বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৯ / ২১১ · ৩,৮০১৩,৯০০ / ২১,১৩২

৩,৮০১.
'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।' বিখ্যাত সংলাপটি কোন নাট্যকারের রচনা?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা

• 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহর পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক 'তরঙ্গভঙ্গ'।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার ও সাক্ষী মতলুব আলী।
- এ নাটকের একটি সংলাপ- 'ভেবেছিলেন জজ সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।'

নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আনে। আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে, সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

------------------
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ রচিত নাটকগুলো হলো-
- বহিপীর,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'তরঙ্গভঙ্গ' নাটক।

৩,৮০২.
গবেষণামূলক প্রবন্ধ 'বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা' রচনা করেন কে?
  1. মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন
  2. সৈয়দ মুর্তাজা আলী
  3. আবদুল কাদির
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখে বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদানের মূল্যায়ন করেছেন।
- এই প্রসঙ্গে 'বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা' তিন খণ্ড গ্রন্থে মুসলমান লেখকদের সম্পর্কে প্রচুর তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন: 
- তিনি শিক্ষাবিদ, লোকসংস্কৃতি বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ৩১ জানুয়ারি পাবনা জেলার সুজানগর থানার মুরারিপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২৮ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন।

মুহম্মদ মনসুর উদ্দিন রচিত গ্রন্থ:ত
- শিরনী,
- ধানের মঞ্জরী,
- আগরবাতী,
- বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সাধনা,
- ইরানের কবি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০৩.
"সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল"
- কোন কবির রচনা?
  1. শামসুর রাহমান
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নোক্ত কবিতার লাইন - জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

বনলতা সেন
- জীবনানন্দ দাশ
"হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের ’পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ‘এতোদিন কোথায় ছিলেন?’
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে — সব নদী- ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।"

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য কাব্য :
- ঝরা পালক
- ধূসর পান্ডুলিপি
- সাতটি তারার তিমির
- বেলা অবেলা কালবেলা
- রূপসী বাংলা
- মহাপৃথিবী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বনলতা সেন কবিতা।
৩,৮০৪.
"চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কুসুমকুমারী দাস
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. কামিনী রায়
  5. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?
কি যাতনা বিষে বুঝিবে সে কিসে
কভু আশীবিষে দংশেনি যারে।" কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।

- এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না' কবিতার অংশবিশেষ।

সুখী দুঃখীর দুঃখ বুঝে না,
--- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

চির সুখী জন ভ্রমে কি কখন
ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে?
কী যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে
কভূ আশীবিষে দংশেনি যারে?
যতদিন ভবে, না হবে না হবে,
তোমার অবস্থা আমার সম।
ঈষৎ হাসিবে, শুনে না শুনিবে
বুঝে না বুঝিবে, যাতনা মম।
--------------------------- 
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রামের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থ, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৩,৮০৫.
মেঘনাদবধ কাব্যের প্রথম সর্গ কোনটি?
  1. সমাগম
  2. অভিষেক
  3. উদ্যোগ
  4. অস্ত্রলাভ
ব্যাখ্যা
• মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।

• মেঘনাদবধ কাব্যে ৯টি সর্গ রয়েছে:

এগুলো হলো:
- প্রথম সর্গ > অভিষেক।
- দ্বিতীয় সর্গ > অস্ত্রলাভ।
- তৃতীয় সর্গ > সমাগম।
- চতুর্থ সর্গ > অশোক বন।
- পঞ্চম সর্গ > উদ্যোগ।
- ষষ্ঠ সর্গ > বধ।
- সপ্তম সর্গ > শক্তিনির্ভেদ।
- অষ্টম সর্গ > প্রেতপুরী।
- নবম সর্গ > সংস্ক্রিয়া।

কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র:
- রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।
----------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘তিলোত্তমাসম্ভ ‘ কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৮০৬.
কোন উপন্যাসের মধ্য দিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন?
  1. সব কিছু ভেঙে পড়ে
  2. একটি খুনের স্বপ্ন
  3. ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল
  4. নারী
ব্যাখ্যা

'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস:
- 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। 
- এই উপন্যাস প্রকাশের মধেদিয়ে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন
- বাংলাদেশে সামরিক আইন জারীর প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে ঢাকা থেকে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস:
- ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল,
- সব কিছু ভেঙে পড়ে,
- একটি খুনের স্বপ্ন। 

হুমায়ুন আজাদ রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- নারী,
- বাঙলা ভাষার শত্রুমিত্র,
- বাক্যতত্ত্ব,
- লাল নীল দীপাবলি,
- কতো নদী সরোবর।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং 'ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল' উপন্যাস।

৩,৮০৭.
নিচের কোন গ্রন্থটি বাজেয়াপ্ত করে লেখকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল?
  1. ঘরে বাইরে
  2. অনল প্রবাহ
  3. অগ্নিবীণা 
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

• 'অনল প্রবাহ' কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে: অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ: ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।
- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
- সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন।
- পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• উপন্যাস: রায়নন্দিনী, তারাবাঈ, ফিরোজা বেগম।
• প্রবন্ধ: স্বজাতি প্রেম, তুর্কি নারী জীবন, স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।
• কাব্যগ্রন্থ: অনল প্রবাহ, উচ্ছ্বাস, উদ্বোধন, স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।
• ভ্রমণকাহিনি: তুরস্ক ভ্রমণ।

অন্যদিকে, 
-----------------
• 'ঘরে বাইরে' উপন্যাস:
- ঘরে বাইরে (১৯১৬) চলিতভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৫ সালে সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতি এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাসের একদিকে আছে জাতিপ্রেম ও সংকীর্ণ স্বদেশিকতার সমালোচনা ও অন্যদিকে আছে সমাজ ও প্রথা নিয়ন্ত্রিত নারী পুরুষের সম্পর্ক।
- তবে উপন্যাসটি কখনো বাজেয়াপ্ত হয়নি। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কখনো বাজেয়াপ্ত করা হয়নি।

• 'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো 'ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়'।
- উপন্যাসটি কখনো বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮০৮.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. ব্রাহ্মণসেবধি
  2. বঙ্গদূত
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'। রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১),
- সম্বাদ কৌমুদী, 
- ফারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

• 'ব্রাহ্মণসেবধি':
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২১ সালে 'ব্রাহ্মণসেবধি' প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটির এক পৃষ্ঠায় বাংলা এবং অপর পৃষ্ঠায় এর ইংরেজি অনুবাদ থাকতো।

• 'সম্বাদ কৌমুদী':
- সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রামমোহন রায়ের পৃষ্টপোষকতায় কলকাতা থেকে প্রকশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমনি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮০৯.
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস “মৃত্যুক্ষুধা” কাদের পটভুমিতে রচিত?
  1. ক) বিপ্লবীদের
  2. খ) জমিদার শোষকদের
  3. গ) গরিব দুঃখীদের
  4. ঘ) নিগৃহীত মহিলাদের
  5. ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের “মৃত্যুক্ষুধা” উপন্যাসে নারীজীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা এবং সমাজের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র রুবি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৮১০.
'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত একটি -
  1. উপন্যাস
  2. ছোটগল্প
  3. নাটক
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
'নৌকাডুবি' উপন্যাস: 
- 'নৌকাডুবি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- 'উপন্যাস'।  এট ১৩১০-১১ বঙ্গাব্দে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- উপন্যাসটি লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে। 
- উপন্যাসের মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 
 
তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে, 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: 'নৌকাডুবি' উপন্যাস- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩,৮১১.
'সুড়ঙ্গ' - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি -
  1. ক) ছোটগল্প
  2. খ) কাব্য
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

• তাঁর রচনা সমূহ:
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের আমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান।

গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৮১২.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে / মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" পঙক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. মানসী
  2. কড়ি ও কোমল
  3. শেষলেখা
  4. পুনশ্চ
ব্যাখ্যা

• "মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে 
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই"
- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার অন্তর্গত।

