বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

মোট প্রশ্ন২,৫৩৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১)

PrepBank · পাতা ২৪ / ২৬ · ২,৩০১২,৪০০ / ২,৫৩৩

২,৩০১.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন?
  1. ৪নং সেক্টর
  2. ৫নং সেক্টর
  3. ৬নং সেক্টর
  4. ৭নং সেক্টর
  5. ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে.
- ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়।
- ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন।
- তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৩০২.
Who was the head of the Military Council of Bangladesh during the Liberation War?
  1. Sheikh Mujibur Rahman
  2. M A G Osmani
  3. Captain Mansoor Ali
  4. Tajuddin Ahmad
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী:
- জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন।
- তাঁর পদোন্নতি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়।

অন্যদিকে -
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩০৩.
ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং-এর প্রতিবেদনে '১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যা' কী শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. Pakistan Army Retreats in Dhaka
  2. Bangladesh Independence Declared
  3. Mass Protest in Dhaka
  4. Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং:
- সাইমন ড্রিং (জন্ম ১৯৪৫) একজন ব্রিটিশ সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও পরিচালক এবং ২৫শে মার্চ বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সংবাদদাতা।
- তিনি লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ, ডেইলি মেইল, দ্য সানডে টাইমস, নিউজউইক, বিবিসি টেলিভিশন রেডিও নিউজ, রয়টার প্রভৃতি গণমাধ্যমে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।
- ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে চালুকৃত প্রথম বেসরকারি চ্যানেল একুশে টেলিভিশন-এর তিনি যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। 

⇒ লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে যুদ্ধের পূর্বেই তাঁর ঢাকায় আগমন।
- দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করার সময় ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ কম্বোডিয়া থেকে ঢাকায় আসেন সাইমন ড্রিং।
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট নামে বাঙালিদের ওপরে সশস্ত্র আক্রমণ ও গণহত্যা, ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ইত্যাদি পটভূমিতে শুরু হয় ৯ মাসব্যাপী বাঙালিদের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ, যাতে ৩০ লক্ষ বাঙালিকে জীবনদান ও কয়েক লক্ষ মা-বোনকে সম্ভ্রম বিসর্জন দিতে হয়।

⇒ ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পূর্বে শাহবাগস্থ তখনকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ২শর মতো বিদেশী সাংবাদিককে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কঠোর প্রহরায় বিশেষ কক্ষে আবদ্ধ করে রাখে। তাঁদের মধ্যে লন্ডনের ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রতিনিধি সাইমন ড্রিংও ছিলেন।
- সকলকে পরের দিন প্লেনে তুলে পাঠিয়ে দেয়া হলেও সাইমন ড্রিং ও এসোসিয়েটেড প্রেসের ফটোগ্রাফার মাইকেল লরেন্ট  লুকিয়ে থেকে নিজেদের সাময়িকভাবে রক্ষা করতে সক্ষম হন।
- ২৭শে মার্চ কিছু সময়ের জন্য কারফিউ তুলে নেয়া হলে তাঁরা দুজন ঢাকা শহরে বেড়িয়ে পড়েন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল (বর্তমান জহুরুল হক হল), জগন্নাথ হল, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, বঙ্গবন্ধুর ৩২নং ধানমন্ডির বাস ভবন, রেসকোর্সের কালীবাড়ি মন্দির, পুরনো ঢাকার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাসহ ২৫শে মার্চ রাত থেকে শুরু করে পাকহানাদারদের দ্বারা ধ্বংসপ্রাপ্ত ঢাকা নগরীর বিভিন্ন স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সাইমন ড্রিং একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন।
- এটি ৩০শে মার্চ, ১৯৭১ লন্ডন থেকে প্রকাশিত দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় 'Tanks Crush Revolt in Pakistan 7,000 slaughtered: Homes burned' শিরোনামে প্রথম পৃষ্ঠায় তিন কলামে সাইমন ড্রিং (তখন বয়স ২৭)-এর ছবিসহ সবিস্তার ছাপা হয়।
- বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ডের কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বিদেশী সাংবাদিকের এটিই ছিল প্রথম প্রতিবেদন।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পর ঢাকায় সে রাতে ও পরবর্তী দুদিন পাকবাহিনী কী নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল, সে সম্বন্ধে বিশ্ববাসী জানতে পারে।

উল্লেখ্য, 
- ২৫শে মার্চ রাতে বাঙালিদের ওপর পাকহানাদার বাহিনীর অতর্কিত আক্রমণ ও গণহত্যার সবিস্তার বিবরণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক সাইমন ড্রিং বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন তার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ২০১২ সালে তাঁকে 'মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা'য় ভূষিত করা হয়। 

এছাড়াও,
- এভাবে এস্থনি ম্যাসকারেনহাস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের চাঞ্চল্যকর তথ্য সারা বিশ্বে প্রকাশ করেন।
- বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে গেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছেন।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকণ্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ' বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: i) সংগ্রামের নোটবুক।
ii) দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকা।

২,৩০৪.
অপারেশন সার্চলাইটের সময় ঢাকা শহরে কে নেতৃত্ব দেন?
  1. জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
  2. জেনারেল রাও ফরমান আলী
  3. জেনারেল টিক্কা খান
  4. জেনারেল নিয়াজি
ব্যাখ্যা
- ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।

অপারেশন সার্চলাইট:

- অপারেশন সার্চলাইট পাকিস্তানে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী মুক্তিকামী বাঙালিদের কঠোর হস্তে দমনের জন্য ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান পরিচালনা করে সামরিক কর্তৃপক্ষ একে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে অভিহিত করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাত সাড়ে এগারটা থেকে মধ্য মে পর্যন্ত বড় বড় শহরে অভিযান পরিচালিত হয়।
- অপারেশন সার্চলাইট অভিযান শুরুর সময় নির্ধারিত ছিল ২৬ মার্চ রাত ১টা।
- সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ মার্চ রাত ১টায় অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দিবেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- ঢাকা শহরের বাহিরে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।

সূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২,৩০৫.
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল কোন দেশ?
  1. জার্মানি
  2. ভারত
  3. চীন
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব:
- ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সরগরম হয়ে ওঠে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
- যুদ্ধ থামানো বা বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পাকিস্তানের সঙ্গে জোর তৎপরতা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে আত্মসমর্পণ ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল পোল্যান্ড।
- নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির খসড়া তুলে ধরেন পোলিশ কূটনীতিক আইভান কুলাগা।
- প্রস্তাবে দুপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার জন্য যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা বলা হয়।

⇒ পোল্যান্ডের উত্থাপিত প্রস্তাবসমূহ:
• ক্ষমতা শান্তিপূর্ণভাবে ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে আইনত নির্বাচিত জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
• ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরপরই, সমস্ত এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ৭২ ঘন্টার জন্য প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
• যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার সাথে সাথে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ব সংঘাতের স্থান থেকে সৈন্যদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করবে।
• একইভাবে, পশ্চিম পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তি যারা পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, সেইসাথে পূর্ব পাকিস্তানের সকল বেসামরিক কর্মী এবং পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য ব্যক্তি যারা দেশে ফিরে যেতে ইচ্ছুক, তাদের জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তা করার সুযোগ দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে যে, কেউ নির্যাতনের শিকার হবে না।
• ৭২ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানি সৈন্যদের প্রত্যাহার শুরু হওয়ার সাথে সাথেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়ে যাবে। পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। জনগণের বৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলে সংগঠিত নবপ্রতিষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে এই ধরনের সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হবে।
• শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাপ্ত ভূখণ্ড অধিগ্রহণ সংঘাতের কোনও পক্ষের দ্বারা ধরে রাখা হবে না এই নীতিটি স্বীকৃতি দিয়ে, ভারত ও পাকিস্তান সরকার অবিলম্বে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর উপযুক্ত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করবে।

তথ্যসূত্র - জাতিসংঘ ওয়েবসাইট ও পত্রিকার রিপোর্ট।

২,৩০৬.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীরত্বসূচক খেতাব লাভ করেন কে?
  1. অ্যালেন গিন্সবার্গ
  2. রবি শংকর
  3. ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড
  4. সাইমন ড্রিং
ব্যাখ্যা

ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

২,৩০৭.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা 'জয়বাংলা' পত্রিকার কোন সংখ্যায় মুদ্রিত হয়? 
  1. প্রথম সংখ্যায়
  2. দ্বিতীয় সংখ্যায়
  3. তৃতীয় সংখ্যায়
  4. চতুর্থ সংখ্যায়
ব্যাখ্যা
• সাপ্তাহিক জয়বাংলা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র - সাপ্তাহিক জয়বাংলা।
- পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
-  এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভ।
- সাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
-  পত্রিকাটি ১৯৭১ সালের ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

- জয়বাংলা পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় মুদ্রিত হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা।
- মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি এবং শরণার্থীদের সার্বিক অবস্থার পর্যালোচনা ছাড়াও এ পত্রিকায় কয়েকটি নিয়মিত বিভাগ ছিল, যেমন রণাঙ্গনে, বিশ্বজনমত, বুমেরাং, শিল্প সংস্কৃতি।
- এছাড়া ছিল ধারাবাহিক রচনা ‘একটি যুদ্ধ: বহু ইতিহাস’, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের ‘লাখো শহীদের লাশের তলায় পাকিস্তানকে কবর দিয়েছে কারা, আমরা না তোমরা’, ‘হুশিয়ার! ইয়াহিয়া-টিক্কা হুশিয়ার’, আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টোর কয়েকটি দিক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
২,৩০৮.
Who was not a part of 'Concert for Bangladesh'?
  1. Bob Dylan
  2. Ravi Shankar
  3. George Harrison
  4. Bob Geldof
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- পন্ডিত রবি শংকর ছিলেন বাংলাদেশের একজন অকৃত্ত্রিম বন্ধু। 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শরণার্থী শিবিরগুলোয় মানুষের মানবেতর জীবন যাপনের চিত্র তাঁর মনে গভীর দাগ কাটে। 
- রবি শংকর তাঁর বন্ধু ও শিষ্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে বাংলাদেশে গণহত্যা ও ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবেতর জীবন-যাপনরত নারী-শিশু-বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের সাহায্যার্থে হাত বাড়ানোর অনুরোধ করেন।
- এভাবে রবি শংকর, জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান সহ আরো অনেকে মিলে ১ আগস্ট ১৯৭১ তারিখে নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি বেনিফিট কনসার্ট আয়োজন করেন। 
- এই কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত পুরো অর্থ তারা মুক্তিযুদ্ধ ও শরণার্থীদের কল্যাণের জন্য ইউনিসেফের হাতে তুলে দেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম -দশম শ্রেনী, NCTB।
২,৩০৯.
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. জেনারেল জ্যাকব
  2. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী
  3. লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  4. জেনারেল স্যাম মানেকশ
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ: 
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩১০.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল কবে?
  1. ক) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া, নবম দশম শ্রেণি সমাজ বই।
২,৩১১.
'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় -
  1. ক) ১৯৭১ সালের মে মাসে
  2. খ) ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে
  3. গ) ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে
ব্যাখ্যা
মুজিব বাহিনী বা বি.এল.এফ.

- ১৯৭১ সালের নিয়মিত ও অনিয়মিত বাহিনীর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে আর একটি বাহিনীর আবির্ভাব ঘটে।
- এটি 'মুজিব বাহিনী' নামে পরিচিত হয়।
- এ-বাহিনীর ট্রেনিং, যুদ্ধ অভিযান ইত্যাদি সরকার তথা নিয়মিত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল না।
- মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নির্দিষ্টভাবে বাছাই করা কিছু তরুণ ও যুবককে নিয়ে।
- ধারণা করা হয় যে, মুক্তিযুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে তা যেন কোনো উগ্র বা চরমপন্থী গ্রুপ বা দলের হাতে চলে না যায়, সেজন্যই আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসীদের নিয়ে এরূপ একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়।

- ১৯৭১ সালের মে মাসে অত্যন্ত গোপনে 'মুজিব বাহিনী' গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- জুন থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ট্রেনিং দেওয়া হয় জাফলং ও দেহরাদুনে।
- মুজিব বাহিনীর প্রধান ছিলেন সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আবদুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,৩১২.
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি' কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মুজিবনগর স্ট্র্যাটেজি
  2. চুকনগর স্ট্র্যাটেজি
  3. তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি
  4. আগরতলা স্ট্র্যাটেজি
ব্যাখ্যা
মুক্তিবাহিনীর 'ওয়ার স্ট্র্যাটেজি:
- ১৯৭১ সালের একাত্তর সালের ৪ এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন।
- সেখানে তারা মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল প্রণয়ন করে।
- পরে এটি তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত হয়।
- বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এম এ জি ওসমানী যুদ্ধে নেতৃত্ব দেবেন এবং বাংলাদেশকে চারটি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করে সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে।
- ১২-১৭ জুলাই কলকাতায় মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত একটি দীর্ঘ সম্মেলন হয়, সেখানেই তিনটি নিয়মিত বাহিনী তৈরি এবং বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- মূলত কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সম্মেলন হয়।
- সেখানে বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- সেখানেই সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে সেক্টর ভাগ এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চলভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বিবিসি বাংলা।
২,৩১৩.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার কবে শপথ গ্রহণ করেছিল?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭৯
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
• ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' বা মুজিবনগর সরকার বা অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক
২,৩১৪.
কোন বিদেশি সাংবাদিক ১৯৭১ সালে গণহত্যার খবর প্রথম বহির্বিশ্বে প্রকাশ করেন?
  1. হেজেল হাম্ব
  2. মার্ক টালি
  3. সাইমন ড্রিং
  4. অ্যস্থনি মাসকারেনহাস
ব্যাখ্যা
পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ:
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র সময় ব্রিটেনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
- সাইমন ড্রিং পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ১৯৭১ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।
- এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে বহির্বিশ্ব প্রথম পূর্ব পাকিস্তানে পাক বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ সম্পর্কে জানতে পারে।
- সায়মন ড্রিং গত ১৬ জুলাই ২০২১ রোমানিয়ার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো এবং ডেলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট।
২,৩১৫.
স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধি লাভ করেন কত জন?
  1. ৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

==================
উল্লেখ্য,
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম)
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)।

অর্থ্যাৎ, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে।
এর মধ্য,
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন
- বীর উত্তম: ৬৭ জন
- বীরবিক্রম : ১৭৪ জন
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন

(তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
২,৩১৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কতগুলো সেক্টরে ভাগ ছিলো?
  1. ক) ১৯টি
  2. খ) ৯টি
  3. গ) ৮টি
  4. ঘ) ১১টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি।
২,৩১৭.
মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কতজন?
  1. ২ জন
  2. ৫ জন
  3. ৭ জন
  4. ৯ জন
ব্যাখ্যা
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিদান এবং তাদের মধ্যে আত্মত্যাগের প্রেরণা সৃষ্টির লক্ষে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়।
- এই প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানী।
- মে মাসের প্রথমদিকে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদে তিনি এই প্রস্তাব করেন।
- ১৬ মে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে বীরত্বসূচক খেতাবের প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়।
- ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বসূচক অবদানের জন্য ৬৭৬ জনকে খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা:
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৮ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং
• বীর প্রতীক ৪২৬ জন।

উল্লেখ্য,
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
• বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন,
• বীর উত্তম ৬৭ জন,
• বীর বিক্রম ১৭৪ জন,
• বীর প্রতীক ৪২৪ জন।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
ii) ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
২,৩১৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ কে?
  1. রফিকউদ্দিন
  2. মনু মিয়া
  3. শংকু মজুমদার
  4. নীল রতন সরকার
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ
- ৭১ এর ৩ মার্চ দেশব্যাপী হরতাল চলাকালীন রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন শংকু মজুমদার।
- তিনি কৈলাশ রঞ্জন বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
- তাকে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহিদ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- একই দিনে, পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- এই সময় অসহযোগ আন্দোলন চলমান ছিল।

তথ্যসূত্র- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৩১৯.
কে বীরশ্রেষ্ঠ নন?
  1. হামিদুর রহমান
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মুন্সী আব্দুর রহিম
  4. নুর মােহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
• বীরশ্রেষ্ঠ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নোবাহিনীর একজন করে।

বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী,
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী, 
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী, 
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী, 
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী,  
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর,.
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর।

অন্যদিকে,
মুন্সী আব্দুর রহিম - নামে কোনো বীরশ্রেষ্ঠ ছিলো না।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩২০.
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন কে?
  1. তাজউদ্দীন আহমদ
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. মোঃ ইউসুফ আলী
  4. আব্দুল মান্নান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার: 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার আদেশ'।   
- সেদিনই 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আদেশ' অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার' গঠিত হয়।
- এই সরকারই 'বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার' বা 'মুজিবনগর সরকার' নামে পরিচিত। 

- কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার এক আম বাগানে এই সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- ঐদিন 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র' পাঠ করেন অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী। 
- মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মোঃ ইউসুফ আলী ও আব্দুল মান্নান। 

সরকার কাঠামো: 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: মহামান্য রাষ্ট্রপতি; 
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়);
- তাজউদ্দীন আহমদ: প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য ও বেতার, শিক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ, শ্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। 

- খন্দকার মোশতাক আহমেদ: পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়;  
- ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী: অর্থ, জাতীয় রাজস্ব, বাণিজ্য, শিল্প ও পরিবহন মন্ত্রণালয়; 
- এ.এইচ.এম কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।

- কর্নেল এম.এ.জি. ওসমানী: সেনাবাহিনী প্রধান;
- কর্নেল আবদুর রব: সেনাবাহিনীর উপপ্রধান-চিফ অব স্টাফ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২,৩২১.
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস -
  1. ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৫ ডিসেম্বর
  3. ২১ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩২২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলা কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৭ নং সেক্টর
  3. ৮ নং সেক্টর
  4. ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এর মধ্যে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা এবং ফরিদপুর ও খুলনা জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ৮ নং সেক্টর গঠিত হয়।
- মেহেরপুর জেলা ও মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- এর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী এবং এম এ মঞ্জুর।
- ঢাকা শহর ২নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
(তথ্যসূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া)
২,৩২৩.
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য কতটি ক্যাটাগরিতে খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬ টি
  3. গ) ৪ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার চারটি ক্যাটাগরিতে ৬৭৬ জন কে বীরত্ব সূচক খেতাব প্রদান করে।
- মোট খেতাবপ্রাপ্ত : ৬৭৬ জন। 

- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭ জন। 
- বীরউত্তম : ৬৮ জন। 
- বীরবিক্রম : ১৭৫ জন। 
- বীরপ্রতীক : ৪২৬ জন।

এছাড়াও,
তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী], 
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম), 
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক), 
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)। 

বর্তমানে (২০২১ সালের পরবর্তীতে) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,৩২৪.
নিচের কোনজন মুজিবনগর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন না?
  1. ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
  2. এএইচএম কামরুজ্জামান
  3. অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
  4. তাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয়। এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

রাষ্ট্রপতি শাসিত মুজিবনগর সরকারের সদস্য সংখ্যা ছিলো ছয়জন।
এরা হলেন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩২৫.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৪ নং
  2. খ) ৬ নং
  3. গ) ৯ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবির:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
২,৩২৬.
মুক্তিযুদ্ধে চিফ অব স্টাফ ছিলেন-
  1. কর্নেল তাহের
  2. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  3. লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব
  4. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ: 
- মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ:
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)।
তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।
খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ এইচ এম কামরুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
প্রধান সেনাপতি - কর্নেল এম এ জি ওসমানী।
চিফ অব স্টাফ - লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুর রব।
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ - গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী, NCTB। 
২,৩২৭.
মুক্তিযুদ্ধের খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশি মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ. এ. এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
  1. অষ্ট্রেলিয়া
  2. পোল্যান্ড
  3. নেদারল্যান্ডস
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড।
- তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে।
- ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং
সেক্টরে যুদ্ধ করেন।
- ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

২,৩২৮.
মেজর খালেদ মোশাররফ মুক্তিযুদ্ধে কত নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৮ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ২ নং সেক্টরের সাব-সেক্টর ৬টি।

২ নং সেক্টর কমান্ডার:
- ২১ অক্টোবর পর্যন্ত: মেজর খালেদ মোশাররফ, বীর উত্তম (১ নভেম্বর ১৯৩৭ - ৭ নভেম্বর ১৯৭৫)।
- ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত: মেজর এ টি এম হায়দার, বীর উত্তম (১২ জানুয়ারি, ১৯৪২ - ৭ই নভেম্বর, ১৯৭৫)।

এছাড়াও,
- মুক্তিযুদ্ধে ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার  ছিলেন - মেজর নাজমুল হক ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান, বীর উত্তম
- মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরে সেক্টর কামান্ডার ছিলেন - মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম আবুল মঞ্জুর, বীর উত্তম।
- মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন - মেজর এম এ জলিল এবং মেজর জয়নাল আবেদীন।

উৎস: চিরন্তন ৭১, প্রথম আলো।
২,৩২৯.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
  2. খ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
-  ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি।
- সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- তাজউদ্দিন আহমেদকে প্রধানমন্ত্রী।
- এম মনসুর আলীকে অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী।
- এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রী করে শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম.এ.জি ওসমানী।
- এস.এ সামাদ প্রতিরক্ষা সচিব।
- চীফ অব স্টাফ কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩০.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কবে?
  1. ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  2. ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  3. ১২ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
  4. ১৩ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা
হামিদুর রহমান:

- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ট খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৩১.
১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে 'অপারেশন সার্চলাইট' পরিচালনার মূল দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. রাও ফরমান আলী
  2. খাদিম হোসেন রাজা
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. এ কে নিয়াজী
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
২,৩৩২.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের-
  1. ক) ২ মার্চ
  2. খ) ৩ মার্চ
  3. গ) ৭ মার্চ
  4. ঘ) ৫ মার্চ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ.স.ম আব্দুর রব।
উৎসঃ স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
২,৩৩৩.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন কে?
  1. কে এম শফিউল্লাহ
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. মেজর খালেদ মোশারফ
  4. মেজর আব্দুল জলিল
ব্যাখ্যা
→ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন কে. এম. শফিউল্লাহ।

মেজর জেনারেল কে. এম. শফিউল্লাহ:
- কাজী মোহাম্মদ শফিউল্লাহ বীর উত্তম যিনি কে এম শফিউল্লাহ নামেও পরিচিত।
- তার জন্ম ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৪ তারিখে।
- দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসাবে, তার ব্যাটালিয়ন সহ, তিনি ছিলেন প্রথম বাঙালি অফিসার যিনি ১৯ মার্চ ১৯৭১ সালে বিদ্রোহ করেন এবং ৫৭ বিডিই কমান্ডার-ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ছিলেন।
- তিনি সিলেটের তেলিয়াপাড়ায় সদর দপ্তর ৩ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হন।
- তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় 'এস-ফোর্স'-এর কমান্ডার ছিলেন।
- শফিউল্লাহ ১৯৭২ সালের এপ্রিল মাসে সেনাপ্রধান হন।
- ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশ অভ্যুত্থানের পর, রাষ্ট্রপতি খোন্দকার মোশতাক আহমদ তার স্থলাভিষিক্ত হন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।

উল্লেখ্য,
- জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন: মেজর জিয়াউর রহমান।
- কে ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন: মেজর খালেদ মোশারফ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৩৪.
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ নিম্নের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেনি?
  1. বব ডিলান
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. এরিক ক্ল্যাপটন
  4. জন লেনন
ব্যাখ্যা
'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এ জন লেনন অংশগ্রহণ করেনি। 

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ
:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে। 

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।
২,৩৩৫.
১৯৭১ সালের আত্মসমর্পণ দলিলের শিরোনাম কী ছিল?
  1. Instrument of Liberation
  2. Instrument of Surrender
  3. Pakistan Capitulation Act
  4. Bangladesh Independence Document
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল: INSTRUMENT OF SURRENDER 1971
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম INSTRUMENT OF SURRENDER.
- এটি তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়। একটি প্রস্থ ভারত সরকার এবং দ্বিতীয় প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। তৃতীয় প্রস্থটি রয়েছে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী-মিত্রবাহিনী যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমপর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ -ই - আর্কাইভ।
ii)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

২,৩৩৬.
শেখ মুজিবুর রহমানকে কবে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক' ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ, ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন

- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ 'স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে পাকিস্তানি উপনিবেশবাদের কবল হতে মুক্ত হয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা, নির্ভেজাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি চালু করে 'কৃষ্ণক শ্রমিকরাজ' কায়েম করার শপথ গ্রহণ করা হয়।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক' ঘোষণা করা হয়।
- এদিনের এ ছাত্র গণ জমায়েতে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,৩৩৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'রাজশাহী' কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ক) ৮ নং সেক্টর
  2. খ) ৭ নং সেক্টর
  3. গ) ৯ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
সিলেট-  ৪ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া।
২,৩৩৮.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৩৯.
মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় কবে? 
  1. ৭ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
ব্যাখ্যা

মুজিবনগর সরকার: 
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

উল্লেখ্য, 
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
- মন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন হয় ১৮ এপ্রিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

২,৩৪০.
মুজিবনগর সরকারের সচিবালয়ে প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. আমিনুল ইসলাম
  3. কামাল হোসেন
  4. রুহুল কুদ্দুস
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো:
- মুজিবনগর সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- জনাব রুহুল কুদ্দুস প্রধান সচিব নিযুক্ত হয়েছিলেন।
- সুষ্ঠু প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য জুলাই মাসে (১৯৭১) বাংলাদেশকে ১১টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- এগুলোর নাম দেয়া হয় জোনাল কাউন্সিল।
- মুজিবনগর সরকারের প্রতি আনুগত্য ঘোষণাকারী প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের প্রত্যক্ষভোটে ১১ জন আঞ্চলিক চেয়ারম্যান নির্বাচন করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একজন করে আঞ্চলিক প্রশাসক বা জোনাল এডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগ করা হয়।
- প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ত্রাণ, প্রকৌশল, পুলিশ, তথ্য ও হিসাব কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪১.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন জাতিসংঘে কয়বার যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব উত্থাপিত হয়?
  1. এক বার
  2. দুই বার
  3. তিন বার
  4. ছয় বার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘে যুদ্ধ বিরতি প্রস্তাব
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়।
- পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়।
- তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এছাড়াও, 
- আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
- কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে। 

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা।
২,৩৪২.
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছিলেন?
  1. ১নং সেক্টরে
  2. ২নং সেক্টরে
  3. ৩নং সেক্টরে
  4. ৪নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২,৩৪৩.
বাংলাদেশের ইতিহাস ১৭ এপ্রিল কেন বিখ্যাত?
  1. ক) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ নেন
  2. খ) বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা ১৭ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
-----------------------
প্রথমত, প্রশ্নের প্যাটার্ন দেখুন। ক ও গ নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। অর্থাৎ এমনিতেই উত্তর ঘ) উপরের সবগুলো এটা হবে ধরা যায়। জব সল্যুশনের প্রশ্নে উত্তর থাকবে এটাই স্বাভাবিক।
দ্বিতীয়ত, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ১০ এপ্রিল থেকে জারিকৃত/বলবৎ ধরা হয়েছে। এটার পেছনে একটা বিশেষ কারণ আছে। ১০ এপ্রিল আসলে তেমন কিছুই হয়নি। তাজউদ্দীন আহমদ ১১ তারিখে শিলিগুড়ি থেকে বেতারে স্বাধীনতা যুদ্ধের মূলনীতি সম্বলিত যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার বৈধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার জন্য ১০ এপ্রিল ধরা হয়েছে। বিস্তারিত, মুল্ধারা ৭১ এর ৩য় অধ্যায়ে দেখুন।
এই টপিকে অনেক পরীক্ষায় ভাষাগত কারণে উত্তর নিয়ে সংশয় তৈরি হতে পারে। প্রশ্নের প্যাটার্ন বুঝে উত্তর করতে হবে।

২,৩৪৪.
প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় -
  1. অস্ট্রিয়া
  2. বেলজিয়াম
  3. পোল্যান্ড
  4. পূর্ব-জার্মানি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, বঙ্গভবনের শতবর্ষ (বঙ্গভবন) ও বাংলাদেশের তারিখ (বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান), প্রথম আলো।
২,৩৪৫.
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন ?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. ঘ) সাহাবুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি:
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় যা অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত।
১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার।
এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাস্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

• মুজিবনগর সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমদ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৪৬.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৪৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নিচের কোন দেশটি বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ভারত
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

২,৩৪৮.
মহান মুক্তিযুদ্ধে 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালনা করে -
  1. মিত্র বাহিনী
  2. মুক্তিবাহিনী
  3. নৌবাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।]
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।
- ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে।
- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার।
- অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
- সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
২,৩৪৯.
মুজিবনগর সরকারের মোট কতটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল?
  1. ক) ৮টি
  2. খ) ১০টি
  3. গ) ১৫টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
- মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে-১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। 
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন - আবদুল মান্নান।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন - অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুজিবনগর সরকারকে ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ভাগ করা হয়।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম নিম্নরূপ:
- রাষ্ট্রপতি- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপরাষ্ট্রপতি- সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী- তাজউদ্দীন আহমদ।
-অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়- এম মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়- এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৫০.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আবদুর রউফ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) যশোর
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) মাগুরা
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আবদুর রউফ (১ মে ১৯৪৯ – ৮ এপ্রিল ১৯৭১)
জন্মস্থান: ফরিদপুর জেলার মধুখালী থানার সালামতপুর গ্রামে৷
সমাধি স্থল: রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ বাজারে কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারের পাশে ৷

বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সবার আগে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল ১ নং সেক্টরে রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ ‍যুদ্ধে শহীদ হন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৩৫১.
এম. আর. আখতার মুকুল মুক্তিযুদ্ধের সময় কেন বিখ্যাত ছিলেন?
  1. সেক্টর কমান্ডার হিসেবে
  2. বীরপ্রতীক হিসেবে
  3. চরমপত্রের পাঠক হিসেবে
  4. ক্র্যাকপ্লাটুনের সদস্য হিসেবে
ব্যাখ্যা
• চরমপত্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে।
- ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়।
- স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’।
- জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে।
- চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
- চরমপত্র পাঠ করতেন এম আখতার মুকুল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-নবম-দশম শ্রেণি। 
২,৩৫২.
মুক্তিযুদ্ধে যশোর কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ৭নং সেক্টর
  2. খ) ৫নং সেক্টর
  3. গ) ৬নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। 
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- '৮ নং সেক্টর' এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
-  এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৫৩.
মুজিবনগর সরকারে স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। 
- শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। 
- শপথ বাক্য পাঠ করান: অধ্যাপক ইউসুফ আলী। 
- স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন: তাজউদ্দীন আহমেদ



তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
২,৩৫৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা কোনটি?
  1. নিউ ডিল পরিকল্পনা
  2. মার্শাল পরিকল্পনা
  3. কন্টিনেন্টাল প্ল্যান
  4. ট্রুম্যান ডক্ট্রিন
ব্যাখ্যা
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপ পুর্নগঠনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা মার্শাল প্ল্যান বা মার্শাল পরিকল্পনা নামে পরিচিত।
- তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল এটি প্রণয়ন করেন।
- ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন।

- ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনায় ১৫ বিলিয়নের মার্কিন ডলারের অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয় যার বেশিরভাগই পায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্স।
- ইউরোপ পুর্নগঠনের পাশাপাশি মার্শাল প্লানে পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ, ন্যাটো চুক্তি স্বাক্ষর, সিআইএ এর কর্মপরিধি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিহিত ছিলো।

সূত্র: হিস্টোরি.কম।
২,৩৫৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ১২ টি
  3. গ) ১৯ টি
  4. ঘ) ৬৪ টি
ব্যাখ্যা
জেনারেল এম.এ. জি ওসমানী মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের মাধ্যমে যুদ্ধকৌশলের সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টর এবং ৬৪ টি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
২,৩৫৬.
বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ কে শহীদ হন?
  1. ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
  2. সিপাহী মোস্তফা কামাল
  3. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  4. নূর মোহাম্মদ শেখ
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- ছাত্রজীবনে তিনি মাষ্টার দা সূর্যসেনের জীবনীগ্রন্থ, ক্ষুদীরামের ফাঁসি, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন এবং প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনীসহ বহু গ্রন্থ তিনি নিয়মিত পড়তেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন।
- সেনাবাহিনীতে তার নম্বর ছিল PSS-১০৪৩৯।
- পাকিস্তান সেনাবাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালাচ্ছিলো তখন তিনি কারাকোরামে কর্মরত ছিলেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহিদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ-এর সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।

⇒ বীরশ্রেষ্ঠ:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে এই পদক দেয়া হয়েছে।

১। ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
- মৃত্যু: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে শেষ শহীদ)।

২। সিপাহী হামিদুর রহমান,
- মৃত্যু: ২৮ অক্টোবর, ১৯৭১।

৩। সিপাহী মোস্তফা কামাল,
- মৃত্যু: ১৮ এপ্রিল, ১৯৭১।

৪। মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
- মৃত্যু: ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১।

৫। ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান,
- মৃত্যু: ২০ আগস্ট, ১৯৭১।

৬। ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ,
- মৃত্যু: ৮ এপ্রিল, ১৯৭১ (বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে ১ম শহীদ)।

৭। নূর মোহাম্মদ শেখ,
- মৃত্যু: ৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,৩৫৭.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর
  2. ২ নং সেক্টর
  3. ৬ নং সেক্টর
  4. ১০ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও ২ নং সেক্টর: 
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- সরকার বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করেছিল।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।
- এসব বাহিনীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল। 
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে।
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,৩৫৮.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ইউ কে চিং মারমা কোন খেতাব লাভ করেছে?
  1. বীরশ্রষ্ঠ
  2. বীরউত্তম
  3. বীর বিক্রম
  4. বীর প্রতীক
ব্যাখ্যা
• ইউকে চিং (উক্য চিং মারমা):
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মুক্তিযোদ্ধা৷
- তিনি বীরবিক্রম খেতাবে সম্মানিত।
- তিনি মারমা সম্প্রদায়ের লোক।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ইপিআর-এর সদস্য ছিলেন।
- ৬ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: ডেইলি স্টার ও বান্দরবান জেলা ওয়েবসাইট।
২,৩৫৯.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী
  2. খ) তাজউদ্দিন আহম্মদ
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. ঘ) খন্দকার মোস্তাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

সূত্র: Banglapedia
২,৩৬০.
পাকিস্তান বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট' কবে পরিচালনা করে?
  1. ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট
  3. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ
  4. ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট:
- পাকিস্তান বাহিনীর মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- পাঁচ পৃষ্ঠার এই পরিকল্পনাটি রাও ফরমান আলী নিজ হাতে লিখেন।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় অভিযানে ঢাকায় নেতৃত্ব দেন জেনারেল রাও ফরমান আলী।
- দেশের অন্যান্য অঞ্চলে নেতৃত্ব দেন জেনারেল খাদিম রাজা।
- লে. জেনারেল টিক্কা খান ৩১ ফিল্ড কমান্ডে উপস্থিত থেকে অপারেশনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।
- পাকিস্তান বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ এর এই অপারেশনের নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'।
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশ গ্রহণ করে।
- অপারেশন সার্চলাইটের আওতায় ২৫ মার্চ রাতের অভিযানে প্রকৃত হতাহতের হিসাব পাওয়া যায় না।
- বিদেশি সাংবাদিকদের ২৫ মার্চ অভিযানের আগেই দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
- দেশি সংবাদপত্রের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকায় এ সম্পর্কে তেমন বিশেষ কিছু জানা যায় না।
- জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লুকিয়ে থাকা তিন বিদেশি সাংবাদিক আর্নল্ড জেটলিন, মাইকেল লরেন্ট, সাইমন ড্রিং-এর লেখনী থেকে সে রাতের ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে জানা যায়।
- সাইমন ড্রিং ‘ডেটলাইন ঢাকা’ শিরোনামে ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তাতে ইকবাল হলের ২০০ ছাত্র, বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকায় শিক্ষক ও তাদের পরিবারের ১২ জন নিহত হওয়ার সংবাদ পরিবেশিত হয়।
- পুরনো ঢাকায় পুড়িয়ে মারা হয় ৭০০ লোককে।
- দেশি বিদেশি বিভিন্ন সূত্র থেকে যে বিবরণ পাওয়া যায় তাতে ওই রাতে শুধু ঢাকায় ৭ হাজার বাঙালি নিহত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬১.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান:
- ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার খোর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে তিনি জম্ম গ্রহণ করেন।
- ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি যোগ দেন সেনাবাহিনীতে।
- হামিদুর রহমানের পদবী ছিল সিপাহী।
- ১৯৭১ সালে হামিদুর রহমান মুক্তিবাহিনীর সাহসী সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করছিলেন সিলেট শ্রীমঙ্গল এলাকায়।
- ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর সম্মুখ যুদ্ধে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিরোচিত ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরুপ তিনি সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবে ভূষিত হন।
- সুদীর্ঘ ৩৬ বছর পর ১০ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়।
- ১১ ডিসেম্বর, ২০০৭ সালে ঢাকার মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৩৬২.
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের সময় যৌথবাহিনীর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন কে?
  1. ক) লে. জেনারেল নিয়াজী
  2. খ) লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা
  3. গ) লে. জেনারেল কেশব সিং
  4. ঘ) লে. জেনারেল রাজেন্দ্র সিং
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।
- পাকিস্তান বাহিনীর পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন আবদুল করিম খন্দকার (এ.কে খন্দকার)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,৩৬৩.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন কে?
  1. মোনায়েম খান
  2. টিক্কা খান
  3. আমির আব্দুল্লাহ নিয়াজী
  4. খাদিম রাজা
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে। এতে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা চালানো হয়।
- ১৮ মার্চ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন। সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়।
- মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৬৪.
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্নসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের পক্ষে কে উপস্থিত ছিলেন?
  1. আতাউল গণি ওসমানি
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. এ কে খন্দকার
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়:
- মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে।
- ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে 'যৌথ কমান্ড' গঠন করে।
- ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে।
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৬৫.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয় কবে?
  1. ৭ মার্চ, ১৯৭১
  2. ২৬ মার্চ, ১৯৭১
  3. ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  4. ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র:
- মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামের একটি ঐতিহাসিক দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়।
- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণাপত্র প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসেবে কার্যকর হয়।
- এ ঘোষণা স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সংবিধান প্রণীত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত, দেশের সংবিধান হিসেবে কার্যকর ছিল।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- ঘোষণাপত্রে ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭ম তফসিলে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
২,৩৬৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশ কতগুলো সেক্টরে বিভক্ত ছিল?
  1. ক) ১৯ টি
  2. খ) ৯ টি
  3. গ) ৮ টি
  4. ঘ) ১১ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,৩৬৭.
মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা কত নং সেক্টরের অধীনে ছিলো?
  1. ১নং 
  2. ২নং 
  3. ৩নং 
  4. ৪নং 
ব্যাখ্যা
• ২ নং সেক্টর:
- ২ নং সেক্টর  ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। 
- এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। 
- আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। 
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। 
- এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে।
- নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৬৮.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কতটি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ক) ১০ টি
  2. খ) ১১ টি
  3. গ) ১৭ টি
  4. ঘ) ১৮ টি
ব্যাখ্যা
যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৬৯.
অপরাজেয় বাংলার ভাস্কর কে?
  1. ক) হামিদুজ্জামান খান
  2. খ) সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
  3. গ) রাফিউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) আরিফুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অপরাজেয় বাংলা:
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা।
- অপরাজেয় বাংলার স্থপতি সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ।
- ভাস্কর্যটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সম্মুখ প্রাঙ্গনে অবস্থিত।
- ১৯৭৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করা হয়।
- অপরাজেয় বাংলা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্য।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৭০.
মুক্তিযুদ্ধে 'চীফ অব স্টাফ' এর দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. খালেদ মোশাররফ
  2. এম এ রব
  3. এ কে খন্দকার
  4. কে এম সফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• কর্নেল এম এ রব:
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আবদুর রব যুদ্ধে যোগ দেন।
- সিলেট অঞ্চলে ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর চিত্তরঞ্জন দাশের নেতৃত্বে দুর্ধর্ষ সব যুদ্ধের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ছিলেন এম এ রব।
- মুজিবনগর সরকার তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ ও সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবে নিয়োগ দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধের পরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রবকে মেজর জেনারেল পদ দেওয়া হয় এবং বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ১৪ নভেম্বর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

অন্যদিকে,
- কে এম সফিউল্লাহ সিলেট অঞ্চলের অধিনায়ক ছিলেন। 
- মুক্তিযুদ্ধে উপসেনাপতির দায়িত্ব পালন করেন এ কে খন্দকার।
- ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন খালেদ মোশারফ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 
২,৩৭১.
During the Liberation War in 1971, which country provided a 'veto' for Bangladesh in the United Nations?
  1. ক) USA
  2. খ) UK
  3. গ) France
  4. ঘ) Soviet Union
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান:
- ১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে ভেটো প্রদান করেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। 
- যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব আনে এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন তিন বার ই ভেটো দেয়।
- এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গোপসাগরে ৭ম নৌবহর প্রেরণ করে।
- তার পাল্টা ভারত মহাসাগরে অবস্থিত সোভিয়েত ইউনিয়নের ২০তম নৌবহর ৭ম নৌবহরের পিছু নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
২,৩৭২.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভায় মোট সদস্য ছিলো কতজন?
  1. ক) ৫ জন
  2. খ) ৬ জন
  3. গ) ৭জন
  4. ঘ) ১২ জন
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়।
- এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা।
- এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
- মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : তৃতীয় খণ্ড : পৃষ্ঠা-১৩, ১৯)

২,৩৭৩.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে। এ সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী এ এইচ এম কামরুজ্জামান, অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,৩৭৪.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. খুলনা
  3. সিলেট
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

অন্যদিকে -
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

উৎস: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
২,৩৭৫.
মুক্তিযুদ্ধে ৪ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. ক) মেজর কে এম শফিউল্লাহ
  2. খ) মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান
  3. গ) মেজর মীর শওকত আলী
  4. ঘ) মেজর চিত্ত রঞ্জন দত্ত
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ‍মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার কতগুলো সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।

মুক্তিকালীন ১১টি সেক্টরের কমান্ডারগণ:
১ নং সেক্টর: মেজর জিয়াউর রহমান ও মেজর রফিকুল ইসলাম।
২ নং সেক্টর- মেজর খালেদ মোশাররফ ও মেজর এ.টি.এম হায়দার।
৩ নং সেক্টর:মেজর কে. এম শফিউল্লাহ ও মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
৪ নং সেক্টর: মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত ও ক্যাপ্টেন এ রব।
৫ নং সেক্টর: মেজর মীর শওকত আলী।
৬ নং সেক্টর: উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
৭ নং সেক্টর: মেজর নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
৮ নং সেক্টর: মেজর আবু ওসমান চৌধুরী ও মেজর এম.এ মঞ্জুর।
৯ নং সেক্টর: মেজর এম.এ জলিল ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
১০ নং সেক্টর: কোন নিয়মিত সেক্টর ছিলো না।
১১ নং সেক্টর: মেজর এম. আবু তাহের ও স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৭৬.
পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের সময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন -
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. এ. কে. খন্দকার
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,৩৭৭.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন বাহিনীর সদস্য ছিলেন?
  1. সেনাবাহিনী
  2. ইপিআর
  3. নৌবাহিনী
  4. বিমান বাহিনী
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- 'বীরশ্রেষ্ঠ' মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
- তার পোস্টিং হয় ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরে।
- ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে।
- যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন।
- পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
- স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ তাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করা হয়।
- তিনি বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ শহীদ।

উল্লেখ্য,
⇔ বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:
⇒ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ: ১নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: ইপিআর (ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস)।

⇒ সিপাহী মোস্তফা কামাল: ২নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।

⇒ সিপাহী হামিদুর রহমান: ৪নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।

⇒ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর: ৭নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: সেনাবাহিনী।

⇒ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ: ৮নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: ই পি আর।

⇒ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন: ১০নং সেক্টর।
- কর্মস্থল: নৌবাহিনী।

⇒ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান: পশ্চিম পাকিস্তান।
- কর্মস্থল: বিমান বাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,৩৭৮.
Who conducted 'Operation Jackpot' during the Liberation War?
  1. ক) Guerrilla
  2. খ) Bangladesh Air Force
  3. গ) Bangladesh Navy
  4. ঘ) Bangladesh Army
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট:

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট ১৯৭১ সালে।
- দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১। 
২,৩৭৯.
মুজিবনগর সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন কে?
  1. ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ
  2. ড. মোশাররফ হোসেন
  3. ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী
  4. ড. আনিসুজ্জামান
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮০.
মুজিবগর সরকার-এর কয়টি মন্ত্রণালয় ছিল?
  1. ১০
  2. ১২
  3. ১৫
  4. ১৮
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- এই সরকার প্রবাসী সরকার নামে পরিচিত ছিল।
- এই সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।

⇒ সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৯ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের এই অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয়।
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।
- চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব।

উল্লেখ্য,
- শুধু মন্ত্রণালয় বললে ১২টি কিন্তু বিভাগ ও মন্ত্রণালয় বললে ১৫ টি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৮১.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’-এর অধিনায়ক কে ছিলেন?
  1. জাকারিয়া পিন্টু
  2. প্রতাপ শংকর হাজরা
  3. খন্দকার এম নুরুন্নবী
  4. কাজী সালাউদ্দীন
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের একটি ফুটবল দল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত অর্জন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- এই দলটি ‘স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল’ নামে পরিচিত ছিল।
- মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ভারতের বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ফুটবল খেলায় অংশ নেয়।
- পৃথিবীর ইতিহাসে যুদ্ধকালীন প্রথম ফুটবল দল এটি।

উল্লেখ্য,
- জুন মাসে কলকাতায় শামসুল হক প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া সমিতি।
- তার সাহায্যে এগিয়ে এলেন সমিতির প্রথম সেক্রেটারি লুতফর রহমান, কোচ আলী ইমাম ও ইস্ট এন্ড ক্লাবের সাবেক ফুটবলার সাঈদুর রহমান প্যাটেল।
- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক ছিলেন জাকারিয়া পিন্টু এবং সহ-অধিনায়ক ছিলেন প্রতাপ শংকর হাজরা।
- কোচ ও ম্যানেজার ছিলেন যথাক্রমে ননি বসাক ও তানভীর মাজহারুল তান্না।
- ম্যাচ খেলা থেকে অর্জিত পাঁচ লাখ ভারতীয় রুপি ক্রীড়া সমিতি জমা দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ফান্ডে।

⇒ মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে স্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবল দল। এর মধ্যে জিতেছে ৩টি, ড্র করেছে ১টি আর হেরেছে দুটিতে। দিল্লীতে আর একটি ম্যাচ খেলতে যাবার ঠিক আগে এল অসাধারণ খবরটি- বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। সেদিন ছিল ১৬ ডিসেম্বর।

⇒ মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ তারিখে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) The Daily Star Bangla.
২,৩৮২.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ১১ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৭ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুনর্গঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
২,৩৮৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের বিখ্যাত প্রতিবেদনের নাম কী?
  1. Blood Telegram
  2. East Pakistan Cable
  3. Dhaka Dispatch
  4. Archer Telegram
ব্যাখ্যা

→ মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকান কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাডের বিখ্যাত প্রতিবেদনের নাম 'The Blood Telegram'।

The Blood Telegram:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান অধ্যাপক গ্যারি জে বাসের রচিত বইটির মূল নাম 'দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, নিসিঞ্জার অ্যান্ড আ ফরগটেন জেনোসাইড'।
- 'ব্লাড টেলিগ্রাম' হল আর্চার ব্লাডের একটি তারবার্তা।
- ১৯৭১ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল ছিলেন।
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় আর্চার ব্লাড যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে তৎকালীন চলমান গণহত্যা বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় একটি টেলিগ্রাম বার্তা পাঠান, যা ইতিহাসে 'ব্লাড টেলিগ্রাম' নামে পরিচিতি পায়।
- 'ব্লাড টেলিগ্রাম' বার্তাটি ২০১৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- এ বইটি অন্য যেকোনো বইয়ের চেয়ে আলাদা এবং স্বতন্ত্র।
- প্রথম কোনো পশ্চিমা গবেষক ১৯৭১-এ সংঘঠিত বাংলাদেশের গণহত্যাকে 'প্রমাণিত গণহত্যা' হিসেবে বিশ্বের সামনে দাঁড় করানোর প্রয়াস পেয়েছেন।

তথ্যসূত্র - Amazon.com ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

২,৩৮৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের স্থান 'গোবরা ক্যাম্প' কোথায় অবস্থিত?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. মেহেরপুর
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে নারী:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় কলকাতার পার্ক সার্কাস ও পদ্মপুকুরের মাঝামাঝি গোবরা নামের স্থানে শুধু নারী যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণের জন্য একটি ট্রেনিং ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছিল।
- সেটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।
- নারী যোদ্ধাদের জন্য অনুরূপ আরো তিনটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আসাম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ে।
- গোবরা ক্যাম্পে মেয়েদের দেওয়া হতো তিন রকম ট্রেনিং: ১. সিভিল ডিফেন্স, ২. নার্সিং, ৩. অস্ত্র চালনা ও গেরিলা আক্রমণ।

এছাড়াও,
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও নানাভাবে মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখেন।
- আগরতলার লেম্বুচোরা ক্যাম্পে মহিলা গেরিলা স্কোয়াড-এর আধুনিক অস্ত্রের উচ্চতর ট্রেনিং হয়।
- রণাঙ্গনের যোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত হন।
- চিকিৎসার কাজে মহিলা চিকিৎসকগণের গৌরবময় দৃষ্টান্ত ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম। তিনিও বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ১৬ ডিসেম্বর ২০২১, ইত্তেফাক।
২,৩৮৫.
মুক্তিযুদ্ধকালে ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কে ছিলেন?
  1. মেজর মীর শওকত আলী
  2. মেজর জিয়াউর রহমান
  3. মেজর খালেদ মোশাররফ
  4. মেজর কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

• ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

• ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

• ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

• ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,

• ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,৩৮৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ৮ নং সেক্টরের অধীনে ছিলো-
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) সুন্দরবন
  4. ঘ) মুজিবনগর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
চট্টগ্রাম - ১নং সেক্টর,
ঢাকা - ২ নং সেক্টর,
রাজশাহী - ৭ নং সেক্টর,
মুজিবনগর - ৮ নং সেক্টর,
সুন্দরবন - ৯ নং সেক্টর।
নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল - ১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)। ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া।
২,৩৮৭.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন-
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  3. গ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  4. ঘ) শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা

- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম।
- স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ১০ এপ্রিল ১৯৭১ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং
- ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন।
- ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।

সূত্রঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

২,৩৮৮.
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম কী?
  1. Declaration of Independence
  2. Dhaka Agreement
  3. Instrument of Surrender
  4. Armistice
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল: INSTRUMENT OF SURRENDER 1971
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ দলিলটির শিরোনাম INSTRUMENT OF SURRENDER.
- এটি তিন প্রস্থে প্রস্তুত করা হয়। একটি প্রস্থ ভারত সরকার এবং দ্বিতীয় প্রস্থ পাকিস্তান সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। তৃতীয় প্রস্থটি রয়েছে ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা এক মিনিটে রমনা রেসকোর্সে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) মুক্তিবাহিনী-মিত্রবাহিনী যৌথ কম্যান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা এবং পাকিস্তান বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল নিয়াজী পাকিস্তানের আত্মসমপর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সকালে মানেকশ ভারতের পূর্বাঞ্চল বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকবকে আত্মসমর্পণের দলিল ও আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার জন্য ঢাকায় পাঠান। ১৬ ডিসেম্বর বিকালে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর ৯৩ হাজার সৈন্য বিনা শর্তে সম্মিলিত বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।

এছাড়াও,
- এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ, ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী।

উৎস: i) মুক্তিযুদ্ধ -ই - আর্কাইভ।
ii)  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণি। 
iii) দৈনিক ইত্তেফাক।

২,৩৮৯.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে বীরউত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়?
  1. ৪১ জন
  2. ৫৮ জন
  3. ৬৮ জন
  4. ৬২ জন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিম্নোক্ত খেতাব প্রদান করা হয়।
যথা- 
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন, 
- বীর উত্তম - ৬৮ জন, 
- বীর বিক্রম - ১৭৫ জন, 
- বীর প্রতীক - ৪২৬ জন।

তাদের মধ্যে খেতাবপ্রাপ্ত চারজন ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় তাদের খেতাব বাতিল করে।
এরা হলেন:
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) [সেনাবাহিনী]
- লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম)
- লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক)
- নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক)

∴ বর্তমানে (২০২১) মুক্তিযুদ্ধের খেতাবধারীর সংখ্যা - মোট ৬৭২ জন।
- বীরশ্রেষ্ঠ - ৭ জন,
- বীর উত্তম - ৬৭ জন
- বীর বিক্রম - ১৭৪ জন
- বীর প্রতীক - ৪২৪ জন

তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,৩৯০.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ১ জুলাই ১৯৭১
  2. ৩ জুলাই ১৯৭১
  3. ১ আগস্ট ১৯৭১
  4. ২ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা।
- এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর। তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলস এ কনসার্ট আয়োজনে অংশ নেয়।
- এতে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।
- বাংলাদেশর আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন।
(সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
২,৩৯১.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল -
  1. ক) ৬ জন
  2. খ) ৭ জন
  3. গ) ৮ জন
  4. ঘ) ৯ জন
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।

- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,৩৯২.
মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দেশ কোনটি?
  1. ক) ব্রিটেন
  2. খ) রাশিয়া
  3. গ) যুক্তরাষ্ট্র
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘের ভেটো ক্ষমতাধারী ২ টি দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দেশ দুটি হলো - যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের বিরুদ্ধে ভেটো দিয়েছিলো - চীন।
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে তুলে ধরেন - জর্জ হ্যারিসন, সাইমন ড্রিং, পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
- ১৯৭১ সালে দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল - নিউইয়র্কে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,৩৯৩.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. এম মনসুর আলী
  3. তাজউদ্দিন আহমেদ
  4. আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
- প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ,
- অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী,
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদ।

মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ সংক্রান্ত অন্যান্য তথ্য:
- মুজিবনগর সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ।
- মন্ত্রীপরিষদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ ও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন গণপরিষদের আওয়ামীলীগের হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ।
- মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত ও উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন- তৎকালীন ঝিনাইদহ মহকুমার পুলিশপ্রধান মাহবুব উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে আনসার, পুলিশ ও উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ১২ সদস্যের একটি যৌথ দল।
- শপথগ্রহণের সময় শতাধিক ভারতীয় ও বিদেশি সাংবাদিক এবং প্রচার মাধ্যম কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
২,৩৯৪.
২৬ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৮০ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা দিবস:
- ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকার দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবেও উদযাপনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
- ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
 
⇒ ২৬ মার্চ, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।
- সারাদেশে প্রত্যুষে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নির্বিচার গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার পর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়।
- দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪ সালে বাংলাদেশের ৫৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,৩৯৫.
মহান মুক্তিযুদ্ধে অপারেশন জ্যাকপট হচ্ছে -
  1. বিমান বাহিনীর অভিযান
  2. ক্র‍্যাক প্লাটুনের অভিযান
  3. নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  4. সেনাবাহিনীর অভিযান
ব্যাখ্যা
• অপারেশন জ্যাকপট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট পরিচালিত নৌ-কমান্ডো বাহিনীর প্রথম অভিযান ‘অপারেশন জ্যাকপট’ নামে পরিচিত।

- অপারেশন জ্যাকপট ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি নৌ-কমান্ডোরা বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে অত্যন্ত অল্প সময়ে যুদ্ধের গতি সম্পর্কে বিশ্বকে ধারণা দিতে সক্ষম হয়।
- এদিন রাতে নৌ-কমান্ডোরা একযোগে মংলা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ বন্দর আক্রমণ করে এবং পাকিস্তান বাহিনীর ২৬ টি পণ্য ও সমরাস্ত্রবাহী জাহাজ ও গানবোট ডুবিয়ে দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধকালে যুদ্ধাঞ্চলকে যে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এর মধ্যে ১০নং সেক্টরের অধীনে ছিল নৌ-কমান্ডো।
- মূলত সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা, নদী ও সমুদ্র বন্দরসহ বাংলাদেশের সমগ্র জলপথ নিয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. আতাউল গণি ওসমানি
  3. আবদুল করিম খন্দকার
  4. তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,৩৯৭.
২৫ মার্চ, ১৯৭১ আসন্ন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করার জন্য বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে যে পূর্বশর্ত আরোপ করেন, তার অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা বাংলা করতে হবে
  2. খ) ভাষা শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনার নির্মাণ করতে হবে
  3. গ) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
৭ মার্চের ভাষণ

১৯৭১ সালের ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর কাব্যিক ভাষণ ছিল জাতির মুক্তির দিশারি। 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করলেও নেতার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি। যদিও ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আগামী ৩ মার্চ, ১৯৭১ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকেন। কিন্তু ১ মার্চ, ১৯৭১ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়।

অধিবেশন স্থগিত করায় বাঙালি জাতির আন্দোলনে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামীলীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু ২ তারিখে ঢাকায় এবং ৩ তারিখে সারাদেশে হরতাল আহ্বান করলেন। আগামী ৭ মার্চ, ১৯৭১ রেসকোর্সের জনসভায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞ ও দূরদর্শী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন যে, সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদান করলে পাকিস্তান সরকার তাঁকে দেশদ্রোহী, বিচ্ছিন্নতাবাদী, বিশ্বাসঘাতক বলবে। এছাড়াও পাকিস্তানের সামরিক শাসকরা তাৎক্ষণিকভাবে বাঙালিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালাবে। এজন্য তিনি ২৫ মার্চ আসন্ন জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদান করার জন্য ৪টি পূর্বশর্ত আরোপ করে বলেন যে,

১. সামরিক শাসন প্রত্যাহার করতে হবে
২. সামরিক বাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে
৩. সেনাবাহিনী যেসব বাঙালিকে হত্যা করেছে তার তদন্ত করতে হবে
৪. নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,৩৯৮.
মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ কোথায় সংঘটিত হয়?
  1. যশোর
  2. গাজীপুর
  3. ফরিদপুর 
  4. ঢাকা 
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- ১৯৭১ সালের ১৯ মার্চ এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে গাজীপুরের (সেই সময়ের জয়দেবপুর) জনগণ সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল।
- ১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ দুপুরে হঠাৎ এক বেতার ভাষণে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেন।
- এ কথা শোনামাত্রই সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। দেশের সর্বত্রই স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’, ‘পিন্ডি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘পাঞ্জাব না বাংলা, বাংলা-বাংলা’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা-মেঘনা-যমুনা’, ‘তুমি কে আমি কে, বাঙালি-বাঙালি’।
- বঙ্গবন্ধু ঢাকায় পূর্বাণী হোটেলে এক সভায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকায় ২ মার্চ ও সারা বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ৩ মার্চ হরতাল আহ্বান করেন এবং ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা আহ্বান করেন।

উৎস: প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

২,৩৯৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক উপাধি কী?
  1. ক) বীরপ্রতীক
  2. খ) বীরবিক্রম
  3. গ) বীরউত্তম
  4. ঘ) বীরশ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী ''বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।

৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন -
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন
- বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ

উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,৪০০.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে লতিফ মির্জা বাহিনী কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. পাবনা
  2. কুমিল্লা
  3. নোয়াখালী
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
• আফসার ব্যাটালিয়ন - ভালুকা, ময়মনসিংহ।
• হেমায়েত বাহিনী - গোপালগঞ্জ, বরিশাল।
• হালিম বাহিনী - মানিকগঞ্জ।
• আকবর বাহিনী - মাগুরা।
• লতিফ মির্জা বাহিনী - বগুড়া, নাটোর, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ।
• কাদেরিয়া বাহিনী - টাঙ্গাইল।
• বাতেন বাহিনী - টাঙ্গাইল।
• জিয়া বাহিনী - সুন্দরবন।
• 'ক্র্যাক প্লাটুন' - ঢাকার গেরিলা।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।