বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১৭ / ২১১ · ১,৬০১১,৭০০ / ২১,১৩২

১,৬০১.
‘কোকিলারা’ নাটকটি রচনা করেন কে?
  1. মমতাজ উদ্দিন আহমদ
  2. আবদুল্লাহ আল মুতী
  3. আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
‘কোকিলারা’ নাটক:
- আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক। গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে ঢাকা গাইড হাউজ মিলনায়তনে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জানুয়ারি প্রথম অভিনীত হয়।
- বাংলাদেশের নারীদের তিনটি রূপ তিন কোকিলা।

আবদুল্লাহ আল মামুন:

- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)। তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।

আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০২.
‘রাজা যায় রাজা আসে’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা - 
  1. শামসুর রাহমান
  2. আবুল হাসান
  3. রফিক আজাদ
  4. আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• ‘রাজা যায় রাজা আসে’ আবুল হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

আবুল হাসান:
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম আবুল হোসেন মিয়া। তাঁর সাহিত্যিক নাম আবুল হাসান।
- ১৯৪৭ সালের ৪ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

তাঁর প্রকাশিত গল্প সংকলন:
- 'আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৩.
'এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ। বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ।। কাহ্ণ বিলসঅ আসব মাতা। '- চর্যাগীতিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) ভুসুকুপা
  2. খ) কাহ্নপা
  3. গ) কুক্কুরী পা
  4. ঘ) ডোম্বী পা
ব্যাখ্যা
চর্যাগীতিটির রচয়িতা- কাহ্নপা

কাহ্নপা রচিত চর্যাগীতির নিদর্শন:
'এবংকার দৃঢ় বাখোড় মোড়িউ।
বিবিহ বিআপক বান্ধণ তোড়িউ।।
কাহ্ণ বিলসঅ আসব মাতা। 
- আধুনিক বাংলায় এর অর্থ: এবংকার দৃঢ় বন্ধনস্তম্ভ মথিত করে, বিবিধ ব্যাপক বন্ধন ভেঙে ফেলে আসবমত্ত কানু বিলাস করে। 

কাহ্ন পাদ:
- চর্যাপদের কবিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ রচয়িতা। 
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক,
- মোট ১৩টি। কিন্তু তার মধ্যে ১২ টি পদ পাওয়া যায়। 
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবিগোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- অন্যান্য পদকর্তার মতো কাহ্নপাও সঙ্গীতজ্ঞ ছিলেন। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৪.
'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'- এ উদ্ধৃতিটির রচয়িতা কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  3. সুফিয়া কামাল 
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

• "ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত" এ উদ্ধৃতির রচয়িতা সুভাষ মুখোপাধ্যায়। 
--------------------- 
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়: 
- ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- সাহিত্য-সংস্কৃতির সাংগঠনিক নেতৃত্বেও তিনি পারদর্শিতার পরিচয় দেন।
- ১৯৫৮ সালে তিনি তাসখন্দে অনুষ্ঠিত আফ্রো-এশীয় লেখক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন। 
- ২০০৩ সালের ৮ জুলাই তিনি মারা যান।
-------------------
কবিতাটি নিম্নরূপ-
ফুল ফুটুক না ফুটুক
সুভাষ মুখোপাধ্যায়

ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত।
শান-বাঁধানো ফুটপাথে
পাথরে পা ডুবিয়ে এক কাঠখোট্টা গাছ
কচি কচি পাতায় পাঁজর ফাটিয়ে
হাসছে।
ফুল ফুটুক না ফুটুক
আজ বসন্ত। (সংক্ষিপ্ত)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬০৫.
চর্যাগীতি রচনার সংখ্যাধিক্যের দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী কে?
  1. কুক্কুরীপা
  2. ভুসুকুপা 
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৬০৬.
‘অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।’- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পে এ উক্তিটি কে করেছেন? 
  1. হৈমন্তী
  2. গৌরীশংকর
  3. অপু
  4. বনমালী
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।”- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘হৈমন্তী’ ছোটগল্পের অন্তর্ভুক্ত। এ উক্তিটি করেছেন - গৌরীশংকর।

তিনি বলেছেন,
তিনি বলিলেন, 'যাহা দিলাম তাহা উজাড় করিয়াই দিলাম। এখন ফিরিয়া তাকাইতে গেলে দুঃখ পাইতে হইবে। অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই।'

 'হৈমন্তী' ছোটগল্প:
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প।
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির।
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- হৈমন্তী (শিশির), গৌরীশংকর, অপু, বনমালী প্রমুখ।

• গল্পের আরও কিছু বিখ্যাত উক্তি-
- এ যে দুর্লভ, এ যে মানবী, ইহার রহস্যের কি অন্ত আছে।
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন।
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম।
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ।
- "অধিকার ছাড়িয়া দিয়া অধিকার রাখিতে যাইবার মতো এমন বিড়ম্বনা আর নাই"।
- 'আমি যাহা বুঝি না তাহা শিখাইতে গেলে কেবল কপটতা শেখানো হইবে।'

রবীন্দ্রনাথের সমাজসমস্যামূলক আরও কিছু ছোটগল্প-
- দেনাপাওনা,
- অপরিচিতা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ ইত্যাদি।

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬০৭.
লোকায়ত ধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. মনসামঙ্গল
  3. গৌরীমঙ্গল
  4. ভবানীমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়। যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

----------------
• মনসামঙ্গল কাব্য:
- সাপের দেবী মনসার মাহাত্ম বর্ণনা করে রচিত কাব্য হলো মনসামঙ্গল কাব্য। এর আদি কবি কানাহরি দত্ত।
- এ ধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি হলো বিজয়গুপ্ত। তবে শ্রেষ্ঠ কবি ধরা হয় নারায়ণ দেবকে।
- কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ হলো মনসামঙ্গলের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গীয় কবি। এছাড়া মনসামঙ্গল ধারার অন্যান্য কবিদের মধ্যে রয়েছে- বিপ্রদাস পিপিলাই যার কাব্যের নাম মনসাবিজয় এবং  দ্বিজবংশী দাস যার মেয়ে চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদক।

মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো:
- সাপের দেবী মনসা,
- চাঁদ সওদাগর,
- বেহুলা,
- লখিন্দর,
- সনকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬০৮.
পরশুরাম কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  4. রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা

• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- রোকনুজ্জামান খান এর ছদ্মনাম - দাদাভাই।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - নীল লোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬০৯.
বিধবাবিবাহ কেন্দ্রিক সমস্যা বিশেষভাবে রূপায়িত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. সীতারাম
  3. আনন্দমঠ
  4. কপালকুণ্ডলা 
ব্যাখ্যা
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত সামাজিক উপন্যাস।
- এটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকার বোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। কারণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আগে আর কোন লেখক এ জাতীয় বিষয় নিয়ে উপন্যাস রচনার চেষ্টা পর্যন্ত করেনি।

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৬১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে তোতা কীসের প্রতীক?
  1. শিক্ষকের
  2. গণকঠাকুরের
  3. শিশুর
  4. গবেষকের
ব্যাখ্যা

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তোতা কাহিনী' গল্পে ‘তোতা’ ‘শিশুর’ প্রতীক। 
- গল্পর মধ্যে শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'শিশুর’ অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।

গল্পের মূলভাব:
- একবার 'মূর্খ' তোতা পাখির শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেন রাজা। রাজার ভাগিনাদের ওপর দেওয়া হলো সেই শিক্ষার ভার। ডাকা হলো রাজপণ্ডিতদের। নানা আলোচনা শেষে তারা সিদ্ধান্ত জানালেন, সামান্য খড়কুটো দিয়ে পাখিটি যে-বাসা বাঁধে, সে-বাসা অধিক বিদ্যাধারণের উপযুক্ত নয়। তাই রাজপণ্ডিতদের পরামর্শ অনুযায়ী পাখির জন্য নির্মিত হলো সোনার খাঁচা। অপূর্ব সে খাঁচা দেখার জন্য দেশ-বিদেশের লোক ঝুঁকে পড়ল। এরপর পণ্ডিত মশাই এলেন পাখিকে বিদ্যা শেখাতে। পুথি-লেখকরা পুথির নকল করে করে বিশাল স্তূপ তৈরি করল। বিদ্যাশিক্ষার পাশাপাশি চলল খাঁচাটার মেরামত ও মেরামতের তদারকি। পাখির শিক্ষা-কার্যক্রম স্বচক্ষে দেখতে চাইলেন রাজা। পাত্র-মিত্র-অমাত্য নিয়ে রাজা শিক্ষাশালায় উপস্থিত হলেন। অমনি বেজে উঠল নানা বাদ্যযন্ত্র। রাজার শিক্ষাশালায় আসার মূল উদ্দেশ্যই ঢাকা পড়ে গেল রাজাকে স্বাগত জানাবার এমন হুলুস্থুল আয়োজনে। এদিকে, শিক্ষার চাপে পাখিটি ধীরে ধীরে আধমরা হয়ে এল। একদিন দেখা গেল, সে তার রোগা ঠোঁট দিয়ে খাঁচার শিক কাটবার চেষ্টা করছে। পাখির এ 'বেয়াদবি' দেখে ক্ষিপ্ত কোতোয়াল ডেকে আনল কামারকে। এবার পাখির জন্য তৈরি হলো শিকল, কাটা পড়ল ডানা। পণ্ডিতেরাও এক হাতে কলম, এক হাতে সড়কি নিয়ে শিক্ষা দিতে উদ্যত হলো। অবশেষে পাখিটা মারা গেল। শিক্ষার স্বাভাবিক পথকে রুদ্ধ করে বাড়াবাড়ি রকমের আয়োজন ও জবরদস্তিটাই তোতা-কাহিনিতে করুণরূপে ফুটে উঠেছে। এ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অপশিক্ষার প্রতিফলকে পাখির মৃত্যুর রূপকে তুলে ধরেছেন।


