বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪৯ / ২১১ · ৪,৮০১৪,৯০০ / ২১,১৩২

৪,৮০১.
নিচের কোন গ্রন্থটি উইলিয়াম কেরীর রচনা?
  1. ক) ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট
  2. খ) হিতোপদেশ
  3. গ) লিপিমালা
  4. ঘ) ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা
• উইলিয়াম কেরী: 
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, লাল নীল দীপাবলি (হুমায়ুন আজাদ) এবং বাংলাপিডিয়া। 
৪,৮০২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নীল দংশন' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শওকত ওসমান
  3. শওকত আলী
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা

• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'নীল দংশন' রচনা করেন - সৈয়দ শামসুল হক

সৈয়দ শামসুল হক: 
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কর্তৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৮০৩.
ভারত সরকার কর্তৃক কাজী নজরুল ইসলামকে ‘পদ্মভূষণ’ প্রদান করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৬০
  2. খ) ১৯৭২
  3. গ) ১৯৭৪
  4. ঘ) ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

ভারত সরকার ১৯৬০ সালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'পদ্মভূষণ' পদক প্রদান করে।
১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশের নাগরিকত্ব, একুশে পদক প্রদান করা হয় ১৯৭৬ সালে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮০৪.
সুকুমার রায় এর পিতার নাম কী?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়
  2. খ) সত্যজিৎ রায়
  3. গ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. ঘ) ভবেশ রায়
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায় ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরীর পুত্র। সুকুমার রায়ের পুত্রের নাম সত্যজিৎ রায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮০৫.
বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারক ছিলেন-
  1. অজিত দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. চন্দ্রকুমার দে
  4. শ্রী চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা

- শ্রী চৈতন্যদেব ছিলেন একজন বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারক।
- তার প্রকৃত নাম ছিল বিশ্বম্ভর।
- নিম বৃক্ষের নিচে জন্মগ্রহণ করেন বলে ডাকনাম ছিল 'নিমাই'।
- তাঁর গায়ের রং গৌরবর্ণ ছিল বলে সবাই ডাকত 'গৌরাঙ্গ' বা সংক্ষেপে গোরা বলে।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮০৬.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ইছামতি
  2. খ) মেঘমল্লার
  3. গ) মৌরিফুল
  4. ঘ) যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
মেঘমল্লার, মৌরিফুল, যাত্রাবদল - বিভূতিভূষণ বন্ধ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত কয়েকটি গল্পগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম।
অপরদিকে, ‘ইছামতি’ হলো লেখকের রচিত শেষ রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
-----------
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।

- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল । 
--------------
‘ইছামতি’ উপন্যাসের উপজীব্য:  
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাড়য্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীল লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ। একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন।
- ইংরেজ শাসকদের প্রভাবে কৃষিনির্ভর বাঙালির মনে যে বাণিজ্য-চেতনা জাগে নালুপাল যেন তারই প্রতীক। প্রচলিত সংস্কার ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে নারী জাগরণের প্রতিনিধি নিস্তারিনী।
- নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আছে এ উপন্যাসে।
- একটি ঐতিহাসিক পটভূমিকায় নদীতীরবর্তী সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে উপন্যাসটি চিহ্নিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
৪,৮০৭.
'জীবন আমার বোন' উপন্যাসের মূল্য উপজীব্য কী?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. প্রেম
  4. গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮০৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. বঙ্গসুন্দরী
  3. বন্ধু বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

• সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদামঙ্গল' (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 'আর্যদর্শন' পত্রিকায়। আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত। ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- কাব্যগ্রন্থটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, "সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।"

অন্যদিকে, 
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সারদামঙ্গল'কাব্য।

৪,৮০৯.
'মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু’চোখে তার
শত্রু হননের আহবান।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. মাহবুব আলম চৌধুরী
  2. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• 'মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল<br />অনলজ্বালা, দু&rsquo;চোখে তার<br />শত্রু হননের আহবান।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। 
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,  

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

কবিতায় কি লিখব?
যখন আসাদ
মনিরামপুরেরর প্রবল শ্যামল
হৃদয়ের তপ্ত রুধিরে করেছে রঞ্জিত
সারা বাংলায় আজ উড্ডীন
সেই রক্তাক্ত পতাকা।
আসাদের মৃত্যুতে আমি
অশ্রুহীন; অশোক; কেননা
নয়ন কেবল বজ্রবর্ষী; কেননা
আমার বৃদ্ধ পিতার শরীরে
এখন পশুদের প্রহারের
চিহ্ণ; কেননা আমার বৃদ্ধা মাতার
কণ্ঠে নেই আর্ত হাহাকার, নেই
অভিসম্পাত- কেবল
দুর্মর ঘৃণার আগুন; কোন
সান্ত্বনা বাক্য নয়, নয় কোন
বিমর্ষ বিলাপ; তাঁকে বলি নি
'তোমার ছেলে আসল ফিরে
হাজার ছেলে হয়ে
আর কেঁদো না মা'; কেননা
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
৪,৮১০.
নিচের কোনটি ভিন্ন ?
  1. চোখের বালি
  2. ডাকঘর
  3. তাসের দেশ
  4. প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা
• 'যোগাযোগ' - রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাস। 
- 'ডাকঘর', তাসের দেশ, প্রায়শ্চিত্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক।
------------------------- 
• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর': 
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়।
-------------------- 
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।
------------- 
• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।
--------------

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১১.
আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. খাঁচায়
  2. উপমহাদেশ
  3. ফেরারী সূর্য
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা

 - কবি আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- উপমহাদেশ। 

আল মাহমুদ: 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল-মাহমুদ। 
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন। 
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্যখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যগ্রন্থ: 
- লোক লোকান্তর, 
- কালের কলস, 
- সোনালী কাবিন, 
- বখতিয়ারের ঘোড়া ইত্যাদি। 

 • উপন্যাস: 
- ডাহুকী, 
- উপমহাদেশ ( মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক), 
- আগুনের মেয়ে, 
- চেহারার চতুরঙ্গ, 
- কাবিলের বোন। 

গল্পগ্রন্থ: 
- পানকৌডির রক্ত, 
- সৌরভের কাছে পরাজিত, 
- ময়ূরীর মুখ ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'।
- রশীদ হায়দারের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস- খাঁচায়।
- রাবেয়া খাতুন ফেরারী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - ’ফেরারী সূর্য’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮১২.
কত সালে সেলিনা হোসেন 'মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক' লাভ করেন?
  1. ১৯৬৩
  2. ১৯৬৫
  3. ১৯৬৭
  4. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
সেলিনা হোসেন:
- তিনি ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূলবিষয় অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- তিনি মুহম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্‌ পুরস্কার (১৯৮৮), বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘর গেরস্থির রাজনীতি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনুঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৩.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) মহাকবি আলাউল
  2. খ) তরঙ্গভঙ্গ
  3. গ) গণনায়ক
  4. ঘ) জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন
ব্যাখ্যা

সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫): সাহিত্যিক, সাংবাদিক।

কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসন্ন শহর (১৯৬৫),
- তিমিরান্তিক (১৯৬৫),
- বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫),
- বৃশ্চিক-লগ্ন (১৯৭১),
- বাংলা ছাড়ো (১৯৭১)।

নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা (১৯৬৫),
- মহাকবি আলাউল (১৯৬৬)।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৪,৮১৪.
'চাচা কাহিনী'র লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ হক
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঘ) ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৫.
“একুশে ফেব্রুয়ারি” সংকলন গ্রন্থটি প্রথম সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান আজিজুল হক
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আবুল হোসেন
  4. ঘ) মুহাম্মদ সুলতান
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের উপর প্রথম সংকলন ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এর সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান। এতে ৬টি বিভাগে ২২ জন লেখকের লেখা আছে।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-মোহসীনা নাজিলা
৪,৮১৬.
নাগেন্দ্রনাথ বসু কত বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে 'শূন্যপুরাণ' প্রকাশ করেন?
  1. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১২ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• শূণ্যপুরাণ:
- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮১৭.
‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডারে শূন্য-
সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।’ - উক্তিদ্বয় কার?
  1. আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘যে জাতির জ্ঞানের ভাণ্ডারে শূন্য-
সে জাতি ভাঁড়েও ভবানী।’ - উক্তিদ্বয় 'বইপড়া' প্রবন্ধ থেকে সংকলিত হয়েছে। 'বইপড়া' প্রবন্ধের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮১৮.
নিচের কোনটি কাজী আবদুল ওদুদ এর রচিত গ্রন্থ নয়?
  1. ক) শাশ্বত বঙ্গ
  2. খ) নদীবক্ষে
  3. গ) ব্যবহারিক শব্দকোষ
  4. ঘ) নিশুতি রাতের গাথা
ব্যাখ্যা
• ‘নিশুতি রাতের গাথা‘ হলো আনোয়ার পাশা রচিত একটি উপন্যাস।অন্যদিকে শাশ্বত বঙ্গ, নদীবক্ষে, ব্যবহারিক শব্দকোষ  তিনটি গ্রন্থই হলো কাজী আবদুল ওদুদ এর।

• কাজী আবদুল ওদুদ (২৬ এপ্রিল ১৮৯৪ - ১৯ মে ১৯৭০) একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন।
• তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার (বর্তমান রাজবাড়ী জেলার) পাংশায় একটি নিম্ন - মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
• ১৯৭০ সালের ১৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• প্রবন্ধ
- শাশ্বত বঙ্গ
- সমাজ ও সাহিত্য 
- রবীন্দ্রকাব্য পাঠ 
- হিন্দু-মুসলমান বিরোধ
- কবিগুরু গ্যেটে 
• উপন্যাস
- আজাদ (উপন্যাস), 
- নদীবক্ষে (উপন্যাস), 
• তাছাড়া--
- মির পরিবার (গল্প),
- মানব বন্ধু (নাটক), 
- পথ ও বিপথ (নাটক), 
- তরুণ (গল্প),
• তার সম্পাদনায় সংকলিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান – ব্যবহারিক শব্দকোষ (১৯৫৩)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং সৌমিত্র শেখর।
৪,৮১৯.
"টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের কত নং পদ?
  1. ২২ নং 
  2. ৩৯ নং 
  3. ৩৩ নং 
  4. ২ নং 
ব্যাখ্যা

• "টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়িত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী।।'- চর্যাপদের ৩৩নং পদটির রচয়িতা চর্যাকার ঢেণ্ডণপা।

অর্থ: অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভীড় করে।

• ঢেণ্ডণপা: 
- ঢেণ্ডণপা নবম শতকের কবি ছিলেন। 
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন। 
- চর্যাকার ঢেণ্ডণপা রচিত পদসংখ্যা ১টি (৩৩নং পদ)।
- এই একটি পদে বাঙালি জীবনে চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮২০.
মধ্যযুগের নিখুঁত খল চরিত্র কোনটি?
  1. ক) মুরারী শীল
  2. খ) ভাড়ুদত্ত
  3. গ) মনসা
  4. ঘ) কৃষ্ণ
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কালকেতু-ফুল্লরা উপাখ্যানের ভাড়ুদত্তকে মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ খল চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উৎস : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যেল মূল বই, মঙ্গলকাব্যের মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
৪,৮২১.
'রসগোল্লা' রম্যরচনার লেখক -
  1. আবু ইসহাক
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'রসগোল্লা' রম্যরচনা:
- 'রসগোল্লা' রম্যরচনার লেখক - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- রচনাটি 'ধূপছায়া গ্রন্থের অন্তর্গত।
- "ঝান্ডুদা" গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
-----------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।   
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:

• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী। 

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮২২.
দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে বিজন ভট্টাচার্য রচিত কোন নাটকে?
  1. জনপদ
  2. কলঙ্ক
  3. মরাচাঁদ
  4. নবান্ন
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- বিজন ভট্টাচার্যের প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটক। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় নবান্ন নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করেন এবং অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, গঙ্গাপদ বসু, শোভা সেন, গোপাল হালদার প্রমুখ।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক।
এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক। 'মরাচাঁদ' চবিবশ পরগনার এক অন্ধ গায়কের জীবনকাহিনী, আর 'কলঙ্ক' বাঁকুড়ার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবনালেখ্য।

• তাঁর 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্ত্ত ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। পরে তিনি লেখেন মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে অবরোধ (১৯৪৭)। ১৯৬৬-তে লেখেন দেবীগর্জন ও বেদেদের জীবন নিয়ে গর্ভবতী জননী।

• এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত ‘জনপদ’ এবং দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত ‘রাণী পালঙ্ক’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৩.
​চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে ভুসুকুপা কততম স্থান অধিকার করেন?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল। ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৮২৪.
কোন লেখিকার ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

অন্যদিকে,
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৫.
কোন উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে?
  1. ধানকন্যা
  2. জীবন জমিন
  3. কর্ণফুলী
  4. খােয়াবনামা
ব্যাখ্যা
‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস - খােয়াবনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৮২৬.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয় কোন কাব্যগ্রন্থকে?
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সঙ্গীত শতক
  3. নিসর্গ সন্দর্শন
  4. সাধের আসন
ব্যাখ্যা
'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।
- কবি শুরুই করেছেন এভাবে: ‘ধেয়াই কাহারে দেবী নিজে আমি জানিনে/ কবিগুরু বাল্মীকির ধ্যান-ধনে চিনিনে।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৮২৭.
নিচের কোনটি  প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. দুই সৈনিক
  4. নেকড়ে অরণ্য
ব্যাখ্যা

ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:

- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮২৮.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কী বলা হয়?
  1. ব্যক্তিগত সচিব
  2. কাব্যগুরু
  3. অনুকরণকারী
  4. কবিবন্ধু
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের — কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা — ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮২৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. রামরাম বসু
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. উইলিয়াম কেরি
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩০.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' কোন আঙ্গিকের সাহিত্যকর্ম? 
  1. গীতিনাট্য
  2. চলচ্চিত্র
  3. উপন্যাস
  4. কাহিনি কাব্য
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘অনিল বাগচীর একদিন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
------------------------------------
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসের খুঁটিনাটি: 
- হুমায়ূন আহমেদের 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অস্থির ও ভয়াবহ সময়কে কেন্দ্র করে রচিত একটি ট্র্যাজিক আখ্যান।
- অনিল বাগচীর একদিন মূলত এক ভীতু কিন্তু মানবিক মানুষের সাহস ও আত্মত্যাগের বেদনাময় কাহিনি। 
- কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত তরুণ হিন্দু যুবক অনিল বাগচী। 
- অনিলের জীবন জুড়ে বিরাজ করে নিরাপত্তাহীনতা, ভয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা।
- ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব, পারিবারিক দায়িত্ব এবং পরিস্থিতির চাপে তার পালিয়ে বাঁচার মানসিকতা ক্রমশ প্রকট হয়ে ওঠে, যা উপন্যাসের আবেগঘন প্রবাহকে গতি দেয়।

- টাঙ্গাইলের রূপেশ্বরে অবস্থানরত বাবা ও ছোট বোন অণিমার নিরাপত্তা নিয়ে সে গভীর উদ্বেগে পড়ে; 
- কারণ চারদিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিপীড়ন এবং হিন্দু পরিবারগুলোর ওপর সহিংসতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
- উপন্যাসে টাঙ্গাইলে বাবা ও ছোট বোন অণিমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাওয়ার পথে পাকিস্তানি সেনা ও দেশীয় দালালদের ভয়ে অনিলের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চিত্রিত হয়েছে।
- শেষ পর্যন্ত উপন্যাসটি অনিল বাগচীর জীবনের করুণ পরিণতির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা ও সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থাকে গভীরভাবে তুলে ধরে।
----------------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, গীতিকার, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি সাহিত্যিক।
- তিনি স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সাহিত্যে অসামান্য প্রভাব ফেলেছেন।
- তাঁর জনপ্রিয় চরিত্রের মধ্যে রয়েছে হিমু, মিসির আলি এবং শুভ্র।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
• আজ রবিবার;
• কোথাও কেউ নেই।

- হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
• সৌরভ;
• জোছনা ও জননীর গল্প;
• শ্যামল ছায়া;
• ১৯৭১;
অনিল বাগচীর একদিন;
• আগুনের পরশমনি।

- এছাড়া তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে আছে:
• নন্দিত নরকে;
• শঙ্খনীল কারাগার;
• লীলাবালি;
• বাদশা নামদার।
------------------------------------------- 

উৎস:
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩১.
কোন সুলতানের রাজত্বকালে শাহ মুহম্মদ সগীর 'ইউসুফ-জুলেখা' রচনা করেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  2. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ 
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোমাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি - শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম — ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।
--------------
ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
• ইউসুফ-জোলেখা’ শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য।
• গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।
• বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।
• পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জুলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তকে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩২.
'বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান'-এর সম্পাদক কে?
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক হলেন আহমদ শরীফ।
• অভিধান ও শব্দকোষ মিলে ২০০৯ সাল নাগাদ বাংলা একাডেমি প্রায় সত্তরটি অভিধান প্রকাশ করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাকৃতি পরিভাষাকোষ যেমন রয়েছে, তেমনি বহুখণ্ডে প্রকাশিত অভিধানও রয়েছে।

-----------------
এসব অভিধানের মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অভিধানের নাম:
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। 
- চরিতাভিধান - শামসুজ্জামান খান প্রমুখ। 
- উচ্চারণ অভিধান-  নরেন বিশ্বাস। 
- সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান, দু-খণ্ড - আবু ইসহাক, ১৯৯৩ ও ১৯৯৮)। 
- বানান অভিধান- জামিল চৌধুরী। 
- 'লেখক অভিধান' আশফাক-উল-আলম প্রমুখ,
- মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান-  মোহাম্মদ আবদুল কাইউম প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪,৮৩৩.
সুফিয়া কামাল রচিত প্রথম গল্প- 
  1. বাসন্তী
  2. সাঁঝের মায়া
  3. সৈনিক বধূ
  4. মায়া কাজল
ব্যাখ্যা

সুফিয়া কামাল:
- বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তাকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।

তার রচিত:
- প্রথম কবিতা - বাসন্তী; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাঁঝের মায়া; এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৮ সালে এবং এর মুখবন্ধ লিখেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
- প্রথম গল্প -- সৈনিক বধূ; এটি বরিশালের 'তরুণ ' পত্রিকায় ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

সুফিয়া কামালের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- উদাত্ত পৃথিবী,
- মায়া কাজল,
- অভিযাত্রিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩৪.
কালিকামঙ্গল কাব্যের অপর নাম কী?
  1. ক) ধর্মমঙ্গল
  2. খ) বিদ্যাসুন্দর
  3. গ) হাকন্দপূরাণ
  4. ঘ) শিবনারায়ণ
ব্যাখ্যা
অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ
- কালিকামঙ্গল
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক।
- বিদ্যাসুন্দর কাব্যের আরো দুজন কবি হচ্ছেন রমাপদ সেন ও সাবিরিদ খান।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৫.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৬.
‘বিনোদিনী' রবীন্দ্রনাথ রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. গোরা
  2. চিত্রাঙ্গদা 
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি 
ব্যাখ্যা

• ‘বিনোদিনী' রবীন্দ্রনাথ রচিত চোখের বালি উপন্যাসের চরিত্র। 

- 'চোখের বালি':
- চোখের বালি উপন্যাসটি ১৯০১-০২ সালে 'নবপর্যায় বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এবং ১৯০৩ সালে এটি বই আকারে প্রকাশিত হয়।
- চোখের বালি' উপন্যাসটি একটি জটিল ত্রিভুজ প্রেমের গল্প।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলি হলো- মহেন্দ্র, বিনোদিনী, এবং বিহারী, এবং আশালতা।
- উপন্যাসে দেখানো হয়েছে যে কিভাবে তারা প্রেমের জটিল আবর্তে জড়িয়ে পড়ে বিপর্যস্ত হয়।
- এই কাহিনিটি শুধু প্রেমের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক সংস্কার এবং ব্যক্তিজীবনের সংঘাতকেও ফুটিয়ে তুলেছে। 
-----------------------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।
- তাঁকে ‘কবিগুরু’ উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন। 
- আর ‘গুরুদেব’ উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হলো ‘বউঠাকুরানির হাট’ এবং
- তাঁর অগ্রন্থিত উপন্যাস হলো ‘করুণা’।
রবীন্দ্রনাথের মোট ১৩টি উপন্যাস রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• ‘শেষের কবিতা’- এটি একটি কাব্যধর্মী উপন্যাস; এর বিখ্যাত চরিত্র হলো- লাবণ্য, অমিতরায়, শোভনলাল ও কেতকী।
• ‘গোরা’ একটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক উপন্যাস।
• আর ‘চোখের বালি’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস; যার প্রধান চরিত্র হলো- মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী ও বিনোদিনী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৩৭.
"হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• "হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!" - কবিতাংশটুকু কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

•'পাপ' কবিতা: 
- 'পাপ' কবিতাটি কবির 'সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের অন্তর্গত। 
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত হয়। 
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে । সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ
- পাপ
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য
- কুলি-মজুর ইত্যাদি।
---------------------- 
পাপ- কবিতা, 
- কাজী নজরুল ইসলাম। 

সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’ কে আছে পুরুষ-নারী?

হেথা সবে সম পাপী,
আপন পাপের বাট্‌খারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি!
জবাবদিহির কেন এত ঘটা যদি দেবতাই হও,
টুপি প’রে টিকি রেখে সদা বল যেন তুমি পাপী নও। 
পাপী নও যদি কেন এ ভড়ং, ট্রেডমার্কার ধুম? 
পুলিশী পোশাক পরিয়া হ’য়েছ পাপের আসামী গুম। (সংক্ষেপিত) 

উৎস: সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৩৮.
ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন কোন নাট্যপরিচালক?
  1. ক) দীনবন্ধু মিত্র
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  4. ঘ) গিরিষচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
গিরিশচন্দ্র ঘোষ, (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
• ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
১৮৭২ সালে তিনিই প্রথম বাংলা পেশাদার নাট্য কোম্পানি ন্যাশানাল থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেন।
• গিরিশচন্দ্র প্রায় চল্লিশটি নাটক রচনা করেছেন এবং ততোধিক সংখ্যক নাটক পরিচালনা করেছেন।
• ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এই মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

• পৌরাণিক নাটক
- রাবণবধ 
- সীতার বনবাস 
- সীতার বিদ্রোহ 
- লক্ষ্ণণ বর্জন
- রামের বনবাস
- সীতাহরণ 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস
-পাণ্ডব গৌরব 

• রোমান্টিক নাটক
- মুকুলমুঞ্জরা
- আবু হোসেন

• ঐতিহাসিক নাটক
- সিরাজদ্দৌলা
- মীরকাশিম 
- ছত্রপতি শিবাজী 
- অশোক 

• কৌতুক নাটক
- হীরার ফুল 
- সপ্তমীতে বিসর্জন 
- বড়দিনের বখশিশ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৩৯.
নিচের কোনটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের উপন্যাস?
  1. জোহরা
  2. কুসুমাঞ্জলী
  3. বঙ্গসুন্দরী
  4. আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
'জোহরা' উপন্যাস: 
- জোহরা উপন্যাসের রচয়িতা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন। 
- জোহরা উপন্যাসে সে আমলের মুসলমান সমাজের অন্যায় অনাচার রূপ দিয়েছেন।
- কন্যার মতামত অগ্রাহ্য করে আত্মীয় স্বজনেরা বিয়ে দিতে গিয়ে মেয়েদের জীবনে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি করে তা-ই এ উপন্যাসের উপজীব্য।

অন্যদিকে,
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ - কুসুমাঞ্জলি।
- 'বঙ্গসুন্দরী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- মোহাম্মদ নজিবর রহমানের জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।
 
তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।
 
কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।
 
গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪০.
'ইউসুফ জুলেখা' প্রণয়কাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
• শাহ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন। অ
- নুবাদ সাহিত্যে বা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ্ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম - ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪১.
দীনবন্ধু মিত্রের পিতৃদত্ত নাম কী ছিলো?
  1. নীলকান্ত মিত্র
  2. নবীন তপস্বী
  3. গন্ধর্বনারায়ণ
  4. নীললোহিত
ব্যাখ্যা

সাহিত্যিক পরিচিত:
দীনবন্ধু মিত্র ছিলেন একজন প্রখ্যাত — নাট্যকার। তিনি জন্মগ্রহণ করেন — ১৮৩০ সালে — পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিলো — গন্ধর্বনারায়ণ। দারিদ্র্যের মধ্যেও তিনি সাহিত্যচর্চায় মন দেন। কলেজজীবনে তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংস্পর্শে আসেন এবং তাঁর অনুপ্রেরণায় কবিতা লেখা শুরু করেন। প্রথম দিকে তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয় — সংবাদ প্রভাকর, সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকায়। তবে তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন নাটক ও প্রহসন রচনার মাধ্যমে।

দীনবন্ধু মিত্র সম্পর্কিত কিছু গুরুতপূর্ণ তথ্য:
তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
• শ্রেষ্ঠ নাটক: নীল-দর্পণ।
• তাঁর কাব্যগ্রন্থ- দ্বাদশ কবিতা ও সুরধুনী কাব্য।
• বিয়ে পাগলা বুড়ো ও জামাই বারিক দুটি প্রহসন।

উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ:
- নবীন তপস্বিনী;
- লীলাবতী;
- নীলদর্পণ;
- কমলে কামিনী।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ -
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; ব্রিটানিকা।

৪,৮৪২.
‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে।'- কোন রচনার অংশ?
  1. ক) ১৯৫২
  2. খ) একুশের কবিতা
  3. গ) একুশের গল্প
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
‘ওই যে লোকটা বলছিল সে বার্নাডশ হবে, পরশু রাতে মারা গেছে। - উদ্দৃতাংশটি জহির রায়হান রচিত একুশের গল্প থেকে নেয়া হয়েছে।

- এই গল্পটি জহির রায়হান রচনাবলি ২য় খণ্ড থেকে চয়িত হয়েছে।
এই গল্পের মূলকথা হচ্ছে -
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের এক উদ্দাম হৃদয়বান, প্রাণবন্ত তরুণ শহিদ হয়। কিন্তু পুলিশ সেই লাশ গুম করে ফেলে।
- তাঁর কঙ্কাল মেডিক্যাল কলেজে পড়ুয়া এক বন্ধু আবিষ্কার করে।

- জর্জ বার্নার্ড শ আয়ারল্যান্ড এর নাট্যকার ও সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯২৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।
- ‘ম্যান অ্যান্ড সুপার ম্যান', সেন্ট জোয়ান - তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪৩.
'মে দিবস' নামক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মামুনুর রশীদ
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• 'মে দিবস' নাটকের রচয়িতা - মামুনুর রশীদ।
- এটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।
 
• মামুনুর রশীদ:
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৪৪.
‘আবোল-তাবোল' কার লেখা?
  1. ক) সত্যজিত রায়
  2. খ) ফররুখ আহমেদ
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিশুসাহিত্যিক।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা:
- হ-য-ব-র-ল
- পাগলা দাশু
- বহুরূপী
- আবোল-তাবোল
- খাইখাই
- অবাক জলপান 
- শব্দকল্পদ্রুম
- ঝালাপালা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৫.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন কবির প্রতীকী কাব্যাদর্শ অনুসরণ করেন?
  1. পাবলো নেরুদা
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মালার্মে
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
- সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভকরেন।

• সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম। ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
• কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- প্রতিদিন,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।

• এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৪৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি? 
  1. আরোগ্য
  2. ডাকহরকরা
  3. আরোগ্য-নিকেতন
  4. বেদেনী
ব্যাখ্যা

• 'আরোগ্য-নিকেতন' উপন্যাস:
- 'আরোগ্য-নিকেতন' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক এপিকধৰ্মী উপন্যাস। ১৯৫৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।

- বীরভূমের গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত , এটি প্রবীণ আয়ুর্বেদিক নিরাময়কারী জীবন মোশায়ের মাধ্যমে ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার মধ্যে মানসিক এবং দার্শনিক উত্তেজনা চিত্রিত করে, যার আত্ম-প্রতিফলন এবং একজন তরুণ ডাক্তারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মৃত্যু, অপ্রচলিততা এবং প্রজন্মগত পরিবর্তনের গভীর ভয়কে প্রকাশ করেছে। তারাশঙ্করের বিশেষ ঘনিষ্ঠ একজন মেডিকেল ছাত্র ডঃ সুকুমার চন্দ্র সম্ভবত তরুণ ডাক্তারের চরিত্রকে প্রভাবিত করেছেন।

- এই উপন্যাসখানি ১৯৫৫-য় রবীন্দ্র পুরস্কার ও ১৯৫৬-য় আকাদেমি পুরস্কারে ভূষিত হয়।
- উপন্যাসটি গুজরাটি ভাষায় অনুবাদ করেছেন রমনিক মেঘানি, মারাঠিতে শ্রীপাদ জোশ এবং উর্দুতে অনুবাদ করেছেন শান্তি রঞ্জন ভট্টাচার্য ।

অন্যদিকে, 
• 'আরোগ্য' উপন্যাস: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা 'আরোগ্য' (১৯৫৩) উপন্যাসটি সমাজের অসংলগ্নতা নিয়ে লেখা।  মানুষের মনোবিকারের স্বরূপ উদঘাটনই এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরোগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৪৭.
‘সুবচন নির্বাসনে‘ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুনীর চৌধুরী
  2. খ) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
• আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৩ জুলাই ১৯৪২ - ২১ আগস্ট ২০০৮) একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
• তাঁর মৃত্যু ২১ আগস্ট ২০০৮।  
• তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে  ---
- অরক্ষিত মতিঝিল,
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- সেনাপতি,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা,

• তাঁর লিখিত উপন্যাস গুলো হচ্ছে -
- মানব তোমার সারা জীবন 
- হায় পার্বতী 
- খলনায়ক 
- আহ্ দেবদাস 
- তাহাদের যৌবনকাল 
- এই চুনীলাল 
- গুন্ডাপান্ডার বাবা 

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর) ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৮.
পল্লীকবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ কোনটি?
  1. মধুমালা
  2. এক পয়সার বাঁশী
  3. রাখালী
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
• কবি জসীমউদ্‌দীনের শিশুতোষ গ্রন্থ- 'এক পয়সার বাঁশি'। 

কবি জসীমউদ্‌দীন: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীমউদ্দীনকে ‘পল্লিকবি’ বলা হয়। অনেকে মনে করেন, তিনি 'আধুনিক কবি ৷
- জসীমউদ্দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই।
- তখন থেকেই তিনি তাঁর কবিতায় পল্লিপ্রকৃতি ও পল্লিজীবনের সহজ-সুন্দর রূপটি তুলে ধরেন।
- পল্লির মাটি ও মানুষের সঙ্গে তাঁর অস্তিত্ব যেন মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছিল।

কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:  
- ডালিমকুমার,
- এক পয়সার বাঁশী ,
- হাসু। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাখালী,
- বালুচর,
- রূপবতী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে। 

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
জসীমউদ্‌দীন রচিত নাটক - মধুমালা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৪৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) ভারতবর্ষ
  3. গ) বিচিত্রা
  4. ঘ) মাসিক
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৭৭ সালে ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।
- তিনি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বোন। 
- তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক। 

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ -
- দীপ নির্বাণ
- মেবার রাজা
- মালতী
- বিচিত্রা
- বিদ্রোহ
- মিলনরাত্রী
- স্বপ্নবানী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫০.
নিচের কোনটি মৈমনসিংহ গীতকা নয়?
  1. রূপবতী
  2. কমলা
  3. কাফন চোরা
  4. দেওয়ান ভাবনা
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

অন্যদিকে,
- 'কাফন চোরা' পূর্ববঙ্গ-গীতিকার পালা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৫১.
বাংলা নাট্য সাহিত্যে 'নাট্যচার্য' কার উপাধি?
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) ড. ইনামুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।
৪,৮৫২.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. এস ওয়াজেদ আলী
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ। তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'।
এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫৩.
নিচের কোন ব্যক্তি 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না?
  1. আবুল হুসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল ফজল
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ:
- ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ'। ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম চলে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান ছিলো - "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন - আবুল হুসেন, মোতাহের হোসেন চৌধুরী, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির, আবুল ফজল, আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। সংগঠনটি যে নবজাগরণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজকর্ম ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়, তার মূলে ছিল তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় মুস্তফা কামাল পাশার উদ্যম, ভারতের নবজাগরণে বিভিন্ন মণিষীর প্রয়াস এবং মানবতার উদ্বোধনে সর্বকালের চিন্তাচেতনার সংযোগ।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।

উল্লেখ্য,
সৈয়দ মুজতবা আলী 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫৪.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. স্বর্ণলতা
  2. মৃণালিনী
  3. মালঞ্চ
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা

• মৃণালিনী:
- 'মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।
---------------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস= মালঞ্চ, শেষের কবিতা।
• তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস= স্বর্ণলতা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫৫.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত খোয়াবনামা উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) আসামের ভূমিকম্প
  3. গ) তেভাগা আন্দোলন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর : উপরের সবগুলো 

- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনালেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩-এর মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও
- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এ উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।
- এই উপাদানসমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানবজীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয় ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫৬.
মধ্যযুগের কোন কবির কাব্যকে 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বলে অভিহিত করা হয়েছে?
  1. চণ্ডীদাস 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী 
  3. গোবিন্দদাস 
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা

• বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। বাঙালী কবি না হয়েও বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি মাতৃভাষা মৈথিলি ছাড়াও সংস্কৃত, অবহঠট ও ব্রজবুলি ভাষায় পদাবলি রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত। তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল-নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায়, রাজপণ্ডিত ইত্যাদি।

- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি। বিদ্যাপতি সহস্রাধিক পদাবলি রচনা করেছিলেন। রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ আছে এমন পদের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অন্যগুলোতে রাধাকৃষ্ণের উল্লেখ না থাকলেও তাদের প্রেমলীলা বিষয়ক পদ হিসেবে গ্রহণ করতে বাধা নেই।

- মিথিলার ঐশ্বর্যপূর্ণ রাজসভায় বিদ্যাপতি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের সঙ্গে সংস্কৃত ও প্রাকৃতের ভাষা ভাব শব্দ ছন্দ ও অলঙ্কারের খনি থেকে রত্নরাজি আহরণ করে রাধার প্রেম বর্ণনা করেছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, 'বিদ্যাপতির কবিতা স্বর্ণহার, বিদ্যাপতির গান মুরজবীণাসঙ্গিনী স্ত্রীকণ্ঠগীতি।' আর রবীন্দ্রনাথ বিদ্যাপতির কাব্যকে 'রাজকণ্ঠের মণিমালা' বলে অভিহিত করেছেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৫৭.
'মেঘনাদবধ' কাব্যে মোট কয় দিনের ঘটনার বর্ণনা আছে?
  1. দুই দিন তিন রাতের
  2. তিন দিন দুই রাতের
  3. দুই রাত চার দিনের
  4. চার দিন তিন রাতের
ব্যাখ্যা
• 'মেঘনাদবধ'  কাব্য:
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণে'র কাহিনি অবলম্বনে মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- এটা মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। কবি কাব্যের প্রথম দিকে বীররসের কথা বললেও এই কাব্যে করুণরসই প্রধান।
- ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক ও রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন রচনা করে এই স্বাধীনতা ভিলাষী কাব্য।
- নয় সর্গে সম্পূর্ণ 'মেঘনাদবধ কাব্যে' বীরবাহুর মৃত্যুসংবাদ থেকে মেঘনাদ-হত্যা, প্রমীলার চিতারোহণ পর্যন্ত মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত।

রামায়ণের প্রাসঙ্গিক কাহিনিটি এরূপ-
অযোধ্যার রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠপুত্র রামচন্দ্র স্ত্রী সীতা ও ছোটভাই লক্ষ্মণকে সাথে নিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনবাসে যান। বনবাসে গোদাবরী নদীর তীরে পঞ্চবটী বনে বসবাসকালে লঙ্কার রাজা রাবণের বোন শূর্পণখা বনে বেড়াতে এসে রামের রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে বিয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে। রাম প্রত্যাখ্যান করে তাকে লক্ষ্মণের কাছে বিয়ের জন্য পাঠালে সেখানেও ব্যর্থ হয়। তখন শূর্পণখা রাগ করে সীতাকে খেয়ে ফেলতে চাইলে লক্ষ্মণ তার নাক কান কেটে তাড়িয়ে দেন। এই অপমানের কথা শূর্পণখা তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত দুই রাক্ষস সেনাপতি খর ও দূষণকে জানিয়ে প্রতিকার চায়। তখন রাক্ষস সেনাপতি রামকে আক্রমণ করে সসৈন্যে নিহত হয়। উদ্বিগ্ন শূর্পণখা লঙ্কায় ফিরে গিয়ে রাবণকে সব ঘটনা জানিয়ে সীতাকে হরণের জন্য উত্তেজিত করে। রাবণ ছদ্মবেশে কৌশলে সীতাকে হরণ করেন এবং লঙ্কায় এনে অশোকবনে বন্দী করে রাখেন। রাম স্ত্রীর উদ্ধারের জন্য বানররাজ সুগ্রীবের সাথে বন্ধুত্ব করে সাগরে সেতু তৈরি করে লঙ্কা আক্রমণ করেন। ভয়াবহ যুদ্ধে রাক্ষসবীরেরা একে একে রাম-লক্ষ্মণের হাতে নিহত হয়। রাবণ সবংশে নিহত হলে রাম সীতাকে উদ্ধার করেন। এই যুদ্ধের ঘটনাবলীর মধ্য থেকে রাবণপুত্র মেঘনাদের হত্যার কাহিনী নিয়ে 'মেঘনাদবধ' কাব্য রচিত হয়েছে।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- রাবণ,
- মেঘনাদ,
- লক্ষ্মণ,
- রাম,
- প্রমীলা,
- বিভীষণ,
- সীতা,
- সরমা ইত্যাদি।

