• মুক্তিযুদ্ধ: - মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। - বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ‘সেক্টর নং ৫‘ গঠিত হয় । - মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন ৫ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার। - এই সেক্টরকে ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
এছাড়াও, - মুক্তিযুদ্ধে ৭ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন - নাজমুল হক, সুবেদার মেজর এ রব ও মেজর (পরে লে. কর্নেল) কাজী নুরুজ্জামান। - মুক্তিযুদ্ধে ৮ নং সেক্টরে সেক্টর কামান্ডার ছিলেন - মেজর আবু ওসমান ও এম এ মঞ্জর। - মুক্তিযুদ্ধে ৯ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ছিলেন মেজর এম এ জলিল এবং মেজর জয়নাল আবেদীন। - অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন মেজর এম এ মঞ্জুর। এই সেক্টরে ছিল ৩টি সাব-সেক্টর।
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিবিসি বাংলা নিউজ রিপোর্ট।
২,২০২.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তার জন্য ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়-
ক
ক) লন্ডনে
খ
খ) নিউইয়র্কে
গ
গ) ওয়াশিংটনে
ঘ
ঘ) জেনেভায়
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শরণার্থীদের সহায়তার জন্য পণ্ডিত রবি শংকরের উদ্যোগে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। স্থানঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে। অনুষ্ঠানে ৪০,০০০ দর্শকের উপস্থিতিতে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানসহ বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন। উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি(২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২০৩.
'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না' গানটির রচয়িতা-
ক
ক) আপেল মাহমুদ
খ
খ) আবদুল হাদী
গ
গ) গোবিন্দ হালদার
ঘ
ঘ) আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা
• গোবিন্দ হালদার রচিত কয়েকটি বিখ্যাত গানঃ - 'এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না।' - 'মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি....', - 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে.....' উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২০৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
ক
০৮টি
খ
১১টি
গ
২২টি
ঘ
৬৪টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। - ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়। - ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়। - চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়। - নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং সেক্টরের অধিনে । - ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না। - ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল। - ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স নিম্নের কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করেনি?
ক
ময়মনসিংহ
খ
জামালপুর
গ
কুমিল্লা
ঘ
মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় জেড ফোর্স নিম্নের কুমিল্লায় যুদ্ধ করেনি।
ব্রিগেড সংগঠন ও অপারেশন: - মুক্তিযুদ্ধের প্রথম দিকটা ছিল গেরিলাভিত্তিক কিন্তু এভাবে গেরিলা যুদ্ধ পাকিস্তানি বাহিনীর সুশিক্ষিত সৈন্যদের পদানত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারছিল না। - ফলে যুদ্ধ ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনয়ন ও মুক্তাঞ্চল গঠনের লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর গঠন বিন্যাসের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা গৃহীত হয়। - এপ্রিল মাসে মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত ব্রিগেড গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। - সম্মুখ সমরের পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য তিনটি নিয়মিত ব্রিগেড গঠন করা হয়। এরা হচ্ছে:
⇒ জেড ফোর্স: - লেঃ কর্নেল জিয়াউর রহমানের নামানুসারে জুলাই ৭১ সনের ৭ই জুলাই গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় জেড ফোর্স। - এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ২ ফিল্ড ব্যাটারি আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী। - জুলাই ৭১ থেকে সেপ্টেম্বর ৭১ পর্যন্ত জেড ফোর্স ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও রৌমারী এলাকায় যুদ্ধরত থাকে। - অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত বিজয় পর্যন্ত তারা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার এলাকায় যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে। - জেড ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল কামালপুর যুদ্ধ, বাহাদুরাবাদ ঘাট অপারেশন, দেওয়ানগঞ্জ থানা আক্রমণ, নকসী বিওপি আক্রমন, চিলমারীর যুদ্ধ, হাজীপাড়ার যুদ্ধ, ছোটখাল, গোয়াইনঘাট, টেংরাটিলা, গোবিন্দগঞ্জ, লামাকাজি, সালুটিকর বিমানবন্দর, ধলই, ধামাই চা বাগান, জকিগঞ্জ, আলি ময়দান, সিলেট এমসি কলেজ, ভানুগাছা, কানাইঘাট, ফুলতলা চা বাগান, বড়লেখা, লাতু, সাগরনাল চা বাগান, ছাতক ও রাধানগর।
অন্যদিকে, খ) কে ফোর্স: - লেঃ কর্নেল খালেদ মোশাররফের নামানুসারে সেপ্টেম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় কে ফোর্স। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১০ ইস্ট বেঙ্গলরেজিমেন্ট, ১ ফিল্ড ব্যাটারি (মুজিব ব্যাটারী) আর্টিলারি ও একটি সিগন্যাল কোম্পানী। কে ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল দেউশ মন্দভাগ অভিযান, শালদা নদী অভিযান, পরশুরাম, চিতলিয়া, ফুলগাজী, নিলক্ষ্মীর যুদ্ধ, বিলোনিয়ার যুদ্ধ, চাপিলতার যুদ্ধ, কুমিল্লা শহরের যুদ্ধ, নোয়াখালীর যুদ্ধ, কশবার যুদ্ধ, বারচরগ্রাম যুদ্ধ, মিয়াবাজার যুদ্ধ, গাজীপুর যুদ্ধ, সলিয়াদীঘি যুদ্ধ, ফেনী যুদ্ধ, চট্টগ্রাম বিজয় ও ময়নামতি বিজয়।
গ) এস ফোর্স: - লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহর নামানুসারে অক্টোম্বর ৭১ সনে গঠিত হয় এই বিগ্রেড যার নাম করা হয় এস ফোর্স। এই ফোর্সের অন্তর্ভূক্ত ছিল ২ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, এস ফোর্সের উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ সমূহ ছিল ধর্মগড় আক্রমন, মনোহরদী অবরোধ, কলাছড়া অপারেশন, বামুটিয়া অপারেশন, আশুগঞ্জ অপারেশন, মুকুন্দপুর যুদ্ধ, আখাউড়া যুদ্ধ, ব্রাহ্মণবাড়ীয় যুদ্ধ, ভৈরব ও আশুগঞ্জ যু্দ্ধ, কিশোরগঞ্জ যুদ্ধ, হরশপুর যু্দ্ধ, নরসিংদী যুদ্ধ ও বিলোনিয়ার যুদ্ধ।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২০৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'এস ফোর্স' এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
ক
এ টি এম হায়দার
খ
জিয়াউর রহমান
গ
খালেদ মোশাররফ
ঘ
কে এম শফিউল্লাহ
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স: - মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়। • জেড ফোর্স, • কে ফোর্স, • এস ফোর্স।
⇒ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স। - ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়। - ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
⇒ কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স। - ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়। - ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
⇒ খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্স। - ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২০৭.
জিয়াউর রহমান কোন স্থান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন?
ক
ঢাকা বেতার কেন্দ্র
খ
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র
গ
খুলনা বেতার কেন্দ্র
ঘ
আগরতলা বেতার কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- ২৭শে মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। - তাঁর এই ঘোষণায় আধাসামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সমর্থন প্রকাশ পায়। - স্বাধীনতার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাধীনতাকামী জনগণ উজ্জীবিত ও সংগঠিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রাণিত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,২০৮.
“টিয়ার্স অব ফায়ার” কী?
ক
ক) পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলন
খ
খ) নবগঠিত পুলিশ ব্যাটেলিয়ন
গ
গ) মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তথ্যচিত্র
ঘ
ঘ) দরিদ্র বিমোচন কর্মসূচি
ঙ
ঙ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিষয়ে ‘টিয়ার্স অব ফায়ার’ নামে তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন সেন্টু রায়। এছাড়াও তিনি ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে তৈরি করেছেন ‘রাইট টু রিটার্ন’। উৎসঃ প্রথম আলো
২,২০৯.
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' কে পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন?
ক
ক) আব্দুল গাফফার চৌধুরী
খ
খ) আবু হেনা মোস্তফা কামাল
গ
গ) আব্দুল মান্নান
ঘ
ঘ) এম আর আখতার মুকুল
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: - স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয়েছিল চট্টগ্রামের কালুরঘাটে। - ১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রটি পাকিস্তান হানাদার বিমান বাহিনীর বোমা বর্ষণের স্বীকার হয়। - স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’ ও ‘জল্লাদের দরবার’। - জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে ‘কেল্লা ফতেহ খান’ চরিত্রের মাধ্যমে চিত্রিত করা হয়েছে। - চরমপত্র সিরিজটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আব্দুল মান্নান। - স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত 'চরমপত্র' পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেন এম আর আখতার মুকুল।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২১০.
মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল ১৯৭১ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়?
ক
৩ টি
খ
৪ টি
গ
৮ টি
ঘ
১১ টি
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১০ই এপ্রিল '৭১ বাংলাদেশ সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ৪টি যুদ্ধঅঞ্চলে বিভক্ত করেন। - এই ৪টি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন: ক) চট্টগ্রাম অঞ্চল - মেজর জিয়াউর রহমান, খ) কুমিল্লা অঞ্চল - মেজর খালেদ মোশাররফ, গ) সিলেট অঞ্চল - মেজর কে এম সফিউল্লাহ, ঘ) দক্ষিণ পশ্চিম - অঞ্চল মেজর আবু ওসমান চৌধুরী।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২১১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কাদেরিয়া বাহিনী কোন অঞ্চলে সক্রিয় ছিল?
ক
চট্টগ্রাম
খ
বরিশাল
গ
টাঙ্গাইল
ঘ
রাজশাহী
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী: - সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, - কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)। - আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)। - বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)। - হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)। - হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)। - আকবর বাহিনী (মাগুরা)। - লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)। - জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। - এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত। - ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,২১২.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান কোনটি?
ক
অপারেশন ক্লোজডোর
খ
অপারেশন জ্যাকপট
গ
অপারেশন বিগ বার্ড
ঘ
কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অপারেশন জ্যাকপট: - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌবাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'। - 'অপারেশন জ্যাকপট' পরিচালিত হয় ১৫ই আগস্ট মতান্তরে ১৬ই আগস্ট ১৯৭১ সালে। [অপশনে ১৫ আগস্ট থাকলে ১৫ আগস্ট দাগাতে হবে। অপশনে ১৫ আগস্ট না থাকলে সেই ক্ষেত্রে ১৬ আগস্ট দাগাতে হবে।] - দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর—চট্টগ্রাম ও মোংলা এবং দুইটি নদী বন্দর - চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল। - অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান। - এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল। - চট্টগ্রামে বন্দরে অপারেশন চালানোর জন্য বাছাই করা হয়েছিল ৬০ জনের একটি দল। - ১৯৭১ সালের অগাস্টের ১৫ তারিখ রাতে অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনার সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে এর পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল সেই বছরের মে মাসে। - সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রফিকুল ইসলাম ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে এক নম্বর সেক্টরের কমান্ডার। - অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রাম বন্দরের অভিযান তার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। - সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর রফিকুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বীর উত্তম খেতাব লাভ করেছিলেন।
তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা, ১৬ই আগস্ট ২০২১।
২,২১৩.
নিচের কোন সংগঠনটি ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে?
ক
ছাত্র ইউনিয়ন
খ
ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
গ
সর্বদলীয় সংগ্রাম কমিটি
ঘ
আওয়ামী লীগ
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। - স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে। - ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। - ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন। - এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় । - তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
২,২১৪.
বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য 'বীর প্রতীক' খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী নাগরিক কে?
ক
গি. রিচার্ড
খ
জর্জ হ্যারিসন
গ
মাইকেল হ্যারিসন
ঘ
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড: - ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড একজন অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক। - তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের ‘বীর প্রতীক’ খেতাব লাভ করেন। - ডব্লিউ. এস. ওডারল্যান্ড মুক্তিযুদ্ধের জন্য এই খেতাব পাওয়া একমাত্র বিদেশি। - দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে কাজ করেছিলেন। - ১৯৭০ সালের শেষের দিকে ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। - মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্য, আর্থিক সহায়তা এবং অন্যান্য উপায়ে সাহায্য করতেন। - ‘বীর প্রতীক’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় তার নাম ২ নম্বর সেক্টরের গণবাহিনীর তালিকায় ৩১৭ নম্বরে রয়েছে।
উল্লেখ্য, - তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২১৫.
মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ড গঠিত হয় কোন সেক্টর নিয়ে?
ক
১০ নং সেক্টর
খ
১১ নং সেক্টর
গ
৮ নং সেক্টর
ঘ
৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ: - ১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করে। - এরমধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিলো একমাত্র নৌ সেক্টর। - দেশের সমুদ্র এলাকা ও নৌপথ নিয়ে এই সেক্টর গঠিত ছিলো। - ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলো না। - যখন যে সেক্টর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হতো সেই সেক্টরের কমান্ডার ১০ নং সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করতেন।
এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা। এরা ছিলেন - - গাজী মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ (চীফ পেটি অফিসার), - সৈয়দ মোশাররফ হোসেন (পেটি অফিসার), - আমিন উল্লাহ শেখ (পেটি অফিসার), - আহসান উল্লাহ (এম.ই-১), - এ.ডব্লিউ.চৌধুরী (আর.ও-১), - বদিউল আলম (এম.ই-১), - এ.আর মিয়া (ই.এন-১) এবং - আবেদুর রহমান (স্টুয়ার্ড-১)।
তথ্যসূত্র:- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া
২,২১৬.
মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতার জন্যে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
ক
ক) বীরউত্তম
খ
খ) বীরবিক্রম
গ
গ) বীরশ্রেষ্ঠ
ঘ
ঘ) বীরপ্রতীক
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো: - সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন - দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন - তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন - চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন। - গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর খেতাব বাতিল করে। এরা হলেন: - লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম) - লে. কর্নেল নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম) - লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক) - নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক) (তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং প্রথম আলো)
২,২১৭.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?
ক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
খ
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
গ
তাজউদ্দীন আহমেদ
ঘ
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বাংলাদেশে প্রথম: - জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। - প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ। - প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করে মুসা ইব্রাহিম (২০১০ সালের ২৩ মে)। - প্রথম নারী হিসেবে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে আরোহণ করেছেন নিশাত মজুমদার। - বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্রবন্দর - চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর। - প্রথম ইন্টারনেট ভিত্তিক নিউজ এজেন্সি - বিডিনিউজ। - প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং চালু করে - ডাচ বাংলা ব্যাংক লি.। - প্রথম এটিএম কার্ড চালু করে - স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। - বাংলাদেশের প্রথম আদম শুমারি অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৪ সালে।
উল্লেখ্য, ⇒ 'মুজিবনগর সরকার' সম্পর্কিত কিছু তথ্য: - গঠিত হয়: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। - শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১। - সদরদপ্তর ছিলো - ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা।
⇒ মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা: - রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, - উপ-রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, - প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমদ, - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়: খন্দকার মোশতাক আহমেদ, - অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, - স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়: এ এইচ এম কামরুজ্জামান, - প্রধান সেনাপতি: কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী, - চিফ অব স্টাফ: লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব, - ডেপুটি চিফ অব স্টাফ: গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২১৮.
নিম্নের কোনটি মুক্তিযুদ্ধে ১নং সেক্টরের অধীনে ছিল?
ক
ঢাকা
খ
কুমিল্লা
গ
মেহেরপুর
ঘ
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ: - মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
⇒ সেক্টরগুলো: =১নং সেক্টর: - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত। - বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব। - সদরদপ্তর: হরিণা। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
অন্যদিকে, = ২নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: মেলাঘর।
= ৩নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। - সদরদপ্তর: হেজামারা।
= ৪ নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
= ৫নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
= ৬নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। - সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
= ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। - সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
= ৯নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: বশিরহাট।
= ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
= ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২১৯.
তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিল?
ক
২ নং
খ
৮ নং
গ
৯ নং
ঘ
১১ নং
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি: - বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি। - মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। - তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। - তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন। - ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন। - কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। - ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। - ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন। - মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড। - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। - শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। - উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। - প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী। - স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। - এস.এ সামাদ ছিলেন প্রতিরক্ষা সচিব। - মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী। - চিফ অব স্টাফ ছিলেন কর্নেল আবদুর রব। - উপ-সেনাপতি ছিলেন এ.কে খন্দকার।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২২১.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
ক
জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
খ
জেনারেল রাও ফরমান আলী
গ
জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা
ঘ
জেনারেল টিক্কা খান
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা: - পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। - পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। - ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। - এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে। - ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা। - এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।
২,২২২.
১ আগস্ট ১৯৭১ ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
ক
ক) প্যারিসে
খ
খ) নিউইয়র্কে
গ
গ) ওয়াশিংটন ডিসিতে
ঘ
ঘ) লন্ডনে
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ারে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিলো কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাংলাদেশের শরনার্থীদের সহায়তা করা। এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিখ্যাত ভারতীয় সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশংকর। তার আহবানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ব্যান্ডদল বিটলস এ কনসার্ট আয়োজনে অংশ নেয়। এতে জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলান, রিঙ্গো স্টার প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশর আকবর আলী খাঁ, তবলাবাদক ওস্তাদ আল্লারাখা প্রমুখ এতে যুক্ত ছিলেন। (সূত্রঃ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ওয়েবসাইট)
২,২২৩.
‘মুজিব বাহিনী’ কাদের নিয়ে গঠিত হয়েছিলো?
ক
ক) যুবকদের
খ
খ) শ্রমিকদের
গ
গ) পেশাজীবীদের
ঘ
ঘ) ছাত্রছাত্রীদের
ব্যাখ্যা
মুজিব বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী। আওয়ামী লীগ ও এর ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে এ বাহিনী গঠন করা হয়। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের এ বাহিনীকে চারটি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং এর নেতৃত্বে ছিল ১৯-সদস্যের কেন্দ্রীয় কম্যান্ড। প্রথমদিকে সেক্টর কম্যান্ডারগণ ভারতের ব্যারাকপুর, শিলিগুড়ি, আগরতলা ও মেঘালয় থেকে নিজ নিজ বাহিনী পরিচালনা করতেন। এই বাহিনীর সদস্যরা মূলত ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মী ও কট্টর আওয়ামী সমর্থক তরুণরা। মুজিব বাহিনীর কেন্দ্রীয় কম্যান্ডার ছিলেন - তোফায়েল আহমদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক ও শেখ ফজলুল হক মনি। শেখ ফজলুল হক মনি মুজিব বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল উবানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে দেরাদুন পাহাড়ি এলাকায় এ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই বাহিনী মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রীয় কমান্ডের অধীন ছিলো। এর মানে হচ্ছে - প্রবাসী সরকার বা ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সেনাপতি জেনারেল অরোরার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল। - এই বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল সুজন সিং উবান, যিনি ভারতীয় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের কমাণ্ডার (ইন্সপেক্টর জেনারেল) ছিলেন। - ভারতের ভূখণ্ডে একটি গোপন স্থানে (দেরাদুন) এই বাহিনীল সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো যার তত্ত্ববধায়ক ছিলেন ব্রিগেডিয়ার টি. এস ওবেরয়। - কর্ণেল বি ডি কুশাল এই বাহিনীর প্রশাসনিক বিষয়াদি দেখাশোনা করতেন। - মেজর জেনারেল এস. এস. উবান ১৯৯৫ প্রকাশিত ফ্যান্টমস্ অব চিটাগাং গ্রন্থে লিখেছেন যে, এই মুজিববাহিনী মুক্তিযুদ্ধ কালে পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় স্পেশাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সহযোগী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে।
বিশ শতকের ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে মুজিব বাহিনী গঠনের ধারণার উন্মেষ ঘটে বলে ধারণা করা হয়। - সেসময় কতিপয় জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের মধ্যে এটি একটি একাডেমিক চিন্তা হিসেবে লালিত হত। - মুজিব বাহিনীর অগ্রণী সংগঠকরাই একসময় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন এবং তাঁরাই ছিলেন ১৯৬৯ সালের এগারো দফা কর্মসূচির প্রবক্তা। - তাঁরা ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন, ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনা করেন, ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধের পথে সার্বিক প্রস্তুতি সংগঠিত করেন।
তথ্যসূত্রঃ সংগ্রামের নোটবুক, বাংলাপিডিয়া পত্রিকার কলাম।
২,২২৪.
১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের প্রধান দায়িত্ব পালন করে কারা?
ক
শান্তি কমিটি
খ
আল বদর বাহিনী
গ
মুক্তিবাহিনী
ঘ
বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতাবিরোধী সংগঠন ও বাহিনী: - মুক্তিবাহিনীর ক্রমবর্ধমান তৎপরতা বৃদ্ধি পেলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান সমর্থক রাজনীতিবিদদের ও ধর্মভিত্তিক দলের সমন্বয়ে শান্তি কমিটি গঠন করা হয়। - ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্যাতন, গণহত্যা আর ধ্বংসলীলায় মেতে উঠে। - পাকিস্তানি বাহিনীকে নির্যাতন, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠন ইত্যাদি মানবতাবিরোধী অপরাধে সহযোগিতা করেছে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটি।
উল্লেখ্য, - পকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী সংগঠন হিসেবে রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী গঠন করা হয়। - রাজাকারদের প্রশিক্ষণ দিতো পাকিস্তানি বাহিনী এবং প্রশিক্ষণের মেয়াদ ছিল এক সপ্তাহ। - আলবদর বাহিনী বাঙালিবুদ্ধিজীবী হত্যার প্রধান দায়িত্ব পালন করে।
⇒ যৌথ বাহিনীর ঢাকার উপকণ্ঠে আগমণ ও ভারতীয় বিমান বাহিনীর ঢাকা আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ১৪ ডিসেম্বর গভর্ণর মালিকের নেতৃত্বাধীন সরকার পদত্যাগ করে। - এ সময় পাকিস্তান বাহিনী তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর ও আল শামস এর সহযোগিতায় ব্যাপক গণহত্যা চালায়। - যুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়। - তবে ১০-১৪ ডিসেম্বর পরিকল্পিতভাবে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। - বাংলাদেশের ইতিহাস এ ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। - হত্যাকাণ্ডের শিকার বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৫.
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে নদী বন্দরসমূহ কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
ক
১০ নং
খ
১১ নং
গ
৭ নং
ঘ
৮ নং
ব্যাখ্যা
• সেক্টর সমূহ: - একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে। - এটি ছিল যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
⇒ ১০ নং সেক্টর: - মুক্তিযুদ্ধকালে নদী বন্দরসমূহ ১০ নং সেক্টর এর অধীনে ছিল। - এ সেক্টরে নৌ কমান্ডোরা যখন যে সেক্টরে মিশনে নিয়োজিত থাকতেন, তখন সে সেক্টরের কমান্ডারের নির্দেশে কাজ করতেন। - এই সেক্টরে কোনো সাবসেক্টর ছিল না এবং ছিল না নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার। - প্রধান সেনাপতির নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ বাহিনী ছিল এটি।
• এছাড়াও, অন্যান্য সেক্টরগুলো: - ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম, - ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ, - ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, - ৪নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, - ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, - ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর, - ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা, - ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর, - ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল, - ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, - ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২২৬.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে রাজশাহী জেলা কোন সেক্টরের অধীন ছিল?
ক
৫ নং
খ
৭ নং
গ
৬ নং
ঘ
৮ নং
ঙ
৪ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সেক্টর: - সমগ্র রণাঙ্গনকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। - সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানী ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসেই সমগ্র রণাঙ্গনকে ১১ টি সেক্টরে বিভক্ত করেন।
• সেক্টরগুলো ছিল: → ৭ নং সেক্টর: - মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ। - ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে গঠিত হয় ৭ নং সেক্টর। - এই সেক্টরে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালিত হয় ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে। - মেজর নাজমুল হক সেক্টর কমান্ডার ছিলেন । - এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান। - বালুরঘাটের নিকটবর্তী তরঙ্গপুরে হেডকোয়ার্টার ছিল।
এছাড়াও, • সেক্টর নং ৫: - বৃহত্তর ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং সিলেট জেলার অংশ বিশেষ। - মেজর মীর শওকত আলী ছিলেন সেক্টর কমান্ডার। - এই সেক্টরকেও ৬টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়ছিল।
• সেক্টর নং ৬: - দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও মহাকুমা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী অঞ্চল ব্যতীত সমগ্র রংপুর নিয়ে গঠিত হয়। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এমকে বাশার। - এই সেক্টরে ছিল ৫টি সাব-সেক্টর।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রথম আলে।
২,২২৭.
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন -
ক
আব্দুল মান্নান
খ
মাহবুব উদ্দিন আহমেদ
গ
অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ঘ
হোসেন তৌফিক ইমাম
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার - বাংলাদেশের প্রথম সরকার "মুজিবনগর সরকার"। - ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এই সরকার গঠিত হয়। - মুজিবনগর সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় সহ মোট ১৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ছিল। - রাষ্ট্রপতি -- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। - উপরাষ্ট্রপতি -- সৈয়দ নজরুল ইসলাম। - প্রধানমন্ত্রী -- তাজউদ্দিন আহমদ। - মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছিলেন - হোসেন তৌফিক ইমাম।
উল্লেখ্য, - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমায় মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। - এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন -- আব্দুল মান্নান। - সেই অনুষ্ঠানে নবগঠিত মন্ত্রীসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী। - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন -- অধ্যাপক ইউসুফ আলী। - মুজিবনগর সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন -- মাহবুব উদ্দিন আহমেদ এর নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি দল।
১৯৭১ সালে গঠিত মুজিবনগর সরকারের বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি কে ছিলেন?
ক
আবু নায়েম চৌধুরী
খ
বিচারপতি আবু আহমেদ খন্দকার
গ
বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
ঘ
কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: - মুক্তিযুদ্ধকালীন গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। - এ সরকারের সদর দপ্তর প্রথম স্থাপিত হয় মুজিবনগরে (মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা)। - এই সরকারের বিশেষ কুটনৈতিক প্রতিনিধি ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। - বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’। - আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক। ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।
তথ্যসূত্র: - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২২৯.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী গঠিত হয় কখন?
ক
২১ নভেম্বর, ১৯৭১
খ
২২ নভেম্বর, ১৯৭১
গ
২৩ নভেম্বর, ১৯৭১
ঘ
২৪ নভেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ: - মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই ভারত বিভিন্নভাবে বাংলাদেশকে সাহায্য সহযোগিতা করে। - ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে। - ৬-১৬ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনীও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে। - যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
তথ্যসূত্র: ইতিহাস (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৩০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের বর্তমান রূপটির রূপকার-
ক
ক) কামরুল হাসান
খ
খ) শিব নারায়ণ দাস
গ
গ) রফিকুন্নবী
ঘ
ঘ) এ এন সাহা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের বর্তমান রূপটির রূপকার শিল্পী কামরুল হাসান। - বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি রয়েছে তা গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি। - ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। - ‘জাতীয় পতাকা’ গাঢ় সবুজ রঙের হবে এবং ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকিবে। - মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইন হিসেবে বিবেচ্য করা হয় শিব নারায়ণ দাসকে।
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৩১.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়-
ক
১০এপ্রিল ১৯৭১
খ
২৬ মার্চ ১৯৭১
গ
১১ এপ্রিল ১৯৭১
ঘ
১০ জানুয়ারি ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। - ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। - মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী। - মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।
উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া
২,২৩২.
১৯৭১ সালে কোন গ্রামের নামকরণ ‘মুজিবনগর’ করা হয়?
