বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০৮ / ২১১ · ১০,৭০১১০,৮০০ / ২১,১৩২

১০,৭০১.
কৃত্তিবাস রামায়ণের অন্য নাম কী?
  1. রামাভিষেক
  2. শ্রীরাম পাঁচালি
  3. রামবিলাস
  4. রামচরিতমানস
ব্যাখ্যা
কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঁচালি'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭০২.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত গ্রন্থ?
  1. গুলে বকাওলী
  2. চন্দ্রাবতী
  3. পদুমাবৎ
  4. পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন:
- জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ইউরোপীয় ভারততত্ত্ববিদ। ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে তাঁর জন্ম।
- ভারতীয় ভাষা শিক্ষা ও অনুশীলনে বিশেষভাবে উৎসাহী ছিলেন।
-  ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তাঁর মৈথিলী ভাষার ব্যাকরণ An Introduction of the Maithili Language of North India এবং এ সংক্রান্ত আলোচনা।
- এ ছাড়া ১৮৮৩-৯০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে গ্রিয়ারসন রচিত বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language আট খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

কাশ্মিরি ভাষা সম্পর্কে তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- Essays on Kashmiri Grammar.
- A Manual of the Kashmiri Language.
- A Dictionary of the Kashmiri Language.

তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- The Kashmiri Ramayana.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭০৩.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. অরণ্যবহ্নি
  2. কাঠকয়লার ছবি
  3. দীপনির্বাণ
  4. কালকেতু ও ফুল্লুরা
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাসের নাম- দীপনির্বাণ। 

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়। 

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ।
- মেবার রাজ।
- মালতী।
- বিদ্রোহ।
- বিচিত্রা।
- স্বপ্নবাণী।
- মিলনরাত্রি।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা।
- কবিতা ও গান।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব।
- দেব কৌতুক।

অন্যদিকে,
কালকেতু ও ফুল্লুরা, কাঠকয়লার ছবি - সেলিনা হোসেন রচিত উপন্য্যাস। 
'অরণ্যবহ্নি' উপন্যাসের রচয়িতা তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৪.
'দাঙ্গা' গল্পটির লেখক কে?
  1. ক) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  2. খ) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. গ) সোমেন চন্দ
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
- সোমেন চন্দ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম, 'ইন্দ্রকুমার সোম।'
- তাঁর রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৫.
"মেঘনাদবধ কাব্য" কত সালে প্রকাশিত হয় ?
  1. ক) ১৮৫০ সালে
  2. খ) ১৮৫৩ সালে
  3. গ) ১৮৬১ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৪ সালে
ব্যাখ্যা

মেঘনাদবধ কাব্য মাইকেল মধুসূদন দত্তের মহাকাব্য। মেঘনাদবধ কাব্য ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
মেঘনাদবধ কাব্য মধুসূদনের অসাধারণ আবেগঘন, উচ্ছ্বাসপূর্ণ, রসোজ্জ্বল, মননশীল এবং শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী ব্যক্তিত্বের অনুকরণীয় প্রতিফলন।
মেঘনাথ বধ কাব্যের প্রধান চরিত্র গুলো হলো :--
- রাবণ
- মেঘনাদ
- লক্ষণ
- রাম
- প্রমীলা
- বিভীষণ
- সীতা
- সরমা
[উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া]

১০,৭০৬.
চর্যাপদের বিলুপ্ত পদসমূহের মধ্যে কুক্কুরীপা রচিত পদ কোনটি?
  1. ২৩নং
  2. ২৪নং
  3. ২৫নং 
  4. ৪৮নং
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের পদ সংখ্যা সম্পর্কিত আলোচনা:
- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
- চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
- উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

- অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে
- ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
- এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭০৭.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  3. আজিজননেহার
  4. সবকটি
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৮.
'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র কোনটি?
  1. সিকদার
  2. আরেফিন
  3. তিশনা
  4. সেলিনা
ব্যাখ্যা
• কাশবনের কন্যা:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত উপন্যাস ‘কাশবনের কন্যা’।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৫৪ সালে।
- শামসুদ্দীন আবুল কালামের 'কাশবনের কন্যা' উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দুঃখ দারিদ্রতা থাকলেও গ্রামেই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত চিত্রায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের চরিত্র সমূহ: সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান ইত্যাদি।

• শামসুদ্দীন আবুল কালাম:
- শামসুদ্দীন আবুল কালাম ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দের আগস্ট মাসে বরিশালের নলছিটি থানার কামদেবপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুদ্দীন বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯৪১), ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই.এ (১৯৪৩) এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ (১৯৪৬) পাস করেন।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- আলমনগরের উপকথা,
- কাঞ্চনমালা,
- জায়মঙ্গল,
- কাঞ্চনগ্রাম,
- পুঁই ডালিমের কাব্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১০,৭০৯.
'ইছামতী' উপন্যাসের মূল উপজীব্য কী?
  1. নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা
  2. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  3. প্রেম ও পারিবারিক সম্পর্ক
  4. দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
'ইছামতী' উপন্যাস:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস 'ইছামতী' প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। এটি রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করে।
- ইছামতী নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষের জীবনকথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র ভবানী বাঁড়ুয্যে কিংবা তার পুত্রত্রয় তিলু, বিলু, নীলু লেখকের নিজের অভিজ্ঞতায় দেখা মানুষ।
- একান্ত অন্তরঙ্গ ভাবমূর্তিতে এদেরকে তিনি গড়ে তুলেছেন। গয়া মেম অন্যতম উল্লেখযোগ্য চরিত্র। রাজারাম দেওয়ান পরম সাত্ত্বিক ব্রাহ্মণ, কিন্তু ইংরেজের চাকরিতে প্রতিষ্ঠিত হতে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরি করেছে।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১২ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁচরাপাড়ার নিকটবর্তী ঘোষপাড়া-মুরারিপুর গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম।
- ১৩২৮ বঙ্গাব্দের (১৯২১) মাঘ প্রবাসীতে প্রথম গল্প ‘উপেক্ষিতা’ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বিভূতিভূষণের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
- বাংলা কথাসাহিত্যে শরৎচন্দ্রের পরে বিভূতিভূষণই সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সাহিত্যিকের মর্যাদা পেয়েছেন।
- হেমন্তকুমার গুপ্তের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি দীপক (১৯৩২) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পথের পাঁচালী,
- অপরাজিত,
- অশনি সংকেত,
- আরণ্যক,
- আদর্শ হিন্দু হোটেল,
- দেবযান,
- ইছামতী,
- দৃষ্টি প্রদীপ,
- বিপিনের সংসার,
- চাঁদের পাহাড়,
- দম্পতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- মেঘমল্লার,
- মৌরীফুল,
- যাত্রাবদল,
- কিন্নরদল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়িা।
১০,৭১০.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের প্রাচীন কবি কে?
  1. লুইপা
  2. শবরপা
  3. কাহ্নপা
  4. ভুসুকুপা
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ হলো প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকলন।
- এটি মূলত ৬৫০–১২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত পদ, গান বা গীতিকবিতার সংকলন।
- চর্যাপদ  সহজিয়া বৌদ্ধ সাধনাসংগীত হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
- চর্যাপদের ভাষা ‘সন্ধ্যা ভাষা’, অর্থাৎ রূপক ও সংকেতধর্মী।
- এতে ধর্মীয় ভাবধারা, লৌকিক জীবনের সরল চিত্র এবং নৈতিক শিক্ষা ফুটে ওঠে। 

- বাংলা সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ যেহেতু চর্যাপদ;
- এবং এই গ্রন্থের ৫১ টি পদের প্রথম পদের রচয়িতা যেহেতু লুইপা;
- তাই লুইপাকে বাংলা সাহিত্যের আদি কবি বলা হয়। 

- তবে শহীদুল্লাহর মতে প্রাচীন কবি শবরপা।
- লুইপা চর্যাপদের প্রথম পদ রচয়িতা হলেও, শহীদুল্লাহর মতে, লুইপা শবরপার শিষ্য ছিলেন।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, শবরপা লুইপার গুরু এবং নাগার্জুনের শিষ্য ছিলেন।
- শহীদুল্লাহ শবরপাকে তাই আগে স্থাপন করেন।
- তিনি ধারণা করেন, শবরপা বাংলাদেশের লোক
- এবং চর্যাপদের ২৮ ও ৫০ নং পদ দুটি রচনা করেছেন।

উৎস:
লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  

১০,৭১১.
'বিষাদ-সিন্ধু' কার রচনা?
  1. কায়কোবাদ
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. মোজাম্মেল হক
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা
• ‘বিষাদ-সিন্ধু’ উপন্যাস:
- মীর মশাররফ হোসেনের খ্যাতি মূলত এ গ্রন্থটির জন্যেই। 'বিষাদ-সিন্ধু' (১৮৮৫- '৯১) একটি ইতিহাস আশ্রিত উপন্যাস।
- হাসান ও হোসেনের সঙ্গে দামেস্ক অধিপতি মাবিয়ার একমাত্র পুত্র এজিদের কারবালা প্রান্তরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং ইমাম হাসান-হোসেনের করুণ মৃত্যুকাহিনি 'বিষাদ-সিন্ধু' গ্রন্থে বর্ণিত মূল বিষয়।
- মূল ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা থাকলেও গ্রন্থটিতে ইতিহাসের অন্ধ অনুসরণ করা হয় নি।
- 'বিষাদ-সিন্ধু' উপন্যাসটি 'মহরম পর্ব্ব' (১৮৮৫), 'উদ্ধার পর্ব্ব' (১৮৮৭) ও 'এজিদ-বধ পর্ব্ব' (১৮৯১) এই তিনটি পর্বে সম্পন্ন হয়েছে।
- গ্রন্থটি উপক্রমণিকা ও উপসংহারসহ মোট তেষট্টিটি 'প্রবাহ' অর্থাৎ অধ্যায় নিয়ে লিখিত।
- তন্মধ্যে 'মহরম পর্ব্বে' উপক্রমণিকা ও ছাব্বিশটি প্রবাহ, 'উদ্ধার পর্ব্বে' ত্রিশটি প্রবাহ, 'এজিদ-বধ পর্ব্বে' পাঁচটি প্রবাহ ও উপসংহার-অংশ রয়েছে।
- প্রথমত ইসলাম ধর্ম সম্পর্কিত স্পর্শকাতর কাহিনি সাধারণ মুসলিম পাঠকের কাছে এর জনপ্রিয়তার প্রধান কারণ।
- দ্বিতীয়ত 'বিষাদ-সিন্ধু'র জাদুকরী রচনাগুণের জন্যে সাহিত্যরসিকজনের কাছেও গ্রন্থটি আদরণীয়।
- জয়নাবের রূপে বিমোহিত এজিদ এবং এই রূপতৃষ্ণার পরিণামে বহু মানুষের বিপর্যয় ও ধ্বংসের যে কথকতা বর্ণিত হয়েছে তা গ্রন্থটিকে সর্বজনীন করে তুলেছে।
- 'বিষাদ-সিন্ধু'র কাহিনিতে অ্যান্টি-এস্টাব্লিশমেন্ট চেতনা মূলত মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'মেঘনাদবধ কাব্য' থেকেই মীর মশাররফ হোসেন গ্রহণ করেছেন।

---------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছাত্রাবস্থায় 'সংবাদ প্রভাকর' ও কুমারখালির 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি 'আজিজননেহার' ও 'হিতকরী' নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- তিনি ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- তিনি 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'রত্নবতী'(১৮৬৯)। এটি কোন মুসলিম রচিত প্রথম বাংলা গদ্যগ্রন্থ।

• তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমিদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়। 

• তাঁর রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- গো-জীবন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১২.
'আশাকানন' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) কুসুমকুমারী দাশ
  2. খ) হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) দাউদ হায়দার
  4. ঘ) কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত কাব্য- চিন্তা তরঙ্গিনী, আশাকানন, দশমহাবিদ্যা ইত্যাদি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৭১৩.
রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার সাহিত্য কোনটি?
  1. মধুমালতী
  2. দেওয়ানা মদিনা
  3. কলিমা জালাল
  4. মদনকুমার ও মধুমালা
ব্যাখ্যা

• মুহম্মদ কবীর মধ্যযুগীয় প্রণয়োপাখ্যান রচিয়তা। ১৫৮৮ সালে 'মধুমালতী' নামে রোমান্টিক প্রণয়কাব্য রচনা করেন।

• 'মধুমালতী' কাব্য:

- মুহম্মদ কবীর হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা 'মধুমালতী' কাব্য রচনা করেন। এর রচনা কাল ১৫৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং এ কাহিনি ভারতীয়।
- রাজপুত্র মনোহর ও রাজকন্যা মধুমালতীর রূপকথাসুলভ রোম্যান্টিক প্রেম এতে বর্ণিত হয়েছে।
- মূল কাব্য অধ্যাত্ম রসাত্মক হলেও অনুবাদে তা আদি রসাত্মক কাব্যে পরিণত হয়েছে।
- কাব্যটি তৎকালে এতই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল যে, কবিরের পরবর্তী আরও ছয়জন কবি একই নামে কাব্য রচনা করেন। তবে একমাত্র সৈয়দ হামজা ব্যতীত অন্য কারও কাব্য শিল্পসফল হয়নি; আবার সৈয়দ হামজার কাব্যও কবিরের কাব্যের মতো সার্থক নয়।

অন্যদিকে, 
• রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এর অংশবিশেষ 'কলিমা জালাল'। এটি রোমান্টিক প্রণয়কাব্য ধারার গ্রন্থ নয়।
• 'দেওয়ানা মদিনা' মৈমনসিংহ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা। 
• 'মদনকুমার ও মধুমালা' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অন্তর্ভুক্ত পালা।

--------------------------
• রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান:

- 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।

এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন-
- শাহ মুহম্মদ সগীর,
- সৈয়দ সুলতান,
- আবদুল হাকিম,
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর, প্রমুখ।

'রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী,
- সতীময়না-লোর-চন্দ্রানী, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭১৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন রচিত নাটক-
  1. আলোছায়া
  2. রূপলেখা
  3. নয়া খান্দান
  4. নেমেসিস
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস' নাটক:
- 'নেমেসিস' নুরুল মোমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
- ১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মোমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
- 'নেমেসিস' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম সুরজিত নন্দী। নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
- এ নাটকে সমকালীন দুর্ভিক্ষ, মজুতদারদের পিশাচবৃত্তি ও নিরন্নদের হাহাকারের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

অন্যান্য চরিত্রগুলো হলো:
- নৃপেন বোস,
- সুলতা,
- অসীম,
- অমল বাবু,
- ইয়াকুব ইত্যাদি।

----------------
নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য বিখ্যাত নাটক:
- যদি এমন হতো,
- নেমেসিস,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৫.
’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’-এই উক্তিটি কার?
  1. ড.মনিরুজ্জামান
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. প্রমথ চৌধুরি
  4. গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- তিনি ছিলেন বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে তাঁর জন্ম।
- সবুজপত্র পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে চলিতরীতি প্রবর্তন করেন।
- এছাড়া বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিদ্রূপাত্মক প্রবন্ধ রচনা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- ছোটোগল্প ও সনেট রচনাতেও হিসেবেও তার বিশিষ্ট অবদান রয়েছে।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত পত্রিকা সবুজপত্র।
- প্রমথ চৌধুরি উক্তি: ’সুশিক্ষিত লোক মানে স্বশিক্ষিত’।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ।
- পদচারণ।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা।
- নীললোহিত ও গল্প সংগ্রহ।
- আহুতি।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি।
- বীরবলের হালখাতা।
- নানাকথা।
- নানা চর্চা।
- রায়তের কথা।
- প্রবন্ধ সংগ্রহ ( ১ম খণ্ড-১৯৫২, ২য় খণ্ড-১৯৫৩)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা,ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭১৬.
কবি সাংবাদিক আবুল হাসান কোন পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) জনকন্ঠ
  2. খ) ইত্তেফাক
  3. গ) গণকণ্ঠ
  4. ঘ) ঢাকা বার্তা
ব্যাখ্যা
কবি সাংবাদিক আবুল হাসান 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকার সাথে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালে 'দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকার বার্তা বিভাগে চাকরি করেন। 
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷

কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে (১৯৭২),
- যে তুমি হরণ করাে (১৯৪৭),
- পৃথক পালঙ্ক (১৯৭৫)।

তার মৃত্যুর পরে প্রকাশিত কাব্যনাট্য: ওরা কয়েকজন  (১৯৮৮);

গল্প সংকলন: আবুল হাসান গল্প সংগ্রহ (১৯৯০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭১৭.
প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয়েছে জহির রায়হানের কোন চলচ্চিত্রে?
  1. লেট দেয়ার বি লাইট
  2. বাহানা
  3. স্টপ জেনোসাইড
  4. জীবন থেকে নেয়া
ব্যাখ্যা

জীবন থেকে নেয়া:
 • 'জীবন থেকে নেওয়া' জহির রায়হান পরিচালিত একটি বিখ্যাত চলচ্চিত্র যা ১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল মুক্তি পায়।
 • চলচ্চিত্রটি পারিবারিক আবহে নির্মিত হলেও এর অন্তর্নিহিত পটভূমি ছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।

 • 'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে,
------------------
 •  জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

 •  ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর জহির রায়হান কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

 • জহির রায়হানের উর্দু ছবি 'বাহানা' ছিল একটি সিনেমাস্কোপ। এটি হলো একটি উর্দু ভাষার চলচ্চিত্র। পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র। চলচ্চিত্রটি ১৯৬৫ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

১০,৭১৮.
কোন লেখকের উপাধি 'সাহিত্যরত্ন'?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. আবুল হোসেন
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি, 
- পরিণাম, 
- গরীবের মেয়ে, 
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৭১৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত
  2. অক্ষরবৃত্ত
  3. মাত্রাবৃত্ত
  4. অর্ধবৃত্ত
ব্যাখ্যা
'সোনার তরী' কবিতা:
- 'সোনার তরী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থের নাম-কবিতা।
- এ কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবন দর্শন।
- সোনার তরী 'মাত্রাবৃত্ত' ছন্দে রচিত। এর অধিকাংশ পঙক্তি ৮+৫ মাত্রার পূর্ণপর্বে বিন্যস্ত।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'সোনার তরী' কাব্যগ্রন্থটি ১৮৯৪ সালে প্রকাশিত হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি একাধারে কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক ছিলেন।
- জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- রবীন্দ্রনাথের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারিতে।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- সোনার তরী,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপুট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২০.
‘চোরাবালি’ কী ধরনের গ্রন্থ?
  1. ক) উপন্যাস
  2. খ) কাব্য
  3. গ) নাটক
  4. ঘ) প্রবন্ধ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
কবি বিষ্ণু দে (১৯০৯-১৯৮২) পান্ডবদের একজন। তিনি মার্কসীয় দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন।
- চোরাবালি, উর্বশী ও আর্টেমিস তাঁর বিখ্যাত দুটি কাব্যগ্রন্থ।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৭২১.
'বই কেনা' রচনাটি সৈয়দ মুজতবা আলীর কোন গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. চাচা-কাহিনী
  2. পঞ্চতন্ত্র
  3. ময়ূরকণ্ঠী
  4. শবনম
ব্যাখ্যা
পঞ্চতন্ত্র:
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘পঞ্চতন্ত্র' (১৯৫২) দুই পর্বে বিভক্ত ব্যক্তিগত প্রবন্ধ সংকলন।
- প্রথম পর্বে ৩৪, দ্বিতীয় পর্বে ৩১, মোট ৬৫টি রচনার সংকলন।
- উল্লেখযোগ্য রচনা: বই কেনা, মোপাসাঁ, চেখফ্-রবীন্দ্রনাথ, বিদেশে, মেশেদিনী, অনুবাদ সাহিত্য, অর্থং অর্থং ইত্যাদি।
- এইসব প্রবন্ধ 'বসুমতী' ও 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- প্রবন্ধগুলোর মধ্যে মুজতবা আলীর বিশেষ ও সরস গদ্যশৈলীর পরিচয় মেলে। তাছাড়া বিচিত্র বিষয় প্রীতির নিদর্শন পাওয়া যায়।
- গ্রন্থটিকে রম্যসাহিত্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২২.
'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনিটি রচনা করেন কে?
  1. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

'য়ুরোপ প্রবাসীর পত্র' ভ্রমণকাহিনি:
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম ভ্রমণকাহিনি।
- চলিত ভাষায় লেখা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বইয়েই সর্বপ্রথম চলিতরীতির প্রবর্তন হয়৷
- ১৮৭৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড যান।
- সেখানে কিছুদিন ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে এবং পরে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন।
- তবে এ পড়াও সম্পূর্ণ হয়নি। দেড় বছর অবস্থানের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
- এই দেড় বছর তিনি সে দেশের সমাজ ও জীবনকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করেন।
- এর প্রমাণ পাওয়া যায় ভারতীতে প্রকাশিত তাঁর য়ুরোপ-প্রবাসীর পত্রে (১৮৮১)।

তাঁর অন্যান্য ভ্রমণকাহিনি:
- জাভা যাত্রার পত্র,
- জাপান যাত্রী,
- রাশিয়ার চিঠি,
- পারস্যে।

উৎস:
১। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২। বাংলাপিডিয়া।

১০,৭২৩.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘মধুমালা’ নাটকের চরিত্র কোনটি?
  1. মদনিকা
  2. কাঞ্চনমালা
  3. নুরু
  4. মাহবুবা
ব্যাখ্যা

• ‘মধুমালা’ গীতিনাট্য:
- মধুমালা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে রচিত নাটকটি ১৯৬০ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- মধুমালা,
- মদনকুমার,
- কাঞ্চনমালা,

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের রচিত নাটক:
- ঝিলিমিলি,
- আলেয়া,
- মধুমালা (গীতিনাট্য)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; ‘মধুমালা’ নাটক।

১০,৭২৪.
চর্যাপদ কত সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৫ সালে 
  2. ১৯০৭ সালে 
  3. ১৯১৬ সালে 
  4. ১৯২০ সালে 
ব্যাখ্যা

১৯০৭ সালে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে ‘চর্যাপদ’ আবিষ্কার করেন।
----------------------------------
• চর্যাপদ:
-  চর্যাপদ মানে হলো প্রাচীন বাংলা সাহিত্যের লিখিত প্রথম নিদর্শন।
- এটি বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাচার্যদের দ্বারা রচিত এক প্রকার সাধনমূলক গীতিকবিতা।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে আদি ও শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো চর্যাপদ।
- এটি গানের সংকলন এবং একে সাধন-সংগীতও বলা হয়।
- চর্যাপদ মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত এবং একে চর্চাগীতিকোষ বলা হয়।
- পাল শাসন আমলে এটি রচিত হয়।
- চর্যাপদকে বলা হয় সহজিয়া বা বৌদ্ধ ধর্ম অবলম্বনকারীদের সাহিত্য।
- এর ভাষা রীতি হলো কথ্য ভাষারীতি।
- ড. সুনীতিকুমারের মতে চর্যাপদের ভাষা পশ্চিম বঙ্গের উপভাষা।
- এবং ড. শহীদুল্লাহর মতে চর্যাপদের ভাষা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী অথবা প্রাচীন বাংলা ভাষা।
- চর্যাপদের ভাষাকে সন্ধ্যাভাষা ও বলা হয়।

- মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী চর্যাপদের আবিষ্কারক ও সম্পাদক ছিলেন।
- এটি ১৯১৬ সালে তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশিত হয়।
- প্রকাশিত গ্রন্থটির নাম ছিল — ‘হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা’।
- চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন — মুনিদত্ত। 

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস — মাহবুবুল আলম।

১০,৭২৫.
"জীবনস্মৃতি" কার আত্মজীবনী গ্রন্থ?
  1. জসীমউদ্‌দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
জীবনস্মৃতি: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আত্মজীবনী গ্রন্থ। ১৯১২ সালে প্রকাশিত হয়।
- বাল্মীকিপ্রতিভা রচনার সময় থেকে কবি সম্পূর্ণভাবে গান ও কাব্য রচনায় মনোনিবেশ করেন।
- তিনি রচনা করেন সন্ধ্যাসংগীত (১৮৮২) ও প্রভাতসংগীত (১৮৮৩)। এ সময়ের অনুভূতি কবির জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা; জীবনস্মৃতিতে তিনি তা ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য,
অন্যদিকে, 
- ‘জীবন কথা’ আত্মজীবনীর লেখক - জসীমউদ্‌দীন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।  তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২৬.
পদ বা পদাবলী বলতে কি বুঝায়?
  1. লাচাড়ী ছন্দে রচিত পদ্য বা কবিতাবলী
  2. পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা
  3. বাউল বা মরমী গীতি
  4. বৌদ্ধ বা বৈষ্ণবীয় ধর্মের গূঢ় বিষয়ের বিশেষ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• পদাবলী (বিশেষ্য পদ), 
অর্থ: বৈষ্ণব ও শাক্ত গীতিকবিতা।

• পদাবলী:
পদাবলী একটি সামগ্রিক গীতি শাখা যা লোকসাহিত্য, ধর্মীয় কাব্য এবং মানবিক অনুভূতিকে সমন্বিত করে।
গীতোপযোগী ও ভণিতাযুক্ত ছন্দোবদ্ধ রচনা ‘পদ’ নামে অভিহিত। রাধাকৃষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলী বা গীতিকাব্যের ধারা।

• বৈষ্ণব পদাবলী:
বৈষ্ণব পদাবলী পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্ম এবং কৃষ্ণভক্তির উপর ভিত্তি করে লেখা হয়। এতে শ্রীকৃষ্, গোপী প্রেম, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা ও ভক্তির প্রেম প্রতিফলিত হয়।

উল্লেখ্য,
পদাবলী একটি বৃহত্তর শব্দ, যা বিভিন্ন ধরনের গান বা গীতিকাব্যকে নির্দেশ করে, সেখানে বৈষ্ণব পদাবলী বিশেষভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবিত গীতির জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং,পদ বা পদাবলী পদ্যাকারে রচিত দেবস্তুতিমূলক রচনা। 

-------------------
প্রাসঙ্গিক আলোচনা:
চৈতন্যপূর্বযুগের একটি উল্লেখযোগ্য সাহিত্যধারা হচ্ছে পদাবলি। এর শুরু চৈতন্যপূর্বযুগেই। রাধাকৃষ্ণের লীলাবিষয়ক এ সাহিত্য ভাব, ভাষা ও ছন্দে অতুলনীয়। এতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আত্মার আত্মীয়রূপে কল্পিত; তাঁর ও ভক্তের মধ্যে কোনো দূরত্ব নেই।

পরে রাধাকৃ ষ্ণের প্রণয়লীলা এবং চৈতন্যদেবের প্রেমসাধনাকে অবলম্বন করেই বিস্তার লাভ করে মধ্যযুগের পদাবলি বা গীতিকাব্যের ধারা। চৈতন্যদেবের পরবর্তী বৈষ্ণব কবিদের দ্বারা পদাবলি সাহিত্য বিশেষভাবে পরিপুষ্ট হয়। অনেকের মতে বাংলা সাহিত্যের প্রকৃত জাগরণ ঘটে এই পদাবলি রচনার মধ্য দিয়েই।

কতিপয় মুসলমানসহ অগণিত কবি রাধাকৃষ্ণলীলার পদ রচনা করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন, যেমন: চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস, লোচনদাস, গোবিন্দদাস, কবিবল্লভ রায়শেখর, বলরাম দাস, নরোত্তম দাস, নরহরি দাস, রাধামোহন ঠাকুর প্রমুখ। মিথিলার বিদ্যাপতি ছিলেন চৈতন্যপূর্ব কবি। মৈথিল ভাষায় রচিত তাঁর পদগুলি পদাবলি সাহিত্যের মূল্যবান সম্পদ। চণ্ডীদাস ও বিদ্যাপতি পদাবলি সাহিত্যের দুই সেরা কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২৭.
আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার প্রথম কবি কে?
  1. সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার
  2. দিজেন্দ্রলাল রায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’। তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেম প্রবাহিণী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৭২৮.
‘লোক লোকান্তর’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) নির্মেলেন্দু গুণ
  3. গ) আল মাহমুদ
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
• কবি আল মাহমুদের প্রকৃত নাম ‘মীর আব্দুল শুকুর আল মাহমুদ’।
• আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তিনি বাংলাদেশের অন্যতম কবি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর
- কালের কলস
- সোনালী কাবিন
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না
-দোয়েল ও দয়িতা
- বখতিয়ারের ঘোড়া
- দ্বিতীয় ভাঙ্গন
- একটি পাখি লেজ ঝোলা
- পাখির কাছে ফুলের কাছে ইত্যাদি।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭২৯.
'রাজবন্দীর চিঠি' গল্পটি কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. ব্যথার দান
  2. রিক্তের বেদন
  3. শিউলিমালা
  4. ঝিলিমিলি
ব্যাখ্যা

'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
- 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
- এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি

অন্যদিকে,
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য গল্পগ্রন্থ:
- রিক্তের বেদন, 
- শিউলিমালা।

- "ঝিলিমিলি" হলো কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম নাট্যগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৩০.
'কুহু ও কেকা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) সানাউল হক
  4. ঘ) সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ- সবিতা, সন্ধিক্ষণ, বেণু ও বীণা, কুহু ও কেকা, তুলির লিখন, হোমশিখা, অভ্র-আবীর, হসন্তিকা, বেলা শেষের গান, বিদায় আরতি।‌
- অনুবাদকাব্য- তীর্থ সলীল, তীর্থ রেণু, ফুলের ফসল, মণি মঞ্জুষা।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৭৩১.
'কবর' কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? 
  1. বালুচর
  2. সোজন বাদিয়ার ঘাট
  3. ধানখেত
  4. রাখালী
ব্যাখ্যা

রাখালী:
- জসীম উদ্‌দীনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ - রাখালী। এই কাব্যে ১৯টি কবিতা আছে।
- বিখ্যাত 'কবর' কবিতাটি এই কাব্যের অন্তর্গত।
- এই কাব্যের প্রথম কবিতা হচ্ছে 'রাখালী'।

জসীম উদ্‌দীন:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি, শিক্ষাবিদ।
-  তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীমউদ্দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসিমউদ্দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়।

তাঁর প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে,
- বালুচর,
- রাখালী, 
- রূপবতী ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৩২.
“একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্ক্তির রচয়িতা -
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. আবুল ফজল
  3. মুনীর চৌধুরী
  4. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• “একুশ মানে মাথা নত না করা” - এই অমর পঙ্‌ক্তির রচয়িতা হচ্ছেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক আবুল ফজল।

-----------------
• আবুল ফজল:
- শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, কথা সাহিত্যিক ফজল আবুল ১৯০৩ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার অন্তর্গত কেঁওচিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আবুল ফজল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ (১৯২৬) প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৩০ সালে তিনি এর সম্পাদক হন।
- কর্মজীবনে আবুল ফজল শিক্ষকতা করেছেন বিভিন্ন স্কুল, কলেজে। তিনি যখন চট্টগ্রাম কলেজে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তখন দেশজুড়ে বইছিল ভাষা আন্দোলনের হাওয়া। ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে চট্টগ্রামে আবুল ফজলের ভূমিকাও ছিল অগ্রগণ্য।

- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তাঁর বিখ্যাত উক্তি 'একুশ মানে মাথা নত না করা' তো চিরকালই প্রেরণা জুগিয়েছে বাঙালিকে।
- ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকার যখন রবীন্দ্র সঙ্গীত নিষিদ্ধ করেছিল তখন তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন আবুল ফজল। বলেছিলেন, 'রবীন্দ্রনাথকে মুছে দেওয়ার মতো সামর্থ্য পাকিস্তান কেন, সমগ্র ভূমণ্ডলেরও নেই।''
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনি ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্মসমূহ হলো:
• রাজনীতি ও রাজনীতিবিদ বিষয়ক প্রবন্ধ: একুশ মানে মাথা নত না করা।

• উপন্যাস:
- চৌচির,
- প্রদীপ ও পতঙ্গ,
- রাঙ্গা প্রভাত।

• গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী,
- মৃতের আত্মহত্যা।

• দিনলিপি:
- রেখাচিত্র,
- দুর্দিনের দিনলিপি প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া ও The Daily Star Bangla।
১০,৭৩৩.
মৃত্যু-অমৃত করে দান।
তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷- পঙ্‌ক্তিদ্বয় কোন কবির রচনা?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
  3. কাজী নজরুল ইসলাম 
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

মৃত্যু-অমৃত করে দান। তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷- পঙ্‌ক্তিদ্বয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত 'মরণ' কবিতার অন্তর্গত।
- 'মরণ' কবিতাটি তাঁর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যের অন্তর্গত। 

কবিতার অংশবিশেষ।

মরণ রে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তুঁহুঁ মম শ্যামসমান।
মেঘবরন তুঝ, মেঘজটাজুট,
রক্ত কমলকর, রক্ত অধরপুট,
তাপবিমােচন করুণ কোর তব
মৃত্যু-অমৃত করে দান।
তুঁহু মম শ্যামসমান৷৷

----------------------
• "ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী" কাব্যের সারসংক্ষেপ:
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত বৈষ্ণব পদাবলির ধারার এবং ব্রজবুলি ভাষায় লিখিত একটি কাব্য।
- ১২৯১ সনে আষাঢ়ের মাঝামাঝি এ কাব্যটির প্রকাশকালে কবির নাম হিসেবে আখ্যাপত্রে লিখিত হয় ভানুসিংহ ঠাকুর। আর গ্রন্থটির প্রকাশক হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- প্রকাশকের বিজ্ঞাপনে বলা হয়: ভানুসিংহের পদাবলী শৈশব সঙ্গীতের আনুষঙ্গিক স্বরূপে প্রকাশিত হইল। ইহার অধিকাংশই পুরাতন কালের খাতা হইতে সন্ধান করিয়া বাহির করিয়াছি।
- 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' গ্রন্থে বর্তমানে মোট ২০টি পদ রয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা- মরণ, প্রশ্ন। 'মরণ' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি: "মরণ রে, তুহুঁ মম শ্যামসমান।"

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- মানসী,
- চিত্রা,
- চৈতালী,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- শেষ লেখা।

উৎস: 'ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী' কাব্যগ্রন্থ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া ।

১০,৭৩৪.
ইউসুফ জোলেখা প্রণয়-কাব্যটি অনুবাদ করেছেন?
  1. দৌলত কাজী
  2. মাগন ঠাকুর
  3. আজম শাহ
  4. শাহ মুহাম্মদ সগীর
ব্যাখ্যা

• ইউসুফ-জোলেখা কাব্য:
- 'ইউসুফ-জোলেখা' শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত কাহিনি কাব্যগ্রন্থ যা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার প্রথম কাব্য। তিনি পারস্যের জামী রচিত 'ইউসুফ জোলেখা' কাব্যের বাংলা অনুবাদ করেন যা এই ধারার আদি গ্রন্থ।

- গৌড়ের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের রাজত্বকালে এ কাব্যর রচনা হয়েছিল বলে প্রমাণ মিলেছে।

- বাইবেল ও কোরানে ইউসুফ-জোলেখার কাহিনি বর্ণিত আছে। ইরানের কবি ফেরদৌসিও এই নামে কাব্য রচনা করেছেন। সগীর বাইবেল পড়েন নি। তিনি কোরান ও ফেরদৌসির কাছে থেকেই কাহিনিসূত্র গ্রহণ করে ইউসুফ ও জোলেখার প্রণয়কাহিনি লেখেন।

- পরবর্তীতে মধ্যযুগের আরো অনেক কবি ইউসুফ জোলেখা নাম দিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। যেমন- ইউসুফ জোলেখা নিয়ে কাব্য রচনা করেন আব্দুল হাকিম এবং শাহ মুহম্মদ গরীবুল্লাহ। তবে এই কাব্য শাহ মুহাম্মদ সগীরই প্রথম লেখেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম।

১০,৭৩৫.
'মুহূর্তের কবিতা' লিখেছেন-
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. সুফিয়া কামাল
  3. আহসান হাবীব
  4. ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা

কবি ফররুখ আহমদের সনেট সংকলন - মুহূর্তের কবিতা।
 -------------
• মুহূর্তের কবিতা:
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ গ্রন্থটি ১৯৬৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এতে মোট ৯৩টি সনেট কবিতা রয়েছে যা শেক্সপিয়ারিয়-পেত্রার্কীয় রীতিতে ৬৮ অক্ষর চরণ মাত্রায় রচিত।
- উল্লেখযোগ্য কবিতা: মুহূর্তের কবিতা, অশান্ত পৃথিবী, পরিচিতি, ধানের কবিতা ইত্যাদি।

• ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনি কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।
 
• ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৩৬.
মালাধর বসু কর্তৃক প্রাপ্ত উপাধি কোনটি?
  1. ক) গুণাকর
  2. খ) কবিকঙ্কন
  3. গ) কবিরঞ্জন
  4. ঘ) গুণরাজ খান
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু মধ্যুযুগের বাংলা সাহিত্যের কবি। 
- তিনি ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক। 
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদগ্রন্থ। 
- তাঁর কবিত্ব শক্তির জন্য শামসুদ্দীন ইউসুফ সাহেবের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি লাভ করেন। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৭৩৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের দ্বিতীয় উপাখ্যান কোনটি?
  1. হরিশ্চন্দ্রের গল্প
  2. কালকেতু ফুল্লরা উপখ্যান
  3. লাউ সেনের গল্প
  4. ধনপতি সওদাগরের কাহিনি
ব্যাখ্যা

⇒ চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্য:
• 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। 
- চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান বা শ্রেষ্ঠ কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷ 
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়। 

• এই কাব্যের দুটি উপাখ্যান রয়েছে-
১. প্রথম খণ্ড একটি ব্যাধ দম্পতি কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যান, চণ্ডী বরে কালকেতুর ধনপ্রাপ্তি নতুন রাজ্যপত্তন, ধূর্ত ভাড়ুদত্তের ষড়যন্ত্রে প্রতিবেশী রাজার সঙ্গে যুদ্ধ।
২. দ্বিতীয় উপাখ্যান ধনপতি সওদাগরের কাহিনি। কাহিনির চরিত্র- নায়ক ধনপতি সওদাগর, অন্যান্য প্রধান চরিত্র তার দুই স্ত্রী লহনা ও খুল্লনা।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো:
- কালকেতু,
- ফুল্লরা,
- ধনপতি,
- ভাঁড়ুদত্ত,
- মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৩৮.
কাহ্নপা রচিত কয়টি পদ পাওয়া গেছে?
  1. ৮টি
  2. ৯টি
  3. ১১টি
  4. ১২ টি
ব্যাখ্যা
• কাহ্নপা:
- চর্যাপদের পদকর্তার মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেন- কাহ্নপা।
- কাহ্নপা ১৩টি পদ রচনা করেন।
- তাঁর মধ্যে ১২টি পদ পাওয়া গেছে।
- তাঁর রচিত পদগুলো: ৭, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৮, ১৯, ৩৬, ৪০, ৪২, ৪৫ নং পদ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু ২৪ নং পদ টি পাওয়া যায় নি।
- তিনি ছিলেন সহজিয়া তান্ত্রিক বৌদ্ধযোগী।
- তিনি ধর্মশাস্ত্র ও সঙ্গীত শাস্ত্র উভয় দিকেই দক্ষ ছিলেন।
- চর্যাপদে তাঁর কাফিল, কাহ্নি, কৃষ্ণচর্য, কৃষ্ণবজ্রপাদ, কাঙ্গু নাম পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৩৯.
মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা কোনটি?
  1. দ্বিতীয় দিনের কাহিনী
  2. নেকড়ে অরণ্য
  3. ওঙ্কার
  4. জীবন আমার বোন
ব্যাখ্যা
'জীবন আমার বোন' উপন্যাস:
- মাহমুদুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস 'জীবন আমার বোন'।
- বরাবরই মধ্যবিত্তের জীবনসংগ্রাম, তাদের দ্বিধাগ্রস্ততা, অপূর্ণতা আর সুবিধাবাদী চরিত্র অসাধারণভাবে এঁকেছেন এই শিল্পী তাঁর প্রতিটি উপন্যাসে।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহেদুল করিমের মধ্যবিত্তীয় সুবিধাবাদী মানসিকতার পাশাপাশি যুদ্ধের নানা বাস্তবতায় নিজের বোঝাপড়াও লেখক তুলে ধরেন পাঠকের সামনে।
- লেখকের অসামান্য উপস্থাপনা, ভাষার কাব্যিক ব্যঞ্জনায় ছোট্ট, হৃদয়গ্রাহী উপন্যাসটি যতই পড়া যায় ততই বিষমবেদনায় ভারাক্রান্ত করে।

অন্যদিকে,
- 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস।
- 'নেকড়ে অরণ্য' শওকত ওসমানের উপন্যাস।
- 'ওঙ্কার' আহমদ ছফার উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'জীবন আমার বোন' উপন্যাস।
১০,৭৪০.
'বিষবৃক্ষ' উপন্যাসের চরিত্র কোনটি?
  1. কুন্দনন্দিনী
  2. জগৎসিংহ
  3. মনোরমা
  4. রোহিনী
ব্যাখ্যা
•'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- এটি একটি সামাজিক সমস্যার আলোকে রচিত উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের কেন্দ্রীয় সমস্যার সঙ্গে বিধবা বিবাহ, পুরুষের একাধিক বিবাহ তার রূপতৃষ্ণা ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব, নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ প্রভৃতি ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
- 'বিষবৃক্ষ' বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস, বঙ্কিমচন্দ্রের আগে কেউ এই ধরনের উপন্যাস লিখার চেষ্টা করেননি।
-এই উপন্যাসে লেখক কি চেয়েছেন সেটার চাইতে মূখ্য বিষয় হলো লেখক সমস্যার কতটা রূপায়ণ করতে পেরেছেন।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- দুর্গেশনন্দিনী - জগৎসিংহ, আয়েশা, তিলোত্তমা।
- কপালকুণ্ডলা- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার।
- মৃণালিনী- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা
- বিষবৃক্ষ- কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- কৃষ্ণকান্তের উইল'- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪১.
অতুলপ্রসাদ সেন রচিত গানের সঙ্কলনের নাম কি?
  1. ক) ভাটির গান
  2. খ) অফতাব সঙ্গীত
  3. গ) কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ
  4. ঘ) গীতরত্ন
ব্যাখ্যা
• অতুলপ্রসাদ সেন ১৮৭১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মূলত কবি, গীতিকার ও গায়ক ছিলেন।
• তিনি সর্বপ্রথম বাংলা গানে ঠুমরি আমদানি করেন।
• 'মোদের গরব, মোদের আশা, আমরি বাংলা ভাষা' তাঁর রচিত বিখ্যাত গান।
'কয়েকটি গান ও গীতিগুঞ্জ' তাঁর গানের সংকলন।
• তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় দুশোটি।


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখ।
১০,৭৪২.
'হে মোর চিত্ত, পুণ্য তীর্থে
জাগো রে ধীরে-
এই ভারতের মহামানবের
সাগরতীরে।'- লাইনটির রচয়িতা কে?
  1. ক) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
লাইনটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘ভারততীর্থ' থেকে নেয়া হয়েছে। 
- তবে, 'হে মোর চিত্ত পুণ্য তীর্থে' নামে গীতাঞ্জলিতে কবিতাটি সংকলিত হয়েছে।   

ভারত তীর্থ
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

হে মোর চিত্ত,পূণ্য তীর্থে
    জাগো রে ধীরে--
এই ভারতের মহামানবের
      সাগরতীরে।

হেথায় দাঁড়ায়ে দু-বাহু বাড়ায়ে
     নমি নর-দেবতারে,
উদার ছন্দে পরমানন্দে
      বন্দন করি তাঁরে।

ধ্যান-গম্ভীর এই যে ভূধর,
      নদীজপমালাধৃত প্রান্তর,
 হেথায় নিত্য হেরো পবিত্র
        ধরিত্রীরে
 এই ভারতের মহামানবের
        সাগরতীরে।

 কেহ নাহি জানে কার আহ্বানে
       কত মানুষের ধারা
 দুর্বার স্রোতে এল কোথা হতে
       সমুদ্রে হল হারা।

হেথায় আর্য, হেথা অনার্য
       হেথায় দ্রাবিড়, চীন--
শক-হুন-দল পাঠান মোগল
       এক দেহে হল লীন।

পশ্চিম আজি খুলিয়াছে দ্বার,
       সেথা হতে সবে আনে উপহার,
 দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে
       যাবে না ফিরে,
এই ভারতের মহামানবের
       সাগরতীরে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ভারততীর্থ কবিতা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১০,৭৪৩.
'অবসরের গান' কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. বন্দে আলী মিয়া
  2. মহাদেব সাহা
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'অবসরের গান' কবিতাটির রচয়িতা - 'জীবনানন্দ দাশ'।  
- কবিতাটি কবির 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত।
--------------------- 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবননান্দ দাশ আধুনিক যুগের এবং ত্রিশের দশকের অন্যতম কবি।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।
 
• জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরাপালক, [প্রথম কাব্যগ্রন্থ]
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা। 
 
অবসরের গান- কবিতা,
-----------------জীবনানন্দ দাশ।
 
শুয়েছে ভোরের রোদ ধানের উপরে মাথা পেতে
অলস গেঁয়োর মতো এইখানে কার্তিকের ক্ষেতে
মাঠের ঘাসের গন্ধ বুকে তার — চোখে তার শিশিরের ঘ্রাণ,
তাহার আস্বাদ পেয়ে অবসাদে পেকে ওঠে ধান,
দেহের স্বাদের কথা কয় —
বিকালের আলো এসে (হয়তো বা) নষ্ট করে দেবে তার সাধের সময়!
চারি দিকে এখন সকাল —
রোদের নরম রঙ শিশুর গালের মতো লাল!
মাঠের ঘাসের পরে শৈশবের ঘ্রাণ —
পাড়াগাঁর পথে ক্ষান্ত উৎসবের পড়েছে আহ্বান!
 
উৎস: অবসরের গান- কবিতা, জীবনানন্দ দাশ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৪.
'তেল-নুন-লাকড়ি' প্রবন্ধটি কার লেখা? 
  1. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. জহির রায়হান 
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. হুমায়ুন আজাদ
ব্যাখ্যা

তেল-নুন-লাকড়ি প্রবন্ধটি প্রমথ চৌধুরীর লেখা। 

প্রমথ চৌধুরী 
- ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট, যশোরে প্রমথ চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের তুলনামূলক গবেষক ছিলেন।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক এবং বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে খ্যাত।
- সাহিত্যিক ছদ্মনাম: বীরবল।
- প্রথমবার গদ্য/প্রবন্ধে চলিত রীতি প্রয়োগ করেন।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে ইতালীয় সনেটের প্রবর্তক।
- মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকার সম্পাদক।
- মৃত্যু: ১৯৪৬, শান্তিনিকেতন।

কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

গল্পগ্রন্থ:
- চার-ইয়ারি কথা,
- নীললোহিত ও গল্পসংগ্রহ,
- আহুতি। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- নানা চর্চা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৪৫.
"এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - কোন রচনার অন্তর্গত?
  1. দুই সৈনিক
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. বরফ গলা নদী
  4. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় 
ব্যাখ্যা
• "এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।" - বিখ্যাত সংলাপটি জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত।

• 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস:
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও ১৯৫২ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনের অভিজ্ঞতায় জহির রায়হান 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি রচনা করেন।
- 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ হয়ে ১৯৫৫ পর্যন্ত চলমান আন্দোলন, জনতার সম্মিলন, ছাত্রছাত্রীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, তাদের প্রেম- প্রণয় ইত্যাদি উপন্যাসটির মূল বিষয়।
- 'আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হবো'- এই উপন্যাসের সংলাপ।

উপন্যাসের অংশবিশেষ:
নাম ডাকতে ডাকতে হাঁপিয়ে উঠেছিলেন ডেপুটি জেলার সাহেব। এক সময়ে বিরক্তির সাথে বললেন, উহ্‌ এত ছেলেকে জায়গা দেবো কোথায়। জেলখানাতে এমনিতে ভর্তি হয়ে আছে।
ওর কথা শুনে কবি রসুল চিৎকার করে উঠলো, জেলখানা আরো বাড়ান সাহেব। এত ছোট জেলখানায় হবে না।
আর একজন বললো, এতেই ঘাবড়ে গেলেন নাকি? আসছে ফাল্গুনে আমরা কিন্তু দ্বিগুণ হবো।
-------------------
• জহির রায়হান:
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- জহির রায়হান একাধারে চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক ছিলেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য তিনি আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৭২ সালে তাঁকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- শেষ বিকেলের মেয়ে।
- হাজার বছর ধরে।
- আরেক ফাল্গুন।
- বরফ গলা নদী।
- আর কত দিন।
- কয়েকটি মৃত্যু।

• তাঁর পরিচালিত অন্যান্য সিনেমা:
- সোনার কাজল।
- কাঁচের দেয়াল।
- বেহুলা।
- জীবন থেকে নেয়া।
- আনোয়ারা।
- সঙ্গম।
- বাহানা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৬.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য কোনটি?
  1. বৃত্রসংহার
  2. কুরুক্ষেত্র 
  3. রৈবতক 
  4. প্রভাস 
ব্যাখ্যা

• 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্য:
- 'বৃত্রসংহার' হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য।
- মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত হয়েছে এ কাব্যটি এবং এটি তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা।
- এতে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- 'বৃত্রসংহার' মহাকাব্যের প্রথম খণ্ড ১৮৭৫ ও দ্বিতীয় খণ্ড ১৮৭৭ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি হুগলির গুলিটা গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে হেমচন্দ্র আইনজীবী হিসেবেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
-  হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী (হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ যা ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়)।
- আশাকানন।
- ছায়াময়ী।
- দশমহাবিদ্যা।
- চিত্তবিকাশ।
- বীরবাহু কাব্য (এটি আখ্যানকাব্য যা ১৮৬৪ সালে প্রকাশিত হয়)।

অন্যদিকে, 
• নবীনচন্দ্র সেন রচিত ত্রয়ী মহাকাব্য: রৈবতক, কুরুক্ষেত্র ও প্রভাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৪৭.
'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে' হুমায়ুন আজাদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশত হয়।

----------------
• হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন মূলত লেখক ও অধ্যাপক।
- তিনি ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার'।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮৬) লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে,
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৪৮.
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মামুন
  2. খ) হাসান আজিজুল হক
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'আগুন পাখি' উপন্যাসটির রচয়িতা- 'হাসান আজিজুল হক' 

'আগুন পাখি' উপন্যাস
- ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হকের পৈতৃক নিবাস বর্ধমানের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে
গড়ে ওঠা ওই এলাকার মানুষের সংগ্রামী জীবন এবং বিভেদকামী রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িকতার যথাযথ রূপায়ণ।
 - মেঝ বউ চরিত্রটি উপন্যাসের মূল এবং সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সুসংবদ্ধতার প্রতীকে পরিণত।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- নামহীন গোত্রহীন
- সমুদ্রের স্বপ্ন
- আত্নজা ও একটি করবী গাছ।
- শীতের অরণ্য
- জীবন ঘষে আগুন
- রোদে যাবো
- আমরা অপেক্ষা করছি
- পাতালে হাসপাতালে।
- “আগুন পাখি” কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হকের একটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস।
- তাঁর একমাত্র কিশোর উপন্যাস- লাল ঘোড়া আমি।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস: 
- বৃত্তায়ন।
- শিউলি।
- আগুন পাখি।
- সাবিত্রী উপাখ্যান।

উৎস: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৪৯.
স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস কোনটি?
  1. বিদ্রোহ
  2. মালতী
  3. দীপনির্বাণ
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা

স্বর্ণকুমারী দেবী:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক হলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।
- তিনি মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন দীর্ঘ ত্রিশ বছর।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভগ্নী এবং দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা হলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।
- স্বর্ণকুমারী দেবী রচিত প্রথম উপন্যাস ‘দীপনির্বাণ’।

• উপন্যাসসমূহ:
- দীপনির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

• কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

• নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৫০.
'মাটির দেয়াল' কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেছেন -
  1. ক) শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. খ) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী : একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি।
তাঁর প্রকাশিত বিশেষ কাব্যগ্রন্থ:
- 'খসড়া' (১৯৩৮);
- 'এক মুঠো'(১৯৩৯); 
- ‘মাটির দেয়াল’ (১৯৪২);
- 'অভিজ্ঞান বসন্ত' (১৯৫০),
- ‘অনিঃশেষ’ (১৯৭৬)ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর৷

 
১০,৭৫১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকের চরিত্র নয়-
  1. ক) নজীবউদ্দৌলা
  2. খ) হিরন বালা
  3. গ) জুলেখা
  4. ঘ) ইব্রাহিম কার্দি
ব্যাখ্যা
মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহীম কার্দি, জোহরা, সুজাউদ্দৌলা, নজীবউদ্দৌলা, আবদালি প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৫২.
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী?
  1. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  2. যাযাবর
  3. মৌমাছি
  4. জাবালি
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- যাযাবর

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়  এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বিমল ঘোষ এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- মৌমাছি।
• বিমল মিত্র এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- জাবালি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৫৩.
নিচের কোনটি ভিন্ন ?
  1. চোখের বালি
  2. যোগাযোগ
  3. অচলায়তন
  4. গোরা
ব্যাখ্যা
• 'অচলায়তন' ⎯ রবীন্দ্রনাথ রচিত নাটক। 
- চোখের বালি, গোরা, যোগাযোগ ⎯ রবীন্দ্রনাথ রচিত উপন্যাস। 
------------------------- 
• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর': 
-  কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। 
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- রবীন্দ্রনাথের প্রথম অভিনয় ছিল জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের এমন কর্ম আর করব না নাটকে অলীকবাবুর ভূমিকায়।
- কবির শেষ বয়সের প্রায় সব নাটকই শান্তিনিকেতনে রচিত।
- বলাকা কাব্যের জীবনতত্ত্বকেই কবি রূপ দিয়েছেন ফাল্গুনী নাটকে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
---------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়।
-------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ রচিত অন্যান্য নাটক:
- বিসর্জন,
- রাজা,
- অচলায়তন,
- চিরকুমার সভা,
- তাসের দেশ,
- শারদোৎসব,
- প্রায়শ্চিত্ত,
- ডাকঘর,
- বসন্ত,
- চণ্ডালিকা,
- নটীর পূজা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা : ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৪.
'বুকের ভিতর আগুন' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) দাউদ হায়দার
  2. খ) নীলিমা ইব্রাহিম
  3. গ) জাহানারা ইমাম
  4. ঘ) সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামের এক রক্ষণশীল পরিবারে ১৯২৯ সালের ৩ মে জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি শহীদ জননী হিসেবে খ্যাত।
- মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির আহবায়করূপে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হলো একাত্তরের দিনগুলি।
- ১৯৮১-র দিকে জাহানারা ইমাম মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন আমেরিকার মিশিগান স্টেটের ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
- পরবর্তীতে সেখান থেকে ঢাকায় এনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি, 
- অন্যজীবন, 
- বুকের ভিতর আগুন
- নাটকের অবসান, 
- নিঃসঙ্গ পাইন, 
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

• একাত্তরের দিনগুলি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৫.
'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কোন ধরণের রচনা? 
  1. উপন্যাস
  2. নাটক
  3. অনুবাদকাব্য
  4. ছড়া
ব্যাখ্যা

'তীর্থসলিল' সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের একটি অনুবাদকাব্য। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন একজন কবি ও ছান্দসিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি ব্যবহার করে নতুন ছন্দ সৃষ্টিই তাঁর কবিপ্রতিভার মূল কীর্তি।
- এজন্য তাঁকে সাধারণভাবে 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দের রাজা' নামে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় তাঁর ছন্দ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ রচনা ছন্দ-সরস্বতী প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- তিনি ১৯২২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুতে কাজী নজরুল ইসলাম সত্যেন-প্রয়াণ কবিতা রচনা করেন।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন। 

অনুবাদকাব্য:
- তীর্থসলিল,
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস মাহবুবুল আলম। 

১০,৭৫৬.
আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে লেখা হয়েছে?
  1. দেশভাগ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
ওঙ্কার:
- আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
- ওঙ্কার উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। 
- এই উপন্যাসের নায়ক, আবু নসরের বোবা মেয়েকে বিয়ে করে।
- আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে।
- আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনি গতি লাভ করেছে।
- 'ওঙ্কার' উপন্যাস অবলম্বনে 'বাঙলা' চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

আহমদ ছফা:
- তিনি ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি ২০০১ সালের ২৮ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- গাভী বিত্তান্ত,
- ওঙ্কার,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- সূর্য তুমি সাথী, 
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস, 
- বিহঙ্গ পুরাণ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৭.
'সাজাহান' নাটকের প্রথম রচয়িতা কে?
  1. ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ
  2. তুলসী লাহিড়ি
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঐতিহাসিক নাটক 'সাজাহান' এর রচয়িতা- 'দ্বিজেন্দ্রলাল রায়'।
- এটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন অবলম্বনে রচিত প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক।

• 'সাজাহান' নাটক:
- নাটকটি মোগল সম্রাট সাজাহানের জীবন কাহিনি নিয়ে রচিত ঐতিহাসিক নাটক।
- 'সাজাহান' নাটককে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঐতিহাসিক নাটক হিসেবে ধরা হয় ।
- নাটকটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- সম্রাট সাজাহানকে নিয়ে দ্বিজেন্দ্রলালই সর্বপ্রথম নাটক রচনা করেন।
- 'ধনধান্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা' গানটির রচয়িতা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়।
- গানটি তাঁর 'সাজাহান' নাটকে ছিল।

--------------------------
• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সুরকার ও গীতিকার।
- তিনি ডি.এল রায় নামে পরিচিত।
- ১৮৬৩ সালের ১৯ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরে তাঁর জন্ম।
- তাঁর দুই অগ্রজ রাজেন্দ্রলাল ও হরেন্দ্রলালও সাহিত্যিক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ছাত্রজীবনে তাঁর কাব্য 'আর্য্যগাথা' এবং বিলেতে থাকাকালে কাব্য 'Lyrics of Ind' প্রকাশিত হয়।
- ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণজাগরণমূলক গান রচনায় তাঁর অবদান ছিল।
- ১৯১৩ সালের ১৭ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত সামাজিক নাটক:
- পরপারে।
- বঙ্গনারী।
- পুনর্জন্ম।
- ত্র্যহস্পর্শ।
- প্রায়শ্চিত্ত।
- আনন্দ বিদায়।
- কল্কি অবতার।

• তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- আর্য্যগাথা।
- মন্দ্র।
- আলেখ্য।
- ত্রিবেণী ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ঐতিহাসিক নাটক:
- তারাবাই।
- রানা প্রতাপসিংহ।
- মেবার পতন।
- নূরজাহান।
- সাজাহান।
- চন্দ্রগুপ্ত।
- সিংহল বিজয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৫৮.
বাংলাদেশের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটক কে রচনা করেছেন?
  1. আসকার ইবনে শাইখ
  2. মুনির চৌধুরী
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকটি রচনা করেছেন সিকানদার আবু জাফর। এটি একটি ঐতিহাসিক ও করুণরসাত্মক নাটক, যা পলাশীর যুদ্ধের পটভূমিতে এবং বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার জীবনের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- এক অপরিসীম যন্ত্রনাদগ্ধ পরিণতির মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে রচনাটি। ট্রাজেডি সদৃশ বেদনা বহতা এই নাটকে বিদ্যমান।
- নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সিরাজের ব্যক্তিত্ব ও প্রজ্ঞা একইভাবে ট্র্যাজিডির শিল্পমানকে স্পর্শ করেছে।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সাহিত্যিক, সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফর এর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বন্ধ সিকান্দার
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম।
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন।
- তিনি মাসিক সমকাল পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ:
• উপন্যাস:
- পূরবী,
- নতুন সকাল। 

• ছোটগল্প:
- মাটি আর অশ্রু,
- কবিতা প্রসন্ন শহর,
- তিমিরাস্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতে,
- বৃশ্চিক-লগ্ন,
- বাংলা ছাড়ো। 

• নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাউল।

• আবু জাফর অনুবাদক হিসেবেও খ্যাত ছিলেন। তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক সাহিত্যপাঠ (২০২০-২১ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৫৯.
'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।' - এটি কার উক্তি?
  1. জ্ঞানদাস
  2. চণ্ডীদাস
  3. বিদ্যাপতি
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা
চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি ছিলেন।
- তাকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তিনি ‘শুনহ মানুষ ভাই/ সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই' বলে জাত-পাতযুক্ত সমাজে প্রথম মানবতার বাণী কাব্যে ধারণ করেছেন বলে তাকে মানবতার কবি বলা হয়। তাছাড়া ব্যক্তিজীবনেও তিনি জাত-সংস্কারের ঊর্ধ্বে ছিলেন।
- চণ্ডীদাস সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মন্তব্য করেছেন “চণ্ডীদাস সহজ ভাষায় সহজ ভাবের কবি-এই গুণে তিনি বঙ্গীয় প্রাচীন কবিদের মধ্যে প্রধান কবি”।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডীদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

• চণ্ডীদাস এর বিখ্যাত উক্তি:
- 'শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই।'
- 'সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম।'
- 'সখি কেমনে ধরিব হিয়া, আমার বধূয়া আনবাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
১০,৭৬০.
নিচের কোনটি ভ্রমণকাহিনী নয়?
  1. ক) বন্দর থেকে বন্দরে
  2. খ) চীনের ধূপ
  3. গ) হলদে পরীর দেশ
  4. ঘ) পালামৌ
  5. ঙ) সোভিয়েতের দিনগুলি
ব্যাখ্যা
পালামৌ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ভ্রমন কাহিনী। রচয়িতা - সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বন্দর থেকে বন্দরে - সানাউল হকের, সোভিয়েতের দিনগুলি - সুফিয়া কামালের এবং হলদে পরীর দেশ - জসীমউদ্দীনের ভ্রমন বিষয়ক রচনা। “চীনের ধূপ” - সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
১০,৭৬১.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন তারিখে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ক) ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট
  2. খ) ১৯৪২ সালের ৭ আগস্ট
  3. গ) ১৯৪১ সালের ৮ আগস্ট
  4. ঘ) ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৮৬১ সালের ৭ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী।
- এছাড়াও প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক হিসেবেও তিনি পরিচিত।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন।
- তিনি ইংরেজ প্রদত্ত ১৯১৫ সালে ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬২.
‘বখতিয়ারের ঘোড়া’ কবি আল মাহমুদের কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'বখতিয়ারের ঘোড়া' কবি আল মাহমুদ রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ।
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- বখতিয়ারের ঘোড়া - নামে একটা নাম কবিতা রয়েছে।

এই কাব্যগ্রন্থের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কবিতা:
- কালো চোখের কাসিদা, নারী, চেতনাবিন্দু, গিফারীর শেষ দিন।
-------------------
• আল মাহমুদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুল শুকুর আল মাহমুদ।
- তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে দৈনিক গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৭৪) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- 'সোনালি কাবিন' তাঁর রচিত শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- বখতিয়ারের ঘোড়া,
- অদৃশ্যবাদীদের রান্নাবান্না,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- প্রেমের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬৩.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা কী? 
  1. ধর্মীয় শিক্ষায় অনুৎসাহিত করা
  2. ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো
  3. ধর্মীয় সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা
  4. কুসংস্কারকে প্রাধান্য দেয়া 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’ উপন্যাসের মূল ভাবনা হচ্ছে- ধর্ম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ঠকানো।
------------------------------------------------
• 'লালসালু':
- 'লালসালু' সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর একটি  শ্রেষ্ঠ সামাজিক উপন্যাস।
- 'লালসালু' উপন্যাসটি ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসটি সমাজে প্রচলিত নানা কুসংস্কার ও অন্ধআচারের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- যেখানে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
- এই উপন্যাসের মূল ভাবনা হলো - ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে কিভাবে ঠকানো হয় এবং সেই সুযোগে কিভাবে ছদ্মধর্ম প্রচারের মাধ্যমে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লাভ অর্জন করা যায়।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র মজিদ একজন ছদ্মধর্মপ্রচারক, যে এসব কুসংস্কারকে হাতিয়ার করে নিজের ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি কিভাবে গড়ে  তোলে তাই এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে।
-------------------------------------------------------
সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ:
- সৈয়দ  ওয়ালীউল্লাহ  ছিলেন একজন কথাসাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- তিনি ১৯২২ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের ষোলশহরে সৈয়দ (ডেপুটি) বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আহমদউল্লাহ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত ছোট গল্প:
• নয়নচারা;
• একটি তুলসি গাছের কাহিনী।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত উপন্যাস:
• চাঁদের অমাবস্যা;
• কাঁদো নদী কাঁদো;
• লালসালু।

- সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বিখ্যাত নাটক:
• বহিপীর;
• তরঙ্গভঙ্গ;
• সুরঙ্গ;
• উজানে মৃত্যু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৬৪.
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থটি কোন স্থানে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল?
  1. কান্দাহার
  2. কুন্দুজ
  3. কাবুল
  4. বাগরাম
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- তিনি ছিলেন  শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক।
- ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল শ্রীহট্ট (সিলেট) জেলার করিমগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন, কিন্তু তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল মৌলভীবাজারের উত্তরসুর গ্রামে।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
- সৈয়দ মুজতবা আলী 'দেশে-বিদেশে' গ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে প্রথম প্রবেশ ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। কাবুলে অবস্থানের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও অন্তরঙ্গ উপলব্ধির ফসল এই গ্রন্থখানি।
- তাঁর একটি অনবদ্য গ্রন্থ 'পূর্ব-পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• তাঁর রচিত রম্য-রচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• তাঁর রচিত ছোটগল্পগ্রন্থ:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৬৫.
‘যোগাযোগ’ উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘যোগাযোগ’ উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের যোগাযোগ উপন্যাস প্রথমে তিন পুরুষ নামে বিচিত্রা মাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে উপন্যাসের নাম হয় যোগাযোগ।
- নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
- শেষ পর্যন্ত স্বামীর কাছে কুমুদিনীর দ্বিধান্বিত সমর্পণে কাহিনির সমাপ্তি হলেও কুমুদিনীর মধ্যে এক বিদ্রোহী নারীর রূপ স্পষ্ট হয়।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, লাইভ এমসিকিউ লেকচার ও যোগাযোগ উপন্যাস।

১০,৭৬৬.
"যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।" পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা -
  1. ক) নির্মলেন্দু গুণ
  2. খ) শামসুর রাহমান
  3. গ) অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে সবচেয়ে বিখ্যাত, বহুলপঠিত, শ্রুত ও উদ্ধৃত কবিতাটি লিখেছেন লেখক ও কবি অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪-২০০২)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে গঙ্গা থেকে 'বুড়িগঙ্গা' নামে কাব্যসংকলনে এ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন শিশির ভট্টাচার্য এবং অন্যদিন, ৫৮/১২৮ লেক গার্ডেনস, কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

এতে কবিতাটি ছিল নিম্নরূপে:
যত দিন রবে পদ্মা মেঘনা
গৌরী যমুনা বহমান
তত দিন রবে কীর্তি তোমার
শেখ মুজিবুর রহমান।

দিকে দিকে আজ অশ্রুগঙ্গা
রক্তগঙ্গা বহমান
নাই নাই ভয়, হবে হবে জয়
জয় মুজিবুর রহমান।

উৎস: দৈনিক সমকাল।
১০,৭৬৭.
কোনটি ঠিক?
  1. গো-জীবন (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  2. নারীর মূল্য (উপন্যাস)
  3. চার ইয়ারী কথা (প্রবন্ধগ্রন্থ)
  4. পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা (উপন্যাস)
ব্যাখ্যা
গো-জীবন:
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
- এটি ১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
চার ইয়ারী কথা:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত গল্পগ্রন্থ
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়।

নারীর মূল্য:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।

পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা:
- শওকত ওসমান রচিত নাটক
- এটি ১৯৯০ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬৮.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক নাম 'আবুল হাসান'?
  1. আবুল হাসান মিয়া
  2. আবুল হোসাইন
  3. আবুল হুসেন
  4. আবুল হোসেন মিয়া
ব্যাখ্যা
আবুল হাসান:
- আবুল হাসানের প্রকৃত নাম - আবুল হোসেন মিয়া
- 'আবুল হাসান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- তিনি একজন সৃষ্টিশীল কবি হিসেবে খ্যাত৷
- তিনি পেশায় সাংবাদিক ছিলেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রাজা যায় রাজা আসে,
- যে তুমি হরণ করো,
- পৃথক পালঙ্ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৬৯.
রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. ক) প্রদোষে প্রাকৃতজন
  2. খ) সেনাপতি
  3. গ) কুলায় কলাস্রোত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শওকত আলী রচিত প্রদোষে প্রাকৃতজন উপন্যাসে রাজা লক্ষণ সেনের সময়ের সমাজ ও মানুষের দ্বন্দ্ব তুলে ধরা হয়েছে। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৭৭০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক কোনটি? 
  1. কৃষ্ণকুমারী
  2. শর্মিষ্ঠা
  3. পদ্মাবতী
  4. বসন্তকুমারী
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক নাটক - শর্মিষ্ঠা।

অন্যদিকে, 
- মীর মশাররফ হোসেন রচিত নাটক বসন্তকুমারী। 
- এটি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম রচিত প্রথম নাটক বসন্তকুমারী। 

• 'শর্মিষ্ঠা' নাটক:

- এটি মধুসূদন দত্তের প্রথম প্রকাশিত বাংলা নাটক।
- এটিই প্রকৃত অর্থে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক নাটক এবং একই অর্থে মধুসূদনও বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাট্যকার।
- কলকাতার পাইকপাড়ার রাজাদের অনুপ্রেরণায় বেলগাছিয়া থিয়েটারের জন্য মধুসূদন দত্ত ১৮৫৮ সালে নাটকটি রচনা করেন।
- ১৮৫৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজাদের অর্থানুকূল্যে ‘শর্মিষ্ঠা' প্রকাশিত ও ১৮৫৯ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর সেটা বেলগাছিয়া থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়।
- পাশ্চাত্যরীতিতে বাংলা নাটক রচনার চেষ্টা এই নাটকের মধ্যে বিশেষভাবে সফলতা পায়।
- মধুসূদন পরে ‘শর্মিষ্ঠা’র ইংরেজি অনুবাদও করেন ।
- এই নাটক রচনায় পুরাণের কাহিনি অবলম্বন করা হয়েছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: যযাতি, দেবযানী, শর্মিষ্ঠা, মাধব্য, পূর্ণিমা, রাজমন্ত্রী প্রমুখ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• তাঁর রচিত নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন।

• মাইকেল মুধুসূধন দত্ত রচিত প্রহসনগুলোর নাম:
- একেই কি বলে সভ্যতা
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: 
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৭১.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. গভর্নমেন্ট গেজেট
  4. বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয়- বেঙ্গল গেজেট। 
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

--------------------
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭২.
'একটি কালো মেয়ের কথা' মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মাহমুদুল হক
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত সর্বশেষ উপন্যাস 'একটি কালো মেয়ের কথা'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৭১ খ্রিষ্টব্দে।

- উপন্যাসের পট উন্মোচিত হয়েছে নাজমা নামের একটি কালো মেয়েকে নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম কালে 'স্পাই' হিসেবে ধরা পড়া ডেভিড আর্মস্ট্রং-এর ভারতীয় পুলিশ-অফিসারের সামনে জবানবন্দি উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে।
- এই নাজমাই পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর তাঁবেদার এক পাঞ্জাবির বলাৎকারের শিকার হয়। নির্যাতিতা ও সন্তানহারা কালো মেয়ে নাজমা ১৯৭১-এর বাংলাদেশের প্রতিরূপক হয়ে উঠেছে উপন্যাসে।

জবানবন্দিতে ডেভিড বলেছে:
'এরই মধ্যে এই দেশটাকে এমন করে ভালবেসে ফেললাম যে এই আমার সবা থেকে ভালো দেশ, এর থেকে ভালো দেশ আর নেই। আর এই দেশই আমার দেশ।'

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৭৩.
'অপরাজিত' উপন্যাসের রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) হুমায়ুন আজাদ
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
'অপরাজিত' উপন্যাস
- 'অপরাজিত' (১৯৩১) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত দ্বিতীয় উপন্যাস। 
- এটি তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পথের পাঁচালী' এর পরিপূরক কথাশিল্প।
- উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় মাসিক 'প্রবাসী' তে।
- উপন্যাসটির প্রথম নামকরণ করা হয়েছিল 'আলোর সারথি'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- অপু, 
- অপর্ণা,
- লীলা,
- কাজল প্রমুখ। 

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮৯৪ সালে চব্বিশ পরগনায় মুরারিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা কথা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় শিল্পী।
- বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত শেষ উপন্যাস ‘ইছামতী’ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে।
- মানুষের জীবনের কথা এই উপন্যাসের মূল উপজীব্য।
- ‘ইছামতী’ উপন্যাসের জন্য তিনি রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৪৯) লাভ করেন।
- ১৯৫০ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- অপরাজিত, 
- দৃষ্টি প্রদীপ, 
- আরণ্যক,  
- আদর্শ হিন্দু হােটেল,  
- দেবযান 
- ইছামতী, 
- অনুবর্তন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৪.
'কোকিলারা' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. ক) আবদুল্লাহ আল মুতী
  2. খ) আবুল মনসুর আহমেদ
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মামুন
  4. ঘ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন অভিনেতা, নাট্যকার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তাঁর রচিত নাটক- সুবচন নির্বাসনে, এখনও দুঃসময়, এবার ধরা দাও, শপথ, নিয়তির পরিহাস’, বিন্দু বিন্দু রং, সেনাপতি, অরক্ষিত মতিঝিল, ক্রসরোড ক্রস ফায়ার, আয়নায় বন্ধুর মুখ, এখনও ক্রীতদাস, শাহজাদীর কালো নেকাব, চারদিকে যুদ্ধ, এখনও ক্রীতদাস, আমাদের সন্তানেরা, ঋতুরাজ, কোকিলারা, মাইক মাস্টার, মেরাজ ফকিরের মা, মেহেরজান আরেকবার। উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৭৭৫.
সিকান্দার আবু জাফর রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. নতুন সকাল
  2. জয়ের পথে
  3. পূরবী
  4. অবিশ্বাস্য
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন।
তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার।
তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- নতুন সকাল ইত্যাদি‌।

তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজউদ্দৌলা,
- শকুন্ত উপাখ্যান,
- মহাকবি আলাউল,
- মাকড়সা।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৬.
মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা ‘শহীদ স্মরণে’ - কবিতাটি কে লিখেছেন?
  1. মাহবুব উল আলম চৌধুরী
  2. রফিক আজাদ
  3. মোহম্মদ মনিরুজ্জামান
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতাটি লিখেছেন।
---------------------------
• কবিতাটির প্রেক্ষাপট:
- "শহীদ স্মরণে" কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের প্রেক্ষাপটে লেখা।
- এই কবিতায় স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের স্মরণে কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
----------------------------- 
কবি পরিচিতি:
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোরের খড়কী পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাহিত্য-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদনা করেন। পঞ্চাশের দশকের অন্যতম প্রধান কবি মনিরুজ্জামান ১৯৬৯ সালে লন্ডনের International Who’s Who in Poetry থেকে “Certificate of Merit for Distinguished Contribution to Poetry” সম্মাননা লাভ করেন। ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
--------------------------- 
শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।
--------------
-------------- 
মা তো কাঁদে না;
মার চোখে নেই অশ্রু, কেবল
অনলজ্বালা, দু চোখে তাঁর
শত্রুহননের আহ্বান।

উৎস:
- ‘শহীদ স্মরণে’ কবিতা, মোহম্মদ মনিরুজ্জামান।
- বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৭.
বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯০৭ সালে
  4. ১৯১৭ সালে
ব্যাখ্যা

চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। এবং এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ। চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র। ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতী ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১০,৭৭৮.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতার নাম কি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. শামসুর রাহমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
• এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
• বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।

অন্যদিকে,
- রণসঙ্গিতের রচয়িতা কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৭৯.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
- ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকে মধ্যযুগের/বাংলা সাহিত্যের প্রথম ‘নাগরিক কবি’ বিশেষণে অভিহিত করা হয়।
- উল্লেখ্য, আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হলেন শামসুর রাহমান। 

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন। 
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৮০.
কোন ক্ষেত্রে পরোক্ষ উক্তির ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না?
  1. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়
  2. আবেগ প্রকাশে
  3. অনুজ্ঞা ভাবে
  4. চিরন্তন সত্যের বাক্যে
ব্যাখ্যা
প্রত্যক্ষ উক্তিতে চিরন্তন সত্যের উদ্ধৃতি থাকলে পরোক্ষ উক্তিতে ক্রিয়ার কালের কোনো পরিবর্তন হয় না।
- যেমন:    
• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।
• পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে।   

• প্রত্যক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন, “পৃথিবী গোলাকার।” 
• পরোক্ষ উক্তি: শিক্ষক বললেন যে, পৃথিবী গোলাকার।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০,৭৮১.
"শিক্ষার হেরফের" প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থে সংকলিত আছে?
  1. কালান্তর
  2. শিক্ষা
  3. ব্যক্তি ও বিশ্ব
  4. সভ্যতার সংকট 
ব্যাখ্যা

• ‘শিক্ষার হেরফের’ (১৮৯২) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি প্রবন্ধ। প্রবন্ধটি তাঁর "শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- ‘শিক্ষার হেরফের’ প্রবন্ধে রবীন্দ্রনাথ বাংলা ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম করার প্রস্তাব দেন।
--------------
"শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ:
- শিক্ষার হেরফের,
- ছাত্রদের প্রতি সম্ভাষণ,
- শিক্ষাসংস্কার,
- শিক্ষাসমস্যা,
- জাতীয় বিদ্যালয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং "শিক্ষা" প্রবন্ধগ্রন্থ।

১০,৭৮২.
বাংলা গদ্যে শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যের শব্দ-সাযুজ্য আবিষ্কার, বাক্য-কাঠামো সংস্কার, কর্তা ও ক্রিয়াপদ এবং ক্রিয়া ও কর্মের মধ্যে যথাযথ অন্বয় স্থাপন করে বাংলা গদ্যকে মাধুর্য দান করেন। তাছাড়া, শ্বাস-যতি ও অর্থ-যতির সমন্বয় ঘটান এবং পাঠক যাতে তা সহজেই দেখতে পান, তার জন্যে ইংরেজি রীতির যতিচিহ্ন, বিশেষ করে কমা, ব্যবহার করেন। তাঁর আগে একমাত্র অক্ষয়কুমার দত্তই ইংরেজি যতিচিহ্ন সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করেছিলেন।

---------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিন ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক পদবি ছিল 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম -'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮৩.
‘বিড়াল' রম্যরচনাটির রচয়িতা কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘বিড়াল':
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বিড়াল' একটি আকর্ষণীয় রম্যরচনা। এটি 'কমলাকান্তের দপ্তর' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- রূপকের মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের প্রতি ধনী সমাজের প্রভাবের কথা তুলে ধরেছেন।
- সমাজে শৃঙ্খলা আনতে হলে মানুষকে যে বিচারবুদ্ধি নিয়ে চলতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হলে যে মানুষকেই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে তা লেখক সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলা ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,৭৮৪.
প্রথম কোন বাঙালি বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনা করে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়
  3. ড. মুহম্মাদ শহীদুল্লাহ
  4. ড. এনামুল হক
ব্যাখ্যা
• 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ' বাঙালি রচিত প্রথম বাংলা  ব্যাকরণ। এর রচয়িতা রাজা রামমোহন রায়।
-  প্রকাশিত ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে। এটি তাঁর সর্বশেষ গ্রন্থ।
- এর আগে তিনি ইংরেজিতে Bengali Grammar in the English Language নামের একটি ব্যাকরণ গ্রন্থ রচনা করেন।

- গৌড়ীয় ব্যাকরণ রচিত হয় তৎকালীন স্কুল-বুক সোসাইটির অভিপ্রায়ে এবং ছাত্রদের পাঠোপযোগী করে। সর্বমোট বারোটি অধ্যায়ে এটি বিন্যস্ত। প্রথম অধ্যায়ে ধ্বনি, বর্ণ, উচ্চারণ, শব্দ, অক্ষর প্রভৃতি সম্পর্কে দৃষ্টান্তসহ আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থে বাংলা ভাষার স্বকীয় উচ্চারণ-পদ্ধতি সম্পর্কে রামমোহন কিছু মৌলিক বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। পরবর্তী অধ্যায়গুলিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বাংলা ভাষার লিঙ্গ, প্রত্যয়, পদান্বয়, বাক্যরীতি, ছন্দ ইত্যাদি। মোটামুটিভাবে গৌড়ীয় ব্যাকরণে রয়েছে বাংলা ভাষার ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্যের বৈয়াকরণিক বিশ্লেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৮৫.
'রেইনকোট' ছোটগল্প গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. আহমদ ছফা
  2. এম আর আখতার মুকুল
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) গাইবান্ধা জেলার গোহাটি গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর পৈতৃক নিবাস বগুড়া জেলায়।
• তাঁর রচিত ছোটগল্প-
- মিলির হাতে স্টেনগান,
- রেইনকোট,
- দুধভাতে উৎপাত,
- জাল স্বপ্ন, স্বপ্নের জাল,
- ফোঁড়া,
- নিরুদ্দেশ যাত্রা ইত্যাদি।
• তাঁর রচিত উপন্যাস-
- চিলে কোঠার সেপাই (ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত),
- খোয়াবনামা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৭৮৬.
'এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি৷'
- কোন কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) কুলি
  2. খ) সোনার তরী
  3. গ) দুই বিঘা জমি
  4. ঘ) বীরপুরুষ
ব্যাখ্যা

"এ জগতে, হায়, সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি-
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।"
পংক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।
এই কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'চিত্রা' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।

উৎসঃ অষ্টম শ্রেণি সাহিত্য কণিকা।

১০,৭৮৭.
নিচের কোনটি উপন্যাস নয়?
  1. ক) গেরিলা ও বীরাঙ্গনা
  2. খ) নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি
  3. গ) কাঁটাতারের প্রজাপতি
  4. ঘ) উৎস থেকে নিরন্তর
ব্যাখ্যা
'উৎস থেকে নিরন্তর' সেলিনা হোসেন রচিত একটি গল্প। জলবতী মেঘের বাতাস, পরজন্ম, মানুষটি, অনূঢ়া পূর্ণিমা, মতিজানের মেয়েরা ইত্যাদি তাঁর রচিত গল্প।
হাঙ্গর নদী গ্রেনেড, জলোচ্ছ্বাস, নীল ময়ূরের যৌবন, পোকা মাকড়ের ঘরবসতি, নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি, আগষ্টের একরাত, খুন ও ভালোবাসা, কাঁটাতারের প্রজাপতি, গায়ত্রী সন্ধ্যা, অপেক্ষা, গেরিলা ও বীরাঙ্গনা, ঘুমকাতুরে ঈশ্বর, পূর্ণছবির মগ্নতা, ভালোবাসা প্রীতিলতা, কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি তাঁর রচিত উপন্যাস।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৭৮৮.
কবি জসীম উদ্‌দীন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. চব্বিশ পরগনা
  2. হুগলি
  3. ফরিদপুর
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

• জসীম উদ্‌দীন: 
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ।
- তিনি পল্লিকবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর রচিত উপন্যাস 'বোবা কাহিনী'।
- তাঁর রচিত 'নক্সী কাঁথার মাঠ' একটি বিখ্যাত গাথাকাব্য। এটি ১৯২৯ সালে প্রকাশিত হয়।
- E.M. Millford গ্রন্থটি 'The Field of the Embroidered Quilt' নামে অনুবাদ করেন।
- তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- ১৯৭৬ সালের ১৩ মার্চ তিনি ঢাকায় মারা যান।

 তাঁর রচিত বিখ্যাত গাথাকাব্য: 
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৮৯.
কোন কবি রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন?
  1. মালাধর বসু
  2. আলাওল
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. বিদ্যাপতি
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯০.
বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন 'অব্যক্ত' এর রচয়িতা কে?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. জামাল নজরুল ইসলাম
  4. জাফর ইকবাল
ব্যাখ্যা
• বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন 'অব্যক্ত' এর রচয়িতা: জগদীশচন্দ্র বসু। 
--------------------- 
জগদীশচন্দ্র বসু: 
- জগদীশচন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'. 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

• 'অব্যক্ত' প্রবন্ধ সংকলন:
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে বিজ্ঞানী জগদীশচন্দ্র বসু পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেন।
- তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধাবলী 'অব্যক্ত' নামক গ্রন্থে সংকলিত।
- 'অব্যক্ত' একটি পুস্তক যা আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু রচিত কুড়িটি প্রবন্ধের সংকলন। প্রবন্ধগুলো বৈজ্ঞানিক চিন্তার ফল।

• 'অব্যক্ত' প্রবন্ধ সংকলনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ: 
উদ্ভিদের জন্ম ও মৃত্যু,
গাছের কথা,
অদৃশ্য আলোক,
অগ্নি পরীক্ষা,
বিজ্ঞানে সাহিত্য।

তাঁর ইংরেজি রচনাবলি হচ্ছে:
- Responses in the Living and Non-living,
- Plant Responses as a Means of Physiological Investigations,
- Comparative Electrophysiology,
- Physiology of the Asent of Sap,
- Physiology of Photosynthesis,
- Nervous Mechanism of Plants,
- Collected Physical Papers,
- Motor Mechanism of Plants,
- Growth and Tropic Movement in Plants. 

উল্লেখ্য,
• আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন এবং ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।

• জামাল নজরুল ইসলাম - বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত ’বই কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বইগুলো হলো ‘মাতৃভাষা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা এবং অন্যান্য প্রবন্ধ’, ও ‘শিল্প, সাহিত্য এবং সমাজ’।

• জাফর ইকবাল - বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯১.
"সকলে কবি নন, কেউ কেউ কবি।" উক্তিটি কার? 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. জীবনানন্দ দাশ 
  3. কায়কোবাদ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
ব্যাখ্যা
• কবিতার কথা':
- কবি জীবনানন্দ দাশের একমাত্র প্রবন্ধ গ্রন্থ 'কবিতার কথা'।
- এই গ্রন্থের বিখ্যাত উক্তি হলো, 'সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি।'
- জীবনানন্দ দাশ কবি হলেও তিনি মূলত উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থও লিখেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ:

- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি 'রূপসী বাংলার কবি হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। -
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাল্যবান।
- সুতীর্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯২.
কোন উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি লোকজীবন চিত্রায়িত হয়েছে?
  1. ক) ধানকন্যা
  2. খ) কুচবরন কন্যা
  3. গ) কাশবনের কন্যা
  4. ঘ) কাঞ্চনমালা
ব্যাখ্যা
'কাশবনের কন্যা' (১৯৫৪) শামসুদ্দীন আবুল কালাম রচিত একটি উপন্যাস। 
- এ উপন্যাসে গ্রামকে এমনভাবে তুলে আনা হয়েছে যে, দু;খ-দারিদ্র থাকলেও গ্রামই সুখের স্বর্গ, সমস্ত বিশ্বাসের আধার।
- উপন্যাসে বরিশাল অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি, লোকজীবন, গ্রামীণ দিগন্ত ফটোগ্রাফিকভাবে চিত্রায়িত।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - সিকদার, হোসেন, জোবেদা, মেহেরজান প্রমুখ।

- শামসুদ্দীন আবুল কালাম 'মাহে নও' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
তাঁর রচিত অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- কাঞ্চনগ্রাম
- আলমনগরের উপকথা,
- জায়জঙ্গল,
- নবান্ন,
- সমুদ্রবাসর
- কাঞ্চনমালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৩.
'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' - পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. কামিনী রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

'যে জন দিবসে মনের হরষে
জ্বালায় মোমের বাতি,
আশু গৃহে তার দেখিবে না আর
নিশীথে প্রদীপ ভাতি।' পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা - কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। তাঁর 'অপব্যয়ের ফল' নামক কবিতার অংশ এটি। এটি তাঁর 'সদ্ভাবশতক' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।

কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার:
- ১৮৩৪ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার সেনহাটি গ্রামে এক  বৈদ্য পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি মূলত কবি ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৬১ সালে  ঢাকা প্রকাশ প্রকাশিত হলে তিনি তার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। 
- ১৯০৭ সালে খুলনাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- রাসের ইতিবৃত্ত,
- মোহভোগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া এবং 'সদ্ভাবশতক' কাব্য।

১০,৭৯৪.
'যে অরণ্যে আলো নেই' কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. উপন্যাস
  2. মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গবেষণাগ্রন্থ
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. নাটক
ব্যাখ্যা
• 'যে অরণ্যে আলো নেই' নীলিমা ইব্রাহীমের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিকায় রচিত একটি নাটক।
- নাটকটি ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়।

------------------------
• নীলিমা ইব্রাহিম:
- তিনি ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী।
- ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা প্রফুল্লকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী।
- তিনি ১৯৯৬ সালে রোকেয়া পদক এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- বিশ শতকের মেয়ে,
- এক পথ দুই বাঁক,
- কেয়াবন সঞ্চারিণী,
- বহ্নিবলয় ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত নাটক:
- যে অরণ্যে আলো নেই,
- দুয়ে দুয়ে চার,
- রোদ জ্বলা বিকেল,
- সূর্যাস্তের পর ইত্যাদি।

• 'বিন্দু বিসর্গ' তাঁর রচিত আত্মজীবনী।
• 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' নীলিমা ইব্রাহিম রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রবন্ধ গবেষণাগ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৭৯৫.
রবীন্দ্রনাথের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখেন কে?
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. গ) সমর সেন
  4. ঘ) রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
সমর সেন বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যধারার বিপরীতে কবিতা লিখতেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থঃ

- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা,
- খোলাচিঠি,
- তিন পুরুষ এবং
- সমর সেনের কবিতা।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থঃ বাবু বৃত্তান্ত।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৬.
"সেক শুভোদয়া" গ্রন্থটি কার কাহিনি অবলম্বনে রচিত?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. শেখ জালালুদ্দীন
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. রাজা শশাঙ্ক
ব্যাখ্যা
সেক শুভোদয়া:
- ‘সেক শুভোদয়া’ অন্ধকার যুগের একটি সাহিত্য নিদর্শন।
- অশুদ্ধ বাংলা ও প্রচুর ভুল সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার পাওয়া যাওয়ায় সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ‘সেক শুভোদয়া’ কে dog sanskrit বলেছেন।
- ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের মতে, ‘সেক শুভদয়া’ খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের রচনা।
- গ্রন্থটি রাজা লক্ষ্মণ সেন ও শেখ জালালুদ্দীন তাবরেজীর অলৌকিক কাহিনি অবলম্বনে রচিত।
- 'শেখের শুভোদয়' অর্থাৎ শেখের গৌরব ব্যাখ্যাই এই পুস্তিকার উদ্দেশ্য।
- গ্রন্থে বেশ কিছু বাংলা ছড়া ও বাগধারার ব্যবহার লক্ষ করা যায়।
- গদ্যপদ্য মিলিয়ে গ্রন্থটিতে অধ্যায় আছে ২৫টি। ১৩২০-২১ বঙ্গাব্দে মণীন্দ্রমোহন বসু ১৩টি পরিচ্ছেদ বঙ্গানুবাদসহ প্রকাশ করেন ‘কায়স্থ’ পত্রিকায়।
- সুকুমার সেনের সম্পাদনায় গ্রন্থটি প্রথম মুদ্রিত হয় ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭৯৭.
লোকসাহিত্যকে ‘জনপদের হৃদয়-কলরব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

লোকসাহিত্য:
- লোকসাহিত্য হলো মূলত মৌখিক ধারায় বিকশিত এক ধরনের সাহিত্য।
- এই সাহিত্য অতীতের ঐতিহ্য ও বর্তমান জীবনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে।
- এটি লোকসংস্কৃতির একটি জীবন্ত শাখা, যার ভেতর দিয়ে একটি জাতির সামষ্টিক অনুভূতি, বিশ্বাস ও আত্মার স্পন্দন প্রকাশ পায়। 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লোকসাহিত্যকে “জনপদের হৃদয়-কলরব” বলে অভিহিত করেছেন।
- বিষয়বস্তুর দিক থেকে লোকসাহিত্যকে সাধারণত আটটি শাখায় ভাগ করা হয়—
- ছড়া,
- লোকসঙ্গীত,
- গীতিকা,
- লোককাহিনী,
- লোকনাট্য,
- মন্ত্র,
- ধাঁধা,
- ও প্রবাদ।


- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি:

- লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি হিসেবে ছড়ার কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ছড়া কোনো একক ব্যক্তির রচনা নয়; বরং এটি সমাজের সমষ্টিগত চিন্তা ও অভিজ্ঞতার ফল।
- ছড়ার ছন্দই বাংলা কবিতার সবচেয়ে প্রাচীন ছন্দ, যা লৌকিক ছন্দ নামেও পরিচিত।
- সহজ ও সরল ভাষা, জোরালো ছন্দ, অন্ত্যমিল এবং সংক্ষিপ্ত কাঠামো ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- মুখে মুখে প্রচলিত হওয়ায় ছড়া দীর্ঘকাল ধরে টিকে আছে।
- ছড়া প্রধানত শিশুদের আনন্দ, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;  
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম। 

১০,৭৯৮.
রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন - 
  1. চন্দ্রাবতী
  2. কাশীরাম দাস
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. কবীন্দ্র পরমেশ্বর
ব্যাখ্যা

- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদ করেন কৃত্তিবাস ওঝা।
- রামায়ণ সংস্কৃত ভাষার কাব্য। সংস্কৃত ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন বাল্মীকি। 
- কৃত্তিবাসী রামায়ণে রামচন্দ্র আরাধ্য অবতার তুলসীচন্দনে লিপ্ত বিগ্রহ। কৃত্তিবাসের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে গিয়ে ড. দীনেশ সেন মন্তব্য করেছেন, 'গৌড়েশ্বর ধন্য যিনি কবিকে রামায়ণ অনুবাদের ভার দিয়া বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ হিতসাধন করিয়াছিলেন।' যুগপ্রভাবে সংস্কৃত আদর্শের মহাকাব্যিক শিল্পকলা ক্রমশ শিথিল হয়ে অজস্র কাহিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে। 

কৃত্তিবাস ওঝা:
- সংস্কৃত রামায়ণের প্রথম অনুবাদক কবি।
- তিনিই রামায়ণের শ্রেষ্ঠ অনুবাদক। তাঁর রচিত রামায়ণের অন্যনাম 'শ্রীরাম পাঞ্চালী'।
- বাল্মীকির সংস্কৃত রামায়ণ অনুসরণে কৃত্তিবাস পয়ার ছন্দে বাংলা রামায়ণ রচনা করেন।
- কৃত্তিবাসী রামায়ণ ১৮০২-৩ সালে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে সর্বপ্রথম পাঁচ খণ্ডে মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম  এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৭৯৯.
‘রাজবন্দীর চিঠি’ গল্পটি কাজী নজরুল ইসলামের কোন গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শিউলিমালা
  2. রিক্তের বেদন
  3. ব্যথার দান
  4. চোখের চাতক
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

বিখ্যাত গল্পগ্রন্থগুলো হলো:
- ব্যথার দান, 
- রিক্তের বেদন ও
- শিউলিমালা।

⇒ 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ:
• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থ ছয়টি গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয় ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে।
• এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ; প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ তো বটেই।

• 'ব্যথার দান' গল্পগ্রন্থের গল্পগুলো হলো:
- ব্যথার দান,
- হেনা,
- অতৃপ্ত কামনা,
- বাদল-বরিষণে,
- ঘুমের ঘোরে,
- রাজবন্দীর চিঠি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৮০০.
“এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে” — এই পদটি কার রচনা?
  1. ভাদেপা
  2. সরহপা
  3. কাহ্নপা
  4. লুইপা
ব্যাখ্যা

ভাদেপা:
- তিনি খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকে ছিলো।
- তিনি শ্রাবন্তী এলাকায় অবস্থান ছিলো।
- ভাদেপা'র গুরু ছিলো জালন্ধরীপা, মতান্তরে কাহ্নপা।
- চর্যাপদের ৩৫ নং পদ রচনা করেন।

ভাদেপা রচিত পদ:
এতকাল হউ অচ্ছিলোঁ স্বমোহে।
এবেঁ মই বুঝিল সদ্ গুরু বোহেঁ।।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।