উৎস: মেঘনাদবধ কাব্য এবং এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৫৮.
বাল্যবিধবার প্রেম নিয়ে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. চোখের বালি
  2. দুইবোন
  3. মালঞ্চ
  4. ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা
• চোখের বালি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক-মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: মহেন্দ্র, আশা, বিহারী, বিনোদিনী, রাজলক্ষ্মী, অন্নপূর্ণা।
- বিনোদিনী ছিলেন বাল্যবিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- অন্যদিকে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা।
- মহেন্দ্র বিনোদিনীর প্রেমের জালে সহজেই আটকে যায়।
- শুধু তাই নয়, তার সাহচর্য পেয়ে সহজ-সরল আশালতাও মুগ্ধ হয়।
- সে বিনোদিনীর সঙ্গে বন্ধুতা গড়ে তোলে।
- শুধু তাই নয়, বিনোদিনী তার নিজের নাম ঠিক করে দেয় ‘চোখের বালি’।
- এই নাম উপন্যাসের নামকরণে যথাযথ হয়েছে নিশ্চয়। 
- নারী-পুরুষের প্রেম ও কামতাড়িত অনুভব ‘চোখের বালি’ উপন্যাসের মূল সুর। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও চোখের বালি উপন্যাস।
৪,৮৫৯.
'গীতাঙ্কুর' কার রচিত গ্রন্থ?
  1. ক) প্যারিচাঁদ মিত্র
  2. খ) নজিবুর রহমান
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
গীতাঙ্কুর গ্রন্থের রচয়িতা প্যারিচাঁদ মিত্র। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য সাহিত্যকর্ম- অভেদী, আধ্যাত্মিকা, যৎকিঞ্চিৎ, রামারঞ্জিকা, বামাতোষিণী ইত্যাদি। আলালের ঘরের দুলাল উপনাসের রচয়িতা তিনি। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। তিনি টেকচাঁদ ঠাকুর ছদ্মনামে উপন্যাস রচনা করেন। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৮৬০.
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' প্রবন্ধগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সেলিনা হোসেন
  3. সরদার জয়েন উদ্দিন
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
'ঘরগেরস্থির রাজনীতি' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'ঘরগেরস্থির রাজনীতি'।
- গ্রন্থটি ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট সতেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- প্রতিটি প্রবন্ধে বাংলাদেশের সমাজ প্রেক্ষিতে নারীর অবস্থা ও অবস্থানের বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- নারীবাদী প্রেক্ষিত থেকে সমাজ-ভাবনার চিত্রটি উঠে এসেছে প্রবন্ধগুলোতে।

সেলিনা হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বদেশে পরবাসী,
- একাত্তরের ঢাকা,
- নির্ভয় করো হে,
- মুক্তো করো ভয়,
- ঘরগেরস্থির রাজনীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঘরগেরস্থির রাজনীতি, সেলিনা হোসেন।
৪,৮৬১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্য সংকলন 'চর্যাপদ' -এর আবিষ্কারক কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬২.
প্রাচীন যুগের কবি নন-
  1. বীণাপা
  2. মহীধরপা
  3. জয়নন্দীপা
  4. বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবিগণ:
 চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
 
এরা হলেন-
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা। 

অপশনের কবিগণের,
বিজয়গুপ্ত - প্রাচীন যুগের কবি নন।
- বিজয়গুপ্ত হলেন মনসামঙ্গল কাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৮৬৩.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কোন গ্রন্থে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদ প্রকাশিত হয়েছে?
  1. মতিচুর
  2. পদ্মরাগ
  3. সুলতানার স্বপ্ন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৬৪.
নজরুলের নাট্যগ্রন্থ ‘ঝিলিমিলি’-তে মোট নাটকের সংখ্যা কতটি?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি' তে- মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী।
'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮৬৫.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদ কোনটি?
  1. ৫ নং পদ
  2. ৪৮ নং পদ
  3. ২৪ নং পদ
  4. ২৩ নং পদ
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি। 

অন্যদিকে,
ডোম্বীপা - চার্যাপদের ১৪নং, চাটিল্লপা - ৫নং ও জয়নন্দী পা - ৪৬ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৬৬.
বিষ্ণু দে রচিত অনুবাদ সাহিত্য কোনটি?
  1. চোরাবালি
  2. রুচি ও প্রগতি
  3. এলিয়টের কবিতা
  4. উর্বশী ও আর্টেমিস
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সেই অন্ধকার চাই,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৮৬৭.
'চাঁদের অমাবস্যা' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. রাজনৈতিক উপন্যাস
  2. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  3. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  4. রোমাঞ্চকর উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

-----------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৬৮.
'কুহেলিকা' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মোসলেম ভারত 
  2. নওরোজ
  3. লাঙ্গল 
  4. দৈনিক নবযুগ 
ব্যাখ্যা

• 'কুহেলিকা' উপন্যাস:
- 'কুহেলিকা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' উপন্যাসটি ১৯৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- কুহেলিকা উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর।
- এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি, 'ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

এই উপন্যাসের চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- ফিরদৌস বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৬৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ”গল্পগুচ্ছ” এর অন্তর্ভুক্ত গল্প নয় কোনটি?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
  3. কাবুলিওয়ালা
  4. নৌকাডুবি
ব্যাখ্যা

• 'নৌকাডুবি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'নৌকাডুবি' একটি সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে।
-উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।

অন্যদিকে, 
• গল্পগুচ্ছ:
- গল্পগুচ্ছ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের সংকলন।
- কবি ১২৯৮ থেকে ১৩৪০ বঙ্গাব্দের মধ্যে বেশিরভাগ গল্প লিখেছেন।
- অখণ্ড সংস্করণে মোট ৯৫টি ছোট গল্প রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গল্প ‌- পোস্টমাস্টার, ব্যবধান, হৈমন্তী, অতিথি, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন, নষ্টনীড়, মাল্যদান, ফেল, কাবুলিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৭০.
‘অতীন্দ্র’, 'ইলা', 'ইন্দ্রনাথ'-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. যোগাযোগ
  3. নৌকাডুবি
  4. চার অধ্যায় 
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ‘অতীন্দ্র’, 'ইলা', 'ইন্দ্রনাথ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চার অধ্যায় উপন্যাসের চরিত্র। 
------------------
‘চার অধ্যায়' উপন্যাস নিয়ে কিছু তথ্য:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর চার অধ্যায় (১৯৩৪) তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস। 
- এটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত একটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রেমকাহিনি। 
- উপন্যাসের মূল উপজীব্য হলো বিপ্লবী আদর্শের কঠোরতা ও ব্যক্তিগত মানবিক আবেগের সংঘাত।

- কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে ইলা ও অতীন্দ্র-এর প্রেম। ইলা বিপ্লবী নেতা ইন্দ্রনাথ-এর প্রভাবে বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ব্যক্তিগত জীবন ত্যাগে প্রস্তুত হয়। অন্যদিকে অতীন্দ্র একজন কবিসত্তাসম্পন্ন সংবেদনশীল মানুষ, যে ক্রমে বিপ্লবের সহিংসতা ও উগ্র জাতীয়তাবাদে আস্থা হারায়। ইন্দ্রনাথের নেতৃত্বে তরুণদের অন্ধ আবেগ, চরমপন্থা ও তার ফলে সৃষ্ট নৈতিক অবক্ষয়—এই তিনের সমালোচনাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য।
-----------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে  কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর ও দার্শনিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ‘বিশ্বকবি’ উপাধি প্রদান করেন ব্রহ্মবন্ধব উপাধ্যায়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- বউঠাকুরানির হাট (প্রথম উপন্যাস);
- করুণা (অগ্রন্থিত উপন্যাস);
- শেষের কবিতা (কাব্যধর্মী উপন্যাস);
- গোরা (রাজনৈতিক উপন্যাস);
- চোখের বালি (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
- নৌকাডুবি, 
- চার অধ্যায়। 
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
- শেষের কবিতার চরিত্র: অমিত রায়, লাবণ্য, কেতকী।
- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র: কুমুদিনী, মধুসূদন, বিপ্রদাস।
- নৌকাডুবি উপন্যাসের চরিত্র: রমেশ, কমলা, হেমনলিনী, নলিনাক্ষ। 

উৎস:
‘চার অধ্যায়' উপন্যাস;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৭১.
মোহাম্মদ নজিবর রহমান কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. নাট্যকার
  2. ভাষা-সাহিত্যিক
  3. ঔপন্যাসিক
  4. কবি
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো :
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭২.
জাহানারা ইমাম কী নামে খ্যাত?
  1. বাংলার রাণী
  2. শহীদ জননী
  3. মুক্তিযোদ্ধা জননী
  4. জননী সাহসিকা
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৩.
"একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হব!"
- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) মহাদেব সাহা
  4. ঘ) নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'প্রার্থী' কবিতার অংশ। 
কবিতায় বলা হয়েছে- 
"হে সূর্য
তুমি আমাদের উত্তাপ দিও
শুনেছি, তুমি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড,
তোমার কাছে উত্তাপ পেয়ে পেয়ে
একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে
পরিণত হব!" 

মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায়।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য:
- ছাড়পত্র (১৯৪৭),
- পূর্বাভাস (১৯৫০),
- অভিযান (১৯৫৩),
- ঘুম নেই (১৯৫৪),
- হরতাল (১৯৬২),
- গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি।

- মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষ্মা রোগে তিনি মারা যান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৪.
মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি বলা হয় কাকে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 
  3. আলাওল 
  4. রামনিধি গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৭৫.
‘নিস্ফল উপহার’ ও ‘নিস্ফল কামনা’ কবিতা দুটি রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. সেঁজুতি
  4. ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
 ⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

⇒ "মানসী" কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর রচিত "মানসী" কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯০ সালে প্রকাশিত এবং গ্রন্থটি কবির কাব্যকলার পূর্ণ প্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু "মানসী" কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অনুবিশ্ব বলেছেন।

রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- 
“নূতন আবেষ্টনে এই কবিতাগুলি সহসা যেন নবদেহ ধারণ করল”

উল্লেখযোগ্য কবিতা -
- উপহার,
- নিস্ফল উপহার,
- ক্ষণিক মিলন,
- নিস্ফল কামনা,
- অহল্যার প্রতি,
- নবদম্পতির প্রেমালাপ,
- মানসিক অভিসার,
- পুরুষের উক্তি,
- নারীর উক্তি,
- ব্যক্ত প্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্ত প্রেম,
- শেষ উপহার ইত্যাদি।

উৎস: মানসী কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৭৬.
ঘুম কুমারীর মুখে চুমো খায় যখন আকাশ;
যখন ঘুমায়ে থাকে টুনটুনি, মধু, মাছি, ঘাস,- চরণদ্বয় জীবনানন্দ দাশের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) মহাপৃথিবী
  2. খ) ঝরা পালক
  3. গ) বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ঘ) ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
ঘুম কুমারীর মুখে চুমো খায় যখন আকাশ;
যখন ঘুমায়ে থাকে টুনটুনি, মধু, মাছি, ঘাস,
হাওয়া কাতর শ্বাস থেমে যাবে আমলকী সাড়ে,
বাঁকা চাঁদ ডুবে যায় বাদলের মেঘের আঁধারে,
তেঁতুলের শাখে শাখে বাদুড়ের কালো ডানা ভালে।- উল্লেখ্য পঙক্তিগুলো ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ‘কবি’ কবিতার। 

ঝরা পালক
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। 
- কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 

জীবনানন্দ দাশ :
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।
- তাঁর রচিত ‘বনলতা সেন’ আধুনিক বাংলা সাহিত্যের খ্যাতনামা গ্রন্থগুলির অন্যতম।
এ কাব্যের ‘বনলতা সেন’ কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা এবং জীবনানন্দের কবিতদাগুলির মধ্যে জনপ্রিয়।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ঝরা পালক এবং বাংলাপিডিয়া ।
৪,৮৭৭.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) সংশপ্তক - জাহির রায়হান
  2. খ) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড - নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী - আহমদ ছফা
  4. ঘ) নন্দিত নরকে - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
ব্যাখ্যা
 আহমদ ছফা একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
তিনি ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

- আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী'
- নন্দিত নরকে রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ ।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি রচনা করেন শহীদুল্লাহ কায়সার ।
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড রচয়িতা সেলিনা হোসেন ।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস :
- গাভী বিত্তান্ত
- ওঙ্কার
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- উদ্ধার (১৯৭৫),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- অলাতচক্র (১৯৯০),
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গপুরাণ (১৯৯৬)

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৮৭৮.
'তারাবাঈ' সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত একটি-
  1. নাটক
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে 'সিরাজী' উপাধি যুক্ত করেন)।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী একই সাথে বেশ কিছু সংগঠন ও দলের সদস্য ছিলেন, যেমন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, আঞ্জুমান-ই-উলামা-ই-বাঙ্গালা, জামিয়াত-ই-উলামা-ই-হিন্দ, স্বরাজ পার্টি ও কৃষক সমিতি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৭৯.
'ক্রীতদাসের হাসি' একটি-
  1. রচনাসমগ্র
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• ক্রীতদাসের হাসি:
- শওকত ওসমানের কালােত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালােচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, ফিলিপস পুরস্কার লাভ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর।

তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

তাঁর রচিত নাটক:
- আমলার মামলা,
- তস্কর নস্কর,
- বাগদাদের কবি,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী,
- প্রস্তর ফলক,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৮০.
সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যার কোন পদটি ব্যাখ্যা করেননি?
  1. ২৫নং
  2. ২৩নং
  3. ১১নং
  4. ২৪নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের পদসংখ্যা বিষয়ক আলোচনা:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

• সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। এবং ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।

• উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মতবিরোধের সৃষ্টি।

- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উল্লেখ্য,
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৪,৮৮১.
বিদ্রোহের বাণী বহনকারী 'রঞ্জন' চরিত্রটি কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ডাকঘর
  2. রক্তকরবী
  3. বিসর্জন
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

• 'রক্তকরবী' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটক। ১৩৩০ বঙ্গাব্দে নাটকটি প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত।
- রক্তকরবীতে ধনের উপর ধান্যের, শক্তির উপর প্রেমের ও মৃত্যুর উপর জীবনের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
- নাটকের চরিত্র নন্দিনী, রঞ্জন। নাটকে 'নন্দিনী' চরিত্রটি নিপীড়িত মানুষের মাঝখানে দেখা দিয়েছে আনন্দের দূত রূপে।
-'রঞ্জন' বিদ্রোহের বাণী বহন করে এনেছে। শেষপর্যন্ত জয়ী হয়েছে মানুষের প্রাণশক্তি।

অন্যদিকে,
• ডাকঘর: এখানে প্রধান চরিত্র হলো অমল, সুধা, ঠাকুরদা ইত্যাদি।
• 'বিসর্জন' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
• তাসের দেশ: এটি একটি রূপকধর্মী নাটক, যেখানে রাজা, রাণী, তাসের সৈনিক প্রভৃতি চরিত্র রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৮২.
'গোবিন্দলাল’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. বিষবৃক্ষ
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা

"কৃষ্ণকান্তের উইল" উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। 
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৮৩.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'—এই বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'উটপাখী' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'উটপাখী' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি ‘অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তর ফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৮৪.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

•  ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ‘সাম্যবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৮৫.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাময়িকী?
  1. ক) সভ্যতা
  2. খ) সংস্কৃতি
  3. গ) সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর একজন বাংলাদেশি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর)-এর নেতা।
- তিনি সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের।
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৮৮৬.
"পাখির কাছে ফুলের কাছে" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহসান হাবীব
  3. আনিসুজ্জামান
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৪,৮৮৭.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা রয়েছে?
  1. ১৩ টি 
  2. ১৭ টি 
  3. ১৯ টি 
  4. ২১ টি 
ব্যাখ্যা

 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা রয়েছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি নাম কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হচ্ছে:
- সিন্দাবাদ,
- পাঞ্জেরি,
- লাশ,
- আউলাদ,
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৮৮.
‘আরেফ আলী’ স্কুল মাস্টার চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. লালসালু
  2. চাঁদের অমাবস্যা
  3. তরঙ্গভঙ্গ
  4. কাঁদো নদী কাঁদো
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

অন্যদিকে,
- 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। 
- 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’। এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৮৯.
'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ডাকঘর
  2. বিসর্জন
  3. প্রায়শ্চিত্ত
  4. রক্তকরবী
ব্যাখ্যা

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বউ ঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এই নাটকেই ধনঞ্জয় বৈরাগী চরিত্রের আবির্ভাব। 
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
-'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ 'পরিত্রাণ' নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
-------------------
• 'ডাকঘর' (১৯১২ খ্রিস্টাব্দ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক। নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- মাধব দত্ত, 
অমল, সুধা। 

• 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়। এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।

• 'রক্তকরবী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাংকেতিক নাটক। নাটকটি বাংলা ১৩৩০ সনের শিলং-এর শৈলবাসে রচিত। উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: নন্দিনী, রঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৮৯০.
কামিনী রায়ের কোন কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখে দেন?
  1. অশোকসঙ্গীত
  2. আলো ও ছায়া
  3. জীবনপথে
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলনে সাহিত্য শাখার সভানেত্রী (১৯৩০) এবং  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর সহসভাপতি (১৯৩২-৩৩) ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'আলো ও ছায়া' প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে;  হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প নয় কোনটি?
  1. মেজদিদি
  2. মামলার ফল
  3. বিলাসী
  4. বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গল্প নয়- বিরাজ বৌ।

• ‘বিরাজ বৌ' উপন্যাস:
- ‘বিরাজ বৌ' (১৯১৪) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জনপ্রিয় এবং পুস্তক আকারে দ্বিতীয় প্রকাশিত উপন্যাস।
- 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে।
- বাঙালি গৃহস্থ জীবনের বাস্তব ছবি এবং বাঙালি নারীর মমত্ব ও কারুণ্যের রূপায়ণের জন্য এই উপন্যাস ভাবাকুলতা সত্ত্বেও অভিনন্দিত হয়।
- সুন্দরী বিরাজ বৌয়ের নানা সমস্যা এ উপন্যাসের বিষয়।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত ছোটগল্পগুলো হলো:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি ছোটগল্প।

- রামের সুমতি,
- মেজদিদি,
- বিন্দুর ছেলে,
- ছবি ইত্যাদি তারঁ সুখপাঠ্য বড়গল্প।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- অরক্ষণীয়া,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- নিষ্কৃতি,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯২.
'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) হুমায়ূন আহমেদ
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রগুপ্ত' নাটকের রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
তাঁর রচিত অন্যান্য ঐতিহাসিক নাটক-
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- মেবার পতন,
- নুরজাহান,
- সাজাহান,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৮৯৩.
'যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে' - আলোচ্য উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আলাওল
  2. চণ্ডীদাস
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়।
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ।
- ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।
- যার কর্ম তারে সাজে অন্য লোকের লাঠি বাজে।
-  ভাবিতে উচিত ছিল প্রতিজ্ঞা যখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. দৌলত কাজী
  2. আলাওল
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

শাহ্ মুহম্মদ সগীর:
- মধ্যযুগের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- তিনি পনের শতকের কবি ছিলেন।
- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে তিনি এ কাব্য রচনা করেন।
- অনুবাদ সাহিত্যে বা রোম্যাণ্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর।
- শাহ মুহম্মদ সগীরের শ্রেষ্ঠ অনুবাদকর্ম ইউসুফ-জুলেখা।
- তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জুলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৮৯৫.
'বেগম' পত্রিকার দ্বিতীয় সম্পাদিকা কে ছিলেন?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) নূরজাহান বেগম
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) ফ্লোরা নাসরিন খান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা বেগম। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল। পরে পত্রিকাটির সম্পাদনার শুরু করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের কন্যা নূরজাহান বেগম। নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর পর বর্তমানে এর দায়িত্বে আছে নূরজাহান বেগমের জ্যেষ্ঠ কন্যা ফ্লোরা নাসরিন খান। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৪,৮৯৬.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের মোট কবিতা কতটি?
  1. ২২টি
  2. ১৮টি
  3. ১৪টি
  4. ১২টি
ব্যাখ্যা
• অগ্নিবীণা:
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এতে মোট বারোটি কবিতা রয়েছে।
- ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (সেপ্টেম্বর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কবিতা: প্রলয়োল্লাস। 
- মোট বারোটি কবিতা আছে।
- উৎসর্গ: বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ।

• কবিতাসমূহ:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণ্‌ 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৭.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- 'তিনটি প্রশ্ন' ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য, কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮৯৮.
'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 
- শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
ক্রীতদাসের হাসি, সমাগম, রাজা উপাখ্যান,দুই সৈনিক, নেকড়ে অরণ্য, পতঙ্গ পিঞ্জর, রাজসাক্ষী, জলাঙ্গী, পুরাতন খঞ্জর, বনি আদম, জননী, চৌরসন্ধি, ইত্যাদি।

- শওকত ওসমান রচিত নাটক -
তস্কর নস্কর, পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা, আমলার মামলা।

- শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী, পিঁজরাপোল, জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৪,৮৯৯.
‘কনক কমলরুচি বিমল বদনে।

দেখি লাজে গেলা চান্দ দুঈলাখ যোজনে।।

ললিত আলক পাঁতি কাঁতি দেখি লাজে।

তমাল কলিকা ফুল রহে বন মাঝে।।’ - কোন কাব্যের অন্তর্গত?

  1. ক) চর্যাপদ
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা

কবিতাংশটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের অন্তর্গত।
কবি রাধার রূপ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন-
'কনক কমলরুচি বিমল বদনে।
দেখি লাজে গেলা চান্দ দুঈলাখ যোজনে।।
ললিত আলক পাঁতি কাঁতি দেখি লাজে।
তমাল কলিকা ফুল রহে বন মাঝে।।'


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৯০০.
'শূন্যপুরাণ' গ্রন্থটি কোন ধরনের কাব্য?
  1. নাট্যকাব্য
  2. চম্পুকাব্য
  3. গীতিকাব্য
  4. মহাকাব্য
ব্যাখ্যা
'শূন্যপুরাণ' 
- 'শূন্যপুরাণ' হলো 'ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ'।
- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম ‘শূন্যপুরাণ’।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।  শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।