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বর যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ, 
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- কঙ্কাল,
- মাল্যদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'তোতা কাহিনী' গল্প।

১,৬১১.
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক?
  1. ঝিলিমিলি
  2. আলেয়া
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. মধুমালা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক ঝিলিমিলি।

---------------------
• 'ঝিলিমিলি' নাটক সম্পর্কিত কিছু তথ্য:

- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাটকের সংকলন 'ঝিলিমিলি'।
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।

• এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
যথা:
- ঝিলিমিলি,
- সেতুবন্ধ,
- শিল্পী।

উল্লেখ্য, 
- 'অগ্নি-বীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত প্রবন্ধের নাম-   তুর্ক মহিলার ঘোমটা খোলা।
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কবিতার নাম 'মুক্তি'।
- 'মুক্তি' কবিতাটি বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬১২.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস গ্রন্থ কোনটি?
  1. প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান
  2. সরল বাঙ্গালা সাহিত্য
  3. বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় 
  4. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভাষা ও সাহিত্য:
- 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' (১৮৯৬) দীনেশচন্দ্র সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের সুশৃঙ্খল ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারাবাহিক প্রথম ইতিহাসমূলক গ্রন্থ।
- বঙ্গভাষা ও বঙ্গলিপির উৎপত্তি, সংস্কৃত-প্রাকৃত ও বাংলার সম্পর্ক, প্রাচীন বাংলা সাহিত্য, মধ্যযুগের ধর্মগোষ্ঠী ও তাদের সাথে সাহিত্যের যোগ ইত্যাদি বিষয়ের মনোজ্ঞ বিবিরণ লিপিবদ্ধ আছে এই গ্রন্থে।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাসগ্রন্থ যেখানে সাহিত্য ও সমাজের গূঢ় সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়া হয়।

------------------------
 দীনেশচন্দ্র সেন রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'বঙ্গভাষা ও সাহিত্য' গ্রন্থ।

১,৬১৩.
“বঙ্গদর্শন” নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকাটি সম্পাদনার মাধ্যমে সাহিত্যের ইতিহাসে নবযুগের সুচনা করেন-
  1. ক) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গ) আহমদ ছফা
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশ যুগ এ পর্বের শ্রেষ্ঠ লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪)। তিনি বাংলা গদ্যকে সর্বপ্রকার ভাব প্রকাশের উপযোগী করে তোলেন।
• বঙ্কিমচন্দ্র বাংলা সাহিত্য ও বাঙালি জীবনে অসামান্য প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি তাঁর অসাধারণ প্রতিভাগুণে পন্ডিতি ও আলালি-হুতোমি রীতির মধ্যে সামঞ্জস্য স্থাপন করে সরল ও সরস গদ্যের সৃষ্টি করেন।
“বঙ্গদর্শন”  (১৮৭২) নামক সাহিত্য-বিষয়ক মাসিক পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে তিনি সাহিত্যের ইতিহাসে এক নবযুগের সূচনা করেন। সাহিত্য-সমালোচনা, ঐতিহাসিক গবেষণা, ধর্ম ও দার্শনিক আলোচনা, রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক সাহিত্য, ব্যঙ্গ-সাহিত্য এর সবই তিনি প্রবর্তন করেন।
• বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভাবলে যে সাহিত্যিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে, তাঁরাই দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবৎ বাংলা সাহিত্যে আধিপত্য করেন। বাংলায় তুলনামূলক সাহিত্যসমালোচনারও তিনিই পথিকৃৎ।
• তবে তাঁর প্রধান পরিচয় ঔপন্যাসিক হিসেবে এবং এজন্য তিনি ‘সাহিত্যসম্রাট’ উপাধিতে ভূষিত হন। তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দুর্গেশনন্দিনী, কপালকুন্ডলা, কৃষ্ণকান্তের উইল, বিষবৃক্ষ, আনন্দমঠ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৪.
'পূর্ববঙ্গ-গীতিকা'র প্রধান সংগ্রাহকদের মধ্যে কে ছিলেন না?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. আশুতোষ চৌধুরী
  4. নগেন্দ্রচন্দ্র দে
ব্যাখ্যা
পূর্ববঙ্গ-গীতিকা: 
- পূর্ববাংলার লোকসাহিত্যের একটি সংকলন। মুখে মুখে রচিত ও লোকসমাজে প্রচলিত এর পালাগুলি বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফরিদপুর, সিলেট (শ্রীহট্ট), ত্রিপুরা প্রভৃতি অঞ্চল থেকে পালাগুলি সংগৃহীত হয়েছে।
- এগুলির প্রধান প্রধান সংগ্রাহক হলেন - চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, আশুতোষ চৌধুরী, জসীমউদ্দীন, নগেন্দ্রচন্দ্র দে, রজনীকান্ত ভদ্র, বিহারীলাল রায়, বিজয়নারায়ণ আচার্য প্রমুখ।
- সংগৃহীত পালাগুলির সংখ্যা পঞ্চাশের অধিক। ১৯১৩ সাল থেকে চন্দ্রকুমার দে প্রথম এ ধরনের লোকগাথা প্রকাশ করতে থাকেন।  
- দীনেশচন্দ্র সেন সেগুলি পড়ে আকৃষ্ট হন এবং চন্দ্রকুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৬১৫.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য কোনটি?
  1. হ-য-ব-র-ল
  2. ছড়ার আসর
  3. পাখির বাসা
  4. বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
ব্যাখ্যা

• সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য-  হ-য-ব-র-ল।

অন্যদিকে,
'ছড়ার আসর'  ও 'পাখির বাসা'  শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর শিশুতোষ গ্রন্থটির রচয়িতা - আহসান হাবীব।

• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬১৬.
'কাকাবাবু' চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. ক) সমরেশ বসু
  2. খ) সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গ) রাজশেখর বসু
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপন্যাসে 'কাকাবাবু' নামে একটি অনন্য চরিত্র সৃষ্টি করেছেন। 
- এই চরিত্র অবলম্বনে অনেকগুলো উপন্যাস রচিত হয়েছে। 
- বাংলা সাহিত্যে 'কাকাবাবু' একটি উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। 
- শিশু কিশোরদের কাছে 'কাকাবাবু' সিরিজের উপন্যাসগুলো বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। 
- এই সিরিজের কোন কোন উপন্যাস চলচ্চিত্রে রূপান্তরিত হয়েছে। 
- 'কাকাবাবু' সিরিজের উপনাস: 'সবুজ দ্বীপের রাজা', 'কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য', 'কাকাবাবু ও বজ্রগামা', 'সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়', 'বিজয় নগরেরহীরে', 'জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল'  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,৬১৭.
বুদ্ধদেব বসু কোন দশকের কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. চল্লিশের দশক
  2. তিরিশের দশক
  3. বিশের দশক
  4. ষাটের দশক
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬১৮.
বাংলা সাহিত্যে কোন সময়কে চৈতন্য যুগ বলে?
  1. ক) ১২০০-১৩৫০
  2. খ) ১৪৫০-১৫০০
  3. গ) ১৫০০-১৭০০
  4. ঘ) ১৭০০-১৮০০
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যে (১৫০০ থেকে ১৭০০) পর্যন্ত সময়কে চৈতন্য যুগ বলে।
- শ্রীচৈতন্যদেব ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য সংক্ষেপে ‘চৈতন্য’ নামে পরিচিত।
- শ্রীচৈতন্যদেব তাঁর জীবিতকালেই ভক্তদের ভগমানের অবতার বলে গৃহীত হয়েছিল।
- চৈতন্যদেব প্রথম জীবনী সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- চৈতন্যের প্রথম জীবনী লেখক হিসেবে মুরারি গুপ্ত কৃতিত্বের অধিকারী।
- প্রবোধানন্দ সরস্বতী ‘শ্রীচৈতন্যচন্দ্রামৃত’ নামক কাব্য রচনা করেছিলেন।
- চৈতন্যদেবের জীবনী গ্রন্থকে ‘কচড়া’ নামে অভিহিত করা হয়েছে, যার অর্থ ব্যাপক।
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ (১২০১-১৫০০) তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।
- এ ছাড়া (১২০১-১৩৫০) সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।
 
উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬১৯.
"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" - উক্তিটি কে লিখছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কাজী কাদের নেওয়াজ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• "মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই" - পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত  'কড়ি ও কোমল' কাব্যগ্রন্থের 'প্রাণ' কবিতার অন্তর্গত।

প্রাণ - কবিতা,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

"মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।
এই সূর্য্য করে এই পুষ্পিত কাননে
জীবন্ত হৃদয় মাঝে যদি স্থান পাই!"

