বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩৭ / ২১১ · ৩,৬০১৩,৭০০ / ২১,১৩২

৩,৬০১.
সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন- 
  1. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
  2. ড. সুকুমার সেন
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
• বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। ১৯২৬ সালে ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।

• ১৯২৭ সালে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন।
• ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।

• ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
• বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচর্য, বৈদ্ধ সহজান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৬০২.
'স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?' - চরণদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা
কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়

“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।
কোটিকল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,
নরকের প্রায়!
দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে,
স্বর্গসুখ তায়!

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:

- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৩.
"যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।" উক্তিটি কার?
  1. ক) হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
  2. খ) গাজী মাজহারুল আনোয়ার
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিখ্যাত ব্যক্তিদের মূল্যায়ন এবং উদ্ধৃতি।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের উক্তি
"যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরি মেঘনা বহমান
ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।"      

• প্রখ্যাত মিশরীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ হাসনাইন হাইকলের উক্তি "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নন। তিনি সমগ্র বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত।" 

• ফিলিস্তান মুক্তি মোর্চার সাবেক নেতা, নোবেল বিজয়ী ইয়াসির আরাফাতের উক্তি "আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব এবং কুসুমকোমল হৃদয় ছিল মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব।" 

• গণপ্রজাতন্ত্রী ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উক্তি "শেখ মুজিব নিহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তাঁর অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।" 

• গণপ্রজাতন্ত্রী কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং কিংবদন্তি বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রো উক্তি  "আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।" 

উৎস: mujib100.gov.bd
৩,৬০৪.
"দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়।।” - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুকুমার রায়
  4. রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
"দাসত্ব শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।।” - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়।

স্বাধীনতা-সঙ্গীত
কবি রঙ্গলাল বন্দোপাধ্যায়।

“স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,
কে বাঁচিতে চায়?
দাসত্ব-শৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,
কে পরিবে পায়।
কোটিকল্প দাস থাকা নরকের প্রায় হে,
নরকের প্রায়!
দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গসুখ-তায় হে,
স্বর্গসুখ তায়!

রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, সাংবাদিক রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়য়ের জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাকুলিয়া গ্রামে।
- ছাত্রাবস্থায় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তিনি নিজে কলকাতা থেকে মাসিক রস সাগর (১৮৫২) (পরিবর্তিত নাম সংবাদ সাগর) ও সাপ্তাহিক বার্তাবহ (১৮৫৬) সম্পাদনা করেন।
- এডুকেশন গেজেট পত্রিকা (১৮৫৫) প্রকাশিত হলে তিনি তার সহসম্পাদক নিযুক্ত হন।

তাঁর রচিত কাব্য:
- কর্মদেবী,
- শূরসুন্দরী ও
- কাঞ্চী কাবেরী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৫.
'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার অনুবাদ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. গুলে বকাওলী
  3. গোরক্ষবিজয়
  4. লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ - নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা।
- মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬০৬.
‘প্রদোষে প্রাকৃতজন’ উপন্যাসের মূল পটভূমি কী?
  1. স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা
  2. আইয়ুব খানের সামরিক শাসনকাল
  3. পদ্মা-ইছামতি নদীর পারের জীবন
  4. তুর্কি আক্রমণের পূর্ববর্তী ভারতবর্ষ
ব্যাখ্যা
• 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।
- অত্যাচারী সামস্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল।
- এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল।
- সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।
- উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাঠক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬০৭.
রোমান 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে রচিত বাংলা কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. বীরাঙ্গনা কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4. হেক্‌টরবধ
ব্যাখ্যা

• 'বীরাঙ্গনা কাব্য':
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত।
এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।

- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করেছে এই কাব্যে। বীরাঙ্গনা (১৮৬২) পত্রকাব্যের নায়িকাদের দিকে তাকালে এ কথার সত্যতা উপলব্ধি করা যাবে। এখানে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে। নারীচরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।
 
-----------------
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী। 

তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য, 
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৮.
কোনটি আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস?
  1. পাগলা দাশু 
  2. অবাক জলপান 
  3. রানিখালের সাঁকো
  4. কাকতাড়ুয়া
ব্যাখ্যা

• 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস 'রানিখালের সাঁকো'। উপন্যাসটি ১৯৬৫ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।

- বরিশালে একটি গ্রাম। বরিশালের গ্রামগুলো যেরকম হয় আর কি, শান্ত, সবুজ গাছগাছালি, পাখির কলরব মুখর আর সব কিছুর সংযোগ করে অসংখ্য খাল। সেই খালগুলোর এপাড় ওপাড় যাতায়াত করতে লাগে সাঁকো। বাঁশ দিয়ে বানানো এমন একটি সাঁকোর নামেই উপন্যাসটির নাম, “রানিখালের সাঁকো”। 

- এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'আজীজ’।

- রানিখালের সাঁকো সবার সাঁকো। সে সাঁকো পার হয়ে পারাপারের অধিকার সবারই সমান। তবু স্কুল ছুটির পরে জয়নালের জন্য অপেক্ষা করে এপারেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সব ছেলের। কিন্তু কেন, কেন এমন হবে? এই প্রশ্ন আজীজের মনে একদিন আগুন ছড়িয়ে দিলো। এই প্রশ্নই এতিম ছেলে আজীজকে গ্রাম ছাড়িয়ে টেনে নিয়ে এলো বিচিত্র মানুষের মেলা রাজধানী শহরে। একটি মাত্র প্রতিজ্ঞায় অটল তার অন্তরকে কোন বাধাই বুঝি টলাতে পারবে না।

---------------------------
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ছোটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

অন্যদিকে, 
-------------------
• পাগলা দাশু ও অবাক জলপান সুকুমার রায় রচিত গ্রন্থ। 
• সেলিনা হোসেন রচিত 'কাকতাড়ুয়া' বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত শিশুতোষ উপন্যাস, যা ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'রানিখালের সাঁকো' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬০৯.
চর্যাপদ কবে এবং কোথা থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৮৫৭ সালে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ১৯১৫ সালে, বাংলা একাডেমি
  3. ১৯০৭ সালে, নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার
  4. ১৯২২ সালে, বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। সহজিয়াগণ হচ্ছে বৌদ্ধ সহজযান পন্থি। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। 
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
 
• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। 
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১০.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত কোন ধরনের কাব্য?
  1. গাথাকাব্য
  2. পত্রকাব্য
  3. কাব্যনাট্য 
  4. মহাকাব্য 
ব্যাখ্যা

• 'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্য:
- 'নক্সী কাঁথার মাঠ' জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'নক্সীকাঁথার মাঠ' গ্রন্থের প্রথম অংশে আছে চাষির ছেলে রূপাই ও পাশের গ্রামের মেয়ে সাজুর প্রথম পরিচয় থেকে তাদের অনুরাগের বিকাশ ও বিবাহ এবং কয়েক মাসের সুখময় জীবনের কথা। দ্বিতীয় অংশের বিষয় তাদের বিচ্ছেদ।
- পূর্ববঙ্গ গীতিকায় যে বর্ণনাভঙ্গি এবং ভাষারীতি; জসীম উদ্‌দীন তাকে অবলম্বন করেছেন। গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য, বৈচিত্র্যহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা এই কাব্যের উপকরণ।
- আধুনিক বাংলা কাব্যের ইতিহাসে এই কাব্য এক বিশেষ স্বাতন্ত্র্য নিয়ে লেখা হয়েছিল।
- ১৯৩৯ সালে E.M Milford, The Field of the Embroidered Quilt নামে এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।

----------------
তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ, 
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩,৬১১.
পর্দাপ্রথা নির্ভর নকশাধর্মী গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সুলতানার স্বপ্ন
  2. খ) অবরোধবাসিনী
  3. গ) পদ্মরাগ
  4. ঘ) মতিচূর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক। 

• তাঁর একটি নকশাধর্মী গ্রন্থ 'অবরোধবাসিনী'। এতে মোট ৪৭টি ঘটনাকে অনুগল্প আকারে লেখা আছে।
- এর মাধ্যমে বেগম রোকেয়া গল্প আকারে পর্দা প্রথার ফলে নারীদের অবস্থা সবার কাছে উপস্থাপন করেছেন। ঘটনাগুলো সব বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া।

বেগম রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা,
- পদ্মরাগ (উপন্যাস,
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১২.
মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম কী?
  1. মনসামঙ্গল
  2. পদ্মপুরাণ
  3. মনসাবিজয়
  4. গোরক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা

• মনসা দেবীকে নিয়ে লেখা বিজয়গুপ্তের মঙ্গলকাব্যের নাম: 'পদ্মপুরাণ'।

• পদ্মপুরাণ: 
- মনসামঙ্গল কাব্যধারার অন্যতম কবি বিজয়গুপ্ত।
- পদ্মাপুরাণ নামক মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করে তিনি মঙ্গলকাব্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
- তিনি মনসামঙ্গলকাব্যের যে পুঁথি পাওয়া গেছে, প্রাপ্ত এই পুঁথিভিত্তিক প্রাচীনতম কবি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম - পদ্মাপুরাণ।

এছাড়া,
- মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি নারায়ণ দেব। তাঁর রচিত কাব্যের নামও পদ্মাপুরাণ।
- কবি বিপ্রদাস পিপিলাই রচনা করেছেন- মনসাবিজয়।
- নাথ সাহিত্যের প্রধান কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'গোরক্ষ বিজয়'।
-----------------
⇒ মনসামঙ্গল:
• মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।
• ‘মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম ‘পদ্মাপুরাণ’।
• সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য ‘মনসামঙ্গল’। 
• চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
• দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।
• কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গলের আদি কবি ।

• এই কাব্যের অন্যান্য চরিত্রগুলো
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।
- মধ্যযুগের সংগ্রামী নারী চরিত্র হলো বেহুলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬১৩.
বিখ্যাত 'নিতাই' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• বিখ্যাত 'নিতাই' চরিত্রের স্রষ্টা- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 

• 'কবি' উপন্যাস:

- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'। ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে।'

------------------------
•  তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,৬১৪.
কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ?
  1. কি চাহ শঙ্খচিল
  2. যে অরণ্যে আলো নেই
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা

আমি বীরাঙ্গনা বলছি:
- নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
- ১৯৯৫ সালে এই গবেষণাগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি যুদ্ধাহত ও নির্যাতিত কয়েকজন বীরাঙ্গনার সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা জীবন ইতিহাস।
- তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা ও মীনার দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এই গ্রন্থে।
- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে, 
- 'কি চাহ শঙ্খচিল'- মমতাজউদদীন আহমদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- 'নেকড়ে অরণ্য' হলো শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬১৫.
সৈয়দ মুজতবা আলী'র ‘দেশে বিদেশে’ বইটিতে কোন শহরের কাহিনি প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. কাবুল
  2. তেহরান
  3. লাহোর
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে':
- ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- ভ্রমণকাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৬.
ইয়ং বেঙ্গল কি?
  1. বাংলাভাষা শিক্ষার্থী ইংরেজ
  2. ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট বাঙালি যুবক
  3. একটি সাহিত্যিক গোষ্ঠীর নাম
  4. একটি সাময়িক পত্রের নাম
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী ও এর মুখপাত্র:
- ইংরেজি ভাবধারা পুষ্ট বাঙালি যুবকরাই ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত ।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন ডিরোজিও ।
- ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপাত্র স্বরূপ জ্ঞানান্বেষণ, এনকোয়ারার প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ।
- ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, প্যারীচাঁদ মিত্র ,তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ ।

- ১৮৩৩ সালে মাইকেল মধুসূধন দত্ত হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। আর এই কলেজেই 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিলো ডিরোজিওর হাত ধরে।
- পরবর্তীতে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী দ্বারা ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হন। হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ডিরোজিওর স্বদেশানুরাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীতে নাম লেখান।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬১৭.
'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' রবীন্দ্রনাথের কোন কাব্যের অন্তর্গত?
  1. আকাশ প্রদীপ
  2. সেঁজুতি
  3. পূরবী
  4. শেষ লেখা
  5. .
ব্যাখ্যা
• 'শেষলেখা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথের 'শেষ লেখা'(১৯৪১) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- 'শেষলেখা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ। 
- কাব্যগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
- এ গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ নিজে করে যেতে পারেননি। 
- অধিকাংশ কবিতা জীবনের শেষ কয়েকদিনের রচনা। 

কবিতার অংশবিশেষ:
"তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি
বিচিত্র ছলনাজালে,
হে ছলনাময়ী।
মিথ্যা বিশ্বাসের ফাঁদ পেতেছ নিপুণ হাতে
সরল জীবনে।"

রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা, 
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৮.
১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) দিগদর্শন
  2. খ) সমাচার দর্পণ
  3. গ) বাঙ্গাল গেজেট
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলা সংবাদপত্রের ইতিহাসে ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দ খুবই উল্লেখযোগ্য। কারণ এ বছর ৩টি গুরুত্বপুর্ণ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 
এগুল হল:
- দিগদর্শন
- সমাচার দর্পণ
- বাঙ্গাল গেজেট  

- ১৮১৮ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে প্রথম প্রকাশিত হয় বাংলা পত্রিকা হিসেবে হুগলি জেলার শ্রীরামপুর মিশনারিদের পক্ষ থেকে থেকে 'দিগদর্শন' প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করে।
- ভারতীয় বা বাঙালি পরিচালিত প্রথম সংবাদপত্র- বাঙ্গাল গেজেট। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮১৮ সালে। এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬১৯.
বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কোন গ্রন্থটি স্মরণীয়?
  1. অভিযান
  2. ঘুম নেই
  3. ছাড়পত্র
  4. পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা
ছাড়পত্র:
- 'ছাড়পত্র' (১৯৪৭) কবির মৃত্যুর তিনমাস পর প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা রাজনৈতিক কবিতার ইতিহাসে একটি স্মরণীয় গ্রন্থ
- এই গ্রন্থের অনেক কবিতা বলিষ্ঠ উচ্চারণে এবং মৌলিক চিত্রকল্প সৃষ্টিতে অসামান্য।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি / নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার' - এই পঙ্‌ক্তিগুলো কাব্যটিকে মহিমান্বিত করেছে।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২০.
‘অহিংসা’ উন্যাসের লেখক কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত অহিংসা উপন্যাসে মানুষের ভেতরে যে সূক্ষ্মভাবে হিংসা বসে থাকে তা দেখানো হয়েছে।
মহেশ চরিত্রের মধ্য দিয়ে এর সত্যাসত্য প্রমাণিত হয়।
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২১.
মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় কাকে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলযুগের সর্বশেষ কবি হিসেবে অভিহিত করা হয় 'ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর' কে।

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের/মঙ্গলযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২২.
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত 'পদ্মরাগ' একটি-
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬২৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস-
  1. দেবদাস
  2. পল্লীসমাজ
  3. আমার জীবনী
  4. শ্রীকান্ত
ব্যাখ্যা
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- ১ম খণ্ড বালক শ্রীকান্তের নানা অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হয়।
- ২য় খণ্ডে যুবক শ্রীকান্তের রেঙ্গুন যাত্রার জীবন্ত উপস্থাপনা আছে।
- ৩য় খণ্ডে অসুস্থ শ্রীকান্ত রাজলক্ষ্মীর সেবায় সুস্থ হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।
- ৪র্থ খণ্ডে শ্রীকান্ত ও পুটুর বিয়ের দিন ধার্য হয়, রাজলক্ষ্মী সন্যাসীবেশ ত্যাগ করে এবং কমললতার নিরুদ্দেশ হওয়ার মাধ্যমে উপন্যাসের সমাপ্তি ঘটে।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: শ্রীকান্ত, রাজলক্ষ্মী,পুটু, অন্নদাদিদি, অভয়া, রোহিণী, কমললতা প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- দেবদাস শরৎচন্দ্রের বিয়োগাত্মক রোমান্টিক উপন্যাস।
- পল্লীসমাজ উপন্যাসে বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক যুবতীর সম্পর্ক ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৪.
কোনটি শওকত ওসমানের রচনা নয়?
  1. চৌরসন্ধি
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. ভেজাল
  4. বনি আদম
ব্যাখ্যা
[মূল প্রশ্নের অপশনে টাইপিং মিস্টেক ছিল। শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস- বণী আদম।। তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর হিসেবে অপশন ‘গ’ গ্রহণ করা হয়েছে।]

• শওকত ওসমানের রচনা নয়- ভেজাল।
• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত ‘ভেজাল’ একটি কবিতা।

----------------------------
• শওকত ওসমান:
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান।
- উপন্যাস ও গল্প রচয়িতা হিসেবেই শওকত ওসমানের মুখ্য পরিচয়; তবে প্রবন্ধ, নাটক, রম্যরচনা, স্মৃতিকথা ও শিশুতোষ গ্রন্থও তিনি রচনা করেছেন।
- তাঁর 'জননী' ও 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে। জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২), আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৮৩), ফিলিপস পুরস্কার (১৯৯১), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৯৮ সালের ১৪ই মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- বণী আদম,
- পুরাতন খঞ্জর।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পিঁজরাপোল,
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- প্রস্তর ফলক,
- উভশৃঙ্গ,
- শ্রেষ্ঠ গল্প,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৫.
'কাদম্বিনী' রবীন্দ্রনাথের কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. কঙ্কাল
  2. রবিবার
  3. জীবিত ও মৃত
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত':
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।
 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ছোটগল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল,
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি,
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,৬২৬.
‘বন্দী শিবির থেকে’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

‘বন্দী শিবির থেকে’ হচ্ছে শামসুর রাহমান রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ। 

শামসুর রাহমান:

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পৈত্রিক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শৈশবে তাঁর ডাক নাম ছিল ‘বাচ্চু’।
- মাত্র আঠারো বছর বয়সে প্রথম কবিতা লেখা শুরু করেন।
- তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা হলো "স্বাধীনতা তুমি" এবং "তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা"।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন।
- তিনি প্রাপ্ত পুরস্কারসমূহ: আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, স্বাধীনতা পুরস্কার।
- শামসুর রাহমান ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- প্রথম গান,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ, 
- এলো সে অবেলায়। 

প্রবন্ধ:
- আমৃত্যু তাঁর জীবনান্দ, 
- কবিতা একধরণের আশ্রয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া। 

৩,৬২৭.
'মমতাদি' - কোন প্রকার সাহিত্য?
  1. গল্প
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গীতিকাব্য
ব্যাখ্যা

'মমতাদি' গল্প:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরীসৃপ (১৯৩৯) গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত 'মমতাদি' গল্প।
- এই গল্পে গৃহকর্মে নিয়োজিত মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের দিকটি প্রাধান্য পেয়েছে।

কাহিনি সংক্ষেপ:
স্কুল পড়ুয়া একটি ছেলে যখন দেখে তাদের বাড়িতে মমতাদি নামে এক গৃহকর্মী আসে, তখন সে আনন্দিত হয়। তাকে নিজের বাড়ির একজন বলে ভাবতে শুরু করে ছেলেটি। মমতাদির সংসারে অভাব আছে বলেই মর্যাদাসম্পন্ন ঘরের নারী হয়েও তাকে অপরের বাড়িতে কাজ নিতে হয়। এই আত্মমর্যাদাবোধ তার সবসময়ই সমুন্নত ছিল। সে নিজে যেমন আদর ও সম্মানপ্রত্যাশী, তেমনি অন্যকেও স্নেহ ও ভালোবাসা দেবার ক্ষেত্রে তার মধ্যে দ্বিধা ছিল না। স্কুলপড়ুয়া ছেলেটি তাই মমতাদির কাছে ছোটো ভাইয়ের মর্যাদা লাভ করে। তাকে নিজ বাসায় নিয়ে গিয়ে যথাসামর্থ্য আপ্যায়ন করে মমতাদি। সম্মান ও সহমর্মিতা নিয়ে মমতাদির পাশেও দাঁড়ায় স্কুলপড়ুয়া ঐ ছেলে ও তার পরিবার। প্রকৃতপক্ষে, আমাদের গৃহকর্মে যাঁরা সহায়তা করে থাকেন তাঁদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা জরুরি। আত্মসম্মানবোধ তাদেরও আছে। 'মমতাদি' গল্পটি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, সামাজিক শ্রেণি মানবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারে না; যে কোনো পেশার যে কোনো মানুষকে দেখতে হবে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার দৃষ্টিতে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, 'মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি।

৩,৬২৮.
'সূর্য গ্রহণ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে? 
  1. সৈয়দ আলী আহসান 
  2. শওকত আলী 
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. জহির রায়হান 
ব্যাখ্যা
 • জহির রায়হানের প্রথম গল্পগ্রন্থ- 'সূর্যগ্রহণ'।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়।

• জহির রায়হান: 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।

• জহির রায়হানের উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
৩,৬২৯.
মুনীর চৌধুরীর অনুবাদ নাটক কোনটি?
  1. ক) রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. খ) কবর
  3. গ) মুখরা রমণী বশীকরণ
  4. ঘ) দন্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

'মুখরা রমণী বশীকরণ' নাটকটি উইলিয়াম শেকসপিয়ারের 'The Taming of the Shrew' গ্রন্থের অনুবাদ৷ এটি মূলত কমেডি নাটক।
'রক্তাক্ত প্রান্তর' (১৯৬২) মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট এই নাটকটি রচিত৷ এটি একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক৷ এটি এক অঙ্ক বিশিষ্ট নাটক।
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নাট্যকলার সংমিশ্রণে তার রচিত নাটক হলো 'দন্ডকারণ্য'৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৬৩০.
মুনীর চৌধুরী রচিত "কেউ কিছু বলতে পারে না" নাটকটি কোন ইংরেজ নাট্যকারের নাটক অবলম্বনে রচিত?
  1. ক) উইলিয়াম শেক্সপিয়ার
  2. খ) জর্জ বার্নার্ড শ
  3. গ) ডব্লিউ. বি. ইয়েটস্‌
  4. ঘ) জন গলজ্‌ওয়র্দি
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী (২৭ নভেম্বর ১৯২৫ - ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১):
শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়। 
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলজ্‌ওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্‌পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক
- রক্তাক্ত প্রান্তর (১৯৬২): পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য
- চিঠি (১৯৬৬)
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯):
- মানুষ (১৯৪৭): ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- নষ্ট ছেলে (১৯৫০): রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- দণ্ডকারণ্য (১৯৬৬): তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন (১৯৪৬)
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য (১৯৬৯)

> তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অন্যতম একজন শিকার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ)
৩,৬৩১.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামটি কার?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3.  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনাম - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম - প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি 'সংবাদ প্রভাকর' ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- রামপ্রসাদ সেন কৃত কালীকীর্তন,
- কবিবর ভারতচন্দ্র রায় ও তাঁর জীবনবৃত্তান্ত,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত কাব্যসংগ্রহ,
- কালীপ্রসন্ন বিদ্যারত্ন সম্পাদিত সংগ্রহ,
- মণিকৃষ্ণ গুপ্ত সম্পাদিত সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৩২.
কোনটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত স্মৃতিকথা?
  1. কারাগারের রোজনামচা
  2. রাজবন্দীর চিঠি
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা
• রাজবন্দীর রোজনামচা:
• শহীদুল্লা কায়সারে আট বছরের কারাজীবনের আশা, আকাঙ্ক্ষা, দুঃখ, বেদনায় নিয়ে রচিত স্মৃতিকথা মূলক গ্রন্থ ‘রাজবন্দীর রোজনামচা’। গ্রন্থটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
• গ্রন্থের শুরুতে তিনি লিখেছেন-
আট বছরের কারাজীবনে আশা আকাঙ্ক্ষা দুঃখ বেদনায় যারা ছিল নিত্যদিনের সাথী তাদের হাতে তুলে দিলাম বন্দী-জীবনের রোজনামচা।

• প্রথম সংস্করণের ভূমিকা:
অনুজ জহির রায়হান ডায়রি লেখার ফরমাশ জানিয়ে একখানা খাতা পাঠিয়েছিল জেলখানায়। সুদৃশ্য মলাট আর রঙিন কাগজ দেখে রীতিমতো যত্ন করেই খাতাটাকে তুলে রেখেছিলাম বেশ কিছুদিন। মাঝে মাঝে হাত বুলিয়ে মলাটের মসৃণতাটা অনুভব করেছি আর হয়ত টুকে রেখেছি দুচারটি টুকরো কথা, এঁকে রেখেছি- এক আধটি ছবির রেখা। রাজবন্দীর রোজনামচার এটাই হল উৎপত্তি।
কিন্তু এই উৎপত্তি থেকে রোজনামচা কখনো ছাপার অক্ষরে পরিণত রূপে আত্ম-প্রকাশ করতে পারত না, যদি না থাকতো কারাগারের সাথী সন্তোষ গুপ্তের অক্লান্ত শ্রম এবং বন্ধুসুলভ নিষ্ঠা। কাগজ সংগ্রহে সাহায্য করেছেন সিদু ভাই । এদের দুজনের কাছেই আমি ঋণী।
আর একজন, এ পুস্তক প্রকাশে আমার মতোই আশা উৎকণ্ঠা উদ্বেগের যার অন্ত ছিল না, আমার কৃতজ্ঞতা তার অনভিপ্রেত। তাই নামটাও তার অনুক্ত থাকল।

-----------------------
শহীদুল্লা কায়সার:
-  ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। 
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ। 
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ‘ইত্তেফাক’ পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। 
- ১৯৫৮ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

অন্যদিকে,
• শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দিনলিপি - কারাগারের রোজনামচা।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প - রাজবন্দীর চিঠি।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধ - রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৩.
তুর্কি আক্রমণের ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. আনন্দমঠ
  4. রাজসিংহ
ব্যাখ্যা

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:
- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৩৪.
ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে-
  1. ক) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  2. খ) সংস্কৃত কলেজ
  3. গ) হিন্দু কলেজ
  4. ঘ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা
বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি। 
- বেতালপঞ্চবিংশতি একখানা গল্পগ্রন্থ। মূল গ্রন্থটি  সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- ১৮০৫ সালে বৈতাল পচ্চিসী নামে এর একটি হিন্দি অনুবাদ  ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ওই কলেজের পাঠ্য ছিল। পরে কলেজের অধ্যক্ষ জি.টি মার্শালের অনুরোধে  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৪৭ সালে এটি বাংলায় অনুবাদ করেন। 

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম :-
- শকুন্তলা
- সীতার বনবাসের
- ভ্রান্তিবিলাস 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
৩,৬৩৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) চিলকোঠার সেপাই
  2. খ) উপমহাদেশ
  3. গ) মৃত্যুক্ষুধা
  4. ঘ) ওল্কার
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতায় রচনা করে গেছেন কালজয়ী দুটি উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’ ও ‘উপমহাদেশ’।
নিষিদ্ধ লোবান ও নীল দংশন সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং অন্যান্য নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স।

৩,৬৩৬.
'যাপিত জীবন' উপন্যাসটি কোন ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত?
  1. ভাষা-আন্দোলনের
  2. ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।

৩,৬৩৭.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বিজলী
  2. কল্লোল
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:

- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- 'বিজলী' পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।
- 'সওগাত' (১৯২৮) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'বঙ্গদর্শন' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৩৮.
কাজী নজরুল ইসলাম জন্মগ্রহণ করেন কবে?
  1. ২৪ মে, ১৮৯৯
  2. ২৩ মে, ১৯০৯
  3. ২৪ মে, ১৮৯৭
  4. ২২ মে, ১৮৯৯
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৩৯.
'সোনার তরী' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত
  2. স্বরবৃত্ত
  3.  মাত্রাবৃত্ত
  4. অমিত্রাক্ষর
ব্যাখ্যা

• সোনার তরী:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা। 
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত।
- এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে লেখা হয়েছে।

'সোনার তরী' কবিতাটি নিম্নরূপ- 

                সোনার তরী
              রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

       গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
     কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা।
            রাশি রাশি ভারা ভারা
            ধান কাটা হল সারা,
            ভরা নদী ক্ষুরধারা
                    খরপরশা।
     কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।
     একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,
     চারি দিকে বাঁকা জল করিছে খেলা।
            পরপারে দেখি আঁকা
            তরুছায়ামসীমাখা
            গ্রামখানি মেঘে ঢাকা
                  মপ্রভাতবেলা-- (সংক্ষিপ্ত)।  

উৎস: সাহিত্যপাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩,৬৪০.
‘ভলগার তীরে’ ভ্রমণকাহিনিটি কার লেখা?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শহিদুল্লাহ কায়সার
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
 নির্মলেন্দু গুণ রচিত ভ্রমণকাহিনি গুলোর মাঝে ভলগার তীরে, গীনসাবার্গের সঙ্গে, ভ্রমি দেশে দেশে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা রচনা আরম্ভ করেন।
- তাকে কবিদের কবি বলা হয়ে থাকে।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত শহিদুল্লাহ কায়সার রচিত ভ্রমণকাহিনি হলো - পেশোয়ার থেকে তাসখন্ড।
- যাযাবর ছদ্মনামে প্রকাশিত বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় রচিত ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে দৃষ্টিপাত।
- সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি হচ্ছে - দেশে বিদেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৪১.
অন্নদাশঙ্কর রায় কত সালে জগত্তারিণী পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৬২ সালে
  2. খ) ১৯৭৯ সালে
  3. গ) ১৯৯৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় সাহিত্য আকাদেমির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও ফেলো ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অকাদেমির জন্মকাল ১৯৮৬ সাল থেকে তিনি ছিলেন এর আজীবন সভাপতি ও পথিকৃৎ। 
- কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে জগত্তারিণী পুরস্কারে ভূষিত করে ১৯৭৯ সালে
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে প্রদান করে দেশিকোত্তম সম্মান।
- বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করে।

অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে
- সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২),
- আনন্দ পুরস্কার (দুইবার-১৯৮৩, ১৯৯৪),
- বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫),
- রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৩,৬৪২.
কোন আমলে চর্যাপদের রচনা শুরু হয়?
  1. গুপ্ত 
  2. মৌর্য
  3. সেন 
  4. পাল 
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
-  ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি  সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। 
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের কবিরা হলেন সরহপা, শবরপা, লুইপা, ডোম্বীপা, ভুসুকুপা,  কাহ্নপা, কুক্কুরীপা, মীনপা, আর্যদেব, ঢেণ্ঢনপা প্রমুখ।
- এতে তেইশজন/চব্বিশ পদকর্তার ৫০টি মতান্তরে ৫১টি পদ আছে। পাল আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৪৩.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণ -
  1. ১৫০১ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৬০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিক্ষণ - ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ

• কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০ - ১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০ - ১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০ - বর্তমান)।

• মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ (১২০০ - ১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫০ - ১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০০ - ১৮০০)।

• চর্যাপদের পরে  প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না। তাই এ সময়টাকে (১২০১ - ১৩৫০) কেউ কেউ 'অন্ধকার যুগ' বলে অভিহিত করেন।
- প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বঙ্গ জনপদে (বাংলাদেশে) তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল।
- সে সময় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ছিল সৃজ্যমান অবস্থায় এবং চর্যার বঙ্গীয়-বৈশিষ্ট্যময় অপভ্রংশ ভাষা আরও বেশি মাত্রায় বাংলা হয়ে ওঠে।

• মধ্যযুগের শেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু (১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ) থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বলা হয় যুগসন্ধিক্ষণ।
- যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪৪.
বাংলা উপন্যাস ধারার পথিকৃৎ গ্রন্থ কোনটি?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. যোগাযোগ 
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি “টেকচাঁদ ঠাকুর” ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম উপন্যাস।
- কারো মতে এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ বলা হয়।
- সাংবাদিকতা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্যই প্যারীচাঁদ বিশেষ পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

• 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল।'
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ গ্রন্থ বলা হয়।
- রচনারীতি ও ভাষাগত দিক থেকে এ উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারার সূচনা করে।
- এ উপন্যাসে প্যারীচাঁদ মিত্র প্রথমবারের মতো বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত গদ্যরীতির নিয়ম ভেঙ্গে চলিত ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।
- সাধারণ মানুষের মুখে ব্যবহৃত কথ্য ভাষা 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায় ,
- রামারঞ্জিকা ,
- কৃষিপাঠ;
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত;
- বামাতোষিণী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলালের ঘরের দুলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৪৫.
কোন নাটকে কোন নারী চরিত্র নেই?
  1. ক) কবর
  2. খ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. গ) বহিপীর
  4. ঘ) নুরুলদীনের সারাজীবন
ব্যাখ্যা
'কবর' (১৯৫৩) মুনীর চৌধুরী রচিত একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধুরীকে ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার আটক ও জেলে প্রেরণ করে। 
- জেলে থাকা অবস্থায় তিনি লেখেন এই নাটক ও ১৯৫৩ সালে কারান্তরালে রাজবন্দিরা তাতে অভিনয় করেন ।
- এ নাটকে মুনীর চৌধুরী কোন নারী চরিত্র রাখেন নি। 
-------------

মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১)

- মুনীর চৌধুরী সমকালীন জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গেও নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সম্পৃক্ত করেছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মার্চে  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে তিনি পাকিস্তান সরকারের দেওয়া সিতারা-ই-ইমতিয়াজ (১৯৬৬) খেতাব বর্জন করেন।
- মুনীর চৌধুরী মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্র মাধ্যমে নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা ও সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর একটি বিশেষ কীর্তি বাংলা টাইপ রাইটারের কি-বোর্ড (১৯৬৫) উদ্ভাবন, যা ‘মুনীর অপটিমা’ নামে পরিচিত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক-
- কবর (১৯৬৬),
- চিঠি (১৯৬৬), 
- দন্ডকারণ্য (১৯৬৬)
- পলাশী ব্যারাক  ও অন্যান্য  (১৯৬৯)
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৭),
- রূপার কৌটা (১৯৬৯),
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০) ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সময়কাল -
  1. ক) ৬০০-১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ৬৫০-১২৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ৬০০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্য কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- প্রাচীন যুগ ৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ,
- মধ্যযুগ ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ ও
- আধুনিক যুগ ১৮০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বর্তমান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৪৭.
বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক কে?
  1. ড. কাজী আব্দুল মান্নান
  2. ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. ড. কাজী দীন মহাম্মদ
  4. ড. আশরাফ সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

• ড. আশরাফ সিদ্দিকী বাংলাদেশের সাহিত্যে লোকসাহিত্য সংগ্রাহক।

ড. আশরাফ সিদ্দিকী:
• আশরাফ সিদ্দিকী (১ মার্চ ১৯২৭-১৯ মার্চ ২০২০) ছিলেন একজন বাঙালি সাহিত্যিক।
- বিংশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন যেসব সাহিত্যিক, আশরাফ সিদ্দিকী তাদের একজন।
- তিনি পাঁচশ’রও অধিক কবিতা রচনা করেছেন।
- গভীর গবেষণা করেছেন বাংলার লোকঐতিহ্য নিয়ে। তিনি একাধারে প্রবন্ধকার, ছোটগল্প লেখক, ঔপন্যাসিক, লোকসাহিত্যিক, এবং শিশু সাহিত্যিক।
- বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৬৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন।
লোকসাহিত্যের ভেতর রয়েছে :
- লোকসাহিত্য প্রথম খণ্ড (১৯৬৩), 
- রবীন্দ্রনাথের শান্তি নিকেতন (১৯৭৪),
- কিংবদন্তির বাংলা (১৯৭৫),
- শুভ নববর্ষ (১৯৭৭),
- লোকায়ত বাংলা (১৯৭৮),
- আবহমান বাংলা (১৯৮৭),
- বাংলার মুখ (১৯৯৯),
- প্যারিস সুন্দরী (১৯৭৫),
- বাংলাদেশের রূপকথা (১৯৯১),
- লোক সাহিত্য-দ্বিতীয় খণ্ড।

উৎস: ইনকিলাব পত্রিকা প্রতিবেদন।

৩,৬৪৮.
কোনটি কাব্যনাট্য?
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. বীরাঙ্গনা
  3. বিসর্জন
  4. নীলদর্পণ
ব্যাখ্যা

'বিসর্জন' নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক।
- 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অর্পনা।
- নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' একটি সার্থক কাব্যনাট্য।
--------------
• কৃষ্ণকুমারী:

- 'কৃষ্ণকুমারী' নাটকের কাহিনি উইলিয়াম টডের ‘রাজস্থান' নামক গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
- এই নাটকে মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক রচনা করেন।

- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ মদনিকা,
→ ভীম- সিংহ,
→ জগৎসিংহ,
→ ধনদাস প্রমুখ।

• বীরাঙ্গনা কাব্য:
- 'বীরাঙ্গনা কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত পত্রকাব্য। এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- পত্রাকারে এ ধরনের কাব্য বাংলা সাহিত্যে এটাই প্রথম।
- রোমান কাব্য 'হেরোইদাইদস্স' কাব্যের অনুসরণে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যগ্রন্থটি বাংলায় রচিত। এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র আছে।
- পৌরাণিক নারীরা মধুসূদনের হাতে যেন আধুনিক মানুষ হিসেবে পুনর্জাগরিত হয়ে নিজেদের প্রণয় কামনা ইত্যাদি প্রকাশ করতেও কুণ্ঠিত নয়।

• 'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক — নীলদর্পণ।
- এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৪৯.
'দত্তকুলোদ্ভব কবি' কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাকে দত্তকুলোদ্ভব কবি বলা হয়।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- এ নেটিভ।

---------------
তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলো হলো-
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্র সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি 'কৃত্তিবাস ভদ্র' ছদ্মনামে লিখতেন।
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।
• সমরেশ বসু 'কালকূট' ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫০.
"তরুণ কিশোর" - কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. বালুচর
  3. রাখালী
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা

"রাখালী" কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী। কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
-বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

• এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
কবিতাগুলো:
- রাখালী, 
- সিঁদুরের বেসাতি, 
- কিশোরী, 
- বৈদেশী বন্ধু, 
- রাখাল ছেলে, 
- কবর, 
- মা, 
- পল্লী জননী, 
- তরুণ কিশোর ইত্যাদি।

তরুণ কিশোর
- জসীম উদ্‌দীন

তরুণ কিশোর ! তোমার জীবনে সবে এ ভোরের বেলা,
ভোরের বাতাস ভোরের কুসুমে জুড়েছে রঙের খেলা।
রঙের কুহেলী তলে,
তোমার জীবন ঊষার আকাশে শিশু রবি সম জ্বলে।
এখনো পাখিরা উঠেনি জাগিয়া, শিশির রয়েছে ঘুমে,
কলঙ্কী চাঁদ পশ্চিমে হেলি কৌমুদী-লতা চুমে।
বঁধুর কোলেতে বধুয়া ঘুমায়, খোলেনি বাহুর বাঁধ,
দীঘির জলেতে নাহিয়া নাহিয়া মেটেনি তারার সাধ

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং "রাখালী" কাব্যগ্রন্থ।

৩,৬৫১.
'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট -
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. দেশভাগ
  4. সমাজের কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ 'অনিল বাগচীর একদিন'।

অনিল বাগচীর একদিন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
- পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।
- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।
- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫২.
'ওয়ারিশ' উপন্যাসটি কার লেখা?
  1. ক) আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) ফয়েজ আহমদ
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ 
- যাত্রা 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন
- কুলায় কালস্রোত 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন 
- যেতে চাই 
- ওয়ারিশ 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা 
- উত্তরের খেপ 
- দলিল
- উপরে ছাপ
- হিসাবনিকাশ

তাঁর রচিত গল্প:
- উন্মুল বাসনা 
- লেলিহান সাধ 
- শুন হে লখিন্দর 
- বাবা আপনে যান

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৩,৬৫৩.
'আলো ও ছায়া' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. কামিনী রায়
  3. জাহানারা ইমাম
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

'আলো ও ছায়া' - এটি কামিনী রায়ের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

কামিনী রায় রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিক,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৪.
কোনটি বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
  2. চোরাবালি
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. সঙ্গীতদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'প্রেম প্রবাহিণী' বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৭০ খ্রিষ্টাব্দে।

​---------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।

​অন্যদিকে, 
​---------------
বিষ্ণু দে রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: চোরাবালি, নাম রেখেছি কোমল গান্ধার

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৫.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; তিতাস একটি নদীর নাম, অদ্বৈত মল্লবর্মণ।
৩,৬৫৬.
‘বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত’ গ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. সুকুমার সেন
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৭.
'যৌবনে দাও রাজটীকা' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'যৌবনে দাও রাজটিকা' প্রবন্ধটির রচয়িতা - প্রমথ চৌধুরী।

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রমথ চৌধুরী মূলত একজন প্রাবন্ধিক। 
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন একজন জমিদার।
- তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা ইন্দিরা দেবীকে বিয়ে করেন।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ফরাসি সনেটরীতি ট্রিয়লেট,তের্জারিমা ইত্যাদি বাংলা সাহিত্যে তিনিই প্রথম প্রবর্তন করেন।
- সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- পরবর্তীতে  বীরবল’ ছদ্মনামে সবুজপত্র পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন। এ ছদ্মনাম থেকে পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৫৮.
অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত ভ্রমণকাহিনী কোনটি?
  1. দেশে বিদেশে
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. ইউরোপের চিঠি
  4. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
ব্যাখ্যা
• ইউরোপের চিঠি' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪২ সালে।

অন্যদিকে,
- দেশে বিদেশে- সৈয়দ মুজতবা আলী।
- রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন- মুহম্মদ আবদুল হাই।

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• উল্লেখযোগ্য ভ্রমণকাহিনী:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৫৯.
পেশায় তাঁতি ছিলেন চর্যাপদের কোন পদকর্তা?
  1. ভুসুকুপা
  2. বীণাপা
  3. বিরুপা
  4. ঢেণ্ডণপা
ব্যাখ্যা
ঢেণ্ডণপা:
- তিনি নবম শতকের কবি ছিলেন।
- তিনি পেশায় তাঁতি ছিলেন
- চর্যাপদে তিনি একটি (৩৩নং) পদ রচনা করেন।
- এই একটিমাত্র পদে বাঙালি জীবনের চিরায়ত দারিদ্র্যের ছবি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
যেমন:
'টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী।
হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী৷।' (পদ: ৩৩)

(অর্থাৎ লোক শূন্য স্থানে প্রতিবেশীহীন আমার বাড়ি। হাঁড়িতে ভাত নেই, অথচ প্রেমিক এসে ভিড় করে।)

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬০.
'মহাকবি আলাওল' -নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. ক) সানাউল হক
  2. খ) সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মহাকবি আলাওল' -নাটকটি রচনা করেন - 'সিকান্‌দার আবু জাফর'।

'সিকান্‌দার আবু জাফর'
• তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
 
তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক
- কবিতা
- বৃশ্চিকলগ্ন

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে
- পূরবী
- নবী কাহিনী
নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান
- সিরাজউদ্দৌলা
- মহাকবি আলাওল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর। 
৩,৬৬১.
মধ্যযুগে ''কড়চা'' কি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গল্পগ্রন্থ
  2. খ) কাব্য
  3. গ) চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ
  4. ঘ) উপন্যাস
ব্যাখ্যা

কড়চা কথাটির আধুনিক অর্থ দাড়িয়েছে দিনলিপি বা ডায়েরি।
তবে মুরারী গুপ্ত ও স্বরূপ দামোদারের কল্যাণে চৈতন্যজীবনী গ্রন্থ কড়চা বলে অভিহিত হয়েছে।
বাংলা সাহিত্যে চৈতন্যদেবের জীবনী লেখার সাথে এই কড়চা শব্দটি জড়িত।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর

৩,৬৬২.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামান্য চলচ্চিত্র 'Stop Genocide' এর পরিচালক কে?
  1. আলমগীর কবির
  2. জহির রায়হান
  3. চাষী নজরুল ইসলাম
  4. হুমায়ূন আহমেদ
ব্যাখ্যা
Stop Genocide:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র Stop Genocide. নির্মাতা জহির রায়হান।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া স্টক ফুটেজ ও নিউজ রিলের ছবির ওপর নির্ভর করেই তৈরি হয় স্টপ জেনোসাইড।
- একজন চলচ্চিত্র-নির্মাতা হিসেবে জহির রায়হান দুনিয়ার মানুষকে বাংলাদেশে চলতে থাকা গণহত্যার খবর জানান দেওয়ার এক বড় দায়িত্ব কাঁধে নেন।
- বিভিন্ন জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রসঙ্গে লেনিনের একটি বক্তব্য দিয়ে শুরু হয় ছবিটি।
- ২০ মিনিটের এই ছবিতে বাংলাদেশের মানুষ আছে, এর প্রকৃতি আছে, আছে পাকিস্তানিদের অত্যাচার, নির্যাতন, অগ্নিসংযোগের দৃশ্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো।
৩,৬৬৩.
‘সারদা মঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট কোন কাব্যগ্রন্থটি? 
  1. বঙ্গসুন্দরী
  2. সাধের বসন
  3. সাধের আসন
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা

• “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। 
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন',একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন;
- সঙ্গীত;
- শতক;
- বঙ্গসুন্দরী;
- নিসর্গ;
- সন্দর্শন;
- বন্ধু বিয়োগ;
- সারদা মঙ্গল।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৬৪.
বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেট প্রবর্তন করেন কে?
  1.  সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী যশোরে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট ।
- ‘বীরবল’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের তুলনামূলক গবেষণা করেছেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক এবং বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনায় বিশেষভাবে খ্যাত।
- তিনি প্রথম গদ্য ও প্রবন্ধে চলিত রীতির ব্যবহার করেন।
- প্রমথ চৌধুরী বাংলা কাব্য সাহিত্যে প্রথম ইতালীয় সনেট প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদনা করেন ১৯১৪ সালে।
- ১৯৪৬ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

৩,৬৬৫.
সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন কোনটি?
  1. আবোল তাবোল
  2. হযবরল
  3. পাগলা দাশু
  4. চলচ্চিত্তচঞ্চরী
ব্যাখ্যা

• 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন:
- 'আবোল তাবোল' সুকুমার রায়ের বিখ্যাত ননসেন্স ছড়ার সংকলন।
- এটি ১৯২৩ সালে ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে প্রকাশিত হয়। এই সংকলনে মোট ছড়ার সংখ্যা ৫০টি, যার মধ্যে ৭টি বেনামে লেখা হয়েছে। এবং তিনি এটি বাবু সমাজ কে সমালোচনা করার জন্য লিখেছিলেন।
- এটির দ্বারা তিনি গান্ধীজির অহিংসা সত্যাগ্রহ নীতির বিরোধিতা করেন। ছোটদের উদ্দেশ্যে লেখা সুকুমার রায় কবিতাগুলির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে তৎকালীন সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক আবহের প্রচ্ছন্ন রূপ। 

'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছড়া হলো-
- অবাক কাণ্ড
- আবোল তাবোল
- আহ্লাদী
- একুশে আইন
- কাঠবুড়ো
- কাতুকুতু বুড়ো
- কাঁদুনে
- কিম্ভূত
- কৈফিয়ত
- খিচুড়ি
- খুড়োর কল ইত্যাদি। 

----------------------
সুকুমার রায় রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• কবিতার বই:
- আবোল তাবোল,
- খাই খাই।

• গল্প: হযবরল।
• গল্প সংকলন: পাগলা দাশু।
• নাটক: চলচ্চিত্তচঞ্চরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'আবোল তাবোল' ছড়ার সংকলন।

৩,৬৬৬.
চর্যাপদের টীকাকার মুনিদত্ত কোন পদটির ব্যাখ্যা দেন নি?
  1. ক) ১৫ নং
  2. খ) ১১ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ৯নং
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতান্তর রয়েছে- 
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন। 
- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'।
- যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন।
- টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১ নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি।
- আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
উল্লেখ্য, চর্যাপদের একটি পদ ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেখান থেকেই এই মত বিরোধের সৃষ্টি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
৩,৬৬৭.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) শামসুর রহমান
  2. খ) আবুল হাসান
  3. গ) আহসান হাবীব
  4. ঘ) রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আহসান হাবীব

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- সারা দুপুর (মতান্তরে তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ)
- ছায়া হরিণ

তার উপন্যাস -
- অরণ্যে নীলিমা
- রানী খালের সাঁকো

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬৮.
বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি কোন পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. চিত্রদর্শন
  2. প্রগতি
  3. কবিতা
  4. পরিচয়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত।

এছাড়া,
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মাসিকপত্র 'প্রগতি'র সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা-'চিত্রদর্শন'।
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৬৯.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ?
  1. ইছামতি
  2. মেঘমল্লার
  3. অপরাজিতা
  4. দৃষ্টিপ্রদীপ
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল । 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

৩,৬৭০.
মীর মশাররফ হোসেন রচিত গ্রন্থ হচ্ছে-
  1. গাজী মিঁয়ার বস্তানী
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. হুতোম প্যাঁচার নকশা
  4. কলিকাতা কমলালয়
ব্যাখ্যা
• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত
মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে,
• প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল।
• 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' গ্রন্থটির রচয়িতা কালীপ্রসন্ন সিংহ।
• 'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

---------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৭১.
বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার পাতোয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কে?
  1. দ্বিজ চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজ বংশীদাস
  3. বড়ু চণ্ডীদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
দ্বিজ বংশীদাস:
- তিনি ষোড়শ শতাব্দীর কবি।
- তিনি পাতোয়ারি গ্রাম, কিশোরগঞ্জ এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সংস্কৃত, পুরাণ, আগম, তন্ত্রাদি শাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন।
- তিনি 'পদ্মাপুরাণ' বা 'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্যতম প্রধান কবি।
- তিনি তাঁর কাব্যে বেহুলার দুঃখের চিত্র ও চাঁদ সওদাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা, দৃঢ়তার সঙ্গে অঙ্কন করেন।
- দ্বিজ বংশীদাস রচিত অন্য কাব্যগুলো:
• কৃষ্ণ গুণার্ণব,
• রামসীতা ও
• চণ্ডী।

অন্যদিকে,
• বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা, বড়ু চণ্ডীদাস ছাতনা, বাঁকুড়া মতান্তরে বীরভূমের নানুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• পদসঙ্গীত ধারার রূপকার, বিদ্যাপতি মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৭২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোনটি?
  1. বাঁধন-হারা
  2. শ্রীকান্ত
  3. মৃত্যুক্ষুধা
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা

• 'বাঁধন-হারা' বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।

• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা' (১৯২৭)।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- এতে ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।
- অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে - রবিউল, রাবেয়া, সােফিয়া, মাহবুবা প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৭৩.
কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য কিসের উপর জোর দিয়েছেন?
  1. ক) সততা এবং দুর্নীতিরোধ
  2. খ) ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল
  3. গ) সততার সঙ্গে নিষ্ঠার মিল
  4. ঘ) নিষ্ঠার সাথে সাথে পরিশ্রমের গুরুত্ব
ব্যাখ্যা
ভাব ও কাজ প্রবন্ধের মাধ্যমে কাজী নজরুল ইসলাম দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল হওয়ার উপর জোর দিয়েছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩,৬৭৪.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের আদি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

• মনসামঙ্গল' কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ।
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,৬৭৫.
শিশুপত্রিকা 'আঙুর' এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. ফররুখ আহমদ
  3. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  4. ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:

- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

• তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৭৬.
স্বামী পরিত্যক্ত নারী ‘জয়গুণ’-এর জীবন সংগ্রাম ফুটে উঠেছে নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. লালসালু 
  2. সূর্য দীঘল বাড়ি
  3. হাজার বছর ধরে
  4. আর কতদিন
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু হলো ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে গ্রামীণ বাংলার দারিদ্র্য, কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, এবং মোড়ল শ্রেণির শোষণের বিরুদ্ধে স্বামী পরিত্যক্ত নারী ‘জয়গুণ’-এর জীবন সংগ্রাম। 

-----------------------
• 'সূর্য দীঘল বাড়ী':
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি ৰড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'। - জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু।
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি। 

• উপন্যাসটির কাহিনি সংক্ষেপ:
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি। দুর্ভোগ বেড়েছে।

অন্যদিকে, 
• 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাস:
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য। 
- 'টুনি' চরিত্রের দেখা পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসে। উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ। 
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য লেখক আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

• 'লালসালু':
- 'লালসালু' উপন্যাসের রচয়িতা সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ ৷ ধর্ম নিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থকারীদের স্বরূপ উন্মোচন এবং নারী জাগরণের প্রেক্ষাপটে সমাজচেতনা এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর 'লালসালু' একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস। এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি

• 'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৭৭.
কোনটি হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ
  1. নরকে লাল গোলাপ
  2. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  3. নন্দিত নরকে
  4. নরকের ফুল
ব্যাখ্যা
• কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

-----------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

• হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• “নরকে লাল গোলাপ” মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
• হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে'।
• ‘নরকের ফুল’ গাজালা মাহমুদ রচিত কবিতার গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৭৮.
বাংলা সাহিত্যে একটি শব্দও না লিখে স্থায়ী আসন গ্রহণ করেছেন কে?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণ
  2. খ) শ্রীরাম
  3. গ) শ্রীচৈতন্য
  4. ঘ) শ্রীদেব
ব্যাখ্যা
১৫০১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলা হয়। এ সময় চৈতন্যদেব বৈষ্ণব ধর্মের বাণী প্রচার করেছেন। ফলে বৈষ্ণব মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবতি হয়ে পদ রচনা করেছেন, যা বৈষ্ণব পদাবলি নামে পরিচিত। 

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার। 
৩,৬৭৯.
কোনটি ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বিবাহ
  2. কি চাহ শঙ্খচিল
  3. ঘর মন জানালা
  4. দূর্যোগ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক সাহিত্যমালা:
- ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ এসেছে বেশ কিছু উপন্যাসে।
- এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য আতহার আহমেদের 'উন্মোচন' ও 'পিপাসা'।
- দিলারা হাশেমের 'ঘর মন জানালা', বাঙ্গাল আবু সাঈদের 'ব্যতিক্রম', আবু রুশদের 'নোঙর', আনিস সিদ্দিকীর 'মন না মতি', রাবেয়া খাতুনের 'রাজাবাগ শালিমার বাগ' ও আবদার রশীদের 'লঘুমেঘ'। 
- ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে এবং এ আন্দোলনকে বিষয় করে লেখা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস ১৯৬৯ সালে জহির রায়হানের প্রকাশিত 'আরেক ফাল্গুন'।
- এই উপন্যাসকে একুশের প্রথম সার্থক উপন্যাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ১৯৮১ সালে প্রকাশিত সেলিনা হোসেনের 'যাপিত জীবন' একুশের ঘটনাভিত্তিক উল্লেখযোগ্য আরেকটি উপন্যাস।

- ভাষা আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠার সময়েই এ বিষয়ে নাটক লেখা হয়েছে। ১৯৫১ সালে লেখা আসকার ইবনে শাইখের নাটকটির নাম 'দুর্যোগ'।
- আসকার ইবনে শাইখ ভাষা আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের নিয়ে লিখেছেন আরেকটি নাটক। নাটকটির নাম যাত্রী।
- ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে মুনীর চৌধুরীর লেখা বিখ্যাত 'কবর' নাটকের প্রথম অভিনয় হয়েছিল ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে- মমতাজ উদদীনের 'বিবাহ', মিলন চৌধুরীর পথনাটক 'যায় দিন ফাগুনের দিনে' শোভাময় ভট্টাচার্যের 'একুশের ইতিবৃত্ত'।
এছাড়া,
- 'কি চাহ শঙ্খচিল' মমতাজ উদদীনের রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।
- 'দুর্যোগ' হলো আসকার ইবনে শাইখের রচিত নাটক।

উৎস: দৈনিক সমকাল। [লিঙ্ক]
৩,৬৮০.
নিচের কোন চরিত্রটি 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের নয়?
  1. ক) যুবরাজ
  2. খ) নবকুমার
  3. গ) কাপালিক
  4. ঘ) কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
- যুবরাজ ব্যতীত সবাই 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের চরিত্র। উপন্যাসটির রচয়িতা - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- কপালকুণ্ডলা শব্দের অর্থ - ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী। 

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'কপালকুণ্ডলা' - একটি রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- উপন্যাসে নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে নায়িকা কপালকুণ্ডলা বলেছেন, “পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?"
 আর এই কথাটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক সংলাপ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। 

উপন্যাসটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সংলাপ হলো: 
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন।
- পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮১.
বাংলার মিল্টন বলা হয় কাকে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. কায়কোবাদ
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর ‘ভারতসঙ্গীত’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮২.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কোন কবি স্বভাব কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. নারায়ণ দেব
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- এ কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- এ ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- এ কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো:
- দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৩.
সারদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা কে?
  1. ক) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. খ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. গ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী, (১৮৩৫-১৮৯৪) আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।

বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি,
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু  উল্লেখযোগ্য।

• ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ রচনা। এটি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের একটি স্তম্ভস্বরূপ। এর মাধ্যমেই তিনি উনিশ শতকের গীতিকবিদের গুরুস্থানীয় হয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ এ কাব্যটি পড়ে নানাভাবে প্রভাবিত হয়েছেন এবং বিহারীলালকে আখ্যায়িত করেছেন ‘ভোরের পাখি’ বলে।

• বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে। বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৮৪.
"তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না।" - বাক্যটি কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. তৈল 
  2. বিড়াল
  3. মহেশ
  4. হৈমন্তী 
ব্যাখ্যা

'বিড়াল' প্রবন্ধ:
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
• প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
• ‘রিড়াল’ রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
• সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ:

“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!
---------------------

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

৩,৬৮৫.
'সূর্যদীঘল বাড়ি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) আবু ইসহাক
  4. ঘ) অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): ঔপন্যাসিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ-
উপন্যাসঃ
- সূর্য দীঘল বাড়ি’(একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।),
- ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’(আবু ইসহাক রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।),
- ‘জাল’(তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস)।
গল্পগ্রন্থঃ হারেম, মহাপতঙ্গ ইত্যাদি।
ছোটগল্পঃ জোঁক।
তাঁর রচিত একমাত্র নাটক - ‘জয়ধ্বনি’।
তাঁর স্মৃতিচারণমূলক রচনা ‘স্মৃতিবিচিত্রা’ প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮৬.
মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ
  2. হেক্টরবধ
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. তিলোত্তমাসম্ভব
ব্যাখ্যা

• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:
- ‘তিলোত্তমাসম্ভব’ মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য।
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
- মহাভারতের সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম।

--------------------
অন্যদিকে,
• কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বলে। সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী প্রত্যাশা করে সুন্দর পতির। এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর-পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম 'ব্রজাঙ্গনা'। এটি ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়। 'ব্রজাঙ্গনা' কাব্যের কবিতাগুলো ওড্ জাতীয় গীতিকবিতা। মধুসূদন কাব্যটিকে দুই খণ্ডে বিভক্ত করে রচনার পরিকল্পনা করেছিলেন, বিরহ ও মিলন। তবে ‘মিলন’ খণ্ডটি তিনি লিখে যেতে পারেননি।

• ‘হেক্টরবধ’ (১৮৭১) হোমারের ‘ইলিয়াড’ মহাকাব্যের প্রথম কয়েকটি সর্গের গদ্যে রচিত বঙ্গানুবাদ। মধুসূদন রচনাটি ১৮৬৭তে শুরু করেন কিন্তু অসমাপ্ত অবস্থাতেই ১৮৭১ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তা প্রকাশিত হয়। হোমারের রচনা মূল গ্রিক থেকে বাংলায় অনুবাদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৮৭.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত শিশুসাহিত্য কোনটি?
  1. ক) কুঁচবরণ কন্যা
  2. খ) ডানপিঠে শওকত
  3. গ) নওল কিশোরের দরবারে
  4. ঘ) গালিভারের সফরনামা
ব্যাখ্যা
'গালিভারের সফরনামা' আবুল মনসুর আহমদ রচিত শিশুসাহিত্য।
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে। 
- তাঁর রচিত অপর একটি শিশুসাহিত্য - ছোটদের কাসাসুল আম্বিয়া (১৯৪৯)। 

আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
তিনি  ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের আয়না হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

'কুঁচবরণ কন্যা' বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুসাহিত্য।
'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুসাহিত্য।
'ডানপিঠে শওকত' আব্দুল গাফফার চৌধুরীরচিত শিশুসাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৮৮.
কবি নজরুলের নিষিদ্ধ কবিতার গ্রন্থ কোনটি?
  1. চন্দ্রবিন্দু
  2. প্রলয় শিখা
  3. সাম্যবাদী
  4. সর্বহারা
ব্যাখ্যা
• "প্রলয় শিখা" কাব্যগ্রন্থ:
- "প্রলয় শিখা" কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ষোড়শ কাব্যগ্রন্থ। ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে কলিকাতা থেকে গ্রন্থাকারে কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- কবি নজরুল নিজ নামে ও নিজের দায়িত্বে 'প্রলয়-শিখা' প্রকাশ করেছিলেন, অর্থাৎ নিজেই প্রকাশক ও মুদ্রাকর ছিলেন। ১৭ই সেপ্টেম্বর (বুধবার ৩১ ভাদ্র ১৩৩৭), তৎকালীন সরকার ফৌজদারি দণ্ডবিধি ১২৪-ক এবং ১৫৩-ক ধারা অনুসারে এই গ্রন্থটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

কাব্যটি রচনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
কাজী নজরুল ইসলামের প্রায় সব বিখ্যাত ও উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় বইগুলোই শাসক ব্রিটিশরা বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করে; এর মধ্যে 'প্রলয়-শিখা' কাব্যগ্রন্থ অন্যতম। সরকারি রোষের তোপে পড়েছিলো এটি। প্রাণাধিক প্রিয় পুত্র বুলবুল মারা গেছেন, কবির মনোজগতে তখন তোলপাড় চলছে। বিদ্রোহ-বিপ্লবের পুরোধা কবি কেঁদে কেঁদে আকুল। চোখে জল কিন্তু বুকে আগুন। সেই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়লো 'প্রলয় শিখা'র প্রতিটি শব্দে। বিদ্যুৎ-গতিতে 'প্রলয় শিখা' ছুটলো পুরো বাংলায়। এই কাব্যগ্রন্থে বিদ্রোহী কবি সোচ্চার হয়েছেন পরাধীনতা ও শোষণের বিরুদ্ধে। শব্দের তেজস্বী অলংকরণে মানবচেতনায় বোধ জাগিয়ে তোলাই ছিলোই 'প্রলয়-শিখা'র মূল উদ্দেশ্য।

-----------------
• কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থের সংখ্যা ৫টি।
নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো:

• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: "প্রলয় শিখা" কাব্যগ্রন্থের ভূমিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৮৯.
কাকে আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি বলা হয়?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। 

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

 তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর বহুদিন পরে প্রেমের ফুল; প্রেমের বাণী; প্রেম-পারিজাত; মন্দাকিনী-ধারা; ও গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ প্রকাশিত হয়।
- সম্প্রতি বাংলা একাডেমি কায়কোবাদ রচনাবলী (৪ খণ্ড, ১৯৯৪-৯৭) প্রকাশ করেছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯০.
“টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।" - উক্তিটি কোন সাহিত্যকর্মের অন্তর্ভুক্ত?
  1. মন্দির
  2. বিলাসী
  3. ছুটি
  4. মহেশ
ব্যাখ্যা
'বিলাসী' ছোটগল্প:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প।
- গল্পে অস্পৃশ্যতার বিরুদ্ধাচারণ করা হয়েছে মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর বিয়ে সংঘটনের মাধ্যমে।
- বিলাসী গল্পে 'ন্যাড়া' চরিত্রের মধ্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নিজের ছায়াপাত ঘটেছে।
- বিলাসী গল্পের বিখ্যাত উক্তি - টিকিয়া থাকাই চরম সার্থকতা নয়, অতিকায় হস্তী লোপ পাইয়াছে কিন্তু তেলাপোকা টিকিয়া আছে।"

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়।
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী,
- মামলার ফল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯১.
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) বিপ্রদাশ বড়ুয়া
  2. খ) দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গ) বিজন ভট্টাচার্য
  4. ঘ) সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটকের রচয়িতা- বিজন ভট্টাচার্য। 
- পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত। 

বিজন ভট্টাচার্য
- ১৯০৬ সালে ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি নবনাট্য আন্দোলনের পুরোহিত ছিলেন।
- 'নবান্ন' নাটক রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৯২.
'মতিচূর' কি ধরণের রচনা?
  1. উপন্যাস 
  2. প্রবন্ধ সংকলন
  3. নাটক 
  4. কল্পকাহিনি
ব্যাখ্যা

'মতিচূর' বেগম রোকেয়ার লিখা একটি প্রবন্ধ সংকলন।

• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন একজন বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ, সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক।
-  ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ছিলেন একজন সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ও বহুভাষী জ্ঞানী ব্যক্তি। 
- তৎকালীন সমাজে মুসলিম নারীদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকা সত্ত্বেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসা খানম চৌধুরানীর উৎসাহে তিনি শিক্ষা অর্জনের পথ খুঁজে পান।
- পরবর্তীতে তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে বিয়ে করেন।
- এবং স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিকে অমর করে রাখতে প্রতিষ্ঠা করেন সাখাওয়াত হোসেন মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল।
- নারীদের সংগঠিত করার জন্য ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম মহিলা সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৯ ডিসেম্বর, ১৯৩২ সালে তিনি মারা যান।

- সাহিত্যক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ: 
- বাংলা নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে খ্যাত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন এর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল—
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (গল্প),
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ সংকলন) ও
- ‘সুলতানার স্বপ্ন’ (কল্পকাহিনি)।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৩.
'জোহরা ও হিরণবালা' - চরিত্রগুলো মুনীর চৌধুরী রচিত কোন নাটকের অন্তর্ভুক্ত?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. কবর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা
‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা
ইত্যাদি।

---------------------
মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
 
মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।
 
অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৬৯৪.
'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ'- প্রবন্ধটির লেখক কে?
  1. আহমদ শরীফ 
  2. আহমদ ছফা 
  3. বিষ্ণু দে
  4. আনিসুজ্জামান 
ব্যাখ্যা

• 'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- গ্রন্থটি ১৯৫২ সালর প্রকাশিত হয়। 

------------------
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
-সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,৬৯৫.
'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কবিতার অংশবিশেষ?
  1. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
  2. জীবন-বন্দনা
  3. দারিদ্র্য
  4. মানুষ
ব্যাখ্যা
• 'ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, </br>
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!' কবিতার অংশবিশেষ।
- কবিতাটি তাঁর রচিত 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!
কাজী নজরুল ইসলাম

দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার 
লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! 

দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, 
ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? 
কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। 
এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। 

তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! 
যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। 
ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, 
ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। 

অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন 
কাণ্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। 
হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? 
কাণ্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার 

গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ, 
পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ! 
কাণ্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? 
করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার! 

কাণ্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, 
বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! 
ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর! 
উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার। 

ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, 
আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান 
আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? 
দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কাণ্ডারী হুঁশিয়ার!

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
-  বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ভাঙার গান,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- জিঞ্জির,
- সন্ধ্যা,
- প্রলয় শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৩,৬৯৬.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম গল্প কোনটি?
  1. ডাকহরকরা
  2. বেদেনী
  3. রসকলি
  4. ধাত্রীদেবতা
ব্যাখ্যা
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,৬৯৭.
‘ফুলের বিবাহ’ লঘুরচনাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) মামুনুর রশিদ
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় লঘুরচনা ‘কমলাকান্তের দপ্তর’ গ্রন্থের নবম সংখ্যক লেখা ফুলের বিবাহ। হাস্যরসের মাধ্যমে বিভিন্ন ফুলের নাম ও সেগুলোর গন্ধের তারতম্য বর্ণের রকমফের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৩,৬৯৮.
‘জ্ঞানপ্রদীপ’ গ্রন্থটি কে লিখেছেন?
  1. ক) সৈয়দ সুলতান
  2. খ) শাহ মুহম্মদ সগীর
  3. গ) রামপ্রসাদ সেন
  4. ঘ) মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা

‘জ্ঞানপ্রদীপ’ গ্রন্থটির লেখক সৈয়দ সুলতান।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো - জ্ঞানচৌতিশা, নবীবংশ, শব-ই-মেরাজ ও জয়কুমার রাজার লড়াই।
‘নবীবংশ’ গ্রন্থের জন্য তিনি বিখ্যাত।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩,৬৯৯.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' এর লেখক কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম 'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে'।

 • তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে:
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,৭০০.
'কালকূট' ছদ্মনামটি কার?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট।'

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম। 
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।'
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।