বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১৩ / ২১১ · ১,২০১১,৩০০ / ২১,১৩২

১,২০১.
'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম-
  1. সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
  2. মাসিক সংবাদপত্র
  3. দৈনিক সংবাদপত্র
  4. ত্রৈমাসিক সংবাদপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- শ্রীরামপুর মিশন থেকে পত্রিকাটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০২.
'পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. শওকত ওসমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২০৩.
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতার চরণ?
  1. হিং টিং ছট
  2. বিদায়
  3. নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ
  4. পূজারণী
ব্যাখ্যা
"আজি এ প্রভাতে রবির কর, কেমনে পশিল প্রাণের 'পর" রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন বিখ্যাত কবিতা 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' - এর চরণ।

• নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' কবির 'প্রভাতসঙ্গীত' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

অন্যদিকে,
- বিদায়, 'খেয়া' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- হিং টিং ছট', সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের কবিতা।
- পূজারণী তার 'কথা কাহিনী' কাব্য গ্রন্থের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
১,২০৪.
বিদ্রূপাত্মক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেন-
  1. ক) আল মাহমুদ
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ (১৮৯৮ - ১৯৭৯): বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রুপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত।
তাঁর বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে: আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)।
তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।
আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তাঁর আত্মচরিত হল আত্মকথা (১৯৭৮)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১,২০৫.
'মৈনাক' কোন কবি ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. শামসুর রাহমান
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'মৈনাক' হচ্ছে কবি শামসুর রাহমানের ছদ্মনাম। এছাড়াও তিনি 'নেপথ্যে', 'জনান্তিকে' প্রভৃতি ছদ্মনামে কবিতা লিখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তিনি মজলুম আদিব ছদ্মনামে কবিতা লিখতেন।

অনদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০৬.
বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন কে?
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) অতুলপ্রসাদ সেন
  3. গ) লালন শাহ
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন: 
- অতুলপ্রসাদ সেন ছিলেন একজন কবি, গীতিকার, গায়ক।
- তিনি ১৮৭১ সালে ঢাকায়  জন্মগ্রহণ করেন। 
- অতুল প্রসাদ সেন সুরকার ও গীতিকার হিসাবে সঙ্গীত ভুবনে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।
- তাঁর অপূর্ব সৃষ্টি, ‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলা ভাষা।’
- তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ২০০টি।
- তিনি বাংলা গানে সর্বপ্রথম ঠুমরি আমদানি করেন।
 -তাঁর লেখা গানের সংকলন - 'কয়েকটি গান ও গীতিপুঞ্জ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৭.
'সোহিনী' চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন গল্পের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাপ্তি
  2. প্রায়শ্চিত্ত
  3. মহামায়া
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
'ল্যাবরেটরি' গল্প:
- 'ল্যাবরেটরি' গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একেবারে শেষের দিকের রচনা।
- গল্পটিতে রবীন্দ্রভাবনার অত্যাধুনিক মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়। গল্পটির মূল চরিত্রে রয়েছে সোহিনী।
- বিজ্ঞান পাগল নন্দকিশোর নিজের জীবনের সাথে সোহিনীকে জড়িয়ে নিজের মতো করে গড়ে নিতে চেয়েছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া, লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,২০৮.
‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীতটির রচয়িতা কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকাহত নজরুল তাৎক্ষণিকভাবে রচনা করেন ‘রবিহারা’ ও ‘সালাম অস্তরবি’ কবিতা এবং ‘ঘুমাইতে দাও শ্রান্ত রবিরে’ শোকসঙ্গীত।
• ‘রবিহারা’ কবিতা নজরুল স্বকণ্ঠে আবৃত্তি করেন কলকাতা বেতারে, গ্রামোফোন এর রেকর্ডে।
• ‘ঘুমাইতে দাও’ গানটিও কয়েকজন শিল্পীকে নিয়ে স্বকণ্ঠে গেয়েছিলেন। 

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২০৯.
'কাব্যকাহিনী' কার লেখা কাব্যগ্রন্থ?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) হুমায়ুন কবির
  3. গ) গোলাম মোস্তফা
  4. ঘ) কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ- রক্তরাগ, খোশরোজ, কাব্যকাহিনী, গীতি সঞ্চয়ন, সাহারা, হাসনাহেনা, বুলবুলিস্তান, বনি আদম ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১০.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকা প্রকাশের কৃতিত্ব কার?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী। ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।

- ১৯২৩ সালে 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। কিন্তু ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত এর সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় 'সাহিত্যপত্র' প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও নিরুক্ত নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। বিষ্ণু দে কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর সাহিত্য জীবন শুরু করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২১১.
'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের প্রধান বিষয় কী?
  1. সামাজিক বৈষম্য
  2. প্রেম
  3. দেশপ্রেম
  4. ধর্মীয় সংস্কার 
ব্যাখ্যা

• 'রিক্তের বেদন':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রিক্তের বেদন' দ্বিতীয় প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- এই গল্পগ্রন্থের প্রতিটি গল্পই সমকালীন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- গল্পগুলোর প্রধান বিষয় হলো- প্রেম।
- এই গ্রন্থে প্রেমকে কেন্দ্র করে পারিপার্শ্বিক ঘটনা ও নারীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো:
- রিক্তের বেদন,
- বাউণ্ডেলের আত্মকাহিনী,
- মেহের নেগার,
- সাঁঝের তারা,
- রাক্ষুসী,
- স্বামী হারা,
- দুরন্ত পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘রিক্তের বেদন’ গ্রন্থ।

১,২১২.
কোনটি ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য নয় ?
  1. ক) সত্যপীরের পুঁথি
  2. খ) লাইলী মজনু
  3. গ) জঙ্গনামা
  4. ঘ) সােনাভান
ব্যাখ্যা
• দোভাষী পুঁথি বা পুঁথি সাহিত্যর প্রাচীনতম, আদি, শ্রেষ্ঠ ও সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ।
ফকির গরীবুল্লাহ রচিত কাব্য-
- আমীর হামজা (প্রথম অংশ),
- সােনাভান,
- জঙ্গনামা,
- সত্যপীরের পুঁথি ও
- ইউসুফ জোলেখা।

• দৌলত উজির বাহরাম খাঁর রচিত 'লায়লী-মজনু' কাব্য পারসিয়ান কবি জামীর 'লায়লা ওয়া মজনুন’ কাব্যের ভাবানুবাদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
১,২১৩.
আখতারুজ্জান ইলিয়াসের রচিত ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. কবিতা
  2. ছোটগল্প
  3. উপন্যাস
  4.  নাটক
ব্যাখ্যা

• মিলির হাতে স্টেনগান: 
- এটি আখতারুজ্জান ইলিয়াস রচিত ছোটগল্প।
- ‘মিলির হাতে স্টেনগান’ মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তি জটিল বাস্তবতার গল্প।
- মুক্তিযোদ্ধা আব্বাস মাস্টার যুদ্ধ-পরবর্তী লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতির মতো বিচ্ছিন্ন কিছু অরাজকতা দেখবার পরে অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়ে।
- পাড়ার মুক্তিযোদ্ধা রানার বোন মিলিও দেশে বিচ্ছিন্ন অরাজকতা প্রত্যক্ষ করে উত্তেজিত হয়ে যেতে থাকে।
- তার ভাই রানার লুকিয়ে রাখা স্টেনগান খুঁজে বের করে সে। যখন আব্বাস মাস্টারের হাতে স্টেনগানটা তুলে দেয় মিলি তখন দেখা যায়, সুচিকিৎসার কারণে আব্বাস মাস্টারের পাগলামি ভাল হয়ে গেছে।
- মিলি তখন দেখতে থাকে, দেশকে রসাতলে টেনে নিয়ে যাবার জন্য চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশের শত্রুরা।
- তাই রানার স্টেনগানটা সে নিজের হাতেই ধরে রাখে।
- এভাবে নিস্ফল বিদ্রোহ প্রকাশ করে মিলি।
- এ বিদ্রোহ নিস্ফল কেননা তা সঙ্গবদ্ধ কোনও পদক্ষেপ নয়।
- সেই ক্ষণের একটা রোমান্টিক অবস্থান মাত্র।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- তিনি গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।
 
» তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।

» তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।
 
তথ্যসূত্র: i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও সাহিত্য পাঠ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ডবই।
ii) পত্রিকা প্রতিবেদন। (লিংক)

১,২১৪.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন-
  1. মুনির চৌধুরী
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
-  সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে পরিচয় পত্রিকা কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। 
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।  
- 'কল্লোল' পত্রিকা বন্ধ হওয়ার পর বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন।  

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত: 
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। 
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:  
- তন্বী, 
- অর্কেস্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তরফাল্গুনী, 
- সংবর্ত, 
- দশমী।  

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গদ্যগ্রন্থ: 
- স্বগত, 
- কুলায় ও কালপুরুষ। 

• তাঁর রচিত অনুবাদ-কাব্যগ্রন্থ:
- প্রতিধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২১৫.
‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটির উপজীব্য কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. দেশভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা

• রাইফেল রোটি আওরাত:
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটির রচনাকাল ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত। 
-  মুক্তিযুদ্ধের প্রথম উপন্যাস এটি। 
- আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসটি প্রচলিত অর্থের চরিত্র নির্ভর উপন্যাস নয়।

• আনোয়ার পাশা:
- আনোয়ার পাশা বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- জন্ম ১৯২৮ সালের ১৫ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ডাবকাই গ্রামে।

• আনোয়ার পাশা রচিত উপন্যাস: 
- নিশুতি রাতের গাথা,
- নীড় সন্ধানী ও
- রাইফেল রোটি আওরাত (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ: 
- 'নদী নিঃশেষিত হলে',
- 'সমুদ্র শৃঙ্খলাতা উজ্জয়িনী' ও
- 'অন্যান্য কবিতা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২১৬.
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।" - পদটি রচনা করে কে?
  1. শবরপা
  2. ভুসুকুপা
  3. মহীধরপা
  4. কাহ্নপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন। ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙ্‌ক্তি:

"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২১৭.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস -
  1. টুনি মেম
  2. শবনম
  3. চাচা-কাহিনী
  4. সুড়ঙ্গ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম

সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে,
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত নাটক - সুড়ঙ্গ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২১৮.
হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ-
  1. ক) অলৌকিক ইস্টিমার
  2. খ) সাবিত্রী উপাখ্যান
  3. গ) পাতালে হাসপাতালে
  4. ঘ) যখন উদ্যত সঙ্গীন
ব্যাখ্যা

• হাসান আজিজুল হকের গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন,
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।
• একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ।
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শামুক,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন ইত্যাদি।
• 'যখন উদ্যত সঙ্গীন' হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ।
• 'অলৌকিক ইস্টিমার' হুমায়ুন আজাদের কাব্যগ্রন্থ।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২১৯.
গিনিপিগ নাটকের নাট্যকার কে?
  1. নুরুল মোমেন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'গিনিপিগ' নাটকের রচয়িতা হলেন মামুনুর রশীদ।
- নাটকটি ১৯৮৫ সালে প্রাকাশিত হয়।

• মামুনুর রশীদ:
- মামুনুর রশীদ মূলত নাট্যকার হিসেবে পরিচিত।
- টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯৪৮ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মামুনুর রশীদ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ১৯৯০ সালে আলাওল সাহিত্য পুরস্কার পান৷

• তাঁর রচিত অন্যান্য নাটক:
- ওরা কদম আলী,
- ওরা আছে বলেই,
- মে দিবস,
- ইবলিশ,
- এখানে নোঙর,
- গিনিপিগ,
- সমতট,
- পাথর,
- লেবেদেফ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২০.
'রক্তাম্বরধারিণী' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ভাঙ্গার গান
  2. বিষের বাঁশি
  3. অগ্নিবীণা
  4. প্রলয়শিখা
ব্যাখ্যা

অগ্নিবীণা:
- ১৯২২ সালে নজরুলের যেসব সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয় সেসবের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল গল্প-সংকলন ব্যথার দান, কবিতা-সংকলন অগ্নি-বীণা ও প্রবন্ধ-সংকলন যুগবাণী।
- বাংলা কবিতার পালাবদলকারী কাব্য অগ্নি-বীণা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে যায়।

অগ্নি-বীণা কাব্যে ১২ টি কবিতা আছে।
- বিষয়বস্তুর জায়গা থেকে কবিতাগুলোকে ৪ ভাগে বিভক্ত করা যায়।
- যেমন:
- ১. দ্রোহ, বিপ্লব ও আমিত্ব: প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, ধূমকেতু।
- ২. সময় ও যুদ্ধ: কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত-ইল- আরব।
- ৩. মুসলিম ঐতিহ্য: মোহররম, কোরবানী, খেয়াপারের তরণী।
- ৪. হিন্দু ঐতিহ্য: রক্তাম্বরধারিণী মা, আগমনী।
- বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে ২২ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রকাশিত প্রকাশিত হয় ।
- অগ্নি-বীণা কাব্যের প্রথম কবিতা প্রলয়োল্লাস দ্বিতীয় কবিতা বিদ্রোহী শেষ কবিতা মোহররম।
- রক্তাম্বরধারিণী মা কবিতাটি নিষিদ্ধ হয়েছিল, অগ্নি-বীণা কাব্যটি নিষিদ্ধ হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার-১৪।

১,২২১.
‘যাযাবর' কার ছদ্মনাম?
  1.  বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারে
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'যাযাবর' ছদ্মনামে লিখতেন = বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়।

তাছাড়া, 
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
• আবার, দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের ছদ্মনামও ছিলো- দৃষ্টিহীন।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - বনফুল।
• বিহারীলাল চক্রবর্তীর উপাধি- ভোরের পাখি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২২২.
শহীদুল্লা কায়সার কোন জেলার সন্তান?
  1. কুমিল্লা
  2. ফেনী
  3. নোয়াখালী
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

শহীদুল্লা কায়সার রচিত উপন্যাস:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২২৩.
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু কোনটি?
  1. ইতিহাস
  2. রাজনীতি
  3. ধর্মীয় কাহিনি
  4. কৃষি ও আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
খনার বচনের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে কৃষি ও আবহাওয়া।

• ডাক ও খনার বচন
- ডাক ও খনার বচনকে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের সৃষ্টি বলে বিবেচনা করা হয়।
- বিষয় হিসেবে ডাক ও খনার বচন পুরানো এবং ছড়া জাতীয় এসব নমুনাকে লোকসাহিত্যের আদি নিদর্শন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ছড়া জাতীয় এসব রচনায় এদেশের আবহাওয়া ও কৃষি সম্পর্কিত বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতার রূপায়ণ ঘটেছে।
- এসবের মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে নীতিকথা ও বহুদর্শী উপদেশ।
- ডাক নামে কোন পণ্ডিত ব্যক্তি ছিলেন কিনা জানা যায় নি।
- সাধারণত প্রাচীন আমলের এক শ্রেণির বৌদ্ধতান্ত্রিক সাধককে ডাক বলা হত।
- প্রাচীন যুগের ফলিত জ্যোতিষ ও কৃষি-বিষয়ক অভিজ্ঞতা এসব বচনের মধ্যে ছড়ার আকারে প্রচলিত হয়েছে এবং যুগ যুগ ধরে মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে আসছে।
- উড়িষ্যা অঞ্চলেও কিছু ডাকের বচন রচিত হয়েছিল।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম।
১,২২৪.
চলিত ভাষারীতি প্রবর্তনে অগ্রনী ভূমিকা রাখে কোন পত্রিকা?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) তত্ত্ববোধনী
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
চৌধুরী, প্রমথ (১৮৬৮-১৯৪৬)  সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- সবুজপত্র  বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী। 
- প্রথম পর্যায়ে এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দ (১৯২২ সাল) পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে সবুজপত্রের প্রকাশনা শুরু হয় ১৩৩২ বঙ্গাব্দ থেকে। সাময়িকীটি শেষ পর্যন্ত ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে (১৯২৭ সালে) বন্ধ হয়ে যায়।
-  প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে। 
- এরপর থেকে বাংলা সাহিত্যে কথ্য বাংলা প্রাধান্য লাভ করে। পরবর্তী সময়ে রবীন্দ্রনাথ লিখিত গদ্য এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্য সবুজপত্রের সফলতা যথেষ্টভাবে প্রমাণ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২২৫.
'মহারাজাধিরাজ' পদবী কারা গ্রহণ করেন-
  1. ক) আকবর, হুমায়ুন ও জাহাঙ্গীর
  2. খ) ইলিয়াস শাহ , তুঘলক ও জালালউদ্দিন
  3. গ) ধর্মপাল ও গোপাল
  4. ঘ) গোপচন্দ্র, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব
ব্যাখ্যা

'খ্রীস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিকে দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
সাতখানা তাম্রশাসন থেকে এই রাজ্যের তিনজন ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধিধারী রাজার নাম পাওয়া যায়।
তাঁরা হচ্ছেন ধর্মাদিত্য, গোপচন্দ্র ও সমাচারদেব।
তাঁদের এলাকাভুক্ত ছিল কর্ণসুবর্ণ (বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলা)।
উৎসঃ পৃষ্ঠা-২৮, বাঙলা ও বাঙালীর বিবর্তন, ড. অতুল সুর।

গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
বর্তমান পশ্বিমবঙ্গের কিছু অংশ পর্যন্ত এর বিস্তৃতি ছিল।
স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন।
এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো।
এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজার নাম জানা যায়।
তারা ৫২৫ থেকে ৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন।
সম্ভবত চন্দ্রগুপ্ত একাই ৩৩ বছর শাসন করেছেন বলে জানা যায়।
বঙ্গের রাজাগণ ‘মহারাজাধিরাজ’ উপাধি ধারণ করতেন।
এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়।
উৎসঃ বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।

১,২২৬.
'প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী আমায় নেবে সঙ্গে,  বাংলা আমার বচন, আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।'- কবিতাংশটির রচয়িতা কে?
  1. আল মাহমুদ
  2. শামসুর রাহমান
  3. আহসান হাবীব
  4. আবদুল গাফ্‌ফার  চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী বাংলা আমার বচন, আমি আমায় নেবে সঙ্গে, জন্মেছি এই বঙ্গে।' এই চরণগুলো আল মাহমুদের ‘একুশের কবিতা’ থেকে নেওয়া।

'একুশের কবিতা' 

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায় ?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে !

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে ?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে ?

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন, আমি
জন্মেছি এই বঙ্গে।

• 'আল মাহমুদ':
- আল মাহমুদ একজন প্রথিতযশা কবি।
- বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা।
- আধুনিক বাংলা কবিতার নগরকেন্দ্রিক প্রেক্ষাপটে ভাটি বাংলার জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহ তাঁর কবিতার বিশেষ উপাদান।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- মায়াবী পর্দা দুলে ওঠো,
- আরব্য রজনীর রাজহাঁস,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- কবি ও কোলাহল ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, একুশে কবিতা।

১,২২৭.
নিচের কোন পত্রিকাকে ঘিরে একটি স্বতন্ত্র সাহিত্য বলয় তৈরি হয়েছিলো?
  1. প্রগতি
  2. ধূমকেতু
  3. কল্লোল
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা
• 'কল্লোল' পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
 
'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকার লেখক ছিলেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম ও মোহিতলাল মজুমদার প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২৮.
'ওসমান' আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. খােয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. রাইফেল রােটি আওরাত
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'চিলেকোঠার সেপাই' উপন্যাস:
- ‘চিলেকোঠার সেপাই’ বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর লেখা।
- এটি তার একটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস চিলেকোঠার সেপাই।
- উপন্যাসটির প্রধান চরিত্র ওসমান
- কোন বাড়ির চিলেকোঠায় বাস করেও স্বাধীনতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা বৃহত্তর আন্দোলনের জোয়ারে সেদিন মিলিত হয়েছিল ওসমান।
- এখানে ইতিবাচক রাজনীতির উপস্থাপনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অব্যবহিত পূর্বরূপটি ওঠে এসেছে।

অন্যদিকে,
- 'রাইফেল রােটি আওরাত' (১৯৭৩) আনােয়ার পাশা রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলাে হচ্ছে - ড. খালেক, ড. মালেক, ছাবেদ আলী, হাসমত, জামাল সাহেব প্রমুখ।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- ১৯৪৩ সালে গাইবান্ধা জেলায় জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি চিলেকোঠার সেপাই, খােয়াবনামা নামে দুটি মহাকাব্যোচিত উপন্যাস রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২২৯.
'গোকুল' ও 'বিনোদ' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. শ্রীকান্ত
  2. বৈকুণ্ঠের উইল
  3. চরিত্রহীন
  4. দেবদাস
ব্যাখ্যা

• 'বৈকুণ্ঠের উইল' উপন্যাস:
- 'বৈকুণ্ঠের উইল' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি লোকপ্রিয় উপন্যাস। ১৯১৬ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটি চলচ্চিত্রায়িত হয়, যাতে অভিনয় করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, সন্ধ্যারাণী, সত্য ব্যানার্জি প্রমুখ।
- এ উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- গোকুল ও বিনোদ।

অন্যদিকে,
----------------------
• 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। তিনি এই উপন্যাসটি মোট চার খণ্ডে সমাপ্ত করেন। চারটি খণ্ড একসাথে লেখেন নি। যথাক্রমে ১৯১৭, ১৯১৮, ১৯২৭ এবং ১৯৩৩ সালে চারটি খণ্ড লেখা শেষ করেন।

- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়। লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'। ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়। তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী।

• "চরিত্রহীন" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'চরিত্রহীন' উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৭ সালে। প্রথা বহির্ভূত প্রেম ও নারীপুরুষের সম্পর্ক নিয়ে এটি রচিত। উপন্যাসের নামকরণ তাই চরিত্রহীন ৷ গল্পটিতে চারটি নারী চরিত্র রয়েছে।

- প্রধান দুটি নারী চরিত্রের নাম সাবিত্রী ও কিরণময়ী ৷ ছোট দুটি নারী চরিত্রের নাম সুরবালা ও সরোজিনী ৷ সাবেক দুই চরিত্রহে (চরিত্রহীন) হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় যে উপন্যাসের চারটি চরিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন।

• 'দেবদাস' উপন্যাস:
- 'দেবদাস' (১৯১৭) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। “ভারতবর্ষ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় । সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় দেবদাস তার বাল্যপ্রণয়ী পার্বতীকে বিয়ে করতে ব্যর্থ হয়। সেই ব্যর্থতায় নিজেকে তিলে তিলে ক্ষয় করার বেদনাময় কাহিনি।
- এই উপন্যাস সমস্ত ভারতবর্ষে জনপ্রিয় হয়। দেবদাস ও পার্বতী আধুনিক ভারতীয় জীবনে ব্যর্থ প্রেমিক-প্রেমিকার রূপকে পরিণত করেছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: দেবদাস, পার্বতী (পারু), চন্দ্রমুখী, চুনিলাল, ধর্মদাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,২৩০.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম’ গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৩১.
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কয়টি দেশের জাতীয় সংগীত রচনা করেন?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুইটি দেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনা করেছেন।
১. ভারত 
২. বাংলাদেশ

এছাড়াও
- তিনি তৃতীয় লঙ্কান জাতীয় সঙ্গীত 'শ্রীলঙ্কা মঠ'-এর শব্দ ও সঙ্গীতকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।
- গানটি আনন্দ সমরকুন লিখেছিলেন এবং সুর করেছিলেন।
- ১৯৩৯-৪০ সালে, তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ঠাকুরের শিষ্য ছিলেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও হিন্দুস্থান পত্রিকা রিপোর্ট।

১,২৩২.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গ্রন্থ-
  1. পদ্মগোখরা
  2. পদ্মপুরাণ
  3. পদ্মাবতী
  4. পদ্মরাগ
ব্যাখ্যা

'পদ্মগোখরা':
- কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- 'পদ্মগোখরা' গল্পটি 'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত।
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের কার্তিকে (১৯৩১)।

'শিউলিমালা' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- পদ্ম-গোখরো,
- জিনের বাদশা,
- অগ্নি-গিরি,
- শিউলিমালা।

অন্যদিকে,
-"পদ্মপুরাণ" মনসামঙ্গলের আদি কবিকানা হরিদত্ত রচিত মঙ্গলকাব্য । মনসামঙ্গল কাব্য পদ্মপুরাণ নামে পরিচিত।
- পদ্মাবতী কবি আলাওলের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- 'পদ্মরাগ' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৩৩.
'বিড়াল' প্রবন্ধটি রচনা করেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'বিড়াল' প্রবন্ধ:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা।
- প্রবন্ধটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে প্রবন্ধটিতে তুলে ধরেছেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক,।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। 
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৩৪.
'কালের কলস' কোন ধরনের রচনা?
  1. ক) নৃত্যনাট্য
  2. খ) কথাসাহিত্য
  3. গ) কাব্য
  4. ঘ) উপন্যাস
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কবি আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ-- সোনালী কাবিন (১৯৭৩), লোক লোকান্তর, কালের কলস, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, দোয়েল ও দোয়িতা, পাখির কাছে ফুলের কাছে, প্রেমের কবিতা, দ্বিতীয় ভাঙ্গন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৩৫.
বিখ্যাত 'আনোয়ারা' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'আনোয়ারা' উপন্যাস:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান এর জনপ্রিয় ও প্রথম উপন্যাস হচ্ছে আনোয়ারা।
- উপন্যাসটি ১৯১৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটিতে মধ্যবিত্ত বিকাশের চিত্রের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
- এ উপন্যাসের প্রতিপাদ্য ধর্ম ও সত্যের জয়, অধর্মের পরাজয় ও আনোয়ারার স্বামীনিষ্ঠা।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র: আনোয়ারা, নুরুল এসলাম, খাদেম, আজিমুল্লা, গোলাপ জান ইত্যাদি।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরবেলতৈল এ জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- প্রেমের সমাধি,
- পরিণাম,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- দুনিয়া আর চাই না,
- গরীবের মেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৩৬.
“আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।” পঙ্‌ক্তিদ্বয় কার রচনা?
  1. আল মাহমুদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• পঙ্‌ক্তি দুটি বিখ্যাত কবি আল মাহমুদ রচিত 'নোলক' নামক কবিতার অংশ।
- যেখানে কবি তাঁর মায়ের হারিয়ে যাওয়া সোনার নোলক খুঁজে বেড়াচ্ছেন।

'নোলক' কবিতার অংশবিশেষ-

নোলক
– আল মাহমুদ
আমার মায়ের সোনার নোলক হারিয়ে গেল শেষে
হেথায় খুঁজি হোথায় খুঁজি সারা বাংলাদেশে।
নদীর কাছে গিয়েছিলাম, আছে তুমার কাছে?
-হাত দিও না আমার শরীর ভরা বোয়াল মাছে।
বললো কেঁদে তিতাস নদী হরিণবেড়ের বাঁকে
শাদা পালক বকরা যেথায় পাখ ছাড়িয়ে থাকে।

---------------------
• আল মাহমুদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

আল মাহমুদ রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৩৭.
কার কাব্য অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' কাব্য রচনা করেন?
  1. সাবিরিদ খান
  2. মালিক মুহম্মদ জায়সি
  3. সাধন
  4. মনঝন
ব্যাখ্যা
মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলমান কবি আলাওল 
- মহাকবি আলাওলের শ্রেষ্ঠ কাব্যের নাম 'পদ্মাবতী'।
- পদ্মাবতী রচিত বা প্রকাশিত হয় ১৬৪৮ সালে।
- এই কাব্যটি আলাওল রচনা করেন মাগণ ঠাকুরের অনুরোধে।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

আলাওল রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থঃ
- সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল,
- সপ্তপয়কর,
- সিকান্দারনামা,
- তোহফা বা তত্ত্বোপদেশ,
- রাগতালনামা এবং
- দৌলত কাজীর অসমাপ্ত গ্রন্থ সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী।



[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর]
 
১,২৩৮.
চর্যাপদের কত নম্বর পদ শবরপা রচনা করেছেন?
  1. ১২ ও ২০ নং পদ 
  2. ২৮ ও ৫০ নং পদ 
  3. ৪৮ ও ৫০ নং পদ 
  4. ২ ও ৫০ নং পদ  
ব্যাখ্যা

• শবরপা:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের প্রাচীনতম কবি শবরপা।
- শহীদুল্লাহর মতে তিনি বাংলাদেশের লোক ছিলেন।
- শবরপা নাগর্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ ভাষা মিলিয়ে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন।
- চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নম্বর পদের রচয়িতা শবরপা।
- ড. শহীদুল্লাহ শবরপাকে লুইপার গুরু হিসেবে মনে করেন।

১,২৩৯.
প্রথম কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙ্গুর' এর সাথে কার নাম জড়িত ?
  1. ক) সুকুমার রায়
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে। 

মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ (১৮৮৫-১৯৬৯)  
- শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর জন্ম ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে।
- ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে শহীদুল্লাহ্র বহু মননশীল ও জ্ঞানগর্ভ প্রবন্ধ নানা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা তিনি সম্পাদনা করেন।
- আল এসলাম পত্রিকার সহকারী সম্পাদক (১৯১৫)
- বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক (১৯১৮-২১) হিসেবে
- তাঁর সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশুপত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
তাঁর অন্যান্য সম্পাদিত পত্রিকা -
- ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দি পীস (১৯২৩)।
- বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা বঙ্গভূমি (১৯৩৭) এবং
- পাক্ষিক তকবীর (১৯৪৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪০.
আদি বৈষ্ণব পদাবলি গ্রন্থের নাম কী?
  1. ভাগবত পুরাণ
  2. তীর্থযাত্রাভিসার
  3. গীতগোবিন্দম্
  4. শাক্ত পদাবলি
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলি:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস।

এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।
['শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।]

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,২৪১.
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. ক) আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. খ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. গ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কবিতার রচয়িতা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। 
- কবিতাটি 'আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৮১ সালে। 
- গ্রন্থটিতে ৩৯ টি কবিতা স্থান পেয়েছে। 

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ (১৯৩৪-২০০১)
- কবি, সরকারি কর্মকর্তা আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জন্ম ৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর-ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে। 
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর কবিতায় আবহমান বাংলার অকৃত্রিম ছবি পাওয়া যায়। তাঁর কবিতার সূচনা ভাষা আন্দোলনকে (১৯৫২) কেন্দ্র করে এবং বিকাশ ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সামগ্রিক জনজীবনের আশা-নিরাশা এবং স্বপ্ন-বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে।
- পঞ্চাশের দশকে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ সাত নরী হার (১৯৫৫) এবং পরবর্তীকালের কখনো রং কখনো সুর (১৯৭০) ও কমলের চোখ (১৯৭৪) এ ধরনের গীতিমুখ্য সুললিত কবিতার সংকলন।
- আশির দশক থেকে আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ মহাকাব্যিক কাব্যরীতিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠেন। এ পর্যায়ে তাঁর কবিতার বিষয় হিসেবে উঠে আসা মা-মাটি ও সংগ্রামী মানুষের চিত্র পরিচিত দেশ-কালের সীমানা অতিক্রম করে স্পর্শ করে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল। এ মহাকাব্যিক কাব্যভঙ্গিতেই তিনি রচনা করেন তাঁর সর্বাধিক জননন্দিত কাব্যগ্রন্থ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি (১৯৮১)। এ ছাড়া সহিষ্ণু প্রতীক্ষা (১৯৮২), বৃষ্টি ও সাহসী পুরুষের জন্য প্রার্থনা (১৯৮৩) কাব্যগ্রন্থ দুটিতেও মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা লক্ষ্য করা যায়।

তার অন্যান্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে
- আমার সময় (১৯৮৭),
- নির্বাচিত কবিতা (১৯৯১),
- আমার সকল কথা (১৯৯৩),
- খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এবং
- জীবিত অবস্থার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ মসৃণ কৃষ্ণগোলাপ (২০০২)।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৪২.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ১৯১৩ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৬ সালে
  4. ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

- তার সাহিত্যকর্ম:
উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা,
- কবি-কাহিনী ইত্যাদি।

নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৪৩.
জসীম উদ্‌দীন রচিত নাটক কোনটি?
  1. মাটির কান্না
  2. রূপবতী
  3. পল্লীবধূ
  4. ডালিম কুমার
ব্যাখ্যা

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৪৪.
কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল -
  1. স্বভাব কবি
  2. আদি কবি
  3. সুকবি বল্লভ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নারায়ণ দেব:
- নারায়ণ দেব মধ্যযুগের মনসামঙ্গল কাব্যের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় কবি।
- কবি নারায়ণ দেবের উপাধি ছিল 'সুকবি বল্লভ'।
- তাঁর কাব্যের নাম 'পদ্মপুরাণ'।

অন্যদিকে,
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার প্রথম ‘স্বভাব কবি’ বলা হয় দ্বিজমাধবকে।
- কানা হরিদত্ত মঙ্গলকাব্যের আদি কবি এবং বিজয়গুপ্ত মঙ্গলকাব্য ধারার উল্লেখযোগ্য একজন কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৪৫.
'দুঃসময়ের মুখোমুখি' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. ক) সৈয়দ শামসুল হক
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) শামসুজ্জামান খান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- শামসুর রাহমান আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা)
- আমি অনাহারী,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড় ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,২৪৬.
‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. আল মাহমুদ
  3. আব্দুল কাদির
  4. গােবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ‘ভাওয়ালের কবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাসের পরিচয়।
- বাংলা সাহিত্যের স্বভাবকবি হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর কবিতায় পূর্ববঙ্গের প্রাকৃতিক শোভা, বস্ত্তনিষ্ঠতা এবং গভীর পত্নিপ্রেম ফুটে উঠেছে।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন। কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস (১৯১০) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
১,২৪৭.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'পদ্মাবতী' নাটকটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৮ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৬০ সালে
  4. ১৮৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

'পদ্মাবতী' নাটক:
- 'পদ্মাবতী' নাটকটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম কমেডি ধাচের নাটক এবং এতে প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করা হয়। ১৮৬০ সালে এটি প্রকাশিত হয়।
- মাইকেল মধুসূদন নাটকটি গ্রীক পুরাণের প্রসিদ্ধ গল্প "Apple of Discord" এর ছায়া অবলম্বন করে রচনা করেন।

- এ নাটকেই তিনি পরীক্ষামূলকভাবে ইংরেজি কাব্যের অনুকরণে অমিত্রাক্ষর ছন্দ ব্যবহার বরেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার এটাই প্রথম এবং এর ফলে তিনি বাংলা কাব্যকে ছন্দের বন্ধন থেকে মুক্তি দেন। বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহারে এই সফলতা তাঁকে ভীষণভাবে উৎসাহিত করে এবং এই ছন্দে একই বছর তিনি রচনা করেন তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- পদ্মাবতী,
- ইন্দ্রনীল,
- শচী,
- মুরজা,
- রতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ।

১,২৪৮.
'শেষকথা' গল্পটি কোন গল্পসংকলনের অন্তর্ভুক্ত?
  1. কথাচতুষ্টয়
  2. কথা ও কাহিনী
  3. তিনসঙ্গী
  4. গল্পগুচ্ছ
ব্যাখ্যা
তিনসঙ্গী:
- 'তিনসঙ্গী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গল্প সংকলন। এটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষ জীবনে লেখা তিনটি গল্প প্রকাশ পায় এ গ্রন্থে।
- গল্প তিনটি: রবিবার, শেষকথা, ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৪৯.
‘মোকাজান মিঞা’ চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মার পলিদ্বীপ
  2. আলালের ঘরের দুলাল
  3. লালসালু
  4. পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
♦ আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস:
- প্যারীচাঁদ মিত্র বা টেকচাঁদ ঠাকুর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' বাংলা উপন্যাস রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এটি ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে যে কথ্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে তা ‘আলালী ভাষা’ নামে পরিচিত।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: মোকাজান মিঞা বা ঠকচাচা।
- 'ঠকচাচা' চরিত্রটি ধূর্ততা, বৈষয়িক বুদ্ধি, ও প্রাণময়তা নিয়ে এ গ্রন্থের সর্বাপেক্ষা জীবন্ত চরিত্র।  
- উপন্যাসটি ‘The Spoiled Child’ নামে ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।

=============
• প্যারীচাঁদ মিত্র: 
- প্যারীচাঁদ মিত্র লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি দি ইংলিশম্যান, ইন্ডিয়ান ফিল্ড,  হিন্দু প্যাট্রিয়ট, ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া এবং  বেঙ্গল স্পেক্টেটর পত্রিকার নিয়মিত লেখক ছিলেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে:  
- আলালের ঘরের দুলাল,
- মদ খাওয়া বড় দায় জাত থাকার কি উপায়, 
- রামারঞ্জিকা, 
- কৃষিপাঠ,
- ডেভিড হেয়ারের জীবনচরিত এবং 
- বামাতোষিণী।

- প্যারীচাঁদ মিত্র ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
-  প্যারীচাঁদ মিত্র ২২শে জুলাই ১৮১৪ সালে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ২৩শে নভেম্বর ১৮৮৩ সালে মৃত্যবরণ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫০.
বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. স্বপ্নদর্শন
  2. সঙ্গীত শতক
  3. সারদা মঙ্গল
  4. সাধের আসন
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তীর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৩৫ সালে কলকাতার নিমতলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পথপ্রদর্শক এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগুরু হিসেবে খ্যাত। 
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা হিসেবে তিনি বিশেষ পরিচিত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘সারদা মঙ্গল’ কাব্য পাঠের পরে তাঁকে ‘ভোরের পাখি’ নামে অভিহিত করেন।
বিহারীলাল চক্রবর্তী ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন। 

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন। 

সম্পাদিত পত্রিকা:
- পূর্ণিমা,
- সাহিত্য সংক্রান্তি,
- অবোধ বন্ধু।

অন্যদিকে, সাধের আসন হচ্ছে বিহারীলাল চক্রবর্তীর শেষ কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,২৫১.
কোনটি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. পরিচয়
  2. কবিতা
  3. ক্রান্তি
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৫২.
দ্বিজেন্দ্রলাল রায় কোন ধরনের লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন না?
  1. কবি
  2. ঔপন্যাসিক
  3. নাট্যকার
  4. গীতিকার
ব্যাখ্যা
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, গীতিকার। প্রহসন, কাব্যনাট্য, ব্যঙ্গ ও হাস্যরসাত্মক কবিতাও রয়েছে। জীবনের শেষ দশ বছর তিনি প্রধানত নাটক রচনা করেন।
- দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কাব্যচর্চা শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তাঁর 'আর্য্যগাথা' (১ম ভাগ, ১৮৮২) এবং বিলেতে থাকাকালে 'Lyrics of Ind' কাব্য প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ কালিদাস ও ভবভূতি।
- দ্বিজেন্দ্রলাল ১৯০৫ সালে কলকাতায় ‘পূর্ণিমা মিলন’ নামে একটি সাহিত্যিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে,
- বঙ্গনারী।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- নূরজাহান,
- সাজাহান,
- মেবার পতন,
- চন্দ্রগুপ্ত,
- দুর্গাদাস,
- প্রতাপসিংহ,
- সিংহল বিজয় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, 
তিনি - ঔপন্যাসিক ছিলেন না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১,২৫৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'রণসঙ্গীত' প্রথম কী নামে  প্রকাশিত হয়?
  1. জাগরণের গান
  2. নতুনের গান
  3. স্বাধীনতার গান
  4. চল্ চল্‌ চল্‌
ব্যাখ্যা

রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।  বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।

১,২৫৪.
'নবীন মাধব' কোন নাটকের অন্যতম চরিত্র? 
  1. নীলদর্পণ
  2. সাহজাহান
  3. নবীন তপস্বিনী
  4. কমলে কামিনী
ব্যাখ্যা

- 'নবীন মাধব' দীনবন্ধু মিত্র রচিত 'নীল-দর্পণ' নাটকের অন্যতম চরিত্র। 

• নীল-দর্পণ: 

- এটি হল দীনবন্ধু মিত্র রচিত একটি বাংলা সামাজিক নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি নীল চাষের জন্য সাধারণ কৃষকদের উপর ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন।
- ১৮৬০ সালে দীনবন্ধু মিত্র রচিত নীল-দর্পণ নাটক প্রকাশিত হয়।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাহিত্যকর্ম।
- A Native ছদ্মনামে মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর ইংরেজি অনুবাদ করেন।
- অনুবাদটি ১৮৬১ সালে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে প্রকাশিত হয়।
-  নাটকের বাস্তবতা এবং চরিত্র গুলোরে স্বাভাবিকতার গুনের জন্য অনেকেই নীল দর্পণকে  Uncle Tom's Cabin -  এর সঙ্গে তুলনা করেছেন।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র: 
- গোলক বসু, 
- নবীন মাধব,  
- রাইচরণ, 
- তোরাপ,
- সাবিত্রী।

• দীনবন্ধু মিত্র:
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- দীনবন্ধু কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- দীনবন্ধু মিত্রের জনপ্রিয় কবিতা: সুরধুনী কাব্য (১ম ও ২য় খন্ড), দ্বাদশ কবিতা।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত, ১৮৬১ সালে A Native ছদ্মনামে Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror নামে 'নীল- দর্পণ' নাটকটি অনুবাদ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'নীল দর্পন' নাটকের অভিনয় দেখে মঞ্চে জুতা ছুড়ে মেরেছিলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নীল দর্পন' নাটকটিকে uncle toms cabin এর সাথে তুলনা করেছেন।

দীনবন্ধু মিত্রের অন্যান্য নাটক ও প্রহসন
- নবীন তপস্বিনী(১৮৬৩),
- কমলে কামিনী(১৮৭৩)
- বিয়ে পাগলা বুড়ো(১৮৬৬)
- সধবার একাদশী(১৮৬৬)
- লীলাবতী(১৮৬৭)
- জামাই বারিক(১৮৭২)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৫৫.
কোন কবি গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের সভাকবি ছিলেন?
  1. শাহ মুহম্মদ সগীর
  2. দৌলত কাজী
  3. বিদ্যাপতি
  4. দৌলত উজির বাহরাম খান
ব্যাখ্যা
শাহ মুহম্মদ সগীর:
- শাহ মুহম্মদ সগীর মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একজন খ্যাতনামা কবি।
- তাঁর রচিত  ইউসুফ-জুলেখা কাব্যে গৌড় সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের (১৩৮৯-১৪১০) স্তুতি আছে।
- তিনি সম্ভবত সুলতানের সভাকবি ছিলেন এবং তাঁরই নির্দেশে এ কাব্য রচনা করেন।
- এ থেকে তাঁর আবির্ভাব কাল চৌদ্দ শতকের শেষভাগ থেকে পঞ্চদশ শতকের প্রথমভাগ বলে অনুমান করা হয়। 
- মুহম্মদ সগীরই প্রথম বাংলা ভাষার মাধ্যমে আরবি-ফারসি সাহিত্যের বিষয় এদেশের পাঠকের কাছে তুলে ধরেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া। 
১,২৫৬.
বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা কোনটি?
  1. ক) বার্তাবহ যন্ত্ৰ
  2. খ) বাংলা প্রেস
  3. গ) রংপুর বার্তা
  4. ঘ) মিলন বার্তা প্রেস
ব্যাখ্যা
• মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প  প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা ''বার্তাবহ যন্ত্র'' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখন্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো। ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা অমৃতবাজার পত্রিকা প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৭.
'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী'- পদটি কার রচনা?
  1. ঢেগুণপা
  2. কুক্কুরীপা
  3. বীণাপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ব বঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তার রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৫৮.
কাকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়?
  1. ক) বিদ্যাবতী
  2. খ) চন্দ্রাবতী
  3. গ) পদ্মাবতী
  4. ঘ) সীতা
ব্যাখ্যা
• চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন।  
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ‘চন্দ্রাবতীর রামায়ণ’ নামে একটি গাথা প্রচলিত আছে। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৯.
‘এক মুঠো’ অমিয় চক্রবর্তী রচিত একটি-
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্যগ্রন্থ
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) ছোটগল্প
ব্যাখ্যা
- অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬): পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫৷

• তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- খসড়া 
- এক মুঠো 
- মাটির দেয়াল 
- অভিজ্ঞান বসন্ত 
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

• অমিয় চক্রবর্তীর ‘এক মুঠো’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে। বিশ শতকের বিজ্ঞানের যুগে ব্যবহারিক জীবনে যেমন জটিলতা বাড়ছে, মানুষের মনেও তেমনি চিন্তার জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চেতনায় যুগধর্মের এই বৈশিষ্ট্য খুব উজ্জ্বলভাবে প্রতিভাত হয়েছে এই কাব্যে।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬০.
'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. দৌলত কাজী 
  2. সৈয়দ হামজা
  3. আলাওল 
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থ:
- 'নূরনামা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা আবদুল হাকিম।
- নূরনামা ফারসি নীতিকাব্য নূরনামাহ্ অবলম্বনে রচিত।
- 'যেসব বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি।'- বাংলা ভাষার প্রতি এরূপ শ্রদ্ধাপূর্ণ বক্তব্যের জন্য কবির নূরনামা কাব্য বিশেষভাবে প্রশংসিত।

---------------------
• আবদুল হাকিম:
- আবদুল হাকিম সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি ছিলেন। তিনি ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দে সন্দ্বীপের সুধারামে জন্মগ্রহণ করেন।

- মধ্যযুগে মুসলমানগণ বাংলাকে নিজেদের ভাষা মনে না করে পারসি-আরবি-উর্দুকে আপন ভাষা মনে করতো। এই পরভাষাশ্রীতিকে আঘাত করার জন্য আবদুল হাকিম 'নূরনামা' কাব্যে তিনি প্রবাদতুল্য দুটো পঙ্‌ক্তি লিখেন।

- আবদুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো: ইউসুফ জোলেখা, নূরনামা, দুররে মজলিশ, লালমোতি সয়ফুলমুলুক, হানিফার লড়াই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,২৬১.
কখনো উপন্যাস লেখেননি -
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) জীবনানন্দ দাস
  3. গ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্যঃ
- তন্বী (১৯৩০),
- অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫),
- ক্রন্দসী (১৯৩৭),
- উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০),
- সংবর্ত (১৯৫০),
- দশমী (১৯৫৬);

গদ্যগ্রন্থঃ
- স্বগত (১৯৩৮),
- কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)।

এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে। কিন্তু কখনো কোন উপন্যাস লিখেন নাই।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৬২.
"বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার।"- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
বৃথা ত্রাসে প্রলয়ের সিন্ধু ও দেয়া-ভার,
ঐ হলো পুণ্যের যাত্রীরা খেয়া পার। - কবিতাংশটু কাজী নজরুল ইসলামের 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত 'খেয়া পারের তরণী' কবিতার অন্তর্গত।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।

উৎস: 'অগ্নিবীণা' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,২৬৩.
রামনারায়ণ তর্করত্নের অভিনয় সাফল্য নাটক কোনটি?
  1. বেণীসংহার
  2. রত্নাবলী
  3. কুলীনকুলসর্বস্ব
  4. মালতীমাধব
ব্যাখ্যা

• রামনারায়ণ তর্করত্ন ও 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটক:
বাংলা নাটকের ইতিহাসে অস্থিরচিত্ততা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য নাটক সৃষ্টি হয় রামনারায়ণ তর্করত্নের (১৮২২-৮৬) হাতে। নাট্যকার হিসেবে তাঁর প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক 'কুলীনকুলসর্বস্বের' (১৮৫৪) অভিনয় সাফল্য। 

এই নাটকটি নাট্যকর্মের বিবিধ বৈশিষ্ট্যের পরিপূর্ণ অনুসারী না হলেও তা তৎকালীন বাংলা নাটকের মধ্যে বৈচিত্র্যের পরিচায়ক বলে যথেষ্ট খ্যাতিলাভ করেছিল। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নামে নাটক রচনার জন্য পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে রংপুরের কুত্তী পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী যে প্রতিযোগিতা আহ্বান করেছিলেন তাতে বিজয়ী হয়ে রামনারায়ণ সে পুরস্কার লাভ করেন। এতে দেখা যায় রামনারায়ণের নাটক রচনা স্বতঃস্ফূর্ত ছিল না এবং নাটকের বিষয় ও নাম পর-নির্দেশিত ছিল। তবে নাটকটির বিষয়ের প্রতি সমগ্র জাতির কৌতূহলই রামনারায়ণকে জনপ্রিয়তা দান করেছিল। এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি 'নাটুকে রামনারায়ণ' নামে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কৌলিন্য প্রথার দোষ নির্দেশক এই নাটকটিতে মূলকাহিনির শিথিলতা পরিলক্ষিত হয়। তাতে কতকগুলো কৌতুকপূর্ণ দৃশ্য সংযোজিত হয়েছে মাত্র। একান্ত বাস্তব সামাজিক জীবনের ঘটনা অবলম্বন করাতেই এই নাটকটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশমান। 'কুলীনকুলসর্বস্ব' নাটকে যে কৌতুকরস স্থান পেয়েছে তা কোথাও করুণ, আবার কোথাও প্রহসনধর্মী। নাটকটির অন্য একটি বৈশিষ্ট্য এর টাইপ চরিত্রের প্রাধান্য। অনৃতাচার্য, অধর্মরুচি, বিবাহবণিক, উদারপরায়ণ, বিবাহবাতুল, অভব্যচন্দ্র এই সব নাম একদিকে যেমন ব্যঙ্গরসাত্মক, অন্যদিকে তাৎপর্যবাহী। হাস্যরসের আধিক্যের জন্য কোন কোন চরিত্র অবাস্তবতায় পরিপূর্ণ। 

অন্যদিকে, 
------------------------
সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন, এগুলো হলো-
- বেণীসংহার (১৮৫৬),
- রত্নাবলী (১৮৫৮),
- অভিজ্ঞান শকুন্তলা (১৮৬০) ও
- মালতীমাধব (১৮৬৭)- এই চারটি নাটক সংস্কৃত থেকে অনূদিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।

১,২৬৪.
‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’ - উক্তিটি কার?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. কাজী মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধ:
- 'সংস্কৃতি কথা' (১৯৫৮) মোতাহের হোসেন চৌধুরীর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ। 
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি তাঁর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধের উক্তি- ‘লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়।’
-  ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক সুফল প্রত্যাশা করেছেন।

মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে। 
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ: 
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৬৫.
কুমুদিনী ও মধুসূদন - চরিত্রের স্রষ্টা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।

- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

• তাঁর রচিত অন্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি, 
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৬৬.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাসে মূলত কোন বিষয়কে প্রতিফলিত করা হয়েছে?
  1. রাজনৈতিক বিপ্লব
  2. ধর্মীয় কুসংস্কার
  3. সামাজিক শ্রেণিসংঘাত
  4. মানব জীবনের মানসিক সংকট
ব্যাখ্যা
• ‘চাঁদের অমাবস্যা’ উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪) উপন্যাসটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচনা করেন।
- এটি একটি মনোসমীক্ষণ মূলক রচনা।
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরিফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

--------------------
• সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্:

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ্ ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা।
- তাঁর প্রকাশিত প্রথম গল্প ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। এটি ঢাকা কলেজ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।
- তারঁ রচিত প্রথম উপন্যাস ‘লালসালু’ (১৯৪৮)।
- মিসেস মেরি ওয়ালীউল্লাহ্‘র প্রথম উপন্যাস 'লালসালু' ফরাসি ভাষায় অনুবাদ করেন।
- পরবর্তীতে এটি Tree Without Roots নামে ইংরেজিতেও অনুদিত হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু,
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা,
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

• নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- উজান মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৬৭.
'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
'জলে ডাঙায়':
- 'জলে ডাঙায়' সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত একটি ভ্রমণকাহিনি। 
-  'জলে ডাঙায়' মোটামুটিভাবে ছোটদের জন্যে লেখা, কিন্তু লেখার প্রসাদগুণে পাঠকও অনায়াসে লেখকের সঙ্গী হয়ে যান সিংহল থেকে মালদ্বীপ, ভূমধ্যসাগর থেকে আফ্রিকা, সুয়েজ খাল থেকে পিরামিডের রহস্যময়তায়। আর এভাবেই উপভোগ্য হয়ে ওঠে 'জলে ডাঙায়'।

------------------------
• সৈয়দ মুজতবা আলী:

- সৈয়দ মুজতবা আলীশিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল হবিগঞ্জের উত্তরসুর গ্রামে।
গ্রন্থাকারে তাঁর মোট ত্রিশটি উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ ও ভ্রমণকাহিনী প্রকাশিত হয়েছে।

সেগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম,
- শহর-ইয়ার।

• ভ্রমণকাহিনি:
- দেশে-বিদেশে,
- জলে-ডাঙায়।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: 'জলে ডাঙায়' ভ্রমণকাহিনি এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৬৮.
সংস্কৃত ভাষায় পদাবলির আদি রচয়িতা -
  1. বিদ্যাপতি
  2. জয়দেব
  3. জ্ঞানদাস
  4. বড়ু চণ্ডীদাস
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত ভাষায় পদাবলির আদি রচয়িতা - 'জয়দেব'। 

বৈষ্ণব পদাবলি: 
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়।
- রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে এটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায়।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলির রচনা করেন চণ্ডীদাস।

• বৈষ্ণব পদাবলিতে কৃষ্ণের প্রধান প্রেমিকা শ্রীরাধাকে নায়িকা বলা হয়। পদাবলিতে নায়িকার ৮ টি অবস্থা।

• এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে।
যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্যরস ও
৫. মধুররস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,২৬৯.
বাংলা গীতিকবিতার জনক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অমৃতলাল বসু
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী  আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭০.
'আঠারো বছর বয়স' কবিতার পঙ্‌তি সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ২৮টি
  3. গ) ৩২টি
  4. ঘ) ২০টি
ব্যাখ্যা
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার পঙ্‌তি সংখ্যা ৩২টি। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতার কালিঘাটিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ায়। 
- তিনি 'কিশোরকবি' হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 
- তার কবিতায় শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের হুঙ্কার দিকটি বলিষ্ঠভাবে প্রকাশ পায়। 
- তিনি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মৃত্যুবরণ করেন। 

'আঠারো বছর বয়স':
- 'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় 'আঠারো' শব্দটি নয়বার ব্যবহার করা হয়েছে। 
-  'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় প্রতি চরণে মাত্রা সংখ্যা ১৪। 

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র
- ঘুম নেই
- পূর্বাভাস
- অভিযান
- হরতাল
- গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭১.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. শঙ্খনীল কারাগার
  2. সৌরভ
  3. নন্দিত নরকে
  4. আগুনের পরশমণি
ব্যাখ্যা

 হুমায়ূন আহমেদ :
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলায়।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- তাঁর লেখা প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' (১৯৭২)।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)।

• তাঁর রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- ১৯৭১,
- অনিল বাগচীর একদিন।

• হুমায়ূন আহমেদ নির্মিত চলচ্চিত্র:
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র শ্যামল ছায়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৭২.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমেদের রচনা?
  1. কামাল পাশা
  2. বসন্ত
  3. নৌফেল ও হাতেম
  4. রণভেরি
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালে যশোর জেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাকে ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে।
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম
• তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।
• তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৭৩.
আহমদ শরীফ ছিলেন-
  1. শিক্ষাবিদ
  2. চিন্তাবিদ
  3. মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• আহমদ শরীফ:
• আহমদ শরীফ ছিলেন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক। ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।

• অধ্যাপক শরীফ ছিলেন একজন যুক্তিনিষ্ঠ, বিজ্ঞানমনস্ক, মানবকল্যাণকামী, শ্রেয়োবাদী ও প্রগতিশীল লেখক। বাংলাদেশের সমাজ, সাহিত্য, রাজনীতি, ধর্ম, দর্শন ইত্যাদি সম্পর্কে তিনি বিভিন্ন সময়ে যে প্রবন্ধগুলি রচনা করেছেন তার সংকলন গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশোর্ধ্ব।

উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

- বিচিত চিন্তা,
- সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা,
- স্বদেশ অন্বেষা,
- জীবনে সমাজে সাহিত্যে,
- প্রত্যয় ও প্রত্যাশা,
- যুগ যন্ত্রণা,
- কালের দর্পণে স্বদেশ,
- বাঙালীর চিন্তা-চেতনার বিবর্তন ধারা,
- বাঙলার বিপ­বী পটভূমি,
- বাঙলাদেশের সাম্প্রতিক চালচিত্র,
- মানবতা ও গণমুক্তি,
- বাঙলা, বাঙালী ও বাঙালীত্ব,
- প্রগতির বাধা ও পন্থা,
- এ শতকে আমাদের জীবনধারার রূপরেখা,
- স্বদেশ চিন্তা,
- জিজ্ঞাসা ও অন্বেষা,
- বিশ শতকে বাঙালী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৪.
মর্সিয়া সাহিত্যের হিন্দু কবি ছিলেন কে?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. রাধারমণ গোপ
  3. বিজয় গুপ্ত
  4. গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা

মর্সিয়া সাহিত্য:
- কারবালা ও ইসলামি বিয়ােগান্তক কাহিনি নিয়ে মূলত মুসলমানদের রচিত সাহিত্যই মর্সিয়া সাহিত্য।
- মর্সিয়া সাহিত্যের আদিকবি হলেন শেখ ফয়জুল্লাহ। তার গ্রন্থের নাম জয়নাবের চৌতিশা (১৫৭০)।
- মর্সিয়া সাহিত্যে একজন হিন্দু কবি হলেন রাধারমণ গোপ৷
- তাঁর গ্রন্থ: ইমামগণের কেচ্ছা, আফৎনামা।
- 'মুক্তল হোসেন' হলো মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৫.
'শাদা হাওয়া' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. আনোয়ার পাশা
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. আব্দুল কাদির
  4. আব্দুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
'শাদা হাওয়া' উপন্যাস:
- 'শাদা হাওয়া' অদ্বৈত মল্লবর্মণের লেখা নাগরিক উপন্যাস। এ উপন্যাস লেখা সম্পন্ন হয় ১৯৪২ সালে। প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে, সোনার তরী পত্রিকায়।
- কলকাতায় বিলিতি সেনা, যাদের টমি নামে অভিহিত করা হত, তাদের আগমনকে উপজীব্য করে উপন্যাসটি লিখিত।
- উপন্যাসের চরিত্র গোয়েন্দা গোবিন্দ শর্মার চিন্তাবাক্যের সূত্রে বহু রাজনৈতিক সন্দর্ভ লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। তাতে পুরনো ভারতচিন্তা যেমন এসেছে, তেমনই এসেছে যুদ্ধবিরোধী ভাবনাও।

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক। ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

উৎস: 'শাদা হাওয়া' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৭৬.
কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস কোন গ্রামে?
  1. তাম্বুলখানা
  2. পাড়াতলী
  3. কাঁঠালপাড়া
  4. দেবানন্দপুর
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী (তৎকালীন ঢাকা জেলা) জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

তিনি লিখেছেন- 
মেঘনা নদী দেবো পাড়ি কল-অলা এক নায়ে।
আবার আমি যাবো আমার পাড়াতলী গাঁয়ে।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- 'বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে'
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৭.
'সূর্য দীঘল বাড়ি' –বিখ্যাত এ উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. ক) জয়গুন
  2. খ) জামিলা
  3. গ) রতন
  4. ঘ) মজিদ
ব্যাখ্যা

আবু ইসহাক (১৯২৬-২০০৩): কথাসাহিত্যিক, অভিধান-প্রণেতা৷

বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশবিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন 'সূর্য দীঘল বাড়ী' (১৯৫৫)।
উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলীও বিষয়বস্ত্ত পাঠকদের আকৃষ্ট করে। স্বামী পরিত্যক্তা জয়গুনের দু-সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম উপন্যাসের মূল বিষয়বস্ত্ত।
দুর্ভিক্ষ-পীড়িত জয়গুন অন্নের সন্ধানে প্রথমে গ্রাম ছেড়ে শহরে যায়, কিন্তু নগরজীবনের নিঃস্ব, তিক্ত ও পঙ্কিল অবস্থায় টিকতে না পেরে আবার স্বগ্রামে ফিরে আসে। কিন্তু সমাজপতিদের ধর্মান্ধতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে প্রতিকারহীন নির্যাতন ও দুর্দশার মধ্যে পড়ে। লেখক দেখিয়েছেন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের আর্থিক পরিবর্তন আনতে পারেনি, দুর্ভোগ বেড়েছে।

সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৮.
ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের সাথে আরো কয়টি পুঁথি আবিষ্কার করেন?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাকালীন বিভাগীয় প্রধান ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে (৩য় বার) নেপালে গিয়ে রাজদরবারের 'নেপাল রয়্যাল লাইব্রেরি' থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। এ সময় তিনি চর্যাপদের সাথে 'সরহপাদের দোহা', 'কাহ্নপাদের দোহা' ও ‘ডাকার্ণব' নামে আরাে তিনটি পুঁথি আবিষ্কার করেন। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
১,২৭৯.
রামনারায়ণ তর্করত্ন কোন নাটক রচনা করে ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল?
  1. শকুন্তলা
  2. মালতীমাধব
  3. রত্নাবলী
  4. কুলীনকুলসর্বস্ব
ব্যাখ্যা
• ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক:
- নাট্যকার হিসেবে রামনারায়ণ তর্করত্ন প্রভূত খ্যাতিলাভের পশ্চাতে রয়েছে তাঁর সামাজিক নাটক ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ (১৮৫৪) সালে অভিনয় সাফল্য লাভ করে।
- তাঁর ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক তৎকালীন নাট্যসাহিত্যে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।
- সমকালীন সমাজব্যবস্থার কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিকগুলো নাটকে রূপায়িত করতে গিয়ে আঙ্গিকগত দিক থেকে তাঁর চূড়ান্ত সার্থকতা লাভ করা সম্ভব হয় নি।
- ‘কুলীনকুলসর্বস্ব’ নাটক রচনার জন্য রামনারায়ণ রংপুরের জমিদার কালীচন্দ্র রায়চৌধুরী ঘোষিত পঞ্চাশ টাকা পুরস্কার লাভ করেন।
- এই নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের প্রবলভাবে মাতিয়ে তোলা সম্ভব হয়েছিল। সে কারণে তিনি ‘নাটুকে নারায়ণ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছিল।

• সংস্কৃতে সুপণ্ডিত রামনারায়ণ তর্করত্ন সংস্কৃত থেকে কতিপয় নাটক বাংলায় অনুবাদ করেন:
- শকুন্তলা,
- মালতীমাধব,
- রত্নাবলী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৮০.
'মানচিত্র' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. হুমায়ুন আহমেদ
  4. কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দিন আল আজাদ (১৯৩২-২০০৯) একজন শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক ও সাহিত্য সমালোচক ছিলেন।
তাঁর কাবগ্রন্থগুলির মধ্যে মানচিত্র, ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, লেলিহান পান্ডুলিপি, নিখোঁজ সনেটগুচ্ছ, সাজঘর ও শ্রেষ্ঠ কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
তাঁর রচিত বিখ্যাত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ'। এটি তাঁর মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, কর্ণফুলী, ক্ষুধা ও আশা, খসড়া কাগজ ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮১.
“যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।”- উক্তিটি কার রচনা?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধ:
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধটি মোতাহের হোসেন চৌধুরীর ‘সংস্কৃতি কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থের ‘মনুষ্যত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধের অংশ বিশেষ। 'সংস্কৃতি কথা' তাঁর প্রধান প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ‘শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব’ প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে দোতলা ঘরের সাথে তুলনা করেছেন।
- প্রবন্ধে বলা হয়েছে - "মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীবসত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানবসত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীবসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা, শিক্ষাই আমাদের মানবসত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে।"
- তিনি বলেছেন, যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই সেখানে মুক্তি নেই।

---------------------------------
• মোতাহের হোসেন চৌধুরী:
- শিক্ষাবিদ, লেখক মোতাহের হোসেন চৌধুরীর জন্ম নোয়াখালী জেলার কাঞ্চনপুর গ্রামে।
- মোতাহের হোসেনের প্রবন্ধের গদ্যশৈলীতে প্রমথ চৌধুরীর এবং মননে রবীন্দ্রনাথের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- তিনি বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।
- ‘সংস্কৃতি কথা’ তাঁর রচিত প্রধান প্রবন্ধ গ্রন্থ।
- 'সুখ' বার্ট্রান্ড রাসেলের Conquest of Happiness গ্রন্থের এবং 'সভ্যতা' ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ গ্রন্থ।
- মুক্তবুদ্ধিচর্চার প্রবক্তা, উদার মানবতাবাদী ও মননশীল প্রবন্ধকার হিসেবে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর বিশেষ খ্যাতি আছে।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- সংস্কৃতি কথা,
- সুখ,
- সভ্যতা (ক্লাইভ বেল-এর Civiliszation গ্রন্থের ভাবানুবাদ)।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- আমাদের দৈন্য,
- আদেশপন্থী ও অনুপ্রেরণাপন্থী,
- মুসলমান সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮২.
'বাঙালী মুসলমানের মন' প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আহমদ শরীফ
  2. আহমদ ছফা
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
• বাঙালি মুসলমানের মন:
- রচয়িতা: আহমদ ছফা।
- প্রথম প্রকাশ: ১৯৮১ সাল।

আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।

• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- সিপাহী যুদ্ধের ইতিহাস।

কবিতা গ্রন্থ:
- জল্লাদ সময়,
- দুঃখের দিনের দোহা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৩.
সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া পাওয়া যায় কোন উপন্যাসে?
  1. ক) আনন্দমঠ
  2. খ) মৃণালিনী
  3. গ) বিষবৃক্ষ
  4. ঘ) দেবী চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে।
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে 'আনন্দমঠ' উপন্যাসটি রচিত হয়।
- এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমি কে বুঝিয়েছেন।
- উপন্যাসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্‌" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

 বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত অন্যান্য উপন্যাস
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ,
- দেবী চৌধুরানী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৪.
প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয়েছে কোন চলচ্চিত্রে?
  1. জীবন থেকে নেয়া
  2. লেট দেয়ার বি লাইট
  3. স্টপ জেনোসাইড
  4. আর কত দিন
ব্যাখ্যা

জীবন থেকে নেয়া:
 • 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়।
 • চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।

 • 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে,
------------------
 • জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

 • ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর জহির রায়হান কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 • 'আর কত দিন' (১৯৭০): মুক্তিযুদ্ধপূর্ব সময়ের অস্থির সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনমুখর প্রেক্ষাপটে আসন্ন যুদ্ধের একটি ভয়াবহ সম্ভাবনা, যুদ্ধকালীন বাস্তবতা, লাঞ্ছিত মানবতার আর্তি, শান্তি ও ভালোবাসার জন্য মানুষের চিরন্তন অন্বেষা এ উপন্যাসের মূল উপজীব্য। ইভা ও তপু এ উপন্যাসের শাশ্বত শান্তি ও ভালোবাসার মূর্ত প্রতীক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১,২৮৫.
'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' এর প্রকাশক কে?
  1. চন্দ্রকুমার দে
  2. জর্জ গ্রীয়ার্সন
  3. জসীম উদ্‌দীন
  4. দীনেশ্চন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
নাথগীতিকা:
- স্যার জর্জ গ্রীয়ার্সন ১৮৭৮ সালে রংপুর জেলার মুসলমান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে 'মাণিকচন্দ্র রাজার গান' প্রকাশ করলে 'নাথগীতিকা' সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- এইগুলো এক শ্রেণির ঐতিহাসিক রচনা।
- ইতিহাসের কোন বিস্মৃত যুগে এই গীতিকার নায়ক রাজা গোপীচাঁদ বা গোবিন্দচন্দ্র মায়ের নির্দেশে তরুণ যৌবনে দুই নবপরিণীতা বধূ প্রাসাদে রেখে সন্ন্যাস অবলম্বন করেছিলেন এই কাহিনি কেন্দ্র করেই নাথগীতিকার উদ্ভব।
- নাথসম্প্রদায়ভুক্ত গুরুবাদী যোগিগণ তাঁদের গুরুর অলৌকিক মহিমাকীর্তন প্রসঙ্গে এই গীতিকা দেশবিদেশে প্রচার করেছেন।
- নাথগীতিকার দুটি বিভাগ: প্রথমটি তরুণ রাজপুত্র গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাসের কাহিনি। এ সম্পর্কিত গীতিকা 'গোরক্ষবিজয়', 'মীনচেতন' নামে পরিচিত।
- অপর শ্রেণির গীতিকাগুলো 'মাণিক রাজার গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গীত', 'ময়নামতীর গান', 'গোবিন্দচন্দ্রের গান', 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস', 'গোপীচাঁদের পাঁচালী' ইত্যাদি নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৮৬.
কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ-
  1. মহাশ্মশান
  2. বিরহ-বিলাপ
  3. কুসুমকানন
  4. অশ্রুমালা
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 
- কায়কোবাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহ বিলাপ’
- কবি বলেছেন ‘আমি যখন বার বৎসর বয়স্ক বালক সেই সময় আমার বিরহ- বিলাপ  নামক ক্ষুদ্র কাব্য প্রকাশিত হয়।’ 
-কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ  ‘মহাশ্মশান’ 

[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড.সৌমিত্র শেখর]
১,২৮৭.
‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. দলিলপত্র সম্পাদনা
ব্যাখ্যা
• ‘আরো দুটি মৃত্যু’ হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প।

--------------------
• হাসান হাফিজুর রহমান:
- হাসান হাফিজুর রহমান ১৯৩২ সালে জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ভাষা আন্দোলন নিয়ে প্রথম সংকলন গ্রন্থ “একুশে ফেব্রুয়ারী”। এটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র - এর সম্পাদকও তিনি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত প্রবন্ধ:
- আধুনিক কবি ও কবিতা,
- মূল্যবোধের জন্য,
- সাহিত্য প্রসঙ্গ,
- আলোকিত গহ্বর ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- বিমুখ প্রান্তর,
- প্রতিবিম্ব,
- আর্ত শব্দাবলী,
- অন্তিম শহরের মতো,
- যখন উদ্যত সঙ্গীন,
- ভবিতব্যের বাণিজ্য তরী,
- শোকার্ত তরবারী ইত্যাদি।

• হাসান হাফিজুর রহমান রচিত গল্প:
- আরো দুটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৮৮.
‘নেমেসিস’ কোন জাতীয় রচনা?
  1. ক) কাব্য
  2. খ) নাটক
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) গীতি কবিতা
ব্যাখ্যা
- ‘নেমেসিস’ নাটকের লেখক নুরুল মোমেন। এটি বাংলাদেশের প্রথম নিরীক্ষামূলক নাটক। 
-১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নুন্দী নামের এক-চরিত্র বিশিষ্ট। অদৃশ্য চরিত্র হিসেবে আছে নৃপেন বোস, তাঁর কন্যা সুলতা, ম্যানেজার অসীম, অমল বাবু, ইয়াকুব প্রমুখ।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি, ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র অঙ্কিত।

তাঁর রচিত নাটকগুলোর নাম:
 - রুপান্তর,
 - নেমেসিস
 - যদি এমন হতো
 - নয়া খান্দান
 - আলোছায়া
 - শতকরা আশি
 - আইনের অন্তরালে
 - যেমন ইচ্ছা তেমন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৮৯.
সেলিনা হোসেনের ‘যাপিত জীবন’ উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. স্বদেশী আন্দোলন
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. মুক্তিযুদ্ধ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'যাপিত জীবন' উপন্যাস:
- ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে সেলিনা হোসেনের লেখা উপন্যাস 'যাপিত জীবন'।
- উপন্যাসের নায়ক জাফর জীবনের কথা বলে জীবনেরই বিনিময়ে।
- সেলিনা হোসেন জাফরের স্বচ্ছ প্রতীকচিত্রে বাঙালির শেকড় আর অস্তিত্বের কথা ঘোষণা করে তাঁর 'যাপিত জীবন'-এ ।
- জাফর প্রতিটি অণুমুহূর্তে ঘোষণা করে বেড়ায় তাঁর বাঙালি অস্তিত্ব তাঁর শেকড়। নিজের মৃত্তিকারসে জারিত স্বকীয় বিকাশের সমস্ত প্রয়াস ভর করে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতিনিধি জাফরের মাঝে। জাফর বাঙালি কণ্ঠের বলিষ্ঠ উৎসারণ।

সেলিনা হোসেন:
- কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন ১৯৪৭ সালের ১৪ই জুন, রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।

এছাড়াও তাঁর অন্যান্য গল্পগ্রন্থ-
- পরজন্ম,
- মানুষটি,
- মতিজানের মেয়েরা,
- অনূঢ়া পূর্ণিমা,
- একালের পান্তাবুড়ি,
- নারীর রূপকথা,
- মৃত্যুর নীল পদ্ম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ‘যাপিত জীবন' উপন্যাস।
১,২৯০.
'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শামসুর রাহমান
  4. নির্মলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

'অক্টোপাস' উপন্যাস:
- 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা শামসুর রাহমান। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফুরণ।

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য- "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়ৎ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,২৯১.
বাংলা সাহিত্যের রহস্যময় চরিত্র 'হোসেন মিয়া' কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. আলালের ঘরের দুলাল
  2. লালসালু
  3. হাজার বছর ধরে
  4. পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
• "পদ্মা নদীর মাঝি" উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- 'পদ্মানদীর মাঝি' উপন্যাসের উপজীব্য জেলে জীবনের বিচিত্র সুখ-দুঃখ। পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

- এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুবের,
- কপিলা,
- মালা,
- ধনঞ্জয়,
- গণেশ,
- শীতলবাবু,
- হোসেন মিয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯২.
'সুভা' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. কথা-চতুষ্টয়
  2. বিচিত্র গল্প
  3. গল্পগুচ্ছ
  4. গল্প দশক
ব্যাখ্যা
'সুভা' গল্প:
- গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'গল্পগুচ্ছ' গ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সুভাষিণীকে আদর করে সবাই ডাকত 'সুভা'। সুভা ছিল একজন বাক্‌প্রতিবন্ধী।
- গল্পে বাক্‌প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয় নিঙ্ড়া‌নো ভালোবাসা ও মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: সুকেশিনী, সুহাসিনী, প্রতাপ, গাভী সর্বশী ও পাঙ্গুলি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের নিবিড় সম্পর্ক বিষয়ক গল্প:
- সুভা,
- অতিথি,
- আপদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,২৯৩.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. সবকিছু ভেঙে পড়ে
  2. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. পাক সার জমিন সাদ বাদ
  4. ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল
ব্যাখ্যা
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- লেখক কাব্যটি হুমায়ুন আহমেদ ও ইমদাদুল হক মিলনকে উৎসর্গ করেন।

------------------
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত),
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৪.
ফররুখ আহমদ রচিত কাহিনীকাব্য কোনটি?
  1. নৌফেল ও হাতেম
  2. হাতেমতায়ী
  3. সিরাজাম মুনীরা
  4. হাবেদা মরুর কাহিনী
ব্যাখ্যা

• ফাররুখ আহমদের একটি বিখ্যাত কাহিনীকাব্য "হাতেমতায়ী"। এটি একটি জনপ্রিয় কাব্যগ্রন্থ, যেখানে হাতেম তায়ীর কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

------------------
• ফররুখ আহমদ:
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি। এবং ইসলামি স্বাতন্ত্রবাদী কবি বলা হয়ে থাকে। ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সাত সাগরের মাঝি' ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে 'লাশ' কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- 'মুহূর্তের কবিতা' ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
- 'হাবেদা মরুর কাহিনী' হলো বিখ্যাত বাঙালি কবি ফররুখ আহমদ-এর লেখা একটি গদ্য কবিতার সংকলন। 
- তাঁর কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নৌফেল ও হাতেম।

তাঁর রচিত সনেট সংকলন:
- মুহূর্তের কবিতা।

তাঁর রচিত কাহিনিকাব্য:
- হাতেমতায়ী।

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থের নাম:
- পাখির বাসা,
- হরেফের ছড়া।

ফররুখ আহমদ রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২৯৫.
'প্রথমা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. ফররুখ আহমদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি ছিলেন একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- তিনি 'কল্লোল' পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- পরে মুরলীধর বসুর সহযোগিতায় 'কালিকলম' (১৯২৬) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- তাঁর মৃত্যু কলকাতায়, ৩ মে ১৯৮৮।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথমা,
- সম্রাট,
- ফেরারী ফৌজ,
- সাগর থেকে ফেরা,
- হরিণ চিতা চিল,
- কখনো মেঘ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
 
১,২৯৬.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় কত খ্রিষ্টাব্দে?
  1. ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯১৪ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
 ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন গ্রন্থকে শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ নামেও অভিহিত করা হয়।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাশ।
- এই গ্রন্থের প্রধান তিনটি চরিত্র হচ্ছে কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি।
- শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যে মোট ১৩টি খণ্ড রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,২৯৭.
‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. নাটক
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• ‘মাটি আর অশ্রু’ সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

----------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর।
- তিমিরান্তিক।
- বৈরী বৃষ্টিতে।
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা।
- মহাকবি আলাওল।
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু।
- জয়ের পথে।
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস।
- সেন্ট লুইয়ের সেতু।
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২৯৮.
'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের লেখক কে?
  1. শঙ্খ ঘােষ
  2. রফিক আজাদ
  3. আসাদ চৌধুরী
  4. দাউদ হায়দার
ব্যাখ্যা
• 'মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে’ কাব্যগ্রন্থের লেখক: 'শঙ্খ ঘােষ'। 

• শঙ্খ ঘোষ: 
- শঙ্খ ঘোষ বাংলা সাহিত্যের আধুনিক সময়ের একজন প্রতিথযশা কবি।
- শঙ্খ ঘোষের আসল নাম চিত্তপ্রিয় ঘোষ। তার বাবা মণীন্দ্রকুমার ঘোষ এবং মা অমলা ঘোষ।
- ১৯৩২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের বর্তমান চাঁদপুর জেলায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ২০২১ সালের ২০ এপ্রিল মৃত্যবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কবিতার বই:
- মুখ ঢেকে যায় বিজ্ঞাপনে,
- চুপ করো, শব্দহীন হও,
- সবিনয় নিবেদন,
- বুক পেতে শুয়ে আছি ঘাসের উপরে চক্রবালে,
- হওয়া।

উৎস: প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক ও বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট।
১,২৯৯.
‘কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরই মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর।’
- পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. কালিদাস রায়
  4. শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
• কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর!- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - শেখ ফজলল করিম। 
- বাঙালি মুসলমানের ভাষা নিয়ে সঙ্কটের সময় 'বাসনা' পত্রিকা বাংলা ভাষার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছিল।
- হিন্দু-মুসলমান মিলনাকাঙ্ক্ষা ছিল এ পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য।
- হিন্দু-মুসলমান সঙ্কটের সময় শেখ ফজলল করিম রচনা করেন:

স্বর্গ ও নরক
শেখ ফজলল করিম
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর? 
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুরাসুর! 
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়, 
আত্মগ্লানির নরক-অনলে তখনি পুড়িতে হয়। 
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরষ্পরে, 
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরি কুঁড়ে ঘরে।

শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।
১,৩০০.
‘একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী’ ছোটগল্পটি কোন সময়কার পটভূমি নিয়ে রচিত?
  1. বঙ্গভঙ্গ
  2. দেশভাগ
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কালজয়ী সৃষ্টি একটি তুলসী গাছের কাহিনী।
দেশভাগের সময়ে কলকাতা থেকে উদ্বাস্তুর মত একদল চাকরিজীবী পূর্ব বঙ্গে (বর্তমান : বাংলাদেশ) আসে। এসে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করে। তারা ভাগ্যবান বলে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি দখল করা এবং সেখানকার এক তুলসি গাছের কাহিনী নিয়ে রচিত হয় এই গ্লল্পটি।
- তাঁর লালসালু উপন্যাসে তিনি গ্রামীণ সমাজের সাধারণ মানুষের সরলতাকে কেন্দ্র করে ধর্মকে ব্যবসার উপাদানরূপে ব্যবহারের একটি নগ্ন চিত্র তুলে ধরেন।

কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ এর জন্ম ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে। 
- ফেনী হাইস্কুলে ছাত্র থাকাকালেই সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সাহিত্যচর্চার সূত্রপাত হয়। এ সময় তিনি হাতে লেখা পত্রিকা ভোরের আলো সম্পাদনা করেন।
তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস
- লালসালু (১৯৪৮)
- চাঁদের অমাবস্যা (১৯৬৪)
- কাঁদো নদী কাঁদো (১৯৬৮)

তাঁর ছোটগল্প
- নয়নচারা
 -জাহাজী
- পরাজয়
- মৃত্যু-যাত্রা
- খুনী
 -রক্ত
- খণ্ড চাঁদের বক্রতায়
- সেই পৃথিবী
- দুই তীর
- একটি তুলসী গাছের আত্মকাহিনী
- পাগড়ী
- কেরায়া
 -নিষ্ফল জীবন নিষ্ফল যাত্রা
- গ্রীষ্মের ছুটি
- মালেকা প্রভৃতি

তাঁর নাটক
- বহিপীর (১৯৬০)
- উজানে মৃত্যু (১৯৬৩)
 -সুড়ঙ্গ (১৯৬৪)
- তরঙ্গভঙ্গ (১৯৭১)

উৎস: বাংলাপিডিয়া, সাহিত্যপাঠ একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।