বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা / ২১১ · ৩০১৪০০ / ২১,১৩২

৩০১.
'হুতোম প্যাঁচার নকশা' উপন্যাসটি কোন জাতীয়?
  1. ক) ঐতিহাসিক
  2. খ) রোমান্টিক
  3. গ) রাজনৈতিক
  4. ঘ) ব্যঙ্গরসাত্মক
ব্যাখ্যা
 কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' মূলত ব্যঙ্গরসাত্মক সামাজিক উপন্যাস।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে কলকাতাবাসী ধনীসমাজের ব্যঙ্গরসাত্মক চিত্র এই গ্রন্থে অঙ্কিত হয়েছে।
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা। এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে
- সমসাময়িকদের মধ্যে কালীপ্রসন্ন শিল্পসংস্কৃতির একজন মহান পৃষ্ঠপোষক, বিধবাবিবাহের একনিষ্ঠ প্রবক্তা, অনন্যসাধারণ সমাজনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- নাটক,  প্রহসন,  উপন্যাস, নকশা, প্রবন্ধ ও অনুবাদ মিলে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা নয়।
- ইংরেজিতে দি ক্যালকাটা পুলিশ অ্যাক্ট-ও (১৮৬৬) তাঁর রচনা।
- প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম  হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। । 
- নীলকরদের নিপীড়নমূলক আচরণ উদ্ঘাটনে অবদানের জন্য  রেভারেন্ড জেমস লং-কেও তাঁরা সংবর্ধিত করেন। দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০২.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প কোনটি?
  1. বেদেনী
  2. রসকলি
  3. ডাকহরকরা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প রসকলি।

• ‘রসকলি’:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘রসকলি’ গল্পটি বীরভূমের গ্রামীণ জীবনের প্রকৃতি, লোকবিশ্বাস ও কুসংস্কারের বাস্তব ছবি তুলে ধরে।
- গল্পের কেন্দ্রেই রয়েছে রসকলি নামের তরুণী, যার একাকিত্ব, ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা ও সমাজের কঠোর রীতিনীতির সঙ্গে তার মানসিক টানাপোড়েন ফুটে ওঠে।
- সহজ-সরল গ্রামের জীবনের আড়ালে থাকা মানসিক দ্বন্দ্ব ও সামাজিক জটিলতাই গল্পের প্রধান শক্তি। 
---------------------------------------

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন বাংলা কথাসাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
- পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরের জমিদার পরিবারে এই সাহিত্যিকের জন্ম।
- সাধারণ মানুষের জীবন, যেমন বেদে, পটুয়া, লাঠিয়াল, চৌকিদার, বাগদী, বোষ্টম, ডোম প্রভৃতি সমাজের প্রান্তিক শ্রেণীর বাস্তব জীবনচিত্র তিনি গল্পে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ছিল ‘রসকলি’, যা প্রকাশিত হয়েছিল কল্লোল পত্রিকায়।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্প:
- ‘রসকলি’,
- ‘বেদেনী’,
- ‘ডাকহরকরা'।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- জলসাঘর,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- আরোগ্য নিকেতন—ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩০৩.
“চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন রচিত- 
  1. কবিতা
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

• “চাষার দুক্ষু” বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ।

• বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার স্বামীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা শুরু করেন।
- তিনি সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লেখনি ধারণ করেন ।
- নারীর অধিকার আদায়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মুসলিম মহিলা সমিতি |

- রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা)
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৩০৪.
"আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না।" - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন 
  2. প্রমথ চৌধুরী 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শেখ ফজলুল করীম 
ব্যাখ্যা

• ''আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না'' - উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ''আমার পথ" প্রবন্ধ থেকে নেয়া।

- 'আমার পথ' প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে।
- গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।
 
‘আমার পথ’ প্রবন্ধের অংশবিশেষ:
‘আমার এই যাত্রা হল শুরু ওগো কর্ণধার, তোমারে করি নমস্কার ।
মাভৈঃ বাণীর ভরসা নিয়ে' ‘জয় প্রলয়ঙ্কর' বলে ‘ধূমকেতু’কে রথ করে আমার আজ নতুন পথে যাত্রা শুরু হল। আমার কর্ণধার আমি। আমায় পথ দেখাবে আমার সত্য। আমার যাত্রা শুরুর আগে আমি সালাম জানাচ্ছি—নমস্কার করছি আমার সত্যকে। যে-পথ আমার সত্যের বিরোধী, সে পথ ছাড়া আর কোনো পথই আমার বিপথ নয়! রাজভয়— লোকভয় কোনো ভয়ই আমায় বিপথে নিয়ে যাবে না। আমি যদি সত্যি করে আমার সত্যকে চিনে থাকি, আমার অন্তরে মিথ্যার ভয় না থাকে, তা হলে বাইরের কোন ভয়ই আমার কিছু করতে পারবে না । যার ভিতরে ভয়, সে-ই বাইরে ভয় পায়।
 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের  ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং কাজী নজরুল রচিত 'আমার পথ' প্রবন্ধ।

৩০৫.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৩০৬.
'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য এর রচনা।
-----------------------------------------------
ছাড়পত্র:
- ছাড়পত্র কাব্যগ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত।
- এটি তার মৃত্যুর পর ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তিনি ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৭ সালের মধ্যে রচনা করেছিলেন।
- গ্রন্থটি মূলত মার্কসবাদী চেতনা দ্বারা প্রভাবিত এবং গণমানুষের দুঃখ-কষ্ট, শোষণ ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটায়।
- এছাড়াও এতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রতিফলনও দেখা যায়।
- 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থটি সুকান্তকে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এই কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলোর মধ্যে আছে:
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- এবং ‘কলম’।
---------------------------------------------------------
সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২০ বছর বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩০৭.
'কাফেলা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) ইব্রাহিম খাঁ
  2. খ) এস ওয়াজেদ আলী
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
ইব্রাহীম খাঁ রচিত নাটক- কাফেলা, আনোয়ার পাশা, কামাল পাশা, ভিস্তি বাদশা, ঋণ পরিশোধ। তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনী- ইস্তাম্বুল যাত্রীর পত্র, পাকিস্তানের পথে ঘাটে, নয়া চীনে এক চক্কর। গল্পগ্রন্থ- সোনার শিকল, আলু বোখরা, দাদুর আসর। এবং উপন্যাস- বৌ বেগম।
উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩০৮.
জসীম উদ্‌দীন এর ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক ছিলেন। 
  2. তাম্বুলখানা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
  3. ‘সঞ্চয়ন’ তাঁর নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।
  4. ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীমউদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। তবে অনেকে মনে করেন, তিনি ‘আধুনিক কবি’।
- ছাত্র জীবনেই তাঁর কবি প্রতিভার প্রকাশ ঘটে।
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

অর্থ্যাৎ, ‘সঞ্চয়ন’ জসীমউদ্‌দীন নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ নয়। কাজী মোতাহার হোসেন রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন ‘সঞ্চয়ন’। এটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ:
- হাসু,
- এক পয়সার বাঁশী,
- ডালিমকুমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩০৯.
মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন?
  1. ১৮ বছর
  2. ১৯ বছর
  3. ২৮ বছর
  4. ২৯ বছর
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি ছিলেন মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম। 
-  পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসূদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি,১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়। 
-  হিন্দু কলেজে খ্রিস্টানদের অধ্যয়ন নিষিদ্ধ থাকায় মধুসূদন দত্তকে কলেজ ত্যাগ করতে হয়। তাই ১৮৪৪ সালে তিনি বিশপস কলেজে ভর্তি হন।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩১০.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রের সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয়-
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) দাদামাশয়ের ঝুলি
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।
• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩১১.
'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেনে
  2. হাসান আজিজুল হক
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. শওকত ওসমান 
ব্যাখ্যা

• 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস:
- সেলিনা হোসেনের 'কাটাতারে প্রজাপতি' [১৯৮৯] নাচোলের তেভাগা আন্দোলন ও তার কিংবদন্তিতুল্য সংগঠক ও নেত্রী ইলা মিত্রকে নিয়ে লেখা ইতিহাস-নির্ভর জীবনী-উপন্যাস।

- এ উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু নাচোলের কৃষক বিদ্রোহের নেত্রী ইলা মিত্র। সেলিনা হোসেনের 'কাঁটাতারে প্রজাপতি'তে ঐতিহাসিক নায়িকাই উপন্যাসের আঙ্গিকে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছেন। জমিদার বাড়ির বউ ইলা মিত্রের তেভাগা আন্দোলনের নাচোল শাখার মুখ্য কর্তা রমেন মিত্রের সঙ্গে নাচোলের কৃষক আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে সকলের ভালোবাসার রানিমা হয়ে ওঠার কাহিনি বিবৃত হয়েছে।

- ২৭টি অধ্যায়ে বর্ণিত 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাসের কাহিনি শুরু হয়েছে সুতো উৎপাদক আজমলের চিন্তাস্রোত বর্ণনা করে। আর কাহিনি শেষ হয়েছে রাজশাহী জেল হাসপাতালে মরণাপন্ন অবস্থায় থেকে আজমলের ইলা মিত্রের জবানবন্দি পাঠ ও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের ঘটনার মাধ্যমে।

--------------------
সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• 'যুদ্ধ' (১৯৯৮): ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। এ উপন্যাসে ১১ নম্বর সেক্টরের নারী মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতীক তারামন বিবির প্রসঙ্গ এসেছে।'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।

• 'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।

• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।
• 'যাপিত জীবন' (১৯৮১): এ উপন্যাসে ১৯৪৭-৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের যাবতীয় ঘটনা কেন্দ্রীয় চরিত্র জাফর এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।

• ‘জলোচ্ছ্বাস' (১৯৭২): দক্ষিণ বাংলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আগুনমুখা, কাজল নদীর কূলে প্রতিকূল প্রকৃতি ও সামাজিক অপশক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামশীল মানুষের জীবনধারা এ উপন্যাসের আলেখ্য।

উৎস: 'কাঁটাতারে প্রজাপতি' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১২.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত সাহিত্যকর্মের মধ্যে নিচের কোনটি নাটক?
  1.  উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. বিষাদ-সিন্ধু
  3. বসন্তকুমারী
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩১৩.
‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে বাংলা কোন চলচ্চিত্র টি নির্মিত?
  1. ক) মাটির ময়না
  2. খ) চিত্রা নদীর পাড়ে
  3. গ) লালসালু
  4. ঘ) বাঙলা
ব্যাখ্যা
• আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।

• ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস ওঙ্কার। এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে। 
- এটি মূলত ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ‘ওঙ্কার’ উপন্যাস অবলম্বনে ‘বাঙলা’ চলচ্চিত্র টি নির্মিত হয়েছে।

 তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
• সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন, 
• মরণবিলাস, 
• গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস), 
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, 
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
‘উত্তম পুরুষ’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. জহির রায়হান
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. রশীদ করিম
ব্যাখ্যা
উত্তম পুরুষ:
- রশীদ করীমের এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬১ সালে।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শাকেরকে ঘিরে সেলিনা, অণিমা, শেখর, মুশতাক, সলিল, চন্দ্রা, নিহার ভাবি, শিশির এ রকম অসংখ্য চরিত্র আবর্তিত হয়েছে।
- এদের মনস্তাত্ত্বিক জটিলতায় কোথাও কোথাও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে।
- আধুনিক মননশীলতা, পরিশীলতা, আঙ্গিক, অভিজ্ঞতার নির্লিপ্ত বর্ণনায় পাঠকের পাঠতৃষ্ণার নিবারণ হয়।

রশীদ করীম:
- তিনি ১৪ই আগস্ট, ১৯২৫ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭২), একুশে পদক (১৯৮৪), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৯১), জনকণ্ঠ পুরস্কার (২০০১) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১১ সালের ২৬শে নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- উত্তমপুরুষ,
- প্রসন্ন পাষাণ,
- আমার যত গ্লানি,
- সোনার পাথর বাটি,
- বড়ই নিঃসঙ্গ,
- লান্সবাক্স ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মাহমুদুল হক
  3. শওকত ওসমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস- 'একটি কালো মেয়ের কথা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

• উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে। এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

---------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কথাসাহিত্যিক ছিলেন।
• তিনি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- গণদেবতা,
- পঞ্চগ্রাম,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- একটি কালো মেয়ের কথা।

উল্লেখ্য,
- মাহমুদুল হকের 'জীবন আমার বোন' মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস।
- ‘দুই সৈনিক’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ।
- ‘নিষিদ্ধ লোবান’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৬.
বিদ্যাপতির ব্রজবুলিতে রচিত শ্রেষ্ঠ কীর্তি কোনটি?
  1. ব্রজকিশোর
  2. রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ
  3. ব্রজলীলা
  4. গীতগোবিন্দ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৭.
সঙ্গীতজগতে ‘নিধু গুপ্ত’ নামে পরিচিত-
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. মানিক দত্ত
  4. বিজয় গুপ্ত
ব্যাখ্যা

রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩০):
- তিনি সঙ্গীতশিল্পী ও টপ্পা গানের জনক।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘রামনিধি গুপ্ত’, কিন্তু সঙ্গীতজগতে তিনি ‘নিধু গুপ্ত’ নামেই পরিচিত
- কেউ কেউ তাঁকে ‘নিধুবাবু’ বলেও ডাকতেন।
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার চাপ্তায় মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পিতা হরিনারায়ণ গুপ্ত পেশায় ছিলেন একজন কবিরাজ এবং তিনি কলকাতার কুমারটুলিতে সপরিবারে বাস করতেন।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন' (১৮৩২) 

- তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৮.
‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি-
  1. নাট্যকাব্য
  2. অনুবাদবাক্য
  3. গীতিকাব্য
  4. সনেট সংগ্রহ
ব্যাখ্যা
• ‘জীবনপথে’ কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

----------------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী।
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৯.
'ইব্রাহিম কার্দি' - চরিত্রের স্রষ্টা করেন কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২০.
বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয় কাকে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
- উইলিয়াম কেরিকে বাংলা গদ্যের পথিকৃৎ বলা হয়।
- তিনি সুশৃঙ্খল গদ্যের পথকিৃৎরূপে বিদেশী ব্যবহারের ও শিক্ষার উপযোগ করে ১৮০১ সালে ‘ কথোপকথন’ গ্রন্থটি শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশ করেন।
- ‘কথোপকথন’ গ্রন্থটি ছিল ‍দ্বিভাষিক- এক পৃষ্ঠায় বাংলা , অপর পৃষ্ঠায় ইংরেজি।
- বাংলা ভাষার কথ্যরীতির প্রথম নিদর্শন এই গ্রন্থে বিধৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

================
উল্লেখ্য,
বাংলা গদ্যের জনক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- তিনি বাংলা গদ্যে যতি বা বিরামচিহ্নের প্রবর্তন করেন।
- বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন।
- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। 
- বাংলা গদ্যকে তিনি সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন বলেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 
৩২১.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।
৩২২.
কোনটি আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ক) মুক্তি
  2. খ) জাল
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) চৌচির
ব্যাখ্যা
জাল
- আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
- উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
- ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর।
- সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।

• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস:
- সূর্য দীঘল বাড়ী ও
- পদ্মার পলিদ্বীপ।

অন্যদিকে,
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলাপিডিয়া।
৩২৩.
‘কলিমা জালাল’ কার রচনা?
  1. রামাই পণ্ডিত
  2. শ্রীহর্ষ
  3. হলায়ুধ মিশ্র
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
৩২৪.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) আগমনী
  2. খ) কবিতাবলী
  3. গ) পারস্যে
  4. ঘ) লাল মেঘ
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পেক্ষাপটে রচিত।

• অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘কবিতাবলী’ (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷


• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার 
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- পারাপার 
- পালাবদল 
- ঘরে ফেরার দিন 
- হারানো অর্কিড 
- পুষ্পিত ইমেজ 
- অমরাবতী
- অনিঃশেষ
- নতুন কবিতা ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে' সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।'-কোন কবিতার অংশ?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. নিরুদ্দেশ যাত্রা
  4. মানসসুন্দরী
ব্যাখ্যা
• 'আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে হে সুন্দরী?/বলো কোন্ পার ভিড়িবে তোমার সোনার তরী।' - 'নিরুদ্দেশ যাত্রা' কবিতার অংশবিশেষ। 

নিরুদ্দেশ যাত্রা- কবিতা, 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
হে সুন্দরী?
বলো  কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার
সোনার তরী।
যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,
তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী--
বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে
তোমার মনে। (সংক্ষেপিত) 

• 'সোনার তরী':
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।
 
এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া, উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)।
৩২৬.
'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' অনবদ্য গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শহীদ কাদরী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৭.
'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’- উক্তিটি কোন প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সভ্যতার সংকট
  2. মানুষের ধর্ম
  3. শিক্ষা
  4. কালান্তর
ব্যাখ্যা
সভ্যতার সংকট:
• ‘সভ্যতার সংকট’ ( ১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ গদ্যরচনা।
• এই প্রবন্ধে ইউরোপীয় সভ্যতা ও ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের তীব্র সমালোচনা ও মানবতার প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশিত হয়েছে।
• 'ঐ মহামানব আসে' গানটি এই প্রবন্ধের অন্তর্ভুক্ত।
• 'সভ্যতার সংকট' প্রবন্ধে তিনি বলেছেন, 'মানুষের উপর বিশ্বাস হারানো পাপ, সে বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত রক্ষা করব।’

-------------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধ গ্রন্থগুলো হলো:
• সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ:
'প্রাচীন সাহিত্য', 'লোকসাহিত্য', 'আধুনিক সাহিত্য', 'সাহিত্য', 'সাহিত্যের পথে', 'সাহিত্যের স্বরূপ' প্রভৃতি।
[এসব প্রবন্ধ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যতত্ত্ব সাহিত্যবিচার ও বিভিন্ন কবিসাহিত্যিক সম্পর্কে মূল্যবান প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।]

• ভাষাতত্ত্বমূলক প্রবন্ধ:
'শব্দতত্ত্ব', 'ছন্দ', 'বাংলা ভাষা পরিচয়' প্রভৃতি গ্রন্থে ভাষাতত্ত্বমূলক রসহীন বিষয়কে সাহিত্য-বিচারবুদ্ধি দ্বারা রমণীয় করে তুলেছেন।

• রাজনৈতিক প্রবন্ধ:
'আত্মশক্তি', 'ভারতবর্ষ', 'রাজাপ্রজা', 'স্বদেশ', 'পরিচয়', 'কালান্তর', 'সভ্যতার সংকট' প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর রাজনীতি বিষয়ক মতবাদ প্রকাশক।
[দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে তিনি যে সচেতন ছিলেন তার প্রমাণ এসব গ্রন্থ থেকে লাভ করা যায়।]

• 'শিক্ষা' গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার প্রতি আলোকপাত করেছেন।

• ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধ:
'ধর্ম', 'শান্তিনিকেতন', 'মানুষের ধর্ম' প্রভৃতি তাঁর ধর্ম ও দর্শনবিষয়ক প্রবন্ধগ্রন্থ।

• 'চারিত্র্যপূজা', 'পঞ্চভূত', 'লিপিকা' প্রভৃতি গ্রন্থে তাঁর বিচিত্র ব্যক্তিমানসের প্রকাশ ঘটেছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৩২৮.
ধর্মমঙ্গল কাব্যে কোন কাহিনির কথা উল্লেখ আছে?
  1. রামায়ণ কাহিনি
  2. কৃষ্ণলীলার কথা
  3. লাউসেনের কাহিনি
  4. সীতার বনবাস কাহিনি
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গল কাব্যে লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা উল্লেখ আছে।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট। কিন্তু তাঁর কাব্যের নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
- ধর্মমঙ্গলের শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।
- রূপরাম, সীতারাম দাস ধর্মমঙ্গলের উল্লেখযোগ্য কবি।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত:
রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি।
লাউসেনের সংগ্রামী জীবনের কথা।
- ধর্মমঙ্গলের অন্যান্য কবিরা হচ্ছেন- আদি রূপরাম, খেলারাম চক্রবর্তী, মানিকরাম, রূপরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৯.
'মেঘনাদবধ কাব্য' এর কাহিনী কোথা থেকে গৃহীত হয়েছে?
  1. ক) রামায়ণ
  2. খ) মঙ্গলকাব্য
  3. গ) মহাভারত
  4. ঘ) ইলিয়াড
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার প্রতিষ্ঠিত উকিল এবং তাঁর মাতা জাহ্নবী দেবী।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' (michael) শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' (mikha'el) শব্দ থেকে এসেছে।
- Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত অমর মহাকাব্যের নাম মেঘনাদবধ কাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য রামায়ণ থেকে গৃহীত হয়েছে মেঘনাদবধ কাব্যের কাহিনী।
- মেঘনাদবধ কাব্য নয়টি সর্গে কাহিনীবিস্তার করেছে।
- এই মহাকাব্যে মোট তিনদিন ও দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- কাব্যের বিভিন্ন সর্গে বীরত্ব, অভিমান, আক্ষেপ ইত্যাদি প্রকাশিত।
- কাব্যের ট্রাজেডি সৃজণ হয়েছে নায়ক রাবণ চরিত্রকে অবলম্বন করে।
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা ও সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩০.
‘ ভাষা ও সাহিত্য’- এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবদুল হাই
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
মুহাম্মদ আবদুল হাই সাহিত্য ও সংস্কৃতি (১৯৫৪), বিলেতে সাড়ে সাত শ’দিন (১৯৫৮), তোষামোদ ও রাজনীতির ভাষা (১৯৫৯), ভাষা ও সাহিত্য (১৯৬০), ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব (১৯৬৪) প্রভৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩৩১.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বাভাস
  2. ছাড়পত্র
  3. আকাল
  4. মিঠেকড়া
ব্যাখ্যা
• আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
------------------------------------

• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩২.
"আঠারো শতকের বাংলা চিঠি" গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পান। এছাড়াও ২০১৪ সালে ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৩.
‘সাত ভাই চম্পা’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ‘সাত ভাই চম্পা’ বিষ্ণু দে রচিত - কাব্যগ্রন্থ

বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৪.
'হে অরণ্য কথা কও' বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) ভ্রমণকাহিনী
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
হে অরণ্য কথা কও, অভিযাত্রিক, বনে-পাহাড়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনী।
তাঁর রচিত উপন্যাস- পথের পাঁচালী, অপরাজিত, দৃষ্টিপ্রদীপ, আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, বিপিনের সংসার, দেবযান, ইছামতি, অশনিসংকেত ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩৩৫.
কোনটি আহসান হাবীবের রচিত উপন্যাস?
  1. অরণ্যের দিনরাত্রি 
  2. বিধ্বস্ত নীলিমা
  3. অরণ্য নীলিমা
  4. আরণ্যক
ব্যাখ্যা

• 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাস:
- আহসান হাবীবের রচিত 'অরণ্য নীলিমা' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উদীয়মান মুসলমান মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের প্রতিনিধি এক তরুণ চিত্রশিল্পী ও তাঁর স্ত্রীর মনোজাগতিক সংকটক এ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয়।

অন্যদিকে, 
• 'অরণ্যের দিনরাত্রি' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস। পরে সত্যজিৎ রায় এটির উপর চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
• "বিধ্বস্ত নীলিমা" হল শামসুর রাহমানের একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'আরণ্যক' বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত চতুর্থ উপন্যাস। ১৯৩৯ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

--------------------
• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দুই আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইত্যাদি।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

এছাড়া তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৩৬.
'বাংলার মিল্টন' কার অভিধা?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টাপাধ্যায়
  4. হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন।
- মধুসূদনের পরবর্তী কাব্য রচয়িতাদের মধ্যে ইনি সে সময় সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন।
- 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি / অভিধা।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, বাংলাভাষার প্রথম সনেট প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। 

• জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত। এবং পেশাগত কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'রায়বাহাদুর' উপাধি লাভ করেন। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৭.
বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. তারকনাথ পা 
  2. দারিক পা
  3. আর্যদেব পা
  4. মহীধর পা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন-  তারকনাথ পা। 
- তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি লেখক। 

--------------------
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৩৮.
'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীটি কার রচনা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

--------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• ভ্রমণ কাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৩৯.
‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি রচয়িতা-
  1. ক) শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. খ) আলাওল
  3. গ) কোরেশী মাগন ঠাকুর
  4. ঘ) মুহম্মদ কবীর
ব্যাখ্যা
পংক্তিটি আলাওল রচিত “পদ্মাবতী” কাব্য থেকে নেওয়া। পদ্মাবতীর রূপের বর্ণনা দেওয়ার সময় উল্লেখিত পক্তি ব্যক্ত হয়েছিলো। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৩৪০.
'বীরবল' কার ছদ্মনাম?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী:
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪১.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জীবনালেখ্য নিয়ে রচিত নাটক -
  1. শেখ মুজিব: তাকে যেমন দেখেছি
  2. কালবেলা
  3. মাইলপোষ্ট
  4. শেষ নবাব
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ
১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকঃ কালবেলা, মাইলপোস্ট, তৃষ্ণায়, প্রতিদিন একদিন, শেষ নবাব

- ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক হলো মীর মশাররফ হোসেন।

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
খ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ঔপন্যাসিক।
- তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস "লালসালু" (১৯৪৮)।

গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একজন বিশিষ্ট মুসলিম সাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- মুসলিম জাগরণের সাহিত্য রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ঘ) সেলিনা হোসেন:
- বাংলাদেশের সমসাময়িক অন্যতম জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক।
- তাঁর উপন্যাসগুলোতে বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, নারীজীবন ও সামাজিক বাস্তবতা উঠে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
'রূপালি স্নান' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'রূপালি স্নান' কবিতা:
- রচয়িতা: শামসুর রাহমান।
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত 'কবিতা' পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।
- সংকলিত হয় প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে কাব্যগ্রন্থে।

রূপালি স্নান- কবিতা, 
- শামসুর রাহমান

শুধু দু’টুকরো শুকনো রুটির নিরিবিলি ভোজ
অথবা প্রখর ধু-ধু পিপাসার আঁজলা ভরানো পানীয়ের খোঁজ
শান্ত সোনালি আল্পনাময় অপরাহ্নের কাছে এসে রোজ
চাইনি তো আমি। দৈনন্দিন পৃথিবীর পথে চাইনি শুধুই
শুকনো রুটির টক স্বাদ আর তৃষ্ণার জল। এখনো যে শুই
ভীরু-খরগোশ-ব্যবহৃত ঘাসে, বিকেলবেলার কাঠবিড়ালিকে
দেখি ছায়া নিয়ে শরীরে ছড়ায়,- সন্ধ্যা নদীর আঁকাবাঁকা জলে (সংক্ষেপিত)।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি শামসুর রহমানে জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়, 
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, পত্রিকা রিপোর্ট।

৩৪৪.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ  সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? 
  1. The origin and development of the bengali language
  2. History of Ancient Benga
  3. Buddhist Mystic Songs
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৮৮৫–১৯৬৯) ভারতীয় উপমহাদেশের একজন বিশিষ্ট বাঙালি ভাষাবিদ, বহুভাষাবিদ পণ্ডিত, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- বাংলা ভাষা গবেষণায় তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সাহসী অগ্রদূতদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত।
- তিনি চর্যাপদ বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ Buddhist Mystic Songs সম্পাদনা ও অনুবাদ করেন। 
- এটি ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি চর্যাপদের অনুবাদ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ মূলত বাংলা ভাষায় রচিত।
- এছাড়াও চর্যাপদ নিয়ে তিনি আরও নানা গবেষণামূলক কাজ করেন।
------------------------------------
উল্লেখ্য,
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন। 
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- চর্যাপদ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গবেষক ও প্রকাশনা:
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই ছিলেন যৌথভাবে প্রাচীনযুগের চর্যাপদ বিষয়ক চর্যাগীতিকা নামক সাহিত্যকর্ম সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন।
• মনীন্দ্রমোহন বসু – চর্যাপদের প্রথম সংস্করণ প্রকাশ করে।
• আনোয়ার পাশা ও মুহম্মদ আবদুল হাই – “চর্যাগীতিকা” যৌথভাবে সম্পাদনা।
• সৈয়দ মুহম্মদ শাহেদ – “নতুন চর্যাপদ” প্রকাশ।
•“বাঙালীর ইতিহাস (আদি পর্ব)” – ড. নীহাররঞ্জন রায়। 
• “History of Ancient Bengal” – রমেশচন্দ্র মজুমদার।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস – মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা । 

৩৪৫.
হুমায়ুন আজাদের রচনা কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. নুরজাহান
  3. লাল নীল দীপাবলি
  4. হিমু
ব্যাখ্যা
• হুমায়ুন আজাদ রচিত বাংলা সাহিত্য বিষয়ক গ্রন্থ- ‘লাল নীল দীপাবলি।

অন্যদিকে, 
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ রচিত উপন্যাস - শঙ্খনীল কারাগার।
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক- নূরজাহান
• বাংলাদেশের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন -এর সুদীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান'।

• 'হিমু সিরিজ এর রচয়িতা- হুমায়ূন আহমেদ।
- 'হিমু সিরিজ':
- ময়ূরাক্ষী, দরজার ওপাশে, হিমু , পারাপার, এবং হিমু , হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম, হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হিমুর রূপালী রাত্রি , একজন হিমু কয়েকটি ঝিঁঝিঁ পোকা, তোমাদের এই নগরে, সে আসে ধীরে, চলে যায় বসন্তের দিন, হিমু মামা, আঙুল কাটা জগলু, হলুদ হিমু কালো র‌্যাব, আজ হিমুর বিয়ে, হিমু রিমান্ডে, হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য, হিমুর মধ্যদুপুর, হিমুর বাবার কথামালা , হিমুর নীল জোছনা, হিমু এবং একটি রাশিয়ান পরী, হিমুর আছে জল, হিমু এবং হার্ভার্ড পিএইচ.ডি বল্টু ভাই প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৬.
'রুপজালাল' কোন প্রকার সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্য
  2. উপন্যাস
  3. আত্মজীবনী
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• 'রুপজালাল' নবাব ফয়জুন্নেসার গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনীমূলক রচনা।  

নবাব ফয়জুন্নেসা:
- জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি নবাব ফয়জুন্নেসা কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফয়জুন্নেসা জমিদারি লাভের পূর্ব থেকেই সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড এবং দীন-দরিদ্রের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। 
- ফয়জুন্নেসার জনহিতৈষণার পুরস্কারস্বরূপ মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে তাঁকে ‘নবাব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি 'নবাব' উপাধি লাভ করেন।
-  বান্ধব, ঢাকা প্রকাশ, মুসলমান বন্ধু, সুধাকর, ইসলাম প্রচারক প্রভৃত বাংলা পত্রপত্রিকা তাঁর আর্থিক সহায়তা লাভ করে।
- সাহিত্যিক হিসেবেও ফয়জুন্নেসার পরিচিতি রয়েছে।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৭.
'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়-
  1. ১৯১৮ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

- 'জ্ঞানান্বেষণ' পত্রিকা সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- এটি ১৮৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৪৮.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬৩ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৮৭ সালে
  4. ১৮২৩ সালে
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। 
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৪৯.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের পটভুমি হচ্ছে?
  1. ক) পানিপথের যুদ্ধ
  2. খ) সিপাহী বিদ্রোহ
  3. গ) কৃষক বিদ্রোহ
  4. ঘ) পলাশীর যুদ্ব
ব্যাখ্যা
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের পটভূমিকায় মুনীর চৌধুরীর লেখা মৌলিক নাটক রক্তাক্ত প্রান্তর-এর চরিত্রগুলোর মধ্যে বিখ্যাত চরিত্র গুলো হচ্ছে ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ। উৎসঃ রক্তাক্ত প্রান্তর - মুনীর চৌধুরী
৩৫০.
"প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে, বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।" কবিতাংশটি কোন কবিতার?
  1. প্রভাতফেরী
  2. একুশে ফেব্রুয়ারি
  3. একুশের কবিতা
  4. জন্ম তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার বিখ্যাত কবিতা: একুশের কবিতা

একুশের কবিতা
আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?


পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

• আল মাহমুদ:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও একুশে কবিতা।

৩৫১.
'গঙ্গাবাক্যাবলী' গ্রন্থ রচনা করেন -
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) জ্ঞানদাস
  4. ঘ) আলাওল
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- তিনি ব্রজবুলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য তিনি বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
৩৫২.
নির্মলেন্দু গুণকে বলা হয়-
  1. প্রাচীন কবি
  2. বাংলাদেশের কবিদের কবি
  3. গ্রামীণ কবি
  4. নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা
- নির্মলেন্দু গুণকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়।

- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে থাকে। অনেকে তাঁর কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙ্ক্ষা বোধ করে।

- বাংলাদেশের আর কোন কবি অনুজ কবিদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি তাঁর প্রভাবেই কবি হয়েছেন। তাই নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৫৩.
'সোনার চেয়ে দামী' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'সোনার চেয়ে দামী' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসঃ
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মা নদীর মাঝি,
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- অমৃতস্য পুত্রা,
- সহরতলী,
- অহিংসা,
- চতুষ্কোণ,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- সোনার চেয়ে দামী,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- চিহ্ন,
- জীয়ন্ত,
- মাশুল,
- হরফ ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৪.
'বিদ্যাভূষণ' কোন কবির উপাধি?
  1. কায়কোবাদ
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৫.
'কুঁচবরণ কন্যা' - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• 'কুঁচবরণ কন্যা' শিশুতোষ গ্রন্থের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া। 

বন্দে আলী মিয়া
- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

বন্দে আলী মিয়া রচিত কাব্য:
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

বন্দে আলী মিয়া রচিত উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৬.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসে কোন কোন ঐতিহাসিক ঘটনার পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে?
  1. সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশবিভাগ ও ভাষাআন্দোলন
  3. বিশ্বযুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষ
  4. দুর্ভিক্ষ ও উনসত্তুরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
-মোরল গদু ইত্যাদি।

---------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
হুমায়ুন কবিরের প্রকৃত নাম ছিল-
  1. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির
  2. হুমায়ুন কবির আমির-ই-জহিরউদ্দিন
  3. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন কবির
  4. হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির:
- তিনি একাধারে রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক।
- ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।
- ১৯৪৬ সালে হুমায়ুন কবির কংগ্রেস সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদএর আমন্ত্রণে তাঁর একান্ত সচিবরূপে যোগদান করেন।
- ১৯৫৬ সালে তিনি ভারতীয় রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ
- সাথী
- অষ্টাদশী।

• উপন্যাস:
- নদী ও নারী।

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ইমানুয়েল কান্ট
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
- বাংলার কাব্য
- মার্কসবাদ
- নয়া ভারতের শিক্ষা
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী
- মিরজা আবু তালিব খান
- দিল্লী-ওয়াশিংটন-মস্কো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৫৮.
বাংলা গীতাঞ্জলিতে কয়টি গীতিকবিতার সংকলন করা হয়েছে?
  1. ক) ১০৩ টি
  2. খ) ১৩২ টি
  3. গ) ১৪৯ টি
  4. ঘ) ১৫৭ টি
ব্যাখ্যা
গীতাঞ্জলি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) রচিত অন্যতম একটি কাব্যগ্রন্থ। বাংলা গীতাঞ্জলি (রচনাকাল, ১৯০৮-১৯০৯) কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদগ্রন্থ The Song Offerings। বাংলা গীতাঞ্জলি হলো ১৫৭টি গীতিকবিতার সংকলন আর ইংরেজি গীতাঞ্জলী হলো ১০৩ টি গীতি কবিতার সংকলন।
বাংলা গীতাঞ্জলী থেকে ইংরেজি গীতাঞ্জলিতে ৫৩টি কবিতা/গানকে স্থান দিয়েছেন। অবশিষ্ট ৫০টি কবিতা/গান নিয়েছেন ৯টি কাব্যগ্রন্থ থেকে, যেমন-গীতিমাল্য থেকে ১৬টি, নৈবেদ্য থেকে ১৫টি, খেয়া থেকে ১১টি, শিশু থেকে ৩টি, কল্পনা থেকে ১টি, চৈতালি থেকে ১টি, উৎসর্গ থেকে ১টি, স্মরণ থেকে ১টি এবং অচলায়তন নাটক থেকে ১টি।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও LiveMCQ লেকচার]
৩৫৯.
'কাদম্বিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. একরাত্রি
  2. শাস্তি
  3. জীবত ও মৃত
  4. পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা

• জীবত ও মৃত:
- একটি পরিপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক-সামাজিক গল্প। এই গল্পের
- প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী।
- হঠাৎ একদিন বিধবা কাদম্বিনীর হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
- কিন্তু কাকতালীয়ভাবে কাদম্বিনীর হৃদক্রিয়া আবারও সচল হয়।
- শশ্মান থেকে কাদম্বিনী সামাজিক অগ্রহণযোগ তার জন্য বাড়ি ফিরতে পারেনি।
- সে সাধারণ মানুষ থেকে সব সময় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে।
- পৃথিবীতে নিজের অবস্থান নিয়ে তার মধ্যে দ্বিধা কাজ করেছে!
- সে কি আসলেই মৃত! তার সদুত্তর সে পায় না।
- শেষ পর্যন্ত 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল সে মরে নাই।'

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- শাস্তি,
- একরাত্রি।
- মধ্যবর্তিনী
- ল্যাবরেটরী,
- সমাপ্তি,
- পোস্টমাস্টার,
- হৈমন্তী,
- ছুটি,
- দেনা পাওনা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

৩৬০.
জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মাল্যদান
  2. খ) মাল্যবান
  3. গ) শঙ্খমালা
  4. ঘ) শঙ্খচিল
ব্যাখ্যা
• রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ রচিত উপন্যাস 'মাল্যবান'। 
- উপন্যাসটি রচিত হয়েছিলো ১৯৪৮ সালে। 
- প্রকাশিত হয় কবির মৃত্যুর পর ১৯৭৩ সালে। 

• তিনি মূলত কবি হলেও উপন্যাস এবং প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছেন। 
তাঁর দুইটি উপন্যাস- 
- মাল্যবান (১৯৭৩)
- সতীর্থ (১৯৭৪) 

• জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ 'কবিতার কথা'
এর বিখ্যাত উক্তি - 'সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি' 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬১.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন -
  1. টালা অভিনয়
  2. বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রহসন - টালা অভিনয়

মীর মশাররফ হোসেন:

- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।

অন্যদিকে,
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন - বিয়ে পাগলা বুড়ো, সধবার একাদশী।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন - বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬২.
'শাশ্বত বঙ্গ' কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
কাজী আবদুল ওদুদ একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, বিশিষ্ট সমালোচক, নাট্যকার ও জীবনীকার ছিলেন। তাঁর রচিত উপন্যাস- আজাদ, নদীবক্ষে। প্রবন্ধ- শাশ্বত বঙ্গ, সমাজ ও সাহিত্য, হিন্দু-মুসলমান বিরোধ, পথ ও বিপথ (নাটক), এবং তার সম্পাদনায় প্রকাশিত জনপ্রিয় বাংলা অভিধান- ব্যবহারিক শব্দকোষ। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
৩৬৩.
শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল-
  1. শামসুর
  2. বাচ্চু
  3. মজলুম আদিব
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি ও সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম ছিল 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'রৌদ্র করোটিতে'। কবি তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের জন্য আদমজী পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারটি প্রদান করেছিলেন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান। 'হাতির শুঁড়' কবিতায় যাঁর ক্ষমতাগ্রহণকে তিনি ব্যঙ্গ করেছিলেন।

- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে। 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা', 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯', 'পুলিশ রিপোর্ট' 'হরতাল', 'এ লাশ আমরা রাখব কোথায়, তাঁর রচিত এ কবিতাগুলির ছত্রেছত্রে লেগে আছে এক বিক্ষুব্ধ সময়ের ছাপ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৬৪.
‘সাম্যের গান গাই!
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।’- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলামের কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. সাম্য
  2. পাপ
  3. মানুষ
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা
সাম্যের গান গাই!
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।- কাজী নজরুল ইসলামের 'পাপ' কবিতার অন্তর্গত। 

কবিতার অংশবিশেষ-
পাপ- কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম
সাম্যের গান গাই!-
যত পাপী তাপী সব মোর বোন, সব হয় মোর ভাই।
এ পাপ-মুলুকে পাপ করেনি করেনিক’ কে আছে পুরুষ-নারী?
আমরা ত ছার; পাপে পঙ্কিল পাপীদের কাণ্ডারী!

---------------
• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে ।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি-মজুর,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৩৬৫.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ
  2. খ) সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  3. গ) বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
  4. ঘ) ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ - অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ, সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৬৬.
বাংলা একাডেমি থেকে কতটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা :
- গবেষণা মূলক ত্রৈমাসিক।বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্ব সহ অন্যান্য বিষয়ে ও বাংলায় রচিত গবেষণা মূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

২. উত্তরাধিকার মাসিক পত্রিকা :
- এতে সৃজনশীল রচনা, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

৩. ধানশালিকের দেশ : 
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোর উপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা :
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল : 
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৬. বার্তা :
- শের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির সংবাদসহ প্রকাশিত হচ্ছে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা। উল্লিখিত পত্রিকাসমূহ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা একাডেমি :সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৩৬৭.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ্ব রাজনীতির একশ বছর
  2. খ) শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু
  3. গ) মুলধারা ৭১
  4. ঘ) বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ- 'শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু'
- প্রকাশিত হয় ১৯৭২ খিষ্টাব্দে। 
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৯) 

অন্যদিকে, 
বিশ্ব রাজনীতির একশ বছর - ড. তারেক শামসুর রেহমান
মুলধারা ৭১ - মঈদুল হাসান
বাংলাদেশের রাজনৈতিক জটিলতা - আহমদ ছফা 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৮.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণপক্ষ:
- 'কৃষ্ণপক্ষ' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত প্রথম গল্পগ্রন্থ।
- এটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত হয়।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থ, আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
৩৬৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামেকে কবে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে?
  1. ১৯৬৯ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের সন্মান ও পুরস্কার:
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিনী পুরস্কার লাভ করেন ১৯৪৫ সালে।
- ১৯৬০ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করে।
- রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট লাভ করেন ১৯৬৯ সালে।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ থেকে তাঁকে নাগরিকত্ব ও একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৭০.
'বাঙ্গাল গেজেট' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৭৮০
  2. খ) ১৮১৮
  3. গ) ১৮২১
  4. ঘ) ১৮২৯
ব্যাখ্যা
• উপমহাদেশের কারো বা কোন বাঙ্গালী কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
- এর প্রকাশকাল - ১৮১৮।
- এর সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য 
- তার সহকারী হিসেবে ছিলেন হরচন্দ্র রায়৷
- পত্রিকাটি একবছর স্থায়ী ছিল।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭১.
কোন মঙ্গলকাব্যে মুঘল সম্রাট আকবরের এক সেনাপতির চরিত্র বর্ণিত আছে?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যে মানসিংহ এবং ভবানন্দ প্রধান চরিত্র হিসেবে উল্লিখিত। এই দুটি চরিত্র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত।
যেমন- 
মানসিংহ: ঐতিহাসিকভাবে, মানসিংহ ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি, যিনি বাংলায় বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ডে তাঁর কাহিনি ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে মিশে বর্ণিত হয়েছে।
ভবানন্দ: ভবানন্দ মজুমদার বর্ধমানের ঐতিহাসিক জমিদার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একটি চরিত্র, যা ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে কিছুটা কাল্পনিকভাবে
উপস্থাপিত হলেও ঐতিহাসিক ভিত্তি রাখে।

আবার
অন্নদামঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ডে মানসিংহের বাংলায় আগমন এবং রাজা প্রতাপাদিত্যকে দমন করার প্রেক্ষাপটে ভবানন্দের কাছে বর্ধমানের রাজা বীরসিংহের কাহিনি বর্ণিত হয়, যা ঐতিহাসিক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই কারণে, অন্নদামঙ্গল কাব্যে ঐতিহাসিক চরিত্রের উপস্থিতি সুস্পষ্ট।
-------------------
• ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন।
- ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।

- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত।
যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

------------------

অন্যান্য অপশন বিশ্লেষণ:

(ক) মনসামঙ্গল: এই কাব্যে দেবী মনসার পূজা এবং চাঁদ সদাগরের কাহিনি বর্ণিত, যা মূলত পৌরাণিক ও কাল্পনিক। এতে স্পষ্ট ঐতিহাসিক চরিত্রের উল্লেখ নেই।

(খ) চণ্ডীমঙ্গল: এই কাব্যে দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি বর্ণিত, যা পৌরাণিক ও লোককথা-নির্ভর। ঐতিহাসিক চরিত্র এতে উল্লেখযোগ্য নয়।

(ঘ) ধর্মমঙ্গল: ধর্ম ঠাকুরের নামে এই মঙ্গলকাব্য সৃষ্ট হয়েছে। ধর্মমঙ্গল কাব্য দুটি পালায় বিভক্ত - রাজা হরিশ্চন্দ্রের গল্প এবং লাউসেনের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭২.
কোনটি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ঝরা পালক
  2. খ) মহাপৃথিবী
  3. গ) ৭টি তারার তিমির
  4. ঘ) নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত অপশনগুলোর মধ্যে নিজ বাসভূমে হচ্ছে শামসুর রাহমান রচিত কাব্য।
- বাকি অপশনগুলো জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ।

• ঝরাপালক (১৯২৭) জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ-- ধূসর পান্ডুলিপি, বনলতা সেন, মহাপৃথিবী, সাতটি তারার তিমির, রূপসী বাংলা, বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৩.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. হুনায়ুন আজাদ
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. আনোয়ার পাশা
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৭৪.
সুফিয়া কামালের কোন কাব্যগ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধকালের লেখা?
  1. মোর যাদুদের সমাধি পরে
  2. সাঁঝের মায়া
  3. উদাত্ত পৃথিবী
  4. অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা
• "মোর যাদুদের সমাধি পরে" কাব্যগ্রন্থ:
- জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছিলেন মহিলা পরিষদের সভানেত্রী।
- সুফিয়া কামালের সপ্তম কবিতাগ্রন্থ মোর যাদুদের সমাধি পরে এবং দিনলিপি একাত্তরের ডায়েরী ধারণ করে আছে অগ্নিঝরা একাত্তরে এক সংবেদী কবি ও সাহসী জননীর স্বর।

---------------------- 
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল,
- মন ও জীবন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৫.
কোনটি কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) সাধের আসন
  2. খ) পুনশ্চ
  3. গ) প্রেমাংশুর রক্ত চাই
  4. ঘ) দিবারাত্রির কাব্য
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস: দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫)।
- এর প্রধান চরিত্র- হেরম্ব ও আনন্দ।

অন্যদিকে,
বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্য গ্রন্থ ‘সাধের আসন’।
'পুনশ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
নির্মলেন্দু গুণের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ - প্রেমাংশুর রক্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৬.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য কী?
  1. ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  2. বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও রীতিনীতি
  3. কারবালা যুদ্ধের করুণ ইতিহাস
  4. ইসলামী রেনেসাঁ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ফররুখ আহমদ রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যের মূল উপজীব্য হলো- ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মূলত মুসুমানদের জাগরণের লক্ষ্যে তিনি এ গ্রন্থের কবিতাগুলো লিখেছেন।

- সেজন্য কবি ত্যাগ করেছেন বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ, গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান- আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা: সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৭.
'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি কোন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত?
  1. রমায়াণ থেকে
  2. কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ থেকে
  3. উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান’ থেকে
  4. মহাভারত থেকে
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকুমারী' নাটক:
- 'কৃষ্ণকুমারী' (১৮৬১) নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি রচনা করেন। এজন্য নাটকটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হলেও নাটকটি রচিত হয়েছিল ১৮৬০ সালে।
- রচনার প্রায় সাত বছর পর এ নাটক ‘শোভাবাজার থিয়েটারে' ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথম অভিনীত হয়।

• এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- কৃষ্ণকুমারী,
- মদনিকা,
- ভীমসিংহ,
- জগৎসিংহ,
- ধনদাস প্রমুখ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩৭৮.
'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত।'- উক্তিটি কার কণ্ঠে উধৃত হয়েছে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. রুদ্র মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
"রাজবন্দীর জবানবন্দী" প্রবন্ধ:
- 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' কাজী নজরুল ইসলামের লিখিত একটি প্রবন্ধ। এটি ছিল নজরুলের চার পৃষ্ঠার বক্তব্য যা তিনি আদালতে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেন। তিনি ১৯২৩ সালে প্রেসিডেন্সি জেলে বসে এই চার পৃষ্ঠার জবানবন্দি রচনা করেন।

"রাজবন্দীর জবানবন্দী" প্রবন্ধটি লেখার কারণবিশেষ:
• ধূমকেতু পত্রিকায় ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় কবি নজরুলের 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতাটি প্রকাশিত হলে, এই পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।

• তাকে আটক করে তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে আদলতে উপস্থাপন করেন মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য। যা 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' নামে পরবর্তিতে প্রকাশিত হয়। নজরুল আদালতে লিখিত 'রাজবন্দীর জবানবন্দী' দিয়ে এবং প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন।

• 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'র শুরুতে কবি কাজী নজরুল ইসলাম উচ্চকণ্ঠে বলেছেন-
'আমার উপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ কারাগারে বন্দী এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। একাধারে-রাজার মুকুট; আর ধারে ধূমকেতুর শিখা। একজন রাজা হাতে রাজদণ্ড; অন্যজন সত্য, হাতে ন্যায়দণ্ড। রাজার পক্ষে রাজার নিযুক্ত রাজ বেতনভোগী রাজ-কর্মচারী। আমার পক্ষে সব রাজার রাজা, সব বিচারকের বিচারক, আদি অনন্তকাল ধরে সত্য-জাগ্রত ভগবান।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৯.
মধ্যযুগের কোন কবিকে ‘মৈথিল কোকিল‘ বলা হয়?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।  তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৮০.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' এই সংলাপটির স্রষ্টা কে?
  1. হাসন হাফিজুর রহমান
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. জহির রায়হান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮১.
'দুঃখবর্ণনার কবি' বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দদাস
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. জ্ঞানদাস
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'দুঃখবর্ণনার কবি' হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়।
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের রচয়িতা।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরধে তিনি এই কাব্য লেখেন। 
- রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেন। 
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনিই প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা।

অন্যদিকে,
• শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ উপাধি দেন। জীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।
• মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 

• জ্ঞানদাস চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়ার কাঁদড়া গ্রামে এক মঙ্গল-ব্রাহ্মণ বংশে তাঁর জন্ম। এজন্য তিনি মঙ্গল ঠাকুর, শ্রীমঙ্গল, মদন-মঙ্গল প্রভৃতি নামেও পরিচিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮২.
'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. উইলিয়াম কেরি 
  3. হেরাসিম লেবেডেফ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'দি ডিসগাইজ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেছেন- 'হেরাসিম লেবেডেফ'। 

• বাংলা নাটকের উৎস ও বিকাশ: 
- আঠারো শতকের শেষদিকে নেপালে বাংলা নাটক রচিত ও অভিনীত হয়। কিন্তু বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এসব একটা কৌতূহল ছাড়া অন্য কোন প্রভাব বিস্তার করতে পারে নি।
- বাংলা নাটকের প্রথম অভিনয় হয় ১৭৯৫ সালে।
- হেরাসিম লেবেডফ নামে একজন রুশদেশীয় আগন্তুক কলকাতায় প্রথম ‘বেঙ্গল থিয়েটার’ নামে একটি রঙ্গালয় স্থাপন করেন।
- তিনি “The Disguise” এবং “Love is the best Doctor” নামে দুখানা নাটক বাংলা ভাষান্তরিত করে এদেশীয় পাত্রপাত্রীর দ্বারা অভিনয় করান।
- এতে ভারতচন্দ্র রচিত গান সংযোজিত হয়েছিল।
- ১৮৩১ সালে প্রসন্নকুমার ঠাকুর কর্তৃক কলকাতায় ‘হিন্দু থিয়েটার’ নামক প্রথম বাংলা নাট্যাভিনয়ের উপযোগী রঙ্গমঞ্চ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেখানে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিদ্যাসুন্দর অংশের নাট্যরূপ অভিনীত হয়।
- বাংলা মৌলিক নাটক রচনার সূত্রপাত হয় ১৮৫২ সালে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩৮৩.
শ্রীকান্ত উপন্যাসের প্রধান চরিত্র- 
  1. শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, অনন্তাদি 
  2. অভয়া, রোহিণী, ক্ষুদ্রদেব 
  3. ঘনদাদা, সুনন্দা, কুমারী, রাজলক্ষ্মী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত’ উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’ মূলত আত্মজৈবনিক উপন্যাস। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে বিভক্ত।
- চারটি খণ্ডের প্রধান চরিত্র আলাদা হলেও সবগুলো একসাথে উপন্যাসের মূল চরিত্র। 
- এই খণ্ডসমূহের মাধ্যমে শরৎচন্দ্র শ্রীকান্তের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, নারীর স্বাধীনতা ও সামাজিক প্রথার প্রতিবাদ সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করেছেন।

• উপন্যাসের চারটি খণ্ডের প্রকাশক্রম হলো:
• ১ম খণ্ড:
- ১৯১৭ সালে মাসিক ‘ভারতবর্ষ’-এ ‘শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি’ হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- ১ম খণ্ডের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, অনন্তাদি, রাজলক্ষ্মী।
- ১ম খণ্ডে শ্রীকান্তের কিশোর ও যুবক বয়সের অভিযানের মাধ্যমে বাংলার সমাজ, প্রকৃতি ও মানুষের বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে। 
- ইন্দ্রনাথের বন্ধুত্ব, রাজলক্ষ্মীর সম্পর্ক ও অন্নদা দিদির নিঃস্বার্থ প্রেম এই খণ্ডের মূল বিষয়।

• ২য় খণ্ড:
- ১৯১৮ সালে ‘ভারতবর্ষ’-এ প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, অভয়া, রোহিণী, ক্ষুদ্রদেব, রাজলক্ষ্মী।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘শ্রীকান্ত’-২য় খণ্ডে- প্রধানত শ্রীকান্তের রেঙ্গুন প্রবাস, অভয়ার বিদ্রোহী প্রেমকাহিনী ও রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন প্রদর্শন করা হয়েছে।
- এতে সমাজ ও নৈতিকতার সীমার বাইরে গিয়ে নারীর ব্যক্তিত্ব, ভালোবাসা ও লড়াই ফুটে ওঠে।
- বৈষ্ণব আশ্রমে শ্রীকান্তের অভিজ্ঞতা ও কমললতার সঙ্গে সাক্ষাৎও এই খন্দকে সমৃদ্ধ করেছে।

• ৩য় খণ্ড: 
- ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ঘনদাদা, সুনন্দা, কুমারী, রাজলক্ষ্মী।
- এই খণ্ডে শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী ও অভয়া চরিত্রের মাধ্যমে সামাজিক ও মানসিক দ্বন্দ্ব ফুটে উঠেছে।
- অভয়া তার স্বামী রোহিণীর অত্যাচার প্রত্যাখ্যান করে স্বাধীন জীবন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
- একই সঙ্গে রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে শ্রীকান্তের পুনর্মিলন ও তাদের জটিল সম্পর্ক সমাজের রক্ষণশীল প্রথা ও স্বাধীনচেতা নারীর মানসিকতার সংঘাত ফুটে উঠে এই খণ্ডে।

• ৪র্থ খণ্ড:
১৯৩৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায়।
- শরৎচন্দ্রের ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের চতুর্থ খণ্ডে শ্রীকান্তের লক্ষ্যহীন জীবন, কাশীবাস ও প্রেমের জটিলতা—বিশেষত পিয়ারী (রাজলক্ষ্মী) ও কমলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—প্রধান উপজীব্য।
- এখানে শ্রীকান্তের নিঃসঙ্গতা, প্রেম ও সামাজিক দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৮৪.
'রাত্রিশেষ' - কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. সেই অন্ধকার চাই
  2. উর্বশী ও আর্টেমিস
  3. সাত ভাই চম্পা
  4. চোরাবালি
ব্যাখ্যা

'উর্বশী ও আর্টেমিস' কাব্যগ্রন্থ: 
- বিষ্ণু দে রচিত এই কাব্যগ্রন্থে দেশি ও বিদেশি মিথের প্রয়োগ আছে। 
- সনাতন রোম্যান্টিকতার বিরোধী বিষ্ণু দে-র প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উর্বশী ও আর্টেমিস' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- তিনি ঐতিহ্য সচেতন ব্যক্তি ছিলেন বলে আর্টেমিসের চিত্রকল্পের সঙ্গে উর্বশীর চিত্রকল্পের পাশাপাশি স্থান দিয়েছেন। 
- গ্রন্থটির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো: উর্বশী, উর্বশী ও আর্টেমিস, প্রেম, ছেদ, পলায়ন, রাত্রিশেষ ইত্যাদি।

বিষ্ণু দে রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮৫.
ভবানী দাস এর ‘ময়নামতির গান’- কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ক) লোকসাহিত্য
  2. খ) নাথ সাহিত্য
  3. গ) মর্সিয়া সাহিত্য
  4. ঘ) জীবনী সাহিত্য
ব্যাখ্যা

মীননাথের প্রতিষ্ঠিত নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনী অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।
নাথ সাহিত্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - শেখ ফয়জুল্লাহ।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্যঃ
১. গোরাক্ষ বিজয় --- শেখ ফয়জুল্লাহ
২. গোপীচন্দ্রের সন্যাস --- শুকুর মুহম্মদ
৩. মীনচেতন --- শ্যামাদাস সেন
৪. ময়নামতির গান --- ভবানী দাস
৫. গোর্খবিজয় --- ভীমসেন রায়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩৮৬.
স্বদেশী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. সপ্তপদী
  3. গণদেবতা
  4. পঞ্চগ্রাম
ব্যাখ্যা

সপ্তপদী উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৪২ সালে গান্ধিজীর স্বদেশী আন্দোলনের সময়কাল এই উপন্যাসের পটভূমি। কৃষ্ণেন্দু এই উপন্যাসের নায়ক। কৃষ্ণেন্দু বাঙালি হিন্দু ছেলে, তরুণ মেধাবী ছাত্র এবং অসামান্য প্রতিভাধর ফুটবল খেলোয়ার। নায়িকা রিনা ব্রাউন সুন্দরী এবং মেধাবী ক্রিশ্চিয়ান মেয়ে। দুই বিপরীত ধর্মের তরুণ প্রেমের উপাখ্যান এটি।

- তাঁর ত্রয়ী উপন্যাসঃ
• ধাত্রীদেবতা,
• গণদেবতা ও
• পঞ্চগ্রাম।

- এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাসঃ
• আরোগ্য নিকেতন,
• চাপাডাঙ্গার বউ,
• একটি কালো মেয়ের কথা,
• হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
• কবি,
• কালিন্দী,
• চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি।

- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস।
- একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসটি রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৮৭.
কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা?
  1. আমার কথা
  2. আত্মকথা
  3. আত্মচরিত
  4. স্মৃতি কথামালা
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৮.
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস-
  1. ক) নিষিদ্ধ লোবান
  2. খ) নেকড়ে অরণ্য
  3. গ) যাত্রা
  4. ঘ) একটি কালো মেয়ের কথা
ব্যাখ্যা
- 'নিষিদ্ধ লোবান' সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি উপন্যাস। 
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাস অবলম্বনে 'গেরিলা' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি ১৯৩৫ সালের ২৭শে ডিসেম্বর কুঁডিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সৈয়দ শামসুল হককে সব্যসাচী লেখক বলা হয়ে থাকে।
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী সাহিত্যিক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
- নুরুলদীনের সারা জীবন 
- এখানে এখন ইত্যাদি। 

প্রবন্ধ:
- হৃৎকলমের টানে। 

উপন্যাস:
- দেয়ালের দেশ (প্রথম উপন্যাস)
- অনুপম দিন 
- এক মহিলার ছবি 
- খেলারাম খেলে যা
- তুমি সেই তরবারি
- ত্রাহি 
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ ইত্যাদি। 

গল্পগ্রন্থ: 
- তাস 
- শীত বিকেল 
- আনন্দের মৃত্যু 
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘নেকড়ে অরণ্য’ শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• ‘একটি কালো মেয়ের কথা’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর) এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৯.
সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস কোন জেলায় ছিল?
  1. ময়মনসিংহ
  2. মৌলভীবাজার
  3. শেরপুর
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলীর পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজার জেলায় ছিল।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯০.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য নয় কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. মনসামঙ্গল
  4. গৌরীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।
 
• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।
 
• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯১.
মুক্তিযোদ্ধা 'বদিউল আলম' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. অনিল বাগচীর একদিন
ব্যাখ্যা

• 'আগুনের পরশমণি' উপন্যাস:
- ১৯৮৬ সালে হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'আগুনের পরশমণি'।
- 'আগুনের পরশমণি'তে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা অপারেশনের দুঃসাহসিক বর্ণনা, গেরিলাদের গোপন তৎপরতা, স্বাধীনতা সমর্থনকারী ও বিরোধিতাকারী কিছু চরিত্র উপস্থাপন করে ঔপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদ রচনা করলেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অপরিচিত গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমকে আশ্রয় দেয় মতিন সাহেব নামে একজন ভদ্রলোক। এভাবেই উপন্যাসটির কাহিনি শুরু হয়েছে।
- বদিউলের সঙ্গে ওই ভদ্রলোকের কন্যার মানবিক দুর্বলতা প্রকাশিত যুদ্ধকালীন পরিবেশে।

---------------------
হুমায়ূন আহমেদ রচিত অন্যান্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯২.
মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত গান ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - এর রচয়িতা কে?
  1. নজরুল ইসলাম বাবু
  2. আবদুল লতিফ
  3. গোবিন্দ হালদার
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
-  তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী, 
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৩৯৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "বিপ্রদাস" কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• "বিপ্রদাস" উপন্যাস: 
• 'বিপ্রদাস' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের (১৯৩৫) জনপ্রিয় এবং সুখপাঠ্য একটি উপন্যাস। সমগ্র 'বিপ্রদাস' 'বিচিত্রা' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এটি শরৎচন্দ্রের জীবদ্দশায় প্রকাশিত সর্বশেষ উপন্যাসগ্রন্থ।

• ‘বিপ্রদাসে’র প্রথম দশ পরিচ্ছেদ ১৩৩৬ হতে ১৩৩৮ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ‘বেণু’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। পুনারায় ‘বিচিত্রা’ পত্রিকার ১৩৩৯-১৩৪১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। মাঝে মাঝে কয়েক সংখ্যা বাদ গেলেও ‘বিচিত্রা’ পত্রিকায় ‘বিপ্রদাস’ উপন্যাসটি পূর্ণাঙ্গরূপে প্রকাশিত হয়েছিল। অতঃপর, ১৩৪১ বঙ্গাব্দের মাঘ মাসে (১লা ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৫) প্রথম পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসের প্রধান চরিত্র বিপ্রদাস, সে একজন জমিদার এবং পরিবারের বড় পুত্রসন্তান, সে তার বিধবা মা ছোট ভাই ও তার স্ত্রী নিয়ে বসবাস করে। 

• বিপ্রদাস একজন সফল ও ব্যক্তিত্ববান জমিদার। সে সুশিক্ষায় শিক্ষিত একজন মানুষ। বিপ্রদাসের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে প্রজাদের স্বার্থ উদ্ধার, সে সর্বদা প্রজাদের জীবন ও তাদের ভালো থাকা খারাপ থাকা নিয়ে কাজ করতো। বিপ্রদাস এর মতো এমন শক্তিশালী চরিত্র ও ব্যক্তিত্ববান জমিদার বাংলা সাহিত্যে খুব কমই আছে।
 
• বিপ্রদাস কোন সাধারন চরিত্র নয়, বরং তৎকালীন অত্যাচারী জমিদারদের উপরে ছুঁড়ে দেওয়া একটি প্রতিবাদী চরিত্র।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- বিপ্রদাস,
- দ্বিজদাস,
- বন্দনা প্রভৃতি। 

উৎস: "বিপ্রদাস" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৪.
বিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. নবনূর
  2. বাসনা
  3. মিহির
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - মিহির।
- এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম। 
উল্লেখ্য,
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম।

অন্যদিকে,
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'বাসনা' পত্রিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ ফজলল করিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৫.
পদাবলির 'গৌরচন্দ্রিকা' পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা বলা হয় কাকে?
  1. রামপ্রাসাদ সেন
  2. চণ্ডীদাস
  3. গোবিন্দ দাস
  4. লোচন দাস
ব্যাখ্যা
• গৌরচন্দ্রিকা:
- রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পালাগানের ভূমিকা রূপে গৌরাঙ্গের জীবনেও অনুরূপ ঘটনার অনুবর্তন হয়েছিল তা স্মরণ করে রচিত গৌরলীলার পদকেই বলে গৌরচন্দ্রিকা।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - গোবিন্দ দাস।

অন্যদিকে,
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- শাক্ত পদাবলীর শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - রামপ্রাসাদ সেন।
- বাংলায় চৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ 'চৈতন্য-মঙ্গল' এর রচয়িতা- লোচন দাস।

--------------------
• গোবিন্দ দাস:
- তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকটবর্তী তেলিয়াবুধুরি গ্রামে, অনুমানিক ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব পদকর্তা। 
- গোবিন্দদাস 'দ্বিতীয় বিদ্যাপতি' খ্যাত। কবি বল্লভদাস  অভিধা দিয়েছিলেন - গোবিন্দের কবিত্বগুণ, গোবিন্দ দ্বিতীয় বিদ্যাপতি।
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম 'সংগীতমাধব'।
- গোবিন্দদাসকে বিদ্যাপতির  ভাবশিষ্য বলা হয়।  
- গোবিন্দদাসকে শ্রীজীব গোস্বামী 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
- আনুমানিক ১৬১৩ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৬.
‘পেহলাদ' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন ছোটগল্পের চরিত্র?
  1. প্রাগৈতিহাসিক
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. পুতুলনাচের ইতিকথা
  4. অতসীমামী 
ব্যাখ্যা

'পেহলাদ' "প্রাগৈতিহাসিক" ছোটগল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। 

"প্রাগৈতিহাসিক":
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প "প্রাগৈতিহাসিক" ছোটগল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হলো- ভিখু, পেহলাদ, পাঁচী ও বসির।
- ভিখু (ডাকাত) ও পেহলাদ হচ্ছে গল্পের প্রধান আকর্ষণ।
- গল্পটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গল্পটি ভিখু নামের ডাকাত ও তার সঙ্গী পেহলাদের সম্পর্ক এবং তাদের হিংস্র প্রবৃত্তি তুলে ধরে।
- গল্পে লেখক মানুষের ভেতরের প্রাচীন ও পাশবিক প্রবৃত্তিকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
- এখানে পেহলাদ সেই আদিমতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
--------------------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার।
- স্নাতক পর্যায়ের পড়াশোনার সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প অতসী মামী (১৯২৮) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী;
- পদ্মানদীর মাঝি;
- দিবারাত্রির কাব্য;
- পুতুলনাচের ইতিকথা।

• তাঁর ঐতিহাসিক ছোটগল্প হচ্ছে:
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- বৌ,
- সমুদ্রের স্বাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৩৯৭.
'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্য কোন কাব্যগ্রন্থের মিল পাওয়া যায়?
  1. মানসী
  2. পুনশ্চ
  3. বলাকা
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা

'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। 'পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
- 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ (আমি কবিতা)', 'বাঁশিওয়ালা', 'হঠাৎ দেখা', 'শেষ পহরে', 'সম্ভাষণ', 'চিরযাত্রী' প্রভৃতি পরিচিতি পঙ্‌ক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি 'শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।
- রবীন্দ্রনাথ "শ্যামলী" কাব্যগ্রন্থটি শ্রীমতী রানী মহলানবীশকে উৎসর্গ করেছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৯৮.
কোন বৈষ্ণব কবি বাংলায় বৈষ্ণবকবিতা রচনা করেছেন?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) গোবিন্দদাস
  4. ঘ) ক + গ
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব কবিতার চার মহাকবি বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস, জ্ঞানদাস৷ তাদের মধ্যে বিদ্যাপতি এবং গোবিন্দদাস লিখেছেন ব্রজবুলি ভাষায়। আর চণ্ডীদাস এবং জ্ঞানদাস লিখেছেন খাঁটি বাংলায়।
উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ

৩৯৯.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. বীরভূম
  3. কলকাতা
  4. কালিন্দী
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।

- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম। 
- আদিবাসী সাঁওতাল বিদ্রোহ নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'অরণ্যবহ্নি' (১৯৬৬)।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তাঁর উপন্যাসের নাম 'একটি কালো মেয়ের কথা' (১৯৭১)।
- তিনি 'পদ্মশ্রী' ও 'পদ্মভূষণ' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
• প্রথম জীবনে কিছু কবিতা লিখলেও কথাসাহিত্যিক হিসেবেই তারাশঙ্করের প্রধান খ্যাতি। বীরভূম-বর্ধমান অঞ্চলের মাটি ও মানুষ, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের জীবনচিত্র, স্বাধীনতা আন্দোলন, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, ব্যক্তির মহিমা ও বিদ্রোহ, সামন্ততন্ত্র-ধনতন্ত্রের দ্বন্দ্বে ধনতন্ত্রের বিজয় ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের বিষয়বস্তু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।
৪০০.
ধানকন্যা'র লেখক -
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবদুর রাজ্জাক
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা
• ধানকন্যা'র লেখক - আলাউদ্দিন আল আজাদ
- এটি তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি ৬ মে, ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। 
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব। 
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'জেগে আছি' (১৯৫০)। এটি একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি লেখার জন্য তিনি জনপ্রিয়। এটি 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- তাঁর 'তেইশ নম্বর তৈলচিত্র' উপন্যাসটি 'বসুন্ধরা' নামে চলচ্চিত্রায়িত হয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।
- তিনি ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার,
- জীবনজমিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।