বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ৭০১৮০০ / ১,০৯৫

৭০১.
Vit-D এর অভাবে-
  1. ক) বেরিবেরি
  2. খ) স্কার্ভি
  3. গ) রিকেটস
  4. ঘ) পেলেগ্রা
ব্যাখ্যা

ভিটামিন-বি১(B1) এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এছাড়া ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি; ভিটামিন-ডি(D) এর অভাবে রিকেটস; এবং ভিটামিন-এ(A) এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি।

৭০২.
অ্যাডিনো ভাইরাস মানুষের দেহে কোন রোগ সৃষ্টি করে?
  1. জলাতঙ্ক
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. গুটিবসন্ত
  4. নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
- অ্যাডিনো ভাইরাস মানুষের দেহে 'নিউমোনিয়া' রোগ সৃষ্টি করে।  

ভাইরাস: 

- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 

ভাইরাসের অপকারিতা: 
১। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ উৎপন্ন করে। 
- এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রোগের নাম, পোষকের নাম এবং ভাইরাসের নাম হলো - 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭০৩.
নিচের কোনটি অকোষীয়?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) শৈবাল
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা

- ভাইরাস হল এক প্রকার অতিক্ষুদ্র অনুজীব যারা শুধুমাত্র জীবিত কোষের অভ্যন্তরে বংশবৃদ্ধি করতে পারে।
- ভাইরাস অকোষীয়। অর্থাৎ দেহে কোষপ্রাচীর, সাইটোপ্লাজম, নিউক্লিয়াস, মাইট্রোকন্ডিয়া এবং রাইবোজোম অনুপস্থিত।
- কেবল প্রোটন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড (DNA or RNA) দিয়ে ভাইরাসের দেহ গঠিত।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৭০৪.
T2 ভাইরাস কোনটিকে আক্রমণ করে?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) মাছি
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের পরজীবিতা সাধারণত সুনির্দিষ্ট অর্থাৎ সুনির্দিষ্ট প্রকারের ভাইরাস কোনো সুনির্দিষ্ট জীবদেহে পরজীবী হয়।
প্রকৃতপক্ষে কোনো ভাইরাসের প্রোটিন আবরণটিই নির্ণয় করে তার আক্রমণের সুনির্দিষ্টতা।

- ফায ভাইরাস কেবল ব্যাকটেরিয়া কোষেই আক্রমণ করে।
- ফায ভাইরাসের মধ্যে T2- ব্যাকটেরিওফায E. coli ব্যাকটেরিয়াকেই আক্রমণ করে।
- TMV ভাইরাস কেবল তামাক গাছকেই আক্রমণ করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭০৫.
শিশুদের জন্মের কত বছর পর পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে?
  1. ক) ১২ মাস
  2. খ) ২০ মাস
  3. গ) ১৮ মাস
  4. ঘ) ২৪ মাস
ব্যাখ্যা
পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে।
দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে। একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 
৭০৬.
ক্রিটিনিজমে কোন হরমোনের ঘাটতি শিশুর বিকাশে সমস্যা সৃষ্টি করে? 
  1. অক্সিটোসিন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরয়েড
  4. অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
- বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার সাথে সম্পর্কিত কিছু রোগ রয়েছে যা দেখে সহজে শনাক্ত করা যায়। 
যেমন- 
ক) মাইক্রোসেফালি: 
- মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক ছোট, এরা গুরুতর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়। 

খ) হাইড্রোসেফালি: 
- মাথার ভিতরে তরল পদার্থ জমে থাকে, ফলে মাথার আকৃতি অস্বাভাবিক বড় হয়। 

গ) ডাউন সিনড্রোম: 
- মুখোমন্ডল গোলাকার, তীর্যক চোখ, চোখের পাতা পুরু হয়। জন্মের সময় শিশু দুর্বল ও শিথিল থাকে। হাত, পা ও ঘাড় খাটো হয়। উপুর হওয়া, বসা, হাঁটা দেরি হয়। 

ঘ) ক্রিটিনিজম: 
- শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বিলম্ব হয়। শিশুর দেহে থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কম হয়। ফলে শিশু খুব ধীরে বেড়ে ওঠে, কপাল ছোট, মুখমন্ডল ও হাত-পা ফোলা ইত্যাদি। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৭.
মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনার জন্য সাধারণত কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  2. খ) ব্যারোরিসেপ্টর
  3. গ) স্টেথোস্কোপ
  4. ঘ) ক্রেসকোগ্রাফ
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃৎস্পন্দন শোনার জন্য সাধারণত স্টেথোস্কোপ ব্যবহৃত হয়। 

- একটি সিস্টোল ও একটি ডায়াস্টোলের সমন্বয়ে একটি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন হয় এবং সময় লাগে প্রায় ০.৮ সেকেন্ড।
- একজন সুস্থ মানুষের হৃৎস্পন্দন প্রতি মিনিটে ৬০-১০০ বার হয়। এটাকে হার্ট-বিট বলা হয়।
- আমাদের হাতের কবজির রেডিয়াল ধমনিতে এই স্পন্দন গোনা যায় আবার বুকের বাম দিকে নির্দিষ্ট স্থানে স্টেথোস্কোপ বসিয়ে শব্দ শোনা যায়।
- হাতের কবজিতে হৃৎস্পন্দন অনুভব করাকে পালস বলে।
- স্টেথোস্কোপের সাহায্যে হৃৎস্পন্দনের যে শব্দ শোনা যায়, তাকে হার্টসাউন্ড বলে। হৃৎস্পন্দন বা হার্ট-বিটকে যখন প্রতি মিনিটে হাতের কবজিতে গণনা করা হয়, তখন তাকে পালস রেট বলে।

------------------------
- স্ফিগমোম্যানোমিটার হলো রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্র।
- ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভিদের বৃদ্ধিমাপক যন্ত্র।
- ব্যারোরিসেপ্টর মানুষের রক্তবাহিকার প্রাচীরে বিশেষ সংবেদী স্নায়ু প্রান্ত (sensory nerve ending) থাকে। এগুলো রক্তচাপ পরিবর্তনে বিশেষভাবে সাড়া দেয় এবং দেহে রক্ত চাপের ভারসাম্য রক্ষা করে। এই সংবেদী স্নায়ু প্রান্তকে ব্যারোরিসেপ্টর বলে। 

সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭০৮.
নিচের কোনটিকে গুরুমস্তিস্ক বলা হয়?
  1. ক) সেরিবেলাম
  2. খ) সেরিব্রাম
  3. গ) পনস
  4. ঘ) মেডুলা অবলংগাটা
ব্যাখ্যা
মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়। 

- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- এটি তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে।  
যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon)
(২) মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon)
(৩) পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)    

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৭০৯.
MRI-যন্ত্রে মূলত কোন অণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়?
  1. কার্বন
  2. অক্সিজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

- ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা MRI যন্ত্রে মূলত হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রোটন ব্যবহৃত হয়। 

এমআরআই (MRI): 
- মানুষের শরীরের প্রায় সত্তরভাগ পানি, যার অর্থ মানুষের শরীরের প্রায় সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি থাকে। পানির প্রতিটি অণুতে থাকে হাইড্রোজেন এবং হাইড্রোজেনের নিউক্লিয়াস হচ্ছে প্রোটন। 
- শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র প্রয়োগ করলে প্রোটনগুলো চৌম্বকক্ষেত্রের দিক সারিবদ্ধ হয়ে যায়, তখন নির্দিষ্ট একটি কম্পনের বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ পাঠানো হলে এই প্রোটনগুলো সেই তরঙ্গ থেকে শক্তি গ্রহণ করে তাদের দিক পরিবর্তন করে এবং এই প্রক্রিয়াকে বলে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স। 
- তার উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং বা এমআরআই (MRI: Magnetic Resonance Imaging)। এই যন্ত্রটি দেখতে সিটিস্ক্যান যন্ত্রের মতো কিন্তু এর কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন। 
- সিটিস্ক্যান যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয় কিন্তু এমআরআই যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রের মাধ্যমে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়। 

- শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়। 
- সিটিস্ক্যান দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, এমআরআই দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে এমআরআই দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। 
- সিটিস্ক্যান করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে এমআরআই করতে। সিটিস্ক্যানে এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা এমআরআইয়ে সেই ঝুঁকি নেই। 
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) এমআরআই করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) তরঙ্গ ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১০.
মানবদেহে অত্যাবশ্যকীয় এমিনো এসিড কোনটি?
  1. ক) মিসটিন
  2. খ) টাইরোসিন
  3. গ) ফিনাইল অ্যালানিন
  4. ঘ) অ্যালানিন
ব্যাখ্যা

অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
আমিষ পরিপাক হওয়ার পর তা অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়।
দেহগঠনে আমিষ সহায়তা করে থাকে।
এ পর্যন্ত আমাদের শরীরে ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিড আবিষ্কৃত হয়েছে।
এর মধ্যে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ৮টি।
এগুলো হল লাইসিন, ট্রিপেটোফ্যান, মিথিওনিন, ভ্যালিন, লিউসিন, আইসোলিউসিন, ফিনাইল অ্যালানিন ও থ্রিওনাইন।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১১.
মানবদেহে প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে-
  1. ক) ভিটামিন ‘ই’
  2. খ) ভিটামিন ‘ডি’
  3. গ) ভিটামিন ‘কে’
  4. ঘ) ভিটামিন ‘সি’
ব্যাখ্যা
সবুজ রঙের শাকসবজি, লেটুসপাতা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ডিমের কুসুম, সয়াবিন তেল এবং যকৃতে ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়। দেহে ভিটামিন ‘কে’ প্রথ্রোম্বিন নামক প্রোটিন তৈরি করে। প্রথ্রোম্বিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। যকৃত থেকে পিত্তরস নিঃসৃত হয়। পিত্তরস নিঃসরণে অসুবিধা হলে ভিটামিন কে-এর শোষণ কমে যায়। ভিটামিন ‘কে’- এর অভাবে ত্বকের নিচে ও দেহাভ্যন্তরে যে রক্ত ক্ষরণ হয় তা বন্ধ করার ব্যবস্থা না নিলে রোগী মারা যেতে পারে।
[সূত্রঃ বিজ্ঞান সপ্তম শ্রেণি]
৭১২.
Polio রোগের Vaccine-
  1. ক) OPV
  2. খ) BCG
  3. গ) Rubella
  4. ঘ) Mumps
ব্যাখ্যা
OPV- Oral Polio Vaccine.
৭১৩.
প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়-
  1. ক) লুইপাস্তুর
  2. খ) এডওয়ার্ড জেনার
  3. গ) জোনাস হক
  4. ঘ) আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা
১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। এজন্য জানার কে প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়। ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারাবিশ্বে গুটিবসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
৭১৪.
জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম -
  1. ক) হেপাটাইসিস বি/সি
  2. খ) রেবিস ভাইরাস
  3. গ) হার্পিস ভাইরাস
  4. ঘ) ভাক্সিনিয়া ভাইরাস
ব্যাখ্যা

- জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হেপাটাইসিস বি/সি।
- জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম রেবিস ভাইরাস।
- হার্পিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হার্পিস ভাইরাস।
- গো - বসন্ত রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম ভাক্সিনিয়া ভাইরাস।
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র - গাজী আজমল , একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২৫।]

৭১৫.
পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে কোনটি?
  1. সোডিয়াম
  2. পটাসিয়াম
  3. আয়রন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
- পটাসিয়াম পেশি সংকোচনে ভূমিকা রাখে। 

খনিজ লবণ: 

- দেহ কোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য (যেমন- রক্ত, এনজাইম, হরমোন ইত্যাদি) খনিজ লবণ খুবই দরকারি। 
- খনিজ লবণ দেহ গঠন, দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ (যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা) নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। 
- হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। 
- আমাদের দেহের ওজনের ১% পরিমাণ লবণ থাকে। 
- এ উপাদানগুলো হলো ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, সালফার, সোডিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়। গলগণ্ড রোধে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত। 


উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৭১৬.
কোনটি ভাইরাস জনিত রোগ?
  1. ক) সিফিলিস
  2. খ) ইবোলা
  3. গ) টাইফয়েড
  4. ঘ) আমাশয়
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি ভাইরাস জনিত রোগঃ
- জন্ডিস,
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- এইডস,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।
• কতিপয় ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগঃ
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

৭১৭.
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম-
  1. ক) Aedes
  2. খ) Culex
  3. গ) Anopheles
  4. ঘ) Culiseta
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের বিস্তার ঘটানোর একমাত্র মাধ্যম স্ত্রী Anopheles মশকী। Aedes aegypti (এডিস এজিপটাই) প্রজাতির মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এছাড়া এডিস এলবোপিকটাস মশার কামরেও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী
৭১৮.
জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস কোনটি?
  1. ক) হার্পিস ভাইরাস
  2. খ) ভাক্সিনিয়া ভাইরাস
  3. গ) হেপাটাইসিস সি
  4. ঘ) রেবিস ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম রেবিস ভাইরাস
- জণ্ডিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হেপাটাইসিস বি/সি।
- হার্পিস রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম হার্পিস ভাইরাস।
- গো-বসন্ত রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাসের নাম ভাক্সিনিয়া ভাইরাস।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৭১৯.
প্রাচীন জীবাস্মের বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) কার্বন - ১২ আইসোটোপ
  2. খ) কার্বন - ১৩ আইসোটোপ
  3. গ) কার্বন - ১৪ আইসোটোপ
  4. ঘ) কার্বন - ১২ স্কেল
ব্যাখ্যা

প্রাচীন জীবাস্মের বয়স নির্ধারণে ব্যবহৃত হয় কার্বন - ১৪ আইসোটোপ।
- আমাদের শরীরে প্রচুর পরিমানে কার্বন আছে এবং তার ভিতরে নির্দিস্ট পরিমানে কার্বন - ১৪ আছে।
- কোন প্রাণী মারা গেলে নতুন করে কার্বন - ১৪ আইসোটোপ প্রবেশ করতে পারে না। প্রাণী মারা যাওয়ার পর কার্বন - ১৪ আইসোটোপ কমতে থাকে।
[তথ্যসূত্র - পদার্থ বিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ৩৬২।]

৭২০.
এক্স-রশ্মি ব্যবহৃত হয় কোন ক্ষেত্রে?
  1. গোয়েন্দা কাজে 
  2. হীরক সনাক্তকরণে 
  3. শরীরের ভিতরের হাড়ে ফাটল শনাক্ত করণে 
  4. উপরোক্ত সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

- এক্স-রশ্মি (X-ray) চিকিৎসাবিজ্ঞান (হাড়ের ফাটল, ফুসফুসের রোগ), শিল্প (যন্ত্রপাতির ত্রুটি পরীক্ষা), এবং ফরেনসিক বা গোয়েন্দা কাজে (যেমন: লুকানো জিনিসপত্র সনাক্তকরণ) ও মূল্যবান পাথর (হীরা) শনাক্তকরণে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। 

এক্স রে (রঞ্জন রশ্মি): 

- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন। 
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়। এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন। 
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। 
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন। 

এক্স রে এর ব্যবহার: 
- হীরক সনাক্তকরণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করণে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়ে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২১.
মানুষের হৃদপিণ্ডে অলিন্দ ও নিলয়ের মোট সংখ্যা কতটি?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ১টি
  4. ৩টি
ব্যাখ্যা
মানুষের হৃদপিণ্ড চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট।
- এর মধ্যে অলিন্দ আছে ২ টি (ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ) এবং নিলয় আছে দুইটি (ডান নিলয় ও বাম নিলয়)।
- সুতরাং অলিন্দ ও নিলয় মিলিয়ে মোট প্রকোষ্ঠ সংখ্যা ৪। 
সূত্র: মাধমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৭২২.
নিচের কোনটি ভাইরাস গঠিত রোগ নয়?
  1. ক) কোভিড-১৯
  2. খ) ডেঙ্গু জ্বর
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) মাম্পস
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ভাইরাস জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ভাইরাস জনিত রোগ:
- এইডস,
- জন্ডিস,
- কোভিড-১৯
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।

• ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত রোগকে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ বলে।
কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

উৎস: National Institutes of Health (US)

৭২৩.
Which of the following disease is not spread by Mosquito?
  1. Zika virus
  2. Chikungunya virus
  3. Yellow virus
  4. Ebola virus
ব্যাখ্যা
মশাবাহিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো - ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়া, জিকা ভাইরাস, ইয়োলো ভাইরাস, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস ইত্যাদি।
- এবোলা একটি ভাইরাস।
- এতে আক্রান্ত হলে খুব হঠাৎ করে জ্বর দেখা দেয়। খুব দুর্বল লাগে।
- এর পরবর্তী ধাপ হল বমি ও ডাইরিয়া দেখা দেয়। শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তপাত হতে থাকে।
- সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির কেটে যাওয়া ত্বক, তার মুখ, নাক, বমি, রক্ত, মল বা শরীরের অন্য ধরনের তরল কোন পদার্থের সংস্পর্শে এলে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।
- মূলত কোনো প্রাণী বা মানুষের রক্ত, বীর্য, যোনিরস বা দেহ নির্গত অন্য কোনো তরলের সংস্পর্শে এ রোগ ছড়ায়৷ বলা বাহুল্য, অনিয়ন্ত্রিত এবং অনিরাপদ যৌন মিলনেও এ রোগের সংক্রমণ হয়ে থাকে ।
- অর্থাৎ কিছু কিছু ক্ষেত্রে এইডস রোগের সঙ্গে এবোলার মিল রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা৷
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে পশ্চিম আফ্রিকায় এবোলা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ উড়ন্ত খ্যাঁকশিয়ালা এই প্রাণীটি ভাইরাসটি বহন করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে দেয় এমনকি সংক্রমিত প্রাণীটি যখন ফলমূল ও অন্যান্য প্রাণী খায়, তখন সেসব খাদ্যের অবশিষ্ট অংশ থেকেও ছড়িয়ে পড়ে এবোলা৷

উৎস: The National Institute for Occupational Safety and Health (NIOSH)। [লিঙ্ক]
DW বাংলা। [লিঙ্ক]
৭২৪.
কোন বৈশিষ্ট্য এক্সরে-কে অন্য রশ্মি থেকে আলাদা করে? 
  1. এটি আলোর সমবেগে যায় না 
  2. এটি দৃশ্যমান 
  3. এটি আলোর মতো প্রতিসরণ করে না 
  4. এটি তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ধর্ম (Properties of X-ray): 
১। এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
২। এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
৩। এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
৪। এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
৫। এক্সরে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 ms-1 বেগে গমন করে। 
৬। আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
৭। এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
৮। এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
৯। এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না, সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
১০। এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
১১। এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
১২। এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
১৩। এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৫.
বায়োটেকনোলজি শব্দটি প্রথম ব্যাবহার করেন কে?
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) রবার্ট ব্রাউন
  3. গ) কার্ল এরেকি
  4. ঘ) উইলিয়ামসন
ব্যাখ্যা
- বায়োটেকনোলজি শব্দটি হাঙ্গেরীয় কৃষি প্রকৌশলী কার্ল এরেকি ১৯১৯ সালে প্রথম ব্যবহার করেন।

- Biology এবং  Technology এই দুই শব্দের সমন্নয়ে biotechnology শব্দের সৃষ্টি যার অর্থ জীবপ্রযুক্তি।

উৎস:
একাদশ শ্রেণির জীববিজ্ঞান বই।
৭২৬.
নিচের কোন যৌগটি ভিটামিন ‘সি’?
  1. ক) অ্যাসকরবিক এসিড
  2. খ) সাইট্রিক এসিড
  3. গ) অ্যাসিটিক এসিড
  4. ঘ) অক্সালিড এসিড
ব্যাখ্যা
- অ্যাসকরবিক এসিড হল ভিটামিন- সি এর অপর নাম। 
- কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, পাতিলেবু, আনারস, আম, জাম, মাছ ও মাংস ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়।
- ভিটামিন সি এর অভাবে বিভিন্ন রোগ হয়।
যেমন-স্কার্ভি, শিশুদের মাড়ি ফুলে যাওয়া, দেহের ওজন হ্রাস হওয়া, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি রোগ হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি
৭২৭.
হৃৎপিণ্ডের সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ কোনটি?
  1. ক) ডান অলিন্দ
  2. খ) ডান নিলয়
  3. গ) বাম অলিন্দ
  4. ঘ) বাম নিলয়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ডান অলিন্দ হলো হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে কম পেশিবহুল অংশ আর বাম নিলয় হলো সর্বাধিক পেশিবহুল অংশ। ডান অলিন্দ মহাশিরার মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্য সকল অঙ্গ থেকে অক্সিজেনরিক্ত রক্তগ্রহণ করে। বাম নিলয় মহাধমনির মাধ্যমে ফুসফুস ছাড়া দেহের অন্যান্য অংশে রক্ত পাম্প করে। দেহের প্রায় সমগ্র অংশে রক্ত পাম্প করতে হয় বলে বাম নিলয় হৃৎপিণ্ডের সবচেয়ে পেশিবহুল অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭২৮.
মানুষের রক্তে LDL এর মাত্রা কত থাকে?
  1. ক) 60%
  2. খ) 70%
  3. গ) 80%
  4. ঘ) 90%
ব্যাখ্যা
মানুষের রক্তে LDL এর মাত্রা থাকে ৭০%। 

LDL পূর্ণরূপ- Low Density Lipoprotein
লিপোপ্রোটিন হল একটি জৈব রাসায়নিক স্নেহ পদার্থ। এর প্রাথমিক কাজ হলো হাইড্রোফোবিক লিপিডকে (ফ্যাট হিসাবে পরিচিত) প্লাজমার মধ্য দিয়ে পরিবহন করা।
Low Density Lipoprotein কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ, এতে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
অপরদিকে, High Density Lipoprotein (HDL) কে ভালো কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৭২৯.
প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাস সর্বপ্রথম কোথায় শনাক্ত করা হয়েছিল?
  1. ক) চীনের উহানে
  2. খ) চীনের সাংহাইতে
  3. গ) চীনের বেইজিংয়ে
  4. ঘ) ইতালির লোম্বার্ডিতে
ব্যাখ্যা
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার সর্বপ্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ১১ জানুয়ারী ২০২০ চীনের উহানে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী মারা যায়।
- ১৩ জানুয়ারি চীনের বাহিরে থাইল্যান্ডে সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়। এই রোগী উহান থেকে থাইল্যান্ডে এসেছিল।
- ২ ফেব্রুয়ারি চীনের বাহিরে ফিলিপাইনে প্রথম করোনা রোগী মারা যায়। এই রোগীও উহান থেকে ফিলিপাইন গিয়েছিলো।
- বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং প্রথম রোগী মারা যায় ১৮ মার্চ।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ COVID-19 কে মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে।

তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৭৩০.
নবজাতকের ওজন কত কেজির কম হলে সেটাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. ক) ২ কেজি
  2. খ) ২.৫ কেজি
  3. গ) ৩ কেজি
  4. ঘ) ৩.৫ কেজি
ব্যাখ্যা
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু বলা হয়।
মায়ের অপুষ্টি, মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণে শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে।
উৎসঃ প্রথম আলো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আর্কাইভ।
৭৩১.
নিচের কোনটি থেকে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়? 
  1. ছত্রাক
  2. শৈবাল
  3. ভাইরাস
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের উপকারিতা: 
- বিজ্ঞানীরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ভাইরাসকে বিভিন্নভাবে মানুষের কিছু উপকারে আনতে সক্ষম হয়েছেন। 
যথা - 
১। বসন্ত, পোলিও, এবং জলাতংক রোগের প্রতিষেধক টিকা ভাইরাস দিয়েই তৈরি করা হয়। 
২। ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়। 
৩। ভাইরাসকে বর্তমানে বহুল আলোচিত জিনতত্ত্ব ও আণবিক জীববিদ্যা বা জিন প্রকৌশল এ বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। 
৪। ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহার করা হচ্ছে। 
যেমন- ফায ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত আমাশয় রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
৫। কতিপয় ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে। 
৬। জীব সৃষ্টি প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করার চাবিকাঠি হলো ভাইরাস, কেননা ভাইরাসে জীব ও জড় উভয় বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। 
৭। লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ পড়ে, এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং ফুলের মূল্যও বাড়ে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩২.
'নিউরন' মানবদেহের কোন তন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একক?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) পরিপাকতন্ত্র
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) হৃদযন্ত্র
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে।
- মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্র অঙ্গ।
- মানুষের মস্তিষ্কের আয়তন ১৫০০ ঘন সেমি
- মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

----------------
- রেচনতন্ত্রের কার্যকরী একক নেফ্রন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৩.
কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে-
  1. ক) করোনারি ধমনী
  2. খ) পালমোনারি ধমনী
  3. গ) পালমোনারি শিরা
  4. ঘ) ইনমিনেট ধমনী
ব্যাখ্যা
করোনারি ধমনি : অ্যাওর্টা অ্যাওর্টিক আর্চ গঠনের পূর্বেই ডান ও বাম করোনারি ধমনি উৎপন্ন করে। এরা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত হৃদপেশীতে সরবরাহ করে।
ইনমিনেট ধমনি : এটি একটি খাটো ও মোটা ধমনি। এটি অভিন্ন ক্যারোটিড ধমনি ও ডান সাবক্লেভিয়ান ধমনিতে বিভক্ত।
পালমোনারী ধমনি: দেহ থেকে গৃহীত CO2 সমৃদ্ধ রক্ত অক্সিজেনময় হওয়ার জন্য ফুসফুসে বহন করে।
পালমোনারি শিরা: ফুসফুস থেকে অক্সিজেনময় রক্ত দেহে সরবরাহের জন্য হৃদপিন্ডে বহন করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টি করে কোন ব্যাকটেরিয়া?
  1. ক) স্পাইরিলাম
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কক্কাস
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা
কোনাে কোনাে ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গােলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে।
যেমন - নিউমােনিয়া রােগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
সূত্র: সপ্তম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান
৭৩৫.
ঠোঁটের কোণ ও মুখের চারদিকে ফেটে যায় -
  1. ভিটামিন সি-এর অভাবে
  2. ভিটামিন বি -এর অভাবে
  3. ভিটামিন বি-এর অভাবে
  4. ভিটামিন বি১২-এর অভাবে
ব্যাখ্যা
রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি উৎস: 
- কমলা ও হলুদ বর্ণের শাকসবজি যেমন- মিষ্টি কুমড়া, পাকা পেঁপে, কুমড়োর ফুল, ডিমের কুসুম, দুধ, বাদাম, যকৃত রিবোফ্লাভিনের ভালো উৎস। 

অভাবজনিত অবস্থা: 
- রিবোফ্লাভিন বা ভিটামিন বি এর অভাবে জিহ্বায়, ঠোঁটের কোণায় ও মুখের ভিতরে ঘা দেখা দেয়। 
- ত্বক খসখসে হয়ে যায়। 
- ভিটামিন বি অভাবে মুখে ঘা হতে পারে। 

দৈনিক চাহিদা: 
- প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের দৈনিক ১.৭ মিলিগ্রাম ও নারীর ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 
- শিশুদের দৈনিক ০.৮ মিলিগ্রাম এবং কিশোর কিশোরীদের যথাক্রমে ২.০ মিলিগ্রাম ও ১.৩ মিলিগ্রাম প্রয়োজন। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন-সি এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন বি এর অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 
- ভিটামিন বি এর অভাবে পেলেগ্রা হয়। 
- ভিটামিন বি১২ এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ন এবং বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৬.
এইডস রোগের ক্ষতিকারক দিক হচ্ছে AIDS রোগে-
  1. ক) দেহের যকৃত নষ্ট হয়
  2. খ) মস্তিষ্কে রক্তপাত হয়
  3. গ) দেহের কিডনী নষ্ট হয়
  4. ঘ) দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়
ব্যাখ্যা
• এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যেটা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয় এবং জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে নিরাময়হীন অবস্থায় নিয়ে যায়, যা এইডস নামে পরিচিত।
- এইডস এক ধরনের ভাইরাস জনিত রোগ। এই রোগের ভাইরাসটির নাম এইচআইভি। 
- এই ভাইরাস মানব দেহে প্রবেশ করে ধীরে ধীরে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেয়। 
- বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনও খুব বেশি নয়, মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। তবে নতুন রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বাড়ছে।

উৎস: unicef.org
৭৩৭.
জাতিসংঘের কোন সংস্থাটি করােনা ভাইরাসকে 'pandemic' ঘােষণা করেছে?
  1. ECOSOC
  2. FAO
  3. WHO
  4. HRC
ব্যাখ্যা
WHO:
- WHO-এর পূর্ণরূপ: World Health Organization.
- WHO জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৭ এপ্রিল, ১৯৪৮।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক: টেড্রোস আধানম গেব্রেইসাস।
- সদরদপ্তর: জেনেভা, সুইজারল্যান্ড।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৪টি।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৬১টি দেশ।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সম্মেলন: জাতিসংঘের উদ্যোগে International Health Conference।
- বিশ্বব্যাপী উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যৎ গড়ে তোলাই এই সংস্থার প্রধান কাজ।
- এটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহের জনস্বাস্থের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং এটি জাতিসংঘ উন্নয়ন গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সদস্যপদ লাভের মাধ্যমে জাতিসংঘ পরিবারের সাথে যুক্ত হয়।

⤇ ২২ জুলাই, ১৯৪৬ সালে অনুষ্ঠিত International Health Conference -তে ৬১টি দেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সনদ স্বাক্ষর করে।
- এর ২ বছর পর আনুষ্ঠানিকভাবে WHO এর যাত্রা শুরু হয়।

⤇ বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সংস্থাটি সদস্য দেশ সমূহের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য বিষয়ক সরকারি অন্যান্য সংস্থা ও বিভাগ, এনজিও এবং জনসাধারনের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
- যে কোন রোগ-বালাই, নতুন রোগের সংক্রমণ বা জরুরি স্বাস্থ্যগত যেকোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবিত যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় এই সংস্থা সর্বদা নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে

উল্লেখ্য,
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ COVID-19 কে মহামারি (Pandemic) হিসেবে চিহ্নিত করে।
- বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ এবং প্রথম রোগী মারা যায় ১৮ মার্চ।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট।
৭৩৮.
নিচের কোনটি মস্তিস্কজনিত রোগ?
  1. ক) হাঁপানি
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) করোনা
  4. ঘ) জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা
এপিলেপসি একটি মস্তিষ্কজনিত রোগ। 

- এক ধরণের স্নায়বিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির বারবার খিঁচুনি ঘটায়।
- মস্তিষ্কে হঠাৎ অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপের কারণে এই খিঁচুনি ঘটে যা মস্তিষ্কের কোষগুলির মধ্যে মেসেজিং সিস্টেমে একটি অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটায়।
- এ রোগটি যেকোন বয়সেই হতে পারে। 
- আগুন, পানির সাথে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। 

সূত্র- ২২৫ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৯.
বাংলাদেশে প্রথম টিকাদান কর্মসূচি চালু হয়-
  1. ক) ১৯৮৭ সালে
  2. খ) ১৯৮৫ সালে
  3. গ) ১৯৮১ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথম টিকাদান কর্মসূচি চালু হয় ৭ এপ্রিল, ১৯৭৯ সালে কিন্তু সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি চালু হয় ১৯৮৫ সালে। উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৪০.
ইনসুলিন কোথায় উৎপন্ন হয়?
  1. ক) পিত্তাশয়ে
  2. খ) পাকস্থলীতে
  3. গ) ইন্টারফেরনে
  4. ঘ) অগ্ন্যাশয়ে
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়। 
- ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- অগ্ন্যাশয়ের ইংরেজি হচ্ছে প্যানক্রিয়াস।
- প্যানক্রিয়াস(pancrea) হল মানুষের একটি অংগ যা একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে। পাকস্থলী যেখানে শেষ হয়, ডিওডেনাম সেখানে শুরু হয়। আর ডিওডেনামের পিছনেই এটির অবস্থান।
 
এটা মূলত দুই ধরনের কাজ করে: 
১) খাদ্য হজমের জন্য পাচক রস বা ডাইজেস্টিভ জুস তৈরি করে পাকস্থলীতে সরবরাহ করে।
২) ইন্সুলিন ও গ্লুকাগন নিঃসরণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
 


উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৪১.
মধুতে খুব বেশি পরিমানে থাকে -
  1. ক) কপার
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ
  3. গ) লৌহ
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- মধু ভালো শক্তি প্রদানকারী খাদ্য। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- মধুতে যে শর্করা থাকে তা সহজেই হজম হয়। কারণ এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে কাজ করে।
- মধু ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। 
- ১ চা চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।
- রক্তশূন্যতা কমাতে মধু সহায়ক। মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে। কারণ এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।
- হাঁপানি রোধে এবং ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে সহায়তাকারী।
- মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুমে কাজ করে।
 
উৎস : কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট
৭৪২.
কোভিড-১৯ কোন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে?
  1. SARS-CoV-1
  2. SARS-CoV-2
  3. MERS-CoV
  4. Influenza A
ব্যাখ্যা
কোভিড-১৯ রোগটি নভেল করোনা ভাইরাস বা SARS-CoV-2 (Severe Acute Respiratory Syndrome Coronavirus 2) এর সংক্রমনের মাধ্যমে হয়ে থাকে। 

• এটি ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হয়।
- এটি SARS-CoV-1 (২০০৩ সালের SARS ভাইরাস) এর সাথে জেনেটিকভাবে সম্পর্কিত, তাই এর নামকরণ করা হয় SARS-CoV-2।
- ICTV (International Committee on Taxonomy of Viruses) কর্তৃক ২০২০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নামকরণ করা হয় ।

• রোগের লক্ষণসমূহ:
(i)  জ্বর। 
(ii) শুকনো কাশি । 
(iii) শ্বাসকষ্ট। 
(iv) এ ছাড়া সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলবোধ, পাতলা পায়খানা, এমন কি মাংশপেশিতে ব্যথা।
(iv) শেষ পর্যন্ত নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

• করোনা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার ১৪ দিনের মধ্যে (ক্ষেত্র বিশেষে ২৭ দিনের মধ্যে) রোগ লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এজন্য সন্দেহভাজন (যার লক্ষণ প্রকাশিত হয় নাই কিন্তু আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারে) ব্যক্তিকে ১৪ দিন কোয়ারেনটাইনে রাখতে হয়।
- কোয়ারেনটাইন হলো নিজেকে একটি ঘরে সম্পূর্ণভাবে আবদ্ধ করে রাখা। এ সময় কারো সাথে দেখা সাক্ষাৎ, মেলামেশা না করা। এ অবস্থায় বাড়িতে থাকলে বলা হয় হোম কোয়ারেনটাইন।
- হাসপাতাল বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে থাকলে তাকে বলা হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইন।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৭৪৩.
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম কী?
  1. ক) থাইরয়েড
  2. খ) পিটুইটারি
  3. গ) প্যারাথাইরয়েড
  4. ঘ) থাইমাস
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থির নাম হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি।  

- পিটুইটারি গ্রন্থি হলো একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি।
- এই গ্রন্থিটি মস্তিষ্কের পাদদেশে অবস্থিত মটর দানার মতো দেখতে।
- মানব শরীরে পিটুইটারি গ্রন্থির ওজন ০.৫ গ্রাম।
- পিটুইটারি গ্রন্থির ৩টি অংশ আছে। 
যথাঃ– (১) সম্মুখ অংশ (Anterior Lobe) (২) মধ্য অংশ (Intermediate lobe) (৩) পশ্চাৎ অংশ ( Posterior lobe)।

পিটুইটারি গ্রন্থির কাজসমূহ- 
১. বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ।
২. জনন গ্রন্থির বৃদ্ধি, ক্ষরণ ও কার্য নিয়ন্ত্রণ।
৩. মাতৃদেহে দুগ্ধ ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৪.
এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তুলনায়- 
  1. সমান 
  2. অনেক ছোট 
  3. অনেক বড় 
  4. আলোর চেয়ে দ্বিগুণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরের ধর্ম: 
- এক্সরের ধর্মগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো- 
- এক্সরে সরল পথে গমন করে। 
- এক্সরে অদৃশ্য রশ্মি। সাধারণ আলো রেটিনায় পড়লে দৃষ্টির অনুভূতি জাগায় কিন্তু এর ক্ষেত্রে এমন ঘটে না। 
- এক্সরে তাড়িতচুম্বকীয় আড় তরঙ্গ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক ছোট। 
- এক্সরে আলোর সমবেগে অর্থাৎ 3×108 m/s বেগে গমন করে। 
- আলোর ন্যায় প্রতিফলন, প্রতিসরণ, অপবর্তন এবং পোলারণ ঘটে। 
- এই রশ্মি আলো তড়িৎ ক্রিয়া প্রদর্শণ করে। 
- এক্সরে ফটোগ্রাফিক প্লেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। 
- এক্সরে তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না। সুতরাং এর কোন চার্জ নাই। 
- এই রশ্মি গ্যাসের মধ্য দিয়ে গমনের সময় গ্যাসকে আয়নিত করে। 
- এক্সরে প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করতে পারে। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতা অত্যধিক। 
- এক্সরে জীবন্ত কোষকে ধ্বংস করতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৭৪৫.
আমাদের দেশে একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রায় গড় ক্যালরি শক্তির প্রয়োজন-
  1. ২৫০০ ক্যালরি
  2. ২০০০ ক্যালরি
  3. ১৫০০ ক্যালরি
  4. ১০০০ ক্যালরি
ব্যাখ্যা
কিলোক্যালরি: 
- খাদ্যের মধ্যে নিহিত শক্তিকে খাদ্য ক্যালরি বা কিলোক্যালরি হিসেবে মাপা হয়। 
- ক্যালরি হচ্ছে শক্তির একক। 
- এক গ্রাম খাদ্য জারণের ফলে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয়, তাকে খাদ্যের ক্যালরি বলে। 
- এক গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° (ডিগ্রি) সেলসিয়াস বৃদ্ধি করার জন্য যে শক্তির প্রয়োজন হয়, সে পরিমাণ তাপশক্তি হচ্ছে এক ক্যালরি। 
- এক হাজার ক্যালরি সমান এক কিলোক্যালরি বা এক খাদ্য ক্যালরি (One Food Calorie)। 
- একটা খাদ্যের খাদ্য ক্যালরি বলতে বোঝায় খাদ্যটি সম্পূর্ণভাবে জারণ হলে কতখানি শক্তি বের হবে। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ মানুষের দৈনিক ২৫০০ kcal এবং একজন নারীর ২০০০ kcal এর সমপরিমাণ খাবার খাওয়া প্রয়োজন। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা। 
৭৪৬.
স্ফিগমোম্যানোমিটার কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) রাসায়নিক বিক্রিয়া
  2. খ) নবায়নযোগ্য শক্তি
  3. গ) রক্তচাপ
  4. ঘ) স্নায়ুচাপ
ব্যাখ্যা
স্ফিগমোম্যানোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ মাপা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৪৭.
নিচের কোনটি Non-communicable disease নয়?
  1. ডায়াবেটিস
  2. হার্ট ডিজিস
  3. Covid-19
  4. উচ্চ রক্তচাপ
ব্যাখ্যা
- অসংক্রামক রোগ (NCDs), যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ হিসাবেও পরিচিত, এমন চিকিৎসা অবস্থা যা সংক্রামক নয় বা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমণযোগ্য নয়।
- এই রোগগুলি একটি বর্ধিত সময়ের মধ্যে ধীরে ধীরে বিকাশের প্রবণতা থাকে এবং প্রায়শই এটি দীর্ঘায়িত হয়।
- এনসিডিগুলি তাদের ব্যাপকতা, স্বাস্থ্যের উপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর তাদের চাপের কারণে একটি উল্লেখযোগ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে অসংক্রামক রোগের কিছু সাধারণ উদাহরণ তুলে ধরা হল:
• Cardiovascular Diseases (CVDs):
- কার্ডিওভাসকুলার রোগগুলি হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালীগুলিকে প্রভাবিত করে।
- সাধারণ প্রকারের মধ্যে রয়েছে করোনারি আর্টারি ডিজিজ, হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ), স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর এবং পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ।

• Cancer
• Chronic Respiratory Diseases
Diabetes
• Chronic Kidney Disease (CKD) ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, Covid-19 একটি সংক্রামক রোগ।  

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৭৪৮.
ডেঙ্গু জ্বরের বাহক কোন মশা?
  1. অ্যানোফিলিস মশা
  2. কিউলেক্স মশা
  3. এডিস মশা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ডেঙ্গু:
• এডিস মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে।
• ডেঙ্গু জ্বরের বাহক মশার নাম Aedes aegypti.
• এছাড়াও এডিস এলবোপিকটাস মশার কামড়েও ডেঙ্গু রোগ ছড়াতে পারে।
• এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের তিন থেকে পনেরো দিনের মধ্যে সচরাচর ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গগুলো দেখা দেয়।

ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ:
- জ্বর, মাথাব্যথা, বমি, পেশিতে ও গাঁটে ব্যাথা এবং চর্মে ফুসকুড়ি।
- দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী আরোগ্য লাভ করে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রক্তক্ষরী রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়।
- ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং WHO ওয়েবসাইট। 
৭৪৯.
মানবদেহের দেহকোষে অটোজোম সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ০২টি
  2. খ) ২২টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ৪৬টি
ব্যাখ্যা
ক্রোমোজোম
- মানবদেহের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণে অটোজোমের কোনো ভূমিকা নেই। 
- অন্য এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫০.
অত্যধিক ঠাণ্ডায় অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত টিস্যুর ওপর নিচের কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়?
  1. বায়োসার্জারি
  2. ক্রায়োসার্জারি
  3. ক্রোমোসার্জারি
  4. হোমোসার্জারি
ব্যাখ্যা
ক্রায়োসার্জারি: 
- ক্রায়োসার্জারি হচ্ছে অত্যন্ত ঠাণ্ডায় তাপমাত্রা ব্যবহার প্রক্রিয়া যার সাহায্যে শরীরের অস্বাভাবিক টিস্যু ধ্বংস করা হয়। 
- ক্রায়োসার্জারিকে ক্রায়োথেরাপিও বলা হয়। 
- ক্রায়োসার্জারি অশ্বরোগ, ছানি, হাড়, যকৃত, প্রোস্টেট ক্যান্সার ইত্যাদি চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। 
- ক্রয়োসার্জারিকে একটি কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা বিবেচনা করা হয়। 
- প্রায় বিগত ৪০ বছর ধরে প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

ক্রায়োসার্জারির সুবিধাসমূহ: 
• ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারি থেকে কম ক্ষতিকর। 
• সার্জারির কারণে ব্যাথা, রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য যে অসুবিধা হয়, ক্রয়োসার্জারিতে তা হয় না। 
• ক্রায়োসার্জারি পদ্ধতিতে চিকিৎসা খরচ কম। 
• অন্য পদ্ধতির তুলনায় হাসপাতালে কম সময় থাকতে হয়। 

ক্রায়োসার্জারির অসুবিধাসমূহ: 
• দীর্ঘমেয়াদী ভালো ফলাফলের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা। 
• মাইক্রোকপিক ক্যান্সার বিস্তার রোধে ব্যর্থ। 
• কার্যকর কৌশলের বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫১.
খাদ্যবাহিত রোগ–
  1. ক) ফ্লু
  2. খ) হাম
  3. গ) টাইফয়েড
  4. ঘ) কোভিড-১৯
ব্যাখ্যা
• খাদ্যবাহিত রোগ:
- পানি ও খাদ্যের সাথে আমাদের দেহে রোগ জীবাণু প্রবেশ করে। অনেক সময় সংক্রমণ হয়ে মহামারী আকার ধারণ করে।
- খাদ্যের মাধ্যমে জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়ে যে রোগ সৃষ্টি হয় তাকে খাদ্যবাহিত রোগ বলে।
- কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগের জীবাণু কৃত্রিম খাদ্য ও পানি, দুধ প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশে সংক্রমিত হয়।

• বায়ুবাহিত রোগ:
- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হপিং কফ, নিউমোনিয়া, সাধারণ ঠান্ডা জ্বর, বসন্ত, হাম, কোভিড-১৯ ইত্যাদি।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান- ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৫২.
নিচের কোনটি অণুজীব?
  1. ক) Bacillus
  2. খ) Spirillum
  3. গ) Streptococcus
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
- ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল, অ্যামিবা ইত্যাদিকে নিম্নশ্রেণির জীব বলা হয়।
- এদের মধ্যে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অ্যামিবা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য ছাড়া দেখা যায় না। এরা অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত।
- কিছু কিছু ছত্রাক ও শৈবাল খালি চোখে দেখা গেলেও অধিকাংশ ছত্রাক ও শৈবাল দেখতে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য লাগে। এসব অণুজীব বা আদিজীব মানুষ, গৃহপালিত পশুপাখি ও উদ্ভিদের রোগ সৃষ্টি করে। আবার পরিবেশে এদের অনেক উপকারী ভূমিকাও রয়েছে। 

- Bacillus, Spirillum, Streptococcus এক ধরণের ব্যাকেটেরিয়া, যা অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত।

সূত্র-  ৭ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই ও জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৭৫৩.
রক্তে কোনটির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে জন্ডিসের লক্ষণ প্রকাশ পায়?
  1. ক) বিলিরুবিন
  2. খ) ইনসুলিন
  3. গ) কোলেস্টেরল
  4. ঘ) হিমোগ্লোবিন
ব্যাখ্যা
• জন্ডিস হবার মূল কারণ হল রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া। বিলিরুবিন এক ধরণের হলুদ রঙের পদার্থ, যেটা রক্তে উপস্থিত লাল রক্ত কনিকার ১২০ দিনের চক্র পূরণ হলে ভেঙ্গে তৈরি হয়।

অপরদিকে ----

• কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

• ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন,এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো (আইল্যেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স-এর বিটা কোষ) থেকে নিঃসৃত হয়। 

• হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেন বাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন ।

SOURCE: জীব বিজ্ঞান ,  ২য় পত্র  ,এইচ এস সি পোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৭৫৪.
পোলিও ভ্যাকসিনের আবিষ্কারক কে?
  1. এডওয়ার্ড জেনার
  2. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  3. লুই পাস্তুর
  4. জোনাস সাল্ক
ব্যাখ্যা
◉ জোনাস সাল্ক ১৯৫৫ সালে প্রথম কার্যকর নিষ্ক্রিয় পোলিও ভ্যাকসিন (Inactivated Polio Vaccine – IPV) উদ্ভাবন করেন।

পোলিও ভ্যাকসিন: 
- পোলিও ভাইরাসজনিত স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রামক রোগ পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- আবিষ্কারক: জোনাস সাল্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- সময়কাল: ১৯৫০-এর দশকের প্রথম দিকে।
- বৈশিষ্ট্য: Killed virus (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস) দ্বারা তৈরি, ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান।
- ব্যাপক ব্যবহার শুরু: ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪, মার্কিন স্কুলশিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে।
- ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্রে পোলিও আক্রান্তের হার প্রতি ১ লক্ষে ১৮ জন থেকে কমে ২ জনের নিচে নেমে আসে।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
এডওয়ার্ড জেনার: গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন (প্রথম ভ্যাকসিন)।
আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
লুই পাস্তুর: জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সসহ একাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন এবং জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৭৫৫.
কোনটি ভাইরাস জনিত রোগ?
  1. টাইফয়েড
  2. কলেরা
  3. আমাশয়
  4. নিপাহ
ব্যাখ্যা

• কয়েকটি ভাইরাস জনিত রোগঃ
- জন্ডিস,
- হার্পিস,
- গুটি বসন্ত,
- জল বসন্ত,
- হাম,
- মাম্পস,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- বার্ড ফ্লু,
- সোয়াইন ফ্লু,
- পোলিও,
- এইডস,
- জলাতঙ্ক,
- নিপাহ,
- ডেঙ্গু জ্বর,
- ইবোলা,
- জিকা জ্বর ইত্যাদি।
• কতিপয় ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগঃ
- যক্ষ্মা,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিংকাশি,
- ধনুষ্টংকার,
- নিউমোনিয়া,
- মেনিনজাইটিস,
- কলেরা,
- গনোরিয়া,
- সিফিলিস,
- টাইফয়েড,
- আমাশয়,
- প্লেগ,
- কুষ্ঠ ইত্যাদি।

৭৫৬.
পূর্ণ বয়স্ক পুরুষের মোট রক্তের গড় পরিমাণ -
  1. ক) ৫ লিটার
  2. খ) ৭ লিটার
  3. গ) ৮ লিটার
  4. ঘ) ১০ লিটার
ব্যাখ্যা

রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের তরল যোজক কলা।
রক্তবাহিকার মাধ্যমে রক্ত মানব দেহের সর্বত্র সঞ্চালিত হয়। রক্ত সামান্য ক্ষারীয়।
এর PH মাত্রা গড়ে ৭.৩-৭.৪।
সজীব রক্তের তাপমাত্রা ৩৬°-৩৮° সেলসিয়াস।
অজৈব লবণের উপস্থিতির জন্য রক্ত লবণাক্ত হয়।
একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের দেহে গড়ে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%।
উৎসঃ প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (উন্মুক্ত)।

৭৫৭.
'সোয়াইন ফ্লু' রোগের বাহক
  1. ক) শূকর
  2. খ) বাদুড়
  3. গ) এডিস মশা
  4. ঘ) মুরগি
ব্যাখ্যা
সোয়াইন (Swine) অর্থ শূয়াের।
২০০৯ সালে আবিষ্কৃত এ ভাইরাসটির সাথে শূয়াের ছানায় প্রাপ্ত ভাইরাসের সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় বলে এর নাম হয় সােয়াইন ফ্লু।

সোয়াইন ফ্লু ভাইরাসের নাম H1N1.
হেমাগুটিনিন (Heritagglutini) টাইপ-১ ও নিউরামিনিডেস (Neuraminidase) টাইপ-১ মিলে H1N1 নামটি নেয়া হয়েছে।
৭৫৮.
কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে ইনসুলিন গঠিত ?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ২৭টি
  4. ঘ) ২১ টি
ব্যাখ্যা
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রাকে হ্রাস করে ফলে রক্ত স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস : উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৯.
বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করেন কবে?
  1. ক) ১৯৭৫ সালে
  2. খ) ১৯৭৬ সালে
  3. গ) ১৯৭৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
• বিজ্ঞানীরা ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত করেন ১৯৭৬ সালে। 

• ইবোলা রোগের ভাইরাস প্রথম চিহ্নিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে।
- কিন্তু ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় যে ইবোলার প্রাদুর্ভাব হয় সেটাই ছিল সবচেয়ে বড় আকারের।
- বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী এতে মারা যায় ১১ হাজারের বেশি লোক, আর সংক্রমিত হয়েছিল ২৮ হাজার।
- দু বছর ধরে চলা এ সংক্রমণে আক্রান্ত লোক পাওয়া গিয়েছিল ১০টি দেশে।
- এর মধ্যে আফ্রিকান দেশ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, যুক্তরাজ্য এবং ইটালিও আছে।
- বিজ্ঞানীরা নানা পরীক্ষা ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন যে এর উৎস ছিল গিনির মেলিয়ান্দো গ্রামের দু'বছর বয়সের একটি শিশু।

সূত্র: বিবিসি নিউজ। 
৭৬০.
নিচের কোনটি RNA ভাইরাস নয়?
  1. TMV
  2. TIV
  3. HIV
  4. র‍্যাবিস
ব্যাখ্যা
• নিউক্লিক অ্যাসিডের ধরন অনুযায়ী ভাইরাস দুই প্রকার। যথা-
১. DNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- T2 ভাইরাস, ভ্যাকসিনিয়া, ভ্যারিওলা, TIV (Tipula Iridiscent Virus), এডিনোহার্পিস সিমপ্লেক্স ইত্যাদি ভাইরাস।
- Parvoviridae গোত্রের ভাইরাসের DNA একসূত্রক।

২. RNA ভাইরাস:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- TMV, HIV, ডেঙ্গু, পোলিও, মাম্পস, র‍্যাবিস, নভেল করোনা ইত্যাদি ভাইরাস।
- Reoviridae গোত্রের (রিও ভাইরাস, ধানের বামন রোগের ভাইরাস) ভাইরাসের RNA দ্বিসূত্রক।

উৎস: জীববিজ্ঞান-প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৭৬১.
দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণকারী ক্রোমোজোমের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ৪৬ টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৭৬২.
রক্ত এক ধরনের -
  1. ক) অম্লধর্মী তরল যোজক কলা।
  2. খ) অম্লধর্মী তরল আবরণী কলা।
  3. গ) ক্ষারধর্মী তরল আবরণী কলা।
  4. ঘ) ক্ষারধর্মী তরল যোজক কলা।
ব্যাখ্যা
- প্রাণীদেহের রক্ত একধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু।
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যেটি মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%।
- রক্তের রসে লাল রংয়ের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়।

সূত্রঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭৬৩.
পোলিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করেন কে?
  1. জোনাস সাল্ক
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. হার্ভে জে অল্টার
  4. ওয়াল্টার রিড
ব্যাখ্যা
- জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক প্রথম পোলিও টিকার উদ্ভাবন করেন। এই টিকাতে তিনি মৃত পোলিও ভাইরাস ব্যবহার করেন। তিনি এই টিকায় বৈজ্ঞানিক কাজে ব্যবহৃত এক ধরনের বিশেষ কোষ (হেলা কোষ) ব্যবহার করেন, এবং ১৯৫২ সালে সর্বপ্রথম এর পরীক্ষা চালান। ডাঃ টমাস ফ্রান্সিস জুনিয়র ১৯৫৫ সালের ১২ এপ্রিল গোটা বিশ্বে এই টিকার কথা ঘোষণা করেন।
- বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে প্রথম ভাইরাসঘটিত বসন্ত রোগের কথা উল্লেখ করেন।
- ১৯৮৯ সালে হার্ভে জে অল্টার হেপাটাইটিস- সি ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
- ওয়াল্টার রিড ১৯০১ সালে সর্বপ্রথম মানবদেহের পীত জ্বর সৃষ্টিকারী ভাইরাস আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং Encyclopedia Britannica
৭৬৪.
মানুষের গায়ের রং কোন উপাদানের উপর নির্ভর করে?
  1. ক) হিমোগ্লোবিন
  2. খ) মেলানিন
  3. গ) থায়ামিন
  4. ঘ) ক্যারোটিন
ব্যাখ্যা
- মানুষের ত্বকে উপস্থিত মেলানোসাইট নামক কোষ মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থ উৎপন্ন করে যা গায়ের রঙ ফর্সা বা কালো হওয়ার জন্য দায়ী। 
- পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে মেলাটোনিন নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হতে পারে যা ঘুমের উপর প্রভাব বিস্তার করে। 
- মেলানিনের অনুপস্থিতিতে চামড়ায় কোন রঞ্জক পদার্থ থাকে না, ফলে চামড়া সাদা হয়। এটাই অ্যালবিনিজম নামে পরিচিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭৬৫.
নিচের কোন রোগটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে?
  1. ক) দাদ
  2. খ) আমাশয়
  3. গ) ইনফ্লুয়েঞ্জা
  4. ঘ) এইডস
ব্যাখ্যা

- দাদ, আমাশয়, এইডস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন প্রচলিত নেই।
- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম, রুবেলা, জলবসন্ত, পীতজ্বর, যক্ষ্মা, পোলিও ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে৷
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭৬৬.
মানবদেহের প্রতিটি কোষে কয়টি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ২৩ জোড়া
  2. ২২ জোড়া
  3. ১ জোড়া
  4. ১১ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। 
- এর মধ্যে একজোড়া ক্রোমোসোম লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য দায়ী। 
- এই ক্রোমোসোমগুলোকে লিঙ্গ নির্ধারক বা সেক্স ক্রোমোসোম বলে। 
- লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোসোম গুলোকে আখ্যায়িত করা হয় X এবং Y ক্রোমোসোম নামে। 
- এক জোড়া লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোসোম ছাড়া বাকি ক্রোমোসোমগুলোকে অটোসোম বলা হয়। 
- মানুষের ক্ষেত্রে মহিলাদের দেহকোষে ডিপ্লয়েড অবস্থায় XX সেক্স ক্রোমোসোম থাকে এবং পুরুষের দেহকোষে ডিপ্লয়েড অবস্থায় XY ক্রোমোসোম থাকে। 
- এ জন্য মানুষ এবং অন্যান্য জীবে সূচক বর্ণের দ্বারা ক্রোমোসোমকে দেখানো হয় যেমন 44+XY পুরুষের এবং 44+XX মহিলার ক্ষেত্রে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৭.
মানবদেহের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে, সেলসিয়াস স্কেলে কত ডিগ্রী?
  1. ৩৭
  2. ৩৭.৬৭
  3. ৩৬.৬৭
  4. ৩৮.৬৭
ব্যাখ্যা
সেলসিয়াস ও ফারেনহাইট স্কেলের সম্পর্কঃ
C/5 = (F - 32)/9
বা, C/5 = (98 - 32)/9
বা, C/5= 66/9
বা, C = (66 × 5)/9
বা, C = 330/9
∴ C = 36.67

∴ মানবদেহের তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে, সেলসিয়াস স্কেলে ৩৬.৬৭ ডিগ্রী হবে। 
৭৬৮.
রিকেটস রোগের ফলে শরীরের কোনটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) মস্তিষ্ক
  3. গ) হাড়
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rickets)
- ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রােগ হয়। অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শােষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়ােজন।
- সুতরাং, রিকেটস্‌ রোগের ফলে হাড়ের গঠন ব্যাহত হয়।
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়।
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে।
৭৬৯.
দেহের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে কোন বিষয়টির প্রয়োজন?
  1. শারীরিক বৃদ্ধি
  2. শারীরিক সুস্থতা
  3. নিয়মিত ব্যায়াম
  4. লেখাপড়া
ব্যাখ্যা
⇒ শারীরিক উন্নয়ন, মানসিক বিকাশ সাধন, আবেগের নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক গুণাবলি অর্জনই হলো শারীরিক শিক্ষা।

⇒ শারীরিক শিক্ষার উদ্দেশ্যকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১। শারীরিক সুস্থতা অর্জন।
২। মানসিক বিকাশ সাধন।
৩। চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন।
৪। সামাজিক গুণাবলি অর্জন।

⇒ শারীরিক সুস্থতা অর্জন:
ক. সুস্বাস্থ্য গঠনে আগ্রহী করে তোলা।
খ. স্নায়ু ও মাংসপেশির সমন্বয় সাধনমূলক কর্মকান্ড দ্বারা কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করা অর্থাৎ দেহের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলো সুষ্ঠুভাবে কর্মক্ষম করা।
গ. দেহ ও মনের সুষম উন্নতি সাধন করা।
ঘ. কঠোর পরিশ্রম ও অনুশীলনের মাধ্যমে কাঙ্খিত ফল লাভ করা।
ঙ. নিয়মকানুন মেনে ভালো করে খেলতে পারা।
চ.  শারীরিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা।
ছ. দক্ষতার সাথে অঙ্গ সঞ্চালন ও নিয়ন্ত্রণের কলাকৌশল রপ্ত করা।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭০.
কোনটির আক্রমণে ‘এমিবিক আমাশয়’ হয়ে থাকে?
  1. ক) ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়া
  2. খ) এন্টামিবা
  3. গ) অ্যামিবা
  4. ঘ) প্রোটোজোয়া
ব্যাখ্যা
আমাশয় রোগ সাধারণত দু’ধরণের, যথা- এমিবিক ও ব্যাসিলারি। ব্যাসিলারি আমাশয়ের কারণ হিসেবে এক ধরণের ব্যাসিলাস ব্যাক্টেরিয়াকে দায়ী করা হয়। এন্টামিবা নামক এক ধরণের এককোষী প্রাণীর আক্রমণে এমিবিক আমাশয় হয়ে তাকে। খালি চোখে এদের দেখা যায় না। এদের দেহের কোন নির্দিষ্ট আকৃতি নাই কারণ এরা অ্যামিবার ন্যায় আকার ও আকৃতি সর্বদাই পরিবর্তন করতে থাকে। এদের দেহ স্বচ্ছ জেলীর ন্যায় । কখনও কখনও প্রতিকুল পরিবেশে এরা গোলাকার শক্ত আবরণে নিজেদের দেহ ঢেকে রাখে। এ অবস্থায় একে সিস্ট বলে। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণি।
৭৭১.
মানুষের জিহ্বা আসলে কী?
  1. ক) বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি
  2. খ) এক ধরনের অর্ধকঠিন যোজক কলা
  3. গ) রূপান্তরিত অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি
  4. ঘ) কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বয়
ব্যাখ্যা

জিহ্বা আসলে বেশ কয়েকটি ঐচ্ছিক পেশির সমন্বিত রূপ। হাইপোগ্লোসাল নামক করোটিক স্নায়ু জিহ্বাতে উপস্থিত বেশিরভাগ পেশির সঞ্চালনের জন্য দায়ী।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭৭২.
শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ পূর্ণ হলে কোন টিকা দিতে হয়?
  1. হিব
  2. হেপাটাইটিস-বি
  3. ডিপিটি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- শিশুর বয়স ৬ সপ্তাহ বা ৪২ দিন পূর্ণ হলেই পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপিটি, হেপাটাইটিস-বি, হিব) ও ওপিভি টিকার প্রথম ডােজ দিতে হবে জন্মের প্রথম বছরেই সবগুলাে টিকা দেয়ার জন্য কমপক্ষে ৪ বার টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে ।
- শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হয়ে ১০ মাসে পড়লেই হামের টিকা এবং ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হবে। 
- ১৫ বছর বয়স হলেই সকল মহিলাদের ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টিকা দেয়া শুরু করতে হবে এবং সময়সূচি অনুযায়ী ৫ ডােজ টিটি টিকা নেয়া শেষ করতে হবে। 
- ১-৫ বছর বয়সী শিশুকে ৬ মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
৭৭৩.
নিচের কোন বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) সূচক পুরুষদের সঠিক ওজন নির্দেশ করে?
  1. ক) < ১৮.৫
  2. খ) ১৮.৫ - ২৪.৯
  3. গ) ২৫ - ২৯.৯
  4. ঘ) >৩০
ব্যাখ্যা



সূত্র- ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৭৭৪.
HMPV কী?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. নতুন প্রযুক্তি
  4. কম্পিউটার প্রোগ্রামের নাম
ব্যাখ্যা
HMPV (এইচএমপিভি) ভাইরাস: 
- HMPV এক ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ। 
- সম্প্রতি এইচএমপিভি (Human Metapneumovirus) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে চীন এবং জাপানে।
- এই ভাইরাস ইনফ্লুয়েঞ্জা ধাঁচের এবং করোনার মতোই ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
- বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা, ২০২৫ সালে করোনার মতো নতুন কোনো মহামারি উদ্ভব হতে পারে।
- ডিজিজ এক্স নামক মহামারি নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আগাম সতর্কতা জারি করেছেন।
- চীনে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়লেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সতর্কতা জারি করেনি।
- ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ হলো জ্বর, নাক বন্ধ, কাশি বা শ্বাসকষ্ট, তবে তীব্র সংক্রমণে ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া বা কানে ইনফেকশন হতে পারে।
- প্রতিরোধ ও প্রতিকার হিসেবে সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধোয়া, অপরিষ্কার হাতে নাক-মুখ স্পর্শ না করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে নিরাপদ
দূরত্ব বজায় রাখা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- দুই দশক আগে প্রথমবারের মতো এই ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হলেও, এখনও এর কোনো টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। 

উৎস: বিবিসি বাংলা নিউজ [লিঙ্ক]।
৭৭৫.
কিসের জন্য পেপটিক আলসার হয়?
  1. ক) HCL
  2. খ) CH3COOH
  3. গ) H2SO4
  4. ঘ) H2CO3
ব্যাখ্যা
আমাদের পাকস্থলির দেয়াল থেকে HCL উৎপন্ন হয়৷ পাকস্থলি খালি রাখলে HCL পাকস্থলির দেয়ালের কোষগুলোকে ভেঙে সেখানে ক্ষতের সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে পেপটিক আলসার বলে৷
উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি
৭৭৬.
Natural protein এর কোড নাম-
  1. ক) Protein-P 53
  2. খ) Protein-P 51
  3. গ) Protein-P 49
  4. ঘ) Protein-P 54
ব্যাখ্যা
অ্যামিনো এসিডের পলিমারকে প্রোটিন বা আমিষ বলে।
এটি একটি পেপটাইড যৌগ।
ন্যাচারাল প্রোটিনের কোড নাম P-49 যা একটি জটিল জৈব যৌগ।
এটি দেহের বৃদ্ধিসাধন ও ক্ষয়পূরণ করে।
৭৭৭.
ধানের বাদামী রোগটির জন্য নিচের কোনটি দায়ী? 
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ব্যাকটেরিওফাজ
  4. ঘ) ছত্রাক
ব্যাখ্যা

রোগের নাম : বাদামি দাগ রোগ (Brown spot)

রোগের কারণ:
বাইপোলারিস ওরাইজি (Bipolaris oryzae) নামক ছত্রাক দ্বারা হয়ে থাকে।
এ রোগটি চারা অবস্থা থেকে যে কোনো বয়সের ধান গাছে হতে পারে। তবে চারার বয়স বেশি হলে রোগটির প্রকোপ বেশি দেখা যায়। মাটিতে পুষ্টি উপাদানের অভাব বা পানির অভাব হলে রোগের মাত্রা বেড়ে যায়।

রোগের লক্ষণঃ
পাতায় প্রথমে তিলের দানার মতো ছোট ছোট দাগ পড়ে। দাগগুলো বড় হয়ে মাঝখানে সাদা ও কিনারা বাদামি হয়ে যায়।
একাধিক দাগ মিলে বড় দাগ সৃষ্টি হয়ে পাতাটিকে মেরে ফেলতে পারে। ধানের পাতার চেয়ে রোগটি বীজে বেশি দেখা যায়। রোগ আক্রান্ত গাছে অপুষ্ট বীজ হয় ও বাদামি বর্ণ হয়।

উৎসঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)

৭৭৮.
ম্যালেরিয়া রোগের পরজীবী আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) স্যার রোনাল্ড রস
  2. খ) চার্লস ল্যাভেরন
  3. গ) রবার্ট কচ
  4. ঘ) লুই পাস্তুর
ব্যাখ্যা
- পূর্বে একটি ধারণা প্রচলিত ছিলো যে, দূষিত বায়ু সেবনে ম্যালেরিয়া রোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু ফরাসি ডাক্তার চার্লস ল্যাভেরন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগীর লোহিত রক্তকণিকা থেকে ম্যালেরিয়ার পরজীবী আবিষ্কার করলে প্রায় শত বছরের ভ্রান্ত ধারণাটির অবসান ঘটে। ১৮৯৭ সালে ডাক্তার রোনাল্ড রস আবিষ্কার করেন যে, Anopheles গণভুক্ত মশকীরা এ রোগের জীবাণু এক দেহ থেকে অন্য দেহে বিস্তার ঘটায়।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা করে Germ theory of Disease তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- জার্মান ডাক্তার রবার্ট কচ যক্ষ্মা রোগের জন্য দায়ী Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৭৭৯.
নিচের কোন রোগটি ব্যাকটেরিয়াজনিত নয়?
  1. এনথ্রাক্স
  2. রুবেলা
  3. হুপিং কাশি
  4. সিফিলিস
ব্যাখ্যা
- Bacillus anthracis নামক গ্রাম পজেটিভ অ্যারোবিক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এনথ্রাক্স হয়।
- Bordetella Pertussis নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে শিশুদের হুপিং কাশি হয়ে থাকে।
- Treponema pallidum নামক spirochete ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে সিফিলিস হয়।
- Rubella virus নামক এক ধরনের Togavirus এর কারণে রুবেলা বা জার্মান হাম রোগটি হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৭৮০.
কোন ভাইরাস দ্বারা মানবদেহ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়?
  1. ইবোলা ভাইরাস
  2. নিপাহ ভাইরাস
  3. র‍্যাবিস ভাইরাস
  4. অ্যাডিনো ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- 'র‍্যাবিস ভাইরাস' দ্বারা মানবদেহ জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত হয়। 

ভাইরাস: 
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে। 
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে। 
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে। 
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে। 
- বিভিন্ন প্রকার ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর নানা রকমের রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন - 


উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮১.
নিম্নলিখিত কোন রোগের জন্য মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা (killed vaccine) ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা 
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা 
  3. গুটিবসন্ত 
  4. ডিপথেরিয়া 
ব্যাখ্যা

টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে। 

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
যেমন- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
যেমন- ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
যেমন- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮২.
একজন পূর্ণবয়স্ক স্ত্রীলোকের হৃদপিন্ডের ওজন কত?
  1. ক) ৫০০ গ্রাম
  2. খ) ৩০০ গ্রাম
  3. গ) ২০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির (পুরুষ) হৃদপিন্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। আর স্ত্রীলোকদের ক্ষেত্রে ওজন ২০০ গ্রাম। অর্থাৎ ১০০ গ্রাম কম। উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৮৩.
যক্ষ্মার (Tuberculosis) প্রতিষেধক BCG টিকা কোন ধরণের অনাক্রম্যতা (immunity) প্রদান করে?
  1. কৃত্রিম সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  2. প্রাকৃতিক সক্রিয় অনাক্রম্যতা
  3. কৃত্রিম নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
  4. প্রাকৃতিক নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা
ব্যাখ্যা
• অনাক্রম্যতা হল একটি  প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিশেষ কোন  একটি প্যাথোজেন বা সংক্রামক রোগের প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়। 
- অনাক্রম্যতা প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে পারে বা পূর্বে কোন রোগের মাধ্যমে ইমিউনাইজেশন দ্বারা তৈরি হতে পারে।

• BCG টিকা (Bacillus Calmette–Guérin) একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি প্রতিষেধক, যা টিউবারকুলোসিস বা যক্ষ্মা রোগ প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- এটি মানবদেহে কৃত্রিমভাবে জীবিত কিন্তু দুর্বলকৃত জীবাণু প্রবেশ করিয়ে শরীরকে ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
- এই প্রক্রিয়ায় দেহ নিজে থেকে প্রতিরক্ষামূলক অ্যান্টিবডি তৈরি করে, 
- ফলে দেহে তৈরি হয় কৃত্রিম ও সক্রিয় অনাক্রম্যতা। 

• সক্রিয়তার দিক থেকে  অনাক্রম্যতা দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 

⇒ সক্রিয় অনাক্রম্যতা – দেহ নিজে প্রতিরক্ষা তৈরি করে। এটি আবার দুই প্রকারের হয়ে থাকে। 
 - প্রাকৃতিক: সংক্রমণের পর (রোগ হয়ে যাওয়ার পর)। 
-  কৃত্রিম: টিকার মাধ্যমে (যেমন BCG, Polio)। 

নিষ্ক্রিয় অনাক্রম্যতা: প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরাসরি দেহে প্রবেশ করানো হয়। এটি দুই প্রকার। 
- প্রাকৃতিক: মাতৃদুগ্ধ বা গর্ভকালীন সংক্রমণ প্রতিরোধ।
- কৃত্রিম: সেরাম বা অ্যান্টিবডি ইনজেকশন । 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- World Health Organization (WHO).
৭৮৪.
HIV কোন প্রাণী হতে মানবদেহে ছড়ায়?
  1. ক) বানর হতে
  2. খ) শিম্পাঞ্জি হতে
  3. গ) ইঁদুর হতে
  4. ঘ) বাদুড় হতে
ব্যাখ্যা
HIV  (human immunodeficiency virus) শিম্পাঞ্জি হতে মানবদেহে ছড়ায়। 

বাংলাদেশে এখন এইডস আক্রান্তের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ। ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি।

এইচআইভির লক্ষণসমূহ-
জ্বর এবং অত্যধিক শীত লাগা
রাতে খুব বেশি ঘাম হওয়া
মাংসপেশিতে টান এবং সারা শরীরে যন্ত্রণা
শরীরে র‍্যাশ বেরনো
গলায় ব্যথা
ক্লান্তি
গলা ফুলে যাওয়া
মাউথ আলসার

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website.
৭৮৫.
আল্ট্রসনোগ্রাফি কী?
  1. ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
  2. বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের শব্দ দ্বারা ইমেজিং
  3. আলোকনল দ্বারা শরীরের অভ্যন্তরে ইমেজিং
  4. শক্তিশালী শব্দ নিয়ে পিত্তপাথর বিচূর্ণীকরণ
ব্যাখ্যা
• আল্ট্রাসনোগ্রাফি:
- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের বা ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৬.
হেপাটাইটিস হলে মানুষের শরীরের কোন অংশ ধীরে ধীরে কার্যক্ষমতা হারায়?
  1. পাকস্থলী
  2. লিভার
  3. বৃক্ক
  4. হৃদপিণ্ড
ব্যাখ্যা
হেপাটাইটিস:

- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃৎ এর একটি প্রদাহ যা হেপাটাইটিসের ৫টি ভাইরাসের ( এ, বি, সি, ডি এবং ই) মাধ্যমে ঘটে।
- দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে হেপাটাইটিসের বিভিন্ন ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করে। 
- হেপাটাইটিস লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিতে শুরু করে। 
- হেপাটাইটিসের ভাইরাসগুলোর মধ্যে টাইপ-বি এবং সি মারাত্মক রূপ নেয় এবং লিভার সিরোসিস এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক আকার ধারণ করে।
- প্রাথমিক অবস্থায় তা চিকিৎসা না করলে গুরুতর হয়ে ওঠে এবং লিভার সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। 

• ভাইরাসের নাম- ধরণ- সংক্রমণের মাধ্যম:

• Hepatities A- RNA - পানি, দূষিত খাবার;
• Hepatities B- DNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities C- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম;
• Hepatities D- RNA- রক্ত, যৌন মাধ্যম, লালা;
• Hepatities E- RNA- পানি, দূষিত খাবার।

উৎস: জীববিজ্ঞান, প্রথম পত্র- গাজী আজমল, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৮৭.
মানুষের কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি(ধরণ)-
  1. ক) ব্যাসিলাস
  2. খ) কক্কাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

ব্যাকটেরিয়া হল আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী অণুবীক্ষণিক জীব। বিজ্ঞানী অ্যান্টনি ফন লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম ব্যাকটেরিয়া দেখতে পান। ব্যাকটেরিয়া কোষগোলাকার, দন্ডাকার, কমা আকার, প্যাঁচানো ইত্যাদি নানা ধরণের হতে পারে। দেহের আকার আকৃতির ভিত্তিতে একে নিম্নরূপে শ্রেণীবদ্ধকরা হয়:
কক্কাস: কোন কোন ব্যাকটেরিয়া কোষের আকৃতি গোলাকার। এরা কক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া।
ব্যাসিলাস: এরা লম্বা দন্ডের ন্যায় দেখতে। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে।
কমা: এরা বাঁকা দন্ডের ন্যায় আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরণের।
স্পাইরিলাম: এ ধরণের ব্যাকটোরিয়ামের আকৃতি প্যাঁচানো।
সূত্রঃ বিজ্ঞান ৭ম শ্রেণি।

৭৮৮.
নিচের কোন রোগ নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়? 
  1. চোখের ছানি
  2. নিউমোনিয়া
  3. ডায়াবেটিস
  4. ম্যালেরিয়া
ব্যাখ্যা
এক্সরে (X-ray): 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম, এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন, তাই এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিম্নে দেওয়া হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্তথলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়, এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৯.
‘ইলিয়াম’ নিচের কোনটির অংশ?
  1. ব্রংকাস
  2. শ্বসনতন্ত্র
  3. ক্ষুদ্রান্ত
  4. বৃহদন্ত্র
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্রান্ত্র:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশই হচ্ছে ক্ষুদ্রান্ত্র। 
- এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) ডিওডেনাম,
(ii) জেজুনাম ও 
(iii) ইলিয়াম
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয়িক রসের এনজাইমের ক্রিয়া ঘটে।
- জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।
- ডিওডেনামে মূলত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও লিপিডের পরিপাক ঘটে।

বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। - বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
(i) সিকাম,
(ii) কোলন ও 
(iii) মলাশয়।

শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ ৷
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।
- ব্রংকাস শ্বসনতন্ত্রের একটি অংশ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯০.
হৃদপিন্ডের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল।
  2. খ) হৃদপিণ্ড যখন প্রসারিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
  3. গ) হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
  4. ঘ) হৃদপিণ্ড প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিণ্ডে ফিরে আসে।
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড:

- সিস্টোলিক চাপ বলতে বোঝায় হৃৎপিন্ডের সংকোচন চাপ।
- হৃদপিন্ডের প্রসারনকে বলা হয় ডায়াস্টোল এবং সংকোচন কে বলা হয় সিস্টোল।
- হৃদপিণ্ড অনবরত সংকোচন-প্রসারনের মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকে ক্রমাগত সঞ্চালন করে।
- হৃদপিণ্ড যখন সংকুচিত হয় তখন রক্ত চাপের ফলে ধমনীতে প্রবেশ করে।
- আবার প্রসারিত হলে রক্ত ধমনী থেকে হৃদপিন্ডে ফিরে আসে।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯১.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)
  2. ১৫০/৯০ মি.মি. (পারদ)
  3. ১২০/৬০ মি.মি. (পারদ)
  4. ১৪০/৮০ মি.মি. (পারদ)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ: 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে। 
- রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনীতে রক্তচাপকে বুঝায়। 
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে। 
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)। 
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়। 
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৯২.
পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯৬০ সালে
  3. গ) ১৯৬৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জোনাস স্যাক পোলিও রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের লা জোলা শহরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
৭৯৩.
শিশুদের জন্মের ১ মাসের মধ্যে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. ডিটি
  2. ডিপিটি
  3. বিসিজি
  4. টিটি
ব্যাখ্যা

- শিশুদের জন্মের ১ মাসের মধ্যে 'বিসিজি ও ওপিভি-ও' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization-EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৯৪.
পয়েন্ট মিউটেশনের ফলে কোন রোগ সৃষ্টি হয়?
  1. ক) সিকেল সেল
  2. খ) টার্নার্স সিনড্রোম
  3. গ) ক্লিন ফেল্টার্স সিনড্রোম
  4. ঘ) হিমোফিলিয়া
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট মিউটশনের ফলে হান্টিংটনস রোগ (Huntington’s Disease) হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। শরীরের পেশীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মৃত্যও ঘটে। সাধারণত চল্লিশ বছরের আগে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পয়েন্ট মিউটশনের ফলে সিকেল সেল নামে রক্তকনিকার আরেকটি রোগ হয়। এই রোগে শরীরে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৭৯৫.
জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ১৫-৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়?
  1. ক) ধনুষ্টংকার
  2. খ) পোলিও
  3. গ) হেপাটাইটিস-বি
  4. ঘ) মেনিনজাইটিস
ব্যাখ্যা

জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় ধনুষ্টংকার প্রতিরোধে মেয়েদের ১৫ বছর বয়স হলেই যথা শিগগির প্রথম ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। তবে সরকারিভাবেই ৪৯ বছর বয়স পর্যন্ত এ টিকা প্রদান করা হয়। প্রথম ডোজের চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, তার ছয় মাস পর তৃতীয় ডোজ, এর এক বছর পর চতুর্থ ডোজ এবং শেষোক্ত ডোজের এক বছর পর পঞ্চম ডোজ বা শেষ ডোজ টিটেনাস টক্সয়েড টিকা নিতে হবে। গর্ভধারণের আগেই এই পাঁচ ডোজ টিকা নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন আর টিটি টিকা নেওয়ার দরকার পড়ে না। গর্ভধারণের আগে দুই ডোজ নেওয়া থাকলে গর্ভকালীন তৃতীয় ডোজ এবং সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। গর্ভধারণের আগে তিন ডোজ নেওয়া থাকলে এবং গর্ভকালীন এক বছর অতিক্রান্ত না হলে এ সময় চতুর্থ ডোজ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সন্তান প্রসবের পর চতুর্থ ও পঞ্চম ডোজ নিতে হবে। তবে আগে টিটি টিকা নেওয়া না থাকলে গর্ভকালীন দুই ডোজ টিকা নিতে হবে। এর মধ্যে শেষ ডোজটি সন্তান প্রসবের অন্তত এক মাস আগে নিতে হবে।

সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ সরকার এর dghs.gov.bd ওয়েবসাইট

৭৯৬.
খাদ্য পরিপাক প্রক্রিয়ার কোথায় শর্করা পরিপাককারী কোনো এনজাইম থাকে না?
  1. লালা রসে
  2. অগ্ন্যাশয় রসে
  3. পাকস্থলি রসে
  4. আন্ত্রিক রসে
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু’প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৭.
ডায়াবেটিস রোগের সাথে কোন গ্রন্থিটি জড়িত?
  1. অগ্ন্যাশয়
  2. প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি
  3. পিনিয়াল গ্রন্থি
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা

- অগ্ন্যাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি। অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশে উপস্থিত বিটা কোষ থেকে ক্ষরিত হয় ইনসুলিন।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। তাই বিটা কোষ কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হলে ইনসুলিন নিঃসরণ কমে যায় এবং ফলশ্রুতিতে ডায়াবেটিস রোগ হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৭৯৮.
নিচের কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?
  1. ক) হুপিংকাশি
  2. খ) ধনুষ্টংকার
  3. গ) জলবসন্ত
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
যে সকল রোগের বিস্তার রোগীর সংস্পর্শে বা ছোঁয়ায় বিস্তার লাভ করে তাদেরকে ছোঁয়াচে রোগ বলে। ছোঁয়াচে রোগের উদাহরণ হলো- জলবসন্ত, হুপিংকাশি, কলেরা, ধনুষ্টংকার, যক্ষ্মা, মাম্পস, ফাইলেরিয়া ইত্যাদি।
৭৯৯.
নিচের কোনটি উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস নয়?
  1. পেপিলোমা
  2. বানচি টপ
  3. টোবাকো মোজাইক
  4. বুশিস্টান্ট
ব্যাখ্যা
• উদ্ভিদদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং সৃষ্ট রোগের নাম:
• টোবাকো মোজাইক ভাইরাস - তামাকের মোজাইক রোগ।
• বীন মোজাইক ভাইরাস - সিমের মোজাইক রোগ।
• বুশিস্টান্ট ভাইরাস - টমেটোর বুশিস্টান্ট রোগ।
• টুংরো ভাইরাস - ধানের টুংরো রোগ।
• বানচি টপ ভাইরাস - কলার বানচি টপ রোগ।
• পট্যাটো মোজাইক ভাইরাস - গোলালুর মোজাইক রোগ।

- পেপিলোমা ভাইরাস প্রানীদেহে রোগ সৃষ্টিকারী ভাইরাস।
-  পেপিলোমা ভাইরাসের কারণে মানুষের এনোজেনিটাল ক্যান্সার হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৮০০.
নিচের কোন পরীক্ষাটি TB রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রযোজ্য নয়?
  1. MT test
  2. Xene-xpert test
  3. X - ray chest
  4. CRP
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা (টিবি) সংক্রমণ শনাক্ত করার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা করা যায়। কোন পরীক্ষাটি ব্যবহার করতে হবে তার পছন্দটি প্রায়শই ক্লিনিকাল পরিস্থিতি এবং উপলব্ধ সংস্থানগুলির উপর নির্ভর করে। এখানে টিবি সনাক্ত করতে ব্যবহৃত কিছু সাধারণ পরীক্ষা তুলে ধরা হল:
- Tuberculin Skin Test (TST) or Mantoux Test.
- Interferon-Gamma Release Assays (IGRAs).
- Chest X-ray.
- Sputum Smear Microscopy.
- Xene-Xpert MTB/RIF Assay.
- Bronchoscopy and Bronchoalveolar Lavage (BAL).
- Molecular Tests (Nucleic Acid Amplification Tests).

উৎস: ব্রিটানিকা।