বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১৪ / ২১১ · ১,৩০১১,৪০০ / ২১,১৩২

১,৩০১.
বিদ্যাপতি কোন শতকের কবি ছিলেন?
  1. চতুর্দশ
  2. পঞ্চদশ
  3. ষোড়শ
  4. ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকণ্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- 'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য - গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে 'মৈথিল কোকিল' বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৩০২.
মৈমনসিংহ গীতিকা কত সালে প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯১০ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯৩০ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩০৩.
'কাবিলের বোন' উপন্যাসের রচয়িতা -
  1. আবুল হোসেন
  2. আহমদ ছফা
  3. আল মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক
ব্যাখ্যা
'কাবিলের বোন' উপন্যাস:
- কাবিলের বোন উপন্যাসটি কবির সবচে’ দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস,পাঁচটি পর্বে বিন্যস্ত।
- এ উপন্যাসটিকে মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস বলা যায়,রাজনৈতিক উপন্যাস ও বলা যেতে পারে,যেখানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্হান,নাগরিক পরিচয়ের সংকট, গণঅভ্যুথান,মুক্তিযুদ্ধ, শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,ছাত্র সমাজের নেতৃত্বের ভূমিকার বিমূর্ত প্রকাশ ঘটেছে।
- পাঠক এ লেখাটি পড়ে আবিষ্ট হবেন,নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের সময় আবিষ্কার করবেন, ১০ নং বনগ্রাম লেনের সেই আবাসটি স্বচোখে হৃদয়ে আঁকতে বাধ্য হবেন।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র সৈয়দ আহমদ কাবিল ও রোকসানা,কাবিলের চাচী রওনক জাহান,আন্দালিব -মোমেনা,রাজনৈতিক অঙ্গনে দাপুটে আঞ্জুমান-মেধাবী নিশার সকলকে ঘিরেই আখ্যানটির আবর্তন।

আল মাহমুদ:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকন্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

তাঁর রচিত আত্মজীবনী:
- যেভাবে বেড়ে উঠি,
- বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৪.
শহীদুল্লা কায়সার তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু করেন কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. সংবাদ
  2. সমকাল
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার ছিলেন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পিতা মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ ছিলেন ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার ও লেখক জহির রায়হান তাঁর অনুজ।

- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক 'ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।
- শহীদুল্লা কায়সার সাহিত্যকর্মের জন্য আদমজি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) এবং বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহৃত হন এবং আর ফিরে আসেন নি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক।

• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত:
পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩০৫.
‘জয়নবের চৌতিশা’ মর্সিয়া সাহিত্য গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মুহম্মদ কবীর
  2. শেখ ফয়জুল্লাহ
  3. মুহম্মদ খান
  4. নওয়াজিস খান
ব্যাখ্যা
• মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়োগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমাদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- শেখ ফয়জুল্লাহ ‘মর্সিয়া-সাহিত্যে'র আদিকবি। তাঁর গ্রন্থের নাম ‘জয়নবের চৌতিশা’। 
- ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

• মর্সিয়া সাহিত্যের একজন হিন্দু কবি হচ্ছেন রাধারমণ গোপ। তাঁর রচিতগ্রন্থ:
- ইমামগণের কেচ্ছা,
- আফৎনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৬.
'পরশুরাম' ছন্মনামে পরিচিত-
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. সমরেশ বসু
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম

অন্যদিকে,
সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩০৭.
‘হানিফার লড়াই’ এর এর রচয়িতা কে?
  1. ক) আব্দুল হাকিম
  2. খ) মুহম্মদ মুকীম
  3. গ) ফকীর গরীবুল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ হামজা
ব্যাখ্যা

সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি আব্দুল হাকিম।
তার ৫টি কাব্য পাওয়া যায়।
যথাঃ ইউসুফ-জোলেখা, নূরনামা, দুররে মজলিশ, লালমোতি সয়ফুলমুলুক, হানিফার লড়াই।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৩০৮.
'মৌমাছি' কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. বিমল মিত্র
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
বিমল ঘোষের  ছদ্মনাম - 'মৌমাছি'।

অন্যদিকে,
- বিমল মিত্র এর  ছদ্মনাম - জাবালি।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর  ছদ্মনাম - যাযাবর।
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর  ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩০৯.
বুদ্ধদেব বসু কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. কুমিল্লা
  2. বিক্রমপুর
  3. ফরিদপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক। রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে 'সব্যসাচী লেখক' বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
অভিনয়, অভিনয় নয়, রেখাচিত্র, হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• উপন্যাস:
তিথিডোর, সাড়া, সানন্দা, লালমেঘ, পরিক্রমা, কালো হাওয়া, নির্জন স্বাক্ষর, নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
কঙ্কাবতী, দময়ন্তী, মর্মবাণী, যে আঁধার আলোর অধিক।

• নাটক:
মায়া মালঞ্চ,  তপস্বী ও তরঙ্গিনী, কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১০.
"মরমি কবি" উপাধি কার?
  1. আবদুল করিম
  2. হাছন রাজা
  3. আবদুল কাদির
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
হাছন রাজা:
- তিনি ছিলেন মরমি কবি, সাধক।
- তাঁর প্রকৃত নাম দেওয়ান হাসন রজা চৌধুরী।
- ১২৬১ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ (১৮৫৪ সালের ২৪ জানুয়ারি) সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সহজ-সরল সুরে আঞ্চলিক ভাষায় প্রায় এক হাজার আধ্যাত্মিক গান রচনা করেন।
- তাঁর সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একবার ভারতীয় দর্শন কংগ্রেসের অধিবেশনে সভাপতির ভাষণে বলেছিলেন, 'পূর্ববঙ্গের একজন গ্রাম্য কবির গানে দর্শনের একটি বড় তত্ত্ব পাই সেটি এই যে, ব্যক্তিস্বরূপের সহিত সম্বন্ধসূত্রেই বিশ্ব সত্য।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩১১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যকে ‘রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব’ বলা হয়?
  1. সোনার তরী
  2. মানসী
  3. চিত্রা
  4. বলাকা
ব্যাখ্যা

• মানসী:
- 'মানসী' (১৮৯০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যকলার পূর্ণপ্রতিষ্ঠামূলক কাব্যগ্রন্থ।
- তাই কবি বুদ্ধদেব বসু 'মানসী' কাব্যকে রবীন্দ্র-কাব্যের অণুবিশ্ব বলেছেন।
- এখানে বৃহৎ প্রকৃতির প্রভাব কবির আবেগ ও অনুভুতির উপর ক্রিয়াশীল। 
- মানসীর কবিতাগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: একদিকে অতীত জীবনের পিছুটানমূলক কবিতা, অন্যদিকে নবযৌবনের নিরুদ্ধ কর্ম-উদ্দীপনার খরদীপ্তি।
- 'নিষ্ফল কামনা' এই গ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কবিতা।
- এছাড়াও আছে দুরন্ত আশা, ভুলভাঙ্গা, কুহুধ্বনি, সুরদাসের প্রার্থনা, মেঘদূত, অহল্যার প্রতি, আত্মসমর্পণ ইত্যাদি কবিতা।

মানসী সম্পর্কে সমালোচকদের গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য : 
• ‘কবির সঙ্গে একজন শিল্পী এসে যোগ দিলো।’
• ‘মানসী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অণুবিশ্ব।’

গুরুত্বপূর্ণ কবিতা :
- সিন্ধুতরঙ্গ,
- নিষ্ফল কামনা,
- নারীর উক্তি,
- পুরুষের উক্তি,
- বধূ,
- ব্যক্তপ্রেম,
- গুপ্ত প্রেম,
- অনন্তপ্রেম,
- বর্ষার দিনে,
- সুরদাসের প্রার্থনা,
- মেঘদূত,
- অহল্যার প্রতি।

উৎস : রবীন্দ্র রচনাবলি, রবীন্দ্র কাব্য পরিক্রমা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।

১,৩১২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. বিজলী
ব্যাখ্যা

-  কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা নয়- 'বিজলী' পত্রিকা
- এ পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:

- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৩১৩.
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের বৈশেষিক লক্ষণ নয় -
  1. ক) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য
  2. খ) গীতিকবিতা
  3. গ) শব্দালংকার
  4. ঘ) পারত্রিকতা
ব্যাখ্যা

উনিশ শতক হচ্ছে বাঙালির নবজাগরণের যুগ। এ সময় বাঙালি-প্রতিভার সর্বতোমুখী বিকাশ ঘটে এবং জাতি হিসেবে বাঙালির অভ্যুদয়ের সর্ববিধ প্রচেষ্টারও সূত্রপাত ঘটে। এ যুগেই একটি শক্তিশালী সাহিত্যেরও সৃষ্টি হয়।
এ সময়ের বাংলা সাহিত্যের প্রধান কয়েকটি বিশেষত্ব হচ্ছে:
ক. শক্তিশালী গদ্য-সাহিত্যের সৃষ্টি ও তার অসাধারণ বিকাশ;
খ. উনিশ শতকের প্রথম পঞ্চাশ বছরের গদ্য-সাহিত্যে সংস্কৃত পন্ডিতদের প্রভাব;
গ. বিশ্বসাহিত্য ও বিশ্বের আধুনিক চিন্তাধারার সঙ্গে বাংলা সাহিত্যের নিবিড় সংযোগ;
ঘ. জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সাহিত্য সৃষ্টি;
ঙ. সাময়িক সাহিত্য সৃষ্টি;
চ. মান-বাংলা হিসেবে চলিত ভাষার সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ ও পরবর্তী ধারায় এর ক্রমবর্ধিষ্ণু প্রভাব;
ছ. কাব্য-সাহিত্যের অসামান্য উন্নতি;
জ. সর্বদেশীয়, সর্বকালীয় ও সর্বজাতীয় সার্বভৌম সাহিত্য সৃষ্টির আদর্শ এবং
ঝ. জাতীয় জীবনে সাহিত্যের প্রভাব সর্বাধিক অনুভূত হওয়া এবং সাহিত্যই যে জাতীয় চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানদন্ড এ সত্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া।

তবে আধুনিক যুগের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সম্ভবত এর স্বাতন্ত্র্যবাদ। কারণ শুরুতে অনেকেই গোষ্টী হিসেবে সাহিত্য রচনায় অংশ নিলেও সবাই শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি হিসেবেই প্রতিষ্ঠা পাওয়ার প্রয়াস চালিয়ে গেছেন। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৩১৪.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. রামরাম বসু
  2. উইলিয়াম কেরী
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার
  4. গোলোকথান শর্মা
ব্যাখ্যা
• রামরাম বসু:
- রামরাম বসু- ১৭৫৭ সালে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- কেরী সাহেবের মুনশি হিসাবে খ্যাত ছিলেন রামরাম বসু।
- 'লিপিমালা' রচনা করেছেন- রামরাম বসু।
- ১৮০১ সালের মে মাসে ফোর্ট উইলিয়ম কলেজে কেরীর অধীনে বাংলা বিভাগের সূচনা হলে, রামরাম সেখানে সহকারী মুন্সি হিসেবে নিযুক্ত হন।
- রামরাম বসু রচিত গ্রন্থ 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' (১৮০১)।
- এই গ্রন্থটি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম কোন গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৫.
'শেষ রাত্রির তারা' একটি -
  1. ক) ছোটোগল্প
  2. খ) উপন্যাস
  3. গ) নাটিকা
  4. ঘ) গীতিকা
ব্যাখ্যা
‘শেষ রাত্রির তারা’ আবু জাফর শামসুদ্দিন রচিত ছোটগল্প।
Source: LiveMCQ Lecture
১,৩১৬.
ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির কবি ছিলেন-
  1. জয়দেব
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।

