বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১১৩ / ২১১ · ১১,২০১১১,৩০০ / ২১,১৩২

১১,২০১.
‘অশনিসংকেত’ উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কোনটি?
  1. দেশভাগ
  2. পানি পথের ১ম যুদ্ধ
  3. দুর্ভিক্ষ
  4. পানি পথের ২য় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

অশনি সংকেত: 
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস।
- এর পটভূমি দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের বিষময় ফল ১৩৫০ বঙ্গাব্দের দুর্ভিক্ষ।
- আর এই দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাস গ্রাম বাংলায় কীভাবে বিস্তার লাভ করেছে তার নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা করেন এই উপন্যাসটি।
- এটা প্রথম প্রকাশ হয় ১৯৫৯ সালে। তবে পুস্তকাকারে প্রকাশের ১৯৪৪-৪৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক মাতৃভূমি পত্রিকায় প্রকাশিত।
- 'অশনি সংকেত'র পটভূমি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বগ্রাম বারাকপুর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও বনগ্রাম মহকুমা শহর।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২০২.
শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্যের নাম কী?
  1. ময়নামতির গান
  2. গোপীচন্দ্রের সন্যাস
  3. মীনচেতন
  4. গোরাক্ষ বিজয়
ব্যাখ্যা
নাথসাহিত্য:
- নাথধর্মের আচার-আচরণ ও নাথযোগীদের কাহিনিভিত্তিক সাহিত্য। এটি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ ধারা।
- এ সাহিত্য দুটি ধারায় বিকাশ লাভ করে: একটি হলো সাধন-নির্দেশিকা, আর অন্যটি হচ্ছে গাথাকাহিনি বা আখ্যায়িকা।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নাথ সাহিত্য হলো:
- 'গোরাক্ষ বিজয়' এর রচয়িতা শেখ ফয়জুল্লাহ।
- 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস' এর রচয়িতা শুকুর মাহমুদ।
- 'মীনচেতন' এর রচয়িতা শ্যামাদাস সেন।
- 'ময়নামতির গান' এর রচয়িতা ভবানী দাস।
- 'গোর্খবিজয়' এর রচয়িতা ভীমসেন রায়।

• নাথ গীতিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- প্রাপ্ত পুথির ভিত্তিতে ময়নামতী-গোপীচন্দ্রের গানের তিনজন কবির সন্ধান পাওয়া যায় দুর্লভ মল্লিক, ভবানী দাস ও শুকুর মাহমুদ।
- দুর্লভ মল্লিকের কাব্যের নাম গোবিন্দচন্দ্র গীত; সম্পাদনা করেন শিবচন্দ্র শীল।
- নলিনীকান্ত ভট্টশালীর সম্পাদনায় ভবানী দাসের ময়নামতীর গান এবং শুকুর মাহমুদের গোপীচাঁদের সন্ন্যাস কাব্যদুটি ঢাকা সাহিত্য পরিষৎ থেকে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৩.
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস কোনটি?
  1. ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান
  2. পরিত্যক্ত স্বামী
  3. দেয়াল
  4. রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,

- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।
 
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৪.
নিচের কোনটি জীবনী সাহিত্য?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. জঙ্গনামা
  3. শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. চৈতন্যমঙ্গল
ব্যাখ্যা
বাঙালীর জীবনে যেমন, বাঙলা সাহিত্যও তেমনই চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম।
- তার জীবনী নিয়েই প্রথম বাংলা সাহিত্যে জীবনী সাহিত্য রচিত হয়।
- চেতন্যদেবের মৃত্যুর পর তার দুটি জীবনীগ্রন্থ লেখা হয় সংস্কৃত ভাষায়।

• বাংলা ভাষায় প্রথম চৈতন্যদেবের যে জীবনী-লেখা হয়, তার নাম চৈতন্যভাগবত।
- লেখক ছিলেন - বৃন্দাবন দাস।

• চৈতন্য দেবকে নিয়ে পরে যে গ্রন্থটি রচিত হয় সেটির নাম - চৈতন্যমঙ্গল।
- লেখক ছিলেন - লোচনদাস।

• চৈতন্যদেবের জীবনী হিসেবে সবচেয়ে বিখ্যাত যে গ্রন্থটি, তার নাম - চৈতন্যচরিতামৃত।
- লেখক ছিলেন - কৃষ্ণদাস কবিরাজ।

অন্যদিকে,
• শ্রীকৃষ্ণকীর্তন:
- মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন।
- গঠনগত বা আঙ্গিকগতভাবে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটি নাট্যগীতি বা বর্ণনাত্মক নাটকও বলা যায়।
- এখানে গীত বা গানের আকারে গাওয়া হত, আবার নাটকীয়তাও আছে। তাই শ্রীকৃষ্ণকীর্তনকে নাট্যগীতি বলা যায়।
- উল্লেখ্য, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন বাংলা সাহিত্যের প্রথম একক গ্রন্থ। এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস।

• ধর্মমঙ্গল:
- ধর্মমঙ্গল মঙ্গলকাব্যে ধারার ধর্মঠাকুরের মাহাত্ম্যসূচক কাব্য।
- ধর্মমঙ্গলের আদি কবি ময়ূর ভট্ট।

• 'জঙ্গনামা':
'জঙ্গনামা' মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধ বিষয়ক কাব্য। জঙ্গনামা বলতে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলী সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
- ফারসি কাব্য অবলম্বনে ফকির গরীবুল্লাহ সর্বপ্রথম জঙ্গনামা রচনা করেন। 
- জঙ্গনামার জনক ফকির গরীবুল্লাহ। 


উৎস; লাল নীল দীপাবলি, ড. হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১,২০৫.
বিমল মিত্র কী ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ক) প্রসাদ দত্ত
  2. খ) চিত্রগুপ্ত
  3. গ) জাবালি
  4. ঘ) যাযাবর
ব্যাখ্যা
• বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর
• শম্ভু মিত্রের ছদ্মনাম প্রসাদ দত্ত।
চিত্রগুপ্ত ছদ্মনামে লিখতেন সতীনাথ ভাদুড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২০৬.
জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ধানক্ষেত
  2. বালুচর
  3. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  4. নক্সী-কাঁথার মাঠ
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন রচিত 'প্রতিদান' কবিতাটি "বালুচর" কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

প্রতিদান
  জসীম উদ্‌দীন

আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী-
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি,
দিঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর;
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।

জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- নক্সী-কাঁথার মাঠ,
- সুচয়নী,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- এক পয়সার বাঁশি,
- বালুচর,
- ধানক্ষেত,
- রূপবতী,
- মা যে জননী কান্দে,
- মাটির কান্না,
- সকিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২০৭.
'নিরঞ্জনের রুষ্মা' কোন গ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ক) শূন্যপুরাণ
  2. খ) সেক শুভোদয়া
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  4. ঘ) চর্যাপদ
ব্যাখ্যা
• 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এক প্রকার চম্পুকাব্য।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০৮.
‘দেওয়ানা মদিনা’ পালাটির লেখক কে?
  1. ক) চন্দ্রাবতী
  2. খ) কবিকঙ্ক
  3. গ) নয়ানচাঁদ
  4. ঘ) মনসুর বয়াতি
ব্যাখ্যা
‘দেওয়ানা মদিনা’ হলো মৈমনসিংহ গীতিকার বিখ্যাত পালাগুলোর একটি। এর রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
বর্তমান হবিগঞ্জ জেলার অধীন বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্রাম বানিয়াচংয়ের দেওয়ানদের সম্পর্কে এ পালা৷ এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র হলো- আলাল, দুলাল, মদিনা, সোনাফর।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২০৯.
হুমায়ুন কবির রচিত 'নদী ও নারী' একটি-
  1. উপন্যাস
  2. কবিতা
  3. নাটক
  4. প্রহসন
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির, রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক।
তিনি ১৯০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর প্রকৃত নাম হুমায়ুন জহিরউদ্দিন আমির-ই-কবির।

প্রবন্ধ:
 - ধারাবাহিক,
- শরৎ- সাহিত্যের মূলতত্ত্ব
- বাংলার কাব্য
- মার্কসবাদ
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী

কাব্য:
- স্বপ্নসাধ
- সাথী
- অষ্টাদশী

উপন্যাস:
- নদী ও নারী

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া]

 
১১,২১০.
'হেনা' গল্পের রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. জসীম উদ্দিন
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'হেনা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিখ্যাত 'ব্যাথার দান' গল্পগ্রন্থের একটি গল্প।

• ব্যাথার দান:
- কাজী নজরুল ইসালামের প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ।
- ১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়।
- গল্পগ্রন্থ ছাড়া এটিই নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে মোট গল্প রয়েছে ছয়টি।
- ব্যথার দান, 
- হেনা, 
- অতৃপ্ত কামনা, 
- বাদল-বরিষণে, 
- ঘুমের ঘোরে, 
- রাজবন্দীর চিঠি।
- শেষ গল্পটি ছাড়া বাকি গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, এবং বক্তব্য নরনারী প্রেমকেন্দ্রিক।

• তাঁর আরো দুইটি গল্পগ্রন্থ:
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমালা। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১১.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. স্টপ জেনোসাইড
  3. শ্যামল ছায়া
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• "স্টপ জেনোসাইড" প্রামাণ্যচিত্র:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র "স্টপ জেনোসাইড" নির্মাণ করেন জহির রায়হান।
- ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর তিনি কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত স্টপ জেনোসাইড নির্মাণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের মে/জুন মাসে এটি প্রথম কলকাতায় প্রদর্শিত হয়।
- এটি মূলত বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত ফুটেজের একটি সম্পাদনা। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এটিতে বাঙালিদের উপর পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, 
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- শ্যামল ছায়া (১৯৭৪),
- আগুনের পরশমণি (১৯৮৬),
- অনিল বাগচীর একদিন (১৯৯২),
- ১৯৭১ (১৯৯৩),
- জোছনা ও জননীর গল্প (২০০৪) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথমআলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১১,২১২.
আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস কোনগুলো?
  1. ক) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী এবং সংকর সংকীর্তন।
  2. খ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং সংকর সংকীর্তন
  3. গ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং দেয়াল
  4. ঘ) ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পরিত্যক্ত স্বামী এবং দেয়াল
ব্যাখ্যা
ত্রয়ী উপন্যাস বলতে মূলত স্বাভাবিক যোগসূত্র ও ধারাবাহিকতায় এক সাথে তিনটি উপন্যাসকে বোঝানো হয়।

আবু জাফর শামসুদ্দীনের ত্রয়ী উপন্যাস-
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

এছাড়াও তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস-
দেয়াল,
পরিত্যক্ত স্বামী,
প্রপঞ্চ ইত্যাদি।

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
১১,২১৩.
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদিযুগ-
  1. ৫০০-৬৫০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৩০০-১৫০০ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১২০০-১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়।
যথা:

• আদি যুগ:
৬৫০-১২০০ খ্রিষ্টাব্দ আদিযুগের সময়কাল। চর্যাপদ ছিল আদি যুগের  একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

• মধ্যযুগ:  
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের বিস্তার চার শতাব্দী ধরে।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে তিনটি ভাগ যথাক্রমে:
- ১২০১-১৫০০ - প্রাকচৈতন্য যুগ;
- ১৫০১-১৬০০ চৈতন্য যুগ;
- ১৬০১-১৮০০ চৈতন্য পরবর্তী যুগ।

এছাড়া ১২০১-১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।

• আধুনিক যুগ:
১৮০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের পাঠ্যপুস্তক রচনার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে আধুনিক যুগে।
- আখ্যনকাব্য, মহাকাব্য, নাটক-প্রহসন, গীতিকাব্য এবং সংবাদপত্র- সাময়িকপত্রের পথ ধরে উনিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে এসে বাংলা সাহিত্য প্রবেশ করে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।
১১,২১৪.
সত্যেন সেন রচিত ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম
  2. মহাবিদ্রোহের কাহিনী
  3. প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ
  4. অভিযাত্রী
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লিখিত - (মহাবিদ্রোহের কাহিনী, প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ, বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম) সবগুলোই  সত্যেন সেন রচিত ইতিহাসগ্রন্থ।
- 'অভিযাত্রী' তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ।

• সত্যেন সেন:
- সত্যেন সেন ১৯০৭ সালে বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৮ সালে 'উদীচী' নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি ১৯৭০ সালে উপন্যাসে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস হলো:
- ভোরের বিহঙ্গী,
- অভিশপ্ত নগরী,
- পাপের সন্তান,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ,
- পদচিহ্ন,
- আলবেরুনী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ইতিহাসগ্রন্থ হলো:
- মহাবিদ্রোহের কাহিনী,
- প্রতিরোধ সংগ্রামে বাংলাদেশ,
- বাংলাদেশের কৃষকের সংগ্রাম ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিশুসাহিত্য গ্রন্থ:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী ইত্যাদি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,২১৫.
আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২১৬.
হুমায়ূন আহমেদের কোনটি চলচ্চিত্র নয়? 
  1. আগুনের পরশমণি
  2. দুই দুয়ারী 
  3. এইসব দিনরাত্রি
  4. নন্দিত নরকে 
ব্যাখ্যা

এইসব দিনরাত্রি হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র নয়।
- এটি হুমায়ূন আহমেদের রচনায় তৈরি পারিবারিক নাটক। 

হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২):
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার এবং শিক্ষক। 
- তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- ছাত্রজীবনে তিনি ‘নন্দিত নরকে’ শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাস রচনা করেন, যা ১৯৭২ সালে লেখা এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। 
- এই উপন্যাসটি বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।

গ্রন্থ সংখ্যা ও ধরণ:
হুমায়ূন আহমেদের রচনা অন্তর্ভুক্ত গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ এবং আত্মজৈবনিক রচনা, যা মোট তিন শতাধিক। 

চলচ্চিত্র নির্মাণ:
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সফল ছিলেন।
- তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র ‘আগুনের পরশমণি’ (১৯৯৫) এবং শেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ (২০১২)।
- এছাড়া, রয়েছে শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী। 
 - উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ‘শ্যামল ছায়া’ রয়েছে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে নির্মিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া; ‘বাদশাহ নামদার’ উপন্যাস।

১১,২১৭.
বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) রত্নবতী
  2. খ) রায়নন্দিনী
  3. গ) আনোয়ারা
  4. ঘ) উদাসীন পথিকের মনের কথা
ব্যাখ্যা
রত্নবতী মীর মশাররফ হোসেনের প্রথম উপন্যাস। একই সাথে এটি বাঙালি মুসলমান রচিত প্রথম উপন্যাসও। এটি ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত হয়। তার বিষাদ সিন্ধু বাংলা সাহিত্যের একমাত্র গদ্য মহাকাব্য। গাজী মিয়ার বস্তানী ও উদাসীন পথিকের মনের কথা তার আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। রায়নন্দিনী ও আনোয়ারা যথাক্রমে সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ও মোহাম্মদ নজিবুর রহমান রচিত উপন্যাস। (সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার)
১১,২১৮.
‘স্বাধীনতার স্বাদ’ ও ‘শহরতলী’ উপন্যাসদ্বয় কার রচনা?
  1. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘স্বাধীনতার স্বাদ’ ও ‘শহরতলী’ উপন্যাসদ্বয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত।

----------------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২১৯.
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত প্রথম মৌলিক নাটক কোনটি?
  1. সীতাহরণ
  2. সিরাজদ্দৌলা
  3. আগমনী
  4. সীতার বনবাস
ব্যাখ্যা

গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- তিনি ছিলেন নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা।
- ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের প্রভাবে তিনি প্রথমে গান ও কবিতা লিখতে শুরু করেন এবং পরে নাট্যমঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হলে নাটকও লিখতে থাকেন।
-  তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক 'আগমনী' (১৮৭৭) গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চেই অভিনীত হয়।
- ১৯১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি এ মহান অভিনেতা ও নাট্যকার কলকাতায় পরলোক গমন করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- আগমনী,
- সীতার বনবাস,
- সীতাহরণ,
- সিরাজদ্দৌলা,
- মীরকাশিম,
- ছত্রপতি শিবাজী,
- বিল্বমঙ্গল ঠাকুর।
- তাঁর রচিত প্রহসন:
- যামিনী চন্দ্রমাহীনা,
- বেল্লিক বাজার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া,  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২২০.
শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - 
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. যাত্রা
  4. ওঙ্কার
ব্যাখ্যা

• শওকত আলী রচিত — 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

------------------

• শওকত আলী:
- শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- শওকত আলী রচিত ত্রয়ী উপন্যাস: দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- শওকত আলী রচিত বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।

• 'যাত্রা' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' উপন্যাসটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- শওকত আলীর রচিত 'যাত্রা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
- ১৯৭১ সালের ২৫মে মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি বর্বর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক আক্রমণ থেকে প্রাণরক্ষার জন্য ঢাকাবাসীর অনিশ্চিত গন্তেব্যের দিকে ছুটে চলার কাহিনিই ‘যাত্রা’।
- প্রাত্যহিক দিনপঞ্জি বা ডায়েরির আদলে লেখা ‘যাত্রা’ উপন্যাসের কাহিনি, মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কারের ঘটনার শিল্পরূপ।
- ‘যাত্রা’ উপন্যাসটির কেন্দ্রীয় চরিত্র: অধ্যাপক রায়হান।

অন্যদিকে,
ক) পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়: এটি সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
ক) নেকড়ে অরণ্য - শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
খ) ওঙ্কার: এটি আহমেদ ছফার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, 'যাত্রা' উপন্যাস, শওকত আলী।

১১,২২১.
'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে' - পঙক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  3. গ) দ্বিজ কানাই
  4. ঘ) বড়ু চণ্ডিদাস
ব্যাখ্যা
'প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে  জোড় হাতে
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।।' - আলোচ্য পঙক্তি টি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত 'আমার সন্তান' কবিতার অন্তর্গত। 

- মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি, আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অগ্রদূত ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- ইন্দ্রনারায়ণ তাঁর বিশিষ্ট বন্ধু নবদ্বীপ-কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন। মহারাজা কবির পান্ডিত্য ও ব্যবহারে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে ৪০ টাকা মাসোহারা দিয়ে আমত্য বা রাজসভাসদ পদে নিয়োগ দেন।
- মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘গুণাকর’ অর্থাৎ ‘সকল গুণের আধার’ উপাধিতে সম্মানিত করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,২২২.
কত বৎসর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “বনফুল” গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) চৌদ্দ বছর
  2. খ) ষোল বছর
  3. গ) আঠারো বছর
  4. ঘ) উনিশ বছর
ব্যাখ্যা
১৮৭৬ সালে বনফুল কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো ধারাবাহিকভাবে ‘জ্ঞানাঙ্কুর’ ও ‘প্রতিবিম্ব’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথের বয়স তখন ১৫ বছর। বনফুল ১৮৮০ সালে রবীন্দ্রনাথের দ্বিতীয় গ্রন্থ হিসেবে প্রকাশিত হয়। তখন বয়স ছিল ১৯ বছর। তার প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কবি-কাহিনী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২২৩.
সমর সেনের উপাধি ছিল-  
  1. স্বভাব কবি
  2. নাগরিক কবি 
  3. কবি কন্ঠহার 
  4. আধুনিক নাগরিক কবি
ব্যাখ্যা

সমর সেনের উপাধি ছিল- 'আধুনিক নাগরিক কবি'। 
-----------------------------------------
সমর সেন:
-  সমর সেন ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অরুণ সেন ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসের অধ্যাপক।
- তাঁর পিতামহ ছিলেন প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন।
- সমর সেন রুশ সাহিত্যের একজন দক্ষ অনুবাদক ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী রাজনীতিতেও নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন।
- সমর সেনকে আধুনিক নাগরিক কবি বলা হয়।
- কারণ তাঁর কবিতায় নগর জীবন, সমাজ এবং আধুনিক মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৮৭ সালের ২৩ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- কয়েকটি কবিতা;
- গ্রহণ;
- নানা কথা;
- খোলা চিঠি;
- তিন পুরুষ। 

• তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হচ্ছে- বাবু বৃত্তান্ত। 
----------------------------------------------------------- 
অন্যদিকে,
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
• শামসুর রাহমানকে নাগরিক কবি বলা হয়।
• কবি কন্ঠহার বিদ্যাপতির উপাধি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১,২২৪.
'তিমির হননের কবি' কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. ফররুখ আহমদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ বরিশাল ব্রজমোহন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯১৫), বি এম কলেজ থেকে আই.এ (১৯১৭) এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ
থেকে ইংরেজিতে অনার্সসহ বি.এ (১৯১৯) ও ইংরেজিতে এম.এ (১৯২১) পাস করেন।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ),
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উপন্যাস:
- মাল্যবান,
- সুতীর্থ।

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- কবিতার কথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১১,২২৫.
মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদিকবি কবি কে?
  1. কানাহরি দত্ত
  2. মানিক দত্ত
  3. বিজয়গুপ্ত
  4. দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা
• মনসামঙ্গলের আদি কবি- কানা হরিদত্ত।

• কানাহরি দত্ত:

- কানাহরি দত্ত মনসামঙ্গল কাব্যধারার আদি কবি ।
- কানাহরি দত্তের নাম পাওয়া যায় বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরণ বা মনসামঙ্গলে।
- তাতে একটি পঙক্তি আছে: 'হরি দত্তের গীত যত লোপ পাইল কালে।' কানাহরি দত্তের রচনা রোপ পাওয়ায় এর উদাহরণ পাওয়া যায় না।
- বিজয় গুপ্তের পদ্মাপুরাণ বর্তমানে মনসামঙ্গলের প্রান্ত প্রাচীনতম পুথি।
- কানাহরি দত্তের সময়কাল: আশুতোষ ভট্টাচার্যের মতে বিজয় গুপ্তের সময় শতাব্দী পূর্বে, অর্থাৎ ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২২৬.
পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি কার ছিল?
  1. দাশরথি রায়
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. ফকির গরীবুল্লাহ
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• পাঁচালিকার হিসেবে সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন: দাশরথি রায়।

• দাশরথি রায়:
- দাশরথি রায় ১৮০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার বাঁধমুড়া গ্রামে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন স্বভাবকবি ও পাঁচালিকার। ‘দাশু রায়’ নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।
- ১৮৩৬ সালে আখড়া গঠন করে ছড়া ও পাঁচালি রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই দাশরথি খ্যাতনামা পাঁচালিকার হিসেবে নবদ্বীপের পন্ডিতসমাজে উচ্চ প্রশংসিত হন।
- তাঁর গানগুলি রাগসুরে রচিত এবং তাতে টপ্পা অঙ্গের ব্যবহার বিশেষভাবে লক্ষণীয়।
- পাঁচালিকে বিভিন্ন শ্রেণির শ্রোতাদের উপভোগ্য করে তোলেন, যা ‘দাশুরায়ের পাঁচালি’ নামে খ্যাত।