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা সাহিত্য (২০২০ সংস্করণ); প্রাণ - কবিতা; বাংলাপিডিয়া।
১,৬২০.
'আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি'-উক্তিটি কে করেছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. বদরুদ্দীন ওমর
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ।
- অমিয় শতক।
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী।
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- ইকবাল
- আমাদের সমস্যা।
- বাংলা আদব কি তারিখ।
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- আঙুর।
- দি পীস।
- বঙ্গভূমিক।
- তকবীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬২১.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. খ) গাভী বিত্তান্ত
  3. গ) সূর্য দীঘল বাড়ি
  4. ঘ) লালসালু
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাকের উপন্যাসঃ
- সূর্য দীঘল বাড়ি,
- পদ্মার পলিদ্বীপ ও
- জাল।
• সূর্য দীঘল বাড়ি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র 'জয়গুন'।

• লালসালু উপন্যাসের চরিত্র - মজিদ, জমিলা ইত্যাদি।
• গাভী বিত্তান্ত আহমদ ছফার উপন্যাস।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৬২২.
আবু ইসহাক রচিত 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. হাসেম
  2. খোদেজা
  3. জয়গুন
  4. সাবিত্রী
ব্যাখ্যা
• সূর্য-দীঘল বাড়ী: 
- 'সূর্য-দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৫ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থটি।  

- উপন্যাসের চরিত্র:
→ জয়গুন,
→ হাসু, 
→ মায়মুন,
→ শাফি,
→ ডা. রামেশ,
→ মোড়ল গদু প্রমুখ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা সর্বশেষ গল্প কোনটি?
  1. পোস্টমাস্টার
  2. শেষকথা
  3. মুসলমানীর গল্প
  4. অনধিকার প্রবেশ
ব্যাখ্যা

• "মুসলমানীর গল্প":
- "মুসলমানীর গল্প" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষ গল্প। মৃত্যুর ছয় সপ্তাহ আগে ২৪-২৫ জুন ১৯৪১, বাংলা আষাঢ় ১৩৬২-তে গল্পটি রচিত। 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মুসলমানীর গল্প' একটি মানবতাবাদী ছোটগল্প যা সমাজের ধর্মীয় বিভেদ ও জাতপাতের কঠোর সমালোচনা করে। ১৯৪১ সালে লেখা এই গল্পটি মূলত একজন হিন্দু মেয়ে এবং এক মুসলমান বৃদ্ধের মধ্যে মানবিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে রচিত, যেখানে সমাজে প্রচলিত সংকীর্ণতা ও সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ রয়েছে। এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনের শেষদিকের রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
 
- এই গল্পের প্রধান চরিত্র হবির খাঁ, আর গল্পের ভরকেন্দ্রে রয়েছে বর্ণ হিন্দুদের জাতপাতের সমালোচনার সঙ্গে মুসলমানদের উদারতার কথা। হবির খাঁকে এলাকার মানুষ 'পয়গম্বরের মতোই ভক্তি করত'।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু বিখ্যাত গল্প হলো-
• অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

• আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

• সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প:
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'মুসলমানীর গল্প'।

১,৬২৪.
বঙ্গবন্ধুর লেখা প্রকাশিত দ্বিতীয় বইয়ের নাম কী?
  1. ক) আমার কিছু কথা
  2. খ) রক্তাক্ত বাংলা
  3. গ) কারাগারের রােজনামচা
  4. ঘ) অসমাপ্ত আত্মজীবনী
ব্যাখ্যা
কারাগারের রোজনামচা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় গ্রন্থ। তার রচিত প্রথম গ্রন্থ - অসমাপ্ত আত্মজীবনী। বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়া চীন’।
- এটি ২০১৭ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৯৮ তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে।
- এতে ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জেল জীবন ও রাজনৈতিক ইতিহাস স্থান পেয়েছে। এটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩৩২।
- এটির ভূমিকা লিখেন শেখ হাসিনা এবং নামকরণ করেন শেখ রেহানা।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, কারাগারের রোজনামচা, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং দৈনিক প্রথম আলো
১,৬২৫.
'বোবা কাহিনী' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. দুর্ভিক্ষ ও দেশভাগের ভয়াবহতা
  2. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্রণ
  3. গ্রামীণ জীবনের মাধুর্য ও কারুণ্য
  4. ফরিদপুর অঞ্চলের জীবনচিত্র
ব্যাখ্যা
• 'বোবা কাহিনী' উপন্যাস:
- 'বোবা কাহিনী' পল্লীকবি জসীম উদ্‌দীনের প্রথম উপন্যাস। ১৯৬৪ খৃষ্টাব্দে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবনভিত্তিক। বাংলাদেশের ফরিদপুর অঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকার জীবনচিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এ উপন্যাসের নায়ক আজাহ এক ছিন্নমূল কৃষক সন্তান। মহাজনের শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজাহারের ভুমিহীন হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

- বাল্যকাল থেকেইে লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা তার নিত্যসঙ্গী। তবুও সে স্বপ্ন দেখে সুখী জীবনের। তাই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ করে যায় বেশি ফসল ফলিয়ে সুখের নাগাল পেতে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব হয়না। নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতে গিয়ে সে স্বপ্ন দেখে তার পুত্র বছিরকে উপযুক্ত শিক্ষা-দীক্ষায় মানুষ করার। নানা বিপত্তি সত্ত্বেও অনেক ত্যাগ ও স্বশ্রেণীর সাহায্য ও সহায়তায় তার স্বপ্নপূরণের পথ খুলে যায়।

- বছিরের স্বপ্ন তার নিজের পরিবারের এবং নিরক্ষর গ্রামের মানুষের দুর্গতি-মুক্তির। দরিদ্র গ্রাম্যচাষী আজাহের ও তার পুত্র বছির, এই দুই প্রজন্মের জীবন সংগ্রামের সফলতা ও বিফলতার কাহিনি নিয়ে এই উপন্যাস।

উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র:
- বছির,
- আরজান,
- আজাহের,
- রহিমুদ্দিন।

উৎস: "বোবা কাহিনী" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৬.
‘বনফুল’ কার ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল।

অন্যদিকে, 
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
- প্যারীচাঁদ মিত্র' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬২৭.
কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. রক্তাম্বর-ধারিণী মা
  2. ধূমকেতু
  3. রণভেরী
  4. কুলি-মজুর
ব্যাখ্যা
- কুলি-মজুর কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের অন্তর্গত কবিতা নয়। 
- এটি সাম্যবাদী কাব্যের অন্তর্গত কবিতা। 

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 

- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 
- 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা
- আগমণী, 
- ধূমকেতু
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ার, 
- রণভেরী
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম। 
 --------------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছেলেবেলায় তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
- পরে বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে লেখাপড়া করেন।
- ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান। 
- তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি' বলা হয়।
- মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে কবি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন।
- বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং পরে তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
- তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় ভূষিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• কাজী নজরুল ইসলাম এর উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

- ২৯শে আগস্ট ১৯৭৬ সালে কবি ঢাকার পি.জি. হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদ-সংলগ্ন প্রাঙ্গণে তাঁকে পরিপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৬২৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বোশেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) শেষ লেখা
  3. গ) সোনার তরী
  4. ঘ) বলাকা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থের নাম 'শেষলেখা'
• 'শেষলেখা' (১৯৪১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যুর পর প্রকাশিত শেষ কাব্যগ্রন্থ।
• এই গ্রন্থের নামকরণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর করে যেতে পারেননি।
• এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় জীবনের শেষ কয়েক দিনের রচনা ।
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ভাববাদী দর্শনের মধ্যেও চরমভাবে ইহজগৎ প্রীতি প্রকাশিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ মোট ৫৬টি।

তিনি লিখেছেন:

"রূপ-নারানের কূলে, জেগে উঠিলাম;
জানিলাম এ জগৎ
স্বপ্ন নয়।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬২৯.
"নিমচাঁদ, কেনারাম" চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৩০.
নিচের কোন গ্রন্থ ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) অগ্নিবীণা
  2. খ) নীলদর্পন
  3. গ) মেঘনাবধ কাব্য
  4. ঘ) দুর্গেশনন্দিনী
ব্যাখ্যা
১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১,৬৩১.
ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. খ) শ্রীকর নন্দী
  3. গ) কৃত্তিবাস ওঝা
  4. ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩২.
কে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন?
  1. ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  3. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
ব্যাখ্যা

 চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১,৬৩৩.
'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুন হব।'- কোন উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. খোয়াবনামা
  3. অলীক মানুষ
  4. আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো' - এই উপন্যাসের সংলাপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৩৪.
”দিগ্দর্শন” সাময়িক পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশ পায়?
  1. ১৮৬১ সালে
  2. ১৮১৮ সালে
  3. ১৮২২ সালে
  4. ১৮৩২ সালে
ব্যাখ্যা
• দিগ্দর্শন:
 - দিগ্দর্শন বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- এটি শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন কর্তৃক প্রকাশিত।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক সম্পাদিত এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- নামপত্রে সুস্পষ্টরূপে সাময়িক পত্রিকাটির প্রকৃতি সম্পর্কে বলা হয়েছে: ‘যুবলোকের কারণ সংগৃহীত নানা উপদেশ’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৩৫.
'তোতা ইতিহাস' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) চণ্ডীচরণ মুনশী
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা

- চণ্ডীচরণ মুনশী অষ্টাদশ শতাব্দীতে আবির্ভূত ব্রিটিশ ভারতের একজন বাঙ্গালী লেখক এবং ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাঙালা ভাষার অন্যতম অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তাঁর রচিত গ্রন্থ 'তোতা ইতিহাস' একটি উপাখ্যান যা বাঙালা গদ্য সাহিত্যের অন্যতম আদি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৩৬.
'সেক শুভোদয়া' গ্রন্থকে 'dog sanskrit' বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. সুকুমার সেনে
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ 
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. মণীন্দ্রমোহন বসু
ব্যাখ্যা

• সেক শুভোদয়া:
- 'সেক শুভোদয়া' অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন। 'সেক শুভোদয়া' হলায়ুধ মিশ্র রচিত গদ্য-পদ্য মিশ্রিত একটি 'চম্পুকাব্য'
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 'সেক শুভোদয়া' কে dog sanskrit বলেছেন।
ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, 'সেক শুভদয়া' খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন। গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগ্‌ধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন 'কায়স্থ' পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,৬৩৭.
বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বাংলা ভাষার কথা
  2. খ) ব্যাকরণ মঞ্জুষা
  3. গ) গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  4. ঘ) বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় ১৮৩৩ সালে বাংলা প্রথম ব্যাকরণ (গৌড়ীয় ব্যাকরণ) গ্রন্থ রচনা করেন ।
এটি কোন বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ ।

• রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।

• তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ
- বেদান্তসার
- পথ্য প্রদান
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)
১,৬৩৮.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয়? 
  1. ভানুসিংহ ঠাকুর
  2. নবীনকিশোর শর্মণঃ
  3. টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. শ্রীমতি কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। 
​এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

----------------------
অন্যদিকে,
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৩৯.
আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনটি?
  1. ক) মোহনলাল
  2. খ) মদনলাল
  3. গ) মতিলাল
  4. ঘ) ঠকচাচা
ব্যাখ্যা
'ঠকচাচা' চরিত্রটি প্যারীচাঁদ মিত্রের বাংলা ভাষার প্রথম উপন্যাস ‘আলালের ঘরের দুলাল’ এর মজার একটি চরিত্র। এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মতিলাল। উৎসঃ লাল নীল দীপাবলি - হুমায়ুন আজাদ
১,৬৪০.
বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. বন্দীর বন্দনা 
  2. পঞ্চশর 
  3. উত্তর ফাল্গুনী
  4. প্রথমা 
ব্যাখ্যা

- বন্দীর বন্দনা বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ ।

 অন্যদিকে, 
- 'প্রথমা' কাব্যগ্রন্থ প্রেমেন্দ্র মিত্র রচিত এবং 'পঞ্চশর' তার রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- 'উত্তর ফাল্গুনী' সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্য। 

• বুদ্ধদেব বসু:

-  তিনি ছিলেন কবি, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক ও সম্পাদক।
- তিনি ৩০ নবেম্বর ১৯০৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে। 
- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম। 
- কবিতা বিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
 
» তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- যে আঁধার আলোর অধি,
- একদিন চিরদি,
- স্বাগত বিদা ইত্যাদি। 
 
তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪১.
'একেই কি বলে সভ্যতা'- এটি মধুসূদন দত্তের কি জাতীয় রচনা?
  1. প্রহসন
  2. মহাকাব্য
  3. উপন্যাস
  4. কাব্য
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত: 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তএকজন মহাকবি, নাট্যকার। 
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। 
- 'একেই কি বলে সভ্যতা' ১৮৬০ সালে প্রকাশিত মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'প্রহসন'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪২.
'ময়ূরকণ্ঠী' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি-
  1. ভ্রমণকাহিনী
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. রম্যরচনা
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী একজন বাঙালি সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
• তিনি ভ্রমণ কাহিনীর জন্য বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
• তাঁর বিখ্যাত রম্যরচনাঃ
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী,
- বড়বাবু,
- কত না অশ্রুজল।
• তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- চাচা কাহিনী,
- টুনি মেম।
• তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনীঃ
- দেশে বিদেশে (কাবুল শহরের কাহিনী নিয়ে লেখা। আফগানিস্তানের কাবুলে অধ্যাপনা কালে সেখানকার বিচিত্র অভিজ্ঞতার আলোকে এই গ্রন্থ রচনা জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।)
- জলে ডাঙ্গায়।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪৩.
'নিখিলেশ' ও 'বিমলা' কোন উপন্যাসের উল্লেখ্যযোগ্য চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখেরবালি
  3. যোগাযোগ
  4. ঘরে-বাইরে
ব্যাখ্যা
• ঘরে-বাইরে উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস।
- ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।
- চরিত্র: বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।
- তবে স্টিভেনসনের উপস্থাপনা ব্যঙ্গাত্মক, সমাপ্তি মিলনাত্মক কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কাহিনী সকরুণ, সিরিয়াস।

অন্যদিকে,
- মধুদূদন, কুমোদিনী -যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র।
- মহেন্দ্র, বিনোদিনী - চোখেরবালি উপন্যাসের চরিত্র।
- অমিত, লাবণ্য - শেষের কবিতা উপন্যাসের চরিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৪৪.
"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।"
- পঙক্তিগুলো কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. বলাকা
  2. মানসী
  3. পত্রপুট
  4. ক্ষণিকা
ব্যাখ্যা
"নীল নবঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহি রে।
ওগো , আজ তোরা যাস নে ঘরের বাহিরে।"
- পঙক্তিগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ক্ষণিকা' কাব্যগ্রন্থের 'আষাঢ়' কবিতার অন্তর্গত।

• ক্ষণিকা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ক্ষণিকা'।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথের ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬৪৫.
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও কোন কলেজের শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন?
  1. আলীগড় কলেজ
  2. হিন্দু কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
ব্যাখ্যা

• হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ছিলেন একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।

- তরুণ হেনরী লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৬ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে কলকাতা হিন্দু কলেজের শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও ১৮২৮ সালে 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন' নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুণ ছাত্রগোষ্ঠী। ছাত্রদেরকে জ্ঞানানুরাগী হতে এবং যে কোন অন্ধবিশ্বাস পরিত্যাগ করতে দীক্ষা দিয়েছিলেন ডিরোজিও। এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত ছিল ইতিহাস আর দর্শন। তাঁর উপদেশ ছিল 'সত্যের জন্য বাঁচা, সত্যের জন্য মরা'।

- ইউরেশীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণ সাধনের কাজেও ডিরোজিও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন এবং ‘দি ইস্ট ইন্ডিয়ান’ নামে একটি ইংরেজি দৈনিক সংবাদপত্র সম্পাদনা করতে শুরু করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪৬.
বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠেছে কোন উপন্যাসে? 
  1. আঁখিজল 
  2. কুসুমাঞ্জলি
  3. আবদুল্লাহ
  4. লালসালু
ব্যাখ্যা

'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস।

- এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন।

-উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: কুসুমাঞ্জলি।
• কাজী ইমদাদুল হক রচিত কাব্যগ্রন্থ- আঁখিজল।

• 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত একটি জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস। 'লালসালু' উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে। এ উপন্যাসে গ্রামবাংলার এক চতুর ধর্মব্যবসায়ী ধর্মপ্রবণ মুসলিম সমাজে এক কল্পিত মাযারকে পুঁজি করে কীভাবে প্রতিষ্ঠা পায় এবং শেষে তাঁরই কিশোরী স্ত্রী জমিলা কীভাবে তাকে আশঙ্কাগ্রস্ত করে তোলে, তারই আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে। স্বল্প পরিসরে গ্রামীণ পটভূমিকায় লেখক ধর্মান্ধতার স্বরূপ উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৪৭.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. কুহেলিকা
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ 'ঝিলিমিলি'। 
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক।
- ১৩৩৭ বঙ্গাব্দের (১৯৩০) অগ্রহায়ণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 

- এতে মোট তিনটি নাটক রয়েছে।
→ ঝিলিমিলি, 
→ সেতুবন্ধ, 
→  শিল্পী।

• অন্যদিকে: 
• কাজী নজরুল ইসলাম এর তিনটি উপন্যাস-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 

⇒ বিঃদ্রঃ এখানে 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নাট্যগ্রন্থ, অপশনে বাকি তিনটি উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১,৬৪৮.
বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয় কোনটি?
  1. অভিসারিকা
  2. উৎকণ্ঠিতা
  3. খণ্ডিতা
  4. কালান্তরিতা
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা নয়- কালান্তরিতা।

• বৈষ্ণব পদাবলি:

- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

• পদাবলিতে নায়িকার অবস্থা:
- যে নায়িকা অন্তরে স্বতঃসিদ্ধ কৃষ্ণরতি এবং যা রতির মূলে আছে একমাত্র কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি এবং কৃষ্ণপ্রেমে বশীভূত, তাকে বলা হয় সমর্থা নায়িকা। 
- বৃন্দাবনের শ্রীরাধা, ললিতা, বিশাখা, চন্দ্রাবলি - সমর্থা নায়িকা। এঁদের মধ্যে শ্রীরাধা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
- বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮টি অবস্থা।
যথা :
- অভিসারিকা,
- বাসকসজ্জা,
- উৎকণ্ঠিতা,
- বিপ্রলব্ধা,
- খণ্ডিতা,
- কলহান্তরিতা,
- প্রোষিতভর্তৃকা,
- স্বাধীনভর্তৃকা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,৬৪৯.
'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' - গ্রন্থটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. হুগলি
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. লিসবন
ব্যাখ্যা

'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ':
- ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড রচিত 'অ্যা গ্রামার অফ দ্যা বেঙ্গল ল্যাঙ্গুয়েজ' গ্রন্থটি ১৭৭৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি হুগলি থেকে প্রকাশিত হয়। এটি ইংরেজি ভাষায় রচিত পূর্ণাঙ্গ একটি বাংলা ব্যাকরণ।

ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড:
- ১৭৫১ সালের ২৫ মে লন্ডনের এক উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে হ্যালহেডের জন্ম।
- তিনি প্রাচ্যবিদ ও বৈয়াকরণিক ছিলেন।
-  তিনিই প্রথম বৈয়াকরণিক যিনি বাংলা ব্যাকরণ রচনায় উদাহরণ ব্যবহার করে বাংলা পাঠ ও বাংলা লিপি ব্যবহার করেন।
- এর আগে পর্তুগিজ ধর্মযাজকরা রোমান অক্ষরে অতি সাধারণভাবে বাংলা ব্যাকরণ ও অভিধান রচনার চেষ্টা করেন।
- কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হ্যালহেডই প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৬৫০.
'নব কবিশেখর' কোন কবির উপাধি?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৫১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি কোনটি?
  1. পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী
  2. য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র
  3. জাভা যাত্রীর পত্র
  4. জাপান যাত্রী
ব্যাখ্যা
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র':
- 'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়।

