বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা ১২ / ১৩ · ১,১০১১,২০০ / ১,২৯৫

১,১০১.
স্বৈরাচার পতন দিবস কবে ?
  1. ক) ২৭ নভেম্বর
  2. খ) ১৭ নভেম্বর
  3. গ) ৬ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ৬ নভেম্বর
ব্যাখ্যা

৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস।
- গণ-আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের এই দিনে পদত্যাগ করেন তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- এই দিনে তিনি অস্থায়ী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। এর মাধ্যমে অবসান হয় ৯ বছরের স্বৈরশাসনের।
- মুক্তি পায় গণতন্ত্র। 
 -১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর হরতালের সময় নূর হোসেনকে স্বৈরাচার এরশাদের বাহিনী গুলি করে। নূর হোসেনের বুকে-পিঠে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক—গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ লেখা ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১,১০২.
আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. নির্বাচন কমিশন
  2. রাজনৈতিক দল
  3. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
  4. পিএসসি
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- আধুনিক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় রাজনৈতিক দল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান
- রাজনৈতিক দল ব্যতীত গণতান্ত্রিত্রক রাষ্ট্রের কথা কল্পনা করা যায় না।
- আধুনিক গণতন্ত্র হলো প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। 
- আর প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই জনমত গঠন, দলীয় আদর্শের প্রচার, সমর্থকগোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১০৩.
নিচের কোনটি ফ্যাসীবাদের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমতার উপর প্রতিষ্ঠিত
  2. নেতৃত্বের নীতি
  3. বিরোধিতা সহ্য করা হয় না
  4. সর্বাত্মক্তবাদী ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
ফ্যাসীবাদ:
- ১৯২২ সালে ইতালীতে বেনিতো মুসোলিনীর নেতৃত্বে যে শাসন ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তাকেই মূলত ফ্যাসীবাদ বলে চিহ্নিত করা হয়।
- ব্যাপক অর্থে ইউরোপে প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যকালীন সময়ে যে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বিরোধী রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তাকে ফ্যাসীবাদ বলা হয়।
- ১৯৩৩ সালে জার্মানীতে হিটলারের নেতৃত্বে যে নাগদীবাদ National Socialium সৃষ্টি হয়েছিল তাকেও এই অভিধায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

⇒ ফ্যাসীবাদের প্রথম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি একটি সর্বাত্মক্তবাদী ব্যবস্থা
- এর অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত করে একটি শাসক গোষ্ঠী।
- তারা সমাজ জীবনকেও নিয়ন্ত্রিত করে।

⇒ এর দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নেতৃত্বের নীতি
- ফ্যাসীবাদে নেতার অনুসারীদের উপর সীমাহীন কর্তৃত্ব থাকে।
- অনুসারীরা অন্ধভাবে নেতার কর্তৃত্বকে স্বীকার করে নেয়।
- ফ্যাসীবাদের জোর থাকে নেতা এবং জনগনের মধ্যে সরাসরি এবং গভীর বন্ধনের উপর।

⇒ এর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কোন বিরোধিতা সহ্য করা হয় না।
- যে কোন বিশ্লেধিতাকে নির্মূল করা হয়।

⇒ এর চতুর্থ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ফ্যাসীবাদ একটি নতুন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সৃষ্টির দাবী তুলে ধরে।
- এই ধরনের ব্যবস্থায় কোন শ্রেণীসংগ্রাম বা ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সংঘাত থাকবে না।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিরাজ করবে ঐক্য। 

⇒ ফ্যাসীবাদের পঞ্চম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি কর্তৃত্ববাদ ও অসমতার উপর প্রতিষ্ঠিত
- বর্ণবাদ, নারী- পুরুষের অসমতা ও সামাজিক অসমতার উপর সৃষ্টি হয় বলে এটি বাক্তি স্বাধীনতা, সম অধিকার ও ব্যক্তি-অধিকারকে স্বীকার করে না।
- ফলে এটি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র বিরোধী।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৪.
ঐতিহাসিক ‘কাগমারী সম্মেলনে‘ নেতৃত্বদানকারী নেতার নাম কী?
  1. ক) স্যার সলিমুল্লাহ
  2. খ) শহিদ তিতুমীর
  3. গ) মাওলানা ভাসানী
  4. ঘ) সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
• কাগমারি সম্মেলন:
- কাগমারি সম্মেলন টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। 
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি  আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,১০৫.
গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত কোনটি?
  1. ক) সুষ্ঠু নির্বাচন
  2. খ) ক্ষমতা দখল
  3. গ) দলীয় নির্বাচন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
নির্বাচন:
- নির্বাচন হচ্ছে জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের পদ্ধতি। 
- স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত ভোটাধিকার প্রাপ্ত সকল নাগরিক ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে।
- প্রতিনিধি বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে নির্বাচন বলে।
- যারা ভোট দেয়, তাদের নির্বাচক বা ভোটার বলে।
- নির্বাচকের সমষ্টিকে নির্বাচকমণ্ডলী বলা হয়।
- সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক শাসন পদ্ধতির অন্যতম শর্ত। 
- এ ছাড়া সামরিক শাসন ও এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায়ও কখনো কখনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দেখা যায়। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৬.
বিরোধী দলের কাজ নয় নিচের কোনটি?
  1. গণতন্ত্র রক্ষা
  2. সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

⇒ সরকার গঠন বিরোধী দলের কাজ নয়।

বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

⇒ বিরোধী দলের কাজ:
• সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা।
• জনগণের অধিকার বাস্তবায়ন।
• গণতন্ত্র রক্ষা।
• প্রার্থী মনোনয়ন।
• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ।
• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০৭.
'মুসলিম মহিলা সমিতি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. নওয়াব ফয়জুন্নেসা
  2. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  3. শামসুন্নাহার মাহমুদ
  4. বেগম সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা
• রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:
- নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার জন্ম ৯ই ডিসেম্বর, ১৮৮০, পায়রাবন্দ গ্রাম, রংপুর।
- বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাসে বেগম রোকেয়ার অবদান চিরঅম্লান।
- বেগম রোকেয়া প্রতিষ্ঠা করেন আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম বা মুসলিম মহিলা সমিতি।
- 'Sultana’s Dream' গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন সুলতানার স্বপ্ন নামে।
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত Lady Land বা নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতি বছর ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবস পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১০৮.
সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করে কোনটি?
  1. চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সচিব
  3. এলিট শ্রেণি
  4. সামরিক বাহিনী
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৯.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. বিরোধী দল
  2. সামাজিক সংগঠন
  3. সুশীল সমাজ
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১০.
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন প্রদান করে- 
  1. প্রধান বিচারপতি
  2. নির্বাচন কমিশন
  3. মন্ত্রিপরিষদ
  4. জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

- নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন প্রদান করে।

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:

- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধন প্রদান করে।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।
• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় ২০০৮ সালে।

• রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
- বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
- উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
- কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
         ii) প্রথম আলো।

১,১১১.
রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব কোন ধরণের শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ক) স্বৈরতন্ত্র
  2. খ) সামরিক শাসন
  3. গ) রাজতন্ত্র
  4. ঘ) গণতন্ত্র 
ব্যাখ্যা
• গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্র সুসংহতকরণে এটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য গণতান্ত্রিক উপায়ে সরকার গঠন করা।
- জনগণের মাঝে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করা এবং কোন বিষযের পক্ষে-বিপক্ষে জনমত গঠন করা রাজনৈতিক দলের কাজ।
- জনগণের প্রতিনিধিত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে।
- সংসদীয় গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দল বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
- রাজনৈতিক দল তাদের কার্যাবলির মাধ্যমে সুযোগ্য ও দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১২.
বর্তমান সময়ে নিচের কোনটির ভূমিকাকে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়?
  1. ক) স্বাধীন সংবাদ মাধ্যমের
  2. খ) জনপ্রতিনিধির
  3. গ) সুশীল সমাজের
  4. ঘ) আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যা চিহ্নিত করা ও তা সমাধানের পথ খোজার চেষ্টা করেন, তাই এর ভূমিকা সুশাসন প্রতিষ্ঠায় খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর (১ম) বোর্ড বই।
১,১১৩.
‘নেতৃত্ব’ হচ্ছে নেতার−
  1. ক) অর্থনৈতিক গুণ
  2. খ) ধৈর্য গুণ
  3. গ) নৈতিক গুণ
  4. ঘ) সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ
ব্যাখ্যা
-  নেতার গুণাবলিকে বা যোগ্যতাকে বলা হয় নেতৃত্ব।
- সুতরাং ‘নেতৃত্ব’ বলতে সাধারণত নেতার গুণাবলিকে বুঝায়।
- কিন্তু রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ‘নেতৃত্ব’ শব্দটি এত সঙ্কীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
- কোন ব্যক্তি বা কোন দলের নেতা কতখানি গুণের অধিকারী এবং তা অন্যদেরকে কতখানি প্রভাবিত করতে পারে, তার নিরীখেই নেতৃত্বের পরিমাপ হয়।
- নেতৃত্ব হচ্ছে একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক গুণ।
-  সমাজ তথা রাষ্ট্রকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়াই নেতৃত্বের মূল লক্ষ্য। 
- নেতৃত্ব হল কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তি-সমষ্টির সেই সব গুণাবলি যা সমাজ বা রাষ্ট্রের কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে অন্যদের অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ করে।
- যোগ্য নেতৃত্বের কারণে একটি দেশ যেমন সফলতার শীর্ষে আরোহণ করতে পারে, তেমনি অযোগ্য নেতৃত্বের কারণে কোন রাষ্ট্রে অধঃপতন নেমে আসতে পারে।
- নেতৃত্বের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে, যেমন− রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সম্মোহনী নেতৃত্ব, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, সমাজ সংস্কারক নেতৃত্ব ও বুদ্ধিজীবী নেতৃত্ব।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
১,১১৪.
আওয়ামীলীগ ৬ দফা সালে পেশ করে-
  1. ক) ১৯৬৫ সালে
  2. খ) ১৯৬৬ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা কর্মসূচি শেষ করেন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১১৫.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. ক) জেলা পরিষদ
  2. খ) সিটি কর্পোরেশন
  3. গ) উপজেলা পরিষদ
  4. ঘ) ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু আছে।
যথা -
- প্রথম স্তর/সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন পরিষদ
- দ্বিতীয় স্তর- উপজেলা পরিষদ
- তৃতীয় স্তর/সর্বোচ্চ স্তর - জেলা পরিষদ


তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (SSC Programme), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৬.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া
  4. সমজাতীয় মনোভাব
ব্যাখ্যা
• নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।
- সাংগঠনিক দিক থেকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী রাজনৈতিক দল অপেক্ষা দুর্বল।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য।

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
● দলীয় সংগঠনবিহীন,
● দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
● নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
● সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
● সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
● সমজাতীয় মনোভাব,
● বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৭.
বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ (বাকশাল) সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. খ) তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী সকল রাজনৈতিক দল বিলুপ্ত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একক জাতীয় দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ বা বাকশাল গঠিত হয়৷ একইসাথে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। এতে রাষ্ট্রপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী হন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। বাকশালের সভাপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী৷ (সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,১১৮.
‘কংগ্রেস’ কোন দেশের আইনসভার নাম?
  1. ক) ভারত
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

আইনসভা আইন প্রণয়ন করে। আইনসভা প্রণীত আইন রাষ্ট্রপ্রধানের সম্মতি লাভের পর কার্যকর হয়। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আইনসভা রয়েছে। এসব আইনসভা বিভিন্ন নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেস৷
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১,১১৯.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান কে ছিলেন?
  1. শেখ ফজলুল হক মণি
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. আবদুর রাজ্জাক
  4. তোফায়েল আহমেদ
ব্যাখ্যা
বাকশাল: 
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান ছিলেন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান।
- তিনি দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১২০.
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন নং কত?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ৪১টি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন নং ৬, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নিবন্ধন নং ৭, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নিবন্ধন নং ১ এবং জাতীয় পার্টির (জেপি) নিবন্ধন নং ২।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
১,১২১.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করেছিলেন?
  1. অক্টোভিয়ান হিউম
  2. ফিরোজ শাহ মেহতা
  3. উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
  4. এ টি তেলাঙ্গা
ব্যাখ্যা

- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- এটি 
১৮৮৫ সালে তৎকালীন বড়লাট ডাফরিনের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
- শুরুতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো শিক্ষিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন সম্পর্কে ভারতীয়দের অসন্তোষ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ শাসকদের নিকট তুলে ধরা।

- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে।
- এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২২.
কে. এম. নূরুল হুদা বাংলাদেশের কততম প্রধান নির্বাচন কমিশনার?
  1. ক) ১০তম
  2. খ) ১১তম
  3. গ) ১২তম
  4. ঘ) ১৩তম
ব্যাখ্যা

- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদা বাংলাদেশের ১২তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
- তিনি ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে নিয়োগ পান।
- তিনি ১১তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের স্থলাভিষিক্ত হন।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।

১,১২৩.
কোন বাঙালী নেতার নামের আগে নেতাজী বলা হয়?
  1. চিত্তরঞ্জন দাস
  2. সুভাষ চন্দ্র বসু
  3. বিধান চন্দ্র রায়
  4. মণি সিংহ
ব্যাখ্যা
সুভাষ চন্দ্র বসু:
- সুভাষ চন্দ্র বসু ছিলেন কংগ্রেস দলের বামপন্থী নেতা, ফরওয়ার্ড ব্লক এর প্রতিষ্ঠাতা ও ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মির সর্বাধিনায়ক। 
- ২৩ জানুয়ারি ১৮৯৭-এ সুভাষচন্দ্রের জন্ম হয়।
- তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিত।
- সুভাষচন্দ্র পরপর দুইবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
- কিন্তু গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত, কংগ্রেসের বৈদেশিক ও আভ্যন্তরীণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা এবং বিরুদ্ধ-মত প্রকাশ করার জন্য তাকে পদত্যাগ করতে হয়।
- সুভাষচন্দ্র মনে করতেন, মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর অহিংসা এবং সত্যাগ্রহের নীতি ভারতের স্বাধীনতা লাভের জন্য যথেষ্ট নয়।
- এই কারণে তিনি সশস্ত্র সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। 
- ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করে।
- তার বিখ্যাত উক্তি "তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবো।" 
- ১৯৩০ সালে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে গান্ধীর লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে ফরমোজায় এক বিমান দুর্ঘটনায় সুভাষ নিহত হন বলা হয়ে থাকে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২৪.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্যের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোন সংস্থা পুরস্কৃত করে?
  1. ক) EU
  2. খ) IFRC
  3. গ) ADB
  4. ঘ) IDB
ব্যাখ্যা
• পুরস্কার:
- আইএফআরসি (IFRC) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অসাধারণ সাফল্যের জন্য শেখ হাসিনাকে পুরস্কৃত করে।
- ২০১৬ সালে শেখ হাসিনার হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন আইএফআরসি-এর মহাসচিব আলহাজআস সাই।
- অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আইএফআরসি এর এশিয়া প্যাসেফিক অঞ্চলের পরিচালক জেভিয়ার ক্যাসেলানোস এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার ও ভাইস চেয়ারম্যান সাংসদ হাবিবে মিল্লাত।
- অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্বের ১০০ কোটি দুর্যোগ পীড়িত জনগোষ্ঠীকে অধিক দুর্যোগ-সহনশীল করে গড়ে তোলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় শেখ হাসিনার ভূমিকার প্রশংসা করেন আলহাজ আস সাই ।

• মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ:
১. শেখ মুজিব আমার পিতা
২. দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা
৩. ওরা টোকাই কেন?
৪. বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম
৫. আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম
৬. আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি
৭. সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র
৮. সাদা কালো
৯. সবুজ মাঠ পেরিয়ে
১০. Miles to Go
১১. The Quest for Vision - 2021

উৎস:
- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় 
- আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট
 - প্রথম আলো
১,১২৫.
রেহমান সোবহানের প্রতিষ্ঠিত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্টীর নাম কী? 
  1. সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ 
  2. ঢাকা ইন্টেলেকচুয়াল সোসাইটি
  3. ইকোনমিক রিসার্চ গ্রুপ
  4. বাংলাদেশ মানবিক সোসাইটি 
ব্যাখ্যা

Center for Policy Dialogue:
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বর্তমানে এর সদর দপ্তর ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

উৎস: i) সিপিডি ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১,১২৬.
ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৩৮ সালে
  2. ১৯৪০ সালে
  3. ১৯৪২ সালে
  4. ১৯৪৫ সালে
ব্যাখ্যা
লাহোর প্রস্তাব
- ভারত উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলিমদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্রের দাবি হিসেবে উত্থাপিত প্রস্তাবনা।
- ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে মার্চ পাকিস্থানের লাহোরে মুসলিম লীগের সম্মেলনে শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশসমূহে মুসলিম লীগের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণের জন্য মুহম্মদ আলী জিন্নাহ, ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশন আহবান করেন।
- এই  অধিবেশনে যোগদানের জন্য বাংলার মুসলিম লীগের নেতৃত্ব দেন আবুল কাশেম ফজলুল হক ।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ প্রায় দুই ঘণ্টার ধরে দেওয়া বক্তৃতায় কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের সমালোচনা করেন।
- এর পাশাপাশি তিনি দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি দাবি করার পেছনের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন।
- তৎকালীন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সিকান্দার হায়াত খান লাহোর প্রস্তাবের প্রারম্ভিক খসড়া তৈরি করেন।
- এই আলোচনাটি সংশোধনের জন্য নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাবজেক্ট কমিটি সমীপে পেশ করা হয়।
- সাবজেক্ট কমিটি এ প্রস্তাবটিতে আমূল সংশোধন আনয়নের পর ২৩শে মার্চ সাধারণ অধিবেশনে আবুল কাশেম ফজলুল হক সেটি উত্থাপন করেন এবং চৌধুরী খালিকুজ্জামান ও অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা সমর্থন করেন।

সূত্র-  বাংলাপিডিয়া।
১,১২৭.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কোনটি?
  1. নেতৃত্ব তৈরি
  2. জনমত গঠন
  3. নির্বাচনে অংশগ্রহণ
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৮.
বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে কোনটি সৃষ্টি হয়?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. রাজনৈতিক দল
  3. আমলাগণ
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৯.
CPD এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রেহমান সোবহান
  2. ফজলে আবেদ
  3. আতিউর রহমান
  4. মনসুর আহমেদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
• CPD:
- পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকার ধানমন্ডি।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

