বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০৭ / ২১১ · ১০,৬০১১০,৭০০ / ২১,১৩২

১০,৬০১.
‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা- 
  1. খান আতাউর রহমান
  2. জয় গোস্বামী
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  4. সমর দাস 
ব্যাখ্যা

‘উপদ্রুত উপকূলে’ কবিতাটির রচয়িতা-- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ।
--------------------------------------------------
উপদ্রুত উপকূল
—রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ 

"রোদ্দুরে পোড়া জোস্নায় ভেজা প্লাবনে ভাসানো মাটি,
চারিপাশে তার রুক্ষ হা-মুখো হাহাকার,
তবু জীবনের বাঁশি বাজে—
উপদ্রুত এ-উপকূলে তবু জীবনের বাঁশি বাজে!
কে বা কারা যেন আজো দাহ করে যায়,
সবুজ পাতায়—
শস্যের মাঠে—"
--------------------------------
• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ:
- রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ ছিলেন একজন প্রতিবাদী ও রোমান্টিক কবি, গীতিকার এবং সাহিত্যিক।
- তিনি ১৬ অক্টোবর ১৯৫৬ সালে বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলায়।
- তার প্রকৃত নাম শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- পরে তিনি ‘রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ’ নামটি গ্রহণ করেন।
- মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ২১ জুন ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
- স্বল্পায়ু জীবনে তিনি একাধিক কাব্যগ্রন্থ এবং অসংখ্য গান রচনা করেছেন।

• রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর উল্লেখযোগ্য কবিতা হলো:
- ‘বাতাসে লাশের গন্ধ’,
- ‘উপদ্রুত উপকূলে’,
- ‘ফিরে চাই স্বর্ণগ্রাম’,
- ‘মানুষের মানচিত্র’,
- ‘ছোবল’,
- ‘দিয়েছিলে সকল আকাশ’,
- ‘মৌলিক মুখোশ’ ইত্যাদি।

- এছাড়া, তিনি ‘ভালো আছি ভালো থেকো' গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- এবং এই গানটিসহ তিনি অর্ধশতাধিক গান রচনা করেছেন ও সুর দিয়েছেন।
- তার কাব্যনাট্য ‘বিষ বিরিক্ষের বীজ’ও উল্লেখযোগ্য।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,৬০২.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. দিকদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র- দিকদর্শন। 

দিকদর্শন: 
- প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র “দিকদর্শন” (প্রথম বাংলা মাসিক পত্রিকা)।
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক ১৮১৮ সালে শ্রিরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।  
---------------------
অন্যদিকে,
সমাচার দর্পণ: 
- “সমাচার দর্পণ” শ্রীরামপুর মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান  কর্তৃক সম্পাদিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।  
- প্ত্রিকাটির প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ২৩শে মে, ১৮১৮ সালে।   

সংবাদ প্রভাকর: 
- বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা- “সংবাদ প্রভাকর” ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কর্তৃক ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়।

• 'বাঙ্গাল গেজেট':
- পত্রিকার সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৬০৩.
বোবা কাহিনী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬০ সালে
  3. গ) ১৯৬৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
বোবা কাহিনী পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের প্রথম এবং একমাত্র উপন্যাস। ১৯৬৪ সালে এই উপন্যাস প্রথম প্রকাশিত হয়। উপন্যাসটি সম্পূর্ণ লোকজীবন ভিত্তিক। (সৌমিত্র শেখরের বই অনুসারে)
তবে, মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ও আরও কয়েকটা রেফারেন্স অনুসারে, জসীম উদ্দীনের জীবদ্দশায় প্রকাশিত একমাত্র উপন্যাস - বোবা কাহিনী।
১৯৯০ সালে তার অপ্রকাশিত লেখার পান্ডুলিপি থেকে দ্বিতীয় উপন্যাস - "বউ টুবানীর ফুল" প্রকাশিত হয়।
১০,৬০৪.
‘বিনোদিনী’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের অন্তর্গত চরিত্র?
  1. যোগাযোগ
  2. নৌকাডুবি
  3. দুইবোন
  4. চোখের বালি
  5. ক ও ঘ
ব্যাখ্যা
• 'চোখের বালি'  উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন। এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্ত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্খা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্রর স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

প্রধান চরিত্রগুলো হলো:
- বিনোদিনী,
- মহেন্দ্র,
- আশালতা,
- বিহারী,
- রাজলক্ষী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘যোগাযোগ’ উপন্যাসের নায়িকা কুমুদিনী ও নায়ক মধুসূদনের ব্যক্তিত্বের তীব্র বিরোধ উপন্যাসের কেন্দ্র।
• 'নৌকাডুবি' উপন্যাসটির মূল চরিত্রগুলো হচ্ছে: রমেশ, হেমনলিনী, কমলা, অন্নদাবাবু, নলিনাক্ষ।
• 'দুইবোন' উপন্যাসের চরিত্র: শর্মিলা ও উর্মিলা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬০৫.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. দিবারাত্রির কাব্য
  2. আরোগ্য
  3. সহরতলী
  4. মাসি পিসি
ব্যাখ্যা
⇒ 'মাসিপিসি' গল্প:
- 'মাসিপিসি' মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ১৩৫২ বঙ্গাব্দের চৈত্র সংখ্যায় (মার্চ-এপ্রিল ১৯৪৬), পরে এটি সংকলিত হয় 'পরিস্থিতি' (অক্টোবর ১৯৪৬) নামক গল্পগ্রন্থে।
- বর্তমান পাঠ গ্রহণ করা হয়েছে 'ঐতিহ্য' প্রকাশিত মানিক রচনাবলির পঞ্চম খণ্ড থেকে।
- নিঃস্ব ও বিধবা দুই নারী স্বামীর নির্যাতনের শিকার পিতৃমাতৃহীন এক তরুণীর অস্তিত্ব রক্ষায় যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে তা এই গল্পটিতে সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের লালসা, দুর্ভিক্ষের স্মৃতি ও জীবিকা নির্বাহের কঠিন সংগ্রাম এ গল্পের বৈচিত্র্যময় দিক।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:

- প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।  
- তাঁর প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- আরোগ্য,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ প্রভৃতি।

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চমাধ্যমিক বাংলা প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১০,৬০৬.
বুদ্ধদেব বসুর লেখা "নীলাঞ্জনার খাতা" কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কবিতা
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. গল্প
ব্যাখ্যা
• 'নীলাঞ্জনার খাতা' উপন্যাস:
- রচয়িতা: বুদ্ধদেব বসু।
- এটিকে জীবনাদর্শমূলক উপন্যাসও বলা হয়।

----------------------
• বুদ্ধদেব বসু:

- একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়',
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি প্রকাশনা।
১০,৬০৭.
১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি বিবিসি রেডিওতে পাঠ করেন -
  1. জহির রায়হান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক: 
- ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সর্বমহলে ‘সব্যসাচী’ লেখক হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর লেখা গান ‘হায়রে মানুষ রঙীন ফানুস’ এক সময় মানুষের মুখে-মুখে ছিল।
- তাঁর রচিত দুটি কাব্যনাট্য 'নুরলদিনের সারাজীবন' এবং 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' বাংলা নাটকে একটি বিশেষ স্থান দখল করে রয়েছে।
- তিনি সর্বকনিষ্ঠ সাহিত্যিক হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। 
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
- সৈয়দ শামসুল হকের আঙ্গিক-নিরীক্ষার অন্যতম প্রধান ফসল 'পরানের গহীন ভিতর'।
- তেত্রিশটি সনেটের পরম্পরায় রচিত এই কাব্যটি বাংলাদেশের সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের খবরটি তিনি দৃপ্তকন্ঠে বিবিসি রেডিওতে পাঠ করে শুনিয়ে সমগ্র বিশ্বের বাঙালি জাতিকে আনন্দে আত্মহারা করে তোলেন। 
- তার দৃঢ়কণ্ঠ সাবলীল উচ্চারণের জন্য তিনি জনসাধারণ্যে পরিচিতি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র:
১. বিবিসি বাংলা,
২. ডেইলি স্টার বাংলা,
৩. বাংলাপিডিয়া।
১০,৬০৮.
"গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ" - কে লিখেছেন?
  1. আবুল ফজল 
  2. কায়কোবাদ
  3. নজিবর রহমান সাহিত্যরত্ন 
  4. মোহাম্মদ আকরম খাঁ 
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়

"গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ" হলো কবি কায়কোবাদের লেখা একটি কাব্যগ্রন্থ, যা মহাত্মা বড় পীর, অর্থাৎ আব্দুল কাদির জিলানীর জীবন ও কর্ম নিয়ে রচিত। এটি কায়কোবাদের সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ এবং তাঁর নব্বই বছর বয়সের রচনা, যা ১৯৭৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬০৯.
আব্দুল হাকিম রচিত কাব্য কোনটি?
  1. ক) হানিফার-লড়াই
  2. খ) রাগতালনামা
  3. গ) সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল
  4. ঘ) সিকান্দারনামা
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হাকিম
- সপ্তদশ শতাব্দীর মুসলিম কবি। 
- আব্দুল হাকিমের ৫টি কাব্য পাওয়া যায়। 
কাব্যগুলো হলো: 
- ইউসুফ জোলেখা,
- নূরনামা,
- দুররে মজলিশ,
- লালমোতি সয়ফুলমুলুক,
- হানিফার লড়াই।

অন্যদিকে, 
আলাওল রচিত গ্রন্থ:
- সয়ফুলমূলক বদিউজ্জামাল,
- সিকান্দারনামা,
- রাগতালনামা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬১০.
'সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় রচনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শামসুর রাহমান 
  4. আব্দুল করিম
ব্যাখ্যা

• 'সেই সুমধুর স্তব্ধ দুপুর, পাঠশালা-পলায়ন
ভাবিলাম হায় আর কি কোথায় ফিরে পাব সে জীবন!' - পঙ্‌ক্তিদ্বয় রচনা করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 'দুই বিঘা জমি' নামক কবিতা থেকে নেওয়া।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
- এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মানসী,
- সোনার তরী,
- চিত্রা,
- কল্পনা,
- ক্ষণিকা,
- গীতাঞ্জলি,
- বলাকা,
- পূরবী,
- পুনশ্চ,
- পত্রপূট,
- সেঁজুতি,
- শেষলেখা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
৩) 'দুই বিঘা জমি' কবিতা।

১০,৬১১.
”সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে।” পঙ্‌ক্তিটির রচিতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
”সেইদিন এই মাঠ” কবিতা।
- কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের ”রূপসী বাংলা” কাব্যের অন্তর্গত। 
- এই কবিতার প্রথমটি নয় পঙ্‌ক্তি বিশিষ্ট, দ্বিতীয়টি চার পঙ্‌ক্তি বিশিষ্ট।
- ”সোনার স্বপ্নের সাধ পৃথিবীতে কবে আর ঝরে।” পঙ্‌ক্তিটি এই কবিতার অংশ।
--------------------------------
জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি ছিলেন কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ: ঝরা পালক

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডু লিপি,
- বনলতা সেন,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- রূপসী বাংলা,
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,৬১২.
"মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে,
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না 
বলো, মা
তাই কি হয়?" - পঙ্‌ক্তিগুলোর রচয়িতা কে?
  1. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. শামসুর রাহমান
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা

মাগো ওরা বলে 
আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ

“মাগো, ওরা বলে,
সবার কথা কেড়ে নেবে,
তোমার কোলে শুয়ে
গল্প শুনতে দেবে না
বলো, মা
তাই কি হয়?

আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ:
- আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ ছিলেন একজন কবি ও সরকারি কর্মকর্তা।
- ১৯৩৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ খান।

তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- সাত নরীর হার,  
- কখনো রং কখনো সুর,  
- কমলের চোখ,  
- আমি কিংবদন্তির কথা বলছি,  
- সহিষ্ণু প্রতীক্ষা,  
- প্রেমের কবিতা, 
- নির্বাচিত কবিতা,  
- আমার সকল কথা,  
- মসৃণ কৃষ্ণ গোলাপ প্রভৃতি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬১৩.
জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ -
  1. রূপসী বাংলা
  2. ধূসর পাণ্ডুলিপি
  3. বনলতা সেন
  4. ঝরা পালক
ব্যাখ্যা

'ঝরা পালক' কাব্যগ্রন্থ: 
- জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
- কবি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরা পালক’। ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম কাব্যগ্রন্থে জীবনানন্দ দাশ পঁয়ত্রিশটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। 
- ঝরা পালক কাব্যগ্রন্থের ভূমিকায় জীবনানন্দ লিখেছেন- “ঝরা পালকের কতকগুলি কবিতা প্রবাসী, বঙ্গবাণী, কল্লোল, কালি-কলম, প্রগতি, বিজলি প্রভৃৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হইয়াছিলো। বাকিগুলি নূতন।”
- এই কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের অনুসরণ যেমন আছে, তেমনি আছে নতুন এক ভাষারীতি ও বাকপ্রতিমা রচনার চেষ্টা।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ঝরা পালক (এটি জীবনানন্দ দাশের প্রথম কাব্য গ্রন্থ), 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী, 
- সাতটি তারার তিমির, 
- রূপসী বাংলা, 
- বেলা অবেলা কালবেলা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬১৪.
শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা কে?
  1. সুকুমার রায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. ফররুখ আহমদ
  4. বন্দে আলী মিয়া
ব্যাখ্যা

• শিশুতোষ গ্রন্থ 'পাখির বাসা' এর রচয়িতা - ফররুখ আহমদ।
- এটি ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়।

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ‘সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪) ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- তাঁর রচিত কাব্যনাট্য 'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১)।
- ‘মুহূর্তের কবিতা' (১৯৬৩) তাঁর রচিত একটি সনেট সংকলন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনিকাব্য 'হাতেম তায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষ গ্রন্থের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬১৫.
'জোছনা ও জননীর গল্প’ উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. জহির রায়হান
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জাহানারা ইমাম
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ূন আহমেদের  জনপ্রিয় উপন্যাস - 'জোছনা ও জননীর গল্প'।
• উপন্যাসটির প্রথম সংস্করণ একুশে বই মেলাতে ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
---------------------
• হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- ১৯৭২ সালে তিনি উপন্যাসটি রচনা করেন এবং সে বছরই উপন্যাসটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- নন্দিত নরকে বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- তাঁর দ্বিতীয় উপন্যাস 'শঙ্খনীল কারাগার' (১৯৭৩)। [প্রথম রচিত উপন্যাস; কিন্তু দ্বিতীয় প্রকাশিত]

