীবন থেকে নেওয়া।
- প্রথম সংকলন: একুশে ফেব্রুয়ারি।

অন্যদিকে, 
'উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:
উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮১৯.
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) পালামৌ
  2. খ) Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) রামেশ্বরের অদৃষ্ট
ব্যাখ্যা
সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় খ্যাতি অর্জন করেন “Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities” লিখে এবং তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গ্রন্থ “পালামৌ”।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮২০.
'মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই'। - চরণ দুটি রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

প্রাণ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

উল্লেখ্য, 
- 'প্রাণ' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে৷

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,৮২১.
'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. গানের সংকলন
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'নতুন চাঁদ' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নতুন চাঁদ' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থটি প্রথম ১৯৩৯ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 
- 'নতুন চাঁদ' নামে কাব্যে একটি নাম কবিতা রয়েছে। 
- কাব্যে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।

কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতাগুলো হলো-
- নতুন চাঁদ,
- চির-জনমের প্রিয়া,
- আমার কবিতা তুমি, 
- নিরুক্ত,
- সে যে আমি,
- অভেদম্‌,
- অভয় সুন্দর,
- অশ্রু-পুস্পাঞ্জলী,
- কিশোর রবি,
- কেন জাগাইলি তোরা,
- দুর্বার যৌবন,
- আর কতদিন,
- ওঠ রে চাষী,
- মোবারকবাদ,
- কৃষকের ঈদ,
- চাষীর ঈদ,
- আজাদ,
- ঈদের চাঁদ,
- চাঁদনী রাতে। 

উৎস: 'নতুন চাঁদ' কাব্যগ্রন্থ।
৭,৮২২.
'এমন পিরিতি কভু নাহি দেখি শুনি।/পরানে পরান বান্ধা আপনা আপনি।।' কার লেখা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চণ্ডীদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

• 'এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।/পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি।'- পঙ্‌ক্তিদ্বয় বৈষ্ণব কবি চণ্ডীদাসের রচনা। 

• শিক্ষিত বাঙালি বৈষ্ণব সাহিত্যের রস ও আনন্দের সংবাদ পেয়েছে চণ্ডীদাসের পদাবলি থেকে। কবি রাধার মনের বিচিত্র অনুভূতিকে আশ্চর্য সুন্দর ভাষায় রূপদান করে বাঙালির চিরদিনের সমাদর লাভের উপযোগী করে গেছেন। তাঁর পদাবলিতে রাধাকৃষ্ণের প্রেমানুভূতির রূপকের মাধ্যমে সে ধর্মীয় চেতনা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি এর রূপকের বাইরে একটা সর্বজনীন ও সার্বভূমিক আবেদন বিদ্যমান।

 • চণ্ডীদাস রাধাকে কৃষ্ণপ্রেমে আত্মহারারূপে চিত্রিত করেছেন। দেহগত কামনা-বাসনা রাধাচরিত্রে প্রাধান্য পায় নি। কবি তাকে মর্ত্যলোক থেকে বহু দূরদুর্গম অধ্যাত্মতীর্থে স্থান দিয়েছেন। চণ্ডীদুল রাধার কামগন্ধহীন প্রেম অত্যন্ত সহজ সরল কথায় ছন্দে ও অলঙ্কার প্রয়োগে প্রস্ফুটিত করেছেন। কবি রাধার চরিত্রে মিলনের আনন্দের চেয়ে বিচ্ছেদের বেদনা তীব্রতর করে রূপ দিয়েছেন। কবি এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেছেন:

এমন পিরীতি কভু নাহি দেখি শুনি।
পরাণে পরাণ বান্ধা আপনা আপনি।
দুই কোরে দুই কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া।
আধ তিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া।
জল বিনু মীন যেন কবহু না জীয়ে।

---------------------
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন। চণ্ডীদাসকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি 'শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও
তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চন্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন "চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি"।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮২৩.
'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি জহির রায়হান রচিত কোন গল্পের অন্তর্গত?
  1. হারানো বলয়
  2. নয়া পত্তন
  3. অতি পরিচিত
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা
⇒ একুশের গল্প: 
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।

এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে-
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

গল্পটিতে ব্যবহৃত কিছু সংলাপ হলো:
• 'এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।'- অংশটি একুশের গল্পের অন্তর্গত।
• ‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - সংলাপটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।
• “পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।” 

• জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর;

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও ‘গল্প সমগ্র’ জহির রায়হান।
৭,৮২৪.
নিচের কোন সাহিত্যিক কখনো উপন্যাস লিখেন নাই?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কখনো উপন্যাস লিখেন নাই।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৫.
কোনটি অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম?
  1. লীলাময় রায়
  2. জরাসন্ধ
  3. কালকূট
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসু'র ছদ্মনাম - কালকূট।
 
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৮২৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. সাধের আসন
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা
• বঙ্গসুন্দরী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ বঙ্গসুন্দরী।
- এটি দশ সর্গের একটি কাব্য।
- এ কাব্যের সর্গগুলো হলো।

→ প্রথম সর্গ: উপহার।
→ দ্বিতীয় সর্গ: নারীবন্দনা।
→ তৃতীয় সর্গ: সুরবালা।
→ চতুর্থ সর্গ: চিরপরাধীনা।
→ পঞ্চম সর্গ: করুণাসুন্দরী।
→ ষষ্ঠ সর্গ: সর্গ বিষাদিনী।
→ সপ্তম সর্গ: প্রিয়সখী।
→ অষ্টম সর্গ: বিরহিণী।
→ নমব সর্গ: প্রিয়তমা।
→ দশম সর্গ: অভাগিনী।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৭.
মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী?
  1. ক) বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. খ) আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
  3. গ) ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
  4. ঘ) ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