-------------------
• পাঁচালি:
- পাঁচালি লোকগীতির একটি ধারা।
- এতে গানের মাধ্যমে কোনো আখ্যান বর্ণিত হয়।
- পঞ্চাল বা পঞ্চালিকা শব্দ থেকে পাঁচালি শব্দের উৎপত্তি।
- আবার এতে গান, বাজনা, ছড়া কাটা, গানের লড়াই ও নাচ এই পঞ্চাঙ্গের সমাবেশে ঘটে বলেও কেউ কেউ একে পাঁচালি বলেন।
- পাঁচালি রচয়িতাদের মধ্যে বিশেষ প্রসিদ্ধ দাশরথি রায়। ‘দাশু রায়ের পাঁচালি’ সারা বাংলায় বিশেষ খ্যাতি অর্জন করে।

অন্যদিকে,
• বাংলা টপ্পা সঙ্গীতের প্রবর্তক হিসেবে বিখ্যাত রামনিধি গুপ্ত। 
• পুঁথি সাহিত্যর প্রথম সার্থক ও জনপ্রিয় কবি ছিলেন ফকির গরীবুল্লাহ।
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের অধ্যাপক রামরাম বসু ছিলেন গদ্য সাহিত্য সূচনা পর্বের লেখেক। তিনি বাঙালি রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ হলো 'রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র' রচনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,২২৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কোন নাটকটি 'নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু'কে উৎসর্গ করেন? 
  1. তাসের দেশ
  2. বসন্ত
  3. কালের যাত্রা
  4. ডাকঘর
ব্যাখ্যা

• 'তাসের দেশ' উপন্যাস:
- 'তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজেরই 'এক আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে। রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'বসন্ত' একটি গীতিনাট্য। এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।

------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কিছু নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২২৮.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয়?
  1. যুগবাণী
  2. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  3. রাজবন্দীর রোজনামচা
  4. রুদ্র-মঙ্গল
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ নয় - রাজবন্দীর রোজনামচা
- এটি শহীদুল্লা কায়সার রচিত স্মৃতিকথা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তাঁর পিতা কাজী ফকির আহমদ ছিলেন মসজিদের ইমাম ও মাযারের খাদেম।
- কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়। 
- বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে কবির অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট, ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র, ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- রুদ্র-মঙ্গল,
- অন্যান্য প্রবন্ধ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া এবং নজরুলের প্রবন্ধ সমগ্র।
১১,২২৯.
বেগম রোকেয়া রচিত সাহিত্যকর্ম নয় কোনটি?
  1. স্ত্রীজাতির অবনতি
  2. পিপাসা
  3. নিরীহ বাঙালি
  4. পদ্মগোখরা
ব্যাখ্যা
• 'মতিচূর' প্রবন্ধগ্রন্থ :
- 'মতিচূর' রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের উদ্দেশ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ।
- ঘৃতপক্ক মিষ্টান্ন বিশেষকে বলা হয় মতিচূর।
- রোকেয়ার গ্রন্থের রচনাগুলোও অনেকটা সুস্বাদু মিষ্টান্নের মতোই।
- 'মতিচূর' গ্রন্থের দুটি খণ্ডে মোট প্রবন্ধের সংখ্যা ১৭টি।

প্রথম খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত ৭টি প্রবন্ধের নাম-
- পিপাসা, স্ত্রীজাতির অবনতি, নিরীহ বাঙালি, অর্ধাঙ্গী, সুগৃহিণী, বোরকা ও গৃহ।
- দ্বিতীয় খণ্ডে ১০ প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে।

• অন্যদিকে, 
- 'পদ্মগোখরা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প।

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
• নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
২. বাংলাপিডিয়া।
১১,২৩০.
আল মাহমুদের উপন্যাস কোনটি?
  1. পানকৌড়ির রক্ত
  2. কাবিলের বোন
  3. বখতিয়ারের ঘোড়া
  4. পাখির কাছে ফুলের কাছে
ব্যাখ্যা

আল মাহমুদের উপন্যাস হচ্ছে কাবিলের বোন। 

আল মাহমুদ:
- কাবিলের বোন তিনি ১৯৩৬ সালের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি একজন প্রথিতযশা কবি।
- স্বাধীনতা উত্তরকালে তিনি 'দৈনিক গণকণ্ঠ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সোনালী কাবিন' (১৯৭৩)।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- সোনালী কাবিন,
- কালের কলস,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- দোয়েল ও দয়িতা,
- দ্বিতীয় ভাঙন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- প্রেমের কবিতা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- কাবিলের বোন,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- উপমহাদেশ,
- ডাহুকী,
- আগুনের মেয়ে, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রধান গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,
- ময়ূরীর মুখ,
- গন্ধবণিক,
- সৌরভের কাছে পরাজিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া। 

১১,২৩১.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প কোনটি?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. রেইনকোট
  4. নিষিদ্ধ লোবান
ব্যাখ্যা
• 'রেইনকোট' ছোটগল্প:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
- রেইনকোট ছোটগল্পটিতে মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপার থাকলেও একটি মূলত প্রতীকী গল্প। 'রেইনকোট' গল্পটি ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- মুক্তিযোদ্ধা শ্যালকের রেইনকোট গায়ে দিয়ে ভীতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যে সঞ্চারিত হয় যে উষ্ণতা, সাহস ও দেশপ্রেম তারই ব্যঞ্জণাময় প্রকাশ ঘটেছে এ গল্পে।
- এটি লেখকের সর্বশেষ গল্পগ্রন্থ 'জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' (১৯৯৭) গ্রন্থে সংকলিত হয়।
- জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল' আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত সংকলনের বিভিন্ন গল্পে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী রাজনৈতিক এবং সামাজিক বাস্তবতার চিত্র ফুটে উঠেছে।

জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল গ্রন্থে পাঁচটি গল্প সংকলিত হয়েছে:
- প্রেমের গপ্পো,
- ফোঁড়া,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- কান্না,
- রেইনকোট।

অন্যদিকে, 
• 'চিলেকোঠার সেপাই'  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত এটি একটি মহাকাব্যিক উপন্যাস। 

• 'খোয়াবনামা' থাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস। 

• 'নিষিদ্ধ লোবান' মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যতম একটি উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৩২.
মীর মশাররফ হোসেন কোন শতকের সাহিত্যিক?
  1. বিশ
  2. সতের
  3. উনিশ
  4. আঠার
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়। 
 
• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু, 
 
আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ: 
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।
 
• তাঁর অমর কীর্তি বিষাদ-সিন্ধু উপন্যাসে কারবালার বিষাদময় ঐতিহাসিক কাহিনি বিবৃত হয়েছে। তবে অনেক ঘটনা ও চরিত্র সৃষ্টিতে উপন্যাসসুলভ কল্পনার আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।
• তাঁর জমিদার দর্পণ নাটকটি ১৮৭২-৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে সংঘটিত কৃষক-বিদ্রোহের পটভূমিকায় রচিত।
• গাজী মিয়ার বস্তানী মীর মশাররফ হোসের আত্মজীবনীমূলক রচনা।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৩৩.
'সবুজপত্র' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. অমিয় চক্রবর্তী
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ৭ আগস্ট, ১৮৬৮ সালে যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৩৪.
'জীবন এতো ছোট ক্যানে?' ক্ল্যাসিক সংলাপটির কার রচনা?
  1. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা

• 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'কবি' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত। 

• 'কবি' উপন্যাস:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'কবি' (১৯৪১)। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- এই উপন্যাসটি ডোম সম্প্রদায়ের একজন যুবকের কবি রূপে প্রতিষ্ঠা এবং দুটি নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক বিষয়ক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের 'জীবন এতো ছোট ক্যানে?'- সংলাপটি ক্ল্যাসিক মর্যাদা পেয়েছে। 

----------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন কথাসাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ। তিনি ১৮৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় এক জমিদারবংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- তারাশঙ্করের ত্রয়ী উপন্যাস- ধাত্রীদেবতা, গণদেবতা, পঞ্চগ্রাম।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- কালিন্দী,
- কবি,
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা,
- গণদেবতা,
- আরগ্য,
- নিকেতন,
- পঞ্চপুণ্ডলী,
- রাধা ইত্যাদি।

• তাঁর প্রসিদ্ধ ছোটগল্প:
- রসকলি,
- বেদেনী,
- ডাকহরকরা।

• তাঁর রচিত নাটক:
- দ্বীপান্তর,
- পথের ডাক,
- দুই পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৩৫.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি -
  1. ছোটগল্প
  2. ভ্রমণকাহিনি
  3. নাটক
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• 'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিমের একটি - উপন্যাস।
 
নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিমের ১৯২১ সালে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।  
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত। 
- তিনি বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন।
-  বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যু্ক্ত ছিলেন 
 
তার সাহিত্যকর্ম:
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়। 
 
তাঁর রচিত নাটক: 
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ।
 
ছোটগল্প:
- রমনা পার্কে।
 
আত্মজীবনী:
- বিন্দু-বিসর্গ।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৩৬.
'তৈল' প্রবন্ধটি লিখেছেন -
  1. সুকুমার রায়
  2. রমেশচন্দ্র মজুমদার
  3. শিবনারায়ণ রায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচিত প্রবন্ধ ‘তৈল’।

• প্রবন্ধের কিছু অংশ:
বাঙালীর বল নাই, বিক্রম নাই, বিদ্যাও নাই, বুদ্ধিও নাই। সুতরাং বাঙালীর একমাত্র ভরসা তৈল — বাঙালীর যে কেহ কিছু করিয়াছেন, সকলই তৈলের জোরে, বাঙালীদিগের তৈলের মূল্য অধিক নয়; এবং কি কৌশলে সেই তৈল বিধাতৃপুরুষদিগের সুখসেব্য হয়, তাহাও অতি অল্পলোক জানেন। যাঁহারা জানেন, তাঁহাদিগকে আমরা ধন্যবাদ দিই। তাঁহারাই আমাদের দেশের বড় লোক, তাঁহারাই আমাদের দেশের মুখ উজ্জ্বল করিয়া আছেন।

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বিখ্যাত বাঙালি ভারততত্ত্ববিদ, সংস্কৃত বিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের আবিষ্কারক।
- তিনি 'হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা' নামে 'চর্যাপদ' সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• হরপ্রসাদ বহু বিদ্যাপ্রতিষ্ঠানের সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য:
- ১৮৮৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আজীবন ফেলো মনোনয়ন;
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়’ উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত)।
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই’ উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন;
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কাঞ্চনমালা ও
- বেণের মেয়ে।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ-
- হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব,
- মেঘদূত ব্যাখ্যা,
- ভারত মহিলা,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৩৭.
বাংলা সাহিত্যে যুগসন্ধিকাল কোন সময়কে ধরা হয়?
  1. ১৬১০-১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭০০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৬০-১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৬০-১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ কে বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধিকাল ধরা হয়।

