বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৮ / ২১১ · ৩,৭০১৩,৮০০ / ২১,১৩২

৩,৭০১.
জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' কোন ধরনের রচনা?
  1. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক
  3. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস
  4. ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক নাটক
ব্যাখ্যা
• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।
---------------------  
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭০২.
'চাষাভুষার কাব্য' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) জসীমউদ্দিন
  2. খ) নির্মলেন্দু গুণ
  3. গ) নবীনচন্দ্র সেন
  4. ঘ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিক নির্মলেন্দু গুণের জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫ সালে।
- তাঁর ডাকনাম রতন।
- তিনি গত শতাব্দীর ষাটের দশকেই কবিতা রচন আরম্ভ করেন। পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতটা প্রভাববিস্তারী হয়ে উঠে যে,তরুণেরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হন, আজও তাঁর প্রভাব তরুন কবিসমাজকে প্রভাবিত করে , তাই তাকে বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয়ে থাকে।

- ১৯৭০ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রেমাংশুর রক্ত চাই প্রকাশিত হবার পর জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এ-গ্রন্থের অন্তর্ভূত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা হুলিয়া কবিতাটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়াও তার স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো কবিতাটি বাংলাদেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যপুস্তকে পাঠ্য।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা-
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই (১৯৭০)
- না প্রেমিক না বিপ্লবী (১৯৭২)
- কবিতা, অমিমাংসিত রমণী (১৯৭৩)
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী (১৯৭৪)
- চৈত্রের ভালোবাসা (১৯৭৫)
- ও বন্ধু আমার (১৯৭৫)
- আনন্দ কুসুম (১৯৭৬)
- বাংলার মাটি বাংলার জল (১৯৭৮)
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র (১৯৭৯)
- চাষাভুষার কাব্য (১৯৮১)
- অচল পদাবলী (১৯৮২)
- পৃথিবীজোড়া গান (১৯৮২)
- দূর হ দুঃশাসন (১৯৮৩)
- নির্বাচিতা (১৯৮৩)
- শান্তির ডিক্রি (১৯৮৪)
- ইসক্রা (১৯৮৪)
- প্রথম দিনের সূর্য প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৩,৭০৩.
"নানান দেশের নানান ভাষা।
বিনে স্বদেশীয় ভাষা,
পুরে কি আশা।।" - গানটির রচয়িতা কে?
  1. অতুল প্রসাদ সেন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. নিধু বাবু
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত টপ্পাগান- "নানান দেশের নানান ভাষা।
                           বিনে স্বদেশীয় ভাষা
                            পুরে কি আশা।।" -এর রচয়িতা নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত (১৭৪১-১৮৩৯)
কবিগানের সমসাময়িক কালে কলকাতা ও শহরতলীতে টপ্পাগান নামে রাগ-রাগিনী সংযুক্ত এক ধরনের ওস্তাদি গানের প্রচলন ছিল। হিন্দি টপ্পাগান এর আদর্শ। 
- বাংলা  টপ্পাগানের জনক ছিলেন  নিধু বাবু বা রামনিধি গুপ্ত ।
- তাঁর টপ্পাগানের সংকলনের নাম গীতরত্ন (১৮৩২)। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭০৪.
‘নুরুলদীনের সারা জীবন’ নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. জিয়া হায়দার
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
'নুরুলদীনের সারা জীবন' নাটক:
- ইতিহাসে প্রায় বিস্মৃত এই কৃষকনেতাকে বইয়ের পাতা থেকে কল্পনা মিশিয়ে বাঙ্গালির সামনে নতুন করে তুলে ধরেন সৈয়দ শামসুল হক।
- আর তাঁর নামেই লেখা হয় 'নরুলদীনের সারা জীবন কাব্যনাট্য (১৯৮২)।
- এই নাটকে দৃশ্য আছে ১৪ টি।
- এই নাটকে রংপুর শহর, গ্রাম ও বনাঞ্চল এর স্থান পাওয়া যায়।

সৈয়দ শামসুল হক: 
- তিনি মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 
তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নুরুলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭০৫.
'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. আবুল ফজল
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. আবুল হুসেন
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘দৈনিক গণকন্ঠ’ পত্রিকা:
- দৈনিক গণকন্ঠ স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি দৈনিক পত্রিকা। ১৯৭২ সালে ১০ই জানুয়ারী ঢাকা থেকে পত্রিকাটির প্রকাশনা শুরু হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন আল মাহমুদ। 
- পত্রিকাটির তৎকালীন সরকার-বিরোধী সাহসী অবস্থান সকলের দৃষ্টি কাড়ে।

---------------------
• আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭০৬.
`হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন‘- কোন কবির উক্তি?
  1. ক) শাহ্ মোহাম্মদ সগীর
  2. খ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. গ) ফররুখ আহমেদ
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙ্কতিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
৩,৭০৭.
'গোরক্ষ বিজয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শুকর মুহম্মদ
  2. ভীমসেন রায়
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
​- তিনি নাথ সাহিত্যের আদি কবি।
- ​তার নাথ ধর্ম বিষয়ক আখ্যানকাব্যের নাম গোরক্ষ বিজয়।
- ​এই কাব্যটি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আবিষ্কার করেন।

• ​নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনী বা আখ্যায়িকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭০৮.
বৈষ্ণব পদাবলির সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা বলা হয় কাকে?
  1. বিশাখা
  2. শ্রীরাধা
  3. ললিতা
  4. চন্দ্রাবলি
  5. সীতা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকার অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি থাকে এবং যার রতির মূলে থাকে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি, যিনি কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে সমর্থা নায়িকা বলা হয়।
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি এরা সকলেই সমর্থা নায়িকা।
- এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা সর্বশ্রেষ্ঠ নায়িকা হিসেবে বিবেচিত।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা হিসেবে শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়।

• পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা:
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা এবং
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭০৯.
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালি কবিদের প্রথম সংকলন কোনটি?
  1. ক) নতুন কবিতা
  2. খ) নবজীবন
  3. গ) নয়া সড়ক
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
• আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন। 
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে। 

অন্যদিকে, 
- ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল 'নয়া সড়ক'।
- অক্ষয়চন্দ্র সরকার সম্পাদিত পত্রিকা 'নবজীবন' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে। 
- ‘সওগাত’ (মাসিক, ১৯১৮) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭১০.
'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. সেলিম আল দীন
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'মুনতাসীর ফ্যান্টাসি' নাটকের রচয়িতা সেলিম আল দীন।

সেলিম আল দীন:

- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭১১.
'ব্যাঙাচি' - ছদ্মনামটি কোন কবির?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। 
- এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৩,৭১২.
‘স্বভাব কবি' হিসেবে পরিচিত - 
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. হাসন রাজা
  4. গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।
 
তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।
 
উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭১৩.
শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় কোন সাহিত্য ধারার অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) পালাগান
  3. গ) কবিগান
  4. ঘ) নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনীভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- গাথা-কাহিনীগুলি অপেক্ষাকৃত পরবর্তীকালের রচনা; পূর্বধারার সঙ্গে এগুলির কালিক ব্যবধান অন্তত দুশতকের। এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনী হলো  গোরক্ষবিজয়।
- রাজা মানিকচন্দ্রের গীত, ময়নামতীর গান বা  গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার ত্রিমুখী কাহিনী। 
- এছাড়া শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত গোরক্ষবিজয় এ ধারার সাহিত্য। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৪.
কোন গ্রন্থে বাংলার প্রাচীন বয়নশিল্পের উল্লেখ পাওয়া যাবে?
  1. রামচরিত
  2. কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র
  3. আর্য শ্রীমূলকল্প
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রাচীন বয়নশিল্পের উল্লেখ "কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র" গ্রন্থে পাওয়া যায়।
- অর্থশাস্ত্র হল প্রাচীন ভারতের একটি প্রখ্যাত শাস্ত্রগ্রন্থ, যা রাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, ও সামরিক কৌশল নিয়ে লেখা হয়েছিল। এই গ্রন্থে বাংলার বিভিন্ন শিল্প, বিশেষ করে বয়নশিল্প সম্পর্কে উল্লেখ আছে।
---------------
অন্যদিকে, 
রামচরিত:
- সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত একটি সংস্কৃত কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটির গুরুত্ব এই যে, এটি এগারো শতকের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে বারো শতকের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বাংলার অবস্থার ওপর আলোকপাত করে। - রামচরিতম্ বরেন্দ্রের (উত্তর বাংলা) একজন কবি কর্তৃক বাংলায় বসে রচিত একমাত্র সংস্কৃত গ্রন্থ, যার মূল বিষয়বস্ত্ত সমকালীন ঐতিহাসিক ঘটনা। একারণে গ্রন্থটি পরবর্তী পালযুগের ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

আর্য শ্রীমূলকল্প:
- এটি একটি বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ এবং প্রধানত ধর্মীয় আচার-বিধি নিয়ে আলোচনা করে

• 'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আলোচনা:
• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে “হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা” নামে চর্যাপদসহ আরো তিনটি পুঁথি একত্রে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
• এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।

উৎস: কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র- মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৩,৭১৫.
খনার বচনে কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. রাষ্ট্র পরিচালনা নীতি
  2. সামাজিক মঙ্গলবোধ
  3. কৃষি ও আবহাওয়া
  4. লৌকিক প্রণয়সঙ্গীত
ব্যাখ্যা

