বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ২১ / ২১১ · ২,০০১২,১০০ / ২১,১৩২

২,০০১.
বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক কে?
  1. ক) রামনিধি গুপ্ত
  2. খ) বিপ্রদাস পিপলাই
  3. গ) মালাধর বসু
  4. ঘ) বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা
- বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। রামনিধি গুপ্তের ডাক নাম নিধু (বাবু)।
- বাংলায় টপ্পা গান ছিল না। ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির চাকুরি সূত্রে বিহারের ছাপরায় গমন এবং হিন্দুস্তানি টপ্পা - শিক্ষাগ্রহণ করেন।
- ১৭৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতায় ফিরে তিনি বাংলায় টপ্পা রচনা ও পরিবেশন করেন।
- তাঁর বিখ্যাত টপ্পার উদাহরণ: নানান দেশের নানান ভাষা বিনে স্বদেশী ভাষা পুরে কি আশা।
- তাঁর টপ্পা সঙ্গীত সংকলনের নাম ‘গীতরত্ন’ (১৮৩২)।

উৎস: বাংলা ভাষার সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০০২.
’একটি তুলসী গাছের কাহিনি’ গল্পের লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্
  3. আবুল ফজল
  4. আবু জাফার শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা
• একটি তুলসী গাছের কাহিনি
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত গল্প  ‘একটি তুলসী গাছের কাহিনি’।
- এই গল্পটি দুই তীর ও অন্যান্য গল্প গ্রন্থ থেকে সংকলিত।
- গল্পটির মধ্যে ফুটে উঠে মানুষের জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন তখন তার পারিপার্শ্বিক অনষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে অর্থহীন।
- দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধেও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি।
------------------------------------------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০০৩.
যুগসন্ধিকাল হলো -
  1. ক) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  2. খ) ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  3. গ) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
  4. ঘ) ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিক যুগের শুরুর সময়টাকে যুগসন্ধিকাল বলা হয়। বাংলা সাহিত্যে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত যুগসন্ধিকাল হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস : চর্যাপদ মূল বই, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার
২,০০৪.
কোন নাটকের রচনাকালে রচয়িতা কারাগারে বন্দি ছিলেন?
  1. ক) শঙ্খনীল কারাগার
  2. খ) কমলাকান্তের জবানবন্দী
  3. গ) রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. ঘ) কবর
ব্যাখ্যা
'কবর' মুনীর চৌধুরীর একুশের পটভূমিতে রচিত প্রথম বাংলা নাটক। 
- বাংলা ভাষা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগে মুনীর চৌধরীকে আটক করা হয়।
- ১৯৫৩ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে জেলে বন্দি থাকা অবস্থায় অন্য রাজবন্দি বামপন্থী লেখক রণেশ দাশগুপ্ত মুনীর চৌধুরীকে নাটক লিখতে বলেন।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw রচিত Bury The Dead (১৯৩৬) নাটকের অনুসরণে ভাষা আন্দোলনের পটভূমিতে ‘কবর’ নাটকটি রচিত হয়েছে।
- রাজবন্দিরা এই নাটকটি জেলেই মঞ্চস্থ করেন।

মুনীর চৌধুরীর অন্যান্য মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর
- চিঠি
- দন্ডকারণ্য।

তাঁর অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

রাজবন্দীর রোজনামচা শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
শঙ্খনীল কারাগার হুমায়ুন আহমেদের প্রথম লিখিত উপন্যাস ।
কমলাকান্তের জবানবন্দী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রম্য রচনা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০০৫.
বুদ্ধদেব বসু কোন গ্রন্থের জন্য সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান?
  1. মর্মবাণী
  2. তপস্বী ও তরঙ্গিণী
  3. কঙ্কাবতী
  4. স্বাগত বিদায়
ব্যাখ্যা
বুদ্ধদেব বসু:
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ত্রিশ দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- 'তপস্বী ও তরঙ্গিণী' নাটকের জন্য তিনি সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬৭) লাভ করেন।
- ১৯৭০ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।
- এছাড়া 'স্বাগত বিদায়' কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র পুরস্কার’ (১৯৭৪) লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালের ১৮ মার্চ কলকাতায় মৃত্যু হয়।

বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের গান,
- একদিন চিরদিন,
- স্বাগত বিদায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
২,০০৬.
'ধূমকেতু' - পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. দীনেশরঞ্জন দাস 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. সজনীকান্ত দাস 
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
 
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা: 
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা'- ধূমকেতু'। 
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু"। 
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০০৭.
'ভেড়াকান্ত' চরিত্রে মীর মশাররফ হোসেনের নিজের ছায়াপাত ঘটেছে কোন আত্মজীবনীমূলক রচনায়?
  1. উদাসীন পথিকের মনের কথা
  2. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
  3. কুলসুম জীবনী
  4. ক ও খ 
ব্যাখ্যা

• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- এর প্রথম অংশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়; দ্বিতীয় অংশ পুস্তকাকারে স্বতন্ত্রভাবে প্রকাশিত হয়নি, তবে মীর রচিত আত্মজীবনী আমার জীবনী-তে এর কিয়দংশ মুদ্রিত হয়। গ্রন্থের প্রচ্ছদপটে গ্রন্থকার হিসেবে মীর মশাররফ হোসেনের নাম মুদ্রিত হয়নি; স্বত্বাধিকারী হিসেবে তাঁর ছদ্মনাম 'উদাসীন পথিক' মুদ্রিত হয়েছে।
- সোনাবিবি ও মনিবিবি নামে দুই বিধবা মহিলা জমিদারের দ্বন্দ্ব উপন্যাসের মূল ঘটনা।
- উপন্যাসের নায়ক-নায়িকা ও স্থানের নামকরণ অভিনব, যেমন অরাজকপুর, যমদ্বার, নচ্ছারপুর, পয়জারন্নেসা, সবলোট চৌধুরী, ভেড়াকান্ত, জয়ঢাক ইত্যাদি।
- ভেড়াকান্ত চরিত্রে লেখকের নিজের ছায়াপাত আছে বলে গ্রন্থখানিকে আত্মজৈবনিক রচনা বলে অভিহিত করা হয়।

------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক 'কাঙাল হরিনাথ' ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
বিষাদ-সিন্ধু।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০০৮.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন কোনটি?
  1. অ্যাকাডেমিক অরগানাইজেশন
  2. অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন
  3. অ্যাকাডেমিক ইন্সটিটিউট
  4. অ্যাকাডেমিক সল্যুশন
ব্যাখ্যা
• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিওর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন - অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন

হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০০৯.
'স্বরূপের সন্ধানে' গ্রন্থটি কার রচিত? 
  1. হাসান আজিজুল হক
  2. আনিসুজ্জামান 
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ 
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ 
ব্যাখ্যা

• আনিসুজ্জামান:
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- তাঁর এই গবেষণা পত্রকে তিনি 'মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য' (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৮ সালের ১৯ জুন তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিযোগ দেন।
- মৃত্যুর পূর্বে তিনি বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
- গত ১৪ মে ২০২০ জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে মারা যান।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
- স্বরূপের সন্ধানে (প্রবন্ধ),
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (প্রবন্ধগ্রন্থ),
- কাল নিরবধি (স্মৃতিকথা)।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,০১০.
'তৃণাঙ্কুর' আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের রচয়িতা -
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী'। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'তৃণাঙ্কুর' (১৯৪৩)।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- মেঘমল্লার, 
- মৌরীফুল, 
- যাত্রাবদল, 
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০১১.
কবি জসীমউদ্‌দীন রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. খ) রাখালী
  3. গ) চৈতালী
  4. ঘ) সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
জসীমউদ্‌দীন
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি  ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। 
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ রাখালী প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। 
তাঁর প্রধান গ্রন্থগুলি হলো:

- নক্সী কাঁথার মাঠ
- সোজন বাদিয়ার ঘাট
- রঙিলা নায়ের মাঝি
- মাটির কান্না
- সুচয়নী
- পদ্মা নদীর দেশে
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
- পদ্মাপার
- বেদের মেয়ে
- পল্লীবধূ 
- গ্রামের মায়া
- ঠাকুর বাড়ির আঙিনায়
- ডালিম কুমার

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
২,০১২.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সবিতা
  2. বেণু ও বীণা
  3. কুহু ও কেকা
  4. অভ্র আবীর
ব্যাখ্যা
কুহু ও কেকা:
- এটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বহুল প্রচলিত 'মেথর' কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।
- এই কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কবিতাগুলো: মধুমাসে, সহজিয়া, অকারণ, গ্রীষ্মের সুর, দরদী, ঝোড়ো হাওয়ায় ইত্যাদি।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
-  তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং কুহু ও কেকা কাব্যগ্রন্থ।
২,০১৩.
নিচের কোনটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়?
  1. ক) লীলাবতী
  2. খ) জামাই বারিক
  3. গ) নীলদর্পণ
  4. ঘ) কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ বাংলা সাহিত্যে একটি বিশেষ পরিচিত নাটক। ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থ এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,০১৪.
বৈষ্ণব সাহিত্য কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ৩ ভাগে
  2. ৪ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৬ ভাগে 
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রধানতম গৌরব বৈষ্ণব পদাবলি সাহিত্য।
- রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলস্বনে এই অমর কবিতাবলির সৃষ্টি এবং বাংলাদেশে শ্রীচৈতন্যদেব প্রচারিত বৈষ্ণব মতবাদের সম্প্রসারণে এর ব্যাপক বিকাশ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার। যথা: ১. জীবনীকাব্য, ২. বৈষ্ণব শাস্ত্র ও ৩. বৈষ্ণব পদাবলী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০১৫.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. খ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহম্মদ এনামুল হক
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ একজন  শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
 তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি  চট্টগ্রাম জেলার  পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে  জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- বিশ শতকের বাঙালি,
- বিচিত্র চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা ইত্যাদি ।


