বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ৬০১৭০০ / ১,০৯৫

৬০১.
লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টি হয় -
  1. ক) প্লীহাতে
  2. খ) যকৃতে
  3. গ) অস্থিমজ্জায়
  4. ঘ) হৃৎপিণ্ডে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার আয়ু ১২০ দিন।
লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।
রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

এটি শ্বাসকার্যে অক্সিজেন (O2) পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।

[উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।]
৬০২.
SARS রোগটি প্রথম দেখা দেয়
  1. ক) ২০০৩ সালে
  2. খ) ২০০৪ সালে
  3. গ) ২০০৫ সালে
  4. ঘ) ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
SARS(Severe acute respiratory syndrome) একটি ভাইরাল শ্বাসযন্ত্রের রোগ। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারির শেষে এটি প্রথম চীনে দেখা দেয় এবং ৪টি দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
Source: www.who.int/
৬০৩.
BCG টিকা কোন রোগ প্রতিরোধের জন্য ব্যবহার করা হয়?
  1. যক্ষ্মা
  2. হাম
  3. হেপাটাইটিস
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা

• BCG টিকা প্রধানত যক্ষ্মা (Tuberculosis) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। এটি Mycobacterium tuberculosis ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্ট সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। সাধারণত শিশুরা জন্মের পর এই টিকা গ্রহণ করে, যা শ্বাসনালী এবং ফুসফুসে যক্ষ্মার সংক্রমণ রোধে সাহায্য করে। BCG টিকা কাশির মাধ্যমে ছড়ানো সংক্রমণকে কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি অন্যান্য রোগ যেমন হাম, হেপাটাইটিস বা টাইফয়েড প্রতিরোধের জন্য ব্যবহৃত হয় না।
- তাই সঠিক উত্তর হলো ক) যক্ষ্মা।

• যক্ষ্মা:
- যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। যেকোনো লোক যেকোনো সময় এ রোগ দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
- যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস ইত্যাদি অঙ্গে হতে পারে। 

• দেহে এ রোগের আক্রমণ ঘটলে সহজে এর লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
-  যখন জীবাণুগুলো দেহের রোগ প্রতিরোধক শ্বেত রক্তকণিকাকে পরাস্ত করে দেহকে দুর্বল করে, তখনই এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- এ মারাত্মক রোগের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে হলে যক্ষ্মা প্রতিষেধক বিসিজি টিকা দিতে হবে।
- সাধারণত শিশুর জন্মের পর থেকে এক বছর বয়সের মধ্যে এ টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।

৬০৪.
জিকা ( Zika) একটি _____ এর নাম।
  1. ক) মুল্যবান পাথর
  2. খ) ভাইরাস
  3. গ) পার্ক
  4. ঘ) নদী
ব্যাখ্যা
জিকা ভাইরাস প্রথম ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় রেসাস ম্যাকাক বানরের দেহে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে উগান্ডা ও তানজানিয়াতে মানবদেহে প্রথমবারের মত শনাক্ত করা হয়। Aedes aegypti ও Aedes albopictus এই ২ ধরণের এডিস মশা দিয়ে এই ভাইরাস ছড়ায়।
সূত্রঃ britannica
৬০৫.
দেহে যথেষ্ট স্নেহ না থাকলে মূলত কী সমস্যা বা রোগ হতে পারে?
  1. রাতকানা
  2. অ্যানিমিয়া
  3. একজিমা
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা

• দেহে যথেষ্ট স্নেহ (চর্বি বা ফ্যাট) না থাকলে শরীরের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর সুরক্ষা কমে যায়। স্নেহ ত্বককে নমনীয় রাখে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর জৈবিক ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে। স্নেহের অভাবে ত্বক শুষ্ক, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং খসখসে হয়ে যায়, যা একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, স্নেহ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। তাই স্নেহের অভাব সরাসরি ত্বকের রোগ যেমন একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত স্নেহ দেহের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

- উত্তর: গ) একজিমা। 

স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৬.
স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয় কোন ভিটামিনের অভাবে?
  1. ভিটামিন বি-১
  2. ভিটামিন বি-২
  3. ভিটামিন বি-৫
  4. ভিটামিন বি-১২
ব্যাখ্যা
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিন (Vitamin B12)
ভিটামিন বি-১২ এর রাসায়নিক নাম সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin)।
সায়ানোকোবালামিনের উৎস: যকৃত, মাছ, মাংস, বৃক্ক, ডিম ইত্যাদিতে এই ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

সায়ানোকোবালামিনের কাজ: 
১। রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে ফলিক এসিডের সাথে ভিটামিন বি-১২ কাজ করে।
২। অত্যাবশ্যক এ্যামাইনো এসিড মিথিওনিন তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।

সায়ানোকোবালামিনের অভাবজনিত অবস্থা: 
১। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়ে শরীর ফ্যাকাশে, দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে যায়।
২। স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয়।
 
অপরদিকে,
ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিনের অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। এর অভাবে স্নায়ুর দুর্বলতা, মানসিক অবসাদ, ক্লান্তি, খাওয়ার অরুচি, ওজনহীনতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়৷
ভিটামিন বি-২ বা রিবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।


উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৭.
মানবদেহে মোট কশেরুকা কয়টি?
  1. ক) ৩০টি
  2. খ) ৩২টি
  3. গ) ৩৩টি
  4. ঘ) ৩৫টি
ব্যাখ্যা
মেরুদন্ড : অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দন্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদন্ড বা শিরদাঁড়া বলে।
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখন্ডক সমন্বয়ে মেরুদন্ড গঠিত। এ সকল অস্থিখন্ডককে কশেরুকা বলে।
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে।
এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৮.
মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের উপস্থিতি সর্বপ্রথম কখন ধরা পড়ে?
  1. ক) ১৯৬৮
  2. খ) ১৯৫৮
  3. গ) ২০২২
  4. ঘ) ১৯৭০ 
ব্যাখ্যা
মানবদেহে মাঙ্কিপক্সের উপস্থিতি সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ১৯৫৮ সালে। 

মাঙ্কিপক্স এমন একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা যা পশু থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে। মাঙ্কিপক্সের উপসর্গ অনেকটাই স্মলপক্স বা গুটিবসন্তের মতো। মাঙ্কিপক্স মূলত পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে এই ভাইরাসের খোঁজ মেলে। তবে নাম ‘মাঙ্কিপক্স’ হলেও একাধিক বন্যপ্রাণির মাধ্যমে ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। এই ভাইরাস সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ইঁদুরের মাধ্যমে। 

পশু থেকে মানুষের মধ্যে যে ভাবে সংক্রমণ ছড়াতে পারে:
১. আঁচড় বা কামড়ের মাধ্যমে
২. বন্য প্রাণী শিকার করে পাওয়া মাংস থেকে 
৩. সংক্রমিত কোনো পশুর শরীরের কোনও রস বা চোট-আঘাতের সংস্পর্শে এসে 

শ্বাসনালী, চামড়ার উপরের ক্ষত, অথবা মুখ, নাক বা চোখের মিউকাস মেম্ব্রেন-এর মাধ্যমে ভাইরাসটি শরীরে ঢুকতে পারে।   

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention Website. 
৬০৯.
জিকা ভাইরাস ছড়ায় কিসের মাধ্যমে?
  1. মশা
  2. মাছি
  3. পানি
  4. বাতাস
ব্যাখ্যা
• জিকা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত করা হয় উগান্ডায় ১৯৪৭ সালে বানরের শরীরে। পরবর্তীতে, ১৯৫২ সালে মানবদেহে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব এর প্রমাণ পেলে উগান্ডায় এবং তানজানিয়ায়। 

• ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মতোই জিকা ভাইরাসও মশাবাহিত একটি ভাইরাস। জানা যাচ্ছে, যে এডিস মশার কারণে ডেঙ্গি, চিকুনগুনিয়া প্রভৃতি রোগ ছড়ায়, সেই এডিস মশাই জিকা ভাইরাস বহন করে। 

লক্ষণ:
জিকা ভাইরাসের সর্বাধিক সাধারণ লক্ষণগুলি হল জ্বর এবং ত্বকে ফুসকুড়ি, সাধারণত পেশি/অস্থিসন্ধিতে ব্যাথা এবং কনজাংটিভাইটিস। এই লক্ষণগুলি সাধারণত মৃদু হয়, ২-৭ দিন অবধি থাকতে পারে।

সূত্র: World Health Organization Website.
৬১০.
নিচের কোন অঙ্গটির গঠনতন্ত্রের একক হচ্ছে অ্যালভিওলাস?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) কংকালতন্ত্র
  3. গ) যকৃত
  4. ঘ) ফুসফুস
ব্যাখ্যা

ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত। ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট পুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত। দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনাে ঘর্ষণ হয় না।
ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলােকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus)। বায়ুথলিগুলাে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণুক্লোম শাখাপ্রান্তে মৌচাকের মতাে অবস্থিত। নাসাপথ দিয়ে বায়ু সরাসরি বায়ুথলিতে যাতায়াত করতে পারে।
বায়ুথলি পাতলা আবরণী দিয়ে আবৃত এবং প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দিয়ে পরিবেষ্টিত। বায়ু প্রবেশ করলে এগুলাে বেলুনের মতাে ফুলে ওঠে এবং পরে আপনা-আপনি সংকুচিত হয়। বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকার গাত্র এত পাতলা যে এর ভিতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান-প্রদান ঘটে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান

৬১১.
নিম্নের কোন রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে?
  1. ক) অ্যান্থ্রাক্স
  2. খ) বার্ড ফ্লু
  3. গ) জলাতঙ্ক
  4. ঘ) ফিতাকৃমি
ব্যাখ্যা
জলাতঙ্ক রোগটি পশুর কামড়ে হয়ে থাকে। 

- জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক।
- এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন।
- জলাতঙ্ক রোগ সংক্রমণের পর থেকে উপসর্গ দেখা দেয়ার সময় সাধারণত এক থেকে তিন মাস।
- ৬ই জুলাই, ১৮৮৫ সালে লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন। 

সূত্র- WHO Website [লিঙ্ক]
৬১২.
এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন-
  1. ক) ১৭৬৭ সালে
  2. খ) ১৭৮৭ সালে
  3. গ) ১৭৯৬ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন। এজন্য জানার কে প্রতিষেধক বিদ্যার জনক বলা হয়। ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সারাবিশ্বে গুটিবসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
৬১৩.
ভাইরাসকে জীব এবং অজীবের মাঝামাঝি বলা হয় কারণ এতে-
  1. RNA ও কোষ উভয়ই আছে
  2. প্রোটিন নেই
  3. শুধুমাত্র এককোষী
  4. কোষ নেই কিন্তু DNA আছে
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস হলো এক ধরনের অণুজীব (Microorganism) যা জীবন ও অজীব উভয়ের বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। এই কারণে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসকে জীব ও অজীবের মধ্যবর্তী সত্তা (borderline entity) হিসেবে বিবেচনা করেন।

ভাইরাসের জীব বৈশিষ্ট্য:

১। জিনগত উপাদান:
- ভাইরাসের মধ্যে DNA বা RNA থাকে, যা তার জিনগত তথ্য বহন করে।
- এই জিনগত উপাদান নতুন ভাইরাস উৎপাদনে মূল ভূমিকা রাখে।

২। প্রজনন ক্ষমতা:
- ভাইরাস নিজে থেকে প্রজনন করতে পারে না।
- এটি হোস্ট কোষের ভিতরে প্রবেশ করে কোষের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস তৈরি করে।

৩। সংক্রমণ ও বৃদ্ধি:
- ভাইরাস সংক্রমণের মাধ্যমে তার প্রজাতি বৃদ্ধি করতে পারে।
- এটি হোস্ট কোষের সঙ্গে সম্পর্কিত না হলে সক্রিয় জীবন ধারণ করতে পারে না।