--------------
• বিদ্যাপতি:
মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
'মৈথিল কোকিল' বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। 

• জয়দেব সংস্কৃত ভাষার কবি। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন।

• মুকুন্দরাম চক্রবর্তী চণ্ডীমঙ্গল কাব্য ধারার কবি ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৭.
ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক কে?
  1. ক) কৃত্তিবাস ওঝা
  2. খ) কবীন্দ্র পরমেশ্বর
  3. গ) শ্রীকর নন্দী
  4. ঘ) মালাধর বসু
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয় মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ। 
- মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায় রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
- কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন। সুলতান বারবক শাহ (১৪৫৯-৭৪) অথবা সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩১৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য কোনটি?   
  1. ব্রজাঙ্গনা 
  2. বাঁধন-হারা
  3. বীরাঙ্গনা 
  4. মেঘনাদবধ 
ব্যাখ্যা

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বীরাঙ্গনা কাব্য। 

অন্যদিকে, 
- কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস ‘বাঁধন-হারা'।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। 

• বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যে 'বীরাঙ্গনা' কাব্যটি প্রথম পত্রকাব্য।
- এটি ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয়।
- রোমান কাব্য ‘হেরোইদাইদস’ কাব্যের অনুসরনে রচিত ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’ বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রকাব্য।
- এই কাব্যে মোট ১১টি পত্র রয়েছে।
- কাব্যে জনা, কৈকেয়ী, তারা প্রমুখ পৌরাণিক নারী তাদের স্বামী বা প্রেমিকদের নিকট নিজেদের কামনা-বাসনা ও চাওয়া-পাওয়ার কথা নির্ভীকচিত্তে প্রকাশ করে।
- কাব্যটিতে নারী চরিত্রে এরূপ দৃঢ়তার প্রকাশ বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে আর কারও রচনায় প্রত্যক্ষ করা যায় না।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।
- অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি।

তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মগুলো:
 নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী, 
- কৃষ্ণকুমারী।

কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা, 
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলাপিডিয়া।

১,৩১৯.
'সারাবেলা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ইমদাদুল হক মিলন
ব্যাখ্যা
• 'সারাবেলা' উপন্যাসের রচয়িতা - ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন:
- জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ বিক্রমপুরে জন্ম।
- তাঁর রচিত প্রথম গল্প ‘বন্ধু’ ১৯৭৩ । প্রথম উপন্যাস ‘যাবজ্জীবন' ১৯৭৬। বাংলাদেশে সাহিত্যের পাঠক সৃষ্টিতে তাঁর ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
- তাঁর রচিত তিন পর্বের দীর্ঘ উপন্যাস 'নূরজাহান' কালজয়ী সাহিত্য হিসেবে গণ্য।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দুঃখ কষ্ট,
- ও রাধা ও কৃষ্ণ,
- এক দেশ,
- প্রিয় নারী জাতি,
- ভূমিপুত্র,
- পরবাস,
- নায়ক,
- সারাবেলা,
- রূপনগর,
- কালো ঘোড়া,
- নূরজাহান,
- তখন ছিলাম আমি,
- কথা ছিলো,
- আশায় আশায় থাকি,
- কোন কাননের ফুল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৩২০.
গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস-
  1. যাত্রা
  2. মুক্তি
  3. জাল
  4. চৌচির
ব্যাখ্যা

• আবু ইসহাক রচিত গোয়েন্দা ভিত্তিক উপন্যাস 'জাল'।
• উপন্যাসটি বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে রচিত।
• ১৯৫০ সালে সরকারি কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে 'জাল নোট' এর কয়েকটা মামলার তদন্তের ভার পড়েছিলো লেখকের ওপর। সেই অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করেই তাঁর 'জাল' উপন্যাসটি রচিত।
• তাঁর রচিত সামাজিক উপন্যাস- সূর্য দীঘল বাড়ী ও পদ্মার পলিদ্বীপ।
• 'যাত্রা' শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
• 'মুক্তি' উপন্যাসের রচয়িতা আবু জাফর শামসুদ্দীন।
•'চৌচির' উপন্যাসের রচয়িতা আবুল ফজল।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৩২১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম ট্রাজেডি নাটকের রচয়িতা-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. তারাচরণ শিকদার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ১৮৫২ সালেই প্রকাশিত হয় প্রথম ট্রাজেডি নাটক। এর নাম - কীর্তিবিলাস।
- কীর্তিবিলাসের রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত।

অন্যদিকে, 
• ১৮৫২ সালে বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক নাটক 'ভদ্রার্জুন' প্রকাশিত হয়।
- নাটকটির রচয়িতা - তারাচরণ শিকদার। এটি একটি কমেডি নাটক।

• ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয় - বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ট্রাজেডি।
- এর নাম - কৃষ্ণকুমারী। রচয়িতা - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।
১,৩২২.
মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার কত সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন?
  1. ক) ১৮০৩ সালে
  2. খ) ১৮০২ সালে
  3. গ) ১৮০১ সালে
  4. ঘ) ১৮০০ সালে
ব্যাখ্যা
উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ এর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন।
- ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন।
তার রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- হিতোপদেশ,
- রাজাবলী,
- প্রবোধচন্দ্রিকা এবং
- বেদান্তচন্দ্রিকা। 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড.  সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]
১,৩২৩.
কোন ছদ্মনামে আবু জাফর শামসুদ্দীন পত্রিকায় কলম লিখতেন?
  1. ক) দৃষ্টিহীন
  2. খ) বাণভট্ট
  3. গ) জরাসন্ধ
  4. ঘ) অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' (১৯৪৭)।

• তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৪.
কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 
  1. মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  2. ছায়া হরিণ 
  3. রাত্রিশেষে
  4. সারাদুপুর
ব্যাখ্যা

 'রাত্রিশেষে' কাব্যগ্রন্থ:
- কবি আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - 'রাত্রিশেষে'।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে; কলকাতার কমরেড পাবলিশার্স থেকে।
- কাব্যগ্রন্থে চার ভাগে কবিতাগুলো বিন্যস্ত।
- এতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৮ টি।

-----------------------
• আহসান হাবীব:
- আহসান হাবীব একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুর জেলার শংকরপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আহসান হাবীব এর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থের নাম 'সারাদুপুর'।
- ১৯৬৪ সালে ঢাকা থেকে ‘সারা দুপুর’ প্রকাশিত হয়। কাব্যগ্রন্থটিতে মোট কবিতার সংখ্যা ২৬। কাব্যভাষা, ঐতিহ্যান্বেষণ ও বক্তব্য প্রকাশে কবি এখানে পরিপক্ব।

আহসান হাবীব রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ -
- রাত্রিশেষ (প্রথম প্রকাশিত),
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দু'হাতে দুই আদিম পাথর,
- ছায়া হরিণ,
- সারাদুপুর,
- আশায় বসতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৫.
'দশমী' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) সোমেন চন্দ
  3. গ) সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা
সুধীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ- তন্বী, অর্কেষ্ট্রা, ক্রন্দসী, দশমী, সংবর্ত, প্রতিদিন, উত্তর ফাল্গুনী।
এছাড়াও তাঁর দুটি প্রবন্ধগ্রন্থ আছে- স্বগত, কুলায় ও কালপুরুষ। তাঁর অনুবাদগ্রন্থ- প্রতিধ্বনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৬.
কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম কয়টি খণ্ডে মুদ্রিত হয়?
  1. তেরোটি
  2. আটটি
  3. পাঁচটি
  4. তিনটি
ব্যাখ্যা
• রামায়ণ:
- প্রাচীন ভারতীয় সূর্যবংশীয় রাজাদের কাহিনি অবলম্বনে মহর্ষি বাল্মীকি রচিত সংস্কৃত মহাকাব্য।
- কাব্যটি সপ্তখণ্ড সাত খণ্ডে বিভক্ত।
- চতুর্দশ শতকে কৃত্তিবাস ওঝা প্রথম সংস্কৃত রামায়ণের বাংলা অনুবাদ করেন, যা কৃত্তিবাসী রামায়ণ নামে পরিচিত। মধুসুদন দত্ত রামায়ণের অংশ-বিশেষ অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত মেঘনাদবধ কাব্য রচনা করেন। সংস্কৃত রামায়ণকে পৃথিবীর আদি মহাকাব্য বলা হয়।

• কৃত্তিবাস ওঝা’র ‘রামায়ণ’:
- কৃত্তিবাস ওঝা সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাস ওঝার অনুবাদকৃত রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩২৭.
বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ- 
  1. সংস্কৃতির সংকট
  2. সংস্কৃতির ভাঙা সেতু
  3. সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই
  4. সংস্কৃতি কথা
ব্যাখ্যা

• বদরুদ্দীন উমর রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির সংকট।

• বদরুদ্দীন উমর:
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি মূলত অধ্যাপক এবং রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘সংস্কৃতি’ সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি,
- সংস্কৃতির সংকট ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতি কথা।
• শওকত ওসমান রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির চড়াই-উৎরাই।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত গ্রন্থ - সংস্কৃতির ভাঙা সেতু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩২৮.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসে কোন নদীর উল্লেখ রয়েছে?
  1. পদ্মা
  2. বাঁকাল
  3. করতোয়া
  4. মধুমতী
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটিতে বাঁকাল নদীর কথা উল্লেখ আছে। 
---------------------
• ‘কাঁদো নদী কাঁদো’:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘কাঁদো নদী কাঁদো’ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হলো মৃতপ্রায় বাঁকাল নদী এবং নদীর তীরবর্তী ছোট শহর কুমুড়ডাঙ্গার জীবন।
- এখানে ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবন ও তার অন্তর্জীবনের জটিলতা চেতনাপ্রবাহ রীতিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- উপন্যাসে নদীর পলি জমে নাব্যতা হারানো এবং স্টিমারঘাট সরিয়ে যাওয়ার ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন ও দুর্ভোগ দেখানো হয়েছে।
- মুস্তফার মনোজগৎ, তার অবচেতন মনের দ্বন্দ্ব ও সংকট তবারক ভুঁইয়া নামক স্টিমারযাত্রীর বর্ণনার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে।
- এতে চরিত্রদের অন্তর্মনের ভাবনা এবং জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কিত প্রশ্নের মাধ্যমে গল্পের প্রবাহ সৃষ্টি করা হয়েছে।
----------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা (মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস);
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু (সামাজিক উপন্যাস)।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৩২৯.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
• 'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন - অমিয় চক্রবর্তী।