[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও banglaacademy.portal.gov.bd]
২,০১৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" অভিধায় প্রথম অভিষিক্ত করেন কে?
  1. নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
  2. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  3. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য, সংগীত, এবং দার্শনিক চিন্তাধারার বিশ্বব্যাপী প্রভাব ও গভীরতার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই উপাধি প্রদান করেছিলেন। এই উপাধি রবীন্দ্রনাথের সর্বজনীন সৃজনশীলতা ও মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি একটি উচ্চ সম্মান প্রকাশ করে।  

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যান্য উপাধিসমূহ:
- 'গুরুদেব' উপাধি দেন মহাত্মা গান্ধী।
- 'কবি গুরু' উপাধি দেন ক্ষিতিমোহন সেন।
- 'ভারতের মহাকবি' উপাধি দেন চীনের কবি চি লিজন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;  এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০১৭.
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
  2. রাবেয়া খাতুন 
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. সেলিনা হোসেন 
ব্যাখ্যা

• 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধ:
- রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন রচিত ‘মতিচূর' গ্রন্থের একটি উল্লেখযােগ্য প্রবন্ধ 'অর্ধাঙ্গী'। এই রচনায় উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গােড়ায় ভারতবর্ষে পুরুষ শাসিত সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে নারী, বিশেষ করে মুসলমান নারীসমাজের পশ্চাদপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতাকে দেখা হয়েছে পুরুষের নিদারুণ স্বার্থপরতা, আধিপত্যকামী মানসিকতার প্রেক্ষাপটে। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে বেগম রােকেয়া আবেগধর্মী যুক্তিপ্রধান এই রচনায় নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চা ও কর্মব্রত, অধিকার সচেতনতা ও মুক্তি-আকাঙ্ক্ষায় প্রবুদ্ধ করতে সচেষ্ট হয়েছেন।

- ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধে রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ যে পূর্ণ ও স্বাভাবিক গতিতে অগ্রসর হতে পারছে না তার কারণ পরিবার ও সমাজজীবনের অপরিহার্য অর্ধেক শক্তি নারীসমাজের দুর্বল ও অবনত অবস্থা। এজন্যে পুরুষসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে দায়ী করেছেন তিনি। এ রচনায় নারী জাগরণের পক্ষে যে সুচিন্তিত, দৃঢ় ও বলিষ্ঠ মতামত তিনি ব্যক্ত করেছেন তাতে তাঁর মন্তব্যে আছে আবেগের গাঢ়তা আর যুক্তিতে আছে ধারালাে তীক্ষ্ণতা। তিনি দেখাতে চেয়েছেন, সমাজ জীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্যে নারী জাগরণ এবং সেই সঙ্গে পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের বিকল্প নেই।

------------------------
• "মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)":
- ‘মতিচূর’ রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধ গ্রন্থ। ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর। রােকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলােও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতােই।

- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মােট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি। প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-‘পিপাসা’, ‘স্ত্রীজাতির অবনতি’, ‘নিরীহ বাঙালি’, ‘অর্ধাঙ্গী’, ‘সুগৃহিণী’, ‘বােরকা’ ও ‘গৃহ'। দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

উৎস: মতিচূর (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড) এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র।

২,০১৮.
মৈমনসিংহ গীতিকায় দেওয়ানা মদিনা পালাটির কবি কে?
  1. ক) দ্বিজ কানাই
  2. খ) নয়ানচাঁদ ঘোষ
  3. গ) মনসুর বয়াতি
  4. ঘ) চন্দ্রাবতী
ব্যাখ্যা
মৈমনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে -  মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে  গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা—মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

এদের মধ্যে, মনসুর বয়াতি প্রণীত পালা - দেওয়ানা মদিনা। 
- চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা - দস্যু কেনারাম 
- নয়ানচাঁদ ঘোষ প্রণীত পালা - চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র 
- দ্বিজ কানাই প্রণীত পালা - মহুয়া 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০১৯.
'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না-বিষ্ণু দে। 

• 'কবিতা' পত্রিকা: 
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র- প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০২০.
‘আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী।
খনহ ন ছাড়ই ভুসুকু অহেরী।।-
ভুসুকুপা রচিত পদটি চর্যার কত নং পদ?
  1. ০৬
  2. ২৭
  3. ৪৩
  4. ৪৯
ব্যাখ্যা

'আপণা মাংসেঁ হরিণা বৈরী
খনহ ন ছাড়ই ভুসুকু আহেরী।'
-- চর্যার ৬নং পদ।

- চর্যাপদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচিয়তা ভুসুকুপা। 
- তিনি আটটি পদ রচনা করেন।
- তিনি ৬, ২১, ২৩, ২৭, ৩০, ৪১, ৪৩, ৪৯ নং পদ রচনা করেন।
- ভুসুকুপা তাঁর ছদ্মনাম, প্রকৃত নাম শান্তিদেব। তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দায় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে নিঃসঙ্গভাবে অবস্থান করেন। সেজন্য ভুক্তির ভু, সুপ্তির সু এবং কুটিরের কু এই তিন আদ্যক্ষর যোগে তাঁকে ভুসুকু বলে পরিহাস করা হত।

'আজি ভুসুকু বাঙালি ভইলি।
নিএ ঘরিণী চণ্ডালে লেলী।'
-- ভুসুকুর এই উক্তিকে প্রমাণ স্বরূপ মনে করে তাঁকে বাঙালি অনুমান করা হয়।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

২,০২১.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. কাজী আব্দুল ওদুদ
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- রচয়িতা: কাজী ইমদাদুল হক।
- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত হতো। 
- রচনাকালীন সময়ে তার মৃত্যু হলে কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়।
- বাংলা সামাজিক বিবর্তনের , বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানদের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।
- কাহিনির নায়কের নামে গ্রন্থের নামকরণ করা হয়েছে।  
-------------------------- 

কাজী ইমদাদুল হক: 
 - কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০২২.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বিষ্ণু দে
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

পরিচয়:
- 'পরিচয়' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে (১৯৩১, জুলাই)।
- পত্রিকাটি ত্রৈমাসিক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত অমর হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০২৩.
মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. কবর
  2. রক্তাক্ত প্রান্তর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. মুখরা রমণী বশীকরণ
ব্যাখ্যা

‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক: 
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক। 
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক: 
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০২৪.
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কে?
  1. ক) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. গ) বিদ্যাপতি
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো,
-হুতোম প্যাঁচার নকশা।
-সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০২৫.
বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. অগ্নিবীণা
  2. সন্ধ্যা
  3. ব্যথার দান
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

চল্ চল্ চল্:
- বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।
- এটি তাঁর 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। 
- এটি ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় 'নতুনের গান' শিরোনামে ১৯২৮ সালে।
- পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্ চল্'।
- বাংলাদেশের রণসংগীত 'চল্ চল্ চল্' কবিতার প্রথম ২১টি চরণ।

চল্ চল্ চল্
- কাজী নজরুল ইসলাম

চল্ চল্ চল্
ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল,
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,
অরুণ প্রাতের তরুণ দল
চল্ রে চল্ রে চল্।
চল্ চল্ চল্।।
ঊষার দুয়ারে হানি' আঘাত
আমরা আনিব রাঙা প্রভাত,
আমরা টুটাব তিমির রাত,
বাধার বিন্ধ্যাচল।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ।

২,০২৬.
কোন কবি “ধর্মমঙ্গল” কাব্য রচনা করেছেন?
  1. ক) বংশীদাস চক্রবর্তী
  2. খ) রূপরাম চক্রবর্তী
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) বলরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট।
- ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী।

ধর্মমঙ্গল ধারার অন্যান্য কবিঃ 
- রূপরাম চক্রবর্তী,
- খেলারাম চক্রবর্তী,
- শ্যাম পণ্ডিত,
- নরসিংহ বসু।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।

 
২,০২৭.
'মহুয়া পালা' কে রচনা করেন?
  1. দ্বিজ ঈশান 
  2. চন্দ্রবতী
  3. দ্বিজ কানাই
  4. মনসুর বয়াতী
ব্যাখ্যা

• 'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খিষ্ট্রাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- 'মহুয়া' পালার রচনায় তাঁর যে উদার নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মূলে তাঁর ব্যক্তিজীবনের সংস্কারমুক্ত মানবিক বোধ সক্রিয় বলে ধারনা করা হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে।
- এদের মধ্যে 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে।
- 'মহুয়া' পালাটির রচয়িতা- দ্বিজ কানাই।
- এই পালার কাহিনির সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে,
- সাধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

২,০২৮.
"দারোগার দপ্তর" গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. আবু ইসহাক 
  4. প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• "দারোগার দপ্তর" : 
- "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থের রচয়িতা প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়।
- প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায় ডিটেকটিভ গল্পের ধারা শুরু করেন। অনেকগুলি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রিয়নাথ নিজে ছিলেন পুলিশ দপ্তরের কর্মচারী। প্রধানত নিজের অভিজ্ঞতা অবলম্বনে এই গল্পগুলি লিখিত হয়।
- তবে কোনো কোনো খণ্ডে বিদেশি ডিটেকটিভ গল্পের অনুবাদও সংকলিত হয়।এই গ্রন্থধারাকে বাংলা ডিটেকটিভ গল্পের আদি বলা চলে।

----------------------
• প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়:
- তাঁর জন্ম ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের ৪ জুন নদিয়ার জয়রামপুরের চুয়াডাঙায়। 
- তাঁকে বলা হয়েছে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের পথিকৃৎ। পেশায় ছিলেন পুলিশ কর্মচারী। 
- তিনি ‘দারোগার দপ্তর’ নামে একটি মাসিক পত্রিকা ১২৯৭ বঙ্গাব্দ থেকে ১২ বছর চালিয়েছিলেন। 
- এ পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পগুলি পরে ‘ডিটেকটিভ গল্প’ নামে পুস্তকাকারে ছাপা হয়।

উৎস: সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান; "দারোগার দপ্তর" গ্রন্থ।

২,০২৯.
’চাচা কাহিনী’ এর লেখক কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. শওকত ওসমান
  4. ফররুখ আহমেদ
ব্যাখ্যা
• 'চাচা-কাহিনী' গ্রন্থটির লেখক: 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

⇒ সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনিটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

• তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৩০.
‘নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যটির ইংরেজী অনুবাদক কে ছিলেন?
  1. ক) ই.এম. মিলফোর্ড
  2. খ) ডব্লিউ.বি. ইয়েটস
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) অ্যাডগার অ্যালান পো
ব্যাখ্যা

‘নক্সী কাঁথার মাঠ’ জসীমউদদীন এর একটি আখ্যানকাব্য।
- তিনি রূপাই এবং সাজু চরিত্রের মাধ্যমে গ্রামীন জীবনের মাধুর্য ও কারুণা, বৈচিত্রহীন ক্লান্তিকরতা এবং মানুষের অসহায়তা তুলে ধরেছেন।
- কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- The Fleld of the Embroidered Quit নামে E. M. Millford নক্সী কাঁথার মাঠ অনুবাদ করেন।

বাংলা কবিতার ধারায় জসীমউদ্দীনের স্থানটি বিশিষ্ট। তাঁর কবিতা অনাড়ম্বর কিন্তু রূপময়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজীবন জসীমউদ্দীনের কবিতায় নতুন রূপ লাভ করেছে।
বাংলাদেশের মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসিকান্না ও জীবন সংগ্রামের কাহিনীই তাঁর কবিতার প্রধান উপজীব্য। তাঁর কবিতায় দেশের মাটির সাক্ষাৎ উপলব্ধি ঘটে।
এজন্য ‘পল্লীকবি’ হিসেবে তাঁর বিশেষ ও স্বতন্ত্র পরিচিতি রয়েছে। তাঁর গদ্য রচনাও বিশেষ আকর্ষণীয়; সরল, সরস, গভীর ও আন্তরিকতার স্পর্শে তা মন ছুঁয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০৩১.
'নূরন্নেহার' কোন নাটকের চরিত্র?
  1. কুলসুম জীবনী
  2. বেহুলা গীতাভিনয়
  3. জমিদার দর্পণ
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

'জমিদার দর্পণ' নাটক:
- ‘জমিদার দর্পণ’ মীর মশাররফ হোসেন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
- অত্যাচারী ও চরিত্রহীন জমিদার হায়ওয়ান আলীর অত্যাচার এবং অধীনস্থ প্রজা আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রী নূরন্নেহারকে ধর্ষণ ও হত্যার কাহিনি ‘জমিদার দর্পণ’ (১৮৭৩) - এর মূল ঘটনা।
- লেখক লিখেছে, নাটকটির কিছুই সাজানো নয়, অবিকল ছবি তুলে ধরা হয়েছে প্রচলিত সমাজের। 
- নামকরণে দীনবন্ধু মিত্রের 'নীল-দর্পণ' নাটকের প্রভাব যেমন প্রবল, নাটকটির ঘটনা বিন্যাসেও এর ছায়া পড়েছে।  

মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।

তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

তাঁর রচিত প্রহসন: 
- এর উপায় কি?

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৩২.
'কাশিমের লড়াই' সাহিত্যকর্মটির লেখক কে?
  1. আব্দুল আলিম
  2. সেরবাজ চৌধুরী
  3. সৈয়দ সুলতান
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'কাশিমের লড়াই' সাহিত্যকর্মটির লেখক সেরবাজ চৌধুরী।

• উল্লেখযোগ্য মর্সিয়া সাহিত্য ও কবির নাম:
- জয়নবের চৌতিশা- শেখ ফয়জুল্লাহ। 
- নবীবংশ- সৈয়দ সুলতান। 
- সোনাভান- ফকির গরীবুল্লাহ। 
- জঙ্গনামা, ইমাম বিজয়- দৌলত উজির বাহরাম খাঁ। 
- কাশিমের লড়াই- সেরবাজ চৌধুরী। 
- কারবালা কাহিনি - নসরুল্লাহ খন্দকার। 
- মজুল হোসেন - মুহম্মদ খান। 
- হানিফার কাব্য - আব্দুল আলিম। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৩.
রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মানুষের মানচিত্র
  2. উত্তীর্ণ পঞ্চাশে
  3. ক্রন্দসী
  4. অনেক আকাশ
ব্যাখ্যা

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ রচিত কাব্যগ্রন্থ - মানুষের মানচিত্র।
- গ্রন্থটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- তিনি ১৯৫৬ সালের ১৬ অক্টোবর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বাগেরহাট জেলার মংলা থানার অন্তর্গত সাহেবের মেঠ গ্রাম।
- তিনি প্রতিবাদী কবি হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ ; ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি তিনি নিজে গ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনেই তাঁর দুটি কাব্যগ্রন্থ 'উপদ্রুত উপকূল' (১৯৭৯) ও 'ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম' (১৯৮১) প্রকাশিত হয়।
- তাঁর কবিতায় বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে।
- সাহিত্য-সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮০ সালে তিনি ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতিপুরস্কার’ লাভ করেন।
- ১৯৯১ সালের ২১ জুন ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছোবল,
- দিয়েছিলে সকল আকাশ,
- মৌলিক মুখোশ,
- একগ্লাস অন্ধকার,
- উপদ্রুত উপকূলইত্যাদি।


অন্যদিকে,
• সৈয়দ আলী আহসান রচিত কাব্যগ্রন্থ - অনেক আকাশ।
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ - ক্রন্দসী।
• সানাউল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ - উত্তীর্ণ পঞ্চাশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

২,০৩৪.
'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. দোভাষী পুঁথি
  2. মর্সিয়া সাহিত্য
  3. নাথ সাহিত্য
  4. মঙ্গলকাব্য
ব্যাখ্যা
নাথ সাহিত্য:
- শিব উপাসক নাথ-যোগী ও সিদ্ধাচার্যদের রচিত সাহিত্যই নাথ সাহিত্য নামে পরিচিত।
- নাথ সাহিত্য দুইভাগে বিভক্ত:
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষ নাথের কাহিনি।
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস
- এই দুই কাহিনি অবলম্বনেই নাথ যোগীদের অলৌকিক গল্প পল্লবিত হয়েছে।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য:
- গোরক্ষ বিজয় - শেখ ফয়জুল্লাহ।
- গোপীচন্দ্রের সন্যাস - শুকুর মুহম্মদ।
- মীনচেতন - শ্যামাদাস সেন।
- ময়নামতির গান - ভবানী দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৫.
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' কে সম্পাদনা করেন?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. আহমদ শরীফ
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান':
- আঞ্চলিক ভাষার অভিধান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপভাষার একটি সংকলন গ্রন্থ।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনায় ১৯৬৫ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষাসমূহের সংকলন-জাতীয় গ্রন্থ এটিই প্রথম।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভান্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য রচনা কর্ম হলো:
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত।

উৎস: 
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৩৬.
কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ একত্রে সম্পাদনা করেছিলেন?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) আজাদ
  3. গ) সওগাত
  4. ঘ) নবযুগ
ব্যাখ্যা
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে।
- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা  এ.কে ফজলুল হক 
- নবযুগ পত্রিকাটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড  মুজফ্ফর আহমদ। 

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
২,০৩৭.
'বন্দর থেকে বন্দরে' রম্য রচনাটির রচয়িতা -
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) সেলিম আলদীন
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• সানাউল হক রচিত 'বন্দর থেকে বন্দরে' একটি  রম্যরচনা
- এটি অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ-কাহিনী নিয়ে রচিত।

• সানাউল হক:
- কবি, অনুবাদক, সংস্কৃতিকর্মী, সংগঠক, শিক্ষাবিদ হিসেবে খ্যাতি কুঁড়ান।
- ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে ১৯২৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সানাউল হকের প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা।
- সম্ভবা অনন্য।
- সূর্য অন্যতর।
- বিচূর্ণ আর্শিতে।
- একটি ইচ্ছা সহস্র পালে।
- কাল সমকাল প্রভৃতি।
- পদ্মিনী শঙ্খিনী।
- প্রবাসে যখন।
- বিরাশির কবিতা।
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৮.
'সুচরিতা' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসে পাওয়া যায়?
  1. দুইবোন
  2. গোরা
  3. চোখের বালি
  4. শেষের কবিতা
ব্যাখ্যা
'গোরা' উপন্যাস:
- গোরা (১৯১০)  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস।
- গোরা উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।
- উপন্যাসের বিষয়বস্তু হলো ‘ব্যক্তির সঙ্গে সমাজের, সমাজের সঙ্গে ধর্মের, ধর্মের সঙ্গে সত্যের বিরোধ ও সমন্বয়’।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা, 
- পূরবী, 
- পুনশ্চ, 
- পত্রপূট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি। 

নাটক: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- ডাকঘর, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
২,০৩৯.
'তোহফা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. দৌলত কাজী
  3. আলাওল
  4. সৈয়দ হামজা
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

• আলাওল রচিত বিখ্যাত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
- পদ্মাবতী (১৬৪৮),
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী (১৬৫৯),
- সপ্তপয়কর (১৬৬৫),
- সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল (১৬৬৯) ও
- সিকান্দরনামা (১৬৭৩)। 

• নীতিকাব্য: তোহফা (১৬৬৪)। 

• সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য: রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন?
  1. বিসর্জন
  2. ডাকঘর
  3. বসন্ত
  4. অচলায়তন
ব্যাখ্যা
• ‘বসন্ত’ গীতিনাট্য:
- এই নাটকটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়। বসন্ত একটি গীতিনাট্য।
- এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।
- কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।

------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪১.
‘প্রেমপ্রবাহিনী’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘প্রেমপ্রবাহিনী’ বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৮৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৪২.
'যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  3. গ) মকবুল হোসেন চৌধুরী
  4. ঘ) মোহাম্মদ আকরম খাঁ
ব্যাখ্যা
যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মকবুল হোসেন চৌধুরী। কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক নবযুগ (১৯২০), ধূমকেতু (১৯২২), লাঙল। সাম্যবাদী পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
২,০৪৩.
'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
• 'মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা' প্রবন্ধের লেখক - মোতাহের হোসেন চৌধুরী।
 
মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
 
তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৪.
কোনটি শওকত ওসমানের উপন্যাস নয়?
  1. পতঙ্গ পিঞ্জর
  2. প্রসন্ন প্রহর 
  3. রাজসাক্ষী
  4. বনী আদম
ব্যাখ্যা

• প্রসন্ন প্রহর শওকত ওসমানের উপন্যাস নয়। 
এটি  সিকানদার আবু জাফরের একটি কবিতা। 

শওকত ওসমান
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো:

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া। 

২,০৪৫.
কোন গল্পটিতে মুসলমান চরিত্র আছে?
  1. ক) সমাপ্তি
  2. খ) একরাত্রি
  3. গ) হৈমন্তি
  4. ঘ) কাবুলিওয়ালা
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত সামাজিক ছোট গল্প - কাবুলিওয়ালা। এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র - রহমত, খুকী প্রমুখ। গল্পটিতে রহমতের চরিত্র তিনি এত সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন, বাংলা সাহিত্যে কেউ এমন একটি মুসলিম চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে পারেন নি।
উৎসঃ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা এবং মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।

২,০৪৬.
'চাষার দুক্ষু' প্রবন্ধের রচয়িতা কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বেগম রোকেয়া
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া: 
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুরে।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- 'চাষার দুক্ষু' বেগম রোকেয়া রচিত - প্রবন্ধ। 

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৪৭.
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের দ্বিতীয় পর্বে কোন দিল্লির সুলতানের ব্যর্থ অভিযানের বিবরণ আছে?
  1. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজি
  2. জালালুদ্দিন খিলজি
  3. গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
  4. আলাউদ্দিন খিলজি
ব্যাখ্যা

‘পদ্মাবতী’ কাব্য:
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কাব্যটি প্রখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির ‘পদুমাবৎ’ কাব্যের অনুবাদ।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে।  প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে। 

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

২,০৪৮.
'এক ফোঁটা কেমন অনল' কাব্যগ্রন্থের কবি কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. শামসুর রাহমান
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'এক ফোঁটা কেমন অনল' কাব্যগ্রন্থের কবি - শামসুর রাহমান

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
২,০৪৯.
"প্রেম ও ফুল" কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. নুরুল মোমেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবে বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৫০.
নাথ সাহিত্যের কবি ছিলেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. শেখ ফয়জুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• নাথ সাহিত্যের কবিগণ:
- নাথধর্ম সংক্রান্ত গল্পকাহিনি নিয়ে যেসব সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছে তা দীর্ঘদিন পর্যন্ত লোকচক্ষুর অন্তরালেই ছিল। ১৮৭৮ সালে প্রথমবার স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন রংপুর থেকে সংগৃহীত একটি গীতিকা 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' নাম দিয়ে এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে প্রকাশ করেন। পরবর্তী কালে উত্তর ও পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে 'ময়নামতীর গান', 'গোপীচন্দ্রের গান,' 'গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস' ইত্যাদি বিভিন্ন নামে একই কাহিনিভিত্তিক পুঁথি আবিষ্কৃত হয়েছে।

- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ শেখ ফয়জুল্লাকৃত 'গোরক্ষবিজয়' কাব্যের পুঁথি আবিষ্কার করে প্রকাশ করেছেন। 'গোর্খবিজয়' নামে অন্য একটি পুঁথি পঞ্চানন মণ্ডল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েও প্রকাশিত হয়েছে। এই সব গ্রন্থ থেকে নাথসাহিত্যের পরিচয় লাভ করা যায়।

- গোরক্ষনাথ-মীননাথের কাহিনি অবলম্বনে রচিত যে সব কাব্য সম্পাদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো হলো:
১. আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কবি শেখ ফয়জুল্লাহর 'গোরক্ষবিজয়',
২. ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত কবি শ্যামদাস সেনের 'মীনচেতন' এবং
৩. ড. পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত কবি ভীম সেনের 'গোর্খবিজয়'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
২,০৫১.
'বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।' - এই উদ্ধৃতাংশটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. নবান্ন
  2. খেয়াপার
  3. প্রলয়োল্লাস
  4. খেয়া পারের তরণী
ব্যাখ্যা
• ''বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।'' - এই উদ্ধৃতাংশটি 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

খেয়া পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম

‘শাফায়ত’-পাল-বাঁধা তরণীর মাস্তুল,
‘জান্নাত্’ হতে ফেলে হুরি রাশ্ রাশ্ ফুল।
শিরে নত স্নেহ-আঁখি মঙ্গল দাত্রী,
গাও জোরে সারি-গান ও-পারের যাত্রী।
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,০৫২.
সুফিয়া কামাল তাঁর রচিত 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' সংকলনটি কাকে উৎসর্গ করেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. বেগম রোকেয়া
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা
বেগম রোকেয়ার সামাজিক আদর্শ সুফিয়া কামালকে আজীবন প্রভাবিত করেছে। তিনি 'বেগম রোকেয়া'র উপর অনেক কবিতা রচনা করেন এবং তাঁর নামে 'মৃত্তিকার ঘ্রাণ' (১৯৭০) শীর্ষক একটি সংকলন উৎসর্গ করেন। তিনি 'রোকেয়া সাখাওয়াত স্মৃতি কমিটি' গঠনে সহায়তা করেন, যার প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা হল 'রোকেয়া' তাঁর নামে করা হয়।

-----------------
• সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প 'সৈনিক বধূ'। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের 'তরুণ' পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৩.
কাজী নজরুল ইসলামের মোট কয়টি গ্রন্থ নিষিদ্ধ হয়?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলামের নিষিদ্ধ গ্রন্থ ৫টি: 
- যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
- বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
- ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
- প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
- চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার - ১৪।
২,০৫৪.
'কবর' কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. নবযুগ
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

'কবর' কবিতা:
- 'কবর' কবিতাটি কবি  জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়। এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮টি পঙ্‌ক্তি আছে।
- কাহিনিধর্মী এই কবিতাটিতে সহজ সরল ভাষায় এক গ্রামীণ বৃদ্ধের জীবনের প্রিয়জন হারানোর বেদনার স্মৃতি বর্ণিত হয়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে বৃদ্ধ যে তাঁর আপনজনদের হারিয়ে ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করছেন, তারই বর্ণনা কবি গভীর সহানুভূতি দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

- 'কবর' কবিতাটি সংক্ষেপে দেয়া হলো-

কবর
-জসীম উদ্‌দীন 
এইখানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।
এখানে ওখানে ঘুরিয়া ফিরিতে ভেবে হইতাম সারা,
সারা বাড়ি ভরি এত সোনা মোর ছড়াইয়া দিল কারা!
সোনালি ঊষার সোনামুখ তার আমার নয়নে ভরি
লাঙল লইয়া খেতে ছুটিতাম গাঁয়ের ও-পথ ধরি।

• 'রাখালী' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীন রচিত প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে। এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।
- তাঁর বিখ্যাত ‘কবর’ কবিতাটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং দ্বাদশ শ্রেণি সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৫.
"হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!" - কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. যৌবনের গান
  2. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  3. মানুষ
  4. কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা
• হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!
- - কাজী নজরুল ইসলামের 'মানুষ' কবিতার অন্তর্গত।

মানুষ- কবিতা,  
– কাজী নজরুল ইসলাম

গাহি সাম্যের গান-
মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান!
নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্ম জাতি,
সব দেশে, সব কালে, ঘরে ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি।
          
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি-শাবল চালা!
হায় রে ভজনালয়,
তোমার মিনারে চড়িয়াভণ্ড গাহে স্বার্থের জয়!

উৎস: মানুষ- কবিতা, কাজী নজরুল ইসলাম।
২,০৫৬.
শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ -
  1. সঞ্চয়ন 
  2. মাটি থেকে মহীরুহ
  3. প্রবন্ধ সংগ্রহ
  4. শাশ্বত বঙ্গ
ব্যাখ্যা

• শামসুজ্জামান খান রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ - মাটি থেকে মহীরুহ।
- গ্রন্থটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

• শামসুজ্জামান খান:
- শামসুজ্জামান খান ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে ডিসেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার সিঙ্গাইর উপজেলার চারিগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মায়ের নাম শামসুন্নাহার খানম এবং বাবার নাম আবদুর রহমান খান।
- তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি’র মহাপরিচালক হন।
-  তিনি অগ্রণী ব্যাংক পুরস্কার, কালুশাহ পুরস্কার, দীনেশচন্দ্র সেন ফোকলোর পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার , মীর মশাররফ হোসেন স্বর্ণপদক ইত্যাদি পুরস্কার ও পদকে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা প্রসঙ্গ, 
- গণসঙ্গতি, 
- মাটি থেকে মহীরুহ, 
- বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলাপ প্রাসঙ্গিক কথকতা, 
- ফোকলোরচর্চা।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- ঢাকাই রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গরসিকতা,
- গ্রামবাংলার রঙ্গ গল্প।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য:
- দুনিয়া মাতানো বিশ্বকাপ।

অন্যদিকে,
• সঞ্চয়ন - কাজী মোতাহার হোসেন রচিত প্রবন্ধ।
• প্রমথ চৌধুরীর প্রবন্ধ গ্রন্থ- প্রবন্ধ সংগ্রহ।
• কাজী আবদুল ওদুদের প্রবন্ধ - শাশ্বত বঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৫৭.
'মনসামঙ্গল' কাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র কোনটি?
  1. ধনপতি সওদাগর
  2. বেহুলা
  3. ফুল্লরা
  4. লহনা
ব্যাখ্যা
• 'মনসামঙ্গল' কাব্য:
- মনসামঙ্গল মঙ্গলকাব্যগুলির মধ্যে প্রাচীনতম।'মনসামঙ্গল' কাব্যের অপর নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- সাপের দেবী মনসার স্তব, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'।
- চাঁদ সওদাগর প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা করে, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা স্বীকার করাই মনসামঙ্গল কাব্যসমূহের প্রধান আখ্যান।
- দেবতা ও মানুষের দ্বন্দ্বে সামাজিক শ্রেণীবৈষম্য এবং চাঁদের সঙ্গে মনসার বিবাদে আর্য-অনার্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে।

এই কাব্যের চরিত্রগুলো হলো:
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- চাঁদ সওদাগর
- সনকা,
- সাপের দেবী মনসা।

অন্যদিকে, 
• ধনপতি সওদাগর, ফুল্লরা ও লহনা চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৮.
কোনটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয়?
  1. আত্মপরিচয়
  2. দান খণ্ড
  3. দেবখণ্ড
  4. শ্রুতিফল
ব্যাখ্যা

•  সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের অংশ নয় - দান খণ্ড। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের ১৩টি খণ্ডের ১টি খণ্ড - দান খণ্ড।

মঙ্গলকাব্য:
- মানুষের বিশ্বাস মতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে।
- পনের থেকে আঠারো শতকের শেষ অবধি এই ধারার কাব্য বাংলায় রচিত হয়।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।
যথা:
- মনসামঙ্গল,
- চণ্ডীমঙ্গল,
- অন্নদামঙ্গল।

- একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যে সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।
যথা:
- বন্দনা,
- আত্মপরিচয়,
- দেবখণ্ড,
- মর্ত্যখণ্ড,
- শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৫৯.
মার্কসবাদে দক্ষশিল্পী ছিলেন নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (১৯০৮-১৯৫৬) ছিলেন কথাসাহিত্যিক। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক। স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ (১৯২৮) প্রকাশিত হলে পাঠক মহলে আলোড়নের সৃষ্টি হয়।

• বিশ শতকের তিরিশের দশকে রবীন্দ্রনাথ-শরৎচন্দ্র ধারার বিরোধিতা করে যে কল্লোল গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে, সেই গোষ্ঠীর লেখক হিসেবে মানিকের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে ওঠে।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আমৃত্যু এই দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্কসের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসঙ্কুল পটভূমিও তাঁর উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,

[পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৬০.
শামসুর রাহমানের ডাক নাম কী ছিল?
  1. মিঠু
  2. বাচ্চু
  3. মনা 
  4. টুটুল 
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

২,০৬১.
কার জীবনী গ্রন্থকে ‘কড়চা’ বলা হয়?
  1. ক) অক্ষয় কুমার দত্ত
  2. খ) প্রমথনাথ বিশী
  3. গ) বড়ু চন্ডীদাস
  4. ঘ) চৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কড়চা’ বলা হয়ে থাকে।

• সুকুমারের মতে,
- কড়চা শব্দটি এসেছে প্রাকৃত ‘কটকচ্চ’ সংস্কৃত ‘কৃতকৃত্য’ হতে।
- কড়চা অর্থ খসড়া রচনা, স্মারক লেখা, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য।
- আবার কড়চাকে দিনপঞ্জি বা রোজনামচা হিসেবে বিবেচনা করা চলে।
- লেখক তাঁর ব্যক্তিজীবনের ঘটনা ও তাঁর দেখা ও শোনা সকলকিছুর বিবরণ কড়চায় লিখে রাখতেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস,মাহবুবুল হক।
২,০৬২.
বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ কত বছর ধরে স্থায়ী ছিল?
  1. ১০০ বছর
  2. ১৫০ বছর
  3. ২০০ বছর
  4. ২৫০ বছর
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড় শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি এ কথা ও সত্য নয়।

অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন:
- প্রাকৃতপৈঙ্গল,
- কলিমা জালাল,
- 'শূণ্যপূরাণ,
- সেক শুভদয়ার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৬৩.
আবুল মনসুর আহমদের 'আসমানী পর্দা' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) প্রবন্ধ
  2. খ) গল্পগ্রন্থ
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ:
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স, 
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
২,০৬৪.
'বীরবল' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. আবু ইসহাক
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমথনাথ বিশী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চোধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৫.
‘কাজলা দিদি’ কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মুহিব খান
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
• যতীন্দ্রমোহন বাগচী:
- নদীয়া জেলার জমশেরপুর গ্রামে ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলি জেলার বলাগড় গ্রামে। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ডাফ কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। 
- যতীন্দ্রমোহন অল্প বয়স থেকেই কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- ভারতী, সাহিত্য প্রভৃতি বিখ্যাত পত্রিকায় তাঁর কবিতা প্রকাশিত হলে তিনি কবি হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- যতীন্দ্রমোহন ছিলেন রবীন্দ্রোত্তর যুগের শক্তিমান কবিদের অন্যতম। 
- ‘কাজলাদিদি’ ও ‘অন্ধবন্ধু’ তাঁর এ ধরনের দুটি বিখ্যাত কবিতা।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- লেখা (১৯০৬),
- রেখা (১৯১০),
- অপরাজিতা (১৯১৫),
- নাগকেশর (১৯১৭),
- জাগরণী (১৯২২),
- নীহারিকা (১৯২৭),
- মহাভারতী (১৯৩৬) ইত্যাদি। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
২,০৬৬.
বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির সূচনা হয় কবে?
  1. ষোল শতকে
  2. সতের শতকে
  3. আঠার শতকে
  4. উনিশ শতকে
ব্যাখ্যা

• বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় বাংলা গদ্যরীতির সূচনা হয় ষোল শতকে তকে উনিশ শতকে বাংলা সাহিত্যে গদ্যরীতির ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

২,০৬৭.
কোন কবি'র কাব্য অবলম্বনে 'লায়লী মজনু' রচিত হয়েছে?
  1. দৌলত উজির বাহরাম খান
  2. কবি জামির
  3. মালিক মুহাম্মদ জয়সী
  4. ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা
‘লায়লী মজনু' কাব্য:
- ‘লায়লী মজনু' কাব্যটির রচয়িতা দৌলত উজির বাহরাম খান।
- ‘লায়লী মজনু’ কাব্যের রচনাকাল নিয়ে মতভেদ আছে। যেমন আহমদ শরীফের মতে ১৫৪৩-১৫৫৩ সালে রচিত এবং শহীদুল্লাহর মতে ১৬৬৯ খ্রিষ্টাব্দে রচিত।
- এটি পারস্য তথা ইরানি কবি জামির ‘লায়লী ওয়া-মজনুন' কাব্যের ভাবানুবাদ।
- 'লাইলী মজনু' কাব্যের উপাখ্যান দেশ- ইরান।
- আধ্যাত্মিকতার চেয়ে মানবিক প্রবৃত্তি প্রাধান্য পেয়েছে এই কাব্যে।
- এই প্রেম কাহিনির প্রধান চরিত্র আমির পুত্র কায়েশ ও বণিককন্যা লায়লী।

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির বাহরাম খান (আনুমানিক ১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- তাঁর পিতা মোবারক খান ছিলেন চট্টলাধিপতির উজির এবং জনৈক পূর্বপুরুষ হামিদ খান ছিলেন গৌড় সুলতান হুসেন শাহের প্রধান অমাত্য।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।

দৌলত উজির বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন:
- লায়লী মজনু ও
- ইমাম বিজয়।
উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৮.
"বিশ শতকের মেয়ে" উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস "বিশ শতকের মেয়ে"। 
- উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম ও তাঁর 'উপন্যাস সমগ্র' গ্রন্থে প্রকাশিত উপন্যাসগুলো হলো-
• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র' প্রকাশিত হলো। এ গ্রন্থে তাঁর ছয়টি উপন্যাস স্থান পেয়েছে।

• ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো তিনটি উপন্যাস- 'বিশ শতকের মেয়ে,' 'এক পথ দুই বাঁক' ও 'পথশ্রান্ত'। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'। ১৯৮৫ সালে 'বহ্নি বলয়' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 'জ্যোতির্গময়' উপন্যাসটি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বই হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। এই সংকলনে উপন্যাসটির বই আকারে প্রথম মুদ্রণ।

• চারপাশের সমাজ, সেই সমাজে মেয়েদের অবস্থা, নর-নারীর সম্পর্ক ইত্যাদি নানা কিছু তাঁর উপন্যাসের কাহিনিতে আছে। সে সময়ের পটভূমিতে রক্ষণশীলতার বেড়ি ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন উপন্যাসের চরিত্র। সমকালীন নারীমুক্তি প্রসঙ্গ তিনি উপন্যাসের চরিত্রের ভাবনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• তাঁর ছয়টি উপন্যাসই বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর। মানব সম্পর্কের জটিলতা, সমাজ বাস্তবতা, জীবনের সাদা ও কালো রঙের দিক-প্রেম, বেদনা, নিষ্ঠুরতা, অভাব-দারিদ্র্য, বঞ্চনা, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা-মানবজীবন সম্পর্কিত এমন নানা কিছু তাঁর উপন্যাসে খুব অনায়াসে উঠে এসেছে। স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় সিক্ত সাধনাকে বিন্যস্ত করেছেন কাহিনির আদলে।

উৎস: নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র'।
২,০৬৯.
কবি আলাওল এর ‘পদ্মাবতী’ কোন গ্রন্থ থেকে অনূদিত?
  1. মধুমালতী
  2. মৈনাসত
  3. পদুমাবৎ
  4. হপ্তপয়কর
ব্যাখ্যা
• কবি আলাওল এর ‘পদ্মাবতী’ - হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।

পদ্মাবতী:

- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।
- পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
-  দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

----------------------------------
আলাওল: 
- মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। 
- 'পদ্মাবতী' কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য।
- 'পদ্মাবতী' কবি মালিক মুহাম্মদ জয়সীর 'পদুমাবত' কাব্যের অনুবাদ। 

আলাওল রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ-
- পদ্মাবতী,
- তোহফা,
- সপ্তপয়কার,
- সিকান্দারনামা, 
- সয়ফুল্মুলুক বদিউজ্জামাল
- সতীময়না
- রাগতালনামা ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
২,০৭০.
'সতীশ ও সাবিত্রী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. দেনা-পাওনা
  2. গৃহদাহ
  3. চরিত্রহীন
  4. পণ্ডিতমশাই
ব্যাখ্যা
• 'চরিত্রহীন' উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন। গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী। ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী। সাবেক দুই চরিত্রের চরিত্রহীন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
সাবিত্রী চরিত্রটি বিশুদ্ধ, সে তার ভালবাসার মানুষ সতীশ-এর প্রতি অনুগত। সুরবালা উপেন্দ্রনাথের স্ত্রী। তিনি বয়সে তরুণ, ধর্মীয় গ্রন্থগুলিতে অন্ধবিশ্বাসের কারণে তার চরিত্রও চিত্তাকর্ষক। সরোজিনী পাশ্চাত্য শৈলীতে শিক্ষিত এবং চিন্তা-ভাবনায় অগ্রসর কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতিত এবং একটি জাদরেল মা দ্বারা তার জীবনযাপন অবরুদ্ধ। সরোজিনী শেষে সতীশকে বিয়ে করেন। 'চরিত্রহীন' উপন্যাসে মুখ্য চরিত্রের সমন্বয়ক উপেন্দ্র। যদিও এ উপন্যাসে উপেন্দ্রর গুরুত্ব যথেষ্ট। উপন্যাসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর বিস্তৃতি লক্ষ করা যায়। সতীশ ও সাবিত্রীর গভীর অনুরাগ জ্ঞাত হয়েও তিনি সমাজব্যবস্থার যাঁতাকল থেকে বেরিয়ে এসে সমাজ- শৃঙ্খলে আবদ্ধ নারীকে মুক্তি দিতে পারেননি। তাই তো উপেন্দ্র সাবিত্রীক নয়, সতীশের হাতে তুলে দিলেন সরোজিনীকে। আবার কিরণময়ী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হলেও কিরণময়ীর প্রতি তাঁর ছিল নির্মোহ ভালোবাসা। যার ফলে কিরণময়ী শোধ তুলতে কৃত্রিম প্রণয়স্রোতে দিবাকরকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল অনেক দূরে।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রত্রয় হলো-
- সতীশ,
- সাবিত্রী ও
- কিরণময়ী।

----------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- দেবদাস,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী ইত্যাদি।

উৎস: "চরিত্রহীন" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৭১.
'কাবিলের বোন' আল মাহমুদ রচিত -
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• আল মাহমুদ:
- মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯): যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৭২.
'সুবচন নির্বাসনে' আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) নাটক
ব্যাখ্যা

• আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন প্রসিদ্ধ বাংলাদেশী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক, চলচ্চিত্র পরিচালক।
• আবদুল্লাহ আল মামুন যুদ্ধবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘শপথ’ নামে নাটক রচনা করেন ১৯৬৪ সালে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- শপথ (প্রথম প্রকাশিত),
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনো ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাসঃ
- মানব তোমার সারাজীবন,
- তাহাদের যৌবনকাল,
- হায় পার্বতী,
- এই চুনীলাল,
- গুন্ডাপান্ডা বাবা,
- খলনায়ক ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,০৭৩.
'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) গল্প
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
- 'অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী' আহমদ ছফা রচিত একটি উপন্যাস।  

আহমদ ছফা:
-  ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন  চট্টগ্রাম জেলার  চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক। 
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- তাঁর আখ্যানমূলক রচনায় বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা, মুক্তিকামনা ও স্বাধীনতাস্পৃহা এবং সামাজিক অসঙ্গতি ও বৈষম্যের চিত্র রূপায়িত হয়েছে।

- তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী 
- উদ্ধার 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন 
- অলাতচক্র 
- ওঙ্কার 
- গাভীবৃত্তান্ত 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী 
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ।
গল্প:
- নিহত নক্ষত্র
প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ও
- বাঙালি মুসলমানের মন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,০৭৪.
‘সংস্কৃতি-কথা’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. প্রথম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিখ্যাত গদ্যবই (প্রবন্ধ) সংস্কৃতি-কথা
- এটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- জীবন ও ব্ক্ষৃ, শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব উল্লেখযোগ্য দুটি প্রবন্ধ

তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ :
- সভ্যতা
- সুখ

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

২,০৭৫.
'যাত্রা' উপন্যাসের মূল প্রেক্ষাপট কোনটি?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ্রামীণ জীবন
  4. নদীর পাড়ের জীবন
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা ও সময় নিয়ে রচিত উপন্যাস শওকত আলীর 'যাত্রা'।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
২,০৭৬.
‘সংশপ্তক’ কার রচিত উপন্যাস?
  1. জহির রায়হান
  2. আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. শহীদুল জহির
  4. আবু ইসহাক
ব্যাখ্যা

 কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ।
- প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ-
- সারেং বৌ
- সংশপ্তক 
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ
- তিমির বলয়
- দিগন্তে ফুলের আগুন
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা
- চন্দ্রভানের কন্যা
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)

> ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তার স্থানীয় সহযোগী আল-বদরের হাতে অপহৃত হন। ধারণা করা হয় যে, অপহরণকারীদের হাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।

২,০৭৭.
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কোন কাব্যের অংশ?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) তোহফা
  3. গ) হপ্তপয়কর
  4. ঘ) পদাবলী
ব্যাখ্যা
"ললাট লিখন দুঃখ যায় না খণ্ডন" উক্তিটি কবি আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্যে করেছেন।
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম পদ্মাবতী।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির পদুমাবত এর কাব্যোনুবাদ।

'পদ্মাবতী' কাব্যে কবি আলাওলের আরও কিছু উক্তি- 
- দিবসের মর্ম কভু না পুছে পেচক। 
- যমে প্রাণ হরি নিতে কিবা নিশি দিশি। 
- ভাগ্য বিপরীত হৈলে খণ্ডে সব সুখ। 
- পড়শী হৈলে শত্রু গৃহে সুখ নাই। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
২,০৭৮.
চর্যাপদ কোথায় সংরক্ষিত ছিল?
  1. বৌদ্ধ মহাবোধি মন্দিরে
  2. তিব্বতের রাজ গ্রন্থাগারে
  3. নেপাল রাজ দরবার গ্রন্থাগারে
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায়
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে। চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা , মুহম্মদ আদুল হাই ও আনোয়ার পাশা।
২,০৭৯.
বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন কে?
  1. ক) গিরিশচন্দ্র সেন
  2. খ) ফররুখ আহমেদ
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কেশব চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রথম কুরআন শরীফের সার্থক ও পূর্ণাঙ্গ অনুবাদ করেন গিরিশচন্দ্র সেন

• গিরিশচন্দ্র সেন:
- নরসিংদী জেলার পাঁচদোনা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ধর্মবেত্তা ও অনুবাদক।
- তিনি 'সুলভ সমাচার' ও 'বঙ্গবন্ধু' পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক এবং 'মাসিক মহিলা' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- কেশবচন্দ্র সেন ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামীর প্রভাবে ১৮৭১ সালে তিনি ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হন।
- কুরআনের বঙ্গানুবাদ বাংলা সাহিত্যে তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সকলের নিকট তিনি ‘ভাই গিরিশচন্দ্র’ নামে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
⇒ তাপসমালা:
- গিরিশচন্দ্রের বিখ্যাত গ্রন্থ তাপসমালা।
- এটি ৯৬ জন ওলি-আউলিয়ার জীবনচরিত, যা শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের ফারসি ভাষায় রচিত তায্কেরাতুল আত্তলিয়ার ভাবাদর্শে রচিত।

⇒ তত্ত্বরত্নমালা:
- গিরিশচন্দ্রের উল্লেখযোগ্য আরেকটি গ্রন্থ হলো তত্ত্বরত্নমালা।
- এটি শেখ ফরীদুদ্দীন আত্তারের মানতেকুত্তায়েব ও মওলানা জালালউদ্দীন রূমীর মসনবী শরীফ নামক প্রখ্যাত ফারসি গ্রন্থদ্বয় থেকে সংকলিত।
- এতে নীতিকথা ও শিক্ষণীয় বিষয় ছোট ছোট গল্পের আকারে রসাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

 এছাড়াও তিনি হাদিস-পূর্ব বিভাগ শিরোনামে মিশ্কাত শরীফের প্রায় অর্ধাংশের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৮০.
তারানাথের মতে লুই কোথায় বাস করতেন? 
  1. নেপালে 
  2. বাংলাদেশে 
  3. তিব্বতে 
  4. উড়িষ্যায়
ব্যাখ্যা

• লুইপা: 
- সাধারণত লুইপাকে আদি সিদ্ধাচার্য বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও রাহুল সংকৃত্যায়ন তাঁকে প্রথম বলে স্বীকার করেন না। 
- লুইপা বাঙ্গালি বলে অনুমিত। উড়িষ্যায় তাঁর জন্মস্থান বলে কারও কারও ধারণা। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ উল্লেখ করেছেন, তারানাথের মতে লুই বাংলাদেশের গঙ্গার ধারে বাস করতেন।
- তিনি কায়স্থ বা লেখক ছিলেন। তখন তাঁর নাম ছিল সামন্ত শুভ। তিনি উড়িষ্যার রাজা ও মন্ত্রীর গুরু ছিলেন। 
- লুইপার জীবৎকাল ৭৩০-৮১০ সাল। সংস্কৃত ভাষায় তিনি চারটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তাঁর একটি গ্রন্থের নাম ‘অভিসময়বিভঙ্গ।'
- লুইপা চর্যাপদের ১ ও ২৯ নং পদ রচনা করেন। 

• তাঁর রচিত চর্যার প্রথম পদটি হলো-

কাআ তরুবর পাঞ্চ বি ডাল।
চঞ্চল চীএ পৈঠা কাল।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

২,০৮১.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ড কোনটি?
  1. বাণ খণ্ড
  2. জন্ম খণ্ড
  3. তাম্বুল খণ্ড
  4. ভার খণ্ড
ব্যাখ্যা
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
- মোট ১৩ খন্ডে ৪১৮টি পদে এটি বিন্যস্ত।
- প্রথম খণ্ড হচ্ছে - জন্ম খণ্ড।
- শেষ খণ্ড হচ্ছে - বিরহ খণ্ড।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের মূল কাহিনী ভাগবত থেকে নেওয়া হলেও এতে বিভিন্ন পুূরাণ এবং জয়দেবের গীতগোবিন্দের প্রভাব রয়েছে।

- কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি -
১. কৃষ্ণ ( পরমাত্মা),
২. রাধা ( জীবাত্মা),
৩. বড়াই (এ দুয়ের সংযোগকারী অনুঘটক / দূতী)।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে। এগুলো হলো -
- জন্ম খণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দান খণ্ড,
- নৌকা খণ্ড,
- ভার খণ্ড,
- ছত্র খণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
২,০৮২.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. নবান্ন
  2. অবরোধ
  3. যেমন ইচ্ছা তেমন
  4. গোত্রান্তর
ব্যাখ্যা
• 'যেমন ইচ্ছা তেমন' - নুরুল মোমেন রচিত নাটক। 

• বিজন ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক। 
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।
- তাঁর রচিত নাটকের উপজীব্য সমাজের নিচের তলার মানুষের জীবনচিত্র।

• তাঁর রচিত নাটক: 
- নবান্ন, 
- জনপদ, 
- কলঙ্ক, 
- মরাচাঁদ, 
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর।

উল্লেখ্য,
'গোত্রান্তর'- ছোটগল্পের লেখক সুবোধ ঘোষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৩.
'আমলার মামলা' নাটকটি কে লিখেছেন?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
'আমলার মামলা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান। 

শওকত ওসমান
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম 'শেখ আজিজুর রহমান'।

তাঁর রচিত নাটক: 
- তস্কর লস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা,
- কাঁকর মণি,
- বাগদাদের কবি।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিখ্যাত উপন্যাস:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত)
- চৌরসন্ধি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম ইত্যাদি।
- দুই সৈনিক
- নেকড়ে অরণ্য
- জলাঙ্গী
- জাহান্নাম হইতে বিদায়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৪.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দিনলিপি মূলক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) নিষিদ্ধ লোবান
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) রাইফেল রোটি আওরাত
  4. ঘ) একাত্তরের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি (দিনলিপি) গ্রন্থ।

• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

• কিন্তু তাঁর সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি পুত্র রুমী ও স্বামীকে হারান। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ নয় মাস কেটেছে তাঁর একদিকে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ত্রাসের মধ্য দিয়ে; অন্যদিকে মনের মধ্যে ছিল দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। সেই দুঃসহ দিনগুলিতে প্রাত্যহিক ঘটনা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করার বৃত্তান্ত লিখেছিলেন তিনি নানা চিরকুটে, ছিন্ন পাতায়, গোপন ভঙ্গি ও সংকেতে। ১৯৮৬ সালে গ্রন্থরূপ পাওয়ার পর তা জনমনে বিপুল সাড়া জাগায়। বস্ত্তত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।

- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি। 
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

অন্যদিকে,
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - রাইফেল রোটি আওরাত।
সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - নিষিদ্ধ লোবান।
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস - আগুনের পরশমণি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৮৫.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য আবিষ্কার করা হয় কত সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯০৫ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯১৯ সালে
ব্যাখ্যা

'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন'।
 - শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গীতি-আলেখ্য। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এর বিষয়বস্তু।
-  মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে চর্যাপদের পরেই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের স্থান।
- ১৩১৬ বঙ্গাব্দে (খ্রি. ১৯০৯) বসন্তরঞ্জন রায়বিদ্বদ্বল্লভ বাঁকুড়া জেলার বনবিষ্ণুপুরের কাঁকিল্যা গ্রাম নিবাসী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নিকট থেকে এর পুঁথি আবিষ্কার করেন।  
- এ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।  বড়ু চণ্ডীদাসের প্রধান পরিচয়  শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা হিসেবে।
- বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ এর মতে চণ্ডীদাসের জন্ম ১৩৩৯ এবং মৃত্যু ১৩৯৯ খ্রিস্টাব্দ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

২,০৮৬.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১০টি
  3. ১৩টি
  4. ১৯টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দীনেশচন্দ্র সেন বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা থেকে স্থানীয় সংগ্রাহকদের সহায়তায় প্রচলিত এ  পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা (১৯২৩) নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন।

মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে,
যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা,
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০৮৭.
"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর। লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কে রচনা করেছেন?
  1. চণ্ডীদাস
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. জ্ঞান দাস
ব্যাখ্যা
• পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ:
- মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ। এটি রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার অন্তর্ভুক্ত একটি কাব্য।
- তাঁর কাব্য প্রতিভার জন্য তিনি আরাকান অমাত্য সভায় (মন্ত্রিসভা) স্থান পান।
- প্রধান অমাত্য (প্রধানমন্ত্রী) কোরেশী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে তিনি ১৬৪৮ সালে , হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।
- কাব্যটিতে দুইটি পর্ব রয়েছে। প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান এবং দ্বিতীয় পর্বে রানি পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

পদ্মাবতীর রূপবর্ণনার কিছু অংশ হলো:

"সুচারু সুরস অতি রাতুল অধর।
লাজে বিম্ব বান্ধুলি গমন বনান্তর।।
মাণিক্য প্রবাল অতি নীরস কর্কশ।
অধরের অমিয় স্রবে এই মহারস।।
রক্ত উৎপল লাজে জলান্তরে বৈসে।
তাম্বুল রাতুল হৈল অধর পরশে।।"
(পদ্মাবতীর রুপবর্ণনা অংশ থেকে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৮৮.
'স্বর্ণকুমারী দেবী' ও  'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' সম্পর্কে কী ছিলেন? 
  1. ভাই-বোন
  2. চাচা-ভাতিজি
  3. মামা-ভাগনি
  4. চাচাতো ভাই-বোন
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

২,০৮৯.
'উত্তরাধিকার' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
উত্তরাধিকার, তোমাকে অভিবাদন প্রিয়া, কোথাও কোন ক্রন্দন নেই, আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দাও ইত্যাদি শহীদ কাদরী রচিত কাব্যগ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
২,০৯০.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'এক পয়সার বাঁশী' রচনা করেন কে?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
জসীম উদ্‌দীন রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ - এক পয়সার বাঁশী

জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
২,০৯১.
‘অন্নদা দিদি’ কোন গ্রন্থের চরিত্র?
  1. বড়দিদি
  2. শ্রীকান্ত
  3. অন্নদামঙ্গল
  4. বিরাজ বৌ
ব্যাখ্যা
• ‘অন্নদা দিদি’- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের চরিত্র। 

• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস: 
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র- 'ইন্দ্রনাথ'। 
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।

• উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- কমললতা প্রমুখ।

------------------------- 
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯২.
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির রচয়িতা-
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. এস ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
'মানব মুকুট' গ্রন্থটির রচয়িতা- 'মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী'। 

মোহাম্মদ এয়াকুব আলীচৌধুরী:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক।
- ১৩৯৫ বঙ্গাব্দের ১৮ কার্তিক (নভেম্বর, ১৮৮৮)  ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলার অন্তর্গত মাগুরাডাঙ্গা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রধান রচনা হলো:
- ধর্মের কাহিনী,
- নূরনবী,
- শান্তিধারা ও
- মানব মুকুট (১৯২৬)।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া ]
২,০৯৩.
'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• 'বন্দীর বন্দনা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:

- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৪.
শামসুর রাহমান রচিত কবিতা কোনটি?
  1. আমি কোনো আগন্তুক নই
  2. তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা
  3. স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতা:
- 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' শীর্ষক কবিতাটি কবি শামসুর রাহমানের 'বন্দী শিবির থেকে' নামক কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতা অর্জনে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা এবং তাঁদের মহান আত্মত্যাগের মহিমা কবি সুন্দরভাবে এই কবিতায় প্রকাশ করেছেন।

- এখানে কবি স্বাধীনতার জন্য এদেশের সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগ, পাক-হানাদার বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ, মুক্তিকামী মানুষের প্রতীক্ষার স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। কবি স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস থেকে স্বাধীনতাকে রক্ষা ও অর্থবহ করে তুলতে সকলকে উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হতে আহ্বান জানিয়েছেন।

কবিতাটি সংক্ষেপে- 

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।

--------------
অন্যদিকে, 
• 'আমি কোনো আগন্তুক নই' আহসান হাবীব রচিত কবিতা। 
• 'স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হল' নির্মলেন্দু গুণ রচিত কবিতা। 
• 'পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা' নাটকটির রচয়িতা শওকত ওসমান।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৫.
‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সম্পাদক। জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে। পৈতৃক নিবাস দক্ষিণ চবিবশ পরগণার বৈকুণ্ঠপুরে। 

- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন। ১৯২৩ সালে প্রবাসীতে ‘শুধু কেরাণী’ ও ‘গোপন চারিণী’ নামে দুটি গল্প প্রকাশিত হয় এবং গল্প দুটি নিয়ে কল্লোল পত্রিকা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করে। ফলে সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর খ্যাতি বেড়ে যায়। সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।

- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল (১৯২৩) পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন। পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় কালিকলম (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
তিনি রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকারকে নিজের লেখায় সাঙ্গীকরণের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। 

- কবিতা, উপন্যাস, গল্প ছাড়াও তিনি সৃজনশীল প্রবন্ধ, গান, চিত্রনাট্য, রম্যরচনা এবং গোয়েন্দা কাহিনিও লিখেছেন। হাস্যকৌতুকের ধারায় তাঁর অমর সৃষ্টি ‘পরাশর বর্ম’। বাংলা শিশুসাহিত্যে তাঁর অতুলনীয় সৃষ্টি ‘ঘনাদা’। শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন। ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা সৃষ্টি হয় প্রথম ‘মশা’ (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন। অপরদিকে তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কুহকের দেশে লিখে বাংলা ভাষায় এ ধারার সার্থকতা প্রতিষ্ঠা করেন।

অন্যদিকে, 
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ক্বচিৎ প্রৌঢ়। 
• বিজন ভট্টাচার্যের ছদ্মনাম সহযাত্রী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৯৬.
নিচের কোনটি নাটক?
  1. ক) কন্যাকুমারী
  2. খ) নতুন চাঁদ
  3. গ) গড্ডলিকা
  4. ঘ) নেমেসিস
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত নাটক।

 • অন্যান্য অপশন:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ - 'নতুন চাঁদ'।
- আব্দুর রাজ্জাক রচিত উপন্যাস - 'কন্যাকুমারী'।
- রাজশেখর বসু রচিত গল্পগ্রন্থ - 'গড্ডলিকা'।
২,০৯৭.
'রায়নন্দিনী' কার রচনা?
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. ঘ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপন্যাস- রায়নন্দিনী। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের প্রতিক্রিয়ায় ইসমাইল হোসেন সিরাজী রায়নন্দিনী উপন্যাস লেখেন। রায়নন্দিনী উপন্যাস হিসেবে সফল না হলেও প্রতিক্রিয়া হিসেবে সফল।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২,০৯৮.
চর্যাপদের কোন কবি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন?
  1. চাটিলপা
  2. বীণাপা
  3. ভাদেপা
  4. কম্বলাম্বরপা
ব্যাখ্যা
কম্বলাম্বরপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের প্রারম্ভের কবি। তিনি জালন্ধরীপার গুরু ছিলেন।
- তিনি কঙ্কর নামক স্থানের রাজপুত্র ছিলেন, মতান্তরে তাঁর জন্মস্থান ছিল উড়িষ্যা।
- তিনি চর্যাপদের ৮নং পদটি রচনা করেন।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।
- প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

অন্যদিকে,
- বীণাপা: বীণাপা'র জন্ম খ্রিষ্ট্রীয় নবম শতকে, গৌড়ে।
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো। এবং শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২,০৯৯.
'হাসু' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. লালসালু
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা

'সূর্য দীঘল বাড়ী' উপন্যাস:
- আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- তাঁর জন্ম শরিয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে, ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর।
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত নবযুগ পত্রিকায় আবু ইসহাকের ‘অভিশাপ’ নামে একটি গল্প প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন সূর্য দীঘল বাড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

২,১০০.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সাধের আসন
  2. শেষ সপ্তক
  3. বন্ধু-বিয়োগ
  4. স্বপ্নদর্শন
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'।

• “সাধের আসন” কাব্যগ্রন্থ:

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ’ লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- 'শেষ সপ্তক' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।