বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৫৩ / ২১১ · ৫,২০১৫,৩০০ / ২১,১৩২

৫,২০১.
কীর্তিচন্দ্র কোন ভাষায় চর্যার টিকা অনুবাদ করেছিলেন?
  1. সংস্কৃত
  2. সিংহলি
  3. তিব্বতি
  4. নেপালি
ব্যাখ্যা
• চর্যার তিব্বতি অনুবাদ:
- কীর্তিচন্দ্র মুনিদত্তের টীকার তিব্বতি অনুবাদ করেছিলেন 'চর্যাগীতিকোষবৃত্তি' নামে। এতে মনে হয় মূল সংকলনের নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ'। আধুনিক পণ্ডিতগণের অনুমান যে পুঁথিটির নাম ছিল 'চর্যাগীতিকোষ' এবং এর সংস্কৃত টীকার নাম 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'।

- ১৯৩৮ সালে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী কর্তৃক চর্যার তিব্বতি অনুবাদ প্রকাশিত হয়। চর্যাপদের প্রাপ্ত পুঁথিতে উল্লেখকৃত সংস্কৃত টীকাকার মুনিদত্তের মতানুসারে এই পদসংগ্রহের নাম 'আশ্চর্যচর্যাচয়'।

- নেপালে প্রাপ্ত পুঁথিতে পদগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'। এ দুটি নাম মিলিয়ে ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামের পরিকল্পনা করেন। সে আমলে শত শত চর্যাগীতি রচিত হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়। মুনিদত্তের মত অনেকেই বিভিন্ন চর্যাগীতির টীকা রচনা করেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,২০২.
'রৈবতক', 'কুরুক্ষেত্র' ও 'প্রভাস' এই ত্রয়ী কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) নবীনচন্দ্র সেন
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) হেমচন্দ্র
ব্যাখ্যা

কবি নবীনচন্দ্র সেন ১৮৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যসংকলন 'অবকাশরঞ্জিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৭১ সালে।
- ১৮৭৫ সালে তাঁর 'পলাশীর যুদ্ধ' মহাকাব্য প্রকাশিত হলে তিনি ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়েন। 
- 'রৈবতক (১৮৮৭)', 'কুরুক্ষেত্র (১৮৯৩)' ও 'প্রভাস (১৮৯৬)' কাব্যত্রয়ী নবীনচন্দ্রের কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ। এগুলির নায়ক  কৃষ্ণ এবং এতে যথাক্রমে কৃষ্ণের আদি, মধ্য ও অন্তলীলা বর্ণিত হয়েছে। নবীনচন্দ্রের এই তিনটি কাব্যও মহাকাব্যের লক্ষণাক্রান্ত। কাহিনীর বিশালতা এবং বহুমুখী বৈচিত্র্যের কারণে গ্রন্থত্রয়ের কাব্যবন্ধন অনেকটা শিথিল ও দুর্বল।

নবীনচন্দ্রের আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- আমার জীবন,
- খৃস্ট,
- ক্লিওপেট্রা,
- ভানুমতী,
- প্রবাসের পত্র ইত্যাদি।

কাব্যানুবাদ: ভগবদ্গীতা ও চন্ডীর

আত্মজীবনী: আমার জীবন 

আরও কিছু লেখকের ত্রয়ী উপন্যাস: 

⇒ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম'
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পথের পাঁচালি;, 'অপরাজিতা' ও 'কাজল'
⇒ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 'পুতুল নাচের ইতিকথা', 'সহরবাসের ইতিকথা' ও 'ইতিকথার পরের কথা'
⇒ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় : 'সেই সময়', 'প্রথম আলো' ও 'পূর্ব-পশ্চিম'
⇒ সমরেশ মজুমদার: 'উত্তরাধিকার', 'কালবেলা' ও 'কালপুরুষ'  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৫,২০৩.
'অভিশপ্ত নগরী' উপন্যাসটির কার?
  1. সরদার জয়েনউদ্দিন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা

• সত্যেন সেন বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
•তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
• তিনি 'উদীচী' সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- পাপের সন্তান,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- আলবেরুনী ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত শিশু সাহিত্যঃ
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,২০৪.
ভুসুকুপা চর্যাপদের কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. ৮ টি
  2. ১২ টি
  3. ১৩ টি
  4. ১৪ টি
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২০৫.
মুহম্মদ কবির কোন ধরনের কাব্যের জন্য পরিচিত?
  1. প্রহসন
  2. প্রণয়োপাখ্যান
  3. ধর্মীয় কাব্য
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা

 মুহম্মদ কবির:
• মুহম্মদ কবির (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি। 
• প্রণয়োপাখ্যান রচয়িতা হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। 
• মধুমালতী (১৫৮৮) নামে একখানি রোম্যান্টিক প্রণয়কাব্য তাঁর রচনা।
• চট্টগ্রামের জোরওয়ারগঞ্জে এর পুঁথি পাওয়া গেছে বলে কবিকে ওই অঞ্চলের অধিবাসী মনে করা হয়।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২০৬.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক নয়?
  1. রক্তকরবী
  2. পুনশ্চ
  3. ডাকঘর
  4. চিত্রাঙ্গদা
ব্যাখ্যা
- 'পুনশ্চ' (১৯৩২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি তাঁর গদ্যছন্দে রচিত প্রথম ও সার্থক কাব্যগ্রন্থ।
উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
ছেলেটা, শেষ চিঠি, ক্যামেলিয়া, সাধারণ মেয়ে, বাঁশি, খ্যাতি ইত্যাদি। 

• রবীন্দ্রনাথ রচিত নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- চিত্রাঙ্গদা, 
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২০৭.
শওকত ওসমানের 'জননী' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. ওসমান কামাল
  2. ওসমান জামাল
  3. কবীর চৌধুরী
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমানের 'জননী' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ করেন - ওসমান জামাল
- এটির নাম ইংরেজিতেও 'জননী' রাখা হয়েছে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অক্সফোর্ড থেকে প্রকাশিত হয়।

শওকত ওসমান:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন। 
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে। 
- তিনি  বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি, 
- সমাগম, 
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়, 
- দুই সৈনিক, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২০৮.
‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্রের নাম কী?
  1. মধুসূদন
  2. নিখিলেস
  3. অমিত
  4. শোভনলাল
ব্যাখ্যা
• শেষের কবিতা' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস। 
- 'শেষের কবিতা' তাঁর একটি রোমান্টিক- মনস্তাত্ত্বিক কাব্যিক উপন্যাস। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- এ উপন্যাসের প্রধান পুরুষ চরিত্র - 'অমিত'।

এ উপন্যাসের চরিত্র গুলাে হলাে: 
- অমিত,
- লাবণ্য,
- কেতকী রায় এবং
- শােভনলাল। 
--------------
উল্লেখ্য,
- শোভনলাল - শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।
- মধুসূদন- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র। 
- নিখিলেস- ঘরে বাইরে উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও শেষের কবিতা।
৫,২০৯.
সুনির্দিষ্ট মত অনুসারে চর্যাপদের রচনাকাল -
  1. ক) ৬০০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. খ) ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. গ) ৯০০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ঘ) ৯৫০-১২৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের রচনাকাল ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্য়ে এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় এর মতে ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্য়ে।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৫,২১০.
'মার্কসবাদ' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) রফিক আজাদ
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
- 'মার্কসবাদ' প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন- হুমায়ুন কবির। 
-
মার্কসবাদ প্রবন্ধগ্রন্থটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। 