ডাক ও খনার বচন:
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তবে এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। 
- ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে কৃষি ও আবহাওয়ার কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৭১৬.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটির মূল প্রেক্ষাপট কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক
  2. খ) ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক
  3. গ) দুর্ভিক্ষ বিষয়ক
  4. ঘ) দেশভাগ পরবর্তী মানবিক বিপর্যয় বিষয়ক
ব্যাখ্যা
'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটির মূল প্রেক্ষাপট- 'দেশভাগ পরবর্তী মানবিক বিপর্যয় বিষয়ক'।

'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্প
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
- 'একটি তুলসী গাছের কাহিনী' গল্পটি “দুই তীর ও অন্যান্য গল্প “ গ্রন্থ থেকে নেয়া । 
- এই গ্রন্থের জন্য সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ১৯৬৫ সালে আদমজী পুরস্কার পান ।
- দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে।
এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার
এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গল্পটি। 
 
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালে চট্টগ্রামের ষোলশহরে।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর দুটি গল্পগ্রন্থ: 
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প

তাঁর নাটক
- বহিপীর 
- উজানে মৃত্যু 
 -সুড়ঙ্গ 
- তরঙ্গভঙ্গ 

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭১৭.
বাংলায় টিএস এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদ-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলায় টিএস ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ‘তীর্থযাত্রী’ টি . এস . এলিয়ট' এর ‘The Journey of the Magi’ নামক কবিতার অনুবাদ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা নামে কবিতাটি সংকলন করেছিলেন।
- ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

অন্যদিকে,
- বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে ‘এলিয়েটের কবিতা’র বাংলা অনুবাদ করেন।

উৎস: ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭১৮.
'রোহিণী’ কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. মৃণালিনী
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. দুর্গেশনন্দিনী
  4. কৃষ্ণকান্তের উইল
ব্যাখ্যা
'কৃষ্ণকান্তের উইল' উপন্যাস:
- 'কৃষ্ণকান্তের উইল' (১৮৭৮) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং সমকালে বিতর্কিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র বিধবা নারী 'রোহিণী'কে অবলম্বন করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নিজেই শিল্পবোধ ও নৈতিক আদর্শের দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
- ঔপন্যাসিকের জীবদ্দশায় এই গ্রন্থের চারটি সংস্করণ হয়।
- প্রধান চরিত্র: রোহিণী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর ইত্যাদি।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭১৯.
আবু ইসহাক রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মহাপতঙ্গ
  2. খ) জাল
  3. গ) হারেম
  4. ঘ) জয়ধ্বনি
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থঃ
- 'হারেম (১৯৬২) ও
- মহাপতঙ্গ (১৯৬৩)'।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটকঃ
- জয়ধ্বনি।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭২০.
ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. যাপিত জীবন
  2. যাত্রা 
  3. কবর 
  4. একুশের গল্প
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের আলেচিত উপন্যাস 'যাপিত জীবন'। এই উপন্যাসের পটভূমি ভাষা আন্দোলন।
- নায়ক জাফর বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। কাহিনির পরতে পরতে বাঙালির শেকড়চিন্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিচিত্র। এই উপন্যাস মূলত প্রতীকী ভাবনায় বাংলা ও বাঙালির শেকড় ও অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে। জাফর হয়ে ওঠে বাঙালির বলিষ্ঠ কণ্ঠের উৎসারণ।

অন্যদিকে, 
• শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা। এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
• 'কবর' নাটকের পটভূমি হলো ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন। এটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক প্রথম নাটক।
• জহির রায়হানের অন্যতম বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম 'একুশের গল্প'। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত এই গল্পটি ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।

-------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন। তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস 'হাঙ্গর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; 'নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি' উপন্যাস।

৩,৭২১.
"মহিম ও সুরেশ" শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের উলেখযোগ্য চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. গৃহদাহ
  3. চরিত্রহীন
  4. পল্লীসমাজ
ব্যাখ্যা
• 'গৃহদাহ' উপন্যাস:
- 'মহিম ও সুরেশ' শরৎচন্দ্রের গৃহদাহ উপন্যাসের দুইটি প্রধান চরিত্র।
- ১৯২০ সালে রচিত এই উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর একটি শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- এটি মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
- বিবাহ-বহির্ভূত কথিত অসামাজিক প্রেমের কাহিনিটি নিপুণ ঘটনা সংস্থানে ও বর্ণনার মনস্তাত্ত্বিক সুক্ষ্মতার দ্বারা সমস্যায়িত হয়ে উঠেছে।
- এই উপন্যাসে শরৎচন্দ্র হিন্দু বিধবা মৃণালকে আদর্শ হিসেবে রূপায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্র:
- ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাসের চরিত্র: নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
- ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।
- ‘চরিত্রহীন’ উপন্যাসের চরিত্র: সতীশ ও কিরণময়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭২২.
কোনটি মোহিতলাল মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ?
  1. স্বপন
  2. বিস্ময়
  3. হেমন্ত গোধূলী
  4. বিচিত্র কথা
ব্যাখ্যা

বিচিত্র কথা মোহিতলাল মজুমদারের প্রবন্ধগ্রন্থ। 

মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।
- জন্ম: ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর, নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- পৈতৃক নিবাস: হুগলির বলাগড়ে।
- পেশা: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন।
- সমালোচনামূলক প্রবন্ধে বিভিন্ন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন, যেমন কৃত্তিবাস ওঝা, সর্বসাচী, শ্রী সত্যসুন্দর দাস।
- মৃত্যু: ২৬ জুলাই ১৯৫২।

প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসাও বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৩.
ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. জঙ্গনামা
  2. নাথসাহিত্য
  3. মর্সিয়া সাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে।

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

অন্যদিকে,
জঙ্গনামা:
- জঙ্গনামা হলো যুদ্ধকাব্য।
- মুসলিম বীরাত্মক কাহিনি নিয়ে মুসলিম কবিদের রচিত গ্রন্থ।

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

লোক সাহিত্য:
মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৪.
'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. কুন্দনন্দিনী
  3. সূর্যমুখী
  4. মনোরমা
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় নারী চরিত্র- কুন্দনন্দিনী। 

---------------------
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:

- 'বিষবৃক্ষ' (১৮৭৩) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- জীবনের কঠিন সমস্যার রূপায়ণে 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনীর প্রেম ও কামনার বিকাশকে তৎকালীন সমাজ যে প্রশ্রয় দেয় নি, এ উপন্যাস তার প্রমাণ। লেখকও মনে করেছেন, কুন্দনন্দিনীর কাহিনি পাঠ করার ফলে ঘরে ঘরে অমৃত ফলবে অর্থাৎ এ ধরনের প্রণয়াকাঙ্ক্ষা রহিত হবে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কী চেয়েছেন সেটি মুখ্য নয়। 'বিষবৃক্ষে' তিনি সমস্যার যে যথার্থ রূপায়ণ করতে পেরেছেন এটাই আসল।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুন্দনন্দিনী,
- নগেন্দ্রনাথ,
- হীরা,
- সূর্যমুখী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭২৫.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয় কোনটি?
  1. জন্মখণ্ড
  2. মিলন খণ্ড
  3. বিরহ খণ্ড
  4. ভারখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের খণ্ড নয়- মিলন খণ্ড।  

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।এ গ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- ১৯০৯ সালে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

এগুলো হলো-
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭২৬.
‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসটি কোন চরিত্রকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে? 
  1. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক 
  2. হাজী মুহম্মদ মহসিন
  3. হাতেম তাই
  4. হাজী শরীয়তুল্লাহ 
ব্যাখ্যা

‘হুগলীর ইমামবাড়ি’ হাজী মুহম্মদ মহসিনকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে।
--------------------------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন।
- এটি তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও তিনি কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। 

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
-------------------------------------------- 
'হুগলীর ইমামবাড়ি’ নিয়ে কিছু কথা:
- স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রসিদ্ধ উপন্যাস হুগলীর ইমামবাড়ি রচিত হয়েছে হাজী মুহম্মদ মহসিনকে নিয়ে।
- হুগলীর ইমামবাড়ি’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট উনিশ শতকের হুগলি অঞ্চলের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন।
- উপন্যাসটি হাজী মুহম্মদ মহসিনের দানকৃত সম্পত্তি থেকে নির্মিত ইমামবাড়িকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে ঐতিহাসিক ও কল্পনার মিশেল চমতকারভাবে ফুটে উঠেছে।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৭২৭.
নিচের কোনটি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ-
  1. ক) সুতীর্থ
  2. খ) কবিতার কথা
  3. গ) মাল্যবান
  4. ঘ) বাসমতীর উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

• কবি জীবনানন্দ দাশ বরিশাল শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক, প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
• তাঁকে বাংলা ভাষার 'শুদ্ধতম কবি' বলে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এছাড়াও তিনি 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' প্রভৃতি নামেও পরিচিত।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থঃ
- ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত),
- ধূসর পান্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ,
- নিরুপম যাত্রা,
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ- 'কবিতার কথা'।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭২৮.
আহমদ ছফা রচিত ‘ওঙ্কার’ উপন্যাসে কোন সামরিক শাসকের কথা বলা হয়েছে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

আহমদ ছফা: মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত।
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বােবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে। এটি মূলত '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে। সামরিক শাসন বিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশিত হয়েছে এই উপন্যাসে।


তার অন্যান্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী (১৯৬৭),
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন (১৯৮৯),
- মরণ বিলাস (১৯৯০),
- গাভি বিত্তান্ত (১৯৯৪),
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী (১৯৯৬),
- বিহঙ্গ পুরাণ (১৯৮৬)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,৭২৯.
কোনটি মুহম্মদ এনামুল হকের রচনা?
  1. ক) ভাষার ইতিবৃত্ত
  2. খ) আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
  3. গ) মনীষা মঞ্জুষা
  4. ঘ) বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ এনামুল হক রচিত গ্রন্থ:
- 'মনীষা মঞ্জুষা',
- ঝর্ণাধারা (১৯২৮, কবিতা সংকলন),
- বঙ্গে সূফী প্রভাব (১৯৩৫),
- ব্যাকরণ মঞ্জুরি (১৯৫২)।

