বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলা সাহিত্য

মোট প্রশ্ন২১,১৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলা সাহিত্য

PrepBank · পাতা ১০০ / ২১১ · ৯,৯০১১০,০০০ / ২১,১৩২

৯,৯০১.
বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কোন দুটি উপন্যাস রচনা করেন?
  1. ক) কপালকুন্ডলা ও কৃষ্ণকান্তের উইল 
  2. খ) দূর্গেশনন্দিনী ও কপালকুন্ডলা
  3. গ) বিষবৃক্ষ ও দূর্গেশনন্দিনী
  4. ঘ) সিতারাম ও আনন্দমঠ
ব্যাখ্যা
- চবিবশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত  উপন্যাস দূর্গেশনন্দিনী ও কপালকুন্ডলা রচনা করেন। 


বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ উপনিবেশিক সরকার তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- তাঁর উপন্যাসের মূল লক্ষ্য ছিল কাব্যচর্চা, প্রকৃতির পূঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা, মানবীয় সৌন্দর্যের অযৌক্তিক উপস্থাপনা, অবিরাম কাল্পনিক ঘটনার বিবরণ এবং বিস্ময়কর ও অতিপ্রাকৃত বিষয়ের বর্ণনা।
- তাঁর সম্পাদিত  বঙ্গদর্শন পত্রিকার মাধ্যমে একটি নতুন লেখকগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে। 

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
উপন্যাস:
- Rajmohan’s Wife
- দূর্গেশনন্দিনী 
- কপালকুন্ডলা 
- মৃণালিনী 
- ইন্দিরা 
- যুগলাঙ্গরীয় 
- চন্দ্রশেখর 
- রজনী 
- রাধারাণী 
সামাজিক উপন্যাস:
- বিষবৃক্ষ
- কৃষ্ণকান্তের উইল 
ঐতিহাসিক উপন্যাস
- রাজসিংহ 
রাজনৈতিক উপন্যাস:
- আনন্দমঠ
- দেবী চৌধুরাণী 
- সীতারাম 
ত্রয়ী উপন্যাস:
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরাণী ও সীতারাম। 
কাব্য:
- ললিতা তথা মানস 
প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য
- বিজ্ঞানরহস্য 
- সাম্য 
- কৃষ্ণচরিত্র ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৯০২.
'তিথিডোর’ - উপন্যাসের লেখক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  3. বিষ্ণু দে 
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা

• 'তিথিডোর' উপন্যাস: 
- বুদ্ধদেব বসু রচিত উপন্যাস- তিথিডোর।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৪৯। 
- উপন্যাসটি প্রথম শ্রাবণ, করুণ রঙিন পথ, যবনিকা কম্পমান এই তিনখন্ডে বিভক্ত। 
- বাঙালি মধ্যবিত্ত শিল্পিত স্বভাব নর নারীর জীবন যাপনের মনোরম ও মধুর কাহিনি এ উপন্যাসে বর্ণিত। 
- কাহিনির মূল উপজীব্য প্রেম ও যৌবনের বন্দনা। 

• বুদ্ধদেব বসু:
- তিনি একজন সাহিত্যিক, সমালোচক, সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালে ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের মালখানগরে।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- মর্মবাণী,
- বন্দীর বন্দনা,
- কঙ্কাবতী,
- যে আঁধার আলোর অধিক,
- মরচেপড়া পেরেকের,
- একদিন চিরদিন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৯০৩.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসটি কোন পটভূমিতে রচিত হয়েছে?
  1. ক) পঞ্চাশের মন্বন্তর
  2. খ) ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রাম
  3. গ) সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার
  4. ঘ) তৎকালীন জমিদারদের অত্যাচার
ব্যাখ্যা

অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
তৎকালীন কুমিল্লা জেলার অধীনে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মহকুমার গােকর্ণঘাট গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিতাস একটি নদীর নামঃ এই একটিমাত্র উপন্যাস লিখে তিনি বাংলা সাহিত্যের চিরস্মরণীয় ও অমর প্রতিভা হিসেবে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন।
- এক দরিদ্র ধীবর (জেলে/মৎস্যজীবী) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বলেই হয়তাে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুগভীর অন্তদৃষ্টির কারণে এই উপন্যাসটিতে প্রতিকূল সংঘাতে ক্রমশ মুছে আসা মৎস্যজীবী মানুষদের কাহিনী বা ধীবর সমাজের নিষ্ঠুর জীবন সংগ্রামের দুঃখ-দুর্দশার সাধারণ কাহিনীকে করেছেন অবিনশ্বর ও অসাধারণ।
- উপন্যাসটি-৪ খন্ডে বিভক্ত।
- পরবর্তীকালে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালনায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপায়িত হয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯,৯০৪.
আবুল মনসুর আহমদ রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) মানব তোমার সারাজীবন
  2. খ) সত্যমিথ্যা
  3. গ) পোড়ামাটির কাজ
  4. ঘ) প্রদীপ ও পতঙ্গ
ব্যাখ্যা
আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
তিনি  ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম আবুল মনসুর আহমেদের আয়না হাস্যরসাত্মক গল্পের ভূমিকা লিখেছিলেন। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে।

তাঁর রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে,
- সত্যমিথ্যা (১৯৫৩),
- জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫)ও
- আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)।

'মানব তোমার সারাজীবন' উপন্যাসটির রচিয়তা - আব্দুল্লাহ আল মামুন
'পোড়ামাটির কাজ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবদুল মান্নান সৈয়দ
'প্রদীপ ও পতঙ্গ' উপন্যাসটির রচিয়তা -আবুল ফজল 


 [উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।]
৯,৯০৫.
অমিয় চক্রবর্তীর 'বাংলাদেশ' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
  1. স্বরবৃত্ত ছন্দে 
  2. মাত্রাবৃত্ত ছন্দে 
  3. অমিত্রাক্ষর ছন্দে 
  4. অক্ষরবৃত্ত ছন্দে 
ব্যাখ্যা

• 'বাংলাদেশ' কবিতা:
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বাংলাদেশ কবিতাটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- অমিয় চক্রবর্তী রচিত বিখ্যাত কবিতা ‘বাংলাদেশ’ অনিঃশেষ (১৯৭৬) কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত একটি কবিতা।
- কবিতাটি স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রচিত।
- কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।

--------------------
অমিয় চক্রবর্তী:
- পশ্চিমবঙ্গের হুগলীর শ্রীরামপুরে তাঁর জন্ম।
- অমিয় চক্রবর্তী তাঁর জীবনের প্রথম দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিকট-সান্নিধ্যে এসেছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে বহুদেশে ভ্রমণ করেছেন।
- তিরিশের পঞ্চকবির মধ্যে তিনি অন্যতম একজন।
 
তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ:
- উপহার,
- খসড়া,
- এক মুঠো,
- মাটির দেয়াল,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯০৬.
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. যতীন্দ্রমোহন বাগচী
  5. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• জুতা আবিষ্কার:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'কল্পনা' কাব্য থেকে 'জুতা আবিষ্কার' কবিতাটি সংকলন করা হয়েছে।
- ধুলাবালি থেকে রাজার পা দুটিকে মুক্ত রাখার নানা প্রসঙ্গই কবিতাটির মূল উপজীব্য।

জুতা-আবিষ্কার
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কহিলা হবু, 'শুন গো গোবুরায়, কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র
মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায় ধরণী-মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র!
তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি, রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি।
আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি, রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!
শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার, নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর।'
(সংক্ষিপ্ত)

উৎস:বাংলা সাহিত্য, নবম ও দশম শ্রেণি, (২০২৫ সংস্করণ)।

৯,৯০৭.
রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা কে?
  1. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সুকুমার রায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• রূপকথার সংকলন ‘ঠাকুরমার ঝুলি’র রচয়িতা — দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
--------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার। 
- প্রধানত ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি। 
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক ‘সুধা’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ ‘উত্থান’ কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯০৮.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জগদানন্দপা
  2. আর্যদেবপা
  3. শান্তিপা
  4. চাটিল্লপা
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদের কবি নন- জগদানন্দপা। 
- জগদানন্দ ছিলেন বৈষ্ণব সাহিত্যের পণ্ডিত। 

--------------------
• চর্যাপদ:

- চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন গ্রন্থ। এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের - একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় ১৯০৭ সালে (১৩১৪ বঙ্গাব্দে)। এবং ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে * (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। প্রাচীন এ গ্রন্থটির সম্পাদনা করেন মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদ কবিগণ হলেন:
- কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা,  মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৯০৯.
বাংলাদেশে 'গ্রাম থিয়েটারে'র প্রবর্তক কে?
  1. মুনীর চৌধুরী
  2. সেলিম আল দীন
  3. আব্দুল্লাহ আল মামুন
  4. মমতাজ উদদীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
সেলিম আল দীন:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিককাল পর্বের অন্যতম নাট্যকার। 
- তিনি ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট সীমান্তবর্তী ফেনী জেলার অন্তর্গত সোনাগাজী উপজেলার সেনেরখিল গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ ।
- ১৯৮৬ সালে তিনি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে যোগদান এবং উক্ত বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- শিক্ষকতার পাশাপাশি এ দেশের নাট্যশিল্পকে বিশ্বনাট্য ধারার সঙ্গে সমপংক্তিতে সমাসীন করার লক্ষ্যে ১৯৮১-৮২ সালে তিনি এবং নাট্য-নির্দেশক নাসির উদ্দিন ইউসুফ সারাদেশব্যাপী গড়ে তোলেন 'বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার'।
- ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত নাটক:
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন, 
- বাসন, 
- তিনটি মঞ্চ নাটক: মুনতাসির, শকুন্তলা ও কিত্তনখোলা, 
- কেরামতমঙ্গল, 
- কিত্তনখোলা, 
- হাতহদাই, 
- যৈবতী কন্যার মন, 
- চাকা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৯১০.
'জলাঙ্গী' উপন্যাসটি রচনা করেন কে?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. শওকত ওসমান
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'জলাঙ্গী' উপন্যাস:
- শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'জলাঙ্গী'।
- স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠার দ্যোতক হিসেবে 'জলাঙ্গী' (১৯৭৪) উপন্যাসের মূল্য অপরিসীম।
- শওকত ওসমান রচিত এ উপন্যাসে বর্ণিত হয়েছে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও তার প্রেমিকার ওপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। এদের হাত-পা বেঁধে গলায় পাথর ঝুলিয়ে মেঘনা নদীতে ডুবিয়ে মারা হয়।
- এরা নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার হয়েও মৃত্যুর আগ মুহূর্তে 'জয় বাংলা' তাদের অবিচলিত দেশপ্রেমকে মহিমান্বিত করেছে।

শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস:
- ক্রীতদাসের হাসি,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- জলাঙ্গী,
- বনি আদম,
- জননী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৯১১.
'নজর আলী’ কোন লেখকের ডাকনাম?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. সৈয়দ আলী আহসান
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উল্লেখ্য,
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
•  শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল বাচ্চু।
সৈয়দ আলী আহসান

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৯,৯১২.
সরদার জয়েনউদ্দীন রচিত উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) অনেক সূর্যের আশা
  2. খ) গৃহদাহ
  3. গ) খরস্রোত
  4. ঘ) চাঁদের অমাবস্যা
ব্যাখ্যা

সরদার জয়েনউদ্দীনঃ কথাসাহিত্যিক।

তার রচিত উপন্যাসঃ
- আদিগন্ত,
- অনেক সূর্যের আশা,
- বেগম শেফালী মির্জা,
- রোদের ঢেউ।

তাঁর রচিত ছোটগল্পঃ
- নয়ন ঢুলি,
- খরস্রোত,
- বেলা ব্যানার্জির প্রেম,
- অষ্টপ্রহর।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর

 
৯,৯১৩.
‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধগ্রন্থটির লেখক কে?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ‘কবিতার কথা’ নামে প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
------------------ 
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ- “কবিতার কথা”।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”।
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ।
- “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।
- জীবনানন্দের মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় “রূপসী বাংলা” এবং “বেলা অবেলা কালবেলা” নামক কাব্য।

• জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: 
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
উল্লেখ্য,
‘কবিতার কথা’ সৈয়দ আলী আহসানের প্রবন্ধ ও গবেষণা গ্রন্থ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯১৪.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত কিশোর চরিত্র কোনটি?
  1. ক) ফটিক
  2. খ) জগৎনাথ
  3. গ) রতন
  4. ঘ) ইন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র 'ইন্দ্রনাথ'।
- 'শ্রীকান্ত' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আত্মজৈবনিক উপন্যাস।
- শ্রীকান্ত উপন্যাসটি ৪টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭) 'শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশ পায়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রীশ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - শ্রীকান্ত, ইন্দ্রনাথ, রাজলক্ষ্মী, অন্নদিদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯১৫.
নিচের কোনটি অমিয় চক্রবর্তীর গদ্য?
  1. ক) অভিজ্ঞান বসন্ত
  2. খ) পথ অন্তহীন
  3. গ) অনিঃশেষ
  4. ঘ) খসড়া
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী একজন শীর্ষস্থানীয় আধুনিক কবি ছিলেন।
- তার 'এক মুঠো' কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে।
তার উল্লেখযোগ্য অন্যন্য কাব্যগ্রন্থ -
- খসড়া,
- মাটির দেয়াল,
- অনিঃশেষ,
- অভিজ্ঞান বসন্ত ইত্যাদি।
তার উল্লেখযোগ্য গদ্য রচনাঃ
- চলো যাই,
- সাম্প্রতিক,
- পুরবাসী,
- পথ অন্তহীন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৯১৬.
'পদ্মরাগ' বেগম রোকেয়া রচিত কোন ধরনের সাহিত্যকর্ম?
  1. প্রবন্ধগ্রন্থ
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. অনুবাদ গদ্যগ্রন্থ
ব্যাখ্যা
• 'পদ্মরাগ' উপন্যাস:
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত উপন্যাস 'পদ্মরাগ'। এটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'পদ্মরাগ' গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হয় রোকেয়ার জ্যেষ্ঠভ্রাতা আবুল আসাদ ইব্রাহিমকে।