 মুহাম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ:
 - সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৮২৮.
'পথ জানা নেই' গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) শহীদ কাদরী
  2. খ) শামসুজ্জামান খান
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম একজন কথাসাহিত্যিক।
১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম এর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গল্পগ্রন্থ: 
- অনেক দিনের আশা 
- ঢেউ 
- পথ জানা নেই 
- দুই হৃদয়ের তীর 
- শাহের বানু 
- পুঁই ডালিমের কাব্য 

তাঁর রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- আলমগড়ের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্র বাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮২৯.
'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
- 'মগের মুল্লুক' নামক ব্যঙ্গকাব্যের রচয়িতা গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে।

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩০.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা কাব্য'-টি কী ধরণের?
  1. মহাকাব্য
  2. পত্রকাব্য
  3. গীতিকবিতা
  4. আখ্যানকাব্য
ব্যাখ্যা

বীরাঙ্গনা কাব্য: 
- ‘বীরাঙ্গনা' মাইকেল মধুসূদন দত্তের একটি পত্রকাব্য। 
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। 
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি। 
- রোমান কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- তিনি একজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। 
- এটি ইংরেজিতে রচিত। 
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'তিলোত্তমা সম্ভব'। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা’ ও 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৩১.
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) এডওয়ার্ড ডিমোস্ক
  3. গ) শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন 
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলো প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৩২.
'আকাশনীলা' কবিতাটির লেখক কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. শামসুর রাহমান 
  3. জীবনানন্দ দাশ 
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'সাতটি তারার তিমির' কাব্য:
- জীবনানন্দ দাশের পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ সাতটি তারার তিমির।
- আর এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘আকাশনীলা’।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 
- রূপসী বাংলার কবি বলা জীবননান্দ দাশকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কবি
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. সরহপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
- শবরপা এর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম টিকাকার লুইপা এর গুরু ছিলেন।
- শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ তাঁর রচনা।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদের আদি চর্যাকার/বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি/চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা - লুইপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩৪.
ট্রাম চাপায় নিহত হন কোন বিখ্যাত কবি?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) জসিমউদ্দীন
  3. গ) জীবনানন্দ দাশ
  4. ঘ) জগদীশ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
আধুনিক কবিদের মধ্যে জীবনানন্দ দাশ অন্যতম। 
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে বলেছেন ‘চিত্ররূপময়’।
- বুদ্ধদেব বসু তাকে বলেছেন 'নির্জনতম কবি'।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় এক ট্রাম দুর্ঘটনায় তিনি আহত হন ও পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৩৫.
কোনটি শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস?
  1. দলিল
  2. অদ্ভুত আঁধার এক
  3. পতঙ্গ পিঞ্জর
  4. কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা
• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’
 
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:
• কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
• শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।
• যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- শওকত আলী রচিত উপন্যাস 'দলিল'।
- শামসুর রাহমানের রচিত আত্মস্মৃতি 'কালের ধুলোয় লেখা’।
- শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস 'পতঙ্গ পিঞ্জর'।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৩৬.
'অনেক আকাশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'অনেক আকাশ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সৈয়দ আলী আহসান।

• ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ যশোরের কাদিয়া নামাক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর কবিতার ভাববস্তুতে আছে ঐতিহ্য, সচেতনতা, সৌন্দর্যবোধ ও দেশপ্রীতি।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অনেক আকাশ
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত
- সহসা সচকিত
- উচ্চারণ
- আমার প্রতিদিনের শব্দসমুদ্রেই যাবো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮৩৭.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের কোন যুগের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. অন্ধকার যুগ
  2. যুগসন্ধিকাল
  3. আধুনিক যুগ
  4. মধ্যযুগ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৩৮.
'ডেভিড আর্মস্ট্রং' বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন রচনার চরিত্র?
  1. ক) হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. খ) সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড
  3. গ) একটি কালো মেয়ের কথা
  4. ঘ) সাড়ে তিন হাত ভূমি
ব্যাখ্যা
• একটি কালো মেয়ের কথা:
প্রকাশকালের বিবেচনায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মতো একটি অপরিহার্য বিষয় নিয়ে লেখা প্রথম উপন্যাস হলো তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘একটি কালো মেয়ের কথা'।
প্রকাশকাল: ১৯৭১ সালের  ১৩৭৮ বঙ্গাব্দ, উল্টোরথের পুজো সংখ্যা, নবকল্লোল।
- ডেভিড আর্মস্ট্রং ওরফে মনসুর আলীর জবানীতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতের নৃশংসতা বর্ণনা অনুষঙ্গে উপন্যাসটির মূল প্রেক্ষাপটের সূচনা ঘটেছে।
- জীবনের সায়াহ্নে লেখকের দায়বোধ থেকে রোগশয্যাতে জর্জরিত অশান্ত ও উদ্বিগ্ন তারাশঙ্কর নাজমা নামক এক কালো মেয়েকে হাজারো নির্যাতিতা নারীর প্রতীকরূপে উপস্থাপন করে মুক্তিযুদ্ধের শুরুর পর্বের পাক হানাদারদের রিরংসাকে চিত্রিত করেছেন।
- এই উপন্যাসের নাম-চরিত্র/প্রধান চরিত্র নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৩৯.
"মহিম ও সুরেশ" কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. চরিত্রহীন
  2. দেনা-পাওনা
  3. গৃহদাহ
  4. শেষের পরিচয়
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

----------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৪০.
'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কোন ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ 
  2. কবিতা 
  3. উপন্যাস 
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ':
- এটি দাউদ হায়দার রচিত কবিতা।
- এটি তাঁর 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
--- দাউদ হায়দার