ভ্রমণ কাহিনী- বুলগেরিয়া ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,৭৩০.
আহমদ ছফা রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ-
  1. ক) যদ্যপি আমার গুরু
  2. খ) নন্দিত নরকে
  3. গ) হাঙ্গর নদী গ্রেনেড
  4. ঘ) সংশপ্তক
ব্যাখ্যা
'যদ্যপি আমার গুরু' বাংলাদেশের অগ্রণী চিন্তাবিদ ও কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা রচিত একটি বিখ্যাত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ।
- দীর্ঘ স্মৃতিচারণ মূলক রচনাটি ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশের আগে দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার সাহিত্য পাতায় প্রায় চার মাস ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের সাথে লেখকের বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথনসমূহের বিবরণ পাওয়া যায় এই গ্রন্থে। 
- লেখক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে রাজ্জাক স্যারের সান্নিধ্য লাভ করেছেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- উদ্ধার,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- অলাতচক্র,
- ওঙ্কার,
- গাভীবৃত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
- নন্দিত নরকে রচয়িতা হুমায়ুন আহমেদ ।
- সংশপ্তক উপন্যাসটি রচনা করেন শহীদুল্লাহ কায়সার ।
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড রচয়িতা সেলিনা হোসেন

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩১.
বিখ্যাত 'আউলাদ' কবিতাটি কোন কবির রচনা?
  1. গোলাম মোস্তফা 
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
  3. আহসান হাবীব 
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• 'আউলাদ' কবিতা:
- 'আউলাদ'  ফররুখ আহমদের লেখা একটি বিখ্যাত ও ব্যতিক্রমী কবিতা, যা তাঁর 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত।
- এটি একদিকে দরিয়া ও নাবিকদের জীবনের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে সামাজিক অবক্ষয় ও মুসলিম ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে, যেখানে দরিয়ার বীরত্ব ও বর্তমান সমাজের নিষ্ক্রিয়তার বৈপরীত্য দেখানো হয়েছে। 

• সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থ: 
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।
- অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

------------------
• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'আউলাদ' কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩,৭৩২.
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. ক) পত্র সংকলন
  2. খ) ভ্রমণকাহিনি
  3. গ) ক ও খ উভয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
'জাভাযাত্রীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত- পত্র সংকলন ও ভ্রমণকাহিনি। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে। 
- দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণকালে রবীন্দ্রনাথ এই চিঠিগুলো লিখেছিলেন। 
- ব্যক্তিগত চিঠি বলতে যা বোঝায় এগুলি তা নয়। 
- নতুন দেশের মানুষ ও সমাজ সম্পর্কে, পথচলাকালীন কবির নানা চিন্তার প্রকাশ ঘটেছে এখানে। 

রবীন্দ্রনাথ যেসকল বইতে তার বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলি লিপিবদ্ধ করে রাখেন সেগুলি হল:
- ইউরোপ-প্রবাসীর পত্র (১৮৮১),
- ইউরোপ-যাত্রীর ডায়ারি (১৮৯১, ১৮৯৩),
- জাপান-যাত্রী (১৯১৯),
- যাত্রী (পশ্চিম-যাত্রীর ডায়ারি ও জাভা-যাত্রীর পত্র, ১৯২৯),
- রাশিয়ার চিঠি (১৯৩১),
- পারস্যে (১৯৩৬) ও পথের সঞ্চয় (১৯৩৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৩.
কাঙাল হরিনাথ কোন বাংলা সাহিত্যিকের সাহিত্যগুরু ছিলেন?
  1. ক) ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) কায়কোবাদ
  3. গ) মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র (১৮৬৩) মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৪.
'উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?' - কার লেখা?
  1. আবুল ফজল
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• ‘উদ্যম বিহনে কার পুরে মনোরথ?'- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের লেখা।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালের ১০ জুন বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক। 
- ১৮৬১ সালে 'ঢাকা প্রকাশ' প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।
- ১৯০৭ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রামের ইতিবৃত্ত,
- কৈবল্যতত্ত্ব,
- মোহভোগ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া; 'সদ্ভাবশতক' কাব্য, কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
৩,৭৩৫.
'ভ্রমি দেশে দেশে' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'ভ্রমি দেশে দেশে' নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি। 
-----------------------
• নির্মলেন্দু গুণ:
-  নির্মলেন্দু গুণ বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাকনাম ছিল রতন।
- তাকে “বাংলাদেশের কবিদের কবি” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- তাঁর কবিতায় প্রেম, বিপ্লব, গ্রামীণ মানুষের জীবনযাত্রা, সমাজের বাস্তবতা এবং রাজনৈতিক চেতনা গভীরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। 
- কবিতা ছাড়াও তিনি অনুবাদকৃত কবিতা এবং ছোটগল্প রচনা করেছেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদকৃত কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- রক্ত আর ফুলগুলি,
- তোহু,
- রাজনৈতিক কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প- 
-  অন্তর্জাল,
- আপনদলের মানুষ।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়ালেখার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।
---------------------------------
‘ভ্রমি দেশে দেশে’ ভ্রমণকাহিনি সম্পর্কিত তথ্য:
- নির্মলেন্দু গুণের ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ একটি তথ্যসমৃদ্ধ ভ্রমণকাহিনি, যেখানে তিনি নিজের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে টোকিও, সিডনি ও দিল্লি শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন তুলে ধরেছেন। এটি শুধু পর্যটনকেন্দ্রের বর্ণনা নয়, বরং প্রতিটি শহরের সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং সমাজের গভীর বিশ্লেষণও রয়েছে। বইটিতে লেখকের ব্যক্তিগত ভ্রমণস্মৃতি এবং ভ্রমণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সংকলিত হয়েছে,

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭৩৬.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- 'একাত্তরের দিনগুলি' বাংলাদেশী কথাসাহিত্যিক জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রন্থ।
- বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। 
- তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে।
- ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৭.
দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মহাস্থবির
  2. আসাউদ্দীন
  3. শাহ সুর
  4. জালালউদ্দিন
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- তাঁর প্রকৃত নাম - আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৩৮.
'যুগলাঙ্গুরীয়' গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'যুগলাঙ্গুরীয়':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস - যুগলাঙ্গুরীয়।
- 'যুগলাঙ্গুরীয়' (১৮৭৪) ছোট আখ্যান।
- কেউ বলে থাকেন নভেলা বা ছোট উপন্যাস, কেউ বলেন বড় গল্প। বঙ্কিম একে বলেছেন উপকথা।
- প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি। ছোটগল্প শিল্পমাধ্যমটি ওইকালে থাকলে 'যুগলাঙ্গুরীয়' একটি গল্প হতে পারত। "ইন্দিরা'র পর এই আখ্যানে বঙ্কিমচন্দ্র আবার একই ফর্মচর্চা করেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৩৯.
কাজী নজরুল ইসলামের বাজেয়াপ্ত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. যুগবাণী
  2. বিষের বাঁশি
  3. চন্দ্রবিন্দু
  4. ব্যথার দান
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের ব্যথার দান নিষিদ্ধ গ্রন্থের মধ্যে নেই।
- এটি একটি গল্পগ্রন্থ। 

কাজী নজরুল ইসলামের ৫টি নিষিদ্ধ গ্রন্থ:
- কাজী নজরুল ইসলামের ‘যুগবাণী’ প্রবন্ধগ্রন্থ ২৩ নভেম্বর ১৯২২ সালে বাজেয়াপ্ত করা হয়। সেই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় আনা হয়।
- ১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক জবানবন্দী প্রদান করেন। এটি বাংলা সাহিত্যে ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’ নামে পরিচিত।
- ১৬ জানুয়ারি, ১৯২৩-এ নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
- ১৯২২ সালে ফৌজদারি বিধির ধারা ৯৯এ অনুযায়ী ‘যুগবাণী’ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তৎকালীন গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলেছে, বইটি উগ্র জাতীয়তাবাদ প্রচার করছে এবং ভারতীয় জনগণকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উস্কে দিচ্ছে।
- নজরুলের প্রথম বাজেয়াপ্ত কাব্যগ্রন্থ হলো ‘বিষের বাঁশি’। এটি ১৯২৪ সালের আগস্টে প্রকাশিত হয় এবং ২৪ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

১৯২২ থেকে ১৯৩১ সালের মধ্যে তার মোট ৫টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়:
- যুগবাণী,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা,
- চন্দ্রবিন্দু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৪০.
'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
- 'তন্বী' সুধীন্দ্রনাথ দত্তের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। 

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালের ৩০শে অক্টোবর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি নব-পর্যায় 'সবুজপত্র', দৈনিক 'ফরওয়ার্ড', ত্রৈমাসিক 'পরিচয়', দি 'স্টেটসম্যান', দি 'মাক্সিয়ান ওয়ে' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- তিনি ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে অমর হয়ে আছেন। 
- তিনি 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ: 
কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী
- অর্কেস্ট্রা
- ক্রন্দসী
- উত্তর ফাল্গুনী
- সংবর্ত 
- প্রতিদিন 
- দশমী ইত্যাদি।

অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
৩,৭৪১.
যোগতন্ত্রশাস্ত্র মতে চর্যাপদের কোন কবির অপর নাম 'মীননাথ' হিসেবে উল্লেখ আছে?
  1. লুইপা
  2. ভুসুকুপা
  3. ঢেণ্ডণপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা

• প্রথম কবি 'লুইপা' সম্পর্কিত তথ্য:
- 'চয্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর প্রথম কবি লুইপা। তিব্বতি ঐতিহ্যে প্রাপ্ত চুরাশি জন সিদ্ধাচার্যের নামের তালিকায় লুইয়ের নাম আদিতম। অনেক পণ্ডিত লুইপাকে প্রথম চর্যাগীতি রচয়িতা বলে মনে করেন। তাঁর জীবনকাল ৭৩০-৮১০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে। সে সময় ছিল রাজা ধর্মপালের রাজত্বকাল। হিন্দিভাষীরা লুইপাকে মগধ বা বিহারের অধিবাসী বলে দাবি করেন।

উল্লেখ্য,
- যোগতন্ত্রশাস্ত্রেও লুইপার উল্লেখ রয়েছে। তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপার অন্য নাম মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথ। মৎস্যের সঙ্গে নামের মিল থাকায় কোনো কোনো পণ্ডিত লুইকে শবরপা-এর শিষ্য ও ধীবর সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেন। এ লুইপা আদি সিদ্ধাচার্য (সকল সিদ্ধাচার্যের গুরু) বলে অনেকের ধারণা।

- লুইপাকে সংস্কৃত টীকাকার মুনি দত্ত আদি সিদ্ধাচার্য বলে উল্লেখ করেছেন। তবে, তারানাথের মতে, লুইপা চতুর্থ সিদ্ধাচার্য, আর সরহ হলেন আদি সিদ্ধাচার্য। তাঁর মতে, লুইপা ছিলেন উড্ডীয়ান-রাজ উদয়নের কর্মচারী। তিনি শবর পা-র শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। চর্যাগীতির লুইপা আর তন্ত্রশাস্ত্রের লুইপা অভিন্ন নয় বলেই মনে করা হয়। কেননা বলা হয়েছে, লুইপা ছিলেন গৌড় অঞ্চলের অধিবাসী। আর তন্ত্রশাস্ত্রের মীননাথ বা মৎস্যেন্দ্রনাথের বাড়ি দক্ষিণবঙ্গে। তিনি ছিলেন গোরক্ষনাথের গুরু। তাই ধারণা করা হয়, লুইপা ও মীননাথ অভিন্ন ব্যক্তি নয়।

- হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ধারণা লুইপা ছিলেন বাঙালি। রাহুল সাংস্কৃত্যায়নের মতে, লুইপা রাজা ধর্মপালের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- লুইপা বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন।
এগুলো হলো: 'শ্রীভগবদভিসময়', 'অভিসময়বিভঙ্গ' ও 'তত্ত্বস্বভাবদোহাকোষগীতিকাদৃষ্টিনাম'। প্রথম দুটি বই দর্শনের এবং তৃতীয়টি দোঁহা ও গানের।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৪২.
“বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”- কবিতাংশের রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. জসীম উদ্দীন 
  3. শামসুর রাহমান
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য 
ব্যাখ্যা

• “বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”- কবিতাংশের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
---------------------------------------------------------------
• স্বাধীনতা তুমি।
      – শামসুর রাহমান।

“স্বাধীনতা তুমি
রবিঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান।
স্বাধীনতা তুমি
কাজী নজরুল ঝাঁকড়া চুলের বাবরি দোলানো
মহান পুরুষ, সৃষ্টিসুখের উল্লাসে কাঁপা-
স্বাধীনতা তুমি
শহীদ মিনারে অমর একুশে ফেব্রুয়ারির উজ্জ্বল সভা
স্বাধীনতা তুমি
পতাকা-শোভিত শ্লোগান-মুখর ঝাঁঝালো মিছিল।”

“স্বাধীনতা তুমি
বাগানের ঘর, কোকিলের গান,
বয়েসী বটের ঝিলিমিলি পাতা,
যেমন ইচ্ছে লেখার আমার কবিতার খাতা।”
------------------------------------------- 
শামসুর রহমান:
-  শামসুর রহমান  (১৯২৯-২০০৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার মাহুতটুলীতে তাঁর নানাবাড়িতে  জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
• প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
• রৌদ্র করোটিতে;
• বিধ্বস্ত নীলিমা;
• বন্দী শিবির থেকে;
• নিজ বাসভূমে;
• বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
• এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

• এছাড়া তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ- এলাটিং বেলাটিং।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক;
- অক্টোপাস,
- এলো সে অবেলায়,
- নিয়ত মন্তাজ।
-----------------------------------------------
‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতা সম্পর্কিত কিছু কথা:
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতাটি  হলো বাঙালির অস্তিত্ব, সংগ্রাম ও স্বপ্নের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
- কবিতাটি 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- শামসুর রাহমান ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় স্বাধীনতাকে কোনো বিমূর্ত ধারণা হিসেবে দেখাননি।

- তিনি দেখিয়েছেন যে স্বাধীনতা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ছোট-বড় মুহূর্তে মিশে আছে।
- উদাহরণস্বরূপ,
• রবিঠাকুরের গান আমাদের সংস্কৃতি ও সৃষ্টিশীলতার অংশ হিসেবে স্বাধীনতার স্বাদ দেয়,
• মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক লড়াই ও সাহসের প্রতীক,
• মা-বোনের শাড়ি ঘরোয়া জীবনের আনন্দে স্বাধীনতার উপস্থিতি প্রকাশ করে,
• আর ছায়া ও স্বপ্ন আমাদের আশা ও সংগ্রামের প্রতিফলন হিসেবে স্বাধীনতার অর্থ বোঝায়।
- অর্থাৎ, কবি স্বাধীনতাকে মানুষের জীবন ও অনুভূতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রেখেছেন।

উৎস: 
'স্বাধীনতা তুমি' কবিতা; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৩,৭৪৩.
’মুসলিম কালচার’ গ্রন্থটি কে রচনা করেন?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল ফজল
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• ’মুসলিম কালচার’ গ্রন্থটি আবুল হুসেন রচনা করেন।

• আবুল হুসেন:
- তিনি ছিলেন প্রাবন্ধিক, চিন্তাবিদ, সমাজ সংস্কারক ।
-  ১৮৯৬ সালের ৬ জানুয়ারি  যশোর জেলার পানিসারা গ্রামে মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস যশোরের কাউরিয়া গ্রামে।
- তিনি মুসলমান সমাজে আধুনিক শিক্ষা ও জ্ঞানের আলো বিস্তারের উদ্দেশ্যে লেখনী পরিচালনা করেন।
-  রুশবিপ্লবের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ‘কৃষকের আর্তনাদ’, ‘কৃষকের দুর্দশা’ ও ‘কৃষি বিপ্লবের সূচনা’ নামক প্রবন্ধ রচনা করেন। 
- ঢাকায় যে 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন হয়' তাতে আবুল হুসেনই নেতৃত্ব দেন।
- তিনি ঢাকায় 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' (১৯২৬) গঠন এবং এর মুখপত্র 'শিখা' (১৯২৭-১৯৩১) সম্পাদনা ও প্রকাশ করে এ আন্দোলনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেন।
- তিনি ছিলেন 'শিখা' পত্রিকার প্রথম বর্ষের সম্পাদক।
- কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও আবুল ফজল তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন।
- মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে তিনি কৃষক-সমাজের দুঃখ-দুর্দশার মুক্তির পথ নির্দেশ করেন তাঁর 'বাংলার বলশী' গ্রন্থের প্রবন্ধসমূহে।
- ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ: 
- বাংলার বলশী,
- মুসলিম কালচার ও
- বাঙালি মুসলমানদের শিক্ষা সমস্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৪.
কোন বাঙালি সাহিত্যিক স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থায় নিযুক্ত ছিলেন?
  1. আহসান হাবীব
  2. আবু ইসহাক
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর ওবায়েদউল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক
- তিনি ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, অভিধান- প্রণেতা।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'নবযুগ' পত্রিকায় আবু ইসহাকের 'অভিশাপ' নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৯ সালে তিনি পুলিশ বিভাগে সহকারি পরিদর্শক হন। 
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকায় এসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপ-পরিচালক হন।
- ১৯৭৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার খুলনা বিভাগের প্রধান হয়ে ১৯৮৪ সালে অবসার গ্রহণ করেন।

- তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান (২ খন্ড, ১৯৯৩, ১৯৯৮) রচনা করেছেন, যা বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে সমৃদ্ধ করেছে।
- তাঁর রচিত একমাত্র নাটক জয়ধ্বনি। 
- ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- সূর্য দীঘল বাড়ী তাঁর প্রথম উপন্যাস। 
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি এই উপন্যাসটি রচনা করেন।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সূর্য-দীঘল বাড়ী,
- পদ্মার পলিদ্বীপ,
- জাল (গোয়েন্দাভিত্তিক)।

♦ তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- হারেম,
- মহাপতঙ্গ।

♦ সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক
- 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' (১৯৬৩),
- 'একুশে পদক' (১৯৯৭),
- 'স্বাধীনতা পদক' (মনণোত্তর, ২০০৪) লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৫.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট কয়টি কবিতা স্থান পেয়েছে?
  1. ১৬টি
  2. ১৯টি
  3. ২১টি
  4. ২৩টি
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- ফররুখ আহমদের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যগ্রন্থে মোট উনিশটি কবিতা স্থান পেয়েছে।
- এ গ্রন্থের কবিতাগুলি ১৯৪৩-৪৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে।
- মূলত জাগরণের লক্ষ্যে ফররুখ আহমদ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলি লিখেছেন।
- বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে এ গ্রন্থে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিরূপ সমাজের ছবি কাব্যগ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে।

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৬.
'তিতাস একটি নদীর নাম' কোন সম্প্রদায়ের মানুষদের নিয়ে লেখা উপন্যাস?
  1. ক) ডোম
  2. খ) জেলে
  3. গ) ধীবর
  4. ঘ) উপজাতি
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস ‘তিতাস একটি নদীর নাম’
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ সালে।
- কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের জীবন নিয়ে লেখা হয়েছে উপন্যাসটি।
- উপন্যাসের চরিত্র - কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৪৭.
’সংস্কৃতির সংকট’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।
• মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত গ্রন্থ - সাহিত্য ও সংস্কৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৪৮.
শিশুতোষ সাহিত্য 'আবোল-তাবোল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সুকুমার রায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমর সেন
ব্যাখ্যা
সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল
- হ-য-ব-র-ল, 
- পাগলা দাশু, 
- বহুরূপী, 
- খাইখাই, 
- অবাক জলপান, 
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৪৯.
নিম্নলিখিত উপাধিগুলোর কোনটি কায়কোবাদ পাননি?
  1. কবিতাবিনোদ
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. সাহিত্যরত্ন
  4. কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদের উপাধি নয় - কবিতাবিনোদ

কায়কোবাদ:
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। এবং তাঁর উপাধি কাব্যভূষণ
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণসাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫০.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কলমগীর
  2. সুনন্দ
  3. কলম সৈনিক
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি। বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে 'কলমসৈনিক' উপাধি লাভ করেন।
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৭৫১.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় কবে?
  1. ১৮৫৭ সাল
  2. ১৮৬০ সাল
  3. ১৮৫০ সাল
  4. ১৮৭৫ সাল
ব্যাখ্যা
• আধুনিক যুগ:
- ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান হচ্ছে বর্তমান যুগ।
- ১৮০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়টুকু ছিলো প্রথম পর্যায়।
- ১৮৬০ সাল থেকে আধুনিক যুগের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়।
- আধুনিক যুগের প্রথম পর্যায়ে বাংলা গদ্যের চর্চা শুরু হয়।
- দ্বিতীয় পর্যায়ে ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাবে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্য রচিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ' কাব্যের মাধ্যমে মহাকাব্যের ধারার প্রবর্তন হয়। 

• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস - মাহবুল আলম ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫২.
সেলিনা হোসেন রচিত ভাষা-আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. আর্তনাদ
  3. হাঙর নদী গ্রেনেড
  4. যাপিত জীবন
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেনের জন্ম ১৪ জুন ১৯৪৭ রাজশাহী শহরে।
- ষাটের দশকের মধ্যভাগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে লেখালেখির সূচনা।
- প্রথম গল্পগ্রন্থ উৎস থেকে নিরন্তর প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- রাজশাহীতে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ার সময় বিভাগীয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় চেম্পিয়নশীপ স্বর্ণপদক পান।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- যাপিত জীবন,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি,
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- কালকেতু ও ফুল্লরা।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা - স্মৃতিস্তম্ভ।

উৎস: 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৩.
‘বিষাদ সিন্ধু’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) মীর মশাররফ হোসেন
  3. গ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন : ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও গদ্যরচয়িতা৷
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী' (গল্পগ্রন্থ)৷
- তার রচিত প্রহসন : 'এর উপায় কি?'
নাটক:
- বসন্তকুমারী নাটক
- জমীদার দর্পণ
- বেহুলা গীতাভিনয়

উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু

গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৫৪.
বিজয়গুপ্ত কোন মঙ্গলকাব্য ধারার কবি
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) অন্নদামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত - পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
এছাড়া, মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।

• সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- তিনি ১৩শ শতকে জীবিত ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।

• আরও যাঁরা মনসামঙ্গল রচনা করেন তাঁরা হলেন পুরুষোত্তম, নারায়ণদেব (আনু. ১৫শ শতক), বিজয়গুপ্ত এবং বিপ্রদাস পিপিলাই বিজয়গুপ্তের মনসামঙ্গলই (১৪৯৪) সর্বাপেক্ষা পরিচিত এবং সাহিত্যিক গুণসম্পন্ন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৫.
ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. স্পেন বিজয়
  2. অনল প্রবাহ
  3. মহাশিক্ষা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত কাব্যগ্রন্থ - মহাশিক্ষা, অনল প্রবাহ, স্পেন বিজয়

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন।
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের চরিত্র কোনটি?
  1. পরেশবাবু
  2. অমল
  3. ধনঞ্জয়
  4. ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটক:
- রবীন্দ্রনাথের 'বৌঠাকুরাণীর হাট' উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক 'প্রায়শ্চিত্ত'
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটককে বলা হয় রবীন্দ্রনাথের শেষ মানভূমিক নাটক। নাটকটি পঞ্চাঙ্কের।
- টলস্টয়ের নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ নীতির প্রভাব ও গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের পূর্বাভাস পাওয়া যায় এ নাটকে।
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকের নতুন ও পরিবর্তিত সংস্করণ ‘পরিত্রাণ’ নাটক। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।

• 'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ধনঞ্জয় বৈরাগী,
- সুরমা,
- উদয়াদিত্য,
- বিভা ইত্যাদি।

-------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৫৭.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) পাখির বাসা
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) অরণ্যে নীলিমা
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাত্রিশেষে৷ এটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে৷
Source: LiveMCQ Lecture
৩,৭৫৮.
নিচের কোনটি ভুল?
  1. জলাঙ্গী - শওকত ওসমান
  2. উপমহাদেশ - আল মাহমুদ
  3. নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী
  4. রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা
উত্তর: খ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী।

ব্যাখ্যা:
ক) জলাঙ্গী - শওকত ওসমান:এটি সঠিক।
কারণ, শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।

খ) উপমহাদেশ - আল মাহমুদ: এটি সঠিক। 
• আল মাহমুদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - উপমহাদেশ।

গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী: এটি ভুল।
নেকড়ে অরণ্য শওকত ওসমান রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।

ঘ) রাইফেল রোটি আওরাত - আনোয়ার পাশা: এটি সঠিক।
রাইফেল রোটি আওরাত আনোয়ার পাশার রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস, যা ১৯৭১ সালে লেখা হয়।

সুতরাং গ) নেকড়ে অরণ্য - শওকত আলী; এটি ভুল তথ্য। "নেকড়ে অরণ্য" উপন্যাসটি শওকত আলীর নয়, বরং শওকত ওসমানের লেখা।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
- বাংলাপিডিয়া, জাতীয় বিশ্বকোষ। 
৩,৭৫৯.
‘নদের চাঁদ’ কোন পালার অন্তর্গত চরিত্র?
  1. মলুয়া
  2. চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র
  3. মহুয়া
  4. দস্যু কেনারাম
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
• এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
• 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
• নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
• এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

মহুয়া পালার পঙ্‌ক্তি:
'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬০.
জহির রায়হান কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. নোয়াখালী
  2. ফেনি
  3. চট্টগ্রাম
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

- তাঁর প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’। তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৬১.
বাংলা সাহিত্যে 'যুগসন্ধির কাল' স্থায়ী ছিল-
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই শত বছরের সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬২.
বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব
  3. চণ্ডীদাস
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।
-বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার। যথা: ১. জীবনীকাব্য, ২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও ৩. বৈষ্ণব পদাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৩.
'কালিকলম' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'কালিকলম' পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প 'মহাযুদ্ধের ইতিহাস'।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৬৪.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের চরিত্র কোনটি?
  1. পাটানী
  2. বড়াই 
  3. ভাঁড়ুদত্ত 
  4. রাম
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বড়ু চণ্ডীদাস আনুমানিক ১৩০৯ খ্রিষ্টাব্দে ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' বড়ু চণ্ডীদাসের রাধাকৃষ্ণনের প্রণয় বর্ণনার মাধ্যমে ঈশ্বরতত্ত্ব প্রকাশ করে রচিত কাব্যগ্রন্থ। এটি মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি/বড়াই।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র- ঈশ্বরী পাটনী। 
• 'ভাঁড়ুদত্ত' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 
• 'রামায়ণ' কাব্যের চরিত্র রাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৭৬৫.
'নদের চাঁদ' ও 'হুমরা বেদে' চরিত্রগুলো কোন পালায় পাওয়া যায়?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দস্যু কেনারামের পালা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা
• 'মহুয়া' পালা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিস্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৬.
‘উত্তরাধিকার’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শহীদ কাদরী
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সিরাজুর ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇒ উত্তরাধিকার: 
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

⇒ শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
- ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা, 
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, 
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৭.
"বউ কথা কও, বউ কথা কও,
কও কথা অভিমানিনী।"
- কার রচিত পংক্তি?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জসীমউদ্দীন
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বেনজীর আহমেদ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের গীতিগ্রন্থ (মহুয়ার গান) বউ কথা কও, বউ কথা কও।
(মহুয়ার গান)
ভৈরবী-পিলু-কার্ফা

বউ কথা কও, বউ কথা কও,
কও কথা অভিমানিনী।
সেধে সেধে কেঁদে কেঁদে
যাবে কত যামিনী॥
সে কাঁদন শুনি' হের নামিল নভেল,
এল পাতার বাতায়নে যুঁই চামেলী কামিনী॥
আমার প্রাণের ভাষা শিখে
ডাকে পাখি, 'পিউ কাহাঁ',
খোঁজে তোমায় মেঘে মেঘে
আঁখি মোর সৌদামিনী॥
৩,৭৬৮.
নিচের কোনটি সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থ?
  1. হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
  2. চর্যাগীতি পদাবলী
  3. Buddhist Mystic Song
  4. চর্যাগীতিকোষ
ব্যাখ্যা
⇒ সুকুমার সেন সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
⇒ যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে,
⇒ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থরে নাম ‘Buddhist Mystic Songs’। ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির কথা বলেছেন। 
⇒ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’ নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৬৯.
শহীদ কাদরী রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. উত্তরাধিকার
  2. উত্তরফাল্গুনী
  3. দশমী
  4. কুলায় ও কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

