বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৬১ / ২১১ · ৬,০০১৬,১০০ / ২১,১৩২

৬,০০১.
নিচের কোনটিকে বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. কৃষ্ণকুমারী
  3. কীর্তিবিলাস
  4. শর্মিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।

বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্য:

• সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
• বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ ঘটেছে।
• পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকটির অঙ্ক সংখ্যা পাঁচটি।
• তবে সংস্কৃত নাট্যধারার প্রভাবে এতে নান্দী ও সূত্রধার আছে।
• ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে কিছুটা আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

অন্য অপশন,
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ট্র্যাজেডি নাটক - কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১)।
- তারাচরণ শিকদার রচিত প্রথম মৌলিক নাটক - ভদ্রার্জুন (১৮৫২)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম সার্থক ও আধুনিক নাটক - শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০০২.
চর্যার ৫০নং পদের রচয়িতা কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. শবরপা
  3. সরহপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

• শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
-তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০-৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহি সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬,০০৩.
প্রহসন বলতে কী বোঝায়?
  1. কমেডি নাটক
  2. সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক
  3. উদ্দেশ্যহীন নাটক
  4. অস্বাভাবিক নাটক
ব্যাখ্যা
• প্রহসন : সমাজের ত্রুটি নির্দেশক ব্যাঙ্গাত্মক নাটক। 

• প্রহসন: 
- প্রহসন  হাস্যরসপ্রধান স্বল্পদৈর্ঘ্য নাট্যধর্মী রচনা।
- এতে হাস্য ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের আবরণে সমাজের অনৈতিকতা, অনাচার, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও রক্ষণশীলতা এবং প্রাত্যহিক জীবনের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ তুলে ধরা হয়।
- পূর্ণাঙ্গ নাটকের মতো প্রহসনে বিষয়বস্ত্তর বিস্তার ও জটিলতা, রচয়িতার গভীর জীবনবোধ, চরিত্রের সমগ্রতা এবং কাহিনীর পারম্পর্যপূর্ণ অগ্রগমন অনুপস্থিত।
- বরং নকশাধর্মী কাহিনীর মাধ্যমে ঘটনা ও বিষয়বস্ত্তর অতিকথন, টাইপ চরিত্রের সংযোগ এবং হাসি ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সহযোগে খন্ডজীবনের একটি উপভোগ্য নাট্যরূপায়ণই এর প্রধান বৈশিষ্ট্য। 

• বিশেষ তথ্য: 
- রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত প্রহসনের আদর্শে বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব (১৮৫৪)।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম পাশ্চাত্যধারা তথা ইংরেজি Farce-এর বৈশিষ্ট্য ও গুণ সমন্বিত প্রহসন রচনায় কৃতিত্বের অধিকারী হলেন  মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- তাঁর একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০) ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০) প্রহসনদ্বয়ের মধ্য দিয়েই বাংলা প্রহসন তার স্বকীয়তা লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,০০৪.
কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী?
  1. শিক্ষা
  2. ছিন্নপত্র
  3. চরিত্রপূজা
  4. আমার ছেলেবেলা
ব্যাখ্যা
• ‘আমার ছেলেবেলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী।
- এই গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটকালের বিভিন্ন স্মৃতির উল্লেখ আছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য আত্মজীবনী হলো: 
• জীবনস্মৃতি, (এতে রবীন্দ্রনাথের ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।)

এছাড়া,
• ‘চরিত্রপূজা’ জীবনী সংকলন:
- ‘চরিত্রপূজা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি জীবনী সংকলন। 
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।
- ‘চরিত্রপূজা’ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের চোখে বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায় ও দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন চরিত বর্ণিত হয়েছে এবং চরিত্রপূজা নামে একটি পৃথক সন্দর্ভ সংকলিত হয়েছে। লেখাগুলি বঙ্গদর্শন, সাধনা, ভারতী এবং প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র:
- ছিন্নপত্র: ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
- ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা। পথে ও পথের প্রান্তে নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

 অন্যদিকে,
• ‘শিক্ষা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং ‘চরিত্রপূজা’ জীবনী সংকলন।
৬,০০৫.
শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) গুণাকর
  2. খ) কাব্যসুধাকর
  3. গ) কবিরঞ্জন
  4. ঘ) কবিকণ্ঠহার
ব্যাখ্যা
• শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত। 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো:
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০০৬.
'একাত্তরের ঢাকা' প্রবন্ধটির রচয়িতা-
  1. ক) আলী আহসান
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

• সেলিনা হোসেন একজন প্রখ্যাত নারী ঔপন্যাসিক।
• তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধঃ
- স্বদেশী পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্ত করো ভয়,
- ঘরগেরস্থির রাজনীতি,
- পথ চলাতেই আনন্দ,
- ঊনসত্তরের গণ-আন্দোলন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,০০৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়-
  1. ক) জাহান্নাম হতে বিদায়
  2. খ) একাত্তরের দিনগুলি
  3. গ) জোছনা ও জননীর গল্প
  4. ঘ) নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

- জাহানারা ইমাম রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলাে 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- 'জোছনা ও জননীর গল্প' হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' এবং 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 

৬,০০৮.
মুক্তযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. প্রবন্ধ
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০০৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প “রেইনকোট” এর রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  2. শওকত ওসমান
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

 “রেইনকোট” ছোটগল্প:
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও এটি মূলত প্রতীকী গল্প৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়। 
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই;  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' গল্পগ্রন্থ।

৬,০১০.
‘সীতার বনবাস‘ গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত কোন ধরনের নাটক?
  1. ক) পৌরাণিক নাটক
  2. খ) রোমান্টিক নাটক
  3. গ) ঐতিহাসিক নাটক
  4. ঘ) কৌতুক নাটক
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ, (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
• ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
• ১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
• গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন।
• ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক
- রাবণবধ 
- সীতার বনবাস 
- সীতার বিদ্রোহ 
- লক্ষ্ণণ বর্জন
- রামের বনবাস
- সীতাহরণ 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস
-পাণ্ডব গৌরব 

• রোমান্টিক নাটক
- মুকুলমুঞ্জরা
- আবু হোসেন

• ঐতিহাসিক নাটক
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- অশোক 

• কৌতুক নাটক
- হীরার ফুল 
- সপ্তমীতে বিসর্জন 
- বড়দিনের বখশিশ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০১১.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের পিতৃদত্ত নাম - গন্ধর্বনারায়ণ

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।

দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০১২.
'তিলোত্তমা' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র: তিলোত্তমা।

উপন্যাসের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বীরেন্দ্র সিংহ,
- ওসমান,
- জগৎসিংহ,
- তিলোত্তমা,
- আয়েশা,
- বিমলা প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০১৩.
'কাঁঠালপাড়া'য় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
• সুভাষ মুখোপাধ্যায় (১৯১৯-২০০৩)  কবি, রাজনীতিবিদ। জন্ম পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগর, ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। 
• কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০১৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা কোনটি?
  1. ক) সারদা মঙ্গল
  2. খ) সঙ্গীত
  3. গ) নিসর্গ
  4. ঘ) বঙ্গসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০১৫.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ?
  1. যুগবাণী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. রক্তাম্বরধারণী মা
  4. ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি:
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু; গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

অন্যদিকে,
- 'যুগবাণী' নিষিদ্ধ প্রবন্ধগ্রন্থ।
- 'রক্তাম্বরধারণী মা' ও 'আনন্দময়ীর আগমনে' নিষিদ্ধ কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০১৬.
'গোলাপ ফোঁটা সকাল' সেলিনা হোসেনের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উৎস থেকে নিরন্তর
  2. মানুষটি
  3. অনুঢ়া পূর্ণিমা
  4. নারীর রূপকথা
ব্যাখ্যা
উৎস থেকে নিরন্তর:
- এটি সেলিনা হোসেনের লেখা প্রথম গল্পগ্রন্থ, প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল, খেয়াঘাট ইত্যাদি সংকলিত হয়েছে গ্রন্থটি।
- বিচিত্র বিষয় নিয়ে প্রথম গল্পগ্রন্থেই সেলিনা হোসেন স্বাতন্ত্র্যের পরিচয় দেন।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি তাঁর গল্পের বিষয়।

সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০১৭.
’সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে কবিতার সংখ্যা কতটি?
  1. ২১টি
  2. ১৮টি
  3. ১৩টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা
•’সাত সাগরের মাঝি’
- ফররুখ আহমদের রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৪৪ সালে প্রকাশ পায়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা রয়েছে।
- গ্রন্থের সর্বশেষে ’সাত সাগরের মাঝি’ নামে একটি কবিতা আছে।
------------------------------------------------------------------
• ফররুখ আহমদ:
- একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী কবি।
- ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
-  ফররুখ আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানে জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬০), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), মরণোত্তর একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৯ অক্টোবর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি ,
- সিরাজাম মুনিরা ,
- নৌফেল ও হাতেম ,
- মুহূর্তের কবিতা ,
- হাতেমতায়ী ,
- হাবেদা মরুর কাহিনী, ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা।
- পাখির বাসা (১৯৬৫),
- হরফের ছড়া (১৯৭০),
- ছড়ার আসর (১৯৭০) ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০১৮.
'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা' গ্রন্থটির কে লিখেছেন?
  1. আলমগীর কবির
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
ব্যাখ্যা
'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা': 
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর স্মৃতিচারণমূলক বই- 'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা'।
- এটি ৩ খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- এই বইগুলোতে তিনি চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাটের দশকের বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার এক অনবদ্য ছবি এঁকেছেন।  
---------------- 
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী 

আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়

উল্লেখ্য,
'ধীরে বহে মেঘনা' চলচ্চিত্রের পরিচালক আলমগীর কবির। এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত একটি চলচ্চিত্র যা ১৯৭৩ সালে মুক্তি পায়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, 'ধীরে বহে বুড়িগঙ্গা' গ্রন্থ।
৬,০১৯.
অমিয় চক্রবর্তী কোন আন্দোলনের পটভূমিতে ‘বাংলাদেশ’ কবিতা রচনা করেন?
  1. কৃষক বিদ্রোহ
  2. স্বাধীনতা সংগ্রাম
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০২০.
"আরেক ফাল্গুন" জহির রায়হান রচিত একটি-
  1. নাটক
  2. গল্প
  3. উপন্যাস
  4. চলচ্চিত্র
  5. গ ও ঘ
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি রচনা করেন।'আরেক ফাল্গুন 'উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
-  এটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস। উপন্যাসের প্রতিটি চরিত্রের হৃৎপিণ্ড থেকে মস্তিষ্কের গতিবেগ অনুধাবন করতে হবে। মুনিম, আসাদ, সালমা চরিত্রগুলোর মধ্যে নিজেকে খুঁজতে হবে। 
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- রসুল,
- মুমিন,
- আসাদ,
- সালমা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০২১.
"সিন্দাবাদ" কবিতাটি কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. মুহূর্তের কবিতা
  2. সিরাজাম মুনীরা
  3. সাত সাগরের মাঝি
  4. নতুন লেখা
ব্যাখ্যা

‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০২২.
কোনটি পত্রকাব্য?
  1. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম। এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরণে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

অন্যদিকে,
- 'ব্রজাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত গীতিকাব্য।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০২৩.
বাংলা সাহিত্যে বিদ্রোহী কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া
 
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

অন্যদিকে,
বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয় মাইকেল মধুসূদন দত্তকে। কারণ তিনিই প্রথম সাহিত্যিক ও সামাজিক বিদ্রোহ করেন। তাঁর বিভিন্ন রচনায় সেই বিদ্রোহের আঁচ পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০২৪.
প্রখ্যাত লেখক হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা লিখেছেন?
  1. ক) পৌরাণিকী
  2. খ) ধর্ম্মপুত্র
  3. গ) দীপ ও ধূপ
  4. ঘ) আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা
কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
তিনি ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা চন্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক  উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।

প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য (১৮৯১),
- পৌরাণিকী (১৮৯৭),
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭),
- মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩),
- অশোকসঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪),
- অম্বা (নাটক, ১৯১৫),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮),
- ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪),
- দীপ ও ধূপ (১৯২৯),
- জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।

তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক ১৯২৯ সালে  লাভ করেন।
তিনি ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর  মৃত্যুবরণ করেন। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
 
৬,০২৫.
'পলাশী থেকে পাকিস্তান' সাহিত্যকর্মের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত প্রধান সাহিত্যকর্ম- কচিপাতা, অনাবাদি জমি, দৃষ্টিকোণ, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,০২৬.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. কামিনী রায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০২৭.
কোন লেখকের নাটক অবলম্বনে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'শকুন্তলা' রচনা করেন?
  1. আলাওল
  2. গোপীচাঁদ
  3. কালিদাস
  4. গৌরীশঙ্কর মিত্র
ব্যাখ্যা
'শকুন্তলা':
- প্রাচীন সংস্কৃত মহাকবি কালিদাস রচিত 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম্' নাটক অবলম্বনে ১৮৫৪ খ্রিষ্টাব্দে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একটি আখ্যান বা উপন্যাসোপম কাহিনি লিখে নাম দেন 'শকুন্তলা'।'
- শকুন্তলা'য় কাহিনি নির্মাণ ও ভাষাব্যবহারে বিদ্যাসাগর যথেষ্ট স্বাধীনতা নিয়েছেন।
- এখানে লেখকের সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গি, আধুনিক মনোভাব, শিল্প ও পরিমিতিবোধ প্রকাশিত।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়। তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭)। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০২৮.
কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা কার অমর কীর্তি?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আল মাহমুদ
  4. কাদম্বরী দেবী
ব্যাখ্যা

• কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা স্বর্ণকুমারী দেবীর অমর কীর্তি। 

-----------------
• ‘বালক’ পত্রিকা:
‘বালক’ ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত একটি পারিবারিক সচিত্র মাসিক শিশু-পত্রিকা। ১২৯২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী–র সম্পাদনায়। তিনি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোবৌঠাকুরানী। যদিও সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১২৯৩ বঙ্গাব্দে কার্য্যধ্যক্ষের পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবসর নেন। ফলে জ্ঞানদানন্দিনীর পক্ষে একা পত্রিকা দেখাশোনা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বালক' তাই দীর্ঘায়ু হয়নি, মাত্র এক বছর চলেছিল।

পরে এটি যুক্ত হয় ঠাকুরবাড়িরই বিখ্যাত পত্রিকা 'ভারতী'র সঙ্গে, যুগ্ম-পত্রিকার নাম হয় 'ভারতী ও বালক'। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (ইংরাজী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকুমারী দেবী 'বালক' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 'ভারতী'র সাথে যুগ্মভাবে 'বালক'-এর আয়ুষ্কাল ছিল সাত বছর এবং এই সাতবছরে শিশুসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলায় জাগরণ এনেছিলো 'বালক' পত্রিকা। 

‘বালক’ পত্রিকায় ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন বহু খ্যাতনামা লেখকের রচনা প্রকাশিত হতো, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: ‘বালক’ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৬,০২৯.
কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে সম্পর্কিত 'ধূমকেতু' কোন ধরনের প্রকাশনা ?
  1. কাব্য
  2. উপন্যাস
  3. পত্রিকা
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে সম্পর্কিত 'ধূমকেতু' 'কবিতা/কাব্য' এবং 'পত্রিকা ' ⎯ উভয় ধরনের প্রকাশনা। 
➝ 'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত।

'অগ্নিবীণা' কাব্য: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ কে উৎসর্গ করেন।
- এ কাব্যে মােট ১২টি কবিতা আছে।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা ‘প্রলয়ােল্লাস' এবং এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
 
অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস
- বিদ্রোহী
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা
- আনোয়ার
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব
- খেয়াপারের তরণী
- কোরবানী
- মহররম
----------------------- 
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
----------------------- 
'ধূমকেতু'- কবিতা,
- কাজী নজরুল ইসলাম।

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত— সাতশো নরক-জ্বালা জলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ন ঘন ঘোলাটে।
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ,
আমি স্রষ্টার বুকে সৃষ্টি-পাপের অনুতাপ-তাপ-হাহাকার—
আর মর্তে সাহারা-গোবি-ছাপ,
আমি অশিব তিক্ত অভিশাপ!

