বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৪৩ / ২১১ · ৪,২০১৪,৩০০ / ২১,১৩২

৪,২০১.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি-
  1. ময়ূর ভট্ট
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. কানাহরি দত্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• কানাহরি দত্ত:
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি হচ্ছেন কানাহরি দত্ত।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে; ‘হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।’
- কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রাপ্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল : আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উল্লেখ্য,
• ধর্মমঙ্গলের আদি কবি- 'ময়ূর ভট্ট'।
• চন্ডীমঙ্গলের আদি কবি-  মানিক দত্ত।
• ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি-  ঘনরাম চক্রবর্তী।

এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকা দাস, ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২০২.
'অনিলা দেবী' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন লেখক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যা
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘অনিলা দেবী'।
- তিনি “নারীর মূল্য” প্রবন্ধটি “অনিলা দেবী” ছদ্মনামে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

তাঁর আরও কিছু ছদ্মনাম- 
- অপরাজিতা দেবী,
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়,
- অপরূপা দেবী,
- পরশুরাম,
- শ্রীকান্ত শর্মা।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২০৩.
‘জীবনের শিল্প’- প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) এস. ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
এস. ওয়াজেদ আলী রচিত প্রবন্ধ হলোঃ জীবনের শিল্প, প্রাচ্য ও প্রতীচ্য, ভবিষ্যতের বাঙালী, আকবরের রাষ্ট্রসাধনা, মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ, ইকবালের পয়গাম। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
৪,২০৪.
'নীলাঞ্জনের খাতা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিষ্ণু দে
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা

নীলাঞ্জনার খাতা উপন্যাসের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু।
• বুদ্ধদেব বসু:

- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২০৫.
কোন পদকর্তা 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে পরিচিত?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন। কাহ্নপা রচিত ২৪ নং পদটি পাওয়া যায়নি।
- চর্যাপদে তাঁর কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।
৪,২০৬.
"সবুজপত্র" পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৪ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২০৭.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’ — এটি কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?
  1. রাজনৈতিক নির্বাচন নিয়ে
  2. উৎসব উদ্‌যাপন নিয়ে
  3. ভাষা দিবসে পুলিশের দমন-পীড়নের প্রতিক্রিয়ায়
  4. প্রেমের প্রসঙ্গ
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২০৮.
'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. আবুল ফজল
  3. মাহমুদুল হক
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
• 'আঠারো শতকের বাংলা চিঠি' গ্রন্থটির রচয়িতা - আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান:

- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২০৯.
কোনটি অন্যটি থেকে পৃথক?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. মাল্যবান
  3. বেলা অবেলা কালবেলা
  4. মহাপৃথিবী
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাপৃথিবী, বেলা অবেলা কালবেলা, সাতটি তারার তিমির।

অন্যদিকে,
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস - মাল্যবান

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১০.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. ক) পথে প্রবাসে
  2. খ) দেশে বিদেশে
  3. গ) রাশিয়ার চিঠি
  4. ঘ) চলে মুসাফির
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও
- ইউরোপের চিঠি (১৯৪২)।

অন্যদিকে, 
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- 'রাশিয়ার চিঠি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি।
- 'চলে মুসাফির' জসীমউদ্দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১১.
অমিয় চক্রবর্তী কোন বিখ্যাত কবির ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• অমিয় চক্রবর্তী:
-  তিনি ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত সচিবও ছিলেন অমিয় চক্রবর্তী।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাথে বহু দেশ ভ্রমণ করেছেন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী'।

• তাঁর প্রকাশিত বিশেষ কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত, 
- পারাপার,
- পালাবদল,
- ঘরে ফেরার দিন, 
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী,
- অনিঃশেষ,
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২১২.
কোনটি সেলিম আল দীনের নাটক নয়?
  1. ক) শকুন্তলা
  2. খ) বাসন
  3. গ) হরগজ
  4. ঘ) সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা

- সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।
- 'সুড়ঙ্গ' সেলিম আল দীন রচিত নাটক নয়।
- এটির রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- তাঁর রচিত নাটকঃ জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক, মোনতাসির ফ্যান্টাসী, হাতহদাই, কেরামতমঙ্গল, শকুন্তলা, বাসন, যৈবতী কন্যার মন, কীর্তনখোলা, চাকা, হরগজ, প্রাচ্য, নিমজ্জন, ধাবমান, স্বর্ণবোয়াল, পুত্র, বনপাংশুল ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪,২১৩.
'ধূমকেতু' কার ছদ্মনাম ছিলো?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনাম।

• এছাড়াও,
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেকগুলো ছদ্মনাম রয়েছে।
যেমন:
- ধূমকেতু,
- নুরু,
- ব্যাঙাচি,
- নজর আলী ইতাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১৪.
কোনটি সামাজিক নাটক?
  1. ক) নবান্ন
  2. খ) কৃষ্ণকুমারী
  3. গ) রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. ঘ) প্রায়শ্চিত্ত
ব্যাখ্যা

বিজন ভট্টাচার্য রচিত নবান্ন হলো সামাজিক নাটক।
এছাড়া নুরুল মোমেনের নয়া খান্দান, দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ, মুনীর চৌধুরীর চিঠি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিরকুমার সভা সামাজিক নাটক।
অন্যদিকে মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রায়শ্চিত্ত এবং মাইকেল মধুসূদন দত্তের কৃষ্ণকুমারী হলো ঐতিহাসিক নাটক।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

৪,২১৫.
'কবিতাবলী' কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) প্রমথ চৌধুরী
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় রচিত কাব্য- চিন্তাতরঙ্গিনী, বীরবাহু, নলিনীবসন্ত, কবিতাবলী, আশাকানন, ছায়াময়ী, দশমহাবিদ্যা, চিত্তবিকাশ এবং মহাকাব্য- বৃত্রসংহার।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,২১৬.
স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন কাব্যটি রচনা করেছেন?
  1. স্মরণ
  2. উৎসর্গ
  3. পূরবী
  4. আকাশ প্রদীপ
ব্যাখ্যা
• 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থ ও কবিপত্নী মৃণানিনী দেবী:
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে ভবতারিণী দেবীর বিয়ে হয় ১৮৮৩ সালে।
- কবি পরবর্তীতে তার নাম পাল্টে রাখেন মৃণালিনী দেবী। কবিপত্নী মৃণালিনী দেবীর মৃত্যু হয় - ১৯০২ সালে; তখন কবির বয়স মাত্র ৪১ বছর।
- কবিপত্নীর মৃত্যুর কিছু দিনের মধ্যেই 'স্মরণ' কাব্যগ্রন্থের কবিতা সমূহ রচনা করেন।
- এই কাব্যগ্রন্থটি গ্রন্থাকারে পরবর্তীতে ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'স্মরণ' প্রকাশিত হয় ১৯০৩ সালে।
 
• "স্মরণ" কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা: 
- আজি প্রভাতেও শ্রান্ত নয়নে
- আজিকে তুমি ঘুমাও, আমি জাগিয়া রব দুয়ারে
- আপনার মাঝে আমি করি অনুভব
- আমার ঘরেতে আর নাই সে যে নাই
- এ সংসারে একদিন নববধূবেশে
- ঘরে যবে ছিলে মোরে ডেকেছিলে ঘরে
- সে যখন বেঁচে ছিল গো ইত্যাদি।
 
• কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোর নাম থেকেই কবিপত্নী বিয়োগে কবির মনের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

• রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক উৎসর্গকৃত গ্রন্থ: 
- আর্জেন্টিনার নারীকবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'পূরবী কাব্য' গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন। 
- আকাশ প্রদীপ ও বলাকা কাব্যদ্বয় যথাক্রমে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত এবং উইলিয়াম পিয়ারসন কে উৎসর্গ করেন।
- ৪৬টি কবিতার সংকলন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'উৎসর্গ' কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও  'স্মরণ' কাব্য।
৪,২১৭.
জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  2. বালুচর
  3. পল্লীবধূ
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- পল্লীবধূ। 
- 'পল্লীবধূ' জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক। 

---------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ। ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনের কবিত্ব শক্তির প্রকাশ ঘটে ছাত্রজীবনেই। কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- জসীম উদ্‌দীন জারীগান (১৯৬৮) ও মুর্শীদা গান (১৯৭৭) নামে লোকসঙ্গীতের দুখানি গ্রন্থ সংকলন ও সম্পাদনা করেন।
- 'পল্লীকবি' হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে, 
- পল্লীবধূ
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ, 
- যে দেশে মানুষ বড়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস: বোবা কাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২১৮.
'আসিতেছে শুভদিন, দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা সুধিতে হইবে ঋণ!' চরণটি কোন কবিতার-
  1. ক) প্রলয়োল্লাস
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) কুলি-মজুর
  4. ঘ) সর্বহারা
ব্যাখ্যা

"আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাঁইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়,
পাহাড়-কাটা সে পথের দু’পাশে পড়িয়া যাদের হাড়,
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি,
তোমারে বহিতে যারা পবিত্র অঙ্গে লাগাল ধূলি;
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান,
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান!"

- কুলি-মজুর
কাজী নজরুল ইসলাম

উল্লেখ্য, কবিতাটি তার 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

৪,২১৯.
"ডাক ও খনার বচন" কোন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়?
  1. মধ্যযুগ
  2. আধুনিক যুগ
  3. প্রাচীন যুগ
  4. অন্ধকার যুগ
ব্যাখ্যা

ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,২২০.
'পুষ্পিত ইমেজ' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ক) অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ), উপহার, খসড়া, এক মুঠো, মাটির দেওয়াল, অভিজ্ঞান বসন্ত, পারাপার, পালাবদল, ঘরে ফেরার দিন, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, নতুন কবিতা, অমরাবতী, অনিঃশেষ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,২২১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবি’ কোন শাসনামলের প্রেক্ষাপটে রচিত? 
  1. মুঘল শাসন
  2. ব্রিটিশ শাসন
  3. পাকিস্তান আমল
  4. স্বাধীন ভারতের পরবর্তী শাসনামল
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' ব্রিটিশ শাসনামলে লেখা একটি বিপ্লবী উপন্যাস।
----------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প),
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ',
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- 'রমা';
- 'ষোড়শী'।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বড়গল্প: মেঝদিদি। 
----------------------------------------- 
'পথের দাবী':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবি' রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা।
- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই উপন্যাসটি সব্যসাচী মল্লিক নামক এক বিপ্লবী নেতার নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিপ্লবী দলের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এর বিপ্লবী বিষয়বস্তুর কারণে এটি ব্রিটিশ ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৪,২২২.
মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে অপভ্রংশ ভাষায় কয়টি পুঁথি সংকলিত হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' গ্রন্থে চারটি পুঁথি সংকলিত হয়েছে।
সেগুলো হলো:
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়,
- সরোজ-বজ্রের দোহাকোষ,
- কৃষ্ণাচায্যের দোহাকোষ,
- ডাকার্ণব।

• এগুলোর মধ্যে চর্যাচর্যবিনিশ্চয় পুঁথিটি বাংলা, অন্য তিনটি বাংলা নয়, অপভ্রংশে রচিত।
• তবে চর্যাপদের মতই সেগুলোর সংস্কৃত টিকা সংযোজিত আছে।
• চারটি গ্রন্থ একত্রে ১৯১৬ সালে "হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা" নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,২২৩.
'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক কে?
  1. নীহাররঞ্জন রায়
  2. আর সি মজুমদার
  3. অধ্যাপক আব্দুল করিম
  4. অধ্যাপক সুনীতিকুমার সেন
ব্যাখ্যা
• 'বাঙ্গালীর ইতিহাস' বইটির লেখক - নীহাররঞ্জন রায়। 

নীহাররঞ্জন রায়:
- তিনি ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন। 
- মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art,
- বাঙ্গালীর ইতিহাস,
- Nationalism in India, 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting,
- The Sikh Gurus and the Sikh Society,
- Dutch Activities in the East,
- An Approach to Indian Art.

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৪.
সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সীমানা ছাড়িয়ে
  2. খ) আনন্দের মৃত্যু
  3. গ) দেয়ালের দেশ
  4. ঘ) নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। 
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।

সৈয়দ শামসুল হক
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 
প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 
উপন্যাস:
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস)
- অনুপম দিন 
- এক মহিলার ছবি 
- খেলারাম খেলে যা
- তুমি সেই তরবারি
- ত্রাহি 
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 
গল্পগ্রন্থ
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)। 
৪,২২৫.
হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় সম্পর্কে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. ক) তিনি মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন
  2. খ) তার রচিত মহাকাব্য 'বৃত্রসংহার'
  3. গ) তার রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো 'সূর্যের দিন'
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকব্যের কবি ছিলেন।
তার রচিত মহাকাব্য - বৃত্রসংহার।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো-
- বীরবাহু
- আশাকানন
- ছায়াময়ী
- দশমহাবিদ্যা
- চিত্তবিকাশ
- চিন্তাতরঙ্গিণী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,২২৬.
সুকুমার রায় রচিত ‘পাগলা দাশু’ কোন ধরনের রচনা?
  1. ছড়া
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্পসংকলন
ব্যাখ্যা
• ‘পাগলা দাশু’ গল্পসংকলন:
- ‘পাগলা দাশু’ সুকুমার রায় রচিত একটি গল্পসংকলন।
- 'পাগলা দাশু'র গল্পগুলো হাস্যরসে ভরা হলেও তা নিছক হাস্যরসের খোরাক নয় বরং এর মধ্যে রয়েছে তীক্ষ্ম বুদ্ধিদীপ্ত এবং সাবলীল ভাষায় রচিত মজার মজার কাহিনি। এ কাহিনিগুলোতে অনেক কঠিন প্রসঙ্গ খুব সহজ ভাবেই উঠে এসেছে যা একেবারেই উপেক্ষনীয় নয়। সেগুলো যেমনি রসের তেমনি অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার।
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুকুমার রায়ের 'পাগলা দাশু'র প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় লিখেছিলেন।

কাহিনি সংক্ষেপ:
পাগলা দাশু মূলত সুকুমার রায় কর্তৃক সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র। দাশু স্কুল পড়ুয়া এক বালক। দাশুর পুরো নাম দাশরথি। সে খুব মেধাবী ছাত্র বিশেষ করে অঙ্কে তার মাথা খুব ভালো। সে যেমনি মেধাবী তেমনি বুদ্ধিদীপ্ত এক ছেলে। দাশু তার বুদ্ধি দিয়ে যেমন পূরণ করে তার ইচ্ছে তেমনি ঘটায় সব পাগলাটে কাণ্ড। দাশুর স্কুলের বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকদের নিয়ে হাস্যরসে ভরা ব্যাঙ্গাত্মক কীর্তিগুলো নিয়েই রচিত মজার মজার কিছু গল্প। যেগুলো খুব সহজ ও সাবলীল ভাব ও ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন সুকুমার রায় তাঁর 'পাগলা দাশু' গল্পগ্রন্থে।

----------------------
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

এছাড়া তার অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে-
- অবাক জলপান,
- লক্ষণের শক্তিশেল',
- হেশোরাম হুশিয়ারের ডায়েরী,
- ঝালাপালা ও অন্যান্য নাটক এবং
- বহুরূপী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘হ-য-ব-র-ল’ গ্রন্থের ভূমিকা এবং ‘পাগলা দাশু’ গল্পগ্রন্থের ভূমিকা।
৪,২২৭.
রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ কোনটি?
  1. ব্যাকরণ মঞ্জরী
  2. বেদান্তগ্রন্থ
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা
• গোড়ীয় ব্যাকরণ:
- বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণ প্রথম লেখেন রাজা রামমোহন রায়।
- এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।
- ১৮২৬ সালে তিনি ইংরেজিতে বাংলা ব্যাকরণ লেখেন।
- এরপর তিনি ১৮৩৩ সালে স্কুল বুক সোসাইটির জন্য ওই গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করে নাম দেন 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।

• রাজা রামমোহন রায়:

- রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'ব্যাকরণ মঞ্জরী' ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক রচিত ব্যাকরণগ্রন্থ।
- ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’ গ্রন্থটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বিখ্যাত বৈয়াকরণিক পাণিনির অষ্টাধ্যায়ী নামক সংস্কৃত ব্যাকরণ থেকে অনুবাদ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৮.
'সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল। সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৯.
চর্যাপদের কোন কবি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন?
  1. ডোম্বীপা
  2. ভুসুকুপা
  3. তন্ত্রীপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা

ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা। তার গুরু ছিলেন - বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৪,২৩০.
‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ-মরি বাংলা ভাষা' - গানের রচয়িতা কে?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে কবি, গীতিকার ও গায়ক।
তিনি বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক। তার রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশো।
তার একটি বিখ্যাত গান- 'মোদের গরব, মোদের আশা আ মরি বাংলা ভাষা'। গানটি ষাটের দশকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকারীদের মনে ব্যাপকভাবে উদ্দীপনার সঞ্চার করেছিল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৩১.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বাংলাদেশের রণসংগীতটি কী নামে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. ক) আনন্দময়ীর আগমনে
  2. খ) বিদ্রোহী
  3. গ) নতুনের গান
  4. ঘ) ভাঙার গান
ব্যাখ্যা
রণসংগীতটি ‘নতুনের গান’ শিরোনামে ঢাকার ‘শিখা’ পত্রিকায় ১৯২৮ (বাংলা ১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
পরে এর নাম “চল চল চল” হয়। এটি ‘সন্ধ্যা’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
এই কবিতার ২১ লাইন বাংলাদেশের রণসঙ্গীত হিসাবে গৃহীত হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৩২.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বসন্তরঞ্জন রায় 
  2. রামনিধি গুপ্ত 
  3. শুকুর মাহমুদ
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা
• শুকুর মাহমুদের লেখা নাথসাহিত্য - গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসে বৌদ্ধ, নাথ ও সুফি ভাবধারার মিলনে এক মিশ্র তত্ত্বজ্ঞানের কথা বর্ণিত হয়েছে। 

শুকুর মাহমুদ:
- শুকুর মাহমুদ (১৬৬৫-১৭৩৫) মধ্যযুগের একজন সাধক কবি।
- তিনি রাজশাহী জেলার সিন্দুর কুসুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর রচিত কাব্যের নাম- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস (১৭০৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৩৩.
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সোনালী কাবিন
  2. বখতিয়ারের ঘোড়া
  3. মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো
  4. ডাহুকী
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থসমূহের মধ্যে আছে –
- সোনালী কাবিন।
- বখতিয়ারের ঘোড়া।
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো।

কিন্তু “ডাহুকী” আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ নয়, এটি তাঁর রচিত উপন্যাস।
---------------
• আল মাহমুদ:
- কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- কবি আল মাহমুদ তার অনবদ্য গল্প ও উপন্যাসের জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল  ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪,২৩৪.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র-
  1. ক) সংগম
  2. খ) জীবন থেকে নেয়া
  3. গ) বাহানা
  4. ঘ) কখনো আসেনি
ব্যাখ্যা
জহির রায়হানের উর্দু ছবি 'সঙ্গম' ছিল সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র‌‌। উর্দু ছবি বাহানা ছিল সমগ্র পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,২৩৫.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গল্প কোনটি?
  1. রিমেহের নেগার
  2. কাণ্ডারী হুশিয়ার
  3. রাক্ষুসী
  4. বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম :
- তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত।
- আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।-
নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি ।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• কাজী নজরুলের প্রথম প্রকাশিত প্রথম গল্প - বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী ।
- এটি ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে সওগাত পত্রিকার মে-জুন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

• কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ :
• ব্যথার দান:
• রিক্তের বেদন;
• শিউলিমালা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,২৩৬.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. রাণী খালের সাঁকো
  3. স্বাধীনতার স্বাদ
  4. তিথিডোর
ব্যাখ্যা

• স্বাধীনতার স্বাদ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- সূর্য দীঘল বাড়ী - আবু ইসহাক।
- রাণী খালের সাঁকো - আহসান হাবীব।
- তিথিডোর - বুদ্ধদেব বসু।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- তিনি ১৯০৮ সালে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'জননী' (১৯৩৫)।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'অতসী মামী', 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
-  ১৯৫৬ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- সোনার চেয়ে দামী,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৩৭.
'সাতনরী হার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) এস ওয়াজেদ আলী
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ- সাতনরী হার, আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ, কখনো রং কখনো সুর, কমলের চোখ, নির্বাচিত কবিতা, আমার সকল কথা, আমার সময়, বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৩৮.
চর্যাপদের নিচের কোন পদকর্তার কোনো পদ পাওয়া যায়নি?
  1. কৃষ্ণবজ্রপা
  2. লাড়ীডোম্বীপা
  3. জয়নন্দীপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের লাড়ীডোম্বীপার কোনো পদ পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদের কিছু প্রধান কবির নাম:
- কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা, ভাদেপা, ধর্মপা, মহীধরপা, ঢেণ্ডণপা, ডোম্বীপা, কম্বলাম্বরপা, গুণ্ডরীপা।
- লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।

• চর্যাপদ: 
 বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ৫১ টি পদের মধ্যে সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
- চর্যাপদের প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ২৩ নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে।পদটির রচয়িতা ছিলেন ভুসুকুপা। 
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদ খুজে পাওয়া যায়নি। 
- চর্যাপদের ২৪ নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫ নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮ নং(কুক্কুরীপা রচিত) পদ।

• চর্যাপদে কবির সংখ্যা:
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে ২৩জন কবির নাম আছে।
- সুকুমার সেন 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (১ম খণ্ড) গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন।
- রাহুল সাংকৃত্যায়ন নেপাল-তিব্বতে প্রাপ্ত তালপাতার পুথিতে আরো কয়েকজন নতুন কবির চর্যাগীতি পেয়ে 'দোহা-কোশ' (১৯৫৭) গ্রন্থে সংযোজন করেছেন।
- সে বিচারে এক কথায় বলা চলে, চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪।
- কিছু প্রধান কবির নাম: কাহ্নপা, ভুসুকুপা, কুক্কুরীপা, সরহপা, লুইপা, শবরপা, শান্তিপা।
 
অপশনগুলোর মধ্যে -
• জয়নন্দীপা- ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 
• বীণাপা- ১৭ নম্বর পদ রচয়িতা। 
• কাহ্নপা- 'কৃষ্ণবজ্রপাদ' নামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই।
৪,২৩৯.
বিষ্ণু দে রচিত 'চোরাবালি' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. অনুবাদ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে 'পরিচয়' পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে 'সাহিত্যপত্র' (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪০.
চর্যাপদের কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. ভুসুকুপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছদ্ম নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালের শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

• “আজি ভুসুকু বাঙ্গালী ভইলী/ নিঅ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী” - ভুসুকুপার এই উক্তিটির মাধ্যমে তিনি নিজেকে বাঙ্গালি বলে পরিচয় দিয়েছেন।
• তার কবিতার লাইনের আধুনিক রূপ - আজ ভুসুকু বাঙ্গালি হইলো।

• ভুসুকু রচিত চর্যাপদের নমুনা:
কাহৈরি ঘিনি মেলি অচ্ছহু কীস।
বেটিল ডাক পড়অ চৌদীস ॥

অন্যদিকে,
• কাহ্নপা চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ (১৩টি) রচনা করেন।

• চর্যাপদের ১ম পদের রচয়িতা লুইপা।

• শবরপা এর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলা দেশে'র লোক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,২৪১.
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ প্রথম কোন পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছিল?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতমাতা
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪২.
"আপনারে বড় বলে, বড় সেই নয়\লোকে যারে বড় বলে, বড় সেই হয়।" কবিতাংশটির রচয়িতা-
  1. কামিনী রায় 
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. হরিশচন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

"আপনাকে বড় বলে
বড় সেই নয়,
লোকে যারে বড় বলে
বড় সেই হয়।" পঙ্‌ক্তিগুলো হরিশচন্দ্র মিত্র রচিত 'বড় কে' কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

-----------------
• হরিশচন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- ম্যাও ধরবে কে,
- ঘর থাকতে বাবুই ভেজ,
- জানকী নাটক,
- জয়দ্রথবধ বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- হাস্যরসতরঙ্গিণী,
- বিধবা বঙ্গললনা,
- বীর বাক্যাবলী,
- কীচকবধ কাব্য,
- বঙ্গবালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

তাঁর গীতিনাট্যগুলি হলো:
- আগমনী,
- নতুন জামাই,
- হঠাৎ বাবু,
- ছাল নাই কুকুরের বাঘা নাম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'বড় কে' কবিতা।

৪,২৪৩.
চর্যার অনুদ্ধারকৃত কোন পদটি কুক্কুরীপা রচিত?
  1. ৪৫নং
  2. ২৪নং
  3. ৪৮নং
  4. ২৫নং
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়। 
 
• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৪৪.
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধটি কার লেখা?
  1. নীরদচন্দ্র চৌধুরী
  2. বদরুদ্দীন উমর
  3. আহমদ শরীফ
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

• 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধ:
 - 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধটিতে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি নারী পুরুষের প্রাত্যহিক জীবনাচরণের বিভিন্ন দিক হাস্য-রসাত্মকভাবে বর্ণনা করেছেন।
- বাঙালি পুরুষগণের অলসপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ সম্পর্কে আলোচনা যেমন রয়েছে, তেমনি নারীদের অহেতুক রূপচর্চা, পরচর্চা এবং নিজেদের অবলা প্রমাণ করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রতি আলোচনাও রয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে ব্যাঙ্গাত্মক এই প্রবন্ধের মাধ্যমে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালি পুরুষ ও নারীকে সত্যিকার সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় কাজে প্রণোদিত করতে চেয়েছেন। 

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

অন্যদিকে,
• ‘বিশ শতকের বাঙালি’ প্রবন্ধটির রচয়িতা 'আহমদ শরীফ'।
• নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত গ্রন্থ ‘আত্মঘাতী বাঙালী’। 

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৪৫.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
  1. মার্কসবাদ
  2. বাস্তববাদ
  3. অস্তিত্ববাদ
  4. পরাবাস্তববাদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অস্তিত্ববাদ (Existentialism)।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ এবং অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শন:
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘চাঁদের অমাবস্যা’ (১৯৬৪) উপন্যাসে অস্তিত্ববাদী জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে। এই উপন্যাসে লেখক পাশ্চাত্য অস্তিত্ববাদী দর্শন আত্মস্থ করে ব্যক্তির অস্তিত্ব সংকট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, একাকীত্ব এবং জীবনের অর্থহীনতার অনুসন্ধান তুলে ধরেছেন। চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে নায়ক আরেফ আলীর মানসিক যাত্রা এই দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তি সমাজের বাইরে নিজের অস্তিত্বের স্বাধীনতা ও সংকট খুঁজে পান। সমালোচকরা (যেমন: ড. আহমেদ মাওলা) এটিকে অস্তিত্ববাদী উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

মূল বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:
এই উপন্যাসে নায়ক আরেফ আলী, একজন স্কুল মাস্টার, যিনি একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে মানসিক দ্বন্দ্ব ও অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যান। তাঁর মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। এই মানসিক দ্বন্দ্ব, জীবনের অর্থহীনতা, একাকীত্ব এবং স্বাধীনতার অনুসন্ধান অস্তিত্ববাদী দর্শনের মূল উপাদান। উপন্যাসটি সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের অসঙ্গতি এবং মানুষের অন্তর্জীবনের জটিলতাকেও তুলে ধরে, যা আরেফের চেতনাপ্রবাহ শৈলীর মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, উপন্যাসটি অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে ব্যক্তির অস্তিত্ব, নৈতিক দ্বন্দ্ব এবং সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রশ্ন উঠে আসে।
----------------
অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মার্কসবাদ: উপন্যাসে শ্রেণিবৈষম্যের কিছু ছোঁয়া থাকলেও, এটি মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রামের দর্শনের উপর কেন্দ্রীভূত নয়।
(ক) বাস্তববাদ: চাঁদের অমাবস্যায় মানসিক ও অস্তিত্বগত অনুসন্ধান প্রাধান্য পায়; বাস্তববাদ নয়।
(ক) পরাবাস্তববাদ: উপন্যাসে কিছু পরাবাস্তব উপাদান (যেমন: অদ্ভুত ঘটনা) থাকলেও, মূল দর্শন অস্তিত্ববাদী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া; "চাঁদের অমাবস্যা : অস্তিত্বসংকট ও চেতনাপ্রবাহ- অধ্যাপক ড. আহমেদ মাওলা, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৪৬.
'রেখাচিত্র' আবুল ফজলের কি ধরণের রচনা?  
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) দিনলিপি
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল একজন শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি শিখা পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদনা করেন।

আবুল ফজল রচিত উপন্যাস
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ এবং
- রাঙ্গা প্রভাত ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা ।

নাটক: 
- কায়েদে আজম 
- প্রগতি 
- স্বয়ম্বরা 

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র 

 [উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৪,২৪৭.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কবিতার গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সবিতা
  2. হসন্তিকা
  3. তারা দুই জন
  4. বেণু ও বীণা
ব্যাখ্যা

- তারা দুই জন সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কবিতার গ্রন্থ নয়। 
- অন্যদিকে, তারা দুই জন হচ্ছে শওকত ওসমানের শিশুতোষ রচনা। 

-----------------
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

- জন্ম: ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, কলকাতার কাছাকাছি নিমতা গ্রাম।
- পরিচিতি: ‘ছন্দের জাদুকর’ এবং ‘ছন্দের রাজা’ নামে সুপরিচিত।
- পৈতৃক নিবাস: বর্ধমান জেলার চুপী গ্রাম।
- মৃত্যু: ১৯২২ সালের ২৫ জুন।

প্রখ্যাত কবিতাগ্রন্থসমূহ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র ও আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্য সঞ্চয়ন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৪৮.
কোনটি নজরুল রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. ছায়ানট
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ব্যাথার দান
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত - ছায়ানট

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস - মৃত্যুক্ষুধা।
- কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ - ব্যাথার দান ও শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:

- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- বাঁধনহারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্রমঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪৯.
কোন সাহিত্যিককে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দাশ 
  2. বিষ্ণু দে 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র 
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন কবি এবং আইনজীবী।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তাঁর কবিতায় দেশপ্রেমের ভাব ফুটে ওঠে।
- এছাড়া তাঁর রচনায় নারীমুক্তি ও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে।
- বিশেষ করে বিধবাদের প্রতি সমাজের নির্দয় আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতায় গভীর ভাব ও উচ্চমানের সাহিত্যিক গুণ দেখা যায়।
- এই কারণে তাকে 'বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
- এখানে 'বাংলার মিল্টন’ বলতে তাকে ইংরেজি কবি জন মিল্টনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- গোবিন্দ চন্দ্র দাশকে বলা হয়- স্বভাবকবি।
- বিষ্ণু দে-কে বলা হয় মার্ক্সবাদীকবি।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বলা হয়- ডিফেন্স অফ বেঙ্গল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪,২৫০.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা‌ কে?
  1. ক) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌ অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৫১.
বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) পঞ্চগ্রাম
  2. খ) হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  3. গ) রাধা
  4. ঘ) কালিন্দীহাসুলী
ব্যাখ্যা
বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন ও তাদের সংস্কৃতির তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত হাঁসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাসে।

• 'হাঁসুলীবাঁকের উপকথা' (১৯৪৭) উপন্যাসে বীরভূমের কাহার সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আর একটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। উজ্জ্বল এর বিচিত্র চরিত্রগুলি। সেই সঙ্গে আছে এক আদিম মানবিক সংরাগ।

তারাশঙ্কর প্রায় দুশ গ্রন্থ রচনা করেন। সেগুলির মধ্যে -
উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি
- ধাত্রীদেবতা
- কালিন্দী
- গণদেবতা
- পঞ্চগ্রাম
- কবি
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
- আরোগ্য নিকেতন

• তিনি অনেক গল্পও লিখেছেন:
- বেদে
- পটুয়া
- মালাকার
- লাঠিয়াল
- চৌকিদার
- বাগদী
- বোষ্টম 
- ডোম
ইত্যাদি সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র তাঁর গল্পে দক্ষতার সঙ্গে অঙ্কিত হয়েছে। ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’, ‘ডাকহরকরা’ প্রভৃতি তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৪,২৫২.
‘আমি আছি, ভয় কেন মা কর”- কোন ধরনের উক্তি?
  1. প্রত্যক্ষ
  2. পরোক্ষ
  3. প্রশ্নবোধক
  4. পুনরুক্ত
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• উক্তি: বক্তার কথা উপস্থাপনের ধরনকে উক্তি বলে। উক্তি দুই প্রকার: প্রত্যক্ষ উক্তি ও পরােক্ষ উক্তি।
যেমন:
• প্রত্যক্ষ উক্তি: 
যে উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত করা হয়, তাকে বলে প্রত্যক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল, “আজ আমি অনেক পড়েছি।”- এটি প্রত্যক্ষ উক্তি। 

• পরােক্ষ উক্তি: 
যে উক্তিতে বক্তার কথা অন্যের দ্বারা বর্ণিত হয়, তাকে বলে পরােক্ষ উক্তি।
- যেমন: ছেলেটি বলেছিল যে, সেদিন সে অনেক পড়েছে।- এটি পরােক্ষ উক্তি।

প্রদত্ত 'আমি আছি, ভয় কেন মা করো? উক্তিতে বক্তার কথা সরাসরি উদ্ধৃত হয়েছে। সুতরাং এটি প্রত্যক্ষ উক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।
৪,২৫৩.
'ধর্ম নিয়ে ব্যক্তি স্বার্থ' কোন উপন্যাসের উপজীব্য?
  1. ক) বহিপীর
  2. খ) লালসালু
  3. গ) হাজার বছর ধরে
  4. ঘ) একটি তুলসি গাছের কাহিনী
ব্যাখ্যা
'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ।
- ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।

বহিপীর - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত নাটক। 
হাজার বছর ধরে - জহির রায়হান রচিত উপন্যাস; আবহমান বাংলার জীবন প্রবাহ যার মূল বিষয়।
একটি তুলসি গাছের কাহিনী - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৫৪.
'মানুষের মানচিত্র'- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শওকত ওসমান
  3. গ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. ঘ) শহীদুল্লাহ কায়সার
ব্যাখ্যা
'মানুষের মানচিত্র'- কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।

• তাঁর জন্ম বরিশালে, ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর। পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম। তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন। সমকালের সমাজ ও রাজনীতির অস্থিরতায় সৃষ্ট হতাশা, সঙ্কীর্ণতা এবং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও সংঘাতময় জীবনের প্রতিচ্ছবি তাঁর কবিতায় লক্ষণীয়। তিনি প্রধানত কবি হলেও কাব্যচর্চার পাশাপাশি সঙ্গীত, নাটক, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনাতেও সমান উৎসাহী ছিলেন। তাঁর সাহিত্য-সাধনা ছিল দেশ, মানুষ ও মনুষ্যত্বের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- ছোবল
- গল্প
- দিয়েছিলে সকল আকাশ
- মৌলিক মুখোশ
- একগ্লাস অন্ধকার
- মানুষের মানচিত্র

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৫৫.
নিচের কোনটি গল্প?
  1. দুই সৈনিক
  2. আমি সৈনিক
  3. সৈনিক বধূ
  4. জননী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

অন্যদিকে,
• ‘আমি সৈনিক’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দুই সৈনিক' এর রচয়িতা শওকত ওসমান।
• জননী শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৫৬.
"বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ" কার ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।
----------------------
অন্যদিকে,
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫৭.
‘বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. কামিনী রায়
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• বিধাতা দেছেন প্রাণ
থাকি সদা ম্রিয়মাণ- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কামিনী রায় রচিত 'পাছে লোকে কিছু বলে' কবিতার অন্তর্গত। 

• কামিনী রায়:

- কবি ও সমাজকর্মী কামিনী রায় ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসণ্ডা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় (১৮৮৯) সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৫৮.
'রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/
ফাল্গুন আজ চিত্ত আত্মভোলা।' - গানটির গীতিকার কে?
  1. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  2. আবদুল লতিফ
  3. আবুল কাশেম সন্দ্বীপ
  4. আখতার হুসেন
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী অমর একুশে নিয়ে অনিন্দ্যসুন্দর গান রচনা করেছেন। 
গানটির কয়েকটি চরণ -

রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা/
ফাল্গুন আজ চিত্ত আত্মভোলা/
আমি কি ভুলিতে পারি/
একুশে ফেব্রুয়ারি,’ 

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. প্রথম আলো পত্রিকা,
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
৪,২৫৯.
'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. জসীমউদদীন
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়' কবিতাটির রচয়িতা: সৈয়দ শামসুল হক। 
- উল্লেখ্য, নুরুলদীনের সারা জীবন - নামে তারই রচিত একটি কাব্যনাট্য রয়েছে।

কবিতাটির অংশবিশেষ হলো:
নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়, 
– সৈয়দ শামসুল হক। 
নিলক্ষা আকাশ নীল, হাজার হাজার তারা ঐ নীলে অগণিত আর
নিচে গ্রাম, গঞ্জ, হাট, জনপদ, লোকালয় আছে ঊনসত্তর হাজার।
ধবলদুধের মতো জ্যোৎস্না তার ঢালিতেছে চাঁদ-পূর্ণিমার।
নষ্ট খেত, নষ্ট মাঠ, নদী নষ্ট, বীজ নষ্ট, বড় নষ্ট যখন সংসার
তখন হঠাৎ কেন দেখা দেয় নিলক্ষার নীলে তীব্র শিস
দিয়ে এত বড় চাঁদ? (সংক্ষেপিত)
----------------------- 
• সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে। 
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক। 

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম: 
• কাব্যনাট্য: 
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়, 
- নুরুলদীনের সারা জীবন, 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 

• প্রবন্ধ: 
- হৃৎকলমের টানে। 

• উপন্যাস: 
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস), 
- অনুপম দিন, 
- এক মহিলার ছবি, 
- খেলারাম খেলে যা, 
- তুমি সেই তরবারি, 
- ত্রাহি, 
- সীমানা ছাড়িয়ে, 
- নীল দংশন, 
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 

• গল্পগ্রন্থ: 
- তাস, 
- শীত বিকেল, 
- আনন্দের মৃত্যু, 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৪,২৬০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক মহাকাব্য - 
  1. মহাভারত
  2. মহাশ্মশান
  3. মেঘনাদবধ কাব্য 
  4. অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসুদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- গ্রন্থটি ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দেই প্রকাশ পায়।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
- 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য - কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'কায়কোবাদ রচিত 'অশ্রুমালা' একটি গীতিকাব্য। কাব্যটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'মহাভারত' সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য। মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৬১.
ইব্রাহীম খাঁ কর্তৃক প্রাপ্ত খেতাব কোনটি?
  1. ক) বাহাদুর
  2. খ) নওয়াব
  3. গ) সিতারা-ই-ইমতিয়াজ
  4. ঘ) সিতারা-ই-নওয়াব
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ আমলে ইব্রাহীম খাঁ কর্তৃক প্রাপ্ত খেতাব-
- ‘খান সাহেব’
- ‘খান বাহাদুর’ এবং
- পাকিস্তান আমলে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’

- একজন কৃতবিদ্য লেখক হিসেবেও ইব্রাহীম খাঁর খ্যাতি ছিল।
- তিনি বিভিন্ন লেখায় মুসলিম সমাজের পুনর্জাগরণের কথা বলেছেন। 

অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনে (১৯২০-১৯২২) সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইব্রাহীম খাঁ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন।
- পরবর্তীকালে তিনি একাধিকবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৬ সালে তিনি বঙ্গীয় আইন সভার সদস্য এবং ১৯৫৩ সালে গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬২.
হুমায়ূন আহমেদ কোন গল্পটি পড়ে কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পান?
  1. সোনার তরী
  2. নৌকাডুবি
  3. ইঁদুর
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
• সোমেন চন্দ:
আধুনিক বাংলা কথাসাহিত্যের স্থপতি হিসাবে বিবেচনা করা হয় - সোমেন চন্দকে। ১৯২০ সালে নরসিংদীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকার 'প্রগতি লেখক সংঘ' -এর প্রতিষ্ঠাতা সোমেন চন্দ। ১৯৪২ সালে ফ্যাসিবাদী সমর্থকদের হাতে ছুরিকাহত হয়ে তিনি নিহত হন।

তার লেখা অসাধারণ ছোটগল্প - ইঁদুর। হুমায়ুন আহমেদ জানিয়েছিলেন - এই ছোটগল্পটি পড়েই তার কথাসাহিত্য রচনার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
• সংকেত ও অন্যান্য গল্প, 
• বনস্পতি ও অন্যান্য গল্প, 
• সোমেন চন্দের গল্পগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৩.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" নামে পরিচিত -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে ইংরেজিতে লেখা তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'The Captive Ladie.'
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৪.
"মধুমালতী কাব্য" কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
মধুমালতী কাব্য:
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৫.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' এর লেখক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা
• 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস- 'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' (১৯৯৪)।
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে উপন্যাসটি উৎসর্গ করা হয়।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে'
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৬.
শেখ আজিজুর রহমান কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. ক) হায়াৎ মামুদ
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) সেলিম আল দীন
  4. ঘ) শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
শওকত ওসমান (১৯১৭-১৯৯৮)
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।   
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়
- তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:
উপন্যাস
- জননী (১৯৫৮),
- ক্রীতদাসের হাসি (১৯৬২),
- সমাগম (১৯৬৭),
- চৌরসন্ধি (১৯৬৮),
- রাজা উপাখ্যান (১৯৭১),
- জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭১),
- দুই সৈনিক (১৯৭৩), নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩),
- পতঙ্গ পিঞ্জর (১৯৮৩), আর্তনাদ (১৯৮৫),
- রাজপুরুষ (১৯৯২) ইত্যাদি। 
অন্যদিকে,
হায়াৎ মামুদ-এর প্রকৃত নাম - মনিরুজ্জামান।
জহির রায়হান-এর প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
সেলিম আল দীন-এর প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৭.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. মাহবুবুল আলম চৌধুরী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতা:
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ
- কবিতাটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। মহান একুশে নিয়ে এটি তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।

স্মৃতিস্তম্ভ
-আলাউদ্দিন আল আজাদ

স্মৃতির মিনার ভেঙেছে তোমার? ভয় কি বন্ধু, আমরা এখনো
চারকোটি পরিবার
খাড়া রয়েছি তো ! যে-ভিত কখনো কোনো রাজন্য
পারেনি ভাঙতে
হীরের মুকুট নীল পরোয়ানা খোলা তলোয়ার
খুরের ঝটকা ধুলায় চূর্ণ যে পদ-প্রান্তে
যারা বুনি ধান

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৬৮.
'মীনচেতন' কোন ধারার সাহিত্য?
  1. নাথসাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
ব্যাখ্যা

নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- শেখ ফয়জুল্লাহ নাথ সাহিত্যের জনক। মুসলমান হয়েও তিনি নাথ সাহিত্য রচনা করেছিলেন।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৬৯.
'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. ক) রফিক আজাদ
  2. খ) শঙ্খ ঘােষ
  3. গ) শক্তি চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
শঙ্খ ঘোষ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সময়ের একজন প্রতিথযশা কবি।
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ। ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে
- চুপ করো, শব্দহীন হও
- সবিনয় নিবেদন
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে
- হওয়া

উৎস: প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
৪,২৭০.
'আমীর হামজা' কাব্য রচনা করেন কে? 
  1. আলাওল
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. সৈয়দ হামজা
  4. রেজাউদ্দৌলা
ব্যাখ্যা
• ’আমীর হামজা’ ফকির গরীবুল্লাহ রচিত জঙ্গানামা শ্রেণির কাব্য।

---------------------
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর নামে প্রচলিত এ যাবৎ পাঁচখানি কাব্যের সন্ধান পাওয়া যায়। 

• সেগুলি হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সােনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।
[কিন্তু এ কাব্যগুলি বটতলার পুথি প্রকাশকদের দ্বারা নানা ব্যক্তির নামে প্রকাশিত হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭১.
সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ভাষারূপ পেয়েছে কার রচনায়?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. শামসুজ্জামান খান
  3. সরদার জয়েনউদ্‌দীন
  4. শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্‌দীন আবুল কালাম:
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক।
- ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন
- তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।
- তাঁর লেখা ‘আলমনগরের উপকথা’ উপন্যাসে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।
- ১৯৯৭ সালের ১০ জানুয়ারি রোমে তাঁর মৃত্যু হয় এবং ঢাকায় তিনি সমাহিত হন। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা, 
- কাশবনের কন্যা, 
- কাঞ্চনমালা, 
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা, 
- ঢেউ, 
- পথ জানা নাই, 
- দুই হৃদয়ের তীর, 
- শাহের বানু, 
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭২.
‘রাইকমল’ কোন ঔপন্যাসিক রচিত উপন্যাস?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘রাইকমল’ উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'রাইকমল’
প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে। 
- ‘রাইকমল’ উপন্যাসে বৈষ্ণব প্রেমতত্ত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসে লেখক একদিকে কৃষক শ্রেণির প্রতিনিধি হরি মোড়লের ছেলে রঞ্জন অন্যদিকে খঞ্জনী বাজিয়ে গান গেয়ে ভিক্ষার দ্বারা জীবিকা উপার্জনকারী কামিনী বোষ্টমীর মেয়ে কমলিনী, উভয়ের বাল্য প্রেমের বিচ্ছেদজাত সমস্যা এবং নবদ্বীপে কামিনীর মৃত্যুর পর আধবুড়া রসিক দাসের সঙ্গে কমলিনীর বিবাহ নারীর নিম্নবর্গতার স্বরূপ উন্মোচিত করেছেন।
 
উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ: 
কমলিনী বাল্যকালে রঞ্জনকে ভালোবেসেছে, যৌবনে রসিকদাসকে বিয়ে করেছে তারপর জীবনকে নিয়ে খেলেছে। তার স্বপ্ন ভেঙেছে বাল্যে, যৌবনের তীব্র যৌন ক্ষুধার জ্বালা দেখেছে দাম্পত্য জীবনে। তারপর কাম্য-স্নিগ্ধতার জায়গায় এসেছে যন্ত্রণার আবেশ। একাকী, নিঃসঙ্গ এক নারীর সংগ্রামই ব্যক্ত হয়েছে উপন্যাসটিতে। একইসঙ্গে ব্যক্ত হয়েছে প্রেম ও দাম্পত্য সংকটের জটিলতা।

--------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮-১৯৭১) ছিলেন সমকালীন ঔপন্যাসিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমাজসচেতন লেখক। তিনি তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তির ওপরে সমাজকে স্থান দিয়েছেন। ফলে তাঁর উপন্যাসে সামন্ত সমাজের সঙ্গে ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্ব প্রায়শই প্রকট হয়েছে।

• তাঁর রচিত দুটি জনপ্রিয় উপন্যাস- রাইকমল ও কবি-তে (১৯৪২) বৈষ্ণব ও কবিয়ালের বাস্তব জীবন চিত্রায়িত হয়েছে।
• হাসুলী বাঁকের উপকথায় (১৯৪৭) রাঢ়ের নিম্নশ্রেণীর হিন্দুদের জীবনের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
• তাঁর প্রতিভার পূর্ণ পরিচয় রয়েছে গণদেবতা (১৯৪২), পঞ্চগ্রাম (১৯৪৩), কালিন্দী (১৯৪০), আরোগ্য নিকেতন (১৯৫৩), ধাত্রী দেবতা (১৯৩৯), চৈতালী ঘূর্ণি (১৯৩১), জলসাঘর (১৯৪২) ইত্যাদি উপন্যাসে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ‘রাইকমল’ উপন্যাস তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।

৪,২৭৩.
'রসুল বিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) শেখ ফয়জুল্লাহ
  2. খ) সরদার জয়েনউদ্দিন
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'রসুল বিজয়' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা- সরদার জয়েনউদ্দিন। গোরক্ষবিজয় কাব্যগ্রন্থ রচয়িতা- শেখ ফয়জুল্লাহ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৪,২৭৪.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. উত্তরণ
  2. প্রতিরোধ
  3. স্বদেশ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:

- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কর,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭৫.
‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী’ চরণটি নজরুলের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ভাঙার গান
  3. সাম্যবাদী
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• ‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও! ফিরে চাও ওগো পুরবাসী-জাগরণী’ কবিতাটি নজরুলের ভাঙার গান কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

• ভাঙার গান:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিদ্রোহাত্মক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে (১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে)।
- ব্রিটিশ সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।
- ব্রিটিশ সরকার কখনো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেননি।
---------------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৭৬.
কোনটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস নয়?
  1. ক) চাঁদের অমাবস্যা
  2. খ) লালসালু
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) দি আগলি এশিয়ান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাসঃ লালসালু, চাঁদের অমাবস্যা, কাঁদো নদী কাঁদো, দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি। গল্পগ্রন্থঃ নয়নচারা, দুই তীর ও অন্যান্য গল্প। নাটকঃ বহিপীর, সুড়ঙ্গ, তরঙ্গভঙ্গ, উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৪,২৭৭.
'ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• ‘ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-  সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: 
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৯৩৬ সালে কলকাতার রয়েল এশিয়াটিক সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত হন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ, (ওডিবিএল, ১৯২৬)। 

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- অরিজিন এন্ড ডেভলেপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- পশ্চিমের যাত্রী,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- ভারতের ভাষা ও ভাষা সমস্যা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭৮.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কঙ্কাবতী
  2. দময়ন্তী
  3. এক মুঠো
  4. মর্মবাণী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - এক মুঠো।
----------------------------------
• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায়।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে অমিয় চক্রবর্তীর কবিতা, বাংলাদেশ।
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 

• অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী
- উপহার,
- অনিঃশেষ
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪,২৭৯.
‘লালসালু’ কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. সামাজিক উপন্যাস
  3. রোমান্টিক উপন্যাস
  4. ধর্মীয় দর্শনধর্মী উপন্যাস 
ব্যাখ্যা

লালসালু উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।

• লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয় এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।

• সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ;
বাংলাপিডিয়া।

৪,২৮০.
কোন সাহিত্যিক পাকিস্তান সরকারের দেয়া 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব বর্জন করেন?
  1. ক) নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. খ) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) প্রমথ চৌধুরী
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কারর (১৯৬২) লাভ করেন।
মীর মানস গ্রন্থের জন্য তিনি দাউদ পুরস্কার (১৯৬৫), পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' খেতাব (১৯৬৬) লাভ করেন। 

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ খেতাব বর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮১.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. ব্যথার দান
  2. কুহেলিকা
  3. মৃত্যু-ক্ষুধা
  4. বাঁধন-হারা
ব্যাখ্যা

• ’বাঁধন-হারা’ উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি গ্রন্থাকারে ১৩৩৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ’বাঁধন-হারা’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এটি মুসলিম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে -  নুরু, রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
• কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন হারা,
- কুহেলিকা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণীমনসা,
- জিঞ্জির,
- প্রলয় শিখা,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৮২.
দীনবন্ধু মিত্রের 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. উইলিয়াম বাটলার ইয়েটস
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪,২৮৩.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত আবদুল মান্নান সৈয়দ এর উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতির নোটবুক
  2. ক্ষুধা প্রেম আগুন
  3. মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
  4. নেকড়ে হায়েনা
ব্যাখ্যা
• 'ক্ষুধা প্রেম আগুন' উপন্যাসটি লিখেছেন 'আবদুল মান্নান সৈয়দ'।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত তাঁর একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসের পটভূমিস্থান ঢাকা শহর।
------------- 
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন, 

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৮৪.
"অকপটচন্দ্র ভাস্কর" ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন লেখক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২৮৫.
জীবনানন্দ দাশের ডাকনাম ছিলো কোনটি?
  1. মানিক
  2. মিলু
  3. জীবন
  4. অশোকানন্দ
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশ: প্রারম্ভিক জীবন এবং পরিবার - 
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার গাওপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক এবং সমাজসেবক, আর মা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি। জীবনানন্দ দাশের ডাক নাম ছিল মিলু। তাঁর আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে, যেখানে তিনি তার শৈশব কাটান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং জীবনানন্দ দাশ জীবনী।
৪,২৮৬.
কোনটি তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. পঞ্চগ্রাম
  2. পঞ্চপুণ্ডলী
  3. কালিন্দী
  4. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৮৭.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. কুহেলিকা
  2. বাঁধন-হারা
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. দোলনচাঁপা
ব্যাখ্যা

বাঁধন-হারা:
- 'বাঁধন-হারা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস 'বাঁধন-হারা'।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: নুরু, মাহবুবা, রাবেয়া, সাহসিকা, কুহেলিকা ইত্যাদি। 

• মৃত্যু-ক্ষুধা:
- মৃত্যু-ক্ষুধা উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ধারাবাহিক ভাবে সওগত পত্রিকায় চাপা হয়।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- আনাস, রুবি, মেজো- বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

• কুহেলিকা: 
- কুহেলিকা উপন্যাস টি রাজনৈতিক উপন্যাস ।
- উপন্যাসটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত মাসিক নওরোজ পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাসের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
উল্লেখ্য,
- দোলনচাঁপা কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৪,২৮৮.
'পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না, পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও'- উক্তিটি কার?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঘ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
কেবল ইহাই জানি যে, আমি একা। কেহ একা থাকিও না। যদি অন্য কেহ তোমার প্রণয়ভাগী না হইল, তবে তোমার মনুষ্যজন্ম বৃথা। পুষ্প সুগন্ধী, কিন্তু যদি ঘ্রাণ গ্রহণকর্ত্তা না থাকিত, তবে পুষ্প সুগন্ধী হইত না- ঘ্রাণেন্দ্রিয় বিশিষ্ট না থাকিলে গন্ধ নাই। পুষ্প আপনার জন্য ফুটে না। পরের জন্য তোমার হৃদয়-কুসুমকে প্রস্ফুটিত করিও। - কমলাকান্তের দপ্তর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। উৎসঃ কমলাকান্তের দপ্তর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
৪,২৮৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম -
  1. ভানুসিংহ ঠাকুর
  2. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  3. শ্রীমতি মধ্যমা 
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪,২৯০.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৪
  2. খ) ১৯২৫
  3. গ) ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯২৭
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী। ১৯১৪ সালের ৭মে (২৫শে বৈশাখ, ১৩২১ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হতো। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৪,২৯১.
একাত্তরের চিঠি গ্রন্থটির প্রকাশক কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) প্রথমা প্রকাশন
  2. খ) পরশী প্রকাশন
  3. গ) ইউপিএল
  4. ঘ) প্রগতি প্রকাশনী
ব্যাখ্যা
একাত্তরের চিঠি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা ৮২ টি চিঠির একটি সংকলন।
দৈনিক প্রথম আলো ও গ্রামীনফোনের উদ্যোগে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হয়। সংকলনটি প্রথম প্রকাশিত হয় চৈত্র ১৪১৫, মার্চ ২০০৯ এ।
এটি প্রকাশিত হয় প্রথমা প্রকাশন থেকে।
এই সংকলনের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন আমীন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ।
উৎসঃ প্রথম আলো এবং liberationwarbangladesh.org
৪,২৯২.
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে রচিত 'বনমানুষ' গল্পটি রচনা করেন কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. সেলিনা হোসেন
  3. জাহানারা ইমাম
  4. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
'বনমানুষ' গল্প:
- এইটি আবু ইসহাক রচিত গল্প। 
- ভারত বিভাগের আগে ১৯৪৬ সালে এ অঞ্চলে ভয়াবহ হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা হয়েছিল।
- এ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পটভূমিতে 'বনমানুষ' গল্পটি লিখিত।

কাহিনি সংক্ষেপ:
এ গল্পের লেখক বন বিভাগে সামান্য বেতনে চাকরি করতেন। তিনি দ্বিগুণ বেতনে কলকাতায় চাকরি করতে আসেন। কলকাতায় এসে প্রথমে তাঁর নিজেকে সভ্য মানুষ মনে হতে থাকে। কিন্তু তিনি তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানির মুখোমুখি হতে থাকেন। তিনি দেখেন এ শহরের মানুষেরা ধর্মের নামে পরস্পরকে নির্মমভাবে হত্যা করছে। বনের পশু-পাখিরাও এ রকম পরস্পরকে হত্যা করে না। তখন লেখক আবার বন বিভাগের চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লেখকের কাছে এ শহরের সভ্য মানুষের চেয়ে বনে বসবাসকারী অশিক্ষিত মূর্খ মানুষকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়। 'বনমানুষ' গল্পটি সংকীর্ণ ধর্ম-পরিচয়মুক্ত মানবিক বোধসম্পন্ন চিন্তায় উদ্বুদ্ধ হতে সহায়তা করে; কারণ ধর্ম নিয়ে মানুষে সংঘাত মানুষ পরিচয়টিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। কেননা জীব হিসেবে মানুষ অন্য সব প্রাণীর তুলনায় জ্ঞান, বুদ্ধি ও সৃষ্টিশীলতায় শ্রেষ্ঠ

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাকের জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

আবু ইসহাক রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৯৩.
প্রমথ চৌধুরীর 'বর্ষা' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?
  1. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  2. নানাকথা
  3. প্রবন্ধপাঠ
  4. তেল-নুন-লকড়ী
ব্যাখ্যা
'বর্ষা' প্রবন্ধ:
- প্রমথ চৌধুরীর “বর্ষা” প্রবন্ধটি তাঁর 'প্রবন্ধ সংগ্রহ' (১৯৫২) থেকে সংকলিত এবং ঈষৎ সংক্ষেপিত।

কাহিনি সংক্ষেপ:
নদীমাতৃক এই দেশে বর্ষা ঋতু অত্যন্ত পরিচিত। অবিরাম বৃষ্টিতে বৃক্ষরাজির অবস্থা, মানব মনের আনন্দ-বিষাদ মাখানো অনুভূতি, বর্ষার গান ও কবিতা, বিশেষত রবীন্দ্রনাথের বর্ষার চিত্র প্রাবন্ধিকের মন জুড়ে বয়ে চলেছে। এমন দিন প্রতিটি বাঙালি ভাবুকজনের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু এর অনুভূতি অন্যের কাছে প্রকাশ করা কঠিন। মন্ময় এই প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিকের ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে। বর্ষা মানবহৃদয়কে যে ভাবাবেগে আপ্লুত করে, একই সঙ্গে করে তোলে সজীব ও স্মৃতিকাতর, নৈঃসঙ্গ্যানুভূতিতে জর্জর ও সৃষ্টিমুখর- তারই মর্মকথা ব্যক্ত হয়েছে এ রচনায়। বর্ষা প্রকৃতিতে যে সজীবতা ও আনন্দানুভূতির সঞ্চার করে তা মানবের প্রাণকেও আন্দোলিত করে গভীরভাবে। এই গভীর হৃদয়ানুভূতি "বর্ষা” প্রবন্ধে অভিব্যক্ত হয়েছে; যার মধ্য দিয়ে এ রচনার ভাষা হয়ে উঠেছে নান্দিনিক অনুভব-সঞ্জাত বক্তব্য প্রকাশের বিশেষ উপযোগী।

প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ:
- তেল-নুন-লকড়ী,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- ভাষার কথ,
- আমাদের শিক্ষা ইত্যাদি।

প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগন্থ:
- চার-ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত,
- ঘোষালে ত্রিকথা।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৪.
'বঙ্গভাষা' কবিতাটি রচনা করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবদুল হাকিম
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা
'বঙ্গভাষা' কবিতা:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি চতুৰ্দ্দশপদী কবিতাবলী গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট।
- মাতৃভাষার প্রতি কবির সুগভীর হৃদয়াবেগ এই কবিতায় মার্জিত ও পরিশীলিত ভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এখানে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের অজস্র ঐশ্বর্য ও সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত হয়েছে কবির নিপুণ বর্ণনায়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৫.
কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম প্রবন্ধ সংকলন -
  1. সংস্কৃতির কথা
  2. আলো ও ছায়া
  3. সঞ্চয়ন
  4. আলোক বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হলো 'সঞ্চয়ন'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে।

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- ‘শিখা' পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- তিনি ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন।
- 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- অধ্যাপক হোসেন শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান

অন্যদিকে,
- ‘সংস্কৃতির কথা’ প্রবন্ধটির রচয়িতা মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
- 'আলো ও ছায়া' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - কামিনী রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৬.
বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র-
  1. ক) আজাদী
  2. খ) সমাচার দর্পন
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা

যেহেতু নির্দিষ্ট করে 'বাংলাদেশ' লেখা তাই উত্তর হবে, ১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম) দৈনিক আজাদী।

‘রংপুর বার্তাবহ’ বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে রংপুরের কুণ্ডি পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায় চৌধুরীর উদ্যোগ ও আর্থিক সহায়তায় রংপুর থেকে প্রকাশিত হয়।
প্রথম সম্পাদক গুরুচরণ রায়।
পত্রিকাটি ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ।
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)।
বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,২৯৭.
'ওরা কদম আলী' —বিখ্যাত এ নাটকটির নাট্যকার কে?
  1. ক) মামুনুর রশীদ
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্য দিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
তার অন্যান্য নাটক- ওরা আছে বলেই, মে দিবস, ইবলিশ, এখানে নোঙর, গিনিপিগ ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৯৮.
কোন প্রখ্যাত পণ্ডিত ইংরেজিতে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন?
  1. ক) ব্রাসি হালহেড
  2. খ) পি আচার্য
  3. গ) পি জে হার্টজ
  4. ঘ) ডব্লিউ প্রেস
ব্যাখ্যা
- ম্যানোয়েল দ্যা আসসুম্পসাঁউ পুর্জগিজ vocabulario em Idioma Bengalla E Portugues (1743) গ্রন্থের একটা অধ্যায়ে পুর্তগিজ ভাষায় প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেন, কিন্তু সেটা কোনো গ্রন্থ ছিল না, একটা অধ্যায় ছিল মাত্র।
- বাংলা ভাষার প্রথম ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন নাথায়িল ব্রাসি হ্যালহেড। এটি ইংরেজিতে লেখা হয়। এই বইয়ের নাম ছিল A Grammar of the Bengal Language (1778)।
- আর বাংলা ভাষায় বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ রচনা করেন রাজা রামমোহন রায়। এই বইয়ের নাম ছিল ‘গোড়ীয় ব্যাকরণ’ (১৮৩৩)।

উৎস : ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ (নতুন)
৪,২৯৯.
কার পরামর্শে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ শুরু করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) চন্দ্রকুমার দে
  3. গ) দীনেশচন্দ্র সেন
  4. ঘ) জসিমউদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র বাংলা সাহিত্যের লুপ্তপ্রায় কথাসাহিত্য সংগ্রহ শুরু করেন দীনেশচন্দ্র সেনের পরামর্শে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৪,৩০০.
কোনটি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ নয়?
  1. ক) অন্বেষা
  2. খ) ভালো মানুষের জগৎ
  3. গ) ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি
  4. ঘ) দ্বিতীয় ভুবন
ব্যাখ্যা
'ভালো মানুষের জগৎ' সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত গল্প। প্রকাশিত হয় ১৯৯০ সালে।

 সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- বাঙালিকে কে বাঁচাবে,
- নেতা জনতা ও রাজনীতি,
- ভয় পেয়ো না, বেঁচে আছি।

'বাবুলের বেড়ে ওঠা' তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস।

দরজাটা খোলো তাঁর রচিত ছোটদের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।