জন্মই আমার আজন্ম পাপ, মাতৃজরায়ু থেকে নেমেই জেনেছি আমি
সন্ত্রাসের ঝাঁঝালো দিনে বিবর্ণ পত্রের মত হঠাৎ ফুৎকারে উড়ে যাই
পালাই পালাই সুদূরে
চৌদিকে রৌদ্রের ঝলক
বাসের দোতলায় ফুটপাতে রুটির দোকানে দ্রুতগামী
নতুন মডেলের
চকচকে বনেটে রাত্রির জমকালো আলো
ভাংগাচোরা চেহারার হদিস
ক্লান্ত নিঃশব্দে আমি হেঁটে যাই
পিছনে ঝাঁকড়া চুলওয়ালা যুবক।

• দাউদ হায়দার:
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, পাবনার দোহার নামক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত লেখক। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- জন্মই আমার আজন্ম পাপ,
- এই শাওনে এই পরবাসে,
- আমি ভাল আছি তুমি,
- পাথরের পুঁথি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'জন্মই আমার আজন্ম পাপ', দাউদ হায়দার।

৭,৮৪১.
'গাজী মিয়ার বস্তানী' মীর মশাররফ হােসেন রচিত একটি-
  1. ক) নাটক
  2. খ) ভ্রমণ কাহিনী
  3. গ) ছোটগল্প
  4. ঘ) আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
- 'গাজী মিয়ার বস্তানী' (১৯০০) মীর মশাররফ হােসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে। লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৪২.
নিচের কোনটি আবুল ফজলের প্রবন্ধ নয়?
  1. ক) শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি
  2. খ) মাটির পৃথিবী
  3. গ) সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন
  4. ঘ) সমকালীন চিন্তা
ব্যাখ্যা
'শেখ মুজিব: তাঁকে যেমন দেখেছি' প্রবন্ধের রচয়িতা- আবুল ফজল। এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধ- বিচিত্র কথা, সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন, শুভবুদ্ধি, সমকালীন চিন্তা ইত্যাদি। মাটির পৃথিবী ও মৃতের আত্মহত্যা তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৪৩.
নেমেসিস নাটকের পটভূমি কী?
  1. ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'নেমেসিস' নাটকের রচয়িতা নুরুল মোমেন। 
- তাঁর নেমেসিস নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট।
- এই নাটক উল্লেখযোগ্য কারণ এক চরিত্র বিশিষ্ট এমন নাটক বাংলা সাহিত্যে কম।

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো (১৯৬০),
- নয়া খান্দান (১৯৬২),
- আলোছায়া (১৯৬২),
- আইনের অন্তরালে (১৯৬৬),
- শতকরা আশি (১৯৬৭),
- রূপলেখা (১৯৬৯) ও
- যেমন ইচ্ছা তেমন (১৯৭০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৪৪.
' অসম্ভবের পায়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) রফিক আজাদ
  4. ঘ) শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- 'অসম্ভবের পায়ে' গ্রন্থটির রচয়িতা- রফিক আজাদ। 

রফিক আজাদ
- কবি রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে কবি, সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।

তাঁর বিখ্যাত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- সীমাবদ্ধ জলে
- সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৭,৮৪৫.
‘রোহিণী’ চরিত্রটি কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. চরিত্রহীন
  2. গৃহদাহ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. সংসপ্তক
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী রোহিণীকে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।

উপন্যাসটির প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রোহিণী,
- গোবিন্দলাল,
- ভ্রমর।

অন্যদিকে,
• 'চরিত্রহীন' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস। ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র- সতীশ, সাবিত্রী, দিবাকর, কিরণময়ী।
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো- সুরেশ, মহিম, অচলা।
• শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত উপন্যাস- সংশপ্তক। উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।

---------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৪৬.
‘মহাপতঙ্গ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবু ইসহাক
  2. আল মাহমুদ
  3. শওকত ওসমান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৪৭.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি কে?
  1. আলাওল
  2. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  3. দৌলত উজির বাহরাম খান
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ মুহম্মদ সগীর
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জোলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৪৮.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প নয় কোনটি?
  1. রাইকমল
  2. কালিন্দী
  3. ডাক-হরকরা
  4. রসকলি
ব্যাখ্যা
'কালিন্দী' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। 

-------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পসসমূহ:
- ১৩৪৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক সংখ্যা 'প্রবাসী' পত্রিকায় তারাশঙ্করের বিখ্যাত গল্প 'ডাক-হরকরা' প্রকাশিত হয়। ঐ বছর বৈশাখে তাঁর 'ছলনাময়ী' গল্পগ্রন্থ বেরোয়।

- 'ডাক-হরকরা' গল্পটি তারাশঙ্করের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প। এর আগেই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় (যেমন, পূর্ণিমা, কল্লোল, উপাসনা, কালি-কলম, উত্তরা নবশক্তি, ভারতবর্ষ, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি দেশ, প্রবাসী প্রভৃতি) তাঁর ৫৩টি গল্প বেরিয়েছে।

- এদের মধ্যে 'রসকলি', 'রাইকমল', 'ডাইনীর বাঁশী', 'মেলা', 'আখড়াইয়ের দীঘি', 'নারী ও নাগিনী', 'তারিণী মাঝি'-র মতো বিখ্যাত ও জনপ্রিয় গল্পও আছে। 'ডাক হরকরা' গল্পটি প্রকাশের আগেই গল্পকার হিসেবে তারাশঙ্কর খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। ছোটগল্পের আর্ট তাঁর আয়ত্তে এসেছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: 'ডাক-হরকরা' গল্প এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৪৯.
"জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।" কোন পত্রিকার মূলমন্ত্র ছিল? 
  1. প্রগতি 
  2. শিখা
  3. ক্রান্তি 
  4. কল্লোল 
ব্যাখ্যা