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬১৬.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. প্রবাসী
  2. মোসলেম ভারত
  3. সবুজপত্র
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
'বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।
- এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে: নুরু, মাহবুবা, রাবেয়া, সাহসিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
- ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে আনা হয়।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে নজরুলকে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান এবং ২১ ফেব্রুয়ারি ‘একুশে পদকে’ ভূষিত করে।
- ২৯ আগস্ট ১৯৭৬ (১২ ভাদ্র ১৩৮৩) ঢাকার পিজি হাসপাতালে কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত অন্য দুটি উপন্যাস:
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬১৭.
শওকত ওসমানের 'আর্তনাদ' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন 
  3. তেতাল্লিশের দুর্ভিক্ষ
  4. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ 
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান রচিত ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস 'আর্তনাদ'।
- উপন্যাসটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত হয়।

-------------------
• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক।১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস-
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬১৮.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক কোনটি?
  1. পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য
  2. দণ্ডকারণ্য
  3. কবর
  4. রক্তাক্ত প্রান্তর
ব্যাখ্যা

• 'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটক:
- মুনীর চৌধুরীর 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- 'মানুষ মরে গেলে পচে যায়। বেঁচে থাকলে বদলায়।' রক্তাক্ত প্রান্তর নাটকের একটি জনপ্রিয় উক্তি। নাটকে উক্তিটি বলেছেন নবাব সুজাউদ্দৌলা।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরণবালা ইত্যাদি।

-----------------------
• মুনীর চৌধুরী:

- শিক্ষাবিদ, নাট্যকার, সাহিত্যসমালোচক মুনীর চৌধুরী ১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জ শহরে তাঁর জন্ম।
তাঁর পৈতৃক নিবাস নোয়াখালী জেলায়।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে কারাবন্দী অবস্থায় কবর নাটকটি রচনা করেন।
- মুনীর চৌধুরী ১৯৬৫ সালে কেন্দ্রীয় বাঙলা উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বাংলা টাইপরাইটারের জন্য উন্নতমানের কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন, যার নাম মুনীর অপ্টিমা।

তাঁর রচিত অনুবাদ নাটক:
- কেউ কিছু বলতে পারে না (১৯৬৯): জর্জ বার্নার্ড শর You never can tell-এর বাংলা অনুবাদ।
- রূপার কৌটা (১৯৬৯): জন গলওয়র্দির The Silver Box-এর বাংলা অনুবাদ।
- মুখরা রমণী বশীকরণ (১৯৭০): উইলিয়াম শেক্‌স্পিয়ারের Taming of the Shrew-এর বাংলা অনুবাদ।

তাঁর রচিত মৌলিক নাটক:
- রক্তাক্ত প্রান্তর: পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- চিঠি।
- কবর (রচনাকাল ১৯৫৩, প্রকাশকাল ১৯৬৬) নাটকটির পটভূমি হলো ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন।
- পলাশী ব্যারাক ও অন্যান্য।
- 'মানুষ' ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কাহিনী এর মূল উপজীব্য।
- 'নষ্ট ছেলে' রাজনৈতিক চেতনাসমৃদ্ধ নাটক।
- 'দণ্ডকারণ্য' তিনটি নাটকের সমন্বয়।
- রাজার জন্মদিন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)।

১০,৬১৯.
আহসান হাবীবের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো -
  1. ক) রাত্রিশেষ
  2. খ) দু'হাতে দুই আদিম পাথর
  3. গ) মেঘ বলে চৈত্রে যাবো
  4. ঘ) বিদীর্ণ দর্পণে মুখ
ব্যাখ্যা
আহসান হাবীব মূলত কবি ও সাংবাদিক ছিলেন।
- আহসান হাবীবের প্রথম কবিতার বই 'রাত্রিশেষ' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।
- তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু'হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫) ইতাদি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২০.
’ঠাকুরমার ঝুলি’ কী জাতীয় গ্রন্থ?
  1. রূপকথা
  2. নাটক
  3. কাব্য
  4. পালা
ব্যাখ্যা
• ঠাকুরমার ঝুলি বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় রূপকথার সংকলন।
- এই গ্রন্থের সংকলক দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার রূপকথার গল্পগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তৎকালীন বৃহত্তর ময়মনসিংহ থেকে।
-----------------------------------------------------
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠাকুরমার ঝুলির ভূমিকা লিখে দিয়েছিলেন।
- জনপ্রিয় এ গ্রন্থখানি জার্মান ভাষায় অনূদিত হয়।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২১.
নিচের কোন সাহিত্যধারা শ্রী চৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে?
  1. প্রণয়কাব্য
  2. প্রাকৃত গীতিকাব্য
  3. মঙ্গলকাব্য
  4. বৈষ্ণব সাহিত্য
ব্যাখ্যা
শ্রী চৈতন্যদেব:
- মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য শ্রী চৈতন্যদেব ধর্ম প্রচারকের প্রভাব অপরিসীম।
- শ্রীচৈতন্যর পিতৃদত্ত নাম বিশ্বম্ভর মিশ্র, ডাক নাম নিমাই।
- তিনি বাংলা সাহিত্য একটি পঙক্তি না লিখলেও তাঁর নামে একটি যুগের সৃষ্টি হয়েছে যার নাম শ্রী চৈতন্যদেব।
- তাঁকে কেন্দ্র করে রচিত হয়েছে মধ্যযুগের ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’।
- ‘বৈষ্ণব সাহিত্য’ তিন প্রকার যথা: জীবনীকাব্য, বৈষ্ণব শাস্ত্র ও পদাবলী
- বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থের নাম বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত।
- বাংলা সাহিত্য ১৫০০ থেকে ১৭০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে চৈতন্যযুগ বলে।
- চৈতন্যদেব জন্ম ১৪৮৬ খ্রিষ্টাব্দ এবং মৃত্য ১৫৩৩ খ্রিষ্টাব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬২২.
‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত কী ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. প্রবন্ধগ্রন্থ
  4. শিশুতোষ গ্রন্থ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘কূচবরণ কন্যা’ বন্দে আলী মিয়া রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত হয়।

⇒ বন্দে আলী মিয়া: 

- বন্দে আলী মিয়া একজন কবি, ঔপন্যাসিক  ও শিশু সাহিত্যিক।
- তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুণ্যের পরিচয় দিয়েছেন।
- তিনি প্রথম ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন।
- শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২), প্রেসিডেন্ট পুরস্কার (১৯৬৫) এবং উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক (১৯৭৭) লাভ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- কাব্য ময়নামতীর চর,
- অনুরাগ,
- পদ্মানদীর চর, 
- মধুমতীর চর ইত্যাদি। 

তাঁর রচিত শিশুতোষ গ্রন্থগুলোর নাম:
- চোর জামাই,
- রূপকথা ডাইনী বউ,
- মৃগপুরি,
- কূচবরণ কন্যা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৩.
পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় রচিত ‘নবান্ন’ নাটকের রচয়িতা কে?
  1. বিজন ভট্টাচার্য
  2. নবীনচন্দ্র সেন
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
'নবান্ন' নাটক:
- এটি বিজন ভট্টাচার্য রচিত নাটক।
- ‘নবান্ন' (১৯৪৪) পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় কৃষক জীবনের দুঃখ দুর্দশা ও জীবন সংগ্রামের কাহিনি অবলম্বনে রচিত নাটক।
- নবনাট্য আন্দোলনের পথিকৃৎ বিজন ভট্টাচার্য এই নাটকের মাধ্যমে বাংলা নাট্যধারায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাই এই নাটকটিকে বাংলা নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে যুগান্তকারী বলা চলে।
- অনেকে দীনবন্ধুর 'নীল-দর্পণে'র সঙ্গে এর তুলনা করেছেন।
- এ নাটকটি ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘ ১৯৪৪ সালে প্রথম অভিনয় করেন।

বিজন ভট্টাচার্য:
-তিনি ছিলেন নাট্যকার, অভিনেতা।
- ফরিদপুর জেলার খানখানাপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ক্ষীরোদবিহারী ভট্টাচার্য ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক।
- বিজন ভট্টাচার্য অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দিয়ে কারাবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,৬২৪.
কোনটি প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়?
  1. সহরপাদের দোহা
  2. ডাকার্ণব
  3. কৃষ্ণপাদের দোহা
  4. নিরঞ্জনের রুষ্মা
ব্যাখ্যা
ঘ) নিরঞ্জনের রুষ্মা প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম নয়।
• এটি অন্ধকার যুগের সাহিত্য নিদর্শন। 

• 'শূণ্যপুরাণ' রামাই পণ্ডিত রচিত গদ্যপদ্যে মিশ্রিত এক প্রকার চম্পুকাব্য।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' শূণ্যপুরাণের অন্তর্গত একটি কবিতা।
- 'নিরঞ্জনের উষ্মা' অংশের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়- বর্ণ হিন্দুগণ ধর্মসেবকদের প্রতি নানা অত্যাচার ও অবজ্ঞা করেছেন।
- ড. সুকুমার সেনের মতে, শূন্যপুরাণ এর অন্তর্গত 'নিরঞ্জনের উষ্মা' প্রকৃতপক্ষে সহদেব চক্রবর্তীর রচনা।

অন্যদিকে,
ক) সহরপাদের দোহা;
খ) ডাকার্ণব;
গ) কৃষ্ণপাদের দোহা- 
- প্রাচীন যুগের সাহিত্যকর্ম (৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ)।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬২৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ রচিত গ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বাংলা সাহিত্যের কথা
  2. ভাষা ও সাহিত্য
  3. বাঙ্গালা ব্যাকরণ
  4. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ এনামুল হক ও সৈয়দ আলী আহসান যৌথভাবে রচনা করেন- ‘বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত' (১৯৬৮)।

------------------------------
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন।
- তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬২৬.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মৃত্যু দিবস কোনটি?
  1. ক) ১৯৬৪ সালের ১ মে
  2. খ) ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই
  3. গ) ১৯৬৬ সালের ১ মে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালের ১৩ জুলাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯৬৯ সালের ১৩ জুলাই ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত, বাংলা সাহিত্যের কথা, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ। সম্পাদনা গ্রন্থ বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান। সম্পাদিত শিশু পত্রিকা আঙ্গুর। রেফারেন্সঃ বাংলা প্রথম পত্র নবম ও দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।
১০,৬২৭.
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সাধনা
  2. খ) হিতকরী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) কোহিনূর
ব্যাখ্যা
কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' কাব্যটি প্রথম 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

'মহাশ্মশান' 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
- মহাশ্মশান কাব্যে মোট তিনটি খন্ড রয়েছে।
- প্রথম খন্ড ১৯ সর্গ, দ্বিতীয় খন্ড ২৪ সর্গ এবং তৃতীয় খন্ড ৭ সর্গে সমাপ্ত। 
- উল্লেখ্য, 
বাংলাপিডিয়ায়, কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া। 

প্রধান চরিত্র: 
- এব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- হিরণ বালা
- আতা খাঁ
- লঙ্গ
- রত্নজি
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা
- আহমদ শাহ্ আব্দালী

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ।
- ১৮৫৭ সালে  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী ছিলেন ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৮.
লাহিনীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন কোন লেখক?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- পিতা মীর মোয়াজ্জেম হোসেন ছিলেন জমিদার। নিজগৃহে মুনশির নিকট আরবি ও ফারসি শেখার মাধ্যমে মশাররফ হোসেনের লেখাপড়ার হাতেখড়ি হয়।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু। গ্রামবার্তার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মোশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী (১৮৬৫) উপন্যাস প্রকাশিত হওয়ার চার বছর পর মশাররফের প্রথম উপন্যাস রত্নবতী (১৮৬৯) প্রকাশিত হয়।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• নাটক:
- বসন্তকুমারী,
- জমীদার দর্পণ,
- বেহুলা গীতাভিনয়,
- টালা অভিনয়।

• উপন্যাস:
- বিষাদ সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা,
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী।
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬২৯.
'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত -
  1. উপন্যাস
  2. কাব্যগ্রন্থ
  3. গল্পগ্রন্থ
  4. গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত - গদ্যগ্রন্থ
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা: 
 - ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- তিনি ছিলেন কবি ও লেখক।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। 
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৩০.
'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'ডাকহরকরা' গল্পটির রচয়িতা- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়'। 

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়: 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্ম ১৮৯৮ সালের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়। 
- তারাশঙ্করের প্রথম গল্প ‘রসকলি’ সেকালের বিখ্যাত পত্রিকা কল্লোল-এ প্রকাশিত হয়।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উপন্যাসের নাম - একটি কালো মেয়ের কথা।

• তার রচিত উপন্যাস:
- কবি,
- চৈতালি ঘূর্ণি,
- ধাত্রীদেবতা,
- গণদেবতা,
- কালিন্দী,
- জলসাগর,
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা ইত্যাদি। 

• তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প: 
- রসকলি,
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা প্রভৃতি।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত আঞ্চলিক উপন্যাস:
- হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, 
- পঞ্চগ্রাম, 
- গণদেবতা, 
- নাগিনী কন্যার কাহিনী। 

তাঁর প্রসিদ্ধ  ছোটগল্প:
- রসকলি, 
- বেদেনী, 
- ডাকহরকরা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর , বাংলাপিডিয়া। 
১০,৬৩১.
উইলিয়াম কেরি কোন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলায় আসেন?
  1. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি
  2. ডেনিশ মিশন সোসাইটি
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি
ব্যাখ্যা
শ্রীরামপুর মিশন:
- শ্রীরামপুর মিশন (১৮০০-১৮৪৫) ভারতের প্রথম নিজস্ব প্রচারক সংঘ।
- ১৮০০ সালের ১০ জানুয়ারী উইলিয়াম কেরী ও ভ্রাতৃবৃন্দ এ মিশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- মিশন হুগলি জেলার দুটি স্থান থেকে বাংলায় যীশুর বাণী প্রচার শুরু করে।
- উইলিয়াম কেরী ‘ব্যাপটিস্ট মিশনারি সোসাইটি’র প্রতিনিধি হিসেবে ১৭৯৩ সালে বাংলায় আসেন খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে।

উইলিয়াম কেরী:
- উইলিয়াম কেরি ছিলেন একজন ইংরেজ মিশনারি।
- বাংলা গদ্যের বিকাশে এই বিদেশের অবদান সর্বাধিক।
- তিনি ইতিহাসমালা ও কথোপকথন নামে দুটি মৌলিক গ্রন্থ রচনা করেন। ইতিহাসমালা বাংলা ভাষার প্রথম গল্পসংগ্রহ।
- ১৮১০ সালে তিনি দরিদ্র কৃষকদের জন্য কলকাতায় বোর্ডিং স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৩২.
"গাজীবিজয়" - কাব্যটি কোন মধ্যযুগের কবি রচনা করেন?
  1. সৈয়দ হামজা 
  2. ফকির গরীবুল্লাহ
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. সৈয়দ সুলতান 
ব্যাখ্যা

শেখ ফয়জুল্লাহ:
- শেখ ফয়জুল্লাহ (১৬শ শতক) মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- তাঁর জন্মস্থান নিয়ে মতভেদ আছে।
- বিভিন্ন মতে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের বারাসত, দক্ষিণ রাঢ় এবং কুমিল্লার নাম উল্লিখিত হয়েছে।
- তিনি জয়নবের চৌতিশা, সুলতান জমজমা, রাগমালা ও পদাবলী কাব্য রচনা করেন।

শেখ ফয়জুল্লাহ রচিত কাব্য:
- সত্যপীরবিজয়,
- গোরক্ষবিজয়ও
- গাজীবিজয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৩৩.
‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন লেখক?
  1. রাজশেখর বসু
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. সমরেশ বসু 
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

• রাজশেখর বসু ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় উভয় লেখকই ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। 

--------------------
• রাজশেখর বসু: 

- রাজশেখর  বসু ছিলেন একজন লেখক, বিজ্ঞানী ও অভিধান প্রণেতা। ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম; পৈতৃক নিবাস নদীয়া জেলার উলা গ্রামে।

- রাজশেখর চাকরি এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি বাংলা  অভিধান ও  পরিভাষা রচনায় মনোনিবেশ করেন। ১৯০৬ সালে গঠিত জাতীয় শিক্ষা পরিষদে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তিনি ১৯৩৫ সালে  কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গঠিত বাংলা বানান সংস্কার সমিতি এবং ১৯৪৮ সালে সরকার গঠিত পরিভাষা সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন।

- লেখক হিসেবে তিনি ‘পরশুরাম’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। ১৯২২ সালে এ ছদ্মনামে তাঁর ‘শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’ ব্যঙ্গ রচনাটি প্রকাশিত হয়। 
- তাঁর চলন্তিকা (১৯৩৭) বাংলা ভাষায় বহুল প্রচলিত একখানি জনপ্রিয় অভিধান।
- বিজ্ঞান ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজশেখর জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯৪০), রবীন্দ্র পুরস্কার (১৯৫৫), সরোজিনী পুরস্কার (১৯৫৫), সাহিত্য আকাদেমী পুরস্কার (১৯৫৮) ও পদ্মভূষণ (১৯৫৬) উপাধি লাভ করেন।

 তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
• রম্য-রচনা :
- গড্ডলিকা, 
- কজ্জলী, 
- হনুমানের স্বপ্ন, 
- গল্পকল্প। 

• গল্প:
- কৃষ্ণকলি, 
- আনন্দীবাঈ। 

• প্রবন্ধ: 
- লঘুগুরু, 
- ভারতের খনিজ। 

অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৩৪.
চর্যাপদের কবি নয় কে?
  1. তাড়কপা
  2. জয়ীনন্দপা
  3. গুণ্ডরীপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন - জয়ীনন্দপা

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিতের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৬৩৫.
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি কে?
  1. ভুসুকুপা
  2. কাহ্নপা
  3. লুইপা
  4. শবরপা
ব্যাখ্যা
শবরপা:
- ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন কবি শবরপা।
- তিনি ছিলেন নাগার্জুনের শিষ্য।
- শবরপার জীবনকাল ৬৮০ - ৭৬০ খ্রিস্টাব্দ বলে অনুমান করা হয়।
- শবরপা চর্যাপদের প্রথম পদকর্তা ও লুইপার গুরু ছিলেন।
- ২৮ ও ৫০ নং পদের রচয়িতা তিনি।
- সংস্কৃত ও অপভ্রংশ মিলে তিনি মোট ১৬টি গ্রন্থ রচনা করেন।

শবরপা রচিত উল্লেখযোগ্য পঙক্তি -
"উষ্ণা উষ্ণা পাবত তহিঁ সবই সবরী বালী।
মোরাঙ্গ পীচ্ছ পরিহাণ সবী গীবত গুঞ্জরী।।"

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৩৬.
'সিরাজদ্দৌলা' গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত একটি-
  1. পৌরাণিক নাটক
  2. ঐতিহাসিক নাটক
  3. কৌতুক নাটক
  4. রোমান্টিক নাটক
ব্যাখ্যা

• 'সিরাজদ্দৌলা' নাটক:
- 'সিরাজদ্দৌলা' ঐতিহাসিক নাটকের রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ।
- নাটকটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- গিরিশচন্দ্র 'সিরাজদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজদ্দৌলাকে নবজাগ্রত স্বাদেশিকতার আদর্শ বিগ্রহে পরিণত করেছিলেন।

---------------
গিরিশচন্দ্র ঘোষ রচিত নাটকসমূহ হলো-
• পৌরাণিক নাটক:
- রাবণবধ,
- সীতার বনবাস,
- সীতার বিদ্রোহ,
- লক্ষণ বর্জন,
- রামের বনবাস, 
- সীতাহরণ, 
- পান্ডবের অজ্ঞাতবাস, 
- পাণ্ডব গৌরব। 

• রোমান্টিক নাটক:
- মুকুলমুঞ্জরা, 
- আবু হোসেন, 

• ঐতিহাসিক নাটক:
- সিরাজদ্দৌলা, 
- মীরকাশিম, 
- ছত্রপতি শিবাজী, 
- অশোক। 

• কৌতুক নাটক:
- হীরার ফুল, 
- সপ্তমীতে বিসর্জন, 
- বড়দিনের বখশিশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৩৭.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. ওঙ্কার
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. বন্দী শিবির থেকে
ব্যাখ্যা

• 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক উপন্যাসের মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ রচিত 'অনিল বাগচীর একদিন' বেশ ভিন্ন ধারার।
- এখানে যুদ্ধ নেই প্রত্যক্ষভাবে তবে আছে সততার ঋজু সৌধ, যা নির্মাণ করেছে অনিল নামের একটি সাদাসিধে ছেলে। পিতার হত্যা-সংবাদ ও বোনের অন্যের বাড়িতে আশ্রয়ের খবর পেয়ে গ্রামে ফিরবে বলে অনিলের মধ্যে চাপা উত্তেজনা- সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভিন্ন আবেদন সৃষ্টি করে
পাকবাহিনীর সদস্যরা অনিলকে হত্যা করে।
- অনিল বাগচীর একদিন সমাপ্ত হয় চিরতরে কিন্তু বাংলাদেশে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।

হুমায়ূন আহমেদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াস ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে রচিত উপন্যাস-  চিলেকোঠার সেপাই।
• আহমদ ছফা রচিত 'ওঙ্কার' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৫ সালে। ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• শামসুর রাহমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ- বন্দী শিবির থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৩৮.
'আবোল-তাবোল' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
  2. খ) হেলাল হাফিজ
  3. গ) ফররুখ আহমদ
  4. ঘ) সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা
আবোল-তাবোল, হ-য-ব-র-ল, পাগলা দাশু, বহুরূপী, খাইখাই ইত্যাদি সুকুমার রায়ের শিশুতোষ গ্রন্থ এবং অতীতের কথা তাঁর রচিত কাব্য।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৬৩৯.
'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বিষ্ণু দে
ব্যাখ্যা
• 'সাত ভাই চম্পা' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বিষ্ণু দে।

• বিষ্ণু দে:

- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪০.
'পথের দাবী' উপন্যাসটির রচয়িতা-
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো- 'পথের দাবী'।  

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
---------------------------- 
• 'পথের দাবী' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:  
-  এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- কাহিনীর পটভূমি ব্রহ্মদেশ। 
- এক গুপ্ত দলের নায়ক সব্যসাচী উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। 
- কারো কারো মতে সব্যসাচী চরিত্রে বিপ্লবী রসবিহারীবসুর ছায়াপাত ঘটেছে।  
- উপন্যাসটি বিপ্লববাদীদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগে ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করে।
- ভারতীয় রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসে এই গ্রন্থ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। 

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস গুলো হল: 
- বড়দিদি,
- শ্রীকান্ত,
- গৃহদাহ,
- দেনা পাওনা
- চরিত্রহীন,
- পল্লীসমাজ,
- বৈকুণ্ঠের উইল,
- দেবদাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড: সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া। 
১০,৬৪১.
এন্টনি ফিরিঙ্গি কিসের জন্য বিখ্যাত ছিলেন?
  1. কবিগান
  2. পালাগান
  3. বটতলার পুথি
  4. পুথি সাহিত্য
ব্যাখ্যা
• 'এন্টনি ফিরিঙ্গি 'কবিগান' এর জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

এন্টনি ফিরিঙ্গি:
- তিনি ছিলেন আঠারো শতকের বাংলা ভাষার কবিয়াল।
- তাঁর প্রকৃত নাম এন্টনি হেন্সম্যান।
- তিনি জাতিতে ছিলেন পর্তুগিজ এবং ধর্মে খ্রিষ্টান।
- তিনি খ্রিষ্টান হলেও বাঙালি কালী সাধক হিন্দুর মত জীবনযাপন করতেন।
- তিনি হিন্দু বিধবাকে বিয়ে করেন এবং কলকাতার বউবাজারে ফিরিঙ্গি কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি চমৎকার বাংলা কবিগান গাইতে ও গান বাঁধতে পারতেন।

• তাঁর একটি বিখ্যাত গান -

‘আমি ভজন সাধন জানি নে মা
নিজেত ফিরিঙ্গি
যদি দয়া করে কৃপা কর
হে শিব মাতঙ্গী।’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৪২.
‘ছায়া হরিণ' কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ক) আহসান হাবীব
  2. খ) ফররুখ আহমদ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
ব্যাখ্যা
• আহসান হাবীব:
- তিনি ছিলেন মূলত কবি ও সাংবাদিক।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ - রাত্রিশেষে।
- ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি এবং ১৯৭৮ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

• ছায়া হরিণ

- তাঁর ‘ছায়া হরিণ’ কাব্যগ্রন্থটি ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। মোট কবিতার সংখ্যা ২৪।
- এ কাব্যগ্রন্থে তাঁর সমাজ-সচেতনতা প্রকাশিত হয়েছে।
- ঐতিহ্যাশ্রয়ী কবি এখানে বণিক সভ্যতার রুদ্র রূপ দেখেছেন। তিনি গ্রামীণ অনুষঙ্গে স্থিত হতে চেয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৪৩.
রামাই পণ্ডিত রচিত গ্রন্থ কোনটি?
  1. গুলে বকাওলী
  2. সেক শুভদয়ার
  3. মুক্তল হোসেন
  4. কলিমা জালাল
ব্যাখ্যা
• অন্ধকার যুগ:
বাংলা সাহিত্যে ১২০০ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত দেড়’শ বছরকে কেউ কেউ অন্ধকার যুগ বা তামস যুগ বলে অভিহিত করেছেন।
- তথাকথিত অন্ধকার যুগের সাহিত্য সৃষ্টির কোন নিদর্শন পাওয়া যায় নি এ কথা ও সত্য নয়।

• অন্ধকার যুগে প্রাপ্ত কিছু সাহিত্য নিদর্শন-
- 'প্রাকৃত পৈঙ্গল' এর কবি হলেন শ্রীহর্ষ।
- রামাই পণ্ডিত রচিত 'শূণ্যপূরাণ' এবং এর ‘কলিমা জালাল’ বা অংশবিশেষ 'নিরঞ্জনের রুষ্মা',
- হলায়ূধ মিশ্র রচিত 'সেক শুভদয়ার'।

• হলায়ুধ মিশ্র রচিত পির মাহাত্ম্য-ব্যঞ্জক কাব্য ‘সেক শুভোদয়া’।
• রামাই পণ্ডিত রচিত বৌদ্ধ ধর্মীয় তত্ত্বের গ্রন্থের নাম ‘শূণ্যপুরাণ’।
 
অন্যদিকে,
• ‘মুক্তল হোসেন’ হচ্ছে মুহম্মদ খান রচিত পারসি থেকে অনূদিত (১৬৪৫) বাংলা মর্সিয়া সাহিত্যগ্রন্থ।
• 'গুলে বকাওলী' রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার একটি কাব্য। সতের শতকের কবি নওয়াজিস খান প্রথমে 'গুলে বকাওলী' কাব্য রচনা করেন। এর পরে মুহম্মদ মুকিম, মুহম্মদ আলী ও উমাচরণ মিত্রসহ অনেকেই 'গুলে বকাওলী' নামে কাব্য রচনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা সাহিত্যে অন্ধকার যুগ: মিথ বনাম বাস্তবতা।
১০,৬৪৪.
‘প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব’ উপাধি লাভ করেন কে?
  1. আশুতোষ চৌধুরী
  2. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. নগেন্দ্রনাথ বসু
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  5. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
নগেন্দ্রনাথ বসু:
- বাংলা তথা ভারতীয় ভাষায় প্রথম বিশ্বকোষ রচয়িতা, প্রত্নতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক।
- ১৮৬৬ সালে কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- নগেন্দ্রনাথ জ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখলেও তাঁর প্রধান পরিচয় বাংলা বিশ্বকোষ রচয়িতা হিসেবে।
- রঙ্গলাল মুখোপাধ্যায়ের সংকলন এবং তাঁর ভ্রাতা ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় এর প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয়।
- পরে দীর্ঘ ২৭ বছরের পরিশ্রমে নগেন্দ্রনাথ বিশ্বকোষের ২২টি খন্ড প্রকাশ করেন।
- শেষ খন্ডটি প্রকাশিত হয় ১৯১১ সালে। ১৯১৬-৩১ সালে ২৪ খন্ডে এর একটি হিন্দি সংস্করণও প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩৩-৩৮ সালের মধ্যে বিশ্বকোষের দ্বিতীয় সংস্করণের চারটি খন্ড প্রকাশের পর তাঁর মৃত্যু হয়।
- ভারতীয় পুরাতত্ত্বে অসাধারণ গবেষণার জন্য তাঁকে ‘প্রাচ্যবিদ্যামহার্ণব’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাগ্রন্থ হলো:
- বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (কয়েক খন্ড),
- কায়স্থের বর্ণপরিচয়, শূন্যপুরাণ,
- Archaeological Survey of Mayurbhanja,
- Modern Buddhism and its Followers in Orissa,
- Social History of Kamrup ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৫.
নিচের কোনটি ভাষা আন্দোলনভিত্তিক সাহিত্য নয়?
  1. ক) স্মৃতিস্তম্ভ
  2. খ) নরকে লাল গোলাপ
  3. গ) কবর
  4. ঘ) আরেক ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক দুটি বিখ্যাত নাটক  "নিঃশব্দ যাত্রা" ও "নরকে লাল গোলাপ"
- নাটক দুটি দেশ স্বাধীনের পরের বছর ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।

- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত 'স্মৃতিস্তম্ভ' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কবিতা।
- মুনীর চৌধুরী রচিত 'কবর' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক নাটক।
- জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন' ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৪৬.
‘বন্দর থেকে বন্দরে' সানাউল হক রচিত কোন দেশের ভ্রমণ-কাহিনিভিত্তিক রচনা?
  1. ভারত
  2. অস্ট্রেলিয়া
  3. আফগানিস্তানের কাবুল শহর
  4. রাশিয়া
ব্যাখ্যা
• 'বন্দর থেকে বন্দরে'- ভ্রমনকাহিনির রচয়িতা 'সানাউল হক'।
- তাঁর 'বন্দর থেকে বন্দরে' (১৯৬৪) নামক অস্ট্রেলিয়ার ভ্রমণকাহিনি বেশ খ্যাতি লাভ করেছে।

--------------------
• সানাউল হক:
- সানাউল হক এর জন্ম ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার চাউরা গ্রামে, ১৯২৪ সালের ২৩ মে।
- তাঁর প্রকৃত নাম আল মামুন সানাউল হক।
- তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৪), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৮৩) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- নদী ও মানুষের কবিতা,
- সম্ভবা অনন্য,
- সূর্য অন্যতর,
- বিচূর্ণ আর্শিতে,
- পদ্মিনী শঙ্খিনী,
- উত্তীর্ণ পঞ্চাশ।

তাঁর রচিত রম্যরচনা:
- বন্দর থেকে বন্দরে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া
১০,৬৪৭.
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. নীল লোহিত
  3. লীলাময় রায়
  4. হাবু শর্মা
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী

অন্যদিকে,
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৪৮.
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগ্রন্থে কোন প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন ঘটেছে?
  1. ক) গণ অভ্যুত্থানের
  2. খ) ভাষা আন্দোলনের
  3. গ) সামরিক শাসনের
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধের
ব্যাখ্যা
'উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ' কাব্যগন্থের রচয়িতা শামসুর রাহমান। 
- ২৩টি কবিতার সমাহারে শামসুর রহমানের এই কাব্যগ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮২ সালে।
- কবিতা গুলোতে আছে কবির স্বদেশ চেতনার পরিচয়, দুঃসময়ের দীর্ণ হৃদয়ের হাহাকার ও অস্থিরতা এবং পাশ্চাত্য পুরাণের পাশাপাশি তাঁর স্বদেশি পুরাণের  মাধ্যমে ব্যক্তিমহিমা সন্ধানের প্রয়াস।
- ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগনের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন। 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগন্থ: 
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে
- রৌদ্র করোটিতে
- বিধ্বস্ত নিলীমা
- নিরালোকে দিব্যরথ
- নিজ বাসভূমে
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৪৯.
"বিশ শতকের মেয়ে" উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. নীলিমা ইব্রাহিম
  2. সেলিনা হোসেন
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় 
  4. রাজিয়া খান
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিম রচিত উপন্যাস "বিশ শতকের মেয়ে"। 
- উপন্যাসটি ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো। 

-------------------
নীলিমা ইব্রাহিম ও তাঁর 'উপন্যাস সমগ্র' গ্রন্থে প্রকাশিত উপন্যাসগুলো হলো-
• কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র' প্রকাশিত হলো। এ গ্রন্থে তাঁর ছয়টি উপন্যাস স্থান পেয়েছে।

• ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত হয়েছিলো তিনটি উপন্যাস- 'বিশ শতকের মেয়ে,' 'এক পথ দুই বাঁক' ও 'পথশ্রান্ত'। ১৯৬২ সালে প্রকাশিত হয় 'কেয়াবন সঞ্চারিণী'। ১৯৮৫ সালে 'বহ্নি বলয়' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। 'জ্যোতির্গময়' উপন্যাসটি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক 'বেগম' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বই হিসেবে প্রকাশিত হয়নি। এই সংকলনে উপন্যাসটির বই আকারে প্রথম মুদ্রণ।

• চারপাশের সমাজ, সেই সমাজে মেয়েদের অবস্থা, নর-নারীর সম্পর্ক ইত্যাদি নানা কিছু তাঁর উপন্যাসের কাহিনিতে আছে। সে সময়ের পটভূমিতে রক্ষণশীলতার বেড়ি ভেঙে তিনি তৈরি করেছিলেন উপন্যাসের চরিত্র। সমকালীন নারীমুক্তি প্রসঙ্গ তিনি উপন্যাসের চরিত্রের ভাবনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন।

• তাঁর ছয়টি উপন্যাসই বিষয় বৈচিত্র্যে ভরপুর। মানব সম্পর্কের জটিলতা, সমাজ বাস্তবতা, জীবনের সাদা ও কালো রঙের দিক-প্রেম, বেদনা, নিষ্ঠুরতা, অভাব-দারিদ্র্য, বঞ্চনা, মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা-মানবজীবন সম্পর্কিত এমন নানা কিছু তাঁর উপন্যাসে খুব অনায়াসে উঠে এসেছে। স্পষ্ট বোঝা যায় যে তিনি তাঁর অভিজ্ঞতায় সিক্ত সাধনাকে বিন্যস্ত করেছেন কাহিনির আদলে।

উৎস: নীলিমা ইব্রাহিমের 'উপন্যাস সমগ্র'।

১০,৬৫০.
‘পদ্মরাগ’ - উপন্যাসটি কার রচনা?
  1. কবি সুফিয়া কামাল
  2. সেলিনা হােসেন
  3. রাবেয়া খাতুন
  4. রােকেয়া সাখাওয়াত হােসেন
ব্যাখ্যা
'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত রচিত উপন্যাস।
- এই উপন্যাসে মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
- 'পদ্মরাগ' উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনা:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫১.
'কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।'-কবিতাংশটুকুর রচয়িতা কে?
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. আলাউদ্দীন আল আজাদ
  3. শামসুর রাহমান
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

"কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।"
- লাইনটি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর 'শহীদ স্মরণে' কবিতা থেকে সংকলিত। 

• মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান: 
- ১৯৩৬ সালের ১৫ আগস্ট যশোর শহরের খড়কী পাড়ায়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা কালে তিনি বাংলা বিভাগ থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- তিনি ছিলেন পঞ্চাশের দশকের কাব্যসাহিত্যের একজন অন্যতম প্রধান কবি।

শহীদ স্মরণে- কবিতার অংশবিশেষ,   

কবিতায় আর কি লিখব?
যখন বুকের রক্তে লিখেছি
একটি নাম
বাংলাদেশ।
গানে আর ভিন্ন কি সুরের ব্যঞ্জনা?
যখন হানাদারবধ সংগীতে
ঘৃণার প্রবল মন্ত্রে জাগ্রত
স্বদেশের তরুণ হাতে
নিত্য বেজেছে অবিরাম
মেশিনগান, মর্টার, গ্রেনেড।

উৎস: 'শহীদ স্মরণে' কবিতা- মোহম্মদ মনিরুজ্জামান ও বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৫২.
কালীপ্রসন্ন সিংহের সৃষ্ট একটি বিখ্যাত চরিত্র-
  1. টেনিদা 
  2. দনুবানু
  3. ঘনাদা 
  4. ফেলুদা
ব্যাখ্যা

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক কালীপ্রসন্ন সিংহ।
- 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে কালীপ্রসন্ন সিংহ পরিচিত।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন কলকাতার জোড়াসাকোয় ১৮৪০ সালে।
- 'হুতোমী বাংলা' ভাষা রীতি অনুসরণ করে তিনি সাহিত্য রচনা করেন।

হুতোম প্যাঁচার নকশা:
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের গোড়াপত্তনকালীন পর্যায়ে রচিত একটি গদ্য উপাখ্যান। কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা। গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬১ সালে।
- যা তিনি 'হুতোম প্যাঁচা' ছদ্মনামে লিখেছেন।
- এটি মূলত ব্যঙ্গ-বিদ্রূপাত্মক সামাজিক নকশা জাতীয় রচনা।
- বিখ্যাত চরিত্র: দনুবানু।

কালীপ্রসন্ন সিংহ রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ।

অন্যদিকে,
• ‘ফেলুদা', 'প্রফেসর শংকু’ সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি করা অনন্য স্বকীয় চরিত্র।
• 'টেনিদা' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের এক অমর সৃষ্টি।
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের সৃষ্ট চরিত্র ‘ঘনাদা'।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৫৩.
”সংশপ্তক” উপন্যাসের উপজীব্য বিষয় কী?
  1. নদীয়ার চাঁদ সড়কের জীবন
  2. পল্লী বাংলার বাস্তব জীবন
  3. গ্রামীণ চাষীদের জীবন
  4. নগর ও গ্রামীণ জীবন
ব্যাখ্যা
'সংশপ্তক' উপন্যাস:
- সংশপ্তক শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত একটি উপন্যাস।
- সংশপ্তক শব্দটি মহাভারত থেকে নেওয়া হয়েছে।
- সংশপ্তক অর্থ হচ্ছে যে সৈনিকেরা জীবনমরণ পণ করে যুদ্ধে লড়ে।
- বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের পূর্বকাল অবধি বাংলাদেশের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রূপান্তর উপন্যাস সংশপ্তকে ধারণ করেছে।
- হিন্দু-মুসলিম সম্মিলিত জীবনযাপন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ এ উপন্যাসের বর্ণিত বিষয়।
- এখানে ঢাকা ও কলকাতার নাগরিক পরিবেশের সঙ্গ বাকুলিয়া ও তালতলি গ্রামের গ্রামীণ পরিবেশের প্রতীকে সমগ্র বাংলাদেশের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।
- উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: রাবেয়া খাতুন (রাবু), জাহেদ, সেকেন্দার, মালু, হুরমতি, লেকু, রমজান, রামদয়াল ইত্যাদি।
--------------------------------------
শহীদুল্লাহ কায়সার:
- ১৯২৭ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি ফেনিতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পুরো নাম ছিল আবু নঈম মহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- তিনি ও জহির রায়হান উভয় সহোদর।
- তিনি সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পূর্ব মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার বাসভবন থেকে তিনি অপহূত হন এবং আর ফিরে আসেন নি। 

তাঁর রচিত উপন্যাস সমূহ:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫৪.
সামাজিক উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) সূর্য দীঘল বাড়ি
  2. খ) আগুনের পরশমণি
  3. গ) রাজসিংহ
  4. ঘ) বিষাদ-সিন্ধু
ব্যাখ্যা
আবু ইসহাক মূলত একজন ঔপন্যাসিক এবং কথাসাহিত্যিক।
তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস 'সূর্য দীঘল বাড়ী' একটি সামাজিক উপন্যাস। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে রচিত হয়েছে সূর্য দীঘল বাড়ী উপন্যাস। জয়গুন এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র। উপন্যাসটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত এবং এটি তার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস।
‘পদ্মার পলিদ্বীপ’ তাঁর রচিত দ্বিতীয় সামাজিক উপন্যাস। এটি পদ্মার বুকে জেগে উঠা চরে শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নিয়ে রচিত একটি উপন্যাস।
'জাল' তাঁর রচিত গোয়েন্দা উপন্যাস।
'শ্যামল ছায়া' হুমায়ুন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস।
'রাজসিংহ' বঙ্কিমচন্দ্রের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
'বিষাদ-সিন্ধু' মীর মশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক উপন্যাস।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৫৫.
"নীরজা, আদিত্য" - চরিত্রদুটি কোন উপন্যাসের ?
  1. চতুরঙ্গ 
  2. শেষের কবিতা
  3. মালঞ্চ
  4. চার অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘মালঞ্চ’ উপন্যাস:
- ‘মালঞ্চ’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি সামাজিক মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- নর-নারীর জটিল সম্পর্ক নিয়ে রচিত রবীন্দ্রনাথের একটি সংক্ষিপ্ত উপন্যাস।
- ১৯৭৯ সালে পরিচালক পূর্ণেন্দু পত্রী 'মালঞ্চ' চলচ্চিত্রায়িত করেন।

• এই উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- নীরজা, আদিত্য, সরলা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চোখের বালি,
- গোরা,
- যোগাযোগ,
- চতুরঙ্গ,
- ঘরে-বাইরে,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৫৬.
নিচের কোন উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি?
  1. রাজর্ষি
  2. করুণা
  3. চতুরঙ্গ
  4. মালঞ্চ
ব্যাখ্যা

• 'করুণা' উপন্যাস:
- 'করুণা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা প্রথম উপন্যাস, কিন্তু গ্রন্থাকারে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নয় (প্রথম উপন্যাসগ্রন্থের নাম 'বউ ঠাকুরানীর হাট')।
- মাসিক 'ভারতী' পত্রিকায় এক বছর ধরে (আশ্বিন-ভাদ্র ১২৮৪-৮৫) 'করুণা' উপন্যাসটি ছাপা হয়।
- এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবৎকালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়নি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'জীবনস্মৃতি'তেও এই রচনার কোনো উল্লেখ করেননি।
- পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রকাশিত 'রবীন্দ্র রচনাবলি'তে (১৯৬১) 'করুণা' প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। সাতাশ পরিচ্ছেদ বিশিষ্ট এই উপন্যাস।

উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মহেন্দ্র,
- মোহিনী,
- রজনী।

---------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- ঘরে-বাইরে,
- চোখের বালি,
- শেষের কবিতা,
- যোগাযোগ,
- নৌকাডুবি,
- বউ ঠাকুরানীর হাট,
- দুই বোন,
- মালঞ্চ,
- চতুরঙ্গ
- গোরা,
- রাজর্ষি,
- চার অধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১০,৬৫৭.
'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ডের নাম কী?
  1. জন্মখন্ড
  2. তাম্বুলখণ্ড
  3. দানখণ্ড
  4. রাধাবিরহ
ব্যাখ্যা

 • ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’:
- ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কাব্য এবং চর্যাপদের পর আবিষ্কৃত দ্বিতীয় প্রাচীনতম বাংলা সাহিত্যকর্ম।
- এর রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস, যিনি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের প্রথম কবি হিসেবে স্বীকৃত।
-এই কাব্য ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে বসন্তরঞ্জন রায় কর্তৃক আবিষ্কৃত হয় এবং ১৯১৬ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
-কাব্যের মূল উপজীব্য রাধা ও কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী :
-যেখানে কৃষ্ণের জন্ম, বড়াইয়ের সহযোগিতায় রাধার সঙ্গে তাঁর প্রণয়, এবং অবশেষে মথুরায় গমন—এই তিনটি পর্যায়ে কাহিনী বিন্যস্ত।
-‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি — রাধা, কৃষ্ণ, ও বড়াই (যিনি রাধার সহচরী ও প্রণয়-দূতিকা হিসেবে উপস্থিত)।
- এটি ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’ নামেও পরিচিত।
- 'শ্রীকৃষ্ণকীর্তন' কাব্যের প্রথম খণ্ড - জন্ম খণ্ড।
 - এই কাব্যটি মোট ১৩টি খণ্ডে বিভক্ত:
♦ জন্ম খণ্ড,
♦  তাম্বুল খণ্ড,
♦ দান খণ্ড,
♦ নৌকা খণ্ড,
♦ ভার খণ্ড,
♦  ছত্র খণ্ড,
♦ বৃন্দাবন খণ্ড,
♦  কালিয়দমন খণ্ড,
♦ যমুনা খণ্ড,
♦  হার খণ্ড,
♦ বাণ খণ্ড,
♦ বংশী খণ্ড ও
♦ বিরহ খণ্ড।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

১০,৬৫৮.
‘এখনও ক্রীতদাস’ নাটকটি কোন নাট্যকারের লেখা?
  1. সেলিম আল দীন
  2. মামুনুর রশীদ
  3. আবুল হাসান
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
• ‘এখনও ক্রীতদাস‘ নাটকটির রচয়িতা - আবদুল্লাহ আল মামুন। 

• 'এখনও ক্রীতদাস': 
- আব্দুল্লাহ আল মামুন রচিত মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী কাহিনি নিয়ে রচিত নাটক 'এখনও ক্রীতদাস’।
- এই নাটকে ঢাকা শহরে 'গলাচিপা বস্তির যুদ্ধাহত পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা বাক্কা মিয়াঁর পরিবারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের নিম্নবর্গের মানুষের অসহায় জীবন যাপনের ইতিবৃত্ত।
- পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীদের উপর নির্যাতনের চিহ্নও তুলে ধরা হয়েছে।
-------------------------------------

আবদুল্লাহ আল মামুন:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ১২ জুলাই জামালপুর জেলা সদরের আমলা পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত নাট্যরচয়িতা এবং নাট্যাভিনেতা হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত নাটক 'শপথ' (১৯৬৪)।
- তাঁর এক চরিত্রনির্ভর নাটক 'কোকিলারা' (১৯৯০)।
- তিনি ২১ আগস্ট, ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত নাটক:
- সুবচন নির্বাসনে,
- এখন দুঃসময়,
- এবার ধরা দাও,
- শাহজাদীর কাল নেকাব,
- চারদিকে যুদ্ধ,
- এখনও ক্রীতদাস,
- কোকিলারা,
- মেরাজ ফকিরের মা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৫৯.
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী নিয়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক্ষুধা ও আশা
  2. কর্ণফুলী
  3. ধানকন্যা
  4. তেইশ নম্বর তৈলচিত্র
ব্যাখ্যা
• আলাউদ্দিন আল আজাদ:
- বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর আবির্ভাব।
- নগরজীবনের কৃত্রিমতা, রাজনীতিক সংগ্রাম, নিপীড়ন, প্রতারণা তিনি তাঁর কথাসাহিত্যের বিষয়বস্তু করেছেন।

⇒ ‘কর্ণফুলী’ উপন্যাস:
- আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত বিখ্যাত উপন্যাস কর্ণফুলী।
- উপন্যাসটির প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- এই উপন্যাসে বিশেষ অঞ্চলের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জীবনযাপনের বর্ণনা রয়েছে।

• কাহিনি সংক্ষেপ:
- আলাউদ্দিন আল আজাদের 'কর্ণফুলী' পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস।
- আদিবাসি (ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী) রাঙামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবন যাপন ও প্রণয় উপন্যাসে বর্ণিত।
- ইসমাইল চোরাকারবারি, উচ্চাভিলাসী। সে আদিবাসি তরুণী রাঙালিমার প্রতি আকৃষ্ট হয়।

লেখকের অন্যান্য উপন্যাস:
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- স্বপ্নশিলা,
- বিশৃঙ্খলা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৬০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন কে?
  1.  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. প্রমথনাথ বিশী 
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ক ও খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন।

- বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশী বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।

- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৬১.
কোন চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' নাটকের?
  1. অপর্ণা
  2. খুকি
  3. চারুলতা
  4. সুধা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' নাটকের চরিত্র - অপর্ণা

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কাবুলিওয়ালা' ছোটগল্পের চরিত্র - খুকি।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'নষ্টনীড়' নাটকের চরিত্র - চারুলতা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ডাকঘর' নাটকের চরিত্র - সুধা।

বিসর্জন নাটক:
- 'বিসর্জন' (১৮৯১) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি নাটক। 'রাজর্ষি' উপন্যাসের প্রথমাংশ অবলম্বনে 'বিসর্জন' নাটকটি রচিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ রচিত বিসর্জন নাটকে গোমতী নদীর কথা উল্লেখ আছে ।
- এই নাটকের উল্লেখযোগ্য চরিত্র: জয়সিংহ, রঘুপতি, অপর্ণা
- নাটকটি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- তিনি ছিলেন প্রকৃত অর্থেই অসামান্য প্রতিভাধর ব্যক্তি। বাল্যকালেই তাঁর কবি প্রতিভার উন্মেষ ঘটে।
- মাত্র পনের বছর বয়সে তাঁর 'বনফুল' কাব্য প্রকাশিত হয় এবং এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২শে শ্রাবণ, ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য নাটক:
- রুদ্র চন্দ্র,
- বাল্মিকী প্রতিভা,
- কালের যাত্রা,
- তাসের দেশ,
- ডাকঘর,
- মালিনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৬২.
নারী জাগরণের পথিকৃৎ ছিলেন-
  1. সেলিনা হোসেন
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সুফিয়া কামাল
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
• বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- তিনি ছিলেন নারী জাগরণের পথিকৃৎ।

- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে
বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

• রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর,
- Sultana’s Dream,
- পদ্মরাগ,
- অবরোধবাসিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৬৩.
ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের 'The Origin and Development of the Bengali Language' গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৩ সালে
  2. ১৯২৬ সালে
  3. ১৯৩৬ সালে
  4. ১৯৩৮ সালে
ব্যাখ্যা
• "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ":
- "দি অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ" (ওডিবিএল) বাংলা ভাষা সংক্রান্ত একটি বিখ্যাত গ্রন্থ। ভাষাতাত্ত্বিক সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় The Origin and Development of the Bengali Language নামে ইংরেজিতে গ্রন্থটি রচনা করেন। সংক্ষেপে এটি ODBL নামেই সমধিক পরিচিত।

- বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিষয়ক যে মৌলিক গবেষণার জন্য লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পিএইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন, তার ওপর ভিত্তি করেই গ্রন্থখানি প্রণীত এবং ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

- প্রকাশের পর থেকেই এটি ভারতীয় ও ইউরোপীয় পন্ডিতবর্গের উচ্চ প্রশংসা ও অনুমোদন লাভ করে আসছে। এখনও ইন্দো-আর্য ভাষার বিজ্ঞানসম্মত পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে এটি বিশিষ্ট গবেষণা কর্মরূপে বিবেচিত হয়।

- সুবৃহৎ এ গ্রন্থের প্রধানত দুটি অংশ: Part-I: Introduction, Phonology এবং Part-II: Morphology, Bengali Index। পরবর্তী সংস্করণে (১৯৭১) সংযোজিত হয় Part-III: Supplementary, Additions, Correction etc. বাংলা ভাষার উৎপত্তি ও বিকাশের স্বরূপ পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে এ গ্রন্থে বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাংলা ভাষার প্রকৃতি তথা ধ্বনি (বর্ণ ও ছন্দ), রূপমূল (শব্দ) ও ব্যাকরণগত ধারাসমূহ উপস্থাপনে সুনীতিকুমার যে কৌশল অবলম্বন করেছেন তা একই সঙ্গে বর্ণনামূলক ও তুলনামূলক উভয়ই।

তাঁর রচিত অন্যান্য গ্রন্থগুলো হলো:
- Original and Development of Bengali language,
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৬৪.
'নবকুমার' কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় পুরুষ চরিত্র?
  1. কপালকুণ্ডলা
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. বিষবৃক্ষ
  4. ঘরে বাইরে
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'সম্বাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা লিখে সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়োগ করেন।
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'ললিতা তথা মানস'।
- তাকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।

• কপালকুণ্ডলা উপন্যাস:
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম রােমান্টিক ও দ্বিতীয় সার্থক উপন্যাস 'কপালকুণ্ডলা'।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
- অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে উপন্যাসটির কাহিনি গড়ে উঠেছে।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়।
- উপন্যাসটির উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক ইত্যাদি।
- এ উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য উক্তি- 'পথিক তুমি পথ হারাইয়াছ'। উপন্যাসের নায়িকা কপালকুণ্ডলা নায়ক নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে এ উক্তিটি করেছেন।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণকান্তের উইল - রোহিনী, গোবিন্দলাল।
- বিষবৃক্ষ - কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ, হীরা, সূর্যমুখী 
- বিমলা, নিখিলেশ ও সন্দীপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৬৫.
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী কোন গ্রন্থ রচনার কারণে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন?
  1. স্পেন বিজয় কাব্য
  2. অনল প্রবাহ
  3. স্বজাতি প্রেম
  4. রায়নন্দিনী
ব্যাখ্যা
• "অনল প্রবাহ" কাব্য:
- সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত মুসলিম জাগরণমূলক কাব্য 'অনল প্রবাহ' প্রকাশিত হয় ১৯০০ সালে।

- 'যা চলে গেছে তার জন্য শোক বৃথা বরং জাতির হৃতগৌরব উদ্ধারের প্রচেষ্টাই মুখ্য'-এই বাণীতে মুসলমানদের দুরবস্থা ও অধঃপতন ব্যক্ত করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও রোষ প্রকাশ করা হয়েছে এই কাব্যটিতে।

- 'অনল প্রবাহে' কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'ভারত ভিক্ষা', 'ভারত বিলাপ' ইত্যাদি কবিতার সুস্পষ্ট প্রভাব আছে।
- ১৩১৫ বঙ্গাব্দে (১৯০৮) পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত দ্বিতীয় সংস্করণ বের হয়।

- প্রথম সংস্করণে কবিতা ছিল মাত্র নয়টি। এগুলো হচ্ছে : অনল-প্রবাহ, তুর্যধ্বনি, মূর্ছনা, বীর-পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে, আমীর- আগমনে, দীপনা, আমীর-অভ্যর্থনা।

- বইটির বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে তৎকালীন বাংলার সরকার এটি বাজেয়াপ্ত করে এবং তাঁর প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সিরাজী তখন ফরাসি অধিকৃত চন্দননগরে গিয়ে ৮ মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরে আত্মসমর্পণ করলে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রচারের অভিযোগে তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

---------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- রায়নন্দিনী,
- তারাবাঈ,
- ফিরোজা বেগম।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- স্বজাতি প্রেম,
- স্পেনীয় মুসলান সভ্যতা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অনল প্রবাহ,
- উচ্ছ্বাস,
- উদ্বোধন,
-স্পেন বিজয় কাব্য ইত্যাদি।

উৎস: "অনল প্রবাহ" কাব্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৬৬.
'খোয়াবনামা’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু কী?
  1. ক) ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  2. খ) তেভাগা আন্দোলন
  3. গ) মন্বন্তর,
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
খোয়াবনামা (১৯৯৬) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত উপন্যাস।
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- এই উপাদান সমূহ অবলম্বন করে বাঙালির তথা মানব জীবনের সংগ্রামও এগিয়ে যাওয়াই উপন্যাসটির বিষয়।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াস একজন কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই (১৯৮৭),
- খােয়াবনামা (১৯৯৬)
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর (১৯৭৬),
- খোঁয়ারি (১৯৮২),
- দুধভাতে উৎপাত (১৯৮৫),
- দোজখের ওম (১৯৮৯)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৬৬৭.
'বাংলাদেশ' কবিতাটির রচয়িতা কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জসীমউদ্‌দীন
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'বাংলাদেশ' কবিতা:
- কবিতাটির রচয়িতা অমিয় চক্রবর্তী
- এটি তাঁর 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থভুক্ত কবিতা। 
- কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অমিয় চক্রবর্তী:
- ১০ এপ্রিল, ১৯০১ পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
- তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এ পাস (১৯২১) করে শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে যোগদান করেন।
- পরে তিনি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন (১৯২৬-১৯৩৩)। 
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই 'কবিতাবলী' (১৯২৪-২৫)।
- তাঁর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ১৫।
- তিনি 'বাংলাদেশ' কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচনা করেন।
- তাছাড়া ইংরেজি ভাষায় রচিত তাঁর ৯টি বই রয়েছে।
- কবিতার জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার: ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমি পুরস্কার।
- বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৮৬ সালের ১২জুন শান্তিনিকেতনে তাঁর মৃত্যু হয়।
 
তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত,
- অনিঃশেষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; 'অনিঃশেষ' কাব্যগ্রন্থ, অমিয় চক্রবর্তী।
১০,৬৬৮.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন চলচ্চিত্রের কাহিনিকার ছিলেন?
  1. বিদ্যাপতি
  2. চৌরঙ্গী
  3. পাতালপুরী
  4. গ্রহের ফের
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি চলচ্চিত্র:
- বিদ্যাপতি চলচ্চিত্রটি বাংলা ও হিন্দি ভাষায় নির্মিত হয় ।
- চলচ্চিত্রটি উভয় ভাষায় মুক্তি পায় ১৯৩৮ সালে।
- কাহিনিকার ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- এই চলচ্চিত্রের সুরকার এবং গীতিকারও ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

• এছাড়া,
- পাতালপুরী, গ্রহের ফের, চৌরঙ্গী চলচ্চিত্রের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, দৈনিক যুগান্তর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৬৯.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. মুহম্মদ এনামুল হক
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- ভাষা বিষয়ে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত গ্রন্থ হলো ‘অরিজিন এণ্ড ডেভেলপমেন্ট অফ বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ’।
- শেষের কবিতা উপন্যাসে সুনীতিকুমারের স্বীকৃতি আছে।
- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে 'ভাষাচার্য' উপাধি দেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭০.
নিচের কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মৌলিক রচনা?
  1. বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. সীতার বনবাস
  3. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ভ্রান্তিবিলাস
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সাহিত্যসৃষ্টির মধ্যে মৌলিক রচনা হিসেবে ‘প্রভাবতী সম্ভাষণ' ক্ষুদ্র নিবন্ধ এবং স্বরচিত 'বিদ্যাসাগর চরিত' গ্রন্থ উল্লেখযোগ্য।

• প্রভাবতী সম্ভাষণ:
- বাংলা ভাষার প্রথম মৌলিক রচনার নাম প্রভাবতী সম্ভাষণ।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রভাবতী সম্ভাষণ একটি শোকগাঁথা।
- বন্ধুর বালিকা কন্যা প্রভাবতীর অকাল মৃত্যুর শোকে বিদ্যাসাগর এটি রচনা করেন।

অন্যদিকে, 
-------------------
 ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি প্ৰকাশক গ্রন্থগুলো হল তাঁর অনুবাদমূলক রচনা। তিনি অন্য ভাষার সাহিত্য থেকে কয়েকটি গ্রন্থ বাংলায় অনুবাদ করেন। এগুলো হলো- 
• সুপ্রসিদ্ধ হিন্দি গ্রন্থ 'বৈতাল পচ্চিসী' থেকে অনুবাদ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'। 
• কালিদাসের 'অভিজ্ঞান শকুন্তলম' নামক সংস্কৃত নাটক থেকে অনুবাদ 'শকুন্তলা'। 
• মহাভারতের কিছু অংশের অনুবাদ 'মহাভারত' (উপক্রমণিকা ভাগ), ভবভূতির 'উত্তর রামচরিত' নাটকের অংশবিশেষ। 
• বাল্মীকির 'রামায়ণ' অবলম্বনে রচিত ‘সীতার বনবাস'
• সেক্সপীয়রের Comedy of Errors অবলম্বনে 'ভ্রান্তিবিলাস' এই প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রচনা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবিউল আলম। 

১০,৬৭১.
'যে হারে, সেই রাগে' উক্তিটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
  1. ক) পালামৌ
  2. খ) কাবুলিওয়ালা
  3. গ) দেশে বিদেশে
  4. ঘ) পথে প্রবাসে
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ভ্রমণ সাহিত্যের প্রথম গ্রন্থ 'পালমৌ' (১৮৮০) এর রচয়িতা সঞ্জীবচন্দ্র চট্টপাধ্যায়।

• গ্রন্থটির বিখ্যাত কয়েকটি উক্তি:
- 'বন্যেরা বনে সুন্দর; শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।'
- 'যে হারে, সেই রাগে।'
- 'মানুষ বৃদ্ধ না হইলে সুন্দর হয় না।'
- 'যাহার ভাগ্যে কঠিন পাষাণ, পাষাণই তাহার অবলম্বন।'

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
১০,৬৭২.
'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির প্রেক্ষাপট কী?  
  1.  মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত কল্পকাহিনি
  2. ভাষা আন্দোলনভিত্তিক কাল্পনিক কাহিনি
  3. নীল বিদ্রোহ 
  4. প্রাচীন বাংলার মেয়েদের গ্রামীণ জীবন 
ব্যাখ্যা

- 'একটি কালো মেয়ের কথা' উপন্যাসটির লেখক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
 
• একটি কালো মেয়ের কথা:
- একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রচিত এক কাল্পনিক কাহিনি, যা ১৯৭১ সালে প্রকাশিত হয়।
-তারাশঙ্করের একটি কালো মেয়ের কথা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নাজমা ও ডেভিড।
- এতে নাজমা নামের এক কালো মেয়েকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের করুণ বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনে সে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয় এবং তার সন্তানের মৃত্যু ঘটে। উপন্যাসে নাজমা প্রতীক হয়ে দাঁড়ায় নিপীড়িত বাংলাদেশের।
- ডেভিড একজন সংগীতশিল্পী ও ট্রান্সজিস্টার মেরামতকারক। গল্পে ডেভিড আর্মস্ট্রং নাজমাকে “গুপ্তচর” পরিচয়ে সীমান্ত পার করানোর চেষ্টা করলে ধরা পড়ে এবং ভারতীয় পুলিশের কাছে তার জবানবন্দির মধ্য দিয়েই কাহিনি এগোতে থাকে। 
-------------------------------
তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯৮–১৯৭১) ছিলেন একজন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও সক্রিয় রাজনীতিবিদ।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুরে তিনি ২৩ জুলাই ১৮৯৮ সালে এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

∗ তাঁর কালজয়ী উপন্যাস হচ্ছে - কবি

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস:
- চৈতালী ঘূর্ণি;
- জলসাঘর;
- ধাত্রীদেবতা;
- কালিন্দী;
- গণদেবতা;
- পঞ্চগ্রাম;
- হাঁসুলি বাঁকের উপকথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

∗ ছোটগল্পের মধ্যে ‘রসকলি’, ‘বেদেনী’ ও ‘ডাকহরকরা’ তাঁর  বিখ্যাত সংকলন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
কালো মেয়ের উপন্যাস; 
বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৭৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত প্রথম বাংলা মৌলিক গদ্য রচনার নাম কী?
  1. প্রভাবতী সম্ভাষণ
  2. অতি অল্প হইল
  3. ব্রজবিলাস
  4. শকুন্তলা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:

- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি প্রদান করে।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত।
- তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি।
- তাঁর রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের নাম 'ব্যাকরণ কৌমুদী'।
- তিনি ২৯ জুলাই, ১৮৯১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত মৌলিক রচনা:
- অতি অল্প হইল,
- আবার অতি অল্প হইল,
- ব্রজবিলাস,
- বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা,
- রত্ন পরীক্ষা।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- শকুন্তলা,
- সীতার বনবাস,
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭৪.
"আমার সন্তান" কবিতাটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. রামনিধি গুপ্ত
  2. বিদ্যাপতি
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মানিক দত্ত
ব্যাখ্যা
• "আমার সন্তান" কবিতাটি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।

'আমার সন্তান' কবিতাটি আব্দুল হাই ও আনোয়ার পাশা সম্পাদিত 'মানসিংহ-ভবানন্দ' উপাখ্যানে'র 'অন্নদার ভবানন্দ ভবনে যাত্রা' কবিতার সম্পাদিত অংশ 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের অংশবিশেষ। বাঙালি মায়ের নিজ স্বার্থ উপেক্ষা করে সন্তানের কল্যাণ কামনার চিরন্তন মানসিকতার বিষয়টি মুখ্য হয়ে এ কবিতায় ফুটে উঠেছে। কবিতাটিতে মধ্যযুগের শেষ পর্বের ভাষা-বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে লক্ষণীয়। মধ্যযুগের সামাজিক প্রথা, সংস্কার, পৌরাণিক চরিত্র ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যাবে এই কবিতার মাধ্যমে। দেবীকর্তৃক ভক্তকুলের মনোবাঞ্ছনা পূরণের ধরন এবং রূপকের মাধ্যমে সমস্ত বাঙালি সন্তানের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের আশীর্বাদের বিষয়টি নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এই কবিতায়।

কবিতার কিছু অংশ:
প্রণমিয়া পাটুনী কহিছে জোড় হাতে।
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ॥

তথাস্তু বলিয়া দেবী দিলা বরদান।
দুধে ভাতে থাকিবেক তোমার সন্তান॥

----------------------
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
অষ্টাদশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও মঙ্গলকাব্যের সর্বশেষ কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর ১৭১২ সালে হুগলি জেলার ভুরশুট পরগনার পেঁড়ো গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা নরেন্দ্রনারায়ণ রায় ভুরশুট পরগনার জমিদার ছিলেন, কিন্তু বর্ধমানের রাজার সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়ে সপরিবারে ভারতচন্দ্রের মামাবাড়িতে চলে আসেন। সেখানে থেকেই ভারতচন্দ্র মাত্র কুড়ি বছর বয়সের মধ্যে সংস্কৃত ব্যাকরণ, অভিধান ও ফারসি ভাষায় ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।

জীবনের বহু উত্থান-পতনের পর ভারতচন্দ্র নদীয়ার কৃষ্ণনগর রাজপরিবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন ও সভাকবি হন। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য 'অন্নদামঙ্গল' রচনা করেন এবং রায়গুণাকর খেতাব পান।

সংস্কৃত, আরবি, ফারসি ও হিন্দুস্তানি ভাষার মিশ্রণে নতুন এক বাগভঙ্গি এবং তাতে শব্দ, ছন্দ ও অলঙ্কার প্রয়োগ ছিল তাঁর কাব্যের বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যকে তুলনা করেছেন 'রাজকণ্ঠের মণিমালা'র সঙ্গে। তিনি ১৭৬০ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পরিসমাপ্তি ঘটে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সত্যপীরের পাঁচালী,
- রসমঞ্জরী,
- অন্নদামঙ্গল,
- নাগাষ্টক,
- গঙ্গাষ্টক,
- চণ্ডীনাটক।

উৎস: মাধ্যমিক সাহিত্য পাঠ, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০,৬৭৫.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য কোনটি?
  1. নটীর পূজা
  2. বসন্ত
  3. চিত্রাঙ্গদা
  4. তাসের দেশ
ব্যাখ্যা

• 'বসন্ত' নাটক:
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত গীতিনাট্য।  এই নাটকটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই নাটকের বিষয় হচ্ছে যৌবনের প্রতীক ঋতুরাজ বসন্তের জয়গান।
- রবীন্দ্রনাথ এই গ্রন্থ কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন। কারণ নজরুলও বাংলার জীবনে বসন্ত তথা যৌবন এনেছিলেন।

-------------------
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত নাটকগুলো হলো-
রূপক ও সাংকেতিক নাটক:
- রাজা,
- ডাকঘর,
- অচলায়তন,
- রক্তকরবী,
- তাসের দেশ,
- কালের যাত্রা,
- রাজা ও রাণী।

কাব্যনাট্য:
- মায়ার খেলা,
- প্রকৃতির প্রতিশোধ,
- বিদায় অভিশাপ।

গীতিনাট্য:
- বসন্ত,
- কাল মৃগয়া।

প্রহসন:
- বৈকুণ্ঠের খাতা,
- চিরকুমার সভা,
- গোড়ায় গলদ,
- বাল্মীকিপ্রতিভা।

নৃত্যনাট্য:
- চিত্রাঙ্গদা,
- নটীর পূজা,
- চণ্ডালিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০,৬৭৬.
“উত্তরের ক্ষেপ” উপন্যাসটির ঔপন্যাসিক হলেন-
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শওকত আলী
  3. গ) সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  4. ঘ) সরদার জয়েন উদ্দিন
ব্যাখ্যা

• কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- ওয়ারিশ,
- প্রদোষে প্রাকৃতজন,
- দক্ষিণায়নের দিন,
- পিঙ্গল আকাশ,
- কুলায় কালস্রোত,
- যাত্রা (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস),
- পূর্বরাত্রি পূর্বদিন,
- যেতে চাই,
- বাসর মধুচন্দ্রিমা,
- উত্তরের ক্ষেপ,
- দলিল,
- হিসাবনিকাশ।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১০,৬৭৭.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. শ্যামল ছায়া
  2. নন্দিত নরকে
  3. দারুচিনি দ্বীপ
  4. নিরন্তর
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদ ও তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র:
- হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণেও সার্থক। তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র "আগুনের পরশমণি" (১৯৯৫) এবং শেষ চলচ্চিত্র "ঘেটুপুত্র কমলা" (২০১২)।

- ৮৫তম অস্কার বাংলাদেশ কমিটি ৮৫তম একাডেমী অ্যাওয়ার্ড (অস্কার) প্রতিযোগিতার জন্য ঘেটুপুত্র কমলা ছবিটি মনোনীত করে। সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ মধ্যবিত্ত দর্শকদের হলমুখী করে তোলেন।

- তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র 'শ্যামল ছায়া' ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি অবলম্বনে নির্মিত। এটি 'অস্কার একাডেমী পুরস্কার'-এর জন্য 'সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র' বিভাগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নির্বাচিত হয়।

অন্যান্য চলচ্চিত্র:
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০),
- দুই দুয়ারী (২০০১),
- চন্দ্রকথা (২০০৩),
- নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং
- আমার আছে জল (২০০৮)।

------------------
তাঁর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয় কয়েকটি চলচ্চিত্র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত 'দূরত্ব' (২০০৬),
- সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'আবদার',
- বেলাল আহমেদ পরিচালিত 'নন্দিত নরকে',
- আবু সাইদ পরিচালিত 'নিরন্তর',
- শাহ আলম কিরণ পরিচালিত 'সাজঘর' (২০০৭) এবং
- তৌকির আহমেদ নির্মিত 'দারুচিনি দ্বীপ'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭৮.
সুকান্ত ভট্টাচার্য 'রানার' কবিতাটি কাদেরকে নিয়ে লিখেছেন?
  1. ক) শ্রমজীবী
  2. খ) বুদ্ধিজীবী
  3. গ) বিপ্লবী
  4. ঘ) দুর্নীতিবাজ
ব্যাখ্যা
- সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত 'রানার' একটি কবিতা।
- তিনি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে কবিতাটি লিখেছেন।

• 'রানার' কবিতা:
- রানার কবিতাটি শ্রমজীবী মানুষদের নিয়ে লিখা।
- রানার হচ্ছে ডাক হরকরা (যারা প্রাপকের কাছে প্রেরিত চিঠিপত্র পৌঁছে দেয়)।
- রানার কথাটি এখন চালু নেই। এখন পোস্টম্যান বা চিঠি বিলিকারী নামে চালু আছে।
- রানারের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়া মনে হয় অভাবের তাড়নায়।
- সমাজ শ্রমজীবীদের শ্রমের প্রকৃত মূল্য দিতে চায় না বলে রানারদের অভাব শেষ হবে না বর্ণিত আছে কবিতায়।
---------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- তিনি মার্কসবাদী ভাবধারায় বিশ্বাসী এবং প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী তরুণ কবি।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- তাঁর পিতা নিবারণচন্দ্র ভট্টাচার্য কলকাতায় পুস্তক ব্যবসা করতেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মন্বন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন।
- ১৯৪৪ সালে তিনি কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন এবং একই বছর 'আকাল' নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২০ বছর ৯ মাসে যক্ষা রোগে মারা যান।

• তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- ছাড়পত্র (কাব্যটি কবির মৃত্যুর তিনমাস পর রচিত হয়)।
- পূর্বাভাস।
- মিঠেকড়া।
- অভিযান।
- ঘুম নেই।
- হরতাল।
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৭৯.
বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৮০.
‘গেরিলা ও বীরাঙ্গনা’ উপন্যাসটি কে লিখেছেন?
  1. ক) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  2. খ) সৈয়দ শামসুল হক
  3. গ) সেলিনা হোসেন
  4. ঘ) জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের জন্ম রাজশাহী শহরে এবং তাঁর পৈতৃক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার হাজিরপাড়া গ্রামে।
তাঁর রচিত উপন্যাস-
- গেরিলা ও বীরাঙ্গনা,
- কাঁটাতারের প্রজাপতি,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড,
- যাপিত জীবন,
- জলোচ্ছ্বাস (প্রথম উপন্যাস),
- নীল ময়ূরের যৌবন,
- পোকা মাকড়ের ঘরবসতি,
- নিরন্তর ঘন্টাধ্বনি,
- আগষ্টের একরাত,
- খুন ও ভালোবাসা,
- গায়ত্রী সন্ধ্যা,
- অপেক্ষা,
- ঘুমকাতুরে ঈশ্বর,
- পূর্ণছবির মগ্নতা,
- ভালোবাসা প্রীতিলতা,
-কালকেতু ও ফুল্লরা ইত্যাদি।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১০,৬৮১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. রত্নাবলী
  2. পাষন্ডপীড়ন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
⇒ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'সমাচার দর্পণ'। সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১০,৬৮২.
বাংলা সনেটের জনক কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষায় সনেটের প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক।
- অমিত্রাক্ষরে রচিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো ”তিলোত্তমাসম্ভব” কাব্য।

• তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১০,৬৮৩.
'নূরলদীনের সারাজীবন' নাটকের পটভূমি কী?
  1. সাঁওতাল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. দেশভাগ
ব্যাখ্যা
'নূরলদীনের সারা জীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নূরলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নূরলদীনের অবিস্মরণীয় আহ্বান-'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

সৈয়দ শামসুল হক:
- তিনি ১৯৩৫ সালে কুড়িগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- নুরুলদীনের সারাজীবন,
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়,
- এখানে এখন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১০,৬৮৪.
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত 'কাঁদো নদী কাঁদো' চেতনাপ্রবাহরীতির উপন্যাসটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫১
  2. ১৯৬৮
  3. ১৯৪৮
  4. ১৯৭২
ব্যাখ্যা
• 'কাঁদো নদী কাঁদো' উপন্যাস সম্পর্কিত আলোচনা:
- ১৯৬৮ সালে  সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত চেতনাপ্রবাহরীতির একটি  উপন্যাস।
- আঙ্গিক প্রকরণে পাশ্চাত্যের প্রভাব থাকলেও এর সমাজজীবন, পরিবেশ ও চরিত্রাদি স্বদেশীয়।
- তবারক ভুঁইয়া নামে এক স্টিমারযাত্রীর মুখে বিবৃত কুমুরডাঙ্গার ছোট হাকিম মুহাম্মদ মুস্তফার জীবনালেখ্য ও অন্তর্জীবনের ইতিকথা এর বিষয়বস্ত্ত। প্রকৃতপক্ষে তা মুহাম্মদ মুস্তফারই অবচেতন মনের বিবৃতি।
- এরূপ আঙ্গিকের জন্য চরিত্রের মতো আখ্যানভাগও আপাত জটিল ও খাপছাড়া বলে প্রতিভাত হয়। 
- একদিকে নিয়তি তাড়িত মুহাম্মদ মুস্তফার করুণ জীবনোপাখ্যান।
- অপরদিকে শুকিয়ে যাওয়া বাকাল নদীর প্রভাবতাড়িত কুমুরডাঙ্গার মানুষের ব্যতিব্যস্ত জীবনচিত্র জীবন ও নিসর্গ, বাস্তব ও পরাবাস্তব, মানবচৈতন্য ও অবচেতনা, বিশ্বাস ও সংস্কার সবকিছু মিলে অস্তিত্ববাদ ও নিয়তিবাদের সমন্বয়ে এক অভিনব ও জটিল শৈল্পিক নৈপুণ্যে গ্রন্থখানি বাংলা উপন্যাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত উপন্যাস:
- চাঁদের অমাবস্যা,
- কাঁদো নদী কাঁদো,
- লালসালু,
- দি আগলি এশিয়ান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৮৫.
নিচের কে মার্কসবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সমর সেন
  4. সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমর সেন ও সোমেন চন্দ সচেতনভাবে মার্কসবাদী কবি এবং তারা বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী নজরুল ইসলামের লেখায়ও মার্কসবাদের উপাদান আছে, মাকর্সবাদী চেতনা আছে, কিন্তু তিনি কখনো সচেতনভাবে মার্কসবাদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হননি।
১০,৬৮৬.
কোন সাহিত্যিককে ‘বাংলার মিল্টন’ নামে অভিহিত করা হয়?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. শামসুর রাহমান
  3. সমর সেন
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বাংলার মিল্টন’ নামে পরিচিত।

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যয়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৩৮–১৯০৩) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি ও দেশপ্রেমিক সাহিত্যিক।
- তিনি মধুসূদনের পরবর্তী সময়ের প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- হেমচন্দ্র আইনজীবী, কেরানি ও প্রধান শিক্ষকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
- তাঁর মহাকাব্যিক প্রবণতা, ছন্দ, ভাষা ব্যবহার এবং মহাকাব্য রচনার দক্ষতার জন্য ‘বাংলার মিল্টন’ নামে পরিচিত
- তাঁর প্রধান মহাকাব্য ‘বৃত্রসংহার’ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ রচনাগুলোর মধ্যে গণ্য হয়। 
- তাঁর প্রথম কাব্য: ‘চিন্তাতরঙ্গিনী’।
- তিনি শেক্সপিয়রের টেমপেস্ট ও রোমিও-জুলিয়েট অনুবাদ করেছেন।
- এছাড়াও ‘কুলীন মহিলা বিলাপ’ কবিতায় তিনি বিধবা ও বহুবিবাহের সমাজিক অবহেলার প্রতি সচেতনতা প্রকাশ করেছেন।

 • অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা: 
- বীরবাহু,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- কবিতাবলী,
- সাঙ্গরূপক কাব্য,
- চিত্তবিকাশ।

অন্যদিকে :
• শামসুর রাহমান — আধুনিক নাগরিক কবি হিসেবে পরিচিত।
• সমর সেন — নাগরিক কবি নামে পরিচিত, বাংলার মিল্টন নন।
• সুফিয়া কামাল — ‘জননী সাহসিকা’ নামে পরিচিত।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলাপিডিয়া। 

১০,৬৮৭.
'ফুড কনফারেন্স' আবুল মনসুর আহমেদ রচিত কোন ধরনের সাহিত্য?
  1. গল্পগ্রন্থ
  2. স্মৃতিকথা
  3. উপন্যাস 
  4. প্রবন্ধগ্রন্থ 
ব্যাখ্যা

'ফুড কনফারেন্স' গল্পগ্রন্থ:
- আবুল মনসুর আহমদ রচিত ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪) একটি গল্পগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থে ১৩৫০ সালের (পঞ্চাশের মন্বন্তর) দুর্ভিক্ষের বাস্তব করুণ চিত্র বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আকার চেষ্টা করেছেন।
- এই গ্রন্থে মোট ৯টি গল্প রয়েছে।

----------------------
• আবুল মনসুর আহমেদ:
- আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো-
• গল্পগ্রন্থ:
- আয়না,
- ফুড কনফারেন্স,
- আসমানী পর্দা।

• স্মৃতিকথা:
- আত্মকথা (১৯৭৮- আত্মজীবনী),
- আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
- শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

• উপন্যাস:
- সত্যমিথ্যা,
- জীবন ক্ষুধা,
- আবে-হায়াৎ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৮৮.
আধুনিক কবিদের মধ্যে কোন সাহিত্যিক ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেছেন?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও বৈষ্ণব পদাবলি:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈষ্ণবীয় মনস্তত্ত্বে অনুরাগ দেখিয়েছেন। ‘সোনার তরী’ কাব্যগ্রন্থের বহু কবিতায় তা পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে বর্ষার ঋতুবৈচিত্র্য নিয়ে লেখা কবিতায়।

তাছাড়া,
কাদম্বরী দেবীর অনুরোধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রজবুলি ভাষায় পদ রচনা করেন। এটি ‘ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলি’ নামে পরিচিত।
যেমন :
মরণরে তুঁহু মম শ্যাম সমান

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা সাহিত্যের কথা, ড, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা, গোপাল হালদার।
১০,৬৮৯.
মধ্যযুগের কোন কবির সাহিত্য রচনার ভাষা ছিল সংস্কৃত?
  1. গোবিন্দদাস 
  2. চণ্ডীদাস 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. জয়দেব 
ব্যাখ্যা

• জয়দেব:
- কবি জয়দেব জাতিতে বাঙ্গালি হলেও, তিনি সংস্কৃত সাহিত্যের একজন মধ্যযুগীয় প্রসিদ্ধ কবি। তাঁর সাহিত্যের ভাষা ছিল সংস্কৃত।
- পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার অজয়নদের তীরবর্তী কেন্দুবিল্ব বা কেঁদুলি গ্রামে তাঁর জন্ম। কেউ কেউ তাঁকে মিথিলা বা উড়িষ্যার অধিবাসী বলেও মনে করেন।
- জয়দেব ছিলেন বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজসভার পঞ্চরত্নের অন্যতম।
- বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির সূচনা জয়দেবের গীতগোবিন্দের পদাবলি থেকেই বলে ধারণা করা হয়। বাঙ্গালি কবি জয়দেবকে বৈষ্ণব পদাবলির প্রথম পদকর্তা বলা হয়। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা অবলম্বনে রচিত 'গীতগোবিন্দম্' কাব্যটি আদি বৈষ্ণব পদাবলির নিদর্শন। ২৮৬টি শ্লোক এবং ২৪টি গীতের সমন্বয়ে ১২ সর্গে 'গীতগোবিন্দম্' রচিত।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
---------------------
• চণ্ডীদাস:
বাংলা ভাষায় বৈষ্ণব পদাবলির আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস। তাঁর রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি যুগ যুগ ধরে বাঙালির হৃদয়কে সীমাহীন রসমাধুর্যে পরিপূর্ণ করে তুলেছে।

• গোবিন্দদাস:

সম্ভবত ষোল শতকের তৃতীয় দশকে গোবিন্দদাসের জন্ম এবং সতের শতকের দ্বিতীয় দশকে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি প্রায় সাত শ পদ রচনা করেছিলেন বলে অনুমান করা হয়ে থাকে। তার মধ্যে কিছু বাংলা পদ থাকলেও অধিকাংশ পদ ব্রজবুলিতে রচিত। বিদ্যাপতির ভাবাদর্শে তিনি বিশেষ প্রভাবিত হয়েছিলেন, বিদ্যাপতির অলঙ্কার ও চিত্রকল্প তাঁকে বিমুগ্ধ করেছিল।

• জ্ঞানদাস:
সম্ভবত ষোল শতকে বর্ধমান জেলায় কবি জ্ঞানদাসের জন্য। তিনি চণ্ডীদাসের কাব্যাদর্শ অনুসরণ করে এবং তার সঙ্গে নিজের মৌলিক প্রতিভার সমন্বয়ে রাধাকৃষ্ণের লীলাবর্ণনার মাধ্যমে মানবমানবীর শাশ্বত প্রেম বেদনার কথা ব্যক্ত করেছেন।  ছিলেন চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য। তিনি ব্রজবুলি ও বাংলায় পদ রচনা করেছিলেন, তবে বাংলা পদেই তাঁর কৃতিত্ব বেশি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া। 

১০,৬৯০.
কোনটি মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস?
  1. পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়
  2. জীবন আমার বােন
  3. জাহান্নম হইতে বিদায়
  4. রাইফেল রোটি আওরাত
ব্যাখ্যা
- মাহমুদুল হক রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বােন'

 • মাহমুদুল হক:
- তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ১৯৭৭ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর লিখনশৈলী ও শব্দচয়নের মুনশিয়ানা ছিল চমকপ্রদ।

• জীবন আমার বোন উপন্যাস:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জীবন আমার বোন' প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭৬ সালে।
- জাহিদুল কবির খোকা - নামের এক নির্লিপ্ত ও জীবন পলাতক মানুষকে কেন্দ্রে স্থাপন করে মাহমুদুল হক উপন্যাসটি রচনা করেন।
- অন্যান্য চরিত্র: মুরাদ, রহমান, ইয়াসিন, জাহিদুল করিম খোকা প্রমুখ।

• তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- কালো বরফ (এই উপন্যাসে দেশবিভাগের কাহিনী ব্যাপকভাবে উঠে এসেছে)।
- জীবন আমার বোন (এই উপন্যাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত)।
- খেলাঘর,
- অনুর পাঠশালা,
- নিরাপদ তন্দ্রা,
- অশরীরী,
- পাতালপুরী,
- মাটির জাহাজ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৯১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কোন উপন্যাস রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা?  
  1. রমা
  2. দেনা-পাওনা 
  3. পথের দাবি
  4. শেষের পরিচয় 
ব্যাখ্যা

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'পথের দাবি' রাজনীতির বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা।
---------------------------------------------
'পথের দাবী':
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস 'পথের দাবি' ব্রিটিশ শাসনামলে লেখা একটি বিপ্লবী উপন্যাস।
- এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
- এই উপন্যাসটি সব্যসাচী মল্লিক নামক এক বিপ্লবী নেতার নেতৃত্বে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একটি গোপন বিপ্লবী দলের সংগ্রাম নিয়ে রচিত।
- এর বিপ্লবী বিষয়বস্তুর কারণে এটি ব্রিটিশ ভারতে নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়েছিল। 
----------------------------------
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- তাকে অপরাজেয় কথাশিল্পী’ এবং ‘বাঙালি ব্যাথার নিকটতম প্রতিবেশী’ নামক উপাধি দেয়া হয় তার সাহিত্যকর্মের জন্য।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'মন্দির' (১ম ছোটগল্প), 
- ' মহেশ',
- 'রামের সুমতি',
- 'অভাগীর স্বর্গ',
- 'বিলাশী', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- 'দেবদাস',
- 'শ্রীকান্ত',
- 'পথের দাবী',
- 'গৃহদাহ', 
- 'দত্তা',
- 'বড়দিদি' (১ম উপন্যাস),
- 'বৈকুন্ঠের উইল',
- 'শেষের পরিচয়',
- 'দেনা-পাওনা', ইত্যাদি।

• তাঁর বিখ্যাত নাটক:
- 'রমা';
- 'ষোড়শী'।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিখ্যাত বড়গল্প: মেঝদিদি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৯২.
মধ্যযুগের কোন সাহিত্যধারাটি ধর্ম বা দেব-দেবীর পরিবর্তে মানুষের প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করেছে?
  1. বৈষ্ণব সাহিত্য
  2. মঙ্গলকাব্য
  3. লোক সাহিত্যধারা
  4. শাক্তপদ
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ:
- বাংলা সাহিত্যে ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগ।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য- ধর্মকেন্দ্রিকতাই মুখ্য, মানবতাসহ সব কিছুই গৌণ।
- মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা- বৈষ্ণব সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, শাক্তপদ, অনুবাদ সাহিত্য, নাথ সাহিত্য, জীবনী সাহিত্য বা চরিত সাহিত্য, লোক সাহিত্যধারা ইত্যাদি।
- মধ্যযুগের সাহিত্যের ধারাগুলোর মধ্যে বৈষ্ণব সাহিত্যধারা পরিমাণে ও গুণে সমৃদ্ধ।
- ‘কানু ছাড়া গীত নাই’ উক্তিটি মধ্যযুগে সত্য ছিল।
- মধ্যুযুগের সাহিত্য ধারাগুলোর মধ্যে লোক সাহিত্যধারা ব্যতিক্রম। কারণ, এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়, মানুষের গুরুত্ব অধিক এবং তার প্রণয় ও কামনাকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১০,৬৯৩.
জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) মাগুরা
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) গোপালগঞ্জ
  4. ঘ) ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ: 
- কবি জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ। পেশায় ছিলেন একজন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- জীবনানন্দ দাশের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- গ্রামবাংলার নিসর্গ প্রকৃতি ও রূপকথা-পুরাণের জগৎ তাঁর কাব্যে হয়ে উঠেছে চিত্ররূপময়।
- তিনি ‘রূপসী বাংলার কবি’ হিসেবে খ্যাত বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কবিতাকে ‘চিত্ররূপময় কবিতা’ বলেছেন।
- এছাড়াও তাকে ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি ও রূপসী বাংলার কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হল-
- ঝরাপালক।
- ধূসর পাণ্ডলিপি।
- বনলতা সেন।
- মহাপৃথিবী।
- সাতটি তারার তিমির।
- রূপসী বাংলা।
- বেলা অবেলা ও কালবেলা।

• তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হল-
- মাল্যবান।
- সতীর্থ।

এছাড়া- ‘কবিতার কথা’ হচ্ছে জীবনানন্দ দাশ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ।
-  এই প্রবন্ধে তাঁর একটি বিখ্যাত উক্তি- সকলেই কবি নন,কেউ কেউ কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
১০,৬৯৪.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমাচার চন্দ্রিকা
  2. বঙ্গদূত
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগদর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এর প্রকাশনায় প্রকাশিত বেঙ্গল গেজেট হলো কোন বাঙালির উদ্যোগে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
- ঢাকা প্রকাশ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

অন্যদিকে, 
• ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ 'সমাচার চন্দ্রিকা' নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
• রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

-----------------------
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:

- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক। ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- ১৮১৮ সালে মার্শম্যান শ্রীরামপুর কলেজ এর অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে Government Gazette এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদগুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৯৫.
"মোটর যোগে রাঁচী সফর" - ভ্রমণকাহিনির লেখক কে?
  1. আন্নদাশঙ্কর রায়
  2. এস ওয়াজেদ আলি
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ইবরাহীম খাঁ
ব্যাখ্যা

• এস ওয়াজেদ আলি রচিত ভ্রমণকাহিনি 'মোটর যোগে রাঁচী সফর'।
- ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এতে রাঁচী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়েছে।

• এস ওয়াজেদ আলি:
- তিনি ১৮৯০ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার শণ্ঠীরামপুর মহকুমার বড় তাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ ওয়াজেদ আলি একজন প্রাবন্ধিক, গল্পলেখক ও ভ্রমণকাহিনী রচয়িতা।
- এস ওয়াজেদ আলির প্রথম প্রবন্ধ ’অতীতের বোঝা’ ১৯১৯ সালে প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৯৩২ সালে 'গুলিস্তাঁ' নামে একটি বাংলা মাসিক সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
• প্রবন্ধ:
- জীবনের শিল্প,
- প্রাচ্য ও প্রতীচ্য,
- ভবিষ্যতের বাঙালী,
- আকবরের রাষ্ট্র সাধনা,
- মুসলিম সংস্কৃতির আদর্শ।

• উপন্যাস:
- গ্রানাডার শেষ বীর।

• ভ্রমণকাহিনী:
- পশ্চিম ভারত,
- মোটর যোগে রাঁচী সফর প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- পথে প্রবাসে আন্নদাশঙ্কর রায়ের বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনি।
- 'দেশে বিদেশে' ভ্রমণকাহিনীমূলক গ্রন্থটির  রচয়িতা- 'সৈয়দ মুজতবা আলী'।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

১০,৬৯৬.
নিচের কোনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস?
  1. আমি বীরাঙ্গনা বলছি
  2. একাত্তরের যীশু
  3. খেলাঘর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
• 'খেলাঘর' উপন্যাস:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মাহমুদুল হক লিখিত উপন্যাস 'খেলাঘর'। 
উপন্যাসটি তিনটি চরিত্রের মধ্যে রেহানা আক্রান্ত, স্কুলমাস্টার মুকুল প্রতিরোধ গড়ছে আর তারই বন্ধু কলেজ-শিক্ষক ইয়াকুব দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

উপন্যাসে মুকুল চরিত্রটি খুব স্পষ্ট। তার চোখ ভরা স্বপ্ন, বুক ভরা সাহস, দেশ স্বাধীন হবেই, গেরিলারা পাক-সেনাদের পরাজিত করবেই। ইয়াকুব চরিত্রটি শুধু দ্বিধাগ্রস্তই নয় অস্পষ্টও। তার দেশপ্রেম আছে অথচ মনে করে- 'এই পরিস্থিতি চুপচাপ বসে থাকা ছাড়া আর কীইবা করার আছে। এক পর্যায়ে তাকে পরিত্যাক্ত এক বাড়ি, আদিনাথের ভিটাকে নির্দেশ করে বেশ দার্শনিকের মতো কথা বলতে শোনা যায়; "কেন যে মানুষ জায়গা-জমি করে, এখন এখানে বাতি জ্বালাবার কেউ নেই, ক'দিনেরই বা সব।"

আর পুরো উপন্যাসজুড়ে রেহানা চরিত্রটি দুর্বোধ্য, তার আচরণ দেখে ইয়াকুবের পাশাপাশি পাঠকও বুঝে উঠতে পারে না, সে মাঝে মাঝেই অযৌক্তিক আচরণ কেন করে। অবশ্য উপন্যাসের একেবারে শেষের দিকে তার কার্যকারণসূত্র খুঁজে পাওয়া যায়।

--------------
অন্যদিকে,
• নীলিমা ইব্রাহিম রচিত 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি' মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক একটি প্রবন্ধ গবেষণা গ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে।
• 'একাত্তরের যীশু' নামের গল্পটি প্রথম ছাপা হয় ১৯৭৩ সালে দৈনিক বাংলা পত্রিকায়। তারপর বাংলা একাডেমির একটা সংকলনে সবশেষ বইয়ে ছাপা হয়েছে ১৯৮৫ সালে। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি শান্ত-সুনিবিড় জনপদকে ঘিরে রচিত হয়েছে 'একাত্তরের যিশু'।
• আলাউদ্দিন আল আজাদ রচিত ‘নরকে লাল গোলাপ’ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর এবং'খেলাঘর' উপন্যাস।
১০,৬৯৭.
'শিবনারায়ণ' কোন মঙ্গলকাব্যের অন্তর্গত?
  1. অন্নদামঙ্গল
  2. চণ্ডীমঙ্গল
  3. ধর্মমঙ্গল
  4. মনসামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• অন্নদামঙ্গল কাব্যের প্রধান কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩ খণ্ডে বিভক্ত।
যথা :
- শিবনারায়ণ,
- কালিকামঙ্গল,
- মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

- কালিকামঙ্গল নামে অভিহিত কাব্যধারাকে 'বিদ্যাসুন্দর' বা 'বিদ্যাসুন্দরকাহিনি' বলা হয়।
- দেবী কালীর মাহাত্ম বর্ণনা করা হয়েছে এই মঙ্গল কাব্যে।
- কালিকামঙ্গল কাব্যের আদি কবি - কবি কঙ্ক। এছাড়া, সাবিরিদ খান ও রমাপদ সেন - কালিকা মঙ্গল রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৬৯৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিক গ্রন্থ কোনটি?
  1. ক) বেতাল পঞ্চবিংশতি
  2. খ) ব্যাকরণ কৌমদী
  3. গ) প্রভাবতী সম্ভাষণ
  4. ঘ) শব্দ মঞ্জুরী
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মৌলিকগ্রন্থ ও শোকগাঁথা- প্রভাবতী সম্ভাষণ। ব্যাকরণ কৌমুদী, শব্দ মঞ্জুরী, জীবনচরিত, নিষ্কৃতি লাভের প্রয়াস ইত্যাদি তাঁর মৌলিক রচনা। বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ বেতাল পঞ্চবিংশতি।
উৎসঃ শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা।
১০,৬৯৯.
‘কঙ্কাবতী’ কাব্যগ্রন্থের প্রধান বিষয়-
  1. ক) বিরহ
  2. খ) যুদ্ধ
  3. গ) প্রেম
  4. ঘ) সামাজিক কুসংস্কার
ব্যাখ্যা
• ‘কঙ্কাবতী’ বুদ্ধদেব বসুর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- এই কাব্যের কবিতাগুলির রচনাকাল ১৯২৯-৩৪ এবং প্রধান বিষয় প্রেম
- সংগীতময় ভাষা এবং উচ্চারণের সংক্ষেপের জন্য কাব্যগ্রন্থটি সমকালে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। 

------------
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপান্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

বুদ্ধদেব বসুর গল্প:
- ‘অভিনয়, অভিনয় নয়’,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

বুদ্ধদেবের উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১০,৭০০.
'নামহীন গোত্রহীন' গ্রন্থের লেখক-
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) শাহেদ আলী
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
ব্যাখ্যা

হাসান আজিজুল হক মূলত কথাসাহিত্যিক।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে
গল্পগ্রন্থঃ
- আমরা অপেক্ষা করেছি
- আত্মজা ও একটি করবী গাছ,
নামহীন গোত্রহীন,
- পাতালে হাসপাতালে,
- সমুদ্রের স্বপ্ন,
- শীতের অরণ্য,
- জীবন ঘষে আগুন ইত্যাদি।

উপন্যাসঃ
- আগুনপাখি,
- সাবিত্রী উপাখ্যান,
- শিউলি,
- বৃত্তায়ন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর