বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১৫ / ২১১ · ১,৪০১১,৫০০ / ২১,১৩২

১,৪০১.
‘'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন’ - প্রবন্ধটি কার লেখা?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিবিধ প্রবন্ধ গ্রন্থের একটি প্রবন্ধ হলো ‘বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবদেন’।
- এই প্রবন্ধে নতুন লেখকদের প্রতি ১৩ টি নির্দেশনা বা পরামর্শ দিয়েছেন।
- এটি একটি উপদেশমূলক রচনা।
- তাঁর এ উপদেশ শুধু তাঁর কালের জন্যই প্রযোজ্য নয়, অনাগতকালের লেখকদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রবন্ধে লেখকের এসব উপদেশের সর্বজনীনতা প্রবন্ধের আবেদনকে কালোত্তীর্ণ করেছে।

উৎস : সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড বই ও যুগান্তর রিপোর্ট।

১,৪০২.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক চলচ্চিত্র 'ফাগুন হাওয়ায়' এর নির্মাতা কে?
  1. ক) জহির রায়হান
  2. খ) মুনীর চৌধুরী
  3. গ) তৌকীর আহমেদ
  4. ঘ) হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত চলচ্চিত্র 'ফাগুন হাওয়ায়' এর নির্মাতা 'তৌকীর আহমেদ'।
• এছাড়াও-
-  জহির রায়হান ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম ছোটগল্প 'একুশের গল্প' রচনা করেন।
-  মুনীর চৌধুরী ভাষা আন্দোলনভিত্তিক প্রথম নাটক 'কবর' রচনা করেন।
-  হাসান হাফিজুর রহমান ভাষা আন্দোলনের প্রথম গ্রন্থ 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০৩.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সম্পাদনা করেন কে?
  1. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. কৃষ্ণ কুমার রায়
  3. মহেন্দ্র সেন গুপ্ত
  4. বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪০৪.
নিচের কোনটি বুদ্ধদেব বসু রচিত কবিতাগ্রন্থ?
  1. ক) নির্জন স্বাক্ষর
  2. খ) কঙ্কাবতী
  3. গ) পরিক্রমা
  4. ঘ) সানন্দা
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কঙ্কাবতী’ কবিতাগ্রন্থ:
- ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ/কবিতাগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম।
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- অভিনয়,
- অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০৫.
'নিমচাঁদ ও সৌদামিনী' চরিত্র দুটি সৃষ্টি করেছেন কে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪০৬.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক নয় কোনটি?
  1. জীয়নকন্যা
  2. জনপদ
  3. গোত্রান্তর
  4. কলঙ্ক
ব্যাখ্যা
• বিজন ভট্টাচার্যের উল্লেখযোগ্য দুটি গল্প হচ্ছে তেভাগা আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত 'জনপদ' এবং দেশবিভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত 'রাণী পালঙ্ক'।

বিজন ভট্টাচার্য রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক হলো:
• ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার পটভূমিকায় তিনি রচনা করেন 'জীয়নকন্যা' নাটক। এছাড়া তাঁর আরও দুটি নাটক হলো 'মরাচাঁদ' ও 'কলঙ্ক'। 'মরাচাঁদ' চব্বিশ পরগনার এক অন্ধ গায়কের জীবনকাহিনী, আর 'কলঙ্ক' বাঁকুড়ার সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবনালেখ্য।

• তাঁর 'গোত্রান্তর' (১৯৬০) নাটকের বিষয়বস্তু ছিন্নমূল পূর্ববঙ্গবাসীর ভাগ্যবিপর্যয়। পরে তিনি লেখেন মুনাফাখোর মিল-মালিক ও শোষিত শ্রমিকদের নিয়ে অবরোধ (১৯৪৭)। ১৯৬৬-তে লেখেন দেবীগর্জন ও বেদেদের - জীবন নিয়ে গর্ভবতী জননী।

• বিজন ভট্টাচার্যের প্রতিভার সার্থকতম নিদর্শন হলো 'নবান্ন' (১৯৪৪) নাটক। বন্যা, দুর্ভিক্ষ ও মহামারীর পটভূমিকায় রচিত এই নাটকে দুঃস্থ-নিপীড়িত কৃষকজীবন প্রতিফলিত হয়েছে।
গণনাট্য সংঘের প্রযোজনায় নবান্ন নাটকে তিনি নিজে অভিনয় করেন এবং অন্য অভিনেতা-অভিনেত্রীরা ছিলেন তৃপ্তি মিত্র, শম্ভু মিত্র, গঙ্গাপদ বসু, শোভা সেন, গোপাল হালদার প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪০৭.
কার সম্পাদনায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪০৮.
'পাঞ্জেরি' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'পাঞ্জেরি' কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। 
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ ‘সাত সাগরের মাঝি’ ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা আছে।
- সাত সাগরের মাঝি নামে একটি কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

এই কাব্যের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- সিন্দাবাদ, পাঞ্জেরি, লাশ, আউলাদ, দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

কবিতাটি নিম্নরূপ- 

রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?
এখনো তোমার আসমান ভরা মেঘে?
সেতারা, হেলাল এখনো ওঠেনি জেগে?
তুমি মাস্তলে, আমি দাঁড় টানি ভুলে;
অসীম কুয়াশা জাগে শূন্যতা ঘেরি।
রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি? (সংক্ষিপ্ত)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪০৯.
মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি বিজয় ইতিহাসের ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?  
  1. দীপনির্বাণ
  2. নীল রং রক্ত
  3. রাজসিংহ
  4. বাদশাহ নামদার
ব্যাখ্যা

রাজপুতদের অন্তর্দ্বন্দ্বের সুযোগে মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত 'দীপনির্বাণ' উপন্যাসে প্রতিফলিত হয়েছে।
-------------------------
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৫-১৯৩২) ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রজন্মের একজন উল্লেখযোগ্য মহিলা সাহিত্যিক।
- স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা উপন্যাসিক।
- তিনি জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির সদস্য এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি ‘দীপনির্বাণ’ নামে প্রথম বাংলা উপন্যাস রচনা করেন, যা তাকে প্রথম বাংলা মহিলা ঔপন্যাসিক হিসেবে পরিচিতি দেয়।
- এছাড়াও কবিতা, নাটক ও প্রবন্ধ লিখেছেন। ‘

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- দীপনির্বাণ;
- ছিন্নমুকুল;
- মালতী;
- মিবাররাজ।
--------------------------------------------- 
'দীপনির্বাণ' নিয়ে কিছু কথা:
- দীপনির্বাণ উপন্যাসটি দ্বাদশ শতকের ভারতের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এখানে রাজপুত রাজাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও মুহম্মদ ঘোরীর দিল্লি আক্রমণ তুলে ধরা হয়েছে।
- এটি স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অনুপ্রাণিত।
------------------------------------ 
অন্যদিকে,
• নীল রং রক্ত- সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত নীল বিদ্রোহের কাহিনী।
• রাজসিংহ- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক উপন্যাস
• বাদশাহ নামদার- হুমায়ূন আহমেদ রচিত হুমায়ুন ও শেরশাহের আমলের প্রেক্ষাপট নিয়ে লেখা উপন্যাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪১০.
নিচের কোনটি ‘ব্যথার দান’ গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প?
  1. দোলনচাঁপা
  2. ঝিলিমিলি
  3. বিষের বাঁশি
  4. রাজবন্দীর চিঠি
ব্যাখ্যা

‘ব্যথার দান’ গল্পগ্রন্থ:
- ‘ব্যথার দান’ কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ।
- এটি ৬টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশকাল: ফেব্রুয়ারি ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দ।
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- একই সঙ্গে এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।

• এই গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো হলো-
- ব্যথার দান
- হেনা
- অতৃপ্ত কামনা
- বাদল-বরিষণে
- ঘুমের ঘোরে
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
- 'ঝিলিমিলি' কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।
- 'দোলনচাঁপা' কবি কাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- 'বিষের বাঁশী' কাজী নজরুল ইসলামের রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৪১১.
নিচের কোনটি শিশুতোষ গ্রন্থ?
  1. বন্ধু বিয়োগ
  2. ইছামতী
  3. কুচঁবরণ কন্যা
  4. যদি এমন হতো
ব্যাখ্যা
কবি, ঔপন্যাসিক ও  শিশু সাহিত্যিক বন্দে আলী মিয়া রচিত বেশ কিছু শিশুতোষ গ্রন্থের মাঝে উল্লেখযোগ্য হলো - কুচঁবরণ কন্যা, চোর জামাই, ডাইনী বউ ইত্যাদি।
- তিনি ১৫ই ডিসেম্বর, ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা গুলির মাঝে কিশর পরাগ, শিশু বার্ষিকী, জ্ঞানের আলো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় রচিত শেষ উপন্যাস হচ্ছে - ইছামতী।
- আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা  বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে - বন্ধু বিয়োগ।
- প্রখ্যাত নাট্যকার নুরুল মোমেন রচিত নাটক গুলির মাঝে বিখ্যাত হলো - রুপান্তর, নেমেসিস, যদি এমন হতো,আলোছায়া ইতাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১২.
‘কাসাসুল আম্বিয়া’ অনুসরণ করে সৈয়দ সুলতান রচনা করেন-
  1. শব-ই-মেরাজ 
  2. জ্ঞানপ্রদীপ
  3. নবীবংশ
  4. জ্ঞানচৌতিশা
ব্যাখ্যা

 সৈয়দ সুলতান:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর বাসস্থান ছিল চট্টগ্রামের চক্রশালা চাকলার অধীন পটিয়া গ্রাম। চট্টগ্রামের লস্করপুর তথা পরাগলপুরে কবি সাময়িকভাবে বসবাস করেন।
- কাহিনীকাব্য ও শাস্ত্রকাব্য রচয়িতা হিসেবে সৈয়দ সুলতানের খ্যাতি ছিল।

- তিনি একাধিক গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর নবীবংশ, জ্ঞানপ্রদীপ, জ্ঞানচৌতিশা ও জয়কুম রাজার লড়াই উল্লেখযোগ্য।

• কবির সর্ববৃহৎ ও শ্রেষ্ঠ রচনা নবীবংশ কাব্য। ফারসি কাসাসুল আম্বিয়া অনুসরণে এটি রচিত।
- এতে সৃষ্টির সূচনা থেকে হযরত মুহাম্মাদ (স.) পর্যন্ত সকল নবী-রসুলের কর্ম ও ধর্মজীবনের বিস্তৃত বর্ণনা আছে।
- এছাড়া বিভিন্ন পৌরাণিক দেবদেবীকেও নবীদের ধারাভুক্ত করা হয়েছে।
- তবে ইসলামের গৌরব ও মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা ও প্রচারই এতে প্রাধান্য পেয়েছে।
- বিষয়-বৈচিত্র্য ও বিশালতার বিচারে নবীবংশ মহাকাব্যের সমতুল্য।
- নবীবংশের দ্বিতীয় খন্ড রসুলচরিত একখানা পৃথক গ্রন্থ হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৩.
‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. রফিক আজাদ
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাস:
- ‘ক্ষুধা ও আশা’ আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত একটি উপন্যাস। উপন্যাসটি ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়।