হুমায়ুন কবির
:
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। 
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি  মাওলানা আবুল কালাম আজাদএর আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিবরূপে যোগদান করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৯ সালে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের বশির হাট থেকে লোকসভার নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:  
কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ 
- সাথী 
- অষ্টাদশী। 
উপন্যাস:
- নদী ও নারী। 
প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ইমানুয়েল কান্ট 
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব  
- বাংলার কাব্য 
- মার্কসবাদ 
- নয়া ভারতের শিক্ষা 
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী 
- মিরজা আবু তালিব খান 
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,২১১.
নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক- 
  1. নবান্ন
  2. চাকা
  3. জনপদ
  4. কলঙ্ক
ব্যাখ্যা

• ‘চাকা’ নাটক:
- নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও গণতন্ত্রের ফিরে আসাকে কেন্দ্র করে সেলিম আল দীন রচিত নাটক ‘চাকা’।
- গরুর গাড়িতে একটি লাশ যায় গ্রামের বাড়িতে। কিন্তু ঠিকানা খুঁজে না পেয়ে সেটি ঘুরতেই থাকে। লোকনাট্য ধারায় রচিত কথানাট্যটিকে অবিরাম পথচলার এক অপূর্ব আখ্যান বলা যায়।
- ১৯৯৩ সালে এই নাটকটি নিয়ে পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম সিনেমা নির্মাণ করেন।

অন্যদিকে,
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটকসূমুহ:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক। 

-------------------
• সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার।
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনি জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৬৮ সালে কবি আহসান হাবিব সম্পাদিত ‘দৈনিক পাকিস্তান’ পত্রিকার সাহিত্য সাময়িকীতে আমেরিকার কালো মানুষদের নিয়ে তাঁর প্রথম বাংলা প্রবন্ধ 'নিগ্রো সাহিত্য' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম রেডিও নাটক 'বিপরীত তমসায়' ১৯৬৯ সালে এবং প্রথম টেলিভিশন নাটক আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় 'লিব্রিয়াম' (পরিবর্তিত নাম ঘুম নেই) প্রচারিত হয় ১৯৭০ সালে।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- বাংলাদেশের বিচিত্র শ্রমজীবী, পেশাজীবী, বাঙালি ও বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সমাজজীবন ও তাদের আবহমান কালের সংস্কৃতিকে তিনি তাঁর নাটকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তিদান করেছেন।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- জুলান,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'চাকা' নাটক। 

৫,২১২.
মাত্রাবৃত্ত ছন্দে পূর্ণ-পর্ব সাধারণত কয় মাত্রার হয়ে থাকে?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৬
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা


Source: University of North Bengal লাইব্রেরী।

আবার,
ড. হায়াৎ মামুদ রচিত ভাষা শিক্ষা বই অনুসারে,
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের বৈশিষ্ট্য:
- মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রুদ্ধদল সর্বদাই বিশ্লিষ্ট উচ্চারণে দুই মাত্রার।
- এ ছন্দে সুস্পষ্ট উচ্চারিত অক্ষর-ধ্বনি থেকেই মাত্রার রীতি বা পরিমাণ স্থিরকৃত হয়।
- এ ছন্দে স্বরান্ত, হলন্ত বা কেবল স্বরান্ত অক্ষর দ্বারাই পর্ব সংঘটিত হয়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচ নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের মূল পর্ব চার, পাঁচ, ছয়, সাত এবং আট মাত্রার। তবে, এ ছন্দে ছয় মাত্রার চাল বা প্রয়োগ বেশি।
- এ ছন্দের লয় বিলম্বিত এবং এর গতিবেগ ঢালা সুরে একটানা প্রবাহিত।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবনতা বা সুরনিষ্ঠতা।

সুতরাং, এখানে খ) ৬ অধিক গ্রহণযোগ্য।
৫,২১৩.
কাজী মোতাহার হোসেন কোন পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) সাধনা
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শিখা
ব্যাখ্যা
কাজী মোতাহার হোসেন পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন- শিখা।

কাজী মোতাহার হোসেন
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা 
- শিখা প্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''। 

তাঁর উলে­খযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
সঞ্চয়ন
নজরুল কাব্য পরিচিতি 
সে পথ লক্ষ্য করে
সিম্পোজিয়াম
গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস
আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।


উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৪.
‘জ্ঞানচৌতিশা’ - গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

সৈয়দ সুলতান:
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। 
- মক্তুল হুসেন কাব্যের রচয়িতা মুহম্মদ খান ছিলেন তাঁর শিষ্য।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য
-  নবীবংশ,
- জ্ঞানপ্রদীপ,
- জ্ঞানচৌতিশা,
- শব—ই—মিরাজ, 
- ওফাত—উ—রসুল,
- জয়কুম রাজার লড়াই ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২১৫.
চর্যার ৪৯নং পদের রচয়িতা কে?
  1. শবরপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. গুণ্ডুরীপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/ ৪১নং/ ৪৩নং/ ৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• শবরপা রচিত পদ- ২৮ ও ৫০।
• কুক্কুরীপা রচিত পদ- ২, ২০ ও ৪৮নং (৪৮নং পদটি খুঁজে পাওয়া যায়নি)।
• গুণ্ডুরীপা রচিত পদ- ৪নং।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৬.
'দি আগলি এশিয়ান' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সেলিম আল দীন
  3. সানাউল হক
  4. শহীদুল্লা কায়সার
ব্যাখ্যা
• "দি আগলি এশিয়ান" উপন্যাস:
- 'দি আগলি এশিয়ান' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি উপন্যাস।

- 'দি আগলি এশিয়ান' (কদর্য এশীয়) আদ্যোপান্ত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। তিনি বলেছেন যে এ গল্প কল্পিত যে-কোনো এশীয় দেশের। কিন্তু আমরা দেখতে পাই, সে দেশের নাম বাংলাদেশ-যার জন্মই হয়েছে ঔপন্যাসিকের মৃত্যুর পরে। 

- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহরকে (নাম নেয়া হয়নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।

- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।

- আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে।

- উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রচনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপর পড়েছিল।

---------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; "দি আগলি এশিয়ান" উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৭.
‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটি লিখেছেন-
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. কায়কোবাদ
  3. জহির রায়হান
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘বরফ গলা নদী’ জহির রায়হান রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৩৭৬ বঙ্গাব্দে 'বরফ গলা নদী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
--------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২১৮.
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. গ) সতেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
'গণতন্ত্রের সন্ধানে' প্রবন্ধের রচয়িতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। অন্বেষা, দ্বিতীয় ভুবন, নিরাশ্রয় গৃহী, আরণ্যক দৃশ্যাবলী, স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি, বাঙালিকে কে বাঁচাবে, নেতা জনতা ও রাজনীতি, ভয় পেয়ো না বেঁচে আছি ইত্যাদি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ। বাবুলের বেড়ে ওঠা তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস এবং দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২১৯.
'শ্যামল ছায়া' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) হুমায়ূন আহমেদ
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) যাযাবর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্টের ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রচিত ‘দেয়াল’ রাজনৈতিক উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ। তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস - জোছনা ও জননীর গল্প, আগুনের পরশমণি, শ্যামল ছায়া, সৌরভ, ১৯৭১, অনীল বাগচীর একদিন।
Source: LiveMCQ Lecture
৫,২২০.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আকরম খাঁ
  2. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ।
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২২১.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক নয় কোনটি?
  1. ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
  2. খ) এই দেশে এই বেশে।
  3. গ) ঘুম নেই।
  4. ঘ) নূরুলদীনের সারাজীবন।
ব্যাখ্যা
- 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' সৈয়দ শামসুল রচিত মুক্তযুদ্ধের কাব্যনাটক।
- এসএম সোলায়মান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘এই দেশে এই বেশে’। এ নাটকে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন আর প্রাপ্তির বিষয়টা উঠে এসেছে।  
-  নাসির উদ্দীন ইউসুফ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক ‘ঘুম নেই’। 

'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্যটি সৈয়দ শামসুল হক রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২২২.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. ফররুখ আহমদ 
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. আবুল ফজল 
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনী:
-তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২২৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি?
  1. ক) রেইনকোট
  2. খ) আগুণের পরশমণি
  3. গ) চিলেকোঠর সেপাই
  4. ঘ) জীবনক্ষুধা
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প ৷
• ‘রেইনকোট’ গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম - তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে৷
• 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

• এই গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে: 
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

উৎস: সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই ।
৫,২২৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'রবিবার' গল্পের প্রধান চরিত্র কে?
  1. রতন
  2. মৃন্ময়ী
  3. সুরবালা
  4. অভীক
ব্যাখ্যা

 • 'অভীক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘রবিবার’ গল্পের প্রধান চরিত্র। 

• 'অভীক' চরিত্র বিষয়ক আলোচনা:
গল্পে অভয়াচরণ (অভীক) নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ পণ্ডিত ঘরের সন্তান। সে হয়ে উঠেছে ঘোর নাস্তিক। যত রকম নিয়মভঙ্গে সিদ্ধ। বেয়াদবি আচরণে তার যত উৎসাহ। সে যেমন কলকব্জা সারাতে পারে আবার ছবি আঁকতেও দক্ষ। নিষিদ্ধ মাংস খায়, অগাধ পয়সা থাকা সত্ত্বেও কারখানায় শৌখিন মজদুরি করে। গ্যাঁটের পয়সা খরচা করে নিজের আঁকা ছবির প্রদর্শনী করে প্রশংসা পাবে বলে।

অন্যদিকে,
- 'একরাত্রি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'সুরবালা'।
- 'সমাপ্তি' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'মৃণ্ময়ী'।
-  'পোস্টমাসটার' গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র 'রতন'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর ছোটগল্পসমূহ:
- বাংলা ছোট গল্পের জনক হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১১৯ টি ছোট গল্প রচনা করেন।
- তার রচিত প্রথম ছোট গল্প ‘ভিখারিনী’।
- ‘ভারতী’ পত্রিকার ১২৮৪ বঙ্গাব্দের (১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দ) শ্রাবণ-ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত হয় - রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি।
- এই গ্রন্থ প্রকাশের মাধ্যমে মাত্র ষোলো বছর বয়েসেই রবীন্দ্রনাথ ছোট গল্পকার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মোট ৫টি গল্পগ্রন্থ রয়েছে। এগুলো হলো: 
• গল্পগুচ্ছ,
• লিপিকা,
• সে,
• তিন সঙ্গী,
• গল্পসল্প।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: 'রবিবার’ গল্প; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২২৫.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কে বলা হয় -
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তি
  2. শ্রীকৃষ্ণসদ্ভাব
  3. শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ
  4. শ্রীকৃষ্ণস্তুতি
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থের নামকরণ:
- গ্রন্থের প্রথম দিকের পৃষ্ঠা ছিন্ন থাকাতে এর নাম পাওয়া যায় নি।
- তবে সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ ব্রজসুন্দর সান্ন্যাল রচিত 'চণ্ডীদাস চরিত', ত্রৈলোক্য আচার্যের 'বিদ্যাপতি' ইত্যাদি গ্রন্থ অবলম্বনে এর নাম দেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- একে 'শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ'ও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২২৬.
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মোহাম্মদ নাসির আলি
ব্যাখ্যা

‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং মোহাম্মদ নাসির আলির সম্পাদনা পত্রিকা - নয়া সড়ক।
মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্‌দার আবু জাফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২২৭.
কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা,
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলো’- পঙক্তিটির রচয়িতা-
  1. ক) কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
‘কে বলে শারদ শশী সে মুখের তুলা,
পদনখে পড়ি তার আছে কতগুলো’- পঙক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

 - ভারতচন্দ্র রায় মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর সম্ভবত বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি যিনি রাজরোষে কারাগারে যান।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২২৮.
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) আবদুল লতিফ
  3. গ) মাহবুব-উল-আলম
  4. ঘ) আ-ন-ম গাজীউল হক
ব্যাখ্যা
‘কোন এক মাকে'- কবিতাটির রচয়িতা - আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ।
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা, 
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি? (সংক্ষিপ্ত) 

একুশের প্রথম কবিতার রচয়িতা - মাহবুব-উল-আলম।
একুশের প্রথম গানের রচয়িতা - আ-ন-ম গাজীউল হক 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২২৯.
"কাঙাল হরিনাথ" কোন পত্রিকাটির সম্পাদনার সাথে জড়িত?
  1. সাধনা
  2. কল্লোল
  3. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  4. হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
এটি উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা। যদিও প্রকাশের পরের বছর থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

প্রথম মুদ্রণ স্থান: প্রথম দিকে কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো, পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালি থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, 
গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করার পর সাংবাদিকতা ত্যাগ করে হরিনাথ ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।

অন্যদিকে,
• ‘সাধনা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• 'কল্লোল' - ১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাসের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩০.
'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'কবি' উপন্যাসটির রচয়িতা - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

কবি:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে ।
- এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে? ' সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

উল্লেখ্য, 'কবি' নামে হুমায়ূন আহমেদেরও একটি উপন্যাস রয়েছে।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- চৈতালি ঘূর্ণি, 
- ধাত্রীদেবতা, 
- কালিন্দী, 
- কবি
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- গণদেবতা, 
- পঞ্চগ্রাম,
- আরগ্য নিকেতন, 
- পঞ্চপুণ্ডলী, 
- রাধা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৩১.
"এসো যুগ-সারথি নিঃশঙ্ক নির্ভয়।
এসো চির-সুন্দর অভেদ অসংশয়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. ফররুখ আহমদ 
ব্যাখ্যা

"এসো যুগ-সারথি নিঃশঙ্ক নির্ভয়।
এসো চির-সুন্দর অভেদ অসংশয়।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের 'প্রার্থনা' কবিতার অংশবিশেষ।

• 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ:
সর্বহারা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯২৬ খৃষ্টাব্দে এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১০ টি কবিতা রয়েছে।

কবিতাসমূহের তালিকা:
১. সর্বহারা,
২. কৃষাণের গান,
৩. শ্রমিকের গান,
৪. ধীবরদের গান,
৫. ছাত্রদলের গান,
৬. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার,
৭. ফরিয়াদ,
৮. আমার কৈফিয়ত,
৯. প্রার্থনা,
১০. গোকুল নাগ।

কবিতার অংশিবিশেষ,
এসো যুগ-সারথি নিঃশঙ্ক নির্ভয়।
এসো চির-সুন্দর অভেদ অসংশয়।
জয় জয়।
জয় জয়।

এসো বীর অনাগত
বজ্র-সমুদ্যত।
এসো অপরাজেয় উদ্ধত নির্দয়।
জয় জয়।

উৎস: 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ- কাজী নজরুল ইসলাম।

৫,২৩২.
বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কালকে ‘তামস যুগ’ বলা হয়?
  1. ৬৫০ – ১২০০ সাল
  2. ১৮০১ – বর্তমান
  3. ১২০১ – ১৩৫০ সাল
  4. ১৩৫১ – ১৮০০ সাল
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,২৩৩.
মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচিত নাটক কোনটি?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. পদ্মাবতী
  3. মায়াকানন
  4. কৃষ্ণকুমারী
ব্যাখ্যা

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনি অবলম্বনে ১৮৫৮ সালে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে 'শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়। মধুসূদন পরে 'শর্মিষ্ঠা'র ইংরেজি অনুবাদও করেন। 

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- যযাতি,
- দেবযানী,
- শর্মিষ্ঠা,
- মাধব্য,
- পূর্ণিমা,
- রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

------------
• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- হেক্টরবধ কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৩৪.
কোন পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করে?
  1. প্রগতি
  2. পূর্বাশা
  3. পরিচয়
  4. ক্রান্তি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন। সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে,
- 'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- রণেশ দাশগুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা 'ক্রান্তি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৩৫.
‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কোন শতকে রচিত?
  1. পঞ্চদশ
  2. ষোড়শ
  3. সপ্তদশ
  4. অষ্টাদশ
ব্যাখ্যা
• ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি কবি আবদুল হাকিমের নূরনামা কাব্য থেকে সংকলন করা হয়েছে।
- ‘বঙ্গবাণী' কবিতাটি সপ্তদশ শতকে রচিত।
- মধ্যযুগীয় পরিবেশে বঙ্গভাষী এবং বঙ্গভাষার প্রতি এমন বলিষ্ট বাণীবদ্ধ কবিতার নিদর্শন দুর্লভ।

• ''যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্নয় ন জানি।"
- এই উক্তটি তিনি 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'বঙ্গবাণী' কবিতায় লিখেছেন।  

আব্দুল হাকিম:
- আব্দুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি।
- তিনি ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানি-ফার লড়াই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৩৬.
'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ। 

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়', 'দুই সৈনিক' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

শওকত ওসমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

- শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প
- প্রস্তর ফলক
- উভসৃঙ্গ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৩৭.
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাজসিংহ
  2. আনন্দমঠ
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত।মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। 

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়। এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'রাজসিংহ'। 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে উড়িষ্যার অধিকারকে কেন্দ্র করে মোঘল ও পাঠানের সংঘর্ষের পটভূমিতে এই উপন্যাস রচিত হয়। তবে এটিকে সম্পূর্ণরূপে ঐতিহাসিক উপন্যাস মনে করা হয় না।

• 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস। উপন্যাসের কাহিনির সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ, পুরুষের রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫,২৩৮.
“ছোট বকুলপুরের যাত্রী” - গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. এম.আর আখতার মুকুল
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে “কলম পেশা মজুর” বলা হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তার পিতৃপ্রদত্ত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
“ছোট বকুলপুরের যাত্রী” - গল্পগ্রন্থটি তার রচনা এবং তা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত।
তার অন্যান্য গল্পগ্রন্থঃ
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প
- প্রাগৈতিহাসিক
- মিহি ও মোটা কাহিনী
- আত্মহত্যার অধিকার
- সরীসৃপ
- সমুদ্রের স্বাদ
- আজকাল পরশুর গল্প ইত্যাদি
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া
৫,২৩৯.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ করা হয় কোথা থেকে?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় 
  2. শ্রীরামপুর মিশন
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ 
  4. বাংলা একাডেমি 
ব্যাখ্যা

'শূণ্যপুরাণ':
এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।

- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য। গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।

- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে - 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,২৪০.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ?
  1. কবিতা
  2. কাব্য পরিক্রমা
  3. কয়েকটি কবিতা
  4. বাঙলার কাব্য
ব্যাখ্যা
• 'কয়েকটি কবিতা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - সমর সেন।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------
• সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বাবু বৃত্তান্ত।

অন্যদিকে,
- হুমায়ুন কবিরের এর কাব্য সমালোচনা গ্রন্থ - বাঙলার কাব্য।
- অজিতকুমার চক্রবর্তী রচিত গ্রন্থ- কাব্য পরিক্রমা।
- 'কবিতা' কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪১.
মর্সিয়া সাহিত্য কী?
  1. ক) যুদ্ধকাব্য
  2. খ) রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. গ) কবিগান
  4. ঘ) কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি
ব্যাখ্যা
কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য৷
মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি শেখ ফয়জুল্লাহ৷ তার গ্রন্থের নাম জয়নালের চৌতিশা (১৫৭০)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৫,২৪২.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. বেণের মেয়ে
  2. বেদের মেয়ে
  3. পদ্মাপাড়
  4. পল্লীবধূ
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক নয় - বেণের মেয়ে
- এটি হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত উপন্যাস।

জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্র্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪৩.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন? 
  1. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. টালা অভিনয়
  3. এর উপায় কি
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা

• 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন 'বিয়ে পাগলা বুড়ো'।
- এটি (১৮৬৬) নাটকটি ১৮৭২ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- এ প্রহসনে বিবাহবাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিয়ের আয়োজন করে স্কুলের অপরিপক্ক ছেলেরা কিভাবে তাকে নাস্তানাবুদ করে, সে কাহিনিই এ প্রহসনের বিষয়।

-----------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলো হচ্ছে:
- বিয়ে পাগলা বুড়ো,
- সধবার একাদশী,
- জামাই বরিক।

অন্যদিকে:
• 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রহসন।
• 'টালা অভিনয়' ও 'এর উপায় কি' মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৫,২৪৪.
ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন -
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সবাই
ব্যাখ্যা
সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
-  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (২৬ জুন ১৮৩৮ – ৮ এপ্রিল ১৮৯৪) বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম হয় ১৯৪৮ সালে; বর্তমান উত্তর ২৪ পরগনা জেলার নৈহাটি শহরের নিকটস্থ কাঁঠালপাড়া গ্রামে।
- তিনি বাংলা ভাষার আদি সাহিত্যপত্র বঙ্গদর্শনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- বঙ্কিম একসময় ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- ১৮৫৬ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা পুরাকালিক গল্প তথা মানস’ প্রকাশিত হয়।
- ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্কিমচন্দ্র প্রকাশ করেন বঙ্গদর্শন নামের সাময়িক পত্রিকা।
- বাংলা ভাষার প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- তাঁকে বাংলা উপন‍্যাসের জনক বলা হয়।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'।
- উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৫,২৪৫.
'বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত' বইটির লেখক কে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. নীহাররঞ্জন রায়
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৪৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থ কাকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. মৃণালিনী দেবী
  2. ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

