বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪৮ / ২১১ · ৪,৭০১৪,৮০০ / ২১,১৩২

৪,৭০১.
বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন কে?
  1. ক) উইলিয়াম কেরি
  2. খ) এডওয়ার্ড ডিমোক
  3. গ) শ্যামাচরণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী

• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭০২.
'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' গ্রন্থটি রচনা করেছেন কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. আব্দুল হাই
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
গৌড়ীয় ব্যাকরণ:
- ‘গৌড়ীয় ব্যাকরণ’ বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ।
- এটি রাজা রামমোহন রায় কর্তৃক বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ , গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।
- সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে।
- গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন।
- পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি।
- মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭০৩.
আবদুল কাদিরের উপাধি -
  1. কলমসৈনিক
  2. ছান্দসিক কবি
  3. কাব্যভূষণ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭০৪.
'যেমন ইচ্ছে তেমন' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  2. খ) নুরুল মোমেন
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নুরুল মোমেন রচিত নাটক- যেমন ইচ্ছে তেমন, রূপান্তর, নেমেসিস, নয়া খানদান, আলোছায়া, শতকরা আশি, আইনের অন্তরালে, যদি এমন হতো ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,৭০৫.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির প্রথম মুখপত্রের নাম কী? 
  1. সাহিত্যিক
  2.  মোসলেম ভারত
  3. মোহাম্মদী
  4. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
ব্যাখ্যা

• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও পত্রিকা:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’ ও ‘সাহিত্যিক’ নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

অর্থ্যাৎ, 
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির প্রথম মুখপত্রের নাম - ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’। 

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যকরী সভায় এর মুখপত্ররূপে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় এবং পত্রিকা পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন  কাজী ইমদাদুল হক এবং সম্পাদক দুজন  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক; আর সদস্য ছিলেন  মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ, মঈনউদ্দীন হোসায়েন ও  মুজাফ্ফর আহমদ। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল ১৯১৮) কলকাতার ৪৭/২ মির্জাপুর স্ট্রিট থেকে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা প্রথম প্রকশিত হয়।

- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪,৭০৬.
'মধুমালতী' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. লোকসাহিত্য
  2. বৈষ্ণব সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা

'মধুমালতী' কাব্য:
- 'মধুমালতী' 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩। বাংলাপিডিয়া।

৪,৭০৭.
"নিরালোকে দিব্যরথ"- কার রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শামসুর রাহমান
  3. শহীদ কাদরী
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমানের রচিত 'নিরালোকে দিব্যরথ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,৭০৮.
'গঙ্গা' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. সমরেশ বসু
  2. মালাধর বসু
  3. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

'গঙ্গা' উপন্যাস:
- 'গঙ্গা' উপন্যাসটি সমরেশ বসুর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত।
- গঙ্গার পটভূমি একটাই, জল-জাল-জেলে; বিশেষত অবিভক্ত ২৪ পরগনা জেলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের (মাছমারা) জীবনসংগ্রামের কাহিনি। গঙ্গা উপন্যাসের চরিত্রগুলো সামনে অতটা উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়নি।
- আপাতদৃষ্টিতে এই উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা হলো বিলাস ও হিমি। কিন্তু সব চরিত্র যার ছায়া অবলম্বনে, তিনি হলো নিবারণ। সেদিক থেকে নিবারণ হলো কেন্দ্রীয় চরিত্র।

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: 'গঙ্গা' উপন্যাস ও সাহিত্য সাময়িকী এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৭০৯.
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ কোন পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭১০.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শিক্ষামূলক গ্রন্থ নয় ?
  1. ক) বর্ণপরিচয়
  2. খ) সীতার বনবাস
  3. গ) বোধোদয়
  4. ঘ) কথামালা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা,
- শব্দ মঞ্জুরী ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭১১.
১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. মানুষ
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. চিঠি
ব্যাখ্যা

• 'মানুষ' নাটক:
- 'মানুষ' (১৯৪৭) এক দৃশ্য বিশিষ্ট মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক। ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে নাটকটি রচিত।
- মানুষ নাটকের চরিত্রগুলো: ফরিদ, জুলেখা, বাবা, মা, ডাক্তার।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এক হিন্দু তরুণ ডাক্তার আত্মরক্ষার জন্য এক মুসলিম বাড়িতে প্রবেশ করে। সে বাড়িতে একজন অসুস্থ, অন্য একজন দাঙ্গায় মারা গেছে। ডাক্তার রোগীকে চিকিৎসা দেয়। এ সময় হিন্দু ডাক্তারের খোঁজে মুসলিম দাঙ্গাকারীরা ঘরে প্রবেশ করে। তখন গৃহকর্ত্রী মশারির নিচে অসুস্থ সন্তানের পাশে ডাক্তারকে আড়াল করে তার জীবন রক্ষা করে। এভাবেই মানুষ বা মানবতা বড় হয়ে দেখা দেয়।

-------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী। ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- 'মুনীর অপটিমা' তাঁর উদ্ভাবিত বাংলা টাইপ-রাইটিং।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- মানুষ,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭১২.
'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটিতে ’কানু’ কে?
  1. রাধা
  2. কৃষ্ণ
  3. বড়াই
  4. গোপী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- 'কানু ছাড়া গীত নাই' উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- ’কানু’ হলো- কষ্ণ।
- মধ্যযুগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম।
- কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭১৩.
‘রুবাই’- এর জনক- 
  1. হাফিজ
  2. ফেরদৌসী
  3. ওমর খৈয়াম 
  4. নিজামী
ব্যাখ্যা

• চার পঙ্‌ক্তির বিশেষ কাব্যরূপ ‘রুবাই’-কে জনপ্রিয় ও সাহিত্যিক মর্যাদা দেন পারস্যের কবি ও দার্শনিক ওমর খৈয়াম।
- তাই তাঁকেই রুবাইয়াতের জনক বলা হয়।

ওমর খৈয়াম:
- ওমর খৈয়াম ছিলেন গণিতবেত্তা, দার্শনিক ও জ্যোতির্বিদ।
 তিনি হিজরি পঞ্চম শতকের শেষের দিকে সেলজুক যুগে জন্মগ্রহণ করেন।
 খ্রিস্টীয় দিনপঞ্জিকা অনুযায়ী তার জন্ম ১০৪৮ সালের ১৮ মে।

- তার রচিত রুবাই হলো চার লাইনের ছোট কবিতা।
- প্রতিটি রুবাইতে একটি বিশেষ ভাবকে হৃদয়গ্রাহীভাবে দেখানো হয়।
- রুবাইয়াতের বিষয়বস্তুতে প্রেম, আনন্দ, বিষাদ, আশা ও আকাঙ্ক্ষা থাকে।
- এছাড়াও এতে আশাবাদ, নৈরাশ্যবাদ, সুখবাদ, মর্যাদা, দেহবাদ, নিয়তিবাদ ও দর্শন দেখা যায়।

- রুবাইয়াতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো:
- প্রথম, দ্বিতীয় ও চতুর্থ লাইনে অন্ত্যমিল থাকে।
- তৃতীয় লাইনে এটি ভিন্ন হয়।
- অনেকে রুবাইয়াতকে চীনা চতুষ্পদী কবিতা, জাপানি হাইকু ও মালয় পান্তুমের সঙ্গে তুলনা করেন।
 
অন্যদিকে,
- হাফিজ মূলত গজল রচনায় খ্যাত।
- ফেরদৌসী ‘শাহনামা’র রচয়িতা, মহাকাব্যিক কবি।
- নিজামী কাহিনিকাব্যের জন্য প্রসিদ্ধ।

উৎস:
দৈনিক ইনকিলাব;
দৈনিক যুগান্তর;
Britannica.