ক
ক) মানিকনগর
খ
খ) বৈদ্যনাথতলা
গ
গ) বুড়িপোতা
ঘ
ঘ) আমঝুপি
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। - ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর। - মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।
সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৩.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কোন সেক্টরের অধিনে মুক্তিযুদ্ধ করেন?
ক
৪নং সেক্টর
খ
৫নং সেক্টর
গ
৬নং সেক্টর
ঘ
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের জন্ম ৭ মার্চ ১৯৪৯, বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে. - ১৯৫৩ সালে পাতারচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়। - ১৯৬৪ সালে মুলাদি মাহমুদ জান পাইলট হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৬৭ সালের ৩রা অক্টোবর ১৫তম শর্ট সার্ভিস কোর্সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। - ১৯৬৮ সালের ২রা জুন তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে কমিশন লাভ করেন। - তিনি ৭নং সেক্টর-এর মহোদিপুর সাব-সেক্টরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন। - তিনি অসামান্য বীরত্বের সাথে আরগরারহাট, কানসাট, শাহপুর এলাকায় যুদ্ধ পরিচালনা করেন এবং মুক্তাঞ্চল গঠন করেন। - ১২ই ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী তার নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আক্রমণ করে। - যুদ্ধে অপরিসীম বীরত্ব প্রদর্শন করে ১৪ ডিসেম্বর সকালে পাকিস্তানী বাহিনীর স্নাইপার বুলেটের আঘাতে তিনি শহীদ হন। - পরদিন সহযোদ্ধারা লাশ উদ্ধার করে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ চত্বরে সমাহিত করে।
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
২,২৩৪.
মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
ক
ক) ১ নং সেক্টর
খ
খ) ২ নং সেক্টর
গ
গ) ১১ নং সেক্টর
ঘ
ঘ) ৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা ২ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়া নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল । Source: dhakadiv.gov.bd
২,২৩৫.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার কখন যৌথ বাহিনী গঠন করেন?
ক
ক) ২০ নভেম্বর
খ
খ) ৭ নভেম্বর
গ
গ) ২১ নভেম্বর
ঘ
ঘ) ৩ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- মুজিবনগর সরকারের সেক্টরভিত্তিক যুদ্ধ পরিকল্পনার ফলে একাত্তরের মে মাস থেকেই মুক্তিযোদ্ধারা রণাঙ্গনে সাহসের সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর মোকাবিলা শুরু করে। - জুন মাস থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি বাহিনীর উপর ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। এতে পাকিস্তানি বাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। - মূলত মধ্য নভেম্বর থেকে ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীকে সম্মুখ যুদ্ধে কার্যকর সহায়তা দিতে থাকে। - ১৩ই নভেম্বর ট্যাংকসহ দুই ব্যাটালিয়ন ভারতীয় সৈন্য যশোরে ঘাঁটি স্থাপন করে। - পাকিস্তানি বাহিনীর উপর আরও সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথবাহিনী গঠন করে। - মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে এটি গঠিত হয়। - যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে মিত্রবাহিনী বলা হতো। - যৌথবাহিনী গঠনের ফলে স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
২,২৩৬.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম কবে উত্তোলন করা হয়েছিলো?
ক
২ মার্চ, ১৯৭১
খ
২৬ মার্চ, ১৯৭১
গ
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ঘ
১০ জানুয়ারি, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন: - ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল। - গৃহীত হয় ৬ মার্চ। - সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে। - ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। - মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)। - ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে। - বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে। - জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, প্রথম আলো রিপোর্ট।
২,২৩৭.
‘বঙ্গভঙ্গ’ হয় কত সালে?
ক
ক) ১৯০৫
খ
খ) ১৯১১
গ
গ) ১৯০৬
ঘ
ঘ) ১৯০৯
ব্যাখ্যা
১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জন এক ঘোষণায় বাংলাকে দুইভাগে বিভক্ত করেন তাই ইতিহাসে ‘বঙ্গভঙ্গ’ নামে পরিচিত। বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে বাংলা প্রদেশ গঠিত ছিল। ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে রাজা পঞ্চম জর্জ ‘বঙ্গভঙ্গ রদ’ করেন। ১৯০৫ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়। উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)
২,২৩৮.
একমাত্র খেতাব প্রাপ্ত বিদেশী মুক্তিযোদ্ধা ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
ক
অস্ট্রেলিয়া
খ
পোল্যান্ড
গ
জার্মানি
ঘ
হাঙ্গেরি
ব্যাখ্যা
ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড: - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে একমাত্র বিদেশি নাগরিক হিসেবে বীর প্রতীক খেতাব লাভ করেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড। - তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে। - ওডারল্যান্ড ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। - ওডারল্যান্ড ২০০১ সালের ১৮ মে অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান।
তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২৩৯.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
ক
১ নং সেক্টর
খ
২ নং সেক্টর
গ
৫ নং সেক্টর
ঘ
৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। - এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। - আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। - এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। - নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার। - এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। - এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে। - এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো বেলোনিয়া সূচিবুূ্যহ প্রতিরক্ষা। - ১ নং ও ২ নং সেক্টরের বাহিনীর যৌথ অভিযানের ফলে ২১ জুন পর্যন্ত বেলোনিয়া সূচিব্যুহের প্রবেশপথ সম্পূর্ণ মুক্ত ছিল। - ২ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি নিয়মিত কোম্পানি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৪০.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের পদবী কি ছিল?
ক
ক) সিপাহী
খ
খ) ল্যান্স নায়েক
গ
গ) হাবিলদার
ঘ
ঘ) ক্যাপ্টেন
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠগণ ও তাদের পদবী: ১. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ২. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ৩. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ৪. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ৫. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ৬. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন ৭. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২৪১.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ১১ নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কে?
ক
এম খাদেমুল বাশার
খ
মীর শওকত আলী
গ
রফিকুল ইসলাম
ঘ
এম. আবু তাহের
ব্যাখ্যা
⇒ ১১ নং সেক্টর: - টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। - মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। - মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।
• ১নং সেক্টর: সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। • ২ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। • ৩ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান। • ৪নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। • ৫ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। • ৬ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার। • ৭ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান। • ৮ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর। • ৯ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন। • ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই সেক্টরের নিয়মিত সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না। • ১১ নং সেক্টর: সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,২৪২.
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোন সনে গঠিত হয়?
ক
১৯৯২ সনে
খ
২০০০ সনে
গ
২০০১ সনে
ঘ
২০০২ সনে
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: - ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। - এই মন্ত্রণালয়ের প্রথম মন্ত্রী ছিলেন রেদোয়ান আহমেদ। - সর্বপ্রথম বর্তমান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভবনে ৩ টি কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরম্ভ হয়।। - বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এই মন্ত্রণালয়ের অধীন।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
২,২৪৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করা হয় কত তারিখে?
ক
১১ এপ্রিল, ১৯৭১
খ
২৬ মার্চ, ১৯৭১
গ
১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
ঘ
১০ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই হল বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। - অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এই আদেশ জারি করেন। - ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ এই ঘোষণাপত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে জারি করা হয়। - এটি ২৬ মার্চ, ১৯৭১ থেকে বলবৎ হয়। - স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। - ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ এ অধ্যাপক ইউসুফ আলী মুজিবনগরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। - বাংলাদেশ সংবিধানের ৬ষ্ঠ অফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংযুক্ত করা হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৪৪.
মুজিব নগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
খ
তাজউদ্দিন আহমদ
গ
এম. মনসুর আলী
ঘ
এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন। - শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী। - উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। - প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ। - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী। - স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৫.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
ক
১ নং সেক্টর
খ
৩ নং সেক্টর
গ
৮ নং সেক্টর
ঘ
৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্যে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব প্রাপ্তদের মধ্যে ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ অন্যতম। তিনি সাবেক ইপিআর এর সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মুন্সি আব্দুর রউফ ১ নং সেক্টরের অধীন রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরে যুদ্ধ করেন।
তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে তিনিই সবার আগে শাহাদাতবরণ করেন।
(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
২,২৪৬.
১৯৭১ সালে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন?
ক
১নং সেক্টর
খ
২নং সেক্টর
গ
৮নং সেক্টর
ঘ
১১নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
তারামন বিবি: - মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন। - বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি। - তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। - মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। - মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। - তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
এছাড়াও, - ১১নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)। - বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। - তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম। তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
২,২৪৭.
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন কে?
ক
ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
খ
খ) এম এ আজিজ
গ
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ঘ
ঘ) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র লিপিবদ্ধ করেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম। ⇨ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ⇨ মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন ইউসুফ আলী। ⇨ ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ⇨ ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র খসড়া প্রণয়ন ও আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল অধ্যাপক ইউসুফ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। ⇨ ৬ষ্ঠ তফসিলে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র সংযুক্ত করা হয় ।
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান এবং পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৪৮.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
ক
খালেদ মোশাররফ
খ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
গ
আতাউল গণি ওসমানি
ঘ
এ.কে খন্দকার
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:
- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি। - ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম। - তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। - তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)। - ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন। - ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন। - ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন। - আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন। - ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,২৪৯.
'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ' আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় কবে?