গ্রন্থের কাহিনি সংক্ষেপ:
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান। সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন। এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর যুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র,
- য়ুরোপ যাত্রীর ডায়েরী,
- পথের সঞ্চয়,
- জাপান যাত্রী,
- পশ্চিম যাত্রীর ডায়েরী,
- জাভা যাত্রীর পত্র,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্য যাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৫২.
উপজাতীয় জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস -
  1. সংশপ্তক
  2. কর্ণফুলী
  3. বরফ গলা নদী
  4. পদ্মার পলিদ্বীপ
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপজাতীয়দের জীবনকাহিনি নিয়ে রচিত উপন্যাস - ‘কর্ণফুলী’।
--------------------
• 'কর্ণফুলী' উপন্যাস: 
- সাহিত্যিক আলাউদ্দিন আল আজাদের বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- উপন্যাসে চাকমা উপজাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
- আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত।
- উপজাতীয় জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য।
- এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
----------------------
আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক ছিলেন।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ স্নাতক (১৯৫৩) ও স্নাতকোত্তর (১৯৫৪)।
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র উপন্যাসটির বিষয়বস্ত্ত অবলম্বনে বসুন্ধরা নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক সুভাষ দত্ত।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগন্থ: 
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা,
- জীবন জমিন প্রভৃতি।

তাঁর উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- কর্ণফুলী,
- শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ।

নাটক:
- ধন্যবাদ,
- নিঃশব্দ যাত্রা,
- নরকে লাল গোলাপ।

কাব্যগ্রন্থগুলো মধ্যে:
- মানচিত্র,
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ,
- লেলিহান পাণ্ডুলিপি,
- নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, 
- সাজঘর,
- শ্রেষ্ঠ কবিতা।
---------------------
অন্য অপশনে,
• ‘বরফ গলা নদী’ উপন্যাসটির রচয়িতা জহির রায়হান।
- এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু নিম্নবিত্ত পরিবারের বিপর্যয়ের কথাচিত্র।

• শহীদুল্লা কায়সারের এক কালজয়ী উপন্যাস ‘সংশপ্তক' (১৯৬৫)।
- এর বৃহত্তম পটভূমিতে আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, পাকিস্তান আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ঘটনা।

• পদ্মার পলিদ্বীর আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস। 

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৩.
‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থটি কোন কবির লেখা?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. আহসান হাবীব
  3. আল মাহমুদ
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আল মাহমুদ:  
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি।
- প্রকৃত নাম: মির আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ।
- শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সোনালী কাবিন। 

♠♠ তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো: 
• লোক লোকান্তর,
• কালের কলস,
• সোনালী কাবিন,
• দোয়েল ও দয়িতা,
• প্রেমের কবিতা, 
• বখতিয়ারের ঘোড়াৎ,
• পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি। 

♠ উপন্যাস: 
• উপমহাদেশ (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
• ডাহুকী,
• আগুনের মেয়ে,
• কাবিলের বোন।

♠ গল্পগ্রন্থ:
• পানকৌড়ির রক্ত,
• ময়ূরীর মুখ,
• সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৪.
'অ-তে অজগর' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল মান্নান সৈয়দ
  2. খ) কাজী আবদুল ওদুদ
  3. গ) আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. ঘ) ইব্রাহিম খাঁ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, অ-তে অজগর, কলকাতা, ক্ষুধা প্রেম আগুন, কলকাতা, পোড়ামাটির কাজ, হে সংসার হে লতা। তাঁর রচিত ছোটগল্প- সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে, মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী ইত্যাদি। প্রবন্ধ- বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা, দশ দিগন্তের দ্রষ্টা, নির্বাচিত প্রবন্ধ, করতলে মহাদেশ, আমার বিশ্বাস।
১,৬৫৫.
মীর মশাররফ হোসেনের 'জমীদার দর্পণ' কোন ধরণের রচনা ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন রচিত 'জমীদার দর্পণ' তার বিখ্যাত নাটক।

জমীদার দর্পণ:
নাটকটির বক্তব্যে প্রাধান্য পেয়েছে- জমিদার হায়ওয়ান আলী কর্তৃক আবু মোল্লার গর্ভবতী স্ত্রীকে শোষণ-নিপীড়ন ও যৌন শোষণ।

মীর মশাররফ হোসেন:
মীর মশাররফ হোসেন ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় জন্ম গ্রহণ করেন।

নাটক:
- বসন্তকুমারী।
- বেহুলা গীতাভিনয়।
- টালা অভিনয়। 
- নিয়তি কি অবনতি। 

প্রহসন:
- এর উপায় কি। 

আত্মজীবনী:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 
- আমার জীবনী। 
- কুলসুম জীবনী। 

প্রবন্ধ:
-গো-জীবন। 

কাব্যগ্রন্থ:
- গোরাই ব্রিজ। 
- প্রেম পারিজাত। 
- মোসলেম বীরত্ব। 
- মদিনার গৌরব। 
- পঞ্চনারী ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৬.
'ইয়ং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. জোশুয়া মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও:
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৫৭.
বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনা কোনটি?
  1. ব্রজবিলাস
  2. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  3. আবার অতি অল্প হইল
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা

প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত 'প্রভাবতী সম্ভাষণ' একটি শোকগাঁথা। এটি বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনা
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)।
- ব্রজবিলাস ও রত্নপরীক্ষা গ্রন্থ দুটির রচয়িতাও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৫৮.
ত্রয়োদশ শতকের সাহিত্যকর্ম কোনটি?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. শূন্যপুরাণ
  3. ইউসুফ জোলেখা
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• ত্রয়োদশ/ অন্ধকারযুগের শতকের সাহিত্যকর্ম: 'শূন্যপুরাণ'। 

'শূণ্যপুরাণ':

- এটি বিশেষভাবে ধর্মপূজাপদ্ধতি।
- 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত একটি ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থ - অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 
- গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এই গ্রন্থটি একপ্রকারের চম্পুকাব্য।
- গ্রন্থটি ৫১টি অধ্যায়ে বিভক্ত।
- এর প্রথম ৫টি অধ্যায় সৃষ্টিতত্ত্ব সম্বন্ধীয়।
- গ্রন্থটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন।
- কারো মতে এটি ত্রয়োদশ থেকে অষ্টাদশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত।
- শূন্যপুরাণ নামহীন অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল - বিশ্বকোষ প্রণেতা নাগেন্দ্রনাথ বসু তিনটি পুথির পাঠ সংগ্রহ করে ১৩১৪ বঙ্গাব্দে 'বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ' শূন্যপুরাণ নামকরন করে প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে,
- ১৭শ শতকে জন্ম  নেয়া কোরেশী মাগন ঠাকুর রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী' কাব্য।
- আনু. ১৪শ-১৫শ শতকে জন্ম নেয়া শাহ মুহম্মদ সগীর রচনা করেন 'ইউসুফ জোলেখা'।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি  আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি 'পদুমাবৎ' কাব্য অবলম্বনে পদ্মাবতী রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১,৬৫৯.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৭২ সালে
  2. ১৮৭৮ সালে
  3. ১৮৮২ সালে
  4. ১৮৫২ সালে
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- এটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৬০.
গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু কে ছিলেন?
  1. শ্রীচৈতন্য
  2. বিদ্যাপতি
  3. শ্রীজীব গোস্বামী
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
গোবিন্দদাস:
- তিনি বৈষ্ণব পদকর্তা ছিলেন।
- পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভগবানগোলার নিকট তেলিয়াবুধুরি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- শ্রীচৈতন্য ও চৈতন্যোত্তরকালে যে কয়জন কবি বৈষ্ণবপদ রচনা করে খ্যাতি অর্জন করেন, তাঁদের মধ্যে গোবিন্দদাস অন্যতম।
- গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু ছিলেন মিথিলার কবি বিদ্যাপতি। বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ’ এবং ‘কবীন্দ্র’ উপাধি দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৬৬১.
ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ভাঙার গান
  2. অনল প্রবাহ
  3. পথের দাবী
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য ’অনল প্রবাহ’।
- এটি ১৯০০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ এবং প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে ব্রিটিশ সরকার তা বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।
- এগুলোর মধ্যে: অনল প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ, মরক্কো সংকটে উল্লেখযোগ্য।

• 'ভাঙার গান' কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিদ্রোহাত্মক কাব্যগ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে (১৩৩১ বঙ্গাব্দের শ্রাবণে)।
- ব্রিটিশ সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে। ব্রিটিশ সরকার কখনো এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেননি।

সুতরাং, সঠিক উত্তর: ক এবং খ। 

'পথের দাবী' উপন্যাস:
- এটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল। 
--------------------------------------------
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
- তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী
- প্রেমাঞ্জলি

তাঁর রচিত উপন্যাস
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন

তাঁর রচিত প্রবন্ধ
- স্বজাতি প্রেম
- তুর্কি নারী জীবন
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬২.
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শেষ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মায়াদেবী
  2. সাধের আসন
  3. সঙ্গীতশতক
  4. বাউলবিংশতি
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'।

• 'সাধের আসন' কাব্যগ্রন্থ':

- বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘সাধের আসন’ (১৮৮৯)।
- ‘সাধের আসন’কে ‘সারদামঙ্গল’ কাব্যের পরিশিষ্ট বলা যায়।
- কোনো এক সম্ভ্রান্ত বিবাহিত নারী কবির ‘সারদামঙ্গল’ কাব্য পাঠ করে নিজ হাতে একটি আসন বুনে কবিকে প্রশ্ন করেছিলেন , “তুমি কাকে ধ্যান কর?”। এর উত্তর স্বরূপ বিহারীলাল ‘সাধের আসন’ লিখেছিলেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ,
- প্রেমপ্রবাহিণী,
- নিসর্গসন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদামঙ্গল,
- নিসর্গসঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউলবিংশতি

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৬৬৩.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন নিচের কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) উইলিয়াম কেরি
  4. ঘ) আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা।
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।

• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৪.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সন্দেশ 
  2. সমকাল
  3. সওগাত
  4. স্বদেশ 
ব্যাখ্যা

• ‘স্বদেশ’ পত্রিকা সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে।
- এর সম্পাদক ছিলেন - আহমদ ছফা।

• আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা (৩০ জুন ১৯৪৩ – ২৮ জুলাই ২০০১) ছিলেন একজন খ্যাতিমান বাংলাদেশি লেখক, ঔপন্যাসিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
-  তাঁর সমস্ত বই একত্রে ৯ খণ্ডে ‘রচনাবলি’ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। 
- তিনি জার্মান সাহিত্যিক গ্যোটের অমর রচনা ‘ফাউস্ট’ বাংলায় অনুবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক কৃতিত্ব স্থাপন করেন।
- আহমদ ছফা ‘স্বদেশ’ নামে একটি সাহিত্য পত্রিকা পরিচালনা করেন এবং পাশাপাশি ‘সাপ্তাহিক উত্তরণ’ ও ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’–এর মতো পত্রিকার সঙ্গেও সম্পাদকীয় কাজে যুক্ত ছিলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে আছে:
∗ ‘ওঙ্কার’, 
∗ ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’, 
∗ ‘বাঙালি মুসলমানের মন’,
∗ ‘যদ্যপি আমার গুরু’ ও 
∗ ‘গাভী বিত্তান্ত’।
 - এছাড়া তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো:
 ১. “যদি তুমি সত্যকে সাহসে বলতে পারো, তুমি কখনও হারাবে না।”
 ২. “মানুষের সবচেয়ে বড় দোষ হলো সে নিজের প্রতি অসত।”
 ৩. “স্বাধীনতা শুধু দেশ নয়, মনকেও মুক্ত করতে হয়।”
 ৪. “ভালবাসা কখনো ছাপিয়ে যায় না, তবে ভুলে যাওয়া যায়।”

অন্যদিকে,
∗ ‘সন্দেশ’ বাঙালি শিশুদের জন্য প্রকাশিত একটি শতবর্ষী পত্রিকা।
- এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯১৩ সালে উপেন্দ্রকিশোর রায়ের উদ্যোগে তাঁর নিজস্ব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউ. রে অ্যান্ড সন্স থেকে।
- বহু প্রতিভার অধিকারী উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন লেখক, চিত্রকর, প্রকাশক, শখের জ্যোতির্বিদ, বেহালাবাদক ও সুরকার।
- পরবর্তীতে তাঁর পুত্র সুকুমার রায় এবং পৌত্র সত্যজিৎ রায় এই পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

সিকান্দার আবু জাফরের সম্পাদনায় প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ‘সমকাল’ ছিল পূর্ব পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত বিখ্যাত একটি সাহিত্য সাময়িকী।
 
∗ 'সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, যার সম্পাদনায় ১৯১৮ সালে কলকাতা থেকে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া, শামসুন্নাহার মাহমুদ, সুফিয়া কামালসহ বহু প্রগতিশীল লেখক সওগাত-কে তাঁদের মুক্তচিন্তা ও ভিন্ন মত প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৫.
মুনীর চৌধুরী রচিত “কবর” নাটকের প্রকাশকাল কবে?
  1. ১৯৬৬
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৭১
  4. ১৯৬৯
ব্যাখ্যা
কবর নাটক:
- মুনীর চৌধুরী একাধারে একজন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী ছিলেন।
- তাঁর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত “কবর” একটি একাঙ্ক নাটক। 
- নাটকটি ১৯৫৩ সালে ঢাকা জেলে বসে তিনি রচনা করেন এবং রাজবন্দি দ্বারা অভিনীত হয়।
- পরবর্তীতে, ১৯৬৬ সালে নাটকটি প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- মার্কিন নাট্যকার Irwin Shaw  রচিত Bury The Dead নাটকের অনুসরণে এদেশীয় ঘটনা কেন্দ্র করে “কবর” নাটকটি লেখা হয়েছে।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৬৬.
জসীম উদ্‌দীন এর ’কবর’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. কালি ও কলম
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

 • 'কবর' (কবিতা):
- 'কবর' কবিতাটি কবি জসীমউদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাখালী’ (১৯২৭) এর অন্তর্ভুক্ত।
- কবর কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'কল্লোল' পত্রিকায়।
- এটি মত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত যাতে ১১৮ টি পঙক্তি আছে।

কবর
জসীমউদ্‌দীন
এই খানে তোর দাদির কবর ডালিম-গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি দুই নয়নের জলে।
এতটুকু তারে ঘরে এনেছিনু সোনার মতন মুখ,
পুতুলের বিয়ে ভেঙে গেল বলে কেঁদে ভাসাইত বুক।

• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ-
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৭.
বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গিত নজরুলের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ছায়ানট
  2. অগ্নিবীণা
  3. সাম্যবাদী
  4. বিষের বাঁশি
ব্যাখ্যা

• 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ: 
- 'অগ্নিবীণা' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- এই কাব্যের জনপ্রিয় কবিতা 'বিদ্রোহী'। 'বিদ্রোহী' কবিতার জন্যই মূলত তিনি 'বিদ্রোহী  কবি' হিসাবে পরিচিত হন।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যের প্রথম কবিতা- প্রলয়োল্লাস।
- 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থটি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।

• অগ্নিবীণা কাব্যে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো হলো:
- প্রলয়োল্লাস, 
- বিদ্রোহী, 
- রক্তাম্বর-ধারিণী মা, 
- আগমণী, 
- ধূমকেতু, 
- কামাল পাশা, 
- আনোয়ারা, 
- রণভেরী, 
- শাত-ইল-আরব, 
- খেয়াপারের তরণী, 
- কোরবানী, 
- মহররম।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৮.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কাজী নজরুল ইসলামকে কত সালে 'ডি. লিট' উপাধি দেন?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম মোট ১৩ বার ঢাকায় আসেন।
- প্রথমবার আসেন ১৯২৬ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন মোট ৫ বার।
- দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কাজী নজরুল ইসলামকে ভারত থেকে সপরিবারে ঢাকায় আনা হয়।
- ১৯৭৪ সালের ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে তাকে 'ডি. লিট' উপাধি বা সম্মাননা প্রদান করে
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব এবং ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
- ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট বাংলা ১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ঢাকার পিজি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৬৯.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটক -
  1. নূরজাহান
  2. বঙ্গনারী
  3. তারাবাঈ
  4. সিংহলবিজয়
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- ছাত্রজীবনে তাঁর আর্য্যগাথা এবং বিলেতে থাকাকালে Lyrics of Ind (১৮৮৬) কাব্য প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৩ সাল পর্যন্ত তিনি মূলত কাব্যই রচনা করেন এবং এ সময় পর্যন্ত তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ বারোটি।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশে যে গণজাগরণমূলক গান রচনার প্রচলন শুরু হয়, তাতে দ্বিজেন্দ্রলালের অবদান ছিল অসামান্য।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ঐতিহাসিক নাটকগুলো হলো:
- তারাবাঈ,
- প্রতাপ-সিংহ,
- দুর্গাদাস,
- নূরজাহান,
- মেবার পতন,
- সাজাহান,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- সিংহলবিজয় ইত্যাদি।

দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত সামাজিক নাটকগুলো হলো:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭০.
'লোক লোকান্তর' কাব্যগ্রন্থটির কবি কে?
  1. ক) আহমদ ছফা
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদ : একজন বাংলাদেশী প্রখ্যাত কবি৷

কাব্যগ্রন্থ :
- লােক লােকান্তর (১৯৬৩),
- কালের কলস (১৯৬৬),
- সােনালী কাবিন (১৯৭৩),
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না (১৯৮০), -বখতিয়ারের ঘােড়া (১৯৮৪),
- দোয়েল ও দয়িতা (১৯৯৭),
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন (২০০২)।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৬৭১.
'কাশবনের কন্যা' কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) নাটক
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুদ্দীন আবুল কালাম। 

• কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম ‘আবুল কালাম শামসুদ্দীন’
- শামসুদ্দীনের মুখ্য পরিচয় একজন কথাশিল্পী হিসেবে।
- তিনি অনেক গল্প ও  উপন্যাস রচনা করেছেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- সমুদ্রবাসর,
- কাঞ্চনগ্রাম ও
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৭২.
'কেতকী এবং শোভনলাল' - কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শেষের কবিতা
  2. চোখের বালি
  3. রাজর্ষি
  4. গোরা
ব্যাখ্যা