- ১৯৪৩ সালে যুদ্ধরত ঔপনিবেশিক শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় স্বার্থান্বেষী দেশীয় হিংস্র শোষক শ্রেণী পর্যাপ্ত খাদ্যশস্য মজুদ থাকা সত্ত্বেও যে মহা দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি করে, তাতে কিংবদন্তীর উর্বরতার ভাণ্ডার বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ অসহায় শ্রমিক-কৃষক নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত গ্রামে গ্রামে শহরে বন্দরে মহানগরীতে অভিজাত ধনাঢ্যব্যক্তিদের চোখের সামনে মৃত্যুবরণে বাধ্য হয়: এই উপন্যাস তারই এক শাদামাটা কাহিনি।

- কিশোর লেখকের নিজের চোখে দেখা যে বাস্তবতা: তুখোড় সমালোচকগণ এর নান্দনিক মূল্যায়ন যা-ই করুন, ক্ষুধা ও আশা যে বিপন্ন মানব অস্তিত্বের এক প্রামাণ্য দলিল তাতেসবাই নিঃসন্দেহ।

---------------
অন্যদিকে,
• ‘জীবন ক্ষুধা' (১৯৫৫) পাকিস্তান আন্দোলন বিশেষত দেশ বিভাগের পটভূমিতে আবুল মনসুর আহমদ রচিত একটি উপন্যাস। 
• 'ভাত দে হারামজাদা' রফিক আজাদ রচিত একটি বিখ্যাত কবিতা।
• ১৯৩০ সালে প্রকাশিত হয়েছিল কাজী নজরুল ইসলামের রাজনৈতিক উপন্যাস ‘মৃত্যুক্ষুধা’। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘ক্ষুধা ও আশা’ উপন্যাস।
১,৪১৪.
আনোয়ার পাশা রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস হলো-
  1. ক) নীড় সন্ধানী
  2. খ) নিষুতি রাতের গাথা
  3. গ) রাইফেল রােটি আওরাত
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
ব্যাখ্যা

আনোয়ার পাশা:
কবি, কথাসাহিত্যিক, সমালােচক, শিক্ষাবিদ। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র লেকচারার।

উপন্যাস :
- নীড় সন্ধানী (১৯৬৮),
- নিষুতি রাতের গাথা (১৯৬৮),
- রাইফেল রােটি আওরাত (১৯৭৩)।
তাঁর রাইফেল-রোটি-আওরাত উপন্যাসটি রচিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন এবং মুক্তিযুদ্ধের একজন একনিষ্ঠ সমর্থক ছিলেন।
গল্পগ্রন্থ : নিরুপায় হরিণী (১৯৭০)।
কাব্য :
- নদী নিঃশেষিত হলে,
- সমুদ্র শৃঙ্খলতা উজ্জয়িনী।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

১,৪১৫.
নিচের কোন গ্রন্থটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত?
  1. ক) পদ্মাবতী
  2. খ) চিঠি
  3. গ) কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
  4. ঘ) রাজসিংহ
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্: তিনি ছিলেন ভাষাবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, গবেষক ও শিক্ষাবিদ৷

তার সংকলিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলাে হলো:
পদ্মাবতী (১৯৫০), প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী (১৯৫২), গল্প সংকলন, দুই খণ্ড প্রকাশিত আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৪১৬.
‘সত্যের মতো বদমাশ’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. গল্প
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দের শ্রেষ্ঠ গল্পগ্রন্থ- সত্যের মতো বদমাশ। 
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- মানবমনের নিগূঢ় সত্যকে উপস্থাপন করা হয়েছে এই গ্রন্থের গল্পগুলোতে।

তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ হলো :
- চলো যাই পরোক্ষে
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা
- নেকড়ে হায়না আর তির পরী

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৭.
"তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।" - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. যোগাযোগ
  2. গোরা 
  3. শেষের কবিতা
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা

'তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।'
- উদ্ধৃতাংশটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা' উপন্যাসের অন্তর্গত। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ''শেষের কবিতা'' শেষ হয় কাব্যসুরে বিদায়ের ধ্বনি কানে নিয়ে, যেখানে বলা হয়েছে- 
''হে ঐশ্বর্যবান,
তোমারে যা দিয়েছিনু সে তোমারি দান-
গ্রহণ করেছ যত ঋণী তত করেছ আমায়।
হে বন্ধু, বিদায়''

'শেষের কবিতা' উপন্যাস:
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'শেষের কবিতা' একটি উপন্যাস।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে।
- এটিকে কাব্যোপন্যাসও বলা হয়।
- শেষের কবিতা উপন্যাস বিংশ শতকের বাংলার নবশিক্ষিত অভিজাত সমাজের জীবনকথা।
- উপন্যাসের কতিপয় বাক্য আজ প্রবাদের মর্যাদা পেয়েছে।
যেমন:
- ফ্যাশনটা হলো মুখোশ, স্টাইলটা হলো মুখশ্রী।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র -
অমিত, লাবণ্য, কেতকী, শোভনলাল প্রমুখ।

- কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও - এই কবিতা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষের কবিতা উপন্যাসের সমাপ্তি টানেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৮.
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আরেকটি উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' (১৯৮৪)।

- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি। বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

- একজন প্রধান শিক্ষক তাহের উদ্দীন খন্দকারের আত্মোপলব্ধি, অন্বেষণ ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে উঠে আসে মুক্তিযুদ্ধে জলেশ্বরীর দুর্বার ভূমিকার কথা। বিভিন্ন জায়গা ছড়িয়ে থাকা জলেশ্বরীর সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে তাহেরের স্মৃতিচারণায়।

উৎস: 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৯.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১,৪২০.
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  2. কালকূট
  3. মৌমাছি
  4. বনফুল
ব্যাখ্যা
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়

অন্যদিকে,
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯)। প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪২১.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চিন্তাতরঙ্গিণী
  2. বৃত্রসংহার
  3. দশমহাবিদ্যা
  4. বীরবাহু কাব্য
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হচ্ছে বৃত্রসংহার। 

বৃত্রসংহার:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো ‘বৃত্রসংহার’, যা ২ খণ্ডে, ১৮৭৫-৭ সালে প্রকাশিত।
- এটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত জনপ্রিয় আখ্যান কাব্য। মহাকাব্য হিসেবে রচিত। 
- এটি মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত, যেখানে সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় প্রতিপাদ্য করা হয়েছে।
- এক সময় বাংলাদেশে এই কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের খ্যাতি মূলত এ কাব্যের জন্য।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন হুগলির গুলিটা গ্রামে, ১৮৩৮ সালে।
- কর্মজীবনে তিনি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হন।
- তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে দেশপ্রেম তাঁর রচনায় ফুটিয়ে তোলেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪ সালে প্রকাশিত আখ্যানকাব্য)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৪২২.
'কবর' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. ক) ক্রান্তি
  2. খ) কালি ও কলম
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
• জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'কবর'।
- তাঁর ছাত্রাবস্থায় এ কবিতাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্য তালিকাভুক্ত হয়। 
- কবিতাটি প্রথমে 'কল্লোল' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে কবিতাটি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'রাখালী' এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়। 
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- বইটিতে মোট ১৯টি কবিতা আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২৩.
‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’  উক্তিটি নিচের কোন গ্রন্থে পাওয়া যায়?
  1. পুতুল নাচের ইতিকথা
  2. দিবারাত্রির কাব্য
  3. পদ্মানদীর মাঝি
  4. আরোগ্য 
ব্যাখ্যা

• 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পুতুল নাচের ইতিকথা'। 
- 'পুতুল নাচের ইতিকথা' উপন্যাস সম্পর্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন- "সাহিত্যিকেরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।" 
- এই উপন্যাসে সেই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োগ আছে। 
- এই উপন্যাসে 'পুতুল' বলতে সেসকল মানুষকে বোঝানো হয়েছে যারা চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে দাড়াতে পারে না; পুতুলের মতো অন্যের অল্প ধাক্কাতেই চালিত হয়। 
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শশী, কুসুম, গোপাল, সেনদিদি, যাদব পণ্ডিত ইত্যাদি। 
- ‘শরীর! শরীর! তোমার মন নাই, কুসুম?’ উক্তিটি উপন্যাসে ডাক্তার শশী কুসুমকে উদ্দেশ্য করে বলে।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
-  মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

ছোটগল্প:
- অতসী মামী
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪২৪.
নারী বিষয়ক পত্রিকা 'বেগম' এর প্রথম সম্পাদক কে?
  1. ক) নূরজাহান বেগম
  2. খ) সুফিয়া কামাল
  3. গ) বেগম রোকেয়া
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• নারী বিষয়ক পত্রিকা 'বেগম' এর প্রথম সম্পাদক সুফিয়া কামাল। 

• বেগম বাংলার প্রথম সচিত্র মহিলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের  আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ১৯৫০ সালে বেগম ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
- বেগমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন  
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,৪২৫.
নিচের কোনটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য?
  1. ক) ডাকার্ণব
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  3. গ) চর্যাপদ
  4. ঘ) সেক শুভোদয়া
ব্যাখ্যা
- অশুদ্ধ বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায় মিশ্রিত একটি গ্রন্থ হল-সেক শুভোদয়া
- এটি সংস্কৃত গদ্যপদ্যে লেখা চম্পুকাব্য।
- আরেকটি গদ্যপদ্য মিশ্রিত চম্পুকাব্য হচ্ছে শূন্যপুরাণ।

• সেক শুভোদয়া:
- এটি রাজা লক্ষণ সেনের সভাকবি হলায়ূধ মিশ্র রচনা করেন।
- গদ্য ও পদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে ২৫টি অধ্যায় আছে।
- গ্রন্থটিতে বেশকিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
- গ্রন্থটিতে প্রচুর ভুল সংস্কৃত ব্যবহার থাকায় ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় একে 'dog sanskirt' বলেছেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১,৪২৬.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম্' এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষান্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৭.
জীবনানন্দ দাশ এর প্রকাশিত প্রথম কবিতা কোনটি?
  1. ঝরাপালক
  2. মহাপৃথিবী
  3. বনলতা সেন
  4. বর্ষ-আবাহন
ব্যাখ্যা
• ‘বর্ষ-আবাহন’ জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রকাশিত কবিতা। 

