বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

মোট প্রশ্ন১,০৯৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

রোগ - জীবাণু ও আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত

PrepBank · পাতা / ১১ · ৪০১৫০০ / ১,০৯৫

৪০১.
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে?
  1. ক) এন্টিবডি
  2. খ) এন্টিবায়োটিক
  3. গ) ইন্টারফেরন
  4. ঘ) ভ্যাকসিনেশন
ব্যাখ্যা

Interferons were discovered in 1957 by British bacteriologist Alick Isaacs and Swiss microbiologist Jean Lindenmann. Type I Interferons were the first to be produced by recombinant DNA technology and used therapeutically for viral infections, cancers, and autoimmune diseases.

Source: Britannica and Sciencedirect Paper.

৪০২.
হিমোগ্লোবিনের লোহিত কণিকা তৈরিতে অংশগ্রহন করে -
  1. ক) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২
  2. খ) ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি১২
  3. গ) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি২,
  4. ঘ) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি
ব্যাখ্যা
 হিমোগ্লোবিনের লোহিত কণিকা তৈরিতে অংশগ্রহন করে - ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২

ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিন (Vitamin B12)

ভিটামিন বি-১২ এর রাসায়নিক নাম সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin)।

সায়ানোকোবালামিনের উৎস: যকৃত, মাছ, মাংস, বৃক্ক, ডিম ইত্যাদিতে এই ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

সায়ানোকোবালামিনের কাজ:
১। রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে ফলিক এসিডের সাথে ভিটামিন বি-১২ কাজ করে।
২। অত্যাবশ্যক এ্যামাইনো এসিড মিথিওনিন তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ।
সায়ানোকোবালামিনের অভাবজনিত অবস্থা
৩। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়ে শরীর ফ্যাকাশে, দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে যায়।
৪। স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয়।


উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র,এইচএসসি প্রোগ্রাম;বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪০৩.
TB (যক্ষ্মা) হলে নিচের কোন রক্তকণিকা বেড়ে যায়?
  1. Neutrophil
  2. Basophil
  3. Lymphocyte
  4. Eusinophil
ব্যাখ্যা

TB (Tuberculosis) একটি chronic infectious disease, যা Mycobacterium tuberculosis দ্বারা সৃষ্ট।
- যক্ষ্মার ক্ষেত্রে দেহের প্রতিরোধব্যবস্থা প্রধানত cell-mediated immunity–এর মাধ্যমে কাজ করে, যেখানে T-lymphocyte গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- যেহেতু TB একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, তাই রক্তে সাধারণত Lymphocyte-এর সংখ্যা বৃদ্ধি (lymphocytosis) দেখা যায়।
- TB-তে শরীরের প্রতিক্রিয়া মূলত granuloma formation ও T-cell–নিয়ন্ত্রিত immune response এর মাধ্যমে হয়, যা সরাসরি লিম্ফোসাইট বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৪০৪.
নিচের কোন অবদানের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ক) আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য
  2. খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
  3. গ) জিনোম ইডিটিংয়ের জন্য
  4. ঘ) ক্যান্সারের চিকিৎসা আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা।
- জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

৪০৫.
পারকিনসন রোগ সম্পর্কে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়
  2. খ) পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়
  3. গ) শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগটি নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

মস্তিস্কে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ঘাটতির কারণে এই রোগ দেখা দেয়। ব্রেন এর মধ্যে ছোট একটা অংশ রয়েছে, যেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা' বলা হয়। এই অংশের স্নায়ু কোষ বা নিউরোন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে, ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়, তখন একজন মানুষ আক্রান্ত হয় পারকিনসন্স রোগে।

পারকিনসন্স এর লক্ষণসমূহ-
এই রোগে আক্রান্ত হলে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপসর্গ দৃশ্যমান হয়।
প্রথমত: হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
দ্বিতীয়ত: শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত: চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
কেউ আক্রান্ত হলে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতে দেখা যাবে।
কণ্ঠ বা কথার স্বর নীচু হতে পারে বা কমে যেতে পারে।
এমনকি চোখের পাতার নড়াচড়াও কমে যেতে পারে।
শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে সমস্যা হওয়ায় আক্রাত ব্যক্তি বার বার পড়ে যেতে পারেন।
এছাড়া হতাশা, উদ্বেগ, উদাসীনতা ঘুম কমে যাওয়া- এধরনের লক্ষণ যেমন দেখা দেয়।
কোষ্ঠ কাঠিন্য এবং প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো সমস্যাও হয়ে থাকে।

সূত্র: National Institute on Aging Website. 
৪০৬.
স্নেহ পদার্থের অভাবে দেহে কী রোগ সৃষ্টি হতে পারে? 
  1. একজিমা
  2. বেরিবেরি
  3. অ্যানিমিয়া
  4. রাতকানা
ব্যাখ্যা
স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪০৭.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে?
  1. ক্যান্সার
  2. অ্যানিমিয়া
  3. যক্ষ্মা 
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন- রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৪০৮.
এনজিনা হলে কী হয়?
  1. ক) হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন বহনের সুযোগ বাড়ে
  2. খ) খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হয়
  3. গ) হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হয়
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৪০৯.
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) ২০০ গ্রাম
  2. খ) ১৫০ গ্রাম
  3. গ) ৩০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪৫০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। স্ত্রীলোকের ওজন পুরুষের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম হয়।
৪১০.
রক্তশূন্যতা বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
  2. খ) রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
  3. গ) রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
  4. ঘ) রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
রক্তে তিন ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।
রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে‌ বলা হয় রক্তশূন্যতা।
রক্তশূন্যতা রোগ হয় সাধারণত লৌহঘটিত আমিষের অভাবে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।
৪১১.
নিম্নের কোনটি জীবাণুনাশক বা এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

আয়োডিন একটি বহুল ব্যবহৃত এন্টিসেপটিক, যা ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করে জীবাণু ধ্বংস ও সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। সাধারণত পোভিডোন-আয়োডিন (Povidone-iodine) দ্রবণ আকারে ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন:
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান।

বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন: 
- নিউমোনিয়া নিরাময়ে পেনিসিলিন।
- যক্ষ্মা নিরাময়ে স্ট্রেপটোমাইসিন।
- টাইফয়েড নিরাময়ে ক্লোরোমাইসেটিন।
- অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন।
- চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১২.
মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -
  1. কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট
  2. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
  3. হার্ট এ্যাটাক
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক: 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। 
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ। 

স্ট্রোকের কারণ: 
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে। 
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়। 
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

লক্ষণ: 
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধের উপায়: 
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা। 
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৩.
'রেডিওথেরাপি' কোষের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. কোষগহবর
  4. DNA
ব্যাখ্যা

• রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চ-শক্তির রেডিয়েশন ব্যবহার করে কোষের মধ্যে জিনগত উপাদানকে লক্ষ্য করে। বিশেষভাবে, রেডিওথেরাপি কোষের DNA কে ধ্বংস করে। DNA হলো কোষের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল যা কোষের বৃদ্ধি, বিভাজন এবং পুনর্নবীকরণের নিয়ন্ত্রণ করে। যখন DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোষ ঠিকমতো বিভাজন করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। তাই, রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করার জন্য DNA-কে লক্ষ্য করে, অন্য কোষাংশ যেমন নিউক্লিয়াস বা মাইটোকন্ড্রিয়ার উপর সরাসরি প্রভাব কম থাকে।

সঠিক উত্তর: ঘ) DNA.

কোমোথেরাপি (Camotherapy):
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
- ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
- যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি। সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

রেডিওথেরাপি (Radio Therapy) :
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল যার মাধ্যমে শরীরের ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়।
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
- এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে।
- দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদায়লয়।

৪১৪.
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কত?
  1. ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ১০০-১৫০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধর্মনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪১৫.
স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক তৈরি করেন কোনটি থেকে?
  1. ক) Penicillium claviforme
  2. খ) Penicillium crustosum
  3. গ) Penicillium notatum
  4. ঘ) Penicillium commune
ব্যাখ্যা
In 1928 Scottish bacteriologist Alexander Fleming first observed that colonies of the bacterium Staphylococcus aureus failed to grow in those areas of a culture that had been accidentally contaminated by the green mold Penicillium notatum. He isolated the mold, grew it in a fluid medium, and found that it produced a substance capable of killing many of the common bacteria that infect humans. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৪১৬.
কোন রক্তধারী ব্যক্তিদের সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা বলা হয়?
  1. ক) গ্রুপ A
  2. খ) গ্রুপ B
  3. গ) গ্রুপ AB
  4. ঘ) গ্রুপ O
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O— এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 

গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A এন্টিজেন ও b এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B এন্টিজেন ও a এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B এন্টিজেন থাকে এবং কোনো এন্টিবডি থাকে না।
গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো এন্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b এন্টিবডি থাকে।

 O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে। এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)।
AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪১৭.
মানুষের শরীরের রক্তে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ২.৯-৫ mmoI/L
  2. ৩.৫-৫ mmoI/L
  3. ৭-৮ mmoI/L
  4. ৩.৯-৮ mmoI/L
ব্যাখ্যা
- পটাসিয়াম শরীরের একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট, এবং রক্তে পটাসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রার স্বাভাবিক পরিসীমা সাধারণত প্রতি লিটার (mEq/L) বা মিলিমোলস প্রতি লিটার (mmol/L) 3.5 থেকে 5.0 মিলি সমতুল্য।

Hypokalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার নিচে নেমে যায় (3.5 mEq/L এর কম), তখন তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। 

Hyperkalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার (5.0 mEq/L-এর বেশি) থেকে বেড়ে যায়, তখন তাকে হাইপারক্যালেমিয়া বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৪১৮.
দেহে শর্করার অভাব হলে কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. মেরাসমাস
  3. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
শর্করার অভাব জনিত রোগ - হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
আমিষের অভাব জনিত রোগ - কোয়াশিয়রকর,মেরাসমাস।
ভিটামিন বি১ এর অভাবজনিত রোগ - বেরিবেরি।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
৪১৯.
থ্যালাসেমিয়া কী?
  1. ক) হরমোনজনিত সমস্যা
  2. খ) রক্তজনিত সমস্যা
  3. গ) স্নায়ুজনিত সমস্যা
  4. ঘ) হৃদরোগজনিত সমস্যা
ব্যাখ্যা
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা। 

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণসমূহ- 
১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
৩. বুকে ব্যথা
৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।
৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।
৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।
১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/thalassemia/symptoms-causes/syc-20354995
৪২০.
অতিবেগুনী রশ্মির সাহায্যে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয়-
  1. ক) লিভারে
  2. খ) কিডনিতে
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ে
  4. ঘ) অন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয় কিডনিতে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪২১.
রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) এমআরআই
  2. খ) বায়োপসি
  3. গ) সিটি স্ক্যান
  4. ঘ) ইসিজি
ব্যাখ্যা
- রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।  

সিটি স্ক্যান
:
- ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) সংস্করণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য একটি পরীক্ষা পদ্ধতি হলো সিটি স্ক্যান।
- এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অজস্র এক্স-রে ছবি তোলা হয় এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে সেগুলোকে একত্র করা হয়।
- সিটি স্ক্যান এমন একটি মেডিকেল ইমেজিং পদ্ধতি, যাতে রোগীর শরীরের ভেতরের অবস্থা স্ক্যান করে ইমেজ বা ছবি তোলা হয়।
- একজন রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট এই পরীক্ষা করেন।

যেসব ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করা হয়
• টিউমার, ক্যানসারের অবস্থান নির্ণয়ে 
• মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য সমস্যা নিরীক্ষণে 
• অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি ও বায়োপসির গাইডলাইন নিশ্চিতকরণে 
• রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে 
• রক্ত চলাচলে বাধাবিপত্তি বা ব্লকেজ পরীক্ষা করতে 
• ফুসফুসের রোগ ও রোগের ধরন জানতে
• মূত্রনালিতে পাথর আছে কি না তা নির্ণয়ে এবং
• যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা প্রদাহ নির্ণয়ে। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।
৪২২.
কোভিড-১৯ যে ধরনের ভাইরাস-
  1. ক) DNA
  2. খ) DNA + RNA
  3. গ) mRNA
  4. ঘ) RNA
ব্যাখ্যা
• COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস। এটি এক ধরনের আরএনএ ভাইরাস। কারণ ভাইরাসটির জিনোম হলো RNA।

• Covid-19 ভাইরাস:
- Severe Acute Respiratory Syndrome রোগের কারণ হলো SARS করোনা ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের কারণে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত চীন, তাইওয়ান, কানাডা প্রভৃতি দেশে বহু লোকের মৃত্যু হয়েছিলো।
- Middle East Respiratory Syndrome রোগের কারণ হলো MERS করোনা ভাইরাস।
- ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকায় এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছিলো।
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV-2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস।
- ২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে কোভিড-১৯ প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরে আসে।
- এটি অদ্যবধি বাংলাদেশসহ সমস্ত পৃথিবীতে মহামারীর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
৪২৩.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করা হয় কবে?
  1. ক) ১৮০২
  2. খ) ১৯০০
  3. গ) ১৯০১
  4. ঘ) ১৯০২
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
৪২৪.
যক্ষার ঝুঁকি সম্পন্ন নবজাতককে যক্ষ্মা প্রতিরোধী বিসিজি ভ্যাক্সিন শরীরে প্রয়োগ করা হয় কখন?
  1. জন্মের ৬ মাস পরে
  2. জন্মের ৩ মাস পরে
  3. জন্মের পর পরই
  4. জন্মের ১৮ সপ্তাহ পরে
ব্যাখ্যা

BCG vaccine, vaccine against tuberculosis. The BCG vaccine is prepared from a weakened strain of Mycobacterium bovis, a bacteria closely related to M. tuberculosis, which causes the disease. The vaccine was developed over a period of 13 years, from 1908 to 1921, by French bacteriologists Albert Calmette and Camille Guérin, who named the product Bacillus Calmette-Guérin, or BCG. The vaccine is administered immediately after birth only in infants at high risk of tuberculosis. BCG vaccine produces an immune response that partly protects infants and young children from serious forms of tuberculosis.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

৪২৫.
আমিষের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. ক) জেরপথ্যালমিয়া
  2. খ) পেলেগ্রা
  3. গ) বেরিবেরি
  4. ঘ) মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
আমিষের অভাবজনিত রোগ-
খাদ্যে পরিমিত প্রয়োজনীয় জৈব আমিষ বা মিশ্র আমিষ না থাকলে শিশুর দেহে আমিষের অভাবজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিয়রকর রোগের লক্ষণ
- শিশুদের খাওয়ায় অরুচি হয়।
- পেশি শীর্ণ ও দুর্বল হতে থাকে, চামড়া এবং চুলের মসৃণতা ও রং নষ্ট হয়ে যায় ৷
- ডায়রিয়া রোগ হয়, শরীরে পানি আসে।
- পেট বড় হয়। উপযুক্ত চিকিৎসার দ্বারা এ রোগ নিরাময় হলেও দেহে মানসিক স্থবিরতা আসে।
- কোয়াশিয়রকর রোগ মারাত্মক হলে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

মেরাসমাস রোগের লক্ষণ
- আমিষ ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব ঘটে, ফলে দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ।
- শরীর ক্ষীণ হয়ে অস্থিচর্মসার হয়।
- চামড়া বা ত্বক খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে।
- শরীরের ওজন হ্রাস পায়।

-------------------------------------
- ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

উৎস: ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই এবং ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৪২৬.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি  বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪২৭.
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কত পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে?
  1. ক) ৯০° - ৯৫°
  2. খ) ৯৫° - ১১০°
  3. গ) ৯৮° - ১০৪°
  4. ঘ) ৯৫° - ১০৫°
ব্যাখ্যা
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪২৮.
মানব দেহে রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত কত প্রকার?
ব্যাখ্যা

মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত: ২ ধরনের।
- সিস্টেমিক সংবহনতন্ত্র ও
- পালমোনারি সংবহনতন্ত্র।
মূলত: রক্ত সংবহনের জন্য বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক সহযোগিতায় যে অঙ্গতন্ত্র গঠিত হয় তাকে ''রক্ত সংবহনতন্ত্র'' বলে। এ তন্ত্র রক্ত, রক্তবাহিকা ও হৃদপিন্ড দিয়ে গঠিত।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

৪২৯.
অগ্ন্যাশয় রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. সুক্রেজ
  3. অ্যামাইলেজ
  4. আইসোমলটেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে: 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২.পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ
৪৩০.
ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারদের মতে কোন তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক?
  1. Discipline, Diet, Detox
  2. Daily exercise, Diet, Drug 
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Diet, Distance, Drug
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস চিকিৎসায় চিকিৎসকরা মূলত তিনটি 'D' বা তিনটি মূলভিত্তি (Discipline, Diet, Drug) মেনে চলার পরামর্শ দেন। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug. 
(i) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(ii) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(iii) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৪৩১.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান?
  1. ক) গ্লাইকোজেন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৪৩২.
মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত-
  1. ক) ৪০০ : ৫০০
  2. খ) ৫ : ১০০
  3. গ) ১ : ৭০০
  4. ঘ) ২ : ১০০
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত ১ : ৭০০
- শ্বেতকণিকা মানবদেহে রক্তের একটি উপাদান।
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৪৩৩.
ক্লোরোসিস ঘটে কোন খনিজের অভাবে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৩৪.
‘রক্তের’ ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. রক্ত দেহের তাপের সমতা রক্ষা করে।
  2. রক্তের লোহিত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
  3. রক্তের অণুচক্রিকা রক্তপাত বন্ধ করে।
  4. রক্ত অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা ।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয় ।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডি প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহণ করে।

রক্তের কাজ:
রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা:
(i) খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় ৷ এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে।
(ii) রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
(iii) দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায় ।
(iv) নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয় ।
(v)  রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে
(vi) দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়৷
(vii) রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৪৩৫.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
- তিনি তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী, তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা এবং
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৩৬.
মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) হার্ট এট্যাক
  2. খ) আলসার
  3. গ) স্ট্রোক
  4. ঘ) ডায়বেটিক
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ। 

- হার্ট এট্যাক হলো হৃদপিন্ডে রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
- আলসার হলো পাকস্থলিতে তৈরী হওয়া ক্ষত।
- ডায়বেটিক - রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৩৭.
'এনজিওপ্লাস্টি' কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হৃদরোগ
  2. খ) স্নায়ুরোগ
  3. গ) রেচনতন্ত্রের রোগ
  4. ঘ) পারকিনসন
ব্যাখ্যা
হৃদরোগের চিকিৎসায় পেসমেকার, ওপেন হার্ট সার্জারি, করোনারি বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি ব্যবহৃত হয়।

পেসমেকার
- হৃৎপিন্ডে ডান অ্যাট্রিয়াম-প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত, বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে তাকে পেসমেকার বলে।

ওপেন হার্ট সার্জারি
- শল্যচিকিৎসক যখন রোগীর বুক কেটে উন্মুক্ত করে হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন তখন সে প্রক্রিয়াকে ওপেন হার্ট সার্জারি বলে ।

করোনারি বাইপাস সার্জারি
- এক বা একাধিক করোনারি ধমনির ল্যুমেন (গহ্বর) রূদ্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহের অন্য অংশ থেকে (যেমন-পা থেকে) একটি সুস্থ রক্তবাহিকা (ধমনি বা শিরা) কেটে এনে বৃদ্ধ ধমনির পাশে স্থাপন করে রক্ত সরবরাহের যে বিকল্প পথ সৃষ্টি করা হয় তাকে করোনারি বাইপাস বলে । করোনারি বাইপাস সৃষ্টির সামগ্রিক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটিকে করোনারি বাইপাস সার্জারি বলা হয়।

এনজিওপ্লাস্টি
- বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিন্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেন (গহ্বর)-যুক্ত বা রূদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে।
- এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা।
- বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা), হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় এনজিওপ্লাস্টি।
- ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ অ্যানডেস গয়েন জিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
৪৩৮.
ধান গাছের ব্লাইট রোগ হয় নিচের কোনটির জন্য?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) শৈবাল
ব্যাখ্যা
Takaeshi ১৯০৮ সালে প্রমাণ করেন যে, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ধান গাছের ব্লাইট রোগ হয়।

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত আরো কিছু রোগের নাম:

- মানুষের রোগ:

- উদ্ভিদের রোগ:


সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৩৯.
নিচের কোনটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে? 
  1. ক) পেরিকার্ডিয়াম
  2. খ) যকৃত    
  3. গ) পলুরা 
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম 
ব্যাখ্যা
পেরিকার্ডিয়াম নামক পদার্থটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে। 

- দেহের যে প্রকোষ্ঠময় পেশল অঙ্গের নিরবিছিন্ন ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের কারণে সমগ্র দেহে রক্ত সংবাহিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- মানুষের হৃদপিণ্ড বক্ষগহ্বরে মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ-বরাবর বাম দিকে একটু বেশি বাঁকা হয়ে অবস্থিত।
- এটি দেখতে ত্রিকোণাকার; গোঁড়াটি চওড়া ও ঊর্ধ্বমুখী থাকে, কিন্তু সূচালো শীর্ষ দেশ নিচের দিকে পঞ্চম পাঁজরের ফাঁকে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাতলা দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। এর নাম পেরিকার্ডিয়াম।
- পেরিকার্ডিয়াম এর বাইরের দিক তন্তুময় পেরিকার্ডিয়াম এবং এর ভেতরের দিক সেরাস পেরিকার্ডিয়াম নামে পরিচিত।
- সেরাস পেরিকার্ডিয়াম আবার দুই স্তরে বিভক্ত, বাইরের দিকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভেতরের দিকে ভিসেরাল স্তর।
- প্যারাইটাল ও ভিসেরাল স্তর দুটির মাঝখানের পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড নামক তরল পদার্থ থাকে।
- হৃৎপিন্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি ও যোজক টিস্যু নিয়ে গঠিত। এর প্রাচীর গঠনকারী পেশীকে কার্ডিয়াক পেশি বলে।

সূত্র: National Library of Medicine Website [লিঙ্ক]
৪৪০.
হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়-
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) বেসোফিল
  4. ঘ) ইওসিনোফিল
ব্যাখ্যা
বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে। ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
৪৪১.
কোনটি শরীরের ভেতর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়?
  1. ইস্ট্রোজেন
  2. ইনসুলিন
  3. টেস্টস্ট্রেরন
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা
হরমোন :
- মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীদেহে এক ধরনের নালিবিহীন গ্রন্থি থাকে। এ সব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ধরনের রসকে হরমোন বলে।
- মানব দেহের কয়েকটি নালিবিহীন গ্রন্থি : মানব দেহের কয়েকটি নালিবিহীন গ্রন্থির নাম হলো- পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি, থাইমাস গ্রন্থি, এডরেনাল গ্রন্থি, আইলেটস অফ ল্যাংগারহ্যানস, গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি। 

আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস-
এ গ্রন্থির অবস্থান অগ্ন্যাশয়ের মাঝে। এ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গ]কাগণ প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে ।

গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি-
- এ গ্রন্থি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ হতে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণসমূহ বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে।
- এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধি, জননচক্র ও যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- জনন অঙ্গ হতে পরিণত বয়সের পুরুষে টেস্টোস্টেরন ও স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়। 

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৪২.
প্রোটিনের অভাবে শিশুদের মাঝে কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) কোয়াশিওরকর
  2. খ) ম্যারাসমাস
  3. গ) উভয়টিই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরি অভাবজনিত রোগ প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে বিশেষত শিশুদের মধ্যে যে ধরনের অপুষ্টি দেখা যায় তাকে প্রোটিন-শক্তি ঘাটতিজনিত অপুষ্টি বা Protein Energy Malnutrition (PEM) বা PCM (Protein Calorie Malnutrition) বলা হয়।
মারাত্মক মাত্রায় প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরির অভাবে শিশুদের মধ্যে কোয়াশিওরকর (গা ফোলা) ও ম্যারাসমাস (হাড্ডিসার) রোগ হয়।

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): শৈশবে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত ও পরবর্তীতে খাবারে প্রোটিনের অভাব (Protein Deficiency) ঘটলে কোয়াশিওরকর রোগ হতে পারে। 

ম্যারাসমাস (Marasmus): খাদ্যে প্রোটিনের সাথে সাথে ক্যালরির তীব্র অভাব (Protein - Calorie Deficiency) হলে ম্যারাসমাস বা হাড্ডিসার রোগ হতে পারে। 

উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৪৪৩.
অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নির্গত না হলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) স্কার্ভি
  2. খ) বহুমূত্র রোগ
  3. গ) গলগণ্ড
  4. ঘ) রিকেটস
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- আমরা যখন কিছু খাই, এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৪.০-৬.০ mMole\l কিংবা (৭০-১১০ মি.গ্রা./ডেসি.লি.)।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
৪৪৪.
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি?
  1. পোলিও
  2. গুটি বসন্ত
  3. যক্ষ্মা
  4. হেপাটাইটিস B
ব্যাখ্যা

পোলিও রোগটি পোলিওভাইরাস (Poliovirus) দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা একটি RNA ভাইরাস।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং পক্ষাঘাত (Paralysis) ঘটাতে পারে।

• DNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ হলো- গুটি বসন্ত (Smallpox), চিকেনপক্স (Chickenpox), হার্পিস সিমপ্লেক্স, হেপাটাইটিস-বি, মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণ ইত্যাদি।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ভেরিওলা ভাইরাস, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, পারভোভাইরাস B19 ইত্যাদি।

• RNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ হলো- ডেঙ্গু, সাধারণ ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu), COVID-19, পোলিও, এইডস, হাম, র‍্যাবিস, ইবোলা ইত্যাদি।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ডেঙ্গু ভাইরাস (Dengue Virus DENV), রাইনোভাইরাস, করোনভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, SARS-CoV-2, পোলিও ভাইরাস, HIV, মিজলস ভাইরাস, র‍্যাবিস ভাইরাস, ইয়েলো ফিভার ভাইরাস ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

৪৪৫.
কোনটি জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী অস্থায়ী পদ্ধতি?
  1. বন্ধ্যাকরণ
  2. স্পার্মিসাইড
  3. স্পঞ্জ
  4. ইমপ্লান্ট
ব্যাখ্যা

• জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো বিভিন্ন সময়ের জন্য কার্যকর হয়। এর মধ্যে কিছু দীর্ঘস্থায়ী এবং স্থায়ী, আবার কিছু অস্থায়ী। উদাহরণস্বরূপ, বন্ধ্যাকরণ স্থায়ী পদ্ধতি, যা একবার করলে তা পরিবর্তন করা যায় না। ইমপ্লান্ট হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি শরীরে ছোট রড হিসেবে প্রতিস্থাপিত হয় এবং কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে, কিন্তু প্রয়োজন হলে পরে বের করা যায়। অন্যদিকে, স্পার্মিসাইড এবং স্পঞ্জ অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হয়, ব্যবহারের পরপরই প্রভাব হারায়।
- সুতরাং দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অস্থায়ী পদ্ধতি হলো ইমপ্লান্ট, যা নিয়ন্ত্রিত সময়ের জন্য কার্যকর থাকে।

 
• দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (Long term temporary contraceptive methods):
- এই ধরনের পদ্ধতিগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভধারণ রোধ করা যায়, তবে প্রয়োজনে তা বাতিল করা যায়। 
- এগুলো সাধারণত হরমোন বা যান্ত্রিক উপাদান ব্যবহার করে কার্যকর হয়। 

• অন্তঃজরায়ুজ যন্ত্র (Intrauterine Device - IUD):
- এটি একটি ছোট, টি-আকৃতির ধাতব বা প্লাস্টিকের যন্ত্র যা জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করা হয়। 
- IUD অত্যন্ত কার্যকরী এবং দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রদান করে। 
- এটি সহজেই স্থাপন ও অপসারণযোগ্য, তাই এটি অস্থায়ী হলেও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা প্রদান করে। 

• ইমপ্লান্ট (Implant):
- ইমপ্লান্ট হলো একটি ছোট, দণ্ডাকৃতি যন্ত্র যা প্রোজেস্টেরন হরমোন সমৃদ্ধ। 
- এটি মহিলাদের বাহুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ধীরে ধীরে হরমোন নির্গত করে গর্ভধারণ রোধ করে। 
- ইমপ্লান্টও দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি উদাহরণ। 

- এই ধরণের পদ্ধতিগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অপসারণ করা যায়। 
- সুতরাং, জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী অস্থায়ী পদ্ধতি হলো ইমপ্লান্ট। 

সঠিক উত্তর: ঘ) ইমপ্লান্ট। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

৪৪৬.
ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) পেনিসিলিন
  2. খ) স্ট্রেপ্টোমাইসিন
  3. গ) রঞ্জন রশ্মি
  4. ঘ) রেডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে রেডিয়াম ব্যবহৃত হয়। 

-রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়ামের আবিষ্কর্তা মেরি কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি।
- ১৯৯৮ সালের ২১ ডিসেম্বর এই মৌল আবিষ্কার করেন তাঁরা।
- প্রায় এক বছর পর মৌলটির নামকরণ করা হয় রেডিয়াম।
- শব্দটির উত্স ল্যাটিন রেডিয়াস (রশ্মি) থেকে। রশ্মিরূপে মৌলটি শক্তি নিঃসরণ করতে পারে বলেই এমন নামকরণ।
- রেডিয়াম পানিতে মেশালে তা অন্ধকারে জ্বলতে থাকে।

সূত্র: ৩ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৪৪৭.
করোনা ভাইরাসে নিম্নের কোন নিউক্লিক এসিড বিদ্যমান?
  1. Deoxyribonucleic acid
  2. Oxyribonucleic acid
  3. Ribonucleic acid
  4. Chromatin
ব্যাখ্যা
ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
করোনা ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে।
RNA এর পূর্ণরূপ Ribonucleic acid .
 
Coronaviruses (CoVs) are positive-stranded RNA(+ssRNA) viruses with a crown-like appearance under an electron microscope (coronam is the Latin term for crown) due to the presence of spike glycoproteins on the envelope.
 
Source: www.ncbi.nlm.nih.gov
৪৪৮.
দশ বছর বয়সের পর কত বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) ৩-৪ বছর
  2. খ) ১-৫ বছর
  3. গ) ২-৩ বছর
  4. ঘ) ৩-৮ বছর
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল হল শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করার মধ্যবর্তী সময় ।
এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে ।
আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানসিক আবেগের তীব্রতার উত্থান পতন ঘটে। এর ইংরেজি Adolescence ।
দশ বছর বয়সের পর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে। 

এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা আকস্মিক লম্বা হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। 
বয়ঃসন্ধিকালে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় - 
- শারীরিক পরিবর্তন
- মানসিক পরিবর্তন
- আচরণগত পরিবর্তন 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৪৪৯.
সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের অবস্থান মস্তিষ্কের কোন অংশে?
  1. ক) অগ্রমস্তিষ্ক
  2. খ) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্ক
  4. ঘ) পার্শ্বমস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ হচ্ছে - সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
এর মধ্যে সেরেব্রামে দুটি বড়, কুন্ডলি পাকানো ও খাজবিশিষ্ট খন্ড আছে। এদেরকে সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪৫০.
রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে কী বলে ?
  1. অ্যানিমিয়া
  2. পলিসাইথেমিয়া
  3. লিউকেমিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০ - ৩০,০০০ হয়।

৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫১.
জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয় -
  1. ক) ভাইরাসকে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়াকে
  3. গ) DNA কে
  4. ঘ) RNA কে
ব্যাখ্যা

ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয়।
জীব জগতে ভাইরাসের অবস্থান সম্পর্কে ফ্রান্সের বিজ্ঞানী নোবেল জয়ী ও লুই পাস্তুরের গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক A. Lowff 1952 সালে মন্তব্য করেন “A virus is a virus” অর্থাৎ ভাইরাস ভাইরাসই । এরা জীবও নয় জড়ও নয়।
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২০।]

৪৫২.
ছয় সপ্তাহ বয়সে শিশুকে কোন টিকা দেওয়া উচিৎ?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিটি
  4. ডিপিটি-1
ব্যাখ্যা

- জন্মের ছয় সপ্তাহ বয়সে 'ডিপিটি-1' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৫৩.
জরায়ুর সংক্রমণ জনিত গর্ভপাতের জটিলতা-
  1. ক) খিঁচুনি
  2. খ) মাথাব্যাথা
  3. গ) বমি
  4. ঘ) রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা
জরায়ুর গায়ের আবরণী কলাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এর সংক্রমণকে এন্ড্রোমেট্রাইটিস বলে।
জরায়ুর সংক্রামকজনিত গর্ভপাতের প্রথম ও প্রধান জটিলতা রক্তক্ষরণ।
৪৫৪.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ম্যালথাস
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) ওয়ালেস
ব্যাখ্যা
১৯৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৫৫.
রোগ সৃষ্টির জন্য যে সকল অণুজীব দায়ী তাদেরকে বলা হয়-
  1. ক) ইনফেকশন
  2. খ) প্যাথজেনিক
  3. গ) জীবাণু
  4. ঘ) টক্সিন
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে। এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন।
Oxford Dictionary অনুসারে,
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease.
১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
এক কথায়,
- যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক।

- ইনফেকশন হলো সংক্রমণ।
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ।
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।

৪৫৬.
মানদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ১৪০/৮০ (mm Hg)
  2. ১২০/৬০ (mm Hg)
  3. ১২০/৮০ (mm Hg)
  4. ১৩০/৭০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ:
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

৪৫৭.
আমাদের শরীরের কোনো স্থানে কেটে গেলে রক্তের কোন উপাদানটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ক) এলবোমিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) অক্সিহিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) হরমোন
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকার প্রধান কাজ রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাধানোতে সাহায্য করা৷ যখন কোনো রক্তবাহিকা বা টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায় তখন অণুচক্রিকা গুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। থ্রমবিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন - ফাইব্রিবোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা তঞ্চন ঘটায়৷ ফাইব্রিন একধরনের অনমনীয় প্রোটিন।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৫৮.
বৃক্কের আবরণীকে বলা হয় -
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) ক্যাপসুল
  4. ঘ) পেরিঅস্টিয়াম
ব্যাখ্যা
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ যার সাহায্যে দেহের ৮০% রেচন কার্য সম্পন্ন হয়।
- বৃক্ক এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। একে ক্যাপসুল বলা হয়।
- ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স (Cortex) বলে। এর ভেতরের অংশকে মেডুলা (Medula) বলা হয়। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে, 
» ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
» হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
» অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) ও জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৪৫৯.
কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
  1. পেপসিন
  2. এমাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
• রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে। যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৪৬০.
শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. বিসিজি
  2. টিটি
  3. ডিপিটি
  4. ডিটি
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে 'ডিপিটি ও ওপিভি (Booster dose)' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬১.
আমিষের অভাবে শিশুদের কোন রোগটি দেখা দেয়? 
  1. ক) ডায়ারিয়া
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) কোয়াশিয়রকর
  4. ঘ) নেফ্রোটিক সিনড্রম
ব্যাখ্যা

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়। এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট ধরনের জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং খিটমিটে ভাব; পরবর্তী পর্যায়ে ডায়রিয়া, রোগ সংক্রমণ প্রবণতা, শরীরে পানি জমা, ত্বকের প্রদাহ এবং যকৃতের স্ফীতি দেখা দেয়। চুলের রং ক্রমে লালচে হয়ে যায়। রোগ গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি কখনই সম্পূর্ণ হয় না।
এছাড়া শিশুদের মেরাসমাস রোগটিও শরীরে আমিষের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট

৪৬২.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়? 
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. দ্রাঘিমা
  4. অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০। গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০
- মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১০ অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৪৬৩.
বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. আইসোটোপ
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়। 
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক। 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৬৪.
এক্সরে কী ধরনের বিকিরণ? 
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  2. পরমাণু কণা বিকিরণ 
  3. শব্দ তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৬৫.
কোনটি অনৈচ্ছিক পেশি?
  1. ক) হাতের পেশি
  2. খ) পায়ের পেশি
  3. গ) বুকের পেশি
  4. ঘ) হৃৎপিন্ডের পেশি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ডের পেশি দেখতে ঐচ্ছিক পেশির মত হলেও কাজ করে অনৈচ্ছিক পেশির মত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
৪৬৬.
মানুষের রক্তরসে পানির পরিমাণ কত?
  1. ৮-৯%
  2. ৪০-৪৫%
  3. ৬০-৬৫%
  4. ৯১-৯২%
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা-
১. রক্তরস:
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
- এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

২. রক্তকণিকা:
- রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
৪৬৭.
এ্যানথ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস কোনটি? 
  1. ক) পানি 
  2. খ) বায়ু
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) সবগুলোই 
ব্যাখ্যা
এন্থ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস হচ্ছে মাটি। 

এ্যানথ্রাক্স (Anthrax)  Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। 
গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা। এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ। 
বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়। 
এতে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। 
এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ। 
এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি। দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে। 
গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায়। 
এটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ।  তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৪৬৮.
নিচের কোনটি স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন রোগ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা:

 প্যারালাইসিস (Paralysis ) : 
 •শরীরের কোনো অংশের ঐচ্ছিক মাংসপেশি ইচ্ছামতো নাড়াতে পারার ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে।
 •সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
•স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।

এপিলেপসি (Epilepsy ) :
 •এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
•অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease):
 •পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৪৬৯.
মায়ের শালদুধ কীভাবে শিশুর জন্য উপকারী?
  1. শিশুকে দ্রুত ঘুম পাড়াতে সহায়তা করে
  2. শিশুর হাড় মজবুত করে
  3. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  4. শিশুর দাঁত গঠনে সহায়তা করে
ব্যাখ্যা
শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭০.
কোন রোগের কারণ সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি?
  1. এপিলেপসী
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
• এপিলেপসী রোগের কারণ সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি। 
• এটি মস্তিস্কের রোগ।
• একে মৃগী রোগ বলা হয়। 
• আক্রান্ত ব্যাক্তির কাপুনি বা খিচুনি দিয়ে উঠে। 

সূত্র - মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, বোর্ড বই
৪৭১.
সাধারণত রেডিওথেরাপিতে কোন রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে?
  1. আলফা
  2. এক্সরে
  3. লেজার
  4. ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।

শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। 

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৭২.
প্রাথমিক ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. বুস্টার ডোজ
  2. ডিএনএ টিকা
  3. বিসিজি
  4. টিটেনাস টক্সয়েড
ব্যাখ্যা

টিকা (Vaccine):
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিস্রুত সাসপেনশন। 
- সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে।
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো।
- কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 

টিকা দেওয়ার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা: 
১। টিকা দেওয়ার ফলে দেহে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে রোগাক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়।
২। ভ্যাকসিন দেহের মধ্যে প্রবিষ্ট ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াদের প্রজনন ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।
৩। টিকার মাধ্যমে যে সব রোগ- প্রতিরোধ করা হয় সে রকম কয়েকটি হলো- যক্ষ্মা, টিটেনাস, কলেরা, জলাতঙ্ক, হুপিংকাশি, গুটি বসন্ত, ডিপথেরিয়া, পোলিও, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-B ইত্যাদি।
৪। টিকা দেওয়ার ফলে কৃত্রিম শক্তির ইমিউনিটি সৃষ্টি করা হয়।

বুস্টার ডোজ (Booster dose): 
- দেহে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি সৃষ্টি এবং ইমিউনিটি সাধনের জন্য প্রাথমিক ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় তাকে বুস্টার ডোজ বলে।

তথ্যসূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭৩.
রক্তের প্রধান উপাদান
  1. ক) এরিথ্রোসাইট
  2. খ) লিউকোসাইট
  3. গ) প্লাজমা
  4. ঘ) থ্রম্বােসাইট
ব্যাখ্যা
রক্তের প্রধান উপাদান হলাে রক্তরস বা প্লাজমা
সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% হলাে রক্তকনিকা।
রক্তরসের ৯০% হলাে পানি এবং বাকি ১০% হলাে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান।

রক্তকনিকা ৩ প্রকার।
যথাঃ
১. এরিথ্রোসাইট বা লােহিত রক্তকনিকা,
২. লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকনিকা এবং
৩. থ্রম্বােসাইট বা অনুচক্রিকা।

সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি
৪৭৪.
কোনটির সংক্রমণে আমাশয় হয়?
  1. ক) প্রোটোজোয়া
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
আমাশয় (Dysentery): Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রােটোজোয়া, সিগেলা (Shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণে আমাশয় হয়। ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম না হওয়া আমাশয় রােগের লক্ষণ। আমাশয় হলে প্রয়ােজনে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়, কারণ সময়মতাে চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে।
এ রােগ প্রতিরােধে যা করতে হবে তা হলাে: বিশুদ্ধ পানি পান করা, শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধৌত করা, মল ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালােভাবে ধােয়া, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা, খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালােভাবে ধুয়ে নেওয়া।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
৪৭৫.
পোলিও ভ্যাকসিন এর আবিষ্কারক কে?
  1. জোনাস সাল্ক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

পোলিও ভ্যাকসিন:
- পোলিও ভাইরাসজনিত স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রামক রোগ পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- আবিষ্কারক: জোনাস সাল্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- সময়কাল: ১৯৫৫ সাল।
- বৈশিষ্ট্য: Killed virus (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস) দ্বারা তৈরি, ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান।
- ব্যাপক ব্যবহার শুরু: ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪, মার্কিন স্কুলশিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে।
- ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্রে পোলিও আক্রান্তের হার প্রতি ১ লক্ষে ১৮ জন থেকে কমে ২ জনের নিচে নেমে আসে।

অন্যান্য অপশনসমূহ - 
- লুই পাস্তুর: জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সসহ একাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন এবং জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- এডওয়ার্ড জেনার: গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন।
- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা

৪৭৬.
লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  2. খ) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  3. গ) হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা
  4. ঘ) নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার কাজ হলো দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা, হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা এবং নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৭৭.
হাম রোগের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) মোরবিলি ভাইরাস
  2. খ) ভ্যারিওলা ভাইরাস
  3. গ) পলিওমাভাইরাস
  4. ঘ) আলফাভাইরাস
ব্যাখ্যা
হাম রোগের জন্য মোরবিলি ভাইরাস দায়ী।  এই ভাইরাস রক্তকণিকা গলিয়ে দেয় অথবা ভেঙে ফেলে, কোষ নষ্ট করে ইত্যাদি। লক্ষণ প্রকাশের আগে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সময় বেশিও হতে পারে।

হাম (Measles)  একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি রোগ। এ রোগের লক্ষণগুলি হচ্ছে জ্বর, শরীরে ব্যথা, হাঁচি, নাক বন্ধ এবং মুখ গহবরের ভিতরে ছোট ছোট দানার উদ্ভব। তৃতীয় বিশ্বে এ রোগ শিশুদের ব্যাপক ভোগান্তি এবং মৃত্যুর কারণ। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ রোগের কথা জানা গেছে। অনুন্নত দেশে এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ শিশু মারা যায়।

জীবাণুকণিকা বা নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার ঘটে। শ্বাসনালীর মাধ্যমে এ রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। তবে চোখের পর্দা বা কনজাংটিভা দিয়েও এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি এবং অনেক দিন শরীরে জীবাণু বহনের জন্য এ রোগে মৃত্যুর হারও বেশি। একমাত্র টিকার মাধ্যমে মৃত্যুর হার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ভাইরাস নষ্ট করার কোন ঔষধ নেই। তবে তেমন কোন জটিলতা না থাকলে সম্পূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের প্রধান প্রতিষেধক।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
৪৭৮.
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
৪৭৯.
ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের টিকা কোনটি?
  1. ক) mRNA-1273
  2. খ) Tozinameran
  3. গ) Covishield
  4. ঘ) Vero cells
ব্যাখ্যা
- ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা হলো Comirnaty (কমিরনাটি) বা Tozinameran. এটির কোডনেম BNT162b2.
- যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে এই টিকার অনুমোদন প্রদান ও প্রয়োগ শুরু করে।
অন্যদিকে,
- ভেরোসেল : সিনোফার্মের টিকা
- মডার্নার টিকার নাম : mRNA-1273
- জনসন অ্যান্ড জনসন এর টিকা : Janssen
- গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকা : Sputnik-V
- সিনোভ্যকের টিকা : করোনাভ্যাক
- ভারত বায়োটেকের টিকা : কোভ্যাক্সিন
- অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা : কোভিশিল্ড।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)
৪৮০.
এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোনটি অধিকতর কার্যকরী?
  1. ক) সচেতনতা সৃষ্টি
  2. খ) শিক্ষার ব্যবস্থা
  3. গ) আক্রান্তদের এড়িয়ে চলা
  4. ঘ) আক্রান্তদের প্রতি যত্নবান হওয়া
ব্যাখ্যা

এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে,
প্রতিরোধে করণীয়-
১. বৈধ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে,
২. নিরাপদ রক্ত প্রদান নিশ্চিত করা,
৩. অস্ত্রোপচারে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা,
৪. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা।
সর্বোপরি, এইডস থেকে নিজেকে এবং সমাজ ও মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প কিছুই নাই।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৮১.
কোন রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই?
  1. ক) এইডস
  2. খ) গনোরিয়া
  3. গ) গলগণ্ড রোগ
  4. ঘ) গোদ রোগ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ গনোরিয়া।

এইডস, গলগণ্ড এবং গোদ রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে।
গনোরিয়া রোগেরও নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে; কিন্তু অনেক সময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। প্রায় ৫০ ভাগ মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ অপ্রকাশিত থাকে।
তাই বুঝাই যাচ্ছে, প্রশ্নকর্তা গনোরিয়াকে উত্তর হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই প্রশ্নটি করেছেন।

নিচে গনোরিয়া রোগের সাধারণ লক্ষণ গুলো লিঙ্গভেদে আলোচনা করা হলোঃ

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. মূত্রনালিতে সংক্রমণ।
২. মূত্রনালি হতে পুঁজের মতো বের হয়।
৩. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, জ্বালাপোড়া করে এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৪. হাঁটু বা অন্যান্য গিঁটে ব্যথা করে, ফুলে ওঠে।
৫. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় এবং এমনকি জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৬. পুরুষত্বহীন হয়ে যেতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. অনেকসময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে।
২. যোনিপথ আক্রান্ত হতে পারে।
৩. যোনিপথে এবং মূত্রনালিতে জ্বালা-পোড়া করে।
৪. পুঁজ সদৃশ হলুদ স্রাব বের হয়।
৫. তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
৬. ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭. বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।

উৎসঃ National Health Portal of India, পত্রিকা রিপোর্ট এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৪৮২.
নিচের কোনটি মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ নয়?
  1. ত্বক
  2. অশ্রু ও লালা
  3. পোষ্টিক নালীর এসিড
  4. সবগুলোই প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশগুলো হচ্ছে - ত্বক, লোম, অশ্রু ও লালা, সিরুমেন, পোষ্টিক নালীর এসিড এবং রেচন-জননতন্ত্রের এসিড৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই

৪৮৩.
কোন রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে?
  1. ক) লসিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

লোহিত কণিকার কাজ:
- দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
- হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 
==============
শ্বেত রক্তকণিকার ১-১৫ দিন এবং অনুচক্রিকার ৫-১০ দিন।

উৎস: নবম দশন শ্রেনীর বিজ্ঞান বই।
৪৮৪.
যে রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায় তাকে বলে-
  1. ধনুষ্টঙ্কার
  2. হৃদরোগ
  3. জন্ডিস
  4. এইডস
ব্যাখ্যা
এইডস: 
- AIDS রোগের পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immune Deficiency Syndrome. 
- Human immunodeficiency virus বা HIV নামক ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। 
- HIV এমনই ভয়ংকর জাতের ভাইরাস যে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। 
- ফলে HIV আক্রান্ত রোগী যে কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং যা তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৮৫.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রােগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) রুবিওলা ভাইরাস
  2. খ) অ্যাডেনাে ভাইরাস
  3. গ) ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. ঘ) টিএমভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রােগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনাে ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমােনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গাে- বসন্ত রােগের জন্য দায়ী। 
- টিএমভি ভাইরাস তামাকের 'মোজাইক' রােগের জন্য দায়ী। অ্যাডল্ফ মেয়ার (Adlof  Mayer) ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম তামাক গাছের মোজাইক রোগের কারণ বর্ণনা করেন।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান- ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
৪৮৬.
Covid-19 রোগী প্রথম কোন শহরে দেখা যায়?
  1. দিল্লি
  2. লন্ডন
  3. উহান
  4. কিউবেক
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারি:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
৪৮৭.
Autoclave এর কাজ-
  1. ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. টিটেনাস ড্রীবানু মারা
  3. ফাংগাস ধ্বংস করা 
  4. সব জীবানু ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা

• অটোক্লেভের কাজ (Function of Autoclave): 
- অটোক্লেভ হলো একটি যন্ত্র যা বাষ্পের মাধ্যমে জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।  
- এটি উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ১২১° সেলসিয়াস) ও চাপ (১৫ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি) ব্যবহার করে জীবাণু ধ্বংস করে।  
- অটোক্লেভের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস এবং স্পোরসহ সকল প্রকার জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা যায়।  
- এটি সাধারণত চিকিৎসা উপকরণ, ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।  
- শুধুমাত্র ভাইরাস, টিটেনাস জীবাণু বা ফাংগাস নয় — অটোক্লেভের কাজ হলো সব জীবাণু ধ্বংস করা।  

সুতরাং, অটোক্লেভের প্রধান কাজ হলো সকল প্রকার জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।  
- সঠিক উত্তর: ঘ) সব জীবাণু ধ্বংস করা।

সূত্র - sciencedirect [link]

৪৮৮.
করোনা ভাইরাসের প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) Nobel Corona Virus
  2. খ) Novel Corona Virus
  3. গ) SARS
  4. ঘ) None of them
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস হলো করোনা ভাইরাস, যার নাম করণ করা হয়েছে 2019 Novel Corona Virus (2019-nCoV)।ভারাসটির প্রথম সংক্রমণ ঘটে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ এবং একে চিহ্নিত করা হয় ৭ জানুয়ারি ২০২০।ধারণা করা হচ্ছে ভাইরাসটি চীনের উহানের সামুদ্রিক খাবার বা পশুপাখির বাজার থেকে ছড়িয়েছে।করোনাভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে। এটা মূলত ভাইরাসের বড় একটা গোত্র। সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (SARS) ভাইরাসের সঙ্গে বর্তমান ভাইরাসের ৮০% মিল রয়েছে।২০০২-২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের আক্রমণে চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ে প্রায় আট শতাধিক মানুষ মারা যায়।করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে - জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা। মারাত্মক লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে - নিউমোনিয়া, সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপেটরি সিনড্রোম, কিডনি বিকল, মৃত্যু।
Source: LiveMCQ Lecture
৪৮৯.
শিশুদের জন্মের এক মাসের মধ্যে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি 
  4. ডিটি 
ব্যাখ্যা

- শিশুদের জন্মের এক মাসের মধ্যে 'বিসিজি ও ওপিভি-ও' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization-EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯০.
একজন মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্য গ্রহণের জন্য কতটুকু আমিষ গ্রহণ করা উচিত?
  1. ক) ৬০%
  2. খ) ১৫%
  3. গ) ২০%
  4. ঘ) ৫%
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্যের বিভাজনে দেখা যায় যে তাঁর ৬০% শর্করা, ১৫% আমিষ, ২০% অসম্পৃক্ত স্নেহ এবং ৫% সম্পৃক্ত স্নেহ গ্রহণ করা উচিৎ।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
৪৯১.
ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নাম কী?
  1. BNT162b2
  2. BNT174v2
  3. BNT142b2
  4. BNT122C2
ব্যাখ্যা
জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নাম BNT162b2.
তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতি উগুর সাহিন ও তার স্ত্রী ডা. ওজলেম টুরেসি এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন।
যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে গত ২ ডিসেম্বর এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে। যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি দেয় ১১ ডিসেম্বর।