 • 'পূরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বাংলা কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৫ খ্রীস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
- তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
- পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
- বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
- খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।

- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৪৭.
জীবননান্দ দাশের কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা‘ বলেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা

- জীবননান্দ দাশের কবিতা সম্পর্কে কবিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঠিতে লিখেছেন ‘ তোমার কবিতা গুলি পড়ে খুশি হয়েছি। তোমার লেখায় রস আসে , স্বকীয়তা আসে এবং তাকিয়ে দেখার আনন্দ আছে।
- জীবননান্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্য ময় হয় উঠেছে। 
- জীবননান্দ দাশ রচিত কাব্য গ্রন্থগুলো হলো :-
- ঝরা পালক 
- ধূসর পাণ্ডলিপি 
- বলতাসেন 
- মহাপৃথিবী 
- রূপসী বাংলা 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]

৫,২৪৮.
'প্রাকৃত পৈঙ্গল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ময়ূরভট্ট
  2. রামাই পণ্ডিত
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. শ্রীহর্ষ
ব্যাখ্যা
•  অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। 'নিরঞ্জনের রুম্মা' শূণ্যপূরাণ গ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা। রামাই পণ্ডিত রচিত 'কলিমা জালাল' গ্রন্থ। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৫,২৪৯.
মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. ভদ্রার্জুন
  2. বসন্তকুমারী
  3. নীল দর্পণ
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা

 'চিঠি' মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক।

অন্যদিকে,
- 'বসন্তকুমারী' নাটকের রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন।
- 'ভদ্রার্জুন' তারাচরণ শিকদার রচিত বিখ্যাত নাটক।
- 'নীল দর্পণ' নাটকের রচয়িতা  দীনবন্ধু মিত্র।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৫০.
'আমীর হামজা(প্রথম অংশ)’ রচনা করেন কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. মুহাম্মদ কবীর
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌।
- তিনি ’আমীর হামজা’ কাব্য রচনা করেন।

• ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।

৫,২৫১.
কৃত্তিবাস ওঝা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নির্দেশে বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন
  3. বাংলা রামায়ণের আদি কবি
  4. উপরের সবগুলোই সঠিক
ব্যাখ্যা

• তিনি আলাউদ্দিন হোসেন শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন। - এটি সঠিক নয়।
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় "রামায়ণ" অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:

- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি 'কৃত্তিবাস ওঝা'।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে 'উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল 'মুখোপাধ্যায়'।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসুদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি - সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৫২.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় কত সালে চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন?
  1. ১৯২০ সালে
  2. ১৯২২ সালে
  3. ১৯২৪ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) নামক বিখ্যাত গ্রন্থে ১৯২৬ সালে এগুলোর ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রথম আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।

• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,২৫৩.
মনসামঙ্গল কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) লখিন্দর
  2. খ) ফুল্লরা
  3. গ) কালকেতু
  4. ঘ) ভাড়ুদত্ত
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগের মঙ্গল কাব্যের সাহিত্য ধারা। চন্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহ- কালকেতু, ফুল্লরা, ভাড়ুদত্ত, মুরারি শীল। মনসামঙ্গলের প্রধান চরিত্র গুলো হলো- সাপের দেবী মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা। মনসামঙ্গলের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫,২৫৪.
'বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) শামসুজ্জামান খান
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. ঘ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গবন্ধুর সাথে আলাপ ও প্রাসঙ্গিক কথকতা' গ্রন্থটি  শামসুজ্জামান খান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 
 - এটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলী হচ্ছে -
- নানা প্রসঙ্গ 
- গণসঙ্গতি 
- মাটি থেকে মহীরুহ
- ফকলোরচর্চা 
 
• রম্যরচনা সমূহ -
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা
- গ্রামবাংলার রঙ্গ

• শিশু সাহিত্য -
দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫৫.
পাঁচালিকার হিসেবে বিখ্যাত কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. দাশরথি রায়
ব্যাখ্যা
• দাশরথি রায় পাঁচালী গানের সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি।
- তিনি 'দাশুরায়' হিসেবে খ্যাত ছিলেন।

অন্যদিকে,
- রামনিধি গুপ্ত বাংলা টপ্পা গানের জনক।
- ফকির গরীবুল্লাহ দোভাষী পুথির প্রথম ও সার্থক কবি।
- সৈয়দ হামজা দোভাষী পুথি সাহিত্যের জনপ্রিয় কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫৬.
কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস?
  1. বিন্দুর ছেলে
  2. বিলাসী
  3. মেজদিদি
  4. বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
• 'বিরাজ বৌ' উপন্যাস:
- 'বিরাজ বৌ' (১৯১৪) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জনপ্রিয় এবং পুস্তক অভিশং আকারে দ্বিতীয় প্রকাশিত উপন্যাস।
- 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে।
- বাঙালি গৃহস্থ জীবনের বাস্তব ছবি এবং বাঙালি নারীর মমত্ব ও কারুণ্যের রূপায়ণের জন্য এই উপন্যাস ভাবাকুলতা সত্ত্বেও অভিনন্দিত হয়। সুন্দরী বিরাজ বৌয়ের নানা সমস্যা এ উপন্যাসের বিষয়।

অন্যদিকে, 
বিন্দুর ছেলে, বিলাসী ও মেজদিদি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৫৭.
‘মৃণালিনী’ উপন্যাসে হেমচন্দ্র কে ছিলেন?
  1. সেনাপতি
  2. বঙ্গদেশের রাজপুত্র
  3. বঙ্গদেশের রাজা
  4. মগধের রাজপুত্র
ব্যাখ্যা
‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উপন্যাস:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- আনন্দমঠ,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৫৮.
প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান এর অগ্রজ কে?
  1. শওকত আলী
  2. শওকত ওসমান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। 
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
-  পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৫৯.
'কাব্যকন্ঠ' কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. বিদ্যাপতি
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি ছিলেন একজন কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অপূর্বদর্শন ,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- কুসুমাঞ্জলি,
- হজরত মহাম্মদ ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি-মনসুর,
- ফেরদৌসী-চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬০.
হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. অলৌকিক ইস্টিমার
  3. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে অলৌকিক ইস্টিমার। 

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল, বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায়।
- তিনি মূলত একজন লেখক ও অধ্যাপক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৬ সালে।
- হুমায়ুন আজাদ মৃত্যুবরণ করেন ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
-  অলৌকিক ইস্টিমার,
-  জ্বলো চিতাবাঘ,
-  সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
-  যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
-  কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬১.
'জমিদার দর্পণ' উপন্যাসটির লেখক-
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মুহাম্মদ আবদুল হাই
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
জমিদার দর্পণ:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  
 
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর, মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬২.
"সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।" - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• "সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।" - চরণদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন কবিতার।

• কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'চন্দ্রবিন্দু' কাব্যের অন্তর্গত।

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন, 
– কাজী নজরুল ইসলাম।

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ সকল অশোভন।
এ প্রাণ প্রভাতি-তারার প্রায়
ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ-নিশায় আনো পূর্ণ চাঁদের স্বপন॥
সকল বিরস হৃদয় মন সরস করো হে,
আশায় সূর্যে মৃত্যু-গহন বিষাদ হরো হে!
কাঁটার ঊর্ধ্বে ফোটাও ফুল,
ভোলাও পথের দুঃখ ভুল,
এ বিশ্ব হোক পূজা-দেউল
পবিত্র-মোহন॥

[উল্লেখ্য, কিছু গাইড বইয়ে এই প্রশ্নের উত্তর হিসেবে শেখ ফজলল করিম দেয়া আছে, যা ভুল।]

উৎস: চন্দ্রবিন্দু কাব্যগ্রন্থ।
৫,২৬৩.
'মানুষ মরে গেলে পচে যায়, বেঁচে থাকলে বদলায়।' বিখ্যাত উক্তিটি কোন নাটকে উদ্ধৃত হয়েছে?
  1. কবর
  2. মানুষ
  3. সাজাহান
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর':
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
---------------
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' পূর্ববাংলার প্রথম প্রতিবাদী নাটক। নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন। 

• 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয়। নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়। সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন। 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

• মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'মানুষ'। ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনি এর মূল উপজীব্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬৪.
‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি কোন ভাষায় রচিত?
  1. পালি
  2. ব্রজবুলি
  3. অপভ্রংশ
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

গীতগোবিন্দম্:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬৫.
পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে কে টি.এস এলিয়টের কবিতার অনুবাদ করেছিলেন?
  1. বিষ্ণু দে
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডব কবিদের মধ্যে বিষ্ণু দে টি. এস. এলিয়টের কবিতার অনুবাদ করেছিলেন। তিনি এলিয়টের বিখ্যাত কবিতা যেমন The Waste Land এবং অন্যান্য রচনার বাংলা অনুবাদ করেন এবং তাঁর নিজের কবিতায়ও এলিয়টের আধুনিকতাবাদী শৈলীর প্রভাব স্পষ্ট ছিল।

------------------
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র'।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিস্যৎ,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
-------------------
• অমিয় চক্রবর্তী: তিনি আধ্যাত্মিকতা ও রোমান্টিকতার দিকে ঝুঁকেছিলেন। টি.এস এলিয়টের কবিতার সঙ্গে তাঁর কবিতার সরাসরি যোগাযোগ ছিল না; তাঁর লেখায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও দার্শনিক চিন্তা প্রাধান্য পেত।

• সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতায় সরাসরি টি. এস. এলিয়টের প্রভাব তেমন স্পষ্ট নয়। 

 • বুদ্ধদেব বসু: তিনি আধুনিকতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের উপর জোর দিয়েছিলেন। পাশ্চাত্য আধুনিকতা ও নান্দনিকতার প্রভাব বেশি ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৬৬.
‘রাজাবলি’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

• তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলি,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৫,২৬৭.
'সাহসি জননী' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. কামাল চৌধুরী
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'সাহসি জননী' কবিতার রচয়িতা কামাল চৌধুরী। 

ড. কামাল চৌধুরী (জন্ম: ২৮ জানুয়ারি, ১৯৫৭) 
- ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ জানুয়ারি কামাল চৌধুরীর জন্ম হয়েছিল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিজয়করা গ্রামে। 
- তাঁর কবিতা বাঙালির আবহমান জীবনচর্যা, সংগ্রাম ও মানবিক বোধের উৎসারণ, সেই সঙ্গে শিল্পিত প্রকরণের উজ্জ্বল প্রকাশ। 
- তিনি শব্দ, ছন্দ সচেতন ও নিরীক্ষাপ্রবণ কবি।  

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ- 
- মিছিলের সমান বয়সী
- টানাপোড়েনের দিন
- এই পথ এই কোলাহল
- এসেছি নিজের ভোরে
- এই মেঘ বিদ্যুতে ভরা
- রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল
- হে মাটি পৃথিবীপুত্র
- পান্থশালার ঘোড়া ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ)
৫,২৬৮.
"প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসনটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "প্রায়শ্চিত্ত" দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন। এটি ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয় এবং "বহুত আচ্ছা" নামে ক্লাসিক থিয়েটারে অভিনীত হয়েছিল। এই প্রহসনে বিলাতফেরত সমাজের অর্থলোলুপতা, কৃত্রিমতা ও বিলাসিতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

উল্লেখ্য, 
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ধনঞ্জয় বৈরাগী, সুরমা, উদয়াদিত্য, বিভা ইত্যাদি।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

উৎস: "প্রায়শ্চিত্ত" প্রহসন; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৬৯.
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থের পটভূমি কী?
  1. ক) দেশ বিভাগ
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ভাষা আন্দোলন
  4. ঘ) গণ অভ্যূত্থান
ব্যাখ্যা
'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'(১৯৬৭) হাসান আজিজুল হক রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ'।
- বাংলাদেশের ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

এতে আছে ৮ টি গল্প -
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পরবাসী,
- সারাদুপুর,
- অন্তর্গত নিষাদ,
- মারী,
- উটপাখি,
- সুখের সন্ধানে,
- আমৃত্যু আজীবন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭০.
'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বিহারিলাল চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ:
- প্রভাতসঙ্গীত হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'প্রভাতসঙ্গীত' (১৮৮৩) একটি কাব্যগ্রন্থ।
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, 'প্রভাতসঙ্গীত আমার অন্তর প্রকৃতির প্রথম বহির্মুখী উচ্ছ্বাস।'
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত কবিতা: নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো- 
- আহ্বানসংগীত, 
- প্রভাত-উৎসব, 
- অনন্ত জীবন, 
- অনন্ত মরণ, 
- পুনর্মিলন, 
- প্রতিধ্বনি, 
- মহাস্বপ্ন, 
- সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়, 
- স্রোত, 
- চেয়ে থাকা, 
- সাধ, 
- সমাপন, 
- স্নেহ উপহার, 
- শরতে প্রকৃতি। 

উৎস: 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থ।
৫,২৭১.
'অপরাহ্ন' নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
  2. খ) রাবেয়া খাতুন
  3. গ) হুমায়ুন আহমেদ
  4. ঘ) আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• 'অপরাহ্ন' নাটকটির রচয়িতা হুমায়ূন আহমেদ। 

»হুমায়ূন আহমেদ-
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস -
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭২.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ছায়া হরিণ
  2. খ) সারা দুপুর
  3. গ) আশায় বসতি
  4. ঘ) রাত্রিশেষ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবিব ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক। তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ। তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- ছায়া হরিণ, সারা দুপুর, আশায় বসতি, মেঘ বলে চৈত্রে যাব, দুই হাতে দুই আদিম পাথর, প্রেমের কবিতা, বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি। অরণ্যে নীলিমা, রানী খালের সাঁকো তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭৩.
'কাঁকর মণি‘ নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. ড. নীলিমা ইব্রাহীম
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আনিস চৌধুরী
  4. শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা
• 'কাঁকর মণি' নাটকটি লিখেছেন - শওকত ওসমান।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