• 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলা কবিতার পঞ্চাশ দশকের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ও সাফল্য দেখা যায় হীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'উত্তরাধিকার'- এ (১৯৬৭)।
- এতে ৪০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- এ কাব্যের পঙক্তিতে পঙ্‌ক্তিতে তিনি দৃশ্যমান বস্তুকে দেখেছেন প্রবল অন্তরঙ্গে, মননের শাসনে ও আবেগের প্রাবল্যের যৌথ প্রচষ্টায়।
- বাংলাদেশের বাংলা কবিতা সত্যিকার অর্থেই আধুনিকতার চূড়ান্তমুখী হয় তাঁর এ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।

----------------------------
• শহীদ কাদরী:
- তিনি ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি। ১৯৪২ সালের ১৪ই আগস্ট, কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।
- ২০১৬ সালের ২৮শে আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মারা যান।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- উত্তরাধিকার,
- তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা,
- কোথাও কোন ক্রন্দন নেই,
- আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও।

অন্যদিকে, 
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),  দশমী (১৯৫৬);
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত গদ্যগ্রন্থ- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থ।

৩,৭৭০.
শরৎচন্দ্রের 'নারীর মূল্য' কোন ধরনের রচনা?
  1. ছোটগল্প
  2. নাটক
  3. নিবন্ধ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
‘নারীর মূল্য’:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারী ও শিশু বিষয়ক নিবন্ধ।
- 'নারীর মূল্য' (১৯২৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৩,৭৭১.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে রচনা করেন?
  1. ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ
  2. ড. মুনীর চৌধুরী
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক ভাষার অভিধান:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।
- বাংলা ভাষার বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপ নিয়ে প্রথম গবেষণার পরিচয় পাওয়া যায় গ্রিয়ারসনের The Linguistic Survey of India (১৯০৩-১৯২৮) নামক গ্রন্থে।

ড. মুহাম্মাদ শহীদুল্লাহ:

- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান। প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি বৈদিক ভাষা, বৌদ্ধ সংস্কৃত, তুলনামূলক ভাষাতত্ত্ব, তিববতি ও প্রাচীন পারসিক ভাষা এবং জার্মানির ফ্রাইবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচীন খোতনি, প্রাচীন ভারতীয় বৈদিক সংস্কৃত ও প্রাকৃত ভাষা শেখেন।
- ১৯২৮ সালে তিনি বাংলা ভাষার প্রাচীন নিদর্শন চর্যাপদাবলি বিষয়ে গবেষণা করে প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে প্রথম ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৭২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. প্রতিবিম্ব
  2. ভারতী
  3. জ্ঞানাঙ্কুর
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

• 'কবি-কাহিনী' কাব্যগ্রন্থ:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'কবি-কাহিনী'। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র ১২৮৪ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হয়।
- ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দেই কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী। নলিনীর মৃত্যুর পর নায়ক কবির বিশ্বপ্রেমের উপলব্ধিতে কাব্যের পরিসমাপ্তি।
- মনে করা হয়, এ কাব্যের নায়ক রবীন্দ্রনাথ নিজেই। কবিতার কাহিনিতে নাটকীয়তা নেই। অমিত্রাক্ষর ছন্দের রচনা। তবে বিন্যাস পয়ার ও ত্রিপদী উভয় ধরনের।

উল্লেখ্য,
• জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব পত্রিকায় তাঁর 'বনফুল' কাব্যগ্রন্থটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। 
• রবীন্দ্রনাথের প্রথম মুদ্রিত কবিতা ‘অভিলাষ’ তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১২৮১ সনের (১৮৭৪) অগ্রহায়ণ মাসে (কারও কারও মতে প্রথম কবিতা ‘ভারতভূমি’ বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়)। 

----------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে-
- মানসী,
-সোনার তরী,
- বিচিত্রা,
- চৈতালী,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- প্রভাতসঙ্গীত,
- বনফুল,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭৩.
"যে মোরে করিল পথের বিবাগী, 
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি" - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবিতার অন্তর্গত? 
  1. হাসু
  2. আসমানী
  3. প্রতিদান
  4. প্রতিধ্বনি
ব্যাখ্যা

"যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি" - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা - জসীম উদ্‌দীন। কবিতাটি জসীম উদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৭৪.
`শাহজাহান‘ নাটকের রচিয়তা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) শাহাদাত হোসেন
  4. ঘ) ইব্রাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা
• মোগল সম্রাট শাহজাহানের জীবনচরিত নিয়ে রচিত প্রথম নাটক ''সাজাহান'' - এর রচয়িতা - দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
এই নাটকে বিখ্যাত ''ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা.......।'' গানটি রয়েছে।

তার অন্যান্য নাটক -
- তারাবাঈ
- রানাপ্রতাপসিংহ
- নূরজাহান
- মেবার পতন
- সোহরাব - রুস্তম
- চন্দ্রগুপ্ত
- সিংহল বিজয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৫.
"সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়ঃ
জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।"
- উদৃতাংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) সাবাস বাংলাদেশ
  2. খ) হরতাল
  3. গ) দুর্মর
  4. ঘ) আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা
দুর্মর (পূর্বাভাস)
সুকান্ত ভট্টাচার্য

হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ
কেঁপে কেঁপে উঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে,
সে কোলাহলের রুদ্ধস্বরের আমি পাই উদ্দেশ
জলে ও মাটিতে ভাঙ্গনের বেগ আসে।

হঠাৎ নিরীহ মাটিতে কখন,
জন্ম নিয়েছে সচেতনতার ধান,
গত আকালের মৃত্যুকে মুছে
আবার এসেছে বাংলাদেশের প্রাণ

“হয় ধান নয় প্রাণ” এ শব্দে
সারা দেশ দিশাহারা,
একবার মরে ভুলে গেছে আজ
মৃত্যুর ভয় তারা।
সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী
অবাক তাকিয়ে রয়:
জ্বলে পুড়ে-মার ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়।

এবার লোকের ঘরে ঘরে যাবে
সোনালী নয়কো, রক্তে রঙিন ধান,
দেখবে সকলে সেখানে জ্বলছে
দাউ দাউ করে বাংলা দেশের প্রাণ॥
৩,৭৭৬.
বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্পকলার, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশজন স্বনামখ্যাত মানুষ সম্পর্কে স্মৃতিচারণামূলক রচনার সংকলন 'স্মৃতির মানুষ' এর রচয়িতা-
  1. আব্দুল্লাহ আল মুতী
  2. আনিসুজ্জামান
  3. ইবরাহীম খাঁ
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• স্মৃতির মানুষ:
- স্মৃতির মানুষ বাংলাদেশের সাহিত্য-শিল্পকলার, সমাজ-রাষ্ট্রের বিশজন স্বনামখ্যাত মানুষ সম্পর্কে স্মৃতিচারণামূলক রচনার সংকলন। 
- রচয়িতা: আনিসুজ্জামান। 

যাঁদের স্মৃতি চারণ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম, মহিউদ্দীন আহমদ, মুনীর চৌধুরী, শামসুর রাহমান, আলতাফ মাহমুদ, মণি সিংহ, কামাল হোসেন, সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, নিতুন কুণ্ডু, হুমায়ূন আহমেদ, নূরুল কাদের খান, খান সারওয়ার মুরশিদ, মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, সরদার ফজলুল করিম, কাইয়ুম চৌধুরী, তপন রায়চৌধুরী, জাহাঙ্গীর তারেক ও কামালউদ্দীন খান।

-------------------
আনিসুজ্জামান:
- লেখক আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন। - এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে, 
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে, 
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
৩,৭৭৭.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ছিলেন আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায়। তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর পূর্বে বাংলা গীতিকবিতার ধারা প্রচলিত থাকলেও এর যথার্থ রূপায়ণ ঘটে তাঁর হাতেই। তিনি বাংলা কাব্যের প্রচলিত ধারার রদবদল ঘটিয়ে নিবিড় অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে গীতিকবিতার প্রবর্তন করেন। এ বিষয়ে তিনি সংস্কৃত ও ইংরেজি সাহিত্য দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। তাঁর রচনায় প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য কবিদের প্রভাব থাকলেও নিজস্ব রীতিই ফুটে উঠেছে।

- নিসর্গসন্দর্শন কাব্যে বিহারীলাল বঙ্গপ্রকৃতির শোভা অপূর্ব ভাব-ভাষা ও ছন্দ-অলঙ্কার প্রয়োগের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

- বঙ্গসুন্দরী কাব্যে কয়েকটি নারী চরিত্রের মাধ্যমে তিনি গৃহচারিণী বঙ্গনারীকে সুন্দরের প্রতীকরূপে বর্ণনা করেছেন।

- সারদামঙ্গল কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে-
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৭৮.
কোথায় থেকে প্রথম চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. শ্রীরামপুর মিশন
  4. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৭৭৯.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী ছিল?
  1. স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবন
  2. ১৯৪০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির পাকিস্তান
  3. ব্রিটিশ ভারতের শহুরে জীবন
  4. ১৯২০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির আফগানিস্তান 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট ছিল- ১৯২০-এর দশকের রাজনৈতিকভাবে অস্থির আফগানিস্তানের চিত্র।
---------------------------
• ‘শবনম’:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘শবনম’ উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে কাজ করছে- ১৯২০-এর দশকে যখন আফগানিস্তান রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরিবর্তন ও অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলো। 
- গল্পে একজন বাঙালি শিক্ষক মজনুন আফগানিস্তানে শিক্ষকতা করতে যান।
- সেখানে তার পরিচয় হয় আফগান রাজ পরিবারের বুদ্ধিমতী তরুণী শবনম-এর সঙ্গে।
- উপন্যাসে মজনুন এবং শবনমের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক দেখানো হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বাধা পেরিয়ে গড়ে ওঠে।
- তবে এই প্রেম অসমাপ্ত থেকে যায়।
- গল্পের পটভূমি মূলত সামনে এগিয়ে গিয়েছিলো: 
• আফগান সমাজের পরিবর্তন;
- এবং রাজা আমানুল্লাহ খানের ক্ষমতাচ্যুতির মতো ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- উপন্যাসটি প্রেম, বিচ্ছেদ এবং সেই সময়কার রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির এক করুণ আখ্যান হিসেবে আবর্তিত হয়েছে।
--------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও প্রখ্যাত সাহিত্যিক।
- তিনি ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে শ্রীহট্ট (বর্তমান সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- যদিও পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম ছিল ‘সত্যপীর’।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে:
• ভ্রমণকাহিনী:
- দেশে-বিদেশে;
- জলে-ডাঙায়।

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য;
- শবনম।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র;
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর ছোটগল্প সংকলন:
- চাচা-কাহিনী;
- টুনি মেম।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮০.
শ্রীরামপুর মিশন থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. সমাচার দর্পণ
  3. পূর্বাশা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৭৮১.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে? 
  1. আহমদ শরীফ
  2. জামিল চৌধুরী
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ: 
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। 
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- 'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক হচ্ছেন আহমদ শরীফ। 

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ: 
- বিশ শতকের বাঙালি, 
- বিচিত্র চিন্তা, 
- স্বদেশ অন্বেষা, 
- স্বদেশ চিন্তা, 
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী। 
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম। 
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮২.
বাংলায় টিএস এলিয়টের কবিতার প্রথম অনুবাদক-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• প্রথম বাংলায় টিএস ইলিয়টের কবিতা অনুবাদ করেন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• ‘তীর্থযাত্রী’ টি . এস . এলিয়ট' এর ‘The Journey of the Magi’ নামক কবিতার অনুবাদ। রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থে ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা নামে কবিতাটি সংকলন করেছিলেন।
- ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে।

অন্যদিকে,
- বিষ্ণু দে ১৯৫০ সালে ‘এলিয়েটের কবিতা’র বাংলা অনুবাদ করেন।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: ‘তীর্থযাত্রী’ কবিতা ‘পুনশ্চ’ কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৮৩.
ধর্মের জয়, স্বামীনিষ্ঠা কোন উপন্যাসের প্রতিপাদ্য?
  1. আনোয়ারা
  2. আব্দুল্লাহ
  3. লালসালু
  4. বহীপির
ব্যাখ্যা
'আনোয়ারা'(১৯১৪) উপন্যাসটি মোহাম্মদ নজিবর রহমানের প্রথম ও জনপ্রিয় উপন্যাস। 
- মুসলিম মধ্যবিত্তের বিকাশের চিত্র আছে এখানে। 
- ধর্মের জয়, অধর্মের পরাজয়, স্বামীনিষ্ঠা এই উপন্যাসের প্রতিপাদ্য।

মোহাম্মদ নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন (১৮৬০-১৯২৩):
- পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- নজিবর রহমান  ইসমাইল হোসেন সিরাজীর (১৮৮০-১৯৩১) প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।
- প্রথম সামাজিক  উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি (১৯১৫),
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি (১৯১৭),
- পরিণাম (১৯১৮),
- গরীবের মেয়ে (১৯২৩), 
- দুনিয়া আর চাইনা (১৯২৪) ও
- মেহেরুন্নিসা।

- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৪.
'এখনও ক্রীতদাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আনিস চৌধুরী
  2. খ) সেলিম আদ দীন
  3. গ) আসকার ইবনে শাইখ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'এখনও ক্রীতদাস': 
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস।'
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে
প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত। 
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তলে ধরা হয়েছে। 
----------------------
• আবদুল্লাহ আল মামুন:
- আবদুল্লাহ আল মামুন একজন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর একক চরিত্র নির্ভর নাটক হলো 'কোকিলারা'।
- ‘শপথ’ (১৯৬৪) তাঁর প্রকাশিত প্রথম নাটক।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৫.
ইউসুফ জুলেখা নিয়ে লেখেন নি নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) আলাওল
  4. ঘ) শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ইউসুফ জোলেখা শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাব্য যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। এছাড়াও ইউসুফ জুলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ পদ্মাবতী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৭৮৬.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ "বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন" এর রচয়িতা কে?
  1. আহমদ রফিক
  2. এম. আর আখতার মুকুল
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক গ্রন্থ "বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন" এর রচয়িতা - এম. আর আখতার মুকুল।
- ১৯৮৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।

এম. আর আখতার মুকুল:

- এম আর আখতার মুকুল সাংবাদিক, লেখক, সম্পাদক এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সাড়া জাগানো অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’-এর কথক।
- তাঁর জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ আগস্ট বগুড়া জেলার মহাস্থানগড়ের অন্তর্গত চিংগাসপুর গ্রামে।
- ১৯৮৭ সালে দেশে ফিরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনার দ্বিতীয় পর্যায়ে কিছুদিন কাজ করেছেন।
- পরে তিনি ঢাকায় সাগর পাবলিশার্স নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পল্লী এক্সপ্রেস (অনুবাদ,
- রূপালী বাতাস,
- রূপালী বাতাস সোনালী আকাশ,
- মুজিবের রক্তলাল,
- ভাসানী মুজিবের রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৭.
মহাভারতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) মালাধর বসু
  3. গ) শ্রীকর নন্দী
  4. ঘ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা
• কবীন্দ্র পরমেশ্বর ও পরাগলী মহাভারত: 
⇒ বাংলা ভাষায় মহাভারত কাব্যের প্রথম অনুবাদক কবি ছিলেন ‘পরাগলী মহাভারতের' লেখক কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- গৌড়েশ্বর সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের সেনাপতি লস্কর পরাগল খানের উৎসাহে কবি এ কাব্য রচনা করেছিলেন বলে কাব্যটি পরাগলী মহাভারত নামে খ্যাত।
- পরাগল খাঁ মহাভারতের কৌতূহলোদ্দীপক যুদ্ধকাহিনি শুনে মুগ্ধ হন এবং তা সংক্ষিপ্ত আকারে একদিনে শোনার উপযোগী করে রচনা করার জন্য সভাকবি কবীন্দ্র পরমেশ্বরকে নির্দেশ দেন।
- মহাভারত মুখ্যত রাজবংশের ইতিহাস বলে শাসকদের কাছে তা উপভোগ্য হওয়ার অধিকারী ছিল।
- পরাগল খাঁর এই নির্দেশে কবি খুব সংক্ষেপে মহাভারত অনুবাদ করেন।

• তাছাড়া:  
- কৃত্তিবাস ওঝা অনুবাদ করেছেন- রামায়ণ। 
- মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- শ্রীকর নন্দী রচিত গ্রন্থ 'ছুটিখানি মহাভারত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৮.
‘জোহরা বেগম’ কায়কোবাদ রচিত কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. শ্মশান ভস্ম
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. মহররম শরীফ
ব্যাখ্যা
⇒ 'মহাশ্মশান' মহাকাব্য:
• কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ(১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যটি তিনটি খণ্ড রচিত।
- প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ, তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ বিদ্যমান। 

• মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- এব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা বেগম,
- হিরণ বালা,
- আতা খাঁ,
- লঙ্গ,
- রত্নজি,
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা,
- আহমদ শাহ্ আব্দালী।

============
⇒ কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৮৯.
বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ কোনটি?
  1. সেক শুভোদয়া
  2. শূণ্যপুরাণ
  3. গীতগোবিন্দম্
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
•  অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়'শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন। তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম 'শূণ্যপুরাণ'। 'নিরঞ্জনের রুম্মা' শূণ্যপূরাণ গ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা। রামাই পণ্ডিত রচিত 'কলিমা জালাল' গ্রন্থ। 
• হলায়ুধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'। 'সেক শুভোদয়া' পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য। 

অন্যদিকে, 
• রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে জয়দেব রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৩,৭৯০.
সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত গল্প -
  1. ক) উদয়াস্ত
  2. খ) রক্ত গোলাপ
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) শীত বিকেল
ব্যাখ্যা
সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম প্রকাশিত গল্প - উদয়াস্ত। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য ছোটগল্প- তাস, শীত বিকেল, আনন্দের মৃত্যু, রক্ত গোলাপ ইত্যাদি। তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'দেয়ালের দেশ'। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,৭৯১.
বাংলা ভাষায় প্রথম ভ্রমণকাহিনি রচনা করেন-
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• "পালামৌ" ভ্রমণকাহিনি:
'পালামৌ' সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ভ্রমণকাহিনি। এ রচনায় লেখক বিহারের (বর্তমান ঝাড়খণ্ডের) পালামৌ অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি স্থান-কাল-পাত্রভেদে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির তারতম্য, দেশভ্রমণের আনন্দ, অভিজ্ঞতা এবং পালামৌ-এর আদিবাসী কোলদের জীবনাচরণ, খাদ্য ও আনন্দ-বিনোদন প্রভৃতি সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।