আমি সর্বনাশের ঝাণ্ডা উড়ায়ে বোঁও বোঁও ঘুরি শূন্যে,
আমি বিষ-ধূম-বাণ হানি একা ঘিরে ভগবান-অভিমুন্যে। (সংক্ষেপিত) 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,বাংলাপিডিয়া ও অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ।
৬,০৩০.
"বিষাদ সিন্ধু" উপন্যাসের চরিত্র নয় কোনটি?
  1. ইয়াজিদ
  2. ইমাম হোসেন
  3. মাওয়ান
  4. ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা

ইব্রাহিম কার্দি বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র নয়।
- মুনীর চৌধুরী রচিত রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের চরিত্র ইব্রাহিম কার্দি ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত বিষাদ সিন্ধু উপন্যাসের চরিত্র: ইয়াজিদ, ইমাম হোসেন, মাওয়ান, ইমাম হাসান, জোবেদা ইত্যাদি।
- এটি একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস ।

মীর মশাররফ হোসেন এর অন্যান্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- মোসলেম বীরত্ব
- গড়াই ব্রিজ বা গৌরী সেতু 

উপন্যাস:
- রত্নাবতী
- বিষাদ সিন্ধু
- গাজী মিয়ার বস্তানী

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬,০৩১.
‘ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম’ ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. সমরেশ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি, 
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- আরগ্য, 
- নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

অন্যদিকে,
• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন।
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'।
• সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৩২.
শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাসে কোন তিনটি উপন্যাস রয়েছে? 
  1. দক্ষিণায়নের দিন, প্রদোষে প্রাকৃতজন, যাত্রা
  2. দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, যাত্রা, প্রদোষে প্রাকৃতজন
  4. কুলায় কালস্রোত, যাত্রা, দক্ষিণায়নের দিন
ব্যাখ্যা

• শওকত আলীর ত্রয়ী উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
শওকত আলীর ট্রিলজি/ত্রয়ী উপন্যাস-  'দক্ষিণায়নের দিন', 'কুলায় কালস্রোত' এবং 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন'।
এ উপন্যাসগুলোতে দেখা যায়- শওকত আলীর ইতিহাসআশ্রয়ী রূপ। যেখানে শওকত আলী বর্ণনা করেছে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সময়ের প্রেক্ষপট, মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদী চরিত্রের প্রকাশ। শওকত আলী ছিলেন কালের সারথি। তার গল্প এবং উপন্যাসের ভাষায় বরাবরই তা দেখা যায়। সময়কে যিনি নিখুঁত বর্ণনায় এনে নানা ছাঁচে চরিত্রের দৃশ্যায়ন এঁকেছেন। যার কোনটিই কিন্তু কল্পিত ছিল না।

এই ত্রয়ী উপন্যাস সর্ম্পকে শওকত আলী এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'ষাটের দশকের মানুষের মধ্যে চিন্তাভাবনার যে পরিবর্তন আসছে, সেটাই 'দক্ষিণায়নের দিন' যার মানে হচ্ছে শীতকাল আসছে।
'কুলায় কালস্রোত' হচ্ছে - পরিবর্তন যেখানে আঘাত করছে। আর 'পূর্বরাত্রি পূর্বদিন' হচ্ছে- নতুন সময়টি আসার একেবারে আগের সময়টি। মূলত ষাটের দশকে আমাদের মধ্যবিত্ত এবং সমগ্র সমাজব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আসে। নতুন একটা চিন্তা-চেতনা দ্বারা আলোড়িত হয় পুরো সমাজ। ধ্যান-ধারণা চাল-চলন জীবনব্যবস্থায় একটা পরিবর্তনের সুর বেজে ওঠে। সেসবই উপন্যাসে আনতে চেয়েছি।'

উৎস: 'দ্য ডেইলি স্টার বাংলা' পত্রিকা রিপোর্ট; শওকত আলী রচনাসমগ্র।

৬,০৩৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?
  1. ক) ব্রজাঙ্গনা
  2. খ) বীরঙ্গনা
  3. গ) মেঘনাদবধ
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য বীরঙ্গনা। কাব্যটিতে মোট ১১টি পত্র আছে। ব্রজাঙ্গনা রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতি কাব্যের নাম। বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মেঘনাদবধ কাব্য। বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক কমেডি পদ্মাবতী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৩৪.
‘কোন এক মাকে’- কবিতাটির লেখক কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) আবদুল কাদির
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) - তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
‘কোন এক মাকে’ তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার (১৯৫৫), কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১), সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩), খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।
উৎসঃলাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬,০৩৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
  1. সনেটের কবি
  2. ছন্দকবি
  3. মধুকবি
  4. ট্র্যাজেডি কবি
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৩৬.
‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রাবেয়া খাতুন 
  2. আনোয়ার পাশা 
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. সেলিনা হোসেনে
ব্যাখ্যা

• ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ:  
- 'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেনের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এটি ১৯৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ভাষা আন্দোলন, নারী-পুরুষের সমতা প্রত্যাশা, গ্রামীণ পারিবারিক পরিমণ্ডলের ভাঙ্গন ইত্যাদি বিষয়বস্তুর পেক্ষাপটে গল্পগুলো রচিত। 
- গৈরিক বাসনা, বৈশাখী গান, রতি বিলাস, মাস্টার, কান্নার তৃতীয় দিন, গোলাপ ফোঁটা সকাল -ইত্যাদি গল্প সংকলিত হয়েছে এই গল্পগ্রন্থে।

----------------------
সেলিনা হোসেন রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং ‘উৎস থেকে নিরন্তর' গল্পগ্রন্থ।

৬,০৩৭.
হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির কাব্যের অনুবাদ কোনটি?
  1. চন্দ্রবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. লায়লী-মজনু
  4. ইউসুফ-জোলেখা
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মাবতী' কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' কাব্যের অনুবাদ।
- আলাওল ১৬৫১ সালে আরাকান রাজ সাদ থদোমিন্তারের রাজত্বকালে মন্ত্রী মাগন ঠাকুরের আদেশে 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন।

- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৩৮.
'বাঙালিকে কে বাঁচাবে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'বাঙালিকে কে বাঁচাবে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- গণতন্ত্রের সন্ধানে
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, 
- নেতা জনতা ও রাজনীতি, ইত্যাদি।

বাবুলের বেড়ে ওঠা  তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৩৯.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. সারদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

• লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৬,০৪০.
মালাধর বসু 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কার পৃষ্ঠপোষকতায় রচনা করেছেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. জালালুদ্দিন মুহম্মদ শাহ 
  3. রুকনউদ্দিন বারবক শাহ
  4. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
ব্যাখ্যা

• মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' গ্রন্থ:
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবুদ্ধি গুণে। প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন।

- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর অনুবাদ কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়'। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধর বসু 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' রুকনউদ্দিন বারবক শাহের পৃষ্ঠপোষকতায় রচনা করেছেন।

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন। শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

- চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন। কবির পুত্র সত্যরাজ খান এবং পৌত্র রামানন্দ শ্রীচৈতন্যের কৃপা লাভ করেছিলেন। শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৬,০৪১.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্প কোনটি?
  1. আনন্দের মৃত্যু
  2. আমি জন্মগ্রহণ করিনি
  3. একদা এক রাজ্যে
  4. এখানে এখন
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত গল্প - আনন্দের মৃত্যু

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- মানুষের জটিল জীবনপ্রবাহ এবং মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ তাঁর সাহিত্যকর্মের মূল প্রবণতা।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক ইত্যাদি লাভ করেন।
- তিনি ২০১৬ সালের ২৭শে অক্টোবর ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন

তাঁর রচিত গল্প:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

তাঁর রচিত কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে,
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা,
- পরানের গহীন ভিতর,
- বেজান শহরের জন্য কোরাস,
- কাননে কাননে তোমারই সন্ধানে,
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৪২.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির সুরকার কে?
  1. ক) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. খ) আলতাফ মাহমুদ
  3. গ) আলাউদ্দিন আলী
  4. ঘ) সুবল দাস
ব্যাখ্যা
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি...... গানটির রচয়িতা সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
- গানটির প্রথম সুরকার ছিলেন আবদুল লতিফ
- বর্তমান সুরকার আলতাফ মাহমুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৪৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ কোনটি? 
  1. প্রবোধচন্দ্রিকা 
  2. ইতিহাসমালা 
  3. লিপিমালা 
  4. কথামালা
ব্যাখ্যা