৪,৭১৪.
'অশনি সংকেত' উপন্যাসের পটভূমি কী?
  1. সিপাহী বিদ্রোহ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. দেশভাগ
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
'অশনি সংকেত' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি। এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে।
- তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭১৫.
কোন সালে কবি জীবনানন্দ দাশের ১২৪তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপিত হয়েছে?
  1. ২০২২ সালে 
  2. ২০২৩ সালে 
  3. ২০২৪ সালে 
  4. ২০২৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর ১২৪তম জন্মবার্ষিকী (১২৪-তম জন্মজয়ন্তী) ২০২৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি-তে উদ্‌যাপিত হয়েছিল।
 
----------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা ছিলেন কবি কুসুমকুমারী দাশ এবং বাবা সত্যানন্দ দাশ। জীবনানন্দের প্রাথমিক শিক্ষা বরিশালে সম্পন্ন হয় এবং অনার্সসহ বি.এ. ও এম.এ. তিনি কলকাতায় পড়াশোনা করেন। ১৯২২ সালে কলকাতা সিটি কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে তাঁর শিক্ষকতা জীবন শুরু হয়। পরবর্তীতে তিনি বাগেরহাট প্রফুল্লচন্দ্র কলেজ ও দিল্লির রামযশ কলেজে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩০ সালে দেশে ফিরে ১৯৩৫ সালে বরিশালের বিএম কলেজে যোগদান করেন। দেশবিভাগের আগে ১৯৪৭ সালে তিনি সপরিবারে কলকাতায় চলে যান।

- শিক্ষাজীবন শুরু করার সময় থেকেই জীবনানন্দ বাংলা ও ইংরেজিতে লেখালেখি শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় প্রকৃতির সূক্ষ্ম ও মুগ্ধকর বর্ণনা ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের কবিতাকে ‘চিত্ররূপময়’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি চারপাশের সাধারণ দৃশ্যকেও অসাধারণভাবে চিত্রায়িত করতে সক্ষম হয়েছেন।

- জীবনানন্দ দাশকে অনেকেই রূপসী বাংলার কবি হিসেবে চেনেন, কেউ তাঁকে তিমির হননের কবি বলেন, আবার কেউ বলেন নির্জনতার কবি। তাঁর কবিতা এবং উপমায় প্রকাশিত চিত্রায়ণ বাংলা সাহিত্যে এক অদ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। 

• তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’ ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়। এর পর তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- 
‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬), ‘মহাপৃথিবী’ (১৯৪৪), ‘সাতটি তারার তিমির’ (১৯৪৮), ‘রূপসী বাংলা’ (রচনাকাল ১৯৩৪, প্রকাশকাল ১৯৫৭) এবং ‘বেলা অবেলা কালবেলা’ (১৯৬১)।

• জীবনানন্দ দাশের সাহিত্য শুধুমাত্র কবিতাতেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি উপন্যাস, গল্প এবং প্রবন্ধেও সমানভাবে সমৃদ্ধ। তাঁর উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- 
 ‘মাল্যবান’ (১৯৭৩), ‘সুতীর্থ’ (১৯৭৭), ‘জলপাইহাটি’ (১৯৮৫), ‘জীবনপ্রণালী’ ও ‘বাসমতীর উপাখ্যান’।

- এছাড়াও ‘কবিতার কথা’ (১৯৫৫) নামক প্রবন্ধগ্রন্থে মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক চিন্তাভাবনা প্রকাশ পেয়েছে।
- কবি ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং 'একুশে টিভি' রিপোর্ট। 

৪,৭১৬.
ড. নীহাররঞ্জন রায়ের মতে, ডাক ও খনার বচন কোন সময়কালের রচনা?
  1. ক) সেন আমলে
  2. খ) প্রাক তুর্কি আমলে
  3. গ) মুঘল আমলে
  4. ঘ) বৌদ্ধ যুগের
ব্যাখ্যা
ডাক ও খনার বচন বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- তবে এর লিখিত কোন নিদর্শন নেই। 
ড. দীনেশ্চন্দ্র সেনের মতে ডাক ও খনার বচন রচনার সময়কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতকে। 
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ এর কতকগুলোকে বৌদ্ধ যুগের রচনা বলে ধারনা করেন। 
ড. নীহাররঞ্জন রায় এগুলোকে প্রাক তুর্কি আমলের রচনা বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৪,৭১৭.
"সুরেন্দ্রনাথ" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. পথের দাবী
  2. বড়দিদি
  3. বিরাজবৌ
  4. দেনা-পাওনা
ব্যাখ্যা
‘বড়দিদি’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)।
- ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭১৮.
চর্যার অনুদ্ধারকৃত কোন পদটি কাহ্নপা রচিত?
  1. ২৪নং
  2. ৪৮নং
  3. ২৫নং
  4. ২৮নং
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,৭১৯.
'তোতা ইতিহাস' এর রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. মৃত্যঞ্জ্যয় বিদ্যালঙ্কার
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীচরণ মুনশী রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮০৫ খ্রিষ্টাব্দে। 

চণ্ডীচরণ মুনশী:
- ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক। 
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭২০.
'ছন্দের জাদুকর' বলা হয় কাকে?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে ‘ছন্দের জাদুকর’ বলা হয়। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত (১৮৮২-১৯২২):
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ  অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন  তত্ত্ববোধিনী  পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন  ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- প্রথম জীবনে তিনি  মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন।
- পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।
- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।  
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭২১.
কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক ছিলেন- 
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. উপরের সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:
• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।

• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বুদ্ধদেব বসু, অমিয় চক্রবর্তী, জীবনানন্দ দাশ, বিষ্ণু দে। এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।

• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৭২২.
ডোম্বীপা কোন রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. উজ্জয়িনী
  2. ত্রিপুরা
  3. মিথিলা
  4. কামরূপ
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৭২৩.
‘অপরাজিতা’ কাব্যের রচয়িতা -
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম। 
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা,
- রেখা,
- অপরাজিতা,
- নীহারিকা,
- মহাভারতী ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭২৪.
"শর্মিলা এবং ঊর্মিলা" চরিত্র দুটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. দুইবোন
  2. ঘরে-বাইরে
  3. নৌকাডুবি
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'দুইবোন' উপন্যাস:
- ‘দুইবোন’ (১৯৩৩) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ছোট উপন্যাস।
- ১৯৩২-১৯৩৩ সালে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় বের হয়।
- শর্মিলার স্বামী শশাঙ্কের সঙ্গে ঊর্মিলার ঘনিষ্ঠতা তাদের সকলের জীবনে যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তারই নাটকীয়তাময় রূপায়ণ এই উপন্যাসে।
- উপন্যাসটিতে পুরুষের পক্ষে দুই নারীকে দুইভাবে ভালোবাসার ফলে জটিলতার সৃষ্টি হয় আর নারীর পক্ষে সেই জটিলতার সমাধান দেখানো হয়েছে।
উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শর্মিলা, ঊর্মিলা, শশাঙ্ক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭২৫.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) দৈনিক মোহাম্মদী
  3. গ) নবযুগ
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ- 
- ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন। 
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন। 

দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭২৬.
'সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-তে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, এবং প্রাবন্ধিক, যিনি উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মগুলি নিম্নরূপ:

• জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
জন্ম: ১৩ নভেম্বর ১৮৪৭, কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
সাহিত্যিক জীবনের সূচনা: সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-তে সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: ‘কাঙাল হরিনাথ’, যিনি গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র সম্পাদক ছিলেন।
সম্পাদিত পত্রিকা: আজিজননেহার এবং হিতকরী।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:

নাটক:
• বসন্তকুমারী, 
• জমীদার দর্পণ, 
• বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন (হাস্যরসাত্মক নাটক):
• টালা অভিনয়, 
• এর উপায় কি, 
• ফাঁস কাগজ, 
• ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
• বিষাদ-সিন্ধু: এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে কারবালার ঘটনা ফুটে উঠেছে।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
• উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
• আমার জীবনী, 
• কুলসুম জীবনী।

• মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যিক অবদান:
তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হন এবং গদ্যশিল্পের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যুগে অন্যতম প্রধান অবদানকারী ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজব্যবস্থা, জমিদারি প্রথার অন্যায় অত্যাচার এবং মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,৭২৭.
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ক্রীতদাসের হাসি
  4. জলাংগী
ব্যাখ্যা
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি। এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

