বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,২৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা ১০ / ১৩ · ৯০১১,০০০ / ১,২৯৫

৯০১.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি -
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  2. নির্দলীয় সরকার
  3. গণতান্ত্রিক সরকার
  4. সংসদীয় সরকার
ব্যাখ্যা
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার (Caretaker Government) একটি অস্থায়ী ও বিশেষধরণের সরকার পদ্ধতি।
- বিশেষ রাজনৈতিক সংকটজনক পরিস্থিতিতে এ ধরণের সরকার দায়িত্ব পালন করে।
- এই সরকারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সম্পূর্ণ অস্থায়ী ও নির্দলীয় সরকার যার মূল দায়িত্ব ও উদ্দেশ্য একটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা অর্পন করা।

• তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন:
- ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতন ও পদত্যাগের সময় যে সাংবিধানিক সংকট সৃস্টি হয়-তা নিরসনে এইরূপ একটি অস্থায়ী সরকার গঠন অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- তৎকালীন সরকার বিরোধী জোটের রূপরেখা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল।
- ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তখনকার মতো এই সরকারের পর্ব সমাপ্ত হয়ে যায়।
- কিন্তু খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন (১৯৯১-৯৫) বিরোধী দল কতকগুলি দাবীকে সামনে রেখে সরকারের পদত্যাগ দাবি করে এবং একই সঙ্গে পরবর্তী নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পরিচালনার দাবি জানায়।
- কিন্তু সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী অসাংবিধানিক বলে অগ্রাহ্য করে এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করে।
- কিন্তু সকল দল নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দেয়।
- কিন্তু সরকার বিরোধীদল ছাড়াই একতরফাভাবে সম্পন্ন করে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করায় এই নির্বাচন জনগণের নিকট গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেনি।
- ফলে উদ্ভুত গণ আন্দোলনের চাপে সরকার ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে "তত্ত্বাবধায়ক সরকার" গঠন আইন পাশ করে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০২.
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) কী ধরনের সংস্থা?
  1. রাজনৈতিক সংস্থা
  2. সামাজিক সংস্থা
  3. মানবাধিকার সংস্থা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক):
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) একটি জাতীয় আইনি সহায়তা এবং মানবাধিকার সংস্থা,
- যা বিশেষ করে নারী, শ্রমজীবী ​​শিশু এবং শ্রমিকদের আইনি ও সামাজিক সহায়তা প্রদান করে।
- এর লক্ষ্য হল সাম্য, সামাজিক ও লিঙ্গ ন্যায়বিচার এবং আইনের শাসনের ভিত্তিতে একটি সমাজ গঠন করা।
- ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ৯ জন।

সূত্র: আসক ওয়েবসাইট।
৯০৩.
নিচের কোনটির সাথে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নাম জড়িয়ে আছে?
  1. কৃষক প্রজা পার্টি
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. ছয় দফা 
ব্যাখ্যা
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক:
- ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বৃহত্তর বরিশাল জেলার রাজাপুর থানাধীন সাতুরিয়া গ্রামে নিজ মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর বাবার বাড়ি বরিশালের চাখার। তাঁর পিতা কাজী ওয়াজেদ ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী।
- ফজলুল হক বাল্যকাল থেকেই তীক্ষ্ম মেধা শক্তির পরিচয় দেন।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের কিছু রাজনৈতিক চিন্তা ও কর্মকান্ড তুলে ধরা হল-
- ১৯১৬ সালের হিন্দু-মুসলমান ‘লক্ষ্নৌ চুক্তি’ সম্পাদনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ১৯১৮-১৯ সালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

- ১৯২৯ সালে তিনি ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’ প্রতিষ্ঠা করেন, ১৯৩৬ সালে যার নতুন নামকরণ হয় কৃষক-প্রজা পার্টি।
- ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 
 
তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম  পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯০৪.
'ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী 
  3. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
- তিনি ১৮৯২ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এস.সি (সম্মান) ও বি.সি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯২০ সালে ইংল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেই তিনি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন।
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ইন্ডিপেন্ডেন্ট মুসলিম পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯২৬ সালে। 
- তিনি বেঙ্গল মুসলিম ইলেকশন বোর্ড নামে অপর একটি সংগঠন গড়ে তোলেন ১৯২৯ সালে।
- ১৯৩২ সালে লন্ডনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন।
- ১৯৩৭ সালে সোহ্‌রাওয়ার্দী কলকাতায় ইউনাইটেড মুসলিম পার্টি নামে একটি দল গঠন করেন এবং নিজে এই দলের সম্পাদক হন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পাকিস্তানের প্রথম ও প্রধান বিরোধীদল আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সোহ্‌রাওয়ার্দীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
- প্রকৃতপক্ষে তিনিই ছিলেন বাংলায় মুসলিম লীগের স্থপতি।
- সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী ছিলেন।
- তিনি ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী হিসাবে কাজ করেন।
- তিনি ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
- তিনি পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধান প্রণয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও  পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৫.
কোনটি সিভিল সোসাইটির অংশ নয়?
  1. ক) সিপিবি
  2. খ) টিআইবি
  3. গ) সুজন
  4. ঘ) বেলা
ব্যাখ্যা
সিভিল সোসাইটিকে বাংলায় সুশীল সমাজ বলা হয়। এটি সরকারের অংশ নয়, তবে সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রভাব রাখতে সক্ষম। সমাজের বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক, বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন বা এনজিও’র সমন্বয়ে সিভিল সোসাইটি গঠিত। বাংলাদেশের টিআইবি বা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, সুজন বা সুশাসনের জন্যে নাগরিক, বেলা বা বাংলাদেশ এনভাযেরনমেন্টাল লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রভৃতি সিভিল সোসাইটির অন্তর্ভুক্ত। সিপিবি বা বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি একটি রাজনৈতিক দল।
৯০৬.
'দি স্পিরিট অব ইসলাম' গ্রন্থের লেখক কে?
  1.  নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা

সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ১৮৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন একজন প্রখ্যাত আইনজীবী এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক খ্যাতিমান লেখক।
- ভারতে মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিশেষ করে বাংলার মুসলমানদের নবজাগরণের তিনি ছিলেন অন্যতম অগ্রদূত। 
- ভারতীয়দের মধ্যে তিনিই প্রথম ইংল্যান্ডের প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- তার দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
 - ১৯০৪ সালে অবসর গ্রহণের পর তিনি ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

৯০৭.
কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. দ্বারকানাথ ঠাকুর
  2. হাজী মুহম্মদ মুহসিন
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন।
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।
- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নিচের কোনটি?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. সমজাতীয় মনোভাব
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৯.
পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ঘনশ্যাম দেওয়ান
  2. স্নেহকুমার চাকমা
  3. জোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা
  4. মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা
ব্যাখ্যা

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস):
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)।
- মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক সংগঠন। পাহাড়িদের দাবিদাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে সংগঠনটি বিশ শতকের সত্তরের দশকে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম পরিচালনা করে। ১৯৭৩ সালে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জনসংহতি সমিতির প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার কিছুকাল পর থেকে জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী তৎপরতা শুরু করে। তখন থেকে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও শান্তি বাহিনী দীর্ঘকাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল।

⇒ মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণেতাদের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্তশাসনের দাবিসহ মোট চার দফা দাবি পেশ করেন। চার দফা দাবিও সরকার কর্তৃক প্রত্যাখাত হলে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং জুম্ম জাতীয়তাবাদ ও জুম্মল্যান্ড ধারণা জন্ম নেয়। পাহাড়িদের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির আদর্শ ও উদ্দেশ্য ছিল: মানবতাবাদ, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং চাকমা, মারমা (মগ), ত্রিপুরা, বম, মুরং, পাঙ্খো, খুমি, চাক, খিয়াং, লুসাই প্রভৃতি ক্ষুদ্র জাতিসত্তার আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার অর্জন। সমিতির সহযোগী সংগঠন ছিল এর সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী, গ্রাম পঞ্চায়েত, যুব সমিতি ও মহিলা সমিতি।

⇒ ১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর ১১-সদস্য বিশিষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠিত হয়। একদিকে জনসংহতি সমিতির দাবিদাওয়া ও পাহাড়ি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকারের ইতিবাচক মূল্যায়ন এবং অন্যদিকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক সমাধানে জনসংহতি সমিতির আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়। ১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ শান্তিচুক্তি স্থাপনে ঐক্যমতে পৌঁছে। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও জনসংহতি সমিতির মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির অবসান ঘটে। শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর জনসংহতি সমিতি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৯১০.
কী কারণে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়?
  1. সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে
  2. পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে
  3. কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল:
১। কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

২। কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
৩। বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
৪। বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
৯১১.
সুশীল সমাজ সরকারের কোন বিষয় নিশ্চিত করতে সচেষ্ট?
  1. কর আদায়
  2. দায়িত্বশীলতা
  3. ধর্মীয় নিয়মকানুন
  4. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অংশ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।
- সরকার বা কোন কোন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাদর্শ প্রচার করা সুশীল সমাজের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৯১২.
‘স্বার্থকামী গোষ্ঠী' হিসেবে পরিচিত কারা?
  1. রাজনৈতিক দল
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  3. সরকারি দল
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
- চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তবুও আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
- মূলত: গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলেও অভিহিত করেন।

সূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৩.
কে ব্রাহ্মসভা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রামমোহন রায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
ব্রাহ্মসমাজ:
- ১৮২৮ সালে রাজা রামমোহন রায় ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) প্রতিষ্ঠা করেন।

- 'ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণার সংস্পর্শে এসে রাজা রামমোহন রায় হিন্দু ধর্মের প্রচলিত মূর্তি পূজা ও আচার অনুষ্ঠানের সমালোচনা করেন এবং একেশ্বরবাদের প্রতি অনুরক্ত হয়ে ওঠেন।
- এই সভায় বেদ, উপনিষদ পাঠ করার ব্যবস্থা হয়।

⇒ রাজা রামমোহন রায়:

- ভারতীয় নবজাগরণের অগ্রদূত রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রাজা রামমোহন রায় জন্ম গ্রহন করেন।