(সূত্র: বায়োএনটেক ও ফাইজার ওয়েবসাইট)
৪৯২.
হার্টে পেইসমেকার স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়? 
  1. ফসফরাস–৩২ 
  2. কোবাল্ট–৬০ 
  3. প্লুটোনিয়াম–২৩৮ 
  4. আয়োডিন–১৩১ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো- 
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৩.
উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয় কোন যন্ত্রে?
  1. এক্স-রে
  2. সিটিস্ক্যান
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. ইসিজি
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি:

- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪৯৪.
সিটি স্ক্যান (CT Scan) এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Computed Thermal Scan
  2. Comprehensive Tissue Scan
  3. Computerized Testing Scan
  4. Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা

সিটি স্ক্যান: 
- সিটি স্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটি স্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটি স্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটি স্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটি স্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটি স্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হরে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯৫.
গর্ভকালীন সময়ে অত্যাবশ্যকীয় টিকা কোনটি?
  1. ক) হেপাটাইটিস-বি
  2. খ) করোনা
  3. গ) রুবেলা
  4. ঘ) টিটেনাস
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের টিটেনাস টিকা গ্রহণ করতে হয়। 

টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) থেকে রক্ষ পাওয়ার জন্য টিটি টিকা নিতে হয়। হবু মায়েদের টিটি টিকা নিতে হবে যেন বাচ্চার ধনুষ্টঙ্কার না হয়। যদি আগে কোণ টিকা নেওয়া না থাকে, তবে সবগুলোই দিতে হবে। শিশুদের যে পেন্টা ভ্যালেন্ট টিকা দেয়া হয় তাতে ধনুষ্টঙ্কার প্রতিরোধী টিকা থাকে। কিন্তু এই টিকা নবজাতককে সুরক্ষা দিতে পারে না বিধায় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী—যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টঙ্কার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেয়া হয়।

টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ সম্পন্ন থাকলে আর গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর কেউ যদি কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা দিয়ে নিতে হবে। আর যদি পূর্বে দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ নিতে হবে। মাকে দেয়া এই টিকা মা ও বাচ্চা উভয়েরই ধনুষ্টংকার রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা এবং অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (বাচ্চার নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লাগিয়ে দিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হয়।

সূত্র:  উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ওয়েবসাইট। 
৪৯৬.
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগটি হয়ে থাকে। 

- অস্টিওপোরোসিস হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।
- এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
- সাধারণত বয়স্ক নারী এবং পুরুষ এর মাঝে এ রোগটি দেয়া দেয়। 

সূত্র- ১৯৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪৯৭.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে কোনটি?
  1. ক) লিফ রোল
  2. খ) লিফ ব্লাইট
  3. গ) লিফ কার্ল
  4. ঘ) লিফ বেইন
ব্যাখ্যা
ধানের পাতা ধ্বসা (leaf blight) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে। এছাড়া আলুর লিফরোল (পাতা কুঁচকাইয়া যাওয়া), পেঁপের লিফকার্ল, ক্লোরোসিস (পাতায় হলুদাভ দাগ) ইত্যাদি রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
৪৯৮.
small pox কী ধরনের রোগ?
  1. DNA ভাইরাস ঘটিত
  2. RNA ভাইরাস ঘটিত
  3. ব্যাকটেরিয়া ঘটিত
  4. mRNA ভাইরাস ঘটিত
ব্যাখ্যা
smallpox - রোগটি DNA ভাইরাস ঘটিত। অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র খ) স্মলপক্স DNA টাইপ ভাইরাসঘটিত।

Smallpox বা গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।

- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে। (DNA Type)
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
ভ্যাক্সিনঃ এডয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে তৈরি করেন।

গণস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় সফলতা বলা যায়।

Smallpox is an acute contagious disease caused by the variola virus, a member of the orthopoxvirus family. It was one of the most devastating diseases known to humanity and caused millions of deaths before it was eradicated. It is believed to have existed for at least 3000 years.

The smallpox vaccine, created by Edward Jenner in 1796, was the first successful vaccine to be developed. He observed that milkmaids who previously had caught cowpox did not catch smallpox and showed that a similar inoculation could be used to prevent smallpox in other people.

The World Health Organization launched an intensified plan to eradicate smallpox in 1967. Widespread immunization and surveillance were conducted around the world for several years. The last known natural case was in Somalia in 1977. In 1980 WHO declared smallpox eradicated – the only infectious disease to achieve this distinction. This remains among the most notable and profound public health successes in history.

Source: WHO

Poxviruses are brick or oval-shaped viruses with large double-stranded DNA genomes. Poxviruses exist throughout the world and cause disease in humans and many other types of animals. Poxvirus infections typically result in the formation of lesions, skin nodules, or disseminated rash.
Infection in humans usually occurs due to contact with contaminated animals, people, or materials. While some poxviruses, such as smallpox (variola virus), no longer exist in nature, other poxviruses can still cause disease. These include monkeypox virus, orf virus, molluscum contagiosum, and others.

Content source: Centers for Disease Control and Prevention (CDC), USA Govt.
৪৯৯.
নিচের কোন রোগটির জন্য ব্যাকটেরিয়া দায়ী?
  1. ক) আনডিউলেটেড ফিভার
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) পীত জ্বর
  4. ঘ) টুংরো রোগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলিই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এ ছাড়াও এনথ্রাক্স, মেনিনিজাইটিস, কুষ্ঠ, আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।
- AIDS, ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, SARS, জলাতঙ্ক, গুটি বসন্ত, জলবসন্ত, ভাইরাল নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, পীত জ্বর, গো- বসন্ত, এনোজেনিটাল ক্যান্সার, তামাক, সিম, গোল আলু ইত্যাদির মোজাইক রোগ, কলার বানচি টপ রোগ, ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৫০০.
গবাদিপশুর 'তড়কা' রোগ কোনটির কারনে হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
তড়কা (Anthrax)ঃ এটি গবাদিপশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রােগ। বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে তড়কা রােগ হয়ে আসছে, তবে বিগত বছরগুলাের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা অধিক হওয়ায় তা ব্যাপকভাবে আলােচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতেঃ
• তড়কা এক ধরনের Acute রােগ যা Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে।
• পশু থেকে পশু ও পশু থেকে মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে।
• পশু অথবা মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর রােগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে ৬০ দিনের মত সময় লাগে।
• বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফুসফুস সংক্রমিত হলে অতি অল্প সময়ে তার লক্ষণ পরিলক্ষিত হতে পারে।
• তড়কা রােগ মূলত: শরীরে তিন ধরনের অংশকে আক্রান্ত করে। যেমন- ত্বক, ফুসফুস ও অন্ত্র
• শতকরা ৯৫% ক্ষেত্রে ত্বকেই সরাসরি সংক্রমিত হয়। ত্বকে ফোড়া/ক্ষত সৃস্টি হয় এবং Toxin এর কারণে রােগী অস্বস্তিতে ভােগে ।
• ৪-৫% ক্ষেত্রে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। এ সময় সাধারণ সর্দি কাশির মত লক্ষণ দেখা যায়।
• ১% এর কম ক্ষেত্রে অন্ত্রে সংক্রমণ হয়। এ অবস্থায় অরুচি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়।
• পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং রােগের লক্ষণসমূহ দেখে তড়কা রােগ নির্ণয় করা সম্ভব । আক্রান্ত মানুষদের সাধারণ Antibiotic প্রয়ােগে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তােলা যায়। এ রােগের প্রতিষেধকও পাওয়া যায়।

উৎস:  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট