বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১১২ / ২১১ · ১১,১০১১১,২০০ / ২১,১৩২

১১,১০১.
কোনটি প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. ক) সহরপাদের দোহা
  2. খ) শ্রীকৃষ্ণবিজয়
  3. গ) ডাকার্ণব
  4. ঘ) কৃষ্ণপাদের দোহা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর  পুঁথি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুঁথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে  বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক চারটি পুঁথি একত্রে প্রকাশিত হয়।
- সেগুলো হচ্ছে - চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, সহরপাদ ও কৃষ্ণপাদের দোহা এবং ডাকার্ণব। 
- এগুলোর মধ্যে একমাত্র 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'ই প্রাচীন বাংলায় লেখা; অন্য তিনটি বাংলায় নয়, অপভ্রংশ ভাষায় রচিত। 
- তিনি পুঁথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি 'চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয়' নামেও পরিচিত হয়।
- তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক এবং তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১০২.
'বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য' প্রবন্ধ-গবেষণাটি কার?
  1. আহমদ শরীফ
  2. নীলিমা ইব্রাহিম
  3. মুহম্মদ আবদুল হাই
  4. রিজিয়া রহমান
ব্যাখ্যা
নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ১১ জানুয়ারি, ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ২০০২ সালের ১৮ই জুন মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১০৩.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. আঙুর
  2. সুধাকর
  3. কোহিনুর
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• আঙুর পত্রিকা:
- সম্পাদক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় নভেম্বর ১৯২০ সালে।

অন্যদিকে,
• 'মাসিক সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• 'সুধাকর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আব্দুর রহিম।

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ।
- অমিয় শতক।
- রুবাইয়াত ই ওমর খ্যায়াম।

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মবতী।
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।
- গল্প সংকলন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- ইকবাল
- আমাদের সমস্যা।
- বাংলা আদব কি তারিখ।
- Essays of Islam: Traditional culture in East Pakistan.

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- আঙুর।
- দি পীস।
- বঙ্গভূমিক।
- তকবীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১০৪.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল
  2. খ) খোয়াবনামা
  3. গ) চিলেকোঠার সেপাই
  4. ঘ) দুধভাতে উৎপাত
ব্যাখ্যা
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।
এই উপন্যাসের পটভূমি ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান। উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৭ সালে।
খোয়াবনামা - তাঁর রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল ও দুধভাতে উৎপাত - তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১০৫.
“এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”
কোন কাব্য থেকে গৃহীত?
  1. ক) আকাল
  2. খ) ছাড়পত্র
  3. গ) ঘুম নেই
  4. ঘ) অভিযান
ব্যাখ্যা
“ছাড়পত্র” (১৯৪৭) কাব্যগ্রন্থটি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর ৩ মাস পর প্রকাশিত হয়। প্রশ্নে উল্লেখিত লাইনগুলো এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। সুকান্তের অন্যান্য কবিতার বইঃ ছাড়পত্র, ঘুম নেই, পূর্বাভাস, অভিযান, হরতাল, গীতিগুচ্ছ ইত্যাদি। পঞ্চাশের মণ্বন্তর নিয়ে লেখা তার সাহিত্য সংকলন - আকাল। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
১১,১০৬.
নিচের কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের গল্পগ্রন্থ?
  1. বাঁধনহারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. ঝিলিমিলি
  4. ব্যাথার দান
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গল্পগ্রন্থ:
ব্যাথার দান (প্রথম গল্পগ্রন্থ),  
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস - বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত নাটক - ঝিলিমিলি।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১০৭.
চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যা ভাষা বলেছেন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
সন্ধ্যাভাষা:
- চর্যাপদের ভাষাকে কেউ কেউ সন্ধ্যাভাষা বা সন্ধাভাষা বলেছেন।
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এ ভাষা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, 'আলো আঁধারি ভাষা, কতক আলো, কতক অন্ধকার, খানিক বুঝা যায়, খানিক বুঝা যায় না। যাঁহারা সাধন-ভজন করেন, তাঁহারাই সে কথা বুঝিবেন, আমাদের বুঝিয়া কাজ নাই।' এ কারণে চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।

চর্যাপদ:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শনের নাম চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- চর্যাপদের বিষয়বস্তু বৌদ্ধ ধর্ম মতে সাধনভজনের তত্ত্ব প্রকাশ।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে, ১৯০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,১০৮.
"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - কবিতাংশটুকু রচনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. কামিনী রায়
  4. কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

"বহু দেশে দেখিয়াছি বহু নদ-দলে,
কিন্তু সে স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার চলে?” - পঙ্‌ক্তিটি মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার অন্তর্গত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।
- পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন কলকাতার একজন প্রতিষ্ঠিত উকিল।
- মা জাহ্নবী দেবীর তত্ত্বাবধানে মধুসুদন দত্তের শিক্ষারম্ভ হয়।
১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন।
- হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
মধুসুদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।
- স্ত্রী হেনরিয়েটার মৃত্যুর তিনদিন পরে ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন, কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১০৯.
'কে কথা কয়' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. জহির রায়হান
  4. হাসান আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
• 'কে কথা কয়' উপন্যাস:
- হুমায়ূন আহমেদের 'কে কথা কয়' উপন্যাসে মতিন ও কমল নামের চরিত্রকে কেন্দ্র করে একটি শিশুর আত্মানুসন্ধান ও সত্যান্বেষণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
- উপন্যাসে শিশু কমলের সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে চাকরি পাওয়া মতিন কমলের সঙ্গে কাহিনিসূত্রে একটি বৃহৎবৃত্তে অধিভুক্ত হয়।
- উপন্যাসের শেষে কমল সত্যান্বেষণে ব্যস্ত আর মতিন সত্যের জন্য প্রাণ দান করে।

-------------
• হুমায়ূন আহমেদের উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- ১৯৭১,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- শঙ্খনীল কারাগার,
- নন্দিত নরকে,
- নির্বাসন
- বাদশা নামদার প্রভৃতি উপন্যাস। 

উৎস: 'কে কথা কয়' উপন্যাস এবং  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১১০.
মেঘমল্লার গ্রন্থের রচয়িত হলেন –
  1. ক) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস-
- আরণ্যক (১৯৩৮),
- পথের পাঁচালী (১৯২৯),
- অপরাজিত (১৯৩১),
- দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),
- আদর্শ হিন্দু হােটেল (১৯৪০),
- দেবযান (১৯৪৪),
- ইছামতী (১৯৪৯)।

তার রচিত ছােটগল্পগ্রন্থগুলাের নাম:
- মেঘমল্লার (১৯৩১),
- মৌরীফুল (১৯৩২),
- যাত্রাবদল (১৯৩৪),
- কিন্নরদল (১৯৩৮)।

মেঘমল্লার বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম গল্পগ্রন্থ। বইটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১১১.
কোনটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস?
  1. অপরাজিত
  2. আদর্শ হিন্দু হোটেল
  3. আরণ্যক
  4. পথের পাঁচালী
ব্যাখ্যা
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তিনি ১৮৯৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। 
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি 'দীপক' (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা 'পথের পাঁচালী' (১৯২৯)প্রথম রচিত এই উপন্যাসের মাধ্যমেই তিনি বিপুল খ্যাতি অর্জন করেন। 'অপরাজিত', পথের পাঁচালীরই পরবর্তী অংশ।
- 'ইছামতী' উপন্যাসের জন্য বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় মরণোত্তর ‘রবীন্দ্র-পুরস্কার’ (১৯৫১) লাভ করেন। 
- ১৯৫০ সালে ব্যারাকপুরের ঘাটশিলায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত, 
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান, 
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১১২.
'হৃৎকলমের টানে' সৈয়দ শামসুল হক রচিত কোন ধরনের সাহিত্য রচনা?
  1. কাব্যনাট্য
  2. গল্পগ্রন্থ
  3. কবিতা
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
• "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ:
- কবি-সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের বিচিত্র-বিপুল সৃষ্টিবিশ্বের এক অনুপম নিদর্শন 'হৃৎকলমের টানে'; তাঁর সাহিত্যকলামের সংকলন। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারি মাসে 'সংবাদ' এর সাহিত্য সাময়িকীর পাতায় যাত্রা শুরু করেছিলো সৈয়দ শামসুল হকের কলাম 'হৃৎকলমের টানে'। সাহিত্যের সূত্রে এসেছে সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমাজ-স্বদেশ ও বিশ্বভাবনা। জগৎ ও জীবনকে তাঁর দৃষ্টির নিজস্বতায় যেভাবে উপলব্ধি করেছিলেন তারই শিল্পভাষ্য ধরা রইল এইসব খণ্ড রচনায়।

- ধারাবাহিক সেই কলাম থেমে গেছে কালের স্রোতে, জীবনাবসান ঘটেছে সৈয়দ হকের। সংকলন হিসেবে প্রকাশিত কলাম 'হৃৎকলমের টানে' প্রবন্ধ হিসেবে নতুন করে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশের পরপরই এই বইভুক্ত লেখাগুলাে যেমন আলােড়ন তুলেছিল তেমনি আজও পাঠক এইসব লেখায় খুঁজে পান সৈয়দ শামসুল হকের জগৎ ও জীবনদর্শনের সারবত্তা। বাংলা মননশীল সাহিত্যের ধারাও এই রচনা-সিরিজ যােগ করেছে নতুন মাত্রা।

- সৈয়দ শামসুল হকের রচনার এক পুরােধা প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স নতুন কলেবরে, অখণ্ড অবয়বে প্রকাশ করছে হৃৎকলমের টানে। পাঠক নিশ্চয়ই বইটি পড়তে পড়তে নতুন করে আবিষ্কার করবেন সৈয়দ শামসুল হককে।

-------------
• গল্পগ্রন্থ:
- তাস,
- শীত বিকেল,
- আনন্দের মৃত্যু,
- প্রাচীন বংশের নিঃস্ব সন্তান,
- জলেশ্বরীর গল্পগুলো।

• তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারাজীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: "হৃৎকলমের টানে" প্রবন্ধ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১১৩.
কার সম্পাদনায় ‘সেক শুভোদয়া’ গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. সুকুমার সেন
  3. ড. মুহাম্মদ এনামুল হক
  4. মণীন্দ্রমোহন বসু
ব্যাখ্যা
• সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজি নামের এক অলৌকিক শক্তিধর মুসলমান রাজা লক্ষ্মণ সেনের সভায় গল্পটি পরিবেশন করেন।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,১১৪.
'গালিভারের সফরনামা' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. আবুল মনসুর আহমেদ
  4. অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা

• আবুল মনসুর আহমেদ:
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

• ব্যঙ্গরচনা:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- গালিভারের সফরনামা

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ

• অন্যান্য রচনা:
- বাংলাদেশের কালচার,
- আসমানী পর্দা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১১৫.
'গোপীচন্দ্রের গান' প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৭৮
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ১৯২২
  4. ঘ) ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
১৮৭৮ সালে ভাষাবিজ্ঞানী জর্জ গ্রিয়ারসন রংপুরের কৃষকদের কাছ থেকে 'ময়নামতি গোপীচন্দ্রের পুঁথি' সংগ্রহ করে 'মানিক চন্দ্র রাজার গান' নামে প্রকাশ করেন যা পরবর্তীতে ১৯২২ সালে 'কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়' থেকে 'গোপীচন্দ্রের গান' নামে প্রকাশিত হয়। শুকুর মহম্মদ রচিত 'গোপীচাঁদের সন্ন্যাস' নাথ গীতিকা। উৎস: শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসিনা নাজিলা।
১১,১১৬.
'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য কে রচনা করেছেন?
  1. সোমেন চন্দ
  2. সত্যেন সেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
'বৃত্রসংহার' গ্রন্থ: 
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্যের নাম 'বৃত্রসংহার'। 
- এ মহাকব্যের প্রকাশকাল ১৮৭৫-৭৭ খ্রিষ্টাব্দে। 
- দুই খণ্ডে এটি প্রকাশিত হয়। 
- পৌরাণিক কাহিনির নতুন ব্যাখ্যা, ঊনবিংশ শতাব্দীর জীবনজিজ্ঞাসা, অমিত্রাক্ষর ছন্দের ব্যবহার ইত্যাদির
ব্যাপারে তিনি ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাধবধ কাব্যে'র অনুসারী। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই কাব্য ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়),
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া। 
১১,১১৭.
‘কখনো আসে নি’ - চলচ্চিত্রটি পরিচালিনা করেন কে?
  1. চাষী নজরুল ইসলাম
  2. জহির রায়হান
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. তারেক মাসুদ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হান:
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- জহির রায়হানের প্রকৃত নাম- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- জহির রায়হান সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’। তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’। তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।

জহির রায়হান রচিত উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যপাঠ, বাংলাপিডিয়া।

১১,১১৮.
‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস কে রচনা করেছেন?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. আহসান হাবীব
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• ‘রানিখালের সাঁকো’ উপন্যাস:
- ছোটদের জন্য আহসান হাবীবের লেখা উপন্যাস ‘রানিখালের সাঁকো’।
উপন্যাসটি চিরায়ত কিশোর সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে কয়েক প্রজন্মের পাঠপ্রিয়তার কারণেই।

• তাঁর দুটি বিশিষ্ট উপন্যাস হলো-
- অরণ্য নীলিমা ও
- রাণীখালের সাঁকো।

• তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
-  ছায়াহরিণ,
- সারা দুপুর,
- আশায় বসতি,
- মেঘ বলে চৈত্রে যাবো,
- দুহাতে দু আদিম পাথর,
- প্রেমের কবিতা,
- বিদীর্ণ দর্পণে মুখ ইতাদি।

• তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিশুতোষ গ্রন্থ:
- জ্যোৎস্না রাতের গল্প,
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর,
- ছুটির দিন দুপুরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১১৯.
'প্ৰদীপ নিবিয়া গেল।'- উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত?
  1. দুর্গেশনন্দিনী 
  2. কপালকুণ্ডলা
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ 
ব্যাখ্যা

• 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।

এই উপন্যাসের বিখ্যাত উক্তি:
- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ' কপালকুণ্ডলা নবকুমারকে বলে।'
- 'তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?'
- 'প্ৰদীপ নিবিয়া গেল।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১১,১২০.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  2. খ) ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ছয় দফা দাবি
ব্যাখ্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ ১৯৬৯ সালের ২০ ই জানুয়ারি ১১ দফা দাবি আদায়ের প্রেক্ষিতে গণ-আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
গণ-আন্দোলনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে হওয়ায় ঢাকাবাসী আসাদের স্মৃতি রক্ষার্থে আইয়ুব গেটের নাম পরিবর্তন করে রাখেন আসাদগেট।
প্রতিবছর ২০ জানুয়ারি আসাদ দিবস পালিত হয়।

১১,১২১.
চর্যাপদে বর্ণিত চরিত্রগুলো কোন শ্রেণির?
  1. ক) নিম্ববর্গ
  2. খ) মধ্যবিত্ত
  3. গ) সন্ন্যাসী
  4. ঘ) ভাববাদী
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
চর্যাপদ বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন সংগীত হলেও এখানে বর্ণিত চরিত্রগুলো অন্ত্যজ, ম্লেচ্ছ ও নিম্ববর্গের।
- এরা মলেগ্রহী, কুড়ব, চন্ডাল, বরুড়, তক্ষণকার ইত্যাদি জাতের।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১২২.
‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. শওকত ওসমান
  3. নীলিমা ইব্রাহিম
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা
• আমি বীরাঙ্গনা বলছি (প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ):
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ-গবেষণাগ্রন্থ।
• গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলার যেসব নারী কোনো না কোনোভাবে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসব যুদ্ধাহত কয়েকজনের সত্যকাহিনিনির্ভর জীবন ইতিহাস 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি'।
• যাদের দুঃখ কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে তাঁরা হলেন - তারা ব্যানার্জি, মেহেরজান, রীনা, শেফা, ময়না, ফাতেমা, মীনা।
• তবে লেখকের বর্ণনাতে এই কাহিনি কেবল সাতজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে নি তা হয়ে উঠেছে দু লক্ষ মা-বোনের প্রতিনিধি।
• বইটিতে আলোচনা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর মহিমাময় ভূমিকা, হানাদার বাহিনী ও রাজাকারদের অপকীর্তি ইত্যাদি।

--------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ১৯২১ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর আত্মজীবিনীমূলক গ্রন্থ: 'বিন্দু বিসর্গ'।

• তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলা নাটক ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়া বন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়।

• তাঁর নাটক:
- দুয়ে দুয়ে চার,
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- রোদজ্বালা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৩.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কোন সংগঠনের মুখপত্র ছিল?
  1. ভারতসভা
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. ব্রাহ্মসমাজ
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৪.
"কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর!" বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে? 
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় 
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার 
  4. শেখ ফজলুল করিম
ব্যাখ্যা

• কোথায় স্বর্গ? কোথায় নরক? কে বলে তা বহুদূর?
মানুষেরি মাঝে স্বর্গ নরক - মানুষেতে সুরাসুর!
- পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - শেখ ফজলল করিম।

• শেখ ফজলল করিম:
- তিনি ১৮৮২ সালে রংপুর জেলার কাকিনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সম্পাদক।
- তিনি হযরত মুহম্মদ (স) এর চারিত্র্য-মাহাত্ম্য ও ধর্মজীবন অবলম্বনে রচনা করেন 'পরিত্রাণ' নামক কাব্য।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।
- তাঁর মৃত্যু ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৬।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- ভগ্নবীণা,
- ভক্তি পুষ্পাঞ্জলি,
- গাঁথা,
- প্রেমের স্মৃতি,
- পথ ও পাথেয়,
- উচ্ছ্বাস।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লায়লী মজনু,
- হারুন-অর-রশিদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; 'স্বর্গ ও নরক' কবিতা, শেখ ফজলল করিম।

১১,১২৫.
মীর মশাররফ হোসেন কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ১৮২৪ সালে
  2. ১৮৪৭ সালে
  3. ১৮৫৮ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা

 • মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১২৬.
নিচের কোনটি মুনীর চৌধুরী রচিত অনুবাদ নাটক?
  1. রক্তাক্ত প্রান্তর
  2. চিঠি
  3. কেউ কিছু বলতে পারে না
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা
• মুনীর চৌধুরী রচিত 'কেউ কিছু বলতে পারে না' জর্জ বার্নার্ড শ এর 'You never can tell'-এর বাংলা অনুবাদ।

• তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:

- রূপার কৌটা,
- মুখরা রমণী বশীকরণ।

• মুনীর চৌধুরী:

- ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্য সমালোচক ও বাগ্মী।
- ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের দুদিন আগে ১৪ ডিসেম্বর তিনি পাকবাহিনীর সহযোগীদের দ্বারা অপহৃত ও নিহত হন।

• তাঁর রচিত প্রধান নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর,
- চিঠি,
- কবর,
- দণ্ডকারণ্য,
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- মীর মানস,
- তুলনামূলক সমালোচনা,
- বাংলা গদ্যরীতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৭.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. রেইনকোট
  2. সাড়ে তিন হাত ভূমি
  3. বর্ণচোরা
  4. বকুলপুরের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা
• 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস:
- একটি কবরের আয়তন কত? এই প্রশ্নের উত্তর, 'সাড়ে তিন হাত ভূমি'। জনপ্রিয় কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলনের বেশ কিছু মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসের মধ্যে এটিও উল্লেখযোগ্য একটি উপন্যাস।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
১৯৭১ সাল, বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলছে, সময়টা বর্ষাকাল। আগরতলায় ট্রেনিং নিয়ে একদল মুক্তিযোদ্ধা ঢুকেছেন বাংলাদেশে। এই দলে আছেন রবি। ঢাকায় গেরিলা অপারেশন শুরু হওয়ার আগে দুদিনের জন্য এসেছেন এসেছেন নিজেদের গ্রামে। বিকেলবেলা বাড়িতে ঢুকে দেখেন উঠোনে পড়ে আছে বাবার লাশ, বসার ঘরে মায়ের লাশ, বোনের লাশ তার ঘরে, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর লাশ পেছন দিককার উঠোনে। এই দেখে অনুভূতিহীন হয়ে যান রবি। এক সময় উঠোনে কবর খুঁড়তে শুরু করেন। যখন যার কবর খুঁড়ছেন, ঢুকে যাচ্ছেন তার স্মৃতির ভেতর। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' একেবারেই অন্য মাত্রার উপন্যাস।

তাঁর কিছু উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো:
- জিন্দাবাহার,
- নিঝুম নিশিরাতে,
- যাবজ্জীবন,
- কালাকাল,
- কালো ঘোড়া,
- ভূমিপুত্র,
- পরাধীনতা,
- কে,
- তাহারা,
- ভূতের নাম রমাকান্ত কামার ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত রেইনকোট একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছোটগল্প।
• মমতাজউদ্দীন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তি নাটক- বর্ণচোরা, বকুলপুরের স্বাধীনতা। 

উৎস: 'সাড়ে তিন হাত ভূমি' উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,১২৮.
জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি'
দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার
ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী! - পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার বড়ুয়া
  2. কায়কোবাদ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. রজনীকান্ত সেন
ব্যাখ্যা
ফুলের ফসল
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত

জোটে যদি মোটে একটি পয়সা
খাদ্য কিনিয়ো ক্ষুধার লাগি'
দুটি যদি জোটে অর্ধেকে তার
ফুল কিনে নিয়ো, হে অনুরাগী!

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১২৯.
চর্যাপদের সর্বাধিক পদ রচয়িতা -
  1. আর্যদেব
  2. কৃষ্ণদেব
  3. কৃষ্ণাচার্য
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা।
- তিনি ১৩ টি পদ রচনা করেছেন। কিন্তু ১২ টি পদ পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয় না পাওয়া ২৪ নম্বর পদটি কাহ্নপার ছিল।
- তাঁর মূল নাম - কৃষ্ণাচার্য/কৃষ্ণচর্য।
- তিনি সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী ছিলেন। তিনি ধর্মশাস্ত্র, সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।

উৎস : লাল নীল দীপাবলী, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৩০.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রথম প্রকাশ সাল কত?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯১৪
  3. ১৯১১
  4. ১৯২১
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা: 
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত সাহিত্য পত্রিকা।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।  
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।
- তিনি 'বিশ্বভারতী' পত্রিকার সম্পাদনা করেন।
--------------------  
• প্রমথ চৌধুরী:
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- গদ্য / প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন। 
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৪৬ সালে শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল নুন লকড়ি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩১.
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ না কোনটি?
  1. ক) হরগজ
  2. খ) মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী
  3. গ) বাসন
  4. ঘ) বহুব্রীহি
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থের মধ্যে অন্যতম হলো মুন্তাসীর ফ্যান্টাসী, হরগজ, বাসন, হাতহদাই। বহুব্রীহি লিখেন হুমায়ূন আহমেদ।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য - মোহসীনা নাজিলা
১১,১৩২.
প্রথম বাংলা 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান 'সংকলন করেছেন?
  1. ক) অশোক মুখোপাধ্যায়
  2. খ) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  3. গ) মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ঘ) জগন্নাথ চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রকাশ করে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রণীত বাংলা ভাষার 'থিসরাস' বা সমার্থক শব্দের অভিধান যথাশব্দ।
- ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ-এর বার্ষিক সম্মিলনীর সভাপতির ভাষণে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বাঙ্গলা ভাষা, শব্দকোষ, সাহিত্য প্রভৃতি সব দিকেই বহু অনুসন্ধান ও গবেষণা হইয়াছে, ভালো অভিধানও বাহির হইয়াছে এবং আরও হইতেছে। কিন্তু ইংরেজি Roget's Thesaurus-এর মত বৈজ্ঞানিক ও দার্শনিক বিচারশৈলী অনুসারে, বিভিন্ন প্রকারের দ্যোতনার শব্দের বিশেষ কার্য্যকর অভিধান ছিল না। বাঙ্গালি সাহিত্যিক ও সাহিত্যরসিকের পক্ষে “যথাশব্দ” অভিধানখানি এইরূপ একখানি অপরিহার্য্য পুস্তকরূপে এখন দেখা দিল।’

উল্লেখ্য, যথাশব্দ সংকলনটি প্রথম ভাব অভিধান সংকলনও বটে।
এছাড়াও তিনি বাংলা ভাষার প্রথম ধর্ম অভিধান 'যার যা ধর্ম' সংকলন করেন।

‘‘রজে-র থিসরাসের বিষয় এবং শব্দবিন্যাসের ধরনকে প্রায় অবিকল ব্যবহার করে, বাংলা ভাষায় প্রথম থিসরাস ছাপা হয়েছে ‘যথাশব্দ’।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত এই অভিধানের সঙ্কলক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
- মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের আগে প্রাণতোষ ঘটক একটি ছোট আকারের সমার্থশব্দ-সঙ্কলন করেছিলেন— নাম ‘রত্নমালা’ (আশ্বিন ১৩৬২; ১৯৫৫)। এই গ্রন্থের বিন্যাস বিষয়ভিত্তিক নয়— বর্ণনাক্রমিক।
- আরও একটি বাংলা-ইংরেজি দ্বিভাষিক থিসরাস তথা ‘অভিধান’ প্রকাশিত হয়েছে— মণিমঞ্জুষা ( বৈশাখ ১৩৯৩; ১৯৮৬), সঙ্কলক ড. জগন্নাথ চক্রবর্তী। এই অভিধানের বিন্যাস বিষয়ানুযায়ী নয়— বর্ণানুক্রমিক।’’
- এ সব তথ্য স্বয়ং অশোক মুখোপাধ্যায় তাঁর ‘সংসদ সমার্থশব্দকোষ’ (ডিসেম্বর ১৯৮৬)-এর ভূমিকায় জানিয়েছিলেন।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ ও আনন্দবাজার সম্পাদকীয়।
১১,১৩৩.
'হিংটিং ছট' রম্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. ফররুখ আহমদ
  3. নুরুল মোমেন
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়। ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- তাঁর 'নেমেসিস' নাটকটি প্রথম শনিবারের চিঠি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 'নেমেসিস' নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- ১৯৪৮ সালে তাঁর 'বহুরূপা' নামে একটি রম্যরচনা প্রকাশিত হয়।

নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
- হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রুপান্তর;
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৪.
নিচের কোন আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?
  1. কোকিলারা
  2. এখন দুঃসময়
  3. সুবচন নির্বাসনে
  4. ওরা কদম আলী
ব্যাখ্যা
• 'ওরা কদম আলী 'মামুনুর রশীদ রচিত নাটক।

- বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত নাট্যকার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তাঁর রচিত প্রথম নাটক- 'শপথ'।

আব্দুল্লাহ আল মামুন এর  বিখ্যাত কয়েকটি নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে
- কোকিলারা,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কালো নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।
-------------------------------------------------------------------------
লাইভ পরীক্ষায় প্রশ্নে ভুল ছিলো। প্রশ্নে 'নাটক' এর পরিবর্তে 'উপন্যাস' লিখা হয়েছিলো।
প্রশ্নটি হওয়ার কথা "নিচের কোনটি আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত নাটক নয়?"
প্রশ্নটি সংশোধন করে দেওয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৩৫.
বাংলা সাহিত্যে কত বছর সময়কালকে 'যুগসন্ধিকাল' হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ৭০ বছর
  2. ১০০ বছর
  3. ১২০ বছর
  4. ১৫০ বছর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• যুগসন্ধিক্ষণ:
- ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে যুগসন্ধিকাল বলে। এটিকে অবক্ষয়ের যুগও বলা হয়।
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগসন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে পরিচিত।
-  মধ্যযুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের মৃত্যু ঘটে ১৭৬০ সালে, আবার আধুনিক যুগ স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সহকারে প্রকাশ পায় মাইকেল মধুসূদন দত্তের কাব্যসৃষ্টির মাধ্যমে-মোটামুটি ১৮৬০ সাল থেকে। এই দুই যুগের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে তেমন কোন উৎকর্ষপূর্ণ সৃষ্টি বা সৃষ্টিসম্ভারের বৈচিত্র্য ও প্রাচুর্য পরিলক্ষিত হয় না। তখন বাংলা গদ্যরীতির উদ্ভবের কাল; সাহিত্যের যথার্থ বাহনের উপযোগিতা বাংলা গদ্য তখনও অর্জন করতে পারে নি। তাই যুগসন্ধির বৈশিষ্ট্য এই সময়ের সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যেই বিরাজমান ছিল। এই সময়েই ঈশ্বর গুপ্তের কবিপ্রতিভার বিকাশ।

• সুতরাং (১৭৬০-১৮৬০) খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই ১০০ বছররের সময়কে যুগসন্ধিকাল বলে। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ এবং লাল নীল দীপাবলি।
১১,১৩৬.
চর্যাপদ কী?
  1. গানের সংকলন
  2. কবিতা সংকলন
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়।
- এটি 'বৌদ্ধগান ও দোহা' বা 'চর্যাপদ' নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৩৭.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত 'মৃণালিনী' কোন ধরনের উপন্যাস?
  1. মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস
  2. ঐতিহাসিক উপন্যাস
  3. রাজনৈতিক উপন্যাস
  4. সামাজিক উপন্যাস
ব্যাখ্যা
• মৃণালিনী:
- ‘মৃণালিনী’ (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে রচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৮.
পৃথিবীতে কয়টি জাত মহাকাব্য আছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীতে জাত মহাকাব্য ৪টি।

• জাত মহাকাব্য:
- রামায়ণ।
- মহাভারত।
- ইলিয়াড।
- ওডিসি।

- রামায়ণ: মহাকবি বাল্মীকি রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- মহাভারত: মহাকবি বেদব্যাস রচিত প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত ভাষার মহাকাব্য। 
- ইলিয়াড: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য। 
- ওডিসি: মহাকবি হোমার রচিত প্রাচীন গ্রিক ভাষার মহাকাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৩৯.
''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।''- কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. সুফিয়া কামাল
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• ''ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।'' - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: গোলাম মোস্তফা।

কিশোর - কবিতা,
গোলাম মোস্তফা।

আমরা নূতন, আমরা কুঁড়ি, নিখিল বন-নন্দনে,
ওষ্ঠে রাঙা হাসির রেখা, জীবন জাগে স্পন্দনে।
লক্ষ আশা অন্তরে
ঘুমিয়ে আছে মন্তরে
ঘুমিয়ে আছে বুকের ভাষা পাঁপড়ি-পাতার বন্ধনে।

ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূত বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা-নাইকো তার অন্ত-রে। (সংক্ষেপিত) 
--------------------------
মোস্তফা, গোলাম:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর বিশ্বনবী গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।
 
তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
 
১১,১৪০.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২৯ সালে
  2. ১৮৩৪ সালে
  3. ১৮৪২ সালে
  4. ১৮৪৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৪১.
চর্যাপদের ধর্মমত নিয়ে প্রথম আলোচনা করেন কে?
  1. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
  3. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
  4. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের প্রধান আলোচকগণ:
- ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কারের পর থেকে অনেক পণ্ডিত এ বিষয়ে আলোচনা করে এর বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন।
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।
- ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার এবং ১৯৩৮ সালে তা প্রকাশ করে চর্যার জট উন্মোচন করেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯২৭ সালে চর্যাপদের ধর্মতত্ত্ব নিয়ে সর্বপ্রথম আলোচনা করেন এবং ১৯৪২ সালে চর্যাপদের সঠিক পাঠ নির্ণয় করে আলোচনার পথ আরও সহজ করেন।
- ড. শশিভূষণ দাশগুপ্ত ১৯৪৬ সালে চর্যাগীতির অন্তর্নিহিত তত্ত্বের ব্যাখ্যা প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,১৪২.
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ কোনটি?
  1. ক) নববসন্ত
  2. খ) কালের কলস
  3. গ) মুসলিম কালচার
  4. ঘ) সত্যের সন্ধানে
ব্যাখ্যা
আবুল হুসেন রচিত প্রবন্ধ ‘মুসলিম কালচার'। ‘ কালের কলস’ আল মাহমুদ এর কাব্যগ্রন্থ। ‘ সত্যের সন্ধানে’ এর লেখক আরজ আলী মাতুব্বর। ‘নববসন্ত’ হলো আবুল হোসেনের কাব্যগ্রন্থ।রেফারেন্সঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য – মোহসীনা নাজিলা।
১১,১৪৩.
অমিয় চক্রবর্তীর কোন কাব্যগ্রন্থে 'বাংলাদেশ' কবিতাটি সংকলিত আছে?
  1. এক মুঠো
  2. অনিঃশেষ
  3. মাটির দেয়াল
  4. অভিজ্ঞান বসন্ত
ব্যাখ্যা

- অমিয় চক্রবর্তীর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে 'বাংলাদেশ' কবিতাটি সংকলিত আছে ।

• অমিয় চক্রবর্তী:
- অমিয় চক্রবর্তী (১০ এপ্রিল, ১৯০১ – ১২ জুন, ১৯৮৬) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পঞ্চপান্ডবদের মধ্যের একজন।
- অমিয় চক্রবর্তী পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ. (১৯২১) পাস করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগ দেন।
- পরে (১৯২৬–১৯৩৩) তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেন।  
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হলো কবিতাবলী এবং তিনি মোট ১৫টি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেছেন।
- অমিয় চক্রবর্তীর ইংরেজি ভাষায় ৯টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
-  বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেছে।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কবিতা রচনা করেন যা তাঁর অনিঃশেষ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত আছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- খসড়া,
- অনিঃশেষ
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১,১৪৪.
বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক কে?
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. সেলিম আল দীন
  3. সাঈদ আহমদ
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• বাংলা নাটকে অ্যাবসার্ড ধারার প্রবর্তক : সাঈদ আহমদ। 

• সাঈদ আহমদ: 
- সাঈদ আহমদ (১৯৩১-২০১০) নাট্যকার, চিত্রসমালোচক, শিক্ষাবিদ। তাঁর জন্ম পুরানো ঢাকার ইসলামপুরে ১ জানুয়ারি ১৯৩১ সালে। 
- বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রতিভভাবান নাট্যকার - সাঈদ আহমদ।
- ১৯৫৪ সালে লন্ডনে স্যামুয়েল ব্যাকেটের নাটক দেখে সাঈদ আহমদ এই ধরনের নাটকের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং বাংলায় অ্যাবসার্ডধর্মী নাটকের প্রচলন করেন।

তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- কালবেলা,
- মাইলপোস্ট,
- তৃষ্ণায়,
- প্রতিদিন একদিন,
- শেষ নবাব।

উল্লেখ্য, 
• ১৯৭৫ সালে অ্যাবসার্ডধারার বাইরে এসে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে সাঈদ আহমদ রচনা করেন - 'প্রতিদিন একদিন' নাটক।
• বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তার লেখা নাটক 'শেষ নবাব'। এটি তার শেষ নাটকও।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৪৫.
সুকুমার রায় রচিত শিশুতোষ সাহিত্য নয় কোনটি?
  1. পাগলা দাশু
  2. খাইখাই
  3. আবোল-তাবোল
  4. এলাটিং বেলাটিং
ব্যাখ্যা
• সুকুমার রায়:
- শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় ১৮৮৭ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ ও যন্ত্রকুশলী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী হলো সুকুমার রায়ের পিতা।
- সুকুমার রায়ের পুত্র অস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল ময়মনসিংহ জেলার মসুয়ায়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য শিশুতোষ সাহিত্য:
- আবোল-তাবোল।
- হ-য-ব-র-ল।
- পাগলা দাশু।
- বহুরূপী।
- খাইখাই।
- অবাক জলপান।
- ঝালাপালা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমান রচিত শিশু-কিশোর সাহিত্য ‘এলাটিং বেলাটিং’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৪৬.
চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা কয়টি?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা

কাহ্নপা:
- কাহ্নপা বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্য ও চর্যাপদকর্তা ছিলেন।
- প্রকৃত নাম কৃষ্ণাচার্য পাদ, অপভ্রংশে হয়েছে কাহ্নপা, কনহপা, কাহিল পা ইত্যাদি।
- বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদের কবি গোষ্ঠীর মধ্যে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ।
- পালরাজ দেবপালের রাজত্বকালে (আনু. ৯০০-৫০) তিনি বর্তমান ছিলেন।
- চর্যাপদের ২৩জন কবির মধ্যে কাহ্নপার পদসংখ্যা সর্বাধিক, মোট ১৩টি।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে।
- কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায়নি। তাই চর্যাপদে কাহ্নপার প্রাপ্ত পদ সংখ্যা ১২টি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৪৭.
"কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না" - উক্তিটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. মৃণালিনী
  3. রাজসিংহ
  4. কপালকুণ্ডলা
ব্যাখ্যা
‘রাজসিংহ' উপন্যাস:
- ‘রাজসিংহ'(১৮৮২) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস। বঙ্কিমচন্দ্র ‘রাজসিংহ’কে একমাত্র ঐতিহাসিক উপন্যাস বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- ‘রাজসিংহ' উপন্যাসের চতুর্থ সংস্করণের বিজ্ঞাপনে বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছিলেন, 'আমি পূর্বে কখনও ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখি নাই। ‘দুর্গেশনন্দিনী' বা ‘চন্দ্রশেখর' বা 'সীতারাম'কে ঐতিহাসিক উপন্যাস বলা যাইতে পারে না। এই প্রথম ঐতিহাসিক উপন্যাস লিখিলাম।
- 'রাজস্থানের চঞ্চলকুমারীকে মোগলসম্রাট আওরঙ্গজেবের বিয়ের ইচ্ছার ফলে রানা রাজসিংহের সঙ্গে তাঁর বিরোধ এবং বিরোধে রাজসিংহের জয় ও চঞ্চলকুমারী লাভ- এই মূল ঘটনাবলম্বনে উপন্যাসটি পরিকল্পিত।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো হলো: ঔরঙ্গজেব, রাজসিংহ, জেবউন্নিসা, উদিপুরী। ‘কিন্তু মনুষ্য কখনো পাষাণ হয় না’- এই উপন্যাসের একটি বিখ্যাত উক্তি।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; ‘রাজসিংহ’ উপন্যাস।
১১,১৪৮.
'সাহিত্যপত্র' পত্রিকাটির সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. বিষ্ণু দে
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিষ্ণু দে:
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস. এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’ (১৯৪৮)।
- ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যৎ,
- সাত ভাই চম্পা,
- সেই অন্ধকার চাই,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
- রবিকরোজ্জ্বল নিজদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৪৯.
'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. মোতাহের হোসেন চৌধুরী
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. বদরুদ্দীন উমর
  4. আহমদ শরীফ
ব্যাখ্যা

• 'সংস্কৃতির সংকট' বদরুদ্দীন উমর রচিত একটি প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ। 
- গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে।  

বদরুদ্দীন উমর:
- বদরুদ্দীন উমর ছিলেন একাধারে বাংলাদেশি মার্কসবাদী লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, রাজনৈতিক সক্রিয়তাবাদী, ইতিহাসবিদ, লেখক, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা। 
- তিনি ২০শে ডিসেম্বর, ১৯৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি 'সংস্কৃতি' সাময়িকী সম্পাদনা করেন।

• তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
- সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সাম্প্রদায়িকতা,
- সংস্কৃতির সংকট
- পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি,
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ,
- যুদ্ধপূর্ব বাঙলাদেশ,
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ,
- ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য প্রসঙ্গ,
- বঙ্গভঙ্গ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'সংস্কৃতির সংকট' গ্রন্থ।

১১,১৫০.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক কোন পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বাঙ্গাল গেজেট​
  3. বঙ্গদর্শন
  4. দিগ্‌দর্শন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫১.
‘স্মৃতিপিপীলিকাত তাই পুঞ্জিত করে
আমার রন্ধ্রে মৃত মাধুরীর ফণা :
সে ভুলে ভুলুক, কোটি মন্বন্তরে
আমি ভুলিব না, আমি কভু ভুলিব না।’
চরণগুলোর রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত কবিতার লাইনগুলো সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ‘অর্কেস্ট্রা’ কাব্যগ্রন্থের ‘শাশ্বতী’ কবিতার শেষ চরণ।

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
কাব্য - তন্বী (১৯৩০), অর্কেস্ট্রা (১৯৩৫), ক্রন্দসী (১৯৩৭), উত্তরফাল্গুনী (১৯৪০), সংবর্ত (১৯৫০), দশমী (১৯৫৬);
গদ্যগ্রন্থ - স্বগত (১৯৩৮), কুলায় ও কালপুরুষ (১৯৫৭)। এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

- সুধীন্দ্রনাথ ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্র কাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- - আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় ত্রৈমাসিক পরিচয় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই পত্রিকা সম্পাদনা করে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত অমর হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১,১৫২.
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত নিচের কোনটি?
  1. ক) কুহেলিকা
  2. খ) চিত্রা
  3. গ) তোহফা
  4. ঘ) মাল্যবান
ব্যাখ্যা
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত 'কুহেলিকা' হলো একটি উপন্যাস।

কুহেলিকা
- ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে ‘নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়।
- গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।
- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে। 
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে।
-  নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে : ‘ইহারা মায়াবিনীর জাত।
- ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে।
- ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
১১,১৫৩.
কোনটি নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. বিশ শতকের মেয়ে
  2. বিন্দু বিসর্গ
  3. কেয়াবন সঞ্চারিণী
  4. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
ব্যাখ্যা
• 'বিন্দু বিসর্গ' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত আত্মজীবনী
- গ্রন্থটি ১৯৯১ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ‘বিন্দু বিসর্গ’ বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫৪.
'অবক্ষয় যুগ' বলা হয় কোন সময়কাল কে?
  1. ১৬৭০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  2. ১৭০০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  3. ১৭৩০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
  4. ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত 
ব্যাখ্যা

কালবিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায। যথা:
১. প্রাচীন যুগ (৬৫০-১২০০),
২. মধ্যযুগ (১২০০-১৮০০) ও
৩. আধুনিক যুগ (১৮০০- বর্তমান)।

মধ্যযুগ আবার তিনভাগে বিভক্ত। যথা:
১. আদি-মধ্যযুগ (১২০০-১৩৫০),
২. মধ্য-মধ্যযুগ (১৩৫০-১৭০০) ও
৩. অন্ত্য-মধ্যযুগ (১৭০০-১৮০০)।

- চর্যাপদের পরে প্রবাদ, বচন, ছড়া, ডাক ও খনার বচন ইত্যাদি কিছু কিছু কাব্যনিদর্শন থাকলেও চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো রচনা পাওয়া যায় না। তাই এ সময়টাকে (১২০১ ১৩৫০) কেউ কেউ 'অন্ধকার যুগ' বলে অভিহিত করেন। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল পরিবর্তনের যুগ; ইসলাম ও ইসলামি সংস্কৃতির সংস্পর্শে এবং মুসলিম শাসকদের ভিন্নতর রাষ্ট্রীয় ও সমাজব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বঙ্গ জনপদে (বাংলাদেশে) তখন এক নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটছিল। সে সময় বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ছিল সৃজ্যমান অবস্থায় এবং চর্যার বঙ্গীয়-বৈশিষ্ট্যময় অপভ্রংশ ভাষা আরও বেশি মাত্রায় বাংলা হয়ে ওঠে।

- বাংলা সাহিত্যে ১৭৬০ থেকে ১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বা 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়, যা মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনস্থল।
যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয় ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৫৫.
'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে নিচের কোন উপন্যাসে? 
  1. গোরা 
  2. পথের দাবী 
  3. আনন্দমঠ
  4. ঘরে বাইরে 
ব্যাখ্যা

• 'বন্দে মাতরম্' গানটি ধ্বনিত হয়েছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে। 

‘বন্দে মাতরম্’ গানটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আনন্দমঠ উপন্যাসে (১৮৮২) প্রথম প্রকাশিত হয় এবং এটি উপন্যাসের একটি কেন্দ্রীয় উপাদান। গানটি ১৮৭০-এর দশকে রচিত হয় এবং আনন্দমঠে সন্ন্যাসী বিদ্রোহীদের মুখে গীত হয়, যারা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল। এটি মাতৃভূমির প্রতি ভক্তি ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেরণাদায়ক সঙ্গীত হয়ে ওঠে। গানটির প্রথম দুটি স্তবক ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয় (১৯৫০)।

---------------------
• 'আনন্দমঠ' উপন্যাস:

- ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের পটভূমিকায় সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ছায়া অবলম্বনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়েছে ১৮৮২ সালে।

- উপন্যাসটিতে প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে দাঁড়িয়েছে স্বদেশভক্তি, স্বজাতি ও স্বধর্মপ্রীতি। এই উপন্যাসে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বদেশ বলতে বঙ্গভূমিকে, আর ধর্ম বলতে হিন্দু ধর্মকে বুঝিয়েছেন।

- উল্লেখ্য যে এটি কোন ঐতিহাসিক উপন্যাস নয়। এর ঘটনা কল্পিত কিন্তু অবিশ্বাস্য নয়। চরিত্রগুলি আদর্শায়িত। মন্বন্তরের বর্ণনা নিখুঁত, সাধারণ গ্রামীণ জীবনের আখ্যান বাস্তব। সর্বোপরি প্রেম এবং আদর্শের দ্বন্দ্ব এই উপন্যাসের কাহিনিকে নিবিড়তা দিয়েছে।

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এই গ্রন্থের 'বন্দে মাতরম্' গানটির ভূমিকা যেমন ঐতিহাসিক, তেমনি ঐতিহাসিক এই উপন্যাসের প্রভাব। 'বন্দে মাতরম্' গান দ্বারা বুঝিয়েছেন ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনের দীক্ষা। এই গ্রন্থে রচিত গানের 'বন্দে মাতরম্' ধ্বনি পরবর্তীকালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকারীদের অত্যন্ত প্রিয় ও উদ্দীপক স্লোগান হিসেবে গৃহীত হয়।

- নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত 'The Abbey of Bliss' (1907) এবং শ্রী অরবিন্দ 'Ananda Math' (1910) নামে উপন্যাসটির ইংরেজি অনুবাদ করেন। এটি মূলত বাস্তবানুগ রোমান্সধর্মী উপন্যাস।

- এই গ্রন্থ থেকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায় স্বসম্প্রদায়প্রীতি লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, 
• 'গোরা' উপন্যাস:
- 'গোরা' (১৯১০) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৃহত্তম ও রাজনৈতিক উপন্যাস। গোরা উপন্যাসটি 'প্রবাসী' পত্রিকায় ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মান্দোলন, স্বদেশপ্রেম, এবং নারীমুক্তি চিন্তার পটভূমিকায় এই উপন্যাসটি লেখা হয়েছে।
- উপন্যাসটির চরিত্র: গোরা, সুচরিতা, কৃষ্ণদয়াল, আনন্দময়ী।

• 'পথের দাবী' উপন্যাস:
- 'পথের দাবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস। এটি প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
- এটি স্বদেশী বিপ্লবীদের হাতে হাতে থাকতো। কাহিনির পটভূমিকা ব্রহ্মদেশ। কানো এক গুপ্ত বিপ্লবী দলের নায়ক সব্যসাচী এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর ছায়াপাত ঘটেছে। নিঃসন্দেহে এই কাহিনিতে ব্রিটিশ শাসনের তীব্র সমালোচনা এবং সশস্ত্র বিপ্লবকে আন্তরিক সমর্থন আছে।

• 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলিত ভাষায় লেখা প্রথম উপন্যাস। ১৯১৬ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি স্বদেশি আন্দোলনের পটভূমিকায় রচিত।
- ঘরে-বাইরে উপন্যাসের সাথে পাশ্চাত্য ঔপন্যাসিক স্টিভেনসনের 'প্রিন্স অটো' উপন্যাসের ভাবসাদৃশ্য আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৫৬.
‘সূর্যগ্রহণ’ জহির রায়হান রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. চলচ্চিত্র
  4. গল্পগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• ‘সূর্যগ্রহণ’ জহির রায়হান রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দে তাঁর প্রথম গল্পসংগ্রহ ‘সূর্যগ্রহণ’ প্রকাশিত হয়।

---------------------------
• জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- তাঁর সৃষ্টি প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সঙ্গম’।
- তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কখনো আসে নি’।
- তাঁর সৃষ্ট প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি ‘বাহানা’।
- তাঁর সৃষ্ট 'কাঁচের দেয়াল' চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে 'নিগার পুরস্কার' লাভ করে।
- 'হাজার বছর ধরে' উপন্যাসের জন্য তিনি 'আদমজি সাহিত্য পুরস্কার' লাভ করেন।

তাঁর পরিচালিত অন্য ছবিগুলো হলো:
- সঙ্গম,
- কাঁচের দেয়াল,
- আনোয়ারা,
- বেহুলা,

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো:
- তৃষ্ণা,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- হাজার বছর ধরে,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- আর কতদিন,
- কয়েকটি মৃত্যু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৫৭.
'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি কোন প্রেক্ষাপটে রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ভাষা আন্দোলন
  3. গ) গণ অভ্যুত্থান
  4. ঘ) পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসন
ব্যাখ্যা
• শওকত ওসমান রচিত 'ক্রীতদাসের হাসি' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- উপন্যাসটিতে প্রতীকাশ্রয়ে তৎকালীন পাকিস্তানিদের বিরূপ শাসনের সমালােচনা করা হয়েছে। 
- মধ্যপ্রাচ্যের কাহিনির আধারে এই উপন্যাসে তৎকালীন পাকিস্তানকে তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের চরিত্রগুলো এ প্রসঙ্গে মিলে যায়। 
যেমন, বাদশা হারুন হলেন আইয়ুব খান, বেগম জুবাইদা হলেন পাকিস্তানের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ; তাতারী হলেন পাকিস্তানের সাধারণ জনতা; মেহেরজান হলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যা তুর্কি থেকে বার বার হাতবদল হয়েছে। 
- এটি শওকত ওসমানের সর্বশ্রেষ্ঠ উপন্যাস বলে স্বীকৃত। এই গ্রন্থ রচনার জন্য তাঁকে আদমজি পুরস্কার দেয়া হয়৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৫৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'তাসের ঘর' নাটকটি কোন গল্পের নাট্যরুপ?
  1. প্রায়শ্চিত্ত
  2. ছুটি 
  3. একটা আষাঢ়ে গল্প 
  4. ক্ষুধিত পাষাণ 
ব্যাখ্যা

• তাসের দেশ:
- ‘তাসের দেশ' (১৯৩৩) রূপক নাট্য।
- রবীন্দ্রনাথের নিজেরই ‘একটা আষাঢ়ে গল্প' নামক গল্পের কাহিনি এই নাটকের ভিত্তিভূমি।
- রাজপুত্র এবং সদাগর পুত্র এক অপরিচিত দ্বীপে এসে পৌঁছেছেন, যে দ্বীপের জীবন শাসিত হয় যান্ত্রিক নিয়মানুবর্তিতায়, যুক্তি ও হৃদয়হীন শাসনতন্ত্রের আনুগত্যে।
- রাজপুত্র এবং সদাগর এই নিয়মবন্দি জীবনের মধ্যে আনলেন বিদ্রোহ।
- এই নাটকটি উৎসর্গ করা হয় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে।
- এই রূপক নাটক লিখে উপনিবেশ শাসিত ভারতীয়দের জড়ত্ব ঘোচানোর জন্য একজন সে-রকম মুক্তিদূত রূপী রাজপুত্রের আগমনকে কামনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক আরো কয়েকটি উৎসর্গকৃত গ্রন্থ:
• তাসের দেশ - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।
• পূরবী - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
• বসন্ত - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি:কাজী নজরুল ইসলাম।
• খেয়া - উৎসর্গকৃত ব্যক্তি: জগদীশচন্দ্র বসু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৫৯.
আহসান হাবীবের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
  3. গ) ছায়াহরিণ
  4. ঘ) সারা দুপুর
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব (১৯১৭-১৯৮৫): কবি ও সাংবাদিক।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ- রাত্রিশেষ (১৯৪৭)।
তাছাড়া ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ।
উপন্যাস- অরণ্য নীলিমা (১৯৬০) ও রাণীখালের সাঁকো (১৯৬৫)।
শিশুতোষ গ্রন্থ- জ্যোৎস্না রাতের গল্প, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর (১৯৭৭), ছুটির দিন দুপুরে (১৯৭৮) ইত্যাদি।
উৎসঃবাংলাপিডিয়া
১১,১৬০.
মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' রচনা করেন কে?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'অনল প্রবাহ' কাব্যগ্রন্থ:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।
- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।
- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্ৰ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভারত ভিক্ষা’, ‘ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়। প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী:

- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুলাই সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি পেশায় ছিলেন একজন ভেষজ চিকিৎসক।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধ,
- স্পেনবিজয় কাব্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তারা-বাঈ,
- রায়নন্দিনী,
- ফিরোজা বেগম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- তুর্কিনারি জীবন,
- স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা।

ভ্রমণকাহিনি:
- তুরস্ক ভ্রমণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬১.
'আয়না' আবুল মনসুর আহমদের কী ধরনের রচনা?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) প্রবন্ধ
  3. গ) গল্পগ্রন্থ
  4. ঘ) কাব্য
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবনক্ষুধা ও
- আবে হায়াত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা‌

• তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরেবাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু।
• তাঁর রচিত স্মৃতিকথা- আত্মকথা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১১,১৬২.
‘ক্ষুধা প্রেম আগুন'  আব্দুল মান্নান সৈয়দ এর কোন ধরেনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) ছোটগল্প
  3. গ) প্রবন্ধ
  4. ঘ) কবিতা
ব্যাখ্যা
- আবদুল মান্নান সৈয়দের জন্ম অবিভক্ত ভারত উপমহাদেশের পশ্চিম বঙ্গে জালালপুর নামক গ্রামে ১৯৪৩ সালে।

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,অ-তে অজগর (১৯৮২),কলকাতা (১৯৮০),ক্ষুধা প্রেম আগুন'(১৯৯৪)
• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ, চলো যাই পরোক্ষে (১৯৭৩),মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা, নেকড়ে হায়েনা, তিন পরী
• প্রবন্ধ:
বিবেচনা-পুনর্বিবেচনা,দশ দিগণ্তের দ্রষ্টা,নির্বাচিত প্রবন্ধ,করতলে মহাদেশ,আমার বিশ্বাস।

উৎসঃ  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড সৌমিত্র শেখর)।
১১,১৬৩.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কোন কাব্যটি ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত?
  1. বীরাঙ্গনা কাব্য
  2. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  3. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  4. চতুর্দশপদী কবিতাবলী
ব্যাখ্যা
• বীরাঙ্গনা: 
- ‘বীরাঙ্গনা' ইতালির কবি ওভিদের Heroides কাব্যের আদর্শানুসারে লিখিত পত্রকাব্য।
- যীশু খ্রিস্টের জন্মের অব্যবহিত পরে রচিত ওভিদের কবিতাগুলোর মূল বিষয়বস্তু প্রেম হলেও উপকরণ ছিল পুরাণের।
- মধুসূদনের এই কাব্যেও তাই। 
- ওভিদের কাব্যের পত্রসংখ্যা ছিল একুশ।
- মধুসূদন এগারটি পত্র পূর্ণ করেছিলেন। 
- ওভিদের কাব্যের নায়িকারা তাদের পতি প্রিয়জনের উদ্দেশ্যে প্রধানত প্রেম-উদ্বোধিত চিত্তে পত্ররচনা করেছে।
- মধুসূদন এদেশের পৌরাণিক নারীচরিত্র উপজীব্য করে পত্ররচনা করেছেন।
----------------------------- 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন ‘পদ্মাবতী’ নাটকে।
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তাঁর অমর কীর্তি ‘মেঘনাদ-বধ কাব্য'।

• তাঁর অন্যান্য কাব্য:
→ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
→ বীরাঙ্গনা কাব্য,
→ ব্রজাঙ্গনা কাব্য ও
→ চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর নাটক:
→ কৃষ্ণকুমারী,
→ শর্মিষ্ঠা,
→ পদ্মাবতী; 

• তাঁর প্রহসন:
→ একেই কি বলে সভ্যতা ও
→ বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

- বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি যোগ করেছেন নতুন মাত্রা।
- ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জুন কবি পরলোকগমন করেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্য - ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

১১,১৬৪.
কোন নাট্যকারের নাটকে দ্বৈতাদ্বৈতবাদ  শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে? 
  1. আব্দুল্লাহ আল মামুন 
  2. মামুনুর রশিদ 
  3. সেলিম আল দীন
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা

সেলিম আল দীনের নাটকে ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদ’ শিল্পতত্ত্ব অনুসৃত হয়েছে।
----------------------------------------------
• সেলিম আল দীন:
- সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনি জেলার সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা আধুনিক নাট্যকারদের মধ্যে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।
- তাকে নাট্যাচার্য  উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিলো।

- জীবদ্দশায় সেলিম আল দীন তার বিভিন্ন রচনায় প্রকাশ করেছেন যে, শিল্পদর্শনে তিনি দ্বৈতাদ্বৈতবাদী ছিলেন।
- তিনি পশ্চিমা শিল্পের সমস্ত বিভাজনকে বাঙালির সহস্রবছরের নন্দনতত্ত্বের আলোকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে এক নতুন শিল্পরীতি প্রতিষ্ঠা করেন, যাকে তিনি ‘দ্বৈতাদ্বৈতবাদী শিল্পতত্ত্ব’ বলে অভিহিত করেছেন।

- সেলিম আল দিন শুধুমাত্র নাটক রচনাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না।
- তিনি নাট্যবিষয়ক বহু গবেষণামূলক প্রবন্ধ রচনা করে বাঙালি নাটকের সহস্র বছরের ইতিহাস এবং তার স্পষ্ট কাঠামো উন্মোচনে সক্ষম হন।
- তিনি ১৯৯৬ সালে মধ্যযুগের বাঙলা নাট্য রচনা করেছেন।
- এছাড়া, নাট্য গবেষণা পত্রিকা Theater Studies-এর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নাট্যশিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে তিনি অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন নাট্যবিষয়ক গ্রন্থ নন্দিকেশ্বরের অভিনয় দর্পণ। 

- সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ, উপন্যাস এবং অসংখ্য নাটক।
• তার উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো:
- একটি মারমা রূপকথা,
- গঙ্গাবতী,
- জন্ডিস, বিবিধ বেলুন,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- শকুন্তলা,
- কিত্তনখোলা,
- কেরামতমঙ্গল,
- প্রাচ্য,
- হরগজ,
- বনপাংশুল,
- স্বর্ণবোয়াল,
- পুত্র, ইত্যাদি।  

 তাঁর অন্যান্য প্রকাশিত সাহিত্যকীর্তির মধ্যে রয়েছে-
- কাব্যগ্রন্থ- কবি ও তিমি।
- উপন্যাস- অমৃত উপাখ্যান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

১১,১৬৫.
'ভ্রমর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. বিমল মিত্র
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• 'কালকূট' ও 'ভ্রমর' সমরেশ বসুর ছদ্মনাম।

অন্যদিকে, 
• 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম ছিল- জাবালি। 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১১,১৬৬.
'এক পথ দুই বাঁক' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত কী ধরনের রচনা?
  1. প্রবন্ধ-গবেষণা
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
•"এক পথ দুই বাঁক" নীলিমা ইব্রাহীম রচিত বিখ্যাত একটি উপন্যাস। 
- ১৯৫৮ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 

---------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- নীলিমা ইব্রাহিম ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ-গবেষণা:
- শরৎ প্রতিভা,
- বাংলার কবি মধুসূদন,
- ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালী সমাজ ও বাংলার নাটক,
- বাঙালী মানস ও বাংলা সাহিত্য,
- অগ্নিস্নাত বঙ্গবন্ধুর ভস্মাচ্ছাদিত কন্যা আমি,
- আমি বীরাঙ্গনা বলছি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয়, ইত্যাদি।

তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৬৭.
মঙ্গলকাব্যের কবি নন কে? 
  1. বলরাম দাস
  2. ঘনরাম চক্রবর্তী
  3. বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. নারায়ণ দেব
ব্যাখ্যা

• মঙ্গলকাব্যের কবি নন- বলরাম দাস। 

• 'বলরাম দাস' বৈষ্ণব সাহিত্য-রচয়িতা। বলরাম দাস ব্রজবুলি ও বাংলা উভয় ভাষাতে পদ রচনা করলেও তার বাংলা পদগুলিই সর্বোৎকৃষ্ট। 

• বৈষ্ণব পদাবলির উল্যেখযোগ্য কবি হলেন- বিদ্যাপতি, চণ্ডিদাস, জ্ঞানদাস, গোবিন্দদাস, বলরাম দাস। পদাবলি সাহিত্যের বিস্তৃত অঙ্গনে পরবর্তী কালে দীর্ঘদিন ধরে অগণিত পদকর্তা কবিতা রচনা করে গেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন- বাসুঘোষ, জগদানন্দ, শশিশেখর, রায় শেখর, রায় বসন্ত, কবিরঞ্জন বা ছোট বিদ্যাপতি প্রমুখ।

---------------------
• মঙ্গলকাব্য:

- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগে বিশেষ এক শ্রেণির ধর্মবিষয়ক আখ্যান কাব্য 'মঙ্গলকাব্য' নামে পরিচিত। এগুলো খ্রিস্টীয় পনের শতকের শেষ ভাগ থেকে আঠার শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত পৌরাণিক, লৌকিক ও পৌরাণিক-লৌকিক সংমিশ্রিত দেবদেবীর লীলামাহাত্ম্য, পূজাপ্রচার ও ভক্তিকাহিনি অবলম্বনে রচিত সম্প্রদায়গত প্রচারধর্মী ও আখ্যানমূলক কাব্য।

- দেবমাহাত্ম্যমূলক সমাজচিত্রভিত্তিক এ কাব্যই বাংলা সাহিত্যের প্রথম ও নিজস্ব কাহিনীকাব্য। এই কাব্য রচনার মূল উল্লেখিত কারণ, প্রায় সব কবিই স্বপ্নে দেবতাদের নির্দেশ পেয়ে রচনা করেছেন।

- এর প্রধান শাখা ৩টি- মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল ও ধর্মমঙ্গল/অন্নদামঙ্গল। মঙ্গলকাব্যের প্রধান দেবতারা হচ্ছেন মনসা, চণ্ডী ও ধর্মঠাকুর। এঁদের মধ্যে মনসা ও চণ্ডী এই দুই স্ত্রীদেবতার প্রাধান্য বেশি।

- একটি সার্থক মঙ্গলকাব্যে ৫টি অংশ থাকে: বন্দনা, আত্মপরিচয়, দেবখণ্ড, মর্ত্যখণ্ড এবং শ্রুতিফল।
- মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নারায়ণ দেব, বিজয় গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, কানাহারি দত্ত, মানিক দত্ত, ভারতচন্দ্র, দ্বিজমাধম, ঘনরাম চক্রবর্তী প্রমুখ।

- মঙ্গলকাব্যের দেব দেবীরা মূলত অনার্যদের দেব-দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৬৮.
‘কাদম্বিনী’ - কোন গল্পের প্রধান চরিত্র?
  1. সমাপ্তি
  2. দেনাপাওনা
  3. জীবিত ও মৃত
  4. নষ্টনীড়
ব্যাখ্যা

'জীবিত ও মৃত' গল্প:
- 'জীবিত ও মৃত' ১৮৯২ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত একটি বাংলা ছোটগল্প।
- এটি রবীন্দ্রনাথের একটি উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প। গল্পটি রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছে অন্তর্ভুক্ত আছে।
- গল্পটি সাহিত্যের দুটি অনন্য রূপকে একত্রিত করেছে: অতিপ্রাকৃত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপমা । তবে এটি কোনো নিখুঁত অতিপ্রাকৃত গল্প নয়।
- গল্পটির প্রধান চরিত্র কাদম্বিনী। কাদম্বিনীর অস্তিত্ব অতিপ্রাকৃত। এতে জীবন এবং মৃত্যুর মধ্যে আটকে থাকার ধারণা চিত্রিত হয়েছে। সংক্ষেপে, এটি মৃত্যুর রহস্য নিয়ে কাজ করে।
- 'কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই'- উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জীবিত ও মৃত' গল্প থেকে নেয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং জীবিত ও মৃত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১১,১৬৯.
'নরকে লাল গোলাপ'-মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটকটির রচয়িতা কে?
  1. মমতাজউদ্দিন আহমদ
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক — 'নরকে লাল গোলাপ' ।

• আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি বিখ্যাত নাটক:
-  "নিঃশব্দ যাত্রা" ও "নরকে লাল গোলাপ"। 

আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন  শিক্ষাবিদ, কবি, কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক।
- তিনি  ১৯৩২ সালের  ৬ মে , নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার রামনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত কবিতা 'স্মৃতিস্তম্ভ' মানচিত্র কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
 
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র, 
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন, 
- কর্ণফুলী, 
- ক্ষুধা ও আশা, 
- খসড়া কাগজ, 
- স্বপ্নশিলা, 
- বিশৃঙ্খলা।  
 
কাব্যগ্রন্থ:
- মানচিত্র, 
- ভোরের নদীর মোহনায় জাগরণ, 
 
গল্পগ্রন্থ:
- জেগে আছি, 
- মৃগনাভি, 
- ধানকন্যা, 
- যখন সৈকত, 
- অন্ধকার সিঁড়ি, 
- জীবনজামিন,  
- আমার রক্ত স্বপ্ন আমার। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৭০.
চণ্ডীদাস কোন দেবীর ভক্ত ছিলেন?
  1. দুর্গা
  2. বাশুলীদেবী
  3. লক্ষ্মী
  4. সরস্বতী
ব্যাখ্যা

চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চতুদর্শ শতকের শেষভাগে বীরভূমের নান্নুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা পদাবলির জনক। 
- তিনি চৈতন্য পূর্ববর্তী সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি ছিলেন।
- চণ্ডীদাস বাশুলীদেবীর ভক্ত ছিলেন।
- তিনি পূর্বরাগের শ্রেষ্ঠ কবি ও দুঃখের কবি হিসেবে পরিচিত।
- চণ্ডীদাসের পদাবলিতে প্রেম, বিচ্ছেদ, বেদনা ও যন্ত্রণার সুন্দর প্রকাশ থাকায় বাংলা সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “দুঃখের কবি” আখ্যা দিয়েছেন।
- বাংলা পদাবলির যে সকল পদ বাঙালির হৃদয় স্পর্শ করেছে, তার অধিকাংশই চণ্ডীদাসের লেখা।
- তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে রাধা–কৃষ্ণের প্রেম ও আধ্যাত্মিক অনুভূতিকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। 
- চণ্ডীদাসের রচনা বাংলা বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু উক্তি হলো:
• “সই, মেন ধরিব হিয়া আমার বঁধুয়া আন বাড়ি যায় আমার আঙিনা দিয়া,”
• “বহুদিন পরে বধূয়া এলে। দেখা না হইতে পরান গেলে,”
• “বধূ কী আর বলিব আমি মরণে জীবনে জনমে জনমে প্রাণনাথ হৈও তুমি,”
• “আমার পরান যেমতি করিছে তেমতি হউক সে,”
• “সই কে বা শুনাইলো শ্যাম নাম,”
• “শ্যামের পিরিতি চন্দনের রীতি ঘষিতে সৌরভময়।”

 - তাঁর জাত-পাতমুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বানী-
"সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই" 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১১,১৭১.
অমিয় চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. নিসর্গ সন্দর্শন
  2. মাটির দেয়াল
  3. প্রেম প্রবাহিণী
  4. বন্ধু-বিয়োগ
ব্যাখ্যা
অমিয় চক্রবর্তী:
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ - বন্ধু-বিয়োগ, প্রেম প্রবাহিণী, নিসর্গ সন্দর্শন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৭২.
বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা 'কীর্তিবিলাস' এর লেখক কে?
  1. তারাচরণ শিকদার
  2. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  3. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  4. হরচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা 'কীর্তিবিলাস' এর লেখক - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত

কীর্তিবিলাস:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা।
- এর রচয়িতা - যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
- এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১১,১৭৩.
নিচের কোনটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক উপন্যাস?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. মৃণালিনী
  3. চন্দ্রশেখর
  4. বিষবৃক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'কপালকুণ্ডলা':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস।
- এটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস।
- উপন্যাসের চরিত্র: নবকুমার, কপালকুণ্ডলা, কাপালিক।

• গুরুত্বপূর্ণ উক্তি:
- পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ,
- তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?
- পথিক, তুমি পথ হারাইয়াছ? - বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক সংলাপ।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রবন্ধসমূহ:

- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

• তাঁর অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১১,১৭৪.
সুকান্ত ভট্টাচার্য কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ফরিদপুর
  2. কলকাতা
  3. বরিশাল 
  4. হুগলী
ব্যাখ্যা

সুকান্ত ভট্টাচার্য কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। 

সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- কবি ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায় মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- কবি মাত্র ২০ বছর ৯ মাস বয়সে ১৩ ই মে ১৯৪৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১,১৭৫.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কে?
  1. ক) কায়কোবাদ
  2. খ) গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. গ) কাজী নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।
- তার কাব্যগ্রন্থ হলো- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,১৭৬.
'চাঁদের অমাবস্যা' কোন ধরনের উপন্যাস? 
  1. রোমান্টিক 
  2. রাজনৈতিক 
  3. সামাজিক 
  4. মনস্তাত্ত্বিক 
ব্যাখ্যা

• 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস:
- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত “চাঁদের অমাবস্যা” একটি মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস। 
- চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসে আরেফ আলী নামের একজন স্কুল মাস্টারকে অবলম্বন করে মানুষের অন্তর জীবনের জটিলতা উল্লেখ প্রসঙ্গে সামন্ত-সমাজ প্রভাবিত গ্রামীণ জীবনের নানা অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন।
- একটি অপরাধমূলক কাজের প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আরেফের মনোগত ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এই উপন্যাসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।

---------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌ রচিত গল্পগ্রন্থ:
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

নাটক:
- সুড়ঙ্গ,
- তরঙ্গভঙ্গ,
 - উজানে মৃত্যু ইত্যাদি। 

উপন্যাস:
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৭৭.
'ধনপতি' চরিত্রটি পাওয়া যায় কোন গ্রন্থে?
  1. ক) অন্নদামঙ্গল
  2. খ) চন্ডীমঙ্গল
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) ধর্মমঙ্গল
ব্যাখ্যা
- 'ধনপতি' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের চরিত্র। 

- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চন্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

অন্যদিকে,
মনসামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মনসা, চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর, সনকা।
অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র: মানসিংহ, ভবানন্দ, বিদ্যাসুন্দর, মালিনী, ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৭৮.
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী নাটক কোনটি?
  1. সুড়ঙ্গ
  2. তরঙ্গভঙ্গ
  3. নয়নচারা
  4. বহিপীর
ব্যাখ্যা

• ‘তরঙ্গভঙ্গ’ নাটক:
- সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ্‌র পাশ্চাত্যরীতি অনুসারী এবসার্ডধর্মী অস্তিত্ববাদী একটি নাটক ‘তরঙ্গভঙ্গ’।
- অভাব-দারিদ্র্যের পরিপ্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, ঘাত-প্রতিঘাত এ নাটকে প্রতিফলিত হয়েছে।
- এ নাটকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো হচ্ছে- বাদী মৌলবি আব্দুস সাত্তার, সাক্ষী মতলুব আলী।

- মৌলবি আবদুল সাত্তার নেওলাপুরী বিচারকের কাছে দরিদ্র চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী গৃহবধূ আমেনার বিরুদ্ধে শিশু স্বামী হত্যার অভিযোগ আমেনা অভাবের তাড়নায় অসুস্থ স্বামী কুতুব শেখকে চিকিৎসা করাতে না পেরে  সে ধুতরার বিষ পান করিয়ে স্বামী হত্যা করে। আর চারটি শিশুর আহার সংস্থান করতে না পেরে ছোটটিকেও সে মেরে ফেলে। বিচারক এর বিচার করতে বসেন।

- এ নাটকের একটি সংলাপ ‘ভেবেছিলেন জজ  সাহেব ঘুমিয়েছিল? না, জজ কখনো ঘুমান না।’

----------------------
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• তাঁর রচিত নাটক:
- বহিপীর,
- তরঙ্গভঙ্গ,
- সুড়ঙ্গ,
- উজানে মৃত্যু।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- লালসালু।
- চাঁদের অমাবস্যা।
- কাঁদো নদী কাঁদো।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নয়নচারা।
- দুই তীর ও অন্যান্য গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১১,১৭৯.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2.  আগুনের পরশমণি
  3. শ্যামল ছায়া
  4. কোথাও কেউ নেই
ব্যাখ্যা

হুমায়ূন আহমেদ:
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রাম।
- তাঁর পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ এবং মা আয়েশা আখতার খাতুন (বর্তমানে আয়েশা ফয়েজ নামে পরিচিত)।
- তিনি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস:
- জোছনা ও জননীর গল্প,
- আগুনের পরশমণি,
- শ্যামল ছায়া,
- সৌরভ,
- অনীল বাগচীর একদিন।
উল্লেখ্য,
- 'কোথাও কেউ নেই' হুমায়ূন আহমেদ রচিত নাটক।
- এটি প্রথমবার ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এর উল্লেখযোগ্য চরিত্র- বাকের ভাই, মুনা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

১১,১৮০.
‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ গ্রন্থে মূলত কাদের আগমনের পদধ্বনিকে বোঝানো হয়েছে?
  1. পাক হানাদার বাহিনীর
  2. ব্রিটিশ সেনাদের
  3. মুক্তিবাহিনীর
  4. শান্তিবাহিনীর
ব্যাখ্যা

'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কাব্যনাট্য:
- ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ সৈয়দ শামসুল হক রচিত মুক্তযুদ্ধবিষয়ক কাব্যনাট্য। এটি বাঙালির মুক্তির চেতনায় উজ্জীবন মূলক নাটক।
- নাটকটিতে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ শত্রু মুক্ত হওয়ার সময়কালে একটি প্রত্যন্ত গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় মূলত মুক্তিযোদ্ধাদের আগমনের পদধ্বনি।

সৈয়দ শামসুল হক:
- সৈয়দ শামসুল হক মূলত একজন লেখক ছিলেন।
- তিনি ১৯৩৫ সালে ২৭ ডিসেম্বর; কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যনাট্যগুলো হলো:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- নূরলদীনের সারা জীবন,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৮১.
কবীন্দ্র পরমেশ্বর রচিত মহাভারত গ্রন্থটির নাম কী?
  1. বিজয়পাণ্ডবকথা
  2. ছুটি খানী মহাভারত
  3. ভারতমাতা
  4. শ্রীরামপাঁচালী
ব্যাখ্যা
মহাভারত:
- মহাভারত সংস্কৃত ভাষায় রচিত ক্লাসিক মহাকাব্য।
- মূল রচয়িতা - কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব।
- প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন - কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- তিনি পরাগল খাঁর উৎসাহে প্রথম অনুবাদ করেছিলেন বলে এর নাম - পরাগলী মহাভারত।
- অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর অনুবাদকৃত গ্রন্থটির নাম দিয়েছিলেন - বিজয়পাণ্ডবকথা অথবা ভারতপাঁচালী।

উল্লেখ্য,
- কবীন্দ্র পরমেশ্বরের পর শ্রীকর নন্দী মহাভারত অনুবাদ করেন (ছুটি খানী মহাভারত)
- মহাভারতের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক - কাশীরাম দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮২.
একটি মঙ্গল কাব্যে সাধারণত কতটি অংশ থাকে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৯টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের বিশ্বাসমতে, দেবদেবীর মাহাত্ম্য নির্ভর যে কাব্য রচনা, পাঠ ও শ্রবণ করলে নিজের, প্রতিবেশীর ও সমাজের মঙ্গল বা কল্যাণ সাধন হয় তাকে মঙ্গলকাব্য বলে। 
- মঙ্গল কাব্যের প্রধান শাখা ৩টি।  
-  মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পয়া যায়। 

• একটি সম্পূৰ্ণ মঙ্গলকাব্যের সাধারণত ৫টি অংশ থাকে।  
- বন্দনা, 
- আত্মপরিচয়, 
- দেবখন্ড,  
- মর্ত্যখন্ড,  
- শ্রুতিফল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৮৩.
শেখ ফয়জুল্লাহ কত শতকের কবি?
  1. পনের শতক
  2. ষোলো শতক
  3. সতের শতক
  4. আঠার শতক
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- তিনি ১৬শ শতক মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসাত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত সাহিত্যকর্ম:
- গোরক্ষবিজয়,
- গাজীবিজয়,
- সত্যপীর,
- জয়নবের চৌতিশা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৮৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহাকাব্য কোনটি?
  1. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  2. বৃত্রসংহার
  3. মেঘনাদবধ কাব্য
  4. কুরুক্ষেত্র
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য:
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনি অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন।
- ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে।
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।
- মেঘনাদবধ কাব্যের একটি পঙ্‌ক্তিতে দত্তকুলোদ্ভব কবি শ্রীমধুসূদন ছদ্মনামের উল্লেখ রয়েছে।

• কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র হলো: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১,১৮৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন রচনাটি অপরগুলি থেকে ভিন্নধর্মী?
  1. ক) দেনা পাওনা
  2. খ) হৈমন্তী
  3. গ) ছুটি
  4. ঘ) অপরিচিতা
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পে যৌতুক প্রসঙ্গসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার কথা উঠেছে। 
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬টি যৌতুক বিষয়ের গল্প পাওয়া যায়- 
গল্পগুলো যথাক্রমে—‘দেনা পাওনা’, ‘কঙ্কাল’, ‘স্বর্ণমৃগ’, ‘সুভা’, ‘প্রায়শ্চিত্ত’, ‘মানভঞ্জন’, ‘ঠাকুরদা’, ‘দুর্বুদ্ধি’, ‘যজ্ঞেশ্বরের যজ্ঞ’, ‘নষ্টনীড়’, ‘পণরক্ষা’, ‘হৈমন্তী’, ‘অপরিচিতা’, ‘স্ত্রীর পত্র’, ‘তপস্বিনী’ ও ‘পাত্রপাত্রী’।

অপরদিকে 'ছুটি' ছোটগল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফটিক চক্রবর্তী নামে এক কিশোরের করুণ পরিণতি বর্ণনা করেছেন।

উৎস: ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং দৈনিক পত্রিকা।
১১,১৮৬.
শামসুর রাহমান রচিত কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. অক্টোপাস
  2. অদ্ভুত আঁধার এক
  3. নিরালোকে দিব্যরথ
  4. এলো সে অবেলায়
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান রচিত কিছু উপন্যাস:
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- অক্টোপাস,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

'অক্টোপাস' উপন্যাস:
- 'অক্টোপাস' উপন্যাসের রচয়িতা - শামসুর রাহমান। ১৯৮৩ সালে উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়।
- অক্টোপাস উপন্যাসজুড়ে রয়েছে দাম্পত্য সংকট, প্রেম, পরকীয়া ও ব্যক্তি অস্তিত্বের জলন্ত স্ফূরণ।

• ‘অদ্ভুত আঁধার এক’ উপন্যাস:
- ‘অদ্ভুত আঁধার এক’  শামসুর রাহমান রচিত একটি উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

‘এলো সে অবেলায়’ উপন্যাস:
- ‘এলো সে অবেলায়’ শামসুর রাহমান রচিত একটি - উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• শামসুর রাহমানের রচিত 'নিরালোকে দিব্যরথ' একটি কাব্যগ্রন্থ।
- এটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১,১৮৭.
চর্যার সর্বশেষ রচয়িতা হিসেবে অনুমান করা হয় কাকে?
  1. ডোম্বীপা
  2. সরহপা
  3. চাটিল্পপা
  4. আর্যদেবপা
  5. তন্ত্রীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যার সর্বশেষ রচয়িতা বিষয়ক আলোচনা:
সর্বশেষ চর্যা রচয়িতা কে, বলা শক্ত। দারিকপাদ লুইপার শিষ্য বলে কথিত আছে। কিন্তু দারিকপাদ তিব্বতী ঐতিহ্য অনুসারে দীক্ষা-গ্রহণের পূর্বে রাজা ছিলেন ইন্দ্রপাল।

আর ইন্দ্রপাল নামের একজন রাজা ছিলেন কামরূপে, ১০৩০ খ্রী. তিনি সিংহাসনে বসেন। এই রাজা ইন্দ্রপালই যদি দারিকপাদ হন তবে তিনি লুইপার শিষ্য হতে পারেন না। লুইপার শিষ্য হতে গেলে তাঁর জীবনকাল অনেকখানি পূর্বের হয়ে পড়ে।

সেই হিসেবে সরহ-পাদকেই আমরা শেষ চর্যারচয়িতা বলে মনে করতে পারি। তিনি কাম-রূপের রাজা রত্নপালের (১০০০-১০৩০ খ্রী,) দীক্ষাগুরু ছিলেন।

-------------------
• চর্যার আদি পদকর্তা বিষয়ক আলোচনা:
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী আদি পদকর্তা হিসেবে লুইপার নাম উল্লেখ করেছেন। চর্যাপদের প্রথম চর্যাটি লুইপার। এতে মনে হতে পারে চর্যাগীতিকাগুলির সংগ্রাহক লুইয়ের প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সচেতন ছিলেন।

সুকুমার সেন মনে করেন- লুই অভিসময়ের বই লিখেছিলেন। আর কোন চর্যাকর্তা বা বৌদ্ধ তান্ত্রিক সিদ্ধাচার্য বিশুদ্ধ বৌদ্ধ দর্শনের বই লিখেননি। এখানেও লুইয়ের প্রাচীনত্বের প্রমাণ।

লুইপার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে কেউই সন্দেহ প্রকাশ করেন না। তবে অন্যবিধ প্রমাণের সাহাযো- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, দেখিয়েছেন শবরপা ছিলেন লুইপার গুরু, এবং কিঞ্চিৎ পূর্ববর্তী। তাই শবরপাকেই প্রথম রচয়িতা মনে করা যেতে পারে। তারপরই অবশ্য লুইপা।

উৎস: ‘চর্যািগীতিকা’ মুহম্মদ আবদুল হাই।
১১,১৮৮.
শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জলাংগী
  2. আর্তনাদ
  3. নেকড়ে অরণ্য
  4. দুই সৈনিক
ব্যাখ্যা
• 'আর্তনাদ' উপন্যাস:
- দেশভাগের পর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারে দগ্ধ জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ ঔপন্যাসিক শওকত ওসমানের লেখা উপন্যাসের নাম- আর্তনাদ।
- 'আর্তনাদ' শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস। এটি প্রথম ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন প্রগতিশীল চিন্তা-চেতনায় বেড়ে ওঠা জনগোষ্ঠী ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাচীন চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ও ধর্মাশ্রয়ী শাসকগোষ্ঠীর আচরণ- এই দুই মেরুদণ্ডে গড়ে উঠেছে এ উপন্যাসের কাঠামো।

- অপেক্ষাকৃত দুর্বল মেরুদণ্ডটির ভাঙন শুরু হলো একুশের চেতনার মধ্য দিয়ে। যার ফলপ্রসূ সমাপ্তি ঘটল একাত্তরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে। এ ভূখণ্ডে শহুরে সভ্যতার সূচনালগ্নের তরুণ আলী জাফর এই উপন্যাসের ব্যক্তি চরিত্র। আলী জাফরের মতো তখন গ্রাম ছেড়ে শহরে আসছে শত শত মানুষ, যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো-
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাংগী ইত্যাদি।

------------------
শওকত ওসমান রচিত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা হলো- 
• উপন্যাস:
- জননী,
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি,
- রাজা উপাখ্যান,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- আর্তনাদ,
- রাজপুরুষ। 

• গল্পগ্রন্থ:
- জুনু আপা ও অন্যান্য গল্প,
- মনিব ও তাহার কুকুর,
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দ্বী। 

• প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ভাব ভাষা ভাবনা,
- সংস্কৃতির চড়াই উৎরাই,
- মুসলিম মানসের রূপান্তর। 

• নাটক:
- আমলার মামলা,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা। 

• শিশুতোষ গ্রন্থ:
- ওটেন সাহেবের বাংলো,
- মস্কুইটোফোন,
- ক্ষুদে সোশালিস্ট,
- পঞ্চসঙ্গী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'আর্তনাদ' উপন্যাস শওকত ওসমান।
১১,১৮৯.
“বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা” কবিতার রচয়িতা-
  1. সুফিয়া কামাল
  2. শামসুর রাহমান
  3. আল মাহমুদ
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

- "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে শামসুর রাহমান রচনা করেন।

• শামসুর রাহমান: 

- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, 'প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে'-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। 
- কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে। 
- 'বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা' নামে বিখ্যাত কবিতা লিখেন তিনি।
- "বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা" ১৯৬৮ সালে অভিন্ন রোমান হরফে পাকিস্তানের সব ভাষার বর্ণমালা লেখার প্রস্তাব করার প্রেক্ষিতে লেখা।

•  শামসুর রাহমান রচিত বিখ্যাত কিছু কবিতা: 
- "হাতির শুড়" স্বৈরশাসক আয়ুব খানকে বিদ্রূপ করে লেখা। 
- "টেলেমেকাস" ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু কারাবন্দী হলে তাকে উদ্দেশ্য করে লেখা। 
- "আসাদের শার্ট" গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গুলিতে আসাদ নিহত হলে তার রক্তমাখা শার্ট নিয়ে মিছিল দেখে লেখা। 
- "স্বাধীনতা তুমি", "তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা" ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত কিছু কাব্যগ্রন্থ: 
- রৌদ্র করোটিতে, 
- বিধ্বস্ত নীলিমা, 
- বন্দী শিবির থেকে, 
- অন্ধকার থেকে আলোয়, 
- হরিণের হাড়, 
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

তথ্যসূত্র: শামসুর রাহমান এর কবিতা সংকলন; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১১,১৯০.
কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় কত বঙ্গাব্দে?
  1. ১৩০৭ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩০৯ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩১৬ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৩ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রয়েল লাইব্রেরি থেকে ১৯০৭ সালে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ।
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- চর্যাপদ গ্রন্থের প্রথম পদটির রচয়িতা লুইপা।
- ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯১.
'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বন্দে আলী মিয়া
  3. গ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) মোহাম্মদ মোজ্জাম্মেল
ব্যাখ্যা
- 'আদর্শ হিন্দু হোটেল' উপন্যাসটি রচনা করেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

• আদর্শ হিন্দু হোটেল:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস 'আদর্শ হিন্দু হোটেল'। 
- বিভূতিভূষণের বাস্তব অভিজ্ঞতার মানুষ, আদর্শ হিন্দু হোটেল উপন্যাসের প্রধান চরিত্র হাজারি ঠাকুরের অপূর্ণ স্বাদ ও আকাঙ্খাকেই উপন্যাসে রূপদানের প্রয়াস করা হয়েছে।
- নিজের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজে যেমন প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তেমনিভাবে লাভ করেছেন মানুষের ভালোবাসা। 
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯২.
'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মেজর শরিফুল হক ডালিম
  2. মেজর রফিকুল ইসলাম
  3. মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল
  4. কর্নেল আবু তাহের
ব্যাখ্যা
• 'অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা' গ্রন্থটির রচয়িতা - মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল

মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল: 

- তিনি একজন সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিক।
- বরিশাল জেলার উজিরপুরে ১৯৪২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর জন্ম।
- আবদুল জলিল ১৯৬২ সালে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে ট্রেনী অফিসার হিসেবে যোগ দেন।
- তাঁকে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নভেম্বর মাসে তাঁকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

তাঁর রচিত রাজনীতি বিষয়ক গ্রন্থ:
- সীমাহীন সময়,
- দৃষ্টিভঙ্গী ও জীবন দর্শন,
- সূর্যোদয়,
- অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৩.
চর্যাপদের কোন কবি তার রচিত পদে 'পদ্মানদী'র কথা বলেছেন?
  1. ঢেণ্ডনপা
  2. ভুসুকুপা
  3. শবরপা
  4. বীণাপা
ব্যাখ্যা
• ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আঁটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন। তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- তার রচিত ৪৯ নং পদে পদ্মা নদী (পঁঊআ খাল) এবং 'বঙ্গাল' দেশ ও 'বঙ্গালী'র কথা বলেছেন।
- 'আপনা মাংসেঁ হরিণা বৈরী' (৬ নং পদ) পদের রচয়িতা ভুসুকপা।

৪৯ নং পদ এর কিছু অংশ- 
"বাজ ণাব পাড়ী পউআ খালে' বাহিউ৷৷
অদঅ বঙ্গাল দেশ লুড়িউ ধু।।
আজি ভুসুকু বঙ্গালী ভইলী।
ণিঅ ঘরিণী চন্ডালে লেলী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, চর্যাগীতিকা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা ।
১১,১৯৪.
‘কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ’ কোন লিপিতে মুদ্রিত হয়েছিল?
  1. আরবি
  2. রোমান
  3. ইংরেজি
  4. বাংলা
ব্যাখ্যা
কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ:
- এটি মনোএল দ্য আসসুম্পসাঁউ পর্তুগিজ খ্রিষ্টান মিশনারি কর্তৃক রচনা করেন।
- ১৭৪৩ খ্রিষ্টাব্দে লিসবন শহর থেকে রোমান লিপিতে মুদ্রিত হয়।
- গুরুশিষ্যের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে খ্রিষ্টধর্মের মহিমা কীর্তন এই গ্রন্থের লক্ষ্য।

মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ:
- তিনি একজন পর্তুগিজ ছিলেন।
- তিনি ছিলেন একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক।
- মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ এর আগে কেউ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করেননি।
- ১৭৪৩ সালে মনোএল দা আসসুম্পসাঁউ দুটি বাংলা গ্রন্থ রচনা ও মুদ্রণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ দুটি হলো:
- কৃপা শাস্ত্রের অর্থভেদ
- ভোকাবুলিরও এম ইদিওমা বেনগল্লা ই পোরতুগিজ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৫.
শামসুর রাহমানের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. ক) ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা
  2. খ) নিরালোকে দিব্যরথ
  3. গ) রৌদ্র করোটিতে
  4. ঘ) পারাপার
ব্যাখ্যা
শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান ও একজন নাগরিক কবি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ-
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম প্রকাশিত),
- বন্দী শিবির থেকে (স্বাধীনতা তুমি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা কবিতা দুটি এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত)
- রৌদ্র করোটিতে,
- আমি অনাহারী,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- এক ধরনের অহংকার,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড় ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯৬.
নিচের কোনটি পৌরাণিক নাটক?
  1. হরিশচন্দ্র
  2. সাজাহান
  3. রূপান্তর
  4. শ্রীমধুসূদন
ব্যাখ্যা

• বিভিন্ন মাপকাঠির আলোকে নাটককে নানাভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যায়। বিষয় অনুসারে আমরা নাটককে প্রধান চারটি ভাগে বিভক্ত করতে পারি। এই বিভাগগুলো নিম্নরূপ—
১. পৌরাণিক নাটক, 
২. ঐতিহাসিক নাটক, 
৩. সামাজিক নাটক, 
৪. চরিতমূলক নাটক। 

• পৌরাণিক নাটক:
পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে কেন্দ্র করে যখন কোন নাটক রচিত হয়, তখন তাকে পৌরাণিক নাটক বলে। রামায়ন, মহাভারত, ভাগবত পুরাণ বা অন্য কোন ধর্মমূলক কাহিনী অবলম্বনে পৌরাণিক নাটক লিখিত হয়। পৌরাণিক কোন কাহিনী বা চরিত্রকে সমকালীন জীবন ও চিন্তার সঙ্গে একাত্ম করার মধ্যেই এ ধরনের নাটকের সার্থকতা নিহিত। Byron এর The Four P'S গিরিশচন্দ্রের ‘জনা’, অমৃতলালের ‘হরিশচন্দ্র', দ্বিজেন্দ্রলালের ‘সীতা, মম্মথ রায়ের 'কারাগার ইত্যাদি পৌরাণিক নাটকের উদাহরণ।

• ঐতিহাসিক নাটক:
অতীতের কোন ঘটনা বা ইতিহাসের কোন চরিত্র অবলম্বনে যখন নাটক লিখিত হয়, তাকে ঐতিহাসিক নাটক বলে। এ ধরনের নাটকে নাট্যকারকে ঐতিহাসিক সত্য অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়, তবে নাটকের প্রয়োজনে তিনি একাধিক কল্পিত চরিত্র বা ঘটনার অবতারণা করতে পারেন। ঐতিহাসিক ঘটনাকে বর্তমানের মানবভাগ্যের সঙ্গে একাত্মকরে নেওয়ার মধ্যেই এ জাতীয় নাটকের সার্থকতা নিহিত। শেক্সপীয়রের Henry IV দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘সাজাহান’, শচীন সেনগুপ্তের 'সিরাজউদ্দৌলা', সিকান্দার আবু জাফরের ‘সিরাজ-উ-দ্দৌলা' প্রভৃতি ঐতিহাসিক নাটকের উদাহরণ।

• সামাজিক নাটক: 
সমাজের কোন সমস্যা নিয়ে রচিত নাটককে সামাজিক নাটক বলা হয়। সামাজিক নাটকে সমাজের মৌল প্রবণতা এবং নানা অনুষদের প্রতি নাট্যকারকে সতর্ক থাকতে হয়। এ ধরনের নাটকে সমাজের দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও বিরোধ দেখা দেয়- পরিণতিতে অশুভ পতন দেখানো হয়। বার্নার্ড শ'র Heart-break House দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ, নুরুল মোমেনের ‘রূপান্তর' প্রভৃতি সামাজিক নাটকের উদাহরণ।

• চরিতমূলক নাটক:
বিশেষ কোন ব্যক্তিত্বের চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয় চরিতমূলক নাটক। চরিত্রমূলক নাটকে যে ব্যক্তিত্বের জীবন নিয়ে নাটক লেখা হয়, নাট্যকার তার জীবনের বাস্তব ঘটনার সঙ্গে কিছু কল্পনারও আশ্রয় নিয়ে থাকেন। তবে এ ব্যাপারে নাট্যকারকে খুবই সচেতন থাকতে হয়, যেন কল্পনার অংশটুকু বিশেষ ব্যক্তিত্বকে বিবর্ণ না করে। বনফুলের ‘শ্রীমধুসূদন' ও 'বিদ্যাসাগর’, মহেন্দ্র গুপ্তের ‘মাইকেল' প্রভৃতি চরিতমূলক নাটকের উদাহরণ।

উল্লেখ্য, 
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড মাহাবুবুল আলম এর বই অনুসারে নাটক বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. পৌরাণিক নাটক, ২. ঐতিহাসিক নাটক,  ৩. সামাজিক নাটক। 

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথমপত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,১৯৭.
'সংবাদ প্রভাকর’ কবে দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয়?
  1. ১৮৩১
  2. ১৮৫৯
  3. ১৮৩৯
  4. ১৮৪৭
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১১,১৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. বাংলা গীতাঞ্জলি
  2. সোনার তরী
  3. Song offerings
  4. সঞ্চয়িতা 
ব্যাখ্যা
• কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে ইংরেজি গীতাঞ্জলি বা Song offerings গ্রন্থ এর জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ইংরেজী Song offerings গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন W.B. Yeats
- বাংলা গীতাঞ্জলি কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৯১০ সালে।
- এর অবলম্বনে ইংরেজী গ্রন্থ Song offerings ১৯১২ সালে ইংল্যান্ডে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার দেয়া হয়না।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
১১,১৯৯.
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমান সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য রচনা কোনটি?
  1. মঙ্গলকাব্য
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান
  4. নাথ সাহিত্য
ব্যাখ্যা
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:
- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন:
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,২০০.
'মৈমনসিংহ গীতিকা'য় মোট কয়টি গীতিকা বা পালা স্থান পেয়েছে?
  1. ১২টি
  2. ১০টি
  3. ১৫টি
  4. ২২টি
ব্যাখ্যা

মৈমনসিংহ গীতিকা: 
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে - মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন।
- গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
-  মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়।
- মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে, যথা:
- মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, কমলা, দেওয়ান ভাবনা, দস্যু কেনারামের পালা, রূপবতী, কঙ্ক ও লীলা, কাজলরেখা ও দেওয়ানা মদিনা। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।