- তবে একে উপন্যাস না বলে উপন্যাসপম গদ্য-আখ্যায়িকা বলাই ভালো। কেননা উপন্যাসের গাঁথুনি এখানে নেই, শিল্প হিসেবেও অসফল। তবে 'পদ্মরাগে'র মূল্য অন্যত্র। প্রথমত কোনো মুসলিম নারীর রচনা; দ্বিতীয়ত মুসলিম সমাজের অন্তঃস্থিত ক্লেদকে এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যা কোনো হিন্দু লেখকের পক্ষে সম্ভব ছিল না; তৃতীয়ত অসাম্প্রদায়িকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আছে এ জন্যে।

-----------------
বেগম রোকেয়ার উলেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ গ্রন্থ),
- Sultana's Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, প্রভৃতি)।
এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯১৭.
বাংলা সাহিত্যে কখন থেকে অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়?
  1. আধুনিক যুগে
  2. মধ্যযুগে
  3. প্রাচীন যুগে
  4. উত্তর-আধুনিক যুগে
ব্যাখ্যা

• বাংলা অনুবাদ কাব্যের সূচনা হয়— মধ্যযুগে।
-----------------------
• এক্ষেত্রে প্রধানত অনুবাদ হয়েছে:
ক) সংস্কৃত থেকে,
খ) হিন্দি সাহিত্য থেকে,
গ) আরবি-ফারসি সাহিত্য থেকে।
----------------
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্য:
- লায়লী মজনু পারসি কবি জামির লায়লী মজনু থেকে অনুবাদ করেছেন দৌলত উজির বাহরাম খান।
- মধুমালতী হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালতী কাব্য থেকে বাংলা অনুবাদ করেন মুহম্মদ কবীর।
- পদ্মাবতী হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সরি পদুমাবৎ কাব্য থেকে বাংলায় অনুবাদ করেন আলাওল।
- মালাধর বসু ভাগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- মহাভারত প্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন কবীন্দ্র পরমেশ্বর।
- মুহম্মদ কবির হিন্দি কবি মনঝনের মধুমালত্ বা সাধনের মৈনাসত্ কাব্যের অনুসরণে তাঁর বাংলা ‘মধুমালতী’ কাব্য রচনা করেন।
- রামায়ণের প্রথম বাংলা অনুবাদক কৃত্তিবাস ওঝা ।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৯,৯১৮.
ফকির গরীবুল্লাহ্‌ পুঁথি সাহিত্যের কাব্যধারার সূত্রপাত করেন কোন গ্রন্থ রচনার মধ্যদিয়ে? 
  1. ইউসুফ-জুলেখা 
  2. আমীর হামজা
  3. মধুমালতী
  4. জৈগুনের পুথি
ব্যাখ্যা

• পুঁথি সাহিত্য:
- পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি ও হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল।

- এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়ই ছিল মুসলমান সম্প্রদায়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একটি বিশেষ সময়ে রচিত বিশেষ ধরণের সাহিত্যই পুথি সাহিত্য নামে পরিচিত।

- হুগলির বালিয়া-হাফেজপুরের কবি ফকির গরীবুল্লাহ্‌ (আনু. ১৬৮০-১৭৭০) 'আমীর হামজা' রচনা করে এ কাব্যধারার সূত্রপাত করেন। গরীবুল্লাহর প্রথম কাব্য  ইউসুফ-জুলেখা সাধু বাংলায় রচিত। তিনি মিশ্র ভাষারীতিতে রচনা করেন সোনাভান, সত্যপীরের পুথি, জঙ্গনামা ও আমীর হামজা। 

- সপ্তদশ শতাব্দীর কবি সৈয়দ হামজা পুথি সাহিত্যের অন্যতম কবি। সৈয়দ হামজার প্রথম কাব্য মধুমালতী সাধু বাংলায় রচিত। এরপর তিনি মিশ্র ভাষায় রচনা করেন জৈগুনের পুথি (১৭৯৮) ও হাতেম তাই (১৮০৪) কাব্যদুটি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯১৯.
বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাচল
  2. ক্রান্তি
  3. কালিকলম
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’। পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক্তা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে।
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯২০.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কে আবিষ্কার করেন?
  1. রাজেন্দ্রলাল বসু
  2. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. বসন্তরঞ্জনরায় বিদ্বদ্বল্লভ
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• চর্যাপদ:
- চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

- ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
- ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৯,৯২১.
'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?' - বিখ্যাত পঙ্‌ক্তিটি কে রচনা করেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বিষ্ণু দে
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

'উটপাখি' কবিতা:
- 'উটপাখি' কবিতাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'ক্রন্দসী' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'উটপাখি' কবিতার বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি-  'অন্ধ হলে কি প্রলয় বন্ধ থাকে?'

সুধীন্দ্রনাথ দত্ত রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: 
- তন্বী, 
- অর্কেষ্ট্রা, 
- ক্রন্দসী, 
- উত্তর ফাল্গুনী, 
- সংবর্ত, 
- প্রতিদিন, 
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯২২.
'ফেরারী ডায়েরী' কোন পটভূমিকায় রচিত?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধের
  2. খ) দেশ বিভাগের
  3. গ) ভাষা অন্দোলনের
  4. ঘ) গণঅভ্যুত্থানের
ব্যাখ্যা

• আলাউদ্দিন আল আজাদ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার রামনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
• তাঁর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর লেখা বই 'ফেরারী ডায়েরী'।
• তাঁর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নাটক নরকে লাল গোলাপ।
• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাসঃ
- কর্ণফুলী,
- তেইশ নম্বর তৈলচিত্র,
- ক্ষুধা ও আশা,
- খসড়া কাগজ,
- বিশৃঙ্খলা,
- স্বপ্নশীলা,
- শীতের শেষ রাত বসন্তের প্রথম দিন ইত্যাদি।
• তাঁর 'কর্ণফুলী' উপন্যাস পাহাড় সমুদ্র ঘেরা একটি বিশেষ জনপদের উপন্যাস। আদিবাসী রাঙ্গামিলা, প্রেমিক দেওয়ানপুত্র (চাকমা), বাঙালি ইসমাইল, জলি, রমজান প্রমুখের জীবনযাপন ও প্রণয় এ উপন্যাসে বর্ণিত। উপজাতীয় জীবন কাহিনী নিয়ে রচিত চাকমাদের জীবন সংগ্রামের চিত্র এ উপন্যাসের উপজীব্য। এতে চাকমা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার

৯,৯২৩.
'হৃদয়ে বাংলাদেশ' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. পান্না কায়সার
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. সালমা হোসেন
ব্যাখ্যা
• পান্না কায়সার রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিশোর উপন্যাসমালা 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' ।
- এই কাহিনি কেবল বালক-কিশোরের বীরত্ব ও বেদনার গল্প নয়, মুক্তিযুদ্ধের জীবনসত্যেরই এ-এক প্রতিচ্ছবি।
- একাত্তরের এই কাহিনির হাত ধরে কিশোর পাঠকেরা পৌঁছে যাবে মুক্তিযুদ্ধের ভেতরে।


উৎস: 'হৃদয়ে বাংলাদেশ' উপন্যাস।
৯,৯২৪.
'যাত্রা' উপন্যাসের প্রেক্ষাপট কী?
  1. মুক্তিযুদ্ধ
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন
  4. ত্রিভুজ প্রেম
ব্যাখ্যা
'যাত্রা' উপন্যাস:
- শওকত আলী রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রা।
- এই উপন্যাসে যুদ্ধের প্রথম দিকের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- শুরুর প্রাক্কালে দলে দলে মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে; আবার পেছন ফিরে তাকাচ্ছে। এ পলায়ন শুধু চেতনাগত নয়, মানসিকভাবেও পলায়ন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র অধ্যাপক রায়হান মুক্তিযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন।
- একসময় প্রগতিশীল রাজনীতিক রায়হান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেবেন কি নেবেন না- এ সংশয় ও দ্বিধায় শেষাবধি যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি।
- ১৯৭২ সালে রচিত হয় 'যাত্রা' উপন্যাসটি। তবে প্রকাশ পায় ১৯৭৬ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯২৫.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' এর রচয়িতা কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সৈয়দ আলী আহসান
ব্যাখ্যা
'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী' উপন্যাস:
- সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস 'দ্বিতীয় দিনের কাহিনী'। এটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৪ সালে।
- মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে চমৎকারভাবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
- বাঙালি জাতিসত্তার আত্মপরিচয়, সংগ্রাম, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার কথা পরম মমতায় তুলে ধরেছেন এ উপন্যাসে।

সৈয়দ শামসুল হক:
- ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে ২৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- উপন্যাসটি পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও এদেশে অবস্থানরত তাদের বংশধর বিহারী দের কতৃক নির্যাতিত ও হত্যাকৃত হাজারো মুক্তিকামী জনতার প্রতিচ্ছবি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬ (১২ আশ্বিন ১৪২৩ বঙ্গাব্দ) ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- নিষিদ্ধ লোবান,
- এক মহিলার ছবি,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন,
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ,
- ত্রাহী,
- বৃষ্টি ও বিদ্রোহীগণ,
- দেয়ালের দেশ,
- খেলারাম খেলে যা,
- তুমি সেই তরবারী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৯২৬.
'কীর্তিবিলাস' নাটকের রচয়িতা কে?
  1. যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত
  2. তারাচরণ শিকদার
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'কীর্তিবিলাস' নাটক:
- 'কীর্তিবিলাস' বিয়োগান্তক নাটক রচনার প্রথম প্রচেষ্টা
- এর রচয়িতা যোগেন্দ্রচন্দ্র গুপ্ত। এটি ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়।
- সপত্নীপুত্রের প্রতি বিমাতার অত্যাচারকাহিনি অবলম্বনে 'কীর্তিবিলাস' নাটকটি রচিত।
- বিভিন্ন চরিত্রের মৃত্যুর মাধ্যমে ট্র্যাজেডির রূপায়ণ এর বৈশিষ্ট্য।
- পাশ্চাত্য আদর্শে নাটকের অংক পাঁচটি; কিন্তু সংস্কৃত আদর্শে এতে 'নান্দী' ও 'সূত্রধার' রয়েছে।
- কীর্তিবিলাসের ভাষা সংস্কৃতের প্রভাবে আড়ষ্ট ও কৃত্রিম।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

৯,৯২৭.
নিচের কোন কবিতাটি 'সিন্ধু হিন্দোল' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. বিদ্রোহী
  3. দারিদ্র্য
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা
'দারিদ্র্য' কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের সিন্ধু হিন্দোল কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।
কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ অগ্নিবীণা ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
এতে মোট ১২ টি কবিতা রয়েছে। এগুলো হলো -
- প্রলয়োল্লাস,
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধূমকেতু,
- কামাল পাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত ইল আরব,
- খেয়াপাড়ের তরণী,
- কোরবানি ও
- মহররম।

[উৎস: অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।]
৯,৯২৮.
'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটি মধ্যযুগের কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি 
  2. ভারতচন্দ্র রায় 
  3. জ্ঞানদাস 
  4. চণ্ডিদাস 
ব্যাখ্যা

• 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।' উক্তিটির রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর।

• 'অন্নদামঙ্গল' কাব্য:
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্ররে আদেশে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যটি রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করলেও তাঁর শ্রেষ্টসৃষ্টি 'অন্নদামঙ্গল' (১৭৫২-৫৩ সালে) রচনা করেন ও এই কাব্যের দ্বিতীয়ংশ 'বিদ্যাসুন্দর'।
- 'অন্নদামঙ্গল' কাব্যের বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দ ও অলঙ্কারের সুদক্ষ প্রয়োগ।
- সমালোচক অধ্যাপক অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে: 'অন্নদামঙ্গলকাব্য অষ্টদশ শতাব্দীর সর্বশ্রেষ্ঠ কাব্য, সমগ্র বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের অন্যতম।
- অন্নদামঙ্গল কাব্য ৩টি খণ্ডে বিভক্ত। যথা: শিবনারায়ণ, কালিকামঙ্গল এবং মানসিংহ-ভবানন্দ খণ্ড।

এই কাব্যের প্রধান চরিত্র:
- মানসিংহ,
- ভবানন্দ,
- বিদ্যাসুন্দর,
- মালিনী,
- ঈশ্বরী পাটনী ইত্যাদি।

অন্নদামঙ্গল কাব্যের কিছু বিখ্যাত পঙক্তি হলো:
- 'আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।'
- 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।'
- 'হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।'
-' নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?'
- 'না রবে প্রাসাদগুণ না হবে রসাল, অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশাল।'
- 'বড়র পিরীতি বালির বাঁধ! ক্ষণে হাতে দড়ি, ক্ষনেকে চাঁদ।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম। 

৯,৯২৯.
নির্মলেন্দু গুণ কত সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ১৯৮২
  2. খ) ২০০১
  3. গ) ২০১২
  4. ঘ) ২০১৬
ব্যাখ্যা
নির্মলেন্দু গুণ ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমী পদক, ২০০১ সালে একুশে পদক এবং ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯,৯৩০.
নুরুল মোমেন রচিত নেমেসিস নাটকের বিষয়বস্তু কি?
  1. ক) ভাষা আন্দোলন
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধ
  3. গ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  4. ঘ) ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
ব্যাখ্যা

'নেমেসিস' নুরুল মােমেন রচিত শ্রেষ্ঠ নাটক।
১৯৩৯-৪৩ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নুরুল মােমেন ১৯৪৪ সালে নাটকটি লেখেন এবং 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে।
নাটকটি স্কুল মাস্টার সুরজিত নন্দী নামের এক চরিত্র বিশিষ্ট নাটক।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৯,৯৩১.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেমমূলক কাব্যগৃন্থ?
  1. ক) ছায়ানট
  2. খ) সর্বহারা
  3. গ) চক্রবাক
  4. ঘ) মৃত্যুক্ষুরামু
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম একই সঙ্গে ছিলেন দ্রোহ ও প্রেমের কবি। তার কাব্যে, গানে বারবার তাই উপজীব্য হয়েছে প্রেম। 'চক্রবাক' কাব্যে তাঁর এই রোমান্টিক সত্তার প্রকাশ বিশেষভাবে ফুটে ওঠে। উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।
৯,৯৩২.
‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে কোন নাটকটি প্রকাশিত হয়?
  1. নীলদর্পণ
  2. কবর
  3. রক্তাক্ত প্রান্তর
  4. নরকে লাল গোলাপ
ব্যাখ্যা
 • নীলদর্পণ:
- দীনবন্ধু মিত্রের শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনা 'নীলদর্পণ'।
- ১৮৬০ সালে ‘কস্যচিৎ পথিকস্য’ ছদ্মনামে নাটকটি প্রথম ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- সমকালের নীলচাষ ও  নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু।
- নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত  নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন এবং পাদ্রি জেমস লং তা প্রকাশ করে আদালত কর্তৃক অর্থদন্ডে দণ্ডিত হন।
- এটিই বিদেশী ভাষায় অনূদিত প্রথম বাংলা নাটক।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়  নীলদর্পণকে 'আঙ্কল টমস কেবিন' এর সঙ্গে তুলনা করেন।
- নাটকটি রচনাকাল থেকে আজ পর্যন্ত জাতীয় চেতনার পথিকৃৎ হয়ে আছে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৩৩.
"পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।” পঙক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. ক) রজনীকান্ত সেন
  2. খ) কামিনী রায়
  3. গ) কুসুমকুমারী দাশ
  4. ঘ) যতীন্দ্রনাথ বাগচী
ব্যাখ্যা
"পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”
- পঙক্তিদ্বয় রজনীকান্ত সেন রচিত 'স্বাধীনতার সুখ' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

রজনীকান্ত সেন (১৮৬৫-১৯১০) কবি, গীতিকার, সঙ্গীতশিল্পী।
রজনীকান্ত পিতার নিকট সঙ্গীত শেখেন এবং মাত্র পনেরো বছর বয়সে কালীসঙ্গীত রচনা করে কবিত্বশক্তির পরিচয় দেন। 
- তিনি কবিতাও রচনা করতেন এবং ‘কান্তকবি’ নামে খ্যাত ছিলেন।
- তাঁর কবিতা ও গানের বিষয়বস্তু ছিল প্রধানত ভক্তি ও দেশপ্রেম।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলি:
- বাণী (১৯০২),
- কল্যাণী (১৯০৫),
- অমৃত (১৯১০),
- অভয়া (১৯১০),
- আনন্দময়ী (১৯১০),
- বিশ্রাম (১৯১০),
- সদ্ভাবকুসুম (১৯১৩),
- শেষদান (১৯১৬),- 
- পথচিন্তামণি এবং
- অভয় বিহার। 

উৎস: স্বাধীনতার সুখ, রজনীকান্ত সেন এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৩৪.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত কোন নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেন? 
  1. বিসর্জন
  2. ডাকঘর
  3. বসন্ত
  4. অচলায়তন
ব্যাখ্যা

• 'বসন্ত' গীতিনাট্য:
- 'বসন্ত' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি গীতিনাট্য।
- এটি ১৯২৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর রচিত বসন্ত নাটকটি কাজী নজরুল ইসলামকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং কাজী নজরুল ইসলাম তার সঞ্চিতা কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।

উল্লেখ্য,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'কালের যাত্রা' নাটকটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করেন।
- এছাড়াও তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে উৎসর্গ করেন 'তাসের দেশ' নাটক।
- ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে তাঁর রচিত 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থাটি উৎসর্গ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৩৫.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন?
  1. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  2. গিয়াস উদ্দিন আজম শাহ
  3. কৃষ্ণচন্দ্র রায়
  4. দৌলত কাজী
ব্যাখ্যা
পদ্মাবতী:
- এটি হচ্ছে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় প্রণয়কাব্য।
- কোরেশী মাগন ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় আলাওল 'পদ্মাবতী' রচনা করেন।
- ১৬৫২ খ্রিস্টাব্দে আরাকান অমাত্যসভার কবি আলাওল প্রধানমন্ত্রী মাগন ঠাকুরের অনুরোধে হিন্দি পদুমাবৎ কাব্য অবলম্বনে এটি রচনা করেন।
- এটি বিখ্যাত হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির 'পদুমাবৎ' এর কাব্যোনুবাদ। পদ্মাবতী দুটি পর্বে বিভক্ত।
- প্রথম পর্বে সিংহলের রাজকন্যা পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য চিতোররাজ রত্নসেনের সফল অভিযান।
- দ্বিতীয় পর্বে রাণী পদ্মাবতীকে লাভ করার জন্য দিল্লির সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির ব্যর্থ সামরিক অভিযানের বিবরণ আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৯৩৬.
বৈষ্ণব পদাবলীর অবাঙ্গালী কবি কে?
  1. ক) বিদ্যাপতি
  2. খ) জ্ঞানদাস
  3. গ) চণ্ডীদাস
  4. ঘ) গোবিন্দদাস
ব্যাখ্যা
বৈষ্ণব পদাবলীর অবাঙ্গালী কবি হলেন বিদ্যাপতি।
বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি।
বিদ্যাপতিকে ‘মিথিলার কবি’ বা ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি দেন রাজা শিবসিংহ।
[সূত্রঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
৯,৯৩৭.
কাজী নজরুল ইসলাম কোন চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছিলেন?
  1. ধ্রুব
  2. গ্রহের ফের
  3. ধূপছায়া
  4. গৃহদাহ
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্রে কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল 'ধূপছায়া ' নামে একটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। এটিতে তিনি একটি চরিত্রে অভিনয়ও করেছিলেন।
- ১৯৩১ সালে প্রথম বাংলা সবাক চলচ্চিত্র ‘জামাই ষষ্ঠী’র ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত ‘গৃহদাহ’ চলচ্চিত্রের সুরকার ছিলেন তিনি।
- গীতিকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন ১৯৩৩ সালে পায়োনিয়ার ফিল্মস কোম্পানির প্রযোজনায় নির্মিত চলচ্চিত্র ‘ধ্রুব’ এবং সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন ১৯৩৭ সালের ‘গ্রহের ফের’ চলচ্চিত্রের।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯,৯৩৮.
রাধার স্বামীর নাম কী?
  1. ক) কৃষ্ণ
  2. খ) নিমাই
  3. গ) অভিমন্যু
  4. ঘ) নন্দ গোপ
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
- রাধার স্বামী ছিল নপুংশক (সম্পর্কে কৃষ্ণের মামা)।
- অভিমুন্যু ছাড়াও তাকে আইহন বা আয়ান ঘোষ বা আয়ান গোপ নামেও ডাকা হয়।
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৩৯.
বৈষ্ণব সাহিত্যের প্রকারভেদ নয় কোনটি?
  1. ক) পদাবলি
  2. খ) জীবনীকাব্য
  3. গ) চৈতন্যকাব্য
  4. ঘ) বৈষ্ণবশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

বৈষ্ণব সাহিত্য ৩ প্রকার।
যথাঃ জীবনীকাব্য, বৈষ্ণবশাস্ত্র ও পদাবলি।

শ্রীচৈতন্যদেবের জীবনী রচনার মধ্য দিয়ে বাংলায় জীবনী সাহিত্য রচনা আরম্ভ হয়। বাংলায় চৈতন্যদেবের প্রথম জীবনীগ্রন্থ বৃন্দাবন দাস রচিত ‘চৈতন্য-ভাগবত’।

সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৯৪০.
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা কে?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) নীলিমা ইব্রাহিম
  4. ঘ) আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
'ওঙ্কার' উপন্যাসটির রচয়িতা- আহমদ ছফা 

• ওঙ্কার উপন্যাসটি মূলত ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে লেখা হয়েছে।
• উপন্যাসের নায়ক- আবু নসর বোবা মেয়েকে বিয়ে করে। আবু নসরের সঙ্গে আইয়ুব খানের সম্পর্ক থাকায় সে এক ধরনের ক্ষমতা লাভ করে। আর এই ঘটনার সূত্র ধরে উপন্যাসটির কাহিনী গতি লাভ করেছে।

আহমদ ছফা:
- ১৯৪৩ সালে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।


• আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণবিলাস,
- গাভী বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

• আহমদ ছফা রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- জাগ্রত বাংলাদেশ
- যদ্যপি আমার গুরু প্রফেসর রাজ্জাক
- বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস
- বাঙালি মুসলমানের মন
- সিপাহীযুদ্ধের ইতিহাস ইত্যাদি। 


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৪১.
রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কোন উপন্যাসে?
  1. গৃহদাহ
  2. বিষবৃক্ষ
  3. কৃষ্ণকান্তের উইল
  4. যোগাযোগ
ব্যাখ্যা
• কৃষ্ণকান্তের উইল:
- ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি বাংলা উপন্যাস।
- উপন্যাসটি ১৮৭৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- রোহিনী, ভ্রমর এবং গোবিন্দলালের ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসে।

-----------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'সাম্য' গ্রন্থটি রচনা করেন।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অন্যান্য উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

অন্যদিকে,
গৃহদাহ - উপন্যাসের নায়িকা অচলা। মহিম ও সুরেশ দুই পুরুষের প্রতি অচলার আকর্ষণ বিকর্ষণ উপন্যাসের আলোচ্য বিষয়।
গৃহদাহ উপন্যাসের চরিত্র - সুরেশ, মহিম, অচলা।
বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র - নগেন্দ্রনাথ ও কুন্দনন্দিনী।
কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র - গােবিন্দলাল, রােহিনী, ভ্রমর।
যোগাযোগ উপন্যাসের চরিত্র - কুমুদিনী ও মধুসুদন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৪২.
মহাকাব্য “শাহনামা”র রচয়িতা-
  1. ক) ওমর খৈয়াম
  2. খ) ফেরদৌসী
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) শেখ সাদী
ব্যাখ্যা
‘শাহনামা’ মহাকাব্যের রচয়িতা পার্সিয়ান কবি ফেরদৌসী। অর্থাৎ এই মহাকাব্যটি পারস্যে রচিত একটি সাহিত্য।
উৎসঃ ব্রিটানিকা
৯,৯৪৩.
'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই অমর চরণটি তাঁর কোন কবিতার অন্তর্গত?
  1. রানার
  2. দুরাশা মৃত্যু
  3. হে মহাজীবন
  4. আঠারো বছর বয়স
ব্যাখ্যা
কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 
- সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্ম ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট কলকাতায়। 
-  তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ফরিদপুর জেলার কোটালিপাড়ায়।
- মাত্র ৮ কিংবা ৯ বছর বয়সেই "সঞ্চয়" শিরোনামে প্রকাশিত হয় সুকান্তের প্রথম ছোট গল্প।
-  ১৯৪৭ সালের ১৩ মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কোলকাতায় চিরতরে পৃথিবী থেকে চলে যান সুকান্ত।
- সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতা-র ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। 
- কিংবদন্তী চরণ 'ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি' তাঁর রচিত ‘ছাড়পত্র’ কাব্যের 'হে মহাজীবন' কবিতার একটি লাইন।

- সুকান্ত জীবিত থাকাকালীন তার কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। 
- ‘ছাড়পত্র’ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ছাড়পত্র, রানার, দুরাশা মৃত্যু, হে মহাজীবন, আঠারো বছর বয়স সহ মোট ৩৮ টি কবিতা এই কাব্যগ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছে। 
- মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয় তার ৮টি কাব্যগ্রন্থ।

- তার রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো -
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- মিঠেকড়া,
- অভিযান,
- হরতাল প্রভৃতি। 

উৎস : ১.ডেইলি স্টার বাংলা।
২. প্রথম আলো। 
৩. বাংলাপিডিয়া।
৪) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৪৪.
ভুসুকুপা কয়টি পদ রচনা করেন?
  1. সাতটি
  2. আটটি
  3. নয়টি
  4. দশটি
ব্যাখ্যা

ভুসুকুপা:
- চর্যাগীতি রচনার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী হলেন ভুসুকুপা।
- তাঁর রচিত আটটি পদ চর্যাপদ গ্রন্থে সংগৃহীত হয়েছে।
- নানা কিংবদন্তি বিচারে ভুসুকুপা নামটিকে ছন্দ নাম বলে মনে করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শান্তিদেব।
- ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মতে শান্তিদেব ভুসুকু সাত শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান ছিলেন।
- ভুসুকুর জীবৎকালে শেষ সীমা ৮০০ সাল।
- ধর্মপালের রাজত্বকালে (৭৭০-৮০৬ সাল) ভুসুকুপা জীবিত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৯৪৫.
‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’- চরণটির রচয়িতা কে?
  1. ক) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) মুনির চৌধুরী
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
- ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি’- চরণটি সৈয়দ শামসুর হকের রচিত আমার পরিচয় কবিতার ।
- ‘আমার পরিচয়’ কবিতাটি  সৈদয় শামসুল হকের ‘কিশোর কবিতা সমগ্র; থেকে সম্পাদিত আকারে চয়ন করা হয়েছে।
- কবিতাটির মাধ্যমে লেখক বাঙালি জাতির বর্তমান অবস্থার পেছনের বর্ণিল ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছেন।
- সৈয়দ শামসুল হক ২৯ বছর বয়সে ১৯৬৬ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
- তিনি আদমজি সাহিত্য পুরস্কার পান ১৯৬৯ সালে।
- এছাড়াও তিনি আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ১৯৮৩ ও একুশে পদক ১৯৮৪ সালে লাভ করেন।

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য পাঠ ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৪৬.
বিভূতিভূষণের রচনা নয় কোনটি?
  1. ক) দৃষ্টি প্রদীপ
  2. খ) দেবযান
  3. গ) অশনি সংকেত
  4. ঘ) ঝরাপালক
ব্যাখ্যা
দৃষ্টি প্রদীপ (১৯৩৫),দেবযান (১৯৪৪), অশনি সংকেত (১৯৫৯) হলো বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত উপন্যাস৷ তার প্রথম রচিত উপন্যাস হলো পথের পাঁচালী (১৯২৯)।
ঝরাপালক (১৯২৮) হলো জীবনানন্দ দাশের রচিত কাব্যগ্রন্থ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৯,৯৪৭.
নিচের কোনটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস? 
  1. সাম্য 
  2. মন্দির 
  3. রজনী
  4. ইন্দিরা দেবী 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী'।।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৮৬৫।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৯,৯৪৮.
নিচের কোনটি ‌সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ‌ নয়?
  1. ক) মায়া কাজল
  2. খ) উদাত্ত পৃথিবী
  3. গ) অভিযাত্রিক
  4. ঘ) মতিজানের মেয়েরা
ব্যাখ্যা
মতিজানের মেয়েরা সেলিনা হোসেনের গল্পগ্রন্থ। আর বাকিগুলো সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ‌। সুফিয়া কামালের প্রথম কাব্যগ্রন্থ‌ সাঁঝের মায়া। 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি সুফিয়া কামালের সাঁঝের মায়া কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো- মায়া কাজল, মন ও জীবন, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মৃত্তিকার ঘ্রাণ, মোর জাদুদের সমাধি পরে। উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৯,৯৪৯.
মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন মঙ্গলকাব্য ধারার প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত?
  1. মনসামঙ্গল
  2. ধর্মমঙ্গল
  3. চণ্ডীমঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা

মুকুন্দরাম চক্রবর্তী: 
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন। তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও লাল নীল দীপাবলি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯,৯৫০.
কোন রচনার সঙ্গে বেগম রোকেয়ার সাহিত্যকর্মের সম্পর্ক নেই?
  1. সৌরজগৎ
  2. কেয়ার কাঁটা
  3. ডেলিসিয়া হত্যা
  4. নারী-সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২),  
- Sultana’s Dream  (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে।
- মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা। 
- কেয়ার কাঁটা সুফিয়া কামাল রচিত একটি উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ।
উৎস : বাংলা পিডিয়া। 
৯,৯৫১.
"এ দেশের লোক যারা, সকলেই তো গেছে মারা, আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" -কোন কবির লেখা?
  1. রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ
  2. কায়কোবাদ
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• "এ দেশের লোক যারা, সকলেই তো গেছে মারা, আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি।" - কবিতাংশটুকুর রচয়িতা: 'কায়কোবাদ'। 
- কবিতাংশটুকু কবির 'দেশের বাণী' কবিতার অংশবিশেষ।

দেশের বাণী – কবিতা, 
কায়কোবাদ। 
 
কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী?
দেশের লোক যারা,
সকলইতো গেছে মারা,
আছে শুধু কতগুলি শৃগাল শকুনি!
সে কথা ভাবিতে হায়
এ প্রাণ ফেটে যায়,
হৃদয় ছাপিয়ে উঠে – চোখ ভরা পানি।
কে আর বুঝিবে হায় এ দেশের বাণী!
এ দেশের লোক যত
বিলাস ব্যসনে রত
এ দেশের দুঃখ কিছু নাহি বুঝে তারা।
দেশ গেল ছারেখারে,
এ কথা বলিব কারে?
ভেবে ভেবে তবু মোর হয়ে গেছে সারা!
প্রাণভরা হাহাকার
চোখ ভরা অশ্রুধার,
এ হৃদি যে হয়ে গেছে মরুভূমি-পারা!
------------------
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৫২.
চর্যাপদের কবি ছিলেন কে?
  1. হরিরাম
  2. ময়ূরভট্ট
  3. জয়দেব
  4. মহীধর
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
চর্যাপদ বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আদি নিদর্শন। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে এর পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁরই সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা (১৯১৬) নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক প্রকাশিত হয়। তিনি পুথির সূচনায় একটি সংস্কৃত শ্লোক থেকে নামের যে ইঙ্গিত পান তাতে এটি চর্যাশ্চর্যবিনিশ্চয় নামেও পরিচিত হয়। তবে সংক্ষেপে এটি ‘বৌদ্ধগান ও দোহা’ বা ‘চর্যাপদ’ নামেই অভিহিত হয়ে থাকে।

চর্যাপদের কবিগণ:
চর্যার কবিদের সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে-
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম উল্লেখ আছে।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেণ্ডণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

অন্যদিকে, 
•'হরিরাম' চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'ময়ূরভট্ট' ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি। 
• 'জয়দেব' বৈষ্ণব পদাবলির কবি। 
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহবুবুল আলম।
৯,৯৫৩.
‘১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যা’র বর্ণনা রয়েছে আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত কোন উপন্যাসে?
  1. পদ্মা মেঘনা যমুনা
  2. দেয়াল
  3. জীবন
  4. সংকর সংকীর্তন
ব্যাখ্যা
• দেয়াল (উপন্যাস):
- আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘দেয়াল’।
- উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৬ সালে। 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন-এর ‘দেয়াল’ উপন্যাসটির সূচনা ঘটেছে পঁচিশে মার্চের ভয়াল কালরাত্রির নারকীয় গণহত্যার বর্ণনা দিয়ে।
- সারা জীবন পাকিস্তানি আদর্শের ধ্বজাধারী আবদুল্লাহর স্ত্রী ও কিশোরী কন্যার বলাৎকারের মাধ্যমে সে যে মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল তার উন্মোচন ও উদ্ভাসন হয়েছে এতে। 

অন্যদিকে,
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন রচিত ত্রয়ী উপন্যাস হলো ভাওয়ালগড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন। তিনটি উপন্যাসের যোগসূত্র একটি পরিবার।

================
⇒ আবু জাফর শামসুদ্দীন:
• আবু জাফর শামসুদ্দীন (১৯১১-১৯৮৮): সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
• উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে আবু জাফরের সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়।
•  তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো-
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- প্রপঞ্চ,
- পরিত্যক্ত স্বামী,
- দেয়াল।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, 
- ল্যাংড়ী। 

• প্রবন্ধ:
- চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য,
- Sociology of Bengal Politics, 
- সোচ্চার উচ্চারণ,
- লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।

• তাঁর অনুবাদগ্রন্থ:
- শিল্পীর সাধনা ও
- পার্ল বাকের সেরা গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; লাইভ এমসিকিউ লেকচার; বাংলাপিডিয়া এবং যুগান্তর পত্রিকা রিপোর্ট।
৯,৯৫৪.
প্রবোধচন্দ্রিকা” গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  2. মনোএল দা আস্‌সুম্পসাঁউ
  3. ন্যাথানিয়েল ব্র্যাসি হ্যালহেড
  4. উইলিয়াম কেরী
ব্যাখ্যা
• মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার:
- মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার ছিলেন উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট সংস্কৃত পণ্ডিত, ভাষাবিদ ও লেখক।
- তিনি তৎকালীন ওড়িষা প্রদেশের মেদিনীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- নাটোর রাজবাড়ির দরবারে লেখাপড়া করে তিনি একজন উচ্চমানের সংস্কৃত পণ্ডিতে পরিণত হন।
- বাংলা গদ্যের প্রাথমিক যুগে তিনি অন্যতম প্রধান লেখক হিসেবে বিবেচিত হন এবং উনিশ শতকের প্রথম শ্রেষ্ঠ বাংলা গদ্যকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
- উইলিয়াম কেরীর সুপারিশে ১৮০১ সালের ৪ মে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের হেড-পণ্ডিত নিযুক্ত হন।
- এছাড়াও তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির 'জজ-পণ্ডিত' - হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
- ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের লেখকদের মধ্যে মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার সর্বাধিক গ্রন্থের রচয়িতাহিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

• তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- বত্রিশ সিংহাসন,
- রাজাবলী,
- হিতোপদেশ,
- বেদান্তচন্দ্রিকা,
-  প্রবোধচন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৫৫.
শামসুর রাহমান রচিত গ্রন্থ নয়-
  1. নিজ বাসভূমে
  2. আর্ত শব্দাবলী
  3. দুঃসময়ের মুখোমুখি
  4. নিরালোকে দিব্যরথ
ব্যাখ্যা
হাসান হাফিজুর রহমানের কাব্যগ্রন্থ -আর্ত শব্দাবলী

শামসুর রাহমান:

- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈত্রিক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'।
- মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন।
- ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ’শ উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত ‘সোনার বাংলা’ পত্রিকায়।
- ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা’ তাঁর দুটি বিখ্যাত কবিতা।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- দুঃসময়ের মুখোমুখি,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৫৬.
বাংলা একাডেমিকে কী বলা হয়?
  1. জাতির বিকাশের প্রতীক 
  2. জাতির উৎকর্ষের প্রতীক 
  3. জাতির অগ্রগতির প্রতীক
  4. জাতির মননের প্রতীক
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি: 
- বাংলা একাডেমি বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। 
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- বাংলা একাডেমিকে 'জাতির মননের প্রতীক' বলা হয়।  
- বিভাগ ৪টি ও একটি গ্রন্থাগার। 

♠♠ বাংলা একাডেমির:  
• স্বপ্নদ্রষ্টা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।
• প্রথম পরিচালক: মুহম্মদ এনামুল হক। 
• প্রথম মহাপরিচালক: প্রফেসর মাযহারুল ইসলাম।
• প্রথম সভাপতি: মওলানা আকরম খাঁ।
• বর্তমান সভাপতি: সেলিনা হোসেন। 
• বর্তমান মহাপরিচালক: মুহম্মদ নূরুল হুদা।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯,৯৫৭.
কত সালে জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে আসেন?
  1. ক) ১৭৬০
  2. খ) ১৭৯১
  3. গ) ১৭৯৯
  4. ঘ) ১৮৩৭
ব্যাখ্যা

১৭৬০ সালের ২০ এপ্রিল জোশুয়া মার্শম্যান জন্মগ্রহণ করেন ওয়েস্টবেরিলি উইলট শায়ার লন্ডনে।
১৭৯১ সালে তিনি ধর্ম যাজকতায় দীক্ষা নেন।
১৭৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর মার্শম্যান মিশনারির কাজে  ভারতের শ্রীরামপুরে আসেন। যোগদান করেন উইলিয়াম কেরির সাথে।
১৮৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বরে জোশুয়া মার্শম্যান মৃত্যবরণ করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৯৫৮.
'বাঁধন হারা' কাজী নজরুল ইসলামের কোন ধরনের রচনা?
  1. ভ্রমণ কাহিনী
  2. উপন্যাস
  3. নাটক
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• ‘বাঁধন-হারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস। এতে মোট ১৮টি পত্র রয়েছে।
- কাজী নজরুল ইসলাম করাচীতে অবস্থানকালে ‘বাধন-হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন।
- এটি ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- উপন্যাসের নায়ক নুরুল হুদা।

• অন্যান্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে-
- রবিউল,
- রাবেয়া,
- সােফিয়া,
- মাহবুবা প্রমুখ।

-----------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
 
৯,৯৫৯.
'তিতাস একটি নদীর নাম' উপন্যাসে কোন জনগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) কৃষক
  2. খ) কামার
  3. গ) কুমোর
  4. ঘ) ধীবর
ব্যাখ্যা
অদ্বৈত মল্লবর্মণ রচিত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' (১৯৫৬)। 
- এই উপন্যাসে কুমিল্লা জেলার তিতাস নামক নদী তীরের ধীবর (জেলে ও মৎস্যজীবী) সমাজের রীতি-নীতি, ধর্ম সংস্কার ও জীবন যাপনের অনবদ্য কাহিনী তুলে দেয়া হয়েছে।
- এই উপন্যাস নিয়ে ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- সাদা হাওয়া ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৬০.
হুমায়ুন আজাদ রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  2. সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
  3. পাক সার জমিন সাদ বাদ
  4. আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
ব্যাখ্যা

• 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত উপন্যাস 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। উপন্যাসটি প্রথম বেরোয় দৈনিক ইত্তেফাক- এর ঈদ সংখ্যা ২০০৩-এ। বেরোনোর পর প্রগতিশীলেরা একে অভিনন্দিত করেন, আর মৌলবাদীরা মেতে ওঠে তার বিরুদ্ধে অক্রিমণে-উপন্যাসটিকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়। পুস্তকারে উপন্যাসটি পরিবর্ধিত হয়েছে।
- হুমায়ুন আজাদ এই উপন্যাসটি উৎসর্গ করেছিলেন '১৯৭১' সালকে; পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীতের নামানুসারে এই উপন্যাসে বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

উপন্যাসের পটভূমি-
১৯৬০-এর দশকে বাংলাদেশে ছিল পাকিস্তানের উপনিবেশ। তখন একটি উর্দুগানের নিরন্তর ঝালাপালা হতো আমাদের কান, যার প্রথম পংক্তি ছিলো 'পাক সার জমিন সাদ বাদ'। সামরিক শাসন আর উর্দু জাতীয় সঙ্গীতে বাঙলাদেশ ছিল পীড়িত। ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টি করি একটি স্বাধীন দেশ; বাংলাদেশ। কিন্তু প্রতিক্রিয়াশীল অন্ধকারের শক্তিরাশি আমাদের সামনের দিকে এগোতে দেয়নি, বরং নিয়ে চলছে মধ্যযুগের দিকে; বাংলাদেশকে করে তুলছে একটি অপপাকিস্তান। মৌলবাদ এখন দিকে দিকে হিংস্ররূপ নিয়ে দেখা দিচ্ছে; ত্রাসে ও সন্ত্রাসে দেশকে আতঙ্কিত করে তুলছে। তারই এক ভয়াবহ ও শিল্পিত চিত্র রচিত হয়েছে হুমায়ুন আজাদের পাক সার জমিন সাদ বাদ উপন্যাসে।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ-
উপন্যাসটির প্রধান নায়ক একটি কাল্পনিক ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সদস্য থাকে যে একটি হিন্দু মেয়ের প্রেমে পড়ে উপন্যাসটির শেষের দিকে তাকে বিয়ে করে এবং ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলটি ত্যাগ করে।

--------------------
• হুমায়ুন আজাদ:

- হুমায়ুন আজাদ একজন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক, ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি বিক্রমপুরের রাড়িখালে ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম কাব্য অলৌকিক ইস্টিমার।
- ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ জ্বলো চিতাবাঘ।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অলৌকিক ইস্টিমার (প্রথম কাব্যগ্রন্থ),
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- জ্বলো চিতাবাঘ,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত)
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 'পাক সার জমিন সাদ বাদ' উপন্যাস এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৬১.
আরাকান রাজসভার কবি নন কে?
  1. আলাওল
  2. কোরেশী মাগন ঠাকুর
  3. দৌলত কাজী
  4. মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
• আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য:
- মধ্যযুগে আরাকান রাজ সভায় বাংলা সাহিত্যচর্চা শুরু হয়।
- কোরেশী মাগন ঠাকুর আরাকান রাজসভার প্রধান উজির ছিলেন।
- তার পৃষ্ঠাপােষকতায় আরাকান বা রােসাঙ্গ রাজসভায় বাংলা সাহিত্য চর্চা শুরু হয়েছিল।
- তিনি আলাওলকে দুটি কাব্য ‘পদ্মাবতী’ ও ‘সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামান' লিখতে পৃষ্ঠপােষকতা দান করেছিলেন।
- আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি — দৌলত কাজী।

• আরাকান রাজসভার অন্যান্য কবিগণ:
- আলাওল,
- কোরেশী মাগন ঠাকুর,
- মরদন,
- আবদুল করীম খোন্দকার, 
- শমসের আলী ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তার প্রকৃত নাম - মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট এবং মহাকাব্য রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৬২.
'মহেন্দ্র এবং আশালতা' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত কোন উপন্যাসের চরিত্র?
  1. নৌকাডুবি
  2. শেষের কবিতা
  3. ঘরে-বাইরে
  4. চোখের বালি
ব্যাখ্যা
'চোখের বালি' উপন্যাস:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ''চোখের বালি'' বাংলা সাহিত্যের প্রথম মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস।
- তিনি এই উপন্যাস রচনার মাধ্যমে বাংলা উপন্যাসকে নতুন খাতে প্রবাহিত করেন।
- এই উপন্যাসেই লেখক প্রথম সমসাময়িক সমাজের পাত্রপাত্রী ব্যবহার করেন।
- রবীন্দ্রনাথ এই উপন্যাসেই প্রথম কাহিনির ভার পরিহার করে ব্যক্তিত্বের ফলস্বরূপ নানা সংকটকে উপন্যাসের বিষয় হিসাবে ব্যবহার করেন।
- উপন্যাসটি ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রধান চরিত্র:
- বিনোদিনী, মহেন্দ্র, আশালতা, বিহারী, রাজলক্ষী প্রমুখ।
- বিনোদিনী ছিলেন বিধবা এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষা, প্রেম, দুঃখ ইত্যাদি এই উপন্যাসের কাহিনিকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- উপন্যাসে আশালতা ছিলেন মহেন্দ্র’র স্ত্রী ও পতিব্রতা। কিন্তু মহেন্দ্র তার স্ত্রীর ভালোবাসা উপেক্ষা করে এবং বিধবা বিনোদিনীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৬৩.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যাযাবর'?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর

অন্যদিকে,
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।
- 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৯৬৪.
চন্দ্রাবতী প্রণীত পালা কোনটি?
  1. মলুয়া
  2. কমলা
  3. বিদ্যাসুন্দর
  4. মহুয়া
ব্যাখ্যা
⇒ ‘মলুয়া’ পালা:
- মলুয়া পালাটির রচয়িতা কে তা সঠিকভাবে জানা যায় না।
- তবে এর সূচনাতে মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর একটি বন্দনা আছে। তাতে অনেকে মনে করেন যে, পালাটির রচয়িতা চন্দ্রাবতী।
 
⇒ চন্দ্রাবতী:
- চন্দ্রাবতী হলেন মধ্যযুগের তিনজন প্রধান মহিলাকবির একজন।
- তার পিতা মনসামঙ্গলের কবি দ্বিজ বংশীদাস।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একমাত্র মহিলা কবি হিসেবে রামায়ণ রচনা করেন 'চন্দ্রাবতী'।
- চন্দ্রাবতীকে মহিলা রামায়ণকার বলা হয়৷
- দীনেশচন্দ্র সেনের মতে কবি চন্দ্রাবতী ১৫৫০ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- মৈমনসিংহ-গীতিকার ‘জয়-চন্দ্রাবতী’ উপাখ্যানের নায়িকারূপে তিনি অমর হয়ে আছেন। 

চন্দ্রাবতী রচিত কাব্য: 
- রামায়ণ
- মলুয়া
- দস্যু কেনারামের পালা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে,
• ‘কমলা’ পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
• 'মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
• ‘বিদ্যাসুন্দর’ কবি কঙ্ক প্রণীত পালা।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৬৫.
পৌরাণিক ধারার মঙ্গলকাব্য কোনটি?
  1. ধর্মমঙ্গল
  2. অন্নদামঙ্গল
  3. সারদামঙ্গল
  4. শিবমঙ্গল
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বিষয়বস্তু অনুসারে মঙ্গলকাব্যকে দুটি ধারায় বিভক্ত করা হয়।
যথা:
১. খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা,
২. বিশুদ্ধ পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা।

• খাঁটি বা লৌকিক মঙ্গলকাব্যের ধারা:
এটি লোকায়ত ধারা বা খাঁটি মঙ্গলকাব্যের ধারা। ধারার কাব্যগুলো হলো: মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, কালিকামঙ্গল (বিদ্যাসুন্দর) ও ধর্মমঙ্গল। অপ্রধান শ্রেণি হিসেবে: সারদামঙ্গল, শিবমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, রায়মঙ্গল, ষষ্ঠীমঙ্গল, সূর্যমঙ্গল।

• পৌরাণিক শ্রেণি বা ধারা:
এটি বিশুদ্ধ পুরাণকেন্দ্রিক। এ ধারার কাব্যগুলো হলো: অন্নদামঙ্গল, গৌরীমঙ্গল, ভবানীমঙ্গল, দুর্গামঙ্গল, কমলামঙ্গল, গঙ্গামঙ্গল, চণ্ডিকামঙ্গল ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৯৬৬.
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ-আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি কাকে বলা হয়?
  1. ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরকেকে
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে
  4. মধূসূদন দত্তকে
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি সমাজের অবিচার, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অত্যাচার ও অন্যায়কর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন। 
- ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যেসব পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন—
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ন। 
-------------------------------- 
• মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি:
- বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের সন্ধিক্ষণের কবি হিসেবে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিশেষভাবে পরিচিত।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁকে ‘খাঁটি বাঙালি কবি’ বলে অভিহিত করেছেন।
- ১৮০১–১৮৬১- এই মধ্যবর্তী প্রায় ষাট বছর ছিল রূপান্তরের কাল। 
- এই সময় আধুনিকতার দিকে কেবল অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা চলেছে।
- এই সময়েই ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক আবির্ভাব ঘটে। 

- মধ্যযুগের শেষ প্রতিনিধি ভারতচন্দ্র রায় এবং আধুনিক যুগের প্রথম পুরুষ মাইকেল মধুসূদন দত্ত—এই দুই যুগান্তকারী ব্যক্তিত্বের মধ্যবর্তী সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অবস্থান।
- তাঁর কাব্যে মধ্যযুগের বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক যুগের সূচনালক্ষণ একসঙ্গে বিদ্যমান থাকায় তাঁকে যথার্থভাবেই যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।
- তাঁর রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৯,৯৬৭.
'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'- উক্তিটি কোন গ্রন্থে কোন চরিত্রের কণ্ঠে উধৃত হয়েছে?
  1. কুহেলিকা- জাহাঙ্গীর 
  2. রক্তকরবী- রঞ্জন
  3. নূরলদীনের সারাজীবন- নুরলদীন
  4. কবর- মুর্দা ফকির
ব্যাখ্যা

• 'নূরলদীনের সারাজীবন' কাব্যনাট্য:
- সৈয়দ শামসুল হক রচিত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারা জীবন।
- রংপুরের কৃষক বিদ্রোহের নেতা নুরুলদীনের সামন্তবাদ বিরোধী সংগ্রাম অবলম্বনে রচিত নাটক- নূরলদীনের সারাজীবন (১৯৮২)।
- ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক নুরুলদীনের অবিস্মরণীয় আহবান- 'জাগো বাহে, কোনঠে সবাই'।
- ১৪টি দৃশ্যে কাব্যনাটকটি রচিত।

------------------
সৈয়দ শামসুল হক রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- এক মহিলার ছবি,
- অনুমপ দিন,
- সীমানা ছাড়িয়ে,
- নীল দংশন (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- দ্বিতীয় দিনের কাহিনী,
- আয়না বিবির পালা,
- স্তব্ধতার অনুবাদ।

তাঁর রচিত কাব্যনাট্য:
- পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক),
- এখানে এখন।
- নূরলদীনের সারাজীবন (কৃষক-বিদ্রোহ),

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৬৮.
মৈমনসিংহ গীতিকায় কয়টি গীতিকা স্থান পেয়েছে
  1. ১০টি 
  2. ১১টি 
  3. ১২টি 
  4. ২৩টি 
ব্যাখ্যা

• মৈমনসিংহ গীতিকা:
- এটি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীনেশচন্দ্র সেনের আগ্রহে এগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে।
- এ পালাগানগুলো সংগ্রহ ও সম্পাদনা করে মৈমনসিংহ গীতিকা ১৯২৩ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করেন দীনেশচন্দ্র সেন। গ্রন্থটি বিষয়মাহাত্ম্য ও শিল্পগুণে শিক্ষিত মানুষেরও মন জয় করে।
- মৈমনসিংহ গীতিকা বিশ্বের ২৩টি ভাষায় মুদ্রিত হয়। মৈমনসিংহ গীতিকায় ১০টি গীতিকা স্থান পেয়েছে।

যথা:
- মহুয়া,
- মলুয়া,
- চন্দ্রাবতী,
- কমলা,
- দেওয়ান ভাবনা,
- দস্যু কেনারামের পালা,
- রূপবতী,
- কঙ্ক ও লীলা,
- কাজলরেখা ও
- দেওয়ানা মদিনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৬৯.
কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কত বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন?
  1. ১৮ বছর
  2. ২০ বছর
  3. ২১ বছর
  4. ২৪ বছর
ব্যাখ্যা

•  সুকান্ত ভট্টাচার্য মাত্র ২১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
---------------------------------------
• সুকান্ত ভট্টাচার্য:
- সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি।
- সুকান্ত ভট্টাচার্য ১৯২৬ সালের ১৫ই আগস্ট কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তার মামার বাড়িতে, যা কলকাতার কালীঘাট এলাকায় অবস্থিত।
- তাঁর আদি নিবাস বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়।
- তাঁর পিতার নাম নিবারণ ভট্টাচার্য এবং মাতার নাম সুনীতি দেবী।
- তিনি কিশোর কবি, মাকর্সবাদী কবি এবং মানবতার কবি হিসেবে পরিচিত।
- তাঁর কাব্যে পৃথিবীর মানুষের, শোষিত মানুষের জীবন-যন্ত্রণা, বিক্ষোভ ও বিদ্রোহের কথা উচ্চারিত হয়েছে।
- নজরুলের পরে সুকান্তের কবিতায় সবচেয়ে বেশি বিদ্রোহের বাণী লক্ষ্য করা যায়।
- কারণ তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসহ সমাজের নানা অনিয়ম ও দাঙ্গার বিরুদ্ধে সব সময় কলমের মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।
- নিপীড়িত মানুষের মুক্তির জন্য তার লেখনীগুলো বাঙালি পাঠক সমাজকে চিরকাল স্মরণ করাবে।
- ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো:
- পূর্বাভাস,
- ঘুম নেই,
- ছাড়পত্র,
- অভিযান।

• সুকান্ত ভট্টাচার্য রচিত বিখ্যাত কবিতা: 
- ‘আঠারো বছর বয়স’,
- ‘বোধন’,
- ‘মজুরদের ঝড়’,
- ‘ঠিকানা’,
- ‘কলম’।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৭০.
কোনটি 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্য?
  1. ইউসুফ-জোলেখা
  2. গুলে বকাওলী
  3. মধুমালতী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
‘রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' ধারার সাহিত্য:
- অনুবাদ সাহিত্য মধ্যযুগের একটি সাহিত্য ধারা। মুসলমান সাহিত্যিকদের অনুবাদকৃত সাহিত্যের নাম 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান'।
- 'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' মূলত মুসলিম চরিত্রনির্ভর ও প্রণয় সংক্রান্ত বিষয়বস্তু নিয়ে লিখিত সাহিত্যকর্ম।
- এই ধারার কয়েকজন কবি হচ্ছেন- শাহ মুহম্মদ সগীর, সৈয়দ সুলতান, দৌতল কাজী, আবদুল হাকিম, আলাওল, কোরেশী মাগন ঠাকুর প্রমুখ।

'রোম্যান্টিক প্রণয়োপাখ্যান' অনুবাদ সাহিত্যসমূহ হলো:
- ইউসুফ-জোলেখা,
- লায়লী মজনু,
- মধুমালতী,
- গুলে বকাওলী,
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী,
- চন্দ্রাবতী,
- পদ্মাবতী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৭১.
নিম্নলিখিত চরিত্রগুলোর মধ্যে ‘কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাসের অন্তর্গত চরিত্র নয় কোনটি?
  1. রাজলক্ষ্মী
  2. কাপালিক
  3. কপালকুণ্ডলা
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা
'কপালকুণ্ডলা’ উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা (১৮৬৬) বঙ্কিমচন্দ্রের দ্বিতীয় উপন্যাস।
- এতে নিগূঢ় ভাবসঙ্গতির জন্য 'রোমান্স' বলা যায়। অরণ্যে এক কাপালিক-পালিতা নারী কপালকুণ্ডলাকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে। সামাজিক সংস্কারের সঙ্গে অপরিচিতা এই নারীর নবকুমারের সঙ্গে বিয়ে এবং কপালকুণ্ডলার সমাজবন্ধনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এই কাহিনির মূল ঘটনা। কুপালকুণ্ডলার মধ্যে যে রহস্য সেই রহস্য উদ্ঘাটনই উপন্যাসের প্রধান বিষয়।
- কাহিনিতে একদিকে আছে সম্রাট জাহাঙ্গিরের সময়কার আগ্রার নগর ও স্থাপত্য এবং অন্যদিকে অরণ্য ও সমুদ্র। প্রকৃতির সৌন্দর্য ও রহস্যময়তা, কপালকুণ্ডলার চরিত্র, কাহিনির ট্র্যাজিক পরিণতি এই তিনটি কারণে উপন্যাসটি বঙ্কিমচন্দ্রের অন্যতম স্মরণীয় রচনা।
- বঙ্কিমের জীবৎকালেই এই উপন্যাসের আটটি সংস্করণ হয়। অনেকের মতে এটি বঙ্কিমের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস।

• উপন্যাসের উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- কুপালকুণ্ডলা,
- নবকুমার,
- কাপালিক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটির চরিত্র - রাজলক্ষ্মী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৭২.
‘ঘুম থেকে জেগে বৈশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম’- এই লাইনটির লেখক বা কবি কে?
  1. বেগম সুফিয়া কামাল
  2. সুফিয়া আহম্মদ
  3. আহসান হাবীব
  4. সানাউল হক
ব্যাখ্যা
- 'ঘুম থেকে জেগে বোইশাখী ঝড়ে কুড়ায়েছি ঝরা আম' পঙ্‌ক্তিটির রচয়িতা - সুফিয়া কামাল।
- লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের 'পল্লী স্মৃতি' নামক কবিতা থেকে নেয়া হয়েছে।

সুফিয়া কামাল: 
- জননী সাহসিকা হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল ছিলেন মূলত কবি।
- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন তিনি।

তার রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,  
- একাত্তরের ডায়েরী। 

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) পল্লী স্মৃতি কবিতা – বেগম সুফিয়া কামাল। 
৯,৯৭৩.
'বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) জামিল চৌধুরী
  2. খ) সেলিনা হোসেন
  3. গ) আহমদ শরীফ
  4. ঘ) মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা
 • আহমদ শরীফ:
- আহমদ শরীফ একজন শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদ, লেখক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গবেষক।
- তিনি ১৯২১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলায় পটিয়া উপজেলায় সুচক্রদণ্ডী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা একাডেমি সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান এর সম্পাদক আহমদ শরীফ।

• আহমদ শরীফ রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- বিশ শতকের বাঙালি,(১৯৯৮)
- বিচিত্র চিন্তা,(১৯৮৬)
- ষ্বদেশ অন্বেষা,(১৯৭০)
- স্বদেশ চিন্তা,(১৯৯৭)
- সাহিত্য সংস্কৃতি চিন্তা(১৯৬৯) ইত্যাদি।

• অন্যদিকে: 
- বাংলা একাডেমি বাংলা বানান অভিধানের সম্পাদক হলেন জামিল চৌধুরী।
- বাংলা একাডেমি বাংলা সাহিত্যকোষের সম্পাদক সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম।
- বাংলা একাডেমি আঞ্চলিক ভাষার অভিধানের সম্পাদক হলে মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌ ও অন্যান্য।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৭৪.
প্রথম কোথায় থেকে চর্যাপদ প্রকাশিত হয়?
  1. নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে
  2. কলকাতা শ্রীরামপুর মিশন থেকে
  3. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
  4. ঢাকা বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদ:
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
- ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দে  মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পুথি আবিষ্কার করেন।
 
- ১৯১৬ সালে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে চর্যাপদ আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয়। 
- মহামহোপাধ্যায়  হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায় পুথিখানি হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা নামে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
- চর্যাপদের চর্যাগুলো রচনা করেন বৌদ্ধ সহজিয়াগণ।
- চর্যাপদে বৌদ্ধধর্মের কথা বলা হয়েছে।
- সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।
- সুকুমার সেন মনে করেন যে, চর্যাপদের পদসংখ্যা - ৫১টি; তবে তিনি তার 'চর্যাগীতি পদাবলী' গ্রন্থে ৫০টি পদের উল্লেখ করেছেন। আলোচনা অংশে তার বক্তব্য মুনিদত্ত ৫০টি ব্যাখ্যা করেছিলেন।
- আবার ড. শহীদুল্লাহ চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি বলে মনে করেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৭৫.
‘বিচিত্র নাগে করে দেবী গরায় সুতলি।
শ্বেত নাগে করে দেবী বুকের কাঁচলী।।
অনন্ত নারায়ণে পদ্মার মাথার মণি
বেত নাগে করে দেবী কাকালি কাছুনি।।- কোন কবির রচনা?
  1. ক) বিজয় গুপ্ত
  2. খ) কানা হরি দত্ত
  3. গ) বিপ্রদাস পিপিলাই
  4. ঘ) দ্বিজ বংশীদাস
ব্যাখ্যা

কবিতাটি মনসামঙ্গলের আদি কবি কানা হরি দত্তের রচনা।
কানা হরি দত্ত পূর্ববঙ্গের অধিবাসী ছিলেন। চৌদ্দ শতকের প্রথম দিকে তাঁর আবির্ভাব ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়। কবি হরি দত্ত রচিত দেবীর সর্পসজ্জার বর্ণনায় প্রকৃত কবিত্ব ও পাণ্ডিত্যের পরিচয় মেলে।

উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম।

৯,৯৭৬.
কবি সুফিয়া কামালের কাব্যগ্রন্থ্য কোনটি?
  1. ক) রাখাল ছেলে
  2. খ) সূর্য প্রণাম
  3. গ) মায়া কাজল
  4. ঘ) সুলতানার স্বপ্ন
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালীন সুফিয়া কামালের ডায়েরি - একাত্তরের ডায়রী। তার রচিত গল্পগ্রন্থ - কেয়ার কাঁটা। কবিতা গ্রন্থঃ সাঁঝের মায়া, মন ও জীবন, উদাত্ত পৃথিবী, অভিযাত্রিক, মোর যাদুদের সমাধি পরে, মায়া কাজল ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।

৯,৯৭৭.
নিচের কোনটি ‘মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয়?
  1. কুন্দনন্দিনী
  2. হেমচন্দ্র
  3. পশুপতি
  4. মনোরমা
ব্যাখ্যা
কুন্দনন্দিনী মৃণালিনী’ উপন্যাসের চরিত্র নয় এটি বিষবৃক্ষ উপন্যাসের চরিত্র।

‘মৃণালিনী' উপন্যাস:

- ‘মৃণালিনী' (১৮৬৯) ত্রয়োদশ শতাব্দীর বাংলাদেশ ও তুর্কি আক্রমণ এর ঐতিহাসিক পটভূমিতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস
- মগধের রাজপুত্র হেমচন্দ্রের সঙ্গে মৃণালিনীর প্রণয় এবং দেশরক্ষার জন্য হেমচন্দ্রের সংকল্প ও ব্যর্থতার সঙ্গে এক রহস্যময়ী নারী মনোরমার কাহিনি এ উপন্যাসের মূল কথাবস্তু।
- বঙ্কিমের দেশাত্মবোধ এবং ইতিহাস জিজ্ঞাসার প্রথম প্রকাশ পাওয়া যায় এই উপন্যাসে।
- ঐতিহাসিক ঘটনার অন্তরালে হেমচন্দ্র-মৃণালিনী এবং পশুপতি-মনোরমার প্রেমকাহিনি এই উপন্যাসে প্রধান হয়ে উঠেছে।
- ইতিহাসের উপাদান নিয়ে এখানে জীবনকে মুখ্য করা হয়েছে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার নৈহাটির কাছাকাছি কাঁঠালপাড়া গ্রামে ১৮৩৮ সালের ২৬ জুন জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।
-  ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করেন।
-  তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম গ্রাজুয়েট। 
-  কর্মজীবনে তিনি প্রথম ভারতীয় ও বাঙালি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
উপন্যাস: 
- দুর্গেশনন্দিনী, 
- কপালকুন্ডলা,
- মৃণালিনী, 
- বিষবৃক্ষ, 
- কৃষ্ণকান্তের উইল,  
- আনন্দমঠ, 
- রাজসিংহ। 

রম্যরচনা: 
- কমলাকান্তের দপ্তর। 

প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য, 
- বিজ্ঞানরহস্য, 
- বিবিধ প্রবন্ধ ,
- কৃষ্ণচরিত্র।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৭৮.
'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে কোন গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়?
  1. নারীর মূল্য
  2. তরুণের বিদ্রোহ
  3. স্বদেশ ও সাহিত্য
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

'নারীর মূল্য' প্রবন্ধগ্রন্থ:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'নারীর মূল্য' নামক প্রবন্ধগ্রন্থটি রচনা করেছেন।
- এটি 'অনীলা দেবী' ছদ্মনামে ১৯২৩ সালে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এটি নারীর সামাজিক অধিকার এবং সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তরুণের বিদ্রোহ,
- স্বদেশ ও সাহিত্য।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের একজন অমর কথাশিল্পী।
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় পল্লীর জীবন ও সমাজ। ব্যক্তিমানুষের মন পল্লীর সংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতার আঘাতে কতটা রক্তাক্ত হতে পারে, তারই রূপচিত্র এঁকেছেন তিনি তাঁর রচনায়। 
- তবে তাঁর উপন্যাসে ব্যক্তিবর্গের ইচ্ছাভিসার ও মুক্তি সর্বদাই সমাজ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় বলে তাঁকে রক্ষণশীলও বলা হয়ে থাকে। 
- তবে নারীর প্রতি সামাজিক নির্যাতন ও তার সংস্কারবন্দি জীবনের রূপায়ণে তিনি বিপ্লবী লেখক, বিশেষত গ্রামের অবহেলিত ও বঞ্চিত বাঙালি নারীর প্রতি তাঁর গভীর মমত্ববোধ ও শ্রদ্ধা তুলনাহীন। 
- সামাজিক বৈষম্য, কুসংস্কার ও শাস্ত্রীয় অনাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।
- বার্মায় বসবাসকালে তাঁর অঙ্কিত ‘মহাশ্বেতা’ অয়েল পেইন্টিং একটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৭৯.
রাবণ ও রাম কোন মহাকাব্যের অন্তর্ভুক্ত চরিত্র?
  1. মহাশ্মশান
  2. বৃত্রসংহার
  3. ব্রজাঙ্গনা
  4. মেঘনাদবধ
ব্যাখ্যা
⇒ মেঘনাদবধ কাব্য:
- মধুসূদনের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ 'মেঘনাদবধ কাব্য' বাংলা সাহিত্যের প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্তের অমর মহাকাব্য 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
- সংস্কৃত মহাকাব্য 'রামায়ণ' এর ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ কাহিনী অবলম্বন করে মধুসূদন দত্ত ১৮৬১ সালের জুন মাসে 'মেঘনাদবধ কাব্য' রচনা করেন। 
- ১৮৫৭ সালের সংঘটিত সিপাহি বিপ্লবের স্বাধীনতামন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাবণকে নায়ক এবং রামকে খলনায়ক করে মধুসূদন দত্ত এটি রচনা করেন।
- নয় সর্গে রচিত মেঘনাদবধ কাব্যে মোট তিন দিন দুই রাতের ঘটনা বর্ণিত আছে। 
- কাব্যের কয়েকটি প্রধান চরিত্র: রাবণ, মেঘনাদ, লক্ষ্মণ, রাম, প্রমীলা, বিভীষণ, সীতা, সরমা ইত্যাদি। 
- কাব্যের সর্গগুলো হলো: অভিষেক, অস্ত্রলাভ, সমাগম, অশোক বন, উদ্যোগ, বধ, শক্তিনির্ভেদ, প্রেতপুরী, সংস্ক্রিয়া।

================
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের স্রষ্টা- মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব'। কাব্যটি প্রকাশিত হয় ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তবে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ ঘটান তার রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে৷
- তাছাড়া বাংলা ভাষায় প্রথম চতুর্দশপদী কবিতা রচনা করেন তিনি।
- তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি বলা হয়ে থাকে।

• তাঁর রচিত কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব,
- মেঘনাদবধ, 
- ব্রজাঙ্গনা, 
- বীরাঙ্গনা,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

অন্যদিকে,
• মহাকবি কায়কোবাদের মহাকাব্য- মহাশ্মশান।
• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত মহাকাব্য- বৃত্রসংহার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯,৯৮০.
ভিখু ও পাচি কোন গল্পের চরিত্র?
  1. ক) সরীসৃপ
  2. খ) চোর
  3. গ) প্রাগৈতিহাসিক
  4. ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত গল্প প্রাগৈতিহাসিক গল্পটি প্রাগৈতিহাসিক গল্পগ্রন্থের নাম গল্প।
- এখানে ভিক্ষুক ভিখু ও পাচির চরিত্রের মধ্য দিয়ে মানুষের আদিম প্রবৃত্তিকে তুলে ধরা হয়েছে।
৯,৯৮১.
'বিদ্রোহ' উপন্যাসের রচয়িতা কে?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
তিনি জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
স্বর্ণকুমারী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- দীপ নির্বাণ 
- মেবার রাজ
- মালতি 
- বিদ্রোহ 
- বিচিত্রা 
- স্বপ্নবাণী 
- মিলনরাত্র্রী 

তাঁর রচিত নাটক: 
- বসন্ত উৎসব 
- বিবাহ উৎসব 
- দেব কৌতুক 

তাঁর রচিত কাব্য: 
- গাথা 
- কবিতা ও গান 

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর]
৯,৯৮২.
'বনস্পতি' গল্পের রচয়িতা-
  1. ক) সমর সেন
  2. খ) শহীদ কাদরী
  3. গ) সত্যেন সেন
  4. ঘ) সোমেন চন্দ
ব্যাখ্যা

- সোমেন চন্দ নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার বালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।
- তাঁর রচিত গল্প- ইঁদুর, দাঙ্গা, সংকেত, স্বপ্ন, বনস্পতি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৮৩.
‘ফুড কনফারেন্স` আবুল মনসুর আহমেদ কোন ধরনের গ্রন্থ ? 
  1. ক) স্মৃতিকথা
  2. খ) ব্যঙ্গরচনা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ভ্রমনকাহিনী 
ব্যাখ্যা
• আবুল মনসুর আহমেদ (৩ সেপ্টেম্বর ১৮৯৮ – ১৮ মার্চ ১৯৭৯) একজন বাংলাদেশী সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিক।
• তিনি ছিলেন একাধারে রাজনীতিবিদ, আইনজ্ঞ ও সাংবাদিক এবং বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্রূপাত্মক রচয়িতা। 

⇒ ব্যঙ্গরচনা
আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭)
ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)
গালিভারের সফরনামা
স্মৃতিকথা
আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী)
আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯)
শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২)

⇒ অন্যান্য রচনা 
জীবনক্ষুধা (১৯৫৫)
আবে হায়াত (১৯৬৮)
হুযুর কেবলা (১৯৩৫)
বাংলাদেশের কালচার (১৯৬৬)
আসমানী পর্দা (১৯৬৪)


উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৮৪.
‘বাংলার কাব্য বাংলার ভাষা
মিটায় আমার প্রাণের পিপাসা।’- পঙ্‌ক্তিদ্বয়ের রচয়িতা কে?
  1. অতুল প্রসাদ সেন
  2. আলাওল
  3. আবদুল হাকিম
  4. কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা
পঙ্‌ক্তিগুলো কায়কোবাদ রচিত ‘বাংলা আমার’ কবিতার অন্তর্ভুক্ত।
- কায়কোবাদের প্রকৃত নাম ⎯ কাজেম আল কোরেশী। তাই এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর ⎯ ঘ) কাজেম আল কোরেশী।

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশীকায়কোবাদ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ- বিরহ বিলাপ (১৮৭০)। মাত্র তের বছর বয়সে তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়।
 
• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- মহাশ্মশান (মহাকাব্য),
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ ইত্যাদি।
-----------------------

'বাংলা আমার' কবিতার কিছু অংশ -

বাংলার গল্প বাংলার গীত
শুনিলে এ চিত্ত সদা বিমোহিত
সুখ দুঃখ সব নিরালা বসিয়া
বলি বাঙালির কাছে।
 
বাংলার কাব্য বাংলার ভাষা
মিটায় আমার প্রাণের পিপাসা
সে দেশ আমার নয় গো আপন
যে দেশে বাঙালি নাই।

 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৮৫.
'জয়নন্দী' কোন সাহিত্যকর্মের সাথে জড়িত?
  1. চর্যাপদ
  2. জীবনী সাহিত্য
  3. সেক শুভোদয়া
  4. বৈঞ্চব পদাবলী
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি: 
- চর্যাচর্যবিনিশ্চয়ের মোট চব্বিশ জন পদকর্তার পরিচয় পাওয়া যায়।
- তবে কারও কারও গুরুর ভণিতা আছে।
- নামের শেষে গৌরবসূচক ‘পা’ যোগ করা হয়েছে।
- জয়নন্দী ৪৬ নম্বর পদের রচয়িতা। 

• চর্যার চব্বিশ জন পদকর্তা হলেন:
- লুই, কুক্কুরী, বিরুআ, গুণ্ডরী, চাটিল, ভুসুকু, কাহ্ন, কামলি, ডোম্বী, শান্তি, মহিত্তা, বীণা, সরহ, সবর, আর্জদেব, ঢেণ্ঢণ, দারিক, ভাদে, তাড়ক, কঙ্কণ, জয়নন্দী, ধাম, তন্ত্রী ও লাড়ীডোম্বী লাড়ীডোম্বীপার কোন পদ পাওয়া যায় নি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক।
৯,৯৮৬.
'পদ্মাবতী' কোন গ্রন্থ অবলম্বনে রচিত?
  1. পদুমাবৎ
  2. সিকান্দারনামা
  3. তোহফা
  4. রাগতালনামা
ব্যাখ্যা
আলাওল:
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।
- কাব্যিক আবেগের সঙ্গে বৌদ্ধিক চেতনার মিশ্রণ থাকায় আলাওলকে ‘পন্ডিতকবি’ বলা হয়।
- এখন পর্যন্ত আলাওলের ৭ টি কাব্যের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- কবি মালিক মুহম্মদ জায়সির হিন্দিকাব্য 'পদুমাবৎ' অবলম্বনে আলাওল 'পদ্মাবতী' গ্রন্থটি অনুবাদ করেন।

পদ্মাবতী:
- এটি একটি ইতিহাসমিশ্রিত রোমান্টিক প্রেমকাব্য।
- পদ্মাবতী আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা।
- নাগরিক শিক্ষা, বৈদগ্ধ্য রূপ ও অভিপ্রায় তাঁর এ কাব্যের ভাব-ভাষা-রুচিতে প্রভাব বিস্তার করেছে।
- ‘তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে’ পঙক্তিটি আলাওল রচিত 'পদ্মাবতী' কাব্যে রূপ বর্ণনা খন্ডে লেখা আছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৮৭.
বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনী কোন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র?
  1. বিষবৃক্ষ
  2. কৃষ্ণকান্তের উইল
  3. যোগাযোগ
  4. চরিত্রহীন
ব্যাখ্যা
• 'বিষবৃক্ষ' উপন্যাস:
- 'বিষবৃক্ষ' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি সামাজিক উপন্যাস।
- এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। 
- চরিত্র: কুন্দনন্দিনী, নগেন্দ্রনাথ।
- উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। 
- এতে বিধবা বিবাহ,পুরুষের একাধিক বিবাহ,নারীর আত্মসম্মান ও অধিকারবোধ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
- বাল্যবিধবা কুন্দনন্দিনী এ উপন্যাসের অন্যতম প্রধান চরিত্র।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাস এবং চরিত্র সমূহ:
- কৃষ্ণকান্তের উইল উপন্যাসের চরিত্র: রোহিনী, গোবিন্দলাল, ভ্রমর। 
- দুর্গেশনন্দিনী - চরিত্র- আয়েশা, তিলোত্তমা। 
- কপালকুণ্ডলা - চরিত্র- কপালকুণ্ডলা, নবকুমার, কাপালিক। 
- মৃণালিনী - চরিত্র- হেমচন্দ্র, মৃনালিনী, পশুপতি, মনোরমা।
- বিষবৃক্ষ - চরিত্র- কুন্দনন্দিনী,নগেন্দ্রনাথ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৮৮.
কামিনী রায় রচিত সনেট সংকলন কোনটি?
  1. গুঞ্জন
  2. জীবনপথে
  3. অম্বা
  4. আলো ও ছায়া
ব্যাখ্যা

• 'জীবনপথে' কামিনী রায় রচিত একটি সনেট সংগ্রহ।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে।

------------------
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ছিলেন কবি ও সমাজকর্মী। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।
- ১৯৩৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- বালিকা শিক্ষার আদর্শ,
- ঠাকুরমার চিঠি,
- দীপ ও ধূপ,
- জীবনপথে (সনেট)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৮৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. মেঘনাদবধ কাব্য
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. ব্রজাঙ্গনা কাব্য
  4.  বীরাঙ্গনা কাব্য
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য।

• তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য:

- মাইকেল মধুসূদন দত্তের চার সর্গে রচিত কাব্য। 
- ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে রচিত ও সে বছরই মে মাসে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। 
- মহাভারতের  সুন্দ ও উপসুন্দ কাহিনিকে অবলম্বন করে রচিত।
- সৌন্দর্য প্রতিমা তিলোত্তমাকে নিয়ে সুন্দ-উপসুন্দের দ্বন্দ্ব এই কাব্যের উপজীব্য। 
- বাংলা ভাষায় অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ হলো 'তিলোত্তমাসম্ভব' কাব্য। অবশ্য কবি তাঁর 'পদ্মাবতী' (১৯৬০) নাটকের দ্বিতীয় অঙ্ক, দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু সম্পূর্ণ গ্রন্থ হিসেবে তিলোত্তমাসম্ভব কাব্যই প্রথম ।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৯০.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কবিতা নয় কোনটি?
  1. বাদল প্রাতের শরাব
  2. মেহের নেগার
  3. মোহররম
  4. বোধন
ব্যাখ্যা

• 'মেহের নেগার':
- 'মেহের-নেগার' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্প।
- গল্পটি তাঁর 'রিক্তের বেদন' গল্পগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত।

গল্পের কাহিনি সংক্ষেপ-
গায়ক হওয়ার বাসনায় ওয়াজিরিস্তানের বিখ্যাত ওস্তাদের কাছে তালিম নিতে আসা এক তরুণের সাথে দেখা হয় প্রসিদ্ধ বাঈজি খুরশীদ জানের কন্যা গুলশানের, ভিন্ন গোত্রের হৃদয় দুটির পবিত্র ভালোবাসায় জন্ম হয় অমর এক প্রেমগাথার।

----------------------
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য রচনা:
করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা, প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯) এবং অন্যান্য রচনা: গল্প- ‘হেনা’, ‘ব্যথার দান’, ‘মেহের নেগার’, ‘ঘুমের ঘোরে’; কবিতা- ‘আশায়’, ‘কবিতা সমাধি’ প্রভৃতি।

• প্রথম মহাযুদ্ধ শেষে ১৯২০ সালের মার্চ মাসে কবি নজরুল দেশে ফিরে কলকাতায় সাহিত্যিক-সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। কলকাতায় তাঁর প্রথম আশ্রয় ছিল ৩২নং কলেজ স্ট্রীটে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি-র অফিসে সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্ফর আহমদের সঙ্গে। শুরুতেই  মোসলেম ভারত, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, উপাসনা  প্রভৃতি পত্রিকায় তাঁর সদ্যোরচিত বাঁধন-হারা উপন্যাস এবং ‘বোধন’, ‘শাত-ইল-আরব’, ‘বাদল প্রাতের শরাব’, ‘আগমনী’, ‘খেয়া-পারের তরণী’, ‘কোরবানী’, ‘মোহররম’, ‘ফাতেহা-ই-দোয়াজ্দহম্’ প্রভৃতি কবিতা প্রকাশিত হলে বাংলা সাহিত্য ক্ষেত্রে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বাংলা সাহিত্যের এ নবীন প্রতিভার প্রতি সাহিত্যানুরাগীদের দৃষ্টি পড়ে।

কবি-সমালোচক  মোহিতলাল মজুমদার মোসলেম ভারত পত্রিকায় প্রকাশিত এক পত্রের মাধ্যমে নজরুলের ‘খেয়া-পারের তরণী’ এবং ‘বাদল প্রাতের শরাব’ কবিতাদুটির উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এবং বাংলার সারস্বত সমাজে তাঁকে স্বাগত জানান।

উৎস: 'মেহের-নেগার' গল্প এবং বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৯১.
'তিন পুরুষ' - কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  2. সমর সেন
  3. সোমেন চন্দ
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

সমর সেন:
- তিনি ১৯১৬ সালের ১০ অক্টোবর কলকাতার বাগবাজারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রথিতযশা গবেষক দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর পিতামহ।
- তিনি মূলত কবি ছিলেন। তাঁকে আধুনিক যুগের নাগরিক কবি বলা হয়।
- ‘Frontier’ (ফ্রন্টিয়ার) ও ‘নাও’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- ‘আমি রোমান্টিক কবি নই, আমি মার্ক্সিস্ট’ - এভাবেই তিনি মার্কসবাদের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ ঘোষণা করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- কয়েকটি কবিতা,
- গ্রহণ ও অন্যান্য কবিতা,
- নানাকথা, 
- খোলাচিঠি, 
- তিন পুরুষ,
- সমর সেনের কবিতা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।  
২. বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৯২.
'হপ্তপয়কর' - গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ফকির গরীবুল্লাহ্‌
  2. সৈয়দ সুলতান
  3. শাহ্‌ মুহম্মদ সগীর
  4. আলাওল
ব্যাখ্যা

'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ:
- গ্রন্থটির রচয়িতা আলাওল।
- হপ্তপয়কর গ্রন্থটি সপ্তদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি কোন এক সময়ে রচিত।
- আরাকান রাজসভায় সৈয়দ আলাওল কাব্যটি রচনা করেন।
- রাজপুত্র বাহরাম সাতরাত্রি ধরে তাঁর সাতজন পরির কাছে যে সাতটি গল্প শোনেন তাঁর সংকলন।
- পারসি ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই গ্রন্থটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আলাওল:
- আরাকান রাজসভার শ্রেষ্ঠ কবি আলাওল ১৭শতক/ মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ মুসলিম কবি ছিলেন।
- তাঁর আনুমানিক জন্ম ১৬০৭ সালে।
- কবি আলাওল আরাকান-রাজা উমাদারের রাজদেহরক্ষী অশ্বারোহীর পেশায় নিয়োজ্জিত ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৯৩.
বাংলা সাহিত্যের সর্বকনিষ্ঠ শাখা কোনটি?
  1. কাব্য
  2. নাটক
  3. ছোটোগল্প
  4. উপন্যাস
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের অন্যতম উপাদান ও আধুনিকতম/সর্বকনিষ্ঠ শাখা হলো — ছোটোগল্প।

• 'ছোটগল্প' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
- ছোটগল্প বিশেষ গদ্যরচনা, যা কথা সাহিত্যের অন্তর্গত। 
- বাংলা সাহিত্যে এর আবির্ভাব উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ধরে বাংলা সাহিত্যে ছোটগল্প স্থান লাভ করে বিধায় তাকে ছোটগল্পের জনক বলা হয়।
- ছোটগল্প বলতে সাধারণত তাকেই বোঝায় যা আধঘণ্টা থেকে এক বা দুঘণ্টার মধ্যে এক নাগাড়ে পড়ে শেষ করা যায়।
- তবে আকারে ছোট হলেই তাকে ছোটগল্প বলা যাবে না।
- কারণ ছোটগল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে বিন্দুতে সিন্ধুর বিশালতা থাকতে হবে, অর্থাৎ অল্প কথায় অধিক ভাব ব্যক্ত করতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ছোটগল্পের বিষয় ও রীতি সম্বন্ধে তাঁর 'বর্ষাযাপন' কবিতায় বলেছেন—

“ছােটো প্রাণ, ছােট ব্যথা ছােটো ছােটো দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল,
সহস্র বিস্মৃতি রাশি প্রত্যহ যেতেছে ভাসি
তারি দু-চারিটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা ঘটনার ঘনঘটা
নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে
শেষ হয়ে হইল না শেষ।”

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত ছোটগল্পের নাম ভিখারিণী। এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প।
আবার, বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্প দেনা পাওনা।

অন্যদিকে,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম শাখা কাব্য।
- 'চর্যাপদ' বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/ গানের সংকলন। যা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।
- এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।

• নাটক - মধ্যযুগ থেকে (যাত্রা, পালা ইত্যাদি)।

• উপন্যাস - ১৮৫২-৫৮ সালে (হানা ক্যাথারিন ম্যালেন্স রচিত "ফুলমণি ও করুণার বিবরণ" বা প্যারীচাঁদ মিত্রের "আলালের ঘরের দুলাল")।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯,৯৯৪.
ধুসরতার কবি বলা হয় কাকে?
  1. ক) বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. খ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. গ) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঘ) জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে। 
জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়। ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’ (১৯৩৬) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ আছে জীবনানন্দ দাশের। কিন্তু শুধু এ কারণেই তাঁকে ‘ধূসরতার কবি’ বলা হয়-তা নয়। তাঁর বহু কবিতায় হতাশা ও বিবর্ণের কথা আছে। তাঁর কবিতার চালচিত্রে আছে ধূসর বর্ণ। তাই জীবনানন্দ দাশকে ধূসরতার কবি বলা হয়।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় কবিতা বলেছেন।

• জীবনানন্দ দাশ রচিত কাব্যগ্রন্থঃ
 - ঝরাপালক (প্রথম প্রকাশিত), 
- ধূসর পান্ডুলিপি, 
- বনলতা সেন, 
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।
 
• তাঁর রচিত উপন্যাসসমূহঃ
- মাল্যবান, 
- সুতীর্থ, 
- নিরুপম যাত্রা, 
- বিভা,
- জলপাইহাটি ইত্যাদি।

• জীবনানন্দের বনলতা সেন  কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়। এছাড়া জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে। ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। 


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯,৯৯৫.
"একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে পরিণত হব!" - পঙক্তিটি কোন কবিতার অংশ?
  1. ক) আঠারো বছর বয়স
  2. খ) রানার
  3. গ) ছাড়পত্র
  4. ঘ) প্রার্থী
ব্যাখ্যা
আলোচ্য পঙক্তিটি কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থের 'প্রার্থী' কবিতার অংশ। 
কবিতায় বলা হয়েছে- 
"হে সূর্য
তুমি আমাদের উত্তাপ দিও
শুনেছি, তুমি এক জ্বলন্ত অগ্নিপিন্ড,
তোমার কাছে উত্তাপ পেয়ে পেয়ে
একদিন হয়তো আমরা প্রত্যেকেই এক একটা জ্বলন্ত অগ্নিপিণ্ডে
পরিণত হব!" 

তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ছাড়পত্র,
- পূর্বাভাস,
- অভিযান,
- ঘুম নেই,
- হরতাল,
- গীতিগুচ্ছ প্রভৃতি।

উৎস: প্রার্থী, সুকান্ত ভট্টাচার্য এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৯৬.
'মাধবী এবং সুরেন্দ্রনাথ' চরিত্র দুটি কোন উপন্যাসের অন্তর্গত?
  1. মৃত্যুক্ষুধা
  2. বড়দিদি
  3. শ্রীকান্ত
  4. দেবদাস
ব্যাখ্যা
"বড়দিদি" উপন্যাস:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম উপন্যাস 'বড়দিদি' (১৯০৭)। 'ভারতী' পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যজগতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
- একজন মানুষের শুধুমাত্র এই বড়দিদি নামটির ওপর কী ধরনের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকতে পারে তা খুব স্পষ্টভাবেই অনুভব করতে পারা যায় এই উপন্যাসের দ্বারা।

উপন্যাসের কাহিনি সংক্ষেপ:
- সুরেন্দ্রনাথ খুব ধনী পরিবারের ছেলে; কিন্তু তার বিমাতার অযাচিত শাসন আর বন্ধন তাকে নিজ জীবনের সীমানার মধ্যেই রুদ্ধ করে রাখে। তাই একদিন সে এই বন্ধন ছিন্ন করে চলে যায় কলকাতা শহরে, অথচ সে নিজের খেয়াল নিজে কখনো রাখেনি এবং রাখতেও জানে না। কিন্তু সেখানে সে আশ্রয় পায় বড়দিদির বাড়িতে। বড়দিদি, অর্থাৎ মাধবী খুবই রূপবতী কিন্তু অল্প বয়সেই বিধবা হয়েছিল, তাই বাবার বাড়িতেই এখন তাঁর বসবাস। তাছাড়া বাড়ির গৃহিণীর কাজকর্ম সকল তার দ্বারাই সম্পন্ন হয়, সকলেই তাকে ডাকে ‘বড়দিদি’ বলে। সুরেন্দ্র তাকে কখনো দেখেনি অথচ তার স্থায়ীত্ব ছাড়া যেন সে একেবারে অচল..

উল্লেখযোগ্য চরিত্র:
- মাধবী,
- সুরেন্দ্রনাথ,
- ব্রজরাজ,
- প্রমীলা।

উৎস: "বড়দিদি" উপন্যাস এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯,৯৯৭.
শ্রীকান্ত চরিত্রটি কোন ঔপনাসিকের সৃষ্টি?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. হুমায়ূন আহমেদ
  4. নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
'শ্রীকান্ত' উপন্যাস:
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসটি শরৎচন্দ্রের আত্মজৈবনিক উপন্যাস। উপন্যাসটি চারটি খণ্ডে রচিত।
- প্রথম খণ্ড মাসিক 'ভারতবর্ষে' (১৯১৬-১৭)' শ্রীকান্তের ভ্রমণ কাহিনি নামে প্রকাশিত হয়।
- লেখকের নাম মুদ্রিত হয় 'শ্রী শ্রীকান্ত শর্মা'।
- ২য় ও ৩য় খণ্ডও মাসিক 'ভারতবর্ষে' প্রকাশিত হয়।
- তবে ৪র্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় 'বিচিত্র' পত্রিকায়।
- 'শ্রীকান্ত' উপন্যাসের বিখ্যাত কিশোর চরিত্র হচ্ছে- 'ইন্দ্রনাথ'।

উল্লেখযোগ্য চরিত্রগুলো হলো:
- শ্রীকান্ত,
- রাজলক্ষ্মী,
- অন্নদাদিদি,
- অভয়া,
- রোহিণী,
- কমললতা প্রমুখ।

এ উপন্যাসের বিখ্যাত কিছু উক্তি:
- 'মধু থাকলেই মৌমাছি এসে জোটে তারা দেশ-বিদেশের বিচার করে না।'
- 'বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, শরৎচন্দ্র রচনাবলী এবং 'শ্রীকান্ত' উপন্যাস।
৯,৯৯৮.
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।' — কোন কবির রচনা?
  1. বিদ্যাপতি
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. রামপ্রসাদ সেন
  4. লালন শাহ 
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর — গ) রামপ্রসাদ সেন।
-------------------
• রামপ্রসাদ সেন:

- তিনি ছিলেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- তিনি আনুমানিক ১৭২০ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- রামপ্রসাদের গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।

- রামপ্রসাদের গান শুনে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা  অভিভূত হয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের উপাধি ছিল 'কবিরঞ্জন'। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র এই উপাধি দিয়েছিলেন।
- রামপ্রসাদের শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।
- 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।' - রামপ্রসাদ সেনের উক্তি।

• রামপ্রসাদের আর একটি বিখ্যাত গান:
'মনরে কৃষি কাজ জান না
এমন মানবজমিন রইল পতিত
আবাদ করলে ফলত সোনা।'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯,৯৯৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস কোনটি?
  1. আর্তনাদ
  2. আরেক ফাল্গুন
  3. খাচাঁয়
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস - খাচাঁয়
- এটি রশীদ হায়দার রচনা করেন।

অন্যদিকে,
• শওকত ওসমানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আর্তনাদ।
• জহির রায়হানের ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন।
• আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত মহাকাব্যিক উপন্যাস - চিলেকোঠার সেপাই।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর;
২. 'আর্তনাদ' উপন্যাস, শওকত ওসমান;
৩. জাগোনিউজ২৪.কম
রিপোর্ট প্রকাশের তারিখ: ১৪ অক্টোবর, ২০২০।
১০,০০০.
দীনবন্ধু মিত্র রচিত কোন নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল?
  1. কমলে কামিনী
  2. নীলদর্পণ
  3. সধবার একাদশী
  4. নবীন তপস্বিনী
ব্যাখ্যা
• ‘কমলে কামিনী' নাটক:
- ‘কমলে কামিনী' (১৮৭৩) দীনবন্ধু মিত্রের সর্বশেষ নাটক।
- এই নাটকের পটভূমি কাছাড় অঞ্চল। চরিত্রগুলি সবই অভিজাত বংশীয় তবে দুর্বল।
- ২০ শে ডিসেম্বর ১৮৭৩ তারিখে নাটকটি ন্যাশনাল থিয়েটারে সর্বপ্রথম অভিনীত হয়।

তাঁর উল্লেখযােগ্য চরিত্র:
- রাজা,
- সমরকেতু,
- শশাঙ্কশেখর,
- গান্ধারী,
- সুশীলা,
- সুরবালা।

অন্যদিকে,
• ‘নীলদর্পণ‘ (১৮৬০) তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও। সমকালের নীলচাষ ও নীলকর সাহেবদের প্রজাপীড়ন এবং শাসকশ্রেণীর পক্ষপাতমূলক আচরণ নাটকটির বিষয়বস্তু। নাটকটি তৎকালীন সমাজে বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং কৃষকদের নীলবিদ্রোহে ইন্ধন জোগায়।

• 'নবীন তপস্বিনী' (১৮৬৩) দীনবন্ধু মিত্রের দ্বিতীয় নাটক। এতে যে দুটি ভিন্ন কাহিনি স্থান পেয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে মিশ্রিত হয় নি। 'তে গ্রাম্যতা ও রুচিবিকল্পতা থাকলেও তা গুরুত্বপূর্ণ রচনা।

• 'সধবার একাদশী' (১৮৬৬) দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে সুরাপান ও বেশ্যাবৃত্তি যুবকদের জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করেছিল। এই সামাজিক বিপর্যয় এর কাহিনি নিয়ে নাটকটির রচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহাবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।