বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭৮ / ২১১ · ৭,৭০১৭,৮০০ / ২১,১৩২

৭,৭০১.
"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

"ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?" - চরণগুলোর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম। চরণগুলো "সর্বহারা" কবিতার অন্তর্গত। এবং "সর্বহারা" কবিতাটি "সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

সর্বহারা
-কাজী নজরুল ইসলাম

ব্যথার সাঁতার-পানি-ঘেরা
চোরাবালির চর,
ওরে পাগল! ‌ কে বেঁধেছিস্
সেই চরে তোর ঘর?
শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা
হাট তুলে দে সর্বহারা
মেঘ জননীর অশ্রুধারা
ঝরছে মাথার’ পর,
দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি
দুলিয়ে তরু-কর।।

"সর্বহারা" কাব্যগ্রন্থ:
- সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। সর্বহারা কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি
কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

উৎস: সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

৭,৭০২.
'চোখের বালি’ উপন্যাসে আশালতা কার স্ত্রী?
  1. রাজা
  2. সুধীর
  3. মহেন্দ্র
  4. বিহারী
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০৩.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. রূপসী বাংলা
  2. বনলতা সেন
  3. সাতটি তারার তিমির
  4. সোনালী কাবিন
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয় - সোনালী কাবিন
- এটি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির
- রূপসী বাংলা
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০৪.
'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের- 
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ 
  3. গদ্যগ্রন্থ
  4. কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

- 'মেঘ বলে চৈত্রে যাব' হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস হলেও আহসান হাবীবের কাব্যগ্রন্থ।

• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব (১৯১৭–১৯৮৫) ছিলেন আধুনিক বাংলা কাব্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক।
- ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় আসেন এবং আজাদ, মোহাম্মদী, কৃষক ও ইত্তেহাদসহ নানা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন পাবলিকেশনসে প্রডাকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন।
- পরে দৈনিক পাকিস্তানে যোগ দেন এবং জীবনের শেষ পর্যন্ত দৈনিক বাংলার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি অরণ্য নীলিমা  ও রাণীখালের সাঁকো নামে দুটি উপন্যাস রচনা করেছেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ছায়াহরিণ;
- সারা দুপুর;
- আশায় বসতি;
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো;
- দুহাতে দু আদিম পাথর;
- প্রেমের কবিতা; ও
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

∗ শিশুদের জন্য তাঁর জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে আছে:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প;
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর ও
- ছুটির দিন দুপুরে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

৭,৭০৫.
'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ' কিসের সংকলন?
  1. ক) ছোটগল্পের সংকলন
  2. খ) কাব্যগ্রন্থের সংকলন
  3. গ) গল্পগ্রন্থের সংকলন
  4. ঘ) গানের সংকলন
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার ও গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ফরিদপুরের দক্ষিণ বিক্রমপুরের মগর গ্রামে।
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭০৬.
রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেনের ‘পদ্মরাগ’ কোন ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে ‘পদ্মরাগে’র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না ; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।
এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
• ‘পদ্মরাগ’ গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

-------------------------
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
 
 রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০৭.
বিষ্ণু দে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সাহিত্যপত্র
  2. সুধাকর
  3. প্রবাসী
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে:
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'প্রগতি'।
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা ‘প্রবাসী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭০৮.
"আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - কে লিখেছেন?
  1. রফিক আজাদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আল মাহমুদ
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• "আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন।" - চরণটির রচয়িতা — আল মাহমুদ।

• সোনালী কাবিন- কাব্য;
- আল মাহমুদ।

শ্রমিক সাম্যের মন্ত্রে কিরাতের উঠিয়াছে হাত
হিয়েনসাঙের দেশে শান্তি নামে দেখো প্রিয়তমা,
এশিয়ায় যারা আনে কর্মজীবী সাম্যের দাওয়াত
তাদের পোশাকে এসো এঁটে দিই বীরের তকোমা।
আমাদের ধর্ম হোক ফসলের সুষম বণ্টন,
পরম স্বস্তির মন্ত্রে গেয়ে ওঠো শ্রেণীর উচ্ছেদ,
এমন প্রেমের বাক্য সাহসিনী করো উচ্চারণ
যেন না ঢুকতে পারে লোকধর্মে আর ভেদাভেদ।

উৎস: সোনালী কাবিন- আল মাহমুদ।
৭,৭০৯.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি বলা হয় কাকে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

⇒ ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। এ কাব্যে কবি বলেছেন:
''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

-  রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই  প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটির প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত,
- শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন, 
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১০.
মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয় কোন কাব্যকে?
  1. জীবনী সাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা
মঙ্গলকাব্যকে মধ্যযুগের উপন্যাস বলা হয়। এ কাব্যগুলোতে কবিরা অনেক বড়ো বড়ো কাহিনী বলেছেন। তবে এ-কাহিনী আমাদের মতো মানুষের কাহিনী নয়, এগুলো দেবতাদের কাহিনী। 
একটি মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫ টি অংশ থাকে।
যথা :
- বন্দনা
- আত্মপরিচয়
- দেবখণ্ড
- মর্ত্যখণ্ড
- শ্রুতিফল

মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩ টি।
যথা :
- মনসামঙ্গল
- চণ্ডীমঙ্গল
- অন্নদামঙ্গল

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং  লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।]
৭,৭১১.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৭ সালে
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ:
- আঠারো বছর বয়স কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- ছাড়পত্র,
- আঠারো বছর বয়স,
- রানার,
- হে মহাজীবন।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৭১২.
বুদ্ধদেব বসু কবি জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. চিত্ররূপময় কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. নির্জনতার কবি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য উপাধিগুলো হলো-
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- শুদ্ধতম কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১৩.
'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি কোন সাহিত্যিকের?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি।
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
- রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি দেন।



উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১৪.
"জন্মিলে মরিতে হবে
অমর কে কোথা কবে।"
- কার লেখা?
  1. ক) ঈশ্বরগুপ্ত
  2. খ) মাইকেল
  3. গ) বিহারীলাল
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
এটি 'বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার অংশ। এটি মাইকেল মধুসূদের লেখা। 

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৭,৭১৫.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের সাহিত্যিক নিদর্শন নয়?
  1. জঙ্গনামা
  2. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  3. শূন্যপুরাণ
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- চর্যাপদের পরে প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না।
- তাই এ সময়টাকে (১২০১-১৩৫০) কেউ কেউ ‘অন্ধকার যুগ’ বলে অভিহিত করেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল।
- এ যুগের প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৩শ-১৪শ শতকের রামাই পন্ডিতের গাথাজাতীয় রচনা - শূন্যপুরাণ
- এতে বৌদ্ধদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার, মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ ইত্যাদি ঘটনার বর্ণনাসম্বলিত ‘নিরঞ্জনের রুষ্মা’ শীর্ষক একটি কবিতা আছে।
- এছাড়া আছে অপভ্রংশ ভাষায় রচিত প্রাকৃতপৈঙ্গল নামক একটি গীতিকবিতার সংকলন, যার ছন্দ ও ভাষা প্রাকৃত বা আদি পর্যায়ের বাংলা।

'জঙ্গনামা' কাব্য:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বাংলা সাহিত্যে ‘জঙ্গনামা’ বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১৬.
"এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।"- উক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• 'একুশের গল্প':
- "একুশের গল্প" জহির রায়হানের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত। এটি তাঁর গল্পগ্রন্থ "সূর্যগ্রহণ" (১৯৫৫) এবং গল্প সংকলন "জহির রায়হান রচনাবলী" (২য় খণ্ড, ১৯৮১) এর অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

- গল্পটি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগ, বন্ধুত্ব এবং স্মৃতির মাধ্যমে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা ফুটিয়ে তোলে।

- গল্পের প্রধান চরিত্র- তপু, রেণু ও রাহাত। এক উদ্দাম, প্রাণবন্ত তরুণ ভাষা শহিদ হয়; কিন্তু পুলিশ তাঁর লাশ গুম করে ফেলে। পরবর্তীতে তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে। এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি (২য় খণ্ড) থেকে নেওয়া হয়েছে।

এ গল্পের উল্লেখযোগ্য কিছু সংলাপ:
- "এ পথের যদি শেষ না হতো কোনোদিন; অনন্তকাল ধরে এমনি চলতে পারতাম আমরা।"
- "ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।"
- "পলকহীন চোখজোড়া দিয়ে অশ্রুর ফোয়ারা নেমেছিলো তার।"
- "তপুকে আবার ফিরে পাবো, এ কথা ভুলেও ভাবিনি কোনো দিন। তবু সে আবার ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে।"