অমিয় চক্রবর্তী:

- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গদ্যরচনা:
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩০.
'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কায়কোবাদ
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'হাতেমতায়ী' কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন - ফররুখ আহমদ। এটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত হয়।
 
ফররুখ আহমদ:
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
 
ফররুখ আহমদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনিরা, 
- নৌফেল ও হাতেম ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩১.
'শিখা' পত্রিকার সাথে কে সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. আবুল হুসেন
  2. আবদুল কাদির
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
•  আবদুল মান্নান সৈয়দ - এ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে,
• আবুল হুসেন, আবদুল কাদির, এবং মুন্সি আহমদ আলী প্রত্যেকেই শিখা পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন এর প্রথম সম্পাদক, আবদুল কাদির এর প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন, এবং মুন্সি আহমদ আলী এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেন। তবে আবদুল মান্নান সৈয়দ এই পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।

----------------- 
শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৩২.
'The Abbey of Bliss' নামে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন কে?
  1. শ্রী অরবিন্দ
  2. রমেশচন্দ্র দত্ত
  3. নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা

'আনন্দমঠ' উপন্যাস:
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিতে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস। এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৩.
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. শওকত আলী
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মুস্তফা মনোয়ার
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'প্রদোষে প্রাকৃতজন' উপন্যাস:
- 'প্রদোষে প্রাকৃতজন' (১৯৮৪) শওকত আলী রচিত একটি উপন্যাস।
- সেন রাজাদের রাজত্বকাল এবং তুর্কি আক্রমণের অব্যবহিত পূর্ব সময়ের পটভূমিতে এই কাহিনি রচিত।
- অত্যাচারী সামস্তবর্গের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে অন্ত্যজ হিন্দু এবং বৌদ্ধের দল।
- এই উপন্যাসের সময় ধরা হয়েছে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকাল।
- সামাজিক বৈষম্য, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন বিশেষ করে আর্য ও অনার্য মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অসাম্য এ উপন্যাসের বিষয়।
- উপন্যাসে কোনো একক ব্যক্তিকে নায়ক করা হয় নি। প্রাকৃতজন অর্থাৎ বাংলার গণমানুষ সমষ্টিগতভাবে এই উপন্যাসে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
- সঙ্গতি বিধানের লক্ষ্যে একাদশ শতাব্দীর অন্তিম কালের ভাষারূপ উপন্যাসে ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে পাঠক উপন্যাসটি পাঠকালে সত্যি যেন লক্ষ্মণ সেনের ওই সময়ে ফিরে যান।

শওকত আলী:
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ,
- যাত্রা,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৩৪.
'লালসালু'- উপন্যাসের কোন চরিত্রটি নারী বিদ্রোহ ও প্রতিবাদের প্রতীক?
  1. রহিমা
  2. আমেনা
  3. জমিলা
  4. হাসুনির মা
ব্যাখ্যা

‘লালসালু’ উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
• ‘লালসালু’ সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ রচিত উপন্যাস। ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত।
• এই উপন্যাসে একদিকে যেমন বাংলার গ্রামজীবনের বাস্তব প্রকৃতি ধরা পড়েছে তার সৌন্দর্য, মাধুর্য ও কঠোরতা নিয়ে; তেমনই রূপায়িত হয়েছে অসংখ্য গ্রামীণ মানুষের জীবন।
• নোয়াখালি অঞ্চল থেকে মজিদ নামের একটি কূটচরিত্র গারোপাহাড়ি অঞ্চলে গিয়ে সেই এলাকার মানুষকে ধর্মের নামে কীভাবে শোষণ করে, সেই বাস্তব চিত্র আছে উপন্যাসটিতে।

• ধর্ম ব্যবসায়ী মজিদ অর্থ ও প্রভাব বৃদ্ধির সঙ্গে অল্পবয়সী দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করে। সে গ্রামের মোড়লদেরও প্রভাবিত করে। পাশের গ্রামে অন্য পিরের আগমন হলে, নিজের দাপট খর্ব হবে বিবেচনায়, তাকে মারধর দিয়ে উচ্ছেদ করে।
• তবে স্বল্পবয়সী স্ত্রী জমিলা কর্তৃক মজিদ লাঞ্ছিত হয়। উপন্যাসে জমিলা বিদ্রোহিণী, প্রতিবাদের প্রতীক।
• 'লালসালু'র একটি বহুমাত্রিক ও কালোত্তীর্ণ উপন্যাস।
• ঔপন্যাসিক ধর্মব্যবসায়ীদের উপলক্ষ করে লিখেছেন: 'খোদার এলেমে বুক ভরে না তলায় পেট শূন্য বলে।'
• উপন্যাসটি 'Tree Without Roots' নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে (১৯৬৭) খ্যাতি অর্জন করে।
• ওয়ালীউল্লাহর পত্নী অ্যান মেরির ‘লালসালু'র ফরাসি অনুবাদের নাম- ল্য অরবরে সামস মায়েমে (১৯৬১)।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মজিদ,
- খালেক ব্যাপারি,
- জমিলা,
- রহিমা,
- আমেনা,
- আক্কাস,
- তাহেরের বাপ,
- হাসুনির মা।

-----------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার।
- তিন ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ফেনি স্কুলের ছাত্রাবস্থায় ‘ভোরের আলো’ নামে হাতে লেখ পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৫ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত কলকাতার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।
- দি আগলি এশিয়ান।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৫.
বন্দে আলী মিয়া কোন শিশুতোষ গ্রন্থেটি লিখেছিলেন?
  1. ময়নামতির চর
  2. জ্ঞানের আলো
  3. অনুরাগ
  4. কুঁচবরণ কন্যা
ব্যাখ্যা
”কুঁচবরণ কন্যা” গ্রন্থেটি লিখেছিলেন - বন্দে আলী মিয়া।

• বন্দে আলী মিয়া :
- বন্দে আলী মিয়া ১৯০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-  তিনি একজন শিশুসাহিত্যিক, কবি, ঔপন্যাসিক ছিলেন।
- ১৭ ই জুন ১৯৭৯ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা :

- কিশোর পরাগ,
- শিশুবার্ষিকী,
- জ্ঞানের আলো,

• তাঁর লিখিত কাব্যগ্রন্থ:
- ময়নামতির চর (১৯৩২)
- অনুরাগ (১৯৩২)।

• শিশুতোষ গ্রন্থ :
- চোর জামাই (১৯২৭)
- মেঘকুমারী (১৯৩২)
- মৃগপরী (১৯৩৭)
- বোকা জামাই (১৯৩৭)
- কামাল আতার্তুক (১৯৪০)
- ডাইনী বউ (১৯৫৯)
- রূপকথা (১৯৩০)
- কুঁচবরণ কন্যা (১৯৬০)
- ছোটদের নজরুল (১৯৬০)
- শিয়াল পন্ডিতের পাঠশালা (১৯৬৩)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং পাবনা সদর উপজেলা ওয়েব সাইট।
১,৩৩৬.
বাংলা সাহিত্যে কার জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে 'জীবনীসাহিত্য' ধারার সূচনা হয়?
  1. শ্রীরামকৃষ্ণ
  2. চণ্ডীদাস
  3. শ্রীচৈতন্যদেব
  4. বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী
ব্যাখ্যা

শ্রীচৈতন্যদেব:
- তিনি ১৪৮৬ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি শনিবার নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন।
- শ্রীচৈতন্যদেব এর প্রকৃত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র। কৃষ্ণ চৈতন্য নামেও তিনি পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রাখা হয় নিমাই।
- শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনীসাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়৷
- বাংলা ভাষায় শ্রীচৈতন্যদেবের প্রথম জীবনী গ্রন্থ হলো বৃদ্ধাবন দাস রচিত 'চৈতন্য-ভাগবত'।
- শ্রীচৈতন্যদেবের দ্বিতীয় জীবনীগ্রন্থ হলো লোচন দাসের 'চৈতন্য-মঙ্গল'৷
- সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল চৈতন্যজীবনী হলো কৃষ্ণদাস কবিরাজের 'চৈতন্য-চরিত্রামৃত'।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৩৭.
'সঞ্চিতা' কবিতা সংকলনে কবিতা ও গান রয়েছে-
  1. ৫৭টি
  2. ৭৮টি
  3. ৮৯টি
  4. ৯৮টি
ব্যাখ্যা

- 'সঞ্চিতা' কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেন বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বুঝবার জন্য এ সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা তাঁর জীবিতাবস্থায় এগুলোকেই তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য সৃষ্টি বলে অনুমোদন করে গেছেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৩৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাল্মীকির জয়
  2. মেঘদূত
  3. তৈল 
  4. বেদের মেয়ে
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি ছিলেন প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।
- হরপ্রসাদ ভট্টাচার্য (শাস্ত্রী)-র জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৮৫৩ সালে নৈহাটি, পশ্চিমবঙ্গে। এ পরিবারের আদি নিবাস ছিল খুলনা জেলার কুমিরা গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন।
- তিনি বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ 'চর্যাপদ' নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। 
- তিনি ১৮৯৮-তে 'মহামহোপাধ্যায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডি.লিট (১৯২৭) লাভ করেন।
- ১৯৩১ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে (উপন্যাস),
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উল্লেখ্য,
'বেদের মেয়ে' নাটকটির রচয়িতা পল্লিকবি জসীমউদ্‌দীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৩৩৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাস কোনটি?
  1. কি চাহু শঙ্খচিল
  2. নূরলদীনের সারা জীবন
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার। এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে।
পিতার হত্যার-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা।সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে।

- পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে। এভাবেই গল্পের কাহিনি অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

অন্যদিকে, 
• মমতাজ উদ্দিন আহমেদ 'কি চাহু শঙ্খচিল' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক। 
• সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য । রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ 'নরকে লাল গোলাপ' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'হৈমন্তী' গল্প প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়? 
  1. শিখা
  2. সবুজপত্র
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
হৈমন্তী: 
- ‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি ছোটগল্প। 
- 'হৈমন্তী' গল্পে 'হৈমন্তী'র ডাকনাম ছিলো শিশির। 
- 'হৈমন্তী' ছোটগল্পটি মাসিক সবুজপত্র পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এটি রবীন্দ্রনাথের সমাজ সমস্যামূলক ছোট গল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- এটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো - 
• হৈমন্তী (শিশির), 
• গৌরীশংকর, 
• অপু, 
• বনমালী প্রমুখ। 

এই গল্পের কিছু বিখ্যাত উক্তি- 
- জ্যৈষ্ঠের খররোদ্রই তো জ্যৈষ্ঠের অশ্রুশূণ্য রোদন। 
- আমি পাইলাম ইহাকে পাইলাম। 
- সে আমার সম্পত্তি নয়, সে আমার সম্পদ ইত্যাদি। 

রবীন্দ্রনাথের কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো: 
- বিসর্জন, 
- রাজা, 
- অচলায়তন, 
- চিরকুমার সভা, 
- রক্তকরবী, 
- তাসের দেশ, 
- বনফুল, 
- মানসী, 
- চিত্রা। 

উৎস: হৈমন্তী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৪১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন ছোটগল্পে মুসলিম চরিত্র পাওয়া যায়?
  1. নষ্টনীড়
  2. ল্যাবরেটরি
  3. একরাত্রি
  4.  ক্ষুধিত পাষাণ
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পগুলোর মধ্যে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮টি গল্পে মুসলিম প্রসঙ্গ ও চরিত্রের দেখা পাওয়া যায়। এগুলো হল:  
১. দুরাশা,
২. রীতিমত নভেল,
৩. দলিয়া,
৪. কাবুলিওয়ালা,
৫. সমস্যাপূরণ,
৬. ক্ষুধিত পাষাণ,
৭.  মুকুট,
৮. মুসলমানীর গল্প।

'ক্ষুধিত পাষাণ':
'ক্ষুধিত পাষাণ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি বিখ্যাত ছোটগল্প, যা ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি রহস্য, রোমাঞ্চ, প্রেম ও বিষাদের এক মনস্তাত্ত্বিক গল্প, যেখানে একজন সরকারি কর্মচারী এক পরিত্যক্ত প্রাসাদে থাকতে গিয়ে অতীতের প্রেতাত্মা ও এক রহস্যময়ী পারস্য বালিকার দ্বারা আবিষ্ট হন, যা বাস্তব ও কল্পনার সীমানাকে ঝাপসা করে তোলে এবং অবশেষে অতৃপ্ত বাসনার ফাঁদে পড়ে সেই প্রাসাদেই হারিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। 

'ক্ষুধিত পাষাণ' গল্পের প্রধান চরিত্রগুলো হলো গল্পকথক (ট্যাক্স কালেক্টর) যিনি ঐতিহাসিক প্রাসাদে অলৌকিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন, রাজকুমারী (মুঘল আমলের নারী) যার স্মৃতি প্রাসাদে ঘুরে বেড়ায়, এবং মেহের আলি নামের এক পাগলাটে ব্যক্তি, যিনি সেই প্রাসাদের রহস্যময় পরিবেশের অংশ হয়ে ওঠেন, এছাড়া করিম খান ও অন্যান্য কর্মচারীরাও প্রাসাদের পটভূমি তৈরি করে। 

------------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম সার্থকভাবে বাংলা ছোটগল্পকে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেন।
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- ড. মাহবুবুল আলম এর বইয়ের তথ্যমতে, গল্পগুচ্ছ, সে, তিনসঙ্গী প্রভৃতি গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের সংখ্যা ১১৯টি।

• প্রেমের গল্প হিসেবে, 
একরাত্রি, মহামায়া, সমাপ্তি, মাল্যদান, মধ্যবর্তিনী, শাস্তি, প্রায়শ্চিত্ত, দুরাশা, অধ্যাপক, নষ্টনীড়, স্ত্রীর পত্র, পাত্র ও পাত্রী, মানভঞ্জন, রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি প্রভৃতি গল্পের নাম উল্লেখ করা যায়।

• প্রকৃতিবিষয়ক গল্পের মধ্যে,
শুভা, অতিথি, আপদ, বলাই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

• সমাজজীবনের সম্পর্কবৈচিত্র্য নিয়ে রচিত গল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
ব্যবধান, মেঘ ও রৌদ্র, পণরক্ষা, পোস্টমাস্টার, কাবুলিওয়ালা, দিদি, হৈমন্তী, কর্মফল, দান-প্রতিদান, দেনা-পাওনা, ছুটি, পুত্রযজ্ঞ, খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন ইত্যাদি।

 • অতিপ্রাকৃত রসের স্পর্শ লেগেছে গুপ্তধন, জীবিত ও মৃত, নিশীথে, মণিহারা, ক্ষুধিত পাষাণ, মাস্টারমশাই ইত্যাদি গল্পে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্প এবং  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ। 

১,৩৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ-
  1. বিজ্ঞানপরিচয় 
  2. বিশ্বপরিচয়
  3. বিশ্বপরিচিতি 
  4. শব্দপরিচয় 
ব্যাখ্যা

• 'বিশ্বপরিচয়:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ 'বিশ্বপরিচয়' (১৯৩৭)।
- মূলত কিশোর-কিশোরীদের জন্য রচিত হলেও বয়স্কদের উপভোগ্য।
- এখানে রবীন্দ্রনাথ বহু পরিভাষা প্রস্তুত করেন এবং বৈজ্ঞানিক প্রসঙ্গের উপযোগী ভাষারীতি প্রয়োগ করেন।

উল্লেখ্য, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরে শব্দ ও ভাষা সংক্রান্ত গ্রন্থ: শব্দতত্ত্ব (১৯০৯)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৪৩.
'বিজয়, কমলা ও নীরদ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের চরিত্র?
  1. গীতাঞ্জলি
  2. কবি কাহিনী
  3. বনফুল
  4. সোনার তরী
ব্যাখ্যা
• 'বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ:
- গ্রন্থ হিসেবে 'বনফুল’ কাব্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ (প্রকাশ: ১৮৮০)। প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'কবি- কাহিনী' (প্রকাশ: ১৮৭৮)।
- তবে 'জ্ঞানাঙ্কুর' ও 'প্রতিবিম্ব' নামক দুটি পত্রিকায় 'বনফুল' গ্রন্থের কবিতা ১৮৭৬ সালেই প্রকাশ পায়। তাই কেউ কেউ 'বনফুল'কে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বলে থাকেন।
- গ্রন্থাকারে প্রকাশের আগে পত্রিকায় প্রকাশের উপর নির্ভর করে 'বনফুল'কে রবীন্দ্রনাথের প্রথম প্রকাশিত কাব্য বলা গেলেও প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কিন্তু বলা যাবে না।
- তাছাড়া 'বনফুল'কে সুকুমার সেন নির্ভেজাল কাব্য না বলে, বলেছেন 'কাব্যোপন্যাস'। একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য: 'বনফুলের প্লটের আরম্ভে অক্ষয়চন্দ্র চৌধুরীর উদাসিনীর অনুসরণ আছে।
- কমলা-ভূমিকায় শকুন্তলার ছাপ আছে। ভাব-ভাষা-অলঙ্কারে মাঝে মাঝে দ্বিজেন্দ্রনাথের বিহারীলালের এবং মধুসূদনের প্রতিধ্বনি আছে।' - গ্রন্থটি আট সর্গ বিশিষ্ট। মিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

• এ কাব্যের উল্লেখযোগ্য পাত্রপাত্রী:
- বিজয়,
- কমলা,
- নীরদ,
- নীরজা।

অন্যদিকে,
• 'কবি কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত একটি কাব্যগ্রন্থ। চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা 'নলিনী'।

----------------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

• তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৪.
'স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি' নামে প্রবন্ধ রচনা করেছেন?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সমর সেন
  3. শামসুজ্জামান খান
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
• সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী রচিত প্রবন্ধ - স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী:
- তিনি মূলত প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৩৬ সালের ২৩শে জুন বিক্রমপুরের বাড়ৈখালিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি লেখক সংঘ পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখিকা সংঘ পুরস্কার, একুশে পদক, ঋষিজ পদক লাভ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- অন্বেষা,
- দ্বিতীয় ভুবন,
- নিরাশ্রয় গৃহী,
- আরণ্যক দৃশ্যাবলী,
- অনতিক্রান্তবৃত্ত,
- শরৎচন্দ্র ও সামন্তবাদ,
- বঙ্কিমচন্দ্রের জমিদার ও কৃষক,
- স্বাধীনতা ও সংস্কৃতি,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা গদ্যের সামাজিক ব্যাকরণ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্প:
- ভালো মানুষের জগৎ।

তাঁর রচিত ছোটদের গল্প:
- দরজাটা খোলো।

তাঁর রচিত ছোটদের উপন্যাস:
- বাবুলের বেড়ে ওঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১,৩৪৫.
শামসুদ্দীন আবুল কালামকে ডি.লিট (D.Litt) উপাধি প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  4. রোম বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ছিলেন কথাসাহিত্যিক। ১৯২৬ সালের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবুল কালাম শামসুদ্দীন। তিনি ইতালির রোম শহরে স্থায়ীভাবে অবস্থান করেন।

- দেশভাগের পর ১৯৫০ সালে শামসুদ্দীন ঢাকায় এসে প্রথমে পূর্বপাকিস্তান সরকারের প্রচার ও তথ্য দপ্তরে সহকারী পরিচালক পদে যোগদান করেন। পরে ওই অফিসেই 'মাহে নও' পত্রিকার সম্পাদক হন। 

- ষাটের দশকে তিনি রোম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি এবং রোমের এক্সপেরিমেন্টাল সেন্টার অব সিনেমাটোগ্রাফি থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ক ডিপ্লোমা লাভ করেন। 

- জীবনের শেষদিকে শামসুদ্দীন ইউনেস্কোর কিছু ডকুমেন্টারি ফিল্ম তৈরি করেন। তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ভিক্টর ডি সিফার সহযোগী ছিলেন।

- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ১৯৯৪ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’ লাভ করেন।

---------------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাশবনের কন্যা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়জঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- অনেক দিনের আশা,
- ঢেউ,
- পথ জানা নাই,
- দুই হৃদয়ের তীর,
- শাহের বানু,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৬.
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. কুসুম কানন
  2. অশ্রুমালা
  3. মহাশ্মশান
  4. অমিয়ধারা
ব্যাখ্যা
মহাশশ্মান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ - মহাশশ্মান (মহাকাব্য)। এটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত।
- তার এই কাব্যটি ৩ খন্ডে বিভক্ত। এটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে একটি মহাকাব্য

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৭.
দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল-দর্পণ’ নাটক প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল? 
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. লন্ডন
  4. দিল্লি
ব্যাখ্যা

 • নীল-দর্পণ:
- 'নীল-দর্পণ' (১৮৬০) দীনবন্ধু মিত্র রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- নাটকটি ১৮৬০ সালে ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় নীল-দর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন'-এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে।
- এটিই বিদেশি ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় এবং ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর এটি দিয়েই শুরু হয় সাধারণ রঙ্গালয়ের অভিনয়।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- তিনি একজন নাট্যকার।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। 
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে  সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও  প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- নীলদর্পণ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্ত্ত।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- নবীন তপস্বিনী,
- লীলাবতী,
- কমলে কামিনী।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।

১,৩৪৮.
"রৌদ্র করোটিতে" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. আল মাহমুদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• "রৌদ্র করোটিতে" কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন - শামসুর রাহমান

শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।

শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৪৯.
"দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. দোলনচাঁপা
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নি-বীণা
  4. সাম্যবাদী
ব্যাখ্যা

• "দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?" - পঙ্‌ক্তিগুলো কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থের "কুলি মজুর" কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে।

কুলি মজুর
- কাজী নজরুল ইসলাম

দেখিনু সেদিন রেলে,
কুলি ব'লে এক বাবু সা'ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!
চোখ ফেটে এল জল,
এমনি ক'রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?
যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,
বাবু সা'ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।
বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!
কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্?

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ:
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থে মোট ১১ টি কবিতা রয়েছে।
- সবগুলোতেই মানুষের সমতা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।

'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থটির উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- ঈশ্বর,
- মানুষ,
- পাপ,
- চোর-ডাকাত,
- বারাঙ্গনা,
- মিথ্যাবাদী,
- নারী,
- রাজা-প্রজা,
- সাম্য,
- কুলি মজুর

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নি-বীণা,
- সঞ্চিতা,
- চিত্তনামা,
- মরুভাস্কর,
- সর্বহারা,
- ফণি-মনসা,
- চক্রবাক,
- সাম্যবাদী,
- ছায়ানট,
- নতুন চাঁদ,
- পুবের হাওয়া,
- জিঞ্জির,
- বিষের বাঁশি,
- দোলনচাঁপা,
- চন্দ্রবিন্দু,
- সিন্ধু হিন্দোল,
- ভাঙার গান,
- সন্ধ্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও 'সাম্যবাদী' কাব্যগ্রন্থ।

১,৩৫০.
দীনবন্ধু মিত্রের প্রহসন কোনটি?
  1. বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. বিয়ে পাগলা বুড়ো
  3. কিঞ্চিৎ জলযোগ
  4. লীলাবতী
ব্যাখ্যা

'বিয়ে পাগলা বুড়ো' প্রহসন:
- দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' মূলত এক ধরনের হাস্যরসাত্মক নাটক (প্রহসন)।
- বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন যে এই নাটক কোনো "জীবিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করিয়া লিখিত হইয়াছিল"।
- ১৮৭২ সালে নাটকটি প্রথম অভিনীত হয়।

প্রহসনের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- নসিরাম,
- রতা,
- রাজীব,
- রাজমণি,
- কেশব,
- বৈকুণ্ঠ ইত্যাদি।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

অন্যদিকে, 
- 'বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ' - মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- 'কিঞ্চিৎ জলযোগ' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি বিখ্যাত প্রহসন।
- 'লীলাবতী' দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি সামাজিক নাটক। নাটকটি ১৮৬৭ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৩৫১.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাস-
  1. ক) পুষ্প বৃক্ষ
  2. খ) গাভী বিত্তান্ত
  3. গ) ওঙ্কার
  4. ঘ) অলাতচক্র
ব্যাখ্যা
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- উনসত্তরের গণ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তাঁর উপন্যাস ওঙ্কার। এই উপন্যাসের নায়ক আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।

- তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
• সূর্য তুমি সাথী (প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস),
• একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন,
• মরণবিলাস,
• গাভী বিত্তান্ত (বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে কেন্দ্র করে রচিত উপন্যাস),
• অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
• পুষ্প বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৫২.
নিচের কোন কবিকে 'কবিদের কবি' বলা হয়?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. বিষ্ণু দে
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা
• নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- পরের দশকেই তাঁর কবিতা এতোটা প্রভাব বিস্তার করে যে, তরুণরা তাঁর কবিতা দিয়ে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে থাকে।
- অনেকে তাঁর কবিতা পড়েই কবি হবার আকাঙক্ষা বোধ করে।
- বাংলাদেশের আর কোন কবি অনুজ কবিদের উপর এতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি।
- গত শতাব্দীর সত্তর দশকের অনেক প্রতিষ্ঠিত কবি তাঁর প্রভাবেই কবি হয়েছেন।
- তাই নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়।
- নির্মলেন্দু গুণ ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নির্মলেন্দু গুণ এর সম্পূর্ণ নাম 'নির্মলেন্দু প্রকাশ গুণ চৌধুরী'

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই
- না প্রেমিক না বিপ্লবী,
- বাংলার মাটি বাংলার জল, কবিতা অমীমাংসিত রমণী,
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী,
- চৈত্রের ভালোবাসা,
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র,
- চাষাভুষার কাব্য,
- দূর হ দুঃশাসন,
- প্রথম দিনের সূর্য,
- নিরঞ্জনের পৃথিবী,
- নেই কেন সে পাখি,
- মুজিব-লেনিন-ইন্দিরা,
- চিরকালের বাঁশি,
- শিয়রে বাংলাদেশ,
- দুঃখ করো না, বাঁচো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৩.
‘অশোক সৈয়দ’ ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) আবদুর মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল-মুতী
  4. ঘ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
• তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

আবদুল মান্নান সৈয়দ রচিত উপন্যাস-
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী, (১৯৭৪)
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি, (১৯৯৮)
- অ-তে অজগর, (১৯৮২)
- পোড়ামাটির কাজ,(১৯৮২)
- ক্ষুধাপ্রেম আগুন, (১৯৯৪)
• 'স্মৃতির নোটবুক' আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত স্মৃতিকথা।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৪.
'আবিষ্কারের নেশায়' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) কাজী ইমদাদুল হক
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী
  4. ঘ) কাজী আবদুল ওদুদ
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন নাট্যকার। বাংলাদেশের বিজ্ঞান লেখকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র যিনি ইউনেস্কো কলিঙ্গ পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর প্রকাশিত শিশু ও বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদনা- এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে, অবাক পৃথিবী, আবিষ্কারের নেশায়, রহস্যের শেষ নেই, বিজ্ঞান ও মানুষ, জানা-অজানার দেশে, তারার দেশের হাতছানি, বিচিত্র বিজ্ঞান, কীটপতঙ্গের বিচিত্র জগৎ, পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে, আজকের বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ইত্যাদি। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১,৩৫৫.
নিচের কোনটি উলিয়াম শেক্সপীয়ারের গ্রন্থের অনুবাদ?
  1. ক) বাঙ্গলার ইতিহাস
  2. খ) শকুন্তলা
  3. গ) সীতার বনবাস
  4. ঘ) ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 


ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুবাদ গ্রন্থঃ
- ভ্রান্তিবিলাস (শেক্সপিয়রের কমেডি অব এররস অনুসারে)
- জীবনচরিত (ইংরেজি বই অবলম্বনে)
- বেতালপঞ্চবিংশতি (হিন্দী থেকে)
- বাঙ্গলার ইতিহাস (মার্শম্যানের বই অনুসারে)
- শকুন্তলা (কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলাম অনুসারে),
- সীতার বনবাস (রামায়ণ অনুসারে)

[উৎস: লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ , বাংলাপিডিয়া।]
১,৩৫৬.
'বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মাযহারুল ইসলাম
  2. খ) রফিকুল আজাদ
  3. গ) হুমায়ন কবীর
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রখ্যাত বুদ্ধিজীবী, দেশবরেণ্য গবেষক, খ্যাতনামা সাহিত্যিক প্রফেসর মযহারুল ইসলামের জন্ম ১৯২৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহত্তর পাবনা (বর্তমান সিরাজগঞ্জ) জেলার চর নবীপুর গ্রামে। তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গুলো হলোঃ
১) মাটির ফসল (১৯৫৫)
২) বিচ্ছিন্ন প্রতিলিপি (১৯৭০)
৩) আর্তনাদে বিবর্ণ (১৯৭০)
৪) দুঃসময়ের ছড়া (১৯৮৮)
৫) উজানে ফেরার প্রতিধ্বনি (১৯৮৮)
৬) সন্তরণে নিরন্তর (২০০৬)
তিনি ১৫ নভেম্বর, ২০০৩ সালে মারা যান।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।

১,৩৫৭.
‘ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম‘ ত্রয়ী উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. নবীন চন্দ্র
ব্যাখ্যা
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ।
- তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

অন্যদিকে,
- রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস নবীনচন্দ্রের কাব্যত্রয়ী এবং তাঁর কবিপ্রতিভার শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৫৮.
কোন ব্যক্তি সম্প্রতি ''নতুন চর্যাপদ'' আবিষ্কার করেন?
  1. ক) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. খ) সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ
  3. গ) ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
নতুন চর্যাপদ
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ

⇒ নতুন চর্যাপদে সংকলিত মূলত বজ্রযানী দেবদেবীর আরাধনার গীত। এসব পদে তান্ত্রিক নানা দেবদেবীর রূপসৌন্দর্য, মুখ ও বাহুর বর্ণনা, তাঁদের আসন, মুদ্রা ও দেহভঙ্গি, তাঁদের আভরণ ও আয়ুধ ইত্যাদি সম্পর্কিত তথ্য ও বর্ণনা আছে।
দীর্ঘ শ্রম ও নিষ্ঠার সঙ্গে গবেষক এসবের ঋদ্ধ পরিচয় তুলে ধরেছেন। এ-কাজ করতে গিয়ে গবেষক লক্ষ করেন যে, বিভিন্ন পাঠে কেবল যে পাঠান্তর আছে তা নয়, অনেক পাঠে পুনরাবৃত্তিও রয়েছে।
তাছাড়া অনেক চর্যাপদের পুরোভাগে পদকর্তার নাম থাকলেও বেশকিছু পদের পদকর্তার নাম পাওয়া যায়নি।
বেশকিছু চর্যাপদের রচনাকাল নির্ণয় করতে না পারায় সেগুলোর কালানুক্রমিক বিন্যাসও সম্ভব হয়নি।
সেজন্য গবেষক ৩৩৫টি চর্যাপদের পা-লিপি তৈরি করে সেগুলো বর্ণানুক্রমিকভাবে সন্নিবেশ করেছেন।


উৎস: নতুন চর্যাপদ।
১,৩৫৯.
'বছির' কোন উপন্যাসের বিখ্যাত চরিত্র?
  1. চাঁদের অমাবস্যা
  2. পদ্মা নদীর মাঝি
  3. বোবাকাহিনী
  4. তিতাস একটি নদীর নাম
ব্যাখ্যা
• বোবা কাহিনী:
- জসীম উদ্দীন রচিত 'বোবা কাহিনী' (১৯৬৪) উপন্যাসে মহাজনী শোষণের কারণে গ্রামের প্রান্তিক চাষি আজহারের ভূমিহীন হওয়া, শহরের সুবিধাবাদী উকিল ও ভণ্ড ধার্মিক কর্তৃক মেধাবী বছির নিগ্রহ ইত্যাদি বর্ণিত হয়েছে।
- উপন্যাসের কয়েকটি চরিত্র: বছির, আজহার, আরজান, রহিমুদ্দিন।
- উপন্যাসে কোন জটিলতা নেই। নিছক সরল ও সাদামাটা একটি গল্প আছে উপন্যাসটিতে।

