- বিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চোখের বালি'।
• চোখের বালি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখের বালি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশ পায়।
- গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিনোদিনী—শিক্ষিতা, সৌন্দর্যবতী, কিন্তু বাল্যবিধবা হওয়ায় সমাজ ও পরিবারের চোখে সে এক ‘চোখের বালি’, অর্থাৎ চক্ষুশূল।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষ্মী।
- এই উপন্যাসের বিশেষত্ব হলো চরিত্রগুলোর মনোজগতের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ।
- বিনোদিনীর আকাঙ্ক্ষা, মহেন্দ্রর চঞ্চলতা এবং আশালতার সরলতা - প্রত্যেকটি মানসিক স্তরকে রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- উপন্যাসে বিনোদিনী, মহেন্দ্র এবং বিহারীর সম্পর্কই মূল দ্বন্দ্ব তৈরি করে।
- আকর্ষণ, ঈর্ষা, মান–অভিমান ও প্রেমের টানাপোড়েন তাদের জীবনে অশান্তির ঝড় তোলে।
- রবীন্দ্রনাথ এখানে তৎকালীন সমাজের কঠোরতা, বিশেষত বিধবা নারীর প্রতি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
- নারী–পুরুষের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, বৈবাহিক মূল্যবোধ - সবকিছুই সমাজের নিয়মে কীভাবে বাঁধা পড়ে, তাই গল্পজুড়ে ফুটে উঠেছে।
অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শেষ প্রশ্ন’ উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারীর স্বাধীনতা, সামাজিক রীতিনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রেমের জটিলতা এবং মানুষের অন্তর্গত সত্তার অনুসন্ধান।
- গল্পের নায়িকা কমলিকা একজন আধুনিক, মুক্তচিন্তার অধিকারী নারী, যার জীবন সংগ্রাম সমাজের প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সংঘাতে ভরা।
- কমলের ভাবনা, ব্যক্তিত্ব ও সিদ্ধান্ত গল্পের প্রাণ।
- যেখানে সমাজের বাঁধাধরা ধারণা, নারীর অবস্থান এবং প্রেমের প্রকৃত অর্থকে প্রশ্নের মুখোমুখি করা হয়েছে।
- তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে কমলিকা ও তার চিন্তাধারা ছিল যেন এক ঝড়, যা পুরনো মানসিকতাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে নওরোজ পত্রিকায়।
- এটি নজরুলের অন্যতম রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ‘কুহেলিকা’ উপন্যাসে নজরুল তৎকালীন ভারতবর্ষের রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য এবং ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেছেন।
- গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর এক তরুণ বিপ্লবী;
- যার চোখ দিয়ে লেখক সমাজ, রাজনীতি ও ধর্মের নানা জটিলতা ও অন্যায়কে দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি :
“ইহারা মায়াবিনীর জাত; সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে, ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।”
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘কপালকুণ্ডলা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সফল রোমান্টিক ও কাব্যধর্মী উপন্যাস হিসেবে বিবেচিত।
- ১৮৬৬ সালে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় রচনা হলেও তাঁর শ্রেষ্ঠ কৃতির তালিকায় অন্যতম।
- বনবালিকা কপালকুণ্ডলা ও নবকুমারের নিষিদ্ধ প্রেম, সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলের আগ্রার নগরী ও অরণ্যের রহস্যময় পরিবেশ;
- এবং লোকবিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবতার দ্বন্দ্ব - এই উপন্যাসে বিশেষভাবে উন্মোচিত হয়েছে।
- অরণ্যে এক কাপালিকের পালিতা কপালকুণ্ডলাকে ঘিরে গল্পের প্রবাহ তৈরি হয়;
- পরে সমাজপরিচয়হীন এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিবাহ এবং তাদের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে নানা দ্বন্দ্ব ও শেষ পর্যন্ত ট্র্যাজিক পরিণতি উপন্যাসটিকে আরও গভীরতা দেয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ— “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?”—এই উপন্যাসেই উচ্চারিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক।
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা — ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।