• 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'কড়ি ও কোমল' (১৮৮৬) সম্পর্কে বলা হয়, এই গ্রন্থের বিষয় বিচিত্র, ভাব সুস্পষ্ট, ভাষা সুদৃঢ়, ছন্দ মধুর। 
- তারুণ্যের উচ্ছলতা, নারীদেহের প্রতি মুগ্ধতা ও মৃত্যুর রহস্যময়তার প্রতি আকর্ষণ-এই তিনটি লক্ষণে কাব্যটি বিশিষ্ট। 
- রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন "মৃত্যুর নিবিড় উপলব্ধি আমার কাব্যের একটি বিশেষ ধারা, নানা বাণিতে যার প্রকাশ। কড়ি ও কোমলেই তার প্রথম উদ্ভব।" 
- ১৮৮৪ সালে বৌদি কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যাজনিত মৃত্যু রবীন্দ্র মনে যে বিরাগের সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রভাব 'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থে আছে।
উল্লেখযোগ্য কবিতা - চুম্বন, বাহু, চরণ, কেন, মোহ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮১৩.
কার উপাধি 'চারণকবি'?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. মুকুন্দদাস
  3. মুকুন্দরাম
  4. লালন শাহ্‌
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮১৪.
"পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. আবুল হোসেন
  3. আবুল হাসান
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা

রফিক আজাদ: 
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- প্রেমের কবিতা, 
- অপর অরণ্যে, 
- করো অশ্রুপাত,
- প্রেম ও বিরহের কবিতা,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮১৫.
'মহিম ও সুরেশ' চরত্রদ্বয় শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যসের অন্তর্গত?
  1. দেনা-পাওনা
  2. গৃহদাহ
  3. বড়দিদি
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- গৃহদাহ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক রচিত একটি শ্রেষ্ঠি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়। মাসিক ‘ভারতবর্ষে’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- 'গৃহদাহ' উপন্যাসে ত্রিভুজ প্রেমের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮১৬.
'যদু মুখুজ্জে' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• 'যদু মুখুজ্জে' চরিত্রের স্রষ্টা- 'বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়'। 

• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো: 
• উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি। 
------------------------------
• বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ও 'অনুবর্তন' উপন্যাস:

- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে - যদু মুখুজ্জে
- এখানে গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়। 
- অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র গুলো হচ্ছে - ক্ষেত্র বাবু, নারান বাবু, ছাত্র চুনি।
- বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত আরও কিছু বিখ্যাত উপন্যাসের মাঝে রয়েছে - পথের পাঁচালী, দেবযান, আরণ্যক, অপরাজিত ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'অনুবর্তন' উপন্যাস; বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৭.
কবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. শিবমন্দির
  2. প্রেম প্রবাহিণী
  3. অমিয়ধারা
  4. মহাশ্মশান
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয়- প্রেম প্রবাহিণী। 
- 'প্রেম প্রবাহিণী' বিহারিলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

-----------------
• কায়কোবাদ:

- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহ বিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কাব্যে হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর উপাধিসমূহ:
- কাব্যভূষণ,
- বিদ্যাভূষণ,
- সাহিত্যরত্ন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৮.
রবীন্দ্রনাথ যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শুনিয়েছেন কোন গল্পে-
  1. ক) ক্ষুধিত পাষাণ
  2. খ) শেষকথা
  3. গ) অপরিচিতা
  4. ঘ) পোস্টমাস্টার
ব্যাখ্যা
⇒ “অপরিচিতা” ছোটগল্প:
“অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ।কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি।

এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্রবীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক।“অপরিচিতা” উত্তম পুরুষের জবানিতে লেখা গল্প। গল্পের কথক অনুপম বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের যুদ্ধসংলগ্ন সময়ের সেই বাঙালি যুবক, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর উপাধি অর্জন করেও ব্যক্তিত্বরহিত, পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুলমাত্র। তারই বিয়ে উপলক্ষ্যে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননাকালে শম্ভুনাথ সেনের কন্যা-সম্প্রদানে অসম্মতি গল্পটির শীর্ষ মুহূর্ত।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহার,
- কঙ্কাল।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৮১৯.
"কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও" - এই লাইনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. শেষের কবিতা
  2. মানসী
  3. সভ্যতার সংকট
  4. শেষ লেখা
ব্যাখ্যা

• 'শেষের কবিতা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।

- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

• এই উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র - 
- অমিত,
- কেতকী ও
- লাবণ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮২০.
'বটতলার উপন্যাস' গ্রন্থের লেখকের নাম কী?
  1. দিলারা হাশেম
  2. রাজিয়া খান
  3. রিজিয়া রহমান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'বটতলার উপন্যাস' এর লেখক 'রাজিয়া খান'।  

• রাজিয়া খান: 
- রাজিয়া খান আমিন মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপক ছিলেন।
- অধ্যাপনা করলেও সাহিত্যের অঙ্গনেও তাঁর সমান পদচারণা ছিল।
- সাহিত্যকর্মে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৫৮ সালে।
- তাঁর সাড়া জাগানো বই ‘বটতলার উপন্যাস’।



উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'বটতলার উপন্যাস' এবং বিবিসি নিউজ বাংলা।
৩,৮২১.
'দশমহাবিদ্যা' কার রচিত কাব্য?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন মহাকবি। তাঁর রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, ছায়াময়ী, আশাকানন, বীরবাহু, চিত্তবিকাশ, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮২২.
“কবর” কবিতায় কতটি পংক্তি রয়েছে?
  1. ক) ১৩টি
  2. খ) ৯৬টি
  3. গ) ১০২টি
  4. ঘ) ১১৮টি
ব্যাখ্যা

''রাখালী'' পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। তাঁর বিখ্যাত কবর কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কল্লোল পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙক্তি আছে।
এটি কবি জসীম উদ্দীনের বহুল পঠিত ও নন্দিত কবিতা। এটি একটি শোক-প্রকাশক কবিতা।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা

৩,৮২৩.
'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' বিখ্যাত উক্তিটি কার?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) বিদ্যাপতি
  3. গ) বীরবল
  4. ঘ) টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'সুশিক্ষিত ব্যক্তি মাত্রই স্বশিক্ষিত' বিখ্যাত উক্তিটি বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর।
- 'বীরবল' তাঁর ছদ্মনাম।  
- তিনি তাঁর 'বই পড়া' প্রবন্ধে আলোচ্য উক্তিটি করেন। 

তাঁর আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হলো-
- 'সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরূপ' 
- 'বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে আর নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে'
- 'কাব্য জগতে যার নাম আনন্দ, তারই নাম বেদনা'

তার রচিত প্রবন্ধ:
- বীরবলের হালখাতা,
- রায়তের কথা,
- তেল-নুন-লাকড়ি ইত্যাদি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ ও উচ্চমাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ।
৩,৮২৪.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার সংগৃহীত রূপকথার সংকলন নয় কোনটি?
  1. ক) ঠানদিদির থলে
  2. খ) ঠাকুরমার থলে
  3. গ) ঠাকুরমার ঝুলি
  4. ঘ) ঠাকুরদাদার ঝুলি
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার মূলত শিশুসাহিত্যিক ও লোকসংগ্রাহক ছিলেন।
• তাঁর শিশুতোষ কল্পকাহিনী হলো রূপকথা।

• তাঁর সংগৃহীত রূপকথার সংকলনটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়। যথা:
১. ঠাকুরমার ঝুলি,
২. ঠাকুরদাদার ঝুলি,
৩. ঠানদিদির থলে ও
৪. দাদামাশয়ের থলে।

• রূপকথার সাথে এখানে উপকথার বৈশিষ্ট্য আছে, কারণ পশু-পাখির মুখ দিয়েও কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। 
- এই গল্পগুলি বলার গ্রামীণ রীতি ও ভাষা যথাসম্ভব অক্ষুণ্ণ  রেখে দক্ষিণারঞ্জন বইটি সম্পাদনা ও প্রকাশ করে চির স্মরণীয় হয়েছেন। 
- 'ঠাকুরমার ঝুলি' এর পরবর্তী খণ্ড 'ঠাকুরদাদার ঝুলি'(১৯০৯)। 
- ময়মনসিংহে অবস্থানকালে লোকসাহিত্যের প্রতি দক্ষিণারঞ্জনের অনুরাগ জন্মে। তিনি নানা ধরনের  রূপকথা, ব্রতকথা, গীতিকথা, রসকথা ইত্যাদি সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন। এ কাজে  দীনেশচন্দ্র সেন তাঁকে অনুপ্রেরণা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮২৫.
তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল-
  1. দৈনিক বাংলা
  2. জয় বাংলা
  3. মাসিক দ্যুতি
  4. ছাত্রবার্তা
ব্যাখ্যা

- তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল 'মাসিক দ্যুতি' ও 'সাপ্তাহিক সৈনিক'।
- 'সাপ্তাহিক সৈনিক' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শাহেদ আলী এবং 'মাসিক দ্যুতি' এর সম্পাদক ছিলেন আসকার ইবনে শাইখ।
- ডাকসুর মুখপত্র ছিল ছাত্রবার্তা।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৮২৬.
সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. ক) বিয়ে পাগলা বুড়ো
  2. খ) একেই কি বলে সভ্যতা?
  3. গ) জামাই বরিক
  4. ঘ) সধবার একাদশী
ব্যাখ্যা
• সমাজের প্রাচীনপন্থীদের ব্যঙ্গ করে রচিত দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন 'বিয়ে পাগলা বুড়ো'।
- বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬) নাটকটি ১৮৭২ সালে প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- এ প্রহসনে বিবাহবাতিকগ্রস্ত এক বৃদ্ধের নকল বিয়ের আয়োজন করে স্কুলের অপরিপক্ব ছেলেরা কিভাবে তাকে নাস্তানাবুদ করে, সে কাহিনিই এ প্রহসনের বিষয়।

• দীনবন্ধু মিত্র রচিত অন্যান্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
- সধবার একাদশী
- জামাই বরিক

• ইয়ংবেঙ্গলদের নিয়ে মধুসূদন দত্তের বিখ্যাত প্রহসন হচ্ছে= একেই কি বলে সভ্যতা?
৩,৮২৭.
কোনটি মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মূলক উপন্যাস?
  1. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
  2. মৃগনাভি
  3. কর্ণফুলী
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা

তেইশ নম্বর তৈলচিত্র আলাউদ্দিন আল আজাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস ।
- মৃগনাভি একটি গল্প গ্রন্থ ।
- কর্ণফুলী উপজাতিদের নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস ।
- নরকে লাল গোলাপ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নাটক ।

আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৩২ সালে নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার অন্তর্গত রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন ।
- শহীদ মিনার সম্পর্কে লেখা বিখ্যাত কবিতা স্মৃতিস্তম্ভ ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৩,৮২৮.
‘সারদামঙ্গল’ কাব্যটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. চিত্রদর্শন
  3. আর্যদর্শন
  4. পরিদর্শক
ব্যাখ্যা
⇒ সারদামঙ্গল কাব্য:
- কবি বিহারীলাল চক্রবর্তীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সারদামঙ্গল’ (১৮৭৯)।
- এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘আর্যদর্শন’ পত্রিকায়।
- আখ্যানকাব্য হলেও এর আখ্যানবস্তু সামান্যই। মূলত গীতিকবিতাধর্মী কাব্য এটি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাব্য সম্পর্কে লিখেছেন, “সূর্যাস্ত কালের সুবর্ণমণ্ডিত মেঘমালার মত সারদামঙ্গলের সোনার শ্লোকগুলি বিবিধরূপের আভাস দেয়। কিন্তু কোন রূপকে স্থায়ীভাবে ধারণ করিয়া রাখে না। অথচ সুদূর সৌন্দর্য স্বর্গ হইতে একটি অপূর্ণ পূরবী রাগিণী প্রবাহিত হইয়া অন্তরাত্মাকে ব্যাকুল করিয়া তুলিতে থাকে।”  
- এটি পাঁচটি সর্গে বিভক্ত।
- ভোরের পাখি খ্যাত রোমান্টিক কবি বিহারীলাল প্রিয়তমার মধ্যে দেবী সারদাকে অন্বেষণ করেছেন।
- এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সারদামঙ্গল (এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা),
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধুবিয়োগ,
- সাধের আসন,
- ধুমকেতু ইত্যাদি।

উৎস : সারদামঙ্গলকাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮২৯.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদের রচয়িতা কে?
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ডোম্বীপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে:
- চর্যাপদের মোট পদের সংখ্যা - ৫১টি ও প্রাপ্ত পদ সাড়ে ৪৬টি।
- চর্যাপদের ২৩ নম্বর পদটি খণ্ডিত পাওয়া গেছে।
- এই পদের ৬ টি পঙক্তি পাওয়া গেছে, বাকি ৪ টি পঙক্তি পদ পাওয়া যায়নি।
- এর রচয়িতা - ভুসুকুপা।

- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪, ২৫ এবং ৪৮ নং পদটি পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ
৩,৮৩০.
কাজী নজরুল ইসলামের রচিত ‘মধুমালা’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. গল্প
  2. উপন্যাস
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি 
- আলেয়া 
- পুতুলের বিয়ে (কিশোর নাটক) 
- মধুমালা (গীতিনাট্য) 
- ঝড় (কিশোর কাব্য-নাটক)
- পিলে পটকা, পুতুলের বিয়ে (কিশোর কাব্য-নাটক)।  

উল্লেখ্য,
 ১৯২৯ থেকে ১৯৪১ সালের মধ্যে কলকাতার বিভিন্ন মঞ্চে নিজের রচিত দুটি নাটক আলেয়া ও মধুমালা সহ প্রায় ২০টি মঞ্চ নাটকের সঙ্গে নজরুল যুক্ত ছিলেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'। 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটকের নাম- 'ঝিলিমিলি'। 
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- এতে- মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
- ঝিলিমিলি
- সেতুবন্ধ
- শিল্পী।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৩১.
‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) নির্মলেন্দু গুণ
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ-কে। চাষাভুষার কাব্য, না প্রেমিক না বিপ্লবী, কবিতা অমীমাংসিত রমণী, বাংলার মাটি বাংলার জল, প্রেমাংশুর রক্ত চাই, দূর হ দুঃশাসন, শিয়রে বাংলাদেশ, মুঠোফোনের কাব্য, নিশিকাব্য ইত্যাদি তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা
৩,৮৩২.
চর্যাপদ কারা রচনা করেছিলেন?
  1. বৈষ্ণব কবিগণ
  2. সুফি সাধকগণ
  3. নাথ পন্থীগণ
  4. বৌদ্ধ সহজিয়াগণ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। র্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং  বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৩৩.
'ইনাম' হাসান আজিজুল হক রচিত কোন গল্পের চরিত্র?
  1. আত্মজা ও একটি করবী গাছ
  2. জীবন ঘষে আগুন
  3. নামহীন গোত্রহীন
  4. পাতালে হাসপাতালে
ব্যাখ্যা
আত্মজা ও একটি করবী গাছ:
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছে ১৯৬৭ সালে।
- দেশ বিভাগের ফলে সৃষ্ট ব্যক্তিচরিত্রের নৈতিক স্খলন সাম্প্রদায়িকতা এবং সংশ্লিষ্ট কারণে সৃষ্ট চরম হতাশা ও দারিদ্র্য, উত্তেজক পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে রচিত হয় 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ', 'পরবাসী', 'সারাদুপুর', 'অন্তর্গত নিষাদ', 'মারী', 'উটপাখি', 'সুখের সন্ধানে', 'আমৃত্যু আজীবন' এই আটটি গল্প।
- হাসান আজিজুল হকের এই আটটি গল্পের সমাহারে সমৃদ্ধ 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গ্রন্থটি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ইনাম, ফেকু, সুহাস ইত্যাদি।
- বাংলাদেশের বাংলা ছোটগল্পের ধারায় এই গল্পগ্রন্থটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

হাসান আজিজুল হক:
- তিনি মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৩৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি, যবগ্রাম, বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সাল থেকে লেখক হিসেবে নিজেকে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় সাহিত্যচর্চার আরম্ভ। 
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনশাস্ত্র বিভাগে অধ্যাপনা শেষে তিনি অবসর নিয়েছেন। 
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল পুরস্কার, অগ্রণী পুরস্কার, আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।
- তাঁর গল্প ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, রুশ ও চেক ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- জীবন ঘষে আগুন,
- নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- আমরা অপেক্ষা করছি,
- রোদে যাবো,
- মা-মেয়ের সংসার,
- নির্বাচিত গল্প,
- রাঢ়বঙ্গের গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'আগুনপাখি' উপন্যাস, 'আত্মজা ও একটি করবী গাছ' গল্পগ্রন্থ, হাসান আজিজুল হক।
৩,৮৩৪.
হুমায়ূন আহমেদ কত সালে একুশে পদক লাভ করেছিলেন?
  1. ক) ১৯৮৭
  2. খ) ১৯৮৮
  3. গ) ১৯৯৪
  4. ঘ) ২০০৭
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের উপন্যাস শাখায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি প্রদত্ত বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে তাঁর অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'একুশে পদকে' ভূষিত করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৩৫.
কোনটি শামসুর রাহমানের রচনা?
  1. ক) নির্জন স্বাক্ষর
  2. খ) নির্বাণ
  3. গ) নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  4. ঘ) কালের ধুলোয় লেখা
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান রচিত আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ - কালের ধুলোয় লেখা।
তাঁর আরও একটি  আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ - স্মৃতির শহর