------------------
জহির রায়হান রচিত অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- সোনার হরিণ;
- সময়ের প্রয়োজনে;
- একটি জিজ্ঞাসা;
- হারানো বলয়;
- বাঁধ;
- সূর্যগ্রহণ;
- নয়া পত্তন;
- মহামৃত্যু;
- ভাঙাচোরা;
- অপরাধ;
- স্বীকৃতি;
- অতি পরিচিত;
- ইচ্ছা অনিচ্ছা;
- জনন্মান্তর।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ ও 'একুশের গল্প' জহির রায়হান।

৭,৭১৭.
'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম কী?
  1. ক) জ্ঞানপ্রদীপ
  2. খ) রসুল চরিত
  3. গ) জ্ঞানচৌতিশা
  4. ঘ) সত্যপীরের পুথি
ব্যাখ্যা
- 'নবীবংশে'র দ্বিতীয় খণ্ডের নাম- রসুল চরিত। 

সৈয়দ সুলতান
- সৈয়দ সুলতান ১৫৫০ সালে চট্টগ্রামের পটিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি। 
- তিনি পীর সৈয়দ হাসানের ভক্ত ছিলেন। 
- 'নবীবংশ' গ্রন্থটি রচনার জন্য বিখ্যাত হয়েছেন। 
- 'নবীবংশ' কাব্যটি পারসি কাব্য কাসাসুল আম্বিয়া কাব্যের অনুসরণে রচিত হয়। 
- এটি ১৫৮৪ সালে রচনা করেন যা হযরত মুহম্মদের জীবনীকাব্য নিয়ে রচিত।
- মধ্যযুগে রচিত  হযরত মুহম্মদের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে 'রসুল চরিত'ই শ্রেষ্ঠ কাব্য। 
- জ্ঞানপ্রদীপ ও জ্ঞানচৌতিশা তার রচিত গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৭,৭১৮.
'কাল নিরবধি' স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
- 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'।
- আনিসুজ্জামান স্মৃতিকথা লিখেছেন তিনটি: ১. আমার একাত্তর (১৯৯৭) ; ২. কাল নিরবধি (২০০৩) ; ৩. বিপুলা পৃথিবী (২০১৫)।
- 'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।

আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান।
- এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭১৯.
বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা বিষয়ক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) কবিতা
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধদেব বসু ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- কবিতাবিষয়ক ‘কবিতা’ পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

- পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• কবিতা বন্দীর বন্দনা,
• কঙ্কাবতী,
• দ্রৌপদীর শাড়ী,

উপন্যাস
• লাল মেঘ,
• রাতভর বৃষ্টি,
• পাতাল থেকে আলাপ ,
• গোলাপ কেন কালো;

গল্পগ্রন্থ
• অভিনয়, অভিনয় নয়,
• রেখাচিত্র,
• ভাসো আমার ভেলা।

নাটক
- তপস্বী ও তরঙ্গিণী,
- কলকাতার ইলেকট্রা, সত্যসন্ধ ;
• প্রবন্ধ: কালের পুতুল , সাহিত্যচর্চা  ইত্যাদি।

• তপস্বী ও তরঙ্গিণী নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া স্বাগত বিদায় কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন। ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২০.
‘রূপাই’ চরিত্রটি কোন কবির সৃষ্টি?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জসীমউদ্‌দীন
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• ‘রূপাই’ চরিত্রের স্রষ্টা জসীমউদ্‌দীন। 
- ‘রূপাই’ জসীমউদ্‌দীন রচিত 'নক্সীকাঁথার মাঠ' কাহিনি কাব্যের অন্তর্ভুক্ত একটি চরিত্র।

----------------------
• নক্সী কাঁথার মাঠ:

- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' (১৯২৯) জসীমউদ্‌দীন রচিত কাহিনি কাব্য বা গাথা কাব্য।
- এই গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা।
- দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীমউদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন।
- গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।

-----------------
• জসীমউদ্‌দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ। তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত জনপ্রিয় খণ্ড কবিতার সংকলন:
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- ধানখেত,
- মাটির কান্না,
- সুচয়নী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২১.
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. আয়েশা
  2. বিমলা
  3. তিলোত্তমা
  4. রাজলক্ষ্মী
ব্যাখ্যা
'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক বলে স্বীকৃত।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, তিলোত্তমা, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র - তিলোত্তমা

অন্যদিকে,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের নারি চরিত্র - রাজলক্ষ্মী।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- চন্দ্রশেখর,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২২.
'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. তারেক মাসুদ
  4. শওকত ওসমান
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নিষিদ্ধ লোবান' - সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
-------------------
‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাস:
• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' (১৯৮১) উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নারী নির্যাতন, লিবিডো ক্রিয়া, লালসা ও রিরংসাবৃত্তির অভীপ্সা অভিব্যঞ্জিত হয়েছে।
• ‘নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।

• ‘নিষিদ্ধ লোবান’ উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
এ উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে বিলকিস নামের এক নারীকে নিয়ে যে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তার পিতামাতা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন, ঘরবাড়ি হারায়। তার স্বামী নিখোঁজ হয়ে যায়। ঘটনাচক্রে তার সঙ্গে পরিচয় হয় প্রদীপকুমার তথা সিরাজের। পাকিস্তানি সৈন্যরা যখন তাদের গুলিতে নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের লাশ দাফনে নিষেধাজ্ঞা জারি করে তখন রাতের অন্ধকারে লাশগুলো দাফন করতে গিয়ে তারা পাকিস্তানি মিলিটারির হাতে ধরা পড়ে। কিন্তু অভাবনীয়ভাবে বিলকিস প্রতিবাদে অবিচল থাকে।

উৎস: ‘নিষিদ্ধ লোবান’ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭,৭২৩.
শহীদুল্লাহ কায়সারের ‘সারেং বৌ’ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. জোহরা
  2. জয়গুন
  3. নবিতুন
  4. জমিলা
ব্যাখ্যা
• 'নবীতুন' চরিত্রটি শহীদুল্লা কায়সারের — 'সারেং বৌ' উপন্যাসের অন্তর্গত।

• 'সারেং বৌ' উপন্যাস:
- শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বৌ।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।

অন্যদিকে, 
• মোজাম্মেল হকের ‘জোহরা' উপন্যাসের চরিত্র- 'জোহরা'। 
• আবু ইসহাকের 'সূর্য দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা।
------------------------ 
শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
--------------------------------
• শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস সারেং বউ ও সংশপ্তক।
- তাঁর 'সারেং বউ' উপন্যাসের চরিত্র কদম সারেং ও তাঁর স্ত্রী নবিতুন।
- এ উপন্যাসে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপদের বিশ্বস্ত চিত্র আছে।
- এছাড়াও পুরো উপন্যাস জুড়ে রয়েছে নবিতুনের সংগ্রামী জীবন কাহিনী।
--------------------------
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা, 
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)। 

স্মৃতিকথা:
রাজবন্দীর রোজনামচা। 

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭২৪.
'ক্ষুদ্র শত্রু ভবি লােকে অবহেলা যারে,/বহুবিধ সঙ্কটে সে ফেলাইতে পারে।' কবিতার লাইন দুটি কার রচনা?
  1. ক) ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
উপরের উল্লেখিত পংক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত সিংহ ও মশক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 

বিবিধ: সিংহ ও মশক

"হইল বিষম রণ, তুলনা না মিলে;
ভীম দুর্য্যোধনে,
ঘোর গদা-রণে,
হ্রদ দ্বৈপায়নে,
তীরস্থ সে রণ-ছায়া পড়িল সলিলে;
ডরাইয়া জল-জীবী জল-জন্তুচয়ে,
সভয়ে মনেতে ভাবিল,
প্রলয়ে বুঝি এ বীরেন্দ্র-দ্বয় এ সৃষ্টি নাশিল!

মেঘনাদ মেঘের পিছনে,
অদৃশ্য আঘাতে যথা রণে;
কেহ তারে মারিতে না পায়,
ভয়ঙ্কর স্বপ্নসম আসে,—এসে যায়,
জর-জরির শ্রী রামের কটক লঙ্কায়।
কভু নাকে, কভু কাণে,
ত্রিশূল-সদৃশ হানে
হুল, মশা বীর।
না হেরি অরিরে হরি,
মুহুর্মুহু নাদ করি,
হইলা অধীর।
হায়! ক্রোধে হৃদয় ফাটিল;—
গত-জীব মৃগরাজ ভূতলে পড়িল!