লেখক যৌবনে পালামৌ প্রদেশে গিয়েছিলেন। পালামৌ পাহাড়-অরণ্যে ঘেরা সুন্দর জায়গা। সমতলবাসী বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে সে পরিবেশ খুব একটা পরিচিত নয়। পথে যেতে যেতে যে পাহাড়কে খুব কাছে মনে হয়, সে পাহাড় আসলে অনেক দূরে অবস্থিত -এ অভিজ্ঞতাও লেখকের জন্য নতুন। যে বাঙালির বাড়িতে তিনি সেখানে অতিথি হয়েছিলেন, সে গৃহকর্তার প্রসন্ন মুখ আর তার পরিবার-ব্যবস্থাপনা লেখককে মুগ্ধ করেছিল।

সঞ্জীবচন্দ্রের মৃত্যুর পর (১৮৮৯) বঙ্কিমচন্দ্র 'সঞ্জীবনী সুধা' নাম দিয়ে সঞ্জীবচন্দ্রের রচনাবলি প্রকাশ করেন। সেখানেই 'পালামৌ' প্রথম গ্রন্থস্থ হয়। এর বহু পরে ১৩৫১ বঙ্গাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ প্রথম স্বতন্ত্র পুস্তাকারে 'পালামৌ' প্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
-----------------
• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনি:
-পথে প্রবাসে (১৯৩১) ও
- ইউরোপের চিঠি (১৯৪২)।

- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- চলে মুসাফির,
- হলদে পরীর দেশ,
- যে দেশে মানুষ বড়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯২.
"অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. আবুল ফজল
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• "অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা - 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর'।

• কবিতাংশটুকু - 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের' বৃক্ষবন্দনা' - কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।
------------------
বৃক্ষবন্দনা- কবিতার অংশবিশেষ,

অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহ্বান
প্রাণের প্রথম জাগরণে, তুমি বৃক্ষ, আদিপ্রাণ,
ঊর্ধ্বশীর্ষে উচ্চারিলে আলোকের প্রথম বন্দনা
ছন্দোহীন পাষাণের বক্ষ-'পরে; আনিলে বেদনা
নিঃসাড় নিষ্ঠুর মরুস্থলে।

উৎস: 'বৃক্ষবন্দনা' - কবিতা।
৩,৭৯৩.
'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।- উক্তিটি মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দণ্ডকারণ্য
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. কবর
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
• 'মানুষের রক্তে পিয়াস মেটায় মানুষ'।-  রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি।

⇒ ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিনঅঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

⇒ মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৪.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত 'স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা'-
  1. কাব্য
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধ
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ, 
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি। 
 
তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনী:
- তুরস্ক ভ্রমণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৫.
'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
• 'বুলবুলিস্তান' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন - গোলাম মোস্তফা।

গোলাম মোস্তফা:

- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯৬.
জসীম উদ্‌দীনের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. রাখালী
  2. নক্সী কাঁথার মাঠ
  3. বালুচর
  4. ধানখেত
ব্যাখ্যা
• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী'। কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এই কাব্যে মোট ১৯ টি কবিতা সংকলিত হয়েছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

----------------
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন ছিলেন কবি ও শিক্ষাবিদ।
- ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। পৈতৃক নিবাস একই জেলার গোবিন্দপুর গ্রামে।
- জসীম উদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে 'কবর' কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭৯৭.
'অ - তে অজগর' আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত একটি-
  1. ক) কবিতা
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) স্মৃতিকথা
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ
- আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।]
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, 
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর, 
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- কবিতা জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ,
- জ্যোৎস্না রৌদ্রের চিকিৎসা,
- ও সংবেদ ও জলতরঙ্গ,
- কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড,
- পরাবাস্তব কবিতা,
- মাছ সিরিজ,
- সকল প্রশংসা তাঁর, 
- নীরবতা গভীরতা দুই বোন বলে কথা ইত্যাদি।

স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৭৯৮.
বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. ক) মারাঠি
  2. খ) হিন্দি
  3. গ) মৈথিলি
  4. ঘ) গুজরাটি
ব্যাখ্যা
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন - পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন - মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- বিদ্যাপতি মৈথিলি ভাষায় কাব্য রচনা করতেন।
- বিদ্যাপতি পদাবলী রচনা করেছেন ব্রজবুলি ভাষায়।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল'অভিনব জয়দেব নামে খ্যাত ছিলেন।

বিদ্যাপতি রচিত কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
- কীর্তিলতা,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- বিভাগসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৩,৭৯৯.
দ্রৌপদী কে?
  1. রামায়ণে সীতার সহচরী
  2. মহাভারতে দুর্যোধনের স্ত্রী
  3. রামায়ণে লক্ষ্মণের প্রণয়প্রার্থী নারী
  4. মহাভারতে পাঁচ ভাইয়ের একক স্ত্রী
ব্যাখ্যা
• দ্রৌপদী হচ্ছে মহাভারতের (যুধিষ্ঠিরাদি পঞ্চভাই) পঞ্চ-পাণ্ডবদের একক স্ত্রী।

• মহাভারত:

- মহাভারত কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- চন্দ্রবংশীয় কুরু-পাণ্ডবদের ভ্রাতৃবিদ্বেষ ও যুদ্ধ এর মূল উপজীব্য।
- ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররা (দুর্যোধনাদি শতভাই) প্রপিতামহ কুরুর নামানুসারে কুরু বা কৌরব এবং পান্ডুর পুত্ররা (যুধিষ্ঠিরাদি পঞ্চভাই) পিতার নামানুসারে পাণ্ডব নামে পরিচিত।
- কুরুপক্ষের ও পাণ্ডবপক্ষের কুরুক্ষেত্র নামক স্থানে, এঁদের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় তা কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ নামে পরিচিত।

• ভারতের প্রায় সকল প্রাদেশিক ভাষায় মহাভারতের অনুবাদ হয়েছে। বাংলা ভাষায়ও হয়েছে, তবে বাংলা মহাভারত রচয়িতার নিজস্ব জীবনবোধ ও সমাজচেতনা এবং রচনাশৈলীর স্বাতন্ত্র্যের কারণে তা মৌলিক কাব্যের মর্যাদা লাভ করেছে।

• বাংলা মহাভারতের রচয়িতা একাধিক। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কবি নিজের মতো করে মহাভারত রচনা করেছেন। কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত কবীন্দ্র মহাভারত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাভারত।

• সপ্তদশ শতকে কাশীরাম দাস পদ্যে মহাভারত রচনা করেন, যা বাঙালিদের নিকট সর্বাধিক জনপ্রিয়। কাশীদাসী মহাভারত আঠারো পর্ব এবং একশত পর্বাধ্যায়ে বিভক্ত।

- এই গ্রন্থের বিভিন্ন পর্বে বিভিন্ন কাহিনি বর্ণিত হয়েছে। যথা-
• আদিপর্বে বংশ বিবরণ,
• জতুগৃহদাহ,
• পঞ্চপাণ্ডবদের সঙ্গে দ্রৌপদীর বিবাহ;
• সভাপর্বে যুধিষ্ঠিরের দ্যূতক্রীড়া ও পরাজয়বরণ;
• বনপর্বে পাণ্ডবদের বনগমন;
• বিরাটপর্বে বিরাটের গৃহে পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাস;
• উদ্যোগপর্বে যুদ্ধের জন্য প্রস্ত্ততি প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৮০০.
শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রার প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. রাধারাণী
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. সীতারাম 
  4. আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
• ‘রাধারাণী’ উপন্যাস:
- ‘রাধারাণী’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের প্রেক্ষাপট শ্রীরামপুরের মাহেশের রথযাত্রা।
- বঙ্কিমচন্দ্রের ভাইপো শচীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ১৮৭৫ সালে রথের মেলায় প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে একটি মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র সেই সময় কাঁটালপাড়ার বাড়িতেই ছিলেন। তিনি নিজেও মেলার মধ্যে মেয়েটির অনুসন্ধানের চেষ্টা করেছিলেন। এই ঘটনার দু’মাস পরেই তিনি ‘রাধারাণী’ লিখেছিলেন।
- ১৮৮৬-তে ‘রাধারাণী’ পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
এই কাহিনির মূল বিষয়বস্তু রাধারাণী নামে একটি বালিকার বাল্য প্রেম। রাধারাণী তার এগারো বৎসর বয়সে রথের মেলায় মালা বিক্রি করতে গিয়ে অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলে। এক সহৃদয় ব্যক্তি তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। তারপর সময়ের স্রোত বয়ে যায়, রাধার জীবনে অনেক কিছুই পরিবর্তন হয়ে যায়। ৮ বৎসর পর রাধা আবার সেই মানুষটির দেখা পায় এবং বুঝতে পারে তারা পরস্পর পরস্পরকে মন দিয়ে বসে আছে। শেষে তাদের বিবাহ হয়। মধুরেন সমাপয়েৎ। এই হলো গল্প। বঙ্কিমের এই কাহিনি উপন্যাসের পূর্ণতা ও লক্ষণ পায়নি। ‘রাধারানী’কে উপন্যাসিকা বলা যেতে পারে। রোমান্টিক ঘরানার লেখা। কাহিনীর গতি সরল, কোন উত্থান পতন নেই। এটাই উপন্যাসিকাটির খামতি।

-------------------
অন্যদিকে,
• আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসগুলোর  প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।

• ‘যুগলাঙ্গুরীয়’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ছোট আখ্যান। এটি প্রাচীন পটভূমিকায় একটি প্রেম কাহিনি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাধারাণী’ উপন্যাসের ভূমিকা।