বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৭২ / ২১১ · ৭,১০১৭,২০০ / ২১,১৩২

৭,১০১.
'অমল' - চরিত্রটির স্রষ্টা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক।
- এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক।
- এই নাটকের বিষয়বস্তু অসীম ও সুদূরের প্রতি মানবমনের তীব্র আকর্ষণ, উৎকণ্ঠা ও পিপাসা তথা মানবাত্মার সঙ্গে বিশ্বাত্মার সম্পর্ক।

নাটকের চরিত্র গুলো হলো:
- অমল,
- মাধব দত্ত (অমলের পিতা),
- সুধা (মালির মেয়ে),
- ঠাকুরদাদা,
- দইওয়ালা,
- প্রহরী,
- কবিরাজ,
- রাজ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,১০২.
সাধনা পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১০৩.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্যধারার শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন?
  1. মহাকাব্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. বৈষ্ণবকাব্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ। তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৭,১০৪.
‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. আবু বকর সিদ্দিক
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

- ‘একাত্তরের হৃদয়ভস্ম’ গ্রন্থটির রচয়িতা- আবু বকর সিদ্দিক। 
--------------------------- 
• আবু বকর সিদ্দিক:
- আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বহুমাত্রিক ও শক্তিমান লেখক।
- তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার ও শিক্ষাবিদ—চারটি ক্ষেত্রেই সমানভাবে সক্রিয় ছিলেন।
- ১৯৩৪ সালের ১৯ আগস্ট বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর লেখায় সমকালীন সমাজ, মানুষের জীবনসংগ্রাম, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতার গভীর প্রতিফলন দেখা যায়।
- কবিতায়ও তিনি ছিলেন সমান শক্তিশালী—মানুষ, সভ্যতা, সময় ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর কবিতা প্রতিবাদী ও গভীর চিন্তামুখর।

- শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।
- কর্মজীবনের শেষ দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন।
- সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৮ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।
- ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

• আবু বকর সিদ্দিক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- 
- ‘একাত্তরের হৃদভস্ম’ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস), 
- ‘জলরাক্ষস’,
- ‘খরাদাহ’,
- ‘বারুদপোড়া প্রহর’। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- ধবল দুধের স্বরগ্রাম,
- বিনিদ্র কালের ভেলা,
- হে লোকসভ্যতা,
- শ্যামল যাযাবর,
- মানব হাড়ের হিম। 

• আবু বকর সিদ্দিক–এর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
- ভূমিহীন দেশ,
- চরবিনাশকাল।
-------------------------------- 
একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাস:
- একাত্তরের হৃদয়ভস্ম উপন্যাসটি লিখেছেন প্রখ্যাত কবি ও কথাসাহিত্যিক আবু বকর সিদ্দিক। এই উপন্যাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, সাধারণ মানুষের অসহনীয় কষ্ট এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশ পেলেও মানুষের মনে যে গভীর ক্ষত, শোক আর ভাঙনের অনুভূতি রয়ে যায়—সেই যন্ত্রণাই এখানে মূল বিষয়। উপন্যাসটি যুদ্ধের শুধু লড়াইয়ের গল্প নয়; বরং যুদ্ধ মানুষের জীবন, সম্পর্ক ও অনুভূতিকে কীভাবে ছিন্নভিন্ন করে দেয়, তার হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নিষ্ঠুরতা, নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ এবং স্বাধীনতার মূল্য—সব মিলিয়ে একাত্তরের হৃদয়ভস্ম আমাদের মুক্তিযুদ্ধের এক বেদনাময়, বাস্তব ও মানবিক দলিল।

উৎস:
কালি ও কলম; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৭,১০৫.
'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধূসুদন দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- 'মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।’ চরণটির রচয়িতা - কাজী নজরুল ইসলাম।
- চরণটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।

'বিদ্রোহী' কবিতা

- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
-  ‘বিদ্রোহী' কবিতা ২২ পৌষ,১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,১০৬.
'সদুপাধ্যায়' মধ্যযুগের কোন কবির উপাধি?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. বিদ্যাপতি 
  3. গোবিন্দদাস 
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি  বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। 
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন। 
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার,
পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি ।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- পুরুষপরীক্ষা।
- লিখনাবলী (অলঙ্কার শাস্ত্রবিষয়ক গ্রন্থ)।
- কীর্তিলতা।
- ভূ-পরিক্রমা।
- দানবাক্যাবলী (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী।
- শৈবসর্বস্বসার।
- বিভাগসার (স্মৃতিগ্রন্থ)।
- গঙ্গাবাক্যাবলী।
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১০৭.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস?
  1. কবিতার কথা
  2. বনলতা সেন
  3. মহাপৃথিবী
  4. সুতীর্থ
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "সুতীর্থ" একটি বিখ্যাত বাংলা উপন্যাস, যা জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন।

অন্যদিকে,
বনলতা সেন; মহাপৃথিবী - জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'

• জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর ডাক নাম ছিল মিলু।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'জীবনানন্দ দাশ' জীবনী।
৭,১০৮.
‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি কবি নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. বিষের বাঁশি
  3. দোলন চাঁপা
  4. বাঁধনহারা
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্রোহী' কবিতা:
- বিদ্রোহী কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
- ‘বিদ্রোহী' কবিতাটি ২২ পৌষ, ১৩২৮ বঙ্গাব্দে (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুল দ্রোহ-ভাবাপন্ন আরোও কবিতা লিখলেও শুধু এক 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
- কবিতার মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'।
- এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

'অগ্নিবীণা' কাব্যের কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা), 
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী এবং
- মোহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বিদ্রোহী কবিতা, বাংলাপিডিয়া।
৭,১০৯.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশভাগ
  2. খ) মনন্ত্বর
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'(১৯৬৭) হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্টঙ্কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১১০.
‘সাজাহান’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়  
ব্যাখ্যা

‘সাজাহান’ নাটকটি রচনা করেন দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।

• সাজাহান নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য: 
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সাজাহান এক ঐতিহাসিক পারিবারিক ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত।
- সাজাহান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯০৯ সালে।
- মোগল সাম্রাজ্যের পটভূমিতে রচিত এই নাটকটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হিসেবে পরিচিত।

- নাটকটিতে দেখা যায়- জীবনের শেষ দিকে সম্রাট সাজাহান একদিকে স্ত্রী মমতাজের মৃত্যুশোকে ভেঙে পড়েছেন। অন্যদিকে নিজের ছেলেদের ক্ষমতার লড়াইয়ে তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। আওরঙ্গজেব ক্ষমতা দখল করে পিতাকে কারাবন্দি করে। আর দারা–সুজাদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। এসব ঘটনার মধ্যে সাজাহানের পুত্রস্নেহ, অহং, আত্মমর্যাদা ও মানসিক যন্ত্রণা নাটকে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে মানুষের স্বভাব, দুর্বলতা ও সম্পর্কের জটিল দিকগুলোকে তুলে ধরায় নাটকটি আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিখ্যাত দেশাত্মবোধক গান “ধনধান্যে পুষ্পে ভরা” প্রথম ব্যবহৃত হয় তাঁর ঐতিহাসিক নাটক ‘সাজাহান’-এ।
---------------------------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
-  দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বাংলা সাহিত্য ও সংগীতের এক বহুমুখী প্রতিভা।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই, নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বাবা কার্তিকেয়চন্দ্র রায় ছিলেন গায়ক ও সাহিত্যিক, তাই ছোটবেলা থেকেই শিল্প-সাহিত্যের পরিবেশে মানুষ হন দ্বিজেন্দ্রলাল।
- কবি, নাট্যকার ও গীতিকার—এই তিন পরিচয়েই তিনি সমানভাবে খ্যাত।
- বাংলা সংগীতে তিনি সৃষ্টি করেন ‘দ্বিজেন্দ্রগীতি’ নামে এক স্বতন্ত্র ধারা, যার মধ্যে দেশপ্রেম, প্রকৃতির সৌন্দর্য আর মধুর সুরেলা অনুভূতি মিলেমিশে আছে।
- তিনি প্রায় ৫০০ গান লিখেছেন; “ধনধান্য পুষ্পভরা” তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা।
- তাঁর হাসির গানও বিশেষ জনপ্রিয়, যার জন্য তিনি ‘হাসির গানের রাজা’ নামে পরিচিত। 
- হাসির গানের রাজা’ 'D.L. Ray' নামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় প্যারোডি গান রচনা করেন।
- নাট্যসাহিত্যেও তাঁর অবদান অনবদ্য।
- ‘তাঁর রচিত ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক নাটক:
সাজাহান’,
• ‘চন্দ্রগুপ্ত’,
• ‘নুরজাহান’,
• ‘তারাবাঈ’,
• ‘একঘরে’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া। 

৭,১১১.
"নাম রেখেছি কোমল গান্ধার" কাব্যের লেখক কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ, ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১১২.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয়?
  1. ক) হিসাবনিকাশ
  2. খ) ক্রীতদাসের হাসি
  3. গ) জননী
  4. ঘ) দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
'হিসাবনিকাশ' - উপন্যাসটি শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস নয়।

- এর রচয়িতা - শওকত আলী।

• শওকত ওসমান ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস :
- জননী
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম
- চৌরসন্ধি
- জাহান্নাম হইতে বিদায়
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- পতঙ্গ পিঞ্জর
- আর্তনাদ
- রাজপুরুষ

উৎস: বাংলা পিডিয়া
৭,১১৩.
কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' বিশ শতকের পত্রিকা।

• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয় নি।

------------------
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

------------------
• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১১৪.
'প্রভাত চিন্তা', 'নিভূত চিন্তা', 'নিশীত চিন্তা' প্রভৃতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন ঘোষ:
- তিনি ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি ছিলেন বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত। 
- তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয় ঢাকার ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠিত ‘ঢাকা শুভসাধিনী সভার’ মুখপত্র 'শুভসাধিনী' সম্পাদনার মাধ্যমে।
- কালীপ্রসন্ন ঘোষ দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা।
- নিভৃত-চিন্তা।
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব।
- নিশীথ-চিন্তা। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভ্রান্তিবিনোদ।
- প্রমোদলহরী।
- ভক্তির জয়।
- মা না মহাশক্তি।
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা।
- ছায়াদর্শন প্রভৃতি।

• এছাড়াও 'সঙ্গীতমঞ্জরী' নামে আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং 'কোমল কবিতা' নামে শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,১১৫.
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত মোট কাব্যগ্রন্থ-
  1. ৪৫ টি
  2. ৫৪ টি
  3. ৫৫টি
  4. ৫৬ টি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

• উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কবি-কাহিনী (প্রথম কাব্যগ্রন্থ), 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা (শেষ কাব্যগ্রন্থ),
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১১৬.
ফররুখ আহমদ তাঁর কোন বিখ্যাত গ্রন্থের জন্য আদমজি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. সিরাজাম মুনীরা
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা
ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১১৭.
'অপু' রবীন্দ্রনাথের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. শাস্তি
  2. হৈমন্তী 
  3. সমাপ্তি
  4. জীবিত ও মৃত 
ব্যাখ্যা

'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- 'হৈমন্তী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' এর স্বামীর নাম ছিলো - অপু।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
 - এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম।
 - উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো: হৈমন্তী (শিশির),গৌরীশংকর,অপু,বনমালী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শাস্তি' ছোটগল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র চন্দরা,রাধা ।
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র উল্লেখযোগ্য চরিত্র মৃন্ময়ী ও অপূর্ব।
- 'জীবিত ও মৃত' গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী,শ্রীপতি ও যোগমায়া।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,১১৮.
কোনটি যৌনাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উদর পূর্তির সমস্যা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. সহরবাসের ইতিকথা
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. অহিংসা
  4. সার্বজনীন
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- যৌনাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে উদর পূর্তির সমস্যাভিত্তিক একটি উপন্যাস। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

===================
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:   
⇒ উপন্যাস: 
• জননী,
• দিবারাত্রির কাব্য, 
• পদ্মানদীর মাঝি, 
• পুতুলনাচের ইতিকথা, 
• সহরবাসের ইতিকথা,
• সহরতলী,    
• সার্বজনীন,
• অহিংসা, 
• আরোগ্য ইত্যাদি।

⇒ গল্প: 
• অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প, 
• প্রাগৈতিহাসিক,   
• সরীসৃপ,  
• আত্মহত্যার অধিকার, 
• মিহি ও মোটা কাহিনী, 
• সমুদ্রের স্বাদ, 
• বৌ,  
• হলুদ পোড়া, 
• আজ কাল পরশুর গল্প ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১১৯.
'অভীক’ রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের নায়ক?
  1. ল্যাবরেটরি
  2. নষ্টনীড়
  3. রবিবার
  4. ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা
'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

রবিবার গল্পের অন্যান্য চরিত্র:
- অভীক কুমার বা অভয়চরণ, বিভা।

অন্যদিকে,
- ল্যাবেরেটরি গল্পের প্রধান চরিত্র - সোহিনী।
- নষ্টনীড় ছোটগল্পের চরিত্র - চারুলতা, ভূপতি, উমাপতি, মন্দাকিনী, অমল প্রমুখ।
- ‘ক্ষুধিত পাষাণ’ ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'। 

উৎস: রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১২০.
মুসলিম জাগরণমূলক কোন কাব্যটি তৎকালীন সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হয়?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. জিঞ্জীর
  3. অনল প্রবাহ
  4. বুলবুলিস্তান
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্যের পরিচয়:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।

- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'- এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাবাটিতে।

- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।

- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পুজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অন্যদিকে, 
• কবি ফররুখ আহমদ-এর "সাত সাগরের মাঝি" কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়নি, বরং এটি একটি অত্যন্ত আলোচিত এবং জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এর চারটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি মুসলিম জাগরণ ও আত্মপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে মুসলিম সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। 

• কাজী নজরুল ইসলামের 'জিঞ্জীর' কাব্যগ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত হয়নি, তবে ব্রিটিশ সরকার তার পাঁচটি গ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করেছিল: যুগবাণী, বিষের বাঁশি, ভাঙার গান, প্রলয় শিখা এবং চন্দ্রবিন্দু।  

• "বুলবুলিস্তান" হলো কবি গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৬) কর্তৃক রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। গোলাম মোস্তফার 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত হয়নি। বরং, এটি তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য এবং পরিচিত কাব্যগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত।
 
------------------------
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য,
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী,
- প্রেমাঞ্জলি। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস,
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১২১.
"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।" পঙক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
"সর্বদাই হু হু করে মন,
বিশ্ব যেন মরুর মতন।
চারি দিকে ঝালাফালা।
উঃ কী জ্বলন্ত জ্বালা,
অগ্নিকুণ্ডে পতঙ্গপতন।" বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কবিতার বিখ্যাত চরন। 
-------------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী (১৮৩৫-১৮৯৪):
বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে তিনি সুপরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী এর জন্ম ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়। 
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- তার সব কাব্যই বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। রবীন্দ্রনাথ তাকে বাঙলা গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন। 
- তাঁর কবিতায় রূপ অপেক্ষা ভাবের প্রাধান্য বেশি। প্রকৃতি ও রোম্যান্টিকতা, সঙ্গীতের উপস্থিতি, সহজ-সরল ভাষা এবং তৎসম ও তদ্ভব শব্দের যুগপৎ ব্যবহার বিহারীলালের কাব্যকে করেছে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত।

বিহারীলালেরউল্লেখযোগ্য রচনাবলি:
- স্বপ্নদর্শন (১৮৫৮),
- সঙ্গীতশতক (১৮৬২)
- বন্ধুবিয়োগ (১৮৭০),
- প্রেমপ্রবাহিণী (১৮৭০),
- নিসর্গসন্দর্শন (১৮৭০),
- বঙ্গসুন্দরী (১৮৭০),
- সারদামঙ্গল (১৮৭৯),
- নিসর্গসঙ্গীত (১৮৮১),
- মায়াদেবী (১৮৮২),
- দেবরাণী (১৮৮২),
- বাউলবিংশতি (১৮৮৭),
- সাধের আসন (১৮৮৮-৮৯) এবং
- ধূমকেতু (১৮৯৯) ।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য-সংক্রান্তি,
- অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১২২.
'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর। প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটি কার?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) চণ্ডীদাস
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) লোচনদাস
ব্যাখ্যা
• 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।' - উক্তিটির রচয়িতা হলেন জ্ঞানদাস
 
• জ্ঞানদাস:
- তিনি বাংলা ও ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন।
- তাঁর লেখার ভাষা সহজ, সরল, অলঙ্কারবর্জিত, কিন্তু প্রবল আবেগে পরিপূর্ণ।
- তাঁর রচিত দুটি বৈষ্ণব গীতিকাব্য 'মাথুর' ও মুরলীশিক্ষা।
• জ্ঞানদাস চন্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উক্তি-
- "সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু, অনলে পুড়িয়া গেল। অমিয়-সাগরে সিনান করিতে, সকলি গরল ভেল।"
- 'রূপের পাথারে আঁখি ডুবিয়া রহিল, যৌবনের বনে মন হারাইয়া গেল।'
- 'রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর, প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।'

উৎস: 
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,১২৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ - 
  1. তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?
  2. বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।
  3. এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ। 
  4. পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- "পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ।" কপালকুণ্ডলা উপন্যাসের এই সংলাপ, বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য বাক্য।
- গরিশচন্দ্র ঘোষ এই উপন্যাসের নাট্যরূপ দেন।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে, 
• 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। পঙ্‌ক্তিটি তিনি 'শ্রীকান্ত' নামক আত্মজৈবনিক উপন্যাসে উদ্ধৃত করেছেন।
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট কেন? এই ভুবনে।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১২৪.
'দরজাটা খোলো' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১২৫.
শওকত ওসমানের “পিঁজরাপোল” কী ধরণের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প গ্রন্থ
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

শওকত ওসমান: কথাসাহিত্যিক।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী ,
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৭,১২৬.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
  1. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  2. কবি
  3. অরণ্যবহ্নি
  4. আরোগ্য নিকেতন
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্যবহ্নি’ উপন্যাস:
- সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।

অন্যদিকে,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। বাশবাদি গ্রামে কাহার জাতির লোকেরা বাস করত। কাহারদের পুরানো বিশ্বাস ও কুসংস্কারের পরিবর্তন নিয়ে উপন্যাসটি রচিত হয়েছে।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস ‘কবি’।
- ‘আরোগ্য নিকেতন’ উপন্যাসে এক কবিরাজের জীবনদর্শনের সঙ্গে নব্যশিক্ষিত ডাক্তারের সংঘাত উল্লেখখ করা হয়েছে।

--------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ। ১৮৯৮ সালের ২৩ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে এক জমিদারবংশে তাঁর জন্ম।
• তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়। এছাড়া কালিকলম, বঙ্গশ্রী, শনিবারের চিঠি, প্রবাসী, পরিচয় প্রভৃতি প্রথম শ্রেণির পত্র-পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

তারাশঙ্কর প্রায় দুইশত গ্রন্থ রচনা করেন সেগুলির মধ্যে:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১২৭.
'জয়ধ্বনি' নাটকটি কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. স্বাধীনতাযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
'জয়ধ্বনি' নাটক:
- এটি আবু ইসহাক রচিত নাটক।
- নাটকটি বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত। 
- সঙ্গত কারণে বেশ কয়েকটি দৃশ্যে রূপকের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তাই নাটকটির বেশ কিছু দৃশ্য মঞ্চে প্রদর্শন করা সম্ভব হলেও সম্পূর্ণটা মঞ্চস্থ করা অত্যন্ত দুরূহ বা প্রায় অসম্ভব। 
- তবে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নাটকটিকে চলচ্চিত্রে রূপায়িত করা সম্ভব। তবে তার জন্য অশেষ ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের প্রয়োজন।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১২৮.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিযুক্ত হয়েছিলেন?
  1. ক) হিন্দু কলেজ
  2. খ) আলীগড় কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও (১৮০৯-১৯৩১) ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক। 

তিনি মাত্র সতের বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন। 
- পড়াতেন ইংরেজি সাহিত্য ও ইতিহাস। 
- প্রচলিত সংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিকে প্রশ্রয় না দেয়া ছিল তাঁর শিক্ষার মূলকথা। 
- সংস্কারপন্থীদের অভিযোগ ও চাপের ফলে এই ছাত্রপ্রিয় তরুন শিক্ষককে হিন্দু কলেজ থেকে ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে বরখাস্ত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১২৯.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) বাংলাদেশ
  3. গ) মায়ানমার
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগের প্রথম কাব্য বা নিদর্শন।
- এটি বাংলা ভাষায় কোনো লেখকের প্রথম একক গ্রন্থ। 
- বড়ু চণ্ডীদাস মধ্যযুগের আদি কবি। 
- লোকসমাজে প্রচলিত রাধা-কৃষ্ণ প্রেম সম্পর্কিত গ্রাম্য গল্প অবলম্বনে কাব্যটি রচনা করা হয়েছে। 
- এটি আবিষ্কৃত হয়: ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- প্রকাশকাল: ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে। 
- পশ্চিমবঙ্গে বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রামে এক গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করা হয়।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৭,১৩০.
অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন কোনটি?
  1. পরাগলী মহাভারত
  2. শূণ্যপুরাণ
  3. রাগতালনামা
  4. সত্যপীরের পাঁচালি
ব্যাখ্যা
'শূণ্যপুরাণ':
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৩১.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামটি কার?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. আবু ইসহাক
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম ছিল  'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:

- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• পত্রিকা:
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- আবদুল মান্নান সৈয়দের ছদ্মনাম 'অশোক সৈয়দ'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,১৩২.
'আবার আসিব ফিরে' কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. রূপসী বাংলা
  2. ঝরা পালক
  3. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  4. বনলতা সেন
ব্যাখ্যা
'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,১৩৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের কাহিনির সাথে কোন ছোটগল্পের মিল রয়েছে?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. দেনাপাওনা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. রবিবার
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের কাহিনির সাথে- 'রবিবার' ছোটগল্পের মিল রয়েছে। 

• 'চার অধ্যায়' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা: 
- 'চার অধ্যায়' একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। 
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ৷ 
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো,
'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷
- 'চার অধ্যায়' কাহিনির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের 'রবিরার' গল্পের সম্পর্ক রয়েছে। 
- সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।
- উপন্যাসের চরিত্রে ইন্দ্রনাথ সন্ত্রাসবাদীদের নেতা। তিনি একদিকে অতিমানবিক অন্যদিকে নিষ্ঠুর ও মানবতাশূন্য।
- ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনী।
- সমকালীন বিপ্লবীপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূলসুর। 

সূত্র: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৩৪.
বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের সূত্রপাত কোন নাট্যকারের হাত ধরে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. গােপাল হালদার
  4. সাঈদ আহমদ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক: কালবেলা, মাইলপোস্ট, তৃষ্ণায়, প্রতিদিন একদিন, শেষ নবাব।

- ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
-------------------
অন্যদিকে,
- ধূর্জটিপ্রসাদ মুখােপাধ্যায় এবং গােপাল হালদারের হাতে বাংলা সাহিত্যে চেতনাপ্রবাহ রীতির সার্থক সূত্রপাত ঘটেছিল।
- বাংলাদেশি লেখকদের মধ্যে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ চেতনার প্রবাহরীতির উপন্যাস কে লিখেছেন।
- সেলিম আল দীন গ্রাম থিয়েটারের প্রচলন করেছিলেন।
৭,১৩৫.
কোনটি আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. দেয়াল
  2. সংকর সংকীর্তন
  3. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  4. ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ (১৯৮৬) উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে। সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

অন্যদিকে,
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

--------------------------
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,১৩৬.
নিচের কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. অনিল বাগচীর একদিন
  2. যাত্রা
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো - 'নেকড়ে অরণ্য'। 

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।
------------------------- 
• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'যাত্রা' উপন্যাসের রচয়িতা শওকত আলী।
- 'অনিল বাগচীর একদিন' - হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।
- সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১৩৭.
“ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত কবিতা কোনটি?
  1. ক) প্রার্থী
  2. খ) আঠারো বছর বয়স
  3. গ) উভয়ই
  4. ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা
আঠারো বছর বয়স এবং প্রার্থী কবিতা দুটি সুকান্তের “ছাড়পত্র” কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৭,১৩৮.
‘পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ’ গ্রন্থটির রচয়িতার নাম-
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' ভ্রমণবৃত্তান্তের রচয়িতা শহীদুল্লা কায়সার। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

⇒ শহীদুল্লা কায়সার: 

- শহীদুল্লা কায়সার একজন  কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।  
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক  ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস 'সারেং বউ'। এটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
  
তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ, 
- সংশপ্তক, 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়, 
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা, 
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

- শহীদুল্লা কায়সার  বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং  আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৩৯.
মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. পদ্মাবতী
  3. রামায়ণ
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস। বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৪০.
ফররুখ আহমদ রচিত কোন কাব্যগ্রন্থে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি স্থান পেয়েছে?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. মুহূর্তের কবিতা
  3. সিন্দাবাদ
  4. হাতেমতায়ী
ব্যাখ্যা

'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৪১.
যুগসন্ধিকালের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ১৩৬০ সাল থেকে ১৮৬০
  2. ১৭৪০ সাল থেকে ১৮৬০
  3. ১৭৪০ সাল থেকে ১৮০০
  4. ১৭৬০ সাল থেকে ১৮৬০
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল।
- এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- দ্বিতীয় অন্ধকার যুগ (১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি.) ও বলা হয়।
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।
- কারণ, ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মারা যাওয়ার পরে বাংলা সাহিত্যের কবিওয়ালা ও শায়েরদের আগমন ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৭,১৪২.
‘রাত্রিশেষে’ কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে (১৯৪৭)।
- প্রকাশ: এপ্রিল, ১৯৪৭; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে
- এই কাব্যগ্রন্থে প্রহর, প্রান্তিক, প্রতিভাস ও পদক্ষেপ এই চারটি ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।

• আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৪৩.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধূমকেতু' পত্রিকায় কোন কবিতা প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়? 
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. বিদ্রোহী 
  4. রক্তাম্বরধারিণী মা
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।

- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো। রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

- নজরুলের প্রচেষ্টায় পত্রিকার কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলির মধ্যে ২০ পৃষ্ঠার ‘মোহররম সংখ্যা’ (৭ম সংখ্যা, ১৬ ভাদ্র ১৩২৯/ আগস্ট ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘আগমনী সংখ্যা’ (১২শ সংখ্যা, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘দেওয়ালী সংখ্যা’ (১৫শ সংখ্যা, ২০ অক্টোবর ১৯২২) এবং ‘কংগ্রেস সংখ্যা’ (৩০তম সংখ্যা, ২৭ ডিসেম্বর ১৯২২) ছিল উল্লেখযোগ্য।

- মোহররম সংখ্যাটি প্রচুর ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছিল, যার একটি ছিল বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর। আগমনী সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনীতি-সম্পৃক্ত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১৪৪.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) এক পথ দুই বাঁক
  3. গ) যে অরণ্যে আলো নেই
  4. ঘ) রমনা পার্কে
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম রচিত নাটক- যে অরণ্যে আলো নেই, দুয়ে দুয়ে চার, রোদজ্বালা বিকেল, সূর্যাস্তের পর। উপন্যাস- বিশ শতকের মেয়ে, এক পথ দুই বাঁক, কেয়া বন সঞ্চারিণী, বহ্নিবলয়। ছোটগল্প- রমনা পার্কে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৪৫.
শওকত আলী লাভ করেন -
  1. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  2. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
  3. একুশে পদক
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মুল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
৭,১৪৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'গুরু' বলে আখ্যায়িত করেছেন কাকে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন;
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত;
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ;
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ;
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৪৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'এ স্টেট ইজ বর্ন' এর পরিচালক কে?
  1. ক) তানভীর মোকাম্মেল
  2. খ) মোরশেদুল ইসলাম
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ
ব্যাখ্যা

'স্টপ জেনোসাইড' এবং 'এ স্টেট ইজ বর্ন' জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র 'স্মৃতি ৭১'- এর পরিচালক তানভীর মোকাম্মেল।
'আগামী' ও 'সূচনা' মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র।
'মুক্তির গান' ও 'মুক্তির কথা' তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র।
উৎসঃ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,১৪৮.
‘ভিজে বেড়াল’ বিখ্যাত ছড়া বইটির লেখক কে?
  1. আহসান হাবীব
  2. সুকুমার বড়ুয়া
  3. রোকনুজ্জামান খান
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘ভিজে বেড়াল’ বিখ্যাত ছড়া বইটির লেখক- সুকুমার বড়ুয়া।

- সুকুমার বড়ুয়া:
- ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার মধ্যম বিনাজুরি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ষাটের দশকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন।
- ১৯৬৩ সালে তোপখানা রোডে ছয় টাকায় বেড়ার ঘর ভাড়া করে স্বাধীনভাবে লেখালেখি শুরু করেন।
- কচিকাঁচার আসর, খেলাঘর ও মুকুলের মাহফিলে তার লেখা ছাপা হতে থাকে।
- ১৯৯৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টোর কিপার হিসেবে অবসরে যান।
- ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী', 'ছড়াসম্রাট' ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।

⇒ তাঁর রচিত সাহিত্য:

- পাগলা ঘোড়া
- ভিজে বেড়াল ।
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া।
- এলোপাতাড়ি।
- নানা রঙের দিন।
- চন্দনার পাঠশালা।
- জীবনের ভেতরে বাইরে।

উৎস: দ্যা ডেইলি স্টার বাংলা।

৭,১৪৯.
পণ্ডিত বিজয়চন্দ্র মজুমদারের মতে চর্যাপদের ভাষা কী ধরনের?
  1. খাঁটি বাংলা
  2. হিন্দি ও ওড়িয়ার মিশ্রণ
  3. প্রাকৃত
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা:
- পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।
ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।
- ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

৭,১৫০.
নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ীকাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. কুরুক্ষেত্র
  2. প্রভাস
  3. মহাশ্মশান
  4. রৈবতক
ব্যাখ্যা
• 'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র', 'প্রভাস' এই ত্রয়ী মহাকাব্যের রচয়িতা - নবীনচন্দ্র সেন।
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশ্মশান (মহাকাব্য)। 

• নবীনচন্দ্র সেনের ত্রয়ী কাব্য: 
- রৈবতক (১৮৮৭), কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩) ও প্রভাস (১৮৯৬) কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
- এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে।
- নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত।
- কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

• নবীনচন্দ্র সেন:
- নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন কবি।
- ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- নবীনচন্দ্র সেন ছাত্রজীবন থেকেই নবীনচন্দ্র কবিতা রচনা শুরু করেন।
- প্যারীচরণ সরকার সম্পাদিত এডুকেশন গেজেটে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হতো।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন অবকাশরঞ্জিনী প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর পলাশীর যুদ্ধ মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন।
 
• নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।
 
- তিনি ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর কাব্যানুবাদ করেন।
- তাঁর আত্মজীবনী আমার জীবন  গ্রন্থখানি উপন্যাসের মতো সুখপাঠ্য এবং সমকালীন সমাজ, রাজনীতি ও প্রশাসন সম্পর্কিত একটি প্রামাণ্য দলিল।
-----------------
আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'। 
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিতা' ও 'কাজল'। 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'। 
• সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৭,১৫১.
চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. চক্রবাক
  2. চিত্তনামা
  3. সিন্ধু হিন্দোল
  4. সঞ্চিতা
ব্যাখ্যা

'চিত্তনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ কে নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম এই কাব্যগ্রন্থটি লিখেছেন।
- ১৩৩২ বঙ্গাব্দের ২ রা আষাঢ় চিত্তরঞ্জন দাশ মৃত্যুবরণ করলে ,তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে নজরুল অর্ঘ্য, অকাল - সন্ধ্যা, সান্ত্বনা, ইন্দ্রপ্তন, রাজভিখারি নামে কয়েকটি কবিতা সমকালীন পত্রিকায় লিখেন।
- কবিতাগুলোয় চিত্তরঞ্জনের প্রতি কবির অভির আবেগ মিশ্রিত শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়। এটি ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে (১৩৩২ বঙ্গাব্দ) প্রকাশিত হয়।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ: 
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

 উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,১৫২.
'রেখাচিত্র' কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. আহমদ ছফা
  3. আল মাহমুদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'রেখাচিত্র' আবুল ফজল রচিত একটি 'দিনলিপি'।

• আবুল ফজল:
- ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৭,১৫৩.
'আবোল তাবোল' কবিতার বইটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের ভূমিকা।
৭,১৫৪.
‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের নায়িকা চরিত্র কোনটি?
  1. ভারতী
  2. কিরণময়ী
  3. রাজলক্ষ্মী
  4. অচলা
ব্যাখ্যা

• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন।

- গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে। প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম — সাবিত্রী ও কিরণময়ী। 
- ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের চরিত্রগুলোর বর্ণনা:
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষতক সতীশকে বিয়ে করেন। উপন্যাসের সবচেয়ে আকর্ষণীয় চরিত্র কিরণময়ী। তরুণ এবং অত্যন্ত সুন্দরী, বুদ্ধিমতী। তবে তার আবেগ ও আকাঙ্ক্ষাগুলি সর্বদা বিবাহিত বিষয়গুলির তুলনায় স্বামীকে শিক্ষাদান করার জন্য এবং স্বামী ও শাশুড়ীর দ্বারা সর্বদা দমিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'পথের দাবী' উপন্যাসের চরিত্র - ভারতী, সব্যসাচী ওরফে ডাক্তার সাহেব।
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র- ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অভয়া, গহর প্রমুখ।
• 'গৃহদাহ' উপন্যাসের চরিত্র- অচলা, মহিম, সুরেশ।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৫৫.
কোনটি সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয়?
  1. খেলারাম খেলে যা
  2. এক মহিলার ছবি
  3. শীত বিকেল
  4. অনুপম দিন
ব্যাখ্যা

শীত বিকেল সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নয়। 
- এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 

সৈয়দ শামসুল হক
- সৈয়দ শামসুল হক জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর, কুড়িগ্রামে।
- তাঁকে সব্যসাচী লেখক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া গেছে।
- তিনি একজন খ্যাতনামা বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন। 

প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 

উপন্যাস:
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস),
- অনুপম দিন,
- এক মহিলার ছবি,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী,
- ত্রাহি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ। 

গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৫৬.
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রাজর্ষি
  2. খ) নৌকাডুবি
  3. গ) গোরা
  4. ঘ) যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
• ‘গোরা’
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।
– গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
– গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
– ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
– উপন্যাসটি চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

অন্যদিকে,
- ‘যোগাযোগ’ (১৯২০) উপন্যাসের   বিষয়বস্তু নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ।
-  'নৌকাডুবি' উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
- রাজর্ষি (১৮৮৭) ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- ১৮৯১ সালে এই উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে ''বিসর্জন'' নাটকটি রচিত হয়। 
৭,১৫৭.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথিতে মোট কতটি সংস্কৃত শ্লোক রয়েছে?
  1. ৪০৯টি 
  2. ৪১৮ টি
  3. ১৬১ টি 
  4. ৪০৭ টি 
ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো বড়ু চণ্ডীদাস রচিত মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি প্রধান আখ্যানকাব্য।
- এটি প্রাক-চৈতন্য যুগের (চতুর্দশ–পঞ্চদশ শতাব্দী) শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য।
- ১৯০৯ সালে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে কাব্যের পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- কাব্যটি মূলত রাধা–কৃষ্ণের প্রেম, বিরহ এবং লীলাকাহিনীকে কেন্দ্র করে রচিত, যার প্রধান চরিত্র হলো কৃষ্ণ, রাধা এবং বড়ায়ি।

- কাব্যের মোট পদসংখ্যা ৪১৮টি, যার মধ্যে সংস্কৃত শ্লোকের সংখ্যা ১৬১টি।
- পুঁথিটি ২২৬টি পাতা নিয়ে তৈরি, যা মিলিয়ে ৪৫২টি পৃষ্ঠা হয়েছে।
- তবে পুঁথির মাঝের ৪৫টি পৃষ্ঠা বিলুপ্ত থাকায় প্রাপ্ত পৃষ্ঠার সংখ্যা বর্তমানে ৪০৭টি।
- পুঁথিটি লেখা হয়েছে ৩ জন লিপিকরের হাতে, অর্থাৎ তিনটি ভিন্ন হাতের লেখা রয়েছে।
- এছাড়াও, কাব্যের কবির ভণিতার সংখ্যা ৪০৯টি, যা গ্রন্থের স্বাতন্ত্র্য ও বিশদ পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৭,১৫৮.
'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. শওকত আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'যাত্রা' প্রবন্ধগ্রন্থটির রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- উল্লেখ্য, শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’। 

• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, লেখক, পণ্ডিত।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন পূর্ববর্তী স্বদেশী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের একজন।
- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে তিনি ইংরেজি সাহিত্য, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও আইনে বিশেষ ব্যুৎপত্তি লাভ করেন। 
- প্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে নিয়োগ করে। 
- তাঁর অনুজ সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।
- তিনি বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ভ্রমর’ সম্পাদনা করেন। অতঃপর তিনি ‘বঙ্গদর্শন’- এর সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন।
- তিনি 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' (১৮৬৪) গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১৫৯.
কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে সৃষ্ট বিরাগের প্রভাব পরেছে কোন কাব্যগ্রন্থে?
  1. ক) কবি ও কাহিনী
  2. খ) কড়ি ও কোমল
  3. গ) নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. ঘ) শেষ লেখা
ব্যাখ্যা
কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুতে সৃষ্ট বিরাগের প্রভাব পরেছে 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে। 

'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।

এ কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার বিখ্যাত চরণ- 
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" 

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ। 

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬০.
সেলিম আল দীন রচিত নাটক -
  1. স্বপ্নমঙ্গল
  2. রুদ্রমঙ্গল
  3. কেরামতমঙ্গল
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সেলিম আল দীন রচিত নাটক - কেরামতমঙ্গল।

সেলিম আল দীন:

- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৬১.
'দিলরুবা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) আব্দুল কাদির
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আব্দুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)। তাঁর রচিত কবিতা- দিলরুবা, উত্তর বসন্ত। প্রবন্ধ- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, কবি নজরুল, কাজী আবদুল ওদুদ, লোকায়ত সাহিত্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬২.
পুঁথি সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর 
  2. ফকির গরিবুল্লাহ
  3. আলাওল 
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি — ফকির গরীবুল্লাহ।
------------------
• পুঁথি সাহিত্য:
পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।

- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০)  আমীর হামজা রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন।
---------------------
উল্লেখ্য,
- দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি — ফকির গরীবুল্লাহ।
- ফকির গরীবুল্লাহ না থাকলে উত্তর হবে সৈয়দ হামজা।
- মর্সিয়া‌ সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
-------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ্‌:
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,১৬৩.
নিখিলেশ, বিমলা কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. ঘরে বাইরে
  3. চার অধ্যায়
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
• 'নিখিলেশ', 'বিমলা'- চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথের 'ঘরে- বাইরে' উপন্যাসের।

• ঘরে-বাইরে:
- ঘরে-বাইরে চলিত ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস যা সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিখিলেশ, বিমলা ও সন্দ্বীপের মধ্যে সম্পর্কের টানাফোড়ন ফুটে উঠেছে।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিখিলেশ, বিমলা, সন্দ্বীপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'যোগাযোগ' উপন্যাসের চরিত্র- মধুসূদন ও কুমুদিনী।
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের চরিত্র- অমিত ও লাবণ্য।
- 'চার অধ্যায়' উপন্যাসের চরিত্র - অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৭,১৬৪.
'মুহূর্তের কবিতা' সনেট সংকলনের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. ফররুখ আহমদ
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ:
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১৬৫.
'বিচিত্রা' মাসিক পত্রিকায় 'তিনপুরুষ' নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় কোন উপন্যাসটি?
  1. মালঞ্চ
  2. ঘরে-বাইরে
  3. নৌকাডুবি
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
'যোগাযোগ' উপন্যাস:
- 'যোগাযোগ' (১৯২৬) 'বিচিত্রা' মাসিক পত্রিকায় 'তিনপুরুষ' নামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তখন কাহিনিটি আরো দীর্ঘ হবে এই রকম পরিকল্পনা ছিল।
- পরে কাহিনির নাম হয় 'যোগাযোগ'।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহিনী নারীর রূপ স্পষ্ট।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৭,১৬৬.
'অরণ্য গোধূলি' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আহসান হাবিব
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. শামসুর রাহমান
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

 • 'অরণ্য গোধূলি' উপন্যাসের রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

• বন্দে আলী মিয়া:

- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৬৭.
'আব্দুল্লাহ্' উপন্যাসের রচয়িতা হলেন-
  1. ক) কাজী ইমদাদুল হক
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) ইমদাদুল হক মিলন
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
কাজী ইমদাদুল হক রচিত বিখ্যাত উপন্যাস- আব্দুল্লাহ্। উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দা প্রথা, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ৷
'আঁখিজল' ও 'লতিকা' তাঁর রচিত কাব্য। 'প্রবন্ধমালা' তাঁর রচিত প্রবন্ধ এবং 'নবীকাহিনী' তাঁর রচিত শিশুতোষগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৬৮.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যে মোট কতটি খণ্ড আছে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ১৩

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য:
- বাংলা ভাষার মধ্যযুগের প্রাচীনতম নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের রচয়িতা হলেন বড়ু চণ্ডীদাস।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রামের একটি গৃহস্থ বাড়ির গোয়ালঘরের টিনের চালার নিচ থেকে পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে তাঁরই সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে প্রকাশিত হয়।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য মোট ১৩টি খণ্ড ও ৪১৮টি পদে বিন্যস্ত।

১৩টি খণ্ড হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড,
- বিরহখণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৬৯.
'ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম' গীতিনাট্যের রচয়িতা কে?
  1. হরিশচন্দ্র মিত্র
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম' গীতিনাট্যের রচয়িতা - হরিশচন্দ্র মিত্র।

হরিশচন্দ্র মিত্র:

- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত নাটক গুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে,
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো:
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,১৭০.
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র নয় কোনটি?
  1. মানসিংহ
  2. ভবানন্দ
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. রামচন্দ্র
ব্যাখ্যা

রামচন্দ্র অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র নয়। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৭১.
"বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল"বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. সমর সেন
  2. সত্যেন সেন
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ 'তৈল'।

• প্রবন্ধের কিছু অংশ:
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন।
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- কাঞ্চন মালা (উপন্যাস),
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- বৌদ্ধধর্ম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া ও 'তৈল' প্রবন্ধ।
৭,১৭২.
'সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতো সন্ধ্যা নামে' জীবনানন্দ দাশের কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) পথ হাঁটা
  2. খ) আমাকে তুমি
  3. গ) সুরঞ্জনা
  4. ঘ) বনলতা সেন
ব্যাখ্যা

এডগার এলান পো এর 'টু হেলেন' কবিতাটির প্রভাব রয়েছে জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে। তার অন্যতম বিখ্যাত এই কবিতা থেকেই উপর্যুক্ত পঙক্তিটি নেয়া হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,১৭৩.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দাস
  2. নবীন চন্দ্র সেন
  3. প্যারীচাদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্ক্ষাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

---------------------------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৭৪.
"বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।" - এই যুগোত্তীর্ণ বাক্যটির রচয়িতা কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

পালামৌ:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনী হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা
- মাধবীলতা
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৭৫.
‘বিলাতী বর্জ্জন রহস্য’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

নজিবর রহমানের দ্বিতীয় গ্রন্থ ‘বিলাতী বর্জ্জন রহস্য’ স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯০৪ সালে।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি।
- পরিণাম
- গরীবের মেয়ে
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৭,১৭৬.
'প্রেমের কবিতা' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. বিষ্ণু দে
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
⇒ আহসান হাবীব: 
• কবি ও পেশায় সাংবাদিক ছিলেন। 
• ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি  পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি “দৈনিক বাংলা' পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক ছিলেন।  
• কলকাতায় তিনি তকবীর, বুলবুল ও সওগাত পত্রিকায় কাজ করেন।  

⇔ আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
⇒ তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:  
• ছায়াহরিণ, 
• সারা দুপুর, 
• আশায় বসতি, 
• মেঘ বলে চৈত্রে যাবো, 
• দুহাতে দু আদিম পাথর, 
• প্রেমের কবিতা, 
• বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।  

⇒ ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৭,১৭৭.
পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. গোরা
  3. চার-অধ্যায়
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- স্টিভেনসনের সেরাফিনা, অটো ও গোনড্রেমাক যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথের বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনি সকরুণ, সিরিয়াস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বিমলা,
- নিখিলেশ ও
- সন্দীপ।

------------------
অন্যদিকে:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘গোরা’ উপন্যাসটি- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় লেখা হয়েছে।

• 'চার অধ্যায়' (১৯৩৪) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিলো, 'চার-অধ্যায়' উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে৷ সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই উপন্যাসটি রচিত।

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১৭৮.
“গোরা’ একটি-
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কবিতা
  4. ছোট গল্প
ব্যাখ্যা

গোরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উপন্যাস।
এটি ১৮৮০-এর দশকে ব্রিটিশ রাজত্বকালের সময়কার কলকাতার পটভূমিতে লেখা।
এটি লেখার ক্রমে পঞ্চম এবং রবীন্দ্রনাথের তেরোটি উপন্যাসের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম। এটি রাজনীতি এবং ধর্ম নিয়ে দার্শনিক বিতর্কে সমৃদ্ধ উপন্যাস ।

-তিনি মোট ১২ টি উপন্যাস রচনা করেন ।

তার অন্যান্য উপন্যাস গুলি হল:
- বউ ঠাকুরানীর হাট
- ঘরে বাইরে
- দুই বোন
- নৌকাডুবি
- যোগাযোগ
- চতুরঙ্গ
- চোখের বালি

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)

৭,১৭৯.
'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥' পদটি কোন কবির রচনা?
  1. ভুসুকুপা 
  2. কাহ্নপা
  3. শবরপা 
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা

'দুলি দুহি পীঢ়া ধরণ ন জাই ! রুখের তেন্তলি কুম্ভীরে খাই॥'- পদটি চর্যার কবি কুক্কুরীপা রচিত। 

অর্থ: 
দুলি [মাদি কচ্ছপ] দোহন করে পিটাতে [= দুগ্ধ-পাত্রে] [দুধ] ধরানো গেল না। গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়।

------------------------
• কুক্কুরীপা:
- কুক্কুরীপা চর্যাগীতির তিনটি গানের রচয়িতা। এদের মধ্যে একটি গান [৪৮ সংখ্যক পুথির লুপ্ত অংশ ছিল।

- তিনি উচ্চবংশীয় ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তাঁর চর্যার ভাষা সে ইঙ্গিত বহন করে। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'যোগভাবনাপ্রদেশ', 'স্রবপরিচ্ছদ'।

- কুক্কুরীপা তান্ত্রিক নাম কিংবা ছদ্মনাম। কুলীন বা উচ্চবংশীয় হলেও কাব্যমূর্তির কারণে বা তান্ত্রিকতার আকর্ষণে তিনি এ নাম ব্যবহার করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হয়। নামের সঙ্গে 'পা' যুক্ত থাকায় কেউ কেউ একে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধাসূচক ছদ্মনাম বলে মনে করেন। তারানাথের মতে, সঙ্গে সবসময় একটি কুকুরী থাকত বলে তাঁর নামকরণ হয়েছে কুক্কুরীপা।

- কুক্কুরীপা বাংলার উত্তরখণ্ডের অধিবাসী ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অবশ্য হিন্দিভাষীরা তাঁকে কপিলাবস্তু বা বুদ্ধের জন্মস্থান নেপালের লোক বলেছেন।

- সংস্কৃত রচনা 'মহামায়াসাধন'-এর রচয়িতা হিসেবে কুকুরীপার নাম পাওয়া গেছে। এ থেকে অনুমিত হয়, তিনি মহামায়ার উপাসক ছিলেন। ড. শহীদুল্লাহ্ মতে, কুকুরীপা ৭৪০ থেকে ৮২০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে জীবিত ছিলেন। ধারণা করা হয়, ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে রাজা ধর্মপালের শাসনামলে কুক্কুরীপা তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছিলেন।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, ড. মাহবুবুল হক।

৭,১৮০.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখণ্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. বিরহখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: 
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন হলো মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি গীতি-আলেখ্য কাব্য, অর্থাৎ কাব্যটি মূলত গান ও কবিতার মাধ্যমে তৈরি, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমলীলা মূল বিষয়।
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের ধারায় চর্যাপদের পরে এই কাব্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

- কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
- প্রতিটি খণ্ড আলাদা আলাদা গল্প বা বিষয় উপস্থাপন করে।
- খণ্ডগুলোর নাম হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুলখণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবনখণ্ড,
- কালিয়দমনখণ্ড,
- যমুনাখণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড,
- বিরহখণ্ড।
--------------------------------------
জন্মখণ্ড:
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ড হলো জন্মখণ্ড, যেখানে ঈশ্বরের ইচ্ছায় কৃষ্ণ ও রাধা মর্ত্যে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ জন্ম নেন পাপী রাজা কংসকে বধ করার উদ্দেশ্যে, দেবকী ও বাসুদেবের সন্তান হিসেবে। জন্মের সঙ্গে সঙ্গে প্রাণের নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়ায় বাসুদেব কৃষ্ণকে গোপনে বৃন্দাবনের নন্দগোপের ঘরে নিয়ে যান।সেখানে, লক্ষ্মী অবতার রাধা জন্ম নেন সাগর গোয়ালার স্ত্রী পদ্মার গর্ভে। দৈব নির্দেশে রাধা বালিকা অবস্থায় নপুংসক অভিমন্যু বা আয়ান গোপের সঙ্গে বিয়ে করেন। আয়ান গোচারণ করতে গেলে বৃদ্ধা পিসি বড়ায়ি রাধার দেখাশোনা করেন। এই খণ্ডে মূলত কৃষ্ণ ও রাধার জন্ম, শৈশবকাল এবং তাদের গোপন প্রতিপালনের কাহিনী সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা কাব্যটির পরবর্তী গল্পের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৮১.
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ কোন গ্রন্থের অংশ?
  1. পদ্মাবতী
  2. শূন্যপুরাণ
  3. গীতগোবিন্দ
  4. শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত
ব্যাখ্যা
‘নিরঞ্জনের উষ্মা’ শূন্যপুরাণ গ্রন্থের অংশ।

• নিরঞ্জনের উষ্মা
- নিরঞ্জনের উষ্মা 'শূন্যপুরাণ' নামক কাব্যগ্রন্থের অংশবিশেষ। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন, পণ্ডিত যোগেশ চন্দ্র রায়, ড. সুকুমার সেন প্রমুখ ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে কোনো এক সময় শূন্যপুরাণ রচিত হয় বলে মনে করেন।
- এই পরিপ্রেক্ষিতে 'নিরঞ্জনের উষ্মা' সম্পর্কে ভূদেব চৌধুরীর অভিমত, এই অংশটুকু 'তুর্কি আক্রমণের পরবর্তী কালের রচনা।'
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য হলো: বর্ণ-হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- এই অনাচারে বিরূপ হয়ে নিরঞ্জন ধর্মঠাকুর 'যবন' মুসলমানের রূপ ধারণ করে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় এবং অত্যাচার-অবজ্ঞার প্রতিশোধ গ্রহণ করে।
- সহদেব চক্রবর্তীর 'নিলপুরাণে'ও (১৭৩৫) এই কাহিনি অন্তর্ভুক্ত থাকায় সুকুমার সেনের অভিমত হলো যে, শূন্যপুরাণ অন্তর্ভুক্ত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' প্রকৃতপক্ষে সহদেব চক্রবর্তীর রচনা।
- কেননা, 'শূন্যপুরাণে' কমপক্ষে পাঁচজন কবির হস্তক্ষেপ ঘটেছে। এসব মতান্তরের কারণে নিরঞ্জনের উষ্মার রচনাকাল সুনিশ্চিত ও সুনির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
৭,১৮২.
'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গল্পগ্রন্থ সমূহঃ
- অন্য ঘরে অন্য স্বর
- খোঁয়ারি
- দুধেভাতে উৎপাত
- দোজখের ওম
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল

এর মধ্যে ''দুধেভাতে উৎপাত'' গ্রন্থটিতে চারটি গল্প রয়েছে।
যথা -
- মিলির হাতে স্টেনগান
- দুধভাতে উৎপাত
- পায়ের নিচে জল
- দখল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৭,১৮৩.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:

- শেষ বিকেলের মেয়ে, 
- হাজার বছর ধরে, 
- আরেক ফাল্গুন, 
- বরফ গলা নদী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৮৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত “Origin and Development of Bengali Language” (ODBL) - কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২৪
  2. খ) ১৯২৬
  3. গ) ১৯২৮
  4. ঘ) ১৯৩১
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। তার রচিত “Origin and Development of Bengali Language” (ODBL) গ্রন্থটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার রচিত বিভিন্ন ভাষায় গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় - ৩৮০টি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “ভাষাচার্য” উপাধি দেন। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৮৫.
"মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।" - চরণটি রচনা করেন কে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. হেলাল হাফিজ
  4. দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা

• "মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।" - উক্ত চরণটি কাজী নজরুল ইসলামের "বিদ্রোহী" কবিতার অন্তর্গত।

বিদ্রোহী কবিতার অংশবিশেষ:

মম এক হাতে-বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণ-তূর্য্য।
আমি কৃষ্ণ-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা বারিধির।
আমি ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৭,১৮৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”উৎসর্গ” কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুর বাড়ির অনুকূল পরিবেশে শৈশবেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। 
- ১৯০১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'শান্তিনিকেতন বিদ্যালয়।'
- ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর ইংরেজি 'গীতাঞ্জলি' (১৯১১) কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

• উৎসর্গ' কাব্যগ্রন্থ:

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ”উৎসর্গ” একটি কাব্যগ্রন্থ।
- বিজ্ঞানাচার্য শ্রীযুক্ত জগদীশচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করা হয়।

- ১৯০৩-০৪- এ মোহিতচন্দ্র সেন যখন বিষয় অনুসারে ভাগ করে রবীন্দ্রনাথের কব্য সম্পাদনা করেছিলেন তখন রবীন্দ্রনাথ প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্যে একটি প্রবেশক কবিতা রচনা করেন।
- সেই কবিতাগুলোর সঙ্গে পরে আরও ২৪টি কবিতা যোগ করে ”উৎসর্গ” কাব্য রচিত হয়।
- রচনাকাল হিসেবে উৎসর্গ কাব্য স্মরণ ও শিশু কাব্যগ্রন্থের সমসাময়িক।
- ভাবের দিক থেকে নৈবেদ্য ও খেয়া কাব্যের মাধ্যমিক।
- উৎসর্গের কবিতাগুলির অধিকাংশে কবি স্বরূপের পুনরাত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়।
--------------------------------------

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- ঘরে বাইরে,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত্
- মানসী;
- সোনার তরী;
- চিত্র;
- চৈতালী;
- কল্পনা;
- ক্ষণিকা;
- গীতাঞ্জলি;
- বলাকা;
- পুনশ্চ;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১৮৭.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ 'শূন্যপুরাণ' কবে প্রকাশ করেন?
  1. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• ১৩১৪ বঙ্গাব্দে -'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

• 'শূন্যপুরাণ':
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপুজাপদ্ধতি। এতে বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বকথা রয়েছে।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ'- 'শূন্যপুরাণ'।
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণ অন্তর্গত একটি কবিতা। কোনটিই বাংলা ভাষায় রচিত নয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৮৮.
'বিলাসী' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু ইসহাক
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বিলাসী' গল্পটির রচয়িতা- 'শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৮৯.
চর্যার ৪৯ নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ভাদেপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের কবি 'ভুসুকুপা':
• ভুসুকুপা চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদের রচয়িতা। তিনি মোট আটটি পদ রচনা করেন।
• চর্যাপদের ২৩ নং পদটি তারই রচনা। চর্যার ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়২৩ নং পদের ৬টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া গেছে। বাকি ৪টি পঙ্‌ক্তি পাওয়া যায়নি
• ভুসুকুপা রচিত চর্যার পদগুলো হলো: ৬নং, ২১নং, ২৩নং, ২৭নং, ৩০ নং, ৪১নং, ৪৩ নং, ৪৯নং। 

• তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পউআঁ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।

৪৯নং পদ-
বাজ ণাব পাড়ী পউআঁ খালে বাহিউ.
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ।।
আজি ভুসুকু ভইলী।
নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৭,১৯০.
“পথের পাঁচালী” উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) প্যারীচাঁদ
  2. খ) বনফুল
  3. গ) সত্যজিত রায়
  4. ঘ) বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৭,১৯১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছে—
  1. ১০০০-১২০০ সালের মধ্যে
  2. ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে
  3. ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে
  4. ৮০০-১৩০০ সালের মধ্যে
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনা কাল:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর মতে, ৬৫০-১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ সালের মধ্যে এবং।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৯২.
'পঞ্চপান্ডব' বলা হয় –
  1. তিরিশের কবিদের
  2. চল্লিশের কবিদের
  3. পঞ্চাশের কবিদের
  4. রবীন্দ্রযুগের কবিদের
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন, তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হতো।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন:
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৭,১৯৩.
'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. কাব্যনাট্য
  2. নৃত্যনাট্য
  3. রূপক ও সাংকেতিক নাটক
  4. গীতিনাট্য
ব্যাখ্যা

'বসন্ত':
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত - গীতিনাট্য।
- 'বসন্ত' কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

অন্যদিকে,

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।
 প্রহসন:
- বৈকুন্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য :
- চিত্রাঙ্গদা 
- নটীর পূজা 
- চণ্ডালিকা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৯৪.
”অনিলা দেবী” ছদ্মনামে কোন সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. অনুরূপা দেবী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-  এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
-  প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭,১৯৫.
নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ-
  1. বহুরূপা
  2. আলোছায়া
  3. রুপান্তর
  4. শতকরা আশি
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত রম্যগ্রন্থ- বহুরূপা।

• নুরুল মোমেন:

- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমনের শ্রেষ্ঠ নাটক ’নেমসিস’।
- 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর ’বহুরূপা‘ নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,১৯৬.
জহির রায়হান কতসালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৯৩২
  2. খ) ১৯৩৪
  3. গ) ১৯৩৫
  4. ঘ) ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৫ সালে জহির রায়হান ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমী পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- বাংলাদেশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide তৈরি করেন জহির রায়হান।

• তাঁর পরিচালিত ছবি:
- কখনো আসেনি ( প্রথম পরিচালিত ছবি)।
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৯৭.
'বড়র পীরতি বালির বাঁধ 
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ' - প্রবচনটি কোন মঙ্গলকাব্যে পাওয়া যায়?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত - অন্নদামঙ্গল কাব্যে ব্যবহৃত একটি প্রবচন।

এই কাব্যের আরো কয়েকটি প্রবচন হল -
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে
- জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী। ইত্যাদি 

এসব গভীরতম ভাবদ্যোতক প্রবচনের মত পদে ভাষার উপর কবির যে অধিকার তা তুলনারহিত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৭,১৯৮.
মালাধর বসু কে গুণরাজ খান উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক)
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক  কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায়  রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
- সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৭,১৯৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যকবিতা রচনা কোন গ্রন্থ দিয়ে শুরু?
  1. পরিশেষ
  2. পূরবী 
  3. পুনশ্চ
  4. পত্রপুট
ব্যাখ্যা
• পুনশ্চ:
- 'পুনশ্চ' (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ
 - এই কাব্যের ভূমিকায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'অসংকুচিত গদ্যরীতিতে কাব্যের অধিকারকে অনেকদূর বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব এই আমার বিশ্বাস এবং সেই দিকে লক্ষ্য রেখে এই গ্রন্থে প্রকাশিত কবিতাগুলি লিখেছি।' 
- রবীন্দ্রনাথের কাব্যের ইতিহাসে তথা আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই কাব্যের ভূমিকা বৈপ্লবিক । 
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৭,২০০.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাস রচনার জন্য 'আদমজি পুরস্কার' লাভ করেন? 
  1. জলাঙ্গী 
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. বনি আদম
  4. রাজা উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি':
• 'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।