ক্ষুদ্র শত্রু ভাবি লোক অবহেলে যারে,
বহুবিধ সঙ্কটে সে ফেলাইতে পারে;—
এই উপদেশ কবি দিলা অলঙ্কারে।"
৭,৭২৫.
কাশীরাম দাস রচিত মহাভারতের নাম কী?
  1. ক) ভারত পাঁচালী
  2. খ) বিজয়পাণ্ডবকথা
  3. গ) পরাগলী মহাভারত
  4. ঘ) ভারতমাতা
ব্যাখ্যা

'মহাভারত' এর শ্রেষ্ঠ অনুবাদক কাশীরাম দাস। তার কাব্যের নাম 'ভারত পাঁচালী'।
মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
মহাভারত' এর মূল রচয়িতা কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৭২৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কত সালে প্রথম 'সংবাদ প্রভাকর' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৩৬ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৭২৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল-
  1. ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান
  2. ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আধুনিকতা
  3. ধর্মটাই মুখ্য ও স্বাজাত্যবোধ
  4. মানুষ গৌণ ও অন্ধবিশ্বাস
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. প্রাচীন যুগ,
২. মধ্যযুগ,
৩. আধুনিক যুগ।

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৭২৮.
মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চর্যাপদ
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় রচিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' মধ্যযুগের প্রথম কাব্য লোকসমাজে প্রচলিত রাধাকৃষ্ণ প্রেম-সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে রচিত।
- এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।
- বাংলা সাহিত্যে এক নতুন অধ্যায়ের সংযোজন ঘটনা বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র-বংশজাত দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র:
- এই গ্রন্থের প্রধান চরিত্র তিনটি।
- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭২৯.
শওকত ওসমানের রচনা নয় কোনটি?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প
  3. জাহান্নাম হইতে বিদায়
  4. ক্রীতদাসের হাসি
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমানের রচনা নয় - জাহান্নাম হইতে বিদায়। কারণ, এখানে বইটির নামের বানানে ভুল রয়েছে।
- বইটির শুদ্ধ নাম হবে- জাহান্নম হইতে বিদায়।


--------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল, 
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক, 
- উভশৃঙ্গ, 
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৩০.
'শাহনামা' -এর লেখক কে?
  1. ক) কবি ফেরদৌসী
  2. খ) মওলানা রুমী
  3. গ) কবি নিজামী
  4. ঘ) কবি জামি
ব্যাখ্যা
‘শাহনামা (''Book of Kings'')’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি - ফেরদৌসী (Ferdowsī)।
- এটি ফারসি ভাষায় রচিত হয়েছে।
- এই মহাকাব্যটি পারস্যের বা ইরানের অন্যতম প্রসিদ্ধ সাহিত্য।

উৎস: ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া।
৭,৭৩১.
পল্লীকবি জসীমউদ্দিন রচিত একমাত্র উপন্যাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাখালী
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. গ্রামের মেয়ে
  4. বোবা কাহিনী
ব্যাখ্যা
'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীমউদ্দিন রচিত একমাত্র উপন্যাস গ্রন্থ।
-----------------
কবি, শিক্ষাবিদ জসীমউদ্দীন এর জন্ম ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে । তাঁর পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে। পিতা আনসারউদ্দীন মোল্লা ছিলেন একজন স্কুল শিক্ষক। 
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- জসীমউদ্দীন সাহিত্যের নানা শাখায় কাজ করেছেন, যেমন গাথাকাব্য, খন্ডকাব্য, নাটক, স্মৃতিকথা, শিশুসাহিত্য, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ
- রাখালী (১৯২৭)
- নকশী কাঁথার মাঠ (১৯২৯)
- বালুচর (১৯৩০)
- ধানখেত (১৯৩৩)
- সোজন বাদিয়ার ঘাট (১৯৩৪)
- হাসু (১৯৩৮)
- রুপবতী (১৯৪৬)
- মাটির কান্না (১৯৫১)
- এক পয়সার বাঁশী (১৯৫৬)
- সখিনা (১৯৫৯)
- সুচয়নী (১৯৬১)
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে (১৯৬২)
- মা যে জননী কান্দে (১৯৬৩)
- হলুদ বরণী (১৯৬৬)
- জলে লেখন (১৯৬৯)
- পদ্মা নদীর দেশে (১৯৬৯)
- কাফনের মিছিল (১৯৭৮)
- মহরম
- দুমুখো চাঁদ পাহাড়ি (১৯৮৭)

নাটক
- পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬)
- গ্রামের মায়া (১৯৫৯)

উপন্যাস
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪)

উৎস: : উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া
৭,৭৩২.
চর্যাপদের কবিরা কী ছিলেন?
  1. ক) কৃষক
  2. খ) লাঠিয়াল
  3. গ) বাউল সাধক
  4. ঘ) রাজ সভাসদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের কবিতাগুলো সহজে পড়ে বোঝা যায় না৷ কবিরা আসলে কবিতার জন্য কবিতা রচনা করেন নি; এজন্যই এত অসুবিধা৷
আমাদের প্রথম কবিরা ছিলেন গৃহহীন বৌদ্ধ বাউল সাধক৷ তাদের সংসার ছিলো না। তারা সাধনা করতেন গোপন তত্ত্বের।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ

৭,৭৩৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
  1. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী
  4. শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩৪.
ছদ্মনামসহ মূল নামের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মণীশ ঘটক - চিত্রগুপ্ত
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় - সুনন্দ
  3. বিমল মিত্র- দৃষ্টিহীন
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী- যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।

আবার,
'দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৩৫.
বত্রিশ সিংহাসনের রচয়িতা কে?
  1. ক) গোলকনাথ শর্মা
  2. খ) রাম রাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) মদন মোহন তর্লালঙ্কার
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা
৭,৭৩৬.
প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. রায়তের কথা
  2. তেল-নুন-লকড়ি
  3. বীরবলের হালখাতা
  4. চার ইয়ারী কথা
ব্যাখ্যা

• 'চার ইয়ারী কথা':
- 'চার ইয়ারী কথা' প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি।
- গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়।
- গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
- এটিতে ভাষার চাতুর্য, পরিহাসপ্রিয়তা এবং সূক্ষ্ম ব্যঙ্গ উদ্ভাসিত হয়েছে ভাবালু প্রেমকাহিনী প্রতিবাদী রূপে।

-----------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- নানাকথা,
- নানাচর্চা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৩৭.
'নিতাই' তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. রাধা
  2. পঞ্চপুণ্ডলী
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. কবি
ব্যাখ্যা
'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে - নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩৮.
নেমেসিস নাটকটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শনিবারের চিঠি
  2. খ) মোসলেম ভারত
  3. গ) লাঙল
  4. ঘ) নতুন কবিতা
ব্যাখ্যা
- নেমেসিস নাটকটি 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• নেমেসিস: 
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

• নুরুল মোমেন: 
-  নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক রূপান্তর ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটক শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত। 
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস
- নয়া খান্দান, 
- আলোছায়া ,
- আইনের অন্তরালে , 
- শতকরা আশি , 
- রূপলেখা , 
- যেমন ইচ্ছা তেমন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩৯.
'সমস্যা ও সমাধান' গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. মাওলানা আকরম খাঁ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
মাওলানা আকরম খাঁ:
- মাওলানা আকরম খাঁ ১৮৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮ই অগস্ট, ১৯৬৮ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- হজরত মোহাম্মদ-এর (স.) জীবনী 'মোস্তফা চরিত,
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস, 
- আমপারার বঙ্গানুবাদ,
- সমস্যা ও সমাধান,
- মুক্তি ও ইসলাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪০.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) যোগাযোগ
  2. খ) বলাকা
  3. গ) ঘরে বাইরে
  4. ঘ) শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ)।
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
- রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা
- বৌ-ঠাকুরাণীর হাট
- রাজর্ষি
- চোখের বালি
- নৌকাডুবি
- প্রজাপতির নির্বন্ধ
- গোরা
- ঘরে বাইরে
- চতুরঙ্গ
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা
- মালঞ্চ
- চার অধ্যায়

- 'বলাকা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪১.
'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'অপরিচিতা' গল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোট গল্প।
- "অপরিচিতা” প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়। এটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় রবীন্দ্রগল্পের সংকলন 'গল্পসপ্তক'-এ এবং পরে, 'গল্পগুচ্ছ' তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৪২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন উপন্যাসে দেশভাগের পটভূমি রয়েছে?
  1. সুতীর্থ
  2. জলপাইহাটি
  3. মাল্যবান
  4. বাসমতীর উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• ‘জলপাইহাটি’ উপন্যাস:
দেশভাগের পটভূমিতে জীবনানন্দ দাশের লেখা দীর্ঘ উপন্যাস ‘জলপাইহাটি’। এখানেও চরিত্র একজন নাজুক মানুষ, যিনি অধ্যাপনা করেন। একদিন যিনি জলাপাইহাটি ছেড়ে কলকাতায় ফেরার স্বপ্ন দেখেন। জলাপাইহাটি নামে আদৌ কোনো শহর আছে? উপন্যাসে জীবনানন্দ কল্পিত যে মফস্বল শহরের জীবন-ছবি এঁকেছেন, মনে গাঢ় দাগ রেখে যায়।

অন্যদিকে,
--------------------
• ‘সুতীর্থ’ জীবনানন্দ দাশের সবচেয়ে দীর্ঘ উপন্যাস। এখানে রয়েছে দাম্পত্যের শীতল ছবি ও অভাবের গল্প। একগ্লাস ঠাণ্ডা দুধ খাওয়ার ছবি দিয়ে উপন্যাস শুরু হয়। লম্বা সময় ধরে খাওয়া চলে। তিনি ঝরা ও গলিত সময়ের কথা বলছেন। যে সময়ও তার অভিঘাত আমরা খালি চোখে দেখতে পাই না, কেবল অনুভব করতে পারি।

• কলকাতা শহরের শীতের বর্ণনা দিয়ে জীবনানন্দের ‘মাল্যবান’ শুরু হয়েছে, শেষ হয় শীত ফুরোবে না উপমা দিয়ে; মাঝখানে বীভৎস এক জীবনের গল্প। পড়তে পড়তে হৃদয় কেঁপে কেঁপে থেঁতলে যায়। সামান্য একটি উপন্যাসের পরিসরে এত আলো ও অন্ধকার, এত গোলকধাঁধা, গলিঘুঁজি ও হাওয়া বয়ে চলে, থেমে থেমে এগোতে হয়। পাঠ থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকতে হয়। মাল্যবান চরিত্রটি কী ভয়ানক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে জীবনকে বয়ে নিয়ে চলে, তবু সে সংসার থেকে কেটে পড়ে না। কিভাবে পেরে ওঠে? এসব ভেবে শ্বাস ঘন হয়ে আসে। বুকের বাতাস থেমে যায়।

• ‘বাসমতীর উপাখ্যান’ উপন্যাস পড়তে ধরলে মনে হয়, বরিশালের জীবনের কথা তিনি লিখছেন। একপর্যায়ে বলছেন, কারুবাসনা আমার সব সাফল্য নষ্ট করেছে।

---------------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- জলপাইহাটি,
- জীবনপ্রণালী,
- বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "জলপাইহাটি" ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার রিপোর্টস। 

৭,৭৪৩.
‘মুক্তল হোসেন’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’ (১৫৭০)।
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৪.
'পূর্বাভাস' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• "পূর্বাভাস" একটি বিখ্যাত বাংলা কাব্যগ্রন্থ, যা সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন। এটি মূলত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যেখানে সমাজের প্রতিচ্ছবি এবং নিপীড়িত মানুষের কষ্টের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে।  

-------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:

- 'কিশোর কবি' সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৫.
সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে রচিত শওকত আলীর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) যাত্রা
  2. খ) প্রদোষে প্রাকৃতজন
  3. গ) পিঙ্গল আকাশ
  4. ঘ) ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

শওকত আলীর ঐতিহাসিক উপন্যাস 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪)।
এর পটভূমি দ্বাদশ শতকের প্রথম ভাগের বাংলা। ১২০৪ সালে তুর্কি সেনাপতি বখতিয়ার খিলজি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূত্রপাতের পটভূমিতে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ডঃ. সৌমিত্র শেখর।

৭,৭৪৬.
'বিবিধ প্রবন্ধ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
বিবিধ প্রবন্ধ:
- (১ম খণ্ড ১৮৮৭, ২য় খণ্ড ১৮৯২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধাবলি।
- প্রথম খণ্ডের বিষয়বস্তু মূলত সাহিত্যকেন্দ্রিক।
- বাংলা সমালোচনা সাহিত্যের ইতিহাসে এই প্রবন্ধগুলির ঐতিহাসিক মূল্য রয়েছে।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস বিষয়ে অনেকগুলি প্রবন্ধ আছে।
- এই প্রবন্ধগুলোতেও বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধ রচনার নির্দিষ্ট পথে বাংলা প্রবন্ধের গুরুত্বপূর্ণ পথ সূচনা করলেন।
- 'বিবিধ প্রবন্ধ' (১৮৯৫) নামে ভূদেব মুখোপাধ্যায়েরও একটি প্রবন্ধ সংকলন আছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
- তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট।
- কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের,
- উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ।

রম্যরচনা:
কমলাকান্তের দপ্তর।

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- বিজ্ঞানরহস্য,
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২) বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৪৭.
যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন-
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. জসীমউদ্দীন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
⇒ মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- মধুসূদনের কৃতিত্ব এখানেই যে, তিনি যাকিছু রচনা করেছেন তাতেই নতুনত্ব এনেছেন। তিনিই প্রথম পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ বাংলা সাহিত্যে সার্থকভাবে প্রয়োগ করেন।

• মাইকের মধুসূদন দত্ত রচিত মহাকাব্য “মেঘনাদবধ”। গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যের কাহিনি সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে। এটি মধুসূদনের রচিত দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। নয় সর্গে সম্পূর্ণ ‘মেঘনাদবধ কাব্যে’ বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• নাটক:
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- শর্মিষ্ঠা।

• কাব্য:
- মেঘনাদবধ,
- ব্রজাঙ্গনা,
- তিলোত্তমাসম্ভব।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্দীন ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
সৈয়দ মুজতবা আলী সিলেট জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৪৮.
'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. আহমদ ছফা
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. জসীমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• 'বেণের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

• 'বেনের মেয়ে' উপন্যাস: 
- 'বেনের মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এর চরিত্রগুলি প্রায় সবই কাল্পনিক কিন্তু এর পরিবেশ ঐতিহাসিক। 
- দশম-একাদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ, বৌদ্ধধর্মের অবসান ও হিন্দুধর্মের পুনরুত্থানের কালে সপ্তগ্রামের এর বৌদ্ধ পরিবারকে নিয়ে কাহিনিটি রচিত হয়েছে। 
-------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭,৭৪৯.
"দারোগার দপ্তর" এর লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়:
- তাঁর জন্ম ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুন নদিয়ার জয়রামপুরের চুয়াডাঙায়। 
- তাঁকে বলা হয়েছে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের পথিকৃৎ। পেশায় ছিলেন পুলিশ কর্মচারী। 
- তিনি ‘দারোগার দপ্তর’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা ১২৯৭ বঙ্গাব্দ থেকে ১২ বছর চালিয়েছিলেন। 
- এ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলি পরে ‘ডিটেকটিভ গল্প’ নামে পুস্তকাকারে ছাপা হয়।

• "দারোগার দপ্তর (১৮৯২)" : 
- রচয়িতা: প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়।

- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ডিটেকটিভ গল্পের ধারা শুরু করেন। অনেকগুলি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রিয়নাথ নিজে ছিলেন পুলিশ দপ্তরের কর্মচারী। প্রধানত নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে এই গল্পগুলি লিখিত হয়।
- তবে কোনো কোনো খণ্ডে বিদেশি ডিটেকটিভ গল্পের অনুবাদও সংকলিত হয়।
- এই গ্রন্থধারাকে বাংলা ডিটেকটিভ গল্পের আদি বলা চলে।

উৎস: সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান; "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থ।

৭,৭৫০.
'চয়নিকা' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

'চয়নিকা':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম কাব্য সংকলন - চয়নিকা।
- প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এলাহবাদের ইন্ডিয়ান প্রেস থেকে পাঁচকড়ি মিত্র কর্তৃক মুদ্রিত এবং শ্রীচারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় কর্তৃক প্রকাশিত।
- প্রথম সংস্করণে ১৩০টি কবিতা ছিল।
- ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথের ২০০টি কবিতা বেছে দেবার জন্য বিশ্বভারতী গ্রন্থালয় থেকে একটি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রতিযোগিতায় ৩২০ জন পাঠক যোগ দেন। তাঁদের ভোট সংখ্যা কবিতাগুলির জনপ্রিয়তার সূচক। ১৯২৫ সালের সংস্করণ এই লোকপ্রিয়তা অনুসারে সংকলিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৫১.
নিচের কোনটি 'কাহার সম্প্রদায়' এর জীবনীভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) জলসাগর
  2. খ) অরণ্যবহ্নি
  3. গ) সুতপার তপস্যা
  4. ঘ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
- “হাঁসুলী বাঁকের উপকথা” উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বীরভূমের কোপাই নদীর তীরবর্তী কাহার সম্প্রদায়ের জীবনীভিত্তিক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে তাঁদের সংস্কৃতি, ধর্ম বিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা তুলে ধরা হয়েছে।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কালিন্দী
- কবি
- আরোগ্য নিকেতন
- পঞ্চপুন্ডলী
- রাধা
- অরণ্যবহ্নি
- একটি কালো মেয়ের কথা 
- সুতপার তপস্যা।

• অন্যান্য অপশনগুলো:
- অরণ্যবহ্নি: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাঁওতাল বিদ্র্যোহ নিয়ে লেখা উপন্যাস।
- সুতপার তপস্যা: ১৯৬৫ সালের পর থেকে সমগ্র পশ্চিম বাংলায় বিস্তৃত গোপন রাজনৈতিক তৎপরতাকে উপজীব্য করে রচিত একটি ক্ষুদ্র উপন্যাস।
- একটি কালো মেয়ের কথা: বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে রচিত উপন্যাস। কেন্দীয় চরিত্র: নাজমা নামের এক কালো মেয়ে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫২.
'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির,
লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির।' - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

