বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ৩১ / ২১১ · ৩,০০১৩,১০০ / ২১,১৩২

৩,০০১.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বদরুদ্দীন উমর
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা বদরুদ্দীন উমর।

• বদরুদ্দীন উমর:

- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০০২.
ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিলো কোন পত্রিকা? 
  1. কল্লোল
  2. তত্ত্ববােধিনী
  3. সওগাত
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। 
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩,০০৩.
শাক্তপদাবলির আদি কবি কে?
  1. চণ্ডীদাস
  2. রামপ্রসাদ সেন
  3. গোবিন্দদাস
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - চণ্ডীদাস।
- গৌরচন্দ্রিকার শ্রেষ্ঠ পদকর্তা - গোবিন্দদাস।
- বৈষ্ণব পদাবলীর আদি কবি - বিদ্যাপতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০০৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' কবিতাটিতে সর্বমোট চরণ সংখ্যা কতটি?
  1. ১০টি
  2. ২০টি
  3. ২৫টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' কবিতাটিতে সর্বমোট চরণ সংখ্যা : ২৫টি।

• বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা' সম্পর্কিত আলোচনা: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক ১৯০৫ সালে রচিত কবিতা/গান ‘আমার সোনার বাংলা’র প্রথম দশ চরণ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
- প্রথম ৪ লাইন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাজানো হয়।
- কবিতাটিতে মোট ২৫টি লাইন আছে।
- বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের অফিশিয়াল বা সরকারিভাবে স্বীকৃত ইংরেজি অনুবাদ করেন সৈয়দ আলী আহসান।
- গান/কবিতাটি গীতবিতানের স্বরবিতান অংশভুক্ত।
- গানটি রবীন্দ্রনাথের স্বদেশ পর্যায়ের গান।
- গানটি প্রথম বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগ আয়োজিত এক জনসভায় গানটি গীত হয়।
- ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক সাতই মার্চের ভাষণের প্রাক্কালে গানটি গাওয়া হয়েছিল।
- ২৩ মার্চ স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা প্যারেডেও গানটি গীত হয়।

- মুজিবনগরে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এই গানকে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গানটি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে নিয়মিত পরিবেশিত হতো।
- স্বাধীনতার পর সাংবিধানিকভাবে (অনুচ্ছেদ ৪.১) ‘আমার সোনার বাংলা’ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রূপে ঘোষিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া এবং ‘আমার সোনার বাংলা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
৩,০০৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন প্রধানত-
  1. ক) ভাষাতত্ত্ববিদ
  2. খ) সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা
  3. গ) ইসলাম প্রচারক
  4. ঘ) সমাজ সংস্কারক
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ।
১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ,
-ভাষা ও সাহিত্য
-বাঙ্গালা ব্যাকরণ
-বাংলা সাহিত্যের কথা
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৩,০০৬.
জীবনান্দ দাশের কবিতা অনুসারে -
____ মতো কোন এক নিস্তব্ধতা এসে।
  1. শ্মশানের
  2. ঘোর অন্ধকারের
  3. উটের গ্রীবার
  4. লাসকাটা ঘরের
ব্যাখ্যা
‘কোনোদিন জাগিবে না আর
জানিবার গাঢ় বেদনার
অবিরাম— অবিরাম ভার
সহিবে না আর—’
এই কথা বলেছিলো তারে

চাঁদ ডুবে চ’লে গেলে— অদ্ভুত আঁধারে
যেন তার জানালার ধারে
উটের গ্রীবার মতো কোনো এক নিস্তব্ধতা এসে।

- জীবনানন্দ দাশ রচিত "আট বছর আগের একদিন" কবিতা থেকে।
৩,০০৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে কে “চেনাকন্ঠ” ছদ্মনামে শব্দসৈনিক হিসাবে পরিচিত ছিলেন?
  1. ক) শামসুর রাহমান
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) সৈয়দ শামসুল হক
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
জাতীয় অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজী অনুবাদ করেন। তার প্রবন্ধগ্রন্থ সমূহঃ গল্পসঞ্চয়ন ( ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এর সহযোগে), বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (মুহম্মদ আবদুল হাই - এর সাথে যৌথভাবে), নজরুল ইসলাম, কবি মধুসূদন, কবিতার কথা, সাহিত্যের কথা, সতত স্বাগত ইত্যাদি। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৩,০০৮.
চর্যাপদের প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা -
  1. ক) সরহপা
  2. খ) ধর্মপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা
- 'লুইপা' হচ্ছে চর্যাপদের প্রথমঊনত্রিশতম পদের রচিয়তা।

• লুইপা:
- চর্যাপদে লুইপাকে আদিচার্য বলে বিবেচনা করা হয়। 
- তিনি চর্যাপদের প্রথম ও ঊনত্রিশতম পদের রচয়িতা।
- এছাড়াও সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর একটি গ্রন্থের নাম অভিসময়বিভঙ্গ’।  

 • শবরপা:
- তিনি ছিলেন বাঙালি এবং ব্যাধ।
- তিনি ছিলেন বহু গ্রন্থের প্রণেতা।
- ড.সুকুমার সেনের মতে, লুইপার গুরু শবরপার জীবৎকাল আট শতকের প্রথমার্ধ।

• ধর্মপা:
- তিনি কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
- তাঁর জন্ম বিক্রমপুরের ব্রাহ্মণবংশে। তাঁর পদের ভাষা বাংলা।
- তিনি ভিক্ষু ও সিদ্ধা ছিলেন।

 • সরহপা:
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় দোহাকোষ রচনা করেছিলেন।
- তাঁর পদাবলীর ভাষা বঙ্গ-কামরূপী।
- তিনিও ছিলেন ভিক্ষু ও সিদ্ধা। 

সোর্স: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০০৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ নিচের কোন কবির ভাষা প্রাচীন বাংলা বঙ্গকামরূপী বলে মতামত দিয়েছেন?
  1. সরহ পা 
  2. শান্তি পা 
  3. আর্যদেব পা 
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ আর্যদেবের ভাষা উড়িয়া, শান্তি পাদের ভাষা মৈথিলি এবং কাহ্ন, সরহ, ও ভুসুকু প্রমুখের ভাষা প্রাচীন বাংলা বঙ্গকামরূপী বলে সিদ্ধান্ত করেছেন। 

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর Origin and Development of the Bengali Language (ODBL) গ্রন্থে বিস্তারিতভাবে ধ্বনিতত্ত্ব ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার করে সিদ্ধান্ত করেছেন যে, চর্যার পদসংকলনটি আদিতম বাংলা ভাষায় রচিত।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, ড. সুকুমার সেন ও ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী মনে করেন চর্যাপদ বার শতকের মধ্যে রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

৩,০১০.
বাংলা সাহিত্যের 'অবক্ষয় যুগ' এর সময়কাল কোনটি?
  1. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
  2. ১৭৩০ থেকে ১৮০০ খ্রি.
  3. ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ খ্রি.
  4. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ খ্রি.
ব্যাখ্যা
যুগসন্ধির কাল:
- ১২০১-১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়টাকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ হিসেবে ধরা হয়।
- আর ১৮০১ খ্রিস্টাব্দ - বর্তমান হচ্ছে আধুনিক যুগ।
- এর মধ্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের 'যুগসন্ধির কাল' বলা হয়। মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের সূচনালগ্নের এই শত বছরে চলেছে একটি নীরব প্রস্তুতি। এই প্রস্তুরি প্রধান পুরোহিত ছিলেন কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে 'যুগসন্ধির কাল' বা 'যুগসন্ধিক্ষণ' বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০১১.
'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধের রচয়িতা কে? 
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন 
  2. আনিসুজ্জামান
  3. আবুল হাসান 
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

• 'আমাদের সংস্কৃতি':
​ - আনিসুজ্জামান রচিত  'আমাদের সংস্কৃতি'  বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের উৎসব (২০০৮) গ্রন্থ থেকে সংকলিত। 
​ ​- বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহু প্রাচীন। 
​ ​- আদিকাল হতে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতিতে যোগ হয়েছে বিশ্বের নানা জাতির সংস্কৃতি। 
​ ​- এতে আমাদের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে, বহুমাত্রিকতা লাভ করেছে। 
 ​- ​তা সত্ত্বেও বাংলার প্রকৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের সংস্কৃতিকে দান করেছে স্বাতন্ত্র্য। 
 ​- ​আর তা হলো আমাদের লোকসংস্কৃতি। 
​ ​- আমাদের সাহিত্য, সংগীত, চিত্রকলা, মাটির ভাস্কর্য, কারুশিল্প, বয়ন শিল্পের রয়েছে সুপ্রাচীন ঐতিহ্য। 
​ ​- মূলত 'আমাদের সংস্কৃতি' প্রবন্ধে উপস্থাপিত হয়েছে বাঙালি ও বাংলা অঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। 
​ ​- এ প্রবন্ধ আমাদের বাঙালির ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি, মানবিকতাবোধ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও বিদ্রোহী ভাবনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

​​• আনিসুজ্জামান: 
- ​আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ​তাঁর ঢাকার প্রিয়নাথ হাইস্কুল থেকে তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। 
- ​জগন্নাথ কলেজ থেকে আই.এ. এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
-​ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 
-​অধ্যাপক আনিসুজ্জামান গবেষক ও প্রাবন্ধিক।
​- ​সাহিত্য ও গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ প্রচুর সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ২০২০ সালের ১৪ই মে তিনি মৃত্যুবরণ করেন

