বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭৫ / ২১১ · ৭,৪০১৭,৫০০ / ২১,১৩২

৭,৪০১.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনটি?
  1. অ্যাকাডেমিক ফর এডুকেশন
  2. অ্যাকাডেমিক অরগানাইজেশন
  3. ব্রাহ্ম সমাজ
  4. অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- তিনি মাত্র ১৭ বছর বয়সে হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ‘ইয়ংবেঙ্গল’ ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী।
- ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল ‘সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা’।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।

ইয়ংবেঙ্গল নিয়ে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মদধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন: ‘একেই কি বলে সভ্যতা’।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও অনুসারীরা ছিলেন: মুক্তচিন্তক গোষ্ঠী।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও১৮২৮ সালে ‘অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘ইয়ং বেঙ্গলে’ ডিরোজিও প্রভাবিত তাঁর প্রিয় ছাত্রগোষ্ঠী ছিলেন: কৃষ্ণমোহ্ন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, এবং তারাচাঁদ চক্রবর্তী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪০২.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮০৩ সালে
  2. ১৮০২ সালে
  3. ১৮০১ সালে
  4. ১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৪০৩.
'বেণু ও বীণা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০৪.
'মোহাম্মাদি' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন
  2. সৈয়দ এমদাদ আলী
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মোহাম্মাদি' মাসিক পত্রিকা:
- মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকাটি মুসলিম নবজাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে খ্যাত।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ।
-  ১৯০৩ সালে কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী সময়ে মুজিবুর রহমান খাঁ এবং বদরুল আনাম খাঁও পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
- পত্রিকাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলে;
- এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকা থেকে পুনরায় প্রকাশিত হয়ে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
---------------------- 
অন্যদিকে,
• সওগাত - সচিত্র মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।
• কোহিনূর - মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• নবনূর' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সৈয়দ এমদাদ আলী। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৭,৪০৫.
'পালামৌ' ভ্রমণ কাহিনীর রচয়িতা -
  1. ক) সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পালামৌ বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনী৷
পালামৌ ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের একটি জেলা৷
এই জেলা ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার পালামৌ গ্রন্থে তুলে ধরেছেন।
এটি প্রথমে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
(সূত্রঃ পালামৌ : সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)
৭,৪০৬.
হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. অলৌকিক ইস্টিমার
  3. যতোই উপরে যাই নীল
  4. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ:
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য ‘অলৌকিক ইস্টিমার’।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪০৭.
'বহিপীর' নাটকটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস -
লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।
গল্পগ্রন্থ - নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।
নাটক - বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৪০৮.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য —
  1. বঙ্গনারী
  2. কল্কি অবতার
  3. আর্যগাথা
  4. পরপারে
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য — 'আর্যগাথা'।
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- লেখক ছাত্রাবস্থায় এ কাব্যটি প্রকাশিত হয়।

- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind. 

তার রচিত সামাজিক নাটক: 
• পরপারে, 
• বঙ্গনারী;
• সমাজ-বিভ্রাট, 
কল্কি অবতার
• ত্র্যহস্পর্শ, 
• প্রায়শ্চিত্ত, 
• পুনর্জন্ম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪০৯.
পৃথিবীতে কয়টি জাত মহাকাব্য আছে?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
মহাকাব্য:
- মহাকাব্য’র ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Epic'.
- গ্রিক শব্দ 'Epices' বা 'Epos' থেকে 'Epic' শব্দটি এসেছে। এর অর্থ হচ্ছে দীর্ঘ বীরগাঁথা।
- মহাকাব্যে বীরত্বব্যঞ্জক কাহিনী থাকে, যে ভাষাতেই লেখা হোক, তা বিষয় ও ভাষায় মহত্বের ব্যঞ্জনায় সমৃদ্ধ।
- পৃথিবীতে মোট চারটি জাত মহাকাব্য রয়েছে।

জাত মহাকাব্য:
- রামায়ণ,
- মহাভারত,
- ইলিয়াড,
- ওডিসি।

- রামায়ণ: মহাকবি বাল্মীকি রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য।
- মহাভারত: মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য।
- ইলিয়াড: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।
- ওডিসি: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১০.
‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লাহ কায়সার
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• ‘পুঁই ডালিমের কাব্য’ শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------------------
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন।
- তিনি মাহেনও পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তিনি কলকাতায় রিভলিউশনারি সোশালিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত থেকে ব্রিটিশ বিরোধী রাজনীতি করেন।

তাঁর রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- সমুদ্র বাসর,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১১.
সুকুমার সেনের 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে কয়টি পদের উল্লেখ আছে?
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১২.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'প্রাগৈতিহাসিক' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
'প্রাগৈতিহাসিক' গল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্প।
- গল্পগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। ভিখু ও পাঁচী এই গল্পের পাত্র-পাত্রী।
- খানে ভিক্ষুক ভিখু ও পাচির চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের আদিম প্রবৃত্তিকে তুলে ধরা হয়েছে।
 
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- মিহি ও মোটা কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৩.
"বিপ্রদাস পিপিলাই" - কোন ধারার কবি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য ধারার কবি:
- কানাহরি দত্ত,
- নারায়ণদেব,
- বিজয়গুপ্ত,
- বিপ্রদাস পিপিলাই,
- দ্বিজ বংশীদাস,
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ।

• চণ্ডীমঙ্গল ধারার কয়েকজন কবি:
- মানিকদত্ত,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী,
- দ্বিজ মাধব,
- দ্বিজরাম দেব,
- মুক্তরাম সেন প্রমুখ।

• ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার কবি:
- ময়ূর ভট্ট,
- আদিরূপরাম,
- খেলারাম চক্রবর্তী,
- শ্যাম পণ্ডিত,
- ঘনরাম চক্রবর্তী,
- নরসিংহ বসু।

• 'অন্নদামঙ্গল’ ধারার কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৭,৪১৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অন্য ঘরে অন্য স্বর
  2. খােয়াবনামা
  3. খোঁয়ারি
  4. দোজখের ওম
ব্যাখ্যা
খোয়াবনামা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৩ এর মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রাম ও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- তিনি বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ (১৯৮২), 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৫) ও কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ (১৯৯৬) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৭ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই, 
- খােয়াবনামা

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর, 
- খোঁয়ারি, 
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪১৫.
কোনটি জসীম উদ্দীনের কাব্য?
  1. চলে মুসাফির
  2. রাখালী
  3. বিষের বাঁশি
  4. সোনালি কাবিন
ব্যাখ্যা

'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

অন্যদিকে,
- চলে মুসাফির - জসীম উদ্দীনের উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনীগুলোর মধ্যে একটি।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - বিষের বাঁশি।
- 'সোনালী কাবিন' কাব্যগ্রন্থের রচিয়তা আল মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪১৬.
ইউসুফ-জোলেখা একটি-
  1. ক) দেবদেবীর মাহাত্ম নির্ভর কাব্য
  2. খ) কাহিনি কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) জীবনীকাব্য
  4. ঘ) গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্য
ব্যাখ্যা

ইউসুফ-জোলেখা একটি কাহিনি কাব্যগ্রন্থ; লিখেছেন শাহ মুহম্মদ সগীর।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪০৯ খ্রিষ্টাব্দ) এ গ্রন্থ রচিত হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
- সে-বিচারে কাব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকের রচনা এবং শাহ মুহম্মদ সগীর বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে গণ্য।
- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে।
- ইরানের কবি ফেরদৌসিও (মৃত্যু ১০২৫ খ্রিষ্টাব্দ) এই নামে কাব্য রচনা করেছেন।
- এটি মূলত অনুবাদ কাব্য বা রোমান্টিক প্রণোয়োপাখ্যানের নিদর্শন। 
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪১৭.
'মংডুর পথে' ভ্রমনকাহিনিটি কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) পথে প্রবাসে
  2. খ) জলে ডাঙ্গায়
  3. গ) দুয়ার হতে অদূরে
  4. ঘ) অপরূপ মায়ানমার
ব্যাখ্যা
• 'মংডুর পথে' ভ্রমনকাহিনিটি বিপ্রদাস বড়ুয়া রচিত 'অপরূপ মায়ানমার' গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত। 
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• বিপ্রদাস বড়ুয়া ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সহকারী পরিচালক। 
তাঁর অন্যান্য ভ্রমণ-গ্রন্থ: 
- মায়াবি জাপান। 
- ভূস্বর্গ ভ্রমণ: বাংলাদেশ। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- মুক্তিযোদ্ধারা
- অচেনা
- ভয় ভালোবাসা নির্বাসন
- শ্রামণ গৌতম 
- ইয়াসমিন 
- অশ্রু ও আগুনের নদী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪১৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাখী
  2. খ) ক্রীডো
  3. গ) অসমাপিকা
  4. ঘ) মর্তের স্বর্গ
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়
- একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি,
- লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণ কাহিনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
-  কঙ্কাবতী,
-  দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

[অন্নদাশঙ্কর রায়ের রচিত প্রথম উপন্যাস 'অসমাপিকা', কিন্তু তার প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস 'আগুন নিয়ে খেলা'।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪১৯.
আবুল মনসুর আহমদের 'ফুড কনফারেন্স' কি ধরণের রচনা?
  1. ক) বিদ্রুপাত্মক রচনা
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) আত্মচরিত
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮-১৯৭৯): সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে:
- আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও
- ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে:
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

স্মৃতিকথা:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯),
- শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা (১৯৭৮)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
 
৭,৪২০.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি কে রচনা করেছেন? 
  1. আবু ইসহাক 
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  3. শওকত ওসমান 
  4. শামসুর রাহমান 
ব্যাখ্যা
• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি রচনা করেন শওকত ওসমান।

• 'ক্রীতদাসের হাসি'

- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে ।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক।
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

• শওকত ওসমান

- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি 
- রাজা উপাখ্যান
- জাহান্নাম হইতে বিদায় 
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ
- গল্পগ্রন্থ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,৪২১.
কবি কাজী নজরুল তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থটি হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার কে উৎসর্গ করেন?
  1. চিত্তনামা
  2. সিন্ধু হিন্দোল
  3. দোলনচাঁপা
  4. চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা
• 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ:
- সিন্ধু হিন্দোল কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে এই গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটি “বাহার ও নাহার”-কে (হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী ও শামসুন নাহার) উৎসর্গ করেন।
- 'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
গোপন প্রিয়া; অনামিকা; বিদায়-স্মরণে; পথের স্মৃতি; উন্মনা; দারিদ্র্য; বাসন্তী; ফাল্গুনী; বধূ-বরণ; রাখী-বন্ধন; চাঁদনী রাতে; মাধবী-প্রলাপ ইত্যাদি। 

--------------------
অন্যদিকে,
• 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন। এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় অর্ঘ্য, অকাল-সন্ধ্য, সাত্বনা, উন্দ্রপতন, রাজাভ কবিতা লিখেন। এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ: 
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দোলন চাঁপা'। 
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’।   
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩ সালে) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দি ছিলেন।
- দোলন চাঁপা কাব্যগ্রন্থটি মূলত প্রেম প্রধান কবিতার বই।  
- কবির স্ত্রী আশালতা বা দোলনের (ডাক নাম দুলি, আদার করে ডাকা হতো দোলন) নামেই কাব্যটির নামকরণ করা হয়।

• ‘চন্দ্রবিন্দু’ কাব্যগ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের লেখা নিষিদ্ধ ঘোষিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে চন্দ্রবিন্দু অন্যতম।
- হাস্য ও ব্যাঙ্গাত্মক কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩১ সালে ততকালীন বৃটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: ' লীগ-অব-নেশন', 'ডোমিনিয়ন স্টাটাস ' 'সাহেব মোসাহেব ' 'প্রাথমিক শিক্ষা বিল' ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪২২.
রোহিনী, গোবিন্দলাল কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. আনন্দমঠ
  4. সীতারাম
ব্যাখ্যা
রোহিনী, গোবিন্দলাল, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর 'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাসের চরিত্র।
- কৃষ্ণকান্তের উইল (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিনী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়
- উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের চরিত্র:
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা, 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ
- কৃষ্ণকান্তের উইল - চরিত্র রোহিনী, ভ্রমর, গোবিন্দলাল


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪২৩.
'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. সুকুমার রায় 
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. মানুয়েল দা আসুম্পসাও
ব্যাখ্যা

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।

• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।

• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।

• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।

• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪২৪.
নিচের কোনটি পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত?
  1. দেওয়ানা ভাবনা
  2. কমলা
  3. মলুয়া
  4. ভেলুয়া
ব্যাখ্যা
• পূর্ববঙ্গ গীতিকাগুলো হলো:
- নিজাম ডাকাতের পালা,
- কাফন চোরা,
- কমল সওদাগর,
- চৌধুরীর লড়াই,
- কাঞ্চনমালা,
- আয়না বিবি,
- ভেলুয়া,
- কমলা রানির গান।

অন্যদিকে,
- মলুয়া, দেওয়ানা ভাবনা ও কমলা মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪২৫.
অন্নদাশংকর রায় রচিত 'বিনুর বই' একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনি
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'বিনুর বই'
- অন্নদাশংকর রায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- এর প্রকাশকাল - ১৯৪৪।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- তারুণ্য,
- ইশারা,
- বিনুর বই,
- আধুনিকতা।

• তাঁর ভ্রমনকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।
৭,৪২৬.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থ:
- 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯৭৫ সালে গল্পগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনীতি বিষয়ক একটি গল্পগ্রন্থ।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাঙ্গী। 
- জাহান্নাম হইতে বিদায়। 

• নাটক:
- তস্কর লস্কর, 
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা, 
- কাঁকর মণি, 
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭,৪২৭.
’চিত্তনামা’ কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্য
  3. নাটক
  4. গল্প
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯২৫ সালে। 
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ আষাঢ় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ দার্জিলিং এ মৃত্যুবরণ করেন।
- এ মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কবি সমকালীন পত্রিকায় কবিতা লিখেন। 
- এসকল কবিতা নিয়ে 'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ বের করেন।

কাজী নজরুল ইসলামের কাব্যগ্রন্থ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪২৮.
"পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতায় পাওয়া যায়?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) বিদ্রোহী
  4. ঘ) হে মহাজীবন
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ছাড়পত্র, সুকান্ত ভট্টাচার্য।
৭,৪২৯.
'নিষ্ফল কামনা'- কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) চিত্রা
  2. খ) মানসী
  3. গ) ক্ষণিকা
  4. ঘ) কণিকা
ব্যাখ্যা
'নিষ্ফল কামনা'- কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'মানসী' কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।

• মানসীর কবিতা গুলো দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে অতীত জিবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি। 

এই কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- দুরন্ত আশা
- ভুলভাঙ্গা
- কুহুধ্বনি
- সুরদাসের প্রার্থনা
- মেঘদূত
- অহল্যার প্রতি
- আত্মসমর্পন

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৩০.
'তিথিডোর' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

'তিথিডোর' উপন্যাস:
- 'তিথিডোর' বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস।
- প্রকাশকাল: ১৯৪৯।
- খণ্ড: শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান।
- উপজীব্য: বাঙালি মধ্যবিত্ত নারীর জীবন, প্রেম ও যৌবনের বন্দনা।

উল্লেখ্য,
- বুদ্ধদেব বসুর জন্ম: ৩০ নভেম্বর ১৯০৮, কুমিল্লা।
- আদি নিবাস: বিক্রমপুর, মালখানগর।
- পেশা: সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের একজন।
- কাব্যগ্রন্থ: মর্মবাণী, বন্দীর বন্দনা, কঙ্কাবতী, যে আঁধার আলোর অধিক, মরচেপড়া পেরেকের, একদিন চিরদিন।
- উপন্যাস: তিথিডোর, সাড়া, সানন্দা, লালমেঘ, পরিক্রমা, কালো হাওয়া, নির্জন স্বাক্ষর, নীলাঞ্জনার খাতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৪৩১.
ডোম্বীপার গুরু ছিলেন-
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. শান্তিপা
  4. বিরূপা
ব্যাখ্যা

• ডোম্বীপা:
- চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন-ডোম্বীপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪নং পদটির রচয়িতা।
- ডোম্বীপার গুরু ছিলেন বিরূপা।
- গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র এবং গঙ্গা ও যমুনা নদীতে কড়ি ছাড়াই নদী পার হওয়া যেত বলে ডোম্বীপা রচিত পদ থেকে জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৩২.
'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. দেশভাগ
  2. গ্রাম বাংলার প্রকৃতি
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
- কবি জসীম উদ্দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন।
- রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়,
- স্বাধীনতার দিনে,
- জাগায়ে তুলিব আশা,
- Dedication,
- The last poem for you,
- Where is Mina?,
- Freedom Fighter,
- A Poet's Appeal,
- The Chariot of Dhamrai
- দিলরাশ বানুর কাহিনী,
- মুক্তিযোদ্ধা মোফাখখর হোসেন,
- শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ কবি  জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৩৩.
হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 
  1. যতোই গভীরে যাই মধু
  2. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. জ্বলো চিতাবাঘ
  4. অলৌকিক ইস্টিমার
ব্যাখ্যা
'অলৌকিক ইস্টিমার' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অলৌকিক ইস্টিমার' হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- কবিতায় যৌনতার অনুষঙ্গ আছে, কিন্তু স্লোগান ও আছে। তবে কাব্যভাষা ঋদ্ধ, লক্ষ্যভেদী।

হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর রবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৩৪.
‘পঞ্চকবির গান' – এখানে পঞ্চকবির একজন হলেন-
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আনোয়ার পাশা
  4. ঘ) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
পঞ্চকবির গানের পাঁচজন কবি হলেনঃ অতুলপ্রসাদ সেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, রজনীকান্ত সেন, দ্বিজেলন্দ্রলাল রায়। এই পাঁচজন কবিই একাধারে সুরকার, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন। তাই তাদের কে পঞ্চকবির গান এর কবি বলা হয়। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৪৩৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. মেদিনীপুর
  2. বর্ধমান
  3. হুগলি
  4. বীরভূম
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পল্লী সমাজ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- দত্তা,
- গৃহদাহ,
- বামুনের মেয়ে,
- দেনা পাওনা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৩৬.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্য কোনটি?
  1. ক) ক্রীতদাসের হাসি
  2. খ) জীবন আমার বোন
  3. গ) নুরুলদীনের সারা জীবন
  4. ঘ) কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
- মাহমুদুল হক রচিত 'জীবন আমার বোন' একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

'জীবন আমার বোন':
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে। 
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, রঞ্জু প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
 • উপন্যাস:
- কালো বরফ
- জীবন আমার বোন
- অনুর পাঠশালা
- নিরাপদ তন্দ্রা
- অশরীরী
- চিক্কোর কাবুল 
- খেলাঘর
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৭,৪৩৭.
মধ্যযুগের কবি নন কে?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. বিদ্যাপতি
  3. জয়নন্দী
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি নয় - জয়নন্দী।
- তিনি প্রাচীন যুগের কবি। 
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 

• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- গানের মাঝে ও শেষে তাঁরা ভণিতা দিয়েছেন।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।

• চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন : লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আজদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।
------------------------- 
• বাংলা সাহিত্যকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
- প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
- মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
- আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

- মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।
-------------------- 
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন:
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- এন্টনি ফিরিঙ্গি, 
- উইলিয়াম জোনস,
- কবি কঙ্ক,
- কানাহরি দত্ত,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- কৃত্তিবাস ওঝা,
- গোবিন্দদাস,
- চণ্ডীদাস,
- চন্দ্রাবতী,
- জ্ঞানদাস,
- দৌলত উজির বাহরাম খান,
- দৌলত কাজী,
- দ্বিজ বংশীদাস,
- বড়ু চণ্ডীদাস,
- বিজয় গুপ্ত,
- বিদ্যাপতি,
- ভারতচন্দ্র রায়,
- মানিক দত্ত,
- মালাধর বসু/গুণরাজ খান,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী,
- রামনিধি গুপ্ত,
- রামপ্রসাদ সেন,
- শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ,
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা: ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৩৮.
নিচের কোনটি কবি জসীমউদ্দীনের রচনা নয়?
  1. ক) ধানক্ষেত
  2. খ) মধুমালা
  3. গ) পদ্মাপাড়
  4. ঘ) এক মুঠো
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কবি জসিমউদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ - বালুচর, রাখালী, ধানক্ষেত, রূপবতী। নাট্যগ্রন্থ - পদ্মাপাড়, বেদের মেয়ে, মধূমালা, পল্লীবধূ। অমীয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ - এক মুঠো, খসড়া, মাটির দেয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৪৩৯.
‘চর্যাপদ’ হলো-
  1. একগুচ্ছ ধর্মোপদেশ
  2. সাধন সংগীত
  3. জীবনাচরণ পদ্ধতি
  4. নীতিকথা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ -গানের সংকলন বা সাধন সংগীত যা বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
-------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৪০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪১.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৭,৪৪২.
রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. নীল দংশন
  2. হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  3. কালো ঘোড়া
  4. ফেরারী সূর্য
ব্যাখ্যা
• রাবেয়া খাতুন:
- বাংলাদেশী সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুনের (১৯৩৫-২০২১) জন্ম ঢাকার বিক্রমপুরে তার মামার বাড়িতে। 
- তার রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম ‘নিরাশ্রয়া’।
- রাবেয়া খাতুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক জনপ্রিয় উপন্যাস “মেঘের পর মেঘ” অবলম্বনে, বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম ২০০৪ সালে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র - মেঘের পরে মেঘ।
- ২০১১ সালে তার আরেকটি জনপ্রিয় উপন্যাস “মধুমতি” অবলম্বনে, পরিচালক শাহজাহান চৌধুরী একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র মধুমতি।
- এছাড়াও অভিনেত্রী মৌসুমী ২০০৩ সালে তার লেখা কখনো ‘মেঘ কখনো বৃষ্টি’ অবলম্বনে একই শিরোনামে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি।

তাঁর লেখা বিভিন্ন উপন্যাস গুলো হলো:
- মধুমতি,
- সাহেব বাজার,
- অনন্ত অন্বেষা,
- রাজারবাগ শালিমারবাগ,
- মন এক শ্বেত কপোতী,
- ফেরারী সূর্য (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- অনেকজনের একজন,
- জীবনের আর এক নাম,
- দিবস রজনী,
- সেই এক বসন্তে,
- মোহর আলী,
- নীল নিশীথ,
- বায়ান্ন গলির এক গলি,
- পাখি সব করে রব,
- নয়না লেকে রূপবান দুপুর,
- মিড সামারে,
- হানিফের ঘোড়া,
- হিরণ দাহ,
- এই বিরহকাল,
- হোটেল গ্রীন বাটন,
- বাগানের নাম মালনিছড়া,
- প্রিয় গুলশানা,
- বসন্ত ভিলা,
- ছায়া রমণী,
- সৌন্দর্যসংবাদ,
- হৃদয়ের কাছের বিষয়,
- মালিনীর দুপুর,
- রঙিন কাচের জানালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘কালো ঘোড়া’ ইমদাদুল হক মিলন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’ সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘নীল দংশন’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো রিপোর্ট এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪৩.
'অভ্র-আবীর' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
-  বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের হিসেবে খ্যাত ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'।
- তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর অপর কৃতিত্ব বিদেশি কবিতার সফল অনুবাদ।
- আরবি, ফারসি, চীনা, জাপানি, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার বহু কবিতা অনুবাদ করে তিনি  বাংলা সাহিত্যএর বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি সাধন করেন। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
সবিতা,
সন্ধিক্ষণ,
বেণু ও বীণা,
কুহু ও কেকা,
তুলির লিখন,
হোমশিখা,
অভ্র-আবীর,
হসন্তিকা,
বেলা শেষের গান,
বিদায় আরতি।

অনুবাদকাব্য:
তীর্থ সলীল,
তীর্থ রেণু,
ফুলের ফসল,
মণি মঞ্জুষা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৪৪.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন।

উল্লেখ্য 
• 'বুদ্ধদেব বসু'- কবি জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার' কবি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- "কবিতার কথা"। 'কবিতার কথা' প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: "সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি"।
- "বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। "বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় "রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা" নামক কাব্য।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৪৫.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল রচিত কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) পদাবলী
  4. ঘ) সপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৭,৪৪৬.
'বাইশা' বলা হয় কোন মঙ্গলকাব্যের কবিদের কে?
  1. চণ্ডীমঙ্গল 
  2. মনসামঙ্গল 
  3. অনদামঙ্গল 
  4. ধর্মমঙ্গল 
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৪৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৪৮.
বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তার জন্ম।
- তিনি বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: ১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
          ২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
          ৩) বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৪৯.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. আবদুল কাদির
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৫০.
"অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যা রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - “টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫১.
'ছায়া হরিণ' এর কবি কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আল মাহমুদ
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'ছায়া হরিণ' এর কবি - আহসান হাবীব

ছায়া হরিণ:
- আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ছায়াহরিণ'।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
- মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- এ কাব্যে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন।
- তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।

আহসান হাবীব:
- তিনি ১৯১৭ সালে পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম 'রাত্রিশেষ' (১৯৪৭)।
- তিনি ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারা দুপুর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ছায়া
  2. মায়া
  3. নাজমা
  4. সালমা
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘১৯৭১’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - নাজমা

• '১৯৭১' উপন্যাস:
- আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জীবনের শেষবেলায় কলম ধরেন বাংলা ভাষার অন্যতম কথাসাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
- আবেগ ও বাস্তবতার শব্দ মিশেলে তিনি উপস্থাপন করেন ‘১৯৭১’ উপন্যাস।
- তারাশঙ্কর তাঁর ‘১৯৭১’ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন একাত্তরের গ্রামীণ জীবনের চিত্র।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নাজমা নামের একটি কালো মেয়ে এই উপন্যাসে হয়ে উঠেছে একাত্তরে হাজার নারীর প্রতীক।
- সেই সঙ্গে সহচরিত্র - রহিম, মি. সেন ও ছায়ার মাধ্যমে সময়ের মুখ খুলে দিয়েছে এ কথাশিল্পী। যার পরতে পরতে রয়েছে হৃদয়ছোঁয়া মা-মাটি-মানুষের ভালোবাসা।

• '১৯৭১' উপন্যাসের দুটি অংশ। যথা:
- সুতপার তপস্যা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পূর্বে যখন ‘সুতপার তপস্যা’ এবং ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ বই দুটি প্রকাশের আলোচনা হচ্ছিল তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থার মধ্যেই বলেন, ‘দুটো বই এক হয়ে বেরোবে, তার নাম হবে - ১৯৭১’।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৪৫৩.
‘দ্য লিবারেশন অফ বাংলাদেশ’ গ্রন্থের রচয়িতা‒
  1. ক) রফিকুল ইসলাম
  2. খ) রশীদ করিম
  3. গ) মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং
  4. ঘ) কর্নেল সিদ্দিক মালিক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ‍মুক্তিযুদ্ধের উপর ‘দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ বইটি মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং রচিত।
- এটির পুরো নাম হলো ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার সিন্স ইন্ডিপেন্ডেন্স : দ্য লিবারেশন অব বাংলাদেশ’ (১৯৯৮)।
- মেজর জেনারেল সুখওয়ান্ত সিং ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডে কর্মরত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো এবং আমাজন ডটকম
৭,৪৫৪.
নিচের কোন জন মধ্যযুগের কবি ছিলেন না?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. সমরেশ বসু
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের কবি ছিলেন না-  সমরেশ বসু। তিনি আধুনিক যুগের কবি ছিলেন।

• সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন

- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৭,৪৫৫.
'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?'- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রঙ্গলাল সেন
ব্যাখ্যা
• 'স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়?'- চরণটির রচয়িতা = রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
[প্রশ্নে 'সেন' দেওয়া আছে, যেটি ভুল।]

পদ্মিনী উপাখ্যান:
- রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি 'পদ্মিনী উপাখ্যান' ১৮৫৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের 'Annals and Antiquities of Rajasthan' - এর কাহিনি অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য। 
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ - পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম ১৮২৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে। 
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়। 
- তিনি নিজে  কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন। 
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন। 
- ১৮৮৭ সালের ১৩ মে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য: 
- কর্মদেবী, 
- শূরসুন্দরী,
- কাঞ্চী কাবেরী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. লিপিকা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. একরাত্রি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোটগল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম ছোটগল্প 'ভিখারিনী'। এটি 'ভারতী' পত্রিকায় ১৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো:
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

এছাড়াও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য বিখ্যাত কিছু ছোটগল্প হলো- নষ্টনীড়, শাস্তি, একরাত্রি, মধ্যবর্তিনী, দৃষ্টিদান, সমাপ্তি, পোস্টমাস্টার, হৈমন্তী, ছুটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫৭.
এস ওয়াজেদ আলী রচিত ভ্রমণ কাহিনী কোনটি?
  1. ক) ইউরোপের চিঠি
  2. খ) পথে প্রবাসে
  3. গ) যে দেশে মানুষ বড়
  4. ঘ) মোটরযোগে রাঁচি সফর
ব্যাখ্যা
-‘ভবিষ্যতের বাঙালী’ গ্রন্থটির রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
এই গ্রন্থে তিনি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- এছাড়া, প্রাচ্য ও প্রতিষ্ঠিত, জীবনের গল্প ইত্যাদি প্রবন্ধের রচয়িতা এস ওয়াজেদ আলী।
-তাঁর রচিত ঐতিহাসিক উপন্যাস - গ্রানাডার শেষবীর।
- তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী – মোটরযোগে রাঁচি সফর।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৫৮.
'দীপ ও ধূপ' কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
- কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ 'দীপ ও ধূপ'।

• কামিনী রায়:
-  ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

 • তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া (প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে).
- মাল্য ও নির্মাল্য।
-  অশোকসঙ্গীত।
- অম্বা (নাটককাব্য)।
- দীপ ও ধূপ।
- জীবনপথে।
- পৌরাণিকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৫৯.
'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সন্ধ্যা
  2. দোলন-চাঁপা
  3. সর্বহারা
  4. অগ্নি-বীণা
ব্যাখ্যা
• 'দোলন-চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- অক্টোবর, ১৯২৩ সালে এটি প্রকাশিত হয়। কবি তখন রাজবন্দী ছিলেন।
- এতে ২১টি কবিতা আছে।
- প্রথম কবিতা- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- ১৩৩০ বঙ্গাব্দের আশ্বিনে (অক্টোবর ১৯২৩) এটি প্রকাশিত হয়।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থের প্রথম কবিতা আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি ২১টি কবিতার সংকলন।
- দোলন-চাঁপা কাব্য গ্রন্থটি মূলত প্রেম - প্রধান কবিতার বই।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৭,৪৬০.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যে নূরলদীনের বাড়ি কোথায়?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. যশোর
  4. নেত্রকোনা
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- 'নূরলদীনের সারাজীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
- ১৭৮৩ এর কৃষক আন্দোলনের বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নূরলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৬১.
জহির রায়হান পরিচালিত অসমাপ্ত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. ধ্রুবতারা
  2. লেট দেয়ার বি লাইট
  3. আবার তোরা মানুষ হ
  4. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী
ব্যাখ্যা
• ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ চলচ্চিত্র:
- ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সংস্কৃতির নামে বিশ্বজুড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার মানুষের আর্তনাদ তুলে ধরে ১৯৭০ সালে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ নির্মাণে হাত দেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্রকার জহির রায়হান।
- শুটিংয়ের মাঝখানে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় সিনেমার দৃশ্যধারণ আটকে থাকে।
- স্বাধীনতার পর মিরপুরে ভাইকে খুঁজতে গিয়ে তিনি শহীদ হওয়ার পর অসমাপ্ত সিনেমাটি আলোর মুখ দেখে নি।

• জহির রায়হান:

- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- কখনও আসেনি,
- Stop Genocide,
- সোনার কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - ধ্রুবতারা।
• সুভাষ দত্ত পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী।
• খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র - আবার তোরা মানুষ হ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং প্রথমআলো রিপোর্ট ২০ আগস্ট, ২০২২।
৭,৪৬২.
কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'লালসালু' এর ইংরেজি অনুবাদ কোনটি?
  1. ক) Red rose
  2. খ) Crocodiles tear
  3. গ) believer's sign
  4. ঘ) Tree Without Roots
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস 'লালসালু।' 
- এটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- লালসালু উপন্যাসটি Tree Without Roots (১৯৬৭) নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 
- 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৬৩.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. এখনও ক্রীতদাস
  2. সভ্যতার সংকট 
  3. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  4. একাত্তরের ঢাকা 
ব্যাখ্যা

• 'এখনও ক্রীতদাস' নাটক: 
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এই নাটকে ঢাকা শহরে ‘গলাচিপা’ বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়ার পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবনযাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক, সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।

-------------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন নাট্যকার, নাট্যনির্দেশক, অভিনেতা। তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• ‘সভ্যতার সংকট’ রবীন্দ্রনাথের শেষ ভাষণ যা তার আশি বৎসরের জন্মোৎসবের অনুষ্ঠানে ১৯৪১ সালের ১৪ই এপ্রিল (১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ) প্রবন্ধ বই আকারে শান্তিনিকেতনে বিতরিত হয়। এই ভাষণ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় মুদ্রিত হবার পর, রবীন্দ্রনাথ এর ঈষৎ সংশোধন করেন। পরে এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশিত হয় ‘প্রবাসী’ পত্রিকায়। পরে ৮ই মে , ১৯৪১ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়।

• 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' প্রখ্যাত লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক ও মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস, যেখানে তিনি নিজের জীবনের প্রেম ও নারীর সম্পর্কের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। 

• সেলিনা হোসেন রচিত 'একাত্তরের ঢাকা' একটি প্রবন্ধ সংকলন। শুরু হয়েছে ১৯৭১ সালের ১ লা মার্চ থেকে। শেষ হয়েছে বিজয় দিবসের পরে বধ্যভূমি আবিষ্কার এবং লেখকের নানা স্মৃতিচারণের মাধ্যমে। একাত্তরের নয় মাসে কত কি ঘটেছে তার নানা ধরণের বিবরণ আছে এ বইয়ে। ২২টি শিরোনামে তিনি বিভিন্ন বিষয় এনেছেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৭,৪৬৪.
'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির প্রণেতা-
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. গোলকনাথ শর্মা
  3. রামরাম বসু
  4. হরপ্রসাদ রায়
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- এটি ১৮০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র'।
- রামরাম বসু, উইলিয়াম কেরিকে বাংলা ভাষা শেখান ( ১৭৯৩ থেকে ১৭৯৬ পর্যন্ত)।
- তাই তিনি কেরি সাহেবের মুন্‌সি নামে পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৪৬৫.
মুনীর চৌধুরীর 'মুখরা রমনী বশীকরণ' নাটকটি কোন লেখকের বিখ্যাত নাটকের অনুবাদ?
  1. ক) উইলিয়াম শেকস্পি‌য়ার
  2. খ) ডব্লিউ বি ইটস
  3. গ) জনাথন সুইফট
  4. ঘ) আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি সর্বাংশে কমেডি। পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট।
পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে। মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৭,৪৬৬.
”সততা হে নদ তুমি পড় মোর মনে” পঙক্তিটির রচিতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
কপোতাক্ষ নদ:
- কবিতাটির রচিতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- কবিতাটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ’চতুর্দশপদী কবিতাবলী’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি একটি সনেট জাতীয় কবিতা।
- ”সততা হে নদ তুমি পড় মোর মনে” পঙক্তিটি কপোতাক্ষ নদ কবিতার অন্তর্গত।
----------------------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,৪৬৭.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম 'গন্ধর্বনারায়ণ' ছিলো?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক

তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৬৮.
চর্যাগীতি কোন তত্ত্বের কথা ব্যক্ত করে?
  1. নাথ সাধনতত্ত্বের
  2. জৌন সাধনতত্ত্বের
  3. বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের
  4. খ্রিষ্ট সাধনতত্ত্বের
ব্যাখ্যা
• চর্যাগীতির বিষয়বস্তু:
চর্যাগীতির বিষয়বস্তু বৌদ্ধ সহজিয়াদের ধর্মসাধন-পদ্ধতি ও গূঢ় তত্ত্ব। এতে দেহসাধনার গূঢ় তত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। দেহসাধনার মধ্য দিয়েই বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যরা পার্থিব জীবনের রোগ-শোক ও জন্ম-মৃত্যুর চক্রজাল থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছেন, সুখ-দুঃখের ঊর্ধ্বে উঠে অর্জন করতে চেয়েছেন মহাসুখ।

হীনযানী বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পদকর্তা তথা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যরা গুহ্য ভাষায় তাঁদের এ সাধনতত্ত্ব ও আচার-প্রকরণের কথা চর্যাগীতিগুলোতে প্রকাশ করে গেছেন। এক্ষেত্রে নানা রূপক, প্রতীক ও সংকেতের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের বক্তব্য প্রচ্ছন্ন রাখতে চেয়েছেন। ফলে বৌদ্ধ ধর্মের এ শাখার ধর্মীয় গুহ্য আচরণবিধি জানা না থাকলে চর্যাগীতির সম্পূর্ণ মর্ম উদ্ধার সম্ভব হয় না। সহজিয়া বৌদ্ধদের কায়াশ্রয়ী সাধনার কথা চর্যাগীতিগুলোতে বিশেষ বাগ্রীতিতে ব্যক্ত হয়েছে। তাই সেগুলোর পুরোপুরি রস আস্বাদনে সমস্যা হয়।

বৌদ্ধ সাধনতত্ত্বের কথা ব্যক্ত করলেও চর্যাকাররা জগৎ এবং মানবজীবনকে একেবারে উপেক্ষা করেন নি। চর্যাগানের কবিরা রূপসচেতন শিল্পী। তাঁদের কবিতা প্রগাঢ় জীবনবোধে ভাস্বর। ধর্মতত্ত্ব ও সাধন প্রক্রিয়ার কথা বলতে গিয়ে তাঁরা যেসব রূপক-প্রতীক, উপমা-চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন সেগুলো রসসৌন্দর্যমণ্ডিত। তাঁদের রচনা বিষয় ও আঙ্গিক উভয় দিক থেকে কাব্যগ্রাহ্য হয়ে উঠেছে। বৈষ্ণব ধর্মতত্ত্ব ও সাধনপ্রক্রিয়া না জেনেও পাঠক এগুলোর রস কম-বেশি উপভোগ করতে পারেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।
৭,৪৬৯.
"Tree Without Roots" — কোন উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. লালসালু
  3. একটি তুলসী গাছের কাহিনী 
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

• ‘লালসালু’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত —‘লালসালু’ বাংলা সাহিত্যের এক বহুমাত্রিক ও কালজয়ী উপন্যাস। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় — ১৯৪৮ সালে। 

• উপন্যাসটির মূল উপজীব্য:
উপন্যাসে দেখা যায়, গ্রামবাংলার এক কূটচরিত্র ধর্মব্যবসায়ী মজিদ একটি কল্পিত মাজারকে পুঁজি করে ধর্মপ্রবণ সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। গ্রামীণ মানুষের সরলতাকে কাজে লাগিয়ে সে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তার কিশোরী স্ত্রী জমিলা-র বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের কারণে মজিদ আশঙ্কাগ্রস্ত হয়ে ওঠে। এভাবেই লেখক স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

উপন্যাসটির অনুবাদ ও স্বীকৃতি:
• ১৯৬০ সালে পাকিস্তান লেখক সংঘ কর্তৃক করাচি থেকে উর্দু অনুবাদ প্রকাশিত হয়। একই বছর প্যারিস থেকে ফরাসি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।
• ১৯৬৭ সালে লন্ডন থেকে ইংরেজি অনুবাদ —Tree Without Roots নামে প্রকাশিত হয়।
• পরবর্তীতে চেক ও জার্মান ভাষায়ও অনুবাদ হয়।
• এ উপন্যাস অবলম্বনে ঢাকায় একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।
• ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে ‘লালসালু’।
 
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ: 
• জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯২২, চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে।
• বিবাহ: ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরি-র সঙ্গে। মেরি প্রথমে লালসালু উপন্যাস ফরাসিতে অনুবাদ করেন। পরে ইংরেজি অনুবাদ হয় —Tree Without Roots নামে।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
• লালসালু;
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো।

গল্পগ্রন্থ:
• নয়নচারা;
• দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সহপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৭০.
‘মোদের গরব, মোদের আসা আ মরি বাংলা ভাষা’- গানটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন এর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০৬ টি। এর মধ্য অনেক জনপ্রিয় কিছু গান রয়েছে। যেমনঃ মিছে তুই ভাবিস মন, সবারে বাস রে ভাল, একা মোর গানের তরী, মোদের গরব মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা ইত্যাদি।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৭,৪৭১.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) জসীমউদ্‌দীন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী:  
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৭,৪৭২.
'সাহিত্যবিশারদ' কার উপাধি?
  1.  আব্দুল কাদির
  2. আব্দুল করিম
  3. নজিবর রহমান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি। 
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৭৩.
'জয়গুণ' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. পদ্মানদীর মাঝি
  2. সূর্য দীঘল বাড়ী
  3. লালসালু
  4. হাজার বছর ধরে 
ব্যাখ্যা

• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' প্রকাশিত হয় ১৯৫৫ সালে।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে।
- স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
• 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিল, আমেন, খালেক ব্যাপার, রহিম, আক্কা, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
• "হাজার বছর ধরে" উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো: মন্ত্র, টুনি, এবং বুড়ো মকবুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৭৪.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. খ) ইমদাদুল হক
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা

• ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক:
- কাফেলা,
- আনোয়ার পাশা,
- কামাল পাশা,
- ভিস্তি বাদশা,
- ঋণ পরিশোধ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী:
- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র,
- পাকিস্তানের পথে ঘাটে,
- নয়া চীনে এক চক্কর।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সোনার শিকল,
- আলু বোখরা,
- দাদুর আসর।

• তাঁর রচিত উপন্যাস- বৌ বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,৪৭৫.
‘বাদল-বরিষণে’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বাঁধন-হারা
  2. ব্যথার দান
  3. রিক্তের বেদন
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
ব্যথার দান:
- ছয়টি গল্প নিয়ে এ গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।
- গ্রন্থভুক্ত গল্পগুলো: ব্যথার দান, হেনা, অতৃপ্ত কামনা, বাদল-বরিষণে, ঘুমের ঘোরে, রাজবন্দীর চিঠি।
- শেষ গল্পটি বাদে এই গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, বক্তব্য নরনারীর প্রেমকেন্দ্রিক।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৬.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. যোগাযোগ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• কপালকুণ্ডলা:
- বঙ্কিম রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।
- এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
- উপন্যাসটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে, 
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত কৃষ্ণকান্তের উইল এর চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র: মধুসূদন ও কুমুদিনী।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র: অমিত লাবণ্য।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৭৭.
'পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল'—পক্তিটির রচিয়তা কে?
  1. ক) মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল' - পংক্তিটির রচয়িতা মদনমোহন তর্কালঙ্কার ।

মদনমোহন তর্কালঙ্কার
- কবি, সমাজসেবক মদনমোহন তর্কালঙ্কার পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি ‘চট্টোপাধ্যায়’ হলেও প্রাপ্ত উপাধি ‘তর্কালঙ্কার’ হিসেবেই তিনি সুপরিচিত। 
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় ‘সংস্কৃত-যন্ত্র’ (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের  অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- বিদ্যাসাগরের বিধবাবিবাহ ও স্ত্রীশিক্ষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় সহযোগিতা দান করেন।

মদনমোহনের মৌলিক কাব্যগ্রন্থ 
- রসতরঙ্গিণী (১৮৩৪) ও
- বাসবদত্তা (১৮৩৬) ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৭৮.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনপতি সওদাগর
  2. চাঁদ সওদাগর
  3. ফুল্লরা
  4. লহনা
ব্যাখ্যা

• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- চাঁদ সওদাগর;
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

অন্যদিকে, 
• ধনপতি সওদাগর, ফুল্লরা ও লহনা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৭৯.
ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
সোমেন চন্দ ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা। তার উল্লেখযোগ্য একটা ছোটোগল্পের নাম ‘ইঁদুর’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,৪৮০.
কবি নজরুলের 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলনটি কত সালে বাজেয়াপ্ত করা হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
• 'যুগবাণী' প্রবন্ধ সংকলন:
- 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন 'যুগবাণী'।

- নজরুলের প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত হয় ২৩ নভেম্বর ১৯২২। একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়। বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল আত্মপক্ষ সমর্থন করে চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে যে জবানবন্দী প্রদান করেন, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তা ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে সাহিত্য-মর্যাদা পেয়ে আসছে। ১৬ জানুয়ারি বিচারের রায়ে নজরুল এক বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে বইটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে 'যুগবাণী'কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন। ক্রীতদাস মানসিকতার ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।

উল্লেখ্য,
• 'বিষের বাঁশি' গ্রন্থটি কাব্যগ্রন্থ হিসাবে প্রথম বাজেয়াপ্ত হয়। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবরে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

• ১৯২২ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়। গ্রন্থগুলো হচ্ছে-
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৮১.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নাম কী?
  1. ক) চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
  2. খ) হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) বৌদ্ধগান ও দোহাকোষ
ব্যাখ্যা
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নাম- 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা'।  

• 'চর্যাপদ'
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে  চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাঙালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা”
নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদ ছাড়াও ছিল, সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডার্কাণব।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র Buddhist Mystic Songs (১৯৬০) গ্রন্থটি চর্যাপদের অনুবাদ ও সম্পাদনা কর্ম।
- তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ সম্পূর্ণ বাংলা ভাষায় রচিত; এর ধর্মতত্ত্ব নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
-  ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যার তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন। 

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৮২.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন নয় কোনটি? 
  1. সধবার একাদশী
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন। 

• দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ,
- সধবার একাদশী,
- জামাই বরিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৮৩.
'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধেভাতে উৎপাত, দোজখের ওম, 'জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল' ইত্যাদি আক্তারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৭,৪৮৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. বউ ঠাকুরাণীর হাট
  3. গোরা
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - 'বউ ঠাকুরাণীর হাট '।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা' (অসমাপ্ত উপন্যাস)। 'করুণা' উপন্যাসটি অসমাপ্ত তাই একে পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় না।

• 'বউ ঠাকুরাণীর হাট ' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত উপন্যাস হলো 'বৌ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস।
- ‘বৌ-ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাস অবলম্বনে ১৯৫৩ সালে ‘বউ ঠাকুরাণীর হাট' নামে একটি বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন নরেশ মিত্র।
- গ্রন্থটি উৎসর্গ কয়া হয় সৌদামিনী দেবীকে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম সাহিত্যকর্ম সমূহ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম নাটক - 'বাল্মীকি প্রতিভা'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম উপন্যাস - 'বৌঠাকুরানীর হাট'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - 'কবি-কাহিনী'।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রথম ছোটগল্প - 'ভিখারিনী'।

• তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- ঘরে-বাইরে,
- যোগাযোগ
- শেষের কবিতা,
- গোরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বউ ঠাকুরাণীর হাট উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৭,৪৮৫.
'তন্বী' গল্পগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
তন্বী:
- এটি বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য, 'তন্বী' নামে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৮৬.
বাংলা গদ্য কোন যুগের ভাষার নিদর্শন?
  1. প্রাচীন যুগের
  2. মধ্য যুগের
  3. আদি যুগের
  4. আধুনিক যুগের
ব্যাখ্যা
- উনিশ শতকের (১৮০০ - ১৮৯৯) শুরুর দিকে বাংলা ভাষার গদ্য সাহিত্য রচনা শুরু হয়।
- এ সময়কে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- বাংলা গদ্যকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই তিনি বাংলা গদ্যের জনক।
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন। ১৮৪৭ সালে বিরাম চিহ্নের ব্যবহার শুরু হয়।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৭,৪৮৭.
চন্ডীচরণ মুনশী কে?
  1. শ্রীরামপুর মিশনের লিপিকর
  2. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত
  3. কেরী সাহেবের মুন্সী গ্রন্থের রচয়িতা
  4. সমাচার চন্দ্রিকা পত্রিকার সম্পাদক
ব্যাখ্যা

 • চণ্ডীচরণ মুনশী:
- চণ্ডীচরণ মুনশী ব্রিটিশ ভারতের অন্যতম বাঙালি লেখক ছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অধ্যাপক ও ছিলেন।
- তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গদ্যকর্ম ‘তোতা ইতিহাস’।
- ফার্সি গ্রন্থ ‘তুতিনামা’-এর বাংলা অনুবাদ থেকেই এই গ্রন্থটি তৈরি।
- তিনি ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে অনুবাদটি সম্পন্ন করেন।
- এই গ্রন্থটি বাংলা গদ্য সাহিত্যের প্রাচীনতম উদাহরণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

 অন্যদিকে,
• ‘কেরী সাহেবের মুনশী' উপন্যাসটি লিখেছেন প্রমথনাথ বিশী।
• এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস, যার জন্য তিনি ১৯৬০ সালে রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন।
• উইলিয়াম কেরি যখন ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হলেন, সে সময় রামরাম বসু খ্রিস্টান মিশনারি পাদ্রিদের বাংলা শেখাতেন।
•পরে কেরি তাঁর কাজের দক্ষতা দেখে রামরাম বসুকে বাংলা বিভাগের মুনশী  হিসেবে নিয়োগ দেন।
• রামরাম বসুকে ‘কেরী সাহেবের মুনশী' বলা হয়, কারণ তিনি উইলিয়াম কেরীকে বাংলা ভাষা শিক্ষা দিয়েছিলেন।
• ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৮৮.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) দেবন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) বসন্তরঞ্জন রায়
  4. ঘ) রাখালদাস বঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া গ্রামে এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে পুথি আকারে অযত্নে রক্ষিত এ কাব্য আবিষ্কার করেন।

বৈষ্ণব মহান্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত দেবন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়্যের অধিকারে এই গ্রন্থটি রক্ষিত ছিল। ১৯১৬ সালে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় গ্রন্থটি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৭,৪৮৯.
খনার বচনের প্রধান বিষয় কী? 
  1. বৃক্ষরোপণ ও কৃষি 
  2. কৃষি ও আবহাওয়া
  3. জ্যোতিষ ও ঋতুবিদ্যা
  4. স্বাস্থ্য ও খাদ্য
ব্যাখ্যা

খনার বচনের প্রধান বিষয়- কৃষি ও আবহাওয়া।
-------------------------------- 
• খনার বচন:
- খনার বচন হলো অর্থবোধক বাক্য বা উপদেশমূলক উক্তি।
- এটি ইংরেজির saying বা proverb-এর সঙ্গে তুলনীয় হলেও এর তাৎপর্য আরও বিস্তৃত।
- এতে শুভাশুভ, নীতি, বিধিবিধান ও প্রাজ্ঞদের উপদেশের বাণী প্রতিফলিত থাকে।

- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি এই বচন এর সবচেয়ে ভালো উদাহরণ।
- খনার বচনের প্রকৃত রচয়িতা ছিলেন লীলাবতী আর্যা, যিনি খনা নামেও পরিচিত।
- এটি বৌদ্ধ ও হিন্দু সমাজে ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত হয়েছে।

- বিষয়গত দিক থেকে ডাক ও খনার বচনকে বাংলা লোকসাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন এগুলির রচনার সময় অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী বলেছেন।
- আর ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর কিছু অংশকে বৌদ্ধ যুগের রচনা হিসেবে মনে করেছেন।
- মূল ভাব হিসেবে খনার বচনের উদ্দেশ্য হলো শুদ্ধ জীবনযাপন ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান। 

- খনার বচন লোকসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় শাখা।
- এর মধ্যে কাব্যরস, গীতিধর্মিতা এবং মাঝে মাঝে ভণিতার উপাদানও থাকে।
- এদের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের নীতি, কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত মূল্যবান শিক্ষা প্রদান করা হয়।
- মুখে মুখে প্রচলিত থাকার কারণে খনার বচনের ভাষা আধুনিক বাংলায়ও প্রতিফলিত হয়েছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।

৭,৪৯০.
’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ পঙ্‌ক্তিটির লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

- ’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ পঙ্‌ক্তিটির লেখক: বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- পঙ্‌ক্তিটি  “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

• “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”।এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কাব্যটি শুরু করেছিন এভাবে- ’ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে’ 

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,৪৯১.
কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন কোন নামে?
  1. আশ্চর্যচর্যাচয়
  2. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
  3. চর্যাগীতিকোষবৃত্তি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন চর্যাপদ। বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত চর্যাপদগুলো সম্পর্কে ১৯০৭ সালের আগে কোন তথ্যই জানা ছিল না। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত Sanskrit Buddhist Literature in Nepal গ্রন্থে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র সর্বপ্রথম নেপালের বৌদ্ধতান্ত্রিক সাহিত্যের কথা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত বিবরণী প্রকাশ করে যে কৌতূহলের সৃষ্টি করেছিলেন তাতে উদ্দীপ্ত হয়ে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী তৃতীয় বার নেপাল সফর কালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে সে সাহিত্যের কতকগুলো পদ আবিষ্কার করেন। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে সে সব পদ ১৯১৬ সালে (১৩২৩ সনে) চর্যাচর্যবিনিশ্চয় সরহপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব-এ চারটি পুঁথি একত্রে 'হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এগুলোর মধ্যে একমাত্র চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

- চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'। নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৭,৪৯২.
কোনটি রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত কাব্যনাট্য?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) ঘরে-বাইরে
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) নুরুলদীনের সারা জীবন
ব্যাখ্যা
• 'নুরুলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্যের বিষয়বস্তু ছিলো রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ। 

'নুরুলদীনের সারা জীবন' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।  
- নুরুলউদ্দীন ছিলেন রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের একজন বিদ্রোহী নেতা। 
- তিনি কৃষকদের সংঘবদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের নিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে ঝামিয়ে পড়েছিলেন। 
- ইতিহাসের প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে তুলে ধরা হয় এই নাটকে। 
- তিনি নুরুলউদ্দীন কে আখ্যায়িত করেন নুরুলদীন নামে।

তার অন্যান্য কাব্যনাট্য -
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক)
- এখানে এখন।

অন্যদিকে, 
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস 'ঘরে-বাইরে'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৯৩.
'সঞ্চয়ন' - গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য-সমাজ' প্রতিষ্ঠা।
- তিনি 'শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা।
- শিখা পত্রিকার মুখবাণী ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব"।
- কাজী মোতাহার হোসেন বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ ও পুস্তক রচনা করেছেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন
- নজরুল কাব্য পরিচিতি ;
- সে পথ লক্ষ্য করে;
- সিম্পোজিয়াম, 
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস; 
- আলোক বিজ্ঞান। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,৪৯৪.
শওকত ওসমান রচিত গল্পের সংকলন কোনটি?
  1. বণী আদম
  2. ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী
  3. আমলার মামলা
  4. রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ:
- নয়টি ছোট গল্পের সংকলন 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গ্রন্থটি।
- এই গ্রন্থের প্রথম গল্প ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী গল্পের নামে বইয়ের নামকারণ করা হয়েছে।
- প্রতিটা গল্পই বিষয়গত দিক থেকে অনন্য। শওকত ওসমানের শৈল্পিক লিখনের প্রতিচ্ছবি প্রতিটি গল্প।
- শওকত ওসমান এই গল্পগ্রন্থের জন্য ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন। 

অন্যান্য গল্পগুলো হলো:
- কুটিলা ভবেৎ,
- শিবগঞ্জের মেলা,
- অনন্ত বাসর,
- ভূবন পাগলার সমস্যা,
- জনপদে,
- নিদয়-নিদয়া,
- কোন মৌন এবং
- স্বৈরণী। 

অন্যদিকে, 
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- রাজা উপাখ্যান ও বণী আদম। 
• শওকত ওসমান রচিত নাটক - আমলার মামলা।

উৎস: 'ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী' গল্পগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৭,৪৯৫.
নিম্নের কোনটি রবীন্দ্রনাথের অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প?
  1. দেনাপাওনা
  2. মণিহার
  3. যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৪ টি অতিপ্রাকৃত রসের গল্প রয়েছে। 
সেগুলো হচ্ছে - 
- ক্ষুধিতে পাষাণ
- নিশীতে
- মণিহার
- কঙ্কাল 

অন্যদিকে,
দেনাপাওনা, যজ্ঞস্বরের যজ্ঞ ও অনধিকার প্রবেশ - তাঁর সমাজ সমস্যামূলক ছোটগল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৪৯৬.
কার সম্পাদনায় 'সংবাদ প্রভাকর' প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
-  প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৭,৪৯৭.
'পদ্মাবতী' (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) নাটকে মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম কোন ছন্দের প্রয়োগ করেন?
  1. মাত্রাবৃত্ত ছন্দ
  2. মুক্তক ছন্দ
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
  4. সনেট
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অমিত্রাক্ষর ছন্দ:
- 'অমিত্রাক্ষর' ছন্দের বৈশিষ্ট্য হলো এর অন্ত্যমিল বা অন্ত্যানুপ্রাস নেই।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দ ইংরেজি হচ্ছে Blank verse।
- উনিশ শতকে অমিত্রাক্ষর ছন্দ প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে মাইকেল মধুসূদন দত্তের হাতে এ ছন্দের সুরমুক্তি ঘটে।
- অর্থাৎ, 'অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ প্রকৃত পক্ষে বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের নব সংস্করণ।
- তিনি 'পদ্মাবতী' নাটকে (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট এর প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা, 
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী। 

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা,  
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো, 

উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রাচ্য সাহিত্য সমালোচনা তত্ত্ব ও অলংকার শাস্ত্র, প্রফেসর ড. ধীরেন্দ্রনাথ তরফদার।
৭,৪৯৮.
বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদা মঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. সাধের আসন
  4. নিসর্গ সন্দর্শন
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গসুন্দরী’ গীতিকবিতা:
- বিহারীলালের প্রথম সার্থক গীতিকবিতার গ্রন্থ ‘বঙ্গসুন্দরী’ (১৮৭০)। 
- রবীন্দ্রনাথ এ-প্রসঙ্গে বলেছেন: ‘আধুনিক বঙ্গসাহিত্যে এই প্রথম বোধ হয় কবির নিজের কথা প্রকাশ পাইয়াছে।’
- গ্রন্থটি ১০টি সর্গে বিভক্ত। প্রথম সর্গ উপহার, দ্বিতীয় সর্গ নারীবন্দনা, তৃতীয় সর্গ সুরভালা, চতুর্থ সর্গ চিরপরাধীনা, পঞ্চম সর্গ করুণাসুন্দরী, ষষ্ঠ সর্গ বিষাদিনী, সপ্তম সর্গ প্রিয়সখী, অষ্টম সর্গ বিরহিণী, নবম সর্গ প্রিয়তমা ও দশম সর্গ অভাগিনী নামকরণ করা হয়েছে।

• এ কাব্যে কবি বলেছেন-

''সর্বদাই হুহু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন,
চারদিকে ঝালাপালা,
উঃ কি জ্বলন্ত জ্বালা!
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গ পতন।''

---------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,৪৯৯.
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে কী বলে?
  1. ক) গদ্য কবিতা
  2. খ) চম্পুকাব্য
  3. গ) পুঁথি
  4. ঘ) লৌকিক কাব্য
ব্যাখ্যা
গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
চম্পুকাব্যের একটি নিদর্শন হচ্ছে রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’।

[সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৭,৫০০.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছিলেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. সাহিত্যিক সমিতি
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. নজরুল ইনস্টিটিউট
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন:
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- জাতীয় অধ্যাপক মর্যাদায় ভূষিত হন ১৯৭৫ সালে।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিতি,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।