উৎস: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।
১,১৩০.
'প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন' কোন প্রস্তাবের মুল ভিত্তি?
  1. ক) ঢাকা প্রস্তাব 
  2. খ) ভারত প্রস্তাব
  3. গ) বাংলাদেশ প্রস্তাব 
  4. ঘ) লাহোর প্রস্তাব
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসন 
- লাহোর প্রস্তাবের মূল প্রস্তাব ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন। 
- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গঠিত হবার কথা ছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মুল বক্তব্যই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- এ.কে. ফজলুল হক ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩১.
“If there is no opposition, there is no democracy” - উক্তিটি কে করেছেন?
  1. ক) Ivor Jennings
  2. খ) Max Weber
  3. গ) Seymour Martin Lipset
  4. ঘ) Thomas Jefferson
ব্যাখ্যা
“If there is no opposition, there is no democracy” উক্তিটি করেছেন Sir William Ivor Jennings.
১,১৩২.
আইনের শাসন নিশ্চিত করার উপায় কোনটি?
  1. ক) বিদ্যমান আইন সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা
  2. খ) যুক্তিসংগত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা
  3. গ) যথাযথ ভাবে আইনের প্রয়োগ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আইনের শাসন নিশ্চিত করার উপায়
-আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শাসক ও শাসিতের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় থাকে। অন্যদিকে,  আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য শাসক ও শাসিতের উভয়েরই সমান ভূমিকা রয়েছে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার প্রধান উপায়গুলো হল: 

- যথাযথভাবে আইনের প্রয়োগ। 
- যুক্তিসংগত ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন। 
- বিদ্যমান আইন সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন করা। 
- যথাসময়ে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১,১৩৩.
জেনারেল এরশাদের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে কে দায়িত্ব গ্রহণ করেন?
  1. বিচারপতি হাবিবুর রহমান
  2. বিচারপতি লতিফুর রহমান
  3. বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ
  4. আবদুর রহমান বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
- জেনারেল এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিষ্ঠা:

- এরশাদ বিরোধী আন্দোলন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়।
- সারাদেশে আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করলে সরকার ২৭ নভেম্বর ১৯৯০ জরুরি অবস্থা জারি ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- জরুরি অবস্থা উপেক্ষা করে জনগণ রাস্তায় নেমে এরশাদের পদত্যাগ দাবি করে।
- সামরিক বাহিনী এরশাদকে সমর্থন প্রত্যাহার করলে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
- ১৯৯০ সালের ৪ ডিসেম্বর এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ।
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে উপ-রাষ্ট্রপতি মওদুদ আহমেদ পদত্যাগ করেন।
- তিন-জোটের মনোনীত প্রার্থী, প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমেদকে উপ-রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেওয়া হয়।
- এরশাদ পদত্যাগ করে বিচারপতি শাহাবুদ্দীনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
- এর মাধ্যমে এরশাদের শাসনের অবসান ঘটে এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দেশের প্রথম অসামরিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের উদাহরণ।

সূত্র - রাষ্ট্রবিজ্ঞান-৫, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৪.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে। 
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

১,১৩৫.
‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’ সংগঠনটি প্রথম কোন নামে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. এসএফই
  2. সিএফই
  3. সিজিই
  4. সিজিসি
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,১৩৬.
বাংলাদেশের অষ্টম জাতীয় সংসদে কোন সদস্য নিজেই নিজের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন?
  1. ক) জমির উদ্দীন সরকার
  2. খ) শেখ হাসিনা
  3. গ) আবদুল হামিদ
  4. ঘ) খালেদা জিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সপ্তম জাতীয় সংসদের স্পিকার থাকায় তিনি অষ্টম জাতীয় সংসদে নিজেই নিজের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
১,১৩৭.
ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত কে?
  1. দ্বিতীয় আকবর
  2. শ্যামাপ্রসাদ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. শ্রীচৈতন্য
ব্যাখ্যা

রাজা রামমোহন রায়:
- ১৭৭২ (মতান্তরে ১৭৭৪) সালের ২২ শে মে পশ্চিম বঙ্গের হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে ব্রাহ্মন পরিবারে রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বংশগত পদবী ছিল বন্দোপাধ্যায়।
- নবাবের কাছ থেকে রায় রায়হান উপাধি লাভ করেন।
- কট্টর হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেও ইসলাম ও খৃষ্ট ধর্মের গ্রন্থ পবিত্র কোরআন ও বাইবেল অধ্যয়ন করেন।
- তিনি হিন্দুদের ধর্মশাস্ত্র উপনিষদ ও বেদান্ত অধ্যয়ন করে একেশ্বর বাদের অস্তিত্ব খুঁজে পান।
- ১৮২২ সালে অ্যাংলো হিন্দু কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- সম্রাট 'দ্বিতীয় আকবর' রাজা রামমোহন রায়কে 'রাজা' উপাধি দেন।
- ১৮২৫ সালে বেদান্ত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা, গঙ্গা সাগরে সন্তান বিসর্জন, শিশুকন্যা হত্যার প্রতিবাদ করেন।
- তার প্রচেষ্টায় ৪ ডিসেম্বর ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করেন।
- রাজা রামমোহন রায়কে ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।
- ব্রাহ্ম সমাজ নামের পরিবর্তে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করা হয় ১৮৪৩ সালে।
- ১৮৩৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের ব্রিষ্টল নগরীতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৮.
বিরোধী দলের কাজ নিচের কোনটি?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. গণতন্ত্র রক্ষা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে।
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।

⇒ বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা।
• অধিকার বাস্তবায়ন।
• গণতন্ত্র রক্ষা।
• প্রার্থী মনোনয়ন।
• রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
• রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ।
• জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৩৯.
নিচের কোনটি বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. গঠনমূলক সমালোচনা
  2. অধিকার বাস্তবায়ন
  3. গণতন্ত্র রক্ষা না করা
  4. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে নির্বাচনে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারা সরকার গঠন করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
- বাকি দলগুলো বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অপরিহার্য।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার সমূহ আশঙ্কা থাকে।
- গণতন্ত্র রক্ষায় বিরোধীদলের বিকল্প নেই।

বিরোধী দলের বৈশিষ্ট্য:
১। গঠনমূলক সমালোচনা,
২। অধিকার বাস্তবায়ন,
৩। গণতন্ত্র রক্ষা,
৪। বিকল্প নীতি উত্থাপন,
৫। সমস্যা চিহ্নিত করা,
৬। জনমত গঠন,
৭। প্রার্থী মনোনয়ন,
৮। পারস্পরিক সম্পর্ক,
৯। রাজনৈতিক সংযোগ সাধন,
১০। রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ,
১১। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪০.
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকার গঠন
  2. জনমত গঠন
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪১.
বাংলাদেশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) কত সালে প্রথম জারি করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 
- ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- নির্বাচনের জন্য দেশের মানুষের গণঅধিকার কোনগুলো এবং এ অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশন কী করবে সেটিই বলা হয়েছে আরপিওতে।
- “এর ১৪৫টি ধারার মধ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত সব বিষয় বর্ণনা করা আছে।
- এর মাধ্যমে বলা আছে যে কীভাবে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে। 

⇒ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) বিবিসি।

১,১৪২.
উন্নত রাজনৈতিক চর্চায় 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠন করে কে?
  1. সরকার
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা

• বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১,১৪৩.
সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে কোন সালে?
  1. ক) ১৯৮৯ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ১৯৭২ সালে
  4. ঘ) ১৯৯২ সালে
ব্যাখ্যা
নিয়মতান্ত্রিকতার শিক্ষা:
- নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতার পালা বদলের শিক্ষা গণতন্ত্রেই পাওয়া যায়।
- তবে রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিকতা ছাড়া তা সম্ভব নয়। তাই রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা থাকা উচিত। 
- বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ইতিহাস অতি দীর্ঘ নয়।
- ১৯৭১ সালে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বপ্ন নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হলেও বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক চর্চা বাধাগ্রস্থ হয়েছে।
- সাংবিধানিকভাবে ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে।
- যার ফলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অধিক সক্রিয় হয়।
- ইতোপূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে।
- বর্তমানে গণতন্ত্র সুসংহতকরণের লক্ষ্যে সরকারি ও বিরোধী সব রাজনৈতিক দল প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
- তবে নিম্ন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রভাব থাকায় রাজনৈতিক দলগুলো কাঙ্খিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৪.
রাজনৈতিক দল সাধারণত কোন ভিত্তিকে অনুসরণ করে গঠিত হয়?
  1. নীতি ও মত
  2. নীতি ও কর্মসূচি
  3. স্বজাতিবোধ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- সাধারণত বহুমুখী ও ব্যাপক সামাজিক বা জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়।
- বহু ও বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দায়-দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত থাকে।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল বৃহত্তম জাতীয় ও সামাজিক স্বার্থ সাধন।
- রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সম্প্রসারিত।
- সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক নীতি ও কর্মসূচির ভিত্তিতে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠে।
- এই মতাদর্শের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় নীতি ও ব্যাপক কর্মসূচি রচিত হয় এবং তা বাস্তবে রূপায়িত করার চেষ্টা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৫.
প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকার গঠন
  2. জনমত গঠন
  3. প্রার্থী মনোনয়ন
  4. রাজনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ দলীয় আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৬.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো কত সালে?
  1. ১৯৭৮ সালে
  2. ১৯৭৯ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা

• স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিলো ১৯৭৭ সালে।

গণভোট:

- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

প্রথম গণভোট:

- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে। -
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে। -
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৭.
নিচের কোনটি ছাড়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না?
  1. বিরোধী দল
  2. সচিবালয়
  3. সামরিক বাহিনী
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৮.
কোন দেশের সিভিল সার্ভিসকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) চীন
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
চীনের সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়।
চীনা সিভিল সার্ভিসে উচ্চ বেতন ও চাকরির নিরাপত্তার জন্যে একে এই নামে অভিহিত করা হয়।
সাধারণত চীনা কমিউনিষ্ট পার্টির সদস্যরাই এই সিভিল সার্ভিসে নিয়োগ লাভ করে থাকে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার শীট)
১,১৪৯.
"নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে কোন সংঘবদ্ধ জনসমাজ বৈধ উপায়ে শাসন ক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করলে তাকে রাজনৈতিক দল বলে।" সংজ্ঞাটি কে দিয়েছেন?
  1. আর এম ম্যাকাইভার
  2. এন্ডমন্ড বার্ক
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. থমাস হবস
ব্যাখ্যা
• অধ্যাপক আর এম ম্যাকাইভার (R.M. MacIver) বলেন,
"নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে কোন সংঘবদ্ধ জনসমাজ বৈধ উপায়ে শাসন ক্ষমতা দখল করতে চেষ্টা করলে তাকে রাজনৈতিক দল বলে।"

অন্যদিকে,
• এন্ডমন্ড বার্ক (Edmand Burke) বলেন,
"কতকগুলো নির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সম্মিলিত জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।
- অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কার (Ernest Barker)-এর মতানুসারে,
"বিভিন্ন মতবাদের দ্বারা পরিচালিত হলেও সকল রাজনৈতিক দলই জাতীয় স্বার্থের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে সমগ্র জাতির সাধারণ স্বার্থ সম্পর্কিত বিষয়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণের দ্বারা নির্বাচকমন্ডলীর সমর্থন পেতে সচেষ্ট হয়।"

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫০.
“কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় বসে তাহলে বাংলা স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।” উক্তিটি কার?
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) শরৎ বসু
  3. গ) কিরন শংকর রায়
  4. ঘ) এ.কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• মুসলিম লীগ:
- মুসলিম লীগ ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে বোম্বাইয়ে একটি সম্মেলন ডাকে।
- সম্মেলনে সিদ্ধান্ত হয় পাকিস্তান অর্জনের জন্য মুসলিম লীগ প্রত্যক্ষ সংগ্রাম (ডাইরেক্ট এ্যাকশন) শুরু করবে।
- এই উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দের ১৬ আগস্ট দেশব্যাপী প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস পালনের ডাক দেয়া হয়।

- মুসলিম লীগ নেতা অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ব্রিটিশ সরকারকে এই বলে সতর্ক করে দেন যে কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় বসে তবে বাংলা স্বাধীনতা ঘোষণা করবে এবং পাল্টা সরকার গঠন করবে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫১.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে কত তারিখে?
  1. ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি
  2. ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি
  3. ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি
  4. ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
⇒  ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দেশের ৩০০ আসনে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন এবং একই সাথে জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ এর উপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
⇒ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া যাবে আগামী ২৯ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত। ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত মনোনয়ন যাচাই-বাছাই হবে।
⇒  রিটার্নিং অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল দায়েরের শেষ তারিখ ১১ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
⇒ কমিশনের দায়ের করা আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ১২ জানুয়ারি সোমবার থেকে ১৮ জানুয়ারি রোববার পর্যন্ত।
⇒  প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার। রিটার্নিং অফিসাররা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি বুধবার।
⇒  ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। 

উৎস: নির্বাচন কমিশন।

১,১৫২.
জিয়াউর রহমান কোন রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল
  2. বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল
  3. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন
  4. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
ব্যাখ্যা
জিয়াউর রহমান:
- লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম (১৯৩৬-১৯৮১) ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক এবং বাংলাদেশের নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
- তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা, সেই সাথে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি'র প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।
- জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বগুড়ার বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। 

⇒ ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজেকে চেয়ারম্যান করে একটি নতুন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠন করেন।
- ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি ৩০০টির মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। ১ এপ্রিল ১৯৭৯ তারিখে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করা হয়। ৯ এপ্রিল, পঞ্চম সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পর সামরিক আইন প্রত্যাহার করা হয়। জিয়াউর রহমান আবার নির্বাচনী রাজনীতি চালু করে দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হওয়া সত্যিই একটি বড় অর্জন এবং নেতৃত্বের চিহ্ন।

⇒ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের জনগণের একটি নতুন জাতীয় পরিচয় হিসেবে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ প্রবর্তন করেন।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাংলাদেশের মতো একটি বহুবচন সমাজে যেখানে মানুষ বিভিন্ন জাতিসত্তার এবং যেখানে তারা বিভিন্ন ধর্ম বিশ্বাস করে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং বিভিন্ন জীবনধারা রয়েছে, সেখানে জাতীয়তাবাদকে ভাষা বা সংস্কৃতির পরিবর্তে ভূখণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা উচিত।
- এই বিষয়ে তিনি জোর দিয়েছেন। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ধর্ম, বর্ণ, গোষ্ঠী, লিঙ্গ, সংস্কৃতি এবং জাতি নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের জাতীয় ঐক্য এবং একীকরণের উপর জোর দেয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ওয়েবসাইট।
১,১৫৩.
ফরায়েজি আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন-
  1. মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর
  2. হাজী শরাফতুল্লাহ
  3. মওলানা আবুল কালাম
  4. মুহসিন উদ্দিন আহমদ দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা

• ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ 
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে,বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার,অনাচার প্রবেশ করেছে।
- ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।
-  তিনি বাংলা তথা ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসন মেনে নিতে পারেননি।
- তিনি ইংরেজ রাজত্বকে সমালোচনার চোখে দেখতেন।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'বিধর্মীর দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
- তিনি বিধর্মী-বিজাতীয় শাসিত দেশে জুমা এবং দুই ঈদের নামাজ বর্জনের জন্য তাঁর অনুসারী মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
- ১৮৪০ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 
- তাঁর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাঁর যোগ্য পুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,১৫৪.
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৪
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৬
  4. ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
→ TIB ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

'Transparency International Bangladesh (TIB):
- এটি সুশীল সমাজের অংশ।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি একটি ট্রাস্ট হিসেবে গঠিত হয় এবং পরে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে একটি নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা (NGO) হিসেবে নিবন্ধিত হয় ।
- টিআইবি একটি নির্দলীয়, অলাভজনক এবং স্বাধীন সংস্থা যা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে।
- টিআইবি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কল্পনা করে।
- এটি সচেতনতা বৃদ্ধি, সততা বৃদ্ধি এবং উন্নত সমাজের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অর্জনের চেষ্টা করে।
- টিআইবি নাগরিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে, পদক্ষেপ নিতে এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করার জন্য গবেষণা তথ্য, অ্যাডভোকেসি রিসোর্স এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা ব্যবহার করে।

সূত্র: TIB ওয়েবসাইট।
১,১৫৫.
বাংলাদেশে একুশে পদকের প্রবর্তক কে?  
  1. জিয়াউর রহমান
  2. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ
  3. বেগম খালেদা জিয়া
  4. বিচারপতি সাহাবুদ্দিন
ব্যাখ্যা

 ১৯৭৬ সালে একুশে পদক প্রবর্তন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

একুশে পদক:
- এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।
- ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান একুশে পদক প্রবর্তন করেন।
- জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে এ পদক দেওয়া হয়।
- ১৯৭৬ সালে সাহিত্য, সাংবাদিকতা এবং শিক্ষায় মোট ৯ জনকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।  

• একুশে পদক-২০২৫ প্রাপ্ত ব্যক্তি:
- বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের ১৭ জন বিশিষ্ট নাগরিক এবং বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলকে ২০২৫ সালের একুশে দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে ছয়জনই মরণোত্তর এ সম্মাননা পেয়েছেন।

পুরস্কার প্রাপ্তরা -
- চলচ্চিত্রে আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)।
- সংগীতে ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা।
- আলোকচিত্রে নাসির আলী মামুন।
- চিত্রকলায় রোকেয়া সুলতানা।
- সাংবাদিকতায় মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর)।
- সাংবাদিকতা ও মানবাধিকারে মাহমুদুর রহমান।
- সংস্কৃতি ও শিক্ষায় শহীদুল আলম।
- শিক্ষায় নিয়াজ জামান।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মেহদী হাসান খান, রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।
- সমাজসেবায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর)।
- ভাষা ও সাহিত্যে হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর) ও শহীদুল জহির (মরণোত্তর)।
- গবেষণায় মঈদুল হাসান।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

১,১৫৬.
২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কত তম?
  1. ১২
  2. ১১
  3. ১৩
  4. ১০
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ৭ জানুয়ারি, ২০২৪ তারিখে।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে দলটি।
- টানা চতুর্থবারসহ পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নির্বাচিত ২৯৮ জন সংসদ সদস্য সেদিন শপথ নেন ১০ জানুয়ারি।
- নতুন এমপিদের শপথ বাক্য পাঠ করান বর্তমান স্পিকার শিরীন শারমীন চৌধুরী।
- মোট মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন।
- প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এবার মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী ও ১১ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন।

উৎস: ১১ জানুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ।
১,১৫৭.
আরপিওতে রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কমিটিতে কত শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রয়েছে?
  1. ৩০
  2. ৩৩
  3. ১৫
  4. ২৫
ব্যাখ্যা
- আরপিওতে  রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
- ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশন এই আইনি বাধ্যবাধকতার বিধান সন্নিবেশিত কর। 
- সব পর্যায়ের কমিটিতে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার শর্ত পূরণের সময়সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত করা হয়েছিল।
- আরপিও’র ৯০(খ) (১) ধারা সংশোধন করে রাজনৈতিক দলের প্রতিটি কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার শর্ত পূরণের সময়সীমা ২০৩০ সাল করার প্রস্তাব করছে ইসি।
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট
১,১৫৮.
Warrant of precedence অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পীকার কততম?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) সপ্তম
ব্যাখ্যা
Warrant of precedence (পদমানক্রম)
- Warrant of precedence হল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পদমর্যাদার ক্রম।
- পদমানক্রম বিদেশি কূটনীতিক কোরের সদস্যবর্গসহ রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের পদের আপেক্ষিক মানক্রম।
- বর্তমান পদমানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পীকার তৃতীয় অবস্থানে আছেন। 
- রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ ও তাদের আসনের ব্যবস্থা, রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী সহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিদেশ গমন ও প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের বিদায় ও অভ্যর্থনা জানানো এবং সমপর্যায়ের বিদেশি অতিথিদের দেশে স্বাগত ও পরে বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রে সাধারণত পদমানক্রম অনুসরণ করা হয়।

উল্লেখ্য যে,
- ২০১৬ সালের ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স বা পদমর্যাদা ক্রম রিটের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করে। 


তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্র। 
 
১,১৫৯.
বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা -
  1. ক) ৪২ টি
  2. খ) ৪১ টি
  3. গ) ৪০ টি
  4. ঘ) ৩৯ টি
ব্যাখ্যা
• নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল:
- বর্তমানে ৪০টি রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন রয়েছে।
- সর্বশেষ বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপিকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।
- দলটি প্রতীক হচ্ছে ‘সোনালি আঁশ’।
এছাড়াও
 ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন বাতিল হয় - ২০০৯ সালে।
- ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনের নিবন্ধন বাতিল হয় - ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর।
- জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করা হয় - ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর।
- প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল (পিডিপি)র নিবন্ধন বাতিল করে - ১৫ ডিসেম্বর ২০২০।


উৎস: প্রথম আলো।
১,১৬০.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকে কী বলা হয়?
  1. সাংস্কৃতিক দল
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সংবাদ মাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দলকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠন করা।
- এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- সংবাদ মাধ্যম জনমতের প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং এটি নীতি নির্ধারণ ও সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১,১৬১.
কোন কারণে হাজী মুহম্মদ মহসীন ইতিহাসে বিখ্যাত?
  1. রাজনৈতিক প্রজ্ঞা
  2. সমরকুশলতা
  3. বীর যোদ্ধা
  4. দানশীলতা
ব্যাখ্যা
দানশীলতার জন্য হাজী মুহম্মদ মহসীন ইতিহাসে বিখ্যাত।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন:
- হাজী মুহম্মদ মুহসীন ছিলেন বাংলার একজন জনহিতৈষী, দানবীর।
- দানশীলতার জন্য তিনি দানবীর খেতাব পেয়েছিলেন।

উলেখ্য,
- তিনি ১৭৩২ সালে হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শিক্ষানুরাগী এ দানবীর তার অর্থ দিয়ে বহু বিদ্যাপিঠ স্থাপন করে গেছেন।
- হুগলিতে ‘হুগলি মহসিন কলেজ’ ও ‘চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ’ প্রতিষ্ঠার সময় মহসিনের ওয়াকফকৃত অর্থ ব্যবহৃত হয়।
- ১৭৬৯-৭০ সালের সরকারি দলিল অনুযায়ী তৎকালীন দুর্ভিক্ষের সময় তিনি অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন করেন।
- ১৮০৬ সালে তিনি ‘মহসিন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এ তহবিল ধর্মীয় কর্মকাণ্ড, পেনশন, বৃত্তি ও দাতব্য কর্মকাণ্ডের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
- বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান।

⇒ সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রে মুহসিনের অবদান:
• শিক্ষাক্ষেত্রে: ভারতীয় উপমহাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে শিক্ষার দ্যুতি ছড়ানোর জন্য তাঁর সমুদয় সম্পত্তি ওয়াকফ করে যান। ১৮০৬ সালের ২৬ এপ্রিল তাঁর বিশাল সম্পত্তি থেকে ১,৫৬,০০০ টাকা নিয়ে মুহসিন ট্রাষ্ট গঠন করেন। যার আয় থেকে এখনও হাজার হাজার শিক্ষার্থী আর্থিক সহায়তা লাভ করে থাকে। শিক্ষার প্রসারের জন্য নিজ এলাকায় হুগলী কলেজ ও হুগলী মাদ্রাসা স্থাপন করেন। ধর্ম শিক্ষার জন্য তিনি বহু মাদ্রাসা, মক্তব ও মসজিদ নির্মাণ ও ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করেন। অমুসলিম ছাত্রদের জন্য তিনি উদারভাবে দান করেন।

• জনহিতকর কার্য: মুহসীন জীবিত অবস্থাতেই খুলনা ও যশোর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য বহু দীঘি, পুকুর ও খাল খনন করেন। লবনাক্ততা থেকে জনগণের ফসল রক্ষার জন্য তিনি বহু বাঁধ ও বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করেন। নিজের এলাকাতেও জনস্বার্থে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। হুগলীতে অবস্থিত "ইমামবাড়া" জনহিতকর কাজের উজ্জল দৃষ্টান্ত।

• জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে: জনস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে তাঁর স্মরণীয় দান হচ্ছে হুগলীতে দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন। তাছাড়া, দরিদ্রদের মাঝে বিনামুল্যে ওষুধপত্র বিতরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য অন্যতম।

• দানবীর হিসেবে: বঙ্গের হাতেম তাই নামে খ্যাত মুহসিন তাঁর অগাধ সম্পত্তি জনকল্যাণে দান করে যান। গরীব, দুঃখী, অন্ধ, এতিম, বৃদ্ধ অসহায়দের তিনি উদারভাবে দান করতেন। তাঁর দানের ক্ষেত্রে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এমনকি চোর-ডাকাতও ভেদাভেদ ছিলনা।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬২.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. সম্প্রদায়ের স্বার্থ উদ্ধার
  2. সরকারি স্বার্থ উদ্ধার
  3. নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার
  4. রাষ্ট্রীয় স্বার্থ উদ্ধার
ব্যাখ্যা

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন এক জনসমষ্টি যারা সমজাতীয় স্বার্থে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের উপর প্রভাব বিস্তার করে।

এছাড়াও,
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এক প্রকার সুসংবদ্ধ স্বার্থকামী গোষ্ঠী।
- এদের মূল লক্ষ্য হলো নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা।
- সরকারের সকল বিভাগ ও রাজনৈতিক দলের উপর চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব বিদ্যমান রয়েছে।
- তবে শাসন বিভাগে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রভাব সর্বাধিক।
- নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্যে এরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানকেও প্রভাবিত করে থাকে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান, স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৩.
হাজী শরীয়তুল্লাহ্ মৃত্যুর পর 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব দেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. মাওলানা কেরামত আলী জৌনপুরী
  3. শহীদ তিতুমীর
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা

হাজী শরীয়তুল্লাহ্:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ্ বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
-  তিনি ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ১৭৮১ সালে।
- শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে তাঁর নামানুসারে। 
- দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থানকালে তিনি ওয়াহাবি মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।
- তিনি শিক্ষক তাহের সোম্বলের নিকট সুফিবাদের কাদেরিয়া তরিকায় দীক্ষিত হন।
- ওয়াহাবি মতবাদের ভিত্তিতেই হাজী শরীয়তুল্লাহ্ তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন শুরু করেন।
- তিনি ইসলামের অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্য বা ‘ফরজ’ পালনের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন। 
- অত্যাচারী জমিদারদের শোষণ হতে কৃষকদের মুক্ত করার লক্ষ্যে তাঁর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরিচালিত হয়। 
- হাজী শরীয়তুল্লাহর সংস্কারমূলক আন্দোলন পরবর্তীতে ’ফরায়েজি আন্দোলন’ নামে পরিচিতি পায়। 
- ১৮৪০ সালে শরীয়তুল্লাহ মৃত্যুবরণ করলে, পুত্র দুদু মিয়া 'ফরায়েজি আন্দোলনের' নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৪.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি-
  1. একনায়কতান্ত্রিক সরকার
  2. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  3. সংসদীয় সরকার
  4. নির্দলীয় ও অস্থায়ী সরকার
ব্যাখ্যা

- তত্ত্বাবধায়ক সরকার - নির্দলীয় ও অস্থায়ী সরকার।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি অস্থায়ী ও বিশেষধরণের সরকার পদ্ধতি।
- বিশেষ রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতি ছাড়া এ ধরণের সরকার ব্যবস্থা পরিলক্ষিত হয় না। 
- এই সরকারের মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য হলো একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা অর্পণ করা।

উৎস: এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, ইতিহাস ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৫.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন কে?
  1. ক) আবু সাদাত মো. সায়েম
  2. খ) বিচারপতি আব্দুস সাত্তার
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ
ব্যাখ্যা
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো দায়মুক্তি অধ্যাদেশ। এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হত্যাকারীদের বিচারানুষ্ঠান থেকে রেহাই দেওয়া হয়। ১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন যা ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে। যার ফলে বঙ্গবন্ধু'র খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬৬.
প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ লাভের জন্যে ন্যূনতম কত বছর বয়স্ক হতে হয়?
  1. ক) ২৫ বছর
  2. খ) ৩০ বছর
  3. গ) ৩৫ বছর
  4. ঘ) ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৬৬(১) নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে নির্বাচিত হওয়ার জন্যে ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে ন্যূনতম ৩৫ বছর বয়স্ক হতে হয়।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী ও নির্বাচন কমিশন)
১,১৬৭.
National Citizen Party (NCP) কত তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  3. ২৮ মার্চ, ২০২৫
  4. ১৪ এপ্রিল, ২০২৫
ব্যাখ্যা
National Citizen Party (NCP):
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) হলো বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল।
- এটি  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে গঠিত হয়েছে।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
 - নাহিদ ইসলামকে দলটির  আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
- এটি দেশের প্রথম রাজনৈতিক দল, যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্র নেতৃত্বের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
- দলটির সৃষ্টি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: NCP ওয়েবসাইট।
১,১৬৮.
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল): 

- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর ভিত্তিতে ১৯৭৫ সালের ৭ জুন একমাত্র বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- বাকশালের বিভিন্ন দিক, কার্যক্ষেত্র এবং সম্ভাবনা সবিস্তারে বর্ণনা করে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর এই উদ্যোগকে ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- ১৯৭৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারিভাবে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
- সাংগঠনিক ক্ষেত্রে বাকশালের চেয়ারম্যান হিসেবে রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান জাতীয় দলের জন্য ১৫ সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি এবং ১১৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি মনোনীত করেন। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৯.
মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে কত শতাংশ সদস্য জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন?
  1. ক) ১০%
  2. খ) ৯৫%
  3. গ) ১০০%
  4. ঘ) ৯০%
ব্যাখ্যা
• সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেওয়া যাবে যাঁরা সংসদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার যোগ্য।
• এরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।
• সংবিধানের ৫৬ ধারা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য জাতীয় সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিযুক্ত হবেন।
• প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা’ পদেও নিয়োগ দিতে পারেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১,১৭০.
কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতাসীন হয়?
  1. ক) ৮ম
  2. খ) ৬ষ্ঠ
  3. গ) ৫ম
  4. ঘ) ৭ম
ব্যাখ্যা
- বিরোধী দলগুলোর প্রচন্ড আন্দোলনের মুখে একদলীয় ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে স্থায়ীকরণে বাধ্য হয় বিএনপি। 
- এই ধারাবাহিকতাতে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্যতা পায় এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালে সামরিক অভ্যূত্থানে উৎখাত হওয়া বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ২১ বছর পরে পুনরায় সরকার গঠন করে।
 
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৭১.
কোন ঘটনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন?
  1. চেমসফোর্ট-মন্টেগু সংস্কার আইন পাস
  2. স্বদেশী আন্দোলন
  3. সিপাহী আন্দোলন
  4. জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
ব্যাখ্যা
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড:
- ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে হত্যাযজ্ঞটি সংঘটিত হয়েছিল ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল।
- ব্রিটিশ সরকারের সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে নিরস্ত্র নারী-পুরুষ ও শিশুদের এক সমাবেশে শত শত রাউন্ড গুলিবর্ষণ করেছিল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে তার ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ইংরেজদের সুবিধা করে দিতে ১৯১৯ সালের ১০ মার্চ বলবৎ করা হয় কুখ্যাত ‘রাওলাট অ্যাক্ট’।
- এমনই এক সময়ে ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে ডাকা হলো এক প্রতিবাদসভা।
- সেদিন আবার ছিল পাঞ্জাবের অন্যতম বৃহৎ উৎসব বৈশাখীরও দিন।
- তখন পাঞ্জাবে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ হলেও সাতসকালেই উদ্যান ভরে গেল উৎসাহী ক্রোধতপ্ত মানুষে।
- ইংরেজ সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত জেনারেল রেগিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে মুহূর্তেই গুলি ছুটল প্রতিবাদী জনসমষ্টির দিকে।
- এতে মারা যায় অসংখ্য মানুষ।

⇒ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে একজন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- তাঁর ছদ্মনাম: ভানুসিংহ ঠাকুর।
- ব্রিটিশরা তাঁকে 'নাইট' উপাধিতে ভূষিত করে ১৯১৫ সালে।
- জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালে তিনি তাঁর ‘নাইটহুড উপাধি’ বর্জন করেছিলেন।

উৎস: i) ১৭ মে ২০১৬, বিবিসি।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১৭২.
“বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।” উক্তিটি কার?
  1. লর্ড ডার্লহৌসী
  2.  লর্ড ক্যানিং
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন:
- তার অমরকীর্তি হিন্দু বিধবা বিবাহ প্রচলন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নিজের ভাষায়, “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম।”
- পূর্বে রীতি ছিল হিন্দু নারীর পতি মারা গেলে সে আর বিয়ে করতে পারবে না।
- ১৮২৯ সালে প্রণীত সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইনের ফলে হিন্দু বিধবারা সহমরণ থেকে মুক্তি পেলেও বিধবা বিবাহের রীতি না থাকায় বিধবারা মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হয়।
- ১৮৫৩ সালে তিনি এ অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ৪ঠা অক্টোবর তিনি ৯৮৭ জনের স্বাক্ষরিত একখানা স্মারকলিপি ভারত সরকারের নিকট পেশ করেন।
- ১৮৫৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ব্যবস্থাপক সভায় বিধবা বিবাহ আইনের খসড়া পেশ করা হলে ভারতের সর্বত্র পক্ষে-বিপক্ষে
ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয়।
- রাজা রাঁধা কান্ত দে এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭,০০০ লোকের স্বাক্ষরিত এক আবেদন পত্র ভারত সরকারের নিকট দাখিল করেন।
- পরিশেষে লর্ড ডার্লহৌসীর সহায়তায় ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাস হলেও তা বাস্তবায়ন সহজ হয়নি।
- ১৮৭০ সালের ১১ই আগষ্ট নিজ পুত্র নারায়নচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়ের বিয়ের মাধ্যমে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
- বহুবিবাহ এবং বাল্য বিবাহ রোধেও তিনি প্রয়াস চালান।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৭৩.
‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ এর প্রতিষ্ঠাতা - নওয়াব আব্দুল লতিফ।

• আবদুল লতিফ:
- আবদুল লতিফের জন্ম- ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে ফরিদপুর জেলায়।
- কর্মজীবনে আবদুল লতিফ প্রথমে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে এবং কলকাতা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত হন এবং ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতার প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট পদে উন্নীত হন।
- ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের কাউন্সিল আইন অনুযায়ী বাংলায় ব্যবস্থাপক পরিষদ গঠিত হলে তিনি এর সদস্য মনোনীত হন।
- কর্মজীবনে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার প্রথমে তাঁকে ‘খান বাহাদুর’ এবং পরে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- আবদুল লতিফের সর্বাপেক্ষা উল্লেখ্যযোগ্য কীর্তি ছিল ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা।

উৎস:  ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৪.
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর পূর্ব নাম কী ছিল?
  1. পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়
  2. সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়
  3. প্রশাসন মন্ত্রণালয়
  4. সংস্থাপন মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়:
- সংস্থাপন মন্ত্রণালয় হলো 'জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়' এর পূর্ব নাম।
- ১৯৮২ সালে Martial Law Committee on Reorganizational Set-up সকল সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর/পরিদপ্তরসহ সকল স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

রূপকল্প:
- দক্ষ ও কার্যকর জনপ্রশাসন।

• অভিলক্ষ্য:
- প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দক্ষ, সেবামুখী, কল্যাণধর্মী ও দায়বদ্ধ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা।

উৎস: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট। 
১,১৭৫.
বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ কোনটি?
  1. সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা
  2. রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা
  3. ধনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা
  4. ধর্মীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করা
ব্যাখ্যা
বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শ হলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা। 

বামপন্থী রাজনীতি:

- বামপন্থী রাজনীতি হলো এমন একটি রাজনৈতিক মতবাদ যা সমাজে সমতা, ন্যায্যতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার পক্ষে।
- এটি সাধারণত সমাজতন্ত্র, শ্রমিকদের অধিকারের সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য কমানোর পক্ষে থাকে।
- এই দলগুলোর মধ্যে বামপন্থী গণতন্ত্র পার্টি, সমাজতান্ত্রিক পার্টি, মার্কসবাদী ও কমিউনিস্ট পার্টি ইত্যাদি রয়েছে।

⇒ বামপন্থী বা সমাজতন্ত্রীদের মূল ভূমিকা হওয়ার কথা সব রকম বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য থেকে মুক্ত একটি সমাজের জন্য লড়াই করা, সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করা। 

অন্যদিকে,
- গণতান্ত্রিক ,পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা এবং ধর্মীয় প্রতি অতি বিশ্বাসীদের ডানপন্থী বলে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫০ এর দশকে কমিউনিস্ট ও বামপন্থি রাজনীতিকদের সহায়তায় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির কৃষক ফ্রণ্ট কৃষক সমিতিতে কৃষকদের সংগঠিত করেন।
- বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে এরশাদ পতনের পরিকল্পনা ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাম শক্তি।
- কিন্তু ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বামশক্তি মনে হয় হারিয়ে গেছে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১৭৬.
নিচের কোনটি সরকার কাঠামোর অংশ নয় কিন্তু সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে?
  1. হাইকোর্ট বিভাগ
  2. দুর্নীতি দমন কমিশন
  3. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  4. সচিবালয়
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সরকার কাঠামোর অংশ নয় কিন্তু সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। এরা হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
• কিন্তু তা সত্ত্বেও এই গোষ্ঠী সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হলো নিজেদের অনুকূলে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা আবদ্ধ, স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ হন।

উল্লেখ্য,
• আলফ্রেড গ্রাজিয়ার (Alfred Grazier)-এর মতে, "চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন এক সংগঠিত সামাজিক গোষ্ঠী, যা সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের আচরণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।" 
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এস.ই. ফাইবার 'লবি গ্রুপ' এবং এইচ. জিগলার 'Interest group' বলে আখ্যায়িত করেছেন। 
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ তাদের পছন্দের দল বা ব্যক্তিকে অর্থ দিয়ে, যানবাহন দিয়ে প্রচার কাজে সাহায্য করে। 
• তাদের পছন্দনীয় দল বা ব্যক্তি নির্বাচিত হয়ে আইনপ্রণয়ন ও শাসন কাজ পরিচালনা করতে গিয়ে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে। 
• প্রয়োজনবোধে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী মিটিং, মিছিল, শোভাযাত্রার সাহায্যে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে থাকে।

অন্যদিকে,
• সচিবালয় ও হাইকোর্ট বিভাগ সরকার কাঠামোর অংশ।
• দুর্নীতি দমন কমিশন - বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রথমপত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১,১৭৭.
লাহোর প্রস্তাব কবে পেশ করা হয়েছিল?
  1. ১৯৩৫ সালে 
  2. ১৯৪০ সালে 
  3. ১৯৪৭ সালে 
  4. ১৯৪৯ সালে 
ব্যাখ্যা
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোর শহরে এটি পেশ করা হয়।

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত। 
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।

- এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটি ছিল না।
- তথাপি এ প্রস্তাব ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। 
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।
 
সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইতএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৮.
কোন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে প্রথম ভাষণ দেন?
  1. ক) ফিদেল কাস্ত্রো
  2. খ) ভি. ভি. গিরি
  3. গ) জোসেফ টিটো
  4. ঘ) ইন্দিরা গান্ধী
ব্যাখ্যা
৩১ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে যুগোস্লাভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মার্শাল জোসেফ টিটো জাতীয় সংসদে কোন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণ দেন। ১৮ জুন ১৯৭৪ সালে ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ভাষণ দেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে এ পর্যন্ত এই দুজন বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বক্তৃতা করেন।
উৎসঃ জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট।
১,১৭৯.
জাতীয় সংসদে ’কাস্টিং’ ভোট প্রদান করেন কে?
  1. ক) মহামান্য রাষ্ট্রপতি
  2. খ) সংসদ নেতা
  3. গ) স্পীকার
  4. ঘ) চীফ হুইপ
ব্যাখ্যা

কাস্টিং ভোট: (Casting Vote)

- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে। এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়,  কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন। একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে। এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পীকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'। 
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পীকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১,১৮০.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন থেকে কৃষক শ্রেণির শোষণ মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়?
  1. ক) হাজী শরিয়ত উল্লাহ 
  2. খ) মীর নিসার আলী 
  3. গ) ফকির মজনু শাহ
  4. ঘ) মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন 
ব্যাখ্যা
•মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া:
- দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন একাধারে একটি ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক মুক্তির সশস্ত্র সংগ্রামে পরিণত হয়। 
- দুদুমিয়া ছিলেন ফরায়েজিদের গুরু বা ওস্তাদ।
- পিতার আমলের লাঠিয়াল জালালউদ্দিন মোল্লাকে সেনাপতি নিয়োগ করে এক সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন।
- ফরিদপুর, পাবনা, রাজশাহী, যশোর, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া প্রবৃতি অঞ্চলগুলো নীল চাষের জন্য ছিল উৎকৃষ্ট।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে  দুঃসাহসী বিপ্লবীর মৃত্যু ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,১৮১.
২০০৭ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন?
  1. সামাজিক শক্তি
  2. গণতান্ত্রিক শক্তি
  3. নাগরিক শক্তি
  4. জাতীয় শক্তি
ব্যাখ্যা
নাগরিক শক্তি:
- ২০০৭ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস "নাগরিক শক্তি" নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন।

⇒ নোবেল শান্তি বিজয়ী, বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত মুহাম্মদ ইউনূস।
- দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ইউনূসকে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়।
- ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনূস একটি রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন ,নাগরিক শক্তি এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- জরুরি অবস্থা এবং দেশের দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সময় তার ঘোষণা আসে।
- ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তার আন্দোলন সুশাসন পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতি দূরীকরণের চেষ্টা করবে।
- তবে, ২০০৭ সালের মে মাসে, ইউনূস সমর্থনের অভাবের কারণ দেখিয়ে দল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা স্থগিত রাখেন।

এছাড়াও,
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক ছিলেন।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- অধ্যাপক ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা।
- মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.
১,১৮২.
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো কিভাবে সরকারকে জনস্বার্থের প্রতি সচেতন রাখে?
  1. ঐক্যবোধ সৃষ্টি করে
  2. সমালোচনা করে
  3. নেতৃত্ব দান করে
  4. সংযোগ সাধন করে
ব্যাখ্যা
বিরোধী দলের কাজ:
• গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৩.
'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় কোনটিকে?
  1. প্রধান বিচারপতিকে
  2. সামরিক বাহিনীকে
  3. সুশীল সমাজকে
  4. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে
ব্যাখ্যা

⇒ 'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে।

চাপসৃষ্টিকারী দল:
- চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
- গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৮৪.
ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলনের আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. শামসুল হক
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. মাহমুদুল হক ওসমানী
ব্যাখ্যা
• আব্দুল হামিদ খান ভাসানী:
- ভাসানী ১৮৮০ সালে সিরাজগঞ্জ জেলার ধনপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন এক কর্মী সম্মেলন আহবান করে।
- এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় স্বামীবাগের রোজ গার্ডেনে। এতে প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ প্রতিনিধি যোগদান করেন। ২
- ৪ জুন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল জন্মলাভ করে।
- এর সভাপতি হন মওলানা ভাসানী, এবং টাঙ্গাইলের শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক।
- মওলানা ভাসানী ১৯৫৭ সালে কাগমারিতে এক সম্মেলন আহবান করেন।
- ঐ সম্মেলনে তিনি সোহরাওয়ার্দীর বৈদেশিক নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন।
- এ মতবিরোধের কারণে দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
- ঐ বছর মওলানা ভাসানী ঢাকায় পাকিস্তানের সকল বামপন্থি দলের একটি সম্মেলন আহবান করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে একটি নতুন দল গঠন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৫.
বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয় কাকে?
  1. বেগম রোকেয়া
  2. জাহানারা ইমাম
  3. সেলিনা হোসেন
  4. সুনীতি ঘোষ
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়াকে বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বলা হয়।

বেগম রোকেয়া:
- ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেন।
- তাঁর পিতার নাম জহিরুদ্দীন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের ও মায়ের নাম মোসাম্মৎ বাহাতননেসা সাবেরা চৌধুরী।
- বেগম রোকেয়া তাঁর বড় ভাই ইবরাহিম সাবের এবং বড় বোন করিমুন্নেসার কাছে শিক্ষা লাভ করেন।
- বিবাহিত জীবনে তিনি তাঁর স্বামীর কাছ থেকে জ্ঞান চর্চায় উৎসাহ লাভ করেছিলেন।
- স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি তাঁর জীবনের বাকি সময় নারী শিক্ষা আর সমাজসেবায় ব্যয় করেন।
- তিনি স্বামীর নামে ভাগলপুরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে তিনি কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল স্থাপন করেন।
- ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নিত হয়।
- মুসলমান নারী মুক্তি আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়ার মনে নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে ছিল তীব্র বিদ্রোহের সুর।
- তিনি তাঁর কর্মের মধ্যে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে এই মহীয়সী নারী কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৬.
সুজন পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. দলনিরপেক্ষতা
  2. একতা
  3. সমতা
  4. দলীয় সমর্থন
ব্যাখ্যা

সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১,১৮৭.
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনটি দেশের কততম সংসদ নির্বাচন? 
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ২০২৬: 
- ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন।
- একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনেরও ঘোষণা দিয়েছেন সিইসি।
- দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
- জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট হবে সাদা, আর গণভোটের ব্যালট হবে গোলাপি।

উৎস: বিবিসি।

১,১৮৮.
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন কে? 
  1. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. শেরে বাংলা ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

- 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' প্রতিষ্ঠা করেন সৈয়দ আমীর আলী।

সৈয়দ আমীর আলী:

- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীতে জন্ম গ্রহণ করেন।
- উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
- তিনি পাশ্চাত্য শিক্ষার মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতি করতে চেয়েছেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
-  সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এটিকে তিনি ভারতের অন্যান্য প্রদেশসমূহের শাখাগুলি অধিভুক্তির পর 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে নতুন নামকরণ করেন।

উৎস: ¡)বাংলাশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
         ¡¡)বাংলাপিডিয়া।

১,১৮৯.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. জওহরলাল নেহরু
ব্যাখ্যা
স্বরাজ পার্টি: 
- স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন চিত্তরঞ্জন দাশ (সি.আর দাশ) এবং পন্ডিত মতিলাল নেহরু।
- ১৯২২ সালে গয়া কংগ্রেস অধিবেশনে আইনসভায় যোগদানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর চিত্তরঞ্জন দাশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
- এরপর কংগ্রেসের ভেতর থেকেই তিনি স্বরাজ পার্টি গঠন করেন।
- ১৯২৩ সালে বঙ্গীয় আইন সভার নির্বাচনে দলটি ৪৬টি আসন জয় করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।
- চিত্তরঞ্জন দাশ দলের নেতা নির্বাচিত হন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদারিত্বের নীতিতে বিশ্বাস রেখে কাজ করেন।
- তাঁর লক্ষ্য ছিল আইনসভায় থেকে প্রতিবন্ধকতার মাধ্যমে ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন সংশোধনে চাপ সৃষ্টি করা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১,১৯০.
'কৃষক-প্রজা পার্টি' রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. চিত্তরঞ্জন দাস
  3. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক:
- তার পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক। 
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০৬ সালে তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্টেটের চাকরি গ্রহণ করেন।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরের অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ১৯২৭ সালে।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে প্রথম বাঙালি মুসলমান হিসাবে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন ১৯৩৭ সালে। 
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- তিনি ‘ঋণ সালিশী বোর্ড’ গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মহাজনী আইন পাসের মাাধ্যমে সুদের হার ও চক্রবৃদ্ধি রহিত করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় ফ্লাউড কমিশন গঠিত হয় এবং এ কমিশনের সুপারিশেই ১৯৫০ সালে পূর্ববঙ্গ জমিদারী দখল ও প্রজাস্বত্ব আইন পাস হয়। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর-অব-ল উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৫৯ সালে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান তাঁকে ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজাপুর উপজেলার ওয়েবসাইট [লিঙ্ক]।

১,১৯১.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. দুদু মিয়া
  3. মাওলানা মুহাম্মদ আলী
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- জী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে -
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মজনু শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯২.
রাজনৈতিক দলের নির্বাচনসংক্রান্ত কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন
  4. আইন প্রণয়ন
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য:
• সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি:
- রাজনৈতিক দল হচ্ছে কতগুলো নীতি ও আদর্শের ভিত্তিতে সংগঠিত একটি জনসমষ্টি।

• ক্ষমতা লাভ:
- রাজনৈতিক দলের প্রধান লক্ষ্য নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করা।

• সুনির্দিষ্ট আদর্শ ও কর্মসূচি:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি আদর্শ ও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে।
- আদর্শের দিক থেকে কোনো দল ধর্মভিত্তিক আবার কোনো দল ধর্মনিরপেক্ষ হয়।
- অন্যদিকে অর্থনীতির রূপরেখা বিবেচনায়ও দল ভিন্ন হতে পারে।।

• প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব:
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকে।
- কেন্দ্র থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত দলের শাখা বিস্তৃত থাকে।
- এছাড়া প্রত্যেক দলের কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কমিটি থাকে। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্বারা দল পরিচালিত হয়।

• নির্বাচনসংক্রান্ত কাজ:
- আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা তথা গণতান্ত্রিক অথবা একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার চেয়ে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় নির্বাচনের গুরুত্ব অধিকতর।
- এ সকল নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচনে দলীয় কর্মসূচি প্রণয়ন, নির্বাচনি প্রচার ও ভোট সংগ্রহ দলের এবং দলীয় কর্মীদের দ্বারা সম্পাদিত হয়ে থাকে।


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

১,১৯৩.
বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রতীক -
  1. ঘড়ি
  2. তালা
  3. একতারা
  4. চেয়ার
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

রাজনৈতিক দল:

- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।
- বর্তমানে অধিকাংশ দলেরই তেমন কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
- অনেকগুলো ছিল সাইনবোর্ড সর্বস্ব কোনটি বা ব্যক্তি সর্বস্ব কোনটি প্যাড সর্বস্ব।
- নানা কারণে নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জামানাত বাজেয়াপ্ত হত।
- অনেক দল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী মনোয়নও দিতে পারে নি।
- এ ধরনের পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪৪টি।
- বাংলাদেশে সর্বশেষ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল 'বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টি'।
- দলটির প্রতীক 'একতারা'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,১৯৪.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হলো-
  1. রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ
  2. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  3. সমস্যা নির্বাচন
  4. রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা। আর বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৫.
ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. ইন্দিরা গান্ধী
  2. রামনাথ সিং
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী:
- তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ২ অক্টোবর ১৮৬৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অহিংসার মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।
- অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মহাত্মা গান্ধী।
- তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়ন করেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীনে প্রবর্তিত ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অনশনের মাধ্যমে কলকাতায় (কলকাতা) দাঙ্গার অবসান ঘটান।
- ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি একজন তরুণ হিন্দু ধর্মান্ধ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৬.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণকে কী বলা হয়?
  1. সাংস্কৃতিক দল
  2. রাজনৈতিক দল
  3. সংবাদ মাধ্যম
  4. সুশীল সমাজ
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল:
- রাজনৈতিক দলকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বশীল গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাণ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- রাজনৈতিক দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠন করা।
- এ লক্ষ্য অর্জনে রাজনৈতিক দল জনমত গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে থাকে।
- সংবাদ মাধ্যম জনমতের প্রকাশে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিডিয়া ব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে সক্ষম হয় এবং এটি নীতি নির্ধারণ ও সরকারী কর্মকাণ্ডের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।

১,১৯৭.
রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই কী প্রক্রিয়ায় জড়িত?
  1. রাজনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. ধর্মীয়
  4. অর্থনৈতিক
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী :

- রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারকরূপে রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য রয়েছে। 
- তবে সংগঠন, সদস্য সংখ্যা, সাংগঠনিক নীতি ও শৃঙ্খলা, কার্য-পরিচালনা পদ্ধতি, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের বিচারে রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মধ্যে সাদৃশ্যের তুলনায় বৈসাদৃশ্যই বেশি লক্ষ্যণীয়।

• সাদৃশ্য:
- রাজনৈতিক দল এবং চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উভয়েই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত।
- উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নির্ধারক।
- উভয়েই রাজনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিজেদের দাবি ও মনোভাব ব্যক্ত করে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী উভয়ই স্বার্থের সংহতি সাধনের সাথে জড়িত।
- উভয়েই রাজনৈতিক নিয়োগ বা রাজনৈতিক ভূমিকায় নাগরিকদের অবতীর্ণ করানোর দায়িত্ব বহন করে।
- রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা উভয়ের মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়।
- বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ বা পরিবর্তন, গণ-সংযোগ সাধন, তথ্য সরবরাহ, জনমত গঠন, সরকারের সমালোচনা ইত্যাদির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কার্যক্রমে সাদৃশ্য দেখা যেতে পারে।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকান্ড আঞ্চলিক অথবা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯৮.
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলব্যবস্থা-
  1. ক) একদলীয়
  2. খ) দ্বি-দলীয়
  3. গ) ত্রিজোটীয়
  4. ঘ) বহুদলীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা বহুদলীয় গণতান্ত্রিক। গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র পরমসহিষ্ণুতা। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গণতন্ত্র চর্চার অভাব রয়েছে।
১,১৯৯.
ছবিসহ ভোটার তালিকা ও আইডি কার্ড প্রথম ব্যবহার করা হয় কোন জাতীয় নির্বাচনে?
  1. ক) ৮ম
  2. খ) ৯ম
  3. গ) ১০ম
  4. ঘ) ৭ম
ব্যাখ্যা
ছবিসহ ভোটার তালিকা ও আইডি কার্ড প্রথম ব্যবহার করা হয় নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। উৎস: নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১,২০০.
‘তাহযিব-উল-আখলাক’ পত্রিকা প্রকাশ করেন কে?
  1. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ্
  4. স্যার সৈয়দ আহমেদ খান
ব্যাখ্যা

স্যার সৈয়দ আহমেদ খানের পত্রিকা প্রকাশ:
 - স্যার সৈয়দ আহমেদ খান ১৮৬৯ সালে ‘তাহযিব-উল-আখলাক’ নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এই পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও গোঁড়ামিমুক্ত করে সামাজিকভাবে সচেতন করা।
- বিভিন্ন কুসংস্কার, দাসপ্রথা, পীরমুরিদ সম্পর্ক ইত্যাদি সম্পর্কে উলে−খিত পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রচার করেন।
• এছাড়াও, তিনি নিম্ন লিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন-
- বিজ্ঞান সমিতি গঠন।
- ভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি গঠন। 
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপন।

 উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।