• যুগসন্ধিকাল ও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- আধুনিক যুগের প্রথম ভাগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- উনিশ শতকের শুরুর দিকে ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।
- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন, এই দুই মনীষীর মধ্যবর্তীকালে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের আবির্ভাব।
- তাঁর মধ্যে মধ্যযুগের কাব্য বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনা বৈশিষ্ট্য সমানভাবে লক্ষ্য করা যায় বলে তাঁকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়।
- আবার, ভারতচন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পর থেকে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশকাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলা সাহিত্যে সৃষ্টির স্বল্পতা, রচনার পরিবেশ-পরিস্থিতি ও বৈশিষ্ট বিবেচনা করে এই পর্যায়কে একটা স্বতন্ত্র যুগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কারও মতে এই যুগের পরিধি ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ সাল অর্থাৎ ঈশ্বর গুপ্তের আবির্ভাব-পূর্বকাল পর্যন্ত।
- মধ্যযুগের শেষ ও আধুনিকযুগের শুরুর এই সময়কে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে।
- তাই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধি এবং অবক্ষয় উভয় যুগের কবি বলা হয়।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৩৮.
"তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো," পঙক্তিদ্বয় কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 

  1. ক) তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা
  2. খ) বন্দী শিবির থেকে
  3. গ) আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি
  4. ঘ) বিধ্বস্ত নীলিমা
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিদ্বয় কবি শামসুর রাহমান রচিত 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যগ্রন্থের 'তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা' কবিতার অন্তর্গত। 
- ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- ৩৮ টি কবিতা এ গ্রন্থে সংযোজন করা হয়েছে। 
কবিতাটি নিম্নরূপ-  

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,
তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,
সকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,
সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা,
শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো
দানবের মত চিৎকার করতে করতে,
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা,
ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হল। রিকয়েললেস রাইফেল
আর মেশিনগান খই ফোটালো যত্রতত্র।
তুমি আসবে বলে ছাই হল গ্রামের পর গ্রাম।
তুমি আসবে বলে বিধ্বস্ত পাড়ায় প্রভুর বাস্তুভিটার
ভগ্নস্তূপে দাঁড়িয়ে একটানা আর্তনাদ করল একটা কুকুর।
তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা
অবুঝ শিশু হামাগুড়ি দিল পিতামাতার লাশের উপর।
তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা, তোমাকে পাওয়ার জন্যে
আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?
আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন? (সংক্ষিপ্ত) 

উৎস: বন্দী শিবির থেকে, শামসুর রাহমান।
১১,২৩৯.
কোন ভাষাচার্যের মতে চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 
  2. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের ভাষা নিয়ে বিভিন্ন পণ্ডিতের মতে:
• পণ্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, চর্যাকাররা 'বাঙ্গালা' ও তন্নিকটবর্তী দেশের লোক। যদিও অনেকের ভাষায় একটু-আধটু ব্যাকরণের প্রভেদ আছে, তবুও চর্যার ভাষাকে বাংলা বলে উল্লেখ করেছেন। এ অভিমতের পক্ষে তিনি কোনো যুক্তি উপস্থাপন করেন নি। অন্যদিকে, সব পণ্ডিত যে তাঁর সঙ্গে অভিন্ন মত পোষণ করেছেন এমন নয়।

• ভাষাতাত্ত্বিক বিজয়চন্দ্র মজুমদার এ বলে মত প্রকাশ করেছেন যে, সামগ্রিকভাবে চর্যার ভাষাকে বাংলা বলা যাবে না। তাতে হিন্দি ও ওড়িয়া আছে। এটি মিশ্র ভাষা হিসেবে পরিচিত হতে পারে।

ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় চর্যাগীতির ভাষা নিয়ে প্রথম ভাষাতাত্ত্বিক বিশদ আলোচনা করেন দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ গ্রন্থে। তিনি তাতে সুস্পষ্টভাবে এ অভিমত দেন যে, চর্যাগীতির ভাষা বাংলা এবং তাতে শৌরসেনী অপভ্রংশের প্রভাব রয়েছে। যেমন: আইসন, জইসন, জিম, তিম ইত্যাদি পুরোপুরি বাংলার রূপ পাচ্ছিল না। কেননা চর্যাগীতিগুলো যখন রচিত হয় তখন বাংলা ভাষা পুরোপুরি অপভ্রংশের খোলস ত্যাগ করতে পারে নি।

• সুনীতিকুমারের মতকে সুকুমার সেন সমর্থন করে চর্যাগীতির ভাষাকে বাংলা বলেই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তিনি শৌরসেনী প্রভাবের বদলে অবহট্ঠের প্রভাবের পক্ষে অভিমত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অসমিয়া ভাষীদের দাবিও অযৌক্তিক নয়।

উৎস: চর্যাগীতি পাঠ, মাহাবুবুল হক। 

১১,২৪০.
কোনটি সেলিম আল দীন রচিত নাটক?
  1. ক) উজানের মৃত্যু
  2. খ) নীল ময়ূরের যৌবন
  3. গ) কীর্তন খোলা
  4. ঘ) বহিপীর
ব্যাখ্যা
- সেলিম আল দীন রচিত নাটক কীর্তন খোলা। 

তাঁর রচিত নাটকগুলো হলো:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কীর্তন খোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন,
- একটি মারমা রূপকথা ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৪১.
অধিকাংশ বৈষ্ণব পদাবলী কোন ভাষায় রচিত হয়েছে?
  1. বাংলা
  2. ব্রজবুলি
  3. মৈথিলি
  4. সংস্কৃত
ব্যাখ্যা

• বৈষ্ণব পদাবলির অধিকাংশ পদ রচিত হয়েছে — বাংলা ও মৈথিলি ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্ট — এক প্রকার কৃত্রিম ভাষায়, যা — ব্রজবুলি ভাষা নামে পরিচিত।

• বৈষ্ণব পদাবলি সম্পর্কিত কিছু তথ্য:
- বৈষ্ণব পদাবলি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ফসল।
- বাঙালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বা পদাবলির আদিকবি বলা হয়। তাঁর রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত ‘গীতগোবিন্দম্‌' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। তবে গ্রন্থটি বাংলা ভাষায় নয়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত।
- পরবর্তীতে বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদ রচনা করেন। অবাঙালি কবি বিদ্যাপতিকে ব্রজবুলি ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি কবি বলা হয়। উনি অভিনব জয়দেব নামেও পরিচিত।
- বাংলা ভাষায় প্রথম বৈষ্ণব পদাবলি রচনা করেন চণ্ডীদাস। সুতরাং বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা চণ্ডীদাস।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৪২.
সেলিনা হোসেন রচিত 'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' কোন ধরনের রচনা?
  1. নাটক
  2. কবিতা
  3. উপন্যাস
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা

'পোকামাকড়ের ঘরবসতি' সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস। 

পোকামাকড়ের ঘরবসতি:
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি (১৯৮৬) সেলিনা হোসেন রচিত একটি উপন্যাস।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নদীর মধ্যে অবস্থিত শাহপরি দ্বীপের মানুষের জীবনকে, বিশেষ করে মাঝিদের সংগ্রামী জীবনের বাস্তব রূপায়ণ করে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো মালেক, সাফিয়া এবং তোরাব আলী।

সেলিনা হোসেন:
- ১৯৪৭ সালের ১৪ জুন রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত কথাশিল্পী এবং তাঁর উপন্যাসের প্রধান বিষয় হলো অবরুদ্ধ সমাজে মুক্তচিন্তা ও মানুষের মুক্তির আকুতি।
- সাহিত্য ও কলার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি মুহাম্মদ এনামুল হক স্বর্ণপদক (১৯৬৯), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮০), ফিলিপস্ পুরস্কার (১৯৮৮) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৭) লাভ করেছেন।

উল্লেখযোগ্য উপন্যাসসমূহ:
- জলোচ্ছ্বাস,
- হাঙর নদি গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকামাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘণ্টাধ্বনি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৪৩.
'কুমড়ো ফুলে-ফুলে,নুয়ে প’ড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা।' কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
'কুমড়ো ফুলে-ফুলে,নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা।' কবিতাংশটুকু আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ  রচিত 'কোন এক মাকে'  কবিতার অন্তর্গত।

কোন এক মাকে
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

কুমড়ো ফুলে-ফুলে,
নুয়ে প’ড়েছে লতাটা,
সজনে ডাঁটায়
ভরে গেছে গাছটা,
আর আমি
ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি।
খোকা তুই কবে আসবি ?
কবে ছুটি?
(সংক্ষিপ্ত)

• তাঁর উল্লেখযােগ্য কবিতা হলাে :
- আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি ও
- কোন এক মাকে।

• আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- তিনি পঞ্চাশ দশকের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ - সাতনরী হার (১৯৫৫)।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কখনো রং কখনো সুর,
- কমলের চো্খ
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৪৪.
'মর্সিয়া' শব্দের অর্থ কী?
  1. শোক বা আহাজারি
  2. বেদনা মিশ্রিত কাব্য
  3. শোক কাব্য
  4. দুঃখ
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• মর্সিয়া (বিশেষ্য পদ), 
- শব্দটি ফারসি থেকে আগত শব্দ।
শব্দের অর্থ:
- মৃত্যু উপলক্ষ্যে রচিত শোকগাথা। 
- কারবালার যুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত শোকগাথা,
- মহরমে গীত শোকগাথা/ শোক কাব্য।

ফারসি ভাষা থেকে আগত আরো কিছু শব্দ হলো:
কুলফি, কুস্তি, কোফতা, গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
অভিগম্য অভিধান অনুসারে মর্সিয়া আরবি ভাষার শব্দ।

[অপশনে আরবি ও ফারসি উভয়টি থাকলে বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সঠিক উত্তর ফারসি গ্রহণ করতে হবে।]

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১,২৪৫.
‘দণ্ডকারণ্য’ গ্রন্থের প্রকাশক - 
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. মুনীর চৌধুরী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
• দণ্ডকারণ্য:
- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সমালোচক ও বাগ্মী মুনীর চৌধুরী রচিত বিখ্যাত কিছু নাটকের নাম - রক্তাক্ত প্রান্তর, দণ্ডকারণ্য, কবর ইত্যাদি।
- দণ্ড, দণ্ডধর, দণ্ডকারণ্য নামে তিনটি নাটক একত্রিত করে ১৯৬৬ সালে ‘দণ্ডকারণ্য’ নামে একটি নাটক প্রকাশ করা হয়। 
• অপশনে উল্লেখিত শব্দগুলোর মধ্যে -

- কাজী আবদুল ওদুদ রচিত একটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম - শাশ্বত বঙ্গ।
- বেতাল পঞ্চবিংশতি, প্রভাবতি সম্ভাষণ, ব্যাকরণ কৌমুদী বিদ্যাসাগর রচিত কিছু বিখ্যাত গ্রন্থ।
- ফোর্ট উইলাম কলেজ থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা গ্রন্থ - রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছেন রামরাম বসু।
- তাঁর আরকেটি বিখ্যাত গ্রন্থ - লিপিমালা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১১,২৪৬.
বাংলা সাহিত্যে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কেন বিখ্যাত?
  1. ক) চর্যাপদের ভাষা বাংলা তা প্রমাণের জন্য
  2. খ) চৈতন্য দেবের জীবনী সাহিত্য রচনার জন্য
  3. গ) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন আবিষ্কারের জন্য
  4. ঘ) প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্য আবিষ্কারের জন্য
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বাংলা ভাষার প্রথমগ্রন্থ চর্যাপদ নেপালের রাজদরবার গ্রন্থাগার থেকে উদ্ধার করেন। তার এ অমর কীর্তি্র জন্য তিনি বিখ্যাত। 

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৮৫৩-১৯৩১)  প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পন্ডিত।

• অনুসন্ধিৎসু হরপ্রসাদ প্রাচীন বাংলার পুঁথির খোঁজে চারবার নেপাল যান ১৮৯৭, ১৮৯৮, ১৯০৭ এবং ১৯২২ সালে। ১৯০৭ সালে তাঁর হাতে আসে বাংলার প্রাচীনতম কবিতা-সংগ্রহ চর্যাগীতির পুঁথি। দীর্ঘ ৭/৮ বৎসর পুঁথির রচনাগুলি গবেষণা করে তিনি আবিষ্কার করেন যে, গানগুলির ভাষা প্রাচীন বাংলা। ১৯১৬ সালে হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা গ্রন্থে দুটি দোহা কোষ ও ডাকর্ণব পুঁথির সঙ্গে চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় পুঁথি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়। চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগানের সংকলনটি আবিষ্কার ও সম্পাদনা বাংলাভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৪৭.
কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব 'কাহিনীকাব্য'?
  1. বৈষ্ণব পদাবলি
  2. খনার বচন
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. চর্যাপদ
ব্যাখ্যা

মঙ্গলকাব্য:
- মঙ্গলকাব্য  মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের এক বিশেষ ধারা। 
- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য।
- এ কাব্য পাঠ বা শ্রবণ করলে সকল প্রকার অকল্যাণ নাশ ও সর্ববিধ মঙ্গল লাভ হয় এরূপ ধারণা থেকেই এর নাম হয়েছে মঙ্গলকাব্য।
- মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা,  চণ্ডী ও  ধর্মঠাকুর।
- এঁদের মধ্যে  মনসা ও চন্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।  
- এই তিনজনকে কেন্দ্র করে মঙ্গলকাব্যের প্রধান তিনটি ধারা গড়ে উঠেছে মনসামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৪৮.
শামসুর রাহমান রচিত ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
  1. বিধ্বস্ত নীলিমা
  2. বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে
  3. বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়
  4. নিজ বাসভূমে
ব্যাখ্যা
• নিজ বাসভূমে:
- কাব্যটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি সংগ্রামী চেতনার কবিতা, দেশ প্রেমের কবিতা, গণজাগরণের কবিতা।

• শামসুর রাহমান:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৪৯.
‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রটির পটভূমি কী?
  1. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  4. ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
ব্যাখ্যা

‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রটির পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 

শ্যামল ছায়া:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তিতে এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২):
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- জন্ম: নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

সাহিত্যিক জীবন:
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- উপন্যাসটি তিনি রচনা করেন ১৯৭২ সালে এবং সেই বছরই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- 'নন্দিত নরকে' বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- দ্বিতীয় উপন্যাস: শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- শেষ উপন্যাস: দেয়াল (অপ্রকাশিত; পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প। 

স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার, 
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২),
- কবি। 

সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা,
- তারা তিনজন। 

আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন,
- আমার ছেলেবেলা। 

চলচ্চিত্র নির্মাণ:
- প্রথম ছবি: আগুনের পরশমণি (১৯৯৫),
- শেষ ছবি: ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২),
- উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: শ্যামল ছায়া (১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১১,২৫০.
বাংলা গদ্যের বিকাশে কোন পত্রিকা সাহায্য করেছিল?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সমাচার-দর্পণ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
বাংলা গদ্য বিকাশে উল্লেখযোগ্য পত্রিকা:

• শ্রীরামপুর মিশন থেকে ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা সমাচার-দর্পণ এবং পরে রামমোহন রায়ের সম্বাদকৌমুদী (১৮২১) ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমাচারচন্দ্রিকা (১৮২২) বাংলা গদ্যকে ভাবপ্রকাশের উপযোগিতা দিয়েছিল এবং খানিকটা সরল ও কেজো গদ্যে পরিণত করেছিল।

আরো দুটি সাময়িকপত্রিকা— সম্বাদপ্রভাকর (১৮৩১) এবং তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৮৪৩) — বাংলা গদ্যের বিকাশে সাহায্য করেছিল। বিশেষত,
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় লিখে অক্ষয়কুমার দত্ত এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর সেকালের দুই শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক বলে পরিচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫১.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সর্বশেষ উপন্যাস কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. যুগলাঙ্গুরীয়
  3. সীতারাম
  4. রজনী
ব্যাখ্যা

- 'সীতারাম' বঙ্কিমচন্দ্রের সর্বশেষ উপন্যাস
- বঙ্কিমের ধর্মচিন্তা এই উপন্যাসের গঠনকে নিয়ন্ত্রিত করেছে।
- এ গ্রন্থে রচিত গান "বন্দে মাতরম্" পরবর্তিতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,২৫২.
বিখ্যাত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি কার রচনা?
  1. আহসান হাবীব
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থ:
- মুসলিম জাগরণের কবি ফররুখ আহমদ রচিত প্রথম ও শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সাত সাগরের মাঝি' ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরি' কবিতাটি 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
- 'সাত সাগরের মাঝি' কাব্যগ্রন্থে মোট ১৯ টি কবিতা রয়েছে। সাত সাগরের মাঝি নামে একটি নাম কবিতা আছে গ্রন্থের সর্বশেষে।

অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতাগুলো হচ্ছে:
- সিন্দাবাদ,
- পাঞ্জেরি,
- লাশ,
- আউলাদ,
- দরিয়ার শেষরাত্রি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৫৩.
মনিপুর রাজকন্যা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) বিসর্জন
  2. খ) চিত্রাঙ্গদা
  3. গ) ডাকঘর
  4. ঘ) অচলায়তন
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিত্রাঙ্গদা নাটকটি রচনা করেন।
- এই নাটকে মনিপুর রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের পৌরাণিক প্রণয় কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- এই নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,২৫৪.
'একক সন্ধায় বসন্ত' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. আহসান হাবিব
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'একক সন্ধ্যায় বসন্ত' সৈয়দ আলী হাসান রচিত কাব্যগ্রন্থ।

• সৈয়দ আলী হাসান:
- সৈয়দ আলী হাসান বাংলাদেশে একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক, কবি, সাহিত্য সমালোচক, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় অধ্যাপক ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের ইংরেজি অনুবাদক।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনেক আকাশ,
- একক সন্ধ্যায় বসন্ত,
- সহসা সচকিত,
- আমার প্রতিদিনের শব্দ,
- চাহার দরবেশ ও অন্যান্য কবিতা,
- সমুদ্রেই যাব,
- রজনীগন্ধা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৫৫.
রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ব্যাকরণ কোনটি?
  1. মাগধীয় ব্যাকরণ
  2. গৌড়ীয় ব্যাকরণ
  3. মাতৃভাষা ব্যাকরণ
  4. ভাষা প্রকাশ ব্যাকরণ
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
- এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায় এবং এটি প্রকাশিত হয় ১৮৩৩ সালে।
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন।
---------------------
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান ।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 
-------
আরো উল্লেখযোগ্য কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচয়িতা:
• 'ব্যাকরণ মঞ্জুরী' এর লেখক - ড. মুহম্মদ এনামুল হক।
• 'ব্যাকরণ কৌমুদী' এর লেখক - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
• 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ' এর রচয়িতা-ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ। 
• "ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ " - গ্রন্থের রচয়িতা ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
• ১৯০০ সালে হৃষিকেশ শাস্ত্রী রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থ: 'বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৫৬.
সামাজিক নাটক কোনটি? 
  1. ডাকঘর
  2. নুরজাহান
  3. সধবার একাদশী
  4. রাবণবধ
ব্যাখ্যা

'সধবার একাদশী' নাটক:
- এই নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্র। প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ খ্রিষ্টাব্দে।
- সধবার একাদশী বিখ্যাত সামাজিক নাটক।
- উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল।
- এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনী নিয়ে নাটকটির রচিত।
- নাটকটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নিমচাঁদ, কেনারাম, সৌদামিনী, গিন্নী, কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'ডাকঘর' নাটক:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি রূপক সাংকেতিক নাটক। এটি ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ঘরের মধ্যে বন্দি এক রুগ্ন বালক অমল এই নাটকের নায়ক। মৃত্যুপথযাত্রী অমল মুক্তি ও বাইরের জগৎকে প্রতীকীভাবে উপস্থাপন করে।

'নুরজাহান' নাটক:
- 'নুরজাহান' দ্বিজেন্দ্রলাল রায় রচিত একটি ঐতিহাসিক নাটিক।
- এটি ১৩১৪ সাল ১লা চৈত্র শনিবার প্রথম মিনার্ভা থিয়েটারে অভিনীত হয়। গ্রন্থাকারে প্রকাশকালে এর মূল্য ছিল দ্বি টাকা আট আনা।

• 'রাবণবধ' (১৮৮১) হল গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত একটি পৌরাণিক নাটক, যা রামায়ণ-ভিত্তিক একটি বিখ্যাত নাটক।

দীনবন্ধু মিত্র:
- ১৮৩০ খ্রিষ্টাব্দ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহিত্য জীবনের শুরু কবিতা দিয়ে।
- দীনবন্ধু মিত্র কবিতা দিয়ে সাহিত্যজীবনের শুরু করলেও নাট্যকার রুপে সমাধিক খ্যাত।
- ইংরেজি শিক্ষিত নব্য যুবকদের মদ্যপান ও বারবণিতা সঙ্গকে ব্যঙ্গ করে তাঁর রচিত প্রহসন সধবার একাদশী।
- দীনবন্ধু মিত্র ১লা নভেম্বর ১৮৭৩ মৃত্যবরণ করেন।

দীনবন্ধু মিত্রের উল্লেখযোগ্য নাটক:
- নীল দর্পন,
- নবীন তপস্বিন,
- লীলাবত,
- কমলে কামিনী।

উৎস:
১) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৫৭.
মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য-
  1. ক) ধর্মকেন্দ্রিকতা
  2. খ) মানবতা
  3. গ) দেশপ্রেম
  4. ঘ) লৌকিকতা
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মকেন্দ্রিকতা
বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে বা পর্যায়ে ভাগ করা হয়। যথা :
১. প্রাচীন যুগ
২. মধ্যযুগ
৩. আধুনিক যুগ

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগে ব্যক্তি ও সমষ্টিজীবনই প্রধান ছিল।
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে ধর্মটাই মুখ্য ছিল, মানুষ হয়ে পড়ে গৌণ।
• আর আধুনিক যুগে মানুষ মুখ্যহয় এবং মানবতায় একমাত্র কাম্য হয়ে ওঠে। সে সঙ্গে যোগ হয় অন্ধবিশ্বাসের বদলে যুক্তিশীলতা। স্বাজাত্যবোধ, স্বদেশপ্রেম, ব্যক্তিস্বাধীনতা বিশেষ করে নারী-স্বাধীনতা আধুনিক যুগের অন্যতম বৈশিষ্ট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৫৮.
'একাত্তরের ডায়েরী' কার রচনা?
  1. আবু ইসহাক
  2. সুফিয়া কামাল
  3. সেলিনা হোসেন
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• 'একাত্তরের ডায়েরী' সুফিয়া কামাল রচিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথামূলক রচনা।

সুফিয়া কামাল: 

- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,  
- একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৫৯.
‘রাজবন্দীর চিঠি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি-
  1. উপন্যাস
  2. গল্প
  3. প্রবন্ধ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ‘রাজবন্দীর চিঠি’ কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৬০.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. চিলেকোঠার সেপাই
  2. নিহত নক্ষত্র
  3. জাগ্রত বাংলাদেশ
  4. উপমহাদেশ
ব্যাখ্যা

• 'জাগ্রত বাংলাদেশ' প্রবন্ধের রচয়িতা আহমদ ছফা।
• এটি স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ।
• এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালে।
• তাঁর রচিত অন্যান্য প্রবন্ধঃ
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস,
- বাঙালি মুসলমানের মন,
- শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য প্রবন্ধ,
- সাম্প্রতিক বিবেচনা: বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস ইত্যাদি।
• সূর্য তুমি সাথী তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
• নিহত নক্ষত্র তাঁর রচিত গল্পসংগ্রহ।
• উপমহাদেশ উপন্যাসের রচয়িতা আল মাহমুদ।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৬১.
মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে 'যাত্রা' উপন্যাসটি লিখেছেন-
  1. শওকত ওসমান
  2. শহিদুল জহির
  3. শওকত আলী 
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• ‘যাত্রা’ উপন্যাস নিয়ে কিছু কথা:
- শওকত আলীর ‘যাত্রা’ একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। উপন্যাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের ভয়াল কালরাতের কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।
- পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর ঢাকার সাধারণ মানুষের প্রাণরক্ষার তাগিদে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ছুটে চলার করুণ ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতা উপন্যাসে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসটিতে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কালের ঘটনাপ্রবাহ ডায়েরি বা দৈনন্দিন দিনপঞ্জির আদলে বর্ণিত হয়েছে। 
- উপন্যাসে নগরবাসীর আত্মরক্ষার্থে পলায়ন, আশ্রয়ের সন্ধান, উদ্বাস্তু জীবনের অসহায়ত্ব এবং সেই যাত্রাপথেই ধীরে ধীরে প্রতিরোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠার চিত্র স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
- যুদ্ধের ধ্বংসলীলা, মানুষের ভয়–হতাশা–আশা এবং টিকে থাকার আপ্রাণ সংগ্রামের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো মিলিয়ে ‘যাত্রা’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে এক গভীরভাবে মর্মস্পর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

-----------------
• শওকত আলী:
- শওকত আলী ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা, আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ। 
- তিনি ১৯৩৬ সালের ১২ই জানুয়ারি, দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘যাত্রা’।
- তাঁর রচিত ত্রয়ী উপন্যাস - দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত, পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
- ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ লেখক শিবির তাঁকে হুমায়ুন কবির স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করে।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৯), একুশে পদক (১৯৯০) লাভ করেন।
- তিনি ২০১৮ সালের ২৫শে জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

শওকত আলী রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস :
- পিঙ্গল আকাশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- কুলায় কালস্রোত,
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- ওয়ারিশ,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের খেপ,
- বসত,
- হিসাবনিকাশ,
- দলিল,
- উত্তরের ছাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,২৬২.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক কে?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কবি গোলাম মোস্তফা
  3. আহসান হাবীব
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর লেখক: কবি গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৬৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1.  দুধভাতে উৎপাত
  2. দোজখের ওম
  3. খোয়ারি
  4. খােয়াবনামা
ব্যাখ্যা

• 'খােয়াবনামা' উপন্যাসের রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
এ উপন্যাসটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭):
- কথাসাহিত্যিক।
- পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- ১৯৪৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা জেলার গোটিয়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম।

• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা,
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৬৪.
‘বৈষ্ণব পদাবলি'র রস নয় কোনটি?
  1. দাস্যরস
  2. বাৎসল্য রস
  3. শাখ্যরস
  4. মধুররস
ব্যাখ্যা
⇒ ‘বৈষ্ণব পদাবলি'র রস নয় - শাখ্যরস।

• বৈষ্ণব পদাবলি ব্রজবুলি ভাষায় রচিত।
- এই কাব্যে পাঁচটি রস রয়েছে। যথা:
১. শান্তরস,
২. দাস্যরস,
৩. সখ্যরস,
৪. বাৎসল্য রস ও
৫. 'শৃঙ্গার/মধুররস।
- 'শৃঙ্গার রস'কে মধুররস বলে।

• এতে ৮ প্রকার অভিসারের কথা বলা হয়েছে। যথা:
- জ্যোৎস্নাভিসার,
- তামসীভিসার,
- বর্ষাভিসার,
- দিবাভিসার,
- কুজ্ঝাটিকাভিসার,
- তীর্থযাত্রাভিসার,
- উন্মত্তাভিসার,
- সঞ্চরাভিসার।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৬৫.
বিদ্যাপতি কোন ভাষায় পদ রচনা করেন নি?
  1. ক) মৈথিলী
  2. খ) অবহট্ঠ
  3. গ) সংস্কৃত
  4. ঘ) বাংলা
ব্যাখ্যা
বাংলায় কবিতা রচনা না করেও বিদ্যাপতি ছিলেন - বাংলা ভাষার কবি।
- বিদ্যাপতি ছিলেন বৈষ্ণব কবি ও পদসঙ্গীত ধারার রূপকার। 
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। 
- বিদ্যাপতি মৈথিলী,  অবহট্ঠ ও সংস্কৃত ভাষায় বহু  গ্রন্থ ও পদ রচনা করেন।
- শৈব বংশে জন্ম বলে তিনি বহু শৈবসঙ্গীতও রচনা করেন।
- কিন্তু ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ-বিষয়ক পদগুলিই তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- সুমধুর এই বৈষ্ণব পদাবলির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন।

- সংস্কৃত ভাষায় তার রচিত একটি গ্রন্থ হচ্ছে - পুরুষপরীক্ষা।
- বিদ্যাপতির এ-জাতীয় আরো কয়েকটি গ্রন্থ হচ্ছে -
কীর্তিলতা, গঙ্গাবাক্যাবলী, বিভাগসার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬৬.
জসীমউদ্দীনের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নক্সী কাঁথার মাঠ
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. রাখালী
  4. বালুচর
ব্যাখ্যা
রাখালী:
- জসীমউদ্দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী।
- এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীমউদ্দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী,
- রূপবতী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- পদ্মাপার,
- বেদের মেয়ে,
- পল্লীবধূ,
- মধুমালা,
- গ্রামের মায়া ইত্যাদি।

শিশুতোষ গ্রন্থ:
- এক পয়সার বাঁশী,
- হাসু,
- ডালিম কুমার ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬৭.
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৬ সালে
  2. ১৯২৯ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
'নক্সী কাঁথার মাঠ' কাব্যগ্রন্থ:
- জসীম উদ্‌দীনের বিখ্যাত কাহিনিকাব্য নক্সী কাঁথার মাঠ।
- ১৯২৯ সালে নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
- এটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন E.M Milford. ইংরেজি অনুবাদের নাম - The Field of Embroidered Quilt.
- নক্সী কাঁথার মাঠ কাব্যোপন্যাসটি রূপাই ও সাজু নামক দুই গ্রামীণ যুবক-যুবতীর অবিনশ্বর প্রেমের করুণ কাহিনী।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৬৮.
'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।' - উক্তিটি কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. ক) মনসামঙ্গল
  2. খ) অন্নদামঙ্গল
  3. গ) চণ্ডীমঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
• মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ কাব্য অন্নদামঙ্গলকাব্য।
• এই কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।

• অন্নদামঙ্গল কাব্যের বিখ্যাত কিছু পঙক্তি হলো:
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন',
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়',
- 'নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে',
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।',
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৬৯.
আবদুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক কোনটি?
  1. ক) জয়ধ্বনি
  2. খ) কায়েদে আজম
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শাহজাদীর কালো নেকাব
ব্যাখ্যা

আবদুল্লাহ আল মামুন: একজন বিশিষ্ট নাট্যকার।
তার রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে (১৯৭৪),
- এখনও দুঃসময় (১৯৭৫),
- এবার ধরা দাও (১৯৭৭),
- শপথ (১৯৭৮),
- সেনাপতি (১৯৮০),
- অরক্ষিত মতিঝিল (১৯৮০),
- ক্রস রোডে ক্রসফায়ার (১৯৮১),
- শাহজাদীর কালো নেকাব (১৯৮৪),
- আয়নার বন্ধুর মুখ (১৯৮৩),
- এখনও ক্রীতদাস (১৯৮৪),
- তোমরাই (১৯৮৮),
- দূরপাল্লা (১৯৮৮),
- তৃতীয় পুরুষ (১৯৮৮),
- আমাদের সন্তানেরা (১৯৮৮)

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,২৭০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. চক্রবাক
  2. মুক্তি
  3. সিন্ধুহিন্দোল
  4. ছায়ানট
ব্যাখ্যা

• করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে- প্রথম প্রকাশিত কবিতা 'মুক্তি' (বঙ্গীয়' মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা। 

--------------------------
•  কাজী নজরুল ইসলাম:

- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

কাজী নজরুল ইসলাম এর তিনটি উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

১১,২৭১.
“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম” কার সুর করা গান?
  1. ক) অতুলপ্রসাদ সেন
  2. খ) শাহ আব্দুল করিম
  3. গ) হাসন রাজা
  4. ঘ) লালন সাঁই
ব্যাখ্যা
শাহ আব্দুল করিম এর লেখা ও সুর করা বিখ্যাত কিছু গান হলো-
“আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”, “বন্দে মায়া লাগাইছে”, “গাড়ি চলে না”, ''গান গাই আমার মনরে বুঝাই, মন থাকে পাগলপারা''।
নিজের রচিত গানগুলোর সুরও দেন তিনি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২৭২.
'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটির কবি কে?
  1. নির্মলেন্দু গুণ
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা
ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯:
- কবিতাটি শামসুর রাহমান রচিত 'নিজ বাসভূমে' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
- কবিতাটি গদ্যছন্দে ও প্রবহমান ভাষায় রচিত।
- 'আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে' - চরণটি আমাদের জাতীয় জীবনের ভাষা আন্দোলনের দিকটি তুলে ধরে।

শামসুর রাহমান:
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে। 
- তাঁর ডাক নাম ‘বাচ্চু’।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়। 
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।
- তিনি আদমজি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০০৬ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে, 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে, 
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ, 
- এক ফোঁটা কেমন অনল, 
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৩.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিত ছিলেন-
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. চণ্ডীচরণ মুনশী
ব্যাখ্যা
•  চণ্ডীচরণ মুনশী ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা বিভাগের অন্যতম অধ্যাপক। ১৮০৫ খ্রী. কাদির বখশ রচিত ফারসী গ্ৰন্থ ‘তুতীনামা’র বঙ্গানুবাদ করেন। গ্রন্থটি ‘তোতা ইতিহাস’ নামে প্রথমে শ্ৰীরামপুর মিশনারী প্রেস থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। পরে ১৮২৫ খ্রী. লন্ডনে পুনর্মুদ্রিত হয়েছিল।

---------------------
• ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:

- লর্ড ওয়েলেসলী ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়।
- ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজে বাংলা বিভাগ চালু হয় ১৮০১ সালে এবং এর দায়িত্ব দেয়া হয় উইলিয়াম কেরিকে।
- পরবর্তীতে ১৮০৫ সালের মধ্যে কলেজে মোট ১২টি অনুষদ খোলা হয়।

ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতগণ হলেন:
- উইলিয়াম কেরী,
- রামরাম বসু,
- গোলকনাথ শর্মা,
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার,
- তারিণীচরণ মিত্র,
- রাজীবলোচন,
- চণ্ডীচরণ মুনশী,
- হরপ্রসাদ রায় ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
• যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত, তারাচরণ শিকদার ও  রামনারায়ণ তর্করত্ন বাংলা নাটকের সূচনাপর্বের নাট্যকার। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৭৪.
‘পঞ্চপাণ্ডব’ কবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

• পঞ্চপাণ্ডব:
- তিরিশের দশকে বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনে প্রধান পাঁচজন কবি ছিলেন।
- তাদের পঞ্চপাণ্ডব বলা হত।
- তাঁরা কাব্যচর্চায় রবীন্দ্র বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন।
- পঞ্চপাণ্ডবের অন্তর্ভুক্ত কবিরা রবীন্দ্র কাব্য-ধারার বিরোধী ছিলেন।

• আধুনিকতাবাদী পঞ্চপাণ্ডব লেখক হচ্ছেন-
- জীবনানন্দ দাশ,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- বুদ্ধদেব বসু,
- বিষ্ণু দে,
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৭৫.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. পত্রপুট
  2. বলাকা
  3. পুনশ্চ
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা
- 'মালঞ্চ' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উপন্যাস। 
- অন্যান্য অপশনের সবগুলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কাব্য। 

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১) কলকাতার জোড়াসাঁকোর এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ছোট গল্পের জনক। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস 'বৌ-ঠাকুরাণীর হাট ' (১৮৮৩)।
- কিন্তু প্রথম লেখা উপন্যাস 'করুণা'।

• তাঁর বিখ্যাত কয়েকটি উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

• রবীন্দ্রনাথ ঠকুরের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- মানসী, 
- সোনার তরী, 
- চিত্রা, 
- কল্পনা, 
- ক্ষণিকা, 
- গীতাঞ্জলি, 
- বলাকা
- পূরবী, 
- পুনশ্চ
- পত্রপুট, 
- সেঁজুতি, 
- শেষলেখা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৭৬.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত বছর বয়সে ধর্মান্তরিত হন?
  1. ক) ১৮
  2. খ) ১৯
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ২১
ব্যাখ্যা
১৮৪৩ সালের ৯ই ফেব্রুয়ারি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন। 
- তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।

মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত এর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে।
- তাঁর ছদ্মনাম টিমোথি পেনপোয়েম
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা' তিনি রচনা করেন ।
- তার সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত 'মেঘনাদবধ কাব্য' নামক মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৭৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত নয় কোন গল্পটি?
  1. রবিবার
  2. ক্ষুধিত পাষাণ
  3. শেষকথা
  4. ল্যাবরেটরি
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তিনসঙ্গী' গল্প সংকলনের অন্তর্ভুক্ত গল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।  

• 'ক্ষুধিত পাষাণ'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি অতিপ্রাকৃত রসের ছোটগল্প।   

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত চারটি অতিপ্রাকৃতিক গল্প:
- ক্ষুধিত পাষাণ,
- নিশীতে,
- মণিহারা,
- কঙ্কাল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আধুনিক মনস্তত্ত্ব নিয়ে ছোটগল্প: 
- রবিবার,
- শেষকথা,
- ল্যাবরেটরি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত সমাজসমস্যামূলক ছোটগল্প: 
- দেনাপাওনা,
- রামকানাইয়ের নির্বুদ্ধিতা,
- যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ,
- অনধিকার প্রবেশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,২৭৮.
বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক-
  1. গোত্রান্তর
  2. পাথর
  3. দণ্ডকারণ্য
  4. সমতট
ব্যাখ্যা

• গণনাট্য সংঘের অন্যতম অভিনেতা এবং 'নবনাট্য' আন্দোলন'র প্রবক্তা বিজন ভট্টাচার্য।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত নাটকঃ
- নবান্ন,
- জনপদ,
- কলঙ্ক,
- মরাচাঁদ,
- অবরোধ,
- গোত্রান্তর ইত্যাদি।
• পাথর ও সমতট নাটকের রচয়িতা মামুনুর রশিদ।
• 'দণ্ডকারণ্য' নাটকের রচয়িতা মুনীর চৌধুরী।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,২৭৯.
বিদ্যাপতি মূলত কোন ভাষার কবি ছিলেন?
  1. মারাঠি
  2. হিন্দি
  3. মৈথিলি
  4. গুজরাটি
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যাপতি' মূলত মৈথিলী ভাষার কবি ছিলেন। 

• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি। তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ। এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
• কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।

- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮০.
'মাল্যবান' গ্রন্থটি কবি জীবনানন্দ দাশের কোন ধরনের গ্রন্থ?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. উপন্যাসগ্রন্থ
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ 'মাল্যবান' উপন্যাস: 
• প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের মৃত্যুর অনেক দিন পরে।
• বাংলা সাহিত্যের মূল কাহিনি বর্ণনার ধারা থেকে সম্পূর্ণ পৃথক এই উপন্যাসটি।
• দাম্পত্য জীবনের এক নিষ্ঠুর কাহিনি।
• সম্পর্কের জটিলতা এবং পারস্পরিক বিচ্ছিন্নতার বোধ এক ইঙ্গিতময় ভাষায় অসামান্য কুশলতার সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। 

⇒ জীবনানন্দ দাশ:   
- তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
- তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো: 
• মাল্যবান,
• সতীর্থ।
⇒ 'কল্যাণী' (প্রকাশ: ১৯৯৯) সম্প্রতি খুঁজে পাওয়া তাঁর আর একটি উপন্যাস। 

⇒ তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলি:  
• ঝরাপালক,
• ধূসর পাণ্ডুলিপি,
• বনলতা সেন,
• মহাপৃথিবী,
• সাতটি তারার তিমির,
• রূপসী বাংলা, 
• বেলা অবেলা কালবেলা।
- 'রূপসী বাংলা' ও 'বেলা অবেলা কালবেলা' কাব্যদুটি তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। 

⇒ 'কবিতার কথা' তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮১.
কাজী নজরুল ইসলাম এর কাজ করা হিন্দি ছবি কোনটি?
  1. ক) ধ্রুব
  2. খ) গোরা
  3. গ) ফের
  4. ঘ) সাপেড়া
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসালাম এর কাজ করা হিন্দি ছবি - সাপেড়া

• যতটুকু জানা যায় প্রায় দশের অধিক ছাছবির সঙ্গে কাজ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। এগুলো হচ্ছে :

বাংলা:

ধ্রুব
- পাতালপুরী
- গ্রহের ফের
- বিদ্যাপতি
- গোরা
- সাপুড়ে
- চৌরঙ্গী
- দিকশূল
- অভিনয় নয়

হিন্দি:
- বিদ্যাপতি
- সাপেড়া
- চৌরঙ্গী

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২৮২.
‘দুঃখ কোরো না, বাঁচো’ কোন কবির কাব্য?
  1. শামসুর রাহমান
  2. বিজন ভট্টাচার্য
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. নির্মেলেন্দু গুণ
ব্যাখ্যা

'দুঃখ কোরো না, বাঁচো' নির্মেলেন্দু গুণ রচিত কাব্য। প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।

বাংলাদেশের কবিদের কবি হিসাবে পরিচিত নির্মলেন্দু গুণ রচিত কাব্যগ্রন্থ -
- প্রেমাংশুর রক্ত চাই
- না প্রেমিক না বিপ্লবী
- দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী
- চৈত্রের ভালোবাসা
- বাংলার মাটি বাংলার জল
- তার আগে চাই সমাজতন্ত্র
- চাষাভুষার কাব্য
- দূর হ দুঃশাসন
- শান্তির ডিক্রি
- শিয়রে বাংলাদেশ ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,২৮৩.
‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসটি কত সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৪৭ সালে
  2. খ) ১৮৫৬ সালে
  3. গ) ১৯৬১ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাস:
• ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সুবিখ্যাত উপন্যাসটির রচয়িতা অদ্বৈত মল্লবর্মণ। উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে রচিত।
• উপন্যাসটি প্রথম মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত হয়।
• উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে
• এই উপন্যাসের মধ্যে অদ্বৈত মল্লবর্মণ তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টির বলে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদীরতীরের ধীবর সমাজের কাহিনিকে তুলে ধরেছন।

• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন  সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি  ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি  ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮৪.
'সীমান্তের চিঠি' কার লেখা?
  1. ক) ইব্রাহিম খলিল
  2. খ) সানাউল হক
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
'সীমান্তের চিঠি' বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ইব্রাহিম খলিলের লেখা।
উৎসঃদৈনিক যুগান্তর
১১,২৮৫.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শহীদ কাদরী
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
-তিনি ২৪ মে ১৮৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
-নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
-বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি' নামে পরিচিত।
- তিনি আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।
-নজরুলের কবি ও শিল্পী জীবনের শুরু এ লেটোদল থেকেই।
-নজরুল সাহিত্যকর্ম এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অবিভক্ত বাংলায় পরাধীনতা, সাম্প্রদায়িকতা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, মৌলবাদ এবং দেশি-বিদেশি শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
-তিনি বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
-২৯ আগস্ট ১৯৭৬ কবি মৃত্যু বরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশি,
- ছায়ানট,
- প্রলয়শিখা,
- চক্রবাক,
- সিন্ধুহিন্দোল।

• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- বাধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা, 
- কুহেলিকা, 
 
• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যুগবাণী,
- দুর্দিনের যাত্রী ও
- রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৮৬.
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের কোন পণ্ডিত সবচেয়ে বেশি গ্রন্থ রচনা করেন?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. রামরাম বসু
  3. গোলকনাথ শর্মা
  4. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
ব্যাখ্যা
ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ ফোর্ট উইলিয়মের অভ্যন্তরভাগে গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলী কর্তৃক ১৮০০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাচ্যবিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নবনিযুক্ত ইউরোপীয় আমলাদের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নতি সাধনই ছিল এ কেন্দ্রের উদ্দেশ্য।
- ভারতের প্রধান প্রধান ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে কলেজে এক একটি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি বিভাগে ছিলেন একজন অধ্যাপক ও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক। 
-  বাংলাসহ ভারতের অনেক ভাষা বিশেষজ্ঞ ও ধর্মপ্রচারক উইলিয়ম কেরীকে স্থানীয় ভাষা বিভাগের প্রধান নিয়োগ করা হয়। সব কয়টি বিভাগে কয়েকজন পন্ডিত ও মুন্সি ছিলেন।

- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ১৮০১ সালের ৪ মে  ফোর্ট উইলিয়াম কলেজএর বাংলা বিভাগের হেড-পন্ডিত নিযুক্ত হন।
- পরে ১৮০৫ সালে আবার কেরীর সুপারিশে তিনি বাংলার সঙ্গে সংস্কৃত বিভাগেরও হেড পন্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৮১৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তিনি এ কলেজে কাজ করেন। পরে কাজ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জজ-পন্ডিত হিসেবে।
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার তাঁর অন্য বাঙালি সহকর্মীদের তুলনায় বেশি সংখ্যক গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সমূহ:
- বত্রিশ সিংহাসন (১৮০২),
- হিতোপদেশ (১৮০৮),
- রাজাবলী (১৮০৮)
- প্রবোধচন্দ্রিকা (১৮১৩ সালে লিখিত, কিন্তু ১৮৩৩ সালে প্রকাশিত)।
- বেদান্তচন্দ্রিকা (১৮১৭)

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১১,২৮৭.
জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস কোনটি?
  1. বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন
  2. বুকের ভেতর আগুন
  3. আব্বুকে মনে পড়ে
  4. ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস 'বুকের ভেতর আগুন'।

• 'বুকের ভেতর আগুন':
- এটি জাহানারা ইমাম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এখানে রংপুরের পীরগঞ্জের কথা উল্লেখ আছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: নান্টু, শান্টু, মোহন।

• জাহানারা ইমাম:
- তিনি অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শহিদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি'র আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ‘বাবা যখন ছোট্ট ছিলেন’ কিশোর উপন্যাসের রচয়িতা নির্মলেন্দু গুণ।
- ‘সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে’ হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- 'আব্বুকে মনে পড়ে' হুমায়ুন আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাস।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. 'বুকের ভেতর আগুন' উপন্যাস, জাহানারা ইমাম।
১১,২৮৮.
বিষ্ণু দে রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. চোরাবালি
  2. রুচি ও প্রগতি
  3. উর্বশী ও আর্টেমিস
  4. নাম রেখেছি কোমল গান্ধার
ব্যাখ্যা
• ‘রুচি ও প্রগতি’ বিষ্ণু দে রচিত একটি প্রবন্ধ।
- এটি আর্ট, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিষয়ক প্রবন্ধ।

----------------------
• বিষ্ণু দে:

- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,২৮৯.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন-
  1. কাহ্নপা
  2. ভুসুকুপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তিনি সৌরাষ্ট্রের ক্ষত্রিয় রাজপুত্র ছিলেন বলে মনে করা হয়।
- তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮টি পদ রচনা করেন। তাঁর রচিত চর্যার পদগুলো হলো- ৬নং/ ২১নং/ ২৩নং/ ২৭নং/ ৩০নং/৪১নং/ ৪৩নং/৪৯নং।
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি পূর্ববঙ্গ অঞ্চলের মানুষ ছিলেন।
- তিনি তাঁর রচিত ৪৯নং পদে পদ্মা নদী (পঁউআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসে হরিণা বৈরী' (৬নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১,২৯০.
নিচের কোনটি ফররুখ আহমেদের সনেট সংকলন?
  1. সাত সাগরের মাঝি
  2. হাতেমতায়ী
  3. মুহূর্তের কবিতা
  4. সিরাজাম মুনিরা
ব্যাখ্যা
• মুহূর্তের কবিতা:
- ফররুখ আহমদ রচিত সনেটের সংকলন।

- এটি ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে।
- সনেট কবিতাগুলো শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬-৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, ধানের কবিতা ইত্যাদি

• ফররুখ আহমেদের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:

- সাত সাগরের মাঝি, 
- সিরাজাম মুনিরা, 
- নৌফেল ও হাতেম (কাব্যনাট্য),
- মুহূর্তের কবিতা( সনেট সংকলন), 
- হাতেমতায়ী (কাহিনীকাব্য),
- হাবেদা মরুর কাহিনী  ইত্যাদি।

• তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা 
- হরফের ছড়া 
- ছড়ার আসর  ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯১.
'নদের চাঁদ' কোন পালা'র চরিত্র?
  1. মহুয়া
  2. মলুয়া
  3. দেওয়ানা মদিনা
  4. দস্যু কেনারাম
ব্যাখ্যা

'মহুয়া' পালা:
- নমশূদ্রের ব্রাহ্মণ কবি দ্বিজ কানাই ১৬৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে 'মহুয়া পালা' রচনা করেন বলে অধ্যাপক দীনেশচন্দ্রের ধারণা।
- এই পালার কাহিনীর সঙ্গে কবির ব্যক্তিগত প্রেমবঞ্চনার বেদনার সাদৃশ্য রয়েছে।
- 'মহুয়া' পালাটিতে ময়মনসিংহ গীতিকার বৈশিষ্ট্য চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। 

• মহুয়ার পালার প্রধান কয়েকটি চরিত্র:
- মহুয়া,
- নদের চাঁদ,
- হুমরা বেদে, 
- সাধু।

মহুয়া পালার পংক্তি:

'ছয় মাসের শিশু কইন্যা পরমা সুন্দরী।।
রাত্রি নিশাকালে হুমরা তারে করল চুরী।।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,২৯২.
নিচের কোন কবি ‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান’ রচনা করেছেন?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।

- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২৯৩.
‘সাতটি তারার তিমির’ কাব্যগ্রন্থের সাতটি তারা বলতে কী বুঝানো হয়েছে?
  1. ক) সাতটি শহর
  2. খ) সাতটি
  3. গ) সাতটি মহাদেশ
  4. ঘ) সাতজন মহামানব
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
জীবনানন্দ দাশ রচিত সাতটি তারার তিমির কাব্যগ্রন্থটি ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর তালমালাট পৃথিবীর অবস্থা বুঝাতে গিয়ে তিনি তার কাব্যগ্রন্থের নাম দিয়েছেন ‘সাতটি তারার তিমির’।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১১,২৯৪.
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) উপহার
  2. খ) একমুঠো
  3. গ) খসড়া
  4. ঘ) কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ কবিতাবলী। উপহার, খসড়া, একমুঠো, মাটির দেয়াল, হারানো অর্কিড, পুষ্পিত ইমেজ, অনিঃশেষ ইত্যাদি তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,২৯৫.
নিচের কে একজন শিশু সাহিত্যিক?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. গ) সুকুমার রায়
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

- সুকুমার রায় একজন বাঙালি শিশু সাহিত্যিক ও ভারতীয় সাহিত্যে 'ননসেন্স রাইমের' প্রবর্তক।
- তিনি 'সন্দেশ' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম-

ছড়াগ্রন্থঃ
- আবোলতাবোল,
- খাইখাই।

গল্পঃ
- হ-য-ব-র-ল,
- পাগলা দাশু,
- ব্যাঙের সমুদ্র দেখা।

নাটকঃ
- অবাক জলপান,
- চলচিত্তচঞ্চরী।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১১,২৯৬.
‘লিপিমালা’ গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. হরপ্রসাদ রায়
  2. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  3. গোলোকথান শর্মা
  4. রামরাম বসু
ব্যাখ্যা
♦ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ:
• ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ কর্মচারীদের দেশীয় ভাষায় শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যে ১৮০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
• এই কলেজে ১৮০১ সালে বাংলা বিভাগ প্রবর্তিত হলে অধ্যক্ষ হিসেবে আসেন শ্ররিামপুর মিশনের পাদ্রি এবং বাইবেলের অনুবাদক উইলিয়াম কেরি। তিনি তাঁরা অধীনস্ত দু-জন পণ্ডিত এবং ছয় জন সহকারী পণ্ডিতের সহযোগিতায় বাংলা গদ্যে কলেজের পাঠোপযোগী পুস্তক রচনায় আত্মনিয়োগ করেন।
• তাঁদের এই প্রচেষ্টার ফলাফল দিয়েই বাংলা গদ্যের অনুশীলনে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের ভূমিকা নিরূপণ করা হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের ফর্বে ১৮০১ থেকে ১৮১৫ সালের এই সময়ের মধ্যে ৮ জন লেখক ১৩ খানি বাংলা গদ্যপুস্তক লিখেছিলেন এগুলো হলো:
• কেরি রচিত : কথোপকথন; ইতিহাসমালা।
• রামরাম বসু রচিত: রাজা প্রতাপাদিত্য চরিত্র; লিপিমালা।
• গোলোকথান শর্মা রচিত: হিতোপদেশ।
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার রচিত: বত্রিশ সিংহাসন; হিতোপদেশ; রাজাবলি; প্রবোধচন্দ্রিকা।
• তারিণীচরণ মিত্র রচিত: ওরিয়েন্টাল ফেবুলিস্ট।
• রাজীবলোচন মুখোপাধ্যায় রচিত: মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়স্য চরিত্রং।
• চণ্ডীচরণ মুন্শী রচিত: তোতা ইতিহাস।
• হরপ্রসাদ রায় রচিত: পুরুষ পরীক্ষা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,২৯৭.
নিচের কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত আত্মজীবনী?
  1. চরিত্র পূজা
  2. ছিন্নপত্র
  3. কালান্তর
  4. পঞ্চভূত
ব্যাখ্যা
⇒ ‘চরিত্রপূজা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি আত্মজীবনী। 
- আত্মজীবনীটি প্রকাশিত হয় ১৯০৭ সালে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত অন্যান্য আত্মজীবনী হলো: 
• জীবনস্মৃতি, (এতে রবীন্দ্রনাথের ২৫ বছর পর্যন্ত ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে।)
• ছেলেবেলা।

এছাড়া,
 রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিঠিপত্র:
• ছিন্নপত্র: ১৫৩টি পত্র আছে। প্রথম ৮টি শ্রীশচন্দ্র মজুমদারকে লেখা। পরবর্তী ১৪৫টি ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লেখা।
•ভানুসিংহের পত্রাবলী : রানু অধিকারীকে লেখা। পথে ও পথের প্রান্তে নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রবন্ধগ্রন্থ হলো:
- কালান্তর,
- পঞ্চভূত,
- বিচিত্র প্রবন্ধ,
- সাহিত্য,
- শিক্ষা,
- মানুষের ধর্ম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,২৯৮.
মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য - গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) ড. হায়াৎ মামুদ
  2. খ) আনিসুজ্জামান
  3. গ) আখতারুজ্জামান
  4. ঘ) আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা

মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য আনিসুজ্জামানের প্রথম বই।
সামাজিক ইতিহাসের পটভূমিকায় এতে বাঙালি মুসলমানদের সাহিত্যকর্মের (১৭৫৭-১৯১৮) আলোচনা আছে। অনেক অজ্ঞাত পূর্ব তথ্য সাজানোর সঙ্গে সঙ্গে ভাষা ও সাহিত্য ও ধর্ম, রাজনীতি ও অর্থনীতি সম্পর্কে সে সময়ের লেখকদের ভাবনা এতে উদঘাটিত হয়েছে। 

১১,২৯৯.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের রচনাকাল-
  1. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৮৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৬৫০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৭৭০ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

চর্যাপদের রচনাকাল:
চর্যাপদের সঠিক রচনাকাল সম্পর্কে পণ্ডিতেরা মতৈক্যে পৌঁছতে পারেন নি।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ৬৫০ সাল থেকে চর্যাপদের কাল ধরেছেন।
• অন্যদিকে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ৯৫০ সাল থেকে চর্যাপদের রচনাকাল মনে করেন।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ মৎস্যেন্দ্রনাথ বা মীননাথকে প্রথম বাঙালি কবি মনে করে প্রমাণ দেখিয়েছেন যে, তিনি সপ্তম শতকে জীবিত ছিলেন।

• ফরাসি পণ্ডিত সিলভা লেভির মতে এই মৎস্যেন্দ্রনাথ ৬৫৭ সালে রাজা নরেন্দ্রদেবের রাজত্বকালে নেপালে গিয়েছিলেন।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ চর্যাকারদের সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দেখিয়েছেন যে, চর্যার রচনাকাল সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যে পড়ে।
• রাহুল সংকৃত্যায়নের মতে, লুইপা ও সরহপা ধর্মপালের সময়ে (৭৬৯-৮০৯ সাল) বর্তমান ছিলেন। তাঁর মতে চর্যার কাল আট থেকে এগার শতক। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

১১,৩০০.
অন্নদাশঙ্কর রায় কোন ভাষারীতি অনুসরণ করতেন?
  1. ক) আলালী ভাষা
  2. খ) ব্রজবুলি
  3. গ) হুতোমী
  4. ঘ) বীরবলী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায় 'বীরবলী' ভাষারীতি অনুসরণ করতেন।
তাঁর গদ্যভাষায় বীরবলী (প্রমথ চৌধুরীর মতো) চমক ও গভীর মননশীলতা রচনার প্রধান বৈশীষ্ট্য। 

• অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা (প্রথম উপন্যাস),
- যার যেথা দেশ
- কঙ্কাবতী
- দুঃখমোচন
- মর্তের স্বর্গ
- অপসারণ ইত্যাদি।

• পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।