• জসীম উদ্দীন:
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

অন্যদিকে,
- 'চাঁদের অমাবস্যা' - আরেফ আলী।
- 'পদ্মা নদীর মাঝি' - কুবের, কপিলা, মালা ও হোসেন মিয়া।
- 'তিতাস একটি নদীর নাম' - কিশোর, বাসন্তী, অনন্ত ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১,৩৬০.
'বনি আদম' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. হুমায়ুন আজাদ
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী, -
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬১.
‘সাড়া’ বুদ্ধদেব বসু রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. নাটক
  2. কাব্য
  3. উপন্যাস
  4. কাব্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সাড়া’ উপন্যাস:
- ‘সাড়া’ বুদ্ধদেব বসু রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ‘সাড়া’ আংশিকরূপে প্রগতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ‘প্রগতি’ পত্রিকা পিছিয়ে পড়ায় পুরোটা প্রকাশ সম্ভব হয়নি।
- পরবর্তীতে ১৯৩০ সালে উপন্যাসটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- তখনকার সময়ে উপন্যাসটির প্রথম সংস্করণের ‍মূল্য ছিল দুই টাকা।
---------------------------
• বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু ছিলেন তিরিশের দশকের একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম। তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- শুধু কবিতা নয়, বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় বুদ্ধদেবের স্বচ্ছন্দ বিচরণ ছিল।
- তিনি রোম্যান্টিক কবিচেতনার অধিকারী ছিলেন; তবে পরবর্তীকালে তিনি আবেগ অপেক্ষা মননশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
- মননশীল প্রবন্ধ ও সাহিত্য-সমালোচনায় তিনি সূক্ষ্ম বুদ্ধিবৃত্তির পরিচয় দিয়েছেন।
- তাঁর গদ্যশৈলীতে আছে ব্যক্তিত্বের ছাপ। পদ্যগদ্য মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থসংখ্যা শতাধিক।
- রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে তাঁকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডদের একজন বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প গ্রন্থগুলো হলো:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• হাওয়ার গান বুদ্ধদেব বসু রচিত একটি কবিতা।

• বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কঙ্কাবতী,
- দময়ন্তী,
- মর্মবাণী,
- যে আঁধার আলোর অধিক।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত নাটক‌:
- মায়া মালঞ্চ,
- তপস্বী ও তরঙ্গিনী,
- কলকাতার ইলেক্টা ও সত্যসন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং ‘সাড়া’ উপন্যাসের ভূমিকা।
১,৩৬২.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি -
  1. মুকুন্দরাম চক্রবতী
  2. মানিক দত্ত
  3. দ্বিজমাধব
  4. কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য: 
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। এবং প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- এই কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।

কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
কালকেতু,
ফুল্লরা,
ধনপতি,
ভাঁড়ুদত্ত,
মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬৩.
কোনটি ফররুখ আহমদের শিশুতোষ রচনা?
  1. পাখির বাসা
  2. ঝিঙে ফুল
  3. ইতল বিতল
  4. ডালিমকুমার
ব্যাখ্যা
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায়  মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা, 
- হরফের ছড়া, 
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি
- সিরাজাম মুনিরা
- নৌফেল ও হাতেম
- মুহূর্তের কবিতা
- হাতেমতায়ী
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ঝিঙে ফুল - কাজী নজরূল  ইসলাম
- ইতল বিতল - সুফিয়া কামাল 
- ডালিমকুমার - জসীম উদ্‌দীন 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৪.
দৌলত উজির বাহরাম খানের প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. বাহরাম সুর
  2. নেজাম শাহ
  3. আসাউদ্দীন
  4. দৌলত হোসেন
ব্যাখ্যা
দৌলত উজির বাহরাম খান:
- দৌলত উজির মধ্যযুগীয় বাংলা ভাষার কবি।
- তাঁর আত্মপরিচয় থেকে জানা যায় যে, তিনি চট্টগ্রামের ফতেয়াবাদ অথবা জাফরাবাদের অধিবাসী ছিলেন।
- পীরভক্ত বাহরাম খানের প্রকৃত নাম আসাউদ্দীন।
- তিনি অল্প বয়সে পিতৃহীন হলে চট্টগ্রামের অধিপতি নেজাম শাহ সুর তাঁকে পিতৃপদ (উজির) প্রদান করেন।
- চট্টগ্রামের নৃপতি নেজাম শাহ সুর বাহরাম খান কে 'দৌলত উজির' উপাধি দেন।
- বাহরাম খান দুটি আখ্যানকাব্য রচনা করেন: লায়লী-মজনু ও ইমাম-বিজয়। উভয় কাব্যের উৎস আরবি সাহিত্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৫.
"মুমিন এবং আসাদ" চরিত্র দুইটি কোন উপন্যাসের?
  1. আর কতদিন
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. হাজার বছর ধরে
ব্যাখ্যা
'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি রচনা করেন।
- ‘আরেক ফাল্গুন ‘ উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।  
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।
 
এই উপন্যাসের চরিত্র গুলো হলো:
- মুমিন, 
 -আসাদ
- রসুল, 
- সালমা।
 
জহির রায়হান রচিত উপন্যাস: 
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৬৬.
'রাইচরণ' চরিত্রটি কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. একরাত্রি
  2. পোস্টমাস্টার
  3. ক্ষুধিত পাষাণ
  4. খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন
ব্যাখ্যা

• 'রাইচরণ' চরিত্রটি পাওয়া যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পে।

• 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন'।
- 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' গল্পটি রবীন্দ্রনাথের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে সঙ্কলিত হয়েছে। গল্পটি ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যা 'সাধনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাধু-ভাষায় রচিত এ গল্পে রবীন্দ্র ছোটগল্পের প্রথম পর্বের শিল্পবৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। আবেগ এবং গীতিময়তা, প্রকৃতি ও মানুষের বিজড়িত অস্তিত্ব, মানব জীবনের বিশেষ কোন পরিণাম সংগঠনে প্রকৃতির ভূমিকা ইত্যাদি ভাব ও অনুষঙ্গ আলোচ্য গল্পের প্রধান শিল্পলক্ষণ।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ:
অনুকূলবাবুর শিশুপুত্র খোকাবাবু পদ্মা নদীতে পড়ে চিরতরে হারিয়ে যায়। এ-জন্যে ভৃত্য রাইচরণের মনোবেদনার শেষ নেই। খোকাবাবুর মৃত্যুর কিছুদিন পরেই রাইচরণের স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান প্রসব করেন। রাইচরণের দৃঢ় বিশ্বাস, খোকাবাবুই তার যন্ত্রাকে প্রশমিত করার জন্যে তার ঘরে এসে জন্মলাভ করেছে। তাই সে তার পুত্রকে খোকাবাবু জ্ঞানে ভিন্নভাবে আদর-যত্ন আর হে ভালবাসায় বড় করে তোলে। রাইচরণের খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন বিষয়ক ভাবনাই তার পরিণতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

গল্পের উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো:
- অনুকূলবাবু,
- রাইচরণ,
- খোকাবাবু।

অন্যদিকে,
• 'একরাত্রি' ছোটগল্পের চরিত্র 'সুরবালা'।
• 'পোস্টমাস্টার' গল্পের চরিত্র হলো 'রতন'।
• 'ক্ষুধিত পাষাণ' ছোটগল্পের চরিত্র 'মেহের আলি'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন' ছোটগল্প।

১,৩৬৭.
কাজী নজরুল ইসলাম লিখিত কবিতা সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চয়িতা
  2. সঞ্চিতা
  3. সুচয়নী
  4. ললিতা
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা সংকলন হচ্ছে সঞ্চিতা। 

সঞ্চিতা:
- ‘সঞ্চিতা’ কাজী নজরুল ইসলামের একটি কবিতা সংকলন।
- এটি ১৯২৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- গ্রন্থটি তিনি উৎসর্গ করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে।
- এতে মোট ৭৮টি কবিতা ও গান অন্তর্ভুক্ত আছে।
- নজরুলের কবিতার ধারা বোঝার জন্য সংকলনটি গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য,
- ‘সঞ্চয়িতা’ হলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা সংকলন।
- 'সুচয়নী' হচ্ছে কবি জসীমউদ্দীনের নির্বাচিত কবিতা সংকলন গ্রন্থ।
- 'ললিতা' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিণীতা উপন্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্র।  

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,৩৬৮.
মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের কয়টি ভাষায় মুদ্রিত হয়েছে?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৩টি
  4. ২৪টি
ব্যাখ্যা
• মৈমনসিংহ গীতিকা:
• ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রচলিত গানগুলোকে একত্রে মৈমনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে মৈমনসিংহ গীতিকা সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে। চন্দ্রকুমার দে ছিলেন ময়মনসিংহ নিবাসী।
• দীনেশচন্দ্র সেনের সম্পাদনায় ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৈমনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়।
• মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।

• মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা ও রূপকথা স্থান পেয়েছে। যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা (রূপকথা) ও
- দেওয়ান মদিনা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৬৯.
ধর্মমঙ্গল কাব্য মূলত কোন বিষয়কে কেন্দ্র করে রচিত?
  1. লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা
  2.  রাঢ় বাংলার লোকায়ত সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও বীরত্ব
  3. রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
  4. উপরের সবকয়টি 
ব্যাখ্যা

ধর্মমঙ্গল কাব্য রাঢ় বাংলার সমাজ, রাজনীতি ও লোকধর্মকে কেন্দ্র করে রচিত। এতে লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য, বীর লাউসেনের কাহিনী এবং সাধারণ মানুষের জীবন, বিশ্বাস ও বীরত্ব ফুটে ওঠে। এটি মূলত লোকায়ত সংস্কৃতি ও সামাজিক বীরত্বের মহাকাব্য।
------------------------------
• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল কাব্য হলো এমন একটি কাব্যধারা যা মূলত ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্য বা গুণগান প্রদর্শনের জন্য রচিত।
- এখানে ধর্মঠাকুরকে অনার্য দেবতা হিসেবে দেখানো হয়, অর্থাৎ সে শহরের ব্রাহ্মণ বা আর্য ধর্মের চেয়ে ভিন্ন, গ্রামীণ বা লোকমুখী দেবতা।
- একই সঙ্গে তাকে কখনও কখনও সূর্য বা বুদ্ধের প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়, যা তার অতিপ্রাকৃতিক শক্তি, জ্ঞান ও প্রভাবকে তুলে ধরে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল আখ্যান প্রধানত দুটি কাহিনীকে কেন্দ্র করে গঠিত।
- প্রথমটি হলো রাজা হরিশ্চন্দ্রের পৌরাণিক কাহিনী
- এবং দ্বিতীয়টি হলো লাউসেনের লৌকিক বীরগাঁথা।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রসমূহের মধ্যে আছেন-
- লাউসেন, ধর্মঠাকুর, কালু ডোম, কানড়া, ইছাই ঘোষ, ময়নামতী, রাজা হরিশ্চন্দ্র এবং মদনা ও লুইচন্দ্র। 