'কথামালা' ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত গ্রন্থ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
• অনুবাদ গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- প্রবোধচন্দ্রিকা' গ্রন্থের লেখক হচ্ছে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু। 
-  'ইতিহাসমালা' (১৮১২) উইলিয়াম কেরি সঙ্কলিত বিভিন্ন বিষয়ের ১৫০টি গল্পের সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,০৪৪.
‘সীমানা ছড়িয়ে’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. আনিস চৌধুরী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- সীমানা ছাড়িয়ে (১৯৬৪) উপন্যাসের রচিয়তা তিনি। 

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
- নুরুলদীনের সারাজীবন।
- এখানে এখন।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- তাস।
- শীত বিকেল।
- আনন্দের মৃত্যু।
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান।
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• সৈয়দ শামসুল হকের কবিতা:
- একদা এক রাজ্যে।
- বৈশাখে রচিত পঙ্‌ক্তিমালা।
- পরানের গহীন ভিতর।
- বেজান শহরের জন্য কোরাস।
- কাননে কানে তোমারই সন্ধানে।
- আমি জন্মগ্রহণ করিনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬,০৪৫.
কোনটি সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত উপন্যাস?
  1. আদিগন্ত
  2. অষ্টপ্রহর
  3. খরস্রোত
  4. নয়ান ঢুলি
ব্যাখ্যা
'আদিগন্ত' উপন্যাস:
- 'আদিগন্ত' সরদার জয়েন উদ্দিন রচিত একটি উপন্যাস
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খিষ্টাব্দে।
- সরলা ও মেহের বয়াতির প্রেমের কাহিনি বর্ণানার ভেতর দিয়ে পল্লিসমাজের জটগুলো অনাবৃতভাবে এতে প্রকাশিত হয়েছে।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন:
- সরদার জয়েনউদ্দীন ১৯১৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমান বাংলাদেশ) পাবনার সুজানগর উপজেলার কামারহাটিতে এক কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ,
- আদিগন্ত।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- নয়ান ঢুলি,
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জীর প্রেম, 
- অষ্টপ্রহর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৪৬.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাস রচনার জন্য জহির রায়হান কী সম্মাননা লাভ করেছিলেন?
  1. নিগার পুরস্কার
  2. বাংলা একাডেমি পুরস্কার
  3. আদমজি সাহিত্য পুরস্কার
  4. আলাওল সাহিত্য পুরস্কার
ব্যাখ্যা
জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - হাজার বছর ধরে (১৯৬৪)।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।

তার প্রথম উপন্যাস - শেষ বিকালের মেয়ে (১৯৬০)।
তার রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- কয়েকটি মৃত্যু,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- একুশে ফেব্রুয়ারি ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনিই প্রথম উপন্যাস রচনা করেন - আরেক ফাল্গুন (১৯৬৮)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৪৭.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত "লালসালু" কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  2. রাজনৈতিক উপন্যাস
  3. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• "লালসালু" উপন্যাস:
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে।
- প্রথম উপন্যাস হলেও আমরা একজন প্রতিভাবান লেখকের দুঃসাহসী প্রচেষ্টার সার্থক ফসল বলে বিবেচনা করতে পারি।
- লালসালু' একটি সামাজিক সমস্যামূলক উপন্যাস।
- নিরক্ষর দরিদ্র ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সরলতা ও ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে এক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী তার জটিল, কুটিল ছলনাজাল বিস্তার করে কীভাবে নিজের শাসন ও শোষণের ভিত প্রতিষ্ঠিত করেছে, তারই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে 'লালসালু' উপন্যাসে।
-  উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মজিদ, খালেক ব্যাপারি, জমিলা, রহিমা, আমেনা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা।

• সামাজিক উপন্যাস:
- যে উপন্যাসে সামাজিক বিষয়াদি প্রাধান্য লাভ করে, তাকে সামাজিক উপন্যাস বলা হয়।
- সামাজিক রীতিনীতির সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের দ্বন্দ্বের কাহিনিই প্রধান হয়ে থাকে এ জাতীয় উপন্যাসে।
যেমন- রবীন্দ্রনাথের 'চোখের বালি' কিংবা শরৎচন্দ্রের 'গৃহদাহ'। নজিবর রহমানের 'আনোয়ারা' ইত্যাদি।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদ উল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফরাসি নাগরিক এ্যান মেরির সঙ্গে ওয়ালীউল্লাহ পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহর প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনূদিত হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর।
- তরঙ্গভঙ্গ।
- সুড়ঙ্গ।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লালসালু উপন্যাস।
৬,০৪৮.
'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা - 
  1. বিষ্ণু দে
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. আবুল হাসান
  4.  নুরুল মোমেন
ব্যাখ্যা

উর্বশী ও আর্টেমিস:
- 'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা বিষ্ণু দে।
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে।
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা 'পলায়ন', যেখানে ফুটে উঠেছে বিষ্ণু দে-র স্বাতন্ত্র্য।
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন।
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর একজন ছিলেন।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্প,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত ইত্যাদি।

অনুবাদ সাহিত্য
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৪৯.
'ময়নামতির চর' কাব্যগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. আহসান হাবিব
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. শামসুর রাহমান
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'ময়নামতির চর' এর রচয়িতা বন্দে আলী মিয়া।

• বন্দে আলী মিয়া:
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালে পাবনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেছেন। 
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকাগুলোর নাম: কিশোর পরাগ, শিশুবার্ষিকী, জ্ঞানের আলো। 
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর,  
- অনুরাগ, 
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর, 
- ধরিত্রী। 
 
তাঁর রচিত শিশুতােষ গ্রন্থ:
- চোর জামাই,
- মৃগপরী, 
- ডাইনী বউ, 
- রূপকথা, 
- কুঁচবরণ কন্যা।
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,  
- শেষ লগ্ন, 
- অরণ্য গোধূলি, 
- নীড়ভ্রষ্ট। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- মসনদ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৫০.
নিচের কোনটি উপন্যাস? 
  1. গড্ডলিকা
  2. নতুন চাঁদ
  3. কন্যাকুমারী
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'কন্যাকুমারী' রাশিদা আখতার রচিত একটি উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ- 'নতুন চাঁদ'।
- 'গড্ডলিকা' রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ।
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কন্যাকুমারী' উপন্যাস রাশিদা আখতার।
৬,০৫১.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয়?
  1. জীবন আমার বোন
  2. নীল দংশন
  3. যাত্রা
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
ব্যাখ্যা

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য। 

পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: 
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি কাব্যনাট্য
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি মহাকাব্যিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সৈয়দ শামসুল হকের অন্যান্য কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন,
- গণনায়ক,
- বাংলার মাটি বাংলার জল, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- জীবন আমার বোন হচ্ছে মাহমুদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- নীল দংশন সৈয়দ শামসুল হক রচিত একটি উপন্যাস।
- যাত্রা শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬,০৫২.
কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শেষ কাব্যগ্রন্থ?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের আসন
  3. বন্ধুবিয়োগ
  4. সঙ্গীতশতক
ব্যাখ্যা
 ⇒ “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

⇒ বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক, 
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৫৩.
'বসন্তকুমারী' নাটকের রচয়িতা কে? 
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. কায়কোবাদ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্তকুমারী’ নাটক:
- মীর মশাররফ হোসেনের নাটকগুলোর মধ্যে ‘বসন্তকুমারী’ নাটক (১৮৭৩) উল্লেখযোগ্য।
- এই নাটকটিকে মুসলমান নাট্যকার রচিত প্রথম নাটক হিসেবে নির্দেশ করা যায়।
- ইন্দ্রপুরের বিপত্নীক রাজার বৃদ্ধ বয়সে যুবতী স্ত্রী গ্রহণ, রাজার যুবক পুত্রের প্রতি বিমাতার আকর্ষণ এবং প্রেম নিবেদন, পুত্রের প্রত্যাখ্যান ও বিমাতার ষড়যন্ত্র’ পরিশেষে রাজপরিবারের সকলের মৃত্যু- এই কাহিনি অবলম্বনে ‘বসন্তকুমারী নাটক রচিত।

• মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু,

• গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
৬,০৫৪.
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
  1. সাহিত্যিক
  2. ইসলাম প্রচারক
  3. ভাষাতত্ত্ববিদ
  4. সমাজ সংস্কারক
ব্যাখ্যা
• ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন একাধারে ভাষাবিজ্ঞানী ও ভাষাতাত্ত্বিক, গবেষক, অনুবাদক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ। তবে তিনি ভাষাতত্ত্ববিদ হিসেবে বহুল পরিচিত।

⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।  তিনি ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
• তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
• ১৯৫৫-৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস নিযু্ক্ত হন।
• ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্ বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন। আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ও বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক  হিসেবে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দেন।
• তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর আত্মপ্রকাশ করে। এছাড়াও তিনি ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস, বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি এবং পাক্ষিক তকবীর সম্পাদনা করেন।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হলো:
- সিন্দবাদ সওদাগরের গল্প,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- দীওয়ান-ই-হাফিজ,
- শিকওয়াহ ও জওয়াব-ই-শিকওয়াহ,
- রুবাইয়াত-ই-উমর খয়্যাম,
- Essays on Islam,
- আমাদের সমস্যা,
- পদ্মাবতী,
- বাংলা সাহিত্যের কথা (২ খণ্ড),
- বিদ্যাপতি শতক,
- বাংলা আদব কী তারিখ,
- বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত,
- কুরআন শরীফ,
- অমরকাব্য,
- সেকালের রূপকথা ইত্যাদি।

⇒ তাঁর সম্পাদিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান এক বিশেষ কীর্তি। মুহম্মদ আবদুল হাই -এর সঙ্গে তাঁর যুগ্ম-সম্পাদনায় রচিত Traditional Culture in East Pakistan (১৯৬১) একখানা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৫৫.
বিখ্যাত ‘ফটিক’ চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিখ্যাত ‘ফটিক’ চরিত্রের স্রষ্টা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• “ছুটি” গল্প:

- “ছুটি” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি ছোটগল্প।
- এটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে রচিত। এবং ১৮৯২ সালে 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথের ‘গল্পগুচ্ছ’ গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত।
- ছোট গল্পটির নায়ক বালক ‘ফটিক’, তাকে ঘিরেই গল্প বিকাশিত হয়েছে।

• গল্পের সারসংক্ষেপ:
বালকদিগের সর্দার ফটিক প্রকৃতি লালিত এক বালক, স্বভূমিচ্যুত হয়ে নাগরিক পরিবেশে নিজেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে। সেখানকার প্রতিকূল পরিস্থিতি ও প্রীতিহীন পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। সে সেখানে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে না। অবশেষে এক বর্ষাস্নাত দিনে জ্বরাক্রান্ত শরীরে বাড়ি যাবে বলে বেরিয়ে পড়ে। প্রচণ্ড জ্বর বিকার গ্রস্ত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আনে। সে মামার কাছে বাড়ি যাবার বায়না ধরলে তিনি জানান পূজার ছুটিতে বাড়ি যাবেন। বিকারের ঘোরে সে কথা বলতে থাকে। মা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরলে, ফটিক আস্তে আস্তে পাশ ফিরিয়া কাহাকেও লক্ষ্য না করিয়া মৃদুস্বরে কহিল, “মা, এখন আমার ছুটি হয়েছে মা, এখন আমি বাড়ি যাচ্ছি।”
এ ছুটি চিরকালের ছুটি।

উৎস: ছুটি (ছোটগল্প) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৬,০৫৬.
'সরীসৃপ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. নাটক
  3. উপন্যাস
  4. ভ্রমণ কাহিনী
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
→ জননী,
→ দিবারাত্রির কাব্য,
→ পদ্মানদীর মাঝি,
→ পুতুলনাচের ইতিকথা,
→ শহরতলী,
→ চিহ্ন,
→ চতুষ্কোণ,
→ সার্বজনীন,
→ আরোগ্য প্রভৃতি;

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ছোটগল্প:
→ অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
→ প্রাগৈতিহাসিক,
সরীসৃপ,
→ সমুদ্রের স্বাদ,
→ হলুদ পোড়া,
→ আজ কাল পরশুর গল্প,
→ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
→ ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা।
• এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।
• ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৫৭.
আদিবাসীদের জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মগ্ন চৈতন্যে শিস
  2. খ) কুহ ও কেকা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী'  (১৯৬২)  পাহাড়-সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। 
- আদিবাসী রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র(চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত। 
- শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক আলাউদ্দিন আল আজাদের জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর  উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
গল্প:
- জেগে আছি (১৯৫০),
- ধানকন্যা (১৯৫১),
- জীবন জমিন (১৯৮৮)
উপন্যাস
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) 
- কর্ণফুলী (১৯৬২)
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন (১৯৬২),
- ক্ষুধা ও আশা (১৯৬৪),
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ (১৯৮৬) উল্লেখযোগ্য।
 নাটক
- মরক্কোর যাদুকর (১৯৫৯),
- মায়াবী প্রহর (১৯৬৩) ও
- ধন্যবাদ (১৯৬৫) 
- ধন্যবাদ (১৯৫১),
- নিঃশব্দ যাত্রা (১৯৭২),
- নরকে লাল গোলাপ (১৯৭২) প্রধান।
দুটি কাব্যনাট্য,
- ইহুদির মেয়ে (১৯৬২) ও
- রঙিন মুদ্রারাক্ষস (১৯৯৪)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৫৮.
বাংলা ভাষায় প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য কোনটি?
  1. মহাশ্মশান
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাভারত
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ' কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে বর্ণিত আছে- মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• মহাশ্মশান কায়কোবাদ রচিত বাংলা মহাকাব্য (১৯০৪)। এর উপজীব্য ১৭৬১ সালে সংঘটিত পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ।
• অশ্রুমালা কায়কোবাদ রচিত গীতিকাব্য।
• মহাভারত মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 

---------------------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৫৯.
নিচের কোনটি অন্ধকার যুগের কাব্যাংশ?
  1. ক) ইউসুফ জোলেখা
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) জঙ্গনামা
  4. ঘ) নিরঞ্জনের উষ্মা
ব্যাখ্যা
• 'নিরঞ্জনের উষ্মা' রামাই পন্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মী তত্ত্বের গ্রন্থ ‘শূন্যপুরাণ’ এর কাব্যাংশ।
-'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূন্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- এতে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের কথা আছে।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৬০.
তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন? — উক্তিটি কোন উপন্যাসের সংলাপ?
  1. কপালকুণ্ডলা 
  2. রাজসিংহ
  3. বিষবৃক্ষ
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা

• ‘তুমি অধম হলে আমি উত্তম না হইব কেন’ — উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কপালকুণ্ডলা থেকে নেয়া।
--------------------------------------------
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনার কানালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ব্রিটিশ সরকারের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।
- এবং ১৮৯৪ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল - কমলাকান্ত।
- তাঁর উপাধি:
• বাংলার স্কট,
• সাহিত্যসম্রাট, এবং
• আধুনিক বাংলা উপন্যাসের জনক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় কবিতা রচনার মাধ্যমে সাহিত্যের চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।

- বঙ্কিমের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস হলো কপালকুণ্ডলা, যার বিখ্যাত উক্তি —
• “তুমি অধম হইলে আমি উত্তম না হইব কেন?”
• “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ।”

∗ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস বঙ্কিমের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫)।
∗ সাম্য তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ।
∗ মানস ও ললিতা তাঁর কাব্যগ্রন্থ।
∗ তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস: Rajmohan’s Wife (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
∗ তাঁর অন্য উপন্যাসগুলি হলো:
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- দেবী চৌধুরাণী,
- আনন্দমঠ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাধারাণী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- রাজসিংহ,
- সীতারাম,
- ইন্দিরা এবং
- বিষবৃক্ষ (প্রথম সামাজিক উপন্যাস)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৬,০৬১.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) রামরাম বসু
  3. গ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ঘ) গোলকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিখ্যাত পণ্ডিত ছিল।
• তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
• তাঁর রচিত গ্রন্থ ছিল ৫ টি।
• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলোঃ
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলি,
- প্রবোধ চন্দ্রিকা ও
- বেদান্ত চন্দ্রিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬,০৬২.
মুনীর চৌধুরীর ‘মুখরা রমনী বশীকরণ’ একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) অনুবাদক নাটক
ব্যাখ্যা