• 'শিখা' পত্রিকার মূলমন্ত্র ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র হিসেবে 'শিখা' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সমাজে কুসংস্কার, জড়তা দূর করে জ্ঞান ও যুক্তিবাদী চেতনার বিকাশ ঘটানো।
- এটি ছিল তৎকালীন মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের এক মূল্যবান দলিল, যা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার প্রসার ঘটিয়েছিল। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো।
- ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি ছিল একটি বার্ষিক পত্রিকা।
- প্রথম সংখ্যায় আবুল হুসেন সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তীতে কাজী মোতাহার হোসেন, মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ, আবুল ফজল প্রমুখ দায়িত্ব পালন করেন।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৫০.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘বহিপীর’ কী ধরণের রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
• তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫১.
কার উৎসাহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করা হয়?
  1. আশুতোষ মুখার্জি
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও 
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫২.
'কিত্তনখোলা' নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যশিল্পে কোন রীতির প্রবর্তন ঘটে?
  1. পাশ্চাত্য রীতি
  2. পৌরাণিক রীতি
  3. প্রাচ্যীয় রীতি
  4. ক্লাসিক্যাল রীতি
ব্যাখ্যা
• ‘কিত্তনখােলা’ নাটক:
- ‘কিত্তনখােলা’ নাটকটের রচয়িতা সেলিম আল দীন।
- জীবনঘনিষ্ঠ নাট্যকর্ম তাঁর ‘কিত্তনখোলা’। ‘কিত্তনখোলা’ রচনার মধ্য দিয়ে সেলিম আল দীন বাংলা-নাট্যশিল্পকে নতুন রূপ দান করেন।
- মূলত, এ নাটকের মাধ্যমেই পাশ্চাত্য নাট্যরীতি পরিহারপূর্বক প্রাচ্যীয় রীতির প্রবর্তন শুরু হয়।
- ‘কিত্তনখোলা’ হয়ে ওঠেছে বাঙালির প্রান্তিক জনমানুষের প্রথাগত জীবনে স্থিত সাংস্কৃতিক আচার-আচরণের ইতিবৃত্ত।
- লেখকের ভাষায় - কিত্তনখোলা পর্বে আমি মানিকগঞ্জের লোকায়ত জীবন-সংস্কৃতি এবং এর অপূর্ব নিসর্গের সাথে পরিচিত হই।

-----------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং ‘কিত্তনখোলা’ নাটক।
৭,৮৫৩.
‘সন্ধ্যাভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. রোমান্সকাব্য
  3. পদাবলি
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৮৫৪.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' কার সাহিত্যিক নাম ছিলো-
  1. ক) কুসুমকুমারী দাস
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) কামিনী রায়
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

কামিনী রায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - 'জনৈক বঙ্গমহিলা'।
তার রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত,
- অম্বা,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৮৫৫.
বাংলা গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য/ প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক 'সবুজপত্র' (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫৬.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রচলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৫৭.
ড. সুকুমার সেন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ইসলামি বাংলা সাহিত্য
  2. খ) বাংলা ভাষার পুরাবৃত্ত
  3. গ) ভারতীয় অনার্য সাহিত্য
  4. ঘ) বাংলা সাহিত্যে পদ্য
ব্যাখ্যা
• ড. সুকুমার সেন 'ইসলামি বাংলা সাহিত্য' (১৩৫৮) বইটি রচনা করেন।
- বইটিতে বাংলা সাহিত্যে মুসলিম অবদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
- ড. সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা' (১৯৩৯) এবং চার খন্ডে 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' (১৯৪০) রচনা করেছেন। 

তাঁর অন্যান্য রচনা: 
- ভাষার ইতিবৃত্ত
- বাংলা স্থান নাম
- বাংলায় নারীর ভাষা
- বাংলা সাহিত্যে গদ্য 
- ভারতীয় আর্য সাহিত্যের 
- ভারত কথার গ্রন্থিমোচন
- রামকথার প্রাক ইতিহাস
- বটতলার ছাপা ও ছবি
- বনফুলের ফুলবন 
- কলকাতার কাহিনি ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,৮৫৮.
'তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা। 

---------------------
• মুহম্মদ আবদুল হাই:

- মুহম্মদ আবদুল হাই একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪)।
- 'বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (আধুনিক যুগ) প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা সৈয়দ আলী আহসান। তিনি মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের সাথে একত্রে গ্রন্থটি প্রকাশ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি,
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৫৯.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  2. আবুল হোসেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মুরলীধর বসু
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হোসেন। 
 
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বনফুল
  2. শেষ কথা
  3. কবি-কাহিনী
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি উপন্যাস। 

• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - বনফুল; 'কবি-কাহিনী'।
'শেষকথা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি- ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও শেষের কবিতা।

৭,৮৬১.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্ন কল্পনার প্রতীকী মূলক রচনা কোনটি?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মরাগ
  3. মতিচুর
  4. সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর। বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana's Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলেখযোগ্য রচনা:
- মতিচুর,
- Sultana's Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬২.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
  1. মানবতা
  2. ধর্মকেন্দ্রিকতা
  3. লৌকিকতা
  4. ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবন
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৬৩.
বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ কাকে বলা হয়?
  1. মানিক বন্দোপাধ্যয়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাকে বলা হয় বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে: 
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় (১৮৫৯),
- রামারঞ্জিকা (১৮৬০),
- কৃষিপাঠ (১৮৬১),
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত (১৮৭৮) এবং
- বামাতোষিণী (১৮৮১)।

• The Zamindar and Royats প্রবন্ধের রচয়িতা টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে খ্যাত প্যারীচাঁদ মিত্র।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে তিনি এই প্রবন্ধটি রচনা করেন।