"শেষের কবিতা" উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া অনুসারে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "শেষের কবিতা" একটি গীতিধর্মী উপন্যাস। তবে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর অনুসারে শেষের কবিতা (১৯২৯) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস।
- "শেষের কবিতা" উপন্যাসটি সমন্বয়সুষমা ও কবিত্বমণ্ডিত বিশ্লেষণশক্তির দিক দিয়ে রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী উপন্যাসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠস্থান দাবি করতে পারে। বিষয়ের ঐক্য ও আলোচনার সমগ্রতায়, অবান্তর বস্তুর প্রায় সম্পূর্ণ বর্জনে অন্যান্য উপন্যাস থেকে 'শেষের কবিতা' যথেষ্ট উৎকর্ষ লাভ করেছে।
- কোনো পুরুষ বা নারীর পক্ষে এক সঙ্গে দুজনকে ভালোবাসা সম্ভব এবং সে ভালোবাসা এক পাত্রসম্পর্কিত (স্বামী/স্ত্রী), অপর পাত্র নিঃসম্পর্ক হতে পারে। এটিই শেষের কবিতা উপন্যাসের আখ্যানবস্তুর ভাববীজ।
- অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের বিচিত্র বিকাশ দেখানো হয়েছে।
- 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের ভাষা যে কেবল কবিত্বময় তা নয়, উপন্যাসের বক্তব্যকে সুস্পষ্ট করার জন্য অনেক কবিতাও ব্যবহার করেছেন। উপন্যাসের কাঠামোগত এই অভিনবত্ব রবীন্দ্রনাথ খুব সার্থকতা সহকারে এ উপন্যাসে রূপায়িত করে তুলেছেন।
উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে। যথা:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।
- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও-এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৭৩.
জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) সাতটি তারার তিমির
  2. খ) রাখালী
  3. গ) বালুচর
  4. ঘ) সুচয়নী
ব্যাখ্যা

ঝরা পালক (১৯২৮) জীবনানন্দ দাশ প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ গুলো হচ্ছে-
- সাতটি তারার তিমির,
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- রুপসী বাংলা,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৬৭৪.
“হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন” দ্বারা কোন অর্থ বোঝানো হয়?
  1. যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই
  2. সবসময় ধৈর্যধারণ করতে হয়
  3. পরিশ্রমের মূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেলে
  4. অপরের সহায়তা ছাড়া কিছু সম্ভব নয়
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

• 'হাতের কাঙ্কন মা লোউ দাপন'- পদটির রচয়িতা সরহপা।
- এটি সরহপা-রচিত ৩২ নং পদ।
- প্রবাদটি বোঝায় যে, যেটা স্পষ্ট ও প্রত্যক্ষ, তার জন্য আলাদা কোনো প্রমাণের প্রয়োজন হয় না।
-------------------------------------
প্রবাদ বাক্য:
- চর্যাপদ বৌদ্ধ সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম, যা নৈতিক শিক্ষা এবং জীবনমুখী বার্তা সমৃদ্ধ।
- এতে মোট ৬টি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, যা সহজবোধ্য ভাষায় জ্ঞানগর্ভ উপদেশ প্রদান করে।
- এই প্রবাদগুলো হলো:
• আপণা মাংসে হরিণা বৈরী – নিজের লোভই নিজের ক্ষতি করে।
• দুহিল দুধু কি বেন্টে সামায় – একবার যা হয়েছে, তা ফেরানো যায় না।
হাতের কাঙ্কণ মা লোউ দাপন – যা স্পষ্ট, তা দেখার জন্য আলাদা প্রমাণের দরকার নেই।
• হাড়ীত ভাত নাহি নিতি আবেশী – যা নেই, তা আশা করা অর্থহীন।
• বর সুন গোহালী কি মো দুঠ্য বলংদেঁ – আমার দোষ নয়, অপরের; নিজেকে নির্দোষ ধরা।
• আন চাহন্তে আন বিনধা – অন্য কিছু চাইতে গিয়ে অন্য কিছু অপ্রত্যাশিতভাবে পাওয়া বা ঘটে যাওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৬৭৫.
“বহু বৃদ্ধকে দেখিয়াছি যাঁহাদের বার্ধক্যের জীর্ণাবরণের তলে মেঘলুপ্ত সূর্যের মতো প্রদীপ্ত যৌবন” – উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন রচনার অংশবিশেষ?
  1. ক) দুরন্ত পথিক
  2. খ) আঠাবাে বছর বয়স
  3. গ) ফলে মুসাফির
  4. ঘ) যৌবনের গান
ব্যাখ্যা
উক্তিটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত যৌবনের গান রচনার। এই রচনার আরও একটি উক্তিঃ বার্ধক্য তাহাই যাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আকাইয়া পড়িয়া থাকে।
Source: LiveMCQ Archive
১,৬৭৬.
‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি:
- ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাসটির লেখক সেলিনা হোসেন।
- ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের আগের ও পরের সাহিত্য চর্চা , রাজনৈতিক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দিয়ে কাহিনি শুরু।
- সাথে আছে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া কিছু পরিবারের চিত্র (১৯৪৩ যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত )।

------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- বাংলা কথাসাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় লেখিকা সেলিনা হোসেন।
- তিনি রাজশাহী শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
- তার রচিত উপন্যাস ‘হাঙ্গর নদী গ্রেনেড’। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এ উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীকালে এ উপন্যাস অবলম্বনে চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম হাঙর নদী গ্রেনেড নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাস:
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি’ উপন্যাস।
১,৬৭৭.
ভানুসিংহ কার ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. যতীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৮.
'জয়গুন' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র?
  1. সূর্য দীঘল বাড়ী
  2. লালসালু
  3. পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. পদ্মানদীর মাঝি
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূর্য দীঘল বাড়ী:
- 'সূর্য দীঘল বাড়ী' আবু ইসহাক রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- ১৯৫৫সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের গ্রাম জীবনের বিশ্বস্ত দলিল এই গ্রন্থ।
- বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী'
- জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র।
- উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্র: হাসু, মায়মুন, শাফি, ডা. রমেশ চক্রবর্তী, মোরল গদু ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'লালসালু' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র- মজিদ, জমিলা, আমেনা, খালেক ব্যাপারী, রহিমা, আক্কাস, তাহেরের বাপ, হাসুনির মা ইত্যাদি।
• আবু ইসহাক রচিত 'পদ্মার পলিদ্বীপ' উপন্যাসের চরিত্র: ফজল, এরফান মাতব্বর, আরশেদ মোল্লা, জরিবা, রূপজান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৭৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন গ্রন্থের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন?
  1. বনফুল
  2. গীতাঞ্জলি
  3. সোনার তরী
  4. মানসী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- শেষের কবিতা,
- চতুরঙ্গ,
- চার-অধ্যায়,
- ঘরে-বাইরে।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষ লেখা।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্রপ্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- মানুষের ধর্ম,
- কালান্তর,
- সভ্যতার সংকট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮০.
কোনটি দীনবন্ধু মিত্রের রচনা?
  1. লীলাবতী
  2. পদ্মাবতী
  3. গিনিপিগ
  4. রত্নাবলী
ব্যাখ্যা
• ‘লীলাবতী’ দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক।
- নাটকটি ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• 'পদ্মাবতী' নাটকের রচয়িতা মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
• 'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন।

--------------------------
• দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

দীনবন্ধু মিত্রের কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮১.
আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী কতসালে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ২০২০ সালে 
  2. ২০২১ সালে 
  3. ২০২২ সালে 
  4. ২০২৩ সালে 
ব্যাখ্যা

আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন। 
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।
- ২০২২ সালের ১৯ মে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

 তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৮২.
জাহানারা ইমাম রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গজকচ্ছপ
  2. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
  3. একাত্তরের দিনগুলি
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৩.
ডোম্বীপার গুরু কে ছিলেন?
  1. ভুসুকুপা
  2. বিরুপা
  3. লুইপা
  4. কুক্কুরীপা
ব্যাখ্যা
ডোম্বীপা:
- তিনি চর্যাপদের ১৪ নং পদের পদকর্তা।
- তার গুরু ছিলেন বিরুপা।
- তিনি ত্রিপুরা রাজ্যের রাজা ছিলেন।
- তার রচিত পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীতে নৌকা বেয়ে নেয়ার চিত্র ফুটে উঠে।

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৬৮৪.
কার সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম সাহিত্য সংকলন প্রকাশিত হয়?
  1. জহির রায়হান
  2. হাসান আজিজুর হক
  3. আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'একুশে ফেব্রুয়ারী' সংকলন:
- ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে প্রথম সাহিত্য সংকলন 'একুশে ফেব্রুয়ারী' প্রকাশিত হয়।
- এই সংকলনে স্থান পেয়েছিল একুশের প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা, গান, নকশা ও ইতিহাস।
- ১৯৫৩ সালে 'পুথিপত্র' থেকে এটি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট বামপন্থী রাজনৈতিককর্মী মোহাম্মদ সুলতান। 
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো /একুশে ফেব্রুয়ারী/ আমি কি ভুলিতে পারি'  গানটি প্রথম এ গ্রন্থে সংকলিত হয়
- গানটির প্রথম সুরকার আবদুল লতিফ। সেই সুর পরিবর্তন করে আলতাফ মাহমুদ পরে এর সুরারোপ করেন। 

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান: 
-  হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারি”।
- এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়। 
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা, 
- মূল্যবোধের জন্য, 
- সাহিত্য প্রসঙ্গ, 
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৫.
'অমিয়ধারা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. বুদ্ধদেব বসু 
  3. কায়কোবাদ
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।
- প্রেম-পারিজাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৬.
'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থের  রচয়িতা কে?
  1. ইমদাদুল হক মিলন
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• 'পানকৌড়ির রক্ত' গল্পগ্রন্থটির রচয়িতা- আল মাহমুদ।
- এটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

​-------------
• ​আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৮৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন 'তিনসঙ্গী' এর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. রবিবার
  2. শেষকথা
  3. ল্যাবরেটরি
  4. দেনাপাওনা
ব্যাখ্যা

তিনসঙ্গী:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন।
- এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।
- গল্প তিনটি: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত আধুনিক নরনারীর মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প:
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৬৮৮.
'বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া' - আলোচ্য উক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. আলাওল
  3. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  4. চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন।
- মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ:
- অন্নদামঙ্গল,
- গঙ্গাষ্টক,
- রসমঞ্জরী।

• তাঁর কিছু বিখ্যাত উক্তি:
- মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।
- নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়। যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন।
-  নীচ যদি উচ্চ ভাষে সুবুদ্ধি উড়ায় হেসে।
- বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
- হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
- বাঘের বিক্রম সম মাঘের শিশির।
- মাতঙ্গ পড়িলে দরে পতঙ্গ প্রহার করে।
- বাতাসে পাতিয়া ফাঁদ কন্দল ভেজায় ।
- কড়িতে বাঘের দুধ মিলে ।
- বড়র পিরীতি বালির বাঁধ
ক্ষণে হাতে দড়ি ক্ষণেকে চাঁদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৮৯.
'বৈকুণ্ঠের উইল' - কার রচনা?
  1. বনফুল
  2. অনীলা দেবী
  3. ভানুসিংহ ঠাকুর
  4. হাবু শর্মা
ব্যাখ্যা
'অনিলা দেবী' ছদ্মনামটি বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহার করতেন। 
- "বৈকুণ্ঠের উইল" গল্পের রচয়িতা - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সুতরাং এখানে সঠিক উত্তর - অনীলা দেবী।

তাঁর আরও কিছু ছদ্মনাম -
- অপরাজিতা দেবী,
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়,
- অনুরূপা দেবী, 
- পরশুরাম (পরশুরাম রাজশেখর বসুরও ছদ্মনাম)
- শ্রীকান্ত শর্মা,
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।
-------------------------
-------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়(১৮৭৬-১৯৩৮):
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। 

তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত রচনা- 
- বিন্দুর ছেলে ও অন্যান্য (১৯১৪),
- পরিণীতা (১৯১৪),
- বৈকুণ্ঠের উইল (১৯১৬),
- পল্লীসমাজ (১৯১৬),
- দেবদাস (১৯১৭),
- চরিত্রহীন (১৯১৭),
- নিষ্কৃতি (১৯১৭),
- শ্রীকান্ত (৪ খন্ড, ১৯১৭-৩৩),
- দত্তা (১৯১৮),
- গৃহদাহ (১৯২০),
- দেনা-পাওনা (১৯২৩),
- পথের দাবী (১৯২৬),
- শেষ প্রশ্ন (১৯৩১) ইত্যাদি।

- তাঁর পথের দাবী উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

-------------------
বনফুল - বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
ভানুসিংহ ঠাকুর - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম।
হাবু শর্মা - তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
১,৬৯০.
”চৈতন্য-ভাগবত” গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কৃষ্ণদাস কবিরাজ
  2. বৃন্দাবন দাস 
  3. লোচন দাস
  4.  মুরারিগুপ্ত
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব ও জীবনী সাহিত্য:
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণ থেকে রূপান্তরিত এক ধর্মবেত্তা, যিনি তাঁর স্বকীয় ভক্তির মাধ্যমে বাংলা ও উড়িষ্যার বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলেন।
শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়।

• সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
• বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃন্দাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
• শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'।
• মুরারিগুপ্ত রচিত চৈতন্যজীবনী শ্রী শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্যচরিতামৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৬৯১.
মহাকবি কায়কোবাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. প্রেম পারিজাত
  2. অশ্রুমালা
  3. রত্নাবলী
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা

•'রত্নাবলী' নাটকের রচয়িতা রামনারায়ণ তর্করত্ন। 

• কায়কোবাদ:
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- কায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)।
- মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- প্রেম পারিজাত,
- কুসুম কানন,
- মন্দাকিনী-ধারা।
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯২.
'অরণ্য নীলিমা' কার সাহিত্যকর্ম?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. গ) আনিসুজ্জামান
  4. ঘ) মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫) একজন কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
তার রচিত উপন্যাস-
-রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)
-অরণ্য নীলিমা (১৯৬০)।
শিশুতোষ গ্রন্থ-
-জ্যোৎস্না রাতের গল্প
-বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
-ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।


উৎসঃবাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৬৯৩.
নিম্নলিখিত চরিত্রগুলোর মধ্যে কে ‘পল্লীসমাজ’ উপন্যাসের চরিত্র নন?
  1. বেণী
  2. বিলাস
  3. রমেশ
  4. রমা
ব্যাখ্যা
'পল্লীসমাজ' উপন্যাস:
- রমেশ ও রমা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
- পল্লীসমাজ (১৯১৬) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি জনপ্রিয় উপন্যাস।
- বাংলার পল্লীসমাজের নীচতা ও ক্ষুদ্র রাজনীতির পটভূমিকায় এক আদর্শবাদী যুবক - যুবতীর সম্পর্ক
ও বিশেষ করে তাদের অভিশপ্ত প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসের মূল বিষয়।
- ১৯১৫ সালে 'ভারতবর্ষ' পত্রিকায় উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রধান চরিত্র: রমা, রমেশ, বেণী, বলরাম।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পন্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৯৪.
সৈয়দ সুলতানের সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা কোনটি?
  1. জ্ঞানচৌতিশা
  2. নবীবংশ
  3. শব-ই-মেরাজ
  4. জয়কুমার রাজার লড়াই
ব্যাখ্যা

'নবীবংশ' গ্রন্থ:
- সৈয়দ সুলতানের নবীবংশ গ্রন্থটি রচিত হয় ১৫৮৪ সালে।
- কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য।
- ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে  হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।

• সৈয়দ সুলতান:
- মধ্যযুগের উল্লেখযোগ্য মুসলিম কবি।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম।
- চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।

• তাঁর অন্যান্য গ্রন্থগুলো -
- জ্ঞানচৌতিশা,
- নবীবংশ,
- শব-ই-মেরাজ ও
- জয়কুমার রাজার লড়াই (যুদ্ধবিষয়ক কাহিনীকাব্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৬৯৫.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বাঁধনহারা
  3. কুহেলিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৬.
কোন নাটক রচনার মাধ্যমে রামনারায়ণ তর্করত্ন 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন?
  1. রত্নাবলী
  2. অভিজ্ঞান শকুন্তলা
  3. কুলীনকুলসর্বম্ব
  4. মালতীমাধব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বম্ব' নাটক:
বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বম্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য।

এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুন্ডী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন। 

এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। 

কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী।

অন্যদিকে, 
-----------------
• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন। বেণীসংহার (১৮৫৬), রত্নাবলী (১৮৫৮), অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও মালতীমাধব (১৮৬৭)-এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত। 

উৎস: 'আলালের ঘরের দুলাল' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৬৯৭.
মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ
  2. রাধারমণ গোপ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ সুলতান
ব্যাখ্যা
মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি শেখ ফয়জুল্লাহ । তাঁর গ্রন্থের নাম 'জয়নালের চৌতিশা' (১৫৭০)।
- মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ - মুক্তল হোসেন।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি রাধারমণ গোপ। তাঁর গ্রন্থের নাম 'ইমামগণের কেচ্ছা', 'আফৎনামা'।

অন্যদিকে, 
• পুঁথি সাহিত্যের প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি - ফকির গরীবুল্লাহ।
- আঠার শতকের শেষার্ধে তিনি মিশ্র ভাষারীতিতে কাব্য রচনা করেন।
• জঙ্গানামা শ্রেণির কাব্য 'নবীবংশ' রচনা করেন - সৈয়দ সুলতান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৬৯৮.
রামমোহন রায় কে রাজা উপাধি দেয় কে?
  1. ব্রিটিশ সরকার
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. দিল্লির বাদশা
  4. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
ব্যাখ্যা
বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং তাঁর পক্ষে ব্রিটিশ রাজ ও পার্লামেন্টে ওকালতি করার জন্য ইংল্যান্ডে পাঠান।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন।
তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-
- বেদান্তগ্রন্থ,
- বেদান্তসার,
- ভট্টাচার্যের সহিত বিচার,
- গোস্বামীর সহিত বিচার,
- সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
- গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৬৯৯.
‘পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ’ - কে, কাহাকে বলিয়াছিল?
  1. সীমার হোসেন (রাঃ)-কে
  2. আলেয়া সিরাজকে
  3. কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে
  4. উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমার কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ?" এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোম্যান্টিক সংলাপ।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৭০০.
চর্যাপদের কোন কবি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়?
  1. কঙ্কণপা
  2. আর্যদেবপা
  3. চাটিল্লপা
  4. তাড়কপা
ব্যাখ্যা
কঙ্কণপা:
- বৌদ্ধধর্মে দীক্ষাগ্রহণের পূর্বে কঙ্কণপা বিষ্ণুনগরের রাজা ছিলেন।
- তিনি চর্যাপদের ৪৪ নং পদটির রচয়িতা।
- গবেষকদের মতে তিনি ৯৮০ থেকে ১১২০ খ্রিস্টাব্দ অবধি জীবিত ছিলেন।
- কঙ্কণপার লেখায় বাংলার সঙ্গে ব্যাকরণের কিছু অপভ্রাংশের রূপ পাওয়া যায়।
- তিনি দারিকপার শিষ্য ছিলেন বলে অনুমান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।