বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ৮০১৯০০ / ১,০৯৫

৮০১.
পোলিও রোগের প্রতিষেধক টিকা কী দিয়ে তৈরি হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. সায়ানো ব্যাকটেরিয়া
  3. ভাইরাস
  4. ছত্রাক
ব্যাখ্যা

পোলিও: 
- পোলিও একটি ভাইরাসজনিত রোগ। 
- পোলিও ভাইরাসে RNA থাকে। 
- এ রোগের নাম পোলিওমাইলিটিস। 
- পোলিও রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
- এছাড়াও, বসন্ত, জন্ডিস ও জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকাও ভাইরাস দিয়ে তৈরি করা হয়। 

তথ্যসূত্র: উদ্ভিদবিজ্ঞান ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৮০২.
মানবদেহে শতকরা কত ভাগ খনিজ লবণ থাকে?
  1. ক) ১৫%
  2. খ) ১%
  3. গ) ২%
  4. ঘ) ৪%
ব্যাখ্যা

ষষ্ঠ শ্রেণির বিজ্ঞান বোর্ড বই ২০২১ অনুসারে উত্তর ধরা হলো -
বিতর্ক থাকতে পারে। তাই, পরবর্তীতে অ্যাপ আপডেটের পরে তথ্যকল্পদ্রুম সিরিজে/ফিচারে আলোচনা করা হবে।

 

৮০৩.
নিপাহ্‌ ভাইরাস একটি ______ বাহিত ভাইরাস।
  1. ক) পানি
  2. খ) বাদুড়
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

নিপাহ্‌ ভাইরাস (NiV) মানুষের কাছ থেকে ছড়াতে পারে কিংবা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ যেমন বাদুড় বা শুয়োরের মাধ্যমেও ছড়ায়।
সোর্স: www.news-medical.net

৮০৪.
মানবদেহের প্রাথমিক প্রতিরক্ষা স্তর কোনটি?
  1. ক) ফ্যাগোসাইট
  2. খ) সিরুমেন
  3. গ) লিম্ফোসাইট
  4. ঘ) টি - সেল
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশগুলো হচ্ছে ত্বক, লোম, অশ্রু ও লালা, সিরুমেন, পোষ্টিক নালীর এসিড এবং রেচন-জননতন্ত্রের এসিড৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮০৫.
বাংলাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচীতে কয়টি রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ১০
  2. ১২
ব্যাখ্যা
 শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার এবং শিশুর পঙ্গুত্বের হার কমানোর লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল বাংলাদেশে সম্প্র্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়।
- শুরুতে ছয়টি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হলেও বর্তমানে ১০টি রোগের টিকা প্রদান করা হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- শিশুদের যক্ষ্মা
- পোলিও মাইলাইটিস
- ডিফথেরিয়া
- হুপিং কাশি
- মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার
- হেপাটাইটিস-বি
- হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি জনিত রোগসমূহ
- হাম
- রুবেলা
- নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া।

উৎসঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ICDDR,B ওয়েবসাইট।
৮০৬.
রক্তশূন্যতা বলতে বোঝায় -
  1. রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
  2. রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
  3. হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে যাওয়া
  4. অণুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
রক্তশূন্যতা (Anemia): 
- রক্তাশূন্যতার প্রধান কারণ রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া
- খাদ্যের প্রধান উপাদান ভিটামিন বি১২ এর অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- বাংলাদেশ সাধারণত লৌহ ঘটিত আমিষের অভাবে এ রোগ দেখা যায়। 
- শিশুদের ও গর্ভধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এ রোগ বেশি সংঘটিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৭.
'BNT116' কোন রোগের ভ্যাকসিন?
  1. জলাতঙ্ক
  2. ফুসফুস ক্যান্সার
  3. মাম্প্‌স
  4. এমপক্স
ব্যাখ্যা
বিশ্বে প্রথম ফুসফুস ক্যান্সারের টিকার নাম:
- রোগীদের মধ্যে বিশ্বের প্রথম ফুসফুস ক্যানসারে এমআরএনএ টিকার পরীক্ষা শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।
- বিএনটি১১৬ নামের এই টিকা বানিয়েছে বায়োএনটেক।
- নন-স্মল সেল লাং ক্যানসারের (এনএসসিএলসি) চিকিৎসার জন্য এই টিকা বানানো হয়েছে। ফুসফুসের এই ধরনের ক্যানসারেই সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়।
- বিএনটি ১১৬-এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রথম ধাপের ক্লিনিকাল ট্রায়াল ৭টি দেশের ৩৪টি গবেষণা কেন্দ্রে চালানো হবে।

সূত্র- বিবিসি রিপোর্ট।  
৮০৮.
ক্যান্সার নির্ণয়ে ব্যবহৃত তেজস্ক্রিয় গামা রশ্মির বিকিরণের উৎস কোনটি?
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোবার
  3. আইসোটোন
  4. আইসোমার
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন- 
খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮০৯.
যক্ষার টিকা আবিষ্কারক-
  1. ক) ক্যালসাট ও গুয়েচিন
  2. খ) ক্যালসাট ও ফ্লেমিং
  3. গ) গুয়েচিন ও জোনাস
  4. ঘ) মারটিনি ও কত
ব্যাখ্যা
যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি। টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
৮১০.
নিম্নের কোনটি বংশগত রোগ?
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) পোলিও
  3. গ) এপিলেপসি
  4. ঘ) হাঁপানি
ব্যাখ্যা
হাঁপানি একটি বংশগত রোগ। 

- হাঁপানি একটি শ্বাসকষ্ট সম্বলিত রোগ। যার মূল লক্ষণ হলো শ্বাস কষ্ট ও সাঁসাঁ শব্দে নিঃশ্বাস ফেলা।
- হাঁপানি আক্রমণের সময় শ্বাসনালীর আস্তরণ ফুলে যায়, যার ফলে শ্বাসনালী এতটাই সংকীর্ণ হয়ে যায় যে প্রশ্বাস ও নি:শ্বাসে শ্বাসবায়ুর গতি অনেকটাই কমে যায়। 

হাঁপানির কারণসমূহ-
১. ঘরের বিছানা, কার্পেট, আসবাবে জমে থাকা ধুলো। 
২. ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে।
৩. অফিসে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্য। 
৪. ঠাণ্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে।
৫. অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেও উঠতে পারে হাঁপানির টান।

হাঁপানির লক্ষণসমূহ-
১. কাশি-রাতে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে অনবরত কাশির সমস্যা।
২. নাকে সোঁ সোঁ শব্দ হওয়া-শ্বাস-প্রশ্বাসে সোঁ সোঁ শব্দ হওয়া। বিশেষ করে ঘুমের মধ্যে বাড়ে এই আওয়াজ।
৩. বুক শক্ত হয়ে ওঠা-বুকের মধ্যে চাপ বা ভারী ভাব অনুভব করা। 
৪. শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসা- অনেক সময় মনে হয় শ্বাস-প্রশ্বাস ছোট হয়ে আসছে বা ফুসফুস প্রয়োজনমতো অক্সিজেন ভরতে পারছে না।

চিকিৎসা-
- স্টেরয়েড, অ্যামাইনোফাইলিন, ক্রোমগ্লাইকেট ইত্যাদি প্রতিরোধক ওষুধ ব্যবহার করা হয়।
- হাঁপানির চিকিৎসায় ইনহেলার সবচেয়ে উপকারী এবং আধুনিক পদ্ধতি। এতে খুব অল্প মাত্রার ওষুধ প্রয়োগ করেই ভালো ফল পাওয়া যায়। খুব একটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হয় না।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮১১.
Origin of Species by Means of Natural Selection গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৫৩
  2. খ) ১৮৫৯
  3. গ) ১৮৫৮
  4. ঘ) ১৮৫২
ব্যাখ্যা
চার্লস ডারউইন বিবর্তনবাদ ধারণার জন্য প্রসিদ্ধ। তার বিখ্যাত গ্রন্থ Origin of Species by Means of Natural Selection প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালের ২৪ নভেম্বর।
সোর্সঃ history.com
৮১২.
ইনসুলিন নিঃসৃত হয় কোথায় থেকে?
  1. লিভার হতে
  2. পিটুইটারী গ্ল্যান্ড হতে
  3. প্যানক্রিয়াস হতে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি হচ্ছে প্যানক্রিয়াস।
প্যানক্রিয়াস(pancrea) হল মানুষের একটি অংগ যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। পাকস্থলী যেখানে শেষ হয়, ডিওডেনাম সেখানে শুরু হয়। আর ডিওডেনামের পিছনেই এটির অবস্থান।

এটা মূলত দুই ধরনের কাজ করে।
১) খাদ্য হজমের জন্য পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস তৈরি করে পাকস্থলীতে সরবরাহ করে।
২) ইন্সুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮১৩.
কোনটি উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে?
  1. বিষন্নতা
  2. বংশগত কারণে
  3. নিদ্রাহীনতা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপ: 
- উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। 
- শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে, তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। 
- রক্তের চাপ যদি কম থাকে তা হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলে। 
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃদপিণ্ড থেকে ধমনির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমিন গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি হয় সব সময় ১৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক সব সময় ৯৫ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি থাকে, তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলা যায়। 
- উত্তেজনা, চিন্তা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোনো কারণে যদি রক্তচাপ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে, তবে তাকে হাইপারটেনশন বলা যাবে না এবং এ অবস্থায় কোনো ওষুধরেও প্রয়োজন হয় না। 
- উচ্চ রক্তচাপ বংশগত (Genetic High blood presere) হতে পারে। 
- উচ্চরক্তচাপ ভীতির কোনো কারণ নয় তবে নিয়মিত ঔষধ সেবনে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। 

- হৃদপিণ্ড থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমনি প্রাচীরে যে চাপের সৃষ্টি করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ড একটা নির্দিষ্ট নিয়মে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণকে যথাক্রমে সিস্টোল (Systole) এবং ডায়াস্টোল (Diastole) বলে। 
- মানুষের রক্তচাপ প্রধানত অ্যাসকালটেটরি (Auscultatory) পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়।
- অ্যাসকালটেটরি বা শ্রুতি নির্ভর পদ্ধতি (Auscultatory Method)। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৪.
স্নায়ুকোষ বা নিউরনের ক্ষেত্রে সঠিক নয়-
  1. ক) এর কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না
  2. খ) এটি মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ
  3. গ) এর কোষদেহে সাইট্রোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস থাকে
  4. ঘ) অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয়
ব্যাখ্যা
স্নায়তন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে। নিউরন মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ। নিউরন দুইটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- ক) কোষদেহ এবং খ) প্রলম্বিত অংশ।
কোষদেহ : কোষদেহ নিউরনের প্রধান অংশ। কোষদেহ বিভিন্ন আকৃতির হয়, যেমন-গোলাকার, ডিম্বাকার বা নক্ষত্রাকার। কোষদেহ কোষ আবরণী, সাইট্রোপ্লাজম ও নিউক্লিয়াস দ্বারা গঠিত। এই কোষে সেন্ট্রিওল থাকে না। তাই এরা অন্যান্য কোষের মতো বিভাজিত হয় না।
প্রলম্বিত অংশ : কোষদেহ থেকে উৎপন্ন শাখা-প্রশাখাকে প্রলম্বিত অংশ বলে। প্রলম্বিত অংশ দুই প্রকার। যথা- ১) অ্যাক্সন এবং ২) ডেনড্রন।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৮১৫.
রোগীর জন্ডিস শরীরের কোন স্থানে ভালোভাবে ফুটে ওঠে?
  1. হাতের তালু
  2. চোখের sclera
  3. চোখের Conjunctiva
  4. জিহ্বার তলদেশ
ব্যাখ্যা
জন্ডিস হল এমন একটি অবস্থা যা শরীরে অতিরিক্ত বিলিরুবিন জমার কারণে ত্বক, চোখ এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লি হলুদ হয়ে যায়।
- বিলিরুবিন হল একটি হলুদ রঙ্গক যা লাল রক্তকণিকা ভাঙ্গনের সময় গঠিত হয়। জন্ডিসের উপস্থিতি লিভার, গলব্লাডার বা লোহিত রক্তকণিকা ভাঙ্গনের সাথে একটি অন্তর্নিহিত সমস্যা নির্দেশ করে। 

