বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৩ · ৩০১৪০০ / ১,২৯৫

৩০১.
বর্তমানে দেশে ভোটাধিকার পাওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ১৪ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. ২১ বছর
ব্যাখ্যা

ভোটার হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স:
- বাংলাদেশ সংবিধানের সপ্তম ভাগ 'নির্বাচন' অংশে প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকারের কথা বলা আছে।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) অনুচ্ছেদ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর হতে হবে।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২২(১) ও (২) অনুযায়ী ভোটার-তালিকায় নামভুক্তির যোগ্যতা:
- প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটাধিকার-ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- কোন ব্যক্তি সংসদের নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত কোন নির্বাচনী এলাকায় ভোটার-তালিকাভু্ক্ত হওয়ার অধিকারী হবেন, যদি
(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাঁর বয়স আঠার বৎসরের কম না হয়;
(গ) কোন যোগ্য আদালত কর্তৃক তাঁর সম্পর্কে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা বহাল না থাকে;
(ঘ) তিনি ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বা আইনের দ্বারা ঐ নির্বাচনী এলাকার অধিবাসী বিবেচিত হন; এবং
(ঙ) তিনি ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ যোগসাজশকারী (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আদেশের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত না হয়ে থাকেন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৩০২.
একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে কতটি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়?
  1. ৩০টি
  2. ৪৫টি
  3. ৬০টি
  4. ৯০টি
ব্যাখ্যা
সংসদ আহবান:
- রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন।
- সংসদের এক অধিবেশনের শেষ এবং পরবর্তী অধিবেশনের শুরুর মধ্যে সর্বোচ্চ বিরতি হবে ৬০ দিন।
- সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠানের জন্য সংসদ আহ্বান করা হবে।
- একাধারে কোনো সংসদ সদস্য জাতীয় সংসদে ৯০টি কার্যদিবস অনুপস্থিত থাকলে তাহার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।
- দেশের নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক জীবনে হুমকির কারণে জরুরি অবস্থা (সর্বাধিক ১২০ দিনের জন্য) ঘোষিত হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এস এস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
৩০৩.
বর্তমান বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের একমাত্র নারী সদস্য -
  1. ক) রাজিয়া সুলতানা
  2. খ) রাজিয়া বানু
  3. গ) বেগম রাশেদা সুলতানা
  4. ঘ) বেগম কবিতা খানম
ব্যাখ্যা
বর্তমান নির্বাচন কমিশন
• প্রধান নির্বাচন কমিশনার: কাজী হাবিবুল আউয়াল
• নির্বাচন কমিশনার:
» ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আহসান হাবিব খান (অবঃ)
» বেগম রাশেদা সুলতানা
» জনাব মোঃ আলমগীর
» জনাব মোঃ আনিছুর রহমান

• দেশের প্রথম নারী নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বেগম কবিতা খানম। 
• ভারতবর্ষের প্রথম নারী শাসক রাজিয়া সুলতানা।
• বাংলাদেশের সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র নারী সদস্য রাজিয়া বানু।

সূত্র: নির্বাচন কমিশন।
৩০৪.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠন করে কারা?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. সশস্ত্র বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩০৫.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকার গঠন
  2. রাজনৈতিক শিক্ষাদান
  3. সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষাদান
  4. সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত নয়- সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষাদান।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা :
- সরকার গঠন
- নেতৃত্ব তৈরি,
- জনমত গঠন,
- রাজনৈতিক শিক্ষাদান,
- গঠনমূলক বিরোধিতা,
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৩০৬.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল-
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. সুশীল সমাজ
  3. রাজনৈতিক দল
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের অপর নাম সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।
- জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।" তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।

•  গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-
১ । জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান।
২। সরকার গঠন।
৩। আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ।
৪। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন।
৫। বিরোধী বিকল্প পক্ষ।
৬। ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ।
৭। সংসদীয় সরকারের উপযোগী ।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৭.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন ?
  1. পরিপূরক
  2. বিপরীত
  3. সম্পূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৮.
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা - নওয়াব আব্দুল লতিফ।

• আবদুল লতিফের জন্ম- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কলকাতা মাদ্রাসায় তিনি ইংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।

- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন। 
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার প্রথমে তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ এবং পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফের সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্যযোগ্য কীর্তি ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে কার সুপারিশ গ্রহণ করেন?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. আইনমন্ত্রী
  4. কারোর নয়
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা : 
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান।
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
- দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন।

• রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি -
-  সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন নেতাকে প্রবানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
-  রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাঁদের দপ্তর বণ্টন করেন।
- তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি কারো সুপারিশ গ্রহণ করেন না।
-  রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান করেন। 

উল্লেখ্য,
- সংবিধানের ৪৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া ৯৫ অনুচ্ছেদের ১ দফা অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ নিয়োগদান করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি এবং সংবিধান।
৩১০.
কার নেতৃত্বে বাঁশের কেল্লা নির্মিত হয়?
  1. তিতুমীর
  2. দুদু মিয়া
  3. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
বাঁশের কেল্লা:
- ১৮৩১ সালের ২৩ অক্টোবর ভারতের কলকাতার বারাসাতের কাছে নারিকেলবাড়িয়া নামক গ্রামে একটি বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করা হয়।
- ইতিহাসে এটিই ‘বাঁশের কেল্লা’ বা ‘নারিকেলবাড়িয়া বাঁশের কেল্লা’ নামে চিহ্নিত হয়ে আছে।
- ব্রিটিশ শক্তিকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে একটি বিপ্লবী কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য বাংলার সন্তান মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীরা এই কেল্লা নির্মাণ করেন।
- বাঁশের কেল্লায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিরাট বাহিনী ছিল স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ ও সংগ্রামী চেতনায় উদ্দীপ্ত।
- তারা তিতুমীরের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা স্থাপন করে।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- তাঁদের সাধারণ তলোয়ার ও হালকা অস্ত্র নিয়ে তিতুমীর ও তাঁর সেনারা ব্রিটিশ সেনাদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়াতে পারেননি।
- সেই যুদ্ধে তিতুমীর শহীদ হন।
- পাশাপাশি ১৮৩১ সালের ১৭ নভেম্বর বাঁশের কেল্লাটিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩১১.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. ব্যারিস্টার আব্দুর রসুল
  2. দাদাভাই নওরোজী
  3. ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জী
  4. সুরেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।
- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- এটি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৩১২.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য?
  1. জাতীয় স্বার্থ সাধন
  2. স্বীয় সমর্থকদের স্বার্থসিদ্ধি
  3. নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  4. স্বীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
১৯৭১ সালে কোনটি দলটি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে?
  1. ক) বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি
  2. খ) বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস
  3. গ) পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি
  4. ঘ) ন্যাপ (মোজাফফর)
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানপন্থী ইসলামী দল যেমন: জামায়াতে ইসলামি, কাউন্সিল মুসলিমলীগ, জামায়াতে উলামায়ে ইসলাম, মুসলিমলীগ প্রভৃতি এবং পিকিংপন্থী মো. তোয়াহার নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি ও পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (মতিন-আলাউদ্দিন) মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে।(সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩১৪.
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের কততম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন?
  1. তৃতীয় কাউন্সিল
  2. চতুর্থ কাউন্সিল
  3. ষষ্ঠ কাউন্সিল
  4. দ্বিতীয় কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি টানা চারবার সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় সম্মেলনে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ওয়েবসাইট)
৩১৫.
PR পদ্ধতিতে আসন বণ্টন হয় কোন ভিত্তিতে?
  1. এলাকা ভিত্তিক
  2. শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিত্তিক
  3. ভোটের শতাংশ ভিত্তিক
  4. লটারির মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

PR পদ্ধতিতে একটি দল যত শতাংশ ভোট পায়, তত শতাংশ আসন পায়।

- সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা বা PR (Proportional Representation) পদ্ধতিতে আসন বণ্টন হয় একটি রাজনৈতিক দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে তার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, এখানে ভোটাররা সরাসরি কোনো ব্যক্তিকে নয়, দলীয় প্রতীকে ভোট দেন। একটি দল মোট বৈধ ভোটের যত শতাংশ পায়, সেই অনুপাতে তারা সংসদে আসন পায়।

- উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ৩০% ভোট পায়, তাহলে সংসদের মোট আসনের ৩০% তারা পাবে। এতে বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোরও প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে একটি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদ গঠিত হয়। তবে দলই প্রার্থী নির্ধারণ করে, তাই ব্যক্তিগত যোগ্যতা নয়, দলীয় পছন্দই প্রাধান্য পায়।

সূত্র: ডেইলি স্টার রিপোর্ট। 

৩১৬.
জাতীয় সংসদের সভাপতি কে?
  1. ক) প্রধানমন্ত্রী
  2. খ) স্পিকার
  3. গ) সংসদ উপনেতা
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের সভাপতি হলেন স্পিকার। তিনি জাতীয় সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদ অধিবেশনে তিনি সভাপতিত্ব করেন।
তবে সংসদ নেতা হলেন প্রধানমন্ত্রী।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেনী)
৩১৭.
রাজনৈতিক দলের মূল ভিত্তি কী?
  1. ক) নীতি ও কর্মসূচি
  2. খ) ব্যক্তিস্বার্থ
  3. গ) সাম্প্রদায়িকতা
  4. ঘ) ভ্রাতৃত্ববোধ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি দেশের জনগোষ্ঠীর সেই অংশ যারা নির্দিষ্ট আদর্শ বা কর্মসূচির ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় সমস্যা সমাধানে সংগঠিত হয়।
- নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি। রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের ‍মূল ভিত্তি বলা হয়।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩১৮.
কোন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে অন্তত কয়টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে?
  1. ৫০টি
  2. ১০০টি
  3. ১৫০টি
  4. ২৫০টি
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
- প্রথমত, স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়;
- দ্বিতীয়ত, ওই সব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের পাঁচ শতাংশ ভোট প্রাপ্তি;
- তৃতীয়ত, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিতে বলা হয়েছে, প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত পরিপালন সম্পর্কে সময়ে সময়ে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে। নতুন কমিটি গঠন এবং দলীয় অফিসের ঠিকানা পরিবর্তন সম্পর্কিত তথ্য কমিশনকে জানাবে।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধান অনুযায়ী, কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩১৯.
পিআর নির্বাচন পদ্ধতিতে আসন বণ্টন কিসের ভিত্তিতে হয়?
  1. এলাকার জনসংখ্যার ভিত্তিতে
  2. রাজনৈতিক দলের বয়সের ভিত্তিতে
  3. সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীর ভিত্তিতে
  4. প্রতিটি দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে
ব্যাখ্যা

পিআর নির্বাচন পদ্ধতি:
- আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর হচ্ছে নির্বাচনি ব্যবস্থার এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আসন বণ্টন হয় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে।
- এ পদ্ধতিতে একটি নির্বাচনে দেওয়া প্রত্যেকটি ভোট কাজে লাগে এবং প্রতিটি ভোট সংসদে সমানভাবে প্রতিনিধিত্ব করে। তাছাড়া একটি নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ও হারের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দল যদি ১০% ভোট পায়, তাহলে সংসদে তাদের আসনও হবে প্রায় ১০% হারে।
- আনুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটের আগে প্রতিটি দল ক্রম ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তার প্রাপ্ত ভোটের হার অনুসারে আসন সংখ্যা পাবে।

⇒ পিআর পদ্ধতির ধরন:
১. মুক্ত তালিকা পদ্ধতি: দলগুলো ভোটের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত প্রার্থীদের মধ্যে থেকে আসন পায়।
২. বদ্ধ তালিকা পদ্ধতি: দল ঠিক করে দেয় কে হবেন সংসদ সদস্য।
৩. মিশ্র পদ্ধতি: কিছু আসনে প্রতীকভিত্তিক, কিছু আসনে পিআর ভিত্তিতে নির্বাচন হয়।

⇒ বাংলাদেশসহ অনেক দেশে বর্তমানে প্রচলিত ‘ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (FPTP) পদ্ধতিতে যে দল বেশি আসনে জয় পায়, তারা সরকার গঠন করে, ভোটের মোট শতাংশ নয়।
- বর্তমান বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচন ব্যবস্থায় ৩০০টি আসনে আলাদা আলাদা প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রাজনৈতিক দলগুলো।

উৎস: BBC.

৩২০.
বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন-
  1. ক) আতাউর রহমান
  2. খ) মোহাম্মদ উল্লাহ
  3. গ) শাহ আব্দুল হামিদ
  4. ঘ) আবদুল হামিদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম স্পিকার ছিলেন শাহ আব্দুল হামিদ।
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদের প্রথম স্পিকার ছিলেন মোহাম্মদ উল্লাহ।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমান স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী।

উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২১.
রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের নাম কী?
  1. ক) ট্রাক টু রিকভারি
  2. খ) ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি
  3. গ) ট্রাক টু পুশ ব্যাক
  4. ঘ) ট্রাক টু পুশ আপ
ব্যাখ্যা
- রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি  গ্রহন করেছে।

• ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি:

- ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি বলতে এমন একটি কূটনীতিক অবস্থা কে বুঝায় যেখানে কোন রাস্ট্র একই সাথে দুই ধরনের  কূটনীতি গ্রহন করলে তখন তাকে দ্বৈত ট্রাক কূটনীতি বলে।
- রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে সরাসরি আলোচনা করে ফাস্ট ট্রাক গ্রহন করে কিন্তু পাশাপাশি  জাতিসংঘের মাধ্যমে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে সেকেন্ড ট্রাক গ্রহন করে।
- মানবাধিকার পরিষদের চলমান অধিবেশনে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা’র (ওআইসি) সব সদস্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি পেশ করা হয়।

উৎস: দ্য ডেইলি স্টার।
৩২২.
নিচের কোনটি বিরোধী দলের কাজ?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৩.
রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. জনসমষ্টি
  2. ভূ-খন্ড
  3. সরকার
  4. সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রের উপাদান:
রাষ্ট্রের চারটি উপাদান থাকে। যথা -
• জনসমষ্টি,
• ভূ-খন্ড,
• সরকার,
• সার্বভৌমত্ব।

→ জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্র গঠনের প্রথম উপাদান জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি ব্যতীত রাষ্ট্র হতে পারে না।
- তবে একটি রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যা কত হতে হবে তার কোন ধরা বাঁধা নিয়ম নেই।

→ ভূখন্ড:
- রাষ্ট্র গঠনের দ্বিতীয় উপাদান হল ভূখন্ড।
- জনসমষ্টিকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ভূখন্ড আবশ্যক।
- ভূখন্ড বলতে রাষ্ট্রের ভূমি, নদ-নদী, পাহাড়-পর্বত, সামুদ্রিক জলসীমা বোঝায়।

→ সরকার:
- রাষ্ট্রের তৃতীয় উপাদান সরকার।
- সরকারের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার তিন ধরনের কাজ করে। যথা- আইন সংক্রান্ত, শাসন সংক্রান্ত ও বিচার সংক্রান্ত।
- এ তিন ধরনের কাজের জন্য সরকারের তিনটি বিভাগ রয়েছে। যথা- আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ।
- তবে বিশ্বের প্রায় সব সরকার ৩টি বিভাগ নিয়ে গঠিত হলেও সরকারের রূপ ও প্রকৃতি এক নয়।
- যেমন- বাংলাদেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা, আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।

→ সার্বভৌমত্ব:
- রাষ্ট্র গঠনের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সার্বভৌমত্ব৷
- এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
- সার্বভৌমত্ব ব্যতীত কোন দেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে না।
- যেমন- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পূর্বে বাংলাদেশের অন্যান্য উপাদান থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌম ক্ষমতা না থাকায় বাংলাদেশ রাষ্ট্র বলে পরিগণিত হতে পারে নি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২৪.
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক পরস্পর -
  1. পরিপূরক
  2. বিপরীত
  3. সম্পূরক
  4. নিবিড়
ব্যাখ্যা
⇒ গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক পরস্পর পরিপূরক।

গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।

রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত
হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই। যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। ।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। তবে শিক্ষা, জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৫.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে বিকল্প সরকার বলা হয়-
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. সেনাবাহিনী
  3. বিরোধী দল
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

উল্লেখ্য, 
- নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- সেনাবাহিনী বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩২৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে কার ক্ষমতাচ্যুত ঘটে?
  1. খন্দকার মোশতাক
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. বেগম খালেদা জিয়া
  4. শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয় ।
ii) দ্যা বিজন্যাস স্ট্যান্ডার্ড  বাংলা।

৩২৭.
সৈয়দ আমীর আলী কোন প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন?
  1. লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন
  2. ঢাকা ল কলেজ
  3. কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:

- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ও বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফেরেন।
- কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। 
- সৈয়দ আমীর আলী ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৮.
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় কোন সালে?
  1. ১৯০৯ সালে
  2. ১৯০৭ সালে
  3. ১৯০৫ সালে
  4. ১৯০৬ সালে
ব্যাখ্যা

মুসলিম লীগ: 
- মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর, ঢাকায়।
- এর পেছনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
- মুসলিম সমাজের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ঢাকার শাহবাগে সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক দলের প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, এটি মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণে নিবেদিত থাকবে।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এর মাধ্যমে সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
- দলটি প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের শিক্ষা, প্রতিনিধি অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
- পরবর্তীকালেই এই দলটি পাকিস্তান সৃষ্টির মূল শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৩২৯.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি? 
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত 
  4. বেসরকারি সংগঠন
ব্যাখ্যা
অ্যালান বলের মতে, “চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ ‘অংশীদারী মনোভাবের’ দ্বারা আবদ্ধ।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
- দলীয় সংগঠনবিহীন,
- দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
- বেসরকারি সংগঠন, 
- নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
- সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
- সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
- সমজাতীয় মনোভাব। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩০.
Which of the following is not a concept of 'Three Zero' theory?
  1. Zero Net Carbon Emissions
  2. Zero Unemployment
  3. Zero Poverty
  4. Zero Hunger
  5. None of these
ব্যাখ্যা
Three Zero Theory বা "তিন শূন্য তত্ত্ব" হলো নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রদত্ত একটি বৈশ্বিক উন্নয়ন ধারণা, যেখানে তিনি তিনটি বড় সামাজিক লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে এসেছেন:
- Zero Poverty (শূন্য দারিদ্র্য)
- Zero Unemployment (শূন্য বেকারত্ব)
- Zero Net Carbon Emissions (শূন্য নিট কার্বন নির্গমন)

এই তিনটি লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে পৃথিবীতে টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ রক্ষা সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
Zero Hunger এই শব্দটি 'Three Zero' তত্ত্বের অংশ নয়।

উৎস: Yunus Centre ও দ্য ডেইলি স্টার।
৩৩১.
রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাকে কি বলে?
  1. Poliology
  2. Stasiology
  3. Political party
  4. Soteriology
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের ধারণা:
- বর্তমান যুগে রাজনৈতিক দলের সাহায্যেই শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
- আধুনিক অর্থে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয় সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে।
- রাণী প্রথম এলিজাবেথের রাজত্বকালে হুইগ (Whig) ও টোরি (Tory) নামক দুইটি দলের সৃষ্টি হয়।
- রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বিজ্ঞানসম্মতভাবে আলোচনা মূলত: শুরু হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে।
- রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” বা (স্টাসিউলজি) নামে পরিচিত।
- ‘Stasis’ শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব।
- এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে। 

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩২.
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. সেনাবাহিনী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. বিচার বিভাগ
  4. স্থানীয় সরকার
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

রাজনৈতিক ব্যবস্থা:

- বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- বিভিন্ন সময়ে একাধিক রাজনৈতিক দল জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই এ দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৯১ সময়ে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত ছিলো।
- বাংলাদেশের আইনসভা জাতীয় সংসদ নামে পরিচিত যা এককক্ষ বিশিষ্ট।

সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা: নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৩৩৩.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করা হয়-
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ঃ 
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।
- ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- ২০০৯ সালে সরকার জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপন করে এবং এটিই জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধনী) আইন ২০০৯ (২০০৯ সালের ১৩নং আইন) হিসেবে সংসদে পাশ হয়।
- সর্বমোট ৩০ ধারায় গঠিত এ আইনবলে ইতোপূর্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক জারীকৃত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়।
- ইতোপূর্বে বিদ্যমান মোট পনেরটি ধারা সংশোধিত হয়।
- এ ছাড়া কিছু নতুন ধারাও আইনে সন্নিবেশিত হয় যার মধ্যে অধ্যায় ৬ (ক) ছিল সম্পূর্ণ নতুন।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে। 
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এ) ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যে কোনো ভোটকেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।

উৎস:  বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ও বাংলাপিডিয়া।

৩৩৪.
পটুয়া নামে পরিচিতি লাভ করেন কে?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. কামরুল হাসান
  3. এসএম সুলতান
  4. আবদুল আলীম
ব্যাখ্যা
কামরুল হাসান: 
- কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮) প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- দেশবিভাগের পর কামরুল হাসান  ঢাকা চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন (১৯৪৮)।
- ঢাকায় চিত্রকলার চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট গ্রুপ।
- ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে উক্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
- পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী, হিংস্র মুখমন্ডল সম্বলিত একটি পোস্টার এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- পোস্টারটির শিরোনাম: ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে।
- কামরুল হাসানের চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৩৩৫.
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কত শতাংশ নারী সদস্য থাকতে হবে?
  1. ২৫%
  2. ২৮%
  3. ৩৩%
  4. ৩৮%
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে।
- নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়।
- নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো। বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

৩৩৬.
প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় 'বিকল্প সরকার' বলতে কী বােঝায়?
  1. ক্যাবিনেট
  2. বিরােধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. লােকপ্রশাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩৭.
'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' কার লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই পুরস্কার লাভ করেন।
- ড. ইউনূস বিশ্ব খাদ্য পুরস্কারসহ আরও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন।
- 'দরিদ্রহীন বিশ্বের অভিমুখে' তাঁর লেখা আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।

উল্লেখ্য,
- মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ড. ইউনুসকে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করা হয়।
- ১৯৭৮ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ড. ইউনূস জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সহ প্রায় ১৪৫টি পুরস্কার অর্জন করেছেন।
- তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৭ সালে।

তথ্যসূত্র - ইউনূস সেন্টার।
৩৩৮.
'হান্টার কমিশন' গঠন করেন কে?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড লিটন
  3. লর্ড রিপন
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
• 'হান্টার কমিশন'
- ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে উডের ডেসপ্যাচে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উন্নতির জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।
- কিন্তু এই ডেসপ্যাচের ভাবধারা কে অবহেলা করে প্রাথমিক ও দেশজ শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধু উচ্চশিক্ষা ও সরকারি স্কুল কলেজগুলিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। - এর ফলে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতি একেবারেই হয় না। তাই সরকার প্রথমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার উন্নতি সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করেন।

•হান্টার কমিশন গঠন:-
- এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড রিপন ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দের ৩রা ফেব্রুয়ারি ২০ জন সদস্য নিয়ে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করেন।
- এটি প্রথম "ভারতীয় শিক্ষা কমিশন” নামে পরিচিত।
- এই কমিশন স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টারের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল বলে একে "হান্টার কমিশন” বলা হয়।
- স্যার উইলিয়াম উইলসন হান্টার ছিলেন এই কমিশনের সভাপতি।
- অন্যান্য সদস্যরা হলেন- আনন্দমোহন বসু, কে.টি. তেলাং, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, স্যার সৈয়দ আহমদ খান প্রমুখ।
- প্রাথমিক শিক্ষা ও নিরক্ষরতা বিষয়ে এই কমিশনকে বিশেষভাবে বিচার করার কথা বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৯.
কে দেশবন্ধু নামে খ্যাত?
  1. সি আর দাশ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. হাজী মোহাম্মদ মুহসীন
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- উপমহাদেশের রাজনীতিতে গভীর নিষ্ঠা ও দেশপ্রেমের জন্য চিত্তরঞ্জন দাশকে দেশবন্ধু আখ্যা দেওয়া হয়।
- তিনি সি আর দাশ নামেও পরিচিত।

⇒ একজন বিলেত ফেরত ব্যরিস্টার হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর অনঢ় অবস্থান।
- তিনি রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনকে মেনে নিতে পারেননি।
- অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে মহাত্মা গান্ধীর ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি লাভজনক আইনজীবির পেশা পরিত্যাগ করে রাজনৈতিক কর্মকান্ডে আরও বেশি সোচ্চার হয়ে দেশপ্রেমের অমোঘ স্বাক্ষর রাখেন। '
- বেঙ্গল প্যাক্ট' দেশবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চিত্তের অনন্য উদাহরণ।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধু কবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন?
  1. ক) ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  2. খ) ৩১ মার্চ ১৯৬৯
  3. গ) ০৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭০
  4. ঘ) ১৭ অক্টোবর ১৯৭০
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- আওয়ামী লীগ দলীয় সভায় ১৯৭০ সালের ১ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহিত এবং একই বছরের ১৭ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের দলীয় নির্বাচনি প্রতীক হিসেবে ‘নৌকা’ পছন্দ করেন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি এবং প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ২৯৮টি আসন লাভ করে।
(তথ্যসূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৪১.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. সুশীল সমাজ
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. বিরোধী দল
  4. সামাজিক সংগঠন
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪২.
হাজী শরীয়তউল্লাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. শরিয়তপুর জেলা
  2. মাদারীপুর জেলা
  3. ভোলা জেলা
  4. বরিশাল জেলা
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের (বর্তমান মাদারীপুর জেলা) শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
১৯৭০ এর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি কয়টি আসনে জয়লাভ করে?
  1. ক) ২৯৮টি
  2. খ) ১৬০টি
  3. গ) ১৬৮টি
  4. ঘ) ২৮৮টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭০ এর নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশ নেয়। ৩০০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট এক হাজার ৯৫৭ জন প্রার্থী। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এক হাজার ৫৭৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
• জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগ ১৭০ আসনে প্রার্থী দেয়। এর মধ্যে ১৬২টি আসন পূর্ব পাকিস্তানে এবং বাকিগুলো পশ্চিম পাকিস্তানে।
• আওয়ামী লীগ ১৬০টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। সংরক্ষিত ৭টি মহিলা আসন নিয়ে মোট আসন সংখ্যা দাঁড়ায় - ১৬৭টি। 

অন্যদিকে, 
• প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টিতে সরাসরি ভোটে জয়লাভ করে।
• সংরক্ষিত নারী আসনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে আওয়ামী লীগের দলীয় আসন দাঁড়ায় - ২৯৮টি।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি,  পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৪.
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তার নাম কী?
  1. খিলাফত আন্দোলন
  2. আলীগড় আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. ফকির বিদ্রোহ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্যার সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- দু’বছর পরে এটি কলেজে উন্নীত হয়।

• আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

অন্যদিকে -
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- মজনু শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৫.
অধ্যাদেশ জারি করেন কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
- সংবিধানের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থা কিংবা সংসদ অধিবেশনের বিরতিকালে বিশেষ প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন যা আইনের মতোই প্রযোজ্য।
- এই অধ্যাদেশ জারির পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তা সংসদের অনুমোদনের জন্যে উত্থাপন করতে হয়।
- উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে তা অনুমোদন করতে হয়। অন্যথায় ৩০ দিন পর অধ্যাদেশটি আপনাআপনি অকার্যকর হয়ে যায়।

সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান।
৩৪৬.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে কত সালে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০০৭ সালে
  3. ২০১০ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩৪৭.
৪০। আওয়ামী মুসলিম লীগের কততম কাউন্সিলে দলের নাম থেকে ‍মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়?
  1. ক) দ্বিতীয় কাউন্সিল
  2. খ) তৃতীয় কাউন্সিল
  3. গ) চতুর্থ কাউন্সিল
  4. ঘ) পঞ্চম কাউন্সিল
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আওয়ামী ‍মুসলিম লীগের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই কাউন্সিলে দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ গঠিত হয়।
আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫৩ সালের ১৪-১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় কাউন্সিলে দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলা ট্রিবিউন)
৩৪৮.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  2. স্যার সলিমুল্লাহ
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা
- দ্বি-জাতি তত্ত্বের (Two-Nation Theory) প্রবক্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। 

জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 

- দ্বিজাতিতত্ত্ব  ভারত ও পাকিস্তান নামে দু’টি স্বাধীন জাতি ও রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে ভারতকে রাজনৈতিকভাবে দ্বিধাবিভক্ত করার নির্ণায়ক ও আদর্শাশ্রয়ী একটি রাজনৈতিক মতবাদ।
- এই মতবাদই ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা ‘Two Nations Theory’ নামে পরিচিত।
- তাঁর এই তত্ত্ব ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি।
- যদিও উক্ত প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’ শব্দটি বা ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবুও প্রস্তাবের অন্তর্নিহিত বক্তব্য ছিল হিন্দু ও মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর এই তত্ত্বই পরবর্তীতে ভারত বিভাগের অন্যতম যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৯.
রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন
  2. সমাচার চন্দ্রিকা
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. মিরাত-উল-আখবার
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার চন্দ্রিকা' রাজা রামমোহন রায়ের প্রকাশিত পত্রিকা নয়।

রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫০.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) ব্যক্তি স্বার্থ রক্ষা
  2. খ) নিয়মতান্ত্রিকতা
  3. গ) জাতীয় স্বার্থ 
  4. ঘ) সরকার গঠন
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য
- সমমতাদর্শ
- নির্দিষ্ট কর্মসূচি
- জাতীয় স্বার্থ 
- সরকার গঠন 
- সংঘবদ্ধতা 
- নিয়মতান্ত্রিকতা
- দলীয় আদর্শ অনুশীলন

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
৩৫১.
কোনটির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে?
  1. অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে
  2. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  3. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- নীতি ও কর্মসূচি ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।

উল্লেখ্য, 
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।

সূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫২.
সুশীল সমাজের কাজ নয় কোনটি?
  1. সমাজসেবা
  2. সরকার গঠন
  3. শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন
  4. মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৫৩.
'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. ভিকার-উল-মুল্ক
  4. নবাব মহসীন-উল-মুল্ক
ব্যাখ্যা
'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' গঠনের প্রস্তাব পেশ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
:
- ১৯০৬ সালে ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের জন্ম উপমহাদেশের ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ন ঘটনা।
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উনিশ শতকে স্যার সৈয়দ আহমদ খান সহ বিশিষ্ট মুসলিম নেতৃবৃন্দের স্বাতন্ত্র্যবাদী রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনার ফল হিসেবে একদিকে যেমন মুসলিম সম্প্রদায় নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হয়, তেমনি কংগ্রেসের রাজনীতি হতে দূরে থেকে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থেও এগিয়ে আসে।
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা এ রূপ স্বাতন্ত্রবাদী রাজনৈতিক ধারারই ফল।

⇒ বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন।
- এর ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, আগা খান, নবাব ভিকার উল মুলক প্রমুখ।

উল্লেখ্য,
- ১৯০৬ সালে ঢাকার শাহবাগে অনুষ্ঠিত হয় 'মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্সে'র বার্ষিক সম্মেলন।
- সম্মেলনের শেষ দিনে ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মুসলিম প্রতিনিধিগণ 'অল ইন্ডিয়া মুসলিম লীগ' নামে মুসলমানদের জন্য একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন।
- নবগঠিত দলের যুগ্ম- আহবায়ক নির্বাচিত হন নবাব মহসীন-উল-মুল্ক ও ভিকার-উল-মুল্ক।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
রাজনৈতিক দল হচ্ছে -
  1. ধর্মভিত্তিক সংগঠন
  2. বিক্ষিপ্ত জনগোষ্ঠী
  3. ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও ক্ষমতায় আগ্রহী জনগোষ্ঠী
  4. কেবল মাত্র নির্বাচনকালীন সংগঠন
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি, যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়।
- এরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সরকার গঠনে প্রতিযোগিতা করে।

রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা: 
- যখন কোন জনসমষ্টি রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে একমত পোষণ করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা আরোহণে আগ্রহী এবং রাজনীতি সচেতন হয়ে সংঘবদ্ধ হয় তখন এই সংঘবদ্ধ একদল লোককে 'রাজনৈতিক দল' বলে।
- বার্ক বলেন, "রাজনৈতিক দল এরূপ একটি জনসমষ্টি যারা কিছু ঐক্যবদ্ধ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্যে সংঘবদ্ধ হয়েছে।”
- অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।”
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”
- ম্যাকাইভার বলেন, রাজনৈতিক দল বলতে সেই জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠনে প্রয়াসী।”
অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”
- বস্তুত রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়। প্রকৃত রাজনৈতিক দলের কাছে নেতা ও দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড়।

সূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৫৫.
সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয় কতবার? [জুন, ২০২৫]
  1. ৪ বার
  2. ৫ বার
  3. ৩ বার
  4. ২ বার
ব্যাখ্যা
সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত ৩ বার।
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।
- ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল মোতাবেক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে।
- পরবর্তী সময়ে সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী অনুসারে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান প্রবর্তিত হয়।
- সংবিধানের ১২তম সংশোধনী আইন ১৯৯১ অনুসারে সংসদীয় পদ্ধতি চালু হলে পরোক্ষ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।
- বর্তমানে অনুচ্ছেদ ৪৮ অনুসারে সংসদ-সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে প্রবল গণআন্দোলনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার বদলে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস:  BBC ওয়েবসাইট।
৩৫৬.
জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৮৩ সালে
  2. খ) ১৯৮৫ সালে
  3. গ) ১৯৮৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার থেকে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে তিনি ১৯৮৪ সালের জুলাই মাসে প্রথমে জনদল, ১৯৮৫ সালের ১৬ আগস্ট জাতীয় ফ্রন্ট এবং ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। জাতীয় পার্টি তৃতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদে জয় লাভ করে সরকার গঠন করে। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৫৭.
অবাধ প্রতিযােগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয় কোন ধরনের রাষ্ট্রে?
  1. ক) সাম্রাজ্যবাদী
  2. খ) পুঁজিবাদী
  3. গ) সমাজতান্ত্রিক
  4. ঘ) রাজতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

পুঁজিবাদী রাষ্ট্র বলতে সেই রাষ্ট্রকে বােঝায়, যেখানে সম্পত্তির উপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয়। এ সরকারব্যবস্থায় উৎপাদনের উপাদানসমূহ (ভূমি, শ্রম, মূলধন ও ব্যবস্থাপনা) ব্যক্তিগত মালিকানায় থাকে। এর উপর সরকারের কোনাে নিয়ন্ত্রণ থাকে না। অবাধ প্রতিযােগিতার মাধ্যমে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
এ ধরনের রাষ্ট্রে নাগরিকগণ সম্পদের মালিকানা ও ভােগের ক্ষেত্রে স্বাধীন । বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই পুঁজিবাদী ।
উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি

৩৫৮.
'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' বাংলা কোন সনে হয়েছিল?
  1. ১০৭৬ সনে
  2. ১১৭৬ সনে
  3. ১৩৭৬ সনে
  4. ১২৭৬ সনে
ব্যাখ্যা
• ছিয়াত্তরের মন্বন্তর
- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ নামে পরিচিত।
- তখন ছিল আঠারো শতকের চরম অর্থনৈতিক মন্দার বছর।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানি খাজনা আদায়ের নামে সীমাহীন শোষণ আর লুণ্ঠন করে।
- পাশাপাশি সেই সময় (১৭৬৮-১৭৬৯) অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়।ফলে সৃষ্টি হয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- ১১৭৬ বঙ্গাব্দে (ইংরেজি ১৭৭০ সাল) এই দুর্ভিক্ষ হয় বলে একে ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ বলা হয়। 
- ১৭৫৭ সালে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হন।
- তখন থেকেই এ দেশে ব্যাপক সম্পদ লুণ্ঠন করতে থাকে ইংরেজরা।
- ১৭৬৫ সালে ইংরেজরা দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে বাংলা-বিহার-ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে।
- বাংলার নবাবের হাতে থাকে নামে মাত্র প্রশাসনিক ক্ষমতা। রাজস্ব আদায় ও আয়-ব্যয়ের হিসাব থাকে ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির কাছে।
- ফলে ইতিহাসে দ্বৈত শাসন নামে শাসনব্যবস্থার সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।  
৩৫৯.
গণভোটে উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবনা কতটি?
  1. ৮৪টি
  2. ৪৭টি
  3. ৩০টি 
  4. ৩৭টি
ব্যাখ্যা

- জুলাই সনদে অনেকগুলো সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও, গণভোট হয় কেবল সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৩০টি প্রস্তাব নিয়ে।

- বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মোট ১১টি কমিশন গঠন করা হয়।
- সেই কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠকে বসে ঐকমত্য কমিশন।
- সেখানে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হয়।

- এরমধ্যে কিছু প্রস্তাবে সব দল একমত হয়, কিছু বিষয়ে ভিন্নমতের কারণে 'নোট অব ডিসেন্ট' দেয়া হয়।
- এই প্রস্তাবগুলোকে আবার দুইটি ভাগে ভাগ করে কমিশন।

- প্রথম অর্থাৎ 'ক' অংশে রাখা হয়, সংবিধান সংস্কার সাপেক্ষে ৪৭টি প্রস্তাব আর 'খ' অংশে রাখা হয় আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের ৩৭টি প্রস্তাব।
-  এরমধ্যে কেবল সংবিধান সংস্কার বিষয়ক ৩০টি প্রশ্ন নিয়ে হবে এবারের গণভোট।

• যেসব প্রশ্ন থাকবে গণভোটের ব্যালটে:

⇒ ‘জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নে’ উল্লেখ করে বলা হয়, আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?

১. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমত হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।

উৎস: নির্বাচন কমিশন এবং বিবিসি

৩৬০.
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর আসন-
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) বান্দরবান
  3. গ) খাগড়াছড়ি
  4. ঘ) রাঙ্গামাটি
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় সংসদীয় আসন সংখ্যা একটি করে। বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদীয় আসন সংখ্যা ১ টি করে। জাতীয় সংসদের ৩০০ নম্বর আসনটি বান্দরবানের।
উৎসঃ সংসদ সচিবালয়ের ওয়েবসাইট।
৩৬১.
নিচের কোন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারো পরামর্শ গ্রহণে বাধ্য নয়?
  1. ক) সংসদ অধিবেশন আহবান
  2. খ) জরুরি অবস্থা ঘোষণা
  3. গ) প্রধান বিচারপতি নিয়োগ
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও শাসন বিভাগের সর্বোচ্চ ব্যক্তি। কিন্তু সাংবিধানিকভাবে তার ক্ষমতা খুবই সীমিত।
তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করে থাকেন।
শাসন বিভাগের প্রকৃত ক্ষমতার অধিকারি প্রধানমন্ত্রী ও তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩৬২.
সুজন সংগঠনটি প্রথম কী নামে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. সিএফই
  2. এইচজিসি
  3. পিএসই
  4. এসপিসি
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৩৬৩.
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল নয় কোনটি?
  1. কমিউনিস্ট পার্টি
  2. জাতীয় পার্টি
  3. ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. জাসদ
ব্যাখ্যা
⇒ জাতীয় পার্টি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল নয়।

সমাজতান্ত্রিক দল:

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ):
- ১৯৭২ সালে আওয়ামী লীগ থেকে পৃথক হয়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর যাত্রা শুরু হয়।
- দলটির লক্ষ্য হল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত শ্রেণিহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি:
- এটি একটি সমাজতান্ত্রিক দল। বাংলাদেশে সমাজতান্ত্রিক দলের দুটি ধারা।
- একটি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বা চীনপন্থী অন্যটি সোভিয়েতপন্থী।
- বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পাটি মূলত লেনিনবাদী সমাজতান্ত্রিক দল।
- ১৯৮০ সালে দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি:
- সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী একটি দল।
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট ইউনিট গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।

জাতীয় পার্টি:
- তৎকালীন সেনাশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন।
- মূলত সামরিক ক্ষমতার বেসামরিকীকরণের অংশ হিসেবে তিনি দলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি দুই বার (১৯৮৬ ও ১৯৮৮) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৪.
কোন জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায়?
  1. তৃতীয় জাতীয় সংসদে
  2. দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে
  3. প্রথম জাতীয় সংসদে
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
বিরোধীদলীয় নেতা:
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা লক্ষ্য করা যায় । 
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান (দ্বিতীয় সংসদ)।     
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- ষষ্ঠ সংসদ দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ যার স্থায়িত্ব ছিলো মাত্র ১২ দিন। 

সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
৩৬৫.
ন্যাপ নামক রাজনৈতিক সংগঠন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  2. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী: 
- ১৮৮৭ সালে ১৮ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের কৃতী পুরুষ মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন।
- নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে যৌবনে পদার্পন করেন করার পর তিনি ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী সংগঠন ‘অনুশীলন’ দলের প্রাথমিক সদস্য হন।
- পরবর্তীতে নিরাপত্তার অন্বেষায় তিনি আসামে চলে যান।
- মওলানা ভাসানী সারাজীবন কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষের পক্ষে আপোষহীনভাবে সংগ্রাম করতে গিয়ে বহু জেল, জুলুম ও নির্যাতন ভোগ করেছেন।
- তিনি বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের (প্রাথমিকভাবে যে দলের নাম মুসলিম আওয়ামী লীগ ছিল) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
- ১৯৫৬ সালে ঐতিহাসিক কাগমারী (টাঙ্গাইলের সন্তোষে) সম্মেলনে পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে তিনি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।  
- এরপর ন্যাপ নামক অপর একটি রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাক-ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মওলানা ভাসানী মজলুম জননেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
- ভাসানী প্রগতিশীল, মানবতাবাদী ও মুক্ত চিন্তা-চেতনায় সমৃদ্ধ বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- সিরাজগঞ্জের তেজোদীপ্ত প্রাণপুরুষ জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৯৭৬ সালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৩৬৬.
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তর গুলো কয়টি ভাগে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তর ২ টি ভাগে বিভক্ত। বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তর গুলো হলো-
১. কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়) ও
২. স্থানীয় প্রশাসন (বিভাগ, জেলা ও উপজেলা)।
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
৩৬৭.
প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন কে?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক:
- বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- লক্ষ্ণৌ শহরে ১৯১৬ সালে যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, সেইটাই ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে পরিচিত।
- তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ১৯২৭ সালে।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ১৯৩৭ সালে। 
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় গঠিত ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়।
- দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করে ১৯৫৫ সালে।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

৩৬৮.
বেগম রোকেয়ার কোন সাহিত্যকর্মটি ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে?
  1. মতিচূর
  2. পদ্মরাগ
  3. সুলতানা’স ড্রিম
  4. অবরোধবাসিনী
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

বেগম রোকেয়ার সুলতানা’স ড্রিম ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে।

Sultana’s Dream:

- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।

উল্লেখ্য,
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ‘বিশ্বস্মৃতি’ বা ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা নারীর মুক্তিপ্রত্যাশী উপন্যাস ‘সুলতানা’স ড্রিম’।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলা অঞ্চলে নারীস্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ।
- মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কমিটি ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ বা মৌক্যাপের দশম সাধারণ সভায় ঘোষণাটি দেওয়া হয়।

• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।

⇒ রোকেয়ার উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ, ২ খন্ড: ১ম খন্ড ১৯০৪, ২য় খন্ড ১৯২২), Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা, ১৯০৮), পদ্মরাগ (উপন্যাস, ১৯২৪), অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ, ১৯৩১) প্রভৃতি।
- মতিচূর, পদ্মরাগ, অবরোধবাসিনী, সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি গ্রন্থে রোকেয়ার ঐকান্তিক স্বপ্নই এক অভিনব রূপ পেয়েছে। মতিচূর ২য় খন্ডে আছে ‘সৌরজগৎ’, ‘ডেলিসিয়া হত্যা’ (মেরী করেলী রচিত Murder of Delicia, ১৮৯৬ উপন্যাসের গল্পাংশের অনুবাদ), ‘জ্ঞান-ফল’, ‘নারী-সৃষ্টি’, ‘নার্স নেলী’, ‘মুক্তি-ফল’ প্রভৃতি গল্প ও রূপকথা।
- এছাড়া আছে অসংখ্য প্রবন্ধ, ছোটগল্প, কবিতা, ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও অনুবাদ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো।
৩৬৯.
একটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়ন ঐ দেশের কিসের উপর নির্ভরশীল?
  1. ক) সরকার
  2. খ) বিরোধী-দল
  3. গ) জনমত
  4. ঘ) রাজনৈতিক সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা
অতি সম্প্রতি রাজনীতি বিজ্ঞান আলোচনায় ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। কোন দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশ্লেষণের জন্য রাজনৈতিক কৃষ্টি বা সংস্কৃতি জানা প্রয়োজন। কেননা একটি দেশের রাজনৈতিক অবস্থা ও উন্নয়ন সে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি বা কৃষ্টির ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
৩৭০.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী?
  1. সিপিডি
  2. দুদক
  3. এনবিআর
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ।তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

এছাড়াও,
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্যে নাগরিক, এফবিসিসিআই প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সরকার কাঠামোর অংশ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৩৭১.
বিধবা বিবাহ আইন পাসে প্রধান ভূমিকা রাখেন কে?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পন্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
- তিনি বিধবা-বিবাহ চালু করা, বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করা এবং স্ত্রীশিক্ষা বিস্তারের জন্যে আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন।
- তার প্রচেষ্টায় ১৮৫৬ সালের জুলাই মাসে বিধবাবিবাহ আইন প্রণীত হয়।

উল্লেখ্য,
- বিদ্যাসাগর এবং তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচন্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন।
- পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী।
- তাছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৭২.
গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে -
  1. ক) নির্বাচন
  2. খ) সংসদ
  3. গ) রাজনৈতিক দল
  4. ঘ) সংবিধান
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাজনৈতিক দল। 
- গণতন্ত্র সুসংহতকরণে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। 
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করা। 
- জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা এবং কোন বিষয়ের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের কাজ। - - জনগণের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে। 
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। 
- রাজনৈতিক দল তাদের কার্যাবলির মাধ্যমে সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়; এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৭৩.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে হলে কমপক্ষে কয়টি উপজেলা কমিটি থাকতে হবে?
  1. ২১টি
  2. ৩০টি
  3. ৫০টি
  4. ১০০টি
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় ২০০৮ সালে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। 

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ২১টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৩৭৪.
'Society is a system of social relationships in and through which we live.' কে বলেছেন?
  1. অ্যালান বল ও ম্যাকাইভার
  2. আর্নেস্ট বার্কার ও পেজ
  3. অ্যালান বল ও হ্যারল্ড লাসওয়েল
  4. ম্যাকাইভার ও পেজ
ব্যাখ্যা
• ম্যাকাইভার ও পেজ :
- ‘Society’ নামক গ্রন্থে বলেছেন,"Society is a system of social relationships in and through which we live." অর্থাৎ সমাজ হচ্ছে এমন সব সামাজিক সম্পর্কের একটি ব্যবস্থা যার মধ্যে আমরা জীবন যাপন করি। তিনি সমাজ বলতে সামাজিক সম্পর্কের জটিল জালকে বুঝিয়েছেন।

অন্যদিকে,
• অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার - “বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্ভদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।”

• অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball) - Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilizing the political process”-  অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংহতি ও স্থায়িত্ব সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৫.
‘পাইন্যার মা’ কোন চিত্র শিল্পীর বিখ্যাত চিত্রকর্ম? 
  1. এস এম সুলতান
  2. সফিউদ্দিন আহমেদ
  3. জয়নুল আবেদিন
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
জয়নুল আবেদিন:
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বেড়ে উঠেছেন ব্রহ্মপুত্রের লালিত্যে গড়ে ওঠা সবুজ শ্যামলিমায়।
- জয়নুল তাঁর প্রথম জীবনেই নদী ও অবারিত প্রকৃতির মাঝে রোমান্টিকতার অনুপ্রেরণা পান।
- তিনি ১৯৩৩ সালে কলকাতা সরকারি আর্ট স্কুলে ভর্তি হন এবং পাঁচ বছর সেখানে ব্রিটিশ / ইউরোপীয় স্টাইলের ওপর পড়াশুনা করেন।
- জয়নুল আবেদিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী, যারা দেশ ভাগের পর ঢাকায় অভিবাসী হয়েছিলেন, আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩), 'ফসল মাড়াই', জলরং (১৯৬৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহ জেলার পার্ক রোডে অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৫ সালে যাত্রা শুরু করে।
- শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত যা ১৯৯৬ সালে উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং জাতীয় জাদুঘর ওয়েবসাইট।
৩৭৬.
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী কে?
  1. ক) প্রধান বিচারপতি
  2. খ) আইন সচিব
  3. গ) আইনমন্ত্রী
  4. ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইনজীবী।
সংবিধানের ৬৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিমকোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগ দান করে থাকেন।
তার পদের মেয়াদ রাষ্ট্রপতির ইচ্ছাধীন। তিনি পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেরও সভাপতি।
বাংলাদেশের বর্তমান ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ সংবিধান)
৩৭৭.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা?
  1. আলীগড় আন্দোলন
  2. ফরায়েজি আন্দোলন
  3. স্বদেশী আন্দোলন
  4. নীল বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
• হাজী শরীয়তুল্লাহ:
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায় কোনটি?
  1. ক) রাজনৈতিক দল
  2. খ) সামাজিক সংগঠন
  3. গ) অর্থনৈতিক সংস্থা
  4. ঘ) পারিবারিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্র মানেই হচ্ছে রাজনৈতিক দলের উপস্থিতি ।
- গণতন্ত্রের সফলতার জন্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম ।
- কেননা রাজনৈতিক দলই জনগণের মতামতকে সুসংগঠিত করে এবং জনগণের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটায়
- রাজনৈতিক দল এর সদস্য ও নেতাদেরকে গণতান্ত্রিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত হতে শেখায়। যেমন- দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় দলের নেতা ও কর্মীদেরকে মত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয় এবং অন্যের মতের প্রতি সহনশীল হতে শেখায় ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭৯.
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের জনক হীরালাল সেন কোথায় জন্মগ্রহন করেন?
  1. কোলকাতায়
  2. মানিকগঞ্জ
  3. মুন্সিগঞ্জ
  4. নাটোরে
ব্যাখ্যা

• ভারতবর্ষের প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা হীরালাল সেন:
- বাংলার কিংবদন্তি চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হীরালাল সেনের জন্ম ১৮৬৬ সালে মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে।
- তার বাবার নাম চন্দ্রমোহন সেন ও মা বিধুমুখী।
- তার পিতামহ গোকুলকৃষ্ণ মুনশি ছিলেন ঢাকার জজ আদালতের আইনজীবী।
- মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়।
- ১৮৭৯ সালে তিনি ঢাকার কলেজিয়েট স্কুলে ভর্তি হন।
- পরে বাবার সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে কলেজে ভর্তি হন।
- ১৮৯৬ সালে কলকাতায় আইএসসি পড়ার সময় স্টার থিয়েটার আয়োজিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী দেখে চলচ্চিত্রের প্রতি তার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।
- তিনি ১৯০৪ সালে উপমহাদেশের প্রথম নির্বাক সিনেমা ‘আলীবাবা ও চল্লিশ চোর’ নির্মাণ করেন।
- ১৯০৩ সালে তার রয়াল বায়োস্কোপ কোম্পানি থেকে প্রথম বাংলায় সি কে সেনের মাথার তেল ‘জবাকুসুম’, 
বটফেস্ট পালের ‘এডওয়ার্ড টনিক’ ও ডব্লিউ মেজর কোম্পানির ‘সালসা পিলা’ ইত্যাদি বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মিত হয়।
- এছাড়া তিনি প্রামাণ্যচিত্র ও সংবাদচিত্রও নির্মাণ করেন। 
- ১৯০০ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তার নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার সংখ্যা ৪০। 

উৎস: দৈনিক ইত্তেফাক।

৩৮০.
ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. রামনাথ সিং
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী:
- তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ২ অক্টোবর ১৮৬৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অহিংসার মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।
- ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মহাত্মা গান্ধী।
- তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়ন করেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীনে প্রবর্তিত ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অনশনের মাধ্যমে কলকাতায় (কলকাতা) দাঙ্গার অবসান ঘটান।
- ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি একজন তরুণ হিন্দু ধর্মান্ধ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে গঠিত আন্দোলনের নাম কী ছিল?
  1. খেলাফত আন্দোলন
  2. আলিগড় আন্দোলন
  3. অসহযোগ আন্দোলন
  4. ফরায়েজি আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।

এছাড়াও, 
- ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।

অন্যদিকে: 
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
কার মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ক) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. খ) আতাউর রহমান খান
  3. গ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. ঘ) আবু হোসেন সরকার
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।
- ফজলুল হক নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কৃষি ও সমবায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
৩৮৩.
বিশ্বব্যাংক হলো এক ধরনের-
  1. ক) সমন্বিত গোষ্ঠী
  2. খ) রাজনৈতিক গোষ্ঠী
  3. গ) ধর্মীয় গোষ্ঠী
  4. ঘ) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ডব্লিউটিও, জাতিসংঘ, ডব্লিওএইচও ইত্যাদি আন্তর্জাতিক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।
৩৮৪.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী নির্বাচনী জামানত কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২৫ হাজার টাকা
  2. ৩০ হাজার টাকা
  3. ৪০ হাজার টাকা
  4. ৫০ হাজার টাকা
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গেজেট জারি করেছে সরকার।
- এতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জোটগতভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করার বিধান যুক্ত করাসহ বেশ কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
- নভেম্বর ৪, ২০২৫ তারিখে আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশের গেজেট জারি করেছে।
- এর আগে গত ২৩ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

⇒ সংশোধনের গেজেট প্রকাশের পর এবারের জাতীয় নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন বিধান।
- সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘না ভোট’ পুনরায় চালু হওয়া থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহারকে নির্বাচনী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার মতো নানা বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- সংশোধিত আরপিও অনুযায়ী মূল পরিবর্তনগুলো হল-আদালত ঘোষিত ফেরারি আসামি প্রার্থী হতে পারবেন না।
- আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী (সেনা, নৌ, বিমান ও কোস্ট গার্ড) যুক্ত হয়েছে।
- একক প্রার্থীর আসনে ‘না ভোট’ ফিরছে। সমান ভোট পেলে লটারির বদলে হবে পুনঃভোট।
- জোটগত নির্বাচনে নিজ দলের প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক।
- এছাড়াও নির্বাচনী জামানত ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হযেছে।
- আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা জরিমানা ও ছয় মাসের কারাদণ্ডের বিধান থাকবে।
- আইটি সাপোর্টে পোস্টাল ভোটিং পদ্ধতি যুক্ত হয়েছে।
- অনিয়ম প্রমাণিত হলে পুরো আসনের ভোট বাতিলের ক্ষমতা ইসিকে দেওয়া হয়েছে।
- হলফনামায় অসত্য তথ্য দিলে নির্বাচিত হওয়ার পরও ইসি ব্যবস্থা নিতে পারবে-এমন বিধান রাখা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

৩৮৫.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য?
  1. নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ
  2. সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ
  3. স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান
  4. উপরোক্ত সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ মতাদর্শগতভাবে একমত পোষণ করে এবং ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল হলো গণতন্ত্রের মূল চালিকা শক্তি।

• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
i) সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি: সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি রাজনৈতিক দলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রাজনৈতিক দলে বিভিন্ন জাতি ধর্ম বর্ণ,লিঙ্গের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলও লক্ষ্য করা যায়।

ii) নির্দিষ্ট নীতি ও আর্দশ: প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলেরই নির্দিষ্ট কিছু নীতি ও আদর্শ থাকে। এ নীতি ও আর্দশের ভিত্তিতেই জনগণ সংঘবদ্ধ হয়ে থাকে। সাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা লাভ করলে দলটি তাদের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চায়। যেমন: জার্মানির গ্রীন পার্টি, পরিবেশ সংরক্ষণই এ রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য।

iii) সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভ: বর্তমানে সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা লাভের কোন বিকল্প নেই। রাজনৈতিক দলগুলোও সেভাবে তাদের কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে। কোন একটি দলের পক্ষে এককভাবে ক্ষমতা লাভ সম্ভব না হলে জোটগতভাবে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা করে।

iv) সাংগঠনিক কাঠামো: রাজনৈতিক দল একটি সংগঠন। তাই এটি পরিচালনার জন্য লিখিত নিয়মকানুন (গঠনতন্ত্র) থাকে। যার ভিত্তিতে একটি সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলা হয়। আদর্শ রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কাঠামো গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়।

v) স্থানীয় ও জাতীয় অবস্থান: রাজনৈতিক দল স্থানীয়, জাতীয় বা ঊভয় অবস্থানেই কার্যক্রম পরিচালনা করে। পৃথিবীর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোতে অনেক স্থানীয় রাজনৈতিক দল দেখা যায়। যেমন ভারতের সমাজবাদী দল কেবল দক্ষিণ ভারতে সক্রিয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৬.
কত তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়েছিল?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৩৮৭.
রাজনৈতিক দল সাধারণত কোন ভিত্তিতে গঠিত হয়?
  1. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  2. নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে
  3. নীতি ও মতের ভিত্তিতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৮.
‘Comparative Politics and Government’ গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) ম্যাকাইভার
  2. খ) হ্যারল্ড লাসওয়েল
  3. গ) আর্নেস্ট বার্কার
  4. ঘ) অধ্যাপক অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
অধ্যাপক অ্যালান বল (Alan Ball)
• Comparative Politics and Government নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেন , “One of the most important functions of political parties is that of uniting, simplifying and stabilizing the political process”.
•রাজনৈতিক দলের কার্যপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্র তথা রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংহতি ও স্থায়িত্ব সংরক্ষিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। 

এছাড়াও বিভিন্ন গ্রন্থের লেখক:
• সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার ও পেজ :
- ‘Society’নামক গ্রন্থে বলেছেন,"Society is a system of social relationships in and through which we live."
- অর্থাৎ সমাজ হচ্ছে এমন সব সামাজিক সম্পর্কের একটি ব্যবস্থা যার মধ্যে আমরা জীবন যাপন করি। তিনি সমাজ বলতে সামাজিক সম্পর্কের জটিল জালকে বুঝিয়েছেন।

• অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার :
“বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্ভদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।”

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম),উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না কে?
  1. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা
• সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯০.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর?
  1. ক) ইউনিয়ন পরিষদ
  2. খ) জেলা প্রশাসন
  3. গ) বিভাগীয় কার্যালয়
  4. ঘ) উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা

- উপজেলা প্রশাসন বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বশেষ স্তর।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা প্রশাসনের মধ্যমণি এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- ২০০৮ সালের জারিকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী তিনি উপজেলা পরিষদের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- জেলা প্রশাসন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন। তিনি বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে একজন অভিজ্ঞ সদস্য। তাকে কেন্দ্র করে জেলার সকল সরকারি কাজ পরিচালিত হয়।
- একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ৯ জন নির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও ৩ জন নির্বাচিত নারী সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৯১.
নিচের কোনটিকে ‘স্বার্থকামী গোষ্ঠী’ বলা হয়?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. জনগণ
  3. সরকার 
  4. রাজনৈতিক দল 
ব্যাখ্যা
স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
● অধ্যাপক মাইনর ওয়েনারের মতে,“চাপ সৃষ্টিকারী বা স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলতে এমন এক গোষ্ঠীকে বুঝায় যা স্বেচ্ছামূলক ভাবে সংগঠিত,যা সরকারি কাঠামোর বাইরে অবস্থান করে, সরকারি নীতিমালা গ্রহণ, পরিচালনা ও নির্ধারণের ক্ষেত্রেপ্রভাব বিস্তারে সচেষ্ট থাকে।”

● আলফ্রেড গ্রজিয়ার মতে, “চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে, এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী; যা সরকারকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় পত্র,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯২.
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করে -
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিরোধী দল
  4. সরকারি দল
ব্যাখ্যা

বিকল্প সরকার:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৯৩.
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে বলা হয় -
  1. ক) ড্রাফট
  2. খ)  বিল
  3. গ) অর্ডিন্যান্স
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত আইনের খসড়াকে বিল বলে।

- বিল:

- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।
- বিল দুই প্রকার। যথা- সরকারি বিল ও বেসরকারি বিল।

সরকারি বিল
- সরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ৭ দিন সময়।
- যে বিল মন্ত্রীদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে সরকারি বিল বলে।

বেসরকারি বিল
- যে বিল সাধারণ সংসদ সদস্যদের দ্বারা উত্থাপিত হয় তাকে বেসরকারি বিল বলে।
- বেসরকারি বিল উত্থাপনের জন্য ১৫ দিনের নোটিশ প্রয়োজন হয়।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
৩৯৪.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন- 
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. শেরে বাংলা ফজলুল হক
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা

- 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আমীর আলী।

• সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯৫.
নওয়াব ফয়জুন্নেসা জন্মগ্রহণ করেন কোথায়?
  1. ঢাকায়
  2. কুমিল্লায়
  3. রংপুরে
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা
- নওয়াব ফয়জুন্নেসা জন্মগ্রহণ করেন কুমিল্লায়। 

 • নবাব ফয়জুন্নেসা:
- নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন জমিদার, নারীশিক্ষার প্রবর্তক, সমাজসেবক ও কবি।
- কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলাধীন পশ্চিমগাঁও গ্রামে এক জমিদার বংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা আহমদ আলী চৌধুরী ছিলেন হোমনাবাদ-পশ্চিমগাঁও-এর জমিদার।
- পারিবারিক পরিবেশে গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাড়িতেই তিনি শিক্ষালাভ করেন।
- মুসলমানদের কঠিন পর্দাপ্রথার মধ্যে থেকেও ফয়জুন্নেসা আরবি, ফারসি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ও সংস্কৃত ভাষায়ও ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
- গদ্যে-পদ্যে রচিত তাঁর রূপজালাল (১৮৭৬) গ্রন্থটি রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৯৬.
'ঘেরাও' শব্দটি কোন রাজনীতিবিদ প্রথম ব্যবহার করেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন হাজী শরাফত আলী খান।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদীর ভাসানচরে বন্যার কবল থেকে বাঙালি কৃষকদের রক্ষার জন্য তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে একটি বাঁধ নির্মাণ করেন।
- ভাসানচরের জনসাধারণ তাকে ‘ভাসানী সাহেব’ বলে অভিহিত করে এবং পরবর্তীকালে এ উপাধি তাঁর নামের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭৬ সালের ১৬ই মে ফারাক্কা বাঁধের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তের দিকে একটি মিছিলের আয়োজন করেন বাংলাদেশের সুপরিচিত রাজনীতিবিদ মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- এই মিছিল ও সমাবেশ 'ফারাক্কা লংমার্চ' হিসেবে পরিচিত।
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী যখন ফারাক্কা লং মার্চের নেতৃত্ব দেন তখন তার বয়স ৯০ বছরের বেশি।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ 'ঘেরাও' শব্দটি মাওলানা ভাসানী প্রথম ব্যবহার করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৭.
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সহ-সভাপতি ছিলেন -
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. শওকত হোসেন
  3. এ.কে রফিকুল হোসেন
  4. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন সভাপতি;
- আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খান ছিলেন সহ-সভাপতি,
- শামসুল হক ছিলেন সাধারণ সম্পাদক,
- শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেন ছিলেন যুগ্ম-সম্পাদক, এবং
- ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগ গঠিত হয়। 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৯৮.
সুশীল সমাজের কাজ নয় কোনটি?
  1. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া
  3. মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া সুশীল সমাজের কাজ নয়।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৯৯.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০০.
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের জন্যে কী প্রয়োজন?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্টী
ব্যাখ্যা

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের জন্যে প্রয়োজন- বিরোধী দল।

• গণতন্ত্র রক্ষা: 
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। 
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। 
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। 
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। 
- জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।