• তাঁর রচিত নাটক:
- কাঁকর মণি, 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৪.
'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'মৌরিফুল' ছোটগল্পের রচয়িতা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প 'উপেক্ষিতা' প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:

• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৫.
"যুগবাণী" গ্রন্থটি কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাট্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

"যুগবাণী" প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নজরুলের প্রথম যে বইটি নিষিদ্ধ হয় তার নাম "যুগবাণী"। 'নবযুগ' পত্রিকায় লেখা কাজী নজরুল ইসলামের কয়েকটি নিবন্ধনের সংকলন হলো এই 'যুগবাণী' প্রবন্ধ গ্রন্থটি।
- ১৯২২ সালের ২৩ নভেম্বর ফৌজদারি বিধির ৯৯এ ধারানুসারে তৎকালীন বাংলার ব্রিটিশ সরকার বইটি বাজেয়াপ্ত করে (গেজেট নং ১৬৬৬১পি)। সেন্ট্রাল প্রভিন্স ও বর্মা সরকার যুগপৎ গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে "যুগবাণী" নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে 'যুগবাণী'কে একটি ভয়ংকর বই হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়, লেখক বইটির মাধ্যমে উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছেন।'ক্রীতদাস মানসিকতার' ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে শাসনভার দখলের মন্ত্রণা জোগাচ্ছেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৭৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল কোনটি?
  1. ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১২০১-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১২০১-১৪৫০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা

প্রাচীন যুগের সময়কাল:
- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহর মতে, ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ৯৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ।

বাংলা সাহিত্যকে তিন যুগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা-
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০), 
২. মধ্যযুগ (১২০১ - ১৮০০) এবং 
৩. আধুনিক যুগ (১৮০১ - বর্তমান)।
মধ্যযুগের প্রথম ১৫০ বছর (১২০১ - ১৩৫০) অন্ধকার যুগ ছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।

৫,২৭৭.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  3. দেয়াল
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তিনি জন্মগ্রঞণ করেন। 
- দৈনিক  সোলতান পত্রিকায় সাবএডিটর হিসেবে আবু জাফরের কর্মজীবন শুরু হয়। 
- ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর প্রথম উপন্যাস পরিত্যক্ত স্বামী প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- ’ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান’,’পদ্মা মেঘনা যমুনা,’ সংকর সংকীর্তন, এ তিনটি উপন্যাসকে ত্রয়ী উপন্যাস বলা হয়।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো- 
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩),
- পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪),
- সংকর সংকীর্তন (১৯৮০),
- দেয়াল (১৯৮৫);

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
জীবন (১৯৪৮),
রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা (১৯৭৮),
ল্যাংড়ী (১৯৮৪);

• তাঁর রচিতপ্রবন্ধ:
চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য (১৯৬৪),
Sociology of Bengal Politics (১৯৭৩),
সোচ্চার উচ্চারণ (১৯৭৭),
লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি (১৯৮৮) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৭৮.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. কল্লোল
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• 'কল্লোল' কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা নয়। 
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক - দীনেশরঞ্জন দাশ। 

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।
--------------
• 'দৈনিক নবযুগ': 
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাছাড়া,
- দীনেশরঞ্জন দাশ সম্পাদিত পত্রিকা- 'কল্লোল' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৭৯.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কত সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৮৪০ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮৭৫ সালে
  4. ১৮৪৫ সালে
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত। 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮০.
"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

"গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস সম্পর্কে কিছু কথা:
'গাভী বিত্তান্ত' লেখক আহমদ ছফা রচিত একটি বাস্তবিক গভীর পর্যবেক্ষণে রচিত উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
গাভী বিত্তান্ত উপন্যাসে চিত্রায়িত হয়েছে একজন উপাচার্যের গোলামি আর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির নোংরা কদর্য রূপ।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
রসায়নের অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ আবু জুনায়েদ দেশের সেরা ও প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নির্বাচিত হয়েছেন। রসায়ন বিভাগের সুন্দরী শিক্ষিকা দিলরুবা খানমের আকর্ষণে জুনায়েদ ডোরাকাটা দলের শিক্ষক রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছিলেন। পূর্ববর্তী উপাচার্যের উপর ক্ষোভবশত দিলরুবা খানম তাঁর নারীপ্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জুনায়েদকে উপাচার্য প্যানেলে ঢুকিয়ে দেন। স্বৈরাচারী সরকারের অবাধ্য হবে না বলে রাষ্ট্রপতি (যিনি পদাধিকারবলে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও) জুনায়েককেই উপাচার্য নিয়োগ দেন। এই উপাচার্যের পদে আসীন হওয়ার পর জুনায়েদের চরিত্রের বিবর্তনকে ঘিরে আবর্তিত হয় উপন্যাসের কাহিনি।

ঠিকাদার শেখ তবারক আলী উপাচার্যকে হাতে রাখতে জুনায়েদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে একটি দুর্লভজাতের গাভী কিনে দেন এবং ভিসির বাংলোতে শেখ তবারক আলী নিজ জামাতা বুয়েটপাস সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবেদ হোসেনকে দিয়ে গোয়ালঘর বানিয়ে দেন। পরবর্তীতে উপাচার্য আবু জুনায়েদের জীবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ সবটাই হয়ে পড়ে গোয়ালঘরকেন্দ্রিক। এই গোয়ালঘরকে রঙ্গমঞ্চ বানিয়ে আহমদ ছফা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দৈন্যদশা এবং শিক্ষকরাজনীতির নোংরা বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

উৎস: "গাভী বিত্তান্ত" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস।

৫,২৮১.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক -
  1. প্রসন্ন শহর
  2. মহাকবি আলাওল
  3. মাটি আর অশ্রু
  4. পূরবী
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক- 'মহাকবি আলাওল'।

• সিকান্দার আবু জাফর:
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
প্রসন্ন শহর;
- তিমিরান্তিক;
- বৈরী বৃষ্টিতে;
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা;
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান;

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু;
- জয়ের পথে;
- নবী কাহিনী;
- পূরবী

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস;
- সেন্ট লুইয়ের সেতু;
- রুবাইয়াৎ:ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮২.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূন্যপুরাণ
  3. পদাবলী কীর্তন
  4. প্রাকৃতপৈঙ্গল
ব্যাখ্যা
• রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ হচ্ছে 'শূন্যপুরাণ'।

• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন।
- গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৫,২৮৩.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) পলাশী থেকে ধানমন্ডি
  2. খ) দৃষ্টিকোণ
  3. গ) শেষ রাত্রির তারা
  4. ঘ) কমলে চোখ
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন(১৮৯৭-১৯৭৮) রচিত গ্রন্থ হলোঃ ত্রিস্রোতা, খরতরঙ্গ, দৃষ্টিকোণ, নতুন দেশ নতুন চীন, পলাশী থেকে পাকিস্তান, অতীত জীবনের স্মৃতি (আত্মজীবনী) রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৫,২৮৪.
‘খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।’ পঙক্তিটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসের?
  1. ক) লালসালু
  2. খ) বহিপীর
  3. গ) তরঙ্গভঙ্গ
  4. ঘ) উজানে মৃত্যু
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার(১৯৬১), আদমজি পুরস্কার (১৯৬৫), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্’র 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের পেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: ‘খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।’
- ‘লালসালু’ উপন্যাসটি ইংরেজি অনুবাদ করেন ল্য অরবরে সমাস মায়েমেঁ । উপন্যাসটি ‘ট্রি উইথ আউট রুটস্’ নামে অনূদিত হয়ে খ্যাতি অর্জন করে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৮৫.
অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন কে?
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান (জুন ১৪, ১৯৩২ – এপ্রিল ১, ১৯৮৩) বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, সাংবাদিক ও সমালোচক ছিলেন।
- বেগম পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন।
- অমর একুশের প্রথম সাহিত্য সংকলন' একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পাদনা করেন তিনি
- হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৬ খন্ডে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র (১৯৮২-৮৩) প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫,২৮৬.
বিদ্যাপতির উপাধিগুলোর মধ্যে কোনটি নেই?
  1. নব কবিশেখর
  2. রাজপণ্ডিত
  3. কবিরঞ্জন
  4. রাজকবি
ব্যাখ্যা

রাজকবি - বিদ্যাপতির উপাধি নয়।
• বিদ্যাপতির উপাধি ছিল - নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য - গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৫,২৮৭.
বিদ্রোহী বালিকা বধূ “জমিলা” কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) অপুর সংসার
  2. খ) গাভী বৃত্তান্ত
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

লালসালু (১৯৪৮) সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ কর্তৃক রচিত।
গ্রাম বাংলার মানুষের অশিক্ষা-কুশিক্ষা এবং ধর্মীয় ভন্ডামীর চিত্র উপন্যাসটির মূল উপজীব্য।

এটি ফরাসি ও ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
ইংরেজি অনুবাদের নাম “ Tree without roots”।
উপন্যাসের প্রধান চরিত্র - মজিদ, জমিলা এবং আমেনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)

৫,২৮৮.
''আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ।''
পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস,
আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্নিশ!
-বিদ্রোহী, কাজী নজরুল ইসলাম।

'বিদ্রোহী' কবিতাটি কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'র দ্বিতীয় কবিতা।
এই কাব্যগ্রন্থে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে।
এর প্রথম কবিতা 'প্রলয়োল্লাস'।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫,২৮৯.
'ভবিষ্যতের বাঙালি' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) নীহাররঞ্জন দাস
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) নীরদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ভবিষ্যতের বাঙালি গ্রন্থের জন্য এস ওয়াজেদ আলী বিখ্যাত হয়ে থাকবেন। সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত দেশ গঠনের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। উৎস: শীকর, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৫,২৯০.
‘এক ধরনের অহংকার’ কী ধরনের রচনা?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্য - প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যু। এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর ডাক নাম বাচ্চু
- মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর ৬৫ টি কাব্য প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য হলো :
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- এক ধরনের অহংকার
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ
- এক ফোঁটা কেমন অনল
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৫,২৯১.
বাংলা সাহিত্যে ‘বন্দীর বন্দনা’ কোন ধরনে সাহিত্য রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছোট গল্প
ব্যাখ্যা
- খ্যাতিমান কবি বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৪) এর বিখ্যাত কাব্য ‘বন্দীর বন্দনা’।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্ককাতী
- পৃথিবীর পথে
- দয়মন্তী
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি 
– তাঁর বিখ্যাত পত্রিকা ‘কবিতা’।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
৫,২৯২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু 
  4. নিমাই ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দূর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

----------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচনাসমগ্র:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
ব্যথার দান,
রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

• নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া। 

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৫,২৯৩.
'জমিদার দর্পণ' নাটকটির পটভূমি রচিত হয়েছিলো কোন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে?
  1. ক) সিরাজগঞ্জ
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) মুন্সিগঞ্জ
  4. ঘ) নারায়নগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• 'জমিদার দর্পণ' নাটকটির রচয়িতা মীর মোশাররফ হোসেন।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।

• মীর মোশাররফ হোসেনের জন্ম ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায়।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক  কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। 
- প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯)
- তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনী বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য নাটক: 
- বসন্তকুমারী  (১৮৭৩)
- এর উপায় কি (১৮৭৫)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৯৪.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচনা?
  1. ক) শিশু ভোলানাথ
  2. খ) রুদ্রমঙ্গল
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) লীলাবতী
ব্যাখ্যা

১৯২৬ সালে প্রকাশিত যুগবাণী কবি নজরুল রচিত প্রথম প্রবন্ধ গ্রন্থ। তবে তার প্রথম প্রবন্ধ হলো তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা যা ১৯১৯ সালে প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য প্রবন্ধ গ্রন্থসমূহ হলো- দুর্দিনের যাত্রী, রাজবন্দির জবানবন্দি, রুদ্রমঙ্গল, মসজিদ ও মন্দির এবং আমি সৈনিক।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫,২৯৫.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি কে?
  1. মুহম্মদ খান
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. সাবিরিদ খান
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷ তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,২৯৬.
'অশ্রুমালা' - কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. প্রহসন
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম।
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৯৭.
'শেষ রজনীর চাঁদ' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'শেষ রজনীর চাঁদ' উপন্যাসটি রচনা করেন - আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,২৯৮.
নিচের কোন পত্রিকাটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়নি?
  1. উত্তরাধিকার
  2. ধানশালিকের দেশ
  3. বার্তা
  4. ঢাকা নিউজ
ব্যাখ্যা

• 'ঢাকা নিউজ' পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
- এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল আলেক্সান্ডার ফর্বেসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয়। 

• অন্যদিকে:
- বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি পত্রিকা:
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

• উত্তরাধিকার:
- মাসিক পত্রিকা।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

• ধানশালিকের দেশ:
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা।
- কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা:
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বাংলা একাডেমি জার্নাল:
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
- বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৫,২৯৯.
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ইব্রাহীম খাঁ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের অন্যতম কর্ণধার ছিলেন আবুল ফজল।

আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ।

নাটক: 
- কায়েদে আজম 
- প্রগতি 
- স্বয়ম্বরা 

দিনলিপ:
- রেখাচিত্র 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫,৩০০.
রাধা কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. কাশীরাম দাস
ব্যাখ্যা
⇒ বিদ্যাপতি:
• বিদ্যাপতি বিভিন্ন শাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন, তবে সংস্কৃত কাব্য ও অলংকার শাস্ত্রে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। 
• তিনি ব্রজবুলি ভাষায় রাধা-কৃষ্ণের পাঁচশ’র বেশি পদ রচনা করেছেন।
• তাঁর পদাবলি তত্ত্ব দ্বারা আক্রান্ত নয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখেছেন।
• তাঁর অসখ্য পদের মধ্যে রাধার বয়ঃসন্ধি, রাধার অভিসার, প্রেম বৈচিত্ত্য, বিরহ ও ভাবসম্মিলনের পদগুলো দৃষ্টি কেড়ে নেয়।

তাঁর রচিত রাধার বর্ষাবিরহ পদ-
এ সখি হামারি দুখের নাহি ওর। 
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর
শূন্য মন্দির মোর।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্র জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।