মুনীর চৌধুরী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের The Taming of The Shrew (টেমিং অব দি শ্রু ) অনুবাদ করেন 'মুখরা রমণী বশীকরণ' নামে (১৯৭০)। এটি পাঁচ অঙ্ক বিশিষ্ট কমেডি। ।
পদুয়া নামক স্থানের এক ধনী ব্যাপ্তিস্তার দুই কন্যা ক্যাথেরিনা ও বিয়াঙ্কা। ক্যাথেরিনা খুবই মুখরা নারী, বিয়াঙ্কা সুন্দরী। ভেরােনা নামক স্থানের যুবক পেট্রুশিও ক্যাথেরিনার দর্প চূর্ণ করে তার পাণিগ্রহণ করে। মুনীর চৌধুরী নিজেই বলেছেন :কাহিনিটি স্কুল। কিন্তু এতে যে হাস্যরস আছে তা সতেজ, সরস ও উপভােগ্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬,০৬৩.
'ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, বিমুখ প্রান্তর, আর্ত শব্দাবলী, অন্তিম শরের মতো, যখন উদ্যত সঙ্গীন, শোকার্ত তরবারি হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৬,০৬৪.
বিখ্যাত 'নেমেসিস' নাটক কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. শনিবারের চিঠি
  3. ধূমকেতু
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস':
- নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- নাটকটি ১৯৪৪ সালে "শনিবারের চিঠি" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনী বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
- ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে

• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে 'বহুরূপা' নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
-হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬৫.
'দিলরুবা' ও 'উত্তর বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. কাজী আব্দুল ওদুদ
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের মাত্র দুটি কাব্যগ্রন্থ দিলরুবা ও উত্তর বসন্ত বাংলা ভাষায় তাঁকে স্থায়ী আসন এনে দেয়। তাঁর কবিতা পাঠ করে রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত তাঁর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

------------------
• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা,
- কবি নজরুল,
- ছন্দসমীক্ষণ,
- বাংলা ছন্দের ইতিবৃত্ত,
- কাজী আব্দুল ওদুদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,০৬৬.
আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস -
  1. খেলাঘর
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. অলাতচক্র
  4. কালো ঘোড়া
ব্যাখ্যা
• 'অলাতচক্র' উপন্যাস:
- 'অলাতচক্র' আহমদ ছফা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।
- এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: তায়েবা, জাহিদুল, দানিয়েল প্রমুখ।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৬৭.
‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে প্রথম কার সম্পাদনায় শূন্যপুরাণ প্রকাশিত হয়?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র রায়
  2. নগেন্দ্রনাথ বসু
  3. সুকুমার সেন
  4. রামাই পণ্ডিত
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৬৮.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ কে রচনা করেছেন?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'র জন্য।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ-
- অন্য জীবন,
- বীরশ্রেষ্ঠ,
- জীবন মৃত্যু,
- চিরায়ত সাহিত্য,
- বুকের ভিতরে আগুন,
- নাটকের অবসান,
- দুই মেরু,
- নিঃসঙ্গ পাইন,

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,০৬৯.
'রামায়ণ' - কোন ভাষায় রচিত?
  1. সংস্কৃত ভাষায়
  2. সান্ধ্য ভাষা
  3. ব্রজবুলি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন 'বাল্মীকি'।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন- কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।
- রামায়ণের প্রথম মহিলা অনুবাদক ছিলেন 'চন্দ্রাবতী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৭০.
"মুখরা রমণী বশীকরণ" কী ধরনের রচনা?
  1. কবিতা 
  2. প্রবন্ধ
  3. ছোটগল্প
  4. অনুবাদ নাটক
ব্যাখ্যা

"মুখরা রমণী বশীকরণ" মুনীর চৌধুরী রচিত একটি অনুবাদ নাটক। 

মুনীর চৌধুরী
- মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক এবং বাগ্মী।
- শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ঢাকার প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ, কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের মাত্র দুই দিন আগে, ১৪ ডিসেম্বর, তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

নাটকসমূহ:
- রক্তাক্ত প্রান্তর, চিঠি, কবর, দণ্ডকারণ্য, পলাশী ব্যারাক, ইত্যাদি।

অনুবাদ নাটকসমূহ:
- কেউ কিছু বলতে পারে না, রূপার কৌটা, মুখরা রমণী বশীকরণ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস, তুলনামূলক সমালোচনা, বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬,০৭১.
নিচের কোনটি হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থ নয়?
  1. আগুনের পরশমনি
  2. অনিল বাগচীর একদিন
  3. শঙ্খনীল কারাগার
  4. শ্যামল ছায়া
ব্যাখ্যা
'শঙ্খনীল কারাগার' হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ নয়।
- শঙ্খনীল কারাগার' হুমায়ূন আহমেদের সমকালীন উপন্যাস।

• হুমায়ূন আহমেদ: 
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। 
- শৈশবে হুমায়ূন আহমেদের নাম ছিল শামসুর রহমান। 
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন। 
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া
- আগুনের পরশমণি
- অনিল বাগচীর একদিন
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। 

• উপন্যাস:
- নন্দিত নরকে,  
- শঙ্খনীল কারাগার , 
- আনন্দ বেদনার কাব্য,  
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ , 
- আমার আছে জল, 
- আজ রবিবার , 
- এই সব দিনরাত্রি , 
- বহুব্রীহি , 
- অয়োময় , 
- শ্রাবণ মেঘের দিন ,  
- দুই দুয়ারী,  
- কোথাও কেউ নেই,  
- মহাপুরুষ,  
- বৃষ্টিবিলাস, 
- মৃন্ময়, 
- এপিটাফ,  
- লীলাবতী, 
- তিন পুরুষ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৭২.
'সত্যপীর' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কোন সাহিত্যিক কলাম লিখতেন?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
- 'সত্যপীর' ছদ্মনামে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন- সৈয়দ মুজতবা আলী। 

সৈয়দ মুজতবা আলী:
-  ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
-  ১৯২৯ সালে ‘হুমবল্ট’ বৃত্তি নিয়ে তিনি জার্মানি গিয়ে বার্লিন ও বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। সেখানে তিনি দর্শন বিভাগে তুলনামূলক ধর্মশাস্ত্রে গবেষণা করে ১৯৩২ সালে ডি ফিল ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৪-৩৫ সালে মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতীর ইসলামের ইতিহাস বিভাগে রীডার (১৯৬১) হিসেবে যোগদান করে সেখান থেকেই ১৯৬৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। 
- তিনি সত্যপীর, রায়পিথোরা, ওমর খৈয়াম, টেকচাঁদ, প্রিয়দর্শী ইত্যাদি ছদ্মনামে আনন্দবাজার, দেশ, সত্যযুগ,  শনিবারের চিঠি, বসুমতী, হিন্দুস্থান স্ট্যান্ডার্ড প্রভৃতি পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখতেন। এছাড়া  মোহাম্মদী, চতুরঙ্গ, মাতৃভূমি,  কালান্তর, আল-ইসলাহ্  প্রভৃতি সাময়িক পত্রেরও তিনি নিয়মিত লেখক ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য
- শবনম
- শহর-ইয়ার
- তুলনাহীন ইত্যাদি। 
ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী
- টুনি মেম
রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র
- ময়ূরকণ্ঠী
- বড়বাবু 
- কত না অশ্রুজল। 
ভ্রমণকাহিনী
- দেশে-বিদেশে 
- জলে-ডাঙায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,০৭৩.
কাজলা দিদি কবিতাটি কে রচনা করেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহিব খান
  4. যতীন্দ্র মোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
'কাজলা দিদি' কবিতা
- যতীন্দ্র মোহন বাগচী

বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই,
মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই?
পুকুর ধারে লেবুর তলে,
থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে,
ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই,
মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই?

যতীন্দ্রমোহন বাগচী:

- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম।
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নাগকেশর,
- জাগরণী,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘কাজলা দিদি’ কবিতা।
৬,০৭৪.
’যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি’- পঙ্​ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকুমার বড়ুয়া
ব্যাখ্যা

’যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি’- পঙ্​ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন।
- চরণদ্বয় প্রতিদান কবিতার অন্তর্গত।
- 'প্রতিদান' কবিতাটি তাঁর 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত। 

জসীম উদ্‌দীন
- জসীম উদ্‌দীন ফরিদপুরের তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে ১৯০৩ খ্রিষ্টাব্দের পহেলা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুরের গোবিন্দপুর গ্রামে। 
- তিনি ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আইএ ও বিএ পাস করেন।
- পর কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন।
- কলেজে অধ্যয়নকালে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন এবং ছাত্রাবস্থায়ই কবিতাটি স্কুলের পাঠ্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নকশী কাঁথার মাঠ।
- সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- মাটির কান্না।
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে।
- বালুচর।
- রাখালী (তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে)।
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি বাংলা সহিত্যপাঠ।

৬,০৭৫.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) নীল ময়ূরের যৌবন
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) উজানের মৃত্যু
  4. ঘ) শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন বাংলা সাহিত্যের প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব।

সেলিম আল দীন রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা, 
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা, যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ, নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৭৬.
মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত ওসমান 
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

-আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৭৭.
কোনটি বেগম রোকেয়ার রচনা নয়?
  1. অবরোধবাসিনী
  2. পদ্মিনী শঙ্খিনী
  3. Sultana’s Dream
  4. মতিচূর
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মিনী শঙ্খিনী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা সানাউল হক

বেগম রোকেয়া:

- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৭৮.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্যে' কবির কোন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে?
  1. Timothy Penpoem
  2. এ নেটিভ
  3. Captive Ladie
  4. দত্তকুলোদ্ভব কবি
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৭৯.
ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক নাটক কোনটি?
  1. কোকিলারা
  2. বর্ণচোরা
  3. বিবাহ
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• মমতাজউদদীন আহমদ: 
- মমতাজউদদীন আহমদ মূলত একজন বিখ্যাত নাট্যকার ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের মালদহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- মুক্তিযুদ্ধোত্তর সমাজ বাস্তবতাকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে তাঁর নাট্যভুবন। আঙ্গিকগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং হাস্য-কৌতুকময় বিষয়বস্তুর মাধ্যমে জীবনের কোনো গভীরতর সত্যের সন্ধানই মমতাজউদদীন আহমদের নাট্যসাহিত্যের প্রধান প্রবণতা।
- ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাঁর নাটকে বহুমাত্রিক ব্যঞ্জনায় শিল্পিতা পেয়েছে। এ ধারায় তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো মধ্যে ‘বিবাহ’ ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক-
- স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- হৃদয়ঘটিত ব্যাপার স্যাপার,
- প্রেম,
- বিবাহ সুটকেস,
- রাজা অনুস্বারের পালা,
- সাত ঘাটের কানাকড়ি,
- রাক্ষুসী,
- এই সেই কণ্ঠস্বর,
- পুত্র আমার পুত্র,
- হাস্য লাস্য ভাষ্য,
- ভালোবাসার দশ নাটক ইত্যাদি।

মমতাজউদ্দীন আহমেদ (১৯৩৫-২০১৯) রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কয়েকটি নাটক:
- বর্ণচোর,
- বকুলপুরের স্বাধীনতা,
- কী চাহ শঙ্খচিল,
- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
•  ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' নাটকের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে। 
- বঞ্চিত, শোষিত  মানুষের শ্রেণি সংগ্রাম এর রূপকার হিসেবে বঞ্চিত, শোষিত মানুষের সংগ্রাম 'ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। 
- গরীব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কিভাবে পরীগ্রহণ করে কদম আলী নামের এক বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

• আবদুল্লাহ আল-মামুনের কোকিলারা: যৌন-রাজনীতি ও নিম্নবর্গীয় নারীর এক
চিরায়ত আখ্যান।
- আবদুল্লাহ আল-মামুন রচিত কোকিলারা নাটকে মূলত কোকিলা নামক তিন জন নারীর গল্প বলা হয়েছে যারা একত্রে হয়ে উঠেছেন কোকিলারা। তিন জন নারীর জীবনের গল্প নিয়ে রচিত এই নাটকটি তিনটি আলাদা গল্পের মিশ্রণ হলেও এই তিন জন কোকিলা মিলেই যেমন হয়ে উঠেছেন 'কোকিলারা' তেমনিভাবে পুরুষতান্ত্রিক এই সমাজে এই তিন জন নারীর নির্যাতনের গল্পটাও প্রায় একই। এই

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
৬,০৮০.
"শ্রীমতি কনিষ্ঠা" ছদ্মনামটি কার?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি ছদ্মনাম:
এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬,০৮১.
'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা - 
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. খেয়াপারের তরণী
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,০৮২.
‘মম একহাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতূর্য’ নজরুলের কোন কবিতার চরণ?
  1. বিদ্রোহী
  2. প্রলয়োল্লাস
  3. চৈতী হাওয়া
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• উক্ত চরণটি বিদ্রোহী কবিতার অন্তর্গত।
 - ১৯২২ সালে সাপ্তাহিক বিজলি পত্রিকা প্রকাশ।
- বিদ্রোহী কবিতাটি অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ।

বিদ্রোহী
- কাজী নজরুল

"বল        বীর -
               বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!
                 বল        বীর -
বল   মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’
       চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’
       ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া
       খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,
       উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর!
 মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!
                 বল        বীর -
              আমি   চির উন্নত শির!
......................

 মম      এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর রণ-তূর্য;
  আমি   কৃষ্ন-কন্ঠ, মন্থন-বিষ পিয়া ব্যথা-বারিধীর।
  আমি   ব্যোমকেশ, ধরি বন্ধন-হারা ধারা গঙ্গোত্রীর।
                 বল        বীর -
            চির -           উন্নত মম শির!"

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম এর কয়েকটি কবিতা: 
- মানুষ,
- খেয়াপারের তরণী,
- কুলি - মজুম, 
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৮৩.
মুকুন্দ দাসের উপাধি কী?
  1. স্বভাব কবি
  2. ছান্দাসিক কবি
  3. চারন কবি
  4. প্রকৃতির কবি
ব্যাখ্যা
বাংলার কবি, গীতি নাট্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে নানা ভাবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে, দেশের পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রেরণা জোগাতে যেসব কবিরা গান গেয়ে ও যাত্রাভিনয় করে স্থানে স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তাদেরকে চারণ কবি বলা হয়।
- মুকুন্দদাস (১৮৭৮-১৯৩৪) ছিলেন একজন চারণকবি।
- তিনি বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত ‘ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা’ জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
-  তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৬,০৮৪.
“এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তটাই পরিপূর্ণ সত্য। মিথ্যার অস্তিত্ব যদি কোথাও থাকে, তবে সে মনুষ্যের মন ছাড়া আর কোথাও না।” - শরৎচন্দ্রের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. দেনা-পাওনা
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের প্রথম পর্বের অংশবিশেষ:
সোনা মনে করিয়া তাহাকে সিন্দুকে বদ্ধ করিয়া রাখিলেও তাহার সত্যকার মূল্য বৃদ্ধি হয় না, আর পিতল বলিয়া টান মারিয়া বাহিরে ফেলিয়া দিলেও তাহার দাম কমে না। সেদিনও সে পিতল, আজও সে পিতলই। তোমার মিথ্যার জন্য তুমি ছাড়া আর কেহ দায়ীও হয় না, ভ্রূক্ষেপও করে না।
এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্তটাই পরিপূর্ণ সত্য। মিথ্যার অস্তিত্ব যদি কোথাও থাকে, তবে সে মানুষের মন ছাড়া আর কোথাও নয়। সুতরাং এই অসত্যকে ইন্দ্র যখন তাহার অন্তরের মধ্যে জানিয়া হোক, না জানিয়া হোক, কোন দিন স্থান দেয় নাই, তখন তাহার বিশুদ্ধ বুদ্ধি যে মঙ্গল এবং সত্যকেই পাইবে, তাহা ত বিচিত্র নয়।
----------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। 
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৬,০৮৫.
শওকত আলী রচিত 'রনজু' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. উত্তরের খেপ
  2. পিঙ্গল আকাশ
  3. যাত্রা
  4. ওয়ারিশ
ব্যাখ্যা

'ওয়ারিশ' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত 'ওয়ারিশ' (১৯৮৯) উপন্যাসটি মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি আছে।
- অতীত থেকে বর্তমান হয়ে ভবিষ্যতের দিকে যেতে হয়। এরই নাম মানব সভ্যতার ইতিহাস, যাকে বলা যায় ক্রমবিকাশ।
- কথাশিল্পী শওকত আলী রনজু চরিত্রের মাধ্যমে উপর্যুক্ত ব্যক্তি, সমাজ ও জাতির ধারাবাহিকতাই প্রকাশ করেছেন অনবদ্য গদ্যশৈলীতে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- যাত্রা
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ
- হিসাবনিকাশ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৮৬.
সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ কোনটি?
  1. পঞ্চতন্ত্র
  2. শবনম
  3. চাচা-কাহিনী
  4. দেশে বিদেশে
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি:
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি 'দেশে বিদেশে' (১৯৪৯)। এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহরে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৮৭.
জীবনানন্দ দাশ কত সালে জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৮৯৯
  2. খ) ১৯০১
  3. গ) ১৯০৩
  4. ঘ) ১৯০৫
ব্যাখ্যা
- জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ  ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ।পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি,তিমির হননের কবি ,নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা কালবেলা।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ-
- কবিতার কথা।
- ‘কবিতার কথা’  প্রবন্ধগ্রন্থে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৬,০৮৮.
সামাজিক বিপর্যয়ের কাহিনী নিয়ে রচিত নাটক কোনটি?
  1. সধবার একাদশী
  2. নীল-দর্পণ
  3. কমলে কামিনী
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬,০৮৯.
কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস 'বাঁধনহারার' প্রথম কিস্তি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. বিজলী
  3. কল্লোল
  4. মোস্‌লেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা:
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকার প্রতি সংখ্যার প্রথম পাতার শীর্ষে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী সংকলিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,০৯০.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা কোনটি?
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো
  3. স্বাধীনতা তুমি
  4. গেরিলা
ব্যাখ্যা
'বাতাসে লাশের গন্ধ' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ একটি বিখ্যাত কবিতা। রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ইতিহাস-সচেতন কবি।
- এই কবিতায় তাঁর সংগ্রামী চেতনা ধরা পড়ে। তাঁর এ সংগ্রামী চেতনা পাঠককে বর্তমানের নৈরাশ্য থেকে আশান্বিত করে তোলে ভবিষ্যতের দিকে।

'বাতাসে লাশের গন্ধ' কবিতায় তিনি বলেন:

আজো আমি বাতাসে লাশের গন্ধ পাই,
আজো আমি মাটিতে মৃত্যুর নগ্ননৃত্য দেখি,
ধর্ষিতার কাতর চিৎকার শুনি আজো আমি তন্দ্রার ভেতরে-
এ-দেশ কি ভুলে গেছে সেই দুঃস্বপ্নের রাত, সেই রক্তাক্ত সময়?

অন্যদিকে, 
• 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতার রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
• 'স্বাধীনতা তুমি' শামসুর রাহমান রচিত কবিতা। 
• সৈয়দ শামসুল হক ‘গেরিলা’ শিরোনামে কবিতা লিখেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৯১.
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- ’সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- প্রকাশক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)। পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন ’সংবাদ প্রভাকর’ বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

অন্যদিকে,
- ’সাধনা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- ’বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ’ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৬,০৯২.
সুফিয়া কামাল সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ
  2. খ) তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন
  3. গ) তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন
  4. ঘ) সবকটি
ব্যাখ্যা

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- তিনি রবীন্দ্র কাব্য ধারার 'গীতিকবিতা' রচনা করতেন।
- তিনি 'বেগম' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'সাঁঝের মায়া'।
- বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি রোকেয়ার ওপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি উৎসর্গ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- সাঁঝের মায়া,
- মায়া কাজল,
- শান্তি ও প্রার্থনা,
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মৃত্তিকার ঘ্রাণ,
- মোর জাদুদের সমাধি পরে।

গল্পঃ
- কেয়ার কাঁটা।

আত্মজীবনীঃ
- একালে আমাদের কাল।

স্মৃতিকথা/ ডায়েরীঃ
- একাত্তুরের ডায়েরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬,০৯৩.
প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
• প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস' রচনা করেন - সৈয়দ আলী আহসান।

সৈয়দ আলী আহসান:

- তিনি ১৯২২ সালের ২৬শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯৩৭ সালে আর্মানীটোলা স্কুলে অধ্যয়নকালে স্কুল ম্যাগাজিনে সৈয়দ আলী আহসানের ‘The Rose’ নামে একটি ইংরেজি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৭ সালে তিনি কবিতার জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৮৩ সালে একুশে পদক এবং ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
- ২০০২ সালের ২৫ জুলাই তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অবসান ঘটে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা,
- নজরুল ইসলাম,
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা,
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা,
- পদ্মাবতী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬,০৯৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. ক) সৈয়দ আলী আহসান
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবিও বলা হয়। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৬,০৯৫.
'প্রভাত চিন্তা ', 'নিভূত চিন্তা', 'নিশীত চিন্তা' প্রভূতি গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) কালীপ্রসন্ন ঘোষ
  3. গ) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন ঘোষ (১৮৪৩-১৯১০):
 বাগ্মী, সাংবাদিক, লেখক, পন্ডিত কালীপ্রসন্ন ঘোষের জন্ম ১৮৪৩ সালের ২৩ জুলাই  ঢাকা জেলার বিক্রমপুরে ভরাকর গ্রামে
- কালীপ্রসন্ন ছিলেন পূর্ববঙ্গীয় ব্রাহ্মসমাজের একজন বিশিষ্ট সভ্য।
- তিনি ‘সাহিত্য-সমালোচনী সভা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গঠন করেন এবং তার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যিকদের নানাভাবে সাহায্য করেন।
- তিনি  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সদস্য (১৮৯৪) এবং সহসভাপতির (১৮৯৭-১৯০০) পদ অলঙ্কৃত করেন। 
- কালীপ্রসন্ন দর্শন ও সমাজ সম্পর্কে অনেক মূল্যবান প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর প্রবন্ধগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- প্রভাত-চিন্তা (১৮৭৭),
- নিভৃত-চিন্তা (১৮৮৩),
- নারীজাতিবিষয়ক প্রস্তাব (১৮৯৬) ও
- নিশীথ-চিন্তা (১৮৯৬)। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হচ্ছে:
- ভ্রান্তিবিনোদ (১৮৮১),
- প্রমোদলহরী (১৮৯৫),
- ভক্তির জয় (১৮৯৫),
- মা না মহাশক্তি (১৯০৫),
- জানকীর অগ্নিপরীক্ষা (১৯০৫),
- ছায়াদর্শন (১৯০৫) প্রভৃতি।

- এ ছাড়া সঙ্গীতমঞ্জরী (১৮৭২) নামে একখানা আধ্যাত্মিক সঙ্গীতসংগ্রহ এবং কোমল কবিতা (১৮৮৮) নামে একখানা শিশুপাঠ্য গ্রন্থও তিনি রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,০৯৬.
‘কোথায় স্বর্গ ? কোথায় নরক ? কে বলে তা বহুদূর ? মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর।’ - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে ?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) বেগম সুফিয়া কামাল
  3. গ) কালিদাস রায়
  4. ঘ) শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ-নরক— মানুষেতে সুরাসুর।’
- কবিতাংশটি শেখ ফজলল করিমের রচনা।

তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে,
- তৃষ্ণা
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি
- গাঁথা
- ভগ্নবীণা
- প্রেমের স্মৃতি
- পথ পাথেয় ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ইতিহাস-মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৬,০৯৭.
'আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সত্যজিৎ রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়ের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম হল -
- আবোল-তাবোল,
- বহুরূপী,
- খাই খাই প্রভৃতি।
আবোল তাবোল তাঁর বিখ্যাত কবিতার বই।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬,০৯৮.
"আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।" - কবিতাংটুকু কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. আল মাহমুদ 
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. কাজী কাদের নেওয়াজ 
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- কবিতাংটুকুর রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'।
 
- কবিতাংটুকু বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

• বন্দে আলী মিয়া: 
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা, 
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬,০৯৯.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কয়টি যুগবিভাগ রয়েছে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

• আদি যুগ:
প্রাক্-তুর্কি আক্রমণ যুগ (৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিস্তৃতি ছিল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

• মধ্যযুগ:  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

• আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৬,১০০.
'সূর্য-দীঘল বাড়ি' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জয়গুণ
  2. খ) জোহরা
  3. গ) শশী
  4. ঘ) টুনি
ব্যাখ্যা
'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' 
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

কথাসাহিত্যিক আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- পদ্মার পলিদ্বীপ
- জাল
গল্পগ্রন্থ:
- হারেম
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।