বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৫০১৬০০ / ১,২৯৫

৫০১.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক দলের কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ
  2. জনমত গঠন
  3. নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন
  4. বিরোধী ভূমিকা পালন
ব্যাখ্যা

- নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; এটি রাজনৈতিক দলের কাজ নয়।

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি: 
- আধুনিক গণতন্ত্র বলতে পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকেই বোঝায়।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হচ্ছে রাজনৈতিক দল।

• রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- রাষ্ট্রীয় সমস্যা নির্ধারণ
- নীতি-নির্ধারণ ও কর্মসূচি প্রণয়ন
- জনমত গঠন
- প্রার্থী মনোনয়ন
- প্রচারণা
- ভোটারদের স্বার্থ সংরক্ষণ
- বিরোধী ভূমিকা পালন
- রাজনৈতিক চেতনা ও শিক্ষার প্রসার
- স্বেচ্ছাচার প্রতিরোধ
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
- শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা পরিবর্তন
- সরকারের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সংযোগ সাধন
- জাতীয় ঐক্যবোধ সৃষ্টি
- সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা
- স্বার্থের একত্রীকরণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

৫০২.
কোন পদটি সাংবিধানিক পদ নয়?
  1. ক) চেয়ারম্যান, সরকারি কর্ম কমিশন
  2. খ) মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. গ) চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  4. ঘ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, সংসদ সদস্য, নির্বাচন কমিশনার, সরকারি কর্মকমিশনের সদস্য, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ। সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫০৩.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে কোনটি?
  1. আদালত
  2. নির্বাহী বিভাগ
  3. সুশীল সমাজ
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে। 
- সমমতাদর্শে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল মাত্রই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- প্রত্যেক দল সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সাধনে আত্মনিয়োগ করে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।

৫০৪.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী কয়টি মূলনীতিতে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র এই চারটি মূলনীতিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী।
উৎসঃ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৫০৫.
রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই কোন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত?
  1. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া
  2. সামাজিক প্রক্রিয়া
  3. অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া
  4. রাষ্ট্র পরিচালনা প্রক্রিয়া
ব্যাখ্যা
 - রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক।
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত।
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৬.
বাংলাদেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল-
  1. ক) নাজমুন আরা সুলতানা
  2. খ) ডা. সুসানে গীতি
  3. গ) নাজনীন আক্তার পান্না
  4. ঘ) জোহরা বেগম
ব্যাখ্যা
৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল হোন ডা. সুসানে গীতি। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
৫০৭.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. গ) শাহ আব্দুল হামিদ
  4. ঘ) তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ’ জারি করেন। ৭ এপ্রিল এটির সংশোধনী আদেশ জারি করা হয়।
১০ এপ্রিল ৪১৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ।
১০ ও ১১ই এপ্রিল এই অধিবেশনের মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শাহ আবদুল হামিদ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার এবং মোহাম্মদ উল্ল্যাহ প্রথম ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।
(সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৫০৮.
’রাজা রামমোহন রায়’ কোন প্রথা বিলুপ্তিতে নেতৃত্ব দেন?
  1. বহুবিবাহ
  2. বাল্যবিবাহ
  3. সতীদাহ প্রথা
  4. দাসপ্রথা
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়: 
- উপাধি: ভারতীয় রেনেসাঁর জনক।
- জন্ম: ২২ মে ১৭৭২/৭৪, রাধানগর, হুগলি, পশ্চিমবঙ্গ
- মৃত্যু: ২৭ সেপ্টেম্বর ১৮৩৩, ব্রিস্টল, ইংল্যান্ড
- পেশা: সমাজ সংস্কারক, চিন্তাবিদ, ভাষাবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদ।
 
প্রধান অবদান:
- সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তিতে নেতৃত্ব দেন , জাতিভেদ ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান।
- একেশ্বরবাদ প্রচার, প্রতিমা পূজার বিরোধিতা
- আধুনিক শিক্ষার প্রসার, ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ রচনা
- ১৮২৮ সালে ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা। 

রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা:
- মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর শাহ কর্তৃক “রাজা” উপাধি লাভ।
- ইউরোপীয় উদার চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়ে তা ভারতীয় সমাজে প্রয়োগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৫০৯.
'বঙ্গবন্ধু হত্যা' মামলা দায়ের করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৯০ সালে
  3. গ) ১৯৮৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ৷
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- অবশেষে হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে ৷
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ৷ ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে৷

তথ্যসূত্র:- দৈনিক প্রথম আলো।

৫১০.
NILG এর পূর্ণরূপ -
  1. National Industrial Local Group
  2. National Institute of Local Government
  3. National Identity Licence Guide
  4. National Information Local Government
ব্যাখ্যা
• NILG:
- NILG এর পূর্ণরূপ: National Institute of Local Government.
- বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালীকরণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় স্থানীয় ইনস্টিটিউট NILG।
- এটি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫১১.
রাজা রামমোহন আত্মীয়সভা গঠন করেন কেন?
  1. ক) পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য 
  2. খ) সামাজিক সংস্কার সাধন কল্পে
  3. গ) ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের জন্য
  4. ঘ) জনগণকে নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
•রাজা রামমোহন রায়:
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্যস প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন রায়
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রস্তাবিত সরকারি সংস্কৃত কলেজের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। 
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫১২.
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. মনপুরা ৭০
  2. তিনকন্যা
  3. নাইওর
  4. ধানকাটা
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন: 
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন জীবনের ২৯ বছর বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 
- ঢাকা আর্ট কলেজ, ময়মনসিংহ জয়নুল সংগ্রহশালা, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের সূচনা তার হাত ধরেই হয়েছে। 
- বাংলাদেশের চারু ও ব্যবহারিক কারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাকে গণ্য করা হয়।
- ১৯৪৮ সালে জয়নুল আবেদিন চিত্রশিল্পী আনোয়ারুল হক, কামরুল হাসান, খাজা শফিক আহমেদ, সফিউদ্দীন আহমেদ এবং হাবিবুর রহমানকে নিয়ে জনসন রোডের একটি বিল্ডিং-এ শুরু করেন সরকারি আর্ট ইন্সটিটিউট।
- জয়নুল আবেদিন ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছেন।
- এ ছাড়াও তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে নৌকা (১৯৫৭), সংগ্রাম(১৯৫৯), বীর মুক্তিযোদ্ধা(১৯৭১), ম্যাডোনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- ১৯৭০ সালে তিনি গ্রামবাংলার উৎসব নিয়ে আঁকেন বিখ্যাত ৬৫ ফুট দীর্ঘ ছবি ‘নবান্ন’। 
- ‘সোনার বাংলার শ্মশান’ হওয়ার আখ্যান ছিল ‘নবান্ন’।
- এর পরপরই বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় প্রচন্ড সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের আঘাতে তিন লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারান। 
- এটি নিয়ে ‘মনপুরা ৭০’ শীর্ষক ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের আরেকটি স্ক্রলচিত্র আঁকেন তিনি।
- এছাড়াও তার ভিন্নধর্মী ছবির মধ্যে আমারা দেখি সাঁওতাল দম্পতি, সাঁওতাল রমণীদ্বয়, মই দেওয়া, সংগ্রাম, বিদ্রোহী, কিংবা কাদায় পড়া কাঠবোঝাই গরুর গাড়ি ঠেলার মতো চিত্রকর্ম।

উল্লেখ্য, 
- তিনকন্যা ও নাইওর কামরুল হাসানের চিত্রকর্ম এবং ধানকাটা এসএম সুলতানের চিত্রকর্ম। 

উৎস: ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা (অক্টোবর ২৬, ২০২৩)।
৫১৩.
পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) শরৎচন্দ্র বসু
  2. খ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টির পর পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন খাজা নাজিমউদ্দিন। তিনি ১৯৪৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে,
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অবিভক্ত বাংলার সর্বশেষ ‍মুখ্যমন্ত্রী।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫১৪.
বাংলাদেশের প্রথম নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম-
  1. ক) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  2. খ) লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি- এলডিপি
  3. গ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বি.এন.পি
  4. ঘ) বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
ব্যাখ্যা
- ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ৪৪ টি দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তীতে আদালতের আদেশে এবং ইসির শর্ত পালনে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। 
- দেশে শতাধিক রাজনৈতিক দল সক্রিয় থাকলেও নিবন্ধিত দল মাত্র ৩৯টি। 
- ইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রথম নিবন্ধিত দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। 
- ২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর নিবন্ধন পায় দলটি। 
- নিবন্ধন নম্বর- ১। দলটির নির্বাচনী প্রতীক ‘ছাতা’। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন । 
৫১৫.
বাংলাদেশে বর্তমানে শহর অঞ্চলে কয় ধরণের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু আছে?
  1. ক) ৩ ধরণের
  2. খ) ৪ ধরণের
  3. গ) ২ ধরণের
  4. ঘ) ৬ ধরণের
ব্যাখ্যা
 • বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
গ্রাম অঞ্চলের ৩ ধরনের এবং শহর অঞ্চলে ২ ধরনের

• গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

• শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫১৬.
বেঙ্গল প্যাক্ট স্বাক্ষরিত হয় কখন?
  1. ক) ১৯২০ সালে 
  2. খ) ১৯২১ সালে
  3. গ) ১৯২২ সালে 
  4. ঘ)  ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• বেঙ্গল প্যাক্টঃ
- বেঙ্গল প্যাক্ট একটি চুক্তি যা ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পার্থক্যজনিত সমস্যা সমাধানকল্পে সম্পাদিত হয়েছিল। 
- চুক্তির উদ্যোক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ মুসলিমদের সাথে হিন্দুদের রাজনৈতিক অংশীদারত্বের পক্ষপাতী ছিলেন।
- এই চুক্তিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী‌র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- চুক্তিটি বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির ১৯২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর তারিখের সভায়ও অনুমোদন লাভ করে।
• চুক্তিটির বিভিন্ন শর্ত ছিল নিম্নরূপ:
১. বঙ্গীয়-আইন সভায় প্রতিনিধিত্ব পৃথক নির্বাচক মন্ডলীর মাধ্যমে জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
২. স্থানীয় পরিষদসমূহে প্রতিনিধিত্বের অনুপাত হবে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের শতকরা ৬০ ভাগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শতকরা  ৪০ ভাগ।
৩. সরকারি চাকরির শতকরা পঞ্চান্ন ভাগ পদ পাবে মুসলমান সম্প্রদায় থেকে। যতদিন ঐ অনুপাতে না পৌঁছানো যায়, ততদিন মুসলমানরা পাবে শতকরা আশি ভাগ পদ এবং বাকি শতকরা কুড়ি ভাগ পাবে হিন্দুরা।
৪. কোন সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ৭৫ শতাংশের সম্মতি ব্যতিরেকে এমন কোন আইন বা সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা যাবে না, যা ঐ সম্প্রদায়ের সঙ্গে স্বার্থের পরিপন্থী।
৫. মসজিদের সামনে বাদ্যসহকারে শোভাযাত্রা করা যাবে না।
৬.  আইন সভায় খাদ্যের প্রয়োজনে গো-জবাই সংক্রান্ত কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে না এবং আইন সভার বাইরে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সমঝোতা আনার প্রচেষ্টা চালানো অব্যাহত থাকবে। এমনভাবে গরু জবাই করতে হবে যেন তা হিন্দুদের দৃষ্টিতে পড়ে তা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে।  ধর্মীয় প্রয়োজনে গরু জবাইয়ের ব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

উৎস: বাংলাপিডিয়া 
৫১৭.
সুশীল সমাজের অংশ নয়-
  1. রাজনৈতিক দল
  2. নাগরিক সংগঠন
  3. এনজিও
  4. পেশাজীবী সংগঠন
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজের অংশ নয়- রাজনৈতিক দল।

সুশীল সমাজ:

- সুশীল সমাজের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civil Society.
- সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী, যারা সবসময় জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে।
- সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ স্বতন্ত্র কোন রাজনীতি করে না, কারণ এরা কোন দলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে না, হোক সরকারি বা বিরোধী কোন দল।
- সুতরাং সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত না থেকে সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে।

⇒ সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

৫১৮.
নাগরিক সংগঠন 'সুজন' কত সালে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০১ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৫১৯.
‘অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’ কোন দেশের প্রধান মানব সম্পদ এজেন্সি?
  1. ক) শ্রীলঙ্কা
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্র
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
‘অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মানব সম্পদ এজেন্সি।
এটি ১৯৭৮ সালের সিভিল সার্ভিস কমিশন সংস্কার আইনের মাধ্যমে গঠিত হয়। ১৯৭৮ সালে মার্কিন ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন তিনটি সংস্থা বিকেন্দ্রীকরণ হলে ‘অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’ এর সৃষ্টি হয়।
অপর দুটি বিভাগ হলো:
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।
(সূত্র: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট)
৫২০.
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কোন জেলায় জন্ম গ্রহণ করেন?
  1. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  2. ময়মনসিংহ
  3. রংপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা
ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ:
- তিনি বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ।
- ১৮৬২ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক সঙ্গীতপরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা সবদর হোসেন খাঁ ওরফে সদু খাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ।
- মাতার নাম সুন্দরী বেগম।
- তাঁর সঙ্গীতগুরু ছিলেন আগরতলা রাজদরবারের সভাসঙ্গীতজ্ঞ তানসেনের কন্যাবংশীয় রবাবী ওস্তাদ কাশিম আলী খাঁ।
- তিনি দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের সমন্বয়ে অর্কেস্ট্রার স্টাইলে একটি যন্ত্রীদল গঠন করে নাম দেন ‘রামপুর স্ট্রিং ব্যান্ড’।
- ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- অতঃপর ভারত সরকার তাঁকে একে একে ‘সঙ্গীত নাটক আকাদেমী সম্মান’ (১৯৫২), ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) ও ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১), বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬১) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ডক্টর অব ল’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি ১৯৭২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২১.
বিরোধী দলের কাজ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  2. গণতন্ত্র রক্ষা
  3. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২২.
কখন ছয় দফা ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৬৫ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
–পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব বংলার জনগণকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৫-৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ছয়দফা নিম্নরুপ: 
১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি
হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।
২. শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩. দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪. আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।
৫. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬. অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী ও ইতিহাস প্রথম পত্র (এইছ এস সি ) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৩.
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে সরকারকে জনস্বার্থের প্রতি সচেতন রাখে?
  1. সংযোগ সাধন করে
  2. নেতৃত্ব দান করে
  3. সমালোচনা করে
  4. ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৪.
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন -
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. কে.এম শফিউল্লাহ
  3. আতাউল গণি ওসমানী
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।

জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী:

- তিনি ১৯১৮ সালে ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫২৫.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. আমলাতন্ত্র
  4. ছাত্র সংগঠন
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাবলির ব্যাপারে রাজনৈতিক দল গুলি নিজ-নিজ দলীয় মতাদর্শের উপর ভিত্তি করে সেসব সমস্যার সমাধানকল্পে নীতি ও কর্মসূচি নির্ধারণ করে।
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল রাজনৈতিক দল।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য কাজ।
- প্রতিটি দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিটি স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন করা।
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্র সরকারি ক্ষমতা করায়ত্ব করে নিজ নীতি ও আদর্শকে বাস্তবে রূপায়িত করা।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সমর্থন পেলে সেই উদ্দেশ্যকে সফল করে তোলার সুযোগ উপস্থিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৬.
একটি রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান কোনটি?
  1. ক) সার্বভৌমত্ব
  2. খ) জনসমষ্টি
  3. গ) সরকার
  4. ঘ) ভূ-খন্ড  
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর প্রত্যেক রাষ্ট্র চারটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো হলো:
- জনসমষ্টি
- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড
- সরকার এবং
- সার্বভৌমত্ব।

- এদের মধ্যে রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান হলো জনসমষ্টি। রাষ্ট্র গঠনের জন্যে এটি একান্ত অপরিহার্য উপাদান।
- রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান হলো সার্বভৌমত্ব।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী 
৫২৭.
বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিলেন -
  1. জাহানারা ইমাম
  2. সুফিয়া কামাল
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সেলিনা হোসেন
ব্যাখ্যা

• রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন, 
- রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন,  (১৮৮০-১৯৩২)  সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ ইউনিয়নে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জহীরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের এবং মাতা রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে।
- তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, তদুপরি সমাজসচেতন, কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ রোকেয়া নারীশিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০৯ সালের ১ অক্টোবর স্বামীর প্রদত্ত অর্থে পাঁচটি ছাত্রী নিয়ে তিনি ভাগলপুরে ‘সাখাওয়াৎ মেমোরিয়াল গার্লস’ স্কুল স্থাপন করেন।  
- মুসলমান মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের অধিকার আদায়ের জন্য ১৯১৬ সালে বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম  বা মুসলিম মহিলা সমিতি। 
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন  নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land  বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- বাঙালি মুসলমান সমাজে নারীর স্বাতন্ত্র্য ও নারী স্বাধীনতার পক্ষে প্রথম প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বেগম রোকেয়া।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি মুসলমানদের নবজাগরণের সূচনালগ্নে নারীশিক্ষা ও নারী জাগরণে তিনিই প্রধান নেতৃত্ব দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫২৮.
বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন কে জারি করেন?
  1. কর্ণেল তাহের
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন:
- স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় ১৯৭৫ সালে।
- বাংলাদেশে প্রথম সামরিক আইন জারি করে খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনাবসান ঘটে।
- খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে একটি সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়, দেশে সামরিক আইন জারি করা হয়।

⇒ ১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেড় দশক কাল বাংলাদেশে সামরিক শাসন চলেছিল।
- এ সামরিক শাসন ছিল কখনো প্রত্যক্ষ কখনো পরোক্ষ।
- সামরিক শাসন কালে সংবিধান, আইনের শাসন, বিচার বিভাগ, ব্যক্তি ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, অর্থনীতি সকল ক্ষেত্রেই সামরিক বাহিনীর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সামরিকীকরণ প্রক্রিয়ার ফলে বেসামরিক রাজনৈতিক কর্তৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হয় নি।
- ১৯৭৫ সালে প্রথম সামরিক সরকারের শুরু থেকেই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বসহ সরকার ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সামরিকায়নের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- জেনারেল এরশাদের আমলে এ প্রক্রিয়া প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৯.
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান সভাপতি কে?
  1. ক) মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
  2. খ) খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া
  3. গ) রাশেদ খান মেনন
  4. ঘ) তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
• ওয়ার্কার্স পার্টি:
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি এটি একটি সমাজতান্ত্রিক দল।
- বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দলের দুটি ধারা। একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা চীনপন্থী অন্যটি সোভিয়েতপন্থী।
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি মূলত লেনিনবাদী সমাজতান্ত্রিক দল।
- ১৯৮০ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৪ সালে দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে গেলেও ১৯৯২ সালে পুনরায় একত্র হয়।
- বর্তমানে রাশেদ খান মেনন দলটির সভাপতি।
- ২০১৪ সালে মহাজোট এর হয়ে নির্বাচন করে বর্তমানে সরকারের অন্তর্ভূক্ত। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৫৩০.
কোন নির্বাচনে দেশে প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে 'ইভিএম পদ্ধতিতে' ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়?
  1. জাতীয় সংসদ নির্বাচনে
  2. সিটি করপোরেশন নির্বাচনে
  3. পৌরসভা নির্বাচনে
  4. উপজেলা নির্বাচনে
ব্যাখ্যা
EVM:
- EVM এর পূর্ণরূপ: Electronic Voting Machine বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন।
- গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোট প্রয়োগে মেশিন বা ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি অণুসৃত হয় বলে সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হয়।
- ২০১০ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হয়।
- ২০১০ সালে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সিটি করপোরেশনের ১৪টি কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হয়।
- ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জের সিটি করপোরেশনের ৫৮টি কেন্দ্রে এবং ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বরে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কয়েকটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
- তখনকার নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা'র নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন কেবল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে।

উল্লেখ্য,
- ইভিএম পদ্ধতি প্রথম চালু হয় যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬০ সালে।
- বাংলাদেশে ২০০৭ সালে প্রথম ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের কার্যকরী সংসদ নির্বাচনে সনাতনী ধাঁচের পরিবর্তে ই-ভোটিং পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। 
- দেশে প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ হয় ১৭ জানুয়ারি ২০১১ সালে নরসিংদীর পৌরসভা নির্বাচনে এবং পরবর্তী সময়ে ৫ জানুয়ারি ২০১২ সালে কুমিল্লার সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে।
- একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০১৮) ছয়টি আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হয়। ছয়টি আসন দ্বৈবচয়নের মাধ্যমে চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) The Business Standard. 
ii) প্রথম আলো। [link]
৫৩১.
সময়ের বিবেচনায় কোন রাজনৈতিক দলটি সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)
  2. খ) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  3. গ) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
  4. ঘ) জামায়াতে ইসলামী
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।

- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম লীগের গঠন প্রক্রিয়ার সাথে নওয়াব ‍সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল ‍মুলক, আগা খান প্রমুখ যুক্ত ছিলেন।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

 

৫৩২.
Organisation of Islamic Cooperation (OIC) এর সচিবালয় অবস্থিত কোথায়?
  1. ক) রিয়াদ
  2. খ) জেদ্দা
  3. গ) দামেস্ক
  4. ঘ) মক্কা
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ইসলামি সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদরদপ্তর সৌদি আরবের জেদ্দায়।
- ওআইসি সদস্য দেশ ৫৭ টি।
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে লাহোর সম্মেলনে ওআইসি সদস্যপদ লাভ করে।
- ওআইসির অফিসিয়াল ভাষা ৩টি।
- যথা: আরবি, ইংরেজি এবং ফরাসি।

উৎস: ওআইসি ওয়েবসাইট।
৫৩৩.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে কে?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. সচিব
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:

- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়। 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৪.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে কত সালে?
  1. ২০০৬ সাল
  2. ২০০৯ সাল
  3. ২০১২ সাল
  4. ২০০৮ সাল
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৫৩৫.
CPD এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Centre for Political Development
  2. Council for People’s Democracy
  3. Centre for Policy Dialogue
  4. Committee for Public Discussion
ব্যাখ্যা

CPD:
- পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকার ধানমন্ডি।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

সূত্র: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৫৩৬.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্বে কে আসেন?
  1. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. মজনু শাহ
  4. মাওলানা মুহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- জী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৩৭.
‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে কত সালে?
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০০১ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ সালে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৫৩৮.
বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি বইটির লেখক -
  1. ড. জামাল উদ্দিন
  2. আকবর আলী খান
  3. ড. সালেহউদ্দিন
  4. আতিউর রহমান
ব্যাখ্যা

- সাবেক তত্ত্ববধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান রচিত বই - বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি।

• আকবর আলী খান রচিত আরো কিছু বই:
- দারিদ্র্যের অর্থনীতি; অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ,
- পরার্থপরতার অর্থনীতি,
- আজব ও জবর আজব অর্থনীতি,
- অবাক বাংলাদেশ;
- বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি,
- বাংলাদেশে বাজেট; অর্থনীতি ও রাজনীতি,
- পুরানো সেই দিনের কথা (আত্নজীবনী)।  

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
৫৩৯.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি ছিলেন -
  1. ক) শামসুল হক
  2. খ) এ.কে রফিকুল হোসেন
  3. গ) আলী আহমদ খান
  4. ঘ) ইয়ার মোহাম্মদ খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি :  মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- সহ সভাপতি : আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আলী আহমদ খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান।
- যুগ্ম সম্পাদক : শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাগারে আটক ছিলেন),খন্দকার মোশতাক আহমদ,এ.কে রফিকুল হোসেন ( খায়ের মিয়া ) 
- ট্রেজারার : ইয়ার মোহাম্মদ খান(যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়)

তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান, (ইউ পি এল) ২০১২, পৃ. ১২১-১২২; বিডিনিউজ২৪
৫৪০.
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন কত তারিখে? 
  1. ৯ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৭ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

- ৬ আগস্ট, ২০২৪ তারিখ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করেন।

• দ্বাদশ জাতীয় সংসদ: 

- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন।
- সময়: ৬ আগস্ট, ২০২৪ তারিখ।
- ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পর দেশ ছেড়ে ভারতে যান শেখ হাসিনা।
-  শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেশ পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়ে।
- এতে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদের অধীন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ ভাংগিয়া দিলেন।
- প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।নির্বাহী আদেশে এই সংসদ বিলুপ্ত করা হলো।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়।
- জুলাই গণ অভ্যুত্থান দিবস পালন করা  হয় ৫আগস্ট।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা নিউজ।

৫৪১.
কোন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়?
  1. বহু-দলীয় ব্যবস্থা
  2. একদলীয় ব্যবস্থা
  3. দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয়
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের বিভিন্নরূপ:
সাধারণত রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা  প্রকার।
যথা :
• একদলীয় ব্যবস্থা :
- যখন রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।
- কোন দলের উদ্ভব হলে তা উৎপাটন করা হয়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা :
- দেশে মাত্র দু'টি দল থাকলে তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
- একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যদল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
- কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দেখা যায় না।
- এমনকি বৃটেনে শ্রমিক দল ও রক্ষণশীল দল প্রধান দল হলেও সেখানে উদারনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্ভব ঘটেছে।
- তবে প্রকৃতিগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও বৃটেনে দ্বি-দল ব্যবস্থাই প্রচলিত আছে।

• বহু-দলীয় ব্যবস্থা :
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুটির বেশি দল, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লাড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪২.
ফরায়েজী আন্দোলকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রুপ দেন-
  1. ক) হাজী মুহম্মদ মুহসিন
  2. খ) হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) তিতুমীর
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলক:
– হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.) বর্তমান শরিয়তপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শরিয়ত উল্লাহর জন্ম হয়। 
– ১৭৯৯ মক্কায় যান এবং হজ্ব সম্পন্ন করেন। সেখানে তিনি ওয়াহাবি ভাবধারায় প্রভাবিত হয়েছিলেন। 
–  ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
–  ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি মনোযোগী করে তাদের শক্তি জাগিয়ে তোলা।
–  ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দের শরিয়ত উল্লাহ মুত্যুবরণ করেন। 
- তার মৃত্যুর পর ফরায়েজিদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র মুহসীন উদ্দিন দুদু মিয়া। 
– ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে ‍রুপ দেন- দুদু মিয়া

 তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৩.
কত তারিখে 'দ্বাদশ জাতীয় সংসদ' বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়?
  1. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৭ আগস্ট, ২০২৪
  4. ৮ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ:
- বাংলাদেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- ২৮টি রাজনৈতিক দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে।
- দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২২৪টিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।
- ক্ষমতাসীনদের পর সবচেয়ে বেশি জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২টি আসনে।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন ১০ জানুয়ারি, ২০২৪।

উল্লেখ্য,
⇒ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা:
- রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন।
- রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
৫৪৪.
আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের কততম সম্মেলনে দলটির নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়?
  1. দ্বিতীয় সম্মেলন
  2. তৃতীয় সম্মেলন
  3. চতুর্থ সম্মেলন
  4. পঞ্চম সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটিতে,
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ১৯৫৩ সালের ১৪-১৬ নভেম্বর আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ সেপ্টেম্বর দলটির তৃতীয় সম্মেলনে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-২০ মার্চ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু সভাপতি নির্বাচিত হন সভাপতি নির্বাচিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ট্রিবিউন)
৫৪৫.
একটি রাজনৈতিক দল মূলত কাদের মধ্যে 'সেতুবন্ধন' হিসেবে কাজ করে?
  1. শুধুমাত্র বিভিন্ন ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে
  2. বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে
  3. জনগণ ও সরকার
  4. শুধুমাত্র সেনাবাহিনী ও আমলাতন্ত্রের মধ্যে
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে।
- সমমতাদর্শে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।

এছাড়াও, 
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল মাত্রই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- প্রত্যেক দল সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সাধনে আত্মনিয়োগ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪৬.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কে ছিলেন?
  1. মাহমুদুল হক ওসমানী
  2. মোজাফফর আহমেদ
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. মশিউর রহমান যাদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ):
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

এছাড়াও,
ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র নীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪৭.
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯৯১
  2. ১৯৯০
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
• সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন:
- বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল পাকিস্তানি সামরিক-আমলাতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দৃঢ় প্রতিরোধের মাধ্যমে।
- এই প্রতিরোধের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ,  যার মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
- তবে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সময়কালে দেশে সামরিক শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়।

- তবে বাঙালি জনগণ কখনোই গণতন্ত্রহীনতাকে মেনে নেয়নি। তারা পূর্বের ঐতিহ্য অনুযায়ী বারবার আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। এই রাজনৈতিক সচেতনতা এবং গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতাই ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যার মাধ্যমে সামরিক শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে পুনরায় সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হয়।

- আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও সে সময় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। স্নায়ুযুদ্ধের অবসান, সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার পতন এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশে সামরিক শাসনের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী-উদারনৈতিক গণতন্ত্রের প্রতি একটি প্রবণতা তৈরি হয়। বাংলাদেশও এই পরিবর্তনের প্রভাব থেকে বাদ যায়নি।

- ১৯৯০ সালের আন্দোলনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক বিরল ঐকমত্য দেখা যায়। ডান, বাম ও ধর্মভিত্তিক দলগুলো একমত হয় যে, একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনই হবে সামরিক শাসনের শান্তিপূর্ণ পরিসমাপ্তির একমাত্র পথ।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে দেশে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে দেশে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ১৯৯৬ সালের নির্বাচন ছিল বিতর্কিত, তবে এই সংসদেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে সংযোজিত হয়, যা ছিল গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে
  2. কোন দলীয় সংগঠন নেই
  3. রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ করা
  4. নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়।
- সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৯.
নূন্যতম সদস্য উপস্থিত না থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন?
  1. ৪৫ জন
  2. ৫০ জন
  3. ৬০ জন
  4. ৯০ জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- জাতীয় সংসদ  গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৫০.
'বাকশাল' কবে গঠন করা হয়?
  1. ২৪ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  2. ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।

⇒ ১৯৭৪ সালের জুন মাসে জাসদ 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নামে একটি সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে একটি সেল গঠন করে।
- এসকল কারণে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল সমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান বিঘ্নিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কি?
  1. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  2. ব্যাক্তি স্বার্থ উদ্ধার
  3. গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ, সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী প্রভৃতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার।

- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫৫২.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে- 
  1. গণমাধ্যম
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. রাজনৈতিক দল
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা

• জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক দল:
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল রাজনৈতিক দল।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য কাজ।
- প্রতিটি দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে। 
- সমমতাদর্শে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল মাত্রই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- প্রত্যেক দল সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সাধনে আত্মনিয়োগ করে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।

৫৫৩.
'Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনুস
  2. ফজলে হাসান আবেদ
  3. ড. কুদরত-ই-খুদা
  4. অমর্ত্য সেন
ব্যাখ্যা
অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন বিশ্বখ্যাত ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক, যিনি কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য নিরসন, এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
- তিনি 1998 সালে এশিয়ার প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে  অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- অমর্ত্য সেনকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় তাঁর কল্যাণমূলক অর্থনীতি, দারিদ্র্য বিশ্লেষণ, এবং সামাজিক ন্যায়বিচার সংক্রান্ত গবেষণার জন্য।
- বিশেষভাবে, তিনি দারিদ্র্য পরিমাপের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন এবং দেখান যে দুর্ভিক্ষ কেবল খাদ্যের অভাবের কারণে ঘটে না, বরং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণেও ঘটে।
- গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ: Development as Freedom, The Idea of Justice, Poverty and Famines: An Essay on Entitlement and Deprivation।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৫৫৪.
বর্তমান আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম নাম ছিলো -
  1. ক) আওয়ামী জাতীয় লীগ
  2. খ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তান সতন্ত্র জোট
  4. ঘ) আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয় ১৯৫৫ সালে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ:
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামসুল হক ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর - রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৫.
বঙ্গবন্ধু'র শাসনামলে বিশ্বের কতটি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দান করে?
  1. ক) ৭৬ টি
  2. খ) ১১২ টি
  3. গ) ১৩০ টি
  4. ঘ) ১৪২ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর প্রথম ভুটান ও ভারত ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এরপর বঙ্গবন্ধু শাসনামলে ১৩০ টি রাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪ টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৫৬.
বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার শততম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন? 
  1. আব্দুর রাজ্জাক
  2. মুমিনুল হক
  3. নাজমুল হোসেন শান্ত
  4. মুশফিকুর রহিম
ব্যাখ্যা

শততম টেস্ট ম্যাচ:
- মুশফিকুর রহিম শততম ম্যাচ খেলেছেন।

- মুশফিকুর রহিম ১১তম খেলোয়াড় হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি অর্জন করেন।
- বিপক্ষ দল: আয়ারল্যান্ড।
- ভেন্যু: মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম।
- সময়: ২০ নভেম্বর, ২০২৫।
- মুশফিক প্রথম ইনিংসে করেছিলেন ১০৬ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন অপরাজিত ৫৩ রান।
- সব মিলিয়ে শততম টেস্টে অন্তত এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের সংখ্যা এখন ১১ জন।
- এদের মধ্যে মুশফিকসহ মাত্র চারজন ব্যাটার দুই ইনিংসেই ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন।

• শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করা বাকি সাত ব্যাটার:
- রিকি পন্টিং, ইনজামাম উল হক, জো রু,ট  কলিন কাউড্রি, জাভেদ মিঁয়াদাদ, গর্ডন গ্রিনিজ, অ্যালেক স্টুয়ার্ট, গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা ও ডেভিড ওয়ার্নার।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।

৫৫৭.
রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস কে?
  1. ক) জনগণ
  2. খ) আমলা
  3. গ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. ঘ) রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়।
- সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম। 
- রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে নেতারা জনমত গঠন করেন।
- জনগণ রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার উৎস।
- জনগণ যাতে রাষ্ট্রীয় কার্যে অংশগ্রহণ করতে পারে সেদিকে নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- সাধারণ নাগরিকেরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যদি অংশগ্রহণ করে তাহলে সে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুশাসন ব্যতীত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভবপর নয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৮.
লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল-
  1. ধর্মনিরপেক্ষতা
  2. দ্বিজাতি তত্ত্ব
  3. দেশপ্রম
  4. জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ পাঞ্জাবের লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বার্থ সম্বলিত একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে সভায় প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক "লাহোর প্রস্তাব" বা "পাকিস্তান প্রস্তাব" নামে অভিহিত।
• লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য বা বৈশিষ্ট্য :
- ভৌগোলিক দিক থেকে সংলগ্ন এলাকাগুলোকে পৃথক অঞ্চল বলে গণ্য করতে হবে।
- এ সকল অঞ্চলের ভৌগোলিক সীমানা প্রয়োজন মত পরিবর্তন করে ভারতবর্ষের উত্তরপশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের যে সকল স্থানে মুসলমানেরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সেখানে 'স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো' (Independent States) প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
- এ সমস্ত স্বাধীন রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হবে সার্বভৌম ও স্বায়ত্তশাসিত।
- ভারতের ও নবগঠিত মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক, শাসনতান্ত্রিক ও অন্যান্য অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা করা হবে।
- দেশের যে-কোনো ভবিষ্যৎ শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনায় উক্ত বিষয়গুলোকে মৌলিক নীতি হিসাবে গ্রহণ করতে হবে।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

উৎস: এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৯.
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি -
  1. ক) আতাউর রহমান খান
  2. খ) আলী আমজাদ খান
  3. গ) ইয়ার মোহাম্মদ খান
  4. ঘ) আবদুস সালাম খান
ব্যাখ্যা
▪ ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন কাজী বশিরের স্বামীবাগস্থ বাসভবন "রোজ গার্ডেন" এ অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে "পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ" গঠিত হয়।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি
▪ সভাপতি - মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
▪ সহ-সভাপতি - আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আহমেদ আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান
▪ সাধারণ সম্পাদক  - শামসুল হক
▪ ট্রেজারার - ইয়ার মোহাম্মদ খান (যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়।)
▪ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাগারে আটক ছিলেন),খন্দকার মোশতাক আহমদ,এ.কে রফিকুল হোসেন (খায়ের মিয়া)
▪ আওয়ামী মুসলিম লীগ একটি অসাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হওয়ার অভিপ্রায়ে আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়।
▪ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শেখ মুজিবুর রহমান।
▪ ১৯৫৫ সালের ২১ - ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার সদরঘাটের রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী মুসলিম লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
▪ ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
▪ ফলে ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের লোক আওয়ামী লীগে যোগদানের মধ্য দিয়ে এটি একটি সেকুলার ও সর্বজনীন রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬০.
কোন ধরণের শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে?
  1. ক) গণতন্ত্রে
  2. খ) একনায়কতন্ত্রে
  3. গ) সমাজতন্ত্র
  4. ঘ) অভিজাততন্ত্র
ব্যাখ্যা
একনায়কতন্ত্র শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিনষ্ট হওয়ার সুযোগ থাকে। 

- একনায়কতন্ত্র হচ্ছে একটি স্বেচ্ছাচারী শাসনব্যবস্থা। 
- একনায়কতন্ত্র হল একটি অতি প্রাচীন রাষ্ট্রনৈতিক মতবাদ।
- তত্ত্বগতভাবে একনায়কতন্ত্র হল গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত শাসনব্যবস্থা।
- প্রাচীনকালে গ্রীস ও রোমের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মধ্যে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।
- তবে একনায়কতন্ত্র সম্বন্ধে বর্তমান ধারণা ভিন্ন ধরনের।
- সাধারণত একনায়কতন্ত্রকে সামরিক, সাম্যবাদী এবং ফ্যাসিবাদী বা নাৎসীবাদী—মূলত এই তিনটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা হয়ে থাকে।

সূত্র- গণতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র অধ্যায়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫৬১.
নিচের কোনটি বিরোধী দলের কাজ নয়?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. সরকার গঠন
  3. গণতন্ত্র রক্ষা
  4. অধিকার বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা

- সরকার গঠন বিরোধী দলের কাজ নয়।

• বিরোধী দলের কাজ:
১) গঠনমূলক সমালোচনা: বিরোধী দল সরকারকে সুপরিকল্পিত সমালোচনার মাধ্যমে জনসাধারণের সামনে সরকারের ত্রুটি তুলে ধরে।
২) অধিকার বাস্তবায়ন: জনগণের অধিকার রক্ষায় বিরোধী দল সরকারের কোনো ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত ঠেকাতে সচেষ্ট থাকে।
৩) গণতন্ত্র রক্ষা: বিরোধী দল গণতান্ত্রিক মতবিনিময় নিশ্চিত করে এবং সরকারের স্বৈরাচারী হওয়ার সুযোগ কমায়।
৪) প্রার্থী মনোনয়ন: নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজের আদর্শ অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন ও সমর্থন দেয়।
৫) রাজনৈতিক সংযোগ সাধন: বিরোধী দল জনগণের দাবি ও মতামত সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়।
৬) রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ: বিরোধী দল জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রিত করে এবং ভোটের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে।
৭) জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ও নীতির জন্য বিরোধী দল মন্ত্রীদের আইনসভার কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬২.
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি'র সভাপতি -
  1. ক) শেখ হাসিনা, এমপি
  2. খ) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি
  3. গ) বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম
  4. ঘ) অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ
ব্যাখ্যা

জাতীয় পার্টি (জেপি)'র চেয়ারম্যান - আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এমপি
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি - বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, বীর উত্তম
বাংলাদেশ আওয়ামিলীগের সভানেত্রী - শেখ হাসিনা, এমপি
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি'র সভাপতি - অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন

৫৬৩.
রাজা রামমোহন রায়ের 'গোস্বামীর সহিত বিচার' বইটি মূলত কোন বিষয়ের উপর লেখা?
  1. বিধবা বিবাহ প্রথার প্রচলন
  2. সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা
  3. সমাজে নারী অধিকার ও বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান।
 
সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
এগুলো হলো - 
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬৪.
কোন রাজনৈতিক দলটি সবার আগে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) সিপিপি
  2. খ) আওয়ামী লীগ
  3. গ) কৃষক প্রজা পার্টি
  4. ঘ) ন্যাপ
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৫ সালে ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠন করেন। তিনি অপরাপর কৃষক উপদলগুলোকে তার দলে নিয়ে আসতে সক্ষম হন।
- ১৯৪৮  সালে কমিউনিস্ট পার্টি  ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই) দ্বিতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিপি) গঠিত হয়।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। 
৫৬৫.
’নারিকেলবাড়িয়ায়’ বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. তিতুমীর
  3. মঈনুদ্দিন
  4. সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা

তিতুমীর:
- তিতুমীর ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন।
- অচিরেই মুজাহিদদের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে উপনীত হয়।
- সামরিক প্রস্ত্ততি সম্পন্ন করে তিতুমীর নিজেকে ‘বাদশাহ’ বলে ঘোষণা দেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী,
- ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- মুজাহিদগণ সাবেকি ধরনের স্থানীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আধুনিক অস্ত্র সজ্জিত ইংরেজ বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়ে বাঁশের কেল্লায় আশ্রয় নেয়।
- ইংরেজরা কামানে গোলাবর্ষণ করে কেল্লা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত করে দেয়।
- বহুসংখ্যক অনুসারিসহ তিতুমীর যুদ্ধে শহীদ হন (১৯ নভেম্বর ১৮৩১)।

অন্যদিকে,
- রবার্ট ক্লাইভ ভারত উপমহাদেশে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের সূচনা করেন।
- সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন শুরু হয়।
 
 উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৬৬.
বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ক) ১৬ বছর
  2. খ) ১৮ বছর
  3. গ) ২০ বছর
  4. ঘ) ২১ বছর
ব্যাখ্যা
সপ্তম ভাগ: নির্বাচন
অনুচ্ছেদ-১২২: ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা
(১) প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।  
(২) কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি 
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন; 
(খ) তাঁহার বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁহার সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা বহাল না থাকিয়া থাকে; 
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং  
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হইয়া থাকেন। 

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
৫৬৭.
কত সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৫৬৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করা
  2. কোনো দলীয় সংগঠন না থাকা
  3. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
  4. দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।

♦ চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:

⇒ দলীয় সংগঠনবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই। এদের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক ক্ষমতা গ্রহণ নয়। সরকারের উপরে চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের স্বার্থ বা দাবি আদায় করা হচ্ছে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষণ।

⇒ দলীয় কর্মসূচিবিহীন: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই। এটি নির্দলীয় সংগঠন। এরা শুধু গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের জন্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে।

⇒ নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া: চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না। তবে অনেক সময় তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অর্থ কিংবা জনবল দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে। এছাড়াও কোন কোন দেশে চাপসৃষ্টিকারী কোন কোন গোষ্ঠীকে পছন্দের দলের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিতে দেখা যায়।

⇒ সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে সরকারের কোন পদে অধিষ্ঠিত হতে চায় না। বরং নানাভাবে সরকারি নীতিকে নিজেদের অনুকূলে আনার জন্য প্রচেষ্টা চালায়।

⇒ সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়: চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৬৯.
Who is the proponent of the Bengal Pact?
  1. Pandit Motilal Nehru
  2. Fazlul Haque
  3. Abdul Latif
  4. Chittaranjan Das
  5. Subhas Chandra Bose
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশ সাধারণ্যে দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত।

⇒ তিনি বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অরবিন্দ ঘোষের সহকর্মী হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-কে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকান্ড বিস্তৃত করতে সদ্ব্যবহার করেন।
- ১৯১৭ সালে ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলার প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
- তিনি ব্যাঙ্গল প্যাক্ট এর প্রবক্তা।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি সব সময় ব্রিটিশবিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৭০.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫৭১.
একাদশ জাতীয় সংসদে মোট স্থায়ী কমিটির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩৯টি
  2. খ) ৪৮টি
  3. গ) ৫০টি
  4. ঘ) ৫১টি
ব্যাখ্যা
- বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৫০টি।
- এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৩৯টি।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
৫৭২.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. আমার বাংলাদেশ পার্টি
  2. গণ অধিকার পরিষদ
  3. বাংলাদেশ গণতন্ত্রী পার্টি
  4. জাতীয় নাগরিক পার্টি
ব্যাখ্যা
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন':
- জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’।
- তরুণদের নতুন এই দলের নামের ইংরেজি রূপ ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (এনসিপি)।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- দেশের প্রথম নিবন্ধিত দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
- ২০০৮ সালের ২০ অক্টোবর নিবন্ধন পায় দলটি। দলটির নির্বাচনী প্রতীক 'ছাতা'।
- যেকোনো দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলে নির্বাচন কমিশন বরাবর দরখাস্ত ও যথাযথ দালিলাদি পদান সাপেক্ষে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবে।
- বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। (জুন ২০২৫)
- বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) (ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)
- দলটির প্রতীক রকেট।

উৎস: বিবিসি বাংলা।
৫৭৩.
জেল হত্যা দিবসে নিম্নের কাকে হত্যা করা হয়নি?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
জেল হত্যা দিবস: 
- প্রতি বছর ৩ নভেম্বর বাংলাদেশে জেল হত্যা দিবস পালিত হয়। 
- ১৯৭৫ সালের এই দিনে চার জাতীয় নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়: 
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম (অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, মুজিবনগর সরকার)
• তাজউদ্দিন আহমদ (প্রধানমন্ত্রী, মুজিবনগর সরকার)
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
• এ এইচ এম কামরুজ্জামান

- রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জড়িত সেনা কর্মকর্তারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
- এই পরিস্থিতিতে চার শীর্ষ নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন ও পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।
- খন্দকার মোশতাক ও বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী সেনা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করেছিলেন যে, এই চার নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনরায় সংগঠিত হলে তাদের শাসন দীর্ঘস্থায়ী হবে না।
- তাদের প্রভাব এবং অভিজ্ঞতাকে ধ্বংস করার জন্যই কারাগারের ভেতরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
- হত্যার দিনেই দেশে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, যার নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশারফ।

উৎস: বিবিসি বাংলা (৩ নভেম্বর ২০১৭)
৫৭৪.
নিম্নলিখিতদের মধ্যে কে বিধবা বিবাহের প্রচলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. জ্যোতিরাও ফুলে
  2. ই. ভি. রামাস্বামী নাইকার
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- কোলকাতায় সংস্কৃতি কলেজে অধ্যয়নকালে তার অগাধ পান্ডিত্য ও মেধার স্বীকৃতি স্বরুপ শিক্ষক মন্ডলী তাঁকে বিদ্যাসাগর উপাধিতে ভূষিত করেন। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাগরের অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি হিন্দু সমাজের বিভিন্ন স্তরের ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন। 
- লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
 
উল্লেখ্য,
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।
 
উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৫.
‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’ বইটির রচয়িতা কে?
  1. মোঃ শাহাবুদ্দিন
  2. ড. মোহাম্মদ ইউনুস
  3. শেখ হাসিনা
  4. সোহরাব হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেবল সফলভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন না; রান্না, সংগীত ও বই পড়ার প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এছাড়াও তিনি রাষ্ট্রপরিচালনার ফাঁকে উল্লেখযোগ্য ১০টি গ্রন্থও লিখেছেন।

তার লিখিত গ্রন্থগুলো হলো-
• শেখ মুজিব আমার পিতা
• ওরা টোকাই কেন?
বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম
• দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা
• আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
• আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি
• সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র
• সাদা কালো
• সবুজ মাঠ পেরিয়ে
• ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ (two volumes)।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরও বেশ কয়েকটি রচিত গ্রন্থ রয়েছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও রকমারি ডট কম।  
৫৭৬.
রাষ্ট্রের 'বিকল্প সরকার' হিসেবে কাজ করে কে?
  1. বিরোধী দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. সরকারি দল
  4. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ
ব্যাখ্যা

বিকল্প সরকারঃ 
- 'বিকল্প সরকার' হিসেবে কাজ করে বিরোধী দল। 
- 'বিকল্প সরকার' বলতে বোঝানো হয় এমন একটি রাজনৈতিক দল বা জোট, যারা বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে বা পরবর্তী নির্বাচনে হারলে সেই সরকারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই” উক্তিটি করেন জন স্টুয়ার্ট মিল।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

• বিরোধী দলের ভূমিকা:
- গঠনমূলক সমালোচনা।
- অধিকার বাস্তবায়ন।
- গণতন্ত্র রক্ষা।
- বিকল্প নীতি উত্থাপন।
- সমস্যা চিহ্নিত করা।
- জনমত গঠন।
- প্রার্থী মনোনয়ন।
- পারস্পরিক সম্পর্ক।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
 - রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ।
- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৭৭.
রাজা রামমোহন রায় কবে 'ঈশ্বরের সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৮২২ সালে
  2. ১৮২৮ সালে
  3. ১৮৩০ সালে
  4. ১৮৩৩ সালে
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়ঃ
- পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২শে মে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- মনযারাতুল্ আদিয়ান শীর্ষক তাঁর প্রথম গবেষণামূলক গ্রন্থটি বিভিন্ন ধর্মের আলোচনায় নিবেদিত। 
- তিনি সতীদাহের মতো কুপ্রথার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে সক্ষম হন, যা ১৮২৯ সালে বিশেষ আইনের মাধ্যমে এ প্রথা বন্ধ করতে সরকারকে প্রভাবিত করে।
- ১৮২১ সালে রামমোহন সম্বাদ কৌমুদী নামে বাংলা সংবাদপত্র ও ১৮২২ সালে মিরাত-উল-আখবার নামে ফারসি সংবাদপত্র প্রকাশ করেন।
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩০ সালে খেতাবসর্বস্ব মুগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবর (১৮০৬-১৮৩৭) রামমোহন রায়কে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন 
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া। 

৫৭৮.
বিরোধী দলের কাজ কোনটি?
  1. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  2. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  3. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৭৯.
আয়তনে বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ কোনটি?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) সিলেট
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৮ টি বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ। এর আয়তন ১০৬৬৯ বর্গ কিমি। আয়তনে সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম (৩৩৯০৯ বর্গ কিমি)। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় বিভাগ ঢাকা এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ। সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে (১৩ টি)। সবচেয়ে কম চারটি করে জেলা রয়েছে (সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে)। (সূত্রঃ স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)
৫৮০.
সত্তরের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট কয়টি আসনে জয়ী হয়?
  1. ক) ১৬২টি
  2. খ) ১৮৮টি
  3. গ) ২৮৮টি
  4. ঘ) ১৬৭টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট ১৬৯টি আসন ছিল।
- এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন ছিল ৭টি।
- আওয়ামী লীগ ১৬০টি সাধারণ আসন ও ৭টি মহিলা সংরক্ষিত আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- একটি ময়মনসিংহে ও অপরটি রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮১.
'মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1.  হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  2. শহীদ তিতুমীর
  3. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

নওয়াব আবদুল লতিফ:
- ১৮২৮ সনে ফরিদপুর জেলার রাজাপুরে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- মাত্র উনিশ বছর বয়সে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন। 
- তিনিই প্রথম সরকারি আমলা যিনি নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে নীল চাষীদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন। 
- ভুপালের নবাবের দরবারেও কিছুকাল প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
- নওয়াব আবদুল লতিফ মুসলমানদের শিক্ষিত করতে ১৮৬৭ সালে মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি স্থাপন করেন।
- বাংলার মুসলিম সমাজে একটি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী হিসেবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তার অবদান গুরুত্বপূণ।
- ১৮৯৩ সালের ১০ জুলাই নওয়াব আবদুল লতিফের জীবনাবসান হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৫৮২.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কারণ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে
  2. রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন না পেলে
  3. জামানাত বাতিল হলে
  4. উপরের সবকটি
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কারণ:
• কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৫৮৩.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কখন?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
• ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়। তাদের বিচারের আওতায় আনা যাবে না মর্মে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১২ নভেম্বর ১৯৯৬ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া
৫৮৪.
‘ভারতে রাজভক্ত মুসলমান’ বইয়ের রচয়িতা কে?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আহমদ খান:
- সিপাহী বিদ্রোহের জন্য ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এককভাবে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
- ভারতীয় মুসলমানদের দুর্দশা সৈয়দ আহমদ খানকে ব্যথিত করে।
- এমতাবস্থায় সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তিনি ‘ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ এবং ‘ভারতের রাজভক্ত মুসলমান' নামক দুটি বই রচনা করেন।
- তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সিপাহী বিদ্রোহের জন্য মুসলমানরা দায়ী ছিল না।
- বরং বিদ্রোহকালে অধিকাংশ মুসলমান ইংরেজদের পক্ষে ছিল।
- তাঁর যৌক্তিক আলোচনায় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- উল্লেখ্য যে, সৈয়দ আহমদ খান নিজে ইংরেজ অনুগত ছিলেন।
- তিনি ভারতের মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদেরকেও ইংরেজ অনুগত হওয়ার এবং তাদের সহযোগিতা করার উপদেশ দেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৫.
হুসেইন মো. এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন-
  1. ক) ১২ জুন ১৯৮২
  2. খ) ৬ ডিসেম্বর ১৯৮২
  3. গ) ২৪ মার্চ ১৯৮২
  4. ঘ) ১৮ অক্টোবর ১৯৮১
ব্যাখ্যা
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারকে সরিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেন।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি ক্ষমতা থেকে সরে দাড়ান।
- তিনি প্রায় ৯ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় ছিলেন।
- এরশাদ ১৪ জুলাই ২০১৯ মারা যান।

সূত্র- বিবিসি বাংলা।
৫৮৬.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার সামরিক আইন জারি করা হয়েছে?
  1. ক) ১ বার
  2. খ) ২ বার
  3. গ) ৩ বার
  4. ঘ) ৪ বার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ২ বার সামরিক আইন জারি করা হয়।
- প্রথমবার খন্দকার মোশতাক কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট।
- দ্বিতীয়বার ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ কর্তৃক সামরিক আইন জারি করা হয়।

৫৮৭.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- একটি সরকারের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় থেকে নতুন একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ববর্তী সময়ে রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনায় নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।

- বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় ৪ বার।
- যথা: ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮।

এছাড়াও,
- ২২ জানুয়ারি, ২০০৭ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধার্য্য হলে দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- ১ জানুয়ারি ২০০৭ রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন।
- ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়।
- এ সরকার ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ ঘোষণা করে।
- ৩ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করে।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৮.
ইউনিয়ন পরিষদের মোট সদস্য-
  1. ক) ২৫ জন
  2. খ) ২১ জন
  3. গ) ১৮ জন
  4. ঘ) ১৩ জন
ব্যাখ্যা
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় ১ জন চেয়ারম্যান, ৯ জন নির্বাচিত সদস্য এবং ৩ জন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত মহিলা সদস্য নিয়ে। 
- অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫৮৯.
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের পুরো নাম কী?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. আবুল কালাম ফজলুল হক
  3. আবদুল কালাম ফজলুল হক
  4. আবদুল কাশেম ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• এ কে  ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তার পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫), অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪), পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে ‘শেরে বাংলা’ বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৯০.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে-
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. দাতাগোষ্ঠী
  3. বেসামরিক আমলাতন্ত্র
  4. সংসদীয় বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদে বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত মন্ত্রিসভা ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ নামে পরিচিত।
- সরকারি দল ও মন্ত্রিসভাকে চাপে রাখার জন্যে বিরোধী দল কর্তৃক ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- সরকারের মন্ত্রিসভার আদলে বিরোধী দলের বিভিন্ন সাংসদের সমন্বয়ে ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠন করা হয়।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
৫৯১.
কোনটি সিভিল সোসাইটির অংশ?
  1. ক) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ
  2. খ) দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. গ) ক্যাবিনেট
  4. ঘ) সাংসদ
ব্যাখ্যা
সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ইত্যাদি সিভিল সোসাইটির অন্তর্ভুক্ত। সিভিল সোসাইটি বা সুশীল সমাজ হলো রাষ্ট্রের চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। এরা সরকারের অংশ নয় তবে সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রভাব রাখে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি বাংলাদেশের একটি আলোচিত বেসরকারি সংস্থা যা সিভিল সোসাইটি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
৫৯২.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে-
  1. স্বাধীনতা নেই
  2. গণতন্ত্র নেই
  3. সরকার নেই
  4. ন্যায়বিচার নেই
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল: 
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৩.
ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন-
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. লর্ড বেন্টিঙ্ক
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড কর্ণওয়ালিস
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।
⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।
অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়মএর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৪.
কীসের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে?
  1. আমলাতন্ত্র
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিরোধী দল
  4. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্টী
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র রক্ষা: 
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। 
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। 
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। 
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। 
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৯৫.
বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে গণভোট:
- রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য যে প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহন করা হয় তাকে গণভোট বা Referendum বলা হয়।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে ৩ বার।
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ (প্রশাসনিক)।
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই (প্রশাসনিক)।
- তৃতীয় গণভোট - ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ (একমাত্র সাংবিধানিক )।
- সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে গনভোটের বিধান আওতাভুক্ত করা হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট ।
৫৯৬.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত নয় কোনটি?
  1. অংশগ্রহণকৃত আসনে কমপক্ষে ৫% ভোট পেতে হবে।
  2. দেশের সকল জেলায় অফিস থাকতে হবে।
  3. স্বাধীনতার পর থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যেকোনো একটি আসনে জয়লাভ।
  4. কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের শর্ত:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে।
- আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও BBC.
৫৯৭.
’বেঙ্গল প্যাক্ট’ চুক্তি সম্পাদনে উদ্যোগ নেয় কে?
  1. পন্ডিত মতিলাল নেহেরু
  2. মহাত্মা গান্ধী
  3. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ
  4. সুভাস চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩: 
- চিত্তরঞ্জন দাশ স্বরাজ অর্জনের জন্য আন্দোলনকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পথ মনে করেন।
- গান্ধীজীর ন্যায় তিনিও অহিংস পন্থায় স্বদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পক্ষপাতী ছিলেন।
- জাতীয়তাবাদকে চিত্তরঞ্জন দাশ বিশ্ব শান্তির সোপান মনে করতেন।
- জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই তিনি স্বরাজ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।
- চিত্তরঞ্জন দাশ ১৯২৩ সালে মুসলমান সম্প্রদায়ের সাথে একটি চুক্তি করেন, যা 'বেঙ্গল প্যাক্ট' নামে পরিচিত।
- 'বেঙ্গল প্যাক্ট' এ সরকারি চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
- যতদিন মুসলমানরা ৫৫ শতাংশে না পৌঁছায়, ততদিন পর্যন্ত মোট সরকারি চাকুরির ৮০ ভাগ মুসলমানদের জন্য সংরক্ষণের কথা বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ স্বদেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যকে নিগূঢ়ভাবে ভালবেসেছেন।
- তিনি ছিলেন একজন বিশুদ্ধ বাঙালি।
- স্বরাজ পার্টি গঠন, বেঙ্গল প্যাক্ট এর মত উদ্যোগগুলি নিয়ে এ জনপদের রাজনীতিকে অসাম্প্রদায়িক ধারায় প্রবাহিত করতে সচেষ্ট হন চিত্তরঞ্জন দাশ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৯৮.
বাংলাদেশে তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে? 
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে তৃতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯১ সালে।

বাংলাদেশে গণভোট:

- রাষ্ট্রের কোন গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে জনমত যাচাই করার জন্য যে প্রত্যক্ষ ভোট গ্রহন করা হয় তাকে গণভোেট বা Referendum বলা হয়।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত গণভোট হয়েছে ৩ বার।
- বাংলাদেশের প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের নিজ শাসনকে বৈধকরণ (প্রশাসনিক)।
- দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৫ সালের ১ মার্চ এরশাদের সমর্থন যাচাই (প্রশাসনিক)।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।
- এরপর পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে বিল পাস হয়।
- সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর ওই বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবেন কি না, তা নির্ধারণে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৩৫ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ ভোটার 'হ্যাঁ' ভোট দিয়ে সংসদীয় প্রজাতন্ত্রকে সমর্থন করেন।
- অন্যদিকে ১৫ দশমিক ৬২ শতাংশ ভোটার 'না' ভোট দেন।

উৎস: ¡)বাংলাদেশ আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
         ¡¡)ডেইলি স্টার বাংলা।লিঙ্ক

৫৯৯.
নিম্নোক্ত কোনটির উপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে?
  1. নীতি ও মতের ভিত্তিতে
  2. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  3. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০০.
জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) কখন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে?
  1. ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
  2. ১৫ জানুয়ারি ২০২৫
  3. ১ মার্চ ২০২৫
  4. ২৫ ডিসেম্বর ২০২৪
ব্যাখ্যা

National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।