বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১৮ / ২১১ · ১,৭০১১,৮০০ / ২১,১৩২

১,৭০১.
বৈষ্ণব পদাবলির উল্লেখযোগ্য কবি - 
  1. বিদ্যাপতি
  2. গোবিন্দদাস
  3. জ্ঞানদাস
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব পদাবলি:
- মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল - বৈষ্ণব পদাবলি।
- এর নায়ক নায়িকা - রাধা ও কৃষ্ণ।
- বৈষ্ণব পদাবলির উল্লেখযোগ্য রচয়িতা - বিদ্যাপতি, চন্ডীদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস
- বৈষ্ণব পদাবলির সাথে সম্পর্কিত ভাষা হচ্ছে - ব্রজবুলি ভাষা।
- ব্রজবুলি মূলত এক ধরনের কৃত্রিম মিশ্র ভাষা।
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা।
- মৈথিলি ও বাংলার মিশ্রিত রূপ হল ব্রজবুলি ভাষা। পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে মিথিলার কবি বিদ্যাপতি এর উদ্ভাবন করেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭০২.
কার নেতৃত্বে 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি' গঠিত হয়?
  1. ক) কাজী মোতাহার হোসেন
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা
- জাহানারা ইমাম এর নেতৃত্বে 'একাত্তরের ঘাতক-দালাল নিমূর্ল কমিটি' গঠিত হয়।
- ১৯৯২ সালের ১৯ জানুয়ারি এই কমিটি গঠন করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি।
- অন্যজীবন
- বুকের ভিতর আগুন।
- নাটকের অবসান।
- নিঃসঙ্গ পাইন।
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস।
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১,৭০৩.
রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন কে?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. আবদুল হাকিম
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান সাহিত্য ধারার কবি নন - রামপ্রসাদ সেন।
• তিনি শক্ত পদাবলীরএকজন বিখ্যাত কবি।
 
তাছাড়া,
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর, দৌলত কাজী প্রমুখ।

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৭০৪.
‘কৃষ্ণপক্ষ’- গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মতী
  4. ঘ) হুমায়ুন আহমেদ
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ হলোঃ কৃষ্ণপক্ষ (১৯৫৯), সম্রাটের ছবি (১৯৫৯), সুন্দর হে সুন্দর (১৯৬৯)। শিশুতোষ গ্রন্থঃ ডানপিঠে শওকত, আঁধার কুঠির ছেলেটি, ভয়ংকরের হাতছানি। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৭০৫.
'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ছাড়পত্র
  2. মানচিত্র
  3. ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ
  4. হরতাল
ব্যাখ্যা
- 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটির রচয়িতা আলাউদ্দিন আল আজাদ।
- এটি তাঁর 'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
-‌ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত এই কবিতাটি।

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি ১৯৩২ সালের ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' কবিতাটি মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- কর্ণফুলী,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ।

গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি,
- মৃগনাভি,
- ধানকন্যা,
- যখন সৈকত,
- অন্ধকার সিঁড়ি,
- জীবনজামিন,
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭০৬.
খনার বচনে কী প্রাধান্য পেয়েছে?
  1. বিজ্ঞান
  2. ব্যবসা
  3. আবহাওয়া
  4. প্রাচীন কৃষ্টি
ব্যাখ্যা

• ডাক ও খনার বচন:
ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়। এগুলো যে রূপে সৃষ্টি হয়েছে তাঁর কোন লিখিত নিদর্শন নেই এবং তা মুখে মুখে প্রচলিত থাকার ফলে তার ভাষাও হয়ে পরেছে আধুনিক যুগের মত। ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- ড. দীনেশচন্দ্র সেন ডাক ও খনার বচন রচনার কাল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শতক বিবেচনা করেছেন।
- ডাক ও খনার বচনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ঐক্য থাকলেও ডাকের বচনে জ্যোতিষ ও ক্ষেত্রতত্ত্বের কথা ও মানব চরিত্রের ব্যাখ্যা প্রাধান্য পেয়েছে।
- খনার বচনে - "কৃষি ও আবহাওয়ার" কথা প্রাধান্য পেয়েছে। 

• খনার বচনের একটি উদাহরণ নিম্নরূপ - 
'খাটে খাটায় লাভের গাঁতি।
তার অর্ধেক কাঁধে ছাতি।।
ঘরে বসে পুছে বাত।
তার ভাগ্যে হাভাত।।'

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া।

১,৭০৭.
"সুনন্দ" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বিমল ঘোষ
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।

অন্যদিকে,
বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭০৮.
'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯০৭ সালে 
  2. ১৯০৯ সালে 
  3. ১৯১৬ সালে 
  4. ১৯২৩ সালে 
ব্যাখ্যা

 • চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭০৯.
'প্রবোধ চন্দ্রিকা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) বিজন ভট্টাচার্য
  2. খ) মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত গ্রন্থ- বত্রিশ সিংহাসন, হিতোপদেশ, রাজাবলি, প্রবোধ চন্দ্রিকা ও বেদান্ত চন্দ্রিকা। তিনি ফোর্ট উইলিয়াম যুগে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থ ৫ টি। উৎস: বাংলা শীকর প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৭১০.
কোন ছন্দের ভাব ললিত মধুর?
  1. ক) অক্ষরবৃত্ত
  2. খ) মাত্রাবৃত্ত
  3. গ) অমিত্রাক্ষর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাত্রাবৃত্ত ছন্দের ভাব ললিত মধুর। 

মাত্রাবৃত্ত ছন্দ: 
- এ ছন্দ ধ্বনি-প্রধান।
- ছন্দে ছয় মাত্রার পর্বই অধিক। 
- চার, পাঁচ, সাত, আট মাত্রার পর্বও এ ছন্দে পাওয়া যায়।
- এ ছন্দে সাধুভাষা বা সাধু ক্রিয়ার ব্যবহার বেশি হয়।
- এ ছন্দে স্বরবৃত্তের মতো ধ্বনি সংকোচ নেই, আছে ধ্বনি বিস্তার।
- এ ছন্দের ভাব ললিত মধুর।
- এ ছন্দের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য এর গীতিপ্রবণতা বা সুরনিষ্ঠতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১,৭১১.
কোন গ্রন্থটি সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা নয় -
  1. টুনি মেম
  2. তুলনাহীনা
  3. অবিশ্বাস্য
  4. পথে-প্রবাসে
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস - অবিশ্বাস্য, তুলনাহীনা। এবং তার রচিত ছোটগল্প - টুনি মেম।

অন্যদিকে,
"পথে-প্রবাসে" একটি বিখ্যাত বাংলা ভ্রমণকাহিনী, যা লিখেছেন অন্নদাশঙ্কর রায়।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭১২.
'কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?' কার লেখা?
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কামিনী রায়
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
ব্যাখ্যা
"কেন পান্থ ক্ষান্ত হও হেরি দীর্ঘ পথ?" পঙ্‌ক্তি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

কবিতাটি নিম্নরূপ-

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন ?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনােরথ ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

-----------------------
• কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের জন্ম ১৮৩৪ সালের ১০ জুন খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক বৈদ্য পরিবার।
- ঈশ্বর গুপ্তের উৎসাহে সংবাদ সাধুরঞ্জন ও সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ সদ্ভাবশতক প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত।
- তাঁর কবিতার অনেক পঙ্‌ক্তি প্রবাদবাক্যস্বরূপ।
যেমন: ‘চিরসুখী জন ভ্রমে কি কখন ব্যথিত বেদন বুঝিতে পারে’ ইত্যাদি।

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৩.
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কালকেতু কার কাছে আংটি বিক্রি করতে গিয়েছিল?
  1. মুরারি শীল
  2. ভাড়ু দত্ত
  3. ধর্মকেতু
  4. নীলাম্বর
ব্যাখ্যা
• 'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্যে কালকেতু মুরারি শীলের কাছে আংটি বিক্রি করতে গিয়েছিল। 
----------------------- 
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে অন্যান্য কবি গুলো হলো: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।
 
• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।
 
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ছোটগল্পটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭৯ সালে
  2. ১৮৭৭ সালে
  3. ১৮৮৩ সালে
  4. ১৮৮৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

'ভিখারিনী' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্প।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
- এটি 'ভারতী' পত্রিকায় - ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- একরাত্রি,
- মহামায়া,
- সমাপ্তি,
- দৃষ্টিদান,
- মাল্যদান,
- মধ্যবর্তিনী,
- শাস্তি,
- প্রায়শ্চিত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৭১৫.
ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ রায়
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. শ্রীজীব গোস্বামী
  4. রাজা সুধর্মা
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর:
- অষ্টাদশ শতকের শ্রেষ্ঠ কবি এবং মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে সুপরিচিত ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা তিনি। তিনি এই কাব্যের আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তাঁর অপর গ্রন্থ ‘সত্যপীরের পাঁচালী’।
- ভারতচন্দ্র সভাকবি ছিলেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
- তাকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি প্রদান করেন নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র।

- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।
- “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?” - লাইনটির রচয়িতা তিনি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৬.
"আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।" পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. আহসান হাবীব
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

"আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।" পঙ্‌ক্তিটির আল মাহমুদ রচিত 'নোলক' কবিতার অন্তর্গত।

নোলক
আল মাহমুদ

আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে

হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।

নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তোমার কাছে?

-হাত দিওনা আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।

বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে

শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছড়িয়ে থাকে।

জল ছাড়িয়ে দল হারিয়ে গেলাম বনের দিক

সবুজ বনের হরিণ টিয়ে করে রে ঝিকমিক।

বনের কাছে এই মিনতি, ফিরিয়ে দেবে ভাই,

আমার মায়ের গয়না নিয়ে ঘরকে যেতে চাই।
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস: 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কাব্যগ্রন্থ।

১,৭১৭.
নিচের কোন কবি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী ছিলেন?
  1. ক) অমিয় চক্রবর্তী
  2. খ) অমিতাভ দাসগুপ্ত
  3. গ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচর্য
ব্যাখ্যা
• সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
– তিনি কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: 
- ছাড়পত্র (১৯৪৭), 
- পূর্বাভাস (১৯৫০), 
- মিঠেকড়া (১৯৫১), 
- অভিযান (১৯৫৩), 
- ঘুম নেই (১৯৫৪), 
- হরতাল (১৯৬২), প্রভৃতি
– সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া।
১,৭১৮.
কোনটি চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য?
  1. মলুয়া
  2. মহুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. কমলা
ব্যাখ্যা

চন্দ্রাবতী:
- মধ্যযুগ তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। তিনি ১৫৫০ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জের পাতোয়ারি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- চন্দ্রাবতী পুরাতন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে গৌরব অর্জন করেন।
- মহিলা রামায়ণকার বলা হয় চন্দ্রাবতীকে। তিনিই মহিলা কবিদের মধ্যে প্রথম রামায়ণ অনুবাদ করেন।
- চন্দ্রাবতী মধ্যযুগের তিনজন মহিলা কবির একজন। অপর দুইজন চণ্ডীদাসের অনুরাগী রামী ও চৈতন্যের কৃপাপাত্রী মাধবী।
- তিনি ছিলেন মনসামঙ্গলের অন্যতম কবি দ্বিজ বংশীদাসের কন্যা।

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্যগুলো হলো:
- মলুয়া,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রামায়ণ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- মহুয়া-দ্বিজ কানাই,
- কমলা- দ্বিজ ঈশান,
- দেওয়ানা মদিনা - মনসুর বয়াতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭১৯.
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা কোন সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৮১ সালে
  2. ১৮৭৫ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও:
- গঙ্গাচরণ,
- রামদাস সেন,
- অক্ষয় সরকার,
- চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২০.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ - গ্রন্থটির সম্পাদক কে?
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. আনোয়ার পাশা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ কথা কয়:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।
- সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।
- এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

​​উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা।

১,৭২১.
হুমায়ূন আহমেদের কোন গ্রন্থটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নয়?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. জোছনা ও জননীর গল্প
  3. অনীল বাগচীর একদিন
  4. নীল অপরাজিতা
ব্যাখ্যা
• ‘নীল অপরাজিতা' হুমায়ূন আহমেদ রচিত উপন্যাস।
- এই কাহিনীর সঙ্গে বাস্তব জীবনের কোন মিল নেই।
- নীল অপরাজিতার মূল চরিত্রে আছেন-একজন ঔপন্যাসিক।
- পাঠক-পাঠিকারা যদি আমাকেই সেই ঔপন্যাসিক ভেবে বসেন তাহলে আমার জন্যে খুব অস্বস্তির ব্যাপার হবে। - হুমায়ূন আহমেদ।

হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন ইত্যাদি।

উৎস:
১) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৭।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং নীল অপরাজিতা উপন্যাস।
১,৭২২.
'ফজল ও এরফান মাতব্বর' চরিত্র আবু ইসাহাক রচিত কোন উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত?
  1. জাল
  2. মহাপতঙ্গ
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. সূর্য-দীঘল বাড়ী
ব্যাখ্যা
'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাস:
- আবু ইসহাকের দীর্ঘ সময়ব্যাপী রচিত উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকার মুক্তধারা থেকে উপন্যাসটি প্রকাশ পেলেও ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে আবু ইশাক উপন্যাসটি রচনায় হাত দেন।
- উপন্যাসের প্রথম ষোলটি অধ্যায় বাংলা একাডেমীর 'উত্তরাধিকার' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মে ১৯৭৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ১৯৭৬ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। অবশ্য তখন এর নাম ছিল ‘মধুর মাটি’।
- অনেক পরে আবু ইসাহাক উপন্যাসটি বত্রিশটি অধ্যায়ে সমাপ্ত করেন এবং এর নামবদল করে দেন ‘পদ্মার পলিদ্বীপ’।
- 'পদ্মার পলিদ্বীপ' একটি আঞ্চলিক উপন্যাস। পদ্মা নদীকে বলা হয় 'কীর্তিনাশা'। কারণ চাঁদ রায় - কেদারায় - রাজবল্লভ প্রমুখ বারভুঁইয়া দের কীর্তি এ নদী ধ্বংস করেছে।
- এ উপন্যাসে পদ্মা তীরবর্তী চরকেন্দ্রিক অধিবাসী, তাদের চরদখল, জীবন-সংগ্রাম মুখ্য।
- ফজল এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো: এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জঙ্গুরুল্লা, জরিনা, রূপজান ইত্যাদি।

আবু ইসহাক:
- আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩) কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷
- আবু ইসহাকের প্রথম উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ি'।
- তার দ্বিতীয় উপন্যাস 'পদ্মার পলিদ্বীপ'।
- তাঁর তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দা জাতীয় উপন্যাস।

তাঁর প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ:
- 'হারেম ও
- মহাপতঙ্গ।

তাঁর রচিত একমাত্র নাটক:
- জয়ধ্বনি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৩.
'পঞ্চতন্ত্র' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি-
  1. গল্পগ্রন্থ 
  2. উপন্যাস 
  3. ছোটগল্প
  4. প্রবন্ধ সংকলন
ব্যাখ্যা

• 'পঞ্চতন্ত্র' প্রবন্ধ সংকলন:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর 'পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

--------------------------
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত সাহিত্যকর্মগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শহ্-ইয়ার।

ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'পঞ্চতন্ত্র' প্রবন্ধ সংকলন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭২৪.
'তারার দেশের হাতছানি' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) আহমদ শরীফ
  2. খ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  3. গ) এস ওয়াজেদ আলী
  4. ঘ) আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
'তারার দেশের হাতছানি' গ্রন্থের রচয়িতা আবদুল্লাহ আল-মুতী।
তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ - আবিষ্কারের নেশায়, বিজ্ঞান ও মানুষ, সাগরের রহস্যপুরী, বিজ্ঞানের বিস্ময়, মহাকাশে কী ঘটছে ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৫.
পদ সংখ্যা অনুসারে চর্যাপদের শ্রেষ্ঠ কবি বলা হয় কাকে?
  1. শবরপা
  2. লুইপা
  3. কাহ্নপা
  4. তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
⇒ কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭২৬.
প্রবন্ধ-গবেষণা 'বাংলার কবি মধুসূদন' রচনা করেন কে?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. নবীনচন্দ্র সেন
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন
 সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭২৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস কোনটি?
  1. বড়দিদি
  2. দেবদাস
  3. শ্রীকান্ত
  4. পথের দাবী
ব্যাখ্যা

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। কাহিনির পটভূমি ব্রহ্মদেশ।
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র।
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- বঙ্গবাণী পত্রিকার ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবি' ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- দত্তা,
- বিরাজ-বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- পল্লীসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৭২৮.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. বাতাসে লাশের গন্ধ
  3. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'কফিনে মোড়া অশ্রুবিন্দু' হুমায়ূন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত হয়।

--------------------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানা।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

হুমায়ুন আজাদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার
- জ্বলো চিতাবাঘ
- যতোই গভীরে যাই মধু,
- যতোই উপরে যাই নীল,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত কবিতা: বাতাসে লাশের গন্ধ।
-  শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, বন্দী শিবির থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭২৯.
‘ছন্দ সরস্বতী’ ছন্দ-সম্পর্কিত বিখ্যাত গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- ১৯১৮ সালে সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছন্দ-সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ সরস্বতী’ ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে চারদিকে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাহিত্যে ছন্দের কারুকাজ, শব্দ ও ভাষা যথোপযুক্ত ব্যবহারের কৃতিত্বের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ‘ছন্দের যাদুকর’ নামে আখ্যায়িত করেন। 

-------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন্দ্র-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

অন্যদিকে,
• বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতিসন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্য প্রবাহ সমৃদ্ধির জন্য তিনি ‘উচ্চবচন ধ্বনিতরঙ্গ’ ও ‘অনতিলক্ষ্য ছন্দঃস্রোত’ সৃষ্টি করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩০.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কী জাতীয় সাহিত্য রচনা করেছিলেন? 
  1. মর্সিয়া সাহিত্য 
  2. নাথ সাহিত্য
  3. কবিগান
  4. বৈষ্ণব পদাবলি 
ব্যাখ্যা

কবিওয়ালা ও কবিয়াল:
- কবিওয়ালা হলেন সেই রচয়িতা ও গায়ক যারা ১৮শ ও ১৯শ শতকে বাংলা লোকসংগীতের  ধারায় পদ রচনা করতেন এবং তা মুখে মুখে পরিবেশন করতেন।
- তারা প্রায়শই সুরারোপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে গান গাইতেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে “কবির লড়াই” প্রদর্শন করতেন।

- মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের অবক্ষয়ের যুগে একটি বিশেষ ধারা গড়ে ওঠে।
- এখানে দুটি দলের কবি মঞ্চে অবতীর্ণ হয়ে পরস্পরকে পরাস্ত করার উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিক ছন্দে ও কথায় প্রতিযোগিতামূলক গান রচনা করতেন।
- এই ধারার নামই ‘কবিগান’, আর এই কবিদের বলা হতো ‘কবিয়াল’।

- এই ধারায় উল্লেখযোগ্য কবিয়ালরা হলেন-
- নিতাই বৈরাগী, কেষ্ট মুনশি, গোঁজলা গুই, রাসু নৃসিংহ, ভোলা ময়রা, নীলমণি পাতনি, অ্যান্টনি ফিরিংগি এবং রামপ্রসাদ সেন।

- কবিগানের আদিপুরুষ হিসেবে পরিচিত গোঁজলা গুই-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- বাঙালি নন এমন কবিয়ালদের মধ্যে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি উল্লেখযোগ্য।
- তিনি জাতিতে পর্তুগিজ খ্রিষ্টান হলেও পরে এক হিন্দু বিধবাকে বিবাহ করেন এবং বাংলা কবিগানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৭৩১.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. স্মৃতিস্তম্ভ
  2. বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা
  3. কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি
  4. একুশের গান
ব্যাখ্যা

• কবিতা- কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি।
• কবি- মাহবুব-উল-আলম চৌধুরী।

"যারা আমার মাতৃভাষাকে নির্বাসন দিতে
চেয়েছে তাদের জন্যে
আমি ফাঁসির দাবি করছি।
যাদের আদেশে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে তাদের জন্য
ফাঁসি দাবি করছি
যারা এই মৃতদেহের উপর দিয়ে
ক্ষমতার আসনে আরোহণ করেছে
সেই বিশ্বাসঘাতকদের জন্য।
আমি ওদের বিচার দেখতে চাই।
----------------------------------------------
মাহবুব উল আলম চৌধুরী:
- মাহবুব উল আলম চৌধুরী (১৯২৭–২০০৭) ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক ও ভাষা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’।
- তিনি ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে এই কবিতাটি লিখেন। 
- এই কবিতাটি একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লেখা প্রথম কবিতা হিসেবে স্বীকৃত।
- কবিতাটিতে শোক নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি চাওয়া হয়েছে।
- এছাড়া, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাও কঠোরভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
-------------------------------
উল্লেখ্য, 
- ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো-
- মহাদেব সাহার একুশের গান,
- শামসুর রাহমানের বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা,
- আলাউদ্দিন আল আজাদের স্মৃতিস্তম্ভ।
- এই কবিতাগুলো ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামকে তুলে ধরে। 

উৎস: 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৭৩২.
ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি নয়-
  1. ক) রূপরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. গ) খেলারাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) বলরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূরভট্ট। ধর্মমঙ্গল কাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তাঁর রচিত গ্রন্থের নাম শ্রীধর্মমঙ্গল। রূপরাম চক্রবর্তী ও খেলারাম চক্রবর্তী ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি। বলরাম চক্রবর্তী কালিকামঙ্গল কাব্যের কবি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,৭৩৩.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:  
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস জহির রায়হানের 'আরেক ফাল্গুন'।
- এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় লেখা।
- পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'।
- চরিত্র: মুনিম, আসাদ, রসুল, সালমা ইত্যাদি।
- এই উপন্যাসে বাঙালির জাতীয় ঐতিহাসিক ঘটনাকে রূপায়িত করা হয়েছে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৩৪.
বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয় -
  1. আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে
  2. দোম আন্তনিও রচিত 'ব্রাহ্মণ-রোমান-ক্যাথলিক সংবাদ' গ্রন্থকে
  3. মানোএল দা আসসুম্পসাঁও রচিত 'কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ' গ্রন্থকে
  4. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত ' A Grammar of the Bengal Language' গ্রন্থকে
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্যের উৎপত্তি:
- বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের পূর্বে সাহিত্যগুণসমৃদ্ধ কোন গদ্যরচনার অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় না।
- দৈনন্দিন জীবনে বাঙালির কথাবার্তায় চিরদিন গদ্যরীতি ব্যবহৃত হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত সাহিত্যে তার অনুপ্রবেশ ঘটে নি এবং এর লিখিত রূপ চিঠিপত্র, দলিলদস্তাবেজ, বৈষ্ণব কড়চা ও বিদেশি খ্রিষ্টানকর্তৃক লিখিত ধর্মবিষয়ক গ্রন্থের সঙ্কীর্ণ সীমানায় আবদ্ধ ছিল।
- ১৫৫৫ সালে আসামরাজকে লেখা কোচবিহারের রাজার একটি পত্রকে বাংলা গদ্যের প্রাপ্ত প্রাচীনতম নিদর্শন বলে মনে করা হয়।
- ষোল শতক থেকে গদ্যরীতির সূচনা হলেও উনিশ শতকের পূর্ব পর্যন্ত এই সুদীর্ঘ সময়ে নিতান্ত প্রয়োজনের মধ্যে তা সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে ভাষাগত দিক থেকে গদ্যের উৎকর্ষসাধন মোটেই সম্ভবপর হয় নি।
- ইতস্তত বিক্ষিপ্ত কিছুসংখ্যক দৃষ্টান্ত অন্যত্র দৃষ্টিগোচর হলেও বাণিজ্যসম্ভারের পশ্চাতে খ্রিষ্টধর্মের পসার সাজিয়ে আগত পর্তুগিজ পাদ্রিদের হাতেই বাংলা গদ্যের ব্যাপক ব্যবহারের সূত্রপাত হয়।

• ড. সুকুমার সেন বাংলা গদ্যরীতির চারটি স্তর নির্দেশ করেছেন। সে স্তরগুলোর পরিধি:
- প্রথম স্তর: সূচনা - ষোল শতক থেকে ১৮০০ সালের পূর্ব পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় স্তর: উন্মেষ - ১৮০০ (শ্রীরামপুর মিশন) থেকে ১৮৪৭ সালের (ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের) পূর্ব পর্যন্ত ।
- তৃতীয় স্তর: অভ্যুদয় - ১৮৪৭ (বিদ্যাসাগর) থেকে ১৮৬৫ সালের (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের) পূর্ব পর্যন্ত
- চতুর্থ স্তর: পরিণতি - ১৮৬৫ (বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৩৫.
মধ্যযুগের কোন কবির প্রকৃত নাম 'আসাউদ্দীন'?
  1. সৈয়দ সুলতান
  2. দৌলত উজির বাহরাম খান
  3. গুণরাজ খান
  4. মুহম্মদ খান
ব্যাখ্যা

দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- চট্টগ্রামের নৃপতি নেজাম শাহ সুর বাহরাম খান কে 'দৌলত উজির' উপাধি দেন।
- বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উল্লেখ্য,
- 'মালাধর বসু' এর উপাধি - গুণরাজ খান।
- মুহম্মদ খান ছিলেন সৈয়দ সুলতানের শিষ্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৩৬.
কবি জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলন কোনটি?
  1. রঙিলা নায়ের মাঝি
  2. ডালিম কুমার
  3. বেদের মেয়ে
  4. সোজন বাদিয়ার ঘাট
ব্যাখ্যা
• 'রঙিলা নায়ের মাঝি' জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলন। 
- সংকলনটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

• সংকলনের উল্লেখযোগ্য কিছু গান হলো:
- আজ আমার মনে ত না মানেরে,
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে,
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি,
- উজান গাঙের নাইয়া,
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া,
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে,
- ও মোহন বাঁশী,
- নদীর কূল নাই-কিনার নাইরে,
- নিশিতে যাইও ফুলবনে,
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে,
- সিন্দুরের বেসাতি। 

--------------------------
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- কলেজজীবনে ‘কবর’ কবিতা রচনা করে তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তাঁর এ কবিতাটি প্রবেশিকা বাংলা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়। কবি হিসেবে এটি তাঁর এক অসামান্য সাফল্য।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কয়েকটি গানের সংকলন হলো:
- রঙিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
-  রূপবর্তী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৩৭.
তেভাগা আন্দোলন কেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি? 
  1. অক্টোপাস
  2. নাঢ়াই
  3. কালো বরফ
  4. ক্রীতদাসের হাসি 
ব্যাখ্যা

'নাঢ়াই' উপন্যাস:
- 'নাঢ়াই' হলো শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস। 
- উপন্যাসে তেভাগা আন্দোলনের পেক্ষাপট আলোচিত হয়েছে।

- গরিব কৃষকের ঘরে এক বালক সন্তানের অল্পবয়সী মা ফুলমতি বিধবা হলে শুরু হয় তার বাঁচার লড়াই।
- লোভ, লালসা, সম্পদ আর সম্ভ্রম লুণ্ঠনের নানান চক্রান্তের বিরুদ্ধে তাকে লড়াই করতে হয়।
- তবে লড়াই ক্রমে একাকার হয়ে যায় গরিব কৃষকের লড়াই তেভাগার (তেভাগা আন্দোলন) সঙ্গে।
- এই প্রক্রিয়ার বিবরণ নিয়েই লেখা শওকত আলীর নতুন উপন্যাস 'নাঢ়াই'।
- পটভূমি চরিত্র কাহিনী সংলাপ সবই আঞ্চলিক এবং গভীরভাবে মৃত্তিকা লগ্ন।