⇒ তিনি সুফি মতবাদে বিশেষভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তিনি বেদান্তসূত্র বেদান্তসারসহ উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে আছে 'তুহফাত-উল-মোয়াহিদ্দীন' (একেশ্বরবাদ সৌরভ) “মানাজারাতুল আদিয়ান' (বিভিন্ন ধর্মের উপর আলোচনা)। তিনি ‘সম্বাদ কৌমুদী', 'মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশকও ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপুজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে।
- আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।

⇒ হিন্দুধর্মের সংস্কার তথা নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে ‘আত্মীয় সভা' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮২৮ সালে রামমোহন ব্রাহ্মসভা (পরবর্তীসময়ে ব্রাহ্মসমাজ) অর্থাৎ ঈশ্বরের সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বস্ত্তত হিন্দুধর্মের নতুন একটি শাখা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১৪.
তিতুমীর কোথায় বাঁশেরকেল্লা নির্মাণ করেন?
  1. ফিরোজাবাদ
  2. নারিকেলবাড়িয়া
  3. ব্যারাকপুর
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা
তিতুমীর:
- তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন তাহরিক ই মুহম্মদীয়া।
- মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে যখন ওয়াহাবি আন্দোলনের (তাহরিক ই মুহম্মদীয়া) জোয়ার চলছে, তখন পশ্চিম বঙ্গের বারাসাত অঞ্চলে তিতুমীরের নেতৃত্বে এই আন্দোলন প্রবল আকার ধারণ করে।
- ওয়াহাবি আন্দোলন ছিল উত্তর ভারতের সৈয়দ আহমদ শহীদের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত।
- তিতুমীর হজ করার জন্য মক্কা শরিফ যান এবং ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে আসেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর বাঁশের কেল্লা।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে ইংরেজ সরকার এক বিশাল সুশিক্ষিত সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।এই যুদ্ধে তিনি নিহত হন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৫.
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. ক) দলীয় আদর্শ অনুশীলন
  2. খ) স্বেচ্ছাচারিতা
  3. গ) জনগণের মতামতের গুরুত্ব
  4. ঘ) সম-আদর্শে বিশ্বাসী 
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য
▪ সংগঠিত 
▪ সম-আদর্শে বিশ্বাসী 
▪ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা আরোহণ
▪ জনগণের মতামতের গুরুত্ব
▪ দলীয় স্বার্থ সংরক্ষণ
▪ নিয়মতান্ত্রিকতা
▪ দলীয় আদর্শ অনুশীলন

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯১৬.
নিম্নোক্ত কোন নেতা কারাগারের 'শহীদ চারনেতা' হিসেবে উল্লেখ নন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. এম মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
জেলহত্যা:
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাই ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন অনেকটা দিশেহারা, সে সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতাসহ অনেককে বন্দি করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকরত চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন কে?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী
  3. নওয়াব সলিমুল্লাহ
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ওয়াজেদ আলী সাহেব ছিলেন বরিশালের খ্যাতনামা আইনজীবীদের অন্যতম।
- ১৯৩৫-৩৬ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।
- তিনিই ছিলেন এ পদে অধিষ্ঠিত প্রথম বাঙালি মুসলমান।
- ১৯৩৭ সালে শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক অবিভক্ত বাংলার প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হন।
- ১৯৪০ সালে জিন্নাহ সভাপতিত্বে লাহোরে প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয়।
- শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত।
- ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘকালের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তিনি বহু জনকল্যাণমূলক কাজ করেন।

উল্লেখ্য,
- হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯২১ থেকে ১৯৫৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক সভা এবং পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ছিলেন।
- সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৯২৪ সালে কলকাতা কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনোত্তর ফজলুল হক কোয়ালিশন মন্ত্রিসভার শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রী,
- ১৯৪৩-১৯৪৫ সালে খাজা নাজিমউদ্দীন মন্ত্রিসভায় বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী,
- ১৯৪৬-৪৭ সালে অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী,
- পাকিস্তান আমলে ১৯৫৪-৫৫ সালে মোহাম্মদ আলীর মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী এবং ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯১৮.
কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কাজ নয়?
  1. আইন সভার সদস্যেদের প্রভাবিত করা
  2. নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা
  3. জাতীয় কল্যাণে কাজ করা
  4. সরকারের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করা
ব্যাখ্যা
• চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য : 
- দলীয় সংগঠনবিহীন,
- দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
- নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা,
- সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
- সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়, 
- সমজাতীয় মনোভাব, 
- বেসরকারি সংগঠন ।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৯.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধন
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. সরকার গঠন
  4. প্রতিশ্রুতি রক্ষা
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দল:
- রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।

এছাড়াও, রাজনৈতিক কিছু কার্যাবলী:
- জনমত গঠন,
- প্রার্থী মনোনয়ন,
- প্রতিশ্রুতি রক্ষা,
- সমন্বয় সাধন,
- সরকার ও জনগণের মধ্যে সংযোগ সাধন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, ১ম পত্র এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২০.
কার প্রচেষ্টার কারণে হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি
  4. রাধানাথ সিকদার
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।

⇒ তিনি একজন সফল সমাজ-সংস্কারকও ছিলেন।
- তিনি কন্যাশিশু হত্যা,বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন।
- তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন।
- তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯২১.
প্রথম কত সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের সভাপতি হন ?
  1. ক) ১৯৫৪
  2. খ) ১৯৬৫
  3. গ) ১৯৬৬
  4. ঘ) ১৯৬২
ব্যাখ্যা

প্রথম ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামীলীগের সভাপতি হন।
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী তিনবার করে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

৯২২.
রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান কী?
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. সামরিক শক্তি
  3. রাজনৈতিক প্রতিপত্তি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্বের মানুষ কোনাে না কোনাে রাষ্ট্রে বসবাস করে। আমাদের এই পৃথিবীতে ছােট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ টি রাষ্ট্র আছে।
অধ্যাপক গার্নার বলেন, সুনির্দিষ্ট ভূখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত
সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।
এ সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করলে রাষ্ট্রের চারটি উপাদান পাওয়া যায়। যথা-
১। জনসমষ্টি,
২। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড,
৩। সরকার ও
৪। সার্বভৌমত্ব

সার্বভৌমত্ব রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। এটি রাষ্ট্রের চরম, পরম ও সর্বোচ্চ ক্ষমতা।
উৎসঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি

৯২৩.
বাংলাদেশের কোন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু হয়?
  1. অষ্টম
  2. ষষ্ঠ
  3. নবম
  4. সপ্তম
ব্যাখ্যা
• জাতীয় সংসদ:
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে।
- এ সপ্তম জাতীয় সংসদে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব চালু করা হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সংসদ সদস্যগণ প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেন এবং তিনি তার জবাব দেন।

উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
৯২৪.
ভারতীয় মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন -
  1. ক) মোহামেডান এডুকেশনাল কনফারেন্স
  2. খ) সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন
  3. গ) মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি
  4. ঘ) মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা
• সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন গঠন:
- ১৮৭৭ সালে সৈয়দ আমীর আলী কলকাতায় ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- ভারতে বিভিন্ন প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৮৮৩ সালে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নামকরণ করা হয় ‘সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান এসোসিয়েশন'।
- এটি ছিল ভারতীয় মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- আমীর আলী ২৫ বছর এ সংগঠনের কর্মসচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

• এ সংগঠনের প্রধান প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল —
১. মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা সঞ্চার ও তাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা।
২. মুসলমানদের নৈতিক উন্নতি সাধন।
৩. মুসলমানদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সরকারের নিকট পেশ করা এবং
৪. ভারতের হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে মৈত্রী ও সম্প্রীতি সৃষ্টি করা ইত্যাদি।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯২৫.
কোন সরকার ক্ষমতায় থাকলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে?
  1. বহুদলীয় সরকার
  2. অভিজাততন্ত্র সরকার
  3. সামরিক সরকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
 
• রাজনৈতিক দল সর্ম্পকিত গুরুত্বপূর্ন তথ্য: 
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই।
যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে।
-তবে শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন- দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-  দ্বাদশ শ্রেনি, মোজাম্মেল হক।
৯২৬.
সুশীল সমাজ কাদের পক্ষে কাজ করে?
  1. বিরোধীদলের পক্ষে
  2. জনগণের পক্ষে
  3. সরকার পক্ষে
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civil Society.
- সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী, যারা সবসময় জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে।
- সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ স্বতন্ত্র কোন রাজনীতি করে না।
- কারণ এরা কোন দলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে না, হোক সরকারি বা বিরোধী কোন দল।
- সুতরাং সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত না থেকে সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
৯২৭.
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে?
  1. ক) এম সাখাওয়াত হোসেন
  2. খ) কে. এম. নূরুল হুদা
  3. গ) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ
  4. ঘ) বেগম কবিতা খানম
ব্যাখ্যা
বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে. এম. নূরুল হুদাকে ১২তম নির্বাচন কমিশনার হিসেবে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ১১তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের স্থলাভিষিক্ত হন। বেগম কবিতা খানম বাকি ৪ জন কমিশনারের একজন।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।
৯২৮.
কোন উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক? 
  1. ক) সাঁওতাল
  2. খ) রাখাইন
  3. গ) ঘাসিমালো
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
- সরকারি হিসাবে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা ৫০টি। 
- এদের মধ্যে খাসিয়া ও গারো উপজাতির পারিবারিক কাঠামো মাতৃতান্ত্রিক
- বাংলাদেশে খাসিয়াদের বসবাস মূলত সিলেট ও হবিগঞ্জ জেলায়।
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।

উৎসঃ সংস্কৃত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৯২৯.
অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে নিম্নের কোন শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন?
  1. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী
  2. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী
  3. অসংগঠিত স্বার্থকামী
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। তারা সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন গোষ্ঠীগুলোকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করছেন। যেমন:

১. স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী:
- স্বতঃস্ফুর্থ স্বার্থকামী গোষ্ঠী কোন একটি বিশেষ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাবাবেগ দ্বারা চালিত হয়ে হঠাৎ করে হিংসাত্মক কার্যকলাপের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে। আবেগ এদেরকে সংঘবদ্ধ করে। দাঙ্গা হাঙ্গামা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন এ ধরণের চাপগোষ্ঠীর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

২. সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- যে চাপগোষ্ঠী নিজস্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে তাকে সংগঠনভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলে। এই গোষ্ঠী গোষ্ঠীস্বার্থ সংরক্ষণের এক বিশেষ উপায় হিসেবে স্বীকৃত। এ গোষ্ঠী কোন হঠকারী আচরণ করেনা। বরং সুপরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন চ্যানেলে নিজেদের স্বার্থের কথা, আইনসভা, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমে পেশ করে। শ্রমিক সংগঠন, কৃষক সংগঠন, ব্যবসায়ী সমিতি, শিল্পপতিদের সমিতি এবং অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন এ ধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উদাহরণ।

৩. অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী তেমন কোন সুসংহত বা সুসংগঠিত গোষ্ঠী নয়। এদের সাংগঠনিক দুর্বলতা সুস্পষ্ঠ। গোষ্ঠী বিশেষ ব্যক্তি, পরিবার, ধর্মনেতা, অঞ্চল প্রধান প্রভৃতির মাধ্যমে দাবি পেশ ও আদায়ের চেষ্টা করে। বিভিন্ন উপজাতীয় গোষ্ঠী, ধর্মগুরুর অনুসারী গোষ্ঠী এরূপ স্বার্থকামী গোষ্ঠী প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সরকারী ব্যবস্থায় এদের চাপ প্রয়োগ তেমন জোরদার হয় না। ফলে দাবী আদায়ের ব্যর্থতা ফুটে উঠে। বংশ, বর্ণ, অঞ্চল প্রভৃতি শ্রেণীর ক্ষুদ্রতর বিন্যাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী বলা হয়।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী:
- উন্নয়নশীল দেশ প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত গোষ্ঠী যখন তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট স্বার্থ আদায়ের জন্য সংঘবদ্ধ হয় তখন প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থগোষ্ঠীর উদ্ভব ঘটে। এদের সাংগঠনিক ভিত্তি খুবই মজবুত হয়ে থাকে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এদের উদ্ভব ঘটে। আইন পরিষদ, আমলাতন্ত্র, সেনাবাহিনী, প্রভৃতি এধরণের স্বার্থকামী গোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সম্মিলিত সংস্থা হিসাবে এ গোষ্ঠী সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পাদন করে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) রাজনৈতিক সংগঠন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩০.
রাজনৈতিক দল কীসের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে?
  1. মত, পথ ও আদর্শের ভিত্তিতে
  2. স্বজাতিবোধের ভিত্তিতে
  3. সম্পর্কের ভিত্তিতে
  4. ন্যায়নীতির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের সমস্যাবলী:
- বাংলাদেশ একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- গণতন্ত্রের আদর্শকে সফলভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশে বহুদলীয় ব্যবস্থাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- যেকোনো ধরনের মত, পথ ও আদর্শের উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল গড়ে উঠতে পারে।
- যেকোনো গোষ্ঠী বা দল প্রচলিত বিধির আওতায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যেকোনো রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে।
- বর্তমানে বিরাজমান এত অধিকসংখ্যক রাজনৈতিক দল কোন দেশের জন্য সুস্থ রাজনীতির লক্ষণ হতে পারে না।
- বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলের অন্যতম সমস্যা হচ্ছে এ দলগুলো বিভিন্ন রকম।
- রক্ষণশীল, উদারনৈতিক, প্রগতিশীল, প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দল আছে যারা কোন পরিবর্তন চায় না।
- ধনিক শ্রেণি নিয়ে তাদের দল গঠিত। তারা পুরোমাত্রায় রক্ষণশীল। এই দল গুলোর সমর্থকগণ রক্ষণশীল।
- আবার কতগুলো দল আছে যারা বর্তমান সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়তে চায়।
- এই দলের সমর্থকগণ প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩১.
পাকিস্তানের সিভিল সার্ভিস কমিশনের নাম কী?
  1. ক) DFCS
  2. খ) FPSC
  3. গ) PSC
  4. ঘ) PPSC
ব্যাখ্যা
পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস কমিশনের নাম Federal Public Service Commission (FPSC)।
এটি ১৯২৬ সালে গঠিত হয়। ১ জন চেয়ার‌ম্যান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে এটি গঠিত।
এটি পাকিস্তানের Central Superior Service পরিক্ষার আয়োজন করে থাকে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার শীট)
৯৩২.
বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে কে নিয়োগ পেয়েছেন? 
  1. বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
  2. বিচারপতি মাহমুদুর রহমান
  3. বিচারপতি সাদিকুর রহমান
  4. বিচারপতি রফিকুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ২৬তম প্রধান বিচারপতি: 
- বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। 
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এই নিয়োগ দেন।
- শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
- পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

৯৩৩.
'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় কোনটিকে?
  1. প্রধান বিচারপতিকে
  2. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে
  3. সামরিক বাহিনীকে
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
⇒ 'স্বার্থ একত্রীকরণকারী' বলা হয় চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে।

চাপসৃষ্টিকারী দল:
- চাপসৃষ্টিকারী দল কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় চাপসৃষ্টিকারী দলের ভূমিকা অপরিহার্য।
- প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সরকারি সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করাই হল চাপ সৃষ্টিকারী দলের প্রধান কাজ।
- গোষ্ঠী স্বার্থ আদায়ে কাজ করলেও, কোন কোন চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে কখনো কখনো বৃহত্তর জনকল্যাণমূলক বা জাতীয় স্বার্থে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৪.
উন্নয়নমূলক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কী হিসেবে ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) ওয়াচম্যান
  2. খ) লিংক ব্রিজ
  3. গ) ওয়াচডগ
  4. ঘ) ওভারশিয়ার
ব্যাখ্যা
উন্নয়নমূলক চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা পালন করে।
৯৩৫.
রাজা রামমোহন রায় কোন প্রথা দূরীকরণে বিশেষভাবে কাজ করেছেন?
  1. বিধবা বিবাহ
  2. কৌলীন্য প্রথা
  3. পণপ্রথা
  4. অশৌচ
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথাসহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯৩৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন?
  1. ৮ জানুয়ারি ১৯৭২
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১২ জানুয়ারি ১৯৭২
  4. ২৭ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন:
- মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক চাপে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দানে বাধ্য হয়। 
- বঙ্গবন্ধু ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন গমন করেন। সেখান থেকে দিল্লিতে কিছু সময় অবস্থান করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ঢাকায় আসেন।
- ১০ জানুয়ারিকে বঙ্গবন্ধুর ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৩৭.
বাংলাদেশের কোন নেতা কলকাতার মেয়র ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. এ. কে. ফজলুল হক
  4. উপরের কেউই নন
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র হন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
 
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৯৩৮.
'গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি করা হয় কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

৯৩৯.
২০২৬ সালে বাংলাদেশের কততম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে?
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ
ব্যাখ্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন:
- ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

⇒ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতি এখন ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ বলে জানিয়েছেন ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে ব্রিফিংকালে বাসস-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
- ৫ আগষ্ট ২০২৪ তারিখে শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

৯৪০.
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হন কত সালে?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৪ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
• এ.কে ফজলুল হক (১৮৭৩-১৯৬২):
- এ.কে ফজলুল হক রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বর্তমান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বর্ধিষ্ণু গ্রাম সাটুরিয়ায় ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র (১৯৩৫),
- অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৩৭-১৯৪৩);
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী (১৯৫৪); 
- পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী (১৯৫৫) এবং
- পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরের পদ (১৯৫৬-১৯৫৮) সহ বহু উঁচু রাজনৈতিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- লোকপ্রিয়ভাবে 'শেরে বাংলা' বা হক সাহেব রূপে পরিচিত।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে লোকপ্রিয়ভাবে পাকিস্তান প্রস্তাব নামে অভিহিত 'লাহোর প্রস্তাব' উত্থাপনের জন্য জিন্নাহ্ তাঁকে নির্বাচিত করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কৃষক প্রজা পার্টি (কে.পি.পি)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪১.
বাংলাদেশের নাগরিকতা নির্ণয়ের প্রধান উপায় কোনটি?
  1. ক) জন্মসূত্রে
  2. খ) অনুমোদনসূত্রে
  3. গ) উভয়টি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের নাগরিকতা প্রধানত জন্মসূত্রে নির্ণয় করা হয়। 

- বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। 
- নাগরিকত্ব  সংবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।

- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর  সংবিধান বলবৎ হওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব (অস্থায়ী বিধান) আদেশ ১৯৭২ (রাষ্ট্রপতির ১৯৭২ সালের ১৪৯ নং আদেশ) জারি করেন এবং এই আদেশ দ্বারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে দেশের নাগরিকত্ব নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

- আদেশটির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, এমন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে গণ্য হবেন:
(১) যিনি বা যার পিতা বা পিতামহ বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন এলাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং যিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এ এলাকার কোনো স্থানের স্থায়ী বাশিন্দা ছিলেন এবং এখনও বাশিন্দা আছেন;
অথবা (২) যিনি বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্ভুক্ত এলাকায় ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্থায়ী বাশিন্দা ছিলেন, এখনও আছেন এবং দেশে বলবৎ কোনো আইনের দ্বারা নাগরিক হওয়ার অযোগ্য ঘোষিত হন নি।

সূত্র- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯৪২.
ওয়াকআউট কী?
  1. সাময়িক সময়ের জন্য স্পিকারের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ
  2. সাময়িক সময়ের জন্য চিপ হুইপের ওয়াকআউট
  3. সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ
  4. সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের বেইলআউট
ব্যাখ্যা
• ওয়াকআউট:
- জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সাময়িক সময়ের জন্য বিরোধী দলের সংসদ অধিবেশন ত্যাগ করাকে “ওয়াকআউট” বলে। এটি সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত কিংবা স্পীকারের রুলিং-এর প্রতিবাদে সংসদ থেকে বের হয়ে আসা। এ কারণে ওয়াকআউট হলো একটি বৈপরীত্যকারী সংসদ অধিবেশন।

• ওয়াকআউটের কারণ: সাধারণত বিরোধী দলের সদস্যরা সরকারের কোনো সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে, কোনো সদস্যের অধিকার বিচারে পূর্বসুরে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, বা স্পীকারের রুলিং বা আদেশে অসন্তোষ প্রকাশ করতে ওয়াকআউট করতে পারেন।

• সরকারি দলের ওয়াকআউট: তবে, সংসদের বৈঠকে সরকারি দলের সদস্যরাও ওয়াকআউট করতে পারেন।

• সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট: সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউট সদস্যদের অধিকার হিসেবে স্বীকৃত এবং তাদের বিচারের একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৪৩.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 
• জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
• তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
• জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’
কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৪.
বেলা (BELA) কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) মানবাধিকার
  2. খ) অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক
  3. গ) জেন্ডার ও সমতা বিষয়ক
  4. ঘ) পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন
ব্যাখ্যা
 BELA (Bangladesh Environmental Lawyers Association)
-বাংলাদেশের বেসরকারি পরিবেশ আইনজীবীদের সংগঠন হলো বেলা
- ১৯৯২ সালে মহিউদ্দীন ফারুক এটি প্রতিষ্ঠা করে । 
- নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডে বিস্ফোরনের কারণে  এটি সারাদেশে প্রসংশা কুড়ায়।
- বাংলাদেশ মহিলা সমিতি নারীদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করার পাশাপাশি নারীদের বিভিন্ন আইনি বিষয়গুলিতেও সহায়তা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
- বর্তমানে এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- তিনি ২০১২ সালে এশিয়ার নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচ্য ফিলিপাইনভিত্তিক রামোন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন

তথ্যসূত্র-  বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় দৈনিক। 
৯৪৫.
নিম্নের কোনটি এক দলীয় ব্যবস্থার গুণ?
  1. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয়
  2. ব্যক্তিত্ব বিকাশের সুযোগ দেয়
  3. স্বৈরাচার কায়েম হয়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
একদলীয় ব্যবস্থা:
- যখন রাষ্ট্রে একটি মাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• একদলীয় ব্যবস্থার গুণ:
- একদলীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্রের একতা বিধান করা সম্ভব। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে কোন রকম দ্বি-মত থাকে না।
- দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একদলীয় ব্যবস্থা উপযোগী।
- একদলের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হয়।
- রাজনৈতিক কলহ একদলীয় ব্যবস্থায় থাকে না বললেই চলে। কঠোরভাবে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৬.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য কোনটি অতি আবশ্যক?
  1. চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী
  2. সুশীল সমাজ
  3. সামাজিক সংগঠন
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৭.
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন কত সালে প্রথম যুক্ত হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন: 
- জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন প্রথম যুক্ত হয় ১৯৭২ সালে।
- তখন উল্লেখ করা হয়েছিল, ৩০০ নির্বাচনী এলাকার বাইরে ১০ বছরের জন্য ১৫টি আসন শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
- এই নারী সদস্যরা সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতেন। এটি তৎকালীন আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ছিল, কারণ নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ তখন তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
- ১৯৭৫-পরবর্তী সামরিক শাসনামলে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা এবং মেয়াদ ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়। ১৯৭৮ সালে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সংশোধনীর মাধ্যমে এটি ৫০-এ উন্নীত হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের "সংবিধান সংস্কার কমিশন" দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবনায় নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৪০০ এবং উচ্চকক্ষে ১০৫টি আসন যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। নিম্নকক্ষে ১০০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে, তবে এসব আসনে নারীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। উচ্চকক্ষের আসন আনুপাতিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী বণ্টিত হবে। 

সূত্র: প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা নিউজ।
৯৪৮.
বিরোধী দল সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি কোথায় তুলে ধরে?
  1. জনসাধারণের সামনে
  2. শুধুমাত্র সরকারের কাছে
  3. নির্বাচন কমিশনে
  4. আদালতে
ব্যাখ্যা

বিরোধী দল:
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য বিরোধী দল অতি আবশ্যক।
- কোন রাষ্ট্রে যদি শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকে তাহলে সে রাষ্ট্র স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত হবার আশঙ্কা থাকে।
- সরকারকে সর্বদা বিরোধী দলের দাবির প্রতি সহনশীল হতে হবে।
- আবার বিরোধী দল অহেতুক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি না করার ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।
- বস্তুতঃ বিরোধী দল ছাড়া রাজনৈতিক ব্যবস্থাই অচল হয়ে পড়ে।

♦ বিরোধী দলের কাজ:
⇒ গঠনমূলক সমালোচনা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

⇒ অধিকার বাস্তবায়ন:
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

⇒ গণতন্ত্র রক্ষা:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

⇒ প্রার্থী মনোনয়ন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়ে থাকে।
- এ ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মাধ্যম হল সাধারণ নির্বাচন।
- তাই নির্বাচনের সময় বিরোধী দল নিজ-আদর্শ সংশ্লিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন করে এবং প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারকার্য চালায়।

⇒ রাজনৈতিক সংযোগ সাধন:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অন্যতম কাজ হল রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- বিরোধী দল জনগনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বা মতামতকে সরকারের নিকট পেশ করে থাকে।
- এভাবে বিরোধী দলের সাথে জনগণের সংযোগ সাধন হয়ে থাকে।

⇒ রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ:
- রাজনৈতিক সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিরোধী দল তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- জনগণকে রাজনীতির সাথে একত্রীকরণ, মূল্যবান ভোট সম্পর্কে সচেতন করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধী দল কাজ করে থাকে।

⇒ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মন্ত্রিসভা তাদের কার্যের জন্য ব্যক্তিগত ও যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে।
- মন্ত্রিসভার যেকোন সিদ্ধান্ত বা নীতি সম্পর্কে বিরোধীদলের সদস্যরা জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন। মন্ত্রীগণ তার জবাব দিতে বাধ্য থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৪৯.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজনৈতিক দল 'জাতীয় নাগরিক পার্টি' কত তারিখে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  3. ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  4. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা
জাতীয় নাগরিক পার্টি:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
- জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ দলটি গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
৯৫০.
নিচের কোনটি সরকারের 'ফিফথ স্টেট' হিসেবে পরিচিত?
  1. জনগণ
  2. সিভিক সোসাইটি
  3. গণমাধ্যম
  4. সিভিল সোসাইটি
ব্যাখ্যা
• স্তম্ভ:
- সরকার প্রধানত তিনটি বিভাগ বা স্তম্ভ নিয়ে গঠিত। এগুলো হলো: শাসন বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।
 এদের বাহিরে পণ্ডিতগণ অঘোষিতভাবে গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সিভিল সোসাইটিকে সরকারের পঞ্চম স্তম্ভ বা ফিফথ স্টেট বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
৯৫১.
হেনরি ডিরোজিওর নেতৃত্বে গঠিত মুক্তচিন্তক ছাত্রগোষ্ঠীর নাম কী ছিল?
  1. ইয়ংফ্রেন্ড
  2. ইয়ংবেঙ্গল
  3. বেঙ্গলফ্রেন্ড
  4. মুক্তবেঙ্গল
ব্যাখ্যা
হেনরি ডিরোজিও:
- ডিরোজিওর পূর্ণ নাম হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও।
- তিনি একজন ইউরেশীয় তরুণ কবি, যুক্তিবাদী, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক।
- মাত্র সতেরো বছর বয়সে হিন্দু কলেজের (বর্তমান নাম প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষক নিযুক্ত হন।
- ১৮২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর একটি সংগঠন 'অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন'।
- ডিরোজিওর অনুসারী মুক্তচিন্তক গোষ্ঠীকে বলা হয় 'ইয়ংবেঙ্গল'।
- তিনি 'ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫২.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ন্যূনতম বয়স কত?
  1. ২৫ বছর
  2. ২৮ বছর
  3. ৩০ বছর
  4. ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
- সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শাসন ক্ষমতার মধ্যমণি।
- তাঁকে কেন্দ্র করেই প্রজাতন্ত্রের সকল শাসন ও প্রশাসন পরিচালিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই মন্ত্রীসভা গঠিত ও পরিচালিত হয়, ক্ষমতায় টিকে থাকে ও ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি শাসন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শাসনকার্য পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও তা সংসদে পেশ করেন।
- তাঁর পরামর্শের আলোকে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে অর্থ মঞ্জুরী প্রদান করেন।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
- পঞ্চম ভাগের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী -
(১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হলে এবং তাঁর বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হলে বিধান-সাপেক্ষে তিনি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হবার এবং সংসদ-সদস্য থাকার যোগ্য হবেন।

• যেহেতু সংসদের সংখ্যা গরিষ্ঠ দলের সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৩.
১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে দেশের অন্তত কয়টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে?
  1. ৫০টি
  2. ৬০টি
  3. ৮০টি
  4. ১০০টি 
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা চালু হয় ২০০৮ সালে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে। 

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii)  কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ২১টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ১০০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৯৫৪.
বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল-
  1. বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল
  2. বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম
  3. বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি
  4. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
ব্যাখ্যা

• ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি :
- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) বাংলাদেশের একটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল। 
- মওলানা  আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালের জুলাই মাসে এই দলটি গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি -মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সম্পাদক নির্বাচিত হন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- ১৯৬৭ সালের দিকে বিভিন্ন কারণে ন্যাপ নেতৃবৃন্দের মধ্যে মতবিরোধ চলতে থাকে। 
- ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর রংপুরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিল অধিবেশনের পর দেশিয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রশ্নে ন্যাপ চীনপন্থী ও মস্কোপন্থী এ দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি মধ্যমপন্থা দল।
- বাংলাদেশ জামায়েত ইসলাম একটি ডানপন্থী দল।
- বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি একটি মধ্যমপন্থা দল।

উৎস : বাংলাপিডিয়া।

৯৫৫.
'The Spirit of Islam' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. আল্লামা ইকবাল
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম আজাদ
  4. সৈয়দ আহমদ খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ আমীর আলী:
- মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত সৈয়দ আমীর আলী।
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর বিখ্যাত দুটি গ্রন্থ হচ্ছে 'The spirit of Islam' এবং 'A Short History of the Saracens'.
- ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য হন।
- তিনি ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান এ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করে
- ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মুসলিম লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
- সৈয়দ আমীর আলী নারী অধিকারের বিষয়েও সচেতন ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৬.
সরাসরি ভোটে কতবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১ বার 
  2. ২ বার 
  3. ৩ বার 
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা

সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন:
- প্রত্যক্ষ বা সরাসরি ভোটে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তিন বার।
- এগুলো হলো ১৯৭৮ সাল, ১৯৮১ সাল ও ১৯৮৬ সাল। 

উলেখ্য,
- জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
- বাকি দুজন হলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- এই তিনজন সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

⇒ ১৯৭২ সালের সংবিধানের দ্বিতীয় তফসিল মোতাবেক রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন সংসদ সদস্যদের গোপন ভোটে।
- পরবর্তী সময়ে সংবিধানে চতুর্থ সংশোধনী অনুসারে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান প্রবর্তিত হয়।
- সংবিধানের ১২তম সংশোধনী আইন ১৯৯১ অনুসারে সংসদীয় পদ্ধতি চালু হলে পরোক্ষ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান করা হয়।
- বর্তমানে অনুচ্ছেদ ৪৮ অনুসারে সংসদ-সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

⇒ বাংলাদেশে ১৯৯০ সালে প্রবল গণআন্দোলনে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদে সংবিধান সংশোধন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার বদলে সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।

৯৫৭.
জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ন্যূনতম কত শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে? 
  1. ৩%
  2. ৫%
  3. ৭%
  4. ৮%
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেবে।

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫:

- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।

⇒ ১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের সূচনা হয়। এর ফলে ৫ই আগস্ট ২০২৪ তারিখে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার কিছু দোসর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান এবং দীর্ঘকালীন দমনমূলক ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। জনগণের বিজয়ের ফল হিসেবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

⇒ ৫টি সংস্কার কমিশনের একজন সদস্যকে সদস্য করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করা হয়।
- জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
- সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্যে পাঁচটি কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দল ও জোটের কাছে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে কমিশন কয়েক দফায় ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৭২টি বৈঠকে মিলিত হয়।
- বৈঠকসমূহের আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল ও জোটের সর্বসম্মত ও বৃহত্তর ঐকমত্য এবং কয়েকটি ভিন্নমতসহ মোট ৮৪টি সুপারিশ সংবলিত 'জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫' প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি বিষয়কে ‘সংবিধান সংশোধন সাপেক্ষে সংস্কার’ এবং বাকি ৩৭টি বিষয়কে ‘আইন বা অধ্যাদেশ, বিধি ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সংস্কার’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ঐকমত্য কমিশন।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব: জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব ক্রমান্বয়ে ১০০ (একশত) আসনে উন্নীত করা হবে।
- জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির পদ্ধতি:
(ক) বিদ্যমান সংরক্ষিত ৫০ (পঞ্চাশ) টি আসন বহাল রেখে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫(৩)-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে।
(খ) জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ স্বাক্ষরের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল বিদ্যমান ৩০০ (তিনশত) সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে, তবে এটি সংবিধানে উল্লেখ করা হবে না।
(গ) পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো ন্যূনতম ১০ (দশ) শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দিবে।

উৎস: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট।

৯৫৮.
কোন শাসন ব্যবস্থার জন্য একাধিক রাজনৈতিক দল অপরিহার্য?
  1. একনায়কতান্ত্রিক
  2. রাজতান্ত্রিক
  3. গণতান্ত্রিক
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
গণতন্ত্র:
- গণতন্ত্রের জন্য রাজনৈতিক দল অপরিহার্য।
- রাজনৈতিক দল মূলত জনগণের দাবি দাওয়া প্রকাশের প্লাটফর্ম।।
- এটি মূলত এক দল জনসমষ্টি যারা নির্দিষ্ট নীতি ও আদর্শ এবং লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ।
- রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক দল অন্যতম।
- রাজনৈতিক দলের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে নিয়মতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত
হওয়া।
- তবে যে সব রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নেই সে সব রাষ্ট্রে রাজনৈতিক দলও নেই।
- যেমন: সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার এ রাজতন্ত্র বিদ্যমান। ।
- রাজপরিবার ও পরিষদই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে
- তাছাড়া সামরিক সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ থাকে। তবে শিক্ষা, জ্ঞান- বিজ্ঞানের বিকাশের ফলে রাজনৈতিক দল সৃষ্টির প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হচ্ছে।

সূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫৯.
কোন প্রতিষ্ঠান ঈশ্বরচন্দ্রকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ইংরেজী কলেজ
  3. সংস্কৃত কলেজ
  4. হিন্দু কলেজ
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক ও লেখক।
- ১৮৩৯ সালে কলকাতার সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে তার অসাধারণ পাণ্ডিত্য ও জ্ঞানগরিমার জন্য ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে। 

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ছিল বেতালপঞ্চবিংশতি।
- তিনি সাহিত্যে অবদানের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারমূলক রচনাতেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্মের মধ্যে শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস উল্লেখযোগ্য।
- এ ছাড়াও শিক্ষামূলক রচনার ক্ষেত্রে তাঁর লেখা আখ্যান মঞ্জরী, বোধোদয়, বর্ণপরিচয়, কথামালা প্রভৃতি গ্রন্থ বাংলা ভাষা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬০.
কোথায় ছয় দফা ঘোষণা করা হয়েছিল?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) লাহোর
  3. গ) করাচি
  4. ঘ) ইসলামাবাদ
ব্যাখ্যা
–পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে পূর্ব বংলার জনগণকে মুক্ত করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ৫-৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

ছয়দফা নিম্নরুপ: 
১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানের জন্য একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। এটি
হবে সংসদীয় পদ্ধতির যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা। প্রাপ্ত বয়স্কদের সরাসরি ভোটে সকল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আইনসভাগুলো হবে সার্বভৌম।
২. শুধু দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র বিষয় থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। অবশিষ্ট ক্ষমতা থাকবে প্রদেশগুলোর হাতে।
৩. দেশের দুই অংশে সহজেই বিনিময়যোগ্য অথচ পৃথক দুটো মুদ্রা থাকবে। অথবা ফেডারেল ব্যাংকের অধীনে দুই দেশের দুটি রিজার্ভ ব্যাংক ব্যবস্থাসহ একই ধরনের মুদ্রা চালু থাকবে।
৪. আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা। আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।
৫. দুই অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা আলাদা হিসেব থাকবে। প্রয়োজনে দুই অঞ্চল থেকে সমানভাবে অথবা সংবিধানে নির্ধারিত হারে কেন্দ্র বৈদেশিক মুদ্রা পাবে।
৬. অঙ্গরাজ্যগুলো আঞ্চলিক সেনাবাহিনী অর্থাৎ মিলিশিয়া ও প্যারা মিলিশিয়া গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী।
৯৬১.
নারী শিক্ষা আন্দোলনের জন্য 'দীপালি সংঘ' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. আশালতা সেন
  2. লীলা নাগ
  3. ইলা মিত্র
  4. বেগম রোকেয়া
ব্যাখ্যা
লীলা নাগ:
- লীলা নাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী।
- তিনি একজন সক্রিয় বিপ্লবী ও আন্দোলনকারী।
- তিনি শিক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সহকারী ছিলেন।
- কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে তিনি ইংরেজিতে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তাঁর শিক্ষাগত সাফল্যের জন্য (তিনি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন) তাঁকে ‘পদ্মাবতী’ স্বর্ণপদক প্রদান করা হয়। 

উল্লেখ্য,
- ১৯২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে নারীশিক্ষা প্রসারের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি 'দীপালি সংঘ' নামে নারীদের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- দীপালি সঙ্ঘের সাহায্য নিয়ে তিনি দীপালি স্কুল নামে একটি স্কুল ও অন্য বারোটি ফ্রি প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি নারীশিক্ষা মন্দির ও শিক্ষাভবন নামে পরিচিত অন্য দুটি স্কুলও প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯২৫ সালে শ্রীসঙ্ঘ নামে অভিহিত একটি বিপ্লবী দলের তিনি সদস্য হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৬২.
’ব্রাহ্ম সমাজ’ এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে? 
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি
  3. স্বামী বিবেকানন্দ
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• রাজা রামমোহন রায়:
- রাজা রামমোহন রায় বাংলার নবজাগরণের স্রৃষ্টা।
- ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ইংরেজি, বাংলা, আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন।
- বেদান্তসূত্র, বেদান্তসার ও বিভিন্ন উপনিষদের অনুবাদ প্রকাশ করেন।
- তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথাসহ নানা কুসংস্কার দূরীকরণে কাজ করেন। 
- হিন্দুধর্ম সংস্কারের জন্য ‘আত্মীয় সভা’ নামে সমিতি গঠন করেন।
- ১৮২৮ সালের ২০ আগস্ট ব্রাহ্ম সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
- তিনি ইংরেজি শিক্ষার গুরুত্বে বিশ্বাস করতেন।
- ১৮২৩ সালে সরকারি সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন।
- ১৮২২ সালে কোলকাতায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৩ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বোর্ড বই, নবম ও দশম শ্রেণি।

৯৬৩.
বঙ্গবন্ধু কবে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন?
  1. ১ মার্চ ১৯৬৬
  2. ২৫ মার্চ ১৯৬৬
  3. ২৬ মার্চ ১৯৬৬
  4. ১৫ মার্চ ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
আওয়ামী মুসলিম লীগ 
- মুসলিম লীগে নিজেদের উপদলীয় কোন্দলে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আদুল হামিদ খান ভাসানী কোণঠাসা হয়ে পড়েন।
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকায় এক রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে গঠিত হয় আওয়ামী মুসলিম লীগ।
- নতুন দলের সভপতি নির্বাচিত হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সাধারণ সম্পাদক হন টাঙ্গাইলের শামসুল হক।
- তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে দলটির অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়।
- ১৯৫৫ সালে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ' নিজের ভাবমূর্তি অসাম্প্রদায়িক করতে নাম থেকে 'মুসলিম' শব্দটি বাদ দেয়।
- এ সময় দলটির মূলনেতা নির্বাচিত হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ে দলটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- ১৯৬৬ সালের ১ মার্চে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৪.
রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কারন নয় কোনটি?
  1. ক) রাজনৈতিক দলটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে
  2. খ) পর পর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করলে
  3. গ) সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে
  4. ঘ) পূর্ববর্তী নির্বাচনে ১৫০ টি আসন না পেলে
ব্যাখ্যা
কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারনে বাতিল হতে পারে:-
১। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারন সম্পাদক পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরনিসহ আবেদন করা হলে;
২। নিবন্ধিত কোনো রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে ;
৩। এই আইন ও বিধিমালার অধীনে কমিশনে প্রেরিত কোনো তথ্য পর পর ৩ বছর প্রেরন করতে ব্যর্থ হলে;
৪। রাজনৈতিক দলটি পর পর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহন না করলে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
৯৬৫.
ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৬
  2. খ) ১৯৫৭
  3. গ) ১৯৫৮
  4. ঘ) ১৯৫৯
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠিত হয়।
- ন্যাপের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলনে’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।

- ন্যাপের অন্যান্য নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন পূর্ববাংলা থেকে হাজী মুহাম্মদ দানেশ, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ, মহিউদ্দিন আহমদ, মশিউর রহমান (যাদু মিয়া), পীর হাবিবুর রহমান, এস.এ আহাদ, আবদুল মতিন, আবদুল হক, আতাউর রহমান এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ছিলেন ওয়ালি খান, আবদুল মজিদ সিন্ধী, মিয়া ইফতেখার প্রমুখ।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৬.
স্কুল পরিদর্শক থাকাকালিন সময়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কতটি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন?
  1. ৩২টি
  2. ৩৩টি
  3. ৩৪টি
  4. ৩৫টি
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
 
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- শিক্ষা বিস্তারে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ।
- সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা তাঁর কীর্তি।
- স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে গঞ্জে তিনি ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়। 
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৭.
সুশীল সমাজের অংশ নয় কোনটি?
  1. পেশাজীবী সংগঠন
  2. নাগরিক সংগঠন
  3. এনজিও
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• সুশীল সমাজের অংশ নয়- রাজনৈতিক দল।

• সুশীল সমাজ:
- সুশীল সমাজের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civil Society.
- সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী, যারা সবসময় জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে।
- সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ স্বতন্ত্র কোন রাজনীতি করে না, কারণ এরা কোন দলের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকে না, হোক সরকারি বা বিরোধী কোন দল।
- সুতরাং সুশীল সমাজ হলো এমন এক ধরনের গোষ্ঠী যারা কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত না থেকে সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে।

⇒ সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.

৯৬৮.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা কবে গৃহীত হয়?
  1. ক) ২ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২
  3. গ) ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনের পশ্চিম গেটে বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়।
- সেদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব। সেই পতাকার মাঝখানে হলুদ বৃত্ত ছিল। আর বৃত্তের মধ্যে ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র।
- সেই থেকে প্রতি বছর ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চে তার বাসভবনে পতাকা উত্তোলন করেছিলেন।
- ১৯৭২ সালে শিবনারায়ণ দাশের ডিজাইন করা পতাকা থেকে মানচিত্রটি বাদ দেওয়া হয়। 
- পতাকার মাপ, রং ও তার ব্যাখ্যাসহ একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয় পটুয়া কামরুল হাসানকে। 
- কামরুল হাসান আমাদের জাতীয় পতাকার যে রূপ দিয়েছিলেন সেটিই বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ রং বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি ও তারুণ্যের প্রতীক, বৃত্তের লাল রং উদীয়মান সূর্য, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের প্রতীক।
-  বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
 
উৎস: বিডিনিউজ 
৯৬৯.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম কী?
  1. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী
  3. লিয়াকত আলী খান
  4. আবুল হাশেম
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির মধ্যে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় এবং ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে,
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ ১২১টি আসনের মধ্যে ১১৪টি আসনে বিজয়ী হয় এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭০.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে ভারতবর্ষে কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিলো?
  1. নারীশিক্ষা প্রসার আইন
  2. বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন
  3. হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
  4. সামাজিক সংস্কার আইন
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- শিক্ষা বিস্তারে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ।

সমাজ সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা তাঁর কীর্তি।
- স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে গঞ্জে তিনি ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
-  তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।

- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭১.
কত তারিখে 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' শিক্ষার্থীরা 'কমপ্লিট শাটডাউন' শুরু করে?
  1. ১৬ জুলাই, ২০২৪ সালে
  2. ৩ জুলাই, ২০২৪ সালে
  3. ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে
  4. ১৯ জুলাই, ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ ১৮ জুলাই ২০২৪ সালে কমপ্লিট শাটডাউন (সর্বাত্মক অবরোধ) কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে টানা আন্দোলন শুরু হয়েছিল গত ১ জুলাই থেকে। অহিংস এই আন্দোলন সহিংস হয় ১৫ জুলাই থেকে।

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব:
-জুলাই গণঅভ্যুত্থান/ জুলাই বিপ্লব নামে পরিচিত ছাত্র-জনতার আন্দোলন হচ্ছে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণঅভ্যুত্থান যা ২০২৪ সালের ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অগণিত প্রাণ বিসর্জন দেয়ার মধ্য দিয়ে বিগত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।
- ঐতিহাসিক এই বিপ্লবের বিজয়ের ধারার সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকুরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবির আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
- এটি পরে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আরো প্রবল হয়ে উঠেছিল যা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চূড়ান্ত রূপ লাভ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগের মাধ্যমে।

উৎস: বাসস।

৯৭২.
‘The spirit of Islam' গ্রন্থ কে রচনা করেন?
  1. সৈয়দ আহমদ খান
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা

দি স্পিরিট অব ইসলাম (The Spirit of Islam):
- এর লেখক সৈয়দ আমীর আলী।
- এটি বিশ্লেষণধর্মী / যুক্তিভিত্তিক ইসলামি চিন্তাগ্রন্থ।
- এই গ্রন্থের বিষয়বস্তু: ইসলাম ধর্মের ইতিহাস, দর্শন, নৈতিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি।
- আধুনিক যুগে ইসলামের ব্যাখ্যায় এটি একটি মাইলফলক গ্রন্থ।
- এর মূল উদ্দেশ্য ইসলামকে একটি যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানসম্মত ও মানবতাবাদী ধর্ম হিসেবে উপস্থাপন করা।

• সৈয়দ আমীর আলী:

- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে: (১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং (২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন। 
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।
- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৩.
বাংলাদেশের একমাত্র পুলিশ একাডেমিটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) ঢাকা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী পুলিশ অফিসারদের প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। এটি রাজশাহী শহর থেকে ২০ মাইল দূরে পদ্মা নদীর পূর্ব পাড়ে সারদায় অবস্থিত। [সূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন]
৯৭৪.
কোন রাজবংশের শাসনামলে চীনে প্রথম আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠে?
  1. ক) কিন রাজবংশ
  2. খ) সং রাজবংশ
  3. গ) মিং রাজবংশ
  4. ঘ) হান রাজবংশ
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টপূর্ব ২২১ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২০৭ অব্দে কিন রাজবংশের সময়ে চীনে প্রথম আমলাতান্ত্রিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে উঠে।
সং রাজবংশের (৯৬০-১২৭৯ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে প্রথম যোগ্যতা ও পরিক্ষা পদ্ধতির প্রচলন হয়।
পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে চীনের আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস সংস্কার হয়ে বর্তমান রূপ লাভ করেছে।
(সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার শীট)
৯৭৫.
মজনু শাহ কোন আন্দোলনের নেতা ছিলেন?
  1. সিপাহি বিদ্রোহ
  2. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  3. তেভাগা আন্দোলন
  4. রংপুরের কৃষক বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা
ফকির মজনু শাহ:
- বাংলার ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ বিরোধী প্রথম বিদ্রোহ।
- ঐতিহাসিক ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নায়ক মজনু শাহ।
- তিনি ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের মাদারিয়া তরিকার সুফি সাধক। 
- ফকির মজনু শাহ ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যবরণ করেন।
 
উল্লেখ্য,
- মজনু শাহ মৃত্যবরণ করলে বিদ্রোহের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন মুসা শাহ, সোবানশাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির।
- এই নেতারা কয়েক বছর ইংরেজ প্রশাসনকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।
- ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তারা চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৬.
নিম্নের কোনটি রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা হিসেবে গ্রহণযোগ্য?
  1. ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও ক্ষমতায় আগ্রহী জনগোষ্ঠী
  2. শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন ব্যক্তি সমষ্টি
  3. স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
  4. শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর সমষ্টি
ব্যাখ্যা

- রাজনৈতিক দল হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ জনসমষ্টি, যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে সচেষ্ট হয়।
- এরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সরকার গঠনে প্রতিযোগিতা করে।

• রাজনৈতিক দলের সংজ্ঞা: 
- যখন কোন জনসমষ্টি রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে একমত পোষণ করে, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা আরোহণে আগ্রহী এবং রাজনীতি সচেতন হয়ে সংঘবদ্ধ হয় তখন এই সংঘবদ্ধ একদল লোককে 'রাজনৈতিক দল' বলে।
- বার্ক বলেন, "রাজনৈতিক দল এরূপ একটি জনসমষ্টি যারা কিছু ঐক্যবদ্ধ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থ অর্জনের জন্যে সংঘবদ্ধ হয়েছে।”
- অধ্যাপক গেটেল বলেন, “রাজনৈতিক দল বলতে কম-বেশি সংগঠিত একদল লোককে বোঝায়, যারা রাজনৈতিকভাবে এককরূপে কাজ করে এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সরকার গঠন ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে চায়।”
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।”
- ম্যাকাইভার বলেন, রাজনৈতিক দল বলতে সেই জনগোষ্ঠীকে বোঝায় যারা সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সরকার গঠনে প্রয়াসী।”
অধ্যাপক সুম্পিটার রাজনৈতিক দলের একটি সংক্ষিপ্ত অথচ উত্তম সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "রাজনৈতিক দল এমন একটি সংস্থা যার সদস্যবৃন্দ রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতায় ঐক্যবদ্ধ।”
- বস্তুত রাজনৈতিক দল বলতে এমন এক সংঘবদ্ধ জনসমষ্টিকে বোঝায় যারা রাষ্ট্রের সমস্যা সম্পর্কে ঐকমত্য পোষণ করে এবং নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যায়। প্রকৃত রাজনৈতিক দলের কাছে নেতা ও দলের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি, এস এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৭৭.
The first parliamentary election of Bangladesh was held in_____ .
  1. ক) 1973
  2. খ) 1974
  3. গ) 1976
  4. ঘ) 1972
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণীত হলে এ সংবিধানের আলোকে সরকার গঠনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।  
- বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৭ই মার্চ ১৯৭৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়। 
- নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৩টি আসনে জয় লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সরকার গঠন করে। 
- এই নির্বাচনে এগারোটি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৭৮.
ব্রিটিশ সরকার কোন ব্যক্তিকে ‘খান বাহাদুর’ ও ‘নওয়াব বাহাদুর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. হেনরি লুই ডিরোজিও
ব্যাখ্যা

• নওয়াব আব্দুল লতিফ:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলার রাজাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- নওয়াব আব্দুল লতিফকে কর্মজীবনে তাঁর কৃতিত্বের জন্য সরকার তাঁকে প্রথমে 'খান বাহাদুর' পরে নওয়াব এবং নওয়াব বাহাদুর উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘মুসলমান ছাত্রদের পক্ষে ইংরেজি শিক্ষার সুফল’ শীর্ষক এক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন।
- তাঁর প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদরাসায় এ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়।
- ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭৯.
আজাদ হিন্দ সরকার কার নেতৃত্বে গঠিত হয়?
  1. ক) নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু
  2. খ) মহাত্মা গান্ধী
  3. গ) এ. কে. ফজলুল হক
  4. ঘ) আবুল কালাম আজাদ
ব্যাখ্যা
সুভাষচন্দ্র বসুর সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ:
- যখন দেশের অভ্যন্তরে চরম হতাশা বিরাজ করছে, ব্যর্থ হয়েছে ইংরেজ তাড়ানোর প্রাণপণ প্রচেষ্টা, তখন যুদ্ধ করে ইংরেজ বিতাড়নের জন্য বাঙালিদের নেতৃত্বে দেশের বাইরে গঠিত হয় ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ' বা Indian National Army (INA)।
- এই বাহিনী গড়তে সাহায্য করেন আরেক বাঙালি প্রবাসী বিপ্লবী রাসবিহারী বসু।
- কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি, ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ বসু ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে সবার অলক্ষ্যে দেশত্যাগ করেন।
- প্রথমে তিনি ইংরেজদের শত্রু ভূমি জার্মানিতে যান এবং ভারতের স্বাধীনতার জন্য একটি সেনাবাহিনী গঠনে জার্মান সরকারের সহযোগিতা লাভের চেষ্টা করেন।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় রাজনীতিবিদ, যিনি বিদেশী শক্তির সাহায্য নিয়ে যুদ্ধ করে মাতৃভূমি স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন।
- ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভারতীয় ভূখণ্ডের আন্দামান দ্বীপে গঠন করেন আজাদ হিন্দ সরকার বা স্বাধীন ভারত সরকার
- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই সরকারে সেনাবাহিনী বিভিন্ন রণাঙ্গনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে।
- আজাদ হিন্দ ফৌজ এবং সুভাষ বসু তখন ছিল ইংরেজদের কাছে আতঙ্ক।
- এই দুঃসাহসী বাঙালি নেতার নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে বার্মা হয়ে ভারত ভূমিতে পদার্পন করে।
- কোহিমা ইম্ফলের রণাঙ্গনে বীরত্ব ও সাফল্যের সঙ্গে লড়াই করে এসব অঞ্চল দখল করে নেয়।
- দুর্ভাগ্যক্রমে এই রণাঙ্গনে জাপানি বাহিনী ইংরেজ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখে পিছু হটলে আজাদ হিন্দ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ফৌজকেও পিছু হটতে হয়।
- ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে জাপানের রেঙ্গুন ত্যাগ, মিত্রবাহিনীর বিজয়, আজাদ হিন্দ ফৌজের অগ্রযাত্রা ব্যহত করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮০.
বিচার বিভাগের কাজ নয় কোনটি?
  1. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
  2. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা
  3. বিচার সংক্রান্ত কাজ
  4. সংবিধান প্রণয়ন
ব্যাখ্যা
⇒ সংবিধান প্রণয়ন বিচার বিভাগের কাজ নয়।

বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ।
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮১.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন সংখ্যা কত ছিল?
  1. ক) ২৮৮ টি
  2. খ) ২৯৮ টি
  3. গ) ৩০০ টি
  4. ঘ) ৩১০ টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল ৩০০ টি আসনে।
- ১০টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১০ টি।
- এ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান অ্যাসেম্বলির ৩১০টি আসনের মধ্যে ২৯৮টিতে জয়লাভ করে।
- যার মধ্যে ২৮৮টি আসনের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনে জয়লাভ করে।

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
- আসনগুলোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।
- নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামীলীগ ১৬৭টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি। 
৯৮২.
সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে তখনই পাশ কাটাতে পারে যখন নিজ দলের সাংসদ সংখ্যা হয়-
  1. ক) ১/২ অংশ
  2. খ) ২/৩ অংশ
  3. গ) ১/৩ অংশ
  4. ঘ) ৩/৪ অংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের জন্য ২/৩ অংশ সংসদ সদস্যের ভোটের প্রয়োজন। তাই সংবিধান সংশোধনে ক্ষমতাসীন দল বিরোধী দলকে তখনই পাশ কাটাতে পারে যখন নিজ দলের সাংসদ সংখ্যা হয় ২/৩ অংশ।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
৯৮৩.
কার নেতৃত্বে ন্যাপ গঠিত হয়?
  1. খাজা খয়ের উদ্দিন
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।
- এর সভাপতি ছিলেন মাওলানা ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের মাহমুদুল হক ওসমানী।
- এর আগে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাগমারি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে বিরোধের জের ধরে ১৮ই মার্চ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৮৪.
নাগরিকের প্রধান অধিকার কোনটি?
  1. সামাজিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
নাগরিকের অধিকার
- প্রধানত ২ প্রকার। ১. নৈতিক ও ২. আইনগত অধিকার।
- নৈতিক অধিকারের কোন আইনগত ভিত্তি নেই।
- আইনগত অধিকার এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার।

- নাগরিকের প্রধান অধিকার রাজনৈতিক অধিকার।
- ভোটাধিকার, নির্বাচন করার অধিকার ও রাজনৈতিক দল গঠনের অধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকার।

- জীবিকার অধিকার, চাকরি লাভের অধিকার, ব্যাবসা করার অধিকার ইত্যাদি অর্থনৈতিক অধিকার।

- সংগঠন করার অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার ইত্যাদি সামাজিক অধিকার।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।
৯৮৫.
মহাত্মা গান্ধী কখন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন?
  1. ক) ১৯০৯ সালে 
  2. খ) ১৯১৪ সালে
  3. গ) ১৯১৮ সালে
  4. ঘ) ১৯২০ সালে
ব্যাখ্যা
•অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘঠিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৬.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে 'লবি' হিসেবে অভিহিত করেন?
  1. এলান পটার
  2. আলমন্ড পাওয়াল
  3. এলান আর বল
  4. এস, ই, ফাইনার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- অধ্যাপক এস, ই, ফাইনার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে লবি এবং এলান পটার এটাকে সুসংবদ্ধ গোষ্ঠী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন-শিক্ষক সমিতি, ব্যবসায়ী সমিতি, ট্রেড ইউনিয়ন, শ্রমিক সংঘ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক মাইরন উহনার  তিনি বলেন, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল কোন স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী যা সরকারী কাঠামোর বাইরে থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের মনোনয়ন ও নিয়োগ, সরকারী নীতি গ্রহণ, পরিচালনা বা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে।
- অধ্যাপক এলান আর বল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সমভাবাপন্ন সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত গোষ্ঠীকে বুঝাতে চেয়েছে।

উৎস:  রাষ্টবিজ্ঞান-৩,  স্নাতক শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮৭.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুসারে, কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে হলে ন্যুনতম কয়টি জেলায় অফিস থাকতে হবে?
  1. ১৮টি
  2. ২১টি
  3. ৩০টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৯০ ক ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে চাইলে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ করতে হবে।
১. স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত কোনো সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসনে বিজয়।
২. সেসব নির্বাচনে দলটির প্রার্থীরা যেসব আসনে অংশ নিয়েছেন, সেসব আসনে মোট ভোটের ৫ শতাংশ অর্জন।
৩. কেন্দ্রীয় কমিটিসহ একটি সক্রিয় কেন্দ্রীয় অফিস থাকতে হবে। দেশের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় (২১টা) জেলা অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।

⇒ এসব ছাড়াও নিবন্ধন পেতে আগ্রহী দলটির গঠনতন্ত্রে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা; কমিটিতে কমপক্ষে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখা।

উল্লেখ্য,
- অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‘নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন’ নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য কিছু শর্ত শিথিলের প্রস্তাব করেছে।
- তাদের প্রস্তাব হলো, নিবন্ধন পেতে ১০ শতাংশ জেলা ও ৫ শতাংশ উপজেলা বা থানায় দলের অফিস এবং দলটির কমপক্ষে পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) প্রথম আলো।
৯৮৮.
চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কয়টি আসনে জয়ী হয়?
  1. ক) ২৩৭টি
  2. খ) ২২৩টি
  3. গ) ২৪৩টি
  4. ঘ) ২২৯টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়
- আওয়ামী লীগ ১৪৩ টি আসনে জয়ী।
- কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮টি আসনে জয়ী।
- নেজামে ইসলাম ১৯টি আসনে জয়ী।
- গণতন্ত্রী পার্টি ১৩টি আসনে জয়ী হয়। 
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির ভাষা শহীদদের স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য শ্রদ্ধাভরে  তাদের কর্মসূচীকে ২১ দফায় লিপিবদ্ধ করেন।
- এই ২১টি দফার প্রধান রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির প্রথম দফা ছিল 'বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।'

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৯৮৯.
নোট অব ডিসেন্ট (Note of Dissent) বলতে কী বোঝানো হয়?
  1. সিদ্ধান্ত বাতিলের প্রস্তাব
  2. সম্মিলিত সিদ্ধান্তের সমর্থন
  3. সভার কার্যবিবরণী
  4. আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত
ব্যাখ্যা

নোট অব ডিসেন্ট (Note of Dissent):
- নোট অব ডিসেন্ট (Note of Dissent) বলতে বোঝানো হয় আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত।

উল্লেখ্য,
- নোট অব ডিসেন্ট বলতে বোঝায় কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাবের সাথে কোনো ব্যক্তি বা সদস্যের আনুষ্ঠানিক ভিন্নমত বা অসম্মতি প্রকাশ
- নোট অব ডিসেন্টের মূল উদ্দেশ্য হলো দলের সিদ্ধান্ত বা কার্যক্রমে বিরোধিতা প্রকাশ করা হলেও এটি দলীয় প্রতিষ্ঠান বা নীতির বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি নয়।
- এই নোট মূলত অভ্যন্তরীণ আলোচনার মাধ্যমে নেতা ও কর্মীদের মতামত তুলে ধরা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তাদের অসন্তোষ জানাতে ব্যবহৃত হয়।
- এগুলো আদালত, কমিটি, বোর্ড বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার প্রসঙ্গে (বিশেষ করে বিচারিক/প্রশাসনিক/আন্তর্জাতিক কনটেক্সটে) ভিত্তি করে তৈরি।

উৎস: প্রথম আলো।

৯৯০.
নিচের কোনটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সুশাসনের জন্য নাগরিক
  2. আইন ও সালিশ কেন্দ্র
  3. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট
  4. ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত নয়।

• চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো এমন এক গোষ্ঠী যার সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্য সংখ্যা রাজনৈতিক দলের তুলনায় সাধারণত কম হয় এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিপ্রেক্ষিতে গোষ্ঠীর সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, 
- আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, এনজিও, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), সুশাসনের জন্য নাগরিক, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) প্রভৃতি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৯৯১.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. নির্বাচনে অংশগ্রহন
  2. জনমত গঠন
  3. নেতৃত্ব তৈরি
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ ও সরকার গঠন:
- প্রতিটি রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য হল রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- ক্ষমতায় এসে নিজের কর্মসূচি ও মতাদর্শকে বাস্তবায়িত করার জন্য প্রতিটি দলই উদ্যোগ গ্রহণ করে।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- আর বিরোধী দলসমূহ নিজ-নিজ আদর্শের ভিত্তিতে শাসক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯২.
জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী সর্বশেষ রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. জাতীয় নাগরিক পার্টি
  2. গণঅধিকার পরিষদ
  3. বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
  4. জনতার দল
ব্যাখ্যা

জুলাই জাতীয় সনদ:
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- জুলাই জাতীয় সনদকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে জনগণের ত্যাগ ও রক্তদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রণীত নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
- ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ।
- ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। অন্য প্রস্তাবগুলো সরকারি আদেশ, অধ্যাদেশ জারি বা আইন বিধি করে বাস্তবায়ন সম্ভব। বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাব ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
- কিন্তু সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ বা কোনো আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব নিয়েই হয়েছে গণভোট। এসব প্রস্তাবের মধ্যে ১৯টি মৌলিক সংস্কার প্রস্তাব হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

উল্লেখ্য,
- জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী সর্বশেষ রাজনৈতিক দল হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি। ২০২৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সনদে স্বাক্ষর করে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৯৯৩.
আওয়ামী মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি কে ছিলেন?
  1. সামছুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

- আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি - মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি - আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।

- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৯৯৪.
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৮২৫ সালে
  2. খ) ১৮৫৬ সালে
  3. গ) ১৮৮৩ সালে
  4. ঘ) ১৯০৩ সালে
ব্যাখ্যা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধিবদ্ধভাবে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশন গঠিত হয় ১৮৮৩ সালে The Pendleton Civil Service Reform Act-1883 এর মাধ্যমে।
১৯৭৮ সালে ফেডারেল সিভিল সার্ভিস কমিশনে সংস্কার করে একে তিনটি প্রতিষ্ঠানে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এগুলো হলো:
- অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট
- দ্য মেরিট সিস্টেম প্রোটেকশন বোর্ড
- দ্য ফেডারেল লেবার রিলেশন অথরিটি।
(সূত্র: অফিস অব দ্য পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট ওয়েবসাইট)
৯৯৫.
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’ নামক রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন কোথায়?
  1. রমনার বটমূলে
  2. সেনানিবাসে
  3. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
  4. পল্টনে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি):
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়া।
- বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা দলটির অন্যতম মূলনীতি।

উৎস: বিএনপি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৯৯৬.
নির্বাচনী বিধি অনুসারে প্রতিটি দলে নারী সদস্য থাকতে হবে -
  1. ২২ শতাংশ
  2. ২৫ শতাংশ
  3. ৩০ শতাংশ
  4. ৩৩ শতাংশ
ব্যাখ্যা
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২:
- বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই বছরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিলো এ আইনে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার বিষয় নিরূপণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীকে রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সে সময়ে সংযোজিত হয়েছে।

⇒ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১(এ) ধারায় বলা আছে, নির্বাচন কমিশন যদি সন্তুষ্ট হয় যে, নির্বাচনে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন এবং চাপ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন বিরাজমান অপকর্মের কারণে যুক্তিযুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং আইনানুগভাবে নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে না, তাহলে যে কোনো ভোটকেন্দ্র বা সম্পূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নির্বাচনের যে কোনো পর্যায়ে ভোট গ্রহণসহ নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
ii) বিবিসি।
৯৯৭.
আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের জনমত তৈরিতে ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. সৈয়দ আমীর আলী
  2. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  3. সৈয়দ আহমদ খান
  4. নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি:
- নওয়াব আবদুল লতিফ ১৮৬৩ সালে কলকাতায় ‘মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি' বা ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।
- আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে মুসলমানদের মধ্যে জনমত তৈরি এবং তাদেরকে পরিবর্তিত অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করাই ছিল এ সমিতি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ছিল না।
- তবে এর মাধ্যমে মুসলমানদের ন্যায়সংগত দাবি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা সরকারের কাছে তুলে ধরে তা পূরণের চেষ্টা করা হতো।
- ফলে মুসলিম সমাজে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী গড়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৮.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে কে?
  1. হ্যারি ট্রুম্যান
  2. অ্যালেন পটার
  3. আর্থার বেণ্টলে
  4. এইচ জিগলার
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সংজ্ঞা:
⇒ অ্যালেন পটার চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর পরিবর্তে 'সংগঠিত গোষ্ঠী' (Organized group) শব্দ দু'টি ব্যবহারের পক্ষে। কারণ এ ধারণার মাধ্যমে গোষ্ঠীর সংগঠনের ব্যাপকতাকে আরো যথার্থভাবে অনুধাবন করা সম্ভব।

⇒ অ্যালান বলের মতে, 'চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যার সদস্যগণ 'অংশীদারী মনোভাবের' দ্বারা আবদ্ধ'।

⇒ এইচ জিগলার এর মতে, চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হচ্ছে এমন একটি সংগঠিত ব্যক্তি সমষ্টি যার সদস্যগণ সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগে অংশগ্রহণ করে না। বরং তাদের লক্ষ্য হল সরকারি সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করা।

⇒ অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, 'স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন'।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৯.
বাংলাদেশে কোন ধরনের রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  2. রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
  3. বহুদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
  4. দ্বিদলীয় গণতন্ত্র ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

 • বাংলাদেশে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।

• রাজনৈতিক দলের বিভিন্নরূপ:
সাধারণত রাজনৈতিক দল ব্যবস্থা  প্রকার।
যথা :
• একদলীয় ব্যবস্থা :
- যখন রাষ্ট্রে একটিমাত্র দল থাকে তখন তাকে একদলীয় ব্যবস্থা বলা হয়।
- একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় একটিমাত্র দল থাকে।
- এ ধরনের ব্যবস্থায় বিরোধী দলের অস্তিত্ব স্বীকার করা হয় না।
- অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকে।
- কোন দলের উদ্ভব হলে তা উৎপাটন করা হয়।
- দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পূর্বে ইতালীর ফ্যাসিষ্ট এবং জার্মানীর নাৎসী দল এই ব্যবস্থার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
- একদলীয় ব্যবস্থায় দলীয় প্রধান সাধারণত সরকার প্রধান হন।

• দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা :
দেশে মাত্র দু'টি দল থাকলে তাকে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা বলে।
একটি দল সরকার গঠন করে এবং অন্যদল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দ্বি-দলীয় ব্যবস্থা দেখা যায় না।
এমনকি বৃটেনে শ্রমিক দল ও রক্ষণশীল দল প্রধান দল হলেও সেখানে উদারনৈতিক দল ও সমাজতান্ত্রিক দলের উদ্ভব ঘটেছে।
তবে প্রকৃতিগতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও বৃটেনে দ্বি-দল ব্যবস্থাই প্রচলিত আছে।

• বহু-দলীয় ব্যবস্থা :
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুটির বেশি দল, রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লাড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তখন তাকে 'বহুদলীয় ব্যবস্থা' বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,০০০.
শহীদ নূর হোসেন দিবস কবে?
  1. ৮ নভেম্বর
  2. ১০ নভেম্বর
  3. ১৪ নভেম্বর
  4. ১৭ নভেম্বর
ব্যাখ্যা
• স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন:
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান।
- এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- এ আন্দোলনে প্রাণ হারান নূর হোসেন, সেলিম, দেলোয়ার, তাজুল, ডা. মিলন, নূরুল হুদা, বাবুল, ফাত্তাহসহ অনেকে।
- ১০ নভেম্বর শহীদ নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালিত হয়। 
- নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: বিবিসি নিউজ।