-​ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো: 
- ​মুসলিম বাংলার সাময়িক পত্র, 
​- স্বরূপের সন্ধানে, 
​- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি, 
​- পুরোনো বাংলা গদ্য ইত্যাদি। 

​উৎস: সাহিত্যপাঠ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২৫ সংস্করণ।

৩,০১২.
“ইকারুসের আকাশ” কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. ক) আহসান হাবিব
  2. খ) মহাদেব সাহা
  3. গ) আলাউদ্দীন আল আজাদ
  4. ঘ) শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি - শামসুর রাহমান।
তার রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে -
প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, রৌদ্র করোটিতে, বিধ্বস্ত নীলিমা, বন্দী শিবির থেকে, নিরালোকে দিব্যরথ, নিজ বাসভূমে, দুঃসময়ের মুখোমুখি, ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এক ধরনের অহংকার, শূন্যতার শোকসভা, বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে, ইকারুসের আকাশ, উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, এক ফোঁটা কেমন অনল, দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে, অবিরল জলাভূমি, বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।
তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি - কালের ধুলোয় লেখা ও স্মৃতির শহর।
শামসুর রাহমানের উপন্যাস - অক্টোপাস, অদ্ভূত আঁধার এক, নিয়ত মন্তাজ, এলো সে অবেলায়।
তার রচিত কয়েকটি শিশু-কিশোর সাহিত্য - এলাটিং বেলাটিং, ধান ভানলে কুঁড়ো দেব, গোলাপ ফুটে খুকীর হাতে, আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি ইত্যাদি।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]

৩,০১৩.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতায় “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
  1. মানসিক শূন্যতা
  2. প্রাচুর্যের দিন 
  3. দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা
  4. পূজার আয়োজন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা।

ব্যাখ্যা:
• “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রূপক। এটি কবির সৃষ্ট এক কাব্যিক শব্দবন্ধ, যা জ্যোতির্বিদ্যা ও পুরাণের উপাদানকে গভীর আবেগের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।

• চন্দ্রভূক: সংস্কৃত জাত শব্দ, যার অর্থ — "যে চাঁদকে ভক্ষণ করে"। এটি রাহু-কে নির্দেশ করে, যা পুরাণ অনুযায়ী  চাঁদকে গ্রাস করে (যেমন চন্দ্রগ্রহণে)।
• অমাবস্যা: চাঁদহীন রাত, অন্ধকার, অভাব, শেষ — এই সবের প্রতীক।

অর্থাৎ, “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” হলো এমন অমাবস্যা যেখানে চাঁদ শুধু নেই, তা-ই নয় বরং তা গ্রাস করা হয়েছে — অর্থাৎ আশা নিঃশেষিত, প্রত্যাশা ধ্বংসপ্রাপ্ত।

কবিতার প্রেক্ষাপট:
“কেউ কথা রাখেনি, তেত্রিশ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনি
ছেলেবেলায় এক বোষ্টুমী তার আগমনী গান হঠাৎ থামিয়ে বলেছিল
শুক্লা দ্বাদশীর দিন অন্তরাটুকু শুনিয়ে যাবে,
তারপর কত চন্দ্রভূক অমাবস্যা চলে গেলো, কিন্তু সেই বোষ্টুমী আর এলোনা
পঁচিশ বছর প্রতীক্ষায় আছি। "

• এখানে কথক বহু বছর ধরে একটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা করছে — যে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। অর্থাৎ, বোষ্টুমীর প্রতিশ্রুত গানের অন্তরা শোনার জন্য কবি অপেক্ষা করছেন, কিন্তু অনেক অমাবস্যা (অর্থাৎ অনেক মাস বা বছর) পার হয়ে গেলেও সে আসেনি। প্রতিটি অমাবস্যা যেন আশাকে আরও গ্রাস করে ফেলছে, অন্ধকারকে আরও ঘন করে তুলছে।

• রূপকটি কবিতার মূল থিমের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত: যেখানে শৈশব থেকে যৌবন পর্যন্ত (তেত্রিশ বছর) একের পর এক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মধ্যে দীর্ঘ-নিষ্ফল প্রতীক্ষা এবং তার ফলে জমে ওঠা নিরাশা প্রকাশ পেয়েছে। এই “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” দ্বারা কবি সেই অন্ধকার, নিরাশা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার বার্তা দিচ্ছেন। প্রতিটি অমাবস্যা যেন আশাকে গ্রাস করে ফেলছে — তবুও সে অপেক্ষা করে যাচ্ছে। এটি কেবল মানসিক শূন্যতা" নয়, কারণ শূন্যতার চেয়ে এখানে সময়ের দীর্ঘ যাত্রা ও প্রতীক্ষার ব্যর্থতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ — যেখানে প্রতিটি চক্র আলোর পরিবর্তে আরও অন্ধকার নিয়ে আসে, তবু কথক অপেক্ষা করে যান।

• এই পঙ্‌ক্তিতে স্পষ্টভাবে দীর্ঘকাল ধরে প্রতীক্ষা করেও কিছু না পাওয়ার বেদনা প্রকাশ পেয়েছে। তাই এখানে “চন্দ্রভূক অমাবস্যা” রূপক হিসেবে দীর্ঘকালীন প্রতীক্ষা নির্দেশ করছে।

উৎস: 'কেউ কথা রাখেনি' কবিতা সাহিত্য পাঠ।

৩,০১৪.
‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি কার রচনা?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গোবিন্দ দাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. জয়দেব
ব্যাখ্যা
‘গীতগোবিন্দম্’ গীতিকাব্য:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা ‘গীতগোবিন্দম্’ কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।
- এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়।
- ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত।
- বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

জয়দেব:
- জয়দেব (বার’শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- শ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০১৫.
কবি শামসুর রাহমানের 'আদিগন্ত নগ্ন প্রতিধ্বনি' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৪
  2. খ) ১৯৮২
  3. গ) ১৯৯০
  4. ঘ) ১৯৯৫
ব্যাখ্যা
কবি শামসুর রাহমান রচিত 'আদিগন্ত নগ্ন প্রতিধ্বনি' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৪ সালে। 

- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)
- রৌদ্র করোটিতে (১৯৬৩)
- বিধ্বস্ত নিলীমা (১৯৬৭)
- নিরালোকে দিব্যরথ (১৯৬৮)
- নিজ বাসভূমে (১৯৭০)
- বন্দী শিবির থেকে(১৯৭২)
- আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪)
- এক ধরনের অহংকার (১৯৭৫
- আমি অনাহারী (১৯৭৬)
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে (১৯৭৭) 
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে (১৯৭৮)
- প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে (১৯৮৩) 
- অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই (১৯৮৫)
- হোমারের স্বপ্নময় হাত (১৯৮৫) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,০১৬.
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রত্নবতী
  2. খ) বীরবলের হালখাতা
  3. গ) বনফুলের গল্প
  4. ঘ) আনোয়ারা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম গদ্যগ্রন্থ 'রত্নবতী'। 

মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী' (১৮৬৯)।
- এটি মুসলমান সাহিত্যিক রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাস।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) প্রকাশের চার বছর পর 'রত্নবতী' উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম পৃষ্ঠায় 'কৌতুকাবহ উপন্যাস' বলে উল্লেখ করেছেন। 
- প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০১৭.
কোন বাংলা সাহিত্যিকের জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী একই দিনে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 
- বেগম রোকেয়া বাঙালি মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং প্রথম বাঙালি নারীবাদী। 
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

- ১৯০২-এ ‘পিপাসা’ নামে একটি বাংলা গল্পের মধ্য দিয়ে তিনি সাহিত্যজগতে পা রাখেন।
- রোকেয়ার উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে
- ‘মতিচূর’ (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- ‘পদ্মরাগ’ (উপন্যাস),
- ‘অবরোধবাসিনী’ (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।
- তার লেখাগুলো নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন 'আনজুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম' প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ১.ড. সৌমিত্র শেখর রচিত বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. দৈনিক প্রথম আলো।
৩,০১৮.
চির বিরহের আর্তিমূলক পদাবলী কোনটি?
  1. ক) মাথুর
  2. খ) কড়চা
  3. গ) বিপ্রলম্ভ
  4. ঘ) পূর্বরাগ
ব্যাখ্যা

‘মাথুর’ শব্দটি এসেছে ‘মথুরা’ শব্দ থেকে। ‘মাথুর’ পদাবলি চির বিরহের আৰ্তিমূলক পদাবলি।
কংসাসুর বধের জন্য কৃষ্ণ তার প্রিয় লীলাভূমি বৃন্দাবন ত্যাগ করে মথুরায় চলে গেলেন। রাধার সঙ্গে তাঁর আর দেখা হয় না। কৃষ্ণকে হারিয়ে রাধা বেদনার করুণ ক্রন্দনে ভেঙে পড়েছেন, এ বিষয় নিয়ে রচিত হয় মাথুর পদাবলি।

বিরহের সঙ্গে মাথুরের পার্থক্য - বিরহ হলাে রাধাকৃষ্ণের মধ্যে সাময়িক বিচ্ছেদ আর মাথুর চিরবিচ্ছেদ।

সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,০১৯.
'ছন্দ সরস্বতী’ কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দনাথ দত্ত
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দনাথ দত্ত
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার অদূরে নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফার্সি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তারই।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত পরলোকগমন করেন।

♦♦ সাহিত্যকর্ম: 
- ১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথের ছন্দ-সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ সরস্বতী’ ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাহিত্যে ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে আখ্যায়িত করেন। 

♦ কাব্যগ্রন্থ: 
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন, 
- অভ্র-আবীর, 
- বেলা শেষের গান ইত্যাদি।

♦ অনুবাদ:
- তীর্থ সলীল,
- তীর্থ রেণু, 
- ফুলের ফসল ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র - ১. যুগান্তর,
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,০২০.
কারবালা এবং ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে কী বলে?
  1. মর্সিয়া সাহিত্য
  2. পুথি সাহিত্য
  3. নাথসাহিত্য
  4. লোক সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• কারবালা এবং ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মুসলমানদের রচিত সাহিত্যকে মর্সিয়া সাহিত্য বলে

• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ।
- তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য।
- অন্যভাবে বলা যায়, নাথ ধর্মের সাধনতত্ত্ব ও প্রাসঙ্গিক গল্প কাহিনি অবলম্বনে রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য।

• পুথি সাহিত্য:
- পুথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য।
- আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়।
- পুথি (বা পুঁথি) শব্দের উৎপত্তি ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে। এ অর্থে পুথি শব্দদ্বারা যেকোনো গ্রন্থকে বোঝালেও পুথি সাহিত্যের ক্ষেত্রে তা বিশেষ অর্থ বহন করে।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত। 
- পুথি সাহিত্যের শব্দসম্ভার ও ভাষারীতি লক্ষ করে বিভিন্ন জন এর বিভিন্ন নামকরণ করেছেন।
- রেভারেন্ড জেমস  লং এ ভাষাকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা’, আর এ ভাষায় রচিত সাহিত্যকে বলেছেন ‘মুসলমানী বাংলা সাহিত্য’।
- কলকাতার বটতলার ছাপাখানার বদৌলতে প্রচার লাভ করে বলে এগুলি ‘বটতলার পুথি’ নামেও পরিচিত হয়।

• লোক সাহিত্য:
- মধ্যুযগে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩,০২১.
'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমেদ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
• 'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

-----------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,  
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ
- অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০২২.
নিচের কোনটি দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন?
  1. একেই কি বলে সভ্যতা 
  2. বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো
  3. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  4. কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত উল্লেখযোগ্য প্রহসনগুলি হচ্ছে:
বিয়ে পাগলা বুড়ো (১৮৬৬),
সধবার একাদশী (১৮৬৬) 

- মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম 
- একেই কি বলে সভ্যতা 
- বুড়ো সালিকের ঘাড়ে রো

- রামনারায়ণ তর্করত্ন বাংলা প্রহসন রচনার পথিকৃৎ। তাঁর শ্রেষ্ঠ প্রহসন হচ্ছে কুলীনকুলসর্বস্ব। 

[উৎস:বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,০২৩.
উপজাতীযর জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস -
  1. সংশপ্তক
  2. দুই সৈনিক
  3. কর্ণফুলী
  4. খোয়াবনামা
ব্যাখ্যা
'কর্ণফুলী' উপন্যাস:
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীযর জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
-তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

কাব্যগ্রন্থগুলো মধ্যে:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- লেলিহান পান্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, 
- সাজঘর,
- শ্রেষ্ঠ কবিতা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০২৪.
'কৃষ্ণপক্ষ' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী ইমদাদুল হক
  2. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  3. এস ওয়াজেদ আলি
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থের নাম 'ডানপিটে শওকত' (১৯৫৩)। এটি একটি শিশুতোষ গ্রন্থ।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম 'কৃষ্ণপক্ষ' (১৯৫৯)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাসের নাম 'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' (১৯৬০)।
- তিনি ভাষা আন্দোলনের শহিদের স্মরণে 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো / একুশে ফেব্রুয়ারি / আমি কি ভুলিতে পারি।' গানটি রচনা করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনভিত্তিক 'পলাশী থেকে ধানমন্ডি' চলচ্চিত্রের কাহিনি রচনা করে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- সুন্দর হে সুন্দর।

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০২৫.
"সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়ঃ জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।" উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. রফিক আজাদ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. অমিয় চক্রবর্তী 
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।

- তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
• 'হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে।',
• 'অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্র স্বদেশ ভূমি।',
• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।',
• 'সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।',
• 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,০২৬.
নিচের কোনটি প্রবন্ধ?
  1. যে অরণ্যে আলো নেই
  2. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  3. এক পথ দুই বাঁক
  4. দুয়ে দুয়ে চার
ব্যাখ্যা

• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' প্রবন্ধ:
- 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'। যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।

- তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি। বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

-----------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-

• তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।
• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০২৭.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. ক) ব্যথার দান
  2. খ) রিক্তের বেদন
  3. গ) কুহেলিকা
  4. ঘ) শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের রচনাবলীঃ
গল্পগ্রন্থঃ
- ব্যথার দান
- রিক্তের বেদন
- শিউলি মালা

উপন্যাসঃ
- বাঁধন হারা
- মৃত্যুক্ষুধা
- কুহেলিকা

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

৩,০২৮.
"মালিনী" মধ্যযুগের কোন কাব্যের চরিত্র?
  1. চণ্ডীমঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা

অন্নদামঙ্গল:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টাদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৩,০২৯.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা-
  1. বাতাসে লাশের গন্ধ
  2. জীবন বিনিময়
  3. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  4. আসাদের শার্ট
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি শামসুর রাহমান রচনা করেন ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটি।
• ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ছাত্রনেতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসাদ। তাঁর রক্তের মশালে জ্বলে উঠেছিল ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বহ্নিশিখা। শামসুর রাহমান লেখা ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাটির পিছনে রয়েছে পুলিশের গুলিতে নিহত আসাদের শার্ট উঁচুতে তুলে ধরে প্রতিবাদী এক বিশাল মিছিলের মুখোমুখি হওয়া কবির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।

----------------
আসাদের শার্ট
- শামসুর রাহমান
গুচ্ছ গুচ্ছ রক্তকরবীর মতো কিংবা সূর্যাস্তের
জ্বলন্ত মেঘের মতো আসাদের শার্ট
উড়ছে হাওয়ায় নীলিমায়।

বোন তার ভায়ের অম্লান শার্টে দিয়েছে লাগিয়ে
নক্ষত্রের মতো কিছু বোতাম কখনো
হৃদয়ের সোনালী তন্তুর সূক্ষতায়
বর্ষীয়সী জননী সে-শার্ট
উঠোনের রৌদ্রে দিয়েছেন মেলে কতদিন স্নেহের বিন্যাসে।

অন্যদিকে, 
• 'বাতাসে লাশের গন্ধ' ও 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কবিতা।
• ‘জীবন বিনিময়’ গোলাম মোস্তফা রচিত কবিতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'আসাদের শার্ট' কবিতা।
৩,০৩০.
'এর উপায় কি?' - প্রহসনটির রচয়িতা কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
'এর উপায় কী?' প্রহসন:
- 'এর উপায় কী' প্রহসনটির রচয়িতা 'মীর মশাররফ হোসেন'। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৫ সালে এবং দ্বিতীয় প্রকাশ ১৮৯২ সালে।
- উনিশ শতকে এক শ্রেণির লোক যে স্ত্রীর প্রতি অবহেলা দেখিয়ে মদ ও পতিতাবৃত্তিতে আকৃষ্ট হয়ে নানা ধরনের অনাচার ও উচ্ছৃঙ্খলতায় নিমজ্জিত হয়েছিল- লেখক এই প্রহসনে সে রকম একটি ঘটনাই তুলে ধরেছেন। 

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- রাধাকান্ত,
- মুক্তকেশী,
- নয়নতারা,
- ইয়ার মদন প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,০৩১.
ইয়ং বেঙ্গল কত সালে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৪২ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৮৩২ সালে
ব্যাখ্যা
• 'ইয়ং বেঙ্গল' ১৮৩১  সালে আত্মপ্রকাশ করে।

'ইয়ং বেঙ্গল':
- যুক্তি ও মানবাধিকারের শপথ নিয়ে ইংরেজি ভাবধারা পুষ্ট বাঙালি যুবকদের 'ইয়ং বেঙ্গল' ছাত্রগোষ্ঠী বলা হত।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' এর  প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন 'হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও'।
- নব্য উচ্ছৃঙ্খল ইয়ং বেঙ্গলদের কটাক্ষ করে মাইকেল মধুসূদন তার বিখ্যাত প্রহসন 'একেই কি বলে সভ্যতা' রচনা করেছেন।
- 'ইয়ং বেঙ্গল' এর মুখপত্র ছিল 'জ্ঞানাণ্বেষণ'।এর সম্পাদক ছিলেন দক্ষিণারঞ্জন মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৩,০৩২.
'রাইফেল রোটি আওরাত' কার রচনা?
  1. ক) আবু জাফর সামসুদ্দিন
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) মাযহারুল ইসলাম
  4. ঘ) সরদার জয়েনউদ্দীন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রচিত ও তার অব্যবহিত পরেই প্রকাশিত অন্যতম উপন্যাস - 'রাইফেল রোটি আওরাত'।
উপন্যাসটি ১৯৭১ সালে এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে রচিত এবং এটিই মুক্তিযুদ্ধের উপর প্রথম রচিত উপন্যাস। কিন্তু এটি প্রকাশিত হয় - ১৯৭৩ সালে।
উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র - অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীন।
অন্যান্য চরিত্র - আওয়ামী লীগ নেতা জামাল সাহেব, কমিউনিস্ট কর্মী বুলা, কট্টর পাকিস্তানপন্থী - ড. খালেক, সুবিধাভোগী ড. মালেক প্রমুখ।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,০৩৩.
'আধ্যাত্মিকা' উপন্যাসের লেখক কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. দামোদর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘আধ্যাত্মিকা’ প্যারীচাঁদ মিত্র রচিত একটি উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৮৮০ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------
• প্যারীচাঁদ মিত্র:

- প্যারীচাঁদ মিত্র ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী। তিনি ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর ছদ্মনাম 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
- কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির ডেপুটি লাইব্রেরিয়ান হিসেবে ১৮৩৬ সালে প্যারীচাঁদ মিত্রের কর্মজীবন শুরু হয়।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র।
- সাহিত্যক্ষেত্রে প্যারীচাঁদ মিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব 'আলালের ঘরের দুলাল', যা বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস হিসেবে খ্যাত।
- বাংলা- সাহিত্যেও তিনি একটি বিশেষ স্থান জুড়ে আছেন। তাঁরই চেষ্টায় অল্পশিক্ষিতা মহিলাদের উপযোগী একটি মাসিক-পত্রিকা বাংলা ভাষায় সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। নাম- 'মাসিক পত্রিকা'। প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল- ১৬ আগস্ট ১৮৫৪।

প্যারীচাঁদের রচিত বাংলা গ্রন্থের সংখ্যা নিতান্ত অল্প নয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়,
- রামারঞ্জিকা,
- কৃষি পাঠ,
- গীতাঙ্কু,
- যৎকিঞ্চিৎ,
- অভেদী,
- ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত,
- এতদ্দেশীয় স্ত্রীলোকদিগের পূর্ব্বাবস্থা,
- বামাতোষিণী।

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসের লেখক জীবনী এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৩৪.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৩৫.
'আর কতদিন' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. দেশভাগ
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'আর কতদিন' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজ ব্যবস্থার চিত্র পাওয়া যায় জহির রায়হান রচিত 'আর কতদিন' উপন্যাসে।
- যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, ও শান্তির স্বপক্ষে জোরালো আবেদন জানিয়ে, জহির রায়হানের 'আর কতদিন' উপন্যাসটি ১৯৭০ সালে প্রথম প্রকাশ পায়।
- গ্রন্থটির প্রকাশকাল ও ঘটনা বিন্যাসের আলোকে নবুঝতে পারা যায় যে মুক্তিযুদ্ধ-পূর্ব সময়ের অস্থির সমাজিক রাজনৈতিক আন্দোলন মুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা লেখপক মনে উদয় হয়েছিল। 
 
তাঁর রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৩৬.
ব্যঙ্গপ্রধান গল্পসংগ্রহ কোনটি?
  1. লিপিমালা
  2. রাজাবলি
  3. তোতা ইতিহাস
  4. ইতিহাসমালা
ব্যাখ্যা

• 'ইতিহাসমালা':
- প্রায় দেড় শ ইতিহাসাশ্রিত গল্প অবলম্বনে ১৮১২ সালে 'ইতিহাসমালা' নামক অন্য একটি গ্রন্থ উইলিয়াম কেরি প্রকাশ করেন। এ দেশের সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি প্রথম গল্পসংগ্রহ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ স্থান পাওয়ার যোগ্য। 

- সংগৃহীত গল্পগুলোর অধিকাংশই ব্যঙ্গপ্রধান। এতে প্রাচ্য-পাশ্চাত্য উভয় উৎস থেকে গল্প সংগৃহীত হয়েছিল।

- 'হিতোপদেশ', 'পঞ্চতন্ত্র' প্রভৃতি প্রাচীন সংস্কৃত গ্রন্থের গল্প থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত আধুনিক ধনপতি-খুল্লনা-লহনা, রূপ সনাতন গোস্বামির কথা এতে স্থান পেয়েছে। অনুবাদে যে যথেষ্ট পরিমাণ প্রাঞ্জলতা সঞ্চারিত হতে পারে ইতিহাসমালা তার বিশিষ্ট নিদর্শন। 

- সুষম ও প্রাঞ্জল রচনারীতির জন্য এই কলেজ থেকে প্রকাশিত সমস্ত গ্রন্থের মধ্যে তা শ্রেষ্ঠস্থানের অধিকারী। এই গ্রন্থের ভাষা ছিল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রাথমিক যুগের ভাষা অপেক্ষা অনেক উন্নত এবং গদ্য রচনার একটা স্টাইলও এতে পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে, 
'লিপিমালা' ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাত্রদের চলিত ভাষা ও দেশীয় লোকের বৈষয়িক ব্যবহারের পরিচয়দানের জন্য পত্রাকারে লিখিত প্রবন্ধ।

• কিংবদন্তি ও লোকপ্রসিদ্ধির ওপর নির্ভর করে রচিত 'রাজাবলি' গ্রন্থে গদ্যরীতি আরও সুষ্ঠু রূপ নিয়েছে। আরবি ফারসি শব্দবাহুল্যপূর্ণ এই গ্রন্থটি প্রাঞ্জল ভাষারীতির জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের শ্রেষ্ঠ রচনা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করতে পারে।

• চণ্ডীচরণ মুনশীর 'তোতা ইতিহাস' (১৮০৫) ফারসি থেকে অনুবাদ। পাঠ্যপুস্তক ও গল্পগ্রন্থ হিসেবে গ্রন্থটি যথেষ্ট সমাদর লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

৩,০৩৭.
'মায়া মালঞ্চ' নাটকের রচয়িতা-
  1. ক) মামুনুর রশিদ
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) নুরুল মোমেন
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু পঞ্চপাণ্ডবের একজন। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার, গল্পকার, অনুবাদক, সম্পাদক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
তাঁর রচিত কয়েকটি নাটক- মায়া মালঞ্চ, তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্ট্রা ও সত্যসন্ধ।
তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ- রেখাচিত্র, রজনী হ'ল উতলা, অভিনয় অভিনয় নয়, হাওয়া বদল।
তাঁর রচিত প্রবন্ধ- হঠাৎ আলোর ঝলকানি, কালের পুতুল, সাহিত্যচর্চা ইত্যাদি।
তাঁর রচিত উপন্যাস- সাড়া, সানন্দা, কালো হাওয়া, তিথিডোর, নির্জন স্বাক্ষর, পরিক্রমা ইত্যাদি।
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- বন্দীর বন্দনা, কঙ্কাবতী, মর্মবাণী, দময়ন্তী, স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০৩৮.
সাহিত্যের কোন বিশেষ শাখাটি জীবনের কোন বিশেষ মূহুর্তের রূপায়ণ?
  1. ক) ভ্রমণকাহিনী
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা
• বিষয়বস্তুর দিক থেকে জীবনের একটা খণ্ডাংশ মাত্র ছোটগল্পে রূপায়িত হয়। 
- মানবের প্রবাহমান জীবনের শত শত বৈচিত্র্যময় মুহূর্তের কোনো একটি মাত্র রূপ ছোটগল্পের উপজীব্য। 
- কোন একটি চরিত্রের বিশেষ একটি দিক অবলম্বনে ছোটগল্পের বক্তব্যের প্রকাশ ঘটে। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সোনার তরী' 'বর্ষাযাপন' নামক কবিতায় ছোটগল্প সম্পর্কে মনোভাব প্রকাশ করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক ।
৩,০৩৯.
নিচের কোন লেখক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায় 
  4. ঘ) প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি লাভ করেন।

- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। 
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) ও কপালকুন্ডলা (১৮৬৬) রচনা করেন। 
- বঙ্কিমচন্দ্র  চট্টোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে কলকাতায় মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩,০৪০.
'মৈথিল কোকিল' খ্যাত কে?
  1. ক) জ্ঞানদাস
  2. খ) গোবিন্দদাস
  3. গ) বিদ্যাদাস
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বুঝায়। কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথালার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিল ভাষায় সুন্দর পদাবলী ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে মৈথিল কোকিল বলা হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,০৪১.
‘নিতাই’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. পঞ্চপুণ্ডলী
  2. কবি
  3. হাঁসুলী বাঁকের উপকথা
  4. ধাত্রীদেবতা
ব্যাখ্যা
'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত উপন্যাস 'কবি'।
- ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হচ্ছে নিতাই।
- উপন্যাসের ক্লাসিক সংলাপ- 'এই খেদ আমার মনে, ভালবেসে মিটলোনা সাধ, কুলালোনা এই জীবনে। হায়! জীবন এতো ছোট ক্যানে? এই ভুবনে। '

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; 'কবি' উপন্যাস।
৩,০৪২.
নিচের কোনটি সুফিয়া কামালের লেখা গল্প?
  1. ক) কেয়ার কাঁটা
  2. খ) সাঁঝের মায়া
  3. গ) মন ও জীবন
  4. ঘ) অভিযাত্রিক
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লায়।

তাঁর প্রকাশিত কবিতা:
- সাঁঝের মায়া
- মায়া কাজল 
- মন ও জীবন
- উদাত্ত পৃথিবী
- অভিযাত্রিক 
- মোর যাদুদের সমাধি পরে ইত্যাদি।

তাঁর প্রকাশিত গল্প: 
- কেয়ার কাঁটা 

তাঁর শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ইতল বিতল
- নওল কিশোরের দরবারে 

তাঁর আত্মজীবনী:
- একালে আমাদের কাল

তাঁর ডায়েরি:
- একাত্তরের ডায়রী

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
৩,০৪৩.
নিচের কোনটি আহমেদ ছফা এর উপন্যাস নয়?
  1. ক) মরণ বিলাস
  2. খ) গাভি বিত্তান্ত
  3. গ) সূর্য তুমি সাথী
  4. ঘ) বিহঙ্গ পুরাণ
  5. ঙ) জাগ্রত বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
জাগ্রত বাংলাদেশ(১৯৭১) আহমদ ছফার প্রবন্ধগ্রন্থ। সূর্য তুমি সাথী, ওঙ্কার, মরণ বিলাস, অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী, বিহঙ্গ পুরাণ আহমদ ছফার উপন্যাস। সূত্রঃ সৌমিত্র শেখর, ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩,০৪৪.
'অভিসময়বিভঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) কাহ্নপা
  2. খ) ভুসুকুপা
  3. গ) শবরপা
  4. ঘ) লুইপা
ব্যাখ্যা
'অভিসময়বিভঙ্গ' গ্রন্থের রচয়িতা- লুইপা। তিনি চর্যাপদের দুটি পদ রচনা করেন। তাকে আদি চর্যাকার বলা হয়। 'চঞ্চল চীএ পইঠা কাল।' পদটির রচয়িতা লুইপা। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০৪৫.
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পসঙ্কলন কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশ কথা কয়
  2. খ) একাত্তরের দিনগুলি
  3. গ) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  4. ঘ) একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৭১ সালে আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পসঙ্কলন “বাংলাদেশ কথা কয়” কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। 
• গ্রন্থটি সম্পর্কে সম্পাদকের মন্তব্যটি স্মরণযোগ্য : ‘ভাষা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের সাহিত্য নানা মোড় ফিরেছে, সমৃদ্ধ হয়েছে, জনমানসের প্রতিরোধ চেতনাকে বিস্তার লাভে আরও সাহায্য করেছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের গল্প ও কবিতার ভূমিকা তাই গৌণ নয়। বাংলাদেশ কথা কয় গ্রন্থে সন্নিবেশিত বাংলাদেশের কয়েক তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো তাই নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালী জাতীয় মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা।

 এ সঙ্কলনে মোট ষোলোটি গল্প স্থান পায়এগুলো হলো:
• বিপ্রদাশ বড়–য়ার ‘সাদা কফিন’,
• নির্মলেন্দু গুণের ‘শেষ যাত্রা নয়’,
• আবদুল হাফিজের ‘লাল পল্টন’,
• সুব্রত বড়–য়ার ‘বুলি তোমাকে লিখছি’,
• ফজলুল হকের ‘চরিত্র’,
• আসফ-উজ-জামানের ‘রক্ত প্রজন্ম’,
• বুলবন ওসমানের ‘সোলেমান ভাই’,
• কামাল মাহবুবের ‘নীল নকশা’,
• অনু ইসলামের ‘শব্দতাড়িত’,
• আসাদ চৌধুরীর ‘কমলা রঙের রোদ’,
• সত্যেন সেনের ‘পরীবানুর কাহিনী’,
• ইলিয়াস আহমদের অন্যের ডায়েরি থেকে,
• জহির রায়হানের ‘সময়ের প্রয়োজনে’,
• কায়েস আহমেদের ‘শেষ বাজি’,
• শওকত ওসমানের ‘আলোক-অন্বেষা ’এবং
• আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘রোদের অন্ধকারে বৃষ্টি’।
এসব গল্পে মুক্তিযুদ্ধের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে,
‘একাত্তরের দিনগুলি’ জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য।
‘একাত্তরের রণাঙ্গন’ শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।

উৎস: দৈনিক জনকন্ঠ।
৩,০৪৬.
ঢাকার নবাব পরিবারের এক মহিলা অংকিত ছবি দেখে কাজী নজরুল ইসলাম কোন কবিতাটি রচনা করেছিলেন?
  1. ক) মহররম
  2. খ) বিজয়িনী
  3. গ) খেয়াপারের তরণী
  4. ঘ) আনন্দময়ীর আগমনে
ব্যাখ্যা

'খেয়া-পারের তরণী' প্রসঙ্গে মুজাফফর আহমদ লিখেছেন:
“কী কারণে জানিনা, আফজালুল হক সাহেব ঢাকা গিয়েছিলেন। তিনি তাঁর মােসলেম ভারতে ছাপানোের উদ্দেশ্যে ঢাকার বেগম মুহম্মদ আজম সাহেবের (খান বাহাদুর মুহম্মদ আজমের স্ত্রী) আঁকা একখানা নৌকার ছবি সঙ্গে নিয়ে আসেন। তার জন্যে ছবিখানা একদিন বিকালবেলা নজরুল ইসলামের নিকটে আফজালুল হক সাহেব রেখে গেলেন। তিনি আশা করেছিলেন যে, নজরুল ইসলাম গদ্যে এই আধ্যাত্মিক ছবিখানার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখে দিবেন। কিন্তু নজরুল তা করলেন না। সে রাত্রিবেলা প্রথমে মনােযােগ সহকারে ছবিখানা অধ্যয়ন করলেন এবং তারপরে লিখলেন এই ছবির বিষয়ে তার বিখ্যাত কবিতা ‘খেয়া-পারের তরণী।'

সোর্সঃ কাজী নজরুল ইসলাম, স্মৃতিকথা, দ্বিতীয় বাংলাদেশ সংস্করণ, ঢাকা ১৯৭৬, পৃ. ৫৩-৫৪।

৩,০৪৭.
চর্যাপদের কবি লুইপা রচিত কয়টি সংস্কৃতগ্রন্থ পাওয়া যায়?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
- চর্যাপদের প্রথম পদটি রচনা করেন-লুইপা 
- চর্যায় দুটি পদ রচনা করেন। 
- লুইপা রচিত ৫টি সংস্কৃতগ্রন্থের নাম পাওয়া যায়।  
- অভিসময় বিভঙ্গ 
- ব্রজসত্ত্ব সাধন 
- ভগবদাভসার 
- তত্ত্ব সভাব 
- বুদ্ধোদয়  

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,০৪৮.
কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করেন কে?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) জসীমউদ্দীন
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ।
- তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ এর সম্পাদক।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলা সাহিত্যে যুগ সন্ধিকাল ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দ। 
- বাংলা সাহিত্যে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিকালের কবি হিসেবে পরিচিত।

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত,  হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
৩,০৪৯.
"মাৎস্যন্যায়ে সায় নেই, আমি কৌম সমাজের লোক সরল সাম্যের ধ্বনি তুলি নারী তোমার নগরে,
কোনো সামন্তের নামে কোনদিন রচিনি শোলোক শোষকের খাড়া ঝোলে এই নগ্ন মস্তকের 'পরে।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. হুমায়ুন আজাদ 
  3. আল মাহমুদ 
  4. আহসান হাবীব 
ব্যাখ্যা
• "মাৎস্যন্যায়ে সায় নেই, আমি কৌম সমাজের লোক সরল সাম্যের ধ্বনি তুলি নারী তোমার নগরে, কোনো সামন্তের নামে কোনদিন রচিনি শোলোক শোষকের খাড়া ঝোলে এই নগ্ন মস্তকের 'পরে।" পঙ্‌ক্তিটি আল মাহমুদ রচিত সোনালি কাবিন কাব্যের একটি কবিতার অন্তর্গত।

"মাৎস্যন্যায়ে সায় নেই, আমি কৌম সমাজের লোক
সরল সাম্যের ধ্বনি তুলি নারী তোমার নগরে,
কোনো সামন্তের নামে কোনদিন রচিনি শোলোক
শোষকের খাড়া ঝোলে এই নগ্ন মস্তকের ‘পরে।
পূর্ব পুরুষেরা কবে ছিলো কোন সম্রাটের দাস
বিবেক বিক্রয় করে বানাতেন বাক্যের খোয়াড়,
সেই অপবাদে আজও ফুঁসে ওঠে বঙ্গের বাতাস
মুখ ঢাকে আলাওল – রোসাঙ্গের অশ্বের সোয়ার।
এর চেয়ে ভলো নয় হয়ে যাওয়া দরিদ্র বাউল?
আরশি নগরে খোঁজা বাস করে পড়শী যে জন
আমার মাথায় আজ চূড়ো করে বেঁধে দাও চুল
তুমি হও একতারা, আমি এক তরুণ লালন,
অবাঞ্ছিত ভক্তিরসে এ যাবৎ করেছি যে ভুল
সব শুদ্ধ করে নিয়ে তুলি নব্য কথার কূজন।"

• সোনালি কাবিন:
- সোনালি কাবিন' আল মাহমুদের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যগ্রন্থের প্রকাশনা বাংলা সাহিত্যে তাঁর কবি প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল । 
- ১৯৭৩ সালে এটি প্রকাশিত হয় 
- এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সাথে সোনালি কাবিন নামে ১৪ সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতা ও অন্তর্ভুক্ত ।
- কাব্যগ্রন্থটিতে  বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীন আবহে উঠে এসেছে। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ - 
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- পাখির কাছে , ফুলের কাছ 
- প্রেমের কবিতা , ইত্যাদি।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ও সোনালী কাবিন কাব্যগ্রন্থ।
৩,০৫০.
‘সাম্যবাদী' কাব্য গ্রন্থের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. আহসান হাবীব
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।
 
এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ, 
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য, 
- কুলি-মজুর। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।
৩,০৫১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিকের নাম কি?
  1. মোতাহের হোসেন
  2. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম ঔপন্যাসিক বলা হয়। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তার রচিত প্রথম গ্রন্থ হলো 'রত্নাবতী'।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফররুখ আহমদ ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৫২.
'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• 'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
- তাঁর 'অপব্যয়ের ফল' নামক কবিতার অংশ এটি।
- এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৬১ সালে  ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 
- ১৯০৭ সালে খুলনাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থের নাম 'সদ্ভাবশতক'।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সদ্ভাবশতক' কাব্য।
৩,০৫৩.
'কল্লোল' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং 'কল্লোল যুগ' নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫৪.
'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত-
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত একটি নাটক।

• নীলিমা ইব্রাহিম:

- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,০৫৫.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. লুইপা
  2. ভুসুকুপা
  3. কাহ্নপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা

শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি:
• "উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৫৬.
‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো' উক্তিটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক যে সাহিত্যকর্ম থেকে নেওয়া -
  1. নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি
  2. জীবন থেকে নেয়া
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. জাহান্নম হইতে বিদায়
ব্যাখ্যা

‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো’ এই উক্তিটি জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস ‘আরেক ফাল্গুন’ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আরেক ফাল্গুন:

- জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন' ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে- ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে এই উপন্যাসে।

• এই উপন্যাসের চরিত্র - 
- মুনিম, 
- আসাদ, 
- রসুল, 
- সালমা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জহির রায়হান রচিত ‘জীবন থেকে নেয়া’ ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' সেলিনা হোসেনের ভাষা আন্দোলন ভিত্তিক উপন্যাস।
- শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক উপন্যাস 'জাহান্নম হইতে বিদায়'।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,০৫৭.
নিচের কোন উপন্যাসটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা নয়?
  1. দেবদাস
  2. শেষ প্রশ্ন
  3. পণ্ডিতমশাই
  4. মৃত্যুক্ষুধা
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মৃত্যুক্ষুধা - কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; শরৎ রচনাবলী।

৩,০৫৮.
কোন কবি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. আব্দুল হাকিম
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ
- সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৫৯.
ভাষা আন্দোলন নির্ভর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জীবন ক্ষুদা
  3. গ) আরেক ফালগুণ
  4. ঘ) আনন্দের মৃত্যু
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন। প্রকাশকাল - ১৯৬৮ সাল। এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে লেখা। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো’ যা প্রণিধানযোগ্য। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬০.
নিচের কোনটি বিংশ শতাব্দীর পত্রিকা?
  1. মোসলেম ভারত
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববােধিনী
  4.  সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

‘মোসলেম ভারত’:
-  ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।

- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।
- ‘মোসলেম’ শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।

অন্যদিকে,
বঙ্গদর্শন পত্রিকা:

- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে,
- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকাটি বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।
- অন্যদিকে, বঙ্গদর্শন, তত্ত্ববোধিনী ও সংবাদ প্রভাকর - উনিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩,০৬১.
কোনটি শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প?
  1. রেইনকোট
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. জন্ম যদি তব বঙ্গে
  4. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্প ‘জন্ম যদি তব বঙ্গে’।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত ‘রেইনকোট’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' - রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক কবিতা।

-----------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস :
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক :
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ :
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো:
- নেকড়ে অরণ্য,
- দুই সৈনিক,
- জাহান্নম হইতে বিদায় এবং
- জলাংগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৬২.
'প্রফুল্ল' নাটকটি কার লেখা?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. মামুনুর রশিদ
  3. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  4. জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ বিয়োগান্ত নাটক প্রফুল্ল।
• তাঁর রচিত পৌরাণিক নাটকঃ
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- জনা,
- অভিমুন্যবধ,
- পাণ্ডব গৌরব ইত্যাদি।
• তাঁর ঐতিহাসিক নাটকঃ
- সিরাজউদ্দৌলা,
- মীর কাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩,০৬৩.
‘কোন এক মাকে’- বিখ্যাত কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১) -- তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থঃ - সাতনরী হার (১৯৫৫)।
অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ -- কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০), কমলের চোখ (১৯৭৪), আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১,
তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ) -- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩), আমার সময় (১৯৮৭), নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১), আমার সকল কথা (১৯৯৩), খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।
‘কোন এক মাকে’ তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর]
৩,০৬৪.
‘সবুজপত্র’ কি?
  1. নাটক
  2. উপন্যাস
  3. সাময়িকপত্র
  4. গদ্যসংকলন
ব্যাখ্যা
- সবুজপত্র বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকপত্র।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬৫.
'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।'- সংলাপটি কোন রচনার অন্তর্ভুক্ত?
  1. পথের দাবী
  2. কবর
  3. আরেক ফাল্গুন
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
• 'এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর, এরা এভাবে কবরে যাবে না।'- সংলাপটি মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' নাটকের অন্তর্ভুক্ত।

• 'কবর' নাটক:
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

'কবর' নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়।

- পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'কবর' নাটক।
৩,০৬৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ‘তন্বী’ কাব্যগ্রন্থটি কাকে উৎসর্গ করেছেন?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

- ‘তন্বী’ কাব্যটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচনা করেন। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ সালে।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তন্বী কাব্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেছেন।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩,০৬৭.
আরাকান রাজসভার আদি কবি কে?
  1. ক) মাগন ঠাকুর
  2. খ) শমসের আলী
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
আরাকান রাজসভার আদি কবি ও প্রথম বাঙালি কবি দৌলত কাজী। তিনি লৌকিক কাহিনীর প্রথম রচয়িতা। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'। এটি হিন্দি কবি সাধনের 'মৈনাসত' কাব্য অবলম্বনে তিন খন্ডে রচিত। আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ হলেন- আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, মরদন, আবদুল করিম খন্দকার, শমসের আলী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম এর নিষিদ্ধ প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) বিষের বাঁশি
  2. খ) ভাঙ্গার গান
  3. গ) সাম্যের গান
  4. ঘ) যুগবাণী
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম এর নিষিদ্ধ প্রবন্ধ - যুগবাণী।

• প্রবন্ধের গ্রন্থ ‘যুগবাণী' ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবরে প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের প্রথম প্রবন্ধের বই। প্রকাশের প্রায় সঙ্গে সঙ্গে (২৩শে নবেম্বর, ১৯২২) সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে নিষেধাজ্ঞা ওঠে যায়। নবযুগ, ধর্মঘট, সত্য-শিক্ষা, ভাব ও কাজ, জাতীয় শিক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জাগরণী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ। প্রবন্ধগুলোতে স্বদেশি চিন্তাচেতনা ও ব্রিটিশ বিরোধিতা প্রকাশিত।

- বিষের বাঁশি - নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ
- ভাঙ্গার গান - নিষিদ্ধ কাব্যগ্রন্থ

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৬৯.
‘বেদান্তচন্দ্রিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. গোলোকথান শর্মা
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• 'বেদান্তচন্দ্রিকা' গ্রন্থটির রচয়িতা মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার।
- গ্রন্থটি ১৮১৭ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:

- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পণ্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা।

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

-------------------------------
• ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০০); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭০.
‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. নয়া বসত
  2. সাদা হাওয়া
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. দু রঙা প্রজাপতি
ব্যাখ্যা
 ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। এটি প্রথম মাসিক ‘মোহাম্মদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর সমাজের রীতিনীতি, ধর্ম-সংস্কার, উৎসব ও জীবনযাপনের অনবদ্য কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
• উপন্যাসটি ৪ খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, কিশোর, বাসন্তী ও করমালীর চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনি রূপ দিয়েছেন।
• উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্র বাসন্তী এবং প্রধান পুরুষ চরিত্র কিশোর।
• ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক এর কাহিনি অবলম্বন করে একই নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

উপন্যাসের কিছু উক্তি হলো:
• ‘তোমার আমার ঘরই নাই, তার আবার মানুষ।’- করমালীর উক্তি।
• ‘সে এখন পরের বাড়ির কাঁথা সিলাই করে, আর সে সুইয়ের ফোড় আমার বুকে আইয়া বিন্ধে।’-করমালীর উক্তি।
• ‘হেই পুলা, তুই আমার নাওয়ে যাইবি? আমি খালে-বিলে জাল লইয়া ঘুরি, মাছ ধরি- মাছ বেচি, নাওয়ে রান্ধি-নাওয়ে খাই।’ উক্তিটি কিশোরের।
• ‘মনের মত মানুস পাইলাম না।’ উপন্যাসে উক্তি বলেছেন জনৈক মালো যুবক।

------------------------------
• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭১.
'অধ্যাপক রায়হান' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. নেকড়ে অরণ্য
  2. ক্রীতদাসের হাসি
  3. আগুনের পরশমণি
  4. যাত্রা
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ। উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস।
৩,০৭২.
'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র কোনটি?
  1. মৃন্ময়ী
  2. চন্দরা
  3. মেহের আলি
  4. সুরবালা
ব্যাখ্যা

• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।

অন্যদিকে,
- 'সমাপ্তি' ছোটগল্পের চরিত্র 'মৃন্ময়ী'।
- 'শাস্তি' ছোটগল্পের নায়িকা 'চন্দরা'।
- 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- তিনি অসংখ্য কবিতা, গান, ছোটগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, ভ্রমণকাহিনী, চিঠিপত্র রচনা করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- বাংলাদেশের শাহজাদপুর, পতিসর, কালিগ্রাম ও শিলাইদহে আসেন।
- তিনি ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৭৩.
'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা
খোয়াবনামা:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত মহাকাব্যোচিত উপন্যাস খোয়াবনামা (১৯৯৬)।
- উপন্যাসটির বিষয়বস্তুতে বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবানালেখ্যসহ
- ফকির-সন্যাসী বিদ্রোহ,
- আসামের ভূমিকম্প,
- তেভাগা আন্দোলন,
- ১৯৪৩ সালের মন্বন্তর,
- পাকিস্তান আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান এই উপন্যাসে নিপুণভাবে উপস্থিত করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:

- তিনি একজন কথাসাহিত্যিক।
- বাংলা ভাষা ও বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮২ সালে ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 
- তিনি ১৯৯৬ সালেকলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’  লাভ করেন।

 তাঁর সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামার।

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৪.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ - 
  1. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  2. ভাষার ইতিবৃত্ত
  3. ব্যাকরণ কৌমুদী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থটির নাম হলো "গৌড়ীয় ব্যাকরণ"।
- সুকুমার সেন রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ হলো "ভাষার ইতিবৃত্ত"।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গদ্যগ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩,০৭৫.
'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা -
  1. আবু ইসহাক
  2. আহসান হাবীব
  3. রফিক আজাদ
  4. শামসুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'বিদীর্ণ দর্পণে মুখ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 'আহসান হাবীব'। 

• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
-  সারা দুপুর,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ।

তাঁর দুটি বিশিষ্ট  উপন্যাস হলো: 
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান,
- ছুটির দিন দুপুরে,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩,০৭৬.
আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী
  2. ওঙ্কার
  3. গাভী বিত্তান্ত
  4. সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- অলাতচক্র ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৭৭.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য কোনটি?
  1. ক) আর্যগাথা
  2. খ) আলেখ্য
  3. গ) ত্রীবেণী
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত প্রথম কাব্য 'আর্যগাথা'।
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে। 
- লেখক ছাত্রাবস্থায় এ কাব্যটি প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর রচিত ইংরেজি কাব্যগ্রন্থের নাম Lyrics of Ind. 
তাঁর রচিত ব্যঙ্গ কবিতা- 
- আষাঢ়ে
- হাসির গান 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৭৮.
'বিদ্যাসুন্দর' ও 'মানসিংহ' কোন কাব্যের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র?
  1. মনসামঙ্গল কাব্য
  2. চণ্ডীমঙ্গল কাব্য
  3. অন্নদামঙ্গল কাব্য
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা

• অন্নদামঙ্গল কাব্য:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র আঠার শতকের শ্রেষ্ঠ কবি। তাকে মধ্যযুগের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয়।
- তিনি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও মর্যাদার অধিকারী।
- মঙ্গলকাব্য ধারার শেষ কবি ভারতচন্দ্র বিদ্যাসুন্দর কাহিনিরও শ্রেষ্ঠ কবি রূপে পরিগণিত।
- কবি ভারতচন্দ্রের প্রতিভার শ্রেষ্ঠ নিদর্শন 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য।
- 'কালিকামঙ্গল' ও 'বিদ্যাসুন্দর' এই কাব্যের অংশমাত্র।
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে'- এটা অন্নদামঙ্গল কাব্যের চরিত্র ঈশ্বরী পাটনীর উক্তি।

• এই কাব্যের প্রধান চরিত্র-
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী, ইত্যাদি।

উৎস:
১। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
২। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৭৯.
কামিনী রায় রচিত কোন গ্রন্থের ভূমিকা হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন?
  1. ক) দীপ ও ধূপ
  2. খ) মাল্য ও নির্মাল্য
  3. গ) আলো ও ছায়া
  4. ঘ) অশোক সঙ্গীত
ব্যাখ্যা
কামিনী রায় (১৮৬৪-১৯৩৩): কবি ও সমাজকর্মী।
“জনৈক বঙ্গমহিলা” ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন কামিনী রায়। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে; হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো: নির্মাল্য (১৮৯১), পৌরাণিকী (১৮৯৭), গুঞ্জন (শিশুকাব্য, ১৯০৫), ধর্ম্মপুত্র (অনুবাদ, ১৯০৭), মাল্য ও নির্মাল্য (১৯১৩), অশোক সঙ্গীত (সনেট, ১৯১৪), অম্বা (নাটক, ১৯১৫), বালিকা শিক্ষার আদর্শ (১৯১৮), ঠাকুরমার চিঠি (১৯২৪), দীপ ও ধূপ (১৯২৯), জীবনপথে (সনেট, ১৯৩০)।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৩,০৮০.
'ললিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের চরিত্র? 
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা
  3. নৌকাডুবি
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গোরা' উপন্যাসটি অনেকের মতে তার শ্রেষ্ঠ উপন্যাস যা ১৯১০ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সাল থেকে ১৯১০ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগের ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম এবং নারীমুক্তিচিন্তার পটভূমিকায় এই আখ্যান গড়ে উঠেছে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক 'গোরা' সিপাহি বিপ্লবের সময় নিহত এক আইরিশ দম্পতির সন্তান। 
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- 
• গোরা, 
• পরেশবাবু, 
• সুচুরিতা, 
• পানবাবু, 
ললিতা
• বিনয়, 
• বরদা সুন্দরী, 
• কৃষ্ণদয়াল, 
• আনন্দময়ী প্রমুখ। 

অন্যদিকে, 
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের চরিত্র- নিখিলেস ও বিমলা।
- যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র মধুসূদন ও কুমুদিনী। 
- নৌকাডুবি উপন্যাসের চরিত্র- রমেশ, কমলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
৩,০৮১.
নিচের কোনটি উপন্যাস?
  1. ক) জোঁক
  2. খ) হারেম
  3. গ) জাল
  4. ঘ) রেইনকোট
ব্যাখ্যা
'জাল' একটি উপন্যাস। এটি আবু ইসহাকের গোয়েন্দা উপন্যাস।
পদ্মার পলিদ্বীপ, সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাস দুটির রচয়িতাও আবু ইসহাক।
'জোঁক' তাঁর রচিত ছোটগল্প। হারেম ও মহাপতঙ্গ - তাঁর গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩,০৮২.
’একুশে ফেব্রুয়ারী’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারি' উপন্যাসের রচয়িতা - জহির রায়হান

জহির রায়হান:
- জহির রায়হানের জন্ম ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে।
- তাঁর আসল নাম ছিল জহিরুল্লাহ।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জহির রায়হান নামে পরিচিত হন।
- তিনি ১৯৫২ সালে তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে (প্রথম উপন্যাস),
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত,
- তৃষ্ণা,
- আরেক ফাল্গুন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৮৩.
কোনটি সৈয়দ আলী আহসান রচিত আত্মজীবনী?
  1. আমার প্রতিদিনের শব্দ
  2. অনেক আকাশ
  3. আমার সাক্ষ্য
  4. একক সন্ধ্যায় বসন্ত
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আলী আহসান:
- ১৯২০ সালে মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আলী হামেদ ছিলেন একজন স্কুল ইন্সপেক্টর।
- তিনি কর্মজীবনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন।
- রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ।
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত।
- সহসা সচকিত।
- উচ্চারণ।
- আমার প্রতিদিনের শব্দ।
- সমুদ্রেই যাবো।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।
- নজরুল ইসলাম।
- রবীন্দ্র কাব্যবিচারের ভূমিকা।
- কবিতার কথা ও অন্যান্য বিবেচনা।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- আমার সাক্ষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৮৪.
"তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!"
- কোন কবির রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শামসুর রাহমান
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

''হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর কেঁদো নাকো উড়ে উড়ে ধানসিঁড়ি নদীটির পাশে!
তোমার কান্নার সুরে বেতের ফলের মতো তার ম্লান চোখ মনে আসে!
পৃথিবীর রাঙা রাজকন্যাদের মতো সে যে চলে গেছে রূপ নিয়ে দূরে;
আবার তাহারে কেন ডেকে আনো? কে হায় হৃদয় খুঁড়ে
বেদনা জাগাতে ভালোবাসে!
হায় চিল, সোনালী ডানার চিল, এই ভিজে মেঘের দুপুরে
তুমি আর উড়ে-উড়ে কেঁদো নাকো ধানসিড়ি নদীটির পাশে!''

-''হায় চিল'' কবিতা;
রচয়িতা - জীবনানন্দ দাশ।

- কবিতাটি ''বনলতা সেন'' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- এই কবিতায় ইংরেজ কবি W.B Yeats এর “He reproves the curlow” - কবিতার মিল রয়েছে।

উৎস: বাংলা কবিতা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৮৫.
'গীতিগুঞ্জ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) অতুল প্রসাদ সেন
  3. গ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
অতুলপ্রসাদ বাংলা গানে ঠুংরি ধারার প্রবর্তক। তিনিই প্রথম বাংলায় গজল রচনা করেন। তার রচিত বাংলা গজলের সংখ্যা ৬-৭টি। গীতিগুঞ্জ (১৯৩১) গ্রন্থে তার সমুদয় গান সংকলিত হয়। এই গ্রন্থের সর্বশেষ সংস্করণে (১৯৫৭) অনেকগুলি অপ্রকাশিত গান প্রকাশিত হয়। অতুলপ্রসাদের গানের সংখ্যা ২০৮। অতুলপ্রসাদ সেনের কয়েকটি বিখ্যাত গান হল মিছে তুই ভাবিস মন, সবারে বাস রে ভালো,বঁধুয়া, নিঁদ নাহি আঁখিপাতে, একা মোর গানের তরী, কে আবার বাজায় বাঁশি, ক্রন্দসী পথচারিণী ইত্যাদি। তার রচিত দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে প্রসিদ্ধ উঠ গো ভারত-লক্ষ্মী, বলো বলো বলো সবে, হও ধরমেতে ধীর। তার মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা! গানটি বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অণুপ্রেরণা জুগিয়েছিল। অতুলপ্রসাদের গানগুলি দেবতা, প্রকৃতি, স্বদেশ, মানব ও বিবিধ নামে পাঁচটি পর্যায়ে বিভক্ত। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই গানের বিশেষ গুণগ্রাহী ছিলেন। অতুলপ্রসাদী গান নামে পরিচিত এই ধারার একজন বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী হলেন কৃষ্ণা চট্টোপাধ্যায়।
৩,০৮৬.
অনুবাদ সাহিত্য 'এলিয়টের কবিতা' এর রচয়িতা কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
• 'এলিয়টের কবিতা' অনুবাদ করেন - বিষ্ণু দে। 
----------------- 
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই  কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।
 
• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৮৭.
নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন কোন কবি?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ডি. এল. রায়
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কবি, নাট্যকার, গীতিকার। তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।
- দ্বিজেন্দ্রলাল রচিত জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গানগুলির মধ্যে ‘বঙ্গ আমার জননী আমার’, ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’ ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• তাঁর রচিত রোম্যান্টিক পৌরাণিক নাটক:
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহল বিজয়।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৮৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. জ্ঞানদাস
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৮৯.
আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  2. খ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
  3. গ) অরণ্যে নীলিমা
  4. ঘ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
ব্যাখ্যা
'অরণ্যে নীলিমা' আহসান হাবীব রচিত উপন্যাস। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে। 
- তাঁর অপর একটি উপন্যাস রানী খালের সাঁকো (১৯৬৫)। 

আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবিব-এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।   

আহসান হাবীব রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত)
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- ছায়া হরিণ
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ

শিশুতােষ গ্রন্থ:
- ছােটদের পাকিস্তান
- ছুটির দিন দুপুরে
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯০.
সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ করেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চণ্ডীচরণ মুনশী
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিদ্যোৎসাহিনী সভাতে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:
• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

• সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খণ্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও কালীপ্রসন্ন সিংহের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৩,০৯১.
'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• 'আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

‘শ্যামলী' কাব্যগ্রন্থ:
• ‘শ্যামলী' (১৯৩৬) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
• এ গ্রন্থের নাম দেয়া হয়েছে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মাটির ঘরের নামে। এটি মোট বাইশটি কবিতার সংকলন। 
• এগুলো গদ্যকবিতার বিশেষ উদাহরণ। ‘পুনশ্চ' কাব্যগ্রন্থের সঙ্গে এর মিল আছে।
• ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ', ‘বাঁশিওয়ালা’, ‘হঠাৎ দেখা' প্রভৃতি পরিচিতি পক্তি বা কবিতাগুলি এ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
• রবীন্দ্রনাথের-কাব্যজীবনের শেষ পর্বের নিরলঙ্কারী ভাষা, উদাসীনতা ও জীবনের প্রতি আসক্তির বিরোধী অনুভূতি ‘শ্যামলী' কাব্যের বৈশিষ্ট্য।

---------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩,০৯২.
নিচের কোন কাব্যটি হিন্দি ভাষার রচনা থেকে অনূদিত?
  1. পদ্মাবতী
  2. হপ্তপয়কর
  3. সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল
  4. সিকান্দরনামা
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী' কাব্য:
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।
- হিন্দি কাব্যে সুফিবাদের প্রতিফলন আছে, কিন্তু বাংলায় তা লৌকিক প্রেমকাব্যে পরিণত হয়েছে।
--------------------- 
• আলাওল: 
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- ‘পদ্মাবতী’ তার প্রথম ও শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য, মাগন ঠাকুরের উৎসাহে তিনি এই কাব্য রচনা করেন।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দি কাব্য পদুমাবৎ অবলম্বনে তিনি এটি রচনা করেন।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- পদ্মাবতী (মালিক মুহম্মদ জায়সীকৃত হিন্দি পদুমাবত থেকে রচিত),
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী (সাধনকৃত 'মৈনাসত' থেকে),
- হপ্তপয়কর (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি 'হফত্ পয়কর' থেকে),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (গাওয়াসীকৃত ফারসি সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল থেকে) ও
- সিকান্দরনামা (নিজামী গঞ্জভীকৃত ফারসি সিকান্দরনামা অনুসরণে)।

নীতিকাব্য:
- তোহফা (ইউসুফ গদাকৃত ফারসি তুহুফ-ই-নসাঈহ থেকে)

সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য:
- রাগতালনামা (মৌলিক গ্রন্থ)।

এ ছাড়াও বৈষ্ণবপদের অনুরূপ তাঁর কিছু গীতিকবিতা আছে।
- রাগতালনামা ও গীতিকবিতাগুলি তাঁর মৌলিক রচনা, অন্যগুলি অনুবাদমূলক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,০৯৩.
'মহাকবি আলাওল' নাটকটি কে রচনা করেছেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'মহাকবি আলাওল' নাটকটি রচনা করেছেন- সিকান্‌দার আবু জাফর।  

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালের ১৯শে মার্চ তৎকালীন তেঁতুলিয়া গ্রাম, খুলনায় বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। 
- তিনি দৈনিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক, দৈনিক 'মিল্লাত' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 
- 'আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই' এই বিখ্যাত গানটি তিনি রচনা করেন। 
- তিনি ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
কবিতা: 
- প্রসন্ন প্রহর
- বৈরীবৃষ্টিতে
- তিমিরান্তক 
- কবিতা 
- বৃশ্চিকলগ্ন ইত্যাদি।

নাটক:
- শকুন্ত উপাখ্যান 
- সিরাজ-উ-দ্দৌলা
- মহাকবি আলাওল ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু
- জয়ের পথে 
- পূরবী 
- নবী কাহিনী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৪.
"সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়ঃ জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।"বিখ্যাত উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- ‘কিশোর কবি’ সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।

- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।

- তাঁর বিখ্যাত কিছু উক্তি:
• 'হিমালয় থেকে সুন্দরবন, হঠাৎ বাংলাদেশ কেঁপে কেঁপে ওঠে পদ্মার উচ্ছ্বাসে।',
• 'অবাক পৃথিবী অবাক করলে তুমি, জন্মেই দেখি ক্ষুদ্র স্বদেশ ভূমি।',
• 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।',
• 'সাবাস, বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে-মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়।',
• 'এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩,০৯৫.
“মহুয়া পালা” কে রচনা করেছেন?
  1. ক) দ্বিজকানাই
  2. খ) মনসুর বয়াতী
  3. গ) গরীবউল্লাহ
  4. ঘ) নয়ন চাঁদ ঘোষ
ব্যাখ্যা

- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

- মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্রঃ
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

সোর্সঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩,০৯৬.
নিচের যেটি অনুদিত কবিতার দৃষ্টান্ত -
  1. ক) স্বাধীনতা
  2. খ) জীবন-সঙ্গীত
  3. গ) ছায়াময়ী
  4. ঘ) শূরসুন্দরী
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় অনূদিত ‘জীবন-সঙ্গীত’ কবিতাটি লংফেলোর The Paslm of Life ইংরেজি কবিতার ভাবানুবাদ।

উৎস- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৩,০৯৭.
সাহিত্যজগতে নাট্যকার হিসেবে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে কোন নাটক প্রকাশের মধ্যদিয়ে?
  1. গিনিপিগ
  2. ওরা কদম আলী
  3. সমতট
  4. ওরা আছে বলেই
ব্যাখ্যা
⇒ ওরা কদম আলী:
- ১৯৭৮ সালে 'ওরা কদম আলী' প্রকাশের মধ্যদিয়ে মামুনুর রশীদের আবির্ভাব ঘটে নাট্যকার হিসেবে।
- শোষিত-নিপীড়িত বঞ্চিত মানুষের জন্য নাটক লিখতে গিয়ে তিনি নাটকে নিয়ে এসেছেন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ চেতনা।
- আর বঞ্চিত, শোষিত মানুষের শ্রেণিসংগ্রামের রূপকার হিসেবে মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলী' নাটক সমকালীন বাংলা নাট্য-সাহিত্যের ধারায় যুক্ত করেছেন বিশিষ্ট মাত্রা। গরিব ও মেহনতি মানুষের ব্যক্তিক প্রতিবাদ সামষ্টিক রূপ কীভাবে পরিগ্রহ করে কদম আলী নামের একটি বোবা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ নাটকে তা দেখানো হয়েছে। 

===========
⇒ মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৮.
'পদ্মাবতী' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. তোহফা
  2. লাইলী ওয়া মজনুন
  3. সিকান্দারনামা
  4. পদুমাবৎ
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩,০৯৯.
'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. কায়কোবাদ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থ:
কায়কোবাদ রচিত অশ্রুমালা একটি গীতিকাব্য, যা ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থের মূল সুর প্রেম। 
- তবে প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণবোধও এ কাব্যে খুব লক্ষ করা যায়।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩,১০০.
“শাহনামা” কোন ভাষায় রচিত?
  1. ক) আরবি
  2. খ) ফারসি
  3. গ) উর্দু
  4. ঘ) ফরাসি
ব্যাখ্যা

‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী।
এটি ফারসি ভাষায় রচিত হয়েছে।
এই মহাকাব্যটি পারস্যের বা ইরানের অন্যতম প্রসিদ্ধ সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা এনসাইক্লোপিডিয়া।