বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা৮৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা ১৩ / ১৩ · ১,২০১১,২৮৮ / ১,২৯৫

১,২০১.
কোনটি রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. জনগণ
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দল:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।
- যখন কিছু সংখ্যক মানুষ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে একমত পোষণ করে এবং কর্মসূচির মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হয় তখন তাকে রাজনৈতিক দল বলে।
- রাজনৈতিক দল জনগণ ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী হিসেবে কাজ করে।
- জনগণকে রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে রাজনৈতিক দল রাজনৈতিক সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,২০২.
National Citizen Party (NCP) এর আহ্বায়ক কে?
  1. আখতার হোসেন
  2. নাহিদ ইসলাম
  3. হাসনাত আব্দুল্লাহ
  4. তাসনিম জারা
ব্যাখ্যা
• National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
১,২০৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় কোন বাঙালি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন?
  1. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. নওয়াব আবদুল লতিফ
  4. হাজী মুহম্মদ মহসিন
ব্যাখ্যা

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
-  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- এমনকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য তিনি ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় ‘সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন’ এবং ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির’ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
- ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
- ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 
- ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

উৎস: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

১,২০৪.
'বঙ্গবন্ধু হত্যা' মামলার চূড়ান্ত রায় প্রকাশ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০৯ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা
'বঙ্গবন্ধু হত্যা
- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধুর সপরিবারে নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের দ্বার উন্মুক্ত হয়।
- ২ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে হত্যাকাণ্ডের ২১ বছর পর শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকার সময় তাঁর রিসেপসনিস্ট কাম রেসিডেন্ট পিএ আ ফ ম মুহিতুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় ২৪ আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
- ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর ১২ আসামিকে মৃত্যদন্ড প্রদান করে আদালত রায় প্রদান করে।
- হত্যাকাণ্ডের ৩৪ বছর পর ১৯ নভেম্বর ২০০৯ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।
- মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির আপিল আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
- ফলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মোট ১২ আসামিরই মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। 

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো।
১,২০৫.
বঙ্গবন্ধু জুলিও কুড়ি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন কবে?
  1. ৯ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
  2. ১০ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
  3. ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
  4. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
জুলিও কুরি শান্তি পদক:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসুত্র - কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
১,২০৬.
১৯৪০ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম ট্যানারি স্থাপন করেন কে?
  1. রণদা প্রসাদ সাহা
  2. পি সি সরকার
  3. রাজীব প্রসাদ সাহা
  4. জহির উদ্দিন
ব্যাখ্যা
ট্যানারি শিল্প:
- ট্যানারি এক ধরনের কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান যেখানে জুতা, থলে বা ব্যাগ, স্যুটকেস, বেল্ট, মানিব্যাগ, জ্যাকেট প্রভৃতি উৎপাদন করা হয়। 
- ট্যানারি শিল্প বলতে চামড়া পাকা করা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এমন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
- ট্যানারিতে পশুর কাঁচা চামড়া পাকা করার পর জুতা, ব্যাগ, স্যুটকেস, বেল্ট, মানিব্যাগ, জ্যাকেট ইত্যাদি উৎপাদনের উপযোগী চামড়া তৈরি করা হয়।

⇒ অতীতে কতিপয় দেশীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে খালি হাতে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা হতো।
- ১৯৪০ সালে নারায়ণগঞ্জে প্রথম ট্যানারি স্থাপন করেন রণদা প্রসাদ সাহা।
- পরবর্তীকালে ট্যানারিটি ঢাকার হাজারিবাগে স্থানান্তর করা হয়।
-  এটি পরবর্তীকালে ঢাকার হাজারীবাগে স্থানান্তর করা হয়।
- এই ট্যানারিকে কেন্দ্র করেই হাজারিবাগ এলাকায় অনেকগুলি ট্যানারি গড়ে উঠে।
- ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প জনবহুল হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাভারে নিজস্ব শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়।

⇒ দেশ বিভাগের পূর্বপর্যন্ত পূর্ববঙ্গে উৎপাদিত সকল কাঁচা চামড়া পশ্চিম বাংলায় বিশেষত, কলকাতায় রপ্তানি হতো।
- ১৯৬০ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের ট্যানারিগুলো কাঁচা চামড়ার গায়ে লবণ মাখিয়ে তারপর তা রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করত।
- এ প্রক্রিয়ায় তৈরি আধাপাকা চামড়াকে বলা হতো শাল্টু।
- ১৯৮২ সালে সরকার বিলগ্নীকরণ নীতির আওতায় ট্যানারিগুলোকে ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করে।

উল্লেখ্য,
⇒ রণদা প্রসাদ সাহা:
- রণদা প্রসাদ সাহা বাংলাদেশের প্রখ্যাত সমাজসেবক, জমিদার ও দানবীর ব্যক্তিত্ব ছিলেন।
- আর. পি. সাহা নামেই তিনি সমধিক পরিচিত ছিলেন।
- তিনি বাংলাদেশে হাসপাতাল, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গরীবদের কল্যাণার্থে ট্রাস্ট গঠন করেন।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহৃত হন।
- পরবর্তীকালে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।
- সমাজসেবায় অবদানের জন্য ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২০৭.
নিম্নের কোন প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন একটি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে? 
  1. দলটি যদি পরপর দুইটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে
  2. দলটি যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে
  3. দলটি যদি নির্বাচনে জয়ী না হয়
  4. দলটি যদি নির্বাচন কমিশনকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়
ব্যাখ্যা

• নিবন্ধন বাতিল:
- কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

এছাড়াও,
- কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
- বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
- বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১,২০৮.
নিচের কোনটি সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণে পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. বিচারপতি
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. জনগণ
ব্যাখ্যা
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- কোনো বিশিষ্ট লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য কাজ করে এমন গোষ্ঠীকে বলা হয় চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।
-সুশীল সমাজ কাজ করে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূল লক্ষ্য হলো গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধার।
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বিভিন্ন কাজ:
• স্বার্থের সংহতি সাধন,
• জনসংযোগ,
• তথ্য প্রদান,
• রাজনৈতিক প্রচার,
• সামাজিকীকরণ,
• সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি দূরীকরণ,
• সরকারের উপদেষ্টা,
• রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও পরিবর্তন,
• আইন ও নীতির উৎস।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২০৯.
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন কত সালে? 
  1. ১৯৩৭ সালে
  2. ১৯৩৫ সালে
  3. ১৯৩৮ সালে
  4. ১৯৪০ সালে
ব্যাখ্যা

• শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক: 
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের।
- ১৮৭৩ সালে বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জের সাতুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
- রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে তিনি শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) এবং 'হক সাহেব' নামে পরিচিত ছিলেন।
- ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র হন।
-  ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিাডিয়া।

১,২১০.
পাকিস্তানি শাসনামলে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ক্ষমতায় ছিল -
  1. ক) ১৮ মাস
  2. খ) ২ বছর
  3. গ) ১ বছর
  4. ঘ) ১৩ মাস
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
এর প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- সহ সভাপতি : আতাউর রহমান খান, আলী আমজাদ খান, আহমেদ আলী খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আবদুস সালাম খান।
- যুগ্ম সম্পাদক : শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাগারে আটক ছিলেন),খন্দকার মোশতাক আহমদ,এ.কে রফিকুল হোসেন ( খায়ের মিয়া ) 
- ট্রেজারার : ইয়ার মোহাম্মদ খান(যার মালিকানাধীন রোজ গার্ডেনে প্রথম সভার আয়োজন হয়)
 
১৯৫৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দলটির নাম আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বর্জন করা হয়।
 
- পাকিস্তানি শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক ক্ষমতায় ছিল মাত্র ২ বছর (১৯৫৬-৫৮) এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে কোয়ালিশন সরকার হিসেবে কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৩ মাস (১২ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬- ১১ অক্টোবর ১৯৫৭)। 

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১,২১১.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করা
  2. আইন সভার সদস্যেদের প্রভাবিত করা
  3. দলীয় কর্মসূচি দেওয়া
  4. বেসরকারি সংগঠন
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য : 
- দলীয় সংগঠনবিহীন,
- দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা,
- সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
- সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়, 
- সমজাতীয় মনোভাব, 
- বেসরকারি সংগঠন ।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১২.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম একটি ভূমিকা হলো-
  1. রাষ্ট্রের পরিচালনা
  2. আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্প্রাদন
  3. রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয়
  4. বিকল্প নীতি উত্থাপন
ব্যাখ্যা

• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের অন্যতম একটি ভূমিকা হলো- বিকল্প নীতি উত্থাপন।
• রাষ্ট্রের পরিচালনা, আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্প্রাদন, ইত্যাদি বিষয়গুলো রাষ্ট্রের ক্ষমতাসীন সরকারি দলের অন্তর্গত।


• গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়।
- একটি আদর্শ বিরোধী দল কেবল বিরোধীতার খাতিরেই বিরোধীতা করে না।
- বরং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা, ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়া এবং জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন মাফিক সরকারকে পরামর্শ দেয়ার দায়িত্ব পালন করে।

• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, "যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই"।

• বিকল্প নীতি উত্থাপনঃ
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।
- এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা:
- রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে।
- এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

• জনমত গঠন:
- রাষ্ট্র ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে কোন দুর্বলতা চিহৃিত করতে পারলে, সেগুলো ব্যবহার করে বিরোধী দল নিজেদের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা করতে পারে।
- বিরোধী দল যদি তাদের যুক্তির স্বপক্ষে শক্তিশালী জনমত গড়ে তুলতে পারে তাহলে পরবর্তী নির্বাচনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- আর এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২১৩.
জেলা প্রশাসনে ডেপুটি কমিশনারের (ডি.সি.'র) পরই কার অবস্থান?
  1. ক) সিনিয়র সহকারী কমিশনার
  2. খ) সহকারি কমিশনার
  3. গ) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক
  4. ঘ) প্রশাসনিক অফিসার
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় প্রশাসনিক একক হিসেবে জেলা প্রশাসকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ডেপুটি কমিশনার বা জেলা প্রশাসক জেলার প্রধান।
তাঁর পরই অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার বা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।
তাঁর পর সিনিয়র সহকারী কমিশনার;
তাঁর পরের অবস্থান সহকারী কমিশনার এবং তাঁর পরের অবস্থান প্রশাসনিক অফিসার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,২১৪.
নিচের কোনটি নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য?
  1. নির্বাচনে ভোটদান করা
  2. রোগীর সেবা
  3. আইন মেনে চলা
  4. নিয়মিত কর প্রদান করা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়।
- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক।

নাগরিকের কর্তব্য:
- কর্তব্য বলতে নাগরিকের দায়িত্ব বোঝায়।
- নাগরিকগণ যেমন রাষ্ট্র প্রদত্ত অধিকার ভোগ করে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্যও রয়েছে।
নাগরিক কর্তব্য দুই ভাগে বিভক্ত।
- যথা: (ক) নৈতিক কর্তব্য (খ) আইনগত কর্তব্য।

নৈতিক কর্তব্য:
- ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান, রোগীর সেবা,
- শোকার্তকে সান্ত্বনা প্রদান,
- দুর্যোগ, মহামারী, বন্যা, খরা ও দুর্ভিক্ষের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত।

আইনগত কর্তব্য:
- নির্বাচনে ভোটদান করা,
- আইন মেনে চলা,
- নিয়মিত কর প্রদান করা ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন কত তারিখে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮৩ সালের ৭ জানুয়ারি
  2. ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯৭৮ সালের ৫ মার্চ
  4. ১৯৮৯ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
-  ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে ১৫ই আগস্টের অভ্যূত্থানকারীদের বিরুদ্ধে একটি সেনা অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়।
- এই সেনা অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশারফ।
- কিন্তু খালেদ মোশাররফও বেশি দিন স্থায়ী হতে পারেন নি।
- মাত্র ৩ দিন পর অর্থাৎ ৭নভেম্বর সংঘটিত পাল্টা অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান খালেদ মোশাররফ।
- এই ধারাবাহিকতায় ক্ষমতার দখল নিয়ে নেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।
- তিনি বিচারপতি আবু সাদাত সায়েমকে সামনে রেখে ক্ষমতা সুসংহত করার জন্য নানা ধরনের উদ্যোগ নেন।
- জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসন পরিচালনা করেন।
- ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দল গঠনের পরেই ১৭ নভেম্বর রাজনৈতিক কর্মসূচির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে দেন।
- তিনি এই ধারাবাহিকতাতে ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেন।
- কিন্তু বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর চাপের মুখে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ পুন:নির্ধারিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৬.
কোন শাসন ব্যবস্থার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দল অপরিহার্য?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. রাজতান্ত্রিক
  3. সমাজতান্ত্রিক
  4. একনায়কতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।

রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত
হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই। যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। ।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। তবে শিক্ষা, জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২১৭.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধরন কীরূপ?
  1. একদলীয়
  2. দ্বি-দলীয়
  3. বহুদলীয় 
  4. সমাজতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে রাজনৈতিক ব্যবস্থা: 
- বাংলাদেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্নেই এ দেশে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৫ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় প্রয়োজনে বাকশাল নামে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয় যা ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে সংবিধান থেকে বাকশাল ব্যবস্থা বাতিল করে বহুদলীয় ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া

১,২১৮.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের কাজ নয়?
  1. ক) জনগণকে সংঘবদ্ধ করা
  2. খ) নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন
  3. গ) অযৌক্তিক বিরোধীতা করা
  4. ঘ) রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের কাজ: 
-  নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ।

এছাড়াও অন্যান্য কাজের মধ্যে আছে:
- নেতৃত্ব তৈরি। 
- জনগণকে সংঘবদ্ধ করা। 
- রাজনৈতিক সচেতনতা সৃষ্টি 
- গঠনমূলক বিরোধিতা করা। 
- নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন। 
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- রাজনৈতিক দলকে প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ বলা হয়।
- রাজনৈতিক দল হলো কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি। 

তথ্যসূত্রঃ  উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
 
 
 
১,২১৯.
“নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে সংযুক্ত এবং সংযোগ সম্পর্কে সজাগ ব্যক্তি সমষ্টিকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে” - উক্তিটি করেছেন -
  1. ক) আলফ্রেড গ্রাজিয়ার
  2. খ) অ্যালমন্ড পাওয়েল
  3. গ) এইচ জিগলার
  4. ঘ) অ্যালান বল
ব্যাখ্যা
Almond Powel এর মতে, “নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে সংযুক্ত এবং সংযোগ সম্পর্কে সজাগ ব্যক্তি সমষ্টিকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বলে”।
▪ অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ ‘অংশীদারী মনোভাবের’ দ্বারা আবদ্ধ।” 
▪ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
▪ আলফ্রেড গ্রাজিয়ার এর মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী , যা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের আচরনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে “।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২২০.
ঐতিহাসিক কাগমারি সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) সিরাজগঞ্জ
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
- কাগমারি সম্মেলন হলো ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের চতুর্থ কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে দলটির বাম ও ডানপন্থী সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর ফলে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী ‍লীগের বামপন্থী সদস্যরা ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ দল থেকে বেড়িয়ে যায়।
- পরবর্তীতে, ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২২১.
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) গঠন করা হয় কবে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ১৯৭৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা বাকশাল গঠন করা হয়।
- এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাকশাল কার্যকর হওয়ার কথা ছিলো।
- এর সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী।
- এর আগে ২৫  জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস:-  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া ।
১,২২২.
কলকাতায় মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় কার প্রচেষ্টায়?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন
ব্যাখ্যা

নারী শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবায় বেগম রোকেয়ার অবদানঃ 
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াৎ হোসেন সাহিত্যিক, শিক্ষাব্রতী, সমাজসংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- ১৯০৯ সালের ১লা অক্টোবর মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে ভাগলপুরে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- রোকেয়ার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯১৭ সালে এই স্কুল মধ্য ইংরেজি গার্লস স্কুলে এবং ১৯৩১ সালে উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে রূপান্তরিত হয়।
- বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে “আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম” বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯২৯ সালে কলকাতায় মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মুসলিম নারী জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, আত্মনির্ভরশীল হয়ে মাথা তুলে দাড়াক, সামাজিক কর্মকান্ডে পুরুষের মত নারীও সমান অবদান রাখতে সক্ষম হোক এটাই ছিল তাঁর স্বপ্ন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,২২৩.
ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে ভূষিত করে -
  1. মোগল সম্রাট
  2. ব্রিটিশ সরকার
  3. কলকাতা সংস্কৃত কলেজ
  4. ব্রাক্ষ্মসমাজ
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১ খ্রি.):
- বাংলার নবজাগরণের ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায়ের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- উনিশ শতকের বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী ও সমাজকর্মী ।
ঈশ্বরচন্দ্রের জন্ম পশ্চিম বঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীর সিংহ গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে।
- কাব্য, অলঙ্কার শাস্ত্র, বেদান্ত, স্মৃতি, জ্যোতিষ ও যুক্তিবিদ্যায় তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৮৩৯ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেন
- তিনি সংস্কৃত কলেজে ইংরেজি শিক্ষা চালু করেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনে তাঁর মহৎ কীর্তি কলকাতা মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা।
- উদার ও সংস্কারমনা বিদ্যাসাগর হিন্দু সমাজে প্রচলিত, বাল্য বিবাহ, বহু বিবাহ, বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ, সতীদাহ প্রথা সহ সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহতকারী অন্যান্য অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে জোর আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা বিবাহ আইনসম্মত করণে ১৮৫৬ সালে একটি আইন পাস করা হয়।
- ১৮৭২ সালে বহু বিবাহ ও বাল্য বিবাহ রহিতকরণে 'সিভিল ম্যারেজ এ্যাক্ট' প্রণয়নেও তাঁর প্রভূত অবদান রয়েছে।
-  ১৮৯১ সালের ২৫ জুলাই তিনি পরলোকগমণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৪.
নিচের কোন সংস্থাটি  চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নয়?  
  1. সুজন
  2. CPD 
  3. BLAST
  4. বাফুফে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এই সংস্থাটি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। 
- এর বর্তমান সভাপতি কাজী সালাউদ্দীন। বাফুফে ছাড়া বাকী সবগুলো চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী।

- সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক)  ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- সুশাসন প্রতিষ্ঠা, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করে।

- CPD (Centre for Policy Dialogue) ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় । 
প্রতিষ্ঠাতা - রেহমান সোবহান । 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার মূল্যায়ন করে।
BLAST- Bangladesh Legal Aid and Service Trust

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
১,২২৫.
স্বাধীন বাংলাদেশে কত সালে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৯ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা

• গণভোট:
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

উৎস: প্রথম আলো।

১,২২৬.
সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের ক্ষমতা চর্চা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে?
  1. আদালতের মাধ্যমে
  2. সাংবাদিকতার মাধ্যমে
  3. প্রশাসনিক বিভাগের মাধ্যমে
  4. রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দল:
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
- এই ব্যবস্থায় সরকারের ক্ষমতাচর্চা সাংবিধানিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা তাত্ত্বিকভাবে জনগণের হাতে থাকলেও বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলো দ্বারা পরিচালিত হয়।
- উন্নত গণতন্ত্রে কার্যকর বিরোধী দলগুলো ক্ষমতাসীন দলগুলোর চেয়ে বেশি অবদান রাখে।
- সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংসদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
- সরকার ও বিরোধী দলের সৌহার্দপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের ওপর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে।
 
তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৭.
পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হয়ে থাকেন কে?
  1. ক) টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীবৃন্দ
  2. খ) সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যবৃন্দ
  3. গ) উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান
  4. ঘ) ইউপি’র সংরক্ষিত নারী সদস্যবৃন্দ
ব্যাখ্যা
জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিগণ কর্তৃক ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়া হলো পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।
বাংলাদেশে পরোক্ষ পদ্ধতিতে নির্বাচিত পদসমূহ হলো:
- সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যবৃন্দ
- রাষ্ট্রপতি
- স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার
- জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্যবৃন্দ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশে নিয়োগ পেয়ে থাকেন।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২২৮.
দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে -
  1. সামরিক বাহিনী
  2. সরকারি দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালা গুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা।এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে।

এছাড়াও,
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন।
- যে কোন আপত্তিকর সিদ্ধান্ত বা নীতির বিরুদ্ধে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেন। 
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সর্তক থাকবে।
- বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২২৯.
অবিভক্ত বাংলার কোন নেতা কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন?
  1. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
  2. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

• অবিভক্ত বাংলার কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ছিলেন- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকঃ

- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট

১,২৩০.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য -
  1. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  2. সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করে
  3. দলীয় সংগঠনবিহীন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- জনসাধারণের বিভিন্ন রকম সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয়, বৃত্তিগত প্রভৃতি স্বার্থকে কেন্দ্র করে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়।
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- অ্যালান বলের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।
- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।
- সংক্ষেপে বলতে গেলে চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
● দলীয় সংগঠনবিহীন,
● দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
● নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
● সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
● সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
● সমজাতীয় মনোভাব,
● বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৩১.
সুশীল সমাজের কাজ কোনটি?
  1. সরকারের বিরোধিতা করা
  2. সুবিধা ভোগ
  3. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে
  4. বিতর্ক সৃষ্টি করা
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৩২.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. মিরাতুল আখবার
  3. ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়: 
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- বিশেষ করে ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় তিনি অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি বেদান্তসূত্র ও বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে তুহফাতুল মুজাহহিদদীন (একেশ্বরবাদ সৌরভ), মনজারাতুল আদিয়ান (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা), ভট্টাচারে‍্যর সহিত বিচার, হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
- তাছাড়া তিনি সম্বাদ কৌমুদী, মিরাতুল আখবার ও ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৩৩.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো -
  1. আমলাগণ
  2. জনগণ
  3. সুশীল সমাজ
  4. নীতি ও কর্মসূচি
ব্যাখ্যা
- গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস হলো - জনগণ।
- গণতন্ত্রকে সফল করতে হলে প্রয়োজন সক্রিয়, সচেতন ও সদাজাগ্রত জনমত।
- রাজনৈতিক দল বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রচারের মাধ্যমে সেরূপ জনমত সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), মো: মোজাম্মেল হক।
১,২৩৪.
বাংলাদেশের প্রথম গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
ব্যাখ্যা

• প্রথম গণভোট:
⇒ দেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৭৭ সালের ৩০ মে,
- প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকাজের বৈধতা যাচাইয়ের জন্য অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।
- ভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণ জানান, রাষ্ট্রপতি এবং তার নীতি ও কর্মসূচির প্রতি তারা আস্থা রাখেন কি না।
- ১৯৭৭ সালের ২২ এপ্রিল গণভোটের ঘোষণা দেন জিয়াউর রহমান।
- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা ভোটগ্রহণ দেশের ২১ হাজার ৬৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। তখন দেশের মোট ভোটার ছিলেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ।

• দ্বিতীয় গণভোট:
⇒ ১৯৮৫ সালের ২১ মার্চ দ্বিতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নীতি ও কর্মসূচির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য। ভোটাররা 'হ্যাঁ' বা 'না' বাক্সে ভোট দেন। আস্থা থাকলে জেনারেল এরশাদের ছবিসহ 'হ্যাঁ' বাক্সে এবং আস্থা না থাকলে 'না' বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।

• তৃতীয় গণভোট
⇒ গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন এরশাদ। এরপর পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতিশাসিত শাসন থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট সংসদে বিল পাস হয়।
- সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর ওই বিলে রাষ্ট্রপতি সম্মতি দেবেন কি না, তা নির্ধারণে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা।

১,২৩৫.
“ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।” - কোন অনুচ্ছেদ?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৬
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৮
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৯
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ১০
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৯ঃ জাতীয়তাবাদ - “ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।”
১,২৩৬.
বাংলাদেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল কে?
  1. ক) আবদুল বাসেত মজুমদার
  2. খ) অ্যাড. নজিবুল্লাহ হিরু
  3. গ) আবদুল আওয়াল খান
  4. ঘ) আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্তমান ১৬তম অ্যাটর্নি জেনারেল আবু মোহাম্মদ আমিন উদ্দিন। তিনি ৮ অক্টোবর ২০২০ অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ১৫তম অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব মাহবুবে আলম মারা যান।
(সূত্র: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ওয়েবসাইট)
১,২৩৭.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কবে গঠিত হয়?
  1. আগস্ট, ১৯৭৮
  2. সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮
  3. অক্টোবর, ১৯৭৮
  4. নভেম্বর, ১৯৭৮
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন, যা পরে তার রাজনৈতিক দল গঠনের পথ তৈরি করে দেয়।
- ১৯৭৮ সালে তার পৃষ্ঠপোষকতায় 'জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল)' গঠিত হয় এবং এর আহ্বায়ক ছিলেন তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- পরে জাগদল বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে 'বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- জেনারেল জিয়া নিজেই দলটির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।

⇒ বিএনপির নেতৃত্বে বামপন্থী ও দক্ষিণপন্থী—উভয় মতাদর্শের নেতারা এই দলে ছিলেন।
- বিএনপির ঘোষণাপত্রে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, জাতীয় অর্থনৈতিক মুক্তি, স্বনির্ভরতা এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অগ্রগতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) The Daily Star Bangla.
১,২৩৮.
যুক্তফ্রন্ট কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল ৪ টি দলের সমন্বয়ে।
- দলগুলো হলোঃ
১. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
২. এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি।
৩. মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী। এবং
৪. হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ এবং বিশ্বপরিচয়।

১,২৩৯.
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা-
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) রাঙ্গামাটি
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জনসংখ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা ঢাকা ও ক্ষুদ্রতম জেলা বান্দরবান। আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটি এবং ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ।
উৎসঃ পঞ্চম আদমশুমারি।
১,২৪০.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি?
  1. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. জামায়াতে ইসলামী
  3. নিখিল ভারত মুসলিম লীগ
  4. বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।

- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ১৯৪১ সালের ২৫ আগস্ট লাহোরে
অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।

- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
১,২৪১.
'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান কে?
  1. ক) আইনমন্ত্রী
  2. খ) প্রধান বিচারপতি
  3. গ) স্পিকার
  4. ঘ) অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদের প্রধান হলেন- স্পিকার এবং প্রধান বিচারপতি হলেন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট' এর প্রধান। আইন মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান আইনমন্ত্রী। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা হচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৪২.
‘জমির মালিকানা কৃষকের’-কে এই ঘোষণা দিয়েছেন?
  1. মজনু শাহ
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  4. দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
‘জমির মালিকানা কৃষকের’-দুদু মিয়া এই ঘোষণা দিয়েছেন।

দুদু মিয়া:

- দুদু মিয়া হাজী শরীয়তউল্লাহর একমাত্র পুত্র।
- তাঁর আসল নাম মুহসীনউদ্দীন।
- ১৮৪০ সালে পিতার মৃত্যুর পর দুদু মিয়া ফরায়েজী আন্দোলন এর নেতৃত্ব লাভ করেন।
- শিক্ষাগ্রহণের জন্য তিনি প্রায় পাঁচ বছর মক্কায় অতিবাহিত করেন এবং পিতার অসুস্থতার কারণে ১৯ বছর বয়সে দেশে ফিরে আসেন।
- দুদু মিয়াকে ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিপ্লব এর পর সরকার বন্দি করে।
- ১৮৬১ সালে মুক্তির পূর্বপর্যন্ত কলকাতার নিকটবর্তী আলীপুর জেলে তাঁকে আটক রাখা হয়।
- ১৮৬২ সালে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য,
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বেই ফরায়েজি আন্দোলন অনেক বেশি শক্তিশালী রাজনৈতিক-সামাজিক আন্দোলনের চরিত্র লাভ করে।
- তিনি সমাজের নৈতিক ও সামাজিক ব্যাধিসমূহ নির্মূল করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তিনি উপলব্ধি করেন যে, সমাজের সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে এবং দরিদ্রদেরকে শোষণ ও নির্যাতনের কবল থেকে রক্ষা করতে হবে।
- দুদু মিয়া মনে করতেন, বিশ্বের মালিক ও প্রতিপালক একমাত্র আল্লাহ্।
- সুতরাং ভূসম্পত্তিসহ সকল প্রকার পার্থিব সম্পত্তি ও সম্পদের মালিকও আল্লাহ্।
- তাই কর বা খাজনা যদি দিতে হয়, তবে তা আল্লাহ্ পথে দিতে হবে, কোন ব্যক্তিকে নয়।
- তিনি ঘোষণা করেন ‘জমির মালিকানা কৃষকের’।

⇒ সে সময়কার জমিদারেরা রায়তদের ওপর যে সমস্ত খাজনা ও কর আরোপ করেছিল, দুদু মিয়া সেগুলোকে বেআইনি ও নীতি-বিরুদ্ধ বলে ঘোষণা দেন।
- নিপীড়িত রায়ত ও চাষীদেরকে জমিদার ও নীলকরদের অত্যাচার থেকে রক্ষা করার জন্য দুদু মিয়া বাংলার পুরনো ঐতিহ্যবাহী সংগঠন পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করেন।
- তিনি সাম্য ও ন্যায়-বিচারের ভিত্তিতে সব ধরনের ঝগড়া-বিবাদ ও মামলা-মোকাদ্দমা সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করেন।
- তাঁর এ ঘোষণা নির্যাতিত কৃষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিভিন্ন ধর্ম-বর্ণের কৃষকরা ফরায়েজী আন্দোলনের সমর্থনে তাঁর চারপাশে ভিড় জমাতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত “বায়ান্নার দিনগুলো' তে কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী কে ছিলেন?
  1. ক) ড. মহিউদ্দিন আলমগীর
  2. খ) মাইনুদ্দীন আজাদ
  3. গ) ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন
  4. ঘ) মহিউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
•শেখ মুজিবুর রহমান:
- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক রচিত ‘বায়ান্নার দিনগুলো' তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে।
- ঢাকা সেন্ট্রাল জেলে রাজবন্দী থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ আত্মজীবনী লেখেন।
- এ সময় কারাগারে অনশনরত বঙ্গবন্ধুর সঙ্গী ছিলেন মহিউদ্দিন আহমদ।
- ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ আত্মজীবনী লেখেন।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১,২৪৪.
সুশাসনের জন্য আবশ্যক -
  1. বিরোধীদলের অনুপস্থিতি
  2. সুশীল সমাজ
  3. সামরিক শাসন
  4. ধর্মীয় শাসন
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:

- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সুশাসনের জন্য আবশ্যক সুশীল সমাজ।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৪৫.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না কে?
  1. ক) নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ
  2. খ) সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান
  3. গ) নবাব ভিকার-উল ‍মুলক
  4. ঘ) মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় ‘নিখিল ভারত মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সর্ব ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে’ ঢাকার তৎকালীন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের জন্যে একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান, সৈয়দ আমির আলী প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন।
- ‍মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি ১৯১৩ সালে মুসলিম ‍লীগে যোগ দেন।
- তবে ত্রিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে জিন্নাহর নেতৃত্বেই ‍মুসলিম লীগ ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। জিন্নাহ প্রদত্ত দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা, পূর্ববঙ্গ ও পাকিস্তানে এর রাজনীতি সম্পর্কে মো. হারুন অর রশীদের লেখা বিখ্যাত বই - The Foreshadowing of Bangladesh: Bengal Muslim League and Muslim Politics.

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও The Foreshadowing of Bangladesh বই।)
১,২৪৬.
‘বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ’ (বাকশাল) কার্যকর হওয়ার কথা ছিল-
  1. ক) ১৯৭৫-এর ২৪ ফেব্রুয়ারি
  2. খ) ১৯৭৫ সালের ৭ জুন
  3. গ) ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

- দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠন ও সংস্থার স্থলে একক দল হিসেবে নবগঠিত জাতীয় দল বাকশাল ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ২৪শে ফেব্রুয়ারি একক জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল) গঠিত হয়।
- বাকশালের চেয়ারম্যান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- বাকশাল গঠনের উদ্দেশ্য ছিলো বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি।
- ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা ‘বাকশাল’–এর কাঠামো ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র- বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

১,২৪৭.
সবচেয়ে বেশি সময় আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন-
  1. ক) শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ
  4. ঘ) শেখ হাসিনা
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন কাজী বশিরের স্বামীবাগস্থ বাসভবন "রোজ গার্ডেন" এ অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনের মাধ্যমে "পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ" গঠিত হয়। 
 - ১৯৫৫ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর শহীদ সোহরাওয়ার্দী দলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব করলে সর্ব সম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয় (আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে আওয়ামী লীগ) 
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী আওয়ামী লীগের প্রথম সভাপতি। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ১৯৪৯-১৯৫৭ 
- আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ ১৯৫৭-১৯৬৪ (ভারপ্রাপ্ত) । ১৯৬৪-১৯৬৬(পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত)
- শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬-১৯৭৪ পর্যন্ত।
- শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনিই দলের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।
- অর্থাৎ সভাপতি হিসেবে তার মেয়াদ ১৯৮১-বর্তমান। তিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।

তথ্যসূত্র:- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
১,২৪৮.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল কতটি?
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ২০টি
  4. ঘ) ১০টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৩ সালের সংসদ নির্বাচন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
• বিচারপতি এম ইদ্রিস কে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হয়।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ১৯৭৩ সালের ৭ই মার্চ তারিখেই বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• এই নির্বাচনে ৩০০টি আসনে মোট ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে।
• স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ নির্বাচনে ১০৮৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। নির্বাচনে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ গ্রহণ করে কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ছিল অজেয়।
• ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩ টিতেই আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে। বিরোধী দলীয় প্রায় সকল প্রার্থীই পরাজিত হয়।  
• সংরক্ষিত ১৫টি নারী আসনেরও সবকটিতে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। 
• কেবল প্রবীণ নেতা আতাউর রহমান খান বাংলাদেশ জাতীয় লীগের প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৪৯.
রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দিয়ে প্রভাবিত করে কে?
  1. ক) চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. খ) নির্বাচকমন্ডলী
  3. গ) সাধারণ জনগণ
  4. ঘ) নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। 
তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য। 
প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ ।
মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায় ।
 
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রচারকার্য পরিচালনার একটি সংগঠিত মাধ্যম। 
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীই কোন বা কোন ভাবে রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পর্কিত থাকে। 
নির্বাচনী রাজনীতিতে কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীই স্বতন্ত্রভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে না। 
সরকার গঠন তাদের লক্ষ্য নয়, তাদের মূল লক্ষ্য সরকারের নীতিকে প্রভাবিত করা। 
নির্বাচনী রাজনীতিতে বিভিন্ন চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। 
অনেক সময় রাজনৈতিক দল এবং গোষ্ঠীর কার্যকলাপ এমনভাবে জড়িয়ে থাকে যে, তাদের ভূমিকার পার্থক্য নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।
 
অর্থাৎ, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দলকে পরামর্শ দিয়ে প্রাভাবিত করে। 
 

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, পৌরনীতি ও সুশাসন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৫০.
পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী ছিল-
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• বঙ্গভঙ্গের মূল পরিকল্পনাকারী- অ্যান্ড্র ফ্রেজার।
- বঙ্গভঙ্গের ফলে পূর্ববঙ্গ ও আসাম , নামে নতুন প্রদেশ গঠিত হয়।
- পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
- বঙ্গভঙ্গের পক্ষে -মুসলিম এবং বিপক্ষে ছিল-হিন্দুরা
- হিন্দুদের তীব্র আন্দোলনের মুখে, রাজা পঞ্চম জর্জ ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন।
- বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে , নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ১৯০৬ প্রতিষ্ঠা হয়

উৎস: বাংলাপিডিয়া, এইচএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,২৫১.
ঐতিহাসিক ছয় দফা কে ঘোষনা করেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) তাজ উদ্দিন আহমেদ
  4. ঘ) মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি শেষ করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,২৫২.
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. দিনাজপুর
  2. বরিশাল
  3. রাজশাহী
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন: 
- বিশ শতকের শুরুতে যখন ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বলছে, বাঙালি মুসলমান মেয়েরা তখনও পিছিয়ে ছিল।
- মুসলমান সমাজের মেয়েরা সব অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল।
- লেখাপড়া শেখা তাদের জন্য একরকম নিষিদ্ধই ছিল।
- সমাজ ধর্মের নামে তাদের রাখা হতো পর্দার আড়ালে গৃহবন্দি করে।
- মুসলমান মেয়েদের এই বন্দিদশা থেকে যিনি মুক্তির ডাক দিলেন, তাঁর নাম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যাকে সবাই বেগম রোকেয়া নামে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
- ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে তাঁর জন্ম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,২৫৩.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) আইন, বিচার ও সংসদ
  2. খ) কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী
  3. গ) শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড
  4. ঘ) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে রিপাবলিকান নেতা উত্তর - পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের ডা. খাঁন সাহেবের ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন গঠিত হয় ।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমুন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন ।

- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন । 
- তার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

- ইস্কান্দার মীর্জার গােপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সােহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথসুত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১,২৫৪.
'জাসদ' কোন আদর্শে বিশ্বাসী?
  1. গণতান্ত্রিক
  2. সমাজতান্ত্রিক
  3. ধর্মভিত্তিক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ):
- জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর একটি বামপন্থী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়।
- আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভাঙন থেকেই এর উৎপত্তি।
- সিরাজুল আলম খান এবং আ.স.ম আব্দুর রবের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের বামপন্থী অংশটির হাতেই ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর জাসদের গোড়াপত্তন হয় এবং মেজর (অব) এম.এ জলিল ও আব্দুর রব দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হন।
- দলটির লক্ষ্য ছিল বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র এবং কৃষক-শ্রমিকদের নেতৃত্বে বিপ্লব সংঘটিত করার মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
- এ দলটি ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তীব্র বিরোধিতা করে।
- আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে এটি একটি গণবাহিনী গঠন করে।
- ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে এ দল সরকার বিরোধী প্রচণ্ড আন্দোলন গড়ে তোলে।
- জাসদ জনগণের বিপ্লবী সেনাবাহিনী নামের আড়ালে সেনাবাহিনীর মধ্যে নিজস্ব কিছু গোপন সেল গঠন করে।
-১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থান এবং একটি পাল্টা অভ্যুত্থানের পর এই দলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সংশ্লিষ্ট লে. কর্নেল (অব) আবু তাহেরের নেতৃত্বে একটি ‘বিপ্লব’ সংঘটিত করারও প্রচেষ্টা নেয়া হয়।
-সরকার দলটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং এর বহু নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৫.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  4. নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন। 
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

• সংগঠনের উদ্দেশ্য:

- মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চার ও তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
- মুসলমানদের নৈতিক উন্নতি সাধন।
- মুসলমানদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের নিকট পেশ করা এবং
- ভারতের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মৈত্রী ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,২৫৬.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. এ. কে ফজলুল হক
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
এ. কে ফজলুল হক: 
- অবিভক্ত বাংলার জাতীয় নেতা আবুল কাশেম ফজলুল হক তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার জন্য ছিলেন সুপরিচিতি।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী।
- সর্বভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ফজলুল হক।
- তাঁর আপোষহীন ন্যায়নীতি ও অসামান্য বাকপটুতার কারণে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বেশি পরিচিত ছিলেন শেরে বাংলা (বাংলার বাঘ) নামে।
- ১৯৩৫ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তিনিই ছিলেন এ পদে অধিষ্ঠিত প্রথম বাঙালি মুসলমান।
- অবিভক্ত বাংলা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন পাবার পর ১৯৩৭ সালে সেখানে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ওই নির্বাচনে বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদে তাঁর দল কৃষক-প্রজা পার্টি তৃতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগ এবং নির্দলীয় সদস্যদের সঙ্গে জোট গঠন করেন মি. হক এবং এ. কে ফজলুল হক হন অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বিবিসি বাংলা (১৪ মার্চ ২০২০)
১,২৫৭.
১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার শাসনকার্য পরিচালনার জন্য কয়টি বিধি জারী করেন?
  1. ক) ২১টি
  2. খ) ১১টি
  3. গ) ৩৫টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসমাজ বাংলাদেশের পূর্ণ স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা করে এবং সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করে ।
৩রা মার্চ বঙ্গবন্ধু অহিংস অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিলে পূর্ব বাংলার সকল দপ্তরে তালা লাগে। 
- ব্যাংক, বিমান, ডাক, টেলিগ্রাফ, টেলিফোন, রেলপথ সবকিছুই বন্ধ হয়ে যায়। 
- বঙ্গবন্ধুর উপর প্রবল চাপ ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য। 
- এমনি অবস্থায় ৭ মার্চ ১৯৭১ রমনা রেসকোর্সে লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতিতে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়ে বলেন যে, জনগণের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্যই এবারের সংগ্রাম পরিচালিত হবে। সংগ্রাম কমিটি গঠন ও যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার আহ্বান জানান তিনি। 
- সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, হত্যাকান্ডের তদন্ত ও জনপ্রতিনিধিগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলেই তবে তিনি বিবেচনা করবেন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়া যাবে কিনা।
- ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার শাসনকার্য পরিচালনার জন্য ৩৫টি বিধি জারী করেন।
-  প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এদিন ঢাকায় আসলে  ২২ ও ২৩ মার্চ গুঞ্জরিত হয় যে, মুজিব ইয়াহিয়া সমঝোতা হতে যাচ্ছে। 
- কিন্তু মুজিবকে না জানিয়েই ইয়াহিয়া ২৫ এর রাতে ঢাকা থেকে ফিরে যাবার আগে তার কমান্ডারদেরকে বাঙ্গালি নিধনের নির্দেশ দিলেন। 
- গর্জে উঠলো সৈন্যদের মারণাস্ত্র। বঙ্গবন্ধু মাঝরাতের পর অয়্যারলেসে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাঠিয়ে দিলেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে। - বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে পাকিস্তানীদের নৃশংসতা রোধের ও বাঙ্গালীদের মুক্তিযুদ্ধে সাহায্যের আবেদন করলেন। 
- তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে। 
- সুদীর্ঘ নয় মাস বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম করে কায়েম করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। 
 
উৎস: সিভিক এডিকশন -২, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,২৫৮.
কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোটের কত শতাংশ (%) ভোট লাভ করে থাকতে হবে?
  1. ২%
  2. ৫%
  3. ৭%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা

৯০বি(১)এ ধারাঃ
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।

১,২৫৯.
'Making of a Nation-Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নুরুল ইসলাম
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নুরুল ইসলাম:
- প্রফেসর নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং লেখক।
- নুরুল ইসলাম জন্মেছিলেন ১৯২৯ সনের ১লা এপ্রিল।

উল্লেখ্য,
- নুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পেইন করেন।
- এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘মুজিবনগর সরকার’ কর্তৃক গঠিত পরিকল্পনা কমিশনের তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম স্থাীয়ভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান।

⇒ নুরুল ইসলাম মোট ২৯টি বই লিখেছেন:
- Corruption, Its Control and Drivers of Change, India, Pakistan, Bangladesh: A Primer on Political History, Development Planning in Bangladesh: A Study in Political Economy (UPL, 1979, reprint 1993), Development Strategy of Bangladesh (Pergamon, 1978), Foodgrain Price Stabilization in Developing Countries: Issues and Experiences in Asia (IFPRI, 1996), Exploration in Development Issues: Selected Articles of Nurul Islam (Ashgate, 2003) and Making of a Nation-Bangladesh: An Economist Tale (UPD 2003) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) Rokomari.com
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,২৬০.
'Keystone of the Cabinet Arch' হিসেবে অভিহিত করা হয়-
  1. ক) রাষ্ট্রপতিকে
  2. খ) প্রধানমন্ত্রীকে
  3. গ) স্পিকারকে
  4. ঘ) চিফ হুইপকে
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রী
- প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রধান।
- তিনি তাঁর প্রয়োজন অনুসারে মন্ত্রি নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন এবং দপ্তর বন্টন করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি মন্ত্রীদেও পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
- তিনি মন্ত্রণালয়ের কাজের সমন্বয় করেন। প্রধানমন্ত্রী যেকোন সময়ে যেকোন মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারেন।
- প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে মন্ত্রিসভার অস্তিত্ব থাকে না।
- মন্ত্রিসভার অধিবেশন আহবান , কার্যসূচী নির্ধারণ ,অধিবেশন সভা পরিচালনা ,মন্ত্রীদের দপ্তর বন্টন , মন্ত্রী ও বিভিন্ন দপ্তরের কার্যাবলী পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করা প্রভূতি সকল দায়িত্ব মূলত তার উপর ন্যস্ত।
- এজন্য তাকে ক্যাবিনেট তোরণের প্রধান স্তম্ভ (Keystone of the Cabinet Arch) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬১.
নিম্নের কোন দেশে রাজনৈতিক দলের অস্থিত্ব নেই?
  1. ক) যুক্তরাজ্য
  2. খ) সৌদি আরব
  3. গ) লিবিয়া
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম ।
- জাতি ধর্ম- বর্ণ লিঙ্গ, শ্রেণি পেশা নির্বিশেষে সকল জনগোষ্ঠী কোন রাজনৈতিক দলে অন্তর্ভূক্ত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
- অর্থাৎ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা এবং নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে জনগণকে আকর্ষণ করা।
- বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ রাষ্ট্রেই একাধিক রাজনৈতিক দল রয়েছে।
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই। যেমন সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান
- তাই এসব দেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে।
- তবে শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬২.
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতটি রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত তিনটি রাজনৈতিক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং জাতীয় পার্টি।
১,২৬৩.
ন্যাপ গঠন করেন কে?
  1. ক) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. খ) হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) মাওলানা ভাসানী
  4. ঘ) আব্দুর রহমান তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।

এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৬৪.
নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সর্বপ্রথম কোন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  2. পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  3. চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
  4. ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
ব্যাখ্যা

নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থা: 
- ১৯৯১ সালে নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যবস্থায় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃযাত্রা সূচিত হয়।

- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের কৃতিত্ব অর্জন করে।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন  করা হয়। 

উল্লেখ্য
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা:
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে আমরা যথাক্রমে দুই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও লতিফুর রহমান এবং ২০০৬ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তিনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন হয়।
- সাংবিধানিক অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে সপ্তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে  আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং জাতীয় পার্টি ও জাসদ (রব) এর সমর্থন লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করে।
- আইন অনুযায়ী  তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে একটি স্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।
- এ আইন অনুসারে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া বা মেয়াদ অতিক্রমের ১৫ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার (১ জন প্রধান উপদেষ্টা ও সর্বোচ্চ ১০ জন অন্যান্য উপদেষ্টা) নিযুক্তির বিধান করা হয়।
- নিয়োগপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান দায়িত্ব সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনা করা।
- বিধান অনুসারে, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বহাল থাকবে। 
- ২০১১ সালে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন,এইচএসএসএল, উন্মুুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৬৫.
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. সামছুল হক
  2. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. আতাউর রহমান
  4. শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরনো ও বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।
- ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, যুবক ও মহিলাদের মধ্যে এই দলের অঙ্গ-সংগঠন রয়েছে।

⇒ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ:
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন- সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক- শেখ মুজিবুর রহমান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি- আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

⇒ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগই ছিল প্রথম বিরোধী দল।
- পাকিস্তানি শাসনের সূচনালগ্ন থেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি, এক মানুষ এক ভোট, গণতন্ত্র, শাসনতন্ত্র প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার পদ্ধতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন এবং দুই প্রদেশের মধ্যে বৈষম্য দূরীকরণ ইত্যাদি ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান দাবি।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৬.
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজ নয় কোনটি?
  1. ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  2. নির্বাচন অনুষ্ঠান করা
  3. রাজনৈতিক দল গঠন করা
  4. নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ
ব্যাখ্যা
- রাজনৈতিক দল গঠন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়। 

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন: 

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮ এর আওতায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন স্থাপিত হয়েছে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হল রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,২৬৭.
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৪৮ সালে
  2. খ) ১৯৪৯ সালে
  3. গ) ১৯৫০ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
-  ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়। 
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রথম সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। 
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
-স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
- ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- বর্তমান মহাজোট সরকারের মূল দল হল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, দ্বিতীয় পত্র, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৬৮.
জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন কতটি?
  1. ক) ৫০টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৩০০টি
  4. ঘ) ৩৫০টি
ব্যাখ্যা
- নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাইকরণ, দল সম্পর্কিত নীতিমালা ও নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা নির্বাচন কমিশনের কাজ। 
- এছাড়া নির্বাচন কমিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ করা।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকা রয়েছে।
- সেখান থেকে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সংসদ সদস্যগণ নির্বাচিত হন। 
- ভৌগোলিক আয়তন ও ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে নির্বাচনি এলাকা নির্ধারিত হয়। 
- ভৌগোলিক এলাকাভিত্তিক ৩০০ আসন ছাড়াও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে আরো ৫০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে । এগুলো মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট। 
- তাঁরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য কর্তৃক পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,২৬৯.
বিরোধী দলের কাজ নয় কোনটি?
  1. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  2. রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ
  3. জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
  4. নির্বাচন পরিচালনা
ব্যাখ্যা
⇒ নির্বাচন পরিচালনা বিরোধী দলের কাজ নয়।

বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

• প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭০.
“চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ অংশীদারী মনোভাবের দ্বারা আবদ্ধ”- উক্তিটি কার?
  1. অ্যালেন পটার
  2. অ্যালমন্ড-গ্যাব্রিয়েল
  3. অ্যালান বল
  4. এইচ. জিগলার
ব্যাখ্যা

• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: 
- অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে।
- কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।
- অ্যালান বলের মতে, “চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ।"

অপরদিকে, 
- এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না।
- বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, "স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।"

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭১.
কোন জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না?
  1. ক) সপ্তম
  2. খ) প্রথম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রথম ও ষষ্ঠ  জাতীয় সংসদে কোন বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন না।
- জাতীয় সংসদের প্রথম বিরোধী দলীয় নেতা (দ্বিতীয় সংসদে) ছিলেন আসাদুজ্জামান খান।
- সংসদীয় ব্যবস্থায়  বিরোধীদলীয় নেতা পদটি একজন পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার সমান।

- সপ্তম সংসদ হলো দেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ।
- চতুর্থ সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত কোন আসন ছিলো না।
- বর্তমান সংসদ দেশের ১১তম সংসদ।

তথ্যসূত্র:- জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
১,২৭২.
“আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।” - রাজনৈতিক দল সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন?
  1. অধ্যাপক ফাইনার
  2. অধ্যাপক গেটেল
  3. অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।

- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, “আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”

- অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”

- অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার - এর মতানুসারে, “বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।”

উৎস: পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৭৩.
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন কোন পেশা দিয়ে?
  1. ইমামতি
  2. ডাক্তারি
  3. সরকারি কর্মকর্তা
  4. শিক্ষকতা
ব্যাখ্যা

মওলানা আবদলু হামিদ খান ভাসানীঃ
- তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরের ধনপাড়া গ্রামে তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
- টাঙ্গাইলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
- ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- ১৯৩৭ সালে মওলানা ভাসানী মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন।
- তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন ১৯৪৯ সালের ২৪ জুন।
- রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায় ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি।
- ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থী দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন।
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন এবং টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম); বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৪.
'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামে পরিচিত কে?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ১৮৯২ সালে। 
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীকে 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' বলা হয়।
- তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত থেকেছেন।

• উল্লেখযোগ্য পদগুলো হলো-
- কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র ১৯২৪ সালে,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৭৫.
১৯৭০ সালের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মোট কতটি আসন লাভ করেছিলো?
  1. ক) ১৬২টি
  2. খ) ১৬৭টি
  3. গ) ১৬৯টি
  4. ঘ) ১৭০টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
- এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ৭টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন পেয়ে জয় লাভ করেছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৭৬.
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী 'ন্যাপ' নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জের ধানগড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন হাজী শরাফত আলী খান।
- ১৯১৯ সালে ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।
- পরে তিনি টাঙ্গাইল জেলার সন্তোষে গিয়ে তথাকার অত্যাচারিত কৃষকদের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
- ১৯৩৭ সালে ভাসানী মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং অচিরেই দলের আসাম শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন মাওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হিসেবে ভাসানী তখনকার বিরোধী দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি মোর্চা গঠন করেন।
- এ মোর্চার অপরাপর নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেখ মুজিবুর রহমান ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে এবং মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
- মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারিতে আওয়ামী লীগের এক সম্মেলন আহবান করেন।
- টাঙ্গাইলের কাগমারিতে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে আওয়ামী লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে মতবিরোধ দেখা দেয়।
- ঐ বছর ১৮ মার্চ মওলানা ভাসানী পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ত্যাগ করেন।
- তিনি ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- মওলানা ভাসানী ফারাক্কা চুক্তিকে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে করেন।
- তিনি ১৯৭৬ সালের ১৬ মে রাজশাহী থেকে ফারাক্কা অভিমুখে এক লং মার্চে নেতৃত্ব দেন।
- ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১,২৭৭.
সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী দল কোনটি?
  1. বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
  2. বিকল্পধারা বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি:
- সমাজতন্ত্রের প্রবর্তক কার্ল মার্কস এর অনুসারী দল- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।
- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নিখিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির উত্তরাধিকারী সংগঠন।
- ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে কমিউনিস্ট ইউনিট গঠন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে এ দলটি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭১ সালের পূর্বে দলটির কার্যক্রম নানাভাবে দমিয়ে রাখা হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দলটির নামকরণ করা হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
- সামরিক শাসন ও এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে দলটির ভূমিকা স্মরনীয়।
- মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম দলটির সভাপতি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিক, একাদশ-দাদ্বশ শ্রেণি (উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,২৭৮.
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. আইভি রহমান
  2. শেখ হাসিনা
  3. রওশন এরশাদ
  4. বেগম খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা
বেগম খালেদা জিয়া:
- বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী (১৯৯১-১৯৯৬, ২০০১-২০০৬) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন।
- বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আদি নিবাস ছিল ফেনী জেলার ফুলগাজী থানায়।
- ১৯৬০ সালে তৎকালীন ক্যাপ্টেন এবং পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
- ১৯৮১ সালের ৩০মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকান্ডের পর তাঁর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কঠিন সংকটের সম্মুখীন হয়।
- দলের তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং দেশের রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এইচ.এম এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করেন এবং ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক আইন জারি করেন।
- দলের এ সংকটকালে ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে খালেদা জিয়া দলের সহসভাপতি এবং ১৯৮৪ সালের ১০ মে চেয়ারপার্সন পদে নির্বাচিত হন।
- খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ১৯৮৩ সালে সাতদলীয় জোট গঠন করে জেনারেল এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামে অবতীর্ণ হয়।
- এরশাদের স্বৈরশাসন অবসানের লক্ষ্যে পরিচালিত ৯ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামে খালেদা জিয়া অবৈধ সরকারের সঙ্গে কোনোপ্রকার আপস করেন নি।
- ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- খালেদা জিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রপতি-শাসিত থেকে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ঐতিহাসিক দ্বাদশ সংশোধনী বিল পাস হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার অধীনে খালেদা জিয়া ১৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় শপথ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে দেশে প্রথমবারের মতো উৎপাদন ও আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর প্রবর্তন করা হয়, যার মাধ্যমে রাজস্ব আহরণের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হয়।
- পল্লী অঞ্চলে মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা অবৈতনিক করা হয় এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য দেশব্যাপী একটি উপবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,২৭৯.
জাতীয় সংসদের ১ নং আসন কোনটি?
  1. ক) ঠাকুরগাও-১
  2. খ) পঞ্চগড়-১
  3. গ) লালমনিরহাট-১
  4. ঘ) নীলফামারী-১
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- চট্টগ্রামে ১৬টি।
- কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে ১১টি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
১,২৮০.
রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী, একটি দলের সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম কত শতাংশ নারী সদস্যপদ রাখার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ২৫%
  2. ২৮%
  3. ৩৩%
  4. ৩৮%
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ:
- বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর সবচাইতে আলোচিত পরিবর্তন আনা হয় আদেশ এর Chapter-VI-এ এর মাধ্যমে। নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়। নিবন্ধনের শর্তগুলোতে মহিলা নেতৃত্ব এবং রাজনীতিতে মহিলাদের উৎসাহিত করার জন্য প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের তৃণমূল হতে কেন্দ্রীয় কমিটিগুলোতে ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারীদের অন্তর্ভুুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য ছিল গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। ২০০৮ সালে নিবন্ধন নেওয়ার সময় দলগুলো তা পূরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পূরণ করতে পারেনি নিবন্ধিত দলগুলো। বর্তমান কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধন করে দলের সব স্তরের কমিটিতে ৩৩% নারী প্রতিনিধিত্ব রাখার সময়সীমা ২০২০ এর পরিবর্তে ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব দিয়েছে।

উৎস: i) নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) BBC.

১,২৮১.
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি দেশের কততম সংসদ নির্বাচন? 
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০২৬: 
- ১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
- একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনেরও ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি।
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
- জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি।

প্রসঙ্গত, 
- নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায়, ভোটগ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়িয়ে সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা করা হয়েছে।
- তফসিল ঘোষণা থেকে ভোট গ্রহণের দিনের মধ্যে ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পার্থক্য থাকে।
- এবার সেই সময় বাড়িয়ে করা হয়েছে দুই মাস।

তথ্যসূত্র: বিবিসি। (Link)

১,২৮২.
মুসলমান নারী কর্তৃক লিখিত প্রথম বাংলা সাহিত্যকর্ম ‘রূপজালাল’–এর লেখক কে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. সুফিয়া কামাল
  3. শামসুন নাহার মাহমুদ
  4. নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
ব্যাখ্যা

নওয়াব ফয়জুন্নেসা:
- অবিভক্ত ভারতীয় রক্ষণশীল মুসলিম নারীদের মধ্যে এক উজ্জল নক্ষত্র নওয়াব ফয়জুন্নেসা সততা, মহানুভবতা, সাহিত্য সাধনা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা রেখে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।
- জনকল্যাণে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ইংল্যান্ডের তৎকালীন মহারানী ভিক্টেরিয়া তাকে নওয়াব উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৮৩৪ সালে ত্রিপুরা জেলার (বর্তমানে কুমিল্লা) লাকসাম থানার পশ্চিমগাঁও গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বীয় প্রতিভা বলে দ্রুত বিদুষী হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
- তিনিই এক মাত্র ভারতীয় মহিলা যিনি ব্রিটিশ কর্তৃক ভারতীয়দের জন্য দেওয়া শ্রেষ্ঠতম সম্মান নওয়াব উপাধি লাভ করেন।
- বাংলাদেশের সরকার ২০০৪ সালে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করে।

⇒ সহিত্য সাধনা:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম মুসলমান সাহিত্যিক হিসেবে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে কৃতিত্ব দেয়া হয়।
- তার লেখা পদ্য ও গীতি আলেখ্য 'রূপজালাল' প্রকাশিত হয় ১৮৭৬ সালে। বলা হয়ে থাকে এটি বাংলায় কোন নারী মুসলমান লেখকের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। 'রূপজালাল' বস্তুত রূপকের আশ্রয়ে একটি আত্মজীবনীমূলক রচনা। এরপরেও আরো দুইটি কবিতার বই প্রকাশিত হয় তার, 'সঙ্গীত লহরী' এবং 'সঙ্গীতসার'।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

১,২৮৩.
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. রূপমহল সিলেমা হল
  2. রোজ গার্ডেন
  3. আরমানিটোলা ময়দান
  4. পল্টন ময়দান
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৯ সালের ২৩শে জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি:
- সভাপতি : মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- সাধারণ সম্পাদক : শামসুল হক
- যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- ২৪শে জুন ১৯৪৯ নবগঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার আরমানিটোলায়।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫৩ সালে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালের ১৯শে মার্চ সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,২৮৪.
বোফর্স কেলেঙ্কারীর সাথে কে জড়িত ছিলেন?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. পারভেজ মোশাররফ
  3. নরসীমা রাও
  4. রাজীব গান্ধী
ব্যাখ্যা
রাজীব গান্ধী:
- ভারতের ৪র্থ প্রধানমন্ত্রী (.১৯৮৪-১৯৮৯) ছিলেন।
- তিনি বোফর্স কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত ছিলেন। 
- বোফর্স মূলত সুইডেনের একটি সমরাস্ত্র নির্মাতা কোম্পানি।
- রাজীব গান্ধীকে হত্যা করার জন্য বোমা বহনকারী আত্মঘাতী মহিলা – থানু (গায়েত্রী)।
- রাজীব গান্ধীকে হত্যা করার দায়ে অভিযুক্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত আসামী নলিনী।
- রাজীব গান্ধীর মৃত্যুর পর কংগ্রেসের সভাপতি হন – নরসীমা রাও।

ড. মনমোহন সিং:
- প্রথম শিখ প্রধানমন্ত্রী (২০০৪– ২০১৪) ছিলেন।

ইন্দিরা গান্ধী:
- ভারতের ৩য় প্রধানমন্ত্রী (১৯৬৬-১৯৭৭,১৯৮০-১৯৮৪) ছিলেন।
- ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী।
- দেহরক্ষী সাতওয়ান্ত সিং এবং বিআন্ট সিং এর গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যুর পর ব্ল্যাক ক্যাট (ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড) গঠন করা হয়।

উৎস: i) PM India Website
ii) সংবাদ প্রতিদিন
১,২৮৫.
'মজলুম জননেতা' নামে কে পরিচিত?
  1. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  2. মওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা

মওলানা আবদলু হামিদ খান ভাসানী: 
- তিনি ১৮৮০ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমা শহরের অদূরবর্তী ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে “মজলুম জননেতা” বলা হয়, কারণ তিনি সবসময় শোষিত, বঞ্চিত ও প্রান্তিক মানুষের পক্ষে লড়েছেন।
- টাঙ্গাইলের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। 
- ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ-খেলাফত আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ভাসানীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
- মওলানা ভাসানী ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগদান করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আসাম মুসলিম লীগের সভাপতি হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা ভাসানী।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়।
- ১৯৫৭ সালে মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থী দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন। 
- এই সম্মেলনের মাধ্যমে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামক নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি এই দলের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- ভাসানী ১৯৭৬ সালের ১৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। টাঙ্গাইলের সন্তোষে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম); বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,২৮৬.
'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' হিসেবে খ্যাত নেতা কে?
  1. মাওলানা ভাসানী
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- তিনি 'গণতন্ত্রের মানসপুত্র' হিসেবে খ্যাত।

উল্লেখ্য,
- ১৮৯২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুরে সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

⇒ ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
- বাংলাদেশের তিনি ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র' নামেই পরিচিত।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,২৮৭.
রাজনৈতিক দল কীসের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়?
  1. অর্থনৈতিক শক্তি
  2. নীতি ও আদর্শ
  3. সামরিক ক্ষমতা
  4. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,২৮৮.
সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর যে অংশ সরকার বা কর্পোরেট গ্রুপে থাকে না, কিন্তু সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে-
  1. রাজনৈতিক দল
  2. সুশীল সমাজ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রশাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
• সুশীল সমাজ:
- সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর যে অংশ সরকার বা কর্পোরেট গ্রুপে থাকে না, কিন্তু সকলের উপর প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা রাখে। 

- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।