'শৈবাল দিঘিরে বলে উচ্চ করি শির, লিখে রেখো, এক ফোঁটা দিলেম শিশির'—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা। এটি তাঁর রচিত ‘কণিকা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘ক্ষুদ্রের দম্ভ’ বা ‘উপকারদম্ভ’ নামক একটি ছোট কবিতা বা ব্যঙ্গকৌতুক।

কণিকা:
- কণিকা ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। ছোটো ছোটো কবিতার সংকলন। তাই নাম দেওয়া হয়েছে কণিকা।
- নীতিকথা ধরনের কাব্য। অণুকাব্যও বলা যায়। ক্যাপশনের মতো, অন্তে মিল আছে।
- এ বাক্যের মূলভাব হলো এ জগতে এমন কিছু লোক আছে যারা উপকারীর উপকার স্বীকার করে না।
- বরং তারা সমান্য উপকার করতে পারলেই উপকৃত ব্যক্তির কাছে তার উপকারের কথাটি প্রচার করে বেড়ায়।
- যা তাদের অকৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা।

৭,৭৫৩.
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা,
- স্বাধীনতা তুমি,
- মধুস্মৃতি,
- রক্তাক্ত প্রান্তরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৪.
রবীন্দ্র গল্পের উত্থানভূমি কোন অঞ্চল?
  1. শিলাইদহ 
  2. শাহজাদপুর
  3. পতিসর
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রবীন্দ্রনাথের ভ্রমণ ও সাহিত্য:
- উত্তর ও পূর্ববঙ্গের প্রকৃতি অপরূপ রূপে প্রতিভাত হয় তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা পত্রে, যেগুলি ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী নামে সংকলিত হয়।
- জীবনের এই পর্বে রবীন্দ্রনাথ জমিদারি তদারকি উপলক্ষে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান  শাহজাদপুর,  পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে ঘুরে বেড়ান।
- এই সূত্রেই শিলাইদহে গড়ে ওঠে একটি কবিতীর্থ।
- পদ্মাবক্ষে নৌকায় চড়ে বেড়ানোর সময় পদ্মানদী, বালুচর, কাশবন, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত, দরিদ্র জীবন এবং সেখানকার সাধারণ মানুষের হৃদয়লীলা কবিকে গভীরভাবে আলোড়িত করে, যা এ পর্বের গল্পে ও কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে।

• রবীন্দ্র গল্পের উত্থানভূমি হলো বাংলাদেশের -  শিলাইদহ, শাহজাদপুর, পতিসর। শাহজাদপুরকে রবীন্দ্রনাথ গল্প লেখার স্থান বলে উল্লেখ করেছেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিলাইদহ পর্বের রচনা 'সোনার তরী'।
- এছাড়া চিত্রা, চৈতালি, কল্পনা, ক্ষণিকা, কথা ও কাহিনী কবির শিলাইদহ পর্বের রচনা।
- এ পর্বের কবিতায় জীবনের বাস্তব চিত্র এবং সৌন্দর্যবোধ, বর্তমান কাল ও প্রাচীন ভারত, সমকালীন সমাজ ও ইতিহাসের মহৎ আত্মত্যাগের কাহিনী একই সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৫৫.
হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি- বইটির লেখক কে?
  1. ক) কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) গোলাম মুরশিদ
ব্যাখ্যা
গোলাম মুরশিদ:
- জীবিকা উপার্জনের জন্যে অধ্যাপনা এবং বেতার সাংবাদিকতা করলেও গোলাম মুরশিদের নেশা আগাগোড়াই গবেষণা করা।
- বৈষ্ণব পদাবলী থেকে রবীন্দ্রনাথ, বাংলা গদ্য এবং নাটকের ইতিহাস থেকে নারী জাগরণের ইতিহাস ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন।
- সমাজমনস্ক ব্যক্তি হিশেবে লিখেছেন বাংলার সমাজ, সমাজ-সংস্কার, স্বাধীনতা আন্দোলন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদত্ত তাঁর বিদ্যাসাগর বক্তৃতামালার ওপর ভিত্তি করে রচিত রবীন্দ্রবিশ্বে পূর্ববঙ্গ পূর্ববঙ্গে রবীন্দ্রনাথ (১৯৮১) রবীন্দ্রমানস এবং বাঙালি মুসলিম-মানস সম্পর্কে একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনা।
- Reluctant Debutante : Response of Bengali Women to Modernization (১৯৮৩) বাঙালি মহিলাদের আধুনিকতা সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচনকারী গ্রন্থ।
- কালান্তরে বাংলা গদ্য (১৯৯২) পুরোনো বাংলা গদ্য এবং তার বিবর্তন সম্পর্কে মৌলিক আলোচনা।
- আর, তাঁর আশার ছলনে ভুলি (১৯৯৫) সমালোচকদের মতে জীবনীসাহিত্যে এক নতুন মাইলফলক।
- কিংবদন্তীর আঁধি থেকে মুক্ত করে এ গ্রন্থে মাইকেল মধুসূদনকে তাঁর সত্যিকার স্বরূপে তুলে ধরেছেন গোলাম মুরশিদ। 
- হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি গ্রন্থটি গোলাম মুরশিদের আরেকটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। 

সূত্র: হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতি ও প্রথম আলো। 
৭,৭৫৬.
'কবি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র—
  1. রমাকান্ত
  2. ভবানী পাঠক
  3. নিতাইচরণ
  4. রমেশচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• কবি' উপন্যাস সম্পর্কে কিছু তথ্য:
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।

• এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে — 'নিতাইচরণ'।

• উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ:
- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।

আরো কয়েকটি উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
• হাজার বছর ধরে - টুনি, মন্তু, আম্বিয়া, মকবুল।
• শ্রীকান্ত - শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী, অন্নদাদিদি, অভয়া।
• পুতুলনাচের ইতিকথা - হারু ঘোষ, শশী, কুসুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
৭,৭৫৭.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহীম
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
'ভবিষ্যতের বাঙালি' (১৯৪৩) এস ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ৷
এই বইতে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধকরণের কথা আছে।
তাছাড়া প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, জীবনের শিল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস গ্রানাডার শেষ বীর।
তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী- মোটরযোগে রাঁচি সফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৭৫৮.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি রচনার সময়কাল কোনটি?
  1. ১৯৭১ সালের জানুয়ারি–মার্চ
  2. ১৯৭১ সালের এপ্রিল–জুন
  3. ১৯৭১ সালের জুলাই–সেপ্টেম্বর
  4. ১৯৭১ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৫৯.
সুকুমার রায় গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন কোন রচনার মাধ্যমে?
  1. আবোল তাবোল
  2. খাই খাই
  3. হযবরল
  4. পাগলা দাশু
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

৭,৭৬০.
উইলিয়ম কেরী সহযোগে বাল্মিকী রচিত রামায়ণ-এর ইংরেজি অনুবাদ শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রকাশ করেন কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
• জোশুয়া মার্শম্যান:
- জোশুয়া মার্শম্যান (১৭৬৮-১৮৩৭)  পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।
- তাঁর জন্ম ১৭৬৮ সালের ২০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের ওয়াল্টশায়ারের ওয়েস্টবারি লিফ-এ।
- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম।
-তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।
- মার্শম্যান সংস্কৃত এবং বাংলা ভাষায় ব্যাপক দক্ষতা অর্জন করেন। এর পরে তিনি ধ্রুপদী ভারতীয় সাহিত্য ইংরেজিতে এবং বাইবেল ভারতীয় ভাষায় অনুবাদ শুরু করেন।
- ১৮০৬ সালে মার্শম্যান উইলিয়ম কেরী সহযোগে বাল্মিকী রচিত রামায়ণ -এর ইংরেজি অনুবাদ শ্রীরামপুর প্রেস থেকে প্রকাশ করেন। ১৮০৮ সালে এর দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়
- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন।
- মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৬১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বিরাজবৌ
  2. দেবদাস
  3. বড়দিদি
  4. দেনা পাওনা
ব্যাখ্যা

'বড়দিদি' উপন্যাস: 
• 'বড়দিদি' (১৯১৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম মুদ্রিত উপন্যাস।
• এই উপন্যাসটি সরলা দেবী সম্পাদিত ‘ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশকালে বাংলা সাহিত্যে আলোড়নের সৃষ্টি করে। প্রথমে এর নাম ছিল ‘শিশু’।
• শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের প্রধান আকর্ষণ, নারীচরিত্রের সংযম ও মাধুর্য, শাস্ত্রশাসিত জীবন ও স্বাভাবিক প্রবৃত্তির মধ্যে টানাপোড়েন এবং সহজ সাবলীল ভাষা-সবই এখানে পূর্ণমাত্রায় প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : সুরেন্দ্রনাথ, ব্রজরাজ, মাধবী, প্রমীলা। বড়দিদি হলো -‘মাধবী'।
------------------------
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৬২.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন উপন্যাসের নায়ক 'নুরুল হুদা'?
  1. কুহেলিকা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা, 
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা। 

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৬৩.
মধুসূদন দত্তের কোন রচনায় পূর্ববঙ্গীয় ভাষায় বহুল ব্যবহার দেখা যায়?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. চতুর্দশপদী কবিতালি
  4. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' :
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।

উল্লেখ্য,
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’ প্রহসনে পূর্ববঙ্গীয় (বিশেষ করে যশোর অঞ্চলের) ভাষার বহুল ব্যবহার দেখা যায়।
এটি একটি ব্যঙ্গরচনা, যেখানে তিনি তৎকালীন সমাজের ভণ্ডামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে আঘাত করেছেন।
এই প্রহসনে মধুসূদন সচেতনভাবে আঞ্চলিক শব্দ, বাক্যরীতি ও পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণ প্রয়োগ করেন, যা তাঁর অন্যান্য রচনায় দেখা যায় না।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ভক্তপ্রসাদ বাবু,
- পঞ্চানন বাচস্পতি,
- গদাধর,
-পুঁটি,
- ফতেমা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' প্রহসন।

৭,৭৬৪.
কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) প্রসন্নকুমার ঠাকুর
  2. খ) হেরাসিম লেবেডফ
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) রামনারায়ণ তর্করত্ন
ব্যাখ্যা
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৬৫.
কোন গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী?
  1. বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
  2. জীবনের শিল্প
  3. স্বরূপের সন্ধানে
  4. স্বদেশ চিন্তা
ব্যাখ্যা
শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
তিনি ১৮৯০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার  শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে গুলিস্তাঁ নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:
প্রবন্ধ
- জীবনের শিল্প (১৯৪১),
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য (১৯৪৩),
- ভবিষ্যতের বাঙালী (১৯৪৩),
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা (১৯৪৯),
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ;

'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটির রচিয়তা অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান
'স্বদেশ চিন্তা' গ্রন্থটির রচিয়তা আহমদ শরীফ
'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' গ্রন্থটির রচিয়তা  আহমদ ছফা

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৭৬৬.
''হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।'' পংক্তিটি কার?‌
  1. ক) গোবিন্দদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) ভারতচন্দ্র
  4. ঘ) জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা

- বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস ও জ্ঞানদাস।
- তাঁদের মধ্যে বিদ্যাপতি ও গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায় আর চণ্ডীদাস ও জ্ঞানদাস লিখেছেন খাঁটি বাংলা ভাষায়।
- জ্ঞানদাসের একটি কবিতার পংক্তিঃ
রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন মোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর।।
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কান্দে।
পরাণ পীরিতি লাগি থির নাহি বান্ধে।।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৭,৭৬৭.
'কাঞ্চন মালা' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'কাঞ্চন মালা' উপন্যাসটির রচয়িতা - হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৩২৩ বঙ্গাব্দে 'হাজার বছর পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে চর্যাপদ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয় 
- মেঘদূত
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস)
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস)
- প্রাচীন বাংলার গৌরব 
- বৌদ্ধধর্ম

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৭৬৮.
নিম্নোক্ত কে প্রাচীন যুগের কবি ছিলেন না?
  1. মহীধরপা
  2. তাড়কপা
  3. তুলসীপা
  4. শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- তুলসীপা।
 
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)।
- এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
 
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের পদ: 
• মহীধরপা - ১৬,
• তাড়কপা - ৩৭,
• শান্তিপা - ১৬/২৬। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৬৯.
শামসুর রাহমানের সাংবাদিকতা জীবনের সূত্রপাত হয় কোন পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে?
  1. দৈনিক পাকিস্তান
  2. মর্নিং নিউজ
  3. বিচিত্রা
  4. সোনার বাংলা
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান ও 'মর্নিং নিউজ' পত্রিকা:
• শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক 'মর্নিং নিউজ'-এর সহসম্পাদক হিসেবে।

• কিছুদিন এ পত্রিকায় কাজ করার পর তিনি পেশা পরিবর্তন করে যোগ দেন রেডিও পাকিস্তানে। কিন্তু রেডিও-তে অনুষ্ঠান প্রযোজকের কাজেও তিনি স্বস্তি বোধ করেননি। ফলে ১৯৬০ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি রেডিও-তে কাজ করার পর ১৯৬৪ সালে মর্নিং নিউজে উচ্চতর পদে যোগ দেন।

• ‘তিনশো টাকায় আমি’ প্রথম কাব্যের এ সনেটে, চাকুরি জীবনের ঠুনকো নিশ্চয়তা ও বাস্তবিক পরনির্ভরতা বিষয়ে রসিকতা করেছেন কবি নিজেকে নিয়ে। কবিতায় রয়েছে তিনশো টাকার কথা, কিন্তু বাস্তবে মর্নিং নিউজে তাঁর বেতন ছিল একশো পঁচিশ, আর রেডিও-তে দুইশো বিয়াল্লিশ, সবসমেত বেতন বিষয়ক তথ্যটি তিনি নিজেই সরবরাহ করেন, তাঁর আত্মজীবনীতে। তবে চাকুরি হিসেবে কোনোটাই তাঁর মনোপূত ছিল না।

• মর্নিং নিউজে প্রত্যাবর্তনের পর কবির সৃষ্টিশীলতায় নবগতির সঞ্চার হয়। এসময়কার কবিতাগুলি নিয়ে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাজ রৌদ্র করোটিতে। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। ‘হাতির শূঁড়’ কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন। মর্নিং নিউজের বছরগুলি ছিল কবির কবিতাচর্চার দিক দিয়ে সুফলা

অন্যদিকে,
------------------- 
• ১৯৬৪ সালের শেষ দিকে প্রেস ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের সম্পাদনায় "দৈনিক পাকিস্তান" পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক পদে শামসুর রাহমান যোগদান করেন।

• পুরো এক দশক (১৯৭৭-১৯৮৭) শামসুর রাহমান দৈনিক বাংলা (স্বাধীন বাংলাদেশ দৈনিক পাকিস্তান, দৈনিক বাংলায় পরিণত হয়) ও সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

• ১৯৪৩ সালে শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোর গুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৭০.
কে বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি?
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) শুকুর মহাম্মদ
  3. গ) দৌলত কাজী
  4. ঘ) সাবিরিদ খান।
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণবসাহিত্যে মুসলমান পদকর্তার সঠিক সংখ্যা নির্ণীত হয় নি। 
- যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য 'বাংলায় বৈষ্ণবভাবাপন্ন মুসলমান কবি' গ্রন্থে অর্ধশতাধিক মুসলমান পদকর্তার নাম উল্লেখ করেন। 
- মুসলমান পদকর্তাদের মধ্যে প্রথম কবি ছিলেন সম্ভবত শেখ কবির। 
- অন্যান্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আফজাল, শেখ ফয়জুল্লাহ, সৈয়দ আইনুদ্দিন, সৈয়দ মুর্তজা, আলাওল, আলি রজা, কমর আলী, সৈয়দ সুলতান নওজিস প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,৭৭১.
বাংলাদেশের “গোমতী নদীর” কথা উল্লেখ আছে রবীন্দ্রনাথের কোন নাটকে?
  1. ক) বসন্ত
  2. খ) বিসর্জন
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটক গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে ।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা ।
- নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত ।

- বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করে ।
- ডাকঘর একটি সাংকেতিক নাটক | এর চরিত্র -অমল ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত নাটক রুদ্রচন্ড ( ১৮৮১)।
তবে অনেকের মতে বাল্মিকী প্রতিভা (১৮৮১) প্রথম প্রকাশিত নাটক ।
তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হলো :
- রুদ্র চন্দ্র
- বাল্মিকী প্রতিভা
- কালের যাত্রা
- তাসের দেশ
- ডাকঘর
- মালিনী ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৭২.
পাকিস্তান আমলে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় বাঙ্গালি লেখকরা বক্তব্য প্রকাশের জন্য আশ্রয় নেন -
  1. ক) মিথ রূপকের অবয়ব
  2. খ) বিশিষ্ট ভাষারীতি
  3. গ) বিশিষ্ট কাঠামো
  4. ঘ) অতিপ্রাকৃত আবহ
ব্যাখ্যা

পাকিস্থান আমলে সামরিক শাসনের প্রতিক্রিয়ায় বাঙ্গালি লেখকরা বক্তব্য প্রকাশের জন্য আশ্রয় নেন মিথ রূপকের অবয়ব।
শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটি ১৯৬১ সালে রচিত এবং
এতে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক - প্রতিকের আশ্রয়ে।
সুত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

৭,৭৭৩.
‘বেদের মেয়ে’ নাটকটির রচিয়তা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) আলী মনসুর
  3. গ) জসীম উদ্দীন
  4. ঘ) আনিস চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। 

•জসীমউদ্‌দীন রচিত অন্যান্য নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা, 
- পল্লীবধূ, 
- গ্রামের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৭৪.
কোনটি কবি জসীমউদদীনের শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. ডানপিটে শওকত
  2. হ-য-ব-র-ল
  3. ডালিমকুমার
  4. পাগলা দাশু
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।  

জসিমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনের নামগুলো হলো:
- গাঙের পাড় 
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি 

কবি জসীমউদদীনের শিশুতোষ গ্রন্থ গুলো হলো
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশি,
- ডালিমকুমার ।

অন্যদিকে,
সুকুমার রায়ের শিশুতোষ সাহিত্য গুলো হলো
- আবোলতাবোল,
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- বহুরূপী,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা, খাইখাই, ইত্যাদি ।

আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ 'ডানপিটে শওকত' . 