• ইংরেজি গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
- A Biographical Sketch of David Hare (১৮৭৭),
- The Spiritual Stray Leaves (১৮৭৯),
- Stray Thought of Spiritualism (১৮৭৯),
- Life of Dewan Ramkamal Sen (১৮৮০) এবং
- Life of Coles Worthy Grant (১৮৮১)।

• তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

• তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৬৪.
'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি' -চরণ দুটির রচয়িতা কে? 
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা
• 'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি' পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত। 

• মদনমোহন তর্কালঙ্কার: 
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
-  তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ: 
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)। 

আমার পণ- কবিতা, 
--------------মদনমোহন তর্কালঙ্কার। 

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬৫.
'আগষ্টের একরাত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'আগষ্টের একরাত' উপন্যাসের রচয়িতা- সেলিনা হোসেন। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- জলোচ্ছ্বাস, হাঙর নদী গ্রেনেড, যাপিত যৌবন, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা, খুন ও ভালোবাসা ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৬৬.
‘ব্রাহ্মণ-রােমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরী
  2. খ) ব্রাসি হ্যালহেড
  3. গ) মনোএল দা আসুসাম্পসাঁউ
  4. ঘ) দোম আন্তোনিও
ব্যাখ্যা
বাঙালী খ্রিষ্টান দোম আন্তোনিও রচিত ‘ব্রাহ্মণ-রােমান-ক্যাথলিক সংবাদ’ একটি ধর্মীয় বিতর্কমূলক গ্রন্থ। 
- আন্তোনিও ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায়  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

দোম আন্তোনিও (১৭শ-১৮শ শতক) বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের  ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য। তাঁর প্রকৃত নাম ও উপাধি জানা যায় না। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৬৭.
‘প্রথম আলো' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. মতিউর রহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়:
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কবি ও উপন্যাসিক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্যে একটি শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছিলেন।
- তবে কবি হিসেবে তাঁর পরিচিতির চেয়ে ঔপন্যাসিক হিসেবে বেশি খ্যাতিলাভ করেছিলেন।
- সমকালীন জীবনের চিত্র ফুটিয়ে তুলতে তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায়। 
- কবিতা দিয়ে তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু।
- তাঁর প্রথম কবিতা 'একটি চিঠি' প্রকাশিত হয়েছিল 'দেশ' পত্রিকায় ১৯৫১ সালে।
- তাঁর রচিত ছোটগল্প 'খাঁচা' প্রথম প্রকাশিত হয় রমাপদ চৌধুরী সম্পাদিত 'ইন্দানীং' পত্রিকায়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'আত্মপ্রকাশ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য গ্রন্থগুলো হল:
- একা এবং কয়েকজন',
- 'হঠাৎ নীরার জন্য',
- 'ভোর বেলার উপহার',
- 'সাদা পৃষ্ঠা', 'তোমার সঙ্গে',
- 'সেই মুহূর্তে নীরা',
- 'কায়দাটা শিখে নেবে' ইত্যাদি ।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাসগুলো হল:
- 'আত্মপ্রকাশ',
- 'ছায়া দর্শন',
- 'অন্য জীবনের স্বাদ',
- 'স্বপ্ন সম্ভব',
- 'সুনীলের সাতদিন',
- 'বাণী ও অবিনাশ',
- 'প্রথম আলো'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
৭,৮৬৮.
আধুনিক বাংলা কবিতা সৃষ্টিতে যে পাঁচজন কবি বিখ্যাত তাদের অন্তর্ভূক্ত নন কে?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

বাঙলা ভাষায় যারা আধুনিক বাংলা কবিতা সৃষ্টি করেছিলেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন প্রধান।
- রবীন্দ্রনাথের পর তাঁরাই বাঙলার প্রধান কবি।
তাঁর হচ্ছেন- 
- বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪)
- জীবনানন্দ দাস (১৮৯৯- ১৯৫৪)
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত (১৯০১-১৯৬০)
- বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২)
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬)
এ পাঁচজন মিলে সৃষ্টি করেছেন বাংলা ভাষায় আধুনিক কবিতা। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৭,৮৬৯.
কাজী মোতাহার হোসেন শিখা পত্রিকার কত তম সংখ্যার সম্পাদক?
  1. ক) ১ম
  2. খ) ২য়
  3. গ) ৩য়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
• শিখা পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এটি বার্ষিক পত্রিকা ছিল।
- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- দ্বিতীয় (১৯২৮) ও তৃতীয় সংখ্যার (১৯২৯) সম্পাদক কাজী মোতাহার হোসেন।
- চতুর্থ সংখ্যার (১৯৩০) সম্পাদক ছিলেন আবদুর রশিদ।
- পঞ্চম সংখ্যার (১৯৩১) সম্পাদক ছিলেন আবুল ফজল।

- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ক) রাধা
  2. খ) কৃষ্ণ
  3. গ) বড়াই
  4. ঘ) কালকেতু
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বৈষ্ণব কাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু। এই কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (রাধাকৃষ্ণের প্রেমের দূতি)। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কালকেতু।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৮৭১.
'হে মহাজীবন' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ঘুম নেই
  2. ছাড়পত্র
  3. পূর্বাভাস
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
• 'হে মহাজীবন' কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতার।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপ-

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

----------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ-
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা
'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
- কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি।মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামেও পরিচিত।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- 'পদ্মরাগ' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৩.
'মৈথিল কোকিল' নামে খ্যাত কে?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. চণ্ডীদাস
  3. আলাওল
  4. কালিদাস
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৭৪.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'। 
​- পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।

​-----------------------
• কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবন্মগ বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৭৫.
'প্রিয়দর্শী' ছদ্মনামে কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল 
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আব্দুল মানান সৈয়দ 
  4. কাজী ইমদাদুল হক 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৮৭৬.
"তুরস্ক ভ্রমণ" গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
"তুরস্ক ভ্রমণ" এই ভ্রমণ বিষয়ক বইটি লিখেছেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী। তিনি ১৯১০ সালে ইসমাইল হোসেন সিরাজী মিশনের বঙ্গীয় প্রতিনিধি হিসেবে তুরস্ক ভ্রমণ করেন এবং এই সফরের বিস্তারিত বিবরণ তিনি "তুরস্ক ভ্রমণ" গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেন।

------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
-নূরুদ্দীন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "তুরস্ক ভ্রমণ" ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৭.
মনসামঙ্গল কাব্যের কবি নয় -
  1. ক) বিপ্রদাস পিপলাই
  2. খ) কেতকা দাস
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্যধারার প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত, শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল, মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।
- অন্নদামঙ্গলের উল্লেখযোগ্য চরিত্র মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, মালিনী ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- বাংলা মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে মনসামঙ্গল সম্বন্ধেই প্রাচীনতম অস্তিত্বের প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়।
- এ কাব্যের কাহিনি বাংলার আদিম লোকসমাজে প্রচলিত সর্পপূজার ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- সাপের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মনসা লৌকিক ভয়ভীতি থেকেই এ দেবীর উদ্ভব।
- তাঁর অপর নাম কেতকা ও পদ্মাবতী।
- এই দেবীর কাহিনি নিয়ে রচিত কাব্য মনসামঙ্গল নামে পরিচিত।
- কোথাও তা পদ্মাপুরাণ নামেও অভিহিত হয়েছে।
- চাঁদ সদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান। 
- মঙ্গলকাব্য ধারায় মনসামঙ্গল বিশিষ্টতা অর্জন করেছে নিয়তির বিরুদ্ধে মানুষের বিদ্রোহের কাহিনির জন্য। 
- মনসামঙ্গল মূলত পাঁচালি পালা।
- এর কবির সংখ্যা যেমন শতাধিক, মুদ্রিত ও অমুদ্রিত পুথির সংখ্যাও বহু।
- চাঁদ সদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা মনসামঙ্গল কাব্যের গুরত্বপূর্ণ চরিত্র। 
⇒ কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৮.
'আমলার মামলা' নাটকটি লিখেছেন-
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. শওকত ওসমান
  3. জহির রায়হান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'আমলার মামলা' নাটকের রচয়িতা - শওকত ওসমান।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- জাহান্নাম হইতে বিদায়,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- বনি আদম, 
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- আর্তনাদ,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৭৯.
তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কোন বিখ্যাত কবি?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) জসীম উদ্দীন
ব্যাখ্যা
পল্লিকবি জসীম উদ্দীন ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে। এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮০.
বেগম রোকেয়া কখন এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮৭০ সালে গাইবান্ধা জেলায়
  2. ১৮৮১ সালে নীলফামারী জেলায়
  3. ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায়
  4. ১৮৭৯ সালে রংপুর জেলায়
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮১.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পণ
  2. খ) ঢাকা প্রকাশ
  3. গ) রংপুর বার্তাবহ
  4. ঘ) বরিশাল হিতৈষী
ব্যাখ্যা
- রংপুর বার্তাবহ পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমাচার দর্পণ শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত  জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৭,৮৮২.
জসীমউদ্দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) মধুমালা
  2. খ) পল্লীবধূ
  3. গ) বেদের মেয়ে
  4. ঘ) চোখের বালি
ব্যাখ্যা
- জসীমউদ্দীন (১৯০৩-১৯৭৬) ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবীদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয় । অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন। পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী
- হাসু
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৮৩.
ছন্দের বিচারে 'চর্যাপদ' আধুনিক কোন ছন্দে রচিত বলে ধরা হয়?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে 
  2. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  3. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে 
  4. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'চর্যাপদ' রচিত - মাত্রাবৃত্ত ছন্দে।

• 'চর্যাপদ' এর ছন্দ সম্পর্কিত তথ্য:
- চর্যাপদ প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা নিয়ে বিভিন্ন মতভেদ রয়েছে।
- চর্যাপদের ছন্দে সংস্কৃত পজঝটিকা ছন্দের প্রভাব রয়েছে। পজঝটিকা ছন্দের প্রতিটি চরণ ষোল মাত্রার, চরণে চার পর্ব, চার মাত্রা।
- আবার শৌরসেনী প্রাকৃত প্রভাবিত মাত্রাপ্রধান পাদাকুলক ছন্দের সঙ্গেও চর্যার ছন্দের মিল রয়েছে।
- পাদাকুলক ছন্দের চরণও ষোল মাত্রার, প্রতিটি চরণে চার পর্ব, প্রতি পর্বে চার মাত্রা।
- চর্যাপদের ছন্দ মাত্রাবৃত্ত রীতিতে গঠিত হলেও মাত্রাবৃত্তের বর্তমান সুনির্দিষ্ট গণনা পদ্ধতি এতে মানা হয় নি।
- তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা।

৭,৮৮৪.
'ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।।' - পদটির রচয়িতা কে?
  1. কঙ্কণপা
  2. কাহ্নপা
  3. কুক্কুরীপা
  4. কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
• নৌকার উৎপ্রেক্ষা ব্যবহৃত হয়েছে অনেক চর্যায়।
- নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকা একটি সাধারণ উপমা।
- ৮, ১৩, ১৪, ১৫, ১৮ ইত্যাদি সংখ্যক চর্যায় নৌকা চালনা, গুণ টানা, জল সেচা ইত্যাদির যে বিবরণ আছে তাতে মনে হয় নৌকা বাওয়া এদেশের জীবনে একটি জনপ্রিয় বৃত্তি ছিল।

ঘুণ্টি উপাড়ী মেলিলি কাছি।
বাহ তু কামলি সদগুরু পুছি।। (চর্যা নং ৮)

অর্থাৎ, খুঁটি উপড়িয়ে কাছি মেলে দিয়ে, কামলি তুমি সদগুরু জিজ্ঞেস করে বেয়ে চল।
- চর্যাপদে সাগরের উল্লেখ আছে। কিন্তু সাগরের বর্ণনা নেই।

কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৮৮৫.
‘ব্রাহ্মণ রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হেনরি ডিরোজিও
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. দোম অ্যান্তোনিও
  4. হেনরী লুই
  5. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ:
- বাঙালি খ্রিষ্টান দোম অ্যান্তোনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান ক্যাথলিক সংবাদ' (১৭৩৫) একটি ধর্মীয় বিতর্কমূলক গ্রন্থ।
- এক ব্রাহ্মণ ও রোমান ক্যাথলিকের মধ্যে ধর্মালোচনা ও হিন্দু ধর্মের অসারত্ব প্রমাণ এই গ্রন্থটির ধরন এই কথোপকথন জাতীয় রচনার মূল
বিষয়। এই পাণ্ডুলিপি বর্তমানে পর্তুগালে এভোরা শহরের জাতীয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত।
- এই ও গ্রন্থটি মনোএল দ্য আসুম্পসাঁও নামক এক পর্তুগিজ পাদ্রি কর্তৃক পর্তুগিজ ভাষায় অনূদিত হয়।

দোম আন্তোনিও:
- বাংলা গদ্যরীতির প্রথম লেখক ও বাংলায় খ্রিস্টধর্মের প্রচারক।
- আনুমানিক ১৬৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন যশোর-ফরিদপুর অঞ্চলের ভূষণা রাজ্যের রাজ পরিবারের সদস্য।
- আন্তোনিও 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক' সম্বাদ নামে ১২০ পৃষ্ঠার একটি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বাংলা সাধু গদ্যরীতির আদি নিদর্শন হিসেবে খ্যাত।
- ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গ্রন্থটি সুরেন্দ্রনাথ সেনের সম্পাদনায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮৬.
'নবিতুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. লালসালু
  3. সারেং বউ
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা
সারেং বউ:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
• জহির রায়হানের ‘হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের চরিত্র- 'টুনি, মন্তু, মকবুল'। 
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৮৭.
কোনটি হুমায়ূন আহমেদের রচনা নয়?
  1. নামহীন গোত্রহীন 
  2. লীলাবালি
  3. বাদশা নামদার 
  4. শঙ্খনীল কারাগার 
ব্যাখ্যা

 ‘নামহীন গোত্রহীন’ হুমায়ূন আহমেদের রচনা নয়। 
---------------
হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• অনীল বাগচীর একদিন,
• সৌরভ,
•  শ্যামল ছায়া,
• আগুনের পরশমণি,
• ১৯৭১।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- নন্দিত নরকে;  
- শঙ্খনীল কারাগার;
- লীলাবালি;
- বাদশা নামদার;
- দেয়াল।

অন্যদিকে, 
- ‘নামহীন গোত্রহীন’ হলো হাসান আজিজুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি ছোটগল্প সংকলন।
- এতে মুক্তিযুদ্ধকালীন ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ের সাতটি গল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
- এই গল্প সংকলন ১৯৭১ সালের ঘটনাপ্রবাহ ও প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৮৮.
আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম -
  1. বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা
  2. এ যুগের বিজ্ঞান
  3. এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে
  4. বিজ্ঞান ও মানুষ
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতীর সম্পূর্ণ নাম: আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন।
- তিনি ছিলেন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক। 
- আবদুলাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- 'মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম "এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

​তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি,

​​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৮৯.
‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'- গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. গ) আবদুল হাই
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দীন (১৯০৩-১৯৯৮) রচিত গ্রন্থ হলো এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, সাগরের রহস্যপুরী, তারার দেশের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৮৯০.
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপের স্রষ্টা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. শামসুর রাহমান
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
‘এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।’- সংলাপটি মুনীর চৌধুরী রচিত ‘কবর’ নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• ‘কবর’ নাটক:

- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

----------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৯১.
"হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!" কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) ঝরাপালক
  2. খ) ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. গ) মহাপৃথিবী
  4. ঘ) রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা
'হায় চিল' কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশের 'মহাপৃথিবী' কাব্যগ্রন্থের 'হায় চিল' কবিতার অন্তর্গত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই কবিতার সঙ্গে ইয়েটস এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল আছে। 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে-উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!
হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদো নাকো ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!

উৎস: হায় চিল, জীবনানন্দ দাশ এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৯২.
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস কোনটি?
  1. রিক্তের বেদন
  2. পদ্মগোখরা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

অন্যদিকে,
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'রিক্তের বেদন' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'সিন্ধু হিন্দোল' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৯৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায় অভিহিত করেছেন?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. রাজা রামমোহন রায় 
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্য ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান:
- বাংলা গদ্যকে সাহিত্যের বাহনের মর্যাদায় উন্নীত করলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর(১৮২০-৯১)। ভাব ও বিষয় অনুসারে বাক্যবিন্যাস এবং ইংরেজি ভাষার আদলে বিভিন্ন বিরাম-চিহ্নের ব্যবহার করে বাংলা গদ্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বও তাঁর৷

- বাংলা গদ্যের অবয়ব-নির্মাণে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন। গদ্যের অনুশীলন পর্যায়ে বিদ্যাসাগর সুশৃঙ্খলতা, পরিমিতিবোধ ও ধ্বনিপ্রবাহে অবিচ্ছিন্নতা সঞ্চার করে বাংলা গদ্যরীতিকে উৎকর্ষের এক উচ্চতর পরিসীমায় উন্নীত করেন। সেজন্য বাংলা গদ্যশেলার উদ্ভবের পয়তাল্লিশ বৎসর পরে লেখ ধারণ করা সত্ত্বেও তাঁকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়ে থাকে। বস্তুতপক্ষে, বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- মাইকেল মধুসূদনের মতে, 'প্রাচীন ঋষির জ্ঞান ও প্রতিভা, ইংরেজের কর্মশক্তি এবং বাঙালি মায়ের হৃদয় দিয়ে তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠিত।' 
- রবীন্দ্রনাথ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে অভিহিত করেছেন বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী অভিধায়। তবে বিদ্যাসাগর সৃষ্টিশীল সাহিত্যিক ছিলেন না। তিনি প্রধানত অনুবাদক, পাঠ্যগ্রন্থ প্রণেতা এবং শিক্ষা-সমাজ সাহিত্য বিষয়ের প্রবন্ধকার।

তাঁর অনুদিত ও রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে: 
- বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), 
- শকুন্তলা (১৮৫৪),
- সীতার বনবাস (১৮৬০),
- ভ্রান্তিবিলাস (১৮৬৯),
- বাঙ্গালার ইতিহাস (১৮৪৮),
- জীবনচরিত(১৮৪৯),
- সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য শান্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৫৩),
- বিদ্যাসাগর চরিত (১৮৯১) ইত্যাদি ।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম। 

৭,৮৯৪.
বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে; বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী ,
- বিষবৃক্ষ ,
- ইন্দিরা ,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী,
- সীতারাম,

প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- লোকরহস্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ সমালোচনা,
- প্রবন্ধ-পুস্তক,
- সাম্য,
- কৃষ্ণ চরিত্র,
- বিবিধ প্রবন্ধ,
- মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত (ব্যাঙ্গ)।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৮৯৫.
'রাইচরণ' কোন নাটকের (ছোটগল্প) চরিত্র?
  1. ক) খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  2. খ) শাস্তি
  3. গ) সধবার একাদশী
  4. ঘ) একরাত্রি
ব্যাখ্যা
- 'নীলদর্পণ' (১৮৬০) নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র।
- নাটকটিতে তিনি বাংলার কৃষকদের উপর ব্রিটিশ নীলকরদের নিষ্ঠুর অত্যাচারের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র- গোলক বসু, নবীন মাধব, রাইচরণ, তোরপ, সাবিত্রী, সরলতা, ক্ষেত্রমণি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রাইচরণ চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের - খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন গল্পে।

অপশানে ‘নীলদর্পণ’ নাটকের নাম না থাকায় কাছাকাছি উত্তর হিসেবে ‘খোকাবাবুর প্রত্যাবর্ত‘ গল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৮৯৬.
বঙ্কিমচন্দ্রের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) দুর্গেশনন্দিনী
  2. খ) দেবী চৌধুরাণী
  3. গ) কপালকুণ্ডলা
  4. ঘ) কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণকান্তের উইল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সামাজিক উপন্যাস। এটি বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত। রোহিনী, ভ্রমর ও গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৮৯৭.
"সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।" - এই পঙ্‌ক্তি দুটির রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হরিনাথ মজুমদার
  3. মদনমোহন তর্কালঙ্কর
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

• "সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।" - পঙ্‌ক্তি দুটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার এর 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্গত।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- তিন খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর শিশু শিক্ষা (১৮৪৯ ও ১৮৫৩) শিশুদের উপযোগী একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ।
- ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল’ শিশুপাঠ্য এই বিখ্যাত কবিতাটি তাঁরই রচনা।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ:
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬)।

আমার পণ-
মদনমোহন তর্কালঙ্কার

সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি,
সারাদিন আমি যেন ভাল হয়ে চলি।
আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে,
আমি যেন সেই কাজ করি ভাল মনে।
ভাইবোন সকলেরে যেন ভালবাসি,
এক সাথে থাকি যেন সবে মিলেমিশি।
ভাল ছেলেদের সাথে মিশে করি খেলা,
পাঠের সময় যেন নাহি করি হেলা।
সুখী যেন নাহি হই আর কারো দুখে,
মিছে কথা কভু যেন নাহি আসে মুখে।
সাবধানে যেন লোভ সামলিয়ে থাকি,
কিছুতে কাহারে যেন নাহি দেই ফাঁকি।
ঝগড়া না করি যেন কভু কারো সনে
সকালে উঠিয়া এই বলি মনে মনে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৮৯৮.
'সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন' চরণটি কোন কবির রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. জীবননান্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

• 'সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন' চরণটি কবি জীবননান্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতার অন্তর্গত। 

বনলতা সেন

জীবননান্দ দাশ
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রং নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে— সব নদী— ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি। তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল
বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'বনলতা সেন' কবিতা।

৭,৮৯৯.
হাসান আজিজুল হকের জীবনাবসান ঘটে -
  1. ১৫ নভেম্বর ২০২১
  2. ১৫ নভেম্বর ২০২২
  3. ১৫ নভেম্বর ২০১৯
  4. ১৫ নভেম্বর ২০২০
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
-  হাসান আজিজুল হক ১৯৩৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন ।
- হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৭ সালে আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৯৯ সালে একুশে পদক, ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ১৫ নভেম্বর ২০২১ সালে, হাসান আজিজুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গল্প: 
- নামহীন গ্রোত্রহীন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- পাতালে হাসপাতালে,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৯০০.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' - পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• "কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।