বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২৪ / ২১১ · ২,৩০১২,৪০০ / ২১,১৩২

২,৩০১.
‘বন্ধু বিয়োগ’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• ‘বন্ধু বিয়োগ’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩০২.
'আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নজিবর রহমান
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খণ্ড: ১ম খণ্ড ১৯০৪, ২য় খণ্ড ১৯২২),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।

• Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন 'সুলতানার স্বপ্ন' নামে। এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• মতিচূর ২য় খণ্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৩.
মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কী বলা হয়?
  1. বৈষ্ণক
  2. বাইশা
  3. গীতকার
  4. পদকর্তা
ব্যাখ্যা

মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'। একে পদ্মপুরাণ বলে অভিহিত করা হয়।
- বাংলার প্রাকৃত জীবন, এবং লৌকিক জীবনাচার থেকে উদ্ভব ঘটেছে, মনসামঙ্গল কাব্যের।
- মনসামঙ্গল কাব্যের কবিদের কে বলা হয়- বাইশা। 'বাইশা' বলতে বোঝায় বাইশজন কবি রচিত মনসামঙ্গলের বিভিন্ন অংশের সংকলন।
- মনসামঙ্গল কাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য কবিরা হলেন- নারায়ন দেব, বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রভৃতি।
- মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানা হরিদত্ত।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩০৪.
নিচের কোনটি শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হারখণ্ড
  2. দানখণ্ড
  3. বৃন্দ খণ্ড
  4. যমুনা খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- কবির ভণিতায় 'চণ্ডীদাস' এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘বড়ু চণ্ডীদাস' পাওয়া যাওয়ায় এই গ্রন্থের কবি হিসেবে বড়ু চণ্ডীদাসকে গ্রহণ করা হয়।
-শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।

- এটি মোট ১৩ খণ্ডে  ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খণ্ড গুলি হলো:
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বূল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালীয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হারখণ্ড,
- বাণখণ্ড,
- বংশীখণ্ড ও
- বিরহখণ্ড  (রাধাবিরহ)।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।
- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি কৃষ্ণ, রাধা ও বড়াই (দূতী)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৫.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'- অংশটুকু কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. স্বাধীনতা তুমি
  2. শহীদ স্মরণে
  3. একুশে ফেব্রুয়ারি
  4. মানচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল<br />অনলজ্বালা, দু&rsquo;চোখে তার<br />শত্রু হননের আহবান।'- উদ্ধৃতাংশটির রচয়িতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। 
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
২,৩০৬.
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯২৭ সালে
  4. ১৯২৯ সালে
ব্যাখ্যা
• শিখা পত্রিকা:
- শিখা পত্রিকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- এটি বার্ষিক পত্রিকা ছিল।
- এর সর্বমোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রথম সংখ্যার (১৯২৭) সম্পাদক আবুল হোসেন,
- 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো।

• ঢাকা মুসলিম সাহিত্য-সমাজ:
- ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল শিক্ষক ও ছাত্রের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সংগঠনটির পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন, মুসলিম হলের ছাত্র এ.এফ.এম আবদুল হক, ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র আবদুল কাদির প্রমুখের ওপর। তারাই ছিলেন প্রথম কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য।
- নেপথ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতেন ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক কাজী আবদুল ওদুদ ও যুক্তিবিদ্যার অধ্যাপক কাজী আনোয়ারুল কাদীর।

• মুসলিম সাহিত্য-সমাজের প্রধান লেখকরা হলেন-
- আবুল হুসেন,
- মোতাহের হোসেন চৌধুরী,
- কাজী আবদুল ওদুদ,
- আবদুল কাদির,
- আবুল ফজল,
- আনোয়ারুল কাদির প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৭.
প্রথম বাংলা ভাব অভিধান সংকলন করেছেন _
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) জগন্নাথ চক্রবর্তী
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার প্রথম ভাব-অভিধান যথাশব্দ
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
২,৩০৮.
'বিশ্বপরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত-
  1. বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. পত্রসংকলন
  4. শিল্প সভ্যতা বিষয়ক গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বপরিচয়':
- 'বিশ্বপরিচয়' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ।
- ভাষারীতি এবংরবীন্দ্রনাথের বিজ্ঞানচিন্তার নিদর্শন হিসাবে গ্রন্থটি মূল্যবান।
- 'বিশ্বপরিচয়' ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী ও চিঠিপত্র:
- জীবনস্মৃতি,
- চরিত্রপূজা,
- ছেলেবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৯.
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ কে বলেছেন?
  1. আহমদ শরীফ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
‘ষোল নয়, আমার মাতৃভাষার ষোলশত রূপ’ উক্তিটির রচয়িতা অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী।
২,৩১০.
'অগ্নি-গিরি’ গল্পটি কাজী নজরুলের কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. ব্যথার দান
  3. ঝিলিমিলি
  4. রিক্তের বেদন
ব্যাখ্যা
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থ:
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।
'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

তাঁর অন্য গল্পগ্রন্থ:
- ব্যাথার দান ,
- রিক্তের বেদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১১.
‘চাচা কাহিনীর’ লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• 'চাচা- কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'। 

• সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনী।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১২.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত হোমারের 'ইলিয়াড' মহাকাব্যের বঙ্গানুবাদ কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. তিলোত্তমাসম্ভব
  3. হেক্টরবধ
  4. ব্রজাঙ্গনা
ব্যাখ্যা

হেক্টরবধ:
- 'হেক্টরবধ' হোমারের 'ইলিয়াড' এর বঙ্গানুবাদ মূলক কাব্য (অসমাপ্ত)।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যটি ১৮৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রিক পুরাণে হেক্টর একজন ট্রোজান রাজকুমার ছিলেন এবং ট্রয়ের যুদ্ধে ট্রয় সেনার প্রধান যোদ্ধা ছিলেন।
- তিনি ট্রয় রক্ষায় ট্রয় সেনা ও তাঁর মিত্রদের পক্ষে নেতৃস্থানীয় ছিলেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট এবং অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩১৩.
'সূর্যাস্তের পর' নাটকটির রচয়িতা -
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. রাবেয়া খাতুন
  3. রিজিয়া খাতুন
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'সূর্যাস্তের পর' নাটকটির রচয়িতা - নীলিমা ইব্রাহিম
- এটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), জয়বাংলা পুরস্কার ভারত (১৯৭৩), লেখিকা সংঘ পুরস্কার (১৯৮৯), বেগম রোকেয়া পদক (১৯৯৬) পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি

তাঁর রচিত গল্প:
- রমনা পার্কে

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- বিন্দু বিসর্গ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১৪.
"মতিলাল" চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. দুর্গেশনন্দিনী
  2. চোখের বালি
  3. বউ ঠাকুরানীর হাট
  4. আলালের ঘরের দুলাল
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল'।
- আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসটি ১৮৫৮ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায়।
- উপন্যাসে ধনী বাবুরামের পুত্র মতিলাল কুসঙ্গে পড়ে এবং শিক্ষার ব্যাপারে পিতার অবহেলা তাকে অধঃপতনে নিয়ে যায়।
- পিতার মৃত্যুর পর মতিলাল তার বাবার প্রাপ্ত সব সম্পত্তি নষ্ট করে ফেলে।
- উপন্যাসটিতে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো মোকাজান মিয়া বা ঠকচাচা।
- এছাড়াও চরিত্রে রয়েছে, বাবুরাম, বাবুরামের পুত্র মতিলাল, ধূর্ত উকিল বটলর, অর্থলোভী বাঞ্ছারাম, তোষামোদকারী বক্রেশ্বর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১৫.
কোনটি আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা?
  1. একুশের কবিতা
  2. একুশের গান
  3. একুশের গল্প
  4. একুশে ফেব্রুয়ারী 
ব্যাখ্যা

- আল মাহমুদ এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা: একুশের কবিতা।

• “একুশের কবিতা”:

- আল মাহমুদের “একুশের কবিতা” ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও আবেগকে কেন্দ্র করে রচিত একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য কবিতা।
- এতে ১৯৫২ সালের রক্তঝরা আন্দোলনের প্রতি গভীর সম্মান ও শোকগাথা ফুটে উঠেছে।
- এই কবিতার কিছু উল্লেখযোগ্য পংক্তি: 
- "প্রভাতফেরির মিছিল যাবে / ছড়াও ফুলের বন্যা,
বিষাদগীতি গাইছে পথে / তিতুমীরের কন্যা।
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়? বরকতের রক্ত।"
-----------------------------
আল মাহমুদ: 
- আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস - সব শাখাতেই তাঁর বিচরণ থাকলেও, আল মাহমুদ কবি হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত।
- তাকে বলা হয় সোনালী কাবিনের কবি।

∗ তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থগুলো:
- লোক লোকান্তর (কাব্যগ্রন্থ);
- সোনালী কাবিন (কাব্যগ্রন্থ);
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো (কাব্যগ্রন্থ);
- বখতিয়ারের ঘোড়া (কাব্যগ্রন্থ);
- কাবিলের বোন (মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস)
- পানকৌড়ির রক্ত (গদ্যগ্রন্থ);
- একুশের কবিতা (ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা)।
--------------------------------
অন্যদিকে,
• 'একুশের গান' মহাদেব সাহা রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটি কবিতা।
- মহাদেব সাহা একজন বিখ্যাত বাংলাদেশী কবি, যিনি তাঁর রোমান্টিক গীতিকবিতার জন্য পরিচিত।

• '
একুশের গল্প' হচ্ছে জহির রায়হান এর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ছোটগল্প। 
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশী চলচ্চিত্র পরিচালক, ঔপন্যাসিক, এবং গল্পকার। 
- তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে: 'জীবন থেকে নেওয়া' (চলচ্চিত্র), 'স্টপ জেনোসাইড' (তথ্যচিত্র) এবং 'হাজার বছর ধরে' (উপন্যাস)।

• হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সংকলন।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে। 
- এই সংকলনে ভাষা আন্দোলনের আদর্শকে তুলে ধরতে প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, গান, নকশা থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক বিবরণসহ নানা ধরনের লেখা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।

২,৩১৬.
আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বিশ শতকের মেয়ে
  2. খ) বাঙালি মুসলমানের মন
  3. গ) বিশ শতকের বাঙালি
  4. ঘ) বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
ব্যাখ্যা
বিশ শতকের বাঙালি, বিচিত চিন্তা, স্বদেশ অন্বেষা, স্বদেশ চিন্তা, সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। বাঙালি মুসলমানের মন ও বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩১৭.
বদরুদ্দীন উমর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কোনটি?
  1. আমি বিজয় দেখেছি
  2. একাত্তরের বিজয়
  3. যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ
  4. একাত্তরের রণাঙ্গন
ব্যাখ্যা
• ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’:
- ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ বদরুদ্দীন উমর রচিত ও সম্পাদিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
- যে প্রবন্ধগুলি এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সেগুলি সবই ১৯৭০ সালের ফেব্রুয়ারী থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক 'গণশক্তি' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।
- তখন 'গণশক্তি'র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে বদরুদ্দীন উমর পত্রিকাটি সম্পাদনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করতেন।
- 'যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ' নামে মুজিব আমলে লিখিত রাজনৈতিক প্রবন্ধগুলির যে সংকলন ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলির সাথে 'যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ' নামক এই সংকলনের প্রবন্ধগুলি মিলিয়ে পাঠ করলে চিন্তার ধারাবাহিকতা সহজেই বোঝা যাবে। 

অন্যদিকে,
• শামসুল হুদা চৌধুরী রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘একাত্তরের রণাঙ্গন’ ‘একাত্তরের বিজয়’।
• এম এ আখতার মুকুল রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ  'আমি বিজয় দেখেছি'।

---------------------
• বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমানে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলো হলো: 
- সাম্প্রদায়িকতা।
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা।
- পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ।
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ।
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও সাংস্কৃতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ’ প্রবন্ধগ্রন্থ।
২,৩১৮.
'কলমসৈনিক'— কার উপাধি?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল হক
  3. আবদুল করিম 
  4. শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা

• 'কলমসৈনিক' - আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩১৯.
ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কোন প্রতিষ্ঠানের স্বপ্নদ্রষ্টা?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমির:

- বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা : ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ। 
- প্রথম প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (স্পেশাল অফিসার) : মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ।
- প্রথম পরিচালক : ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
- প্রথম মহাপরিচালক : অধ্যাপক মযহারুল ইসলাম।
- প্রথম সভাপতি : মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট
২,৩২০.
মধ্যযুগে কোনটি মুখ্য ছিল?
  1. ক) মানবতা
  2. খ) প্রেম
  3. গ) স্বাজাত্যবোধ
  4. ঘ) ধর্ম
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা।
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য হয়ে ওঠে, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩২১.
কায়কোবাদের 'অশ্রুমালা' কাব্যগ্রন্থের মূল সুর কী?
  1. ধর্মীয় ভাবনা ও আবেগ
  2. দেশপ্রেম ও বিরহ
  3. প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ
  4. দার্শনিক চিন্তাধারা ও ধর্মীয় ভাবনা
ব্যাখ্যা

অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থের মূল সুর: প্রেম-বেদনা, আবেগ ও আনন্দ-বিরহ।
-----------------------------------------
অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ:
- কায়কোবাদের অশ্রুমালা কাব্যগ্রন্থ ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মূলত রোমান্টিক গীতিকবিতার সংকলন।
- এখানে প্রেম, বিরহ, প্রকৃতি, আধ্যাত্মিকতা ও জীবনের গভীর অনুভূতি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 
- কবি তাঁর কৈশোর ও যৌবনের ব্যক্তিগত আবেগ ও বেদনা এই কাব্যের মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
- অশ্রুমালা বাংলা সাহিত্যের রোমান্টিক ধারার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
-----------------------------------------
কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ এর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশি।
- কায়কোবাদ ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট মহাকবি।
- তিনি ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- এবং তিনি ২১ জুলাই ১৯৫১ সালে প্রয়াত হন।
- কায়কোবাদ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক মহাকাব্য ধারার শেষ কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও নবীনচন্দ্র সেনের ধারায় মহাকাব্য রচনা করেছেন, বিশেষভাবে নবীনচন্দ্র সেন ছিলেন তাঁর প্রধান সাহিত্যিক আদর্শ।
- তার প্রধান মহাকাব্য ‘মহাশ্মশান’ (১৯০৪) পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে লেখা হয়েছে।
- এই কাব্য থেকেই নাট্যকার মুনীর চৌধুরী অনুপ্রাণিত হয়ে রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকটি রচনা করেন।
- মাত্র ১৩ বছর বয়সে তাঁর বিরহ বিলাপ কাব্য প্রকাশ পায়।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- অশ্রুমালা: বিখ্যাত গীতিকাব্য;
- কুসুম কানন: কাব্যগ্রন্থ;
- বিরহ বিলাপ: প্রথম কাব্যগ্রন্থ;
- শিব-মন্দির: হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির চেতনা;
- অমিয়ধারা: উল্লেখযোগ্য কাব্য;
- মহররম শরীফ: বৃহৎ কাহিনী কাব্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৩২২.
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) সহিষ্ণু প্রতীক্ষা
  2. খ) বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা
  3. গ) আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
  4. ঘ) এখনও সময় আছে
ব্যাখ্যা
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ একজন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫)

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর কাব্যগ্রন্থসমূহ : 
- কখনো রং কখনো সুর 
- কমলের চোখ
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা

- আবুল হেসেন রচিত কাব্যগ্রন্থ: 'এখনও সময় আছে' 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
২,৩২৩.
নিচের কোনটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যানধর্মী অনুবাদ সাহিত্য নয়?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. মধুমালতী
  3. লায়লী-মজনু
  4. রামায়ণ
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৪.
'ওসমান' চরিত্রটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা

• 'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
-'চিলেকোঠার সেপাই' বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা। এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান।
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

------------------------
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
-চিলেকোঠার সেপাই,
- খোয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছোটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩২৫.
কাজী মোতাহার হোসেনের প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন গ্রন্থ কোনটি?
  1. কালান্তর
  2. সঞ্চয়ন
  3. অব্যক্ত
  4. ভবিষ্যতের বাঙালি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রথম ও বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ সংকলন হলো — 'সঞ্চয়ন'।
- প্রকাশিত হয় ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে।  

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তার জীবনের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য-সমাজ’ প্রতিষ্ঠা।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেন।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র - শিখা পত্রিকা। 
- শিখা প্ত্রিকার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''। 

তাঁর উলে­খযোগ্য অন্যান্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- নজরুল কাব্য পরিচিতি, 
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম,
- গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান ইত্যাদি।

অন্য অপশনগুলো:
- 'অব্যক্ত' একটি পুস্তক যা আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রচিত কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রবন্ধগুলো বৈজ্ঞানিক চিন্তার ফল।
- ‘ভবিষ্যতের বাঙালি’ প্রবন্ধটি লিখেছেন এস ওয়াজেদ আলি।
- রবীন্দ্রনাথের ভারতবর্ষীয় রাজনৈতিক সমস্যা বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধের সংকলন 'কালান্তর'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৬.
‘মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর’- এ পঙক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শেখ ফজলুল করিম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• ‘মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর’- পঙ্‌ক্তিটি ফজলল করিম রচিত ‘স্বর্গ ও নরক’ কবিতার অন্তর্গত।

- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন ‘স্বর্গ ও নরক’ শীর্ষক কবিতাটি।


কবিতাটি সংক্ষেপে নিম্নরূপে দেয়া হলো:

স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

--------------
• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
২,৩২৭.
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবির নাম কী?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
সর্বপ্রথম রামায়ণ অনুবাদকারী মহিলা কবি চন্দ্রাবতী।
- মধ্যযুগের তিনজন যে উল্লেখযোগ্য মহিলা কবি রয়েছে তাদের মধ্যে চন্দ্রাবতী (১৬শ শতক) অন্যতম।
- চন্দ্রাবতী ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।
- তাঁদের নিবাস ছিল বৃহত্তর ময়মনসিংহের  কিশোরগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাঠবাড়ী বা পাতুয়ারী গ্রামে।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাঁথা প্রচলিত আছে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩২৮.
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. ক) নূরুলদীনের সারাজীবন
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) আগুনের পরশমণি
  4. ঘ) জোছনা ও জননীর গল্প
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য- নূরুলদীনের সারাজীবন
- কাব্যনাট্যের পটভূমি- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ।
- অপশনের বাকি উপন্যাসগুলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক এবং এর রচয়িতা- হুমায়ূন আহমেদ।

• হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি একাধারে কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- হুমায়ূন আহমেদের অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং একজন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক।
- ছাত্রজীবনে লেখা নন্দিত নরকে শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- শ্যামল ছায়া।
- আগুনের পরশমণি।
- অনিল বাগচীর একদিন।
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
২,৩২৯.
'সব্যসাচী' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. পথের দাবী
  3. চরিত্রহীন
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- পথের দাবী (১৯২৬) একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) শরৎ রচনাবলী।

২,৩৩০.
চর্যার কত নং পদে 'বঙ্গাল দেশ’ ও 'বঙ্গালী'র কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৪৭নং
  2. ৪৯নং
  3. ৩৫নং
  4. ১৭নং
ব্যাখ্যা
⇒ ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

অন্যদিকে,
• ধর্মপা চর্যার ৪৭নং পদের রচয়িতা। এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।
• ভাদেপা চর্যার ৩৫নং পদের রচয়িতা। এই পদের মূলকথা ধর্মীয় তত্ত্বকথার বর্ণনা।
• বীণাপা চর্যার ১৭নং পদের রচয়িতা। এই পদে সূর্য-চন্দ্রকে চমৎকার উপমায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৩১.
'আমার পথ' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'আমার পথ' প্রবন্ধ:
- ‘আমার পথ’ প্রবন্ধটি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ ‘রুদ্র-মঙ্গল’ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- ‘রুদ্র-মঙ্গল’ প্রবন্ধগ্রন্থের দ্বিতীয় প্রবন্ধ।
- তিনি এই ঘুণেধরা সমাজব্যবস্থার পরিবর্তনের জন্য নিজ হাতিয়ার নিজের সত্যকে, নিজের আদর্শকে আগুনের ঝাণ্ডার মতো ব্যবহার করতে চেয়েছেন।
- রুদ্র-মঙ্গল গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে। গ্রন্থটিতে মোট ৮টি প্রবন্ধ রয়েছে।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- মন্দির ও মসজিদ,
- আমি সৈনিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়িা।
২,৩৩২.
'প্রায়শ্চিত্ত' নাটকটি কোন উপন্যাসের নাট্যরূপ?
  1. মালঞ্চ
  2. যোগাযোগ 
  3. শেষের কবিতা 
  4. বউ-ঠাকুরাণীর হাট
ব্যাখ্যা

• ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ গল্পের কাহিনি অবলম্বনে রচনা করেন।
-----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর সম্ভ্রান্ত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন- প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তাঁর পিতা ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতা সারদা দেবী।
- ঠাকুরবাড়ির সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় অনুকূল পরিবেশে বেড়ে ওঠার ফলে শৈশবকালেই রবীন্দ্রনাথের কবি-প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- পরবর্তীতে তিনি ১৯০১ সালে শান্তিনিকেতন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা তাঁর শিক্ষাদর্শনের বাস্তব রূপ।
- ১৯১৩ সালে ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত ‘গীতাঞ্জলি’ (১৯১১) কাব্যের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন;
- যা বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে গৌরবান্বিত করেছে।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ—
বিসর্জন,
রাজা, 
ডাকঘর, 
অচলায়তন, 
চিরকুমার সভা, 
রক্তকরবী, 
তাসের দেশ, 
চিত্রাঙ্গদা, 
বৈকুণ্ঠের খাতা, 
শারদোৎসব, 
প্রায়শ্চিত্ত, 
বসন্ত, 
চণ্ডালিকা,
নটীর পূজা। 
------------------------------- 
‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটক নিয়ে কিছু কথা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম উপন্যাস ‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’। 
- এই উপন্যাসের কাহিনি ও চরিত্র অবলম্বনে তিনি ১৯০৯ সালে ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকটি রচনা করেন।

- নাটকের প্রধান চরিত্র প্রতাপাদিত্য, উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়।
- এটি একটি ঐতিহাসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নাটক। 
- ‘প্রায়শ্চিত্ত’ নাটকে যশোহরের রাজা প্রতাপাদিত্যকে কেন্দ্র করে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।
- নাটকে অত্যাচারী শাসক প্রতাপাদিত্যের দম্ভ ও কঠোরতার বিপরীতে উদয়াদিত্য ও বসন্ত রায়ের মানবিকতা, ন্যায়বোধ ফুটে উঠেছে। 
- এছাড়া নাটকটিতে কবি ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মাধ্যমে পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের মূল ভাবটি প্রকাশ করেছেন। 
--------------------
উৎস:
‘বউ-ঠাকুরাণীর হাট’ উপন্যাস; 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

২,৩৩৩.
বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখা উপন্যাস কোনটি?
  1. কালিন্দী
  2. হাসুলীবাঁকের উপকথা
  3. আরোগ্য নিকেতন
  4. গণদেবতা
ব্যাখ্যা
• 'হাসুলী বাঁকের উপকথা' উপন্যাস
- 'হাসুলীবাঁকের উপকথা' তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। 
- উপন্যাসে বীরভূমের 'কাহার' সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের সংস্কৃতি, ধর্মবিশ্বাস, আচার-আচরণ, লোককথা আন্তরিকতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। 
- একদিকে এই সম্প্রদায়ের আত্মবিরোধ, পরিবর্তন ও বিলুপ্তি যেমন কাহিনির একটি প্রধান ধারা, আরেকটি ধারা হলো প্রাচীন সমাজের সঙ্গে নতুন পরিবর্তমান জগতের সংঘাত। 

-------------------------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৪.
'শিয়াল পণ্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা -
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. সুকুমার রায়
  3. বন্দে আলী মিয়া
  4. হেলাল হাফিজ
ব্যাখ্যা
• 'শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা' শিশু সাহিত্যের রচয়িতা - বন্দে আলী মিয়া।

বন্দে আলী মিয়া:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা,  উপন্যাস, নাটক, জীবনী,  শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর রচনায় বাংলার মানুষ, সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিফলন ঘটেছে।
 
তাঁর অন্যান্য শিশুসাহিত্য:
- চোর জামাই,
- মেঘকুমারী,
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা,
- সোনার হরিণ,
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা,
- কুঁচবরণ কন্যা,
- সাত রাজ্যের গল্প।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৫.
মাথুর ও মুরলীশিক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দ দাস
ব্যাখ্যা
জ্ঞানদাস:
- জ্ঞানদাস  চৈতন্যোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি।
- বৈষ্ণব সাধকদের মধ্যেও তিনি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিলেন।
-  জ্ঞানদাসই প্রথম ‘ষোড়শ-গোপাল’-এর রূপ বর্ণনা করে পদ রচনা করেন।
- তিনি বাংলা এবং ব্রজবুলিতে রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক প্রায় দুশ (মতান্তরে চারশ) পদ রচনা করেন।
- তাঁর রচিত মাথুর ও মুরলীশিক্ষা বৈষ্ণবগীতিকাব্যের দুটি মূল্যবান গ্রন্থ। 
- পদরচনায় তিনি  বিদ্যাপতি ও চন্ডীদাসকে অনুসরণ করলেও সংস্কার ত্যাগ করে নিজের মতো করে সরল সুরে পদ রচনা করেন, যে কারণে পাঠক সহজেই তাঁর লেখায় আকৃষ্ট হয়। প্রেম, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতা জ্ঞানদাসের রচনার মুখ্য বিষয়। বৃন্দাবনের কিশোর-কিশোরীর লীলাকে জ্ঞানদাস মানবজীবনের আলোকে বর্ণনা করেছেন। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৬.
কার সম্পাদনায় 'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থটি ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে মুদ্রিত হয়? 
  1. মণীন্দ্রমোহন বসু
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। 'সেক শুভোদয়া' হলায়ুধ মিশ্র রচিত গদ্য-পদ্য মিশ্রিত একটি 'চম্পুকাব্য'
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

২,৩৩৭.
বাংলা গদ্যসাহিত্যের আদি নিদর্শন 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. চণ্ডীচরণ মুন্শী
  4. তারিণীচরণ মিত্র
ব্যাখ্যা
• বাংলা অক্ষরে মুদ্রিত ও ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত এই গদ্যগ্রন্থের রচয়িতা - রামরাম বসু।
- ‘রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ গ্রন্থটি ১৮০১ সালে মুদ্রিত হয়।

-----------------------------------
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২)।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২)।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২); হিতোপদেশ (১৮০৮); রাজাবলি (১৮০৮); প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩)।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)। 
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৩৮.
''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ''আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়'' - পঙ্‌ক্তিটি কবি জসীম উদ্‌দীনের "কবর" কবিতা থেকে নেওয়া।

"কবর" কবিতার কিছু অংশ:

আমারে ছাড়িয়া এত ব্যথা যার কেমন করিয়া হায়,
কবর দেশেতে ঘুমায়ে রয়েছে নিঝ্ঝুম নিরালায়।
হাত জোড় করে দোয়া মাঙ্ দাদু, ‘আয় খোদা, দয়াময়,
আমার দাদীর তরেতে যেন গো ভেস্ত নাজেল হয়।

'কবর' কবিতা:
- জসীম উদ্দীনের রাখালী কাব্যগ্রন্থ থেকে 'কবর' কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।
-কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে।

জসীম উদ্দীনের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- সূচয়নী,
- নিমন্ত্রণ,
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৩৯.
কোনটি সানাউল হক রচিত ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন
  2. বন্দর থেকে বন্দরে
  3. পথে প্রবাসে
  4. পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে' ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা সানাউল হক।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।
 
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক। 
 
তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।
 
তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

অন্যদিকে,
• ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’ মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি।
• 'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়।
• 'পেশোয়ার থেকে তাশখন্দ' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা শহীদুল্লাহ কায়সার।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪০.
রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
  1. ক) করণ কারক
  2. খ) সম্প্রদান কারক
  3. গ) অপাদান কারক
  4. ঘ) অধিকরণ কারক
ব্যাখ্যা
বাক্যের ক্রিয়াপদের সাথে নাম পদের যে সম্পর্ক তাকে কারক বলে।
আমরা আগে জেনে এসেছি, কারক ৬ প্রকার।
যথা - কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, সম্প্রদান কারক ও অধিকরণ কারক।

তবে মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০২১) অনুসারে, সম্প্রদান কারককে বাদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন সংস্করণ অনুসারে, কারক ছয় প্রকার।
যথা - কর্তৃ কারক, কর্ম কারক, করণ কারক, অপাদান কারক, অধিকরণ কারক ও সমন্ধ কারক
ড. হায়াৎ মামুদ তার ভাষা শিক্ষা বইয়ে, নিমিত্ত কারক নামে একটি কারকের শ্রেণি অন্তর্ভূক্ত করেছেন।

মাধ্যমিক ব্যাকরণের নতুন সংস্করণ এবং হায়াৎ মামুদ সহ অনেক বইয়ে সম্প্রদান কারক নেই।
কারণ, সম্প্রদান কারকের তাত্ত্বিক বৈধতা স্বীকার্য নয়।
বাংলায় সম্প্রদান কারকের দরকার নেই - এই কথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ অনেকেই বলে গেছেন।

নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (২০২১) অনুসারে,
- সম্প্রদান কারককে কর্ম কারকের মধ্যে দেখানো হয়েছে।
- আর সম্বন্ধ পদকে সম্বন্ধ কারক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
২,৩৪১.
কোন দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে ‘মধুমালতী’ কাব্য রচিত হয়েছে?
  1. চাঁদ ও সাওদাগর
  2. ফরহাদ ও শিরি
  3. মনোহর ও মধুমালতী
  4. কায়েশ ও লায়লী
ব্যাখ্যা
'মধুমালতী' কাব্য:
- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪২.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) জননী
  2. খ) চিলেকোঠার সেপাই
  3. গ) দি আগলি এশিয়ান
  4. ঘ) ময়ুরাক্ষী
ব্যাখ্যা
'দি আগলি এশিয়ান' - উপন্যাস টির রচয়িতা - সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌।

• দি আগলি এশিয়ান
- এ উপন্যাসে পূর্ববঙ্গের রাজধানী শহর (নাম নেয়া হয় নি) কেন্দ্র করে রাজনীতিতে আমেরিকার হস্তক্ষেপ, সেনাবাহিনীকে দিয়ে সামরিক আইন জারি, সাধারণ মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার খর্ব করা, দেশে সাম্যবাদী উত্থান প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করা ইত্যাদি প্রধান হয়ে উঠেছে।
- সামরিক আইন জারি করিয়ে সেনাবাহিনী দিয়ে বা নিজেদের সমর্থনপুষ্ট পুঁজিবাদীদের কাজে লাগিয়ে মার্কিন দেশ তখন এশিয়ার প্রতিটি দেশেই নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে ব্যস্ত ছিল।
- এশিয়ার এই কদর্য রূপকেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ এ উপন্যাসে তুলে ধরেছেন।
- আসলে ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দেই ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯৭১-এর পূর্বপর্যন্ত বাঙালির সংগ্রামসমূহ এই উপন্যাসে ধারণ করেছেন শুধু তাঁর অন্ত গুণে।
- উপন্যাসটি চরমভাবে দৃষ্টির গুণে উপন্যাসটি মার্কিনবিরোধী।

• উইলিয়াম জে লেডেরার ও ইউজিন বারডিক যৌথভাবে রচিত মার্কিন উপন্যাস 'দি আগলি আমেরিকান' (১৯৫৮) এর প্রভাব এ উপন্যাস রনার সময় সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র উপর পড়েছিল ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৪৩.
ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন চর্যার কোন কবি?
  1. আর্যদেবপা
  2. শান্তিপা
  3. ডোম্বীপা
  4. ধর্মপা
ব্যাখ্যা
• ডোম্বীপা:
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার গুরু ছিলেন - বিরুপা।
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

অন্যদিকে,
• আর্যদেবপা: 
আর্যদেবপা অন্যতম প্রাচীন কবি। চর্যাগীতির ৩১ সংখ্যক পদের ভণিতায়  আজদেব নাম পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, তিনি কম্বলাম্বরপা'র সমসাময়িক কবি ছিলেন। তারানাথের মতে তিনি প্রথম জীবনে মেবারের রাজা ছিলেন। গোরক্ষনাথ তাঁকে দীক্ষিত করেছিলেন। এর রচিত ১টি পদ চর্যাগীতিতে পাওয়া যায়।

• শান্তিপা:
শান্তিপা চর্যাপদের পদকর্তা। তিনি বিক্রমশীলা বিহারের দ্বারপণ্ডিত এবং শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্করের গুরু ছিলেন। চর্যাগীতিতে তাঁর রচিত পদের সংখ্যা দুটি ১৫ ও ২৬নং পদ। 

• ধর্মপা:
ধর্মপা এর গুরু ছিলেন কাহ্নপা। ধর্মপা ৪৭ নং পদ রচনা করেন। তিনি খ্রিস্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় জন্মগ্রহণ করেন।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৪৪.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম কোথায় হয়েছিল?
  1. পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি
  2. বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা
  3. কলকাতা
  4. ঢাকার বিক্রমপুর
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা  উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পুতুল নাচের ইতিকথা,
- জননী,
- চিহ্ন,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৪৫.
বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন-
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. প্রমথ চৌধুরী 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের ‘প্রথম শিল্পী’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণদান করেছেন ও সহজবোধ্য করে তুলেছেন
- তার আগে গদ্য কঠিন ও শিলাময় ছিল।

- বিদ্যাসাগর গদ্যে সুন্দর শব্দবিন্যাস, বাক্যগঠন এবং যতিচিহ্নের সঠিক ব্যবহার চালু করেন।
- তিনি প্রথম যে বাংলা গদ্যের ছন্দ, সুর এবং ধ্বনির নিয়ম বুঝতে পেরেছিলেন, যা পাঠ্যকে আরও সুরবদ্ধ ও শিল্পসমৃদ্ধ করেছে।

- বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যথাযথ যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর এই অবদানের জন্যই বাংলা গদ্য এখন আরও সাহিত্যসম্মত ও ভাব প্রকাশে সক্ষম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৩৪৬.
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনীর রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বাংলা গদ্যে প্রথম 'আত্মজীবনী' রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত আত্মজীবনীর নাম  "আত্মচরিত"। 

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
- তিনি প্রথম গদ্যে যতিচিহ বা বিরামচিহ্নের ব্যবহার শুরু করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি (১৮৪৭), এই গ্রন্থে তিনি প্রথম যতি বা বিরাম চিহ্ন ব্যবহার করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়। অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৭.
মধ্যযুগের রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) মঙ্গলকাব্য
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) লায়লী মজনু
ব্যাখ্যা
• শ্রী বসন্তরঞ্জন রায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (১৯০৯ খ্রিস্টাব্দ) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাকিল্যা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- এটি মধ্যযুগের বাংলা ভাষায় রচিত কোনো লেখকের প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ যেখানে রাধা কৃষ্ণ কাব্যের আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের আকুলতা প্রকাশিত।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চন্ডীদাস।
- এই কাব্যের প্রধান চরিত্র রাধা, কৃষ্ণ এবং বড়ায়ি।
- এটি ১৩ খন্ডের কাব্য।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
খন্ডগুলি হচ্ছে -
- জন্মখন্ড, তাম্বূল খন্ড, দানখন্ড, নৌকাখন্ড, ভারখন্ড, ছত্রখন্ড, বৃন্দাবন খন্ড, কালীয়দমন খন্ড, যমুনা খন্ড, হারখন্ড, বাণখন্ড, বংশীখন্ড ও বিরহখন্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৪৮.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) লাঙল
  2. খ) ধূমকেতু
  3. গ) নবযুগ
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা-
- ধূমকেতু (অর্ধসাপ্তাহিক) ,
- লাঙল (সাপ্তাহিক),
- নবযুগ (দৈনিক)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,৩৪৯.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি:
- 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ রচিত - কাব্যগ্রন্থ
- গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে।
- গ্রন্থটিতে কবিতা রয়েছে ৩৯টি কবিতা।
- এই কাব্যগ্রন্থের নাম কবিতায় আছে 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' লাইনটি।

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'সাতনরী হার' (১৯৫৫)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতা: 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি', কোন এক মাকে।
- তিনি ২০০১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি,
- কমলের চোখ,
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,
- বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫০.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'চাচা কাহিনী' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

 'চাচা কাহিনী' গল্পগ্রন্থ:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলির মধ্যে প্রধানতম। প্রায় প্রতিটি গল্পই বিদেশের পটভূমিকা রচিত।
- বিদেশে বিশেষ করে বার্লিন প্রবাসী বাঙালী তরুণ বয়স্ক ছাত্রদের নিয়েই রচিত। অনেক গল্প। স্বয়ং লেখক যৌবনে বার্লিন প্রবাসী ছাত্র ছিলেন। সে সময়কার নানা কাহিনী গল্পাকারে পরিবেশন করেচেন চাচা কাহিনীতে।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর কলমে খাঁটি দেশী যাদু সেরা বিদেশী পলিশে সারাক্ষণ ঝকঝক করছে। চাচা কাহিনীর মতো এমন বিশুদ্ধ উপাদেয় আন্তর্জাতিক রসিকতা বাংলা ভাষায় অন্তত আগে কখনও পড়া যায়নি।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
- চাকরিসূত্রে পিতার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নের পর মুজতবা আলী শেষপর্যন্ত শান্তিনিকেতন-এ ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর অধ্যয়ন করে ১৯২৬ সালে তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৫১.
বৈষ্ণব পদাবলিতে সাহিত্যে বৈষ্ণবসমাজে পদকর্তাদের কী নামে পরিচিত?
  1. সিদ্ধাচার্য
  2. আচার্য
  3. মহাজন
  4. গোস্বামী
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল বৈষ্ণব পদাবলি।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- জয়দেব-বিদ্যাপতি-চণ্ডীদাস থেকে সাম্প্রতিককাল পর্যন্ত বৈষ্ণব গীতিকবিতার ধারা প্রবাহিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ষোল-সতের শতকে এই সৃষ্টিসম্ভার প্রাচুর্য ও উৎকর্ষপূর্ণ ছিল।
- পদাবলি সাহিত্য বৈষ্ণবতত্ত্বের রসভাষ্য। বৈষ্ণব পদাবলি বৈষ্ণব সমাজে মহাজন পদাবলি এবং বৈষ্ণব পদকর্তাগণ মহাজন নামে পরিচিত।
- বৈষ্ণবমতে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক বিদ্যমান। এই প্রেম সম্পর্ককে বৈষ্ণব মতাবলম্বীগণ রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলার রূপকের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন।
- রাধা ও শ্রীকৃষ্ণের রূপাশ্রয়ে ভক্ত ও ভগবানের নিত্যবিরহ ও নিত্যমিলনের অপরূপ আধ্যাত্মিক লীলা কীর্তিত হয়েছে। বৈষ্ণবদের উপাস্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর আনন্দময় আনন্দময় তথা তথা প্রেমময় প্রকাশ ঘটেছে রাধার মাধ্যমে। রাধা মানবী নয়, শ্রীকৃষ্ণরূপ পূর্ণ ভগবৎ-তত্ত্বের। ভগবৎ-তত্ত্বের অংশ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,৩৫২.
বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক'- 'সুধীন্দ্রনাথ দত্ত'।

ধ্রুপদ:
ধ্রুপদ রাগসঙ্গীত বা শাস্ত্রীয়সঙ্গীতের এক প্রধান শৈলী।
‘ধ্রুপদ’ শব্দ ‘ধ্রুবপদ’ শব্দের অপভ্রংশ। ‘ধ্রুব’ অর্থ স্থির, নির্দিষ্ট ও সত্য এবং ‘পদ’ অর্থ কথাযুক্ত গীত।
তাই ‘ধ্রুবপদ’ বা ‘ধ্রুপদ’ বলতে এক প্রকার ধীর, স্থির, গম্ভীর ও বীরত্বব্যঞ্জক সঙ্গীতকে বোঝায়।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ১৯০১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন। 
- বিংশ শতকের ত্রিশ দশকের যে পাঁচ জন কবি বাংলা কবিতায় রবীন্দ্র প্রভাব কাটিয়ে আধুনিকতার সূচনা ঘটান তাদের মধ্যে সুধীন্দ্রনাথ অন্যতম।
- তাকে বাংলা কবিতায় 'ধ্রুপদী রীতির প্রবর্তক' বলা হয়।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন একাধারে ১২ বছর।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালের ২৫ জুন কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা,  
- ক্রন্দসী,  
- উত্তর ফাল্গুনী,
- দশমী ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

বিশেষ তথ্য:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন। 
- এ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গ পত্রে লিখা ছিলো - 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রীচরনে অর্ঘ্য। ঋণশোধের জন্য নয়, ঋণস্বীকারের জন্য।" 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  ‘আকাশ-প্রদীপ’ কাব্যগ্রন্থটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তকে উৎসর্গ করেন।
- 'প্রমথ চৌধুরী' ছিলেন বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক এবং বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৩.
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. হ্যানা ক্যাথরিন ম্যালেন্স
  2. কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. প্যারিচাঁদ মিত্র
  4. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'কলিকাতা কমলালয়' গ্রন্থের রচয়িতা ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- এটি ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গ্রন্থ।
- কলিকাতা কমলালয় প্রকাশিত হয় ১৮২৩ সালে।
- এ গ্রন্থে তিনি কলকাতার জীবনযাত্রার পরিচয় তুলে ধরেন বিশেষ করে নব্য ধনীদের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাত্রা। 
-----------------------

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৭৮৭-১৮৪৮):
- লেখক, সাংবাদিক ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা।
- কলকাতার নিকট একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
-  ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ছাপাখানা কিনে ১৮২২ সালের মার্চ মাসে সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন এবং এ পত্রিকা রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়। 
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে ১৮২৫ সালে প্রকাশিত নববাবুবিলাস এবং ১৮৩১ সালে নববিবিবিলাস অন্যতম।
- নববাবুবিলাস গ্রন্থে তিনি নব্যধনীদের অসংযমী জীবনযাত্রাকে বিদ্রূপবাণে বিদ্ধ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে দূতীবিলাস (১৮২৫), শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ (১৮৩১) এবং আশ্চর্য্য উপাখ্যান (১৮৩৫) উল্লেখযোগ্য।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৪.
সত্যেন সেন কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শিল্পী সংসদ
  2. রবিরশ্মি
  3. ছায়ানট
  4. উদীচী
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৫.
'সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' কে রচনা করেন?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়  'বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা' রচনা করেন ১৯২৯ সালে।
বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।

তার বিখ্যাত গ্রন্থের মধ্যে আছে,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ
- অরিজিন এন্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স 
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অব মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৫৬.
'অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ পৃথিবীতে আজ' চরণটির কবি-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. ফররুফ আহমেদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ' চরণটির কবি - জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আঁধার এক,
--- জীবনানন্দ দাশ

অদ্ভুত আঁধার এক এসেছে এ-পৃথিবীতে আজ,
যারা অন্ধ সবচেয়ে বেশি আজ চোখে দ্যাখে তারা;
যাদের হৃদয়ে কোনো প্রেম নেই – প্রীতি নেই – করুণার আলোড়ন নেই
পৃথিবী অচল আজ তাদের সুপরামর্শ ছাড়া।
যাদের গভীর আস্থা আছে আজো মানুষের প্রতি
এখনো যাদের কাছে স্বাভাবিক ব’লে মনে হয়
মহত্‍‌ সত্য বা রীতি, কিংবা শিল্প অথবা সাধনা
শকুন ও শেয়ালের খাদ্য আজ তাদের হৃদয়।

জীবনানন্দ দাশ:
- 'রূপসী বাংলার কবি', 'নির্জনতার কবি', 'তিমির হননের কবি', 'ধূসরতার কবি' নামে পরিচিত জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ. বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্‌-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'অদ্ভুত আঁধার এক' কবিতা, জীবনানন্দ দাশ।
২,৩৫৭.
সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত হওয়া নজরুলের একটি কাব্যগ্রন্থ-
  1. ক) সর্বহারা
  2. খ) জিঞ্জির
  3. গ) প্রলয়শিখা
  4. ঘ) সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের ৫ টি গ্রন্থ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত ঘোষিত হয়।
সেগুলো হলোঃ
- যুগবাণী,
- ভাঙ্গার গান,
- প্রলয় শিখা,
- বিষের বাঁশি এবং
- চন্দ্রবিন্দু।
সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার

২,৩৫৮.
বিখ্যাত 'নীল-দর্পণ' নাটকটি প্রকাশিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে
  2. খ) ১৮৬১ খ্রিষ্টাব্দে
  3. গ) ১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
নীল দর্পণ হল দীনবন্ধু মিত্র কতৃক ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- নীল দর্পণ নাটকটির ঘটনা, বিষয়চিন্তা, রচনাস্থান, প্রকাশ স্থান, মুদ্রনকাল, প্রথম মঞ্চায়ন সবই বাংলাদেশে।
- প্রথম প্রকাশে দীনবন্ধুর নাম ছিল না, গ্রন্থাকারে তা গুপ্ত রাখা হয়।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।
- গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত এবং তা প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস্‌ লঙ।
- নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্রগুলির স্বাভাবিকতার গুণের জন্য অনেকে একে Uncle Tom's Cabin এর সঙ্গে তুলনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫৯.
শামসুর রাহমান রচিত “বন্দী শিবির থেকে” একটি-
  1. ছোটগল্প
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
- শামসুর রাহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ভারতের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সেখান থাকাকালীন তিনি "মজলুম আদিব" ছদ্মনামে দেশ পত্রিকায় লিখতেন।
- তাঁর লেখা “বন্দী শিবির থেকে” কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রচিত।
- কাব্যগ্রন্থের শুরুতে ‘পুর্বলেখ’ শিরোনামে কবি এই কাব্যগ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। কবি ১৯৭১ সালে শরনার্থী শিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে নিজেকে বন্দি হিসেবে ভাবেন।

----------------------
• শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ:
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- অন্ধকার থেকে আলোয়,
- হরিণের হাড়,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬০.
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ কোনটি?
  1. হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব
  2. প্রতিধ্বনি
  3. হুইটম্যানের কবিতা
  4. মণি মঞ্জুষা
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ - হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

অন্যদিকে, 
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্য - প্রতিধ্বনি।
- সৈয়দ আলী আহসান চৌধুরী রচিত অনুবাদগ্রন্থ - হুইটম্যানের কবিতা।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অনুবাদ-কাব্য - মণি মঞ্জুষা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত অনুবাদগ্রন্থ:
- এ্যারিস্টটলের কাব্যতত্ত্ব,
- ইবসেনের বুনো হাঁস,
- হাউসম্যানের কাব্যের স্বভাব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২,৩৬১.
'বিদ্যোৎসাহিনী সভা'- কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।
- এখানে সদস্যরা প্রতি সপ্তাহে মিলিত হয়ে নিয়মিত প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- তাঁর পিতামহ শান্তিরাম সিংহ ছিলেন জোড়াসাঁকো জমিদারির দীউয়ান।
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত দুইটি গ্রন্থ:

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। 
সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ:
- সতেরো খন্ডে সংস্কৃত মহাভারতের বাংলা গদ্যানুবাদও তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি।
- এটি বাংলা সাহিত্যেরও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬২.
সন্ধ্যাযুগের বিস্তার কোন সময়কালকে নির্দেশ করে?
  1. ১২০১–১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2.  ১১৫০–১২৭৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৩০০–১৪২৫ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১২০০–১৩০০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

সন্ধ্যাযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ খ্রিষ্টাব্দের সময়কালকে সাধারণত “অন্ধকার যুগ” বা “সন্ধ্যাযুগ ” বলা হয়।
- এটি বন্ধ্যা যুগ নামেও পরিচিত। 
- এই সময়কালে বখতিয়ার খলজির ১২০৪ সালের বঙ্গবিজয়ের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার কারণে সাহিত্যচর্চায় উল্লেখযোগ্য ভাটা দেখা দেয়।
- ফলে সাহিত্যের কোনো বড় নিদর্শন এই সময় থেকে পাওয়া যায়নি।
- তাই অনেক সমালোচক এবং লেখক (যেমন—হুমায়ুন আজাদ, লাল নীল দীপাবলি) এ সময়কালকে সাহিত্যিকভাবে “অন্ধকার যুগ” হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

- তবুও এই যুগে কিছু সীমিত সাহিত্যকর্ম রচিত হয়েছিল।
- উল্লেখযোগ্য নিদর্শনের মধ্যে আছে ‘সেক শুভোদয়া’ ও ‘শূন্যপুরাণ’।
- দুটোই সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং গদ্য-পদ্য মিশ্র রচনাশৈলীতে লেখা হয়েছে।
- ফলে এদের চম্পু কাব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- সমালোচকরা মনে করেন, যদিও এই সময়ে সাহিত্যচর্চা খুবই সীমিত আকারে হয়েছে, তবে একেবারেই বিলুপ্ত হয়নি।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ। 

২,৩৬৩.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত ওসমান
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

রাইফেল রোটি আওরাত:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ এর রচয়িতা  আনোয়ার পাশা।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত।
- উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী ও
- অন্যান্য কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৩৬৪.
নিচের কোন কবি আধুনিক যুগের নন?
  1. ক) অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর আধুনিক যুগের কবি নন।
- উল্লেখিত প্রশ্নে তিনি ছাড়া সকলে আধুনিক যুগের কবি।

• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি হলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তাকে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ও প্রথম নাগরিক কবিও বলা হয়।
- তিনি হাওড়া জেলার পেন্ড্রো গ্রামে বাস করতেন।
- তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় (মুখার্জি) জমিদার ছিলেন। 
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- তিনি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে অন্নদামঙ্গল কাব্য রচনা করেন।
- এছাড়াও তাঁর আরেকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম- সত্য পীরের পাঁচালি।

• তাঁর রচিত ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের গুরুত্বপূর্ণ উক্তি হল:
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে- উক্তিটি তিনি ঈশ্বরী পাটনী’র( কাব্যের চরিত্র) মুখ দিয়ে একথা বলিয়েছেন। 
- এখানে হিন্দি শব্দ পাটনী এর অর্থ-খেয়ামাঝি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া
২,৩৬৫.
‘শর্মিষ্ঠা’ নাটক ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
'শর্মিষ্ঠা' নাটক:
- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন। এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ

মধুসূদন দত্তের নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৬.
গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় -
  1. জায়সীর পদুমাবতে
  2. মনঝনের মধুমালতে
  3. রূপগোস্বামীর হংসদূতে
  4. সাধনের মৈনাসতে
ব্যাখ্যা
• গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় - জায়সীর পদুমাবতে

নাথসাহিত্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথসাহিত্য হিসেবে পরিচিত।
- নাথসাহিত্য প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত। যথা:
১) মীননাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনি,
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস।
- এই দুই কাহিনি অবলম্বন করেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।
- গোপীচন্দ্র কাহিনির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় জায়সীর পদুমাবতে
- এ বিষয়ে প্রথম বাংলা গ্রন্থ নেপালে রচিত সপ্তদশ শতাব্দীর নাটক 'গোপীচন্দ্র নাটক'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৬৭.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কী ধরনের রচনা? 
  1. পত্রকাব্য
  2. গাথা কাব্য
  3. উপাখ্যান
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
কবি জসীমউদ্দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি।
- ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।
- পুরো নাম মোহাম্মদ জসীমউদ্দীন মোল্লা হলেও তিনি জসীমউদ্দীন নামেই পরিচিত।
- তিনি বাংলাদেশে পল্লীকবি হিসেবে পরিচিত।

কবি জসীমউদ্দিন রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য
- এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M Millford গ্রন্থটি ''Field of the Embroidery Quilt'' শিরোনামে অনুবাদ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ-
- সোজন বাদিয়ার ঘাট 
- মা যে জননী কান্দে 

তাঁর রচিত নাটক
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থঃ
- হাসু
- এক পয়সার বাঁশী
- ডালিমকুমার

তাঁর রচিত একমাত্র উপন্যাস: বোবা কাহিনী

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
২,৩৬৮.
‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ কার লেখা?
  1. এস. ওয়াজেদ আলী
  2. আবুল হাসেম
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• 'আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর' (১৯৬৮) গ্রন্থটির রচয়িতা আবুল মনসুর আহমদ।
- এটি একটি রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ।
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত রাজনীতি বিষয়ক আরেকটি গ্রন্থ হলো: ‘শেরে বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু’ (১৯৭৩)।

--------------
• আবুল মনসুর আহমদ:
- সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না ও
- ফুড কনফারেন্স।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৯.
কোনটি শওকত ওসমানের নাটক?
  1. পিঁজরাপোল
  2. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. রাজসাক্ষী
ব্যাখ্যা

- কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমান পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবল সিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসঃ
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়

তাঁর রচিত একটি নাটকঃ
- তস্কর লস্কর
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা
- কাঁকর মণি
- বাগদাদের কবি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থঃ
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

২,৩৭০.
‘মুকুল' আবদুল্লাহ আল-মুতী’র কোন ধরনের সাহিত্য সম্পাদনা?
  1. প্রবন্ধ গবেষণা
  2. আত্মজীবনী
  3. দিনলিপি
  4. ছোটদের ম্যাগাজিন
ব্যাখ্যা
• আবদুল্লাহ আল-মুতী:
- আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল' নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম “এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।'

• তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ,
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে,
- তারার দেশের হাতছানি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭১.
বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রাম থেকে আবিষ্কৃত হয়-
  1. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. শূন্যপুরাণ
  3. ডাকার্নব
  4. ধর্মমঙ্গল কাব্য
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্ৰী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- পুথির প্রথম দুটি এবং শেষপৃষ্ঠা পাওয়া যায় নি বলে এর নাম ও কবির নাম স্পষ্ট করে জানা যায় নি।
- আবিষ্কর্তা ও সম্পাদক বসন্তরঞ্জন রায় প্রাচীন বৈষ্ণব লেখকদের ইঙ্গিত অনুসরণ করে গ্রন্থের নামকরণ করেন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
২,৩৭২.
'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. বন্দে আলী মিয়া
  3. জীবনানন্দদাশ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা 'বন্দে আলী মিয়া'। 
- পঙক্তিদ্বয় বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘আমাদের গ্রাম’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।

- কবিতার কিছু অংশ-বিশেষ:

আমাদের গ্রাম
- বন্দে আলী মিয়া

আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর,
থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর।
পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই,
এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই।
আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান,
আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইছে প্রাণ।

• বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিত্রকর।
- তিনি ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কিছুদিন ইসলাম দর্শন পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার পর কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
- দেশ-বিভাগের পর তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বেতার কেন্দ্রে চাকরি করেন।
- বন্দে আলী মিয়া রচিত ‘রুপকথা’ এ শিশুতোষ গ্রন্থ।
- বন্দে আলী মিয়া কবিতা, উপন্যাস, নাটক, জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি মাধ্যমে গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
কাব্য
- ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর,
- মধুমতীর চর,
- ধরিত্রী;

উপন্যাস: 
- বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
- শেষ লগ্ন,
- অরণ্য গোধূলি,
- নীড়ভ্রষ্ট।

নাটক: 
- মসনদ।

শিশুসাহিত্য: 
- চোর জামাই, 
- মেঘকুমারী, 
- বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা, 
- সোনার হরিণ, 
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা, 
- কুঁচবরণ কন্যা, 
- সাত রাজ্যের গল্প।

উৎস: আমাদের গ্রাম কবিতা- বন্দে আলী মিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৩.
'সান্ধ্য ভাষা' কোন গ্রন্থের সাথে সম্পর্কিত?
  1. চর্যাপদ
  2. সেক শুভোদয়া
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
 • চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের ভাষাকে বলা হয় 'সন্ধ্যা' বা 'সান্ধ্য ভাষা'।
- এ ভাষা কোথাও স্পষ্ট, কোথাও অস্পষ্ট।
- তাই একে 'আলো-আঁধারি' ভাষাও বলা হয়।
- চর্যাপদের পদগুলো প্রাচীন কোন ছন্দে রচিত তা আজ বলা সম্ভপর নয়৷ তবে আধুনিক ছন্দের বিচারে এগুলো মাত্রাবৃত্ত ছন্দের অধীনে বিবেচ্য৷

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,৩৭৪.
রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম কী?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. সঙ্গীত সুধা
  3. গীতরত্ন
  4. সঙ্গীতকল্পতরু
ব্যাখ্যা

টপ্পা সঙ্গীত:
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত।
- রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধুবাবু।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না।
- ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্থানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম - গীতরত্ন (১৮৩২)।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত টপ্পা- 
"নানান দেশের নানান ভাষা,
বিনে স্বদেশী ভাষা,
মিটে কি আশা?"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,৩৭৫.
কোনটি 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. ইন্দ্রনাথ
  2. অন্নদিদি
  3. রাজলক্ষ্মী
  4. রমেশ
ব্যাখ্যা

'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনী নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- শ্রীকান্ত,
- ইন্দ্রনাথ,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদিদি

অন্যদিকে, 
• 'পল্লীসমাজ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চরিত্রহীন,
- পণ্ডিতমশাই,
- পল্লীসমাজ,
- দেবদাস,
- শ্রীকান্ত,
- পরিণীতা,
- বিরাজবৌ,
- দত্তা,
- চরিত্রহীন,
- বামুনের মেয়ে,
- শেষ প্রশ্ন,
- দেনাপাওনা,
- পথের দাবী,
- বিপ্রদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা বাংলাপিডিয়া।

২,৩৭৬.
"হাজার বছর ধরে" উপন্যাসটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৬৬ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

হাজার বছর ধরে:
- জহির রায়হানের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস - 'হাজার বছর ধরে'। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে
- আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ ছিল উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য।
- এই উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- উপন্যাসের নায়িকা টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র। আর সবাই যেন মৃত ও বিবর্ণ।

জহির রায়হান:
- তিনি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
-  ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ সূর্যগ্রহণ প্রকাশিত হয়। 
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র 'সঙ্গম'।
- ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র কখনও আসেনি মুক্তি পায়। 
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি 'বাহানা'।

• তাঁর রচিত উপন্যাস :
- শেষ বিকালের মেয়ে;
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু,
- বরফ গলা নদী,
- আর কত দিন,
- আরেক ফাল্গুন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৭৭.
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটি কে রচনা করেছেন?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো” গানটি আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেছেন। 

একুশের গান
- আবদুল গাফফার চৌধুরী এই গানটি রচনা করেন।
- তিনি একজন সাংবাদিক ও লেখক।
- প্রথমে আবদুল লতিফ গানটিতে সুর দেন, পরে আলতাফ মাহমুদের সুরই সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়।
- আলতাফ মাহমুদের সুরে "আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো" গানটি প্রথম গাওয়া হয়; এটিই এখন প্রাতিষ্ঠানিক সুর।

আবদুল গাফফার চৌধুরীর রচনা:
- উপন্যাস: চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম), নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রাত্রির চাঁদ। 
- গল্পগ্রন্থ: সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর। 
- সম্পাদনা গ্রন্থ: বাংলাদেশ কথা কয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২,৩৭৮.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মধুসূদন দত্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম হুতোম পেঁচা ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৭৯.
বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন কত খ্রিষ্টাব্দে ?
  1. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' স্বীকৃত।
- এগ্রন্থের লেখক বড়ু চণ্ডীদাস।
- এটি বাংলা ভাষায় কোন লেখকের প্রথম এককগ্রন্থ।
- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্র বংশজাত শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮০.
‘কাবিলের বোন’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা

• 'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচেয়ে দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়, রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে, যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান, মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা, কাবিলের চাচী রওনক জাহান, আন্দালিব -মোমেনা, রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

• কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৮১.
‘অল্পদর্শী’ কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে আবু জাফর শামসুদ্দীন বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম: 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম-'সুনন্দ'। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'হাবু শর্মা'।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন। 
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো - দৃষ্টিহীন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৮২.
‘তাপসমালা’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. জীবনচরিত
  4. কাহিনিকাব্য
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন তিনি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
• তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তাজকেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮৩.
'চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান, নাম না জানা ভোর, নীল যমুনা, শেষ রজনীর চাঁদ, কৃষ্ণপক্ষ, সম্রাটের ছবি, সুন্দর হে সুন্দর, ডানপিটে শওকত, বাংলাদেশ কথা কয়, পলাশী থেকে ধানমণ্ডি (২০০৭)- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী ভিত্তিক একটি চলচ্চিত্রের কাহিনী।
২,৩৮৪.
কোনটি গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ?
  1. হাসনাহেনা
  2. আমার চিন্তাধারা
  3. ইসলাম ও জেহাদ
  4. বিশ্বনবী
ব্যাখ্যা

গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,৩৮৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' গল্পের একটি বিখ্যাত চরিত্র-
  1. বিনোদিনী
  2. হৈমন্তী
  3. আশালতা
  4. চারুলতা
ব্যাখ্যা
• 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প:
- 'নষ্টনীড়' ছোটগল্পে একজন নিসঙ্গ নারীর কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- গল্পটি ১৯০১ সালে রচিত ও প্রকাশিত।
- এই ছোটগল্পের উপর ভিত্তি করে প্রখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায় ১৯৬৪ সালের চারুলতা নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মান করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' ছোট গল্পের প্রধান চরিত্র 'চারুলতা'।

• এই গল্পের অন্য দুটি চরিত্র:
- অমল ও
- ভূপতি।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' উপন্যাসের চরিত্র-  আশালতা ও বিনোদিনী।
• 'হৈমন্তী' ছোটগল্পের একটা বিখ্যাত চরিত্র - 'হৈমন্তী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং 'নষ্টনীড়' ছোটগল্প।
২,৩৮৬.
নিচের কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ নয়?
  1. মেঘমল্লার
  2. মৌরিফুল
  3. পথের পাঁচালী
  4. যাত্রাবদল
ব্যাখ্যা
• ‘পথের পাঁচালী’ হলো লেখকের রচিত একটি বিখ্যাত উপন্যাস।
-----------
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিতা,
- আরণ্যক,
- ইছামতী,
- দৃষ্টিপ্রদীপ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোট গল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল । 
--------------
• ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের উপজীব্য:  
- ‘পথের পাঁচালী ‘ উপন্যাসটি ১৯২৯ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের বর্ণনাগুণে উপন্যাসটিতে পল্লীবাংলার নৈসর্গিক সৌন্দর্য জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
- অপরাজিত (১৯৩১) হলো পথের পাঁচালীর দ্বিতীয় খণ্ড।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হলো: অপু, দুর্গা, ইন্দির ঠাকরুন, হরিহর, সর্বজয়া প্রমুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ইছামতি, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
২,৩৮৭.
”সাম্প্রদায়িকতা” প্রবন্ধ গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. ড. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা
বদরুদ্দীন উমর:
- ১৯৩১ সালের ২০শে ডিসেম্বর, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট,
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ ইত্যাদি।
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ।
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি।
- দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২,৩৮৮.
‘ব্যাকরণকৌমুদী’ কে রচনা করেন?
  1. ক) ড. হুমায়ন আজাদ
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যয়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সিদ্ধান্তকৌমুদী ও মুগ্ধবোধ প্রভৃতি ব্যাকরণের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮৫৩ সালে ‘ব্যাকরণকৌমুদী’ রচনা করেন। এতে বাংলা ব্যাখ্যা সংযোজিত হওয়ায় এবং শব্দরূপ-ধাতুরূপাদির সহজ বিন্যাস থাকায় ব্যাকরণ চর্চা সহজ হয়।

• বাংলা বৈয়াকরণেরাও সংস্কৃত ব্যাকরণের নিয়মগুলো ভালোভাবে জানবার সুযোগ পান। শব্দরূপ ও ক্রিয়ারূপের বিন্যাস, সন্ধি, সমাস, ধাতুর গণবিভাগ ইত্যাদি বহু বিষয়ে বাংলা ব্যাকরণ বিদ্যাসাগরের ‘ব্যাকরণকৌমুদী’র কাছে ঋণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২,৩৮৯.
‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. তৌকির আহমেদ
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. শওকত আলী
  4. শওকত ওসমান
ব্যাখ্যা
• ‘যাত্রা’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের রচয়িতা - শওকত আলী

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস, শওকত আলী।
২,৩৯০.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস-
  1. ক) জলাঙ্গী
  2. খ) শ্যামল ছায়া
  3. গ) নিষিদ্ধ লোবান
  4. ঘ) হাঙর নদী গ্রেনেড
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস-জোসনা ও জননীর গল্প, শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমনি, সূর্যের দিন ও অনিল বাগচীর একদিন।
শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হলো- নেকড়ে অরণ্য (১৯৭৩), দুই সৈনিক (১৯৭৩), জাহান্নাম হইতে বিদায় (১৯৭২) এবং জলাঙ্গী।
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘নিষিদ্ধ লোবান’।
সেলিনা হোসেন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
২,৩৯১.
বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. শূন্যপুরাণ
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষার লিখিত রূপের প্রাচীনতম নিদর্শন - চর্যাপদ।
------------- 
চর্যাপদ:

- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাগুলো বৌদ্ধ সহজিয়াগণ রচনা করেন।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।
- চর্যাপদের টীকাকার - মুনিদত্ত।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন - কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯২.
'আর্ত শব্দাবলী' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. রফিক আজাদ 
  2. গোলাম মোস্তফা 
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• 'আর্ত শব্দাবলী' হাসান হাফিজুর রহমানের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়। 

-------------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:

- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমালোচক। তিনি ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারি'।
- 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র' তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- তাড় প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিমুখ প্রান্তর'।
- তিনি ১৯৮৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,৩৯৩.
"মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. আবুল ফজল
  2. মাহাবুব উল আলম চৌধুরী
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• "মাগো, ওরা বলে, সবার কথা কেড়ে নেবে।"- পঙ্‌ক্তিটি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর লেখা "মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশ।  
- এই কবিতাটি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এবং এটি বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। 
- কবিতাটিতে মায়ের কাছে সন্তানের আকুতি এবং ভাষার অধিকার কেড়ে নেবার চেষ্টার প্রতিবাদের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  

“মাগো, ওরা বলে" কবিতার অংশবিশেষ-

“মাগো, ওরা বলে
সবার কথা কেড়ে নেবে।
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না।
বলো, মা,
তাই কি হয়?
তাইতো আমার দেরি হচ্ছে।
তোমার জন্য
কথার ঝুরি নিয়ে
তবেই না বাড়ি ফিরবো।

অন্যদিকে, 
• 'কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতাটির রচিয়তা মাহাবুব-উল-আলম চৌধুরী।
• 'স্মৃতিস্তম্ভ' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং “মাগো, ওরা বলে" কবিতা।
২,৩৯৪.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. আলাওল
  2. আবদুল হাকিম
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. রাধারমণ গোপ
ব্যাখ্যা
• রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন - রাধারমণ গোপ।
• তিনি মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি।
 
তাছাড়া,
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৫.
'গুলে বকাওলী' কাব্যটি বঙ্গানুবাদ করেন কে?
  1. বিদ্যাপতি
  2. বিজয়গুপ্ত
  3. নওয়াজিস খান
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘গুলে বকাওলী' কাব্য:
- ইজ্জতুল্লা নামক এক বাঙালি লেখক রচিত পারসি গ্রন্থ।
- ১৭২২ থেকে ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে রচিত এই গ্রন্থটির বঙ্গানুবাদ করেন 'কবি নওয়াজিশ খান'।
- এছাড়া অষ্টাদশ শতাব্দীর কবি মহম্মদ মুকিম তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম দেন ‘গুলে বকাওলী'।
- এই গ্রন্থে তিনি তাঁর সমসাময়িক মুসলিম কবিদের নাম উল্লেখ করে মুসলিম বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ নিয়ে আলোকপাত করেন
- তারপরও নওয়াজিস খান খন্দকার বিরচিত ‘গুলে বকাওলী'র রচনাকাল নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
- তবে কাব্যটি যে সতের শতকের রচনা এ ব্যাপারে পণ্ডিতেরা মত দিয়েছেন।
- চট্টগ্রামের জমিদার বংশীয় বৈদ্যনাথ রায়ের আদেশে কবি এই কাব্য লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৩৯৬.
হুমায়ূন আহমেদের পৈত্রিক বাড়ি কোথায়?
  1. কেন্দুয়া
  2. মোহনগঞ্জে
  3. পূর্বধলা
  4. খালিয়াজুড়ি
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৭.
‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।' - উক্তিটি কে কার উদ্দেশ্যে করেছিলেন?
  1. বারীন্দ্রকুমার ঘোষের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম
  2. চিত্তরঞ্জন দাসের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্দেশ্যে কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সুভাষচন্দ্র বসুর উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এনেছিলে সাথে করে মৃত্যুহীন প্রাণ, মরণে তাহাই তুমি করে গেলে দান।'

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা,
- চৈতালী, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষ লেখা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. জাগোনিউজ২৪.কম
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ০২ মার্চ, ২০২৪।
২,৩৯৮.
'কাকাবাবু' সিরিজের লেখক কে?
  1. ক) সত্যজিৎ রায়
  2. খ) সমরেশ মজুমদার
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) প্রফুল্ল রায়
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। 
- এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। 
- শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। 
- এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। 
- 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল'  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
২,৩৯৯.
কোনটি ঠিক?
  1. ক) সোজন বাদিয়ার ঘাট (উপন্যাস)
  2. খ) কাঁদো নদী কাঁদো (কাব্য)
  3. গ) বহিপীর (নাটক)
  4. ঘ) মহাশ্মশান (কাব্য)
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার, ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'বহিপীর' বহিপীর নাটক ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- পিতার বদলির চাকরি সূত্রে ওয়ালীউল্লাহ সারা বাংলাদেশে ঘুরে বেড়ানাের সুযােগ পান।

- তিনি বাঙালি মুসলমান সমাজে তখন জেঁকে বসা পীর প্রথা কাছে থেকে দেখার সুযােগ পান।
- ফলে তিনি লালসালু উপন্যাসে যেমন, তেমনি এই নাটকে সে অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর। 
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে। 
চরিত্র: বহিপীর, তাহেরা, হাতেম, আমেনা, হাশেম।

এছাড়া,
- কবি জসীমউদদীনের কাহিনীকাব্য - সোজন বাদিয়ার ঘাট।
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস- কাঁদো নদী কাঁদো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,৪০০.
মুনীর চৌধুরীর 'কবর' নাটকের পটভূমি-
  1. দেশভাগ
  2. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  3. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  4. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• ‘কবর’ নাটক:
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে মুনীর চৌধুরী রচিত নাটক 'কবর'।
- নাটকটি লেখক জেলে থাকা অবস্থায় রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে জেলের রাজবন্দিদের দ্বারা নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।
- নাটকটি ১৯৬৬ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• ‘কবর’ নাটকের কাহিনি সংক্ষেপ:
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত 'Bury The Dead' (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে 'কবর' নাটক লেখা হয়েছে।
- 'কবর' নাটকে মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করে শহরে কারফিউ দিয়ে লাশ গুম করতে গভীর রাতে কবরস্থানে নিয়ে যায়। পুলিশ ইন্সপেক্টর হাফিজ এবং নেতা (নাটকে তার নাম নেই) যৌথভাবে এ দায়িত্ব নেয়। কিন্তু লাশগুলো ছিন্নভিন্ন দেখে তারা ধর্মীয় প্রথা অনুসারে কবরস্থ না করে একত্রে মাটিচাপা দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে বাধা দেয় গোর-খোদক। কবরস্থানে আশ্রয় নেয়া আরেক স্বজনহারা পাগল মুর্দা ফকিরও প্রতিবাদ জানায়।
বলে: এ লাশগুলো আন্দোলনকারীর। এরা এভাবে কবরে যাবে না। লাশগুলোও তখন উঠে দাঁড়ায় এবং বলে: আমরা কবরে যাবো না। এসব দেখে মদ্যপ ইন্সপেক্টর ও নেতা ভয় পেয়ে যায়।
- 'কবর' একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক।

---------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।