-  ধর্মমঙ্গল কাব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল- রাঢ় বাংলার লৌকিক দেবতা ধর্মঠাকুরের মহিমা প্রচার করা।
- কাব্যটির আখ্যান হরিশ্চন্দ্রের কাহিনীর মাধ্যমে শুরু হয়ে, লাউসেনের বীরত্ব ও ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় প্রদর্শনের মাধ্যমে বিকশিত হয়েছে।
- এছাড়া কাব্যটি রাঢ় অঞ্চলের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পৌরাণিক প্রেক্ষাপটকে ফুটিয়ে তোলে।
- এতে ধর্মঠাকুরের অলৌকিক কর্মকাণ্ড, লাউসেনের বীরত্ব, ধর্মঠাকুরের কৃপায় তার বিজয় এবং প্রাচীন রাঢ়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

- ধর্মমঙ্গল কাব্যের আদি বা প্রথম কবি ছিলেন ময়ূরভট্ট। 
- তিনি ‘হাকন্দপুরাণ’ রচনা করেছেন।

- তবে মধ্যযুগে এই ধারায় রূপরাম চক্রবর্তী ও ঘনরাম চক্রবর্তীকে প্রধান ও জনপ্রিয় কবি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ধর্মমঙ্গলের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঘনরাম চক্রবর্তী।
- অন্যান্য কবির মধ্যে আছেন- মানিকরাম গাঙ্গুলি, রামদাস আদক, এবং সীতারাম দাস। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

১,৩৭০.
কোন উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র রচিত নয়?
  1. চরিত্রহীন
  2. বড়দিদি
  3. শেষ প্রশ্ন
  4. সোনার চেয়ে দামী
ব্যাখ্যা
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি
- ১৯০৭সালে  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  রচিত উপন্যাস গুলো হলো
পরিণীতা
বিরাজ বৌ 
পন্ডিত মশাই 
পল্লীসমাজ 
দেবদাস 
চরিত্রহীন 
দত্তা 
গৃহদাহ 
বামুনের মেয়ে 
দেনা পাওনা 
পথের দাবী 
শেষ প্রশ্ন 
বিপ্রদাস 

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস -'সোনার চেয়ে দামী' 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর]
১,৩৭১.
'পাখির বাসা' কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. শিশুতোষ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. কাহিনীকাব্য
ব্যাখ্যা

• ফরুক আহমদ 'মুসলিম রেনেসাঁর কবি' বা 'মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি' হিসেবে পরিচিত।
• তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলো হলোঃ
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- চাঁদের আসর,
- ছড়ার আসর,
- ফুলের জলসা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭২.
'চন্দ্রশেখর' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক পত্রিকা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

'চন্দ্রশেখর' উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে 'তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭৩.
কবে 'রোকেয়া দিবস’ পালন করা হয়?
  1. ১ ডিসেম্বর
  2. ৫ ডিসেম্বর
  3. ৯ ডিসেম্বর
  4. ১০ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- এই ৯ই ডিসেম্বর কে রোকেয়া দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৪.
ভাষা আন্দোলনভিত্তিক 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি কার রচন?
  1. রাবেয়া খাতুন
  2. শওকত ওসমান
  3. সেলিনা হোসেন
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস- আর্তনাদ।
- এটি শওকত ওসমান রচনা করেন। উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৭৫.
সিকান্‌দার আবু জাফর কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ইত্তেফাক
  2. দৈনিক নবযুগ
  3. সমকাল
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৭৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল কতটি?
  1. ক) ৫
  2. খ) ৬
  3. গ) ৮
  4. ঘ) ১০
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয়ের মুহূর্তে বাংলাদেশে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল ১০।
- স্বাধীনতার পরপর কয়েকটি পত্রিকার পরিচালনার ভার সরকারকে বহন করতে হয়েছিল।
- পাকিস্তান প্রেস ট্রাস্টের পত্রিকা দৈনিক পাকিস্তান (দৈনিক বাংলা) ও দ্য মর্নিং নিউজ এবং মালিকের অনুপস্থিতিতে দ্য পাকিস্তান অবজারভার (দ্য বাংলাদেশ অবজারভার), পূর্বদেশ এবং চিত্রালী সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনা বোর্ডের মাধ্যমে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হতো। 


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৭৭.
মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্য নিদর্শন 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য কোন ছন্দে রচিত?
  1. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে
  2. স্বরবৃত্ত ছন্দে
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দে
  4. পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে
ব্যাখ্যা

• 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য হিসেবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন স্বীকৃত। ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামের শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন।

- ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়। এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে- কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- কাব্যটি গতিশীল ও নাট্যরসাশ্রিত হয়েছে। এতে গীতি রসেরও উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- কাব্যটি শৃঙ্গাররস প্রধান এবং ঝুমুর গানের লক্ষণাক্রান্ত।
- এটি পয়ার ও ত্রিপদী ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা।

১,৩৭৮.
"তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. মহেশ
  2. বিড়াল
  3. সাম্য
  4. বৈকুণ্ঠের উইল
ব্যাখ্যা
• 'বিড়াল' প্রবন্ধের অংশবিশেষ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
“দেখ, যদি অমুক শিরোমণি, কি অমুক ন্যায়ালঙ্কার আসিয়া তোমার দুধটুকু খাইয়া যাইতেন, তবে তুমি কি তাঁহাকে ঠেঙ্গা লইয়া মারিতে আসিতে? বরং যোড়হাত করিয়া বলিতে, আর একটু কি আনিয়া দিব? তবে আমার বেলা লাঠি কেন? তুমি বলিবে, তাঁহারা অতি পণ্ডিত, বড় মান্য লোক। পণ্ডিত বা মান্য বলিয়া কি আমার অপেক্ষা তাঁহাদের ক্ষুধা বেশী? তা ত নয়- তেলা মাথায় তেল দেওয়া মনুষ্যজাতির রোগ-দরিদ্রের ক্ষুধা কেহ বুঝে না। যে খাইতে বলিলে বিরক্ত হয়, তাহার জন্য ভোজের আয়োজন কর-আর যে ক্ষুধার জ্বালায় বিনা আহ্বানেই তোমার অন্ন খাইয়া ফেলে, চোর বলিয়া তাহার দণ্ড কর-ছি! ছি!

উৎস: 'বিড়াল' প্রবন্ধ - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
১,৩৭৯.
ব্যঙ্গরচনা 'আয়না' এর লেখক কে?
  1. আহমদ ছফা
  2. আহমদ শরীফ
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
• 'আয়না' আবুল মনসুর আহমেদ রচিত ব্যঙ্গরচনা।
- ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই অবিস্মরণীয় ব্যঙ্গ গল্প-গ্রন্থের ভূমিকায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন, ‘এমনি আয়নায় শুধু মানুষের বাইরের প্রতিচ্ছবিই দেখা যায় কিন্তু আমার বন্ধু শিল্প আবুল মনসুর যে আয়না তৈরি করেছেন, তাতে মানুষের অন্তরের রূপ ধরা পড়েছে।

• আবুল মনসুর আহমেদ:

- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:

- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
সত্যমিথ্যা,
জীবন ক্ষুধা,
আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮০.
শওকত আলী ত্রয়ী উপন্যাসের একটি উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দক্ষিণায়নের দিন
  2. কুলায় কালস্রোত
  3. পূর্বরাত্রি পূর্বদিন
  4. পিঙ্গল আকাশ
ব্যাখ্যা

• শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।

 শওকত আলী:

- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।

- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পিঙ্গল আকাশ, 
- যাত্রা, 
- প্রদোষে প্রাকৃতজন, 
- দক্ষিণায়নের দিন, 
- কুলায় কালস্রোত, 
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন, 
- যেতে চাই, 
- ওয়ারিশ, 
- বাসর মধুচন্দ্রিমা, 
- উত্তরের খেপ, 
- হিসাবনিকাশ, 
- দলিল, 
- উপরে ছাপ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- উন্মূল বাসনা,
- লেলিহান স্বাদ,
- শুন হে লক্ষিন্দর,
- বাবা আপনে যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮১.
কোন উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ক) ঘরেবাইরে
  2. খ) সংশপ্তক
  3. গ) সারেং বৌ
  4. ঘ) চৌরসন্ধি
ব্যাখ্যা

• শহীদুল্লা কায়সার একজন বাঙালি লেখক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী।
• তিনি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর প্রকৃত নাম ছিল 'আবু নঈম মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ'।
• তাঁর 'সারেং বৌ' উপন্যাসে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস 'সংশপ্তক'।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- রাজবন্দীর রোজনামচা।
• তাঁর রচিত ভ্রমণবৃত্তান্ত- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,৩৮২.
চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে শেষ ছয় চরণে থাকে-
  1. ভাবের পরিণতি
  2. ভণিতা 
  3. ভাবের প্রবর্তনা 
  4. উপসংহার
ব্যাখ্যা

• চতুর্দশপদী কবিতার ক্ষেত্রে শেষ ছয় চরণে থাকে- ভাবের পরিণতি। 
-------------------
• সনেট (Sonnet):
- চতুর্দশপদী (Sonnet) হল এক ধরনের কবিতা যার প্রথম উদ্ভব হয় মধ্যযুগে ইতালিতে।
- এর বৈশিষ্ট হল যে এই কবিতাগুলো ১৪টি চরণে সংগঠিত এবং প্রতিটি চরণে সাধারণভাবে মোট ১৪টি করে অক্ষর থাকবে।
- এর প্রথম আট চরণের স্তবককে অষ্টক এবং পরবর্তী ছয় চরণের স্তবককে ষষ্টক বলে।
- অষ্টকে মূলত ভাবের প্রবর্তনা এবং ষষ্ঠকে ভাবের পরিণতি থাকে।

উল্লেখ্য,
- বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতার জনক - মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম সনেট সংকলন চতুর্দশপদী কবিতাবলী। এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- ইতালীয় কবি পেত্রার্ক ও শেক্সপিয়ারের অনুকরণে এসব সনেট রচনা করেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করেন কোন ঘটনার প্রতিবাদে?
  1. অসহযোগ আন্দোলন
  2. ভারত ছাড় আন্দোলন
  3. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  4. বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৪.
'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের রচয়িতা -
  1. কায়কোবাদ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রফিক আজাদ
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
মহাশ্মশান:
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মহাশ্মশান (১৯০৫) (মহাকাব্য)।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের খণ্ড তিনটি।

কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- কুসুমকানন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৫.
‘কৃষ্ণচর্য’ ছদ্মনামে পদ লিখতেন চর্যাপদের কোন কবি?
  1. শবরপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
⇒ কাহ্নপা:
- চর্যাপদের কবিগণের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন কাহ্নপা।
- কাহ্নপা সর্বমোট ১৩টি পদ রচনা করেন।
- এই সংখ্যাধিক্যের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে কবি এবং সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করা যায়।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলো হল : ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ২৪, ৩৬, ৪০, ৪২ ও ৪৫।
- তাঁর রচিত ২৪নং পদটি পাওয়া যায় নি।
- কাহ্নপা রচিত পদগুলোতে- নিপুণ কবিত্ব শক্তি এবং তৎকালীন সমাজচিত্র ফুটে উঠেছে।
- চর্যাপদে কাহ্নিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাহ্নু নামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৮৬.
শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) দৈনিক পাকিস্তান
  2. খ) নতুন কবিতা
  3. গ) সোনার বাংলা
  4. ঘ) মর্নিং নিউজ
ব্যাখ্যা
আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবনে ১৩জন তরুণ কবির কবিতার সঙ্কলন, নতুন কবিতা-য় তাঁর পাঁচটি কবিতাতাঁর কবি পরিচয়কে সুধী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

মৃত্যুর পূর্বে শামসুর রাহমানের ৬৫টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রোদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শোকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৭.
‘রত্নবতী’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'রত্নবতী' উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রথম গ্রন্থের নাম হচ্ছে 'রত্নবতী'। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি মুসলিম সাহিত্যিকদের মধ্যে প্রথম কোন গ্রন্থ যা ঐতিহাসিকভাবে মূল্যবান। প্রকৃতপক্ষে এটি রূপকথা জাতীয় শিক্ষামূলক একটি দীর্ঘ গল্প।
- রাজপুত্র সুকুমার ও মন্ত্রীপুত্র সুমন্তের মধ্যে 'ধন বড় না বিদ্যা বড়' - এ বিতর্ক ও বিতর্কের সমাধানই 'রত্নবতী'র মূল বিষয়।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৮৮.
'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।' বিখ্যাত উক্তি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ঘরে-বাইরে 
  2. পথের দাবী
  3. গোরা 
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। গ্রন্থাকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

-'বঙ্গবাণী' পত্রিকায় ১৩২৯-এর ফাল্গুন সংখ্যা থেকে 'পথের দাবী' ধারাবাহিকরূপে প্রকাশিত হয়। এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কোনো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক 'সব্যসাচী' এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

- গ্রন্থটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হয়। নান্দনিক মানদণ্ডে 'পথের দাবী' উৎকৃষ্ট সাহিত্য কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। কিন্তু ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে এ উপন্যাস উদ্দীপকের ভূমিকা রাখে।

-'আমি বিপ্লবী, ভারতের স্বাধীনতাই আমার একমাত্র কাম্য, আমার একটি মাত্র সাধনা।'- এই বক্তব্য ছিল উপন্যাসের শেষে। ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে,
------------------
• ঘরে-বাইরে, গোরা ও চার অধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রইত উপন্যাস। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৩৮৯.
মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা কোনটি?
  1. জমিদার দর্পণ
  2. রত্নবতী
  3. বিষাদসিন্ধু
  4. গাজী মিয়াঁর বস্তানী
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা - গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 
----------------------------- 
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী:

- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেনের কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনীমূলক রচনা।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলাের নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে ‘ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।
----------------------------- 
• মীর মশাররফ হোসেন: 
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯০.
'কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।'- পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শামসুর রাহমান
  4. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
'কালো আর ধলো বাহিরে কেবল,
ভিতরে সবারি সমান রাঙা'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা- 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত'। 

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

মানুষ জাতি- কবিতা,
– --------------সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।
জগৎ জুড়িয়া এক জাতি আছে
সে জাতির নাম মানুষ জাতি;
এক পৃথিবীর স্তন্যে লালিত
একই রবি শশী মোদের সাথী।
শীতাতপ ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা
সবাই আমরা সমান বুঝি,
কচি কাঁচাগুলি ডাঁটো করে তুলি
বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো,
জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা,
কালো আর ধলো বাহিরে কেবল
ভিতরে সবারই সমান রাঙা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া, মানুষ জাতি- কবিতা।
১,৩৯১.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা-
  1. ক) ব্রজবুলি
  2. খ) জগাখিচুড়ি
  3. গ) সন্ধ্যাভাষা
  4. ঘ) বঙ্গ-কামরূপী
ব্যাখ্যা
ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা বা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলা যায়। তবে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ স্বীকার করেছেন চর্যাপদের ওপর অসমীয়দের দাবিও যৌক্তিক। কারণ ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত বাংলা ও অসমীয়া ভাষার মধ্যে বিশেষ পার্থক্য ছিল না। তাই চর্যার ভাষাকে বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।
সাধারণত, চর্যাপদ এর ভাষাকে বলা হয় সন্ধ্যাভাষা বা আলো-আধাঁরী ভাষা।
১,৩৯২.
‘পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’- পঙক্তিটি কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) প্রার্থী
  3. গ) রানার
  4. ঘ) হে মহাজীবন
ব্যাখ্যা
• আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'হে মহাজীবন' কবিতার অন্তর্গত। 
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• কবিতাটি নিম্নরূপ- 

হে মহাজীবন
(ছাড়পত্র) - সুকান্ত ভট্টাচার্য

হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন, কঠোর গদ্যে আনো,
পদ-লালিত্য-ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো!
প্রয়োজন নেই, কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী-গদ্যময়ঃ
পূর্ণিমা-চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।।

সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থ গুলো হল:
- পূর্বাভাস,
- হরতাল,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

উৎস: ‘ছাড়পত্র’ সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৩.
সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ কোনটি?
  1. পূর্বাভাস
  2. আকাল
  3. হরতাল
  4. অভিযান
ব্যাখ্যা
আকাল:
- ‘আকাল' (১৯৪৩) একটি সংকলন।
- পঞ্চাশের মন্বন্তর এই সংকলনের কবিতাগুলির মূল প্রেরণা।
- বিভিন্ন পত্রিকা থেকে সংকলন ও সম্পাদনা করে এই কবিতাগুচ্ছের একটি মূল্যবান ভূমিকা লিখেছিলেন সুকান্ত ভট্টাচার্য।
- ১৯৬৬ সালে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাসহ এর নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- এটি ছিল সুকান্তের জীবিতাবস্থায় প্রকাশিত একমাত্র গ্রন্থ।

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ছিলেন মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়ায়। 
- সুকান্ত ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন।
- সুকান্তের সাহিত্য-সাধনার মূল ক্ষেত্র ছিল কবিতা। সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, যন্ত্রণা ও বিক্ষোভ তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়বস্তু।
- তাঁর রচনাকর্মে গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাণীসহ শোষণহীন এক নতুন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার উচ্চারিত হয়েছে।
- ‘এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি' - সুকান্ত ভট্টাচার্যের বিখ্যাত উক্তি।
- তিনি ২৯শে বৈশাখ, ১৩৫৪; ১৩ই মে, ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ:
- ছাড়পত্র,
- ঘুম নেই,
- পূর্বাভাস,
- মিঠে কড়া,
- অভিযান,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৪.
'ভগ্ন শিবমন্দির' কোন প্রহসনের পূর্বনাম?
  1. বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ
  2. একেই কী বলে সভ্যতা
  3. সধবার একাদশী
  4. বিয়ে পাগলা বুড়ো
ব্যাখ্যা
• 'বুড় শালিকের ঘাড়ে রোঁ':
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন।
- প্রথমে এ প্রহসনের নাম ছিল 'ভগ্ন-শিবমন্দির'।
- এক লম্পট জমিদারের আচার-ব্যবহার ও দরিদ্র প্রজাদের দ্বারা উচিত শিক্ষা এই উপভোগ্য প্রহসনের মূলকাহিনী।
• উল্লেখযোগ্য চরিত্র: ভক্তপ্রসাদ বাবু, পঞ্চানন বাচস্পতি, গদাধর, পুঁটি, ফতেমা, ভগী, হানিফ, গাজি প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে এক জমিদার বংশে জন্ম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- ইংরেজিতে 'মাইকেল' শব্দটি হিব্রু 'মিখাইল' শব্দ থেকে এসেছে।
- তিনি ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৪৮ সালের ৩১ শে জুলাই মধুসূদন দত্ত রেবেকা মেকটাভিসকে বিয়ে করেন।

• তাঁর রচিত প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা।
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উল্লেখ্য,
- 'বিয়ে পাগলা বুড়ো' ও 'সধবার একাদশী' প্রহসনের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৫.
শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. বনি আদম
  2. তস্কর নস্কর
  3. পিঁজরাপোল
  4. আমলার মামলা
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস 'বনি আদম'।

• শওকত ওসমান:

- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক:
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৬.
'আরো দুটি মৃত্যু' হাসান হাফিজুর রহমানের কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. প্রবন্ধ
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• ‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত দাঙ্গাবিরোধী গল্প। গল্পটির প্রাসঙ্গিকতা এখনো সমানভাবে বিদ্যমান।

------------------------
হাসান হাফিজুর রহমান রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারি ইত্যাদি।

• গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৩৯৭.
‘কবিকণ্ঠহার’ উপাধি কোন কবির?
  1. চণ্ডীদাস
  2. কৃত্তিবাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• গ) বিদ্যাপতি-র উপাধি হল 'কবিকণ্ঠহার'।

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।

- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৩৯৮.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. গাইবান্ধায়
  2. বগুড়ায়
  3. ঢাকায়
  4. সিরাজগঞ্জে 
ব্যাখ্যা
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস। 
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম। 
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া শহরের নিকটবর্তী চেলোপাড়ায়।
• তিনি কথাসাহিত্যিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। 
- বিশেষত, তাঁর রচনাশৈলীর ক্ষেত্রে যে স্বকীয় বর্ণনারীতি ও সংলাপে কথ্যভাষার ব্যবহার লক্ষণীয় তা সমগ্র বাংলা কথাশিল্পে অনন্যসাধারণ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো: 
- অন্যঘরে অন্যস্বর, 
- দোজখের ওম, 
-  খোয়াবনামা,
- সংস্কৃতির ভাঙা সেতু ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৩৯৯.
'আয়না' রম্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. খ) আবুল মনসুর আহম্মদ
  3. গ) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আয়না' রম্য গল্পগ্রন্থের রচয়িতা- 'আবুল মনসুর আহমদ'।
- গ্রন্থটির ভূমিকা বা মুখবন্ধ লিখেছিলেন - কাজী নজরুল ইসলাম।

আবুল মনসুর আহমদ
আবুল মনসুর আহমদ সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। 
- আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।

• আবুল মনসুর আহমেদ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- ফুড কনফারেন্স
- আয়না,
- আসমানী পর্দা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্য মিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা,
- আবে হায়াত।

আত্মচরিত:
- আত্মকথা

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া
১,৪০০.
যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি' - পঙ্‌ক্তিটি কোন কবিতা থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. প্রতিদান
  2. কবর
  3. প্রাণ
  4. মুকুল
ব্যাখ্যা
- 'যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি'- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - জসীমউদ্‌দীন।
- কবিতাটি জসীমউদ্‌দীনের 'প্রতিদান' কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নকশী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।