• দেহে যথেষ্ট স্নেহ (চর্বি বা ফ্যাট) না থাকলে শরীরের ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর সুরক্ষা কমে যায়। স্নেহ ত্বককে নমনীয় রাখে, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং ক্ষতিকর জৈবিক ও রাসায়নিক পদার্থ থেকে রক্ষা করে। স্নেহের অভাবে ত্বক শুষ্ক, চামড়া ফেটে যাওয়া এবং খসখসে হয়ে যায়, যা একজিমা বা অন্যান্য ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যার কারণ হতে পারে। এছাড়া, স্নেহ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন যেমন A, D, E, K শোষণে সাহায্য করে। তাই স্নেহের অভাব সরাসরি ত্বকের রোগ যেমন একজিমা সৃষ্টি করতে পারে। সুতরাং সুষম খাদ্য এবং পর্যাপ্ত স্নেহ দেহের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
- উত্তর: গ) একজিমা।
স্নেহ পদার্থের গঠন:
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়।
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত।
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে।
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়।
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে।
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি।
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড।
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে।
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি।
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড।
স্নেহ পদার্থের কাজ:
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা।
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে।
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে।
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে।
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে।
স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা:
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে।
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়।
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে।
অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল:
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।
উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।