ক
মুজিবনগর সরকার গঠনের দিন
খ
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণের দিন
গ
উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দিন
ঘ
মুক্তিযুদ্ধে বিজয় লাভের পর
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম: - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। - মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে এ সরকারের কার্যক্রম শুরু হয়। - মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, নির্দেশনা সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। - এটি ছিল প্রথম বাংলাদেশ সরকার। - ঐ দিনই (মুজিবনগর সরকার গঠন) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় 'বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ'। - মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল। - শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,২৫০.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় সর্বপ্রথম কোন এলাকা মুক্ত হয়?
ক
কুষ্টিয়া
খ
যশোর
গ
রংপুর
ঘ
ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে বিজয়:
- ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনীর যৌথ কমান্ড গঠিত হয়। - ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কম্যান্ডের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা যৌথ বাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। - মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ক্রমশ অগ্রসর হতে থাকে। - ফলে পাকিস্তানি সৈন্যদের পরাজয় ও আত্মসমর্পণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চুড়ান্তভাবে শেষ হবার কয়েকদিন আগেই স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণপণ লড়াইয়ে দেশের সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত যশোর জেলা।
বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম ইউরোপীয় দেশ কোনটি?
ক
পশ্চিম জার্মানি
খ
পূর্ব জার্মানি
গ
যুক্তরাজ্য
ঘ
ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর প্রথম দেশ হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। - একইদিন দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে। - বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র সচিবের ভাষ্যমতে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ ভুটান এবং দ্বিতীয় দেশ ভারত। - সাবেক পূর্ব জার্মানি ১১ জানুয়ারি ১৯৭২ ইউরোপের প্রথম আর বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। - আর সাবেক পশ্চিম জার্মানি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় প্রায় তিন সপ্তাহ পর ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২।
সূত্র: প্রথম আলো ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫২.
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে মেজর রফিকুল ইসলাম কোন সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
ক
৩নং সেক্টর
খ
১নং সেক্টর
গ
৫নং সেক্টর
ঘ
৭নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• ১নং সেক্টর চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। - এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। - সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। - এই সেক্টরে প্রায় দশ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেন। - এদের মধ্যে ছিলেন ই.পি.আর, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রায় দুই হাজার নিয়মিত সৈন্য এবং গণবাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় আট হাজার। - এই বাহিনীর গেরিলাদের ১৩৭টি গ্রুপে দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো হয়।
মুক্তিযুদ্ধে সেক্টরসমূহ: - মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
• ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।
• ২ নং সেক্টর: ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। আগরতলার মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
• ৩ নং সেক্টর: উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং পরে মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান।
• ৪নং সেক্টর: উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। সিলেটের ইপিআর বাহিনীর সৈন্যদের সঙ্গে ছাত্র মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে এ সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত এবং পরে ক্যাপ্টেন এ রব। হেডকোয়ার্টার ছিল প্রথমে করিমগঞ্জ এবং পরে আসামের মাসিমপুরে।
• ৫ নং সেক্টর: সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী। হেড কোয়ার্টার ছিল বাঁশতলাতে।
• ৬ নং সেক্টর: সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার।
• ৭ নং সেক্টর: রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। ইপিআর সৈন্যদের নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী ক্যাপ্টেন গিয়াস ও ক্যাপ্টেন রশিদের নেতৃত্বে রাজশাহীতে প্রাথমিক অভিযান পরিচালনা করে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নাজমুল হক এবং পরে সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান।
• ৮ নং সেক্টর: এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। মে মাসের শেষে অপারেশন এলাকা সঙ্কুচিত করে কুষ্টিয়া, যশোর ও খুলনা জেলা, সাতক্ষীরা মহকুমা এবং ফরিদপুরের উত্তরাংশ নিয়ে এই সেক্টর পুনর্গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর।
• ৯ নং সেক্টর: বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এই সেক্টরের হেড কোয়ার্টার ছিল বশিরহাটের নিকটবর্তী টাকিতে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম.এ জলিল এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর ও মেজর জয়নাল আবেদীন।
• ১০ নং সেক্টর: নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। এই বাহিনী গঠনের উদ্যোক্তা ছিলেন ফ্রান্সে প্রশিক্ষণরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর আট জন বাঙালি নৌ-কর্মকর্তা। ১০ নং সেক্টরে নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
• ১১ নং সেক্টর: টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৩.
যুক্তফ্রন্টের একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
ক
ক) আবুল মনসুর আহমেদ
খ
খ) আবুল কালাম শামসুদ্দিন
গ
গ) অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী
ঘ
ঘ) আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২১ দফা সম্বলিত ইশতেহার ঘোষণা করে। আওয়ামী মুসলিম লীগের ৪২ দফা কর্মসূচির প্রধান বিষয়সমূহ নিয়ে রচিত এই একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ। একুশ দফার এক নম্বর দফা ছিলো বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা। (সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,২৫৪.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
ক
ক) ১ নং সেক্টর
খ
খ) ২ নং সেক্টর
গ
গ) ৩ নং সেক্টর
ঘ
ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্যে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে উত্তর দিকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী, বৃহত্তর কুমিল্লা, ফরিদপুর জেলার অংশ বিশেষ এবং ঢাকা শহর নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশারফ এবং মেজর এটিএম হায়দার। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,২৫৫.
‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপক কে ছিলেন?
ক
আবদুল জব্বার
খ
বেলাল মোহাম্মদ
গ
এম আর আখতার মুকুল
ঘ
কল্যাণ মিত্র
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র: - স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র। - বস্তুত, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়। - এই কেন্দ্র থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল। - স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল: • 'চরমপত্র', • 'জল্লাদের দরবার', • 'মীর জাফরের রোজনামচা'।
⇒ 'চরমপত্র': - চরমপত্র ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। - এটি ছিল ব্যঙ্গাত্মক ও শ্লেষাত্মক মন্তব্যে ভরপুর একটি অনুষ্ঠান, যা মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। - রচনা ও উপস্থাপনা: এম আর আখতার মুকুল। - চরমপত্র প্রচারের পরিকল্পনা করেছিলেন: এমএ মান্নান [গণপরিষদ সদস্য]।
⇒ 'জল্লাদের দরবার': - জল্লাদের দরবার-এ জেনারেল ইয়াহিয়া খানের অমানবিক চরিত্র ও পাশবিক আচরণকে তুলে ধরা হতো। - এই ব্যঙ্গাত্মক সিরিজে তাকে 'কেল্লা ফতেহ খান' চরিত্রে চিত্রিত করা হয় এবং এই ভূমিকায় অভিনয় করেন রাজু আহমেদ। এটি মূলত ছিল রূপকধর্মী সিরিজ নাটক। - 'জল্লাদের দরবার' নাটক রচনা ও প্রযোজনা করেন কল্যাণ মিত্র। - এছাড়াও তিনি 'মীর জাফরের রোজনামচা' নামক আরেকটি নাটক রচনা করেন।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক রিপোর্ট।
২,২৫৬.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পাকিস্তানিদের পরিচালিত গণহত্যা অভিযানের নাম কী ছিল?
ক
অপারেশন কিলোফ্লাইট
খ
অপারেশন ক্লিন হার্ট
গ
অপারেশন জ্যাকপট
ঘ
অপারেশন সার্চলাইট
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চলাইট: - পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চ লাইট'। - পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। - ১৭ মার্চ, ১৯৭১ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। - ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইট-এ' অংশগ্রহণ করে। - তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে।
অন্যদিকে, - অপারেশন কিলো ফ্লাইট মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অপারেশনগুলোর সমন্বিত সাংকেতিক নাম। - অপারেশন ক্লিন হার্ট অপরাধ বিরোধী একটি যৌথ অপারেশনের নাম। - অপারেশন জ্যাকপট বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন।
উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২৫৭.
বর্তমানে বীরবিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
ক
১৭৪ জন
খ
১৭৫ জন
গ
১৭৬ জন
ঘ
১৭৭ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব: - মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো: - সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন। - তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন। - চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে। - স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য: - বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - বীর উত্তম: ৬৭ জন। - বীরবিক্রম: ১৭৪ জন। - বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৫৮.
'বীরশ্রেষ্ঠ' পদকপ্রাপ্তদের সংখ্যা কত?
ক
ক) সাত
খ
খ) আট
গ
গ) পাঁচ
ঘ
ঘ) ছয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ৭ জনকে সর্বোচ্চ সামরিক পদবী 'বীরশ্রেষ্ঠ' প্রদান করা হয়।
৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন - - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ
উৎসঃ বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
২,২৫৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়?
ক
৭টি
খ
৮টি
গ
৯টি
ঘ
১১টি
ব্যাখ্যা
• সেক্টর: - যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। - এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। - এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়। - ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বভূষণ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শহীদুল ইসলাম সর্বকনিষ্ঠ। - ১৯৭১ সালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। - শহিদুল ইসলাম লালু ৪২৬ জন গ্যাজেটভূক্ত বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ৪২৫ নং ব্যক্তি। - মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুক্তিবাহিনী ছাড়াও দেশের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি সশস্ত্র আঞ্চলিক বাহিনী গড়ে ওঠে। এর মধ্যে কাদেরিয়া বাহিনী অন্যতম। এ বাহিনীর একটি দলের সঙ্গে ছিলেন শহীদুল ইসলাম। - শহীদুল ইসলামের গ্রামের বাড়ী ছিলো সুখী পলাশপাড়া, গোপালপুর, টাঙ্গাইল। - শুরুতে তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য- সহযোগিতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বহন ও সংবাদ সংগ্রহের কাজ করতেন। - পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরায় অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ নেন।
উৎস: প্রথম আলো
২,২৬১.
অপারেশন সার্চ লাইটের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন-
ক
ক) জেনারেল টিক্কা খান
খ
খ) জেনারেল রাও ফরমান আলী
গ
গ) জেনারেল খাদিম হোসেন রেজা
ঘ
ঘ) জেনারেল ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’। - পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন। - ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। - এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।এবং - ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা। - এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন জেনারেল টিক্কা খান।
তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা , নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৬২.
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আনা হয়-
ক
১৯৯৭ সালে
খ
২০০২ সালে
গ
২০০৬ সালে
ঘ
২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪ জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
• বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান: - বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে। - বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম। - পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট। - ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন। - এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন। - পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন। - অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন। - পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৩.
মুক্তিযুদ্ধকালে বীরপ্রতীক তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন?
ক
১ নং
খ
২ নং
গ
৮ নং
ঘ
১১ নং
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে নারী, শিশু ও ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী: - মুক্তিযুদ্ধে নারীদের বিশেষ অবদানের জন্য দুজন মহিলাকে বীরত্বসূচক 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রদান করা হয়। - তারা হলেন-ক্যাপ্টেন ডা. সেতারা বেগম (২নং সেক্টর) এবং তারামন বিবি (১১নং সেক্টর)। - খেতাবহীন বীর মহিলা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সুনামগঞ্জের খাসিয়া সম্প্রদায়ের কাঁকন বিবি পরিচিত, যার আসল নাম ছিল কাঁকাত হেনিনচিতা। - তিনি 'মুক্তিবেটি' নামেও পরিচিত। - মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক সেনা বাহিনী কর্তৃক ধর্ষিত হন প্রায় তিন লাখ নারী। - এই নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযাত্রী হিসেবে ভূমিকা পালন করেন এবং তাদের ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয়ভাবে 'বীরাঙ্গনা' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,২৬৪.
মুজিবনগর সরকারের শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
ক
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
খ
খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
গ
গ) ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী
ঘ
ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। • এই সরকার ১৭ এপ্রিল বর্তমান মেহেরপুর জেলার মুজিবনগরে শপথ গ্রহণ করে। • মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ব্যবস্থা। • মুজিবনগর মন্ত্রিসভার মোট সদস্য ছিলো ছয়জন। • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক (পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর হাতে বন্দি)। • সৈয়দ নজরুল ইসলাম - উপ-রাষ্ট্রপতি (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন)। • তাজউদ্দীন আহমদ - প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। • খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। • ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী - অর্থ, শিল্প,বাণিজ্য,পরিবহন ও জাতীয় রাজস্ব মন্ত্রী। • এ এইচ এম কামারুজ্জামান - স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৫.
মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়া কত নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
ক
৮ নং সেক্টর
খ
৭ নং সেক্টর
গ
৬ নং সেক্টর
ঘ
৫ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
সেক্টর: - ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। - প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়। - যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন। - ৮ নং সেক্টর এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরে মেজর এম.এ মঞ্জুর। - এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল কল্যানীতে। - সেক্টরের সৈন্যদের মধ্যে ৩০০০ ছিল নিয়মিত বাহিনী এবং ২৫০০০ গেরিলা সৈন্য।
উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর: = ১নং সেক্টর: - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত। - বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব। - সদরদপ্তর: হরিণা। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ২নং সেক্টর: - ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: মেলাঘর। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ৩নং সেক্টর: - উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়। - সদরদপ্তর: হেজামারা। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ৪ নং সেক্টর: - উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ৫নং সেক্টর: - সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত। - বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান। - সদরদপ্তর: বাঁশতলা। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।
= ৬নং সেক্টর: - সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। - সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।
= ৭নং সেক্টর: -রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। - বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর। - সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ৮নং সেক্টর: - কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, - বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল, - বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ। - সদরদপ্তর: কল্যাণী। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।
= ৯নং সেক্টর: - বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: বশিরহাট। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।
= ১০নং সেক্টর: - সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল, - বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।
= ১১নং সেক্টর: - টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত। - সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৭.
মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে -
ক
ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
খ
খ) ১৩ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
গ
গ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ঘ
ঘ) ২১ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার: - মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। - ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত। - সরকার গঠন ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তথা প্রধান নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি সরকার গঠিত হয়। - ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের মুক্তাঞ্চল বৈদ্যনাথতলায় সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। - শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন আবদুল মান্নান এম.এন.এ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী এম.এন.এ। - নবগঠিত সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে এখানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২৬৮.
স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার কত সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে?
ক
পাঁচ
খ
সাত
গ
নয়
ঘ
এগারো
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:
- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী।
- সদস্য ছিলেন,
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৬৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় কোথায় ছিল?
ক
৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতায়
খ
মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলায়
গ
আগরতলায়
ঘ
দিল্লিতে
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার:
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড। - মহান মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার তথা মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। - এই সরকারকে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার নামেও অভিহিত করা হয়। - এই সরকার ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। - এই সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নাম অনুসারে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং সরকারও পরিচিতি লাভ করে মুজিবনগর সরকার নামে। - এ সরকার গঠনের মাত্র ২ ঘণ্টা পর পাকিস্তানি বিমান বাহিনী মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে মেহেরপুর দখল করে নেয়। - ফলে মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তর করা হয়।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৭০.
‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’ - গানটির সুরকার কে?
ক
কাজী নজরুল ইসলাম
খ
নজরুল ইসলাম বাবু
গ
গোবিন্দ হালদার
ঘ
আপেল মাহমুদ
ব্যাখ্যা
• নজরুল ইসলাম বাবু: - তাঁর লেখা কালজয়ী দুটি গান- 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' এবং 'একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতার'।
• মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আরও কিছু বিখ্যাত গান: - একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতা আনলে যাঁরা’, ‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা’ ইত্যাদি কালজয়ী গানের রচয়িতা ও গীতিকার গোবিন্দ হালদার।
- 'জয় বাংলা বাংলার জয়' গানটি লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। - সিকান্দার আবু জাফর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
ব্রি:দ্র: 'সবকটা জানালা খুলে দাও না' গানটির গীতিকার হচ্ছেন নজরুল ইসলাম বাবু এবং আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় এই গানে কণ্ঠ দেন সাবিনা ইয়াসমিন।
[অপশনে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নাম না থাকায় কাছাকাছি সঠিক উত্তর হিসেবে অপশন (খ) গ্রহণ করা হলো।] উৎস: বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো (২৬ মার্চ ২০২৩ ও ১৭ জানুয়ারি ২০১৫), দ্যা ডেইলি ষ্টার বাংলা (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২)।
২,২৭১.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করে হয়েছিল?
ক
ক) ১০ টি
খ
খ) ১১ টি
গ
গ) ০৯ টি
ঘ
ঘ) ০৬ টি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,২৭২.
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কবে শহিদ হন?
ক
৮ এপ্রিল ১৯৭১
খ
১৮ এপ্রিল ১৯৭১
গ
৫ মে ১৯৭১
ঘ
২০ আগস্ট ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সবার আগে শহীদ হন ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ। তিনি ১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল রাঙামাটি জেলার নানিয়ারচরের চিংড়ি খাল এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের শাহাদাতের তারিখ: - ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ৮ এপ্রিল ১৯৭১ - সিপাহী মোস্তফা কামাল : ১৮ এপ্রিল ১৯৭১ - ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : ২০ আগস্ট ১৯৭১ - ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭১ - সিপাহী হামিদুর রহমান : ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ - ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমিন : ১০ ডিসেম্বর ১৯৭১ - ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১। (তথ্যসূত্র: প্রথম আলো এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়)
২,২৭৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে খেতাবপ্রাপ্ত ডব্লিউ এস. ওডারল্যান্ড কোন দেশের নাগরিক?
ক
পোল্যান্ড
খ
ইতালি
গ
অস্ট্রেলিয়া
ঘ
ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্যে ‘বীর প্রতীক’ খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি নাগরিক হলেন ডব্লিউ এ.এস. ওডারল্যান্ড। - তিনি অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তবে তার জন্ম নেদারল্যান্ডসে। - তিনি ১৯৭১ সালে ঢাকা বাটা সু কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন। - ২০০১ সালের ১৮ মে ওডারল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ায় মারা যান। (তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২,২৭৪.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশী কে ছিলেন?
ক
জর্জ হ্যারিসন
খ
উইলিয়াম ওডারল্যান্ড
গ
আন্দ্রে মালরো
ঘ
অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত বিদেশী: - অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়াম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশী যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন। - ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন। - ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম ঢাকায় আসেন। - প্রথমদিকে তিনি দখলদার পাকবাহিনীর পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের গোপন তথ্য সংগ্রহ করে আগেভাগেই মুক্তিযোদ্ধাদের তা জানিয়ে দিতেন। - তিনি গোপনে মুক্তিযোদ্ধাদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ, আর্থিক সহায়তা এবং সকল সম্ভাব্য উপায়ে সাহায্য করতেন। - ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৭৫.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের সদস্য সংখ্যা কত ছিল?
ক
ক) ৫ জন
খ
খ) ৬ জন
গ
গ) ৭ জন
ঘ
ঘ) ৮ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠন: - বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি, তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দনি আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে ১০ এপ্রিল একটি অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। - ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। - ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল নতুন সরকার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। - ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয় ।
• অস্থায়ী সরকারের ৬ সদস্য বিশিষ্ট: ১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: রাষ্ট্রপতি, ২. সৈয়দ নজরুল ইসলাম: উপ-রাষ্ট্রপতি, ৩. তাজউদ্দিন আহমদ: প্রধানমন্ত্ৰী, 8. খন্দকার মোশতাক আহমদ: পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্ৰী, ৫. এম. মনসুর আলী: অর্থমন্ত্রী, ৬. এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান: স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী,
• উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক থাকায় উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার প্রদান করা হয়।
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,২৭৬.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
ক
ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
খ
খ) তাজউদ্দীন আহমদ
গ
গ) ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
ঘ
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয় যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপ রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষি মন্ত্রী ছিলেন এএইচএম কামরুজ্জামান। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী। খন্দকার মুশতাক আহমেদ ছিলেন পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী। উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
২,২৭৭.
অপারেশন কিলোফাইট কী?
ক
মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী রেল অপারেশন
খ
মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী গেরিলা অপারেশন
গ
মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী নৌ অপারেশন
ঘ
মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন
ব্যাখ্যা
• অপারেশন কিলো ফ্লাইট: - মুক্তিযুদ্ধের দুঃসাহসী বিমান অপারেশন। - এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিবাহিনীর বিমান উইং এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্ম ও গোড়াপত্তনের ইতিহাস। - ভারতের নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত পরিত্যক্ত এক বিমানঘাঁটিতে জন্ম হয়েছিল যে ইতিহাসের, সেই ইতিহাস শত্রুর চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। - ২ ডিসেম্বর মধ্যরাতে (তখন ঘড়ির কাঁটা অনুসারে ৩ ডিসেম্বর) মুক্তিবাহিনীর বৈমানিক মুক্তিযোদ্ধারা বিমানের সাহায্যে প্রথম পাকিস্তানিদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আক্রমণ শুরু করেন। - অটারের সাহায্যে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির তেল ডিপোতে অভিযানটি ছিল শতভাগ সফল। - অটার বিমানের সাহায্যে চট্টগ্রামের আক্রমণ পরিচালনা করেন শামসুল আলম ও আকরাম আহমেদ। - আক্রমণ করার পর পাকিস্তানিদের তরফ থেকে পাল্টা আক্রমণ না আসায় তাঁরা আরও তিনবার আক্রমণ করে অটারে থাকা সব রকেট নিঃশেষ করেন। - নির্বিঘ্নেই তাঁরা ঘাঁটিতে ফিরে আসতে সক্ষম হন।
উৎস: সংগ্রামের নোটবুক।
২,২৭৮.
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে কোন জেলায় সমাহিত করা হয়?
ক
খুলনা
খ
যশোর
গ
সিলেট
ঘ
দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রুহুল আমিন: - তিনি জন্মগ্রহণ করেন: ১৯৩৫ সালে। - তাঁর জন্মস্থান: বাঘচাপড়া, নোয়াখালী। - ১৯৫৩ সালে তিনি নৌ বাহিনীতে জুনিয়ার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। - ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। - সেপ্টেম্বর ১৯৭১ এ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী গঠনের উদ্দেশ্যে সকল সেক্টর থেকে প্রাক্তন নৌসেনাদের আগরতলায় সংগঠিত করে নৌ বাহিনীর প্রাথমিক কাঠামো গঠন করা হয়। - ভারত সরকার বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে দুইটি টাগবোট উপহার দেয়। এগুলোকে কোলকাতার গার্ডেনরীচ নৌ ওয়ার্কসপে দুইটি বাফার গান ও মাইন পড লাগিয়ে গানবোটে রূপান্তরিত করা হয়। - গানবোট দুটির নামকরণ করা হয় 'পদ্মা' ও 'পলাশ'। - রুহুল আমিন নিয়োগ পান 'পলাশের' ইঞ্জিন রুম আর্টিফিশার হিসেবে। - ১০ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে সম্মুখ যুদ্ধে তিনি নিহত হন। - খুলনার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,২৭৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কতটি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়?
ক
ক) ৭টি
খ
খ) ১১টি
গ
গ) ৬৩টি
ঘ
ঘ) ৬৪টি
ব্যাখ্যা
সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ: - মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়। - ১১ টি সেক্টরের অধিনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়। - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। - উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়। - উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত। - সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত। - ৬ নং সেক্টর সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। - ৭ নং সেক্টর রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়। - ১০ নং সেক্টর নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। - ১১ নং সেক্টর টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,২৮০.
ক্র্যাকপ্লাটুনের সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
ক
ক) আজম খান
খ
খ) শহীদ শফি ইমাম রুমি
গ
গ) মোফাজ্জজল হোসেন চেীধুরী
ঘ
ঘ) হাবিবুল আলম
ঙ
ঙ) শঙ্কু সমজদার
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ৩ মার্চ রংপুরে হরতালে শহীদ শঙ্কু সমজদার হলো মুক্তিযুদ্ধের প্রথম শহীদ। বাকি সবাই ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য। ক্র্যাকপ্লাটুন হলো ১৯৭১ সালে ঢাকা শহরে গঠিত একটি গেরিলা বাহিনী। এটি ২ নং সেক্টরের অধীনে ছিল। (সূত্র: দৈনিক ভোরের কাগজ)
২,২৮১.
বর্তমানে বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
ক
৬৭ জন
খ
৬৮ জন
গ
৬৯ জন
ঘ
৭২ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব: - মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো: - সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন। - তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন। - চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে। - স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য: - বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - বীর উত্তম: ৬৭ জন। - বীরবিক্রম: ১৭৪ জন। - বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৮২.
মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
ক
ক) ৭নং সেক্টর
খ
খ) ৬নং সেক্টর
গ
গ) ৮নং সেক্টর
ঘ
ঘ) ৯নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে মুজিবনগর ৮ নং সেক্টরের অধীন ছিলো।
- ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। - এর মধ্যে নৌ সেক্টর ছিলো ১০নং সেক্টর। - ঢাকা শহর ২নং সেক্টর এবং মুজিবনগর ৮নং সেক্টরের অধীন ছিলো। - সেক্টর প্রধানরা সেক্টর কমান্ডার নামে পরিচিত।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৮৩.
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য কতজনকে ‘বীরবিক্রম’ খেতাবে ভূষিত করা হয়?
ক
১৭৩ জন
খ
১৭৪ জন
গ
১৭৫ জন
ঘ
১৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব: - মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো: - সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন। - তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন। - চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
- ৬ জুন ২০২১ তারিখে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে। - স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য: - বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন। - বীর উত্তম: ৬৭ জন। - বীর বিক্রম: ১৭৪ জন। - বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
২,২৮৪.
মুজিবনগর সরকারের অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে কে ছিলেন?
ক
ক) তাজউদ্দিন আহমদ
খ
খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
গ
গ) এম. মনসুর আলী
ঘ
ঘ) এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
এখানে, অর্থনীতি বিষয়ক ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্বে বলতে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে বুঝানো হয়েছে।
- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। - ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
মুজিবনগর সরকার: - রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম - প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ (তার অতিরিক্ত দায়িত্ব ছিলো - প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী) - অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী - স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,২৮৫.
অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন কে?
ক
টিক্কা খান
খ
এ কে নিয়াজী
গ
আলী জিন্নাহ
ঘ
মোনায়েম খান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর 'অপারেশন সার্চ লাইট' পরিচালনা করে। - এই অপারেশনে ঢাকা শহর জুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও গণহত্যা চালানো হয়। - ১৮ মার্চ ১৯৭১ জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা প্রস্তুত করেন। - সব প্রস্তুতি শেষে ২৫ মার্চ এই অপারেশন চালানো হয়। - মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইটের মূল দায়িত্বে ছিলেন।
[উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি]
২,২৮৬.
মুজিবনগর সরকারের স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী ছিলেন -
ক
তাজউদ্দিন আহমেদ
খ
ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী
গ
আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান
ঘ
খন্দকার মোশতাক আহমেদ
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন: - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ করে: ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। - ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়। - স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণের স্থান: কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে। - ১০ এপ্রিল দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়। - মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী। - সচিবালয়/সদর দপ্তর ছিলো: ৮ নং থিয়েটার রোড, কলকাতার।
মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা: - রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, - উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, - প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দিন আহমেদ, - অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী: ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, - স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ, পুনর্বাসন ও কৃষিমন্ত্রী: আবুল হাসনাত মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, - পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী: খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, DMP ও তথ্য অধিদফতর ওয়েবসাইট।
২,২৮৭.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য কতজনকে বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয়?
ক
ক) ৬৭৬ জন
খ
খ) ৬৮ জন
গ
গ) ১৭৫ জন
ঘ
ঘ) ৪২৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো বীরশ্রেষ্ঠ, বীরউত্তম, বীরবিক্রম এবং বীরপ্রতীক। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব হলো বীরশ্রেষ্ঠ। সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি পান ৭ জন দ্বিতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরউত্তম’ পান ৬৮ জন তৃতীয় বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরবিক্রম’ পান ১৭৫ জন এবং, চতুর্থ বীরত্বসূচক উপাধি ‘বীরপ্রতীক’ পান ৪২৬ জন। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
২,২৮৮.
স্বাধীনতা যুদ্ধকালে বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
ক
ক) ১১ টি
খ
খ) ৮ টি
গ
গ) ৭ টি
ঘ
ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার গঠিত হয়। এ সরকার প্রথমে ১০ এপ্রিল সমগ্র দেশকে ৪ টি সেক্টরে ভাগ করে। ১১ এপ্রিল তা পুনর্গঠন করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন এবং ১১ টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১০ নং সেক্টরে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না। এটি ছিলো নৌ সেক্টর। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী
২,২৮৯.
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?
ক
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
খ
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
গ
তাজউদ্দীন আহমদ
ঘ
ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
• স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি: ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় যা অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। মুজিবনগর সরকার ছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। এই সরকারের প্রধান ছিলেন রাস্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
• মুজিবনগর সরকারের গঠন: - রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। - উপ ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম। - প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ। - অর্থ ও বাণিজ্যমন্ত্রী : ক্যাপ্টেন (অব.) এম মনসুর আলী। - স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান। - পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমদ।
(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
২,২৯০.
স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনাকারী কে ছিলেন?
ক
ক) আব্দুল মান্নান
খ
খ) বেলাল আহমেদ
গ
গ) এম আর আখতার মুকুল
ঘ
ঘ) আবদুল গাফফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলা বেতারের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি অনুষ্ঠান ছিল ‘চরমপত্র’। এই অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা করেন জাতীয় পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান।
স্থানীয় ঢাকাইয়া উপভাষায় এর স্ক্রিপ্ট তৈরি, উপস্থাপক/পাঠক/কথক ছিলেন এম আর আখতার মুকুল। এই ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানটি জনগণের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয় এবং জনগণের নৈতিক মনোবল সুদৃঢ়করণে ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,২৯১.
মুক্তিযুদ্ধে সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন -
ক
আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
খ
অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদ
গ
তাজউদ্দিন আহমেদ
ঘ
উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ: - মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। - দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। - রাজনৈতিকভাবে এই যুদ্ধকে সার্বজনীন করার লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সর্বসম্মতিক্রমে একটি "সর্বদলীয় উপদেষ্টা পরিষদ" গঠন করেন।
- বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ডিসেম্বর ‘শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস’ পালিত হয়। - ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসররা বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। - সব শহীদ বুদ্ধিজীবীর প্রকৃত সংখ্যা অদ্যাবধি নিরূপণ করা সম্ভব হয় নি। প্রাপ্ত তথ্যসূত্র থেকে শহীদদের মোটামুটি একটা সংখ্যা দাঁড় করানো যায়। এঁদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ জন শিক্ষাবিদ, ১৩ জন সাংবাদিক, ৪৯ জন চিকিৎসক, ৪২ জন আইনজীবী, ৯ জন সাহিত্যিক ও শিল্পী, ৫ জন প্রকৌশলী,এবং অন্যান্য ২ জন। - শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি অমর করে রাখতে ১৯৭২ সালে ঢাকার মিরপুরে মোস্তফা আলী কুদ্দুসের নকশায় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়।
তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,২৯৩.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সর্বপ্রথম কোন দেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়?
ক
যুক্তরাষ্ট্র
খ
সোভিয়েত ইউনিয়ন
গ
আর্জেন্টিনা
ঘ
চীন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ ও জাতিসংঘ - - ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে যখন বাঙালির বিজয় আসন্ন , তখন তিন বার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। - পাকিস্তানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ৪ ডিসেম্বর প্রথমবার নিরাপত্তা পরিষদে যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়। - পরবর্তীতে ৫ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার নেতৃত্বে নিরাপত্তা পরিষদের আট দেশ এবং ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ বিরতির জন্য প্রস্তাব দেয়। - তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো (আমি মানি না) দেয়ার কারণে প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়।
এছাড়াও, - আমেরিকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের নির্দেশে ৭টি মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজকে বঙ্গোপসাগরে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। - কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎপরতায় মার্কিন রণতরি তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে।
উৎস - বিবিসি নিউজ বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
২,২৯৪.
মুজিবনগর সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন কে?
ক
ক) তাজউদ্দিন আহমেদ
খ
খ) এম মনসুর আলী
গ
গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ঘ
ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। - ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
• মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ: - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান- রাষ্ট্রপতি। - সৈয়দ নজরুল ইসলাম- উপরাষ্ট্রপতি (রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানে অন্তরীণ থাকার কারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত)। - তাজউদ্দীন আহমদ- প্রধানমন্ত্রীএবং প্রতিরক্ষা, তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগ, অর্থনৈতিক বিষয়াবলি, পরিকল্পনা বিভাগ, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, শ্রম, সমাজকল্যাণ, সংস্থাপন এবং অন্যান্য যেসব বিষয় কারও ওপর ন্যস্ত হয়নি তার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। - খন্দকার মোশতাক আহমদ- মন্ত্রী, পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। - এম মনসুর আলী- মন্ত্রী, অর্থ, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ⇒ এ এইচ এম কামরুজ্জামান- মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সরবরাহ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,২৯৫.
মুক্তিযুদ্ধোত্তর পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘মেঘের অনেক রং’ চলচ্চিত্রটির পরিচালক কে?
ক
চাষী নজরুল ইসলাম
খ
খান আতাউর রহমান
গ
জহির রায়হান
ঘ
হারুনর রশীদ
ব্যাখ্যা
♣ হারুনর রশীদ: • তিনি 'মেঘের অনেক রং' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন। • এটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র। • যুদ্ধের সময় রুমা নামের একজন চিকিৎসকের স্ত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। • এরপর সন্তানসহ কীভাবে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, এর মর্মস্পর্শী চিত্র রয়েছে। • এতে অভিনয় করেছেন মাথিন, ওমর এলাহী, রওশন আরা, আদনান প্রমুখ।
- তাঁর পরিচালিত আরেকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'আমরা তোমাদের ভুলবো না'।
♣ চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র: • হাঙর নদী গ্রেনেড; • ওরা ১১ জন; • ধ্রুবতারা; • সংগ্রাম; • মেঘের পরে মেঘ।
♣ খান আতাউর রহমান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র: • আবার তোরা মানুষ হ; • এখনো অনেক রাত।
♣ জহির রায়হান পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র: • Stop Genocide; • A State Is Born.
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো (১৮ ডিসেম্বর, ২০২১)।
২,২৯৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কত নং সেক্টরের অধীন ছিলো?
ক
ক) ১ নং সেক্টর
খ
খ) ২ নং সেক্টর
গ
গ) ৩ নং সেক্টর
ঘ
ঘ) ৯ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এর মধ্যে ফেনী নদী থেকে উত্তর দিকে আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত বৃহত্তর নোয়াখালী, বৃহত্তর কুমিল্লা, ফরিদপুর জেলার অংশ বিশেষ এবং ঢাকা শহর নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়। ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশারফ এবং মেজর এটিএম হায়দার। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
২,২৯৭.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের -
ক
ক) ২ মার্চ
খ
খ) ৩ মার্চ
গ
গ) ৫ মার্চ
ঘ
ঘ) ৮ মার্চ
ব্যাখ্যা
•পতাকা: - প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল। - গৃহীত হয় ৬ মার্চ। - সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে। - ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। - প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০) - প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে। - বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে। - জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।
- ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে প্রবাসী সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে। - এদের মধ্যে ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে ২ নং সেক্টর গঠিত হয়। - ২ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) এবং পরবর্তীতে মেজর এটিএম হায়দার (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)। - এই সেক্টরের হেডকোয়ার্টার্স ছিলো ভারতের মেলাঘর। সাব-সেক্টরের সংখ্যা ছিলো ছয়টি। (তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
২,২৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য তারামন বিবিকে কোন খেতাব প্রদান করা হয়?
ক
বীর বিক্রম
খ
বীর প্রতীক
গ
বীর উত্তম
ঘ
বীর মাতা
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি: - বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন। - একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি। - তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। - মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। - মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন। - তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন। - মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে। - মৃত্যুবরণ করেন ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।
তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, দৈনিক প্রথম আলো।
২,৩০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
ক
১ নং সেক্টর
খ
২ নং সেক্টর
গ
৪ নং সেক্টর
ঘ
৬ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
২ নং সেক্টর: - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত। - এ সেক্টরের বাহিনী গঠিত হয় ৪- ইস্টবেঙ্গল এবং কুমিল্লা ও নোয়াখালির ইপিআর বাহিনী নিয়ে। - আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। - সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার। - এই সেক্টরের অধীনে প্রায় ৩৫ হাজারের মতো গেরিলা যুদ্ধ করেছে। - নিয়মিত বাহিনীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬ হাজার। - এই সেক্টরে ছয়টি সাব-সেক্টর ছিল। - এই সেক্টরের বাহিনীর অভিযানের ফলে কুমিল্লা ও ফেনীর মধ্যবর্তী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে পাক-বাহিনী সম্পূর্ণ বিতাড়িত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিককালে এই এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকারে থাকে।