• জীবনানন্দ দাশ: 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দের কাব্যচর্চার শুরু অল্পবয়স থেকেই।
- স্কুলে ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা ‘বর্ষ-আবাহন’ ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় (বৈশাখ ১৩২৬/এপ্রিল ১৯১৯) প্রকাশিত হয়।
- মূলত কবি হলেও তিনি অসংখ্য  ছোটগল্প, কয়েকটি  উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেন।
- ঔপন্যাসিক ও গল্পকার হিসেবে জীবনানন্দের স্বতন্ত্র প্রতিভা ও নিভৃত সাধনার উন্মোচন ঘটে মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত অসংখ্য পান্ডুলিপিতে।
- উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে মাল্যবান, সুতীর্থ, জলপাইহাটি, জীবনপ্রণালী, বাসমতীর উপাখ্যান ইত্যাদি।
- তাঁর রচিত গল্পের সংখ্যা প্রায় দুশতাধিক।
- কবিতার কথা (১৯৫৫) নামে তাঁর একটি মননশীল ও নন্দনভাবনামূলক প্রবন্ধগ্রন্থ আছে।
- সম্প্রতি কলকাতা থেকে তাঁর গদ্যরচনা ও অপ্রকাশিত কবিতার সংকলনরূপে জীবনানন্দ সমগ্র (১৯৮৫-৯৬) নামে বারো খন্ড রচনাবলি প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৮.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' কী ধরনের রচনা? 
  1. উপন্যাস 
  2. কবিতা  
  3. গল্প 
  4. প্রবন্ধ 
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' প্রবন্ধটি "কমলাকান্তের দপ্তর" রচনা থেকে গৃহীত হয়েছে।

• 'বিড়াল' প্রবন্ধ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
- প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, ঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

--------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪২৯.
সনেটের প্রথম অংশকে কী বলে?
  1. অষ্টক
  2. ষষ্টক
  3. ষষ্ঠী
  4. ত্রিপদী
ব্যাখ্যা
• সনেট (Sonnet): 
- গীতিকবিতার যে রূপটি চৌদ্দ চরণ এবং চৌদ্দ মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত হয় তাকে চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেট বলে ।
- কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত হয়। 
- একটি আদর্শ সনেটের দুটি অংশ থাকে। যেমন: অষ্টক ও ষটক। 
-  প্রথম ৮ চরণকে অষ্টক (Octave) এবং শেষ ৬ চরণকে ষটক (Sestet) বলা হয়।
- সনেটের জনক - ইতালীয় কবি পেত্রার্ক। 
- বাংলা ভাষায় প্রথম সনেট রচনা করেন - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩০.
'মোস্তফা চরিত' রচনা করেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. ওয়াজেদ আলী
  4. মনিরুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ আকরম খাঁ:
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তিনি বাংলাসহ আরবি, উর্দু, পারসি ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত দুটি স্বল্পস্থায়ী দৈনিক পত্রিকার নাম: উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১)।
- তাঁর সাংবাদিক জীবনের কীর্তি 'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা (১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- মোস্তফা চরিত,
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩১.
'মুজিব লেলিন ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) আসাদ চৌধুরী
  3. গ) শওকত আলী
  4. ঘ) মহাদেব সাহা
ব্যাখ্যা
'মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।

বাংলাদেশের কবিদের কবি নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরীর জম্ম ১৯৪৫ সালের ২১ জুন।
- নির্মলেন্দু গুণের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে

তাঁর রচিত আরো কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো-
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর দু্ঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- বাংলার মাটি বাংলার জল,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩২.
"ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি?"- কোন কবির লেখা?
  1. আব্দুল হাকিম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

• "ওরে বাছা মাতৃকোষে রতনের রাজি, 
এ ভিখারী দশা তবে কেন তোর আজি।"- আলোচ্য পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'বঙ্গভাষা' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে। 
- 'বঙ্গভাষা' কবিতাটি একটি সনেট এবং এটি কবির ''চতুর্দশপদী কবিতাবলী''র অন্তর্ভূক্ত।

বঙ্গভাষা- 
মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

"হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;--
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি।
অনিদ্রায়, নিরাহারে সঁপি কায়, মনঃ,
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্যে বরি;--
কেলিনু শৈবালে; ভুলি কমল-কানন!

স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে--
“ওরে বাছা, মাতৃকোষে রতনের রাজি,
এ ভিখারী-দশা তবে কেন তোর আজি?
যা ফিরি, অজ্ঞান তুই, যা রে ফিরি ঘরে!”
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃ-ভাষা-রূপে খনি, পূর্ণ মণিজালে॥"

উৎস: বঙ্গভাষা, মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

১,৪৩৩.
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যের কোন শাখায় অবদানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত?
  1. ছোটোগল্প
  2. নাটক
  3. ছড়া
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর: গ) ছড়া।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
সুকুমার বড়ুয়া বাংলা সাহিত্যে বিশেষভাবে পরিচিত ছড়াকার হিসেবে। তিনি মূলত শিশুসাহিত্য ও ছড়ার জগতে স্বতন্ত্র স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর ছড়ায়—
- শিশুমনের স্বাভাবিক কৌতুক ও কল্পনা;
- সহজ, সাবলীল ও সুরেলা ভাষা;
- ছন্দের নিপুণ ব্যবহার;
- শিক্ষামূলক অথচ আনন্দমুখর ভাব;
—স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

তিনি ছোটোগল্প বা উপন্যাস রচনায় পরিচিত নন, নাটক রচনাতেও তাঁর প্রধান খ্যাতি নেই। বরং ছড়ার মাধ্যমেই তিনি পাঠকসমাজে সুপরিচিত ও স্বীকৃত।
-----------------
• সুকুমার বড়ুয়া:

- জন্ম ১৯৩৮ সালের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানায়।
- ছড়া লিখে সুকুমার বড়ুয়া 'ছড়ারাজ', 'ছড়াশিল্পী', 'ছড়াসম্রাট' ইত্যাদি নানা অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে।
- মৃত্যু: ২ জানুয়ারি ২০২৬ সালে।

উল্লেখ্য,
সুকুমার বড়ুয়ার প্রথম বই - "পাগলা ঘোড়া" প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে।
১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর ছড়ার বই - ভিজে বেড়াল।
আর ওই দুটি বইয়ের জন্যই তিনি ১৯৭৭ সালে অর্জন করেন ‘বাংলা একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার’।

তাঁর ১৮টি বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -
- পাগলা ঘোড়া,
- ভিজে বেড়াল,
- চন্দনা রঞ্জনার ছড়া,
- সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া;
- এলোপাতাড়ি,
- নানা রঙের দিন,
- চিচিং ফাঁক । 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট; দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

১,৪৩৪.
চর্যাপদের পুঁথির সূচনায় প্রাপ্ত সংস্কৃত শ্লোকের ইঙ্গিত অনুসারে এর মূল নাম কী?
  1. বৌদ্ধগান ও দোহা
  2. চর্যাগীতিকোষ
  3. সহজিয়া গীতি
  4. চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৩৫.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অশ্রুমালা
  2. মহাশ্মশান
  3. অমিয়ধারা
  4. বিরহবিলাপ
ব্যাখ্যা

• বিরহবিলাপ:
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' (১৮৭০)।
- তবে অনেক সমালোচকই কাব্যটির নাম 'বিরহ বিলাস' বলেছেন।
- কবি অবশ্য বলেছেন, আমি যখন তেরো বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার 'বিরহবিলাপ' নামক ক্ষুদ্র একখানা কাব্য প্রকাশিত হয়।
- কাব্যগ্রন্থটি আজ দুষ্প্রাপ্য।

• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- কুসুমকানন,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৩৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. ভারতী
  3. সাধনা
  4. হিতবাদী
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প 'দেনাপাওনা' 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

দেনাপাওনা:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প।
- এটি ১৮৯০ সালে 'হিতবাদী' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পণপ্রথা নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের প্রসিদ্ধ গল্প 'দেনাপাওনা'।
- গল্পটির উপসংহারে রামসুন্দর মিত্রের আদরের কন্যা হতভাগ্যা নিরুপমার মৃত্যু বর্ণিত হয়েছে এবং তার স্বামীর বিবাহের সংবাদ জানানো হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪৩৭.
চর্যাপদের কবি ধর্মপা'র গুরু ছিলেন কে?
  1. কাহ্নপা
  2. লুইপা
  3. বীণাপা
  4. বিরুপা
ব্যাখ্যা
ধর্মপা:
- খ্রিষ্টীয় নবম শতকে বিক্রমশীলায় তাঁর অবস্থান ছিল।
- তাঁর গুরু ছিলেন - কাহ্নপা
- চর্যাপদের ৪৭নং পদ তাঁর রচনা।
- এই পদের বিশেষত্ব - এখানে অগ্নিকাণ্ডের প্রতীকে গভীর যোগতত্ত্বের কথা আছে।
 
চর্যাপদ: 
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। 
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় ৪৭টি পদবিশিষ্ট পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। 
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৮.
সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে দক্ষশিল্পী ছিলেন-
  1. আহমদ ছফা
  2. আবুল ফজল
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হন এবং আমৃত্যু এই দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পী সঙ্ঘের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সাহিত্যের মাধ্যমে মার্ক্সের শ্রেণিসংগ্রামতত্ত্বের বিশ্লেষণ এবং মানুষের মনোরহস্যের জটিলতা উন্মোচনে তিনি ছিলেন একজন দক্ষশিল্পী। শহরের পাশাপাশি গ্রামজীবনের দ্বন্দ্বসঙ্কুল পটভূমিও তাঁর উপন্যাস ও গল্পে গুরুত্ব পেয়েছে।

অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গন্থ:
• উপন্যাস:
জননী (১৯৩৫), দিবারাত্রির কাব্য (১৯৩৫), পদ্মানদীর মাঝি (১৯৩৬), পুতুলনাচের ইতিকথা (১৯৩৬), শহরতলী (১৯৪০-৪১), চিহ্ন (১৯৪৭), চতুষ্কোণ (১৯৪৮), সার্বজনীন (১৯৫২), আরোগ্য (১৯৫৩) প্রভৃতি। 

• ছোটগল্প:
অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প (১৯৩৫), প্রাগৈতিহাসিক (১৯৩৭), সরীসৃপ (১৯৩৯), সমুদ্রের স্বাদ (১৯৪৩), হলুদ পোড়া (১৯৪৫), আজ কাল পরশুর গল্প (১৯৪৬), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প (১৯৫০), ফেরিওয়ালা (১৯৫৩) ইত্যাদি।

• পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। পদ্মানদীর মাঝি চলচ্চিত্রায়ণ হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩৯.
‘নীলদর্পণ’ নাটকটি কত সালে এবং কোথা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৬০ সালে কলকাতা থেকে
  2. ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে
  3. ১৮৫৯ সালে কলকাতা থেকে
  4. ১৮৬১ সালে ঢাকা থেকে
ব্যাখ্যা

'নীলদর্পণ' নাটক:
- দীনবন্ধু মিত্রের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ নাটক নীলদর্পণ। এটি বাংলা সাহিত্যে একটি বিখ্যাত নাটক।
- ১৮৬০ সালে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম এবং নাটকটি ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ হয়।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।

দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- এটি নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনী নিয়ে দিনবন্ধু মিত্রের নাটক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে “নীল- দর্পণ” নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর “নীল দর্পন” নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় “নীল দর্পন” নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।
- ১৮৭৩ সালের ১ নভেম্বর তাঁর অকাল মৃত্যু ঘটে।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল-দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৪৪০.
কোন কবি মুকুন্দদাস'কে চারণকবির মর্যাদা দেন?
  1. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  2. আলাওল
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৪১.
দ্বিজ বংশীদাস কোন কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন?
  1. মনসামঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. চণ্ডীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

দ্বিজ বংশীদাস:
- মনসামঙ্গল গ্রন্থটি মধ্যযুগ এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি দ্বিজ বংশীদাস রচিত।
- দ্বিজ বংশীদাস পদ্মাপুরাণ বা মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম কবি ছিলেন।
- তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কাব্যে ‘মঘ-ফিরিঙ্গি’, ‘বন্দুক-পলিতা’ প্রভৃতি শব্দের ব্যবহার দেখে অনেকে মনে করেন, কবি সতেরো শতকে আবির্ভূত হন।
- দ্বিজ বংশীদাস সংস্কৃত, পুরাণ, আগম ও তন্ত্রাদি শাস্ত্রে পন্ডিত ছিলেন।
- সুকণ্ঠ গায়ক হিসেবেও তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- বংশীদাস কবি চন্দ্রাবতীর পিতা। কবি চন্দ্রাবতী রামায়ণের অনুবাদে পিতা বংশীদাসরে পরিচয় তুলে ধরেছেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৪২.
নিচের কোনটি সরদার জয়েন উদ্‌দীন এর ছোটগল্প?
  1. ক) রোদের ঢেউ
  2. খ) নয়ন ঢুলি
  3. গ) বেগম শেফালী মীর্জা
  4. ঘ) সূর্যের আশা
ব্যাখ্যা
নয়ন ঢুলি - সরদার জয়েনউদ্‌দীন এর ছোটগল্প।

সরদার জয়েনউদ্‌দীন ১৯১৮ সালে পাবনা জেলার কামারহাটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মূলত কথাসাহিত্যিক। তিনি ২২শে ডিসেম্বর ১৯৮৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
উপন্যাস:
- আদিগন্ত
- অনেক সূর্যের আশা
- বেগম শেফালী মীর্জা
- রোদের ঢেউ

ছোটগল্প:
- খরস্রোত
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম
- অষ্টপ্রহর

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৩.
কোন কাহিনী অবলম্বন করে মাইকেল মধুসূদন দত্ত “পদ্মাবতী” নাটক রচনা করেন?
  1. হিন্দু পুরাণ
  2. মহাভারতের কাহিনী
  3. গ্রীক পুরাণ
  4. রামায়ণের কাহিনী
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' - নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেটি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়।
- ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প ''Apple of Discord'' এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্রঃ পদ্মাবতী, ইন্দ্রনীল, শচী, মুরজা, রতী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

১,৪৪৪.
'ললিতা তথা মানস' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. উপন্যাস
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ললিতা তথা মানস’।
- তাঁর রচিত প্রথম ও বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’।

• বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ত্রয়ী উপন্যাসগুলো হলো:
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরানী ও
- সীতারাম উপন্যাস।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৫.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রচনা কোনটি?
  1. ক) নয়নচারা
  2. খ) স্বজাতি প্রেম 
  3. গ) অনেক আকাশ
  4. ঘ) নির্ভয় করো হে
ব্যাখ্যা
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী লেখক, বাগ্মী এবং কৃষক নেতা।
তিনি সিরাজগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন (এ কারণেই তিনি তাঁর নামের সঙ্গে ‘সিরাজী’ উপাধি যুক্ত করেন)।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- অনল প্রবাহ
- আকাঙ্ক্ষা
- উচ্ছ্বাস 
- উদ্বোধন
- নব উদ্দীপনা
- স্পেন বিজয় কাব্য
- সঙ্গীত সঞ্জীবনী 
- প্রেমাঞ্জলি 

তাঁর রচিত উপন্যাস 
- রায়নন্দিনী
- তারাবাঈ
- ফিরোজা বেগম
- নূরুদ্দীন 

তাঁর রচিত  প্রবন্ধ 
- স্বজাতি প্রেম 
- তুর্কি নারী জীবন 
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা 

ভ্রমণ কাহিনী: 
 -তুরস্ক ভ্রমণ  

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৪৪৬.
‘ভারতী’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন —
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সরলা দেবী
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৪৭.
কোন গ্রন্থটি সুকান্ত ভট্টাচার্য কর্তৃক রচিত?
  1. ক) ছাড় নেই
  2. খ) পালাবদল
  3. গ) পূর্ব বাংলা
  4. ঘ) পূর্বাভাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬-১৯৪৭) মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী ছিলেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার উনশিয়া গ্রামে।
• মাত্র ২১ বছর বয়সে প্রথমে ম্যালেরিয়া ও পরে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ (সঙ্গীত) ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৪৪৮.
'কবিতার কথা' কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা সংকলন
  3. ভ্রমণকাহিনী
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'কবিতার কথা' প্রবন্ধসংকলন।
-----------------------------------------
কবিতার কথা:
- কবিতার কথা জীবনানন্দ দাশের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- এই প্রবন্ধগ্রন্থটি তাঁর মৃত্যুর পর ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এতে তাঁর জীবদ্দশায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত পনেরটি প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।
- গ্রন্থটি গদ্যরূপে রচিত।
- এই প্রবন্ধে তিনি কবিতা, কবির দায়িত্ব, আধুনিক কবিতা, চিত্রকল্প ইত্যাদি বিষয়ে তাঁর মৌলিক চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরতে চেয়েছেন। 
- এটি কোনো সৃজনশীল কবিতা নয়, এই প্রবন্ধসংকলনে তিনি কবিতার তত্ত্ব ও রূপ নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করেছেন।
---------------------------------------------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
-জীবনানন্দ দাশ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রধান আধুনিক বাঙালি কবি, লেখক ও প্রাবন্ধিক।
- জীবনানন্দ দাশের জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে।
- জীবনানন্দ দাশের কাব্যচর্চা শুরু হয় অল্পবয়স থেকেই।
- ছাত্রাবস্থায় তাঁর প্রথম কবিতা বর্ষ-আবাহন ব্রহ্মবাদী পত্রিকায় ১৯১৯ প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ঝরাপালক প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ নামে পরিচিত।
- তাঁর কবিতায় নিঃসঙ্গতার এক স্বতন্ত্র জগৎ ফুটে ওঠে।
- জীবনানন্দ ছিলেন একজন কালসচেতন ও ইতিহাসচেতন কবি, যিনি অতীত ও বর্তমানকে ইতিহাসচেতনার মাধ্যমে সংযুক্ত করেছেন। - তাঁর উল্লেখযোগ্য কবিতার লাইনগুলিতে প্রকৃতি, মানবিক অনুভূতি এবং ইতিহাসচেতনার গভীরতা ফুটে উঠেছে।
- যেমন:
• বনলতা সেন–এর "চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা"।
• আবার আসিব ফিরে–এর "ধানক্ষেতের আঁধার-মাঝি, চিল"।
• ধূসর পাণ্ডুলিপি–এর "অনেক ফেনার গন্ধ পৃথিবীর পুরোনো ভাঁড়ার ভরে গেছে"।
- যদিও জীবদ্দশায় তিনি খুব পরিচিত ছিলেন না, কিন্তু মৃত্যুর পর বিশেষত ১৯৯৯ সালে জন্মশতবার্ষিকী পালনের পর তার জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

• তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘বনলতা সেন’,
- ‘রূপসী বাংলা’,
- ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’,
- ‘ঝরাপালক’,
- ‘সাতটি তারার তিমির’,
- বেলা অবেলা কালবেলা,
- রূপসী বাংলা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ - কবিতার কথা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪৪৯.
কোনটি 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি?
  1. বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন
  2. দেশে বিদেশে
  3. যে দেশে মানুষ বড়
  4. পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা

 'যে দেশে মানুষ বড়'
- 'জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে পল্লীকবি জসীম উদদীনের ভ্রমণ কাহিনী ‘যে দেশে মানুষ বড়’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে।
- বইটিতে সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কো শহর, লেনিন স্মৃতি মিউজিয়াম, পায়নিয়ার সেন্টার, কৃষিখামার, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও এলাকার বর্ণনা রয়েছে। 
- এছাড়াও, তিনি সেখানে তাজিকিস্তান, সমরকন্দ, দুম্বার মতো স্থানগুলো ভ্রমণ করেন এবং সেখানকার সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থানগুলোর চিত্র তুলে ধরেন।
- বইটি মূলত একটি ভ্রমণকাহিনী যেখানে কবি তাঁর দেখা ও অনুভবের কথা তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে,
- মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ভ্রমণকাহিনি 'বিলাতে সাড়ে সাত শ' দিন'। বইটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

-'পথে প্রবাসে' ভ্রমণকাহিনিটির রচয়িতা অন্নদাশঙ্কর রায়। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে 'বিচিত্রা' পত্রিকায় অন্নদাশঙ্কর রায়ের ইউরোপ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা ভ্রমণকাহিনি 'পথে প্রবাসে' প্রকাশিত হয়।

- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ভ্রমণকাহিনি।দেশে বিদেশে সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত একটি ভ্রমণকাহিনি।এটি ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সালে লেখকের আফগানিস্তানে ভ্রমণ ও অবস্থানের প্রেক্ষিতে রচিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৪৫০.
কোনটি ঐতিহাসিক নাটক?
  1. শর্মিষ্ঠা
  2. রাজসিংহ
  3. পলাশীর যুদ্ধ
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা
• ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ নাটক:
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- ‘মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।

• উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- ইব্রাহিম কার্দি,
- জোহরা,
- হিরণবালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ‘পলাশির যুদ্ধ’ এটি নবীনচন্দ্র সেনের ঐতিহাসিক আখ্যান কাব্য।
• ‘শর্মিষ্ঠা’ মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক।
• ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।

---------------------
• মুনীর চৌধুরী:
- মুনীর চৌধুরী ছিলেন একজন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- মুনীর চৌধুরী শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে বামপন্থী রাজনীতি ও প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

মুনীর চৌধুরীর মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য।

অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না,
- রূপার কৌটা ও
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫১.
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' কে লিখেছেন?
  1. ক) রামমোহন রায়
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) রামরাম বসু
  4. ঘ) উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতিপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১) লিখেছেন রামরাম বসু।
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পাঠ্যপুস্তকের অভাব দূর করার জন্য এই গ্রন্থটি লিখেন৷
তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সাথে আমৃত্যু জড়িত ছিলেন।
তিনি কেরী সাহেবের মুনসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১,৪৫২.
জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. সাতটি তারার তিমির
  2. আবার আসিব ফিরে
  3. বেলা অবেলা কালবেলা
  4. ধূসর পান্ডুলিপি
ব্যাখ্যা
• 'আবার আসিব ফিরে' জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থ নয়। 
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি লিখেছেন জীবনানন্দ দাশ।
- ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতাটি ‘রূপসীবাংলা’ গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে।
- ‘রূপসীবাংলা' কাব্যগ্রন্থটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- কবিতায় মানুষের শিশু ও কিশোর-কালের উল্লেখ আছে।

---------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫৩.
চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম কী?
  1. ভারতচন্দ্র
  2. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. বিজয়গুপ্ত
ব্যাখ্যা
চণ্ডীমঙ্গল:
- চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য 'চণ্ডীমঙ্গল’।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। তিনি ছিলেন চতুর্দশ শতকের কবি।
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে। একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার কাহিনি, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় উপাখ্যানের নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৪.
'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - পঙ্‌ক্তিগুলো রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' উপন্যাস:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:

'আয় চলে আয় রে, ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনে এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
১,৪৫৫.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম কী?
  1. ক) কিশোরী
  2. খ) মালা
  3. গ) বাসন্তী
  4. ঘ) রাখী
ব্যাখ্যা
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসের প্রধান নারী চরিত্রের নাম- 'বাসন্তী'। 

‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস
- উপন্যাসটির রচয়িতা- অদ্বৈত মল্লবর্মণ।  
- উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এ উপন্যাসে তিতাস নামক নদীতীরের ধীবর ( জেলে ও মৎসজীবী) সমাজের রীতি- নীতি, ধর্ম- সংস্কার উৎসব ও জীবনযাপনের কাহিনি বর্ণিত। 
 - ঋত্বিক ঘোটক উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়ণ করেন ১৯৭৩ সালে। 
- উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনো মানুষ নয় একটি নদী, নাম 'তিতাস'।
- উপন্যাসে কিশোর, সুবল, অনন্ত, তিলক, বাসন্তী ও মনমালী চরিত্রের মাধ্যমে লেখক কাহিনী রূপ দিয়েছেন।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ
- ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৬.
'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত কবিতা নয় কোনটি?
  1. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  2. পূজারিণী
  3. অবেলার ডাক
  4. কাণ্ডারী হুঁশিয়ার
ব্যাখ্যা

•'কাণ্ডারী হুঁশিয়ার' কবিতা:
- এই কবিতার প্রেক্ষাপট সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।
- কবিতাটি 'সর্বহারা' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়ছে।

• 'দোলনচাঁপা' কাব্যগ্রন্থ:
- আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, 
- পূজারিণী,
- বেলাশেষে,
- চোখের চাতক,
- অবেলার ডাক,
- অভিশাপ ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও দোলনচাঁপা ও সর্বহারা কাব্যগ্রন্থ।

১,৪৫৭.
'অধ্যাপক রায়হান' চরিত্রটি পাওয়া যায় নিচের কোন উপন্যাসে?
  1. ক) বসত
  2. খ) যাত্রা
  3. গ) ওয়ারিশ
  4. ঘ) দলিল
ব্যাখ্যা
• শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
• উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’। প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
• ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান

-----------------------

শওকত আলী
- শওকত আলীর (জন্ম: ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৬ - ২৫ জানুয়ারি)। জন্মস্থান দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ। 
- একটি ছোট উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ” (১৯৬৪) তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। এর পর প্রকাশিত হয়েছে। দুটি ছােটগল্প সংকলন ও একটি উপন্যাস।
- শিশুকিশোরদের জন্যেও তিনি লিখে থাকেন। বাংলা ছোটগল্পে বিশেষ অবদান রাখার জন্য শওকত আলী বাঙলা একাডেমি পুরস্কার পান ১৯৬৮ সালে।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে। 

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ
- প্রদোষে প্রাকৃতজন
- দক্ষিণায়নের দিন 
- কুলায় কালস্রোত
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
- যেতে চাই
- ওয়ারিশ
- বাসর মধুচন্দ্রিমা
- উওরের খেপ
- বসত
- হিসাবনিকাশ
- দলিল
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: যাত্রা শওকত আলী; কালি ও কলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪৫৮.
রবীন্দ্রনাথের বসন্ত গীতিনাট্য উৎসর্গের ঘটনায় কবি নজরুল উল্লসিত হয়ে কোন কবিতাটি রচনা করেন?
  1. পূজারিণী
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
  4. সালাম অস্তরবি
ব্যাখ্যা
• নজরুল যখন আলীপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তখন রবীন্দ্রনাথ তাঁর বসন্ত গীতিনাট্যটি কবি নজরুলকে উৎসর্গ করেন (২২ জানুয়ারি ১৯২৩)। এ ঘটনায় উল্লসিত নজরুল জেলখানায় বসে তাঁর অনুপম কবিতা ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ রচনা করেন।

• সমকালীন অনেক রবীন্দ্রভক্ত ও অনুরাগী কবি-সাহিত্যিক বিষয়টি ভালো চোখে দেখেন নি। এ ব্যাপারে কেউ কেউ অভিযোগ করলে রবীন্দ্রনাথ তাঁদের নজরুল-কাব্যপাঠের পরামর্শ দেন এবং বলেন, ‘...যুগের মনকে যা প্রতিফলিত করে, তা শুধু কাব্য নয়, মহাকাব্য।’

• পরবর্তীতে 'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটি বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা।

'আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে' কবিতাটির কিছু অংশ-

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে
-কাজী নজরুল ইসলাম
মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে
আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে
বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে!

----------------
অন্যদিকে,
• ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং 'দোলন চাঁপা' কাব্যগ্রন্থ।
১,৪৫৯.
‘বাংলাদেশ কথা কয়’ কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপন্যাস
  2. দিনলিপি
  3. সম্পাদনা গ্রন্থ
  4. মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ কথা কয়:
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর 'বাংলাদেশ কথা কয়' গ্রন্থটি বাংলাদেশের কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ কথাশিল্পীর লেখা গল্পগুলো নিয়ে রচিত সম্পাদনা গ্রন্থ বা প্রামাণ্য চিত্র।

• সম্পাদনাটি নিছক যুদ্ধ-সাহিত্য নয়; বরং বাঙালি জাতীয়মানসের বর্তমান বিপ্লবী প্রতিরোধ চেতনার কয়েকটি রূপরেখা অঙ্কিত হয়েছে এই সম্পাদনায়।

• এত কাছের ঘটনা ও চরিত্র নিয়ে লেখা গল্প সকল সময় গল্প হয়ে ওঠে না। কখনো কখনো প্রামাণ্য চিত্র হয়ে ওঠে। সুতরাং কোনো পাঠক যদি এই গল্পগুলোর প্রত্যেকটিতে সার্থক গল্পের রস অথবা কুশলী হাতে সৃষ্ট চরিত্র ও ঘটনা-সন্নিবেশ খোঁজেন তাহলে নিরাশ হতেও পারেন।

-----------------------------------
• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী:
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১২ই ডিসেম্বর বরিশালে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি -গানের রচয়িতা আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।

• আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী রচিত উপন্যাস:
- চন্দ্রদ্বীপের উপাখ্যান (প্রথম),
- নাম না জানা ভোর,
- নীল যমুনা ও
- শেষ রাত্রির চাঁদ।

• গল্পগ্রন্থ:
- সম্রাটের ছবি,
- কৃষ্ণপক্ষ,
- সুন্দর হে সুন্দর।

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ডানপিটে শওকত।

• তাঁর সম্পাদনা গ্রন্থ:
- বাংলাদেশ কথা কয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘বাংলাদেশ কথা কয়’ সম্পাদনা ।
১,৪৬০.
ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেন রচিত উপন্যাস-
  1. উৎস থেকে নিরন্তর
  2. গায়ত্রী সন্ধ্যা
  3. যাপিত জীবন
  4. খোলকরতাল
ব্যাখ্যা
• 'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- বিজ্ঞান ও বিজ্ঞাপনের এ যুগল মাত্রার, তরঙ্গসস্কুল রাজনৈতিক পটভূমিতে দাঁড়িয়ে নিজের চাষের ভূমিতে প্রতিনিয়ত ঘুরে ঘুরে একজন শিল্পীর অজানা প্রদেশের নিত্য উদ্ভাবন-কর্মের শিল্পীতরূপ 'যাপিত জীবন'।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব। তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

----------------------------
• সেলিনা হোসেন:
- সেলিনা হোসেন খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক।
- সেলিনা হোসেন ১৪ই জুন ১৯৪৭ সালে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর লাভ করেন।
- অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, নারীমুক্তি তাঁর কথাসাহিত্যের মূলগত আখ্যান।
- সাহিত্যক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও ফিলিপ্স সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- হাঙর নদী গ্রেনেড,
- মগ্ন চৈতন্যে শিস,
- যাপিত জীবন,
- চাঁদবেনে,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- দীপান্বিতা ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- উৎস থেকে নিরন্তর,
- খোলকরতাল,
- মুক্তিযুদ্ধের গল্প ইত্যাদি;

• শিশু-কিশোর উপযোগ্য রচনা:
- সাগর,
- বাংলা একাডেমী গল্পে বর্ণমালা,
- বর্ণমালার গল্প,
- জ্যোৎস্নার রঙে আঁকা ছবি,
- চাঁদের বুড়ির পান্তা ইলিশ ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা সাহিত্য, নবম-দশম শ্রেণি এবং 'যাপিত জীবন' উপন্যাস সেলিনা হোসেন।
১,৪৬১.
’বিধ্বস্ত নীলিমা’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. আব্দুল কাদির খান
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- মূলত আধুনিক কবি হিসেবে পরিচিত।
- কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে ১৯৬০ সালে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম গ্রন্থেই তিনি তাঁর কবিপ্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শামসুর রাহমান 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬২.
বৈষ্ণব পদাবলির আদি গ্রন্থ কোনটি?
  1. পদ্মাপুরাণ
  2. গীতগোবিন্দম্
  3. চৈতন্য-চরিত্রামৃত
  4. গীতরত্ন
ব্যাখ্যা