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৭৭৫.
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' কোন দ্বীপের মানুষের জীবন কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) মনপুরাদ্বীপ
  2. খ) শাহপরিদ্বীপ
  3. গ) ভোলাদ্বীপ
  4. ঘ) মহেশখালী দ্বীপ
ব্যাখ্যা
'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নদীর মধ্যে শাহপরিদ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের মানুষের, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবন বাস্তব রূপ লাভ করেছে এই উপন্যাসে। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদী গ্রেনেড
- মগ্ন চৈতন্যে শিস
- যাপিত জীবন
- নীল ময়ূরের যৌবন
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- কালকেতু ও ফুল্লরা
- ভালোবাসা প্রীতিলতা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৭৬.
তেরো-চৌদ্দ বৎসরের ছেলের মতো পৃথিবীতে এমন বালাই আর নাই। - পঙক্তিটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. হৈমন্তী
  2. নষ্টনীর
  3. পোস্টমাস্টার
  4. ছুটি
ব্যাখ্যা

⇒ “ছুটি” গল্প:
- “ছুটি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- এটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে রচিত। এবং ১৮৯২ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- ছোট গল্পটির নায়ক বালক ‘ফটিক’, তাকে ঘিরেই গল্প বিকাশিত হয়েছে।

⇒ গল্পের সারসংক্ষেপ:
বালকদিগের সর্দার ফটিক প্রকৃতি লালিত এক বালক, স্বভূমিচ্যুত হয়ে নাগরিক পরিবেশে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রীতিহীন পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। সে সেখানে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অবশেষে এক বর্ষাস্নাত দিনে জ্বরাক্রান্ত শরীরে বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড জ্বর বিকার গ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। সে মামার কাছে বাড়ি যাবার বায়না ধরলে তিনি জানান পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন। বিকারের ঘোরে সে কথা বলতে থাকে। মা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলে, ফটিক আস্তে আস্তে পাশ ফিরিয়া কাহাকেও লক্ষ্য না করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”
এ ছুটি চিরকালের ছুটি।

উৎস: ছুটি (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৭,৭৭৭.
'নির্জনতার কবি' ছিলেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

-------------------
•  জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৭৮.
মধ্যযুগের নাগরিক কবি কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) মানিক দত্ত
  3. গ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঘ) দ্বিজ মাধব
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
মধ্যযুগের শেষ কবি। 
ভারতচন্দ্র অষ্টাদশ শতকের কবি।

উৎস: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৭,৭৭৯.
'সূর্য-দীঘল বাড়ী' — উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়?
  1. ১৯৪৫ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫১ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস: 
- 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' — আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থটি।  

- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
→ জয়গুন,
→ হাসু, 
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→ ডা. রামেশ,
→ মোড়ল গদু প্রমুখ।
------------------
• আবু ইসহাক:
- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।

• তার অন্যান্য সাহ্যিতকর্ম:
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাস।

৭,৭৮০.
অন্ধকার যুগের সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি ?
  1. নিরঞ্জনের রুষ্মা
  2. শূন্যপুরাণ
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। 

⇒ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনি ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই। 
 
তথাকথিত অন্ধকার যুগে কোন সাহিত্য কর্ম পাওয়া যায় নি এ কথাটি  সত্য নয় ।
- এ সমইয়ের প্রথমেই 'প্রাকৃতপৈঙ্গলের' মত প্রাকৃত ভাষার গীতিকবিতা গ্রন্থ সংকলিত হয়। 

এ সময়ের অন্যান্য সাহিত্য কর্ম:
- রামাই পণ্ডিতের 'শূন্যপুরাণ' এবং 'কলিম জালাল' বা 'নিরঞ্জনের রুষ্মা', 
- ডাক ও খনার বচন, 
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভোদয়া', 
- রাহুল সংকৃত্যায়ন এই সময় রচিত  কিছু চর্যাপদ সংগ্রহ করে প্রকাশ করে। 

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 
৭,৭৮১.
'একুশের গল্প' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. মুনীর চৌধুরী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
একুশের গল্প:
- জহির রায়হানের বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে একুশের গল্প অন্যতম।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পের প্রধান চরিত্র: তপু, রেণু ও রাহাত।
- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।
এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে। তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৮২.
মুসলিমদের মধ্যে প্রথম গদ্যগ্রন্থ কে লেখেন?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) কাজী ইমদাদুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মীর মশাররফ হোসেন প্রথম মুসলিম গদ্য রচয়িতা।
- রত্নবতী গ্রন্থটি মুসলিম রচিত প্রথম গ্রন্থ। এটি ১৮৬৯ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- বিষাদ-সিন্ধু সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ।
৭,৭৮৩.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ফনিমনসা
  2. পুবের হাওয়া
  3. মরুভাস্কর
  4. অগ্নি-গিরি
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
• 'অগ্নি-গিরি' তাঁর রচিত একটি গল্প।
• এটি তাঁর শিউলিমালা গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ-
- অগ্নিবীণা,
- মরুভাস্কর,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- দোলনচাঁপা,
- সন্ধ্যা,
- চক্রবাক,
- চন্দ্রবিন্দু,
- ছায়ানট,
- বিষের বাঁশি,
- সর্বহারা,
- পুবের হাওয়া,
- সাম্যবাদী,
- ঝিঙ্গে-ফুল,
- ফনিমনসা,
- প্রলয়-শিখা,
- নতুন চাঁদ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,৭৮৪.
'সংশপ্তক' মহাকাব্যিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• "সংশপ্তক" উপন্যাস:
- শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস 'সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- সংশপ্তক কথাটির অর্থ যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- লেখক এ ধরনের চেতনাকে ধারণ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত পূর্ববর্তী কাল থেকে বায়ান্নত ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর কে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচনা করেছেন। তাই একে মহাকাব্যিক উপন্যাস বলা হয়।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়। বিশ্বযুদ্ধ, দাঙ্গা, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি প্রাসঙ্গিকভাবে উপন্যাসে এসেছে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রাবেয়া খাতুন (রাবু),
- জাহেদ,
- সেকেন্দার,
- মালু,
- হুরমতি,
- লেকু,
- রমজান,
- রামদয়াল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৮৫.
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী কোন ভাষায় রচিত হয়?
  1. সংস্কৃত 
  2. ব্রজবুলি
  3. হিন্দি 
  4. বাংলা 
ব্যাখ্যা

চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী:
চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়। নরহরি সরকার, রঘুনাথ দাস প্রমুখেরা চৈতন্যবিষয়ক পদ রচনা করেছিলেন। তবে চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম ‘শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।'

- মুরারি গুপ্ত মূলত সিলেটের অধিবাসী ছিলেন এবং পরে নবদ্বীপে শ্রীচৈতন্যের সহাধ্যায়ী ছিলেন। মুরারি গুপ্তের গৃহে চৈতন্যের প্রথম ভাবাবেশ ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি বিদ্যমান। তিনি চৈতন্যের সমসাময়িক ছিলেন বলে অধিকাংশ ঘটনা নিজেই প্রত্যক্ষ করেছেন। কবি মুরারি গুপ্ত চৈতন্য জীবনের প্রথম দিকের সন্ন্যাস জীবন পর্যন্ত বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর কাব্যের মধ্য ও শেষ লীলা অন্যের রচনা। 

- মুরারি গুপ্ত কেবল প্রথম চৈতন্য-জীবনী লেখকই নন, তিনি চৈতন্য-জীবনী রচনার অবিতর্কিত আদর্শের প্রবর্তনকারী। ড. বিমানবিহারী মজুমদারের মতে, মুরারি গুপ্তের গ্রন্থের রচনাকাল ১৫৩৩ থেকে ১৫৪২ সালের মধ্যে। কবি কর্ণপুর, বৃন্দাবনদাস, লোচনদাস, কৃষ্ণদাস কবিরাজ প্রমুখ কবিগণ মুরারি গুপ্তের কাছে বহুলাংশে ঋণী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৭,৭৮৬.
'মানসিংহ ভবানন্দ উপাখ্যান' এর রচয়িতা কে?
  1. বিজয় গুপ্ত
  2. ময়ূরভট্ট
  3. দ্বিজ মাধব
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- ১৭৬০ সালে তাঁর মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের ভাগ ৩টি।
যথা -
১. অন্নদামঙ্গল, 
২. বিদ্যাসুন্দর, 
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যান। 

- এই তিনটি খণ্ডেই দেবী দেবী অন্নদার বন্দনা রয়েছে।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো - 
- হাভাতে যদ্যপি যায় সাগর শুকায়ে যায়।
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।’
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৮৭.
চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ 'Buddhist Mystic Songs' এর সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) কীর্তিচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
-  তিনিই প্রথম উর্দুর পরিবর্তে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার যৌক্তিক দাবি জানান। 
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির সম্পাদক (১৯১১) ছিলেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা ও সম্মেলনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কর্তৃক চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৮৮.
নিচের কোনটি চর্যাপদের কবি নন?
  1. দারিকপা
  2. কম্বলাম্বরপা 
  3. চাটিল্লপা
  4. কাহারপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - কাহারপা।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৮৯.
'বিরহবিলাপ' রচনা করেছেন-
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) আলাওল
  3. গ) দৌলত কাজি
  4. ঘ) চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা
বিরহ বিলাপ, অশ্রুমালা, মহরম শরীফ ইত্যাদি কবি কায়কোবাদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। মহাশ্মশান মহাকবি কায়কোবাদের মহাকাব্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৭৯০.
"কৃষ্ণকুমারী" নাটক প্রথম অভিনীত হয় কত সালে?
  1. ১৮৬০ সালে
  2. ১৮৬১ সালে
  3. ১৮৬৭ সালে
  4. ১৮৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
• "কৃষ্ণকুমারী" নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের 'রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে। রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক 'শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- ভীমসিংহ,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯১.
”বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?”-বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. সোনার তরী
  2. জন্মভূমি
  3. আমাদের গ্রাম
  4. কপোতাক্ষ নদ
ব্যাখ্যা

 ”বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?”- পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ’কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার অন্তর্গত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৭৯২.
বাংলাদেশের নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয় কাকে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যকে- নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত বলা হয়। 
------------------------
• 'নবনাট্য আন্দোলন':
- গণনাট্যের পরবর্তী  পর্যায় হলো নবনাট্য আন্দোলন।
- নবনাট্যের অন্যতম পথিকৃৎ গঙ্গাপদ বসুর মতের,
সৎ মানুষের নতুন জীবনবোধের এবং নতুন সমাজ ও বলিষ্ট জীবনগঠনের মহৎ প্র্যাস যে সুলিখিত নাটকে শিল্প সুষমায় প্রতিফলিত হয় তাকেই বলে নবনাট্যের নাটক।  
-----------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- নবনাট্য আন্দোলনের অন্যতম সৈনিক বিজন ভট্টাচার্য গণজীবনের সংগ্রাম ও দুঃখ-দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনা, প্রগতিশীল চিন্তা ও সমাজবোধ নিয়ে নাটক রচনা করে এবং এ ক্ষেত্রে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। তবে তাঁর শেষজীবনে রচিত নাটকে মার্কসীয় দর্শন, হিন্দু ধর্ম ও দর্শন সংমিশ্রিত হয়েছে।
 
• বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকগুলো হলো: 
- জনপদ,
- নবান্ন, 
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯৩.
বাংলা ভাষায় প্রথম কোরআন অনুবাদ কে করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. স্যার জগদীশচন্দ্র বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. গিরিশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
•  বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন — গিরিশচন্দ্র সেন।

• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৯৪.
চর্যাপদের ভাষাকে কী বলা হয়?
  1. পালি ভাষা
  2. সান্ধ্য ভাষা
  3. প্রাকৃত ভাষা
  4. সাধুভাষা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'। এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট। তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।'
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়। তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৭৯৫.
মধ্যযুগের প্রথম কাব্য শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯০৭ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৭,৭৯৬.
চর্যাপদের ভাষা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনটি সঠিক নয়?
  1. বর্ণের হ্রস্ব ও দীর্ঘ উচ্চারণ আধুনিক বাংলার মত
  2. স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের ধ্বনিগত বিশেষত্ব আধুনিক বাংলার ধ্বনির মত
  3. চর্যাপদে শ, ষ, স-তিনটি বর্ণের পার্থক্য ছিল না
  4. চর্যাপদের ভাষায় শব্দরূপের গঠনে একবচন ও বহুবচনের তফাত নেই
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন হিসেবে চর্যাপদের ভাষার ব্যাকরণগত যে সকল বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় তা নিম্নরূপ:
ক. চর্যাপদের ভাষায় স্বর ও ব্যঞ্জনবর্ণের ধ্বনিগত বিশেষত্ব আধুনিক বাংলার ধ্বনির মত। সংস্কৃত শব্দের বানানে সর্বত্র এক নিয়ম পালন করা হয় নি। যেমন, সবর, শবর।
খ. বর্ণের হ্রস্ব ও দীর্ঘ উচ্চারণ আধুনিক বাংলার মত চর্যাপদে দেখা যায় না। হ্রস্ব-দীর্ঘ উচ্চারণে কোন নিয়ম ছিল না। যেমন, পঞ্চ-পাঞ্চ
গ. চর্যাপদে শ, ষ, স-তিনটি বর্ণের পার্থক্য ছিল না। যেমন- সবর, শবর, ষবরালী। তেমনি জ, য এবং ন, ণ-এদের মধ্যেও পার্থক্য নেই।
ঘ. চর্যায় য়-শ্রুতি ও ব-শ্রুতি বিদ্যমান ছিল।
ঙ. চর্যাপদের ভাষায় অপভ্রংশের প্রভাবে পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ ব্যবহৃত হত। তবে ক্লীবলিঙ্গ নেই। বিশেষ্য স্ত্রীলিঙ্গ হলে বিশেষণেও স্ত্রীলিঙ্গ হত। যেমন- নিশি অন্ধারী মুষার চারা। 'ইল' প্রত্যয়ান্ত বা 'এর' প্রত্যয়ান্ত বিশেষণ কখনও কখনও স্ত্রীলিঙ্গের রূপ নিয়েছে। যেমন, 'সোণে ভরিলী করুণা নাবী,' 'নগর বাহিরিরে ডোম্বি তোহেরি কুড়িআ', 'তোহোর অন্তরে মোএ ঘালিলি হাড়েরি মালী'। ঈ বা আ যোগে স্ত্রীলিঙ্গ হত। যেমন, হরিণী, শবরী, হরিণা।
চ. চর্যাপদের ভাষায় শব্দরূপের গঠনে একবচন ও বহুবচনের তফাত নেই। সম্বন্ধ বোঝানো ছাড়া স্ত্রীলিঙ্গ-পুংলিঙ্গেও পার্থক্য দেখা যায় নি।
ছ. একবচনে কর্তৃ, কর্ম, করণ ও অধিকরণ কারকে কোন বিভক্তি ব্যবহৃত হত না। যেমন, সসুরা নিদ গেল বহুড়ী জাগই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৭৯৭.
গোলাম মোস্তফাকে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত করে কোন সরকার?
  1. ব্রিটিশ সরকার
  2. বাংলাদেশ সরকার
  3. ভারত সরকার
  4. পাকিস্তান সরকার
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৯৮.
জসীম উদ্‌দীনের জন্মস্থান কোন জেলায়?
  1. বরিশাল
  2. ফরিদপুর
  3. যশোর
  4. নড়াইল
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৭৯৯.
'মুসলিম মহিলা সমিতি'র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  3. বেগম রোকেয়া
  4. নূরজাহান বেগম
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া ও মুসলিম মহিলা সমিতি:
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া। বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান। মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

তাঁর জীবনব্যাপী সাধনার অন্যতম ক্ষেত্র এই মহিলা সমিতি। এ সমিতির ইতিহাসের সঙ্গে রোকেয়ার সংগ্রামী কর্মজীবনের কাহিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মুসলিম মহিলা সমিতি থেকে বহু বিধবা নারী অর্থ সাহায্য পেয়েছে, বহু দরিদ্র মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা হয়েছে, অসংখ্য অভাবী মেয়ে সমিতির অর্থে শিক্ষালাভ করেছে, সমাজ-পরিত্যক্ত অসহায় অনাথ শিশুরা আশ্রয় ও সাহায্য পেয়েছে। শুধু তাই নয়, কলকাতার মুসলমান নারী সমাজের ক্রমোন্নতির ইতিহাসে এই সমিতির উলে­খযোগ্য অবদান ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৮০০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস কোনটি? 
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. দুর্গেশনন্দিনী
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. শ্রীকান্ত 
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস - 'দুর্গেশনন্দিনী'।

• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। 
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।
- উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: বীরেন্দ্র সিংহ, ওসমান, জগৎসিংহ, আয়েশা, বিমলা প্রমুখ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।