বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৬৯ / ২১১ · ৬,৮০১৬,৯০০ / ২১,১৩২

৬,৮০১.
'ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. গ) কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

• আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা ও
- সংকর সংকীর্তন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- দেয়াল,
- প্রপঞ্চ
- পরিত্যক্ত স্বামী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮০২.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. রোসাঙ্গ রাজসভা
  2. লক্ষ্মণ সেনের রাজসভা
  3. কৃষ্ণনগর রাজসভা
  4. মিথিলার রাজসভা
ব্যাখ্যা

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।

• ভারতচন্দ্র রায় : 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খন্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮০৩.
আবুল হোসেনের প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. 'নববসন্ত’
  2. 'বিরস সংলাপ'
  3. 'হাওয়া, তোমার কী দুঃসাহস'
  4. 'দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে
ব্যাখ্যা
• আবুল হুসেন:
- আবুল হুসেন একজন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ছিলেন।
- আবুল হুসেন মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
- মুসলিম কবিদের মধ্যে তিনিই প্রথম আধুনিকতার বৈশিষ্ট্য কাব্যে রূপায়িত করে তুলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্য- ’নব বসন্ত’।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো:
- বিরস সংলাপ।
- হাওয়া,
- তোমার কি দু:সাহস।
- দু:স্বপ্ন থেকে দু:স্বপ্ন।
- এখন ও সময় আছে।
- নির্বাচিত কবিতা।
- রাজারাজড়া।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৮০৪.
মীর মশাররফ হোসেনের 'মোসলেম বীরত্ব' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
মীর মশাররফ হোসেন কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। উচ্চশিক্ষা লাভ তাঁর পক্ষে সম্ভব হয় নি। তিনি সম্ভবত ১৮৬৩ সালে পদমদী স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে পড়তেন। ষোল বৎসর বয়সে তিনি কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সতের বৎসর বয়সে কলকাতায় গমন এবং প্রথম বিবাহ। নিয়মিত পাঠাভ্যাসের অন্য কোন সংবাদ এরপর আর পাওয়া যায় নি। কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার এবং ফরিদপুরের পদমদী-এই কয় স্থানেই তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে জমিদারির ম্যানেজার হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। 'গ্রামবার্তা' পত্রিকার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। এই 'গ্রামবার্তা' এবং কবি ঈশ্বর গুপ্তের 'সংবাদপ্রভাকর' পত্রিকায় মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যজীবনের প্রথম দিকের রচনা প্রকাশিত হত। সে সময়ে কাঙাল হরিনাথ তাঁর রচনা সংশোধন করে দিতেন।

মীর মশাররফ হোসেনের রচনাবলীর তালিকা দীর্ঘ এবং তা এরূপ:
• উপন্যাস: 'রত্নবর্তী', 'বিষাদসিন্ধু', 'উদাসীন পথিকের মনের কথা', 'গাজী মিঞার বস্তানী', 'ইসলামের জয়', 'রাজিয়া খাতুন', 'তহমিনা', 'বাঁধা খাতা', 'নিয়তি কি অবনতি'।

• নাটক: 'বসন্তকুমারী নাটক', 'জমীদার দর্পণ', 'বেহুলা গীতাভিনয়'।
• প্রহসন: 'এর উপায় কি', 'ভাই ভাই এইত চাই', 'ফাঁস কাগজ', 'একি'।

• কাব্য: 'গোরাই ব্রীজ বা গৌরী সেতু', 'সঙ্গীত লহরী', 'পঞ্চনারী পদ্য', 'প্রেম পারিজাত', 'বিবি খোদেজার বিবাহ', 'হযরত ওমরের ধর্মজীবন লাভ', 'হযরত হামজার ধর্মজীবন লাভ', 'হযরত বেলালের জীবনী', 'মদিনার গৌরব', 'মোসলেম বীরত্ব', 'বাজীমাৎ', 'মৌলুদ শরীফ'।

• প্রবন্ধ: 'গোজীবন', 'খোতবা', 'মুসলমানের বাংলা শিক্ষা', 'আমার জীবনী', 'হযরত ইউসোফ', 'বিবি কুলসুম বা আমার জীবনীর জীবনী'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬,৮০৫.
‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. আল মাহমুদ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
⇒ বর্ণপরিচয়: 
- বর্ণপরিচয় প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ।
- শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।
- ১৮৫৫ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।
- সেই সময় থেকে অদ্যাবধি শিশুপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে এটি উভয় বাংলায় সমান গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবহূত হয়ে আসছে।
- গ্রন্থটির প্রথম ভাগে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জণবর্ণ, তদ্যোগে বিভিন্ন শব্দ ও বাক্যগঠন এবং অনুচ্ছেদ আকারে রচিত মোট একুশটি পাঠ আছে।
- দ্বিতীয় ভাগে সংযুক্ত বর্ণের ব্যবহার দ্বারা শব্দ ও বাক্য গঠন, ফলাযোগে নানা শব্দসৃষ্টি, অঙ্কে ও কথায় সংখ্যা গণনা এবং উপদেশধর্মী ছোট ছোট রচনা মিলে মোট দশটি পাঠ আছে।
- বইটি প্রাথমিক স্তরের শিশুশিক্ষা গ্রন্থ হিসেবে এখনো পঠিত হয়। 

============
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যানমঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮০৬.
বাংলা ভাষায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য রচনা করেন কে?
  1. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. লোচন দাস
  3. মুরারি গুপ্ত
  4. বৃন্দাবন দাস
ব্যাখ্যা
চৈতন্যদেবের বাংলা জীবনী:
- বাংলা ভাষায় রচিত শ্রী চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীকাব্য বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্যভাগবত'।
- তাঁর কাব্য প্রথমত 'চৈতন্যামঙ্গল' নামে পরিচিত ছিল। পরে এ কাব্যে ভাগবতের প্রভাব ও লীলা পর্যায় দেখে এর নাম চৈতন্যভাগবত রাখা হয়। কাব্যটির রচনাকাল সম্ভবত ১৫৪৮ সাল।

অন্যদিকে, 
- বাংলায় চৈত্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ- লোচন দাস রচিত 'চৈতন্য-চরিতামৃত'।
- বাংলা ভাষায় অদ্বিতীয় ও সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী- কৃষ্ণদাস কবিরাজ রচিত 'চৈতন্যমঙ্গল'।
- চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী। 'মুরারি গুপ্তের কড়চা' নামে পরিচিত তাঁর কাব্যের প্রকৃত নাম, শ্রীশ্রীকৃষ্ণচৈতন্যচরিতামৃতম।
- এটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত হয়েছিলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,৮০৭.
চর্যাপদের ভাষা ও বিষয়বস্তু নিয়ে কোন গবেষকগণ প্রমাণ করেছেন যে এটি বাংলা ভাষায় রচিত?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  2. ড. সুকুমার সেন ও ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. উপরের সবাই
  4. শুধু ড. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্মমত সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

• চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।

ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে- চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অর্ন্তনিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৌদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৮০৮.
মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. মধুমালতী
  4. ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
• পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
• কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ/ পদুমাবত’ কাব্যের অনুবাদ।
• আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে ‘পদ্মাবতী’ কাব্য রচনা করেন।
• কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

অন্যদিকে,
• 'চন্দ্রাবতী' কাব্যের রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে মুহম্মদ কবির তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।

• ‘ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েননি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৬,৮০৯.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. রশীদ করীম
  2. শওকত ওসমান
  3. রশীদ হায়দার
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীম রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

-------------------
• রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

• প্ৰবন্ধ:
- আর এক দৃষ্টিকোণ,
- মনের গহীনে তোমার মুরতিখানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১০.
‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা -
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• ‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা - মোতাহের হোসেন চৌধুরী

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১১.
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কী জাতীয় রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্প
  3. গ) কাব্যনাট্য
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য |
- এখানে মুক্তিযুদ্ধকে মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায় তুলে ধরা হয়েছে। 
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে |
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি |

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যনাট্য
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান। 
- 'নিষিদ্ধ লোবান' উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১২.
চর্যাপদ রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন -
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. সরহপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬,৮১৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ-
  1. বোধোদয়
  2. ভ্রান্তিবিলাস
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. কথামালা
ব্যাখ্যা

• বেতাল পঞ্চবিংশতি:
- 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এটি হিন্দি বৈতাল পচ্চীসীর অনুবাদ।
- গ্রন্থটি ১৮৪৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

----------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- তাঁকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮১৪.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. জামাই বারিক
  3. গোড়ায় গলদ
  4. চিরকুমার সভা
ব্যাখ্যা
⇒ 'জামাই বারিক':
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘জামাই বারিক’ প্রহসনটি সামাজিক বিষয়াবলম্বনে রচিত।
- ১৮৭২ সালে প্রহসনটি প্রকাশিত হয়।
- জামাতা পোষণ পদ্ধতি ব্যঙ্গ করে লিখিত এই নাটকে তিনি যথেষ্ট কৃতিত্ব প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ।
- ‘গোড়ায় গলদ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রহসন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ কৌতুক নাটক - চিরকুমার সভা।

-------------------
⇒ দীনবন্ধু মিত্র:
• দীনবন্ধু মিত্র (১৮৩০-১৮৭৩) নাট্যকার। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
• দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
⇒ ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
⇒ 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।
⇒ 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' (১৮৬৬) বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখিত একটি প্রহসন। নামের মাধ্যমেই এর পরিচয় প্রকাশমান।
⇒ দীনবন্ধু মিত্রের 'লীলাবতী' (১৮৬৭) নাটকটি রচনা হিসেবে সার্থকতা লাভ করতে পারে নি।
⇒ 'কমলে কামিনী' (১৮৮৩) তাঁর শেষ রচনা। রোম্যান্টিক প্রণয়চিত্র হিসেবে এর গুরুত্ব।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১৫.
'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত
  1. দারিদ্র্য
  2. ভাঙার গান
  3. সর্বহারা
  4. সিন্ধু-হিন্দোল
ব্যাখ্যা
• 'কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এটি তাঁর 'সিন্ধু-হিন্দোল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত 'দারিদ্র্য' কবিতার পঙ্‌ক্তি।

দারিদ্র্য,
--- কাজী নজরুল ইসলাম

হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্‌।
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মান
কন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,
অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
----------------------------
টলটল ধরণীর মত করুণায়!
তুমি রবি, তব তাপে শুকাইয়া যায়
করুণা-নীহার-বিন্দু! ম্লান হ’য়ে উঠি
ধরণীর ছায়াঞ্চলে! স্বপ্ন যায় টুটি’
সুন্দরের, কল্যাণের। তরল গরল
কন্ঠে ঢালি’ তুমি বল, ‘অমৃতে কি ফল?
জ্বালা নাই, নেশা নাই. নাই উন্মাদনা,-
রে দুর্বল, অমরার অমৃত-সাধনা
এ দুঃখের পৃথিবীতে তোর ব্রত নহে,
তুই নাগ, জন্ম তোর বেদনার দহে।
কাঁটা-কুঞ্জে বসি’ তুই গাঁথিবি মালিকা,
দিয়া গেনু ভালে তোর বেদনার টিকা!….
গাহি গান, গাঁথি মালা, কন্ঠ করে জ্বালা,
দংশিল সর্বাঙ্গে মোর নাগ-নাগবালা!….

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। 
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- সাম্যবাদী,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; সিন্ধু-হিন্দোল, কাজী নজরুল ইসলাম।
৬,৮১৬.
ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল-
  1. ক) তত্ত্ববোধিনী
  2. খ) শিখা
  3. গ) জ্ঞানান্বেষণ
  4. ঘ) জ্ঞানাঙ্কুর
ব্যাখ্যা

- ইয়ংবেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপত্র ছিল 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা।
- ১৮৩১ সালে এটি দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।

৬,৮১৭.
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা কোন জেলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. ফরিদপুর
  4. রংপু্র
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা রংপুর জেলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা 'বার্তাবহ যন্ত্র' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো।
- ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা 'অমৃতবাজার পত্রিকা' প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১৮.
সরদার জয়েনউদ্‌দীনের ছোটগল্প কোনটি?
  1. বেগম শেফালী  মির্জা
  2. রোদের ঢেউ
  3. বেলা ব্যানার্জির প্রেম
  4. আদিগন্ত
ব্যাখ্যা
সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে তাঁর জন্ম। 
- প্রকৃত নাম মুহম্মদ জয়েনউদ্দীন বিশ্বাস ।
- সরদার জয়েনউদ্দীন ছিলেন একজন জনপ্রিয় কথাশিল্পী। 
- তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘নয়ন ঢুলি’ প্রকাশিত হয় ১৯৫২ সালে এবং এর মাধ্যমেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। 
- সরদার জয়েনউদ্‌দীনের রচনায় গণমানুষের কল্যাণ ও মুক্তিচিন্তার পাশাপাশি সমকালীন সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক ঘটনাবলিও প্রাধান্য পেয়েছে। 
- ‘অনেক সূর্যের আশা’ উপন্যাস তাঁকে খ্যাতি ও প্রতিষ্ঠা দিয়েছে। 
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৭) এবং কথাসাহিত্যে আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন। 
- ১৯৮৬ সালের ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী  মির্জা,
- রোদের ঢেউ

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮১৯.
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর।
ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।" - উক্ত ছত্রটি কোন সাহিত্যকর্মে পাওয়া যায়?
  1. গুপ্ত প্রেম
  2. ব্যক্ত প্রেম
  3. শেষের কবিতা
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
"দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।”
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা উপন্যাসে, অমিত লাবণ্যকে উক্ত লাইন দুটি শোনায়।
- এ লাইন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়েছেন - ইংরেজ কবি John Donne এর 'The Canonization' কবিতার বিখ্যাত লাইন "For God's sake hold your tongue, and let me love" থেকে। 

উপন্যাসের অংশবিশেষ নিচে তুলে ধরা হলো -
এই দেখুন-না, আজ সকালে বসে হঠাৎ খেয়াল গেল, আমার জানা সাহিত্যের ভিতর থেকে এমন একটা লাইন বের করি যেটা মনে হবে এইমাত্র স্বয়ং আমি লিখলুম, আর কোনো কবির লেখবার সাধ্যই ছিল না!”
লাবণ্য থাকতে পারলে না, প্রশ্ন করলে, “বের করতে পেরেছেন?”
“হাঁ, পেরেছি।”
লাবণ্যর কৌতূহল আর বাধা মানল না, জিজ্ঞাসা করে ফেললে, “লাইনটা কী বলুন-না।”
“For God’s sake, hold your tongue
    and let me love!”
এর একটু পরেই John Donne এর এই ইংরেজি কবিতার লাইটির বাংলা অনুবাদ করে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন -
ডনের কাব্যমহল নির্জন, ওখানে দুটি মানুষ পাশাপাশি বসবার জায়গাটুকু আছে। তাই অমন স্পষ্ট করে শুনতে পেলুম আমার সকালবেলাকার মনের কথাটি–
 "দোহাই তোদের, একটুকু চুপ কর্।
   ভালোবাসিবারে দে আমারে অবসর।”
-------------------------
শেষের কবিতা:
- শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- প্রবাসী পত্রিকায় ছাপা হয় ১৯২৮ সালে।
- ভাষার অসমান্য ঔজ্জ্বল্য,দৃপ্তিশক্তি ও কবিত্বের দীপ্তি এই গ্রন্থটিকে এমন স্বাতন্ত্র্য দিয়েছে, যার জন্য এই গ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিস্ময়কর সৃষ্টির অন্যতম।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ এই উপন্যাসের চরিত্র।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ)।
- ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী।
- রবীন্দ্রনাথের ''ভিখারিণী'' গল্পটি (১৮৭৭) বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- তার প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ, 
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ, 
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শেষের কবিতা উপন্যাস ও Poetryfoundation.
৬,৮২০.
'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. শামসুর রাহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
'বন্দি শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - শামসুর রাহমান
- তার লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন।

শামসুর রাহমান:

- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২১.
'হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে' - চরণটির রচয়িতা কে?
  1. জসীমউদ্দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বনলতা সেন -
জীবনানন্দ দাশ

হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সতীর্থ। 

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. শকুন্তলা
  3. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  4. ব্যাকরণ কৌমুদী
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হচ্ছে বেতাল পঞ্চবিংশতি। 

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও জনহিতৈষী ছিলেন।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন তিনি।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ হলো 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত তাঁর প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৮২৩.
নিচের কোনটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) পদচিহ্ন
  2. খ) বহুরূপী
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) পূরবী
ব্যাখ্যা
সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ: 
- পূর্বাভাস 
- মিঠেকড়া 
- অভিযান
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই 
- হরতাল 
- গীতিগুচ্ছ 

- 'পদচিহ্ন' সত্যেন সেন রচিত উপন্যাস।
- সুকুমার রায়ের লেখা রচনা 'বহুরূপী'
- সিকানদার আবু জাফরের রচিত উপন্যাস 'পূরবী'

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৬,৮২৪.
জহির রায়হানের পরিচালনায় নির্মিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. শেষ বিকেলের মেয়ে
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. কয়েকটি মৃত্যু
  4. বরফ গলা নদী
ব্যাখ্যা
• 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্র:
- 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে পারিবারিক গল্পের আড়ালে এক রাষ্ট্রের গল্পই বলা হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন জহির রায়হান। চলচ্চিত্রটির দৃশ্যধারণ করেন আফজাল চৌধুরী। আনিস ফিল্মস করপোরেশনের পরিবেশনায় ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়েছিল চলচ্চিত্রটি।

চলচ্চিত্রের পটভূমি:
একটি দেশ। একটি সংসার। একটি চাবির গোছা। একটি আন্দোলন। নান্দনিক পোস্টারের এই স্লোগান পড়ে মনে হতে পারে কয়েকজন নারী আর একটি চাবির গোছা নিয়ে এক আটপৌরে বাঙালি পরিবারের গল্প। কিন্তু সেটি ছিল আসলে একটি রাষ্ট্রের গল্প। রাষ্ট্রের অধিকার আদায়ের গল্প। ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয়েছে এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন- খান আতাউর রহমান, আনোয়ার হোসেন, শওকত আকবর, রওশন জামিল, রাজ্জাক, রোজী সামাদ, আমজাদ হোসেন।

- চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহৃত হয়েছে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত কালজয়ী গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটি যা পরবর্তীকালে একুশের প্রভাতফেরীর অত্যাবশ্যকীয় গান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

- এছাড়াও চলচ্চিত্রটিতে ব্যবহার হয় কাজী নজরুল ইসলামের 'কারার ওই লৌহ কপাট' গানটি যা আন্দোলন কর্মীদের গুরুত্বকে পর্দায় ফুটিতে তোলে।

-------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে;
- হাজার বছর ধরে;
- আরেক ফাল্গুন;
- বরফ গলা নদী;
- আর কত দিন;
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- সোনার কাজল; 
- কাঁচের দেয়াল; 
- বেহুলা; 
- জীবন থেকে নেয়া; 
- আনোয়ারা; 
- সঙ্গম; 
- বাহানা।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২৫.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মত অনুসারে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল-
  1. ৪০০ বছর
  2. ৪৫০ বছর
  3. ৬০০ বছর
  4. ৯০০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলার শ্রেষ্ঠ ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে,
বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
১. প্রাচীন যুগ (৯৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।

মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

অর্থাৎ, বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ব্যাপ্তি ছিল - ৬০০ বছর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮২৬.
বাংলায় কাব্য রচনা না করেও বাংলা সাহিত্যে অবদান রয়েছে কোন সাহিত্যিকের?
  1. ক) বীররল
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) বনফুল
  4. ঘ) প্যারীচাদ মিত্র
ব্যাখ্যা
বাংলায় কবিতা রচনা না করেও বিদ্যাপতি ছিলেন - বাংলা ভাষার কবি। 
- বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

বিদ্যাপতি রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২৭.
মেঘনাদবধ কাব্যের মোট কয়টি সর্গ রয়েছে?
  1. ৫ টি
  2. ৯ টি
  3. ১১ টি
  4. ১৩ টি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর কীর্তি 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- এটি সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- ১৮৬১ সালে 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয়।
- নয়(৯) সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- প্রথম সর্গ: অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ: অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ: সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ: অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ: উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ: বধ।
- সপ্তম সর্গ: শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ: প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ: সংস্ক্রিয়া।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮২৮.
'এর উপায় কি' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কি' প্রহসন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত একমাত্র প্রহসন।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল-লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন।
- স্বামী রাধাকান্ত, স্ত্রী মুক্তকেশী, রক্ষিতা নয়নতারা, ইয়ার মদন প্রমুখ এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র।
- এই প্রহসনে মধুসূদন দত্তের 'একেই কি বলে সভ্যতা'র প্রভাব রয়েছে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য নাটক হলো-
- বসন্তকুমারী,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- জমীদার দর্পণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৮২৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. যুবনাশ্ব
  2. চিত্রগুপ্ত
  3. এ নেটিভ
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটক ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৩০.
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) নবনূর পত্রিকা
  2. খ) সাহিত্য পত্রিকা
  3. গ) কোহিনূর পত্রিকা
  4. ঘ) সুধাকর পত্রিকা
ব্যাখ্যা
মহাকবি কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' (১৯০৫)। 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মুহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত। 
প্রধান চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, সুজাউদ্দিন প্রমুখ।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
----------------------------
কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন (১৮৭৩),
- অশ্রুমালা (১৮৯৫),
- শিব-মন্দির (১৯২১),
- অমিয়ধারা (১৯২৩),
- শ্মশান-ভস্ম (১৯২৪) 
- মহরম শরীফ (১৯৩২) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৩১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের নাম কী?
  1. হাঙর নদী গ্রেনেড
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. আগুনের পরশমণি
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা

• 'রাইফেল রোটি আওরাত' উপন্যাস:
- আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম উপন্যাস রাইফেল রোটি আওরাত।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাক সেনারা যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালিয়েছিল, সে জঘন্য ঘটনার বিবরণ দিয়ে আনোয়ার পাশার ' রাইফেল রোটি আওরাত' (১৯৭৩) উপন্যাসের সূচনা।
- এ উপন্যাসে ২৫ ও ২৬ মার্চের দুরাতের কাহিনি বিবৃত হলেও এর পশ্চাতে ছায়া ফেলেছে অনেক ঘটনা, অনেক ইতিহাস।
- কেন্দ্রীয় চরিত্র সুদীপ্ত শাহীনকে মর্মমূলে স্থাপন করে ঔপন্যাসিক মূলত হানাদার বাহিনির বর্বরতার প্রচ্ছদপটকে প্রতিভাত করেছেন।
- এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। এটি রচিত হয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর মার্চ থেকে এপ্রিল মাসে।

অন্যদিকে,
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'।
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'প্রবন্ধটি নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রচনা।
- 'একাত্তরের নিশান' গ্রন্থের রচয়িতা -রাবেয়া খাতুন। 
 
আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮৩২.
'রবিবার' ছোটগল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. তিনসঙ্গী
  2. সে
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. লিপিকা
ব্যাখ্যা
• 'রবিবার' ছোটগল্পটি 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত। 

--------------
• 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলন:

- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।

- গল্প তিনটি হলো:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• "রবিবার" গল্পের সার-সংক্ষেপ:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রবিবার" গল্পটি একটি জটিল মানব সম্পর্কের গল্প, যার কেন্দ্রে রয়েছে অভীককুমার নামে এক তরুণ নাস্তিক এবং বিভা নামে এক ধর্মপ্রাণ তরুণীর মধ্যে গভীর আবেগপ্রবণ সম্পর্ক। অভীক একজন প্রতিবাদী, স্বাধীনচেতা, শিল্পীসত্তার মানুষ, যিনি তার পারিবারিক শাক্ত ব্রাহ্মণ ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে গিয়ে নিজের নাম অভয়াচরণ থেকে অভীককুমারে পরিবর্তন করেন। তিনি ধর্মাচার ও সমাজের প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী, এবং তার এই মনোভাব তাকে তার পিতা অম্বিকাচরণের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। অভীকের জীবনের দুটি প্রধান শখ-যন্ত্রের সঙ্গে কাজ করা এবং ছবি আঁকা তাঁর শিল্পীসত্তার প্রকাশ। তবে তার আধুনিক শিল্পকর্ম সমাজের বেশিরভাগ মানুষের কাছে অপ্রচলিত ও বিতর্কিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং "রবিবার" গল্প রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬,৮৩৩.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম গ্রন্থ -
  1. ক) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  2. খ) বঙ্গ ভাষা ও সাহিত্য
  3. গ) বাংলা সাহিত্যের কথা
  4. ঘ) বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ বঙ্গ ভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)। এর রচয়িতা দীনেশচন্দ্র সেন।
[সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৬,৮৩৪.
কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লেখে দেন?
  1.  মাল্য ও নির্মাল্য
  2. পৌরাণিকী
  3. আলো ও ছায়া
  4. অশোকসঙ্গীত
ব্যাখ্যা

• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর -বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- একসময় তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন। তাঁর কবিতা সহজ, সরল, মানবিক ও উপদেশমূলক। তাঁর কবিতায় জীবনের মহৎ আদর্শের প্রতি গভীর অনুরাগের পরিচয় আছে।
-সাহিত্যসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৯২৯) 'জগত্তারিণী পদকে' সম্মানিত হন।
-তিনি 'নারী শ্রম তদন্ত কমিশন' (১৯২২-২৩) এর সদস্য ছিলেন।
- তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৩ সালে হাজারীবাগ, বিহারে মৃত্যুবরণ করেন।
-'আলো ও ছায়া' (১৮৮৯): এটি তাঁর ১৫ বছর বয়সে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এ গ্রন্থের ভূমিকা লেখেন হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য, 
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থ এবং চারুপাঠ ষষ্ঠ শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৬,৮৩৫.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন, 
- সমাচার দর্পণ, 
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া, 
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদ্গুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৩৬.
‘কুলীন কুলসর্বস্ব’ নাটকের জন্য রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. নাট্যসম্রাট
  2. নাটুকে নারায়ণ
  3. নাট্যরত্ন
  4. নাট্যভূষণ
ব্যাখ্যা
'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।
- 'কুলীন কুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৮৩৭.
'সাত নরী হার' কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) নাটক
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাত নরী হার (১৯৫৫) এবং পরবর্তীকালের কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০) ও কমলের চোখ (১৯৭৪) এ ধরনের গীতিমুখ্য সুললিত কবিতার সংকলন৷

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১),
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২),
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩),
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

উৎসঃ
বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৩৮.
জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাখালী
  2. বালুচর
  3. ধানখেত
  4. মাটির কান্না
ব্যাখ্যা
⇒ জসীমউদ্‌দীন রচিত ‘পল্লী জননী’ রাখালী কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- ১৯২৭ সালে ‘রাখালী’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- মোট ১৯টি কবিতা নিয়ে কাব্যগ্রন্থটি রচিত।
- ‘রাখালী’ নামক কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

⇒ জসীমউদ্‌দীন:

- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীমউদ্দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীমউদ্দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৩৯.
আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নীড় সন্ধানী
  2. নিশুতি রাতের গাথা
  3. নদী নিঃশেষিত হলে
  4. নিরুপায় হরিণী
ব্যাখ্যা
• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ - নদী নিঃশেষিত হলে

আনোয়ার পাশা:

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।

আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

আনোয়ার পাশা রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নিরুপায় হরিণী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৪০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. পুবের হাওয়া
  2. বিষবাণী
  3. চক্রবাক
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

• 'বিষবাণী' প্রবন্ধ:
- 'বিষবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্গত একটি প্রবন্ধ। 

- প্রাবন্ধিক তাঁর বিষবাণী প্রবন্ধে নিজেকে বিদ্রোহী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। রুদ্রমঙ্গল গ্রন্থের অন্তর্গত বিষবাণী প্রবন্ধে নজরুল ইসলাম লক্ষ লক্ষ বিদ্রোহী শিশুর একজন প্রতিনিধি হয়ে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন।

- যারা দেশদ্রোহী হিসেবে চিহ্নিত প্রাবন্ধিক তাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে প্রাবন্ধিকের বক্তব্য হলো-
'স্বরাজ টরাজ বুঝিনা, ও-কথাটার মানে এক এক মহারথী এক এক রকম করে থাকেন। ভারতবর্ষের এক পরমাণু অংশও বিদেশীর অধীন থাকবে না। ভারতবর্ষের সম্পূর্ণ দায়িত্ব, সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা, শাসনভার সমস্ত থাকবে ভারতীয়দের হাতে। তাতে কোনো বিদেশীর মোড়লী করবার অধিকারটুকু পর্যন্ত থাকবে না। যাঁরা এখন রাজা বা শাসক হয়ে এদেশে মোড়লী করে দেশকে শ্মশান ভূমিতে পরিণত করেছেন তাঁদের পাততাড়ি গুটিয়ে বোঁচকা পুটলি বেঁধে সাগরপার পাড়ি দিতে হবে। প্রার্থনা বা নিবেদন করলে তাঁরা শুনবেন না।'
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি যারা বিশ্বাসঘাতকতা করে তাদের প্রতি তিনি দ্রোহে উদ্বেলিত হয়ে বক্তব্যকে বিষবাণী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

- ভারতবর্ষের তরুণদের তিনি অগ্নিরূপ ধারণকারী নাগ-নাগিনীর আখ্যা দিয়ে অভয়দান করেছেন। তরুণদের তিনি বিষ সঞ্চয় করতে পরামর্শ দিয়েছেন। প্রবন্ধে সে জাতীয় বিদ্রোহই প্রকাশিত হয়েছে। প্রাবন্ধিক নজরুলের মতে, তরুণদের সমস্ত শরীরে আছে বিষের ভাণ্ডার। আর এই বিষ হলো অধরা।

-----------------
• 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- 'রুদ্র-মঙ্গল'কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে নজরুলের বিদ্রোহী সত্তার পরিচয় আছে। কবি বিপ্লবী মনোভাব নিয়ে ব্যক্ত করেছেন জাতীয় জাগরণের বাণী।

- কাজী নজরুল ইসলামের 'রুদ্রমঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থে মোট আটটি প্রবন্ধ রয়েছে। এগুলো হলো:
- রুদ্রমঙ্গল,
- আমার পথ,
- মোহররম,
- বিষবাণী,
- ক্ষুদিরামের মা,
- ধূমকেতুর পথ,
- মন্দির মসজিদ এবং
- হিন্দু-মুসলমান।

অন্যদিকে,
----------------
কাজী নজরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-
অগ্নিবীণা, দোলনচাঁপা, বিষের বাঁশি, ছায়ানট, সর্বহারা, ঝিঙ্গে ফুল, সাম্যবাদী, পুবের হাওয়া, সিন্ধু-হিন্দোল, ভাঙার গান, ফণী-মনসা, নতুন চাঁদ, এবং চক্রবাক

উৎস: 'রুদ্র-মঙ্গল' প্রবন্ধগ্রন্থ; 'বিষবাণী' প্রবন্ধ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪১.
বাংলা ভাষার বিখ্যাত কোন সাহিত্যিক ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

• "শামসুর রাহমান, বুদ্ধদেব বসু, জীবনানন্দ দাশ" - সবাই ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন। 
--------------------
নিচে সাহত্যিকদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো -

• শামসুর রাহমান: 
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- শামসুর রাহমান ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে ম্যাট্রিকুলেশন এবং ১৯৪৭ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আই.এ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন। 
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
--------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক যিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।
-----------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫),  বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার  প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- জীবনানন্দ কলকাতা সিটি কলেজে ১৯২২ সালে ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যাপনা শুরু করেন।
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'ধূসর পান্ডুলিপি' পাঠ করে জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা - ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪২.
শরৎচন্দ্রের 'বড়দিদি' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. মাধবী
  2. কিরণময়ী
  3. সাবিত্রী
  4. অন্নদিদি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• "বড়দিদি" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)। 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
সুরেন্দ্রনাথ খুব ধনী পরিবারের ছেলে; কিন্তু তার বিমাতার অযাচিত শাসন আর বন্ধন তাকে নিজ জীবনের সীমানার মধ্যেই রুদ্ধ করে রাখে। তাই একদিন সে এই বন্ধন ছিন্ন করে চলে যায় কলকাতা শহরে, অথচ সে নিজের খেয়াল নিজে কখনো রাখেনি এবং রাখতেও জানে না। কিন্তু সেখানে সে আশ্রয় পায় বড়দিদির বাড়িতে। বড়দিদি, অর্থাৎ মাধবী খুবই রূপবতী কিন্তু অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছিল, তাই বাবার বাড়িতেই এখন তাঁর বসবাস। তাছাড়া বাড়ির গৃহিণীর কাজকর্ম সকল তার দ্বারাই সম্পন্ন হয়, সকলেই তাকে ডাকে ‘বড়দিদি’ বলে। সুরেন্দ্র তাকে কখনো দেখেনি অথচ তার স্থায়ীত্ব ছাড়া যেন সে একেবারে অচল..

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।

অন্যদিকে,
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাসের দুটি প্রধান চরিত্র: সাবিত্রী ও কিরণময়ী।
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: "বড়দিদি" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৪৩.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি প্রথম কোন শহর থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪৪.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'- সংলাপটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বহিপীর
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. সুড়ঙ্গ
  4. উজানে মৃত্যু
ব্যাখ্যা
• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৪৫.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কবিতা 'মুক্তি' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায়
  2. ধূমকেতু পত্রিকায়
  3. বিজলী পত্রিকায়
  4. দৈনিক নবযুগ পত্রিকায়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতা - মুক্তি।
- প্রথম প্রকাশ শ্রাবণ ১৩২৬ বঙ্গাব্দ। কবিতাটি প্রকাশিত হয় 'বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য' পত্রিকায়

কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম:
• উপন্যাস - বাঁধনহারা।
• প্রবন্ধ - তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা।
• নাটক - ঝিলিমিলি।
• গল্পগ্রন্থ - ব্যথার দান।
• কাব্যগ্রন্থ - অগ্নি-বীণা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৪৬.
'স্কুল মাস্টার সুরজিত' চরিত্রটি কোন নাটকের?
  1. নটীর পূজা
  2. কোকিলারা
  3. নেমেসিস
  4. বৈকুণ্ঠের খাতা
ব্যাখ্যা
‘নেমেসিস’ নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী, নৃপেন বোস, সুলতা, অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৪৭.
হুইটম্যানের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সৈয়দ আলী আহসান
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আলী আহসান ইংরেজি সাহিত্যের কবি হুইটম্যানের কবিতা বাংলায় অনুবাদ করেন। এছাড়া ঈডিপাস নাটকটিও তিনি বাংলায় অনুবাদ করেন। মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটক সমূহ হলো মুখরা রমণী বশীকরণ, রূপার কৌটা এবং কেউ কিছু বলতে পারে না। (সূত্রঃ বিষয় বাংলা ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য : ড. সৌমিত্র শেখর)
৬,৮৪৮.
'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. সাবিরিদ খান
  3. মুহম্মদ কবীর
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা

'হানিফা কয়রাপরী' কাব্য:
- 'হানিফা কয়রাপরী' কাব্যের রচয়িতা সাবিরিদ খান/শাহ বারিদ খান।
- 'হানিফা কয়রাপরী' জঙ্গনামাজাতীয় যুদ্ধকাব্য হলেও প্রেমকাহিনির জন্য তা রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানের পর্যায়ভুক্ত।
- কবির কাব্যটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে কাব্যের নাম নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

সাবিরিদ খান:
- সাবিরিদ খান মধ্যযুগের আখ্যানকবি।
- সাবিরিদ খান 'বিদ্যাসুন্দর', 'রসুল বিজয়' ও 'হানিফা-কয়রাপরী' নামে তিনখানি আখ্যানমূলক কাব্য রচনা করেন।
- কাব্যের প্রাপ্ত পাণ্ডুলিপিগুলি খণ্ডিত হওয়ায় কবির ব্যক্তিগত পরিচয় জানা যায় না।
- ভনিতার সামান্য তথ্য থেকে বলা যায়, কবি চট্টগ্রামের নানুপুরের অধিবাসী ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় উৎস থেকে বিদ্যাসুন্দর এবং আরব-ইরান উৎস থেকে রসুল বিজয় ও হানিফা-কয়রাপরী কাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৪৯.
বিদ্রোহী বালিকা বধূ ‘জমিলা’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. পদ্মানদীর মাঝি
  3. লালসালু
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
‘লালসালু’ উপন্যাস:
‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।

কাহিনি সংক্ষেপ: 
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে। 
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে বালিকা বধূ জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
 - আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

অন্যদিকে, 
- 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র : কুবের , কপিলা , মালা , গণেশ , শীতলবাবু , হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: জয়গুণ, হাস্য, মায়মুন, শফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোড়ল গদু।
- ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫০.
চর্যাপদে কোন কবি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন?
  1. ধর্মপা
  2. দারিকপা
  3. তাড়কপা
  4. ভুসুকুপা
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন। ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৬,৮৫১.
'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা' কার উপদেশ ছিল-
  1. ক) জোশুয়া মার্শম্যান
  2. খ) লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  3. গ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছাত্রদেরকে জীবন ও সমাজ প্রতিক্রিয়ার প্রতি যুক্তিসিদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছিলেন। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যেকোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর পুনরাবৃত্তি উপদেশ ছিল- 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা।' উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৮৫২.
দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বড়দিদি,
- পরিণীতা, 
- বিরাজ বৌ, 
- পণ্ডিত মশাই, 
- পল্লী সমাজ, 
- দেবদাস, 
- চরিত্রহীন, 
- দত্তা, 
- গৃহদাহ, 
- বামুনের মেয়ে, 
- দেনা পাওনা, 
- পথের দাবী, 
- শেষ প্রশ্ন, 
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৫৩.
মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবির নাম কি?
  1. ক) বিজয়গুপ্ত
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
- মঙ্গলযুগ তথা মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ]
৬,৮৫৪.
'এলো সে অবেলায়' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।

• শামসুর রাহমান রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• শামসুর রাহমান:
-  শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরায়।
• ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
• তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'আসাদের শার্ট', ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৫.
‘আমলার মামলা’ নাটকটি লিখেছেন-
  1. ক) সিকান্দার আবু জাফর
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চোধূরী
  3. গ) শওকত ওসমান
  4. ঘ) শওকত আলী
ব্যাখ্যা
এই নাটকের রচয়িতা হলেন শওকত ওসমান। অন্যান্য নাটকগুলো হল ‘তস্কর ও লস্কর’ কাকরমনি, বাগদাদের কবি।
৬,৮৫৬.
নীলিমা ইব্রাহিমের গবেষণামূলক রচনার মধ্যে কোনটি রয়েছে?
  1. শরৎ প্রতিভা
  2. বহ্নিবলয়
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. বিশ শতকের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন
 সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৫৭.
কোনটি মৈমনসিংহ গীতিকা?
  1. দেওয়ান ভাবনা
  2. ভেলুয়া সুন্দরী
  3. রতন ঠাকুর
  4. আয়না বিবি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা - দেওয়ান ভাবনা।

অন্যদিকে,
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা - আয়না বিবি, রতন ঠাকুর, ভেলুয়া সুন্দরী।

মৈমনসিংহ গীতিকা: 

- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
 যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৮.
"কুন্দনন্দিনী" বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- চরিত্রায়ণে, ঘটনা সংস্থানে এবং জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ।
- লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- বিষবৃক্ষ,
- কপালকুণ্ডলা,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৯.
‘ইন্দ্রনাথ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ঘরে-বাইরে
  2. গোরা
  3. চার-অধ্যায়
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
• চার-অধ্যায়:
- ‘চার-অধ্যায়’ (১৯৩৪) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রাজনৈতিক উপন্যাস।
- অসহযোগ আন্দোলনের পর বাংলায় নতুন করে যে হিংসাত্মক বিপ্লব-প্রচেষ্টা দেখা দিয়েছিল, ‘চার-অধ্যায়’ উপন্যাসে তার তত্ত্ববিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ মূল্য নির্ধারণের চেষ্টা আছে। আসলে সন্ত্রাসবাদের সমালোচনা করে এই কাহিনি রচিত।।
- সন্ত্রাসবাদীদের নেতা ইন্দ্রনাথ এর নির্দেশে অতীন ও এলার প্রেমের সমাপ্তি এই উপন্যাসের মুখ্য কাহিনি।
- সমকালীন বিপ্লবপন্থী আন্দোলনের প্রতি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরূপ মনোভাব এই উপন্যাসের মূল সুর।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: অতীন, এলা, ইন্দ্রনাথ

• চার-অধ্যায়ের কাহিনির সঙ্গে  রবীন্দ্রনাথের ‘রবিবার’ গল্পের সম্পর্ক আছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬০.
'নারীর মূল্য' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'নারীর মূল্য' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন।
- এটি 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮৬১.
'জঙ্গনামা' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ হামজা
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. শেখ সাদী
ব্যাখ্যা
জঙ্গনামা:
- 'জঙ্গনামা' কাব্যের রচয়িতা - ফকির গরীবুল্লাহ।
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি ‘জঙ্গ’ শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর ‘জঙ্গনামা’ শব্দের অর্থ তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়।
- যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে।

ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২) বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬২.
ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম কী?
  1. History of Bengali Language and Literature
  2. Origin and Development of Bengali Language
  3. A Grammar of the Bengali Language
  4. A Grammar of the Bengal Language
ব্যাখ্যা
• ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড (১৭৫১-১৮৩০):
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক।
- তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা  ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও  বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও  অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত  A Grammar of the Bengal Language গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ওয়ারেন হেস্টিংসের অনুরোধে হ্যালহেড এটি রচনা করেন।
- ১৭৪৩ সালে লিসবন শহর থেকে গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটি মূলত এদেশে  খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সুবিধার জন্যই সংকলিত হয়েছিল।

কয়েকটি ব্যাকরণ গ্রন্থ:
• Manuel da Assumpção - 'Vocabulario idioma em Bengalla e portuguez dividido em duas Partes' (১৭৪৩)
• ব্রাসি হ্যালহেড - ' A Grammar of the Bengal Language' (১৭৭৮)।
• উইলিয়াম কেরি - 'A Grammar of the Bengali Language' (১৮০১)
• দীনেশচন্দ্র সেন - History of Bengali Language and Literature 
• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় - Origin and Development of Bengali Language’ (ODBL)
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬৩.
’সেই দিন এই মাঠ’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বনলতা সেন
  2. ধূসর পাণ্ডু লিপি
  3. মহাপৃথিবী
  4. রূপসী বাংলা
ব্যাখ্যা

 'সেই দিন এই মাঠ' কবিতাটি কবি জীবনানন্দ দাশ এর রচিত ’রূপসী বাংলা কাব্যগ্রন্থ’ এর অন্তর্গত।

সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি
জীবনানন্দ দাশ

সেই দিন এই মাঠ স্তব্ধ হবে নাকো জানি-
এই নদী নক্ষত্রের তলে
সেদিনও দেখিবে স্বপ্ন-সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!
আমি চলে যাব ব'লে
চালতাফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে
নরম গন্ধের ঢেউয়ে?
লক্ষ্মীপেঁচা গান গাবে নাকি তার লক্ষ্মীটির তরে?
সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে!

'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ 'রূপসী বাংলা'।
- 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৭ সালে।
- কবিতাগুলির গঠন সনেটের। বাংলার গ্রাম-প্রকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান কাব্যের বিষয়বস্তু।
- 'আবার আসিব ফিরে' রূপসী বাংলা কাব্যের বিখ্যাত কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,৮৬৪.
মুনীর চৌধুরী কবে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯২৫ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরীর জীবনী ও সাহিত্যকর্ম: 
মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, এবং সাহিত্যসমালোচক। তিনি ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালী জেলায়। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভাষা আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রভাব ফেলেছে।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা:

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস: মুনীর চৌধুরীর জন্ম মানিকগঞ্জে হলেও, তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল নোয়াখালীতে।
১৯৫২ ভাষা আন্দোলন: ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে তিনি কারাবন্দী অবস্থায় ১৯৫৩ সালে "কবর" নাটকটি রচনা করেন, যা তাঁর অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম।

বাংলা টাইপরাইটার উদ্ভাবন:
১৯৬৫ সালে মুনীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য একটি উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম ছিল "মুনীর অপ্‌টিমা"।
----------------------- 
রচিত নাটকসমূহ:
মুনীর চৌধুরী অনেক মৌলিক ও অনুবাদ নাটক রচনা করেছেন, যা বাংলা নাট্যসাহিত্যে অমূল্য সংযোজন হিসেবে বিবেচিত।

মৌলিক নাটক:

"কবর" (১৯৫৩): এটি ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে লেখা একটি বিশেষ নাটক, যা বাংলা নাটকের ইতিহাসে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
"রক্তাক্ত প্রান্তর": পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে লেখা।
"মানুষ": ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা উপজীব্য।
"নষ্ট ছেলে": একটি রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
"পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য": রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত নাটক।
"দণ্ডকারণ্য": তিনটি নাটকের সমন্বয়ে রচিত।
"রাজার জন্মদিন": একটি চমৎকার নাট্যকর্ম যা রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা।
--------------------- 
অনুবাদ নাটক:

"কেউ কিছু বলতে পারে না" (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর-এর "You never can tell" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"রূপার কৌটা" (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির "The Silver Box" নাটকের বাংলা অনুবাদ।
"মুখরা রমণী বশীকরণ" (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের "Taming of the Shrew" নাটকের বাংলা অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৬,৮৬৫.
শওকত ওসমানের রচনা কোনটি?
  1. কাঞ্চনগ্রাম
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. কোথাও কোন ক্রন্দন নেই
ব্যাখ্যা
ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের 'ক্রীতদাসের হাসি' (১৯৬২) উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালোচনা করা হয়েছে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। 
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। 
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের  প্রতীক। 
- তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। 
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

অন্যদিকে,
• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস - কাঞ্চনগ্রাম।
• শওকত আলী রচিত উপন্যাস - কুলায় কালস্রোত।
• শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ - কোথাও কোন ক্রন্দন নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬৬.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) দুইবোন
  2. খ) শেষের কবিতা
  3. গ) শেষলেখা
  4. ঘ) মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ
- 'দুই বোন', 'শেষের কবিতা', 'মালঞ্চ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিধর্মী উপন্যাস।  

অধ্যাপক মাহবুবুল আলম রচিত “বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস” বই অনুসারে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” প্রধানত গীতিধর্মী উপন্যাস। ‘মালঞ্চ’, ‘দুইবোন’ - উপন্যাস দুটিও একই ধরণের।

তার রচিত প্রথম উপন্যাস হল: বউ ঠাকুরানীর হাট।
এছাড়াও
তিনি রাজর্ষি, ঘরে বাইরে, চার অধ্যায়, গোরা, চোখের বালি ,নৌকাডুবি ইত্যাদি উপন্যাস রচনা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম। 
৬,৮৬৭.
‘বিলাতে সাড়ে সাতশ' দিন’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী মুহম্মদ আবদুল হাইয়ের জন্ম ২৬ নভেম্বর ১৯১৯ সালে মুর্শিদাবাদের রাণীনগর থানার মরিচা গ্রামে।
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখেন। 
-১৯৬২ সালে যখন তিনি অধ্যাপক পদে নিয়োগ লাভ করেন, তখন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির অঙ্গনে ছিল এক দুঃসময়। গবেষণার ক্ষেত্র প্রস্ত্তত ও প্রসারের লক্ষ্যে তিনি সাহিত্য পত্রিকা (১৯৫৭) প্রকাশ করেন। উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: 
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪),
- বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮),
- তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯),
- ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০),
- ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি ।

পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য মুহম্মদ আবদুল হাই সৈয়দ আলী আহসানের সঙ্গে যৌথভাবে রচনা করেন বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক যুগ, ১৯৬৮)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৬৮.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতার গঠন সনেটের?
  1. ক) বনলতা সেন
  2. খ) রূপসী বাংলা
  3. গ) ঝরাপালক
  4. ঘ) ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- রূপসী বাংলা,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি

• ‘রূপসী বাংলা’ ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলির গঠন সনেটের। এদের বিষয় বাংলার গ্রাম-প্রিকৃতি, নদীনালা, পশু-পাখি, উৎসব, অনুষ্ঠান। এ কাব্যের একটি বিখ্যাত  হলো-

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬৯.
জ্ঞানদাস কোন নামে পরিচিত ছিলেন?
  1. মঙ্গল ঠাকুর
  2. শ্রীমঙ্গল
  3. মদন-মঙ্গল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• জ্ঞানদাস:
জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। এজন্য তিনি মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
- তিনি বৈষ্ণবগুরু নিত্যানন্দের পত্নী জাহ্নবী দেবীর শিষ্য ছিলেন।
- জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ।

পদরচনায় তিনি বিদ্যাপতি ও চণ্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৭০.
কবি আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
  1. রোসাঙ্গ
  2. মিথিলা
  3. কৃষ্ণনগর
  4. ঠিপুরা
ব্যাখ্যা

• আলাওল: 
- আরাকান (রোসাঙ্গ) রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থসমুহ:
- সিকান্দার নামা। 
- তোহ্ফা।
- সপ্তপয়কর।
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামান।
- রাগতালনামা।
- সতীময়ান ও লোরচন্দ্রাণী।

উল্লেখ্য, প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিল - কবি আলাওল কোন রাজসভার কবি ছিলেন?
রিয়াল জবের প্রশ্নে কবির নাম ভুল লেখা ছিল। তবে আলাওল নামে মধ্যযুগে একজন কবি রয়েছেন। সে হিসেবে সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন ‘ক’ গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৮৭১.
চর্যাপদে না পাওয়া ২৪ নং পদের রচয়িতা-
  1. কুক্কুরীপা
  2. তন্ত্রীপা
  3. ভুসুকুপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের সাড়ে তিনটি পদ পাওয়া যায় নি।
• ভুসুকুপার ২৩ নং পদটি খন্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।
• কাহ্নপার ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• তন্ত্রীপার ২৫ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
• কুক্কুরীপার ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,৮৭২.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. আগুন পাখি
  2. আগুন নিয়ে খেলা
  3. আগুনের মেয়ে
  4. আগুনডানা মেয়ে
ব্যাখ্যা
• "আগুন নিয়ে খেলা" উপন্যাস:
- "আগুন নিয়ে খেলা" অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে একদিন গল্প শুরু হয়েছে, তারপর গল্প পিছিয়ে গিয়েছে একদিন একদিন করে। এইভাবে ছদিনের কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাসটি রচিত।

- যারা বর্তমানের ভালোলাগাতেই বিশ্বাস করে, সম্পর্কের স্থায়িত্বে বিশ্বাস করে না, তেমন দুটি তরুণ-তরুণীর কাহিনি এই উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে। প্রেমের উপন্যাস কিন্তু এ-উপন্যাসে প্রেমের কোনো পরিণতি নেই, শুধু একসঙ্গে চলার আনন্দ আছে, কিন্তু চলার শেষে কোথাও পৌঁছনো নেই। যেন দুটি পাখি পাশাপাশি কলকল করে উড়ে চলার পরে যে-যার-মতো উড়ে গেল খোলা আকাশে।

উপন্যাসের ছয়টি দিনের কাহিনিগুলো হলো:
- শেষের দিন,
- তার আগের দিন.
- তারও আগের দিন,
- আরও আগের দিন,
- সব আগের দিন,
- শেষের দিনের শেষ।

অন্যদিকে,
• 'আগুন পাখি' দেশভাগের সময়ের পটভূমিতে হাসান আজিজুল হক রচিত উপন্যাস।
• ‘আগুনের মেয়ে’ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ
• 'আগুনডানা মেয়ে' উপন্যাসের রচয়িতা সাদাত হোসাইন।  

উৎস: "আগুন নিয়ে খেলা" উপন্যাস অন্নদাশঙ্কর রায় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৭৩.
আনিসুজ্জামানের স্মৃতিনির্ভর রচনা কোনটি?
  1. আমার একাত্তর
  2. স্বরূপের সন্ধানে
  3. আঠারো শতকের বাংলা চিঠি
  4. সত্যের সন্ধান
ব্যাখ্যা
• ‘আমার একাত্তর’ আনিসুজ্জামান রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিনির্ভর একটি রচনা।

• আমার একাত্তর:

- এই গ্রন্থে লেখক বলেছেন- আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার একটা খণ্ডচিত্র অঙ্কন করেছি। তাতে আমাদের গৌরবের কথা আছে, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহায়তার কথা আছে, নিজেদের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতির কথাও আছে।
- ১৯৯৬ এর এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ‘আমার একাত্তর’ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ভোরের কাগজ পত্রিকায়।

• আনিসুজ্জামান:

- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে (প্রবন্ধ),
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (প্রবন্ধগ্রন্থ),
- কাল নিরবধি (স্মৃতিকথা)।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'সত্যের সন্ধান' আরজ আলী মাতুব্বর রচিত গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৭৪.
'ইঁদুর' গল্পটি কার লেখা?
  1. সমর সেন
  2. মাহমুদুল হক
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

• ২৪ মে ১৯২০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সোমেন চন্দ।
• তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তাঁর রচিত গল্প-
- ইঁদুর,
- দাঙ্গা,
- সংকেত,
- স্বপ্ন,
- বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৭৫.
'সারাদুপুর' গল্পটি হাসান আজিজুল হকের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য
  2. রোদে যাবো
  3. আমরা অপেক্ষা করছি
  4. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
ব্যাখ্যা
আত্মজা ও একটি করবী গাছ:
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'পরবাসী', 'সারাদুপুর', 'অন্তর্গত নিষাদ', 'মারী', 'উটপাখি', 'সুখের সন্ধানে', 'আমৃত্যু আজীবন' এই আটটি গল্প।
- হাসান আজিজুল হকের এই আটটি গল্পের সমাহারে সমৃদ্ধ 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটি।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬৭ সালে।
- বাংলাদেশের বাংলা ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৬,৮৭৬.
মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. নীলদর্পন
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

-------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৭৭.
কোন সাহিত্যিক ১৯৭১ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী?
  1. আহমদ ছফা
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার্স থেকে পাক হানাদার বাহিনীর অনুগত আলবদর সদস্যরা তাঁকে ঢাকার মিরপুরের বধ্যভূমিতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে।
- তিনি একজন শহীদ বুদ্ধিজীবী।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জামে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৭৮.
'আর্য্যগাথা' দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. প্রবন্ধ
  4. স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
⇒ দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:    
• কবি, নাট্যকার, গীতিকার।  
• ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের  নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
• দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। 
• তাঁর রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 

⇒ দ্বিজেন্দ্রলালের উলে­খযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো: 
⇒ কাব্য: 
• আর্য্যগাথা, 
- প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
• Lyrics of Ind (ইংরেজি).   

⇒ সামাজিক নাটক: 
• পরপারে, 
• বঙ্গনারী;
• সমাজ-বিভ্রাট, 
• কল্কি অবতার, 
• ত্র্যহস্পর্শ, 
• প্রায়শ্চিত্ত, 
• পুনর্জন্ম। 

⇒ ঐতিহাসিক নাটক:
• তারাবাই,
• প্রতাপসিংহ,
• দুর্গাদাস, 
• মেবার পতন, 
• নূরজাহান,
• সাজাহান,
• চন্দ্রগুপ্ত। 
- ঐতিহাসিক নাটক রচনার জন্য তিনি যশস্বী হয়ে আছেন। 

⇒ রোমান্টিক পৌরাণিক নাটক: 
• চন্দ্রগুপ্ত ও
• সিংহল বিজয়। 

⇒ পৌরাণিক নাটক: 
• পাষাণী, 
• সীতা,
• ভীষ্ম।  
⇒ ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৭৯.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. চাচা-কাহিনী
  3. দেশে বিদেশে
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
দেশে বিদেশে:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ
- গ্রন্থটি ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- নিজে বিভিন্ন দেশে বিশেষত কাবুলে  অবস্থান ও ভ্রমণ করে যে বিচিত্র অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন, তার পরিচয় আছে এই গ্রন্থে।
- এর ভাষা সহজ, উপস্থাপনায় সাবলীলতা ও আড্ডার মেজাজ আছে।
- রাজনৈতিক ঝোড়ো হাওয়া, সাধারণ মানুষের জীবন, সাংস্কৃতিক জীবনের নানা পরিচয়, অপরিচিত দেশের নানা বৈশিষ্ট্য সব ফুটে  উঠেছে এক অপূর্ব আন্তরিক ভঙ্গিতে।
- গ্রন্থটির রচনাশৈলী অসাধারণ বলে প্রথম গ্রন্থেই মুজতবা আলী পাঠকহৃদয় জয় করেন।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৮০.
জসীমউদ্‌দীন রচিত খণ্ড কবিতার সংকলন-
  1. চক্রবাক
  2. পূবের হাওয়া
  3. বালুচর
  4. ঝিঙে ফুল
ব্যাখ্যা
• ‘বালুচর’ জসীমউদ্‌দীন রচিত একটি খণ্ড কবিতার সংকলন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়।
------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফনিমনসা,
- চক্রবাক,
- নতুন চাঁদ,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- পূবের হাওয়া,
- বিষের বাঁশি,
- ঝিঙে ফুল,
- দোলনচাঁপা,
- জিঞ্জির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৮১.
খনার বচনে কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. জ্যোতিশাস্ত্র
  2. কৃষি
  3. আবহাওয়া
  4. উপরের সবগুলো 
ব্যাখ্যা

• খনার বচন:
- খনার বচন বিশেষ অর্থবোধক বাক্য বা উক্তি। ইংরেজি saying, proverb কিংবা বাংলা প্রবাদ শব্দ অনেকটা এর সমার্থক, কিন্তু বচনের তাৎপর্য আরও ব্যাপক ও ভিন্ন।
- শুভাশুভ, বিধিবিধান, নীতি ও উপদেশবাচক প্রতিপাল্য প্রাজ্ঞোক্তিই সাধারণ অর্থে বচন, যেমন গুরুর বচন, মহাপুরুষের বচন ইত্যাদি।
- বাংলায় ডাক ও খনার উক্তি বচনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- খনার বচনগুলো কৃষি, আবহাওয়া, ঋতু, জ্যোতিশাস্ত্র সম্পর্কিত। এছাড়াও স্বাস্থ্য, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ের খনার বচন রয়েছে।
- ‘খনার বচন’ রচয়িতার প্রকৃত নাম লীলাবতী; লীলাবতী আর্যার প্রণেতা ও খনা একই ব্যক্তি।
- আনুমানিক ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৮২.
বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি কে?
  1. লুইপা
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বড়ু চন্ডীদাস
ব্যাখ্যা

- মধ্যযুগের শুরুতেই রচিত হয় একটি সুদীর্ঘ অসাধারণ কাব্য যার নাম ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ - যার রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস
- তিনিই বাংলা ভাষার প্রথম মহাকবি।
- তার রচিত গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়ালঘর থেকে শ্রীবসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ আবিষ্কার করেন।

অন্যদিকে,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) একাধারে বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি, বাংলা নাটকের পথিকৃৎ।

সূত্রঃ LiveMCQ লেকচার ও লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ।

৬,৮৮৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে পদের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৬১
  2. খ) ২২৬
  3. গ) ৪১৮
  4. ঘ) ৪৫২
ব্যাখ্যা
- খণ্ডিত পদসহ মোট পদে সংখ্যা: ৪১৮টি। 
- সংস্কৃত শ্লোক : ১৬১টি
- পুঁথির পাতার সংখ্যা : ২২৬টি
- পুঁথির পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪৫২টি
- বিলুপ্ত পৃষ্ঠা সখ্যা : মাঝের ৪৫টি
- প্রাপ্ত পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৪০৭টি। 
- লিপিকরের সংখ্যা : ৩ জন বা তিন হাতের লেখা
- কবির ভণিতা সংখ্যা : ৪০৯টি। 

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৬,৮৮৪.
বাংলা সাহিত্যে 'অবক্ষয় যুগের ব্যাপ্তীকাল---
  1. ক) ১৭৩০-১৮৬০
  2. খ) ১৭২০-১৮৫০
  3. গ) ১৭৫০-১৮২০
  4. ঘ) ১৭৬০-১৮৩০
ব্যাখ্যা
 ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত  অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত। 
- মধ্যুযুগের শেষ ও  আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৬,৮৮৫.
'মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়' প্রহসনের রচয়িতা কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়' প্রহসনের রচয়িতা - প্যারীচাঁদ মিত্র

প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম “টেকচাঁদ ঠাকুর”।

তাঁর উপন্যাস সমূহ:
- আলালের ঘরে দুলাল,
- আধ্যাত্নিকা,
- অভেদী।

তাঁর একমাত্র প্রহসন:
- মদ খাওয়া বড় দায়-জাত থাকার কি উপায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৮৬.
'অশোক সঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
আলো ও ছায়া, নির্মাল্য, মাল্য ও নির্মাল্য, অশোক সঙ্গীত, দ্বীপ ও ধূব, জীবন পথে ইত্যাদি কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,৮৮৭.
কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস?
  1. কালো হাওয়া
  2. হাওয়া বদল
  3. ভোরের হাওয়া
  4. হাওয়ার গান
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কালো হাওয়া’ বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

⇒ বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক,  সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়। 
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ‘ভোরের হাওয়া’ কাজী জহিরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্য, অষ্টম শ্রেণি।
৬,৮৮৮.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ?
  1. রায়তের কথা
  2. বীরবলের হালখাতা
  3. তেল-নুন-লকড়ি
  4. চার-ইয়ারি কথা
ব্যাখ্যা
• 'চার-ইয়ারি কথা' প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাবন্ধিক।
- প্রমথ চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত পত্রিকা -সবুজপত্র।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।

- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লকড়ি।

- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ (১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৮৯.
'উত্তর বসন্ত' কাব্যের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল হোসেন
  2. খ) আল মাহমুদ
  3. গ) আব্দুল কাদির
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা

• আব্দুল কাদির ছিলেন মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত শিখা পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭)। • তাঁর রচিত কবিতা:
- দিলরুবা,
- উত্তর বসন্ত।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- লোকায়ত সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,৮৯০.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদুমাবৎ
  2. চন্দ্রাবতী
  3. লাইলি মজনু
  4. গীতগোবিন্দ
ব্যাখ্যা

• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- তিনি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ১৮৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৯১.
কোন গ্রন্থে ইংরেজ শাসনব্যবস্থার আমলাদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. মুচিরাম গুড়ের আত্মচরিত
  3. সেকাল আর একাল
  4. গাজী মিয়ার বস্তানী
ব্যাখ্যা
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘মুচিরাম গুড়ে আত্মচরিত’ গ্রন্থটি ১৮৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে ব্যঙ্গ ও পরিহাসের মাধ্যমে ইংরেজ শাসনব্যবস্থার আমলাদের নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহঃ
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি। 
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৯২.
আহমদ ছফার 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. তেভাগা আন্দোলন
  3. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'ওঙ্কার' উপন্যাস:
- আহমদ ছফা প্রকাশ করনে তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'ওঙ্কার'। ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। আহমদ ছফা রচিত ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে।

- যে গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে বাঙালি জাতি জেগে উঠেছিলো 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি তারই একটি প্রতীকী প্রকাশ। এ উপন্যাসে একটি মাত্র চরিত্রের নাম পাওয়া যায়। কেন আহমদ ছফা অন্য কোনো চরিত্রের নাম দেন নি সেটি গবেষণার বিষয়। আহমদ ছফা তাঁর উপন্যাসসমূহে এক ধরনের তাত্ত্বিক প্রবাহ বজায় রেখেছেন। সেই প্রবাহের অংশ হিসেবেই 'ওঙ্কার' উপন্যাসের কাহিনী তিনি সাজিয়েছেন।

- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের যে ভিত্তি ষাটের দশকের শিক্ষা আন্দোলন, ছয় দফার আন্দোলনের ভেতর দিয়ে গড়ে উঠছিলো সেই আন্দোলনটি চূড়ান্ত রূপ পায় ঊনসত্তরের গনঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। সমগ্র বাংলাদেশ সেই আন্দোলনে জেগে উঠেছিলো। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিলো গ্রাম, শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ঢাকা শহরের প্রতিটি অলিগলি, সড়ক তখন ছিলো শ্লোগানে মুখর। সেই অবস্থাটি সাধারণ মানুষকে যেভাবে নাড়া দিয়েছিলো, যেভাবে মানুষ স্বাধীনতার দাবীতে ক্রমে ক্রমে উচ্চকিত হয়ে উঠছিলো, সকলের মাঝে তখন জেগে উঠেছিলো স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন, আহমদ ছফা তাকেই আশ্রয় করেছেন নিজের উপন্যাসের কাহিনির জন্য। 

- আহমদ ছফা রচিত এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।

- ওঙ্কার উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

উৎস: 'ওঙ্কার' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৯৩.
বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি -
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমির প্রথম নারী সভাপতি হলেন ঔপন্যাসিক ও কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।
- গত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২ প্রথম নারী হিসেবে সেলিনা হোসেন বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
- বাংলা একাডেমির বর্তমান মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৬,৮৯৪.
কোনটি মঙ্গলকাব্য নয়?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মুসলমানমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. বাশুলীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের নানা শ্রেণির কাব্যে মঙ্গল কথাটির প্রয়োগ থাকলেও কেবল বাংলা লৌকিক দেবতাদের নিয়ে রচিত কাব্যই ‘মঙ্গলকাব্য' নামে অভিহিত হয়। বৈষ্ণব সাহিত্যের চৈতন্যমঙ্গল, গোবিন্দমঙ্গল প্রভৃতি মঙ্গল নামধেয় কাব্যের সঙ্গে মঙ্গলকাব্যের কোন যোগসূত্র নেই।

• প্রকৃতপক্ষে মঙ্গলকাব্যগুলোকে শ্রেণিগত দিক থেকে পৌরাণিক ও লৌকিক এই দু ভাগে ভাগ করা যায়।
• পৌরাণিক শ্রেণির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল : গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি ।
• লৌকিক শ্রেণি হল : শিবায়ন বা শিবমঙ্গল, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বা বিদ্যাসুন্দর), শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সারদামঙ্গল, সূর্যমঙ্গল প্রভৃতি।

বাশুলীমঙ্গল: 
রমেশচন্দ্র মজুমদার রচিত বাংলাদেশের ইতিহাস – ২য় খণ্ড (মধ্যযুগ) তে উল্লেখ রয়েছে -
ষোড়শ শতাব্দীতে যাঁহারা চণ্ডীমঙ্গল রচনা করিয়াছিলেন (বা অন্তত করিয়াছিলেন বলিয়া বলা হয়), তাঁহাদের মধ্যে দ্বিজ মুকুন্দ কবিচন্দ্র, বলরাম কবিকঙ্কণ এবং দ্বিজ মাধব বা মাধবাচার্যের নাম উল্লেখযোগ্য। দ্বিজ মুকুন্দের কাব্যের বিশিষ্ট নাম ‘বাশুলীমঙ্গল’, ইহা “শাকে রস রস বেদ” অর্থাৎ ১৪৬৬ শকাব্দে (১৫৪৪-৪৫ খ্রীষ্টাব্দে) রচিত হয় বলিয়া গ্রন্থমধ্যে উল্লিখিত হইয়াছে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাদেশের ইতিহাস – ২য় খণ্ড (মধ্যযুগ) – রমেশচন্দ্র মজুমদার।

৬,৮৯৫.
ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত কত সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4.  ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা

• ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোচনা করে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। চর্যাপদের আবিষ্কর্তা হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর নাম এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে স্মরণীয়। ১৯১৬ সালে চর্যাগীতি প্রকাশ করে তিনি একে বাংলা ভাষার প্রথম অবস্থার রচনা বলে যে ধারণা ব্যক্ত করেছিলেন তা পরবর্তী কালের গবেষকগণ মেনে নিয়েছেন।

• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
• চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন চর্যাপদ 'বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি—অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।' 

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন। 
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন। 

ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন। বিহারের প্রখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেছেন। 
• ড. তারাপদ মুখোপাধ্যায় চর্যাপদ থেকে বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের রূপ এবং বাক্যগঠনরীতির স্বরূপ দৃষ্টান্তযোগে দেখিয়েছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৬,৮৯৬.
নিচের কোন পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের চলিত রীতির প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) সাধনা
  2. খ) সবুজপত্র
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) কালিকলম
ব্যাখ্যা
- 'সবুজপত্র' বাংলা সাহিত্যের চলিত রীতির প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

• সবুজপত্র পত্রিকা
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,৮৯৭.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. শহীদ কাদরী
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. শামসুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ:
- শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে উত্তরাধিকার।
- বাংলা কবিতা আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভূক্ত আছে।

শহীদ কাদরী:
- স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- কলকাতার পার্কস্ট্রিটে ১৯৪২ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছে অনুসারে ঢাকাতে সমাধিস্থ করা হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌছে দাও।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া
৬,৮৯৮.
‘হিতোপদেশ’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. ক) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) উইলিয়াম কেরী
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার (আনু. ১৭৬২-১৮১৯): তিনি ছিলেন একজন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। নাটোর-রাজের দরবারে লেখাপড়া শিখে তিনি সংস্কৃত পন্ডিতে পরিণত হন।
- তিনি উনিশ শতকের প্রথম ভালো বাংলা গদ্য লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে থাকার সময়ে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন, সেগুলো হচ্ছে:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮) এবং
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- এছাড়া পরে ১৮১৭ সালে তিনি লেখেন বেদান্তচন্দ্রিকা। এসব গদ্য প্রায় সবই অনুবাদমূলক; তা সত্ত্বেও তাঁর রচনা-রীতির কারণে অনেকটা মৌলিক রূপ লাভ করেছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা আর্কাইভ।

৬,৮৯৯.
'নুরুলদীনের সারা জীবন' নাটকের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) কৃষক বিদ্রোহ
  2. খ) পানিপথের যুদ্ধ
  3. গ) চাকমা বিদ্রোহ
  4. ঘ) সাঁওতাল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
নুরুলদীনের সারা জীবন:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নুরুলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরােধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরােধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- ‘জাগাে বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪ টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত। 

• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৯০০.
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) প্রতিবিম্ব
  2. খ) মূল্যবোধের জন্যে
  3. গ) আরো দুটি মৃত্যু
  4. ঘ) আধুনিক কবি ও কবিতা
ব্যাখ্যা
- হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে- প্রতিবিম্ব। 

হাসান হাফিজুর রহমান:
- ১৯৩২ সালের ১৪ জুন জামালপুর শহরে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। তাঁর পৈতৃক নিবাস জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কুলকান্দি গ্রামে। 
- ১৯৫২ সালে সাপ্তাহিক  বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরে  সওগাত (১৯৫৩), ইত্তেহাদ (১৯৫৫-১৯৫৭), পাকিস্তান  (১৯৬৫) এবং স্বাধীনতার পর দৈনিক বাংলা পত্রিকায় কাজ করেন।
- ১৯৭৮ সালে তথ্য ও বেতার মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রকল্প’-এর পরিচালক নিযুক্ত হন।
- ১৯৪৬ সালে স্কুলে পড়া অবস্থায় তাঁর প্রথম রচনা একটি  ছোটগল্প ‘অশ্রুভেজা পথ চলতে’ সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে সোনার বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কবিতা। 
- ১৯৫৩ সালে তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম সংকলন গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারী'।
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ
- বিমুখ প্রান্তর
- সীমান্ত শিবিরে 
- আর্ত শব্দাবলী
- যখন উদ্যত সঙ্গীন
- দক্ষিণের জানালা 
- প্রতিবিম্ব 
- শোকার্ত তরবারী 
- আমার ভেতরের বাঘ ইত্যাদি।
প্রবন্ধগ্রন্থ
- আধুনিক কবি ও কবিতা
- মূল্যবোধের জন্যে
- সাহিত্য প্রসঙ্গ 
গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।