• 'গীতগোবিন্দম্' গ্রন্থ:
- জয়দেবের বিখ্যাত রচনা 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। এটি একটি সংস্কৃত গীতিকাব্য।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা এর মুখ্য বিষয়। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে এটি রচিত। বর্ণিত বিষয়ের তত্ত্বনির্দেশক বারোটি ভিন্ন ভিন্ন নামে সর্গগুলির নামকরণ করা হয়েছে।
- কাব্যের নায়ক-নায়িকা রাধা-কৃষ্ণ হলেও তাঁদের প্রতীকে জীবাত্মা-পরমাত্মার সম্পর্ক এবং নর-নারীর চিরন্তন প্রেমই এর মূল বক্তব্য।
- রাগমূলক গীতসমূহ এ কাব্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। পরবর্তীকালের বাংলা পদাবলি সাহিত্যে এর গভীর প্রভাব পড়েছে।
- বৈষ্ণব সম্প্রদায় ও সাহিত্য-রসিকদের নিকট গীতগোবিন্দম্ এক সময় পরম শ্রদ্ধার বিষয় ছিল।
- গীতগোবিন্দম্-এর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে চরণশেষে অন্তমিল অনুসৃত হয়েছে, যা সংস্কৃত সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রায়শই দুর্লভ।

------------------
• জয়দেব:
- জয়দেব (বার'শ শতক) বাঙালি কবি। তবে তাঁর সাহিত্য ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি -গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন লক্ষ্মণসেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।

অন্যদিকে, 
• নারায়ণ দেব: মনসামঙ্গল কাব্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মাপুরাণ'।
• সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।
• রামনিধি গুপ্তের টপ্পা সংগীত সংকলনের নাম 'গীতরত্ন'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৬৩.
ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক কে?
  1. ক) চণ্ডীদাস
  2. খ) আলাওল
  3. গ) গোবিন্দ দাস
  4. ঘ) বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
- ব্রজবুলি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় কাব্যভাষা বা উপভাষা
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি (আনু. ১৩৭৪-১৪৬০) এর উদ্ভাবক।
- তিনি মৈথিলী ভাষার সঙ্গে বাংলা ভাষার মিশ্রণে এই কৃত্রিম সাহিত্যিক ভাষা উদ্ভাবন করেন।
- বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশই রচিত হয়েছে 'ব্রজবুলি' নামে এক কৃত্রিম মিশ্র ভাষায়।
- ষোল শতকের বাঙালি বৈষ্ণব কবিরা বিদ্যাপতির পদের ভাষা ও ছন্দের অনুকরণে রাধাকৃষ্ণবিষয়ক পদ রচনা করতে শুরু করেন।
- হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সকল বৈষ্ণব কবি এ ভাষায় বহু পদ রচনা করেন। এই ধারা উনিশ শতক পর্যন্ত চলেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী রচনা করেছেন এ ভাষায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬৪.
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে।’ এটি কোন কবির রচনা?
  1. ক) ইদ্রিস আলী
  2. খ) গোবিন্দ চন্দ্র দাশ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) জসীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা
‘বাঁশরী আমার হারিয়ে গেছে বালুর চরে, কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া গাঁয়ের ঘরে। উক্তিটি ’জসীমউদ্দীন' এর রচনা। 
--------------------
উল্লেখ্য,
'বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে' কবিতাটি কবির 'রঙিলা নায়ের মাঝি' গ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।

রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন এর অন্তর্গত সংগীত গুলো: 
- আজ আমার মনে ত না মানেরে।
- আমার বন্ধু বিনোদিয়ারে।
- আরে ও রঙিলা নায়ের মাঝি।
- উজান গাঙের নাইয়া।
- ও আমার গহিন গাঙের নায়া।
- ও তুই যারে আঘাত হানলিরে মনে।
- ও মোহন বাঁশী।
- নদীর নাই-কিনার নাইরে।
-নিশিতে যাইও ফুলবনে। 
- বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে।
- সিন্দুরের বেসাতি।

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
- জসীম উদ্‌দীন

বাঁশরী আমার হারায়ে গিয়েছে
বালুর চরে,
কেমনে ফিরিব গোধন লইয়া
গাঁয়ের ঘরে।
কোমল তৃণের পরশ লাগিয়া,
পায়ের নুপুর পড়িয়াছে খসিয়া।
চলিতে চরণ ওঠে না বাজিয়া
তেমন করে।
কোথায় খেলার সাথীরা আমার
কোথায় ধেনু,
সাঝেঁর হিয়ায় রাঙিয়া উঠিছে
গোখুর-রেণু।
ফোটা সরিষার পাঁপড়ির ভরে
চরো মাঠখানি কাঁপে থরে থরে।
সাঁঝের শিশির দুচরণ ধরে
কাঁদিয়া ঝরে।

উৎস: 
রঙিলা নায়ের মাঝি- গানের সংকলন।
১,৪৬৫.
আবদুল কাদিরের উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কলমসৈনিক
  2. ছান্দসিক কবি
  3. শৈল্পিক কবি
  4. কলমগীর
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'কলমগীর' সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এর উপাধি।

আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

১,৪৬৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত 'বহিপীর' নাটকটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৫ সালে
  3. ১৯৬১ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা

• 'বহিপীর' নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত নাটক 'বহিপীর' ১৯৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গড়ে উঠেছে বহিপীরের সর্বগ্রাসী স্বার্থ ও নতুন দিনের প্রতীক এক বালিকার বিদ্রোহের কাহিনীকে কেন্দ্র করে।
- নাটকের এই কেন্দ্রীয় চরিত্রটির নাম অনুসারেই নাটকের নামকরণ করা হয়েছে বহিপীর।
- এখানে ধর্মকে ভণ্ডবহিপীর ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করে।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- বহিপীর,
- তাহেরা,
- হাতেম,
- আমেনা,
- হাশেম।
-----------------------

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো- 
উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা, 
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- দি আগলি এশিয়ান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- বহিপীর উজানে মৃত্যু,
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,৪৬৭.
'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' গ্রন্থটি কার রচনা?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. কাজী ইমদাদুল হক
  3. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
• 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস':
• মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরীর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে রচিত গ্রন্থ 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস'। 

• স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' দৈনিক বাংলা কাগজে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

• আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৭১ সালের জুন মাস থেকে ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি -এই নয় মাস দেশের বাইরে ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের শিবিরে অনুপ্রেরণা প্রদানকারী হিসেবে কাজ করেছেন। মুজিবনগর সরকারের সাপ্তাহিক মুখপত্র 'জয় বাংলার' নির্বাহী সম্পাদক এবং স্বাধীন বাংলা বেতারে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে তাঁর সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা হয়েছে এই বই। এটা শুধু তাঁর দেশ ত্যাগের পরের কাহিনিই নয়। আগের চারমাসের কাহিনিও এখানে সন্নিবেশিত হয়েছে।

• ১৯৭২ সালে 'দৈনিক বাংলা' প্রত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তোয়াব খান। মুক্তিযুদ্ধ সফল হওয়ার পর আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী দেশে ফিরে এসে, একদিন দৈনিক বাংলা অফিসে যেতেই তোয়াব খান বললেন, আপনি যে নয়মাসের মতো মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হয়ে দেশের বাইরে কাটিয়ে এলেন সে সম্পর্কে একটা ধারাবাহিক লেখা আমাদের দিন। তাঁর অনুরধেই গ্রন্থটি রচনা করা হয়। 

উৎস: 'নিরুদ্দিষ্ট নয়মাস' আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী।
১,৪৬৮.
শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. যাত্রা
  3. কুলায় কালস্রোত
  4. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
ব্যাখ্যা
• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস নয় 'যাত্রা'।

• 'যাত্রা' উপন্যাস: 

- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 
- উপন্যাসটি ১৯৭৬সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

------------------
• শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস- দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।
১,৪৬৯.
‘রেখাচিত্র’ আবুল ফজলের কী ধরণের রচনা?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. দিনলিপি
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ‘রেখাচিত্র’ — আবুল ফজল রচিত একটি — দিনলিপি।  
- ‘রেখাচিত্র’ দিনলিপিটি প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। 

• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক ফজল, আবুল  ১৯০৩ সালের ১ জুলাই  চট্টগ্রাম জেলার  সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার  মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

• তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উল্লেখ্য, 
- ‘রেখাচিত্র’ গল্পের রচয়িতা বুদ্ধদেব বসু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৭০.
জয়নবের চৌতিশা কত শতকের সাহিত্যকর্ম?
  1. চতুর্দশ শতক
  2. পঞ্চদশ শতক
  3. ষোড়শ শতক
  4. সপ্তদশ শতক
ব্যাখ্যা
• 'জয়নবের চৌতিশা' ষোড়শ শতকের সাহিত্যিক নিদর্শন।
• যা ১৫৭০ সালের দিকে রচিত হয়েছে।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- যে পাঁচটি গ্রন্থের জন্য তিনি খ্যাতিমান সেগুলি:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর (১৫৭৫),
- জয়নবের চৌতিশা এবং
- রাগনামা।
- রাগনামাকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম সঙ্গীতবিষয়ক কাব্য মনে করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭১.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।
- তাঁর রচনার বিশেষত্ব ছিল ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৭২.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কে?
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. বাল্মীকি
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা

রামায়ণ:
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - কৃত্তিবাস ওঝা
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য।
- সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি
- গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের নির্দেশে কৃত্তিবাস বাংলায় ''রামায়ণ'' অনুবাদ করেন।

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৭৩.
'পঞ্চগ্রাম' উপনাসের রচয়িতা-
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা ও পঞ্চগ্রাম তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রয়ী উপন্যাস। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উপন্যাস- আরোগ্য নিকেতন, চাপাডাঙ্গার বউ, একটি কালো মেয়ের কথা, সপ্তপদী, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, কবি, কালিন্দী, চৈতালি ঘূর্ণি ইত্যাদি। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,৪৭৪.
বাল্যকালে 'তারা ক্ষ্যাপা' নামে ডাকা হতো কোন লেখক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. শামসুর রাহমান
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো। বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।

- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

অন্যদিকে, 
শামসুর রাহমানের ডাকনাম ছিল বাচ্চু। 

উৎস: কবি নজরুল জীবনী; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭৫.
‘গোরক্ষবিজয়’ কোন ধারার সাহিত্যকর্ম?
  1. নাথ সাহিত্য
  2. লোকসাহিত্য
  3. অনুবাদ সাহিত্য
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'নাথ সাহিত্য' ধারার সাহিত্যকর্ম ‘গোরক্ষবিজয়’।