ভাইরাসের অজীব বৈশিষ্ট্য:
- ভাইরাসের নিজস্ব কোষ নেই, তাই এটি স্বনির্ভরভাবে শক্তি উৎপাদন বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারে না।
- এককভাবে ভাইরাসকে জীবিত বলা যায় না; হোস্ট কোষ ছাড়া এটি কোন শারীরিক কাজ করতে সক্ষম নয়।
- ভাইরাসের প্রোটিন কোট (Capsid) থাকলেও কোষের মতো অঙ্গাণু বা যন্ত্রাংশ নেই।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৬১৪.
খাদ্যকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে কোন ভিটামিন?
  1. ক) ভিটামিন সি
  2. খ) ভিটামিন বি কমপ্লেক্স
  3. গ) ভিটামিন ই
  4. ঘ) ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
আটটি বি ভিটামিনকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বলা হয়। এগুলোর মধ্যে আছে থায়ামিন, রিবোফ্লাভিন, নিয়াসিন, বি সিক্স, বি টুয়েলভ, ফলিক এসিড ও প্যানথোনিক এসিড। এরা খাদ্যকে এনার্জিতে রূপান্তরিত হতে সাহায্য করে।

সঠিক বৃদ্ধির জন্য রক্তকোষ, হরমোন ও নার্ভাস সিস্টেমের জন্য ভিটামিন বি কমপ্লেক্স অত্যাবশ্যকীয়। এসব ভিটামিন পানিতে দ্রবনীয় ভিটামিন। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ভিটামিন, এবং প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকা আবশ্যক। শরীরে এসব ভিটামিন এর অভাবে হতে পারে বিভিন্ন রোগব্যাধি।
৬১৫.
Variola নামের ভাইরাসটি কোন রোগের জন্য দায়ী?
  1. ক) হেপাটাইটিস
  2. খ) গুটিবসন্ত
  3. গ) পোলিও
  4. ঘ) ডেঙ্গুজ্বর
ব্যাখ্যা
- পক্সভাইরাস দলের Variola নামের ভাইরাসটি মানুষের গুটিবসন্তের জন্য দায়ী, যা দীর্ঘদিন ছিল অসহনীয় দুর্ভোগ ও যন্ত্রণাময় এক রোগ। 
- এ দলের কম ক্ষতিকর কতিপয় ভাইরাস মানুষের আরো কয়েকটি রোগের কারণ হলেও সেসব অতটা তীব্র নয়। এসব ভাইরাস থেকেই গুটি বসন্তের টীকা উদ্ভাবিত হয়েছিল।
- ১৯৬৭ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সর্ব প্রথম সারা বিশ্বে গুটি বসন্ত নির্মূলের প্রচারণা চালায় এবং সফলভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত করে।
-  ফলে অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই পৃথিবী থেকে গুটি বসন্ত তিরোহিত হয়। 
- বাংলাদেশে সর্বশেষ গুটি বসন্তের ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে ১৯৭৫ সালে। সোমালিয়ায় গুটি বসন্তে আক্রান্ত শেষ রোগী মারা যায় ১৯৭৭ সালে। 
- Institute of Public Health (IPH) বাংলাদেশে সফলভাবে বসন্ত নির্মূল কার্যক্রমে এবং টীকা উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬১৬.
রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়-
  1. কিডনির পাথর গলাতে
  2. পিত্তপাথর গলাতে
  3. গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে
  4. নতুন পরমাণু তৈরিতে
ব্যাখ্যা
- কোনো কোনো আইসোটোপ অস্থিতিশীল হয়ে থাকে, অর্থাৎ এদের নিউক্লিয়াসের মধ্যে পরিবর্তন ঘটে থাকে।
- ফলস্বরূপ, এই আইসোটোপ থেকে কিছু কণা বিচ্ছুরিত হয়, কখনো কখনো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে থাকে।
- এই প্রকার আইসােটোপকে রেডিও আইসোটোপ (radio isotope) বলা হয়। 
- এই রেডিও আইসোটোপ ব্যবহৃত হয় গলগণ্ড রোগ নির্ণয়ে। 

- An exceptionally useful radioactive isotope is iodine-131, which has a half-life of eight days. 
- t is employed in medicine to monitor thyroid gland functioning, to treat goitre and thyroid cancer, and to locate tumours of the brain and of the liver.

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি ও Britannica. 
৬১৭.
কোন পেশি রক্ত চলাচল বজায় রাখতে সহায়তা করে?
  1. ক) ডেলটয়েড
  2. খ) ট্রাইসেপ
  3. গ) নিউরন
  4. ঘ) কার্ডিয়াক
ব্যাখ্যা
মানব ভ্রূণ সৃষ্টির একটা বিশেষ পর্যায় থেকে মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত হৃৎপিণ্ডের কার্ডিয়াক পেশি একটা নির্দিষ্ট গতিতে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহের মধ্যে রক্ত চলাচলের প্রক্রিয়া সচল রাখে।
উৎসঃজীব বিজ্ঞানঃনবম-দশম শ্রেণী
৬১৮.
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে কোনটি?
  1. ক) বিসিজি ভ্যাক্সিন
  2. খ) পোলিও ভ্যাক্সিন
  3. গ) ডিপিটি ভ্যাক্সিন
  4. ঘ) শালদুধ
ব্যাখ্যা

সন্তান প্রসবের পরপরই মায়ের বুকে যে হলদেটে বর্ণের তরল নিঃসরিত হয়, তাকে শালদুধ বলা হয়।
নবজাতক শিশুর জন্য প্রথম টিকার কাজ করে এই শালদুধ।
কারণ শালদুধে আছে প্রয়োজনীয় এন্টিবডি, খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন যা নবজাতকের বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬১৯.
নিচের কোনটি পৌষ্টকনালির অংশ?
  1. ক) মুখ
  2. খ) দাঁত
  3. গ) অন্ননালি
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পৌষ্টিকনালি
মুখগহ্বর থেকে পায়ুপথ পর্যন্ত বিস্তৃত এই নালিপথ কোথাও সরু আবার কোথাও প্রশস্ত। এর প্রধান অংশগুলো নিম্নরূপ:
• মুখ
• মুখগহ্বর
• দাঁত
• গলবিল
• অন্ননালি
• পাকস্থলী
• অন্ত্র
• পায়ু

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬২০.
একজন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের BMI কত হওয়া উচিত?
  1. ক) 15.00-18.40
  2. খ) 18.50-24.90
  3. গ) 25.00-29.90
  4. ঘ) 30.00-35.00
ব্যাখ্যা
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সঠিক বিএমআই হওয়া উচিত ১৮.৫০ থেকে ২৪.৯০ এর মধ্যে। ১৮.৫ এর কম হলে ওজন কম এবং ২৫-২৯.৯ হলে ওজন বেশি ধরা হয়। বিএমআই এর মান ৩০ এর বেশি হলে স্থুলাকায় বলা হবে সেই ব্যক্তিকে।
উৎসঃ বিজ্ঞা্‌ন নবম-দশম শ্রেণী
৬২১.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা-
  1. ৯৮.৪° সেলসিয়াস
  2. ৫৪.৯° সেলসিয়াস
  3. ৯৮.৯° সেলসিয়াস
  4. ৩৬.৯° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৬২২.
প্রথম কোন দেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়?
  1. মালয়েশিয়া
  2. কঙ্গো
  3. জিম্বাবুয়ে
  4. সিয়েরা লিওন
ব্যাখ্যা
নিপাহ ভাইরাস:
- নিপাহ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ।
- কাঁচা খেজুরের রসে বাদুড়ের বিষ্ঠা ও লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা ও লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে।
- ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।
- এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার প্রায় ৭০ শতাংশ।
- মানুষের মধ্যে এ সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে।
- বাংলাদেশে ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব চিহ্নিত হয়।
- লক্ষণগুলো হলো : জ্বর, মাথা ব্যথা, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বমি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৮-৯৯ সালে নিপাহ ভাইরাসের প্রথম প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় মালয়েশিয়ার সুঙ্গাই ‘নিপাহ’ নামক গ্রামে।
- ওই গ্রামের নামেই ভাইরাসটির নামকরণ করা হয়।
- মূলত ফলাহারি বাদুড় এই ভাইরাসের প্রধান বাহক।

উৎস: প্রথম আলো।
৬২৩.
ভ্রুণ দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪.০-৫.০ লাখ
  2. খ) ৪.৫-৫.৫ লাখ
  3. গ) ৮০-৯০ লাখ
  4. ঘ) ৬০-৭০ লাখ
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি-অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- এতে হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- মানুষের লোহত রক্তকণিকার গড় আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- স্তন্যপায়ী প্রাণীদের লোহিত রক্তকণিকাগুলো উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে আসার পূর্বে নিউক্লিয়াসবিহীন হয়ে যায়।
- অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদের ক্ষেত্রে এরকম ঘটে না অর্থাৎ এদের লোহিত কণিকাগুলোতে নিউক্লিয়াস থাকে।
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ করে।
- বিভিন্ন বয়সের মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে গড়ে লোহিত কণিকার সংখ্যা ভিন্ন। যেমন-
১। ভ্রুণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ
২। শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ
৩। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫-৫.৫ লাখ এবং
৪। পূর্ণবয়স্ক নারীর দেহে: ৪.০-৫.০ লাখ।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৪.
'Bacillus Calmatte Guerin' কোন রোগের টিকা?
  1. ক) পোলিও
  2. খ) ডিপথেরিয়া
  3. গ) হাম
  4. ঘ) যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
• Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মার টিকা।
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine).
- হাম রোগের টিকা এমএমআর।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬২৫.
নিচের কোন উপায়ে এইডস সংক্রমণ সম্ভব নয়?
  1. সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ
  2. সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু
  3. সেলুনে একই ব্লেড ব্যবহার করা
  4. সংক্রমিত ব্যক্তির ত্বকীয় সংস্পর্শে
ব্যাখ্যা
এইডস:
- AIDS পূর্ণরূপ Acquired Immune Deficiency Syndrome.
- বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে। 
- Human Immune Deficiency Virus, সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
- এতে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে মানুষ মারা যায়।
- ২০০০ সালে বিশ্বে HIV আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লক্ষ, এদের মধ্যে মারা যায় প্রায় ৩০ লক্ষ।
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়।

AIDS এর বিস্তার:
- বিভিন্ন উপায়ে এইডসের ভাইরাস একজন সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। যেমন-
• নারী পুরুষের অস্বাভাবিক ও অসামাজিক যৌন আচরণ।
• সংক্রমিত সিরিঞ্জ ব্যবহার।
সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ।
সংক্রমিত মায়ের গর্ভে জন্ম গ্রহণকারী শিশু
সেলুনে একই ব্লেড বা ক্ষুর বিভিন্ন জনে ব্যবহার করা
• দন্ত চিকিৎসা ও শল্য চিকিৎসা গ্রহণকারী ইত্যাদি।

তথ্যসুত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৬.
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে নিচের কোন ঔষধ?
  1. Tranexemic acid
  2. Aspirin
  3. Heparin
  4. Diclofenac
ব্যাখ্যা
ট্রানেক্সামিক অ্যাসিড:
- ট্র্যানেক্সামিক অ্যাসিড হল একটি ওষুধ যা বিভিন্ন চিকিৎসা পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত রক্তপাত (হেমারেজ) প্রতিরোধ বা কমাতে ব্যবহৃত হয়।
- রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- প্রায়শই সার্জারি, দাঁতের পদ্ধতি বা ভারী মাসিক রক্তপাত পরিচালনার সময় ব্যবহৃত হয়। 

অ্যাসপিরিন:
- এতে প্রদাহ-বিরোধী, ব্যথানাশক (ব্যথা-নাশক) এবং অ্যান্টিপ্লেটলেট (রক্ত-পাতলা) বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
- অ্যাসপিরিন সাধারণত ব্যথা উপশম করতে, জ্বর কমাতে এবং প্রদাহজনক অবস্থার চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়।

হেপারিন: হেপারিন একটি অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ওষুধ যা রক্তের জমাট বাঁধা প্রতিরোধ এবং চিকিত্সার জন্য ব্যবহৃত হয়। 

ডাইক্লোফেনাক:
ডাইক্লোফেনাক হল একটি ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ (NSAID) যা ব্যথা উপশম করতে এবং প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৬২৭.
পিত্তরস তৈরি করে-
  1. ক) যকৃৎ
  2. খ) পিটুইটারি গ্রন্থি
  3. গ) অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি
  4. ঘ) গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
যকৃৎ:
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত।
- এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি।
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত।
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।

যকৃতের কাজ:
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- রক্তে কখনো গ্লুকোজের মাত্রা কমে গেলে যকৃতের সঞ্চিত গ্লাইকোজেনের কিছুটা অংশ গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তস্রোতে মিশে যায়। এভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
মানুষের হৃদপিণ্ডের নিচের দুটি প্রকোষ্ঠকে কী বলে?
  1. ক) অলিন্দ
  2. খ) নিলয়
  3. গ) এন্ডোকার্ডিয়াম
  4. ঘ) এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট।
- উপরে দুই পাশে দুইটি অলিন্দ এবং নিচে দুই পাশে দুইটি নিলয়।
- হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা- এপিকার্ডিয়াম, মায়োকার্ডিয়াম ও এন্ডোকার্ডিয়াম।
- হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৯.
পোলিও ভাইরাসে প্রধানত আক্রান্ত হয় -
  1. ক) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষরা
  2. খ) প্রাপ্তবয়স্ক মহিলারা
  3. গ) শিশুরা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- পোলিও বা পোলিওমাইলিটিজ এক ধরনের ভাইরাসবাহিত সংক্রামক রোগ।
- সাধারণত ৫ বছরের কম বয়সের শিশুদের পোলিও হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 
- পোলিও ভাইরাস আন্ত্রিক ভাইরাস দলেরই অন্তর্গত, কারণ এটি শরীরের অন্ত্রপথেই দেহে প্রবেশ করে থাকে।
- দূষিত খাদ্য ও পানির সাথে প্রবেশ করার পর পোলিও ভাইরাস রক্তকোষের মধ্যে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে রক্তে সংক্রমণ ঘটায়।

পোলিও রোগের লক্ষণসমূহ-
১. মাথা ব্যাথা করে, ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। 
২. জ্বর থাকে। 
৩. শিশুর হাত অথবা পা অবশ হয়ে যায়। 
৪. শিশু দাঁড়াতে চায় না। 
৫. উঁচু করে ধরলে আক্রান্ত পায়ের পাতা ঝুলে পড়ে। 
৬. দাঁড়া করাতে চাইলে শিশু কান্নাকাটি করে এবং নাড়াচড়া করতে পারে না। 
৭.  শিশুর আক্রান্ত অঙ্গ ক্রমশ দুর্বল হয় এবং পরে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৬৩০.
ভ্যাকসিন কীভাবে কাজ করে?
  1. সরাসরি জীবাণু ধ্বংস করে
  2. রক্তে অক্সিজেন পরিমাণ বাড়ায়
  3. শরীরে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে
  4. রোগের উপসর্গ কমায়
ব্যাখ্যা

◉ ভ্যাকসিন মূলত শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ভবিষ্যতে সেই নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে।

টিকা (Vaccine):
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিস্রুত সাসপেনশন।
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।
- অ্যান্টিবডি রোগের জীবাণুর বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং স্থায়ী কার্যক্ষমতা নষ্ট করে।
- সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে।
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো। কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে।
- আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি প্রয়োগ করে বর্তমানে পোলিও, টিটেনাস, হাম্পস, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা, হুপিংকাশি, টাইফয়েড, হেপাাইটিস ইত্যাদি রোগের টিকা আবিষ্কৃত হয়েছে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩১.
থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে কোনটি বেড়ে যায়?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন- 

১। পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

২। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

৩। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

৪। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

৫। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

৬। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- এ অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৭। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩২.
সাধারণত কত মাসের পূর্বে শিশুর জন্ম হলে তাকে গর্ভপাত বলে?
  1. ক) ৬ মাস
  2. খ) ৭ মাস
  3. গ) ৮ মাস
  4. ঘ) সাড়ে ৫ মাস
ব্যাখ্যা
সাধারণত ৭ মাসের পূর্বে শিশুর জন্ম হলে তাকে বলে গর্ভপাত। উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৩৩.
মাঙ্কিপক্স একটি ________ রোগ।
  1. ভাইরাসজনিত
  2. ব্যাকটেরিয়াজনিত
  3. ছত্রাকজনিত
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
Monkeypox:
- মাঙ্কিপক্স একটি ভাইরাসজনিত প্রাণীজাত (জুনোটিক) রোগ।
- মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে অর্থোপক্স ভাইরাস।
- এ জাতির ভাইরাসের মধ্যে রয়েছে গুটিবসন্ত ও কাউপক্স।
- এ জন্য মাঙ্কিপক্সের সাথে গুটিবসন্ত বা স্মলপক্সের মিল দেখা যায়।
- আবার মাঙ্কিপক্স ভাইরাসের রয়েছে দু’টো ক্লেড বা উপজাতি।
- দুটি ভিন্ন ক্লেড বিদ্যমান: ক্লেড-১ এবং ক্লেড-২।
- একটি হচ্ছে মধ্য আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যুহার ১০% পর্যন্ত হতে পারে।
- আরেকটি হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকা ক্লেড-এ উপজাতির মাঙ্কিপক্সে মৃত্যু তেমন হয়নি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৮ সালে ডেনমার্কের একটি বিজ্ঞানাগারে এক বানরের দেহে সর্বপ্রথম এ রোগ শনাক্ত হয় বলে একে মাঙ্কিপক্স বলা হয়।
- এ নামটি বদল করে নতুন বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়ার জন্য বিশ্বস্বাস্থ্যসংস্থা উদ্যোগ নিয়েছে।
- কারণ এ নাম থেকে মনে হতে পারে বানরই এ রোগের জন্য দায়ী, যা সঠিক নয়।
- এ রোগটির প্রাদুর্ভাব ১৯৭০ সাল থেকে প্রধানত মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকার ১১টি দেশে দেখা যায়।
- ২০২২-২৩ সালে ক্লেড IIb নামে পরিচিত একটি স্ট্রেন দ্বারা mpox-এর একটি বিশ্বব্যাপী প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল।
- আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে ২০২৪ সালের শুরু থেকে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৪ হাজারেরও বেশি মানুষ এমপক্সে আক্রান্ত হয়েছে আর এতে ৪৫০’রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

⇒ লক্ষণ:
- এর সাধারণ লক্ষণগুলি হলো ত্বকের ফুসকুড়ি বা মিউকোসাল ক্ষত যা জ্বর, মাথাব্যথা, পেশী ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কম শক্তি এবং ফোলা লিম্ফ নোড সহ ২-৪ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে।
- Mpox সংক্রামক, দূষিত পদার্থ বা সংক্রামিত প্রাণীর সাথে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে পারে।

⇒ প্রতিকার:
- গুটিবসন্তের জন্য উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন এবং থেরাপিউটিকস এবং কিছু দেশে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত কিছু পরিস্থিতিতে mpox- এর জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
- Mpox আছে এমন কারো সাথে শারীরিক যোগাযোগ এড়িয়ে Mpox প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
- টিকা ঝুঁকিপূর্ণ লোকেদের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।

উৎস: World Health Organization.
৬৩৪.
বিসিজি টিকার আবিষ্কারক কে?
  1. রবার্ট কক
  2. ক্যামিলে গুয়েরিন
  3. জোনাস সাল্ক
  4. এডওয়ার্ড জেনার
ব্যাখ্যা
- ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দ্বারা যক্ষা রোগ হয়। যক্ষ্মা রোগের ব্যাকটেরিয়া মানুষের দেহে প্রবেশ করে শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে।
- যক্ষ্মার রোগের টিকা হলো- বিসিজি
- এই টিকা আবিষ্কারক ফ্রান্সের জীবাণুতত্ববিদ - আলবার্ট ক্যালম্যাট ও ক্যামিলে গুয়েরিন। এই দুজনের নামানুসারেই টিকার নামকরণ করা হয় - Bacillus Calmette-Guérin, or BCG। তারা দীর্ঘ ১৩ বছর (১৯০৮ - ২১) গবেষণা করে এই টিকা উদ্ভাবণ করেন। 
- এই রোগের জীবাণু প্রথম আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী রবার্ট কক ১৮৮২ সালে।

উল্লেখ্য,
- জোনাস সাল্ক -- পোলিও টিকার আবিষ্কারক।
- এডওয়ার্ড জেনার -- গুটিবসন্তের টিকার আবিষ্কারক।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৩৫.
'ইউভাইটিস' রোগে দেহের কোন অঙ্গ আক্রান্ত হয়?
  1. চোখ
  2. মস্তিষ্ক
  3. ত্বক
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা
'ইউভাইটিস' রোগ: 
- চোখের পুষ্টি নিয়ন্ত্রণে রক্তনালিপূর্ণ একটি স্তর আছে, যাকে ইউভিয়া বা ভাসকুলার কোট বলা হয়। 
- এটি চোখের মধ্যস্তর। 
- ইউভিয়া ও এর চারপাশের টিস্যুগুলোর প্রদাহ হলে তাকে বলে ‘ইউভাইটিস’। 
- এই ‘ইউভাইটিস’ রোগে রোগীর একটি বা দুটি চোখই আক্রান্ত হতে পারে। 
- চোখে আঘাত, জীবাণুর সংক্রমণ, কানেকটিভ টিস্যু বা যোজককলার রোগ ইত্যাদি কারণে এই রোগ হতে পারে। 

লক্ষণ: 
- কম দেখা, ঝাপসা দেখা, চোখের সামনে কালো বিন্দু ভেসে বেড়াতে দেখা, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা বা ফটোফোবিয়া। 
- চোখ ব্যথা করা ও লাল হয়ে যাওয়া। 
- মাথায় যন্ত্রণা হওয়া। 
- চোখের তারারন্ধ্র ছোট হয়ে যাওয়া এবং তারার রং পরিবর্তন হওয়া। 
- চোখ দিয়ে পানি পড়া। 
- শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ অনেক দেরিতে বোঝা যায় বলে রোগ জটিল রূপ ধারণ করে, সময়মতো চিকিৎসা না করলে রোগী অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

চিকিৎসা: 
- প্রদাহ কমাতে কর্টিকোস্টেরয়েড ওষুধ এবং তারারন্ধ্র প্রসারণে সাহায্য করতে মাইড্রিয়াটিক চোখের ড্রপ ও সংক্রমণের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার। 
- গাঢ় রঙের চশমা আলোর প্রতি সংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে। 
- এ রোগে দ্রুত চক্ষু চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কারণ এটি বেশ জটিল রোগ। 

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল, ২০২৪)।
৬৩৬.
কোনটি ছোঁয়াচে রোগ?
  1. ক) হাঁপানী
  2. খ) বাতজ্বর
  3. গ) রাতকানা
  4. ঘ) পাঁচড়া
ব্যাখ্যা
যে সকল রোগের বিস্তার রোগীর সংস্পর্শে বা ছোঁয়ায় হয়ে থাকে, তাদেরকে ছোঁয়াচে রোগ বলে।

ছোঁয়াচে রোগের উদাহরণ হলো-
- জলবসন্ত,
- হুপিংকাশি,
- কলেরা,
- ধনুষ্টংকার,
- যক্ষ্মা,
- মাম্পস,
- ফাইলেরিয়া,
- পাঁচড়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- হাঁপানি শ্বাসনালি সংক্রান্ত রোগ।
- কোনো একটি বহিঃস্থ পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে দেহের প্রতিরোধ ব্যবস্থার যতটুকু প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা, তার চেয়ে অনেক তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া দেখালে অ্যাজমা বা হাঁপানি হতে পারে। এটি ছোঁয়াচে নয়, জীবাণুবাহিত রোগও নয়। 

রাতকানা (Night Blindness) :
- ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জেরোফথ্যালমিয়া (Xerophthalmia) নামক রোগ হয়। 
- জেরোফথ্যালমিয়ার সাত থেকে আটটি মাত্রা রয়েছে, যার সর্বনিম্ন মাত্রা হচ্ছে রাতকানা।
- সাধারণত দুই থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের মধ্যে এ রোগ বেশি দেখা দেয়। 

- রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হার্টের, জয়েন্ট, কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র এবং ত্বকের নিচের টিস্যুর প্রদাহজনিত রোগ, যা একটি বিটা-হেমোলাইটিক স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া গ্রুপের গলার সংক্রমণের পরে বিকাশ লাভ করে।
- এই রোগটি পেনিসিলিন দিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব, কিন্তু নির্দিষ্ট চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
- রোগটি প্রধানত শিশু এবং অল্প বয়স্কদের মধ্যে ঘটে, যারা ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সের মধ্যে হয়ে থাকে।  

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬৩৭.
জন্ডিসে কোন অঙ্গটি আক্রান্ত হয়?
  1. ক) যকৃত
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) হৃৎপিন্ড
  4. ঘ) চোখ
ব্যাখ্যা
জন্ডিস কোন রোগ নয়, এটি রোগের লক্ষণমাত্র। রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়। আমাদের রক্তের লোহিত কণিকাগুলো একটা সময়ে স্বাভাবিক নিয়মেই ভেঙ্গে গিয়ে বিলিরুবিন তৈরি করে যা পরবর্তীতে লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়ে পিত্তরসের সাথে পিত্তনালীর মাধ্যমে পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। অন্ত্র থেকে বিলিরুবিন পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। বিলিরুবিনের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় যে কোনো অসঙ্গতি দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় আর দেখা দেয় জন্ডিস।
Source: LiveMCQ Archive
৬৩৮.
মানুষের দেহে কয় জোড়া লালাগ্রন্থি আছে?
  1. ক) ২ জোড়া
  2. খ) ৩ জোড়া
  3. গ) ৪ জোড়া
  4. ঘ) ৫ জোড়া
ব্যাখ্যা
মানুষের দেহে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে।

- এদের মধ্যে দুই কানের সামনে ও নিচে এক জোড়া, চোয়ালের নিচে এবং চিবুকের নিচে এক জোড়া করে মোট দুই জোড়া, এই তিন জোড়া লালাগ্রন্থি রয়েছে। 
- লালা হল এটি আর্দ্র রাখার জন্য মুখের মধ্যে প্রকাশ করা হয় এবং এনজাইম আছে যা খাদ্য ভেঙ্গে শুরু হয় ।
- এছাড়া মুখ ও গলার সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে লালা ।
- জিভের নীচে, মুখের পাশে (গালে এলাকায়) শুধু কানের সামনে, দাঁত ও নরম তালু বরাবর উপরের চোয়ালের এলাকায়, পাশাপাশি জাহাড়ের নীচে থাকা বিভিন্ন ধরনের লালা গ্রন্থির স্তবক রয়েছে ।
- উচ্চ পরিপাক নালীর শ্লেষ্মা (টিস্যু আস্তরণের) এবং শ্বাসনালী অংশ মধ্যে লালা গ্রন্থি ছোট ক্লাস্টার উপস্থিত হয় ।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৩৯.
অসংক্রামক ব্যাধি-
  1. ক) যক্ষ্মা
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) উচ্চ রক্তচাপ
  4. ঘ) আমাশয়
ব্যাখ্যা
এইডস, যক্ষ্মা, পোলিও, ধনুষ্টংকার, হাম, হার্পিস, কোভিড-১৯, দাদ, নিউমোনিয়া, আমাশয় ইত্যাদি হল সংক্রামক রোগ। অন্যদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাজমা, কিডনি রোগ ইত্যাদি হল অসংক্রামক রোগ।
৬৪০.
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা প্রথম কোন প্রাণীর জিন নকশা উন্মোচন করেন?
  1. ক) ছাগল
  2. খ) মহিষ
  3. গ) ভেড়া
  4. ঘ) হাঁস
ব্যাখ্যা

প্রাণী হিসেবে প্রথম মহিষের জিন নকশা উন্মোচনে সফলতা লাভ করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
বেসরকারি কোম্পানি লাল তীর লাইভস্টক লিমিটেড চীনের বেইজিং জেনোম ইনস্টিটিউটের (বিজেআই) সহায়তায় ২০১৪ সালে এই সফলতা অর্জন করে।
মহিষের জীবনরহস্য উন্মোচনের এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন বিজেআইয়ের চেয়ারম্যান জিয়ান উয়াং এবং লাল তীরের বিজ্ঞানী মো. মনিরুজ্জামান। মোট ১৪ জন বিজ্ঞানী দুই বছর তিন মাস সময় ধরে এই গবেষণাটি করেছেন।
এর আগে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের পাটবিষয়ক মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পের আওতায় বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে দেশি ও তোষা পাট এবং ছত্রাকের জীবনরহস্য উন্মোচিত করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা।
সূত্র: প্রথম আলো ও banglanews24.com

৬৪১.
গুটি বসন্তের টিকা আবিষ্কার করেন -
  1. ক) জোনাস সক
  2. খ) জ্যাকব হেইন
  3. গ) ইভান পাভলভ
  4. ঘ) এডওয়ার্ড জেনার
ব্যাখ্যা
গুটি বসন্তের প্রথম টিকা আবিষ্কার হয়েছিল ১৮ শতকের শেষভাগে ১৭৯৬ সালে। এডওয়ার্ড জেনার এ টিকা আবিষ্কার করেন। এটিই ছিল চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথম সফল টিকা।
উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা
৬৪২.
ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের কোন রোগ হতে পারে?
  1. স্কার্ভি
  2. রিকেট
  3. গোইটার
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
ভিটামিন D:
- একমাত্র প্রাণিজ উৎস থেকেই ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- এই ভিটামিন সূর্যালোকের অতিবেগুনি রশ্মির সাহায্যে মানুষের ত্বকে উপস্থিত কোলেস্টেরল হতে ধাপে ধাপে লিভার ও কিডনির সহায়তায় সংশ্লেষিত হয়।
- ডিমের কুসুম, দুধ এবং মাখন ভিটামিন D-এর প্রধান উৎস।
- বাঁধাকপি, যকৃৎ এবং তেলসমৃদ্ধ মাছে ভিটামিন D পাওয়া যায়।
- ভিটামিন D শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে, যা হাড় তৈরির কাজে লাগে।
- ভিটামিন D-এর অভাবে শিশুদের রিকেট রোগ হতে পারে।
- দৈনিক চাহিদা থেকে বেশি পরিমাণে ভিটামিন D গ্রহণ করলে শরীরের ক্ষতি হয়।
- এর ফলে অধিক ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষিত হওয়ায় রক্তে এদের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
- যে কারণে বৃক্ক (কিডনি), হৃৎপিণ্ড, ধমনি ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম জমা হতে থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
৬৪৩.
নিম্নের কোন রক্তকণিকাটি রক্ত জমাট বাঁধাতে সাহায্য করে?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা
• ইংরেজিতে এদেরকে প্লেইটলেট (Platelet) বলে।
• অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন।
অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে৷ থ্রমবিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন- ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষত স্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬৪৪.
মানব দেহের এক পায়ে সর্বমোট কয়টি অস্থি বিদ্যমান?
  1. ৮০টি
  2. ৩০টি
  3. ২৫টি
  4. ৬০টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
মানবদেহে অক্ষীয় কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা ৮০টি। এক পায়ে মোট ৩০টি এবং দুই পা মিলিয়ে মোট ৬০টি অস্থি রয়েছে। এছাড়া বক্ষপিঞ্জরে মোট অস্থির সংখ্যা ২৫টি।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৪৫.
মাতৃগর্ভে একজন শিশু প্রতিদিন কত মিলিলিটার পানি পান করে?
  1. ক) ৩০০ মিলিলিটার
  2. খ) ৪০০ মিলিলিটার
  3. গ) ৫০০ মিলিলিটার
  4. ঘ) ৬০০ মিলিলিটার
ব্যাখ্যা
মাতৃগর্ভে একজন শিশু প্রতিদিন সাধারণত ৫০০ মিলিলিটার পানি পান করে থাকে।
৬৪৬.
গর্ভবতী মায়ের রক্ত স্বল্পতাকালীন সময় কোন ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়?
  1. আয়োডিন
  2. জিঙ্ক
  3. আয়রন ও ক্যালসিয়াম
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা: 
- প্রতিবছর গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতায় আমাদের দেশে বহু নারীর মৃত্যু হয়। 
- গর্ভকালীন বিভিন্ন জটিলতা ও সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে মা ও শিশু উভয়ের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 
- তাই গর্ভকালীন সমস্যা বিষয়ে সচেতনতা ও সঠিক পরিচর্যাই পারে মা ও শিশুর জীবন বাঁচাতে। 

রক্ত স্বল্পতা: 
- অনেক সময় গর্ভাবস্থায় রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয়। 
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রথম মাস থেকে ফলিক এসিড(ভিটামিন B9) এবং ৩ মাসের পর থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
- আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- কচু শাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি খেতে হবে। 
- ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন- আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস এবং কাঁচা ফলমূল খেতে হবে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৭.
পোলিও টীকা আবিস্কারক জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মারা যান, শহরটির নাম-
  1. ক) La Martini
  2. খ) La Zola
  3. গ) San Antonio
  4. ঘ) San Hose
ব্যাখ্যা
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং
- ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও ‍মুক্ত ঘোষণা করে।
- জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের La Zola নামক শহরে মারা যান।
৬৪৮.
আল্ট্রাসনোগ্রাফির জন্য সাধারণত কোন কম্পাঙ্কের শব্দ ব্যবহার করা হয়? 
  1. ১০-১০০ হার্টজ 
  2. ১-১০ মেগাহার্টজ 
  3. ১-১০ কিলোহার্টজ 
  4. ১০-১০০ মেগাহার্টজ 
ব্যাখ্যা

আল্ট্রাসনোগ্রাফি: 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যা উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। 
 - রোগ নির্ণয়ের জন্য যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাঙ্ক 1-10 মেগাহার্টজ হয়ে থাকে। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ এবং প্রসূতিবিজ্ঞানে লক্ষ্য করা যায়। 
- আট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে ভ্রূণের আকার, পূর্ণতা, ভ্রুণের স্বাভাবিক বা অস্বাভাবিক অবস্থান জানা যায়। 
- প্রসূতিবিদ্যায় এটি একটি দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য কৌশল। 
- আল্ট্রাসনোগ্রাফির সাহায্যে পিত্তপাথর, জড়ায়ুর টিউমার এবং অন্যান্য পেলভিক মাসের উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়। 
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, তবুও আল্ট্রাসাউন্ড খুব সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪৯.
হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় কোনটি?
  1. ক) LDL
  2. খ) HDL
  3. গ) ট্রাই-গ্লিসারাইড
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন (Cholestane) থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ। উচ্চশ্রেণির প্রাণিজ কোষের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোলেস্টেরল লিপপাপ্রােটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়। রক্তে তিন ধরনের লিপােপ্রােটিন দেখা যায়।
(a) LDL (Low Density Lipoprotein): একে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়, কারণ এটি হৃদ্‌রােগের ঝুঁকি বাড়ায়। সাধারণত আমাদের রক্তে 70% LDL থাকে। ব্যক্তিবিশেষে এই পরিমাপের পার্থক্য দেখা যায়।
(b) HDL (High Density Lipoprotein): একে সাধারণত ভালাে কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদ্‌রােগের ঝুঁকি কমায়।
(c) ট্রাইগ্লিসারাইড (Triglyceride): এই কোলেস্টেরল চর্বি হিসেবে রক্তের প্লাজমায় অবস্থান করে। ট্রাইগ্লিসারাইড আমাদের খাদ্যের প্রাণিজ চর্বি অথবা কার্বোহাইড্রেট থেকে তৈরি হয়ে থাকে।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণী, জীববিজ্ঞান

৬৫০.
কোনটি হৃদরোগের কারণ?
  1. ক) পরিমিত ঘুম
  2. খ) ধূমপান
  3. গ) সুষম খাদ্য গ্রহণ
  4. ঘ) রক্তপাত
ব্যাখ্যা
হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণঃ
১) অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২) বাবা-মায়ের হৃদরোগ থাকলে তাদের সন্তানদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অধিক থাকে। এর মূল কারণ পরিবারের একই খাদ্যাভ্যাস ও ধূমপানের অভ্যাস।
৩) উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের একটি মারাত্মক রিস্ক ফ্যাক্টর। অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদপিন্ডের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
৪) রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রার আধিক্য হৃদরোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ রিস্ক ফ্যাক্টর।
৫) হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ডায়াবেটিসের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
৬) অধিক ওজন হলে শরীরে রক্ত সরবরাহ করতে হৃদপিণ্ডের অধিক কাজ করতে হয়। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৭) শারীরিকভবে নিস্ক্রিয় লোকদের হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অলস জীবন-যাপন করোনারি হৃদরোগের জন্য আরেকটি রিস্ক ফ্যাক্টর।
৮) হৃদরোগ হওয়ার পেছনে ধূমপানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে ব্যক্তি নিয়মিত ধূমপান করে থাকেন তার হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করার ঝুঁকি থাকে।
উৎসঃ একুশে টিভি, ব্রিটানিকা, বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা
৬৫১.
কোনটি কমে গেলে পারকিনসন রোগ হতে পারে?
  1. ক) রক্ত চলাচল
  2. খ) ডোপামিন
  3. গ) শ্বেত রক্তকণিকা
  4. ঘ) প্রজেস্টোরন
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে। পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫২.
শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ-
  1. ক) নাসিকা
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) ব্রংকাস
  4. ঘ) স্বরযন্ত্র
ব্যাখ্যা
শ্বসনতন্ত্র:
- ফুসফুস হচ্ছে শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- যে সকল অঙ্গ শ্বসনকার্য চালানোর কাজে অংশ নেয় তাদের একসাথে শ্বসনতন্ত্র বলে।
- নাসিকা, গলবিল, স্বরযন্ত্র, শ্বাসনালি, ব্রংকাস, ফুসফুস ও মধ্যচ্ছদা এগুলো নিয়ে শ্বসনতন্ত্র গঠিত।
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ।
- এটি দুই খণ্ডে বিভক্ত এবং প্লুরা নাম পর্দা দ্বারা আবৃত। বাতাসের সঙ্গে অক্সিজেন ফুসফুসে প্রবেশ করে। পরে তা রক্তের মাধ্যমে পরিবহন হয়ে দেহের সব অঙ্গে পৌঁছায়।

• শ্বসনতন্ত্রের কাজসমূহ,
- শ্বসন গ্যাসের বিনিময়: শ্বাসক্রিয়ার সময় পরিবেশের O2 রক্তে মিশে এবং রক্ত থেকে CO2 পরিবেশে বের হয়।
- শক্তি উৎপাদন: শ্বসনতন্ত্রের মাধ্যমে গ্রহণ করা CO2 কোষীয় শ্বসনে ব্যবহৃত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে।
- পানি সাম্যতা: নিঃশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৬০০ মিলিলিটার পানি দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এতে দেহের পানির সাম্যতা বজায় রাখতে সহায়তা হয়।
- তাপ নিয়ন্ত্রণ: নিঃশ্বাসের সময় CO2 এর সাথে দেহের কিছু তাপ নির্গত হয়ে দেহের তাপমাত্রা বজায় থাকে।
- এসিড ও ক্ষারের সাম্যতা: নিঃশ্বাস বায়ুর মাধ্যমে দেহের বাইরে বের হওয়ায় pH নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হয়।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৩.
AIDS এর পূর্ণরূপ-
  1. Acquired Immune Deficiency Symptom
  2. Acquired Immunodeficiency Syndrome
  3. Acquired Immunity Deficiency Syndrome
  4. Acquired Immunodeficiency Symptom
ব্যাখ্যা
• এইডস:
- AIDS এর পুর্ণরূপ: Acquired immunodeficiency syndrome।
- বিশেষ কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াকে এইডস (AIDS) বলে।
- Human Immune Deficiency Virus সংক্ষেপে HIV নামক ভাইরাস দ্বারা এ রোগ সৃষ্টি হয়।
- HIV ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের শ্বেত রক্ত কণিকার ম্যাক্রোফেজ ও T4 লিম্ফোসাইট ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
- এইডস ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেত রক্ত কণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
- বর্তমান বিশ্বে AIDS একটি মারাত্মক রোগ।
- আফ্রিকার দেশসমূহে HIV র আক্রমণ বেশি লক্ষ করা যায়।
- ধারণা করা হয় বানরের দেহে এ ভাইরাসটি ছিল যা সর্বপ্রথম আফ্রিকায় বানর থেকে মানুষে স্থানান্তরিত হয় এবং পরে তা আমেরিকা, ইউরোপ তথা সমগ্রবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৪.
DPT vaccine কোন রোগের প্রতিষেধক নয়?
  1. ক) ডিপথেরিয়া
  2. খ) পোলিওমাইলাইটিস
  3. গ) হুপিং কাশি
  4. ঘ) ধনুষ্টঙ্কার
ব্যাখ্যা
ডিপিটি টিকা (DPT Vaccine) তিনটি রােগ ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি এবং ধনুষ্টংকার-এর জন্য একত্রে একটি মাত্র টিকা দেওয়া হয়। টিকাটিতে ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হুপিংকফ রােগের জীবাণু ব্যাকটেরিয়াকে অকার্যকর করার উপাদান রয়েছে যা এ সকল রােগের জীবাণুকে মেরে ফেলে।
৬৫৫.
মানবদেহে কত খানা হাড় আছে?
  1. ক) ২০৬
  2. খ) ২০৪
  3. গ) ২০২
  4. ঘ) ২০৮
ব্যাখ্যা

অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
লম্বা, ছোট, অসমান, চ্যাপ্টা মোট ২০৬ টি অস্থির সমন্বয়ে পূর্ণ বয়স্ক মানব কঙ্কাল গঠিত হয়।
শিশুর কঙ্কালে অস্থির সংখ্যা আরো বেশি থাকে।

- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- অস্থিতে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ পানি থাকে
- অস্থির বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

৬৫৬.
ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে কোনটি?
  1. ক) ক্যাপসিউল
  2. খ) ফ্ল্যাজেলা
  3. গ) কোষ প্রাচীর
  4. ঘ) প্লাজমিড
ব্যাখ্যা
একটি আদর্শ ব্যাকটেরিয়াম কোষে সাধারণত যে সকল অংশগুলো থাকে তা হলো-


- ফ্ল্যাজেলা
- ক্যাপসিউল
- কোষ প্রাচীর
- প্লাজমামেমব্রেন
- মেসোসোম
- সাইটোপ্লাজম
- ক্রোমোসোম
- প্লাজমিড

ক্যাপসিউল - ক্যাপসিউল পলিস্যাকারাইড বা পলিপেপটাইড দিয়ে গঠিত একটি স্তর, যা ব্যাকটেরিয়া কোষের বাইরের দিকে থাকে। এটি কোষ প্রাচীরকে ঘিরে রাখে। একে স্লাইম স্তরও বলা হয়। এটি ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিকূল অবস্থা হতে রক্ষা করে।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় 
৬৫৭.
দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা কোনটির কাজ?
  1. ক) রেচনতন্ত্র
  2. খ) স্নায়ুতন্ত্র
  3. গ) রক্ত সংবহনতন্ত্র 
  4. ঘ) শ্বসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কাজ দেহের বিভিন্ন অঙ্গের সাথে সমন্বয় সাধন করা।

স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হল মস্তিস্ক।
স্নায়ুতন্ত্র ২ প্রকার- মূল স্নায়ুতন্ত্র (Central Nervous System) এবং পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral Nervous System) । মানবদেহের মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ড মূল স্নায়ুতন্ত্রের অংশবিশেষ। মূল স্নায়ুতন্ত্রের কাজ হচ্ছে শরীরের প্রধান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে উপস্থিত থাকা এবং সকল অন্তর্গামী ও বহির্গামী বার্তা প্রক্রিয়াজাত করা। পেরিফেরাল স্নায়ুতন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ঐসকল শিরা-উপশিরা, যা মূল স্নায়ুতন্ত্রে বার্তা বহন করে এবং পুনরায় মূল স্নায়ুতন্ত্র থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে প্রেরণ করে।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি

৬৫৮.
নিচের কোনটি ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিভাগ নয়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) র‍্যাবিস
  4. ঘ) কমা
ব্যাখ্যা
কোষের আকারের ভিত্তিতে ব্যাকটেরিয়ার শ্রেণিবিন্যাস
কোষের আকৃতি অনুসারে ব্যাকটেরিয়াকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা- (ক) কক্কাস,
(খ) ব্যাসিলাস,
(গ) স্পাইরিলাম এবং
(ঘ) কমা আকৃতি।

কক্কাস: গোলাকার ব্যাকটেরিয়াকে বলা হয় কক্কাস। কক্কাস ব্যাকটেরিয়া আবার পাঁচ রকমের। যথা-
১। মাইক্রোকক্কাস, ২। ডিপ্লোকক্কাস, ৩। স্ট্যাফাইলোকক্কাস, ৪। স্ট্রেপটোকক্কাস এবং ৫। সারসিনা।
ব্যাসিলাস: দন্ডাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
স্পাইরিলাম: কুন্ডলাকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়া বলে
কমা: কমা আকৃতির ব্যাকটেরিয়াকে কমা ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।

-------------------------------
র‍্যাবিস হচ্ছে এক ধরণের ভাইরাস, যার দ্বারা জলাতঙ্ক রোগ হয়।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৫৯.
এক্সরে অপর নাম কী? 
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. রঞ্জন রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। তাই এক্সরে রঞ্জন রশ্মি নামেও পরিচিত। 

- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমন্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬০.
আলট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) রেডিওথেরাপিতে
  2. খ) প্রসূতি বিজ্ঞানে
  3. গ) এন্ডোস্কোপিতে
  4. ঘ) ধমনি প্রসারিত হলে
ব্যাখ্যা
আলট্রাসনোগ্রাফির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি বিজ্ঞানে। এছাড়াও এর সাহায্যে জরায়ুর টিউমার, অন্যান্য পেলভিক উপস্থিতিও শনাক্ত করা যায়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৬১.
প্লুটোনিয়াম -২৩৮ ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) ক্যান্সার চিকিৎসায়
  2. খ) থাইরয়েড গ্রন্থিতে
  3. গ) পেইসমেকার বসাতে
  4. ঘ) রক্তস্বল্পতা চিকিৎসায়
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু’ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন -
ক) রোগ নিরাময়ে ও
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।

১. শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য Co - 60 থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।

২. থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 ( 131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

৩. শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leukemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-32 ( 32P ) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।

৪. দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99Tc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।

৫. প্লুটোনিয়াম -২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বই (উন্মুক্ত)।
৬৬২.
মানবদেহে HIV প্রবেশ করার কতদিনের মধ্যে শরীরে এইডস-এর লক্ষণ দেখা যায় ?
  1. ক) ১ মাস থেকে ২ মাস
  2. খ) ১ বছর থেকে ২ বছর
  3. গ) ৬ মাস থেকে ১০ বছর
  4. ঘ) ৩ মাস থেকে ৪ মাস
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে HIV প্রবেশ করার ৬ মাস থেকে ১০ বছরের মধ্যে শরীরে এইডস-এর লক্ষণ দেখা যায়।
- এইচআইভি একটি ভাইরাস।
- আমাদের প্রত্যেকের শরীরে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। এই প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকার কারণে কোনো রোগের জীবাণু প্রবেশ করলে সহজে শরীরের কোনো ক্ষতি করতে পারে না। এমন কিছু ভাইরাস আছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আস্তে আস্তে দুর্বল করে। এক সময় তা সম্পূর্ণভাবেই নিঃশেষ করে ফেলতে পারে। এইচআইভি এমনই একটি ভাইরাস।
- এইচআইভি মানুষের শরীরে উৎপন্ন তরল পদার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধ ইত্যাদিতে থাকে।
- এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির এই তরল পদার্থগুলো (রক্ত, বীর্য, যোনিরস) বিভিন্নভাবে সুস্থ লোকের শরীরে প্রবেশ করলে এবং সংক্রমিত মায়ের দুধ সুস্থ শিশু পান করলে তার শরীরেও এইচআইভির সংক্রমণ ঘটবে।
- HIV এর পূর্ণ রূপ:
H = Human (মানুষ)
I = Immuno-deficiency (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস)
V = Virus (জীবাণু)
- HIV কে সম্প্রসারণ করলে দাঁড়ায় Human Immunodeficiency Virus যার বাংলা অর্থ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসকারী জীবাণু।
- এই ভাইরাস কোনো ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করলে পরিণামে তার এইডস হয়।