• শামসুর রাহমান 
- ১৯২৯ সালের  ২৪শে অক্টোবর মাতুতালয় ঢাকার মাহুতটুলিতে তিনি জন্মগ্রহন করেন।

• তাঁর রচিত  উপন্যাস -
- অক্টোপাস
- নিয়ত মন্তাজ
- এলো সে অবেলায়

• তাঁর রচিত  কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নীলিমা
- বন্দী শিবির থেকে
- অন্ধকার থেকে আলোয়
- হরিণের হাড়
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৩৬.
কোনটি আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস?
  1. কমলাকান্তের দপ্তর
  2. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  3. একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন
  4. গো জীবন 
ব্যাখ্যা

• 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস:
- 'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' (১৯৮৮) আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস।
- আহমদ ছফা বাংলাদেশের মাজার সংস্কৃতির পরিপ্রেক্ষিতে আলী কেনান নামের মূল চরিত্রের সামগ্রিক উত্থান ও পতন এই উপন্যাসে উপস্থাপন করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান থেকে শুরু করে শেখ মুজিবের শাসনামল পর্যন্ত ঘটনা দিয়ে বিস্তৃত করেছেন উপন্যাসটি।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
ঘটনার ব্যাপ্তি ছিল ১৯৬৯-৭৫ সাল পর্যন্ত। আলী কেনানের মতো একজন সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষমতাবানের ছত্রছায়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তা উপন্যাসের একটি অংশে দেখানো হয়েছে। আর মূল অংশে দেখতে পাই, গ্রামের এক দখলদার কীভাবে শহরে এসে জয় বাংলার দরবেশ হয়ে যায়।
ধুরন্ধর এই আলী কেনানকে একদিন ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল গভর্নর সাহেব, যে একদিন তাকে বুকেও টেনে নিয়েছিল। এই কারণে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামতে হয় তাকে। চতুর আলী কেনান আস্তে আস্তে ভান ধরে একজন বুজুর্গের। লালসালুর মতো খুলে বসে মাজার ব্যবসা। আলী কেনানের প্রভাব-প্রতিপত্তি এতটাই বেড়ে যায় যে, ব্রিটিশ টেলিভিশনের কোনো এক চ্যানেল তাকে নিয়ে তথ্যচিত্রও তৈরি করে। আলী কেনান আবারো ক্ষমতাধর হয়ে ওঠে।

----------------
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

অন্যদিকে, 
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত প্রবন্ধ- 'কমলাকান্তের দপ্তর'। 

• "উদাসীন পথিকের মনের কথা" মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস, যা মূলত তাঁর স্মৃতিনির্ভর বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত এবং এটিকে আত্মজীবনীমূলক রচনা হিসাবে গণ্য করা হয়। 

• 'গো-জীবন' লিখেছেন মীর মশাররফ হোসেন। এটি একটি প্রবন্ধ পুস্তিকা, যেখানে লেখক কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে গো-হত্যা অনুচিত বলে যুক্তি তুলে ধরেছেন।  
 
উৎস:  'একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৩৭.
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যের?
  1.  মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
"জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরিয়সী"- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যের।

• অন্নদামঙ্গল:
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- তাঁকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়। 
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যা, সুন্দর, হীরা মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য তিনখণ্ডে বিভক্ত: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল ও মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড। 
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি: 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'। 

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের (ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের) কিছু বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- করিতে বাঘের দুধ মিলে।
- বড়র পিরীতি বালির বাধ, ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণকে চাঁদ।
- যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৮৩৮.
বিধবার প্রেমের কাহিনি প্রতিফলিত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. নৌকাডুবি
  2. চোখের বালি
  3. যোগাযোগ
  4. রাজর্ষি
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত "চোখের বালি" বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উপন্যাসএর চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

--------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস:
- করুণা (অসমাপ্ত, ১৮৭৭),
- বউ ঠাকুরাণীর হাট,
- রাজর্ষি,
- চোখের বালি,
- নৌকাডুবি,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- গোরা,
- ঘরে-বাইরে,
- চতুরঙ্গ,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চার অধ্যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
৩,৮৩৯.
'অপরিচিতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. গল্প
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
'অপরিচিতা' গল্প:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প।
- "অপরিচিতা” প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকার ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪) কার্তিক সংখ্যায়। এটি প্রথম গ্রন্থভুক্ত হয় রবীন্দ্রগল্পের সংকলন 'গল্পসপ্তক'-এ এবং পরে, 'গল্পগুচ্ছ' তৃতীয় খণ্ডে (১৯২৭)।

কাহিনি সংক্ষেপ:
"অপরিচিতা” গল্পে অপরিচিতা বিশেষণের আড়ালে যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নারীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে, তার নাম কল্যাণী। অমানবিক যৌতুক প্রথার নির্মম বলি হয়েছে এমন নারীদের গল্প ইতঃপূর্বে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ। কিন্তু এই গল্পেই প্রথম যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতা শোনালেন তিনি। এ গল্পে পিতা শম্ভুনাথ সেন এবং কন্যা কল্যাণীর স্বতন্ত্র বীক্ষা ও আচরণে সমাজে গেড়ে-বসা ঘৃণ্য যৌতুকপ্রথা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। পিতার বলিষ্ঠ প্রতিরোধ এবং কন্যা কল্যাণীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণ ও তার অভিব্যক্তিতে গল্পটি সার্থক।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্পগ্রন্থ: 
- গল্পগুচ্ছ,
- লিপিকা,
- সে,
- তিন সঙ্গী,
- গল্পসল্প।

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ ও আলিম শ্রেণি; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪০.
তুর্কি বিজয়ের ফলে বাংলা সাহিত্যে কোন যুগের আবির্ভাব ঘটে?
  1. ক) অবক্ষয় যুগ
  2. খ) অন্ধকার যুগ
  3. গ) চৈতন্য যুগ
  4. ঘ) আধুনিক যুগ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে ১২০০ - ১৮০০ সাল পর্যন্ত মধ্যযুগ বলে চিহ্নিত। 
- এর মধ্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। 
- বাংলাদেশে তুর্কি বিজয়ের মাধ্যমে মুসলমান শাসনামলের সুত্রপাতের পরিপ্রেক্ষিতে তেমন কোন উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি হয় নি অনুমান করে এ রকম সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রকৃত কারণ অজ্ঞাত হলেও এটাই বর্তমানে সর্বজন স্বীকৃত মত।
- ১২০৪ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলার সেন বংশের শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী নদীয়া বিনা বাধায় জয় করে এদেশে মুসলমান শাসনের সূত্রপাত করেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৩,৮৪১.
'রাজর্ষি' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. ছোটগল্প
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• 'রাজর্ষি' উপন্যাস:
- রাজর্ষি রবীন্দ্রনাথের লেখা দ্বিতীয় উপন্যাস। অল্প বয়সের লেখা হলেও এর কাহিনি আজও পাঠকসমাজে সমাদৃত। এর নাট্যরূপ বিসর্জন আজও নাট্যরসিকদের কাছে সমান জনপ্রিয়।
- উপন্যাসটি প্রথম ছাপা হয়েছিল বালক পত্রিকায়—কিন্তু অসম্পূর্ণ রয়ে যায় এর কাহিনি।
- এই কাহিনির সূত্র কবি পেয়েছিলেন স্বপ্নের মধ্যে। কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশের পর কবির মনে হয়েছিল এটি সম্পূর্ণ করতে হবে এবং তা করতে হলে জানা প্রয়োজন ত্রিপুরার রাজপরিবারের ইতিহাস। সেজন্য তিনি ত্রিপুররাজ গোবিন্দমাণিক্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। সেখান থেকে রাজ পরিবারের ইতিবৃত্ত তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়া হলে রবীন্দ্রনাথ রাজর্ষি-কে সম্পূর্ণ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অনান্য উপন্যাস:
- বৌ ঠাকুরাণীর হাট,
- প্রজাপতির নির্বন্ধ,
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চতুরঙ্গ,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: 'রাজর্ষি' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৮৪২.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. কবিতা
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত- 'কাব্যগ্রন্থ ও কবিতা'। 
 
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম  কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি। 

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- সাতনরী হার (প্রথম প্রকাশিত),
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ,
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চোখ,
- নির্বাচিত কবিতা,
- আমার সকল কথা,
- আমার সময়,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি', 
- 'মাগো, ওরা বলে',
- কোন এক মাকে ইত্যাদি।
----------------------------
আমি কিংবদন্তির কথা বলছি- কবিতা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মত ক্ষত ছিল।
তিনি অতিক্রান্ত পাহাড়ের কথা বলতেন
অরণ্য এবং শ্বাপদের কথা বলতেন
পতিত জমি আবাদের কথা বলতেন
তিনি কবি এবং কবিতার কথা বলতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৩.
কার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে ১৯২৬ সালে ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা

মুসলিম সাহিত্য-সমাজ ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। এরাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৪৪.
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি- “দখিন দুয়ার গেছে খুলি?- কোন কবিতার অংশ?
  1. মায়া কাজল
  2. উদাত্ত পৃথিবী
  3. অভিযাত্রিক
  4. তাহারেই পড়ে মনে
ব্যাখ্যা
তাহারেই পড়ে মনে 
সুফিয়া কামাল,

“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?” (সংক্ষিপ্ত)
---------------------------------------------
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল মূলত কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁকে জননী সাহসিকা বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ’সৈনিক বধূ’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- একাল আমাদের কাল;
- তাঁর লিখিত ডায়রি: একাত্তরের ডায়রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৪৫.
কাজী নজরুল ইসলাম 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছিলেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে
  2. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে
  3. প্রমীলা দেবীকে
  4. বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে
ব্যাখ্যা

'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৪৬.
মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা কয়টি?
  1. ৫টি
  2. ৮টি
  3. ১০টি
  4. ২৩টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্গত পূর্ব ময়মনসিংহ থেকে সংগৃহীত মোট গীতিকা ১০টি । যথা :
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৮৪৭.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত দৈনিক সংবাদ পত্র কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সাধনা
  3. কালিকলম
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ।
- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

অন্যদিকে,
- সাধনা পত্রিকার সম্পাদক ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় বঙ্গদূত প্রকাশিত হয়।
- কালিকলম পত্রিকার সম্পাদক প্রেমন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৪৮.
কোনটি যৌতুক প্রথা নিয়ে রচিত গল্প?
  1. ক্ষুধিত পাষাণ
  2. দেনা পাওনা
  3. দুই বিঘা জমি
  4. ছিন্নপত্র
ব্যাখ্যা

পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প দেনা পাওনা ।
গল্পটির উপশহরের রামচন্দ্রের মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প দেনাপাওনা অন্যতম চরিত্র নিরুপমা ।
নিরুপমা বাবা নিরুপমাকে বিবাহের জন্য ১০ হাজার টাকা পণ দিতে রাজি হন ।

নিরুপমার বড় ভাই ছিল ৫ জন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)

৩,৮৪৯.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. অবেলার ডাক
  2. পূজারিণী
  3. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  4. প্রলয়োল্লাস
ব্যাখ্যা

• 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'দোলনচাঁপা' বিংশ শতাব্দির প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে (আশ্বিন, ১৩৩০ বঙ্গাব্দ) আর্য পাবলিশি হাউস থেকে প্রকাশিত হয়।

- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের দুর্গাপূজোর আগে ধুমকেতু পত্রিকায় নজরুলের ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ নামে বিদ্রোহাত্মক কবিতাটি প্রকাশের জন্য তাকে রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত কবিকে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ জানুয়ারি এক বৎসর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে প্রেসিডেন্সি জেলে রাখা হয়। এই সময় দোলনচাঁপা কাব্যের কবিতাগুলি রচিত হয়।

- জেল কর্তৃপক্ষের অগোচরে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ওয়ার্ডারদের সাহায্যে তার সব কবিতাই বাইরে নিয়ে আসেন। কবির নির্দেশমত আর্য পাবলিশি হাউস এ কবিতাগুলো দিয়ে দোলনচাঁপা প্রকাশ করে। প্রথম সংস্করণ এই কাব্যগ্রন্থে ২১টি কবিতা ছিল।

- সূচিপত্রের আগে মুখবন্ধরূপে সংযোজিত প্রথম কবিতা "আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে" ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ) জ্যৈষ্ঠ মাসের কল্লোল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

- দোলনচাঁপা কাব্যগ্রন্থের পরবর্তী সংস্করণে ৫০টি কবিতা সংকলিত হয়।

এগুলো হলো- 
- 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে,
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- পূবের হাওয়া,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৮৫০.
শিশুতোষ সাহিত্য 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
• শিশুতোষ সাহিত্য 'হ-য-ব-র-ল' গ্রন্থের রচয়িতা - সুকুমার রায়। 

সুকুমার রায়:

- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল;
- হ-য-ব-র-ল;
- পাগলা দাশু;
- শব্দকল্পদ্রুম;
- বহুরূপী;
- খাই খাই;
- অবাক জলপান;
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫১.
'সুচয়নী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্পগুচ্ছ
  2. কবিতা সংকলন
  3. রচনাসমগ্র
  4. আত্মজীবনীমূলক
ব্যাখ্যা
সুচয়নী:
- রবীন্দ্রনাথের যেমন 'সঞ্চয়িতা' নজরুলের 'সঞ্চিতা' জসীমউদ্দীনের তেমনি ‘সুচয়নী’ কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

জসীমউদ্দীন:
- জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫২.
চর্যার কোন কবি বাঙালি বলে অনুমিত?
  1. বীণাপা
  2. লুইপা
  3. ভাদেপা
  4. শান্তিপা
ব্যাখ্যা
• লুইপা:
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না।
- লুইপা বাঙালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি প্রথম জীবনে উদ্যানের (সোয়াতের) রাজার কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ।
- তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল।
- সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম 'অভিসময়বিভঙ্গ।'
- তিনি চর্যাপদে দুটি পদ লিখেছেন। পদ দুইটি হলো ১নং ও ২৯নং পদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৮৫৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. ভ্রান্তিবিলাস
  2. আখ্যান মঞ্জরী
  3. শকুন্তলা
  4. বেতালপঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ - বেতালপঞ্চবিংশতি

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৪.
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. গীতগোবিন্দ
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. পদ্মাপুরাণ
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
"হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়" - এই পঙ্‌ক্তিটি অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙ্ক্তি হলো:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
- না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৫.
'হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী' পদটির রচয়িতা-
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) সরহপা
  3. গ) ঢেণ্ডণপা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদে ৬ টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে।
এগুলো হলো:
- আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
- দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
- হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
- বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
- আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।
৩,৮৫৬.
শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন - গিরিশচন্দ্র ঘোষ

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের 'শর্মিষ্ঠা' নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন।
- দীনবন্ধু মিত্রের 'সধবার একাদশী' প্রহসনে তিনি 'নিমচাঁদ' চরিত্রে অভিনয় করেন।
- প্রেমভক্তি, স্বদেশপ্রেম ও সমকালীন সামাজিক সমস্যা গিরিশচন্দ্রের নাটকের বিষয়বস্তু।
- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন।
- তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 
- তিনি শেকসপীয়রের 'ম্যাকবেথ' (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের 'মৃণালিনী', 'বিষবৃক্ষ' ও 'দুর্গেশনন্দিনী' উপন্যাস, মধুসূদনের  'মেঘনাদবধ কাব্য' ও নবীনচন্দ্রের 'পলাশীর যুদ্ধ' কাব্যের নাট্যরূপ দেন।
-  ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন। 

 • তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- অভিমন্যুবধ, 
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- পাণ্ডবের অজ্ঞাতবাস,
- প্রফুল্ল,
- জনা,
- বলিদান,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- শঙ্করাচার্য,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর। 

তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- গোপন চুম্বন,
- ভোটমঙ্গল,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৫৭.
পৌরাণিক শ্রেণির মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. সারদামঙ্গল
  2. চণ্ডিকামঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা: মঙ্গলকাব্যের শ্রেণি বা ধারা হলো দুটি।

লৌকিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর), সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৮৫৮.
নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস কোনটি?
  1. একটি কালো মেয়ের কথা
  2. কালো বরফ
  3. কালো মেলা
  4. কালো হাওয়া
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ রচিত কিশোর উপন্যাস - কালো মেলা
- এটি ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

নির্মলেন্দু গুণ:
- তিনি ২১ জুন, ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পূর্ণ নাম নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণকে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - একটি কালো মেয়ের কথা।
• মাহমুদুল হক রচিত উপন্যাস - কালো বরফ।
• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস - কালো হাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৫৯.
‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. অনিঃশেষ
  2. উপহার
  3. পুষ্পিত ইমেজ 
  4. হারানো অর্কিড 
ব্যাখ্যা
- ‘বাংলাদেশ’ কবিতাটি অমিয় চক্রবর্তী রচিত ‘অনিঃশেষ’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত হয়েছে কবিতাটি।

অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- কবিতাবলী (প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ),
- উপহার,
- অনিঃশেষ 
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেওয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- হারানো অর্কিড,
- পুষ্পিত ইমেজ,
- অমরাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
 
৩,৮৬০.
“তিথিডোর” কী ধরনের রচনা?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) গল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা

বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাসঃ
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমণ,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- মৌলিনাথ,
- নীলাঞ্জনের খাতা,
- রাত ভরে বৃষ্টি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৬১.
বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয়-
  1. ক) নবম শতকে
  2. খ) ত্রয়োদশ শতকে
  3. গ) ষোড়শ শতকে
  4. ঘ) উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা
• বংলা গদ্যের সূচনা ও সাহিত্যে এর বিকাশ:
• ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
• ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে।
• পরবর্তীতে পশ্চাতে খ্রিষ্টান পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

- তবে বাংলা গদ্যের মূল বিকাশ ঘটে উনিশ শতকে।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে "ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ" ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
- উনিশ শতকে বাংলা গদ্যরীতিতে লেখা এবং বাংলা হরফে ছাপা প্রথম মৌলিক গ্রন্থ রামরাম বসুর ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ (১৮০১) প্রকাশিত হয়। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কারসহ ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে তাঁর সহকর্মীরা সংস্কৃত-প্রভাবিত ভাষায় তাঁদের গ্রন্থগুলি রচনা করেছিলেন। এসব গ্রন্থ ছিল ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের ছাত্রদের জন্যে লেখা পাঠ্যপুস্তক।

• ড. সুকুমার সেন বাংলার গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। যথা:
১. সূচনা: ষোল শতক-১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
২. উন্মেষ: ১৮০০-১৮৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৩. অভ্যুদয়: ১৮৪৭-১৮৬৫ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
৪. পরিণতি: ১৮৬৫ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং বলা যায় বাংলা গদ্যরীতিতে সাহিত্য রচনার সূচনা হয় উনিশ শতকে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩,৮৬২.
কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. শাশ্বতবঙ্গ
  2. আরণ্যক
  3. নদীবক্ষে
  4. আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
• 'নদীবক্ষে' উপন্যাস:
- কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে কাজী আবদুল ওদুদ রচিত উপন্যাস 'নদীবক্ষে'।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯১৮ সালে। এটি যতটুকু উপন্যাস তার চেয়ে বেশি সমাজচিত্র। 
- গ্রামীণ সমাজের কলহ, বিবাদ, দ্বন্দ্ব আবার মিলনের কথা চারটি কৃষক পরিবারকে কেন্দ্র করে এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসের চরিত্র: জমির শেখ, ইরফান মণ্ডল, লালু, মতি প্রমুখ। 
--------------------------- 
কাজী আবদুল ওদুদ:
- তিনি একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ছিলেন। 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধের সংকলন ‘শাশ্বতবঙ্গ’।
- এটি একটি সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- এটি ১৯৫১ সালে সংকলন করা হয়।
- 'শাশ্বতবঙ্গ’ এর প্রবন্ধগুলো ৬টি ভাগে বিভক্ত করা যায়।

সমাজ ও সাহিত্যবিষয়ক প্রবন্ধ:
- শাশ্বতবঙ্গ (১৯৫১),
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ,
- নজরুল প্রতিভা।

অন্যদিকে,
• শাশ্বতবঙ্গ - কাজী আবদুল ওদুদ রচিত প্রবন্ধ।
• আরণ্যক - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
• 'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা হচ্ছে মোহাম্মদ নজিবর রহমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৩.
‘বেদান্তগ্রন্থ’ গ্রন্থটি কার লেখা?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বেদান্তগ্রন্থ: 
- ‘বেদান্তগ্রন্থ’ (১৮১৫) রামমোহন রায় কর্তৃক ব্রহ্মসূত্রের অনুবাদ ও টীকা।
- বাংলাগদ্যের ইতিহাসে গ্রন্থটির ঐতিহাসিক মূল্য অসামান্য।
- পৌত্তলিকতা যে হিন্দু ধর্মের মুখ্য ব্যাপার নয়, ব্রহ্মই একমাত্র তত্ত্ব ও উপাস্য তা প্রমাণের উদ্দেশ্যেই এই গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।
- এই গ্রন্থ অবলম্বন করে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রবল বাকবিতর্ক হয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহায়তায় 'ব্রাহ্মসমাজ' স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন।
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৬৪.
”রূপজালাল” কী ধরনের রচনা?
  1. মনস্তাত্বিক
  2. আত্মজীবনী
  3. রাজনৈতিক
  4. সামাজিক
ব্যাখ্যা
নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- তিনি একজন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- এতে তাঁর বিড়ম্বিত দাম্পত্য জীবনের করুণ কাহিনী স্থান পেয়েছে।
- এছাড়া সঙ্গীতসার ও সঙ্গীতলহরী নামে তাঁর দুখানি কাব্যের কথাও জানা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৫.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারার চরিত্র 'ধনপতি'?
  1. মনসামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কালিকামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল ধারার চরিত্র 'ধনপতি'।

চণ্ডীমঙ্গল: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়

অন্যদিকে,
• মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৬৬.
'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. নবীতুন 
  2. জয়গুন
  3. আনোয়ারা 
  4. জয়নব 
ব্যাখ্যা
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'।
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

• উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র:
- হাসু,
- মায়মুন,
- শাফি,
- ডা. রমেশ চক্রবর্তী,
-মোরল গদু ইত্যাদি।

---------------------
• আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা। জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- পরে কলিকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়।
- আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ (১৯৮৬); এ উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে-ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে।
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• আবু ইসহাক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৬৭.
'সোনার তরী' কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. মাত্রাবৃত্ত
  3. স্বরবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

'সোনার তরী' কবিতা:
-'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
-এ কাব্যের অধিকাংশ কবিতা পদ্মাবিধৌত পূর্ববঙ্গের পটভূমিতে লেখা ।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত
-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হলো:
- সোনার তরী,
- বিম্ববতী,
- বর্ষাযাপন,
- সুপ্তোত্থিতা,
- হিং টিং ছট,
- বসুন্ধরা,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৬৮.
বাংলা সাহিত্যের কোন মহাকবি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি যশোর জেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্কুলজীবনের শেষে তিনি কলকাতার হিন্দু কলেজে ভর্তি হন।
- এই কলেজে অধ্যয়নকালে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি তাঁর তীব্র অনুরাগ জন্মে।
- ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। তখন তাঁর নামের প্রথমে যোগ হয় 'মাইকেল'।
- পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তীব্র আবেগ তাঁকে ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনায় উদ্‌বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তাঁর এই ভুল ভেঙেছিল।
- বাংলা ভাষায় কাব্যরচনার মধ্য দিয়ে তাঁর কবিপ্রতিভার যথার্থ স্ফূর্তি ঘটে।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকবি।

- তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

- তাঁর নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

- তাঁর প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

• অন্যদিকে: 
- কায়কোবাদ ঢাকা জেলার  নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- নবীনচন্দ্র সেন চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩,৮৬৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন - 'চর্যাপদ' কত বঙ্গাব্দে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন - 'চর্যাপদ':
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় - ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে) এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদের পদগুলো সন্ধ্যা বা সান্ধ্যাভাষায় রচিত। চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা। চর্যাপদের অন্যান্য কবিরা হলেন- সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা, কাহ্নপা, কুকুরীপা, মীনপা, আর্যদেব প্রমুখ।
- কাহ্নপা সর্বাপেক্ষা বেশি ১৩টি পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮ টি পদ লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩,৮৭০.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. লাঙ্গল
  2. নবজীবন
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• 'নবজীবন' কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা নয়। 
- 'নবজীবন' পত্রিকার সম্পাদক - অক্ষয়চন্দ্র সরকার। 

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৭১.
'পূরবী' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) সিকান্দার আবু জাফর
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
- তাঁর রচিত উপন্যাসঃ পূরবী, মাটি আর অশ্রু, জয়ের পথে, নবী কাহিনী, নতুন সকাল ইত্যাদি‌।
- সিরাজউদ্দৌলা, শকুন্ত উপাখ্যান, মহাকবি আলাওল, মাকড়সা তাঁর রচিত নাটক।
- প্রসন্ন প্রহর, বৈরীবৃষ্টিতে, তিমিরান্তক, বৃশ্চিকলগ্ন, কবিতা ইত্যাদি তাঁর রচিত কবিতা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

উল্লেখ্য, 'পূরবী" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
৩,৮৭২.
'দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায়' পদটির রচয়িতা-
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) সরহপা
  3. গ) ঢেণ্ডণপা
  4. ঘ) কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

- চর্যাপদে প্রবাদ বাক্য রয়েছে ৬ টি।
- এগুলো হলোঃ
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী (ভুসুকুপা ৬ নং পদ)।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
• হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন (সরহপা ৩২ নং পদ)।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী (ঢেণ্ডণপা ৩৩ নং পদ)।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ (সরহপা ৩৯ নং পদ)।
• আন চাহন্তে আন বিনধা (কঙ্কণপা ৪৪ নং পদ)।

৩,৮৭৩.
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা “চতুরঙ্গ” কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শেখ আব্দুর রহিম
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন
  4. ঘ) হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। তার ;রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৩,৮৭৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা কে?
  1. ক) শওকত ওসমান
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'রাইফেল রোটি আওরাত' এর রচয়িতা- 'আনোয়ার পাশা' 

• রাইফেল রােটি আওরাত
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩), আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন এই উপন্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র।
- এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।
- উপন্যাসটি মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত এবং ১৯৭৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

আনোয়ার পাশা
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৮৭৫.
মণীন্দ্রমোহন বসু মধ্যযুগের কোন গ্রন্থের পুথি বঙ্গানুবাদসহ 'কায়স্থ' পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন 
  3. শূন্যপুরাণ
  4. গীতগোবিন্দম্
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- হলায়ুধ মিশ্র রচিত পীর মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য 'সেক শুভোদয়া'। 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'শূন্যপুরাণ':

- রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মের তত্ত্বীয় গ্রন্থের নাম 'শূন্যপুরাণ'।
- মূল গ্রন্থে ধর্মপূজার যে বিবরণ আছে তাতে বৌদ্ধধর্মের শূন্যবাদ ও হিন্দু লোকধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে।
- শূন্যপুরাণ বিশেষভাবে ধর্মপূজা পদ্ধতি। 
- শূন্যপুরাণ চম্পুকাব্যের নিদর্শন। গদ্য ও পদ্য মিশ্রিত কাব্যকে চম্পুকাব্য বলে।
- কাব্যগ্রন্থটি ৫১ টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- বিশ্বকোষ প্রণেতা নগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করে।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত। এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
-এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• 'গীতগোবিন্দম্':
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

৩,৮৭৬.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কাকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' বলে আখ্যায়িত করেন?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন। তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করে। 

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন;
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত;
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ;
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ;
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৭.
চলিত রীতির গদ্য ‘বীরবলের হালখাতা’ কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী
  2. ক্রান্তি
  3. কল্লোল
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
‘বীরবলের হালখাতা’:
- ‘বীরবলের হালখাতা’ প্রমথ চৌধুরীর চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে 'ভারতী' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৭৮.
কোন দেশীয় কাব্যের অনুসরণে মাইকেল মধুসূদন 'বীরাঙ্গনা কাব্য' রচনা করেন?
  1. রোমান
  2. গ্রীক
  3. ব্রিটিশ
  4. তুর্কী
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 

'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- এতে পত্র সংখ্যা ১১ টি।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- বাংলায় রচিত মধুসূদনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমা সম্ভব।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন 
- একেই কি বলে সভ্যতা’ (১৮৬০) ও
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০)।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।]
৩,৮৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ছিলেন- 
  1. কাদম্বরী দেবী
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা 
  4. চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিকের নাম- স্বর্ণকুমারী দেবী। 
------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন।
- তিনি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকা ভারতী-এর সম্পাদনা করেছিলেন প্রায় এক দশক ধরে।
- এছাড়া তিনি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার অগ্রদূত ছিলেন।
- নারীদের সৃজনশীলতা ও সহায়তার জন্য তিনি সখী সমিতি নামক একটি সংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।
------------------------ 
অন্যদিকে,
• কাদম্বরী দেবী জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির বধূ ছিলেন এবং তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর অত্যন্ত প্রিয় বৌঠান; তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর স্ত্রী ছিলেন।

• নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন একজন বিশিষ্ট জমিদার, সমাজসেবী, নারীশিক্ষার অগ্রদূত ও সাহিত্যচর্চায় যুক্ত কবি, যিনি সমাজকল্যাণ ও শিক্ষাবিস্তার কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

• চন্দ্রাবতী বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি হিসেবে পরিচিত; তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮০.
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ 
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির "চতুর্দশপদী কবিতাবলী'র অন্তর্ভুক্ত।

'চতুর্দশপদী কবিতাবলি':
- এটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত ১০২টি সনেটের সংকলন।
- মধুসূদনের আগে বাংলা সনেট বা সনেটগ্রন্থ রচিত হয়নি।
- সে বিচারে বাংলা সনেটের আদি গ্রন্থ এটি।
- গ্রন্থটি ১৮৬৬ সালের ১লা অগস্ট গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। কবিতাগুলি প্রবাসে রচিত।
- সনেটগুলির কয়েকটি পেত্রার্কের আদর্শে এবং বেশির ভাগ শেক্সপিয়রীয় আদর্শে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮১.
'ওসমান' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. খােয়াবনামা
  2. দুধভাতে উৎপাত
  3. চিলেকোঠার সেপাই
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা

'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে। 

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন। 
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন। 

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।

তাঁর রচিত ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৮৮২.
‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আবু ইসহাক
  2. আবদুল কাদির
  3. আনিসুজ্জামান
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’:
- অভিধান প্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি ‘সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান’ (২ খণ্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন।
- তাঁর প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান।
- তাঁর অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে।

------------------------
• আবু ইসহাক:

- তিনি ১৯২৬ সালে শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’ (১৯৬৩), ‘সুন্দরবন সাহিত্য পদক’ (১৯৮১), ‘বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ সাহিত্য পদক’ (১৯৯০), ‘একুশে পদক’ (১৯৯৭), ‘স্বাধীনতা পদক’ (মনণোত্তর, ২০০৪) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর, ২০০৬) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৮৩.
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় - এর রচিত শেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. আরণ্যক
  2. পথের পাঁচালী
  3. ইছামতি
  4. অশনি সংকেত
ব্যাখ্যা
- ইছামতি, ১৯৫০ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি লেখকের শেষ উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি 'রবীন্দ্র পুরস্কার' লাভ করেন।
- ইছামতি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৮৮৪.
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সাঈদ আহমদ
  2. সমর সেন
  3. সানাউল হক
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত।
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।

সমরেশ বসু:
- সমরেশ বসু ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৮৫.
'কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না' - উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের?
  1. মৃণালিনী
  2. রাজসিংহ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. চন্দ্রশেখর
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। 
- ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস।
৩,৮৮৬.
'এর উপায় কি?' প্রহসনটির রচয়িতার নাম কী?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• 'এর উপায় কী'- প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহস্নে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ। 

• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।

নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৮৭.
‘মৃতের আত্মহত্যা’ গল্পগ্রন্থটি রচনা করেন-
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
• উপন্যাস: 
- ‘চৌচির' (১৯৩৪),
- ‘প্রদীপপতঙ্গ' (১৩৪৭),
- 'রাঙ্গা প্রভাত' (১৩৬৪);

 • গল্পগ্রন্থ :
- ‘মাটির পৃথিবী' (১৩৪৭),
- ‘মৃতের আত্মহত্যা’ (১৯৭৮);

• নাটক :
- ‘কায়েদে আজম’ (১৯৪৬),
- ‘প্রগতি’ (১৯৬৬);
- (১৯৬৬);

• প্রবন্ধ :
- ‘বিচিত্র কথা' (১৩৪৭).
- ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি সাধনা' (১৯৬১),
- 'সাহিত্য সংস্কৃতি ও জীবন (১৯৬৫),
- ‘শেখ মুজিব : তাঁকে যেমন দেখেছি' (১৯৭৮),
- ‘রবীন্দ্র প্রসঙ্গ' (১৯৭৯)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া, ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৮৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প কোনটি?
  1. দেনাপাওনা
  2. সমাপ্তি
  3. ল্যাবরেটরী
  4. ভিখারিণী
ব্যাখ্যা

'ভিখারিণী' ছোটগল্প:
- ‘ভিখারিণী’ ১৮৭৪ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম 'ভিখারিণী'।
- 'ভিখারিণী' বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।

• তাঁর রচিত অন্যান্য ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ,
- রবিবার,
- সমাপ্তি,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরী ও
- পোস্ট মাস্টার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৮৮৯.
সৈয়দ আলী আহসান কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ভোলা
  2. খ) মাগুরা
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) ফেনী
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ আলী আহসান মাগুরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

• সৈয়দ আলী আহসান:
-  ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

• তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯০.
'ভিখু ও পাঁচী' চরিত্র দুটির স্রষ্টা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'প্রাগৈতিহাসিক' গল্প:
- 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের রচয়িতা 'মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ভিঁখু ও পাচি 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পের পাত্র-পাত্রী। 
- 'প্রাগৈতিহাসিক' মূলত মানুষের জৈবিক ক্ষুধার ইতিহাস।
- জৈবিক ক্ষুধার জন্য মানুষ যে পশুতে পরিণত হতে পারে সে কথাই বর্ণিত হয়েছে 'প্রাগৈতিহাসিক' গল্পে।
- জৈব প্রেরণা মানুষের আদিম প্রবৃত্তি।
- 'ভিখু' ও 'পাঁচী' জন্মগতভাবে কামনা বাসনা ও জৈব তাড়না লাভ করেছে এবং এ প্রবৃত্তিকেই তারা আবার তাদের সন্তান সন্ততির মাঝে সঞ্চারিত করে যাবে।
- এ প্রবৃত্তি নিতান্তই প্রাগৈতিহাসিক।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য বিখ্যাত ছোটগল্প:
- অতসী মামী, 
- সরীসৃপ, 
- সমুদ্রের স্বাদ
- হলুদ পোড়া
- ভেজাল, 
- ছোট বকুলপুরের যাত্রী, 
- আত্মহত্যার অধিকার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া ও প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থ।
৩,৮৯১.
"আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• "আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম।"- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ। 
- কবিতাংশটুকু 'আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি' কবিতার অন্তর্গত।

• 'আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি' -কবিতা, 

সমবেত সকলের মতো আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি,
রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সেইসব গোলাপের একটি গোলাপ
গতকাল আমাকে বলেছে, আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি।
আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি।
---------
আমি আজ কারো রক্ত চাইতে আসিনি,
আমি আমার ভালোবাসার কথা বলতে এসেছিলাম। (সংক্ষেপিত) 
------------------------ 
• নির্মলেন্দু গুণ: 
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে। 
- তাঁকে  ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়। 

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো -
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়া খেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
৩,৮৯২.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের কবি শবরপা কোন অঞ্চলের লোক ছিলেন? 
  1. মগধদেশ
  2. কামরূপ
  3. বাংলাদেশ
  4. নেপাল
ব্যাখ্যা

• শবরপা: 
- তাঁর জীবনকাল ৬৮০ থেকে ৭৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। 
- সেই সূত্রে শবরপা চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রাচীন। 
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি 'বাংলাদেশে'র লোক।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম টিকাকার লুইপা এর গুরু ছিলেন।
- শবরপা নিজে নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ তাঁর রচনা।

অন্যদিকে,
- চর্যাপদের আদি চর্যাকার/বাংলা সাহিত্যের প্রথম কবি/চর্যাপদের প্রথম পদের রচয়িতা - লুইপা।
- তিনি চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেছেন।

উৎস: চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা- ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

৩,৮৯৩.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবি কে?
  1. ঘনরাম চক্রবর্তী
  2. মানিক দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. দ্বিজমাধব
ব্যাখ্যা

'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল' চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এই কাব্যের প্রথম / আদি কবি মানিক দত্ত।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। এবং এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৮৯৪.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ‘চর্যাপদ' কে সম্পাদনা করেন? 
  1. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৫.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা হলো -
  1. সবুজপত্র
  2. বিশ্বভারতী
  3. রূপ ও রীতি
  4. অলকা
  5. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী ও তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।

- ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

- তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০), রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং অলকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৬.
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৭.
কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. শিখা
  2. নবযুগ
  3. সৈনিক
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• দৈনিক নবযুগ পত্রিকা:
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকাটি ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রকাশের বছর খানেকের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় এবং ১৯৪২ সালে পুনরায় চালু হয়ে দুবছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
- দৈনিক নবযুগে কাজী নজরুল লিখিত কলামসমূহ নিয়ে নজরুলের ‍যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ প্রকাশিত হয় যা ব্রিটিশ সরকার রাজয়োপ্ত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮৯৮.
নিচের কোনটি প্রমথ চৌধুরীর গল্পগ্রন্থ?
  1. ক) আহুতি
  2. খ) পদচারণ
  3. গ) রায়তের কথা
  4. ঘ) তেল-নুন-লাকড়ী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬): বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক, ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী। তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
তিনি সম্পাদনা করেন সবুজ পত্র (১৯১৪) ও বিশ্ব ভারতী পত্রিকা।
কাব্য গ্রন্থঃ সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩), পদচারণ (১৯১৯);
গল্পগ্রন্থঃ চার ইয়ারি কথা (১৯১৬), আহুতি (১৯১৯), নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ (১৯৪১);
প্রবন্ধগ্রন্থঃ তেল- নুন -লাকড়ী (১৯০৬), বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা, ১৯১৬), নানাকথা (১৯১৯), আমাদের শিক্ষা (১৯২০), রায়তের কথা (১৯২৬), নানাচর্চা (১৯৩২), আত্নকথা (১৯৪৬)।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,৮৯৯.
কার নির্দেশে কৃত্তিবাস ওঝা রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন?
  1. রাজা গণেশ
  2. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

• রামায়ণ:
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় 'রামায়ণ' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৯০০.
'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- বক্তব্যটি কার রচনা?
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- 'আনোয়ারা' মোহাম্মদ নজিবর রহমান রচিত একটি কালজয়ী সামাজিক উপন্যাস।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম ও সর্বাধিক সার্থক উপন্যাস।
- এটি ১৯১৪ সালের ১৫ জুলাই (১৩২১ বঙ্গাব্দে) কলকাতা থেকে সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- 'সতীর সর্বস্ব পতি, সতী শুধু পতিময়, বিধাতার প্রেমরাজ্যে সতত সতীর জয়'- এটাই উপন্যাসের মূল বক্তব্য। নারীর ইচ্ছার পৃথক কোনো মূল্য নেই এই উপন্যাসে।

কাহিনি সংক্ষেপ-
আনোয়ারা' উপন্যাসটি গড়ে উঠেছে আনোয়ারা নাম্নী এক তরুণীকে ঘিরে। তার জীবনকে যেন লেখক বাঙালি নারীর আদর্শ জীবনরূপে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। যে কিনা সৎ মা গোলাপজানের শত গঞ্জনা সয়েও মুখে টু শব্দটি করে না। মায়ের বাধ্য সন্তান যেমন হয় আনোয়ারাও ঠিক তাই। আনোয়ারার একমাত্র সঙ্গী তার সই হামিদা। অন্যদিকে সৎ মায়ের গঞ্জনাতে শীতল ছায়া দিয়ে চলেছে আনোয়ারার দাদীমা। এই দুটি মানুষের কাছে জীবনের পরম আশ্রয় খুঁজে পেয়েছে আনোয়ারা। কিন্তু আনোয়ারার জীবন দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আদর্শপূর্ণ করে রেখেছেন লেখক। নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে চোখ পড়ে নুরল এসলামের ওপর। যে সৎ, পবিত্র, নিষ্ঠাবান একজন কর্মী। নৌকাতে অবস্থানকালে তার মধুর কণ্ঠের কোরআন পাঠ আনোয়ারাকে মুগ্ধ করে। মনের অজান্তেই ভিনদেশি এই যুবকের মতো কেউ তার স্বামীর আসন দখল করুক এই তার বাসনা।

অনেক পথ পাড়ি দিয়ে বিয়ে হয় আনোয়ারা এবং নুরল এসলামের। কিন্তু এখানেও আনোয়ারার জীবনে আসে কালবৈশাখী ঝড়। এক তিমির থেকে বেঁচে সে এসে উপস্থিত হয় আরও এক গভীর অন্ধকারে। যেখানে তার পক্ষে কেউ নেই।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- আনোয়ারা,
- নুরুল এসলাম,
- খাদেম,
- আজিমুল্লাহ,
- গোলাপজান ইত্যাদি।

উৎস: 'আনোয়ারা' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।