• নাথসাহিত্য:

- নাথসাহিত্য নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনি ভিত্তিক সাহিত্য।
- এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এই ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো শেখ ফয়জুল্লাহর ‘গোরক্ষবিজয়’।
- রাজা মাণিকচন্দ্রের গান, ময়নামতীর গান বা গোপীচন্দ্রের গান একই ধারার কাহিনি।
- ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানে গার্হস্থ্য জীবনের আধারে যোগজীবনের নির্দেশিকা স্থান পেয়েছে।

• ‘গোরক্ষবিজয়’ কাব্যগ্রন্থ:
- নাথ সাহিত্য ধারার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাহিনি হলো গোরক্ষবিজয়।
- গোরক্ষবিজয় সংক্রান্ত ১৭টির মতো পুথি অবিভক্ত বাংলা থেকে সংগৃহীত হয়েছে।
সংগ্রাহকরা হলেন:
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী (১টি পুথি),
- আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (৮টি পুথি),
- আলি আহমদ (৭টি পুথি) এবং পঞ্চানন মন্ডল (১টি পুথি)।
- এসব পুথির অধিকাংশই খণ্ডিত। পুথি অনুসরণে সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালী সম্পাদিত গ্রন্থের নাম মীনচেতন এবং আবদুল করিম ও পঞ্চানন মণ্ডল সম্পাদিত গ্রন্থের নাম যথাক্রমে গোরক্ষবিজয় ও গোর্খবিজয়।

• শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে। বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- ফয়জুল্লাহর প্রধান তিনটি কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সত্যপীরবিজয় (১৫৭৫), গোরক্ষবিজয় ও গাজীবিজয়।
- এ ছাড়াও তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন।
- উনিশ শতকে ফয়জুল্লাহ নামে একজন দোভাষী শায়ের ছিলেন।
- তাঁর কাব্যের নাম সত্যপীর।
- তিনি হাওড়ার পাঁচনা গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৬.
কোন কবি মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন?
  1. কৃত্তিবাস
  2. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. দ্বিজ বংশীদাস
  4. কাশীরাম দাশ
ব্যাখ্যা

কৃত্তিবাসের রামায়ণ:
- দীর্ঘ সময় ধরে রামায়ণ কাহিনি দেশে দেশে রসসঞ্চার করে এসেছে।
- বাল্মীকির রামায়ণ বাংলায় অনুবাদ করে কবি কৃত্তিবাস মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্যের প্রথম জয়যাত্রা শুরু করেন। কালের আবর্তে এই অমর কবির প্রকৃত সৃষ্টিরূপ, তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় বিলীন হয়ে গেলেও, তিনি তাঁর অমর সৃষ্টির মাধ্যমে যে অবিনশ্বর ঐতিহ্য প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। 
- তাকে ড. সুকুমার সেন 'অসমসাহসিকতার নামান্তর' বলে অভিহিত করেছেন।
- কৃত্তিবাসের কবিকীর্তি আশ্রয় করেই মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে অনুবাদকর্মের সগৌরব সূত্রপাত ঘটেছিল।
- কবির অবদান সম্পর্কে প্রবচনময় ঐতিহ্যের সৃষ্টি হলেও তাঁর মূল সৃষ্টির আস্বাদ লাভ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ভূদেব চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, 'ছাপাখানার কল্যাণে ঘরে ঘরে আদি ও অকৃত্রিম কৃত্তিবাসী রামায়ণের যত বিচিত্র আকারের গ্রন্থ বিরাজ করছে, তার একটিতেও এমন এক ছত্র পাওয়া দুরূহ, নিঃসংশয়ে যাকে কৃত্তিবাসের নিজের রচনা বলে দাবি করা যেতে পারে।'
- এর কারণ হিসেবে মনে করা হয় যে, সে আমলে একাধিক পুঁথি রচনা করা কবির পক্ষে সম্ভব হত না। তাই জনগণের মধ্যে পুঁথির প্রচলন হয়নি, কাব্যের প্রচলন হয়েছে পাঁচালি গানের মাধ্যমে। সে আমলে গায়েনের স্মৃতিশক্তিই ছিল কবিগণের সৃজনকীর্তির শ্রেষ্ঠ ধারক।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৪৭৭.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) নাটক
  3. গ) ভ্রমণ কাহিনী
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের জন্ম ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন।
- তিনি আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন।

নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়;

• নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর;


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত উপন্যাস -
  1. উজানে মৃত্যু
  2. কাঁদো নদী কাঁদো
  3. সুড়ঙ্গ
  4. তরঙ্গভঙ্গ
ব্যাখ্যা
‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাস:
- কাঁদো নদী কাঁদো ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র সমূহ হচ্ছে: মুস্তফা, বদর শেখ, খেদমতুল্লা, কালু মিয়া ইত্যাদি। এইসকল চরিত্রের মাধ্যমে লেখক তুলে ধরেছেন গ্রামীণ ও কুমুরডাঙার শাহরিক পরিবেশ এর বর্ণনা।
- এই উপন্যাসে ধর্মের নামে আচার-সর্বস্বতা, বিজ্ঞানের নামে অদৃষ্টবাদিতা এবং বাস্তবতার নামে স্বপ্ন -কল্পনা ইত্যাদির বিরুদ্ধচারণ দেখা যায়।
- উপন্যাসে ব্যক্তির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সুখ দুঃখ নিয়ে সামষ্টিক অভিজ্ঞান রচিত হয়েছে। এবং নদী হয়ে উঠেছে সামূহিক জীবনবাদী চেতনার প্রতীক।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - তরঙ্গভঙ্গ, সুড়ঙ্গ, উজানে মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৯.
নিচের কোনটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের কাব্যগ্রন্থ নয়?
  1. ক) হযরত মুহাম্মদ
  2. খ) জাতীয় ফোয়ারা
  3. গ) অপূর্ব দর্শন
  4. ঘ) জোহরা
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের জোহরা কাব্যগ্রন্থ নয় এটি উপন্যাস।

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক : 
- তিনি কবি, সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধি লাভ করেন।
- তিনি মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থগুলোর নাম : 
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্বদর্শন , 
- হযরত মুহাম্মদ,
- জাতীয় ফোয়ারা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো নাম : 
- জোহরা
- দরাফ খান গাজী।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর নাম : 
- ফেরদৌসী-চরিত
- মহর্ষি-মনসুর।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮০.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক -
  1. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  2. এক পয়সার বাঁশি
  3. পুতুলের বিয়ে
  4. পদ্মাপাড়
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মাপাড়’ জসীম উদ্‌দীন রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়।
---------------- 
• জসীম উদ্‌দীন:

- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

• তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপাড়,
- বেদের মেয়ে,
- মধুমালা,
- পল্লীবধূ,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ - সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি - জসীম উদ্‌দীনের কাব্যগ্রন্থ।
- পুতুলের বিয়ে - কাজী নজরুল ইসলামের নাটক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮১.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. নয়নচারা
  2. উজানে মৃত্যু
  3. কাঁদো নদী কাঁদো
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস:
- ১৯৬৮ সালে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়। - তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়।
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ - নয়নচারা।
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - উজানে মৃত্যু এবং সুড়ঙ্গ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রাবস্থায় তিনি 'ভরের আলো' নামের হাটে লেখা পত্রিকা সম্পাদন করেন।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮২.
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. তাম্বুল খণ্ড
  2. ছত্রখণ্ড
  3. নৌকাখণ্ড
  4. জন্মখণ্ড
ব্যাখ্যা

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
এগুলো হলো -
- জন্মখণ্ড,
- তাম্বুল খণ্ড,
- দানখণ্ড,
- নৌকাখণ্ড,
- ভারখণ্ড,
- ছত্রখণ্ড,
- বৃন্দাবন খণ্ড,
- কালিয়দমন খণ্ড,
- যমুনা খণ্ড,
- হার খণ্ড,
- বাণ খণ্ড,
- বংশী খণ্ড ও
- বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৮৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর কোন গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার করেন?
  1. শকুন্তলা
  2. বর্ণপরিচয়
  3. আখ্যান মঞ্জরী
  4. বেতাল পঞ্চবিংশতি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতালপঞ্চবিংশতি।
- বাংলায় যতি/ছেদ চিহ্নের প্রবর্তক হলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭) গ্রন্থে প্রথম যতিচিহ্নের ব্যবহার দেখান।

- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তার আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

- বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাসের,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

-ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮৪.
"মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  4. বিদ্যাপতি 
ব্যাখ্যা

• "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"- পঙ্‌ক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'মরণ' কবিতার অন্তর্ভুক্ত। 

----------------------------
• 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্য:

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।

- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।

- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি- "মরণ রে, তুঁহু মম শ্যামসমান।"

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ।

১,৪৮৫.
প্রমথ চৌধুরীর সাথে 'ইন্দ্রাদেবী' কীভাবে সম্পর্কিত ছিলেন?
  1. ভাইয়ের মেয়ে
  2. কন্যা
  3. ভগ্নী
  4. সহধর্মিণী
ব্যাখ্যা

প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী ছিলেন একজন বাঙালি প্রাবন্ধিক, কবি এবং লেখক।
- তাকে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক বলা হয়।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা দুর্গাদাস চৌধুরী ছিলেন জমিদার।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল বীরবল, এবং তিনি নিজেকে “বাংলা সাহিত্যের বীরবল” হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইয়ের মেয়ে ইন্দ্রাদেবীকে বিয়ে করেন।
- তিনি সবুজপত্র পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯১৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি মাসিক সবুজপত্র প্রকাশের মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির সূচনা করেন, যা তাঁর জীবনের সর্বোচ্চ কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা-
• কাব্যগ্রন্থ: সনেট পঞ্চাশৎ।
• গল্পগ্রন্থ: নীললোহিত ও চার ইয়ারি কথা।
• প্রবন্ধগ্রন্থ: তেল নুন লাকড়ি ও বীরবলের হালখাতা।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৬.
'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।' উক্তিটির স্রষ্টা-
  1. ক) জীবনানন্দ দাশ
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত ছোটগল্প পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের প্রধান চরিত্র রতন ও পোস্টমাস্টার।
- এই ছোটগল্পের বিখ্যাত উক্তি, 'জীবনে এমন কত বিচ্ছেদ, কত মৃত্যু আছে, ফিরিয়া ফল কী। পৃথিবীতে কে কাহার।'

উৎস: পোস্টমাস্টার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১,৪৮৭.
"দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কার রচনা?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• "দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" পঙ্‌ক্তিটি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের 'সম্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না' কবিতার অন্তর্গত।
- কৃষ্ণচন্দ্রের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ 'সদ্ভাবশতক' প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- নীতি ও উপদেশমূলক এ কাব্যটি পারস্য কবি হাফিজ ও সাদীর কাব্যাদর্শে রচিত। 

কবিতাটি নিম্নরূপ-

দুঃখ বিনা সুখ হয় না
কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার

কি কারণ, দীন! তব মলিন বদন?
যতন করহ লাভ হইবে রতন।
কেন পান্থ! ক্ষান্ত হও হেরে দীর্ঘ পথ?
উদ্যম বিহনে কার পূরে মনোরথ?
কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে,
দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
মনে ভেবে বিষম-ইন্দ্রিয়-রিপু-ভয়,
হাফেজ! বিমুখ কেন করিতে প্রণয়?

উৎস: 'দুঃখ বিনা সুখ হয় না', কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮৮.
ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. হাসান হাফিজুর রহমান 
ব্যাখ্যা

• ভাষা আন্দোলনকেন্দ্রিক প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” এর সম্পাদক ছিলেন - হাসান হাফিজুর রহমান

• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যসমালোচক।
- তিনি ১৪ জুন ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছিল ‘বিমুখ প্রান্তর’।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যসংকলন “একুশে ফেব্রুয়ারি” (১৯৫৩)–এর সম্পাদক ছিলেন তিনি।
- পরে তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে তিনি “বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ: দলিলপত্র” (১৯৮২–৮৩) সম্পাদনার কাজও পরিচালনা করেন।

- তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• আধুনিক কবি ও কবিতা,
• মূল্যবোধের জন্য, 
• সাহিত্য প্রসঙ্গ, এবং 
• আলোকিত গহ্বর। 

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
• বিমুখ প্রান্তর, 
• প্রতিবিম্ব, 
• অন্তিম শহরের মতো, 
• যখন উদ্যত সঙ্গীন, 
• আর্ত শব্দাবলী, 
• ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী, ও
 • শোকার্ত তরবারি।

- আরো দুটি মৃত্যু তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৯.
নিচের কোনটি সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প?
  1. ওটেন সাহেবের বাংলো
  2. গো হাকিম
  3. নওল কিশোরের দরবারে
  4. পাগলা দাশু
ব্যাখ্যা

• 'নওল কিশোরের দরবারে' সুফিয়া কামাল রচিত শিশুতোষ গল্প।
- গ্রন্থটে ১৯৮২ সালে প্রকাশিত হয়।

• সুফিয়া কামাল:

-'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল মূলত একজন কবি। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- সুফিয়া কামাল বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি ১৯৪৭ সালে প্রকাশিত বেগম পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প সৈনিক বধূ ১৯২৩ সালে বরিশালের তরুণ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

• কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল, ইত্যাদি।

• গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা।

• শিশুতোষ গল্প:
- ইতল বিতল,
- নওল কিশোরের দরবারে।

• ডায়েরি: একাত্তরের ডায়েরী।
• আত্মজীবনী: একালে আমাদের কাল।

অন্যদিকে, 
• 'ওটেন সাহেবের বাংলো'- শওকত ওসমান রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
• 'গো হাকিম' আহমদ ছফা রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
• সুকুমার রায়ের শিশুতোষগ্রন্থ 'পাগলা দাশু'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৯০.
বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচনা করেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আব্দুল হাকিম
  3. কায়কোবাদ
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯১.
বিদ্যাসুন্দরের কাব্য কোন মঙ্গলকাব্যের সাথে জড়িত?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. কলিকামঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
কলিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি' বল্ব।
সুকুমার সেনের মতে, পুরুষ বিদ্যা খুঁজে আর নারী পত্যাশা করে সুন্দর পতির। 
- এই কাহিনির উপর ভিত্তি করেই গত সহস্রাব্দের প্রারম্ভের তিন চার শতাব্দী থেকেই উত্তর- পশ্চিম ভারত সহ পরবর্তীকালে বাংলায় বিদ্যাসুন্দরের কাহিনি প্রচলন।
- কাব্যটির উৎস এগারো শতকের সংস্কৃত কবি বিলহনের চৌরপঞ্চাশিকা। 
- বিদ্যা ও সুন্দরের এই প্রেমকাহিনী অবলম্বনে প্রথমে বাংলা ভাষায় কাব্য রচনা করেন ষোলো শতকের কবি শাহ বিরিদ খান ও দ্বিজ শ্রীধর।
- পরে কৃষ্ণরাম, বলরাম, কবিশেখর,  রামপ্রসাদ সেন,  ভারতচন্দ্র রায় প্রমুখ এ ধারায় কাব্য রচনা করে যশস্বী হন।
- তবে এঁদের মধ্যে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল বা কালিকামঙ্গলই শ্রেষ্ঠ কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯২.
দাদা ভাই'র আসল নাম কি ছিল?
  1. আল-মুতী শরফুদ্দিন
  2. শওকত ওসমান
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন গুপ্ত ও রোকনুজ্জামান খান উভয়ই 'দাদা ভাই' নামে পরিচিত ছিলেন।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম হলো:
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - বনফুল।
• সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - সুবচনী।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৩.
হুমায়ুন কবির রচিত 'নদী ও নারী' কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) গল্প
ব্যাখ্যা
• 'নদী ও নারী' উপন্যাসের রচয়িতা হুমায়ুন কবির। 
- ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং
- একই বছর 'Men and Rivers' নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- এ উপন্যাসে তিনি পদ্মা নদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
- ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- স্বপ্নসাধ,
- সাথী ও
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৪.
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. ধাত্রীদেবতা
  2. একটি কালো মেয়ের কথা
  3. হাঁসুলি বাঁকের উপকথা
  4. পঞ্চপুণ্ডলী
ব্যাখ্যা
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে রচিত তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ উপন্যাস।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাঘর,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. জাহান্নম হইতে বিদায়
  2. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  3. ওঙ্কার
  4. জন্ম যদি তব বঙ্গে
ব্যাখ্যা
-  মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গল্পগ্রন্থ- জন্ম যদি তব বঙ্গে।
- এটি শওকত ওসমান রচিত 'জন্ম যদি তব বঙ্গে' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্প।
- গ্রন্থটি ১৯৭৫ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• আহমদ ছফার ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস - ওঙ্কার।
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যনাট্য - পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়।
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৬.
‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শাহেদ আলী
  2. আবুল ফজল
  3. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা


• ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থ: 

- রচয়িতা: শাহেদ আলী। 
- প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে।
এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য গল্প: 
- ঐ যে নীল আকাশ,
- ফসল তোলার কাহিনী,
- জিবরাইলের ডানা, 
- এলোমেলো।
-------------------- 
• শাহেদ আলী:

- তিনি ভাষা সৈনিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও লেখক ।
- শাহেদ আলী সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় মাহমুদপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯২৫ সালের ২৪ মে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শাহেদ আলী পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন।
- ৯৪০ সালে তিনি যখন মাত্র অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত, তখন তাঁর প্রথম গল্প ‘অশ্রু’ মাসিক সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ‘জিবরাইলের ডানা’ গল্পগ্রন্থের জন্য তাঁর অনেক খ্যাতি রয়েছে।
- তাঁর একমাত্র নাটিকা বিচার (১৯৮৭) নাট্যমহলে সমাদৃত হয়।
- ১৯৪৮ সাল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সৈনিক (ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র)-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শাহেদ আলী ঢাকা ও কলকাতার সাময়িকীতে লিখতেন। 

তাঁর রচিত ছয়টি গল্পগ্রন্থ:
- জিবরাইলের ডানা,
- একই সমতলে,
- শা’নযর,
- অতীত রাতের কাহিনী,
- অমর কাহিনী এবং
- নতুন জমিদার।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৭.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দীর্ঘ ১২ বছর নিযুক্ত ছিলেন কোন পঞ্চপাণ্ডব?
  1. বিষ্ণু দে
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য। 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৮.
আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) কাশবনের কন্যা
  3. গ) কুচবরণ কন্যা
  4. ঘ) কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
'ধানকন্যা' আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত গল্পগ্রন্থ।

- আলাউদ্দিন আল আজাদ শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- জন্ম ৬ মে ১৯৩২ সালে, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গল্পগন্থ:
- জেগে আছি,
- ধানকন্যা 
- মৃগনাভি,
- অন্ধকার সিঁড়,
- যখন সৈকত,
- আমার রক্ত আমার স্বপ্ন,
জীবন জমিন প্রভৃতি।

কাবগ্রন্থগুলি:
- মানচিত্র 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ 

উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
- কর্ণফুলী
- শীতের শেষরাত বসন্তের প্রথমদিন
- ক্ষুধা ও আশা 
- শ্যামল ছায়ার সংবাদ 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৯.
অচলা ও সুরেশ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. ক) পল্লীসমাজ
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) দত্তা
  4. ঘ) চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা

অচলা, সুরেশ ও মহিম শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গৃহদাহ উপন্যাসের রচিত্র।
নরেন ও রমা দত্তা উপন্যাস,
সতীশ ও কিরণময়ী চরিত্রহীন উপন্যাস এবং
রমেশ ও রমা পল্লীসমাজ উপন্যাসের চরিত্র।
(সূত্রঃ বিষয় বাংলা : ড. সৌমিত্র শেখর)

১,৫০০.
'একটি তুলসী গাছের কাহিনি' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ আলী আহসান
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
• একটি তুলসী গাছের কাহিনি:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর এই গল্পটি ‘দুই তীর ও অন্যান্য গল্প' (১৯৬৫) গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে।
- দেশভাগের সময় কলকাতা থেকে কিছু সংখ্যালঘু মুসলমান এদেশে এসে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
- কদিনের মধ্যেই তারা জানতে পারে বাড়িটি এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিত্যক্ত। এ বাড়ির লোকেরাও প্রাণভয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে।
- বাড়িতে একটি তুলসী গাছ আবিষ্কার হয়। এরকম কাহিনি নিয়েই গল্পটি সামনের দিকে এগিয়ে গেছে।
- গল্পটির মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে মানুষের নিজস্ব জীবন যখন বিপন্ন ও অর্থহীন, তখন তার পারিপার্শ্বিক অনুষঙ্গসমূহও হয়ে পড়ে গুরুত্বহীন।
- দেখা যায় দেশবিভাগের নির্মম পরিণতিতে সর্বস্বান্ত মানুষের মানবিক মূল্যবোধও পরিস্থিতির কাছে জিম্মি ।

• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:

- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে তাঁর জন্ম।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌র সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। 
- এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা 'ভোরের আলো' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’ ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। 
- তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ১৯৬৫ সালে আদমজি পুরস্কার এবং ১৯৮৩ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের ১০ই অক্টোবর, প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা, 
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।