উৎস: শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৩.
ক্যান্সার চিকিৎসায় কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. বিটা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. এক্স রশ্মি
ব্যাখ্যা
- ক্যান্সার চিকিৎসায় গামা রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

• চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার:
- চিকিৎসায় ব্যবহৃত গামা বিকিরণের উৎস হলো আইসোটোপ।
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে।
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়।
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে।
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়।
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

• গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:

- গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
- এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
- এর কোন চার্জ ও ভর নাই।
- এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
- এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
- জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
- গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান , এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৪.
কম ভরবিশিষ্ট নবজাতক -
  1. ৪ কেজির কম
  2. ২.৫ কেজির কম
  3. ৫ কেজির কম
  4. ৩ কেজির কম
ব্যাখ্যা
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু বলা হয়।
মায়ের অপুষ্টি, মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণে শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে।

উৎসঃ প্রথম আলো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আর্কাইভ।
৬৬৫.
করোটিতে মোট কতটি অস্থি থাকে? 
  1. ৮টি
  2. ৩৩টি
  3. ২৪টি
  4. ২৯টি
ব্যাখ্যা
অক্ষীয় কঙ্কাল: 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে। 
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
যথা-  
(ক) করোটি, 
(খ) মেরুদণ্ড ও 
(গ) বক্ষপিঞ্জর। 

করোটি: 
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে। 
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 

করোটিকা: 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- করোটিকা ছয় প্রকারের মোট ৮টি অস্থিপাত নিয়ে গঠিত। 

মেরুদণ্ড: 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 
- এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা ( vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

বক্ষপিঞ্জর: 
- বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে। 
- এই খাঁচার ভেতরের গহ্বরকে বক্ষগহ্বর বলে। 
- এই গহ্বরে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস অবস্থান করে। 
- দু'পাশের পর্শকাগুলো স্টার্নাম নামক অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। 
- বুকের কেন্দ্রীয় সম্মুখ অংশে অবস্থিত চাপা অস্থিটির নাম স্টার্নাম। 
- এটি ৩টি অংশে বিভক্ত। 
যথা- উপরের ত্রিকোণাকার ম্যানুব্রিয়াম, মাঝের লম্বা দেহ এবং নিচের ক্ষুদ্র জিফয়েড প্রসেস। 
- স্টার্নাম বুকের খাঁচার সামনের অংশ গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৬.
লসিকার কাজ নয় নিচের কোনটি?
  1. প্রোটিন পরিবহন
  2. প্রতিরক্ষা
  3. প্রজনন
  4. প্রতিরোধ
ব্যাখ্যা
লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

লসিকার কাজ: 
প্রোটিন পরিবহন: কলার ফাঁকা স্থান থেকে প্রোটিন লসিকার মাধ্যমে রক্তে ফিরে আসে। 
• স্নেহ পরিবহন: যে সব স্নেহ কলা কৈশিক নালির বাধা অতিক্রমে অক্ষম সেগুলো লসিকার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। 
• পুষ্টি সরবরাহ: দেহের যে সব কলা কোষে রক্ত পৌঁছাতে পারে না সেখানে লসিকা অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ করে। 
• শোষণ: স্নেহ পদার্থ অন্ত্র থেকে শোষিত হয়ে লসিকার মাধ্যমে প্রবাহিত হয়। 
প্রতিরক্ষা: লসিকায় অবস্থিত প্রচুর শ্বেত কণিকা দেহের প্রতিরক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকে। 
প্রতিরোধ: B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপন্ন অ্যান্টিবডি দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
• দেহ রসের সংবহন: রক্ত সংবহনের এক অংশ থেকে অন্য অংশে তরল পদার্থের পরিবহনে অংশ নেয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৭.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) অকোষীয় অণুজীব
  2. খ) পোষক কোষে সংখ্যা বৃদ্ধি করে না
  3. গ) ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড দিয়ে গঠিত
  4. ঘ) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী ভাইরাস- ব্যাকটেরিওফাজ
ব্যাখ্যা
ভাইরাস এক প্রকার অতি আণুবীক্ষণিক অকোষীয় সংখ্যাবৃদ্ধি ক্ষমতাসম্পন্ন অণু্জীব, যা কেবলমাত্র উপযুক্ত পোষক কোষে সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। উপযুক্ত পোষক কোষের বাইরে ভাইরাসে প্রাণের কোনো লক্ষণ দেখতে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-প্রোটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও নিউক্লিক এসিড। সূত্রঃ সাধারণ বিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
৬৬৮.
নিচের কোনটি পরিপাকতন্ত্রের অংশ?
  1. ক) রেকটাম
  2. খ) ব্রঙ্কাস
  3. গ) ইউরেটর
  4. ঘ) মস্তিস্ক
ব্যাখ্যা
রেকটাম অথবা, মলাশয় পরিপাকতন্ত্রের অংশ। সাথে মুখছিদ্র, পাকস্থলী, ইলিয়াম, পায়ুছিদ্র ইত্যাদি পরিপাকতন্ত্রের অংশ।

-যে শারীরিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু শোষণের উপযোগী কিংবা হজম হয়ে বা ভেঙে ক্ষুদ্র সাধারণ কণা হয়, তাকে পরিপাক ক্রিয়া বলে।
- পরিপাক সংশ্লিষ্ট যত ধাপ বা অংশ আছে, সব মিলেই পরিপাক্তন্ত্র গঠিত হয়। 

- পরিপাকতন্ত্রের কাজ—
১. খাদ্য গ্রহণ
২. খাদ্য পরিপাক
৩. বিভিন্ন পাচক রস নিঃসরণ
৪. পানি, ভিটামিন, খনিজ লবণ এবং পরিপাককৃত
৫. খাদ্যাংশ শোষণ
৬. অপ্রয়োজনীয় খাদ্যাংশ মল হিসাবে ত্যাগ
৭. শরীরের পানি, গ্লুুকোজ, এসিড-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা
৮. পরোক্ষভাবে রক্ত উৎপাদনে সহায়তা করে

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৬৯.
কোন রোগটি পানিবাহিত নয়?
  1. কলেরা
  2. টাইফয়েড
  3. যক্ষা
  4. হেপাটাইটিস-A
ব্যাখ্যা
পানিবাহিত রোগ: পানিবাহিত রোগ হলো সেইসব রোগ যা দূষিত পানি পান, ব্যবহার বা খাবারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এই রোগগুলো সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, প্রোটোজোয়া ও অন্যান্য প্যাথোজেনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। 

পানিবাহিত রোগ এর মধ্যে অন্যতম হলো
- কলেরা
- টাইফয়েড
- হেপাটাইটিস A 
- ডায়রিয়া
- আমাশয়

পানিবাহিত রোগের কারন - 
- অপরিষ্কার পানি পান করা।
- দূষিত পানিতে রান্না/ফল ধোয়া।
- সঠিক স্যানিটেশন না থাকা।
- অপরিচ্ছন্ন নালা/ব্রিজের পানি ব্যবহার।

অন্যদিকে, 
যক্ষা (Tuberculosis) পানিবাহিত রোগ নয়।  বরং এটি  হলো একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ছড়ায়। এটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়, এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- World Health Organization (WHO) – Waterborne Diseases.
৬৭০.
আমিষের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. জেরপথ্যালমিয়া
  2. বেরিবেরি
  3. পেলেগ্রা
  4. কোয়াশিয়রকর
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন দ্বারা গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- সালফার, ফসফরাস ও আয়রন সামান্য পরিমাণে থাকে। 

আমিষের অভাবজনিত রোগ: 

- খাদ্যে পরিমিত প্রয়োজনীয় জৈব আমিষ বা মিশ্র আমিষ না থাকলে শিশুর দেহে আমিষের অভাবজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। 
- দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 
- শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
- আমিষের অভাবে শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ দেখা দেয়। 

কোয়াশিয়রকর রোগের লক্ষণ:
- শিশুদের খাওয়ায় অরুচি হয়। 
- পেশি শীর্ণ ও দুর্বল হতে থাকে, চামড়া এবং চুলের মসৃণতা ও রং নষ্ট হয়ে যায় ৷ 
- ডায়রিয়া রোগ হয়, শরীরে পানি আসে। 
- পেট বড় হয়। উপযুক্ত চিকিৎসার দ্বারা এ রোগ নিরাময় হলেও দেহে মানসিক স্থবিরতা আসে। 
- কোয়াশিয়রকর রোগ মারাত্মক হলে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। 

মেরাসমাস রোগের লক্ষণ: 
- আমিষ ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব ঘটে, ফলে দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। 
- শরীর ক্ষীণ হয়ে অস্থিচর্মসার হয়। 
- চামড়া বা ত্বক খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে। 
- শরীরের ওজন হ্রাস পায়। 

অন্যদিকে, 
- ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি, বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭১.
মানুষের দেহকোষে ক্রোমোজমের সংখ্যা -
  1. ক) ৪৪ টি
  2. খ) ৪২ টি
  3. গ) ৪৬ টি
  4. ঘ) ৪৮ টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের দেহকোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমসোম থাকে।

- এ  ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম ।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
- লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই ।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

বিষয়টি নিয়ে যেহেতু অনেকের কনফিউশন আছে তাই আমরা নিচে দুইটি বইয়ের স্ক্রিনশট যুক্ত করে দিচ্ছি -
জীববিজ্ঞান (এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়) বই এর স্ক্রিনশট:


বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের স্ক্রিনশট:
৬৭২.
কোন রক্তকণিকা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে ব্লাড ক্যান্সার হয়?
  1. ক) অণুচক্রিকা
  2. খ) লোহিত কণিকা
  3. গ) শ্বেতকণিকা
  4. ঘ) লোহিত ও শ্বেতকণিকা
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন বয়সের মানব দেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে লোহিত কণিকার সংখ্যা হচ্ছে:
- ভ্রূণ দেহে: ৮০-৯০ লাখ,
- শিশুর দেহে: ৬০-৭০ লাখ,
- পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ দেহে: ৪.৫ - ৫.৫ লাখ এবং
- পূর্ণ বয়স্ক নারীর দেহে: ৪ - ৫ লাখ।

মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন-
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।
২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।
৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০- ৩০,০০০ হয়।
৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০ - ১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৬৭৩.
বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত কতজনকে দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা দেয়া হয়েছে?
  1. ক) ১১.৫০ কোটি
  2. খ) ১২.৫০ কোটি
  3. গ) ২২.০০ কোটি
  4. ঘ) ১৬.০০ কোটি
ব্যাখ্যা
দুই ডোজ কোভিড -১৯ টিকা:
- প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশে শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বুস্টার ডোজ টিকা নিয়েছেন পাঁচ কোটি ৬৮ লাখেরও বেশি মানুষ।
- দেশে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ১৩ কোটি ২০ লাখ ৮৬ হাজার ১০০ জন।
- এছাড়া দুই ডোজ টিকার আওতায় এসেছেন ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬ জন মানুষ।
- আর বুস্টার ডোজ নিয়েছে ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮১ জন।

উৎস: ৯ অক্টোবর, ২০২২, বাংলা ইনসাইডার। link
৬৭৪.
নিম্নের কোন রোগ দুটি অসংক্রামক ব্যাধি?
  1. টাইফয়েড ও ডায়াবেটিকস
  2. কলেরা ও স্ট্রোক
  3. আমাশয় ও ডায়াবেটিকস
  4. ক্যান্সার ও স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
- সাধারণত প্যারালাইসিসের এর জন্য স্ট্রোক দায়ী। 
- স্ট্রোক হল মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি রোগ।
- রক্তনালি ছিঁড়ে যাওয়া অথবা ব্লক হয়ে যাওয়া স্ট্রোকের কারণ।
- অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হাই-প্রেসার, হাই-কোলেস্টেরল, ধূমপান, পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস, হার্টের অসুখ যেমন- অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, রক্তজমাট বাঁধা - অসুখ, ক্যান্সার ইত্যাদি অনেক কারণ রয়েছে স্ট্রোকের পেছনে। 
- স্ট্রোক তিন ধরনের হয়ে থাকে। মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক।
- প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ততা হচ্ছে মানুষের শরীরের কোনো অংশের মাংসপেশির কর্মক্ষমতা হারানো। 
- এছাড়া স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও পারালাইসিসের কারণ হতে পারে। 
- Oncology হল ক্যান্সার বিষয়ক বিদ্যা। 
- একজন অনকোলজিস্ট হলেন একজন ডাক্তার যিনি ক্যান্সারের চিকিৎসা করেন এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন ব্যক্তির চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। 
- একজন oncologist কে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞও বলা যেতে পারে।
- বাংলাদেশে ৫৯ ভাগ মৃত্যুর কারণ অসংক্রামক রোগ। এর মধ্যে হৃদ্‌রোগে ১৭ ভাগ, ফুসফুসের রোগে ১১ ভাগ, ক্যান্সারে ১০ ভাগ, ডায়াবেটিসে ৩ ভাগ এবং অন্যান্য অসংক্রামক রোগে মারা যায় ১৮ ভাগ মানুষ।
 - আমাশয়, কলেরা ও টাইফয়েড তিনটিই ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমিত হয়।
 
উৎস:
১. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২. Source.cancer.net
৩. প্রথম আলো
৬৭৫.
'ছয় সপ্তাহ' বয়সে নিচের কোন টিকাটির জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. TT Vaccine
  2. BCG
  3. DT Vaccine
  4. DPT-Ι
ব্যাখ্যা
- 'ছয় সপ্তাহ' বয়সে DPT-Ι টিকা'র জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization - WHO) এর (Expended Programe on Immunization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়েকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- ভ্যাকসিনেশনের জাতীয় কর্ম সূচিতে নিচের ছক অনুযায়ী টিকা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে- 
 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৬.
নিচের কোনটির অভাবে রক্তশূন্যতা হয়?
  1. লৌহ
  2. ক্যালসিয়াম
  3. ফসফরাস
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
→ লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

• লৌহ বা আয়রণ (Fe):

- রক্তের অন্যতম প্রধান উপাদান লৌহ বা আয়রণ।
- প্রতি ১০০ মিলি রক্তের প্রায় ৫০ মিলি গ্রাম লৌহ থাকে।
- এছাড়া যকৃত, প্লিহা, অস্তিমজ্জায় লৌহ সঞ্চিত থাকে।
- পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির দেহে বিদ্যমান ৩-৪ গ্রাম লৌহের চার ভাগের তিন ভাগই রক্তে থাকে।

• উৎস:
- কাঁচা কলা, সবুজ শাক, কচু, শুকনো ফল, আপেল, কলা ইত্যাদি লৌহের উদ্ভিজ্জ উৎস।
- ডিমের কুসুম, কলিজা, মাছ, মাংস ইত্যাদি লৌহের প্রাণিজ উৎস।

• কাজ:
- লৌহ রক্তের লোহিত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন তৈরি করে, রক্তে অক্সিজেন বহন করে।

• অভাবজনিত অবস্থা:
- লৌহের অভাবে রক্তস্বল্পতা বা রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
হার্টে পেইসমেকার বসাতে কোন আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন- 14
  2. ফসফরাস- 32
  3. আয়োডিন-131
  4. প্লুটোনিয়াম- 238
ব্যাখ্যা
চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন - 
ক) রোগ নিরাময়ে ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 

- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। 
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 

- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এ ছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৮.
ফসফরাসের অভাব হলে কোন রোগটি দেখা যেতে পারে?
  1. রিকেটস
  2. অস্থিক্ষরতা
  3. দন্তক্ষয়
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- দেহে পরিমাণের দিক থেকে খনিজ লবণগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের পরই ফসফরাসের স্থান। 
- ফসফরাসও ক্যালসিয়ামের মতো হাড়ের একটি প্রধান উপাদান।
-  ফসফরাস হাড়, যকৃৎ এবং রক্তরসে সঞ্চিত থাকে। 
- নিউক্লিক এসিড, নিউক্লিয় প্রোটিন তৈরি এবং শর্করা বিপাকের দ্বারা শক্তি উৎপাদনে ফসফরাস প্রধান ভূমিকা রাখে।
- ফসফরাসের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: দানা শস্য, শিম, বরবটি, মটরশুঁটি, বাদাম ইত্যাদি। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, কলিজা ইত্যাদি।
- ক্যালসিয়ামের মতো হাড় এবং দাঁত গঠন করা ফসফরাসের প্রধান কাজ। 
- ফসফরাসের অভাবে রিকেটস, অস্থিক্ষরতা, দন্তক্ষয়— এইসব রোগ দেখা দেয়। 
- খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম থাকলে ফসফরাসের অভাব হয় না।
 
উৎস: নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান বোর্ড বই। 
৬৭৯.
অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা আবিষ্কার করেন -
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) মার্কনি
  3. গ) লুই পাস্তুর
  4. ঘ) আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা
- লুই পাস্তুর অ্যানথ্রাক্স রোগের টিকা আবিষ্কার করেন।
- এ্যানথ্রাক্স Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি।
- গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা।
- এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ, বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়।
- গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ।
- এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি।
- দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে।
- গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
- এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে।
- প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায় এবং এটি একটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ, তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
৬৮০.
অগ্রমস্তিষ্কের অংশ নয় কোনটি?
  1. ক) সেরেব্রাম
  2. খ) মেডুলা অবলংগাটা
  3. গ) হাইপোথ্যালামাস
  4. ঘ) থ্যালামাস
ব্যাখ্যা
মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত।
যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৬৮১.
মানূষের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় কোন রোগে আক্রান্ত হলে?
  1. ক) কোভিড-১৯
  2. খ) জন্ডিস
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) ধনুষ্টংকার
ব্যাখ্যা

AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে এক ধরণের ভাইরাস, যার নাম Human Immunodeficiency Virus এবং একে সংক্ষেপে HIV বলা হয়।
HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়। ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬৮২.
ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ ধ্বংস করতে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়?
  1. কার্বন-১৪ 
  2. ফসফরাস-৩২
  3. কোবাল্ট-৬০ 
  4. আয়োডিন-১৩১ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। 
যেমন-
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-১৩১ (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

খাদ্য দ্রব্য সংরক্ষণে: 
- বিভিন্ন কৃষিজাত ও অন্যান্য পচনশীল খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণে ব্যাপকভাবে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- খাদ্যদ্রব্য বেশি দিন ঘরে বা গুদামে রাখলে তা বিভিন্ন পোকামাকড় বা জীবাণুর আক্রমণে নষ্ট হতে পারে। 
- তেজস্ক্রিয় বিকিরণ প্রয়োগ করলে এ সকল আক্রমণ থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা যায়। 
- কোবাল্ট-৬০ (60Co) থেকে নির্গত গামা রশ্মি প্রয়োগ করে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থেকে খাদ্যদ্রব্যকে রক্ষা করা হয়।

অন্যদিকে,
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণে ফসফরাস-৩২ (32P) তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় ফসফরাস (P-32, C-14, DNA, RNA) এবং কার্বন ব্যবহার করে ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক অ্যাসিড এবং রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড এর গঠনের হার পর্যালোচনা করে মানুষের জীবন রহস্য সম্পর্কে অনেক তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। 
- শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৩.
প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়‒
  1. ইথেন
  2. এমোনিয়া
  3. মিথেন
  4. বিউটেন
ব্যাখ্যা
- প্রাণীর মলমূত্র থেকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ফারমেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় মিথেন।
- প্রাণীর মলমূত্র বিশেষ করে গরু, ঘােড়া, মহিষ ইত্যাদির গােবরের কিছু পচা লতা-পাতা ও পানি মিশালে গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া সংগঠিত হয়।
- এ প্রক্রিয়ায় যে গ্যাসীয় মিশ্রণ উৎপন্ন হয় তাই বায়ােগ্যাস।
- বায়ােগ্যাসের উপাদানগুলাের মধ্যে মিথেন (CH4), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), হাইডােজেন সালফাইড (H2S) ও হাইড্রোজেন (H2) থাকে।
- এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৪.
হৃৎপিণ্ডের সংকোচনকে কী বলা হয়? 
  1. শিরা 
  2. সিস্টোল 
  3. অক্সিজেনেশন 
  4. ডায়াস্টোল 
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ড(Heart): 
- মানুষের রক্ত সংবহনতন্ত্র হচ্ছে হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা নিয়ে গঠিত। 
- মানুষের হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে রক্ত সংবহন করে। 
- হৃৎপিণ্ড পাম্পের মতো নির্দিষ্ট তালে ও ছন্দে সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়। 
- হৃৎপিণ্ডের স্বতঃস্ফূর্ত সংকোচনকে সিস্টোল (systole) বলে এবং স্বতঃস্ফূর্ত প্রসারণকে ডায়াস্টোল (diastole) বলে। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, নিলয় তখন ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৫.
__________ এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।
  1. ক) ভিটামিন 'এ'
  2. খ) ভিটামিন 'বি'
  3. গ) ভিটামিন 'সি'
  4. ঘ) ভিটামিন 'ডি'
ব্যাখ্যা

ভিটামিন বি-১ বা থায়ামিন এর চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
ভিটামিন বি-২ বা রাইবোফ্ল্যাভিন এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা যায়, মুখে ও জিভে ঘা হয়।
ভিটামিন বি-৩ বা নিয়াসিনের অভাবে পেলেগ্রা হয়।
ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিনের অভাবে রক্তশূন্যতা ও স্নায়ুতন্ত্রের অবক্ষয় দেখা যায়।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৬.
নিম্নের কোন রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে?
  1. দাদ
  2. পীতজ্বর
  3. আমাশয়
  4. এইডস
ব্যাখ্যা
- দাদ, আমাশয়, এইডস ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন প্রচলিত নেই।
- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা, ধনুষ্টংকার, হুপিং কাশি, হাম, রুবেলা, জলবসন্ত, পীতজ্বর, যক্ষ্মা, পোলিও ইত্যাদি রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর ভ্যাকসিন প্রচলিত আছে৷

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
৬৮৭.
ম্যালেরিয়া নিরাময়ের ওষুধ কুইনাইন কোন গাছ হতে তৈরি করা হয়?
  1. গজার
  2. সিনকোনা
  3. শাল
  4. উলফিয়া
ব্যাখ্যা
• সিনকোনা গাছের বাকল হতে ম্যালেরিয়া নিরাময়ের ওষুধ কুইনাইন তৈরি করা হয়। 

• ম্যালেরিয়া:
- ম্যালেরিয়া একটি মশকীবাহিত রোগ। 

• ম্যালেরিয়া রোগীর চিকিৎসা (Treatment):
- ম্যালেরিয়া রোগীকে অবশ্যই উন্নত চিকিৎসা প্রদান করা আবশ্যক। রোগ শনাক্ত করা ও উপযুক্ত চিকিৎসা প্রদান করলে ম্যালেরিয়া রোগ হতে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।
- সিনকোনা গাছের বাকল হতে তৈরি কুইনাইন ম্যালেরিয়া নিরাময়ের মূল ওষুধ।
- এ কুইনাইন দ্বারাই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি হয়েছে। যেমন-ক্লোরোকুইন, নিভাকুইন, কেমোকুইন, অ্যাভলোক্লোর, ম্যাপাক্রিন, প্যালুড্রিন ইত্যাদিসহ ম্যালেরিয়া পরজীবী ধ্বংসের ভালো মানের বেশ কিছু ওষুধ বাজারে পাওয়া যায়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
৬৮৮.
ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) আদি কোষবিশিষ্ট
  2. খ) বাধ্যতামূলক পরজীবী
  3. গ) অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা
  4. ঘ) DNA অথবা RNA উপস্থিত
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
ভাইরাস একটি ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হলো বিষ। এটি প্রোটিন আবরণ এবং অভ্যন্তরস্থ নিউক্লিক এসিড (DNA অথবা RNA) এই দু'টি অংশ নিয়ে গঠিত। ভাইরাস অকোষীয় (আদি কোষীয় নয়), অতি-আণুবীক্ষণিক সত্তা, বাধ্যতামূলক পরজীবী জৈবকণা যা জীবদেহের অভ্যন্তরে সক্রিয় হয়ে রোগ সৃষ্টি করে কিন্তু জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে।
সত্যিকার অর্থে এরা অণুজীব নয়, অণুজীবের মতো। ভাইরাস দেহে কোষীয় বৈশিষ্ট্য তথা কোষ প্রাচীর, কোষঝিল্লি ও সাইটোপ্লাজম নেই- তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৮৯.
গ্রাইসিওফুলভিন কোন ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ
  2. ভাইরাসজনিত রোগ
  3. ছত্রাকজনিত ত্বকের রোগ
  4. পরজীবীজনিত রোগ
ব্যাখ্যা

• গ্রাইসিওফুলভিন দাদ ও অন্যান্য ছত্রাকজনিত ত্বক রোগে ব্যবহৃত হয়।

• অ্যান্টিবায়োটিক ও ঔষধ শিল্পে ছত্রাকের ব্যবহার:

- গ্রাইসিওফুলভিন প্রস্তুতকরণ:
- Penicillium griseofulvum নামক ছত্রাক প্রজাতি থেকে গ্রাইসিওফুলভিন নামক ঔষধ প্রস্তুত করা হয়।
- এই ঔষধ মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর দাদ ও ত্বকের বিভিন্ন ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

- পেনিসিলিনের আবিষ্কার ও উৎপাদন:
- ১৯২৮ সালে আলেকজান্ডার ফ্লেমিং অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি প্রথমে Penicillium notatum ছত্রাক থেকে পেনিসিলিন প্রস্তুত করেন।

- বাণিজ্যিক উৎপাদন:
- পরবর্তীতে Penicillium notatum থেকে উৎপাদন কম হওয়ায়,
- Penicillium chrysogenum থেকে উচ্চ মানের ও অধিক পরিমাণে পেনিসিলিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯০.
ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম -
  1. ক) অ্যালভিওলাস
  2. খ) পেরিঅস্টিয়াম
  3. গ) প্লুরা
  4. ঘ) মেনিনজিস
ব্যাখ্যা
• ফুসফুসের আবরণী পর্দার নাম - প্লুরা;
• ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো - অ্যালভিওলাস;
• হৃদপিন্ডের আবরণী পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
• অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম;
• মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম -  মেনিনজিস;
• খুলির হাড়ে থাকা আবরণ হলো পেরিক্রেনিয়াম;
• বৃক্কের আবরণকে বলা হয় - ক্যাপসুল।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৬৯১.
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন
  4. ঘ) গলগণ্ড
ব্যাখ্যা
থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে গলগণ্ড রোগটি হয়ে থাকে। 

গলগন্ড (Goiter)  খাদ্য ও খাবার পানিতে আয়োডিনের অভাব, সংক্রমণজনিত প্রদাহ, টিউমার, অথবা গলগ্রন্থির কম কার্যকারিতার কারণে গলগ্রন্থির (thyroid) অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। ফুলে ওঠা গলগ্রন্থি গলার সামনে সহজদৃষ্ট হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ গলগন্ড গলায় সীমাবদ্ধ থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে এগুলি বুকের উপর দিকে বা কদাচিৎ অন্তর্বক্ষীয়ও হতে পারে।

বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে গলগন্ড ও আয়োডিনঘটিত অন্যান্য অসুস্থতা প্রশমনের কার্যক্রম শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট এবং ইউনিসেফের সহযোগিতায় ৯টি জেলার প্রায় ৯৫,০০০ লোককে লেপিওডল ইনজেকশন দেওয়া হয়। একইভাবে ১৯৮৩ সালে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ইউনিসেফের সহযোগিতায় রংপুর জেলার জলঢাকা উপজেলায় ৮০,০০০ লোককে ইনজেকশন দেয়। ১৯৮৫ সালে খাবার লবণে আয়োডিন মিশ্রণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। বর্তমানে আয়োডিন মিশ্রিত লবণ বাজারজাত করা বাধ্যতামূলক এবং প্রায় দু’ডজন উদ্যোক্তা এ ধরনের খাবার লবণ তৈরি করছে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের খাদ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট এ পণ্যের উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনের সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে এবং এ কর্মসূচির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করে থাকে।  

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৬৯২.
পেঁপে - এর ‘রিং স্পট’ রোগ হয় কোনটির কারনে?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
 ভাইরাস পোষকের নাম রোগের নাম
 মোজাইক ভাইরাস তামাক, ফুলকপি, শিম ও শসা মোজাইক
 পিআরএসভি ভাইরাস পেঁপে রিং স্পট
 বুশিষ্ট্যান্ট ভাইরাস টমেটো বুশিষ্ট্যান্ট
 টুংগ্রো ভাইরাস ধান টুংগ্রো
 টারনিপ ইয়েলো ভাইরাস শালগম পীত

উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
৬৯৩.
পোলিও ভাইরাস আবিষ্কৃত হয় কত সালে?
  1. ১৯০০ সালে
  2. ১৯০৮ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

- The poliovirus itself was discovered in 1908 by a team led by Viennese immunologist and future Nobel Prize winner Karl Landsteiner.
- The existence of telltale antibodies specific to the virus circulating in the blood of infected persons was discovered only two years later.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৬৯৪.
AIDS কবে প্রথম ধরা পড়ে?
  1. ক) ১৯৮০
  2. খ) ১৯৯৮
  3. গ) ১৯৯৪
  4. ঘ) ১৯৮১
ব্যাখ্যা

On June 5, 1981, the first cases of an illness subsequently defined as acquired immunodeficiency syndrome (AIDS) were reported by health-care providers in California and CDC.
In September of 1982, the CDC used the term AIDS to describe the disease for the first time.
Scientists have traced the origin of HIV back to chimpanzees and simian immunodeficiency virus (SIV), an HIV-like virus that attacks the immune system of monkeys and apes.
Source: CDC and History.com 

৬৯৫.
জন্মের কত দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ৩০ দিন
ব্যাখ্যা

• টিকা দেওয়া বা ভ্যাকসিনেশন (Vaccination):
- ইমিউনিটি অর্জনের জন্য দেহের মধ্যে টিকা বা ভ্যাকসিন দেওয়ার পদ্ধতিতে টিকাকরণ বা ভ্যাকসিনেশন বলে।
- টিকা রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের রোগ সৃষ্টির ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেহে প্রবেশ করিয়ে ইমিউনিটি গড়ে তোলা হয়। এই পদ্ধতিতে সক্রিয় অনাক্রমীকরণের মাধ্যমে ইমিউনোলজিক্যাল মেমোরির (immunological memory) সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রোগ সংক্রামক জীবাণু শরীরে প্রবশে করলে দেহ দ্রুততার সঙ্গে প্রবিষ্ট জীবাণুকে ধ্বংস করে।
- প্রকৃতপক্ষে, দেহে প্রবিষ্ট ভ্যাকসিনের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন নির্দিষ্ট T ও B-লিম্ফোসাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং মেমোরি সেল উৎপন্ন ভ্যাকসিনেশন প্রধানত অণুজীবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও বিভিন্ন বিষ (toxins), যেমন-সাপের বিষ (snake venoun), মাকড়সার বিষ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হয়।
- জীবাণু বা পরজীবীর আক্রমণে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেলে ভ্যাকসিনেশন আর কোনো কাজে আসে না। 

• পোলিও:
পোলিও (Poliomyelitis) একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ, যা Poliovirus দ্বারা সৃষ্ট। এটি মূলত শিশুদের বেশি আক্রান্ত করে এবং স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে স্থায়ী পক্ষাঘাত ঘটাতে পারে।
- পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকাকে পোলিও ভ্যাকসিন বলা হয়। এটি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে।

 • পোলিও টিকার প্রকারভেদ: 
১। OPV (Oral Polio Vaccine):
- মুখে খাওয়ানো টিকা।
- জীবিত কিন্তু দুর্বল ভাইরাস থাকে।
- বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত। 
- জন্মের একমাস বা ৩০ দিনের মধ্যে শিশুকে পোলিও ভ্যাকসিন (OPV-0) দিতে হয়। যা দ্রুত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত টিকাদান তালিকার অংশ হিসেবে ৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহে দেওয়া ডোজের আগে দেওয়া হয়। 

২। IPV (Inactivated Polio Vaccine):
- ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- মৃত ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
- এটি পোলিও ভাইরাসের কারণে হওয়া পক্ষাঘাত প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
- সাধারণত শিশুদের পোলিও টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ডোজ হিসেবে ২ মাস বয়সে দেওয়া হয়।



উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৬.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের সঙ্গে কতটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে?
  1. ক) দুইটি
  2. খ) তিনটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) পাঁচটি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডের প্রশস্ত প্রান্তটি ওপরের দিকে এবং ছুঁচালো প্রান্তটি নিচের দিকে বিন্যস্ত থাকে।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- উভয় স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যেটি হৃৎপিণ্ডকে সংকোচনে সাহায্য করে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে  ডান  এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৯৭.
'যক্ষা' রোগের টিকার নাম কী?
  1. ক) ওপিভি
  2. খ) বিসিজি
  3. গ) ডিপিটি
  4. ঘ) এমএমআর
ব্যাখ্যা
- যক্ষা বায়বাহিত রোগ।
- যক্ষা রোগের টিকার নাম বিসিজি।
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।

------------------------
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine)।
- ডিপিটি ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা।
- এমএমআর ভ্যাকসিন হাম রোগের টিকা।

উৎস: ব্রিটানিকা
৬৯৮.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি করা হয় কোনটির সাহায্যে?
  1. ক) এক্স রে
  2. খ) আলট্রাসাউন্ড
  3. গ) ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম
  4. ঘ) সিটিস্ক্যান
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ড পরীক্ষা করার জন্য যখন আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা হয়, তখন এই পরীক্ষাকে ইকোকার্ডিওগ্রাফি বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৯৯.
চোখের কর্নিয়ায় আলসার রোগটির নাম কী?
  1. অঞ্জনি
  2. রাতকানা
  3. চোখ ওঠা
  4. জেরপথ্যালমিয়া
ব্যাখ্যা
ভিটামিন এ: 
- প্রাণিজ উৎসের মধ্যে ডিম, গরুর দুধ, মাখন, ছানা, দই, ঘি, যকৃত ও বিভিন্ন তেলসমৃদ্ধ মাছে, বিশেষ করে ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন A পাওয়া যায়। 
- উদ্ভিজ উৎসের মধ্যে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ শাক-সবজি যেমন: লালশাক, কচুশাক, পুঁইশাক, পাটশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, পুদিনা পাতা, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, বাঁধাকপি, মটরশঁটি এবং বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন: আম, পাকা পেঁপে, কাঁঠাল ইত্যাদিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন A রয়েছে। 

ভিটামিন A - এর কাজ হলো: 
- দেহের স্বাভাবিক গঠন এবং বর্ধন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হওয়ার কাজ নিশ্চিত করে, 
- দেহের বিভিন্ন আবরণী কলা যেমন: ত্বক, চোখের কর্নিয়া ইত্যাদিকে স্বাভাবিক ও সজীব রাখে, 
- হাঁড় এবং দাঁতের গঠন ও দাঁতের মাড়ি সুস্থ রাখে, 
- দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে। 

- দেহে রোগ সংক্রমন প্রতিরোধ করে। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। 
- ভিটামিন A- এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়। অনেক সময় ঘা, সর্দি, কাশি,গলাব্যাথা ইত্যাদি উপসর্গও দেখা দেয়। 
- ভিটামিন A- এর অভাবে ত্বকের লোমকূপের গোড়ায় ছোট ছোট গুটির সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০০.
বংশগত রোগ কোনটি?
  1. নিউমোনিয়া
  2. হুপিং কাশি
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. টাইফয়েড
ব্যাখ্যা
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা। 

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণসমূহ- 
১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
৩. বুকে ব্যথা
৪. হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, হুপিং কাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি।