বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৪০১৫০০ / ১,২৯৫

৪০১.
ঐতিহাসিক ছয় দফাকে কিসের সাথে তুলনা করা হয়?
  1. ক) বিল অব রাইটস
  2. খ) ম্যাগনাকার্টা
  3. গ) পিটিশন অব রাইটস
  4. ঘ) মুখ্য আইন
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
–পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব বংলার জনগণকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- এই কর্মসূচীকে বাংলার জনগণ ম্যাগনাকার্টা হিসেবে গ্রহণ করে।
- স্বয়ং বঙ্গবন্ধু ছয় দফাকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি বলে অবিহিত করেছেন।

দফা নিম্নরুপ: 
১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি
হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো
হবে সার্বভৌম।
২. শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩. দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই
দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪. আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ
কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।
৫. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা
সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬. অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (SSC Programme ) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০২.
এখন পর্যন্ত (২০২৪) শেখ হাসিনা টানা কতবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন?
  1. ৩ বার
  2. ৪ বার
  3. ৫ বার
  4. ৬ বার
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা:
 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা।
- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- ছাত্রজীবন থেকেই শেখ হাসিনা সকল গণআন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান।
- ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
- ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
- তিনি এখন পর্যন্ত (২০২৪) ৫ বার প্রধানমন্ত্রী ও ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- এখন পর্যন্ত (২০২৪) শেখ হাসিনা টানা ৪ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
- ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
 
তথ্যসূত্র - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক যুগান্তর।
৪০৩.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী' হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. এলান হটার
  2. আলমন্ড পাওয়াল
  3. এলান পটার
  4. মাইরন উহনার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেনি এবং  এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৪.
'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৮৫০  খ্রিস্টাব্দে 
  2. খ) ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে 
  3. গ) ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে খান বাহাদুর পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- তাঁর প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখার সুযোগ পায়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০৫.
ন্যাপের প্রথম সাধারণ সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মওলানা ভাসানী
  3. খালেদ মাহমুদ
  4. মাহমুদুল হক ওসমানী
ব্যাখ্যা

• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)  বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে  আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।
- ন্যাপের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪০৬.
গণতন্ত্রে বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করে কেন?
  1. ক) ব্যবসায়িক সুবিধা নিতে
  2. খ) ভয়-ভীতির কারণে
  3. গ) জনমত গঠনের জন্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
▪ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
▪ সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
▪ বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে। 
▪ রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
▪ বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবতীর্ নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।
৪০৭.
এ.কে. ফজলুল হক কত সালে 'শেরে বাংলা' উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন?
  1. ১৯৩৭ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৯ সালে
  4. ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- একে ফজলুল হকের পুরো নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- ্তিনি ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- তিনি বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪০৮.
ভারতবর্ষে প্রথম প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ক) নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  2. খ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. গ) ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি
  4. ঘ) ভারতীয় জনতা পার্টি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম প্রতিষ্ঠিত সর্বভারতীয় রাজনৈতিক দল হলো ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’৷
এটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
অন্যদিকে,
- মুসলিম লীগ : ১৯০৬ সালে
- ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি : ১৯২৫ সালে
- ভারতীয় জনতা পার্টি : ১৯৮০ সালে।
(সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৪০৯.
হেনরি লুই ডিরোজিও কোন আন্দোলনের প্রবক্তা?
  1. নিউ ক্যালকাটা আন্দোলন
  2. জাগো কলকাতা
  3. ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলন
  4. রিক্লেম দ্য নাইট
ব্যাখ্যা
ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট: 
- হেনরি লুই ডিরোজিও ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি।
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন।
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল।
- তিনি বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা।
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
- তাঁর দূরদৃষ্টি, বাগ্মিতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা তৎকালীন তরুণ সমাজকে ব্যাপক প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৪১০.
জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় কখন?
  1. ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫
  2. ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫
  3. ১ নভেম্বর, ১৯৭৫
  4. ৩ নেভেম্বর, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
জাতীয় চার নেতা:
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে এ দিবস পালন করা হয়।
- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন অনেকটা দিশেহারা, সে সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতাসহ অনেককে বন্দি করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকরত চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

সূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১১.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কয়ভাগে বিভক্ত করেছেন?
  1. ক) চার ভাগে
  2. খ) ছয় ভাগে
  3. গ) তিন ভাগে
  4. ঘ) দুই ভাগে
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: (Pressure Group)
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের
ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে। 
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, “স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।” 

অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন
২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন 
৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
৬। সমজাতীয় মনোভাব
৭। বেসরকারি সংগঠন

রেফারেন্স:  রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী।
৪১২.
রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে কী বলা হয়?
  1. উপ- অধ্যাদেশ
  2. অধ্যাদেশ বিল
  3. আইন
  4. অধ্যাদেশ
ব্যাখ্যা
অধ্যাদেশ -
- রাষ্ট্রপতির জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে। অধ্যাদেশে কোন নির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ না থাকলে রাষ্ট্রপতি যে তারিখে স্বাক্ষর করেন তখন থেকে অধ্যাদেশ কার্যকর হয়।
- রাষ্ট্রপতি কোন বিল পুনর্বিবেচনার জন্যে সংসদে প্রেরণ করলে তা পুনরায় রাষ্ট্রপতির নিকট সম্মতির জন্যে প্রেরিত হলে তাতে রাষ্ট্রপতি ৭ দিনের মধ্যে স্বাক্ষর করতে হয়। অন্যথায় তিনি স্বাক্ষর বা সম্মতি প্রদান করেছেন বলে ধরে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর উক্ত বিল আইনে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ,প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪১৩.
”তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া” কার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিলো?
  1. হাজী শরীয়ত উল্লাহ
  2. আহমেদ সৈয়দ খান
  3. মাওলানা আকরাম খাঁ
  4. মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা

• তিতুমীর:
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- উনিশ শতকে ভারতবর্ষে মুসলমান সমাজে এক ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল।
- বাংলায় তার দুইটি ধারা প্রবহমান ছিল।
- যার একটি ওয়াহাবি বা মুহাম্মদিয়া আন্দোলন, অপরটি ফরায়েজি আন্দোলন নামে খ্যাত।
- উভয় আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার দূর করে মুসলিম সমাজ সংস্কার করা।
- বাংলার ওয়াহাবিরা তিতুমিরের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়েছিল।
- তিতুমিরের নেতৃত্বে পরিচালিত তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া বা ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪১৪.
রাজা রামমোহন রায় কী উদ্দেশ্যে 'আত্মীয় সভা' গঠন করেন?
  1. সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার বৃদ্ধির জন্য
  2. ব্রাহ্মণসেবধি পারস্পারিক সম্পর্ক বৃদ্ধির জন্য
  3. নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের জন্য
  4. জনগণকে নিজের মত চাপিয়ে দেওয়ার জন্য
ব্যাখ্যা
•রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় ছিলেন সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক।
- তিনি আধুনিক ভারতের রূপকার রাজা রামমোহন রায়।
- হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা’ নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্যস প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ২০ আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে প্রস্তাবিত সরকারি সংস্কৃত কলেজের প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
নির্বাচন ব্যবস্থায় 'PR'-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Public Representation
  2. Proportional Representation
  3. Parliamentary Regulation
  4. Public Referendum
ব্যাখ্যা

পিআর নির্বাচন পদ্ধতি (PR):
- নির্বাচন ব্যবস্থায় 'PR'-এর পূর্ণরূপ: Proportional Representation.
- আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর হচ্ছে নির্বাচনি ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আসন বণ্টন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে।
- এ পদ্ধতিতে একটি নির্বাচনে দেওয়া প্রত্যেকটি ভোট কাজে লাগে এবং প্রতিটি ভোট সংসদে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া একটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও হারের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে তাদের আসনও হবে প্রায় ১০% হারে।
- আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার প্রাপ্ত ভোটের হার অনুসারে আসন সংখ্যা পাবে।

⇒ পিআর পদ্ধতির ধরন:
১. মুক্ত তালিকা পদ্ধতি: দলগুলো ভোটের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আসন পায়।
২. বদ্ধ তালিকা পদ্ধতি: দল ঠিক করে দেয় কে হবেন সংসদ সদস্য।
৩. মিশ্র পদ্ধতি: কিছু আসনে প্রতীকভিত্তিক, কিছু আসনে পিআর ভিত্তিতে নির্বাচন হয়।

⇒ বাংলাদেশসহ অনেক দেশে বর্তমানে প্রচলিত ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (FPTP) পদ্ধতিতে যে দল বেশি আসনে জয় পায়, তারা সরকার গঠন করে, ভোটের মোট শতাংশ নয়।
- বর্তমান বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো।

উৎস: BBC.

৪১৬.
রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই কী প্রক্রিয়ায় জড়িত?
  1. সাংস্কৃতিক
  2. সামাজিক
  3. অর্থনৈতিক
  4. রাজনৈতিক 
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী :

- রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারকরূপে রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 
- তবে সংগঠন, সদস্য সংখ্যা, সাংগঠনিক নীতি ও শৃঙ্খলা, কার্য-পরিচালনা পদ্ধতি, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের বিচারে রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সাদৃশ্যের তুলনায় বৈসাদৃশ্যই বেশি লক্ষ্যণীয়।

• সাদৃশ্য:
- রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক।
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত।
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকান্ড আঞ্চলিক অথবা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৭.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. মোহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।
- ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১৮.
পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী যে প্রতিষ্ঠানের প্ৰধান -
  1. ক) জাতীয় পর্যটন পরিষদ
  2. খ) জাতীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পরিষদ
  3. গ) রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি
  4. ঘ) উপরের সবগুলোর
ব্যাখ্যা
উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর সবগুলোই 

পদাধিকার বলে প্রধানমন্ত্রী যেসকল প্রতিষ্ঠানের প্ৰধান:-
- ECNEC, NEC, BEZA, BEPZA।
- জাতীয় মহিলা ও শিশু উন্নয়ন পরিষদ।
- জাতীয় পর্যটন পরিষদ। 
- জাতীয় পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
- রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি।
- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ।
- প্রশাসন সংস্কার ও বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR)।

তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ।
৪১৯.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আদালত
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে। 
- সমমতাদর্শে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল মাত্রই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- প্রত্যেক দল সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সাধনে আত্মনিয়োগ করে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।

৪২০.
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করেন -
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. শামসুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
 
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৪২১.
শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কত সালে?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
শেখ হাসিনা:
- গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
- শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা সে সময় পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় বেঁচে যান।
- ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থেকে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।
- ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষ করে অবশেষে তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন।
- তিনি এখন পর্যন্ত (২০২৪) ৫ বার প্রধানমন্ত্রী ও ৮ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
- এখন পর্যন্ত (২০২৪) শেখ হাসিনা টানা ৪ বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
- ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
 
তথ্যসূত্র - প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক যুগান্তর।
৪২২.
'ব্রাহ্মসমাজ' নিম্নের কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দেবেন্দ্রনাথ
  4. দাদাভাই নওরোজী
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মসমাজ:
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন। 
- 'ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সংস্পর্শে এসে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের প্রচলিত মূর্তি পূজা ও আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন।
- এই সভায় বেদ, উপনিষদ পাঠ করার ব্যবস্থা হয়।

রাজা রামমোহন রায়
:
- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।
- তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২৩.
জন স্টুয়ার্ট মিলের মতে, যেখানে কোনো বিরোধী দল নেই, সেখানে কোনটি অনুপস্থিত থাকে?
  1. স্বাধীনতা
  2. গণতন্ত্র
  3. জবাবদিহিতা
  4. ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা

• বিরোধী দল: 
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪২৪.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. এএইচএম কামারুজ্জামান
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
তাজউদ্দিন আহমদ: 
- তাজউদ্দিন আহমদ (১৯২৫-১৯৭৫) আইনজীবী, রাজনীতিক এবং বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই তাঁর জন্ম।
- তাজউদ্দিন আহমদ ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে কাপাসিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তিনি জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকবাহিনী গণহত্যা শুরু করলে তিনি তাঁর কতিপয় সহকর্মী সহ ঢাকা ত্যাগ করে ভারত গমন করেন।
 ১০ এপ্রিল প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে তিনি এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেন।
- মুক্তিবাহিনীর জন্য অস্ত্র সংগ্রহ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভের ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের পর ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং সদ্য স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- এরপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হলে (১৯৭২) তাজউদ্দিন আহমদ প্রথমে অর্থ এবং পরে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি সংবিধান প্রণয়নে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৪২৫.
প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় কোনটিকে?
  1. আইনসভাকে
  2. সুশীল সমাজকে
  3. বিরোধীদলকে
  4. শাসন বিভাগকে
ব্যাখ্যা
বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪২৬.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ৭ জানুয়ারি
  2. খ) ১০ ফেব্রুয়ারি
  3. গ) ৮ মার্চ
  4. ঘ) ২৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথমবারের মতো সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং বামপন্থী গণতন্ত্রী দল মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে ২৩৭ টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি এবং মুসলিম লীগ ৯ টি আসন লাভ করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও সাহিত্য : নবম-দশম শ্রেণী)
৪২৭.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র কোন ধরনের সংস্থা? 
  1. সরকারী বিচার সংস্থা
  2. মানবাধিকার সংস্থা
  3. সাংস্কৃতিক সংস্থা 
  4. ধর্মীয় বিচার সংস্থা
ব্যাখ্যা

আইন ও সালিশ কেন্দ্র:
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বাংলাদেশের মানবাধিকার এবং আইন সহায়তাকারী বেসরকারি সংস্থা।
- এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে ।
- এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে আসক ঢাকা শহরের সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র নারী, কর্মজীবী শিশু এবং শ্রমিকদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করে।
• এর মূল লক্ষ্য:
- সমানাধিকার,
- গণতন্ত্র,
- মানবাধিকার,
- ন্যায়বিচার এবং
- লিঙ্গভিত্তিক সমতার ভিত্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।

উৎস: আইন ও সালিশ কেন্দ্র ওয়েবসাইট।

৪২৮.
'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত কে?
  1. কামিনী রায়
  2. সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নীলিমা ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
• জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪) ছিলেন একজন বাংলাদেশি কথাসাহিত্যিক এবং শিক্ষাবিদ।
- তিনি 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জাহানারা ইমাম।
- ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি দেশের ১০১ জন বরেণ্য নাগরিক একটি ঘোষণায় স্বাক্ষর করে গঠন করেছিলেন 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'।
- মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, রাজনৈতিক দল ও কর্মিবৃন্দ, দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজ এবং প্রজন্ম '৭১ তাঁর আহবানে এগিয়ে আসেন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর স্মৃতিচারণমূলক তাঁর অসাধারণ ডায়েরি গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪২৯.
কাগমারী সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
কাগমারী সম্মেলন:
- ১৯৫৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় কাগমারী সম্মেলন।
- টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সম্মেলনের আহ্বায়ক ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- কাগমারী সম্মেলন পূর্ব বাংলা তথা আজকের বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক সম্মেলনে রূপ নেয়।

উল্লেখ্য যে,
- কাগমারী সম্মেলনের মাত্র স্বল্প সময়ের মাথায় আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-ন্যাপ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৪৩০.
কার নেতৃত্বে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লায় আক্রমণ চালানো হয়?
  1. কর্নেল স্টুয়ার্ট
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. কর্নেল পাওয়েল
  4. কর্নেল স্টিফেন
ব্যাখ্যা
• তিতুমীর:
- তিতুমীর ১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি (১৪ মাঘ ১১৮২ বঙ্গাব্দ) ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দরপুর) গ্রামে একটি সুন্নী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেখান থেকে এসে (১৮২৭) তিতুমীর তার গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের সাথে নিয়ে জমিদার এবং ব্রিটিশ নীলকদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৮৩১ সালের ২৩শে অক্টোবর বারাসতের কাছে বাদুড়িয়ার ১০ কিলোমিটার দূরে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তারা বাঁশের কেল্লা তৈরি করেন।
 - ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর লে. কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সাথে যুদ্ধে কামানের গোলায় তার বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিনিসহ তার বহু অনুসারী শহিদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩১.
মুসলিম নারী জারণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. বেগম সুফিয়া কামাল
  3. জাহানারা ইমাম
  4. নবাব ফয়জুন্নেসা
ব্যাখ্যা
⇒ মুসলিম নারী জারণের অগ্রদূত বলা হয় বেগম রোকেয়াকে।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩২.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের জন্য কত সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করা হয়েছিল?
  1. ১১০ জন
  2. ১১৫ জন
  3. ১২০ জন
  4. ১২৫ জন
ব্যাখ্যা
বাকশাল: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৩৩.
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন কে প্রদান করে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন প্রদান করে।

- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় ২০০৮ সালে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৪৩৪.
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী মারা যান কবে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে  যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৪৩৫.
How many direct elected seats are in Bangladesh Parliament?
  1. ক) 350
  2. খ) 300
  3. গ) 100
  4. ঘ) 50
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০ (সরাসরি ৩০০ আসন + সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০)।

• প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে প্রতি আসন থেকে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৩রা জুলাই, ২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫ হতে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বোচ্চ আইন পরিষদকে বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘হাউজ অব্ দ্য নেশন’ বলা হয়েছে।

 সূত্র:  জাতীয় সংসদ ও বাংলাপিডিয়া।
৪৩৬.
কার নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ সংঘটিত হয়। 

সলঙ্গা বিদ্রোহ:

- ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি তরুণ নেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ-এর নেতৃত্বে তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার সলঙ্গা হাটে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সূচনা ঘটে।
- আন্দোলনরত জনতার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে ব্রিটিশ পুলিশ, নিহত হন কয়েক শ মানুষ।
- নিহতদের ব্রিটিশ পুলিশ সিরাজগঞ্জের রহমতগঞ্জে গণকবর দেয়।

⇒ বিদেশি পণ্য বর্জন ও স্বদেশি পণ্য ব্যবহার করার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯২২ সালের ২৭ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের সলঙ্গা হাটে গণহত্যা সংঘটিত হয়।
- যুবনেতা মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের নেতৃত্বে সলঙ্গা এলাকায় 

⇒ মূলত জালিয়ান ওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা থেকে সূত্রপাত হয় ভারতবর্ষে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের। জালিয়ান ওয়ালাবাগের পথ ধরে ব্রিটিশ বেনিয়াদের নৃশংসতার আরেক রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায়।

⇒ ২৭ জানুয়ারি ঐতিহাসিক সলঙ্গা বিদ্রোহ দিবস পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
• আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ:
- মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ একজন রাজনীতিক। 
- তর্কবাগীশ জন্মেছিলেন ১৯০০ সালের ২৭ নভেম্বরে সলঙ্গাতে।
- স্থানীয় ডায়মন্ড জুবিলী হাইস্কুলে এন্ট্রান্স ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে (১৯২০-২২) যোগ দেন।
- লাহোরের এরশাদ ইসলামিয়া কলেজে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সেরা বাগ্মীর স্বীকৃতি লাভ করার পরে তিনি ‘তর্কবাগীশ’ হিসেবে পরিচিত হন।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ১৯৫৬ সালে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হিসেবে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 
- তিনি ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনের পর তিনি ছয়দফা-পন্থি আওয়ামী লীগে প্রত্যাবর্তন করেন।
- ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মাওলানা সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ঢাকায় তার মৃত্যু হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৪৩৭.
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন:
- প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিনটি।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

⇒ ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটিই ছিল রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রথম সরাসরি নির্বাচন।
- তবে এর আগে সংসদ দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল।
- সেই নির্বাচনে ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
-  সরাসরি ভোটের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিয়াউর রহমান বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের ব্যানারে অংশ নিয়ে ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমএজি ওসমানী গণতান্ত্রিক ঐক্যজোটের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ২২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। - জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি ২১ এপ্রিল ১৯৭৭ থেকে ৩০ মে ১৯৮১ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।

৪৩৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী' হিসেবে অভিহিত করেন কে?
  1. আলমন্ড পাওয়াল
  2. অ্যালান বল
  3. অ্যালেন পটার
  4. অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নামকরণ ও সংজ্ঞা:
- অনেকে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী (Pressure group), স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী (Interest group), লবি (Lobby), মনোভাব কেন্দ্রিক গোষ্ঠী (Attitude group) এবং রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে (Political group) সমার্থক শব্দরূপে গণ্য করেন। এর ফলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে ' সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- অ্যালান বলের মতে, "চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।"
- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"
- সংক্ষেপে বলতে গেলে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৯.
সিটিজেনস ফর ফেয়ার ইলেকশনস্ (সিএফই) নামের নাগরিক সংগঠনটি বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. বাংলাদেশ নির্বাচন ওয়াচ
  2. সুজন
  3. সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ
  4. আশা
ব্যাখ্যা

সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক):
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- এর ২১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি রয়েছে।
- সুজনের সভাপতি জনাব এম হাফিজউদ্দিন খান এবং সম্পাদক ড: বদিউল আলম মজুমদার। 


⇒ প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উৎস: সুজন ওয়েবসাইট।

৪৪০.
হাজী শরীয়তউল্লাহর সংস্কার আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. ইসলামিক আন্দোলন
  2. ওয়াহাবী আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. তারিখ-ই-মুহাম্মদিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজি আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড  বই।
৪৪১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার
  2. সরকারি ক্ষমতা অর্জন
  3. সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা।
  4. গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করা
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়ার উপরে প্রভাব
বিস্তার করে।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এদের কোন দলীয় সংগঠন নেই।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কোন রাজনৈতিক দল নয় বিধায় এদের কোন দলীয় কর্মসূচিও নেই।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে প্রার্থী দেয় না এবং নির্বাচনে কোন প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণা চালায় না।
- এরা সরাসরি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকে না।
- সরকারি ক্ষমতা দখল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নয় বরং সরকারি  নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করাই এর উদ্দেশ্য।
- সরকারি নীতি নির্ধারণে চাপ প্রয়োগ করে গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করাই চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৪৪২.
১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?
  1. ক) মুসলিম লীগ
  2. খ) আওয়ামী পার্টি
  3. গ) পিপলস পার্টি
  4. ঘ) আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা

- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- জাতীয় পরিষদের ৩১৩ টি আসনের ১৬৭ আসন এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩১০টি আসনের ২৯৮ আসনে জয় লাভ করে আওয়ামীলীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৪৩.
রাষ্ট্রের ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম কোনটি?
  1. সামরিক অভ্যুত্থান
  2. সাধারণ নির্বাচন
  3. গণঅভ্যুত্থান
  4. মনোনয়ন
ব্যাখ্যা
প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
-  নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উল্লেখ্য, 
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।
- এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশান, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৪.
'Election Monitoring' করে থাকে—
  1. রাজনৈতিক দল
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা
- 'Election Monitoring' করে থাকে সুশীল সমাজ। 
- ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (EWG) হল ২৯ সদস্যের একটি নির্দলীয় জাতীয় সুশীল (নাগরিক) সমাজের সংগঠনের জোট যারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সুশাসনের প্রতি একটি সাধারণ প্রতিশ্রুতি ভাগ করে নেয়।
- এটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং
(i) নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ;
(ii) নির্বাচনী বিষয় এবং সংস্কারের উপর সমর্থন; এবং,
(iii) সমাজের সকল অংশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনী সংস্কারের উপর জনসাধারণের সংলাপ প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য কাজ করে আসছে।

- EWG কার্যক্রম প্রার্থী এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বৃহত্তর জবাবদিহিতা এবং সততা বৃদ্ধি করে, এটি নারী, যুব এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করে।
- কার্যক্রমের লক্ষ্য নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঝুঁকি হ্রাস করা।

উৎস: Election Working Group (EWG), Bangladesh
৪৪৫.
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
- ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪৬.
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, কোনো আসনে নির্ধারিত কত শতাংশ ভোট না পড়লে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে?  
  1. ৩৫ শতাংশ
  2. ৪০ শতাংশ
  3. ৪৫ শতাংশ
  4. ৪৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন:
- গঠন:  ৩ অক্টোবর; ২০২৪ সাল। 
- প্রধান: ড. বদিউল আলম মজুমদার

• প্রধান সুপারিশসমূহ:  
১) নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গঠন:
- নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন (রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত)
- কমিশনের আর্থিক, প্রশাসনিক ও কর্মী নিয়োগের স্বাধীনতা নিশ্চিত।
- রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ।

২) ভোটার তালিকা ও যাচাই:
- সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক ভোটার তালিকা।
- নিয়মিত আপডেট, মৃত বা ভুয়া ভোটার অপসারণ।
- ভোটার যাচাইয়ে কঠোর ব্যবস্থা।

৩) নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা:
- 'না' ভোট (No Vote) বিধান পুনঃপ্রবর্তন।
- কোনো আসনে ৪০% ভোট না পড়লে নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন।
- প্রার্থীদের হলফনামা, সম্পদ বিবরণী ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক

৪) তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

৫) প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা। 


 তথ্যসূত্র: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও বিবিসি। 

৪৪৭.
বাংলাদেশের পার্লামেন্টের প্রতীক কী?
  1. ক) পদ্মফুল
  2. খ) শাপলা
  3. গ) দোয়েল
  4. ঘ) টাইগার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পার্লামেন্টের প্রতীক হলো শাপলা। আবার শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুলও বটে। দোয়েল বাংলাদেশের জাতীয় পাখি এবং বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় পশু।
৪৪৮.
"বঙ্গীয় কৃষক পার্টি" গঠন করেন কে?
  1. দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস
  2. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
ফজলুল হকের অবদান:
- 'বঙ্গীয় কৃষক পার্টি' গঠন করেন শেরে বাংলা এ, কে, ফজলুল হক।
- ১৯২৭ সালে তিনি এই পার্টি গঠন করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯০৬ সালে ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের তিনি অন্যতম সংগঠক ছিলেন।
- ১৯১২ সালে তার বলিষ্ঠ উদ্যোগে “কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি” গঠিত হয়। এই সমিতির উদ্দেশ্য ছিল মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের জন্য বৃত্তি, অনুদান প্রভৃতির ব্যবস্থা করা।
- ১৯২০ সালে আলীগড় ও ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রভূত অবদান রাখেন।

সূত্র: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪৯.
নিম্নের কোন জন 'The Grand Old Man of India' নামে পরিচিত?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. দাদাভাই নওরোজী
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা
দাদাভাই নওরোজী:
- দাদাভাই নওরোজি ছিলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতে ব্রিটিশ অর্থনৈতিক নীতির সমালোচক।
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য।
- 'The Grand Old Man of India' হিসাবে পরিচিত ছিলেন দাদাভাই নরোজি।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে ১৮৮৬, ১৮৯৩ এবং ১৯০৬ সালে তিনি সভাপতি ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৮৫৫ সালে দাদাভাই নওরেজি প্রথম বারের মতো ব্রিটেন সফরে আসেন।
- ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার জন্য তার মধ্যে যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, তার মূলে ছিল ভারতের দারিদ্র।

উৎস: Britannica.
৪৫০.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের গঠিত হয়?
  1. ক) ১২৭
  2. খ) ১৩৭
  3. গ) ১৩৮
  4. ঘ) ১১৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৩৮(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' পদের নিয়োগ দেয়া হয় এবং ১১৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫১.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে কয়টি আসন ছিল?
  1. ১৬০টি
  2. ১৬৯ টি
  3. ১৬৭ টি
  4. ১৬২ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে মোট ১৬৯টি আসন ছিল।
- এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন ছিল ৭টি।
- আওয়ামী লীগ ১৬০টি সাধারণ আসন ও ৭টি মহিলা সংরক্ষিত আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- একটি ময়মনসিংহে ও অপরটি রাঙামাটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়লাভ করে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৫২.
বিরোধী দলের কাজ নয় কোনটি?
  1. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  2. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
ভাসানীর নেতৃত্বে কত সালে 'ন্যাপ' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি:
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- এ প্রশ্নে দলের ডানপন্থী নেতা-কর্মীরা সোহরাওয়ার্দীর পক্ষাবলম্বন করেন এবং বামপন্থী অংশ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে স্বাধীন ও জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি এবং পূর্ব-পাকিস্তানের সর্বাধিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন।
- ফলে আওয়ামী লীগ আদর্শিক কারণে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- আওয়ামী লীগের বামপন্থী অংশের উদ্যোগে ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে ২৪-২৫ জুলাই গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ সম্মেলনে পাকিস্তান ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৪.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন?
  1. মুসলিম লীগ
  2. কৃষক প্রজা পার্টি
  3. স্বরাজ দল
  4. কংগ্রেস
ব্যাখ্যা
১৯৪৮সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান প্রথমগণপরিষদ অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। কিন্তু মুসলিম লীগের সদস্যদের ভোটে তা অগ্রাহ্য হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন কয়টি?
  1. ক) ৩০০ টি
  2. খ) ৩৩০ টি
  3. গ) ৩৪৫ টি
  4. ঘ) ৩৫০ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমানে মোট আসন সংখ্যা ৩৫০ টি। এর মধ্যে ৩০০ টি আসন জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫টি থেকে ৫০টি করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ কোনটি?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ হলো ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ। এর মেয়াদ ছিলো ১৯ মার্চ ১৯৯৬ থেকে ৩০ মার্চ ১৯৯৬ মাত্র ১২ দিন। এ সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহিত হয়েছিল যার মাধ্যে তত্তাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিলো। এ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলো বয়কট করেছিলো। তৃতীয় সংসদ ১ বছর ৫ মাস এবং চতুর্থ সংসদ ২ বছর ৭ মাস স্থায়ী ছিলো। পঞ্চম সংসদ ৪ বছর ৮ মাস স্থায়ী ছিলো। বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণ মেয়াদকালীন সংসদ হলো সপ্তম জাতীয় সংসদ। (সূত্রঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
৪৫৭.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল কত তারিখে ঘোষণা করা হয়?
  1. ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  2. ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। 

⇒ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১২ তারিখ বৃহস্পতিবার ৩০০ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সাধারণ নির্বাচন এবং একইসঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
- চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬।
- নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২শে জানুয়ারি থেকে ১০ই ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।
- জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি।
- এবার নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা করা হয়েছে।

⇒ এবার দেশে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন।
- এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
- ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করেছে নির্বাচন আয়োজনকারী সংস্থাটি।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। 

উৎস: i) বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

৪৫৮.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. নবাব আব্দুল লতিফ
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. সরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাকেরগঞ্জ জেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩৫ সালে কৃষক প্রজা পার্টি গঠিত হয়।
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩) এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪) ছিলেন।
- তিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৫৯.
গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হওয়ার সময় স্পিকার ছিলেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  2. খ) শাহ আবদুল হামিদ
  3. গ) মোহাম্মদ উল্লাহ
  4. ঘ) মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর দুপুর বেলায় বাংলাদেশ সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়। তখন গণপরিষদের স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ এবং ডেপুটি স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ।
- ১৪ ডিসেম্বর স্পিকার হিসেবে মোহাম্মদ উল্লাহ গৃহীত সংবিধান প্রমাণীকৃত করেন।
- ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যগণ এতে স্বাক্ষর করেন।
- প্রথমে বঙ্গবন্ধু এবং এরপর সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং তাজউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষর করেন।
- উল্লেখ্য, গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনের স্পীকার ছিলেন - শাহ আবদুল হামিদ।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৪৬০.
সুশীল সমাজ হচ্ছে-
  1. ব্যবসায়ী সম্প্রদায়
  2. শিক্ষিত শ্রেণি
  3. রাজনীতি সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণি
  4. বিত্তবান শ্রেণি
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ হচ্ছে রাজনীতি সচেতন মধ্যবিত্ত শ্রেণী।
- সুশীল সমাজ হল একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৬১.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো -
  1. ক) বিচার বিভাগ
  2. খ) নিবার্হী বিভাগ
  3. গ) আইন সভা
  4. ঘ) সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো সুশীল সমাজ।
- এটি সরকার কাঠামোর অংশ নয় তবে সরকারের কর্মকান্ডে প্রভাব রাখতে সক্ষম।
- সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন বা এনজিও প্রভৃতির সমন্বয়ে সিভিল সোসাইটি গঠিত হয়।
- সুশীল সমাজ হল একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়। সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। 
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। 
সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান :
- বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র, 
- জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
- গোপনীয়তা ও 
- বৈধতা।
 
(উৎস: রাষ্ট্রবিজ্ঞান:স্বাতক শ্রেণি ও যুগান্তর)
৪৬২.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী:
- তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯২ সালে।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে লন্ডনের গ্রেইজ ইন থেকে ব্যরিস্টার-এট-ল সম্পন্ন করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র, ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী, ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী, ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী।
- প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়।
- পাকিস্তানে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এন.ডি.এফ) গঠন করে তিনি ১৯৬২-৬৩ সালের আইয়ুব-বিরোধী সম্মিলিত জোটের আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট।
৪৬৩.
কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কখন বাতিল হবে?
  1. দলটি যদি নির্বাচনে জয়ী না হয়
  2. দলটি যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে
  3. দলটি যদি নির্বাচন কমিশনকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়
  4. দলটি যদি পরপর দুইটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে
ব্যাখ্যা
নিবন্ধন বাতিল:
⇒ কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

এছাড়াও,
- কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
- বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
- বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৪৬৪.
নাগরিক সংগঠন 'সুশাসনের জন্য নাগরিক' কত সালে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৪৬৫.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক কত সালে "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" গঠন করেন?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

⇒ ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৬.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কী?
  1. বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি
  2. জাতীয় নাগরিক পার্টি
  3. বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. ন্যাশনাল পিপলস্‌ পার্টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় নাগরিক পার্টি:
- জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণদের দ্বারা গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছে।
- নতুন দলটির নামের ইংরেজি রূপ হবে ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (এনসিপি)।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
- জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
- মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আছেন হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে সারজিস আলম।
- এছাড়া, দলটির সদস্য পদে অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ ৪৩ জনকে রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
৪৬৭.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রথমবার সরকার গঠন করে কতসালে?
  1. ১৯৭৯ সাল
  2. ১৯৭৮ সাল
  3. ১৯৭৭ সাল
  4. ১৯৮০ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি:
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
-  ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

৪৬৮.
অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের প্রতিষ্ঠিত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নাম কী?
  1. সিপিডি
  2. সুজন
  3. বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
  4. বিকল্প উন্নয়ন সংস্থা
ব্যাখ্যা
CPD (সিপিডি):
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদর দপ্তর: ধানমন্ডি, ঢাকা।

⇒ সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

অন্যদিকে,
- সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

উৎস: i) সিপিডি ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
৪৬৯.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ফরিদপুর
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
হাজী শরীয়তুল্লাহ:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- মাত্র আট বছর বয়সে পিতাকে হারানোর পর চাচার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন শরীয়তুল্লাহ্।
- কলকাতা ও হুগলীতে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর তিনি আঠারো বছর বয়সে মক্কা গমন করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কীসের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়?
  1. জাতীয় স্বার্থ রক্ষা
  2. জ্ঞান ও মেধা
  3. সমজাতীয় মনোভাব ও স্বার্থ
  4. মুক্ত বুদ্ধির চর্চা
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
৪৭১.
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে বহুদলের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৯০ সালে
  4. ১৯৮৬ সালে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- ১৯৭৮-এর ৩০ নভেম্বর সরকার ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- নির্বাচনে বিএনপি ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে 
- বিএনপির প্রথম সরকার গঠন করে ১৯৭৯ সালে।

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'

৪৭২.
বাংলাদেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. গোলাম মোহাম্মদ কাদের
  2. জিয়াউর রহমান
  3. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  4. আন্দালিভ রহমান
ব্যাখ্যা
জাতীয় পার্টি: 
- তৎকালীন সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মূলত সামরিক ক্ষমতার বেসামরিকীকরণের অংশ হিসেবে তিনি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি দুই বার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এ দু'টি নির্বাচনই বর্জন করে।
- ১৯৯০ সালে অন্যান্য রাজনৈতিকগুলোর সম্মিলিত আন্দোলনে জাতীয় পার্টি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।
- জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ স্বৈরাচার হিসেবে আখ্যায়িত হন।
- ২০০০ সালে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে জাতীয় পার্টি তিনটি অংশে ভাগ হয়ে যায়।

জাতীয় পার্টি:
প্রতীকের নাম: লাঙ্গল
চেয়ারম্যান: গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি

জাতীয় পার্টি - জেপি:
প্রতীকের নাম:  বাইসাইকেল
চেয়ারম্যান: আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এম.পি

বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি:
প্রতীকের নাম: গরুরগাড়ী
চেয়ারম্যান: ব্যারিষ্টার আন্দালিভ রহমান

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট। 
৪৭৩.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম সংসদ নেতা কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
- সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন।
- সংসদ নেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
- বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।

- বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ।
- মোহাম্মদ উল্লাহ জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার এবং গণপরিষদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার।
- মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ জাতীয় সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার।
- আব্দুল মালেক উকিল জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় স্পিকার।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।

- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আসাদুজ্জামান খান।  
- বর্তমান সংসদ নেতা হলেন শেখ হাসিনা।

তথ্যসূত্র: সংসদ সচিবালয়, আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট, বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান।
৪৭৪.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. সরকারের বিরোধিতা করা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা
  3. বিতর্ক সৃষ্টি করা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪৭৫.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তম হল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী শরিক দল সমন্বয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঢাকার রমনা গ্রীনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
- বিএনপি'র দলীয় সংবিধান অনুযায়ী তাদের রাজনীতির মূলনীতি হল- সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র (অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচার অর্থে)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৬.
জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন কে?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) স্পিকার
  3. গ) সেনাপ্রধান
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪১ক নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি ১২০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারেন।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৭৭.
কাকে হত্যা চেষ্টার জন্য বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর ফাঁসি হয়েছিল?
  1. কিংস ফোর্ড
  2. ব্যামফিল্ড ফুলার
  3. জেনারেল ডায়ার
  4. এন্ড্রু ফ্রেজার
ব্যাখ্যা
ক্ষুদিরাম বসু:

- তিনি ১৮৮৯ সালে মেদিনীপুর জেলার হাবিবপুর গ্রামে ক্ষুদিরামের জন্ম গ্রহণ করেন।
১৯০৩ সালে মেদিনীপুরের ‘কলেজিয়েট’ স্কুলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তিনি শিক্ষা লাভ করেন।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলন ক্ষুদিরামের মতো স্কুলের ছাত্রদেরও প্রভাবিত করে এবং পরিণামে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সত্যেন বসুর নেতৃত্বে এক গুপ্ত সমিতিতে যোগ দেন।
১৯০৬ সালের মার্চে মেদিনীপুরের এক কৃষি ও শিল্পমেলায় রাজদ্রোহমূলক ইস্তেহার বণ্টনকালে ক্ষুদিরাম প্রথম পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
- পরবর্তী মাসে অনুরূপ এক দুঃসাহসী কর্মের জন্য তিনি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এবং আদালতে বিচারের সম্মুখীন হন।
১৯০৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নারায়ণগড় রেল স্টেশনের কাছে বঙ্গের ছোটলাটের বিশেষ রেলগাড়িতে বোমা আক্রমণের ঘটনার সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী ও স্বদেশী আন্দোলনের কর্মীদের প্রয়োজনভিত্তিক কঠোর সাজা ও দমননীতির কারণে কলকাতার প্রধান প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ড বাঙালিদের অত্যন্ত ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন।
- বিপ্লবীদল ১৯০৮ সালে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং প্রফুল্ল চাকী ও ক্ষুদিরামের উপর এ দায়িত্ব পড়ে।
কিংসফোর্ডের গাড়ির মতো অন্য একটি গাড়িতে ভুলবশত বোমা মারলে গাড়ির ভেতরে একজন ইংরেজ মহিলা ও তাঁর মেয়ে মারা যান। এ ঘটনার পর ক্ষুদিরাম ওয়ানি রেলস্টেশনে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
- তিনি বোমা নিক্ষেপের সমস্ত দায়িত্ব নিজের উপর নিয়ে নেন।
- তাঁকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য অনুসারে মুজফ্ফরপুর কারাগারে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্ট ফাঁসিতে তাঁর মৃত্যৃ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪৭৮.
একটি রাষ্ট্রের _________ থাকতেই হবে।
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) রাষ্ট্রপতি
  3. গ) জাতীয় সংসদ
  4. ঘ) সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
একটি রাষ্ট্রের চারটি মৌলিক উপাদান থাকবে।
নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সার্বভৌমত্ব, জনগণ ও সরকার একটি রাষ্ট্রের এই চারটি উপাদান অবশ্যই থাকতে হবে।
৪৭৯.
বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক সরকারকে ‘দলীয় সরকার’ বলা হয় কেন?
  1. ক) নির্বাচন হয় জনমতের ভিত্তিতে
  2. খ) নির্বাচন হয় মতের ভিত্তিতে
  3. গ) নির্বাচন হয় দলীয় ভিত্তিতে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
দলীয় সরকার

- বর্তমান যুগ গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার যুগ।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো পরোক্ষ বা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে শাসন কাজে অংশগ্রহণ করে।
- এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় দলীয় ভিত্তিতে
- বর্তমান প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রকে তাই 'দলীয় সরকার' বলা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৪৮০.
অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কী হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী
  2. স্বার্থকামী গোষ্ঠী
  3. সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী
  4. নৈরাজ্যবাদী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
- অধ্যাপক ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি হিসেবে অভিহিত করেন।
- এলান পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন।
(তথ্যসূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৩ : স্নাতক শ্রেণী : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৪৮১.
বাংলাদেশে কোন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে?
  1. একদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  2. বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  3. সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্র
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই এ দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে - বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে সংবিধান থেকে বাকশাল ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়।
-১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সময়ে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো।
- বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত যা এককক্ষ বিশিষ্ট।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

৪৮২.
"রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।" কার প্রদত্ত সংজ্ঞা?
  1. এলান আর বল
  2. হ্যারল্ড লাসওয়েল
  3. এডমন্ড বার্ক
  4. আর এম ম্যাকাইভার
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল সম্পর্কিত সংজ্ঞা:

- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।"
- অধ্যাপক আর এম ম্যাকাইভার তাঁর 'দ্য মডার্ণ স্টেট' গ্রন্থে রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেন, "যারা কতগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে তৎপর হয়, তাদেরকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।"
- হ্যারল্ড লাসওয়েল এর মতানুসারে- "রাজনৈতিক দল হল এমন একটি সংগঠন যা নির্বাচনে কর্মসূচী স্থিও কওে এবং প্রার্থী দাঁড় করায়।"
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদ এডমন্ড বার্ক রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, "রাজনৈতিক দল হল নির্দিষ্ট ও স্বীকৃত নীতির ভিত্তিতে এবং সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত এক জনসমষ্টি।"

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৩.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত হয়?
  1. ১৮৩৫ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৫৬ সালে
  4. ১৮৬১ সালে
ব্যাখ্যা

- ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে বিধবা বিবাহ আইন কবে প্রবর্তিত - ১৮৫৬।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 

- জন্ম: ২৬ সেপ্টেম্বর ১৮২০, বীরসিংহ গ্রাম, মেদিনীপুর, 
- পশ্চিমবঙ্গ মৃত্যু: ২৯ জুলাই ১৮৯১, কলকাতা।
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মাতার নাম: ভগবতী দেবী।
- উপাধি: “বিদ্যাসাগর” ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ থেকে।
- পেশা: শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক।

• সমাজ সংস্কার: 
- বিধবা বিবাহ আইন (১৮৫৬) প্রবর্তনের অন্যতম উদ্যোক্তা। 
- বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব
- নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা: নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুরে স্কুল স্থাপন করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৪৮৪.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার
  2. গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার
  3. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সামনে বৃহত্তম জাতীয় কল্যাণ সাধনের কোন মহান উদ্দেশ্য থাকে না।
- সংকীর্ণ ও সমজাতীয় বিশেষ গোষ্ঠীগত ।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে উৎপত্তির ভিত্তিতে কোন বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয় না।
- কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অঙ্গীকার থাকে না।
- এ সমস্ত গোষ্ঠীর অঙ্গীকার থাকে গোষ্ঠীগত স্বার্থ বা কল্যাণের প্রতি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮৫.
জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে নিচের কোনটি?
  1. গণমাধ্যম
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. রাজনৈতিক দল
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা

⇒ জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতু বন্ধনের কাজ করে রাজনৈতিক দল।

রাজনৈতিক দল:
- প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হল রাজনৈতিক দল।
- নির্ধারিত নীতি ও কর্মসূচির স্বপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য কাজ।
- প্রতিটি দল সভা-সমিতি, পত্র-পত্রিকা, পুস্তক-পুস্তিকা, রেডিও-টিভি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম প্রভৃতির মাধ্যমে প্রচারকার্য চালিয়ে নিজস্ব নীতি ও কর্মসূচির সমর্থনে জনমত গঠনের চেষ্টা করে।
- রাজনৈতিক দলের একটি স্থায়ী সংগঠন থাকে এবং এ সংগঠনের মাধ্যমে এটি কাজ করে।
- একটি রাজনৈতিক দলের সদস্যবৃন্দ একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা অর্জনের জন্য কাজ করে। 
- সমমতাদর্শে অনুপ্রাণিত, ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত ব্যক্তিদের নিয়ে রাজনৈতিক দল গঠিত হয়।
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল মাত্রই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়।
- প্রত্যেক দল সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সাধনে আত্মনিয়োগ করে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।

৪৮৬.
মঙ্গল পান্ডে নামটি কোন বিদ্রোহের সাথে জড়িত?
  1. নাচোল বিদ্রোহ
  2. কৃষক বিদ্রোহ
  3. সিপাহী বিদ্রোহ
  4. নীল বিদ্র্রোহ
ব্যাখ্যা
মঙ্গল পান্ডে:
- মঙ্গল পান্ডে ছিলেন একজন সিপাহি, যার নেতৃত্বে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সিপাহিদের একটি অংশ বিদ্রোহ করে।
- মঙ্গল পাণ্ডের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার ব্যারাকপুরে এই বিদ্রোহ শুরু হয়।
- ‘সিপাহি বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত এই বিদ্রোহের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজ শাসনকে হটিয়ে দিয়ে পুরো ভারতকে দখলদার মুক্ত করা।
 
সিপাহী বিদ্রোহ:
- এটি ছিল ব্রিটিশ শাসন অবসানকল্পে ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা ‘স্বাধীনতা লড়াই'।
- ১৮৫৭ সালে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৮৭.
জাতিসংঘের মতে সুশাসনের উপাদান কতটি?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৯ টি
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সুশাসনের ৮টি উপাদানের উল্লেখ করেছে। এগুলো হলোঃ অংশগ্রহণ, মতামতের উপর নির্ভরশীলতা, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা, কার্যকরি ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা, ন্যায্যতা এবং আইনের শাসন।
জাতিসংঘের মতে এসবের মাধ্যমে মূল লক্ষ্য হলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক স্বাধীনতার উ্ন্নয়ন।
(সূত্রঃ ইউএনক্রনিকল)
৪৮৮.
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নকশাকার কে?
  1. ফয়েজ উল্লাহ
  2. রোহানি বাহারিন
  3. এহসান খান
  4. সব্যসাচী হাজরা
ব্যাখ্যা
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল:
⇒ ২০১৭ সালে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়।
- এরপর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- এর নির্মাণকাজ করেছে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিতা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং।

⇒ ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত এই টার্মিনাল।
- জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে।
- তৃতীয় টার্মিনালের জন্য সরকার অর্থায়ন করেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।
- বাকি অর্থ জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।

⇒ এ ভবনটির নকশা করেছেন রোহানি বাহারিন। 
- তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সিঙ্গাপুরের সিপিজি করপোরেশন প্রাইভেট লিমিটেডের স্থপতি।

⇒ ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন করা হয়।
- বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করতে ২০২৬ সাল লাগতে পারে বলে

⇒ টার্মিনালটির যাত্রী ক্যাপাসিটি ১ কোটি ৬০ লাখ।
- টার্মিনালটির ফ্লোর আয়তন ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গ মিটার। 

অন্যদিকে -
- কক্সবাজার স্টেশনটির নকশা করেছেন ফয়েজ উল্লাহ।
- মুজিববর্ষের লোগোর নকশাকার সব্যসাচী হাজরা।
- হাতিরঝিল-এর নকশাকার এহসান খান।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla. 
৪৮৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. রাঙামাটি
  3. পঞ্চগড়
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ৩৫০টি আসন নিয়ে গঠিত।
- মহিলাদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন ৫০টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে।

অন্যদিকে -
- জাতীয় সংসদের - ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- চট্টগ্রাম জেলায় সংসদীয় আসন ১৬টি।
- রাজশাহী জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি।
- কুমিল্লা জেলায় সংসদীয় আসন ১১টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪৯০.
ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. আবুল হাশিম
  2. সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. হাজী দানেশ
ব্যাখ্যা
১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

ন্যাপের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, মশিউর রহমান যাদু মিয়া, আবদুল মতিন, ওয়ালি খান প্রমুখ।

এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪৯১.
বেঙ্গল রেনেসাঁর ‘ইয়াং বেঙ্গল’ আন্দোলনের প্রবক্তা কে ছিলেন?
  1. হেনরি লুই ডিরোজিও 
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. রাধানাথ সিকদার
ব্যাখ্যা

- বেঙ্গল রেনেসাঁসের 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা হেনরি লুই ডিরোজিও।

• ডিরোজিও ও ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট :
- 'রেনেসাঁস যুগে বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ডিরোজিও ১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা শহরে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। 
- ডিরোজিও ইংরেজি শিক্ষার স্কুল ডেভিড ড্রামন্ডের ধর্মতলা একাডেমিতে পড়ালেখা শুরু করেন। 
- এই শিক্ষকের আদর্শ ডিরোজিওকে তাঁর শিশুকাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রভাবিত করে রেখেছিল। 
- বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা। 
- বয়সে তরুণ হলেও তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শন শাস্ত্রে গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন।
-  ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর ছাত্র না হলেও তাঁর আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৪৯২.
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. স্থানীয় ও জাতীয়
  2. আর্দশহীন
  3. সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি
  4. সাংগঠনিক কাঠামো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।
- জাতি ধর্ম-বর্ণ লিঙ্গ, শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকল জনগোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
- অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা এবং নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে জনগণকে আকর্ষণ করা।

⇒ বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রেই একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে।
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই। যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। তাই এসব দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। 
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। 

⇒ রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
- সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি,
- নির্দিষ্ট নীতি ও আর্দশ,
- সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ,
- সাংগঠনিক কাঠামো,
- স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৩.
'দ্বিজাতি তত্ত্বের' প্রবক্তা কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4. নওয়াব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
এনসিপি গঠনের পেছনে কোন ধরনের আন্দোলনের সফল পরিণতি উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অর্থনৈতিক সংস্কার আন্দোলন
  2. ছাত্র-জনতার আন্দোলন
  3. পরিবেশ আন্দোলন
  4. শ্রমজীবী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

• National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- দলটির নির্বাচনী প্রতীক - শাপলা কলি।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।

৪৯৫.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) সমন্বয় সাধন
  2. খ) নীতি নির্ধারণ
  3. গ) পরিকল্পনা প্রণয়ন 
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়।
- সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম। 
- নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত।
- বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুশাসন হচ্ছে অন্যতম প্রধান চাহিদা।
- সুশাসন ব্যতীত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভবপর নয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- গণতান্ত্রিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
- সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র উন্নতির শীর্ষে অবস্থান করতে পারে।
- দক্ষ ও সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
৪৯৬.
তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম কত তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
- ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
- সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

উল্লেখ্য,
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
৪৯৭.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

গণভোট:
- আক্ষরিক অর্থে গণভোট বলতে জনগণের কাছে উপস্থাপিত করা (refer to the people)-কে বোঝায়।
- আইনসভার দ্বারা প্রণীত আইনকে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনসাধারণের কাছে উপস্থাপিত করাকে বলে গণভোট (Referendum)।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত দেয়।
- এটি মূলত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।
- সংবিধানে গণভোট (Referendum) সংক্রান্ত কোনো অনুচ্ছেদ নেই।

⇒ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে। দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে গণভোট আইন হয়েছিল। সংসদে পাস হওয়া সেই আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ‘যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮, ৮০, ৯২ক বা ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যবস্থা করিয়া কোনো বিল উক্ত সংবিধানের ১৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হইবার পর উহাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না, এই প্রশ্ন যাচাইয়ের জন্য সংবিধানের ১৪২(১ক) অনুচ্ছেদ মোতাবেক গণভোটের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল।’

⇒ ২০ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের সেই বিধান বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনী বাতিলের মামলায় হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গণভোটও পুনর্বহাল করে রায় দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

৪৯৮.
সরকারের অঙ্গকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রণ করে কে?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. আমলাতন্ত্র
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল: 
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে সাংগঠনিক উপায় যার দ্বারা অফিসের জন্য প্রার্থী নিয়োগদান ও ভাবাদর্শের বিস্তার ঘটে।
- এটি সরকারের অঙ্গকে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নেতৃত্ব প্রদান করে।
- এডমন্ড বার্ক Edmund Burke দুই শতাব্দী পূর্বে রাজনৈতিক দলের প্রথম আধুনিক সংজ্ঞাটি প্রদান করেন।
- তাঁর মতে রাজনৈতিক দল হল: "a body of men united for promulgating by their joint endeavors, the national interest, upon some particular principle in which they are all agreed."
- জোসেফ এ. শুমপেটার Joseph A. A. Schumpeter বার্ক Burke-এর রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞায় মতানৈক্য প্রদর্শন করেন।
- বার্ক যেখানে রাজনৈতিক দলকে দেখেছেন একটি গ্রুপ হিসাবে যা জনকল্যাণের উন্নয়নে সচেষ্ট সেখানে সুম্পিটার দলের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রাম হিসাবে দেখেছেন।
- দলব্যবস্থা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে। যেমন একদিকে বহুদল-ব্যবস্থা Multi-party System অপরদিকে একদল-ব্যবস্থা One-party System।
- বহুদল-ব্যবস্থা (প্রায়ই দু'টি প্রধান দল) উদার গণতান্ত্রিক সমাজ (বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানী)-এ বিদ্যমান। 

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন,এইচএসএসএল, উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৯.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে -
  1. বিরোধী দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. সচিব
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
⇒ উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সরকারি দলের ন্যায় ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে বিরোধী দল।

বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫০০.
বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা কত সালে প্রকাশিত হয়
  1. ২০১২ সালে
  2. ২০১৪ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর লেখা বইসমূহ:
 
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- বঙ্গবন্ধুর বই কারাগারের রোজনামচা ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের নামকরণ করেছেন শেখ রেহানা। এই বইও বঙ্গবন্ধু কারাগারে বসে রচনা করেন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলখানার জীবনের ওপর লেখা বইয়ের নাম ‘৩০৫৩ দিন’।
- বইটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কারা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা এবং জননিরাপত্তা বিভাগের তদারকিতে বইটি প্রকাশিত হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর লেখা বই আমার দেখা নয়াচীন ২০২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- এই বইটিও কারাগারে রাজবন্দী থাকার সময়ে রচিত।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে চীনের পিকিংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। সে সময় নয়াচীন দেখার অভিজ্ঞতার আলোকে বইটি রচিত।
 
তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ৩০ জুলাই, ২০১৮।