- ত্বক এবং চোখের হলুদ হওয়া

- গাঢ় প্রস্রাব: জন্ডিস গাঢ় রঙের প্রস্রাব হতে পারে, যা প্রস্রাবে অতিরিক্ত বিলিরুবিনের উপস্থিতির ফলস্বরূপ।

- ফ্যাকাশে মল: অন্ত্রে বিলিরুবিনের অভাবের কারণে মল ফ্যাকাশে বা মাটির রঙের হয়ে যেতে পারে।

- চুলকানি (প্রুরিটাস): জন্ডিস ত্বকে তীব্র চুলকানির কারণ হতে পারে, যা কিছু ব্যক্তির জন্য বিরক্তিকর হতে পারে।

- ক্লান্তি এবং দুর্বলতা: জন্ডিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা ক্লান্তি এবং দুর্বলতা অনুভব করতে পারেন, কারণ অন্তর্নিহিত লিভার বা গলব্লাডার সমস্যা শরীরের পুষ্টি প্রক্রিয়াকরণ এবং শক্তি উত্পাদন করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

পেটে ব্যথা: পিত্তথলি-সম্পর্কিত জন্ডিসের ক্ষেত্রে, পেটে ব্যথা, বিশেষ করে উপরের ডান চতুর্ভুজ অংশে হতে পারে।

- ক্ষুধা হ্রাস: জন্ডিস ক্ষুধা হ্রাস এবং অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস হতে পারে।

- বমি বমি ভাব এবং বমি: জন্ডিসে আক্রান্ত কিছু ব্যক্তির বমি বমি ভাব এবং বমি হতে পারে।

- মানসিক বিভ্রান্তি (হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি): গুরুতর ক্ষেত্রে, যকৃতের কর্মহীনতার সাথে সম্পর্কিত জন্ডিস মানসিক বিভ্রান্তি, স্মৃতির সমস্যা এবং পরিবর্তিত চেতনা হতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৮১৬.
করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোন দেশ হতে?
  1. ইতালি
  2. দক্ষিণ কোরিয়া
  3. চীন
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
- ১১ মার্চ ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে। 
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে। 
- ১১ জানুয়ারি ২০২০ চীনের উহানে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়। 
- ভাইরাসটির অফিসিয়াল নাম - Severe Acute Respiratory Syndrome Coronavirus 2 (SARS-CoV-2)। 
- এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যে রোগটি হয়, তার অফিসিয়াল নাম - Coronavirus Disease (COVID-19)। 

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৮১৭.
নিচের কোনটি ভাইরাসের দেহে বিদ্যমান?
  1. রাইবােসােম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. সাইটোপ্লাজম
  4. নিউক্লিক অ্যাসিড
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস কখনও জীবের ন্যায় আচরণ করে, আবার কখনও জড়ের ন্যায় আচরণ করে। 
- তাই ভাইরাসে জীব এবং জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 

ভাইরাসে জীব বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে। 
- পােষক কোষের অভ্যন্তরে এরা সংখ্যাবৃদ্ধি করতে পারে। 
- এতে জেনেটিক রিকম্বিনেশন ঘটতে দেখা যায়। 
- ভাইরাস মিউটেশন ঘটাতে এবং প্রকরণ তৈরি করতে সক্ষম। 
- নতুন সৃষ্ট ভাইরাসে মূল ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে অর্থাৎ একটি ভাইরাস তার অনুরূপ ভাইরাস জন্ম দিতে পারে। 

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য: 
- ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষ ঝিল্লী, কোষ প্রাচীর, রাইবােসােম, মাইটোকন্ড্রিয়া, নিউক্লিয়াস ইত্যাদি থাকে না। 
- এদের বিপাকীয় এনজাইম এবং পুষ্টি প্রক্রিয়া অনুপস্থিত। 
- এদের কোন জৈবিক কার্যকলাপ যেমন প্রজনন অন্য সজীব কোষ ছাড়া ঘটতে পারে না। 
- ভাইরাসকে কেলাসিত করা যায়, সেন্ট্রিফিউজ করা যায়, ব্যাপন করা যায়, পানির সাথে মিশিয়ে সাসপেনশন তৈরি করা যায় এবং তলানিও করা যায়। 
- জীবকোষের বাইরে ভাইরাস রাসায়নিক কণার ন্যায় নিষ্ক্রিয় থাকে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৮.
মানুষের ক্রোমোজোম এ মোট কত জোড়া অটোজোম থাকে?
  1. ২৩ জোড়া
  2. ২২ জোড়া
  3. ২ জোড়া
  4. ২১ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের ক্রোমোজোমের মোট 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম এবং 22 জোড়া অটোজোম থাকে।
উৎস: নবম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান।
৮১৯.
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি কোনটি?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) প্রোটোজোয়া
  4. ঘ) ফানজাই
ব্যাখ্যা
জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি হলো ব্যাকটেরিয়া।

ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা
- মৃত জীবদেহ ও আবর্জনা পঁচাতে সাহায্য করে। 
- একমাত্র ব্যাকটেরিয়াই প্রকৃতি থেকে মাটিতে নাইট্রোজেন সংরক্ষণ করে।
- পাট থেকে আঁশ ছাড়াতে ব্যাকটেরিয়া সাহায্য করে ৷
- দই তৈরি করতে ও ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নিতে হয়।
- বিভিন্ন জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া থেকে তৈরি হয়।
- ব্যাকটেরিয়া জীন প্রকৌশলের মূল ভিত্তি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে জীবের কাঙ্খিত বৈশিষ্ট্য পাওয়ার জন্য জীনগত পরিবর্তনের কাজে ব্যাকটেরিয়াকে ব্যবহার করা হয় ৷

সূত্র- ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৮২০.
শিশুর বয়স কত হলে হাম ও রুবেলার টিকা দিতে হয়?
  1. ১২ মাস
  2. ৬ সপ্তাহ
  3. ৯ মাস
  4. ১৫ মাস
ব্যাখ্যা
রোগের নাম টিকার নাম ডোজের সংখ্যা টিকা শুরু করার সঠিক সময়
যক্ষা বিসিজি জন্মের পর থেকে
ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ৬ সপ্তাহ
নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া পিসিভি ভ্যাকসিন ৬ সপ্তাহ
পোলিওমাইলাইটিস ওপিভি ৪* ৬ সপ্তাহ
হাম ও রুবেলা এমআর টিকা ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে
       
উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৮২১.
'Ebola' has not spread out in epidemic form in which of the following countries?
  1. Nigeria
  2. Sierra Leon
  3. Guinea
  4. Liberia
ব্যাখ্যা
ইবোলা:

- নিরক্ষীয় আফ্রিকার দেশগুলো প্রায় চার দশক ধরে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের সম্মুখীন হয়েছে।
- ২৩ মার্চ ২০১৪ এর মধ্যে যা এই প্রধানত গিনি, লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ব্যাপক প্রাণহানি এবং আর্থ-সামাজিক ব্যাঘাত ঘটায়।
- ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গিনিতে প্রথম মামলা রেকর্ড করা হয়েছিল।
- পরবর্তীতে, রোগটি প্রতিবেশী লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে অন্যত্র সামান্য প্রাদুর্ভাব ঘটে।
- 'ইবোলা' নাইজেরিয়াতে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েনি।

তথ্যসূত্র - WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৮২২.
শিশুর হাম ও রুবেলার এমআর টিকা প্রদানের সময় কোনটি?
  1. ৬ মাস বয়সে
  2. ৯ মাস এবং ১৫ মাস বয়সে
  3. ৬ মাস এবং ৫ বছর বয়সে
  4. ৩ মাস এবং ৬ মাস বয়সে
ব্যাখ্যা
- শিশুর জন্মের ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে এসব টিকার একটি করে ডোজ অর্থাত চার সপ্তাহ বিরতিতে একেকটি টিকার তিন ডোজ সম্পন্ন করা হয়।
- পেন্টাভ্যালেন্ট হল ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশ (পারটুসিস), ধনুষ্টংকার (টিটেনাস), হিমোফিলিস, ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে সমবেত একটি টিকা।
- শিশুর বয়স নয় মাস এবং ১৫ মাস বয়সে যথাক্রমে হাম ও রুবেলার প্রতিষেধক এমআর টিকা দেয়া হয়। 
- শিশুর ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হয়।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ফ্যাক্ট-শিট অনুযায়ী শিশু জন্মের পরপরই যক্ষ্মা বা টিবি প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেয়া হয়। 
- শিশু জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যে আরও তিনটি টিকা দিতে হয়। যথা-
• পোলিওর প্রতিষেধক ওরাল পোলিও ভ্যাকসিন-ওপিভি,
• নিউমোনিয়ার প্রতিষেধক নিউমোককাল কনজুগেট ভ্যাকসিন-পিসিভি এবং
• পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা।

উৎস: bbc
৮২৩.
খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে কী বলে?
  1. ক) পুষ্টি
  2. খ) ভিটামিন
  3. গ) পরিপোষক
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

পুষ্টি হলো পরিবেশ থেকে প্রয়ােজনীয় খাদ্যবস্তু আহরণ করে খাদ্যবস্তুকে পরিপাক ও শোষণ করা এবং আত্তীকরণ দ্বারা দেহের শক্তির চাহিদা পুরণ, রোগ প্রতিরোধ, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করা। পুষ্টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Nutrition.
অপরদিকে খাদ্যের যেসব জৈব অথবা অজৈব উপাদান জীবের জীবনীশক্তির যোগান দেয়, তাদের একসঙ্গে পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস বলে৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৮২৪.
'O' ব্লাড গ্রুপ বিশিষ্ট রক্তে কোন অ্যান্টিবডি থাকে?
  1. ক) A
  2. খ) a
  3. গ) B
  4. ঘ) a ও b
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ:
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে রক্ত গ্রুপ বলে।
- রক্ত কণিকায় অ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত।
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে এবং a, b দুইটি অ্যান্টিবডি থাকে।
- A অ্যান্টিজেন ও a অ্যান্টিবডি একসাথে থাকলে রক্ত জমাট বেঁধে যায়। একই ভাবে B অ্যান্টিজেন ও b অ্যান্টিবডির ক্ষেত্রেও একই।
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায় । যথা- O, A, B এবং AB।

0 রক্তের গ্রুপ:
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই কিন্তু a, b দুইটি অ্যান্টিবডি থাকে।
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে।

AB রক্তের গ্রুপ:
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে কিন্তু কোন অ্যান্টিবডি থাকে না।
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

A রক্তের গ্রুপ:
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে এবং b অ্যান্টিবডি থাকে।
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে।

B রক্তের গ্রুপ:
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে a অ্যান্টিবডি থাকে।
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত দান করতে পারে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম।
৮২৫.
কোনটি ছোঁয়াচে রোগ নয়?
  1. ক) মাম্পস
  2. খ) যক্ষা
  3. গ) স্ক্যাবিস
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা
ছোয়াচে রোগগুলো হলঃ মাম্পস, স্ক্যাবিস, হার্পিস, যক্ষা।
এইডস রোগটি রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়।
৮২৬.
মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন কত?
  1. ক) ১৫০০ ঘন সেমি
  2. খ) ১৮০০ ঘন সেমি
  3. গ) ২০০০ ঘন সেমি
  4. ঘ) ১০০০ ঘন সেমি
ব্যাখ্যা
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
- মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেমি।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮২৭.
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
- এটি ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান কার্যালয় লন্ডনে অবস্থিত।
- এর বর্তমান মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড।
- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রথম নারী ও এশীয় মহাসচিব ছিলেন বাংলাদেশের আইরিন খান।
- সংস্থাটি ১৯৭৭ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট)
৮২৮.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত মিলিমিটার অব মার্কারি?
  1. ক) ১০০/৫০
  2. খ) ১৪০/৭০
  3. গ) ১২০/৮০
  4. ঘ) ১৫০/৯০
ব্যাখ্যা
রক্তনালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রাচীর গাত্রে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ডের নিলয়ের সংকোচন অবস্থায় রক্তচাপ বেশি থাকে এবং এ চাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- অপরদিকে ভেন্ট্রিকলের প্রসারণ অবস্থায় রক্তচাপ সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে আসে। একে বলা হয় ডায়াস্টোলিক চাপ।
- একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ হলো ১১০-১২০ মি.মি. (পারদ) এবং স্বাভাবিক ডায়াস্টোলিক চাপ ৭০-৮০ মি.মি. (পারদ)।
- এজন্য মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ গড়ে ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)।
৮২৯.
শিশুদের মেরাসমাস ও কোয়াশিয়রকর রোগ হয়-
  1. ক) আমিষের অভাবে
  2. খ) ক্যালসিয়ামের অভাবে
  3. গ) ভিটামিন-সি এর অভাবে
  4. ঘ) লৌহের অভাবে
ব্যাখ্যা
শিশুদের মেরাসমাস ও কোয়াশিয়রকর রোগ হয় আমিষ বা প্রোটিনের অভাবে। এর ফলে দেখা দেয় রক্তস্বল্পতা। উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩০.
এইডসের ক্ষেত্রে সত্য নয় কোনটি?
  1. হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
  2. এটি যক্ষ্ম এবং কিছু ক্যান্সারের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়া সহজ করে তোলে।
  3. এটি চুম্বন ও খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়।
  4. এইচআইভি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা
এইডস:
- এইচআইভি নামক ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।
- এইচআইভি এর পূর্ণরূপ হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস।
- এ ভাইরাস মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়।
- এটি যক্ষ্মা, সংক্রমণ এবং কিছু ক্যান্সারের মতো রোগে অসুস্থ হওয়া সহজ করে তোলে।
- রক্ত, বুকের দুধ, বীর্য এবং যোনিপথের তরল সহ সংক্রামিত ব্যক্তির শরীরের তরল থেকে এইচআইভি ছড়ায়।
- এটি চুম্বন, আলিঙ্গন বা খাবার ভাগ করে ছড়ায় না।
- এটি একজন মা থেকে তার শিশুর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
- এইচআইভি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল থেরাপি (এআরটি) দিয়ে চিকিত্সা এবং প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

এইচআইভির লক্ষণ:
- ১০ দিনের বেশি সময় ধরে জ্বর।
- দীর্ঘমেয়াদে ডায়রিয়া।
- মুখে বা জরায়ুমুখে ছত্রাকের সংক্রমণ (মুখে বা জিহ্বায় পুরু, সাদাটে স্তর কিংবা জরায়ুমুখ থেকে সাদাটে তরল নিঃসরণ এবং জরায়ুমুখে চুলকানি)।
- মুখ, গলা, যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারে ঘা।
- কোনো কারণ ছাড়াই ওজন হ্রাস।
- ঘাড় বা কুঁচকিতে গোটা গোটা, ফোলা।
- কোনো কারণ ছাড়াই শরীরের কোনো স্থান থেকে রক্তক্ষরণ।
- অকারণে সব সময় অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ।

তথ্যসূত্র - WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ০১ ডিসেম্বর ২০২২।
৮৩১.
নিম্নলিখিত কোন ভ্যাকসিন মৃত জীবাণু ব্যবহার করে তৈরি হয়?
  1. BCG ভ্যাকসিন
  2. হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন
  3. ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন
  4. ডিএনএ টিকা
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা: 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
যেমন- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত: 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
যেমন- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩২.
'পোলিওমাইলাইটিস' রোগের বিরুদ্ধে কোন টিকা দেওয়া হয়?
  1. ক) বিসিজি
  2. খ) ডিপিটি
  3. গ) পিসিভি
  4. ঘ) ওপিভি
ব্যাখ্যা
রোগের নাম - পোলিওমাইলাইটিস
টিকার নাম - ওপিভি
ডোজের সংখ্যা - ৪*
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - যক্ষা
টিকার নাম - বিসিজি
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - জন্মের পর থেকে

রোগের নাম - ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি
টিকার নাম - পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব)
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - নিউমোকক্কাল নিঊমোনিয়া
টিকার নাম - পিসিভি ভ্যাকসিন
ডোজের সংখ্যা - ৩
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৬ সপ্তাহ

রোগের নাম - হাম ও রুবেলা
টিকার নাম - এমআর টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ৯ মাস বয়স পূর্ণ হলে

রোগের নাম - হাম
টিকার নাম - হামের টিকা
ডোজের সংখ্যা - ১
টিকা শুরু করার সঠিক সময় - ১৫ মাস বয়স পূর্ণ হলে

উৎস: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৮৩৩.
পোলিও রোগের টিকার নাম কী?
  1. ওপিভি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি
  4. পিভিসি
ব্যাখ্যা
• পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি।

• ওপিভি (Oral Polio Vaccine):
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন।
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
- পোলিও একটি সংক্রামক রোগ।
- এটি দূষিত খাদ্য, পানি দ্বারা দেহে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশ পোলিও মুক্ত হয় ২০০৬ সালে।

• পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ:
- মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়।
- জ্বর থাকে।
- শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়।
- শিশু দাঁড়াতে চায় না।
- উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে।
- দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না।
- শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকার নাম ডিপিটি।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বাংলাপিডিয়া।
৮৩৪.
মেডিক্যাল আল্ট্রাসাউন্ড ইমেজিংয়ে কত ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ প্রয়োগ করা হয়?
  1. ০.০১-০১ মেগাহার্জ
  2. ১-১০ মেগাহার্জ
  3. ১০-২০ মেগাহার্জ
  4. ২০-৩০ মেগাহার্জ
ব্যাখ্যা

◉ আল্ট্রাসনোগ্রাফি (Ultrasonography)–তে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ হলো Ultrasound, যার কম্পাঙ্ক সাধারণত ১-১০ মেগাহার্জ। 

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
– আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
– উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
– রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
– আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
– এর সাহায্যে ভ্রুণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
– প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
– আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
– এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

৮৩৫.
গর্ভবর্তী মায়ের খিচুনী হলে নিচের কোন medicine দিবেন?
  1. Inj-MagSO4
  2. Inj-Phenytonin
  3. Inj-Diazepam
  4. Inj-Ceftrioxene
ব্যাখ্যা
সংক্ষেপে "Inj-MagSO4" ম্যাগনেসিয়াম সালফেট নামে পরিচিত একটি ইনজেকশনযোগ্য ওষুধকে বোঝায়।
- ম্যাগনেসিয়াম সালফেট বিভিন্ন থেরাপিউটিক উদ্দেশ্যে ওষুধের ক্ষেত্রে সাধারণত ব্যবহৃত ওষুধ।


খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ:
এটি একলাম্পসিয়া বা ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ধরণের খিঁচুনি  নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

Preeclampsia and Eclampsia: 
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট গর্ভবতী ব্যক্তিদের দেওয়া হয় যাদের প্রিক্ল্যাম্পসিয়া (উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য উপসর্গ দ্বারা চিহ্নিত একটি অবস্থা) বা এক্লাম্পসিয়া (যাতে প্রিক্ল্যাম্পসিয়ার লক্ষণ ছাড়াও খিঁচুনি অন্তর্ভুক্ত) হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বা রয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮৩৬.
হেপাটাইটিস এ কোনটির সাহায্যে লিভারের সংক্রমণ ঘটায়?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. অ্যামিবা
  4. প্রটোজোয়া
ব্যাখ্যা
তরুণদের জন্ডিসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হেপাটাইটিস এ ভাইরাস দ্বারা লিভারের সংক্রমণ ঘটায়। এটি দূষিত খাবার ও পানি খাওয়ার মাধ্যমে বা সংক্রামক ব্যক্তির সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়ায়।
৮৩৭.
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় কোনটি?
  1. ক) High Density Lipoprotein
  2. খ) Low Density Lipoprotein
  3. গ) Triglyceride
  4. ঘ) Very Low Density Lipoprotein
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের প্রায় প্রত্যেক কোষ ও টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
- LDL (Low Density Lipoprotein)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- সাধারণত মানুষের রক্তে ৭০% LDL থাকে।
- HDL (High Density Lipoprotein)-কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- আর ট্রাই-গ্লিসারাইড চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে।
- ট্রাই-গ্লিসারাইড মানুষের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।

সূত্র: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৮৩৮.
খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয় কোনটি? 
  1. মুখবিবর
  2. গলবিল
  3. ক্ষুদ্রান্ত্র
  4. বৃহদন্ত্র
ব্যাখ্যা
গলবিল: 
- মুখবিবরের ঠিক পেছনে প্রায় ১০ সে.মি. দীর্ঘ চওড়া অংশকে গলবিল বলে। 
- গলবিল খাদ্যকে মুখবিবর থেকে অন্ননালিতে পৌঁছে দেয়। 

অন্ননালি: 
- গলবিলের ঠিক পেছনে প্রায় ২৫ সে.মি. লম্বা নলাকার অংশই অন্ননালি যা, শ্বাসনালির পেছন ও বক্ষ গহ্বরের মধ্যে দিয়ে উদরে অবস্থিত পাকস্থলিতে শেষ হয়। 
- অন্ননালির পেশির সংকোচনে খাদ্যদ্রব্য নালি পথে পাকস্থলিতে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৩৯.
ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত উপাদান কী?
  1. DNA
  2. RNA
  3. প্রোটিন
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা

• ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস একটি RNA ভাইরাস, যার জিনগত উপাদান হলো একক-সুতোয় (single-stranded) RNA।

- এটি Orthomyxoviridae পরিবারভুক্ত।
- ভাইরাসটির RNA আটটি অংশে বিভক্ত থাকে, যা বিভিন্ন প্রোটিন কোড করে।
- এই RNA গঠন ভাইরাসকে দ্রুত মিউটেশন বা পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম করে, ফলে নতুন স্ট্রেইন তৈরি হয় (যেমন: H1N1, H3N2)।
- DNA ভাইরাসের মতো এটি DNA ব্যবহার করে না, বরং RNA থেকেই প্রোটিন তৈরি করে প্রতিলিপি (replication) সম্পন্ন করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
- Britannica [লিংক]।

৮৪০.
স্বাভাবিক সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার হলো -
  1. < 150 mmHg
  2. < 130 mmHg
  3. < 140 - 159 mmHg
  4. < 160 mmHg
ব্যাখ্যা
- স্বাভাবিক সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার - ১৩০ এর কম থাকে।
- সর্বোত্তম সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার হলো - ১২০ এর কম।
- ১৩০ - ১৩৯ হলে সেটা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ধরা হয়।

৮৪১.
কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব কোনটি?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ফাঙ্গাস
  4. প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
• কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব হলো ব্যাকটেরিয়া। 

• কলেরা:
- কলেরা (Cholera) একটি পানিবাহিত সংক্রামক রোগ, যার প্রধান লক্ষণ হলো অতিরিক্ত ডায়রিয়া এবং পানি শূন্যতা (dehydration)।

• রোগের কারণ:
- এই রোগের কারণ হলো Vibrio cholerae নামক একটি ব্যাকটেরিয়া।
- এই ব্যাকটেরিয়া দূষিত পানি বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে সংক্রমণ সৃষ্টি করে।

• রোগের লক্ষণ:
- হঠাৎ পানির মতো পাতলা ডায়রিয়া। 
- বমি।
- শরীরের পানি ও লবণ ঘাটতি।
- চোখ বসে যাওয়া, দুর্বলতা, ও যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়, মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে ।

• প্রতিকারের উপায়:
- বিশুদ্ধ পানি পান করা। 
- সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা।
- ভ্যাকসিন (Oral Cholera Vaccine – OCV) গ্রহণ। 
- ORS (Oral Rehydration Salts) দ্রুত প্রয়োগ। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
- World Health Organization (WHO).
৮৪২.
মা ও শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য কোন ভ্যাকসিন দেওয়া হয়?
  1. Tetanus toxoid
  2. Measles vaccine
  3. Oral Polio Vaccine
  4. Bacillus Calmette Guerin
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কিছু রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
- মা ও শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে - 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৪৩.
Vit-A এর অভাবে-
  1. ক) রাতকানা
  2. খ) এনিমিয়া
  3. গ) ক্ষুধামন্দা
  4. ঘ) মানষিক হতাশা
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৮৪৪.
এইচআইভি সংক্রমণে মানবদেহের কোন কোষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
  1. প্লেটলেট
  2. RBC
  3. T4 লিম্ফোসাইট
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• এইচআইভি (HIV) সংক্রমণে মানবদেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি নির্দিষ্ট কোষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেটি হলো T4 লিম্ফোসাইট, যাকে CD4 টি-হেলপার সেলও বলা হয়। এই ভাইরাসটি মূলত এই কোষের গায়ে থাকা CD4 রিসেপ্টরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ধীরে ধীরে কোষটিকে ধ্বংস করে দেয়। T4 লিম্ফোসাইট শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এই কোষের সংখ্যা কমে গেলে রোগীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে যায় এবং AIDS-এর মতো জটিল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) T4 লিম্ফোসাইট।
 
• AIDS:
- AIDS হলো Acquired (অর্জিত) Immune (ইমিউন বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) Deficiency (ডেফিসিয়েন্সি বা হ্রাস) Syndrome (সিনড্রোম বা অবস্থা) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অর্থাৎ, বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।

• HIV:
- Human Immunodeficiency Virus (HIV) নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্তকণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ। এইডস বিশ্বব্যাপি বিস্তৃত (pandemic) একটি ভয়াবহ যৌন রোগ যা প্রতিনিয়ত আরো বিস্তৃত হচ্ছে।

• আক্রমণের পর্যায়:
- HIV ভাইরাসের envelope এ থাকা gp120 প্রোটিনের মাধ্যমে এটি CD4 receptor-এর সাথে যুক্ত হয়।
- ভাইরাস কোষে প্রবেশ করে এবং নিজের প্রতিলিপন করে।
- ধীরে ধীরে T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস হয়ে যায়।
- রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, এর ফলে চূড়ান্ত অবস্থায় সাধারণ রোগেও মৃত্যু হতে পারে। 

• প্রতিরোধ: 
- নিরাপদ যৌনমিলন করা এবং ধর্মীয় ও সামাজিক বিধি-বিধান মেনে চলা।
- যৌনমিলনের সময় কনডম ব্যবহার করা।
- অস্বাভাবিক যৌনমিলন, বহুগামিতা, সহকামিতা এবং পতিতাগামিতা পরিহার করা।
- যৌনসঙ্গী নির্বাচনে সতর্ক থাকা।
- HIV আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা।
- এইডস আক্রান্ত মায়ের সন্তান ধারণ অথবা সন্তানকে বুকের দুগ্ধ পান করানো থেকে বিরত রাখা।
-  রক্ত গ্রহণের আগে HIV সংক্রমিত কিনা তা পরীক্ষা করা।
- ইনজেকশন গ্রহণের সময় পরিশোধিত বা নতুন সিরিঞ্জ ও সুঁই ব্যবহার করা।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।

৮৪৫.
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. রক্তশূন্যতা 
  2. অস্টিওম্যালেসিয়া
  3. রাতকানা 
  4. স্কার্ভি 
ব্যাখ্যা

ক্যালসিয়াম (Ca): 
- এটি প্রাণীদের হাড় এবং দাঁতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম।
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- রক্তে এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি লক্ষণীয়।
- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, পালংশাক, কচুশাক, লালশাক, কলমিশাক, বাঁধাকপি এবং ফল।
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিন্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে।
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়।
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৪৬.
'রিং স্পট (Ring spot)' রোগটি কোন ফলে দেখা যায়?
  1. ক) আম
  2. খ) পেঁপে
  3. গ) কলা
  4. ঘ) লিচু
ব্যাখ্যা
রিং স্পট রোগটি পেঁপের মাঝে দেখা যায়।

- রিং স্পট ভাইরাস দ্বারা পেঁপের রিংস্পট রোগ হয়।
- ভাইরাস টি সাধারণত পাপায়য়া রিংস্পট ভাইরাস নাম পরিচিত।
- এটি ৭৬০-৮০০ নেনোমিটার লম্বা এবং এর ব্যাস ১২ নেনোমিটার।
- পেঁপে ছাড়াও এ ভাইরাস কুমড়া জাতীয় উদ্ভিদে মোজাইক রোগের সৃষ্টি করে।
- ক্যাপসিডের বাইরে এর কোন আবরণ নেই।এটি একটি আর.এন.এ ভাইরাস। 

রোগের লক্ষণসমূহ- 
১) উদ্ভিদ জন্মের সাথে সাথে এ রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে । সংক্রমণের ৩০-৪০ দিন এর মধ্যেই প্রথম রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় ।
2) ক্লোরপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে পাতায় হলদে-সবুজ মোজাইকের মতো দাগ পড়ে ।
৩) কান্ড পাতার বোঁটা ও ফলে তৈলাক্ত বা পানি সিক্ত গাঢ় সবুজ দাগ সৃষ্টি হয়।
৪) অপেক্ষাকৃতো কম বয়সের পাতায়ই রোগের লক্ষণ প্রথম প্রকাশ পায় ।
৫) আক্রমণ বেশী হলে পাতায় বহুল পরিমানে মোজায়িক সৃষ্টি হয়,পাতা আকৃতিতে ছোট ও কুকড়ে যায়,গাছের মাথায় বিকৃত আকৃতির ক্ষুদ্রাকায় কিছু পাতা লক্ষ্য করা যায়।অন্যান্য পাতা ঝরে পড়ে।কখনো কখনো পাতার কেবল শিরাগুলো থাকে।
৬) আক্রান্ত ফলের উপর পানি ভেজা গোলাকার দাগ পড়ে এবং দাগের মধ্যবর্তী স্থান শক্ত হয়ে যায়।
৭) পেঁপে হলুদ হয়ে যায়,রিংস্পট লক্ষণ প্রকাশিত হয়,আকর ছোট হয়ে যায়।অনেক সময় পুষ্ট হবার আগেই ঝরে যায় ।
৮) পেঁপের মিষ্টতা ও পেপেইন হ্রাস পায় ।
৯) ফলন শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৭.
প্রোটিন সংশ্লেষণ করা কোনটির প্রধান কাজ?
  1. ক) ক্লোরোপ্লাস্ট
  2. খ) লাইসোজোম
  3. গ) নিউক্লিয়াস
  4. ঘ) রাইবোজোম
ব্যাখ্যা
রাইবোজোমের প্রধান কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। এজন্য রাইবোজোমকে প্রোটিন ফ্যাক্টরি বলা হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৪৮.
গর্ভাবস্থায় আয়রন এবং ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট কখন থেকে নিয়মিত গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়?
  1. প্রথম মাস থেকে
  2. পঞ্চম মাস থেকে 
  3. দ্বিতীয় মাস থেকে 
  4. তৃতীয় মাস থেকে
ব্যাখ্যা

গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
- গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। 
- তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
- গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে।
- গর্ভকালীন সময় রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে ডাক্তারের নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলার পরামর্শ দেন- 
• প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হয়। 
তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
• আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
• ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪৯.
মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) চোখ
  2. খ) কান
  3. গ) নাক
  4. ঘ) জিহ্বা
ব্যাখ্যা

কানের অংশ হলো তিনটি- বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। অন্তঃকর্ণের স্যাকুলাস ও ইউট্রিকুলাস শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত।
এটি দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্ককে সাহায্য করে এবং দেহ অবস্থানের অনুভূতির উদ্রেক করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৫০.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কোন এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে?
  1. পেপসিন
  2. লাইপেজ
  3. টায়ালিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে।  
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে। 
- আর লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫১.
মানবদেহের ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত করে -
  1. ক) B-লিস্ফোসাইট
  2. খ) T-লিস্ফোসাইট
  3. গ) ইন্টারফেরন
  4. ঘ) লাইসোজাইম
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিরক্ষা
- মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ নিয়মতান্ত্রিকভাবে একত্রে দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় কোন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, পরজীবী ও অন্যান্য জীবাণুর আক্রমণ থেকে মানুষকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাকে বলা হয় ইমিউনিটি।
- দেহের বিভিন্ন অঙ্গ, কলা ও কোষ সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্রদেহকে রোগাক্রমণের হাত থেকে এবং রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করে তাকে ইমিউন তন্ত্র বলা হয়।

- রোগ প্রতিরোধে ইমিউনিটির প্রধান উদ্দেশ্য তিন প্রকারের। যথা-
১। অণুজীবদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা,
২। দেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোকে শনাক্ত করা ও প্রতিস্থাপিত করা
৩। পরিত্যক্ত বা নষ্ট কোষগুলোকে শনাক্ত করা এবং তাদের ধ্বংস করা।

- B-লিস্ফোসাইট: কোষ অ্যান্টিবডির মাধ্যমে রস নির্ভর প্রতিরক্ষা সৃষ্টি করে।
- T-লিস্ফোসাইট: অ্যান্টিবডির মাধ্যমে কোষ নির্ভর প্রতিরক্ষা দিয়ে থাকে।
- কমপ্লিমেন্ট: ১১টির বেশী সিরাম প্রোটিনের সমন্বয়ে জীবাণু সংক্রমন রোধে কাজ করে।
- লাইসোজাইম: ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধবংস করে।
- ইন্টারফেরন: এক ধরনের প্রোটিন যা ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি ব্যাহত করে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৮৫২.
Which of the following is not a contagious disease?
  1. Mumps
  2. Small Pox
  3. Typhoid
  4. Tuberculosis
ব্যাখ্যা
- মাম্পস, স্মলপক্স এবং যক্ষ্মা ছোঁয়াচে রোগ।
- এগুলি সংক্রামিত ব্যক্তি থেকে বিভিন্ন উপায়ে যেমন সরাসরি সংস্পর্শ বা দূষিত বস্তুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে, টাইফয়েড প্রাথমিকভাবে  Salmonella typhi ব্যাকটেরিয়া দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি খাওয়ার মাধ্যমে ছড়ায়।
- টাইফয়েড সাধারণত ছোঁয়াচের মাধ্যমে সরাসরি ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে না। 

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা। 
৮৫৩.
কোন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে যক্ষ্মা হয়?
  1. ক) Streptococcus
  2. খ) Armatimonadetes
  3. গ) Mycobacterium Tuberculosis
  4. ঘ) Chlamydiae
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা সাধারণত Mycobacterium Tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে হয় যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে। যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ এই ধারণাটা সঠিক নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে। সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৫৪.
কোন রোগের চিকিৎসায় অ্যাসপিরিন ব্যবহৃত হয়? 
  1. মানসিক
  2. হৃদরোগ
  3. ক্যান্সার
  4. জন্ডিস
ব্যাখ্যা
অ্যাসপিরিন: 
- অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ওজন বৃদ্ধি, কায়িক শ্রমের অভাব, ধূমপান ও তামাকের ব্যবহারসহ নানা কারণে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো অসংক্রামক ব্যাধি বাড়ছে।
- এসব অভ্যাসে রক্তনালিতে চর্বি জমা হওয়ায় রক্ত চলাচল ব্যাহত হয়, এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
- আবার মস্তিষ্কের রক্তনালিতে চর্বি জমলে হয় স্ট্রোক, বয়স্ক ব্যক্তিদের রক্তনালিতে চর্বি জমার ঝুঁকি বেশি।
- ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপ, ধূমপায়ীদের এ ঝুঁকি আরও বেশি।
- হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই রক্ত পাতলা করার ওষুধ অ্যাসপিরিন সেবন করেন।
- স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন (৭৫-১৫০ মিলিগ্রাম) রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, ফলে হৃদরোগ বা স্ট্রোক প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন ব্যবহৃত হয়। 
- অ্যাসপিরিন ব্যথা ও জ্বর নিরাময়ের জন্যও ব্যবহৃত হয়। 
- তবে এর একটি বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তক্ষরণ।
- পেপটিক আলসার বা রক্তপাতের ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এই ঝুঁকি প্রবল, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণেরও ঝুঁকি রয়েছে।
- তাই ওষুধটি সেবনে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
যেমন- 
১। ইতিমধ্যে যাঁরা হৃদরোগ বা স্ট্রোকে আক্রান্ত বা বাইপাস সার্জারি হয়েছেন, তাঁদের আজীবন স্বল্পমাত্রার অ্যাসপিরিন সেবন করতে বলা হয়। এটি ভবিষ্যতে আবার হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। তবে রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকে অ্যাসপিরিন দেওয়া হয় না। 
২। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগী, ধূমপায়ী, পরিবারে হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস রয়েছে, চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিদের হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রাথমিকভাবে প্রতিরোধে অ্যাসপিরিন সেবন করা উচিত কি না, তা নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যাসপিরিন সেবনে বাড়তি লাভ তো হয়নি, বরং রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেড়েছে। 
- আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, হৃদরোগ বা স্ট্রোক হয়নি, কেবল ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য ঝুঁকি আছে, এমন সত্তরোর্ধ্ব ব্যক্তিদের ঝুঁকি কমাতে অ্যাসপিরিন সেবনের দরকার নেই। 
- যেকোনো বয়সী ব্যক্তির যদি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বা ইতিহাস থাকে, তাহলে অ্যাসপিরিন সেবনের দরকার নেই। ৪০-৭০ বছর বয়স্ক ব্যক্তিদের যদি হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকি থাকে, তবে রক্তক্ষরণের তেমন ঝুঁকি না থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাসপিরিন শুরু করা যেতে পারে।
- ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তাই যুক্তরাষ্ট্রের ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ হলো, ডায়াবেটিসের রোগীর যদি হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকি থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে অ্যাসপিরিন সেবনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।
৮৫৫.
আমিষ পরিপাকে সহায়তা করে কোন এনজাইম?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) রেনিন
  3. গ) টাইরোসিন
  4. ঘ) এমাইলেজ
ব্যাখ্যা
নির্দিষ্ট এনজাইম নির্দিষ্ট কাজ করে। যেমনঃ আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে ট্রিপসিন এনজাইম। ট্রিপসিন এনজাইম শুধু আমিষের উপর কাজ করে৷
উৎসঃ বিজ্ঞানঃসপ্তম শ্রেণী
৮৫৬.
একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে-
  1. ক) ৬০ - ৮০ বার
  2. খ) ৬০ - ১০০ বার
  3. গ) ৮০ - ১০০ বার
  4. ঘ) ১০০ - ১২০ বার
ব্যাখ্যা
হৃৎস্পন্দন
- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং
- একটি হৃৎস্পন্দনে সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়। এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনা যায় স্টেথোস্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমে।

সূত্র: ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৮৫৭.
ইনসুলিন কে আবিষ্কার করেন?
  1. ক) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. খ) অ্যাড ওয়ার্ড জেনার
  3. গ) গেরহার্ড ডোমাক
  4. ঘ) ফ্রেডরিক গ্র্যান্ড ব্যানটিং
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of Langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- ইনসুলিন আবিষ্কার করেন ফ্রেডরিক গ্র্যান্ড ব্যানটিং (Frederick G. Banting)
- তিনি একজন কানাডিয়ান চিকিৎসক, চিকিৎসাবিজ্ঞানী এবং ইনসুলিনের আবিষ্কারক।
- তিনি বিজ্ঞানী Charles H. Best এবং রোমানিয়ান ফিজিওলজিস্ট Nicolas C. Paulescu এর সঙ্গে ১৯২১ সালে ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন।
- অপরদিকে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং ১৯২৯ সালে পেনিসিলিন নামক জীবন রক্ষাকারী এন্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৮.
ধনুষ্টংকার টিকা কোনটি?
  1. ক) ওপিভি
  2. খ) ওডিভি
  3. গ) বিসিজি
  4. ঘ) ডিপিটি
ব্যাখ্যা
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয় ৯টি টিকা।
যক্ষ্মার টিকার নাম হলো- বিসিজি টিকা (Bacillus Calmette–Guérin vaccine)।
ডিফথেরিয়া, হুপিংকাশি ও ধনুষ্টংকার রোগের টিকা ডিপিটি।
৮৫৯.
মানবদেহে আমিষ পরিপাক হয়ে কোন এসিডে পরিণত হয় ?
  1. অ্যামাইনো এসিড
  2. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  3. ফ্যাটি এসিড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

কার্বন, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন এবং নাইট্রোজেন এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
অ্যামাইনো এসিড আমিষ গঠনের একক।
[উৎস: ৯ম- ১০ম শ্রেণি বিজ্ঞান ,পৃষ্ঠা -৫]

৮৬০.
হাড় ও দাঁত গঠনে সহায়তা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) আয়োডিন
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
- ক্যালসিয়াম প্রাণীদের হাড় এবং দাতের একটি প্রধান উপাদান।
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুইভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। অস্থি এবং দাতে ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে।
- হাড় ও দাতের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতি প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ।
- দেহে পরিমাণের দিক দিয়ে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরপরই ফসফরাসের স্থান।
- ক্যালসিয়ামের মত হাড় এবং দাত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ।
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষয়তা, দন্তক্ষয় এসব রোগ দেখা দেয়।
 
উৎসঃ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৮৬১.
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবহার করা হয়?
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. ভাইরাস
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা- 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। 
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬২.
আয়োডিন পাওয়া যায়-
  1. ক) এগারিকাসে
  2. খ) মিউকরে
  3. গ) লাইকেনের
  4. ঘ) শৈবালে
ব্যাখ্যা

- সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
- হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
- তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।

৮৬৩.
Which of the following COVID-19 vaccines was invented in Russia?
  1. Sputnik V
  2. Senopharm
  3. BinCorid
  4. Russ Vas
ব্যাখ্যা
স্পুটনিক-ফাইভ টিকা:

- রাশিয়া 'স্পুটনিক ফাইভ বা স্পুটনিক ভি' করোনা টিকা আবিষ্কার করে।
- ২০২০ সালের ১১ই আগস্ট রাশিয়া টিকা আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়।
- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসাবে এবং কোনরকম তথ্য প্রকাশ না করেই অগাস্ট মাসে স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের জন্য টিকার লাইসেন্স দেয় রাশিয়া।
- এই টিকা দুই থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস (সবচেয়ে ভালো ৩-৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় রাখা যায়। ফলে এটি পরিবহন ও সংরক্ষণ করা সহজ।
- ফাইজার, অক্সফোর্ড/অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মর্ডানার মতো টিকাগুলোর মতো এটিও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতার তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি নিউজ বাংলা, ২৭ এপ্রিল ২০২১।
৮৬৪.
পেপটিক আলসার নির্ণয়ের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি কোনটি?
  1. ইসিজি
  2. এমআরআই
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. এন্ডোসকপি 
ব্যাখ্যা

- পেপটিক আলসার নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো এন্ডোস্কোপি, কারণ এটি সরাসরি খাদ্যনালী, পাকস্থলী ও ডিওডেনামের ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে এবং বায়োপসি নিতে সাহায্য করে, যা আলসারের সঠিক কারণ ও ধরন (যেমন H. pylori সংক্রমণ) শনাক্ত করতে সবচেয়ে কার্যকর। যদিও আল্ট্রাসাউন্ড বা এক্স-রে সহায়ক হতে পারে, এন্ডোস্কোপিই "গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড বা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য" পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। 

গ্যাস্ট্রিক ও পেপটিক আলসার: 
- আলসার বলতে যেকোনো এপিথেলিয়াম বা আবরণী টিস্যুর একধরনের ক্ষত বোঝায়। 
- পেপটিক আলসার বলতে খাদ্যনালির কোনো অংশের আলসার বোঝায়, সেটি যদি পাকস্থলীতে হয় তাহলে তাকে গ্যাস্ট্রিক আলসার, ডিওডেনামে হলে ডিওডেনাল আলসার বলা হয়। 
- দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যগ্রহণে অনিয়ম হলে পাকস্থলীতে অম্লের আধিক্য ঘটে এবং অনেক দিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এই অম্ল বা এসিড দিয়ে পাকস্থলী বা অন্ত্রে ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে পেপটিক আলসার হতে পারে। 
- তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন ও ব্যারি মার্শালের গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া, বিষণ্ণতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। এজন্য তাঁরা ২০০৫ সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।  
- আগে ভাবা হতো পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনো ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। নিজের ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন। 
(উল্লেখ্য, এই ব্যাকটেরিয়া যে শুধু আলসারের জন্য দায়ী তাই নয়, এ থেকে পাকস্থলীর ক্যান্সারও হতে পারে। মার্শাল তাঁর নিজের জীবনের উপর মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছিলেন, যা অনুসরণীয় নয়)। 

- পেপটিক আলসার রোগে সাধারণত পেটের ঠিক মাঝ বরাবর, নাভির একটু উপরে একঘেয়ে ব্যথা অনুভূত হয়। খালি পেটে বা অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাদ্য খেলে ব্যথা বাড়ে। আলসার মারাত্মক হলে বমি হতে পারে, কখনো কখনো বমি এবং মলের সাথে রক্ত নির্গত হয়। 
- এন্ডোসকপি (Endoscopy) বা বেরিয়াম এক্স-রের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- এই রোগ থেকে দূরে থাকতে হলে যা করতে হবে তা হলো- 
• নিয়মিত সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা। 
• অধিক তেল এবং মশলাযুক্ত গুরুপাক খাদ্য পরিহার করা। 
• ফুটানো দুধ, পনির এবং কলা খেলে ভালো উপকার পাওয়া যায়। 
• নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ করে, কফি, সিগারেট ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ গ্রহণ থেকে বিরত থেকে ইত্যাদি। 
- প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিয়ে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৬৫.
মানবদেহে লোহিত কণিকার আয়ুস্কাল কত দিন?
  1. ১২০ দিন
  2. ৯০ দিন
  3. ৭৫ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
- লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন। লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (০₂) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণী।
৮৬৬.
Hepatitis - B virus এর জন্য নিচের কোন কোন পরীক্ষাটি করা হয়?
  1. HbsAg
  2. Anti-HbsAg
  3. Anti-HCV
  4. উপরের কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
- হেপাটাইটিস বি সারফেস অ্যান্টিজেন (HBsAg) হল একটি প্রোটিন যা হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের (HBV) পৃষ্ঠে পাওয়া যায়।
- HBsAg-এর পরীক্ষা হল হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের জন্য একটি সাধারণ ডায়গনিস্টিক টুল। 

ডায়াগনস্টিক টেস্ট:
HBsAg-এর পরীক্ষা হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ নির্ণয়ের একটি মৌলিক অংশ। এটি একটি সাধারণ রক্ত ​​​​পরীক্ষার মাধ্যমে করা যেতে পারে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮৬৭.
টিবি রোগের জীবাণু আবিষ্কার করেন কে? 
  1. লুই পাস্তুর
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. রবার্ট কোচ
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

• রবার্ট কোচ (Robert Koch) হলেন একজন জার্মান চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও মাইক্রোবায়োলজিস্ট। ১৮৮২ সালে তিনি প্রথমবার Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়াকে আলাদা ও পরিচিত করেন।

- টিউবারকুলোসিস (Tuberculosis বা TB) হলো একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত ফুসফুসকে প্রভাবিত করে। 
- এটি বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা, বিশেষ করে যেখানে জনসংখ্যা ঘন ও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত। 
- TB রোগের জীবাণু হলো Mycobacterium tuberculosis, যা ধীরে ধীরে শরীরের টিস্যুতে ক্ষতি করে।

আবিষ্কার ও রবার্ট কোচের অবদান:
- তার গবেষণা দেখায় যে, TB একটি নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার কারণে সংক্রমিত হয়।
- এটি সংক্রামক রোগের কারণ নির্ধারণে বিপ্লব ঘটায় এবং রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
- কোচের এই আবিষ্কারের জন্য তাকে ১৯০৫ সালে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়, যা তার বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতি।

TB ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য:
- ব্যাকটেরিয়াটি দীর্ঘ, স্লিম, অল্প সরু রূপের।
- এটি অ্যাকিড-ফাস্ট ব্যাকটেরিয়া, অর্থাৎ বিশেষ রং ধরে রাখতে সক্ষম।
- সংক্রমণ সাধারণত শ্বাসনালী ও ফুসফুসের মাধ্যমে ছড়ায়।
- TB রোগ ধীরে ধীরে ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট করে এবং শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ও ওজন হ্রাসের মতো লক্ষণ সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৮৬৮.
ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় কত সপ্তাহ থেকে?
  1. ক) চার সপ্তাহ
  2. খ) ছয় সপ্তাহ
  3. গ) আটাশ সপ্তাহ
  4. ঘ) আঠারো সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় ছয় সপ্তাহ থেকে এবং আমৃত্যু এ স্পন্দন চলতে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৬৯.
স্ট্রোক নিচের কোন শারিরিক সমস্যার জন্য দায়ী?
  1. ক) এপিলেপসি
  2. খ) পারকিনসন
  3. গ) প্যারালাইসিস
  4. ঘ) ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
প্যারালাইসিস নামক স্নায়ুবিক শারীরিক সমস্যাটি স্ট্রোকের জন্য হয়ে থাকে সাধারণত। 

প্যারালাইসিস মূলত রোগ নয় বরং রোগের ফলে সৃষ্ট এমন একটি অবস্থা যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অথবা নির্দিষ্ট কোন অঙ্গ ধীরে ধীরে অথবা হঠাৎ করেই অবশ হয়ে যায় এবং সে অংশের মাংসপেশিও তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। প্যারালাইসিসের দরুন এবং এর সুচিকিৎসার অভাবে বা অপচিকিৎসার ফলে ধীরে ধীরে রোগীর অবস্থা আরও ভয়ানক আকার ধারণ করে এবং কালক্রমে তা পঙ্গুত্ব থেকে রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়।

প্যারালাইসিস বিষয়টি মূলত নিউরোমাসকুলার অর্থাৎ নার্ভ ও মাংসপেশির সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং নার্ভের ইনজুরি বা অস্বাভাবিকতার কারণে মাংসপেশির পরিবর্তন বা দুর্বলতা বা অক্ষমতাই প্যারালাসিস হওয়ার জন্য প্রাথমিক সূচক। প্যারালাইসিসের দরুন মাংসপেশির শক্তি কমে যাওয়া,
হঠাৎ মাংশপেশীর টান বেড়ে যাওয়া বা শক্ত হয়ে যাওয়া, মাংসপেশি শুকিয়ে যাওয়া, থলথলে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি হতে পারে। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭০.
হাইপারটেনশন হওয়ার প্রকৃত কারণ-
  1. ক) আজও জানা যায়নি
  2. খ) রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য
  3. গ) অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
  4. ঘ) পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম
ব্যাখ্যা
হাইপারটেনশন হওয়ার প্রকৃত কারণ আজও জানা যায় নি। তবে অতিরিক্ত শারীরিক ওজন, মেদবহুল শরীর, অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, ডায়াবেটিস, অস্থিরচিত্ত, মানসিক চাপ, রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য আছে এরকম ব্যক্তিদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৭১.
'প্রিয়ন' কী?
  1. ক) এক ধরনের আলোক যন্ত্র
  2. খ) একপ্রকার সংক্রামক সত্ত্বা
  3. গ) একপ্রকার সামুদ্রিক প্রাণি
  4. ঘ) এক ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস
ব্যাখ্যা
- 'প্রিয়ন' হলো ভাইরাসের মতোই একপ্রকার সংক্রামক সত্ত্বা যা PrP (Prion Protein) নামক প্রোটিন বা আমিষ দিয়ে তৈরি ।
- এটিকে 'transmissible spongiform encephalopathies' নামক স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতার জন্য দায়ী করা হয়।
- প্রিয়ন গবাদি পশুর 'Mad cow disease' ও 'scrapie' , মানুষের 'Creutzfeldt–Jakob disease' (CJD), 'Gerstmann–Sträussler–Scheinker syndrome', fatal familial insomnia, এবং 'kuru' - এসব ভয়ানক মারণব্যাধির কারণ।
৮৭২.
বায়ুদূষণের কারণে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) নিউমোনিয়া 
  2. খ) হাঁপানি
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) ফুসফুসের ক্যান্সার
ব্যাখ্যা
বায়ুদূষণের কারণে হাঁপানি রোগটি হয়ে থাকে। 

হাঁপানি (Asthma)  শ্বাসনালীর এক ধরনের বৈকল্য, যে কারনে শ্বাসপ্রশ্বাসে অসুবিধা হয়। অধিকাংশ হাঁপানির আক্রমণ মৃদু, তবে উপযুক্ত চিকিৎসা না হলে অবস্থা মারাত্মক হতে পারে। অনেক সময়ে রোগটিতে সাঁ সাঁ শব্দসহ মারাত্মক রকমের শ্বাসকষ্ট হয়।

হাঁপানির দুটি প্রধান ধরন চিহ্নিত করা গেছে। প্রথমটিতে নাক, গলা, সাইনাস, এমনকি ফুসফুসেরও সংক্রমণ ঘটে, যাকে প্রায়শই ক্লোমনালি প্রদাহ বা ব্রংকাইটিস বলা হয়। দ্বিতীয়টি ব্যাপকতর। এটি একটি অ্যালার্জিক বিক্রিয়া যা বংশগত হতে পারে। অ্যালার্জিঘটিত হাঁপানিতে রোগী ফুলের রেণু, গৃহস্থালির ধুলাবালি, ছত্রাক, পশুর লোম, নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্তর গন্ধ, কীটনাশক, বিশেষ খাবার অথবা ঔষধের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে। উভয় ধরনের হাঁপানিতে ক্লোমনালির অভ্যন্তরীণ পথের মিউকাস আবরণী স্ফীত হওয়ার দরুন নালিগুলি সরু হয়ে যায় এবং মিউকাস রোধক তৈরি হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৮৭৩.
পেপটিক আলসার রোগ নির্ণয় করার জন্য কোন পরিক্ষাটি করা হয়?
  1. এন্ডোসকপি
  2. আলট্রাসনোগ্রাফি
  3. এক্সরে
  4. পি সি আর
ব্যাখ্যা
• এন্ডোস্কোপি:
- চিকিৎসার কারণে দেহের ভেতরের কোনো অঙ্গকে বাইরে থেকে সরাসরি দেখার প্রক্রিয়ার নাম এন্ডোস্কোপি।
- এন্ডোস্কোপি যন্ত্রে অপটিকাল ফাইবার ব্যবহার করা হয়।
- পেপটিক আলসার (Peptic Ulcer) মূলত পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাথমিক অংশ এ ঘটে।
- এটি হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি (Helicobacter pylori) ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ, বা ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs) গ্রহণের কারণে হতে পারে।
- এন্ডোস্কোপ (Endoscope) নামে ক্যামেরাযুক্ত একটি ছোট টিউব মুখের মাধ্যমে পাকস্থলীতে প্রবেশ করিয়ে সরাসরি আলসার দেখা যায়।
- আলসারের আকার, অবস্থান ও অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যায়।
- যদি ক্যান্সারের সন্দেহ থাকে, তবে আলসারের টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
- H. pylori সংক্রমণ আছে কিনা তা পরীক্ষা করা যায়।

অন্যদিকে,
- আলট্রাসনোগ্রাফি - এটি মূলত নরম টিস্যু ও অন্তঃপ্রবাহী তরল পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়, যা আলসার নির্ণয়ে কার্যকর নয়।
- এক্স-রে - সাধারণ এক্স-রে পেপটিক আলসার সরাসরি সনাক্ত করতে পারে না, তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যারিয়াম এক্স-রে (Barium X-ray) করা হতে পারে, যা তুলনামূলক কম কার্যকর।
- পি সি আর (PCR) -  ভুল, কারণ পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (PCR) মূলত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার জিনগত উপাদান শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়, যা আলসার নির্ণয়ের জন্য সাধারণত করা হয় না।

উৎস: ব্রিটানিকা ও National Institutes of Health।
৮৭৪.
কোন অঙ্গানু ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে?
  1. ক) ফ্ল্যাজেলা
  2. খ) ক্যাপসিউল
  3. গ) ক্রোম্যাটোফোর
  4. ঘ) ভলিউটিন
ব্যাখ্যা
ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজম
- সাইটোপ্লাজমিক মেমব্রেন দিয়ে পরিবেষ্টিত অবস্থায় সাইটোপ্লাজম থাকে।
- এটি সাধারণত বর্ণহীন।
- এতে কোষগহ্বর, চর্বি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, প্রোটিন যার অধিকাংশই এনজাইম, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থ যেমন- ফসফরাস, লৌহ ও সালফার ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে।
- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে কিছু পদার্থ বিক্ষিপ্ত অবস্থায় দেখা যায়। যেমন
১। রাইবোসোম (70S),
২। ক্রোম্যাটোফোর,
৩। কোষ কোষগহ্বর এবং
৪। ভলিউটিন।

রাইবোসোম- প্রতিটি রাইবোসোম RNA ও প্রোটিন সহযোগে গঠিত। প্রোটিন সংশ্লেষণ করাই রাইবোসোমের প্রধান কাজ।
ক্রোম্যাটোফোর- কতক ব্যাকটেরিয়াতে ক্রোম্যাটোফোর থাকে। এসব রঞ্জক পদার্থ ব্যাকটেরিয়ার সালোকসংশ্লেষণে সাহায্য করে।
কোষগহ্বর- ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে অত্যন্ত ছোট ছোট কোষ গহবর থাকে।
ভলিউটিন- তরুণ ব্যাকটেরিয়ার সাইটোপ্লাজমে এবং পুরাতন কোষের কোষগহ্বরে ভলিউটিন থাকে।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৫.
কোনটি রক্ত আমাশয়ের জীবাণু?
  1. সিগেলা
  2. জিয়ার ডিয়া
  3. ক্যামপাইলোব্যাকটার
  4. সালমোনলা
ব্যাখ্যা
- রক্ত আমাশয়ের প্রধান কারণ হলো এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যার নাম শিগেলা। 
- এই শিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়াও দূষিত খাবার বা পানির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 

রক্ত আমাশয়ের লক্ষণ হলো - 
- পেটে তীব্র মোচড় দিয়ে ব্যথা হওয়া, 
- অল্প অল্প করে বার বার পায়খানা, 
- পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া এবং মলস্বারে তীব্র ব্যথা হওয়া। 

Dysentery is an infection of the intestines that causes diarrhoea containing blood or mucus.
- There are 2 main types of dysentery:
• bacillary dysentery or shigellosis, which is caused by shigella bacteria; this is the most common type of dysentery in the UK
• amoebic dysentery or amoebiasis, which is caused by an amoeba (single celled parasite) called Entamoeba histolytica

Source: NHS
৮৭৬.
নিচের কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. ক) সেরেবেলাম
  2. খ) হাইপোথ্যালামাস
  3. গ) কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা
  4. ঘ) সেরেব্রাল পেডাঙ্কল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সেরেব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস হলো অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেব্রাল পেডাঙ্কল, কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা, সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট হলো মধ্যমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংটা, পনস হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৮৭৭.
কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়? 
  1. এমআরআই
  2. কেমোথেরাপি
  3. এনজিওগ্রাফি
  4. আলট্রাসনোগ্রাফি
ব্যাখ্যা
- 'কেমোথারেপি' প্রযুক্তির মাধ্যমে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। 

কেমোথেরাপি: 
- ক্যান্সারে শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। 
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক চিকিৎসা, যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা হয়। 
- কেমোথেরাপি হলো ক্যান্সারের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। 
- প্রতিটি জীবদেহ কোষ দ্বারা গঠিত যে কোষ বৃদ্ধি পায় বা বিভাজিত হয়। 
 - জীবদেহের এই কোষ বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত হয়েছে। 
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। 
- কোষ বিভাজনের কোন ধাপে কী প্রয়োগ করা হবে তার ওপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধগুলো ঠিক করা হয়। 
- এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে। যেমন: প্রতিদিনে ১ বার, সপ্তাহে ১ বার বা মাসে ১ বার ইত্যাদি। সাধারণত এভাবে প্রায় ৬ বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। 
- কেমোথেরাপির বিশেষ ঔষধ ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট অন্য কোষও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

অন্যদিকে, 
- এমআরআই, এনজিওগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফি হলো বিভিন্ন ধরনের ইমেজিং পদ্ধতি যেগুলো রোগের নির্ণয় বা নিদান করতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৭৮.
দেহ গঠনে কোন উপাদানের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) শ্বেতসার
  2. খ) আমিষ
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) পানি
ব্যাখ্যা

- আমিষ বা প্রোটিন ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধিসাধন ও দেহ গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- শর্করা বা শ্বেতসার শক্তি উৎপাদন করে।
- চর্বি বা স্নেহ তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৭৯.
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী?
  1. ক) ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. খ) জীবাণু বহন করা
  3. গ) জীবাণু ধ্বংস করা
  4. ঘ) ক ও গ 
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর।  

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিকগুলো:
১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে।
২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়- 
১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা।
২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা।
৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া।
৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা।

সূত্র: https://www.nhs.uk/conditions/antibiotics/
৮৮০.
মানবদেহে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সরবরাহ করে -
  1. ক) কার্বহাইড্রেট
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) ভিটামিন
  4. ঘ) লবণ
ব্যাখ্যা
আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে।
শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই দেহে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষ একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৮১.
মানব ইউরিন খড় বর্ণ হওয়ার জন্য দায়ী -
  1. ক) ত্রিয়েটিনিন
  2. খ) বিলিরুবিন
  3. গ) ইউরোক্রোম
  4. ঘ) ইউরিয়া
ব্যাখ্যা
Components of Urine
- নেফ্রনের বৃক্কীয় নালিকায় গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট এর নির্বাচিত পুনঃশোষণের পর যে খড় বর্ণের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ও অম্লধর্মী তরল রেচন বর্জ্য মূত্রথলিতে জমা হয় তাকে মূত্র (urine) বলে ।
- একজন সুস্থ্য মানুষ দৈনিক গড়ে ১.৫ লিটার মূত্র ত্যাগ করে। 
- ইউরোক্রোম (urochrome) নামক পদার্থ থাকায় মূত্র খড় বর্ণের হয় ।
- মূত্র সামান্য অম্লীয়, এর pH মান ৬.৫
- মূত্রের আপেক্ষিক গুরুত্ব ১.০১ - ১.৫০

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, আজমল ও আসমত।
৮৮২.
শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে কোন টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. Measles Vaccine
  2. BCG Vaccine
  3. Oral Polio Vaccine
  4. Diphtheria and Tetanus Vaccine
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ৯ মাস বয়সে 'Measles Vaccine' টিকা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৩.
একটি নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন কত?
  1. ১.৫-২.০ কেজি
  2. ২.৫-৩.০ কেজি
  3. ৩.৫-৫.০ কেজি
  4. ৫.৫-৬.০ কেজি
ব্যাখ্যা
শিশুর বিকাশ: 
- শিশুর বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 
- শিশুর বয়স বাড়ার সাথে তার ওজন ও উচ্চতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি তার অঙ্গ সঞ্চালন, শক্তি, সামর্থ্যও বৃদ্ধি পায়। 
- তার দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং মাথার আকার ও গঠনের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। 
- মাথার (মগজ) বর্ধনের ফলে শিশুর শিক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সাথে তার স্মৃতিশক্তি ও যুক্তির ক্ষমতাও বাড়ে। 
- এই ভাবেই শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠে। 
- একজন পূর্ণদেহী মানুষ হতে একটি শিশুকে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। 
- একেক ধাপের পরিণতি পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
১। জন্মপূর্বকাল (Prenatal Period): 
- সূচনামুহূর্ত থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত সময়কাল। 
- মাতৃগর্ভের অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্যন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। 
- এই সময়কাল বেশ সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এই সময়ের বর্ধন খুব দ্রুত। কারণ এই সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হয় মানব কাঠামো এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। 
- নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ২.৫-৩.০ কেজি। 
- একটি সুস্থ সদ্যজাত শিশু জন্মের পরই চিৎকার করে কাঁদে। 
- তারা দিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টাই ঘুমায়। 
- কান্নাই তাদের একমাত্র অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। 

২। নবজাতকাল (Neonatal Period): 
- শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে নবজাতকাল শুরু হয় এবং শেষ হয় ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর। 
- কাজেই অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে নবজাতকাল বেশ সংক্ষিপ্ত। 
- এই ধাপে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং খাপ খাইয়ে চলার প্রচেষ্টা শুরু হয়। 
- একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করার সময় নবজাত শিশুর অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৪.
ডেঙ্গু রোগের কারণ -
  1. Male Aedes
  2. Female Aedes
  3. Female Anopheles
  4. Male Anopheles
ব্যাখ্যা
- ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে ডেঙ্গু রোগ হয়।
- ডেঙ্গুর ভাইরাস এডিস ইজিপ্টি নামক স্ত্রী মশার মাধ্যমে ছড়ায়।
 
Dengue virus is transmitted by female mosquitoes mainly of the species Aedes aegypti and, to a lesser extent, Ae. albopictus. These mosquitoes are also vectors of chikungunya, yellow fever and Zika viruses.
 
উৎস: who.int
৮৮৫.
পেপটিক আলসার সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) Providencia spp.
  2. খ) Acinetobacter baumannii
  3. গ) Flavobacterium spp.
  4. ঘ) Helicobacter pylori
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাবিজ্ঞানী রবিন ওয়ারেন (1951-বর্তমান) ও ব্যারি মার্শালের (1937-বর্তমান) গবেষণায় জানা গেছে, খাদ্যে অনিয়ম, ভাজাপােড়া খাবার খাওয়া, বিষন্নতা বা উৎকণ্ঠা ইত্যাদি পেপটিক আলসারের নিয়ামক হলেও অন্যতম প্রধান কারণ Helicobacter pylori (সংক্ষেপে H. pylori) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া।

এজন্য তাঁরা 2005 সালে যৌথভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন। আগে ভাবা হতাে, পাকস্থলীর তীব্র হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডে (pH 1.5-3.5) কোনাে ব্যাকটেরিয়া টিকতে পারে না। তাঁর ধারণা প্রমাণ করার জন্য ব্যারি মার্শাল নিজে H. pylori ব্যাকটেরিয়া মিশ্রিত দ্রবণ পান করে পেপটিক আলসারে ভুগেছিলেন!

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৮৮৬.
গর্ভাবস্থায় নিচের কোনটি স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি?
  1. ক) ৫০ পাউণ্ড
  2. খ) ২৮ পাউণ্ড
  3. গ) ৪০ পাউণ্ড
  4. ঘ) ১৫ পাউণ্ড
ব্যাখ্যা

স্বাভাবিক উচ্চতা ও ওজনের একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য আদর্শ ওজন বৃদ্ধি হলো গড়ে ২৮ পাউণ্ড।
কিন্তু ওজন বৃদ্ধি 25 থেকে 40 পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সোর্স: https://www.urmc.rochester.edu/

৮৮৭.
অস্থি বা হাড়ে কত ভাগ ক্যালসিয়াম ফসফেট থাকে?
  1. ক) ৪০
  2. খ) ৫০
  3. গ) ৬০
  4. ঘ) ৭০
ব্যাখ্যা
মানবদেহে হাড় ও দাঁত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম। অস্থির বা হাড়ের প্রায় ৬০% ক্যালসিয়াম ফসফেট। এছাড়া প্রাণীদেহে ফসফোপ্রোটিন বা ফসফোলিপিড হিসেবেও ফসফরাস থাকে। উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৮৮.
Magsulph দেওয়ার আগে নিচের কোন জিনিস দেখে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি?
  1. Urine output
  2. Temperatue
  3. Blood pressure
  4. Pulse
ব্যাখ্যা
চিকিৎসা বা থেরাপিউটিক উদ্দেশ্যে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট (ম্যাগসাল্ফ) পরিচালনা করার আগে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ওষুধের নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা এবং মূল্যায়ন করা উচিত। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ব্যবহার করার আগে এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়গুলি রয়েছে:

রোগীর মূল্যায়ন:
- যেকোনো অ্যালার্জি, ওষুধের প্রতি পূর্ববর্তী প্রতিক্রিয়া এবং বর্তমান ওষুধ বা সম্পূরক সহ রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস পর্যালোচনা করুন।
- গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ (রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, এবং শ্বাসযন্ত্রের হার) সহ রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করুন।
- রোগীর রেনাল (কিডনি) ফাংশন এবং ইলেক্ট্রোলাইটের মাত্রা নির্ধারণ করুন, কারণ ম্যাগনেসিয়াম প্রাথমিকভাবে কিডনি দ্বারা নির্গত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৮৮৯.
নিচের কোনটি মানবদেহের রাসয়নিক দূত হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) উৎসেচক
  2. খ) হরমোন
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) পেশী
ব্যাখ্যা

যে জৈব-রাসায়নিক তরল শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসরিত হয়ে রক্তরস বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংস প্রাপ্ত হয় তাদের হরমোন বলে।

সে হিসেবে হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৮৯০.
নিচের কোনটি গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) ক্যালসিয়াম
  2. খ) ফসফরাস
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) আয়োডিন
ব্যাখ্যা
আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়ে থাকে। 

গলগণ্ড বা ঘ্যাগ হলো অস্বাভাবিক বৃদ্ধিপ্রাপ্ত থাইরয়েড গ্রন্থি। থাইরয়েড গন্থিটি গলার সামনের দিকের নিচের অংশে থাকে এবং স্বাভাবিক অবস্থায় এটির অবস্থান দৃশ্যমান নয়। থাইরয়েড গ্রন্থির আকার অনেকটা প্রজাপতির মতো।

লক্ষণ-
গলগন্ডের প্রাথমিক লক্ষণ হল সাধারণত ঘাড়ে একটি লক্ষণীয় ফোলাভাব। 

আরও অন্যান্য উপসর্গগুলো হল- 
১.  বা শ্বাস নিতে অসুবিধা হওয়া
২. কাশি 
৩. মাথার উপরে হাত বাড়ালে মাথা ঘোরা
৪. কণ্ঠে কর্কশতা অনুভব হয়। 

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি
৮৯১.
নিম্নের কোন ভ্যাকসিন নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা নয়?
  1. কলেরা 
  2. হাম 
  3. পোলিও 
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা

- কলেরা ভ্যাকসিন সাধারণত মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ ভ্যাকসিন, তাই এটি নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকার মধ্যে পড়ে না।

টিকার প্রকারভেদ: 

- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
- কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিকার প্রকারভেদ নিম্নরূপ: 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবন্ত টিকা: 
- এতে কালচার করা জীবাণুদের ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করা হয়। 
উদাহরণ: BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা: 
- এ ধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা: 
- জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি এই টিকা। 
উদাহরণ: ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্তু: 
- সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ: হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা: 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৯২.
‘টেডারক্স’ কী?
  1. যুদ্ধ বিমান
  2. শক্তিশালী মাদক
  3. ক্যানসারের ঔষধ
  4. মারাত্মক রোগ ইবোলার টিকা
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ক্যানসারের ঔষধ-টেডারক্স:
- ক্যানসারের ঔষধ ‘টেডারক্স’ এর সর্বশেষ সংস্করণ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন ইরানি গবেষকরা।
- দাবি করা হচ্ছে, ঔষধের সর্বশেষ এই সংস্করণটি ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘজীবি হতে সাহায্য করে।
- ইরানের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল জ্ঞান-ভিত্তিক কোম্পানি ঔষধটি উৎপাদন করেছে।
- ৩ থেকে ৬ নভেম্বর তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘ইরান ন্যানো ২০২৪’ প্রদর্শনীতে এটি উন্মোচন করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- ক্যান্সার এমন একটি জটিল রোগ যা বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- নিয়ন্ত্রণহীনভাবে শরীরের কোনও অংশে কোষের অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়াকে ক্যান্সার বলা হয়।
- সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
- ক্যান্সার কতটা দ্রুত ছড়াবে সেটি সুনির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন।
- এটি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে তা কোন স্টেজে ধরা পড়ছে তার পাশাপাশি এর লক্ষণ কতটা ধরা পড়ে এর উপরেও নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র:- বিবিসি বাংলা ও দৈনিক ইনকিলাব।
৮৯৩.
গর্ভাবস্থার লক্ষণ-
  1. ক) Pelvic infection
  2. খ) মাসিক বন্ধ থাকা
  3. গ) ডিসমেনোরিয়া
  4. ঘ) যোনিপথে স্রাব
ব্যাখ্যা
নারীদের প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পিরিয়ড হয়ে থাকে (সাধারণত ২৮ দিন পর পর)। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়া গর্ভাবস্থার অন্যতম একটি প্রধান লক্ষণ। এছাড়াও গর্ভাবস্থায় আরো কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে যেমন, দূর্বলতা, মাথা ঘোরানো, বমি বমি ভাব, হজমে সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য, স্তনের পরিবর্তন ইত্যাদি।
৮৯৪.
হৃৎস্পন্দন লিপিবদ্ধের যন্ত্র-
  1. ক) স্টেথোস্কোপ
  2. খ) ক্রেস্কোগ্রাফ
  3. গ) কার্ডিওগ্রাফ
  4. ঘ) স্ফিগমােম্যানােমিটার
ব্যাখ্যা
হৃৎস্পন্দন লিপিবদ্ধের যন্ত্র-কার্ডিওগ্রাফ; মানবদেহের রক্তচাপ নির্ণায়ক যন্ত্র-স্ফিগমােম্যানােমিটার; হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ নির্ণায়ক যন্ত্র-স্টেথোস্কোপ এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্র-ক্রেস্কোগ্রাফ।
[সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
৮৯৫.
গঠনের দিক থেকে ভাইরাস কতটি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৮৯৬.
কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত কোন বিকিরণ ক্যান্সার কোষ দূর করতে সহায়ক?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• কোবাল্ট-৬০ থেকে প্রধানত গামা রশ্মি নির্গত হয়, যা গভীর টিস্যু পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে। এই রশ্মি ক্যান্সার কোষের DNA ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং তাদের বিভাজন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে কোষগুলো ধ্বংস হয় এবং টিউমারের আকার কমতে থাকে। আলফা বা বিটা রশ্মি ত্বক বা পৃষ্ঠের কোষে প্রভাব ফেলে, কিন্তু গভীর টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে না। রঞ্জন রশ্মিও কিছু চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তবে কোবাল্ট-৬০ মূলত গামা রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার থেরাপিতে কার্যকর।

- সঠিক উত্তর: গ) গামা রশ্মি।

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য টেকনেশিয়াম-৯৯ আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- ব্রেইন ক্যন্সার নিরাময়ে ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৯৭.
মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) কার্ল লেন্ড স্টেইনার
  2. খ) কার্ল লিনিয়াস
  3. গ) লিউয়েন হুক
  4. ঘ) জগদীশ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৮৯৮.
মানব দেহের মেরুদন্ডে রক্ত সঞ্চালন করে কোন ধমনী?
  1. সার্ভিক্যাল ধমনী
  2. ভার্টিব্রাল ধমনী
  3. সিলিয়াক ধমনী
  4. থাইরোসার্ভিকাল ধমনী
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনিঃ -
দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে।
যেমন -
১. আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে।
২. থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৩. সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে।
৪. ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদন্ডের রক্ত সরবরাহ করে।
৫. সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে।
৬. ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে।
৭. বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে।
৮. মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
৯. জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে।
১০. ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৮৯৯.
মেরাসমাস রোগের ফলে কী হয়?
  1. ক) পেশী ও মেদ ক্ষয় হয়
  2. খ) দেহের ওজন বৃদ্ধি পায়
  3. গ) দেহের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে
  4. ঘ) রক্তনালী সরু হয়ে পড়ে
ব্যাখ্যা
ম্যারাসমাস
- ম্যারাসমাস  নবজাতক এবং কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টি ও দুর্বলতাজনিত ব্যাধি।
- বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দুই বছরের কম বয়সী দরিদ্র শিশুদের মধ্যে এটি একটি সাধারণ ব্যাধি।
- অপর্যাপ্ত খাদ্যগ্রহণ, পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব ও ক্যালরি ঘাটতি এই অসুখের কারণ।
- ম্যারাসমাসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অত্যধিক দুর্বলতা, দৈহিক ওজন বৃদ্ধিতে বাধা এবং ওজনহানি।
- এ ব্যাধিতে শরীরে পানি জমে না বা যকৃতের আকার বৃদ্ধি পায় না; তবে মস্তিষ্ক ও করোটির বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, ফলে দেহ হয় দীর্ঘ ও চর্মসার, ওজনের আনুপাতিক হিসাবে মাথা হয় বড়।
- ত্বকের নিচে চর্বি জমে খুব কম, চোখ কোটরাগত ও ত্বক ঢিলে দেখায়।
- শিশু হয়নিষ্ক্রিয় স্বভাবের, মাংসপেশী হয় শিথিল ও নিস্তেজ, ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত।
- শিশুর কান্নার শব্দ হয় ক্ষীণ ও কর্কশ।
- আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৪০ শতাংশ মারা যায়।
- ১৯৯৫ সালে বিশ্ব ব্যাংক ও ইউনিসেফের সহায়তায় সরকার বাংলাদেশ সমন্বিত পুষ্টি প্রকল্প শুরু করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯০০.
আয়োডিনের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) লবণ
  2. খ) সামুদ্রিক শৈবাল
  3. গ) এগারিকাস
  4. ঘ) লাইকেন
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক শৈবালে আয়োডিন পাওয়া যায়।
হ্যালোজেন হলো সামুদ্রিক লবণ উৎপাদক।
হ্যালোজেন বলতে ফ্লোরিন, ক্লোরিন, ব্রোমিন ও আয়োডিন এই ৪ টি মৌলকেই বুঝায়।
তাই আয়োডিনের প্রধান উৎস সামুদ্রিক শৈবাল।