অন্যদিকে,
'অক্টোপাস' উপন্যাস:
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা শামসুর রাহমান।
১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফুরণ

'কালো বরফ' উপন্যাসটির লেখক - মাহমুদুল হক।
- এই উপন্যাসে সাতচল্লিশের দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে।

'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাস:
শওকত ওসমানের কালোত্তীর্ণ উপন্যাস 'ক্রীতদাসের হাসি'।
- এটি একটি প্রতিকাশ্রয়ী উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসে তৎকালীন সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সমালোচনা করা হয়েছিল রূপক-প্রতীকের আশ্রয়ে।

শওকত আলী:
শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস 'পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছোটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৭৩৮.
'এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে' গ্রন্থটি কার?
  1. ক) আব্দুল গাফফর চৌধুরী
  2. খ) আবুল মনসুর আহমদ
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
ব্যাখ্যা

• আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত প্রথম বইয়ের নাম এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থের নাম:
- আবিষ্কারের নেশায়,
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- তারার দেশের হাতছানি,
- বিজ্ঞানের বিস্ময়,
- শিক্ষা ও বিজ্ঞান: নতুন দিগন্ত,
- মহাকাশে কী ঘটছে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৭৩৯.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু কয়টি সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের বিষয়বস্তু দুইটি  সামাজিক কাহিনিকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। 
- প্রথমটি কালকেতু-ফুল্লরার জীবনকথা এবং দ্বিতীয়টি ধনপতি-লহনা-খুল্লনার কাহিনী।

• চণ্ডীমঙ্গল:

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবর্তী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের অন্যান্য কবি: দ্বিজ রামদেব, মুক্তারাম সেন, হরিরাম, লালা জয়নারায়ণ সেন, ভবানীশঙ্কর দাস, অকিঞ্চন চক্রবর্তী।

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে।
- একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডীর বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ, পরাজয় ও শেষ পর্যন্ত চণ্ডীর কৃপায় হৃতরাজ্য পুন:প্রাপ্তি। 
- দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৪০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. আনন্দমঠ
  2. দেবী চৌধুরানী
  3. রজনী
  4. সীতারাম
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় - রজনী
- এটি তাঁর মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণমূলক উপন্যাস।
- এটি ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬)।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। এটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)।
- 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' ও 'সীতারাম' তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪১.
'শূন্যপুরাণ' এক ধরনের -
  1. জৈন ধর্মগ্রন্থ
  2. ধর্মপূজাপদ্ধতি
  3. বৌদ্ধ কাব্য
  4. সাধনপদ্ধতি
ব্যাখ্যা
'শূন্যপুরাণ':
- 'শূন্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ এবং অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- ‘শূন্যপুরাণ’ বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি। গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত। এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়। কারো মতে গ্রন্থটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' থেকে শূন্যপুরাণ নামকরণ করে প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪২.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. স্বদেশ
  2. উত্থানপর্ব
  3. উত্তরণ
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
⇒ আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক। 

 • তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:
- সূর্য তুমি সাথী, 
- ওঙ্কর, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- গাভি বিত্তান্ত, 
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

অন্যদিকে,
- ‘কল্লোল’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৩.
'ধাবমান' নাটকটি কোন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) টেকনাফ
  3. গ) নেত্রকোনা
  4. ঘ) তেতুলিয়া
ব্যাখ্যা
নাট্যকার সেলিম আল দীন রচিত নাটক 'ধাবমান'। 
- নেত্রকোনার বিরিশিরি-দূর্গাপূরের বিস্তীর্ণ পঞ্চল ও সোমেশ্বরী নদী এর আখ্যান পটভূমি
- বাঙালি ও গারোদের হাজার বছরের সংঘাত-যুদ্ধ-ধর্মান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চলতে থাকাপ্রান্ত এলাকায় বাসরত দুই জাতির মানুষের সমন্বয়ের ক্রিয়া এর উপজীব্য। 

 সেলিম আল দীন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক।
- তিনি ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অন্যান্যদের সাথে 'ঢাকা থিয়েটার' ও 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার' গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- কেরামতমঙ্গল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- সর্ব বিষয়ক গ্রন্থ ও অন্যান্য নাটক,
- মুনতাসির ফ্যান্টাসী,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- বাসন,
- যৈবতী কন্যার মন,
- কীর্তনখোলা,
- চাকা,
- হরগজ,
- প্রাচ্য,
- নিমজ্জন,
- ধাবমান,
- পুত্র,
- বনপাংশুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৪.
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশকাল-
  1. ক) ১৯২৯
  2. খ) ১৯৩৬
  3. গ) ১৯৪১
  4. ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা ফররুখ আহমদ। এটির প্রকাশিত হয় ১৯৪৪ সালে। সিরাজাম মুনীরা, নৌফেল ও হাতেম, মুহূর্তের কবিতা, সিন্দাবাদ, হাতেমতায়ী, নতুন লেখা, হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি কাব্যগ্রন্থের রচয়িতাও ফররুখ আহমদ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৪৫.
'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিষ্ণু দে
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'সনেট পঞ্চাশৎ' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা প্রমথ চৌধুরী।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে। 

• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি  'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৪৬.
'মধুমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. গীতিনাট্য
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
প্রধান চরিত্রগুলো হলো: মধুমালা, মদনকুমার, কাঞ্চনমালা।

কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য কাজী নজরুল ইসলাম।
১,৭৪৭.
কাজী নজরুল ইসলামের কতটি গ্রন্থ ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের মোট ৫টি গ্রন্থ বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার বাজেয়াপ্ত করে। নিষিদ্ধ গ্রন্থগুলো হলো-

• যুগবাণী: প্রবন্ধ গ্রন্থ, নিষিদ্ধ হয় ২৩ নভেম্বর, ১৯২২, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ১৯৪৭।
• বিষের বাঁশী: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ২২ অক্টোবর, ১৯২৪, নিষেধাজ্ঞাপা প্রত্যাহার ২৭ এপ্রিল, ১৯৪৫।
• ভাঙার গান: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ ১১ অক্টোবর, ১৯২৪।
• প্রলয় শিখা: কবিতাগ্রন্থ, নিষিদ্ধ, ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩০।
• চন্দ্রবিন্দু: গানের সংকলন, নিষিদ্ধ ১৪ অক্টোবর, ১৯৩১।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৪৮.
'বঙ্গদূত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. নীলমণি হালদার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. প্রমথ চৌধুরী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৪৯.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র কোনটি?
  1. কুবের
  2. হোসেন মিয়া
  3. শীতলবাবু
  4. ধনঞ্জয়
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।

- এই উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো-
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
১,৭৫০.
‘নীড়সন্ধানী’ কার রচিত উপন্যাস?
  1. ক) রাজিয়া খান
  2. খ) আনোয়ার পাশা
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
- ‘নীড়সন্ধানী’ আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস।

- আনোয়ার পাশা ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।
- তাঁর সাহিত্যকর্মে গভীর দেশাত্মবোধ, মননশীলতা এবং প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার পরিচয় পাওয়া যায়।
- ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাকে হত্যা করে পাকিস্তানিরা।
- আনোয়ার পাশাকে ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (মরণোত্তর) প্রদান করে।

• আনোয়ার পাশা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নদী নি:শেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৭৫১.
মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত 'হাঙর নদী গ্রেনেড' এর রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সেলিনা হোসেন
  3. শহীদুল্লা কায়সার
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' উপন্যাস:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বেশ কিছু উপন্যাস লিখেছেন সেলিনা হোসেন।
- তার মধ্যে ভীষণ আলোচিত উপন্যাস 'হাঙর নদী গ্রেনেড'। মুক্তিযুদ্ধের এক আবেগী ও প্রতিবাদী উপন্যাস এটি।
- হলদী গ্রামের এক বয়স্ক নারীর জীবন এই উপন্যাসে মূর্ত হয়ে ওঠে।
- এই নারী তাঁর নিজের ছেলেদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে যেমন উদ্বুদ্ধ করেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধাদের বাঁচাতে নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে তুলে দেন পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে।
- উপন্যাসে এই মায়ের আত্মসংগ্রাম, দেশের জন্য ত্যাগের অপার মহিমা ভাস্বর হয়ে ওঠে।
- আর উপন্যাসে বর্ণিত গ্রামটিও যেন মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকী এক বাংলাদেশ।

------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১,৭৫২.
"মোদের বাংলা ভাষা" কবিতার রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সানাউল হক
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

"মোদের বাংলা ভাষা" কবিতার রচয়িতা সুফিয়া কামাল।

মোদের বাংলা ভাষা
- সুফিয়া কামাল
মোদের দেশের সরল মানুষ
কামার কুমার জেলে চাষা
তাদের তরে সহজ হবে
মোদের বাংলা ভাষা।
বিদেশ হতে বিজাতীয়
নানান কথার ছড়াছড়ি
আর কতকাল দেশের মানুষ
থাকবে বল সহ্য করি।

তার রচিত বিখ্যাত কয়েকটি কবিতা:
- প্রার্থনা
- পল্লী স্মৃতি
- জন্মেছি এই দেশে
- আজিকার শিশু
- তাহারেই পড়ে মনে
- ইতল বিতল
- হেমন্ত
- সাঁঝের মায়া
- ছোটন ঘুমায়

সুফিয়া কামাল:
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘সৈনিক বধূ’। রচনা হয় ১৯২৩ সালে। গ্রন্থটি বরিশালের ‘তরুণ’ পত্রিকায় প্রকাশ পায়।

• তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী। 
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও সংশ্লিষ্ট কাব্যগ্রন্থ।

১,৭৫৩.
'সমাচার দর্পন' সাপ্তাহিক পত্রিকাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮১৬
  2. খ) ১৮১৭
  3. গ) ১৮১৮
  4. ঘ) ১৮২০
ব্যাখ্যা

শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা 'সমাচার দর্পন' ১৮১৮ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করে।পরে জয়গোপাল তর্কালংকার, তারিণীচরণ শিরোমান প্রমুখ এই পত্রিকার সম্পাদনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।

 

১,৭৫৪.
"সকলেই কবি নন,
কেউ কেউ কবি" - উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বনলতা সেন
  2. মাল্যবান
  3. কবিতার কথা
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা
• "সকলেই কবি নন,
কেউ কেউ কবি" - উক্তিটি জীবনানন্দ দাশ রচিত 'কবিতার কথা' গ্রন্থের অন্তর্গত।

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।

জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৫.
মুনিদত্ত কোন ভাষায় চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন?
  1. হিন্দি
  2. সংস্কৃত
  3. বাংলা
  4. ব্রজবুলি
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম গ্রন্থ চর্যাপদ।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজ দরবারের গ্রন্থাগার থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন এবং ১৯১৬ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা' শিরোনামে প্রকাশ করে।
- চর্যাপদে মোট পদ সংখ্যা সাড়ে ৪৬টি।
- এটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- অপরদিকে, ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

চর্যাপদের পদসংখ্যা নিয়ে মতান্তর রয়েছে:
- চর্যাপদ শুধু প্রাচীন বাংলা সাহিত্যেরই নিদর্শন নয়, প্রাচীন বাংলা গানেরও নিদর্শন।

- সুকুমার সেন রচিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম 'চর্যাগীতি পদাবলী'। যদিও সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। টীকাকারের কাছে মূল চর্যার পুঁথিতে আরো অন্তত একটি বেশি চর্যা ছিল (১১ ও ১২ তম চর্যার মাঝখানে)। এই চর্যাটির ব্যাখ্যা না থাকায় লিপিকার উদ্ধৃত করেন নি, শুধু 'টীকা নাই' এই মন্তব্যটুকু করিয়াছেন। সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১ নং পদের ব্যাখ্যা করেন নি। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।

-  ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫ - ১৯৬৯) সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থে - 'Buddhist Mystic Songs' (১৯৬০) চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
১,৭৫৬.
"সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।" চরণ দুটির রচিয়তা-
  1. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
•  'সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি।'- বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি মদনমোহন তর্কালঙ্কার রচিত 'আমার পণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

মদনমোহন তর্কালঙ্কার:
- মদনমোহন তর্কালঙ্কার কবি, সমাজসেবক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার বিল্বগ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পারিবারিক উপাধি 'চট্টোপাধ্যায়' হলেও প্রাপ্ত উপাধি 'তর্কালঙ্কার' হিসেবেই তিনি সুপরিচিত।
- মদনমোহন বিদ্যাসাগরের সহযোগিতায় 'সংস্কৃত-যন্ত্র' (১৮৪৭) নামে একটি ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখান থেকে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যটি সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে মুদ্রিত হয়।
- কবি-প্রতিভার জন্য সংস্কৃত কলেজ থেকে তিনি 'কাব্যরত্নাকর' এবং পাণ্ডিত্যের জন্য 'তর্কালঙ্কার' উপাধি লাভ করেন।
- ১৮৫৮ সালের ৯ মার্চ কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: আমার পণ- কবিতা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৭.
‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শহীদুল কবির
  2. শহীদুল জহির
  3. শহীদুল্লাহ কায়সার 
  4. রাবেয়া খাতুন
ব্যাখ্যা

• জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' উপন্যাসের রচয়িতা- শহীদুল জহির।
- এটি একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

• শহীদুল জহির:
- ১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম: মো. শহীদুল হক।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পারাপার
- ডুমুরখেকো
- মানুষ ও অন্যান্য গল্প
- ডলু নদীর হাওয়া ও অন্যান্য গল্প

• তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা
- সে রাতে পূর্ণিমা ছিল 
- মুখের দিকে চেয়ে দেখি ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৫৮.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) আহসান হাবীব
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
- আল মাহমুদের কবি-প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছিল ‘সোনালী কাবিন’ (১৯৭৩) কাব্যগ্রন্থ।
-  এই গ্রন্থে বিভিন্ন শিরোনামের কবিতার সঙ্গে ‘সোনালী কাবিন’ নামে চৌদ্দটি সনেটের সমন্বয়ে একটি দীর্ঘ কবিতাও অন্তর্ভুক্ত। এটিকে একটি ক্ষুদ্র কাব্যগ্রন্থও বলা যেতে পারে।
- ‘সোনালী কাবিনে’র কবিতাগুলো রচিত হয় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে।
- পুরো কাব্যগ্রন্থটিতে বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম গ্রামীণ আবহে উঠে এসেছে।

 এই কাব্যগ্রন্থের অন্য কবিতা গুলো হলো:
- জাতিস্মর
- পারক ভাঙার প্রতিবাদে,
- ক্যামোফ্লাজ
- শোণিত সৌরভ
- তোমার আড়ালে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৫৯.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম 'যজ্ঞেশ্বর'?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. বড়ু চণ্ডীদাস
  3. মুকুন্দদাস
  4. শ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উল্লেখ্য,
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬০.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত মৌলিক গ্রন্থ?
  1. ক) নীতিবোধ
  2. খ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. গ) কথামালা
  4. ঘ) বোধদয়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের রচিত মৌলিক গ্রন্থ ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ’(১৮৬৩)। ‘বোধদয়’ – চেম্বার্সের Rudiments of knowledge অনুসরনে রচিত। ‘নীতিবোধ’ – রবার্ট ও উইলিয়াম চেম্বার্সের The Moral Class Book অবলম্বনে রচিত। কথামালা – ঈশপের কাহিনী অবলম্বনে রচিত। রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১,৭৬১.
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ কোনটি?
  1. ক) ব্যাকরণ কৌমুদী
  2. খ) বাংলা ভাষাতত্ত্ব
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) ব্যাকরণ মঞ্জুষা
ব্যাখ্যা
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ- গৌড়ীয় ব্যাকরণ। এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়। বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, গোস্বামীর সহিত বিচার, পথ্যপ্রদান ইত্যাদি তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৭৬২.
কবি আবদুল হাকিম কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) ১৬১৮
  2. খ) ১৬২০
  3. গ) ১৬২৫
  4. ঘ) ১৬২৮
ব্যাখ্যা
- কবি আবদুল হাকিম ১৬২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

• আব্দুল হাকিম:
- তিনি সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন।
- নোয়াখালী জেলার বাবুপুর (মতান্তরে সন্দ্বীপের সুধারাম) ছিল কবির আবাসভূমি।
- তাঁর পিতা শাহ্ রাজ্জাক ছিলেন একজন পন্ডিত ব্যক্তি এবং তাঁর পীর ছিলেন সাহাবুদ্দীন।
- আবদুল হাকিম  আরবি,  ফারসি ও  সংস্কৃত ভাষায় বিশেষ ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- হাদীস, আল-কুরআন, ফেকাহ প্রভৃতি শাস্ত্র এবং  রামায়ণ, মহাভারত ও পুরাণ সম্পর্কেও তাঁর গভীর পান্ডিত্য ছিল।
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২। বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৩.
'নূরলদীনের সারাজীবন' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. সামাজিক উপন্যাস
  2. কাব্যনাট্য
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহ্বান-'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৪.
'শূন্যপুরাণ' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ
  2. গানের সংকলন
  3. অলৌকিক তত্ত্বের গ্রন্থ
  4. পৌরাণিক নাটক
ব্যাখ্যা
• শূন্যপুরাণ:
- রামাই পণ্ডিত রচিত ধর্মপূজার শাস্ত্রগ্রন্থ 'শূন্যপুরাণ'। রামাই পণ্ডিতের কাল তের শতক বলে অনুমিত হয়। শূন্যপুরাণ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ-গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য।

- বৌদ্ধধর্মের ধ্বংসোন্মুখ অবস্থায় হিন্দুধর্মের সঙ্গে মিলন সাধনের জন্য রামাই পণ্ডিত ধর্মপূজার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এতে বৌদ্ধদের শূন্যবাদ এবং হিন্দুদের লৌকিক ধর্মের মিশ্রণ ঘটেছে। শূন্যপুরাণে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

- এ গ্রন্থের অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের রুম্মা' কবিতাটি থেকে প্রমাণিত হয় যে তা 'মুসলমান তুর্কি কর্তৃক বঙ্গবিজয়ের পরের, অন্তত ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষের দিকের রচনা।' এতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বী সদ্ধর্মীদের ওপর বৈদিক ব্রাহ্মণদের অত্যাচার কাহিনি বর্ণনার সঙ্গে মুসলমানদের জাজপুর প্রবেশ এবং ব্রাহ্মণ্য দেবদেবীর রাতারাতি ধর্মান্তর গ্রহণের কাল্পনিক চিত্র অঙ্কিত হয়েছে।

- ইসলাম সম্পর্কে অপরিণত ধারণা থেকে মনে হয় যে এ দেশে ইসলাম সম্প্রসারণের প্রাথমিক পর্যায়ে এটি রচিত। ব্রাহ্মণ্য শাসনের অবসান এবং মুসলিম শাসন প্রচলনের পক্ষে মত প্রকাশিত হওয়াতে এতে তৎকালীন সামাজিক অবস্থার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।
১,৭৬৫.
কাজী নজরুল ইসলামের যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙ্গল
  2. মোহাম্মদী
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন।

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা-
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক আজাদ ও মোহাম্মদী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৬৬.
'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' গ্রন্থটি কত সালে রচিত হয়?
  1. ১৮০৫ সালে
  2. ১৮০১ সালে
  3. ১৮০৮ সালে
  4. ১৮০২ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) লিখেছেন রামরাম বসু।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য এই গ্রন্থটি লিখেন৷

----------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলি কর্তৃক ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ৪ঠা মে কলেজের প্রতিষ্ঠা দিবস হলেও ২৪শে নভেম্বর থেকে কলেজের কাজ শুরু হয়েছিল।
- দেশীয় ভাষা শিক্ষা দিয়ে সিবিলিয়ানদের উপযুক্ত করে তোলার জন্যই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের প্রতিষ্ঠা।
- এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্রীরামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক বাংলায় অভিজ্ঞ উইলিয়াম কেরি।
- তিনি তাঁর অধীনস্ত দু জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তাঁদের প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের পর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:

• কেরি রচিত: কথোপকথন (১৮০১); ইতিহাসমালা (১৮১২) ।
•  রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র (১৮০১); লিপিমালা (১৮০২) ।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ (১৮০২)।

• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২);
-  হিতোপদেশ (১৮০৮);
- রাজাবলি (১৮০৮);
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮৩৩) ।

• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট (১৮০৩)।
•  রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং (১৮০৫)।

• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস (১৮০৫)।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা (১৮১৫)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৬৭.
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাসটি-
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র প্রশংসিত গ্রন্থ
  2. খ) বিদ্যাসাগর প্রশংসিত গ্রন্থ
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ প্রশংসিত গ্রন্থ
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ প্রশংসিত গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
প্যারীচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল সম্পর্কে বঙ্কিমচন্দ্র বলেছেন- ''উহার পরে উৎকৃষ্ট গ্রন্থ তৎপরে কেউ প্রণীত করে থাকিতে পারেন, অথবা ভবিষ্যতে কেউ করিয়া থাকিতে পারিবেন, কিন্তু এই গ্রন্থ দ্বারা বাংলা সাহিত্যের যে উপকার হইয়াছে, আর কোন বাংলা গ্রন্থ দ্বারা সেই রূপ হয় নাই এবং ভবিষ্যতে হইবে কিনা সন্দেহ।'' উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,৭৬৮.
সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন —
  1. ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. রাহুল সাংকৃত্যায়ন
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বিষয়ক গবেষণা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃতি দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'অরিজিন অ্যান্ড ডেভলোপমেন্ট অব বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিস্তারিতভাবে চর্যাপদের ভাষার ধ্বনিতত্ত্ব, ব্যাকরণ ও ছন্দ বিচার বিশ্লেষণ করে প্রমাণ করেন চর্যাপদ বাংলা ভাষার সম্পদ। অধিকাংশ ভাষাবিজ্ঞানী এ অভিমত সমর্থন করেন।
- ১৯২৭ সালে সর্বপ্রথম চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব বিশ্লেষণ করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, ড. সুকুমার সেন, ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত চর্যাপদের ভাষা, বিষয়বস্তু, প্রভৃতি আলোচনা করে প্রমাণ করেন যে-চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
- ১৯৪৬ সালে ড. শশীভূষণ দাশগুপ্ত সহজযান প্রসঙ্গে চর্যাপদের অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা করেন।
- বিহারের বিখ্যাত পণ্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য, বৌদ্ধ সহজযান ও চর্যাগীতিকা নিয়ে ইংরেজি ও হিন্দিতে প্রচুর গবেষণা করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৭৬৯.
'দূর হ দুঃশাসন' কাব্যগ্রন্থটি কার লেখা?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. শামসুর রাহমান
  4. বদরুদ্দীন উমর
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ হলোঃ
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৭৭০.
’তুরস্ক ভ্রমণ’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন 
  2. সেলিম আল দীন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

- ’তুরস্ক ভ্রমণ’ ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী।
- গ্রন্থটি ১৯২০ সালে রচিত হয়।

• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- তিনি ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি একাধারে লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা। 
- সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্ম বলেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন। 
- ইসমাইল হোসেন সিরাজী সিরাজগঞ্জে কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
- তিনি জমিদার ও মহাজন বিরোধী আন্দোলনে কৃষকদের সংগঠিত করেন। 
- তিনি ১৯৩১ সালের ১৭ই জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- আকাঙ্ক্ষা,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন, 
- নব উদ্দীপনা,
- স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারা-বাঈ, 
- ফিরোজা বেগম,
- নূরুদ্দীন ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা ইত্যাদি। 
 
অন্যদিকে,
• ‘ইউরোপের চিঠি’ অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
• সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি - দেশে বিদেশে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭১.
'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত-
  1. ক) একটি ভ্রমণবৃত্তান্ত
  2. খ) একটি চলচ্চিত্র
  3. গ) একটি স্মৃতিকথা
  4. ঘ) একটি উপন্যাস
ব্যাখ্যা
রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) শহীদুল্লাহ কায়সারের স্মৃতিকথা। 'পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ' তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্তের নাম। সারেং বৌ ও সংশপ্তক তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৭২.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত 'যাপিত জীবন' একটি- 
  1. উপন্যাস 
  2. নাটক 
  3. গল্পগ্রন্থ 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।

- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে। সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ।

- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।

- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কন্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাসসমূহ:
• 'নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি' (১৯৮৭): চল্লিশের দশকের পটভূমিতে রচিত।
• 'কাকতাড়ুয়া' (১৯৯৬): এটি শিশুতোষ উপন্যাস। এটি বুধা নামে এক এতিম সাহসী কিশোর মুক্তিযোদ্ধার কাহিনি।
• 'হাঙর নদী গ্রেনেড' (১৯৭৬): এটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭২ সালে এ ঘটনা নিয়ে তিনি গল্প লেখেন। পরবর্তীতে এটি উপন্যাসে রূপান্তরিত করেন।
• 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' (১৯৮৬): উপন্যাস বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নাফ নদীর তীরবর্তী শাহপরী দ্বীপ নামক এক ছোট দ্বীপের ধীবর শ্রেণির মানুষের জীবন সংগ্রাম এর বাস্তব রূপায়ণ। চরিত্র: মালেক, সাফিয়া।
• 'কাঠকয়লার ছবি' (২০০১); এটি চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রা নিয়ে রচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি; 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৭৩.
নিচের কোন কবি 'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা নন?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত
  2. খ) কানা হরিদত্ত
  3. গ) দ্বিজ মাধব
  4. ঘ) নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা
দ্বিজ মাধব-  'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা নন। 
- দ্বিজ মাধব 'চন্ডীমঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।
- চন্ডিমঙ্গল কাব্যধারার কবি দ্বিজ মাধবকে 'স্বভাবকবি' বলা হয়। 
 
 মনসামঙ্গল' কাব্য
- সাপের দেবী মনসার স্তব, স্তুতি, কাহিনি ইত্যাদি নিয়ে রচিত কাব্য 'মনসামঙ্গল'৷
- মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরিদত্ত।
- মনসামঙ্গল কাব্যের অপর নাম পদ্মাপুরাণ
- 'কানা হরিদত্ত, বিজয় গুপ্ত, নারায়ণ দেব, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ, প্রমুখ ছিলেন  'মনসামঙ্গল' কাব্যের রচয়িতা।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম।
১,৭৭৪.
অন্নদাশঙ্কর রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অনিলা দেবী
  2. অল্পদর্শী
  3. লীলাময় রায়
  4. হাবু শর্মা
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

---------------------
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- একজন স্বনামধন্য ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- আমেরিকার টেকসাসের বিদুষী তরুণী অ্যালিস ভার্জিনিয়া ওনডর্ফ ১৯৩০ সালে ভারতে আসেন ভারতীয় সঙ্গীত বিষয়ে গবেষণার জন্য।
- লেখক ভবানী মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে অ্যালিসের সঙ্গে অন্নদাশঙ্করের পরিচয় ঘটে এবং পরে তাঁরা বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হন।
- সে সময় অন্নদাশঙ্কর ‘লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ অ্যালিসের নতুন নামকরণ করেন ‘লীলা রায়'।
- অন্নদাশঙ্করের জীবনে লীলা রায়ের প্রভাব ব্যাপক।
- বহু ভাষায় পারদর্শী লীলা রায় নিজেও সাহিত্যিক এবং অনুবাদক হিসেবে খ্যাতিলাভ করেন।

অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'অনিলা দেবী'- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'হাবু শর্মা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৭৫.
'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' কার রচনা?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. সাঈদ আহমদ
  4. ড. আনিসুজ্জামান
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাস:
- ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত 'অমৃত কুম্ভের সন্ধানে' উপন্যাসের মধ্য দিয়ে 'কালকূট' ছদ্মনামে সমরেশ বসুর উপন্যাস রচনার সূত্রপাত।
- একই সঙ্গে তিনি মার্কসবাদ থেকে ঝুঁকলেন অধ্যাত্মবাদের দিকে।
- প্রতি বছর প্রয়াগের ত্রিবেণী সঙ্গমে যে কুম্ভমেলা হয় এবং সেখানে ভারতবর্ষের সকল স্তরের মানুষের যে সমাবেশ ঘটে, সেই মিলনমেলাই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু।
- আর তাতে অভিব্যক্ত হয়েছে মানুষের বিশ্বাসের সংকট থেকে উত্তরণের আকুতি।
----------------- 
• সমরেশ বসু:
- ১২২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৭৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. বুকের ভেতর আগুন
  2. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. গজকচ্ছপ
  4. ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস
ব্যাখ্যা

• 'বুকের ভেতর আগুন':
- এটি জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়। এখানে রংপুরের পীরগঞ্জের কথা উল্লেখ আছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নান্টু, শান্টু, মোহন।

-----------------------
জাহানারা ইমাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

অন্যদিকে, 
• 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'বুকের ভেতর আগুন' উপন্যাস, জাহানারা ইমাম।

১,৭৭৭.
আল মাহমুদের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সারা দুপুর
  2. খ) সোনালী কাবিন
  3. গ) আশায় বসতি
  4. ঘ) বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা
সোনালী কাবিন আল মাহমুদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ। বঞ্চিতের ক্ষোভ, শ্রমিকের ঘাম, কৃষকের পরিশ্রম ইত্যাদি এই কাব্যগ্রন্থের উপজীব্য বিষয়। সোনালী কাবিন, কাবিলের বোন, চেহারার চতুরঙ্গ, উপমহাদেশ ও ডাহুকী তার রচিত উপন্যাস এবং পানকৌড়ির রক্ত তার রচিত গল্প।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৭৭৮.
‘ভলগার তীরে ’ নির্মলেন্দু গুণ রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. ভ্রমণ কাহিনি
  4. কিশোর গল্প
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম ‘নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী’।
- বাংলাদেশের কবিদের কবি বলা হয় নির্মলেন্দু গুণ কে।
- তাঁকে ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এছাড়া ১৯৮২ সালেই আলাওল সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো-
• প্রেমাংশুর রক্ত চাই,
• না প্রেমিক না বিপ্লবী,
• দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
• ও বন্ধু আমার,
• চাষাভূষার কাব্য,
• পৃথিবীজোড়া গান,
• দূর হ দুঃশাসন,
• ইসক্রা,
• নেই কেন সেই পাখি,
• মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
• শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ভ্রমণ কাহিনি:
- ভলগার তীরে,
- গীনসাবার্গের সঙ্গে,
- আমেরিকায় জুয়াখেলার স্মৃতি,
- ভ্রমি দেশে দেশে।

তাঁর রচিত কিশোর উপন্যাস:
- কালো মেলা,
- বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ভ্রমি দেশে দেশে’ নির্মলেন্দু গুণ ।
১,৭৭৯.
'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' এর উক্তিটি কার?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

- 'সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত' উক্তিটি প্রমথ চৌধুরীর 'বই পড়া' প্রবন্ধ থেকে নেওয়া হয়েছে।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত উক্তি:
- ‘ব্যাধিই সংক্রামক, স্বাস্থ্য নয়'
- 'যে জাতি মনে বড় নয়, সে জাতি জ্ঞানেও বড় নয়'।
- "ভাষা মানুষের মুখ থেকে কলমের মুখে আসে, উল্টোটা করতে গেলে মুখে কালি পড়ে।"
- 'বই কিনে কেউ কোনোদিন দেউলিয়া হয় না।'

• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রুপাত্নক প্রবন্ধ রচনাকারী, গদ্য সাহিত্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- ইতালীয় সনেটের প্রবর্তকও হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর ছদ্মনাম বীরবল।
- তিনি সবুজপত্র (১৯১৪) ও বিশ্বভারতী, রূপ ও রীতি এবং অলকা পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারি কথা।
- আহুতি।
- নীললোহিত ও
- গল্প সংগ্রহ। 

• তাঁর রচিত প্ৰবন্ধগ্রন্থ:
- তেল- নুন -লাকড়ী।
- বীর বলের হালখাতা (চলিত রীতির প্রথম গদ্য রচনা)। 
- নানাকথা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৮০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুলি-মজুর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. অগ্নিবীণা
  2. ভাঙার গান 
  3. সাম্যবাদী
  4. বিষের বাঁশী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের 'কুলি-মজুর' কবিতাটি- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।

কুলি-মজুর- কবিতা,
কাজী নজরুল ইসলাম। 

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি বলে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি করে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?
রাজপথে তব চলিছে মোটর, সাগরে জাহাজ চলে,
রেলপথে চলে বাষ্প-শকট, দেশ ছেয়ে গেল কলে,
বল ত এ-সব কাহাদের দান! তোমার অট্টালিকা
কার খুনে রাঙা? -ঠুলি খুলে দেখ, প্রতি ইটে আছে লিখা।
তুমি জান নাকো, কিন্তু পথের প্রতি ধূলিকণা জানে,
ঐ পথ, ঐ জাহাজ, শকট, অট্টালিকার মানে!
আসিতেছে শুভদিন,
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা, শুধিতে হইবে ঋণ!
----------------------

• 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- সাম্যবাদী' কাজী নজরুল ইসলামের 'সাম্যবাদী; কাব্যগ্রন্থের নামকবিতা।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।
- কাব্যগ্রন্থটিতে মোট ১১টি কবিতা রয়েছে।

এ গ্রন্থের কবিতাগুলো হলো:
- সাম্যবাদী,
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ, 
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী
- নারী,
- রাজা-প্রজা
- সাম্য, 
- কুলি-মজুর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং ‘সাম্যবাদী’ কাব্যগ্রন্থ।

১,৭৮১.
কুসুমকুমারী দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. ঢাকা
  3. পটুয়াখালী 
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা

কুসুমকুমারী দাশ বরিশাল জেলার সন্তান। 

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন।
- তার কবিতা প্রকাশিত হত বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’।
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮২.
'ঠকচাচা' চরিত্রটি কোন উপন্যাসের?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. সীতারাম
  3. আধ্যাত্নিকা
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস:
- উপন্যাসের প্রাথমিক প্রচেষ্টায় প্যারীচাদঁ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) সালে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে।
- এই উপন্যাসের বিষয়বস্তুর নীতিঘেঁষা এই বাস্তব কাহিনিটিতে কুশিক্ষা, সঙ্গ, অভিভাবকের প্রশ্রয় ও অমনোযোগিতায় ধনীর সন্তানের জীবনের দুঃখজনক পরিণাম এবং দঃখ দুর্দশা ভোগের পর পুনরায় ভাল মানুষ হয়ে ওঠার দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত হয়েছে।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র ছিলেন ধনির আদুরের সন্তান 'মতিলাল'।
- এই উপন্যাসে আরো একটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হচ্ছে 'মোকজান মিঞা বা ঠকচাচা'

প্যারীচাঁদ মিত্র:

- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- ১৮২৭ সালে তিনি হিন্দু কলেজে ভর্তি হন এবং খ্যাতিমান শিক্ষক হেনরি ডিরোজিওর তত্ত্বাবধানে থেকে শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

• 'সীতারাম' উপন্যাস টি হলো বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস টি হলো কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৮৩.
'দেশে বিদেশে' গ্রন্থটি রচনা করেন -
  1. মুহম্মদ আব্দুল হাই
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনি: 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা - সৈয়দ মুজতবা আলী।
- এটি সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' তাঁর রচিত বিখ্যাত ভ্রমণ কাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণ কাহিনীটি আফগানিস্তানের কাবুল শহর নিয়ে লেখা।

- তাঁর সাহিত্যকর্ম: 
উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য।
- শবনম।

ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী।
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৮৪.
'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'- এটি কোন কবিতার পঙক্তি?
  1. ক) চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া
  2. খ) পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি
  3. গ) ভাত দে হারামজাদা
  4. ঘ) অঙ্গীকারের কবিতা
ব্যাখ্যা
- 'ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাবো'- এটি 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতার পঙক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে।
- 'ভাত দে হারামজাদা' কবিতাটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- এটি রফিক আজাদের একটি বিখ্যাত পঙক্তি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে।
- অসম্ভবের পায়ে।
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
- প্রেমের কবিতা।
- হাতুড়ির নিচে জীবন।
- অপর অরণ্যে।
- করো অশ্রুপাত।
- প্রেম ও বিরহের কবিতা।
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি।
- সশস্ত্র সুন্দর।
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৮৫.
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গোরক্ষবিজয়
  2. চন্দ্রাবতী
  3. সত্যপীরের পুঁথি
  4. জয়নবের চৌতিশা
ব্যাখ্যা
• ফকির গরীবুল্লাহ:
- পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
- তিনি হুগলি জেলার বালিয়া পরগনার অন্তর্গত হাফিজপুর গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

মিশ্র ভাষারীতিতে ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ জোলেখা,
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- জঙ্গনামা,
- সোনাভান ও
- সত্যপীরের পুঁথি।

অন্যান্য অপশন আলোচনা:
'চন্দ্রাবতী' কাব্যের একমাত্র রচয়িতা কোরেশী মাগন ঠাকুর।
• শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম: গোরক্ষবিজয়, জয়নবের চৌতিশা। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৬.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  2. রূপসী বাংলা 
  3. ঝরাপালক
  4. সাতটি তারার তিমির
ব্যাখ্যা

"ঝরা পালক" কাব্যগ্রন্থ:
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে। 
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ- ঝরা পালক। কাব্যটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা। 

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৭৮৭.
কাকে মধ্যযুগের ‘শেষ বড় কবি’ বলা হয়?
  1. জ্ঞানদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- ভারতচন্দ্রের জীবনকাল ১৭১২ থেকে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ।
- তিনি আঠার শতকের মঙ্গলকাব্য ধারার শ্রেষ্ঠ কবি।
- মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' ছিলেন ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। তাকে নাগরিক কবিও বলা হয়।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি ‘অন্নদামঙ্গল' ১৭৫২-৫৩ সালে রচনা করেন। এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- .‘অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- ভারতচন্দ্র রচিত আর একটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘সত্যনারায়ণের পাঁচালী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৭৮৮.
'কাল নিরবধি' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. আনিসুজ্জামান
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আব্দুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• 'কাল নিরবধি' গ্রন্থটি লিখেছেন: 'ড. আনিসুজ্জামান'।
- 'কাল নিরবধি'- তাঁর এক ধরনের স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ।

• আনিসুজ্জামান:

- আনিসুজ্জামান এর প্রকৃত নাম এ.টি.এম. আনিসুজ্জামান।
- তিনি ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস প্রফেসর ছিলেন (বাংলা বিভাগ)।
- ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'ইংরেজি আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারা' শিরোনামে ডক্টরেট লাভ করেন।
- এই গবেষণাপত্রকে তিনি ‘মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪) নামে গ্রন্থরূপ দেন।
- তিনি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে সম্মানিক ডি.লিট. পদক লাভ করেন।
- এছাড়াও ভারত সরকারের পদ্মভূষণ লাভ করে ২০১৪ সালে।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের নাম:
-স্বরূপের সন্ধানে,
- আঠারো শতকের বাংলা চিঠি,
- বাঙালি নারী: সাহিত্য ও সমাজে,
- কাল নিরবধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭৮৯.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. রামরাম বসু
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পন্ডিত, ভাষাবিদ, লেখক।
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে তিনি ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রন্থের রচয়িতা

তার রচিত গ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
- প্রবোধচন্দ্রিকা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯০.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. আনন্দমঠ
  3. রাজসিংহ
  4. যুগলাঙ্গুরীয়
ব্যাখ্যা
• ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।
- 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা।
- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত।
- মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব।
- সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। - নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। - এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।
- এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

----------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯১.
শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. দলিল
  2. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  3. দক্ষিণায়নের দিন
  4. পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা
• 'পিঙ্গল আকাশ' উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ কথা সাহিত্যিক শওকত আলী লিখিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯৬৩ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল।
- পিঙ্গল আকাশ গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে ১৯৬১ সালে মাসিক পূবালী'র ঈদ সংখ্যায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পরে কলকাতার হরফ প্রকাশনী থেকেও ১৯৬৬ সালে উপন্যাসটির একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন স্ত্রী শওকত আরা বেগমকে।
- উপন্যাসের নায়ক মঞ্জু। মঞ্জুর নিজস্ব বয়ানে কাহিনী বেড়ে উঠেছে। তার জীবন সংগ্রামই এই কাহিনীর মূল বিষয়বস্তু। এক দ্বান্দ্বিক কাহিনি রয়েছে উপন্যাসটিতে।

-----------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ।
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫),
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬),
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উওরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল (২০০১),
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯২.
‘জীবিত ও মৃত’ গল্পে প্রধান চরিত্রের নাম কী?
  1. সুভাষিনী
  2. সরলা
  3. কাদম্বিনী
  4. লাবণ্য
ব্যাখ্যা
'জীবিত ও মৃত' ছোটগল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,৭৯৩.
'অনুবর্তন' কোন প্রকার রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

'অনুবর্তন' উপন্যাস:
- প্রকৃতি ও মানব জীবন সত্তার ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত 'অনুবর্তন' উপন্যাসে ব্যক্তি অভিজ্ঞতার রূপায়ন ঘটেছে।
- গ্রামীণ মানুষের দলাদলি ও স্বার্থপ্রিয়তা উপন্যাসের মূল উপজীব্য বিষয়।
- এ উপন্যাসের অন্যতম চরিত্র হচ্ছে- যদু মুখুজ্জে।
- যদু মুখুজ্জে নিজে ভালো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য স্ত্রীর প্রতি অবিচার করে, ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ অর্থ আত্মসাৎ করে, আবার নিজের পাপের জন্য ভগবানের কাছে ক্ষমাও চান। শেষে তার ট্র্যাজিক মৃত্যু ঘটে। বিভূতিভূষণের শ্রেষ্ঠ চরিত্র এই যদু মুখুজ্জে।

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- বিপিনের সংসার, 
- চাঁদের পাহাড়, 
- দম্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৭৯৪.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি? 
  1. অরণি
  2. পরিচয়
  3. নবশক্তি
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- ১৯৪০ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকার প্রগতি লেখক সংঘের মুখপাত্র।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'অরণি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার।
- এটি কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হত।

অন্যদিকে,
- 'অরণি' সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার সম্পাদিত কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- 'পরিচয়' পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯৫.
'আলমনগরের উপকথা' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. শওকত আলী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
'আলমনগরের উপকথা' উপন্যাস:
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'আলম নগরের উপকথা' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৯৫৪ সালে।
- এখানে সামন্তবাদ ও ধনতন্ত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং উভয়ের দ্বন্দ্বের ফলে গণচেতনার বিকাশ চমৎকারভাবে ভাষারূপ পেয়েছে।

--------------
শামসুদ্দীন আবুল কালামের  রচনাসমূহ হলো:
• গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু।

• উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৬.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) ব্রাহ্মন সেবধি
  2. খ) তুহফাৎউল মুয়াহ্‌হিদ্দীন
  3. গ) সম্বাদ কৌমুদী
  4. ঘ) মিরাৎ-উল-আখবার
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা
- ব্রাহ্মন সেবধি (১৮২১) 
- সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) 
- মিরাৎ-উল-আখবার (১৮২২)  

আরবি ও পারসি ভাষায় লিখিত তাঁর প্রথম রচনা তুহফাৎউল মুয়াহ্‌হিদ্দীন। 
- প্রকাশিত হয় ১৮০৩ সালে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭৯৭.
'ওরে বিহঙ্গ' নাটকটি কার রচনা?
  1. ক) মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. খ) মামুনুর রশীদ
  3. গ) জোবায়দা খানম
  4. ঘ) ইব্রাহীম খলিল
ব্যাখ্যা
'ওরে বিহঙ্গ' জোবেদা খানম রচিত একটি নাটক।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।

• জোবেদা খানম, (১৯২০-১৯৮৯) একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯২০ সালের ৫ মার্চ কুষ্টিয়া জেলার আজহারবাগ নামক স্থানে তাঁর জন্ম। বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তিনি স্বামীর কর্মস্থল কলকাতায় যান।

• জোবেদা খানম কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষয়িত্রী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন এবং দেশবিভাগের (১৯৪৭) পর ঢাকায় এসে কামরুন্নেসা স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা নিযুক্ত হন। একজন লেখিকা হিসেবে জোবেদা খানমের বিশেষ খ্যাতি ছিল।  উপন্যাস, গল্প, নাটক, শিশুসাহিত্য বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি গ্রন্থ রচনা করেছেন।

 তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
উপন্যাস:
- অভিশপ্ত প্রেম,
- দুটি আঁখি দুটি তারা,
- আকাশের রং,
- বনমর্মর,
- অনন্ত পিপাসা;

 গল্পগ্রন্থ: 
- একটি সুরের মৃত্যু,
- জীবন একটি দুর্ঘটনা;

নাটক:
- ঝড়ের  স্বাক্ষর,
- ওরে বিহঙ্গ

শিশুসাহিত্য:
- গল্প বলি শোন,
- মহাসমুদ্র,
- সাবাস সুলতানা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৯৮.
নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নি:স্ব।
পঙ্ক্তিটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
- আলোচ্য পঙক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত- 
কবিতাটি নিম্নরূপ- 

খেয়া পারের তরণী
- কাজী নজরুল ইসলাম।

"যাত্রীরা রাত্তিরে হতে এল খেয়া পার,
বজ্রেরি তূর্যে এ গর্জেছে কে আবার?
প্রলয়েরি আহ্বান ধ্বনিল কে বিষাণে!
ঝন্‌ঝা ও ঘন দেয়া স্বনিল রে ঈশানে!

নাচে পাপ-সিন্ধুতে তুঙ্গ তরঙ্গ!
মৃত্যুর মহানিশা রুদ্র উলঙ্গ!
নিঃশেষে নিশাচর গ্রাসে মহাবিশ্বে,
ত্রাসে কাঁপে তরণীর পাপী যত নিঃস্বে।"

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ।
১,৭৯৯.
‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ - গানটির রচয়িতা কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. গোবিন্দ হালদার
  3. আবদুল লতিফ
  4. নজরুল ইসলাম বাবু
ব্যাখ্যা
সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার ।
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৮০০.
চলিত ভাষায় রচিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. জাভা যাত্রীর পত্র
  2. রাশিয়ার চিঠি
  3. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  4. জাপান যাত্রী
ব্যাখ্যা

• 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি। চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।

- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

----------------
তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।