- বাগদাদের বাদশা 'হারুন অর রশিদ' অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে। তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়। এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।


শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭২৮.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. কল্লোল
  3. সাধনা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
 
অন্যদিকে,
• 'বঙ্গদর্শন' - ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত।
• 'কল্লোল' - ১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাসের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা- ১৯২৩ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৭২৯.
আবদুল কাদিরের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত প্রবন্ধ-
  1. উত্তর বসন্ত
  2. দিলরুবা
  3. লোকায়ত সাহিত্য
  4. ছন্দ সমীক্ষণ
ব্যাখ্যা
• 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ:
- 'লোকায়ত সাহিত্য' প্রবন্ধ গ্রন্থটির রচয়িত আবদুল কাদির।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে।
- আব্দুল কাদিরের মৃত্যুর পর বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় 'লোকায়িত সাহিত্য’।

• আবদুল কাদির:
- আবদুল কাদির (১৯০৬-১৯৮৪) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, ছন্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক শিখা (১৯২৭) পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

• তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস: মুসলিম সাধনার ধারা, 
- কবি নজরুল, 
 কাজী আব্দুল ওদুদ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- দিলরুবা ও
- উত্তর বসন্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৩০.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।' - এই উক্তিটি কোন পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো?
  1. প্রবাসী
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪, দাম আট আনা, মুদ্রণ সংখ্যা ১০০০।
- এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যাপক আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবুল ফজল।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৩১.
পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) সাঁঝের মায়া
  2. খ) গ্রামের মায়া
  3. গ) মায়া কানন
  4. ঘ) ধানক্ষেত
ব্যাখ্যা
'গ্রামের মায়া' পল্লিকবি জসীমউদ্দীন রচিত নাটক
তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক: 
 - পদ্মাপার (১৯৫০)
- বেদের মেয়ে (১৯৫১)
- মধুমালা (১৯৫১)
- পল্লীবধূ (১৯৫৬) ইত্যাদি। 

- 'সাঁঝের মায়া' (১৯৩৮) বেগম সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- 'মায়া কানন' (১৮৭৩) মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত শেষ রচনা। 
- 'ধানক্ষেত' (১৯৩৩) জসীমউদ্দীন রচিত কবিতা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৩২.
'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

'আনোয়ারা':
• 'আনোয়ারা'- (১৯১৪) মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 

- ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য বিষয়। 
- এ উপন্যাসের চরিত্র আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজীমুল্লা, গোলাপজান ইত্যাদি। 
 
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৩৩.
নবান্ন নাটক লিখেছেন-
  1. অমৃতলাল বসু
  2. সাঈদ আহমেদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'নবান্ন' নাটক:
- বিজন ভট্টাচার্য এর নবান্ন পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় অবদান রাখেন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর, সমকালীন জাতীয় আন্দোলন, মেহনতি মানুষের চাহিদা ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ কৃষক সমাজের দুঃখ-দুর্দশা, তাদের সংগ্রাম, সফলতা- ব্যর্থতা নাটকের মূল সুর।

------------------
• বিজন ভট্টাচার্য:
- বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা। ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক।
- এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো মরাচাঁদ ও কলঙ্ক।

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটক:
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৩৪.
ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি কে?
  1. শ্রীকর নন্দী
  2. কাশীরাম দাস
  3. মালাধর বসু
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু ও "শ্রীকৃষ্ণবিজয়" গ্রন্থ:
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন-'গৌড়েশ্বর দিলা নাম গুণরাজ খান।' গৌড়েশ্বর রাজকর্মচারী মালাধর বসুর কর্মদক্ষতা, বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ ও কর্তব্যবৃদ্ধি প্রভৃতি গুণে প্রীত হয়ে এই উপাধি দান করেছিলেন। ড. সুকুমার সেনের মতে এই গৌড়েশ্বর সুলতান রুকনুদ্দিন বারবক শাহ (১৪৫৯-৭৪)।

- মালাধর বসু ব্যাসদেব কর্তৃক স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে ভাগবতের দশম ও একাদশ স্কন্ধ অনুসরণে 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' কাব্য রচনা করেন। ১৪৭৩ থেকে ১৪৮০ সাল-এই দীর্ঘ সাত বৎসরের চেষ্টায় কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন।

- শ্রীচৈতন্যদেবের আবির্ভাবের পূর্বেই কাব্যটি রচিত হয়েছিল। চৈতন্যদেব কবি মালাধর বসুর প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন এবং তাঁর কাব্যের প্রশংসা করেছেন।

- শ্রীকৃষ্ণবিজয় কাব্য 'গোবিন্দবিজয়' ও 'গোবিন্দমঙ্গল' নামেও পরিচিত। অনুবাদমূলক হলেও রাগরাগিণীযুক্ত এই পাঁচালি রাধাকৃষ্ণ প্রেমপ্রতীকে ভক্তিবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে রচিত বলে ধরা হয়। 

অন্যদিকে, 
---------------
• সতের শতকের কবিসমাজে সর্বাপেক্ষা স্বরণীয় নাম কাশীরাম দাস। তিনি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসের সংস্কৃত মহাভারতের অনুসরণে 'মহাভারত' রচনা করেন।

• শ্রীকর নন্দীর ভণিতায় অন্য একটি মহাভারত কাব্যের অস্তিত্ব রয়েছে। ভণিতায় কোথাও শ্রীকর নন্দী নামও উল্লেখিত আছে। তিনি পরাগল খানের পুত্র ছুটিখানের আদেশে জৈমিনি মহাভারতের ওপর নির্ভর করে কেবল 'অশ্বমেধ পর্বের' অংশ নিয়ে মহাভারত রচনা করেন। কাব্যটি ছুটিখানী মহাভারত নামে পরিচিত। 

• বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন 'পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৭৩৫.
‘শবনম’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. গ) ইব্রাহীম খাঁ
  4. ঘ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস - অবিশ্বাস্য, শবনম, শহর-ইয়ার।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৪,৭৩৬.
'বছির এবং আজহার' - চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. জহির রায়হান
ব্যাখ্যা

'বোবা কাহিনী' উপন্যাস: 
- এটি পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক।
- এই উপন্যাসের বিষবস্তু হচ্ছে, মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া।
- এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হচ্ছে: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৩৭.
কোন কাব্যে ইংরেজ বিরোধীভাব তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে?
  1. মহাশিক্ষা
  2. নব উদ্দীপনা
  3. প্রেমাঞ্জলি
  4. অনল প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ছিলেন একজন বাঙালি লেখক, বাগ্মী এবং কৃষকনেতা।
• তিনি বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- স্পেনবিজয় কাব্য,
- অনল প্রবাহ (তাঁর এই কাব্যে ইংরেজ বিরোধীভাব তীব্রভাবে প্রকাশিত হয়েছে),
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- নব উদ্দীপনা,
- মহাশিক্ষা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- জাহানারা,
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- নূরউদ্দিন,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৭৩৮.
'বত্রিশ সিংহাসন' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. চণ্ডীচরণ মুন্সী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
বত্রিশ সিংহাসন:
- এটি মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- ‘বত্রিশ সিংহাসন' (১৮০২) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার অনূদিত কাহিনি সংকলন।
- বাংলা গদ্যের আদিপর্বের ইতিহাসে এই রচনাটি উল্লেখযোগ্য।

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৩৯.
'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) জসীমউদ্দিন
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) জহির রায়হান
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি ছিলেন। তার 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ- খসড়া, মাটির দেয়াল, অনিঃশেষ, অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৪০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে?
  1. গৃহদাহ
  2. পরিণীতা
  3. দেনা পাওনা
  4. শেষ প্রশ্ন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্রের 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
• উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৪১.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম?
  1. অনুপমা দেবী
  2. নীহারিকা দেবী
  3. অনিলা দেবী
  4. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
-  প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৪২.
'কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।' - এটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ২৯নং
  2. ১৮নং
  3. ১নং
  4. ২৪নং
ব্যাখ্যা

পদ - ১
কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।
দিঢ় করিঅ মহাসুহ পরিমাণ
লূই ভণই গুরু পূছিহ জাণ।।

লুইপা:
- তিনি প্রবীণ বৌদ্ধসিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদের কবি ছিলেন।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র অনুমান: ৭৩০ থেকে ৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে লুইপা জীবিত ছিলেন।
- 'চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল''- পদটির রচয়িতা- 'লুইপা'।
- এটি চর্যাপদের প্রথম পদ।
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন।
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, চর্যাগীতিকা, মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।

৪,৭৪৩.
"বড় কে?" - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কুসুমকুমারী দাশ
  3. হরিশচন্দ্র মিত্র
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা

হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি বিখ্যাত ‘বড় কে’ কবিতাটি লিখেছেন।

• 'আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।' - কবিতাংশ হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত ‘বড় কে’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো: 
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া; ‘বড় কে’ কবিতা।

৪,৭৪৪.
‘কেরামতমঙ্গল' নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. সেলিম আল দীন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ‘কেরামতমঙ্গল' নাটকটি রচনা করেন - সেলিম আল দীন

সেলিম আল দীন:
- বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার হলেন সেলিম আল দীন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।
- তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:

- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৪৫.
বাংলা তথা ভারতীয় ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ রচয়িতা-
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নগেন্দ্রনাথ বসু
  3. দীনেশচন্দ্র সেন
  4. আশুতোষ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
নগেন্দ্রনাথ বসু:
- বাংলা তথা ভারতীয় ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ রচয়িতা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক।
- ১৮৬৬ সালে কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- নগেন্দ্রনাথ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও তাঁর প্রধান পরিচয় বাংলা বিশ্বকোষ রচয়িতা হিসেবে।
- রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়ের সংকলন এবং তাঁর ভ্রাতা ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় এর প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়।
- পরে দীর্ঘ ২৭ বছরের পরিশ্রমে নগেন্দ্রনাথ বিশ্বকোষের ২২টি খন্ড প্রকাশ করেন।
- শেষ খন্ডটি প্রকাশিত হয় ১৯১১ সালে। ১৯১৬-৩১ সালে ২৪ খন্ডে এর একটি হিন্দি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৩-৩৮ সালের মধ্যে বিশ্বকোষের দ্বিতীয় সংস্করণের চারটি খন্ড প্রকাশের পর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভারতীয় পুরাতত্ত্বে অসাধারণ গবেষণার জন্য তাঁকে ‘প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ হলো:
- বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কয়েক খন্ড),
- কায়স্থের বর্ণপরিচয়, শূন্যপুরাণ,
- Archaeological Survey of Mayurbhanja,
- Modern Buddhism and its Followers in Orissa,
- Social History of Kamrup ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৪৬.
'শেখ আজিজুর রহমান' কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৪৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. মানিকদত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 
---------------------------
• দ্বিজমাধব:

- ষোড়শ শতাব্দীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবিদের মধ্যে দ্বিজমাধব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- তাকে এই কাব্যধারার ‘স্বভাবকবি’ বলা হয়। 
- দ্বিজমাধবের রচনায় সহজ-সরল ভাষা এবং প্রাকৃতিক বর্ণনার প্রকাশ লক্ষণীয়। 
- তিনি মূলত চণ্ডীমঙ্গল বা মঙ্গলচণ্ডীর গীত রচনায় নিবেদিত ছিলেন।

দ্রষ্টব্য: 
- সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যে ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাস পরিচিত। 
- তবে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে দ্বিজমাধবকে এই বিশেষণ দিয়ে অভিহিত করা হয়।

 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৭৪৮.
'প্রেম ও ফুল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. গােবিন্দচন্দ্র দাস
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. নুরুল মোমেন
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।

গােবিন্দচন্দ্র দাস চরিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৪৯.
‘নীলদর্পণ’ নাটকে বাংলাদেশের কোন জেলার সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কুষ্টিয়া
  4. ঘ) রংপুর
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র রচিত ‘নীলদর্পণ’ নাটকে বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কীভাবে কৃষক গোলকমাধবের পরিবার নীলকর অত্যাচারে ধ্বংস হয়ে গেল এবং সাধুচরণের কন্যা ক্ষেত্রমণির মৃত্যু হল, তার এক মর্মস্পর্শী চিত্র অঙ্কিত হয়েছে এই নাটকে।
এই নাটকের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো আঞ্চলিক ভাষার সাবলিল প্রয়োগ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৪,৭৫০.
কোন সাহিত্যিক কখনো উপন্যাস রচনা করেননি?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় 
  3. বিষ্ণু দে
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• কখনো উপন্যাস রচনা করেননি বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।
 
• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা।

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস-
- তৃণখণ্ড,
- জঙ্গম,
- অগ্নি,
- স্থাবর,
- পঞ্চপর্ব,
- নবদিগন্ত।

•  সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৫১.
'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' গানটির রচয়িতা-
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন। তবে বাংলাভাষীদের নিকট অতুলপ্রসাদ প্রধানত একজন সঙ্গীতজ্ঞ ও সুরকার হিসেবেই পরিচিত। তাঁর গানগুলি প্রধানত স্বদেশীসঙ্গীত, ভক্তিগীতি ও প্রেমের গান এ তিন ধারায় বিভক্ত।

• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।বাংলা সঙ্গীতে অতুলপ্রসাদই প্রথম ঠুমরির চাল সংযোজন করেন। এ ছাড়া রাগপ্রধান ঢঙে বাংলা গান রচনা তাঁর থেকেই শুরু হয়। উল্লেখ্য যে, বাংলায় ঠুমরি গীতধারার প্রথম প্রচলন করেন লক্ষ্ণৌর বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ নবাব ওয়াজেদ আলী শাহ্। অতুলপ্রসাদের বিশেষত্ব এ যে, তিনি বাংলা গানের সুর-তালের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখেই হিন্দুস্থানি রীতির প্রয়োগ করতে পেরেছিলেন। 

'মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
• 'কয়েকটি গান ও গীতিগুচ্ছ' তাঁর গানের সংকলন।
• তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশোটি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৭৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয় নি?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) প্রলয় শিখা
  4. ঘ) চন্দ্রবিন্দু
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়।
যথাঃ
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা ও
- চন্দ্রবিন্দু ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- অগ্নি-বীণা,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস সংখ্যা ৩টি।
যথাঃ
- বাঁধন হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা ও
- কুহেলিকা।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৭৫৩.
হাসান আজিজুল হক কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা করেন?
  1. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• হাসান আজিজুল হক:
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বৃত্তায়ন,
- শিউলি,
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কথাসাহিত্যের কথকতা,
- অপ্রকাশের ভার,
- অতলের আঁধি,
- ছড়ানো ছিটানো,
- কথা লেখা কথা।

• তাঁর রচিত সম্পাদনা:
- জি.সি. দেব রচনাবলী,
- অসীমান্তিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, হাসান আজিজুল হক।
৪,৭৫৪.
সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. কবি
  2. অরণ্যবহ্নি
  3. কালিন্দী
  4. রসকলি
ব্যাখ্যা
• 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাস:
- 'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এ উপন্যাস। 

অন্যদিকে,
• 'কবি' উপন্যাসটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবিরূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
এই উপন্যাসের “জীবন এত ছোট ক্যানে” সংলাপটি ক্লাসিকের মর্যাদা পেয়েছে।

• 'কালিন্দী’ নদীর বুকে উৎপন্ন চর কে কেন্দ্র করে তৈরি বিবাদ নিয়ে, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।

• ‘রসকলি’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।

-----------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫৫.
কোনটি সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. ইতল বিতল
  3. খাইখাই
  4. ডালিমকুমার
ব্যাখ্যা
• ‘খাইখাই' সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ ‘ওটেন সাহেবের বাংলো’।
• শিশুতোষ গ্রন্থ 'ইতল বিতল' এর রচয়িতা সুফিয়া কামাল।
• ‘ডালিমকুমার’ জসীমউদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫৬.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশি বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।
- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৫৭.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র কোনটি?
  1. বাসন্তী
  2. রোহিনী
  3. আয়েশা
  4. কুমুদিনী
ব্যাখ্যা
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
• উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কিছু উক্তি হলো:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’-করমালীর উক্তি।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উপন্যাসে উক্তি বলেছেন জনৈক মালো যুবক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫৮.
বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত নাটক 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' রচনা করেন কে?
  1. মামুনুর রশীদ
  2. সেলিম আল দীন
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমদ
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটক:
- ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটির রচয়িতা বাংলাদেশের অন্যতম নাট্যকার সেলিম আল দীন
- প্রথমেই বলা দরকার রচনাকালে নাটকের নাম 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' থাকলেও কয়েক বছর পর নাট্যকার এর নাম থেকে 'ফ্যান্টাসি' শব্দটি বাদ দেন।
- স্বৈরশাসনকে ব্যাঙ্গ করে সেলিম আল দীন রচনা করেন ‘মুনতাসীর ফ্যান্টাসি’ নাটকটি। এই নাটকে বিশ শতকের আশির দশকের স্বৈরশাসকের কবল থেকে দেশের কিছুই যে রক্ষিত হচ্ছিল না, সেই চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৫৯.
বল্মীকির ‘রামায়ণ’ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) কবি কঙ্ক
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
- কবি বাল্মীকি রচিত রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। বাল্মীকি আগে রত্নাকার নামে দস্যুবৃত্তি করতেন।
- বল্মীকির ‘রামায়ণ’ প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি কৃত্তিবাস ওঝা
- কৃত্তিদাস ওঝা রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম ‘শ্রীরাম-পাঁচালি’
- তাঁর বাংলায় অনুবাদ কৃত রামায়ণ টি এতোটাই জনপ্রিয়তা অর্জন করে যে, ১৮০২-০৩ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীরামপুরের পাদ্রিরা তাদের নব প্রতিষ্ঠিত প্রেসে গ্রন্থটি মুদ্রণ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৬০.
'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. আহমদ ছফা
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন- আবদুল মান্নান সৈয়দ।

 আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৬১.
‘পালামৌ’ ভ্রমণকাহিনিটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. শনিবারের চিঠি
  3. সাধনা
  4. তত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
• পালামৌ:
- 'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণামূলক ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে 'পালামৌ'।
- এটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি ছোট নাগপুরের আদিম গিরিদরী অরণ্যানী ও আরণ্যক পশু এবং মানব লেখকের বর্ণনাগুণে উচ্চ সাহিত্যমূল্য লাভ করে।
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে'- এই গ্রন্থের যুগোত্তীর্ণ বাক্য।
- তিনি এই একটি বাক্য সৃষ্টি করেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

---------------------------
• সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা,
- মাধবীলতা,
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৬২.
শামসুর রাহমান রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
  2. বন্দী শিবির থেকে
  3. নিজ বাসভূমে
  4. রৌদ্র করোটিতে
ব্যাখ্যা
'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে':
- 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা শামসুর রাহমান।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুর রাহমান:

- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।
                                            
• শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি,
- শূন্যতার শোকসভা,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৬৩.
রবীন্দ্রনাথের কোন রচনায় তার স্ত্রীর মৃত্যুতে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়?
  1. ক) নৈবদ্য
  2. খ) স্মরণ
  3. গ) শেষ লেখা
  4. ঘ) হঠাৎ দেখা
ব্যাখ্যা
• বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ভবতারিণী দেবীর বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালে।
কবি পরবর্তীতে তার নাম পাল্টে রাখেন মৃণালিনী দেবী। কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু হয় - ১৯০২ সালে; তখন কবির বয়স মাত্র ৪১ বছর।
- কবিপত্নীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যেই 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা সমূহ রচনা করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থটি গ্রন্থাকারে পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।

"স্মরণ" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
- আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
- আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
- আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
- এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
- ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
- সে যখন বেঁচে ছিল গো ইত্যাদি।

'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম থেকেই কবিপত্নী বিয়োগে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
-----------
অন্যদিকে,
'নৈবেদ্য' কাব্যগ্রন্থটি ১৯০১ সালে গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশিত হয়।
কাব্যগ্রন্থটি কোনভাবেই কবিপত্নীর মৃত্যু উপলক্ষে হতে পারে না। যদিও মৃত্যু সম্পর্কে এই কাব্যগ্রন্থে কবিতা রয়েছে।

"নৈবেদ্য" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- অচিন্ত্য এ ব্রহ্মান্ডের লোকলোকান্তরে
- আমারে সৃজন করি যে মহাসম্মান
- আমরা কোথায় আছি, কোথায় সুদূরে ইত্যাদি।
রবীন্দ্রনাথ এই কাব্যের বেশ কয়েকটি কবি Song Offerings - এ অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন।

উৎস: বাংলা কাব্য সাময়িকী, স্মরণ কাব্যগ্রন্থ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৭৬৪.
গেরিলাদের গোপন তৎপরতার চিত্রায়ন হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) নন্দিত নরকে
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) অভিশপ্ত নগরী
  4. ঘ) গেরিলা
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস আগুনের পরশমণি।
এই উপন্যাসে ঢাকায় গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতার চিত্রায়ন হয়েছে।
হুমায়ুন আহমেদের প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরকে।
সত্যেন সেনের উপন্যাস ‘অভিশপ্ত নগরী’।
নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘গেরিলা’।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪,৭৬৫.
''কোন রণে কত খুন দিল নর,
লেখা আছে ইতিহাসে,
কত নারী দিল সিথিঁর সিঁদুর,
লেখা নাই তার পাশে।''- এর রচয়িতা কোন কবি?
  1. ক) মাইকেল মধুসূধন দত্ত
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের 'নারী' কবিতার অন্তর্গত।
১৯২৫ সালের ডিসেম্বরে সাম্যবাদী কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে,
-সাম্যবাদী
-মানুষ
-নারী
-ঈশ্বর
-পাপ
-চোর-ডাকাত
-কুলি-মজুর ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৪,৭৬৬.
'আলো ও ছায়া' কোন সাহিত্যিকের রচনা?
  1. ক) কামিনী রায়
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
'আলো ও ছায়া' ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত, কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ।
কামীনি রায় ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। 
তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃতে অনার্স সহ বি.এ পাস করেন। সেই কলেজেই অধ্যাপনা করেন।
কামিনী রায়ের রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ,
-নির্মাল্য,
-পৌরাণিকী
-গুঞ্জন
-মাল্য ও নির্মাল্য
-অশোক সংগীত
-অম্বা
-দীপ ও ধূপ
-জীবন পথে ।
তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৯ সালে 'জগত্তারিণী' পদক পান।
কামিনী রায় ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৬৭.
'শ্রীরাম পাঁচালি' কোন গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ?
  1. ভাগবত 
  2. মহাভারত 
  3. রামায়ণ 
  4. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীরাম পাঁচালি' কৃত্তিবাস ওঝা রচিত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ। 

-------------------
• কৃত্তিবাস ওঝা ও বাংলা রামায়ণ:

- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক ও বাংলা রামায়ণের আদি কবি 'কৃত্তিবাস ওঝা'।
- মৈথিলি ব্রাহ্মণদের অসমিয়া ভাষায় ওঝা বলা হয়। ওঝা শব্দটি এসেছে 'উপাধ্যায়' থেকে।
- তবে কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল 'মুখোপাধ্যায়'। কবির কাব্যের 'আত্ম পরিচয়' অংশ থেকে তাঁর বংশ পরিচয় পাওয়া যায়।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়। তাঁর এ রামায়ণকে শ্রীরাম পাঁচালিও বলা হয়।
- 'কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলঙ্কার'- কৃত্তিবাস সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এ মন্তব্য করেছিলেন। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একটি সনেটে কবিকে 'কীর্তিবাস তুমি' বলে শ্রদ্ধাজ্ঞাপনও করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৬৮.
'কি চাহ শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. নাটক
  3. উপন্যাস 
  4. চলচ্চিত্র
ব্যাখ্যা

'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটক:
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদ্দীন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক। নাটকে আলোচিত হয়েছে বীরঙ্গনার গল্প।

- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কি চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজ উদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা।

- যেখানে শঙ্খচিল আসলে হয়ে উঠলো সেই একাত্তরের শকুন।যে ছিল স্বাধীনতাকালীন সময়ের অশুভ শক্তি। যেখানে আমরা দেখি নাটকের প্রধান চরিত্র রৌশনারা হানাদারদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়ার আগেই সন্তানসম্ভবা হয়। আর লোভী স্বামী বীরাঙ্গনা স্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে হয় অর্থের মালিক।

- নাটকটির মাধ্যমে বোঝা যায় কতখানি আত্মত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, এসেছে বাংলার এই মুক্তি।
​​
​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৬৯.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ-দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. অবরোধ
  2. নবান্ন
  3. জনপদ
  4. মরাচাঁদ
ব্যাখ্যা
• 'নবান্ন' নাটক:
- ‘নবান্ন’ হলো বিজন ভট্টাচার্যের লেখা একটি বাংলা নাটক।
- নাটকটি পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 
- বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
 
• বিজন ভট্টাচার্য:
- বিজন ভট্টাচার্য নবনাট্য আন্দোলনের প্রধান পুরোহিত ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে, ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
 
বিজন ভট্টাচার্য রচিত অন্যান্য নাটকগুলো হলো:
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৭০.
"গুলে বকাওলী" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. বৈষ্ণব
  2. নাথসাহিত্য
  3. রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. মর্সিয়া
ব্যাখ্যা
"গুলে বকাওলী" কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ গুলে বকাওলী'।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত 'গুলে বকাওলী' গ্রন্থটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য।
- সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন।
- এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭১.
নিচের কোন উপন্যাসটির রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়?
  1. ক) চিন্দ্রনাথ
  2. খ) চতুরঙ্গ
  3. গ) রজনী
  4. ঘ) বিপ্রদাস
ব্যাখ্যা
- 'রজনী' সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৮৭৫ সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রথম এই উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- বই আকারে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ সালে।
- ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সজনীকান্ত দাসের মতে, 'রজনী বাংলা ভাষায় প্রথম মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।'

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
দুর্গেশনন্দিনী,
কপালকুণ্ডলা,
মৃণালিনী,
বিষবৃক্ষ,
ইন্দিরা,
যুগলাঙ্গুরীয়,
চন্দ্রশেখর,
রাধারানী,
রজনী,
কৃষ্ণকান্তের উইল,
রাজসিংহ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৪,৭৭২.
“একটি তুলসী গাছের কাহিনী” গ্রন্থটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সোনার শিকল
  2. দুই তীর ও অন্যান্য গল্প
  3. নয়নচারা
  4. সুরঙ্গ
ব্যাখ্যা

“একটি তুলসী গাছের কাহিনী” গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া ।
- এই গ্রন্থের জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৬৫ সালে আদমজী পুরস্কার পান ।
- এছাড়াও তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১) এবং একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন ।

তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
নাটক:
- তরঙ্গভঙ্গ
- বহিপীর ও
- সুরঙ্গ

- নয়নচারা তার অন্যতম একটি গল্পগ্রন্থ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর) |

৪,৭৭৩.
‘ক্বচিৎ প্রৌঢ়’ ছদ্মনামে নিচের কোন লেখক পরিচিত ছিলেন? 
  1. বিভূতিভূষণ
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. বিমল ঘোষ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল ক্বচিৎ প্রৌঢ়।   
 
অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।  
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম বনফুল।   
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম মৌমাছি।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭৪.
নিম্নের কোনটি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার এর গ্রন্থ নয়?
  1. ক) ঠাকুরমার ঝুলি
  2. খ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
  3. গ) খোকাবাবুর খেলা
  4. ঘ) টুনটুনির বই
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর রূপকথার সংগ্রহের নাম 'টুনটুনির বই'

বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ (১৯০৯) শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- 'ঠাকু্দাদার ঝুলি' 'ঠাকু্রমার ঝুলি' এর পরবর্তী খণ্ড। 
- শিশুসাহিত্য ও লোক সাহিত্যচর্চার ইতিহাসের অমূল্য সম্পদ। 
- বইগুলো বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকথার সংকলন। 
- রূপকথার সঙ্গে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট আছে।
- কারন এখানে পশুপাখির মুখদিয়েও কাহিনী বর্ণিত আছে।
- তিনি দৃশটিহীন ছদ্মনামে লিখতেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো
- দাদামশায়ের থলে, 
- ঠানদিদির থলে
- খোকাবাবুর খেলা 
- আমাল বই
- কিশোরদের মন
- বাংলার সোনার ছেলে
- পৃথিবীর রূপকথা ও সবুজ লেখা 

উৎস: ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৭৫.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'মতিচূর' কোন জাতীয় গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্য
  3. গল্প
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' বা 'মুসলিম মহিলা সমিতি'। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত 'Lady Land' বা 'নারীস্থান' মূলত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনেরই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 
- তিনি ৯ই ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
 • তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, দুই খণ্ড: ১ম খণ্ড - ১৯০৪, ২য় খণ্ড - ১৯২২),  
- সুলতানার স্বপ্ন (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৭৬.
‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. লাঙল
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।
- এই কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৭৭.
নিচের কোনটি গিরিশচন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক নাটক নয়?
  1. ক) সিরাজদ্দৌলা
  2. খ) মীর কাসিম
  3. গ) ছত্রপতি শিবাজি
  4. ঘ) সীতাহরণ
ব্যাখ্যা

গিরিশ্চন্দ্র ঘোষের ঐতিহাসিক নাটক গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - সিরাজদ্দৌলা, মীর কাসিম, ছত্রপতি শিবাজি।
তার পৌরাণিক নাটক গুলো হলো- রাবনবধ, অভিমন্যুবধ, সীতার বনবাস, সীতাহরণ, জনা, পান্ডব গৌরব।

উৎস- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৭৭৮.
বাংলাপিডিয়া প্রকাশের উদ্যোক্তা কে? 
  1. বাংলা একাডেমি
  2. মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর
  3. দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লি.
  4. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
ব্যাখ্যা
- বাংলাপিডিয়া প্রকাশের উদ্যোক্তা - বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। 

বাংলাপিডিয়া: 
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ। 
- এটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়। 
- এরপর ২০১২ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। 
- ১৪৫০ জন পণ্ডিত বাংলাদেশের প্রাচীন থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এতে সংযোজন করেছেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪,৭৭৯.
বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রভু যিশুর বাণী
  2. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  3. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
  4. মিশনারি জীবন
ব্যাখ্যা
• বাংলা কথ্য ভাষার আদি নিদর্শন ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ'।

• ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থ:

- রোমান ক্যাথলিক পর্তুগিজ পাদ্রি মানোএল দা আসসুম্পসাঁও কর্তৃক ১৭৩৪ সালে রচিত এবং ১৭৪৩ সালে লিসবনে রোমান হরফে মুদ্রিত ‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থ ভেদ’ গ্রন্থটি বাংলা গদ্যের প্রাথমিক প্রচেষ্টার নিদর্শন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- গ্রন্থটি ঢাকার ভাওয়াল অঞ্চলের নাগরী নামক স্থানে লিখিত।
- এই গ্রন্থের বাঁ দিকের পৃষ্ঠায় বাংলা ভাষায় এবং ডান দিকের পৃষ্ঠায় পর্তুগিজভাষায় গুরু ও শিষ্যের কথোপকথনের মাধ্যমে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা এবং খ্রিষ্টানদের আচার-অনুষ্ঠানের কথা আলোচিত হয়েছে।

-----------------------
• মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ,
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,৭৮০.
'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. নীহাররঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'দীনেশচন্দ্র সেন'। 

• 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য': 
- বঙ্গভাষা ও সাহিত্য (১৮৯৬)- বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।
- বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয় এর বর্ণনা রয়েছে।
- বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (১৯১৪), বঙ্গভাষা ও সাহিত্য, বৃহৎবঙ্গ (প্রাচীনকাল থেকে পলাশী যুদ্ধ পর্যন্ত বাংলার ইতিহাস)– গ্রন্থগুলো ড. দীনেশচন্দ্র সেন রচনা করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত- মুহাম্মদ আব্দুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান কর্তৃক রচিত।
- দীনেশচন্দ্র সেন রচিত আরো উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ হলো: History of bengali Language and Literature, বাংলার পুরনারী, প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান, হিন্দু সমাজ ও বৈষ্ণব ধর্ম, ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য, রামায়ণী কথা, কৃত্তিবাসী রামায়ণ।
- দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদনা করেন– মৈমনসিংহ গীতিকা এবং পূর্ববঙ্গ গীতিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
৪,৭৮১.
শওকত ওসমান কোন উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার পান?
  1. বনী আদম
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. জলাঙ্গী 
  4. নেকড়ে অরণ্য 
ব্যাখ্যা

• 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
- 'ক্রীতদাসের হাসি' গ্রন্থের রচয়িতা শওকত ওসমান।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।
- বাগদাদের বাদশা হারুন অর রশিদ অত্যাচারী। সে ক্রীতদাস তাতারি ও বাঁদি মেহেরজানের প্রণয়ে বাধা সৃষ্টি এবং তাতারিকে গৃহবন্দি ও অত্যাচার করে।
- তাতারি আমৃত্যু বাদশা হারুনের নির্যাতনের প্রতিবাদ করে যায়।
- এখানে তাতারি বাঙালি জনতার এবং বাদশা হারুন আইয়ুব খানের প্রতীক তাতারির হাসি উপন্যাসে বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত।
- এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয় ১৯৬৬ সালে।

• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস।

৪,৭৮২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা কে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্যের রচয়িতা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 
--------------------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার সাগরদাঁড়িতে।
- তিনি এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত  ছিলেন কলকাতার আইনজীবী ও জমিদার, আর তার মাতা হলেন জাহ্নবী দেবী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা নবজাগরণের অগ্রদূত, আধুনিক কবিতার জনক ও মহাকবি হিসেবে খ্যাত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম ছিল টিমোথি পেনপোয়েম।
- তিনি মাদ্রাজে থাকাকালীন এই ছদ্মনাম ব্যবহার করে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie প্রকাশ করেন।
- তাঁকে “দত্তকুলধর্মী কবি” বলেও অভিহিত করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রহসন, প্রথম ট্র্যাজেডি ও প্রথম সফল নাটক—সবই তাঁরই সৃষ্টি।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: The Captive Ladie (ইংরেজি ভাষায় রচিত)।
• তাঁর একমাত্র গদ্যগ্রন্থ: হেক্টরবোধ (অসমাপ্ত)।

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 
--------------------------- 
‘বীরাঙ্গনা’ নিয়ে কিছু কথা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বীরাঙ্গনা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি রোমান কবি ওভিডিয়াসের Heroic Epistles অনুকরণে রচিত। 
- মাইকেল এই কাব্যটি কবি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে উৎসর্গ করেছেন।
- মূলত ১১টি পত্রের মাধ্যমে কাব্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- এখানে নারীদের চরিত্রকে সচেতন, স্বাধীনচেতা এবং প্রেমিকামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
- কাব্যের উদ্দেশ্য ছিল নারীদের কণ্ঠস্বরকে সমাজে প্রকাশ করা এবং প্রথাগত নিয়মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আভাস দেওয়া।

• উল্লেখযোগ্য পত্রসমূহ:
- দুষ্মন্তের প্রতি শকুন্তলা;
- সোমের প্রতি তারা;
- দ্বারকানাথের প্রতি রুক্মিণী;
- লক্ষ্মণের প্রতি শূর্পণখা;
- দশরথের প্রতি কৈকেয়ী। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৭৮৩.
মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বুড্ডিস্ট মিস্টিক সঙ্‌স’ গ্রন্থে কতজন কবির নাম উল্লেখ আছে?
  1. ক) ২১
  2. খ) ২২
  3. গ) ২৩
  4. ঘ) ২৪
ব্যাখ্যা

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘বুড্ডিস্ট মিস্টিক সঙ্‌স’ গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ করেছেন।
সুকুমার সেন ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস’ গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,৭৮৪.
'পদ্মিনী - উপাখ্যান’ কার রচনা?
  1. রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মিনী - উপাখ্যান’ রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য।
- রঙ্গলালের প্রথম ও প্রধান সাহিত্যকীর্তি পদ্মিনী উপাখ্যান ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজি কাব্যাদর্শের অনুসরণে টডের Annals and Antiquities of Rajasthan-এর কাহিনী অবলম্বনে রচিত ঐতিহাসিক রোমান্সধর্মী কাব্য।
- ‘স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়/ দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।’ পদ্মিনী উপাখ্যানে তাঁর এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিপ্লবীদের বীজমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে।

• রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:

- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়ায়।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরগুপ্তের সংবাদ প্রভাকর-এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য হচ্ছে:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

- তিনি কালিদাসের ঋতুসংহার ও কুমারসম্ভব-এর পদ্যানুবাদ (১৮৭২) করেন।
- তাঁর নীতিকুসুমাঞ্জলি (১৮৭২) সংস্কৃত নীতি ও তত্ত্বমূলক কবিতার অপর পদ্যানুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,৭৮৫.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক কোনটি? 
  1. ব্রজাঙ্গনা
  2. বীরাঙ্গনা
  3. শর্মিষ্ঠা
  4. মেঘনাধবধ কাব্য
ব্যাখ্যা
শর্মিষ্ঠা নাটক: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের নাটক- শর্মিষ্ঠা। 
- তিনি মহাভারতের দেবযানী-যযাতি কাহিনী অবলম্বনে পাশ্চাত্য রীতিতে রচনা করেন শর্মিষ্ঠা নাটক। 
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার। 
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে নাটকটি প্রকাশিত ও একই সালের ৩রা সেপ্টেম্বর বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়। 
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- যযাতি, দেবযানি, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাদ্রাজে অবস্থানকালে Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়। 
- রামনারায়ণ তর্করত্নের রত্নাবলী (১৮৫৮) নাটক ইংরেজিতে অনুবাদ করতে গিয়ে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে উপযুক্ত নাটকের অভাব অনুভব করেন। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ: 
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, 
- বীরাঙ্গনা, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য এবং 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মহাকাব্য: 
- মেঘনাধবধ কাব্য । 

নাটক: 
- শর্মিষ্ঠা, 
- মায়াকানন, 
- কৃষ্ণকুমারী এবং 
- পদ্মাবতী। 

প্রহসন: 
- একেই কি বলে সভ্যতা এবং 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৪,৭৮৬.
‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ উপন্যাসটি রচনা করেন-
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
⇒ আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

===============
⇒ বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী, 
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত, 
- আরণ্যক, 
- আদর্শ হিন্দু হোটেল, 
- দেবযান, 
- ইছামতী, 
- দৃষ্টি প্রদীপ,  
- চাঁদের পাহাড়।  

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,  
- মৌরীফুল,  
- যাত্রাবদল,  
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৮৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক 'বর্ণচোরা' এর রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. আমজাদ হোসেন
  3. মমতাজ উদ্দীন আহমেদ
  4. নীলিমা ইব্রাহীম
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমদ:
- স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনে তিনি পথিকৃৎ। 
- এক অঙ্কের নাটক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
- পূর্ব পাকিস্তানের নাট্য আন্দোলন থেকে শুরু যার সূচনা, তারপর একাধারে ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধ, গ্রুপ থিয়েটার আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সমস্ত আন্দোলনে যিনি ছিলেন প্রথম সারির মানুষ।
- যিনি বাংলাদেশে নাটককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন।
- নাটক থেকে গণতান্ত্রিক সব আন্দোলনে যিনি ছিলেন অনবদ্য অংশ।
- বিশ্বব্যাপী বাংলা ও বাংলাদেশের নাটককে সর্বমহলে যিনি তুলে ধরেছেন জীবনব্যাপী একাগ্র চিত্তে, তিনি কিংবদন্তী নাট্যকার মমতাজউদদীন আহমদ।
- মমতাজউদদীন আহমদের নাটক লেখার যাত্রা শুরু হয় আরো কিছুদিন পরে, ১৯৬০ সালে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার লেখা প্রথম নাটক বিবাহ।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লিখেছিলেন “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” নাটকটি।
- স্বাধীনতার এক যুগ পরে এসে তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত নাটক "সাতঘাটের কানাকড়ি"।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা। 
- তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে। 
-  চার্লি চ্যাপলিন-ভাঁড় নয় ভবঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ' এর মতো বিশাল গদ্য ভাণ্ডার ছিল অসামান্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন 'একুশ আমার বাংলা আমার', লিখেছিলেন শিশু সাহিত্য ও কিশোর রচনা, সরস রচনা।
-  তার স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটক 'বর্ণচোরা'।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৪,৭৮৮.
প্রাক-চৈতন্য যুগের সময়কাল কত?
  1. ১২০০–১৫০০ খ্রি.
  2. ১২০৩–১৫০০ খ্রি.
  3. ১১০০–১৫০০ খ্রি.
  4. ১১৫০–১৫৫০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ – প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

• মধ্যযুগের সাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার ছয় শতাব্দী ধরে।
- চৈতন্যদেবকে (জন্য ১৪৮৬ খ্রি.) মাঝখানে রেখে এই যুগকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়-
প্রাক-চৈতন্য যুগ (১২০৩-১৫০০ খ্রি.) এবং
উত্তর-চৈতন্য যুগ (১৫০০-১৭৬০ খ্রি.)।

প্রাক চৈতন্য যুগ: ১২০৩-১৫০০ খ্রি. উত্তর করতে পারেন। যদি অপশনে ১২০১-১৫০০ থাকতো তবে তা উত্তর করতে হতো।

• প্রাক-চৈতন্য যুগে রচিত কাব্য
- কৃত্তিবাসি এর 'রামায়ণ',
- বড়চন্ডীদাসের 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন',
- মালাধর বসুর 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়',
- বিদ্যাপতি চণ্ডীদাসের বৈষ্ণব পদাবলি এবং
- তিনটি আদি 'মনসামঙ্গলকাব্য'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,৭৮৯.
মহাজনী শোষণের কারণে প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়ার কাহিনি বর্ণিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ 
  2. বোবা কাহিনী
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. জমিদার দর্পণ 
ব্যাখ্যা

• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- বোবা কাহিনী (১৯৬৪) জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি সুখপাঠ্য উপন্যাস।
- জসীম উদ্‌দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আজহার,
- আরজান,
- রহিমুদ্দিন।

---------------
জসীম উদ্‌দীন রচিত অন্যান্য সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• কাব্যগ্রন্থ:
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলো,
- বালুচর,
- রূপবতী, ইত্যাদি।

• নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া।

• শিশুতোষ রচনা:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৯০.
‘একুশে ফেব্রুয়ারি' প্রথম সংকলনের সম্পাদক কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) আবদুল গণি হাজারী
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• একুশের প্রথম সংকলন টির নাম ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

একুশে ফেব্রুয়ারি
- এটি সম্পাদনা করেছেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের মার্চ মাসে 'পুথিপত্র' প্রকাশনী থেকে সংকলনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশক ছিলেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী মোহাম্মদ সুলতান ।
- এই সংকলনের অসাধারণ স্কেচগুলো করেন মুর্তজা বশীর।
- এই সংকলনে কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, গান, নকশা, ইতিহাস শিরোনামে ৬টি বিভাগে মোট ২২জন লেখক লিখেছেন। 
- এটি প্রকাশের তিন সপ্তাহের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সংকলনটি বাজেয়াপ্ত করে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৯১.
ইংরেজ অনুকরণের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. ক) একেই কি বলে সভ্যতা
  2. খ) বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. গ) এর উপায় কি?
  4. ঘ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
দেশীয় নব্যশিক্ষিতদের ইংরেজদের অনুকরণ ও সুরাপানে আসক্তের প্রতি ব্যঙ্গ করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত 'একেই কি বলে সভ্যতা' প্রহসন রচনা করেন। তার অপর প্রহসন 'বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রোঁ' নিরীহ প্রজাদের দ্বারা অত্যাচারী জমিদারের উচিত শিক্ষা প্রদান বিষয়ে রচিত। এর উপায় কি? এবং সধবার একাদশী রচনা করেছেন যথাক্রমে মীর মশাররফ হোসেন এবং দীনবন্ধু মিত্র। দুটো প্রসহনই বেশ্যাবৃত্তি ও সুরাপানের আসক্তদের প্রতি ব্যঙ্গ করে রচনা করা হয়েছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর)
৪,৭৯২.
‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. সমকাল
  2. পূর্বাশা
  3. স্বদেশ
  4. পূর্বমেঘ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,৭৯৩.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক উপন্যাস নয়?
  1. ক) ঘরে - বাইরে
  2. খ) পথের দাবী
  3. গ) চাঁদের অমাবস্যা
  4. ঘ) চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ''চাঁদের অমাবস্যা'' (১৯৪৬) মনোসমীক্ষণমূলক উপন্যাস।
- ''পথের দাবী'' শরৎচন্দ্রের রাজনৈতিক উপন্যাস।
- ''ঘরে-বাইরে'' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক উপন্যাস এবং
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উপন্যাস ''চিলেকোঠার সেপাই''।

সোর্সঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,৭৯৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'অলাতচক্র' কে রচনা করেন?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. শওকত আলী
  3. মাহমুদুল হক
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

অলাতচক্র:
- আহমদ ছফা রচিত 'অলাতচক্র' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- এটি ১৯৮৫ সালে তৎকালীন 'নিপুণ' নামের একটি সাপ্তাহিক পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়।
- এটি মূলত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে লেখক মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাইরের দেশগুলোর অংশগ্রহণকে সমালোচকের দৃষ্টিতে গ্রহণ করেছেন।

• এই উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- তায়েবা,
- জাহিদুল,
- দানিয়েল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,৭৯৫.
কার অনুরোধে আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুহম্মদ
  4. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

• কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

আলাওল:
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ।

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ-
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা,
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল,
- সতীময়না,
- রাগতালনামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,৭৯৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুষ্টিয়া
  2. মেহেরপুর
  3. রাজশাহী 
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস:​ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৪,৭৯৭.
বাংলা সাহিত্যে প্রথম যতিচিহ্নের প্রয়োগ হয় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) বীরবলের হালখাতা
  2. খ) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  3. গ) শকুন্তলা
  4. ঘ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে যতিচিহ্নের প্রর্বতন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি ১৮৪৭ সালে হিন্দি থেকে বাংলা ভাষায় অনুবাদকৃত বেতাল পঞ্চবিংশতি গ্রন্থের দশম সংস্করণে সর্বপ্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন। শকুন্তলা গ্রন্থটি সংস্কৃত থেকে অনুবাদকৃত। প্রভাবতী সম্ভাষণ হলো তার এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ যা একটি শোকগাথা। বীরবলের হালখাতা প্রথম চৌধুরী রচিত প্রথম গ্রন্থ যেখানে চলিত ভাষারীতি ব্যবহৃত হয়। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
৪,৭৯৮.
'ডালিম কুমার' শিশুতোষ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলো:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৭৯৯.
'ছন্দ-সরস্বতী' ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. সুকুমার রায়
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,৮০০.
পদ্মা নদীর মাঝি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কে?
  1. হোসেন মিয়া
  2. কপিলা
  3. কুবের
  4. গণেশ
ব্যাখ্যা
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পদ্মা নদীর মাঝি' ১৯৩৪ সাল থেকে ‘পূর্বাশা’ পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ ১৯৩৬ সালে।
- 'কুবের' ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপিলা মালা, হোসেন মিয়া, ধনঞ্জয়, শীতলবাবু।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।